বিকাল ৪:১৪, শুক্রবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

স্যামসাংয়ের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ গ্যালাক্সি এস-৮ বাজারে এসেছে মাত্র তিন দিন আগে। এরই মধ্যেই ফোনটি নিয়ে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। ডিভাইসটির পর্দায় লাল আভা দেখা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিভাইসটি হাতে পাওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তাদের ডিভাইসের পর্দায় লাল আভা দেখা যাচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্যামসাং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হার্ডওয়্যারজনিত কারণে এ সমস্যা হয়নি। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে নোট-৭ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। নোট-৭ নিয়ে ধকল কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা নিয়ে চলতি বছরের ২৯ মার্চ গ্যালাক্সি এস-৮ এবং এস-৮ প্লাস উন্মোচন করে স্যামসাং। আগে থেকেই প্রি-অর্ডার শুরু হলেও ২১ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার বাজারে আসে স্মার্টফোনটি।

তবে ডিভাইসটি বাজারে ছাড়ার পরপরই নতুন সমস্যা দেখা দেয় স্যামসাংয়ের সামনে। ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইসের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছে, এটি হার্ডওয়্যারের কোনো সমস্যা নয়। সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এটি ঠিক করা সম্ভব। এ সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্যালাক্সি এস-৮ বাজারে ছাড়ার আগে বাড়তি নিরাপত্তা পরীক্ষা চালিয়েছে স্যামসাং। যাতে করে নোট-৭ এর মতো বিপর্যয়ে পড়তে না হয়। তারপরেও এ ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে গ্যালাক্সি এস-৮ এর সমস্যা সমাধান হয়, নাকি নোট ৭-এর পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বিজ্ঞান শিক্ষায় পাশ্চাত্যের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশের নারী

রতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের কম অংশগ্রহণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে আপনাকে নতুন করে ভাবতে হবে। আপনি যতটা ভাবছেন তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মেয়ে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা নিচ্ছে। একটা উদাহরণেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ ও রসায়ন বিভাগে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী মেয়ে। জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ও মেডিকেলে আশ্চর্যজনকভাবে এই সংখ্যা ৬০ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ মেয়ে। আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদে ২৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ও ১৪ শতাংশ শিক্ষক নারী। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগে এই হার যথাক্রমে ৪৭ শতাংশ ও ১৬ শতাংশ।


উপরে যে তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তার জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, মেয়েরা ভৌত বিজ্ঞানে ভালো করতে পারে না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। তারা বলছেন বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চেয়েও বেশি। পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জৈব বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেয়েরা শীর্ষস্থান অধিকার করছে। অনেক বাধা থাকার পরও গবেষণায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি মনোযোগী।


অত্যন্ত ভালো ফল করার পরও মেয়েরা তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে পদোন্নতি সব ক্ষেত্রেই মেয়েরা বৈষম্যের শিকার হয়। এছাড়াও প্রয়োজনীয় তহবিল না পাওয়া, পারিবার ও ক্যারিয়ারে ভারসাম্য, জেন্ডার বৈষম্য, সঠিক পরামর্শ দেওয়ার লোকের অভাব, বাচ্চার দেখাশোনা ব্যবস্থা না থাকা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশায় মেয়েদের আসার প্রধান বাধা।

 এমনকি পুরুষ সহকর্মীর সমকক্ষ প্রমাণে মেয়েদের দ্বিগুণ কাজ করতে হয়।বাংলাদেশের মেয়েদের এই অসাধারণ কৃতিত্ব কেন সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অজানা? এর পরও কেন ভ্রান্তভাবে মনে করা হয় মেয়েরা বিজ্ঞান শিক্ষার উপযোগী নয়?

স্টার্টআপদের এগিয়ে নিতে সাহস দিতে চাই: পলক

প্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে অর্থায়নসহ বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।  মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বিসিসি অডিটোরিয়ামে ‘ডিজিটাল অপরচুনিটি ফর স্টাটআপ ইন আইসিটি ডিভিশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্টার্টআপদের সব উদ্যোগে সাহস ও সুযোগ দিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পলক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্টার্টআপদের সব উদ্যোগই সফল হবে তা নয়, ব্যর্থ হওয়ার পর যে সাহসটা দেওয়া দরকার সেই সাহসটাই দিতে চাই, ফেইল করলে সব শেষ হয় না। একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। এমন কোনো উদ্যোগ যা বিশ্বমানের, যা এখন নাই এমন কিছু সল্যুসন নিয়ে আসেন। সম্পূর্ণ ফান্ডিং যত রকমের সহযোগিতা লাগে আমরা দেব। ই-ইমিগ্রেশন, মিউনিসিপালিটি সিটিজেন সার্ভিস সিস্টেম, ই-কাস্টমস সার্ভিস সিঙ্গেল উইন্ডো ইত্যাদি এখন হাই প্রয়োরিটি। এগুলোর সল্যুসন নিয়ে আসেন, এগুলো আমাদের দরকার, আমাদের ফান্ড আছে, প্রজেক্ট আছে। মোবাইল গেইম ও আপ্লিকেশন তৈরিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এক হাজার ৫০টি মোবাইল গেইম ও অ্যাপ তৈরি করব, যারা অ্যাপ বা গেইম ডেভলপার যারা তাদের আইডিয়া প্রোডাক্ট হিসেবে নিয়ে আসতে চান, তাদের ফান্ড দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। বিভাগের ইনোভেশন ফান্ড থেকে স্টার্টআপদের ন্যূনতম ৩০ লাখ এবং বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে পলক বলেন, দেশের ২৮টি হাইটেক পার্কে স্টার্টআপদের জন্য বিনামূল্য স্পেস দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ এর প্রধান নির্বাহী কামাল কাদির টেকনোলজ ইনোভেশনে দেশিয় স্টার্টআপদের যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় এবং সমাধানের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, স্টার্টআপদের সব জায়গায় সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে সব আইডিয়া কাজ করে না। এখানে পুঁজির কোনো অভাব নেই, অভাব রয়েছে আস্থার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দেশিয় স্টার্টআপ উন্নয়নে সহযোগীতাকারী শাহানা শারমিন ও সাইফ কামাল। কর্মশালায় প্রায় ১২০টি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা অংশ নেন।

মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটরে যুক্ত হল বাংলা


অনুবাদ প্লাটফর্ম ‘মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর’-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। ‘বাংলাদেশ ও ভারত উপমহাদেশে বাংলা ভাষাভাষীদের সুবিধার্থে’ এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, “বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর-এ বাংলা ভাষা যুক্ত করেছি আমরা। বিশ্বের সব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ভাষার বৈচিত্র্য যেনো বিশ্বব্যাপি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না করে সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।”

“বিশ্বব্যাপি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তিগতভাবে যেন মোবাইল ফার্স্ট-ক্লাউড ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অনায়াসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে তা নিশ্চিৎ করতেই আমাদের এ পদক্ষেপ।”- সোনিয়া যোগ করেন।

স্থানীয়রা, পর্যটক বা বিশ্বের যে কোনো মানুষ উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, কিন্ডল ও আইওএস ডিভাইসে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবে গিয়ে মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর লাইভ ফিচারের মাধ্যমে নয়টি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা। গ্রাহক সহায়তা ও সেবা, ওয়েব লোকালাইজেশন বা স্থানীয়করণ, প্রশিক্ষণ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিভিন্ন প্লাটফর্মে মাইক্রোসফটের ট্রান্সলেটর টেক্সট এপিআই যুক্ত করতে পারবে, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ-এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা বলা হয়েছে।

সোনিয়া আরও বলেন, “প্লাটফর্মটিতে বাংলা ভাষা যুক্ত করার ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশ, বাংলাদেশ এবং এ দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাবে। মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর-এ সমর্থনযোগ্য ৬০টিরও বেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় লিখিতভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন বাংলা ভাষাভাষীরা।”

ব্যক্তিগতভাবে বা যে কোনো প্রতিষ্ঠান সহজেই কয়েকটি ভাষার সমন্বয়ে বিনামূল্যে ‘মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর ওয়েব উইজেট’ নিজেদের ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারবে। বিশ্বব্যাপি স্কাইপ ফর উইন্ডোজ ডেস্কটপ অ্যাপ এবং স্কাইপ ফর উইন্ডোজ ফর রিয়াল-টাইমের ইন্সট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া, ডেভেলপাররা তাদের নিজস্ব পণ্য বা অ্যাপে ডেভেলপার অপশন সমর্থনযোগ্য মাইক্রোসফট ট্রান্সলেটর এপিআই প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

গুগল হোম এবার যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার যুক্তরাজ্যে অবমুক্ত করা হচ্ছে ‘গুগল হোম’।  যুক্তরাজ্যের বাজারে স্মার্ট হোম অবমুক্তির ব্যাপারে সার্চ জায়ান্ট জানিয়েছে, আগামী ৬ এপ্রিল থেকে স্থানীয় কিছু দোকানে পাওয়া যাবে এটি। বিট্রিশদের সুবিধায় এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ কিছু সুবিধা।

গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্পিকার অ্যাসিসটেন্ট উন্মুক্ত করে গুগল। বাসা বাড়িতে আর্টিফিসিয়েল ইন্টলিজ্যান্স প্রযুক্তির সুবিধা নাগালে আনতে এই প্রযুক্তির পণ্য তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্মার্ট হোম অ্যাসিসটেন্ট তৈরি করে গুগল।

এটি অ্যামাজনের অ্যালেক্সার প্রধান প্রতিদ্বন্দী।

গুগলের এই অ্যাসিসটেন্ট অ্যামাজনের ইকো’র মতো ব্যবহারকারীদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর সহ হোম লাইটের মতো সব স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এমনকি এটা অনুবাদের মাধ্যমে আবহাওয়া, ট্রাফিক আপডেট এবং বিবিস, গার্ডিয়ানের মতো সংবাদমাধ্যমের খবর দিতে সহায়তা করে।

এ বিষয়ে ব্লগ পোষ্টে গুগলের প্রোডাক্ট প্ল্যানিং পরিচালক সুভির কোঠারি বলেছেন, আমাদের  ন্যাচারাল লাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং, মেশিন লার্নিং এবং ভয়েস রিকগনিশনের দক্ষতার যে সংযুক্তি রয়েছে তা ব্যবহারকারীর সাথে অ্যাসিসটেন্টকে বাস্তবের মতো ক্রিয়া করতে সাহায্য করবে।

এছাড়া অবশ্যই আমরা কিছু ব্রিটিশ বিষয় যুক্ত করেছি। এক্ষুণি তা পরীক্ষা করতে প্রশ্ন করতে পারো, যেমন এটার সখ কিংবা পছন্দের খাবার সম্পর্কে।
উল্লেখ্য, গুগল হোমের ইউএস ভার্সনটি বিতর্কিত হয় যখন এটা নতুন কোনো ফ্লিমের তথ্য দিতে শুরু করে।

যুক্তরাজ্যে বাসা বাড়িতে তারহীন সংযোগ পেতে ব্যর্থ হওয়া মানুষগুলোর সমস্যার সমাধান দিতে টেক জায়ান্ট তাদের নিজস্ব ওয়াইফাই সেবাও চালু করছে সেখানে।

৬ এপ্রিল থেকে ১২৯ পাউন্ডে গুগল হোম এবং একই সময় থেকে গুগলের ওয়াইফা‌ই সেবাও  পাওয়া যাবে একই দামে।

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশই নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশই নানা ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।ঢাকার একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ, সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

তারানা হালিম বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আমরা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেছি, তবে নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা তত এগিয়ে যাইনি। এখাতে আমাদের আরও কাজ করার জায়গা আছে।বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৭৩ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হলেও এর ২৩ শতাংশই অভিযোগ করেন না বলে জানান তিনি।

অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ৬৮ লাখের মধ্যে ২১ শতাংশ ফেইসবুক, ৩৬ শতাংশ ইউটিউব ব্যবহার করেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শতকরা ৪৯ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থী অনলাইনে ‘সাইবার বুলিং’র শিকার হচ্ছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বয়সের মধ্যে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে, এই শক্তিকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

স্কুলগুলোতে নিরাপদ ইন্টারনেট সচেতনতা তৈরিতে ক্যাম্পিং করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) উদ্যোগ এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দুইদিন ব্যাপী এ কর্মশালায় নয়টি পর্ব রয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে ‘সেইফ সার্ফিং ফর চিলড্রেন’ পর্বে ঢাকার ৮টি স্কুলের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় তারা ইন্টারনেট সার্ফিংয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা বললে সরাসরি তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

জুনে নকিয়ার নতুন ফ্ল্যাগশীপ ফোন

 

জুনে আসছে নকিয়ার ফ্ল্যাগশীপ ফোন

মাত্র কদিন আগেই পর্দা নামল স্পেনের বার্সেলোনার মোবাইল ওয়ার্ল্ড কঙগ্রেস ২০১৭’র। বৈশ্বিক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল এই সমাবেশে একসময়ের প্রভাবশালী মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড নকিয়া অংশগ্রহণ করে আবারও মানুষের মনে যায়গা করে নেয়।
 

মাত্র একটি নয়, এই ইভেন্টে একইসঙ্গে কয়েকটি হ্যান্ডসেটের মোড়ক খোলে নকিয়া। উন্মোচিত ফোনের তালিকায় থাকা মডেলগুলো নকিয়া ৩, নকিয়া ৫।

সেইসাথে তাদের বিগতবছরের অধিক জনপ্রিয় ফিচার ফোন নকিয়া ৩৩১০ পুনরায় অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু ব্র্যান্ডটির কোনো ফ্ল্যাগশীপ ফোন আছে কিনা তখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

তাই পুরনো এই হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের পুন:আগমনের খবরে সার্বজনীন ভক্তদের মনে যে ইচ্ছা বাসা বাঁধে, তা পুরণে এখন চারপাশ থেকে বেরিয়ে আসছে উড়োখবর।
সেই সমস্ত উড়োখবরে বলা হচ্ছে, ফিনল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোন এই জুনেই বাজারে ছাড়বে। আকৃতিগত দিক থেকে ফোনটির দুইটি সাইজ এবং মেমোরির দিক থেকেও ভিন্ন দুটি ভার্সন থাকছে। এছাড়া কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরে এটি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

চীনের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন জানানো হয়, নকিয়ার এই ফ্ল্যাগশীপ স্মার্টফোনের ভিন্ন দুইটি মেমোরি হলো ৪ জিবি ৠাম এবং ৬ জিবি ৠাম।
গুজব খবরে আরো জানানো হয়, পণ্যটির বহিরাংশ মেটাল ডিজাইন এবং ২৩ এমপি মূল ক্যামেরা নিয়ে আসছে।

আর ভিন্ন দুইটি ফোনের মধ্যে একটিতে ডুয়্যাল ক্যামেরাও যুক্ত করা হয়েছে। তাই ফটোগ্রাফী যারা ভালবাসেন তাদের জন্য এটি উপযুক্ত একটি ডিভাইস হবে।
এসব তথ্যের পাশাপাশি মূল্য সম্পর্কেও আনুমানিক তথ্য প্রকাশ হয়েছে, যেমন ছোট আকৃতির মডেলটি চীনের মূল্যে ৪ হাজার এবং বড়টির মূল্য হবে সাড়ে ৮ হাজার ইউয়ান।

ফেইসবুকের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসছে সরকার

উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ এবং বিদেশ থেকে পরিচালিত আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চলতি মাসেই ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসছে সরকার। মঙ্গলবার ঢাকার লো মেরিডিয়ান হোটেলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: সাইবার অপরাধ, নিরাপদ ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন।


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফেইসবুক ও গুগলের সাথে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফেইসবুক তাদের কথামত কাজ করছে। আপত্তি উত্থাপনের পরই ফেইসবুক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দিচ্ছে। উসকানিমূলক, জঙ্গিবাদ ছড়ায়- এ ধরনের পেইজ তারা বন্ধ করেছেন।

আমরা অনেকটাই এগিয়ে গেছি। ফেইসবুকের অনুবাদকও রয়েছে, তাদের বুঝতে হবে কনটেন্টটা কী। তবে জঙ্গিবাদ ছড়ানো ফেইসবুক আইডিগুলোর অনেকগুলো ‘ফেইক’ (ভুয়া) থাকায় এর পেছনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করায় সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তারানা হালিম। তিনি বলেন, সমস্যা হলো, যেগুলো ইউআরএল পাঠাতে হয় ওখানে (ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে), তার অনেকগুলো থাকে ফেইক (ভুয়া), তখন ওই ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। আইনের প্রয়োগ তখনই হবে, যখন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারব। এসব সমস্যা সমাধান করতে আলোচনার জন্য মার্চে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যাগুলো- উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ছড়ায় যে পেইজগুলো বা বিদেশ থেকে যেগুলো পরিচালিত হয়, সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যেন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি। কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিজস্ব নীতিমালায় পরিচালিত হয়। সেখানে একটি অংশ থাকে যে, সেই নীতিমালাগুলো যেন কোনো রাষ্ট্রের আইনবিরোধী না হয়। এর যথাযথ বাস্তবায়ন হলে প্রত্যেক দেশের সুবিধা হয়। এর কারণ হিসেবে তারানা হালিম বলেন, আমাদের নিজস্ব কিছু সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রয়েছে, কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে।

আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ, কাজেই এই বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখে তাদের (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হয়। সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ণ করতে হবে এবং নীতিমালার জন্য প্রত্যেক দেশের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তদারকি সেল থাকা উচিত বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। ওভার দ্য টপ সেবার সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা, সাইবার অপরাধ দমনে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভূমিকা, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনে টেলিযোগাযোগ খাতের গৃহীত কৌশলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে।

দুবাইয়ের উড়ন্ত গাড়ি

মন করে উড়ু উড়ু। আচ্ছা বলুন তো, কার করে না? তা এমন বাঁধনহারা যদি আপনিও হতে পারেন, তাহলে কেমন হয়? না না। পাখনা গজিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে না। কিন্তু যদি আপনার গাড়িই পথে নয়, আকাশে ওড়ে? ভাবছেন, পাগলের কাজকারবার। আবোল-তাবোল খেয়াল। তবে মনে রাখবেন, স্বপ্নও কিন্তু সত্যি হয়।   

ছবির মতো সুন্দর। যা বর্ণনায় কোনও বিশেষণ,… উপমা খাটে না। স্বপ্নের মতো। বা স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। চোখ জুড়ানো। মন ভরানো। এমনই পিকচার পারফেক্ট দুবাই। সেখানকারই এ আশ্চর্য-কথন। একটা চার চাকা গাড়ি। তবে পথেঘাটে চলছে না। আসলে চলছেই না। এ গাড়ি উড়ছে। দুবাইয়ের নয়া স্পেশালিটি। যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়ি।


ই-হ্যাং ১৮৪, এই উড়ন্ত গাড়িটি চিনা মডেলের প্রতিরূপ। প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই গাড়ি। মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার ক্ষমতা রয়েছে। উড়ন্ত গাড়িটি রিচার্জ করা যায় মাত্র দু ঘণ্টায়। টানা ৩০ মিনিটের পথ সহজেই পাড়ি দিতে পারে এই বিশেষ গাড়ি। এটি ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। চিনা ড্রোন নির্মাণকারী ই-হ্যাং সংস্থা তৈরি করেছে উড়ন্ত গাড়ি। এবছর জুলাই থেকেই সম্ভবত দুবাইয়ের আকাশে দেখা যাবে যাত্রীবাহী উড়ন্ত গাড়ি

মোবাইলে ট্যাক্সি বুক করার দিনকালকেও পিছনে ফেলে, এ হল আল্ট্রা মডার্ন যুগ। কাজ সেরে, ব্যাগটি গুছিয়ে পৌছে বাইরে আসামাত্র, আকাশ থেকে নেমে আসবে আপনারই স্পেশাল বাহন। কোনও ড্রাইভারের বালাই নেই। সওয়ারিই শেষ কথা। এজন্য যে বিশেষ মগজমারি করতে হবে, তাও নয়।

গাড়িতে রয়েছে ব্যাগ রাখার আলাদা জায়গা। গাড়িতে বসার পর শুধু গন্তব্য বেছে নিয়ে তা সিলেক্ট করলেই টেক অফ প্রক্রিয়া শুরু। যে পথে গাড়ি উড়ে যাবে এবং কোথায় নামবে, সেই রুট ঠিক করে দিতে হবে। সামনে রাখা কম্পিউটার স্ক্রিনেই হাতের ছোঁয়ায় হাসিল সব কাজ। উড়ন্ত গাড়িটি নিয়ন্ত্রিত হবে রিমোটের মাধ্যমে, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে। গাড়িটিতে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর।

দুবাইয়ের ভয়ঙ্কর গরমে যাতে গাড়ির উড়ানে সমস্যা না হয়, সেজন্য এতে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। পর্যটক টানতে ওস্তাদ দুবাইয়ে, এ এক নয়া আশ্চর্য আকর্ষণ। বুর্জ খলিফার শহরে, মন টানার আরেক পথ। বিশ্বের দীর্ঘতম টাওয়ার থেকে, উড়ি উড়ি বাড়ির দিকে পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চ, সে কী কখনও মুখে প্রকাশ করা যায়!

 

চালু হলো ভয়েস মেইল সার্ভিস

 বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো মোবাইল ফোনে ভয়েস মেইল সার্ভিস। এখন থেকে কল করে আর রিসিভের জন্য অপো করতে হবে না। প্রয়োজনীয় কথাটি রেকর্ড করে ব্যবহারকারীরা পাঠিয়ে দিতে পারবেন কাঙ্তি মোবাইল নম্বরে।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সেবাটির উদ্বোধন হয়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গণভবন থেকে একটি ভয়েস মেইল পাঠিয়ে সেবাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ভয়েস মেইলে জয় বলেন, “বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভয়েস মেইল সার্ভিস চালু করার জন্য আমার অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা রইল।”
এ সময় জয় ছাড়াও ভয়েস মেইল পাঠান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

প্রথমবারের মতো এই সার্ভিস নিয়ে এসেছে টেলিফোন অপারেটর রবি। এছাড়াও টেলিটক থেকেও এ সেবা পাওয়া যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব  করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। এছাড়ও উপস্থিত ছিলেন রবির সিইও মাহতাব উদ্দিনসহ বিটিআরসি ও অন্যান্য মোবাইল অপারেটর কোম্পানির প্রতিনিধিরা।মাহতাব উদ্দিন জানান, এই সার্ভিসের জন্য বাড়তি চার্জ দিতে হবে না। একটি কল করতে যে চার্জ কাটতো, এখানেও সেই চার্জ করা হবে।

 

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তি নির্ভর দেশ: পলক

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কম্পিউটার কাউন্সিলে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রপ্রেনরশিপ ইন ডিজিটাল এজ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে প্রযুক্তি। তাই, এ খাতে দেশকে এগিয়ে রাখতে আমরা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি),গবেষণা সংস্থার সঙ্গে অধিক মাত্রায় পারস্পরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাই। কারণ, ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এই সরকারের আমলে তথ্য ও প্রযুক্তিসহ সব খাতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরবিচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য এবং সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আগামীর অভিনব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আমাদের এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন- এমআইটির কানেকশন সায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড এম শ্রেয়ার, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, অতিরিক্ত সচিব হারুনুর রশিদ ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আরা বেগম প্রমুখ।

অনলাইন বাজারগুলোতে মাসে ৬ লাখ টাকার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে

করতোয়া ডেস্ক, আয়েশার ছাত্রজীবন থেকেই ইচ্ছা ছিল ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষে দীর্ঘ পাঁচ বছর একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দিলেও নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। ই-কমার্সের মাধ্যমে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বড় চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন তিনি। প্রথমে ছোট আকারে হ্যান্ডিক্রাফটের ব্যবসা শুরু করে নিজেকে ঝালিয়ে নেন আয়েশা। এরপর বড় আকারে অনলাইন শপিং সাইটে শুরু করেন ‘কাইট হাট’।

 ক্রেতাদের কাছাকাছি যেতে তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের সম্ভার রেখেছেন তার সাইটে। গ্রোসারি থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স এমনকি মেডিসিন ক্রয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে আয়েশার ‘কাইট হাট’। প্রায় দু’বছর ধরে নিজের ব্যবসা সাজাতে তিল তিল করে ঘাম ঝরাচ্ছেন পরিশ্রমী এই নারী উদ্যোক্তা। দুই কন্যার জননী আয়েশা সংসার সামলানোর পাশাপাশি সমান তালে সামলাচ্ছেন তার ‘কাইট হাট’।


‘ফিউশন বাই চৈতী’ নামক একটি ফেসবুক পেজ চালান চৈতী। নিজের ডিজাইন করা থ্রি-পিস ও শাড়ি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে তার এই প্রয়াস। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও নিজ পেশায় নিয়োজিত না হয়ে অনলাইন ব্যবসায়ের প্রতি ঝুঁকেছেন চৈতী। মাত্র ছয়মাস আগে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা তার এই অনলাইন ব্যবসার পুঁজি এখন দাঁড়িয়েছে আড়াই লাখ টাকায়।


আয়েশা ও চৈতীর মতো অনেক নারী ইদানীং অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে ওতোপ্রতভাবে জড়িত। বর্তমান যান্ত্রিক কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আজ প্রযুক্তি নির্ভর। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ঘরের নারীরা। নারীরাও আজ প্রযুক্তি বান্ধব। অনলাইন ফ্যাশন হাউস, জুয়েলারি হাউসসহ নিত্যপণ্যের সম্ভার এখন অনলাইনে। ঘরে বসে কল করে কিংবা মেসেজ পাঠিয়ে পছন্দের পণ্যটি ক্রেতাদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিচ্ছে অনলাইন উদ্যোক্তারা।


অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্ণধারই নারী। এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত থেকে নারীরা ঘরে বসেই যেমন উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন তেমনি ক্রেতারাও ঘরে বসে তাদের পণ্যটি বুঝে পাচ্ছেন। ই-কমার্স নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন ই-কমার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সভাপতি রাজিব আহমেদ।

