সন্ধ্যা ৭:৩১, মঙ্গলবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ তথ্য ও প্রযুক্তি

কম্পিউটার ব্যাবহারকারীদের মধ্যে হতাশার  যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সেটি হল কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়া ।
 কিছু  অসতর্কতার কারনেই কম্পিউটার স্লো হয়ে যায় , বেশ কিছু নিয়ম মেনে চললে কম্পিউটারকে আবার  প্রায় নতুন অবস্থার    মত দ্রুত করা যায় ।

১) অধিকাংশ ব্যাবহারকারী যন্ত্রের প্রতি অযত্নশীল , মাসে অন্তত ১ বার আপনার কম্পিউটারটি পরিষ্কার করুন।
২) কোন প্রকার থার্ডপার্টি  থিম ইনস্টল করবেন না , কারন এতে কম্পিউটার তার পূর্বের  পার্ফরম্যান্স দেখাতে  পারে না।
৩) ঘড়ি-ক্যালেন্ডার-আবহাওয়াসংবাদ প্রদানকারী সফটওয়্যার থেকে বিরত থাকুন।
৪) বার বার রিফ্রেশ দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই , তবে পিসি স্লো মনে হলে  স্টার্ট মেনুতে গিয়ে tree লিখে  enter প্রেস     করুন
৫)  মাঝে মাঝে বিভিন্ন ড্রাইভের প্রোপার্টিস এ গিয়ে ডিস্ক ক্লিন করুন।
৬) সি ড্রাইভ কখনো বেশি লোড দিবেন না , অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রয়োজনে অন্য ড্রাইভে রাখুন।
৭) রিসাইকেল বিন পরিষ্কার রাখুন এবং যে সফটওয়্যারের দরকার নেই সেগুলো আনইনস্টল করে দিন।
৮) স্টার্ট মেনু থেকে run এ যান  নিম্নোক্ত শব্দ গুলো একবার করে লিখে এন্টার দিন ,
নতুন উইন্ডে যা আসবে সব ডিলেট করে দিন ,যেগুলো ডিলেট হবে না স্কিপ করুন।

 temp , %temp%  , prefetch , recent , cookies

৯) ২ টি এন্টিভাইরাস কখনোই একসাথে ব্যাবহার করা যাবে না
১০)  মাঝে মাঝে ব্রাউজারের হিস্ট্রি কুকি রিমুভ করুন।

মাত্র ৮ হাজার টাকায় আইফোন

আইফোনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যাপল চমক হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিশেষ আইফোন টেন (আইফোন এক্স) উন্মোচন করে। অ্যাপলের ফোনগুলোর মধ্যে এই আইফোনটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বলা হচ্ছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি একটি চাইনিজ কোম্পানি আইফোন টেন-এর মতো একটি ক্লোন ফোন তৈরি করেছে। ফোনটি দেখতে হুবহু আইফোন টেন-এর মতো। ফোনটির দাম মাত্র বাংলাদেশি টাকায় পড়বে ৮ হাজার তিনশ টাকা। খবর ইন্ডিয়া টাইমস।

চাইনিজ কোম্পানির তৈরি ফোনটির নাম গো-ফোন এক্স। আইফোন টেন-এর সব ফিচার এই ফোনটিতে রয়েছে। আইফোন টেন-এর প্রসেসর আর এই ফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর প্রায় একইরকম। তাই ফোনটির গতি হবে ঠিক আইফোনের মতো।

 

গো-ফোন এক্স-এর ডিসপ্লে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চি। ১ জিবি র‌্যাম, ইন্টারনাল স্টোরেজ ১৬ জিবি। ফোনটির ক্যামেরা অনেক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন। ফলে ছবি হবে ঝকঝকে।

গো-ফোনটিতে সেলফিও হবে আকর্ষণীয়। ফ্রন্ট ক্যামেরা ২ মেগাপিক্সেল এবং পিছনের ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল। এছাড়া ফোনটিতে বিশেষ ধরনের একটি চিপ ব্যবহার করা হয়েছে ফলে ফোনটি থাকবে সুরক্ষিত।

কম টাকায় আইফোন ব্যবহারের স্বাদ পেতে বাজারে এই ফোনটির বিকল্প নেই বলে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সেরা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সঙ্গে নতুন আইফোনের পার্থক্য

অ্যাপল নতুন ৩টি মডেলের আইফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মডেলগুলো হচ্ছে- আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন (এক্স)।

নতুন আইফোনগুলো বাজারে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে, তা আসলে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বলাটা কঠিন। তবে ফিচার দেখে ধারণা করা যায় যে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য তুলনা করার জন্য আইফোন টেন (এক্স) যথোপযুক্ত, দামের বিষয়টি যদি দূরে সরিয়ে রাখা হয়।

ফিচারের দিকে তাকালে আইফোন ৭ এবং ৭ প্লাসের উন্নত সংস্করণ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে নতুন আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাস। সবচেয়ে লক্ষণীয় পার্থক্য হলো, আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাস মেটালের পরিবর্তে গ্লাস বডি সমৃদ্ধ, যাতে ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করতে পারে।

আইফোন টেন (এক্স)-এর কিছু ফিচার আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাসের মতোই। কিন্তু এই ফোনটি সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া অর্গানিক লাইট এমিটিং ডায়োড (ওএলইডি) প্রযুক্তির স্ক্রিন এবং ফোন লক ও আনলকে নতুন ফেসিয়াল রিকগনেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনটিও ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করে।

যেহেতু এখনো বাজারে আসেনি, তাই আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং আইফোন টেন (এক্স)-এর পারফরম্যান্স প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কেমন, তা এখনই বলাটা খুব কঠিন। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ডিসপ্লের ক্ষেত্রে নতুন আইফোনগুলোকে প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে

নিচের ছবিতে সেরা কিছু অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের সঙ্গে নতুন আইফোনগুলোর তুলনা তুলে ধরা হলো।

 

 

চমক নিয়ে এল নতুন ৩ আইফোন

অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষার অবসান। যেমনটা ভাবা হয়েছিল তেমনি নতুন চমক দিল অ্যাপল। এবার একসঙ্গে নতুন ৩টি আইফোনের ঘোষণা দিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল পার্কে নতুন স্টিভ জবস থিয়েটার অডিটোরিয়ামে অ্যাপলের নতুন আইফোনের উদ্বোধন করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক। নতুন আইফোনের নাম আইফোন ৮ ও ৮ প্লাস। এ ছাড়া আইফোনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অ্যাপল চমক হিসেবে বিশেষ আইফোন টেন (আইফোন এক্স) উন্মোচন করেছে।

অ্যাপল বলছে, বিশেষ এই আইফোন টেন-এ এমন কিছু ফিচার রয়েছে যা নতুন আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসে নেই। এর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্টের কারণে এটি অনন্য।

আইফোন ৮- এর স্টোরেজ হবে ৩২ জিবি, ২৫৬ জিবি ও ৫১২ জিবি। নতুন এই আইফোনগুলোতে অ্যাপল এই প্রথম ব্যবহার করেছে তাদের অত্যাধুনিক প্রসেসর এ১১ বায়োনিক চিপ। এই প্রসেসর ব্যবহারের ফলে আগের সব আইফোনের চেয়ে নতুন এই মডেলের আইফোনগুলো হবে সবচেয়ে দ্রুতগতির। আইফোন ৮ প্লাসে থাকছে ১২ মেগাপিক্সেল ডুয়াল সেন্সর ও ওআইএস সুবিধা। আইফোন ৮-এর ডিসপ্লে চার দশমিক সাত ইঞ্চি এবং আইফোন ৮ প্লাস-এর ডিসপ্লে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি।

আইফোন এক্স থেকে টাচ আইডি বাদ দেয়া হয়েছে। টাচ আইডি’র পরিবর্তে ফেইস আইডি যুক্ত করা হয়েছে। মুখ দিয়ে লক এবং আনলক করা যাবে।

এছাড়া আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাসে যুক্ত হয়েছে ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি। আইফোন ৮ এর দাম ৬৯৯ মার্কিন ডলার ও আইফোন ৮ প্লাসের দাম ৭৯৯ মার্কিন ডলার।

নতুন আইফোন ৮ এবং আইফোন ৮ প্লাস পাওয়া যাবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে আইফোন টেন পেতে অপেক্ষা করতে হবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত।

জরুরী অবস্থাতে ফোনের চার্জ বাঁচিয়ে রাখুন

স্মার্টফোনে বর্তমানে নানা অ্যাপ, গেম এবং অতিরিক্ত টেকনোলজির কারণের ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ি হওয়াটাই মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফোনের চার্জ বেশিক্ষণ ধরে রাখা অনেকের প্রধান মাথা ব্যাথা। অনেক সময়েই দেখা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মত জরুরি সময়ে ফোনের চার্জ ধরে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও চরম লোডশেডিং এর সময় ফোনের চার্জ না থাকলে তো হয়ে গেল। আপনি চাইলে এমন জরুরি কিছু সহজ কিছু উপায়ে ফোনের চার্জ ধরে রাখতে পারবেন। এমনই কিছু উপায় তুলে ধরা হল-

ফোনের ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ করে রাখতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, ফোন ইন্টারনেট কানেকশানের মধ্যে না থাকলেও ওয়াই-ফাই কানেকশান অন অবস্থায় রয়ে যায়।

যতটা সম্ভব কম ফোনের বাটন চেপে ডিসপ্লে অন করুন। কেননা আপনি যতবার ফোনের ডিসপ্লে অন করছেন ততবার ব্যাটারি হ্রাস পাচ্ছে। পুরোপুরি ফোন বন্ধ না করতে চাইলে ফোনটিকে ‘এয়ারপ্লেন মোডে’ রাখতে পারেন। এতে করে ফোনে কল বা মেসেজ না আসলেও ফোনটি চালু থাকবে। বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ইমেল এবং অন্যান্য অ্যাকাউন্ট সিংক করা থাকে। ফলে প্রতিনিয়ত পুশ নোটিফিকেশন আসতে থাকে। আর এই পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ করে আপনি অনেকটাই চার্জ ধরে রাখতে পারেন।

জরুরি সময়ে ফোনে মিউজিক শোনা বা স্ট্রিমিং থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার ব্যাটারি ড্রেইনের অন্যতম কারণ। ডিসপ্লে’র ব্রাইটনেস ফোনের অনেকখানি চার্জ শেষ করার কারণ। তাই যতটা সম্ভব ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে কল করার পরিবর্তে একেবারে শর্ট মেসেজ পাঠাতে পারেন। এই উপায়গুলোতে সহজে জরুরী অবস্থাতেও অনেকক্ষণ চার্জ ধরে রাখা যাবে।

