সকাল ১১:০৩, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রংপুর

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : এবার নিখোঁজের ১১ দিন পর গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাইদুল ইসলাম প্রিন্স ও যুবদল নেতা শফিউল ইসলাম শাপলা নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের দু’জনকে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি এলাকা থেকে পরিবারের লোকজন তাদের মাইক্রোবাসে করে বাড়ি নিয়ে আসেন।

 শনিবার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন তাদের দু’জনের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার হওয়া প্রিন্স ও শাপলা বলেন, শুক্রবার রাতে তাদের দুজনকে খোলাহাটি এলাকায় রেখে যায় কয়েকজন। এরপর তারা বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানান। তবে কারা তাদের ধরে নিয়ে গেছেন এবং ১১ দিন তারা কোথায় ছিলেন তা জানতে পারেননি। এমনকি যারা তাদের আটক করে রেখেছিলেন তাদেরও চিনতে পারেননি।
সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, ৪ নেতা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। এরপর বিভিন্নভাবে তাদের উদ্ধারে তৎপর ছিল পুলিশ। অবশেষে দুজন অত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। এর আগেও নিখোঁজ যুবলীগ নেতা জিম মন্ডল ও ছাত্রলীগ নেতা সাদেক অত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নলডাঙ্গা রেলগেট থেকে প্রিন্সকে ও কাচারীবাজার এলাকা থেকে শাপলাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের প থেকে সাদুল্যাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগের দিন ৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোয়ারুল হাসান জিম ও দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেকও নলডাঙ্গা যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের তুলে নিয়ে যায়।

 

 

এমপি লিটন হত্যা জামায়াত নেতার ছেলেসহ দুইজন ঢাকায় গ্রেফতার

গাইবান্ধার ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা থেকে দুইজনকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে, যাদের একজন সুন্দরগঞ্জের এক জামায়াত নেতার ছেলে। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান,  বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে ওই দুইজনকে তারা গ্রেফতার করেন। এরা হলেন- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির (পশ্চিম) হাজি ইউনূসের ছেলে আশরাফুল ও তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম।

তাদের সাংসদ লিটন হত্যার ঘটনার ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে বর্ণনা করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, দুইজনকে সুন্দরগঞ্জে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহবাজ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হয় সাংসদ লিটনকে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৪/৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। লিটন হত্যার ঘটনায় এর আগে দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূর্ব অঞ্চলের জামায়াত আমীর সাইফুল ইসলাম মন্ডলও রয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল এমডির বিরুদ্ধে কেন মামলা নয়: হাই কোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাই কোর্ট। ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এই রুল জারি করে। স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারী সুপ্রকাশ দত্ত নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

সুপ্রকাশ দত্ত পরে বলেন, কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে ওই কার্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দিতে হবে। গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জন্য  অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর কোন আইনে ও ক্ষমতাবলে আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। রেজিস্ট্রি ডাকে ওই নোটিস পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী জবাব না পেয়ে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন বলে জানান সুপ্রকাশ। তার নোটিসে বলা হয়েছিল, ‘গতবছর ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে, সাঁওতালদের হত্যা করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিন্তু ৮ নভে¤॥^র থেকে আপনি (চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) উচ্ছেদকৃত এলাকায় ট্রাক্টর চালিয়ে ঘটনার আলামত নষ্ট করেছেন। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আলামত সংরক্ষণ ও আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু আপনি এবং অন্য কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন এলাকা থেকে আলামত অদৃশ্য করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এটা দ-বিধি ২০১ ধারায় ফৌজদারি অপরাধ।’ সেদিন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। ওই ঘটনায় আরও দুটি রিট আবেদন হয়, যা হাই কোর্টে বিচারাধীন।

ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার এসপি, তদন্তের সময় বৃদ্ধি

