রাত ৮:৪৪, শুক্রবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ বিশেষ প্রতিবেদন

এম. সাখাওয়াৎ হোসেন ও এমদাদুল হক দুলু, মহদেবপুর/বদলগাছী (নওগাঁ) : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসন জোট ও মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় বেশ জমে উঠেছে। সভা সমাবেশ, গণসংযোগ, পোস্টার,ব্যানার, ফেস্টুন, ফেসবুক-টুইটার ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এসব প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। সেই সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের নেতাকর্মীদের সাথে কুশলাদি বিনিময়, অসুস্থদের সাথে সাক্ষাৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে এই আসনে রাজনীতিতে ততই নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে কদর বাড়ছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এই আসনে আওয়ামী লীগ,বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা এখন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা উপর মহলে লবিং শুরু করে দিয়েছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার রোল মডেল। তাই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎতায়ন, রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ দেশের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ করে দেশের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সরকার। দলের হাইকমান্ড যাকে যোগ্য মনে করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাকেই দলীয় মনোনয়ন প্রদান করবে।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, জুলুম-নির্যাতনের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি ভোটার বিহীন নির্বাচনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে নাগরিকদের প্রকৃত সেবা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার আশ^াস দিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন ঘোষিত ভিষন ২০৩০ রুপকল্প জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ ছলিম উদ্দীন তরফদার সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান আলহাজ ড.আকরাম হোসেন চৌধুরী। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আলহাজ আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু, বদলগাছী থানা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল এবং নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ রবিউল আলম বুলেট। জোট ও মহাজোটের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীর বাইরে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নওগাঁ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে নওগাঁ-৪)

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবির ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৬৬০ আসনের গ্রন্থাগার!

আলী আজম সিদ্দিকী, ঢাবি প্রতিনিধি : প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য গ্রন্থাগারে রয়েছে মাত্র ৬৬০ আসন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে জায়গা দিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম আসন সংকটে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আসন সংকটের সাথে সময়োপযোগী বইয়ের অভাব, নতুন জার্নাল প্রকাশ এবং বইগুলোর যথোপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় গ্রন্থাগারে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক ওয়াশরুম। যে জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এর সাথে রয়েছে আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ‘বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ’। গ্রন্থাগারে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে এ বছরের ২৩ এপ্রিল নতুন ডিজিটাল গেট তৈরী করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো তা পরিপূর্ণভাবে চালু হয়নি। এ পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল কার্ডের (আইডি) কুইক রেসপন্স কোড (কিউআর) দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে এবং একই পদ্ধতিতে বের হয়ে আসতে পারবেন।  

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। পরিসংখ্যান করে দেখা গেছে, গ্রন্থাগারে আসা অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন। চাকরির পড়াশোনার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে গেলেও ব্যবহার করছেন ঢাবি’র গ্রন্থাগার। পিছিয়ে থাকছেন না বহিরাগতরাও। অনেক ক্ষেত্রে ঢাবি শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের সহায়তা করছেন। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীরা। তাই তো গ্রন্থাগারে জায়গা পাওয়া যায় না এই সত্যকে নিয়তি ধরেই নিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রন্থাগারের উপপরিচালক জনাব মো: মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারেন। আমরা শুধুমাত্র বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে ফিংগার প্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের কাজ করতে শুরু করেছি। খুব শিগগিরই এই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শতভাগ বর্তমান শিক্ষার্থীদেরক গ্রন্থাগার ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হবে। গ্রন্থাগারে সীট না পেয়ে ফিরে যাওয়াদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান আশিকের সাথে কথা হয়। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে লাইব্রেরীতে পড়া আমার নায্য অধিকার। কিন্তু অবৈধদের দৌরত্ম্যের কারণে সেই ভোর বেলা থেকে ১ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাড়িয়ে বহু কষ্টে প্রবেশ করতে পারলেও পাওয়া যায়না বসার সিট।

আমরা যাতে পড়তে পারি সেই ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবন থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ সেশন পর্যন্ত বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারেরও অধিক। এই বিশাল সংখ্যার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য রয়েছে একটি মাত্র গ্রন্থাগার, যার আসন সংখ্যা মাত্র ৬৬০টি! এই সীমিত আসনের অনেক আসনই আবার ব্যবহারের অনুপযোগী। যার জন্য প্রতিদিন গ্রন্থাগার খোলার অনেক আগেই শিক্ষার্থীরা নেমে পড়েন সীট দখলের লড়াইয়ে। নিজেদের ব্যাগ দিয়ে সিরিয়াল করে লাইন দিয়ে রাখেন। চাকরির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে কিংবা পরীক্ষার সময় চলে এলে এই লাইন অনেক সময় লাইব্রেরির গেট থেকে প্রায় ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার পর্যন্তও দীর্ঘ হয়। এতে আসন পাওয়ার পরও থাকতে হয় দুশ্চিন্তায়। জরুরি প্রয়োজনে আসন থেকে উঠলেই তা দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। এভাবেই চলতে থাকে পড়ার জন্য তাদের সংগ্রাম। কেউ কেউ এই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিকল্প রাস্তা খুঁজে নেয়, আবার কেউ নিয়তিকে মেনে নিয়ে হলের রিডিং রুমের দিকে পা বাড়ায়। গত মঙ্গলবার গ্রন্থাগারে প্রবেশ করা একাধিক শিক্ষার্থীকে জায়গা না পেয়ে ফিরে পেতে দেখা যায়। তবে আশার কথা হলো দেরীতে হলেও টনক নড়েছে ঢাবি প্রশাসনের। সকালে অনেক শিক্ষার্থীই প্রবেশ করতে না পারায় গেইটে পাহারা বসান। লাইব্রেরি কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছিলেন না। অনেককে কার্ড না থাকায় ফিরে যেতে দেখা যায়। তবে লাইব্রেরীতে সবাই যে পড়তে আসেন তা নয়। কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা চেয়ারে বসে গল্পে মেতে উঠেন কেউ আবার প্রাইভেট পড়ানোর কাজটাও চালিয়ে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বসেই। আবার কাউকে আসন দখল করে রাখতে দেখা যায় বন্ধুর জন্যও যা বৈধ নয়।

১৯২১ সালের ১ জুলাই তৎকালীন ঢাকা কলেজের গ্রন্থাগার থেকে পাওয়া ১৭ হাজার বইয়ের সাথে আরও ১ হাজার বই যুক্ত করে সর্বমোট ১৮ হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। সেই বই এখন প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও গ্রন্থাগারের সেবার পরিধি বাড়ছে না। বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও যথাযথ সমাধান পাওয়া যায়নি। মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা নেমে পড়েন আন্দোলনে। এ বছরের ৪ এপ্রিলও শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে পানি না থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন পানি সংযোগসহ বেশকিছু দাবিতে ভিসির বাংলোর সামনে বিক্ষোভ করে। পরে তাদের দাবি মেনে নিলে তারা আন্দোলন তুলে নেয়। গ্রন্থাগারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, এবারের বাজেটে ঢাবির গ্রন্থাগারের জন্য ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রন্থাগারের বাজেট প্রয়োজন অনুযায়ী না বাড়ানোর কারনে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না দাবি গ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের।

তবে এবারের বাজেট আগের থেকে বেশি হওয়ার কারণে আগের থেকে ভালো মানের সেবা পাওয়ার আশা করছেন গ্রন্থাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা। সীট সংকটের ব্যাপারে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সকালে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমান শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গ্রন্থাগার ব্যবহার করে থাকেন। তাদেরকে গ্রন্থাগার ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে আমরা নিরুৎসাহিত করছি যার সর্বশেষ উদাহরণ ‘ডিজিটাল গেইট নির্মাণ’। তিনি এসময় ঢাবি’র প্রাক্তনদের গ্রন্থাগার ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং তাদেরকে পাবলিক লাইব্রেরী ব্যবহারসহ নিজস্ব গ্রন্থাগার ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দেন। সীট সংকট মেটাতে গ্রন্থাগারের বর্ধিতকরণ কিংবা নতুন কোন ভবন তৈরী করার পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ফাউন্ডেশন তিন তলা হওয়ায় এটাকে বর্ধিত করার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে একটা গ্রন্থাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা করতে কাজ করছে। যতদ্রুত সম্ভব আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার নির্মাণ করবো।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক

মোজাম্মেল হক ও বুলবুল চৌধুরী, ধামইরহাট/পত্নীতলা (নওগাঁ) : ধামইরহাট ও পতœীতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ এবং আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি উভয়ই মরিয়া। রাজনৈতিক কারণে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর অন্যতম সীমান্তবর্তী বরেন্দ্র অধ্যুষিত ধামইরহাট ও পতœীতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনটি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিকল্প ধারা ও বাসদ থেকে একক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প ধারা থেকে দলের যুগ্ম-মহাসচিব একক প্রার্থী আব্দুর রউফ মান্নান এবং বাসদ থেকে ধামইরহাট উপজেলা বাসদের আহ্বায়ক দেবলাল টুডু আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন। অপর দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ শহীদুজ্জামান সরকার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শহীদুজ্জামান সরকার প্রথমবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের কাছে পরাজিত হলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরপর ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আবারও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল মনোনয়ন দিলে তিনি আগামীতে আবারও আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আনতে সক্ষম হবেন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, নজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ আমিনুল হক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী ড. আখতারুল আলম, সাবেক সচিব কাজিমদার ওয়ালিউল ইসলাম।

অপরদিকে এ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটনও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।  

জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে নওগাঁ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বিএসএ হুমায়ন কবির চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবিদা আক্তারও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে নওগাঁ-৩)

 

এই বিভাগের আরো খবর

দুপচাঁচিয়ায় সেতু নির্মাণের ১২ বছরেও সংযোগ সড়ক হয়নি

গোলাম ফারুক দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের বন্দর তে-মাথা হতে থানা রোড সড়কে নাগর নদী সংলগ্ন মড়া খাড়ির উপর প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের দীর্ঘ ১২ বছরেও দু’ধারে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি জনসাধারণের কোন কাজেই আসছে না।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ বন্দর তে মাথা হতে থানা রোড সড়কটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য নাগর নদী সংলগ্ন মড়া খাড়ির উপর প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস রাব্বী ট্রেডার্স যথাসময়ে সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ করে। তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা আনুষ্ঠনিকভাবে সেতুটি উদ্বোধনও করেন। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছরেও সেতুটির দু’ধারে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিমত স¤পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে সংযোগ সড়ক ছাড়াই কিছু ব্যক্তির ব্যক্তি স্বার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা সদরে প্রশাসনের নাকের ডগার উপর অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও সেতুটির মাত্র ২০ গজ পশ্চিমে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত একই খাড়ির উপর আরও একটি সেতু থাকায় নির্মিত নতুন এই সেতু জনসাধারণের কোন কাজেই আসছে না। ফলে তা দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ সেতুটি পরিত্যক্ত অবস্থায়ই পড়ে আছে। এতে সরকারের মোটা অংকের অর্থ অপচয় হয়েছে। এ ব্যাপারে  রোববার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচএম আশরাফুল আরেফিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ব্রিজটি তার আমলে নির্মিত হয়নি। কিছুটা পরিকল্পনাবিহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করায় তা জনগণের কোন কাজে আসছে না। ব্রিজটি পৌরসভার আওতায় পড়ায় এবং পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হওয়ায় পৌরসভা থেকে সড়কের দু’ধারে মাটি কাটাও সম্ভব নয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যর বরাদ্দ থেকে দু’ধারে মাটি ভরাট করে ব্রিজটি জনগণের জন্য চলাচলে উপযুক্ত করা যেতে পারে। তিনি ব্রিজটি পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।       

এই বিভাগের আরো খবর

পাবনার ৭৮৪টি মিল থেকে ধান-চাল কিনবে না সরকার

শাহীন রহমান, পাবনা : চলতি সংগ্রহ মৌসুমে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি না করা এবং চাল সরবরাহ না করায় জেলার ৯ উপজেলার ৭৮৪টি মিল থেকে আগামী চার মৌসুমে সরকার ধান-চাল কিনবে না। সরকারের আহবানে সাড়া না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জেলা খাদ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) আব্দুল কাদের জানান, জেলায় নিবন্ধিত ৯০৯টি চাল কল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি মিল গত মৌসুমে ডিফল্ডার হওয়ায় বাকি ৮৭৬টি চালকলের কাছ থেকে চলতি সংগ্রহ মৌসুমে মোট ২৫ হাজার ৮১২ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯১টি মিল থেকে ২ হাজার ৫৬৭  মে. টন, ঈশ্বরদীর ৫৮১টি মিল থেকে ১৮ হাজার ৪১২ মে. টন, আটঘরিয়ার ২০টি মিল থেকে ৪৮২ মে.টন, চাটমোহরের ৭৫টি মিল থেকে ১ হাজার ৭৮২ মে.টন, ভাঙ্গুড়ার ৩৭টি মিল থেকে ৯৫৪ মে.টন, ফরিদপুর উপজেলার ২০টি মিল থেকে ৪২০ মে.টন, বেড়া উপজেলার ৮টি মিল থেকে ৪৯৪ মে.টন, সাঁথিয়া উপজেলার ৩৭টি মিল থেকে ৫৬৭ মে.টন এবং সুজানগর উপজেলার ৭টি মিল থেকে ১৩৪ মে.টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

ডিসি ফুড আরও জানান, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলার ১টি সিএসডি ও ১০টি এলএসডিতে চাল সরবরাহের জন্য একাধিকবার চালকল মালিকদের সাথে মিটিং করা হয়। এরপরেও ৮৭৬টি মিলের মধ্যে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করে মাত্র ৯২টি মিল। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯১ মিলের মধ্যে চুক্তি করে মাত্র ৯টি মিল। একইভাবে ঈশ্বরদীর ৫৮১টি মিলের মধ্যে মাত্র ৪৫টি মিল, আটঘরিয়ার একটি মাত্র মিল, চাটমোহরের ৮টি, ভাঙ্গুড়ার ১৯টি, ফরিদপুর ও বেড়া উপজেলার একটি করে মিল, সাঁথিয়ার ৮টি মিল মোট ২ হাজার ৪৭৫ টন ৬০০ কেজি চাল সরকারি গোডাউনে সরবরাহ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়।

 জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও জানান, ৯২টি মিল মালিক মাত্র আড়াই হাজার মে.টন চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও এ পর্যন্ত জেলার ১১টি গোডাউনে সংগৃহীত হয়েছে মাত্র ৪৫ মে.টন চাল। সংগ্রহ অভিযানের সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জানিয়ে খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা জানান আশা করা যায় সংগ্রহ মৌসুম শেষ হওয়ার আগে আরো কিছু চাল সংগ্রহ করা যাবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সরবরাহের জন্য মিল মালিকদের সাথে একাধিকবার খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সকল বৈঠকে মিল মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল সরবরাহের জন্য আহবান জানানো হয়। এরপরেও যে সব মিল মালিক চুক্তিবদ্ধ হননি বা সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে চাল সরবরাহ করেননি তাদের কাছ থেকে আগামী ৪টি সংগ্রহ মৌসুম পর্যন্ত সরকার কোনো ধান চাল কিনবে না জানিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে থেকে এমন নির্দেশনা সংবলিত চিঠি তারা পেয়েছেন। চিঠি পাওয়ার পর তারা সে মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপকালে ঈশ্বরদী উপজেলার ধান চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগাঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানালেন, সরকারি মূল্যের চেয়ে চালের বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও মিলাররা সরকারি গোডাউনে চাল সরবরাহ করতে আগ্রহ করছে না। তার কাছ থেকে জানা গেল, বর্তমানে বাজারে মোটা চালের কেজি মান ভেদে ৩৮ টাকা থেকে ৪২ টাকা। এর বিপরীতে সরকারি দর কেজি প্রতি ৩৪ টাকা। তিনি আরও জানালেন, গোডাউনে চাল না দিলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবার ভয়ে বাধ্য হয়ে লোকসান মেনে নিয়েও অনেক মিলার সরকারি গোডাউনে চাল দিচ্ছেন। সংগ্রহ অভিযানের সময় কিছুটা বৃদ্ধি করে এবং চালের ক্রয় মূল্যে ইনসেনটিভ প্রদান করা হলে মিলাররা সরকারি গোডাউনে চাল সরবরাহ করতে আগ্রহী হবে বলে তারা মনে করেন। এতে মিলারদের যেমন লোকসান গুনতে হবে না, পাশাপাশি সরকারও কাক্সিক্ষত মাত্রার চাল সংগ্রহ করতে পারবে।

 

