সকাল ১১:০৭, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, এক দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ইয়াহিয়া  রোববার সানিকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের হেফজত মঞ্জুর করেন। আরাফাত সানির আইনজীবী রকিবুল ইসলাম এই রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। অন্যকদিকে বাদীপরে আইনজীবী জুয়েল আহমেদ এর বিরোধিতা করেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন  জানান, হাকিম আদালত তথ্যশপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আসামি জামিন চাইলে তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। গত ৫ জানুয়ারি এক তরুণী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলা করেন বলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান। তিনি বলেন, আরাফাত সানির সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক বলে ওই তরুণীর দাবি। তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়েও করেন। সম্প্রতি তুলে নেওয়ার কথা বললে সানি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে ফেইসবুকে তার অশ্লীল ছবি আপলোড করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৮টার দিকে আমিন-বাজারের বাসা থেকে পুলিশ আরাফাত সানিকে গ্রেপ্তার করে বলে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম মুন্সী জানান। মামলার এজাহারের তথ্য  অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাসা মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায়। মেয়েটির দাবি, সাত বছর আগে সানির সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসে¤॥^রে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় পেণ করতে থাকেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরিবার থেকে বিয়ের জন্যত চাপ থাকায় ওই তরুণী সানিকে বলেন, হয় তাকে তুলে নেওয়া হোক, না হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ব্যুবস্থা করা হোক।
এরপর গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যামে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি এবং ওই তরুণীর কয়েকটি ছবি তাকে পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে। তবে ৩০ বছর বয়সী সানির মা নার্গিস আক্তার মোহাম্মদপুর থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। টাকার লোভে ওই মেয়ে তাকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে। ওই তরুণী সানির সঙ্গে বিয়ের দাবি করলেও কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন নার্গিস। বাংলাদেশ জাতীয় দলে বাঁহাতি স্পিনার সানির অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। দেশের হয়ে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার আগে ২০১৫ সালের নভেম্ব^রে জিম্বাবুয়ের বিপে সিরিজে দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরাফাত সানিকেও নিষিদ্ধ করে আইসিসি। বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের পর এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি সানির। গত বছরের শেষ দিকে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার দিনুকা হেতিয়ারাচ্চির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শূন্য রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি আলোচনাতেও এসেছিলেন। আরাফাত সানির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস  বলেন, আগে সম্পূর্ণ ঘটনা জানতে চান তারা। আমরা এখনো পুরো ব্যাপারটা জানি না। আইসিটি অ্যাক্টে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিতরের ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করছি। এরপর মন্তব্য করতে পারব।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ


সকালটা ছিল ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা। বিকেলে টুপটাপ বৃষ্টি। শরীর জমিয়ে দেওয়া হিম বাতাস; ‘টিপিক্যাল’ নিউ জিল্যান্ড আবহাওয়া। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে তখন শুধুই বাংলাদেশ! ২২ গজে চলছে সাকিব-রাজত্ব। কে বলবে, কন্ডিশন বিরুদ্ধ আর উইকেট সিমিং ও বাউন্সি! যেন বাংলাদেশেরই আপন আঙিনা।

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

 

২৮৯ রানে থেমে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস

মুশফিক নেই। ইমরুল এবং মুমিনুল হকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে ভাঙা-চোরা একটি দল। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের সবুজ উইকেটে টস হেরে ব্যাট করারই আমন্ত্রণ পেলো বাংলাদেশ। কিউই পেস ব্যাটারির সামনে তবুও বলতে গেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

তবুও কিউই পেসারদের তোপ সামলে প্রথম পুরোটা শেষ করতে পারলো না তামিম অ্যান্ড কোং। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগ পর্যন্ত ২৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এরপরই দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথ।

ইমরুলের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের ব্যাটই (৮৬) কিছুটা হেসেছিল। এছাড়া প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের ব্যাটও (৫৯) কথা বলেছে। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে টেস্টে অভিষিক্ত নুরুল হাসানের (৪৭) দৃঢ়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল মোটামুটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

ওয়েলিংটন টেস্টেই বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল মিনি হাসপাতালে। ইনজুরির শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস এবং মুমিনুল হক। তিনজনই দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। মুশফিক প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। ইমরুল ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেন। তামিমের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে ওপেন করতে নেমে জ্বলে উঠতে পারতেন তিনি।

মুমিনুল তো ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল সাহসে ভরপুর। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। ক্রাইস্টচার্চেও ছিলেন ভরসার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু পাঁজরের হাঁড়ে বল লেগে তিনিও ইনজুরির শিকার।

