রাত ৮:৪০, শুক্রবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে দেখা যেতে পারে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল থেকে এমনটাই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের গত আসরে খেলেছিল সাত দল। এবারের আসরে দল বেড়ে হচ্ছে আটটি। এক আসর পর নতুন মালিকানায় বিপিএলে ফিরছে সিলেট। বিপিএলের তৃতীয় আসরে অংশ নেয়া ছয়টি দল থেকে চতুর্থ আসরে বাদ দেয়া হয় সিলেট রয়্যালসকে। মালিকানা বদলে বিপিএলের গেল আসরে ফিরে আসে প্রথম দুই আসরে অংশ নেয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ও খুলনা। তবে, এক আসর পর নতুন মালিকানায় ফিরছে সিলেট।

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বিপিএল শুরু হলেও এরইমধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দল গোছাতে। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানিয়েছেন, দল বাড়ার ফলেই আইকন খেলোয়াড়ও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে যাদের পারফরম্যান্স ভালো, তাদেরই আইকন হিসেবে বিবেচনা করছি আমরা। এই বিবেচনায় নতুন আইকন মোস্তাফিজুর রহমানই হবেন।’

২০১৫ আসরে মোস্তাফিজ খেলেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসে। ইনজুরি থাকার কারণে গত আসরে ঢাকার হয়ে মাঠে নামতে পারেননি।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সূত্রে জানা গেছে, আইকন হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অফফর্মে থাকায় সৌম্য সরকারের পরিবর্তে ইমরুল কায়েসকে আইকন করা হতে পারে। এদিকে, কুমিল্লা বিপিএলের নিয়ম মেনেই পুরোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে চারজনকে রেখে দিতে ইচ্ছুক। সেক্ষেত্রে তারা বেছে নেবে ইমরুল, সাইফুদ্দিন, লিটন দাসকে। মাশরাফিকে ছেড়ে দিলেও ইমরুলকে ছাড়বে না দলটি। তাই, আইকন হিসেবে ইমরুলের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করবে কুমিল্লা। কারণ, ইতোমধ্যেই কুমিল্লা আইকন হিসেবে তামিম ইকবালকে দলে টেনেছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে প্লেয়ার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। নভেম্বরের ৪ তারিখ মাঠে গড়াবে বিপিএলের পঞ্চম আসরটি। তার দুইদিন আগে আসন্ন আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

তামিমের দলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নায়করা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আইকন ক্রিকেটার হিসেবে বেছে নিয়েছে দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। একই সঙ্গে দলে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা জয়ের দুই নায়ক হাসান আলি আর ফখর জামানকে।

কুমিল্লা নিজেদের গুছিয়ে নিতে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে।

তামিমের সাথে দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারকে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করে ফেলেছে কুমিল্লা। গতবারের মতো এবারো দেশের আরেক তারকা ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে রেখে দিচ্ছে।

বিপিএলের গত দুই মৌসুমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ২০১৫ আসরে শিরোপাও জিতে নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে সুবিধা করতে পারেনি পরের আসরে। এবার নতুন আইকন তামিম ইকবালকে নিয়ে এগুতে চায় দলটি।

হারানো মুকুট ফিরে পেতে দলটি এবার টেনে নিয়েছে আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী, পাকিস্তানের সেরা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক, শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো, পাকিস্তানের ফাহিম রহমান, ইমরান খান জুনিয়রকে। আছেন পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিরো ফাস্ট বোলার হাসান আলি, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ফখর জামানও।

ইংল্যান্ডের মাটিতে গত মাসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিততে দারুণ অবদান রাখেন পেসার হাসান আলি। তিনি ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। আর ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের মঞ্চে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে প্রথমবার এই মেগা ইভেন্ট জিততে সাহায্য করেছিলেন ওপেনার ফখর জামান।

ভিক্টোরিয়ান্সের সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই দুই নায়কই এবার কুমিল্লার শিবিরে যোগ দেবেন। আর এটাই হতে যাচ্ছে তাদের জন্য প্রথম বিদেশি কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফখর জামানের ওয়ানডে অভিষেক হয়। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ১১৪ রানের নায়োকোচিত ইনিংস খেলেছিলেন। পুরো আসরে করেছিলেন ২৫২ রান। আর হাসান আলি ফাইনালে ৩ উইকেটসহ পুরো টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

