রাত ৯:৫৩, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

চীন কম্পিউটার চিপস বানানো শুরু করে মোটেই ২০০১ সালে। এরপর থেকে অগ্রগতি ছিলো প্রণিধানযোগ্য। কিন্তু এবার দেশটি যা করলো তা কম্পিউটারের সব অগ্রগতিকে ছাপিয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারটি এখন চীনের।

কম্পিউটারটির নাম দেওয়া হয়েছে সানওয়ে তাইহুলাইট। যাতে ৪১ হাজার চিপস বসানো হয়েছে আর প্রতি সেকেন্ডে তা ৯৩ কোয়াড্রিলয়ন সংখ্যা গণনায় সক্ষম। এর আগে পর্যন্ত আবিস্কৃত শক্তিধর কম্পিউটারটির দ্বিগুন শক্তি রাখে এই সুপার কম্পিউটার। তবে আগের শক্তিধর কম্পিউটারটিরও মালিক চীন।

চোখের পলকের চেয়েও অবিশ্বাস্য দ্রুততার বিশ্বের সবচেয়ে জটিলতম হিসাবটিও সম্পন্ন করে ফেলতে পারে এই কম্পিউটার। যেমন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এমনকি কয়েক দশক জুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের রকমফের হিসাব কষে বের করা সম্ভব এতে।

 

২০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলকে ফেসবুক

করতোয়া ডেস্ক: পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশের বেশি এখন নিয়মিতভাবে ফেইসবুক ব্যবহার করছেন। ২০০ কোটি ব্যবহারকারীর মাইলফলক ছুঁয়েছে ফেসবুক। এখন প্রতি মাসে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এক পোস্টে বলেন,  সকালের হিসাবে ফেসবুক কমিউনিটিতে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে রয়েছে ২০০ কোটি ব্যবহারকারী। ১৩ বছর আগে ২০০৪ সালে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর সহযোগীরা। ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে রয়েছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিজ ও ক্রিস হিউজ।

বিশ্বব্যাপী এই সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের ওয়েবসাইটটি চালু করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেন জাকারবার্গ। ২০১২ সালের অক্টোবরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০০ কোটি ছাড়ায়। অর্থাৎ, মাত্র পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা। আর এতে সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিল ফেসবুক। অনেকে ধারণা করছিলেন, অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো ফেসবুকের বৃদ্ধিও শ্লথ হবে। অবশ্য সমালোচকদের এমন ধারণার কারণ ফেসবুক নিজেই। এই বছরের শুরুতে, বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের গতি কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুক।এতটা পাওয়ার পরও সন্তুষ্ট নন মার্ক জাকারবার্গ। ইউএসএ টুডেতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০০ কোটি ছাড়ালেও আমরা এখনো সবাইকে সংযুক্ত করতে পারিনি। সবচেয়ে যে বিষয়টি আমি চাই, তা হলো সবাইকে সংযুক্ত করা।সম্প্রতি ফেসবুকের বিশাল প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও এতে শেয়ার হওয়ার কনটেন্টগুলোতে ঠিকমতো নজরদারি করতে পারছে না বলে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ফেসবুক লাইভে সহিংস ঘটনা ও ফেসবুক নিউজফিডে ভুয়া খবর বেশি প্রচার পাওয়ার বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। গত মাসে কনটেন্ট পর্যালোচনার জন্য তিন হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক।

ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, এই পথচলায় আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ফেইসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন বিশ্বের যে কোনো দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি, আর বিশ্বের সাতটি মহাদেশের মধ্যে ছয়টির যে কোনোটির জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।  ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেইসবুক অথবা ম্যাসেঞ্জারে যুক্ত এমন অন্তত দুইশ কোটি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী আছে তাদের, যারা মাসে অন্তত একবার মাধ্যমটি ব্যবহার করেন।

হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মত সামাজিক মাধ্যমের মালিকানা ফেইসবুকের থাকলেও সেই মাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়নি বলেও পরিষ্কার করেছে তারা। ২০১২ সালে ফেইসবুক প্রথম ১০০ কোটির ঘর পার করে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাদের গ্রাহকসংখ্যা ১৯৪ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে।অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ফেইসবুকের  কাছাকাছি অবস্থানে আছে চীনের উইচ্যাট; মে মাসের হিসাব অনুযায়ী উইচ্যাটের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৩ কোটি ৮০ লাখ।ইউরোপ-আমেরিকায় ফেইসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা এপ্রিল পর্যন্ত ছিল মাত্র ৩২ কোটি ৮০ লাখ, আর স্ন্যাপচ্যাটের গ্রাহক মাত্র ১৬ কোটি ৬০ লাখ। ১৩ বছর আগে ২০০৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির নিজ রুম থেকে কৌতুহলবশত ফেইসবুক শুরু করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ ও তার সহযোগীরা।

 

মিনিস্টার হাইটেক পার্ক ও মাইওয়ান ইলেক্ট্রনিক্সের বর্ষপূর্তি উদযাপন

 কেক কেটে মাইওয়ান ইলেক্ট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১৫তম বর্ষপূর্তি এবং মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বনানীস্থ (চেয়ারম্যান বাড়ি) প্রধান কার্যালয়ে কোম্পানি দু’টির চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক খান অতিথিদের সাথে নিয়ে এই কেক কাটেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর দিলরুবা তনু, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ডা. উজ্জ্বল কুমার রায় প্রমুখ।

পরে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এমএ রাজ্জাক খান কোম্পানির পনের বছরের দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ছোট্ট একটি স্বপ্ন নিয়ে ২০০২ সালের ১ জুন  মাইওয়ান ইলেক্ট্রনিক্সের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আমরা আজ সারা দেশে সুন্দর একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে আমাদের দু’টি কোম্পানিতে ২ হাজার ২শ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ন্যায্য মূল্যে মানুষের কাছে মানসম্মত ও আধুনিক পণ্য পৌঁছে দেয়াই কোম্পানির লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন-দৈনিক করতোয়া ও ভোরের দর্পণের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন, ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহফুজুল করিম, প্রাইম ব্যাংকের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এসএম জাফর, কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজার কেএমজি কিবরিয়া প্রমুখ। পরে কোম্পানির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সকলে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

 

 

দুবাইয়ের রাস্তায় নামছে রোবট পুলিশ

দুবাই পুলিশ বিভাগে প্রথম একটি রোবট পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে, শহরের শপিং মল এবং পর্যটন এলাকাগুলোতে টহল দেবে এই রোবট।

এর মাধ্যমে মানুষ কোন অপরাধের তথ্য দিতে পারবে, জরিমানা প্রদান করতে পারবে এবং এর বুকে থাকা টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য নিতে পারবে।

রোবটের মাধ্যমে সংগৃহীত এই তথ্য পরিবহণ এবং ট্রাফিক পুলিশকেও দেয়া হবে।

দুবাইয়ের সরকার বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর ৩০ শতাংশ রোবটিক করার লক্ষ্য আছে তাদের, তবে সেটা মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে না।

“এই যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা আমাদের অফিসারদের প্রতিস্থাপন করবো না” বলেন দুবাই পুলিশের স্মার্ট সার্ভিসের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার খালিদ আল রাজুকি।

“তবে যেহেতু দুবাইতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আমরা চাই পুলিশ অফিসাররা যাতে একটি নিরাপদ শহর গঠনের জন্য মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে”।

তিনি বলেন, এই উপায় ব্যবহার করে তারা সর্বক্ষণ মানুষকে সেবা দিতে পারবেন। একইসাথে কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টারের সাথে সারাক্ষণ সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে অপরাধ দমনেও এসব রোবট সহায়তা করতে পারবে।

পাল রোবটিক্সের তৈরি এই বিশেষ রোবট এসপ্তাহেই গালফ তথ্য এবং নিরাপত্তা মেলায় উপস্থাপন করা হয়।

বর্তামানে এটি শুধুমাত্র ইংরেজি এবং আরবিতে যোগাযোগ করতে পারে, তবে এতে রুশ, চাইনিজ, ফরাসী এবং স্প্যানিশ ভাষাও সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী বছর আরো একটি রোবট দুবাই পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। তবে তা নির্ভর করবে অর্থায়নের ওপর।

সাইবার হামলার শিকার বাংলাদেশের ৩০ কম্পিউটার

বিশ্বজুড়ে সংঘটিত র‌্যানসমওয়্যার সাইবার হামলায় আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশও। দেশের অন্তত ৩০টি ব্যবসায়ীক কম্পিউটার সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট তানভীর জোহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার একযোগে ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি কম্পিউটার সিস্টেম সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। হ্যাকারদের ছড়ানো স্প্যাম লিঙ্ক ওপেনের সঙ্গে সঙ্গেই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ হারায় ব্যবহারকারীরা। স্প্যামের মাধ্যমে হ্যাকাররা চাকরির প্রস্তাব, চালান, নিরাপত্তা সতর্কতা ও অন্যান্য ফাইলের নিরাপত্তার প্রস্তাব দেয়। র‌্যানসমওয়্যার এমন এক ধরনের ম্যালওয়ার বা ভাইরাস যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং ব্যবহারকারীকে প্রবেশে বাধা দেয়। অনেক সময় হার্ড ডিস্কের অংশ বা ফাইল পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে ফেলে।

পরে ওই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফেরত দেয়ার জন্য মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হয়। বাংলাদেশে যেসব ব্যবসায়ীর কম্পিউটার সাইবার হামলার শিকার হয়েছে; তাদের অনেকেই মেইল করে সহায়তা চেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা তানভির জোহা। রোববার ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ল’ এনফোর্সমেন্ট কো-অপারেশনের (ইউরোপোল) প্রধান রব ওয়েনরাইট বলেন, শুক্রবারের সাইবার হামলায় দুই লাখেরও বেশি কম্পিউটার আক্রান্ত হয়েছে। নজিরবিহীন এ হামলা বিশ্বের ১৫০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেনের আইটিভিকে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এই সাইবার হামলা ছড়িয়ে পড়ার হুমকি রয়েছে। সোমবার এ হামলা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ইউরোপোল প্রধান বলেন, হ্যাকারদের ছড়ানো ভাইরাস কম্পিউটারে প্রবেশের পর ফাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে; পরে অনলাইনে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই সাইবার হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও একটি হামলা আসন্ন। একই সঙ্গে মানুষকে তাদের কম্পিউটারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা। ওয়েনরাইট বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সোমবার লোকজন অফিসে কাজে যোগ দেয়ায় এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলা

করতোয়া ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে একযোগে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। র‌্যানসমওয়্যার নামের একটি বড় ধরণের কমপিউটার হ্যাকিং প্রোগ্রাম বিশ্বের দেশের বিভিন্ন সংস্থার কমপিউটার ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, রাশিয়া, চীন, ইতালি, তাইওয়ানসহ বিশ্বের অন্তত ৯৯টিরও বেশি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিবিসির খবরে জানান হয়েছে। হাজার হাজার স্থানে আক্রান্ত কম্পিউটারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেগুলোতে মুক্তিপণের দাবি করে পাঠানো বার্তা ভেসে উঠছে। বার্তায় বিটকয়েন মুদ্রায় ৩০০ ডলার করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামটিকে ওয়ানাক্রাই নামে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি বিপুল আকারের এবং প্রতিমুহূর্তেই আক্রান্ত দেশের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানয়েছেন একাধিক আইটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) আইটি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের সাইবার হামলায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এই জটিলতার কারণে লন্ডন, ব্ল্যাকবার্ন, নটিংহ্যাম, গ্যালওয়ে ও হার্টফোর্ডশায়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় এনএইচএস-এর হাসপাতাল ও ট্রাস্টগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে গেছে। সব হাসপাতালের কর্মীরা তাদের নেটওয়ার্কে রোগীদের তথ্য দেখতে পারছেন না। রোগীদের নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হচ্ছে অন্য হাসপাতালে। অনেক জায়গায় জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্য সব সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সাক্ষাতের সূচিও বাতিল করা হয়েছে। এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, তারা এই জটিলতা সারাতে কাজ করছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। যুুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কাঠামোর চারটি ইউনিটের মধ্যে এনএইচএস ইংল্যান্ড সবচেয়ে বড় সংস্থা যার আওতাধীন হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়। গার্ডিয়ান লিখেছে, এনএইচএস নেটওয়ার্ক আক্রান্ত হওয়ার পর এই সিস্টেমে যুক্ত কম্পিউটারগুলোর স্ক্রিনে একটি পপ আপ মেসেজ ভেসে ওঠে, যেখানে নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টুইটারে এনএইচএস-এর একজন কর্মীর পোস্ট করা একটি ছবিও গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছে, যেখানে কম্পিউটার স্ক্রিনে ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রমণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। একজন এনএইচএস কর্মীর বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টায় প্রথমে তাদের ইমেইল সার্ভার ক্র্যাশ করে। এরপর নেটওয়ার্কের ক্লিনিক্যাল ও পেশেন্ট সিস্টেমও অচল হয়ে যায়। কম্পিউটার স্ক্রিনে আসা একটি বিটকয়েন ভাইরাস পপ-আপে বলা হয়, মেশিনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ব্যবহারকারীকে ৩০০ ডলার দিতে হবে। এরপর এনএইচএস ট্রাস্টের সকল কর্মীকে তাদের কম্পিউটার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এনএইচএস ডিজিটাল জানিয়েছে, কেবল তারাই এ হামলার শিকার নয়, আরও বেশ কিছু সংস্থায় একই ধরনের র‌্যানসমওয়্যারের আক্রমণের খবর তাদের কাছে আছে। ‘ওয়ানা ডিক্রিপটর’ ম্যালওয়্যারের নতুন একটি সংস্করণের মাধ্যমে এই র‌্যানসমওয়্যার ছড়ানো হয়েছে বলে এনএইচএস ডিজিটালের ধারণা। তবে এনএইচএস নেটওয়ার্ক কীভাবে আক্রান্ত হল এবং কারা এর পেছনে রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকো সংবাদপত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির’ একটি সফটওয়ারের সাহায্যে এই জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। স্পেনের ‘কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেডিনেস টিম’ (সিইআরটি) জানায়, এই ‘ওয়ানা ডিক্রিপটর’ ম্যালওয়্যারের নতুন এক সংস্করণ এই র‌্যানসমওয়্যার এবং এই ম্যালওয়্যারটি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিই’ ব্যবহার করে থাকে। হামলার শিকার কোম্পানি, হাসপাতাল, স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসএ) তৈরি বলে ধারণা করা একটি হ্যাকিং টুল ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বিশ্বব্যাপী মালামাল পরিবহনকারী কোম্পানি ফেডএক্সসহ প্রায় ১০০টি দেশের লাখখানেক কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইনভয়েস, জব অফার, নিরাপত্তা সতর্কতা এবং অন্যান্য বৈধ ফাইলের ছদ্মবেশে স্প্যাম ইমেইলে যুক্ত করা ম্যালওয়ারে মাধ্যমে সাইবার চাঁদাবাজরা কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। নিরাপত্তা গবেষকরা জানিয়েছেন, ফাঁদে পড়া কিছু কম্পিউটার ব্যবহারকারী ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের মাধ্যমে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করেছে বলে তারা দেখেছেন। তবে ওই সাইবার চাঁদাবাজদের কতো পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে তার পরিমাণ জানাতে পারেননি তারা। নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আভাস্ট এর গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা ৯৯টি দেশের ৫৭ হাজার কম্পিউটার আক্রান্ত হতে দেখেছেন, যাদের মধ্যে রাশিয়া, ইউক্রেইন এবং তাইওয়ানের কম্পিউটারই সবচেয়ে বেশি।  শনিবার এশিয়ার দেশগুলোতে বড় ধরনের কোনো সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। কিন্তু এই অঞ্চলের কর্মকর্তারা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পুরো বিবরণ পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু মাধ্যমিক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার হামলাটির শিকার হয়েছে, তবে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। সাইবার হামলাটিতে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যখাতই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এখানে কম্পিউটারে ঢুকতে না পেরে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো শুক্রবার রোগীদের ফিরিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মালামাল পরিবহনকারী কোম্পানি ফেডএক্স জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকটি ইউন্ডোজ কম্পিউটারও আক্রান্ত হয়েছে। মূলত ইউরোপকে লক্ষ্য করে চালানো এই সাইবার হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাণকারী কোম্পানি সিম্যানটেকের গবেষণা ব্যবস্থাপক বিক্রম ঠাকুর। হামলাকারী হ্যাকাররা প্রকাশ্যে এসে হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্য কোনোভাবেও তাদের শনাক্ত করা যায়নি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, তারা এনএসএ-র ‘ইটার্নাল ব¬ু’ নামের কোডকে ‘ওয়ার্মে’ পরিণত করে ছেড়ে দিয়েছে। ‘ওয়ার্ম’ নিজে নিজে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা সম্পন্ন ম্যালওয়্যার। গত মাসে শ্যাডো ব্রোকাস্র্ নামের একটি গোষ্ঠী ‘এটার্নাল ব¬ু’ কোডটি প্রকাশ করেছিল বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সাইবার নিরাপত্তা ফার্মের গবেষকরা। অনেকগুলো হ্যাকিং টুলের সঙ্গে এটার্নাল ব¬ু-ও ছেড়েছিল শ্যাডো ব্রোকার। এটার্নাল ব¬ু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বলে জানিয়েছিল তারা। “সাইবার কমিউনিটি বিশ্বব্যাপী চালানো যতগুলো রানসামওয়্যার হামলা দেখেছে সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম,” বলেছেন সাইবার হামলার হুমকি বিষয়ে প্রতিষ্ঠান স্প¬ুঙ্ক এর পরিচালক রিচ বার্গার।

৫৭ হাজার কম্পিউটারে একযোগে হামলা
বিশ্বজুড়ে একযোগে প্রায় একশ দেশের ৫৭ হাজার কম্পিউটারে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) টুলস ব্যবহার করে ‘র্যানসমওয়্যার’ সফটওয়্যারে ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে হ্যাকাররা। শুক্রবার একটি স্প্যাম লিঙ্ক ওপেনের সঙ্গে সঙ্গেই হ্যাকারদের দখলে চলে যায় কম্পিউটার। স্প্যামের মাধ্যমে হ্যাকাররা চাকরির প্রস্তাব, চালান, নিরাপত্তা সতর্কতা ও অন্যান্য ফাইলের নিরাপত্তার প্রস্তাব দেয়। কম্পিউটারগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে তিনশ থেকে ছয়শ মার্কিন ডলার দাবি করেন। প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষকরা জানিয়েছেন, কিছু ভুক্তভোগী ডিজিটাল মুদ্রা বিটকনের সাহায্যে মুক্তিপণ দিয়েছেন।

সাইবার হামলা ঠেকানোর উপায় আবিষ্কার
গত ২৪ ঘন্টায় বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা সফটওয়্যার ‘ওয়ানাক্রাই’ র‌্যানসামওয়্যারের বিস্তার ‘আপাতত’ ঠেকানোর উপায় খুঁজে বের করেছেন হংকংয়ের এক সাইবার নিরাপত্তা গবেষক। টুইটারে ‘@ম্যালওয়্যারটেকব¬গ’ নামধারী এই গবেষক বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, আবিষ্কারটি দুর্ঘটনাবশত হলেও বেশ কার্যকর। তিনি জানান, র‌্যানসামওয়্যার জাতীয় ম্যালওয়্যারটি যে নামের ডোমেইন ব্যবহার করছে, সেই নাম দিয়ে ডোমেইন রেজিস্টার করলে এর ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে। টুইটারে পাঠানো ব্যক্তিগত মেসেজে @ম্যালওয়্যারটেকব¬গ এএফপি’কে জানায়, মূলত হামলাকারীরা র‌্যানসামওয়্যার ছড়ানোর জন্য এমন সব ডোমেইন নেম ব্যবহার করছে যেগুলো রেজিস্টারড নয়। সেই ডোমেইন নেমগুলো রেজিস্টার করে ফেললেই ম্যালওয়্যারটির ছড়ানো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ উপায়ে আপাতত বিশ্বব্যাপী হামলাকারী এই ম্যালওয়্যারের বিস্তৃতি ঠেকানো গেলেও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের যত দ্রুত সম্ভব তাদের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করার তাগাদা দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই গবেষক। তিনি বলেন, ‘সঙ্কট এখনো কাটেনি। তারা (হামলাকারীরা) যেকোন সময় কোড পাল্টে আবার আক্রমণের চেষ্টা চালাতে পারে।’ রেজিস্টারকৃত ডোমেইনটি বাতিল করার আগ পর্যন্ত ওই ডোমেইন থেকে কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই। তবে এর মধ্যেই দ্রুত সম্ভব সিকিউরিটি প্যাচ দিয়ে সিস্টেম আপডেট করে নেয়ার পরামর্শ দেন এই গবেষক। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৯৯টি দেশে এই সাইবার হামলার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) তৈরি একটি সফটওয়্যার টুল দিয়েই করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএসএ’র ফাঁস হওয়া কিছু দলিলপত্রে পাওয়া কিছু প্রাযুক্তিক ত্রুটির সূত্র ধরে সাইবার হামলাটি করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। গত এপ্রিলে ‘শ্যাডো ব্রোকারস’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ এই টুলগুলো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করে অনলাইনে ছেড়ে দেয়ার দাবি করে। হামলাকারীরা ‘র‌্যানসামওয়্যার’ জাতীয় এই টুল ছড়িয়ে হাজারো কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এরপর সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের ফিরিয়ে দিতে ডিজিটাল মুদ্রা বা ‘বিটকয়েনের’ মাধ্যমে তারা কম্পিউটার প্রতি ৩০০ ডলার করে দাবি করছে। ‘ওয়ানাক্রাই’সহ বিভিন্ন নামে ছড়িয়ে পড়ে কম্পিউটার দখল করছে এই র‌্যানসামওয়্যার।