 
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ই-কমার্স। এই সেক্টরে নারী উদ্যেক্তাদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তা আমাদের দেশের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। আরেকটি বিষয় হলো, অনলাইনভিত্তিক ক্রেতা হিসেবেও সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন নারীরা। ঢাকা শহরে মাত্র কয়েকটি মার্কেটে সীমাবদ্ধ। এই পরিসরে ক্রেতারা তাদের পছন্দের জিনিস অনেক সময় খুঁজে নাও পেতে পারেন। কিন্তু অনলাইন মার্কেটিং ও ফেসবুকের বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্যটি হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের তথ্য অনুযায়ী ৮ হাজার ফেসবুক পেজ, এরমধ্যে প্রায় ৫ হাজার পেজ চালান নারী উদ্যোক্তারা। প্রতিদিন গড়ে বিশ হাজার টাকা ও মাসে ৬ লাখ টাকার পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে অনলাইন বাজারগুলোতে। ইক্যাবের তথ্যমতে, গত বছর এক হাজার কোটি টাকা ই-কমার্স সেক্টরে লেনদেন হয়েছে।’


যেসব ক্রেতা ভিন্ন ধরনের এক্সক্লুসিভ ব্লক ও প্রিন্টের থ্রী-পিস খুঁজছেন, তারা চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন ‘নুসরাতস অ্যাটায়ার্স’ পেজে। এই পেজের কর্ণধার নুসরাত জানান, ‘এ মাসের মাঝামাঝিতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বিভিন্ন পোশাকের ডিজাইন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ উদ্যোক্তা। জানালেন, ‘প্রথম দিকে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যেই অনলাইনের এই ব্যবসা চালু ছিল। কিন্তু দিন দিন তার গ্রাহক বা ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে ‘নুসরাতস অ্যাটায়ার্স’ পেজের লাইকারের সংখ্যাও।’


বর্তমানে নারীর ঝোঁক বাড়ছে অনলাইন ব্যবসায়ে। তথ্য প্রযুক্তির এই সম্ভাবনার যুগে নারীর পথচলা আরও সুগম হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) জনসংযোগ কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন। তিনি বললেন, ‘ই-কমার্স বর্তমানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুফল বয়ে এনেছে। অনলাইন শপিং সাইটসহ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে এখন অনেক নারী উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন। বর্তমানে বেসিসের তালিকাভুক্ত প্রায় দুই হাজার ফেসবুক পেজ আছে যার মধ্যে ধারণা করা যায় প্রায় তিন শ’ পেজ নারী উদ্যোক্তাদের।

 এছাড়া একহাজার অনলাইন শপিং সাইট আছে এগুলোর মধ্যে প্রায় দুশটি ওয়েবসাইট নিয়মিত চলছে। এখানেও অনেক নারী উদ্যোক্তা আছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। আমাদের দেশের অনেক নারী আছেন যারা ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি করতে পারছেন না কিন্তু তারা স্বাবলম্বী হতে চান। সেদিক থেকে ই-কমার্সের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ই-কমার্সের সুবিধা হলো- অল্প পুঁজিতে এমনকি বিনা পুঁজিতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ব্যবসা করা যায়। ই-কমার্স মেয়েদের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। শুধু একটু ব্যবসায়িক জ্ঞান থাকলেই উন্নতি করা সম্ভব এ মাধ্যমে। ভবিষতে ই-কমার্স সেক্টরে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।’


উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি অনলাইনে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স সংশ্লিষ্টরা। বেচাকেনার জন্য নির্দিষ্ট সাইটগুলোর পাশাপাশি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জমে উঠেছে এই কেনাবেচা। বিশেষ করে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন পেজ। আর তা থেকেই ক্রেতারা খুঁজে নিচ্ছেন পছন্দের পণ্য। উদ্যোক্তাদের মতে, নতুনদের পাশাপাশি বিশ্বের বড় মাপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের পণ্যের প্রচারে ব্যবহার করছে ফেসবুক। অল্প পুঁজিতে, এমনকি বিনা পুঁজিতে এ ব্যবসা করা যায়। ব্যবসা করতে লাগে না কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা পরিচালনা করা যায় ঘরে বসেই। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে এ মাধ্যমটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।


তবে ইদানিং অনলাইন কেনাকাটায় অনেকে আবার প্রতারণার ফাঁদেও পড়ছেন। ছবির পণ্যটির সঙ্গে বাস্তবের পণ্যটির মিল খুঁজে পাননি অনেক ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, হোম ডেলিভারির মাধ্যমে তারা যখন সেই পণ্যটি হাতে পাচ্ছেন তখন তাদের পছন্দের রঙের সঙ্গে ডেলিভারির পণ্যটির কোন সামঞ্জস্য খুঁজে পাননি। এছাড়া পণ্যের দাম নিয়েও রয়েছে ক্রেতার মনে সংশয়। অনেকের অভিযোগ অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো লোক ঠকিয়ে রোজগার করে।


ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে বরং তাদের আস্থা অর্জনে জন্য উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিলেন ই-ক্যাবের সভাপতি। তিনি বললেন, ‘যখন ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের ছবিটি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছে। তখন তাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে নির্দিষ্ট পণ্যের রং পনেরো-বিশ যেন না হয়। উনিশ-বিশ হলে সমস্যা নেই। এছাড়া, পণ্যের মূল্য বেশি হাঁকিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা লাভ করাকে এটাই স্বাভাবিক তবে লোক ঠকিয়ে যেন উদ্যোক্তারা লাভ না করে সেদিকে তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

ভারতে পুরস্কার জয় এটুআই’র

করতোয়া ডেস্ক : জাতীয় তথ্য বাতায়নের জন্য বাংলাদেশের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি পুরস্কৃত হয়েছে ভারতে। ভারতের ওপেন গ্রুপ ফোরাম বাংলাদেশ সরকারের এই কর্মসূচিকে ‘প্রেসিডেন্ট অ্যা ওয়ার্ড’ দিয়েছে। বুধবার ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত দ্য ওপেন গ্রুপ অ্যা ওয়ার্ড ফর ইনোভেশন এন্ড এক্সিলেন্স-২০১৭ প্রতিযোগিতায় এই পুরস্কার দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের মধ্য থেকে অন্য দুটি ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ ‘অ্যা ওয়ার্ড অব ডিসটিংশন’ পেয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্মসূচি সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নের ৪৩,০০০ অফিসের ওয়েবসাইট তৈরি; অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য অফিস তথ্য ও সেবা ফ্রেমওয়ার্ক এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি তথ্য ও সেবা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিসহ বিভিন্ন ই-সেবা কার্যক্রম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাঠ পর্যায়ে চালিয়ে যাচ্ছে। আশরাফুল আলম জানান, পুরস্কার গ্রহণ শেষে কবির বিন আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সদিচ্ছার ফলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ্র স্বপ্ন সত্য হওয়া পথে।

সাইবার ক্যাফেসহ ৬৮ আইএসপি লাইসেন্স বাতিল

 নবায়ন না করায় সাইবার ক্যাফে ও ইন্টারনেট  সেবাদাতা ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল বুধবার বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসব প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নবায়নের আবেদন করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স অবৈধ ও অকার্যকর হয়েছে বলে জানায় বিটিআরসি। বিটিআরসি  থেকে ইস্যু করা ‘আইএসপি ইনক্লুডিং সাইবার ক্যাফে লাইসেন্স এর শর্তানুযায়ী আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করার বিধান রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের অধীনে সকল কার্যক্রম সম্পাদন অবৈধ এবং বাংলাদেশ  টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল প্রকার আইএসপি সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ  দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কমিশনের পাওনা বকেয়া আগামী এক মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছে বিটিআরসি। বকেয়া পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় বিটিআরসি।লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠান: ম্যাট্রিক্স অনলাইন, গ্লোবাল সফট সাইবার ক্যাফে, ইউনিলিংক, এরিকসন টেকনোলিসি, এসএসএন টেকনোলসি, এএসকে নেট টেকনোলসি,নেটগেট অনলাইন, হাইটেক অনলাইন, এনএসএম সফটওয়্যার, অ্যাপপলো কম্পিউটার, সাইবার ওয়াল্ড লিংক, দি কম্পিউটার, টেকপার্ক, রিলায়েন্স নেটওয়ার্ক, স্টার কম্পিউটার এন্ড  নেটওয়ার্ক, সিলিকন, হাইলিংক কম্পিউটার, থ্রিজি  নেটওয়ার্ক  টেকনোলজি, অপটিক টেকনোলজি, ইন্টারপিড ইন্টারন্যাশনাল।ইজিনেট সিস্টেম, এম টেল, ফিউচার কমিউনিকেশন, ওয়াইড ম্যাক্স কমিউনিকেশন, প্রতিভা কম্পিউটার, স্পিডনেট সাইবার ক্যাফে, ফারহার সাইবার ক্যাফে, স্মার্ট সাইবার ক্যাফে, বিসনেেেসান, লিংক নেট। গ্লোবাস সাইবার ক্যাফে, আযিলা নেটওয়ার্ক, বাংলাস্পিড নেট, নেইন কমিউনিকেশন, ডিজাইন আইডিয়া, পল্ববী বিসনেস সার্ভিস, ঢাকা সিটি লিংক, নো ওয়্যার বিডি, এস এম কম্পিউটার ইন্সস্টিটিউট,মাইক্রো লিডস লিমিটেড, অনলাইন লিংক, গ্রিন কমিউনিকেশন এন্ড সাইবার ক্যাফে, চার্টাড কম্পিউটার, ডট কম, নেক্সস্ট নে কম্পিউটার, সাইবার ইন, গো ফাস্ট সাইবার ক্যাফে, নোভা সাইবার ক্যাফে, সিসিটি সাইবার ক্যাফে। নিউ ইয়াহু সাইবার ক্যাফে,  দেশ সাইবার ক্যাফে, ইসা সাইবার ক্যাফে, আলিফ ইনফোটেক, জিনিয়াস সাইবার নেট, ডলফিন সাইবার ক্যাফে, কম্পু মি, ইউনিক কম্পিউটার এডুকেশন, সাইবারে জান সাইবার ক্যাফে,  টেলিকম মিডিয়া সার্ভিস, সাইনোনাম সলুশন, লাইভস সাইবার ক্যাফে, এসডিওটি নেট সাইবার ক্যাফে, গাউসিয়া অনলাইন, রংপুর নেট, ইজন, বিবাড়িয়া নেট এবং লারিনযো।

