সকাল ১১:০৫, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে দুইজনকে।

রতন ইসলামকে (১৫) বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কোচারপুর এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় বলে জানান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই হাফিজুর রহমান।

রতন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের পারগয়ড়া গ্রামের সৈয়দ জামানের ছেলে ও পারগয়ড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

আটককৃতরা হলেন – আবু হায়াত মো. রাসেল (২০) ও মামুন সরকার (১৮)।

রাসেল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ আকন্দের ছেলে ও গাজীপুরের ভাউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

মামুন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ও গোবিন্দঞ্জের কামদিয়া ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

এসআই হাফিজুর বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকালে রতনকে তার গ্রাম থেকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে অপহরণ করেন রাসেল ও মামুন। তারা তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।”

রতনের বাবা সৈয়দ জামান গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে রতনকে উদ্ধারসহ দুইজনকে আটক করা হয় বলে জানান এসআই হাফিজুর।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, আটক দুইজনসহ রতনকে বগুড়া থেকে গোবিন্দগঞ্জ আনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বগুড়ায় আল-হাসান জুয়েলার্সে ডাকাতির রহস্য উন্মোচন

মাসুদুর রহমান রানা : বগুড়ার চাঞ্চল্যকর আল-হাসান জুয়েলার্সে ডাকাতির রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। ১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল এই ডাকাতি করে। সর্বশেষ ঢাকায় পালানোর সময় ডাকাত দলের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোঃ রিপন (৩২) গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামানের আদালতে ডাকাতির দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। রিপনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পিটুয়াবন্দের বাড়ি গ্রামে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আছলাম আলীর নেতৃত্বে বগুড়া সদর থানার পুলিশের একটি দল রিপনকে গ্রেফতার করে। রিপনকে ডাকাতির পরের দিনই গ্রেফতার করা হলেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তা গোপন রাখে। একটি কোচে চেপে বগুড়া থেকে সে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদ পেয়ে সদর থানার পুলিশ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুতে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী ওই কোচে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় রিপন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা শুরু করলে পুলিশের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে পায়ে ক্ষত চিহ্ন দেখে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। উল্লেখ্য আল-হাসান জুয়েলার্সে ডাকাতি শেষে ককটেল ফাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় নিজেদের ককটেলের স্পিøন্টারে রিপনও আহত হয়েছিল। এর তাজা ক্ষত চিহ্ন তার পায়ে ছিল। অবশেষে এই চিহ্ন দেখেই পুলিশ তাকে শনাক্ত করে। শনাক্তের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে ডাকাতির কথা স্বীকার করে। শুধু তাই নয়  তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে আলম খান (৩০) নামের অপর ডাকাতকেও গ্রেফতার করে। আলম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি গ্রামের হোসেন খানের ছেলে। এদের নিয়ে এ পর্যন্ত তিন ডাকাত ধরা পড়ল। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই পালানোর সময় পুলিশ গুলি করে আলমগীর নামের আরো এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে। সে পুলিশি পাহারায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ইন্সপেক্টর আছলাম আলী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত রিপন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে সহ ঢাকার আশুলিয়া, সাভার, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সংঘবদ্ধ ১৩ সদস্যের একটি ডাকাতদল বগুড়ায় নিউ মার্কেটে আল-হাসান জুয়েলার্সে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের একজন সদস্য ডাকাতির কয়েক দিন আগে বগুড়ায় ওই জুয়েলার্সে এসে একটি আংটি কিনে নিয়ে যায়। আসলে আংটি কেনার অজুহাতে দোকানটির আগাম খোঁজখবর নিয়ে যায় তাদের ওই সদস্য। এরপর তার দেওয়া তথ্য নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি সকালে তারা ঢাকায় সাভারে একত্রিত হয়। এরপর তাদের মধ্যে ৭ জন একটি হাইচ মাইক্রোবাস এবং অপর তিনজন একটি প্রাইভেট কারে চেপে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে গাজীপুরের চন্দ্রারমোড় থেকে তাদের আরো ৩ জন সদস্য গুলিভর্তি একটি রিভলবার ও ককটেল ভর্তি একটি ব্যাগ নিয়ে শ্যামলী পরিবহন নামে একটি বাসে ওঠে বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

