বিকাল ৩:৫৬, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রংপুর

সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান মিঞা : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারী হিসেবে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান সুন্দরগঞ্জ আসনের জাপা (এ) এর সাবেক এমপি। তাকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বগুড়া শহরের রহমাননগর জিলাদারপাড়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করে রাতেই গাইবান্ধায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে খুনের সাথে জড়িত অপর তিনজনকে গ্রেফতার করে গ্রেফতারকৃত ৩ জন মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কর্ণেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এমপি লিটন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহকারী।    

স্বীকরোক্তি দানকারীরা হলেনÑ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর সমস কবিরাজ পাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান (২২), উত্তর সমস বেকাটারি গ্রামের ওসমান গণির ছেলে শাহীন (২৩) এবং কাদের খানের গাড়িচালক বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কামারপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হান্নান (২৭)।
পুলিশ জানায়, খুনের সাথে জড়িত রানা (৩২) নামে অন্য একজনকে শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।  বুধবার দুপুরে পুলিশ কাদের খানকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। শুনানি শেষে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মইনুল হাসান ইউসুফ।
 
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
 লিটন হত্যার ঘটনায় বুধবার সকালে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয় চত্বরে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। এ সময় রংপুর রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি বশির আহমেদ, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো: আশরাফুল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম, এডিশনাল এসপি (হেড কোয়ার্টার) খায়রুল আলম, সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান, গাইবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু হায়দার মো: আশরাফুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে এমপি লিটন হত্যামামলার বাদী তার বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী, লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং পরিবারের অন্যান্য লোকজন, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনসহ জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা জাসদ ও অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং  জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে এমপি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়
 প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে এক মাস ২০ দিনের বিরামহীন তদন্তের পর ২১ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর লিটন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার মোটিভ সম্পর্কে তিনি বলেন, এমপি লিটনকে সরিয়ে দিয়ে পুনরায় ওই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুরাশায় সাবেক এমপি কাদের খান এক বছর আগে থেকেই এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা করেন। উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতার মোহই তাকে এই জঘন্যতম কাজে উদ্বুদ্ধ করে। এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটাতে তিনি তার ঘনিষ্ঠ ৪ সহচর মেহেদী হাসান, শাহীন, হান্নান ও রানাকে নানা প্রলোভনে রাজি করান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় কাদের খান নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে খুনিদের প্রায় ৬ মাস ধরে নানাভাবে গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়ে কিলিং মিশনে পাঠন।

লিটন হত্যায় প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, লিটন হত্যার পরিকল্পনাকারী কর্নেল (অব.) ডা: আব্দুল কাদের খান এর পাঠানো প্রথম কিলিং মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। ছক অনুযায়ী ইতোপূর্বে ঢাকা থেকে গাইবান্ধা আসার পথে এমপি লিটনকে গত অক্টোবর মাসে হত্যার ঐ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইবান্ধায় আসার পথে রাস্তায় প্রথমে তার গাড়িতে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থামিয়ে লিটন বের হয়ে আসা মাত্রই তাকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করে কিলাররা। কিন্তু দৈবক্রমে সে মিশন ব্যর্থ হয়।

লিটন হত্যা মিশন যেভাবে পরিচালিত হয়
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এমপি লিটনের নিজ বাড়িতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। লিটন হত্যা মিশনে ৩ জন হত্যাকারী অংশ নেয়। তারা হলো- মেহেদী হাসান, শাহীন ও হান্নান। খুনিদের মধ্যে মহেদী হাসান ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে হত্যা নিশ্চিত করে। প্রথমে ৩ খুনি লিটনের সাথে জরুরি কথা বলার ছলে তার সাথে বৈঠকখানায় ঢোকে। ঘরে ঢুকে সালাম দিয়েই ১ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে মেহেদী হাসান। এ সময় লিটন হাত দিয়ে গুলি ঠেকানোর চেষ্টা করে গুলিটি তার হাতে বিদ্ধ হয়। খুনি মেহেদী হাসান পরে এলোপাতাড়ি ৪ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকান্ড ঘটানোর পরপরই খুনিরা ডাইং ব্রাউন্সার রানার ১০০ সিসির কালো রঙের মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। খুনে ব্যবহৃত        মোটরসাইকেলটি  পুলিশ জব্দ করেছে। মোটরসাইকেলটি কাদের খানের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত এবং রেজি. বাবদ ফি জমা করা হয়েছে এমডি আলী নামে। পুলিশের ভাষ্য, রাস্তায় অপেক্ষমাণ কাদের খানের গাড়িতে কিলাররা বগুড়ায় তার বাড়িতে আত্মগোপন করে। সেখান থেকে ঢাকায় গিয়ে কাদের খানের সহায়তায় গাঢাকা দেয়।
 
যেভাবে লিটন হত্যা রহস্যের সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ
এমপি লিটনের খুনিরা গত ২ জানুয়ারি গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ধোপাডাঙ্গায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ওই পিস্তলটি ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ফাইম নামে এক যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন ও টাকা  ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলির একটি ম্যাগজিন খুনিদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়। স্থানীয় জনগণের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ম্যাগজিনটি উদ্ধার করে। ম্যাগজিনে থাকা গুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় এমপি লিটনের শরীর থেকে অপারেশন করে বের করা এবং তার বাড়িতে হত্যার পর প্রাপ্ত গুলির খোসার সাথে ওই ম্যাগজিনের গুলির মিল রয়েছে। পরে এই সূত্র ধরে পুলিশ খুনিদের আটক করে এবং পিস্তলটির ব্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
 
খুনিরা স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যা বলেছে
খুনিরা তাদের স্বীকরোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থ যোগানদাতা ও প্রশিক্ষণদাতা হিসেবে কর্নেল (অব.) ড. আব্দুল কাদের খান  এর নাম উল্লেখ করেছে।  বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে খুনিরা কাদের খানের পিস্তলটি ব্যবহার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত ব্লাস্টিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তা জানা যাবে বলে তারা ধারণা করছেন।  সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, খুনিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক কাদের খানের পিস্তল এবং বুলেট জব্দ করা হয়। ৪০ রাউন্ড বুলেট ক্রয় করলেও কাদের খান পুলিশকে মাত্র ১০ রাউন্ড বুলেট জমা দিয়েছেন। বাকি ৩০ রাউন্ড বুলেটের হিসাব তিনি দিতে পারেননি।  

মামলার বাদি লিটনের বোন ও স্ত্রীর সন্তোষ প্রকাশ
পুলিশ কর্তৃক লিটনের হত্যার পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এই খুনের রহস্য উদঘাটনে নিয়োজিত পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতিও একই প্রতিক্রিয়া জানান।

লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা
এমপি লিটন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে প্রথম হতেই পুলিশের সর্বোচ্চ তৎপরতা থাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রহস্য এর কূলকিনারা করা সম্ভব হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কর্নেল (অব.) ডা. আব্দুল কাদের খান এর গ্রেফতারের পরপরই সুন্দরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গোলাম কিবরিয়া,সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান ফোর্সসহ কাদের খাঁনের গ্রামের বাড়ি ছাপড়হাটি ইউনিয়নের খানপাড়ায় গিয়ে বাড়িঘর ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে খানাতল্লাশি করেন। বুধবার দুপুরে কাদের খাঁনের বাড়িতে অতিরিক্ত ডিআইজি বশির আহমেদ এসপি আশরাফুল ইসলাম, অতি. পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ওসি আতিয়ার রহমান নিবির তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কাদের খানের বাড়ির একটি পুকুর সেচ করে কাদার ভিতরে তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়ির সংলগ্ন গভীর পুকুরটি তল্লাশির জন্য রংপুর হতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নিয়ে আসা হয়। কাদের খানের বাড়ি এখন পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে।

