সন্ধ্যা ৬:৪১, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ধর্ম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশ থেকে এবারের হজযাত্রা শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে হজ নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।বিমানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানের বিশেষ ফ্লাইট চলবে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত।

আর ফিরতি ফ্লাইট ৬ সেপ্টেম্বর     থেকে শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। অন্য বছরের মত এবারও বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনস এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইনস অর্ধেক-অর্ধেক হজযাত্রী পরিবহন করবে। মেনন জানান, বিমান ১৭৭টি ডেডিকেটেড এবং ৩৩টি সিডিউল ফ্লাইটে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে।

 ১৬৯টি ডেডিকেটেড ও ৩০টি সিডিউল ফ্লাইটে বিমান সৌদি থেকে হজযাত্রীদের দেশে আনবে। আর সৌদি এয়ারলাইনস সবগুলো ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে বাকি ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। গত কয়েক বছরের মত এবারও আগেই জমজমের পানি বাংলাদেশে আনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা ফেরত এলে বিমানবন্দরে তাদের হাতে ওই পানি তুলে দেওয়া হবে।

 সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জনসহ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। মন্ত্রিসভা গত ৩০ জানুয়ারি যে হজ প্যাকেজ অনুমোদন করেছে তাতে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে প্যাকেজ- ১ এ এবার ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার সর্বনিম্ন খরচ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

পবিত্র হজের প্রাক নিবন্ধন শুরু

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখারের হাতে ফরম তুলে দিয়ে ২০১৭ সালের হজ কার্যক্রমের প্রাক নিবন্ধন কাজের উদ্বোধন করেছেন ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। রোববার বেলা চারটায় সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আগামী ফেব্র“য়ারির প্রথম দিন সৌদি আরবের সঙ্গে ২০১৭ সালের হজ চুক্তি সাক্ষর হবে। এরপরই বেসরকারি ভাবে হজে গমণেচ্ছুদের প্রাক নিবন্ধন শুরু হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্ম সচিব আব্দুল জলিল বলেন,  চুক্তির প্রাথমিক আলোচনার জন্য সৌদিআরব গিয়েছিলাম। তারা এ বছর পুরো ই- হজ্জ্ব পদ্ধতি চালু করতে চায়। এজন্য মার্চের মধ্যে তারা প্রাক নিবন্ধন শেষ করতে বলেছে। তাই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ আমরা সরকারি পর্যায়ে প্রাক নিবন্ধন করলাম।

প্রার্থনা করতে হবে শুধু আল্লাহর কাছে

আল্লাহ তাআলা সমগ্র বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি। ভালো-মন্দ, বাঁচা-মরা, সন্তান দান, হালাল রিজিক দান, চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের একচ্ছত্র মালিক তিনি। এজন্য দুনিয়া ও পরকালের সব চাওয়া-পাওয়ার আশা করতে হবে শুধু আল্লাহ তাআলার কাছে।

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করা যাবে না। কুরআনে অন্যের কাছে কোনো কিছু চাওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকা যাবে না, যে তোমার ভালো কারতে পারবে না আবার মন্দও করতে পারবে না। বস্তুত তুমিও যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের (অত্যাচারীদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সুরা ইউনুছ : আয়াত ১০৬)

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত দুনিয়াতে কোনো মানুষকে কোনো কিছু দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। তিনি তাঁর ক্ষমতা বর্ণনা করতে গিয়ে অন্য আয়াতে বলেন, ‘তিনি রাতকে দিনে প্রবিষ্ট করেন এবং দিনকে রাতে রূপান্তরিত করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। তিনিই আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, (এ বিশাল) সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়।’ (সুরা ফাতির : আয়াত ১৩)

মানুষের দুনিয়া ও পরকালের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু দেয়ার একচ্ছত্র মালিকই হচ্ছেন মহান আল্লাহ। তাই আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের কাছে চাওয়া মূলত তারই নির্ধারিত অধিকারে অন্যকে অহেতুক অংশীদার বানানোর সমান, যা মারাত্মক অপরাধ।

সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে কিছু চাওয়া, এমনকি কোনো নবি-রাসুলের কাছেও অহেতুক কোনো কিছু চাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময়ে একজন মুনাফিক ছিল। সে মুমিনদেরকে কষ্ট দিত। কেউ কেউ বললেন, চলুন আমরা রাসুলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এই মুনাফিক হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই ধরণের  মুক্তি আমার থেকে চাওয়া উচিত নয়, বরং তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে।’ (আত-তাবারানি)

