রাত ৪:১২, শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

স্মার্টফোন বর্তমানে আমাদের জীবনে সার্বক্ষণিক সঙ্গী। কিন্তু আমরা অনেকেই প্রয়োজনীয় এই গ্যাজেটটি রিবুট (রিস্টার্ট) এবং রিফ্রেশ করি না। এর ফলে কী অজান্তে আমরা ডিভাইসটির ক্ষতি করে চলেছি? চলুন জেনে নিই।

আপনার ফোনকে সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও কেন রিস্টার্ট করবেন, তার একাধিক কারণ রয়েছে। এবং সবগুলো কারণ ভালো। যেমন: ফোনের মেমোরি ধরে রাখা, ক্রাশ প্রতিরোধ, ফোন আরো ভালোভাবে চলমান রাখা এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো।

প্রতিদিন আপনার অ্যাপস ব্যবহারের কথায় আসা যাক। লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বব মোটামেডি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অ্যাপস বন্ধ করা হলেও তা আসলে সত্যিকার অর্থে বন্ধ হয় না। কেননা তা দ্রুত আবার লোড হওয়ার জন্য বন্ধ করার পরও সক্রিয় থাকে।’

‘তাহলে এবার ভাবুন তো, প্রতিদিন আপনার কতগুলো অ্যাপস খোলা হয় এবং তা সক্রিয় থেকে ধীরে ধীরে ফোনের মেমোরি এবং ব্যাটারি শেষ করতে থাকে। এবং ভাবুন তো আপনাকে প্রতিদিনই এ কারণে ভাবতে হয় যে, ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

ফোন রিস্টার্ট করলে খোলা অ্যাপসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয় এবং র‌্যাম বাঁচে অর্থাৎ ব্যাটারির শক্তিক্ষয় করছে এমন সবকিছু থেকে ফোন পরিত্রান পায়।

ফোন নানা কারণে ক্র্যাশ করতে পারে কিন্তু আপনি যদি ফোন রিস্টার্ট না করেন তাহলে তার প্রভাব এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই পড়তে পারে। প্রতিটি আপডেট, পেজ লোড এবং অ্যাপ ইনস্টল অথবা ডিলেটের সময় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের কোড যুক্ত হয় অথবা মুছে।

‘কখনো কখনো ইনস্টল অথবা আনইনস্টল করার পরে এসবের বেমানান বা অসঙ্গত অংশ থাকে। ফোন রিস্টার্ট করা হলে এগুলোর অধিকাংশই নিষ্কাশন হয় এবং ফোন ভালো কাজ করে।’- বলেন মোটামেডি।

ব্যাটারি সর্বদা চার্জ করার জন্য দ্রুত শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী কি। ‘আপনি যদি ফোনের ব্যাটারি চার্জ সম্পূর্ণভাবে শেষ না করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে রিচার্জও হবে না এবং ব্যাটারি লাইফ কম হবে।’ – মোটামেডি বলেন।

‘এজন্য সুপারিশ করা হয় যে, আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি চার্জ শূন্য শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসুন এবং তারপর ১০০ শতাংশ চার্জ করুন।’

ফোনের মেমোরি বাঁচাতে এবং ক্র্যাশ থেকে মুক্ত থাকতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর

টুইটারে জনপ্রিয়তায় রেকর্ড গড়লেন ওবামা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুইটের মালিক হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্ণবাদ নিয়ে ওবামার একটি টুইট অতিক্রম করেছে ৩৮ লাখ লাইকের মাইলফলক। অথচ এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ লাইক-ই জোটেনি কোনও টুইটের ভাগ্যে। টুইটের জনপ্রিয়তায় তাই সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট গড়েছেন নতুন রেকর্ড।

 

 

ভার্জিনিয়ার শার্লোটেসভিলে বর্ণবাদ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা বিষয়ে বারাক ওবামা টুইটারে একটি পোস্ট দেন ১৩ আগস্ট। ওই পোস্টে কয়েকটি শিশুকে সামনে রেখে নিজের একটি ছবি দেন তিনি। পোস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্ধৃত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্য লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ থেকে নেওয়া একটি লাইন। তাতে লেখা আছে, ‘গায়ের রঙ কিংবা ধর্মের কারণে কেউ কাওকে জন্মগতভাবে ঘৃণা করে না।’
ওবামার পোস্ট করা ছবিটি ২০১১ সালে তোলা। তিনি ম্যারিল্যান্ডের বেথিসদাতে একটি দিবাযত্মকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে ছবিটি তোলেন তৎকালীন হোয়াইট হাউস ফটোগ্রাফার পিট সুজা। বেশ আগের এ ছবিটি অবশেষে ওবামা ব্যবহার করলেন বর্ণবাদ ইস্যুতে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে।
টুইটার জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট ওবামা ওই টুইট করার পর ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টার দিকেই তা ৩০ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করে। এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ লাইক পেরিয়ে যাওয়ার পর টুইটটি ৪০ লাখ লাইকের মাইলফলকও অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গুগলে বাংলায় ভয়েস সার্চের সুবিধা

এতদিন যারা ইংরেজি ভাষায় গুগলে ভয়েস সার্চ করে এসেছেন; তারা প্রত্যাশা করতেন- সুযোগটি যদি বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও দেওয়া হতো, তাহলে অনেক ভালো হতো। এবার তাদের জন্য এটি খুশির খবরই বটে। কারণ এখন বাংলায় ভয়েস সার্চের সুবিধা দিচ্ছে গুগল।

সোমবার এক ব্লগ পোস্টে গুগল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছে। শুধু তাই নয়- নতুন করে ৩০টি ভাষাকে ভয়েস সার্চ অপশনে যুক্ত করেছে গুগল। এ হালনাগাদের ফলে ১০০ কোটি মানুষ এমন সুবিধার আওতায় চলে আসবে।

সূত্র জানায়, বাংলা ভাষার পাশাপাশি নেপালি, তেলেগু, মারাঠি, তামিলসহ বিভিন্ন প্রাচীন ভাষাও রয়েছে। ফলে বিশ্বের মোট ১১৯টি ভাষাভাষি মানুষ গুগলের এই ভয়েস সার্চ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

গুগল জানায়, সব ব্যবহারকারীর কাছেই পৌঁছে যাবে ভাষাগুলো। শিগগিরই নতুন ভাষাগুলো ব্যবহার করে গুগলের অন্য অ্যাপগুলোতে ভয়েস কমান্ডের সুবিধা যুক্ত হবে। ফলে গুগলের ট্রান্সলেশনে বাংলা ভাষায় ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে কোন শব্দের অর্থ খুঁজে বের করা যাবে।

অবশেষে মনে হয় গুগলে বাংলা ভাষা ইংরেজির মতোই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে। এখন এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে, তিনি কোন ভাষায় ভয়েস সার্চ করবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

চীনে প্রবেশের সুযোগ পেলো ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার চীনে প্রবেশ করতে পারছিল না। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা এবং বৈঠকের পর এবার ফেসবুক কিছু কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। চীনে সম্প্রতি ‘কালারফুল বেলুন’স নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে ফেসবুক। এরপর ধীরে ধীরে মূল কার্যক্রম শুরু করবে বলেও শোনা যাচ্ছে।
নতুন এই অ্যাপটি অনেকটা ফেসবুক মোমেন্টস অ্যাপের মতো। ব্যবহারকারীরা এটা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি শেয়ার করতে পারবেন। কালারফুল বেলুন’স মূলত ফেসবুকের মালিকানাধীন হলেও কাজ করবে চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাটের সঙ্গে। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, নতুন এই অ্যাপ চালু হয় গত মে মাসে। তবে বেশ গোপনে এটা চালু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি জানে না। চীনের ইয়ুজ ইন্টারনেট টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু করে ফেসবুক।
চীনে নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে ফেসবুকের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, চীনের ব্যাপারে আমরা খুব আগ্রহী। দেশটিতে প্রবেশের লক্ষ্যে সব ধরনের উপায় বিবেচনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বড় বাজারটিতে কার্যক্রম শুরু করার জন্য তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অনেক সময় ব্যয় করেছি আমরা।
এর আগে ২০০৯ সালে চীনে ফেসবুক নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ হয় ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপও। এরপর থেকে দেশটিতে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আসছিলেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

আসছে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন তৈরির জন্য একটি প্রোটোটাইপ উদ্ভাবন করেছেন। তারা বলছেন, যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এই প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, সেই প্রযুক্তি দিয়েই তৈরি করা সম্ভব হবে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন। আগামী আট থেকে নয় মাসের মধ্যেই তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্টফোন বাজারে আনতে পারবেন বলে আশাবাদী।
সিয়াটল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই প্রোটোটাইপ। ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন তৈরির গবেষণার অংশ হিসেবেই তারা এটি তৈরি করেছেন। স্বাভাবিকভাবে যেকোনও মোবাইল ফোন চালাতেই প্রয়োজন শক্তি, যা আসে ব্যাটারি থেকে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রোটোটাইপের জন্য প্রয়োজনীয় সেই শক্তি এসেছে মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিকে (আরএফ) শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করে।
আরএফ তরঙ্গগুলো আমাদের চারপাশেই রয়েছে। আমাদের আশপাশের সব এফএম রেডিও স্টেশন, এএম রেডিও স্টেশন, টিভি স্টেশন, মোবাইল ফোন টাওয়ার— সবকিছুই পরিচালিত হয় আরএফ তরঙ্গের মাধ্যমে। সেই আরএফ তরঙ্গের শক্তি ব্যবহার করেই চলবে ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোনের প্রোটোটাইপ।
প্রথম নজরে এই প্রোটোটাইপকে কয়েকটি অংশে সংযুক্ত একটি সার্কিট বোর্ডের চেয়ে একটু বেশি বড় দেখাবে। এটি ব্যবহার করার জন্য এর সঙ্গে যোগ করতে হবে একটি হেডফোন। কথা বলার ও শোনার জন্য চাপতে হবে বিশেষ বাটন।
প্রথম এই প্রোটোটাইপ তৈরি করে সফল গবেষকরা ভবিষ্যতে আরও একটু উন্নত ধরনের প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা করছেন। পরের প্রোটোটাইপে তারা ব্যবহার করতে চান ডিসপ্লে স্ক্রিন, যাতে খুব পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হবে। শুধু তাই নয়, এতে একটি ক্যামেরা যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছেন তারা। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন, যাতে শক্তি সরবরাহের জন্য থাকবে ক্ষুদ্রাকৃতির সৌর কোষ।
গবেষকরা বলছেন, আগামী আট থেকে নয় মাসের মধ্যে তারা এই প্রোটোটাইপের পর্যায় পেরিয়ে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন বাজারে আনতে চান। একজন গবেষক বলেছেন, ভবিষ্যতে সব স্মার্টফোনেই থাকবে হবে ব্যাটারিবিহীন মোড। তাতে ফোনের ব্যাটারি একেবারে শেষ হয়ে গেলেও অন্তত ব্যবহারকারী এই মোডে প্রয়োজনীয় কলটি সেরে নিতে পারবেন।