লিটন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
চাঞ্চল্যকর এমপি লিটন খুনের মামলাটির জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বিচারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। জেলা জজ আদালতে সরকার পক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফি এ কথা বলেন।

 

তারাগঞ্জে পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার : গ্রেফতার ১

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের তারাগঞ্জে নির্বাহী অফিসের সামনে একটি দোকান থেকে অবৈধভাবে পোস্টাল অর্ডার বিক্রয়ের অভিযোগে এক যুবকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে উপজেলা পরিষদ মার্কেটের একটি দোকানে সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  বিকালে পুলিশ ওই দোকানে গিয়ে ৫০ টাকার ৬৭টি, ২৫ টাকার ৪টি এবং ১০ টাকার ৫২টি সরকারি পোস্টাল অর্ডার উদ্ধার করে ও বিক্রেতা বিজয়কে আটক করে।  বিজয়ের বাড়ি উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজারপাড়া গ্রামে।
এবিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা পোস্ট অফিসের কর্মকর্তা সদরুল আলম বলেন, সরকারী পোস্টাল অর্ডার সরকারি ভাবে বিক্রি করার নিয়ম, কেউ যদি সরকারি মালামাল বেসরকারিভাবে নিয়ম নীতি ছাড়া বিক্রি করে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের কার্যকরি কমিটি গঠন

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের ত্রি-বার্ষিক কার্যকরি কমিটি গঠিত হয়েছে। গত বুধবার রাতে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে নি¤েœাক্ত কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি- হলেন আনোয়ারুল হক, সহসভাপতি- প্রভাষক সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল, সম্পাদক- এমদাদুল হক মন্টু, সহ- সম্পাদক- প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক- আরমান আলী, কোষাধ্যক্ষ- আসাদুজ্জামান খোকন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- রবিউল আলম, কার্যকরী সদস্য- এসএম গোলাম মোস্তফা ও মঞ্জুরুল ইসলাম।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সকলের সর্বসম্মতিক্রমে উপরোক্ত কমিটি ঘোষণা করে। নির্বাচন পরিচালনা করেন আরিফুর শাহীন, প্রভাষক হারুনউর রশীদ প্রিন্স ও ফিরোজ হায়দার।

 

চিরিরবন্দরে শিক্ষক স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : শিক্ষক স্বল্পতায় চিরিরবন্দর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলমান থাকলেও নেই তার সমাধান। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়মিত শিক্ষকরা। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারংবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে ধর্ণা দিয়েও এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রতিদিনের কার্যক্রম আর সময়মতো সিলেবাস সম্পন্ন হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মানসম্পন্ন শিক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, উপজেলায় ১৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯৭টি বিদ্যালয় সরকারি অনুমোদিত রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ৩৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০১৩ সালে ৪ জন প্রধান শিক্ষক ও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭১ জন পুলভুক্ত সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদশূন্য থাকায় ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই অভিভাবকদের। তারা বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সমাধান না নিলে আগামী দিনে উপজেলায় ভালো ফলাফল আসবে না। উপজেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় ও অনেক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণে থাকায় চলমান সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করছে।

শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নিয়ে থাকেন। বেলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোরশেদ উল আলম বলেন, কোন কোন বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি এক শিক্ষককে দু’টি ক্লাসেও পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হয়। তাই শিক্ষকরা যেমন অতিরিক্ত কাজ আর পাঠদান কার্যক্রমে ক্লান্ত হচ্ছেন। তেমনি এক বা দু’বিষয় সারাদিন পড়া নিয়ে শিক্ষার্থরাও বিরক্ত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক আফছার আলী খান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার এমন বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত এ অবস্থার উত্তোরণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উপজেলা নেতারা বলেন, উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য থাকায় অন্য শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অফিস ও পাঠদান কার্যক্রম সামাল দিতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হাসান বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যাটি লাঘবে সরকার ও সংশি¬øষ্ট সবার আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই শুন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নীলফামারীতে জমির বিরোধে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু


নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমির বিরোধে দুই পরে সংঘর্ষে আহত একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে; এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিমলা থানার এসআই শাহবুদ্দিন আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সহিদুল ইসলাম (৩০) ওই উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের পূর্ব সাতজান গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে।


এসআই শাহবুদ্দিন এলাকাবাসীর বরাতে বলেন, ওই গ্রামের দুই ভাই আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল গনির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১৫ শতক জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। কিছুদিন আগে রাজ্জাক ওই জমি তার বড় ভাই গনির কাছে বিক্রি করেন।


“বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্জাকের পরিবার বিক্রি করা ওই জমিতে চাষ দিতে গেলে গনির পরিবার বাধা দেয়। এতে দুই পরে সংঘর্ষ হলে গনির ছেলে সহিদুল ও আলমগীর হোসেন (২৮) এবং রাজ্জাকের ছেলে আব্দুন নূর (২৫) আহত হন।”


পরে সহিদুল মারা যান জানিয়ে এসআই শাহবুদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজ্জাকের ছেলে দুলাল হোসেন (২১) ও রহুল আমিনকে (১৮) আটক করা হয়েছে।নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান এসআই শাহবুদ্দিন।

 

আদিতমারীতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে টিএসপি সার

লালমনিরহাট অফিস : সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিক্রি করা হচ্ছে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি বাংলা) নামক রাসায়নিক সার। ফলে ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে এখানকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি বিভাগের সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় প্রকাশ্যে আদিতমারীর হাট-বাজারগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এ সার।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের বুড়িরবাজারে রাজু সার বিতান থেকে টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স রাসায়নিক সার খুচরা কিনতে হচ্ছে ১৬৫ টাকায় (৫ কেজির দাম)। আবার  কোন কৃষক এক বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স নিতে গেলে তার কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ টাকা। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে এগারশ টাকা।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ প্রতিনিধি কৃষক হিসেবে রাজু সার বিতান  থেকে ২০ কেজি টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স সার কিনতে গেলে তার কাছ  থেকেও আদায় করা হয়েছে এক হাজার ৬৫০ টাকা প্রতি বস্তার দাম হিসেবে। আর ২০  কেজির দাম  নেয়া হয়েছে ৬৬০ টাকা।

এ সময় প্রশ্ন করা হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়া হচ্ছে  কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দোকান মালিকের ছেলে জাহিদুল ইসলাম রাজু জানান, টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স সারের চাহিদা বেশি আর বেশি দাম দিয়ে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে হয়েছে তাই বেশি নেয়া হচ্ছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, এখানকার বিসিআইসি সার ডিলাররা এসব সার উত্তোলন করে সেখানেই বিক্রি করেন। ফলে বিপাকে পড়েন এখানকার কৃষকরা।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিষখোচা ইউনিয়নের কুষ্টারীর হাটে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও। তবে নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে একজন খুচরা বিক্রেতা দাবি করেন এখানকার ডিলারের কাছ থেকে প্রায় ১৬শ টাকায় টিএসপি বাংলা কমপ্লেক্স কিনতে হয়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