বাংলাদেশের আছে সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার
সাইবার হামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার হারানোর পর এবার ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে সারা বিশ্ব। বাংলাদেশও এরকম হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। হামলা ঠেকাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কী? আগে একবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা হারাতে হলেও এখন সাইবার হামলা ঠেকানোর যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশি¬ষ্টরা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, এরকম সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়, পুরো বিশ্বের। বাংলাদেশ একা নয়, ঝুঁকিতে রয়েছে আরো অনেক দেশ। তাদের সক্ষমতা থাকার পরও তারা সেগুলো রোধ করতে পারছে না।

‘সমস্যা মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আছে,’ জানিয়ে তিনি বলেন: বাংলাদেশের এই সমস্যা মোকাবেলা করার ক্ষমতা রয়েছে, সেই প্রস্তুতিও বাংলাদেশের রয়েছে। ডিটেক্ট করতে পারি তেমন একটা সেন্টার আমাদের রয়েছে। যেটার নাম সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার। ডিটেক্ট করার পর সব সমস্যা থেকে নিজেদের প্রটেক্ট করার প্রস্তুতিও আছে। সেটা অনেকে জানেই না। সর্বশেষ প্রায় ১০০ দেশে সাইবার হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এই হামলার ঘটনা স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক। এবং যারা এই আক্রমণটা চালিয়েছে তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই কাজ করেছে। তবে কিছু কৌশলগত কারণ থাকায় আমাদের প্রস্তুতির বিস্তারিত বলা যাবে না। শুধু এটুকু বলতে চাই, বাংলাদেশের প্রস্তুতি যতটা আছে সেটা নেহাত কম নয়। এ বিষয়ে ‘আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড’ এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা সোলায়মান সুখন বলেন, বিশ্বব্যাপী যখন এ ধরনের আক্রমণ চলছে, সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়া উচিত ভোক্তার। কোন ধরনের অবিশ্বস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে কোন লিংক এলে সেসবে কখনোই ক্লিক করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, যেমন আমরা বাসে উঠলে বলি, অপরিচিত কারো দেওয়া কিছু খাবেন না, তেমন এখানেও বলতে চাই, অপরিচিত কারো দেওয়া লিংকে ক্লিক করবেন না। বাংলাদেশে অনেকে এখনো এসব ব্যাপারে সচেতন নয় উলে¬খ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কম্পিউটার অপারেটিংকেই ধরে নেওয়া হয় কম্পিউটারের নিরাপত্তা। অর্থাৎ কেউ কম্পিউটার অন অফ করতে জানলেই আমরা ধরে নেই যে সে কম্পিউটারের নিরাপত্তা বিষয়েও খুব বেশি সচেতন থাকবে। ‘আসলে কিন্তু তা নয়। তাই ভোক্তাদের সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন: অবিশ্বস্ত উৎস খেকে কেউ কোন ডিজিটাল কনটেন্ট গ্রহণ করবেন না। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য আপটেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম গ্রহণ করুন। সেফটি ম্যানেজমেন্টের বিষয়েও আরো চিন্তাভাবনা ও বাজেট দরকার।’ ব্যাপারটিকে আরো বেশি গুরুত্বসহ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সুখন মনে করেন, জাতীয় বাজেটেও এই বিষয়টা রাখা দরকার। তা না হলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, সেটা যেমন ব্যক্তির হবে তেমন রাষ্ট্রেরও।

 

 

সাইবার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রে?

করতোয়া ডেস্ক: বিশ্বের প্রায় একশটি দেশে যে সাইবার হামলা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) তৈরি করা ‘অস্ত্রে’ হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এনএসএ তাদের তথ্য চুরির পর ঝুঁকির বিষয়টি চেপে রেখে স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার হামলার পথ খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। শুক্রবার সাইবার হামলা ঘিরে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এনএসএর দায়ের বিষয়টি উঠে আসে। শুক্রবার রাশিয়া, চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৯৯টি দেশে একটি ‘র্যা নসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ে, যাতে আক্রান্ত হয় বড় বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। একটি ম্যালওয়্যার এসব সংস্থার নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি বার্তা দিচ্ছিল, যাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বিটকয়েনের মাধ্যমে ৩০০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ‘শ্যাডো ব্রোকার্স’ নামে পরিচয় দেওয়া হ্যাকারদের একটি গ্রুপ গত এপ্রিলে সাইবার অ্যাটাকের একগাদা টুল ফাঁস করে, যেগুলোর অনেকগুলোতে এনএসএ-এর সিল ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই হ্যাকিং টুল ব্যবহার করেই হয়েছে বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলা। সাইবার নিরাপত্তার খ্যাতিমান ফার্ম ক্যাসপারস্কি ল্যাব বলছে, শ্যাডো ব্রেকার্সের ফাঁস করা ‘এটারনাল ব্লু’ টুলটি ব্যবহার করেই সাইবার হামলাটি হয়েছে। এই ‘এটারনাল ব্লু’ এনএসএর তৈরি বলে দাবি করা হচ্ছে; যদিও এই এজেন্সির পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটিই করা হয়নি। গত ১৪ এপ্রিল ফাঁস হওয়ার আগে মাইক্রোসফট তাদের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের পর ‘এটারনাল ব্লু’র বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল; যদিও অনেকে তখন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি। শুক্রবারের হামলার পর বিষয়টি বড় ধরনের আলোচনা তৈরির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য চুরির পর ঝুঁকির বিষয়টি প্রকাশ না করায় নতুন করে এনএসএর সমালোচনা উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল লিবার্টি ইউনিয়নের আইনজীবী প্যাট্রিক টুমে বিবিসিকে বলেন, ‘এটা খুবই বিপজ্জনক, যদি চুরির পর এনএসএ ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও তা না জানিয়ে থাকে। নিরাপত্তার এই ফাঁক বন্ধ করিতে হবে এখনি, প্রত্যেকের ডিজিটাল জীবন নিরাপদ করতে এটাই একমাত্র পথ,’ বলেন তিনি। ২০১৩ সালে এনএসএর বহু নথি ফাঁস করে তোলপাড় তোলা এডওয়ার্ড স্নোডেন সাইবার হামলার পর একের পর এক টুইটে সংস্থাটিকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন, শুক্রবারের হামলার পর কংগ্রেসের উচিৎ হবে এনএসএকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা, আর কী কী ঝুঁকি রয়েছে। যদি চুরির পর তারা (এনএসএ) ব্যক্তিগতভাবেও আমাদের হাসপাতালগুলোকে ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়ে দিত, তাহলে হয়ত আমাদের এই পরিস্থিতি দেখতে হত না। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এনএসএ সাইবার জগতে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে থাকে। এনএসএর তথ্য চুরির পর তা ব্যবহার করে ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা করে আসছিলেন।

একযোগে ৭৪ দেশে সাইবার হামলা

বিশ্বের একশটি দেশে একটি ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে, যাতে আক্রান্ত হয়েছে স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক।

বিবিসি জানিয়েছে, একটি ম্যালওয়্যার এসব সংস্থার নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি বার্তা দিচ্ছে। কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বিটকয়েনের মাধ্যমে ৩০০ ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে সেখানে।

আক্রান্ত এসব কম্পিউটার স্ক্রিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করছেন ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ইটালি, ভিয়েতনাম, তাইওয়ানসহ ৯৯টি দেশে এই ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।

সাইবার নিরাপত্তা ফার্ম আভাস্ট জানিয়েছে, তারা  ‘র‌্যানসমওয়্যার’ আক্রমণের ৭৫ হাজারটি ঘটনা দেখেছেন।

“এটা আসলেই বিশাল,’ বলেন আভাস্টের কর্মকর্তা জ্যাকাব ক্রুস্টেক।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ওয়ানাক্রাই’ নামের পুরনো একটি ম্যালওয়্যারের নতুন কয়েকটি সংস্করণের মাধ্যমে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।

র‌্যানসমওয়্যার

র‌্যানসমওয়্যার হল এক ধরনের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ব্যবহারকারীর কাজে বাধা দেয় এবং অনেক সময় হার্ড ড্রাইভের তথ্য একটি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে।

এর ফলে ব্যবহারকারী ওই কম্পিউটার ব্যবহার করতে গেলে তার কাছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুক্তিপণ বা অর্থ দাবি করা হয়।

এ ধরনের ম্যালওয়্যার কম্পিউটার ওয়ার্ম বা ট্রোজান ভাইরাসের মত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জোসেফ পোপ নামের এক হ্যাকার ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মত র‌্যানসমওয়্যার তৈরি করেন যা ‘এইডস’ বা ‘পিসি সাইবর্গ’ নামে পরিচিতি পায়। ২০১৩ সালে র‌্যানসমওয়্যার ব্যবহার করে বিটকয়েন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের বেশ কিছু ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আসে।

ক্যাসপারেস্কি ল্যাবের গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিমের কস্টিন রাইয়ু বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে এক টুইটে জানান, ওই সময় পর্যন্ত ৭৪টি দেশে ৪৫ হাজারের বেশি কম্পিউটার এই র‌্যানসমওয়্যারের শিকার হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন তারা।

আর অ্যাভাস্টের ম্যালওয়্যার বিশেষজ্ঞ জ্যাকব ক্রুসটেক ৫৭ হাজার কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা জানান।

অচল হয়ে পড়েছে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের আইটি নেটওয়ার্ক: ছবি গার্ডিয়ডান