দুপুরের দিকে তারা বগুড়া শহরের উপকন্ঠে বনানী মোড়ে মাইক্রোবাস ও কার নিয়ে এসে পৌঁছে। এর পরপরই শ্যামলী পরিবহন থেকে তাদের আরো ৩ জন এসে তাদের সঙ্গে বনানীতে মিলিত হয়। এরপর তারা সেখানে একটি হোটেলে খাবার সেরে কার ও মাইক্রোবাস নিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার অপেক্ষায় থাকে। এ সময় তারা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। সন্ধ্যা নেমে আসলে তাদের ৩ সদস্য প্রাইভেট কার নিয়ে সার্কিট হাউসের সামনে অবস্থান নেয় এবং বাকী ১০ সদস্য হাইচ মাইক্রোবাস নিয়ে শহরের গালাপট্টিতে জৈন মন্দিরের সামনে এসে নামে। এরপর তাদের ২ সদস্য মাইক্রোবাসে থেকে গেলেও বাকী ৮ জন হেঁটে  ওই জুুয়েলার্সের সামনে যায়। সেখানে গিয়েই তারা মুখোশ পরে জুয়েলার্সে ঢুকেই রিভলবারের মুখে কর্মচারিসহ দোকানমালিক গুলজার রহমানকে জিম্মি করে লুটপাট শুরু করে।

এক পর্যায়ে গুলজার রহমানের পায়ে গুলি করা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা ডিসপ্লে শোকেচ ভেঙ্গে ও সিন্দুক খুলে ৫-৬শ’ ভরি সোনার গহনা ও ৪-৫ লাখ টাকা লুট করে তারা বস্তায় তোলে। এরপর বৃষ্টির মত ককটেল ফাটিয়ে রাস্তা কিয়ার করে তারা দ্রুত হেঁটে ওই মাইক্রোবাসে ওঠে চম্পট দেয়। এর আগে তারা সেখানেও কয়েকটি ককটেল ছুঁড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করে সার্কিট হাউস ও পুলিশ অফিসের সামনে দিয়ে পিটিআই মোড় হয়ে বনানীর দিকে পালিয়ে যায়। পরে বনানীতে পুলিশ তাদের মাইক্রোবাসকে গতিরোধের চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ফাটিয়ে সামনের দিকে চলে যায়।

এরপর ফটকি ব্রিজ ও শাজাহানপুর থানার সামনেও তাদের আটকানোর চেষ্টা করা হলে তারা একই কায়দায় ককটেল ফাটিয়ে শেরপুরের দিকে পালাতে থাকে। কিন্তু পিছু নেওয়া তিনটি পুলিশ দলের সম্মিলিত ধাওয়া এবং গুলি বর্ষণের মধ্যে তারা বগুড়া শেরপুর রোডে নয় মাইল নামক স্থানে মাইক্রোবাস ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তারা বস্তাভর্তি সোনার গহনা নিয়ে যেতে পারেনি। তবে কিছু সোনার মালা ও চেইন এবং টাকা পকেটে পুরে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের ৭ জন পালালেও বাকী একজন আলমগীর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ উদ্ধার করে বস্তায় থাকা সোনার গহনাগুলো।
গ্রেফতারকৃত রিপন আরো স্বীকার করে যে, তাদের আরো সদস্যরা প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়েছে। এ কারটি তাদের ডিফেন্স পার্টি হিসেবে তাদের মাইক্রোবাসে পিছু পিছু আসছিল। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে কার নিয়ে তাদের অন্যান্য সঙ্গিরা পালিয়ে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পথিমধ্যে গাড়ি বদল করে প্রাইভেট কারে ওঠে পালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সে উদ্দেশ্য তাদের সফল হয়নি।

ইন্সপেক্টর আছলাম আলী আরো জানিয়েছেন, এ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ১৩ জনকেই শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত রিপন ঢাকায় আরো সোনার দোকানে ডাকাতি এবং মোহাম্মদপুরে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে। রিপন ছিল একজন গার্মেন্টস কর্মি। চাকরি হারানোর পর সে ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পড়ে। চাকরির পরে সে একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতো। গাড়ির চালক থাকাকালে তার বিভিন্ন জেলার সংঘবদ্ধ ডাকাতদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এ পরিচয় থেকে সে ডাকাতির গ্যাং-এ যুক্ত হয়। বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, তাদের সাথে বগুড়ার কোন ডাকাত গ্যাং জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে রিপন মুখ খোলেনি। তবে পুলিশের ধারণা বগুড়ার স্থানীয় গ্যাং এই বড় ধরনের ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আছে। এ ব্যাপারে তদন্ত সহ পলাতক সকল ডাকাতকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

যশোরে বাস- অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩


যশোরের সদরে বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সহোদরসহ একটি অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন।

রোববার সকালে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান।

হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী।

নিহতরা হলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা গ্রামের বদরুদ্দিন ঢালীর ছেলে লাভলু ঢালী (৩৫), তার ভাই জাকির ঢালী (২৫) এবং একই এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে ফরিদ হোসেন (২৮)।