লালমনিরহাট ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিসিআইসি সার ডিলার আব্দুল হাকিম জানান, যারা বেশি দামে টিএসপি বাংলা সার বিক্রি করছেন তারা তো বিসিআইসি সার ডিলার নয়। তিনি আরও জানান, আদৌ এসব সার টিএসপি বাংলা কি না? তিনি কৃষি বিভাগকে এসব বিষয় খতিয়ে  দেখার জন্য অনুরোধ জানান।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির অভিযোগ বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরাও পাচ্ছি কিন্তু প্রমাণ না থাকার কারণে কিছুই করতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

 

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে সৃষ্ট জলরাশিতে নানা জাতের দেশী মাছ

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ভূমি ধসে সৃষ্ট বিশাল জলরাশি বর্তমানে দেশী মাছের খনিতে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল জলরাশি দেশী প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য হওয়ায়, সেখানে মিলছে হারিয়ে যাওয়া নানা প্রজাতির দেশী মাছ। ফলে ঐ এলাকার মৎস্যজীবীদের জীবন জীবিকার একমাত্র স্থান হয়ে দেখা দিয়েছে এই জলরাশি।

গত মঙ্গলবার বড়পুকুরিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায় জেলেরা ভোর থেকে মাছ ধরা শুরু করেছেন। তারা বলেন, প্রতিদিন সূর্যের তাপ বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই তারা মাছ ধরতে আসে। এই মাছ বড়পুকুরিয়া খনির গেট থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী পৌরবাজারে বিক্রি করা হয়। এতে তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। কালুপাড়া গ্রামের আ: সাইদুর রহমান জানান, তিনিসহ কালুপাড়া, মৌপুকুর, পাতিগ্রাম ও পাতরাপাড়া গ্রামের ২০ হতে ৩০ জন জেলে এই জলাভূমিতে প্রতিদিন মাছ ধরেন। দেশী প্রজাতির কৈ, টেংরা, শিং, মাগুর, ময়া, শোল, বোয়াল এমনকি হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি চেলা ও বাচা মাছও এখানে পাওয়া যায়। যেগুলোর বাজারে অন্যান্য মাছের তুলনায় চাহিদা ও দাম দু’টোই বেশি। এতে তাদের জীবন জীবিকা ভাল ভাবে কেটে যাচ্ছে। একই কথা বলেন বৈগ্রামের মজিবর রহমান, মৌ গ্রামের আ: খালেক।

হামিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাতরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন মন্ডল জানান, এই জলাশয়টি আজ থেকে ৫ বছর পূর্বেও ৩ ফসলি জমির মাঠ ছিল। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে ভূমি দেবে গিয়ে এখন বিশাল জলরাশিটি সৃষ্টি হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) জানান, খনিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে ভূমি অবনমন হওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালে বিপজ্জনক এলাকা সার্ভে করে সাড়ে ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের উচ্চমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। এরপর প্রায় ৩০০ একর জমি ভূমি অবনমন হয়ে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। এ কারণে খনি কর্তৃপক্ষ এই জলরাশিতে কয়েক দফা মাছের পোনা অবমুক্ত করে। ফলে এই জলরাশির এখন বিভিন্ন প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানকার মাছ বড়পুকুরিয়াসহ ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার মাছের চাহিদা পূরণে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তিনি আরো বলেন, এই জলরাশিটির পানি বহুমাত্রিক ব্যবহারের উপযোগী করতে একটি আদর্শ জলরাশি করার চেষ্টা করছে খনি কর্তৃপক্ষ।

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন এসপিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের স¤পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় গাইবান্ধার এসপি মো. আশরাফুল ইসলামকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে আদালতে প্রতিবেদন জমা হয়। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সাথে ডিবির একজন সদস্যসহ তিন পুলিশ সদস্য জড়িত। কিন্তু তারা ওই সময় হেলমেট পড়া অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। ওই ঘটনায় দূর থেকে ভিডিও করা হয়েছে বলে ভিডিওতেও তাদের ¯পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।

উলে¬খ্য, গত বছরের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্ল¬ীর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি দখলে নিতে গিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় গোলাগুলিতে তিন সাঁওতাল পুরুষ নিহত ও ৩০ জন আহত হন। সাঁওতাল পল্ল¬ীতে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং সাঁওতালরা হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট আবেদন করে।

 

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা না থাকায় চলতি শুষ্ক মৌসুমে নদের তীরবর্তী বিভিন্ন পেশার মানুষ মহাবিপাকে পড়েছেন। নদীনির্ভর শত শত মৎস্যজীবী বেকার হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও নৌ-চলাচল।

উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা এখন আর নেই। বর্ষায় থৈ থৈ পানি থাকলেও বর্তমান শুকনো মৌসুমে এই নদের পানি শুকিয়ে গেছে। জেগে ওঠেছে অসংখ্য চর। নাব্যতা না থাকায় নৌ-চলাচলতো দূরের কথা নদের আশপাশের গ্রামের জমিতে আগের পদ্ধতিতে সেচ দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোথাও কোথাও পানি থাকলেও তা পরিমাণে একেবারেই কম। সেচের উপযোগী নয়। ফলে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী দুই পাশের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নদী তীরের মানুষ স্যালো মেশিন বসিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ কাজে ব্যবহার করছেন।

অপরদিকে, নদীতে পানি না থাকায় শত শত জেলে পরিবার তাদের নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রেখেছেন। নৌ চলাচল না থাকায় বেকার হয়েছেন কুলি শ্রমিক ও জেলে পরিবারগুলো। কৃষক, জেলে, নৌ-চালক, শ্রমিকরা জানান, আগে নদীতে পানি থাকতো তখন নদীর পানি দিয়ে আবাদ হতো। এখন নদীতে পানি না থাকায় বালু মাটিতে পানি দেয়া যাচ্ছে না। নদীর তীরবর্তী ফসলি জমিগুলো পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

তারপরও তেল কিনে স্যালো মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে কিছু জমিতে পানি দেয়া হচ্ছে। পানি না থাকায় নদী মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। ধার দেনা করে চলতে হচ্ছে জেলে পরিবারগুলোকে। অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ নৌরুটগুলোতে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নৌ-শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাদের নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

 

 

 

 

 

গাইবান্ধায় লিটনের আসনে উপ-নির্বাচন ২২ মার্চ

আততায়ীর গুলিতে সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আগামী ২২ মার্চ উপ-নির্বাচন হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে রোববার এই আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিশন দায়িত্বে নেওয়ার পর ভোট গ্রহণের বাকি কাজ সম্পন্ন করবে।

নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব রাজিব আহসান জানান, রংপুর বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তাকে এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতার জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ১ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন রাখা হয়েছে। এই আসনে ভোটার রয়েছে তিন লাখ দুই হাজার ৮৫৩ জন। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচনন কমিশনের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। গত ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে নষ্ট হচ্ছে খেজুর বাগান