এ তিনজনের পরিবর্তে অভিষেক হলো নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহানের। শান্ত দলের সঙ্গে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট পারফরমার হিসেবে; কিন্তু কী ভাগ্য- একের পর এক অন্যদের ইনজুরি শান্তর মাথায় টেস্ট ক্যাপই পরিয়ে দিলো। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং পেসার শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে রুবেল হোসেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলীয় ৭ রানের মাথায় টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন তিনি। তামিমের আউটের পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের ৩১ রানের জুটিটা ভেঙে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন তার নামের পাশে লেখা ২৪ বলে ১৯ রান।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। দু’জনই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার।

যদিও নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুল লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। মাত্র ১৭ বলের ব্যবধানে ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারেই দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির রহমান। ব্যাটিং অর্ডারে দুই ধাপ উন্নতিকে কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি তিনি। আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর কিউই পেসারদের বেশ কিছুক্ষণ রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহান। প্রায় ২০ ওভার মোকাবেলা করেছে এ দু’জনের জুটি। রান করেছে ৫৩টি। তবে কিউই পেসারদের একের পর এক বাউন্সার আর শট বলের সামনে এক পর্যায়ে হার মানতে বাধ্য হন সদ্যই কৈশোর শেষ করা শান্ত। ৫৬ বল মোকাবেলায় ১৮ রান করে ফিরে যান তিনি।

শান্তর তুলনায় উইকেটে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হন নুরুল হাসান সোহান। ৯৮ বলে তিনি খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সোহানের জন্য আফসোস অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরির একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে পেলেন না। ট্রেন্ট বোল্টের ক্রমাগত শট বলেই ধরা খেলেন তিনি। মাথা বরাবর আসা বলকে পুল করতে গিয়েছিলেন সোহান। ফল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে।

তার আগেই অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১০ রান করে।  ২৬ বল খেলে ৮ রান করে আউট হন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পরই আউট হন সোহান। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি আর রুবেল হোসেন মিলে ইনিংসের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাব্বি আউট হলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে যান রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের ১০টি উইকেটই নেন কিউই পেসাররা। টিম সাউদি নেন ৫টি। ৪টি নেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাকি উইকেটটি নিলেন নিল ওয়েগনার।
 

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

শুরুতে তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। এরপর দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১১ রান। উইকেটে আছেন অভিষেক হওয়া দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান।  ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছেন শান্ত। আর সোহান আছেন ২৫ রানে।

অথচ তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব ও সৌম্য। দু’ জনেই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

এর আগের ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। তবে নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুলার লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিম ইকবালকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লেগ সাইডে রাখা টিম সাউদির বাউন্সার তামিম ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে তা ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে।

তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। দলীয় ৩৮ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

মুশফিক, কায়েসকে ছাড়াই শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫৯ রান। দলের ৫৯৫ রানের প্রথম ইনিংসে তা ছিল দারুণ যোগ। সেখানে পরের টেস্ট ম্যাচে?

কিছুই দিতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। কারণ বুড়ো আঙ্গুলের আঘাতের কারণে অধিনায়কই যে নামতে পারছেন না মাঠে।

ক্রাইস্টচার্চে তাকে ছাড়াই শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ টেস্ট দল। আর দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

২০০৭ সালের পর এই প্রথম মুশফিককে ছাড়াই টেস্টে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে আসা

অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের অভাবও ভালই অনুভব করতে হবে বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইমরুলের জুটি বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি বলে মনে করা হয়। সেখানে ইমরুলে বদলে ওপেনিং-এ প্রথম ব্যাট হাতে দেখা যাবে সৌম্য সরকারকে ।

ওপেনার কাম বদলি উইকেট কিপার ইমরুল কায়েস প্রথম টেস্টে রান নেয়ার সময় উইকেট বাঁচাতে গিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আর উঠে দাঁড়াতেই পারেন নি। পরে স্ট্রেচারে করে ফেরত যেতে হয় মাঠের বাইরে।

মুশফিক নেই। তার বদলে উইকেট আগলানোর দায়িত্ব পড়ে যার হাতে সেই ইমরুল কায়েসও নেই। তাহলে উইকেটে কে থাকবেন?
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় টেস্টে উইকেটকীপার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে নুরুল হাসান সোহানের।

