সকাল ৮:২০, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ সিলেট

ঝড়ে সিলেট শহরের অন্য কোথাও কোনো ক্ষতি না হলেও ভেঙে পড়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাচের অবকাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। শুক্রবার গভীর রাতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানান বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

তিনি বলেন, ঝড়ে স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সের অর্ধেক গ্লাস ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। “এছাড়া হসপিটালিটি বক্স ও মিডিয়া বক্সেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাচের অবকাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে। ভেঙে গেছে অনেক চেয়ার। ঝড়ের সময় কাচ ভেঙে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্যান্য আসবাবপত্রও।”

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ঢাকা থেকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রিকেট বোর্ডের একটি দল সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে তিনি জানান। গত ২০০৭ সালে স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠার পর ২০১৩ সালে এখানে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সংস্কারকাজ করা হয়। ২০১৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করার পর সে বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় এখানে।

ঝড়ে সিলেটের বিভিন্ন গ্রামে কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও শহরের কোথাও কোনো ক্ষতির খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নামে কাউকে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না বলে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১০ সালে আইন করে এগুলোকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে এখন কাউকে ব্যবসা বা সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে দেওয়া হচ্ছে না। শর্তপূরণ না করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারবেন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। শর্ত পূরণে যারা ব্যর্থ হবে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরি পেতে কোনো বৈষম্যের শিকার হবেন না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য সরকারি সুযোগ উন্মুক্ত। যার যার মেধা দিয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, মঞ্জুরী কমিশনের কর্মপরিধি আরও বাড়ানো হবে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর নজরদারি বাড়ানো যায়। এখন দেশে ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সালেহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মো. ফরাস উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তৌফিক রহমান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।

আরও ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবে ভারত: প্রতিমন্ত্রী

সিলেট প্রতিনিধি: আগামী দুই বছরের মধ্যে ভারত থেকে আরও দুই হাজার মেগাওয়াট বিদুৎ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।  রোববার সিলেটের একটি হোটেলে ‘টেকসই জ্বালানি প্রসারে গ্রিন ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ভারত থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদুৎ আনা হয়েছে। সামনে আরও দুই হাজার মেগাওয়াট আনা হবে এবং তা দুই বছরের মধ্যেই হবে। এ বিদ্যুতে দাম নির্ধারণ হবে দুদেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্যে চারটি চুক্তিপত্র অনুষ্ঠানে বিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলাদেশকে আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেন। দেশের সব মানুষকে বিদুতের আওতায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ২০১৮ সালে একশ ভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। সরকারের গৃহীত গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের সাফল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের উপযোগী অবকাঠামো তৈরির জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন সহায়ক অবকাঠামো তৈরি শুধু টেকসই জ্বালানি উন্নয়নের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়ন ও টেকসই অর্থনীতির দিকে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মনে করেন।

সৌরবিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন কমছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এজন্য সৌরবিদ্যুতের চাহিদা কমছে। সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ পাওয়ায় মানুষ এখন সৌরবিদ্যুৎ নিতে চাইছে না। তবে যেসব এলাকায় গ্রিড লাইন যাবে না সেসব এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে আলোকিত করা হবে। সরকারের সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (স্রেডা) চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মাইকেল শুলথেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সিলেট থেকে ১১টি মর্টার শেল উদ্ধার

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট মহানগরীর দরগাহ মহল্লা থেকে ১১টি মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে।  বুধবার দুপুরে দরগাহ মহল্লার হোটেল হেরিটেজের পেছনে একটি ছড়া থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছড়া সংস্কারের সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ১১টি মর্টার শেল দেখতে পান। উদ্ধারকৃত মর্টার শেলগুলোর মধ্যে ৫টি বড় আকারের এবং ৬টি ছোট আকারের। এনামুল হাবীব আরও বলেন, দেখে মনে হয়েছে, এগুলো মুক্তিযুদ্ধকালীন মর্টার ও শেল।

শাবির ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা

সিলেট প্রতিনিধি,  সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ সাত-আটজনের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানিসহ হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। জেলার নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে  বুধবার দুপুরে ওই ছাত্রীর মা মামলাটি দায়ের করেন বলে জানান পিপি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, আদালতের বিচারক মোহিতুল হক মামলা আমলে নিয়ে এ বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বিবাদীরা হলেন – বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগকর্মী সাজ্জাদ রিয়াদ ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগকর্মী মাহমুদুল হক রুদ্র।

এজাহারের বরাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মশরুর চৌধুরী শওকত বলেন, শনিবার বিকেলে পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া ওই ছাত্রী তার ফুফাত ভাইয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে যান। শহীদ মিনার এলাকায় কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী তাকে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর হামলা চালান বিবাদীরা। হামলায় আহত বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাবিউল আলম দিপু ও সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন দাবি করেন, শ্লীলতাহানি বা হামলার সঙ্গে আমি বা ছাত্রলীগের কেউ জড়িত না। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

শাবি ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত
এক মেয়েকে শ্লীলতাহানি ও দুই সাংবাদিককে মারধরের ঘটনার পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এম এম জকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন শাহজাদা বলেন, ‘আমরা ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যে কমিটি গঠন করেছি। তাদের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে কমিটি স্থায়ী বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’ কমিটির দুই সদস্য হচ্ছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র শেখর মণ্ডল এবং প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবুল। কমিটির সদস্যরা শিগগির ক্যম্পাসে গিয়ে তদন্ত শুরু করবেন। ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম তাদের সহযোগিতা করবেন জানান এ ছাত্রলীগ নেতা।

সেনা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী কারাগারে

সিলেট প্রতিনিধি: সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মামলায় সিলেট নগরীর ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সোহেল আহাম্মদ জানান, শনিবার জালালাবাদ সেনানিবাসের মেজর আবদুল আজিজ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। ওইদিন বিকালে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার আদালতে হাজির করলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরা হলেন নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জুয়েল, সংগঠনটির কর্মী হাবিবুর রহমান পাবেল, সাইদুল ইসলাম ও মাকসুদ আহমেদ। মামলার বরাত দিয়ে ওসি সোহেল বলেন, গত ৬ এপ্রিল বিকালে নগরীর মীরের ময়দান কেওয়াপাড়ার বাড়ি থেকে প্রাইভেটকারে নিয়ে বের হন মেজর আবদুল আজিজ। এ সময় গাড়িটিকে মোটরসাইকেলে করে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। রাস্তা সরু হওয়ায় অতিক্রম করতে না পারায় তারা আজিজের গাড়ি ভাঙচুর করেন। বাধা দেওয়ায় তারা আজিজকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মেজর আজিজ। গ্রেফতার চারজনই ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানান তিনি। সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুল বাসিত রুম্মান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আরেকটি ঘটনায় ওইদিন শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। সে সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার চার নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা না থাকলে তাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যা বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর, ভনবীর, কালাপুর ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।


এসব অঞ্চলের কয়েকশ’ হেক্টর কৃষি জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম টেলিফোনে জানান, উপজেলায় মোট ৯ হাজার ৫৬৬ হেক্টর ফসলি জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করা হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিপাতের কারণে ২৯৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া ৭শ’ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।


সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় মুঠোফোনে বলেন, শহরের হবিগঞ্জ সড়কের ১নং পুলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভুরভুরিয়া ছড়ার পানি প্লাবিত হয়ে শহরতলীর সবুজবাগ এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জাগছড়ার পানি প্লাবিত হয়ে শহরতলীর ইছুবপুর, নওয়াগাঁও ও ভাড়াউড়া এলাকার কয়েকশত পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
শহরতলীর দক্ষিণ উত্তরসূর এলাকার নির্মাণাধীন বিসিক শিল্পনগরীতে মাটি ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ উত্তরসূর, ইসলামপুর ও আমনাতপুর গ্রামের কয়েক শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।


ভানু আরো বলেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের প্রায় ১০টি ছড়ার পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে শতাধিক পয়েন্টে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে হাইল হাওড়ের বোরো আবাদের ফসলের তিনভাগের দু’ভাগ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া উপজেলার শাক-সবজির ক্ষেতগুলো সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে যাবার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও অনেক বাড়িঘর।


হবিগঞ্জ সড়কের সিএনবি রাস্তার দু’ পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শাহীবাগ এলাকায় ৫ শতাধিক পারিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আলিয়া মাদ্রাসা প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বিঘœ ঘটেছে। উপজেলার একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় পাহাড়ি জনপদের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ সড়কে পাহাড় ধসে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সাথে যোগাযোগ কয়েক ঘন্টা বন্ধ থাকে।


বধ্যভূমি একাত্তরে ভুরবুড়িয়া ছড়ার পাড়ে প্রদর্শিত একটি মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ও স্মারক প্রদর্শনী ছড়ার পানি তোড়ে ভেসে গেছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত মানুষ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশশেরুল ইসলাম, গত মঙ্গলবার উপজেলার পানিবন্দী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে প্রেরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জমি আত্মসাত: রাগীব আলীর ১৪, ছেলে-মেয়ের ১৬ বছরের সাজা

প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায় সিলেটের ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে, মেয়েসহ পাঁচজনের সাজার রায় দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে ৮৩ বছর বয়সী রাগীব আলীকে চারটি ধারায় মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর তার ছেলে আবদুল হাই, মেয়ে রোজিনা কাদির, জামাতা আব্দুল কাদির এবং আত্মীয় দেওয়ান মোস্তাক মজিদকে ওই চার ধারায় দেওয়া হয়েছে মোট ১৬ বছর করে কারাদণ্ড।

এ মামলার অপর আসামি তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালত রায়ে বলেছে, চার আসামিকে দুটি ধারায় সাত বছর করে সাজা দেওয়া হলেও বয়স বিবেচনায় রাগীব আলীকে ছয় বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।  আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা রাগীব আলী ও আবদুল হাইকে বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা মোস্তাক ও পঙ্কজও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর রোজিনা ও তার স্বামী আব্দুল কাদির পলাতক রয়েছেন।

এর আগে ওই চা-বাগানের বন্দোবস্ত নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব ও তার ছেলে হাইকে চারটি ধারায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত।

তাছাড়া পলাতক থাকা অবস্থায় পত্রিকা সম্পাদনাকে প্রতারণা বিবেচনা করে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে গত ৯ মার্চ এক বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও একমাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিস্তারিত আসছে…

 

আতিয়া মহলের দুই জঙ্গির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল থেকে পরে উদ্ধার দুই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাদের ময়নাতদন্ত করেন হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আদিলুজ্জামান চৌধুরী। কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, ময়নাতদন্ত হওয়া দুটি মরদেহই পুরুষের। মরদেহগুলো বিকৃত। মুখমন্ডল চেনা যাচ্ছে না। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। বিকালে বেওয়ারিশ হিসেবে তাদের সিলেটের হযরত মানিকপীর গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানান ওসি সোহেল। আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অভিযান শেষ হওয়ার ছয় দিন পর সোমবার সেখান থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব। আতিয়া মহলে নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।

এর আগে এক পুরুষ ও এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সিলেট নগরীর হযরত মানিকপীর গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এদিকে আতিয়া মহলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে দ্বিতীয় দিনের কাজ শুরু করেছে ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পাঁচ ভবন থেকে একাধিক অবিস্ফোরিত আইইডি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমদ। তিনি বলেন, ভবনে অনেক অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক রয়েছে। যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সে দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই সব বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে সময় লাগবে। সোমবার থেকে সেখানে উদ্ধার কাজ শুরু করে র‌্যাব। গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহল থেকে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। পরদিন মঙ্গলবার তাদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার বিকালে সিলেটের হযরত মানিকপীর গোরস্থানে তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। গত ২৪ মার্চ দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল নামের পাঁচ তলা ভবন ঘিরে রাখে পুলিশ। পরে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের চার দিনের ‘অপারেশন টোয়াইলাইটে’ নিহত হয় এক নারীসহ চার জঙ্গি। ২৮ মার্চ বিকালে অপারেশন টোয়াইলাইট অভিযানের সমাপ্ত হয়। পরে পুলিশকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ভবনটি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বড়হাটের তিন জঙ্গির মৃত্যু বিস্ফোরণে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিন জনের মৃত্যু বিস্ফোরণে হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. পলাশের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দল রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন বলে জানান সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী। সত্যকাম জানান, তিনজনের মধ্যে দুই পুরুষের বয়স ৩৮ বছর ও ৪২ বছর এবং এক নারীর বয়স ৩০ বছর। ময়নাতদন্তে তাদের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বোমার বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান সত্যকাম।

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তিনটি পুলিশকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের হেফাজতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত দলের অপর দুই সদস্য হলেন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক সুব্রত কুমার রায় ও আবু ইমরান। ডা. পলাশ বলেন, ওই নারীর পরনে শাড়ি এবং দুই পুরুষের পরনে টি শার্ট ছিল। তাদের কোমরে বেল্ট দিয়ে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল, যেটিতে তারা বিস্ফোরণ ঘটায়। তাদের বুক থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক সপ্তাহ আগের আরেক জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সূত্র ধরেই মৌলভীবাজারের এই দুটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায় বলে পুলিশের ভাষ্য। জেলা পুলিশের সহায়তায় সোয়াট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বড়হাটের জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করেছিল গত বুধবার ভোরে। শুক্রবার সকালে বড়হাটের আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলির ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে চূড়ান্ত অভিযান ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু হয়। সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের আধা কিলোমিটারের মধ্যে এই বাড়িতে অভিযান শুরুর পর থেকে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ আসতে থাকে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সন্ধ্যায় অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রায় ৮০ ঘণ্টার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় তিনজনের লাশ পাওয়ার কথা জানান। এর আগে মৌলভীবাজার থানার ওসি অকিল উদ্দিন বলেন, লাশ দেখে মনে হচ্ছে এদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। ওই নারীর বয়স ২৫ আর পুরুষ একজনের বয়স ৩৫ ও অপরজনের বয়স ৪৫ বছর হতে পারে।

সিলেটের সঙ্গে ট্রেন চলাচল সচল হবে মঙ্গলবার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিলার ধসে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটির মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কিন্তু ব্রিজটির নিচে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি না থাকায় মেরামত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেল কর্মকর্তাদের। এতে মেরামতের কাজে দেরি হচ্ছে। কাজ শেষে রেল যোগাযোগ সচল হতে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার রাতে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার ইটাখলার অদূরে ব্রিজটির নিচের মাটি সরে গিয়ে একটি পিলার ধসে যায়। সে কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কালনী এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গলে ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনটি আখাউড়া রেল জংশনে আটকা পড়ে। এদিকে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ফলে সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল, হবিগঞ্জ নতুন বাস টার্মিনাল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের চরম ভিড় জমেছে।