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ

মাহফুজ সাদি: বিচারপতি অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকা অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ের বিষয়ে জাতীয় সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে বলে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পর আক্রমণাত্বক বক্তব্য দিয়েছেন নেতারা। বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে সভাটি বেশ প্রাণবন্ত হয়। এছাড়া জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের আলোচনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে শোকের মাস আগস্টজুড়ে দলের বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কেবল পাকিস্তানে ও আমাদের দেশে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে অন্যায়ভাবে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন। ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ছিলেন গণপরিষদ সদস্য। তারাই সংবিধান তৈরির সময় ছিলেন।

এখন অ্যামিকাস  কিউরি নিযুক্ত হয়ে তারা কীভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়ালের পক্ষে বলেন? তারা কী চান? শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভায় শেখ হাসিনা বলেন, বাহাত্তরের গণপরিষদ যে সংবিধান প্রণয়ন করেছে, সেই সংবিধানের ধারা আমরা ফেরত আনতে চাই। সেটা কিভাবে আদালত অসাংবিধানিক বলেন? তিনি বলেন, উচ্চ আদালত মার্শাল ল অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। তাহলে মিলিটারি ডিক্টেটরের (সামরিক একনায়ক) করা আইন কিভাবে সাংবিধানিক হয়? শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে সংসদ। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের ব্যাপারে এই সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে দলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে সংসদের বাইরে কথা বললে সেটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তালগোল পাকাতে চায়। একটি শূন্যতা তৈরি করতে চায় বলেই তারা এই ইস্যুটি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসময় আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু জাতীয় সংসদে উচ্চ আদালতের দেওয়া এ রায় সম্পর্কে আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়টি এখনও প্রকাশ হয়নি। তাই এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে কথা না বলাই ভালো।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এজন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে দলের প্রচার করতে হবে। এসময় নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রভিত্তিক প্রচার কমিটি করার নির্দেশনা দেন তিনি। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে দলীয় নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। নিজ নিজ এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাররা স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, সেটা নিশ্চিত করতে বলেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, আবদুল মতিন খসরুর বক্তব্যের পর এক প্রবীণ সদস্য বলেন, আপনেরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। দলের জন্য কাজ করেন না। এরপর দলের কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আইনজীবীদের বিভিন্ন ফোরামে দলের সমর্থক আইনজীবীদের অবস্থানগত দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। এসময় এ সময় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, আমি যখন প্রতিমন্ত্রী ছিলাম, তখন এমন হয়নি। তাকে থামিয়ে দিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, আপনাদের সবার আমলই আমাদের দেখা আছে। আপনেরা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

দলের জন্য কিছু করেন না। দলের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী ফোরামের আইনজীবীরা নিজেদের প্র্যাকটিস যেন ঠিক থাকে, তাদের পেশার যেন ক্ষতি না হয় সে চেষ্টাই করেন। দলের কোনো কাজ কেউই করেন না। এ সময় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেই জঙ্গিরা জামিনে মুক্ত হচ্ছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কোন আইনজীবীদের মাধ্যমে তারা জামিন নিচ্ছে, খোঁজখবর নিতে হবে। সূত্র জানায়, আগামী বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রস্তুতির নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, বাড়ি বাড়ি যেতে হবে, উঠান বৈঠক করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। শুধু বড় বড় মিছিল, মিটিং করলেই কাজ হয় না। এ করে ভোট বাড়ানো যাবে না। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাররা যেন বাদ না পড়েন সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। নিজ নিজ এলাকায় প্রাপ্তবয়স্করা যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন সে বিষয়েও নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের আলোচনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমার জন্মদিন আওয়ামী লীগ পালন করবে কেন? এটা সভার আলোচ্য সূচিতেও আসবে কেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আগেও এ বিষয়টি নিষেধ করেছি। তারপরও সভার আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি কেন আসল। তিনি বলেন, আমার জন্মদিন আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিভাবে কেন পালন করবে? আমি এটা চাই না। বৈঠকসূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর দলের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। এর ওপর কেন্দ্রীয় নেতা বক্তব্য দেন। এরপর সাংগঠনিক সম্পাদকরা তাদের রিপোর্ট পেশ করেন। বৈঠকে কয়েকটি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া শোকের মাস আগস্টজুড়ে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

১৩ জমিদারের গ্রাম পাবনার হাটুরিয়ার করুণ দশা

শাহীন রহমান, পাবনা : ‘ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের সব দালানকোঠা। লাঠি-বল্লম হাতে পেটা শরীরের পাইক-পেয়াদা রয়েছে সেগুলোর ফটক পাহারায়। ভেতর থেকে ভেসে আসছে নারী-শিশুদের কলতান। সন্ধ্যা হলেই মুহুর্মুহু শঙ্খ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠছে আশপাশের এলাকা। হাজারো লণ্ঠন আর ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠা কোনো ভবনে হয়ত বসেছে কলকাতা থেকে আসা নামজাদা গাইয়েদের গানের আসর। অথবা গ্রামের চারদিক জুড়ে বসেছে কোনো মেলা। গ্রামের পাশেই যমুনাপাড়ের ঘাটে বাঁধা রয়েছে জমিদারের সুদৃশ কোনো বজরা। একটু পরেই হয়ত কোনো জমিদার তার লোকজন সমেত এসে তাতে চড়ে রওনা হবেন তার জমিদারি এলাকার দেখভাল করতে।’ পাবনার বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হাটুরিয়া গ্রামের অতীত ঐতিহ্যের বর্ণনা শুনে এমন দৃশ্যপটই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। একসময় এ গ্রামে এক সাথে বাস করতেন ১৩ জন জমিদার। বৃহত্তর পাবনা জেলার বাইরেও বিস্তৃত ছিল তাদের জমিদারি। ১৩ জমিদারের গ্রাম হওয়ায় এ গ্রামটির অতীত ঐতিহ্য প্রকৃতপক্ষেই ছিল চমকে দেওয়ার মতো বর্ণাঢ্য।  

তবে বর্তমানে ভাঙাচোরা দালানকোঠা আর কয়েকটি পুকুর ছাড়া প্রাচীন ঐতিহ্যের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। এক সময়ের জৌলুসে ভরা এ গ্রামটিতে এখন সমস্যার শেষ নেই। গ্রামে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ রাস্তা নেই। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামের একটা বড় অংশে কয়েক মাস জুড়ে থাকে জলাবদ্ধতা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখানে অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে। সবচেয়ে বড় কথা এ গ্রামের বাসিন্দাদের বড় অংশই নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মানুষ। এ কারণে গ্রামবাসীদের অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী।

একসাথে ১৩ জমিদারের কার্যকারণ : এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, জমিদারি আমলে হাটুরিয়া গ্রামটি বৃহত্তর পাবনা জেলার অন্যতম অভিজাত এলাকা ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সুদূর কলকাতাতেও ছিল যমুনাপাড়ের এই গ্রামের সুখ্যাতি। গ্রামের পার্শ্ববর্তী নৌবন্দর নাকালিয়া থেকে কলকাতার মধ্যে সরাসরি স্টিমার যাতায়াত করত। এ ছাড়াও এ গ্রাম থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব সহজে যাতায়াত করা যেত। আর এসব কারণে শুধু জমিদারেরাই নয়, সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী ব্যক্তিরা এখানে বাস করতেন। এ গ্রামে বসেই জমিদারেরা পরিচালনা করতেন তাদের জমিদারি। সেই আমলে কাছে-দূরের সকলের কাছেই হাটুরিয়া গ্রামটি পরিচিত ছিল ১৩ জমিদারের গ্রাম হিসেবে।

সেইসব জমিদারেরা : এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রায় একশ’ বছর আগে হাটুরিয়া গ্রামে হাতে গোনা দুই একজন জমিদার বাস করতেন। এরপর থেকে গ্রামটিতে একে একে বাড়তে থাকে জমিদারের সংখ্যা। একপর্যায়ে গ্রামে বসবাসকারী জমিদারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় তেরতে। তারা হলেন- প্রমথনাথ বাগচী, কাঞ্চিনাথ বাগচী, উপেন্দ্রনাথ বাগচী, ভবানীচরণ বাগচী, কালীসুন্দর রায়, ক্ষীরোদ চন্দ্র রায়, সুরেণ চন্দ্র রায়, সুধাংশ মোহন রায়, শক্তিনাথ রায়, বঙ্কিম রায়, ক্ষুদিরাম পাল, যদুনাথ ভৌমিক ও যতীন্দ্রনাথ ভৌমিক। প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, এসব জমিদারদের একসঙ্গে হাটুরিয়া গ্রামে বসবাসের সময়টা ছিল আনুমানিক ১৯১৫ সালের পরের সময় থেকে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এ গ্রাম থেকেই পরিচালনা করতেন তাদের জমিদারি। লোকমান পেয়াদার কথা : হাটুরিয়া গ্রামে গিয়ে জমিদার প্রসঙ্গ উঠতেই শোনা যায় লোকমান হোসেনের কথা।

জমিদার প্রমথনাথ বাগচীর পেয়াদা ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তার বয়স পচানব্বই ছাড়িয়ে গেছে। গ্রামের অনেকের কাছে এখনও তিনি লোকমান পেয়াদা নামে পরিচিত। তার বাবা-দাদাও জমিদারের পেয়াদা ছিলেন। আলাপকালে শত বছরের কাছাকাছি লোকমান হোসেন শোনান তার নিজ চোখে দেখা জমিদার আমলের নানা কাহিনী ও ঘটনা। তিনি জানান, ১৩ জমিদারের মধ্যে সবচেয়ে প্রজাবৎসল ও মঙ্গলকামী ছিলেন প্রমথনাথ বাগচী। আর প্রজাপীড়ক ও অত্যাচারী ছিলেন যদুনাথ ভৌমিক। এক গ্রামে এতজন জমিদার থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝে কখনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতো না। তবে পূজা-পার্বন নানা উৎসব পালন করা নিয়ে তাদের মধ্যে চলত পাল্টাপাল্টি প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক জমিদারেরই সেসময় কলকাতায় বাড়ি ছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর দেশভাগের আগে পরে একে একে সব জমিদারই স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে যান। লোকমান হোসেন জানান, তিনি পেয়াদার কাজ করলেও জমিদার প্রমথনাথ বাগচী তাকে ছেলের মতো ভালোবাসতেন। দেশত্যাগের আগে প্রমথনাথ বাগচী তাকে বেশ কিছু জায়গা-জমি দান করে যান। সেসব জায়গা-জমি থেকেই লোকমান হোসেন এলাকার অন্যতম সচ্ছল কৃষকে পরিণত হন। অট্টালিকা আর পুকুরগুলোর করুণ দশা : জমিদারদের প্রত্যেকেই বাস করতেন প্রাচীর ঘেরা অট্টালিকায়।

অট্টালিকার পাশে প্রত্যেকেরই ছিল সান বাঁধানো বড় পুকুর অথবা দীঘি। সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে কয়েকটি পুকুর ভরাট হয়ে গেলেও এখনও রয়েছে ৬-৭টি পুকুর। তবে সেগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। পুকুরগুলোর চেয়ে জমিদারদের অট্টালিকাগুলোর পরিণতি আরও করুণ। মালিকানা বদলের পর কিছু অট্টালিকা ভেঙে ফেলা হয়েছে, আর কিছু আপনা আপনিই ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে জমিদার আমলের সাক্ষী হিসেবে গ্রামে এখনও রয়ে গেছে দুই তিনটি অট্টালিকার অংশ বিশেষ। জরাজীর্ণ এসব অট্টালিকায় ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে কয়েকটি পরিবার। এমনই একটি ভগ্নদশা দ্বিতল অট্টালিকায় বাস করেন দিলীপ গোস্বামীর পরিবারের লোকজন। অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে ইজারা নিয়ে বসবাস করেন তারা। দেখেই বোঝা যায়, অনেকটা জায়গার ওপর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এর বেশিরভাগ অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। দীলিপ গোস্বামীর ছেলে দীপক গোস্বামী (৪৫) জানান, অট্টালিকার এক স্থানে এর নির্মাণকাল ১৯১১ এবং নির্মাতা হিসেবে জমিদার ক্ষীরোদ চন্দ্র রায়ের পিতা উমেশ চন্দ্র রায়ের নাম খোদাই করা ছিল। ছেলে বেলায় তিনি এখানে সুপরিসর জলসাঘরসহ আরও অনেক কক্ষ দেখেছেন।

হলরুমে জমিদার ক্ষীরোদ চন্দ্র রায়ের পূর্বপুরুষদের বেশ কিছু ছবি ছিল। ছেলে বেলায় দেখা জলসাঘরসহ কক্ষগুলো যেমন ধ্বংস হয়ে গেছে তেমনি নষ্ট হয়ে গেছে ছবিগুলোও। বর্তমানে বিপজ্জনক জেনেও কিছুটা নিরুপায় হয়ে এখানে তারা বাস করছেন বলে তিনি জানান। বেড়া মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মনোয়ার হোসেন জানান, তার বাবা মরহুম মমতাজ উদ্দিন সিরাজগঞ্জের চৌহালী এলাকার জনৈক জমিদারের নায়েব ছিলেন। তার মুখে হাটুরিয়ার জমিদারদের অনেক কাহিনী তিনি শুনেছেন। মনোয়ার হোসেন বলেন, এখন হাটুরিয়া নানা সমস্যায় ভরা প্রত্যন্ত সাধারণ একটি গ্রাম। অথচ এখানেই একসময় দোর্দন্ড প্রতাপশালী সব জমিদার বাস করতেন।

গ্রামবাসীরা জানান, শুধু সুখ সমৃদ্ধিই নয়, শিক্ষা-দীক্ষাতেও এ গ্রাম ছিল সবার ওপরে। অথচ আজ এ গ্রাম থেকে শিক্ষার আলো যেন নিভে গেছে। অভাব-অনটনের কারণে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের বড় অংশ শিক্ষার পরিবর্তে ঝুঁকে পড়ছে উপার্জনের দিকে। এখানে বাল্যবিয়ে ও বহু বিয়ের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। গ্রামবাসীরা আধুনিক সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। হাটুরিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী মো: বাবু বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ গ্রামটির সমস্যার কথা বলে শেষ করা যাবে না। ভাবতে অবাক লাগে ১৩ জমিদারের গ্রামটির আজ এমন করুণ দশা। হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জমিদারের গ্রাম বলে পরিচিত হাটুরিয়ায় কিছু কিছু সমস্যা আছে। এ সমসম্যাগুলোর সমাধানের পাশাপাশি বিলীন হতে বসা ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জন্য বড় হুমকি এর উপরের অবৈধ বাড়িঘর

যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত বাঁধ মেরামত ও পুনরাকৃতির জন্য এবারও লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু স্বস্তিতে নেই খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডও। কারণ বাঁধ রক্ষার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও তা কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা যাবে, এ প্রশ্ন তাদের মনে গড়ে ওঠার কারণ হলো বাঁধের উপর স্থায়ীভাবে নির্মিত হওয়া বাড়ি-ঘর, গাছ পালা।  বগুড়া জেলা দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটির সভাতেও ব্যাপকভাবে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন বলেন, এমনিতেই মাটি দিয়ে তৈরি বাঁধের গায়ে বন্যার পানি ১০/১২ দিন লেগে থাকলে তা নরম হয়ে যায়। তখন ওই বাঁধের উপর নির্মিত বাড়িঘরই বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, বাঁধ কেটে বা খুঁড়ে এসব বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আর যে হেতু এসব বাড়ি ঘরে মানুষ বসবাস করে, সেইহেতু সেখানে খাবার সামগ্রী থাকায় ইঁদুর আসে। থাকার জন্য তারা বাঁধে গর্ত খোঁড়ে। আর এ সব গর্তই শেষ পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে গেলে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষয়ক্ষতি হয় জানমালের। আর এ জন্য মূল দায়ীই হলো বাঁধের উপর অবৈধভাবে বসবাসকারী ওই সব গুটিকয় পরিবার।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১০/১২ বছর আগে অনেকে বন্যার সময় বাঁধে আশ্রয় নিলেও শেষ পর্যন্ত বাঁধেই স্থায়ীভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করে। পরে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তারা নিজেদের জায়গায় ঘর নির্মাণ করলেও বাঁধের এই ঘরগুলো রেখেই দেয় ত্রাণসহ বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা সহজেই পাওয়া যায় বলে। জানা গেছে বাঁধ রক্ষার স্বার্থে বাঁধ থেকে ওই সব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বার বার তাগিদ দেয়া হলেও এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কারণে তাদেরকে সরানো যায়না। তাই তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে দেয়।

