দুপুর ১:০৯, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ রংপুর

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের সাব্দী গ্রামে সুবোধ চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিকান্ডে তার ঘর বাড়িসহ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ইউনিভারসিটি এন্ড মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (আমসা) এর পক্ষ থেকে গত সোমবার বিকেলে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুদানের টাকা সুবোধ চন্দ্রের হাতে তুলে দেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অপিসার দীপঙ্কর রায়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন আমসার উপদেষ্টা ও প্রত্যাশার আলো পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সারওয়ার আলম মুকুল, প্রেস ক্লাব সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার রওশন আলী, আমসার সাবেক সভাপতি ডা. ফেরদৌস হাসান জনি, মো. সাব্বির হোসেন, আমসার বর্তমান সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জোবাইদুল ইসলাম, সদস্য তরিকুল ইসলাম, সিহাব উদ্দিন প্রমুখ। আমসার সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এ অনুদান প্রদান করা হয়।

কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ কর্মী খুন

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের কাউনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মঙ্গলবার সকালে যুবলীগ কর্মীর হাতে নিজপাড়া গ্রামের কেশি রাম বর্মনের পুত্র আওয়ামী লীগ কর্মী হেমন্ত কুমার বর্মন (৩০) খুন হয়েছে।

কাউনিয়া থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৃত এডভোকেট হাবিবুর রহমানের পুত্র যুবলীগ কর্মী শাহ আলম তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল মেরামত করার জন্য হেমন্ত কুমার বর্মনের ভাতিজা বিপ্লব এর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে দ্রুত ভালো করে চায়। এর আগেও মোটরসাইকেল ভালো করে টাকা পয়সা না দেওয়ায় চা খাওয়ার কথা বলে কৌশলে বিপ্লব গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যায়। শাহ আলম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাতাল অবস্থায় বিপ্লবকে খুঁজতে বের হয়। এমন সময় বিপ্লবকে দেখে সে তার পিছু ধাওয়া করে। এ সময় বিপ্লবের কাকা হেমন্ত কুমার এসে শাহ আলমকে আটকাতে গেলে মাদকাসক্ত শাহ আলম তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে মোচড় দেয়। হেমন্তের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল ঘেরাও করে রাখে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে। ওসি মামুন অর রশিদ জানান, ঘাতক শাহ আলমকে আটক করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে বালাপাড়া ইউনিয়ান চেয়ারম্যান ও বালাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী জানান, হেমন্ত কুমার আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয়কর্মী ছিলেন।

 

রংপুরের বাজারে কমেনি চাল ও মাংসের মূল্য , ভরপুর নতুন সবজি

রংপুর জেলা প্রতিনিধি :  রংপুরের বাজারে এখনও কমেনি চাল ও মাংসের মূল্য। মাছ ও সবজির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও ভরপুর নতুন সবজি। রংপুর সিটি বাজার ও অন্যান্য বাজারে নতুর সবজি ভরপুর থাকায় সব ক্রেতার নজর সবজির দিকে। তবে মূল্য উঠানামা করায় সকলে নিতে পারছে না সবজির স্বাদ। বাজার ঘুরে দেখা  গেছে, মোটা চাল প্রতি কেজি ৪২ টাকা বি আর ২৮ ও বি আর ২৯ ৪৫ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৪৫০ ও খাসির মাংস ৫শ’ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। এছাড়া বাজারে কিছুটা মূল্য নি¤œগামী মাছের বাজার। বর্তমানে প্রতি কেজি সাটি মাছ ২শ’ টাকা, সিলভার কার্প ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, রুই ১৩০ থেকে ১৬০ বাটা ১২০ থেকে ১৪০ কাতল ১৫০ থেকে ২০০ টেংরা ২শ থেকে ৩শ টাকা, পাঙ্গাস ১শ থেকে ১৪০ মাগুর ৫শ থেকে ৬শ টাকা,  চিংড়ি ২শ থেকে ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ ছোট ৪শ, মাঝারি ৮শ এবং বড় ১২শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। রসুন ও পেঁয়াজের দাম কমে এসেছে, নতুন রসুন ৮০ টাকা ও নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা। এদিকে কাঁচা মরিচ ৪০, বেগুন ২৪, কার্ডিনাল আলু ১২, শীল আলু ২০ ঢেড়শ ও পটল ৫০ টাকা, সজনা ডাটা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লাউ, লাল, পালং শাকের দাম হাতের লাগালে রয়েছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা সিহাব আহমেদ জানান, বাজারে ঝিঙে, ঢেড়স, করল্লা, পটলসহ যে সব সবজি বাজারে আসছে, তার দাম একটু বেশি। এসব সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আহাদ আলী জানান, নতুন সবজি বাজারে কেবল আসছে , পুরোদমে এগুলো বাজারে সরবরাহ হলেই মূল্য কমে যাবে। 

প্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের সম্পদ ….. সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের সম্পদ। তাদের হেলাফেলাভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। বিশ্বের বুকে দেশের নাম উঁচু করছে এখন প্রতিবন্ধী শিশুরাই। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তারা করুণা চায় না তাদেরও আছে অধিকার। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একটু সুযোগ পেলে সমাজের অন্য শিশুদের মতো প্রতিবন্ধী শিশুরাও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে।  সোমবার বিকেলে রংপুর নগরীর শেখটারী খটখটিয়া এলাকায় ডাঃ ইয়াসিন আলী সামছুল হক মাস্টার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাঃ ইয়াসিন আলী সামছুল হক মাস্টার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের সভাপতি সামছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. ছাফিয়া খানম, সুইড বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সুশান্ত ভৌমিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, রসিক কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান তরু, হারাধন রায় হারা, আবুল মঞ্জুম কুঠিয়াল, হাফিজা খাতুন পান্না, বিশিষ্ট সমাজসেবক চায়না চৌধুরী, অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ টি এম মল্লিক হোসেন বুলেট প্রমুখ। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তাকে সম্মাননা ও মানপত্র দেয়া হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণ করেন।