 

টিভির ভিতর থেকে বেরিয়ে এল ‘ভূত’! ধরা পড়ল সিসিটিভি ক্যামেরায়

এলাকার একটি বড় ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে টিভি কিনতে ঢুকেছিলেন এক যুবতী। ওই শোরুমের সেল্‌সের দায়িত্বে থাকা যুবক এগিয়ে আসেন যুবতীকে দেখে। তার পর যুবতীর পছন্দ এবং বাজেট বুঝে শোরুমে থাকা টিভিগুলির দাম আর গুণাবলির বিরবণ দিতে থাকেন যুবক। শোরুমের এক পাশের দেওয়াল জুড়ে খান দশেক এলইডি স্ক্রিনে তখন নানা ধরনের চ্যানেলের নানা অনুষ্ঠান চলছে। হঠাত্ শোরুমের সবক’টি টিভিতে একই ছবি— গোটা মুখ লম্বা চুলে ঢাকা সাদা পোশাক পরা একটি মেয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে! এতে অবশ্য অবাক হননি টিভি কিনতে আসা ওই যুবতী। কারণ, তিনি জানতেন না এর পর কী হতে চলেছে। যুবতীর থেকে অনুমতি নিয়ে শোরুমের ‘সেল্‌সম্যান’ দোকানের ভেতরে চলে যেতেই দেওয়ালে টাঙানো একটি এলইডি টিভির ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো টিভির ভেতরে বসে থাকা লম্বা চুলে মুখ ঢাকা সাদা পোশাক পরা মেয়েটি! নিজের চোখের ওপর বিশ্বাস হচ্ছিল না ওই যুবতীর! টিভির ভেতর থেকে…এ দিকে ‘ভূতুড়ে’ মেয়েটি সটান এগিয়ে আসছে তাঁরই দিকে। কোনও উপায় না দেখে যুবতী হুড়মুড়িয়ে দৌড়ে বেড়িয়ে যান ওই ইলেক্ট্রনিক্স শোরুম থেকে। এই গোটা ব্যপারটাই ধরা পড়ে শোরুমের সিসিটিভি ফুটেজে। তবে শোরুমের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঠিক এমনই ঘটনা
ঘটতে দেখা গিয়েছে আরও অনেকেরই সঙ্গে! এই রকমই একটি ভিডিও ফুটেজ রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্ট হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন ভিডিওটি।
নিউ ইয়র্কের ওই ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে সে দিন যা ঘটেছিল:

ঘটনাটি ঘটেছে নিউ ইয়র্কের একটি ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে। ভাবছেন, কী করে ঘটল এমন একটা ‘ভূতুড়ে’ ব্যাপার? নিউ ইয়র্কের ব্যাস্ত রাস্তার উপরেই এই শোরুম। অথচ এমন একটা ঘটনার সাক্ষী হলেন একাধিক মানুষ! এ-ও কি সম্ভব!

এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স-এর প্রমোশন টিম তাদের পরবর্তী হরর ফিল্ম ‘রিংস্‌’-এর প্রচারের জন্য। ছবিটির ট্রেলার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে  দর্শকদের মধ্যে। ছবির প্রচারের এই অভিনব কায়দা নজর কেড়েছে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের। ১ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার কথা এই হাড় কাঁপানো হরর ফিল্মটির। তার আগে দেখে নিন ঠিক কি ঘটেছিল নিউ ইয়র্কের ওই ইলেক্ট্রনিক্সের শোরুমে। সঙ্গে রইল ‘রিংস্‌’-এর অফিসিয়াল ট্রেলারটিও।

ইন্টারনেটে ধীরগতি জানুয়ারি জুড়েই

সাবমেরিন কেবলের বিকল্প দুটি আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবলের মেরামত শেষ না হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেটে ধীর গতির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে।

জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে এর আগে আশা করা হলেও টাটা ইনডিকম ও ভারতী এয়ারটেলের আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) এখনও মেরামত হয়নি বলে ইন্টারনেট গেইটওয়ে কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘ভারতী এয়ারটেলের কেবল মেরামত কাজ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে পারে। আর এ মাসের শেষ নাগাদ টাটা ইনডিকমের কেবল ঠিক হতে পারে।’ বাংলাদেশের দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে আসে। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইথ, যা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটর প্রায় চার বছর ধরে প্রতিবেশী ভারত থেকে এই ব্যান্ডউইথ কিনে দেশে সরবরাহ করছে। এর বড় একটি অংশ টাটা ইনডিকম ও ভারতী এয়ারটেল দিচ্ছে বলে সুমন আহমেদ সাবির জানান। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিমও গ্রাহকদের সমস্যা নিয়ে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘ধীরগতি সমস্যা এ মাস পর্যন্ত চলবে।’ আইএসপিএবি এর আগে বলেছিল, কেবল কাটা পড়ায় বাংলাদেশের গ্রাহকদের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভুগতে হতে পরে।
২০১২ সালের আগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের জন্য একটি মাত্র সাবমেরিন কেবলের ওপর নির্ভর করত। ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে আইটিসি অপারেটরগুলো কাজ শুরু করে। এসব অপারেটর টেরেস্ট্রিয়াল অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের মাধ্যমে ভারতীয় বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। কোনো কারণে সাবমেরিন কেবল তিগ্রস্ত হলেও এই বিকল্প ব্যবস্থায় তারা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখতে পারে। চলতি বছরই একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-ইউ-৫ নামের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সেেেত্র বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইডথ পাবে বলে সরকার আশা করছে।

এবছর ১ কোটি গ্রাহক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য টেলিটকের : প্রতিমন্ত্রী

 আগামী এক বছরের মধ্যে রাজধানীতে এক কোটি গ্রাহক টেলিটকের নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে টেলিটক কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম।  বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে থেকে ভিডিও কনফেরেন্সের মাধ্যমে এক সঙ্গে টেলিটকের তিনটি কাস্টমার কেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

তারানা হালিম বলেন, যেকোনো মোবাইল ফোন কোম্পানির তুলনায় ঢাকা শহরে টেলিটকের নেটওয়ার্ক, ডাটা ও ভয়েস কোয়ালিটি সব থেকে ভালো। ঢাকা শহরে টেলিটকের এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আমরা ২০১৭ সালের মধ্যে এক কোটি গ্রাহক টেলিটক সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদসহ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তথ্য প্রযুক্তি আইনে আদিল-এলানের মামলা চলবে

তথ্য, প্রযুক্তি আইনের মামলায় অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র ও পরিচালক এএসএম নাসিরউদ্দিন এলানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতে এ মামলার বিচার চলতে আর কোনো বাধা রইল না বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। আদিল-এলানের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ খান। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অভিযান চালায়, তাতে ৬১ জন নিহত হয় বলে ডানপন্থিদের সমর্থনপুষ্ট অধিকারের এক প্রতিবেদনে বলা করা হয়। অধিকারের কাছে ‘নিহতদের’ নাম পরিচয় চেয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলেও অধিকার তথ্য দিতে অস্বীকার করে। ওই বছরের ১০ আগস্ট আদিলকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। পরে আদিল জামিনে মুক্তি পান। আর সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুানাল এলানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে একই বছরের ৬ নভেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এলানও জামিনে মুক্তি পান।