স্মার্টফোনের হারানো ডাটা খুঁজে পাওয়ার সহজ উপায়

অনেক সময় অগোচরে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থেকে প্রিয় ছবিগুলো ডিলিট হয়ে যায়। এতে আফসোস করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমরা অনেকেই হয়তো জানি না যে ডিলিট হয়ে যাওয়া ছবিগুলো ফিরে পাওয়ার উপায় রয়েছে। সে ছবিগুলো ফিরে পেতে সাহায্য করবে গুগল প্লে-স্টোর।

গুগল প্লে-স্টোরে অনেক অ্যাপ রয়েছে যার সাহায্যে আপনি ফিরে পাবেন মুছে যাওয়া ছবিগুলো।

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোনগুলো থেকে হারিয়ে যাওয়া ছবি খুঁজে পেতে ‘ডিস্ক ডিগার’ নামের অ্যাপটি বেশ উপযোগী। এটি ব্যবহারেও কোনো টাকা লাগে না। খুব সহজেই এই অ্যাপটি ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া অ্যাপটি ব্যবহার করতে ফোন স্পেসিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না।

‘ডাম্পেসটার ইমেজ অ্যান্ড ভিডিও রিস্টোর’ আরেকটি অ্যাপ। এটি গুগলের প্লে-স্টোরে অনায়াসে খুঁজে পাবেন। অ্যাপটির মাধ্যমে সহজেই ডিলিট হয়ে যাওয়া ছবি খুঁজে পাবেন আপনি। এর বাড়তি সুবিধা হচ্ছে- এর মাধ্যমে ডিলিট হয়ে যাওয়া এমপি-থ্রি এবং ভিডিও ফাইলও খুঁজে পাওয়া যায়। এটির ব্যবহারেও কোনো চার্জ লাগে না।

এই অ্যাপগুলো ছাড়াও আরো কিছু অ্যাপ রয়েছে যেমন ‘ডিগ ডিপ ইমেজ রিকভারি’, ‘রিস্টোর ইমেজ’, যা দিয়ে অনায়াসে হারিয়ে যাওয়া ছবি পুনরুদ্ধার করা যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

হারিয়ে যাওয়া ‘গুগল কন্টাক্টস’ ফিরে পাবেন যেভাবে

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই তাদের প্রয়োজনীয় ফোন নম্বরগুলো গুগল কন্টাক্টসে সেভ করে রাখেন। মূলত এগুলো যেন কখনও না হারায় সেজন্য এই ব্যবস্থা।
তারপরও অনেক সময় ভুলক্রমে গুগল কন্টাক্টসে থাকা সব নম্বর ডিলিট হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় নম্বরগুলো ফিরিয়ে আনতে যা করতে হবে- ১. আপনার ব্রাউজারে নতুন একটি গুগল কন্টাক্টস ওয়েবসাইট ওপেন করুন। এ পর্যায়ে আপনার কন্টাক্টসে যে জি-মেইল আইডি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটাতে লগইন করতে হবে।
২. লগইন করার পর বাম পাশে থাকা ‘মোর’ নামে একটি অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর রিস্টোর কন্টাক্টস অপশন আসবে। সেখানে ক্লিক করতে হবে।
৩. এ পর্যায়ে আপনি কতদিনের মধ্যে রিস্টোর চান সে সম্পর্কিত একটি অপশন আসবে। এটা নির্বাচন করে নিশ্চিত করলেই আপনি হারিয়ে যাওয়া নম্বরগুলো ফিরে পেতে শুরু করবেন।
সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে আপনি এগুলো পেয়ে যাবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

এবার মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ ও সীমান্ত মন্ত্রণালয়ের সাইট হ্যাক

 

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মিয়ানমারের সাইবার স্পেসে হামলা অব্যহত রেখেছে বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ সাইবার ৭১।

বুধবার দিবাগত রাতে মিয়ানমার সরকারের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (www.dsw.gov.mm) এবং বর্ডার অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের সাইট (www.mba.gov.mm) অচল করে দেয় হ্যাকার গ্রুপটি। এছাড়াও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের সাইটটি (www.irdmyanmar.gov.mm) মরক্কোর হ্যাকারদের কর্তৃক হ্যাক হওয়ার পর, দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়ে সাইটি পুরোপুরি ডাউন করে দেয় বাংলাদেশি এই হ্যাকাররা।

এর আগে ইন্দোনেশিয়ার হ্যাকারদের সঙ্গে যৌথ ডিডস আক্রমণ চালিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি অফিস (www.president-office.gov.mm), তথ্য মন্ত্রণালয় (www.moi.gov.mm), কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.cbm.gov.mm) ডাউন করা ছাড়াও, মিয়ানমারের অন্যতম ব্যবসায়ী গ্রুপ এমকে কোম্পানিজের ওয়েবসাইট (www.mkgroup.com.mm) এবং ইকোনমিক কমিউনিটির মিয়ানমারভিত্তিক ওয়েবসাইটটি (www.aec.com.mm) হ্যাক করে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় সাইবার ৭১।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইটে হামলা চালাচ্ছে মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের হ্যাকাররা।

এই বিভাগের আরো খবর

অবশেষে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন

করতোয়া ডেস্ক: কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে আগামীকাল রোববার চালু হচ্ছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। রোববার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুয়াকাটায় অবস্থিত এ সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বাংলানিউজ।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ আরো ১ হাজার ৫০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে। আর ট্রান্সমিশন চার্জ কম পড়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা ও ফরিদপুরের মানুষ কম খরচে ইন্টারনেট সেবা পাবেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এর মধ্যে ১২০ জিবিপিএস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মাধ্যমে আসে।

বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইডথ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। চাহিদার অতিরিক্ত মালয়েশিয়া, ভুটান, মায়ানমার, শ্রীলংকা, ভারতের সেভেন সিস্টার ও আসাম ব্যান্ডউইডথ নিতে চায় বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বেশ কিছুদিন আগে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটার মাইটভাঙা আমখোলাপাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন পরিদর্শন শেষে তারানা হালিম বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আসা অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ আমরা রফতানি করতে পারবো।

ঢাকা পর্যন্ত ব্যান্ডউইডথ ট্রান্সমিশন লিংক স্থাপন করা হয়েছে এবং সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদ ২০ থেকে ২৫ বছর।দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্ত হতে মোট ৬৬০ কোটি টাকা (সরকারের ১৬২ কোটি ও আইডিরি ঋণ ৩৫২ কোটি টাকা) প্রকল্পের খরচ ধরা হলেও ৬০০ কোটি টাকার মধ্যে এ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের খরচ চার বছরের উঠে আসে।

ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করতে পারলে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের টাকাও উঠে আসবে কম সময়ে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সি-মি-উই-৫ কনসোর্টিয়ামের বৈঠকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ; কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে মাইটভাঙা আমখোলাপাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশন। আর কুয়াকাটা পর্যটন মোটেল এলাকায় রয়েছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের বিচ ম্যানহোল।

 একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-ইউ-৫ সাবমেরিন ক্যাবলে দক্ষিণ-এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের ১৭ দেশ সংযুক্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হতে ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএমএ চুক্তি সই করে বিএসসিসিএল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কনসোর্টিয়াম নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সি-মি-উই-৫ সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করে, যা সম্প্রতি সম্পন্ন হয়।

এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। প্রথম সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদ আর মাত্র ১০ বছর আছে। সি-মি-উই-৪ ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে ছয়টি বিকল্প সাবমেরিন কেবল আইটিসি (ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল) সংযুক্ত রয়েছে, যারা ভারত থেকে ব্যান্ডউডথ আমদানি করে।

 

সর্বোচ্চ কত উচ্চতার ভবন নির্মাণ সম্ভব?

হাজার হাজার বছর আগে থেকেই সুউচ্চ ভবন বা কাঠামো নির্মাণ হয়ে আসছে।

একের পর এক সুউচ্চ ভবন তৈরির ঘটনা থেকে যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তা হলো, এমন কি কোনো পয়েন্ট আছে, যে পয়েন্টে পৌঁছানোর পর আমরা আর তার চেয়ে বেশি লম্বা বিল্ডিং বা ভবন তৈরি করতে পারবো না? থাকলে কোন সে পয়েন্ট?

ইউটিউব চ্যানেল রিয়েল লাইফ লোর-এ সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে আপনি যা ধারণা করেন তার চেয়েও বেশি লম্বা বিল্ডিং তৈরি করা সম্ভব।

তাহলে চলুন হিসাবটা শুরু করা যাক বর্তমান বিদ্যমান কাঠামোগুলোর মাধ্যমে। আপনি যে ভবনে বসবাস করেন সম্ভবত হতে পারে সেটি ৪.৫ মিটার (১৫ ফুট) লম্বা।

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্ট্যাচু (মূর্তি) হচ্ছে স্প্রিং টেম্পল বুদ্ধ, এটি প্রায় ২৮ গুণ বেশি লম্বা, যা ১২৮ মিটার (৪২০ ফুট)। এটি কত লম্বা তা ব্যাখা করার জন্য বলছি যে, আপনি যদি মূর্তিটির মাথা থেকে ঝাপিয়ে পড়েন তাহলে মাটিতে পড়ার আগে ৫.৫ সেকেন্ড সেদিকে তাকিয়ে থাকতে পারবেন।

গিজের গ্রেট পিরামিডটি এর চেয়ে কিছুটা লম্বা। ১৪৬ মিটার (৪৮০ ফুট)। ৪,৫০০ বছরের পুরোনো একটি বিল্ডিংয়ের জন্য এটা খুব বাজে উচ্চতা না। অবিশ্বাস্যভাবে, এই বিশাল পিরামিড ছিল ৩,৮৮১ বছর পর্যন্ত মানুষের গড়া সবচেয়ে উচ্চতম পিরামিড।

পরবর্তীতে এটাকে মাত্র এক ডজন অথবা তার কিছু মিটার বেশি উচ্চতায় পেছনে ফেলেছিল ১৩১১ সালে ইংল্যান্ডে নির্মিত লিংকন ক্যাথেড্রাল। ১৬০ মিটার (৫২৪ ফুট) উচ্চতা নিয়ে এটি ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিল্ডিং ছিল। এরপর এই খেতাব কেড়ে নেয় ওয়াশিংটন স্মৃতিস্তম্ভ। তবে ১৬৯ মিটার (৫৫৫ ফুট) উচ্চতার এই বিশাল কাঠামোটি কেবল একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সবচেয়ে লম্বা ছিল।

নিচের ভিডিওটি সব ব্যাখ্যা দেবে। কিন্তু আমাদের কৌতুহলের ব্যাপারটির কি হবে? মানুষ কখনো নির্মাণ করতে পারে সবচেয়ে বড় জিনিসটা কি?