গাইবান্ধায় মাদ্রাসার জমি জবর দখলের অভিযোগ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাফেজিয়া নুরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার নামকরণে দানকৃত ১৮ শতাংশ জমি বেআইনীভাবে জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে ওই জমি উদ্ধার এবং মাদ্রাসাটি অবিলম্বে চালু করাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মাদ্রাসার ওই জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হুমকিতে ইসরাফিল ও তার পরিবার-পরিজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উলে¬øখ করা হয়, ইসরাফিল শেখের পিতা নুরুজ্জামান শেখ লালু ১৮ শতাংশ জমি ১৬ ফেব্র“য়ারি ওই মাদ্রাসার নামকরণের জন্য দানপত্র দলিল করে দেন। জমি দান করে দেয়ার পর তার জ্ঞাতি ভাতিজা প্রয়াত আলেক উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল, মেকাইল হোসেন ও ভাগিনা কছির মোল¬ার ছেলে মোহাম্মদ আলী তাদের সহযোগি সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমিটি জবর দখল, জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন এবং সংলগ্ন পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে দেয়। জমিটি জবর দখল করে নেয়ার ফলে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

সুন্দরগঞ্জে পূজা উদযাপন কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

স্ন্দুরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি সুন্দরগঞ্জ শাখার সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সম্মেলন ও কাউন্সিল উপলক্ষে আলোচনা সভা নিমাই কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রনজিৎ কুমার বকসী সূর্য্য, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, থানা অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান, দৈনিক জনসংকেত সম্পাদক দীপক কুমার পাল, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল। আলোচনা শেষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নিমাই চন্দ্র ভট্টাচার্য সভাপতি ও বিশ্বজিৎ বর্মন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়।

সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন

স্ন্দুরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার চন্ডিপুরের পাঁচপীর-সীচার সড়কের চন্ডিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় শত-শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ মালেক,  সদস্য প্রার্থী ফুল মিয়া প্রধান, আব্দুর রউফ সরকার চাঁদ, রেজাউল মিয়া। বক্তারা জানান, গত বছর ৩১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফশিল ঘোষণা করা হলেও একটি কু-চক্রী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণের অজুহাত তুলে হাইকোর্টের রিট পিটিশন দাখিল করে। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২৯ মার্চ ইউপি নির্বাচন স্থগিত করেন। দীর্ঘদিন সুনানির পর গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচনের নির্দেশ দেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ইউপি’র নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা না করে উপ-নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করায় এলাকাবাসী ফুসে উঠে। এরই প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

রংপুরে কিশোরী হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

রংপুরে ২২ বছর আগে এক কিশোরীকে হত্যার দায়ে এক যুবকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শফিউদ্দিনের (৩০) বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার খামারকুর্শা গ্রামে। তিনি পলাতক রয়েছেন। একই ঘটনায় ওই কিশোরীর চাচিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করায় শফিউদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আসামি ওই জরিমানা না দিলে তাকে আরও একবছর কারাভোগ করতে হবে বলে এ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আখতারুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন। মামলার নথিতে বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই শফিউদ্দিন খামারকুর্শা গ্রামের সোলেমান মিয়াকে হত্যা করতে তার বাড়িতে যান। সোলেমানকে না পেয়ে তার বড়ভাই আমিন মিয়ার মেয়ে ১৩ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।

এ সময় আম্বিয়াকে বাঁচাতে সোলেমানের স্ত্রী আছেমা খাতুন এগিয়ে গেলে শফিউদ্দিন তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ আনা হয় মামলায়।

ওই রাতেই শফিউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন সোলেয়মান মিয়া।

তদন্ত শেষে মিঠাপুকুর থানার এসআই মফিজ উদ্দিন ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই কেবল শফিউদ্দিনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

রায় শোনার পর বিজয় চিহ্ন দেখায় জেএমবি সদস্যরা

রংপুর প্রতিনিধি : তখন সকাল সাড়ে আটটা। রংপুর আদালত চত্বর ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে পুলিশ। ওই পথে যে কেউ প্রবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালায়। সকাল নয়টা ছুঁই ছুঁই। কড়া পুলিশ পাহারায় আদালত চত্বরে আনা হয় জেএমবি রংপুর বিভাগীয় প্রধান মাসুদ রানাসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে। এরপর বিচারক এজলাসে ওঠেন সকাল সাড়ে নয়টায়। তার আগে জেএমবি মাসুদ রানা, এসহাক আলী, লিটন মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন ও আবু সাঈদকে কাটগড়ায় নেয়া হয়।

এজলাস কক্ষে উভয় পক্ষের আইনজীবী ও সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতিতে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার রায় পড়া শুরু করেন। শেষ করেন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে। এর কিছুক্ষণ পরেই এজলাস থেকে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার নেমে গেলে আইনইনজীবী ও সাংবাদিকরা বের হয়ে যান আদালত কক্ষ থেকে। পরে পুলিশ আসামিদের গাড়িতে তোলেন। এ সময় জেএমবির সদস্যরা সবাই ভি চিহ্ন অর্থাৎ বিজয় চিহ্ন দেখায়। এ সময় তারা বলেন, বিজয় হবে আমাদের, এ দেশ বসবাসের যোগ্য নয়, এ রায় তেমন কিছু নয়।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ৫ জেএমবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক বিচারকের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাদের চোখে মুখে কোন ধরনের বিচলিত হবার মত কোন দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাসুদ রানাকে দোয়া পড়তে দেখা গেছে। এ মামলায় রায়ে জনমনে স্বস্তি এসেছে। সাধারণ মানুষ বলছে এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি তাদের।

৫ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ড

হুমায়ুন কবীর মানিক/ সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর : জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৫ সদস্যের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে রংপুরের একটি আদালত। সেই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার চাঞ্চল?্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলোÑ জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস?্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০)। মামলার অপর আসামি আবু সাঈদ (২৮) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি কুড়িগ্রামের আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪) এখনও পলাতক রয়েছে।

