দুপুর ১:০৮, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ সিলেট

করতোয়া ডেস্ক : তিন দিনের অভিযানে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল; সেখানে চারটি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
‘আতিয়া মহল’ নামে পাঁচ তলা ওই ভবনের কাছে পাঠানপাড়া মসজিদের কাছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে অপারেশন টোয়াইলাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফখরুল আহসান।

ওই বাড়িতে তিন পুরুষ ও এক নারী জঙ্গির থাকার তথ্য পুলিশের কাছ থেকে পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেছেন, তারা যে চারটি লাশ পেয়েছেন, তার মধ্যেও তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। ভেতরে অবস্থানরত সম্ভাব্য সব জঙ্গি নিহত হলেও তারা বাড়িটিতে ব্যাপক বিস্ফোরক মজুদ করে রেখেছিল জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পুলিশ ও র‌্যাব ঘিরে রাখার একদিন পর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান শুরুর পর ব্রিগেডিয়ার ফখরুলই প্রতিদিন নিয়মিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করে আসছেন। গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েই তিনি অভিযান প্রায় শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, ‘দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য আমরা সকলেই গর্বিত। আপনারও গর্ববোধ করতে পারেন। দেশবাসীর দোয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই খুব সুন্দর, সফলভাবে অভিযানটা চলেছে।’ পাঁচ তলা ওই ভবনের নিচ তলায় চারটি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশের যে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম, মোটামুটি তথ্য ছিল যে এখানে চারজন জঙ্গি আছে। এটাও তথ্য ছিল যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা। যে ডেডবডি আমরা পেয়েছি তার মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন মহিলা।’ দুটি লাশ পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হলেও বাকি দুটি এখনও ওই বাড়ির ভেতরেই রয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, ‘বাকি দুটো ডেডবডির মধ্যে সুইসাইড ভেস্ট লাগানো আছে। যে অবস্থায় আছে, তাদেরকে ওইখান থেকে বের করাটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এই ডেডবডিগুলো কীভাবে বের করব, সেজন্য আমরা পরিকল্পনা করছি।’ আগের দিনই দুই জঙ্গির নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দুজনকে দৌড়ানো অবস্থায় দেখে আমাদের কমান্ডোরা ফায়ার করে। তারা পড়ে যাওয়ার পর একজন সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটায়।’ এই আস্তানায় জঙ্গিদের শীর্ষ কোনো নেতা থাকতে পারেন বলে ধারণার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালও জানিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে তেমন কেউ রয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে সেনা কর্মকর্তা ফখরুল বলেন, তা পুলিশ ও র‌্যাব দেখে নিশ্চিত করতে পারবে।

তবে তিনি বলেন, ‘যে চারজন এখানে ছিল, তারা ওয়েল ট্রেইন্ডড। তাদেরকে খুঁজে বের করে যে নিষ্ক্রিয় করা হল বা হত্যা করা হলো, তা সেনাবাহিনীর জন্য বিশাল বড় সফলতা।’ চারজনের বাইরে আর কারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না-এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চারজনের বিষয়ে আমরা জানতাম, চারটা ডেডবডি আমরা পেয়েছি। যতটুকু ধারণা হচ্ছে, এখানে জীবিত আর কেউ নাই। তবে কেউ হঠাৎ করে থেকেও যেতে পারে।’ ওই বাড়িটির নানা স্থানে বিস্ফোরক স্থাপন করে জঙ্গিরা তা দুর্গম করে তুলেছিল বলে আগের দিনই জানিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার ফখরুল। সেজন্য অভিযানটি ঝুঁকিপূর্ণও বলেছিলেন তিনি।

সোমবার তিনি বলেন, ‘সার্বিক যে অবস্থাটা দেখলাম, যে একটা রুমের ভেতরে একটা ডেডবটি, তার পাশেই ছড়ানো ছিটানো আইইডি লাগানো রয়েছে। পুরো বিল্ডিংটায় যে পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে এগুলো যদি বিস্ফোরণ হয় তাহলে এই বিল্ডিংয়ের অংশ বিশেষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যে অবস্থায় আছে, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।’ অভিযান শেষ হয়নি জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, ‘এই অপারেশনে আরও হয়ত কিছু সময় লাগতে পারে। আমাদের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বাকি কাজটুকু এগিয়ে নিয়ে যাব।’ অভিযান শেষে উস্তার আলীর মালিকানাধীন এই বাড়িটি সেনবাহিনী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

 

নবীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাসের চাপায় মাহফুজ (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেল পৌনে ৪টায় উপজেলার বড়গাঁওয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজ উপজেলার কাগাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের মহিবুর মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় রাগিব আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
দুর্ঘটনার পর থেকে বিকেল সোয়া ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করছিল উত্তেজিত জনতা। ফলে দু’দিকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

 

 

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের সতর্কতা বৃদ্ধি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক জঙ্গি বাড়ি ঘিরে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টুয়াইলাইট’ চলতে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। শিলংয়ে বিএসএফ এর আসাম-মেঘালয় কমান্ড বেইজের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সিলেটের ওই অভিযানের কারণে জঙ্গিরা পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।      

“বাংলাদেশে যখন তারা চাপে থাকে তখন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে আমরা আগের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। এটা একটা সাধারণ প্রবণতা। এ কারণেই আসাম-মেঘালয় সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।”  

আসাম গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান পল্লব ভট্টাচার্যও সীমান্ত ও তার রাজ্যে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।  তিনি বলছেন, গত ছয় মাসে ‘বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করা ৭০ জনের বেশি জঙ্গিকে’ আটক করেছে আসাম পুলিশ।

“আমাদের কেবল সীমান্তে সতর্কতা বাড়ালে চলবে না। অবৈধ অভিবাসীদের কিছু আখড়ায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যেখানে জঙ্গিরা আশ্রয় পায়।” ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রিমত খিশা নামের এক অস্ত্র চোরাকারবারির বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি ডাউকি-তামাবিল সীমান্তে সক্রিয় বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।  

উলফার মত ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জেএমবির মত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে প্রিমত খিশার বিরুদ্ধে।

 

সিলেটে আস্তানায় নিহত ২ জঙ্গি, ভেতরে আরও আছে: সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আস্তানায় অন্তত দুজন জঙ্গি মারা পড়েছেন বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে; তবে ভেতরে আরও জঙ্গি থাকায় অভিযান অব্যাহত থাকছে। দক্ষিণ সুরমা এলাকার শিববাড়ীর পাঠানপাড়ার আতিয়া মহল ঘিরে অভিযানের তৃতীয় দিন রোববার বিকালে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

ভেতরে অবস্থানরত জঙ্গিরা বেশ কৌশলী জানিয়ে তিনি বলেছেন, অভিযানে ‘ভালো’ ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বলা যাচ্ছে না, কখন তা শেষ হবে।

 