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় গুলির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশে সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ বলায় হাই কোর্টের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম। বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত কিনা এবং কারা ওই ঘটনায় দায়ী- তা তদন্তে আরও ২০ দিন সময় পেয়েছেন গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এ আদেশ দেয়।

রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ গত বছর ৬ নভে¤॥^র তাদের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনজন, আহত হন অনেকে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে গাইবান্ধায় দুটি মামলা করা হয়। আর হাই কোর্টে হয় দুটি রিট আবেদন। ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, মুখ্য বিচারিক হাকিম রোববার হাই কোর্টের কাছে আরও এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাই কোর্ট তাকে আরও ২০ দিন সময় দিয়ে ৩১ জানুয়ারির মধ্যের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। সাজু বলেন, গাইবান্ধার এসপি আদালতে হাজির হয়ে ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ শব্দ ব্যবহারের জন্য ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। বিচারক তাকে সতর্ক করে দিয়ে এবারের মত রেহাই দিয়েছেন।

শ্রদ্ধা জানাতে শোকার্ত মানুষের ভিড় এমপি লিটন হত্যা : চারদিনেও ক্লু পায়নি পুলিশ

গাইবান্ধা জেলা ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো: মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় হত্যার পর থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ২৭ জনকে আটক করে। তাদের সুন্দরগঞ্জ থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে চারদিনেও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পাঁচ যুবককে শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারসহ কোনো ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীসহ সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে কি ধরনের অস্ত্র (পিস্তল) ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তাও এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা দুটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা বলেন, সুন্দরগঞ্জ জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। এখানে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বামনডাঙ্গা ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এছাড়া লিটন ছাত্রলীগ করার সময় গোলাম আযমকে সুন্দরগঞ্জে ঢুকতে দেননি। এ নিয়ে জামায়াত-শিবিরের সাথে তার একটা বড় জের ছিল। জামায়াত-শিবির পূর্বপরিকল্পিতভাবে লিটনকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, লিটন হত্যার চারদিনেও হত্যার ক্লু ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, হত্যার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম হত্যাকারীদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যায় অংশ নেয়া পাঁচজনকে শনাক্ত ও মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তার আলামত হিসেবে গুলির খোসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে হত্যাকারীরা। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটনে বেশ কয়েকভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে আশা করি, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও সঠিক রহস্য উন্মোচন হবে।

সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামের নিহত এমপি লিটনের যে বাড়িটি কর্মী সমর্থকদের আনা গোনায় এক সময় মুখর হয়ে থাকতো। সেই বাড়িটির  সুনসান নিরবতার মাঝেও এমপি লিটনের কবর জিয়ারত করতে এবং তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের ভীড় বাড়ছে। গোটা বাড়িতেই পুলিশ ও র‌্যাবের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে বাড়ছে ছুটে আসা ভক্ত অনুরক্তের আহাজারি। গতকাল মঙ্গলবার এক শোকাবহ পরিবেশেই শোকে মুহ্যমান অসুস্থ স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি সাংবাদিকদের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তার বিবরণ তুলে ধরেন।

স্মৃতি জানান, বিগত ১৯৯৮ সালের ২৬ জুন সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবি¬উ ডিগ্রি কলেজ মাঠে জামায়াত-শিবির আয়োজিত জনসভায় গোলাম আজমের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। সেসময় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এই সভা পন্ড করে দিতে  মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ লিটন তার বন্দুক হাতে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ওই জনসভায় প্রবেশ করে গোলাম আজমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এতে জনসভাটি পন্ড হয়ে যায়। ফলে সেই থেকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী লিটনকে যেকোন মূল্যে হত্যার টার্গেট করে রেখেছিল। সেসময় তার গুলিতে আহত জামায়াতের ফতেখাঁ গ্রামের ক্যাডার হেফজসহ আরও দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডাররা লিটনকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে এবং মোবাইলে করে দীর্ঘদিন থেকেই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। লিটনকে ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় গুলি করে এই নির্মম হত্যা তারই জের বলে উল্লে¬খ করে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ওই গোলাম আজমের জামায়াত-শিবিরের খুনিরাই তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি মর্মান্তিক এই হত্যার বিচার চান এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