এই মামলার দুই আসামি সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান গত বছরের ২ আগস্ট ভোরে রাজশাহীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুর নগরীর অদূরে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক হোসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হতাকান্ডের পাঁচদিনের মাথায় একই কায়দায় রংপুরে জাপানি নাগরিক হত?্যার ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন সৃষ্টি করে। পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়ার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা, রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বলেন- দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এই বিদেশি নাগরিককে হত?্যা করা হয়েছিল। আমরা সাক্ষ?্যপ্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় তিনি খুশি। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও রংপুরের কাউনিয়ায় খুন হন। ওইদিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করলেও সরকার তা নাকচ করে। প্রায় নয় মাস তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত বছর ৩ জুলাই রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগ পত্র দেন। সেখানে জেএমবির আট জঙ্গিকে আসামি করা হয়। প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া ছয়জনকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কুনিওকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। মোটরসাইকেলে তারা তিনজন ছিলেন। গুলি করার পর মোটরসাইকেলে করেই তারা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৬ বছর বয়সী কুনিও।  হাকিম আদালত থেকে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরের পর ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করেন।  চলতি বছর ৪ জানুয়ারি সাক্ষ?্যগ্রহণ শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষে ৫৭ জনের মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য শোনেন আদালত। আসামি মাসুদ রানা ও সাদ্দাম হোসেনের গুলিতে কুনিও মারা যান বলে তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানর ওসি আবদুল কাদের জিলানি তার সাক্ষ্যে বলেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি  আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তর্ক শোনেন আদালত। এরপর  মঙ্গলবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন  
রংপুর শহরের মুন্সীপাড়ার জাকারিয়া বালা নামে এ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের সূত্র ধরে বাংলাদেশে এসে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একটি ঘাসের খামার করছিলেন কুনিও। কুনিও খুন হওয়ার পর জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা রংপুর ঘুরে গেলেও লাশ হস্তান্তর ও শেষকৃত্যের বিষয়টি ঝুলে থাকে ধর্ম বদলের কারণে। পরে রংপুরের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর সাথে যোগাযোগ করে সেখানেই হোসি কুনিওর লাশ দাফন করতে অনুরোধ করে জাপান কর্তৃপক্ষ। জাপান কর্তৃপক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর  কুনিওকে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

কারমাইকেল কলেজের বন্ধ চার ছাত্রাবাসের মধ্যে খুলছে একটি

রংপুর প্রতিনিধি : প্রায় ৮ বছর পর রংপুরে অবস্থিত কারমাইকেল কলেজের বন্ধ করে দেয়া ছাত্রাবাস খোলার কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বন্ধ ৪টি ছাত্রাবাসের মধ্যে শুধু জিএল হোস্টেলে এখন আবাসিক ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য একটি করে মোট ২টি নির্মাণাধীন নতুন ছাত্রাবাস আগামী বছরের মাঝামাঝি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য অনুমিত দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুনরায় হোস্টেল চালুর খবরে দূর-দূরান্তের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত সব বন্ধ ছাত্রাবাস চালুর পাশাপাশি আসন সংখ্যা বৃদ্ধি দাবি জানিয়েছেন।  

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১০৪ আসন বিশিষ্ট জিএল হোস্টেলে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রদের কাছে থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ৩টি আসন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ২ জন একাদশ শ্রেণীর ছাত্রের সাথে ১ জন অনার্সের ছাত্রকে। এ জন্য আবেদনকারী ছাত্রকে অবশ্যই  ষান্মাসিক পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৫ থাকতে হবে।

কলেজের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাসে একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের অস্ত্র রাখার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে কারমাইকেল কলেজের ৫শ এর উর্ধ্ব  আসন বিশিষ্ট ৪টি ছাত্রাবাস জি এল , এম জি ওসমানী, কেবি এবং সিএম  বন্ধ করে দেন তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ দীপ কেন্দ্রনাথ দাস । ফলে দূরদুরান্তের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণে নানা ভোগান্তির শিকার হন।

এদিকে ছাত্রাবাস পুনরায় খোলার দিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সন্তোষভাব দেখা গেছে। গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা এবং কারমাইকেল কলেজের  অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রাবাস না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বেশি টাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যাক্তি মালিকানাধীন মেসে  থাকতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিমাসে ডাবল সিটে ভাড়া  সাড়ে ৭শ’ টাকাসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় তিন হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে যা তার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেশ কষ্টকর।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি হোজায়খা সাকওয়ান জেলিড বলেন, শুধু জিএল ছাত্রাবাস চালু নয় অবিলম্বে সকল বন্ধ ছাত্রাবাস চালু করা হোক। কিন্তু যে যুক্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ রেখেছেন তা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে তিনি দেরিতে হলেও ছাত্রাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ছাত্রাবাসের আসন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবশ্যই  মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সিট বন্টনের দাবি জানান।

বন্ধ ছাত্রাবাস প্রসঙ্গে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, অনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য এম জি ওসমানী ছাত্রাবাস বন্ধ করেছেন তৎকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই এটি এখন চালু করা হবে না। বাকি দুটির মধ্যে সিএম ছাত্রাবাস ভবনটিকে অনেক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হিন্দু ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত কেভি ছাত্রাবাস এখনেই চালু না হলেও একাদশ শ্রেণীর হিন্দু ছাত্ররা বিক্ষিপ্তভাবে ছাত্রাবাসটি পুনরায় খোলার জন্য দাবি করছেন। তাই এটি সংস্কার করে চালুর করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি নতুন ছাত্রাবাস ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মাঝামাঝি শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবেন।

এমপি লিটন হত্যা মূল পরিকল্পনাকারী ডা. কাদের ১০ দিনের রিমান্ডে

সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান মিঞা : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারী হিসেবে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান সুন্দরগঞ্জ আসনের জাপা (এ) এর সাবেক এমপি। তাকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করে রাতেই গাইবান্ধায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে খুনের সাথে জড়িত অপর তিনজনকে গ্রেফতার করে গ্রেফতারকৃত ৩ জন মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কর্ণেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এমপি লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারী।    

স্বীকরোক্তি দানকারীরা হলেনÑ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর সমস কবিরাজ পাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান (২২), উত্তর সমস বেকাটারি গ্রামের ওসমান গণির ছেলে শাহীন (২৩) এবং কাদের খানের গাড়িচালক বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কামারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হান্নান (২৭)।
পুলিশ জানায়, খুনের সাথে জড়িত রানা (৩২) নামে অন্য একজনকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।  বুধবার দুপুরে পুলিশ কাদের খানকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মইনুল হাসান ইউসুফ।
 