ওয়ানডে সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ে আশা জাগিয়েছিল সফরকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টে পরাজয়ই মেনে নিতে হয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা দাড়াতে না পারায় ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই সফরে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। আর শেষ টেস্টে সফরকারীরা মাঠে নামছে ইনজুরি আক্রান্ত একটি দল নিয়ে



অন্যান্য খেলা

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

‘আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন দরকার’

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। তবে এখনই তাদের আশা শেষ হয়ে যায়নি। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারলে মেসির দল টিকিট পাবে বিশ্বযজ্ঞের। তার জন্য আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন চান মারিও কেম্পেস।

ইন্টার মিলানের হয়ে আলো ছড়ানো মাওরো ইকার্দিকে আর্জেন্টিনা দলে চান ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কেম্পেস। বলেন, বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এই মুহূর্তে দলে পরিবর্তন দরকার। দলের ভেতরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। আমরা ইকার্দিকে নিয়ে কতটা কথা বলছি? মাঠে সে কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাই বড় বিষয়। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাতামাতি করা ঠিক নয়।’

লিওনেল মেসির বন্ধু ম্যাক্সি লোপেজের বউকে পটিয়ে বিয়ে করেছেন ইকার্দি। এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনা ও ইতালিতে একের পর এক সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন ইকার্দি। সতীর্থের বউকে পটিয়ে বিয়ে করায় আর্জেন্টাইনদের চোখে তিনি এখন খলনায়ক।

আর দিয়েগো ম্যারাডোনা তো তাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘মৃত মানুষ’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে। অনেকেরই ধারণা, এই কাণ্ডে জড়ানোয় অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্বেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে সুযোগ হচ্ছে না ইকার্দির।

রোনালদো নৈপুণ্যে পর্তুগালের জয়

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। গোলও পাচ্ছিলেন না! তবে জাতীয় দলের জার্সিতে জ্বলে উঠলেন রোনালদো। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে লাটভিয়াকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল।

এই জয়ে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগিজরা। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। রোনালদোর দল তিনটিতে জয় পেয়েছে, আর একটিতে হেরেছে। সমসংখ্যক ম্যাচে সবক’টিতে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে সুইজারল্যান্ড। সুইসদের অর্জন ১২ পয়েন্ট।

ঘরের মাঠে লাটভিয়ার বিপক্ষে নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়েছেন রোনালদো। ম্যাচের ২৮ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়েছেন তিনি। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন রোনালদো। প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের বাধার সম্মুখীন হলে বলটি ঠেলে দেন নানিকে। বল পায়ে নেয়ার আগে তাকে বাজেভাবে ট্যাকেল করেন লাটভিয়ার খেলোয়াড়েরা। রেফারির চোখ এড়ায়নি। তাই পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেন রোনালদো। এভাবে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল পর্তুগিজ। ৬৭ মিনিটে একটি গোল হজম করেছে তারা। এ সময় লাটভিয়াকে সমতায় ফেরান আরতুরস জুজিন। দুই মিনেটের ব্যবধানে উইলিয়ানের গোলে ফের এগিয়ে যায় পর্তুগাল (২-১)।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেছেন রোনালদো। ডান প্রান্ত থেকে রিকার্ডো কুয়ারেসমার বাড়িয়ে দেয়া বলটি দুর্দান্ত এক শটে লাটভিয়ার জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের সুপারস্টার। আর লাটভিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ব্রুনো আলভেজ।

রোবেন-ডিপাইয়ে ঘুরে দাঁড়ালো নেদারল্যান্ডস

গত বিশ্বকাপের পর নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল নেদারল্যান্ডস। অবশেষে রোবেন-ডিপাইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে রোববার রাতে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে ডাচরা।

এই জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডস। সমসংখ্যক ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষেই রয়েছে ফ্রান্স। আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা লুক্সেমবার্গের সংগ্রহ মাত্র ১।

নেদারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল করেছেন আরিয়েন রোবেন। ৩১ মিনিটে লুক্সেমবার্গের জাল কাঁপান তিনি। আর ডাচদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মেম্পিস ডিপেই। ৫৮ ও ৮৪ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। আর লুক্সেমবার্গের হয়ে একটি গোল শোধ দিয়েছেন ম্যাক্সিম শ্যানট।