আহতরা হলেন চৌগাছার ফুলসারা এলাকার সোহেল (২৫),আশরাফুল (৩০), সাজেদুর (২৬), শওকত (২৬), আসাদ (৩৫) এবং চান্দা আফরা এলাকার উজ্জ্বল (৩০)। তাদের যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি ইলিয়াস বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অটোরিকশাটি চৌগাছা থেকে যশোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীতমুখী একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই লাভলু নিহত হন।   

“স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধারের পর ঢাকায় নেওয়ার পথে ফরিদ ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকিরের মৃত্যু হয়।”

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

‘বগড়্যার মেলা’র ৩য়দিন মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অবদান তুলে ধরার আহ্বান

মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অনবদ্য অবদান দেশবাসীর কাছে তুলে ধরে প্রকাশনা বের করতে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি প্রকাশনার নাম ‘মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া’ করার প্রস্তাব দেন।  শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন’ দাবি করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বগুড়া সমিতির ভিন্নতর প্রকাশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, বগুড়ার সংস্কৃতি যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ। এই সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সেখানকার সংস্কৃতিগোষ্ঠীগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, প্রয়োজনে নতুন করে সংস্কৃতিগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে।

 ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, বগুড়ায় আরো উন্নয়ন হওয়া দরকার। সেখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। বগুড়ার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। মেলার মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু জানান, মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার জন্য বগুড়া থেকে প্রতিদিন দু’টি বাসে করে শিল্পীদের আনা হচ্ছে। কারণ, আমরা বগুড়ার শিল্পীদের মাধ্যমে বগুড়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রচেষ্টায় বেহাত হওয়া ‘ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি’ প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়েছে। শিগগিরই তা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

 এটি সমিতির একটি বড় অর্জন। ঢাকায় ‘বগুড়া ভবন’ তৈরির চেষ্টা চলছে জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম ঢাকায় প্রতি বছর ‘বগড়্যার মেলা’ অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এতে বগুড়া সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার তালুকদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় আঞ্চলিক গান, বাউল গান, নৃত্যানুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। বিকেলে করতোয়া নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘কদম মুন্সির ঠিকানা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা হাস্যরসাত্মক নাটিকা ‘সূক্ষ্ম বিচার’ মঞ্চস্থ করে বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী।

শিল্পী মাহির পরিবেশনায় বগুড়ার আঞ্চলিক গানও পরিবেশিত হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে মঞ্চস্থ হয় নান্দনিক নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘বর্ণচোর’ নাটকটি। মেলায় পুলি, মুঠা, পাটিশাপটা ও দুধ পিঠা, গাজর ও গুড়ের সন্দেশসহ চার রকমের দই ও ঘি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস। বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে বিক্রেতা হোসনে আরা ইতি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাউদিয়া সুইটস থেকে মিষ্টান্ন কেনার পর দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকায় বসবাসরত প্রকৌশলী আসিফ রহমান সৈকত দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দাম কিছুটা বেশি বলেই মনে হয়। তবে এটা বড় কোনো ব্যাপার না। আগামীকাল সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে।
আজকের কর্মসূচি : মেলামঞ্চে আজ রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় হবে কবিগান, নৃত্য, পালাগান, নাটক, সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

 

বগুড়ায় সন্ধ্যা রাতে ফিল্মি স্টাইলে জুয়েলার্স দোকানে ডাকাতি

প্রকাশ্যে সন্ধ্যারাতে ফিল্মি স্টাইলে বগুড়া শহরের মেরিনা রোডে বৃহত্তর নিউমার্কেটে আল হাসান জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। মুখোশপরা ডাকাত দল জুয়েলার্স মালিককে গুলি করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের পাঁচশ’ ভরির অধিক সোনার গহনা ও পাঁচ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাবার সময় ডাকাতদল ১৫-২০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এর আধা ঘন্টার মধ্যেই ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস আটকসহ একজন ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির লুন্ঠনকৃত সোনার গহনা ও টাকা।