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
 লিটন হত্যার ঘটনায় বুধবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। এ সময় রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি বশির আহমেদ, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো: আশরাফুল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (হেড কোয়ার্টার) খায়রুল আলম, সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, গাইবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু হায়দার মো: আশরাফুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে এমপি লিটন হত্যামামলার বাদী তার বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী, লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজন, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনসহ জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা জাসদ ও অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং  জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়
 প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে এক মাস ২০ দিনের বিরামহীন তদন্তের পর ২১ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর লিটন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি লিটনকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় ওই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুরাশায় সাবেক এমপি কাদের খান এক বছর আগে থেকেই এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন। উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতার মোহই তাকে এই জঘন্যতম কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটাতে তিনি তার ঘনিষ্ঠ ৪ সহচর মেহেদী হাসান, শাহীন, হান্নান ও রানাকে নানা প্রলোভনে রাজি করান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় কাদের খান নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে খুনিদের প্রায় ৬ মাস ধরে নানাভাবে গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়ে কিলিং মিশনে পাঠন।

লিটন হত্যায় প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, লিটন হত্যার পরিকল্পনাকারী কর্নেল (অব.) ডা: আব্দুল কাদের খান এর পাঠানো প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। ছক অনুযায়ী ইতোপূর্বে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা আসার পথে এমপি লিটনকে গত অক্টোবর মাসে হত্যার ঐ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইবান্ধায় আসার পথে রাস্তায় প্রথমে তার গাড়িতে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থামিয়ে লিটন বের হয়ে আসা মাত্রই তাকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে কিলাররা। কিন্তু দৈবক্রমে সে মিশন ব্যর্থ হয়।

লিটন হত্যা মিশন যেভাবে পরিচালিত হয়
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এমপি লিটনের নিজ বাড়িতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। লিটন হত্যা মিশনে ৩ জন হত্যাকারী অংশ নেয়। তারা হলো- মেহেদী হাসান, শাহীন ও হান্নান। খুনিদের মধ্যে মহেদী হাসান ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে হত্যা নিশ্চিত করে। প্রথমে ৩ খুনি লিটনের সাথে জরুরি কথা বলার ছলে তার সাথে বৈঠকখানায় ঢোকে। ঘরে ঢুকে সালাম দিয়েই ১ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে মেহেদী হাসান। এ সময় লিটন হাত দিয়ে গুলি ঠেকানোর চেষ্টা করে গুলিটি তার হাতে বিদ্ধ হয়। খুনি মেহেদী হাসান পরে এলোপাতাড়ি ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকান্ড ঘটানোর পরপরই খুনিরা ডাইং ব্রাউন্সার রানার ১০০ সিসির কালো রঙের মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। খুনে ব্যবহৃত        মোটরসাইকেলটি  পুলিশ জব্দ করেছে। মোটরসাইকেলটি কাদের খানের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত এবং রেজি. বাবদ ফি জমা করা হয়েছে এমডি আলী নামে। পুলিশের ভাষ্য, রাস্তায় অপেক্ষমাণ কাদের খানের গাড়িতে কিলাররা বগুড়ায় তার বাড়িতে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে ঢাকায় গিয়ে কাদের খানের সহায়তায় গাঢাকা দেয়।
 
যেভাবে লিটন হত্যা রহস্যের সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ
এমপি লিটনের খুনিরা গত ২ জানুয়ারি গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ধোপাডাঙ্গায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ওই পিস্তলটি ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ফাইম নামে এক যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ও টাকা  ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলির একটি ম্যাগজিন খুনিদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়। স্থানীয় জনগণের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ম্যাগজিনটি উদ্ধার করে। ম্যাগজিনে থাকা গুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় এমপি লিটনের শরীর থেকে অপারেশন করে বের করা এবং তার বাড়িতে হত্যার পর প্রাপ্ত গুলির খোসার সাথে ওই ম্যাগজিনের গুলির মিল রয়েছে। পরে এই সূত্র ধরে পুলিশ খুনিদের আটক করে এবং পিস্তলটির ব্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
 
খুনিরা স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যা বলেছে
খুনিরা তাদের স্বীকরোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও প্রশিক্ষণদাতা হিসেবে কর্নেল (অব.) ড. আব্দুল কাদের খান  এর নাম উল্লেখ করেছে।  বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে খুনিরা কাদের খানের পিস্তলটি ব্যবহার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত ব্লাস্টিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তা জানা যাবে বলে তারা ধারণা করছেন।  সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, খুনিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কাদের খানের পিস্তল এবং বুলেট জব্দ করা হয়। ৪০ রাউন্ড বুলেট ক্রয় করলেও কাদের খান পুলিশকে মাত্র ১০ রাউন্ড বুলেট জমা দিয়েছেন। বাকি ৩০ রাউন্ড বুলেটের হিসাব তিনি দিতে পারেননি।  

মামলার বাদি লিটনের বোন ও স্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ
পুলিশ কর্তৃক লিটনের হত্যার পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এই খুনের রহস্য উদঘাটনে নিয়োজিত পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতিও একই প্রতিক্রিয়া জানান।

লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা
এমপি লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে প্রথম হতেই পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা থাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রহস্য এর কূলকিনারা করা সম্ভব হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এর গ্রেফতারের পরপরই সুন্দরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গোলাম কিবরিয়া,সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান ফোর্সসহ কাদের খাঁনের গ্রামের বাড়ি ছাপড়হাটি ইউনিয়নের খানপাড়ায় গিয়ে বাড়িঘর ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে খানাতল্লাশি করেন। বুধবার দুপুরে কাদের খাঁনের বাড়িতে অতিরিক্ত ডিআইজি বশির আহমেদ এসপি আশরাফুল ইসলাম, অতি. পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ওসি আতিয়ার রহমান নিবির তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কাদের খানের বাড়ির একটি পুকুর সেচ করে কাদার ভিতরে তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়ির সংলগ্ন গভীর পুকুরটি তল্লাশির জন্য রংপুর হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নিয়ে আসা হয়। কাদের খানের বাড়ি এখন পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে।

লিটন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
চাঞ্চল্যকর এমপি লিটন খুনের মামলাটির জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জেলা জজ আদালতে সরকার পক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফি এ কথা বলেন।

 