মতিঝিলে হেফাজতবিরোধী অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতি, অসত্য তথ্য উপস্থাপন, ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে অধিকারের প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা এবং জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর মতো অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। মামলায় বলা হয়, ওই কাজের মধ্য দিয়ে তারা রাষ্ট্রের প্রতি ষড়যন্ত্র এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টে¤॥^র ঢাকার সিএমএম আদালতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আশরাফুল আলম দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারায় অস্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিরও অভিযোগ আনা হয় আদিল ও এলানের বিরুদ্ধে। পরদিন ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহা মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন। ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম শামসুল আলম । দুই আসামি এর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ আসে। সোমবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই আপিল খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।

২০ জানুয়ারির আগে স্বাভাবিক হবে না ইন্টারনেটের গতি

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ধীর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপি)। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক  বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেব্ল (আইটিসি) অপারেটরদের ওপর নির্ভরশীল আইএসপি অপারেটরদের গ্রাহকেরা কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। আইটিসিগুলো ব্যান্ডউইডথ আমদানি করে ভারত থেকে। বাংলাদেশের আইটিসিগুলোকে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহকারী ভারতী এয়ারটেল ও টাটা ইনডিকমের কেব্ল কাটা পড়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস আসে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে। বাকি ২৮০ জিবিপিএসের বেশি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেব্ল (আইটিসি) অপারেটরদের মাধ্যমে ভারত থেকে আসে। অর্থাৎ মোট ব্যান্ডউইডথের ৭৫ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট আইটিসি দিয়েই আসে। তবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানির তথ্যমতে, দেশে ৩০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিএসসিসিএল সরবরাহ করছে ১৭৭ জিবিপিএস। বাকিটা আমদানি করা হচ্ছে। যাঁরা বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করছেন, তাঁরা স্বাভাবিক গতির ইন্টারনেটই পাচ্ছেন।আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভারতের আইটুআই সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন কেব্ল, টাটা ইনডিকম কেব্ল (টিআইসি), ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিইউই) ফাইবার অপটিক কেব্ল তিনটি অকেজো থাকায় ভারত থেকে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না।

আইটুআই সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন কেব্ল দিয়ে ভারত সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্ত। এই কেব্লের মালিক ভারতের এয়ারটেল লিমিটেড। এই কেব্লে আট জোড়া ফাইবার রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে সেকেন্ডে ৮.৪ টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালন সম্ভব। কিন্তু চেন্নাইয়ের সমুদ্রতীর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কেব্লটি কাটা পড়ার কারণে গত ১৩ ডিসেম্বর রাত দুইটা থেকে সেটি অকেজো রয়েছে। টাটা ইনডিকম কেব্ল (টিআইসি) দিয়েও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সংযুক্ত রয়েছে, টাটা ইনডিকম ইন্ডিয়া-সিঙ্গাপুর কেব্ল সিস্টেম (টিআইআইএসসিএস) নামেও পরিচিত। এটি সেকেন্ডে ৫.১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইডথ পরিবহনে সক্ষম। ৪ জানুয়ারি রাত একটা থেকে এই কেব্লটি অকেজো রয়েছে।ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিইউই) আরেকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফাইবার অপটিক কেব্ল দ্বারা ভারত মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত। এই কেব্লটিও এখন অকেজো। ফলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের ধীরগতি পাচ্ছেন। আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আইমিইউই কেব্ল এ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। আইটুআই কেব্লও ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ

ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় জানানো হয়েছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বর্তমান কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।  মঙ্গলবার কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ কথা জানানো হয়।

কমিটির সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় ২০১৬-তে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বিভাগের কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।কমিটিকে জানানো হয় বায়োমেট্্িরক্স ভেরিফেকেশন, অভিযোগ ব্যবস্থাাপনা টাস্কফোর্স এবং কোয়ালিটি অব সার্ভিস; বাংলাদেশ সাব মেরিন কেবল কোম্পানী কর্তৃক দেশকে দ্বিতীয় সাব মেরিন কেবলে সংযুক্ত করণ, ইন্টারনেট ব্যাবহারের মূল্য হ্রাসকরণ, ভারতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে ব্যান্ড উইথ লীজ প্রদানের উদ্যোগ এবং ব্যান্ড উইথ ব্যবহার বৃদ্ধি করাসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন সকল বিভাগের কার্যক্রমের সাফল্য নিয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা করার সুপারিশ করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব,তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব,বিটিআরসির চেয়ারম্যান,ডাক বিভাগের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

সাইকেলে ঘুরে ঘুরে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে তথ্য আপারা

কয়েক বছর আগেও কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় ছিল না আমেনা বেগমের। আর এখন স্কাইপের মাধ্যমে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন তিনি। বাইসাইকেলে করে এক নারী প্রতিদিন তার কাছে নিয়ে আসেন ইন্টারনেট।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশকিছু নারী, যারা ‘তথ্য আপা’ (ইনফো লেডিস) নামে পরিচিত, তারা ল্যাপটপের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাতে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। সরকারি সেবা থেকে শুরু করে প্রবাসে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে আলাপ করার ক্ষেত্রে সাহায্য করছেন তারা। ১৫ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মাত্র ৫০ লাখ। এ অবস্থায় ইন্টারনেটের প্রসারতায় ভূমিকা রাখছেন এ নারীরা।
স্থানীয় উন্নয়ন গ্রুপ ডি নেটের উদ্যোগে ২০০৮ সালে গড়ে ওঠে ‘দি ইনফো লেডিস’ প্রকল্প। সেলফোনের প্রসারের জন্য নেয়া এক উদ্যোগের অনুকরণে গড়ে তোলা হয় এ প্রকল্প। কয়েক বছরের মধ্যে কয়েক হাজার নারীকে এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে ডি নেট। নারীদের নির্বাচিত করার পর তাদেরকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয় ডি নেট। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, প্রিন্টার ও ক্যামেরা চালানোর প্রশিক্ষণ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া নারীদের বাইসাইকেল ও কম্পিউটার সামগ্রী কিনতে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থাও করেন তারা।
এ-সম্পর্কে ডি নেটের নির্বাহী পরিচালক অনন্য রায়হান বলেন, আমরা কর্মহীন নারীদের কর্মসংস্থান করছি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি জানিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষমতায়ন করছি।
যেসব নারী এ ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার কাজ করেন, তারা সাধারণত গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। অল্পশিক্ষিত এ নারীরা এর মাধ্যমে যথেষ্ট অর্থও আয় করছেন। সৌদি আরবে থাকা স্বামীর সঙ্গে স্কাইপেতে কথা বলতে আমেনা বেগমকে প্রতি ঘণ্টায় খরচ করতে হয় ২০০ টাকা।
স্বামীর সঙ্গে ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন। আগ্রহের সঙ্গে তাকে জানান, তার পাঠানো অর্থ তিনি পেয়েছেন। স্বামী তাকে পরামর্শ দেন কৃষিজমি কেনার। আমেনা বেগমের শাশুড়িও এখন তার ছেলের সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন।
গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা আমেনা বেগম উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘স্কাইপেতে কথা বলতেই আমার ভালো লাগে। এটা দিয়ে আমি তাকে দেখতে পাই।’ পাশের গ্রাম স্বাগতায় থাকা কিশোরী তামান্না ইসলাম দীপা ‘তথ্য আপা’দের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারছেন সামাজিক যোগাযোগের সাইট। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো কম্পিউটার নেই। তথ্য আপা আসলে আমি তার ল্যাপটপ দিয়ে আমার ফেসবুক বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে পারি। ক্লাসের নোট বিনিময়ের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করি। বাল্যবিবাহ,
যৌতুক ও নারীদের প্রতি যৌন নির্যাতন নিয়ে আমরা কথা বলি।’
এসবের পাশাপাশি তথ্য আপারা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবাও দিয়ে থাকেন। কিশোরী মেয়েদের সঙ্গে তারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজের বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে কথা বলেন। এ ছাড়া বয়োসন্ধিকালে নারীদের মধ্যে যে পরিবর্তন আসে, সেগুলো মোকাবেলার কথাও তারা জানান। দেশে নতুন প্রণীত আইন ‘রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট’-এর অধীনে গ্রামবাসীদের বিভিন্ন তথ্য জানান তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ওয়েবসাইটে অভিযোগও করতে পারছে গ্রামবাসীরা। কৃষকদের উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা কথা বলেন। ১০ টাকার বিনিময়ে অনলাইনে কলেজ ছাত্রদের আবেদনপত্র পূরণ করে দেন। এ ছাড়া রক্তচাপ ও রক্তে চিনির পরিমাণও মেপে দেন তারা।
অনন্য রায়হান বলেন, ইনফো লেডিসরা একই সঙ্গে উদ্যোক্তা এবং তারা সমাজে বিভিন্ন
সেবা প্রদান করছে।
এ ধরনের একটি পরিকল্পনা অনন্য রায়হানের মাথায় এসেছিল নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূসের একটি কাজ থেকে। ২০০৪ সালে ড. মোহাম্মদ ইউনূস গ্রামের নারীদের মধ্যে সেলফোন ব্যবহার প্রসারে কাজ করেন। গ্রামাঞ্চলে এ জন্য তিনি প্রশিক্ষণ দেন ‘মোবাইল আপাদের’ (মোবাইল লেডিস)। প্রকল্পটি ব্যাপকভাবে সফল হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ সেলফোন ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৯টি জেলায় প্রায় ৬০ জন নারী ইনফো লেডি প্রকল্পে কাজ করছেন। এই বছরের মধ্যেই এই নারীদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী অনন্য রায়হান।
গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য আপাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতে সম্মত হয়। ঋণের প্রথম ধাপে দেয়া হবে ১০ কোটি টাকা। ডিসেম্বর থেকে এ অর্থ ছাড় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। রায়হান বলেন, দেশের বাইরে থাকা মানুষদের দেশে অর্থ পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করছে ইনফো লেডিসরা। প্রকল্পটি সম্পর্কে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, এটি খুবই ভালো একটি পরিকল্পনা। দেশের সর্বস্তরের লোকদের ওপর এটি প্রভাব ফেলছে।
এ প্রকল্পে কাজ করে লাভবান হচ্ছেন তথ্য আপারাও। আমিনা বেগম ও দীপার গ্রামে কাজ করা তথ্য আপা সাথী আখতার জানান, স্কুলে শিক্ষকতা করার চেয়ে এ কাজ করে বেশি অর্থ আয় করছি। ঋণ ও অন্য অর্থ পরিশোধের পর মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমরা শুধু আয় করছি না,
নারীদের ক্ষমতায়নেও কাজ করছি। এটা আমাদের আনন্দ দেয়।’