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং হচ্ছে, বুর্জ খলিফা। এটি অসাধারণ উচ্চতার, ৮৩০ মিটার (২,৭২২ ফুট)। এই বিল্ডিং এটির আগে নির্মিত সবকিছুকে বামনে পরিণত করেছে। এই বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে নিচে পড়ে যেতে আপনি অনেক বেশি সময় পাবেন, ২০ সেকেন্ড।

কিন্তু এই সীমাই সর্বশেষ নয়- অনুমান করে বলা যায় যে, আমরা এর চেয়ে আরো অনেক অনেক বেশি উচ্চতায় যেতে পারি। তত্ত্বমতে, সত্যিই এটি সর্বোচ্চ উচ্চতা নয়। যা হোক, আপনাকে আপনার ওপরের কাঠামোর ওজনের ওপর ভিত্তি করে নিচের বেজ আরো প্রসারিত করতে হবে।

কিন্তু যুক্তি দিয়ে বললে, পৃথিবী যেহেতু গোলাকার, তাই এটি স্পষ্টত বাস্তব জীবনে কাজ করে না।

বর্তমানে আমাদের যে প্রযুক্তি রয়েছে, সেই প্রযুক্তিতে আমরা সম্ভবত সবচেয়ে লম্বা বিল্ডিং হিসেবে নির্মাণ করতে পারবো এক্স-সিড ৪০০০ বিল্ডিং। এই বিল্ডিং এখনো নির্মিত হয়নি কিন্তু এটির পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে।

এই বিশাল কাঠামো ৪০০০ মিটার বা ৪ কিলোমিটার (২.৪ মাইল) লম্বা হবে। ১৯৯৫ সালে জাপানের টইসেই কর্পোরেশন এই ভবনটির ডিজাইন করেছে। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন যে এই কাঠামো নির্মাণ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে, আবার চিন্তা করুন।

এই কাঠামোটির ভিত্তিটি ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল) হতে হবে এবং যেখানে এটি তৈরি করা হবে সেখানে প্রায়ই আবহাওয়া ব্যাহত হবে। এক্স-সিড টাওয়ারটি প্রায় ৮০০ তলা সম্পন্ন হবে যেখানে প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ থাকতে পারবে। ২০১৭ সালে যদি এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় তা প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিল গেটসের সম্পদের দ্বিগুণ।

কিন্তু এর চেয়েও বড় কাঠামো কি নির্মাণ সম্ভব হবে। উত্তর খুঁজে পেতে নিচের ভিডিওটি দেখুন। আমরা যা বলবো তা হলো অবিশ্বাস্য শোনালেও, সেটি একটি স্পেস এলিভেটর হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ঘরে ঘরে স্মার্টফোন নয়, রোবট!

একদিন, আমাদের স্মার্টফোনের পরিবর্তে রোবট থাকবে। এখন যেমন আমাদের ঘরে ঘরে স্মার্টফোন, তখন থাকবে রোবট। জীবনঘনিষ্ঠ রোবটগুলো আপনাকে বিভিন্ন ব্যাপারে পরামর্শ দেবে, জিনিস কিনতে সাহায্য করবে, এমনকি আপনার পছন্দমতো কফিও বানাবে।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত জি-সামিট সম্মেলনে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক যাবতীয় অগ্রগতি উদযাপন করেছে, এমনকি তারা বর্তমান রোবটগুলোর সীমাবদ্ধতাগুলো স্বীকার করেছে।

৪ ফুট লম্বা মানুষ আকৃতির ‘পিপার’ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক রোবটিক্স আমেরিকার প্রধান কৌশল কর্মকর্তা স্টিভ কার্লিন বলেন, ‘স্টার ওয়ার্স সিনেমার অভিনব এবং বুদ্ধিমান সি-৩পিও রোবট অনেকেই বাস্তবে প্রত্যাশা করেন কিন্তু এখন এটি বাস্তবে প্রত্যাশা করলে আশাহত হতে হবে।’

পিপার রোবট মানুষের মতোই আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, মানুষের মনের অনুভূতি বুঝতে পারে, ভাব বিনিময় করতে পারে, বাসা-বাড়ি ছাড়াও প্রতিষ্ঠানে অভ্যর্থনা কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারে, কন্ঠস্বরও মানুষের মতোই। কিন্তু এটি আশেপাশে চলাফেরা করতে পারে না। অন্যদিকে বোস্টন ডায়নামিস্কের ভয়ানক চেহারার রোবটগুলো সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে পারে, তুষারপাতের মধ্যে চলাফেরা করতে পারে কিন্তু এগুলো জীবনঘনিষ্ঠ রোবট নয়। অর্থাৎ এগুলো আপনার সঙ্গে কথোপকথন করতে পারে না।

তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি গবেষকরা কিভাবে ‘সি-৩পিও’ রোবট বাস্তবে নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন? উত্তরটা আপনার হাতে রয়েছে অর্থাৎ আপনার হাতের স্মার্টফোন।

একটি স্মার্টফোন বিভিন্ন প্রযুক্তির সংমিশ্রণ, যার সবকিছুই আলাদাভাবে এবং নিজস্ব সময়সীমা অনুযায়ী বিবর্তিত হয়েছে। স্মার্টফোনের প্রযুক্তিগুলো অত্যাধুনিক পর্যায়ে উন্নত হওয়ার পরই সেগুলোকে একত্রিত করা সম্ভব হয়েছে। যার ফলেই জন্ম হয়েছে স্মার্টফোন।

একটি রোবটও এক্ষেত্রে ভিন্ন নয়। এটি ভয়েস রিকগনেশন, ভিজ্যুয়াল কম্পিউটিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সহ বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তির একটি রূপায়ন। রাশিয়ান ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান মেইল ডট আরইউ এবং গ্রিশিন রোবটিক্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রী গ্রিশিন বলেন, এসকল প্রযুক্তি অত্যাধুনিক পর্যায়ে উন্নত হওয়ার পর সেগুলোর সমন্বয়ে ‘সি-৩পিও’ এর মতো জীবনঘনিষ্ঠ বুদ্ধিমান রোবট নির্মাণ করাটা সহজে সম্ভব হবে।’

তবে স্মার্টফোনের এই উপমার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে জীবনঘনিষ্ঠ বুদ্ধিমান রোবট নির্মাণে আমরা কোন পর্যায়ে রয়েছি, তা তিনি খোলাসা করেনি। তবে আপনি আপনার স্মার্টফোনের বিভিন্ন উপাদানগুলো আবিষ্কারের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের রোবট নির্মাণে কত সময় লাগতে পারে তার একটা ধারণা পেতে পারেন।

* প্রথম রেডিও ট্রান্সমিটার ১৮৮৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফিক ক্যামেরা ১৮৩৯ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম ক্যাথোড রে টিউব, যেটি আজকের ডিজিটাল ডিসপ্লের অগ্রদূত, সেটি ১৮৯৭ সালে তৈরি করা হয়েছিল।
* প্রথম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটটি ১৯৪৯ সালের আগে তৈরি করা হয়েছিল।

অবশ্যই, স্মার্টফোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আরো অনেকগুলো উপাদান রয়েছে। কিন্তু আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা যখন ২০০৭ সালে আইফোনের প্রবর্তনের আগ পর্যন্ত পৌঁছাইনি তখন স্মার্টফোনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির আবির্ভাবের থেকে ১০০ বছরের বেশি সময় লেগেছিল।

তার মানে আমরা কি সায়েন্স ফিকশন রোবট থেকে এখনো ১০০ বছর পেছনে রয়েছি? আসলে তা নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি খুব গতিতে এগোচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে।  

সুতরাং ভালো খবর হল, আপনার বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণে অতি বুদ্ধিমান সি-৩পিও রোবট আসছে। কিন্তু তাই বলে এখনই আপনার স্মার্টফোনটিকে ফেলে দেবেন না।

এই বিভাগের আরো খবর

গ্রহ নয়, তবে বলুন তো এটা কীসের ছবি? কোনও পুরস্কার নেই কিন্তু

ওযেব ডেস্ক: সূর্যের পর এই প্রথম কোনও নক্ষত্রের স্পষ্ট ছবি তুলতে পারলেন মহাকাশ গবেষকরা। চিলেতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান স্পেস অবজ়ারভেটরির টেলিস্কোপ দিয়ে জ্যেষ্ঠা বা অ্যান্টারেস নক্ষত্রের স্পষ্ট ছবি তুললেন তাঁরা। নভোবিজ্ঞানের ভাষায় সুপারজায়েন্ট এই নক্ষত্রের ছবি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়।

 

বৃশ্চিক রাশির সব থেকে উজ্বল নক্ষত্র জ্যেষ্ঠা। রাতের আকাশে লালাভ আভায় ঝলমল করে সে। সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষের পরিচিত অত্যন্ত দৃশ্যমান এই তারা। আসলে একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্রের ভর সূর্যের চেয়ে ১২ গুণ । পরিধি সূর্যের ৭০০ গুণ। যে কোনও সময় ধ্বংস হয়ে সুপারনোভায় পরিণত হতে পারে তারাটি। যদিও তা আমাদের জীবদ্দশায় দেখে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। কারণ তারাটির সূর্য থেকে দূরত্ব প্রায় ৫৫০ আলোকবর্ষ।

 

 

চিলের নর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশবিজ্ঞানী কেইচি ওনহাকার নেতৃত্বের গবেষকদের একটি দল ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ ইন্টারফের্নোমিটার ব্যবহার করে তুলেছেন ছবিটি। এই পদ্ধতিতে চারটি টেলিস্কোপ সংযোগ করে তা থেকে একটি ছবি দেখতে পান গবেষকরা। যার ক্ষমতা ২০০ মিটার ব্যাসের টেলিস্কোপের সমান।

এর আগে সূর্য ছাড়া কোনও নক্ষত্রের এত স্পষ্ট ছবি তুলতে পারেননি গবেষকরা। গবেষকদের তোলা এই ছবি দেখে কল্পনাশক্তির প্রয়োগ করে ছবি এঁকেছেন শিল্পী।

বলে রাখি পৃথিবীর সব থেকে শুষ্ক অঞ্চল চিলের অ্যাতাকামা মরুভূমিতে রয়েছে বিশ্বের সব থেকে বড় টেলিস্কোপগুলি। টেলিস্কোপের সব থেকে বড় শত্রু জলীয় বাস্প। ফলে মূল্যবান টেলিস্কোপগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে এই পন্থা নিয়েছেন গোটা বিশ্বের ইঞ্জিনিয়ার ও মহাকাশ গবেষকরা।

এই বিভাগের আরো খবর

এই রিস্টব্যান্ড ‘বদঅভ্যাস’ থেকে দূরে রাখবে!