শিববাড়ি অভিযান তৃতীয় দিনে, দফায় দফায় বিস্ফোরণ-গুলি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জঙ্গি আস্তানা ঘিরে সেনাবাহিনীর অভিযান গড়িয়েছে তৃতীয় দিনে, সকাল থেকেই ওই এলাকায় থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে জোড়া বিস্ফোরণে পুলিশসহ ছয়জন নিহত হওয়ার পর শিববাড়ি থেকে নগরীর কদমতলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী।  

মধ্যরাত থেকে ওই এলাকায় কোনো যানবাহন চালাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং জনসাধারণের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে বলে সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, রাতে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার পর বেশ কিছু সময় চুপচাপ থাকার পর সকাল ৭টার পরে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। এর মধ্যে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

এর মধ্যে সকাল ১০টার আগে ও পরে দুটি এবং বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

শিববাড়ির পাঠানপাড়া এলাকায় পাঁচতলা ওই বাড়ি ঘিরে এ অভিযান শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে। শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর পর ওই বাড়ির বিভিন্ন তলা থেকে ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়।


ওই অভিযান নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পর কাছেই একটি জায়গায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হন। আহত হন র‌্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪৩ জন।

নিহতরা হলেন-জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার,স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু, নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৩৮)ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কাদিম শাহ (৩৫)

এদের মধ্যে কাদিমের পরিচয় রাতে জানা সম্ভব না হলেও সকালে স্বজনরা হাসপাতালে এসে লাশ সনাক্ত করেন।

এক আত্মীয় জানান, শহীদ আর কাদিম বন্ধু। শহীদের ডেকোরোটর ব্যবসা আছে। সেখানে কাদিমও সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এক অনুষ্ঠানের কাজ পেয়ে তারা দুজন শনিবার শিববাড়িতে গিয়েছিলেন।

 

সিলেটে বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ৬

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান চলার মধ্যে কাছের একটি জায়গায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন র‌্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৪৩ জন।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই জঙ্গি আস্তানার এক কিলোমিটারের মধ্যে পাঠানপাড়ায় এই বিস্ফোরণে ছয়জন নিহতের কথা জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার। তারা দুজনই পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্য ছিলেন বলে জানান জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন। নিহতদের অপর চারজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, কলেজছাত্র অহিদুল ইসলাম অপু ও নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম (৩৮)।

নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সিলেটের মদনমোহন কলেজের বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অপু বিস্ফোরণস্থলেই মারা যান বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন জানান।

আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাকিদের মৃত্যু হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছেন।

এরপর রাত ১টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিদর্শক মনিরুলের মৃত্যু হয় বলে তার থানার ওসি আখতার জানান। কাছাকাছি সময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমের মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনি।

কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা। তবে সিলেটের পুলিশ কমিশনার বলেছেন, জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের জেরেই এটা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

আহতদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ ও র‌্যাব ৯ এর মেজর আজাদ এবং দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশিদ রয়েছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা আজাদকে রাতেই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার সারা শরীরে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয় ওসমানী মেডিকেলের একজন চিকিৎসক জানান।

অন্তর দীপ নন্দী নামে ওই চিকিৎসক  বলেন, “উনাকে (লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজাদ) মুমুর্ষূ অবস্থায় আমাদের এখানে আনা হয়েছিল। তার সারা শরীরে স্প্লিন্টার ছিল। এখানকার চিকিৎসকরা বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার করেছেন। স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।”

বিস্ফোরণে আহত মোট ৪৩ জনকে ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি করা হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রুহুল আমিন জানান। এদের মধ্যে ১৭ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মোস্তাক আহমেদ, নাজিমউদ্দিন, রোমেল আহমেদ, অহিদুল ইসলাম, ইসলাম আহমেদ, নুরুল আলম, বিপ্লব হোসেন, আব্দুর রহিম, সত্তারউদ্দিন, রাহিম মিয়া, হোসেন আহমেদ, মামুন আহমেদ, ফারুক মিয়া, সালাউদ্দিন শিপার, গুলজার আহমেদ, রিমন আহমেদ ও আজমল আলী।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর প্রায় ৩০ ঘণ্টা সেখানে পাহারা বসিয়ে শনিবার সকালে পুলিশের সহায়তায় অভিযান শুরু করেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরা। বাড়িটিতে জিম্মি দশায় থাকা ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও অভিযান শেষ হয়নি।

ওই অভিযান নিয়ে সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফ করার পরপরই কাছের পাঠানপাড়ায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে অভিযানস্থল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। শিববাড়ির মূল সড়ক থেকে ওই জঙ্গি আস্তানার দিকে যে রাস্তাটি গেছে, তার কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে।

কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বিস্ফোরণের বিস্তারিত না বললেও ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে এতে আহত গুলজার আহমেদের কাছে। ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি  বলেন, জঙ্গি আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানের খবর নিতে আসা তারা কয়েকজন সন্ধ্যায় ওই জায়গায় ছিলেন।

“লুঙ্গি পরা এক লোক হাতে একটি কালো পলিথিন নিয়ে আসে। কয়েকজন তাকে আটকে পলিথিনে কী আছে জানতে চাইলে সে বলে, ‘লাল শাক’। এর পরপরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন।

“এরপর পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এলে আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২৫ জনের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।” বিস্ফোরণস্থলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মটরসাইকেলও পড়ে থাকতে দেখার কথা জানান  প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সিলেটে জঙ্গি আস্তানার কাছে বিস্ফোরণে নিহত ১

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলার মধ্যে কাছেই দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ঘটানো বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন। ওই জঙ্গি আস্তানার এক কিলোমিটারের মধ্যে পাঠানপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই  বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ওই এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানার প্রবেশের মূল রাস্তার মুখের দিকে ছুটে যান।

সেখানে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল ও চার জনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন  সিলেট প্রতিনিধি মঞ্জুর আহমেদ। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণ ঘটালে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকনুদ্দিন বলেন, একটি লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রয়েছে।

আহতদেরকেও একই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত জানান যায়নি।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযানে সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ঘিরে প্রায় ৯ ঘণ্টা অভিযানের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই কথা জানানোর আগে ৫টা ৪০ থেকে ভেতর থেকে আর কোনো গুলি কিংবা বোমা ফাটার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

ফলে ধারণা করা হচ্ছে অভিযান শেষ হয়েছে; যদিও এই বিষয়ে সেনা কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য মেলেনি। ঘটনাস্থল ঘিরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারাও কিছু বলেননি। র‌্যাব-পুলিশ প্রায় ৩০ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের অভিযান। তার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ সবাইকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।

দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুই বার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও এরপর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল ভেতর থেকে। ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর পৌনে এক ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