অচল হয়ে পড়েছে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের আইটি নেটওয়ার্ক: ছবি গার্ডিয়ডান
 

এই সাইবার হামলায় বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)।

যুক্তরাজ্যের অন্যতম এই রাষ্ট্রায়ত্ত চিকিৎসা সেবা ইউনিটের আইটি নেটওয়ার্ক আক্রান্ত হওয়ায় শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদের আওতাধীন হাসপাতাল ও ট্রাস্টগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যায়।

ফলে এসব হাসপাতালের কর্মীরা তাদের কম্পিউটারে রোগীদের তথ্য দেখতে পারছিলেন না। রোগীদের নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হাচ্ছিল।

কম্পিউটার সচল না থাকায় অনেক হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ছাড়া অন্য সব সেবা বন্ধ রাখতে হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সাক্ষাতের সূচিও বাতিল করা হয়।

এনএইচএস ডিজিটাল এক বিবৃতিতে জানায়, কেবল তারাই এ হামলার শিকার হয়নি। আরও বেশ কিছু সংস্থায় একই ধরনের র‌্যানসমওয়্যারের আক্রমণের খবর তাদের কাছে আছে।  

একই র‌্যানসমওয়্যারের শিকার হওয়ার খবর দিয়েছে বেশ কয়েকটি স্প্যানিশ কোম্পানি। টেলিকম খাতের বড় কোম্পানি টেলিফোনিকা এক বিবৃতিতে বলেছে, আক্রান্ত হলেও তাদের গ্রাহক সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে না।

স্পেনের জ্বালানি খাতের কোম্পানি ইবেরদ্রোলা ও গ্যাস ন্যাচারাল এই সাইবার হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব কোম্পানি তাদের কর্মীদের কম্পিউটার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলিভারি কোম্পানি ফেডএক্সও এই র‌্যানসমওয়্যারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাদের উইন্ডোজভিত্তিক কিছু কম্পিউটার এই ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে এবং দ্রুত এই জটিলতা তারা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

 

ইটালি থেকে এক টুইটার ব্যবহারকারী একটি ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে একটি ইউনিভার্সিটির ল্যাবে ‘ওয়ানাক্রাই’ আক্রান্ত কম্পিউটার দেখানো হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, এই র‌্যানসমওয়্যারে যেসব বিটকয়েন ওয়ালেটে মুক্তিপণের টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে, সেসব ওয়ালেটে মোটা টাকা জমা পড়ার খবর আসছে।

ব্রিটিশ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কেভিন বিউমন্টকে উদ্ধৃত করে বিবিসি লিখেছে, “এটি একটি বড় ধরনের সাইবার অ্যাটাক। এত দ্রুত ইউরোপের এত প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আমি আগে দেখিনি।”  

পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এমন গবেষকদের কেউ কেউ এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ-এর চুরি যাওয়া হ্যাকিং টুলের যোগাযোগ দেখতে পাচ্ছেন।  

তারা বলছেন, মাইক্রোসফট গত মার্চে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে একটি প্যাচ ছাড়লেও বিশ্বজুড়ে অনেক কম্পিউটারই হয়ত আপডেট করা হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে তথ্য ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশিদের সাফল্য

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের  তরুণ ঠিকাদার প্রবাসী বাংলাদেশি শেখ রহমান।

 

ত্রিশ বছর বয়সেই তিনি অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার টিমের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছেন। প্রায় বিশ জন প্রকৌশলীর একটি অটোমেশন দলের দায়িত্ব পালন করা শেখ রহমান বলেন, আমার টিমের বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশি। সবাই দক্ষতা ও সফলতার সাথে কাজ করছেন।

 

 যখনই কোন সুযোগ আসে আমি বাংলাদেশিদের নিয়োগ দেই। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইনফরমেশন টেকনোলজির উপর আমার আগ্রহ তৈরি হয় এবং এই বিষয়ে পড়াশুনা করি। এখন আমি বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা আমার জন্য গর্বের। শেখ রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে কয়েকশ’ বাংলাদেশি কাজ করছেন।

 

 শুধু হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে প্রায় ষাট থেকে সত্তরজন বাংলাদেশি আছেন। আমি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছি সেই কোম্পনিতে প্রায় ত্রিশজন বাংলাদেশি কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা মোহাম্মদ সাইদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা অত্যন্ত মেধাবী।

 

শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কয়েকশ’ বাংলাদেশি দক্ষতা ও সফলতার সাথে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন। ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে লিড হিসাবে কাজ করছেন মোহাম্মদ আজাদ। ছয় থেকে সাতজনের একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

 

 তিনি বলেন, আমার টিমে আমেরিকান, রাশ্যান, অফ্রিকানসহ বিভিন্ন দেশের প্রকৌশলীরা কাজ করেন। আবদুল্লা চৌধুরী কাজ করছেন পারফর্মেন্স ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। পনের জন প্রকৌশলীর এই দলনেতা বলেন, “সবার সাথে পাল্লা দেওয়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাজ করছি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে। এছাড়া তারিক আলম, মুকুল মোহসীন, তাজবীর আহমেদ, আবু মাহফুজ, আজাদ আহমেদ, কাজী রশীদ, মোহাম্মদ আলমসহ আরো অনেক তরুণ প্রজন্মের প্রকৌশলী ও স্থপতি কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টে।

 

 সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ডাটাবেজ ডেভেলপমেন্ট ও ম্যানেজম্যান্ট, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পারফর্মেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, টেস্টিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা  কাজ করে সাফল্য পাচ্ছেন। আয় করছেন পাঁচ থেকে ছয় অংকের বেতন। তরুণ এই প্রযুক্তবিদরা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে নতুন নতুন তথ্য ও প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করে তাদেরকে কাজের উপযুক্ত করে তোলার চেষ্টা করছি আমরা। শুধু প্রবাসে নয় দেশের উন্নয়নেও তারা যেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

 

গ্যালাক্সি এস-৮ নিয়েও গ্রাহকদের অভিযোগ

স্যামসাংয়ের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি এস-৮ বাজারে এসেছে মাত্র তিন দিন আগে। এরই মধ্যেই ফোনটি নিয়ে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। ডিভাইসটির পর্দায় লাল আভা দেখা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিভাইসটি হাতে পাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তাদের ডিভাইসের পর্দায় লাল আভা দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্যামসাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হার্ডওয়্যারজনিত কারণে এ সমস্যা হয়নি। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে নোট-৭ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। নোট-৭ নিয়ে ধকল কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা নিয়ে চলতি বছরের ২৯ মার্চ গ্যালাক্সি এস-৮ এবং এস-৮ প্লাস উন্মোচন করে স্যামসাং। আগে থেকেই প্রি-অর্ডার শুরু হলেও ২১ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাজারে আসে স্মার্টফোনটি।

তবে ডিভাইসটি বাজারে ছাড়ার পরপরই নতুন সমস্যা দেখা দেয় স্যামসাংয়ের সামনে। ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইসের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, এটি হার্ডওয়্যারের কোনো সমস্যা নয়। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এটি ঠিক করা সম্ভব। এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্যালাক্সি এস-৮ বাজারে ছাড়ার আগে বাড়তি নিরাপত্তা পরীক্ষা চালিয়েছে স্যামসাং। যাতে করে নোট-৭ এর মতো বিপর্যয়ে পড়তে না হয়। তারপরেও এ ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে গ্যালাক্সি এস-৮ এর সমস্যা সমাধান হয়, নাকি নোট ৭-এর পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বিজ্ঞান শিক্ষায় পাশ্চাত্যের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশের নারী

রতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের কম অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে আপনাকে নতুন করে ভাবতে হবে। আপনি যতটা ভাবছেন তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মেয়ে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা নিচ্ছে। একটা উদাহরণেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ ও রসায়ন বিভাগে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী মেয়ে। জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ও মেডিকেলে আশ্চর্যজনকভাবে এই সংখ্যা ৬০ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ মেয়ে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদে ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ও ১৪ শতাংশ শিক্ষক নারী। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগে এই হার যথাক্রমে ৪৭ শতাংশ ও ১৬ শতাংশ।


উপরে যে তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তার জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, মেয়েরা ভৌত বিজ্ঞানে ভালো করতে পারে না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। তারা বলছেন বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চেয়েও বেশি। পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেয়েরা শীর্ষস্থান অধিকার করছে। অনেক বাধা থাকার পরও গবেষণায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি মনোযোগী।


অত্যন্ত ভালো ফল করার পরও মেয়েরা তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে পদোন্নতি সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হয়। এছাড়াও প্রয়োজনীয় তহবিল না পাওয়া, পারিবার ও ক্যারিয়ারে ভারসাম্য, জেন্ডার বৈষম্য, সঠিক পরামর্শ দেওয়ার লোকের অভাব, বাচ্চার দেখাশোনা ব্যবস্থা না থাকা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় মেয়েদের আসার প্রধান বাধা।

 এমনকি পুরুষ সহকর্মীর সমকক্ষ প্রমাণে মেয়েদের দ্বিগুণ কাজ করতে হয়।বাংলাদেশের মেয়েদের এই অসাধারণ কৃতিত্ব কেন সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অজানা? এর পরও কেন ভ্রান্তভাবে মনে করা হয় মেয়েরা বিজ্ঞান শিক্ষার উপযোগী নয়?