 

নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় সাত-আটটি লাশের অংশ

করতোয়া ডেস্ক: মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে দুই দিন ধরে একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযান চালানোর পর ভেতরে ‘ছিন্নভিন্ন সাত থেকে আটজনের লাশের অংশ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তার ধারণা, নিহতরা নব্য জেএমবির সদস্য এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে।পৌর এলাকার বড়হাটের অন্য জঙ্গি আস্তানা এখনও ঘেরাও করে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শেষে সেখানে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মনিরুল।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযান শেষে ভেতরে প্রবেশ করার পর বাংলো ধাঁচের বাগান ঘেরা ওই টিনশেড একতলা বাড়ির প্রবেশপথসহ বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিস্ক্রিয় করার পরই মূলত ওখানে ঢোকা সম্ভব হয়।

ঢুকে আমরা যে বিভৎস চিত্র দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ ছড়ানোৃ সেই চিত্র ধারণ করতে পারলেও আপনারা প্রচার করতে পারবেন না- এতোটাই বিভিৎস।মনিরুল বলেন, লাশের অবস্থা দেখে তাদের মনে হয়েছে, ওই ঘরের বাসিন্দাদের মৃত্যু হয়েছে শক্তিশালী বিস্ফোরণে। আর মৃতদেহ থেকে তীব্র গন্ধ তৈরি হওয়ায় তারা মনে করছেন, ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে বুধবার অভিযানের শুরুতেই। আমরা যেটা ধারণা করছি, কাল যখন সোয়াট প্রথম অভিযান শুরু করে, যখন তারা দেখে যে পালনোর কোনো পথ নেই, তখনই সম্ভবত তারা সপরিবারে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহনন করেছে। ডেডবডির বিভিন্ন অংশ, কোনো বডি আসলে অক্ষত নাই, ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটো রুম জুড়ে ছড়িয়ে আছে। সেগুলোর মাথা, পা, একেকটা একেক জায়গায়। সেগুলা মিলিয়ে আমাদের মনে হয়েছে, সাত-আটটি ডেডবডির অংশবিশেষ হতে পারে ।

তবে ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা লাশের অংশগুলো মিলিয়ে দেখার পরই নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আমাদের মনে হয়েছে, সাত থেকে আটটি সেখানে ছড়িয়ে আছে, বিভিন্ন বয়সের। পুরুষ আছে, মহিলা আছে, দুই একজন অপরিণত বয়স্কও থাকতে পারে। কারণ কোনো কোনো হাত বা পা দেখে আমাদের সেই রকমই মনে হয়েছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে আতিয়া মহল নামের এক বাড়িতে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের দীর্ঘ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার পর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই মৌলভীবাজারের দুটি বাড়ি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলার খবর আসে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার পৌর এলাকার বড়হাট আবুশাহ দাখিল মাদ্রাসা গলির বাড়িটি একটি ডুপ্লেক্স ভবন।

আর সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের বাড়িটি একতলা টিনশেড। প্রায় ১৮ কিলোমিটার ব্যবধানে ওই দুই বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম নামে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি। জুয়েল নামে তার এক আত্মীয় ওই বাড়ির দুটি দেখভাল করে আসছিলেন। জুয়েলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজ নামের এক ব্যক্তি তিন মাস আগে নাসিরপুরের বাসাটি ভাড়া নেন। আর বড়হাটের বাড়ির ভাড়াটের নাম বেলাল। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম বুধবার জানিয়েছিলেন, বাড়ি ঘেরাওয়ের পরপরই ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে দুটি বাড়ি থেকেই থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় দিনভর।


চলছে বড়হাটে অভিযানের প্রস্তুতি
এই পরিস্থিতিতে ওই দুই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় বুধবার দুপুরে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন। বিকালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বৃষ্টির মধ্যেই নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় শুরু হয় ‘অপারেশন হিট ব্যাক’। রাত ১১টার দিকে র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি মো. মাইনুদ্দীন জানান, আলোর স্বল্পতার কারণে অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়েছে, ভোরে আবার শুরু হবে। কিন্তু ভোররাতে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে অভিযান আরও বিলম্বিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবার অভিযান শুরুর পর ড্রোন পাঠিয়ে ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ভেতরে থাকা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করেন। অভিযানের তথ্য জানাতে পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসানকে সঙ্গে নিয়ে বিকালে ব্রিফিংয়ে আসেন কাউন্টার টেররিজমের মনিরুল। সীতাকুণ্ড ও সিলেট অভিযানের সময় জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মনিরুল বলেন, নাসিরপুরেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা। এই কৌশল তাদের নতুন নয়। যখনই তারা দেখে যে আর কোনো পালানোর পথ নেই, তখনই তারা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশ বা র‌্যাব বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা না দিয়ে আত্মহত্যা বা নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা যেটা আপনারা দেখেছেন, এ ক্ষেত্রেও সেটা আমরা দেখছি।

মনিরুল জানান, নাসিরপুরের অভিযান প্রাথমিকভাবে শেষ হওয়ায় সোয়াট এখন অভিযান চালাবে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটের আস্তানায়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রস্তুতির পর পর্যাপ্ত আলো থাকলে রাতেই সেখানে অভিযান চালানো হতে পারে বলে ইংগিত দেন  ডিআইজি কামরুল আহসান। নসিরপুরের জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, আমরা যেহেতু একটা সূত্র ধরে অনুসন্ধান করছিলাম, সেহেতু আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে নব্য জেএমবির সদস্যরাই এখানে আত্মগোপন করেছিল। অন্যদের মধ্যে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার শাহ জালাল এবং  র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মাঈনউদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজারে দুই ‘জঙ্গি আস্তানা’ ঘিরে অভিযান, গুলি-বিস্ফোরণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক জঙ্গি আস্তানায় দীর্ঘ পাঁচ দিনের অভিযান শেষ হওয়ার পর এবার মৌলভীবাজারের দুটি এলাকায় দুই প্রবাসীর বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এর মধ্যে একটি বাড়ি থেকে পুলিশের দিকে গুলি ও গ্রেনেড ছোড়ার খবর পাওয়া গেছে। র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি মাইনুদ্দীন জানান, একটি বাড়ি মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায়। অন্যটি সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজারের কাছে ফতেহপুর গ্রামে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোরে স্থানীয় পুলিশ ওই বাড়ি দুটি ঘিরে ফেলে জানিয়ে মাইনুদ্দীন বলেন, “র‌্যাব সদস্যরা সেখানে গেছেন। ঢাকা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দলও এসেছে।”

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ওই দলের সঙ্গে আছেন উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ড ও সিলেটে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ মেলার পর তদন্তে মৌলভীবাজারের এই দুই বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়।

“বড়হাটের ওই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায় গতকাল রাতে। পরে ভোরের দিকে সরকার বাজারের বাড়িটির খোঁজ পাওয়া যায়।” মহিবুল ইসলাম বলেন, “সরকার বাজারের ওই বাসায় যাওয়ার পর ভেতর থেকে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।”

পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের কর্মকর্তা বলেন, তারা দুটো বাসা ঘিরে রেখেছেন এবং ভেতরের সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন।“তারা এখনও কোনো কথা বলেনি। আমরা অপারেশনাল স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করব।”

অভিযানের অংশ হিসেবে বড়হাট ও আশপাশের এলাকার গ্যাস এবং সরকার বাজার এলাকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বাড়ি দুটির মালিক সাইফুর সাব্বির  ও আতব্বর মিয়া নামের দুই ব্যক্তি। তারা একই পরিবারের সদস্য এবং দুজনেই লন্ডন প্রবাসী। দুই বাড়ির দূরত্ব ১৮ কিলোমিটারের মত।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে আতিয়া মহল নামের এক বাড়ি ঘিরে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে একইভাবে অভিযান শুরু করেছিল পুলিশ। পরে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা শনিবার সকালে শুরু করে চূড়ান্ত অভিযান- ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’।

ওই অভিযান শেষে আতিয়া মহলের ভেতরে এক নারীসহ চার জঙ্গির লাশ পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ওই বাড়ির এক কিলোমিটারের ভেতরে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন।

মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনী অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই পাশের জেলা মৌলভীবাজারে নতুন অভিযান শুরু হল।

 

সিলেটের জঙ্গি আস্তানা সেনা নিয়ন্ত্রণে, ৪ লাশ উদ্ধার অপারেশন টোয়াইলাইট

করতোয়া ডেস্ক : তিন দিনের অভিযানে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল; সেখানে চারটি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
‘আতিয়া মহল’ নামে পাঁচ তলা ওই ভবনের কাছে পাঠানপাড়া মসজিদের কাছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে অপারেশন টোয়াইলাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফখরুল আহসান।

ওই বাড়িতে তিন পুরুষ ও এক নারী জঙ্গির থাকার তথ্য পুলিশের কাছ থেকে পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, তারা যে চারটি লাশ পেয়েছেন, তার মধ্যেও তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। ভেতরে অবস্থানরত সম্ভাব্য সব জঙ্গি নিহত হলেও তারা বাড়িটিতে ব্যাপক বিস্ফোরক মজুদ করে রেখেছিল জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ ও র‌্যাব ঘিরে রাখার একদিন পর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান শুরুর পর ব্রিগেডিয়ার ফখরুলই প্রতিদিন নিয়মিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করে আসছেন। গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েই তিনি অভিযান প্রায় শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, ‘দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য আমরা সকলেই গর্বিত। আপনারও গর্ববোধ করতে পারেন। দেশবাসীর দোয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই খুব সুন্দর, সফলভাবে অভিযানটা চলেছে।’ পাঁচ তলা ওই ভবনের নিচ তলায় চারটি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের যে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম, মোটামুটি তথ্য ছিল যে এখানে চারজন জঙ্গি আছে। এটাও তথ্য ছিল যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা। যে ডেডবডি আমরা পেয়েছি তার মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন মহিলা।’ দুটি লাশ পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হলেও বাকি দুটি এখনও ওই বাড়ির ভেতরেই রয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, ‘বাকি দুটো ডেডবডির মধ্যে সুইসাইড ভেস্ট লাগানো আছে। যে অবস্থায় আছে, তাদেরকে ওইখান থেকে বের করাটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এই ডেডবডিগুলো কীভাবে বের করব, সেজন্য আমরা পরিকল্পনা করছি।’ আগের দিনই দুই জঙ্গির নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দুজনকে দৌড়ানো অবস্থায় দেখে আমাদের কমান্ডোরা ফায়ার করে। তারা পড়ে যাওয়ার পর একজন সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটায়।’ এই আস্তানায় জঙ্গিদের শীর্ষ কোনো নেতা থাকতে পারেন বলে ধারণার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালও জানিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে তেমন কেউ রয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে সেনা কর্মকর্তা ফখরুল বলেন, তা পুলিশ ও র‌্যাব দেখে নিশ্চিত করতে পারবে।

তবে তিনি বলেন, ‘যে চারজন এখানে ছিল, তারা ওয়েল ট্রেইন্ডড। তাদেরকে খুঁজে বের করে যে নিষ্ক্রিয় করা হল বা হত্যা করা হলো, তা সেনাবাহিনীর জন্য বিশাল বড় সফলতা।’ চারজনের বাইরে আর কারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না-এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চারজনের বিষয়ে আমরা জানতাম, চারটা ডেডবডি আমরা পেয়েছি। যতটুকু ধারণা হচ্ছে, এখানে জীবিত আর কেউ নাই। তবে কেউ হঠাৎ করে থেকেও যেতে পারে।’ ওই বাড়িটির নানা স্থানে বিস্ফোরক স্থাপন করে জঙ্গিরা তা দুর্গম করে তুলেছিল বলে আগের দিনই জানিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার ফখরুল। সেজন্য অভিযানটি ঝুঁকিপূর্ণও বলেছিলেন তিনি।

সোমবার তিনি বলেন, ‘সার্বিক যে অবস্থাটা দেখলাম, যে একটা রুমের ভেতরে একটা ডেডবটি, তার পাশেই ছড়ানো ছিটানো আইইডি লাগানো রয়েছে। পুরো বিল্ডিংটায় যে পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে এগুলো যদি বিস্ফোরণ হয় তাহলে এই বিল্ডিংয়ের অংশ বিশেষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যে অবস্থায় আছে, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।’ অভিযান শেষ হয়নি জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, ‘এই অপারেশনে আরও হয়ত কিছু সময় লাগতে পারে। আমাদের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বাকি কাজটুকু এগিয়ে নিয়ে যাব।’ অভিযান শেষে উস্তার আলীর মালিকানাধীন এই বাড়িটি সেনবাহিনী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

 

নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসের চাপায় মাহফুজ (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেল পৌনে ৪টায় উপজেলার বড়গাঁওয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজ উপজেলার কাগাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মহিবুর মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় রাগিব আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
দুর্ঘটনার পর থেকে বিকেল সোয়া ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করছিল উত্তেজিত জনতা। ফলে দু’দিকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

 

 

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের সতর্কতা বৃদ্ধি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক জঙ্গি বাড়ি ঘিরে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টুয়াইলাইট’ চলতে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। শিলংয়ে বিএসএফ এর আসাম-মেঘালয় কমান্ড বেইজের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সিলেটের ওই অভিযানের কারণে জঙ্গিরা পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।      

“বাংলাদেশে যখন তারা চাপে থাকে তখন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে আমরা আগের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। এটা একটা সাধারণ প্রবণতা। এ কারণেই আসাম-মেঘালয় সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।”  

আসাম গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান পল্লব ভট্টাচার্যও সীমান্ত ও তার রাজ্যে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।  তিনি বলছেন, গত ছয় মাসে ‘বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করা ৭০ জনের বেশি জঙ্গিকে’ আটক করেছে আসাম পুলিশ।

“আমাদের কেবল সীমান্তে সতর্কতা বাড়ালে চলবে না। অবৈধ অভিবাসীদের কিছু আখড়ায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যেখানে জঙ্গিরা আশ্রয় পায়।” ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রিমত খিশা নামের এক অস্ত্র চোরাকারবারির বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি ডাউকি-তামাবিল সীমান্তে সক্রিয় বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।  

