বিকাল ৩:০৪, রবিবার, ২৬শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ বিশেষ প্রতিবেদন

রাজকুমার নন্দী : ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও এক বছরেও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। কাউন্সিলে অনুমোদিত হলেও প্রকাশ হয়নি বিএনপির গঠনতন্ত্র। পুরোপুরি কার্যকর হয়নি ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি। দলের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিগুলোও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এক বছরেও ডাকা হয়নি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা। শেষ হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। কিন্তু তারপরেও কাউন্সিলের এক বছরের অর্জনে সন্তুষ্ট বিএনপি। তবে এসব কমিটি গঠনে ধীরগতির জন্য বিএনপির ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলাকে অনেকাংশেই দায়ী করছে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও জাসাসের কমিটি দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর কমিটিও যেকোনো দিন ঘোষিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও দেয়া হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের চেয়ারপারসন শিগগিরই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। এরপর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে বেগম জিয়া রাজপথেও নামতে পারেন। সেজন্য দ্রুতই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।

গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দিনই খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পুনর্র্নির্বাচিত হন। এরপর ৩০ মার্চ মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর গত ৬ আগস্ট ঘোষণা করা হয় ৫০২ সদস্যের ‘ঢাউস’ জাতীয় কমিটি। তখন ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে হান্নান শাহ মারা যাওয়ায় তার পদসহ এখন তিনটি পদ খালি রয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কয়েকটি পদও শূন্য হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী কমিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দুইটি, ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক দুইটি এবং যুববিষয়ক সম্পাদকের একটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক এই প্রক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, এটি চলতে থাকে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে। কিছু অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও হয়েছে, বাকিগুলোও খুব শিগগিরই হবে। জেলা সম্মেলন করছি, কমিটিগুলোও হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে-দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন বিএনপির প্রতিকূলে। দলের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিএনপিকে যেভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নির্মুল করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে আমরা যে এখনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় ভিত্তি, বড় অর্জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর দল পুনর্গঠনে নামে বিএনপি। ওই নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তৃণমূল পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে ৮০টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টি জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছে। এদিকে, দলে এখন পর্যন্ত এক নেতার এক পদের বিধানও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে একাধিক পদধারী ৬১ জন নেতা ছিলেন। তারা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পদের পাশাপাশি মহানগর-জেলা-উপজেলা কমিটি অথবা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক নেতা ইতোমধ্যে একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির তৃণমূূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. শাহজাহান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দলে ‘এক নেতার এক পদ নীতি’ কার্যকর শুরু হয়েছে। ১০-১২ জন ছাড়া অন্যরা একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। শিগগিরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

জানা যায়, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। তবে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকায় তিনি এখন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন শেষে ঢাকায় ফিরলেই দলীয় গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র প্রকাশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু একটু সময় লাগছে। আওয়ামী লীগও তো তাদের গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেনি। আশা করছি, আমরা শিগগিরই তা প্রকাশ করতে পারব। এদিকে, বিএনপি এখনো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে ২৬টি উপ-কমিটির কথা রয়েছে। সেখানেও প্রায় ৩০০ নেতার ঠাঁই মিলবে। উপ-কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব কমিটি গঠনে আমরা ইতোমধ্যে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু তা ঘোষণা করা হয়নি। ইতোমধ্যে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে। বাকি কাজও খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।

 

 

পঞ্চগড়ের ২০ হাজার নারী পাথর শ্রমিক, জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : পাথরের জেলা বলে খ্যাত পঞ্চগড়ে প্রতিদিন কাজ করে অর্ধ লক্ষাধিক পাথর শ্রমিক। এদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার নারী পাথর শ্রমিক রয়েছে। পুরুষ শ্রমিকদের সমান কাজ করে তারা পায় অর্ধেক পারিশ্রমিক। তারপরও এনজিও’র ঋণের কিস্তি আর সংসারের তাগিদে তাদের উদয়াস্ত পরিশ্রম করে যেতে হয়। অথচ নদী ও সমতল ভূমি থেকে পাথর তোলার পর বাছাই করাসহ পাথর ভাঙার কাজের জন্য নারী শ্রমিকরাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু এই মজুরিতেই সন্তুষ্ট এখানকার নারী শ্রমিকরা। সারা বছরই তাদের কাজ জোটে। মজুরি একটু কম পেলেও তাদের কোন আপত্তি নেই। এত কিছুর পরও কাজে ফাঁকি দেয়ায় প্রবণতা কম থাকায় পাথর ব্যবসায়ীরা এসকল কাজের জন্য নারী শ্রমিকদেরই বেশি প্রাধান্য দিয়ে আসছে।

পঞ্চগড় জেলার সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার নদী থেকে পাথর উত্তোলন, সমতল ভূমি থেকে পাথর উত্তোলন, বিভিন্ন সাইজের পাথর বাছাইসহ স্থানীয় ও ভারত থেকে আনা পাথর ভাঙার কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পাথর শ্রমিক। এদের প্রায় অর্ধেকই নারী শ্রমিক। পুরুষ শ্রমিকরা মূলত পাথর উত্তোলনের কাজ করে থাকে। পাথর বাছাই ও মেশিনে ভাঙানোর কাজ বেশি করে নারী শ্রমিক। পুরুষ শ্রমিক বিভিন্ন অজুহাতে কাজে ফাঁকি দিলেও নারী শ্রমিক শতভাগই তাদের কাজে মনোযোগী। সকাল ৮টার সময় দুপুরের খাবার নিয়ে কাজে আসে তারা। দুপুরের এক ঘন্টার বিরতির মধ্যে বাড়ি থেকে আনা খাবার সেরে সামান্য আয়েশ করেই আবার কাজে লেগে পড়ে। ফাল্গুনের চৈত্রের আগুন ঝরা রোদে তারা কাজ করে চলে অবিচলভাবে। সূর্যাস্তের সামান্য আগে মজুরির টাকা হাতে নিয়ে বাড়িতে ফিরে তারা। প্রতিদিন তাদের কাজ করতে হয় প্রায় ১০ ঘন্টা বা তারও বেশি সময়। অধিকাংশ নারী শ্রমিকের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। রোদ-বৃষ্টিতে বসার মত কোন জায়গা নেই, নেই টয়লেটের ব্যবস্থাও। এ যুগে এসেও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তাদের যেতে হয় পাশের ঝোপঝাড় বা খানাখন্দকে। অনেক নারী শ্রমিক তাদের শিশু সন্তানকে সাথে করে আনলেও তাদের থাকার মত কোন ব্যবস্থা নেই।

এনিয়ে কথা বললে তেঁতুলিয়ার খয়খাটপাড়া গ্রামের পাথর শ্রমিক আফছানা আক্তার (২৪) বলেন, আমার ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়। সংসারের অভাবের তাড়নায় বিয়ের দুই বছর পর থেকেই আমি পাথর ভাঙা মেশিনে শ্রমিকের কাজ করে আসছি। সকাল ৮টায় কাজ শুরু করে শেষ করি বিকাল ৬টায়। মাঝখানে এক ঘন্টার খাবার বিরতি দেয় তারা। মেশিন চালু করার পর থেকে বন্ধ করা পর্যন্ত কাজের কোন ফুরসত নেই। এখানে পুরুষদের মজুরি ৪শ’ টাকা করে দেয়া হলেও আমাদের দেয়া হয় ২শ’ ৫০ টাকা।

একই উপজেলার তিরনইহাট গ্রামের পাথর শ্রমিক মর্জিনা বেগম (৪৫) বলেন, আমরা নারী শ্রমিকরা সারাদিন যে কাজ করি পুরুষ শ্রমিকরা তা করে না। অথচ আমরা তাদের চেয়ে মজুরি পাই প্রায় অর্ধেক। আমাদের মালিক আমাদের দিয়ে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করলেও আমাদের মজুরি বাড়াতে তাদের কষ্ট হয়। আমি যে মেশিনে কাজ করি সেখানে ১২ জন শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুইজন পুরুষ শ্রমিক। বাকিরা সবই নারী শ্রমিক। পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে আমরা কাজ বেশি করলেও আমাদের পারিশ্রমিক দেয়া হয় তাদের অর্ধেক।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় পাথর ভাঙা মেশিনের মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, আমার সাইডে ১৪ জন শ্রমিক কাজ করে। এদের মধ্যে ১০ জনই নারী শ্রমিক। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করে স্বীকার করে তিনি বলেন, সবাই নারী শ্রমিকের মজুরি কম দেয়। আমি পুরুষ শ্রমিকদের ৪শ টাকা ও নারী শ্রমিকদের ৩শ টাকা করে মজুরি দেই। তার যদি কৃষি জমিতে কাজ করত তাহলে সর্বোচ্চ একশ ৫০ টাকা মজুরি পেত। আবার জমিতে সারাবছর কাজ থাকে না। আমার সাইডে সারাবছরই কাজ চলে। আমার এখানে তারা কাজের নিশ্চয়তা পায়। 

গহনা তৈরির মাঝেই ওদের স্বপ্ন খোঁজা

আলী আজম সিদ্দিকী : গোপি চন্দ্র সরকার ও ভালো রাণী সরকার দম্পতির পেশা ইমিটেশন গহনা তৈরি করা। সকাল ৯টা হতে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত তারা গহনা তৈরি করেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান জয় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। জয়কে তারা ডাক্তার বানাতে চান। গয়না বিক্রি করেই তাদের সংসার চলে। গয়না তৈরির মাঝেই তাদের স্বপ্ন খোঁজা।
সভারের ভাকুর্তা গ্রামে এই গোপি পরিবারের মতো অধিকাংশ বাড়িতেই গহনা তৈরি করা হয়। তামা, পিতল, কাঁসা দিয়ে তারা গহনা তৈরি করেন। গয়না তৈরির মধ্যে তাদের জীবননির্বাহ, গয়না তৈরির মাঝে তাদের স্বপ্ন লুঁকায়িত। ঢাকার গাবতলি থেকে আমিনবাজার পার হলেই হাতের বাম দিকে একটি পুরাতন জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ চোখে পড়ে। ব্রিজটি পার হয়ে মোগরকান্দা। তারপরের পুরোটাই ভাকুর্তা। গ্রামটি ভাকুর্তা, মধ্য ভাকুর্তা এবং হিন্দু ভাকুর্তার সমন্বয়ে গঠিত।

ভাকুর্তাকে বলা হয় গহনা তৈরির গ্রাম। এখানকার বিভিন্ন নকশার গহনা সারা বাংলাদেশে পরিচিত। সরেজমিনে ভার্কুতা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি অনেকগুলো দোকান। এসব দোকানগুলোর কোনটাতে হাতুড়ির ঠুকঠাক শব্দ বাজছে আবার কোনটাতে ক্রেতারা অলংকার দেখছেন। দোকানগুলোতে কানের দুল, চুরি, মনিপুরি বালা, নেকলেস, সিতাহার, গলার চেইন, ঝুমকা, হাতের বালা, চুলের ব্যান্ড, কিপ, আংটি, সিঙ্গারা টায়রা , লহরি সহ ২৫-৩০ ধরনের গয়না পাওয়া যায়। চাইলে নিজের পছন্দমতো ডিজাইন দিয়েও গহনা তৈরি করানো যায়। সুজন সরকার নামে এক দোকানদারের সাথে কথা হয়। তিনি ৮৪ সাল থেকে গয়না তৈরির কাজ করছেন। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, ২০০৩ সালের পর এই ইমিটেশন গয়নার চাহিদা বেড়ে যায়। এখনো বেশ চাহিদা। চাহিদা সম্পর্কে ধনী,মধ্যবিত্ত গরীব সবাই এই গয়না স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করে এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের আকাশচুম্বী দামকে তিনি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

একটি দোকানে মৌচাক থেকে আসা রাকিবুল ইসলাম নামে এক ক্রেতার সাথে কথা হয়। তিনি প্রায়ই এসব দোকান থেকে পাইকারি দরে গয়না কিনেন। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে গয়না কিনে মৌচাকে আমরা কালার করি। তখন বোঝার সাধ্য থাকে না এটা সোনার গয়না নাকি ইমেটিশেন গয়না।’ বাজারে এসব গহনার বেশ চাহিদা বলে তিনি জানান। দোকান পরিদর্শন শেষে এই প্রতিবেদক গ্রামের দিকে রওনা হন। সেখানে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় গহনা তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ। ভাকুর্তা গ্রামে প্রায় হাজার তিনেক গহনার কারিগর আছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। গ্রামের ভেতরে যেয়ে দেখা যায়, প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা গয়না তৈরির কাজে ব্যস্ত। এদের কেউ গয়নার কাঁচামাল জোগান দেন, কেউ ডাইস বানানোর কাজ করেন আবার কেউবা গয়নাগুলো জিংকে ধুয়ে রং বের করেন বলে তারা জানান। গহনা তৈরিতে লাভ সম্পর্কে নারায়ণ কর্মকার নামের একজন জানান, আগে কম লোকজন গয়না তৈরির কাজ করতো। এখন এই কাজে অনেক মানুষ এমনকি মুসলমানেরাও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে লাভ কমে গেছে। গয়না বিক্রির অর্থ দিয়ে অনেক কষ্টে তার পরিবারের ৯ সদস্যের জীবননির্বাহ করতে হয় বলে নারায়ণ কর্মকার জানান। কম লাভেও এই পেশা গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই পেশা বাপ-দাদার ঐতিহ্য। কষ্ট হলেও মরার আগে এই পেশা ছাড়ুম না।’

এদিকে, রাজধানীর নিউমার্কেট স্বর্ণের দোকান গুলোতে গিয়ে সোনার গহনার বর্তমান চাহিদা সম্পর্কে জানবার চেষ্টা করা হয়। স্বর্ণের দোকানদাররা বলেন, স্বর্ণ তো স্বর্ণই। তবে বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কারের  অনেক বেশি দাম ও বর্ধিত কর আরোপের কারণে মানুষ ইমিটেশন গয়নার দিকে ঝুঁকছে। বাধ্য না হলে কেউ সোনার গহনা কিনেনা বলে তারা মতপ্রকাশ করেন। স্বর্ণ অলংকারের ওপর যাকাত থাকার কারণে অনেকে অলংকার কিনে রাখতে চান না বলেও তারা মনে করেন। অন্যদিকে, চাঁদনী চক মার্কেটে গিয়ে ইমিটেশন গয়নার দোাকানগুলোতে ক্রেতাদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মনিরা বেগম নামের মপল ক্রেতা কানের দুল ও চুরি দেখছিলেন। এই অলংকার ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বর্ণালঙ্কারের অনেক দাম। তাছাড়া এই গহনা সব সময় ব্যবহার করা যায় দামও কম।’ বর্তমানে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেও ইমিটেশন গহনা বিক্রি হচ্ছে বলে দোকানদাররা জানান।

ছবির ক্যাপশন : সাভারের ভাকুর্তা গ্রামে গোপি পরিবারের সদস্যদের তামা, পিতল, কাঁসা দিয়ে তৈরি গহনা।

 

 

গুরুত্বপূর্ণ ২০টি মামলার নমুনা ফিরিয়ে দিয়েছে ডিএনএ ল্যাব

রুদ্র রাসেল : রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না করা এবং দুই মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১৫ মার্চ থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার ডিএনএ প্রোফাইলিং না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে পুলিশ।  সোমবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ল্যাবে আসা অন্তত ২০টি মামলার ডিএনএ নমুনা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে (কালেকশন সেন্টার) কর্মরত আছেন ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। একযুগের বেশি সময় ধরে এই প্রকল্পে কাজ করার পরও এখন চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন তারা। এ বিষয়ে ডিএনএ ল্যাব প্রকল্পের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা সুলতানা জানান, ‘প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেন দেশের বাইরে আছেন। তাকে কর্মবিরতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ ডিএনএ ল্যাব সূত্র জানায়, গত বছরের ৩০ জুন তৃতীয় মেয়াদে প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হয়। তবুও জরুরি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রকল্প পরিচালক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ডানিডা থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’। চিঠিতে গতবছরের ১ জুলাই থেকে তৃতীয় পর্বে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা কাজ চালিয়ে যান। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের বেতন দেওয়া হলেও শতকরা ২৫ ভাগ বেতন কেটে রাখা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারির বেতন এখনও হাতে পাননি তারা। এ নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও ল্যাবপ্রধানের কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বারবার ধরনা দিলেও কিছুই করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ ল্যাবের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে ডিএনএ অধিদফতর বিল পাস হয়েছে। ৯২ জন জনবলেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।

