সন্ধ্যা ৬:১৭, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রংপুর

ঈদের আগে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় সিমেন্টের ট্রাক উল্টে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, কলাবাড়ি এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সবার বাড়ি লালমনিরহাটে। তাদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।

ওসি রেজাউল বলেন, ঈদ উপলক্ষে তারা একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকে করে ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে বাড়ি যাচ্ছিল। ভোরে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে ১১ জনকে মৃত উদ্ধার করে।

আর আহত আরও কয়েকজনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জিয়াউর রহমান জানান, আহত আটজনকে এখানে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা যান।

নিহত পাঁচজন হলেন – আলমগীর (২৬), মনির (২৪), জসিম (২৬), দেলোয়ার (২৫) ও সাদ্দাম (২৪)। ঘটনাস্থলে নিহত ১১ জনের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তিনজন হচ্ছেন – নিহত আলমগীরের স্ত্রী খাদিজা, নিহত মনিরের স্ত্রী আফরোজা ও নিহত জসিমের স্ত্রী রহিমা।

এছাড়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার পরিচালক মউদুদ আহমেদ। তারা হলেন – জমিলা (৬০), ময়না (৩০), মমিনুল (৩৪), খলিল (২৫), দুলাল (৩০), আব্দুল মতিন (২৫), মোজাফফর (২৫) ও রহিমা বেগম (৩৮)।

এদের হাত-পায়ের চামড়া ছড়ে গেছে, কেউ কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছেন, জানিয়েছেন পরিচালক মউদুদ আহমেদ। বদরগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহতরা সবাই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আর তাদের বাড়ি লালমনিরহাটে।

নিহত পাঁচজনের লাশ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর ঘটনাস্থলে নিহত ১১ জনের লাশ ফাঁড়িতে রয়েছে বলে জানান এসআই হাফিজুর। নিহতদের মধ্যে ট্রাকের চালক ও সহকারী আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

স্পিকারের শোক

সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনার কথা জানিয়েছেন।

 

রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার চিকলিবাজার এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের দুজন যাত্রী নিহত ও তিন যাত্রী আহত হয়েছে।  বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, পাঁচ পাথর ব্যবসায়ী মাইক্রোবাসে করে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। তারাগঞ্জ বাজার চিকলী ব্রিজে পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে গাছের সঙ্গে লেগে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে মারা যায় মামুনুর রশিদ (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (৩৪)।

তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, নিহতরা মাইক্রোবাসে করে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পেছন থেকে একটি মালবোঝাই ট্রাক মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এসময় আরও একটি ট্রাক সামনে থেকে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত তিনজন আহত হয়। তাদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হলেন, আবু সাঈদ (২৯), হানিফ ওরফে বাহার (৩০) ও আব্দুল হাই (৩২)।

 

 

 

 

রংপুরে হাঁড়িভাঙায় ইফতার

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : গঙ্গাচড়াসহ রংপুরে এবার ইফতারে যোগ হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম। প্রচলিত ইফতারের উপকরণ বুট, বুন্দিয়া, মুড়ি না থাকলেও হাঁড়িভাঙা আম থাকতেই হবে। অফিস-আদালতসহ নগরের বিভিন্ন ইফতার পার্টিতেও এবারে রমজানের শেষ দিকে এসে হাঁড়িভাঙা আম যোগ হয়েছে। শ্রমজীবী কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষ-যারা সময় হলে ফুটপাতে বসে ইফতার করেন তাদের অনেকেই অন্যকিছু বাদ দিয়ে জনপ্রিয় এই আমকেই ইফতারের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছেন। মূলত: বাংলা আষাঢ় মাসের প্রথম সপ্তাহে হাঁড়িভাঙা আম বাজারে আসে, যখন প্রচলিত জাতসহ অন্য জাতের আম প্রায় শেষ হয়ে যায়। এ বছর রমজানের শেষ দিকে এই আম বাজারে এসেছে। তাছাড়া দামও কম। রংপুরের মানুষ তাই হাঁড়িভাঙা আম খচ্ছেন ইফতারে। গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে হাঁড়িভাঙা আম দিয়ে ইফতার করছিলেন ওই এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী। এ ব্যাপারে মুদি দোকানদার আরমান বলেন, ‘প্রতিবছর রোজায় বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি ও জিলাপি দিয়ে ইফতারি করি। এবারে হাঁড়িভাঙা মওসুমে রোজা। আমের দামও কম। তাই প্রতিদিন এই আম দিয়াই ইফতার করে শান্তি পাচ্ছি।’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ বললেন, এবার ইফতারির তালিকা থেকে ভাজা-পোড়া খাবার বাদ দিয়ে রংপুরের ঐতিহ্য হাঁড়িভাঙা আম রেখেছি। আম দিয়ে ইফতারির পর বেশ তরতাজা মনে হয়।

রংপুরে ইফতারিতে বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি আর পিঁয়াজুর আমেজ পুরনো হয়ে গেছে। হোটেল-রেঁস্তোরা ও কনফেকশনারিগুলো জিলাপি, বাখরখানি, মাংসের রেজালা, মাসকেট হালুয়া, জালি কাবাব, রাসমতি, টিকা কাবাব, কলিজির চপ, রাজভোগ, ফালুদা, ডিমের চপ, চিকেন ফ্রাই, পাটিসাপটা পিঠা তৈরি করলেও এবার ইফতারিতে রমজানের শেষ দিকে এসে এসবের খুব একটা কদর নেই। রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের কদরই সবচেয়ে বেশি। নগরীর বিভিন্ন ইফতারি দোকান ঘুরে এবং রোজাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাজা-পোড়ার চাইতে আম বা ফলমূল দিয়ে ইফতারি করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

নগরীর কাচারি বাজারে মহুয়া কনফেকশনারি ও মৌবন কনফেকশনারি বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি ও পিয়াজুর পাশাপাশি নতুন করে বিক্রি করছে মাংসের রেজালা, মাসকেট হালুয়া, জালি কাবাব, রাসমতি, টিকা কাবাব, কলিজির চপ। মহুয়া কনফেকশনারির স্বত্বাধিকারী মুন্না মিয়া বলেন, ইফতারিতে আলাদা স্বাদ আনার জন্য এ বছর নতুন নতুন খাবার তৈরি করা হচ্ছে। তবে তিনি জানান, এসব তৈরি খাবারের চেয়ে এবারে ইফতারিতে আমের চাহিদা খুব বেশি। এ ছাড়া নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে স্বাদ কনফেকশনারি, নিউ স্বাদ কনফেকশনারি, মিঠু হোটেল, পুষ্টি, সেন্ট্রাল রোডের খালেক হোটেল, দেশ রেস্টুরেন্ট এ বছর ইফতারিতে নতুন খাদ্যসামগ্রী সংযোজন করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম রমজান থেকে ইফতারির দোকানগুলোতে ভেজালবিরোধী অভিযান শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো দোকানেই বাসি ও ভেজাল মেশানো খাদ্য পাওয়া যায়নি। বিক্রি হচ্ছে ফরমালিনমুক্ত আম। সে কারণে কোনো প্রকার শঙ্কা ছাড়াই লোকজন এই সময়টাতে প্রচুর আম খাচ্ছেন।