উলফার মত ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জেএমবির মত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে প্রিমত খিশার বিরুদ্ধে।

 

সিলেটে আস্তানায় নিহত ২ জঙ্গি, ভেতরে আরও আছে: সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আস্তানায় অন্তত দুজন জঙ্গি মারা পড়েছেন বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে; তবে ভেতরে আরও জঙ্গি থাকায় অভিযান অব্যাহত থাকছে। দক্ষিণ সুরমা এলাকার শিববাড়ীর পাঠানপাড়ার আতিয়া মহল ঘিরে অভিযানের তৃতীয় দিন রোববার বিকালে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

ভেতরে অবস্থানরত জঙ্গিরা বেশ কৌশলী জানিয়ে তিনি বলেছেন, অভিযানে ‘ভালো’ ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বলা যাচ্ছে না, কখন তা শেষ হবে।

 

শিববাড়ি অভিযান তৃতীয় দিনে, দফায় দফায় বিস্ফোরণ-গুলি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানা ঘিরে সেনাবাহিনীর অভিযান গড়িয়েছে তৃতীয় দিনে, সকাল থেকেই ওই এলাকায় থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে জোড়া বিস্ফোরণে পুলিশসহ ছয়জন নিহত হওয়ার পর শিববাড়ি থেকে নগরীর কদমতলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী।  

মধ্যরাত থেকে ওই এলাকায় কোনো যানবাহন চালাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং জনসাধারণের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে বলে সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাতে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পর বেশ কিছু সময় চুপচাপ থাকার পর সকাল ৭টার পরে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। এর মধ্যে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

এর মধ্যে সকাল ১০টার আগে ও পরে দুটি এবং বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

শিববাড়ির পাঠানপাড়া এলাকায় পাঁচতলা ওই বাড়ি ঘিরে এ অভিযান শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে। শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর পর ওই বাড়ির বিভিন্ন তলা থেকে ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।


ওই অভিযান নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পর কাছেই একটি জায়গায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন। আহত হন র‌্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪৩ জন।

নিহতরা হলেন-জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার,স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু, নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৩৮)ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কাদিম শাহ (৩৫)

এদের মধ্যে কাদিমের পরিচয় রাতে জানা সম্ভব না হলেও সকালে স্বজনরা হাসপাতালে এসে লাশ সনাক্ত করেন।

এক আত্মীয় জানান, শহীদ আর কাদিম বন্ধু। শহীদের ডেকোরোটর ব্যবসা আছে। সেখানে কাদিমও সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এক অনুষ্ঠানের কাজ পেয়ে তারা দুজন শনিবার শিববাড়িতে গিয়েছিলেন।

 

সিলেটে বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান চলার মধ্যে কাছের একটি জায়গায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন র‌্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪৩ জন।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই জঙ্গি আস্তানার এক কিলোমিটারের মধ্যে পাঠানপাড়ায় এই বিস্ফোরণে ছয়জন নিহতের কথা জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার। তারা দুজনই পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্য ছিলেন বলে জানান জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন। নিহতদের অপর চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু ও নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৩৮)।

নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিলেটের মদনমোহন কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অপু বিস্ফোরণস্থলেই মারা যান বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন জানান।

আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকিদের মৃত্যু হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছেন।

এরপর রাত ১টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিদর্শক মনিরুলের মৃত্যু হয় বলে তার থানার ওসি আখতার জানান। কাছাকাছি সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমের মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনি।

কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা। তবে সিলেটের পুলিশ কমিশনার বলেছেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের জেরেই এটা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

আহতদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও র‌্যাব ৯ এর মেজর আজাদ এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশিদ রয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আজাদকে রাতেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সারা শরীরে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয় ওসমানী মেডিকেলের একজন চিকিৎসক জানান।

অন্তর দীপ নন্দী নামে ওই চিকিৎসক  বলেন, “উনাকে (লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ) মুমুর্ষূ অবস্থায় আমাদের এখানে আনা হয়েছিল। তার সারা শরীরে স্প্লিন্টার ছিল। এখানকার চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার করেছেন। স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।”

বিস্ফোরণে আহত মোট ৪৩ জনকে ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করা হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রুহুল আমিন জানান। এদের মধ্যে ১৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মোস্তাক আহমেদ, নাজিমউদ্দিন, রোমেল আহমেদ, অহিদুল ইসলাম, ইসলাম আহমেদ, নুরুল আলম, বিপ্লব হোসেন, আব্দুর রহিম, সত্তারউদ্দিন, রাহিম মিয়া, হোসেন আহমেদ, মামুন আহমেদ, ফারুক মিয়া, সালাউদ্দিন শিপার, গুলজার আহমেদ, রিমন আহমেদ ও আজমল আলী।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর প্রায় ৩০ ঘণ্টা সেখানে পাহারা বসিয়ে শনিবার সকালে পুলিশের সহায়তায় অভিযান শুরু করেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরা। বাড়িটিতে জিম্মি দশায় থাকা ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও অভিযান শেষ হয়নি।

ওই অভিযান নিয়ে সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পরপরই কাছের পাঠানপাড়ায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে অভিযানস্থল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। শিববাড়ির মূল সড়ক থেকে ওই জঙ্গি আস্তানার দিকে যে রাস্তাটি গেছে, তার কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে।

কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিস্ফোরণের বিস্তারিত না বললেও ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে এতে আহত গুলজার আহমেদের কাছে। ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি  বলেন, জঙ্গি আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানের খবর নিতে আসা তারা কয়েকজন সন্ধ্যায় ওই জায়গায় ছিলেন।

“লুঙ্গি পরা এক লোক হাতে একটি কালো পলিথিন নিয়ে আসে। কয়েকজন তাকে আটকে পলিথিনে কী আছে জানতে চাইলে সে বলে, ‘লাল শাক’। এর পরপরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন।

“এরপর পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এলে আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২৫ জনের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।” বিস্ফোরণস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মটরসাইকেলও পড়ে থাকতে দেখার কথা জানান  প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সিলেটে জঙ্গি আস্তানার কাছে বিস্ফোরণে নিহত ১

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলার মধ্যে কাছেই দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ঘটানো বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন। ওই জঙ্গি আস্তানার এক কিলোমিটারের মধ্যে পাঠানপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই  বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ওই এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানার প্রবেশের মূল রাস্তার মুখের দিকে ছুটে যান।

সেখানে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল ও চার জনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন  সিলেট প্রতিনিধি মঞ্জুর আহমেদ। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণ ঘটালে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন বলেন, একটি লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রয়েছে।

আহতদেরকেও একই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত জানান যায়নি।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযানে সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ঘিরে প্রায় ৯ ঘণ্টা অভিযানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই কথা জানানোর আগে ৫টা ৪০ থেকে ভেতর থেকে আর কোনো গুলি কিংবা বোমা ফাটার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে ধারণা করা হচ্ছে অভিযান শেষ হয়েছে; যদিও এই বিষয়ে সেনা কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য মেলেনি। ঘটনাস্থল ঘিরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারাও কিছু বলেননি। র‌্যাব-পুলিশ প্রায় ৩০ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান। তার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ সবাইকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।

দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুই বার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও এরপর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে। ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর পৌনে এক ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