কিন্তু এখন বলা হচ্ছে সেখানে তাদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে না। তাদের প্রশ্ন- ‘৮-১০ বছর চাকরি করেও এখন কেন তাদের নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি নিতে হবে?’ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কর্তৃৃপক্ষ তাদেরকে মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তৃতীয় পর্যায় শুরুর প্রথম এক বছরের মধ্যে রাজস্ব খাতে জনবল স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এখন প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টা তাদের আবার পরীক্ষা দিয়ে প্রকল্পে কাজ পেতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কর্মরতরা এখন আর এই শর্ত মানতে রাজি নন। এখানকার জনবলকে সরাসরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

কুসিকে জিততে নানা প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্বাচনে নতুন ইসির ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। আর নারায়ণগঞ্জে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিএনপি। সেজন্য কুসিকে দলের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক ২৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ১০৩টি কমিটিও গঠন করা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন। আর সুচারুরূপে প্রচারের স্বার্থে প্রতিটি কমিটির কর্মকান্ড সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা ভোটকেন্দ্রেই সীমিত থাকবে। এছাড়া প্রচারণায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে নামানো হচ্ছে। তারা কুমিল্লার স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং টিমও গঠন করা হবে। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নাসিকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সহযোগিতা করছেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, নির্বাহী সদস্য শেখ মো. শামীম, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। আর নির্বাচনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিনকে প্রধান স্থানীয় সমন্বয়কারী এবং মোস্তাক মিয়া ও আবদুল আউয়াল খানকে সহকারী স্থানীয় সমন্বয়কারী করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম তাদেরকে নিয়ে ইতোমধ্যে কুমিল্লায় বৈঠকও করেছেন। ওই বৈঠক থেকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার কর্মপদ্ধতি ঠিক করে সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে। এদিকে, নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রচার কাজে মাঠে নামানো হচ্ছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কুকে জোট ইতোমধ্যে তাদের সমর্থনও জানিয়েছে। এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ কুসিক নির্বাচনে জোটের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং প্রয়োজন হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তবে আপাতত তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে কুসিকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনী কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির মেয়রপ্রার্থীসহ তার পক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রতিদিনকার নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ খবর গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে প্রধান করে একইস্থানে একটি মিডিয়া সেলও গঠন করা হয়েছে। শামসুদ্দিন দিদারকে এ সেলের সহকারী সমন্বয়কারী করা হয়েছে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জে ১০৪জন কেন্দ্রীয় নেতাকে মাঠে নামানো হলেও কুসিক নির্বাচনে এতো বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রচারণায় নামাতে চায় না বিএনপি। দলটি মনে করছে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কু পরপর দুইবার মেয়র (পৌর ও সিটি করপোরেশন) ছিলেন। সুতরাং তার নিজস্ব একটা সেটআপ আছে, নিজস্ব ভোটও আছে। এছাড়া তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। আর নারায়ণগঞ্জে অনেক ভাসমান ভোটার থাকলেও কুসিকে স্থানীয় ভোটারই বেশি। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে প্রচারণায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় কুমিল্লায় প্রচুর স্থানীয় নেতাকর্মী রয়েছে। এসব কারণে কুসিকে প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান।

নারায়ণগঞ্জের মতো কুসিক নির্বাচনেও স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল বিজয়ের পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব নেই। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লার স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করেছেন। যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল সেই ইয়াছিন ইতোমধ্যে সাক্কুর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। তাই কুসিকে সুষ্ঠু ভোট হলে সাক্কুই মেয়র হবেন বলে আশা তার কর্মী-সমর্থকদের। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি এতোদিন সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসলেও কুসিকে ভিন্ন কথা বলেছেন দলটির মেয়র প্রার্থী সাক্কু। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ভোটের সময় সেনাবাহিনীর পরিবর্তে কুসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চান তিনি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সাক্কু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সেনাবাহিনী চাওয়া হলেও সহজে তা পাওয়া যায় না।

তাছাড়া অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনী ত্বরিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক্ষেত্রে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মেয়র থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে কুসিক নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন।

কুসিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহিলা হওয়ায় সেখানে মহিলা ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। বিশেষ করে গত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বামী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগ করে সাড়া ফেলে দেয়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে সামনে রেখে এ দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে জেতাতে দলটির অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও অনুরূপভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। কুমিল্লাবাসীর কাছ থেকে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে নির্বাচনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুইবার মেয়র থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। তাছাড়া সরকারের দুঃশাসনে সারাদেশের সঙ্গে কুমিল্লাবাসীও অতিষ্ঠ। তাই সুষ্ঠু ভোট হলে ও কুমিল্লাবাসী নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে বিপুল ভোটে সাক্কুই বিজয়ী হবেন।

আদমদীঘির বাজারে আলুর ব্যাপক সরবরাহ চড়া মূল্য পাওয়ায় চাষিরা খুশি

হাফিজার রহমান, আদমদীঘি (বগুড়া) : বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এবার আলুর ফলন ভাল হয়েছে। বর্তমানে আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আলুর প্রচুর সরবরাহ হচ্ছে। এদিকে বাজারে পাইকারদের আগমনে আলুচাষিরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে আলুর চড়া দাম পাওয়ায় বেশ খুশিই হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন মিলে ৪ হাজার ১ হেক্টর জমিতে লালপাকড়ি, রুমানা, তেলপাকড়িসহ বিভিন্ন জাতের আলু আবাদ করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আলু আবাদে কিছুটা প্রভাব পড়লেও ফলন হয়েছে ভাল। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে প্রায় ৫০ মণ ফলন হয়েছে বলে আলুচাষিরা জানান।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আলুর ব্যাপক আমদানি হচ্ছে। পাইকার সাহাদত হোসেন, শ্রী অমূল্য জানান, তারা প্রতিটি হাটে ৫/৬শত মণ করে আলু কিনে ট্রাক যোগে ঢাকার কাওরান বাজার চট্টগ্রাম সিলেটসহ অন্যান্য বাজারে সরবরাহ করেন। প্রতিমণ আলু প্রকার ভেদে পাইকারি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

আলুচাষি দুলাল, জিল্লুর, ফরিদুল জানান, তারা ৪ বিঘা করে জমিতে আলু আবাদ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে চড়া দাম পেয়ে খুশি। গত মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত উপপরিচালক উদ্ভিদ সংরক্ষণ ওবাইদুর রহমান, আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার কামারুজ্জামান ও উপসহকারী কৃষি অফিসার একেএম মনজুরুল ইসলাম আদমদীঘি আলুর হাট পরিদর্শন করে আলু বিক্রেতা ও চাষিদের সাথে মতবিনিমিয় করেন। আলুচাষিরা চড়া দাম পাওয়ায় অনেক আনন্দিত বলে জানান।

খালেদা জিয়ার ডাকের অপেক্ষায় সংস্কারপন্থীরা

রাজকুমার নন্দী : দীর্ঘ দশ বছর প্রতীক্ষার পর গত মাসে সংস্কারপন্থী দুই নেতার ভাগ্য ফেরায় এখন বাকি নেতারা বিএনপিতে ফিরতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনের চরম দুর্দিনে বিএনপির পাশে থাকতে না পারায় এখন দারুণ অনুতপ্ত দলটির সাবেক এই নেতারা। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের পক্ষে এখন ভূমিকা রাখতে চান তারা। তাই মাতৃসম নেত্রীর কাছে মাফ চেয়ে বিএনপিতে ফিরতে তারা এখন মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তবে ধাপে ধাপে তাদের অধিকাংশকে দলে ফেরানো হবে। এবার ডাক পড়তে পারে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ আরও কয়েকজনের। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংস্কারপন্থী নেতাদের বিএনপিতে ফিরিয়ে নেয়ার পক্ষে দলটির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে। হাতে খুব বেশি সময় নেই। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে অতীত ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়ে খুব দ্রুতই সংস্কারপন্থিদের ফিরিয়ে নিয়ে বিএনপির এখনই মাঠে নামা উচিত।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের আগে দলকে একটি প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে চান খালেদা জিয়া। কারণ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে চান বিএনপি প্রধান। এ কারণেই সাংগঠনিক ঐক্যের প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি। তাই দলের বাইরে থাকা সংস্কারপন্থিদেরও কাছে টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেগম জিয়া। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহিরউদ্দিন স্বপন এবং সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে পাঠান খালেদা জিয়া। অতীত কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা চাইলে বেগম জিয়া তাদের দলে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে, স্বপন ও বকুল বিএনপিতে ফেরায় বাকি সংস্কারপন্থী নেতা ও তাদের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার আলোর সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, অতীত কর্মকান্ড ক্ষমা করে দিয়ে খালেদা জিয়া তাদেরকেও দলে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দিবেন। তবে সংস্কারপন্থী বাকি নেতারা যাতে বিএনপিতে ফিরতে না পারেন, সেজন্য তাদের দুই-একজনের বিরুদ্ধে দলীয় বিরোধিতাও হচ্ছে। তৃপ্তি যাতে দলে ফিরতে না পারেন, সেজন্য সম্প্রতি যশোর প্রেসক্লাবে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তবে এর পেছনে দলের এক সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তৃপ্তির কর্মী-সমর্থকদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংস্কারপন্থী অভিযোগে ২০০৭ সালে তৃপ্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় হওয়ায় তার নিজের এলাকা শার্শা থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা তৃপ্তির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তৃপ্তি দীর্ঘদিনেও দলে ফিরতে না পারলেও হতাশ নন তারা। সম্প্রতি তৃপ্তির ঢাকার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শার্শার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে তৃপ্তির সঙ্গে কথা বলছেন। তৃপ্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত শার্শা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, তৃপ্তি ভাই যাতে বিএনপিতে ফিরতে না পারেন, সেজন্য দলের এক সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতার ইন্ধনে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। যেখানে শার্শার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নের হাতেগোনা দুই-চারজন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যা সমগ্র থানা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না। শার্শার অধিকাংশ নেতাকর্মী তৃপ্তি ভাইয়ের সঙ্গেই রয়েছেন। তারা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে দলে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। জানতে চাইলে মফিকুল হাসান তৃপ্তি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আমাকে যেখানে যেভাবে সক্রিয় করবেন, সেখানে থেকেই কাজ করব। অনেক সুযোগ ও প্রলোভন এসেছে, আমি যাইনি। বিএনপিতে ছিলাম, বিএনপিতেই থাকতে চাই। শার্শার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করব।

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের জুনে ১৫ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং তাকে সমর্থনকারী শতাধিক সাবেক এমপি ও সিনিয়র নেতা সংস্কারপন্থী বলে বিএনপিতে পরিচিতি পান। খালেদা জিয়া সে সময় মান্নান ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। এরপর অবশ্য অনেককে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসানো হয়। বাকিরা ক্ষমা চেয়ে দলে ফিরতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠান। এ ধারা অব্যাহত থাকায় সংস্কারপন্থিদের দলে ফেরাতে ২০১৫ সালের দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাদের ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীরা আপত্তি জানানোয় তাদের আর দলে ফেরা সম্ভব হয়নি। এতে কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেও হাল ছাড়েননি তারা। কোনো পদ-পদবি না থাকলেও দলের পক্ষে নানা মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন। এমনকি তারা অন্য কোনো দলেও যাননি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দশম সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেননি।

জানা যায়, সংস্কারপন্থি অভিযোগে এখনো প্রায় অর্ধশত সাবেক এমপি ও নেতা বিএনপির বাইরে রয়েছেন। দু-একজন বাদে দলের বাইরে থাকা সব নেতাকেই পর্যায়ক্রমে দলে নেওয়া হবে। সাংগঠনিক দায়িত্বও পাবেন কেউ কেউ। দলের বেশ কয়েকটি শূন্যপদসহ বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিতেও এই নেতাদের জায়গা করে দেয়া হতে পারে। জনপ্রিয়তাভেদে এদের কয়েকজন আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা এ নিয়ে কাজও করে যাচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলের হাইকমান্ড।

সংস্কারপন্থিদের দলে ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বিগত ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপিতে খ্যাতনামা সংস্কারপন্থী যারা ছিল তারা অনেক আগেই দলে ফিরেছে। তাহলে ছোটো-খাটোরা দলের বাইরে থাকবে কেন? সবাই তো একই অপরাধে অপরাধী। ম্যাডাম বড়দের ক্ষমা করতে পারলে ছোটদের কেন ক্ষমা করতে পারবেন না? তাই একজন-দু’জন করে নয়, বাকি সবাইকে একসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া উচিত। এরপর তাদের কর্মকান্ড দেখে কাকে কোথায় কী অবস্থায় রাখা হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

 

 

সাফারি পার্কে মা বাঘিনীর সময় কাটে তিন সন্তান নিয়ে

রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আফ্রিকা থেকে আমদানি করা এক বাঘিনী প্রথমবারের মত তিনটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। এ সাফল্যে অন্যরকম আনন্দ বইছে সাফারি পার্কে। এর আগে পার্কে সিংহ, ক্যাঙ্গারু, উট পাখি, গয়ালসহ বেশকিছু প্রাণী বাচ্চা দিয়েছে। তবে বাঘের বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এটাই প্রথম। ওই বাঘিনী একটি পুরুষ ও দুটি নারী বাচ্চা প্রসব করে। পার্কে বাঘের বাচ্চা জন্মের ঘটনায় প্রকৃতিতে আবারো অবাধে বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) বিচরণ করবে এমন আশাবাদ বাঘ বিষেশজ্ঞদের।

পার্কসূত্রে জানাযায়, ২০১৩ সালে আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে ফ্যালকন ট্রের্ডাসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে দুটি পুরুষ বাঘ ও চারটি নারী বাঘ কেনা হয়। পরে সব বাঘ অবাধ বিচরণের জন্য একটি বেষ্টনীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিছু দিন যাওয়ার পরই চোখে পড়ে বাঘ ও বাঘিনীর সংগমের দৃশ্য। এর পর থেকেই অধিকতর নজরে রাখা হয় বাঘগুলোকে। গত বছরের (২০১৬) অক্টোবরের দিকে একটি বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরে নিয়মিত ওই বাঘিনীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। একটা সময় যখন নিশ্চিত হওয়া গেছে বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে তখন থেকেই অন্য বাঘগুলো থেকে আলাদা করে নিরাপত্তার জন্য অন্য একটি বেষ্টনীতে রাখা হয় গর্ভবতী বাঘিনীকে। পরে গত ২৬ জানুয়ারি ভোরে একটি মৃত বাচ্চাসহ ৫টি বাচ্চা প্রসব করে। জন্মের কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি বাচ্চা মারা যায়।

পার্কের ওয়ার্ল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, এর আগেও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে বাঘ বাচ্চা দিয়েছে। তবে সেই সব বাঘগুলো আমাদের দেশীয় সুন্দরবনের বাঘ ছিল।  দেশের বাইরে থেকে আনা (আমদানিকৃত) কোন বাঘিনী সাফারি পার্কে বাচ্চা দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। বাঘ ১০৪ দিন থেকে ১০৬ দিনে বাচ্চা প্রসব করে। তবে পরিবেশগত কারণে এটা ব্যতিক্রম হতে পারে। বাঘিনী ২-৫ টি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের রাখছি শাবকগুলোকে।  

বাঘের বাচ্চা দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা অ্যানিমেল কিপার নরুন্নবী মিন্টু বলেন, আগে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে চাকরি করতাম। পরে এখানে আমাকে এই পার্কে আনা হয়েছে। এরি মধ্যে আমার দেখবালের মাধ্যমে একাদিকবার সিংহ বাচ্চা দিয়েছে। তবে বাঘের বাচ্চা দেওয়ার ঘটনায় নিজের মধ্যে অন্যরকম সুখ অনুভব করছি। এ সুসংবাদে পার্কেও অন্যরকম আনন্দ বিরাজ করছে। শাবকগুলোর নামও রাখা হয়েছে। ড. তপন কুমার দে স্যার পুরুষ শাবকের নাম বিজয় ও নারী শাবক দুটির নাম মাধুবী ও বিলাশী রেখেছেন।  

ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার সারোয়ার হোসেন খান বলেন, ওই বাঘিনী গর্ভবতী হয়েছে নিশ্চিত হয়েই নিরাপদ পরিবেশ দিতে আলাদা বেষ্টনীতে স্থানান্তর করি। সাধারনত পুরুষ বাঘ ৪-৫ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, আর অন্য দিকে ৩-৪ বছরে নারী বাঘ প্রাপ্তবয়স্ক হয়। প্রসবের সময় বাচ্চার চোখ ফোটেনা ও দাঁত থাকে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চার চোখ ফোটে ও ৮-৯ সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী দাঁত গজায়। বাঘ বছরের যে কোন সময়ই বাচ্চা দিতে পারে। তবে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাঘের প্রকৃত গর্ভকালীন সময়। দুই মাস বয়স থেকেই মাংস খাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয় বাঘের বাচ্চার। জন্ম থেকে ৬ মাস পর্যন্ত বাঘ শাবক মায়ের দুধ পান করে থাকে। ৩ বছর হলেই মায়ের সঙ্গ ছেড়ে আলাদা হয়ে একা একা চলা ফেরা করে শাবক। প্রকৃতিতে বাঘ ১০ বছর আর ক্যাপটিভে (আবদ্ধ অবস্থায় ) ২৬ বছর পযর্ন্ত বাঘ বাঁচার রেকর্ড রয়েছে। বাঘিনী বাচ্চা নিয়ে আড়াই বছর একত্রে থাকে, তবে যদি বাচ্চা না থাকে সে ক্ষেত্রে পাঁচ মাস পরেই আবার ব্রিডিং করে বাঘিনী।

 ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গর্ভকালীন সময় মা বাঘিনী নির্জনে চলে যায় অন্য বাঘগুলো থেকে আলাদা হয়ে। বাচ্চার বয়স ৪৫ দিন হয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত বাচ্চার ঝুঁকিপূর্ণ সময়। তবে এখানো শাবকগুলো সুস্থ সবল রয়েছে।

প্রাণিবিষেশজ্ঞ ড. তপন কুমার দে বলেন সাফারি পার্কে বাঘ শাবকের জন্ম আমাদের প্রাপ্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রকৃতিতে আবারো বেশি পরিমাণে বাঘ অবাধে বিচরণ করবে এমন স্বপ্ন দেখছি।

সাফারি পার্কে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. সাহাব উদ্দীন জানান, আমরাও বাঘিনীর ভাল পরিবেশ দিতে আলাদা বেষ্টনীতে রেখেছিলাম মা বাঘিনীকে। আমদানি করা বাঘের ক্ষেত্রে এটাই বাচ্চা প্রসবের প্রথম ঘটনা। এমন সাফল্য আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।পার্কের সকলের প্রচেষ্টায় এ সাফল্য। এখনো সম্পূর্ণ ঝুকিমুক্ত নয় শাবকগুলো। এমন সাফল্যে যদি ধারাবাহিকতা আসে তাহলে অবশ্যই  বাঘ সংরক্ষণে বড় ভুমিকা রাখা যাবে।

ধুনটে নদী-নালা খাল-বিল এখন পানির কাঙাল

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : কুল আছে, কিনার আছে। নেই পানি আর উত্তাল ঢেউ। জলজ্যান্ত নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিশূন্য। নদীর পানি শুকিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। জলাশয়ের বুকজুড়ে জেগে উঠেছে চর।

সেখানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের মৌসুমি ফসল। দেখে বোঝাই যায় না, এখান দিয়ে এক সময় পানি প্রবাহিত হয়েছে। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিলসহ অধিকাংশ জলাশয়ের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার ২৪৭.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মানচিত্রে পাঁচ নদীর অবস্থান। উপজেলার পূর্ব পাশে যমুনা ও পশ্চিম পাশ দিয়ে বহমান বাঙ্গালী নদী। আর মাঝপথে বয়ে গেছে মানাস, ইছামতি ও বাও নদী। এছাড়া খাল-বিল ও দহ রয়েছে শতাধিক।

এক কালের উত্তাল খরস্রোতা নদীগুলো আজ যৌবন হারা। এখন আর শোনা যায় না পানির কলকল ধ্বনি। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য ডোবার মতো হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম না আসা পর্যন্ত এগুলোর পরিবর্তন হবে না। যেখানে প্রমত্তা নদীর পানিতে উত্তাল-পাতাল ঢেউ থাকার কথা, সেখানে মানুষ বসতি গড়ছে। নদীর বুকজুড়ে এখন দেখা যায় কৃষান-কৃষাণীর চাষাবাদের ব্যস্ততা।

যমুনা পাড়ের শহড়াবাড়ির গ্রামের অশিতপর বৃদ্ধ হযরত আলী বলেন, এক সময় যমুনা নদীর পানি আর প্রবল ঢেউ দেখে ভয় পেতেন। আজ থেকে ৪০-৪২ বছর আগেও গভীর পানি থাকতো নদীতে। কখনো কখনো বালির চর দেখা গেলেও তার মধ্য দিয়েই থাকতো পানির স্রোতধারা। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম না এলে এমনটি আর দেখা যায় না।
বানিয়াজান গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একদিন এসব নদী হবে রূপকথার গল্পের মতো। বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের তীব্রতা থাকলেও কখনই চরের প্রত্যাশা করেনি। নদীতে পানি না থাকলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিক মতো পানি ওঠে না। নদীকেন্দ্রিক যাতায়াত ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর বুকে আর দেখা মেলে না অথৈ পানি।

নদীতে এখন মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছে। নদীর নৈসর্গিক পরিবেশ ও অস্তিত্ব আজ বিলীনের পথে। চলে না আর পাল তোলা নৌকা। এখন আর আগের মত মাঝি মাল্লাদের কণ্ঠে ভেসে আসে না ভাটিয়ালী গানের সুর। বরইতলি গ্রামের সেচ যন্ত্রের মালিক আব্দুল করিম বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট হয়। এছাড়া সেচ সংকটে পড়েছে বোর ধানের জমি। পানির অভাবে জমিতে আশানুরূপ ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। পানির অভাবে নদী-নালা, খাল-বিলে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।
ফলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছেন না এলাকায় শত শত জেলে পরিবারের মানুষ। তারা এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু জেলে নয়, মাছধরার সাথে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জীবনেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। কমে গেছে নিত্যদিনের আয়-রোজগার। তাই ধারদেনা আর সঞ্চয় ভেঙে দিন চলছে জেলে পরিবারের লোকজনের।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারি প্রকৌশলী হারুনর রশিদ বলেন, নদী খনন করে পানি প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য প্রতি বছরই প্রকল্প তৈরী করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়। কিন্ত আজও এই প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ হয়নি বলে জানান তিনি।

ভালো নেই তিস্তাপাড়ের জেলেরা

মিল্লাদুর রহমান মামুন, নীলফামারী : একসময় তিস্তায় মাছ শিকার করে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে থাকলেও এখন ভালো নেই তিস্তা পাড়ের জেলেরা। নদীতে পানি না থাকায় মাছ ধরতে না পারায় বেকার দিন কাটাচ্ছে এখানকার জেলেরা। সারাদিন জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যায় তা বাজারে বিক্রি করে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি আয় হয় না তাদের। অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় মাছ না পেলেও তবুও আশায় আশায় জাল ফেলে বসে থাকেন তারা।


কখনও সর্বগ্রাসী আবার কখনও সর্বনাশা বলা হয় তিস্তা নদীকে। উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এই নদী। বর্ষাকালে পানির তোড়ে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেলেও একেবারে উল্টো চিত্র শুষ্ক মৌসুমে। এখন দেখে বোঝার  উপায় নেই যে বর্ষাকালে এই তিস্তা এত খরস্রোতা থাকে। বর্তমানে ডিমলার ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টেই পানি নেই তিস্তার। ধূ ধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে ব্যারেজের ভাটি এলাকা। সরেজমিনে ব্যারেজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, অনেকগুলো নৌকা বালুতে নোঙর করা। এসব নৌকার ওপর বসে অলস সময় পার করছেন মোখলেছার, হাফিজুল, সুখ চরণ ও আবুল হোসেনসহ কয়েকজন মাঝি। সেখানেই কথা      হলো তাদের সাথে। জানতে চাওয়া হয় এখন কেমন আছেন তারা। প্রশ্ন শুনেই মলিন মুখে জানালেন ভালো নেই তারা।

 কারণ কি জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, নদীতে পানি নেই, তাই মাছ ধরতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন তারা। তিস্তা তীরবর্তী ডালিয়া বাইশপুকুর গ্রামের মাঝি মোখলেছার রহমান বলেন, নৌকা, জাল তৈরি করতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে আমাদের মাছ ধরতে হয়। কিন্তু নদীতে পানি নেই আমরা মাছ ধরব কোথায়? ১০ জন মিলে একটি নৌকা দিয়ে সারাদিন জাল ফেলে দুইশ’ টাকারও মাছ পাওয়া যায় না। বর্তমান বাজারে এই টাকা দিয়ে আমরা খুব কষ্টে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের মাঝি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি আট বছর থেকে তিস্তা নদীতে মাছ ধরি।

 একটা সময় ছিল সারাদিন ১০ থেকে ১৫ কেজির ওপরে মাছ পেতাম। সেই মাছ বাজারে বেচে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই দিন কাটাতাম। আর এখন নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। এখানকার জেলেরা আমরা কেউ ভালো নেই। তিস্তায় পানি না থাকার পরও মিছে আশায় সামান্য পানিতে জাল ফেলে বসে থাকেন এখানকার মাঝিরা। তারা জানিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় তিস্তা নদীতে মাছ ধরে আসছেন তারা। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানেন না তারা। তাই ইেচ্ছ থাকলেও অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না তারা।


কথা হয় মাঝি আবুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, সারাদিন জাল ফেলে একশ’ থেকে দুইশ’ টাকার মাছ পাওয়া কঠিন। তারপরও আশায় থাকি যদি বেশি মাছ পাই। যদিও এই টাকা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না তবুও আমরা নিরুপায়। কারণ আমরা তো আর অন্য কোনো কাজ করতে পারি না। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে মাছ ধরা দেখেছি, মাছ ধরা শিখেছি। অন্য কোনো কিছু করতে পারলে তো আর এই পেশায় থাকতাম না। নদীতে পানি কম থাকার কথা স্বীকার করলেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রেকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানও। তিনি জানান, নদীতে এখন পানির প্রবাহ খুবই কম। নদীতে কিছু পানি দিয়ে বাকি পানি আমরা ব্যারেজের গেইট বন্ধ রেখে সেচের জন্য ক্যানেলে ছেড়ে দিচ্ছি।

৫ সিটিতে আসতে পারে বিএনপির নতুন প্রার্থী

রাজকুমার নন্দী : নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)সহ কয়েকটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি। তবে  এ নির্বাচনে নতুন ইসির কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। চলতি বছরের শেষদিকে রংপুর সিটির নির্বাচন এবং আগামী বছরের মাঝামাঝিতে হবে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও গাজীপুর সিটির নির্বাচন। এরপর ২০২০ সালে হবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন। বিএনপি এসব সিটি নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কাজ শুরু না করলেও হাইকমান্ডে চিন্তা-ভাবনা চলছে। খোঁজ-খবর নিচ্ছে সিটি করপোরেশনগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে। আগামীতে এসব সিটির মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, নতুন ইসির প্রতি বিএনপির আস্থা না থাকলেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণে তাদেরকে সময় দিতে চায় দলটি। সেজন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে জনতার মঞ্চের লোক দাবি করে তার ব্যাপারে বিরোধিতা অব্যাহত রাখলেও পুরো কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেনি তারা। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নতুন ইসি কী ভূমিকা পালন করে, তা দেখতে চায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরাবরই অংশ নিয়েছি, আগামীতেও অংশ নিব। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কি যাব না, সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সেই সময় কোন ধরণের সরকার থাকছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী থাকে, তার উপর।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচনের আগে দলীয় প্রতীকে কুসিকসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাত সিটি করপোরেশনের ভোট নতুন ইসির জন্য ‘এসিড টেস্ট’। এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নতুন ইসির অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে আমরা ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছি। এসব নির্বাচন কেমন হয়, তা দেখে আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কী যাব না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তবে আমরা মনে করি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আগামী ৩০ মার্চ কুসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার কুমিল্লায় বিজয়ী হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিএনপি। সেজন্য বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে তারা এবারো মনোনয়ন দিয়েছে। আর কুসিক নির্বাচন জোটগতভাবে করতে এবং সাক্কুকে পুনরায় জেতাতে কৌশল নির্ধারণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও জোট শরিক কল্যাণ পার্টি প্রার্থী না দিয়ে ইতোমধ্যে সাক্কুকে তাদের সমর্থন জানিয়েছে।  

জানা গেছে, চলতি বছরেই রংপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুরের নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। এরপর ২০১৩ সালের ১৫ জুন একইদিনে অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটির নির্বাচন। চার সিটিতেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়। রাজশাহীর মেয়র হন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনির, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী এবং বরিশাল সিটিতে বিজয়ী হন আহসান হাবিব কামাল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নানও বিজয়ী হন। তবে এদের মধ্যে একমাত্র কামাল ছাড়া বাকি সবাইকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কারাগারেও যেতে হয়েছে। ফলে মেয়র নির্বাচিত হলেও বেশিরভাগ সময়ই তারা দায়িত্বের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হয়। কিন্তু কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনের দিন দুপুরে তিন সিটির নির্বাচনই বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। চট্টগ্রাম সিটির মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতি থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামীতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। মনজুর আলম রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ায় আগামীতে চট্টগ্রাম সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন ডা. শাহাদাত হোসেন। বিএনপির নতুন কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হলেও কেন্দ্রের এ পদ ছেড়ে দেন তিনি। পরে শাহাদাতকে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি করা হয়। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হয়েছে। এতে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হলেও কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় পরে তা প্রশমিত হয়। তাছাড়া মিনুকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব থেকে বিএনপির নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামীতে রাজশাহী সিটিতে মিনুর বিএনপি থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। বরিশাল সিটিতেও আগামীতে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী। বরিশাল বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপির সরকারবিরোধী বিগত আন্দোলনে মেয়র কামালের তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। উপরন্তু তিনি মেয়র পদে টিকে থাকতে সরকারি দলের লোকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সেজন্য সারাদেশে বিএনপির অন্যসব মেয়ররা বরখাস্তের পাশাপাশি গ্রেফতার হলেও বরিশালের মেয়র বরখাস্তও হননি, গ্রেফতারও হননি। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ অভিযোগের ব্যাপারে কামালের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিআইডির সম্পূরক চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে অন্যদের সঙ্গে আরিফুল হকেরও সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। এ মামলায় যদি শেষ পর্যন্ত তার সাজা হয়, তাহলে সিলেট সিটিতেও আগামীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মির্জা আব্বাস নির্বাচন করলেও আগামীতে এ সিটিতে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারের রোষানলে পড়ে বরখাস্ত ও গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি আগামী সিটি নির্বাচনগুলোতে বাকিদের পুনরায় মনোনয়ন দিতে পারে। তবে আইনি কোনো জটিলতা থাকলে সেক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি সব সময় নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল। যেকোনো অবস্থায় যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকে। কুমিল্লা ছাড়া অন্য সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনের এখনো অনেকটা সময় বাকি। যথাসময়ে বিএনপির হাইকমান্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেবে। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে সব নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ৭ সিটিতে অগ্নিপরীক্ষায় আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি : নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সর্বমহলে। কিন্তু এর আগেই দলীয় প্রতীকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাত সিটি করপোরেশনে ভোটে জাতীয় নির্বাচনের এসিড টেস্ট হবে। এই ভোট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন ইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। নির্বাচনী যুদ্ধ হবে নৌকা আর ধানের শীষে, রেফারি থাকবে ইসি। সিটি নির্বাচন নিয়ে সব পক্ষেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে অনেকটা সময় থাকতেই ৭ মহানগরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজনীতির অন্ধরমহলে জমে উঠছে নানা হিসাব নিকাস।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের তফসিল এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী এ সিটিতে আগামী ৩০ মার্চ ভোট হবে। চলতি বছরেই রংপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল এবং গাজীপুর সিটির নির্বাচন আগামী বছরের মাঝামাঝিতে অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সর্বশেষ সভায় আগামী জাতীয় ও সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিবে এবং এই দলটির সঙ্গেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমন বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই দিন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কুমিল্ল¬ায় গিয়ে বলেছেন, যে সব এমপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক নানা অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আসন্ন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন সামনে রেখে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। ইসির আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রী-এমপিদের প্রবেশে বিধি-নিষেধ আরোপের আগেই কুমিল্লা সফর করেছেন তিনি। সূত্রমতে, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গেলবারের মতো এবারও সাতটি সিটির নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এসিড টেস্ট বা অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য এখন থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা ‘রুটিন ওয়ার্ক’ শুরু করেছেন।