স্টার্টআপদের এগিয়ে নিতে সাহস দিতে চাই: পলক

প্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে অর্থায়নসহ বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।  মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিসিসি অডিটোরিয়ামে ‘ডিজিটাল অপরচুনিটি ফর স্টাটআপ ইন আইসিটি ডিভিশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্টার্টআপদের সব উদ্যোগে সাহস ও সুযোগ দিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্টার্টআপদের সব উদ্যোগই সফল হবে তা নয়, ব্যর্থ হওয়ার পর যে সাহসটা দেওয়া দরকার সেই সাহসটাই দিতে চাই, ফেইল করলে সব শেষ হয় না। একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। এমন কোনো উদ্যোগ যা বিশ্বমানের, যা এখন নাই এমন কিছু সল্যুসন নিয়ে আসেন। সম্পূর্ণ ফান্ডিং যত রকমের সহযোগিতা লাগে আমরা দেব। ই-ইমিগ্রেশন, মিউনিসিপালিটি সিটিজেন সার্ভিস সিস্টেম, ই-কাস্টমস সার্ভিস সিঙ্গেল উইন্ডো ইত্যাদি এখন হাই প্রয়োরিটি। এগুলোর সল্যুসন নিয়ে আসেন, এগুলো আমাদের দরকার, আমাদের ফান্ড আছে, প্রজেক্ট আছে। মোবাইল গেইম ও আপ্লিকেশন তৈরিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এক হাজার ৫০টি মোবাইল গেইম ও অ্যাপ তৈরি করব, যারা অ্যাপ বা গেইম ডেভলপার যারা তাদের আইডিয়া প্রোডাক্ট হিসেবে নিয়ে আসতে চান, তাদের ফান্ড দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। বিভাগের ইনোভেশন ফান্ড থেকে স্টার্টআপদের ন্যূনতম ৩০ লাখ এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে পলক বলেন, দেশের ২৮টি হাইটেক পার্কে স্টার্টআপদের জন্য বিনামূল্য স্পেস দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ এর প্রধান নির্বাহী কামাল কাদির টেকনোলজ ইনোভেশনে দেশিয় স্টার্টআপদের যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় এবং সমাধানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, স্টার্টআপদের সব জায়গায় সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে সব আইডিয়া কাজ করে না। এখানে পুঁজির কোনো অভাব নেই, অভাব রয়েছে আস্থার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দেশিয় স্টার্টআপ উন্নয়নে সহযোগীতাকারী শাহানা শারমিন ও সাইফ কামাল। কর্মশালায় প্রায় ১২০টি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা অংশ নেন।

মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটরে যুক্ত হল বাংলা


অনুবাদ প্লাটফর্ম ‘মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর’-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। ‘বাংলাদেশ ও ভারত উপমহাদেশে বাংলা ভাষাভাষীদের সুবিধার্থে’ এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, “বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করেছি আমরা। বিশ্বের সব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ভাষার বৈচিত্র্য যেনো বিশ্বব্যাপি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না করে সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।”

“বিশ্বব্যাপি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিগতভাবে যেন মোবাইল ফার্স্ট-ক্লাউড ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অনায়াসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা নিশ্চিৎ করতেই আমাদের এ পদক্ষেপ।”- সোনিয়া যোগ করেন।

স্থানীয়রা, পর্যটক বা বিশ্বের যে কোনো মানুষ উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, কিন্ডল ও আইওএস ডিভাইসে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবে গিয়ে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর লাইভ ফিচারের মাধ্যমে নয়টি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা। গ্রাহক সহায়তা ও সেবা, ওয়েব লোকালাইজেশন বা স্থানীয়করণ, প্রশিক্ষণ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন প্লাটফর্মে মাইক্রোসফটের ট্রান্সলেটর টেক্সট এপিআই যুক্ত করতে পারবে, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা বলা হয়েছে।

সোনিয়া আরও বলেন, “প্লাটফর্মটিতে বাংলা ভাষা যুক্ত করার ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ, বাংলাদেশ এবং এ দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাবে। মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর-এ সমর্থনযোগ্য ৬০টিরও বেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় লিখিতভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন বাংলা ভাষাভাষীরা।”

ব্যক্তিগতভাবে বা যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহজেই কয়েকটি ভাষার সমন্বয়ে বিনামূল্যে ‘মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর ওয়েব উইজেট’ নিজেদের ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারবে। বিশ্বব্যাপি স্কাইপ ফর উইন্ডোজ ডেস্কটপ অ্যাপ এবং স্কাইপ ফর উইন্ডোজ ফর রিয়াল-টাইমের ইন্সট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া, ডেভেলপাররা তাদের নিজস্ব পণ্য বা অ্যাপে ডেভেলপার অপশন সমর্থনযোগ্য মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর এপিআই প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

গুগল হোম এবার যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার যুক্তরাজ্যে অবমুক্ত করা হচ্ছে ‘গুগল হোম’।  যুক্তরাজ্যের বাজারে স্মার্ট হোম অবমুক্তির ব্যাপারে সার্চ জায়ান্ট জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল থেকে স্থানীয় কিছু দোকানে পাওয়া যাবে এটি। বিট্রিশদের সুবিধায় এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ কিছু সুবিধা।

গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্পিকার অ্যাসিসটেন্ট উন্মুক্ত করে গুগল। বাসা বাড়িতে আর্টিফিসিয়েল ইন্টলিজ্যান্স প্রযুক্তির সুবিধা নাগালে আনতে এই প্রযুক্তির পণ্য তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্মার্ট হোম অ্যাসিসটেন্ট তৈরি করে গুগল।

এটি অ্যামাজনের অ্যালেক্সার প্রধান প্রতিদ্বন্দী।

গুগলের এই অ্যাসিসটেন্ট অ্যামাজনের ইকো’র মতো ব্যবহারকারীদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর সহ হোম লাইটের মতো সব স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এমনকি এটা অনুবাদের মাধ্যমে আবহাওয়া, ট্রাফিক আপডেট এবং বিবিস, গার্ডিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমের খবর দিতে সহায়তা করে।

এ বিষয়ে ব্লগ পোষ্টে গুগলের প্রোডাক্ট প্ল্যানিং পরিচালক সুভির কোঠারি বলেছেন, আমাদের  ন্যাচারাল লাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, মেশিন লার্নিং এবং ভয়েস রিকগনিশনের দক্ষতার যে সংযুক্তি রয়েছে তা ব্যবহারকারীর সাথে অ্যাসিসটেন্টকে বাস্তবের মতো ক্রিয়া করতে সাহায্য করবে।

এছাড়া অবশ্যই আমরা কিছু ব্রিটিশ বিষয় যুক্ত করেছি। এক্ষুণি তা পরীক্ষা করতে প্রশ্ন করতে পারো, যেমন এটার সখ কিংবা পছন্দের খাবার সম্পর্কে।
উল্লেখ্য, গুগল হোমের ইউএস ভার্সনটি বিতর্কিত হয় যখন এটা নতুন কোনো ফ্লিমের তথ্য দিতে শুরু করে।

যুক্তরাজ্যে বাসা বাড়িতে তারহীন সংযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলোর সমস্যার সমাধান দিতে টেক জায়ান্ট তাদের নিজস্ব ওয়াইফাই সেবাও চালু করছে সেখানে।

৬ এপ্রিল থেকে ১২৯ পাউন্ডে গুগল হোম এবং একই সময় থেকে গুগলের ওয়াইফা‌ই সেবাও  পাওয়া যাবে একই দামে।

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশই নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশই নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।ঢাকার একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ, সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

তারানা হালিম বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আমরা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেছি, তবে নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা তত এগিয়ে যাইনি। এখাতে আমাদের আরও কাজ করার জায়গা আছে।বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হলেও এর ২৩ শতাংশই অভিযোগ করেন না বলে জানান তিনি।

অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৬৮ লাখের মধ্যে ২১ শতাংশ ফেইসবুক, ৩৬ শতাংশ ইউটিউব ব্যবহার করেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শতকরা ৪৯ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থী অনলাইনে ‘সাইবার বুলিং’র শিকার হচ্ছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বয়সের মধ্যে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে, এই শক্তিকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

স্কুলগুলোতে নিরাপদ ইন্টারনেট সচেতনতা তৈরিতে ক্যাম্পিং করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) উদ্যোগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুইদিন ব্যাপী এ কর্মশালায় নয়টি পর্ব রয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে ‘সেইফ সার্ফিং ফর চিলড্রেন’ পর্বে ঢাকার ৮টি স্কুলের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় তারা ইন্টারনেট সার্ফিংয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা বললে সরাসরি তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

জুনে নকিয়ার নতুন ফ্ল্যাগশীপ ফোন

 

জুনে আসছে নকিয়ার ফ্ল্যাগশীপ ফোন

মাত্র কদিন আগেই পর্দা নামল স্পেনের বার্সেলোনার মোবাইল ওয়ার্ল্ড কঙগ্রেস ২০১৭’র। বৈশ্বিক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল এই সমাবেশে একসময়ের প্রভাবশালী মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড নকিয়া অংশগ্রহণ করে আবারও মানুষের মনে যায়গা করে নেয়।
 

মাত্র একটি নয়, এই ইভেন্টে একইসঙ্গে কয়েকটি হ্যান্ডসেটের মোড়ক খোলে নকিয়া। উন্মোচিত ফোনের তালিকায় থাকা মডেলগুলো নকিয়া ৩, নকিয়া ৫।

সেইসাথে তাদের বিগতবছরের অধিক জনপ্রিয় ফিচার ফোন নকিয়া ৩৩১০ পুনরায় অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু ব্র্যান্ডটির কোনো ফ্ল্যাগশীপ ফোন আছে কিনা তখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

তাই পুরনো এই হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের পুন:আগমনের খবরে সার্বজনীন ভক্তদের মনে যে ইচ্ছা বাসা বাঁধে, তা পুরণে এখন চারপাশ থেকে বেরিয়ে আসছে উড়োখবর।
সেই সমস্ত উড়োখবরে বলা হচ্ছে, ফিনল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোন এই জুনেই বাজারে ছাড়বে। আকৃতিগত দিক থেকে ফোনটির দুইটি সাইজ এবং মেমোরির দিক থেকেও ভিন্ন দুটি ভার্সন থাকছে। এছাড়া কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরে এটি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

চীনের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন জানানো হয়, নকিয়ার এই ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোনের ভিন্ন দুইটি মেমোরি হলো ৪ জিবি ৠাম এবং ৬ জিবি ৠাম।
গুজব খবরে আরো জানানো হয়, পণ্যটির বহিরাংশ মেটাল ডিজাইন এবং ২৩ এমপি মূল ক্যামেরা নিয়ে আসছে।

আর ভিন্ন দুইটি ফোনের মধ্যে একটিতে ডুয়্যাল ক্যামেরাও যুক্ত করা হয়েছে। তাই ফটোগ্রাফী যারা ভালবাসেন তাদের জন্য এটি উপযুক্ত একটি ডিভাইস হবে।
এসব তথ্যের পাশাপাশি মূল্য সম্পর্কেও আনুমানিক তথ্য প্রকাশ হয়েছে, যেমন ছোট আকৃতির মডেলটি চীনের মূল্যে ৪ হাজার এবং বড়টির মূল্য হবে সাড়ে ৮ হাজার ইউয়ান।

ফেইসবুকের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসছে সরকার

উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চলতি মাসেই ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসছে সরকার। মঙ্গলবার ঢাকার লো মেরিডিয়ান হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেইসবুক ও গুগলের সাথে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফেইসবুক তাদের কথামত কাজ করছে। আপত্তি উত্থাপনের পরই ফেইসবুক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দিচ্ছে। উসকানিমূলক, জঙ্গিবাদ ছড়ায়- এ ধরনের পেইজ তারা বন্ধ করেছেন।

আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। ফেইসবুকের অনুবাদকও রয়েছে, তাদের বুঝতে হবে কনটেন্টটা কী। তবে জঙ্গিবাদ ছড়ানো ফেইসবুক আইডিগুলোর অনেকগুলো ‘ফেইক’ (ভুয়া) থাকায় এর পেছনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তারানা হালিম। তিনি বলেন, সমস্যা হলো, যেগুলো ইউআরএল পাঠাতে হয় ওখানে (ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে), তার অনেকগুলো থাকে ফেইক (ভুয়া), তখন ওই ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। আইনের প্রয়োগ তখনই হবে, যখন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারব। এসব সমস্যা সমাধান করতে আলোচনার জন্য মার্চে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যাগুলো- উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ছড়ায় যে পেইজগুলো বা বিদেশ থেকে যেগুলো পরিচালিত হয়, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি। কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিজস্ব নীতিমালায় পরিচালিত হয়। সেখানে একটি অংশ থাকে যে, সেই নীতিমালাগুলো যেন কোনো রাষ্ট্রের আইনবিরোধী না হয়। এর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যেক দেশের সুবিধা হয়। এর কারণ হিসেবে তারানা হালিম বলেন, আমাদের নিজস্ব কিছু সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রয়েছে, কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে।

আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, কাজেই এই বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখে তাদের (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হয়। সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ণ করতে হবে এবং নীতিমালার জন্য প্রত্যেক দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তদারকি সেল থাকা উচিত বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। ওভার দ্য টপ সেবার সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা, সাইবার অপরাধ দমনে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভূমিকা, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে টেলিযোগাযোগ খাতের গৃহীত কৌশলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে।

দুবাইয়ের উড়ন্ত গাড়ি

মন করে উড়ু উড়ু। আচ্ছা বলুন তো, কার করে না? তা এমন বাঁধনহারা যদি আপনিও হতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? না না। পাখনা গজিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে না। কিন্তু যদি আপনার গাড়িই পথে নয়, আকাশে ওড়ে? ভাবছেন, পাগলের কাজকারবার। আবোল-তাবোল খেয়াল। তবে মনে রাখবেন, স্বপ্নও কিন্তু সত্যি হয়।   

ছবির মতো সুন্দর। যা বর্ণনায় কোনও বিশেষণ,… উপমা খাটে না। স্বপ্নের মতো। বা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। চোখ জুড়ানো। মন ভরানো। এমনই পিকচার পারফেক্ট দুবাই। সেখানকারই এ আশ্চর্য-কথন। একটা চার চাকা গাড়ি। তবে পথেঘাটে চলছে না। আসলে চলছেই না। এ গাড়ি উড়ছে। দুবাইয়ের নয়া স্পেশালিটি। যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়ি।


ই-হ্যাং ১৮৪, এই উড়ন্ত গাড়িটি চিনা মডেলের প্রতিরূপ। প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই গাড়ি। মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতা রয়েছে। উড়ন্ত গাড়িটি রিচার্জ করা যায় মাত্র দু ঘণ্টায়। টানা ৩০ মিনিটের পথ সহজেই পাড়ি দিতে পারে এই বিশেষ গাড়ি। এটি ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। চিনা ড্রোন নির্মাণকারী ই-হ্যাং সংস্থা তৈরি করেছে উড়ন্ত গাড়ি। এবছর জুলাই থেকেই সম্ভবত দুবাইয়ের আকাশে দেখা যাবে যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়ি

মোবাইলে ট্যাক্সি বুক করার দিনকালকেও পিছনে ফেলে, এ হল আল্ট্রা মডার্ন যুগ। কাজ সেরে, ব্যাগটি গুছিয়ে পৌছে বাইরে আসামাত্র, আকাশ থেকে নেমে আসবে আপনারই স্পেশাল বাহন। কোনও ড্রাইভারের বালাই নেই। সওয়ারিই শেষ কথা। এজন্য যে বিশেষ মগজমারি করতে হবে, তাও নয়।

গাড়িতে রয়েছে ব্যাগ রাখার আলাদা জায়গা। গাড়িতে বসার পর শুধু গন্তব্য বেছে নিয়ে তা সিলেক্ট করলেই টেক অফ প্রক্রিয়া শুরু। যে পথে গাড়ি উড়ে যাবে এবং কোথায় নামবে, সেই রুট ঠিক করে দিতে হবে। সামনে রাখা কম্পিউটার স্ক্রিনেই হাতের ছোঁয়ায় হাসিল সব কাজ। উড়ন্ত গাড়িটি নিয়ন্ত্রিত হবে রিমোটের মাধ্যমে, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে। গাড়িটিতে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর।

দুবাইয়ের ভয়ঙ্কর গরমে যাতে গাড়ির উড়ানে সমস্যা না হয়, সেজন্য এতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। পর্যটক টানতে ওস্তাদ দুবাইয়ে, এ এক নয়া আশ্চর্য আকর্ষণ। বুর্জ খলিফার শহরে, মন টানার আরেক পথ। বিশ্বের দীর্ঘতম টাওয়ার থেকে, উড়ি উড়ি বাড়ির দিকে পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চ, সে কী কখনও মুখে প্রকাশ করা যায়!

 

চালু হলো ভয়েস মেইল সার্ভিস

 বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো মোবাইল ফোনে ভয়েস মেইল সার্ভিস। এখন থেকে কল করে আর রিসিভের জন্য অপো করতে হবে না। প্রয়োজনীয় কথাটি রেকর্ড করে ব্যবহারকারীরা পাঠিয়ে দিতে পারবেন কাঙ্তি মোবাইল নম্বরে।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সেবাটির উদ্বোধন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গণভবন থেকে একটি ভয়েস মেইল পাঠিয়ে সেবাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ভয়েস মেইলে জয় বলেন, “বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভয়েস মেইল সার্ভিস চালু করার জন্য আমার অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা রইল।”
এ সময় জয় ছাড়াও ভয়েস মেইল পাঠান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

প্রথমবারের মতো এই সার্ভিস নিয়ে এসেছে টেলিফোন অপারেটর রবি। এছাড়াও টেলিটক থেকেও এ সেবা পাওয়া যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব  করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। এছাড়ও উপস্থিত ছিলেন রবির সিইও মাহতাব উদ্দিনসহ বিটিআরসি ও অন্যান্য মোবাইল অপারেটর কোম্পানির প্রতিনিধিরা।মাহতাব উদ্দিন জানান, এই সার্ভিসের জন্য বাড়তি চার্জ দিতে হবে না। একটি কল করতে যে চার্জ কাটতো, এখানেও সেই চার্জ করা হবে।

 

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তি নির্ভর দেশ: পলক

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কম্পিউটার কাউন্সিলে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রপ্রেনরশিপ ইন ডিজিটাল এজ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে প্রযুক্তি। তাই, এ খাতে দেশকে এগিয়ে রাখতে আমরা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি),গবেষণা সংস্থার সঙ্গে অধিক মাত্রায় পারস্পরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাই। কারণ, ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এই সরকারের আমলে তথ্য ও প্রযুক্তিসহ সব খাতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরবিচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আগামীর অভিনব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আমাদের এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন- এমআইটির কানেকশন সায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড এম শ্রেয়ার, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, অতিরিক্ত সচিব হারুনুর রশিদ ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আরা বেগম প্রমুখ।

অনলাইন বাজারগুলোতে মাসে ৬ লাখ টাকার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে

করতোয়া ডেস্ক, আয়েশার ছাত্রজীবন থেকেই ইচ্ছা ছিল ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষে দীর্ঘ পাঁচ বছর একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দিলেও নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বড় চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন তিনি। প্রথমে ছোট আকারে হ্যান্ডিক্রাফটের ব্যবসা শুরু করে নিজেকে ঝালিয়ে নেন আয়েশা। এরপর বড় আকারে অনলাইন শপিং সাইটে শুরু করেন ‘কাইট হাট’।

 ক্রেতাদের কাছাকাছি যেতে তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের সম্ভার রেখেছেন তার সাইটে। গ্রোসারি থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স এমনকি মেডিসিন ক্রয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে আয়েশার ‘কাইট হাট’। প্রায় দু’বছর ধরে নিজের ব্যবসা সাজাতে তিল তিল করে ঘাম ঝরাচ্ছেন পরিশ্রমী এই নারী উদ্যোক্তা। দুই কন্যার জননী আয়েশা সংসার সামলানোর পাশাপাশি সমান তালে সামলাচ্ছেন তার ‘কাইট হাট’।


‘ফিউশন বাই চৈতী’ নামক একটি ফেসবুক পেজ চালান চৈতী। নিজের ডিজাইন করা থ্রি-পিস ও শাড়ি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে তার এই প্রয়াস। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও নিজ পেশায় নিয়োজিত না হয়ে অনলাইন ব্যবসায়ের প্রতি ঝুঁকেছেন চৈতী। মাত্র ছয়মাস আগে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা তার এই অনলাইন ব্যবসার পুঁজি এখন দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখ টাকায়।


আয়েশা ও চৈতীর মতো অনেক নারী ইদানীং অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে জড়িত। বর্তমান যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ প্রযুক্তি নির্ভর। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ঘরের নারীরা। নারীরাও আজ প্রযুক্তি বান্ধব। অনলাইন ফ্যাশন হাউস, জুয়েলারি হাউসসহ নিত্যপণ্যের সম্ভার এখন অনলাইনে। ঘরে বসে কল করে কিংবা মেসেজ পাঠিয়ে পছন্দের পণ্যটি ক্রেতাদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিচ্ছে অনলাইন উদ্যোক্তারা।


অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্ণধারই নারী। এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত থেকে নারীরা ঘরে বসেই যেমন উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি ক্রেতারাও ঘরে বসে তাদের পণ্যটি বুঝে পাচ্ছেন। ই-কমার্স নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সভাপতি রাজিব আহমেদ।