বিস্ময়কর ৭ গ্রহ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কিছু নক্ষত্রের চেয়েও বেশি!

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহগুলোর ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন এবং একের পর এক গ্রহ অবিষ্কার করে চলেছেন। এর মধ্যে থেকে বিস্ময়কর কিছু গ্রহ নিয়ে এ প্রতিবেদন।

সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ

 

একটি গ্রহ তার কেন্দ্রীয় নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকায় কতটা উত্তপ্ত হতে পারে এবং সেই নক্ষত্রটিই বা কতটা উত্তপ্ত।

আমাদের সৌরজগতের মধ্যে, সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহটি হচ্ছে বুধ। সূর্য থেকে যার দূরত্ব ৫৭,৯১০,০০০ কিলোমিটার। সৌরজগতের প্রথম এবং ক্ষুদ্রতম এই গ্রহের তাপমাত্রা ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অন্যদিকে সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কিন্তু সূর্যের চেয়েও বেশি শক্তিশালী নক্ষত্র রয়েছে।  

সম্প্রতি আবিষ্কৃত কেল্ট-৯ নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি বড় এবং নক্ষত্রটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ১০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বুধ গ্রহ সূর্যের যতটা কাছে অবস্থিত তার চেয়ে বেশি কাছে অবস্থিত এই নক্ষত্রটির ‘কেল্ট-৯ বি’ নামক গ্রহটি। তাদের মধ্যেকার সঠিক দূরত্ব বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করতে না পারলেও জানিয়েছেন, কেল্ট-৯বি গ্রহটি এর নক্ষত্রের খুব কাছে অবস্থান করছে এবং এর পুরো কক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে মাত্র ১.৫ দিন সময় নেয় (সূর্যকে বুধ একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৮৮ দিন)।

আর এর ফলাফল হচ্ছে, ‘কেল্ট-৯ বি’  গ্রহটি সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্রহের তাপমাত্রা ৪৩২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস! পাথুরে গ্রহ বুধ এ তাপমাত্রায় গলিত লাভার একটা পিন্ডের মতোই মনে হবে।

যা হোক, ‘কেল্ট ৯ বি’ গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের মতোই গ্যাসীয় গ্রহ। তবে বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বড় হলেও এর ঘনত্ব অনেক কম। এর কারণ হল অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে বেলুনের ন্যায় ফাপা হয়ে গেছে। উত্তাপের কারণেই গ্রহটিতে পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড এগুলো গঠিত হতে পারে না। এর বায়ুমণ্ডলে কোনো অনুর অস্তিত্ব থাকাও সম্ভব নয়।

সবচেয়ে শীতল গ্রহ

‘ওজিএলই-২০০৫-বিএলজি-৩৯০এলবি’ গ্রহটি সবচেয়ে শীতলতম গ্রহ। পৃথিবীর ভরের তুলনায় সাড়ে ৫ গুণ বেশি ভরের এই গ্রহটি পাথুরে গ্রহও হতে পারে।

পৃথিবী থেকে ৩,৩০০ আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। যদিও গ্রহটি এর হোস্ট নক্ষত্র (যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে) থেকে অনেক বেশি দূরে নয়, তবে এর হোস্ট নক্ষত্রটি কম ভর ও লাল বামন অর্থাৎ শীতল নক্ষত্র।

স্টার ওয়ার্স ফ্রাঞ্চাইজের সিনেমায় বরফ গ্রহ হিসেবে জনপ্রিয় এ গ্রহটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তব সিনেমাটির বিপরীত, প্রাণের অস্তিত্বের উপযোগী নয় গ্রহটি। কারণ গ্রহটির বেশিরভাগ গ্যাসই হিমায়িত এবং গ্রহটির পৃষ্ঠ তুষারাবৃত।

সবচেয়ে বড় গ্রহ
যদি একটি গ্রহ একটি নক্ষত্রের মতো উত্তপ্ত হতে পারে, তাহলে গ্রহ এবং নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্যটা কী থাকল?

গ্রহের তুলনায় অনেক গুণ বেশি বড় হয়ে থাকে নক্ষত্র এবং নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো ও তাপ সৃষ্টি করে থাকে। উদাহারণস্বরুপ আমাদের পরিচিত নক্ষত্র সূর্যে হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরির মধ্য মাধ্যমে সূর্যের জ্বলন প্রক্রিয়া চলে।

কিন্তু বাদামী বামন শ্রেণীর এক ধরনের নক্ষত্র রয়েছে। এই ধরনের নক্ষত্রগুলো ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হওয়ার মতো যথেষ্ট বড় হলেও, বজায় রাখার মতো যথেষ্ট বড় না। হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হবার আগেই পৌঁছে যায় স্থিতিশীল অবস্থায়।

‘ডেনিস-পি জে০৮২৩০৩.১-৪৯১২০১ বি’ নামক গ্রহটির ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় ২৮.৫ গুণ বেশি। তাই এই গ্রহটিকে নাসার আবিষ্কৃত সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী গ্রহ হিসেবে পরিচিত।

তবে এতো বেশি ভরের কারণে এই গ্রহ হয়ে পড়েছে বিতর্কিত। এটাকে আদৌ গ্রহ (বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় গ্রহ) বলা যাবে কিনা নাকি বাদামি বামন নক্ষত্র বলা হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আরো অদ্ভূত বিষয় হচ্ছে, এর হোস্ট নক্ষত্র নিজেই একটি বামন নক্ষত্র।  

সবচেয়ে ছোট গ্রহ
আমাদের চাঁদের তুলনায় সামান্য বড় এবং বুধ গ্রহের চেয়ে ছোট ‘কেপলার-২৭ বি’ হলো সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোট আকৃতির গ্রহ।

সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ বুধ। সূর্য আর বুধের যে দূরত্ব তার চেয়ে  কম দূরত্ব রয়েছে পাথুরে গ্রহ ‘কেপলার-২৭ বি’ এবং এর নক্ষত্রের মধ্যে। তার মানে গ্রহটির তরল পানীয় থাকার মতো উত্তপ্ত এবং প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

সবচেয়ে বেশি বয়সি গ্রহ

‘পিএসআর বি ১৬২০-২৬ বি’ গ্রহটি ১২,৭০০ কোটি বছর বয়সি, যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীনতম গ্রহ। মহাবিশ্ব ১৩,৮০০ কোটি বছরের পুরোনো অর্থাৎ গ্রহটির তুলনায় মাত্র ১,১০০ কোটি বছর পুরোনো।

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি ছাড়া সৌরজগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলেও বৃহস্পতির ভর আড়াই গুণ বেশি হবে। আর ‘পিএসআর বি ১৬২০-২৬ বি’ গ্রহটির ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এটি পৃথিবী থেকে ১২,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে স্কর্পিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।

গ্যাসীয় দৈত্যাকার এই গ্রহটির দুটি হোস্ট নক্ষত্র একে অপরের চারপাশে ঘূর্ণায়মান। এর মধ্যে একটি নিউট্রন নক্ষত্র এবং অন্যটি বামন নক্ষত্র। যা হোক, গ্রহটি যেহেতু মহাবিশ্বের ইতিহাসে খুব শিগগির গঠিত হয়েছে, তাই গ্রহটিতে সম্ভবত প্রাণের বিবর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ভারী উপাদান যেমন কার্বন এবং অক্সিজেন (পরে গঠিত) নাই।

সবচেয়ে কম বয়সি গ্রহ

‘ভি৮৩০ তৌরি বি’ নামক গ্রহটি মাত্র ২ মিলিয়ন বছরের পুরোনো। যে নক্ষত্রটির চারপাশে গ্রহটি ঘুরছে তার ভর আমাদের সূর্যের ভরের মতোই কিন্তু ব্যাসার্ধে দ্বিগুণ, তার মানে গ্রহটি চূড়ান্ত আকৃতিতে সম্পূর্ণভাবে এখনো সংকুচিত হয়নি।

পৃথিবী থেকে ৪২৭ আলোকবর্ষ দূরে টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে এর অবস্থান। গ্যাসীয় দৈত্যাকার এই গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের তিন চতুর্থাংশ ভরের সমান এবং সম্ভবত গ্রহটি এখনো বেড়ে চলেছে। অর্থাৎ গ্রহটি তার পথের মধ্যে অন্যান্য কিছু যেমন গ্রহাণুর সঙ্গে ঘন ঘন ধাক্কা লাগার মাধ্যম আরো বেশি ভর অর্জন করছে। ফলে গ্রহটি খুবই অনিরাপদ একটি স্থান হিসেবেই ধারণা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহ

সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলো যেহেতু আমাদের পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থিত এবং গ্রহগুলোর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা সহজ ব্যাপার নয়, তাই সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহ হিসেবে আমাদের সৌরজগতের মধ্যেকার গ্রহের দিকেই চোখ রাখা যাক।

যদি আপনি জুনো মহাকাশযান দ্বারা তোলা বৃহস্পতি গ্রহের ঘূর্ণিঝড়ের ছবিটি দেখেন, তাহলে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এই গ্রহটি অবশ্যই বাজে আবহাওয়ার গ্রহের জন্য অবশ্যই উপযুক্ত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী।

তবে সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহের খেতাব বিজয়ী আসলে শুক্র গ্রহ। সূর্য থেকে দ্বিতীয় নিকটবর্তী গ্রহ শুক্রের আকৃতি পৃথিবীর মতোই। গ্রহটির বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তুলনায় ১০০ গুণ বেশি ঘন এবং বায়ুমন্ডলের শতকরা ৯৫ ভাগই কার্বন ডাই অক্সাইড। গ্রহটির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে বুধ গ্রহের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত এই গ্রহটি। এছাড়াও পৃথিবীর মতো পানির বাষ্পে ঘনীভূত হওয়া মেঘের বদলে শুক্রে রয়েছে সালফিউরিক এসিড বাষ্পীভূত হওয়া মেঘ।

গ্রহের ঘূর্ণনের চেয়ে বায়ুমন্ডল আরো দ্রুত গতিতে চলতে থাকে, যার ফলে গরম ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ সেখানে ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটার। এই বাতাস কঠিন সীসাকে তরলে রূপান্তরিত করার মতো যথেষ্ট গরম।

এই বিভাগের আরো খবর

মোবাইল গ্রাহক সাড়ে ১৩ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক সাত কোটি ছাড়িয়েছে

ষোল কোটি মানুষের বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা এখন ৭ কোটি ছাড়িয়েছে। আর দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটির বেশি। এরমধ্যে কেবল মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন পৌনে ৭ কোটির বেশি মানুষ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গতকাল বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোন গ্রাহক ও ইন্টারনেট গ্রাহকের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।  

জুন মাস শেষের এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার, ওয়াইম্যাক্স গ্রাহক ৭৫ হাজার এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের (পিএসটিএন) গ্রাহক সংখ্যা ৪৬ লাখ ২২ হাজার। এর আগে বিটিআরসির সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য দিয়ে প্রস্তুত মার্চ মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার। ইন্টারনেট গ্রাহকের ছয় কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক ব্যবহার করেন মোবাইলের মাধ্যমে। ওই সময় আইএসপি ও পিএসটিএন গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৩৬ হাজার। ওয়াইম্যাক্স গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৮৯ হাজার। বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন।

মোবাইল গ্রাহক সাড়ে ১৩ কোটি
জুন মাস শেষে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ছয় কোটি ১৫ লাখ ৭৯ হাজার, রবি ও এয়ারটেল একীভূত হয়ে রবির তিন কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার, বাংলালিংকের তিন কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার। তবে অচলাবস্থায় থাকা সিটিসেলের গ্রাহকের কোনো তথ্য দেখানো হয়নি ওই প্রতিবেদনে। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার। গত বছর মার্চে দেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট ১৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজার গ্রাহক ছিল। তবে মে মাসে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৬০ লাখের মতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তথ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ৯৩ লাখ ছয় হাজার। বাংলালিংকের তিন কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার, রবির দুই কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার, এয়ারটেলের ৮২ লাখ ১৯ হাজার, টেলিটকের ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার। অপারেটরগুলোর দেওয়া সিম বিক্রির তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান তৈরি করে বিটিআরসি।সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপারেটরদের মধ্যে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা কমে এসেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পুঁজিবাজারে আসতে টেলিকম কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কম, শর্তের অজুহাত

পুঁজিবাজারে আসতে টেলিকম কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বরাবরই কম। টুজি, থ্রিজি গাইডলাইনে ৩০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও একমাত্র গ্রামীণফোন ছাড়া অন্যকোনও অপারেটর সেই পথে হাঁটেনি। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘শর্ত’কে ঢাল হিসেবে দেখছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লাভে থেকেও পুঞ্জিভূত লোকসানের কারণে পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না বলে দাবি করছে।  

 

 

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নানা শর্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী নয় মোবাইল ফোন অপারেটররা। ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে স্থানীয় মূলধন যোগান ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করছে অপারেটরগুলো। দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালায় গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এরমধ্যে চার বছর পার হয়ে গেলেও এখনও মোবাইল অপারেটররা সে ধরনের কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জানা যায়, থ্রিজি’র গাইডলাইনে বিধানটি রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে ফোরজি’র খসড়া নীতিমালায়ও বিষয়টি রাখা হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারে আসার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটক এবং টেলিকম কোম্পানি টেশিস (টেলিফোন শিল্প সংস্থা)। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (সাবেক মন্ত্রণালয়) সে সময়ের মন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, শিগগিরই টেলিটকের বিষয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং প্রসপেক্টাস অনুমোদনের জন্য এসইসিতে পাঠানো হবে। এখনও কাজটি ওই ‘শিগগিরই’তে আটকে আছে। সে সময়ে বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৬০০ কোটি টাকা তুলতে আগ্রহী ছিল টেলিটক। অপারেটরগুলোর মধ্যে একমাত্র গ্রামীণফোনই পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত হয় নীতিমালা তৈরির আগেই। প্রতিষ্ঠানটি তার মোট শেয়ারের ১০ শতাংশ বাজারে ছেড়েছে। অবশিষ্ট শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়ে গ্রামীণফোনের কোনও অগ্রগতি জানা যায়নি।

গ্রামীণফোনের একজন কর্মকর্তা নিজেকে উদ্ধৃত না করে বলেন,‘এটা তো শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়। ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত বিষয়টি মোটেও তাদের ইস্যু নয়।’ শেয়ারহোল্ডাররা মনে করলে বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে তিনি জানান।

সরকারের আরেকটি কোম্পানি টেশিস লাভে থাকলেও পুঞ্জিভূত লোকসান থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না। এ বিষয়ে টেশিসের কোম্পানি সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘পুঞ্জীভূত লোকসান থেকে বেরিয়ে এসে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো গেলে টেশিসকে নিয়ে পুঁজিবাজারে আসা সম্ভব হবে। সরকার পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে সাহায্য করলেও পুঁজিবাজারে আসা সহজ হয়।’

অন্যদিকে আরেকটি সরকারি টেলিকম কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) কয়েক বছর ধরে পুঁজিবাজারে রয়েছে।

রবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর বলেন, ‘রবি এসইসি’র সব শর্ত মেনেই পুঁজিবাজারে যাবে।’ তিনি জানান, যারা দেশে এফডিআই (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) নিয়ে আসছে, তাদের পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি ম্যান্ডেটরি নয়। রবি যেদিন এসইসি’র সব শর্ত পূরণ করতে পারবে, তখন পুঁজিবাজারে আসবে।’

বাংলালিংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা  জানান, বাংলালিংক সবে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। এসইসি’র শর্ত অনুযায়ী পুঁজিবাজারে আসার জন্য পরপর তিন বছর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মুনাফা করতে হবে । বাংলালিংক এখন সেই অপেক্ষায় আছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসি’র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেটরগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারি না। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা আসবে।’ তিনি মনে করেন, এসইসি নিয়ম শিথিল করলে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি বাজারে আসার পথ সহজ হতে পারে।’

মোবাইল ফোনের কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব কার?

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গত জুনে জানিয়েছিলেন, মোবাইল ফোনের কলরেট কমানো হতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই কলরেট না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। যদিও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রস্তাবনাটি ফিরিয়ে দিয়ে বিটিআরসিকে  ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছে। এদিকে, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের দাবি, এই প্রস্তাবনা তৈরির আগে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির পরামর্শ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মোবাইল ফোনের কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাবটি আসলে কার?

 

 

সম্প্রতি এক বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সর্বনিম্ন কলরেট বাড়ানো, ভিন্ন অপারেটরের মধ্যে কলরেট কমানো এবং কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ পয়সা কমিয়ে দেড় টাকা করার প্রস্তাব পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তা ফের বিশ্লেষণ করার জন্য সোমবার (৭ আগস্ট) বিটিআরসিতে ফেরত পাঠিয়েছে। বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশনের পাঠানো প্রস্তাবনাই চূড়ান্ত নয়। কলরেট বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার সুযোগও রাখা হয়েছে প্রস্তাবনায়।’

বিটিআরসির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, একই অপারেটরের মধ্যে কথা বললে গ্রাহকের খরচ বাড়বে এবং অন্য অপারেটরে কথা বললে খরচ কিছুটা কমবে। আর এতে করে ছোট অপারেটরগুলোর আয় আরও কমে যাবে। বড় অপারেটরগুলোর গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব অপারেটরের নিজেদের গ্রাহকদের মধ্যেই কথা হয় বেশি। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কথা বলার খরচও বাড়বে, অপারেটরগুলোর আয়ও বাড়বে।

যদিও গত ২০ জুন জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছিলেন, প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের কলরেট আরও কমানো যেতে পারে। মোবাইল ফোনের সর্বনিম্ন কলরেটে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে দেশে এই কলরেট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা ও সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারণ করা আছে।