ভোটে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে অন্যান্য নেতাদের সমন্বয়ে কৌশল নির্ধারণ করছেন তারা।আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সার্বিক বিবেচনায় রাজনীতি এবং ভোটের মাঠ বর্তমানে তাদের অনুকূলে রয়েছে। সিটি নির্বাচন সামনে রেখে চার কারণে রাজনীতি ও ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থানের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। তা হলো- এবার নতুন ইসি নিয়ে বিতর্ক আগের চেয়ে কমে যাওয়া, বিদেশি আদালতে পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মিথ্যে প্রমাণিত হওয়া, কানাডার আদালত কর্তৃক বিএনপির গায়ে ‘সন্ত্রাসের কালিমা’ পড়া এবং সাত সিটির ছয়টিতেই বিএনপি সমর্থিত মেয়ররা বেশিরভাগ সময়ই দায়িত্বের বাইরে থাকা ও আওয়ামী লীগের প্যানেল মেয়ররা দায়িত্ব পালন করা। কারণ গেলবারে জাতীয় ইস্যুগুলোর প্রভাব এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দোলের কারণে এ সাতটি সিটির মধ্যে ছয়টিতেই হেরেছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এবার সেই প্রতিকূল অবস্থানে রয়েছে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা।

ফলে এবার ভোটের ফলাফল গেলবারের ঠিক বিপরীত হওয়ার আশায় বুক বাধছেন ক্ষমতাসীনরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দৈনিক করতোয়াকে বলেন, গেলবার সাত সিটির ছয়টিতে হারের কারণে দশম সংসদ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েছিল। তবে বিএনপি জাতীয় ভোটে অংশ না নেয়ায় তা স্পষ্ট বোঝা যায়নি।

এবার সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। আমরা জাতীয় নির্বাচনের এসিড টেস্ট হিসেবে নিয়েছি সাত সিটি নির্বাচন। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জেতার কোন বিকল্প নেই। এজন্য নতুন কৌশল নিয়ে আগাচ্ছি আমরা। আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আমরা যে কোন অবস্থায় যে কোন সময় যে কোন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকি। আমরা জনগণের রায়ে বিশ্বাস করি বলে সেই রায় মেনে নেই। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের মতোই অন্য সাত সিটি নির্বাচনও অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে। আশা করি দেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের পক্ষে রায় দেবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, দশম সংসদ নির্বাচনের কয়েকমাস আগে ২০১৩ সালের ১৫ জুন একই দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটির নির্বাচন হয়। একই বছরের ৬ জুলাই নির্বাচন হয় গাজীপুর সিটির। সবগুলোতেই মেয়র পদে জয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুর সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান পান ২ লাখ ৩০০ ভোট। আওয়ামী লীগের এ্যাডভোকেট আজমতউল¬াহ খান পান ১ লাখ ২৫ হাজার। ১৫ জুন ২০১৩ অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির আরিফুল হক পান ১ লাখ ৭ হাজার ৩৩০ ভোট, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান পান ৭২ হাজার ২৩০ ভোট। বরিশাল সিটিতে বিএনপির আহসান হাবিব পান ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট, আওয়ামী লীগ প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন পান ৬৬ হাজার ৭৪১ ভোট। রাজশাহীতে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পান ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট, আওয়ামী লীগের খায়রুজ্জামান লিটন পান ৮৩ হাজার ৭২৬ ভোট। খুলনা সিটিতে বিএনপির মনিরুজ্জামান বিজয়ী হন ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে।

আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক পান ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর রংপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু মেয়র নির্বাচিত হন। তবে সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ছিল না। ঝন্টু পান ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট। জেপির মোস্তাফিজুর রহমান পান ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট। জেপির অপর প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রায় ৬০ হাজার ভোট পান। কুমিল্ল¬া সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রাথী পরাজিত হন বিএনপি প্রার্থীর কাছে। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সকল নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার আইন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কুমিল্ল¬াসহ আগামীতে সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেখানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূখে পড়তে হবে। এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। সবগুলো সিটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল অনেক বেড়ে গেছে।

তাছাড়া ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী সংকটও রয়েছে দলটিতে। বরিশালের গতবারের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ মারা গেছেন। সিটিতে পরাজিত হওয়ার পর অবশ্য তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। খুলনাতে সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এখন এমপি। সিলেটে বদরুদ্দিন কামরান এবং রাজশাহীতে খায়রুজ্জামান লিটন দলীয় কোন্দল নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন। কুমিল্ল¬াতে ভাল প্রার্থীর সন্ধানে আওয়ামী লীগ। রংপুরে আগামীতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদলের সম্ভবনা বেশি। বর্তমান মেয়র ঝন্টু অসুস্থতার কারনে প্রার্থী বদল করতে পারে আওয়ামী লীগ।

বিদায়ের সুর অমর একুশের বইমেলায়

আলী আজম সিদ্দিকী :  ‘যেতে নাহি দেবো হায়, তবু যেতে দিতে হয়’। কবিগুরুর এই চিরন্তন বাণীর মতো অমর একুশে বইমেলায় ও বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। রোববার ছিলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬ তম দিন। মেলায় প্রবেশ করলেই বিচ্ছেদের আমেজ পাওয়া যায়; ক্রেতা-বিক্রেতাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠা আকুতি দেখলে মনে হয় বইমেলা সারাবছর জুড়ে থাকলে বোধ হয় ভালো হতো।

 বইমেলায় ১০৩টি নতুন বই এসেছে এবং ৪৬টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আত্মজীবনীমূলক সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী, ড. এ. এস. এম. বোরহান উদ্দীন প্রমূখ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অমর একুশে বইমেলায় এসেছে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের দুটি বই। একটি বাংলায় আরেকটি ইংরেজিতে। বাংলা বইটির প্রকাশক অন্যপ্রকাশ। নাম ‘বুনে গেলাম আশার স্বপন: গভর্নরের দিনলিপি’। এবারের গ্রন্থমেলায় নতুন চারটি বই বেরিয়েছে পিয়াস মজিদের। এর মধ্যে কবিতার বই ‘নিঝুম মল্লার’; প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স প্রচ্ছদে ছিলেন ধ্রুব এষ। তার আরও তিনটি বইয়ের মধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে বেরিয়েছে স্মৃতিকথা নিয়ে ‘স্মৃতিসত্তার সৈয়দ হক’; প্রচ্ছদ এঁকেছেন চারু পিন্টু। মাওলা ব্রাদার্স বের করেছে ‘মনীষার মুখরেখা’।

এটি প্রবন্ধগ্রন্থ। এছাড়া তার চতুর্থ বইটি হলো ‘প্রাণের পত্রাবলি’; যা তারিক সুজাতের সঙ্গে তার যৌথ সম্পাদনার বই। বের করেছে জার্নিম্যান। মেলায় আসা ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের  শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন স্বপন বলেন, ‘এতোদিন ব্য¯ততার কারণে আসার সুযোগ হয় নাই। মেলার শেষ ভাগে আমার পছন্দের কিছু লেখকের বই কিনবো বলে আসা।’ এসময় কথা হয় বন্ধুর সাথে ঘুরতে আসা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সঞ্জয় দাশের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয় লেখক বঙ্কিম চন্দ্র। মূলত তার বই কিনতেই মেলায় আসা। কিন্তু তার বই পাওয়ার জন্য আমাকে সমস্ত বইমেলা ঘুরতে হয়েছে। সবশেষে সালমা বুক ডিপোতে উনার কিছু বই পেয়েছি। তার থেকে দুটো বই কিনলাম।’ এসময় তিনি গতানুগতিক বইতে মেলা ভরে গেছে বলে আফসোস করেন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, লীনা তাপসী খান, শারমিন সাথী ইসলাম, প্রদীপ কুমার নন্দী, সুমন মজুমদার, মাহবুবা রহমান, ফারহানা শিরিন। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), ডালিম কুমার বড়–য়া (কী-বোর্ড) এবং ফিরোজ খান (সেতার)।

 

পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চায় ২০ দল

রাজকুমার নন্দী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে শুরু করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার শঙ্কার বাস্তবতায় পরিস্থিতি বুঝে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চায় তারা। খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি তাকে ছাড়া আগামী নির্বাচনে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও জোটের অধিকাংশ নিবন্ধিত দল এক্ষেত্রে কৌশলী অবস্থান গ্রহণের পক্ষে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপার নিয়ে তারা তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। চোখ-কান খোলা রেখে সবকিছু বুঝে-শুনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে চান। তবে দলের নিবন্ধন ধরে রাখাও তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০ দল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৮ দলীয় জোট। তারা ভেবেছিল, নিবন্ধিত অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করায় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের মতো দশম সংসদের স্থায়িত্বও দীর্ঘায়িত হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ইতোমধ্যে তিন বছর অতিবাহিত করেছে। ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা বলছেন, নির্ধারিত সময়েই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে। তাছাড়া বিএনপি জোটের অনেক নেতার অভিযোগ, একাদশ সংসদ নির্বাচনের দুই বছরেরও কম সময় বাকি থাকলেও নিবন্ধিত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আসনও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। আগামী নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকিও থাকছে। তাই জোটের অধিকাংশ নেতাই আর আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না বলে জানা যায়।

২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি রাজধানীতে জোট শরিক এনপিপির এক অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি দাবি করে বলেন, বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে নির্বাচন দেওয়া হলে দেশের মানুষ সে নির্বাচন মেনে নেবে না এবং দেশপ্রেমিক কোনো ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলও সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জোটের নিবন্ধিত দলগুলোর অবস্থান জানতে গিয়ে এ ব্যাপারে তাদের কৌশলী অবস্থান বেরিয়ে আসে। মাত্র একটি দল খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো প্রহসনের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা জানায়। আরেকটি দল বলেছে, নিবন্ধন নিয়ে তারা চিন্তিত নয়। বিএনপি জোটে বর্তমানে ৯টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। ২০১৩ সালে নিবন্ধন ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে হাইকার্টের দেয়া রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তবে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দলটির করা আপিল বিচারাধীন রয়েছে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। তবে এমন পরিস্থিতির (খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন) সৃষ্টি হলে তখন নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হবে। তবে নিবন্ধন বাঁচাতে আমাদের আগামী নির্বাচনে যেতেই হবে।

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন অবিসংবাদিত নেত্রীকে বাদ দিয়ে এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে নির্বাচনের নামে কোনো প্রহসন হলে গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে জাগপা তার অংশীদার হবে না।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার পাবে জনগণের স্বার্থ, দ্বিতীয় গণতন্ত্র, তৃতীয় জোট, চতুর্থ নিজের দল এবং সর্বশেষ আমি নিজে। যেহেতু রাজনৈতিক অঙ্গনে আছি এবং নির্বাচন রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, সুতরাং সরকারি অপকৌশলগুলোকে ঠেকিয়ে রাখা এবং ২০ দলের কৌশলগুলোকে এগিয়ে দেয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। আদালত বা কোনো সংস্থার প্রভাব যেন আগামী নির্বাচনের ওপরে না পড়ে, তার জন্য আমাদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। কল্যাণ পার্টি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে সকলের সঙ্গে নির্বাচনী খেলায় অংশগ্রহণের আশা করে।

বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের রাজনীতি, রাজনৈতিক ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ আদালত কিংবা সরকারি মদদপ্রাপ্ত কোনো সংগঠন-সংস্থা দ্বারা নির্ধারিত হয় না। সেটা ঠিক করবেন বাংলাদেশের জনগণ। দলের নিবন্ধন নিয়ে কিঞ্চিৎ চিন্তিত নন বলেও জানান তিনি।

জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, নির্বাচন যখন আসবে তখন দেখা যাবে। তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। বিএনপির নেতারা এখন যেসব কথা বলছেন, সেটা একটা রাজনৈতিক কৌশল, যাতে সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনই বিএনপির চাওয়া।

বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বলেন, বাংলাদেশ ন্যাপ সকল সময়ই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। তবে এই দলের কাছে দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থই মুখ্য। একটি নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা হলে আমরা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আর সেই ক্ষেত্রে জোটগত ও একক দুইভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আমাদের দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান বলেন, আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। যদি এমন পরিস্থিতির (খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন) সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা (নির্বাচন) নিয়ে তখন জোটে নিশ্চয় সিদ্ধান্ত হবে। আমরা তখন পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেব।

ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে চান এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা বেগম জিয়াকে নিয়েই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এলডিপির শীর্ষ কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

ড. এনামুল হক ডিগ্রি কলেজে খেলার মাঠ নেই

বদিউদ-জ্জামান মুকুল (সোনাতলা) বগুড়া : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ১৫১ শতকের একটি পুকুর থাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভেলুরপাড়াস্থ ড. এনামুল হক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থতলা বিশিষ্ট একটি ভবনসহ ওই পুকুরের পূর্বপার্শ্বে থাকা এনায়েত আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবনসহ সীমানা প্রাচীর হুমকির মুখে পড়েছে।
জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এনামুল হকের নামানুসারে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ভেলুরপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ড. এনামুল হক ডিগ্রি কলেজ। ১৯৯৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। ফলে দিনদিন ওই কলেজে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ওই কলেজে প্রায় ১২শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল উপজেলার অন্যসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শীর্ষে। ওই প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকলেও খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা পুকুর পাড় দিয়ে যাওয়া আসা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পুকুরটির চারপাশে ভাঙনের ফলে ড. এনামুল ডিগ্রি কলেজে নির্মিত চতুর্থতলা ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। অপরদিকে ওই পুকুরের পূর্ব পাশে থাকা এনায়েত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ১০টি শ্রেণিকক্ষসহ সীমানা প্রাচীর হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে ড. এনামুল হক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মালেক জানান, ইতিপূর্বে বহুবার পুকুরটির জায়গা স্থানান্তর করতে মালিক পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ওই কলেজের ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্রী মৌসুমী আকতার, শাহিনুর বেগম, নজরুল ইসলাম, আলমগীর পারভেজ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে বিনোদনের কোন সুযোগ তারা পান না। কলেজের সামনে পুকুরটি ভরাট করা হলে কলেজের শ্রীবৃদ্ধি হবে।
এ বিষয়ে ওই পুকুরের মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তারাও চান পুকুরটি স্থানান্তর করতে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা শাকিলা দিল হাছিন জানান, তিনি সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠানে এসে পুকুরের অবস্থান পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় পুকুরের মালিক পক্ষকে পুকুরটি অন্যস্থানে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

ছাত্রদলের কমিটি গঠন বিলম্বে বাড়ছে হতাশা-উত্তেজনা

রাজকুমার নন্দী : ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দ্রুতই দল পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে চায় দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন থেকে বাইরে থাকা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড এখন ঢাকা মহানগর বিএনপি ও কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ত। শিগগিরই এই দু’টি কমিটি ঘোষিত হবে। এরপরেই ঘোষণা করা হবে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের বয়স নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও জুনিয়র-সিনিয়র সমন্বয়েই এ কমিটি গঠন করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বয়সের কারণে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির কেউ বাদ পড়লে তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক-যুবদলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনে পদায়ন করা হবে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা দুই-ই বিরাজ করছে। দিন যতই যাচ্ছে এ উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে তৎপরতা শুরু হওয়ায় দায়িত্বশীল নেতা ও ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণকারী তথাকথিত ভাইয়া গ্রুপের ভাইদের কাছে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের দৌঁড়-ঝাপও শুরু হয়েছে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের সম্পৃক্ততার প্রমাণসহ জীবনবৃত্তান্ত। এছাড়া ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার আশপাশের লোকদের কাছেও পৌঁছে দেয়া হয়েছে এসব তথ্য-প্রমাণ। ঢাকা-লন্ডন সমানতালে যোগাযোগ রাখছেন নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা। তবে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রদলের সাবেক কিছু নেতাকে দিয়ে তারেক রহমান নিজেও একটি কমিটি গঠন করেছেন, যারা পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সাবেক এসব ছাত্রনেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও  আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ষোল মাস পর ঘোষণা করা হয় ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি, যেটা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কমিটি। কমিটি গঠনের পর শীর্ষনেতারা খালেদা জিয়ার কাছে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া ও নিয়মিত অবস্থান করার পাশাপাশি ছাত্রদলকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রিয়াশীল করার’ অঙ্গিকার করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ সভাও করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। এজন্য ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।

গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতারা। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন শতাধিক নেতা নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। এর আগে, একই দাবিতে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির এক নেতা দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় অনশন কর্মসূচি পালন করেন। নতুন কমিটির দাবিতে সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া, নিয়মিত ছাত্রদের দিয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০-০১ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রনেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে ছাত্রদলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। তবে কোন সেশনকে বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হবে সে ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

জানা গেছে, সারাদেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখা, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপির ভবিষ্যৎ সঙ্কট মোকাবেলা এবং আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামকে সামনে রেখে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদকদের মধ্য থেকেই সংগঠনটির নতুন কান্ডারি নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাজীব, মামুনুর রশিদ মামুন ও আকরামকে গত বছর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রাজীব ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বী না হলেও আকরাম ও মামুন সভাপতি পদের জোরালো প্রার্থী। এছাড়া শীর্ষপদে ঘুরেফিরে আলোচিত অন্য নামগুলো হলো : বর্তমান সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, মামুন বিল্লাহ, ইখতিয়ার রহমান কবির, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ও জহিরুল ইসলাম বিপ্লব। আলোচনায় আরো রয়েছেন-বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, মিজানুর রহমান সোহাগ, নুরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, বায়েজিদ আরেফিন, সামছুল আলম রানা, করিম সরকার, মির্জা ইয়াছিন আলী, বিএম নাজিম মাহমুদ, মেহবুব মাসুম শান্ত, ওমর ফারুক মুন্না, গোলাম মোস্তফা, সম্পাদকীয় পদের মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, সৈয়দ মাহমুদ, আরাফাত বিল্লাহ খান ও তরিকুল ইসলাম। সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলনে এরা সবাই রাজপথের কর্মসূচিতে সামনের কাতারে ছিলেন।

মেহবুব মাসুম শান্ত ও গোলাম মোস্তফা উভয়েই দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই সম্পৃক্ত থেকেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতিতও হয়েছি। আশা করি, নতুন কমিটি গঠনে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এটা দলের সবাই জানেন। সাংগঠনিক নেত্রী (খালেদা জিয়া) যখন ভালো ও উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। আমরা এখন আমাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ছোটখাট কিছু ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে ১১ বছর পর ঢাবির হল কমিটি দেয়াসহ অনেক সফলতাও রয়েছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্বাভাবিক নেতৃত্বই আসবে বলে মনে করেন রাজীব আহসান।

এবার রিলে ফসলের দিকে ঝুঁকছেন পাবনার কৃষক

শাহীন রহমান, পাবনা : খাদ্য চাহিদার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে রিলে ফসল উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছেন পাবনার কৃষকেরা। এ পদ্ধতিতে একই জমিতে বছরে চারটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা অধিকহারে লাভবান হচ্ছেন। জমির স্বাস্থ্য রক্ষার্থে শেকড় বা ডাল জাতীয় ফসল আবাদের পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ পাবনা অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ডালের চাহিদাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণার মাধ্যমে ডাল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষকদের আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

 রিলে আবাদ খরা প্রবণ এলাকায় জনপ্রিয় করার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার বাওইখোলা গ্রামে বিনাচাষে মটর ডালের ১৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের সাথে রিলে আবাদ করা হয়। আটঘরিয়া    উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের মটর ডাল চাষি ফারুক বলেন, এ এলাকাতে মটর ডালের আবাদ বেশি হয়। অতীতে তারা চাষের মাধ্যমে এ আবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, পাবনা থেকে প্রদর্শনী পেয়ে তাদের পরামর্শ মতে আমন ধান কাটার ১০-১৫ দিন আগে ধানের মধ্যে মটর ডালের বীজ বপন করায় তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছেন। ধানে প্রয়োগকৃত সার রিলে মটরের জন্য সহায়ক হবার কারণে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ ও চাষ ছাড়াই তারা এ আবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন। চাষ ও সারের অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই রিলের মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য মটরের ডাল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। চাষের মাধ্যমে বিঘা প্রতি ৩-৪ মণ মটরের ফলন হলেও ভূমির প্রকার ভেদে সেটা বর্তমানে ৫-৬ মণে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।


বাওইখোলা গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদাও বেড়ে গেছে। সে কারণে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার না করলে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। সীমিত জমিতে কিভাবে আরো বেশি ফসল উৎপাদন করা যায় সেদিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। জমির স্বাস্থ্য রক্ষায় শেকড় জাতীয় বা ডাল তেল জাতীয় ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ থেকে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, পাবনার উপপরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি পাল্টে দেয়া হচ্ছে। খরা ও লবণাক্ত এলাকায় আবহাওয়া সহিষ্ণু ফসলের আবাদ বেছে নেয়া হচ্ছে। মানুষের ন্যায় জমিরও একটি স্বাস্থ্য আছে। জমিকে অতিরিক্ত চাপ দিলে তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে যাবে। সে কারণে জমির স্বাস্থ্য রক্ষায় কৃষি বিভাগ রিলে ফসল আবাদের উপর জোর দিয়েছে। ডাল জাতীয় ফসলের শেকড় থেকে নাইট্রোজেন উৎপন্ন হয়ে থাকে। কৃষক ইউরিয়া সার প্রয়োগের মাধ্যমে জমিতে নাইট্রোজেন বৃদ্ধি করে থাকে। জমির স্বাস্থ্য রক্ষায় বেশ কয়েকটি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন অন্যতম। সে জন্য এক চাল, দুই ডাল ও এক তেল পদ্ধতিতে বছরে একই জমিতে চারটি ফসল উৎপাদন করার প্রযুক্তি পাবনার কৃষকদের মাঝে ছড়িয় দেয়া হচ্ছে। এতে উপকৃতও হচ্ছেন কৃষকরা।

বগুড়া শহরে ছিনতাই বেড়েছে নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত মানুষ

মাসুদুর রহমান রানা : যেন ছিনতাইয়ের নগরীতে পরিণত হয়েছে বগুড়া। প্রায় রাতেই শহরের কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বেপরোয়া ছিনতাইকারিদের হাতে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। শুধু ছিনতাই নয়, বেড়েছে চুরি-ডাকাতিও। ছিনতাইরোধে পুলিশ গুলি চালালেও পরিস্থিতি পাল্টায়নি এতটুকু। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সাথে ছিনতাইকারিদের বন্দুকযুদ্ধও হয়েছে। ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শহরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় শহরের ৩৫টিরও বেশি স্পটে প্রায়ই ছিনতাই হচ্ছে। এ স্পটগুলো হলো বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিছনে, জহুরুল নগর এলাকায় কাঁচা রাস্তামোড়, মুন হল ও শেরেবাংলা হলের সামনে, নিশিন্দারা টিটিসি’র সামনে, নামাজগড় গোরস্থানের কাছে, সুলতানগঞ্জ পাড়ার হাকির মোড়ের অদূরে, শিববাটি কটন মিলের সামনে, মালগ্রাম দীঘির পাশের রাস্তায়, সবুজবাগ কৃষি ফার্মের সামনে, বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের পিছনের সড়কে, চেলোপাড়ার রেল ব্রিজের কাছে, নারুলি কৃষি ফার্মের সামনে, কৈপাড়া ব্র্র্যাক অফিসের সামনে, সাবগ্রাম বড়িয়া বটতলা এলাকা, মালতিনগর বউ বাজারের অদূরে, সেউজগাড়ি পানি ট্যাংকির সামনে, সুত্রাপুর ঈদগাহ লেনে, সবুজবাগ তাপসি রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে, পুরান বগুড়া পাওয়ার হাউজের পিছনে, কৈচর স্ট্যান্ডের কাছে, চারমাথা মোড়ের কাছে, মাটিডালি ব্রিজের কাছে, বগুড়া রেলস্টেশনের কাছে, কানছগাড়ি, পিটিআই মোড়, সুত্রাপুর আজাদ পাম্পের গলি, গোহাইল রোডের পুরাতন কৃষি ব্যাংকের সামনে, টিন পট্টি সড়কে, দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে বতিশন এলাকা শহরতলীর বেজোড়া ঘাট, কলোনী থেকে চকলোকমান রোড, মাদলা সড়ক, নূনগোলা ঈদগাহ মাঠ, রাডার স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তা ও অলিগলি।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে গত তিন মাসে শহর ও শহরতলীর এসব স্পটে শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার বেশিরভাগই থানায় মামলা করা হয়নি। ভুক্তভোগিরা ঝুক্কি ঝামেলা মনে করে মামলা দায়ের করেন না বলে জানা গেছে।  শুধু রাতই নয়, বগুড়া শহরে এখন দিন-রাত কোনটাই নিরাপদ নয়। প্রকাশ্যে দিন দুপুরেও ছিনতাই ও সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে পথচারি, ঢাকা ফেরত বাস যাত্রি, নিরীহ ছাত্র, রিকশা যাত্রীসহ যাকে পাচ্ছে তাকে জিম্মি করে টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রাণভয়ে সশস্ত্র ছিনতাইকারিদের কেউ বাধা দেয় না। যদি কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধা দেয়, তাহলে তার পরিণতি খারাপ হয়। বাধা পেলে ছিনতাইকারিরা আরো হিং¯্র হয়ে উঠে ছুরিকাঘাত করে মানুষকে হত্যাও করে।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কয়েকজন ছিনতাইকারি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের পিছনে জহুরুল নগর এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তায় সাইকেল আরোহী আব্দুল কুদ্দুস (৩২) কে পেয়ে তার কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ও সাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত ছিনতাইকারিরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আব্দুল কুদ্দুস শহরের মেরিনা মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষী। এ সময় তিনি কর্মস্থল থেকে জহুরুলনগরে তার ভাড়া বাড়িতে ফিরছিলেন।  পর্যন্ত পুলিশ এ চাঞ্চল্যকর ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ছাড়া একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের সেউজগাড়ি পানির ট্যাংকির কাছে ছিনতাইকারিরা লিটন নামে স্কয়ার কোম্পানির এক গাড়ি চালককে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ছুরিকাঘাতে লিটনের ভুড়ি বের হয়ে গেছে। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ছাড়া এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে দিন দুপুরে শহরের নারুলি পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ছিনতাইকারিরা সুমন ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার তুহিন ও কর্মচারি কাশেমকে পিটিয়ে ১২ লাখ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। টাকা গুলো ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চাঞ্চল্যকার এই ছিনতাইয়ের ঘটনায়  পুলিশ শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেও টাকাগুলো উদ্ধার করতে পারেনি।

সেই সাথে গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার অদূরে মেরিনা রোডে নিউ মার্কেটের আল-হাসান জুয়েলার্সে ফিল্মি স্টাইলে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল গুলি করে দোকান মালিক গোলজার রহমানকে আহত করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ছয়শ’ ভরি সোনার গহনা ও পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ডাকাতির ঘটনায় গুলি করে পুলিশ তিন ডাকাতসহ চার জনকে গ্রেফতার করলেও এখনও অধরা রয়েছে আরো আট-নয়জন ডাকাত। লুন্ঠিত সোনার গহনার মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার হয়নি। ছিনতাইকারীদের কয়েকটি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে ছিনতাই করছে। এদের মধ্যে ভয়ংকর গ্রুপ হলো মোটরসাইকেল বাহিনী। মোটর সাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা প্রকাশ্যে দিনের আলোয় অথবা সন্ধ্যা রাতেই শহরের বিভিন্ন স্থানে পথচারী ও ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইয়ের সংখ্যা দুই থেকে তিনজন হয়। ছিনতাইকারিরা ছিনতাইয়ের সময় সবচেয়ে বেশী কালো, লাল ও মেরুন রঙের ফ্রিজার অথবা পালসার মোটর সাইকেল ব্যবহার করে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এ ছাড়া পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন মেসে থাকা কলেজ ছাত্ররাও ছিনতাইকারীদের টার্গেট। তারা প্রয়োজনীয় কাজে রাস্তায় বের হলে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন। কোন কোন ছাত্রকে জিম্মি করে তাদের মোবাইল দিয়ে তাদের বাবা-মার কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণেরও টাকা আদায় করছে  ছিনতাইকারীরা।
উল্লেখ্য, পহেলা ফেব্রুয়ারি ছিনতাইকারীরা বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সামনে থেকে তন্ময় রহমান নামে এক কলেজ ছাত্রকে জিম্মি করে ৩০ হাজার টাকার মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে। পরে অবশ্য স্টেডিয়াম ফাঁড়ির পুলিশ মুক্তিপণের টাকা ও মোটর সাইকেল সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

শুধুু ছিনতাই-ডাকাতিই নয় শহরে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চুরির ঘটনাও। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকান ও বাড়িতে বেশি চুরি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে সেউজগাড়ি আমতলা মোড়ে সোহেল ব্যাটারি ও সুত্রাপুরে গোহাইল রোডে আরও একটি ব্যাটারির দোকানে চুরি হয়েছে। চোরেরা কৌশলে মাইক্রোবাস এনে দোকানের সামনে আড়াল  করে রেখে দোকানের তালা ভেঙ্গে মালামাল লুটের পর তা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পালিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ছিনতাই রোধে অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও ছিনতাই ঠেকানো যাচ্ছে না। গত ১৭ জানুয়ারি স্টেডিয়াম ফাঁড়ির পুলিশ বগুড়া আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের পিছনে অভিযানে গেলে ছিনতাইকারীদের সাথে বন্দুক যুদ্ধ বেঁধে যায়। বন্দুক যুদ্ধের পর পিস্তল ও গুলিসহ বিক্লাশ সাকিল নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের অভিযান সত্ত্বেও দিন দিন শহরে চুরি-ছিনতাই বাড়ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।

এব্যাপারে সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, শহরের অলিগলিতে কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সে বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসে না। তার মতে বগুড়া শহরে ছিনতাই হয় না বললেই চলে। তারপরও ছিনতাইকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অভিযানে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারি। তিনি আরও বলেন মেরিনা মার্কেটের নিরাপত্তা রক্ষী আব্দুল কুদ্দুস হত্যার নেপথ্যে কী ঘটনা রয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি দাবি করেন ছিনতাইয়ের কারণে এই খুনের ঘটনা ঘটেনি।

 

