রাত ১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ খেলাধুলা

গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঈদ করে পরিবার নিয়ে ঢাকা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে তার এক স্বজন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে কাশিয়ানি থানার ওসি একেএম আলী নূর জানান। দুর্ঘটনার পর রাজ্জাক ও পরিবারের সদ্যসরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাত ১২টার দিকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন বলে সে সময় তার সঙ্গে থাকা বেয়াই  আব্দুল্লাহ বনি জানিয়েছেন।

তিনি  বলেন,  রাজ্জাকের বাড়ি ফকিরহাটের সৈয়দপাড়া গ্রামে। ঈদ করতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।  দুপুরের পর স্ত্রী ইশরাত জাহান অনি, দুই বছরের ছেলে আদিয়ান এবং এক বোন ও দুই ভাগ্নিকে নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হন।

“রাজ্জাক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।  বিকাল ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে গাড়ির চাকা পাংচার  হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পানিতে পড়ে।”

তখন পুলিশ সবাইকে উদ্ধার করে বলে ওসি জানান। গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে জানিয়ে রাজ্জাকের বেয়াই বনি বলেন, ওই গাড়িতে থাকা সবাই কম-বেশি আহত হন। রাজ্জাকের কয়েক জায়গায় ছিলে গেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে পরিচিত মুখ বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাক এক দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।  ১৫৩টি ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট রয়েছে তার। এছাড়া ১২ টেস্টে ২৩ উইকেট এবং ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ উইকেট পান রাজ্জাক।

২০০৪ সালে অভিষেক হওয়া রাজ্জাক সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন ২০১৪ সালের অগাস্টে।

 

ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার : দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।   

এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।

৩৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।

ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।

এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।

ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।


পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলিংয়ে ভারত

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলদা উত্তেজনা। আর এ ম্যাচ যদি হয় ফাইনাল তাহলে তো কথাই নেই। প্রায় এক দশক পর কোনো আইসিসি ইভেন্টে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে মুখোমুখি ভারত এবং পাকিস্তান। আর ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। লন্ডনের ওভালে যে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।

আইসিসি ট্রফিতে ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগে এই ইংল্যান্ড থেকেই তারা শিরোপা জিতে নিয়ে গিয়েছিল। সেবার অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবার বিরাট কোহলি। কিন্তু মন-মানসিকতা, আগ্রাসী মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি ভারতীয় দলটির। বরং, ব্যাট হাতে ভারতের এক একজন যেন এক একটি দল। একাই একশো। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ে ধ্বস নামানোর সব ধরনের রসদই মজুত রয়েছে ভারতীয় দলে। যুবরাজ, ধোনি, পান্ডিয়া, কেদার যাদব থেকে শুরু করে জসপ্রিত বুমরাহ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারেন।

ফাইনালে এবার যে পাকিস্তানের মুখোমুখি ভারত, সেই পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই একবার বিধ্বস্ত করেছে তারা। তার ওপর আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের যে রেকর্ড, তাতে চোখ বন্ধ করে যে কেউ বিরাট কোহলিদের পক্ষে বাজি ধরতে পারেন। আইসিসি ইভেন্টে ১৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। বিশ্বকাপে ৬ বার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ বার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২বার জিতেছে পাকিস্তান। ২বার জিতেছে ভারত।

কিন্তু পাকিস্তান যে পুরোপুরি আনপ্রেডিক্টেবল। গ্রুপ পর্বে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হোঁচট খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো এবং সেখান থেকে ফাইনালে উঠে আসা, কে বাতিলের খাতায় রাখতে সাহস পাবে পাকিস্তানকে! দলটির বোলাররা যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, তাতে করে ভারতীয় ব্যাটিংকে তারাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার তো তার বোলারদের ওপর আস্থা রেখে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ব্যাটিংকে থামানোর কৌশল জানা হয়ে গেছে তার।

ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার), কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, জাস্প্রিত বুমরাহ।

পাকিস্তান একাদশ
আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি, জুনাইদ খান।

ফাখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ৩ রানেই। আর সেই সংখ্যাটা রূপ দিলেন তিন অঙ্কে। ভাগ্যে থাকলে যা হয়! নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান ফাখর জামান। জসপ্রিত বুমরাহর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে ফাখর জামান আউট হয়েছেন ভেবে হাঁটা শুরু করেন।

আম্পায়ার বলটি চেক করতে গিয়ে দেখেন অবৈধ। মানে, নো বল। আর তাতে জীবন পেয়ে যান ফাখর জামান। পাকিস্তানি এই ওপেনার জীবন পেয়ে সুযোগটা কাজে লাগালেন। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি।

৩১তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন ফাখন জামান। ৯২ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে রয়ে-সয়ে ব্যাট করেছেন। ৬১ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান করেন। যেখানে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় পঞ্চাশ রান ফাখর তুলেছেন ঝড়ো গতিতেই। মাত্র ৩১ বলেই এ রান তোলেন। এতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২টি বিশাল ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থেমেছেন ফাখর। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানি এই ওপেনার।

পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। আর ভারতের বিপক্ষে হেরে ১ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েও র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে রয়েছে মাশরাফিবাহিনী।

তবে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে। এ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান জিতলেই ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে সাতে চলে যাবে পাকিস্তান।

তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে এক রেটিং পয়েন্ট কমবে পাকিস্তানের। ৯২ পয়েন্ট নিয়ে আটে নেমে যাবে দলটি। এদিকে ৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাতে উঠে আসবে বর্তমানে অষ্টম অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা। অপরিবর্তিত থাকবে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এবং র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান। তাই ফাইনালে পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র্যা১ঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা অন্য সাতটি দল। আর ভারতের কাছে হেরে ১ পয়েন্ট খোয়ালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের।



