সকাল ১০:১৩, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ বিশেষ প্রতিবেদন

মাহফুজ সাদি: বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এবার এদিনটিকে জাতীয়ভাবে ‘মানবতা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার লাখা লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’(মানবতার জননী) অখ্যায়িত করার প্রেক্ষা পটে এই প্রস্তাব এলো।

বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাদের সাথে বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র বিষয়টি দৈনিক করতোয়াকে নিশ্চিত করেছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। সেই সাথে তাদের নিজ দেশে অধিকারসহ ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার এই সিদ্ধান্তকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’(মানবতার জননী) অখ্যায়িত করেছে। তার মতো মহান নেত্রীর জন্মদিনে মানবতার জয় হবে এটা ভেবে দিবসটিকে ‘মানবতার দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে বলে ১৪ দলের বৈঠকে আলোচনা উঠেছে।

এছাড়া, বৈঠকে মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখান করা হয়। মিয়ানমানের সামরিক জান্তার হাতে নির্যাতিত হয়ে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এসব রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার ও নিরপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ইস্যুতে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর জন্মদিনকে  ‘মানবতার দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। সূত্র জানায়, বৈঠকে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কূটনৈতিকভাবে তাদের নিজ দেশে অধিকারসহ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছেন। সারা বিশ্বে যখন মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন শেখ হাসিনা মানবতার জয়গান গাইছেন। তার মতো মহান নেত্রীর জš§দিনে মানবতার জয় হবে এটা ভেবে দিবসটিকে ‘মানবতা দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে। সভায় উপস্থিত ১৪ দলের নেতারা এ বক্তব্য সমর্থন করলেও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারাবিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় শেখ হাসিনার জন্মদিনকে মানবতা দিবস হিসেবে পালন করা প্রস্তাব করছি। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন ভিত্তিক গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর। চ্যানেলটির এশিয়া প্রতিনিধি জনাথান মিলার তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের কিছু অংশ। ওই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে ঘাতকদের হাতে নিহত হন। বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দু’বার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। তাঁর দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা হোসেন পুতুল। বৈঠকে মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জোটের পক্ষ থেকে এই দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। বৈঠকে ১৪ দলের নেতারা এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নেতারাও

রাজকুমার নন্দী : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন পেতে অন্য নেতাদের মতো দলটির হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারাও এখন মাঠে রয়েছেন। দলের টিকিট পাওয়ার আশায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি তারা দলের হাইকমান্ডের সঙ্গেও রক্ষা করে চলেছেন নিয়মিত যোগাযোগ। বিএনপিও আগামী নির্বাচনে দলের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও উপজাতি নেতাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চারজন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও উপজাতি নেতাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এদের মধ্যে টাঙ্গাইল-৬ থেকে গৌতম চক্রবর্তী এবং রাঙ্গামাটি থেকে মনি স্বপন দেওয়ান এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গৌতম চক্রবর্তী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং মনি স্বপন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপমন্ত্রী হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। ওই নির্বাচনেও বিএনপি থেকে চারজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এর আগে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও গৌতম চক্রবর্তী ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। আর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া না হলেও বিএনপি সরকার গঠন করলে টেকনোক্রেট কোটায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বন, পরিবেশ, মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা  হয়। এছাড়া পঞ্চম সংসদে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মা ম্যা চিংকে মহিলা এমপি করা হয়।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আসনে যে প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকেই ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। সেই প্রার্থী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, উপজাতিসহ যেকোনো ধর্ম-বর্ণের লোক হতে পারেন। বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট পেতে দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও উপজাতি নেতাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তাই যেসব আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট রয়েছে, সেখানে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল হিন্দু নেতাদের প্রাধান্য দেয়ার কথা ভাবছে। ফলে আগামীতে তাদের মনোনয়নপ্রাপ্তির সংখ্যাও বাড়তে পারে। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকেও দলের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও উপজাতি নারীদের আনুপাতিক হারে এমপি বানানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। অতীতের তুলনায় এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও উপজাতি নেতাদের সংখ্যাও বেশি।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-উপজাতি নেতাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি সব ধর্মের মানুষের সম অধিকারে বিশ্বাসী। তাই যেসব হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-উপজাতি নেতা দলের জন্য কাজ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট আসনে যাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আগামীতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে সেইসব যোগ্য নেতাদের পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হবে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরা-২ (মোহাম্মদপুর ও সদরের কিছু অংশ) থেকে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) থেকে পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর মনোনয়নপ্রাপ্তির বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

এছাড়া বান্দরবান থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলার সভাপতি মা ম্যা-চিং, খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা), সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান (রাঙামাটি), জন গোমেজ নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম), অমলেন্দু দাস অপু যশোর-৬ (কেশবপুর), সহ-উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান (রাঙ্গামাটি), যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ), বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সমিরণ দেওয়ান (খাগড়াছড়ি), রবীন্দ্র লাল চাকমা (রাঙ্গামাটি), শা চিং প্রু জেরি (বান্দরবান), রমেশ দত্ত রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট), সাতী উদয় কুসুম বড়–য়া চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জানতে চাইলে জন গোমেজ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি, তাদের জন্য সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, দল আমার কাজের মূল্যায়ন করে নাটোর-৪ আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

এদিকে, পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুত্তি, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তরুণ দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ), সাবেক ছাত্রনেতা সুরঞ্জন ঘোষ কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) এবং পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমর চন্দ্র মিস্ত্রী (ভুট্টো) দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

জানতে চাইলে দেবাশীষ রায় মধু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। এলাকার মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, কাজও করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে বাঘা-চারঘাট আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইব। কাজের মূল্যায়ন করে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এই আসন থেকে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ২০১৪ সালে রাজৈর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। এই আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট রয়েছে।

এদিকে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে বিকল্প হিসেবে ঢাকা-৩ আসনে তারই মেয়ে বিএনপির সহ-প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায় দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এছাড়া ওই আসনে অন্য বিকল্প হিসেবে গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ এবং সাবেক মন্ত্রী ও এমপি নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর নামও শোনা যায়। অন্যদিকে, দীপেন দেওয়ানও কোনো কারণে রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প হিসেবে তার সহধর্মিণী জেলা বিএনপির সদস্য মৈত্রী চাকমা দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে তারা সরাসরি দলীয় মনোনয়ন না পেলে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকেও তাদের এমপি বানানো হতে পারে।

 

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ৩ দেশে আওয়ামী লীগ টিম

মাহফুজ সাদি : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও নির্বাচনী মাঠ গোছানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি মাসে বাংলাদেশের অংশীদার প্রভাবশালী তিনটি দেশ সফরে শক্তিশালী তিন টিম কাজ করছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং চীনে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে দলটির নীতিনির্ধারকরা। তারা চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আগামীকাল ১৯ সেপ্টেম্বর কর্নেল (অব:) ফারুক খান ও ডা: দীপু মনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে যাচ্ছেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আগামী মাসে ভারত সফরে যাচ্ছেন আরেকটি প্রতিনিধিদল। এ মাসেই ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছেন। তারা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে বৈঠক করবেন বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে আগামী মাসে ভারত সফরে যাচ্ছে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আট সদস্যের আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল। এর বাইরে দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বর্তমানে বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন। চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া দেখে নড়েচড়ে বসেছে আওয়ামী লীগ। গত ৫ জানুয়ারির বিএনপি জোটবিহীন একতরফা নির্বাচনের কারণে শীতল হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর কাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বড় সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় দলটি।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সাথে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি সম্পর্ক উন্নয়ে জোর দিবেন দলীয় প্রধান। এ কাজে সহায়তা করার জন্য শেখ হাসিনার সাথে রয়েছেন দলটির ৫ নেতা। তারা হলেন দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও ইকবাল হোসেন অপু। আগামী ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী কর্নেল (অব:) ফারুক খান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনির নেতৃত্বে দলের উচ্চপর্যায়ের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল । তারা ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেইজিং অবস্থান করবেন। এ সফরে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুসহ আগামী নির্বাচন নিয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সাথে আলাপ করবেন। চীন সফরের জন্য মনোনীত প্রতিনিধিদলের সাথে গতকাল বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

এ প্রতিনিধিদলে অন্য সদস্যরা হলেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুর নাহার চাপা, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার, পারভীন জাহান কল্পনা, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, মেরিন জাহান, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং।

অপর একটি সূত্র জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আমন্ত্রণে আগামী মাসে দেশটি সফরে যাচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহর পক্ষে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাম মাধবের পাঠানো এ সংক্রান্ত আমন্ত্রণপত্রটি ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের হাতে এসে পৌঁছেছে। এ সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও আগামী মাসের শুরুর দিকে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দৈনিক করতোয়ার সাথে আলাপকালে বলেন, গত ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনসহ কিছু ইস্যুতে সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক মহলের কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এটি দৃশ্যমান হয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের দেয়া প্রতিক্রিয়ায়। ফলে দ্রুতই কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতি পেতে চায় সরকার। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে একটি আত্ম-মর্যাদাশীল ও মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্বে বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বিভিন্ন দেশ বা সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, বিপুল জনসংখ্যার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের নির্যাতিত ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে আজ মানবিক নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার নেতৃত্ব ও মানবিকতার প্রশংসায় আজ পুরো বিশ্ব পঞ্চমুখ। আন্তর্জাতিকভাবে এ ইমেজ আমরা আগামীতেও ধরে রাখতে চাই। দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ বলেন, কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন দেশের যে সুসম্পর্ক আছে, এই সফরগুলো তারই প্রমাণ। এসব সফরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড  ও রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরা হবে।

বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে তরুণ নেতারা

রাজকুমার নন্দী : আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ধরে নিয়েই দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা এখন মাঠে রয়েছেন। দলের টিকিট পাওয়ার আশায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিচ্ছেন তারা। উদীয়মান এসব তরুণ নেতারা এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ঢাকা ও লন্ডনে সমানতালে যোগাযোগ রাখছেন তারা। জানা গেছে, বিএনপিও আগামী নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা ভাবছে। দলের হাইকমান্ডের এমন মনোভাব বুঝে সংসদ নির্বাচন করার জন্য সারাদেশে প্রায় শ’খানেক তরুণ নেতা মাঠে নেমেছেন, যাদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর বাইরে আছেন বেশকিছু তরুণ ব্যবসায়ী নেতাও। এদের কারো কারো দাবি, দলের হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে ইতোমধ্যে তারা এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কথিত সংস্কারপন্থী, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের অনেকে এবার মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ নেতাদের আশা, সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা যেখানে মনোনয়নবঞ্চিত হবেন, সেসব আসনে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন পাবেন।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে বিএনপি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ জনের মতো তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগই এমপি হন, মন্ত্রীও হন কয়েকজন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। দলের চরম দুর্দিনেও নবম সংসদ নির্বাচনে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল খায়ের ভূঁইয়ার মতো তরুণ নেতারা এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আগামী নির্বাচনেও তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে যেতে চাই। বিএনপি যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে যে প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকেই ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। সেই প্রার্থী দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের তরুণ নেতা কিংবা প্রবাসী, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী নেতাও হতে পারেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে তরুণ এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের মধ্যে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাংবাদিক মামুন চৌধুরী স্ট্যালিন নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ওই আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরীর ছেলে। জানতে চাইলে মামুন স্ট্যালিন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হই। দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। আমার বাবা মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী নওগাঁ-৬ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। আমিও বাবার দেখানো পথ অনুযায়ী সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী সাধ্যমতো বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছি, সবসময় তাদের খোঁজ-খবর নিয়েছি। আশা করি, রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে এবং এলাকার জনগণের চিন্তা-চেতনাকে বিবেচনায় নিয়ে দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার যৌথ ব্যবসায়ী বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান। তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং ঈদে অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

এদিকে, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক ঢাকা-১৬, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল ফরিদপুর-২, আবদুস সালাম আজাদ মুন্সিগঞ্জ-২, সেলিমুজ্জামান সেলিম গোপালগঞ্জ-১, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১, মুনির হোসেন পটুয়াখালী-২, সহ-সম্পাদক সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী চট্টগ্রাম-২, আমিরুজ্জামান খান শিমুল ঝিনাইদহ-৩, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন মাদারীপুর-৩, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি ঢাকা-১০, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবদুল লতিফ জনি ফেনি-৩, হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩, শেখ মোহাম্মদ শামীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, আবদুল মতিন নওগাঁ-৪, আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহী-৫, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম গাইবান্ধা-৪, ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-২, রমেশ দত্ত রাজশাহী-৬ আসন থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মধ্যে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা-৩, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ঢাকা-১২, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল-২, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু কুমিল্লা-৮, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান ঢাকা-১৫, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪, সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল বরিশাল-১, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর-৪, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান যশোর-৬ (কেশবপুর), সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল নরসিংদী-৪, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী লক্ষ্মীপুর-১, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ঝিনাইদহ-৪, সাবেক দফতর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ময়মনসিংহ-১০, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান বরিশাল-৪, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান নরসিংদী-৩, সহ-সভাপতি তারেক-উজ্জামান তারেক ঝিনাইদহ-৩, যুগ্ম-সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য মাদারীপুর-২, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ ইমরান নেত্রকোনা-৫, সাবেক দফতর সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক চাঁদপুর-৫, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ঢাকা-৯, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা-২০ এবং তাঁতী দলের সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করার টার্গেটে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এছাড়া নেত্রকোনা-২ থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, মাদারীপুর-১ থেকে শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম গাইবান্ধা-৩, দিনাজপুর-১ থেকে কাহারোল উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সুমন, বাগেরহাট-৪ থেকে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নওগাঁ-৩ থেকে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফজলে হুদা বাবুল এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) থেকে জেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশারফ হোসেন মনোনয়নের প্রত্যাশায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। সবসময় এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি, তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বন্যায় দূর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছি, ঈদে এলাকার অসহায় মানুষদের সাধ্যমতো সহায়তা করেছি। আশা করি, দল আমার কাজের মূল্যায়ন করে কাহালু-নন্দীগ্রাম আসন থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবে।

 

 

 

বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতার এবারও ঢাকায় ঈদ

রাজকুমার নন্দী : পবিত্র ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা রাজধানী ঢাকাতেই ঈদ উদযাপন করবেন। তবে দলটির কিছু সিনিয়র ও মাঝারী সারির নেতা এবং তরুণ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অধিকাংশই তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদকে কাজে লাগাতে চান এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। আর যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার গরিব ও দুস্থদের মধ্যে যাকাতের কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। ঈদের পরপরই অনেকে যাবেন নিজ এলাকায়।

গরিব ও দুস্থদের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণের পাশাপাশি ঈদ উপহার হিসেবে কেউ কেউ নগদ অর্থ বিতরণেরও প্রস্তুতি নিয়েছেন। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে রঙ-বেরঙের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তাও দিয়েছেন অনেকেই। আর বন্যাকবলিত এলাকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দূর্গতদের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী হাওয়াই বইছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বানভাসী মানুষদের সাথে ঈদ উদযাপন করতে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি, উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে ঈদের আনন্দের চেয়ে বানভানী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাদের প্রধান দায়িত্ব। বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বন্যার্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে, ঈদের পরেও তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা কোরবানি দেবেন তাদের ভাগের অংশ বানভাসিদের মধ্যে বিতরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।