পদ্মাসেতু ইস্যুতে বিএনপিকে চাপে রাখবে আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি : বহুল আলোচিত পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বস্তি এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে দলটি। নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং সুশীল সমাজের একটি অংশকে চাপে রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। একই সাথে ‘অনৈতিক বিতর্কের ভারমুক্ত’ হওয়ায় ভাগ্য খুলতে পারে ওই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণ পাননি কানাডিয়ান আদালত। তাই দেশটির মন্ট্রিলভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নির্দোষ রায় দিয়ে খালাস দিয়েছেন ওই আদালত। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ওই রায়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পায় বাংলাদেশ। এর পর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ বছর আগে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হলো। আর এটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করল সে সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট। সুশীল সমাজের একটি অংশ গণমাধ্যমে নানা ধরণের বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াল। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মিথ্যা অভিযোগ তোলার পেছনে পশ্চিমাদের রাজনৈতিক উদ্ধেশ্য ছিল। এই অভিযোগের কারণে দেশ ও শেখ হাসিনা সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি টালমাটাল হয়ে পড়ে এবং জনগণের মধ্যে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। তারা বলেন, বিশ্বব্যাংকের এই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে কানাডার আদালতে। তারা বলেছে এই প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি। অথচ যারা এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে দেশে- বিদেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছেন তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারা দশম নির্বাচনের আগে এটিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখন আমরা আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের বিরুদ্ধে এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করব- এটাই তো স্বাভাবিক।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কানাডিয়ান আদালতের রায়ের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হলো- দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা কল্পিত ও বানোয়াট। ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের অপচেষ্টা হয়েছিল। এই অপপ্রচারের ফলে বিশ্বব্যাংকের মতো দাতা সংস্থার অর্থায়ন যাদের কারণে বাতিল হয়েছে তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, গরীবের রক্তচোষা একজন মহৎ ব্যক্তির জিঘাংসা চরিতার্থ করতে যারা দেশের বিরুদ্ধে পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে কল্পকাহিনী রচনা করেছেন এখন তাদের মন্তব্য প্রত্যাশা করছি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সত্যকে কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সরকার সততা ও যোগ্যতা দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যারা পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। দলটির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে পদ্মাসেতুর অর্থায়ন নিয়ে দুর্নীতির নামে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। যারা দেশে অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে চায় তারাই এ অপপ্রচার চালিয়েছিল, এটা আবারও প্রমাণ হলো। দলটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র ছিল। পদ্মাসেতু যেন না হয় সে জন্যইএ ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মায় কোন দুর্নীতি হয়নি, সে কথা আজ প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের উচিত এ ধরনের কোনো অভিযোগ উঠলে তদন্ত সাপেক্ষে বক্তব্য দেয়া।

সুশীলদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ
এদিকে  রোববার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করেছেন। এক্ষেত্রে নোবেল বিজয়ী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের নামও এসেছে। তাদের নির্দেশেই বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণে অর্থায়ন করা বন্ধ করেছে। সে সময় মিথ্যা অপবাদের সঙ্গে কিছু টকশো ব্যক্তিত্ব বা বিশেষজ্ঞরা সুর মিলিয়েছেন। এখন আমি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুরে বলবো, এদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

টিআইবির বিরুদ্ধেও সরব
 বোববার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের কিছু অসাধু বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ড.ইউনূস পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করেছিলেন। সব ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে টিআইবি অনেক বড় বড় কথা বলেছেন। তারাও এখন সুর পাল্টেছেন। তাদের (টিআইবি) এখন উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।

ফিরছেন আবুল হোসেন?
এদিকে কানাডিয়ান আদালতের ওই রায়ে রাজনৈতিকভাবে ভারমুক্ত হলেন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক সময়ের দাপুটে এই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। বিতর্কের জেরে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়নও পাননি। হারান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদও। পদ্মা সেতু রায়ের পর আবারো আলোচনায় সাবেক এই মন্ত্রী।

শনিবার আবুল হোসেনের গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির দলের মধ্যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, রায়ে কলুষমুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের ফাঁকা থাকা কোনো পদে শিগগিরই হয়তো বসানো হবে তাকে। এক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ভেঙে দুটি করে সেতুর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। অথবা অন্য কোন মন্ত্রলাণয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

 

তেজপাতার বাগান করে স্বপ্ন পূরণ আদিবাসী শিরিল মুর্মুর

আমিনুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর) : পত্রিকায় সংবাদ পড়ে স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আদিবাসী শিরিল মুর্মু। তিনি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আদিবাসী পাড়ার মৃত চুন্ডা মুর্মুর ছেলে।

তার স্বপ্নের সূত্রপাত ঘটে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা শিরিল মুর্মু পত্রিকায় প্রকাশিত তেজপাতার বাগান সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি মনোযোগ দিয়ে পড়েন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনিও একটি বাগান করার স্বপ্ন লালন করতে থাকেন এবং ওই বছরে তেজপাতার বাগান করতে বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে আগস্ট মাসে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ৭৫ শতকের একটি এক ফসলি জমিতে সিঙ্গাপুর জাতের ২১৬টি গাছ রোপণ করে তেজপাতার বাগানটি গড়ে তোলেন।

শিরিল মুর্মুর সাথে বাগান সম্পর্কিত আলাপকালে তিনি তার স্বপ্নের কথাগুলো বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি চারা গাছ ১৫০ টাকা দরে ২১৬টির দাম পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ টাকা এবং চার পাশে বাঁশের বেড়া, লেবুর গাছের বেড়া, মজুরি ও অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। তবে মজার ব্যাপার হলো তার বাগানে চারা রোপণের মাত্র ১৬ মাসের মাথায় দুবার তেজপাতা বিক্রি করে অর্থ পেয়েছেন ২০ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে বাগানে তৃতীয় বারের মত বিক্রির উপযোগী পাতা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২০ হাজার টাকা মত।

 অপরদিকে শিরিল মুর্মুর তেজপাতা বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী পাকেরহাট গ্রামের আব্দুর রাকিব ৫০ শতক জমিতে প্রায় ৪০০টি গাছের তেজপাতার বাগান করেছেন। তিনিও ১৬ মাসে দুবারে প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় পাতা বিক্রি করেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তেজপাতা বিক্রিতে আশাতীতভাবে অর্থোপার্জন হওয়ায় লিচু কিংবা অন্য কোন ফলদ বাগানের চেয়ে অনেক লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব বাগানের পরিচর্যা করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ নিয়মিত সহযোগিতা করছেন বলে জানান শিরিল মুর্মু। অপরদিকে তেজপাতার মুনাফা দেখে শিরিল মুর্মুর বড় ভাই পিয়ন মুর্মুও ২৫ শতকের জমিতে ৯০টি গাছ দিয়ে একটি বাগান করেছেন।তেজপাতার আদিনিবাস ইন্দোনেশিয়ায় হলেও বহুগুণে গুণান্বিত চিকিৎসা উপকরণ ও মসলা জাতীয় এ গাছটি

বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানেও জন্মায়। পায়েস, পোলাও, বিরিয়ানি, মাংস ও মাছের ঝোল, ভুনাসহ হরেক প্রকার খাবারের স্বাদ আনতে যে সব মসলা রান্নার কাজে ব্যবহার হয় তার অন্যতম হলো তেজপাতা। এছাড়াও চিকিৎসা শাস্ত্রেও রয়েছে তেজপাতার ব্যাপক কদর। তেজপাতার নির্যাস যেসব রোগের প্রতিষেধক হিসেবে উপকারী তার মধ্যে হজমশক্তি বৃদ্ধি, শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহ সর্দিকাশি থেকে মুক্তি, শরীরের বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়, কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ, হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, শরীরের দুর্গন্ধ হ্রাস, ত্বক ও দাঁত উজ্জ্বল রাখা, খুশকি এবং চুলপড়া কমাতে খুবই কার্যকর তেজপাতা ঘরের সংরক্ষিত কাপড়ের ভেতর রাখলে কোনো পোকার আক্রমণ হয় না। আর একটি তেজপাতা গাছ হতে ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ভালো মানের পাতা সংগ্রহ করা যায়।

বাণিজ্যিকভাবে করা তেজপাতার বাগান সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার এজামুল হক জানান, শিরিল মুর্মু এবং পাকেরহাট গ্রামের আব্দুর রকিবের আগ্রহ দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি। তাদের একান্ত আগ্রহের কারণে কৃষি দফতরের সকলে বিষয়টি নিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তারা সফল হয়েছেন। কৃষি অধিদফদরের উপপরিচালক মহোদয়ও তাদের তেজপাতার বাগান পরিদর্শন করে গেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের জন্য তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি : নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে হিসাব-নিকাষ শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে এখন থেকেই নড়েচড়ে বসছে তারা। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবার ভোটে অংশ নেবে এবং ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই এখন থেকেই নির্বাচনী মিশন হিসেবে দুই বছরের ‘রোডম্যাপ বা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে মাঠে নামছে দলটি। লক্ষ্য গণজোয়ার সৃষ্টি করে সকল প্রকার রাজনৈতিক সূচকে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা, যাতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কোন ধরনের ঝুঁকি না থাকে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বশীল নেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দলটির নেতারা বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য ইসি এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি বিভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক বক্তব্য দিবে এবং প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করবে। তবে মুখে যাই-ই বলুক, বিএনপি শেষ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং দলীয় ভূমিকায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাই আগামী নির্বাচন হবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিষয়টি গুরুত্বে সাথে নিয়ে এখন থেকেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে দুই বছরের নির্বাচনী ‘রোডম্যাপ বা মহাপরিকল্পনা’ নিয়েই মাঠে নামতে চায় আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা মনে করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারাও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইসি গঠনে দলটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তার প্রমাণ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আগামী নির্বাচনটা আওয়ামী লীগের জন্য গত নির্বাচনের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ। ভোট নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যেই নানা ধরণের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা রকম ষড়যন্ত্রও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাই আমরাও ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আমাদের আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছি। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশ এখন তৃণমূলকে সংগঠিত করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের তালিকা নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিপর্বের কাজ চলছে।

দলীয় সূত্রমতে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই বাড়বে রাজনৈতিক কর্মকান্ড। এতে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ব্যস্ততা আরো বাড়বে। তাই সময় নষ্ট না করে দুই বছর আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্ব শুরু হরা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভিশন-২০৪১ অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষণাপত্র তৈরি, দফায় দফায় মাঠ জরিপের ভিত্তিতে যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী বাছাই, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে তা মিটিয়ে দৃঢ় ঐক্যের সৃষ্টি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে জনগণের মন জয় করা। দেশজুড়ে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। সাংগঠনিকভাবে এসব কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, এবার কোন দুর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে পরাজয়ের কোনই ঝুঁকি নেবে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বিজয় নিশ্চিত করতে চায় দলটি। এজন্য প্রতিটি আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কে হতে পারেন, তা বিবেচনা করেই প্রার্থী বাছাই করতে মাঠ জরিপের মাধ্যমে সংগ্রহ তথ্য সংগ্রহ করছে আওয়ামী লীগ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে- গত তিনটি নির্বাচনে কারা প্রার্থী ছিলেন, কে কত ভোট পেয়েছিলেন, এখন দলে কার কি অবস্থান, কে কতটা জনসম্পৃক্ত ইত্যাদি। সূত্র জানায়, ৮টি বিভাগীয় টিমে ভাগ হয়ে দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক সফরও শুরুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থেকে শুরু করে দলের সিনিয়র সব নেতাই প্রতিসপ্তাহেই নানা জেলা সফরে গিয়ে সমাবেশ, জনসভা, প্রতিনিধি সম্মেলনের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়াও শুরু করেছেন। তুলে ধরছেন দেশের উন্নয়ন ও সরকারের অর্জনগুলো। জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি দলের একটি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের জন্য দলের ইশতেহারের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের গৃহীত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগণের সামনে তুলে ধরারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যত এই নির্দেশের পর পরই সরকারে থাকা মন্ত্রী এমপিরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখেই আওয়ামী লীগের নেতারা গণসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন। সার্বিকভাবে বলতে গেলে আমরা নিজেদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে দেশের চেহারাই পাল্টে দিয়েছেন। উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো নিজেরা তদারকি করছেন। এসবের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ চলছে। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নির্বাচন একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপি গতবারের মতো একই ভুল এবার করবে না বলে আমরা মনে করি। তারা মুখে যা-ই বলুক, নির্বাচনে অংশ নেবে। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে- এটাই স্বাভাবিক। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সামনে তারা টিকবে না। মানুষ তাদের দূর্নীতি ও আগুন সন্ত্রাসের কথা ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। আমরা সব সময় সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মধ্যেই থাকি।

আর কত বয়স হলে বয়স্কভাতার কার্ড পাবেন লুচিয়া হেমব্রোম

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার নুরপুর গুচ্ছগ্রাম আদিবাসী পাড়ার মৃত গাবরিয়েল হেমব্রোমের স্ত্রী লুচিয়া হেমব্রোম ৮০ বছর বয়সে অভাবের তাড়নায় গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করলেও আজও জোটেনি তার কপালে সরকারি কোন অনুদান বা বয়স্ক ভাতার কার্ড।

সম্প্রতি ওই বৃদ্ধা মহিলাকে সাপাহার বাজারে ভিক্ষার ঝুলি হাতে ভিক্ষারত অবস্থায় দেখা যায় ।

বৃদ্ধার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন পূর্বে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিঃসন্তান হওয়ায় স্বামীর ঘরে পূর্বের স্ত্রীর এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে কিছু দিন কাটে তার। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ধামইর হাটে ওই মেয়ের বিয়ে হওয়ায় সে তার স্বামীর সংসারে থাকে। বৃদ্ধা ওই সৎ মার কোন খোঁজ খবর নিতে পারে না।

এছাড়া গ্রামে অনেকেই সরকারি অনুদান পেলেও তার খোঁজ কেউ নেয় না পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ শরীরের ভারে নুয়ে পড়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতিদিন ৩/৪ কিলোমিটার রাস্তা পয়সা থাকলে কোন সময় ভ্যানে না চড়ে পায়ে হেঁটে গ্রাম হতে গ্রামে ভিক্ষা করে বেড়ায়।

বর্তমানে বৃদ্ধা মহিলাটি গ্রামে একাকী একটি কুঁড়ে ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কথা না হলে সদর ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলীর সাথে কথা হলে তিনি বৃদ্ধার অসহায়ত্বের কথা শুনে বয়স্ক ভাতার কার্ডটি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর নাব্যতা ফেরাতে ৮২ কিলোমিটার নদী খননের উদ্যোগ

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ৩৩টি নদীর মধ্যে অন্যতম করতোয়া নদী। এককালের প্রমত্তা করতোয়া নদী এখন শীর্ণকায় মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নদীর দু’কূল ছাপিয়ে পানি ছড়িয়ে পড়ে নদী পাড়ের মানুষের বসতবাড়ি ও আবাদী জমিতে। আর বর্ষা মওসুমের পরই পানির প্রবাহ প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় গোটা নদী এলাকা ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়। নদীর মাঝখান দিয়ে মরা নদীর মত বয়ে যায় এককালের প্রমত্তা এই নদীটি।


শীত মওসুমের শেষে নদী পাড়ের কৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নদীটির নাব্যতা ফেরাতে নদীর বালু-পলি অপসারণ, প্রয়োজনীয় খনন, পুন:খনন ও ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে ৫ কিলোমিটার নদীর খনন কাজের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে নদীটির খনন কাজ শুরু করবে তারা। পর্যায়ক্রমে নদীর বাকী অংশের খনন কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা।    
পঞ্চগড় জেলা নদী রক্ষা কমিটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, হিমালয়ের পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়ে করতোয়া নদী ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা হয়ে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভদ্রেশ্বর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর ভজনপুর বাজার পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর বয়ে চলে পঞ্চগড়    


সদর উপজেলার মীরগড় দিয়ে সদর, বোদা, দেবীগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলার খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বীরগঞ্জের মালিজন নামক স্থানে আত্রাই নদীতে পতিত হয়েছে। পরবর্তীতে নদীটি আত্রাই নদী নামে প্রবাহিত হয়ে আবারও ভারতে প্রবেশ করেছে। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১২৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১২ কিলোমিটার পঞ্চগড় জেলার ও বাকী ১৪ কিলোমিটার দিনাজপুর জেলায়। নদীটির পঞ্চগড় অংশের ১১২ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর থাকায় ৮২ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


সম্প্রতি জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় প্রতি কিলোমিটার এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা হিসেবে ৮২ কিলোমিটার নদী খননের জন্য একশ ৪৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, প্রতি কিলোমিটার ১০ কোটি টাকা হিসেবে ৮ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ৮০ কোটি টাকা, প্রতিটি ৪০ কোটি টাকা করে দেবীগঞ্জ উপজেলার লক্ষèীনারায়নী নামক স্থানে, বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ও ফুলতলা নামক স্থানে তিনটি রেগুলেটর কাম উইয়ার কাম ব্রীজ নির্মাণের জন্য ১২০ কোটি টাকাসহ মোট ৩৪৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি প্রস্তাবনা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বরাররে পাঠানো হয়েছে।

 
এদিকে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৮২ কিলোমিটার নদী খননের জন্য একটি প্রস্তাবনা প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) রংপুর বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে বোদা উপজেলার বারুনী ঘাট থেকে মাড়েয়া আউলিয়াঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার নদী খননের ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এই কাজের জন্য আগামী অর্থবছরে দরপত্র আহবান করা হবে। পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ সাপেক্ষে বাকী নদী খননের সাথে নদী শাসন কাজ ও রেগুলেটর কাম উইয়ার কাম ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।