বিপিএল একাদশে ফিরতে পারে পাঁচ বিদেশি

প্রথম দুই আসরে একাদশে পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৫ ও ২০১৬ এডিশনে নিয়ম পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের ইভেন্ট সামনে রেখে ইস্যুটি নিয়ে ভাবছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

একাদশে পাঁচজন বিদেশি খেলোনোর সুযোগ ফিরিয়ে আনা হবে নাকি চারজনই রাখা হবে সে বিষয়ে খুগ শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। জানা যায়, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এক সাক্ষাৎকারে লিগ সেক্রেটারি ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ‘একাদশে চারজন অথবা পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

আগামী ৪ নভেম্বর বিপিএলের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চূড়ান্ত দল গোছানোর জন্য প্লেয়ার ড্রাফট হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। এবার শিরোপা লড়াইয়ে আটটি টিম অংশ নিচ্ছে। এক সিজনের বিরতিতে ফিরছে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি। তিন ভেন্যু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মোট ৬০টি ম্যাচ উপভোগ করবেন দর্শকরা।

এই বিভাগের আরো খবর

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ডেনিস লিলি এখনো জ্বলন্ত নক্ষত্র

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গতি দিয়ে যারা ঝড় সৃষ্টি করেছেন তাদের মাঝে অন্যতম হলেন পেস বোলার ডেনিস লিলি।

৭০ এর দশকে তিনিই ছিলেন ফাস্ট বোলিং এর একমাত্র রাজা। যেমন গতি তেমন সুইং, এই দুইয়ে মিলে ডেনিসের বল খেলতে যেন ব্যাটসম্যানদের প্রায়ই চোখ ছানাবড়া হয়ে যেত। তাই তো অনেকের কাছে এখনো ডেনিস লিলিই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পেসার।

অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই তুলে নেন পাঁচ উইকেট! বর্তমানে পাঁচ উইকেট নেওয়া রীতিমতো পানসে হয়ে গেলেও সে সময় এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়াটা ছিল অনেকটা অকল্পনীয়। ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল যেন একদম স্বপ্নের মতো। দুর্দান্ত ওই শুরুর পর ক্যারিয়ারে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ডেনিসকে। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পদাচারণ হয় এই বোলারের।

বোলিংটা যেন তার একেবারে রক্তে মিশেছিল। তা না হলে মাত্র ৭০ টেস্টেই ৩৫৫ উইকেটের দেখা পাওয়া যে অনেকটা অসম্ভবই বটে। তাছাড়া সত্তরের দশকে ক্রিকেট ছিল এখনকার চেয়ে অনেক বেশি সংকুচিত। তবে এতোকিছুর ভিড়েও সে সময়ে তিনিই ছিলেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের সেরা পেস বোলার। গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের উইকেটে আঘাত হানা যেন তার কাছে ছিল এক প্রকার ছেলেখেলা। তাই তো টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন সে সময়ের বোলারদের মাঝে  সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহায়ক হিসেবেই। সেই সাথে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ম্যাচে ৩৫০ উইকেট নেবার রেকর্ডটিও তার দখলেই। তবে মজার ব্যাপার হলো এতো বছর পরেও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বোলারদের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের তালিকায় তিনি এখনো রয়েছেন তিন নম্বর অবস্থানে। তার আগে রয়েছেন শুধুমাত্র শেন ওয়ার্ন এবং গ্লেন ম্যাকগ্রা।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অনেক অবদানই রেখেছেন পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। সেই সাথে করে গেছেন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রেকর্ডও। ক্যারিয়ারে খেলেছেন কেবল মাত্র ৮৪ টি টেস্ট ম্যাচ,  আর এরই মাঝে ২৪.৩৯ গড়ে তুলে নিয়েছেন ৪২২টি উইকেট! এতো কম ম্যাচ খেলে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যে কি না ছুঁতে পেরেছেন ৪০০ উইকেট সংগ্রহের মাইলফলক।