বিকট শব্দ শুনে বাইরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছিলেন, এগুলো গ্রেনেড হতে পারে। বেলা আড়াইটার দিকে তিনজন সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। বেলা ২টায় গুলি-বোমার আওয়াজ শোনার আগে অ্যাম্বুলেন্সটি পুলিশ বেষ্টনি অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকানো হয়।

এরপর থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। ঘণ্টা দুয়েক বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টায় আবার দুটি বোমার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি, যা ৫টা ৪০ পর্যন্ত চলে। এরপর আর কোনো শব্দ আসছে না।

যে দুটি ভবন ঘিরে চলছে এই অভিযান, তার একটিতে এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে বের করে আনা হয় ভেতর থেকে, যারা বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে আটকা পড়েন। দুপুর ২টার আগে মোট ৭৬ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছে।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে সমান সংখ্যক পরিবারের বসবাস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে বাকি পরিবারগুলো কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে একটি দিন ও একটি রাত পার করে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে শনিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়েছিল। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।

অভিযানের খবর সরাসরি সম্প্রচার না করতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’; এর আগে ঘটনাস্থলে কাজ করে আসা সোয়াট এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’।

বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি দুটি ঘিরে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “সেনাবাহিনী এই অভিযান চালাচ্ছে। সোয়াট শুধু সহায়তা করছে।”

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন।”

শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ও চারতলা পাশাপাশি দুটি ভবন ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে এই অভিযানের সূচনা।

দুটি ভবনের একটিতে জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে সিলেট নগর পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে শুরু হয় বোমাবাজি ও গুলি। শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে এসে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সোয়াটের একটি দল।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও মধ্যরাতের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেনাবাহিনীর একটি প্যারা-কমান্ডো দল রাতে ঘটনাস্থলে যায়। সকালে আরেকটি দল যাওয়ার পর অভিযানের নেতৃত্বে হাতবদল হয়।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই আস্তানায় অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ জঙ্গি রয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন। কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে ওই দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন কয়েক মাস আগে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং জানালা ফাঁক করে তারা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাতে বলে।

দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এক বাড়ি ঘিরে চালানো অভিযানের মত সিলেটেও জেনারেটর বসিয়ে ঘটনাস্থল আলোকিত করে রাখা হয় সারা রাত। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এনে রাখাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে দেখা যায়।

একজন সোয়াট সদস্য  বলেন, বাসার ভেতরে জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমা রেখেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণেই চূড়ান্ত অভিযানে যাওয়ার আগে সময় নেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাদের সদস্যরা সিলেট পুলিশকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ির ওই ভবনের সন্ধান পান তারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ভোরের দিকে নিচতলার এক বাসার জানালা খুলে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে ছোড়া হয় গ্রেনেড।

পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি কমিশনার রোকনউদ্দিন জানান।

‘অবরুদ্ধ’ এক দিন

ছুটির দিনের সকালে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যে ঘুম ভাঙার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের আবিস্কার করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায়।

ওই বাড়িতে যাওয়ার দুটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সকালেই। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের।

স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানা যায়, চারতলা ভবনটি থেকে ১৭টি পরিবারের সদস্যদের সকালেই সরিয়ে নিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশের একটি স্কুলে সারা দিন রেখে সন্ধ্যায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাতে বলা হয়।

ওই সময় বেশ কিছু মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। তবে তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি পুলিশ কর্মকর্তার।

পাঁচতলা ভবনটির অন্যান্য ফ্ল্যাটে যে পরিবারগুলো আটকে আছে, তাদের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতর থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় পুলিশের হ্যান্ড মাইক থেকে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে দুর্ভোগের একটি দিন পার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।  

‘আরেক জঙ্গি দম্পতি’

বাড়ির মালিক উস্তার আলী জানান, তিন মাস আগে কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার পাঁচ তলা বাড়ির নিচতলার চার নম্বর বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় কাউছার নিজেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত উস্তার বলেন, “সব নিয়ম মেনেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও রাখা হয়েছে। তারা নিয়মিত ভাড়াও দিয়ে আসছে।”

এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্বামী স্ত্রী মিলে ‘জঙ্গি পরিবার’ গড়ে তুলতে দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের মাধ্যমে আত্মীয়তা করে ছোট ছোট ইউনিট গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা।

‘সোয়াট পাঠাও, সময় কম’

পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার কথা জানিয়ে দুপুরের দিকে ‘জঙ্গিদের’ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

সন্দেহভাজন ওই নারী জঙ্গির নাম উল্লেখ করে পুলিশের হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, “মর্জিনা বেগম, আপনাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করুন।”

এক পর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশের একজন এসআই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, “আপনারা মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে মিডিয়ার ভাইয়েরা আছেন, আপনারা কথা বলুন।”

এ সময় ওই বাড়ি থেকে জানালা ফাঁক করে নারী কণ্ঠ জবাব দেন, “আপনারা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে।”

এর পরপরই আরেক পুরুষকণ্ঠে পুলিশের উদ্দেশে বলা হয়, “দেরি করছ কেন? আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাও।”

চূড়ান্ত প্রস্তুতি, আটক ১

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়াট ও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে মেজর রোকন ও মেজর রাব্বীর নেতৃত্বে প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সোয়াট ও পুলিশকে সহযোগিতা দিতেই তারা এখানে এসেছেন।”

সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকলেও সন্ধ্যায় আলোকিত হয় পাঠানপাড়া এলাকা।পাশাপাশি একটি জেনারেটর বসিয়ে পাঁচতলা ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকা আলোকিত করার ব্যাবস্থা হয়।

একটু দূরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ির পাশাপাশি একটি ক্রেনও এনে রাখতে দেখা যায়।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগেও একই ধরনের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল। তবে ওই অভিযানে প্যারা কমান্ডোদের দেখা যায়নি।

সন্ধ্যার আগে আগে হাতকড়া পরিয়ে লুঙ্গি পড়া এক যুবককে ওই বাড়ির দিক থেকে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।

তার পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার শুধু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা ওই যুবককে আটক করেছেন।

জঙ্গিদের নতুন তৎপরতা

গতবছর জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মধ্যে বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এ বছর মার্চের শুরু থেকে জঙ্গিরা নতুন করে তাদের তৎপরতার জানান দিতে শুরু করে।

৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার পর ধরা পড়ে ‘নব্য জেএমবির’ দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

১৫ মার্চ সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার আমিরাবাদের এক বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমতলা এলাকায় আরেক বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ।

১৬ মার্চ দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর প্রেমতলার ওই বাড়িতে শুরু হয় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হন। এছাড়া ভেতরে বোমায় বিক্ষত এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

১৭ মার্চ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় আশকোনায় র‌্যাবের একটি ব্যারাকে ঢুকে পড়ার পর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি।

১৮ মার্চ মোটর সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খিলগাঁওয়ের ‘শেখের জায়গা’ মোড়ের কাছে চেক পোস্টে ঢুকে পড়ার পর র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি। হামলাকারীর দেহে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