তারাগঞ্জে পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার : গ্রেফতার ১

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জে নির্বাহী অফিসের সামনে একটি দোকান থেকে অবৈধভাবে পোস্টাল অর্ডার বিক্রয়ের অভিযোগে এক যুবকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে উপজেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  বিকালে পুলিশ ওই দোকানে গিয়ে ৫০ টাকার ৬৭টি, ২৫ টাকার ৪টি এবং ১০ টাকার ৫২টি সরকারি পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার করে ও বিক্রেতা বিজয়কে আটক করে।  বিজয়ের বাড়ি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারপাড়া গ্রামে।
এবিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা সদরুল আলম বলেন, সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি ভাবে বিক্রি করার নিয়ম, কেউ যদি সরকারি মালামাল বেসরকারিভাবে নিয়ম নীতি ছাড়া বিক্রি করে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়েছে। গত বুধবার রাতে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে নি¤েœাক্ত কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি- হলেন আনোয়ারুল হক, সহসভাপতি- প্রভাষক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, সম্পাদক- এমদাদুল হক মন্টু, সহ- সম্পাদক- প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক- আরমান আলী, কোষাধ্যক্ষ- আসাদুজ্জামান খোকন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- রবিউল আলম, কার্যকরী সদস্য- এসএম গোলাম মোস্তফা ও মঞ্জুরুল ইসলাম।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সকলের সর্বসম্মতিক্রমে উপরোক্ত কমিটি ঘোষণা করে। নির্বাচন পরিচালনা করেন আরিফুর শাহীন, প্রভাষক হারুনউর রশীদ প্রিন্স ও ফিরোজ হায়দার।

 

চিরিরবন্দরে শিক্ষক স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শিক্ষক স্বল্পতায় চিরিরবন্দর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলমান থাকলেও নেই তার সমাধান। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়মিত শিক্ষকরা। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারংবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধর্ণা দিয়েও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যক্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মানসম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, উপজেলায় ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৭টি বিদ্যালয় সরকারি অনুমোদিত রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১৩ সালে ৪ জন প্রধান শিক্ষক ও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭১ জন পুলভুক্ত সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই অভিভাবকদের। তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান না নিলে আগামী দিনে উপজেলায় ভালো ফলাফল আসবে না। উপজেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় ও অনেক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণে থাকায় চলমান সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।

শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। বেলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোরশেদ উল আলম বলেন, কোন কোন বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি এক শিক্ষককে দু’টি ক্লাসেও পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। তাই শিক্ষকরা যেমন অতিরিক্ত কাজ আর পাঠদান কার্যক্রমে ক্লান্ত হচ্ছেন। তেমনি এক বা দু’বিষয় সারাদিন পড়া নিয়ে শিক্ষার্থরাও বিরক্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক আফছার আলী খান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার এমন বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এ অবস্থার উত্তোরণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উপজেলা নেতারা বলেন, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য থাকায় অন্য শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিস ও পাঠদান কার্যক্রম সামাল দিতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হাসান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যাটি লাঘবে সরকার ও সংশি¬øষ্ট সবার আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই শুন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নীলফামারীতে জমির বিরোধে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমির বিরোধে দুই পরে সংঘর্ষে আহত একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে; এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিমলা থানার এসআই শাহবুদ্দিন আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সহিদুল ইসলাম (৩০) ওই উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের পূর্ব সাতজান গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে।


এসআই শাহবুদ্দিন এলাকাবাসীর বরাতে বলেন, ওই গ্রামের দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল গনির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১৫ শতক জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। কিছুদিন আগে রাজ্জাক ওই জমি তার বড় ভাই গনির কাছে বিক্রি করেন।


“বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্জাকের পরিবার বিক্রি করা ওই জমিতে চাষ দিতে গেলে গনির পরিবার বাধা দেয়। এতে দুই পরে সংঘর্ষ হলে গনির ছেলে সহিদুল ও আলমগীর হোসেন (২৮) এবং রাজ্জাকের ছেলে আব্দুন নূর (২৫) আহত হন।”


পরে সহিদুল মারা যান জানিয়ে এসআই শাহবুদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজ্জাকের ছেলে দুলাল হোসেন (২১) ও রহুল আমিনকে (১৮) আটক করা হয়েছে।নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান এসআই শাহবুদ্দিন।

 

আদিতমারীতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে টিএসপি সার

লালমনিরহাট অফিস : সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিক্রি করা হচ্ছে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি বাংলা) নামক রাসায়নিক সার। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে এখানকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি বিভাগের সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় প্রকাশ্যে আদিতমারীর হাট-বাজারগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এ সার।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের বুড়িরবাজারে রাজু সার বিতান থেকে টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স রাসায়নিক সার খুচরা কিনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকায় (৫ কেজির দাম)। আবার  কোন কৃষক এক বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স নিতে গেলে তার কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে এগারশ টাকা।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ প্রতিনিধি কৃষক হিসেবে রাজু সার বিতান  থেকে ২০ কেজি টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স সার কিনতে গেলে তার কাছ  থেকেও আদায় করা হয়েছে এক হাজার ৬৫০ টাকা প্রতি বস্তার দাম হিসেবে। আর ২০  কেজির দাম  নেয়া হয়েছে ৬৬০ টাকা।

এ সময় প্রশ্ন করা হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়া হচ্ছে  কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দোকান মালিকের ছেলে জাহিদুল ইসলাম রাজু জানান, টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স সারের চাহিদা বেশি আর বেশি দাম দিয়ে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে হয়েছে তাই বেশি নেয়া হচ্ছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, এখানকার বিসিআইসি সার ডিলাররা এসব সার উত্তোলন করে সেখানেই বিক্রি করেন। ফলে বিপাকে পড়েন এখানকার কৃষকরা।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিষখোচা ইউনিয়নের কুষ্টারীর হাটে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও। তবে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একজন খুচরা বিক্রেতা দাবি করেন এখানকার ডিলারের কাছ থেকে প্রায় ১৬শ টাকায় টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স কিনতে হয়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিসিআইসি সার ডিলার আব্দুল হাকিম জানান, যারা বেশি দামে টিএসপি বাংলা সার বিক্রি করছেন তারা তো বিসিআইসি সার ডিলার নয়। তিনি আরও জানান, আদৌ এসব সার টিএসপি বাংলা কি না? তিনি কৃষি বিভাগকে এসব বিষয় খতিয়ে  দেখার জন্য অনুরোধ জানান।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরাও পাচ্ছি কিন্তু প্রমাণ না থাকার কারণে কিছুই করতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

 