তার টেস্ট ক্যারিয়ার অর্ধেক অংশ জুড়েই যেন ছিল এশেজ টেস্ট সিরিজ। এশেজে কেবল মাত্র ২৯ টি টেস্ট ম্যাচ খেলবার সুযোগ মিললেও এই ম্যাচগুলোতেই বাজিমাত করেছেন এই গতিমানব। ২৯ টেস্টে  ১৬৭ টি উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত এই টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন এই বোলার। অন্যদিকে ৩৬ ম্যাচে ১৯৫ উইকেট নিয়ে এখানেও শীর্ষে রয়েছেন শেন ওয়ার্ন।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। কেবল মাত্র ২৪ ম্যাচ খেলে ৫০ উইকেট নিয়ে সেসময় গড়েছিলেন দ্রুততম অর্ধশত উইকেট নেবার রেকর্ড। বর্তমানে ১৯ ম্যাচে পঞ্চাশটি উইকেট নিয়ে অজন্তা মেন্ডিস রয়েছেন সবার উপরে। অন্যদিকে তিনি অবস্থান করছেন ঠিক তিন নম্বরে। দ্রুততম শতটি উইকেট নেবার তালিকাতেও এখন পর্যন্ত তিন নম্বরে অবস্থান করছেন। ৬৩ ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা ১০৩! তবে এক দিক দিয়ে তিনি রয়েছেন সবার উপরে। আর এটি হলো ওয়ানডেতে সর্বপ্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি তার দখলেই।

পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ার যেন নিজের রঙ তুলি দিয়েই রঙিন করে সাজিয়েছিলেন সাদাকালো যূগের এই পেসার। আজ এই রঙিন ক্রিকেটারের ৬৮ তম জন্মবার্ষিকী।  ১৯৪৯ সালের আজকের দিনটায় অর্থাৎ ১৮ জুলাই অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহন করেছিলেন এই পেসার। জন্মদিনে তাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এই বিভাগের আরো খবর

স্পিনে নতুন চমক দেখাতে চান ইয়াসির

পাকিস্তান দলে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল ও কার্যকরী স্পিনার ইয়াসির শাহ। ঘূর্ণি বলের জাদুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের প্রায়ই বোকা বানাতে দেখা যায় তাকে। নিজের স্পিন বলে আরও রহস্য যোগ করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এ লেগ স্পিনার।

বর্তমানে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে খেলছেন ইয়াসির। সেখানে বোলিং নিয়ে নিজের নতুন প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন ইয়াসির। ইংল্যান্ডে এক সাক্ষাকারে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি অ্যাকশন যথাযথ প্রয়োগের ‍উপর জোর দিচ্ছি। তবে আমি গুগলি বলের উন্নতির জন্যও কাজ করছি। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে দর্শকরা আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল দেখতে পাবেন। বোলিংয়ের উন্নতির জন্য আমি বেশ অনুশীলন করছি।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে ইয়াসির শাহ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের জন্যও আমি মনযোগ দিচ্ছি। খেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ মনে করে আমি এই দক্ষতাটি বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। আমি ভাগ্যবান যে কেন্টের কোচরা আমার বাটিংয়েও সাহায্য করছে।’

ইংলিশ কাউন্টিতে খেলার গুরুত্ব নিয়ে ইয়াসির বলেন, ‘কাউন্টিতে খেলার সুবিধা হচ্ছে এখানে আপনি দক্ষতাকে পরিশুদ্ধ করার অনেক সময় পাবেন। বোলিং মেশিনসহ এখানে ভালো কোচদের পরামর্শ পাওয়া যায়।’

এই বিভাগের আরো খবর



অন্যান্য খেলা

ভিক্টোরিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৩৬। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। শেষ ওভারে উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটসম্যান মইনুল ইসলাম; শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আবু সায়েমকে ফিরিয়ে দিলেন নিহাদুজ্জামান। তবে তিনটি রান সংগ্রহ হয়ে গেলো ভিক্টোরিয়ার।

শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। উইকেটে মইনুল আর মাহবুবুল আলম। নাটকীয়তা তখনও যে বাকি ছিল! শেষ বলে দুই রান নিতে পারলেন না মইনুল। উল্টো হয়ে গেলেন রানআউট। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির পরিসমাপ্তিটা হলো অতি নাটকীয়। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে মাত্র ১ রানের জয়ে মেতে উঠলো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয়ের জন্য ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল রুবেল মিয়া এবং উত্তম সরকার। ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। যদিও ৬১ বলে ২৬ রান করে আউট হন রুবেল মিয়া। উত্তম সরকার করেন ৫৩ বলে ৪৯ রান।

