দুপুর ২:৫০, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

ভিক্টোরিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৩৬। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। শেষ ওভারে উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটসম্যান মইনুল ইসলাম; শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আবু সায়েমকে ফিরিয়ে দিলেন নিহাদুজ্জামান। তবে তিনটি রান সংগ্রহ হয়ে গেলো ভিক্টোরিয়ার।

শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। উইকেটে মইনুল আর মাহবুবুল আলম। নাটকীয়তা তখনও যে বাকি ছিল! শেষ বলে দুই রান নিতে পারলেন না মইনুল। উল্টো হয়ে গেলেন রানআউট। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির পরিসমাপ্তিটা হলো অতি নাটকীয়। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে মাত্র ১ রানের জয়ে মেতে উঠলো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয়ের জন্য ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল রুবেল মিয়া এবং উত্তম সরকার। ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। যদিও ৬১ বলে ২৬ রান করে আউট হন রুবেল মিয়া। উত্তম সরকার করেন ৫৩ বলে ৪৯ রান।

দুই ওপেনারের পর আর কোনো জুটি ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। অরুণ কার্তিক ২২, শফিউল হায়াত ২৪ রান করে আউট হন। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মইনুল ইসলাম এবং ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবু সায়েমের দৃঢ়তায় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ৩১ বলে ৩৪ রান করে ভিক্টোরিয়ার জয় প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন সায়েম।

কিন্তু শেষ ওভারের ৫ম বলে নিহাদুজ্জামানের বলে কাজী কামরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সায়েম ফেরার পর জয়ের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায়। শেষ বলে মইনুল রানআউট হওয়ার পর পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।

এর আগে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভিক্টোরিয়া। ভারতীয় ক্রিকেটার মানভিন্দর বিসলার ৮৭ বলে ৭৮ রানের ওপর ভর করে ৪৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৩৫ রানের সংগ্রহ পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৩৮ রান করেন মায়শুকুর রহমান। ৪২ বলে ৩৫ রান করেন অলক কাপালি। ২২ বলে ২৬ রান করেন মিজানুর রহমান।

এই ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স মনির হোসেন। ধিমান ঘোষ, নিহাদুজ্জামান এবং ইফতিখার সাজ্জাদের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দল ঘোষণা

ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা। ২০১৩ সালের পর দলে জায়গা পেলেন ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড ইকার্দি। তবে ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি ম্যানসিটির তারকা স্টাইকার আগুয়েরোর।

আগামী ৯ জুন মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে মেসির আর্জেন্টিনা। আর এর চারদিন পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে মেসিরা।

এদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে আগের দিনই দল ঘোষণা করে ব্রাজিল। প্রীতি এই ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা যাবে না সুপারস্টার নেইমারকে। ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্রাম পেলেন নেইমার। শুধু নেইমার নন ফিরমিনো, মারকুইনহোস, মিরান্ডা, মার্সেলো ও দানি আলভেজকেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এ দুই ম্যাচে।

আর্জেন্টিনা দল
গোলরক্ষক : নাহুয়েল গুজম্যান, সার্জিও রোমেরো, গারোনিমো রুলি।
ডিফেন্ডার: ইমানুয়েল মামানা, গ্যাব্রিয়েল মার্সাডো, হ্যাভিয়ের মাচেরানো, নিকোলাস ওতামেন্দি।

মিডফিল্ডার : লুকাস বিগলিয়া, এভার বানেগা, ম্যানুয়েল ল্যানজিনি, লিন্দ্রো পারেদেস, গুইদো রদ্রিগেজ, এদুয়ার্দো স্যালভিও।   
ফরোয়ার্ড : অ্যাঞ্জেল কোরিয়া, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুয়াইন, পাবলো দিয়াবালা, আলেজান্দ্রো গোমেজ, মারিও ইকার্দি।

ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের প্রথম ৪ উইকেট!