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে সৃষ্ট জলরাশিতে নানা জাতের দেশী মাছ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ভূমি ধসে সৃষ্ট বিশাল জলরাশি বর্তমানে দেশী মাছের খনিতে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল জলরাশি দেশী প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য হওয়ায়, সেখানে মিলছে হারিয়ে যাওয়া নানা প্রজাতির দেশী মাছ। ফলে ঐ এলাকার মৎস্যজীবীদের জীবন জীবিকার একমাত্র স্থান হয়ে দেখা দিয়েছে এই জলরাশি।

গত মঙ্গলবার বড়পুকুরিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায় জেলেরা ভোর থেকে মাছ ধরা শুরু করেছেন। তারা বলেন, প্রতিদিন সূর্যের তাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই তারা মাছ ধরতে আসে। এই মাছ বড়পুকুরিয়া খনির গেট থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী পৌরবাজারে বিক্রি করা হয়। এতে তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। কালুপাড়া গ্রামের আ: সাইদুর রহমান জানান, তিনিসহ কালুপাড়া, মৌপুকুর, পাতিগ্রাম ও পাতরাপাড়া গ্রামের ২০ হতে ৩০ জন জেলে এই জলাভূমিতে প্রতিদিন মাছ ধরেন। দেশী প্রজাতির কৈ, টেংরা, শিং, মাগুর, ময়া, শোল, বোয়াল এমনকি হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি চেলা ও বাচা মাছও এখানে পাওয়া যায়। যেগুলোর বাজারে অন্যান্য মাছের তুলনায় চাহিদা ও দাম দু’টোই বেশি। এতে তাদের জীবন জীবিকা ভাল ভাবে কেটে যাচ্ছে। একই কথা বলেন বৈগ্রামের মজিবর রহমান, মৌ গ্রামের আ: খালেক।

হামিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাতরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন মন্ডল জানান, এই জলাশয়টি আজ থেকে ৫ বছর পূর্বেও ৩ ফসলি জমির মাঠ ছিল। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে ভূমি দেবে গিয়ে এখন বিশাল জলরাশিটি সৃষ্টি হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জানান, খনিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে ভূমি অবনমন হওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালে বিপজ্জনক এলাকা সার্ভে করে সাড়ে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের উচ্চমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। এরপর প্রায় ৩০০ একর জমি ভূমি অবনমন হয়ে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। এ কারণে খনি কর্তৃপক্ষ এই জলরাশিতে কয়েক দফা মাছের পোনা অবমুক্ত করে। ফলে এই জলরাশির এখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানকার মাছ বড়পুকুরিয়াসহ ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার মাছের চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, এই জলরাশিটির পানি বহুমাত্রিক ব্যবহারের উপযোগী করতে একটি আদর্শ জলরাশি করার চেষ্টা করছে খনি কর্তৃপক্ষ।

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন এসপিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের স¤পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় গাইবান্ধার এসপি মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে আদালতে প্রতিবেদন জমা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সাথে ডিবির একজন সদস্যসহ তিন পুলিশ সদস্য জড়িত। কিন্তু তারা ওই সময় হেলমেট পড়া অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। ওই ঘটনায় দূর থেকে ভিডিও করা হয়েছে বলে ভিডিওতেও তাদের ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।

উলে¬খ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল পুরুষ নিহত ও ৩০ জন আহত হন। সাঁওতাল পল্ল¬ীতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করে।

 

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা না থাকায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদের তীরবর্তী বিভিন্ন পেশার মানুষ মহাবিপাকে পড়েছেন। নদীনির্ভর শত শত মৎস্যজীবী বেকার হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও নৌ-চলাচল।

উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা এখন আর নেই। বর্ষায় থৈ থৈ পানি থাকলেও বর্তমান শুকনো মৌসুমে এই নদের পানি শুকিয়ে গেছে। জেগে ওঠেছে অসংখ্য চর। নাব্যতা না থাকায় নৌ-চলাচলতো দূরের কথা নদের আশপাশের গ্রামের জমিতে আগের পদ্ধতিতে সেচ দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোথাও কোথাও পানি থাকলেও তা পরিমাণে একেবারেই কম। সেচের উপযোগী নয়। ফলে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী দুই পাশের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নদী তীরের মানুষ স্যালো মেশিন বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহার করছেন।

অপরদিকে, নদীতে পানি না থাকায় শত শত জেলে পরিবার তাদের নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রেখেছেন। নৌ চলাচল না থাকায় বেকার হয়েছেন কুলি শ্রমিক ও জেলে পরিবারগুলো। কৃষক, জেলে, নৌ-চালক, শ্রমিকরা জানান, আগে নদীতে পানি থাকতো তখন নদীর পানি দিয়ে আবাদ হতো। এখন নদীতে পানি না থাকায় বালু মাটিতে পানি দেয়া যাচ্ছে না। নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিগুলো পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তারপরও তেল কিনে স্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কিছু জমিতে পানি দেয়া হচ্ছে। পানি না থাকায় নদী মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে জেলে পরিবারগুলোকে। অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌ-শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাদের নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

 

 

 

 

 

গাইবান্ধায় লিটনের আসনে উপ-নির্বাচন ২২ মার্চ

আততায়ীর গুলিতে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আগামী ২২ মার্চ উপ-নির্বাচন হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে রোববার এই আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিশন দায়িত্বে নেওয়ার পর ভোট গ্রহণের বাকি কাজ সম্পন্ন করবে।

নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব রাজিব আহসান জানান, রংপুর বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তাকে এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ১ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে। এই আসনে ভোটার রয়েছে তিন লাখ দুই হাজার ৮৫৩ জন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচনন কমিশনের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। গত ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে নষ্ট হচ্ছে খেজুর বাগান

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের পোকাতি এলাকায় প্রায় ১৩ একর জমির উপর অবস্থিত খেজুর বাগান। সঠিক পরিচর্যার অভাবে আজ সেই খেজুর বাগান প্রায় ধ্বংসের পথে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগে এ খেজুর বাগান থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করতেন। আর সেই রাস দিয়ে গুড় তৈরি হত। তারপর সেগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হত। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে বাগানটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নারগুন এলাকার তানভীর মাহফুজ বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান এটি। এ ধরনের বাগান অন্য কোথাও নেই। তাই এ বাগানটি সঠিক পরিচর্যা করা দরকার।
রস সংগ্রহকারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, এক সময় এ বাগান থেকে আমরা রস সংগ্রহ করতাম। আর সেই রস বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন তা পারছি না। কারণ বাগানটি নষ্ট হয়ে গেছে। পোকাতি ফার্ম ইনচার্জ লোকনাথ রায় জানান, বাগানটি চুক্তিতে দেওয়ার জন্য রস সংগ্রহকারীদের খোঁজা হয়। কিন্তু এখন আর তাদের পাওয়া যায় না। এ কারণে বাগানটি পরিচর্যা করা হয় না।