লিটনকে নিরস্ত্র করায় : ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে শিশু শাহাদত হোসেন সৌরভকে গুলি ছোঁড়ার একটি পরিকল্পিত মিথ্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি লিটনের লাইসেন্সকৃত রিভলবার ও শর্টগান জব্দ করে নেয়া হয়। খুনি জামায়াত-শিবির চক্র জানতো তার বাড়িতে তাদের প্রতিরোধ করার মত কোন অস্ত্র নেই। সেই সুযোগে তারা বাড়িতে এসে পরিকল্পিতভাবে খুনিরা তাকে হত্যা করতে সাহসী হয় বলে লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি জানান।

এমপি শ্যালক বেদারুলের বর্ণনা : ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এমপির শ্যালক সৈয়দ বেদারুল ইসলাম বেতার গতকাল সাংবাদিকদের কাছে তার মর্মস্পশী বর্ণনা দিয়ে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে দু’জন খুনি লিটনের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে তার সাথে ঘরে ঢোকেন তারা গিয়ে সামনের সোফায় বসে পড়েন। খুনি দু’জনার মুখ খোলা থাকলেও মাথা ও কান মাফলারে ঢাকা ছিল এবং তাদের পরণে ছিল কালো জ্যাকেট ও কালো প্যান্ট। তারা বহিরাগত ছিল না, কারণ তারা গাইবান্ধা এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

লিটন হত্যায় আটক আরও ৩ : লিটন হত্যা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার আরও ৩ জনকে আটক করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে চারদিনে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজের বের করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্যাকিং করে নানা তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।

কবর জিয়ারতে কাদের সিদ্দিকীর ক্ষোভ : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গতকাল মঙ্গলবার তার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এসে এমপি লিটনের কবর জিয়ারত করেন। পরে লিটনের স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ আর্ত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ক্ষোভমিশ্রিত কন্ঠে বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মত সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য যদি তার নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অথচ সরকার বলছেন, দেশে কোন সমস্যা নেই, অশান্তি নেই, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নাকি অনেক উন্নত। তিনি এই নির্মম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে ন্যায্য বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ : এমপি লিটন হত্যার প্রতিবাদের গাইবান্ধা শহর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ-শামস-উল-আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। এদিকে সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। পরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে এক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সুন্দরগঞ্জ ডি ডাব্লি¬উ ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে এক শোক সভা মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় অধ্যক্ষ এ.কে.এ.এম. হাবিব সরকার সভাপতিত্ব করেন।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন শনিবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে আশংকাজনক অবস্থায় দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ৭টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার

সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুস্কৃতিকারী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলাম।

সোমবার (০২ জানুয়ারি) বিচারপতির মৃত্যুতে আদালত বন্ধ থাকায় তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার‌্যালয়ে হাজিরা দেন। এ সময় তিনি একটি লিখিত আবেদনও দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, গাইবান্ধার এসপি ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে ছুটি ঘোষণা করায় তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার‌্যালয়ে হাজিরা দেন। তার হাজিরার বিষয়টি আদালতকে অবগত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের যে বেঞ্চ এসপিকে তলব করেছিলেন, সে বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তিত হয়েছে। বিষয়টি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি এখন নতুন বেঞ্চে পাঠাবেন। গত বছরের ০৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে কলের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে।

পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে রিট দায়ের করা হয়। এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ১৭ নভেম্বর সাঁওতালদের ধান কাটার সুযোগ দিতে অথবা ধান কেটে সাঁওতালদের বুঝিয়ে দিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাঁওতালদের অবাধে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় ক’টি মামলা হয়েছে, কারা কারা আসামি রয়েছেন, সে বিষয়ে ৩০ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলে গাইবান্ধার এসপি ও ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রতিবেদন দাখিল করেন। জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুস্কৃতিকারী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি দেখে আদালত ডিসিকে তলব করেন। ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। আদালত ডিসিকে অব্যাহতি দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু আদালতে তিনি বলেছেন, এসপির দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্যমতে তিনি এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এরপর গাইবান্ধার এসপিকে তলব করেন হাইকোর্ট।