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৪ উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। কি অবাক হয়ে গেলেন! ভাবছেন, যার ক্যারিয়ার শুরু ৫ উইকেট শিকার দিয়ে। দ্বিতীয় খেলায় যে বোলারের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৬ উইকেট, সেই বোলার দুই বছর পার করে ১৭ নম্বর ম্যাচে এসে কিনা প্রথম চার উইকেট পেলেন! মেলাতে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে যাচ্ছেন। ঘুরিয়ে বললে গোলমেলে ঠেকছে তাই না। তা পড়ারই কথা।

তবে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে সেটাই ঠিক। গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাটার মাষ্টারের বলে আউট হয়েছেন চার আইরিশ। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে এটাই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেট শিকার মোস্তাফিজের। কালকের ম্যাচের আগে ১৬ খেলায় তিনবার পাঁচ বা তার বেশি ( দুবার ৫ উইকেট আর একবার ৬ উইকেট) উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন মোস্তাফিজ। তিনবার তার ঝুলিতে তিনটি করে উইকেট জমা পড়েছে। আর দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ছয়বার। এক উইকেট মাত্র একবার।

ম্যাচে উইকেট না পাবার ঘটনা আছে দুটি ; প্রথমবার ২০১৫ সালের ১০ জুলাই শেরে বাংলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৬ ওভারে ০/১৫। আর পরেরবার ঐ বছরই ৭ নভেম্বর; সেটাও মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ঐ ম্যাচেও ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন এ বাঁহাতি পেসার।

তাহলে কারিয়ারের ব্রেক আপ কি দাড়ালো ? মিলিয়ে নিন, ১৭ ম্যাচ। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট তিনবার ( দুবার ভারতের বিরুদ্ধে ৫/৫০ ও ৬/৪৩)। আর একবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৫/৩৪)। তিন উইকেট তিনবার (৩/৩৮+৩/৩৩+৩/৫৬)। দুই উইকেট ছয়বার। আর এক উইকেট একবার। দুই ম্যাচ উইকেট শূন্য। যোগ করে দাঁড়ালো ১৫ ম্যাচ। আর গত ১২ মে আয়ারল্যান্ডের সাথে ডাবলিনে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাওয়া ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পাননি।

তাই পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ১৭ খেলায় অংশ নিলেও বল করার সুযোগ মিলেছে ১৬ বার। যার ১৫ ম্যাচের ব্রেক আপ ওপরে দেয়া হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়েছে, ১৭ খেলায় ৪২ উইকেট শিকারি মোস্তাফিজ। গত ১৯ মে শুক্রবার প্রথম ৪ উইকেট শিকার করেছেন।

বাহরাইন ক্রিকেট উৎসবে আশরাফুল

জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট উৎসব। দেশটিতে ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় না হলেও বাহরাইনে জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ক্রিকেট উৎসবে মেলা বসে অনেক ক্রিকেট রথি-মহারথির। সেই ভিড়ে গত বছরের ন্যায় এবারও ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।


আজ (১৯ মে) বাহরাইন ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ক্রিকেট উৎসব। যেখানে বাংলাদেশের আশরাফুলের সঙ্গে আমন্ত্রণ পেয়েছেন পাকিস্তানের মিসবাহ-উল হক, আবদুল রাজ্জাক, শহিদ আফিদি, সোহেল তানভির, ভারতের শ্রীশান্থ, শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসরাও।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বৃহস্পতিবার গাজী গ্রুপকে হারিয়েই রাতে কাতার এয়ারলাইন্সযোগে বাহরাইনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন আশরাফুল।

আজ নিজের ফেসবুক পেজে আশরাফুল পাকিস্তানের রাজ্জাক, মিসবাহ, সোহেল তানভিনদের সঙ্গে লাঞ্চ এবং মাঠের ছবি শেয়ার করেন। আজই বাহরাইনে ক্রিকেট উৎসবে একটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বাংলাদেশকে বড় জয় উপহার দিলেন সৌম্য-মোস্তাফিজ

সবুজ উইকেটে প্রথমে জ্বলে উঠলেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। আর তার বোলিংয়ে সঙ্গে মাশরাফি ও সানজামুলের পারফরমেন্সে আয়ারল্যান্ড পেল স্বল্প পুঁজি। আইরিশ বোলাদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সৌম্য। তুলে নিলেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশত। আর সাতক্ষীরার দুই টাইগারের উপর ভর করেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল বাংলাদেশ।