টুথপেস্ট দাঁত ব্রাশ করা ছাড়াও বিভিন্ন দাগ দূর করতে দুর্দান্ত!

দাঁত ঝকঝকে রাখতে টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ তো করবেনই। মুখের গন্ধ দূর করতেও রোজ সকালে চাই টুথপেস্ট। কিন্তু, দাঁতের বাইরেও টুথপেস্ট গৃহস্থালির অনেক টুকিটাকি সমস্যার মুশকিল আসান। দাগ তুলতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
* রুপার আংটি বা গয়না জৌলুস হারিয়ে কালচে কালচে হয়ে গেছে? পুরনো বাতিল ব্রাশের ডগায় কিছুটা টুথপেস্ট নিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এরপর ধুয়ে নিলেই ঝকঝকে হয়ে যাবে। পালিস করানোর প্রয়োজন পড়বে না।
* টুথপেস্ট দিয়ে গাড়ির হেডলাইটের কাচও সহজে পরিষ্কার করতে পারেন। নতুনের মতো জেল্লা দেবে।
* হারমোনিয়াম বা সিন্থেসাইজারের রিডের নোংরা পরিষ্কার করতেও টুথপেস্ট ফাটাফাটি। একটা ভেজা কাপড়ের টুকরোয় সামান্য পরিমাণ টুথপেস্ট নিয়ে হালকা করে ঘষুন। সব দাগ বা নোংরা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
* কাঠের টেবল বা অন্য কোনো আসবাবে দাগ লাগলে নিমেষে পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন। এর জন্য কোনো ক্ষতিকারক ব্লিচিংয়ের দরকার নেই। ছোপ তুলতে মাজনই যথেষ্ট। কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে একটু জোরে ঘষলেই উঠে যাবে।
* অন্তরঙ্গ মুহূর্তে জামায় কোনোভাবে লিপস্টিকের দাগ লেগে গেছে বা, বোতল উলটে সস  পড়ে সাদা টেবল ক্লথের দফারফা? কেচেও দাগ যায়নি? মুশকিল আসান রয়েছে আপনার হাতের কাছেই। সাতপাঁচ না-ভেবে টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষে নিন। দাগ গায়েব।
* স্মার্টফোনের স্ক্রিনে প্রোটেক্টিভ ফিল্ম লাগানো নেই? ঘষা দাগ লেগেছে? কাপড়ের টুকরোয় অল্প টুথপেস্ট নিয়ে স্ক্র্যাচের উপর আলতো করে ঘষুন। আশপাশে লেগে থাকা টুথপেস্ট মুছে শুকিয়ে নিন। দাগ থাকবে না।
* নখে লেগে থাকা দাগ তুলতে চান? টুথপেস্ট লাগিয়ে ঘষে নিন, কেল্লাফতে।
* বেসিন বা বাথরুমের স্টিলের কল অনেকদিন পরিষ্কার করেননি? বা, নিয়মিত পরিষ্কার করলেও ছোপ ধরে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে? চিন্তা না-করে মাজন লাগিয়ে একটু জোরে ঘষে নিন। ঝকঝক করবে।
* আয়রনের নীচের দাগ বা মরচে তুলতে টুথপেস্ট ঘষুন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।
* মাছ কেটে হাতে আঁশটে গন্ধ? রসুন বা পেঁয়াজের গন্ধ যাচ্ছে না? অস্বস্তি লাগছে? কিছুটা টুথপেস্টে হাতে ঘষে ধুয়ে নিন। গন্ধ গায়েব।

বন্ধ হলো বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচার বন্ধ হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকা ক্লাবের স্যামসন সেন্টারে সুসংবাদটি দিয়েছে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের বৃহত্তম ঐক্য প্ল্যাটফর্ম ‘মিডিয়া ইউনিটি’।

জানা গেছে, শুক্রবার থেকে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা হয়। মিডিয়া ইউনিটির নেতা-কর্মীরা জানান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের আন্তরিকতায় অবৈধ ডাউনলিংক চ্যানেল বন্ধ তথা বিদেশি চ্যানেলে অনৈতিকভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অরাজকতা বন্ধ হলো।

গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশানে সিক্স সিজন হোটেল অনুষ্ঠিত হয় মিডিয়া ইউনিটির তৃতীয় সংহতি সমাবেশ। এখানে টিভি চ্যানেল বিনিয়োগকারীদের কথা শুনতে গিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে বিজ্ঞাপন বন্ধের বিষয়টি কার্যকর হয়। টিভি সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের বিভিন্ন সংগঠনের জোট সংগঠন ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশনের (এফটিপিও) দাবি পূরণে চ্যানেলের বিনিয়োগকারীরা কাজ করবেন বলেও শনিবারের সমাবেশে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘শিল্পে বাঁচি শিল্প বাঁচাই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত টেলিভিশন শিল্পী ও কলাকুশলী সমাবেশে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ডাউনলিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের দাবিও ছিলো। এ ছাড়া ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদেশি সিরিয়াল বাংলায় ডাবিং করে প্রচার বন্ধের জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল চালাতে গেলে পাঁচ কোটি টাকা লাগে। অথচ বাংলাদেশে ভারতের চ্যানেল চালাতে মাত্র দেড় লাখ টাকা খরচ হয় এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উস্মা প্রকাশ করে বলেন, আগে এমন বৈষম্যের কথা তার জানা ছিল না। বিদেশি চ্যানেল ইস্যুতে দেশে আন্দোলন হচ্ছে এমন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভারত যদি এত টাকা পায়, তাহলে বাংলাদেশ পায় না কেন? প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, এ নিয়ে ক্যাবল অপারেটরদের ভূমিকা কি? বিষয়টি সরকারের এখতিয়ার, সাংবাদিকদের তরফ থেকে এমনটি জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আলোচনায় আনতে হবে। এমন বৈষম্য চলতে পারে না। বাণিজ্যমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই চ্যানেল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরাই প্রথম বেসরকারি চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছি।