 

তারাগঞ্জে সড়ক দুঘটনায় নিহত ১

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : তারাগঞ্জে বিআরটিসি ও তিশা এন্টার প্রাইজ সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে। তারাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ জানায়, গত রোববার রাত প্রায় সাড়ে ১১টার সময় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের উপজেলার খুনিয়ার দোলা নামক স্থানে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী বিআরটিসি এর সাথে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা বগুড়া গামী তিশা এন্টার প্রাইজ এর সংঘর্ষে বিআরসিটিতে অবস্থান কারী যাত্রী আব্দুল মান্নান (৫৫) ও আব্দুল লতিফ (৩৫ )গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আব্দুর মান্নান ও আব্দুল লতিফের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্মরত চিকিৎসকরা তাদের রাতেই রংপুর কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরদিন  সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আব্দুল মান্নান মারা যায়। নিহিত আব্দুল মান্নান দিনাজপুর সদরের পাটুয়াপাড়ার মৃত আব্দুর সোবাহান আলীর ছেলে।  

 

রংপুরে ২ ‘জেএমবি সদস্য’ গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা ও দিনাজপুরে একাধিক মামলর আসামি দুই ‘জেএমবি সদস্যকে’ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৩ রংপুরের অধিনায়ক এটিএম আতিকুল্লাহ এ কথ জানান।

এরা হলেন- গাইবান্ধা সদরের রামচন্দ্রপুর পোড়াহাড়িয়া এলাকার হানজালা (৩২) ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াবান্দ এলাকার বেলাল হোসেন (২৫)।

র‌্যাব কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ বলেন, গোপনে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব অভিযানে যায়। পরে গাইবান্ধা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বাদল ও দিনাজপুর সদরের চেহেল গাজী মাজার এলাকা থেকে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- বাদল স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। আর বেলাল কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষে জেএমবিতে যোগ দেন।”

“তারা আট বছর ধরে জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নারায়ণগঞ্জ শহরে বিভিন্ন এলাকায় থেকে তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরে আসেন।”

বাদলের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর ও গোবিন্দগঞ্জ থানায় এবং বেলালের বিরুদ্ধে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একধিক মামলা রয়েছে বলে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।

 

রংপুরের বাজারে নতুন ধানেও কমছে না চালের দাম

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : নতুন ধান বাজারে এলেও চালের দাম কমার আশা দেখাচ্ছেন না বিক্রেতারা। রোজা সামনে রেখে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের দাম আরেক দফা ১ থেকে ২ টাকা  বেড়েছে । মিল মালিকরা বলছেন, এবার ধানের দাম বেশি, তাই চালের দামও শিগগির কমছে না, আর চাল আড়তদাররা বলছেন আশানুরূপ সরবরাহ এখনও বাজারে না আশায় মূল্য কমছে না।

রংপুর সিটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন চিকন ২৮ চাল পাইকারি ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা ও খুচরা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি এবং নতুন  মোটা চাল পাইকারি ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা ও খুচরা ৪০ থেকে ৪২ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পুরাতন স্বর্ণা  মোটা চাল পাইকারি ৪১ থেকে ৪২ টাকা ও খুচরা ৪৩ থেকে ৪৪ টাকায় কেজি এবং পুরাতন চিকন বি আর ২৮ চাল পাইকারি ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও খুচরা ৫৪ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। ফলন কম হয়েছে, ধানের দাম বেশি এমন যুক্তি দিচ্ছেন মিল মালিকরা।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ধান-চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার তথ্য জানিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের দাম বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও চালের দাম বৃদ্ধিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন খাদ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে খাদ্য কর্মকর্তা ও মিলারদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব জানিয়েছিলেন তিনি। তবে কথার সাথে কাজের বাস্তবায়ন চায় ভুক্তভোগী নগরবাসী।

চাল ক্রেতা হারুন অর রশিদ ও মোজাম্মেল মিয়া জানান, বর্তমানে মধ্যবিত্তদের অবস্থা শোচনীয়। অল্প বেতনে আনুসঙ্গিক খরচের পাশাপাশি চালের মূল্য বৃদ্ধি জীবন একেবারে অতিষ্ঠ হবার উপক্রম। বিষয়টি সরকারের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

রংপুরের চাল আড়তদার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আশানুরূপ সরবরাহ বাজারে না আশায় মূল্য কমছে না । তাছাড়া যেখান থেকে আমরা চাল কিনি সেখানেও মূল্য বেশি পড়ে।
 জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহজাহান ভুইয়া জানান, একটি মহল বাজারকে অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে। খাদ্যশস্যে কোন ঘাটতি নেই। সরকার বিষয়টি মনিটরিং করছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নিব।

উন্নয়নের সফলতা তখন যখন মানুষ অনুভব করে :স্পিকার

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : জাতীয় সংসদের স্পিকার ও রংপুর-২৪ পীরগঞ্জ আসনের এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন,উন্নয়নের সফলতা তখনই অনুভব করা যায়, মানুষ যখন তা অনুভব করে। অর্জিত ধন-সম্পদ হারাতে পারে কিন্তু মেধা ও জ্ঞান সম্পদ মানুষ কখনও হারায় না। এসএসসি শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ। জ্ঞান ভান্ডারে পৌছুতে হলে শিক্ষা জীবনের আরও অনেক গন্ডি পেরুতে হয়।

শনিবার দুপুরে খালাশপীর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ মাঠে রংপুর জেলা বঙ্গমাতা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এসএসসি ও সমমানের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন,এই এলাকার সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ৩ বছর ধরে আমরা কাজ করছি। যার অংশ ইতিমধ্যে উপজেলার ৩৩২টি সড়ক পাকা হয়েছে। ২২টি ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। শতকরা ৮০ ভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে অবশিষ্ট সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে। সরকার নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি দিচ্ছে। ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি সাধারন মানুষের সেবা পাবার বিষয়টি আমি নিজে গতকাল প্রত্যক্ষ করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের দৃশ্যও স্বচক্ষে দেখেছি। কিভাবে মা ও শিশুরা দলবেঁধে এসে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছে।

