বিকাল ৩:৫৮, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী

বগুড়ার ‘কারাগারে বসে’ শ্রমিকলীগ নেতা তুফান সরকারের মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার রাজশাহীর ডিআইজি (প্রিজনস) আলতাফ হোসেন এ কথা জানান।

বগুড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় তুফান সরকারকে ফেনসিডিল সরবরাহ করা, বাইরে থেকে তার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া, সহযোগীসহ তুফান সরকারের কারা হাসপাতালে থাকা এবং ‘ধর্ষণের শিকার’ কিশোরীর সঙ্গে কারাগারের দর্শনার্থী কক্ষে তুফানের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

এরপর তুফান সরকারকে শনিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে হাই সিকিউরিটি সেলে পাঠানো হয় এবং ঘটনাটি তদন্তে  রাজশাহীর ডিআইজি (প্রিজনস) আলতাফ হোসেনকে  প্রধান করে একটি কমিটি করা হয় বলে জানিয়েছিলেন বগুড়ার জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন।

সহযোগীসহ গ্রেপ্তার তুফান সহযোগীসহ গ্রেপ্তার তুফান
ডিআইজি আলতাফ বলেন, “কারাগারে মাদক সেবনসহ  বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে আইজির নির্দেশে বগুড়া এসেছি।  প্রত্যক্ষদর্শীসহ অনেকের সাথে কথা বলেছি। তাদের কথা শুনেছি ও লিখিত বক্তব্য নিয়েছি।

“অধিকতর তদন্তের জন্য আরও কিছু প্রয়োজন হলে তাও করা হবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রেরণ করবো।” প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে কোনো দিনক্ষণ জানাননি তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়ার এক কিশোরীকে ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ১৭ জুলাই ও পরে কয়েকবার ধর্ষণ করেন শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক (বর্তমান বহিষ্কৃত)তুফান। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন তার কয়েকজন সহযোগী।

বিষয়টি জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ ‘একদল সন্ত্রাসী’ ওই কিশোরী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাদের মারধর করে নাপিত দিয়ে দুজনের মাথা ন্যাড়া করে দেন।

ধর্ষণ ও মাথা মুণ্ডনের ঘটনায় ওই কিশোরীর মায়ের করা মামলায় তুফান সরকার ও তার স্ত্রী আশাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

এই বিভাগের আরো খবর

সুজানগরে পাটের বাজারে ধস : কৃষকরা হতাশ

সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার সুজানগরের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল পিঁয়াজ এবং পাট। পিঁয়াজ এবং পাট বিক্রির অর্থ দিয়ে এ জনপদের কৃষকরা সংসারের ব্যয়ভারের পাশাপাশি দৈনন্দিন চাহিদা মেটান। অথচ এ বছর পিঁয়াজের পর পাটের বাজারেও ধস নেমেছে। এতে উপজেলার কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, এ বছর পিঁয়াজের লোকসান পোষাতে তারা ব্যাপকভাবে পাটের আবাদ করেন। উপজেলার বড় কৃষকদের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকরা পর্যন্ত ৪/৫বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেন। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার বিষ ও কীটনাশক দেওয়ায় ফলনও হয়েছে ভাল। কিন্তু হাট-বাজারে পাটের বর্তমান বাজারে লাভতো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠছেনা। উপজেলার মানিকহাট গ্রামের পাট চাষী মন্টু খাঁ জানান, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে।

আর সার বীজ এবং শ্রমিকসহ প্রতি বিঘা পাটের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৫থেকে ১৬হাজার টাকা। বিশেষ করে পাট কাটা এবং ধুয়া শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক  বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। একই এলাকার কৃষক মোজাহার আলী মোল্লা জানান, বিগত বছরগুলোতে তিন বেলা খাওয়াসহ প্রতিদিন একজন পাট শ্রমিক মজুরি নিয়েছে চার থেকে পাঁচশত টাকা। কিন্তু এ বছর তিন বেলা খাওয়াসহ প্রতিদিন একজন শ্রমিককে মজুরি দিতে হয়েছে ছয় থেকে সাতশত টাকা। অথচ বর্তমানে উপজেলার হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫শ টাকা দরে। সে হিসাবে ১ বিঘা জমিতে উৎপাদিত পাট বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা যা, উৎপাদন খরচের চেয়ে ১ হাজার টাকা কম। ফলে পাটের বর্তমান এ বাজারে উৎপাদন খরচ না উঠায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘিতে ওয়ারেন্টমূলে ৫ জন গ্রেফতার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘি থানাপুলিশ গত শনিবার রাতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে পৃথক জিআর মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হলো, সান্তাহার বশিপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল, কলসা এলাকার গোপাল চন্দ্র সরকারের পুত্র মিঠু সরকার, ইয়ার্ড কলোনীর নজরুল ইসলামের ছেলে শামীম, হলুদঘর এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহেল ও আলফাজ স্বপনের ছেলে আলভি।

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘিতে ধারালো অস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘির সান্তাহার ফাঁড়ির পুলিশ দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ পারভেজ হোসেন খান (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পারভেজ হোসেন সান্তাহার চা-বাগান নিউ কলোনীর মোবারক হোসেন খানের ছেলে। এ ব্যাপারে গত শনিবার রাতে টিএসআই জালাল উদ্দীন বাদি হয়ে থানায় একটি অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় সান্তাহার সরকারি কলেজ রাস্তায় পারভেজ হোসেন নামের ওই যুবকের চলাফেরা সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক ও দেহ তল্লাশি করে তার কোমরে বেঁধে রাখা ১১ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো চাপাতি ও ১২ইঞ্চি লম্বা একটি বড় ছোরা উদ্ধার করে। সে অসৎ উদ্যোশ্যে নাকি নাশকতা সৃষ্টির জন্য এই ধারালো অস্ত্র বহন করেছে, এ নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে অফিসার ইনচার্জ শওকত কবির জানান।