হারলেই ছিটকে যেতে হবে শিরোপার রেস থেকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে প্রথম বল করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। আর তার সিদ্ধান্তকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দেখা মেলে সেই পুরনো মোস্তাফিজের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরান স্টার্লিংকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন পল স্টার্লিং।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে আয়ারল্যান্ড। মোস্তাফিজ-রুবেলদের উপর চড়াও হয়ে রানের চাকা সচল করতে থাকে অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড। তবে মাশরাফির বলে জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পরেননি আইরিশ অধিনায়ক। পরের ওভারেই মোসাদ্দেককে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে যান পোর্টারফিল্ড। পোর্টারফিল্ডের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না বালবিরনি। সাকিবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

চতুর্থ উইকেটে নায়াল ও’ব্রায়ানকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ইনজুরি থেকে ফেরা জয়েস। গড়ে তোলেন ৫৫ রানের জুটি। তবে এরপরই বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের বলে তামিম ইকবালের চমৎকার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে জীবন পাওয়া নিয়াল ও’ব্রায়ান।

এদিকে চোট কাটিয়ে ফিরে বিপর্যয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়েস। নিজেও পৌঁছে গিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে অভিষিক্ত সানজামুলের বল লং অন দিয়ে উড়াতে মারতে গেলে তামিমের হাতে ধরা পড়েন। আর প্রথম উইকেটের দেখা পান সানজামুল। এরপর কেভিন ও’ব্রায়েনকে মোসাদ্দেক হোসেনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত করেন মোস্তাফিজ। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসনকেও ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে অষ্টম উইকেটে বেরি ম্যাককার্থিকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানের জুটি গড়ে দুইশ`র দিকে এগিয়ে যেতে থাকে জর্জ ডকরেল। এ সময় আবার জুটি ভাঙেন সানজামুল। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ব্যারি ম্যাকার্থিকে। এরপর একই ওভারে জর্জ ডকরেল ও পেটার চেসকে মুশফিকের তালুবন্দি করেন মাশরাফি। আর আইরিশদের ইনিংস শেষ হয় ১৮১ রানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে শুরুটা ভালোই করেন তামিম। দুই জনের জুটি থেকে আসে ৯৫ রান। তামিমও এগিয়ে যাচ্ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু হঠাৎ মনঃসংযোগ হারিয়ে কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নিয়াল ও’ব্রায়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। দুই জনে মিলে দ্রুত রান তুলে এগিয়ে যান জয়ের দিকে। তবে দ্রুত ম্যাচ করতে গিয়ে ফিরে যান সাব্বির। আগের দুই ম্যাচে শূন্য ও ১ রানে ফেরা সাব্বির এ ম্যাচের করেন ৩৫ রান। বাকিটুকু মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয় এনে দেয়া সৌম্য ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।



অন্যান্য খেলা

ভিক্টোরিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৩৬। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। শেষ ওভারে উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটসম্যান মইনুল ইসলাম; শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আবু সায়েমকে ফিরিয়ে দিলেন নিহাদুজ্জামান। তবে তিনটি রান সংগ্রহ হয়ে গেলো ভিক্টোরিয়ার।

শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। উইকেটে মইনুল আর মাহবুবুল আলম। নাটকীয়তা তখনও যে বাকি ছিল! শেষ বলে দুই রান নিতে পারলেন না মইনুল। উল্টো হয়ে গেলেন রানআউট। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির পরিসমাপ্তিটা হলো অতি নাটকীয়। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে মাত্র ১ রানের জয়ে মেতে উঠলো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয়ের জন্য ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল রুবেল মিয়া এবং উত্তম সরকার। ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। যদিও ৬১ বলে ২৬ রান করে আউট হন রুবেল মিয়া। উত্তম সরকার করেন ৫৩ বলে ৪৯ রান।