দুই ওপেনারের পর আর কোনো জুটি ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। অরুণ কার্তিক ২২, শফিউল হায়াত ২৪ রান করে আউট হন। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মইনুল ইসলাম এবং ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবু সায়েমের দৃঢ়তায় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ৩১ বলে ৩৪ রান করে ভিক্টোরিয়ার জয় প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন সায়েম।

কিন্তু শেষ ওভারের ৫ম বলে নিহাদুজ্জামানের বলে কাজী কামরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সায়েম ফেরার পর জয়ের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায়। শেষ বলে মইনুল রানআউট হওয়ার পর পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।

এর আগে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভিক্টোরিয়া। ভারতীয় ক্রিকেটার মানভিন্দর বিসলার ৮৭ বলে ৭৮ রানের ওপর ভর করে ৪৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৩৫ রানের সংগ্রহ পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৩৮ রান করেন মায়শুকুর রহমান। ৪২ বলে ৩৫ রান করেন অলক কাপালি। ২২ বলে ২৬ রান করেন মিজানুর রহমান।

এই ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স মনির হোসেন। ধিমান ঘোষ, নিহাদুজ্জামান এবং ইফতিখার সাজ্জাদের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

শেষ বলে হার সাকিব-তামিমদের

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

মিয়ানমারকে হারিয়ে রোলবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ


রোলবল বিশ্বকাপে জয়রথে রয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। পুল ডি-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আসিফরা।

রোববার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে মিয়ানমারকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করেন হৃদয়।

এ নিয়ে রোলবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেরা টানা তিন জয় পেলো। হংকংকে ১৯-১ ব্যবধানে উড়িয়ে চতুর্থ আসর শুরু করা আসিফরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-২ ব্যবধানে।

 

যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি

জাতীয় যুব হকিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বিকেএসপি। অগ্রণী ব্যাংক ২৬তম জাতীয় যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় যুব হকিতে ২৬ আসরের মধ্যে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে বিকেএসপি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। শিক্ষা বোর্ডের কপালটা খারাপই বলতে হবে। সেই ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ ঢাকা জেলার সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ৩৪ বছর পর ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না।

এদিন ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সোহানুরের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ২৮ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেবাশীষ। ২৯ ও ৩৭ মিনিটে পরপর দুই গোল করেন মোহাম্মদ মোহসিন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই ৫-০ করেছেন সোহানুর।

সোহানুর ৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল, পাবনার এই তরুণের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা শফিউল আলম।

জাতীয় যুব হকিতে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামের সঙ্গেই যা একটু লড়তে হয়েছে বিকেএসপিকে। কিন্তু বাকি দলগুলোর সঙ্গে খেলেছে একচেটিয়া।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।
 
শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।
 
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।
 
Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।
 
মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।
 
 কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
 
সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
 
পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২
 

ফাইনালে সানিয়া মির্জা

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো সানিয়া মির্জার। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন ভারতের এই টেনিস সেনসেশন। ক্রোয়েশিয়ান পার্টনার ইভান ডডিজকে সঙ্গে নিয়ে অজি জুটি সামান্থা স্টোসুর ও স্যাম গ্রোথকে ৬-৪, ২-৬, ১০-৫ সেটে হারিয়ে মিক্সড ডাবলসের ফাইনাল নিশ্চিত করেন সানিয়া।   

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সানিয়া-ইভানরা প্রথম সেটে জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েন সানিয়ারা। শেষ সেটে তুল্যমূল্য লড়াই চলে। ম্যাচ গড়ে টাইব্রেকারে। সেখানে ১০–৫ গেমে জয়ী ইন্দো-ক্রোয়েশিয়ান জুটি । সেমি ফাইনালের এই লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সানিয়া তার ক্যারিয়ারে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন এক ধাপ দূরে।

সেমিফাইনালের অন্য এক লড়াইয়ে এলিনা সিতোলিনা ও ক্রিস গুসিয়ান জুটির সামনে নামছে আবিগেল স্পিয়ার্স জুয়ান সেবেস্তিয়ান ক্যাবেল। এদের মধ্যে আজ যে জুটি জিতবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলবেন সানিয়া ও ডডিজ।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

Go Top