ওই সভায় এসব বিষয় উঠে এলে সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীসহ উপস্থিত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন বলেন, যেহেতু বন্যা এগিয়ে আসছে। তাই তাদেরকে এখনই সরিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। তাই বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার ধুনট ও সোনাতলায় ভেঙে যাওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও পুনরাকৃতির জন্য সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ করে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রুক্ষ্মতাকে বিদায় দিয়ে নবধারায় বর্ষা কোমল করেছে প্রকৃতি

হাফিজা বিনা : প্রচন্ড দাবদাহের পর শুরু হয়েছে বর্ষার জলধারা। আকাশে কখনও কালো মেঘের আনাগোনা  আবার একটু পরেই পরিষ্কার আকাশ থেকে ঝরছে মেঘের খুশির ফোটা ফোটা আনন্দাশ্রু। মধ্য আষাঢ়ে এসে মনে বাজছে রবীন্দ্রনাথের সুর “এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে, এসো কর ¯œান নবধারা জলে….। বৃষ্টিতে ¯œাত হয়ে গাছে গাছে দুলে উঠছে কদম, পাপড়ি মেলেছে পদ্ম, শাপলা।  গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে মাঝে মাঝেই  উঁকি দিয়ে হাসছে চালতার হলুদ সাদা মেলে ধরা ফুল। পথের পাশে ফুটেছে মাধবিলতা, হাসনাহেনা, রঙ্গন আরো নাম না জানা ফুলেরা। ক্ষণে ক্ষণের মেঘ আর রোদের খেলায় মানুষের সাথে সাথে প্রকৃতিও হয়ে উঠেছে চঞ্চল। এখনকার মেঘের আনন্দাশ্রুর বান আবার জীব কুলের দুঃখের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার জন্য কবি সেই কবেই লিখে রেখে গেছেন শঙ্কিত মায়ের জন্য। মা আষাঢ়ের কালো মেঘ দেখলেই তাই তার সন্তান সামাল দিয়ে মনের অজান্তে বলে উঠছেন “নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই  আর নাহিরে ওগো তোরা আজ যাসনে ঘরের বাহিরে।”

যুগে যুগে বর্ষা ঋতু নিয়ে কবিরা তাদের কথার, গানের ডালি খুলে ধরেছেন। কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন “আমি চলে যাব বলে চালতা ফুল কি আর ভিজিবেনা শিশিরের জলে।” টানা বর্ষায় আবেগি প্রেমিক হৃদয় মনের ভেতরের হাফ নিঃশ্বাস ছেড়ে বর্ষাকে উদ্দেশ্য করে গেয়ে ওঠে ‘ওগো বর্ষা তুমি ঝরো না কো এমন করে, যদি সে আসতে চেয়েও  না পারে। এলে না হয় ঝরো ওগো আবার ধারায়, যদি সে যেতে চেয়েও যেতে নাহি পারে”। বলা হয়ে থাকে রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী শুরু হয়েছিল নীপবনে অর্থাৎ কদমতলায়। নীপবনে বসে কৃষ্ণ যখন তার বাঁশিতে সুর তুলতেন, তখন রাধা বৃষ্টিতে ভিজে হলেও নীপবনে ছুটে আসতেন কৃষ্ণের কাছে।

কিংবদন্তি যাই থাকুক না কেন বর্ষার বৃষ্টিকে ভালবাসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আর তাইতো এযুগের রাধা-কৃষ্ণরা বৃষ্টিতে ¯œাত হয় রিক্সায় চেপে, ছাদে নয়তো কোন খোলা ব্যালকনির বারান্দায়।

বাস্তবে বর্ষার ভাল রূপের পাশা-পাশি রুদ্র রূপ  মানুষকে কখনও হাসায়, ভালবাসায় আবার নিঃস্ব করে দিয়ে কাঁদায় অবিরত। বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে নদ-নদী। শান্ত নদী বর্ষার আগমনে ক্ষ্যাপা হয়ে রুদ্ররূপ ধারণ করে। ভরা যৌবনের উন্মাদনায় ¯্রােতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়ে তীর ভেঙ্গে  মানুষকে করে গৃহহারা। তখন সেই ক্ষ্যাপাটা কারো কথায় শুনতে চায় না, কারো বাধ্য থাকতে চায় না।

বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষা অনন্য এক ঋতু। এবারের বর্ষার সঠিক রূপে প্রকৃতিতে আসতে দেরি করেছে। প্রায় মধ্যআষাঢ়ে এসে তার আসল চেহারাটা দেখাতে শুরু করেছে। সকল রুক্ষ্মতাকে বিদায় দিয়ে নবধারা জলে ভিজে নরম কোমল হয়ে উঠেছে মাটি। এরই মধ্যে বর্ষার বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মানুষ এবং জান-মালের অনেক ক্ষতি দেখেছে সবাই। আর এ সময়ের মেঘ বৃষ্টির খেলা আর গরমে মানুষের রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দিয়েছে। রুদ্র রূপ নিয়েই আসুক আর কোমল রূপ নিয়েই আসুক, বর্ষা তার স্বভাবে অনড়। বর্ষার রিম-ঝিম বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে কাটবে দুরন্ত শৈশব। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে স্কুলে যাওয়া-আসা। সব মিলিয়ে বর্ষা কেবল ঋতু নয়। এটা সংস্কৃতির অংশও। বর্ষায় ফুল ফুটবে। গান ধরবে কবি। গাছে গাছে বৃষ্টির ছন্দে দোল খাবে কদম, হাসনাহেনা, কামিনী, দোঁলনচাপা, পাঁপড়ি মেলেছে  পদ্ম-শাপলা, পথের পাশের মাধবিলতারাও হেসে উঠছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

এবার এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট বিএনপির

রাজকুমার নন্দী : আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি এবার নতুন সদস্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন কর্মসূচি শুরু করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জেলা, মহানগর, থানা ও পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিটে দুই মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলবে। দুই মাসে অন্তত এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতাদের আশা, এই টার্গেট তারা পূরণ করতে পারবেন। তাদের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দল আরো বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে গত কয়েক বছর নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি করেনি বিএনপি। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই কর্মসূচি পালন করে দলটি। বর্তমানে বিএনপির প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ প্রাথমিক সদস্য আছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত শনিবার রাতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে দলের ‘প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় দশ টাকার বিনিময়ে সদস্য রশিদে স্বাক্ষর করে নিজের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন করেন তিনি। এ সময় নেতাকর্মীদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, গতবার আমাদের সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫০ লাখ। এবার আমাদের টার্গেট এক কোটি। সকলে সদস্য হোন, দলের জন্য কাজ করুন। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ৬ জন নতুন সদস্য ফরম সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন শিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক যুগ্ম-পরিচালক, একজন সাংবাদিক ও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ওই সময় তাৎক্ষণিকভাবে একশ জন বিএনপির নতুন সদস্য হন।

এদিকে, নতুনভাবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।  সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনেককে নতুন সদস্য ফরম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নে কেন্দ্র থেকে দুই মাস সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও চার থেকে পাঁচ মাস ধরে কর্মসূচি চলতে পারে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান। নতুনভাবে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো- নেতাকর্মীদের মাঝে আরো বেশি কর্মস্পৃহা তৈরি এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করা, যা ইতোমধ্যে আমাদের দলের সম্মানিত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে সারাদেশে পুরোদমে এই কর্মসূচি শুরু হবে। বিএনপির বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ প্রাথমিক সদস্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, বিএনপি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

সোমবার বগুড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পহেলা জুলাই থেকে আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম চলবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার ১ কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করেছেন। নেত্রীর এই টার্গেট পূরণ এবং কার্যক্রম সফল করার জন্য বগুড়াবাসী যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। সুনির্দিষ্ট টার্গেটের কথা না জানালেও বগুড়াতে এবার নতুন সদস্য সংগ্রহের সংখ্যা ‘একটি বড় ফিগারের’ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে খুলনা মহানগরীতে কর্মসূচি এখনো শুরু হয়নি। আগামী ৮ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সর্বশেষ ২০০৯ সালে পরিচালিত কর্মসূচি থেকে খুলনা মহানগরীতে ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এবার মহানগরীতে ৫০ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করা আমাদের টার্গেট। কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে পাঁচটি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, বিএনপিকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করতে জেলার নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ইতোমধ্যে যশোর জেলায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছি। কেন্দ্রকে অবহিত করে গত এক বছর ধরে আমরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করি, যা গত মে মাসে সমাপ্ত হয়েছে। তবে গত ছয় মাস ধরে জেলায় যুবদল-ছাত্রদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তিনি আরো জানান, আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে পাঠানো বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ফরম হাতে পেয়েছি। ফলে আগে থেকে সংগৃহীত এসব সদস্য ফরমগুলো এখন নবায়ন করা হবে। এছাড়া এখন নতুন করে আরো সদস্যও সংগ্রহ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এখনো কর্মসূচি শুরু হয়নি। এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে পাঠানো সদস্য সংগ্রহ ফরম এখনো হাতে না পাওয়ায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি শুরু করতে পারিনি। ফরম হাতে পেলেই কার্যক্রম শুরু করব। তবে কার্যক্রমকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজশাহীতে কর্মসূচি শুরু হয়েছে জানিয়ে জেলার সাধারণ সম্পাদক একেএম মতিউর রহমান মন্টু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এই কর্মসূচিকে ঘিরে আমরা রাজশাহীতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করছি। সরকারি অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়নে অতিষ্ঠ মানুষ বিএনপির সদস্য হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কারণ, তারা পরিবর্তন চায়।

নওগাঁয় গত শনিবার দলের প্রাথমিক সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু। কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে টার্গেট দিয়েছেন তা পূরণ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ টার্গেট পূরণ করতে পারবো।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি বিএনপির

রাজকুমার নন্দী : আগামী নির্বাচন ও আন্দোলন দুটোরই প্রস্তুতি একসঙ্গে নিচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রমজানের আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ৫১টি টিমের মাধ্যমে সারাদেশে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছে বিএনপি। তবে আন্দোলনের আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় দলটি। বিএনপি নেতাদের দাবি, বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।  তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ভেতরে ভেতরে ৩০০ আসনেই একাধিক প্রার্থী জরিপ, প্রচার দল গঠনসহ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি। চলছে ইশতেহার তৈরির কাজও। তবে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমনটি ধরে নিয়েই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
 
আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও শিগগিরই দেশবাসীর সামনে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবেন। এরপর এই দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসভা করতে পারেন তিনি। তবে এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে অনুকূল পরিবেশে আগামী বছরের শুরুতে অথবা নির্বাচনের ছয় মাস আগে রাজপথে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
 
বিএনপির নির্বাচন ও আন্দোলন উভয় প্রস্তুতি একসঙ্গে চলছে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান সঙ্কটের নিরসন চায়। তবে সরকার যদি এগিয়ে না আসে, তখন আন্দোলন করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
 
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে এমনটা ধরে নিয়েই আন্দোলনের ছক কষছে বিএনপি। তবে ঠিক কখন আন্দোলনে নামা যায় তা নিয়ে শলাপরামর্শ চলছে দলের অভ্যন্তরে। অবশ্য কোনো কোনো মহল থেকে বিএনপির হাইকমান্ডকে সহায়ক সরকারের দাবিতে ঈদুল ফিতরের পর থেকেই আন্দোলনে নামার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তবে তাতে আগ্রহ দেখায়নি হাইকমান্ড। কারণ, বিএনপি এক্ষেত্রে এবার বেশ সতর্ক। সেজন্য রাজনৈতিক সমঝোতাকে প্রাধান্য দিয়ে সামনে এগুনোর কৌশল নিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল আন্দোলনে নামবে বিএনপি।
 
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দোলন নিয়ে তারা এবার আর কোনো ভুল করতে চান না। তাই ২০১৫ সালের মতো ‘পরিকল্পনাহীন’ কোনো আন্দোলনও আর হবে না। সেজন্য বিগত আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রথমেই ‘অল আউট’ আন্দোলনে না গিয়ে ধীরে ধীরে আন্দোলনকে বেগবান করতে চান তারা। এর অংশ হিসেবে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে বিএনপির পক্ষ থেকে সারাদেশে ইস্যুভিত্তিক প্যাকেজ কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
 
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রমজানে বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে জনগণকে নিয়ে ‘সহায়ক সরকারের’ অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, শিগগিরই নিয়মতান্ত্রিক কিছু কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। বিভিন্ন ইস্যুতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল হবে। উদ্দেশ্য, চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য মাঠ প্রস্তুত করা। আর আন্দোলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।
 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা এখন দল পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছি। নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আন্দোলন তো দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। সময় এবং পরিস্থিতি বুঝে বিএনপির চেয়ারপারসন আন্দোলনের ডাক দেবেন।
 
এদিকে, দেশি ও আন্তর্জাতিক চাপে আগামীতে ক্ষমতাসীনরা আর একতরফা নির্বাচন করতে পারবে না বলে বিশ্বাস করে বিএনপি। দলটির নেতাদের দাবি, ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দাতা সংস্থা, এমনকি জাতিসংঘও আগামীতে বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। সুতরাং বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে এবার একতরফা নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
 
রমজানে এক ইফতার অনুষ্ঠানে ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিবেশী দেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছিলো। এবার তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তাই এবার তাদের সুর একটু বদল হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগামীতে বিএনপি ও ২০ দল ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচন করতে পারবে না।

বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতার এবার ঢাকায় ঈদ

রাজকুমার নন্দী : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি গ্রহণ করা বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাসহ অনেক নেতা এবার রাজধানীতে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। অবশ্য ঈদের পরে তাদের অনেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেও দেখা করবেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রায় পুরো রমজান মাসজুড়েই রাজধানীতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ব্যস্ত ছিলেন। তবে দলটির কিছু সিনিয়র নেতা এবং মাঝারী সারি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা এবারও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া অনেকে আবার দলীয় কর্মী-সমর্থক ও প্রিয়জনকে ছেড়ে বিদেশ-বিভূইয়ে ঈদ উদযাপন করবেন।

এদিকে, বিএনপির যেসব নেতা ঢাকায় ঈদ করবেন তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার গরিব ও দুস্থদের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, চিনি-সেমাই বিতরণ করেছেন। এছাড়া আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় রোজা-ঈদের শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার সেটে দোয়াও চেয়েছেন। ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তাও দিয়েছেন অনেকেই। রমজানে এদের অনেকে আবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিজ এলাকায় ইফতার অনুষ্ঠানও করেছেন। তাই দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এখনো আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ঈদকে ঘিরে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সব মিলিয়ে নির্বাচনী হাওয়াই বইছে।

জানা গেছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঈদের দিন দুপুর বারোটা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে, এরপর বিশিষ্ট নাগরিক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া। এরপর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারো স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ডে ঈদ উদযাপন করবেন। তবে প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে এবার তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গেই লন্ডনে ঈদ উদযাপন করবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী মেয়ের সঙ্গে ঈদ করবেন।

নেতাদের পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম যশোরে, আব্দুল মঈন খান নরসিংদী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন সকালে তার নির্বাচনী এলাকা কেরাণীগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে ঢাকায় চেয়ারপারসনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। মওদুদ আহমদের ঢাকায় বেগম জিয়ার সঙ্গে ঈদ করে পরেরদিন নোয়াখালী নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, এমকে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ করবেন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ঢাকায় ঈদ করবেন আবদুল মান্নান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খন্দকার, মাহবুবের রহমান শামীম। নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ, শামসুজ্জামান দুদু চুয়াডাঙ্গা, শওকত মাহমুদ কুমিল্লা, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী, মজিবুর রহমান সারোয়ার বরিশাল, হারুনুর রশিদ চাপাইনবাবগঞ্জ, খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী, এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ, সাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেট, নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর, আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর এবং তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোরের লালপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আউয়াল খান, হাসান মামুন, আবদুল মতিন, অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), মেহেদী হাসান সুমন (দিনাজপুর-১), ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান (মাদারীপুর) এবং মিজানুর রহমান মাসুম (গাইবান্ধা-৩) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। এদের অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল মতিন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। নিজ এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইফতারসহ নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি। এছাড়া এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছি, যাতে তারা খুশি মনে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসানসহ অনেকেই ঢাকায় ঈদ করবেন।

কারাগারে ঈদ করবেন অনেকে : বিগত বছরের তুলনায় এবার কারাগারে ঈদ করা বিএনপির নেতাদের সংখ্যা অনেক কম। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বেশ কয়েক বছর ধরেই কারাবন্দিদের সঙ্গে ঈদ করছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্ল¬াহ বুলু ও যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এবার কারাগারে ঈদ করবেন।

বিদেশে ঈদ যাদের : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় ঈদ করবেন।

 

 

 

