বিকাল ৩:১০, রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

লম্বা সফর। বিরুদ্ধ কন্ডিশন। শক্ত প্রতিপক্ষ। ক্রিকেটীয় স্কিলের পরীক্ষা, শারীরিক সামর্থ্যেরও। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা মানসিক। তার কাছে যেটি যুদ্ধের মত। সেই যুদ্ধ জয়ের মন্ত্রও জানা আছে অধিনায়কের। থাকতে হবে পরিবারের মতো। জিততে হবে ম্যাচ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য সবার আগে ইংল্যান্ডে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বুধবার রাতেই দেশ ছাড়বে দল। সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প দিন দশেকের। সেখান থেকে ৭ মে দল যাবে আয়ারল্যান্ডে। খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজে। এরপর জুনের ‍শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সফর।

মঙ্গলবার সফরপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বললেন প্রত্যাশা, সম্ভাবনা নিয়ে। জোর দিলেন মানসিক প্রস্তুতিতে। “আমরা কিভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিব, সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। পুরো দলেরই যেটা থাকা উচিত, সেটা হলো মানসিকভাবে দ্রুত প্রস্তুত হওয়া। যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হতে পারি, তাহলে ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পও তেমন একটা কাজে দিবে না।”

“আমার কাছে মনে হয় না, ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব। তবে যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারি, তাহলে অনেক দূর এগোতে পারব। এখানে মানসিক যুদ্ধটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় দলের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে খেলা; কিছুটা শীত থাকবে, গ্রীষ্মের শুরু যেহেতু। কাজটা সহজ হবে না। ওরা যতটা সহজে পারবে, আমাদের তার চেয়ে দুই গুণ বেশি কষ্ট হবে। সুতরাং আমরা যদি সুস্থ থাকি এবং লড়াইয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে আশা করি, ভালো খেলা হবে।”

মানসিক প্রস্তুতি যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শঙ্কার কারণ আছে যথেষ্টই। বিশেষ করে এরকম লম্বা সফরে। লম্বা সফরের শেষ দিকে মানসিক ক্লান্তি ও শ্রান্তি পেয়ে বসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। মাঠে চেয়ে বেশি টানে দেশ, বাড়ি। এবার কাজটা আরও কঠিন। কারণ মূল লক্ষ্য যেটি, সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই থাকবে শেষ দিকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এক মাসের বেশি হয়ে যাবে বাংলাদেশের সফর!

শঙ্কা যে আছে, সেটি স্বীকার করে নিচ্ছেন মাশরাফিও। তবে সেটিকে জয় করার পথটাও তার জানা। অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপের সাফল্যকে।

“একটা ভয় থাকে, সফরের শেষের দিকে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। আগের ইতিহাস বলে, শেষের দিকে এমন হয়েছে, একটা সেশন খুব ভালো খেলে পরের সেশনটা খুব খারাপ হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে আমরা পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলতে পেরেছিলাম। জয়ের ভেতরে ছিলাম, পয়েন্ট টেবিলে এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে কোয়ার্টারে ওঠার উত্তেজনা ছিল। ক্লান্তি তাই সেভাবে আসেনি। আমার মনে হয়, শুরুর জয়গুলো এই ক্লান্তির ব্যাপারটা দূর করতে পারে। এবার যেটা আয়ারল্যান্ডে করতে পারি। জয়ের ভেতরে থাকলে ভেতরের অনুভূতি খুব ভালো থাকে।”

“আরেকটা ব্যাপার, দলে এক সঙ্গে ১৭-১৮ জন থাকবে, তাদের এক সঙ্গে থাকাটা  গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় সবার সময় মসৃণ যাবে না। তবু সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। বিশেষ করে যাদের খারাপ সময় যাবে, তাদেরকে দলের অংশ করে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের মতো থাকতে হবে। এই দুই ব্যাপার হয়ত আমরা করতে পারি।”

মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল মন্ত্রই ছিল দলীয় ঐক্য। এবার মাশরাফির নেতৃত্বের আরও একটি পরীক্ষা। অধিনায়ক মাশরাফি জিতলে, জিতে যাবে বাংলাদেশও!