এই বিভাগের আরো খবর

রাবিতে ছাত্রলীগ নেতার কক্ষের সামনে থেকে ককটেল উদ্ধার

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ছাত্রলীগ নেতার কক্ষের সামনে থেকে একটি ‘ককটেল’ সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের ২০৫ নম্বর কক্ষের সামনে থেকে ‘ককটেলটি’ উদ্ধার করা হয়।

২০৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র ও রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে আমার কক্ষের সামনে ককটেল সদৃশ বস্তু দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক বিষয়টি হল প্রশাসন ও রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদককে জানায়। পরে পুলিশ এসে সেটি উদ্ধার করে।’

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি দ্বিতীয় তলায় ককটেল সদৃশ একটি বস্তু পড়ে রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ বস্তুটি উদ্ধার করে। তবে সেটি ককটেল কিনা এখনো নিশ্চিত করে বলেনি পুলিশ।’

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টায় ওই হল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ককটেল কি না এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সেটি ককটেল নয় বলেই মনে হচ্ছে।’

এর একদিন আগে শনিবার একটি ফেসবুক আইডি থেকে রাবি শাখা ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকে হুমকি দেয়া হয়। এটি ছাত্রশিবিরের কাজ বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের নেতারা। এই ১৫ নেতার মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্কও ছিলেন। তার পরের দিনই ঘটলো এমন ঘটনা।

এই বিভাগের আরো খবর

ধুনটে শিশু ধর্ষিত : ধর্ষকসহ বাবা-মা গ্রেফতার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রবাসী এক ব্যক্তির ৫ বছর বয়সের শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক ও তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কাদাই পূর্বপাড়া গ্রামে।

জানা যায়, উপজেলার কাদাই পূর্বপাড়া গ্রামের এক প্রবাসির শিশু রাঙ্গামাটি মসজিদ ভিত্তিক পাঠাশালার প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে কাঁঠাল গাছে ঝুলানো দোলনায় খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী লুৎফর রহমানের বখাটে ছেলে আবু নাঈম শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। তখন শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ঘটনাস্থল পৌছে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সংবাদ পেয়ে রাতেই থানাপুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষক আবু নাঈম, তার বাবা লুৎফর রহমান, মা আনজুয়ারা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনায় ধর্ষিত শিশুর মা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত আবু নাঈম ও তার মা-বাবার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষক আবু নাঈম এবং ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগে কাদাই গ্রাম থেকে লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী আনজুয়ারা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘিতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় মামলা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘিতে বিয়ের প্রলোভনে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার আদমদীঘি থানায় ভিকটিমের বাবা শাহ আলম বাদি হয়ে আদমদীঘির গোড়গ্রামের খাজার ছেলে গৃহ নির্মাণ শ্রমিক সুজনকে আসামি করে  মামলা দায়ের করেন। শনিবার ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী উপ-পরিদর্শক মোজাফ্ফর হোসেন জানান।

জানা যায়, আদমদীঘির গোড়গ্রামের জিএম আইডিয়াল স্কুলের অষ্টম শ্রেনির ছাত্রীকে  (১৩) একই গ্রামের গৃহ নির্মাণ শ্রমিক সুজন বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার দেয়া কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অবশেষে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। গত ১৪ আগস্ট রাতে ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে এলে সুজন তাকে আবারও ধর্ষণ করে। এরপর সুজন বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ছাত্রীটি অতিরিক্ত ঘুমের বড়ি সেবনে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘিতে হেরোইনসহ দুই সহোদর গ্রেফতার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘি থানাপুলিশ মাদক ব্যবসায়ী আজমল হোসেন ও আমিনুল ইসলাম রনি নামের দুই ভাইকে গ্রেফতার ও তাদের নিকট থেকে ৪০ পুরিয়া হেরোইন জব্দ করেছে। সহোদররা হলো আদমদীঘির সান্দিড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। এ ব্যাপারে শনিবার সকালে উপ-পরিদর্শক তহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, সকাল ৯টায় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে সান্তাহার সাইলো সড়কের তিয়রপাড়ার নিকট ওই দুইভাই হেরোইন নিজ হেফাজতে রেখে বিক্রির সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘির কৃষকরা কুমড়া চাষে ঝুঁকে পড়েছে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধান ও মৎস্যভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আউশ ধানের পাশাপাশি অল্প জমি ও খরচে বাড়তি আয় হিসাবে কৃষকরা এখন কুমড়া চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। কুমড়া চাষ করে অনেক কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। কুমড়া একটি সুস্বাদু সবজি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এর আবাদ হয়ে থাকে। অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য সবজি চাষের জন্য যে বাঁশের বেড়া দিয়ে থাকেন সেই বেড়াতে, কেউ মাচা তৈরি করে কেউবা জমিতে সারিবদ্ধভাবে আবার কেউ ঘরের চালে কুমড়া চাষ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুসারে রবিশস্যের পাশাপাশি প্রায় সব সময়ই কুমড়ার চাষাবাদ হয়ে থাকে। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা ব্যাপক হারে জমিতে প্রভৃতি জাতের কুমড়ার চাষ করছেন। বিশেষ করে কোমরপুর, শালগ্রাম, জিনইর, তারতা, ঝাঁকইর, ছাতিয়ানগ্রাম, শিবপুর, সাওইল, কুন্দগ্রামসহ অধিকাংশ মাঠে দেখা যায় এই কুমড়ার আবাদ। আউশ ধানের পাশাপাশি অল্প খরচ ও সময়ে কুমড়ার আবাদ ঘরে তোলা সম্ভব। তাই প্রায় সময়েই এই উপজেলায় কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে কৃষকদের যে লাভ হয়, কুমড়া চাষে তার চেয়ে দশ গুন বেশি লাভ হয়। তাই এখানকার অনেক কৃষকই কুমড়া চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