এবারের ঈদে বগুড়ায় তরুণীদের রঙিন নকশাদার জুতা স্যান্ডেলের কদর বেশি

ঈদে জামা-কাপড়ের পর পছন্দের জুতা-স্যান্ডেল কিনতে তরুণ-তরুণীরা ছুটছেন বিভিন্ন মার্কেটে। পোশাকের  মতোই তরুণীদের আগ্রহ এবার বাহারি রং ও নকশার জুতার প্রতি। জুতা স্যান্ডেলে ফুলেল নকশা,  স্টোনের লেস,  পাথর খচিত ছাড়াও পুঁথিসহ নানান কারুকাজ আর বাহারি রং।

তবে দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে মেয়েরা এবার গরমে আরামদায়ক হবে এমন বর্ণোজ্জ্বল জুতা-স্যান্ডেল কিনছেন। আর ছেলেরা পাঞ্জাবি ও পাজামার সাথে কিনছেন স্লিপার । বগুড়ার জুতা-স্যান্ডেলের  শোরুমগুলোতে গিয়ে দেখা যায় মেয়েদের স্যান্ডেল ও জুতায়  এবার রঙের প্রাধান্য বেশি।

এতদিন তরুণীদের পছন্দের জামায় কারচুপির কাজে  যে পুঁথি পাথর দিয়ে কারচুপির কাজে ব্যবহার হতো,তাই এবার তরুণীদের স্যান্ডেল জুতার নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে। অনেক নামি-দামি ব্রান্ড থেকে শুরু করে মাঝারি ও কমদামি সব জুতা স্যান্ডেলেই এবার চুমকি, পুঁথি, পাথর ও বিভিন্ন ধরনের ফুলের নকশা ফুটে উঠেছে। বগুড়া বেসরকারি কোম্পানীর কর্মকর্তা  মোঃ আশরাফুল আলম বউ এবং মেয়েকে নিয়ে এসেছেন জুতা-স্যান্ডেল কেনার জন্য বগুড়া নিউ মার্কেটে।  জুতা কেনার জন্য কয়েকটা দোকান ঘুরে ঘুরে শেষের দোকানে এসে মায়ের জন্য সিম্পল দুই ফিতার সেন্ডেল পেয়েছেন। নিজের জন্যও  একটা স্লিপার, বউ’র জন্য একটু উচু  ডিজাইন করা হিল। আর শেষে মেয়ে আনিকার জন্য বেবি জুতা এবং সব সময় পরার জন্য বেল্ট দেয়া স্যান্ডেল কিনলেন। তিনি জানালেন এসব নিত্য ব্যবহার্য্য জিনিসগুলো কিনতে সব সময় কমফোর্টের কথাটা মাথায় রাখতে হয়।

প্রতিবছর মায়ের পছন্দের জামা-স্যান্ডেল কিনলেও  এবারই প্রথম বান্ধবীদের সাথে মার্কেট করেছে সুরভী। এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে পাস করায় মা এবং মামারা বেশ কিছু টাকা দিয়েছে। জীবনের প্রথম নিজের মত করে খরচ করেছে সে। ঈদের জন্য দুটো জামা কিনেছে । তার সাথে ম্যাচিং করে দুটো স্যান্ডেল তো কিনতে হবেই। গাউনের সাথে একটা উচু পেন্সিল হিল এবং লং কামিজের সাথে  একটা সুন্দর  ফ্লাট একটা সুন্দর স্যান্ডেল কিনবে বলে তিন বান্ধবি বের হয়ে বিভিন্ন শো-রুমগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে পরে কিনবে।

বগুড়া অ্যাপেক্স শোরুমের ম্যানেজার হাসনাত আযম জানান, এবার যেহেতু বর্ষায় ঈদুল ফিতর। আ্যাপেক্স্র রাবার সোলের জুতা এনেছে এবার।এছাড়াও বেশ গরম আবহাওয়া  কিছুটা খোলামেলা নকশার দুই ফিতার স্লিপার এবার ছেলেরা কিনছেন । গতবারের চেয়ে অ্যাপেক্স্রের বেচা কেনা কম। দাম ৬০০ টাকা থেকে ৩হাজার টাকা মধ্যে। বগুড়ার সজল সু স্টোরের মেয়েদের জুতা-স্যান্ডেলের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, এবার তরুণীরা কারুকাজ করা জুতা-স্যান্ডেল কিনছেন বেশি। ঈদের সময় পোশাকের ধরনের ওপর নির্ভর করে জুতা কেনা। এবার যেহেতু পোশাকে একটু রাজকীয় ভাব আছে,  সেহেতু জুতাটাও একটু গর্জিয়াাস না হলে তো চলে না। তাই ফ্যাশনপ্রিয়দের কথা মাথায় রেখে এবার জুতা স্যান্ডেলও সেইভাবে পুঁথি, চুমকি স্টোনের কাজ রাখা হয়েছে।

বগুড়া জলেশ্বরীতলা বাটার শোরুমে গিয়ে দেখা গেল  মেয়েদের স্যান্ডেলের নকশায় এবার বিভিন্ন রঙের প্রাধান্য পেয়েছে।  বাটার ম্যাানেজার জহুরুল ইসলাম জানালেন, সময়ের সাথে  সামঞ্জস্য রেখে স্যান্ডেলের নকশা এবং ধরণ  রাখা হয়। প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে ৫০ ভাগ জুতা নতুন ডিজাইন করা হয়। ক্রেতারা তাদের পোশাকের ধরণ অনুযায়ী  সঠিক জুতা-স্যান্ডেলটিই বেছে নিচ্ছেন। দামও আমরা বেশি রাখছি না। বাটায় ৩’শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার স্যান্ডেল  পাওয়া যাচ্ছে। বগুড়া সাতমাথার লটো’র শোরুমে গিয়ে দেখা গেলো বেশ ভিড়। এই ব্রান্ডের প্রতিটি শোরমের বাইরে  টাঙ্গানো আছে বিশেষ অফার। ১ হাজার টাকার পণ্য কিনলে ক্র্যাচ কার্ডে গাড়ি, ফ্রিজ, টিভি সহ মোট ১০ টি পুরস্কার দেয়া হবে। এছাড়া তারা  একটি পণ্য কিনলে আর একটি ফ্রী। ম্যানেজার সঞ্জিব হাওলাদার জানালেন, এবারের ঈদে তরুণরা আরামের কথা মাথায় রেখে দুই ফিতার সেন্ডেল কিনছেন। এছাড়াও অফারের জন্যও মানুষ আসছেন।
বগুড়ার  জুতা-স্যান্ডেলের বেশ কয়েকটি দোকানে গিয়ে ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এবারের ঈদে সব ধরনের নকশা ছাপিয়ে আরামের বিষয়টিই দেখছেন। অনেকে বেচা কেনার লেন-দেন করছেন একটা কমিশন দিয়ে বিকাশ ও অন্যান্য অপারেটরের মাধ্যমে। বেচা-কেনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় জুতা-স্যান্ডেলের দোকানীরা জানান, শেষের ৭ দিন আমাদের ব্যবসা বেশি ভাল হবে। এখনও বিক্রি হচ্ছে তবে মুল ব্যবসা হবে শেষের ক’দিন।

 

ঠাকুরগাঁও ক্রেতায় পরিপূর্ণ, বিক্রেতাদের দম ফেলানোর ফুসরত নেই

মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও : ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে জমে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঈদ বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মার্কেট ক্রেতায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বিক্রেতাদের যেন দম ফেলানোর ফুসরত নেই।

এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেটে আসা ক্রেতাদের নিরাপত্তায় ঠাকুরগাঁও বাজারে সার্বক্ষণিক থানা পুলিশের সিভিল টিম, নারী পুলিশ টিম ও ইউনিফর্ম টিম টহল দিয়ে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও বাজার ঘুরে দেখা যায়, এবারের ঈদবাজার ইতোমধ্যে পুরোপুরি জমে উঠেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় শুরু হয়েছে। এখন সকাল ১০টা থেকেই বিক্রিতে ধুম লেগে যায় বাজারের ছোট বড় সকল দোকানে।

ঠাকুরগাঁও বাজারে দু’ধাপে মার্কেটগুলোতে বিক্রি হয়। দিনের প্রায় পুরো সময়টা দূরের ক্রেতারা বাজার দখল করে রাখে। স্থানীয়রা কিংবা দূরের যারা বাজারের আশপাশে ভাড়া থাকেন এ জাতীয় ক্রেতারা মার্কেটে আসেন সন্ধ্যার পর। যার কারণে ঠাকুরগাঁও বাজারে দিনে ও রাতে সমানতালে বিক্রি হয়। এ ভিড় সাধারণত কাপড় ও গার্মেন্ট দোকানগুলোতে বেশি।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সময়টাতে প্রবাসীদের পরিবার এখন ঈদ মার্কেটে ভিড় করছে বেশি। গার্মেন্টস্ আইটেম, কাটা কাপড়ের দোকান আর কাপড়ের দোকানগুলোতে পুরোপুরি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবার জুতোর দোকানগুলোতে ঈদের ক্রেতায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিগত এক বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বাজারে নতুন করে বেশক’টি মার্কেট চালু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও মাসুদ হাইটস মার্কেট, শাহজালাল মার্কেট, আমাদের বাজার মার্কেটসহ আর ক’টি মার্কেট সম্প্রতি চালু হয়েছে। এ মার্কেটগুলোর অধিকাংশ ব্যবসা অত্যাধুনিক আইটেমের কাপড়ে ভরপুর।  

ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় কাপড়ের দোকান ঘোমটার প্রোপাইটার জনি জানান, এর আগে স্টার জলসার বিভিন্ন নাটকের নায়িকাদের নাম করে কাপড় বিক্রি হয়। এতে এক দুইটা মডেল ছাড়া বিক্রিয় হয়নি। তাই এবার কোন মেয়েদের কাপড়ের নাম দেয়া হয়নি। এবার সব লং থ্রি পিচ বলে বিক্রি করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও গণেশ বস্ত্রালয়ের মালিক উৎপল জানান, এখনও ঈদের বেশ কয়েকদিন বাকি আছি। বাজারে অনেক ভির। কাটা কাপড় এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে। কাপড় সেলাইয়ের জন্য এখন মেয়েরা বেশি থ্রি পিচ ক্রয় করছে। পরে আবার দর্জিরা কাপড় সেলাই করবেন না বলে এই চাপ।

ঠাকুরগাঁও আমাদের বাজার মার্কেটের আঁচল ফ্যাশনের প্রোপাইটার মালতি রায় জানান, আমাদের এখানে দেশী-বিদেশী মেয়েদের পোশাকের বিপুল সমারোহ রয়েছে। গত ক’দিনে বিক্রি অনেক বেড়েছে। মেয়েদের আইটেম সেলাই করার ভেজাল থাকার কারণে মেয়েরা বেশি ভিড় করছে আগে।

বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার কথা মাখায় রেখে ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের বেশ ক’টি টিম পুরো বাজারে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান ঠাকুরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান।

 

 

উত্তরাঞ্চলে গম সংগ্রহ নিয়ে তেলেসমাতি

করতোয়া রিপোর্ট : সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ করতে প্রতি বছর খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে ধান-চাল ও গম সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। চলতি বছর উত্তরের ১৬ জেলায় কৃষকদের উৎপাদিত গম ও মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। কিন্তু চাল সংগ্রহে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা না গেলেও তেলেসমাতি চলছে গম সংগ্রহ অভিযানে। অভিযান শুরুর প্রায় দেড় মাস পর সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও এক মাসের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার আশাবাদি খাদ্য বিভাগ। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলা এই অভিযানে প্রতি কেজি গম ২৮ টাকা হিসেবে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে ৩৫ হাজার ৬১৮ মে. টন ও রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা থেকে ৩৪ হাজার ৪৬৯ মে. টনসহ মোট সংগ্রহ করা হবে ৭০ লাখ ৮৭ মে. টন গম।

এই অভিযানে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গম সংগ্রহের নীতিমালা থাকলেও এ নিয়ম মানা হচ্ছে শুধু কাগজে কলমে। অনেক দেরিতে সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় এতে কৃষকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কৃষকের কার্ড আর এনআইডি’র ফটোকপি নিয়ে খাদ্যগুদামে গম ঢুকাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নামধারী কিছু নেতা ও দালাল ব্যবসায়ী। তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। খাদ্য বিভাগের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বস্তাপ্রতি নির্ধারিত টাকা নিয়ে সব অনিয়মকে নিয়ম করে দিচ্ছেন।   

কয়েকটি জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে সারাদেশে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু করার কথা। বিভাগীয় জেলাসহ দু’একটি জেলায় উদ্বোধনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে গম সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হলেও অধিকাংশ জেলায় নির্ধারিত তারিখের অনেক পরে গম সংগ্রহ শুরু করা হয়। কারণ হিসেবে খাদ্য বিভাগ দাবি করেছে উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটি থেকে কৃষকদের তালিকা সময় মতো না পাওয়ায় দেরিতে গম কেনা শুরু হয়েছে। আবার উপজেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্যদের দাবি কৃষি বিভাগ সময় মতো ইউনিয়ন পরিষদের কৃষকদের তালিকা দিতে দেরি করেছে। তবে কৃষকরা জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত সময়ে গম সংগ্রহ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক নেতাদের সুবিধা দিতে উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটিগুলো প্রায় দুই মাস দেরিতে চাষিদের তালিকা খাদ্য বিভাগে প্রেরণ করে। এরই মধ্যে কৃষকদের উৎপাদিত গম বিক্রি করা শেষ হয়ে গেছে। সাধারণত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণির কৃষকরা ধারদেনা করে গম আবাদ করে। তাই গম মাড়াইয়ের পর তারা সেই গম আর ঘরে রাখতে পারে না।

মাড়াই শেষ করে গম বিক্রির দুই মাস পর সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকছে না। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই খাদ্য গুদামে গম ঢুকাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নামধারী ব্যবসায়ীরা। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আগেই হাজার হাজার সরকারি খালি বস্তা নিয়ে যাচ্ছে তারা। সেই বস্তায় গম ঢুকিয়ে ট্রাক বা ট্রাক্টরে করে প্রকাশ্য দিবালোকে নিয়ে যাচ্ছে খাদ্যগুদামে। তাদের এই কাজে সহযোগিতা করছেন কৃষি বিভাগের উপ-বিভাগীয় কৃষি কর্মকর্তারা। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিকার্ড ও এনআইডি’র ফটোকপি নিয়ে অর্থের বিনিময়ে দিয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীদের হাতে। অনেক সময় তারা কৃষকদের নিয়ে এসে ব্যাংকে হিসাব খুলে দিচ্ছেন। আর প্রকৃত কৃষকরা কৃষিকার্ডের মাধ্যমে গম খাদ্যগুদামে দিতে গিয়ে নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। খাদ্যগুদামে প্রতি কৃষক সর্বনিম্ন এক বস্তা ও সর্বোচ্চ ৩ মে. টন গম দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও একেক উপজেলায় একেক নিয়মে গম কেনা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের করা কৃষকের তালিকা অনুযায়ী কোথাও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবার কোথাও ৫-১০ বস্তা গম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবার কৃষকদের তালিকা তৈরিতেও অনেক অনিয়ম রয়েছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছে। কৃষকরা তাদের নির্ধারিত পরিমাণে বরাদ্দ দেয়া গম গুদামে দেয়া ও বিল তুলতে তাদের ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। অথচ সেখানে ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো নিয়ম নেই। খাদ্য গুদামে দায়িত্বরতদের বস্তাপ্রতি নির্ধারিত টাকা দিয়ে তারা হাজার হাজার বস্তা গম গুদামে ঢুকাচ্ছে।    

আমাদের অফিস ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট :
রাজশাহী থেকে মাইনুল হাসান জনি জানান, রাজশাহী অঞ্চলে সরকারের গম ক্রয় কার্যক্রমে কৃষকদের বিপরীতে গম সরবরাহ করছেন প্রভাবশালীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রভাবশালীরা গম সংগ্রহ করে তা সরকারের কাছে সরবরাহ করছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে এলাকার প্রভাবশালী ও দালালরা গম কিনে নিয়ে তারাই সরকারি গুদামে সরবরাহ করছেন। অসচেতনতার কারণে কৃষকরাও নিজের উৎপাদিত গম কম টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন এসব প্রভাবশালীদের কাছে। এক্ষেত্রে গম কেনার সময় দালাল বা প্রভাবশালীরা কৃষকদের থেকে কৃষি, ভোটার আইডি কার্ড ও ব্যাংক এ্যাকাউন্টের কাগজপত্র নিয়ে নিচ্ছেন। আবার সরকারি গুদামে গম সরবরাহের নামে কৃষকদের থেকে কাগজপত্র জমা নিয়ে দালালরা তাদের কাগজপত্র হাতিয়ে নিচ্ছেন। পরে গম সরবরাহে অপারগতা স্বীকার করে কাগজপত্রের ফটোকপি করে নিয়ে কৃষকদের কাগজপত্র আবার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এই কাগজপত্র দেখিয়ে পরবর্তীতে তারা গম সরবরাহ করছেন। এভাবেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। আর এক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক চাষিরা। সরকার কৃষকদের গম চাষে উৎসাহিত করতে এ গম ক্রয় কার্যক্রম হাতে নিলেও এর সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা।    