বিকট শব্দ শুনে বাইরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছিলেন, এগুলো গ্রেনেড হতে পারে। বেলা আড়াইটার দিকে তিনজন সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বেলা ২টায় গুলি-বোমার আওয়াজ শোনার আগে অ্যাম্বুলেন্সটি পুলিশ বেষ্টনি অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকানো হয়।

এরপর থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। ঘণ্টা দুয়েক বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টায় আবার দুটি বোমার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি, যা ৫টা ৪০ পর্যন্ত চলে। এরপর আর কোনো শব্দ আসছে না।

যে দুটি ভবন ঘিরে চলছে এই অভিযান, তার একটিতে এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে বের করে আনা হয় ভেতর থেকে, যারা বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে আটকা পড়েন। দুপুর ২টার আগে মোট ৭৬ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছে।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে সমান সংখ্যক পরিবারের বসবাস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে বাকি পরিবারগুলো কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে একটি দিন ও একটি রাত পার করে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে শনিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়েছিল। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।

অভিযানের খবর সরাসরি সম্প্রচার না করতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’; এর আগে ঘটনাস্থলে কাজ করে আসা সোয়াট এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’।

বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি দুটি ঘিরে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “সেনাবাহিনী এই অভিযান চালাচ্ছে। সোয়াট শুধু সহায়তা করছে।”

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন।”

শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ও চারতলা পাশাপাশি দুটি ভবন ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে এই অভিযানের সূচনা।

দুটি ভবনের একটিতে জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে সিলেট নগর পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে শুরু হয় বোমাবাজি ও গুলি। শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে এসে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সোয়াটের একটি দল।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও মধ্যরাতের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেনাবাহিনীর একটি প্যারা-কমান্ডো দল রাতে ঘটনাস্থলে যায়। সকালে আরেকটি দল যাওয়ার পর অভিযানের নেতৃত্বে হাতবদল হয়।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই আস্তানায় অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ জঙ্গি রয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন। কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে ওই দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন কয়েক মাস আগে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং জানালা ফাঁক করে তারা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাতে বলে।

দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এক বাড়ি ঘিরে চালানো অভিযানের মত সিলেটেও জেনারেটর বসিয়ে ঘটনাস্থল আলোকিত করে রাখা হয় সারা রাত। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এনে রাখাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে দেখা যায়।

একজন সোয়াট সদস্য  বলেন, বাসার ভেতরে জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমা রেখেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণেই চূড়ান্ত অভিযানে যাওয়ার আগে সময় নেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাদের সদস্যরা সিলেট পুলিশকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ির ওই ভবনের সন্ধান পান তারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ভোরের দিকে নিচতলার এক বাসার জানালা খুলে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে ছোড়া হয় গ্রেনেড।

পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি কমিশনার রোকনউদ্দিন জানান।

‘অবরুদ্ধ’ এক দিন

ছুটির দিনের সকালে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যে ঘুম ভাঙার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের আবিস্কার করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায়।

ওই বাড়িতে যাওয়ার দুটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সকালেই। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের।

স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানা যায়, চারতলা ভবনটি থেকে ১৭টি পরিবারের সদস্যদের সকালেই সরিয়ে নিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশের একটি স্কুলে সারা দিন রেখে সন্ধ্যায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাতে বলা হয়।

ওই সময় বেশ কিছু মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। তবে তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি পুলিশ কর্মকর্তার।

পাঁচতলা ভবনটির অন্যান্য ফ্ল্যাটে যে পরিবারগুলো আটকে আছে, তাদের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতর থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় পুলিশের হ্যান্ড মাইক থেকে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে দুর্ভোগের একটি দিন পার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।  

‘আরেক জঙ্গি দম্পতি’

বাড়ির মালিক উস্তার আলী জানান, তিন মাস আগে কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার পাঁচ তলা বাড়ির নিচতলার চার নম্বর বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় কাউছার নিজেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত উস্তার বলেন, “সব নিয়ম মেনেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও রাখা হয়েছে। তারা নিয়মিত ভাড়াও দিয়ে আসছে।”

এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্বামী স্ত্রী মিলে ‘জঙ্গি পরিবার’ গড়ে তুলতে দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের মাধ্যমে আত্মীয়তা করে ছোট ছোট ইউনিট গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা।

‘সোয়াট পাঠাও, সময় কম’

পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার কথা জানিয়ে দুপুরের দিকে ‘জঙ্গিদের’ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

সন্দেহভাজন ওই নারী জঙ্গির নাম উল্লেখ করে পুলিশের হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, “মর্জিনা বেগম, আপনাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করুন।”

এক পর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশের একজন এসআই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, “আপনারা মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে মিডিয়ার ভাইয়েরা আছেন, আপনারা কথা বলুন।”

এ সময় ওই বাড়ি থেকে জানালা ফাঁক করে নারী কণ্ঠ জবাব দেন, “আপনারা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে।”

এর পরপরই আরেক পুরুষকণ্ঠে পুলিশের উদ্দেশে বলা হয়, “দেরি করছ কেন? আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাও।”

চূড়ান্ত প্রস্তুতি, আটক ১

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়াট ও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে মেজর রোকন ও মেজর রাব্বীর নেতৃত্বে প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সোয়াট ও পুলিশকে সহযোগিতা দিতেই তারা এখানে এসেছেন।”

সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকলেও সন্ধ্যায় আলোকিত হয় পাঠানপাড়া এলাকা।পাশাপাশি একটি জেনারেটর বসিয়ে পাঁচতলা ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকা আলোকিত করার ব্যাবস্থা হয়।

একটু দূরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ির পাশাপাশি একটি ক্রেনও এনে রাখতে দেখা যায়।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগেও একই ধরনের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল। তবে ওই অভিযানে প্যারা কমান্ডোদের দেখা যায়নি।

সন্ধ্যার আগে আগে হাতকড়া পরিয়ে লুঙ্গি পড়া এক যুবককে ওই বাড়ির দিক থেকে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।

তার পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার শুধু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা ওই যুবককে আটক করেছেন।

জঙ্গিদের নতুন তৎপরতা

গতবছর জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মধ্যে বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এ বছর মার্চের শুরু থেকে জঙ্গিরা নতুন করে তাদের তৎপরতার জানান দিতে শুরু করে।

৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার পর ধরা পড়ে ‘নব্য জেএমবির’ দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

১৫ মার্চ সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার আমিরাবাদের এক বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমতলা এলাকায় আরেক বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ।

১৬ মার্চ দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর প্রেমতলার ওই বাড়িতে শুরু হয় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হন। এছাড়া ভেতরে বোমায় বিক্ষত এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

১৭ মার্চ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় আশকোনায় র‌্যাবের একটি ব্যারাকে ঢুকে পড়ার পর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি।

১৮ মার্চ মোটর সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খিলগাঁওয়ের ‘শেখের জায়গা’ মোড়ের কাছে চেক পোস্টে ঢুকে পড়ার পর র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি। হামলাকারীর দেহে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

২০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

২৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অভিযানের সময়ই ঢাকার বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত হন এক যুবক। তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরক।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলতি মাসের ঘটনাগুলোতে গ্রেপ্তার ও নিহত জঙ্গিদের সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে তাদের ধারণা।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি।

ওই সংগঠনের একটি নতুন অংশই গত দুই বছরে গুলশান হামলাসহ অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ এই সিলেটেরই পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি নামের এক ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে সিলেটে কোনো জঙ্গি হামলা বা হত্যাকাণ্ড অথবা কোনো জঙ্গি আস্তানার কথা শোনা যায়নি।

জঙ্গিদের গুলি, গ্রেনেডে প্রকম্পিত দ.সুরমা, ১ সেনা আহত

সিলেট: সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে অভিযানরত সেনাবাহিনী সদস্যদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি বিনিময় চলছে। সবশেষ খবর পর্যন্ত অন্তত চারটি বিষ্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

এসব বিষ্ফোরণ গ্রেনেডের বলে ধারনা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পরপর চারটি বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বেলা ২টা ১৫ মিনিটে বিকট শব্দে একটি গ্রেনেড বিষ্ফোরণ ঘটে। বেলা ২টা ১৭ মিনিটের দিকে এক সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় বের করে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।

বিস্তারিত আসছে….

শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযানে সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ৩০ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
ওই দুটি ভবনে শনিবার সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন অভিযান শুরু করে, যেখানে এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ সবাইকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।

দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুই বার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও দুপুর ২টা থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। বিকট শব্দ শুনে বাইরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো গ্রেনেড হতে পারে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে বের করে আনা হয় ভেতর থেকে, যারা বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে আটকা পড়েন। দুপুর ২টার আগে মোট ৭৬ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছে।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে সমান সংখ্যক পরিবারের বসবাস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে বাকি পরিবারগুলো কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন।

২টায় গুলি-বোমার আওয়াজ শোনার আগে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পুলিশ বেষ্টনি অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

ভেতরের অবস্থা বিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি। সেনাবাহিনী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও সাংবাদিকদের কিছু বলেননি।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে একটি দিন ও একটি রাত পার করে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে শনিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়েছিল। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।

অভিযানের খবর সরাসরি সম্প্রচার না করতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’; এর আগে ঘটনাস্থলে কাজ করে আসা সোয়াট এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’।

বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি দুটি ঘিরে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “সেনাবাহিনী এই অভিযান চালাচ্ছে। সোয়াট শুধু সহায়তা করছে।”

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান  বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন।”

শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ও চারতলা পাশাপাশি দুটি ভবন ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে এই অভিযানের সূচনা।

দুটি ভবনের একটিতে জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে সিলেট নগর পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে শুরু হয় বোমাবাজি ও গুলি। শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে এসে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সোয়াটের একটি দল।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও মধ্যরাতের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেনাবাহিনীর একটি প্যারা-কমান্ডো দল রাতে ঘটনাস্থলে যায়। সকালে আরেকটি দল যাওয়ার পর অভিযানের নেতৃত্বে হাতবদল হয়।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই আস্তানায় অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ জঙ্গি রয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন। কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে ওই দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন কয়েক মাস আগে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং জানালা ফাঁক করে তারা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাতে বলে।

দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এক বাড়ি ঘিরে চালানো অভিযানের মত সিলেটেও জেনারেটর বসিয়ে ঘটনাস্থল আলোকিত করে রাখা হয় সারা রাত। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এনে রাখাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে দেখা যায়।

একজন সোয়াট সদস্য বলেন, বাসার ভেতরে জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমা রেখেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণেই চূড়ান্ত অভিযানে যাওয়ার আগে সময় নেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাদের সদস্যরা সিলেট পুলিশকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ির ওই ভবনের সন্ধান পান তারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ভোরের দিকে নিচতলার এক বাসার জানালা খুলে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে ছোড়া হয় গ্রেনেড।

পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি কমিশনার রোকনউদ্দিন জানান।

‘অবরুদ্ধ’ এক দিন

ছুটির দিনের সকালে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যে ঘুম ভাঙার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের আবিস্কার করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায়।

ওই বাড়িতে যাওয়ার দুটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সকালেই। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের।

স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানা যায়, চারতলা ভবনটি থেকে ১৭টি পরিবারের সদস্যদের সকালেই সরিয়ে নিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশের একটি স্কুলে সারা দিন রেখে সন্ধ্যায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাতে বলা হয়।

ওই সময় বেশ কিছু মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। তবে তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি পুলিশ কর্মকর্তার।

পাঁচতলা ভবনটির অন্যান্য ফ্ল্যাটে যে পরিবারগুলো আটকে আছে, তাদের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতর থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় পুলিশের হ্যান্ড মাইক থেকে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে দুর্ভোগের একটি দিন পার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।  

‘আরেক জঙ্গি দম্পতি’

বাড়ির মালিক উস্তার আলী জানান, তিন মাস আগে কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার পাঁচ তলা বাড়ির নিচতলার চার নম্বর বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় কাউছার নিজেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত উস্তার বলেন, “সব নিয়ম মেনেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও রাখা হয়েছে। তারা নিয়মিত ভাড়াও দিয়ে আসছে।”

এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্বামী স্ত্রী মিলে ‘জঙ্গি পরিবার’ গড়ে তুলতে দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের মাধ্যমে আত্মীয়তা করে ছোট ছোট ইউনিট গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা।

‘সোয়াট পাঠাও, সময় কম’

পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার কথা জানিয়ে দুপুরের দিকে ‘জঙ্গিদের’ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

সন্দেহভাজন ওই নারী জঙ্গির নাম উল্লেখ করে পুলিশের হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, “মর্জিনা বেগম, আপনাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করুন।”

এক পর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশের একজন এসআই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, “আপনারা মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে মিডিয়ার ভাইয়েরা আছেন, আপনারা কথা বলুন।”

এ সময় ওই বাড়ি থেকে জানালা ফাঁক করে নারী কণ্ঠ জবাব দেন, “আপনারা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে।”

এর পরপরই আরেক পুরুষকণ্ঠে পুলিশের উদ্দেশে বলা হয়, “দেরি করছ কেন? আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাও।”

চূড়ান্ত প্রস্তুতি, আটক ১

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়াট ও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে মেজর রোকন ও মেজর রাব্বীর নেতৃত্বে প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সোয়াট ও পুলিশকে সহযোগিতা দিতেই তারা এখানে এসেছেন।”

সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকলেও সন্ধ্যায় আলোকিত হয় পাঠানপাড়া এলাকা।পাশাপাশি একটি জেনারেটর বসিয়ে পাঁচতলা ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকা আলোকিত করার ব্যাবস্থা হয়।

একটু দূরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ির পাশাপাশি একটি ক্রেনও এনে রাখতে দেখা যায়।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগেও একই ধরনের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল। তবে ওই অভিযানে প্যারা কমান্ডোদের দেখা যায়নি।

সন্ধ্যার আগে আগে হাতকড়া পরিয়ে লুঙ্গি পড়া এক যুবককে ওই বাড়ির দিক থেকে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।

তার পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার শুধু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা ওই যুবককে আটক করেছেন।

জঙ্গিদের নতুন তৎপরতা

গতবছর জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মধ্যে বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এ বছর মার্চের শুরু থেকে জঙ্গিরা নতুন করে তাদের তৎপরতার জানান দিতে শুরু করে।

৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার পর ধরা পড়ে ‘নব্য জেএমবির’ দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

১৫ মার্চ সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার আমিরাবাদের এক বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমতলা এলাকায় আরেক বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ।

১৬ মার্চ দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর প্রেমতলার ওই বাড়িতে শুরু হয় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হন। এছাড়া ভেতরে বোমায় বিক্ষত এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

১৭ মার্চ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় আশকোনায় র‌্যাবের একটি ব্যারাকে ঢুকে পড়ার পর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি।

১৮ মার্চ মোটর সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খিলগাঁওয়ের ‘শেখের জায়গা’ মোড়ের কাছে চেক পোস্টে ঢুকে পড়ার পর র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি। হামলাকারীর দেহে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

২০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

২৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অভিযানের সময়ই ঢাকার বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত হন এক যুবক। তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরক।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলতি মাসের ঘটনাগুলোতে গ্রেপ্তার ও নিহত জঙ্গিদের সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে তাদের ধারণা।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি।

ওই সংগঠনের একটি নতুন অংশই গত দুই বছরে গুলশান হামলাসহ অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ এই সিলেটেরই পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি নামের এক ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে সিলেটে কোনো জঙ্গি হামলা বা হত্যাকাণ্ড অথবা কোনো জঙ্গি আস্তানার কথা শোনা যায়নি।

শ্রীমঙ্গলে ট্রাক বোঝাই রাবার উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ট্রাক বোঝাই চোরাই রাবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গতকাল শনিবার উপজেলার মির্জাপুর এলাকার রুপাইছড়া রাবার বাগানের পাহাড়ি এলাকা থেকে পাচারকালে ট্রাক বোঝাই চোরাই রাবারের কস (কাচাঁমাল) উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই রাশেদুল আলম খান শনিবার দুপুরে মিজাপুর ইউনিয়নের রুপাইছড়া রাবার বাগানের মধ্যবতী স্থানে শাহ ফার্মার রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ এর ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ঠ ১৫-০১৬১)  যোগে বাহুবল থানার পুটিজড়ি এলাকার ইকরাম মিয়ার ফ্যাক্টরিতে পাচারকালে ১৫শ’ লিটার রাবার কস আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ রাবার পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে শামীম মিয়া (২২) ও ফয়সল মিয়া (২০) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাদের বাড়ি মির্জাপুর ইউনিয়নের চাতল গ্রামে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেটে নারীর গলাকাটা লাশ, স্বামী আটক


সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; হত্যার অভিযোগে  পুলিশ আটক করেছে তার স্বামীকে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বগাইয়া হাওর গ্রামে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত আমিরুন নেছা (২২) ওই গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

 ওসি দেলোয়ার  বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে রাতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে আলমগীর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। তারা তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

সিলেটে মাটিচাপায় আবার ২ পাথর শ্রমিক নিহত

সিলেটের জাফলংয়ে গর্ত করে পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় আবার দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও দুইজন। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নয়াবস্তি এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার এলাকার মখই মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (৩৫) ও আবদুল হামিদের ছেলে লেছু মিয়া (২৫)। ওসি দেলওয়ার বলেন, পিয়াইন নদীর তীরে অবৈধভাবে গর্ত খুঁড়ে পাথর তুলছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় চার শ্রমিক মাটিচাপা পড়লে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহত দুইজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গত দেড় মাসে পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের শাহ আরপিন টিলা, গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দি ও জাফলংয়ে অন্তত ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৮ মার্চ জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় মাটিচাপা পড়ে মারা যান এক শ্রমিক।

 

ওসমানী বিমানবন্দর থেকে চালু হলো সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

সিলেট প্রতিনিধি : ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজ বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেছে। তাই অবসান ঘটেছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসীর প্রায় দেড় যুগ সময় ধরে থাকা প্রতীক্ষার ।

উড়োজাহাজটি বুধবার বিকেল ৩টায় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে ওই ফ্লাইটে সরাসরি সিলেটে আসা ১৪৭ জন যাত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. ফজলে আকবর, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান হাবিব, ফ্লাই দুবাই’র বাংলাদেশস্থ জিএসএ স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান সাইফুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল রেজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ।
ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, দুবাই থেকে সারাসরি আসা ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজটি বেলা ৩টায় ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বিমানটি ফিরতি ফ্লাইট হিসাবে দুবাই’র উদ্দেশে সিলেট  ছেড়ে যায়।

 তিনি জানান, ফ্লাই দুবাইয়ের সিলেট আসা ফ্লাইটে বিমানটির ইকোনমি ক্লাসে ১৪১ ও বিজনেস ক্লাসে ৬ জন যাত্রী ছিলেন। আর এ বিমানের মোট ১৭৪টি আসনের মধ্যে রয়েছে বিজনেস ক্লাসের ১২টি এবং ইকোনমি ক্লাসের ১৬৫টি।

১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। এর প্রায় ১৮ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এই বিমানবন্দর থেকে বিদেশি কোনো উড়োজাহাজের গতকাল সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো। যদিও এর আগে আরেক দফা ফ্লাই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়েছিল। কিন্তু চালুর পরদিনই তা বন্ধ হয়ে যায়।

 

সিলেটে খাবারে বিষ মিশিয়ে অজ্ঞান করে ডাকাতি, গ্রেফতার ৩

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে ‘ডাকাত চক্রের’ তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যারা খাবারে বিষ মিশিয়ে অজ্ঞান করে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোলাপগঞ্জের ধারাবহর এলাকার জসিম উদ্দিন (৪০),আমকোনা এলাকার আজিম উদ্দিন (৩০) ও নোয়াইরঘাট এলাকার সরফ উদ্দিন (৪০)। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুল হক শিবলী জানান, চৌমুহনী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান জানান, এ ডাকাত চক্রের সদস্যরা গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে বিষ মিশিয়ে রাখে। খাবার খেয়ে ওই বাড়ির সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে বাড়িতে ঢুকে মালামাল ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি এ ধরনের তিনটি ঘটনায় বিষক্রিয়ায় স্থানীয় দাড়িপাতন এলাকার নাজমা খানম (৪০) ও ঘোষগাঁও এলাকার মুশফিকুর রহমানের (৬৫) মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্তত ১৪ জন এ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার, একটি এলজি , পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চেতনানাশক পাউডার জব্দ করা হয়েছে। তিনটি ডাকাতির ঘটনায় তারা জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

সিলেটের মেয়র আরিফুলের বরখাস্তের আদেশ হাই কোর্টে স্থগিত

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। সেইসঙ্গে মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মেয়র আরিফের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে আরিফুল হকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর নাম আসায় ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সিলেটের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্তের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়েই আদালত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে বলে আবদুল হালিম কাফি জানান। তিনি বলেন, এর ফলে আরিফুল হকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনা বাধা নেই। আবদুল হালিম কাফি বলেন, আদালত মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করার পাশাপাশি বরখস্তের ওই আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। স্থানীয় সরকার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২০১৩ সালে ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আরিফুল কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সিলেট প্রতিনিধি জানান, ঢাকায় হাই কোর্টের আদেশের খবর এলে সিলেটে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলররা দুপুরে কুমারপাড়ায় আরিফুলের বাসায় ছুটে যান। সেখানে তারা মিষ্টিমুখ করেন। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”



Go Top