নির্ধারিত জায়গায়ই পুনর্বাসনের দাবি * কাদেরের সাথে সাঁওতালদের বৈঠক


স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তিগ্রস্ত সাঁওতালদের ভূমি অধিকারের দাবিসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সাঁওতালরা তাদের নির্ধারিত জায়গায়ই পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জের নির্যাতিত ও তিগ্রস্ত সাঁওতালদের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সাঁওতালদের পে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ররীন্দ্রনাথ সরেন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাস্কে’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবির কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত

একঘণ্টা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ত্রাণ ও সমাজক্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সরকার সাঁওতালদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প থেকে পদপে নেওয়া হয়েছে। তাদের সমস্যার কথা আমাদের সাধারণ সম্পাদক শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠক শেষে আদিবাসী নেতা রবিন্দ্রনাথ সরেনের কাছে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বলেছি
 
সাঁওতালরা তাদের জমি ফিরে পেতে চান। যেখানে যার জমি ছিলো সেখানেই জমি ফিরিয়ে দিয়ে তাকে পুনর্বাসন করতে হবে। দূরে কোথাও তারা যাবেন না। তাছাড়া এই সাঁওতালরা গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতে অভ্যস্ত নয়। সাঁওতালদের নামে ৪টা মামলা আছে। ১টি জামিন হয়েছে, বাকি ৩টিতে জামিন দিতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু আমরা তখনই স্বস্তি পাবো যখন দেখবো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে, মামলা জামিন দেওয়া হয়েছে।

 

দাশিয়ার ছড়ায় দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাশিয়ার ছড়ার দুস্থ নারীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ভিজিডি কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি ১ হাজার ৮৬৯ জন ছিটমহলবাসীদের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার মো তবারক উল্ল্যাহ ও ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্রনাথ উড়াও প্রমুখ।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের পর এই প্রথম বিলুপ্ত ছিটমহলের ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সের প্রত্যেক পরিবারের নারী সদস্যদের মাঝে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় দুই বছর মেয়াদে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবেন সুবিধা ভোগীরা।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও এসময় বক্তব্য রাখেন।

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের এমডিকে প্রত্যাহার

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এসএম আব্দুর রশিদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মিলের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুল মজিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ সুগার করপোরেশনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জানা যায়, সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর মেয়েকে বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দেওয়ার কথা বলে গত ৭ নভেম্বর চিনিকলের মুর্শিদহাট খামারে আসতে বলেন। সেখানে গেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে বিষয়টি বোচাগঞ্জ থানায় অভিযোগ করলেও মামলা না নেওয়ায় ওই মেয়ে দিনাজপুর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এমডি’র বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমেদ মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে সুগার মিলের কর্মকর্তারা। এ সময় ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের বাধ্য করা হয়। এর প্রতিবাদে মাইক, ব্যানার ভাঙচুরসহ শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় এক কর্মকর্তাসহ তিনজন আহত হয়। পরে শ্রমিক-কর্মচারীরা অভিযুক্ত এমডির কার্যালয় ভাঙচুর করে তাকে মিল থেকে বের করে দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে এমডিকে তার বাসভবনে অবরুদ্ধ করে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমডিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘পরিকল্পিতভাবে সাঁওতালদের ওপর গুলি ও বাড়িঘরে আগুন দেয় পুলিশ-র‌্যাব’