 
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ই-কমার্স। এই সেক্টরে নারী উদ্যেক্তাদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তা আমাদের দেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। আরেকটি বিষয় হলো, অনলাইনভিত্তিক ক্রেতা হিসেবেও সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন নারীরা। ঢাকা শহরে মাত্র কয়েকটি মার্কেটে সীমাবদ্ধ। এই পরিসরে ক্রেতারা তাদের পছন্দের জিনিস অনেক সময় খুঁজে নাও পেতে পারেন। কিন্তু অনলাইন মার্কেটিং ও ফেসবুকের বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্যটি হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের তথ্য অনুযায়ী ৮ হাজার ফেসবুক পেজ, এরমধ্যে প্রায় ৫ হাজার পেজ চালান নারী উদ্যোক্তারা। প্রতিদিন গড়ে বিশ হাজার টাকা ও মাসে ৬ লাখ টাকার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে অনলাইন বাজারগুলোতে। ইক্যাবের তথ্যমতে, গত বছর এক হাজার কোটি টাকা ই-কমার্স সেক্টরে লেনদেন হয়েছে।’


যেসব ক্রেতা ভিন্ন ধরনের এক্সক্লুসিভ ব্লক ও প্রিন্টের থ্রী-পিস খুঁজছেন, তারা চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন ‘নুসরাতস অ্যাটায়ার্স’ পেজে। এই পেজের কর্ণধার নুসরাত জানান, ‘এ মাসের মাঝামাঝিতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বিভিন্ন পোশাকের ডিজাইন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ উদ্যোক্তা। জানালেন, ‘প্রথম দিকে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যেই অনলাইনের এই ব্যবসা চালু ছিল। কিন্তু দিন দিন তার গ্রাহক বা ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে ‘নুসরাতস অ্যাটায়ার্স’ পেজের লাইকারের সংখ্যাও।’


বর্তমানে নারীর ঝোঁক বাড়ছে অনলাইন ব্যবসায়ে। তথ্য প্রযুক্তির এই সম্ভাবনার যুগে নারীর পথচলা আরও সুগম হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) জনসংযোগ কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন। তিনি বললেন, ‘ই-কমার্স বর্তমানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। অনলাইন শপিং সাইটসহ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এখন অনেক নারী উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন। বর্তমানে বেসিসের তালিকাভুক্ত প্রায় দুই হাজার ফেসবুক পেজ আছে যার মধ্যে ধারণা করা যায় প্রায় তিন শ’ পেজ নারী উদ্যোক্তাদের।

 এছাড়া একহাজার অনলাইন শপিং সাইট আছে এগুলোর মধ্যে প্রায় দুশটি ওয়েবসাইট নিয়মিত চলছে। এখানেও অনেক নারী উদ্যোক্তা আছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। আমাদের দেশের অনেক নারী আছেন যারা ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি করতে পারছেন না কিন্তু তারা স্বাবলম্বী হতে চান। সেদিক থেকে ই-কমার্সের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ই-কমার্সের সুবিধা হলো- অল্প পুঁজিতে এমনকি বিনা পুঁজিতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ব্যবসা করা যায়। ই-কমার্স মেয়েদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। শুধু একটু ব্যবসায়িক জ্ঞান থাকলেই উন্নতি করা সম্ভব এ মাধ্যমে। ভবিষতে ই-কমার্স সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।’


উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনলাইনে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স সংশ্লিষ্টরা। বেচাকেনার জন্য নির্দিষ্ট সাইটগুলোর পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জমে উঠেছে এই কেনাবেচা। বিশেষ করে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন পেজ। আর তা থেকেই ক্রেতারা খুঁজে নিচ্ছেন পছন্দের পণ্য। উদ্যোক্তাদের মতে, নতুনদের পাশাপাশি বিশ্বের বড় মাপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করছে ফেসবুক। অল্প পুঁজিতে, এমনকি বিনা পুঁজিতে এ ব্যবসা করা যায়। ব্যবসা করতে লাগে না কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা পরিচালনা করা যায় ঘরে বসেই। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে এ মাধ্যমটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।


তবে ইদানিং অনলাইন কেনাকাটায় অনেকে আবার প্রতারণার ফাঁদেও পড়ছেন। ছবির পণ্যটির সঙ্গে বাস্তবের পণ্যটির মিল খুঁজে পাননি অনেক ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তারা যখন সেই পণ্যটি হাতে পাচ্ছেন তখন তাদের পছন্দের রঙের সঙ্গে ডেলিভারির পণ্যটির কোন সামঞ্জস্য খুঁজে পাননি। এছাড়া পণ্যের দাম নিয়েও রয়েছে ক্রেতার মনে সংশয়। অনেকের অভিযোগ অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো লোক ঠকিয়ে রোজগার করে।


ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে বরং তাদের আস্থা অর্জনে জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিলেন ই-ক্যাবের সভাপতি। তিনি বললেন, ‘যখন ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের ছবিটি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছে। তখন তাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে নির্দিষ্ট পণ্যের রং পনেরো-বিশ যেন না হয়। উনিশ-বিশ হলে সমস্যা নেই। এছাড়া, পণ্যের মূল্য বেশি হাঁকিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা লাভ করাকে এটাই স্বাভাবিক তবে লোক ঠকিয়ে যেন উদ্যোক্তারা লাভ না করে সেদিকে তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

ভারতে পুরস্কার জয় এটুআই’র

করতোয়া ডেস্ক : জাতীয় তথ্য বাতায়নের জন্য বাংলাদেশের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি পুরস্কৃত হয়েছে ভারতে। ভারতের ওপেন গ্রুপ ফোরাম বাংলাদেশ সরকারের এই কর্মসূচিকে ‘প্রেসিডেন্ট অ্যা ওয়ার্ড’ দিয়েছে। বুধবার ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত দ্য ওপেন গ্রুপ অ্যা ওয়ার্ড ফর ইনোভেশন এন্ড এক্সিলেন্স-২০১৭ প্রতিযোগিতায় এই পুরস্কার দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের মধ্য থেকে অন্য দুটি ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ ‘অ্যা ওয়ার্ড অব ডিসটিংশন’ পেয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্মসূচি সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের ৪৩,০০০ অফিসের ওয়েবসাইট তৈরি; অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য অফিস তথ্য ও সেবা ফ্রেমওয়ার্ক এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি তথ্য ও সেবা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিসহ বিভিন্ন ই-সেবা কার্যক্রম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাঠ পর্যায়ে চালিয়ে যাচ্ছে। আশরাফুল আলম জানান, পুরস্কার গ্রহণ শেষে কবির বিন আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সদিচ্ছার ফলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ্র স্বপ্ন সত্য হওয়া পথে।

সাইবার ক্যাফেসহ ৬৮ আইএসপি লাইসেন্স বাতিল

 নবায়ন না করায় সাইবার ক্যাফে ও ইন্টারনেট  সেবাদাতা ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল বুধবার বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নবায়নের আবেদন করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স অবৈধ ও অকার্যকর হয়েছে বলে জানায় বিটিআরসি। বিটিআরসি  থেকে ইস্যু করা ‘আইএসপি ইনক্লুডিং সাইবার ক্যাফে লাইসেন্স এর শর্তানুযায়ী আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করার বিধান রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের অধীনে সকল কার্যক্রম সম্পাদন অবৈধ এবং বাংলাদেশ  টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল প্রকার আইএসপি সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ  দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কমিশনের পাওনা বকেয়া আগামী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছে বিটিআরসি। বকেয়া পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় বিটিআরসি।লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠান: ম্যাট্রিক্স অনলাইন, গ্লোবাল সফট সাইবার ক্যাফে, ইউনিলিংক, এরিকসন টেকনোলিসি, এসএসএন টেকনোলসি, এএসকে নেট টেকনোলসি,নেটগেট অনলাইন, হাইটেক অনলাইন, এনএসএম সফটওয়্যার, অ্যাপপলো কম্পিউটার, সাইবার ওয়াল্ড লিংক, দি কম্পিউটার, টেকপার্ক, রিলায়েন্স নেটওয়ার্ক, স্টার কম্পিউটার এন্ড  নেটওয়ার্ক, সিলিকন, হাইলিংক কম্পিউটার, থ্রিজি  নেটওয়ার্ক  টেকনোলজি, অপটিক টেকনোলজি, ইন্টারপিড ইন্টারন্যাশনাল।ইজিনেট সিস্টেম, এম টেল, ফিউচার কমিউনিকেশন, ওয়াইড ম্যাক্স কমিউনিকেশন, প্রতিভা কম্পিউটার, স্পিডনেট সাইবার ক্যাফে, ফারহার সাইবার ক্যাফে, স্মার্ট সাইবার ক্যাফে, বিসনেেেসান, লিংক নেট। গ্লোবাস সাইবার ক্যাফে, আযিলা নেটওয়ার্ক, বাংলাস্পিড নেট, নেইন কমিউনিকেশন, ডিজাইন আইডিয়া, পল্ববী বিসনেস সার্ভিস, ঢাকা সিটি লিংক, নো ওয়্যার বিডি, এস এম কম্পিউটার ইন্সস্টিটিউট,মাইক্রো লিডস লিমিটেড, অনলাইন লিংক, গ্রিন কমিউনিকেশন এন্ড সাইবার ক্যাফে, চার্টাড কম্পিউটার, ডট কম, নেক্সস্ট নে কম্পিউটার, সাইবার ইন, গো ফাস্ট সাইবার ক্যাফে, নোভা সাইবার ক্যাফে, সিসিটি সাইবার ক্যাফে। নিউ ইয়াহু সাইবার ক্যাফে,  দেশ সাইবার ক্যাফে, ইসা সাইবার ক্যাফে, আলিফ ইনফোটেক, জিনিয়াস সাইবার নেট, ডলফিন সাইবার ক্যাফে, কম্পু মি, ইউনিক কম্পিউটার এডুকেশন, সাইবারে জান সাইবার ক্যাফে,  টেলিকম মিডিয়া সার্ভিস, সাইনোনাম সলুশন, লাইভস সাইবার ক্যাফে, এসডিওটি নেট সাইবার ক্যাফে, গাউসিয়া অনলাইন, রংপুর নেট, ইজন, বিবাড়িয়া নেট এবং লারিনযো।

 