রিস্টব্যান্ড কত কাজেই না ব্যবহৃত হয়। কেউ স্বাস্থ্যগত কারণে ব্যবহার করে। কেউবা স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযোগ করে ব্যবহার করে। আবার কারো রিস্টব্যান্ডটিই একটি ফোন। কেউ একেবারে অহেতুক রিস্টব্যান্ড ব্যবহার করে, ফ্যাশনের জন্য।

কিন্তু সম্প্রতি একটি রিস্টব্যান্ড বাজারে এসেছে যেটা আপনার বদঅভ্যাস প্রতিরোধ করবে! হ্যাঁ, আপনি ঠিক পড়েছেন। রিস্টব্যান্ড আপনাকে বদঅভ্যাসে বাঁধা দেবে। মানে আপনি যখন মুখ দিয়ে নখ কাটবেন, বেশি ধূমপান করবেন, সময়মতো খাবার খাবেন না, সময়মতো ঘুম থেকে উঠবেন না, সময় নষ্ট করবেন তখন এই রিস্টব্যান্ড আপনাকে ইলেকট্রিক শক দেবে। এমনকি নেতিবাচক চিন্তা করলেও। আপনি চাইলে এই শকের মাত্রা কম বেশি করে নিতে পারবেন।

আবার যদি মনে হয়, না শকের মতো শাস্তি একটু বেশিই হয়ে যায়, তবে আপনি ভাইব্রেশনে কাজ চালাতে পারেন। আরো কোমল উপায়ও আছে। সেটা একেবারে লাস্ট স্টেজ। আপনি কোনো খারাপ কিছু করতে চাইলে এটা ‘বিপ’ দিয়ে সতর্ক করবে।

এবার প্রশ্ন হলো এই রিস্টব্যান্ড কিভাবে আপনার মন পড়বে? সে কিভাবে বুঝবে আপনার বদঅভ্যাসগুলো? আসলে রিস্টব্যান্ডে এমন কোনো সেন্সর নেই যার দ্বারা এটা আগে থেকে বুঝবে যে আপনি খারাপ কিছু করতে যাচ্ছেন। আসলে শক বা শাস্তির কাজটা আপনাকেই করতে হবে। মানে রিস্টব্যান্ডে থাকা বাটন চেপে অথবা আপনার মোবাইলে এর অ্যাপ থেকে আপনি আপনার শাস্তি নির্ধারণ করতে পারবেন। মানে নিজেকে শোধরানোর চিন্তা যদি থাকে তবে এটা আপনার জন্য উপকারি।

দ্য পাভলক ইলেক্ট্রো রিস্টব্যান্ড নামের এই রিস্টব্যান্ডটি নামকরণ করা হয়েছে এর উদ্ভাবক রাশিয়ার বিখ্যাত সাইকলোজিস্ট ইভান পাভলভের নামে। প্রাথমিক ভাবে এর দাম ধরা হয়েছে ২০০ ডলার। তবে বর্তমানে এটি ৩২% ডিসকাউন্টে ১৩৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে।
 

হ্যাকারদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে বিটলস

উন্নত বিশ্বের আদলে এবার বাংলাদেশেই হ্যাকারদের জন্য ক্রাউড সোর্স সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে দেশীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিটলস সাইবার সিকিউরিটি লিমিটেড। নির্বাচিত হ্যাকারদের জন্য আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ রয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে বিটলস।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সারা পৃথিবী থেকে সেরা হ্যাকারদের বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজের সুযোগ দেয় গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশেও বিভিন্ন স্কিল সেটের হ্যাকার থাকলেও তারা সরকারি বা বেসরকারি কোনো কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের যথাযথ সম্মানও দেওয়া হচ্ছে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় হ্যাকারদের জন্য বিটলস প্রাথমিক অবস্থায় ক্রাউড সোর্স সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।

ক্রাউড সোর্স সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্মে সদস্য হতে হলে প্রথমে beetles.io ঠিকানায় একটি নিরীক্ষণ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা এই প্ল্যাটফর্মে চূড়ান্তভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা সাইবার সিকিউরিটির সার্ভিস, পেনিট্রেশন টেস্টিং, ভালনিরাবিলিটি এসেসমেন্ট, সোর্সকোর্ড অডিট, ফরেনসিক, ম্যালওয়ার অ্যানালাইসিস, আইওএ, আইওসি, মোবিলিটি সিকিউরিটি, এন্ডপয়েন্ট সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করবেন।

যেসব কোম্পানি বিটলসের কাছে সাইবার সিকিউরিটি পরামর্শ নিতে আসবে তাদেরকে একজন সিআইএসএসপি (সার্টিফাইড ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি প্রোফেশনাল) সার্টিফাইড তত্ত্বাবধায়কের নিরীক্ষণের নিয়ন্ত্রণে বিটলসের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে। হ্যাকাররা সিকিউরিটি টেস্ট করবেন এবং এর সম্ভাব্য সমাধান কি সেটাও জানিয়ে দেবেন। এর বিনিময়ে হ্যাকারদের সম্মানি দেওয়া হবে এবং হল অব ফেমে তাদের নাম রাখা হবে। তবে ব্যাংক, অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত ক্লাইন্টদের ক্ষেত্রে ক্রাউড সোর্সিং এর পরিবর্তে বিটলসের রেড টিম দিয়ে কাজ করানো হবে।

এ ব্যাপারে বিটলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মুকিত হালিম বলেন, বাংলাদেশের হ্যাকারদের দেখভাল না করার কারণে তারা হারিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের হ্যাকারদের যত্ন করলে এবং তাদের সুযোগ দিলে আগামীতে তারা দেশের জন্য বড় অ্যাসেট হিসেবে কাজ করতে পারবে। বাংলাদেশের সাইবার স্পেসকে সুরক্ষিত করা এবং নিরাপদ রাখার জন্য বিটলস ডিফেন্স বিভাগসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মানুষের থুতু দিয়ে চলবে ব্যাটারি!

আধুনিক বিজ্ঞান সম্প্রতি এক আশ্চর্য ঘটনার জন্ম দিয়েছে। আর তা হলো, বিজ্ঞানীরা এমন একটি অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যেখানে মানুষের মুখের থুতু থেকেই একটি ব্যাটারির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যাবে।

ব্রিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি কাগজভিত্তিক ব্যাকটেরিয়া চালিত ব্যাটারি তৈরি করেছেন। মুখের এক ফোটা লালা দিয়েই এই ব্যাটারিটিকে সক্রিয় করা সম্ভব হবে, যা দিয়ে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য এলইডি আলো পাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।

ব্রিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং এই গবেষণা পত্রটির সহ-লেখক সেউখুন চই বলেন,   ব্যাটারিটিতে ‘এক্সোইলেক্ট্রোজেনস’ নামে একটি বিশেষ ব্যাকটেরিয়া কোষ রয়েছে যার ইলেক্ট্রোড এর বাইরের দিক থেকে বহিরাগত ইলেকট্রন উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য, এ সমস্ত ব্যাকটেরিয়াল কোষগুলোকে ব্যবহার না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিলে শুকানো হয়। এই ব্যাটারিটি মরুভূমির মতো প্রতিকূল পরিবেশগত অবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

‘এক্সোইলেক্ট্রোজেনস’ মূলত এক ধরনের অণুজীব যাদের একটি ইলেক্ট্রোড সেল দেয়াল এর বাইরেও ইলেক্ট্রন স্থানান্তর করার ক্ষমতা রয়েছে। এ জন্য তাদের যা দরকার তা হলো তাদেরকে খেতে দিতে হবে। চই-এর এই নতুন ব্যাটারিতে লালার দুটি ফাংশন রয়েছে। আর তা হলো, এটি এসব ফ্রোজেন সেলদের নিদ্রা থেকে বিরত রেখে বিক্ষুদ্ধ অবস্থায় থাকতে সাহায্য করে এবং এটি অণুজীবদের খাদ্য প্রদান করে। ‘এক্সোইলেক্ট্রোজেনস’ এর ওপর থুতু ফেলার কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাটারিটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে শুরু হয়। চই বলেন, এই ডিভাইসটি মানব শরীরের কোনো তরল পদার্থ দ্বারা তৈরি হওয়া প্রথম কাগজভিত্তিক জৈব ব্যাটারি।

এটি একটি ডিসপোজেবল, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং পোর্টেবল বায়ো ব্যাটারি, যা কিনা ব্যাকটেরিয়াল বিপাক থেকে শক্তি উৎপন্ন করে। এই ব্যাটারিটি বায়ো-সেন্সর গুলোর মতো অন্যান্য ডিসপোজেবল কম বিদ্যুত অ্যাপ্লিকেশনের জন্য চাহিদার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য লালার মতো মানুষের শরীরের তরল পদার্থ ব্যবহার করতে সক্ষম।

এই ডিভাইসটি গর্ভাবস্থার পরীক্ষা, এইচআইভি পরীক্ষা, গ্লুকোজ সেন্সর এবং অন্যান্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে এটি একটি বিশাল সুবিধা নিয়ে আসবে, যেখানে মানুষজন প্রচলিত ব্যাটারি কিনতে অনেক সময় সমর্থ্য হয় না।

এই ব্যাটারিটিতে মাত্র কয়েকটি উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে। কাগজ, কার্বন এবং মুদ্রণ মোম দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারিটি সহজেই তৈরি করা সম্ভব। চই এর এই কাগজের ব্যাটারি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধবও বটে।

চই গত পাঁচ বছর ধরে কাজ করছেন এই ব্যাটারি তৈরির লক্ষ্যে যাকে অরিগামি আকারে ভাঁজ করে রাখা যাবে। তিনি বৃহত্তর ডিভাইসগুলোতে আরো ক্ষমতা প্রদান করার জন্য একসঙ্গে ব্যাটারিগুলোকে সংযোগ স্থাপন করতে কাজ করে আসছিলেন। চই বলেন, ব্যাটারি তৈরিতে এই কাগজের ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যটি হল যে, আপনি সহজেই এটি ভাঁজ করতে পারবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