আঞ্চলিক ও জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী অঞ্চলে গত ১৬ এপ্রিল সরকারিভাবে গম ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ গম কেনা হয়ে গেছে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এ বছর ৩৪ হাজার ৪৬৯ মে. টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ইতিমধ্যে ২৪ হাজার ৪৬৮ মে. টন কেনা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পর্যায়ে পাঁচ হাজার ৩৩১ মে. টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতিমধ্যে গম ক্রয় শেষ হয়েছে তিন হাজার ৭শ মে. টন। প্রতি কেজি ২৮ টাকা দরে সর্বনি¤œ ৫০ কেজি থেকে ৩ টন পর্যন্ত গম কেনা হচ্ছে একজন কৃষকের থেকে। ৩০ জুন সময় শেষের আগেই এ গম ক্রয় কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মমিনুল ইসলাম বলেন, গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম এড়াতে আমরা কৃষকের কৃষিকার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাংক এ্যাকাউন্টের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এবং এক কপি করে জমা নিয়ে তবেই গম কিনছি। টাকাও তাদের এ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাচ্ছে। তবে কৃষক যদি টাকা নিয়ে নিজেদের আইডি কার্ড ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট দালাল বা প্রভাবশালীদের দিয়ে দেয়, এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। একই ধরনের অপারগতা স্বীকার করেন জেলা খাদ্য অফিসের প্রধান সহকারী শফিকুল ইসলাম।

রংপুর থেকে হুমায়ুন কবীর মানিক জানান, রংপুর বিভাগে গম সংগ্রহ অভিযান চলছে। এবার এ বিভাগের ৮ জেলায় গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬১৮ মে. টন। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক গম সংগ্রহ হয়েছে।

বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুর জেলায় ৮৯৭ মে. টন, গাইবান্ধায় ৭৬৯ মে. টন, কুড়িগ্রামে ২ হাজার ৬৬১ মে. টন, লালমনিরহাটে ৪০৪ মে. টন, নীলফামারীতে ১ হাজার ৩১৫ মে. টন, দিনাজপুরে ৪ হাজার ৫৬৮ মে. টন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ হাজার ৯১৫ মে. টন এবং পঞ্চগড়ে ৭ হাজার ৭৯ মে. টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহজাহান ভূঁইয়া জানান, রংপুর জেলায় গম সংগ্রহ অভিযান সুষ্ঠুভাবে চলছে। এ কার্যক্রমে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। কৃষকের তালিকা তৈরি করে ভোটার কার্ডসহ আমাদের কাছে আছে এবং সে মোতাবেক কার্যক্রম চলমান আছে।

পঞ্চগড় থেকে সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম জানান, চলতি মৌসুমে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৭৯ মে. টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গম সংগ্রহ হয়েছে বলে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে। তবে এই অভিযানে কৃষকরা কোন সুফল পাচ্ছে না। কৃষকদের কার্ড, এনআইডি নিয়ে খাদ্য গুদামে গম ঢুকাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নামধারী কিছু নেতা ও কিছু দালাল ব্যবসায়ী। তাদের দখলে জেলার ৮টি সরকারি খাদ্য গুদাম। হাতে গোনা কয়েকজন কৃষি কার্ড দিয়ে গম দিতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মাত্র ৫-১০ বস্তা গম খাদ্যগুদামে ঢুকাতে ২/৩ দিন এবং বিল তুলতে আরও ৩/৪ দিন সময় ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। নিজের বস্তায় গম এনে সরকারি বস্তায় গম ঢালতে কুলিকে দিতে হচ্ছে বস্তা প্রতি ৩০-৪০ টাকা। অথচ ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো নিয়ম নেই। আগেই সরবরাহ করা সরকারি বস্তায় ভরে আনা ট্রাক্টর ভর্তি গম মাপ ও মান যাচাই না করেই তাদের হাজার হাজার বস্তা গম সরাসরি চলে যাচ্ছে খাদ্য গুদামের খামালে।

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গম খাদ্যগুদামে ঢুকাতে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা করে গুদাম সংশ্লিষ্টদেরকে দিতে হয়। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে সরসারি গম নিতে বাধার সৃষ্টি করছে। একজন ক্ষমতাসীন দলের নামধারী ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে বলছেন, ব্যবসায়ী ছাড়া কৃষকদের কোন গম সরকারি গুদামে ঢুকবে না। আমাদের কাছ থেকে গম কেনার জন্যই দুই মাস পর সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে গম নিলে নির্ধারিত তারিখ থেকেই গম কেনা হত।
এ নিয়ে কথা বললে পঞ্চগড়ের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বপন কুমার কুন্ডু বলেন, উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটি দেরিতে তালিকা দেয়ায় দেরিতে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি কার্ড ও এনআইডি’র মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করছি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গম নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর না দিয়ে তা এড়িয়ে যান।

 

বাবুলের দিন বদলের গল্প

শাওন রহমান : জয়পুরহাটের পালিবাড়ি গুচ্ছগ্রামে এসেই মনে পড়লো মোবাইলের ব্যালান্স শেষ। হাতের কাছেই রিচার্জের দোকান দেখে এগিয়ে গেলাম। দোকানিকে একশ’ টাকা রিচার্জ করতে বলে তার দিকে ভালো করে তাকালাম। তাকিয়ে একটু হকচকিয়ে গেলাম। কারণ দোকানির কোন হাত নেই। দোকানি আমার মনের ভাব বুঝতে পেরে বললো ‘কোন অসুবিধা হবে না স্যার, আমি রিচার্জ করে দিচ্ছি।

 

’ আগ্রহ দমাতে পারলাম না। অবাক হয়ে দেখলাম কী সুচারুভাবে নিজের পা দিয়ে সেই দোকানদার আমার মোবাইলে টাকা রিচার্জ করে দিল। সাংবাদিক হিসেবে ইচ্ছে হলো তার জীবনকে জানার, আর কিছুটা দায়িত্ববোধও।জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের পালিবাড়ি গুচ্ছগ্রামের বাবুল হোসেন। জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী।     


তার দু’টি অসম্পূর্ণ হাতের  অস্তিত্ব কাঁধ থেকে সামান্য একটু নিচে, অর্থাৎ হাত নেই বললেই চলে। বাবার নিত্য অভাবের সংসারে কখনও চাচা, কখনও নানা, কিংবা অন্যের বাড়িতে বড় হয়েছে। তারপরেও শত সীমাবদ্ধতার মাঝে সে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া চালিয়ে গেছে। এরপর নবম শ্রেণির পড়া শেষ না করেই অভাবের কারণে তাকে জীবন যুদ্ধে নামতে হয়। তার এ যুদ্ধ শুরু হয়, নিজের পড়া-লেখা করার ইচ্ছাকে দমিয়ে রেখে জীবিকার জন্য অন্যের কাছে সাহায্য চেয়ে।


এভাবে বেশ কিছু বছর চলার পর বাবুলের বিয়ে হয় নাদিরা খাতুনের সাথে। এভাবে নিজের প্রতিবন্ধকতাকে পুঁজি করে অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে বাবুলের আত্মসম্মানে বাধে। তাই বিয়ের পর বাবুল শহর থেকে কাপড় ও কসমেটিকস সামগ্রী কিনে গ্রামে গ্রামে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ফেরি করা শুরু করে। ভালোই চলছিল। বিয়ের দু’বছর পর বাবুল-নাদিরার ঘরে আসে তাদের প্রথম সন্তান।

 

ছোট্ট মেয়ের কারণে বাবুল-নাদিরার ফেরির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবুল আবারও হাত পাততে বাধ্য হয় অন্যের কাছে। কিন্তু এতে তার মন কিছুতেই সায় দিত না। বাবুল নাদিরার সংসার কোনভাবে চলে গেলেও বাবুল সব সময়ই ভাবতো কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু তার শারীরিক অক্ষমতা বার বার তার ইচ্ছার রাশ টেনে ধরে।


বাবুল শারীরিক অক্ষমতার কাছে হারতে নারাজ। এক সময় সে তার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের কাছে মোবাইল রিচার্জ ব্যবসার ধারণা পায়। এ ব্যবসায় শারীরিক শ্রম লাগেনা, বসে থাকার কাজ। নম্বর লিখতে হবে, মোবাইল চালাতে হবে। টাকা নিতে হবে, আবার গুণে গুণে কাস্টমারকে টাকা ফেরতও দিতে হবে। অদম্য বাবুলের কাছে এগুলো কোন সমস্যাই না। পা দিয়ে লেখার কাজ সে স্কুল জীবনেই রপ্ত করেছে। পা দিয়ে তার লেখার অন্য আর সব হাতের চেয়েও ভালো। আর মোবাইল চালানোর কাজ সে ক’দিনেই শিখে নিতে পারবে, এ আত্মবিশ্বাস তার আছে।

 কিন্তু এ ব্যবসা করতে হলে কমপক্ষে একটি দোকান প্রয়োজন। বাজারে বা রাস্তার পাশে ব্যবসার উপযোগী দোকান নিতে হলে টাকা জামানত রাখতে হয়। সে টাকাও তার নেই। ধার দূরে থাক, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে কেউ ঋণও দিতে চায়না। বাবুলের প্রবল ইচ্ছাশক্তি পথ খুঁজতে থাকে। এক সময় সে তার স্ত্রী ও ছেলের নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নেয়। এই টাকা জামানত দিয়ে মাসে তিনশো টাকা ভাড়ায় এলাকায় একটি দোকান নেয়।


দোকান হলো। এবার প্রয়োজন টেলিকম কোম্পানির রিচার্জ সিম এবং ট্যাব। বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে কথা হয়, কিন্তু কেউ বাবুলকে দেখে এগিয়ে আসেনা। সেও হারবার পাত্র নয়। এ সময় বাবুলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় দেশের বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোনের স্থানীয় কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বাবুল খুব দ্রুতই রিচার্জ এবং সিম বিক্রির জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ইআরএস সিম ও ট্যাব পায়। গ্রামীণ ফোন একজন ব্যবসায়িকে নয়, প্রতিবন্ধী একজন মানুষকে জীবনযুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেয়।

 এই সুযোগ সুচারু বাবুল সুন্দরভাবে কাজে লাগায়। গ্রামীণফোনের বাড়িয়ে দেয়া হাত ধরে বাবুল এখন দোকানে সব ধরনের মোবাইল রিচার্জ, কার্ড, গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি, বিদ্যুৎবিল ও বিকাশসহ অল্প অল্প করে ইলেক্ট্রিক পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে। ব্যবসার প্রসারে বাবুল আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। দুঃখ দুর্দশায় জর্জরিত বাবুলের চোখে মুখে এখন তৃপ্তির ছবি। দুঃখ ও কষ্ট বোধের এ জীবনকে সুখের সিঁড়ির সন্ধান দেয়ার জন্য সে গ্রামীণফোনের কাছে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞ। আর সে কথা ঝরে পড়লো তার উচ্ছ্¦াসিত কণ্ঠে।


‘ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছি। মন না চাইলেও অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো। ভাবতাম একটা সুযোগ পেলে সাহায্য আর চাইবো না। নিজেকে প্রমাণ করবো। আর এই সুযোগটি আমাকে দিয়েছে গ্রামীণফোন। প্রথমে যখন এই ব্যবসার আগ্রহ প্রকাশ করি তখন বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিল। বহু কষ্টে ঋণ নিয়ে দোকান ভাড়া নিলাম। কিন্তু কোন মোবাইল কোম্পানির লোক এগিয়ে এলো না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এরপর গ্রামীণফোনের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. হাকিমের সাথে বেশ কয়েক দিন কথা বলি। পরে কথা হয় তাদের কর্মকর্তা ওবায়দুর রশিদের সাথে।

 তিনি আমাকে দেখে আমার কথা শুনে খুব দ্রুতই আমাকে মোবাইল রিচার্জ ও সিম বিক্রির জন্য ট্যাবের ব্যবস্থা করে দেন। গ্রামীণফোনের ব্যবসা শুরুর পর অন্য কোম্পানির লোক আসতে থাকে। গ্রামীণফোনের দেয়া সুযোগেই আস্তে আস্তে ব্যবসা বড়  করি। যখন অন্য কোম্পানি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, তখন গ্রামীণফোন সুযোগ করে দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আজ আমি স্বাবলম্বী। আমি গ্রামীণফোনের কাছে ঋণী।’


কথা হয় গ্রামীণফোনের সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার ওবায়দুর রশিদের সাথে। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে যখন বাবুল ভাইকে আমরা আমাদের রিটেইলার হিসেবে নিয়োগ দেই, তখন সেই এলাকায় আমাদের নতুন কোন রিটেইলারের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু যখন শুনলাম তিনি প্রতিবন্ধী, তখন মানুষটিকে দেখে, তার কথা শুনে আর না করতে পারিনি। কিভাবে বাবুল ভাইকে দাঁড় করানো যায়, সেই ভাবনা থেকেই তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইআরএস সিমসহ একটি ট্যাব দিই। শুধু তাই নয়, মাঠ পর্যায়ে জনবল থাকা সত্ত্বেও আমি নিজে সব সময় বাবুল ভাইয়ের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখি।

 যখনই তার কোন সমস্যা হয়েছে, তখনই খুব দ্রুত তা সমাধান করে দিয়েছি। আর্থিক সমস্যায় পড়লে আমরা সাহায্য করি।’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাবুল ভাই কথা ও কাজে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তার হার না মানা মনোভাব তাকে সফলতার আলো দেখিয়েছে। বাবুল ভাইয়ের মতো একজনের সফলতার অংশ হতে পেরে গ্রামীণফোন পরিবার গর্বিত।’


বাবুলের দোকানে বসে যখন কথা হচ্ছিল, তখন দোকানে মিনিট কার্ড কিনতে আসেন ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি খাজামউদ্দিন। তিনি বলেন ‘অন্যরা যা হাত থাকতে করতে পারেনা, বাবুল হাত না থেকেও সেই কাজ সুন্দরভাবে করতে পারে। তিনি আরও বলেন নম্বর লেখা, পা দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করে টাকা রিচার্জ করা, সিম বিক্রির ফরম পূরণ কিংবা আসল-নকল টাকা দেখে গুণে নিয়ে ফেরত দেয়া, কোন কাজেই বাবুলের ভুল হয়না।’


বাবুলের দোকানের আরেক ক্রেতা প্রবীর ঘোষ বলেন, ‘প্রথম দিকে আসতাম না। ভাবতাম হাত নেই কিভাবে ফ্লেক্সিলোড করবে। এক দিন সকালে দেখি একা একাই দোকান খুলছে, রাতে আবার বন্ধও করছে। তখন মনে হলো মানুষটি টিকে থাকার লড়াই করছে, ভুল হলে হবে। তারপর থেকে অন্য দোকানে আর যাইনি। আর বাবুলের কোন ভুলও হয়না। অন্যরা হাত থাকতেও ভুল করে। কিন্তু বাবুল খুব নিখুঁতভাবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে।’


এরপর কথা হয় নূর হোসেন, রঞ্জন কুমার, ফিরোজের সাথে। সবাই এই এলাকারই মানুষ। বাবুলকে এরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে দেখছেন। এদের মতে, বাবুল বুদ্ধিমান ও সৎ। হাত না থাকলেও সে খুব গুছিয়ে, নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে। তার দু’টো পা অন্য আর দশটা হাতের চেয়ে কম নয়। এদেরই চোখের সামনে বাবুল অনেক কষ্ট করেছে। গ্রামীণফোনের দেয়া সুযোগে বাবুল আজ স্বাবলম্বী। বাবুলকে অন্যের মুখাপেক্ষি হওয়া থেকে ফিরিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতার জন্য প্রত্যেকেই গ্রামীণফোনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।


এলাকার গুচ্ছগ্রামে বাবুলের এখন দু’টো ঘর। আছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি। আর আছে দুঃখ ছাপিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুখের শান্তি ছোঁয়া আবেশ। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এক ছেলে নাদিম মাহমুদ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়া-লেখার পাশাপাশি বাবাকে দোকান চালাতে সেও সাহায্য করে। বাবার প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা। বাবার সততা আর কর্মক্ষমতা নাদিমের পথ চলার প্রেরণা। গ্রামীণফোনের সহযোগিতা বাবুল নাদিমের জীবন যুদ্ধে লড়াইয়ের রসদ যুগিয়েছে। বাবুল এগিয়ে যাচ্ছে। আর বাবার হার না মানা মানসিকতাকে পাথেয় করে এগিয়ে যেতে চায় নাদিমও।

আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবস আজ

সৈয়দ আহমেদ অটল : ‘হে নিরূপমা/ চপলতা আজ যদি কিছু ঘটে করিও ক্ষমা। এলো আষাঢ়ের প্রথম দিবস/ বনরাজি আজি ব্যাকুল বিবশ/ বকুল বীথিকা মুকুলে মত্ত কানন-’ পরে। নবকদম্ব মদির গন্ধে আকুল করে।’ ‘অবিনয়’ কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আষাঢ় নিয়ে  এ ভাবেই মনের ব্যাকুলতা প্রকাশ ধরেছেন। আষাঢ় মানে অঝোর ধারার বর্ষণ। আষাঢ় মানে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরাট। আষাঢ় মানে ঘরের বাইরে না যাওয়া। আষাঢ় মানে ভালোবাসার কদম ফুল ফোটার দিন। এই মিলে আষাঢ়। আজ আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবস। আষাঢ় বা বর্ষাকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর কোনো কবি এতো ব্যাকুলতা প্রকাশ করেননি। কবি রবীন্দ্রনাথ আষাঢ়কে বলেছেন, ‘নব যৌবন বরষা’। কবিতায় তিনি বলেছেন, ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নব যৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা।’

বাংলা পঞ্জিকায় বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ় শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। এবারের আষাঢ়ষ্য প্রথম দিবসের আগেই নিম্নচাপের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টি জানান দিয়েছে আষাঢ় আসছে। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বর্ষা ঋতুর আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। কবির ভাষায়, ‘বৃষ্টি নামে টাপুর টুপুর, বৃষ্টি নামে মিষ্টি মধুর’। এবার প্রায় পুরো জ্যৈষ্ঠ মাসই ছিল তীব্র দাবদাহ। জীবন ছিল অতিষ্ঠ। তবে জ্যৈষ্ঠের শেষে স্বস্তির বৃষ্টি যেন আষাঢ়কে স্বাগত জানিয়েছে। জানিয়েছে আষাঢ়ের আগমনী বার্তাও। মৌসুমী বায়ু উপকূল পেরিয়ে এখন দেশের ভেতরে বিস্তৃত রয়েছে। সারাদেশের আকাশে সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় যে কোনো সময় শুরু হতে পারে আষাঢ়ের বৃষ্টি। এই আষাঢ় নিয়ে কবি-সাহিত্যিকদের ব্যাকুলতার শেষ নেই। কেননা আষাঢ়ে ফোটে কদম ফুল। আবার কদম ফুল ফোটার মাস আষাঢ়। বৃষ্টিস্নাত দিনে কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতি হয় সুবাসিত। কদম ফুল হয়ে ওঠে ভালবাসার প্রতীক। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘আষাঢ়’ কবিতায় নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন আষাঢ় দিনের কথা। কবি লিখেছেন, ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে। বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর/ আউশের ক্ষেত জলে ভরভর/ কালি মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহিরে।’ জ্যৈষ্ঠের শেষে প্রকৃতির এমন পরিবর্তন আর কোথাও দেখা যায় না। যে পরিতর্বন আসে প্রকৃতির সকল প্রাণীকুলেও। বৃক্ষের শাখা-প্রশাখায়। মনে মনে যে পরিবর্তন, তার নাম ভালোবাসা। তাই রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতো নাচে রে। শত বরনের ভাব-উচ্ছ্বাস কলাপের মতো করেছে বিকাশ, আকুল পরান আকাশে চাহিয়া উল্লাসে কারে যাচে রে। ওগো, নির্জনে বকুল শাখায় দোলায় কে আজি দুলিছে, দোদুল দুলিছে।           ঝরকে ঝরকে ঝরিছে বকুল, আঁচল আকাশে হতেছে আকুল, উড়িয়া অলক ঢাকিছে পলক কবরী খসিয়া খুলিছে। ঝরে ঘনধারা নবপল্লবে, কাঁপিছে কানন ঝিল্লির রবে তীর ছাপি নদী কলকল্লোলে এল পল্লির কাছে রে।’ বর্ষার দিনের মনের আকুতি বর্ণনা করতে গিয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ‘বর্ষার দিনে’ কবিতায় লিখেছেন, ‘ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে/ সে কথা আজি যেন বলা যায়/ এমন ঘনঘোর বরিষায়।’ প্রতিবছরের মত এবারও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ষাবরণের আয়োজন করেছে।  

 

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের শতাধিক এমপির আমলনামা সভানেত্রীর হাতে

মাহফুজ সাদি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘৩০ আসন’ বনাম ‘হেট্রিক’ তত্ত্ব দিয়ে বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগামী নির্বাচনে ‘জয়-পরাজয়’কে দেশের প্রধান দুই দলই ‘বাঁচা-মরা’র ভোট হিসেবে দেখছে। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যাস্ত। এর অংশ হিসেবে শতাধিক বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিদের আমলনামা দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। যাদের কারণে দলের ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে তারা ‘শাস্তি স্বরূপ’ আগামী নির্বাচনে নৌকার টিকেট বঞ্চিত হবেন। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, আগামী নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী  বিএনপি। এটি মাথায় রেখেই ‘জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন, একাধিক সংস্থাও আলাদা সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ তালিকায় শতাধিক এমপি-মন্ত্রীর নাম রয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও এখন থেকেই হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে একাধিক সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বশেষ প্রতিবেদন এখন তার হাতে রয়েছে।

রয়েছে তিন মাস পর পর পরিচালিত মাঠ জরিপগুলোর ফলাফলও। এসব প্রতিবেদনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শতাধিক বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীর নেতিবাচক কর্মকান্ডের ফিরিস্তি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সূত্রমতে, এমপি-মন্ত্রীদের আমলনামা সংগ্রহ ছাড়াও তিনি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক আসনে বিকল্প এক বা একাধিক প্রার্থীর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই দলীয় প্রার্থী বাঁছাইয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ভালোভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার পর্যবেক্ষণ ও জরিপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। ‘অজনপ্রিয়’ ও ‘গডফাদার’ চরিত্রের কেউকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আগামী নির্বাচনে যার যার কর্মফল মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এতে তার কিছু করার নেই। যে জনপ্রিয় সে মনোনয়ন পাবে। দলীয় সভাপতির বক্তব্য অনেকের ভেতরে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। ওই সভায় শেখ হাসিনা আরও বলেন, যারা বর্তমানে এমপি আছেন, তারা নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা নিয়ে থাকলে ভুল করবেন। কারণ আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। যারা এলাকার জনগণের জন্য কাজ করেছেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি কারও দায়িত্ব নেব না। নিজ দায়িত্বে জয়লাভ করে আসতে হবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ২০ দল

রাজকুমার নন্দী : নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবিতে অবস্থান গ্রহণ করায় আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় অবস্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি। তবে ভেতরে ভেতরে ৩০০ আসনেই একাধিক প্রার্থী জরিপসহ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলটি। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা না হওয়ায় মনোনয়ন নিয়ে বলতে গেলে অন্ধকারেই রয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকরা। তবে মনোনয়ন পেতে জোট নেতাদের কেউ কেউ খালেদা জিয়ার পাশাপাশি লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এদের অনেকে আবার নিজ নিজ এলাকায় তৎপরও হয়ে উঠেছেন।

এদিকে বিএনপি এখন সহায়ক সরকারের দাবি আদায় এবং দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সেটা অর্জিত হলে তারপর শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি বিবেচনা করবে তারা। তবে জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে শুধু বিজয়ী হওয়ার মতো আসনেই কেবল জোটের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আর ক্ষমতায় গেলে জোটের বাকি নেতাদের অন্যভাবে মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। দলটির সিনিয়র একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিএনপি ঈদের পরে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবে। এই ইস্যুতে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে আমাদেরকে তখন আন্দোলনে যেতে হবে। দাবি আদায় হলে আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে নিয়ে তখন নির্বাচনী ঐক্য হতে পারে। সেটা হলে ওই দলগুলোর মধ্য থেকেই তখন মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। তাই এতো আগে এটা বলা যাবে না।

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে যেতে চায়। সেখানে দলের প্রার্থী এবং শরিকরাও থাকবে। তবে আগে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তারপরে দল এবং শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আসবে। আর এই সিদ্ধান্ত হবে সামষ্টিকভাবে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর সংবিধানে তা পুনর্বহালের দাবিতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়িয়ে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৮ দলীয় জোট, যা পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়।

জানা যায়, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতকে ৩১টি, বিজেপিকে সাতটি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে ছয়টি আসনে ছাড় দেয় বিএনপি। অন্যদিকে, নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ৩৫টি, বিজেপিকে দুইটি, ইসলামী ঐক্যজোটকে দুইটি এবং জমিয়তকে দুটিসহ শরিকদের মোট ৪১টি আসন ছেড়ে দেয়া হয়। জোট নেতাদের দাবি, সরকারি নানা প্রলোভন সত্ত্বেও জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আনুগত্য ও সময়ের পরীক্ষা দুটোতেই তারা উত্তীর্ণ। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বন্টনের ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াত বাদে জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৩), বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-০১) এবং জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের (যশোর-৫) মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। এছাড়া কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান পাবনা-১, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি নীলফামারী-১, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া নরসিংদী-৩, জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি চৌধুরী গাইবান্ধা-৩, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন কুষ্টিয়া-২, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য জহির হোসেন হাকিম লক্ষ্মীপুর-২, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ঢাকা-১৩, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান কিশোরগঞ্জ-৫, মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী চট্টগ্রাম-১, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা পাবনা-২, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ ঢাকা-৫, জমিয়তের যুগ্ম-মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম কুমিল্লা-৬, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী রেজাউল করিম খুলনা-৪, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব সিলেট-৬, মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল করিম ভোলা-২, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী কুমিল্লা-১০, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ময়মনসিংহ-৮ এবং ন্যাপ ভাসানীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম মোস্তফা আকন্দ পিরোজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুতে তার কন্যা জাগপার সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দিনাজপুর-৩ অথবা পঞ্চগড়-২ এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান বগুড়া-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর বাইরেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২০ দলের আরো কয়েকজন নেতা। জানা গেছে, এদের মধ্যে কাউকে কাউকে নিজ এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বিএনপির হাইকমান্ড থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির মধ্যে শরিক দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনী পথ পাড়ি দেয়ার শুভেচ্ছামূলক মনোভাব লক্ষ্যণীয়। জোটের সুপরিচিত ও শীর্ষ নেতাদের আসন নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই বলে মনে হয়। তবে জোটের শরিক দলগুলোর জন্য কতগুলো আসন দেয়া হতে পারে সেই আলোচনার এখনো আনুষ্ঠানিক সূত্রপাত হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী এবার অর্ধ-শতাধিক আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৪৩টি আসনে ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থীও মোটামুটি চূড়ান্ত করেছে। তবে নিবন্ধন না থাকায় আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে অত বেশি আসনে ছাড় দিতে হবে না বলে মনে করছে বিএনপি। এদিকে, গত ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যবহার করে কেউ আর নির্বাচন করতে পারবে না। ফলে জামায়াতকে এবার অন্য দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। তবে দলটি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় না। কৌশলে সারাদেশে একটা ‘কমন প্রতীকে’ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার পক্ষে জামায়াতের নেতারা।

এ ব্যাপারে দলীয় অবস্থান জানতে যোগাযোগ করা হলে জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল নেতাই কথা বলতে রাজী হননি।

গেজেট প্রকাশের পাঁচ বছরেও চালু হয়নি চিলাহাটি স্থলবন্দর

মিল্লাদুর রহমান মামুন, নীলফামারী : নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণার ছয় বছর এবং গেজেট প্রকাশের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও শুধুমাত্র ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষায় আজও চালু হয়নি নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর।

তাই দ্রুত ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে স্থলবন্দরটি চালুসহ চিলাহাটি দিয়ে ফের বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি নীলফামারী জেলাসহ এ অঞ্চলের মানুষের।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র মতে, ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার নীলফামারীর ডোমারে চিলাহাটিতে ‘চিলাহাটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট’ স্থাপন করে। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সেটিকে স্থলবন্দরে উন্নীত করলে সেখানে স্থলবন্দর কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্থলবন্দরটি চালু থাকে পাক-ভারত যুদ্ধের আগ পর্যন্ত। সেই সময় এই স্থলবন্দরটি  দিয়ে দু’দেশের রেল যোগাযোগ ছিল।

১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে স্থালবন্দরটি বন্ধ করে শুধু চেকপোস্ট চালু রাখা হয়। এ সময় ভারত সরকার তাদের অংশের রেলপথ তুলে নিয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালের ২৬ জুন অজ্ঞাত কারণে চিলাহাটি চেকপোস্টটি বন্ধ করে দেয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ব্রিটিশ সরকারের আমলে ১৮৭০ সালে অসম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা স্থাপন করে।
সেই সুবাদে চিলাহাটি ও হলদিবাড়িতে রেলওয়ে স্টেশন স্থাপন করে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি-সৈয়দপুর রেল যোগাযোগ শুরু হয়। ওই সময় এই পথ দিয়ে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে হলদিবাড়ি হয়ে চিলাহাটি, সৈয়দপুর এবং দর্শনা দিয়ে কলকাতা পর্র্যন্ত চলাচল করতো ‘দার্জিলিং মেইল ট্রেন’। এছাড়াও চিলাহাটি-হলদিবাড়ি এবং জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করতো একটি পাসপোর্ট ট্রেন।  দু’দেশের মধ্যে স্থাপিত রেলপথটি পাক-ভারত যুদ্ধের সময় উপড়ে ফেলা হয়।

নীলফামারীর চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আবু মুসা মাহমুদুল হক বলেন, ২০১১ সালের জুন মাসে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান চিলাহাটি পরিদর্শন করে দ্রুত স্থলবন্দরটি চালুর আশ্বাস দিয়ে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করান।  সে অনুযায়ী চিলাহাটি স্থলবন্দরের স্থান নির্ধারণ করে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়।

এরপর ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই  মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে চিলাহাটিকে স্থলবন্দর ঘোষণা করে ১ আগস্ট সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে শুধুমাত্র ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষায় বন্দরটি আজও চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।

চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত আবারও সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু করতে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনঃস্থাপনের জন্য ২০১৬ সালের মার্চ মাসে দু’দেশের রেলওয়ে কর্মকতাদের একটি দল জরিপ পরিচালনা করে।

এর মধ্যে বাংলাদেশের  চিলাহাটি অংশে ৭ কিলোমিটার এবং ভারতের হলদিবাড়ি অংশে চার দশমিক ৩৪ কিলোমিটার জরিপ করে নিজ নিজ দেশের মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
ধারণা করা হচ্ছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ স্থাপন হয়ে গেলে এক সাথে স্থলবন্দর ও রেল যোগাযোগ শুরু হবে।

চিলাহাটি স্থলবন্দরটি দ্রুত চালু করার দাবি জানিয়ে নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মারুফ জামান কোয়েল বলেন, স্থলবন্দরটি চালু হলে ভারত, নেপাল, ভুটানসহ পাশের কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। এতে যেমন ওই সব দেশে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সরকারের প্রচুর রাজস্ব বাড়বে। একই সাথে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অঞ্চলের বাণিজ্যের উন্নয়ন ঘটবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। সর্বোপরি চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ব্যাপক পরিবর্তন হবে।

এছাড়াও স্থলবন্দরটি দিয়ে অতিসহজে নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার মানুষ যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গমন করেন তাদের জন্য অনেকটাই সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট বহু পুরাতন। এ দুটি স্টেশনে নতুন করে সংযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এজন্য চিলাহাটি-হলদিবাড়ি মোট ১১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ পুনরায় নির্মাণের জন্য জরিপ পরিচালনাসহ চিলাহাটি – হলদিবাড়ি হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যেভাবে রেলপথ স্থাপন এবং চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিকমানের তৈরি করা হবে তার নক্সা দুই দেশের মধ্যে আদান প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ চিলাহাটি অংশে ৭ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন এবং চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে ৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যেই রেলপথটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রণালয়। বরাদ্দ আসলে দরপত্র আহবান করে কাজ শুরু করা হবে।