২০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

২৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অভিযানের সময়ই ঢাকার বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত হন এক যুবক। তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরক।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলতি মাসের ঘটনাগুলোতে গ্রেপ্তার ও নিহত জঙ্গিদের সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে তাদের ধারণা।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি।

ওই সংগঠনের একটি নতুন অংশই গত দুই বছরে গুলশান হামলাসহ অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ এই সিলেটেরই পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি নামের এক ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে সিলেটে কোনো জঙ্গি হামলা বা হত্যাকাণ্ড অথবা কোনো জঙ্গি আস্তানার কথা শোনা যায়নি।

জঙ্গিদের গুলি, গ্রেনেডে প্রকম্পিত দ.সুরমা, ১ সেনা আহত

সিলেট: সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলে অভিযানরত সেনাবাহিনী সদস্যদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলি বিনিময় চলছে। সবশেষ খবর পর্যন্ত অন্তত চারটি বিষ্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

এসব বিষ্ফোরণ গ্রেনেডের বলে ধারনা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পরপর চারটি বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বেলা ২টা ১৫ মিনিটে বিকট শব্দে একটি গ্রেনেড বিষ্ফোরণ ঘটে। বেলা ২টা ১৭ মিনিটের দিকে এক সেনা সদস্যকে আহত অবস্থায় বের করে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়।

বিস্তারিত আসছে….

শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযানে সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ৩০ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
ওই দুটি ভবনে শনিবার সকাল ৯টায় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন অভিযান শুরু করে, যেখানে এক জঙ্গি দম্পতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপস্থিত সংবাদকর্মীসহ সবাইকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়।

দুপুর ২টার আগ পর্যন্ত দুই বার গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও দুপুর ২টা থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। বিকট শব্দ শুনে বাইরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো গ্রেনেড হতে পারে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে বের করে আনা হয় ভেতর থেকে, যারা বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে আটকা পড়েন। দুপুর ২টার আগে মোট ৭৬ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের কাছের একটি ভবনে জড়ো করে রাখা হয়েছে।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে সমান সংখ্যক পরিবারের বসবাস। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যে বাকি পরিবারগুলো কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েন।

২টায় গুলি-বোমার আওয়াজ শোনার আগে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পুলিশ বেষ্টনি অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

ভেতরের অবস্থা বিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি। সেনাবাহিনী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও সাংবাদিকদের কিছু বলেননি।

টান টান উত্তেজনার মধ্যে একটি দিন ও একটি রাত পার করে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আগে শনিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি গাড়ি রাতেই ঘটনাস্থলে এনে রাখা হয়েছিল। সকালে সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়।

অভিযানের খবর সরাসরি সম্প্রচার না করতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’; এর আগে ঘটনাস্থলে কাজ করে আসা সোয়াট এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’।

বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি দুটি ঘিরে চূড়ান্ত অভিযান শুরুর আধা ঘণ্টা পর সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “সেনাবাহিনী এই অভিযান চালাচ্ছে। সোয়াট শুধু সহায়তা করছে।”

আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান  বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন টোয়াইলাইট পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন।”

শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ও চারতলা পাশাপাশি দুটি ভবন ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে এই অভিযানের সূচনা।

দুটি ভবনের একটিতে জঙ্গিদের অবস্থানের তথ্য পেয়ে সিলেট নগর পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে শুরু হয় বোমাবাজি ও গুলি। শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে এসে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় সোয়াটের একটি দল।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও মধ্যরাতের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেনাবাহিনীর একটি প্যারা-কমান্ডো দল রাতে ঘটনাস্থলে যায়। সকালে আরেকটি দল যাওয়ার পর অভিযানের নেতৃত্বে হাতবদল হয়।

ওই দুই বাড়ির মধ্যে পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার একটি বাসায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ওই আস্তানায় অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ জঙ্গি রয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন। কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে ওই দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন কয়েক মাস আগে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্যান্ড মাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। বরং জানালা ফাঁক করে তারা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাতে বলে।

দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এক বাড়ি ঘিরে চালানো অভিযানের মত সিলেটেও জেনারেটর বসিয়ে ঘটনাস্থল আলোকিত করে রাখা হয় সারা রাত। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এনে রাখাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে দেখা যায়।

একজন সোয়াট সদস্য বলেন, বাসার ভেতরে জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমা রেখেছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণেই চূড়ান্ত অভিযানে যাওয়ার আগে সময় নেওয়া হয়।

যেভাবে শুরু

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, সিলেটে জঙ্গি আস্তানা থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাদের সদস্যরা সিলেট পুলিশকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে শিববাড়ির ওই ভবনের সন্ধান পান তারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ভোরের দিকে নিচতলার এক বাসার জানালা খুলে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে ছোড়া হয় গ্রেনেড।

পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি কমিশনার রোকনউদ্দিন জানান।

‘অবরুদ্ধ’ এক দিন

ছুটির দিনের সকালে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দের মধ্যে ঘুম ভাঙার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের আবিস্কার করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যের ঘেরাওয়ের মধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায়।

ওই বাড়িতে যাওয়ার দুটি সড়কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় সকালেই। আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায় সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের।

স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে জানা যায়, চারতলা ভবনটি থেকে ১৭টি পরিবারের সদস্যদের সকালেই সরিয়ে নিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশের একটি স্কুলে সারা দিন রেখে সন্ধ্যায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাতে বলা হয়।

ওই সময় বেশ কিছু মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। তবে তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি পুলিশ কর্মকর্তার।

পাঁচতলা ভবনটির অন্যান্য ফ্ল্যাটে যে পরিবারগুলো আটকে আছে, তাদের দরজা-জানালা বন্ধ করে ভেতর থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় পুলিশের হ্যান্ড মাইক থেকে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উদ্বেগ আর আতঙ্কের মধ্যে দুর্ভোগের একটি দিন পার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।  

‘আরেক জঙ্গি দম্পতি’

বাড়ির মালিক উস্তার আলী জানান, তিন মাস আগে কাউছার আলী ও মর্জিনা বেগম নামে দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার পাঁচ তলা বাড়ির নিচতলার চার নম্বর বাসাটি ভাড়া নেন। সে সময় কাউছার নিজেকে একটি বেসরকারি কোম্পানির অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।

আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত উস্তার বলেন, “সব নিয়ম মেনেই তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও রাখা হয়েছে। তারা নিয়মিত ভাড়াও দিয়ে আসছে।”

এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্বামী স্ত্রী মিলে ‘জঙ্গি পরিবার’ গড়ে তুলতে দেখা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ের মাধ্যমে আত্মীয়তা করে ছোট ছোট ইউনিট গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে নিয়েছে জঙ্গিরা।