টিভির ভিতর থেকে বেরিয়ে এল ‘ভূত’! ধরা পড়ল সিসিটিভি ক্যামেরায়

এলাকার একটি বড় ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে টিভি কিনতে ঢুকেছিলেন এক যুবতী। ওই শোরুমের সেল্‌সের দায়িত্বে থাকা যুবক এগিয়ে আসেন যুবতীকে দেখে। তার পর যুবতীর পছন্দ এবং বাজেট বুঝে শোরুমে থাকা টিভিগুলির দাম আর গুণাবলির বিরবণ দিতে থাকেন যুবক। শোরুমের এক পাশের দেওয়াল জুড়ে খান দশেক এলইডি স্ক্রিনে তখন নানা ধরনের চ্যানেলের নানা অনুষ্ঠান চলছে। হঠাত্ শোরুমের সবক’টি টিভিতে একই ছবি— গোটা মুখ লম্বা চুলে ঢাকা সাদা পোশাক পরা একটি মেয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে! এতে অবশ্য অবাক হননি টিভি কিনতে আসা ওই যুবতী। কারণ, তিনি জানতেন না এর পর কী হতে চলেছে। যুবতীর থেকে অনুমতি নিয়ে শোরুমের ‘সেল্‌সম্যান’ দোকানের ভেতরে চলে যেতেই দেওয়ালে টাঙানো একটি এলইডি টিভির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো টিভির ভেতরে বসে থাকা লম্বা চুলে মুখ ঢাকা সাদা পোশাক পরা মেয়েটি! নিজের চোখের ওপর বিশ্বাস হচ্ছিল না ওই যুবতীর! টিভির ভেতর থেকে…এ দিকে ‘ভূতুড়ে’ মেয়েটি সটান এগিয়ে আসছে তাঁরই দিকে। কোনও উপায় না দেখে যুবতী হুড়মুড়িয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে যান ওই ইলেক্ট্রনিক্স শোরুম থেকে। এই গোটা ব্যপারটাই ধরা পড়ে শোরুমের সিসিটিভি ফুটেজে। তবে শোরুমের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঠিক এমনই ঘটনা
ঘটতে দেখা গিয়েছে আরও অনেকেরই সঙ্গে! এই রকমই একটি ভিডিও ফুটেজ রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্ট হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন ভিডিওটি।
নিউ ইয়র্কের ওই ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে সে দিন যা ঘটেছিল:

ঘটনাটি ঘটেছে নিউ ইয়র্কের একটি ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে। ভাবছেন, কী করে ঘটল এমন একটা ‘ভূতুড়ে’ ব্যাপার? নিউ ইয়র্কের ব্যাস্ত রাস্তার উপরেই এই শোরুম। অথচ এমন একটা ঘটনার সাক্ষী হলেন একাধিক মানুষ! এ-ও কি সম্ভব!

এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স-এর প্রমোশন টিম তাদের পরবর্তী হরর ফিল্ম ‘রিংস্‌’-এর প্রচারের জন্য। ছবিটির ট্রেলার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে  দর্শকদের মধ্যে। ছবির প্রচারের এই অভিনব কায়দা নজর কেড়েছে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের। ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা এই হাড় কাঁপানো হরর ফিল্মটির। তার আগে দেখে নিন ঠিক কি ঘটেছিল নিউ ইয়র্কের ওই ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে। সঙ্গে রইল ‘রিংস্‌’-এর অফিসিয়াল ট্রেলারটিও।

ইন্টারনেটে ধীরগতি জানুয়ারি জুড়েই

সাবমেরিন কেবলের বিকল্প দুটি আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবলের মেরামত শেষ না হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেটে ধীর গতির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে।

জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে এর আগে আশা করা হলেও টাটা ইনডিকম ও ভারতী এয়ারটেলের আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) এখনও মেরামত হয়নি বলে ইন্টারনেট গেইটওয়ে কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘ভারতী এয়ারটেলের কেবল মেরামত কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। আর এ মাসের শেষ নাগাদ টাটা ইনডিকমের কেবল ঠিক হতে পারে।’ বাংলাদেশের দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে আসে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইথ, যা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটর প্রায় চার বছর ধরে প্রতিবেশী ভারত থেকে এই ব্যান্ডউইথ কিনে দেশে সরবরাহ করছে। এর বড় একটি অংশ টাটা ইনডিকম ও ভারতী এয়ারটেল দিচ্ছে বলে সুমন আহমেদ সাবির জানান। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিমও গ্রাহকদের সমস্যা নিয়ে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘ধীরগতি সমস্যা এ মাস পর্যন্ত চলবে।’ আইএসপিএবি এর আগে বলেছিল, কেবল কাটা পড়ায় বাংলাদেশের গ্রাহকদের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভুগতে হতে পরে।
২০১২ সালের আগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের জন্য একটি মাত্র সাবমেরিন কেবলের ওপর নির্ভর করত। ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে আইটিসি অপারেটরগুলো কাজ শুরু করে। এসব অপারেটর টেরেস্ট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। কোনো কারণে সাবমেরিন কেবল তিগ্রস্ত হলেও এই বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখতে পারে। চলতি বছরই একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-ইউ-৫ নামের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সেেেত্র বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইডথ পাবে বলে সরকার আশা করছে।

এবছর ১ কোটি গ্রাহক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য টেলিটকের : প্রতিমন্ত্রী

 আগামী এক বছরের মধ্যে রাজধানীতে এক কোটি গ্রাহক টেলিটকের নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে টেলিটক কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম।  বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে থেকে ভিডিও কনফেরেন্সের মাধ্যমে এক সঙ্গে টেলিটকের তিনটি কাস্টমার কেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

তারানা হালিম বলেন, যেকোনো মোবাইল ফোন কোম্পানির তুলনায় ঢাকা শহরে টেলিটকের নেটওয়ার্ক, ডাটা ও ভয়েস কোয়ালিটি সব থেকে ভালো। ঢাকা শহরে টেলিটকের এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আমরা ২০১৭ সালের মধ্যে এক কোটি গ্রাহক টেলিটক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তথ্য প্রযুক্তি আইনে আদিল-এলানের মামলা চলবে

তথ্য, প্রযুক্তি আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এএসএম নাসিরউদ্দিন এলানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতে এ মামলার বিচার চলতে আর কোনো বাধা রইল না বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। আদিল-এলানের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ খান। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অভিযান চালায়, তাতে ৬১ জন নিহত হয় বলে ডানপন্থিদের সমর্থনপুষ্ট অধিকারের এক প্রতিবেদনে বলা করা হয়। অধিকারের কাছে ‘নিহতদের’ নাম পরিচয় চেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও অধিকার তথ্য দিতে অস্বীকার করে। ওই বছরের ১০ আগস্ট আদিলকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। পরে আদিল জামিনে মুক্তি পান। আর সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুানাল এলানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে একই বছরের ৬ নভেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এলানও জামিনে মুক্তি পান।

মতিঝিলে হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতি, অসত্য তথ্য উপস্থাপন, ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে অধিকারের প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা এবং জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর মতো অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। মামলায় বলা হয়, ওই কাজের মধ্য দিয়ে তারা রাষ্ট্রের প্রতি ষড়যন্ত্র এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টে¤॥^র ঢাকার সিএমএম আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আশরাফুল আলম দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারায় অস্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিরও অভিযোগ আনা হয় আদিল ও এলানের বিরুদ্ধে। পরদিন ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহা মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম শামসুল আলম । দুই আসামি এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ আসে। সোমবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই আপিল খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

২০ জানুয়ারির আগে স্বাভাবিক হবে না ইন্টারনেটের গতি

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ধীর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপি)। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক  বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেব্ল (আইটিসি) অপারেটরদের ওপর নির্ভরশীল আইএসপি অপারেটরদের গ্রাহকেরা কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। আইটিসিগুলো ব্যান্ডউইডথ আমদানি করে ভারত থেকে। বাংলাদেশের আইটিসিগুলোকে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহকারী ভারতী এয়ারটেল ও টাটা ইনডিকমের কেব্ল কাটা পড়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস আসে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে। বাকি ২৮০ জিবিপিএসের বেশি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেব্ল (আইটিসি) অপারেটরদের মাধ্যমে ভারত থেকে আসে। অর্থাৎ মোট ব্যান্ডউইডথের ৭৫ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট আইটিসি দিয়েই আসে। তবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির তথ্যমতে, দেশে ৩০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিএসসিসিএল সরবরাহ করছে ১৭৭ জিবিপিএস। বাকিটা আমদানি করা হচ্ছে। যাঁরা বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করছেন, তাঁরা স্বাভাবিক গতির ইন্টারনেটই পাচ্ছেন।আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভারতের আইটুআই সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন কেব্ল, টাটা ইনডিকম কেব্ল (টিআইসি), ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিইউই) ফাইবার অপটিক কেব্ল তিনটি অকেজো থাকায় ভারত থেকে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না।

আইটুআই সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন কেব্ল দিয়ে ভারত সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত। এই কেব্লের মালিক ভারতের এয়ারটেল লিমিটেড। এই কেব্লে আট জোড়া ফাইবার রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে সেকেন্ডে ৮.৪ টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালন সম্ভব। কিন্তু চেন্নাইয়ের সমুদ্রতীর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কেব্লটি কাটা পড়ার কারণে গত ১৩ ডিসেম্বর রাত দুইটা থেকে সেটি অকেজো রয়েছে। টাটা ইনডিকম কেব্ল (টিআইসি) দিয়েও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সংযুক্ত রয়েছে, টাটা ইনডিকম ইন্ডিয়া-সিঙ্গাপুর কেব্ল সিস্টেম (টিআইআইএসসিএস) নামেও পরিচিত। এটি সেকেন্ডে ৫.১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ পরিবহনে সক্ষম। ৪ জানুয়ারি রাত একটা থেকে এই কেব্লটি অকেজো রয়েছে।ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিইউই) আরেকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফাইবার অপটিক কেব্ল দ্বারা ভারত মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত। এই কেব্লটিও এখন অকেজো। ফলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের ধীরগতি পাচ্ছেন। আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আইমিইউই কেব্ল এ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। আইটুআই কেব্লও ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ

ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় জানানো হয়েছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বর্তমান কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।  মঙ্গলবার কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ কথা জানানো হয়।

কমিটির সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় ২০১৬-তে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বিভাগের কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।কমিটিকে জানানো হয় বায়োমেট্্িরক্স ভেরিফেকেশন, অভিযোগ ব্যবস্থাাপনা টাস্কফোর্স এবং কোয়ালিটি অব সার্ভিস; বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানী কর্তৃক দেশকে দ্বিতীয় সাব মেরিন কেবলে সংযুক্ত করণ, ইন্টারনেট ব্যাবহারের মূল্য হ্রাসকরণ, ভারতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে ব্যান্ড উইথ লীজ প্রদানের উদ্যোগ এবং ব্যান্ড উইথ ব্যবহার বৃদ্ধি করাসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন সকল বিভাগের কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করার সুপারিশ করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব,তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব,বিটিআরসির চেয়ারম্যান,ডাক বিভাগের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 



Go Top