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের পোকাতি এলাকায় প্রায় ১৩ একর জমির উপর অবস্থিত খেজুর বাগান। সঠিক পরিচর্যার অভাবে আজ সেই খেজুর বাগান প্রায় ধ্বংসের পথে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েক বছর আগে এ খেজুর বাগান থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করতেন। আর সেই রাস দিয়ে গুড় তৈরি হত। তারপর সেগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হত। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে বাগানটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নারগুন এলাকার তানভীর মাহফুজ বলেন, জেলার সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান এটি। এ ধরনের বাগান অন্য কোথাও নেই। তাই এ বাগানটি সঠিক পরিচর্যা করা দরকার।
রস সংগ্রহকারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, এক সময় এ বাগান থেকে আমরা রস সংগ্রহ করতাম। আর সেই রস বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন তা পারছি না। কারণ বাগানটি নষ্ট হয়ে গেছে। পোকাতি ফার্ম ইনচার্জ লোকনাথ রায় জানান, বাগানটি চুক্তিতে দেওয়ার জন্য রস সংগ্রহকারীদের খোঁজা হয়। কিন্তু এখন আর তাদের পাওয়া যায় না। এ কারণে বাগানটি পরিচর্যা করা হয় না।

সাঁওতালপল্লীতে আগুন বিচারিক প্রতিবেদন নিয়ে আদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে দায়ী করে দেয়া বিচারিক প্রতিবেদন নিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।  মঙ্গলবার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, আদালত ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সকল পক্ষকে এ প্রতিবেদন সরবরাহ করতে হাইকোর্টের পেপারবুক শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর তদন্ত প্রতিবেদন রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা হয়েছে বলে সোমবার  সাংবাদিকদের জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। ওইদিন তিনি বলেন, ‘৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনটির সঙ্গে সাপোর্টিং কাগজপত্র রয়েছে ১ হাজার ১ পৃষ্ঠার। রোববার এটি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর সোমবার বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন’। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়েছে, সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং ঘটনার সময়ে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রদর্শিত ভিডিওক্লিপ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, কিছু পুলিশ সদস্য এবং দু’জন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। আরো কিছু পুলিশ সদস্য কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যারা আগুন লাগানোয় সক্রিয় অংশগ্রহন করেননি। তবে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টাও করেননি।

হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি: এদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর জন্য বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের দায়ী করা হলেও হেলমেটের কারণে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহর তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর  মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি আজকে হাইকোর্টে দাখিল হয়েছে। ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে রয়েছে এক হাজার এক পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র। সেখানে এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত সকল পক্ষকে (মিল কর্তৃপক্ষ, আসক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, এমনকি বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি) সরবরাহ না করার কারণে আদালত সেটি প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি সকল পক্ষকে সরবরাহ না করার কারণে আদালত আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেপারবুক সেকশনকে সরববরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। আর ৭ ফেব্রুয়ারি এটি যথারীতি আসবে। মোতাহার হোসেন বলেন, একনজরে প্রতিবেদনের মতামত অংশে আমরা যেটি দেখেছি, সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগানোর ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এবং দু’জন পুলিশ সদস্য ও একজন ডিবি সদস্য সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, তবে প্রতিবেদনে তাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। কারণ, তারা হেলমেট পরা অবস্থায় ছিলেন। এমনকি ভিডিওটি অনেক দূর থেকে ধারণ করা। এ কারণে তদন্ত কমিটি এটি ডিটেক্ট (নাম শনাক্ত) করতে পারেননি। এমনকি ওইদিন যারা ডিউটি করেছেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদেও নাম শনাক্ত করতে পারেননি। আগুন দেওয়ার ঘটনার দিন কারা ডিউটিতে ছিলেন তাদের তালিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই দিন যারা কর্মরত ছিলেন, তাদের তালিকা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে কমিটির পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছিলো। ওই ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি যেহেতু এর মধ্যে কাজ করছেন, ওই  তালিকা সেখানে সরবরাহের কারণে এখানে তা করতে পারেননি এসপি।  

উল্লেখ্য,গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সাঁওতালপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত কি-না বা কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়। রিট আবেদনকারীদের এক সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে একটি রিট দায়ের করা হয়। অন্যদিকে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় কমিশন চেয়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর দ্বিতীয় রিটটি আবেদন করেন আহত দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হেমভ্রম ও গণেশ মুরমোর স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

 

ডোমারে বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন আহত

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় বাড়িতে বাঁশের বেড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’টি পারিবারের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  সোমবার দুপুরে উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের চিলাহাটি প্রগতি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, ওই এলাকার ফয়জদ্দীন ও আবু সাইদের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার ফয়জদ্দীন তার বাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিচ্ছিল। এমন সময় আবু সাইদ ওই জায়গা তার দাবি করে বাঁধা দেয়। এতে ওই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিরোধপূর্ণ জায়গায় উঠানো আবু সাইদের একটি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। এতে আবু সাইদের পুত্র সুজন, সুমন, সোহেল ও প্রতিপক্ষের ফয়জদ্দীনের চাচাত ভাই মনোয়ার ও তার স্ত্রী মনোয়ারা গুরুতর আহত হয়। চিলাহাটি তদন্ত থানার এস আই জুলফিকার আলী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর কাজে ধীর গতি হতাশ দুই পারের মানুষ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর ২২ মাসের কাজ বিভিন্ন কারণে দুই দফার বর্ধিত সময়ের ৩৪ মাস কেটে গেছে। ব্যবস্থাপনায় জটিলতা, আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অজুহাতে তৃতীয় দফায় ফের এক বছর বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদকাল। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে চারমাস। বহু কাক্সিক্ষত এই সেতুর কাজের গতি কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে তিস্তার দুই পারের মানুষ। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণ হলে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর বুড়িমারীসহ লালমনিরহাটের চারটি উপজেলার সাথে সারাদেশের দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। এতে একদিকে চলাচলে যেমন সময় কমে আসবে, তেমনি কমবে যাতায়াত খরচ। আর প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের। কিন্তু অর্থাভাবসহ নানা কারণে গতিহীন হয়ে পড়েছে নির্মাণাধীন এই সেতুর কাজ।

লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তিস্তা নদীর উপর গঙ্গাচড়া-কালীগঞ্জ সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘ডব্লিউ এমসিজি-নাভানা গ্র“প’। এছাড়া কালীগঞ্জের কাকিনা হতে গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা এবং ওই সংযোগ সড়কে তিনটি কালভার্ট ও দুটি ছোট সেতুর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। মূল সেতু ও পুরো সড়কজুড়ে থাকবে আলোর ব্যবস্থা। জানা যায়, উত্তর জনপদের অবহেলিত রংপুর জেলার গঙ্গাচড়ার উন্নয়ন এবং লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে তিস্তা নদীর ওপর (কালীগঞ্জ-গঙ্গাচড়া) সেতু দাবি করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেতু নির্মাণে ২২ মাস সময় ধরা হলেও ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রথম দফার মেয়াদ শেষে সেতুর ৪৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় কাজের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট ২২ মাসের পর অতিরিক্ত এক বছর সময় বৃদ্ধি করা হলে ওই সময় পর্যন্ত সেতুর ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়। তৃতীয় দফায় ফের গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। আবারও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেও মূল সেতুর শতভাগ কাজ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে এলাকার মানুষ। তবে লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সেতুর সংযোগের জন্য পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, তিনটি কালভার্ট ও ছোট দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আগের তুলনায় কাজের গতি কমে গেছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, তিস্তা নদী দেশের অন্যান্য নদী থেকে আলাদা। এখানে শুকনো মৌসুম ছাড়া কাজ করা মুসকিল। এ নদীতে গভীরতা কম হলেও বর্ষাকালে স্্েরাত অনেক বেশি। এ কারণে সেতুর কাজ সময়মত করা সম্ভব হয়নি। তবে সময়মত কাজ শেষ করার জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, এই সেতুতে মোট ১৭টি স্প্যান রয়েছে। ইতিমধ্যে মাত্র ১৪টি স্প্যানের কাজ শেষ হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী একটি স্প্যানের গার্ডার তৈরি করতে সময় লাগে ২২ দিন। সে হিসাবে এখনো সময় লাগবে প্রায় ৩ মাস। তাছাড়া রয়েছে নদী শাসনের কাজ। গত বছর দুই দফায় যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে নির্মাণাধীন সেতুর দু’টি গার্ডার ভেঙে পড়ায় কাজ কাজ অনেক পিছিয়ে পড়ে।