‘সোয়াট পাঠাও, সময় কম’

পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার কথা জানিয়ে দুপুরের দিকে ‘জঙ্গিদের’ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

সন্দেহভাজন ওই নারী জঙ্গির নাম উল্লেখ করে পুলিশের হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, “মর্জিনা বেগম, আপনাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করুন।”

এক পর্যায়ে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশের একজন এসআই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশে মাইকে বলেন, “আপনারা মুসলমান, আমরাও মুসলমান। আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে মিডিয়ার ভাইয়েরা আছেন, আপনারা কথা বলুন।”

এ সময় ওই বাড়ি থেকে জানালা ফাঁক করে নারী কণ্ঠ জবাব দেন, “আপনারা শয়তানের পথে, আমরা আল্লাহর পথে।”

এর পরপরই আরেক পুরুষকণ্ঠে পুলিশের উদ্দেশে বলা হয়, “দেরি করছ কেন? আমাদের সময় কম। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠাও।”

চূড়ান্ত প্রস্তুতি, আটক ১

বিকাল পৌনে ৪টার দিকে অতিরিক্ত উপ কমিশনার আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে সোয়াট ও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি।

রাত পৌনে ৮টার দিকে মেজর রোকন ও মেজর রাব্বীর নেতৃত্বে প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “সোয়াট ও পুলিশকে সহযোগিতা দিতেই তারা এখানে এসেছেন।”

সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকলেও সন্ধ্যায় আলোকিত হয় পাঠানপাড়া এলাকা।পাশাপাশি একটি জেনারেটর বসিয়ে পাঁচতলা ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকা আলোকিত করার ব্যাবস্থা হয়।

একটু দূরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ির পাশাপাশি একটি ক্রেনও এনে রাখতে দেখা যায়।

এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের আগেও একই ধরনের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল। তবে ওই অভিযানে প্যারা কমান্ডোদের দেখা যায়নি।

সন্ধ্যার আগে আগে হাতকড়া পরিয়ে লুঙ্গি পড়া এক যুবককে ওই বাড়ির দিক থেকে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্যরা।

তার পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার শুধু বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা ওই যুবককে আটক করেছেন।

জঙ্গিদের নতুন তৎপরতা

গতবছর জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মধ্যে বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এ বছর মার্চের শুরু থেকে জঙ্গিরা নতুন করে তাদের তৎপরতার জানান দিতে শুরু করে।

৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার পর ধরা পড়ে ‘নব্য জেএমবির’ দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

১৫ মার্চ সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার আমিরাবাদের এক বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমতলা এলাকায় আরেক বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ।

১৬ মার্চ দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার পর প্রেমতলার ওই বাড়িতে শুরু হয় ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হন। এছাড়া ভেতরে বোমায় বিক্ষত এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।

১৭ মার্চ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় আশকোনায় র‌্যাবের একটি ব্যারাকে ঢুকে পড়ার পর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি।

১৮ মার্চ মোটর সাইকেল আরোহী এক ব্যক্তি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খিলগাঁওয়ের ‘শেখের জায়গা’ মোড়ের কাছে চেক পোস্টে ঢুকে পড়ার পর র‌্যাব সদস্যদের গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি। হামলাকারীর দেহে বিস্ফোরক বাঁধা ছিল বলে র‌্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

২০ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তবে সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

২৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অভিযানের সময়ই ঢাকার বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত হন এক যুবক। তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগে পাওয়া যায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরক।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় চলতি মাসের ঘটনাগুলোতে গ্রেপ্তার ও নিহত জঙ্গিদের সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে তাদের ধারণা।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবি।

ওই সংগঠনের একটি নতুন অংশই গত দুই বছরে গুলশান হামলাসহ অধিকাংশ জঙ্গি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

পুরনো জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ এই সিলেটেরই পূর্ব শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি নামের এক ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তবে এরপর দীর্ঘ সময়ে সিলেটে কোনো জঙ্গি হামলা বা হত্যাকাণ্ড অথবা কোনো জঙ্গি আস্তানার কথা শোনা যায়নি।

শ্রীমঙ্গলে ট্রাক বোঝাই রাবার উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ট্রাক বোঝাই চোরাই রাবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গতকাল শনিবার উপজেলার মির্জাপুর এলাকার রুপাইছড়া রাবার বাগানের পাহাড়ি এলাকা থেকে পাচারকালে ট্রাক বোঝাই চোরাই রাবারের কস (কাচাঁমাল) উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল থানার এসআই রাশেদুল আলম খান শনিবার দুপুরে মিজাপুর ইউনিয়নের রুপাইছড়া রাবার বাগানের মধ্যবতী স্থানে শাহ ফার্মার রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ এর ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ঠ ১৫-০১৬১)  যোগে বাহুবল থানার পুটিজড়ি এলাকার ইকরাম মিয়ার ফ্যাক্টরিতে পাচারকালে ১৫শ’ লিটার রাবার কস আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ রাবার পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে শামীম মিয়া (২২) ও ফয়সল মিয়া (২০) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তাদের বাড়ি মির্জাপুর ইউনিয়নের চাতল গ্রামে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিলেটে নারীর গলাকাটা লাশ, স্বামী আটক


সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; হত্যার অভিযোগে  পুলিশ আটক করেছে তার স্বামীকে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বগাইয়া হাওর গ্রামে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত আমিরুন নেছা (২২) ওই গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

 ওসি দেলোয়ার  বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে রাতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে আলমগীর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বলে এলাকাবাসীর দাবি। তারা তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

সিলেটে মাটিচাপায় আবার ২ পাথর শ্রমিক নিহত

সিলেটের জাফলংয়ে গর্ত করে পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় আবার দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও দুইজন। গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলওয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নয়াবস্তি এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার টুকেরবাজার এলাকার মখই মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (৩৫) ও আবদুল হামিদের ছেলে লেছু মিয়া (২৫)। ওসি দেলওয়ার বলেন, পিয়াইন নদীর তীরে অবৈধভাবে গর্ত খুঁড়ে পাথর তুলছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় চার শ্রমিক মাটিচাপা পড়লে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহত দুইজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গত দেড় মাসে পাথর তুলতে গিয়ে মাটিচাপায় সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের শাহ আরপিন টিলা, গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দি ও জাফলংয়ে অন্তত ১৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৮ মার্চ জাফলংয়ের মন্দিরের জুম এলাকায় মাটিচাপা পড়ে মারা যান এক শ্রমিক।

 

ওসমানী বিমানবন্দর থেকে চালু হলো সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট

সিলেট প্রতিনিধি : ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজ বুধবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করেছে। তাই অবসান ঘটেছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটবাসীর প্রায় দেড় যুগ সময় ধরে থাকা প্রতীক্ষার ।