এ ব্যাপারে কথা বললে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, জেলা নদী রক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা করতোয়া নদী খননসহ অন্যান্য কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে বোদা উপজেলার নাজিরগঞ্জ-দৈখাতা এলাকায় বারুণী ঘাট থেকে আউলিয়াঘাট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার নদী খননের জন্য অনুমোদন পেয়েছি। নতুন করে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় থেকে বোদা উপজেলার বারুণী ঘাট পর্যন্ত আরও ২৫ কিলোমিটার নদী খননের জন্য ডিপিপি প্রস্তাবনা চূড়ান্ত হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে তা বাপাউবো’র প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে পাঠানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, পর্যায়ক্রমে নদী খননসহ বাকী কাজগুলো শেষ হলে করতোয়া নদীতে সারাবছর পানি ধরে রেখে মাছ চাষসহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা লো-লিফট পাম্পগুলো সচল করে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে।


নদী খননের বিষয়টি নিশ্চিত করে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহবায়ক অমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বিভিন্ন কারণে এই নদীটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। আমরা নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বারবার কথা বলেছি। এরই মধ্যে নদী খনন, নদী শাসন ও রেগুলেটর কাম উইয়ার কাম ব্রীজ নির্মাণের জন্য ৩৪৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি প্রতিবেদন জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠিয়েছি। এসকল কাজ শেষ হলে করতোয়ায় সারা বছর পানি থাকবে। এই পানি দিয়ে চাষাবাদসহ মাছচাষ করা যাবে। ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের আর প্রয়োজন হবে না।


এ ছাড়াও আমরা জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় ৩৩টি নদীর সীমানা নির্ধারণের লক্ষ্যে সকল নদীর মৌজার তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। সংগৃহিত মৌজার সিএস ও আরএস নকশা এই জেলায় সংরক্ষিত না থাকায় মৌজা ভিত্তিক সিএস ও আরএস নকশা সরবরাহ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছে।  

ভাষার মাস শুরু আমাদের শহীদ মিনার

সৈয়দ আহমেদ অটল : ফ্রেব্রুয়ারি মাস আমাদের ভাষার মাস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মাস। মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দেবার মাস।  রফিক, সালাম, বরকত, শফিক, জব্বার এই মাসে জীবন দিয়েছিলেন রাজপথে। সেদিন ঢাকার পিচঢালা রাজপথ শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। বাঙালির সে এক অতুলনীয় সংগ্রামী ইতিহাস। পৃথিবীতে যে সংগ্রামের দ্বিতীয় ইতিহাস নেই।

১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। এক কথায় বলা যায়, সেদিনের আন্দোলনের দিশারি হয়ে আমরা পেয়েছি শহীদ মিনার। এক শহীদ মিনার থেকে এখন হাজার শহীদ মিনার। হৃদয়ে হৃদয়ে শহীদ মিনার। সেই থেকে ফেব্রুয়ারির সাহসী আন্দোলন বাঙালি জাতিকে আরো সাহসী করেছে অধিকার আদায়ে। জনগণের দাবি আদায়ে আমরা বারবার ফিরে যাই শহীদ মিনারে। কেননা শহীদ মিনার আমাদের সাহসী করে, দাবি আদায়ে সোচ্চার করে, শপথে বলীয়ান করে। শহীদ মিনার নির্মাণের শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী বারবার তা ভেঙে ফেলে। ওরা ভেবেছিল, শহীদ মিনার ভেঙে দিলে বাঙালিরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং কাজটি হয়েছে উল্টো। শাসক গোষ্ঠীর নির্যাতনের জবাব দিতে গিয়ে সেদিনের আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। আপসহীন হয়েছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করেছে জনগণের দাবি কখনো নির্যাতন চালিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। বারবার শহীদ মিনার ভাঙার ক্ষোভে সে সময় ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ তার ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ শিরোনামে কবিতায় লিখেছেনÑ ‘স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনও চার কোটি পরিবার/ খাঁড়া রয়েছি তো! যে ভিত কখনো কোনো রাজ্য পারেনি ভাঙতে/  হীরার মুকুট নিল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার/ খুরের ঝটিকা ধুলায় চূর্ণ যে পদপ্রান্তে/ যার বুনি ধান/ গুন টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাপর চালাই/ সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য। ইটের মিনার/ ভেঙেছে ভাঙ্গুক! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী/ চার কোটি পরিবার। এ-কোন মৃত্যু? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন, শিয়রে যাহার ওঠে না কান্না, ঝরে না অশ্রু? হিমালয় থেকে সাগর অবধি সহসা বরং বুদ্ধিজীবী/ সকল বেদনা হয়ে ওঠে এক পতাকার রং/ এ-কোন মৃত্যু? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন, বিরহে যেখানে নেই হাহাকার? কেবল সেতার হয় প্রপাতের মহনীয় ধারা, অনেক কথার/ পদাতিক ঋতু কলমের দেয় কবিতার কাল? ইটের মিনার ভেঙেছে, ভাঙ্গুক. একটি মিনার গড়েছি আমরা/ চার কোটি কারিগর/ বেহালার সুরে, রাঙ্গা হৃদয়ের বর্ণলেখায়। পলাশের আর/ রামধনুকের গভীর চোখের তারায় তারায়/ দ্বীপ হয়ে ভাসে যাদের জীবন, যুগে যুগে সেই/ শহীদের নাম। এঁকেছি প্রেমের ফেনিল শিলায়, তোমাদের নামে। তাই আমাদের/ হাজার মুঠির বজ্র শিখরে সূর্যের মতো জ্বলে শুধু এক/ শপথের ভাস্কর।’

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণে মাথা উঁচু করে যে শহীদ মিনার দাঁড়িয়ে আছে তা শুরুতে এমন ছিল না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে নির্মিত ভাষা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ শুরুতে খুব একটা পরিকল্পনা ছাড়া ও কম সময়ে তৈরি করা হয়। বায়ান্নর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহীদ মিনারের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে প্রাথমিক এ স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করেন জিএস শরফুদ্দিন। তিনি ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত। এ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নকশা করেন বদরুল আলম। সাঈদ হায়দার ছিলেন এ দলে সংযুক্ত ব্যক্তিত্ব। ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চওড়া ভিত্তি বিশিষ্ট ছোট স্থাপত্যটির সঙ্গে ছিল শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ লেখা একটি ফলক। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ শফিউরের বাবা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক এ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক  আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এটাই ছিল আমাদের প্রথম শহীদ মিনার। তবে সেই দিনই পুলিশ ছাত্র হোস্টেল ঘেরাও করে ও  প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। ১৯৫৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকারের সময়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থান নির্বাচন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। একবছর পর ১৯৫৭ সালে শিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৬৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম নতুন শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান সারাদেশ। সেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি আর শহীদ মিনার শুধু বাঙালিদের গৌরবের নয়, যা মর্যাদা পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে।

 

শীতকালেই শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত পদ্মা ৩৬ শাখা নদী এখন সরু খাল

পাবনা প্রতিনিধি : ভারত গঙ্গার উৎস থেকে শুরু করে মাঝপথেই সিংহভাগ পানি সরিয়ে নিচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত পানি ফারাক্কা পয়েন্টে পৌঁছাতে পারছে না। ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে শীতকালেই প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত হচ্ছে। সেই সঙ্গে পদ্মার শাখা-প্রশাখা মাথাভাঙ্গা, কুমার, ইছামতি, গড়াই, আড়িয়ালখাঁ, মধুমতি, পশুর, কপোতাক্ষ, মহানন্দাসহ অন্তত ৩৬টি নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার বুকে জেগে ঊঠছে বিশাল বিশাল চর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ, চাষাবাদ ও নৌ-যোগাযোগ।  

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, শুধুমাত্র ফারাক্কার প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প-কারখানা সবকিছুতে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। মিঠাপানি ছাড়া কৃষি তথা কোন ধরনের শিল্প-কারখানা চলতে পারে না। ফারাক্কার কারনে যশোর-খুলনা অঞ্চলে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেছে। ফারাক্কার কারনে পদ্মার তলদেশ ওপরে উঠে এসেছে। এখন পদ্মায় তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না। ইলিশের বিচরণক্ষেত্র ছিল রাজশাহী থেকে পাবনা পর্যন্ত। মাছ আসার জন্য পানিতে যে পরিমাণ প্রবাহ থাকার কথা সেটি না থাকায় এখন আর পদ্মায় ইলিশ আসে না। গাঙ্গেয় পানি ব্যবস্থায় দুইশতাধিক প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ও ১৮ প্রজাতির চিংড়ি ছিল। সেগুলোর অধিকাংশই এখন বিলুপ্তির পথে। পদ্মা নদীতে পানি স্বল্পতার কারণে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে মরুকরণ অবস্থা স্থায়ী রুপ নিতে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হুমকীর মুখে পতিত হয়েছে অনেক আগেই। পদ্মা পাড়ে এখন আর গাঙচিল, মাছরাঙা বেলেহাঁস আর ধবল দেখা যায় না। দৃষ্টিতে আসে না অন্যান্য পাখি। পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছ প্রায় শুন্য। যে কারণে সাদা বক গাঙচিল আর বেলেহাঁসের দেখা পাওয়া যায় না।

প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, সমুদ্র থেকে ৪২ ফুট উচুঁতে অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্ট থেকে ভারত সীমান্ত ত্রিশ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আঠার কিলোমিটার উজানে ফারাক্কা বাঁধ অবস্থিত। ভারতের গোমুখিতে ভূমিষ্ঠ হয়ে বাংলাদেশের মেঘনা সঙ্গম স্থান পর্যন্ত এক হাজার ৬৮০ মাইল ব্যাপী প্রবাহিত। এই নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে হরিদ্বারে। সবশেষে ফারাক্কায়। মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে গঙ্গার মূল অংশ চলে আসে বাংলাদেশে। রাজমহল পবর্তকে অতিক্রম করে বাংলার সমতল ভূমিতে নেমে আসে।

রাজমহল থেকে ত্রিশ কিলোমিটার পূর্বে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গা যায় গিরিয়ায়। তারপর বিভক্ত। একটি ধারা দক্ষিণ-পূর্বে। স্থানীয়রা বলেন ভাগিরথী। আর একটি ধারা পদ্মা। যা রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুর জেলা হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। গঙ্গা পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণে গেছে সোজা। ডাইনে বেঁকে পূর্বগামী হয়ে পৌছায় কাটোয়ায়। আবার পশ্চিম দিকে যায় কালনা, ব্যান্ডেল-চন্দননগর, কলকাতা, বজবজ হয়ে ফলতা। তারপর ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে মিশেছে। গঙ্গার নি¤œস্রোত ধারার নাম পদ্মা। রাজশাহী চারঘাটের প্রায় দশ কিলোমিটার ভাটিতে আলাইপুর পর্যন্ত পঞ্চাশ কিলোমিটার। চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার বরাঙ্ক মোহনপুর, রাণীনগর ও আলাতুলি এলাকায় নদী সম্প্রারিত ছিল। এখন তা চরে পরিণত হয়েছে।

চারঘাট থেকে নাটোরের লালপুর পর্যন্ত তেত্রিশ কিলোমিটার। এর পরেই ঈশ্বরদীর সাহেব বাজারের পাশ দিয়ে এ নদী পাবনায় ঢোকে। পাবনা সদর, সুজানগর থানা সদর অতিক্রম করার পর বেড়া উপজেলার নতিবপুরের কাছে বারকোদালিয়া নামক স্থানে যমুনা নদীর সাথে মিশেছে। এর মিলিত প্রবাহকে পদ্মা নামে অভিহিত করেন নদী গবেষকেরা। অবশ্য গঙ্গা বাংলাদেশে আসার পর থেকেই পদ্মা নামে পরিচিত। পাবনায় পদ্মা ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। হার্ডিঞ্জ সেতুর উজানে রয়েছে পদ্মার পানি পরিমাপের মিটার গেইজ। এখানে বাংলাদেশ ও ভারতের পানি বিভাগের কর্মকর্তারা পানি মাপেন। অভিশপ্ত ফারাক্কা ব্যারেজের বিরুপ প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের পদ্মা পারের মানুষ বহুমুখি সঙ্কটে পড়েছে। পদ্মার অর্ধশত শাখা নদী মজে যাওয়ায় পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর। পশ্চিম বাংলার ভাগীরথী আর হুগলি নদীর প্রভাব ছেড়ে গঙ্গার পানি অপর অংশ পূর্ব দিকে পদ্মা নদী দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। ভারত সরকার গঙ্গার পানি রোধে ১৯৫১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে শুরু হয় ফারাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা। এরপর থেকেই মজে যেতে থাকে পদ্মা ও শাখা নদীগুলো। হুগলিতে প্রবাহ আনতে গিয়ে পদ্মাকে রুগ্ন করা হয়েছে। যশোর-কুষ্টিয়ার নদীগুলো পদ্মার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। পাবনার ইছামতি, রতœাই, চন্দ্রাবতী এবং রাজশাহী ও নাটোরের কয়েকটি নদী রয়েছে। পদ্মার প্রধান শাখা নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথা ভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, পশুর ও বড়াল। নদী কিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি প্রবাহের মাত্রা ৪০ হাজার কিউসেক হলে নদীতে আর পলি জমতে পারে না। তলদেশও ভরাট হয় না। প্রবাহ কম বলে পদ্মার বুকে মাইলের পর মাইল চর জেগে উঠছে। পদ্মার প্রধান শাখা নদী হলো মাথাভাঙ্গা, কুমার, ইছামতি, গড়াই, আড়িয়ালখা প্রভৃতি। প্রশাখা হলো মধুমতি, পশুর, কপোতাক্ষ। উপনদী একটি মহানন্দা। মহানন্দা রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় পদ্মায় মিলিত হয়েছে। পদ্মার পানি দিয়ে শুকনো মওসুমে রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর প্রভৃতি জেলায় সেচকাজ চালানো হয়। এ নদীর পানি দিয়ে প্রায় ২০ ভাগ জমির সেচকাজ চলে। বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্মা নদীর ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পদ্মার যে বিপুল আয়তন তাতে স্বাভাবিক প্রবাহ থাকলে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টির কথা উঠতো না। কিন্তু ভারত নেপালের কোশি থেকে শুরু করে ফারাক্কা পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথে পানি প্রত্যাহারের যে একতফা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- তাতে বাংলাদেশের বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটায় শিশুদের শ্রম বিক্রি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের ইটভাটাগুলোতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে শিশুরা। এতে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে তারা। ভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৬৭টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১৫টি ভাটায় পরিবেশসম্মত জিগজ্যাগ চিমনি আছে।
ঠাকুরগাঁও সদরের বেশ কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুর বেলা রোদ মাথায় নিয়ে একদল শিশু কাজ করছে। এরা সবাই ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী।  কেউ মা-বাবার সাথে, কেউ শ্রমিক সরদারের সাথে ইটভাটায় কাজে এসেছে। কাঁচা ইট রোদে শুকানো, ইট তৈরি, ট্রলিতে করে ইট টেনে ভাটাস্থলে পৌঁছানো, মাটি বহন করাসহ সব কাজেই নিয়োজিত আছে এই শিশুরা।

ফাড়াবাড়ি সড়কের বরুনাগাঁও এলাকার কেএমবি ইটভাটায় কাজ করছে নাজমুল (১৪) নামে এক শিশু। নাজমুল বলেন, পড়ালেখা বাদ কিছু অনেক দিন হই গেল। এলা এই ভাটাত ইট বানাছু। আর ইট বানায় যে টাকা পাউ সেইলা বাড়িত দিউ।

 ভেলাজান এলাকায় এসএমবি ব্রিকস নামে ইটভাটায় অন্তরা (১০) নামে আরেক শিশুকে দেখা যায় ইট তৈরির কাজে। অন্তরার মা ঝর্ণা বেগম বলেন, অভাবের তাড়নায় ইটভাটার কাজ করি। বাচ্চা স্কুলে দিলি তো কাম করন যাবি না। এ জন্যি ওগোও কামে দিছি, দু পয়সা রোজগার করুক।