অন্যান্য খেলা

ভিক্টোরিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৩৬। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। শেষ ওভারে উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটসম্যান মইনুল ইসলাম; শেষ ২ বলে প্রয়োজন ৫ রান। শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আবু সায়েমকে ফিরিয়ে দিলেন নিহাদুজ্জামান। তবে তিনটি রান সংগ্রহ হয়ে গেলো ভিক্টোরিয়ার।

শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। উইকেটে মইনুল আর মাহবুবুল আলম। নাটকীয়তা তখনও যে বাকি ছিল! শেষ বলে দুই রান নিতে পারলেন না মইনুল। উল্টো হয়ে গেলেন রানআউট। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির পরিসমাপ্তিটা হলো অতি নাটকীয়। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে মাত্র ১ রানের জয়ে মেতে উঠলো ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা।

বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে জয়ের জন্য ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল রুবেল মিয়া এবং উত্তম সরকার। ৬৫ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। যদিও ৬১ বলে ২৬ রান করে আউট হন রুবেল মিয়া। উত্তম সরকার করেন ৫৩ বলে ৪৯ রান।

দুই ওপেনারের পর আর কোনো জুটি ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। অরুণ কার্তিক ২২, শফিউল হায়াত ২৪ রান করে আউট হন। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মইনুল ইসলাম এবং ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা আবু সায়েমের দৃঢ়তায় জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ৩১ বলে ৩৪ রান করে ভিক্টোরিয়ার জয় প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছিলেন সায়েম।

কিন্তু শেষ ওভারের ৫ম বলে নিহাদুজ্জামানের বলে কাজী কামরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সায়েম ফেরার পর জয়ের স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যায়। শেষ বলে মইনুল রানআউট হওয়ার পর পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভিক্টোরিয়াকে।

এর আগে টস জিতে ব্রাদার্সকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় ভিক্টোরিয়া। ভারতীয় ক্রিকেটার মানভিন্দর বিসলার ৮৭ বলে ৭৮ রানের ওপর ভর করে ৪৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৩৫ রানের সংগ্রহ পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৩৮ রান করেন মায়শুকুর রহমান। ৪২ বলে ৩৫ রান করেন অলক কাপালি। ২২ বলে ২৬ রান করেন মিজানুর রহমান।

এই ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিক করেছেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স মনির হোসেন। ধিমান ঘোষ, নিহাদুজ্জামান এবং ইফতিখার সাজ্জাদের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

শেষ বলে হার সাকিব-তামিমদের

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

মিয়ানমারকে হারিয়ে রোলবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ


রোলবল বিশ্বকাপে জয়রথে রয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। পুল ডি-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আসিফরা।

রোববার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে মিয়ানমারকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করেন হৃদয়।

এ নিয়ে রোলবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেরা টানা তিন জয় পেলো। হংকংকে ১৯-১ ব্যবধানে উড়িয়ে চতুর্থ আসর শুরু করা আসিফরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-২ ব্যবধানে।

 

যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি

জাতীয় যুব হকিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বিকেএসপি। অগ্রণী ব্যাংক ২৬তম জাতীয় যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় যুব হকিতে ২৬ আসরের মধ্যে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে বিকেএসপি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। শিক্ষা বোর্ডের কপালটা খারাপই বলতে হবে। সেই ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ ঢাকা জেলার সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ৩৪ বছর পর ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না।

এদিন ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সোহানুরের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ২৮ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেবাশীষ। ২৯ ও ৩৭ মিনিটে পরপর দুই গোল করেন মোহাম্মদ মোহসিন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই ৫-০ করেছেন সোহানুর।

সোহানুর ৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল, পাবনার এই তরুণের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা শফিউল আলম।

জাতীয় যুব হকিতে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামের সঙ্গেই যা একটু লড়তে হয়েছে বিকেএসপিকে। কিন্তু বাকি দলগুলোর সঙ্গে খেলেছে একচেটিয়া।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।
 
শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।
 
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।
 
Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।
 
মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।
 
 কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
 
সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
 
পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২
 

ফাইনালে সানিয়া মির্জা

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো সানিয়া মির্জার। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন ভারতের এই টেনিস সেনসেশন। ক্রোয়েশিয়ান পার্টনার ইভান ডডিজকে সঙ্গে নিয়ে অজি জুটি সামান্থা স্টোসুর ও স্যাম গ্রোথকে ৬-৪, ২-৬, ১০-৫ সেটে হারিয়ে মিক্সড ডাবলসের ফাইনাল নিশ্চিত করেন সানিয়া।   

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সানিয়া-ইভানরা প্রথম সেটে জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েন সানিয়ারা। শেষ সেটে তুল্যমূল্য লড়াই চলে। ম্যাচ গড়ে টাইব্রেকারে। সেখানে ১০–৫ গেমে জয়ী ইন্দো-ক্রোয়েশিয়ান জুটি । সেমি ফাইনালের এই লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সানিয়া তার ক্যারিয়ারে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন এক ধাপ দূরে।

সেমিফাইনালের অন্য এক লড়াইয়ে এলিনা সিতোলিনা ও ক্রিস গুসিয়ান জুটির সামনে নামছে আবিগেল স্পিয়ার্স জুয়ান সেবেস্তিয়ান ক্যাবেল। এদের মধ্যে আজ যে জুটি জিতবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলবেন সানিয়া ও ডডিজ।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

Go Top