জানতে চাইলে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সদস্য বিশিষ্ট শিল্পপতি মোশারফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। সবসময় এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি, তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বন্যাদূর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়া ঈদুল আযহা উপলক্ষে এলাকার অসহায় মানুষদের সাধ্যমতো সহায়তা করেছি, যাতে তারা খুশি মনে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবার সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যা এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাবেন তিনি।

নেতাদের পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করবেন। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ করবেন। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম যশোরে ও আব্দুল মঈন খান নরসিংদীতে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন সকালে তার নির্বাচনী এলাকা কেরানীগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খন্দকার, মাহবুবের রহমান শামীম, কাদের গণি চৌধুরী। নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকতউল¬াহ বুলু ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা শওকত মাহমুদ কুমিল্ল¬ায়, মজিবুর রহমান সরোয়ার বরিশাল, হারুনুর রশিদ চাপাইনবাবগঞ্জ, খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী, ভিপি সাইফুল ইসলাম ও জয়নাল আবেদিন চান বগুড়ায়, সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু যশোরে, অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার ও হাসান মামুন পটুয়াখালীতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, আবদুল মতিন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, শহীদুল্ল¬াহ ইমরান নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান সুমন (দিনাজপুর-১), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম (গাইবান্ধা-৩) এবং মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাংবাদিক মামুন চৌধুরী স্ট্যালিনও (নওগাঁ-৬) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। মামুন স্ট্যালিন ওই আসনের সাবেক এমপি মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরীর ছেলে।  জানতে চাইলে এই তিন তরুণ নেতা দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। বন্যাদূর্গতদের মাঝে ইতোমধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং ঈদ উপলক্ষে এলাকার অসহায় মানুষদের সাধ্যমতো সহায়তা করেছি।

এছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও আসাদুজ্জামান রিপন; অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ অনেকেই ঢাকায় ঈদ করবেন।

কারাগারে ঈদ করবেন যারা : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বেশ কয়েক বছর ধরেই কারাবন্দিদের সঙ্গে ঈদ করছেন। এছাড়া দলের যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী  কারাগারে ঈদ করবেন।

বিদেশে ঈদ যাদের : দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ এবার নরওয়েতে মেয়ের সঙ্গে ঈদ করবেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা যুক্তরাষ্ট্র এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় ঈদ করবেন।

 

 

 

ঈদে নিজ এলাকায় নেতারা নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ

মাহফুজ সাদি: আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোরবাণীর ঈদকে কাজে লাগাতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ লক্ষে তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে অধিকাংশ নেতারা এবার এলাকায় কোরবাণীর ঈদ উদযাপন করবেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ ঢাকাতেই কোরবাণী দিবেন। তারা এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এসেছেন। কেউ কেউ ঈদের পর পরই এলাকায় যাবেন আবার কেউ কেউ ঈদের পর পরই ঢাকায় ফিরবেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ঈদ করবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার ঈদের দিনের কর্মসূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা’র দিন সকাল ৯টা থেকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশা এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ এবং ১১টা থেকে বিচারপতি ও কূটনীতিকদের সাথে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য তার বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী একাদশ নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। ভোটের রাজনীতি মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকায় কোরবাণী উদযাপনের জন্য দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তৃণমূলের সাথে দ্বন্দ্ব থাকলে তা মিটিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এবারের কোরবাণীর ঈদটি আসলে অন্যান্যবারের মতো নয়। উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ঈদের আনন্দের চেয়ে বনবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোটাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাদের প্রধান দায়িত্ব। সরকারের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও বন্যার্তদের সাহায্য-সহযোগীতা করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের পাশে দাড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতাদের বলা হয়েছে।

দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদে নির্বাচনী এলাকামুখী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সুযোগে তারা অংশ নেবেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে। বন্যা কবলিত এলাকার নেতাদের এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়াতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার ঈদে তৃণমূলে জমজমাট হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী রাজনীতি। জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা এখনও না এলেও রাজনীতিবিদদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। গত কয়েক মাস ধরেই নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন তারা, যোগাযোগ বাড়িয়েছেন নেতা-কর্মী ও জনগণের সঙ্গে। ঈদে এলাকায় প্রায় সব মানুষ ফেরে বলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। জানা গেছে, নিজ নির্বাচনী এলাকায় কোরবাণী উদযাপন করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিসহ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা। তবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নূহ-উল-আলম লেনিনসহ বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকায় ঈদ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

 

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ‘ল’ কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ, ঘাড় মটকে হত্যা

কে এস রহমান শফি, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে লাশ মধুপুরে বনে ফেলে রেখে যাওয়া ছাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে তিন বাস শ্রমিক  মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা সকলেই চলন্ত বাসে ‘ল’ কলেজের ছাত্রী রুপা প্রামাণিককে ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

পুলিশ ও ওই তরুণীর পারিবারিক সূত্র জানায়, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে গত শুক্রবার বগুড়ায় যান রুপা। পরীক্ষা শেষে এক সহকর্মীকে সাথে নিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় ময়মনসিংহগামী  ছোঁয়া পরিবহনের (ঢাকা  মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) বাসে ওঠেন।

ওই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় তিনি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায়  নেমে যান। আর ওই বাসেই রূপার ময়মনসিংহে পৌঁছানোর কথা ছিল। সঠিক সময়ে রূপা ময়মনসিংহে না পৌঁছানোয় সহকর্মীরা তার মোবাইলে ফোন করেন। এক যুবক ফোনটি ধরে বলেন, ফোনের মালিক ভুল করে সেটি ফেলে গেছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত রুপার সাথে তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রামাণিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ ছিল।

এদিকে শনিবার সকালেও রূপা কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার অফিস থেকে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদের কাছ থেকে রূপার নিখোঁজ থাকার কথা জানতে পেরে হাফিজুর রহমান ময়মনসিংহ কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মধুপুরে একটি লাশ পাওয়ার খবর মিডিয়ায় দেখে থানায় যান।

মধুপুরের ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, রূপার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতেই বাসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন হাফিজুর। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ছোঁয়া পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার, সহকারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতর করা হয়। ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় তাদের কাছে। ছোঁয়া পরিবহনের বাসটিও জব্দ করা হয়।

থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।
বিকেল চারটার দিকে গ্রেফতারকৃত বাসের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে নেয়া হয়। আকরাম ও জাহাঙ্গীরের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। শামীমের বাড়ি মুক্তাগাছার নন্দিবাড়ি।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া আসামি আকরামের, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম আসামি শামীমের এবং সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামছুল হক আসামি জাহাঙ্গীরের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গ্রেফতারকৃত বাসের চালক হাবিব (৪৫) এবং সুপরভাইজার সফর আলীকে (৫৫) আজ বুধবার আদালতে হাজির করা হবে। তাদের দু’জনের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।

রুপা প্রামাণিক (২৫) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জিলহাস প্রামাণিকের মেয়ে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ¯œাতক সম্মান ও ¯œাতকোত্তর সম্পন্ন করে ঢাকা আইডিয়াল ল’ কলেজে এলএলবি শেষ পর্বে অধ্যয়নরত ছিলেন। পাশাপাশি ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রমোশনাল বিভাগে শেরপুর জেলায় কাজ করতেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার হওয়া আসামিরা পুলিশকে জানিয়েছে, ওইদিন রুপা ছাড়া মাত্র পাঁচ/ছয়জন যাত্রী বাসে ছিল। অন্য যাত্রীরা সিরাজগঞ্জ মোড় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নেমে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার সময় রুপা একাই বাসে ছিলেন। বাসটি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কাছাকাছি এলে বাসের হেলপার শামীম রুপাকে জোর করে বাসের পেছনের আসনে নিয়ে যায়। এসময় রুপা তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও মুঠোফোন শামীমকে দিয়ে তাকে ধর্ষণ না করতে অনুরোধ করে। কিন্তু শামীম প্রথমে রুপাকে ধর্ষণ করে। পরে অপর হেলপার আকরাম ও জাহাঙ্গীর তাকে ধর্ষণ করে। বাসটি ঘাটাইল উপজেলা এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের ধর্ষণ শেষ হয়। এসময় রুপা কান্নাকাটি ও চিৎকার করা শুরু করলে তারা তিনজন মুখ চেপে ধরে। এক পর্যায়ে ঘাড় মটকে রুপাকে হত্যা করা হয়। পরে মধুপুর উপজেলা সদর অতিক্রম করে বন এলাকা শুরু হলে পঁচিশ মাইল নামক স্থানে রাস্তার পাশে লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।

গত শুক্রবার রাতেই পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। গত শনিবার টাঙ্গাইল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরদিন পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা মধুপুর থানায় দায়ের করে।
ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, চালক ও সুপারভাইজার ধর্ষণে অংশ না নিলেও তাদের সামনেই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা লাশ ফেলতে সহায়তা করেছে।

 

ইসির সাথে সংলাপে ৬ প্রস্তাব দেবে বিএনপিসহ নয় দল

রাজকুমার নন্দী : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপে কমন ছয় প্রস্তাব দেবে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত ৯টি দল। দলগুলোর প্রস্তাবনায় যে ছয়টি বিষয়ে মিল থাকছে সেগুলো হচ্ছে-বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর, নির্বাচনের ছয় মাস আগ থেকে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ভোট গ্রহণের ৩০ দিন আগে ও পরের ১৫ দিন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের সব মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্তরে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান এবং সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলের মতামত নেয়া।


ইসির সাথে সংলাপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত     হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। আরো জানা গেছে, সংলাপে অংশগ্রহণকালে সবার প্রস্তাবনা যাতে একই রকম হয়, সে বিষয়ে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব জোট নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোট শরিক বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ইসির সংলাপে আমরা কৌশলগত কারণেই কিছু বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তাব করতে চাই। এই কারণে জোটের প্রধান দল বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইসির সংলাপে কয়েকটি বিষয় কমন রেখে নিজ নিজ দলের প্রস্তাব ইসিতে দেয়া হবে। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অংশ নেন-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। তবে জামায়াতসহ কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

ইসির চলমান সংলাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০ দলীয় জোটের বিএনপি, বিজেপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এই ৯টি দলের অংশ নেয়ার কথা। গতকাল বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ইসির সঙ্গে সংলাপ করেছে। জানা গেছে, বিএনপিও ইসির সাথে সংলাপের বিস্তারিত দলীয় প্রস্তাবনা প্রস্তুত করেছে।  দলটির প্রস্তাবনার শিরোনাম হচ্ছে- ‘নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করণীয়’। ইসিকে স্বাধীন ভূমিকায় দেখতে চায় বিএনপি। সেজন্য দলটির প্রস্তাবনার ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকার প্রয়োগের কথা উল্লেখ থাকবে। এরপর নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালীকরণ এবং আরপিওসহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান সময়োপযোগী ও যৌক্তিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।

 বিএনপি মনে করছে, দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন যদি কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি না করে পুরোপুরি সংবিধান ও আইনের অধীনে থাকে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ইসির সাথে আসন্ন সংলাপে দলটি এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি বিএনপির প্রস্তাবনার মূল ফোকাস হিসেবে থাকছে নির্বাচনের আগে ও পরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ভোটার অনুপাতে সংসদীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস কিংবা এক্ষেত্রে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিদ্যমান পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া এবং ভোট গণনার পদ্ধতিকে আরো আধুনিক করার বিষয়গুলো।

 বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি টীম নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে দলীয় এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। এই টীমে দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ এমন কয়েকজন সাবেক আমলা ও বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। প্রস্তাবনা তৈরির ক্ষেত্রে বিএনপি তৃণমূলের নেতাদেরও মতামত নিয়েছে। বিশেষ করে সীমানা জটিলতার সমাধান কোন পথে হতে পারে, সে বিষয়ে চিঠি দিয়ে জেলার নেতাদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আরপিও’র বিভিন্ন ধারা সংশোধন, আসন পুনর্বিন্যাস, ইভিএম বাতিল, সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেয়া হবে। তবে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে মৌলিক বিষয় হচ্ছে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। সেজন্য সবার আগে এই সহায়ক সরকারের ফায়সালা হতে হবে।

উত্তরাঞ্চলে হাটে প্রচুর কোরবানির পশু, ক্রেতা-দাম দুটোই কম সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গরু

করতোয়া রিপোর্ট : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভারতীয় গবাদি পশু আমদানি ও স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে কম দামে কোরবানির পশু কেনাবেচা হচ্ছে। বিক্রি পুরোপুরি জমে না ঊঠলেও প্রচুর গবাদি পশু উঠছে হাটগুলোতে। ক্রেতা ও দাম দুটোই কম। তবে দু’একদিনের মধ্যে পশুহাটগুলো জমজমাট জয়ে ঊঠবে এমনটা আশা করছেন হাট ইজাদার ও ক্রেতা-বিক্রেতারা।

কোরবানির পশুর দাম এত কম হওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও অভাব অনটন, বন্যাদুর্গত এরাকায় গরু-ছাগল রাখার জায়গার অভাব ও সেগুলোর খাবার সংকটের কারণে পানির দামে গবাদি পশু বিক্রি করতে হয়েছে। উপরন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক প্রতি বছর কোরবানি করলেও এবার পারছেন না। এসমস্ত কৃষকের বিশাল একটি অংশ কোরবানি করতে না পারায় ওই পশুগুলো উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। গরু-ছাগলের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীরা।

জুলফিকার হায়দার জোসেফ/মামুনুর রশিদ নাটোর :  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাটোরের বৃহত্তম তেবাড়িয়া, মৌখাড়া, সিংড়াসহ জেলার বিভিন্ন কোরবানির পশুহাট জমে উঠেছে। তবে এসব হাটে কোরবানির পশুর সরবরাহ বেশি হলেও ক্রেতা ও দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। রোববার তেবাড়িয়া হাটে কোরবানির পশুহাটের ছিল শেষ দিন। এইদিন হাটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে প্রায় ৭/৮ হাজার গরু এবং ৩/৪ হাজার ছাগল উঠেছে। সেই তুলনায় ক্রেতা নেই, বেচা-কেনাও জমে ওঠেনি। তবে এবার বাজারে গরুর মূল্য ৫০ থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ছাগল ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে কেনাবেচা হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানরি পশুর দাম অনেক কম।

ফলে গরু-ছাগলের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীরা। চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকলেও জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে এ দুর্দশা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তারা জানান, বন্যার কারণে রাস্তা-ঘাট, বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে বানভাসিরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। এতে গবাদি পশুগুলোকে নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে বিক্রি করে দিচ্ছেন তাদের পালন করা গবাদিপশু। নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানান, এই হাটে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গবাদিপশুর আমদানি অনেক বেশি। প্রচুর গৃহপালিত গরু-ছাগলের পাশাপাশি এসেছে ভারতীয় গরুও। গরুর খাবার সংগ্রহ ও রাখার জায়গার অভাবে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ কম দামে হলেও বিক্রি করে দিচ্ছেন এসব। গরু বিক্রি করতে আসা বড়াইগ্রামের মৌখাড়া এলাকার খামারি রাশেদুল জানান, হাটে পর্যাপ্ত পশু উঠেছে। গত বছর যে গরু বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার টাকায়, এবার সেই আকারের গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৫০ থেকে হাজার ৬০ হাজার টাকায়। গরু প্রতি এবার অন্তত ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা কম হচ্ছে। তবে যেটুকু বিক্রি হচ্ছে, তাতে দেশীয় মাঝারি আকারের গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাতে বড় গরু নিয়ে আতঙ্কিত তারা।