মুছে ফেলা যাবে গুগলের ছবি থেকে ওয়াটার মার্ক

বিভিন্ন সময় নানা প্রয়োজনে ওয়েবসাইট থেকে ইমেজ বা ছবি ডাউনলোড করতে হয়। অনেক সময় ইমেজে ওয়াটার মার্ক দেওয়া থাকে। সাধারণত এসব ইমেজের ব্যাকগ্রাউন্ডে ওয়াটার মার্ক হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানি, ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো দেওয়া থাকে। এ সমস্যার সমাধানে গুগলের একদল গবেষক সম্প্রতি এমন একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে অ্যাডোব স্টক -এর মত স্টক ইমেজের ওয়েব সাইটগুলোর ইমেজ থেকে ওয়াটার মার্ক মুছে ফেলা যাবে।
গুগল জানায়, তারা শুধু একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কপিরাইট করা ইমেজ থেকে অস্বচ্ছ স্ট্যাম্প অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
২০১৭ সালের কম্পিউটার ভিশন এবং প্যাটার্ন রিকগনিশন কনফারেন্স (সিভিপিআর ২০১৭)-এ সম্প্রতি উপস্থাপিত দৃশ্যমান ওয়াটার মার্কের কার্যকারিতা সত্ত্বেও গুগল একটি কম্পিউটার অ্যালগরিদম এই কপিরাইট সুরক্ষাকে পাশ কাটিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলতে সক্ষম হয়। ফলে এখন থেকে ব্যবহারকারীরা অবাধে পরিষ্কার ইমেজগুলো একসেস করতে পারবে, যে ইমেজগুলোতে সাধরণত কপিরাইট সুরক্ষা হিসেবে ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করা হয়। গুগলের পক্ষ থেকে টালি ডেকেল এবং মাইকেল রাবিনস্ট্যাইন এক ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওই ব্লগ পোস্টে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াটার মার্কের অবস্থান বা অপাসিটি পরিবর্তন করায় গুগল অ্যালগরিদমের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না।

Google-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্টক অ্যান্ডরয়েড-সহ ফোন আনছে Xiaomi

সস্তায় ভরসা‌যোগ্য স্মার্টফোন মানুষের হাতে তুলে নিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শাওমি। একই ভাবে বিনামূল্যে অত্যাধুনিক অপারেটিং সিস্টেম সরবরাহ করে বিশ্বের স্মার্টফোন বাজারের প্রায় পুরোটাই দখল করে ফেলেছে গুগলের অ্যান্ডরয়েড।  স্মার্টফোনের বাজারে সাড়া ফেলে এবার গাঁটছড়া বাঁধল দুই সংস্থা। সূত্রের খবর, স্টক অ্যান্ডরয়েড সহ ফোন আনতে চলেছে শাওমি। 

নিজেদের ফোনে অ্যান্ডরয়েড অপারেটিং সিস্টেমই ব্যবহার করে শাওমি। তবে তা অ্যান্ডরয়েডের শাওমি সম্পাদিত ভার্সন। ‌MIUI নামে সেই অপারেটিং সিস্টেমে অ্যানিমেশন ও অন্যান্য ‘স্কিন’ না পসন্দ বহু অ্যান্ডরয়েড প্রেমীর। তাই হার্ডওয়ারে মন জিতলেও MIUI ব্যবহার করতে হবে ভেবে শাওমির ফোন কেনেন না তাঁরা। উলটো দিকে গুগলের পরবর্তী অ্যান্ডরয়েড ওয়ান ফোন তৈরির জন্য দরকার ছিল নির্ভর‌যোগ্য এক ফোন নির্মাতার। সব মিলিয়ে রাজচোটক হয়েছে এই জুটি, বলছেন প্র‌যুক্তি বিশেষজ্ঞরা। 

সূত্রের খবর, জোট বেঁধে Xiaomi A1 নামে একটি প্রোজেক্টে কাজ করছে দুই সংস্থা। ফোনটিতে থাকবে স্টক অ্যান্ডয়েড। ‌যা সরাসরি সরবরাহ করবে গুগল। এছাড়া নিয়মিত আপডেটও পাবেন গ্রাহকরা। Mi 5X নামে ফোনটিকে বাজারে আনতে পারে Xiaomi. তবে সমস্যা হল, স্টক অ্যান্ডরয়েডসহ এই ফোন ব্যবহার করা ‌যাবে না সংস্থার নিজের দেশ চিনেই। কারণ চিনে নিষিদ্ধ গুগলের সব পরিষেবা। তবে বাকি বিশ্বের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ফোনটি লুফে নেবেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। 

এই বিভাগের আরো খবর

গাড়ি দুর্ঘটনা এড়াতে সেন্সর বানাচ্ছে অ্যাপল

ধারণা করা হচ্ছে ব্লুটুথের মতো ছোট পরিধির তারবিহীন প্রযুক্তির সেন্সরগুলো আশপাশের পরিবেশ স্ক্যান করবে এবং অন্য গাড়ির সেন্সর ও জিপিএস ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মাধ্যমে চালকের ড্যাশবোর্ড পর্দায় অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য গাড়ি পারাপার এবং অন্যান্য বাধাগুলো দেখানো হবে- বলা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম আইএএনএস-এর প্রতিবেদনে।

 

 

পেটেন্টে এই প্রযুক্তিকে সয়ংক্রিয় গাড়ি হিসেবে উল্লেখ করেনি মার্কিন টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে পার্কিং সেন্সরের ব্লাইন্ড-স্পট ডিটেকশন ব্যবস্থার মতোই বলা হচ্ছে একে।

গাড়ির সঙ্গে গাড়ির যোগাযোগ নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়। ২০০২ সালে ‘কার ২ কার কমিউনিকেশন’ নামে একটি সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়। একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করছে ব্রডকম। এছাড়া ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ৩জি বা ৪জি এলটিই-এর মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে কোয়ালকম।

এবার অ্যাপল এই প্রযুক্তির পেটেন্ট করলেও এটি যে বাজারে আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ বেশির ভাগ পেটেন্ট করা প্রযুক্তিই সরাসরি বাণিজ্যিকীকরণ করে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ ব্যাপারে জানতে অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান প্রধান টিম কুক ঘোষণা দেন সয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তৈরিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে তারা। এর মধ্যে একটি মূল প্রযুক্তি হল গাড়ি। এর আগে গাড়ির জন্য মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম কারপ্লে বানিয়েছে অ্যাপল।

 

এই বিভাগের আরো খবর

এবার IELTS করুন ফ্রিতে!!

আরকে রাজু : আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি তাই নিজেকে যুগের সাথে এগিয়ে রাখতে অনেকেই  International English language test system (IELTS) কোর্সের দিকে আগ্রহী হোন, তবে IELTS কোর্স শেষ করেও যখন ভালো ভাবে ইংলিশ বলতে পারেন না তখন হয়ে যান হতাশ।
আসলে হতাশ হওয়ার আগে বুঝতে হবে বাস্তব চিত্রটাকে, যেমন আপনি কত মিনিট প্রতিদিন ইংরেজিতে কথার সুযোগ পান সেটা দেখতে হবে, বেশির ভাগ শিক্ষার্থী IELTS   ক্লাস চলা অবস্থায় ইংরেজি বলার সুযোগ পান, যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা বাংলা তাই ক্লাস শেষে সে সুযোগ পাওয়া যায় না, তবে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে সুযোগ যেকেউ পেতে পারেন আর বন্ধুদের সাথে ইংলিশে কথা বলার চেষ্টা করলে পড়তে হয় লজ্জায়, মনে থাকে ভয়, ভুল হওয়া আশঙ্কা।

ইংলিশ বলা যদি আপনার ইচ্ছা এবং স্বপ্ন হয় তাহলে এখনি ডাউনলোড করুন ২টি অ্যাপস  OpenTalk, English Talk   এই অ্যাপস এর সাহায্যে আপনি আপনার ইংরেজি বলার ইচ্ছা ও স্বপ্নকে খুব সহজেই পূরণ করতে পারবেন, কারণ আপনার মতো ইংলিশ শেখার আগ্রহ নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্থ থেকে এই অ্যাপস ২টির অনলাইনে অপেক্ষায় রয়েছে অনেকেই।

অ্যাপস ২টি Play Store  থেকে নামিয়ে Install করুন, তারপর সাইনআপ করুন, সাইনআপ সম্পর্ণ হলে OpenTalk অ্যাপসটিতে অনেক গুলি অপশন পাবেন অপশন গুলি টিক মার্ক দিন, তারপর Talk Now বটনটিতে ক্লিক করুন অ্যাপসটি, আপনার সাথে ইংলিশ কথা বলার পার্টনার খুঁজে দিবে। English Talk অ্যাপস Install সম্পূর্ণ হলে অ্যাপসটি ওপেন করুন তারপর শুধু  Talk to Level-1 Speaker উপরের অপশনটি ক্লিক করুন, এবার অটোমেটিকভাবে কানেকট হয়ে যাবে।

 

Play Store Link OpenTalk

Play Store Link English Talk

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফোন রিস্টার্ট না করা কতটা খারাপ?

স্মার্টফোন বর্তমানে আমাদের জীবনে সার্বক্ষণিক সঙ্গী। কিন্তু আমরা অনেকেই প্রয়োজনীয় এই গ্যাজেটটি রিবুট (রিস্টার্ট) এবং রিফ্রেশ করি না। এর ফলে কী অজান্তে আমরা ডিভাইসটির ক্ষতি করে চলেছি? চলুন জেনে নিই।

আপনার ফোনকে সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও কেন রিস্টার্ট করবেন, তার একাধিক কারণ রয়েছে। এবং সবগুলো কারণ ভালো। যেমন: ফোনের মেমোরি ধরে রাখা, ক্রাশ প্রতিরোধ, ফোন আরো ভালোভাবে চলমান রাখা এবং ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো।

প্রতিদিন আপনার অ্যাপস ব্যবহারের কথায় আসা যাক। লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বব মোটামেডি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অ্যাপস বন্ধ করা হলেও তা আসলে সত্যিকার অর্থে বন্ধ হয় না। কেননা তা দ্রুত আবার লোড হওয়ার জন্য বন্ধ করার পরও সক্রিয় থাকে।’

‘তাহলে এবার ভাবুন তো, প্রতিদিন আপনার কতগুলো অ্যাপস খোলা হয় এবং তা সক্রিয় থেকে ধীরে ধীরে ফোনের মেমোরি এবং ব্যাটারি শেষ করতে থাকে। এবং ভাবুন তো আপনাকে প্রতিদিনই এ কারণে ভাবতে হয় যে, ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

ফোন রিস্টার্ট করলে খোলা অ্যাপসগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয় এবং র‌্যাম বাঁচে অর্থাৎ ব্যাটারির শক্তিক্ষয় করছে এমন সবকিছু থেকে ফোন পরিত্রান পায়।

ফোন নানা কারণে ক্র্যাশ করতে পারে কিন্তু আপনি যদি ফোন রিস্টার্ট না করেন তাহলে তার প্রভাব এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই পড়তে পারে। প্রতিটি আপডেট, পেজ লোড এবং অ্যাপ ইনস্টল অথবা ডিলেটের সময় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের কোড যুক্ত হয় অথবা মুছে।