উড়োজাহাজটি বুধবার বিকেল ৩টায় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাই থেকে ওই ফ্লাইটে সরাসরি সিলেটে আসা ১৪৭ জন যাত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলী, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. ফজলে আকবর, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান হাবিব, ফ্লাই দুবাই’র বাংলাদেশস্থ জিএসএ স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান সাইফুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল রেজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ।
ওসমানী বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ জানান, দুবাই থেকে সারাসরি আসা ফ্লাই দুবাই’র উড়োজাহাজটি বেলা ৩টায় ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বিমানটি ফিরতি ফ্লাইট হিসাবে দুবাই’র উদ্দেশে সিলেট  ছেড়ে যায়।

 তিনি জানান, ফ্লাই দুবাইয়ের সিলেট আসা ফ্লাইটে বিমানটির ইকোনমি ক্লাসে ১৪১ ও বিজনেস ক্লাসে ৬ জন যাত্রী ছিলেন। আর এ বিমানের মোট ১৭৪টি আসনের মধ্যে রয়েছে বিজনেস ক্লাসের ১২টি এবং ইকোনমি ক্লাসের ১৬৫টি।

১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। এর প্রায় ১৮ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এই বিমানবন্দর থেকে বিদেশি কোনো উড়োজাহাজের গতকাল সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো। যদিও এর আগে আরেক দফা ফ্লাই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়েছিল। কিন্তু চালুর পরদিনই তা বন্ধ হয়ে যায়।

 

সিলেটে খাবারে বিষ মিশিয়ে অজ্ঞান করে ডাকাতি, গ্রেফতার ৩

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে ‘ডাকাত চক্রের’ তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যারা খাবারে বিষ মিশিয়ে অজ্ঞান করে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট করে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গোলাপগঞ্জের ধারাবহর এলাকার জসিম উদ্দিন (৪০),আমকোনা এলাকার আজিম উদ্দিন (৩০) ও নোয়াইরঘাট এলাকার সরফ উদ্দিন (৪০)। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুল হক শিবলী জানান, চৌমুহনী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের পুলিশ সুপার মো.মনিরুজ্জামান জানান, এ ডাকাত চক্রের সদস্যরা গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে খাবারে বিষ মিশিয়ে রাখে। খাবার খেয়ে ওই বাড়ির সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে বাড়িতে ঢুকে মালামাল ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, সম্প্রতি এ ধরনের তিনটি ঘটনায় বিষক্রিয়ায় স্থানীয় দাড়িপাতন এলাকার নাজমা খানম (৪০) ও ঘোষগাঁও এলাকার মুশফিকুর রহমানের (৬৫) মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্তত ১৪ জন এ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি রিভলবার, একটি এলজি , পাঁচ রাউন্ড গুলি ও চেতনানাশক পাউডার জব্দ করা হয়েছে। তিনটি ডাকাতির ঘটনায় তারা জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

সিলেটের মেয়র আরিফুলের বরখাস্তের আদেশ হাই কোর্টে স্থগিত

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। সেইসঙ্গে মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরখাস্তের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মেয়র আরিফের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

আদালতে আরিফুল হকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর নাম আসায় ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সিলেটের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্তের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। তার প্রাথমিক শুনানি নিয়েই আদালত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে বলে আবদুল হালিম কাফি জানান। তিনি বলেন, এর ফলে আরিফুল হকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনা বাধা নেই। আবদুল হালিম কাফি বলেন, আদালত মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করার পাশাপাশি বরখস্তের ওই আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। স্থানীয় সরকার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২০১৩ সালে ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আরিফুল কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সিলেট প্রতিনিধি জানান, ঢাকায় হাই কোর্টের আদেশের খবর এলে সিলেটে বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলররা দুপুরে কুমারপাড়ায় আরিফুলের বাসায় ছুটে যান। সেখানে তারা মিষ্টিমুখ করেন। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা দুঃসময়ে আমার পাশে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

আরেক মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের কারাদন্ড

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার  ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। পলাতক থাকা অবস্থায় পত্রিকা সম্পাদনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাদের ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন বিচারক। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো এই আদেশ দেন। একই সাথে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১ মাস করে সাজাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান জানান, গত সোমবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য  তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত। আসামি রাগীব আলীর উপস্থিতিতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অসুস্থতার কারণে ছেলে আব্দুল হাইকে আদালতে আনা হয়নি।

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের ছাতক প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদার মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিলেন। তবে সমনের জবাব না  দেয়ায় গত বছরের অক্টোবরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

খাদিজাকে হত‌্যাচেষ্টার দায়ে বদরুলের যাবজ্জীবন

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে হত্যার চেষ্টার দায়ে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের যাবজ্জীবন সাজার রায় দিয়েছে আদালত। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।  

আসামি বদরুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে রায়ে। গতবছর ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়। কলেজ ক‌্যাম্পাসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খাদিজাকে কোপানোর রোমহর্ষক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ‌্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বদরুলের সাজার দাবিতে মানববন্ধন হয় জেলায় জেলায়।      
ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর অনেকটা সুস্থ হন খাদিজা। শরীরের বাঁ পাশ স্বাভাবিক সাড়া না দেওয়ায় চিকিৎসার জন্য স্কয়ার থেকে তাকে পাঠানো হয় সাভারের সিআরপিতে। সিআরপিতে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন কলেজপড়ুয়া এই তরুণী।

খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে তখনই পুলিশে দেয় জনতা। ঘটনার পরদিন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলার তদন্তে নেমে খাদিজাকে কোপানোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। বদরুল নিজেও অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ পরান থানার এসআই হারুনুর রশিদ ৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর ২৯ নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয় সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে।

এ মামলায় বাদীপক্ষে মোট ৩৪ জনের সাক্ষ‌্য শুনেছে আদালত। খাজিদা নিজেও গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে গিয়ে নিজের জবানবন্দি তুলে ধরেন।
সাক্ষ‌্যে খাদিজা বলেন, ৫-৬ বছর আগে তাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে থাকতেন বদরুল। সে সময় থেকেই তাকে উত্যক্ত করে আসছিলেন।

“বদরুলের নৃশংস হামলায় আমি সারা জীবনের জন্য প্রতিবন্ধী হয়ে গেছি। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি,” সাক্ষ‌্যে বলেন খাদিজা।

সাক্ষ‌্য শেষে যুক্তিতর্ক পর্যায়ে এসে আদালত বদল হয় এ মামালার। তিনটি ধারার মধ্যে একটিতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার হাকিম আদালতে না থাকায় তা দায়রা আদালতে বদলি করা হয়।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ৫ মার্চ বিচারক রায়ের জন‌্য দিন ঠিক করে দেন।

 

