বগুড়ার সোনাতলায় ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে আলুর পাতা বিবর্ণ হচ্ছে

বগুড়ার সোনাতলায় ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে আলুর পাতা বিবর্ণ হচ্ছে

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : পৌষ মাসের ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে বগুড়ার সোনাতলায় বীজতলাসহ আলু ক্ষেতের পাতা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষকের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে।

চলতি বছর বগুড়ার সোনাতলায় ৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রয়েছে। যা গত বছর ছিল ৬০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর জমিতে কৃষক বেশি ধানের বীজ বপন করেছে। এছাড়াও ১৭শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে কৃষক আলু রোপন করেছে। যা গত বছর ছিল ১২শ’ ৫০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ৫১০ হেক্টর জমিতে এবার বেশি আলু রোপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের আলু তোলা ও বাজারজাত করা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে নতুন আলু ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০-৫০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় আলুর ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি হলেও পৌষের তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের কারনে আলু ফসলের পাতা এবং ধানের বীজতলা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ওই উপজেলার কৃষকদের চোখে-মুখে হাতাশার ছাপ ফুটে উঠেছে।

এ বিষয়ে খাবুলিয়া এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কারন হিসেবে তিনি বলেন, গত বছর আলুর দাম ছিল খুবই কম। উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হয়নি। তারপরেও পারিবারিক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ার আশায় এবারও ৬ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারনে জমিতে রোপন করা আলুর পাতা বিবর্ন হয়ে যাচ্ছে। হাট করমজা এলাকার আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, তার পুরো জমির আলুর পাতা হলদে হয়ে গেছে।

খাটিয়ামারি চরের বাসিন্দা জুল্লুর রহমান বলেন, নদীর ধারে বপন করা শত শত একর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গজানো চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে।  এছাড়াও তিনি আরও বলেন, নদীকুলীয় এলাকার মানুষ বন্যার ধকল কাটাতে রবি ফসল আলু, মরিচ ও সরিষা ফসলের প্রতি ঝুঁকে পড়লেও বৈরি আবহাওয়ার কারনে কৃষকের সেই স্বপ্ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারনে রবি ফসলের সীমাহীন ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি আলু, বীজতলা সহ সরিষা ফসলের উৎপাদনে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে প্রতিটি ফসল উৎপাদন কম হবে। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/152465