শেখ তৌফিক হাসান,সুজানগর (পাবনা) : পবিত্র ঈদুল-আজহা সামনে রেখে পাবনার সুজানগরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুহাট। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে উপজেলার হাট-বাজারে তত বেশি কোরবানির পশু উঠছে। উপজেলায় চারটি বড় পশুর হাট-বাজার রয়েছে। হাট-বাজার চারটি হলো সুজানগর পৌরবাজারহাট, রাইপুরহাট, সাতবাড়ীয়াহাট ও শ্যামগঞ্জহাট। এ চারটি হাটেই প্রচুর গরু-ছাগল উঠছে। স্থানীয় গৃহস্থদের পাশাপাশি কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরাও হাট-বাজারে গরু-ছাগল তুলছে। তবে এবার বিদেশী গরুর চেয়ে দেশি গরুই বেশি উটছে। তাছাড়া দেশি জাতের গরুর কদর বেশি।

হাট-বাজারে গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষও উঠছে প্রচুর। তবে এবার বিগত বছরের মত ক্রেতা মিলছে না। অধিকাংশ বাজারে ক্রেতার চেয়ে কোরবানির পশুর আমদানি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে এ বছর কৃষকরা পিঁয়াজ এবং পাট চাষ করে লোকসান খাওয়ায় কোরবানির পশু কিনতে পারছে না। সেকারণে এ বছর হাট-বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম। একই কারণে হাট-বাজারে তেমন একটা কোরবানির পশু কেনা-বেচাও হচ্ছে না। তাছাড়া এখনও সময় হাতে থাকায় ক্রেতারা পশু না কিনে বাজারে ঘুরে বাজার যাচাই করায় কেনা বেচা কম হচ্ছে।
সুজানগর পৌর বাজারহাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতা কামরুজ্জামান জুয়েল জানান, এবছর কোরবানির পশুর বাজার একটু কম। গত বছর যে সকল গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এ বছর সেই একই ধরনের গরু ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামে কেনা যাচ্ছে। ছাগল মহিষের দামও বেশ কম। তবে বাজার মন্দা হওয়ায় স্থানীয় গরু বিক্রেতা এবং বেপারীরা হতাশ।  

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : ঈদকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় গরু। দেশের অনেক জেলায় বন্যার কারণে এবার ব্যবসায়ীরা ভারতীয় গরুতে লাভ করতে পারছে না। বিক্রি করতে না পারায় এসব গরু ব্যবসায়ীদের গোয়াল ঘরে রাখতে হচ্ছে। ভারত থেকে আসা গরুগুলো আনা হচ্ছে মূলত উত্তর প্রদেশ থেকে। এসব গরু আকারে অনেক বড়। বাজারে এসব গরুর দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখের উপরে। স্থানীয় বাজারে এসব গরুর চাহিদা কম। বিশেষ করে পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসব গরু কিনে ট্রাকে ভরে নিয়ে যায়। কিন্তু বন্যার কারণে বাইরে থেকে কোন ব্যবসায়ী পঞ্চগড়ে আসছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে আসা ভারতীয় গরুগুলোর মধ্যে অধিকাংশই আসে তেঁতুলিয়া উপজেলা সীমান্ত দিয়ে। উপজেলার বাংলাবান্ধা এবং মহানন্দা নদীর পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বেশি গরু আসে। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে এসব গরু এনে সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে রাখে। জেলার বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে সেখান থেকেই গরু কিনে ট্রাকে ভরে নিয়ে যায়। বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের গরু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও আকবর, ভুকরীভিটার মিঠুন, বাইনগছ গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, এক বছর আগেও প্রতি মাসে এসকল সীমান্ত দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গরু আসত। সেখানে গত ১৫ দিনে গরু এসেছে মাত্র পাঁচ থেকে ছয়শ’। তারা আরও বলেন, তেঁতুলিয়া সীমান্ত দিয়ে যেসকল গরু আসে তার সবই বড় আকৃতির। পঞ্চগড় জেলায় এসব গরুর চাহিদা অনেক কম। তাই জেলার বাইরের ব্যবসায়ীদের উপর নির্ভর করে এসব গরু আনা হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে চলা বন্যার কারণে বাইরে থেকে কোন ব্যবসায়ী আসছে না। প্রতি রোববার ও বৃহস্পিতবার পঞ্চগড় জেলা শহরের রাজনগরহাটে এসব গরু তোলা হলেও দাম কম হওয়ায় ফেরত আনতে হচ্ছে। গত তিনদিন ধরে আনা কোন গরু বিক্রি হয়নি বলে তারা জানান।    

তসলিম উদ্দিন,সাপাহার (নওগাঁ) : সাপাহার উপজেলা সদরে গত শনিবার কোরবানির পশুর শেষ হাটে হঠাৎ করে ভারতীয় পশুর দাপটে দেশীয় পশু পালনকারীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। অনেকেই তাদের পালনকৃত পশু লোকসানে বিক্রি না করে বাসায় ফিরে নিয়ে গেছে।

হুমায়ুন কবীর মানিক, রংপুর : রংপুরের কোরবানির পশুহাটগুলোতে প্রচুর গরু উঠলেও ক্রেতা কম। একারণে বিক্রি অনেকটাই কম হচ্ছে। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। চলতি বন্যায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ছোট-বড় খামারীরা বন্যায় আগাম গবাদি পশু বিক্রি করে দিয়েছে।

এদিকে গত বছর জিলহজ্ব মাসের চাঁদ ওঠার আগে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় দেড়হাজার পশুহাটে ২৫ লাখেরও বেশি গরু বিক্রি হতো। এই গরুর ৮০ ভাগ ক্রেতা ছিলেন উত্তরাঞ্চলের বাইরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল এলাকার ব্যবসায়ী। ট্রাকে করে এগুলো নিয়ে যাওয়া হতো বিভিন্ন জেলায়। এরপর জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার সাথে সাথেই শুরু হতো স্থানীয় পর্যায়ে গরু বিক্রি। এসময় বাইরের ব্যবসায়ীরা ১০ ভাগ গরুর কিনলেও বাকীটা কিনতো স্থানীয় পর্যায়ের ক্রেতারা কোরবানি করার উদ্দেশ্যে। এবার বাইরের গরু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা কম। তবে গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী ২ দিনের মধ্যে বেচাকেনা বেড়ে যাবে। এখন শুধু ক্রেতারা পছন্দসহ মুল্য কেমন হবে এরকম ধারণা নিচ্ছেন। হাটে গরু ক্রয় করতে আসা চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সাহাবুদ্দিন জানান, গত সপ্তাহে ৩০ টি গরু ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যাই। চট্টগ্রামে প্রতি গরু আমাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে।

নুরুর আমিন, মোকামতলা (বগুড়া) : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলাসহ আশপাশের পশুহাট জমে উঠছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার অনেক কম দামে পশু বেচা কেনা হচ্ছে এমন মন্তব্য ক্রেতা বিক্রেতাদের। সপ্তাহে প্রতি বুধবার মহাস্থান, রোববার ডাকুমারা এবং শনিবার দাঁড়িদহহাটে পশু বেচাকেনা হয়। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে  সোম ও বৃহস্পতি মোকামতলাহাটে এবং শনিবার গাংনগরহাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হয়। গত বছরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় গবাদী পশু পালনকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কম।

মো: বকুল হোসেন, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কয়েকটি পশুহাটে প্রচুর গরু-ছাগল উঠছে। পশুর মূল্য ক্রেতাদের আয়ত্বের মধ্যে রয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার গরুর বাজার ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশী ও বিদেশী জাতের অনেক গরু উঠছে। ক্রেতারা কম দামে গরু ক্রয় করে স্বস্তি পেলেও বিক্রেতাদের মন বিষন্ন। উপজেলার বৃহৎ পশুহাট বসে নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার ওমরপুর শুক্রবার, উপজেলার কুন্দারহাট বসে রোববার ও বুধবার,হাটকড়ির হাট বসে শনিবার ও বুধবার, কোরবানি উপলক্ষে আর একটিমাত্র হাট আগামী শুক্রবার।

সাগর বসাক, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা তথা উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তালগাছী গরুর হাটে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রচুর গরু উঠলেও দাম অনেক কম। ফলে বিক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়েছে। হাটে হাজার হাজার গরু উঠলেও হলেও অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বিক্রেতা বেশি-ক্রেতা কম।

 

মুই এ্যালা কোনটে থাকোং বাহে

শাহিনুর রহমান শাহিন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : মুই এ্যালা কোনটে থাকোং বাহে, চোখের সামনে থাকার ঘরটা বানের পানি নিয়া গিইছে। এলোও কিছু পাং নাই বাহে, মারো নামটা  নেকো বাহে। মোক কাইয় দেখেনা, এ্যালা মুই কোনটে যাং বাহে। ওয়াপধা বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন নব্বই বয়সী বৃদ্ধা মরিচমতি।

আঞ্চলিক ভাষায় তিনি মনের কথাগুলো বলেছেন অনেক কষ্টে। ৮ দিন ধরে পলিথিন টাংগিয়ে কোনমত বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেলেও তার ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণ। তার মতো বন্যাকবলিত অনেকেই বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ধরলাসহ ছোট বড় ১৮টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বন্যা দেখা দেয়। এতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অসহায় পরিবারগুলো ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন। এসব পরিবারে খাবার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সরকারিভাবে চিঁড়া-মুড়িসহ শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হলেও অনেকের ভাগ্যে তা-ও  জোটেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খেয়ে-না খেয়ে তারা ৮ দিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও থকথকে কাদাসহ বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে এখনো ফিরতে পারছে না তারা।
এ ছাড়া বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ধরলার ভাঙন। গত কয়েক দিনে ফুলবাড়ী বিভিন্ন এলাকায় সম্পন্ন বিলীন হয়েছে ৪৮০টি পরিবারের ভিটাবাড়ি ও আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১২ হাজার ৬শ ২০টি বাড়ি। এ কারণে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে আরও নতুন নতুন পরিবার।

শনিবার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলোর। এখনো অনেক পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও চরের বাড়ি ও ডোবা এলাকার আঙিনায় থকথকে কাদাপানি বিরাজ করছে। পানি  নেমে যাওয়া পরিবারগুলো বাড়িতে ফিরলেও রান্নার চুলা নষ্ট এবং কাদার কারণে তাদের দুর্ভোগ কাটেনি। আত্মীয় স্বজনের  দেওয়া খাবার খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

চর বড়লাই গ্রামের আইয়ুব আলী জানান বিছানায় গা এলিয়ে একটু আরাম করছিলাম। ঘুমের ভাব এসে গেছিল। হঠাৎ কোলাহল। ওয়াপদার রাস্তায় গিয়ে দেখি পানি তেড়ে আসছে। ফিরে গেলাম ঘরে। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ। গাছগুলো ভেঙে ভেঙে পড়ছে। পরে দেখি পানি আর পানি। চোখের সামনেই নিজের বাড়ি মসজিদও, একাব্বর আলীর, আলমের বাড়ি ও খালেকের  টিনসেড পাকা বাড়ি বিকট শব্দে পড়ে  গেল পানিতে।”

এসব কথা বলতে বলতে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি আহাজারি শুরু করেন। তারপর বিড়বিড় করে বলেন, “কাদা-পানি মোর সংসারকে খায়া ফেলাইল। ৪০ বছর সাধনা করি একনা একনা সংসার বাঁধিনু। তাও নিমেষেই  শেষ করি দিলু।”

একই কথা বললেন চর  মেঙ্গলীর কাচুয়া,মনছুর ও শফিকুল ইসলাম। বন্যায় পানি আসে, ফসলের ক্ষতি হয়। কিন্তু হঠাৎ করে বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায় এই অভিজ্ঞতা নতুন বলে জানান তারা। তাদের ঠিকানা এখন রাস্তার খোলা আকাশ। তাদের চোখেমুখে এখনও আতঙ্ক। মাঝেমধ্যে ত্রাণ  মেলে, কিন্তু তা দিয়ে একবেলাও চলে না বলে তারা জানান।

ত্রাণ সাহায্য বিষয়ে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য খৈমুদ্দিন বলেন, “আমি বানভাসী ৪০ জনের জন্য ১০ কেজি করে চাল পাইছি। কিন্তু  দেব কাকে? আমার এলাকায় শত শত  লোক ক্ষতিগ্রস্ত। বিপদে আছি।”

বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান আট হাজার পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাহায্য দিতে হলে সবাইকে দেয়ার প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েছি সাড়ে ১৭ মেঃ টন চাল। চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, ভয়াবহ বন্যায় বিলীন হয়েছে ৪৮০টি ঘর ও আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১২ হাজার ৬শ ২০টি বাড়ি। তা ছাড়াও তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আরও বৃদ্ধি হতে পারে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও জানান ফুলবাড়ী উপজেলায় ৮৫ মেঃটন চাল ও তিন লাখ টাকার শুকনা খাদ্য ও খিচুড়ি রান্না বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। 

এই বিভাগের আরো খবর

উত্তরাঞ্চলে এক লাখ খেজুর গাছ লাগিয়ে ১৫ লাখ কেজি গুড় উৎপাদন সম্ভব!

শাহীন রহমান, পাবনা : উত্তরাঞ্চলের  জেলাগুলোতে এক লাখ খেজুর গাছ রোপণ করে প্রতিবছর ১৫ লাখ কেজি বা ১৫ হাজার কুইন্টাল পাটালি গুড় উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর  কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। প্রতি জেলায় ৬/৭ হাজার করে খেজুর চারা রোপণ করলে লক্ষ্য পূরণের সম্ভাবনা জেগে উঠবে। খেজুর গাছ  বাস্তবিকই একটি  অনন্য সাধারণ ফসল। যার মাধ্যমে দেশে এক বিরাট অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনয়ন করা সম্ভব। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কৃতকার্যতা নির্ভর করে।

প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ আন্দোলন ও বৃক্ষমেলা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য ‘বৃক্ষ-নিধন বন্ধ করুন, গাছ লাগান ও পরিচর্যা করুন।’ ইতোপূর্বে কত রকম ওষুধি ও ফলবান গাছ রোপণ করা হলো, কিন্তু নিখরচায়  বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ আজও অবহেলিতই রয়ে গেল। অথচ উত্তরাঞ্চলে এক লাখ খেজুর গাছ লাগিয়ে কমপক্ষে ১৫ লাখ কেজি পাটালি গুড় উৎপাদন সম্ভব। কষ্ট সহিঞ্চু এ গাছ গরু-ছাগলেও খায় না। এ গাছ  রোপণের জায়গাও রয়েছে যথেষ্ট। জেলা শহরের পার্ক সীমানায়, স্টেডিয়াম    
সীমানায়, সকল সড়ক পথের দু’পাশে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’পাশে, রেললাইনের ধারে ও পুকুর পাড়ে এ গাছ রোপণ করে ঐশ্বর্যও বাড়ানো যায়। অপরদিকে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে আসছে। পুরুষ খেজুর গাছে রস কম হয় বলে গাছ কেটে ইট ভাটাতে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া  মৌসুমের সময় খেজুর গাছ ইজারাদার (শিউলি) ছাঁটাই কাজে অদক্ষের কারণে বেশি রসের আশায় কান্ডের শেষ প্রান্ত  চেঁছে গর্ত করে  ফেলায় অকালে অচল হয়ে পড়ছে অনেক গাছ।

উত্তরাঞ্চলে মরুময়তা রোধে ১৯৮১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই ২৫ বছরে ১৬ হাজার ৩০৭ কিলোমিটার স্ট্রিট বাগান এবং ১৫ হাজার ৬৯৫ হেক্টর উডলট ও কৃষি বনায়ন করা হয়। এতে ৭  কোটি ৩ লাখ চারা  রোপণ করা হয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং জনসাধারণও বনায়ন কাজে অংশ নিয়ে থাকেন। এ এক স্মরণীয় ঘটনা, কিন্তু উপেক্ষিত থাকে খেজুর গাছ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করলে উত্তরাঞ্চলের জেলা সমূহে উল্লেখিত পরিমাণ খেজুর চারা রোপণ করলে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব বলে জনৈক প্রাক্তন কৃষি কর্মকর্তা অভিমত ব্যক্ত করেন। একটি  খেজুর গাছ থেকে বছরে েেয ২/৩ কুইন্টাল রস পাওয়া যায় তা জ্বালিয়ে অনায়াসে ১৫/২০  কেজি পাটালি উৎপাদন সম্ভব।