এক আইরিশ ফুটবল-পাগলের গল্প

অনেক দেশ আছে যেখানে ফুটবলে লাথি দেননি এমন পুরুষ মানুষ কমই আছে। আর দেশটি যদি হয় ইউরোপের তাহলেতো কথাই নেই। আয়ারল্যান্ডের জন ব্রে তেমন এক মানুষ। ফুটবলে লাথি দেয়া পর্যন্তই। খেলা বলতে যা বুঝায় তা নেই তার জীবদ্দশায়। অথচ তিনি ফুটবলের পাগল। ফুটবল খেলা দেখতে ভ্রমণ করেছেন ১০০ টিরও বেশি দেশ। স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন চার চারটি বিশ্বকাপ। ইউরোপের বিভিন্ন টুর্ণামেন্টতো তার কাছে দুধভাত। ৫৮ বছর বয়সী এ আইরিশ এখন বাংলাদেশে। ফুটবলের টানেই ঢাকায় ছুটে আসা তার। ৭ নভেম্বর এসেছেন, ফিরে যাবেন আগামীকাল সোমবার।

বাংলাদেশে আসলেও তার এ সফর শুধু ঢাকাকেন্দ্রীক। যে কারণে দেশের শীর্ষ প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচ দেখা হচ্ছে না তার। প্রিমিয়ার লিগ এখন চলছে ময়মনসিংহে। পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা দেখতে শনিবার তিনি ছুটে গিয়েছিলেন কমলাপুর স্টেডিয়ামে।

football

কখনো রিক্সায়, কখনো মটর সাইকেলে অনিকের পেছনে-এভাবেই ঘুড়ছেন জন। তো অনিক কে? এমন প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। পুরো নাম-রেজাউল হোসাইন অনিক। কাজ করেন এশিয়াটিকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের নির্বাহী হিসেবে। জন ব্রে‘র গল্পটা শোনা যাক তার কাছেই- ‘গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে আমি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল রিও‘র মারাকানা স্টেডিয়ামে। সেখানে আমার এক আমেরিকান বন্ধুর মাধ্যমে জনের সঙ্গে পরিচয়। ফুটবল খেলা দেখতে তার দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানোর গল্প শুনেছি। তিনি আমার কাছে শুনেছেন বাংলাদেশের ফুটবলের গল্প। তখনই তিনি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দেশে আসার পরও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অনেক দিন ধরেই তিনি বাংলাদেশে আসার কথা বলছিলেন। বিভিন্ন কারণে আমি তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি। গুলশানের সন্ত্রাসি হামলায় বিদেশিদের প্রাণহানির ঘটনাও তিনি জানতেন। কিন্তু তিনি ওসব পাত্তা দেননি। বাংলাদেশে চলে এসেছেন’।

জন ব্রে ইতিমধ্যে জেনেছেন, বাংলাদেশের ফুটবল এক সময় রমরমা ছিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৫০/৬০ হাজার দর্শক খেলা দেখেছে শুনে অবাক হয়েছেন তিনি। এ সব গল্পই আসলে জনকে টেনেছে বাংলাদেশে। যদিও তিনি যখন ঢাকায় তখন বাংলাদেশের ফুটবল শুধুই অতীতের কঙ্কাল।

‘অনিকের কাছে আমি বাংলাদেশের ফুটবলের গল্প শুনেছি। আমি যখন এশিয়া সফরের পরিকল্পনা করি তখনই সিদ্ধান্ত নেই বাংলাদেশে আসবো। চলে এলাম। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ব্রনাইয়ের পর বাংলাদেশে এসেছি।’ আপানি কতগুলো দেশে এভাবে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছেন? ‘একশ`র বেশি হবে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এলাম বাংলাদেশে। আমি ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান-কোরিয়া ও ব্রাজিল বিশ্বকাপ দেখেছি স্টেডিয়ামে বসে।’

football

বাংলাদেশ কেমন লাগছে? কোনো ভয় কাজ করছে? ‘আসলে বাংলাদেশ বলতে ঢাকা। আমি অন্য কোথাও যাচ্ছি না। গুলশান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবন, মোহামেডান ক্লাব, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামসহ অনেক জায়গা ঘুরেছি। বন্ধু অনিকের বাসায়ও গিয়েছি। আমার কোনো সমস্যা হয়নি। কোনো ভয়ও পাইনি। এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক। সমস্যার মধ্যে যা দেখলাম তাহলো যানজট, মশা আর বিরিয়ানি। বিরিয়ানি খেয়ে আমার পেট খারাপ করেছিল, হা হা হা। ’