দুই ওপেনারের পর আর কোনো জুটি ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। অরুণ কার্তিক ২২, শফিউল হায়াত ২৪ রান করে আউট হন। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মইনুল ইসলাম এবং ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবু সায়েমের দৃঢ়তায় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ৩১ বলে ৩৪ রান করে ভিক্টোরিয়ার জয় প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন সায়েম।

কিন্তু শেষ ওভারের ৫ম বলে নিহাদুজ্জামানের বলে কাজী কামরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সায়েম ফেরার পর জয়ের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায়। শেষ বলে মইনুল রানআউট হওয়ার পর পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।

এর আগে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভিক্টোরিয়া। ভারতীয় ক্রিকেটার মানভিন্দর বিসলার ৮৭ বলে ৭৮ রানের ওপর ভর করে ৪৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৩৫ রানের সংগ্রহ পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৩৮ রান করেন মায়শুকুর রহমান। ৪২ বলে ৩৫ রান করেন অলক কাপালি। ২২ বলে ২৬ রান করেন মিজানুর রহমান।

এই ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স মনির হোসেন। ধিমান ঘোষ, নিহাদুজ্জামান এবং ইফতিখার সাজ্জাদের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

শেষ বলে হার সাকিব-তামিমদের

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

মিয়ানমারকে হারিয়ে রোলবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ


রোলবল বিশ্বকাপে জয়রথে রয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। পুল ডি-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আসিফরা।

রোববার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে মিয়ানমারকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করেন হৃদয়।

এ নিয়ে রোলবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেরা টানা তিন জয় পেলো। হংকংকে ১৯-১ ব্যবধানে উড়িয়ে চতুর্থ আসর শুরু করা আসিফরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-২ ব্যবধানে।

 

যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি

জাতীয় যুব হকিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বিকেএসপি। অগ্রণী ব্যাংক ২৬তম জাতীয় যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় যুব হকিতে ২৬ আসরের মধ্যে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে বিকেএসপি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। শিক্ষা বোর্ডের কপালটা খারাপই বলতে হবে। সেই ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ ঢাকা জেলার সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ৩৪ বছর পর ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না।

এদিন ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সোহানুরের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ২৮ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেবাশীষ। ২৯ ও ৩৭ মিনিটে পরপর দুই গোল করেন মোহাম্মদ মোহসিন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই ৫-০ করেছেন সোহানুর।

সোহানুর ৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল, পাবনার এই তরুণের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা শফিউল আলম।

জাতীয় যুব হকিতে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামের সঙ্গেই যা একটু লড়তে হয়েছে বিকেএসপিকে। কিন্তু বাকি দলগুলোর সঙ্গে খেলেছে একচেটিয়া।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।
 
শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।
 
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।
 
Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।
 
মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।
 
 কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
 
সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
 
পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২
 

ফাইনালে সানিয়া মির্জা

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো সানিয়া মির্জার। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন ভারতের এই টেনিস সেনসেশন। ক্রোয়েশিয়ান পার্টনার ইভান ডডিজকে সঙ্গে নিয়ে অজি জুটি সামান্থা স্টোসুর ও স্যাম গ্রোথকে ৬-৪, ২-৬, ১০-৫ সেটে হারিয়ে মিক্সড ডাবলসের ফাইনাল নিশ্চিত করেন সানিয়া।   

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সানিয়া-ইভানরা প্রথম সেটে জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েন সানিয়ারা। শেষ সেটে তুল্যমূল্য লড়াই চলে। ম্যাচ গড়ে টাইব্রেকারে। সেখানে ১০–৫ গেমে জয়ী ইন্দো-ক্রোয়েশিয়ান জুটি । সেমি ফাইনালের এই লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সানিয়া তার ক্যারিয়ারে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন এক ধাপ দূরে।

সেমিফাইনালের অন্য এক লড়াইয়ে এলিনা সিতোলিনা ও ক্রিস গুসিয়ান জুটির সামনে নামছে আবিগেল স্পিয়ার্স জুয়ান সেবেস্তিয়ান ক্যাবেল। এদের মধ্যে আজ যে জুটি জিতবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলবেন সানিয়া ও ডডিজ।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

Go Top