দেশে মোবাইল ফোনের এই কলরেট ২০১০ সালে নির্ধারণ করে দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)। তাদের হিসাব ছিল, একই অপারেটরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা, অন্য অপারেটেরে সর্বনিম্ন ৬০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা হারে কলরেট নির্ধারণ করা যাবে। এর বিপরীতে বিটিআরসির নতুন প্রস্তাবনায় একই অপারেটরের মধ্যে সর্বনিম্ন কলরেট ৩৫ পয়সা, অন্য অপারেটরে সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ কলরেট দেড় টাকা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর  বলেন, ‘আমাদের (মোবাইল ফোন অপারেটর) সঙ্গে কোনও ধরনের পরামর্শ না করেই কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি। আমরা বিষয়টি জানিই না। অপারেটরদের সঙ্গে কথা না বলে কলরেট নির্ধারণ কোথাও করা হয় না। আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রস্তাবনা দেওয়া হোক।’ তিনি জানান, অতীতে কলরেট নির্ধারণের সময় টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির মতামত নেওয়া হয়েছিল।

তবে জানা গেছে, কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রকারান্তরে খুশিই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। কলরেট বাড়লে কোন অপারেটরের আয় কত বাড়বে, তারও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। সেই হিসাবে দেখা যায়, বিটিআরসির প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে আয় বাড়বে গ্রামীণফোনের, আর আয় কমে যাবে রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের।

এদিকে, নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ  জানান, নতুন প্রস্তাবনার পেছনে কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি। এর একটি হচ্ছে স্পেক্ট্রাম (তরঙ্গ)। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর স্পেকট্রাম প্রয়োজন, কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। স্পেকট্রামের দামও অনেক বেশি। ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘এ পরিস্থিতিতে কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব অপারেটরগুলোর জন্য এক ধরনের ‘ইনসেনটিভ’, বাড়তি আয় দিয়েই যেন অপারেটরগুলো স্পেকট্রাম কিনতে পারে।’

ওই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, সামনে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্কের (ফোরজি) নিলাম রয়েছে। এতে অপারেটরগুলোর অনেক টাকার প্রয়োজন। এই ইনসেনটিভ অপারেটরগুলো সেই কাজেও ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। আইজিডাব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) কলরেট কমে যাওয়াটাও প্রস্তাবনার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মোবাইল অপারেটরগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কলরেট বাড়লে কাদের লাভ, খোঁজ নিন।’ প্রতিমন্ত্রীর কলরেট কমানোর ইঙ্গিত ও কলরেট বাড়ানো প্রসঙ্গে অ্যামটবের কিছু না জানার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিটিআরসি একা-একাই কলরেট বাড়ানোর কাজটি করে ফেললো?’

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন প্রযুক্তির লেজার প্রিন্টার

ঝকঝকে ছাপার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে মনোক্রোম প্রযুক্তির লেজার প্রিন্টার আনলো টেক রিপাবলিক লিমিটেড। মার্কিন ব্র্যান্ড লেক্সমার্ক এমএস৩১২ডিএন মডেলের এই প্রিন্টারটি মুহূর্তে কাগজের উভয় পিঠই প্রিন্ট করতে পারে।
১২০০ ডিপিআই প্রিন্টিং রেজ্যুলেশনে মিনিটে ৩৩ পৃষ্ঠা ছাপতে সক্ষম এই প্রিন্টারে এ৪-৬ ছাড়াও, লিগ্যাল, লেটার ও ইউনিভার্সেল আকারের কাগজ ব্যবহার করা যায়। কালি সাশ্রয়ী হওয়ায় মাসে ছাপতে পারে ৫০ হাজার পৃষ্ঠা। একটি অফিসে ঝামেলা মুক্তভাবে ছাপার কাজ সেরে নিতে ইথারনেট নেটওয়ার্কে জুড়ে নেওয়া যায়। দাম ১৭ হাজার টাকা।

ফায়ারফক্সে নতুন সুবিধা

প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এবার ওয়েব ব্রাউজার ‘মজিল্লা ফায়ারফক্স’ নিয়ে আসছে ফাইল শেয়ারিং ও ভয়েস সার্চের সুবিধা।

জানা গেছে, একে অন্যের কাছে বড় আকারের ফাইল বিনিময়ের পাশাপাশি মুখের কথায় বিভিন্ন তথ্যের খোঁজ মিলবে ফায়ারফক্স ব্রাউজারে। এ ছাড়া প্রয়োজনে বিভিন্ন তথ্য নোট করেও রাখা যাবে।

ইতোমধ্যে ব্রাউজারে ব্যবহার উপযোগী ফাইল শেয়ারিং, ভয়েস সার্চ ও নোট রাখার টুল তৈরি করেছে মজিলা কর্তৃপক্ষ। বেশ কিছুু ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীকে পরীক্ষামূলকভাবে টুলগুলো ব্যবহারের সুযোগও দিচ্ছে তারা।

নতুন এ সুবিধা চালু হলে ফায়ারফক্স ব্রাউজারের সাহায্যে এক গিগাবাইট (জিবি) পর্যন্ত ফাইল লিংক আকারে বিনিময় করা যাবে। লিংকগুলোতে ক্লিক করলেই পুরো ফাইল ডাউনলোড হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ফাইলগুলো এনক্রিপ্টেড আকারে বিনিময় হওয়ায় তথ্যও থাকবে নিরাপদ। শুধু তা’ই নয়, একবার ডাউনলোড করলেই শেয়ার করা লিংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট (মুছে) হয়ে যাবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চোখের সামনেই চুরি হয়ে যেতে পারে পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা !

আমরা সাধারনত আমাদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য অনলাইন ডেটা নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকি। সবসময় এসব পাসওয়ার্ড এবং ডেটা হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকি এবং হ্যাকারদের থেকে আমাদের এসব প্রয়োজনীয় ডেটা বাঁচানোর চেষ্টা করি।

কোন হ্যাকার বা অপরাধী যদি আপনার কোন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পেয়ে যায় তাহলে সে আপনার যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে। আজকের টিউনে এমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেসব কারনে আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা আপনার চোখের সামনে থেকেই চুরি হয়ে যেতে পারে।

দুর্বল এবং সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা: এটি পাসওয়ার্ড চুরি হওয়ার সবথেকে বড় কারন। আপনি হয়ত অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় একটু সহজ পাসওয়ার্ড ইন্টার করেন কারন তা মনে রাখা সহজ এবং এরপরে লগিন করার সময় যাতে আপনি আরো দ্রুত এবং সহজে লগিন করতে পারেন। অনেকে আবার সবজায়গায় পাসওয়ার্ড দেন ১২৩৪৫৬ এমন করে। এই কাজটিই পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা হ্যাক হওয়ার জন্য সবথেকে বেশি দায়ি।

সবসময় মনে রাখা উচিৎ যে, সহজ পাসওয়ার্ড যদি আপনার জন্য মনে রাখা সহজ হয় তবে এই সহজ পাসওয়ার্ড হ্যাকার এর জন্য অনুমান করা এবং হ্যাক করাও সহজ হবে। হ্যাকার যদি আপনার সম্পর্কে ভালভাবে জানে, তাহলে সে আপনার পাসওয়ার্ড লেখার অভ্যাস সম্পর্কেও ভালভাবে জানবে। তাই এই ধরনের দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সহজেই হ্যাক হতে পারে।

হার্ডওয়্যার ডিভাইসগুলো আপনার কি-স্ট্রোক ট্র্যাক করছে: আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট বা অন্য কোথাও আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করেন তখন আপনার পিসিতে কানেক্ট করা ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার ডিভাইসগুলো সহজেই আপনার কি-স্ট্রোক থেকে আপনার পাসওয়ার্ড জানতে পারবে। সাধারনত সবসময় এই বিষয়টি খুব একটা চিন্তার কিছু নয়, কিন্তু এই কারনে আপনার পাসওয়ার্ড সহজেই হ্যাক হতে পারে যদি আপনি হ্যাকারের তৈরি কোন সফটওয়্যার বা কি-লগার ইন্সটল করেন যেসব সফটওয়্যার এসব হার্ডওয়্যার ডিভাইসের থেকে ডেটা সংগ্রহ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই কোন ট্রাস্টেড পাবলিশার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কোন সন্দেহজনক সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না এবং ইন্সটল করবেন না। নয়ত এসব সফটওয়্যার এবং কি-স্ট্রোক ট্র্যাক করার মাধ্যমে সহজেই আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে পারে।

অন্যদের সাথে আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করা: এটা আমরা অনেকেই প্রায়ই করে থাকি। আমরা হয়ত আমাদের আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবদের আমাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কোনকিছু দেখানোর জন্য বা অন্য কোন কারনে আমাদের সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডটিই ওদেরকে দিয়ে দেই যাতে তারা নিজেরা সবকিছু দেখে নিতে পারে বা যে কাজের জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট দরকার, সেই কাজটি করতে পারে।

এই কাজটি একেবারেই করা উচিত নয়। আমি বলছিনা যে যাকে আপনি বিশ্বাস করে আপনার পাসওয়ার্ড দেবেন, সেই আপনার পারসোনাল ডেটা চুরি করবে। কিন্তু আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে আপনি নিজে যতটা সতর্ক থাকেন, আপনি যাকে পাসওয়ার্ড দেবেন সে আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে ততটা সতর্ক নাও থাকতে পারে। এটিও পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার অন্যতম একটি কারন।

যেকোনো ধরনের ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পেলেই কানেক্ট করা: এই কাজটিও আমরা অনেকেই করে থাকি। ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই আমাদের অনেকের কাছে অনেক মূল্যবান একটি জিনিস। কোথাও কোনভাবে কোন ধরনের ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পেলেই কিছু না বুঝে হাতের ডিভাইসটি কানেক্ট করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করি। এই কাজটি একেবারেই করা উচিত নয়। একটি ভাল সিকিউরিটির ট্রাস্টেড ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোন ওপেন পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কোন ডিভাইস কানেক্ট করা উচিত নয়।