তো এই যে, আপনি দেশে দেশে ঘুরে বেড়ান। পরিবারের লোকজনকে সময় দেন কখন? ‘আমার ছেলে ফুটবল খেলা পছন্দই করে না। আর স্ত্রী? যখন ঘরে ফিরবো তখন আগাম বাই বাই দিয়ে রাখবে, আবার কখন কোন দেশের ফ্লাইট ধরি তাই। কিন্তু আমার এটা নেশা, আমি ফুটবল পাগল। যতদিন শরীর কাজ করবে আমি এটা করবো’-বলেন জন। শরীর না হয় কাজ করলো, কিন্তু এই যে আপনি দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন এ খরচের উৎস কি? কোনো স্পন্সর আছে? ‘না, কোনো স্পন্সর নেই। আমি নিজের অর্থে ঘুরি। আমি একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকুরি করতাম। আমার অনেক সঞ্চয় আছে। সেখান থেকেই খরচ করি’- জবাব জন ব্রে নামের এ ফুটবল পাগলের।

দুর্দান্ত বোলিংই শীর্ষে তুললো মাহমুদউল্লাহর খুলনাকে!

বিপিএলের গত আসরে ছিলো না খুলনা। এবার নতুন নাম (খুলনা টাইটান্স) নিয়ে চতুর্থ আসরে খেলতে এসেছে তারা।  সাদামাটা দল নিয়েই লড়াইয়ে নেমেছে খুলনা। কারণ এবার খুব বেশি নামিদামি ক্রিকেটার দলে টানেনি। এই দল নিয়েও দারুণ লড়াই করেছে তারা। আপাতত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে তারা। দুর্দান্ত বোলিং-ই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে সবার উপরে তুলেছে!

এ পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছে খুলনা। তিনটিতে জয় পেয়েছে, আর একটি ম্যাচে হেরেছে। মাহমুদউল্লাহর দলের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। সমসংখ্যক ম্যাচে (৩) চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রংপুর রাইডার্স ও বরিশাল বুলস।

এদিকে খুলনা টাইটান্স যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে, ওই ম্যাচগুলোতে তাদের ইনিংস খুব একটা লম্বা নয়। ইনিংস তিনটি থেমেছে ১৩৩, ১২৭ ও ১৪৪ রানে। তিনটি ম্যাচই খুলনা জয় পেয়েছে বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ১৩৩ রানের পুঁজি সংগ্রহ করেছিলো খুলনা। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহ-ম্যাজিকে ৩ রানে জয় তুলে নিয়েছে তারা।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটা অবশ্য ভালো কাটেনি খুলনার। মাত্র ৪৪ রানেই অলআউট হয়েছিল তারা। যা বিপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডও। ওই ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে গিয়েছিলো তারা। এই রান নিয়ে লড়াই করাটা বড্ড কঠিনই।

বিপিএলের অষ্টম ম্যাচ ও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ফের ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা। চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ১২৭ রানের সংগ্রহ নিয়েও ম্যাচটিতে জয় পেয়েছে ৪ রানে। শেষ ওভারে ছিলো বোলার মাহমুদউল্লাহর সেই ভেলকি।

আর নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪৪ রান করে খুলনা। শফিউল ইসলাম ও জুনায়েদ খানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে মাহমুদউল্লাহর দল জয় পায় ১৩ রানে।

তবে খুলনা টাইটান্সে হাইপ্রোফাইলের বোলার নেই! পাকিস্তানি পেসার জুনায়েদ খান ভালো বল করছেন। তবে জাতীয় দলে তিনি উপেক্ষিত রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলে পেসার শফিউল ইসলামের অবস্থানও নড়বড়ে! গত আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি কেভিন কুপার এবার খেলছেন খুলনার হয়ে।

আট বছর পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মোশাররফ হোসেন রুবেল আছেন মাহমুদউল্লাহর দলে। অলরাউন্ডার শুভাগত হোমও হাত ঘোরাচ্ছেন খুলনার হয়ে। মাহমুদউল্লাহ নিজেও বোলিং করছেন। এসব বোলার নিয়েও বেশ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মাঠের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সে মতভেদ কুমিল্লা শিবিরে!