‘কখনো কখনো ইনস্টল অথবা আনইনস্টল করার পরে এসবের বেমানান বা অসঙ্গত অংশ থাকে। ফোন রিস্টার্ট করা হলে এগুলোর অধিকাংশই নিষ্কাশন হয় এবং ফোন ভালো কাজ করে।’- বলেন মোটামেডি।

ব্যাটারি সর্বদা চার্জ করার জন্য দ্রুত শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী কি। ‘আপনি যদি ফোনের ব্যাটারি চার্জ সম্পূর্ণভাবে শেষ না করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে রিচার্জও হবে না এবং ব্যাটারি লাইফ কম হবে।’ – মোটামেডি বলেন।

‘এজন্য সুপারিশ করা হয় যে, আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি চার্জ শূন্য শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসুন এবং তারপর ১০০ শতাংশ চার্জ করুন।’

ফোনের মেমোরি বাঁচাতে এবং ক্র্যাশ থেকে মুক্ত থাকতে, সপ্তাহে অন্তত একবার ফোন রিস্টার্ট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর

টুইটারে জনপ্রিয়তায় রেকর্ড গড়লেন ওবামা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুইটের মালিক হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্ণবাদ নিয়ে ওবামার একটি টুইট অতিক্রম করেছে ৩৮ লাখ লাইকের মাইলফলক। অথচ এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ লাইক-ই জোটেনি কোনও টুইটের ভাগ্যে। টুইটের জনপ্রিয়তায় তাই সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট গড়েছেন নতুন রেকর্ড।

 

 

ভার্জিনিয়ার শার্লোটেসভিলে বর্ণবাদ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা বিষয়ে বারাক ওবামা টুইটারে একটি পোস্ট দেন ১৩ আগস্ট। ওই পোস্টে কয়েকটি শিশুকে সামনে রেখে নিজের একটি ছবি দেন তিনি। পোস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্ধৃত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী কিংবদন্তী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্য লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ থেকে নেওয়া একটি লাইন। তাতে লেখা আছে, ‘গায়ের রঙ কিংবা ধর্মের কারণে কেউ কাওকে জন্মগতভাবে ঘৃণা করে না।’
ওবামার পোস্ট করা ছবিটি ২০১১ সালে তোলা। তিনি ম্যারিল্যান্ডের বেথিসদাতে একটি দিবাযত্মকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে ছবিটি তোলেন তৎকালীন হোয়াইট হাউস ফটোগ্রাফার পিট সুজা। বেশ আগের এ ছবিটি অবশেষে ওবামা ব্যবহার করলেন বর্ণবাদ ইস্যুতে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে।
টুইটার জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট ওবামা ওই টুইট করার পর ১৬ আগস্ট বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টার দিকেই তা ৩০ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করে। এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ লাইক পেরিয়ে যাওয়ার পর টুইটটি ৪০ লাখ লাইকের মাইলফলকও অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গুগলে বাংলায় ভয়েস সার্চের সুবিধা

এতদিন যারা ইংরেজি ভাষায় গুগলে ভয়েস সার্চ করে এসেছেন; তারা প্রত্যাশা করতেন- সুযোগটি যদি বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও দেওয়া হতো, তাহলে অনেক ভালো হতো। এবার তাদের জন্য এটি খুশির খবরই বটে। কারণ এখন বাংলায় ভয়েস সার্চের সুবিধা দিচ্ছে গুগল।

সোমবার এক ব্লগ পোস্টে গুগল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছে। শুধু তাই নয়- নতুন করে ৩০টি ভাষাকে ভয়েস সার্চ অপশনে যুক্ত করেছে গুগল। এ হালনাগাদের ফলে ১০০ কোটি মানুষ এমন সুবিধার আওতায় চলে আসবে।

সূত্র জানায়, বাংলা ভাষার পাশাপাশি নেপালি, তেলেগু, মারাঠি, তামিলসহ বিভিন্ন প্রাচীন ভাষাও রয়েছে। ফলে বিশ্বের মোট ১১৯টি ভাষাভাষি মানুষ গুগলের এই ভয়েস সার্চ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

গুগল জানায়, সব ব্যবহারকারীর কাছেই পৌঁছে যাবে ভাষাগুলো। শিগগিরই নতুন ভাষাগুলো ব্যবহার করে গুগলের অন্য অ্যাপগুলোতে ভয়েস কমান্ডের সুবিধা যুক্ত হবে। ফলে গুগলের ট্রান্সলেশনে বাংলা ভাষায় ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে কোন শব্দের অর্থ খুঁজে বের করা যাবে।

অবশেষে মনে হয় গুগলে বাংলা ভাষা ইংরেজির মতোই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে। এখন এটা শুধু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে, তিনি কোন ভাষায় ভয়েস সার্চ করবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

চীনে প্রবেশের সুযোগ পেলো ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও এশিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার চীনে প্রবেশ করতে পারছিল না। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা এবং বৈঠকের পর এবার ফেসবুক কিছু কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। চীনে সম্প্রতি ‘কালারফুল বেলুন’স নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে ফেসবুক। এরপর ধীরে ধীরে মূল কার্যক্রম শুরু করবে বলেও শোনা যাচ্ছে।
নতুন এই অ্যাপটি অনেকটা ফেসবুক মোমেন্টস অ্যাপের মতো। ব্যবহারকারীরা এটা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি শেয়ার করতে পারবেন। কালারফুল বেলুন’স মূলত ফেসবুকের মালিকানাধীন হলেও কাজ করবে চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইচ্যাটের সঙ্গে। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, নতুন এই অ্যাপ চালু হয় গত মে মাসে। তবে বেশ গোপনে এটা চালু হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি জানে না। চীনের ইয়ুজ ইন্টারনেট টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু করে ফেসবুক।
চীনে নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে ফেসবুকের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, চীনের ব্যাপারে আমরা খুব আগ্রহী। দেশটিতে প্রবেশের লক্ষ্যে সব ধরনের উপায় বিবেচনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বড় বাজারটিতে কার্যক্রম শুরু করার জন্য তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অনেক সময় ব্যয় করেছি আমরা।
এর আগে ২০০৯ সালে চীনে ফেসবুক নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি নিষিদ্ধ হয় ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপও। এরপর থেকে দেশটিতে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আসছিলেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

আসছে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন!

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন তৈরির জন্য একটি প্রোটোটাইপ উদ্ভাবন করেছেন। তারা বলছেন, যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এই প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন, সেই প্রযুক্তি দিয়েই তৈরি করা সম্ভব হবে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন। আগামী আট থেকে নয় মাসের মধ্যেই তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্টফোন বাজারে আনতে পারবেন বলে আশাবাদী।
সিয়াটল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই প্রোটোটাইপ। ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন তৈরির গবেষণার অংশ হিসেবেই তারা এটি তৈরি করেছেন। স্বাভাবিকভাবে যেকোনও মোবাইল ফোন চালাতেই প্রয়োজন শক্তি, যা আসে ব্যাটারি থেকে। গবেষকরা বলছেন, এই প্রোটোটাইপের জন্য প্রয়োজনীয় সেই শক্তি এসেছে মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিকে (আরএফ) শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করে।
আরএফ তরঙ্গগুলো আমাদের চারপাশেই রয়েছে। আমাদের আশপাশের সব এফএম রেডিও স্টেশন, এএম রেডিও স্টেশন, টিভি স্টেশন, মোবাইল ফোন টাওয়ার— সবকিছুই পরিচালিত হয় আরএফ তরঙ্গের মাধ্যমে। সেই আরএফ তরঙ্গের শক্তি ব্যবহার করেই চলবে ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোনের প্রোটোটাইপ।
প্রথম নজরে এই প্রোটোটাইপকে কয়েকটি অংশে সংযুক্ত একটি সার্কিট বোর্ডের চেয়ে একটু বেশি বড় দেখাবে। এটি ব্যবহার করার জন্য এর সঙ্গে যোগ করতে হবে একটি হেডফোন। কথা বলার ও শোনার জন্য চাপতে হবে বিশেষ বাটন।
প্রথম এই প্রোটোটাইপ তৈরি করে সফল গবেষকরা ভবিষ্যতে আরও একটু উন্নত ধরনের প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা করছেন। পরের প্রোটোটাইপে তারা ব্যবহার করতে চান ডিসপ্লে স্ক্রিন, যাতে খুব পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হবে। শুধু তাই নয়, এতে একটি ক্যামেরা যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছেন তারা। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে আরও একটি ব্যাটারিবিহীন মোবাইল ফোন, যাতে শক্তি সরবরাহের জন্য থাকবে ক্ষুদ্রাকৃতির সৌর কোষ।
গবেষকরা বলছেন, আগামী আট থেকে নয় মাসের মধ্যে তারা এই প্রোটোটাইপের পর্যায় পেরিয়ে ব্যাটারিবিহীন স্মার্টফোন বাজারে আনতে চান। একজন গবেষক বলেছেন, ভবিষ্যতে সব স্মার্টফোনেই থাকবে হবে ব্যাটারিবিহীন মোড। তাতে ফোনের ব্যাটারি একেবারে শেষ হয়ে গেলেও অন্তত ব্যবহারকারী এই মোডে প্রয়োজনীয় কলটি সেরে নিতে পারবেন।

বিস্ময়কর ৭ গ্রহ

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কিছু নক্ষত্রের চেয়েও বেশি!