উত্তরাঞ্চলে আখ চাষের পাশাপাশি অধিক হারে খেজুর গাছ চাষ করলে আখের গুড়ের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যাবে। সেই সাথে খেজুর রস দিয়ে চিনি উৎপাদন করা সহজতর হয় কিনা তারও গবেষণা দরকার। খেজুর গাছ চাষে জমিতে আলাদাভাবে সারি, সেচ বা পরিচর্যার দরকার হয় না। কৃষকের সীমিত জ্ঞান থাকায় খেজুর গাছ বাড়ানোর সৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে রস উৎপাদনের ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।  কেউ কেউ আবার ইট ভাটা মালিকের সাথে চুক্তি করে খেজুর গাছ নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছেন। এ ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রস উৎপাদন কৌশল, রস সংরক্ষণ ও পাটালি গুড় তৈরির বিজ্ঞান ভিত্তিক নিয়ম কানুন কৃষকদের অবগত করা দরকার।

গত শতকের এক সরকারি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছচাষ হচ্ছে। যা থেকে ২৪ হাজার ৩৪৫ মণ রস উৎপাদন হয়। এর পরেই রয়েছে বৃহত্তর বগুড়া জেলার স্থান। প্রায় ১৫৮ হেক্টর জমি থেকে রস পাওয়া যায় ৬ হাজার ৪৯ মণ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাবনা। ৮১ হেক্টর জমিতে যে পরিমাণ খেজুর গাছ আছে তা থেকে ৪ হাজার ৬১১ মণ রস উৎপাদন হয়। পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, এখানে প্রায় ৫৩ হাজার খেজুর গাছ আছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদীতে ১৬ হাজার, সাঁথিয়ায় ৭ হাজার, পাবনা সদর ও  বেড়া উপজেলা সাড়ে ৬ হাজার করে, চাটমোহর ও ফরিদপুরে ২ হাজার করে, আটঘরিয়া, সুজানগর ও ভাঙ্গুড়ায় প্রায় ৪ হাজার করে গাছ আছে। বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুরে রয়েছে যথাক্রমে ৫৭ ও ৫৩ হেক্টর। রসের পরিমাণ ২ হাজার ৮শ’ মণ ও ২ হাজার ১২৫ মণ। এই পরিমাণ তিনগুণ করা সম্ভব হবে কৃষি বিভাগের সহায়তা পেলে।

গ্রাম বনায়নের সাথে সাথে কৃষকদের মধ্যে খেজুর চারা বিতরণ কর্মসূচি আজও চালু করা হয়নি। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ বৃক্ষরোপণ উৎসবে সাধারণতঃ ওষুধি ও ফলজ এবং জ্বালানি কাঠ এই তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে জনসাধারণকে উৎসাহিত করে থাকে। কিন্তু এসবের মধ্যে খেজুর গাছকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। খেজুর চারা অনাদৃত শুধু তাই নয়, বন বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কেউই এ ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। উত্তরাঞ্চলে পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অজ¯্র বাঁধের পাশে খেজুর গাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

দেশে আখের গুড় ব্যবহার বেড়ে গেলে চিনির উৎপাদন কমে যায়। সেজন্যে গুড় উৎপাদনের ওপরে বিধি নিষেধ জারি করা হয়। বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিক হারে খেজুরের গাছ চাষ ও পাটালি গুড়ের উৎপাদন বাড়লে চাহিদার দ্বিগুণ যোগান দেয়া সম্ভব হবে। খেজুর গাছ চাষে কোন রকম খরচ লাগে না। বিস্তীর্ণ জমিরও দরকার হয় না, চাই কেবল সদিচ্ছা। উত্তরাঞ্চলে জমির আইলে, বাঁধে ও বসত বাড়ির আনাচে কানাচে অনায়সে  খেজুর গাছ রোপণ করে বছরে চাহিদা মোতাবেক পাটালি গুড় উৎপন্ন করা সম্ভব। প্রাক্তন কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, চাষীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানানো দরকার  যে, পুরুষ খেজুর গাছ থেকে রস কম হলেও রসে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে।
অনেকে পুরুষ গাছ  কেটে ইট ভাটায় দিয়ে দিচ্ছে।

 কিন্তু তারা জানেন না যে, পুরুষ গাছ না থাকলে অন্যান্য স্ত্রী গাছের পরাগ সংযোগ ঠিকমত হয় না। শুধু তাই নয়, ফলনও কম হয়। এছাড়া রস সংগ্রাহকদের বিজ্ঞান সম্মতভাবে গাছের কান্ডের শেষ প্রান্তে ছাঁটাই কাজে দক্ষ করে তোলা দরকার। গাছ ঝুরানো নিখুঁত না হলে গাছ অকালে মারা যায়। সুতরাং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে বৃক্ষচাষিকুলকে উৎসাহী করে তুললে খেজুর গাছ অর্থকরী ফসল হিসেবে আদৃত হবে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, খেজুর ও তালগাছ গাছ আসলে আমাদের কৃষিতে একটি সম্ভাবনার নাম। খরচ নেই বললেই চলে, অথচ একটু যতœ ও পরিকল্পনায় বছরে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন কৃষকরা। দেশে গুড়ের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। কিন্তু খেজুর ও তালগাছ উপেক্ষিত থেকে গেছে সবসময়। তবে বর্তমান সরকার খেজুর ও তালগাছ রোপণের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে খেজুর ও তালগাছ ভূমিকা রাখবে। বজ্রপাতে মৃত্যুর হার অনেক কমবে।

ঢাকায় বিএনপির অর্ধ-শতাধিক প্রার্থী

রাজকুমার নন্দী : আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে বেশ জোরেশোরেই চলছে প্রস্তুতি। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নেমে পড়েছেন মাঠে। তবে সভা-সমাবেশ করতে না পারায় রাজধানীতে ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি। নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নামছেন, নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কাছাকাছি যাচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ নিজ এলাকায় অনুসারী বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন তারা। দলটির অভিযোগ, সরকার তাদের রাজধানীতে সভা-সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না, ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও বাধা দিচ্ছে।  

রাজধানীতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস শাহজাহানপুরের নিজ বাসভবনে সম্প্রতি ঢাকা-৮ ও ৯ আসনের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা দেশে না থাকলেও আমেরিকা থেকে তার নির্দেশনায় ঢাকা-৬ আসনে চলছে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম। এছাড়া ঢাকার সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরাও দলের সিনিয়র নেতাদের দিয়ে স্ব স্ব এলাকায় কর্মসূচি করছেন। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগরে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমকে ঘিরে সংগঠন শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে চলছে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা।

জানা গেছে, ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮ রাজধানীর এই ১৫টি আসনে বিএনপির টিকিট পেতে সক্রিয় দলের কমপক্ষে চার ডজন প্রার্থী। দলের হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন দাবি করে এদের কেউ কেউ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তৎপরতা শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার আশায় কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মহানগর কেন্দ্রিক রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িতরাই দলের মনোনয়ন পাবেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা-৪ : ২০০৮ সালে এ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই। এবার এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক কমিশনার মীর হোসেন মিরু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবীন ও দক্ষিণের যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

ঢাকা-৫ : ১৯৯১ সাল থেকেই এই আসনে নির্বাচন করে আসছেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ। আগামী নির্বাচনেও এ আসনে বিএনপির পছন্দের প্রার্থী তিনিই। তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা নবিউল্লাহ নবী (পদত্যাগী), কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া এবং ২০ দলীয় জোট শরিক বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মতিন সাউদও মনোনয়নের প্রত্যাশায় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ঢাকা-৬ : ২০০৮ সালে এই আসনে নির্বাচন করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। ’৯১ সালে তিনি এই আসনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেছিলেন। আইনি বাধ্যবাধকতায় তিনি আগামী নির্বাচন করতে না পারলে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। তবে খোকার অবর্তমানে এ আসন থেকে তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনও নির্বাচন করতে পারেন।

ঢাকা-৭ : ২০০১ ও ২০০৮ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা মরহুম নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু। তবে পিন্টুর অবর্তমানে তার স্ত্রী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার কল্পনাই আগামী নির্বাচনে এই আসনে দলের মনোনয়ন পাবেন বলে পিন্টুর সমর্থকরা বলছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন-বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, পিন্টুর ভাই নাসিমউদ্দিন আহমেদ রিন্টু, মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মীর আশরাফ আলী আজম ও বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ড. তুহিন মালিক।

ঢাকা-৮ : এই আসন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের আসন হিসেবেই পরিচিত। ২০০১ সালে তিনি এই আসনে নির্বাচন করলেও আইনি জটিলতার কারণে ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে পারেননি। তখন নির্বাচন করেছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। আগামী নির্বাচনে এই আসনে দলের প্রথম পছন্দের ব্যক্তি মির্জা আব্বাসই। এই আসনে দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামও শোনা যাচ্ছে। জানতে চাইলে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, তিনি ঢাকা থেকেই নির্বাচন করতে চান। দলীয় চেয়ারপারসন তাকে যেখান থেকে মনোনয়ন দেবেন, তিনি সেখানেই নির্বাচন করবেন।

ঢাকা-৯ : এই আসনটিও মির্জা আব্বাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে ২০০৮ সালের মতো এবারো নির্বাচন করতে চান মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। তবে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসও এ আসনে এবার প্রভাবশালী প্রার্থী।

ঢাকা-১০ : ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মরহুম এডভোকেট খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশারী হলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন অসীম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি।

ঢাকা-১১ : ২০০৮ সালে এই আসন থেকে নির্বাচন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম। এবারও তিনি দলের প্রথম পছন্দের প্রার্থী। তবে মামলা সংক্রান্ত কিংবা অন্য কোনো কারণে নির্বাচন করতে না পারলে তার স্ত্রী শামীম আরা বেগম এখান থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

ঢাকা-১২ : এ আসন থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি মো. সাহাবউদ্দিন। তিনি এবারও মনোনয়ন চাইবেন। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন-যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার।

ঢাকা-১৩ : বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ আসন থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন। এবার এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এ আসনে ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ২০ দলীয় জোট শরিক এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম মতিনও। জানতে চাইলে আব্দুস সালাম দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) তাকে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিতে বলেছেন। পুলিশি বাধায় বাইরে সেভাবে সভা-সমাবেশ করতে না পারলেও বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছি।

ঢাকা-১৪ : ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এসএ খালেক। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন-মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আনজু, উত্তরের সহ-সভাপতি রবিউল আউয়াল ও মাসুদ খান।

ঢাকা-১৫ : এ আসনে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন মরহুম উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান। আগামীতে এ আসন থেকে দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচন করতে পারেন। আলোচনায় আছে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের নামও।

ঢাকা-১৬ : এ আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া। আগামী নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থিতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন-বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান।

ঢাকা-১৭ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য আসম হান্নান শাহ এই আসনে ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এবার এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন পেতে পারেন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম নকীও মনোনয়নের আশায় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ঢাকা-১৮ : এ আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। এবার এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। হেলাল আগামীতে এখান থেকে প্রার্থী না হলে নিজ এলাকা খুলনা-৪ থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এই আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম। আরো আছেন যুবদল মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক কফিলউদ্দিন আহম্মেদ।  

 

আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা নেই

প্রদীপ কুমার গোস্বামী মিঠাপুকুর (রংপুর) : জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য  প্রার্থীদের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তবে ১১তম সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সচেতন নাগরিকদের নানা সংশয়ের পাশাপাশি প্রার্থিতা নিয়ে চলছে কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে জল্পনা কল্পনা।  

রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনটি একটি আলোচিত আসন। ১৭টি ইউনিয়নের ৩১৫টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। নির্বাচন এলেই অনাকাক্সিক্ষত এবং চমকপ্রদ ঘটনার অবতারণা ঘটে এই আসনে। এবারেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় সরব আলোচনায় ব্যস্ত কর্মী সমর্থক ও সচেতন ভোটাররা। বিশেষ করে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে নিজ দলের বাইরেও বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের মাঝে চলছে নানা রকম জল্পনা কল্পনা। কারণ এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ.এন আশিকুর রহমানের অতীতে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। আসন্ন নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে কানাঘুষা চলছে। ইউনিয়ন কমিটি বাতিল এবং নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চাপা বিরোধ দৃশ্যমান বিরোধে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক করা হয়নি। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ মে রংপুর জেলা কমিটির সভায় মিঠাপুকুর উপজেলার ভেঙে দেয়া ইউনিয়ন কমিটিকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পুরাতন কমিটির অংশ গ্রহণে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দলাদলি শুরু হলে বর্ধিত সভা স্থগিত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বর্ধিত সভা স্থগিত করা হলেও ওই দিন (৩০ জুলাই) উপজেলা আওয়ামী লীগ নতুন কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মী সভা করে। কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের পুত্র ও কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক টক শো ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমান। বর্ধিত সভা স্থগিত করা হলেও ওই দিন কর্মী সভা করায় রাশেক রহমানকে শো-কজ করা হয়েছে বলে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যা হোক আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ তৎপর হলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৃশ্যমান কোন তৎপরতা নেই। তবে কারা কারা প্রার্থী হতে পারেন, কে দলের মনোনয়ন পাবেন, এনিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা।

রংপুর- ৫ মিঠাপুকুর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি। ৯ম সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ১,২৪,৮৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১০ম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১০ম নির্বাচনসহ তিনি ৪ বার এমপি নির্বাচিত হন এবং একবার বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের কোষাধ্যক্ষের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যান্য দলের প্রার্থীরা এইচ এন আশিকুর রহমানকে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ কাউন্সিলে এইচ.এন আশিকুর রহমানকে ৫ম বারের মত কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করেন।

এছাড়াও এ যাবৎ তার নামে কোন ধরনের বিরূপ ধারণা কেউই উত্থাপন করতে পারেনি। তবে কানাঘুষা চলছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার মনোনয়ন চাইতে পারেন। তিনিও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে জনসংযোগ করছেন। মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশাল শোক র‌্যালি করেছেন। র‌্যালিটি ৩ কিঃ মিঃ দূর থেকে পায়ে হেঁটে মিঠাপুকুর উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির এবং একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী কি না জানতে চাইলে মুঠো ফোনে জাকির হোসেন সরকার দৈনিক করতোয়াকে বলেন দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমি দলের হয়ে কাজ করবো এতে কোন সন্দেহ নেই। এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে দুই জনের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। একজন হলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর। তিনি ৯ম সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে ১,০০,১২৯ ভোট পেয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডলের নাম শোনা যাচ্ছে।

তিনিও গ্রাম পর্যায়ে জাতীয় পার্টির কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, অনেকে নির্বাচনের সময় এলাকায় থাকেন। কিন্তু নির্বাচন হয়ে গেলে নেতাকর্মীরা তাদের নাগাল পায় না। আর আমি নেতাকর্মী সমর্থকদের পাশে আছি, আগামীতেও থাকব। জাতীয় পার্টির সংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকায় হতাশা সাধারণ কর্মী সমর্থকরা। ইতোমধ্যে উপজেলা জাপার সদস্য সচিব বাবর আলী স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে জেলা কমিটির নিকট আবেদন করেছেন।

অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, নেতারা নির্বাচনের সময় আসে কিন্তু ৫ বছর আর তাদের দেখা মেলে না। সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহাবিপর্যয় ঘটে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খাজানুর রহমানের নাম আলোচিত হচ্ছে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলেরও সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে একটি মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে এখানে নতুন মুখ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবচনা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে অবসর প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মমতাজ হোসেনের নামও আলোচিত হচ্ছে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রুহুল উল্যাহ জুয়েলও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।

৯ম নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী শাহ মোঃ হাফিজুর রহমান। ৯ম নির্বাচনে ৫৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ১১তম সংসদ নির্বাচনে দল নিবন্ধন না পাওয়ায় নির্বাচন করতে পারবে কি পারবে না এ বিষয়টি প্রাধান্য  পেয়েছে। তবে দলীয় ভাবে না হলেও জামায়াত থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে কানাঘুষা চলছে। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শাহ্ মোঃ হাফিজুর রহমান, গোলাম রব্বানী ও বর্তমান আমির মাওঃ এনামুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। কলেজ শিক্ষক গোলাম রব্বানী বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নাশকতার মামলা থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। মাওঃ এনামুল হক বর্তমানে জামায়াতের উপজেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। মামলা থাকায় তাকে দৃশ্যমান জনসংযোগে দেখা যাচ্ছে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ থেকে উপজেলা সভাপতি সালেক হাসনাত বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আইনুল কবির লিটন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে আইনুল কবির লিটন বলেন, আমরা ১৪ দলীয় জোটে আছি। জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই আমাদের অবস্থান থাকবে। ৯ম নির্বাচনে বাসদের প্রার্থী ছিলেন মমিনুল ইসলাম।

তিনি মই প্রতীকে ৮৭১ ভোট পেয়েছিলেন। এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সৈয়দ আবু তালেবের স্ত্রী মওদুদা আখতার দিনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে। কিছুদিন আগে প্রচার চলছিল যে, তিনি  জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাচ্ছেন!  ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে শফিউল আলম ভোলা মন্ডল দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বাসদ ও সিপিবি যৌথভাবে প্রার্থী দিতে পারেন। এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা কেন্দ্র নেতৃবৃন্দের সাখে লবিং চালালেও মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা কম। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ.এন আশিকুর রহমান এলাকায় বিভিন্ন ভাবে জনসংযোগে ব্যস্ত। তার ছেলে টকশো ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমানও এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলে আগামী নির্বাচন কেমন হবে এই অপেক্ষায় দিন গুনছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট ৭ শিল্পপতির দৌড়ঝাঁপ!

এম খোরশেদ আলম, পীরগাছা (রংপুর) : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরের বেশি বাকি। নির্বাচন কমিশন সবেমাত্র তোড়জোর শুরু করেছে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে দৌড়-ঝাঁপ। আসনটি ছিনিয়ে নিতে বিএনপি এবং জাতীয় পাটিঅর হেভিওয়েট ৬ জন শিল্পপতি মনোনয়ন দৌড়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য টিপু মুনশি’র কোন বিকল্প নেই।

এ আসনটি জাতীয় পাটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত দু’টি সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি জাতীয় পার্টির কাছ থেকে কেড়ে নেন পীরগাছার কৃতী সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি। তিনি দুই দুইবার এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করায় এ এলাকার ভোটারদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

বর্তমানে এ আসন থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের লড়ার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এখনো টিপু মুনশি’র কোন বিকল্প প্রার্থী নেই। তবে জাতীয় পার্টি থেকে পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান এবং শিল্প নগরী হারাগাছের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল সদ্য জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেই মনোনয়ন দৌড় শুরু করেছেন। এছাড়াও আরেক শিল্পপতি যমুনা ব্যাংকের এমডি, বিগত ২ বার জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত শিল্পপতি আলহাজ করিম উদ্দিন ভরসার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ভরসা মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে এ আসনটিতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বিগত দিনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপ-মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এখানে এসে সাংগঠনিক কাঠামোকে জোরদার করার জন্য কয়েকটি সভা-সমাবেশ করে নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করলেও ক্ষমতাসীনদের ও প্রশাসনের  চাপের মুখে বর্তমানে তাদের অবস্থা অনেকটা নাজুক। বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন সাবেক রংপুর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও পীরগাছা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, পীরগাছা বাজার দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ আমিনুল ইসলাম রাঙা, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসিটি’র সাবেক চেয়ারম্যান, আলহাজ এডভোকেট ড. শাহেদ কামাল পাটোয়ারী এবং হারাগাছের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে এমদাদুল হক ভরসা।

পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে লড়াইয়ের জন্য যে ক’জন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন তারা সবাই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও ধনাঢ্য। ফলে এ আসনটি নিয়ে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে সকলের মাঝে কৌতূহল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন ভোটাররা। আসনটি ধরে রাখার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে নিজেদের ভোটব্যাংক ঠিক রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ইতিপূর্বে ৩ বার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও বর্তমানে তাদের নেতৃত্বে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মোঃ মাহবুবার রহমান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়ে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষাসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে নেতা-কর্মীদের মন চাঙ্গা করে তুলছেন। এছাড়াও বিএনপি তাদের আগের অবস্থা থেকে ফিরে আসার জন্য গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা ২টি চেয়ারম্যান পদসহ ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছিনিয়ে নেয়ার কৌশলকে কাজে লাগিয়ে নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে মামলা-হামলার পরও তারা আসনটি ছিনিয়ে নেয়ার বিভিন্ন ভোট কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে চলছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। কে পাবেন আর কে হারবেন তা নিয়ে ভোটারদের মনে উদ্বেগের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করতে মরিয়া সব দলের নেতা-কর্মীরা

হুমায়ুন কবীর মানিক, রংপুর : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বানকে ঘিরে রংপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের ব্যক্তিগত ও দলীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। দলীয় প্রধানের ছবিসহ নিজের ছবি দিয়ে ডিজিটাল বিলবোর্ড ও রঙিন ব্যনারে শুভেচ্ছা বিলি করছেন কেউ কেউ। এদিকে রংপুর ৩ আসনে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), বিএনপিসহ শরিকদল ও বামসংগঠনসমুহের প্রার্থীরা। রংপুর ৩ আসন হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন হওয়ায় ভোটাররা অনেকটাই হিসেব করছেন।

রংপুর ৩ আসনের বিভিন্ন দলের সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানান গেছে, সব দলেরই বড় টার্গেট আগামী নির্বাচন এবং দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। সে লক্ষ্যেই নতুন করে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরশাদের জাতীয় পার্টিও বসে নেই। তারাও ভবিষ্যৎ চিন্তায় দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। এর বিপরীতে মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং পুলিশি বাধায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করা বিএনপি আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে তারা তাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ হাজার সদস্য সংগ্রহ অভিযানের টার্গেট নিয়ে নামা দলটি সরকারের ব্যর্থতা এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন, পীড়ন, হামলা, মামলার খতিয়ানও জনগণের কাছে উপস্থাপন করছে। এছাড়াও নিজেদের প্রার্থীদের জয়ি করে তাদের পক্ষে আসনটি নিয়ে দলকে আরও চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলের রংপুরের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দরা।

দল গোছানোয় মনোযোগ আওয়ামী লীগের : গা-ছাড়া ভাব কাটিয়ে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর রংপুর আওয়ামী লীগ মাঠে নেমে পড়েছে।

সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এবং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের যে কোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দল গোছানোর কাজ শেষ করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কাজ চলছে। লক্ষ্য আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এবং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের যে কোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা। রংপুর ৩ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) পরিচালক এড. আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, প্রচার সম্পাদক ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন নিজ দলের হয়ে মনোনয়ন চাইবেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, আমরা ৩৩টি ওয়ার্ড গুছিয়ে নিয়েছি। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামীলীগ এখন অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমি দলের হয়ে মনোনয়ন চাইব। তিনি এবং তার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মনোনিত যে প্রার্থীই নৌকা মার্কা পাবে আমরা তাকেই জয়ী করব।  জাপার দুর্গ এখন নাই এবং দুর্গ ভেঙ্গেছে আওয়ামী লীগ।  

বিএনপি ও শরিক দল এখন সষ্ক্রিয় : পুলিশের দায়ের করা একাধিক মামলায় নিস্তেজ হয়ে পড়া বিএনপি আবারও মাথা উঁচু করে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের অবরোধ চলার সময় বিএনপিকে মাঠে নামতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উল্টো নাশকতার একাধিক মামলা দিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বাড়িছাড়া করেছে পুলিশ। কর্মসূচি পালনের আগেই দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাখে পুলিশ। বর্তমান মহানগর বিএনপি কমিটির গতিশীল নেতৃত্বে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে নেতাকর্মীরা।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একজন প্রার্থী হয়ে দলের মনোনয়ন চাইব। দলকে আরও শক্তিশালী করতে সংসদীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের জয় নিয়ে আসতে প্রস্তুত হচ্ছে বিএনপি। সদস্য সংগ্রহ অভিযানকালে সরকারের ব্যর্থতা এবং বিএনপির  নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন, পীড়ন, হামলা, মামলার খতিয়ান জনগণের কাছে উপস্থাপন করছে দলটি। প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি নেতাকর্মীদের ছুটে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়াও ক্লিন ইমেজের এই নেতা নিজেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আসনটি বিএনপির দখলে  রাখতে চায়। সে হিসেবে শরীক দলগুলোও কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগ নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন কারণ সরকারী ও বিরোধী দল বলে কিছু নেই। সবাই সরকারের সুবিধা নিচ্ছে। তাছাড়া এ সরকার যে অনির্বাচিত জনগণ এটা বুঝে গেছে।

দুর্গ পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত জাতীয় পার্টি : রংপুর মানেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টি এবং লাঙ্গল। ১৯৯০ সালে কারাগারে যাওয়ার পর এরশাদের প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে রংপুরের মানুষ। রংপুরে সাধারণ ভোটারদের কাছে ‘এরশাদ আবেগ’ এতটাই মজবুত যে, প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচ্য বিষয় নয়, প্রার্থীর প্রতীক ‘লাঙ্গল’ হলেই হলো। জয় তার সুনিশ্চিত। রংপুর ৩ আসনে এবার লড়বেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুত ও জাপা চেয়ারম্যান আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি এ আসনে ভোট করায় তাকে জয়ী করতে মাঠ গোছাচ্ছে নেতাকর্মীরা।

জাপার ভোটযুদ্ধ বিষয়ে জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, এরশাদের লাঙ্গল প্রতীক রংপুরের মানুষের অন্তরে গেঁথে গেছে। আমরা সারা দেশে ৩শ আসনেই প্রার্থী দেব। রংপুর জাপার দুর্গ হওয়ায় আমরা রংপুরের ২২ আসনে প্রার্থী দেব এবং জয়ী করে আনব।

দৌড়ঝাঁপে রয়েছেন যারা: আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর-৩ (সদর) আসনে আরও যাদের নাম বিভিন্ন জনের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সেসব প্রার্থী হলেন, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রবীণ নেতা শাহাদাত হোসেন, বাসদ মার্কসবাদী জেলা সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু, ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাজিরুল ইসলাম লিটন, জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্যসচিব রেয়াজ উদ্দিন, এবং জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও সাবেক জেলা সভাপতি ডা. একরামুল হোসেন স্বপন।

রংপুর ৩ আসনের ভোটার সিহাব আহমেদ চৌধুরী , আব্দুস সোবহান, আরিফুল হাসান, কুদরত উল্লাহ, আশরাফ খান কিরণ জানান, রংপুর ৩ ( সদর) জটিল ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসন হওয়ায় প্রার্থীকে এখন বুঝে নিচ্ছেন। এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি তবে জাপা, আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে খেলা জমবে বলে মন্তব্য করেন তারা। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে রংপুর-৪)।

 

এই বিভাগের আরো খবর

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা

কেক কেটে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার ৪২তম বছরে পদার্পণ উদযাপন করেছেন পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হক। শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পত্রিকাটির ঢাকা অফিসে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এই কেক কাটেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে বগুড়া থেকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনভর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয় দৈনিক করতোয়া পরিবার। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা করতোয়া পত্রিকার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। পত্রিকাটি একইসঙ্গে একটি সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে এবং মৌলবাদ-উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে দৈনিক করতোয়ার অগণিত পাঠক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হক। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও সৃজনশীল লেখনীর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে পত্রিকাটি আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দৈনিক করতোয়া পরিবারকে ৪২তম বছরে পদার্পণের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাধীনতার পর দৈনিক করতোয়া আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও সৃজনশীল লেখনীর মাধ্যমে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে পত্রিকাটি বর্তমানে সমগ্র দেশজুড়ে তার সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। একটি সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে পত্রিকাটি কাজ করে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দৈনিক করতোয়া পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্যও কামনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, দৈনিক করতোয়া আঞ্চলিক পত্রিকা হিসেবে বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এটি একটি জাতীয় পত্রিকা। পত্রিকাটির ঢাকায় যে অফিস রয়েছে তা অনেক জাতীয় পত্রিকার নেই। একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে পত্রিকাটি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া প্রগতি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাহসী ও আপসহীন ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ডিইউজের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দৈনিক করতোয়ার সাংবাদিক-কর্মকর্তা-স্টাফদের ‘বৈশাখী ভাতা’ প্রদান করায় পত্রিকাটির সম্পাদক মোজাম্মেল হককে অভিনন্দন জানান এই সাংবাদিক নেতা। দৈনিক করতোয়ার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এই সাংবাদিক নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পত্রিকাটি শতবর্ষ পূর্ণ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। করতোয়া পরিবারকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন বাদশা বলেন, দৈনিক করতোয়া গণমানুষের পত্রিকা। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামে পত্রিকাটির অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। একটি সুন্দর সমাজ-রাষ্ট্র বিনির্মাণে পত্রিকাটি তার অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হককে একজন ‘সাংবাদিকবান্ধব সম্পাদক’ হিসেবেও অভিহিত করেন এই সাংবাদিক নেতা।

দৈনিক করতোয়ার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, বয়সের দিক থেকে করতোয়া বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পত্রিকা। দৈনিক সংবাদ ও ইত্তেফাকের পরেই এর অবস্থান। বৃহত্তর উত্তরবঙ্গে অপ্রতিদ্বন্দ্বীহীনভাবে চলা করতোয়া পত্রিকাটি বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমগ্র দেশেই তার সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের পুনরায় সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় দৈনিক করতোয়া সম্পাদককে অভিনন্দন জানান এই সাংবাদিক নেতা।

ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মুরসালীন নোমানী বলেন, দৈনিক করতোয়া পত্রিকা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সেটা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এরপর দৈনিক করতোয়ার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, দৈনিক ভোরের  দর্পণ, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ, মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেড ও মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন গ্রুপ, ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পত্রিকাটির সম্পাদককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন-দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসরিন হায়দার, দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানী, দৈনিক অগ্রসর সম্পাদক মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, দৈনিক আমার বার্তার সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশের প্রধান সম্পাদক ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সহধর্মিণী রিনা মোজাম্মেল, মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেড ও মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের হেড অব ব্রান্ড এন্ড কমিউনিকেশন কেএমজি কিবরিয়া, ওয়ালটন গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক (জনসংযোগ) ফিরোজ আলম, প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, জনসংযোগ কর্মকর্তা আরজু হোসাইন, টয়ো ইঙ্ক-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাকির হোসেন, দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক নিয়াজী সেলিম আহম্মেদ, সাপ্তাহিক বর্তমান চাকরির বাজার পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, এভেনিউ বিল্ডার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজগর আলী ও জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন, জিসান ইন্টারন্যাশনাল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রঞ্জন দা, দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক মাহমুদুর রহমান খোকন, চিফ রিপোর্টার সৈয়দ আহমেদ অটল, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক এম এস সাহাব, মফস্বল সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, স্পোর্টস ইনচার্জ আমিনুল হক মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার সুলতানুর রহমান, রুদ্র রাসেল, মাহফুজ সাদি, রাজকুমার নন্দী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আলী আজম সিদ্দিকী, সাব-এডিটর আঞ্জুমান আরা মুন, রেজাউল করিম শামীম, জেনারেল ম্যানেজার মো: শহিদুর রহমান বুলু, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. খবির উদ্দিন, কমার্শিয়াল ম্যানেজার মো. আহসান আলী সরকার, সিনিয়র বিজ্ঞাপন ম্যানেজার মো. মামুনুর রশিদ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শেখ নওরোজ আহমেদ, করতোয়া অনলাইনে কর্মরত আরকে রাজু, সার্কুলেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের জিএম গাজী মোস্তাক আহমেদ টিপু, পার্সেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক এবং মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করা হয়।

শিবগঞ্জ (বগুড়া) : দেশের  উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রচারিত  ও সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক করতোয়ার ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শিবগঞ্জ সাপ্তাহিক তৃণমূল বার্তা কার্যালয়ে কেক কর্তন করা হয়। কেক কর্তন করেন দৈনিক করতোয়ার শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ও পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম, খ ম শামীম, আবু সাঈদ, শাহিনুর ইসলাম, আব্দুল মতিন, মাওলানা ওসমান গণি, জহুরুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের দর্পণ শিবগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রউফ রুবেল, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু, শাহেন শাহ, তৃণমূল বার্তার আবু সাঈদ ফটু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ। অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়া খায়ের অনুষ্ঠিত হয়।

কালাই(জয়পুরহাট) : উত্তরবঙ্গের সর্বাধিক প্রচারিত, পাঠকনন্দিত পত্রিকা দৈনিক করতোয়ার ৪২তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে জয়পুরহাটের কালাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। শনিবার কালাই প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এড. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন সহ-সভাপতি ও করতোয়ার কালাই উপজেলা প্রতিনিধি মো. অফির উদ্দিন, সহ-সভাপতি মো. আতাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম সেলিম সরোয়ার, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ফকির প্রমুখ। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।  

ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে দৈনিক করতোয়ার ধামরাই প্রতিনিধি ও ধামরাই প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম শাহীন আলমের উদ্যোগে শনিবার ধামরাই উপজেলা হল রুমে দৈনিক করতোয়ার ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এসময় উপজেলা পরিষদের প্রধান গেইট থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে ধামরাই বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে। পরে উপজেলা পরিষদ হল রুমে আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ধামরাই উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, শরিফবাগ আফাজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন টিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন এডভোকেট আবুল কালাম মিজানুর রহমান, এডভোকেট আমিনুর রহমান, আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ডা. জিয়াউর রহমান সিকদার, ধামরাই সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান খান হাবিব। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার বাবু দীপক চন্দ্র পাল, ধামরাই প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মেহেদী ইমাম জান কায়ছার, কালের কন্ঠের ধামরাই প্রতিনিধি আবু হাসান, ধামরাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিস-উর-রহমান স্বপন, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, বিজয় টিভি ধামরাই প্রতিনিধি জুলহাস উদ্দিন প্রমুখ।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দৈনিক করতোয়ার সাফল্যের ৪২ বছরপূর্তি  উদযাপিত হয়েছে। শনিবার সকালে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপ-সচিব) মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। এসময় মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানুর সভাপতিত্বে অনন্যের মাঝে সহ সভাপতি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ নান্নু, সাধারণ সম্পাদক অতিন্দ্র চক্রবর্তী বিপ্লব, সাবেক সভাপতি আ.ফ.ম নুর তাজ আলম বাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহানুর ইসলাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আর.এস মঞ্জুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর : গাজীপুরে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার ৪২তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও আনন্দ শোভা যাত্রার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। শনিবার গাজীপুর সদর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক করতোয়ার গাজীপুর সংবাদদাতা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আফাজ উদ্দিন কাঁইয়া, গাজীপুর সদর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও এশিয়ান টিভির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আবু বকর সিদ্দিক, গাজীপুর সদর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন, দৈনিক নবরাজের প্রতিনিধি ওবাইদুল ইসলাম, টিবিএন টোয়েন্টিফোর ডট কমের শেখ সবুজ আহম্মেদ তুষার, আজকের আলোকিত সকালের ব্যুরো চিফ এনামুল হক, দৈনিক নববাণী পত্রিকার এস.এম.হিমু সরকার, দৈনিক বিজয় পত্রিকার জেলা ব্যুরো চিফ শারমিন সুলতানা মিতু, সাইদুর রহমান, রুদ্র বাংলার মিজানুর রহমান, সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাসের মনির হোসেন, লুৎফর রহমান, অখিল চন্দ্র ও নাসির উদ্দিন মোল্লাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

শ্রীপুরে মরু অঞ্চলের দুম্বার নান্দনিক খামার

 রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : ব্যতিক্রমী শখের মানুষ আকরাম হোসেন মোল্লা। শখের বশে আরব্য মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা আর গাড়লের খামার গড়ে তুলেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মৃত মাওলানা আবদুল আহাতের ছেলে আকরাম হোসেন মোল্লা। প্রথমে শখের বশে হলেও এখন বাণিজ্যিক চিন্তা ভাবনায় খামারকে আরও প্রসারিত করছেন তিনি।

খামারে রয়েছে অর্ধশত ছোট বড় দুম্বা। এরই মধ্যে দুম্বার পাশাপাশি খামারে যোগ হয়েছে তোতাপুরী ছাগল, যমুনাপুরী ছাগল, চিত্রাপুরী ছাগল, গাড়ল আরো রয়েছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ান প্রজাতির ছাগল। প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো জাতের দুম্বা, ছাগল, গাড়ল খামারে বাচ্চা দিচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে প্রাণীর সংখ্যা। তার খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে  অনেক বেকার যুবকের।

খামারি আকরাম হোসেন মোল্লা জানান, বড় ভাই এনামুল হক মোল্লা ছিলেন অন্যরকম সৌখিন প্রকৃতির মানুষ। কোথাও বেড়াতে গেলে বা ঘুরতে গেলে কোনো আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন ছাগল, ভেড়া, কবুতরসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখলেই কিনে আনতেন। বড় ভাইয়ের সেই শখগুলো তাকে অনুপ্রাণিত করত। বড় ভাই এনামুলের দেখাদেখি এই সব প্রাণীর প্রতি ভালবাসার সৃষ্টি হয়।

পরে বড় ভাই এনামুল প্রবাসে চলে গেলে সেই খামারের দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে তুলে নেন। তিনি জানান, এখন  খামারে দুই শতাধিক গাড়ল, ভেড়া, দুম্বাসহ উন্নত জাতের বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও উন্নত জাতের দুম্বা ছাগল সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, এলাকায় এমন ব্যতিক্রমী পশু খামার আগে কেউ করেনি। টিভিতে দেখেছি মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বা। এলাকায় এখন দুম্বার খামার হয়েছে। এ খামারে দুম্বাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দৃষ্টিনন্দন দামি ছাগলও পালন করা হয়।

আকরামে বড় ভাই আবুল কাশেম জানান ২০১৫ সালের দিকে  ৭০টি দুম্বা, গাড়ল, রাম ছাগল নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু। তিনি জানান, বর্তমানে খামারে ৬৫টি দুম্বা,৭০টি গাড়ল, ১০টি তোতাপুরী ছাগল, ১০টি যমুনাপুরী ছাগল, ১০টি বুয়াং ছাগল, ১০ চিত্রাপুরী ছাগল, রয়েছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ান প্রজাতির অতি উন্নত জাতের ছাগল। 

তিনি জানান একটি পূর্ণ বয়স্ক দুম্বার বাজার মূল্য এক লাখ বিশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। খামারে সবচেয়ে বেশি দামি ছাগল হচ্ছে সাদা সৌদিয়ান হারিয়ানা। যা প্রায় দুই লাখ টাকা বিক্রি হতে পারে। গাড়ল, তোতাপুরী ছাগল, যমুনাপুরী ছাগলগুলো ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।

খামার ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক জাতের পশুর জন্যই পুরুষ (পাঠা) রয়েছে। দুম্বা গাড়লসহ বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির ছাগল নিয়মিত বাচ্চা প্রসব করছে খামারে। তিনি জানান, পুরুষগুলো (পাঠা) অনেক বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। অনেক সময় উন্নত জাতের বাচ্চাও সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। খামার থেকে বিভিন্ন দামে বিভিন্ন জাতের বাচ্চা বিক্রিও করা হয়। খামারে ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

শ্রমিক আবদুল্লাহ জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে এ খামারে কাজ করছি। আমার হাত ধরে অনেক বাচ্চা প্রসব করেছে বিভিন্ন জাতের ছাগল ভেড়া দুম্বা। সবুজ ঘাস, খড় কাটা, ভুষি ভুট্টা ভাঙা গম ভিজাসহ বিভিন্ন খাদ্য একত্রে মিশিয়ে খাবার দেওয়া হয়। নিয়মিত করে তিন বেলা করে খাবার দেওয়া হয়।

নারী শ্রমিক সালেখা আক্তার জানান, নিজের সন্তানের মত আদর যতœ করে দুম্বা গাড়ল ছাগলগুলোকে লালন পালন করি। এ দুম্বা খামার আমাদের কর্মের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করি। পশুগুলো বিক্রির সময় অনেকের মনে কষ্ট লাগে। এদের মধ্যে এক-দুটি পশু বেশি আদরের হয়ে যায়।

শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশরাফ হোসেন জানান, দুম্বার খামার অত্যন্ত লাভজনক। কোরবানি ঈদের দুম্বার ব্যাপক চাহিদা থাকে। সে চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হয় দুম্বা ও গাড়ল। আকরাম হোসেনের খামারটি অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল জলিল জানান, আকরাম হোসেনের দুম্বা গাড়ল পালনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। শুধু দুম্বাই না তার কাছে অনেক উন্নত জাতের ছাগল রয়েছে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মূল্যবান।

আমরা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে টিকাসহ নিয়মিত প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে থাকি। তার দুম্বা খামার দেখে অনেকেই দুম্বার খামার করতে আগ্রহ প্রকাশ করে পরামর্শ নিতে আসে। সে পরিশ্রমী ও সৎ। তার সাফল্য আমাদের গর্বিত করে।


 

 

এই বিভাগের আরো খবর

জাতীয় পার্টিকে এবার ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ

স্বপন চৌধুরী, গঙ্গাচড়া (রংপুর) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের তুলে ধরছেন। দলীয় প্রধানের ছবিসহ ডিজিটাল বিলবোর্ড ও রঙিন শুভেচ্ছা পোস্টার লাগিয়েছেন কেউ কেউ। তবে এখানে জয়ের স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি (জাপা)। কার্যত এই আসনে ভোটযুদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যে।

টার্গেট আগামী নির্বাচন এবং দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। সে লক্ষ্যেই নতুন করে দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরশাদের জাতীয় পার্টিও বসে নেই। তারাও ভবিষ্যৎ চিন্তায় দল গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে রংপুর-১ আসনের এমপি এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা থাকায় জাতীয় পার্টির চাঙ্গাভাব রয়েছে। এর বিপরীতে মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং পুলিশি বাধায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বিএনপি ও তাদের মিত্র জামায়াত। যদিও আগামী সংসদ নির্বাচনে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পাড়া-মহল্লার আনাচে-কানাচে সাঁটিয়েছেন রঙ-বেরঙের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে ষষ্ঠ থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির স্থানীয়  কোনো নেতা প্রার্থী হতে পারেননি। রংপুর-৩ ও রংপুর-৪ আসনের নেতারা প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম রেজভী, জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি মসিউর রহমান রাঙ্গা ও সাবেক এমপি জেলা জাপার সাবেক আহ্বায়ক হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু ও যুগ্ম সম্পাদক মোকাররম হোসেন সুজন এবং স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে অনড় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সিএম সাদিক।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল চ্যালেঞ্জের আভাস থেকে কোনো মতেই ছাড় মিলছে না জাতীয় পার্টির। গত সংসদ নির্বাচনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন মসিউর রহামন রাঙ্গা। কিন্তু আসছে নির্বাচনে এবার গঙ্গাচড়া আসনটি নিয়ে বেশ ঝুঁকিতেই রয়েছেন এরশাদের ভাগ্নেখ্যাত রাঙ্গা। এখানে রাঙ্গা বা জাতীয় পার্টির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি লড়তে চায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এতে স্পষ্ট হচ্ছে জাতীয় পার্টিকে এবার ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

গঙ্গাচড়ার ভোটার ও জাপার কর্মী-সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরশাদের ভোটব্যাংকে হানা দিতে এবার এই আসনটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ব্যানারে মাঠে নেমেছেন শিল্পপতি সিএম সাদিক।

স্থানীয়রা বলছেন, বহিরাগত কাউকে আর এমপি বানাতে চান না তারা। সেক্ষেত্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের পাশাপাশি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যন আসাদুজ্জামান বাবলুই তাদের ভরসা।

অন্যদিকে জাপার কর্মী-সমর্থকরা মনে করছেন, এবার যদি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির জোট না হয় এবং তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু দলীয় মনোনয়ন পান তাহলে রাঙ্গার পক্ষে জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, গঙ্গাচড়ার মানুষ চায় নিজ এলাকা থেকেই সংসদে কেউ তাদের প্রতিনিধিত্ব করুক। যা বিগত সময়ে হয়নি। তাছাড়া বাবলু নেতা হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে বেশ ভালোই সখ্যতা গড়ে তুলেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, এখানে সাংগঠনিকভাবে জাতীয় পার্টির অবস্থা দুর্বল হলেও জনপ্রিয়তা রয়েছে দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। তাই ভাগ্নে রাঙ্গার জয় নিশ্চিত করতে এরশাদের ভূমিকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকেই। কারো কারো মতে, গঙ্গাচড়ার মানুষ এখনও এরশাদ পাগল। তারা লাঙ্গল ছাড়া কিছুই বোঝে না। যেহেতু এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব এখনও সংকটে, তাই রাঙ্গার পাশে এরশাদ থাকলে বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা অনায়াসে পার হয়ে যাবেন। আর যদি আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি জোট করে তবে তো জাতীয় পার্টিরই লাভ। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে রংপুর-২)।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

গতি আসছে না সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে চার বছর ধরে রাজস্ব আদায় নিম্নমূখী

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সম্ভাবনাময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ও ভূটানের সাথে চতুর্দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত হলেও বিভিন্ন কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। পরপর চার অর্থবছর থেকেই রাজস্ব আদায়ে নিম্নমূখী এই স্থলবন্দর থেকে। আবার চার অর্থবছরের মধ্যে গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে সবচেয়ে কম। এর আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হলেও রাজস্ব আদায় নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ নানা জটিলতার কারণে ৯৫ দিন এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায় কম হওয়াকে দায়ী করেছে।

 তবে বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি স্থলবন্দরে পুরো গতি না আসায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। সেই সাথে ভারতের সাপ্লায়ার গ্রুপের তৎপরতা বন্ধ ও তাদের ভাষায় স্থলবন্দরে ‘অবৈধ’ সুবিধা না দিলে এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাবে ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে কমবে রাজস্ব আদায়ও।