অনেকেই কুমড়া বিক্রি করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে। কুমড়া চাষি তেতুলিয়া গ্রামের এরফান আকন্দ, হজরত আলী, শালগ্রামের মতিউর রহমান জানান, এই আবাদে রোগবালাই কম থাকায় একটি গাছ থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক কুমড়ার ফলন হয়। প্রতিটি কুমড়া প্রকার ভেদে বর্তমান বাজারে বিক্রি করা হয় ১০ থেকে ২৫ টাকা মূল্যে।

এই বিভাগের আরো খবর

নওগাঁর মান্দায় মিনিট্রাক খাদে নিহত ৬

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে ৬ জন নিহত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বুড়ির ব্রিজের অদূরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের লাল মোহাম্ম্েদর ছেলে আব্দুল মান্নান (৩৮) ও দলিল উদ্দিন ছেলে আশরাফ আলী (৩০), হরিপুর গ্রামের গেনার ছেলে সাহেব আলী (৪৫), নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বালুভরা গ্রামের দিলিপ সাহার ছেলে দিপেন্দ্রনাথ সাহা (৪৬) ও নওগাঁর পাইকপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন (৪৮) এবং জয়পুরহাট জেলার জামালপুর এলাকার বেলাল সরকার ছেলে আমিনুর রহমান (৫২)। নিহতরা সকলেই ব্যবসায়ী বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের যাত্রী সুশান্ত চন্দ্র জানান, ট্রাকটি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থেকে রাজশাহীর মোহনপুর হাটে যাচ্ছিল। পথে বুড়ির ব্রিজের অদূরে সামনের একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়।

দুর্ঘটনায় জয়পুরহাট জেলার ধানমন্ডি এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে রায়হান (৩৫) ও নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে সোহল রানা (৪২) আহত হয়েছে। আহতরা মান্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।  

এই বিভাগের আরো খবর

শেখ হাসিনার সরকার বন্যার্তদের পাশে আছে : প্রতিমন্ত্রী পলক

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার দুর্যোগ  মোকাবেলাসহ বন্যার্তদের পাশে আছে, থাকবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের স্ব স্ব এলাকায় বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী শনিবার সকালে নাটোরের সিংড়া উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন এবং বন্যা কবলিত তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী সিংড়া পৌরসভা ও উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের ভাগনাগরকান্দি এলাকার বন্যা দুর্গত মানুষকে ত্রাণসামগ্রী হিসেবে ২০ কেজি করে চাল, নগদ ২০০ টাকা, আধা কেজি ডাল, আধা কেজি জিরা, গুড় ২০০ গ্রাম, মোমবাতি, দিয়াশলাই, খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, ইউএন ও নাজমুল আহসান,সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুর ফেরদৌস, শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

তাড়াশে আগুনে এক নারীর বসতবাড়ি পুড়ে ছাই

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক নারীর বসতবাড়ির ২টি ঘর পুড়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুরে মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামে। জানা গেছে, ওই গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা মমতা খাতুনের  বাড়িতে রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুন লাগে। এতে ওই আগুন ছড়িয়ে পড়লে তার ২টি ঘরসহ প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা প্রায় ঘন্টকাল চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   

 

এই বিভাগের আরো খবর

দুপচাঁচিয়ার উড়ো চিঠি দিয়ে চাঁদার দাবি : আটক ১

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার হিন্দুপট্টির মাজিন্দা গ্রামে উড়োচিঠি দিয়ে লাখ টাকার চাঁদার দাবি অন্যথায় ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গত বুধবার দিবাগত রাতে চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রানা (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদরের হিন্দুপট্টি মাজিন্দা গ্রামের মৃত জগেন্দ্রনাথ বর্ম্মনের পুত্র ভগিরথ চন্দ্র বর্ম্মনের নিকট একই গ্রামের খলিলুর রহমান খলিলের ছেলে আনোয়ার হোসেন রানা (২৮) গত প্রায় ১ মাস যাবৎ পরপর ৪টি খোলা উড়োচিঠি দিয়ে লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তার ছেলেকে অপহরণ করা হবে বলেও উড়োচিঠিতে উল্লেখ করে, দাবিকৃত টাকা গ্রামের হরি মন্দিরে রাখার কথা বলে।

গত ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার উড়োচিঠি মোতাবেক ভগিরথ চন্দ্র বর্ম্মন সু-কৌশলের আশ্রয় নিয়ে উক্ত হরি মন্দিরে কিছু টাকা রাখে। পরের দিন ১৬ আগস্ট আনোয়ার হোসেন রানা উক্ত টাকা নিতে এলে গ্রামবাসীর সহায়তায় তাকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সংক্রান্তে ভগিরথ চন্দ্র বর্ম্মন ওই রাতেই চাঁদার দাবির অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রানাকে গত বৃহস্পতিবার বগুড়া কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

দুপচাচিয়ায় জুয়ার আসরে হানা : আটক ১

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বাঁকাদহ গ্রামে জুয়ার আসরে শনিবার পুলিশ হানা দিয়ে জুয়া খেলার সরঞ্জামাদিসহ এরশাদ আলী (৩২) নামের এক জুয়াড়িকে আটক করেছে।

জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের আটগ্রাম বাঁকাদহ গ্রামে অবস্থিত খাঁড়িয়া দক্ষিণ পাশের বট গাছের নিচে জুয়ার আসরে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও আটগ্রামের মৃত আব্দুল সামাদের ছেলে জুয়াড়ি এরশাদ আলীকে (৩২)  আটক করে। পুলিশ এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ প্যান্ডেলটি ভাঙচুর করে। এ সংক্রান্তে পুলিশ বাদী হয়ে শনিবার জুয়া খেলার অপরাধে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার আসামি অন্য জুয়াড়িদের গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে।       

এই বিভাগের আরো খবর

নওগাঁয় ট্রাক উল্টে নিহত ৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও তিনজন। মান্দা থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের হাজি-গোবিন্দপুর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – রাজশাহী বাগমারা উপজেলার সাহেব আলী, আশরাফ উদ্দিন, আবদুল মান্নান; নওগাঁ সদর উপজেলার জিতেন চনদ্র, বদলগাছি উপজেলার দেলোয়ার হোসেন ও অজ্ঞাতপরিচয় একজন।

সবার বয়স ৩৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ওসি রহমান বলেন, বাঁশবাহী ট্রাকটি ১২-১৩ জন যাত্রীসহ রাজশাহী থেকে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে।

“পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করেছে। আর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তিনজনকে। অন্যরা ট্রাকের নিচে চাপা পড়েছে নাকি পুলিশ আসার আগেই চলে গেছে তা এখনও জানা যায়নি।”

আহতদের মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

চরম ঝুঁকিতে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার একেবারে কাছে চলে এসেছে। এক দশমিক ২০ মিটার বাড়লেই পানির প্রবাহ পৌঁছাবে বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটারে। এতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ। গত মৌসুমে পদ্মায় পানির প্রবাহ ঠেকেছিল ১৮ দশমিক ৪৬ মিটার।


গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় পদ্মার রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পানির প্রবাহ রের্কড করা হয় ১৭ দশমিক ৩০ মিটার। সকাল ৬টায় তা ছিল ১৭ দশমিক ২৮ মিটার। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নগরীর বড়কুঠি স্ল্যান্টিং গেজ পাঠক এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ১৭ দশমিক ১৫ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৭ দশমিক ২০ মিটার পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

 এদিকে উজানের ধেয়ে আসা পানিতে ফুলে ফেঁপে উঠেছে পদ্মা। এতে চাপ বেড়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে। এরই মধ্যে সংস্কার করা নগরীর বুলনপুরে দেবে গেছে ব্লক। পশ্চিমের বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকাতেও বাঁধের ব্লক দেবে গেছে। এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে সবমিলিয়ে অন্তত ৫টি পয়েন্ট। এতে আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা।

তবে এসব পয়েন্ট নজরদারিতে রাখলেও এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকায় ব্লক দেবে যাওয়া বাঁধের উপরেই আব্দুল খালেকের বাড়ি। তার মেয়ে মনি খাতুন বলেন, এলাকার গৃহস্থালির পানি নালার মধ্য দিয়ে গিয়ে পড়ছে বাঁধে। গত বছর বাঁধের একেবারে নিচের অংশ দেবে গিয়েছিল। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামত করে দেয়।

 এ বছর বর্ষার শুরুতেই নালার নিচের অংশ দেবে গেছে। পাশের আরও কিছু ব্লক নিচে নেমে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দেখে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ধস আতঙ্কে রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না তারা। রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় পুরোটা জুড়েই গড়ে উঠেছে স্থাপনা। বুলনপুর ঘোষপাড়া থেকে পশ্চিমের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বাঁধে ব্লক দেবে গেছে অনেক আগেই। সেখানকার বাসিন্দারা গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলছেন বাঁধেই। এছাড়া বাসাবাড়ির পয়ঃনালা গিয়ে পড়েছে বাঁধের উপরে। এতে ওই অংশে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরণের গাছ।

 রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধের এ অংশ রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ২৩ বছরের পুরনো। গেলো ৭ বছর ধরে নেই সংস্কার। গত মৌসুমে প্রবল স্রোতে বুলনপুর এলাকার টি-গ্রোয়েনে ফাটল ধরে। জিওব্যাগ ফেলে সেবার কোনো করমে ভাঙন ঠেকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত বছরের ৩০ অক্টোবরে নগরীর শেখেরচক বিয়ারীবাগান এলাকায় ওয়াকওয়েসহ দেবে যায় শহর রক্ষা বাঁধ।

 রাজশাহী শহরের দিকে নদী সরে আসায় বাঁধের উপর ক্রমেই চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু। তিনি বলেন, গত এক দশকে উজান থেকে নদী ভেঙে শহরের দিকে এসেছে প্রায় ৬শ মিটার। উজানে বাঁধের দুর্বলতায় নদীর দিক পরিবর্তন হচ্ছে।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, শহর রক্ষা বাঁধের পুরোটাই সংস্কার করা জরুরি। নদী সরে আসায় প্রতি বছরই বাঁধের উপর চাপ বাড়ছে। বাঁধের উপর বাসাবাড়ির পয়ঃনালা গিয়ে পড়ায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 তিনি আরও বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম। এছাড়া ফারাক্কা খুলে দেয়ার পদ্মায় হঠাৎ করেই প্রবাহ বেড়েছে। রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ১৯ দশমিক ৬৭ মিটার। তাছাড়া বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে এখনো পানির প্রবাহ বইছে। নিয়মিত বাঁধ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বাঁধ ঝুঁকিতে পড়লে তা মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তুতি রয়েছে।

 