সরকার এসব ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ দিচ্ছে। খালাশপীর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি  মোকাররম হোসেন চৌধুরী জাহাঙ্গিরের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান-আহমেদ হোসেন,জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এড. আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ছায়াদৎ হোসেন বকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. আজিজুল ইসলাম রাঙ্গা, পীরগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক তাজিমুল ইসলাম শামীম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান  মোনায়েম সরকার মানু উপজেলা জাপার সম্পাদক নুর আলম যাদু, আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন বিএসসি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন-কলেজের অধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম রনতু। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ আয়াজিত এক সুধী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন-উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমল কুমার ঘোষ।

এসময় স্পিকার সাহাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজারামপুর জুনিয়র স্কুলের একাডেমিক ভবন, পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ব্রিজ/কালভার্ট, কাবিলপুর ও বড় আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত ভবনসহ মাদারগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বি-তল ভবনের উদ্বোধন করেন এবং সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থসহ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন। সমাবেশে স্পিকার উপজেলা পরিষদ চত্বরে মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আজিজুর রহমান রাঙ্গাসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বদরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে কুতুবপুর ইউনিয়নের উতরা বিলপাড় এলাকার উঁচাপাড়ার দেলদার হোসেনের ছেলে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সে স্থানীয় নাগেরহাটে গেলেও আর ফিরে আসেনি। গতকাল শনিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি বাগানে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করলেও অভিযোগ না থাকায় তা’ দাফনের জন্য অনুমতি দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শণকারী বদরগঞ্জ থানার এসআই আতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, লাশ পর্যবেক্ষণ করে মনে হয়েছে এটি একটি আত্মহত্যা। এছাড়া পরিবারের লোকজন অভিযোগ না করায় লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাবা দেলদার হোসেন জানান, আখতারুজ্জামানের উপর বহুদিন আগে থেকেই জ্বীনের আছর ছিল। একারণে অনেক পীর-ফকির দিয়ে ঝাঁড়ফুঁক করিয়েছি কোন কাজ হয়নি। মা মহুবা বেগম বলেন, এক সময়ে সে পুরোপুরি উন্মাদ ছিল। এ কারণে তার পায়ে শেকল বেঁধে তাকে নিয়ে মানসিক চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিলাম- কিন্তু কোন কাজ হয়নি। শ্যালক বেলাল হোসেন বলেন, চার বছর হল বোনের বিয়ে দিয়েছি- কোন সন্তান হয়নি। তবে বিয়ের পর জানতে পারি সে পাগল। তিনি বলেন, আমরাও তার অনেক চিকিৎসা করিয়েছি কিন্তু বিন্দুমাত্র কাজ হয়নি।

রংপুরে ৩ মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে ৭৪৪ বোতল ফেনসিডিল রাখার অভিযোগে ৩ মাদক ব্যাবসায়ীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২ এর বিচারক আবু জাফর মো: কামরুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৪ জুন ভোরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর বাঁধের উপর দিয়ে বস্তায় করে ফেনসিডিল নিয়ে আসার সময় ডিবি পুলিশের একটি দল মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেলে আবুল খায়ের নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। অপর দুই মাদক ব্যবসায়ী সাজু মিয়া ও মোহাম্মদ আলী তাদের সাথে থাকা ফেনসিডিলের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ৭৪৪ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করে এবং হাতে নাতে আটক হওয়া আবুল খায়েরকে আদালতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ডিবি পুুলিশের এসআই রাশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় মাদক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গঙ্গাচড়া থানার এসআই মোস্তাফিজার রহমান ৩ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ শেষে আসামি আবুল খায়ের , সাজু মিয়া ও মোহাম্মদ আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে  যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। সেই সাথে প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। মামলার পর থেকে আসামি মোহাম্মদ আলী পলাতক রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবুল খায়ের ও সাজু মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামি মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও ক্রোকি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।

দিনাজপুরে বয়লার বিস্ফোরণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১১

দিনাজপুরে রাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের প্রধান মারুফুল ইসলাম জানান, রোববার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুকুল মিয়া (৪৫), দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও দুলাল চন্দ্রের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। মো. মুন্না (৩২) মারা যান রাত সোয়া ৯টায়।

এর আগে রোববার সকালে শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও উদয় চন্দ্রর (২২) মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে মারা যান রঞ্জিত রায় (৫০)।  মুন্না, মুকুল, দেলোয়ার, দুলাল, শফিকুল ও উদয় যমুনা অটো রাইস মিলের শ্রমিক এবং রঞ্জিত রায় ব্যবস্থাপক ছিলেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ মোড়ে যমুনা অটো রাইস মিলে বুধবার বেলা ১১টার দিকে বয়লার বিস্ফোরণে নারীসহ ২১ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। দগ্ধদের রংপুর ও দিনাজপুরে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়।  “হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আট শ্রমিকের মধ্যে ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বাকি দুইজনের অবস্থা উন্নতির দিকে।”

এদিকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুইজনের শারিরীক অবস্থারও অনেকটা উন্নতি হয়েছে বলে হাসপাতালের পরিচালক সারওয়ার জাহান জানান।

এ ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

বগুড়ার ৪ দোকান থেকে পলিথিন আটক করে জরিমানা আদায়

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরের রাজাবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে চারটি দোকান হতে ৭৬ কেজি অবৈধ পলিধিন আটক করে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় কুমার মহন্তের নেতৃত্বে  গতকাল বিকেলে এই অভিযান চালানো হয়। এতে প্রসিকিউটর ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মকবুল হোসেন।

 সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে চারটি দোকানের বিরুদ্ধে এই অভিযারন পরিচালিত হয় তার মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেনের মালিকানাধীন ডুরেন স্টোর হতে ২৮ কেজি পলিথিন আটক করে ১০ হাজার টাকা,  আব্দুল মতিন শেখের উত্তরবাংলা স্টোর হতে ২৬ কেজি পলিথিন আটক করে ১০ হাজার টাকা, মশিউর রহমানের এমআর স্টোর হতে ১০ কেজি পলিথিন আটক করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মিল্টন হোসেনের মালিকানাধীন মিল্টন এন্টারপ্রাইজ থেকে ৬ কেজি পলিথিনি আটক করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় চলছে নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম এবং বসবাস। অনেক ভবনের বয়স একশো বছরের কাছাকাছি অথবা অতিক্রম করেছে। অনেক  উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে চাকুরির খাতিরে অবস্থানসহ পরিবার নিয়ে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রের অতিথি ভবন  সার্কিট হাউজও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায়। ফলে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কোন কাজে রংপুরে এসে বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে রাত্রি যাপনে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি অধিক ভূমিকম্প প্রবন এলাকার মধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্গত। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগের ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। শুধু তারা নিয়মিত বিভাগীয় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে চলেছেন।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও ভবন হচ্ছে, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাস ভবন, কারাগারের ইটের গাঁথুনীর সাধারণ টয়লেট, সদর হাসপাতাল (পুরাতন অফিস), সদর হাসপাতাল ৩য় শ্রেণী এবং ৪র্থ শ্রেণীর বাস ভবন। এছাড়াও জেলা জজ কোর্ট (পুরাতন) জেলা ও দায়রা জজের বাস ভবন, সার্কিট হাউজ, জোনাল সেটেলমেন্ট রেকর্ড রুম, সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ গার্ড সেড, ট্রেজারী ভবন (পুরাতন), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়  সংলগ্ন এডিএম কোর্ট ভবন, রেকর্ড রুম, রেড ক্রিসেন্ট ভবনগুলোর বয়স ১শ বছরেরও বেশি (১৮৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৯২০খ্রিঃ ) এর মধ্যে নির্মিত) এবং এর প্রকৃতি ব্রিক ম্যাশনরী হিসেবে উল্লেখ করে ভবন ব্যবহারকারীদের সব সময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

 বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের  বিভাগীয় প্রধান ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, ভূমিকম্প প্রবন এলাকাকে চিহ্নিত করার সুবিধার্থে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১নং  এ আছে সবচেয়ে অধিক ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা । ২ ও ৩ এ আছে তুলনামূলক কম ভূমিকম্পন প্রবন এলাকা। তিনি দাবি করেন রংপুরের কিছু অংশ বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকা রয়েছে ১নং এ। তিনি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা করে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দ্বারা ভূমিকম্প সহনীয় ক্ষমতা আছে কী না তা পরীক্ষা করার আহবান জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত ভবন গুলোর মধ্যে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাসভবন হচ্ছে অন্যতম। অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সিনিয়র জেলার, জেলারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

রংপুর কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়  কারা হাসপাতাল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে জেলের একটি কক্ষে হাসপাতালের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েদী থাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকেও কয়েদীদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন কেন্দ্রীয় কারাগার এর জেল গেট, অফিস কাম জেলারের বাস ভবন পরিত্যক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, সদর হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সকল কার্যক্রম অন্যত্র নেয়ার চেষ্া করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন ভবন স্বল্পতার জন্য বাধ্য হয়ে এখনো কিছু কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে করতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টারে বসবাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্পদিন হলো তার যোগদানের। তারপরও তিনি চেষ্টা করবেন পরিত্যক্ত ভবনে যাতে কেউ না থাকেন ।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম চালানো এবং বসবাসকরাকে আত্মঘাতী বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মত দেন। এ সময় তিনি রানা প্লাজার ট্রাজেডির  কথা উল্লেখ করেন। তাই তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা এবং সংস্কারের জন্য সিটি করপোরেশন এবং গণপূর্ত বিভাগকে সমন্বয় করে কাজ করার আহবান জানান। 

পুলিশের বাধার কারণে ছাত্রদল রংপুরে মিছিল করতে পারেনি

রংপুর প্রতিনিধি : পুলিশের বাধার কারনে ছাত্রদল রংপুরে মিছিল সমাবেশ করতে পারেনি। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নুরুল আলম নুরুকে হত্যার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয় থেকে রংপুর জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রধান সড়কে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশের সাথে তাদের বাকবিতন্ডা হয়।

পরে সেখানে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া জিম, পাঠাগার সম্পাদক ওহিদ মুরাদ, কাউনিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বিভাগভিত্তিক আর্থসামাজিক অবস্থায় রংপুর বিভাগ পিছিয়ে

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে সামাজিক সুরক্ষার জন্য জাতীয় বাজেট প্রস্তাব আলোচনা সভা গতকাল শনিবার সকালে আরডিআরএস বাংলাদেশ রোকেয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বিভাগভিত্তিক আর্থসামাজিক অবস্থায় রংপুর বিভাগ অনেক পিছিয়ে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ মতে, বিভাগভিত্তিক আর্থসামাজিক অবস্থায় চরম দারিদ্র্য রেখায় রংপুরের অবস্থান ৩০ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, নারী শিক্ষা, রেমিটেন্সসহ সকল সুবিধায় রংপুর বিভাগ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি), আরডিআরএস বাংলাদেশ ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় বাজেট প্রস্তাব আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাখেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু।


সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসডিজি প্লাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য মানবাধিকার কর্মী এড. সুলতানা কামাল, আরডিআরএস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিমা রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সাবেক অধ্যক্ষ ড. রেজাউল হক, সুজন জেলা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম, সাবেক হারাগাছ পৌর মেয়র মামুনুর রশিদ, বেরোবির শিক্ষক ওমর ফারুক, নারী নেত্রী মনোয়ারা বেগম, বাসদ মার্কসবাদী আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু, অধ্যক্ষ ফকরুল আনাম বেঞ্জু প্রমুখ। বক্তারা রংপুর বিভাগের জন্য আলাদা বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান। সেইসাথে সকল সুবিধা আলাদাভাবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে রংপুর বিভাগের জন্য দিয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে অনগ্রসর বিভাগকে এগিয়ে আনার জোর দাবি তুলেন। পরে মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তর মাঝে আমসা’র অনুদান প্রদান

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের সাব্দী গ্রামে সুবোধ চন্দ্রের বাড়িতে অগ্নিকান্ডে তার ঘর বাড়িসহ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ইউনিভারসিটি এন্ড মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (আমসা) এর পক্ষ থেকে গত সোমবার বিকেলে ১০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুদানের টাকা সুবোধ চন্দ্রের হাতে তুলে দেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অপিসার দীপঙ্কর রায়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন আমসার উপদেষ্টা ও প্রত্যাশার আলো পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সারওয়ার আলম মুকুল, প্রেস ক্লাব সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার রওশন আলী, আমসার সাবেক সভাপতি ডা. ফেরদৌস হাসান জনি, মো. সাব্বির হোসেন, আমসার বর্তমান সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জোবাইদুল ইসলাম, সদস্য তরিকুল ইসলাম, সিহাব উদ্দিন প্রমুখ। আমসার সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এ অনুদান প্রদান করা হয়।

কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ কর্মী খুন

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের কাউনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে  মঙ্গলবার সকালে যুবলীগ কর্মীর হাতে নিজপাড়া গ্রামের কেশি রাম বর্মনের পুত্র আওয়ামী লীগ কর্মী হেমন্ত কুমার বর্মন (৩০) খুন হয়েছে।