সেতু এলাকা গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, নির্মাণ কাজের কোন গতি নেই। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও কাজ শেষ না হওয়াটা দুঃখজনক। এরপরও নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর শতভাগ কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

                                                                          
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রবীণ কুমার বিশ্বাস জানান, সেতু নির্মাণকাজে কোন গাফিলতি নেই। যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে ইতিপূর্বে দুটি গার্ডার ভেঙে পড়ায় কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। এ পর্যন্ত সেতুর ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ নেওয়াজ জানান, বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালামাল সঠিক সময়ে আনতে না পারায় কাজের গতি কিছুটা কমে এসেছিল। তবে বর্তমানে সে সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আবারও চারমাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাজের মেয়াদ বাড়লেও কোন ব্যয় বাড়বে না বলেও তিনি দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জের মত স্বচ্ছ করতে চায়: ওবায়দুল কাদের

রংপুর প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সার্চ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন তাতে আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জের মতো স্বচ্ছ করতে চায়। এ জন্য নির্বাচন কমশিনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে আওয়ামী লীগ।  রোববার দুপুরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগের এক যৌথ কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপির একজন নেতা সার্চ কমিটির সদস্যদের নিয়ে আশাবাদী, আরেক নেতা হতাশ। তাদের কথা ও কাজে কোন মিল নেই। দলে নেতা যত বাড়ছে কর্মী তত কমছে। নেতা উৎপাদনের কারখানা দরকার নেই, কর্মী উৎপাদনের কারখানা দরকার। কারণ কর্মীরাই দলের প্রাণ। সমস্যা নেতাদের মাঝে, কর্মীদের মাঝে কোন সমস্যা নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা সত্যিকারের রাজনীতি করেন তারা একদিন মূল্যায়ন পাবেন। হতাশ হবেন না। একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারে না। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতেই আজকের এ সভা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা দলীয় কোন্দল ও কলহ সৃষ্টি করেন তারা সতর্ক হয়ে যান। যতই পকেট কমিটি করেন না কেন জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য তারাই সর্বোচ্চ মূল্যায়ন পাবেন। নেতারা কর্মীদের সাথে আর কর্মীরা জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করেন।
সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও অপশক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এ শক্তিকে পরাজিত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদকের ছোবলে তরুণদের একটি বড় অংশ ধ্বংস হচ্ছে জানিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে প্রশাসনহসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সভায় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্শী এমপি, বস্ত্র ও পাঠ প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, হুইপ ইকবালুর রহিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সুরজিৎ নাথ নন্দী, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিয়ার রহমানসহ আট জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

গাইবান্ধায় স্কুলে অগ্নিসংযোগ প্রতিবাদে সমাবেশ থানায় মামলা

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : সন্ত্রাসীদের নাশকতায় কুন্দেরপাড়া চরে হাইস্কুলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে  শনিবার প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, বিদ্যালয়ের সভাপতি গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম আব্দুস সালাম, উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম, সাবেক ইউপি সদস্য ছকমল হোসেন, শাহিনা বেগমসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি বলেন, নাশকতা ও সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে যে সন্ত্রাসীচক্র এদেশের উন্নয়ন ও নারী শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তারাই প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগুনে ভস্মীভূত করেছে। শান্তিকামী মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে নাশকতাকারী এবং মৌলবাদী এই অশুভ শক্তিকে দমন করবে। দেশকে অস্থিতিশীল করে উন্নয়ন এবং নারী শিক্ষাকে ব্যাহত করার এই অপতৎপরতা কখনই সফল হবে না।

কুন্দেরপাড়া গণউন্নয়ন একাডেমি বিদ্যালয় ভবনটিতে প্রথমে পেট্টোল ছিটিয়ে তাতে আগুন দেয়া হয়। ফলে আগুন লাগানোর সাথে সাথেই গোটা ভবনটি ভস্মীভুত হয়ে যায়। গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুনে পোড়া বিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করে এমন আশংকাই করছেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মৌলবাদী একটি সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন থেকেই ওই এলাকায় নারী, শিক্ষা এবং উন্নয়নের বিপক্ষে নানা অপতৎরতা চালিয়ে আসছিল। শিক্ষার বিকাশ ঘটায় এখন কুন্দেরপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী সিধাই, চিথুলিয়া দিগর, মোলারচর, মৌলবীর চর, রসুলপুরসহ চরাঞ্চলগুলোতে বাল্য বিয়ে, বহু বিয়ে, যৌতুক প্রথা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। তদুপরি নারী শিক্ষাও উল্লেখযোগ্য হারে বিকশিত হচ্ছে। এ জন্যই সন্ত্রাসী চক্ররা ঐ বিদ্যালয়কেই দায়ী করে সেটি ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি আগুনে পুড়ে দেয়ার ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের কথা উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান জানান, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত যে, এটি একটি সুপরিকল্পিত অগ্নিকান্ড। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ মোটিভ উদ্ধারে, সন্ত্রাসী তৎপরতা, নাশকতা, শত্র“তার জের, একই এলাকায় নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সবগুলো বিষয়ের তদন্ত করবে।

আগুনে পুড়ে গোটা বিদ্যালয় ভবনটি বিধ্বস্ত হলেও উদ্যম হারায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।  শনিবার থেকেই যথারীতি পুড়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের পাশে, গাছতলায় এবং পার্শ্ববর্তী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের স্টীলের শেল্টার গুলিতে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালু রয়েছে।

 

ফুলবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে মালামাল ভস্মীভূত

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বড়ভিটা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পাঁচ লক্ষাধকি টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের বেলাল উদ্দিন, শাহাজামাল ও খয়ের উল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, খয়ের উল্লার রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে তিনটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র ও নগত টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই এলাকাবাসী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে তিনটি পরিবারের ৫ লক্ষাধিক টাকা  ক্ষতির হয়।

বদরগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নে অবস্থিত খিয়ারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।  বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রামনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক রুহুল আমিন সরকার। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক জাকির হোসাইন, সহকারী শিক্ষক বাদশাহ আলমগীর, শিক্ষার্থী রুমাইয়া খাতুন, মুশরাত জাহান মিশু ও আহসান হাবীব সাগর। শেষে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার তুলে দেয়া হয়।

 

লালমনিরহাটে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু

লালমনিরহাট অফিস : বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি ও ঝরেপড়া রোধে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এলজিএসপি-২ প্রকল্পের অর্থায়নে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শিয়ালখোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব চলবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস, নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, এলজিএসপি-২ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর কবির আনোয়ার প্রমুখ। পরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন ক্যারিয়ার বিতরণ করা হয়।