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহগুলোর ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন এবং একের পর এক গ্রহ অবিষ্কার করে চলেছেন। এর মধ্যে থেকে বিস্ময়কর কিছু গ্রহ নিয়ে এ প্রতিবেদন।

সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ

 

একটি গ্রহ তার কেন্দ্রীয় নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকায় কতটা উত্তপ্ত হতে পারে এবং সেই নক্ষত্রটিই বা কতটা উত্তপ্ত।

আমাদের সৌরজগতের মধ্যে, সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহটি হচ্ছে বুধ। সূর্য থেকে যার দূরত্ব ৫৭,৯১০,০০০ কিলোমিটার। সৌরজগতের প্রথম এবং ক্ষুদ্রতম এই গ্রহের তাপমাত্রা ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অন্যদিকে সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কিন্তু সূর্যের চেয়েও বেশি শক্তিশালী নক্ষত্র রয়েছে।  

সম্প্রতি আবিষ্কৃত কেল্ট-৯ নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের তুলনায় ২.৫ গুণ বেশি বড় এবং নক্ষত্রটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ১০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বুধ গ্রহ সূর্যের যতটা কাছে অবস্থিত তার চেয়ে বেশি কাছে অবস্থিত এই নক্ষত্রটির ‘কেল্ট-৯ বি’ নামক গ্রহটি। তাদের মধ্যেকার সঠিক দূরত্ব বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করতে না পারলেও জানিয়েছেন, কেল্ট-৯বি গ্রহটি এর নক্ষত্রের খুব কাছে অবস্থান করছে এবং এর পুরো কক্ষপথ একবার ঘুরে আসতে মাত্র ১.৫ দিন সময় নেয় (সূর্যকে বুধ একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৮৮ দিন)।

আর এর ফলাফল হচ্ছে, ‘কেল্ট-৯ বি’  গ্রহটি সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই গ্রহের তাপমাত্রা ৪৩২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস! পাথুরে গ্রহ বুধ এ তাপমাত্রায় গলিত লাভার একটা পিন্ডের মতোই মনে হবে।

যা হোক, ‘কেল্ট ৯ বি’ গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের মতোই গ্যাসীয় গ্রহ। তবে বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বড় হলেও এর ঘনত্ব অনেক কম। এর কারণ হল অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে বেলুনের ন্যায় ফাপা হয়ে গেছে। উত্তাপের কারণেই গ্রহটিতে পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড এগুলো গঠিত হতে পারে না। এর বায়ুমণ্ডলে কোনো অনুর অস্তিত্ব থাকাও সম্ভব নয়।

সবচেয়ে শীতল গ্রহ

‘ওজিএলই-২০০৫-বিএলজি-৩৯০এলবি’ গ্রহটি সবচেয়ে শীতলতম গ্রহ। পৃথিবীর ভরের তুলনায় সাড়ে ৫ গুণ বেশি ভরের এই গ্রহটি পাথুরে গ্রহও হতে পারে।

পৃথিবী থেকে ৩,৩০০ আলোকবর্ষ দূরে মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত। যদিও গ্রহটি এর হোস্ট নক্ষত্র (যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে) থেকে অনেক বেশি দূরে নয়, তবে এর হোস্ট নক্ষত্রটি কম ভর ও লাল বামন অর্থাৎ শীতল নক্ষত্র।

স্টার ওয়ার্স ফ্রাঞ্চাইজের সিনেমায় বরফ গ্রহ হিসেবে জনপ্রিয় এ গ্রহটিকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তব সিনেমাটির বিপরীত, প্রাণের অস্তিত্বের উপযোগী নয় গ্রহটি। কারণ গ্রহটির বেশিরভাগ গ্যাসই হিমায়িত এবং গ্রহটির পৃষ্ঠ তুষারাবৃত।

সবচেয়ে বড় গ্রহ
যদি একটি গ্রহ একটি নক্ষত্রের মতো উত্তপ্ত হতে পারে, তাহলে গ্রহ এবং নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্যটা কী থাকল?

গ্রহের তুলনায় অনেক গুণ বেশি বড় হয়ে থাকে নক্ষত্র এবং নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো ও তাপ সৃষ্টি করে থাকে। উদাহারণস্বরুপ আমাদের পরিচিত নক্ষত্র সূর্যে হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম তৈরির মধ্য মাধ্যমে সূর্যের জ্বলন প্রক্রিয়া চলে।

কিন্তু বাদামী বামন শ্রেণীর এক ধরনের নক্ষত্র রয়েছে। এই ধরনের নক্ষত্রগুলো ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হওয়ার মতো যথেষ্ট বড় হলেও, বজায় রাখার মতো যথেষ্ট বড় না। হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হবার আগেই পৌঁছে যায় স্থিতিশীল অবস্থায়।

‘ডেনিস-পি জে০৮২৩০৩.১-৪৯১২০১ বি’ নামক গ্রহটির ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় ২৮.৫ গুণ বেশি। তাই এই গ্রহটিকে নাসার আবিষ্কৃত সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী গ্রহ হিসেবে পরিচিত।

তবে এতো বেশি ভরের কারণে এই গ্রহ হয়ে পড়েছে বিতর্কিত। এটাকে আদৌ গ্রহ (বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় গ্রহ) বলা যাবে কিনা নাকি বাদামি বামন নক্ষত্র বলা হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আরো অদ্ভূত বিষয় হচ্ছে, এর হোস্ট নক্ষত্র নিজেই একটি বামন নক্ষত্র।  

সবচেয়ে ছোট গ্রহ
আমাদের চাঁদের তুলনায় সামান্য বড় এবং বুধ গ্রহের চেয়ে ছোট ‘কেপলার-২৭ বি’ হলো সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোট আকৃতির গ্রহ।

সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ বুধ। সূর্য আর বুধের যে দূরত্ব তার চেয়ে  কম দূরত্ব রয়েছে পাথুরে গ্রহ ‘কেপলার-২৭ বি’ এবং এর নক্ষত্রের মধ্যে। তার মানে গ্রহটির তরল পানীয় থাকার মতো উত্তপ্ত এবং প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

সবচেয়ে বেশি বয়সি গ্রহ

‘পিএসআর বি ১৬২০-২৬ বি’ গ্রহটি ১২,৭০০ কোটি বছর বয়সি, যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীনতম গ্রহ। মহাবিশ্ব ১৩,৮০০ কোটি বছরের পুরোনো অর্থাৎ গ্রহটির তুলনায় মাত্র ১,১০০ কোটি বছর পুরোনো।

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি ছাড়া সৌরজগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলেও বৃহস্পতির ভর আড়াই গুণ বেশি হবে। আর ‘পিএসআর বি ১৬২০-২৬ বি’ গ্রহটির ভর বৃহস্পতি গ্রহের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। এটি পৃথিবী থেকে ১২,৪০০ আলোকবর্ষ দূরে স্কর্পিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত।

গ্যাসীয় দৈত্যাকার এই গ্রহটির দুটি হোস্ট নক্ষত্র একে অপরের চারপাশে ঘূর্ণায়মান। এর মধ্যে একটি নিউট্রন নক্ষত্র এবং অন্যটি বামন নক্ষত্র। যা হোক, গ্রহটি যেহেতু মহাবিশ্বের ইতিহাসে খুব শিগগির গঠিত হয়েছে, তাই গ্রহটিতে সম্ভবত প্রাণের বিবর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ভারী উপাদান যেমন কার্বন এবং অক্সিজেন (পরে গঠিত) নাই।

সবচেয়ে কম বয়সি গ্রহ

‘ভি৮৩০ তৌরি বি’ নামক গ্রহটি মাত্র ২ মিলিয়ন বছরের পুরোনো। যে নক্ষত্রটির চারপাশে গ্রহটি ঘুরছে তার ভর আমাদের সূর্যের ভরের মতোই কিন্তু ব্যাসার্ধে দ্বিগুণ, তার মানে গ্রহটি চূড়ান্ত আকৃতিতে সম্পূর্ণভাবে এখনো সংকুচিত হয়নি।

পৃথিবী থেকে ৪২৭ আলোকবর্ষ দূরে টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে এর অবস্থান। গ্যাসীয় দৈত্যাকার এই গ্রহটি বৃহস্পতি গ্রহের তিন চতুর্থাংশ ভরের সমান এবং সম্ভবত গ্রহটি এখনো বেড়ে চলেছে। অর্থাৎ গ্রহটি তার পথের মধ্যে অন্যান্য কিছু যেমন গ্রহাণুর সঙ্গে ঘন ঘন ধাক্কা লাগার মাধ্যম আরো বেশি ভর অর্জন করছে। ফলে গ্রহটি খুবই অনিরাপদ একটি স্থান হিসেবেই ধারণা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহ

সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলো যেহেতু আমাদের পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থিত এবং গ্রহগুলোর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা সহজ ব্যাপার নয়, তাই সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহ হিসেবে আমাদের সৌরজগতের মধ্যেকার গ্রহের দিকেই চোখ রাখা যাক।

যদি আপনি জুনো মহাকাশযান দ্বারা তোলা বৃহস্পতি গ্রহের ঘূর্ণিঝড়ের ছবিটি দেখেন, তাহলে আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে বড় এই গ্রহটি অবশ্যই বাজে আবহাওয়ার গ্রহের জন্য অবশ্যই উপযুক্ত একটি প্রতিদ্বন্দ্বী।

তবে সবচেয়ে বাজে আবহাওয়ার গ্রহের খেতাব বিজয়ী আসলে শুক্র গ্রহ। সূর্য থেকে দ্বিতীয় নিকটবর্তী গ্রহ শুক্রের আকৃতি পৃথিবীর মতোই। গ্রহটির বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তুলনায় ১০০ গুণ বেশি ঘন এবং বায়ুমন্ডলের শতকরা ৯৫ ভাগই কার্বন ডাই অক্সাইড। গ্রহটির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফলে বুধ গ্রহের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত এই গ্রহটি। এছাড়াও পৃথিবীর মতো পানির বাষ্পে ঘনীভূত হওয়া মেঘের বদলে শুক্রে রয়েছে সালফিউরিক এসিড বাষ্পীভূত হওয়া মেঘ।

গ্রহের ঘূর্ণনের চেয়ে বায়ুমন্ডল আরো দ্রুত গতিতে চলতে থাকে, যার ফলে গরম ঝড়ো বাতাসের গতিবেগ সেখানে ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটার। এই বাতাস কঠিন সীসাকে তরলে রূপান্তরিত করার মতো যথেষ্ট গরম।

এই বিভাগের আরো খবর

মোবাইল গ্রাহক সাড়ে ১৩ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক সাত কোটি ছাড়িয়েছে

ষোল কোটি মানুষের বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যা এখন ৭ কোটি ছাড়িয়েছে। আর দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ১৩ কোটির বেশি। এরমধ্যে কেবল মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন পৌনে ৭ কোটির বেশি মানুষ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গতকাল বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোন গ্রাহক ও ইন্টারনেট গ্রাহকের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।  

জুন মাস শেষের এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ছয় কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার, ওয়াইম্যাক্স গ্রাহক ৭৫ হাজার এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কের (পিএসটিএন) গ্রাহক সংখ্যা ৪৬ লাখ ২২ হাজার। এর আগে বিটিআরসির সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য দিয়ে প্রস্তুত মার্চ মাসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় মোট ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার। ইন্টারনেট গ্রাহকের ছয় কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক ব্যবহার করেন মোবাইলের মাধ্যমে। ওই সময় আইএসপি ও পিএসটিএন গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ ৩৬ হাজার। ওয়াইম্যাক্স গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৮৯ হাজার। বিটিআরসির তথ্যে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন।