কাউনিয়া থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৃত এডভোকেট হাবিবুর রহমানের পুত্র যুবলীগ কর্মী শাহ আলম তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল মেরামত করার জন্য হেমন্ত কুমার বর্মনের ভাতিজা বিপ্লব এর গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে দ্রুত ভালো করে চায়। এর আগেও মোটরসাইকেল ভালো করে টাকা পয়সা না দেওয়ায় চা খাওয়ার কথা বলে কৌশলে বিপ্লব গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যায়। শাহ আলম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাতাল অবস্থায় বিপ্লবকে খুঁজতে বের হয়। এমন সময় বিপ্লবকে দেখে সে তার পিছু ধাওয়া করে। এ সময় বিপ্লবের কাকা হেমন্ত কুমার এসে শাহ আলমকে আটকাতে গেলে মাদকাসক্ত শাহ আলম তার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে মোচড় দেয়। হেমন্তের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা হাসপাতাল ঘেরাও করে রাখে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে। ওসি মামুন অর রশিদ জানান, ঘাতক শাহ আলমকে আটক করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে বালাপাড়া ইউনিয়ান চেয়ারম্যান ও বালাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী জানান, হেমন্ত কুমার আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয়কর্মী ছিলেন।

 

রংপুরের বাজারে কমেনি চাল ও মাংসের মূল্য , ভরপুর নতুন সবজি

রংপুর জেলা প্রতিনিধি :  রংপুরের বাজারে এখনও কমেনি চাল ও মাংসের মূল্য। মাছ ও সবজির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও ভরপুর নতুন সবজি। রংপুর সিটি বাজার ও অন্যান্য বাজারে নতুর সবজি ভরপুর থাকায় সব ক্রেতার নজর সবজির দিকে। তবে মূল্য উঠানামা করায় সকলে নিতে পারছে না সবজির স্বাদ। বাজার ঘুরে দেখা  গেছে, মোটা চাল প্রতি কেজি ৪২ টাকা বি আর ২৮ ও বি আর ২৯ ৪৫ টাকা ও মিনিকেট চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৪৫০ ও খাসির মাংস ৫শ’ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছে। এছাড়া বাজারে কিছুটা মূল্য নি¤œগামী মাছের বাজার। বর্তমানে প্রতি কেজি সাটি মাছ ২শ’ টাকা, সিলভার কার্প ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, রুই ১৩০ থেকে ১৬০ বাটা ১২০ থেকে ১৪০ কাতল ১৫০ থেকে ২০০ টেংরা ২শ থেকে ৩শ টাকা, পাঙ্গাস ১শ থেকে ১৪০ মাগুর ৫শ থেকে ৬শ টাকা,  চিংড়ি ২শ থেকে ৪শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ ছোট ৪শ, মাঝারি ৮শ এবং বড় ১২শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। রসুন ও পেঁয়াজের দাম কমে এসেছে, নতুন রসুন ৮০ টাকা ও নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২০ টাকা। এদিকে কাঁচা মরিচ ৪০, বেগুন ২৪, কার্ডিনাল আলু ১২, শীল আলু ২০ ঢেড়শ ও পটল ৫০ টাকা, সজনা ডাটা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লাউ, লাল, পালং শাকের দাম হাতের লাগালে রয়েছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা সিহাব আহমেদ জানান, বাজারে ঝিঙে, ঢেড়স, করল্লা, পটলসহ যে সব সবজি বাজারে আসছে, তার দাম একটু বেশি। এসব সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আহাদ আলী জানান, নতুন সবজি বাজারে কেবল আসছে , পুরোদমে এগুলো বাজারে সরবরাহ হলেই মূল্য কমে যাবে। 

প্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের সম্পদ ….. সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিশুরাও দেশের সম্পদ। তাদের হেলাফেলাভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। বিশ্বের বুকে দেশের নাম উঁচু করছে এখন প্রতিবন্ধী শিশুরাই। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তারা করুণা চায় না তাদেরও আছে অধিকার। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুদের উন্নয়নে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একটু সুযোগ পেলে সমাজের অন্য শিশুদের মতো প্রতিবন্ধী শিশুরাও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে।  সোমবার বিকেলে রংপুর নগরীর শেখটারী খটখটিয়া এলাকায় ডাঃ ইয়াসিন আলী সামছুল হক মাস্টার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাঃ ইয়াসিন আলী সামছুল হক মাস্টার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের সভাপতি সামছুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এড. ছাফিয়া খানম, সুইড বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সুশান্ত ভৌমিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, রসিক কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান তরু, হারাধন রায় হারা, আবুল মঞ্জুম কুঠিয়াল, হাফিজা খাতুন পান্না, বিশিষ্ট সমাজসেবক চায়না চৌধুরী, অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এ টি এম মল্লিক হোসেন বুলেট প্রমুখ। প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তাকে সম্মাননা ও মানপত্র দেয়া হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণ করেন।

গাইবান্ধায় মাদ্রাসার জমি জবর দখলের অভিযোগ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাফেজিয়া নুরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার নামকরণে দানকৃত ১৮ শতাংশ জমি বেআইনীভাবে জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে ওই জমি উদ্ধার এবং মাদ্রাসাটি অবিলম্বে চালু করাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মাদ্রাসার ওই জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হুমকিতে ইসরাফিল ও তার পরিবার-পরিজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উলে¬øখ করা হয়, ইসরাফিল শেখের পিতা নুরুজ্জামান শেখ লালু ১৮ শতাংশ জমি ১৬ ফেব্র“য়ারি ওই মাদ্রাসার নামকরণের জন্য দানপত্র দলিল করে দেন। জমি দান করে দেয়ার পর তার জ্ঞাতি ভাতিজা প্রয়াত আলেক উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল, মেকাইল হোসেন ও ভাগিনা কছির মোল¬ার ছেলে মোহাম্মদ আলী তাদের সহযোগি সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমিটি জবর দখল, জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন এবং সংলগ্ন পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে দেয়। জমিটি জবর দখল করে নেয়ার ফলে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

সুন্দরগঞ্জে পূজা উদযাপন কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

স্ন্দুরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি সুন্দরগঞ্জ শাখার সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সম্মেলন ও কাউন্সিল উপলক্ষে আলোচনা সভা নিমাই কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রনজিৎ কুমার বকসী সূর্য্য, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, থানা অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান, দৈনিক জনসংকেত সম্পাদক দীপক কুমার পাল, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল। আলোচনা শেষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নিমাই চন্দ্র ভট্টাচার্য সভাপতি ও বিশ্বজিৎ বর্মন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি গঠন করা হয়।

সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন

স্ন্দুরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার চন্ডিপুরের পাঁচপীর-সীচার সড়কের চন্ডিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় শত-শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ মালেক,  সদস্য প্রার্থী ফুল মিয়া প্রধান, আব্দুর রউফ সরকার চাঁদ, রেজাউল মিয়া। বক্তারা জানান, গত বছর ৩১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তফশিল ঘোষণা করা হলেও একটি কু-চক্রী মহল তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণের অজুহাত তুলে হাইকোর্টের রিট পিটিশন দাখিল করে। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২৯ মার্চ ইউপি নির্বাচন স্থগিত করেন। দীর্ঘদিন সুনানির পর গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচনের নির্দেশ দেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ইউপি’র নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা না করে উপ-নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করায় এলাকাবাসী ফুসে উঠে। এরই প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

রংপুরে কিশোরী হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

রংপুরে ২২ বছর আগে এক কিশোরীকে হত্যার দায়ে এক যুবকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শফিউদ্দিনের (৩০) বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার খামারকুর্শা গ্রামে। তিনি পলাতক রয়েছেন। একই ঘটনায় ওই কিশোরীর চাচিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করায় শফিউদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আসামি ওই জরিমানা না দিলে তাকে আরও একবছর কারাভোগ করতে হবে বলে এ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আখতারুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন। মামলার নথিতে বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই শফিউদ্দিন খামারকুর্শা গ্রামের সোলেমান মিয়াকে হত্যা করতে তার বাড়িতে যান। সোলেমানকে না পেয়ে তার বড়ভাই আমিন মিয়ার মেয়ে ১৩ বছর বয়সী আম্বিয়া খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।

এ সময় আম্বিয়াকে বাঁচাতে সোলেমানের স্ত্রী আছেমা খাতুন এগিয়ে গেলে শফিউদ্দিন তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ আনা হয় মামলায়।

ওই রাতেই শফিউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন সোলেয়মান মিয়া।

তদন্ত শেষে মিঠাপুকুর থানার এসআই মফিজ উদ্দিন ১৯৯৬ সালের ১৯ জুলাই কেবল শফিউদ্দিনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

রায় শোনার পর বিজয় চিহ্ন দেখায় জেএমবি সদস্যরা

রংপুর প্রতিনিধি : তখন সকাল সাড়ে আটটা। রংপুর আদালত চত্বর ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে পুলিশ। ওই পথে যে কেউ প্রবেশ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালায়। সকাল নয়টা ছুঁই ছুঁই। কড়া পুলিশ পাহারায় আদালত চত্বরে আনা হয় জেএমবি রংপুর বিভাগীয় প্রধান মাসুদ রানাসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে। এরপর বিচারক এজলাসে ওঠেন সকাল সাড়ে নয়টায়। তার আগে জেএমবি মাসুদ রানা, এসহাক আলী, লিটন মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন ও আবু সাঈদকে কাটগড়ায় নেয়া হয়।

এজলাস কক্ষে উভয় পক্ষের আইনজীবী ও সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতিতে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার রায় পড়া শুরু করেন। শেষ করেন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে। এর কিছুক্ষণ পরেই এজলাস থেকে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার নেমে গেলে আইনইনজীবী ও সাংবাদিকরা বের হয়ে যান আদালত কক্ষ থেকে। পরে পুলিশ আসামিদের গাড়িতে তোলেন। এ সময় জেএমবির সদস্যরা সবাই ভি চিহ্ন অর্থাৎ বিজয় চিহ্ন দেখায়। এ সময় তারা বলেন, বিজয় হবে আমাদের, এ দেশ বসবাসের যোগ্য নয়, এ রায় তেমন কিছু নয়।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ৫ জেএমবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক বিচারকের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাদের চোখে মুখে কোন ধরনের বিচলিত হবার মত কোন দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাসুদ রানাকে দোয়া পড়তে দেখা গেছে। এ মামলায় রায়ে জনমনে স্বস্তি এসেছে। সাধারণ মানুষ বলছে এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি তাদের।

৫ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ড

হুমায়ুন কবীর মানিক/ সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর : জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৫ সদস্যের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে রংপুরের একটি আদালত। সেই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার চাঞ্চল?্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলোÑ জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস?্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০)। মামলার অপর আসামি আবু সাঈদ (২৮) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি কুড়িগ্রামের আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪) এখনও পলাতক রয়েছে।

এই মামলার দুই আসামি সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান গত বছরের ২ আগস্ট ভোরে রাজশাহীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুর নগরীর অদূরে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক হোসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হতাকান্ডের পাঁচদিনের মাথায় একই কায়দায় রংপুরে জাপানি নাগরিক হত?্যার ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন সৃষ্টি করে। পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়ার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা, রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বলেন- দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এই বিদেশি নাগরিককে হত?্যা করা হয়েছিল। আমরা সাক্ষ?্যপ্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় তিনি খুশি। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও রংপুরের কাউনিয়ায় খুন হন। ওইদিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করলেও সরকার তা নাকচ করে। প্রায় নয় মাস তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত বছর ৩ জুলাই রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগ পত্র দেন। সেখানে জেএমবির আট জঙ্গিকে আসামি করা হয়। প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া ছয়জনকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কুনিওকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। মোটরসাইকেলে তারা তিনজন ছিলেন। গুলি করার পর মোটরসাইকেলে করেই তারা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৬ বছর বয়সী কুনিও।  হাকিম আদালত থেকে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরের পর ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করেন।  চলতি বছর ৪ জানুয়ারি সাক্ষ?্যগ্রহণ শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষে ৫৭ জনের মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য শোনেন আদালত। আসামি মাসুদ রানা ও সাদ্দাম হোসেনের গুলিতে কুনিও মারা যান বলে তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানর ওসি আবদুল কাদের জিলানি তার সাক্ষ্যে বলেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি  আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তর্ক শোনেন আদালত। এরপর  মঙ্গলবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন  
রংপুর শহরের মুন্সীপাড়ার জাকারিয়া বালা নামে এ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের সূত্র ধরে বাংলাদেশে এসে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একটি ঘাসের খামার করছিলেন কুনিও। কুনিও খুন হওয়ার পর জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা রংপুর ঘুরে গেলেও লাশ হস্তান্তর ও শেষকৃত্যের বিষয়টি ঝুলে থাকে ধর্ম বদলের কারণে। পরে রংপুরের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর সাথে যোগাযোগ করে সেখানেই হোসি কুনিওর লাশ দাফন করতে অনুরোধ করে জাপান কর্তৃপক্ষ। জাপান কর্তৃপক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর  কুনিওকে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