সাঁওতালপল্লীতে আগুন বিচারিক প্রতিবেদন নিয়ে আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে দায়ী করে দেয়া বিচারিক প্রতিবেদন নিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।  মঙ্গলবার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, আদালত ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল পক্ষকে এ প্রতিবেদন সরবরাহ করতে হাইকোর্টের পেপারবুক শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর তদন্ত প্রতিবেদন রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা হয়েছে বলে সোমবার  সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। ওইদিন তিনি বলেন, ‘৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনটির সঙ্গে সাপোর্টিং কাগজপত্র রয়েছে ১ হাজার ১ পৃষ্ঠার। রোববার এটি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর সোমবার বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন’। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিওক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দু’জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহন করেননি। তবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।

হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি: এদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হলেও হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর  মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি আজকে হাইকোর্টে দাখিল হয়েছে। ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার এক পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র। সেখানে এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল পক্ষকে (মিল কর্তৃপক্ষ, আসক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, এমনকি বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি) সরবরাহ না করার কারণে আদালত সেটি প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সকল পক্ষকে সরবরাহ না করার কারণে আদালত আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেপারবুক সেকশনকে সরববরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। আর ৭ ফেব্রুয়ারি এটি যথারীতি আসবে। মোতাহার হোসেন বলেন, একনজরে প্রতিবেদনের মতামত অংশে আমরা যেটি দেখেছি, সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং দু’জন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, তবে প্রতিবেদনে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। কারণ, তারা হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। এমনকি ভিডিওটি অনেক দূর থেকে ধারণ করা। এ কারণে তদন্ত কমিটি এটি ডিটেক্ট (নাম শনাক্ত) করতে পারেননি। এমনকি ওইদিন যারা ডিউটি করেছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদেও নাম শনাক্ত করতে পারেননি। আগুন দেওয়ার ঘটনার দিন কারা ডিউটিতে ছিলেন তাদের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই দিন যারা কর্মরত ছিলেন, তাদের তালিকা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে কমিটির পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি যেহেতু এর মধ্যে কাজ করছেন, ওই  তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে এখানে তা করতে পারেননি এসপি।  

উল্লেখ্য,গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি-না বা কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়। রিট আবেদনকারীদের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে একটি রিট দায়ের করা হয়। অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি আবেদন করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

 

ডোমারে বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন আহত

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় বাড়িতে বাঁশের বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’টি পারিবারের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  সোমবার দুপুরে উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি প্রগতি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, ওই এলাকার ফয়জদ্দীন ও আবু সাইদের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার ফয়জদ্দীন তার বাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিচ্ছিল। এমন সময় আবু সাইদ ওই জায়গা তার দাবি করে বাঁধা দেয়। এতে ওই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিরোধপূর্ণ জায়গায় উঠানো আবু সাইদের একটি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে আবু সাইদের পুত্র সুজন, সুমন, সোহেল ও প্রতিপক্ষের ফয়জদ্দীনের চাচাত ভাই মনোয়ার ও তার স্ত্রী মনোয়ারা গুরুতর আহত হয়। চিলাহাটি তদন্ত থানার এস আই জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর কাজে ধীর গতি হতাশ দুই পারের মানুষ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর ২২ মাসের কাজ বিভিন্ন কারণে দুই দফার বর্ধিত সময়ের ৩৪ মাস কেটে গেছে। ব্যবস্থাপনায় জটিলতা, আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অজুহাতে তৃতীয় দফায় ফের এক বছর বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদকাল। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে চারমাস। বহু কাক্সিক্ষত এই সেতুর কাজের গতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে তিস্তার দুই পারের মানুষ। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ হলে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারীসহ লালমনিরহাটের চারটি উপজেলার সাথে সারাদেশের দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এতে একদিকে চলাচলে যেমন সময় কমে আসবে, তেমনি কমবে যাতায়াত খরচ। আর প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের। কিন্তু অর্থাভাবসহ নানা কারণে গতিহীন হয়ে পড়েছে নির্মাণাধীন এই সেতুর কাজ।

লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তিস্তা নদীর উপর গঙ্গাচড়া-কালীগঞ্জ সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘ডব্লিউ এমসিজি-নাভানা গ্র“প’। এছাড়া কালীগঞ্জের কাকিনা হতে গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা এবং ওই সংযোগ সড়কে তিনটি কালভার্ট ও দুটি ছোট সেতুর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মূল সেতু ও পুরো সড়কজুড়ে থাকবে আলোর ব্যবস্থা। জানা যায়, উত্তর জনপদের অবহেলিত রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ার উন্নয়ন এবং লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে তিস্তা নদীর ওপর (কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া) সেতু দাবি করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণে ২২ মাস সময় ধরা হলেও ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রথম দফার মেয়াদ শেষে সেতুর ৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় কাজের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট ২২ মাসের পর অতিরিক্ত এক বছর সময় বৃদ্ধি করা হলে ওই সময় পর্যন্ত সেতুর ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়। তৃতীয় দফায় ফের গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। আবারও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেও মূল সেতুর শতভাগ কাজ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে এলাকার মানুষ। তবে লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সেতুর সংযোগের জন্য পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, তিনটি কালভার্ট ও ছোট দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আগের তুলনায় কাজের গতি কমে গেছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, তিস্তা নদী দেশের অন্যান্য নদী থেকে আলাদা। এখানে শুকনো মৌসুম ছাড়া কাজ করা মুসকিল। এ নদীতে গভীরতা কম হলেও বর্ষাকালে স্্েরাত অনেক বেশি। এ কারণে সেতুর কাজ সময়মত করা সম্ভব হয়নি। তবে সময়মত কাজ শেষ করার জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, এই সেতুতে মোট ১৭টি স্প্যান রয়েছে। ইতিমধ্যে মাত্র ১৪টি স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী একটি স্প্যানের গার্ডার তৈরি করতে সময় লাগে ২২ দিন। সে হিসাবে এখনো সময় লাগবে প্রায় ৩ মাস। তাছাড়া রয়েছে নদী শাসনের কাজ। গত বছর দুই দফায় যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে নির্মাণাধীন সেতুর দু’টি গার্ডার ভেঙে পড়ায় কাজ কাজ অনেক পিছিয়ে পড়ে।