শ্রম আইন-২০০৬-এর ২৮৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করলে অথবা আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করে কোনো শিশুকে চাকরি করার অনুমতি দিলে, তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।

কেএমবি ইটভাটার মালিক মুসারুল হক বলেন, শিশু শ্রমিকেরা এই কাজে পারদর্শী হওয়ায় এদের দিয়ে কাজ করানো ছাড়া আমাদের উপায় নেই।
ঠাকুরগাঁও বক্ষ্যব্যাধি ক্লিনিকের চিকিৎসক আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ইটভাটায় দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে শিশুদের ত্বক ও নখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভাটায় শিশুশ্রমের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার আগরওয়ালা বলেন, অল্প কিছু ভাটায় শিশুশ্রমিক থাকতে পারে তবে বেশির ভাগ ভাটায় নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, অবৈধ এসব ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

১৬ বছর আগের কমিটি দিয়ে চলছে কৃষক দল

রাজকুমার নন্দী : আগামী মাসে ঘোষণা করা হতে পারে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠেয় চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ‘পূর্ণাঙ্গ’ কমিটি ঘোষিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কৃষক দলের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। তবে এ সম্মেলনের তারিখ আরো সপ্তাহ খানেক পেছাতেও পারে। বেশ কিছুদিন ধরে কৃষক দলের নতুন কমিটির গুঞ্জন থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সাড়ে ষোল বছর আগের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ কমিটি দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে বিএনপির অন্যতম এ অঙ্গ সংগঠনটি।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১৬ মে তৃতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মাহবুবুল আলম তারাকে সভাপতি এবং শামসুজ্জামান দুদুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কৃষক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে মাহবুবুল আলম তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নির্বাচন করায় সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে তার মৃত্যুতে দ্বিতীয় সহ-সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হন। ওই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে বিএনপির গঠনতন্ত্রেও ‘এক নেতার এক পদ’র বিধান সংযোজিত হয়। ফলে কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের চেয়ারপারসনের কাছে চিঠি দেন ফখরুল। সেই থেকে কৃষক দলের সভাপতির পদটি শূন্য রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও গত প্রায় দেড় যুগেও কোনো কাউন্সিল করতে পারেনি কৃষক দল। এ দীর্ঘ সময়ে কোনো কাউন্সিল না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব যেমন গড়ে ওঠেনি, তেমনি সংগঠনকেও গতিশীল করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি বলে অভিমত নেতাকর্মীদের।

কৃষি ও কৃষকের উন্নতির লক্ষ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কৃষক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এই সংগঠনটির কার্যক্রম এখন কঠিন সঙ্কটের মুখে, বর্তমানে অস্তিত্বহীন কৃষক দল। সরকারবিরোধী রাজপথের আন্দোলন কিংবা কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন কোথাও কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে হতাশ সংগঠনটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সারাদেশে কৃষক দলের ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় সবগুলোর কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

সম্ভাব্য কৃষক দল : বেশ কিছুদিন ধরে মোহাম্মদ শাহজাহান এবং শামসুজ্জামান দুদুকে শীর্ষপদে রেখে কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছিল। এখন দু’জনই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। দুদু ১৯৮৭ সালে কৃষক দলের সদস্য সচিব হন। এরপর ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় সম্মেলন ও পরবর্তীতে তৃতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। কর্মীবান্ধব হওয়ায় তাকে কৃষক দলের নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে অনেক নেতাকর্মীই দেখতে চান। তবে বিএনপির হাইকমান্ড দলে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হওয়ায় দুদুর পুনরায় কৃষক দলে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের চাওয়া, দলীয় চেয়ারপারসনের বিশেষ ক্ষমতাবলে দুদুকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কৃষক দলেরও সভাপতি করা হোক। এছাড়া কৃষক দলের সভাপতি পদে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমউদ্দিন আলমের নাম সর্বাধিক আলোচিত হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন-কৃষক দলের নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, বর্তমান যুগ্ম-সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসিম ও সহ-সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন। এছাড়া কৃষক দলের বর্তমান সহ-সভাপতি এম এ তাহের ও সংগঠনটির উপদেষ্টা নাজমুল আলম লালের নাম নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে শোনা যাচ্ছে।

নাসির হায়দারকে আহ্বায়ক এবং এল (লুৎফর) রহমানকে সদস্য সচিব করে সর্বশেষ ২০০৬ সালে গঠিত ঢাকা মহানগর কৃষক দলের অবস্থাও করুণ। অনেকটা ‘কাজীর কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ এর মতো অবস্থা, কোথাও নেই এ সংগঠন। রাজধানীতে ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফলে ঢাকা মহানগর কৃষক দলকে দুই ভাগে (উত্তর-দক্ষিণ) ভাগ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরে এ কমিটি হবে। নাসির হায়দার কৃষক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সুপার ফাইভে থাকতে চান। অন্যদিকে, এল রহমান তেজগাঁও থানা বিএনপির শীর্ষপদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষক দলেও পদ প্রত্যাশী।

কৃষক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্ভাব্য কমিটি : উত্তরের সভাপতি হিসেবে রামপুরা থানা কৃষক দলের সভাপতি আছাদুল হারিছ ডল ও বাড্ডা থানার সভাপতি মোরশেদ আলম আলোচনায় রয়েছেন। উত্তরের সাধারণ সম্পাদক পদে কাফরুল থানার সভাপতি মো. সোহেল ও মিরপুর থানার সাবেক সভাপতি এসএমজে মাসুদের নাম শোনা যাচ্ছে।

সম্ভাব্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক দল : শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও কদমতলী থানার সভাপতি ইয়ার হোসেন ববির নাম দক্ষিণের সভাপতি পদে সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদে মুগদা থানা কৃষক দলের সভাপতি হারুন শিকদার, কামরাঙ্গিরচর থানার আহ্বায়ক কামাল হোসেন, বংশাল থানার সভাপতি আব্দুল রাজী ও লালবাগ থানার সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বাদশার নাম শোনা যাচ্ছে।

কৃষক দলের নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কৃষির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত কিংবা কৃষির ব্যাপারে উৎসাহী এবং ছাত্রদল-যুবদল ও অন্য অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্ব পালন করা নেতৃবৃন্দ যারা কৃষক দলে কাজ করতে আগ্রহী, তাদেরকে নিয়েই আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে চাই।

কৃষক দলের সভাপতি পদে দুদুকে ঘিরে নেতাকর্মীদের চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সব সময় দলের জন্যই কাজ করি। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া), দলের মহাসচিব ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে যেখানে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করবেন, আমি সেখানেই কাজ করবো।

শাহজাহান মিয়া সম্রাট দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমি দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া)সহ দলের হাইকমান্ড আমাকে যেখানে উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দেবেন, আমি তা চূড়ান্তভাবে পালন করে যাব।

দাসিয়ারছড়ার সাইকেল কন্যারা ছুটে বেড়ায় সারা শহর

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার তরুণীরা এখন স্বাধীনভাবে দুই চাকার সাইকেলের বেলের টুং টাং শব্দ করে স্কুলে যায়, বাজার করে ও মনের ইচ্ছে অনুযায়ী ছুটে বেড়ায় উপজেলাসহ সারা জেলা শহর। স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার আনন্দে তারা এখন স্বাধীনভাবে সব যায়গায় ঘুরে বেড়ায়।

 আর তাই এলাকার মানুষজন তাদের নাম দিয়েছে ‘সাইকেল কন্যা’। কালিরহাট বাজারের পাশের সড়কে দেখা যায় তরুণীরা দলবেঁধে সাইকেলের কেরিয়ারে বই নিয়ে স্কুলে ও টিউশনিতে যাচ্ছে। দাসিয়ারছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান, জেসমিন আক্তার, জান্নাতি খাতুন, নাসিমা খাতুন, মুলকি আক্তার মুন্নি, ৬ষ্ঠ শ্রেণির লিমা খাতুন, ৮ম শ্রেণির বিপ্লবী রায় এর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, জন্মের পর থেকে একটা অবরুদ্ধ পরিবেশে মানুষ হয়েছি। ছিটমহলে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। মিথ্যা পরিচয়ে ফুলবাড়ীর বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করেছি। আমাদের কোন স্বাধীনতা ছিল না। ভয়ে ভয়ে ছিটমহলের বাইরে যেতাম, তাই নিজেকে নিরাপদ মনে করতাম না।

 কিন্তু গত বছরের ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের মানচিত্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ায় এখন আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাই ইচ্ছানুযায়ী ঘুড়ে দেশটা দেখছি। আগে ভয়ে ফুলবাড়ী সদরে যেতাম না। এখন সাইকেল চালিয়ে ফুলবাড়ী সদরে যাই এবং বাজার করে নিয়ে আসি। আগে ছিটের মেয়েদের দশ পেরুলেই বিয়ের পীড়িতে বসতে হতো। এখন বাল্যবিয়ে আইনত নিষেধ হওয়ায় ছিটের মেয়েরা মুক্ত বিহঙ্গের মত স্কুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছেলেরাও স্কুলে পড়ছে। আটিয়াবাড়ী গ্রাম থেকে আড়াই কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে দাশিয়ারছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আসে নাসিমা খাতুন। তার সাইকেলের ক্যারিয়ারে করে নিয়ে আসে প্রতিবেশী ৫ম শ্রেণির রিনা খাতুনকে।

 বাবা নুর মোহাম্মদ জানান, ৬৮ বছর আমরা অবরুদ্ধ জীবনযাপন করেছি। এখন আমার ছেলে মেয়েরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে মেয়েকে বাইসাইকেল কিনে দিয়েছি। সে এখন প্রতিদিন সাইকেলে করে স্কুলে যাতায়াত করছে। এছাড়া দেশটাকে দেখার জন্য ছিটের মেয়েরা দলবেঁধে সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি বাধা দেই না। মুন্নি আক্তারের মা জোবেদা বেগম বলেন, তিন ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মুন্নি সবার ছোট। আগে ছিটমহলে স্কুল ছিল না, তাই ছেলে দু’টোকে পড়াতে পারিনি। আশা আছে মেয়েটিকে উচ্চশিক্ষিত করব।

মেয়েকে সাইকেল কিনে দিয়েছি। সে এখন সাইকেল চালিয়ে স্কুল যায় আসে। অন্য মেয়েদের সাথেও দলবেঁধে ঘুড়ে বেড়ায়। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শাবনাজের বাবা শাহালম খন্দকার জানান, কম বয়সে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। এই মেয়েটাকে সাইকেল কিনে দিয়েছি যতদূর পারে পড়–ক। তিনি তার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াতে চান। সাবেক গ্রাম পঞ্চায়েত শাহের আলী, সাবেক ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের নেতা গোলাম মোস্তফা জানান, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ     সাইকেল

জীবন থেকে মুক্ত হয়ে এখন আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। দাসিয়ারছড়ার ৫টি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে পাঠদান শুরু হয়েছে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকই মেয়ে শিক্ষার্থী। ছাত্রীরা বাইসাইকেলে করে যাওয়া আসা করে। সত্যি এ দৃশ্য দেখতে খুবই আনন্দ লাগে।

ছুটির দিনে কেনা কাটার ধুম বাণিজ্য মেলায়

এরশাদ আলী : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকী। শেষ দিকে মেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভীড় বাড়বে এমনটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায়  শুক্রবার মেলায় মানুষের ভীড় সেই অনুমান ছাড়িয়ে যায়। মানুষের ঢল নামে মেলায়। ক্রেতা-দর্শণার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। তবে এদিন মেলায় ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে কেনাকাটাতেই ব্যস্ত ছিলেন দর্শণার্থীরা। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোতে। ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বিক্রেতারা।

ছুটির দিনে শীতের মিষ্টি রোদে সকাল থেকেই মানুষের ভীড় দেখা যায় মেলায়। মানুষের ভীড়ের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় হাজির হন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে   এবং শেষ বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভীড়। এদিন মেলায় দর্শণার্থীদের কেনাকাটার প্রতি ঝোঁক ছিল বেশি। মেলায় আগতদের প্রত্যেকের হাতেই দেখা গেছে পণ্যসামগ্রীর প্যাকেট। অনেকের হাতে একাধিক প্যাকেটও দেখা গেছে। মূলত মেলার শেষ দিকে বিভিন্ন পণ্যে আকর্ষণীয় ছাড়ের কারনেই বিক্রি বেড়েছে বলে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা জানান।

রাজধানীর ধোলাই খাল থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসেন ব্যবসায়ী রকি। তিনি একটি স্টলের পাশে অনেকগুলো প্যাকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাকে বাইরে রেখে সাথে আসা বাসার মহিলা সদস্যরা ভিতরে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি জানান, মেলায় ঘুরতে আসলেও তারা কেনাকাটায় বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলারা বাসার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনছেন। মেলায় ছাড়ের কারনে এবং অনেক কোম্পানীর বিভিন্ন ধরনের পণ্য একসাথে পাওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন বলে তিনি জানান। বরাবরের মতো গৃহস্থালীর পণ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর স্টল এবং প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভীড়। আরএফএল প্লাস্টিক, আপন প্লাস্টিক এবং বেঙ্গল প্লাস্টিকের প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের ভীড় এবং বিক্রিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে তাদের মধ্যে এক ধরনের ছাড়ের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। আরএফএল তাদের বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের ছাড়ের পাশাপাশি র‌্যাফেল ড্র, সেলিব্রিটি ডিনার সহ আরও অনেক পুরষ্কারের ব্যবস্থা করেছে। মেলায় তাদের অনেক নতুন পণ্যও দেখা গেছে। এছাড়া কসমেটিক্স, শাড়ি, থ্রিপিস, ইলেকট্রনিক পণ্য, শিশুদের খেলনার স্টলগুলোতেও ছিল ক্রেতাসমাগম। ছেলেদের ব্লেজার, টিশার্ট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতামুখর। হ্যাভেন হারবালের স্টলে নারী-পুরুষের সমান ভীড় দেখা গেছে। পারফিউপম, হেয়ার কালার, ফেসওয়াস, টুথপেস্ট, তেলসহ  তাদের বিভিন্ন পণ্যে একটি কিনলে একটি ফ্রি অফার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাদের বিক্রি বেশ ভালো বলে জানান বিক্রেতারা। আগামী দিনগুলোতে তাদের বিক্রি আরও বাড়বে বলে  আশা প্রকাশ করেন। এদিকে টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচারের প্যাভিলয়নগুলোতে বিক্রি তুলনামূলক কম হলেও দর্শণার্থীদের ভীড় ঠিকই ছিল। ক্রেতারা প্যাভিলয়নগুলোতে সাজানো এসব পণ্য দেখছেন এবং বিভিন্ন অফার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কোম্পানির লোকেরাও ক্রেতা আকর্ষণ করতে ছাড়ের পাশাপশি বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছেন।

আকতার ফার্নিচারের একজন কর্মকর্তা জানান, মেলায় বিক্রি তেমন না হলেও তাদের মূল লক্ষ্য মেলায় অংশ নিয়ে পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো। এছাড়া মেলায় তাদের ১ লাখ টাকার পণ্য কিনলে লটারির মাধ্যমে ১ লাখ টাকার ক্যাশ ব্যাকের সুবিধা রেখেছেন। আরো আছে হোম ডেলিবাড়ির সুবিধা। তবে ওয়ালটনের প্যাভিলিয়নে দর্শণার্থীদের ভীড় এবং বিক্রি ছিল জমজমাট। টিভি ফ্রিজ, ল্যাপটপ, মোবাইল, আয়রন, কফি মেকার, ওয়াশিং মেশিন সহ তাদের ২০ টি পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে। তবে মেলায় খাবারের রেস্তোরাঁগুলোতে দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে শুরু থেকে যে অভিযোগ ছিল তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রাখা হচ্ছে বলে অনেকে জানান। ভ্যাটের নামে বেশি টাকা রাখা হলেও কাস্টমারদের কোন রশিদ দেয়া হয় না বলে তাদের অভিযোগ। এ নিয়ে বেশিরভাগ মানুষকেই অসন্তোশ প্রকাশ করতে দেখা যায়। রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের সাথে বাকবিতন্ডায়ও জড়াতে দেখা যায় অনেককে। তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। গত ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২তম ঢাকা আন্তার্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ২১টি দেশ এ মেলায় অংশগ্রহণ করছে। আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে।
 

 



Go Top