পত্নীতলায় বাঁধ ভেঙে ২ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : পত্নীতলায় আত্রাই নদীর কয়েকটি বাঁধ ভেঙে প্রতিদিন নতুন করে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে পতœীতলা উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ২২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আত্রাই নদী, মনোহর গঙ্গা খাড়ি, বুড়িদহ বিলসহ অন্যান্য ছোট, বড় খাড়ি, বিল, পুকুর ভরে টইটম্বুর হয়ে হু-হু করে জনবসতি এলাকায় পানি প্রবেশ করে গ্রামের মাটির ঘর-বাড়ি ধসে পড়ছে। পুকুরের মাছ, পাকা আউশ ধান, আমন ধান, কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল বেগে পানি বিভিন্ন সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলার ঘোঘনগর, আমাইড়, কৃষ্ণপুর, পাটিচরা, নজিপুর, পতœীতলা ইউপি ও নজিপুর পৌরসভার নদী তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার পরিবারসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়ি ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু পাখি নিয়ে মানুষরা বাঁধ এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধ ভেঙে বন্যার পানিতে ও অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এদিকে অবৈধ ভাবে নদীর বিভিন্ন ধার থেকে বালু উত্তলোনসহ বালু বহনকারী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল এবং ইটভাটা তৈরির কারণেই বাঁধ ভফুার কারণ হিসাবে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এদিকে নজিপুর পৌরসভা এলাকার বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করছে। বর্তমানে চাঁদপুর স্লুইসগেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্রমেই পানি বৃদ্ধি পেয়ে ছোট-চাঁদপুর এবং চকনিরখিনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতাল এবং নজিপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও কলেজ পাড়ায় পানি প্রবেশ করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, সরদারপাড়া, নতুনটহাট পাড়া, হাইস্কুল পাড়া, আলহেরা পাড়াসহ বেশ কিছু মহল্লায় পানি প্রবেশ করতে পারে। হরিরামপুর এবং চকজয়রামে পানি প্রবেশ করলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। পলিপাড়া, রাজপাট স্লুইসগেট এলাকা এবং পালশা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  

এলাকাবাসীর অভিযোগ অপরিকল্পিত ভাবে নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে টাক্টর দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বাঁধের ধার ভেঙ্গে যাওয়ায় আজ আত্রাই নদীর বেশ কিছু যায়গার বাঁধ ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এই বিভাগের আরো খবর

আদমদীঘিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ : আত্মহত্যার চেষ্টা

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘির গোড়গ্রামে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ৮ম শ্রেণির (১৫) এক স্কুলছাত্রী অতিরিক্ত ঘুমের বড়ি সেবনে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর পিতা আদমদীঘির গোড়গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সুজন এর বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় অভিযোগ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি শওকত কবির জানান।

অভিযোগে জানা যায়, আদমদীঘির গোড়গ্রাম জিএম আইডিয়াল স্কুলের ৮ম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে একই গ্রামের সুজন নামের এক গৃহনির্মাণ শ্রমিক  কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার দেয়া কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অবশেষে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে মাঝে মধ্যেই অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো। গত সোমবার রাতে ছাত্রী গ্রামেই এক বান্ধবীর বাড়িতে পিকনিক খেয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে রাস্তায় সুজন তাকে জাপটে ধরে। এ সময় সে পাশ কেটে পালিয়ে আসার পর তার বড় বাবা ছালামের বাসায় রাত যাপন করতে যায়। রাত ১২টায় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বাইরে এলে সুজন পুনরায় ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ওই ছাত্রী জানায়, বিয়ের প্রস্তাব দিলে সুজন প্রত্যাখ্যান করে। এরপর রাতেই ওই ছাত্রী লোকলজ্জার ভয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের বড়ি সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে অভিভাবকরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর গত মঙ্গলবার আদমদীঘি থানায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর থেকে সুজন গা ঢাকা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

বেড়ায় একই দিনে দুই কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

 বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : বেড়া পৌর এলাকায় একই দিনে দুই কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার পৌর এলাকার  ছোট পায়না ও স্যান্যাল পাড়া (চক পাড়া) মহল্লায়।  বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায় পৌর এলাকার স্যান্যাল পাড়া (চক পাড়া) মহল্লার আব্দুল খালেকের মেয়ে পারুলি (১৯) বেড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচ এস সি পাস করে অনার্স এ ভর্তি হওয়ার জন্য তার বাবা মাকে বলে। দরিদ্র পিতা আব্দুল খালেক আরও লেখাপড়া করাতে অপারগতা প্রকাশ করলে পারুলী অভিমান করে ঘটনার দিন বিকেলে সকলের অজান্তে নিজ শয়নকক্ষে ঘরের আড়ার সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে বাড়ি ও আশপাশের লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অপরদিকে বেড়া পৌর এলাকার ছোট পায়না নামক গ্রামের নূর হকের মেয়ে বেড়া ডিগ্রি কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী আম্বিয়া (১৮) একইদিন বেলা ১১টার দিকে  ইদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বেড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেড়া হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় বিকেলের দিকে সে মারা যায়। আম্বিয়ার আত্মহত্যা সম্পর্কে এলাকাবাসী ও বেড়া থানা সূত্রে জানা যায়, আম্বিয়া পাবনা এডওয়ার্ড বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য তার বাবাকে একাধিকবার বলে। কিন্তু বরফ বিক্রেতা দরিদ্র পিতার পক্ষে এডওয়ার্ড বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ভর্তি করে লেখাপড়া করানোর খরচ চালানোর সামর্থ না থাকায় মেয়েকে বেড়া কলেজেই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে বলে। এতে আম্বিয়া রাগে অভিমানে বাড়িতে থাকা ইদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে। বেড়া থানা পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার  লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা  মর্গে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য পারুলী ও আম্বিয়া দুজনেই মেধাবী ছাত্রী ছিল বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