ভাবনার বিষয়
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে সাধারণত মৃতব্যক্তি, অলী, পীর, মুরুব্বি, খাজাবাবা প্রমুখ ব্যক্তিদের কাছে দুনিয়া ও পরকালের সব কল্যাণ ও সফলতা চাওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। অথচ তা স্পষ্ট শিরকের অন্তর্ভূক্ত।

অথচ কুরআনুল কারিমে চাওয়ার পদ্ধতি বর্ণিত রয়েছে, ‘এবং তোমাদের রব (প্রতিপালক) বলেছেন, আমার কাছে চাও (প্রার্থনা কর); আমি তা কবুল করব বা তোমাদের দেব। (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)

পরিশেষে…
কুরআন সুন্নাহর ফয়সালা হলো- দুনিয়াতে ছোট থেকে বড় পর্যন্ত যত চাহিদাই রয়েছে, সবকিছুই চাইতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে। কোনো সৃষ্টির কাছে মানুষের কোনো কিছু চাওয়ার অর্থই হলো মহান আল্লাহ তাআলার অধিকার বা ক্ষমতাকে খর্ব করা।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক পথ ও মতের ওপর থেকে শিরকমুক্ত জীবন গঠন করে ফিতনা, শিরক ও কুফরমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করে বিশ্বনবির আদর্শ বাস্তবায়ন করাই ঈমানের দাবি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে কোনো চাওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। শুধুমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করার এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সবর অবলম্বনের উপকারিতা

আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিভিন্ন উপকার এবং ক্ষতি মধ্যে ফেলে পরীক্ষা করে থাকেন। কুরআন ও হাদিসে উপকারি কাজের নির্দেশের পাশাপাশি ক্ষতিমূলক কাজ থেকে বেঁচে থাকতে বিধি-নিষেধ রয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ মোতাবেক প্রতিটি কাজে সবর অবলম্বন জরুরি। কারণ সবরের রয়েছে অনেক উপকারিতা। সংক্ষেপে তা তুলে ধরা হলো-

সবরের উপকারিতা
১. কোনো কাজে সবর বা ধৈর্য ধারণ করলে কাজের শেষে খুশী ও আনন্দ লাভ হয়।
২. সবরকারী বা ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তি প্রত্যেকের নিকট সম্মান ও প্রশংসার ব্যক্তিতে পরিণত হয়। সবাই ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তির প্রশংসা করে।
৩. সবরকারী ব্যক্তি তাঁর ধৈর্যধারণর কারণে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করেন এবং পরকালের ধৈর্যের উত্তম বিনিময় লাভ করবেন।

পরিশেষে…
আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে প্রত্যেক মানুষের উচিত সবর অবলম্বন করা। এ কারণে ইসলামি চিন্তাবিদগণ বলেছেন, ‘সবর বা ধৈর্যের প্রাথমিক অবস্থা অত্যন্ত তিক্ত হলেও তাঁর ফলাফল হয় অনেক সুখ ও শান্তিময়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সব কাজে ধৈর্যের পরিচয় দেয়ার তাওফিক দান করুন। ইবাদত-বন্দেগিসহ সব কল্যাণের কাজে তাড়াহুড়া করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি

কুরআন এবং হাদিসে মানুষের ভালো-মন্দ বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। যা  মানুষকে অন্যায়-অনাচার থেকে হিফাজত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষ সামান্য ভুলের কারণে মারাত্মক অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়ে।

যে সব অন্যায়ের কারণে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের ময়দানে কারো সঙ্গে কথা বলবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর (মানুষের) সঙ্গে আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না। এমনকি তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতেও তাকবেন না। বরং তারা কঠিন আজাবে নিপতিত হবে। আর তা হলো-

বৃদ্ধাবস্থায় ব্যভিচার
এর মানে এই নয় যে, যৌবন কালে ব্যভিচার করা দোষণীয় নয়। বরং ব্যভিচার সর্বাবস্থায়ই মারাত্মক অপরাধ। কিন্তু বৃদ্ধাবস্থায় ব্যভিচারকারীদের প্রতি কঠোরতা অবলম্বনের কারণ হলো, বৃদ্ধাবস্থায় সাধারণত যৌনক্ষুধা নিবৃত থাকে এবং মৃত্যুর সময় সন্নিকটে বিধায় বৃদ্ধাবস্থায় কোনো ব্যক্তির ব্যভিচারের মতো গর্হিত কাজে কোনো ভাবেই কাম্য নয়। এ কারণেই তা সীমাহীন জঘন্য অন্যায় বলে পরিগণিত।