কারমাইকেল কলেজের বন্ধ চার ছাত্রাবাসের মধ্যে খুলছে একটি

রংপুর প্রতিনিধি : প্রায় ৮ বছর পর রংপুরে অবস্থিত কারমাইকেল কলেজের বন্ধ করে দেয়া ছাত্রাবাস খোলার কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বন্ধ ৪টি ছাত্রাবাসের মধ্যে শুধু জিএল হোস্টেলে এখন আবাসিক ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য একটি করে মোট ২টি নির্মাণাধীন নতুন ছাত্রাবাস আগামী বছরের মাঝামাঝি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য অনুমিত দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুনরায় হোস্টেল চালুর খবরে দূর-দূরান্তের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত সব বন্ধ ছাত্রাবাস চালুর পাশাপাশি আসন সংখ্যা বৃদ্ধি দাবি জানিয়েছেন।  

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১০৪ আসন বিশিষ্ট জিএল হোস্টেলে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রদের কাছে থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ৩টি আসন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ২ জন একাদশ শ্রেণীর ছাত্রের সাথে ১ জন অনার্সের ছাত্রকে। এ জন্য আবেদনকারী ছাত্রকে অবশ্যই  ষান্মাসিক পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৫ থাকতে হবে।

কলেজের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রাবাসে একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের অস্ত্র রাখার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে কারমাইকেল কলেজের ৫শ এর উর্ধ্ব  আসন বিশিষ্ট ৪টি ছাত্রাবাস জি এল , এম জি ওসমানী, কেবি এবং সিএম  বন্ধ করে দেন তৎকালীন কলেজের অধ্যক্ষ দীপ কেন্দ্রনাথ দাস । ফলে দূরদুরান্তের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা গ্রহণে নানা ভোগান্তির শিকার হন।

এদিকে ছাত্রাবাস পুনরায় খোলার দিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সন্তোষভাব দেখা গেছে। গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা এবং কারমাইকেল কলেজের  অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রাবাস না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বেশি টাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যাক্তি মালিকানাধীন মেসে  থাকতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিমাসে ডাবল সিটে ভাড়া  সাড়ে ৭শ’ টাকাসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় তিন হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে যা তার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেশ কষ্টকর।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি হোজায়খা সাকওয়ান জেলিড বলেন, শুধু জিএল ছাত্রাবাস চালু নয় অবিলম্বে সকল বন্ধ ছাত্রাবাস চালু করা হোক। কিন্তু যে যুক্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ রেখেছেন তা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে তিনি দেরিতে হলেও ছাত্রাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নেয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ছাত্রাবাসের আসন বৃদ্ধির পাশাপাশি অবশ্যই  মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সিট বন্টনের দাবি জানান।

বন্ধ ছাত্রাবাস প্রসঙ্গে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, অনৈতিক কাজে ব্যবহারের জন্য এম জি ওসমানী ছাত্রাবাস বন্ধ করেছেন তৎকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই এটি এখন চালু করা হবে না। বাকি দুটির মধ্যে সিএম ছাত্রাবাস ভবনটিকে অনেক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে হিন্দু ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত কেভি ছাত্রাবাস এখনেই চালু না হলেও একাদশ শ্রেণীর হিন্দু ছাত্ররা বিক্ষিপ্তভাবে ছাত্রাবাসটি পুনরায় খোলার জন্য দাবি করছেন। তাই এটি সংস্কার করে চালুর করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি নতুন ছাত্রাবাস ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মাঝামাঝি শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবেন।

এমপি লিটন হত্যা মূল পরিকল্পনাকারী ডা. কাদের ১০ দিনের রিমান্ডে

সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান মিঞা : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারী হিসেবে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান সুন্দরগঞ্জ আসনের জাপা (এ) এর সাবেক এমপি। তাকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করে রাতেই গাইবান্ধায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে খুনের সাথে জড়িত অপর তিনজনকে গ্রেফতার করে গ্রেফতারকৃত ৩ জন মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কর্ণেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এমপি লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারী।    

স্বীকরোক্তি দানকারীরা হলেনÑ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর সমস কবিরাজ পাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান (২২), উত্তর সমস বেকাটারি গ্রামের ওসমান গণির ছেলে শাহীন (২৩) এবং কাদের খানের গাড়িচালক বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কামারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হান্নান (২৭)।
পুলিশ জানায়, খুনের সাথে জড়িত রানা (৩২) নামে অন্য একজনকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।  বুধবার দুপুরে পুলিশ কাদের খানকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মইনুল হাসান ইউসুফ।
 
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
 লিটন হত্যার ঘটনায় বুধবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। এ সময় রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি বশির আহমেদ, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো: আশরাফুল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (হেড কোয়ার্টার) খায়রুল আলম, সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, গাইবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু হায়দার মো: আশরাফুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে এমপি লিটন হত্যামামলার বাদী তার বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী, লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজন, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনসহ জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা জাসদ ও অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং  জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়
 প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে এক মাস ২০ দিনের বিরামহীন তদন্তের পর ২১ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর লিটন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি লিটনকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় ওই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুরাশায় সাবেক এমপি কাদের খান এক বছর আগে থেকেই এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন। উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতার মোহই তাকে এই জঘন্যতম কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটাতে তিনি তার ঘনিষ্ঠ ৪ সহচর মেহেদী হাসান, শাহীন, হান্নান ও রানাকে নানা প্রলোভনে রাজি করান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় কাদের খান নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে খুনিদের প্রায় ৬ মাস ধরে নানাভাবে গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়ে কিলিং মিশনে পাঠন।

লিটন হত্যায় প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, লিটন হত্যার পরিকল্পনাকারী কর্নেল (অব.) ডা: আব্দুল কাদের খান এর পাঠানো প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। ছক অনুযায়ী ইতোপূর্বে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা আসার পথে এমপি লিটনকে গত অক্টোবর মাসে হত্যার ঐ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইবান্ধায় আসার পথে রাস্তায় প্রথমে তার গাড়িতে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থামিয়ে লিটন বের হয়ে আসা মাত্রই তাকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে কিলাররা। কিন্তু দৈবক্রমে সে মিশন ব্যর্থ হয়।

লিটন হত্যা মিশন যেভাবে পরিচালিত হয়
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এমপি লিটনের নিজ বাড়িতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। লিটন হত্যা মিশনে ৩ জন হত্যাকারী অংশ নেয়। তারা হলো- মেহেদী হাসান, শাহীন ও হান্নান। খুনিদের মধ্যে মহেদী হাসান ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে হত্যা নিশ্চিত করে। প্রথমে ৩ খুনি লিটনের সাথে জরুরি কথা বলার ছলে তার সাথে বৈঠকখানায় ঢোকে। ঘরে ঢুকে সালাম দিয়েই ১ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে মেহেদী হাসান। এ সময় লিটন হাত দিয়ে গুলি ঠেকানোর চেষ্টা করে গুলিটি তার হাতে বিদ্ধ হয়। খুনি মেহেদী হাসান পরে এলোপাতাড়ি ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকান্ড ঘটানোর পরপরই খুনিরা ডাইং ব্রাউন্সার রানার ১০০ সিসির কালো রঙের মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। খুনে ব্যবহৃত        মোটরসাইকেলটি  পুলিশ জব্দ করেছে। মোটরসাইকেলটি কাদের খানের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত এবং রেজি. বাবদ ফি জমা করা হয়েছে এমডি আলী নামে। পুলিশের ভাষ্য, রাস্তায় অপেক্ষমাণ কাদের খানের গাড়িতে কিলাররা বগুড়ায় তার বাড়িতে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে ঢাকায় গিয়ে কাদের খানের সহায়তায় গাঢাকা দেয়।
 