শহরের সাতমাথা থেকে দুইশো গজ উত্তরে মেরিনা রোডে বৃহত্তর নিউ মার্কেটের পূর্ব পার্শ্বে এম এ খান লেনে গোল্ডেন মার্কেটে আল হাসান জুয়েলার্স অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  সন্ধ্যা ছয়টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭-৮ জনের একটি ডাকাতদল সাদা রংয়ের একটি হাইচ মাইক্রোবাস যোগে এসে ওই জুয়েলার্সের কাছে একটি মন্দিরের সামনে নামে। এরপর ডাকাতদল জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে এসে সরাসরি ওই জুয়েলার্সে ফিল্মি স্টাইলে ঢুকে পড়ে। তারা জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমানের পায়ে গুলি করেই লুটপাট শুরু করে। ডাকাতদল জুয়েলার্সে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে পাঁচশ’ ভরির অধিক সোনার গহনা এবং সিন্দুক থেকে পাঁচ লাখ টাকা লুট করে একটি বস্তায় তুলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমান জানান, তার দোকানে কোন কাস্টমার ছিল না। তিনি পেপার পড়ছিলেন। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৭/৮ জনের মুখোশপরা ডাকাত দল দোকানে প্রবেশ করেই তাকে পিস্তলের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এক পর্যায়ে ডাকাতদল তার ডান পাঁয়ে গুলি করে দোকানে লুটপাট চালায়। তিনি আরো জানান, দোকানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ডাকাতরা তা সহ হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, লুট হওয়া স্বর্ণের মূল্য আড়াই কোটি টাকা হবে। উল্লেখ্য, গুলজার রহমানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে।
দোকান ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, মুখোশপরা ডাকাতদল তাদের জুয়েলার্সে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। দোকানে তিনিসহ চারজন কর্মচারী ছিলেন। ডাকাতরা কর্মচারিদের দোকান থেকে বের করে দিয়েই দোকানে ডাকাতি শুরু করে। এর ১৫-২০ মিনিট আগে এক ব্যক্তি আংটি কেনার অজুহাতে জুয়েলার্সে এসেছিল। তাদের ধারণা ওই ব্যক্তিও ডাকাত দলের সদস্য। ওই ব্যক্তি ক্রেতা সেজে ছদ্মবেশে এসে তাদের দোকান রেকি করে যায়। এরপর পরই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
দোকান কর্মচারি নাজমুল ও সুমন জানিয়েছেন, ডাকাত দল ডাকাতি করতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময় নেয়। ডাকাতি শেষে ডাকাতদল লুন্ঠনকৃত সোনার গহনা ও টাকাগুলো একটি বস্তায় ভরে নেয়। এরপর তারা বের হয়েই বৃষ্টির মত বোমা ফাটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।

জুয়েলার্স মালিক গুলজার রহমানের সমন্ধি আব্দুল করিম জানান, ডাকাতদল একটি সাদা রংয়ের হাইচ মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল। মাইক্রোবাসটি জুয়েলার্স থেকে এক-দেড়শ’ গজ উত্তর-পূর্বে জৈন মন্দিরের সামনে দাঁড় করে রেখেছিল। এ সময় ডাকাতের একজন মাইক্রোবাসের দরজা খুলে রেখেছিল বলে তিনি দেখতে পেরেছেন। ডাকাতির পর ডাকাতরা ওই মাইক্রোবাসযোগেই পালিয়ে যায়। ডাকাতির পরপরই বগুড়ার পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডলসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া র‌্যাব ও পিবিআই সদস্যদেরকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়। তল্লাশি চৌকি বসানো হয় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও উপজেলাগুলোতে। অভিযানে নামানো হয় ডিবিসহ জেলার সকল থানার পুলিশকে। এরই এক পর্যায়ে ডাকাতের আধা ঘন্টার মধ্যে শাজাহানপুরের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয় মাইল নামক স্থান থেকে ডাকাতির ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও লুন্ঠনকৃত সোনারগহনা ও টাকা উদ্ধারসহ ডাকাত দলের এক সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। তবে পুলিশ গতরাত নয়টা পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ডাকাতের নাম জানায়নি।

 

কাল শুরু ‘বগড়্যার মেলা’ শিল্প-সংস্কৃতিকে পরিচিত করাই উদ্দেশ্য

‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’এর মধ্য দিয়ে বৃহত্তর বগুড়া জেলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ঢাকাসহ সমগ্র দেশবাসীর কাছে পরিচিত করানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও মেলার আয়োজকরা।

বুধবার দুুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা। মেলার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসহ যাবতীয় তথ্য জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হচ্ছে। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘বগড়্যার মেলাত বাজ্যা উঠুক মহামিলনের ছন্দিত সুর।’ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু, সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিন্নাতুল ইসলাম তপন, সদস্য আতিকুর রহমান শাহিন, মেলার আহ্বায়ক শামসুল হুদা প্রমুখ। এ সময় তারা করতোয়া নদীবিধৌত সমৃদ্ধ নগরী পুন্ড্রবর্ধন তথা আজকের বগুড়া জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন।

 

শিবগঞ্জ থেকে মৃত ছাগলের মাংস যাচ্ছে রাজশাহীতে

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কয়েকটি ছাগলের হাট থেকে স্বল্পমূল্যে কেনা মৃত ছাগল যাচ্ছে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন হোটেলগুলোতে।