সিলেটে শখের বসে মৎস্য চাষ করে সাফল্য

সিলেট প্রতিনিধি : শখের বসে মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন সিলেটের বিশ্বনাথের কয়েছ আহমদ। তিনি উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের শাহজিরগাঁও গ্রামের মৃত মধু মিয়ার ছেলে। অল্প দিনে তার প্রচেষ্টাই তাকে এ সফলতা আনতে সহায়তা করেছে। বেশ কয়েক বছর প্রবাসে ছিলেন। কিন্তু প্রবাসে তেমন আয়-রোজগার না করতে পারায় ছুটে আসেন দেশে। দেশে আসার পর বেশ কিছুদিন বেকার ছিলেন। এরপর বেকারত্ব দূর করতে মাছ চাষে মনোযোগী হন তিনি। আর্থিকভাবে তিনি সচ্ছল থাকলেও মাছ চাষাবাদ করে আয়ের উৎস খুঁজতে থাকেন।

২০১৬ সালে নিজের ১৮০ শতক জমিতে একটি পুকুর খনন করে সারেং মাছের খামার করেন। আর সেই পুকুর কার্প জাতীয় মিশ্র মাছ চাষা শুরু করেন। মৎস্য অধিদফতরের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে থাকেন। প্রথম বছরই তিনি সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেন। তার খামারের চাষাবাদ শুরু হলেও এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা তার স্বাবলম্বী হওয়ার নেপথ্যে ন্যূনতম ভূমিকা রাখেনি। সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত এগিয়েছেন। তবে সরকারি-বেসরকারি কোনো সহায়তা পেলে এ খামারটি মাছ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একই সময়ে অর্জিত সাফল্য আরও দ্বিগুণ করতে পারত।

কয়েছ আহমদ জানান, শখের বসে ২০১৬ সালের জুুলাই মাসের প্রথম দিকে আমাদের ১৮০ শতক জমির ওপর একটি পুকুর খনন করি। পুকুরে কার্প জাতীয় মিশ্র মাছ চাষা শুরু করি। ৫ মাস পর সমুদয় মাছ ধরে বিক্রি করি। মাছের পোনা ক্রয় করি এবং মাছের খাবার বাবদ আরও ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করে প্রায় দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন বলে তিনি জানান। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কয়েছ আহমদে মাছ চাষ প্রকল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রজাতির মাছ চাষে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। মৎস্য অফিস থেকে তাকে সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়। ফলে তিনি অল্প দিনে মাছ চাষাবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি নিজের অর্থায়নে প্রদর্শনী খামার, ০.৮০ হেক্টর জলায়ত পুকুরে মাছ চাষাবাদ শুরু করেন।

সিলেটে আবার টিলা ধস, এক শ্রমিকের মৃত্যু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাথর তুলতে গিয়ে আবার টিলা ধসে এক শ্রমিকের প্রাণ গেছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন জানান, সোমবার সকালে উৎমা পাথর কোয়ারীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফারুক মিয়া (৩৫) উপজেলার উত্তর রণিখাই চটকনাবাজার এলাকার বাসিন্দা। ওসি আলতাফ বলেন, “পাথর কোয়ারীতে গর্ত করে পাথর তুলতে গেলে টিলা ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই ফারুকের মৃত্যু হয়। ”

এর আগে আরপিন টিলায় গত দেড় মাসে পাথর তুলতে গিয়ে সাত শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৩ জানুয়ারি আঞ্জু মিয়ার টিলা ধসে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি একজন ও গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় আব্দুল হান্নানের জমি থেকে পাথার তোলার সময় নিহত হয় আরও এক শ্রমিক।

 

সিলেটে শাহজালালের মাজার জিয়ারত এরশাদের

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে শাহজালাল ও মানিক পীরের (র.) মাজার জিয়ারত করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর আগে  শনিবার দুপুরে নভোএয়ারে একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য জাপা নেতা ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়ার ঝেরঝেরি পাড়া এলাকার বাসায় যান। সেখানে তিনি ইয়াহিয়া চৌধুরীর বাবার মৃত্যুতে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জাপা নেতা বশির আমহদ লস্কর। তিনি বলেন, বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন। মূলত জাপার সংসদ সদস্য ইয়াহিয়া চৌধুরীর বাবার মৃত্যুতে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিতে সিলেটে আসেন এরশাদ। বুধবার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন ইয়াহিয়া চৌধুরীর বাবা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই।

সিলেটে টিলা ধসে আবার মৃত্যু

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শাহ আরপিন টিলা ধসে আবার এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাক্টরে পাথর লোড করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াকুব আলী (২২) উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে।


ওসি আলতাফ বলেন, শাহ আরপিন টিলা এলাকায় স্থানীয় আব্দুল হান্নানের জমি থেকে পাথর তুলে ট্রাক্টরে লোড করা হচ্ছিল। এ সময় উঁচু ঢিবি ধসে পড়লে শ্রমিক ইয়াকুব আলী চাপা পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে আরপিন টিলায় গত দেড় মাসে সাতজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। গত ২৩ জানুয়ারি আঞ্জু মিয়ার টিলা ধসে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়। তারপর ১১ ফেব্রুয়ারি মারা যান আরও একজন।

 

আদালতেও বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি খাদিজার

সিলেট প্রতিনিধি : আদালতের কাছেও বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। রোববার দুপুরে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি বিচারকের কাছে এ দাবি জানিয়েছেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে খাদিজা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি জানান, সাক্ষ্য দেয়ার সময় বিচারকের কাছে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন। এছাড়াও ঘটনার দিনের বর্ণনাও করেছেন তিনি। এর আগে গত শুক্রবার সিলেট বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন খাদিজা।

এদিকে খাদিজার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হবে আগামী ১ মার্চ। আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালাতে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোট ৩৩ সাক্ষির মধ্যে ৩২জন আগেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। খাদিজার সাক্ষ্য নেয়ার পর আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষী দেবে না বলে সিদ্ধান্ত জানালে বিচারক যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

সিলেটে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগরে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। সে জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচর গ্রামের মৃত শরফ উদ্দিনের ছেলে। এসময় অন্তত আরো শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জগন্নাথপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।  রোববার উপজেলার সাদীপুর ইউপির বাংলাবাজার হাতানিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আ’লীগ (নৌকা সমর্থকরা) সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাজুপুর এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগলু চৌধুরীকে নিয়ে সাদীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা কবির উদ্দিন, আরজু মেম্বার তার ভাই বাহার মিয়াসহ বেশ কিছু সমর্থক সাদীপুর ইউপির বাংলাবাজারে গণসংযোগে যায়। এ সময় জগলু চৌধুরীর সমর্থক বাহার মিয়া কবির উদ্দিন জগলু চৌধুরীর পক্ষে কাজ করতে বলেন। এ দিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়।

বিষয়টি সাময়িকভাবে শেষ হলেও রোববার সকাল এনিয়ে সালিশের মাধ্যমে সমাধান হবার কথা থাকলেও বাহার মিয়ার পক্ষের লোকজন আল-আমিন গংদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সাইফুল নিহত হয়। ওসমানীনগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 