যেভাবে লিটন হত্যা রহস্যের সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ
এমপি লিটনের খুনিরা গত ২ জানুয়ারি গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ধোপাডাঙ্গায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ওই পিস্তলটি ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ফাইম নামে এক যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ও টাকা  ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলির একটি ম্যাগজিন খুনিদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়। স্থানীয় জনগণের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ম্যাগজিনটি উদ্ধার করে। ম্যাগজিনে থাকা গুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় এমপি লিটনের শরীর থেকে অপারেশন করে বের করা এবং তার বাড়িতে হত্যার পর প্রাপ্ত গুলির খোসার সাথে ওই ম্যাগজিনের গুলির মিল রয়েছে। পরে এই সূত্র ধরে পুলিশ খুনিদের আটক করে এবং পিস্তলটির ব্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
 
খুনিরা স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যা বলেছে
খুনিরা তাদের স্বীকরোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও প্রশিক্ষণদাতা হিসেবে কর্নেল (অব.) ড. আব্দুল কাদের খান  এর নাম উল্লেখ করেছে।  বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে খুনিরা কাদের খানের পিস্তলটি ব্যবহার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত ব্লাস্টিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তা জানা যাবে বলে তারা ধারণা করছেন।  সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, খুনিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কাদের খানের পিস্তল এবং বুলেট জব্দ করা হয়। ৪০ রাউন্ড বুলেট ক্রয় করলেও কাদের খান পুলিশকে মাত্র ১০ রাউন্ড বুলেট জমা দিয়েছেন। বাকি ৩০ রাউন্ড বুলেটের হিসাব তিনি দিতে পারেননি।  

মামলার বাদি লিটনের বোন ও স্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ
পুলিশ কর্তৃক লিটনের হত্যার পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এই খুনের রহস্য উদঘাটনে নিয়োজিত পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতিও একই প্রতিক্রিয়া জানান।

লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা
এমপি লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে প্রথম হতেই পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা থাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রহস্য এর কূলকিনারা করা সম্ভব হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এর গ্রেফতারের পরপরই সুন্দরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গোলাম কিবরিয়া,সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান ফোর্সসহ কাদের খাঁনের গ্রামের বাড়ি ছাপড়হাটি ইউনিয়নের খানপাড়ায় গিয়ে বাড়িঘর ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে খানাতল্লাশি করেন। বুধবার দুপুরে কাদের খাঁনের বাড়িতে অতিরিক্ত ডিআইজি বশির আহমেদ এসপি আশরাফুল ইসলাম, অতি. পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ওসি আতিয়ার রহমান নিবির তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কাদের খানের বাড়ির একটি পুকুর সেচ করে কাদার ভিতরে তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়ির সংলগ্ন গভীর পুকুরটি তল্লাশির জন্য রংপুর হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নিয়ে আসা হয়। কাদের খানের বাড়ি এখন পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে।

লিটন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
চাঞ্চল্যকর এমপি লিটন খুনের মামলাটির জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জেলা জজ আদালতে সরকার পক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফি এ কথা বলেন।

 

তারাগঞ্জে পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার : গ্রেফতার ১

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জে নির্বাহী অফিসের সামনে একটি দোকান থেকে অবৈধভাবে পোস্টাল অর্ডার বিক্রয়ের অভিযোগে এক যুবকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে উপজেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  বিকালে পুলিশ ওই দোকানে গিয়ে ৫০ টাকার ৬৭টি, ২৫ টাকার ৪টি এবং ১০ টাকার ৫২টি সরকারি পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার করে ও বিক্রেতা বিজয়কে আটক করে।  বিজয়ের বাড়ি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারপাড়া গ্রামে।
এবিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা সদরুল আলম বলেন, সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি ভাবে বিক্রি করার নিয়ম, কেউ যদি সরকারি মালামাল বেসরকারিভাবে নিয়ম নীতি ছাড়া বিক্রি করে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়েছে। গত বুধবার রাতে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে নি¤েœাক্ত কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি- হলেন আনোয়ারুল হক, সহসভাপতি- প্রভাষক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, সম্পাদক- এমদাদুল হক মন্টু, সহ- সম্পাদক- প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক- আরমান আলী, কোষাধ্যক্ষ- আসাদুজ্জামান খোকন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- রবিউল আলম, কার্যকরী সদস্য- এসএম গোলাম মোস্তফা ও মঞ্জুরুল ইসলাম।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সকলের সর্বসম্মতিক্রমে উপরোক্ত কমিটি ঘোষণা করে। নির্বাচন পরিচালনা করেন আরিফুর শাহীন, প্রভাষক হারুনউর রশীদ প্রিন্স ও ফিরোজ হায়দার।

 

চিরিরবন্দরে শিক্ষক স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শিক্ষক স্বল্পতায় চিরিরবন্দর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলমান থাকলেও নেই তার সমাধান। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়মিত শিক্ষকরা। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারংবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধর্ণা দিয়েও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যক্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মানসম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, উপজেলায় ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৭টি বিদ্যালয় সরকারি অনুমোদিত রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১৩ সালে ৪ জন প্রধান শিক্ষক ও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭১ জন পুলভুক্ত সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই অভিভাবকদের। তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান না নিলে আগামী দিনে উপজেলায় ভালো ফলাফল আসবে না। উপজেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় ও অনেক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণে থাকায় চলমান সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।

শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। বেলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোরশেদ উল আলম বলেন, কোন কোন বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি এক শিক্ষককে দু’টি ক্লাসেও পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। তাই শিক্ষকরা যেমন অতিরিক্ত কাজ আর পাঠদান কার্যক্রমে ক্লান্ত হচ্ছেন। তেমনি এক বা দু’বিষয় সারাদিন পড়া নিয়ে শিক্ষার্থরাও বিরক্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক আফছার আলী খান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার এমন বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এ অবস্থার উত্তোরণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উপজেলা নেতারা বলেন, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য থাকায় অন্য শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিস ও পাঠদান কার্যক্রম সামাল দিতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হাসান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যাটি লাঘবে সরকার ও সংশি¬øষ্ট সবার আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই শুন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



Go Top