শাসকের মিথ্যা কথা বলা
মিথ্যা সব পাপের জননী। আর তাই মিথ্যা সবার জন্যই মারাত্মক অপরাধ। এখানে শাসকের কথা গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করার কারণ হলো, বাদশাহ বা শাসকগণতো কারো ভয়ে ভীত হওয়ার কথা নয় এবং কারো বাধ্যও নয়। ক্ষমতা ও প্রভাব থাকা সত্ত্বেও শাসকের মিথ্যা বলা সাধারণ মানুষ অপেক্ষা মারাত্মক অপরাধ। তাই সমাজের সব দায়িত্বশীলদেরকে মিথ্যা পরিহার করা জরুরি।

গরিবের অহংকার
বাদশাহ-ফকির, ধনী-গরিব, উঁচু-নীচু, ছোট-বড় সবার জন্যই অহংকার করা মারাত্মক অপরাধ। কিন্তু দরিদ্র মানুষের অহংকার করা বড়ই আশ্চর্যের বিষয়। কেননা গরিব মানুষের মধ্যে অংকারবোধ জাগ্রত হওয়ার কোনো কারণ থাকার কথা নয়। এ কারণে কোনো গরিব মানুষ যদি অহংকার করে বসে তা মারাত্মক অপরাধ।

পরিশেষে…
মানুষ যুবক হোক আর বৃদ্ধ হোক ব্যভিচার থেকে হিফাজত থাকা জরুরি। বিশেষ করে বৃদ্ধদের তা একেবারেই কাম্যনয়। আবার রাজা হোক আর প্রজা হোক মিথ্যা পরিহার করা আবশ্যক। বিশেষ করে যারা সমাজে মিথ্যার প্রচলন দূর করবে তাদের মিথ্যার আশ্রয়ে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঠিক এমনিভাবে ধনী হোক আর গরিব হোক অহংকার থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ব্যভিচার, মিথ্যা এবং অহংকারের মতো মারাত্মক অন্যায় থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত তিনটি বিষয় থেকে বিরত থেকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নেক দৃষ্টি এবং দয়া লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দুনিয়া ও পরকালে কল্যাণ কামনার সর্বোত্তম দোয়া

জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা হজ সম্পাদনের পর একত্রিত হতো এবং নিজেদের পূর্ব পুরুষদের গৌরবের কথাবার্তা এবং বংশীয় মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনায় মেতে ওঠতো। অতপর আল্লাহ তাআলা মানুষদেরকে হজ পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্মরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

তাদের মধ্যে অনেকে দুনিয়ার কল্যাণ কামনা করতো আর পরকাল সম্পর্কে বেখবর থাকতো। যেহেতু তারা পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো না। আর এ কারণেই তাদের জন্য পরকালে কল্যাণের কোনো অংশ নেই।

পক্ষান্তরে যারা পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো অর্থাৎ যারা ইসলামের অনুসারী তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেন। একজন মুসলমান কিভাবে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনা করবে তা শিক্ষা দানের জন্য এ আয়াতে নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

qruan-inner20161218113158

আয়াতের অনুবাদ

qruan-inner-120161218113223

আয়াত পরিচিতি ও নাজিলের কারণ
সুরা বাকারার ২০১-২০২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের কল্যাণ কামনা সর্বোত্তম দোয়া শিক্ষা দান করেছেন। এ আয়াতটি হলো দুনিয়াতে মুসলমানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া।

যারা পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে তথা মুসলমানগণ আল্লাহ তাআলার কাছে এভাবে প্রার্থনা করে যে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দান কর অর্থাৎ তোমার ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান কর; তোমার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ দান কর।

এবং পরকালের কল্যাণ দান কর অর্থাৎ নেক আমলের মাধ্যমে সাওয়াব লাভ; আল্লাহ তাআলার অনন্ত অসীম রহমত এবং চিরস্থায়ী শান্তির প্রাণকেন্দ্র জান্নাত দান কর; দোজখের কঠোর শাস্তি থেকে হিফাজত কর।

যারা এ আয়াতের মাধ্যমে এভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করে নিঃসন্দেহে তারা পরকালের চিরস্থায়ী জীবনে সব ধরনের কল্যাণ লাভে ধন্য হবে।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে, ‘দুনিয়ার জীবনের কল্যাণ হলো- সুস্বাস্থ্য, আরাম, বাড়ি-ঘর, স্ত্রী-পুত্র-পরিবার, ইলম ও আমল, উত্তম যানবাহন, চাকর-চাকরানি এবং মান-সম্মান ইত্যাদি।

আর পরকালীন জীবনে কল্যাণ হলো- কিয়ামত দিবসের হিসাব সহজ হওয়া, কিয়ামতের কঠিন দিনের ভয়-ভীতি থেকে নাজাত পাওয়া, ডান হাতে আমলনামা পাওয়া, আল্লাহর নিয়ামত লাভে আনন্দিত হওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা।