স্থলবন্দর সুত্র জানায়, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ৬ কোটি টাকা রাজস্ব  আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে। এই অর্থবছরে ৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও আদায় হয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর থেকে কমতে থাকে রাজস্ব আদায় ওই অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ৩৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আদায় হয়েছিল ২৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে ধস নামে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে। এই অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রা নেয়া হলেও বছর শেষে আদায় হয়েছিল ৩৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষমাত্রার মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ১৮ কোটি টাকা। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৩০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হলেও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি পণ্য রফতানি হলেও বাড়েনি রাজস্ব আদায়।

গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু হয়। এর পর থেকে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানুষ এসেছে ২ হাজার ২৫ জন এবং আর বাংলাদেশ থেকে ভারতসহ অন্যদেশে গমন করেছে ২ হাজার ৩৯৯ জন। এতে ট্রাভেল ট্যাক্স বাবদ আদায় হয়েছে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা। আর গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানুষ এসেছে ১৫ হাজার ১৯০ জন এবং ভিনদেশে গমন করেছে ১৬ হাজার ২৪৯ জন। এতে ট্রাভেল ট্যাক্স আদায় হয়েছে ৮১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এই বন্দরের রাজস্ব আদায়ের প্রধান উৎস ভারত ও ভুটান থেকে আনা পাথর। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের ফুলবাড়িতে সেখানকার ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী সাপ্লায়ার নামক একটি গ্রুপ রফতানিকারকদের জিম্মি করে তাদের মাধ্যমে পাথর রফতানিতে বাধ্য করছে। তারা অস্বাভাবিক হারে কমিশন নেয়ায় পাথরের দাম অনেক বেশি পড়ে যাচ্ছে। এতে করে রফতানিকারকরা এই বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করে। তারা জানায় এক হাজার মেট্রিক টন পাথরের জন্য এলসি করলে এই বন্দর দিয়ে এক হাজার টন বা তার কম পাথর আনা যায়। অথচ এক হাজার মেট্রিক টন পাথরের এলসি করে অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে দ্বিগুণ পাথর আনা যায়। এই বন্দরে সেই সব অবৈধ সুবিধা না থাকায় পাথর আমদানি কমে যাচ্ছে। সেই সাথে রাজধানীর ঢাকার সাথে দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ে যাচ্ছে। সে কারণে ব্যবসায়ীরা এই বন্দর বাদ দিয়ে অন্য বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করে খুব কম খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। একসময় এই স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানি হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বন্ধ রয়েছে। পাথর ছাড়া অন্য কোন পণ্য না আসায় বন্দরের রাজস্ব আদায় কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি ও রফতানিকারক এসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার সাথে দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এই বন্দর দিয়ে পাথর ছাড়া অন্য পণ্য আমদানি করার সুযোগ খুব সীমিত। বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাংলাবান্ধা দিয়ে পাথর আনতে দাম অনেক বেশি পড়ে যায়। যা অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়ে বেশি। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সাথে বাংলাবান্ধার দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় পরিবহন খরচও অনেক বেশি। তাই ব্যবসায়ীরা বাংলাবান্ধার চেয়ে কম দামে এবং কম খরচে অন্যান্য স্থলবন্দর থেকে পাথর কিনতে পারায় এই বন্দরটি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সহসা অবস্থার উন্নতি না হলে এই বন্দরের ভবিষ্যত ভাল নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পঞ্চগড় কাস্টমস, এক্সাইজ এ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার (এসি) ফরিদ আল মামুন বলেন, আমরা কাস্টমস এর পক্ষ থেকে সবসময়ই ব্যবসায়ীদের আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করতে চাই। আমাদানি-রফতানিকারকরা যাতে স্বাচ্ছন্দে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন সেক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আর ভারতে কোন জটিলতা না থাকলে এবং নিয়মিত আমদানি-রফতানি শুরু হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর  নেপাল ও ভুটানের সাথে ত্রি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও শুধুমাত্র নেপালের সাথে পণ্য আমদানি-রফতানীর মাধ্যমে চালু হয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এরপর ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথেও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালর ১৮ ফেব্রুয়ারি এই বন্দর দিয়ে চালু হয় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা। পরবর্তীতে ত্রিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রায় ২০ বছর পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের সাথেও শুরু হয় পণ্য আমদানি রফতানি।  

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লবিং শুরু

আজহারুল ইসলাম ও আমিনুল হক, সাঘাটা ও ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ আসনে (সাঘাটাÑফুলছড়ি) মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ইতোমধ্যে সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা-৫ আসনে বর্তমান এমপি ডেপুটি স্পিকার এড. ফজলে রাব্বী মিয়া জাতীয় পার্টির টিকিটে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী বেগম রওশন এরশাদকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করায় তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন। এড. ফজলে রাব্বী মিয়া সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন তিনিই পাবেন এমন প্রত্যাশা তার। তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন বলে তার সমর্থকরা জানান।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। তার যোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এখন অনেক সুসংগঠিত।  বিগত দিনে নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালিত না করায় এসব নেতাকর্মী ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক মাহমুদ হাসান রিপন তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে এ দুটি উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করেছেন। ফলে মাহমুদ হাসান রিপনের নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে বিচ্ছিন্ন ও ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নব-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রায়ই সভা সমাবেশ করে চলছেন এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সফলতা এবং ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে মাহমুদ হাসান রিপনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে তার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত এবং সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী অবিভক্ত বাংলার কৃষিমন্ত্রী মরহুম আহমেদ হোসেন সরকারের (উকিল) নাতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক মাহবুবর রহমান নিটল তার পিতামহের আদর্শ লালন করে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মাহবুবর রহমান নিটল বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ করে দুটি উপজেলাতে দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলায় পরিণত করার চেষ্টা চালাবেন।

এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা-৫ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন আহম্মেদ বলেন, এ আসনে বেগম রওশন এরশাদ এমপি থাকাকালীন ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবি নদী ভাঙনরোধে ব্যাপক কাজ করেছেন। তার সময় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হয়েছে। রওশন এরশাদ প্রার্থী হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে কোন কারণে তিনি নির্বাচন না করলে তার পরিবর্তে প্রার্থী হবেন সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু। তার যোগ্য নেতৃত্বে এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করার ফলে তিনি দুই-দুইবার সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশ করে চলেছেন এবং জাতীয় পার্টির আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হলে এ দুটি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

স্বাধীনতার পরপরই একবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোস্তম আলী মোল্লা। তিনি অসুস্থতার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় পরবর্তীতে একজন যোগ্য প্রার্থী না থাকায় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় দলীয় বিপুল অংকের ভোট ব্যাংক থাকা সত্ত্বেও বরাবরই এখানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা রাহিদুল ইসলাম রাহী। তিনি বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা পরিচালনায় সহযোগিতাসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। রাহিদুল ইসলাম রাহী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জয়লাভ করা সম্ভব বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সমাজ সেবক নাজেমুল ইসলাম নয়ন। তিনি দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. একরাম হোসেন। চিকিৎসা সেবায় তার অবদান থাকায় তিনি এ দুটি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুপরিচিত এবং তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে রংপুর-১)।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

কৃষ্ণ কুমার চাকী, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধা জেলার শুধু মাত্র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগসহ তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ বৃদ্ধি করতে সক্রিয়।

এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় পাট ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম লিটন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সকলেই দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থাশীল। দলীয় প্রধান যাকেই মনোনয়ন দেবেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে নির্বাচন করবেন বলে জানান।

বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটলেও গোবিন্দগঞ্জে বসে নেই জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। গোবিন্দগঞ্জে ২০ দলীয় জোট বলতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে বোঝে উপজেলাবাসী। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবির আহম্দ, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আলতাব হোসেন পাতা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী হতে পারেন এ আসনে।

মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান চৌধুরী। কিন্তু এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কথায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচন পরবর্তিতে লুৎফর রহমান চৌধুরী জাতীয় পার্টি (জেপি) যোগদান করায় গোবিন্দগঞ্জ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক কাজী মো: মশিউর রহমান। এ আসনে জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে। সেই সাথে প্রার্থী হতে পারেন সিপিবি থেকে বিপ্লব কুমার চাকী।
প্রধান দুই জোট থেকে যেই মনোনয়ন পান না কেন ভোটের মাঠে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে বলে উপজেলার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন। তারা প্রধান দুই জোট থেকে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলেও বিশ্বাস করেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে গাইান্ধা-৫)।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক : জাপা-বিএনপির একক

আনোয়ারুল ইসলাম, সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক এবং জাপা ও বিএনপির একক প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় এলাকায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী প্রত্যেকেই দলের ও নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ  থেকে শুরু করে পোস্টার-ফেস্টুন ও প্লাকার্ডে। দলীয় কান্ডারি হতে মনোনয়ন পেতে  কেন্দ্রে চলছে  দৌড়-ঝাঁপ ও লবিং।  সেই সাথে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।  

এ আসনে তিন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একাধিক, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক মনোয়ন প্রত্যাশীদের নাম শোনা যাচ্ছে। আসনটি আওয়ামী লীগের ধরে রাখা, জাতীয় পার্টির পুনরুদ্ধার এবং বিএনপি ছিনিয়ে নেয়ার ব্যাপারটি নির্ভর করছে প্রার্থীদের নির্বাচনের উপর। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত এ আসনটি। সাবেক মন্ত্রী ও জাপা নেতা ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী এ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পর পর দুবার করে (৬ বার) নির্বাচিত হয়েছেন। রাব্বী চৌধুরী জাপা (এরশাদ) থেকে বের হয়ে জাপা (কাজী জাফর) দলে যোগদান করেন এবং গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন। জাপা (এরশাদ) দল থেকে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী মনোনয়ন  পেলেও মহাজোটের কারণে এবং দলীয় সিদ্ধান্তে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ফলে এ আসনটি জাপার দুর্গ হলেও হাতছাড়া হয়ে যায়। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইউনুস আলী সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে এ আসন থেকে বিজয় লাভ করেন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন তারা হলেন-ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী-সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার, সামসুজ্জোহা প্রামাণিক রাঙ্গা, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার খান বিপ্লব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এড. এমএ ওয়াহেদ মিয়া, বর্তমান কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার  জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হক, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর প্রধান, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ  তোফাজ্জল হোসেন সরকার। এছাড়াও ডা. শাহ মো: ইয়াকুবুল আজাদ, ফিরোজ কবির সুমন, নুরুন্নবী প্রধান সবুজ, এড. নুরুল ইসলাম ও খন্দকার তামান্না।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীর মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন দলের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি গত ১৪ জুন পলাশবাড়ীর শিল্পী ভোজনালয়ে দলীয় ইফতার মাহফিলে ও সাংবাদিকদের দেয়া ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীর নাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করেন। তবে জাপার আরেক নেতা ও জেলা জাতীয় পার্টির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল হক সাচ্চা মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন।

এদিকে ২০ দলীয়  জোটের শরিক দল জাপা (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও এমপি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চেীধুরী এ নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিতে থাকাকালে পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর নির্দেশে এ আসন থেকে ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ পেলে নির্বাচন করতে পারি।

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) থেকে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক এর মনোনয় প্রায় নিশ্চিত। তিনি ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তবে  পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম সরকার (টুপি আলম) এর নামও শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও জামায়াত নেতা পলাশবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে গাইবান্ধা-৪)।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবি ক্যাম্পাসে গণপরিবহনের দাপট : আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

আলী আজম সিদ্দিকী : প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন এবং যানবাহনের অবাধ প্রবেশের ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক কার্যক্রম। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে, বিকাল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও পাওয়া যায়নি সুষ্ঠু সমাধান।

ঢাবি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত মাত্রায় বহিরাগত যান চলাচলের ফলে দুর্ঘটনার কারণে বিগত ১০ বছরে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট শনিবার ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় শুভ্র নামের ঢাকা কমার্স কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ইমরান নামে আরও একজন। এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে গত ২ আগস্ট বুধবার বেলা দু’টার দিকে রোকেয়া হলের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টোদিক থেকে আসা বাইকের ধাক্কায় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের এমবিএ’র এক ছাত্রী। গণপরিবহন প্রবেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধা না পাওয়া, ক্যাম্পাসে যানজট কম থাকা, দুর্ঘটনার পর অল্পতেই পার পাওয়া, শাহবাগ-নিউমার্কেট এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র যানজট, পরিবহন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা, বেপরোয়া গতিতে যান চালানোর প্রবণতা, ছুটির দিনগুলোতে বহিরাগতদের ঢাবিমুখীতাকে ভোগান্তির জন্য দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে এ বছরের ১৩ জুন ভোরে একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের বেদিতে উঠে যায়। এতে ভাস্কর্যের বেষ্টনী ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর মাত্র কয়েকমাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত হন। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর জগন্নাথ হলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী এবং ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট শাহবাগ মোড়ে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেবরা ক্রসিং, ওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায় দিন দিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। রোকেয়া হলের মার্কেটিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম বলেন, একাডেমিক ভবন থেকে যখন আমি আমার হলে ফিরি তখন এক ধরনের আতঙ্ক আমার ভিতর কাজ করে। রাস্তা ক্রস করার সময় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যানবাহনের উচ্চগতি আমার মত সকল শিক্ষার্থীর কাছেই আতঙ্কের। ক্যাম্পাসে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলতে-ফিরতে পারে সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য করতোয়া প্রতিবেদক ঢাবির প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলীকে অনেকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি। ঢাবি প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন ও উচ্চগতিতে গাড়ি চলার নিয়ম না থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে সব ধরনের যানবাহন।

বিভিন্ন রুটের বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধে প্রবেশ করছে। এই যানজটের মধ্যেও ফুলার রোডে বহিরাগতদের প্রতিনিয়ত বাইক এবং কার রেসিং করতে দেখা যায়। রাস্তার দু’পাশে নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা সম্বলিত পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইনবোর্ড এবং গতি নিয়ন্ত্রক নেই। শিক্ষার্থীদের এক পাশ হতে রাস্তা পার হয়ে অন্য পাশে যেতে বেগ পোহাতে হয়।

দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্টের মোড়, টিএসসি থেকে শাহবাগ, পলাশী এলাকাসহ নীলক্ষেত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে যানজটের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে। বেশ কয়েকবার ইভেন্ট খুলে এবং ঢাবির ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ছাড়াও প্রক্টর এম আমজাদ আলীর কাছে স্মারকলিপি দিলেও সমাধান পাওয়া যায়নি দাবি এই কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটা সত্যি যানজট পুরো ঢাকা শহরের সমস্যা। গণপরিবহন থাকবে কারণ এটা আমাদের ক্যাম্পাসের নিজস্ব রোড না। পাবলিক রোডে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলবে, তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাদেরকে আমরা সবসময় বলি এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। যানবাহনের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এ বিষয়ে কাজ করার জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি টিম আছে। কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়টি প্রবেশ পথ আছে সবজায়গায় গেইট থাকলে আমরা তদারকি করতে পারতাম।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সরব হচ্ছেন

সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর, গাইবান্ধা : ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য পদের মনোনয়ন প্রত্যাশী, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। কারা প্রার্থী হতে পারেন, কোন কোন দল অংশ নেবে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কোন প্রার্থীর, এসবই এখন আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। ১১তম নির্বাচনে দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও তার বর্তমান ইমেজ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই যুক্তিতর্ক এখন মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির দলীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের যে সব বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মানুষ সেসব বক্তব্য নিয়ে নির্বাচনে বিএনপির কি ভূমিকা হবে সে বিষয়ে নানা রকম মন্ত্যব্য করতেও ছাড়ছে না।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনকে ঘিরে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও কয়েকটি ছোট দলের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের কর্মীসংযোগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গণসংযোগ ও আলোচনা করতে দেখা যায়। এসব আলোচনা দলীয় নেতাকর্মী পর্যায় হতে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সঞ্চারিত হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২(সদর) আসনে  আওয়ামী লীগের অন্তত: চার/পাঁচ জন দলীয় নেতা মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালালেও অবশেষে মনোনয়নের সিঁকে ছিঁড়েছিল এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনির ভাগ্যে। ১১তম নির্বাচনকে ঘিরে মাহবুব আরা বেগম গিনির বিগত কর্মকান্ড নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ সরব হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন কয়েকজনের নাম ইতিমধ্যেই বেশ আলোচিত হয়ে পড়েছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ সামছুল আলম হিরু, জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সিনিয়র সহসভাপতি ফরহাদ আবদুল্লাহ হারুন বাবলু, সাবেক থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা সদস্য শাহ সরোয়ার কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য এড. আশুতোষ সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক মন্ডল, সহ-সভাপতি সুলতান আলী মন্ডল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এড.মানিক ঘোষ। বিগত দশম সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এদের নাম শোনা গেছে। এবারও এদের সমর্থকদের মধ্যে এদেরই মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনেক বাক বিতন্ডা শুরু হয়েছে। তবে এরা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত রাজপথের কর্মী, তাদের রয়েছে দলের জন্য অনেক অবদান, ত্যাগ তিতীক্ষা। এরা সবাই অনেক বিপদ সংকুল রাজনৈতিক সংঘাত ও সংগ্রামের দিনেও দল ত্যাগ করেননি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাসহ তার নেতৃত্বে অবহেলিত গাইবান্ধাবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মাহবুব আরা বেগম গিনি তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহবান জানিয়েছেন।

পরপর দুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে জনকল্যাণে মাহবুব আরা বেগম গিনি এই এলাকাসহ গাইবান্ধা জেলার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রাণপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এর উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও তারা বলেন। এক্ষেত্রে সকল স্তরের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া পিছিয়ে পড়া এই জনপদের উন্নয়ন কোনক্রমেই সম্ভব নয়, সেজন্য তার কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়নে মাহবুব আরা বেগম গিনির বিগত কর্মকান্ডের আলোকে এবং দলের পক্ষে পুনরায় তাকে নির্বাচিত করবেন।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-২(সদর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ্ সারোয়ার কবীর গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাশার ঘোষণা দেন।  এ সময় তিনি ও তার দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ থেকে তিনি আশাবাদী দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে সক্ষম হবেন।  

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার কবীর এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, তিনি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে গাইবান্ধা শহরের বিরাজমান উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে যানজট নিরসনকল্পে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, গাইবান্ধা কৃষি ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন, কামারজানি ও গিদারি ইউনিয়নকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষাকরণ প্রকল্প গ্রহণসহ ১৩ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, শাহ্ সারোয়ার কবীর বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদের নাতি।

অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা কর্মীরা এখন আশায় বুক বেঁধে আছেন। অনেক উত্থান পতনের মধ্যেও জেলা বিএনপির বেশ কিছু নেতা বিএনপির মূল ধারাকে আঁকড়ে ধরে আগামীদিনে দলের সম্ভাবনার আশায় বুক বেঁধে আছেন। এদের মধ্যে বর্তমান জেলা সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সেক্রেটারি মাহমুদুন্নবী টিটুল, সাবেক সভাপতি আনিছুজ্জামান খাঁন বাবু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল আলম সাজা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মোন্নাফ আলমগীর, সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সোনা, কাজিউল ইসলাম, আলমগীর সাদুল্যা দুদু, গাইবান্ধা জেলা বারের সাবেক সভাপতি সেকেন্দার আযম আনাম, খন্দকার আহাদ আহমেদ, রেজাউল হক, জেলা আইনজীবী ফোরামের সেক্রেটারি এড.মিজান,এড. হানিফ বেলাল সহ আরও অনেকে বেশ সক্রিয়।

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাবেক জেলা সভাপতি আনিছুজ্জামান খাঁন বাবু, এড. সেকেন্দার আযম আনাম, সাইফুল আলম সাজা, জেলা জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব খন্দকার আহাদ আহমেদ, এড.মিজান, এড. হানিফ বেলাল গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।

জেলা জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব ও স্বৈরাচার হটাও আন্দোলনের জি-৯ এর সদস্য খন্দকার আহাদ আহমেদ সম্প্রতি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এতে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনি গাইবান্ধা-২ সদর আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়া খন্দকার আহাদ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতৃবৃন্দের জোরালো সমর্থন পাবেন মর্মে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে সাফল্যলাভ করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে গাইবান্ধায় জাতীয় পার্টি থেকে ১১তম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে গাইবান্ধা-২ আসনে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি গাইবান্ধা আব্দুর রশিদ সরকার। গত নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েও  মহাজোটভুক্ত নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর অনুকূলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে তিনি পর পর তিনবার গাইবান্ধা-২(সদর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।
এছাড়াও জাসদের জেলা সভাপতি শাহ শরিফুল ইসলাম বাবলু, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ, বাসদের মঞ্জুর আলম মিঠু দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তাদের কর্মী ও সমর্থকরা জানিয়েছেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে গাইবান্ধা-৩)

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগে হাফডজন, বিএনপি জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক

শাহজাহান মিঞা, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরের অধিক সময় বাকি। এরই মধ্যে সারাদেশের ন্যায় সুন্দরগঞ্জেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া।  নির্বাচন ঘিরে দলকে সুসংগঠিত করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগরম।  এখনও পর্যন্ত কোনো দলই তাদের দলীয় মনোনয়ন ঠিক করেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।  

১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসন। উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন অন্তত হাফ ডজন আওয়ামী লীগ নেতা। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ, প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন আনন্দ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আফরুজা বারী, প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের সহধর্মিণী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, পৌর মেয়র ও ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা, জেলা আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভালবাসি সুন্দরগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাউল আলম রেজা এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও রুরাল প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্টাল অর্গানাইজেশন (আরপিডিও) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক নাদিম।

গত ২২ মার্চ জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ দৈনিক করতোয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড জনতার মাঝে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। এমপি নির্বাচিত হয়ে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ, ব্রিজ কালভার্ট, রাস্তা পাকাকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, নদীশাসন এবং তিস্তা ব্রিজ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছি। ফলে সাধারণ মানুষের সাথে একটা সুসস্পর্ক গড়ে ওঠেছে। সুতরাং দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জনসাধারণের সমর্থন আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে পাব বলে আমার বিশ^াস।

এদিকে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক পিপি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও হরিপুর ইউনিয়নের ৩ বারের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহসহ নবায়নের কার্যক্রমকে গতিশীল করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

অপরদিকে সরকারের সঙ্গে মহাজোটে থাকা জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ২ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর হলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ও উপজেলা জাপা সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তাকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টকশোতে দেখা যায়। জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেকজন হলেন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন। এছাড়াও জামায়াত নেতা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানা গেছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে গাইবান্ধা-২)

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে তৎপরতা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ জোটের, আর কেউ দলীয় মনোনয়নের আশায় কাজ করছেন। নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির জন্য দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সুযোগ পেলেই তারা ভোটারদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন, আর শুনাচ্ছেন তাদের উন্নয়ন-পরিকল্পনার কথা। সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে দোয়া চাইছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। দশম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল ওদুদ। নবম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হারুনুর রশিদ হারুনকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এর আগে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিনবার এই আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ হারুন।

জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে তেমন কোন সংকট না থাকলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে দ্বন্দ্ব। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে চারদলীয় জোটের প্রধান দুই শরিক দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। তাই এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন দাবি করছে জামায়াত। অন্যদিকে জামায়াতকে কোন ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোয়ননের জন্য একাধিক প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমান বেঞ্জু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

 সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ বেশ কিছুদিন ধরেই পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশ করছেন। তুলে ধরছেন গত কয়েক বছরের তার উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র। এমপি ওদুদদের সমর্থকদের দাবি, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আব্দুল ওদুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুর ওপর শেখ হাসিনা সেতু নির্মাণ, সদর হাসপাতালকে আড়াইশ’ শয্যায় উন্নীতকরণ, আমনুরা বাইপাসসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটের রেললাইন সংস্কার, চিফ জুডিসিয়াল আদালতের ভবন নির্মাণ, চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট নির্মাণসহ অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। তাই এবারও আব্দুল ওদুদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

 তবে তার বিরোধীরা বলছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং জামায়াত ও রাজাকারের সন্তানদের আওয়ামী লীগে ঢুকিয়ে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন আব্দুল ওদুদ এমপি। এই অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন তারা। আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী হলেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমান বেঞ্জু। তার পক্ষে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝোলানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। এছাড়া সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিনও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।


বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন সদর আসনের সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশিদ হারুন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দলের হারানো সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন তিনি। এছাড়া ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদও বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এর বাইরে ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো: নুরুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে বেশ তৎপর।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় তার ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা গেছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম সোনা মনোনয়ন চাইবেন বলে পার্টি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের তৎপরতা এখনও নেই বললেই চলে। তবে জাসদ (ইনু-শিরিন) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির জানান, আগামী মাসে সভা করে তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে গাইবান্ধা-১)

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি

আবদুল্লাহ আল মামুন নাহিদ, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৮ জন এবং বিএনপির ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকায় দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের  যুগ্মসম্পাদক গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, ৯ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউর রহমান, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার, নাচোল উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান ও নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, বেসিক ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, ভোলাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. আশরাফুল ইসলাম চুনু, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের নেতা ড. অজিত দাস, গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বাচ্চু।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ আমিনুল ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল্লাহ আহমদ ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এড. নুরুল ইসলাম সেন্টু। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। এলাকায় বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড নেই। জাতীয় পার্টির কোন মনোনয়ন প্রত্যাশীর কথা শোনাও যায়নি।

নিবন্ধন না থাকায় জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াহ্ইয়া খালেদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস সম্প্রতি এলাকায় উঠান বৈঠক, সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের লিফলেট বিতরণ ও নাচোল উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান  ও নাচোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাউকে এলাকায় এখনও সেভাবে নির্বাচনী গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেউ কেউ এ জন্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা

এ কে এস রোকন, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনও প্রায় এক বছর বাকি। এই নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনেও বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরিতে কাজ করছে দলের হাইকমান্ড। আর দলের হাইকমান্ডের তালিকা প্রস্তুতি দেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও কেন্দ্রে যোগাযোগের পাশাপাশি গ্রামে-গঞ্জে নিজেদের মেলে ধরছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ)। এ আসনে প্রতিটি দলের দলীয় কাউন্সিলর বেশি হওয়ায় এ আসনের উপর নির্ভর করে জেলা কমিটির সভাপতি কে হবেন। সে সাথে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর।

বড় দুই দলের মনোনয়নকে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনও নেই কেন্দ্রের কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা। তবে সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, ভোটাররা তাদের বিবেচনায় এ আসনে কারা পেতে পারেন বড় দুই দলের মনোনয়ন তার হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দলের প্রতিটি আসনের নেতাকর্মীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ও ফেস্টুন সেঁটেছেন। কেউ কেউ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশও শুরু করে দিয়েছেন। সেসাথে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ভোটারদের কাছে গোপনে তাদের অবস্থানও জানান দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে বড় দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। তবে এ আসনে বিএনপির থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। শিবগঞ্জ আসনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও পল্লীবিদ্যুৎ আন্দোলনের নেতা গোলাম রাব্বানী, সাবেক এমপি ডা. মঈন উদ্দিন আহম্মেদ মন্টু ডাক্তারের ছেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলহাজ মো: এনামুল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী মাহতাব উদ্দিন, বর্তমান সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: জিল্লার রহমান। তবে সরকারের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আর পি ও) সংশোধন হলে সচিব জিল্লার রহমান মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে এআসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা শহিদুল হক হাইদারী শহিদ মিয়া, দুইবারের পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির হেলিম, রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
এই আসনে এবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবেন ডা. আলাউদ্দিন টিপু বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে কোন প্রকার প্রচার প্রচারণা নেই কোথাও।
বাম দলগুলো থেকে প্রার্থিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত কোন ঘোষণা আসেনি এখনও। তবে আজিজুর রহমান আজিজ নামে জাসদ (আম্বিয়া) গ্রুপের এক নেতা পোস্টার লাগিয়ে নিজেকে জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর জামায়াতের পক্ষ থেকে অনেক আগে থেকেই জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাওলানা মো: কেরামত আলীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ যদি জামায়াত পায় তবে তিনিই জামায়াতের প্রার্থী। জামায়াতের গণসংযোগ চোখে না পড়লেও ফেসবুকে তার পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২)

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক

মোঃ সাইফুর রহমান, বড়াইগ্রাম (নাটোর) : নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর এ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৪ আসন। নাটোর জেলার চারটি আসনের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ আসনটির গুরুত্ব অনেক। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন ও ভোটারদের সমর্থন লাভের আশায় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর সাথে। সর্বস্তরের জনগণের কাছে গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করে, দোয়া চেয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছেন তাদের প্রার্থিতার কথা।

ইতিমধ্যেই ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ও দোয়া চেয়ে উপজেলা দুইটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যানার, বিলবোর্ড ও পোস্টার টানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ।  তৃণমূল কর্মীদের মন জয় করতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তারা। এছাড়াও জোট ও দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আগাম যোগাযোগ রাখছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীর গণসংযোগ করতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত কে কোন দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪ আসনে বৃহত্তর দুটি রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে নতুন মুখ মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  

এ নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি এ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে যথাক্রমে  ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। নানা উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানে চাচ্ছেন দোয়া ও ভোট। হাত উঠিয়ে জনগণকে ওয়াদা করাচ্ছেন নৌকায় ভোট দেয়ার। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাক সরকার স্বৈরাচার আয়ুব খান ও ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে। নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জেল-জুলুমসহ নানাভাবে নির্যাতিতও  হয়েছেন তিনি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপর প্রার্থী হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো: সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। গণসংযোগে কমতি রাখছেন না তিনিও। অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও আর্থিক সহযোগিতা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। ডা. মো: সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বনপাড়া পৌরশহরের উপকন্ঠে ১৯৮৭ সালে একটি পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৮ সালে নাটোরের বড়াইগ্রামে জয় বাংলা সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন তৈরি করে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।

এছাড়া প্রচারণা চালাচ্ছেন নাটোর জেলা সে¦চ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ এড. রফিক উদ্দিন সরকারের পুত্র এড. আরিফুর রহমান সরকার আরিফ। বনপাড়া শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এদিকে গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও  পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ মোল্লা পূর্ব থেকেই বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময়, রমজান মাসে ইফতার পার্টিসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চালান প্রচারণা। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আহম্মদ আলী মোল্লাও।

এ আসনে বিএনপি থেকে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোজাম্মেল হক। তিনি আগামী নির্বাচনেও  বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে। এ আসনে আরও রয়েছেন সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো: আমিনুল হক। তাদের গণসংযোগও চলছে এ আসনে। এছাড়া বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল আজিজ।

জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য ও জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আবুল কাশেম সরকার। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া রয়েছেন নাটোর জেলা জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি ও শিল্পপতি মো: আলাউদ্দিন মৃধা। জাসদের একক প্রার্থী নাটোর জেলা জাসদ সেক্রেটারি ডি.এম.আলম। জামায়াতে ইসলামীর কোন তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। (আগামীকাল প্রকাশিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১)

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top