বিপিএলের গত আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হার দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিলো নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। তার পরই জয়ের পথ খুঁজে পাওয়া। টানা তিন ম্যাচ জয়। আর পরের ইতিহাস সবারই জানা। আগের দু’বার ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করা মাশরাফি, প্রথমবার দায়িত্ব নিয়েই কুমিল্লাকে এনে দেন শিরোপা।

কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে মাঠে নামলেও জয়ের দেখা নেই কুমিল্লার। এই জয়ের নাগাল না পাওয়ায় খানিক হতাশ কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফিও। হাজারো ইনজুরি ও না পাওয়ার গ্লানি যাকে এখন পর্যন্ত স্পর্শ করেনি- সেই মাশরাফি রোববার খুলনার বিপক্ষে হারের পর হতাশার বদলে খানিক ক্ষুব্ধ।

রোববার রাতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কারো কথা উল্লেখ না করে মাশরাফি বলেন, সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলার আশা করছি। মাশরাফির ধারণা, যে উইকেটে খেলা হয়েছে, এই উইকেটে অনায়াসে ১৪৪ টপকে যাওয়া সম্ভব ছিলো।

খুলনার বিপক্ষে দলের বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি মাশরাফি। ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান করা খুলনাকে ১৪৪-এ আটকে ফেলতে বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর পাল্টা ব্যাটিংয়ে নেমে আমাদের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। কিন্তু আমার দলের মূল তিন ব্যাটসম্যান ইমরুল, লিটন আর স্যামুয়েলস যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতো তাহলে অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছানো যেতো।

comilla

এদিকে মাশরাফির হতাশ হওয়ার আরও একটি কারণ হলো তার দলের প্রিয় দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসের ফর্মহীনতা। লিটন দাস আসরের শুরু থেকেই ভালো খেলতে পারছেন না। তারপরও মাশরাফি আগের ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, লিটনই আমার দলের সেরা ব্যাটসম্যান।

তবে জানা গেছে, লিটন দাসকে খেলানো নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও দলের ম্যানেজমেন্টের মধ্যে একটা মতপার্থক্য রয়েছে। সেটা বিবাদের পর্যায়ে না গেলেও একাদশ সাজানো নিয়ে কুমিল্লা শিবিরে একটা মতভেদ তৈরি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির চাপ উপেক্ষা করে লিটনকে খেলানো এবং তার ক্রমাগত খারাপ ফর্মও মাশরাফির মনে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও লিটন দাসকে ওপেন থেকে সরিয়ে নিচে নামিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মাশরাফির। এর জন্যই দলে নেওয়া হয়েছিল সৈকত আলিকে। তবে ফিল্ডিং করার সময় সৈকত ব্যথা পাওয়ায় অধিনায়কের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। আর ওপেন করতে নেমে বরাবরের মতো আবারো ব্যর্থ হয় লিটন।

তার কন্যা নাফিসা কামাল ফ্র্যাঞ্চাইজি হলেও সবার জানা কুমিল্লার আসল স্বত্বাধিকারী হচ্ছেন বিসিবি, এসিসি ও আইসিসির সাবেক সভাপতি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কুমিল্লার প্রতিটি ম্যাচ দেখতে আসেন। রোববারও মাঠে বসে নিজের দলকে টানা তৃতীয় ম্যাচ হারতে দেখেন।

ম্যাচ শেষে খানিক হতাশ মুস্তফা কামাল শেরেবাংলার গ্রান্ড স্ট্যান্ডের খোলা আকাশের নিচে বসে দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একান্তে কথা বলেন। এসময় ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ মুস্তফা কামালের চোখের নিচে ছিলো খানিক হতাশার ছাপ। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে- তা খালেদ মাসুদ না জানালেও জোর গুঞ্জন দলের একাদশ নিয়ে অসন্তুষ্ট মুস্তফা কামাল, নাফিসা কামাল ও তার পরিবার।

এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাদশ সাজানো নিয়েই ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অধিনায়কের মধ্যে মূল মতপার্থক্য জন্ম নিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি চাচ্ছেন ভালো পারফরম্যান্সে ও জয়। এ নিয়ে আধিনায়ক মাশরাফি পড়েছেন বিপাকে। তার সাজানো একাদশের নির্ভরযোগ্য দুই তারকা ইমরুল কায়েস (তিন ম্যাচে ২৭) ও লিটন দাস (তিন ম্যাচে ২৫) চরমভাবে ব্যর্থ, আগের বিপিএল সেরা জাইদিও এখনো জ্বলে ওঠেনি। ফলে তার সাজানো কম্বিনেশনও হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা রাখবেন, নাকি নির্ভরযোগ্য পারফরমারদের প্রতি আস্থা রাখবেন, এ নিয়ে মাশরাফি পড়েছেন উভয় সংকটে। তবে সব মতভেদ দূর করা সম্ভব, যদি আজ ঢাকার বিপক্ষে মাশরাফির হাতিয়ারগুলো সঠিক সময়ে জ্বলে উঠে জয় তুলে আনতে পারে। তা না হলে এই মতভেদ যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে- কে জানে।