চিলমারী অডিটোরিয়াম এখন বইয়ের গুদাম

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার একমাত্র অডিটোরিয়ামটি এখন বই রাখার গুদাম ঘরে পরিণত হয়েছে। ভবনটি সংস্কার না করার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নাট্যচর্চা এবং কমে গেছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড।

৯০ এর দশকে এই অটিটোরিয়ামে স্থানীয়রা নাটক দেখতো টিকিট কেটে। তখন ৩-৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিযোগিতামূলক কর্মকান্ড চালাতো এই অডিটোরিয়ামকে ঘিরে। উপজেলা প্রশাসনকে ৫শ টাকা ভাড়া দিয়ে এটি বুকিং নিতে হতো। সকল রাজনৈতিক দলের সভাসহ বিভিন্ন এনজিও’র অনেক প্রোগ্রাম এবং সরকারি প্রোগ্রাম হতো এখানে। ১৯৯০ সালের পরে একবার এটি সংস্কার করা হয়। সংস্কার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৭ সালের পরে অডিটোরিয়ামটি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পরে। এ অবস্থাতেই ৪/৫ বছর ধরে উপজেলা মাধ্যমিক অফিস অডিটোরিয়ামটিকে বই রাখার গুদাম হিসাবে ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে নাট্যকর্মী ও সাংবাদিক এস এম নুরুল আমিন সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, মহব্বত আলী মজনু, রোকনুজ্জামান স্বপন, আমজাদ হোসেনসহ অনেকে বলেন- অডিটোরিয়ামটি সংস্কার না করার কারণে এ উপজেলায় ধীরে ধীরে নাট্যচর্চা বন্ধ হয়ে গেছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। নাট্যকর্মী চৌধুরী আমিনুল ইসলাম বলেন, একদিকে পৃষ্ঠপোশকতার অভাব অন্যদিকে বাইরে মঞ্চ তৈরি করে নাটক করতে অনেক টাকার প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ৫শ’ টাকায় রেডিমেট মঞ্চ পাওয়া যেত। নাটচর্চা করতে অসুবিধা হতো না। তিনি দ্রুত অডিটোরিয়ামটি সংস্কারের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মো. আরিফ উল্লাহ বলেন, বই রাখার জায়গা নেই, অডিটোরিয়ামটি ফাঁকা পরে ছিল। আপাতত সেটাকেই আমরা বিনা ভাড়ায় ব্যবহার করছি। সংস্কারের কাজে হাত দিলে আমরা বই সরিয়ে নিবো। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম জানান, বরাদ্দ পেলে অবশ্যই অডিটোরিয়ামটি সংস্কার করা হবে।

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করেন মাসুদ

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে কুনিও হোশির হত্যাকারী হিসেবে মামলার প্রধান আসামি জেএমবির রংপুরের আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রীকে শনাক্ত করেছেন ওই জাপানি নাগরিককে বহনকারী রিকশাচালক ও ঘটনাস্থলের চা দোকানি।  মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রিকশাওয়ালা আব্দুল মোন্নাফ ও চা দোকানি আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে শনাক্ত করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা। সেইসঙ্গে এই দুই সাক্ষী আদালতে কুনিওকে হত্যার ঘটনাও বর্ণনা করেন বলে জানান রথীশ।
রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, আব্দুল মোন্নাফ তার সাক্ষ্যে বলেন প্রতিদিন কুনিও হোশিকে তার জাপানি কয়েল ঘাসের খামারে নিয়ে যেত। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কুনিওকে নিয়ে আলুটারি গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে নেমে খামারে যাওয়ার পথে মাসুদসহ তিনজন রিকশাটি আটক করে। এরপর মাসুদ পিস্তল বের করে কুনিওকে কাছে থেকে দুটি গুলি করলে তিনি রিকশা থেকে মাটিতে পড়ে গেলে ভয়ে পালিয়ে যান বলে মোন্নাফ সাক্ষ্যে বলেন। দূর থেকে আরেকজন কয়েকটি ফাঁকা গুলি করার পর তিনজন লাল রংয়ের একটি মোটরসাইকেলে করে হারাগাছের দিকে চলে যায় বলে এ রিকশাওয়ালা সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। রথীশ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানি আব্দুল্লাহ আল মামুনও লাল রংয়ের মোটর সাইকেলে করে তিনজন যুবক এসে মাহিগঞ্জ-হারাগাছ সড়কে অপেক্ষা করার কথা এবং মোন্নাফের রিকশায় কুনিও এলে তারা রিকশাটি আটক করে বলে জানায়। এরপর তিনি কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান এবং ওই তিনজনকে দ্রুত মোটর সাইকেলে উঠে হারাগাছের দিকে চলে যেতে এবং কুনিওকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। মোন্নাফ ও মামুন ছাড়াও যে বাড়ির সামনে কুনিওকে গুলি করা হয় সেই বাড়িওয়ালার ছেলে মাইদুল ইসলাম মুরাদ, একই এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আরশাদ হোসেনও এদিন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। পরে বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রেখে আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন বিচারক। এ নিয়ে তিন দফায় মামলার বাদীসহ ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। মামলায় আরও ৪৫ জনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি। এ হত্যা মামলায় গত বছরের ১০ জুলাই জেএমবির আট সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় কারাগারে থাকা আসামি জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা, সদস্য ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। পলাতক আসামিদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল গত ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান গত বছরের ২ আগস্ট ভোরে রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আরেক আসামি আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব এখনও পলাতক রয়েছেন। তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ইব্রাহীম কবীর বলেন, আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব গত বছরের জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।

পঞ্চগড়ে ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ মা-ছেলে নিহত


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি রাস্তা থেকে স্ত্রী-পুত্রের লাশসহ এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ; ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে তাদের অক্ষত মোটরসাইকেল।

পঞ্চগড় সদর থানার এসআই সাজু মিয়া জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সড়কের সাড়ে নয় মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন জয়ন্তী রানী (৩০) ও তার ছেলে নারায়ণ (২)।

জয়ন্তী পঞ্চগড় বোদা উপজেলার ব্যাঙহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের পুঁটিমারি গ্রামের শীতেন্দ্রনাথের (৪০) স্ত্রী।

এসআই সাজু  বলেন, শীতেন্দ্রনাথ পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে তেঁতুলিয়ায় চাকরি করেন। তিনি সোমবার রাতে সপরিবার বাড়ি থেকে তেঁতুলিয়া যাচ্ছিলেন।

“এ সময় সম্ভবত কোনো ট্রাক তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।”

বস্তুত কখন, কী ঘটেছে পুলিশ সেসব তদন্ত করছে বলে জানান এসআই সাজু।

পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাজিউল করিম জানান, শিশুটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত দেখা গেছে। নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মরিয়ম বেগম জানান, শীতেন্দ্রনাথকে অচেতন অবস্থায় ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সকালেও তার জ্ঞান না ফেরায় স্বজনরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে নিয়ে যান।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বীপেনচন্দ্র রায় বলেন, “আমরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ভজনপুর এলাকায় অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম।

“পথে জয়ন্তী ও শিশু নারায়ণের লাশ, অচেতন শীতেন্দ্রনাথ ও তাদের মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখি। কখন কী ঘটেছে সে সম্পর্কে ওই এলাকার কেউ কিছু বলতে পারেনি।”