 

মিসবাহর ১ রানের আক্ষেপ

পাকিস্তানকে শতরানের লিড এনে দেওয়া মিসবাহ-উল-হক মাঠ ছেড়েছেন মাত্র ১ রানের জন্য শতক না পাওয়ার হতাশা নিয়ে। জ্যামাইকা টেস্টের চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ।

স্যাবিনা পার্কে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। নাইটওয়াচম্যান দেবেন্দ্র বিশু ও অভিষিক্ত ভিশাল সিং এখনও রানের খাতা খোলেননি। স্বাগতিকরা এখনও পিছিয়ে ২৮ রানে।

৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান সোমবার সকালেই হারায় আসাদ শফিককে। অধিনায়কের সঙ্গে ৮৮ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে লিড এনে দেন সরফরাজ আহমেদ। একবার স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরেন ৫৪ রান করে।

সেখান থেকে টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলে দলকে ১২১ রানের লিড এনে দেন নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নামা মিসবাহ। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতে লিড যায় তিন অঙ্কে। ২১ বল খেলে ১ রান করা অভিষিক্ত আব্বাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানকে ৪০৭ রানে গুটিয়ে দেন রোস্টন চেইস।

পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া মিসবাহ মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অপরাজিত থাকেন ৯৯ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার গ্যাব্রিয়েল ও আলজারি জোসেফ নেন তিনটি করে উইকেট।      

প্রথম ১০ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বোল্ড করেন ইয়াসির। উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া এই লেগ স্পিনার খুব ভুগিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যেই ৫০ রানের চমৎকার এক জুটি গড়েন কাইরন পাওয়েল ও অভিষক্ত শিমরন হেটমায়ার।

২৮ বলে ২০ রান করা হেটমায়ারকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়াসির। দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শাই হোপকে।

আস্থার সঙ্গে খেলে চলা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পাওয়েল ইয়াসিরের শেষ শিকার। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এই লেগ স্পিনারই পঞ্চম দিনে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় হুমকি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৮৬

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৮.৪ ওভারে ৪০৭ (আজহার ১৫, শেহজাদ ৩১, বাবর ৭২, ইউনুস ৫৮, মিসবাহ ৯৯*, শফিক ২২, সরফরাজ ৫৪, আমির ১১, ওয়াহাব ৯, ইয়াসির ৮, আব্বাস ১; গ্যাব্রিয়েল ৩/৯২, জোসেফ ৩/৭২, হোল্ডার ১/৬৫, বিশু ১/১০৬, চেইস ১/৩৭, ব্র্যাথওয়েট ০/২২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ২৮ ওভারে ৯৩/৪ (ব্র্যাথওয়েট ১৪, পাওয়েল ৪৯, হেটমায়ার ২০, হোপ ০, বিশু ০*, ভিশাল ০*; আমির ০/১১, আব্বাস ০/২১, ইয়াসির ৪/৩৩, ওয়াহাব ০/২৪)।

 

আবাহনী থেকে জুয়েল-হেমন্তদের বহিষ্কার বিধিসম্মত নয়

পাঁচ ফুটবলার জুয়েল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, তপু বর্মন, আরিফুল ইসলাম ও শাকিল আহমেদকে আবাহনী লিমিটেডের দেওয়া বহিষ্কারাদেশ বিধিসম্মত নয় বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি।

বাফুফে সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় কোচ শফিকুল ইসলাম মানিককে চট্টগ্রাম আবাহনীর দাবি করা ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত এসেছে কমিটির সভায়।

গত মৌসুমে আবাহনীর ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ে ওই পাঁচ ফুটবলারের দারুণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু এবার তারা দল বদলে প্রিমিয়ার লিগের নতুন দল সাইফ স্পোর্টিংয়ে যোগ দেওয়ার পর তৈরি হয় জটিলতা।

আবাহনী মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত জুয়েল-হেমন্তরা তাদের খেলোয়াড় দাবি করে তাদের এএফসি কাপের ক্যাম্পের জন্য ডাকে। শুরুতে সাড়া দেননি ওই পাঁচ ফুটবলার। পরে তারা এলেও আবাহনী তাদের বহিষ্কার করে।

দুই পক্ষের কথা শোনার পর বাফুফের প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির সিদ্ধান্তে বলা হয়, তপু বর্মন, শাকিল আহমেদ, জুয়েল রানা, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ও আরিফুল ইসলামকে আবাহনীর বহিষ্কার করা সিদ্ধান্ত ফিফার মৌসুম বিষয়ক নিয়ম ও আইন অনুযায়ী ‘বিধিসম্মত’ হয়নি।

চট্টগ্রাম আবাহনীর অভিযোগ ছিল, মৌসুমের মাঝ পথে মানিক ক্লাব ছেড়ে চুক্তি ভেঙেছেন। তার নেওয়া অগ্রিম ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে।