নওগাঁয় বন্যার অবনতি, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বাঁধ

নওগাঁয় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে; প্রায়ই বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা যেমন প্লাবিত হচ্ছে তেমনি বাঁধ ভেঙে আরও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

ছোট যমুনা নদীর ফ্লাডওয়ালের আউটলেটগুলো দিয়ে নওগাঁ শহরে পানি ঢুকছে। শহরের ডিগ্রির মোড়, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, বিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ শহরের বেশির ভাগ এলাকা এক-দেড় ফুট পানির নিচে।

বিভিন্ন উপজেলায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুর রহমান বলেছেন, বাঁধ ভেঙে জেলায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অন্তত ৫০ হাজার একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় এক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ধামইরহাট সীমান্তের সেলিমপুরে আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পুর্নভবা নদী উপচে আসা পানিতে সাপাহারের পাতাড়ি ইউনিয়নের পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

“বুড়িদহ, সুজনসখী ঘাট ও চকমারপুরে মূল বাঁধ ভেঙে গেছে। পার নুরুল্যাবাদ, চকরামপুর, চকবালু, কয়লাবাড়ি ও কয়াপাড়া কলেজ মোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর দুই জায়গায় মূল বাঁধ ও ১০ জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।”

এছাড়া আরও বহু বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ২১৪ সেন্টিমিটার এবং ছোট যমুনায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

“তীব্র স্রোতে নওগাঁ সদর, মান্দা, মহাদেবপুর, রানীনগর, আত্রাইসহ জেলার বিভিন্ন বাঁধের ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, মান্দা উপজেলার প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ও স্কুল-কলেজে আশ্রয় নিয়েছে অসহায় মানুষ। তারা খাদ্যাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পত্নীতলা উপজেলার পাতিচড়া ও এনায়েতপুর গ্রামের বাঁধে বহু মানুষকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

মান্দা সদর ও কশব ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় সব বাড়িঘর ও ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে।

আত্রাই নদীর ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী, আত্রাই উপজেলার মালিপুকুর পত্নীতলা, বদলগাছির এনায়েতপুর ও রানীনগর উপজেলার ঘোষগ্রামে গিয়ে বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ও ফসল প্লাবিত হতে দেখা গেছে।

প্লাবিত এলাকায় সরকারি সহযোগিতা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে; আরও ১৫টা খোলা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক লাখ টাকা ও ৩৩ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বগুড়ায় বাঁধে ফাটল, শঙ্কায় এলাকাবাসী

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আরও তিনটি পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। বুধবার সারিয়াকান্দির গোদাখালিতে একটি এবং ধুনটের বানিয়াজানে দুই পয়েন্টে এ ফাটল মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলছে।

এর আগে মঙ্গলবার এ বাঁধে আটটি স্থানে ফাটল দেকা দেয়।

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে গোদাখালিতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফাটল ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। বাঁধে ফাটল ধরার পর পশ্চিম পাশে এবং বাঁধের উপরে লোকজন তাদের জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন।

কেউ কেউ বেশকিছুটা দূরে বাঁধে যেখানে ফাটল সেখানে গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয়ে গেছেন।

এলাকাবাসী জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধুনটের বানিয়াজান স্পারের কাছে দুটি ফাটল ধরে। ফাটল ধরার পর বাঁধের ও আশপাশের লোকজন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে অন্যত্র চলে যান।

সেখানে দেখা গেছে, রাতে বাঁধে আশ্রিতরা সবাই এখানে ওখানে ঘোরাঘুরি করে দেখছেন কোথাও ফাটল ধরেছে কি না। আতংকে রয়েছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বাঁধে আশ্রিতরা। বাঁধের পশ্চিম পাশে আশ্রিতরাও আতংকে রয়েছেন। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের ফসলি জমি, ঘরবাড়িসহ সবকিছু বেসে যাবে।

গোদাখালির রফিকুল ইসলাম  বলেন, “আমার বাড়িঘর থেকে সবকিছু নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছি। কখন বাঁধ ভেঙে যায় তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”

ধুনটের বানিয়াজান চল্লিশপাড়ার আবদুল হান্নান বলেন, “বানিয়াজানের দুটি জায়গায় ফাটল ধরেছে। বাঁধের পশ্চিম পাশে আমার বাড়ি। ওখানে যদি ভেঙে যায় আমার বাড়িঘর সবকিছু ভেসে যাবে। তাই পাশের ইউনিয়নের আমার বড় ভাইয়ের বাড়িতে সব জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছি।”

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, যেখানে ফাটল ধরছে সেখানে কাজ করা হচ্ছে। সোনাতলা থেকে ধুনট পর্যন্ত নতুন নতুন ফাটল ও ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি বের হচ্ছে।

“কতগুলো পয়েন্টে ফাটল ও ইঁদুরের গর্ত আছে তা এ মূহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাবে না।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল বলেন, “সোনাতলা থেকে ধুনট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে অন্তত ১০০টি স্থানে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি ঝরছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

দুপচাঁচিয়ার খলিশ্বর সড়কে মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিনের নামফলক ভাঙচুর

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর খলিশ্বর সড়কে বুধবার ভোরে কে বা কারা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিনের নামফলক ভাঙচুর করেছে।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়। জিয়ানগর ইউনিয়নের খলিশ্বর বাজার সংলগ্ন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জিয়ানগর খলিশ্বর সড়কটি স্থানীয় খলিশ্বর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কিনা প্রামানিকের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিন এর নামে নামকরণ করা হয় এবং খলিশ্বর বাজারের সামনে নামফলক স্থাপন করা হয়।