সেতু এলাকা গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, নির্মাণ কাজের কোন গতি নেই। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ না হওয়াটা দুঃখজনক। এরপরও নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

                                                                          
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রবীণ কুমার বিশ্বাস জানান, সেতু নির্মাণকাজে কোন গাফিলতি নেই। যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে ইতিপূর্বে দুটি গার্ডার ভেঙে পড়ায় কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। এ পর্যন্ত সেতুর ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ জানান, বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালামাল সঠিক সময়ে আনতে না পারায় কাজের গতি কিছুটা কমে এসেছিল। তবে বর্তমানে সে সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আবারও চারমাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাজের মেয়াদ বাড়লেও কোন ব্যয় বাড়বে না বলেও তিনি দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জের মত স্বচ্ছ করতে চায়: ওবায়দুল কাদের

রংপুর প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সার্চ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন তাতে আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জের মতো স্বচ্ছ করতে চায়। এ জন্য নির্বাচন কমশিনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে আওয়ামী লীগ।  রোববার দুপুরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগের এক যৌথ কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপির একজন নেতা সার্চ কমিটির সদস্যদের নিয়ে আশাবাদী, আরেক নেতা হতাশ। তাদের কথা ও কাজে কোন মিল নেই। দলে নেতা যত বাড়ছে কর্মী তত কমছে। নেতা উৎপাদনের কারখানা দরকার নেই, কর্মী উৎপাদনের কারখানা দরকার। কারণ কর্মীরাই দলের প্রাণ। সমস্যা নেতাদের মাঝে, কর্মীদের মাঝে কোন সমস্যা নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা সত্যিকারের রাজনীতি করেন তারা একদিন মূল্যায়ন পাবেন। হতাশ হবেন না। একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেই আজকের এ সভা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা দলীয় কোন্দল ও কলহ সৃষ্টি করেন তারা সতর্ক হয়ে যান। যতই পকেট কমিটি করেন না কেন জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য তারাই সর্বোচ্চ মূল্যায়ন পাবেন। নেতারা কর্মীদের সাথে আর কর্মীরা জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করেন।
সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও অপশক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এ শক্তিকে পরাজিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদকের ছোবলে তরুণদের একটি বড় অংশ ধ্বংস হচ্ছে জানিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রশাসনহসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সভায় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্শী এমপি, বস্ত্র ও পাঠ প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, হুইপ ইকবালুর রহিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সুরজিৎ নাথ নন্দী, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিয়ার রহমানসহ আট জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

গাইবান্ধায় স্কুলে অগ্নিসংযোগ প্রতিবাদে সমাবেশ থানায় মামলা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : সন্ত্রাসীদের নাশকতায় কুন্দেরপাড়া চরে হাইস্কুলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে  শনিবার প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, বিদ্যালয়ের সভাপতি গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম, উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম, সাবেক ইউপি সদস্য ছকমল হোসেন, শাহিনা বেগমসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি বলেন, নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে যে সন্ত্রাসীচক্র এদেশের উন্নয়ন ও নারী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তারাই প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগুনে ভস্মীভূত করেছে। শান্তিকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে নাশকতাকারী এবং মৌলবাদী এই অশুভ শক্তিকে দমন করবে। দেশকে অস্থিতিশীল করে উন্নয়ন এবং নারী শিক্ষাকে ব্যাহত করার এই অপতৎপরতা কখনই সফল হবে না।

কুন্দেরপাড়া গণউন্নয়ন একাডেমি বিদ্যালয় ভবনটিতে প্রথমে পেট্টোল ছিটিয়ে তাতে আগুন দেয়া হয়। ফলে আগুন লাগানোর সাথে সাথেই গোটা ভবনটি ভস্মীভুত হয়ে যায়। গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুনে পোড়া বিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করে এমন আশংকাই করছেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মৌলবাদী একটি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন থেকেই ওই এলাকায় নারী, শিক্ষা এবং উন্নয়নের বিপক্ষে নানা অপতৎরতা চালিয়ে আসছিল। শিক্ষার বিকাশ ঘটায় এখন কুন্দেরপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী সিধাই, চিথুলিয়া দিগর, মোলারচর, মৌলবীর চর, রসুলপুরসহ চরাঞ্চলগুলোতে বাল্য বিয়ে, বহু বিয়ে, যৌতুক প্রথা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তদুপরি নারী শিক্ষাও উল্লেখযোগ্য হারে বিকশিত হচ্ছে। এ জন্যই সন্ত্রাসী চক্ররা ঐ বিদ্যালয়কেই দায়ী করে সেটি ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি আগুনে পুড়ে দেয়ার ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের কথা উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান জানান, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত অগ্নিকান্ড। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ মোটিভ উদ্ধারে, সন্ত্রাসী তৎপরতা, নাশকতা, শত্র“তার জের, একই এলাকায় নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সবগুলো বিষয়ের তদন্ত করবে।

আগুনে পুড়ে গোটা বিদ্যালয় ভবনটি বিধ্বস্ত হলেও উদ্যম হারায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।  শনিবার থেকেই যথারীতি পুড়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের পাশে, গাছতলায় এবং পার্শ্ববর্তী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের স্টীলের শেল্টার গুলিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালু রয়েছে।

 

ফুলবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে মালামাল ভস্মীভূত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বড়ভিটা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পাঁচ লক্ষাধকি টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের বেলাল উদ্দিন, শাহাজামাল ও খয়ের উল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, খয়ের উল্লার রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে তিনটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র ও নগত টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই এলাকাবাসী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে তিনটি পরিবারের ৫ লক্ষাধিক টাকা  ক্ষতির হয়।

বদরগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নে অবস্থিত খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।  বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক রুহুল আমিন সরকার। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসাইন, সহকারী শিক্ষক বাদশাহ আলমগীর, শিক্ষার্থী রুমাইয়া খাতুন, মুশরাত জাহান মিশু ও আহসান হাবীব সাগর। শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার তুলে দেয়া হয়।

 



Go Top