 আর এসব মাংস বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে খাসির মাংস বলে। অজানাতেই এই রকম অরুচি খাবার খেয়ে মানুষ ভুগছে বিভিন্ন রোগে। বর্তমানে গ্রামের বেশিরভাগ ছাগল বিভিন্ন ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আর এই সুবাদে কিছু ছাগল ব্যবসায়ী স্বল্পমূল্যে কিনে নিচ্ছে অসুস্থ ছাগল। হাটে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে ছাগলগুলো। তারপর সেই ছাগলের গলায় চালানো হচ্ছে ধারালো ছুরি। এরপর গোপনে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে হাটে নিয়ে গিয়ে ওজন হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। আর সেগুলো কিনছে রাজশাহী থেকে ছোট বড় ট্রাক নিয়ে আসা ছাগল ব্যবসায়ীরা।

 শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি বাজার, শিবগঞ্জ বাজার ও চামারহাটে হচ্ছে মৃত ছাগলের রমরমা ব্যবসা। হাজার হাজার টাকা লাভ নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনায় আছেন এলাকার ছাগল ব্যবসায়ী ও রাজশাহীর বড় মাপের কিছু ছাগল ব্যবসায়ীরা। গত বৃহস্পতিবার চামারহাটে দেখা মেলে এইসব মৃত ছাগলের গলাকাটা দেহগুলো। সাংবাদিকদের টের পেয়ে পালিয়ে যায় প্রায় ২০টি মৃত গলাকাটা ছাগল বোঝাই     রাজশাহী থেকে আসা একটি ছোট্ট ট্রাক।

 পরে পাওয়া যায় রাজশাহীর আপেল নামের একজন ছাগল ব্যবসায়ীকে। আটক করা হয় প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা গলাকাটা ৪টি ছাগলসহ তার একটি ছোট ট্রাক। কিন্তু এলাকাবাসীর অনুরোধে ছেড়ে দেয়া হয় ট্রাকটি। এক প্রশ্নের জবাবে ছাগল ব্যবসায়ী আপেল বলেন, গ্রামের ছাগল ব্যবসায়ীরা আমাদের জবাই করা ছাগল এনে দেয়। তখন আমরা এগুলো ক্রয় করি।

সকাল হলেই রাজশাহীর বিভিন্ন খাবার হোটেলের লোকজন এসে তা নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কথা হয় হাট মালিক আলহাজ্ব আমিনুর রহমান ও মো. রায়হানের সাথে। তারা বলেন, আমরা নিষেধ করা সত্ত্বেও এগুলো চুপেচাপে ক্রয়-বিক্রয় করছে। তবে আগামী হাট থেকে আমরা আর এগুলো ক্রয়-বিক্রয় করতে দিব না। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার সরকার বলেন, আমি এ বিষয়ে আগে কারও কাছ থেকে কোন তথ্য পায়নি। আগামী হাটগুলোতে অভিযান চালাবো। যদি হাতেনাতে ধরা পড়ে তবে মোবাইল কোর্টের মাধমে শাস্তির ব্যবস্থা করব।

কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পৌরসভা এলাকায় বালাঘাট ব্রিজটির একপাশ ভেঙে সংযোগ রাস্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একদিকে হেলে গেছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন এ অংশে কাঠ বসিয়ে ব্রিজের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে লোকজন। এ অবস্থায় নির্বিঘেœ যাতায়াত ও মালপত্র আনা-নেয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে ১৫ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এলাকাবাসী জানায়, দেড়যুগ আগে নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড়, মোছলিয়া ও মেছনি বিলের সংযোগ স্থলে বালাঘাট ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।

ওই ব্রিজটি দিয়ে উপজেলার কানিপাড়া, জোলাপাড়া, টাপুরচর, নেয়াখালীপাড়া, সাতানিপাড়া, হিন্দুপাড়া, মুন্সীটারী, পঞ্চায়েতপাড়া, ফকিকের হাট, নেওয়াশী, খরিবাড়ী গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন।  গত বন্যার সময় ব্রিজটির দুই মোখার সংযোগ সড়ক ভেঙে ব্রিজটি হেলে পড়ে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে ১৫ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। স্থানীয়রা ভাঙা সংযোগ সড়ক ও ব্রিজের বিচ্ছিন্ন পাশে কাঠের চরাটি দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরেও প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী ও রিকসা চালকরা। তবে ভারী কোন জিনিসপত্র ব্রিজের উপর দিয়ে আনা নেয়া করতে পারছেন না কেউ। এলাকাবাসীর দাবি পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে ফেলে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