কিন্তু কে বা কারা ইট, বালু, সিমেন্টের তৈরি উক্ত নামফলকটি ভেঙে ফেলে। এ ব্যাপারে  উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কামান্ডার অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বিষয়টির নিন্দা জ্ঞাপন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এই বিভাগের আরো খবর

রাজশাহীতে গরুবাহী নসিমন খাদে ব্যবসায়ী নিহত : আহত ১০

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর আমচত্ত্বরে গরুবাহী নসিমন উল্টে এক ব্যবসায়ী নিহত ও অপর ১০ জন আহত হয়েছে। নিহত গরু ব্যবসায়ীর নাম আব্দুল মান্নান (৪০)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাদইলগ্রামের বাসিন্দা। বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন দুর্গাপুর গণকৈড় গ্রামের সামসুল মন্ডলের ছেলে সাজ্জাদ, একই গ্রামের আজিজ সরদারের ছেলে আব্দুল করিম, হাসেন আলীর ছেলে সাজেদুর রহমান, মঙ্গলপুর গ্রামের আব্দুল খালেক, বড়ইল গ্রামের দুলাল হোসেন। আহত অন্য পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রাজশাহীর শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, নসিমনযোগে রাজশাহী সিটি হাটে গরু বিক্রির জন্য আসছিলেন দূর্গাপুরের কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী। আমচত্বর আসার পর হাইওয়ে রোডে হঠাৎ নসিমনের সামনের চাকা খুলে খাদে পড়ে যায়। এসময় নসিমন গরুসহ রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে নসিমনে থাকা ব্যবসায়ীরা আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেক হাসপাতালে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগে মান্নানের মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ: একদিনে ৮ বার ফাটল

বগুড়ার ধুনটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধেঁর আরও আট জায়গায় ফাটল ধরেছে। মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো রুহুল আমিন জানান, বালির বস্তা দিয়ে ফাটল মেরামতের কাজ চলছে।

এ নিয়ে দুই দিনে ধুনটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধেঁ দশটি স্থানে ফাটল দেখা দিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, ধুনটের চুনিয়াপাড়ায় মানাস নদীর মুখে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ শিমুলবাড়ীর দুটি পয়েন্ট, বানিয়াজানের দুটি পয়েন্ট, রঘুনাথপুরের একটি পয়েন্ট এবং পুকুরিয়া তিনটি পয়েন্ট দিয়ে পানি ঝরছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন বালির বস্তা দিয়ে পানি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রঘুনাথপুরের ফাটলের পাশেই বাড়ি চুনিয়াপাড়ার বেল্লাল হোসেনের। তিনি বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারিনা, জেগে থাকি। কখন যে বাঁধ ভেঙে যাবে সেই আতঙ্কে ঘুমও আসেনা।”

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, যমুনার পানি বগুড়া পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই পানির চাপ বাধেঁর উপর ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঈনূল হাসান মুকুল বলেন, “বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ চুনিয়াপাড়ার ফাটল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার অবস্থা ভাল না । দ্রুত কাজ না করলে বড় ধরনের কিছু ঘটে যেতে পারে।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

নওগাঁ প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং গত ৩ দিনের অবিরাম বর্ষণে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেতগাড়ী, ঘোষগ্রাম ও কৃষ্ণপুর নামক স্থানে আরও ৫টি স্থানে ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের সাথে আত্রাই উপজেলা ও নাটোর জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।  আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মান্দায় ২টি, আত্রাইয়ে ১টি ও রাণীনগরে ছোট যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ৫টি স্থানে ভেঙে গেছে। বন্যার পানিতে নওগাঁর ৬টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক বিঘার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

জেলার ছয়টি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমার এখনও ৬০ সেন্টেমিটার উপর দিয়ে বইছে। আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মান্দায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ। বাঁধ ভেঙে গিয়ে ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলাকেই দায়ী করছেন স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে অসহায় পরিবারগুলো বিশ্ব বাঁধে, স্কুলে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন সরকারি সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌঁছায় মানবেতন জীবন যাপন করছেন।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। শহরের প্রধান সড়ক এক ফুট পানির নিচে এর মধ্য দিয়েও যানবাহন চলছে। এ ছাড়াও পুরাতন কালেক্টরেট ভবন চত্বর, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, বিহারী কলোনী, বনানীপাড়া, উকিলপাড়া, কালীতলা, পার-নওগাঁ ১ থেকে দেড় ফিট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

ধামইরহাটের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে বাড়িঘর ও ক্ষেতের ফসল। এখনও উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বাড়িঘর, আমন ধান ক্ষেত, কলা বাগান, সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া উপদ্রুত এলাকার অসংখ্য পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

উপজেলার আত্রাই নদীর পশ্চিম পাশের পাড়ের তালতলী নামকস্থানে বাঁধ ভেঙে খেলনা ইউনিয়নের রসপুর, সাড়াইল, উদয়শ্রী, কমলপুর, পাটকোলা, নন্দনপুর, বেড়ীতলা, ভগবানপুর, কলোনীপাড়া, লালমাটিয়া, ধাপিপাড়া, নলপুকুর, চকহারা গ্রামের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, মনোহরপুর, ভাতগ্রাম, কমরইল গ্রাম এবং আলমপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর, মাহী সন্তোষ, চৌঘাট, শেখাহাটি, ছিলিমপুর, রসুলবিল গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসবপুর ইউনিয়নের ২৯টি মৌজার কমবেশী সকল এলাকার আমন ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ঘুকসি নদী, আমাইতাড়া কলকলিয়া খাড়ী, চিরি নদীর দু’পাশে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪টি ইউনিয়নের ১২ গ্রামের ১ হাজার ৭৮৫টি পরিবারের ১২ হাজার ৫শ মানুষ তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব উপদ্রুত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

