বগুড়ার শাজাহানপুরে ৬ মাসে পল্লী বিদ্যুতের ২৯টি ট্রান্সফরমার চুরি
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে বিগত ছয় মাসে বগুড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ (বপবিস-২)’র আওতাধীন ২৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক সেচ স্কিম মালিক। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে ট্রান্সফরমার পেতে অনেক ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় কৃষকদের।
ক্ষতির হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে সেচ গ্রাহকদের নিয়ে গত ছয় মাসে দুই ডজনেরও বেশি সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেছে বপবিস-২ কর্তৃপক্ষ। তারপরও থামানো যাচ্ছে না ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। অবশেষে বিষয়টি আমলে নিয়ে ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে ৭০ জন চোরের তথ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ।
উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল এলাকার সেচ স্কিম মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, প্রায় চার মাস আগে শাবরুল এলাকা থেকে ট্রান্সফরমার (১২৫ কেভিএ) চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ট্রান্সফরমার থেকে তিনিসহ আব্দুল গফুর, ইনসান আলী, আব্দুস সামাদ ও আব্দুল কুদ্দুস নামের আরও চারজন সেচ স্কিম মালিক ফসলি জমিতে সেচ কার্য পরিচালনা করছিলেন। ট্রান্সফরমার চুরির পর তারা মহাবিপদে পড়েন। নতুন করে ট্রান্সফরমার পেতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বপবিস-২’র সাথে যোগাযোগ করেন। প্রায় তিন মাস পর বাজার থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকায় নতুন ট্রান্সফরমার কিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে লাগিয়ে নেন।
শাজাহানপুর থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি ও ‘মুসাফির ড্রিংকিং ওয়াটার’ পানির প্লান্টের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, এক মাস আগে তার পানির প্লান্টের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের আর্থিং ক্যাবল চুরি হয়ে যায়। এতে তার ৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, থানায় সংরক্ষিত ছেঁচড়া চোরের তালিকা এবং গ্রাম পুলিশদের কাছ থেকে চোরদের তালিকা নিয়ে সে মোতাবেক আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত চোরদের শনাক্ত করা যাবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নিলে চুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দেব কুমার মালো জানান, বপবিস-২’র আওতাভুক্ত শাজাহানপুর, গাবতলী, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় বিগত ছয় মাসে ১৬৬টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় ২৯টি, গাবতলী উপজেলায় ৩৭টি, শেরপুর উপজেলায় ৩১টি, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২০টি, ধুনট উপজেলায় ২১টি এবং সোনাতলা উপজেলায় ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এত বেশি সংখ্যক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা এর আগে তিনি কখনও দেখেননি। ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে সমিতির আওতাভুক্ত ছয়টি উপজেলায় সেচ গ্রাহকদের নিয়ে গত ছয় মাসে ২৭টি সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি মুহা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শাজাহানপুর থানা এলাকায় সংঘটিত চুরির ঘটনায় জড়িত ৭০ চোরের তথ্য নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/152395