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে গত ৬ নভেম্বর দুপুরে আখ কাটা নিয়ে সাঁওতালদের সঙ্গে পুলিশ ও মিল কর্মচারীদের সংঘর্ষের পর পরিকল্পিতভাবে সাঁওতালদের ওপর হামলা চালায় প্রশাসন। ওই দিন রাতে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের ওপর গুলি চালায় ও বাড়িঘরে আগুন দেয়। এতে তিন সাঁওতাল মারা যান। শত শত সাঁওতাল পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সাঁওতাল পল্লী মাদারপুর চার্চ মাঠে গণশুনানিতে সাঁওতালদের পক্ষে বারনাবাস টুডু, রাফায়েল হাসদা,  রিনা মাইতি, কৃষ্ণ মুরমু, ববিতা মুরমু ও ভেরজুলিও হেমভ্রম এভাবে ঘটনার বর্ণনা করেন।

সাঁওতালরা ১৯৫৫ সালে তাদের পূর্ব পুরুষের ঘরবাড়ি ভেঙে ১ হাজার ৮৪২ দশমিক ৩০ একর জমি দখল প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ, হত্যা ও হামলার ঘটনায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এ গণশুনানির আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে সাঁওতালরা ঘণ্টাব্যাপী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। গণশুনানি পরিচালনা করেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক বিচারপতি শামছুল হুদা।

এর আগে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে সাবেক বিচারপতি শামছুল হুদা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বায়েজিদ আব্বাস, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরীসহ ১৮ সদস্যের দলটি সাঁওতাল পল্লী ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গণশুনানিতে সাঁওতালরা জানান, তাদের বাপ-দাদাদের জমি চিনিকল যখন নিয়ে নেয় তখন শুধুমাত্র জমিতে থাকা ফসলের মূল্য বাবদ টাকা দেওয়া হয়। জমির কোনও মূল্য দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের কাগজপত্র করা হয়। জমিতে চিনিকলের জন্য আখ চাষ ছাড়া অন্য কোনও ফসল চাষ করা হলে জমি মূল মালিকদের ফেরত দেওয়া হবে বলে সেসময় চুক্তিপত্রে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০০৪ সালে চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যাবার পর স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের জমিগুলো লিজ দেওয়া হয়। যেখানে ধান, ভুট্টা, আলু, তামাক, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা হতো। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ মিলের জমিতে ৯টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন।

তারা আরও জানান, এমন পরিস্থিতিতে ওই জমির মালিকানা ফিরে পেতে তারা আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন। যাতে এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল আহম্মেদ বুলবুলের ইন্ধনও ছিল। বুলবুল ভূমি উদ্ধার কমিটির সভাপতি হয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার সভা করে আন্দোলনের খরচ ও কাগজপত্রের কথা বলে পরিবার প্রতি দেড় থেকে দুইশত টাকা করে চাঁদাও তোলেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বুলবুল আন্দোলন থেকে সরে পড়েন।

তারা বলেন, তাদের জমি ছাড়ার জন্য পূর্বে কোনও রকম নোটিশ দেওয়া হয়নি। উচ্ছেদের পর এখন পর্যন্ত শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাঁওতালদের দাবি, ১৯৪০ সালের রেকর্ড অনুযায়ী তাদের বাপ-দাদার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

গণশুনানিতে সাঁওতালরা দাবি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বেআইনিভাবে উচ্ছেদে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেইসঙ্গে তারা আরও  বলেন, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি ছাড়া সরকারি খাস জমিতে তাদের পুনর্বাসন করার উদ্যোগ মেনে নেবে না।

শুনানি শেষে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘অধিগ্রহণ করা জমি অন্য কাউকে লিজ দেওয়ার অধিকার চিনিকল কর্তৃপক্ষের নেই।’

ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রয়োজনে আমরা আইনগত সহায়তা দেব। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে পরিচালিত গনশুনানির রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে আপনাদের দাবি উপস্থাপন করা হবে।’

কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল বলেন, সাঁওতালদের পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরনের ব্যবস্থা এবং সাঁওতালদের নির্যাতন, হত্যা, লুট ও গুলির ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। জমির অধিকার ফিরে পাবার আন্দোলনে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি তাদের সঙ্গে থাকবে বলে তিনি সাঁওতালদের আশ্বস্ত করেন। পরে সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা ও কম্বল বিতরণ করা হয়।

এদিকে, গত রবিবারে এক সংবাদ সম্মেলনে গাইবান্ধা জেলা প্রসাশক মো. আব্দুস সামাদ জানান, চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি সাঁওতালদের ফেরত পাবার কোনও সুযোগ নেই। কারণ সেসময় সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েই জমিগুলো অধিগ্রহণ করেছিল। আদিবাসীদের পক্ষে আদালতের নির্দেশনা পেলেই শুধু এর ব্যাতিক্রম সম্ভব। তারা রাজি হলে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের ১৪.২৬ একর জায়গায় আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন সাঁওতালদের পুনর্বাসন করা যাবে।

এদিকে, ইক্ষু খামারের জমিতে সাঁওতালদের রোপন করা আমন ধান কাটার সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত করেনি সাঁওতালরা। তবে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ, পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম ও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল জমিগুলো পরিদর্শন করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, পরিমাপ করে দেখা গেছে ৪৫ দশমিক ৫০ একর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। হাইকোর্ট ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ধানকাটার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই আদেশের একটি অংশে বলা হয়েছে ‘অধিগ্রহণকৃত জমিতে সাঁওতাল জনগোষ্ঠি যে ধান চাষ করেছে, সে ধান সংগ্রহে তাদের সুযোগ দিতে হবে’। অপরাংশে বলা হয়েছে ‘যদি প্রথমটি সম্ভব না হয় তাহলে সুগারমিল কর্তৃপক্ষ এ ধান সংগ্রহ করবে এবং সম্পৃক্ত সাঁওতাল জনগোষ্ঠির কাছে তা হস্তান্তর করবে’। নির্দেশনা অনুযায়ী সাঁওতালরা যদি ধান সংগ্রহ না করে তবে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ ধান কেটে তাদের বুঝিয়ে দেবে।

কাটা ধান বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ধান যদি কোনও সমিতির মাধ্যমে চাষ করা হয় সে ক্ষেত্রে সমিতিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সমিতি না চাইলে যারা ধান চাষ করেছে তালিকা অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে তাদের ধান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেটাও সম্ভব না হলে স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে। এ পর্যায়েও যদি বিষয়টি নিস্পত্তি সম্ভব না হয়, তবে ধান শুকিয়ে খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে। এ বিষয়ে আদালত পরবর্তীতে যে নির্দেশনা দেবেন তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও সাঁওতাল পল্লী মাদারপুরের গ্রাম প্রধান বার্নাবাস টুডু ও ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে জানান, কমিটির নামে সংঘবদ্ধভাবে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ধান কাটা হবে। তবে ধান কাটার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সিদ্ধান্ত নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে অতি সত্তর জানানো হবে।

উল্লেখ্য, উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতাল পরিবারগুলোকে মঙ্গলবারও মাদারপুর মিশন গীর্জা সংলগ্ন খোলা মাঠ, গাছ-গাছালির আড়ালে এবং পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ হন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন চার সাঁওতাল। নিহত হন আরও তিন সাঁওতাল। পরবর্তীতে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ সময় তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে মালামাল লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যাণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩/৪শ’ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।  এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নীলফামারীতে রোপা আমন ধানের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার কৃষকরা আগের সব লোকসান কাটিয়ে লাভের আশা করছেন। তাইতো কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।

সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া (সরকার পাড়া) গ্রামের কৃষক মো. বাবুল হোসেন ১৫ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। ফসলও বেশ ভালো হয়েছে। তাইতো হাসি মুখেই বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ধান আবাদ করে চরম লোকসান হচ্ছিল। এবার বাজারও ভালো, আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। সবকিছু মিলে লোকসান হবে না। এ মৌসুমে ঘরে আসবে অতিরিক্ত মুনাফা।’