আর দোজখ থেকে পানাহ চাওয়ার অর্থ হলো- আল্লাহ তাআলা এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেবেন যা দ্বারা যাবতীয় অন্যায় ও অবৈধ কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব হয়।

আর আল্লাহ তাআলা ২০২ নং আয়াতে দুনিয়ার কার্যক্রম অনুযায়ী প্রতিদান প্রদানের ওয়াদা করেছেন। দুনিয়াতে যে যেমন কল্যাণ কামনা করবে; আল্লাহ তাআলা মানুষকে সে অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হজের সময় দোয়ার মাধ্যমে যে আমল) তারা যা অর্জন করেছে (তা দ্বারা) তার প্রাপ্য অংশ অর্থাৎ (প্রতিদান) তাদেরই। বস্তুত আল্লাহ তাআলা হিসাব গ্রহণে অতি দ্রুত।

পড়ুন- সুরা বাকারার ২০০ নং আয়াত

পরিষেশে…
পরকালের সফলতার লাভের কর্মস্থল হলো এ দুনিয়া। তাই দুনিয়ার এ জীবনেই অর্জন করতে হবে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সম্বল। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এ আয়াতের মাধ্যমে দুনিয়া উত্তম কর্মের মাধ্যমে পরকালের শান্তিময় ফলাফল লাভের জন্য সর্বোত্তম দোয়া ও কর্মপন্থা ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সুনিশ্চিত, অবশ্যম্ভাবী ও অনিবার্য সফলতা লাভের তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সর্বোত্তম দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনায় নিজেদের নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। কুরআনের বিধান যথাযথ পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

পরকালে মুমিন বান্দার পুরষ্কার

মানুষের জন্য সত্য ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। সত্য ও পরিপূর্ণ এ জীবন ব্যবস্থা হলো আল-কুরআনুল কারিম এবং বিশ্বনবির আদর্শ।

যারা কুরআনের বিধান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়নে একনিষ্ঠ ও আন্তরিক; তারাই আল্লাহ তাআলার দরবারে মুমিন হিসেবে পরিগণিত।

মুমিন বান্দারাই কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের ওপর আমল করবে; তাঁর দেখানো পথে এবং মতের ভিত্তিতে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করবে। এ কারণেই তারা দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভ করবে।

কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য জায়গায় মুমিন বান্দার পরকালীন জীবনের সুখ ও শান্তির বিষদ বর্ণনা রয়েছে। পরকালের কঠিন সময়ে ব্যাপারে তাঁদেরকে অভয় দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ আজকের দিনে তোমাদের কোনো ভয় নেই, তোমরা চিন্তিতও হবে না। যারা আমার আয়াতসমূহে (কুরআনের ওপর) বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি)। তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে জান্নাতের প্রবেশ কর। (সুরা যুখরুফ : আয়াত ৬৮-৭০)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিধানের বাস্তবায়ন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন। এবং যারা এ আয়াতের নির্দেশ যথাযথ বাস্তবায়ন করবে তারাই হবে সফলকাম। চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিবাসীও হবে তারা।

জান্নাতের শান্তি এবং নিয়ামত শুধামাত্র আল্লাহ আল্লাহর নির্দেশ পালনকারীদের জন্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই সে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন। যাতে মানুষ আল্লাহর বিধান পালনে গাফলতি না করে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাতের বিবরণ দান করুন। তখনি তিনি  বর্ণনা করেন, জান্নাতের একটি ইট স্বর্ণের, আর একটি রৌপ্যের, কংকর হবে মুক্তার, জাফরানের মাটি, কস্তুরির গারা। যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সর্বদা আনন্দ-উল্লাসে মাতোয়ারা থাকবে। বেহেশতে কেউ চিন্তিত হবে না, কোনো দিনও মৃত্য আসবে না। পোশাক-পরিচ্ছদ পুরনো হবে না, কোনো দিন বৃদ্ধকাল আসবে না। জান্নাতে দুধ, পানি, মধুর নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে। বেহেশতবাসীগণ যা চাইবে সঙ্গে সঙ্গে তা পাবে।’

পরিশেষে…
কুরআনের বিধান পালনকারী ব্যক্তিরাই পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সফলতা লাভকারী হিসেবে ধন্য হবে। তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামত, ভোগ-বিলাস এবং আল্লাহর দিদার লাভের অফুরন্ত সুযোগ। এ সব নিয়ামত লাভে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের বিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। মুমিন বান্দা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে চিরস্থায়ী আবাসস্থল জান্নাত লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।



Go Top