কমিটি ক্লাবটির পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে জানায়, আগামী ৯ মের মধ্যে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ওই টাকা ফেরত না দিলে মানিক আসন্ন ফুটবল মৌসুমে কোনো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

সাংবাদিকদের মানিক বলেন, “আমি তাদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলাম কিন্তু সাত মাস কাজও করেছি। আমার চুক্তি ছিল ১৭ লাখ টাকার। বাফুফের সিদ্ধান্ত এখনও জানি না। চিঠি পেলে আবেদন করব আমি।”

এছাড়া জামাল ভূইয়ার দল ছাড়া নিয়ে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের তোলা অভিযোগ নিয়ে কমিটি জানায়, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বরে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্লাবটির অভিযোগ বিধিসম্মত নয়।

 

স্বাধীনতা কাপ কাবাডিতে পুলিশের টানা তৃতীয় জয়

স্বাধীনতা কাপ কাবাডির চূড়ান্ত পর্বে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। দিনাজপুর জেলাকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব শুরু করা দলটি সোমবার হারিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মৌলভীবাজার জেলাকে।

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দারুণ লড়াইয়ের পর ২৯-২৬ পয়েন্টে সেনাবাহিনীকে হারানো পুলিশ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মৌলভীবাজার জেলার বিপক্ষে জেতে ১২ পয়েন্টে।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৭৪-১৫ পয়েন্টে দিনাজপুরকে হারায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ জেল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২৪-২৪ পয়েন্টে ড্র করে। পরে দিনের ষষ্ঠ ম্যাচে বরিশাল জেলাকে ৭৭ পয়েন্টের ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় বিজিবি।

এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২৭ পয়েন্টের ব্যবধানে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে জিতেছে।

 

‘রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি ছিল বড় ধাক্কা’

করিম বেনজেমার বদলি নামার মিনিট চার পর গোল করলেন হামেস রদ্রিগেস। বার্সেলোনার জয়ের আশাটাও পড়ে গেল শঙ্কায়। লিওনেল মেসির শেষ মুহূর্তের গোলে ক্লাসিকোয় জেতার পর লুইস এনরিকে জানালেন, রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় গোলটি তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল।

গত রোববার রাতে ক্লাসিকোয় নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে কাসেমিরোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। দুর্দান্ত গোলে মেসি সমতায় ফেরানোর পর বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন ইভান রাকিতিচ। কিন্তু ৮৬তম মিনিটে রদ্রিগেস স্কোরলাইন করেন ২-২। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য মূল্যবান ৩ পয়েন্ট এনে দেন মেসি।

“মাদ্রিদের দ্বিতীয় গোলটি ছিল (আমাদের জন্য) বিরাট ধাক্কা কিন্তু ছেলেরা শেষ শ্বাসটুকু নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এটা ছিল আমাদের চাওয়া মতো আনন্দময় সমাপ্তি। শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত ছেলেরা যেভাবে লড়াই করেছে, তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি উচ্ছ্বসিত।”

লা লিগার শেষ দিকে এসে দুই দলের পয়েন্টই এখন ৭৫। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে শীর্ষে উঠলো এক ম্যাচ বেশি খেলা বার্সেলোনা। এনরিকের মনে হচ্ছে লিগ শিরোপার লড়াই জমজমাটই হবে।

“আমরা এখন শীর্ষে কিন্তু মাদ্রিদের হাতে এখনও এক ম্যাচ আছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিরোপার জন্য জমাট লড়াই হবে। কিন্তু আমরা এখানে যে ফলের জন্য এসেছিলাম, সেটা পেয়েছি।”

মৌসুম শেষ করে বার্সেলোনার কোচের পদ ছাড়বেন এনরিকে। চলতি মৌসুমে কাতালান দলটি উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। এনরিকে অবশ্য ক্লাসিকো জয়ের আনন্দে সব ভুলতে চাইছেন। বোধ করছেন সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার তৃপ্তি।

“এই মৌসুমটা পাঁচটা মৌসুমের মতো (দীর্ঘ) মনে হচ্ছে। অনেক কিছুই ঘটেছে; ভালো কিছু, আবার ভালো কিছুও না, কিন্তু বিষয়গুলো আমি এরই মধ্যে ভুলে গেছি।” চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউভেন্তুসের কাছে হেরে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও দর্শকরা যেভাবে বার্সেলোনাকে সমর্থন দিয়েছে তা এই ক্লাসিকোতে জেতার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান এনরিকে।