শীতেন্দ্রনাথের পরিবার দীপেনচন্দ্রের পূর্বপরিচিত বলে তিনি জানান।

 

সাদুল্যাপুরের নিখোঁজ অপর ২ নেতাও বাড়ি ফিরলেন

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : এবার নিখোঁজের ১১ দিন পর গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাইদুল ইসলাম প্রিন্স ও যুবদল নেতা শফিউল ইসলাম শাপলা নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের দু’জনকে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি এলাকা থেকে পরিবারের লোকজন তাদের মাইক্রোবাসে করে বাড়ি নিয়ে আসেন।

 শনিবার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নয়ন তাদের দু’জনের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার হওয়া প্রিন্স ও শাপলা বলেন, শুক্রবার রাতে তাদের দুজনকে খোলাহাটি এলাকায় রেখে যায় কয়েকজন। এরপর তারা বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানান। তবে কারা তাদের ধরে নিয়ে গেছেন এবং ১১ দিন তারা কোথায় ছিলেন তা জানতে পারেননি। এমনকি যারা তাদের আটক করে রেখেছিলেন তাদেরও চিনতে পারেননি।
সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, ৪ নেতা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাদুল্যাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। এরপর বিভিন্নভাবে তাদের উদ্ধারে তৎপর ছিল পুলিশ। অবশেষে দুজন অত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন। এর আগেও নিখোঁজ যুবলীগ নেতা জিম মন্ডল ও ছাত্রলীগ নেতা সাদেক অত অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নলডাঙ্গা রেলগেট থেকে প্রিন্সকে ও কাচারীবাজার এলাকা থেকে শাপলাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের প থেকে সাদুল্যাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর আগের দিন ৯ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোয়ারুল হাসান জিম ও দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেকও নলডাঙ্গা যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের তুলে নিয়ে যায়।

 

 

এমপি লিটন হত্যা জামায়াত নেতার ছেলেসহ দুইজন ঢাকায় গ্রেফতার

গাইবান্ধার ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা থেকে দুইজনকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে, যাদের একজন সুন্দরগঞ্জের এক জামায়াত নেতার ছেলে। র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান,  বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে ওই দুইজনকে তারা গ্রেফতার করেন। এরা হলেন- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির (পশ্চিম) হাজি ইউনূসের ছেলে আশরাফুল ও তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম।

তাদের সাংসদ লিটন হত্যার ঘটনার ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ হিসেবে বর্ণনা করে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, দুইজনকে সুন্দরগঞ্জে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। গত ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহবাজ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হয় সাংসদ লিটনকে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৪/৫ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। লিটন হত্যার ঘটনায় এর আগে দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পূর্ব অঞ্চলের জামায়াত আমীর সাইফুল ইসলাম মন্ডলও রয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল এমডির বিরুদ্ধে কেন মামলা নয়: হাই কোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাই কোর্ট। ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এই রুল জারি করে। স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারী সুপ্রকাশ দত্ত নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

সুপ্রকাশ দত্ত পরে বলেন, কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে ওই কার্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দিতে হবে। গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জন্য  অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর কোন আইনে ও ক্ষমতাবলে আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। রেজিস্ট্রি ডাকে ওই নোটিস পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী জবাব না পেয়ে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন বলে জানান সুপ্রকাশ। তার নোটিসে বলা হয়েছিল, ‘গতবছর ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে, সাঁওতালদের হত্যা করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিন্তু ৮ নভে¤॥^র থেকে আপনি (চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) উচ্ছেদকৃত এলাকায় ট্রাক্টর চালিয়ে ঘটনার আলামত নষ্ট করেছেন। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আলামত সংরক্ষণ ও আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু আপনি এবং অন্য কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন এলাকা থেকে আলামত অদৃশ্য করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এটা দ-বিধি ২০১ ধারায় ফৌজদারি অপরাধ।’ সেদিন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। ওই ঘটনায় আরও দুটি রিট আবেদন হয়, যা হাই কোর্টে বিচারাধীন।

ক্ষমা চাইলেন গাইবান্ধার এসপি, তদন্তের সময় বৃদ্ধি

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় গুলির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশে সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ বলায় হাই কোর্টের তলবে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম। বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত কিনা এবং কারা ওই ঘটনায় দায়ী- তা তদন্তে আরও ২০ দিন সময় পেয়েছেন গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. শহিদুল্লাহ। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এ আদেশ দেয়।

রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ গত বছর ৬ নভে¤॥^র তাদের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনজন, আহত হন অনেকে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে গাইবান্ধায় দুটি মামলা করা হয়। আর হাই কোর্টে হয় দুটি রিট আবেদন। ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, মুখ্য বিচারিক হাকিম রোববার হাই কোর্টের কাছে আরও এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাই কোর্ট তাকে আরও ২০ দিন সময় দিয়ে ৩১ জানুয়ারির মধ্যের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। সাজু বলেন, গাইবান্ধার এসপি আদালতে হাজির হয়ে ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ শব্দ ব্যবহারের জন্য ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। বিচারক তাকে সতর্ক করে দিয়ে এবারের মত রেহাই দিয়েছেন।

শ্রদ্ধা জানাতে শোকার্ত মানুষের ভিড় এমপি লিটন হত্যা : চারদিনেও ক্লু পায়নি পুলিশ

গাইবান্ধা জেলা ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো: মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় হত্যার পর থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ২৭ জনকে আটক করে। তাদের সুন্দরগঞ্জ থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে চারদিনেও হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া পাঁচ যুবককে শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতারসহ কোনো ক্লু উদঘাটন করতে না পারায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীসহ সুন্দরগঞ্জ উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে কি ধরনের অস্ত্র (পিস্তল) ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তাও এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা দুটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা বলেন, সুন্দরগঞ্জ জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। এখানে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বামনডাঙ্গা ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এছাড়া লিটন ছাত্রলীগ করার সময় গোলাম আযমকে সুন্দরগঞ্জে ঢুকতে দেননি। এ নিয়ে জামায়াত-শিবিরের সাথে তার একটা বড় জের ছিল। জামায়াত-শিবির পূর্বপরিকল্পিতভাবে লিটনকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, লিটন হত্যার চারদিনেও হত্যার ক্লু ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, হত্যার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম হত্যাকারীদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যায় অংশ নেয়া পাঁচজনকে শনাক্ত ও মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় যে অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তার আলামত হিসেবে গুলির খোসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে হত্যাকারীরা। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটনে বেশ কয়েকভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে আশা করি, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও সঠিক রহস্য উন্মোচন হবে।

সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শাহবাজ মাস্টারপাড়া গ্রামের নিহত এমপি লিটনের যে বাড়িটি কর্মী সমর্থকদের আনা গোনায় এক সময় মুখর হয়ে থাকতো। সেই বাড়িটির  সুনসান নিরবতার মাঝেও এমপি লিটনের কবর জিয়ারত করতে এবং তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসা শোকার্ত মানুষের ভীড় বাড়ছে। গোটা বাড়িতেই পুলিশ ও র‌্যাবের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে বাড়ছে ছুটে আসা ভক্ত অনুরক্তের আহাজারি। গতকাল মঙ্গলবার এক শোকাবহ পরিবেশেই শোকে মুহ্যমান অসুস্থ স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি সাংবাদিকদের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তার বিবরণ তুলে ধরেন।