মোছলিয়া গ্রামের আবেদ আলী জানান, এই ব্রিজের কারণে আমরা এলাকাবাসী যানবাহন নিয়ে ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারি না। কোন মালামাল আনা নেয়া করতে পারি না। আমরা এলাকাবাসী দাবি জানাই দ্রুত এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক। কানিপাড়া গ্রামের শামসুল হক বলেন, আমরা গত বন্যার পর থেকে নাগেশ্বরী পৌরসভার মেয়রকে ব্রিজ নির্মাণের কথা জানাচ্ছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। এই ভাঙা ব্রিজে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলা। ব্রিজটির একপাশ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আমাদের যানবাহন দিয়ে জিনিষপত্র আনা-নেয়া করতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী পৌরসভার পৌর মেয়র আব্দুর রহমান জানান, ব্রিজটির একপাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে লোকজনের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। আমি ব্যবস্থা নিতে প্রকৌশলীকে বলেছি। চলতি অর্থবছরে এখানে নতুন ব্রিজের কাজ হয়ে যাবে আশা করছি।

 

বগুড়ায় চেয়ারম্যানসহ ৩টি আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত

বুধবার বগুড়ায় জেলা পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ায় চেয়ারম্যান ও সাধারণ আসনের ৩ টি ওয়ার্ডে সদস্য পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে চেয়ারম্যান পদে ও সাধারণ আসনে ৬, ১২ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। মামলা থাকায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রেরিত প্রজ্ঞাপনে একথা জানানো হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর প্রেরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এটিএম আমিনুল ইসলাম হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে রুল এবং অন্তবর্তীকালীন আদেশ লাভ করেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আপিল করায় আপিল বিভাগ তা শুনানীর জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেছেন। এ কারণে চেয়ারম্যান ও জেলার সাধারণ আসনে ৬, ১২ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে নির্বাচন স্থগিত হয়েছে।

বগুড়ায় ১২ টি ওয়ার্ডে বিজয়ীরা হলেন : সাধারণ আসনে সুলতান মাহমুদ খানঁ রনি (১ নম্বর ওয়ার্ড), মাফুজুল ইসলাম রাজ (২ নম্বর ওয়ার্ড), একেএম আসাদুর রহমান দুলু (৩ নম্বর ওয়ার্ড), মোস্তাফিজার রহমান (৪ নম্বর ওয়ার্ড), এফএম ফজলুল হক (৫ নম্বর ওয়ার্ড), ৬ নং ওয়ার্ড স্থগিত, রেজাউল করিম মন্টু (৭ নম্বর ওয়ার্ড), আনছার আলী (৮ নম্বর ওয়ার্ড),  মিনহাদুজ্জামান লীটন (৯ নম্বর ওয়ার্ড), মারুফ রহমান মনজু (১০ নম্বর ওয়ার্ড), আব্দুল করিম (১১ নম্বর ওয়ার্ড), ১২ নং ওয়ার্ড স্থগিত, এসএম রহুল মোমিন (১৩ নম্বর ওয়ার্ড), ১৪ নং ওয়ার্ড স্থগিত, এসএম জাহিদুল বারী (১৫ নম্বর ওয়ার্ড)।

সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন: ১ নং (১,২,৩) ওয়ার্ডে মাহফুজা খানম, ২ নং (৪,৫,৬) ওয়ার্ডে নাজনীন নাহার, ৩ নং (৭,৮,৯) ওয়ার্ডে সাহাদারা মান্নান, ৪ নং (১০,১১,১২) ওয়ার্ডে ছামছুন্নাহার আকতার বানু ও ৫ নং (১৩,১৪,১৫) ওয়ার্ডে মনজু আরা বেগম।

উল্লেখ্য, বগুড়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হলেও  বুধবার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন কমেনি। নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে গড়ে ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। কোন কোন কেন্দ্রেতো শতভাগ ভোটও পড়েছে। জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানান, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে শতভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শুধু সাধারণ ওয়ার্ডেই নয় কয়েকটি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডেও শতভাগের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষিত ১নং মহিলা ওয়ার্ডে ৯৭ ভাগ এবং পাশের সংরক্ষিত ২নং মহিলা ওয়ার্ডে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।

কেন্দ্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধুনটে দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে বগুড়া সদর উপজেলা কেন্দ্রে বেলা ১১টার আগে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি চোখ পড়েনি। দুপুর ২টার পর গণনা শুরু হয়।

রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

বিএনপি রাজশাহী মহানগর ও জেলা শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট রাজশাহী মহানগর এবং এ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ও এ্যাডভোকেট একেএম মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট রাজশাহী জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশক্রমে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উভয় কমিটি অনুমোদন করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক মো. তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

কেশবপুরে সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামি আটক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুর থানাপুলিশ গত রোববার রাতে হাবিবুর রহমান (৩২) নামের এক পালাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আটক করেছে। সে উপজেলার রামকৃষনো গ্রামের সামছুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সে মামলার দেড় বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামি।  সোমবার সকালে আটককৃতকে যশোর কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।  

 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুরকা বাজার এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়ছেন আরও ২০ জন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার দুপুর সোয়া একটার দিকে পাবনা-বগুড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎণিক হতাহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, একটি লোকালবাস সিরাজগঞ্জ থেকে রায়গঞ্জ যাচ্ছিল। পথে ঘুরকা বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি বাসের সঙ্গে ওই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু এবং আহত হন উভয় বাসের ২০ যাত্রী।

 

উপস্থিতি ৬৩ শতাংশ পুলিশ পাহারায় রাবির নিয়োগ পরীক্ষা

রাবি প্রতিনিধি : কোন ধরনের বিপত্তি ছাড়াই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শেখ রাসেল মডেল স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অনিশ্চয়তার জন্য পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি মাত্র ৬৩ শতাংশ বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আনসার উদ্দিন। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে পুলিশ পাহারায় সকাল ৯টা থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক আনসার উদ্দিন বলেন, কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই আজকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহকারী শিক্ষক, হিসাব সহকারী, অফিস সহকারী পদে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ৫২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন এবং উপস্থিত ছিলেন ৩২৯ জন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে গত দুইদিনের রাজনৈতিক ঝামেলার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে উপস্থিতি কম ছিল। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এসএমএস’র মাধ্যমে ভাইভার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর রাবির শেখ রাসেল মডেল স্কুলে ১৩টি পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ৯ জন সহকারী শিক্ষক, একজন হিসাব সহকারী, একজন অফিস সহকারী ও দুই জন সাধারণ কর্মচারী পদের বিপরীতে আবেদন সংগ্রহ করা হয়।

গত ২১ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের আয়া ও মালি নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষায় বাধা দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করেন রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরপর গত ২৩ ডিসেম্বরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটালগার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও গ্রন্থাগার সহকারী নিয়োগের পরীক্ষায় বাধা দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

সিরাজগঞ্জে প্রসেস মিলের বিষাক্ত বর্জ্যে আক্রান্ত এলাকাবাসী

সিরাজগঞ্জ অফিস : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটী বিল পাকুড়িয়া গ্রামে একটি বৃহৎ প্রসেস মিলের বিষাক্ত বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলার কারণে এলাকার পরিবেশ দূষিত, আবাদি জমির ফসল নষ্ট, এলাকাবাসী চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোনালী একতা নামের উক্ত প্রসেস মিলের মালিক পক্ষ এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসী প্রসেস মিলের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাগবাটী বিল পাকুড়িয়া গ্রামে সোনালী একতা মাছরাইজ এন্ড প্রসেস মিলের দূষিত বিষাক্ত বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্য দেদারছে বিভিন্ন ফসলী জমি ও পুকুর ডোবায় যাচ্ছে। এতে ওই এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে আবাদী জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকাবাসী চর্ম ও পেটের রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।  

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আবাসিক এলাকায় ধরনের প্রসেস মিল করে দীর্ঘদিন যাবত উন্মুক্ত স্থানে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলছে। সেই বিষাক্ত বর্জ্য পানির লেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকার মানুষের হাতে পায়ে চুলকানী, পেটের অসুখসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এসময় এলাকার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, এ বর্জ্যরে কারণে আশপাশের আবাদী জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে ওই মিল মালিককে একাধিকবার অভিযোগ করলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।

এ ব্যাপারে সোনালী একতা মাছরাইজ এন্ড প্রসেস মিলের মালিক ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে অস্বীকার করে বলেন, আমার জমিতে বর্জ্য ফেলি। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

 