তিনি বলেন, আরও প্রায় তিনদিন সময় লাগবে ধান কাটতে। এরপর শুরু হবে ধান মাড়াইয়ের কাজ। বাবুলের মতো জেলায় অনেক কৃষক এবার চলতি মৌসুমে লাভের আশা করছেন।

উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের দোনদরি গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় মুসা চৌধুরী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বীজ তলা থেকে শুরু করে ধান কাটা পর্যন্ত বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এবার আশা করছি ধানের ফলন পাওয়া যাবে বিঘা প্রতি প্রায় ১২ মণ পর্যন্ত। এতে বর্তমান বাজার মূল্যে মণ প্রতি বিক্রি হবে এক হাজার ৩৫০ থেকে ১৪০০টাকা। হিসাব অনুযায়ী বিঘা প্রতি প্রায় লাভ হবে ১২ হাজার সাতশ টাকা। তিনি বলেন, নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠবে মন। ধান বিক্রি করে ছেলে মেয়ের নতুন জামা,জুতা, বই,খাতা, কলমসহ নবান্যের উৎসবে মেতে উঠবে গ্রামের কৃষক।

জেলা সদরের টুপামারী, রামনগর, কচুকাটা, কুন্দুপুকুর, পলাশবাড়ী. লক্ষিচাপ, পঞ্চপুকুর  ও চড়াইখোলা ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটার এমন চিত্র। শ্রমিকরা ধানের বোঝা নিয়ে দলে-দলে ফিরছেন জমির মালিকের বাড়ির বাড়িতে।

তবে টুপামারী ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের ধান কৃষক খোকন বলেন, শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতেও মিলছে না গ্রামে লোক। অনেকে বাধ্য হয়ে ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

জেলা সদরসহ ছয় উপজেলায় ছোটখাটো গার্মেন্টস কারখানা, শিল্প কলকারখানা ও নানা কাজ করছেন শ্রমিকরা। ফলে শ্রমিকের সংকট বেড়েছে।

 

১২ জনের শ্রমিক দল করে ধান কাটছেন নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের ভাঙ্গা মাল্লি এলকায়। ওই দলের দলনেতা আতিকুল ইসলাম শ্রমিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছি আমরা। গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কেউ শহরে রিকশা চালাচ্ছেন। আবার কেউ জেলার বাইরে বিভিন্ন কাজ করছেন। তাই শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে।’

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণে অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে জেলায়। কৃষকরা এবার লাভেরও মুখ দেখবেন এমনটাই আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তরা।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (ডিডি) গোলাম ইদ্রিস জানান, জেলায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবহাওয়া ভালো থাকায় ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়।

তিনি বলেন, গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এবারে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে জেলায় শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকের ঘরে ধান তুলতে বেশ বেগ পেতে হবে।

এই সংকট উত্তরণের জন্য জেলা ও উপজেলার মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ধান কাটার জন্য রিপার মেশিন এবং ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কম্ববাইন্ড হারবেস্টার মেশিন দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এতে সময় কম লাগবে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা।

সাদুল্লাপুরে মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সুনিল চন্দ্র দাস (৪০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত সুনিল চন্দ্র দাস উপজেলা সদর বনগ্রাম ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের শশী চন্দ্র দাসের ছেলে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সুনিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহারবাজার থেকে সবজি কিনে ছেলের দ্বারা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাইসাইকেল করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাইবান্ধা রওনা হন। পরে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। সকালে বাড়ির অদূরে ধানের জমিতে তার লাশ পরে থাকতে দেখে এলাকাবাসী।
তিনি আরও জানান, মৃতদেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকার জানান, সুনিল সাদুল্লাপুর বাজারের আড়ৎ থেকে মাছ ক্রয় করে সাহারবাজারে বিক্রি করতেন। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি সুনিল খুন হওয়ায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।