স্মৃতি জানান, বিগত ১৯৯৮ সালের ২৬ জুন সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবি¬উ ডিগ্রি কলেজ মাঠে জামায়াত-শিবির আয়োজিত জনসভায় গোলাম আজমের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। সেসময় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এই সভা পন্ড করে দিতে  মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ লিটন তার বন্দুক হাতে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ওই জনসভায় প্রবেশ করে গোলাম আজমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এতে জনসভাটি পন্ড হয়ে যায়। ফলে সেই থেকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী লিটনকে যেকোন মূল্যে হত্যার টার্গেট করে রেখেছিল। সেসময় তার গুলিতে আহত জামায়াতের ফতেখাঁ গ্রামের ক্যাডার হেফজসহ আরও দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডাররা লিটনকে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে এবং মোবাইলে করে দীর্ঘদিন থেকেই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। লিটনকে ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় গুলি করে এই নির্মম হত্যা তারই জের বলে উল্লে¬খ করে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ওই গোলাম আজমের জামায়াত-শিবিরের খুনিরাই তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি মর্মান্তিক এই হত্যার বিচার চান এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

লিটনকে নিরস্ত্র করায় : ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে শিশু শাহাদত হোসেন সৌরভকে গুলি ছোঁড়ার একটি পরিকল্পিত মিথ্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপি লিটনের লাইসেন্সকৃত রিভলবার ও শর্টগান জব্দ করে নেয়া হয়। খুনি জামায়াত-শিবির চক্র জানতো তার বাড়িতে তাদের প্রতিরোধ করার মত কোন অস্ত্র নেই। সেই সুযোগে তারা বাড়িতে এসে পরিকল্পিতভাবে খুনিরা তাকে হত্যা করতে সাহসী হয় বলে লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি জানান।

এমপি শ্যালক বেদারুলের বর্ণনা : ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এমপির শ্যালক সৈয়দ বেদারুল ইসলাম বেতার গতকাল সাংবাদিকদের কাছে তার মর্মস্পশী বর্ণনা দিয়ে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে দু’জন খুনি লিটনের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে তার সাথে ঘরে ঢোকেন তারা গিয়ে সামনের সোফায় বসে পড়েন। খুনি দু’জনার মুখ খোলা থাকলেও মাথা ও কান মাফলারে ঢাকা ছিল এবং তাদের পরণে ছিল কালো জ্যাকেট ও কালো প্যান্ট। তারা বহিরাগত ছিল না, কারণ তারা গাইবান্ধা এলাকার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।

লিটন হত্যায় আটক আরও ৩ : লিটন হত্যা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার আরও ৩ জনকে আটক করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে চারদিনে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজের বের করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্যাকিং করে নানা তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।

কবর জিয়ারতে কাদের সিদ্দিকীর ক্ষোভ : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী গতকাল মঙ্গলবার তার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে এসে এমপি লিটনের কবর জিয়ারত করেন। পরে লিটনের স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ আর্ত্মীয়-স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করে গভীর শোক জ্ঞাপন করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ক্ষোভমিশ্রিত কন্ঠে বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের মত সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য যদি তার নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অথচ সরকার বলছেন, দেশে কোন সমস্যা নেই, অশান্তি নেই, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নাকি অনেক উন্নত। তিনি এই নির্মম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে ন্যায্য বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ : এমপি লিটন হত্যার প্রতিবাদের গাইবান্ধা শহর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ-শামস-উল-আলম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ। এদিকে সুন্দরগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। পরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল চত্বরে এক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া সুন্দরগঞ্জ ডি ডাব্লি¬উ ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে এক শোক সভা মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় অধ্যক্ষ এ.কে.এ.এম. হাবিব সরকার সভাপতিত্ব করেন।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন শনিবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে আশংকাজনক অবস্থায় দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ৭টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

হাইকোর্টে হাজিরা দিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার

সাঁওতালদের ওপর হামলার ঘটনায় দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুস্কৃতিকারী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে আদালতের তলবে হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আশরাফুল ইসলাম।

সোমবার (০২ জানুয়ারি) বিচারপতির মৃত্যুতে আদালত বন্ধ থাকায় তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার‌্যালয়ে হাজিরা দেন। এ সময় তিনি একটি লিখিত আবেদনও দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, গাইবান্ধার এসপি ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে ছুটি ঘোষণা করায় তিনি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার‌্যালয়ে হাজিরা দেন। তার হাজিরার বিষয়টি আদালতকে অবগত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের যে বেঞ্চ এসপিকে তলব করেছিলেন, সে বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার পরিবর্তিত হয়েছে। বিষয়টি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি এখন নতুন বেঞ্চে পাঠাবেন। গত বছরের ০৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে কলের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিনজন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে।

পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর সাঁওতালদের জান-মাল রক্ষা, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে গত বছরের ১৬ নভেম্বর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে রিট দায়ের করা হয়। এ রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন ১৭ নভেম্বর সাঁওতালদের ধান কাটার সুযোগ দিতে অথবা ধান কেটে সাঁওতালদের বুঝিয়ে দিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাঁওতালদের অবাধে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় ক’টি মামলা হয়েছে, কারা কারা আসামি রয়েছেন, সে বিষয়ে ৩০ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলে গাইবান্ধার এসপি ও ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা প্রতিবেদন দাখিল করেন। জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রতিবেদনে ‘বাঙালি দুস্কৃতিকারী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি দেখে আদালত ডিসিকে তলব করেন। ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। আদালত ডিসিকে অব্যাহতি দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারে সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু আদালতে তিনি বলেছেন, এসপির দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্যমতে তিনি এ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এরপর গাইবান্ধার এসপিকে তলব করেন হাইকোর্ট।

নির্ধারিত জায়গায়ই পুনর্বাসনের দাবি * কাদেরের সাথে সাঁওতালদের বৈঠক


স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তিগ্রস্ত সাঁওতালদের ভূমি অধিকারের দাবিসহ বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে মতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সাঁওতালরা তাদের নির্ধারিত জায়গায়ই পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার গোবিন্দগঞ্জের নির্যাতিত ও তিগ্রস্ত সাঁওতালদের একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। সাঁওতালদের পে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ররীন্দ্রনাথ সরেন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাস্কে’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবির কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত

একঘণ্টা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ত্রাণ ও সমাজক্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সরকার সাঁওতালদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প থেকে পদপে নেওয়া হয়েছে। তাদের সমস্যার কথা আমাদের সাধারণ সম্পাদক শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। বৈঠক শেষে আদিবাসী নেতা রবিন্দ্রনাথ সরেনের কাছে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বলেছি
 
সাঁওতালরা তাদের জমি ফিরে পেতে চান। যেখানে যার জমি ছিলো সেখানেই জমি ফিরিয়ে দিয়ে তাকে পুনর্বাসন করতে হবে। দূরে কোথাও তারা যাবেন না। তাছাড়া এই সাঁওতালরা গুচ্ছগ্রামে বসবাস করতে অভ্যস্ত নয়। সাঁওতালদের নামে ৪টা মামলা আছে। ১টি জামিন হয়েছে, বাকি ৩টিতে জামিন দিতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু আমরা তখনই স্বস্তি পাবো যখন দেখবো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে, মামলা জামিন দেওয়া হয়েছে।

 



Go Top