 



অন্যান্য খেলা

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

মিয়ানমারকে হারিয়ে রোলবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ


রোলবল বিশ্বকাপে জয়রথে রয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। পুল ডি-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আসিফরা।

রোববার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে মিয়ানমারকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করেন হৃদয়।

এ নিয়ে রোলবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেরা টানা তিন জয় পেলো। হংকংকে ১৯-১ ব্যবধানে উড়িয়ে চতুর্থ আসর শুরু করা আসিফরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-২ ব্যবধানে।

 

যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি

জাতীয় যুব হকিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বিকেএসপি। অগ্রণী ব্যাংক ২৬তম জাতীয় যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় যুব হকিতে ২৬ আসরের মধ্যে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে বিকেএসপি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। শিক্ষা বোর্ডের কপালটা খারাপই বলতে হবে। সেই ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ ঢাকা জেলার সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ৩৪ বছর পর ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না।

এদিন ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সোহানুরের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ২৮ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেবাশীষ। ২৯ ও ৩৭ মিনিটে পরপর দুই গোল করেন মোহাম্মদ মোহসিন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই ৫-০ করেছেন সোহানুর।

সোহানুর ৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল, পাবনার এই তরুণের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা শফিউল আলম।

জাতীয় যুব হকিতে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামের সঙ্গেই যা একটু লড়তে হয়েছে বিকেএসপিকে। কিন্তু বাকি দলগুলোর সঙ্গে খেলেছে একচেটিয়া।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।
 
শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।
 
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।
 
Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।
 
মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।
 
 কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
 
সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
 
পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২
 

ফাইনালে সানিয়া মির্জা

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো সানিয়া মির্জার। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন ভারতের এই টেনিস সেনসেশন। ক্রোয়েশিয়ান পার্টনার ইভান ডডিজকে সঙ্গে নিয়ে অজি জুটি সামান্থা স্টোসুর ও স্যাম গ্রোথকে ৬-৪, ২-৬, ১০-৫ সেটে হারিয়ে মিক্সড ডাবলসের ফাইনাল নিশ্চিত করেন সানিয়া।   

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সানিয়া-ইভানরা প্রথম সেটে জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েন সানিয়ারা। শেষ সেটে তুল্যমূল্য লড়াই চলে। ম্যাচ গড়ে টাইব্রেকারে। সেখানে ১০–৫ গেমে জয়ী ইন্দো-ক্রোয়েশিয়ান জুটি । সেমি ফাইনালের এই লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সানিয়া তার ক্যারিয়ারে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন এক ধাপ দূরে।

সেমিফাইনালের অন্য এক লড়াইয়ে এলিনা সিতোলিনা ও ক্রিস গুসিয়ান জুটির সামনে নামছে আবিগেল স্পিয়ার্স জুয়ান সেবেস্তিয়ান ক্যাবেল। এদের মধ্যে আজ যে জুটি জিতবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলবেন সানিয়া ও ডডিজ।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

‘আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন দরকার’

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। তবে এখনই তাদের আশা শেষ হয়ে যায়নি। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারলে মেসির দল টিকিট পাবে বিশ্বযজ্ঞের। তার জন্য আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন চান মারিও কেম্পেস।

ইন্টার মিলানের হয়ে আলো ছড়ানো মাওরো ইকার্দিকে আর্জেন্টিনা দলে চান ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কেম্পেস। বলেন, বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এই মুহূর্তে দলে পরিবর্তন দরকার। দলের ভেতরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। আমরা ইকার্দিকে নিয়ে কতটা কথা বলছি? মাঠে সে কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাই বড় বিষয়। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাতামাতি করা ঠিক নয়।’

লিওনেল মেসির বন্ধু ম্যাক্সি লোপেজের বউকে পটিয়ে বিয়ে করেছেন ইকার্দি। এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনা ও ইতালিতে একের পর এক সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন ইকার্দি। সতীর্থের বউকে পটিয়ে বিয়ে করায় আর্জেন্টাইনদের চোখে তিনি এখন খলনায়ক।

আর দিয়েগো ম্যারাডোনা তো তাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘মৃত মানুষ’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে। অনেকেরই ধারণা, এই কাণ্ডে জড়ানোয় অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্বেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে সুযোগ হচ্ছে না ইকার্দির।

Go Top