সিলেটে ব্যবসায়ীর হাত পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

সিলেট প্রতিনিধি : নিখোঁজের একদিন পর সিলেট নগরীতে এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  রোববার বিকালে মহাজনপট্টি এলাকায় মরদেহটি পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত বাহার আহমদ (৩৬) সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার এরুগাই লক্ষ্মীপুর গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে। নগরীর কালিঘাট এলাকায় তার প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান রয়েছে। সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ জানান, শনিবার রাত থেকে বাহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে তার স্বজনরা ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। বিকাল ৪টার দিকে মহাজনপট্টির বাহারের গোডাউনে তার মরদেহ পাওয়া যায়। বাহারের শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা লাশ এখানে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

হবিগঞ্জে ২ সহোদরকে হত্যায় ৩ জনের ফাঁসির দন্ড

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বাহুবলে দুই সহোদরকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার বিকালে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভীন এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার যশপাল গ্রামের মৃত আব্দুস সমেদের ছেলে আব্দুল আলী, মৃত মারফত উল্লাহর ছেলে সায়েদ আলী ও মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আরজু মিয়া। এদের মধ্যে আব্দুল আলী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আহাদ ফারুক জানান।

মামলার নথির বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০০৮ সালের ১৮ অগাস্ট আসামিরা একই গ্রামের সিদ্দিক আলীর দুই ছেলে আব্দুল আহাদ (১২) ও নুরাজ আলীকে (১০) বিয়ের দাওয়াতে নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরদিন দুই ভাইয়ের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্দিক আলী তিন জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পর আব্দুল আলীকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি পূর্ব বিরোধের জেরে শিশুদের গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানান এ আইনজীবী।

সিলেটে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। গতকাল রোববার উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার হাতানিপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতাউর রহমান ও বিদ্রোহী আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। নিহত সাইফুল ইসলাম (১৬) পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচর গ্রামের শরফ উদ্দিনের ছেলে। আহতদের কয়েকজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকালে আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলুকে নিয়ে সাদীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কবির উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য আরজু মিয়া, তার ভাই বাহার মিয়াসহ বেশ কিছু সমর্থক সাদীপুর ইউপির বাংলাবাজারে গণসংযোগে যান। তারা জানান, এ সময় পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার উত্তর কালনীচর গ্রামের কয়েকজন যুবককে তাদের পক্ষে কাজ করার জন্যে বললে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় বলে এলাকাবাসী জানায়। ওসমানীননগর থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্খীর সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সাইফুল নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট ওসামানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে তাজপুর বাজারে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। নিহত তরুণের পরিচয় নিয়ে দুপক্ষ ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে। আওয়মী লীগ প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, নিহত তরুণ পাশের উজেলার বাসিন্দা হলেও সে আমার সমর্থক। সীমান্ত এলাকায় তার বাড়ি। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু বলেন, নির্বাচনে তার অবস্থান ভালো। তাই ষড়যন্ত্র করে এলাকায় সংঘর্ষ বাধিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। নিহত তরুণ অন্য উপজেলার। সে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থক নয়। আগামী ৬ মার্চ সিলেটের ওসমানী নগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদে ভোট হবে। দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহাম্মদ আতাউর রহমান, বিদ্রোহী মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু, বিএনপির ময়নুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির মো. শিব্বির আহমদ।

সিলেটের উন্নয়নে সহায়তা দেবে ভারত

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীতে শিা ও পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে এ সমঝোতায় স্বার করেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মো. আমিনুল হক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব এবং ভারতের পে ঢাকায় তাদের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।  এ সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক খাতে টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বারিত সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন হিসেবে এ চুক্তি স্বারিত হলো। এর আগে রাজশাহীতেও এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বরিত হয়েছে।

এর আওতায় সিলেট নগরীতে একটি পাঁচতলা কিন্ডারগার্টেন, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ভবন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য একটি ছয়তলা কলোনিসহ ধোপা দিঘীর পাড় এলাকায় কিছু উন্নয়ন কাজ হবে। এসব প্রকল্পে ভারত সরকার ২৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেবে।এ সময় হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, “নগরীতে পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিতদের জন্য ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে আমরা খুশি। যারা আমাদের আশপাশের পরিবেশকে বাসযোগ্য রাখে তাদের প্রতি আমাদের যতœবান হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, রাজশাহীতেও একই ধরনের টেকসই উন্নয়ন কাজের জন্য ভারত সরকার ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খরচ করবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়েছে। এছাড়া খুলনা নগরীতে উন্নয়নে তাদের সরকার ১২ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হবে।

 

আজ বাড়ি ফিরবেন সিলেটের খাদিজা

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার হামলায় আহত কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস আজ শুক্রবার বাড়ি ফিরবেন বলে সিআরপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল সার্ভিসেস উইং এর প্রধান সাইদ উদ্দিন হেলাল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিআরপিতে ভর্তির পর আট সদস্যের দল গঠন করে বিভিন্ন থেরাপি ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে খাদিজার চিকিৎসা শুরু হয়। প্রাায় তিন মাসের চিকিৎসার পর খাদিজা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ফলে শুক্রবার খাদিজা বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন বলে এ চিকিৎসক জানান। গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়। হামলার পর ঢাকায় এনে স্কয়ার হাসপাতালে ৪ অক্টোবর বিকালে খাদিজার অস্ত্রোপচার করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে ১৩ অক্টোবর তার লাইফ সাপোর্ট খোলার পর ‘মাসল চেইন’ কেটে যাওয়া তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ২৮ নভেম্বরের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সিআরপিতে নেওয়া হয়। সিআরপির নিউরলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল ফিজিও থেরাপিস্ট সুলক্ষনা শ্যামা বিশ্বাস বলেন, খাদিজা শুরুতে ওঠা বসা ও চলাফেরায় পরিবারের উপর নির্ভরশীল ছিল।এখন সে সম্পূর্ণ নিজে নিজে চলাচলে সক্ষম। পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের থেরাপিস্ট তাহমিনা সুলতানা বলেন, শুরুতে খাদিজার মুখের মাংস পেশি ও জিহ্বা নড়াচড়াতে দুর্বলতা থাকায় তার কথায় জড়তা ছিল।

নিয়মিত থেরাপি দেওয়া পর বর্তমানে খাদিজা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে, অন্যের কথা ভালভাবে বুঝতে পারে। তার স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। খাদিজা বলেন, ‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ্। যখন সিআরপিতে আসি তখন উচ্চস্বরে কথা বলতে পারতাম না, হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতাম। আর এখন স্বাভাবিকভাবে সব কাজ করতে পারছি।’ আবার লেখাপড়া শুরু করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান খাদিজা। সংবাদ সম্মেলনে সিআরপির থেরাপিস্টরা ছাড়াও খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া উপস্থিত ছিলেন।



Go Top