যেকোনো ধরনের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট করার আগে অবশ্যই নেটওয়ার্কের সিকিউরিটি, নেটওয়ার্কের ধরন এবং কি কি ইনফরমেশন নেটওয়ার্কটি ট্র্যাক করবে এসব চেক করে দেখুন। জেনে বুঝে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট না করলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সহজেই চুরি হতে পারে।

আপনার ডিভাইসটির সিকিউরিটি নিশ্চিত না করা: আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সিকিওর রাখতে হলে সবার প্রথমে আপনার যা করা উচিৎ তা হল, আপনার ডিভাইসটি অর্থাৎ যেসব ডিভাইসে আপনি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন যেমন আপনার ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোণ ইত্যাদির সিকিউরিটি নিশ্চিত করা।

পাসওয়ার্ড চুরির হাত থেকে বাচতে হলে আপনাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ডিভাইসের অ্যাক্সেস যাতে আপনি ছাড়া অন্যকেউ না পায়। আপনার ডিভাইসগুলোতে স্ক্রিন লক, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং আরো সব ধরনের সিকিউরিটি সেটাপ করুন যাতে অন্যকেউ আপনার ডিভাইসের অ্যাক্সেস না পায় এবং অ্যাক্সেস পেলেও যাতে সহজে আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা না পায়।

তো এগুলোই ছিল এমন কয়েকটি বিষয় যেসব খেয়াল না রাখলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা আপনার চোখের সামনে থেকেই চুরি বা হ্যাক হতে পারে। পাসওয়ার্ড চুরি থেকে বাচতে হলে এসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখুন। আজকের মত টিউনটি এখানেই শেষ করছি। আশা করি টিউনটি আপনাদের ভাল লেগেছে। টিউন সম্পর্কে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই টিউনমেন্ট করে জানাবেন। ভাল থাকবেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

গিগাবাইটের ছোট পিসি বাজারে

বাজারে এসেছে গিগাবাইটের জিবি-বিকেআই৩এইচএ-৭১০০ মডেলের ছোট আকৃতির পিসি।

ইন্টেল সপ্তম প্রজন্মের কোর-আই থ্রি প্রসেসর সম্পন্ন এই পিসিতে রয়েছে আল্ট্রা কমপ্যাক্ট পিসি ডিজাইন, ২.৫ ইঞ্চি এইচডিডি ও এসএসডি স্লট, ২টি ডিডিআর ফোর র্যা ম স্লট, ডুয়াল ব্যান্ড ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ৪.২, ইন্টেল ৬২০ মডেলের এইচডি গ্রাফিকস কার্ড, ইউএসবি ৩.১ এবং ইউএসবি ৩.০ এর এর দুটি করে স্লট, এইচডিএমআই ২.০ স্লট, এইচডিএমআই প্লাস মিনি ডিসপ্লে পোর্ট আউটপুট, ইন্টেল গিগাবিট ল্যান, হেডফোন ও মাইক্রোফোন জ্যাক।
৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবাসহ দাম ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। বাজারজাত করছে স্মার্ট টেকনোলজিস।

এই বিভাগের আরো খবর

সৌরজগতের বাইরে উপগ্রহের সন্ধান!

বর্তমান এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সৌরজগত নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আর সেই অনুসন্ধানে সম্ভবত প্রথম সৌরজগতের বাইরে কোনো এক্সোমুন বা উপগ্রহের সন্ধান পেলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, পৃথিবী থেকে চার হাজার আলোকবর্ষ দূরে এ উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন তারা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি দৈত্যকার গ্রহের কক্ষপথে ঘুরে চলেছে সেটি।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এক্সোমুন ক্যানডিডেট কেপলার-১৬২৫ বি আইকে একটি গ্রহের কক্ষপথে ঘুরতে দেখেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এটি আয়তনে বৃহস্পতির চেয়ে বড় ও নেপচুনের সমান তাই এর নাম রাখা হয়েছে ‘নেপ্টমুন’। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন এই উপগ্রহ সম্পর্কে আরো তথ্য পেতে তারা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ব্যবহার করবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

আগস্টে আসছে ফেসবুক টিভি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটি চালু করবে তাদের ভিডিও স্ট্রিমিং ফিচার। এটা মূলত ফেসবুক টিভি হিসেবে পরিচিতি পাবে। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি ফেসবুক টিভি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্যে মার্ক জাকারবার্গ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য ভিডিও পার্টনারের খোঁজে নেমেছেন। কিছু কনটেন্ট প্রতিষ্ঠান নাকি স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রামাণ্যচিত্র তৈরিও করেছে। এগুলো শুরুর দিকে ফেসবুক টিভিতে দেখানো হতে পারে। এই পুরো ব্যবস্থাটির সঙ্গে সাবেক টিভি এবং গণমাধ্যম নির্বাহীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্টভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এমনটিই জানিয়েছে।
এদিকে ফেসবুক সম্প্রতি তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের হিসেব প্রকাশ করেছে। প্রান্তিক আয়ে ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। মোবাইল বিজ্ঞাপনে ভালো করায় এই প্রান্তিকে তাদের রাজস্ব আয় হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে প্রত্যাশিত আয় ছিল ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আয়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় ছিল অনেক কম। ফেসবুক তাদের আয়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের নতুন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তারই একটি অংশ হলো ফেসবুক টিভি।

এই বিভাগের আরো খবর

জেনে নিন গোপনে কে আসে আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে

আপনার ফেসবুক প্রোফাইল আপনার বন্ধু তালিকার বাইরের কেউ নিয়মিত দেখে কী না আপনি জানেন না। এমনকি আপনার বন্ধু তালিকায় থাকা কোনও বন্ধুও আপনার সর্বশেষ ছবি কিংবা স্ট্যাটাস দেখেছে কী না আপনি হয়তো জানেন না। আপনার পক্ষে এটা তখনই জানা সম্ভব হয় যখন সেই বন্ধুরা আপনার ফেসবুক কার্যক্রমে লাইক বা কমেন্ট করে।
তবে এখন লাইক বা কমেন্টের দরকার নেই। এমনকি বন্ধু তালিকায় থাকারও প্রয়োজন নেই। এখন আপনি খুব সহজেই বের করতে পারবেন কারা আপনার ফেসবুক প্রোফাইল নিয়মিত দেখে।
যদিও বেশ কিছু অ্যাপের সাহায্যে এই কাজটি করা যায়। সেক্ষেত্রে অনেক সময়ই ফলাফল ঠিক আসে না। আছে নিরাপত্তার হুমকি। অর্থাৎ এসব অ্যাপ ব্যবহার করে এই ফলাফল বের করে আনতে গেলে আইডি হ্যাকের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এসব অ্যাপের সাহায্য বাদ দিয়ে চলুন দেখে নেই নিরাপদিএকটি পদ্ধতি-
১. প্রথমে যথারীতি ফেসবুকে লগ-ইন করুন।
২. এরপর আপনার টাইমলাইনে ‘অ্যাক্টিভিটি লগ’ অপশনের পাশের অপশনে (যেখানে তিনটি বিন্দু রয়েছে) রাইট বাটন ক্লিক করুন। সেখান থেকে ‘ভিউ পেজ সোর্স’ সিলেক্ট করুন।

 

 

৩. এ পর্যায়ে কোডভর্তি পুরো একটি পেজ পাবেন যার কিছুই আপনি বুঝবেন না। তবে ভয়ের কিছু নেই। এই পেজটিতে অবস্থান করার সময় ‘কন্ট্রোল+এফ’ (F) বাটন চাপুন। দেখবেন, ওপরে ডান কোণায় একটি সার্চবক্স এসেছে। এই সার্চবক্সে ‘InitialChatFriendsList’ লিখুন।

৪. এরপর ‘InitialChatFriendsList’ এর পাশে কতগুলো নম্বরের তালিকা পাবেন। মূলত এই নম্বরগুলোই আপনার টাইমলাইনে যারা এসেছে তাদের ফেসবুক আইডি নম্বর।

৫. এখন এই নম্বরগুলো দিয়ে আইডি বের করার জন্য ‘facebook.com’ (ফেসবুক ডটকম) সাইটে যেতে হবে। তারপর ফেসবুক ডটকমের পাশে স্ল্যাশ (/) চিহ্ন দিয়ে যেকোনও একটি নম্বর পোস্ট দিন। যেমন- facebook.com/ 100008223225037। দেখবেন, একটি আইডি চলে এসেছে। অর্থাৎ এই আইডিই আপনার প্রোফাইল দেখে থাকে।

৬. এক্ষেত্রে, যে নম্বরটি (আইডি) একেবারে প্রথমেই থাকে সেই আইডিটি আপনার প্রোফাইলে নিয়মিত আসে। এরকম করে পর্যায়ক্রমে সব শেষের আইডিটি হলো যে আপনার প্রোফাইলে সবচেয়ে কম এসেছে।

বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার! মাত্র দু সেকেন্ডে হবে চার্জ হবে স্মার্টফোন

স্মার্টফোনে চার্জ দিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। ফোনে চার্জ দেওয়ার সময় কমিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। এবার তারা আশার আলো খুঁজে পেলেন। তারা এমন ধরনের উপাদান আবিষ্কার করেছেন যা দিয়ে ফোনের ব্যাটারি তৈরি করলে এটি মাত্র দু-এক কয়েক সেকেন্ডে চার্জ হবে। বিজ্ঞানীরা এই উপাদানকে যুগান্তকারী আবিস্কার বলে অভিহিত করছেন।

