ইতিহাস থেকে কখনো শহীদদের রক্ত মুছে ফেলা যায় না : ধর্ম উপদেষ্টা

ইতিহাস থেকে কখনো শহীদদের রক্ত মুছে ফেলা যায় না : ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছিল ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ। তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে কখনোই শহীদদের রক্ত মুছে ফেলা যায় না। আজকের এই অনুষ্ঠান তারই জীবন্ত প্রমাণ।

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলামের শহীদ ৫৮ জন ও ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ১৯ জনের পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কর্মীদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মনে করেছিল বাংলাদেশ থেকে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে দমিয়ে দেয়া যাবে কিন্তু তা করা যায়নি।

তিনি বলেন, সেদিন শাপলা চত্বরে ৭ হাজারের অধিক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা হেফাজত কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সেদিন প্রায় দেড় লাখ গুলি খরচ করা হয়েছিল। তারপরও ইতিহাস থেকে সেই ঘটনা মুছে ফেলা যায়নি।


আগামীতেও কেউ এরকম করলে রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সেই বিশাল আন্দোলনের সূত্র থেকেই ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের জন্ম হয়। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ধর্ম উপদেষ্টা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের প্রতি ওই আন্দোলনের শহীদ এবং আহতদের একটি তালিকা প্রস্তুত করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা থাকবে।


স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের শহীদদের নামে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হবে। যাতে আজীবন বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্মরণ করে।

অনুষ্ঠানে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহিদী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আরির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মাওলানা মাজেদুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, খেলাফতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/143541