আরো ৭ দফা ঘোষনা আন্দোলন চালিয়ে যাবে এফটিপিও

বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন ‘মিডিয়া ইউনিটি’র কাযর্ক্রম বন্ধ করা হলেও দাবি আদায়ে ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও) তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এফটিপিও’র আহ্বায়ক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। এর মধ্যে বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ায় ‘মিডিয়া ইউনিটি’ তাদের কাযর্ক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ, এই দাবি পূরণ হওয়ায় তাদের স্বার্থ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন’র (এফটিপিও) সংরক্ষিত হয়নি। তাই বাকি দাবি আদায় না হওয়া পযর্ন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এতে করে ‘মিডিয়া ইউনিটি’র সঙ্গে এফটিপিও’র দূরত্ব বাড়ল কি-না?  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশীদ বলেন, তা বলতে পারেন। কারণ, এফটিপিও’র যে পাঁচ দফা দাবি তার চারটিই টেলিভিশন মালিকদের কাছে। তাদের দাবি পূরণ হওয়ায় তারা কাযর্ক্রম বন্ধ করেছেন। এখন আমাদের দাবি পূরণ করার দায়িত্ব তাদের। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ বা বিভাজন নেই। পুরনো পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে আরো সাত দফা দাবি তুলে ধরেন এফটিপিও’র আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিজ্ঞাপন প্রচারে গ্রহণযোগ্য সময়সীমা নির্ধারণ, নাটকের বাজেট যৌক্তিকহারে বৃদ্ধি, কপিরাইট প্রথা বহাল, যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রিভিউ কমিটি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ভুল, যথাযথ টি. আর. পি. ব্যবস্থা চালু, ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল চালু ও তাদের ডাউন লিংক ফি’র সঙ্গে বাংলাদেশের ডাউন লিংক ফি’র অসামঞ্জস্যতা অপসারণ এবং এফটিপিও-কে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এফটিপিও’র সদস্য মাসুদ সেজান, এস এ হক আলিফ, শামীম মাজহার, সাদেক সিদ্দিকী, রোকেয়া প্রাচী, অভিনেতা হিল্লোল প্রমুখ।

তথ্য প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ : পলক

বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তিখাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।  রোববার দুপুর সোয়া ৩টায় রাজধানীর গ্রামীণফোন কার্যালয়ে ডেমু ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, যা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তথ্য প্রযুক্তিখাতে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে চাই। আর্থিক ও টেকনিক্যাল সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা তৈরি। নতুন উদ্যোক্তারা কি করতে চান তারা যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাহলে সহজেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক পিটার ফারবার্গ, চিফ মার্কেটিং অফিসার ইয়াসির আজমানসহ অন্যরা।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা দেবে এসএসএলকমার্জ

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জন্য অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা প্রদান করবে এসএসএল ওয়্যারলেসের একটি সেবা প্রতিষ্ঠান এসএসএলকমার্জ।

সম্প্রতি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং এসএসএল ওয়্যারলেসের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে যার ফলে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এসএসএলকমার্জ -এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা সব ধরনের একাডেমিক ফি সংগ্রহ করতে পারবে ।

চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকরা এখন থেকে সহজে ঘরে বসেই তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন বা মোবাইল ব্যংকিংয়ের মাধ্যমে একাডেমিক ফি দিতে পারবে।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির পক্ষে ট্রেজারার মোঃ সিদ্দিক হোসাইন এবং এসএসএল ওয়্যারলেস -এর পক্ষে আশীষ চক্রবর্তী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনশনের হুমকি সিটিসেলকর্মীদের

সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কর্মসূচি শিথিল করেছে সিটিসেলের কর্মীরা। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না হলে ‘কাগজে কলমে চালু’ সিটিসেলের কর্মীরা অনশনে যাবেন। এ প্রসঙ্গে সিটিসেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মাহজাবীন মিথিলা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরীর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি শিথিল করেছি। আমা করি, ঘোষিত সময়ের মধ্যেই তিনি আমাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করবেন।’

জানা গেছে, বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) মহাখালীস্থ সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ের ১২ তলায় প্রধান নির্বাহীর কক্ষের সামনে কর্মীরা অবস্থান নেন। পরে প্রধান নির্বাহীর আশ্বাস পেয়ে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন কর্মীরা। দেশের বাইরে অবস্থানরত সিটিসেলের মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেই সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মীদের এ আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহজাবীন মিথিলা আরও বলেন, ‘আমরা কিন্তু কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেইনি। আমরা আমাদের ঘোষিত সময়ের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। তবে কোনও কাজ করব না।’

এদিকে সিটিসেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি একটি মামলায় সিটিসেলের মালিকপক্ষকে আদালত আত্মসমর্পণের আদেশ দিলে মূলত ওইদিন থেকেই তারা নিখোঁজ। আমরা জানতে পেরেছি, সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী বিদেশে অবস্থানরত মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আমাদের সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিটিসেলের গ্রাহকদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প সেবা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানায়। সে হিসেবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় পান গ্রাহকরা। যদিও ১৪ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, ‘বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটিসেলের গ্রাহকরা আরও সময় পাবেন।’

এরপরে সিটিসেল উচ্চ আদালতে গেলে বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তে ওপর চলে যায়। বিটিআরসি ওই নোটিশ দিলে সিটিসেল আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগ গত ২৯ আগস্ট সিটিসেলের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার শর্তে অপারেশন চালিয়ে যেতে বলে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি দুই মাস সময় পেয়েছিল। সিটিসেলের বকেয়া ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলা হয়।সিটিসেল তরঙ্গ খুলে দেওয়ার আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগে গেলে ৩ নভেম্বর শর্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দেওয়ার নির্দেশ আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তরঙ্গ ফিরে না পেয়ে, ফের আদালতে যায় সিটিসেল। এর মধ্যে সিটিসেল বকেয়া টাকার মধ্যে ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে।

আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সিটিসেল বকেয়ার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে আবারও তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে বিটিআরসি। গত ১৭ নভেম্বর ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে সিটিসেল।

এর আগে বকেয়া টাকা শোধ না করায় ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়। বিটিআরসির কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে তরঙ্গ বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। বিটিআরসি প্রকাশিত (গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত) তথ্য অনুসারে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৬৮ হাজার। সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, সিটিসেলের সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ (বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত)। ৩১ আগস্ট বিটিআরসি প্রকাশিত এক তথ্যে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুক ব্যবহারের আরও কিছু কৌশল

প্রতিদিন ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমটিতে অনেকেই দীর্ঘ সময় ব্যয় করে থাকেন। তারপরও ফেসবুকের অনেক কৌশল সম্পর্কে তারা জানেন না। আসুন জেনে নিই ফেসবুকের দারুণ কিছু কৌশল-

১. ধরা যাক, আপনার ফেসবুক বন্ধু তালিকায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আছে। এদিকে আপনি এমন একটি বিষয় ফেসবুকে পোস্ট করতে চান যা ওই সদস্যরা না জানলেই ভালো। এরকম সমস্যায় আমরা প্রায়ই পড়ে থাকি। কিন্তু সমাধানের উপায় আমাদের জানা নেই। বিভিন্ন সময় আমরা অনেক কিছু পোস্ট করি। সেগুলোর মধ্যে আমরা চাই কিছু পোস্ট যেন নির্দিষ্ট কিছু মানুষ দেখতে না পারে। এক্ষেত্রে এই কাজটি আমরা কীভাবে করতে পারি তা জেনে নেওয়া যাক।

প্রথমেই আপনি যা পোস্ট করতে চান তা যোগ করে নিতে হবে। এরপর দেখবেন পোস্টের ডানপাশে একটি গ্লোব চিহ্ন আছে। সেই গ্লোবে ক্লিক করতে হবে। এবার বেশ কয়েকটি অপশন আসবে যেখানে আপনি পাবলিক, ফ্রেন্ডস, অনলি মি এসব পাবেন। এগুলোর ঠিক নিচেই মোর অপশনস নামে আরেকটি অপশন দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করার পর কাস্টমস-এ ক্লিক করতে হবে। তারপর কাস্টমস থেকে ডোন্ট শেয়ার উইথ অপশনে গিয়ে যাদের সঙ্গে আপনি পোস্ট শেয়ার করতে চান না তাদের নাম লিখে দিন। হয়ে গেল। এবার নিশ্চিন্তে ফেসবুকে পোস্ট করুন আপনার যা ইচ্ছা হয়।

২. অনেকের নিউজ ফিডেই ভিডিও অটোপ্লে হয়ে থাকে। ফলে তাদের কেনা ব্যান্ডউইথ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অটোপ্লে বন্ধ করার পদ্ধতি জানতে হবে। ভিডিও অটোপ্লে বন্ধ করতে সেটিংস থেকে ভিডিওস- এ যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে অটো-প্লে ভিডিওস অপশনে গিয়ে এটা বন্ধ করে দিলেই হবে। আর কখনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিউজফিডে ভিডিও চলবে না।

৩. যারা আপনার ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় নেই তাদের কাছে আপনার অ্যাকাউন্ট কেমন দেখায় তা জানতে অনেকেরই ইচ্ছা করে। এটা জানারও রয়েছে সহজ পদ্ধতি। প্রথমেই আপনার কাভার ফটোর ডানপাশের কোনায় তিনটি ডট চিহ্নিত অপশনে ক্লিক করুন। তারপর সেখান থেকে ভিউ এজ অপশনে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন বন্ধুতালিকার বাইরে থাকা মানুষের কাছে আপনার অ্যাকাউন্ট কেমন দেখায়।



Go Top