এই উপাদানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমএক্সেন’। এই উপাদান তৈরি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিক্সেল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রফেসর জুরি গোগোটসি। যিনি ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করছেন। জুরি জানান, তাদের আবিষ্কৃত উপাদান সাধারণ ব্যাটারির উপাদান সম্পূর্ণ আলাদা। এই উপাদানের তৈরি ব্যাটারির আয়ন দ্রুত চার্জ নিতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীরা এই উপাদান তৈরির জন্য ২০১১ সাল থেকে কাজ করছেন। তারা আশাবাদী যে এই উপাদান দিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাটারি তৈরি করলে তা কয়েক সেকেন্ডে চার্জ হবে। এই উপাদান দিয়ে স্মার্টফোন ও অন্যান্য গ্যাজেটের ব্যাটারি তৈরি করা সম্ভব। তবে এখনই এই উপাদান দিয়ে স্মার্টফোনের ব্যাটারি তৈরি করা হচ্ছে না। এজন্য তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উপাদান দিয়ে ব্যাটারি তৈরির জন্য তিন বছর পর শুরু হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ফাঁস হয়ে গেল নোকিয়ার আর এক নতুন চমক

নোকিয়া প্রত্যাবর্তনের পর থেকে একের পর এক ছক্কা হাকিয়ে চলেছে। নস্ট্যালজিয়া ফিচার ফোন ৩৩১০ এখন সেই আগের মত জায়গা করে নিয়েছে সবার মনে। এছাড়া নোকিয়া ৩, ৫ ও ৬ নামের তিনটি মডেলের হ্যান্ডসেট বাজারে ছেড়েছে ফিনল্যান্ডের এইচএমডি গ্লোবাল। নোকিয়ার কাছ থেকে ব্র্যান্ড লাইসেন্স কিনে ফোন তৈরি করছে সংস্থাটি। ৩, ৫ ও ৬ ছাড়াও ‘নোকিয়া 8’ মডেলটি নিয়ে টেক ওয়ার্ল্ডে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

 

কিন্তু এসবের পাশাপাশি নোকিয়া প্রেমীদের জন্যে আর এক সুখবর আছে ‘নকিয়া 2’ নামে আর এক একটি ফোন বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে এই সংস্থাটি। সম্প্রতি চীনের বাইদু নামের ওয়েবসাইটে নতুন মডেলটির ছবি ফাঁস হয়ে গিয়েছে। ‘নোকিয়া 2’ স্মার্টফোনটির ফাঁস হওয়া ছবিটির সঙ্গে নোকিয়া 3 স্মার্টফোনের যথেষ্ট মিল আছে। নতুন স্মার্টফোনটির আকার নকিয়া 3-এর মতোই হবে। এতে ব্যবহৃত হবে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ২১২ প্রসেসর। তবে নতুন মডেলটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি এইচএমডি গ্লোবাল।

স্মার্টফোন ছাড়াও এইচএমডি গ্লোবাল নোকিয়া ১০৫ ও ১৩০ মডেলের নতুন সংস্করণের ফিচার ফোন বাজারে ছাড়ার কথা জানিয়েছে। নকিয়া ১০৫ মডেলটি সিঙ্গেল সিম এবং ডুয়াল সিমে পাওয়া যাবে। এইচএমডি গ্লোবালের, তাদের তৈরি মধ্যবিত্ত বাজেটের ফিচার ফোন এটি। এ ছাড়া শিগগিরই ১৩০ মডেলটি ছাড়া হবে। নীল, সাদা ও কালো রঙে বাজারে আসবে নকিয়া ১০৫ আর ১৩০-এর রং হবে লাল, ধূসর ও কালো। ফোন দুটিতে এলইডি ফ্ল্যাশলাইট থাকবে। ফোন দুটির টকটাইম হবে ১৫ ঘণ্টা। এতে স্নেক জেনিয়া গেম ও এফএম রেডিও শোনার ফিচারও থাকছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আর কিছু দিনের মধ্যে বাজারে আসবে সনির সোনায় মোড়ানো ফোন

টেকনোলজির যুগে নিত্য নতুন সব জিনিস তৈরি রোজকার ব্যপার। এই কথা মাথায় রেখে সব সংস্থায় নিজেরদের প্রোডাক্টে নতুন নতুন পরিবরতন আনার চেষ্টা করে। যার ফলে সনির এক্সপেরিয়া সিরিজের এজ গোল্ড এডিশন বাজারে আসতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। এই ফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে এতে ২০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং থ্রিডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকছে। সম্প্রতি এই ফোনটির তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্য মতে, ফোনটিতে আকর্ষণীয় গোল্ড কভারে তৈরি। ফোনটিতের ৯৫ শতাংশ জুড়ে আছে স্ক্রিন। ইউনিক ডিজাইনে তৈরি এই ফোনটির রিয়ারে দুইটি ডুয়েল ক্যামেরা থাকছে। স্টাইলিশ ফোনটিতে থ্রিডি ফর্মে তৈরি করা হয়েছে।

ফোনটির উপরের অংশে দুটি স্পিকার ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটিতে ৫.৫ ইঞ্চির আইপিএস এলসিডি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে থাকছে। ডিসপ্লের রেজুলেশন ৩৮৪০x২১৬০ পিক্সেল। এতে ৪ জিবি র্যা ম এবং ৬৪ জিবি রম ব্যবহার করা হবে। মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে মেমোরি ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে।

সনি এক্সপেরিয়ার গোল্ড এডিশনের ফোনটিতে ৩৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি থাকছে। এতে কুইক চার্জ ৫.০ প্রযুক্তি থাকছে। সনির নতুন এই ফোনটি অ্যানড্রয়েড ৭.১.১ নুগাট অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। এতে ২০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা এবং ১৩ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা থাকছে। ফোনটির দাম হতে পারে ৭৫০ ডলার।

মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর নতুন এন্টারপ্রাইজ বান্ডেল উন্মোচন

প্রযুক্তি খাতে গ্রাহকসেবায় অভিনব উদ্ভাবনগুলোকে স্বীকৃতি দিতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে পার্টনার সম্মেলন ‘মাইক্রোসফট ইন্সপায়ার’ আয়োজন করে মাইক্রোসফট। অনুষ্ঠানে মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর নতুন এন্টারপ্রাইজ বান্ডেল উন্মোচন করা হয়েছে।

সৃষ্টিশীলতা ও দলগত স্বক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়ে মাইক্রোসফট ৩৬৫ তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ডিভাইস, অ্যাপস ও সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে কৌশলগত পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের তথ্য থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদে। এন্টারপ্রাইজ বান্ডেলটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অফিস ৩৬৫, উইন্ডোজ ১০ এবং এন্টারপ্রাইজ মোবিলিটি ও সিকিউরিটি।

এবারের পার্টনার সম্মেলনে ক্লাউড প্রযুক্তি, সরকারি খাত, মাইক্রোসফট ফিলানট্রপিসসহ মোট ৩৪টি ক্যাটাগরিতে দক্ষ পার্টনার নির্বাচিত করা হয়েছে। এ অ্যাওয়ার্ডে বিশ্বের ১১৫টি দেশ থেকে ২৮০০-এর বেশি পার্টনার কোম্পানি থেকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারী পার্টনার কোম্পানিগুলো গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দক্ষতা, মার্কেটে তাদের সল্যুশনের কার্যকারীতা এবং মাইক্রোসফট প্রযুক্তির উল্লেখ্যযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করেই অ্যাওয়ার্ডের জন্য নিজেদের নাম তালিকাভূক্ত করে।

মাইক্রোসফট কান্ট্রি পার্টনার ২০১৭-তে বাংলাদেশ থেকে অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড। মাইক্রোসফট প্রযুক্তিভিত্তিক গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে অভিনব উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় বিশ্ব মঞ্চে ‘মাইক্রোসফট কান্ট্রি পার্টনার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

আয়োজনের মূল বক্তা হিসেবে মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা বলেন, ‘বিশ্বের সব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও স্বক্ষমতায় গড়ে তোলার ব্যাপারে মাইক্রোসফট দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। স্বার্থে প্রযুক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কোনোভাবেই অবহেলা করি না, আর এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের গ্রাহকদের সাফল্যেই আমাদের সাফল্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘পার্টনারদের প্রতি আমাদের একনিষ্ঠতা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতা প্রযুক্তি খাতের জন্য উদাহরণস্বরূপ। এক্ষেত্রে মোবাইল-ফার্স্ট, ক্লাউড-ফার্স্ট বিশ্ব থেকে ইন্টেলিজেন্ট এজ ও ইন্টেলিজেন্ট ক্লাউডে রূপান্তরের বিষয়টি উল্লেখ্যযোগ্য। এভাবেই ডিজিটাল প্রযুক্তিকে নিয়ে আসা যাবে প্রতিটি জীবনে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে।’

বিশ্বব্যাপী মাইক্রোসফট পার্টনারদের দ্বারা ১৭ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ৬৪,০০০ পার্টনার বর্তমানে ক্লাউড সেবা নিয়ে কাজ করছে। পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে এভাবেই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে মাইক্রোসফট।

এই বিভাগের আরো খবর

ই-মেইল পড়া হয়েছে কিনা জানার উপায়

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠানোর জন্য মেসেজিং অ্যাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও, প্রফেশনাল ক্ষেত্রে বার্তা বা ডকুমেন্ট প্রেরণে ই-মেইল এখনো বহুল ব্যবহৃত।

সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ কিংবা মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হলে- যাকে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি পড়েছেন কিনা তা জানা যায়। কেননা পাঠানো বার্তা পড়ে থাকলে ‘টিক’ চিহ্ন দেখায়। কিন্তু ই-মেইলের ক্ষেত্রে? ধরুন, আপনি কাউকে জরুরি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। কিন্তু সে আপনার মেইল পড়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে? সহজ সমাধান হচ্ছে, ‘টিক’ চিহ্ন সুবিধা ই-মেইলের ক্ষেত্রেও রয়েছে। এ সুবিধা পাওয়া যাবে জিমেইলে এবং এজন্য আপনাকে মেইলট্র্যাক নামক এক্সটেনশন ব্যবহার করতে হবে।

এক্সটেনশনটি ব্যবহারের ‍সুবিধা হচ্ছে, যাকে মেইল পাঠিয়েছেন, তিনি মেইলটি পেয়ে থাকলে সবুজ রঙের একটি টিক চিহ্ন দেখাবে এবং মেইলটি পড়ে থাকলে বা ওপেন করে থাকলে দুটি টিক চিহ্ন দেখাবে। এছাড়া মেইলটি কতবার তিনি পড়েছেন এবং সর্বশেষ কখন পড়েছেন সেই সময়টাও দেখাবে। প্রয়োজনে এক্সটেনশনটির রিয়েল টাইম অ্যালার্ট সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে আপনার মেইলটি যখন পড়বে, তখন আপনি নোটিফিকেশন পাবেন।

ক্রোম, ফায়ারফক্স এবং অপেরা ব্রাউজারে মেইলট্র্যাক এক্সটেনশন বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে।

ডাউনলোড লিংক : goo.gl/BB1yBC

এই বিভাগের আরো খবর

হোয়াটস অ্যাপের নতুন ফিচার্সগুলি এখনই জেনে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি বা টেকনোলজি মানেই রোজ রোজ নতুন নতুন সংযোজন। একঘেয়ে টেকনোলজি মোটেই ব্যবহারকারীদের ভালো লাগে না। আর তাই রোজ আপডেট হতে থাকে তথ্যপ্রযুক্তি । ফেসবুক অন্তর্গত জনপ্রিয় মেসেজিং সাইট হোয়াটস অ্যাপ যেমন। ব্যবহারকারীদের খুশি করতে রোজ রোজ নতুন নতুন ফিচার্স নিয়ে আসছে। প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহতেই কোনও না কোনও নতুন ফিচার্স নিয়ে আসছে হোয়াটস অ্যাপ । জেনে নিন হোয়াটস অ্যাপের নতুন কয়েকটি ফিচার্স ।

১) পিনড চ্যাটস- পিনড চ্যাটস নামে নতুন একটি ফিচার্স সংযোজন করেছে হোয়াটস অ্যাপ । যার মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে বেশি ৩টি চ্যাট তালিকার একেবারে উপরে সবসময় রাখতে পারবেন।

কীভাবে কোনও চ্যাটকে পিন করবেন?

প্রথমে যে চ্যাটটিকে পিন করতে চাইছেন, তার উপর অনেকক্ষণ প্রেস করুন। এবার টপ বারে পিন আইকনটি চলে আসবে। পিন আইকনে ক্লিক করলেই আপনার পছন্দের চ্যাটটি পিন হয়ে যাবে।

২) নিউ রেকর্ডেড স্ন্যাপচ্যাট লাইক স্ট্যাটাস ফিচার-

এতদিন পর্যন্ত আপনি স্ট্যাটাসে শুধুমাত্র কোনও টেক্সট দিতে পারতেন। এবার আপনি স্ট্যাটাসে ভিডিও কিংবা ছবি দিতে পারবেন। এবং সেই স্ট্যাটাসটি ২৪ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৩) মিডিয়া শেয়ারিং লিমিট ইনক্রিজ টু ৩০-

হোয়াটস অ্যাপে এবার মিডিয়া শেয়ারিং লিমিট ১০ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হল।

৪) ফোটো বান্ডিল, ভিডিও স্ট্রিমিং, ফোটো ফিল্টার ফিচার্স-

হোয়াটস অ্যাপের ফোটো বিল্ডিং ফিচার্সে ছবি কিংবা ভিডিও আপনি এখন অ্যালবামের মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন।

৫) অল টাইপ ফাইল ট্রান্সফার-

এখন আপনি হোয়াটস অ্য়াপে সব ধরণের ফাইল পাঠাতে পারবেন।

৬) নিউ ভিডিও কলিং বাটন-

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলিতে আপনি এখন হোয়াটস অ্যাপে ভিডিও কলিংয়ের জন্য আলাদা বাটন পাবেন।

হতে যাচ্ছে হাইপারলুপের মূল পরীক্ষা

মার্কিন প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক-এর দেওয়া এক ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ধারণা নিয়ে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। বায়ুশূন্য একটি নলের ভেতর দিয়ে বিশেষ পডে করে যাত্রী ও মালামাল পাঠানোর ‘হাইপারলুপ’ নামের এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হাইপারলুপ ওয়ান এই প্রযুক্তি বানাতে কাজ করছে। সামনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির নেভাডায় এ নিয়ে একটি পরীক্ষা চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মার্সি সিমন। এই পরীক্ষায় কয়েকটি ট্র্যাকে ২৮ ফুট দীর্ঘ পড পাঠানো হবে।

মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক সর্বপ্রথম হাইপারলুপ ধারণা প্রবর্তন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলস থেকে স্যান ফ্রানসিসকো-তে বায়ুশূন্য নলের মাধ্যমে যাত্রীসহ পড পাঠানোর ধারণা দেন। তার এই ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে হাইপারলুপ ওয়ান। সামনের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ঘণ্টায় আড়াইশ’ মাইল বা চারশ’ দুই কিলোমিটার গতি উঠানো, বলা হয়েছে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে।

এর আগে চলতি বছর ১২ মে একটি পরীক্ষা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে তারা। এই পরীক্ষায় পডটি বায়ুশূন্য নলটির মধ্যে ভেসে উঠে, ৫.৩ সেকেন্ড সময় ধরে এটি ভেসে ছিল। এ সময় ঘণ্টায় ৭০ মাইল গতিবেগ পাওয়া যায় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ গতি লাভের আশায় নল ছাড়া খোলা জায়গায় এমন একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল।

এই প্রকল্পের পরিচালকরা পডের গতিবেগ ঘণ্টায় সাড়ে সাতশ’ মাইল উঠানোর আশা করছেন। কিন্তু বাস্তব দুনিয়ায় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা, এ ক্ষেত্রে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া থেকে শুরু করে এমন গতিতে বাঁক খাওয়ানোর মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ইতোমধ্যে হাইপারলুপ ওয়ান ১৬ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান শারভিন পিসহেভার এক বিবৃতিতে বলেন, “হাইপারলুপ ওয়ান মানুষ ও মালামাল  বিশ্বের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা দেবে।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

হাসিতেই রিসিভ হবে মোবাইলফোন

মোবাইলে কল এলে বাটন কিংবা স্ক্রিন চেপে রিসিভ করতে হবে না। হাসি দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ হয়ে যাবে ফোন। বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্লাগ উদ্ভাবন করছেন যেটা দিয়ে সহজে কাজটি করা যাবে। নতুন এই প্লাগটি ব্যবহারকারীদের কানে সংযুক্ত করতে হবে, যা মানুষের মুখভঙ্গি বুঝতে সক্ষম। ফলে হাসি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কানে স্থাপন করা ডিভাইসটি গ্রাহকের হাসি বুঝতে পারবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল রিসিভ হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন স্ক্রিনে টাচ করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ব্যবহারকারীর জীবনকে এটা আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এবার স্মার্টফোন ব্যবহারকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করছেন নতুন ধরনের ইয়ার প্লাগটি।

জামার্নির ফ্রাউনহফার কম্পিউটার গ্রাফিক্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী প্লাগটি নিয়ে কাজ করছেন। তারা ইয়ার-ফিল্ড-সেন্সিং নামের একটি প্রযুক্তি ইয়ার প্লাগে ব্যবহার করছেন, যার মাধ্যমে ডিভাইসটি ব্যবহারকারীদের সব ধরনের মুখভঙ্গি বুঝতে সক্ষম। কিন্তু বর্তমানে অন্যসব বাদ দিয়ে হাসির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

ইয়াহু মেইল প্রোতে অনেক সুবিধা

ইয়াহু কিনে নেওয়ার সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভেরিজন। কোম্পানিটি এখন ইয়াহু মেইলে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে। নতুন ইয়াহু মেইলটি হবে আরও বেশি স্বচ্ছ এবং নিখুঁত। বাড়তি স্পেসও থাকবে।

মানুষ এখন তার নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করতেই বেশি পছন্দ করে। নতুন ইয়াহু মেইলে বিভিন্ন রঙের থিম ব্যবহার করা যাবে। এর উন্মুক্ত লাইব্রেরি থেকে টুইটারে যেকোনও ইমোজিও সেট করা যাবে। এর অনুসন্ধান ফিচারটিও উন্নত করা হয়েছে। এখন নাম,কি-ওয়ার্ড এবং তারিখসহ অনুসন্ধান করা যাবে। আগের পাঠানো এবং প্রাপ্ত ফাইলগুলোতে প্রবেশ করা এবং দেখার প্রক্রিয়াটিও আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। বাম পাশের নেভিগেশনে ফটো ও ফাইলের জন্য আলাদা বিভাগ থাকছে।
ক্ষীণ দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন ব্যবহারকারীদের জন্য এনভিডিএ (ননভিউয়াল ডেস্কটপ একসেস) ও ভয়েস ওভার স্ক্রিনের পাশাপাশি এতে থাকছে পূর্ণ কি-বোর্ড নেভিগেশনের একটি লে-আউট।
এতে জাভাস্ক্রিপ্ট ও সিএসএস- এর ব্যবহার ৫০ ভাগ কমানো হয়েছে, ফলে ইয়াহু মেইল আরও দ্রুত চালু হবে। ব্যান্ডউইথও কম লাগবে। এতে ব্রাউজার মেমরিও কম খরচ হবে।
ইয়াহু মেইল প্রো নামের নতুন এই মেইল সার্ভিসটি হবে অ্যাড ফ্রি। অর্থাৎ এতে কোনও বিজ্ঞাপন থাকবে না। বিজ্ঞাপনবিহীন ইয়াহু মেইল ব্যবহার করতে আগে যেখানে প্রতি বছর ৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার খরচ হতো এখন খরচ হবে ৩৪ দশমিক ৯৯ ডলার বা মাসে ৩ দশমিক ৪৯ ডলার। মোবাইলে খরচ হবে ৯ দশমিক ৯৯ ডলার বা প্রতি মাসে ০.৯৯ ডলার।