অপরদিকে ভারতের হলদিবাড়ি অংশে ৪ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার পুনঃস্থাপনসহ শিলিগুড়ি পর্যন্ত মোট ৫৬ কিলোমিটার রেলপথ নতুন রূপে তৈরি এবং হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করতে ভারতের রেলবিভাগ ইতোমধ্যে চারশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তাদের অংশে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এটা চালু করতে পারলে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে ঢাকা-শিলিগুড়ি-দার্জিলিং পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি আমরা আর্থিকভাবেও উপকৃত হবে।

 

সিরাজগঞ্জে এক মাসের মধ্যে ৩ কমিটি গঠন

মাহফুজ সাদি: সিরাজগঞ্জ জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেব  বৃহস্পতিবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর, সদর পৌরসভা ও উল্লাপাড়া উপজেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, জেলার তাড়াশের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের মধ্যে বিদ্যমান কোন্দল নিরসনের তাগাদা দেয়া হয়। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমকে। জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত বছরের অক্টোবরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আবদুল হকসহ দুই ইউপি চেয়ার‌্যমান হামলার শিকার হন। হক ও তার সমর্থকরা এ ঘটনায় এমপি মিলন ও তা অনুসারীদের দায়ী করেন। মিলন বিষয়টি অস্বীকার করলেও তা মামলা পর্যন্ত গড়ায়। এরপর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এমপির বিরোধ আরো প্রকাশ্য হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি প্রমুখ।

বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দলের তৃণমূলে কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে চিহ্নিত করে কোন্দল মেটানোর তাগাদা দেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জ জেলার নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কতগুলো কমিটি হয়নি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমন উল্লাপাড়ার আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখনো কমিটি হয়নি। সিরাজগঞ্জ শহর ও সদর থানা কমিটি হয়নি- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া তাড়াশের স্থানীয় এমপির সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কিছু সমস্যা আছে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

 

গোপনীয়তা রেখে চলছে বিএনপির প্রার্থী বাছাই

রাজকুমার নন্দী : বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক অবস্থা জানতে ইতিমধ্যে ৫১টি টিমের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিএনপি। এছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত গোপনে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দলটি। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প ঘোষণার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। সেজন্য আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতারা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতাও এমপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলটির হাই কমান্ড থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক নির্দেশনা পাওয়ার পরই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক সাবেক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করাই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোটকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর সাথেও আলোচনা করবে বিএনপি। আর ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও ঘোষণা করবে দলটি। এই ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হলে দাবি আদায়ে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে আন্দোলনের ব্যাপারটিও বিবেচনায় রাখছে বিএনপি। তবে পবিত্র রমজান মাসে এখন ঘরোয়া রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে দলটি। ইফতারকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। কয়েকটি ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশে গঠিত একাধিক টিম কাজ করছে। টিমের সদস্যরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন নিজেও তৃণমূলে তার বিশ্বস্ত নেতাকর্মীর মাধ্যমে বিভাগ ও জেলাভিত্তিক আসনগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তবে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা বিবেচনায় নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা-হামলা, জেল-জুলুমের শিকার হওয়া নেতারা যেমন এগিয়ে থাকবেন, তেমনি বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় ও অজনপ্রিয় নেতারা বাদ পড়বেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ায় অনেক তরুণ নেতা বিএনপির হাইকমান্ডের নজর কাড়তে সক্ষম হন। ভবিষ্যতে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া যায়- এমন মেধাবী, তরুণ ও মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি তালিকাও তৈরি করছে হাইকমান্ড। বিএনপির ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নেও এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছে দলটি।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি একাধিকবার সরকার পরিচালনাকারী দল। সেজন্য নির্বাচনের জন্য আমাদের আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। আমরা নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ৫১টি সাংগঠনিক টিমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দলের সর্বশেষ সাংগঠনিক অবস্থার খোঁজ-খবরও নেয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে- দলের অবস্থান ভালো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড রয়েছে, তারাই মনোনয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতারা যোগ্য ও নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বোর্ড নিশ্চয় তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের অনেক সাবেক নেতা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। অতীতে সংগঠনটির অনেক সাবেক নেতা মনোনয়ন পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠছেন তারা। এ জন্য সাবেক এসব ছাত্রনেতা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। নিজ নিজ আসনে গিয়ে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও ধর্মীয় উৎসবে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ব্যানারের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনেকে এবারের রমজানে নিজ এলাকায় ইফতার মাহফিলেরও আয়োজন করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২ ও ৫, কামরুজ্জামান রতন মুন্সিগঞ্জ-৩, আজিজুল বারী হেলাল ঢাকা-১৮ এবং খুলনা-২, ৩ ও ৪, শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২, শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল নরসিংদী-৪, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ঝিনাইদহ-১, আমিরুল ইসলাম আলিম সিরাজগঞ্জ-৫, আবদুল মতিন নওগাঁ-৪, আমিরুজ্জামান খান শিমুল ঝিনাইদহ-৩, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুর-৩, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনা-১ এবং শাম্মী আক্তার হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে কায়সার কামাল বলেন, ২০০৮ সালেও নেত্রকোনা-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছি। সুতরাং এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও বিগত স্থানীয় নির্বাচনেও আমরা পাশ করেছি। আমার এলাকার ভোটাররা আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ইনশাল্লাহ বিএনপির পক্ষেই ভোট দিবে। তারা প্রস্তুত, শুধু অনুকূল পরিবেশ চায়। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।

আব্দুল মতিন বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ভিশন-২০৩০-তে নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তরুণ নেতাদের আরও উদ্দীপ্ত করেছে। এলাকার জনগণ আমাকে চায়। আমিও তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তরুণদের অগ্রাধিকার দেবেন বলে প্রত্যাশা তার।

আমিরুজ্জামান খান শিমুল বলেন, আমি ১০ বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ করছি। আশা করি, দেশনেত্রী ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ মুন্সিগঞ্জ-২, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪, ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-২, তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, মাহবুবুল হক নান্নু ঝালকাঠি-২, আবদুল আউয়াল খান কুমিল্লা-৪, নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, হায়দার আলী লেলিন ভোলা-১, মামুন হাসান ঢাকা-১৫, আবদুল লতিফ জনি ফেনী-৩, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান বরিশাল-৪, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক শেখ রবিউল আলম ঢাকা-১০, মেহেদী হাসান সুমন দিনাজপুর-১ এবং ড. মিজানুর রহমান মাসুম গাইবান্ধা-৩ থেকে মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আব্দুল লতিফ জনি বলেন, আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। সব সময় দলের পাশে থেকেছি, এখনো আছি। দলের প্রতি ত্যাগ বিবেচনায় বিএনপি তাকে দাগনভূঁইয়া-সোনাগাজী আসন থেকে মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা তার।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। ঢাকা-১০ নির্বাচনী এলাকার লোকজনের সাথে আমার নাড়ির সম্পর্ক। দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম, এখনো আছি। এখন দলই সিদ্ধান্ত নেবে- কে সেখানে নির্বাচনের যোগ্য?

 

 

 

 

রমজানে ঘরোয়া রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকবে বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : পবিত্র রমজান মাসে চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে দীর্ঘদিন রাজপথের বাইরে থাকা বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবিতে ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফল এবং আগামী নির্বাচন প্রস্তুতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী কর্মিসভার পর দলটি এবার প্রাধান্য দিচ্ছে ঘরোয়া রাজনীতিকে। ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইফতারকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কোন্নয়নের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে দলটির। এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতি বছরের ন্যায় এবারের রমজানেও রাজনীতিক, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এবার তিনি নিজ উদ্যোগে পাঁচটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন। পুরো রমজান মাস জুড়েই ঘরোয়া রাজনীতি আর ধর্মীয় কর্মকান্ড নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে রমজানের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবে দলটি। এছাড়া ইফতার রাজনীতির পর দ্রুতই দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি। দলটির একাধিক সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো রমজান মাস জুড়েই বিএনপির নেতারা ঘরোয়া রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন। দলটির নেতাদের মতে, পবিত্র রমজান মাসে রাজনীতি ঘরে আবদ্ধ থাকলেও ইফতারের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা আরো কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সরকারি মামলা-হামলায় জর্জরিত যেসব নেতাকর্মী গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন ইফতারকে কেন্দ্র করে তারাও প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পারেন। এতে করে দল লাভবান হবে।

বিএনপির চেয়ারপারসন এবারের রমজানে নিজ উদ্যোগে পাঁচটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। এর মধ্যে এবারই প্রথম বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা ইফতারের আয়োজন করবেন বেগম জিয়া। পাশাপাশি সিনিয়র নেতাদের নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ দলের অঙ্গ সংগঠন ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ইফতারেও অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। তবে তিনি এ বছর রমজানের শেষদিকে পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যাবেন কিনা, সে ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো পহেলা রমজানে এতিম ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতারের মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের ইফতারের কর্মসূচি শুরু হবে। রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৯ মে কূটনীতিকদের সম্মানে রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে ৩ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সম্মানে, পরদিন ৪ জুন একইস্থানে পেশাজীবী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের সম্মানে এবং ৫ জুন একই জায়গায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন। এছাড়া ৬ জুন লেডিস ক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ১০ জুন মতিঝিলের হোটেল পূর্বানীতে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ১২ জুন রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, ১৩ জুন গুলশানের ইমান্যুয়েলস ব্যাঙ্কুয়েট হলে লেবার পার্টি, ১৪ জুন বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেশন সেন্টারে মহানগর উত্তর বিএনপির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রমজান মাসে সবাই রাজনীতিটাকে একটু দূরে রেখে ধর্ম-কর্ম করতে চান। তবে রাজনীতির তো আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো ছুটি হয়ে যায় না। এ মাসে ইফতার পার্টি ও বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলে। আর এর মধ্য দিয়েই সাংগঠনিক কর্মকান্ড চলবে। এছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষেও কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির।

তিনি আরো বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন প্রতি বছরই সিনিয়র নেতা, এতিম-আলেম-ওলামা এবং কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনীতিবিদদের সাথে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন। এ বছরও তা হবে। এছাড়া সিনিয়র নেতাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ইতোমধ্যে আজ শনিবার থেকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত পনের দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর বাইরে শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২৩টি স্পটে এবং পরদিন ৩১মে নগর উত্তরের ১৫টি স্পটে দুস্থদের মাঝে কাপড় ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করবেন খালেদা জিয়া। এছাড়া জেলা ও মহানগরীসহ অন্যান্য ইউনিটে সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে কাপড় ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে নাইম এক তরুণীর খোঁজে পুলিশ

রুদ্র রাসেল : বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা গ্রহনের বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের গাফেলতি পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতি কমিটির নজরে এসেছে। এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির সঙ্গে যে জড়িত থাকুক না কেন, তার শাস্তির সুপারিশ করা হবে।’ তবে  রোববার এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে তাদের আরও তিনদিনের সময় দেন ডিএমপি কমিশনার। এ ধর্ষন ঘটনার মামলা গ্রহণবিষয়ক কর্তব্য পালনে বনানী থানা পুলিশের কোনও গাফিলতি রয়েছে কিনা- তা জানতে এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিএমপির যুগ্মকমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন ও যুগ্মকমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত মামলার আসামীসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে নাইম আশরাফ। আর ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীর খুব কাছাকাছি থাকা এক তরুনীকে খুঁজছে পুলিশ। তবে তার কোন হদিস মিলাতে পারছে না পুলিশ।

এদিকে এ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে  আদালত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সাদমান সাকিফের কাছ থেকে জব্দ করা ৫টি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংক ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ গ্রেফতার নাইম আশরাফের ডিএনএ পরীক্ষারও অনুমতি মিলেছে। ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগকে এ আদেশ দেন। সংশ্নিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধক উপ-পরিদর্শক আবদুল মান্নান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আসামিদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে গত শনিবার আদালতে আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান-এর আদালতের খাসকামরায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আদালতসূত্র জানায়, মামলার এজাহারে বিল্লালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা দায়েরে পর বিল্লাল ভিডিওটি মুছে ফেলে বলেও জানিয়েছে। এর আগে গত ১৮ মে ছয় দিনের রিমান্ডের একদিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা করেন। মামলায় সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আজাদকে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপকল্প ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার পর এবার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা এই দলটি। যদিও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে ইশতেহারের আগেই নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদুল ফিতরের পরপরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই রূপরেখা ঘোষণা করবেন। আর ভিশন-২০৩০’র আলোকেই তৈরি হচ্ছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, যেটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ঘোষণা করা হবে। এদিকে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্পে কোনোকিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন পড়লে সেটাও করবে বিএনপি। আর সেটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগেই করা হবে। এই রূপকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি দলিল-সনদ হিসেবে রাখতে চায় দলটি। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


জানতে চাইলে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন ঈদের পরপরই এই সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। কী ধরণের সহায়ক সরকার বিএনপি প্রত্যাশা করে, রূপরেখায় সেটা স্পষ্টভাবে বলা হবে। পরে এ নিয়ে কী আলোচনা-সমালোচনা হয়, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর নির্বাচনের এক বা দুই মাস আগে ঘোষণা করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার, যেটার কাজও এগিয়ে চলছে।

বিএনপির ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে- বিএনপি এটা নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, উন্মুক্ত রাখতে চায়। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেকোনো পয়েন্টে পরিবর্তনের প্রয়োজনে যদি ঐকমত্য হয়, তাহলে নিশ্চয় সেই পরিবর্তন আনা হবে। সব সতর্কতার পরেও ভুল হতেই পারে। সুতরাং রূপকল্পে জরুরি সংশোধনের প্রয়োজন হলে নিঃসন্দেহে তা করা হবে।


বিএনপি ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চায়, সেটার ওপর ভিত্তি  করে ৩৭টি ইস্যু ও ২৫৬টি দফা নিয়ে গত ১০ মে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে। এই রূপকল্পের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও জনগণের কাছে তুলে ধরতে কর্মিসভা, সেমিনার, সুধী সমাবেশসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে ইতোমধ্যে দিনব্যাপী শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারও হয়েছে। সেখানে দলের চেয়ারপারসনসহ শিক্ষাবিদরা বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানের সুপারিশমালা যুক্ত হবে ইশতেহারে। এছাড়া স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়েও সেমিনার করবে বিএনপি। সবগুলোতেই উপস্থিত থাকবেন বিএনপি প্রধান। সেখানে উঠে আসা প্রস্তাবগুলোও নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত হবে। এদিকে চিঠিসহ রূপকল্পের একটি কপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দ্রুতই পাঠানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় কারও কোনো যুক্তিসঙ্গত-গ্রহণযোগ্য মতামত থাকলে তা সংগ্রহ করে ভিশন ও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিশন-২০৩০’র আলোকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি। ভিশনে প্রতিটি ইস্যুর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলেও ইশতেহারে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে। নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি ভিশনের কী কী বাস্তবায়ন করবে, তা থাকবে ইশতেহারে। ইশতেহারের নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন দল সমর্থিত কয়েকজন বুদ্ধিজীবী।

আরো জানা গেছে, ইশতেহারে অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চমক থাকবে। কম সময়ের মধ্যে বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর বিশেষ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। রাজনীতিতেও ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন আসবে। ইশতেহারের জন্য একটা ভালো সেøাগানও খুঁজছে দলটি। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বায়নের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদের আকৃষ্ট করতে নানামুখী উদ্যোগ থাকছে ইশতেহারে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিকে। বিভক্তি ও বিভাজনের রাজনীতির অবসান, বিরোধী দলকে সত্যিকার অর্থেই বিকল্প সরকারের মর্যাদা দেওয়াসহ ইতিবাচক সব অঙ্গিকার থাকছে এ নির্বাচনী ইশতেহারে।


এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল, যারা সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনের জন্য ইশতেহার অবশ্যই দেওয়া হবে। ইশতেহারে ভিশন-২০৩০ এর নানাদিক গুরুত্ব পাবে। তবে বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশন-২০৩০ উপস্থাপনের সময়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমেই বলেছেন- এটাতে আপনারা মতামত দেবেন। আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটাকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান ফখরুল।


বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে শক্তিশালী-স্বাধীন নির্বাচন কমিশনও কখনো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে না। তাই অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের প্রয়োজন; যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ-অভিলাষ থাকবে না, নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও তাদের নিজস্ব কোনো স্বার্থ থাকবে না।