জানা গেছে, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর সভায় প্রায় ২ হাজার ২শত হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক তলিয়ে গেছে। এখনও উপদ্রুত এলাকায় সরকারিভাবে কোন ত্রাণ বিতরণ করা শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া জানান, ত্রাণের চাহিদা জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

তাড়াশে এক নারী পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কলেজ প্রভাষক প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে এক নারী পুলিশ সদস্য (১৯) কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের রানীদিঘী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি তাড়াশ থানার ওসি মো. মনজুর রহমান নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নারী পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, উপজেলার রানীদিঘী গ্রামের আবু হানিফের ছেলে তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. লুৎফর রহমান পলাশের (৩২) সাথে একই উপজেলার কাস্তা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের মেয়ে লিমা খাতুন (১৯) সদ্য পুলিশের চাকরি পাওয়া এক নারী সদস্যের দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ওই নারী পুলিশ সদস্য বর্তমানে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন। নারী পুলিশ সদস্যের বাবা অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার তার মেয়ে ১০দিনের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। এসে কলেজ প্রভাষক পলাশের বিয়ের খবর জানতে পারে। পরে সোমবার বিকালে ওই কলেজ প্রভাষকের বাড়িতে গিয়ে উঠানে কীটনাশক পান করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে ভর্তি করলে সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত পলাশের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিভাগের আরো খবর

ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ইদুরের গর্ত, ফাটলের আশঙ্কা

বগুড়ার ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ইদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এ কারণে ফাটলের আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান,  ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের গোসাইবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী ও শিমূলবাড়ী অংশে ইদুরের করা তিনটি গর্ত দিয়ে সকাল থেকে পানি প্রবেশ করেছে।

“আমরা স্থানীয়দের নিয়ে গর্ত ভরাটের কাজ করছি। তবে  যমুনার পানি বেড়ে যাওয়া কারণে বাঁধের ওই তিনটি অংশে ফাটলের আশঙ্কা রয়েছে।”

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্যামল তালুকদার জানান, ইদুরের গর্ত দিয়ে বাঁধ চুয়ে আসছিল, সেটা বন্ধ করা হয়েছে।  তবে অন্য অংশে এখন বন্ধ  হয়নি। যে কোনো সময় ফাটল ধরতে পারে।

শিমুলবাড়ী গ্রামের বাবলু মণ্ডল বলেন,“ ২০০৪ সালে ইদুরের গর্ত দিয়ে পানি চুয়ে আসার পর বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল, আমাদের বাড়ি-ঘর, ধান চাল, তলিয়ে গিয়েছিল, সে সময় কোনভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে এসেছি। আজ ও আবার একই অবস্থা হয় কিনা।”

চুনিয়াপাড়া গ্রামের হোসেন মেম্বার বলেন, “বাঁধের একপাশে পুকুর আর আরেকপাশে ডোবা, সে জায়গা দিয়ে পানি চুয়ে পড়ছে। দেখলাম রাতেও কাজ হচ্ছে। আমরা রাত জেগে আছি কখন কি হয়।”

নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতি’র অবনিত, মান্দায় আত্রাই নদীর ৮টি স্থানে বাঁধে ভাঙ্গন

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ’র মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর দু’টি স্থানে মুল বাঁধ এবং ৬টি স্থানে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নওগাঁ শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর ফ্লাড ওয়ালের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে শহরের বিভিন্ন এলাকা এক থেকে দেড় ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। আক্রান্ত এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৫০ হাজার বিঘা ফসলি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মান্দায় ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান জানিয়েছেন উপজেলায় আত্রাই নদীর কমপক্ষে ৮টি পৃথক স্থানে ভেঙ্গে গেছে। এর মধ্যে বুড়িদহ সুজনসখি ঘাট এবং চকমারপুর নামকস্থানে মুল বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। অপরদিকে পার নুরুল্যাবাদ, চকরামপুর, চকবালু, কয়লাবাড়ি ও কয়াপাড়া কলেজ মোড়ে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে সোমবার দুপুর ১২টায় আত্রাই নদীর পানি ধামইরহাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার, আত্রাই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার, মান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও মহাদেবপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার এবং ছোটযমুনা নদী নওগাঁ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মান্দায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ। বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলাকেই দায়ি করছেন স্থানীয় ও ভুক্তোভ’গীরা।

বর্তমানে অসহায় পরিবারগুলো বিশ্ব বাঁধে, স্কুলে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌঁছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব ভাঙঙ্গনের ফলে মান্দা উপজেলার কুসুম্বা, নুরুল্যাবাদ, বিষ্ণপুর, কালিকাপুর, প্রসাদপুর, ভারশো, তেতুলিয়া, ভালাইন, মান্দা সদর ও কশব ইউনিয়নের বিস্তিীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাড়িঘর এবং ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয় ক্ষতির তালিকা প্রস্তত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। মান্দা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরী সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাঃ ইমাজুদ্দিন প্রামানিক এবং জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান এই সমন্বয় সভায় অংশগ্রহন করেন। এদিকে ছোট যমুনা নদীর ফ্লাডওয়ালের আউটলেটগুলো দিয়ে শহরে পানি ঢুকে পড়েছে।

এর ফলে শহরের ডিগ্রির মোড়, বিহারী কলোনী, উকিলপাড়া, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, পুরাতন কোর্ট এলাকা, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, সুপারীপট্টি, কালিতলা, পার নওগাঁ এলাকায় এক থেকে দেড় ফুট পানির নীচে। উকিলপাড়া সড়ক, কাচাড়ী সড়ক, কেডি’র মোড় থেকে মুক্তির মোড় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান বলেছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top