মোবাইল গ্রাহক সাড়ে ১৩ কোটি
জুন মাস শেষে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ছয় কোটি ১৫ লাখ ৭৯ হাজার, রবি ও এয়ারটেল একীভূত হয়ে রবির তিন কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার, বাংলালিংকের তিন কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার। তবে অচলাবস্থায় থাকা সিটিসেলের গ্রাহকের কোনো তথ্য দেখানো হয়নি ওই প্রতিবেদনে। ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার। গত বছর মার্চে দেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মোট ১৩ কোটি ৮ লাখ ৮১ হাজার গ্রাহক ছিল। তবে মে মাসে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৬০ লাখের মতো। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তথ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ৯৩ লাখ ছয় হাজার। বাংলালিংকের তিন কোটি ১৩ লাখ ৯ হাজার, রবির দুই কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার, এয়ারটেলের ৮২ লাখ ১৯ হাজার, টেলিটকের ৩৭ লাখ ৩৩ হাজার। অপারেটরগুলোর দেওয়া সিম বিক্রির তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান তৈরি করে বিটিআরসি।সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপারেটরদের মধ্যে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা কমে এসেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পুঁজিবাজারে আসতে টেলিকম কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কম, শর্তের অজুহাত

পুঁজিবাজারে আসতে টেলিকম কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বরাবরই কম। টুজি, থ্রিজি গাইডলাইনে ৩০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও একমাত্র গ্রামীণফোন ছাড়া অন্যকোনও অপারেটর সেই পথে হাঁটেনি। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘শর্ত’কে ঢাল হিসেবে দেখছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লাভে থেকেও পুঞ্জিভূত লোকসানের কারণে পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না বলে দাবি করছে।  

 

 

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নানা শর্তের কারণে দেশের পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী নয় মোবাইল ফোন অপারেটররা। ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে স্থানীয় মূলধন যোগান ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ করছে অপারেটরগুলো। দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালায় গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও সিটিসেলকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এরমধ্যে চার বছর পার হয়ে গেলেও এখনও মোবাইল অপারেটররা সে ধরনের কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জানা যায়, থ্রিজি’র গাইডলাইনে বিধানটি রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে ফোরজি’র খসড়া নীতিমালায়ও বিষয়টি রাখা হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রায়াত্ত টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারবাজারে আসার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটক এবং টেলিকম কোম্পানি টেশিস (টেলিফোন শিল্প সংস্থা)। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (সাবেক মন্ত্রণালয়) সে সময়ের মন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, শিগগিরই টেলিটকের বিষয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এবং প্রসপেক্টাস অনুমোদনের জন্য এসইসিতে পাঠানো হবে। এখনও কাজটি ওই ‘শিগগিরই’তে আটকে আছে। সে সময়ে বাজারে শেয়ার ছেড়ে ৬০০ কোটি টাকা তুলতে আগ্রহী ছিল টেলিটক। অপারেটরগুলোর মধ্যে একমাত্র গ্রামীণফোনই পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত হয় নীতিমালা তৈরির আগেই। প্রতিষ্ঠানটি তার মোট শেয়ারের ১০ শতাংশ বাজারে ছেড়েছে। অবশিষ্ট শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়ে গ্রামীণফোনের কোনও অগ্রগতি জানা যায়নি।

গ্রামীণফোনের একজন কর্মকর্তা নিজেকে উদ্ধৃত না করে বলেন,‘এটা তো শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়। ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত বিষয়টি মোটেও তাদের ইস্যু নয়।’ শেয়ারহোল্ডাররা মনে করলে বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে তিনি জানান।

সরকারের আরেকটি কোম্পানি টেশিস লাভে থাকলেও পুঞ্জিভূত লোকসান থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে আসতে পারছে না। এ বিষয়ে টেশিসের কোম্পানি সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘পুঞ্জীভূত লোকসান থেকে বেরিয়ে এসে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো গেলে টেশিসকে নিয়ে পুঁজিবাজারে আসা সম্ভব হবে। সরকার পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে সাহায্য করলেও পুঁজিবাজারে আসা সহজ হয়।’

অন্যদিকে আরেকটি সরকারি টেলিকম কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) কয়েক বছর ধরে পুঁজিবাজারে রয়েছে।

রবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর বলেন, ‘রবি এসইসি’র সব শর্ত মেনেই পুঁজিবাজারে যাবে।’ তিনি জানান, যারা দেশে এফডিআই (ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) নিয়ে আসছে, তাদের পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি ম্যান্ডেটরি নয়। রবি যেদিন এসইসি’র সব শর্ত পূরণ করতে পারবে, তখন পুঁজিবাজারে আসবে।’

বাংলালিংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা  জানান, বাংলালিংক সবে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। এসইসি’র শর্ত অনুযায়ী পুঁজিবাজারে আসার জন্য পরপর তিন বছর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মুনাফা করতে হবে । বাংলালিংক এখন সেই অপেক্ষায় আছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসি’র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেটরগুলোকে পুঁজিবাজারে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারি না। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা আসবে।’ তিনি মনে করেন, এসইসি নিয়ম শিথিল করলে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজি বাজারে আসার পথ সহজ হতে পারে।’

মোবাইল ফোনের কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব কার?

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গত জুনে জানিয়েছিলেন, মোবাইল ফোনের কলরেট কমানো হতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই কলরেট না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। যদিও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রস্তাবনাটি ফিরিয়ে দিয়ে বিটিআরসিকে  ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছে। এদিকে, মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের দাবি, এই প্রস্তাবনা তৈরির আগে টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির পরামর্শ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মোবাইল ফোনের কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাবটি আসলে কার?

 

 

সম্প্রতি এক বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সর্বনিম্ন কলরেট বাড়ানো, ভিন্ন অপারেটরের মধ্যে কলরেট কমানো এবং কলরেটের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ পয়সা কমিয়ে দেড় টাকা করার প্রস্তাব পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তা ফের বিশ্লেষণ করার জন্য সোমবার (৭ আগস্ট) বিটিআরসিতে ফেরত পাঠিয়েছে। বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশনের পাঠানো প্রস্তাবনাই চূড়ান্ত নয়। কলরেট বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার সুযোগও রাখা হয়েছে প্রস্তাবনায়।’

বিটিআরসির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, একই অপারেটরের মধ্যে কথা বললে গ্রাহকের খরচ বাড়বে এবং অন্য অপারেটরে কথা বললে খরচ কিছুটা কমবে। আর এতে করে ছোট অপারেটরগুলোর আয় আরও কমে যাবে। বড় অপারেটরগুলোর গ্রাহক সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব অপারেটরের নিজেদের গ্রাহকদের মধ্যেই কথা হয় বেশি। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কথা বলার খরচও বাড়বে, অপারেটরগুলোর আয়ও বাড়বে।

যদিও গত ২০ জুন জাতীয় সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছিলেন, প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের কলরেট আরও কমানো যেতে পারে। মোবাইল ফোনের সর্বনিম্ন কলরেটে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে দেশে এই কলরেট সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা ও সর্বোচ্চ ২ টাকা নির্ধারণ করা আছে।

দেশে মোবাইল ফোনের এই কলরেট ২০১০ সালে নির্ধারণ করে দিয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)। তাদের হিসাব ছিল, একই অপারেটরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা, অন্য অপারেটেরে সর্বনিম্ন ৬০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ২ টাকা হারে কলরেট নির্ধারণ করা যাবে। এর বিপরীতে বিটিআরসির নতুন প্রস্তাবনায় একই অপারেটরের মধ্যে সর্বনিম্ন কলরেট ৩৫ পয়সা, অন্য অপারেটরে সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ কলরেট দেড় টাকা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবীর  বলেন, ‘আমাদের (মোবাইল ফোন অপারেটর) সঙ্গে কোনও ধরনের পরামর্শ না করেই কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিটিআরসি। আমরা বিষয়টি জানিই না। অপারেটরদের সঙ্গে কথা না বলে কলরেট নির্ধারণ কোথাও করা হয় না। আমরা চাই, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রস্তাবনা দেওয়া হোক।’ তিনি জানান, অতীতে কলরেট নির্ধারণের সময় টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির মতামত নেওয়া হয়েছিল।

তবে জানা গেছে, কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রকারান্তরে খুশিই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। কলরেট বাড়লে কোন অপারেটরের আয় কত বাড়বে, তারও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। সেই হিসাবে দেখা যায়, বিটিআরসির প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে আয় বাড়বে গ্রামীণফোনের, আর আয় কমে যাবে রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের।

এদিকে, নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ  জানান, নতুন প্রস্তাবনার পেছনে কয়েকটি ফ্যাক্টর কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি। এর একটি হচ্ছে স্পেক্ট্রাম (তরঙ্গ)। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর স্পেকট্রাম প্রয়োজন, কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। স্পেকট্রামের দামও অনেক বেশি। ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘এ পরিস্থিতিতে কলরেট বাড়ানোর প্রস্তাব অপারেটরগুলোর জন্য এক ধরনের ‘ইনসেনটিভ’, বাড়তি আয় দিয়েই যেন অপারেটরগুলো স্পেকট্রাম কিনতে পারে।’

ওই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, সামনে চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্কের (ফোরজি) নিলাম রয়েছে। এতে অপারেটরগুলোর অনেক টাকার প্রয়োজন। এই ইনসেনটিভ অপারেটরগুলো সেই কাজেও ব্যবহার করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। আইজিডাব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে) কলরেট কমে যাওয়াটাও প্রস্তাবনার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মোবাইল অপারেটরগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কলরেট বাড়লে কাদের লাভ, খোঁজ নিন।’ প্রতিমন্ত্রীর কলরেট কমানোর ইঙ্গিত ও কলরেট বাড়ানো প্রসঙ্গে অ্যামটবের কিছু না জানার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিটিআরসি একা-একাই কলরেট বাড়ানোর কাজটি করে ফেললো?’

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন প্রযুক্তির লেজার প্রিন্টার

ঝকঝকে ছাপার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে মনোক্রোম প্রযুক্তির লেজার প্রিন্টার আনলো টেক রিপাবলিক লিমিটেড। মার্কিন ব্র্যান্ড লেক্সমার্ক এমএস৩১২ডিএন মডেলের এই প্রিন্টারটি মুহূর্তে কাগজের উভয় পিঠই প্রিন্ট করতে পারে।
১২০০ ডিপিআই প্রিন্টিং রেজ্যুলেশনে মিনিটে ৩৩ পৃষ্ঠা ছাপতে সক্ষম এই প্রিন্টারে এ৪-৬ ছাড়াও, লিগ্যাল, লেটার ও ইউনিভার্সেল আকারের কাগজ ব্যবহার করা যায়। কালি সাশ্রয়ী হওয়ায় মাসে ছাপতে পারে ৫০ হাজার পৃষ্ঠা। একটি অফিসে ঝামেলা মুক্তভাবে ছাপার কাজ সেরে নিতে ইথারনেট নেটওয়ার্কে জুড়ে নেওয়া যায়। দাম ১৭ হাজার টাকা।



Go Top