জানা গেছে, সহায়ক সরকারের রূপরেখায় বেশকিছু বিকল্প প্রস্তাব থাকতে পারে। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন সময়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা গুরুত্ব পাবে। তবে জামায়াতকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনার কারণে নিবন্ধন বাতিল হওয়া ২০ দলীয় জোটের শরিক এই দলটিকে বাইরে রেখেই কৌশলে দেয়া হতে পারে ওই প্রস্তাব। এছাড়া ক্ষমতা হ্রাস করা সাপেক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকতে পারে প্রস্তাবে। সেক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ না করার শর্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ওই সরকারের প্রধান থাকতে পারবেন। এছাড়া রূপরেখায় সংবিধান সংশোধন করে নতুন কাঠামোয় নির্বাচন দেয়ার প্রস্তাবও আসতে পারে। বিএনপি মনে করছে, সংবিধানে এ ‘সহায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। কারণ, তারাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তাছাড়া বর্তমান সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই আইন পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুধু সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

বরেন্দ্র অঞ্চলে বিষমুক্ত পেয়ারা চাষ বাড়ছে

এ কে তোতা, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) : বরেন্দ্র অঞ্চলে থাই পেয়ারা চাষে  বিপ্লব ঘটেছে। বিষমুক্ত পেয়ারা চাহিদা ব্যাপক থাকায় চাষীরা লাভবান হচ্ছে। এতেকরে এ অঞ্চলে প্রতিবছর  পেয়ারা চাষ বাড়ছে।

রাজশাহীর  গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়,  চলতি  মৌসুমে গেদাগাড়ী উপজেলায়  ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে থাই জাতের পেয়ারা চাষ করা হয়েছে। উপজেলার  দেওপাড়া ইউনিয়নের ইস্বরী পুরে ২০১০ সালে প্রথম থাই  পেয়ারা  চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে মনিরুল  নামের এক বেকার যুবক। পরের বছর বেশি জমিতে পেয়ারা চাষ করে ১০ লাখ টাকা আয় করে। মনিরুলের কাছ থেকে থাই পেয়ারা চাষের পদ্ধতি গ্রহণ করে উপজেলার আরও কয়েকজন কৃষক।

এর পর থেকেই  গোদাগাড়ী উপজেলায়  থাই পেয়ারা চাষ সম্প্রসারিত হয়। কৃষকদের পাশাপাশি জমি লীজ গ্রহণ করে  বেকার যুবকেরা বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা চাষ করে  কর্মসংস্থান ঘটিয়েছে। উপজেলায় ৩ হাজার  লোক পেয়ারা চাষে জড়িত।

বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত  মনিরুল বহুমুখী ফসল চাষের পাশাপাশি ১০০ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেছে। প্রতি বিঘায় বছরে ৪০ হাজার টাকা খরচে আয়  হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন থাই পেয়ারা চাষে তাকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার। মাঠ পর্যায়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রথম বছর থাই পেয়ারা ফলন কম হয়।  তবে পরের বছর থেকে  পেয়ারা ফলন বাড়তে থাকে। একটানা ৬  থেকে ৭ বছর পেয়ারার ভাল ফলন পাওয়া যায়।
উপজেলার বসন্তপুরের এই কৃষক  শাহাদত ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া শাহাদত  হোসেন  চাকরি না করে জমি লিজ নিয়ে  পেয়ারা সহ বিভিন্ন অর্থকারী ফসল বাণিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু করে  ২০১৬ সাল থেকে।  শাহাদত হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে পেয়ারা সহ বিভিন্ন ফসল চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে শাহাদত হোসেন পেয়ারা চাষ সম্প্রসারিত করবে জানান।

 গ্রোগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি ২০০ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেছে হেনা মাস্টার। ভাল ফলন হওয়ায় ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার  আসা করছে এই পেয়ারা চাষী।

 এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা  তৌফিকুর রহমান বলেন,  বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে উচু জমিতে থাই পেয়ারার উৎপাদন ভাল হয়। এ ধরনের জমি বেশি থাকায়  গোদাগাড়ী উপজেলায়  থাই পেয়ারা চাষ অন্য উপজেলার চেয়ে অনেক বেশি।

কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, পেয়ারা চাষে জৈব সার বেশি ব্যবহার  হয়। আর গাছে ফল আসা মাত্রই ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করার কারণে রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা না দেওয়ায় কীটনাশক  প্রয়োজন হয় না। এঅঞ্চলে উৎপাদিত থাই পেয়ারা বিষ মুক্ত হওয়ায় এর পুষ্টি গুণ পুরো পাওয়া যায়। এই জন্য অন্য ফলের চেয়ে থাই পেয়ারার চাহিদা বেশি। জানা গেছে এখন স্থানীয় বাজারে  প্রতি কেজি থাই পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দুশ্চিন্তায় এমপি-মন্ত্রীরা তৃণমূলে নির্বাচনী প্রস্তুতি

মাহফুজ সাদি : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একক ও ‘জনপ্রিয়’ প্রার্থী নিশ্চিত এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায় দলটি। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০ মে জেলা নেতাদের সাথে বসছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এর আগে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিরোধপূর্ণ কিছু জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। এদিকে দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরুর পর ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি দলীয় প্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। এতে মনোনয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শতাধিক বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রী। অন্যদিকে এই ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমূল নেতারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হবে। এজন্য তৃণমূলে ‘জনপ্রিয়’ ও ‘ক্লিন ইমেজের’ একক প্রার্থী চুড়ান্ত করতে চায় আওয়ামী লীগ, যাতে ভোটের লড়াইয়ে জয় নিয়ে ঘরে ফেরা যায়। এর অংশ হিসেবেই গত ৭ মে সংসদীয় দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর  সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যেসব এমপির এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা নেই, জনপ্রিয়তা নেই, যারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের দ্বিধা-বিভক্ত করেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণের অভিযোগ রয়েছে তারা মনোনয়ন পাবেন না। এ সময় অন্যান্য মন্ত্রীও তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে। চারদিক দিয়ে হিসাব-নিকাশ করে এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। মন্ত্রী ও এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করে তুলতে হবে। কোনো কোনো জায়গায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ দূরত্ব দ্রুত ঘোঁচাতে হবে। তা না হলে আপনারা (এমপি-মন্ত্রী) ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে এমপি আছেন, তারা নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা নিয়ে থাকলে ভুল করবেন। কারণ আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। যারা এলাকার জনগণের জন্য কাজ করেছেন জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী জরিপের কথাও উল্লেখ করেছেন। জানা গেছে, বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে দলীয় প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পর থেকে তৃণমূলে চলছে নির্বচনী প্রস্তুতি। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা নিজেদের ‘জনপ্রিয়তা’ দেখাতে মাঠে নেমেছেন। জেলা পর্যায়ের অন্তত তিন নেতা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ নেতাকর্মীদের সাথে সময় দেওয়া তো দূরে থাক, অনেক সংসদ সদস্য আছেন ঢাকা ছেড়ে এলাকায় আসেননি গত তিন বছর। দলের নেতাকর্মীদের জেলে বন্দি হওয়ার পেছনেও অনেক এমপির ষড়যন্ত্র আছে। অন্তত ৩০টি জেলায় পাওয়া যাবে এমন নজির। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, এমপি হিসেবে তৃণমূলে জনপ্রিয় হওয়া খুবই কঠিন। কারণ এমপিদের কাছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কোনো সীমা নেই। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা অসীম নয়, তাই সব চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসদ সদস্যদের জনপ্রিয় হওয়া অনেক কঠিন। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয়তাই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়, তাহলে একজন এমপিও খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি জনপ্রিয়। ওইসব এমপিরা আরো বলেন, তৃণমূলের নেতাদের কাছে শতভাগ জনপ্রিয় হওয়া কষ্টসাধ্য। তাদের অনেক চাওয়া-পাওয়া থাকে। তা পূর্ণ করতে না পারলে সৎ থেকেও তৃণমূলে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না।

২০ মে মুখ খুলতে পারে জেলা নেতারা: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় দলের জেলা নেতাদের সাথে বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই মতবিনিময় সভার অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন তৃণমূলের নেতারা। একাধিক জেলা নেতার সাথে কথা বলে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। এই বৈঠক তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নেতারা। জানা গেছে, এই সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সভায় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এ লক্ষ্যে দলের সদস্যপদ নবায়নের পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এই ল্যাপটপ নিয়েই সদস্য সংগ্রহ শুরু করবেন তৃণমূল নেতারা। সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। তাদের সহযোগিতা করবেন আট সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের কী করলে মনোনয়ন পাবে আর কী করলে মনোনয়ন পাবে না, সেই প্রসঙ্গে কিছু বার্তা দিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায় থেকে সতর্কতা অনেকের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাজ দেখিয়ে তাদের অবস্থান সুসংহত করার সময় এখনও আছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে যার যার কর্মফল মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এতে তার কিছু করার নেই। যে জনপ্রিয় সে মনোনয়ন পাবে।

দলীয় সভাপতির বক্তব্য অনেকের ভেতরে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে, ভালো কাজ করে থাকলে চিন্তামুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানুষের জন্য, তাই মানুষের সংস্পর্শে যেসব এমপি আছেন তারাই আবারও মনোনয়ন পাবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বর্ধিত সভার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য তৃণমূল নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সরকারের গত আট বছরের উন্নয়নমূলক কাজের এবং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী তৎপরতার ভিডিওচিত্র দেওয়া হবে। উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া বলেছেন, বিশেষ বর্ধিত সভার পর ২১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডির প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, উপ-দপ্তর সম্পাদক এবং উপ-প্রচার সম্পাদকদের বৈঠক হবে। বৈঠকে ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

খরচ কম লাভ বেশি রাণীনগরে পাতি চাষে ঝুঁকছে চাষি

এস এম সাইফুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরে চলতি রবিশস্য মৌসুমে ধান, গমের পাশাপাশি পাতি চাষে ঝুকছে চাষি। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় ইরি-বোরো ধান চাষের আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে বনপাতি ও জলপাতি চাষে দিকে কৃষকদের মনোযোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় এই জনপদে পাতি চাষ তেমন না হলেও পাতি দিয়ে তৈরি পরিবেশ বান্ধব মাদুরের প্রধান উপকরণ হিসেবে কদর বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের সাথে রেকর্ড পরিমাণ পাতি চাষ করেছে এই উপজেলার কৃষকরা। ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পাতি ভালো হওয়ায় কৃষকরা কাটা শুকানো শুরু করাই ভালো দামে বাজারে পুরোদমে বিক্রয় হচ্ছে। সরকার পর্যায় থেকে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য কৃষি উপকরণ, বীজ, রাসায়নিক সার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হলেও পাতি চাষের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হয় না। চলতি রবিশস্য মৌসুমে কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেওয়ায় পাতি চাষের পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পাতির ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে প্রথম কাটা শেষ করেছে। এই ফসলটি একই জমি প্রায় তিন বার কাটা যায়। গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা এই পাতি বৈশাখ শুরু থেকে মাস অবদি কাটা শুকানোর কাজ চলতে থাকে। মাদুর তৈরির উপযোগী করতে ভালো রোদ থাকলে প্রায় দুই দিন সময় লাগে তা শুকাতে। এরপর কিছু কৃষক সাংসারিক প্রয়োজনে বাজার জাত করলেও বেশি লাভের আশায় অধিকাংশ কৃষক গুদাম জাত করে রাখে। দাম বেশি হলে সুযোগ বুঝে তারা অবসর সময়ে পরিবারে সবাই মিলে মাদুর তৈরি করে বেশি দামে বাজারে বিক্রয় করে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১শ’ ২০ হেক্টর জমিতে বনপাতি ও জলপাতি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি বছরে উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাতির আবাদ হয়েছে। শুরুতেই ভাল আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পাতির ক্ষেতে রোগ-বালাই না থাকায় ও মাঠ পর্যায়ে পাতি চাষিদের উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা যথা সময়ে উপযুক্ত পরামর্শ নজরদারি ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতার কারণে পাতি ক্ষেত অনেকটা ভালো হয়েছে। তবে মিরাট, গোনা, কাশিমপুর, রাণীনগর সদর, কালীগ্রাম ও পারইল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাতি চাষ হয়েছে। পাতি কাটার মৌসুমে রোদ ভালো থাকলে মানসম্পূর্ণভাবে শুকাতে পারলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার পাতি বিক্রয় হবে। এতে পাতি চাষ করে অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা দিন দিন পাতি চাষের দিকে ঝুকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম গোলাম সারওয়ার জানান, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪/৫টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ পাতি চাষ হয়েছে। কুটির শিল্পের মাদুর তৈরির প্রধান উপকরণ পাতি। আর বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভ বেশি হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাতি চাষে ঝুকছে।

ভিশন-২০৩০ তুলে ধরতে নানা পদক্ষেপ নেবে বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে, তার একটি রূপরেখা দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, যেটা ভিশন-২০৩০ নামে পরিচিত। এই রূপকল্প জনগণের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে সভা-সেমিনার ও আলোচনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে দলটি। এ লক্ষ্যে একাধিক ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি করবে বিএনপি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক মতামত গ্রহণ করে তা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে দলটি।

এদিকে, বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এই রূপকল্পকে অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, এটি অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ওই রূপকল্পকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপানো রঙিন বেলুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ভিশন উপস্থাপন করাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এই ভিশন জনগণের কাছে তুলে ধরবো বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ লক্ষ্যে একাধিক ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরা করা হবে। এরপর বিষয়ভিত্তিক মতামত গ্রহণ করে তা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে পর্যালোচনা করা হবে। দেশের অর্থনীতির জন্য অর্থনীতিবিদদের, গণমাধ্যমের জন্য সিনিয়র মিডিয়া ব্যক্তিদের, তথ্য-প্রযুক্তির জন্য বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ এবং শিক্ষার জন্য শিক্ষবিদদের কাছ থেকে মতামত নেয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার ঢাকায় শিক্ষা বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গেছে, রাজধানীর লেডিস ক্লাবে দুই অধিবেশনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপির ওই রূপকল্পকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপানো রঙিন বেলুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। এটা জাতির সাথে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে দলের জন্য লক্ষ্য ঠিক করে খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ উপস্থাপনকে দেশের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিএনপির ভিশন-২০৩০ ‘পুরোটাই উদ্ভাবনের ফসল’ বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

বিএনপির রূপকল্প প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, খালেদা জিয়া ঘোড়ার আগে গাড়ি ‍জুড়ে দিয়েছেন। কারণ, তার কথাগুলো হয়েছে খাপছাড়া, কোনো রোডম্যাপ নেই। তার এই বক্তব্য মোটেই সময়োপযোগী হয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসনের উচিত ছিল, বিএনপি বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা- তা নিশ্চিত করা। তবে খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতিতে অবৈতনিক শিক্ষা, বেকার সমস্যার সমাধান, মাথাপিছু আয় বাড়ানোসহ কিছু ভালো বিষয়ও দেখছেন জাতীয় পার্টির এই নেতা।

খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০-কে ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছেন। এটা গণতান্ত্রিক চল কথা কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্যের ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রস্তাব দেননি, এটা দেওয়া উচিত ছিল।

ভিশন-২০৩০ সম্পর্কে ২০ দলীয় জোট শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে বেগম খালেদা জিয়া পরিবর্তিত সমাজের যে চাহিদা, বিশেষ করে নাগরিকদের যে চাহিদা সেটার প্রতি সাড়া দিয়েছেন। কারণ, আজকের নাগরিক জানতে ও বুঝতে চায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশবাসীর জন্য কী কী করবেন? নাগরিকদের এই আকাক্সক্ষার পক্ষে উনি যে সাড়া দিয়েছেন, এটাই হচ্ছে রাজনীতিতে গুণগত অর্জন-যা আমি পজিটিভলি নিচ্ছি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, বড় দুটো দল (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) দুটো ভিশন হাজির করেছে, দুটোই ধাপ্পা। তারা মানুষকে চটকদারি কথার দ্বারা একটা ভিশন হাজির করছে। এই ভিশনের মধ্যে গরিব মানুষের কোনো কথা নেই।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ উপস্থাপনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন দলটির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি একটি ভাল দলিল, তবে অসম্পূর্ণ। এটি আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত ছিল। এখানে সুশাসনের কথা বলা হয়েছে। তবে ঢাকা শহরে বসে কখনো সুশাসন হবে না। সে বিষয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) কোনো ধারণা দেন নাই। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করলেও সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। দেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু র‍্যাবকে বিলুপ্ত করবেন কিনা, সেটা বলেননি। একইসঙ্গে ক্ষমতায় গেলে এই ধরণের কোনো বাহিনীও যে আর গঠন করা হবে না, সে বিষয়েও কোনো বক্তব্য নেই।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এই ভিশনে ভালো কথা রয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবায়ন করবে কে? এর জন্য কি দল প্রস্তুত আছে?

খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ কে যুগান্তকারী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, এই দলিল বাস্তবায়নে জনমত তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জাতীয় ঐক্য।



Go Top