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুক ব্যবহারে সবার উপরে ভারত

করতোয়া ডেস্ক : জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত। নিয়মিত ২৪ কোটি ১০ লাখ ব্যবহারকারীর লগইনের কল্যাণে যুক্তরাষ্টকে পেছনে ঠেলে একশ’ ৩০ কোটি মানুষের (২০১৫ সালের হিসেবে) দেশটি সবার উপরে উঠে এলো। ২৪ কোটি নিয়মিত ব্যবহারকারীর মাধ্যমে এর আগে শীর্ষে ছিলো যুক্তরাষ্ট।  বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুইশ’ কোটি নিয়মিত ব্যবহারকারী রয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুকের এমন পোস্টের পরপরই শীর্ষে উঠে এলো বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশটি (১৩১ কোটি মানুষ)।

 সম্প্রতি পকাশিত এক পতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ছয়মাসে যুক্তরাষ্টের তুলনায় ভারতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এ সময়ে যুক্তরাষ্টে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ শতাংশ বাড়লেও ভারতে বেড়েছে ২৭ শতাংশ। যা দেশটিকে ব্যবহারকারীর দিক থেকে সবার শীর্ষে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে মজার বিষয় হলো, ভারতের মোট ব্যবহারকারীর চার ভাগের তিন ভাগই পুরুষ। যেখানে যুক্তরাষ্টের অর্ধেকের বেশি, ৫৪ শতাংশ নারীই নিয়মিত সামাজিক এ যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। রিপোর্টে আরো একটি বিষয় নজের এসেছে তা হলো, ভারতের নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহারকারীর অর্ধেকের বেশির বয়সই ২৫ এর কোটায়।

 

 

ব্যাটারি ছাড়াই মোবাইল!

স্মার্টফোন আসার পর ঝক্কিটা অনেকটা বেড়েছে। ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে ফোনের ব্যাটারি নেমে যাচ্ছে হু হু করে। ফোনের প্রাণ রাখতে চার্জার, পাওয়ার ব্যাঙ্ক কত কিছুই না সঙ্গে রাখতে হয়। মোবাইলের ব্যাটারি বা চার্জ নিয়ে যাদের মাথাব্যথার শেষ নেই তাদের জন্য সুখবর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এব্যাপারে নতুন দিগন্তের খোঁজ দিয়েছেন। তারা গবেষণার মাধ্যমে এমন একট ধরনের সেলফোন তৈরি করেছেন, যেখানে চার্জের জন্য আর ভাবতে হবে না। মোবাইলে প্রয়োজন হবে না ব্যাটারির।

 রেডিও সিগন্যাল, সূর্যরশ্মি বা আলো এবং আপনার কণ্ঠস্বর থেকে মোবাইল প্রয়োজনীয় শক্তি পেয়ে যাবে। ব্যাটারি ছাড়া মোবাইল! এও সম্ভব। হেঁয়ালি নয়, মোবাইলে সব কাজ হবে, তবে ব্যাটারির দরকার পড়বে না। ফোন চালানোর জন্য শক্তি হাতের নাগালে থাকা কিছু জিনিস থেকেই মিলবে। মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে সাধারণ মানুষের যখন অজস্র সমস্যা তখন এমনই খবর দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা বলছেন ব্যাটারির বিকল্প হবে রেডিও সিগন্যাল এবং আলো। যার থেকে মোবাইল প্রয়োজনীয় শক্তি পেয়ে যাবে।

 ইতিমধ্যে স্কাইপের মাধ্যমে কল করে এর পরীক্ষা হয়েছে। তাদের অন্যতম শ্যাম গোল্লাকোটার কথায়, তারা যেভাবে এগোতে চাইছেন তাতে দুনিয়ায় প্রথম কোনও মোবাইল তৈরি হবে যাতে ব্যাটারির কার্যত প্রয়োজন হবে না। অ্যানালগ সিগন্যালের মাধ্যমে ফোন প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে। কারও সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন কানেক্ট হলে হালকা ধরনের কম্পন হবে। সেই কম্পন এবং কথা বলার আওয়াজ থেকে ফোনটি শক্তি সঞ্চয় করবে। রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে গোটা বিষয়টি সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গবেষকদের।

 গবেষকের কথায়, মোবাইল টাওয়ার বা ওয়াই ফাই রাউটারের মাধ্যমে ব্যাটারি-ফ্রি ফোন ব্যবহার করা যাবে। ব্যাটারিহীন ফোনটির ক্ষমতা হল ৩.৫ মাইক্রো ওয়াট। রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমেই গোটা কর্মকান্ড চলবে। এর জন্য প্রয়োজন কিছুটা সৌরশক্তির। সোলারের ব্যবহারের জন্য মোবাইল একটি সেল থাকছে। যার আকার চালের দানার মতো। বেস স্টেশনের মাধ্যমে যা যোগাযোগ রাখবে।

কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীও স্বাবলম্বী হচ্ছেন

নিজের আলোয় ডেস্ক: রাষ্ট্র পরিচালিত একটি প্রকল্পের অধিন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন দেশের শত শত নারী। গ্রাম থেকে শহর অর্থাৎ দেশের ৬৪ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরাই এই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।প্রকল্পের অধিনে সহস্রাধিক নারী কম্পিউটার ও আইসিটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন সাইবার ক্যাফে এবং দেশের বিভিন্ন শহর ও পল্লীর বাণিজ্য কেন্দ্রে চাকরি করছেন।

তাদের কেউ কেউ নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ।নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের মধ্যে ৬৪টি জেলায় ২৮ হাজার ৭০ জন নারীকে স্বাবলম্বী করতে তাদেরকে কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

২০০২ সালের জুলাই মাসে জেলা ভিত্তিক ‘নারী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প’ চালু করা হয় এবং ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পযর্ন্ত এই প্রকল্প চালু ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্প দশটি জেলায় চালু ছিল। তবে পরবর্তীতে এই প্রকল্পের কার্যক্রম ৩০টি জেলায় সম্প্রসারিত করা হয় এবং ২০১৩ সাল পযর্ন্ত এটি অব্যাহত ছিল। নারীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষন প্রদানের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের অধিন জাতীয় মহিলা সংস্থা ”জেলা ভিত্তিক নারী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প নামে তৃতীয় পযার্য়ে একটি প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ গ্রহন করে।

তৃতীয় পযার্য়ে এখন দুটি প্রকল্প চালু রয়েছে। এর একটি হলো ৬৪ টি জেলায় জেলা ভিত্তিক নারী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রকল্প (দ্বিতীয় পযার্য়) এবং নারীদের জন্য আইটি কর্মসূচী। ২০১৩ সালে এ প্রকল্পটি চালু হয় এবং এটি ২০১৮ সালের জুন পযর্ন্তকার্যকর থাকবে।

স্থানীয় পযার্য়ে জেএমএস জেলা পযার্য়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী পরিচালনা করছে। প্রকল্পের অধিন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ি কম্পিউটারে ছয় মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর ব্যবসা শুরু করতে কর্মসংস্থান ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক প্রশিক্ষিত নারীদেরকে ব্যাংক লোন দিচ্ছে।জেএমএস’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম একটি সংবাদ সংস্থাকে জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি সফলতা অর্জিত হয়েছে ।

প্রকল্পের অধিনে নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতোমধ্যেই স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। তারা সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।প্রকল্পের পাশাপাশি জেএমএস তথ্য আপা নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্প নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।জেএসএম চেয়ারম্যান জানানুুুুুু, তৃণর্মূল পযার্য়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্যোগের সুফল এই প্রকল্প পাবে বলে আমরা আশাবাদি।

তাইহুলাইট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার

চীন কম্পিউটার চিপস বানানো শুরু করে মোটেই ২০০১ সালে। এরপর থেকে অগ্রগতি ছিলো প্রণিধানযোগ্য। কিন্তু এবার দেশটি যা করলো তা কম্পিউটারের সব অগ্রগতিকে ছাপিয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারটি এখন চীনের।

কম্পিউটারটির নাম দেওয়া হয়েছে সানওয়ে তাইহুলাইট। যাতে ৪১ হাজার চিপস বসানো হয়েছে আর প্রতি সেকেন্ডে তা ৯৩ কোয়াড্রিলয়ন সংখ্যা গণনায় সক্ষম। এর আগে পর্যন্ত আবিস্কৃত শক্তিধর কম্পিউটারটির দ্বিগুন শক্তি রাখে এই সুপার কম্পিউটার। তবে আগের শক্তিধর কম্পিউটারটিরও মালিক চীন।

চোখের পলকের চেয়েও অবিশ্বাস্য দ্রুততার বিশ্বের সবচেয়ে জটিলতম হিসাবটিও সম্পন্ন করে ফেলতে পারে এই কম্পিউটার। যেমন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এমনকি কয়েক দশক জুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের রকমফের হিসাব কষে বের করা সম্ভব এতে।

 



Go Top