কালাইয়ে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা : প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাত্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তার নিজ শয়নঘরে দল বেঁধে ধর্ষণ করা  হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বানদীঘি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে গততাল শনিবার সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বানদীঘি গ্রামে ওই ছাত্রীর বাড়ির প্রাচীর টপকিয়ে প্রথমে তার বাবা-মার শয়ন ঘরের দরজায় শেকল তুলে দেয়। এরপর ধর্ষকরা সুকৌশলে ছাত্রীর শয়নঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে তাকে ধরালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ভোর রাতে ধর্ষিতার মা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হবার সময় দেখতে পান বাইরে থেকে দরজা আটকানো। এ সময় ঘরে থাকা ওই ধর্ষিতার বাবা-মার চিৎকার চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে দরজা খুলে দেন। এসময় প্রতিবেশীরা তাদের মেয়েকে পাশের ঘর থেকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত  অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে  শনিবার সকালে ধষর্কদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মাত্রাই-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন জয়পুরহাটের এএসপি (সার্কেল) অশোক কুমার পাল ও কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ধষর্কদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে ধ
র্ষিতার চাচা আব্দুল বাকিল বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে তিনটা)  পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।    
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুজ্জামান চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপরাধী যেই হোক দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে।

 

রাবিতে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা


রাজশাহী ও রাবি প্রতিনিধি : তিন ক্যাটাগরিতে ২৭টি পদে বয়সসীমা বাতিলের দাবি এবং নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে তিন ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা বন্ধ করতে হলে ঢুকে পরীার্থীদের তুলে দিয়ে কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয় বেশকিছু বহিরাগতসহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ সময় হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হন সারাদেশ থেকে আসা পরীক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান ও আইসিটি সেন্টারের প্রশাসক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এই দুই শিক্ষকের বাড়ির বাইরে অস্ত্রসহ মহড়া দিয়ে পরীক্ষা বন্ধের হুমকি দেয়া হয় বলে জানান তারা। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত ১৭ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তিন ক্যাটাগরিতে ২৭টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩ হাজার ২২০ জন। এই তিন ক্যাটাগরিতে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ক্যাটালগার পদে, ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার সহকারী পদে পরীার সময় নির্ধারিত ছিল। এতে প্রার্থীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারিত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের বিভিন্ন গেটের তালায় সুপার গ্লু দিয়ে অন্য তালা লাগিয়ে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে ভবনের তালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষা শুরু করলে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃতে ৩০/৪০ নেতাকর্মী হলে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয়।

এ সময় কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেয়া চাকরি প্রার্থীদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিনোদপুর ও কাজলা ফটকে অবস্থান নিয়ে পরীার্থীদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়। তারা অনেক পরীার্থীর প্রবেশপত্র কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে। এসব গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে লাঞ্ছনার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। ফলে  নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, পরীক্ষার্থীদের বাধা দেয়ার পাশাপাশি যেসব শিক্ষক পরীক্ষা নেবেন তাদেরও বাধা দেয়া হয়। রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বের করে দিয়েছে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়োগ না দিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের চাকরি দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখনই আমাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। তাই আমরা এই নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। সার্বিক বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, আমরা নিয়ম মেনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীার তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু বহিরাগতরা এসে বিশৃঙ্খলা করে পরীা বন্ধ করে দিয়েছে।

 

মহাস্থানগড় সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী

সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদ বগুড়ার মহাস্থানগড় চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেয়েছে। সার্ক কালচারাল সেন্টারের ঢাকায় সফররত পরিচালক ওয়াসান্থে কোতোয়ালার নেতৃত্বে সংস্থার একটি দল এ ঘোষণা চূড়ান্ত করে। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হবে। এদিকে এ ঘোষণার খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শহরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এতে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা কর্মী ছাড়াও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মী, রাজনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

দেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি হলো মহাস্থানগড়। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে মহাস্থানগড় সুমহান ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। মুসলিম ছাড়াও হিন্দু-বৌদ্ধের অন্যতম পিঠস্থান হওয়ায় প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটকের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের আগমন ঘটে এখানে। ২০১৫ সাল থেকে সার্ক কালচারাল সেন্টার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলকে সার্কের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে দেশগুলোর স্থান বেছে নেওয়া হচ্ছে।

এ জন্য আফগানিস্তানের বামিয়ানকে গত বছর সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। মহাস্থানগড়কে যে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে, তা গত বছরই জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, মহাস্থানগড়কে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই রাজধানীর উদ্বোধন করবেন। প্রতœতত্ত্ববিদদের মতে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতক থেকে মহাস্থানগড়ে মানববসতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্যের গবেষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান মহাস্থানগড়কে সার্কের রাজধানী হিসেবে বেছে নেওয়ার ঘোষণাকে যথার্থ এবং তাৎপর্যপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করে বলেন, ‘কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই সাংস্কৃতিক রাজধানীকে পর্যটন ও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কাজে লাগাতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে।’

১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রতœতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী বর্তমানের রাজশাহী, দিনাজপুর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সুফি মোস্তাফিজ বলেন, পুণ্ড্র সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে মনে করা হয়। তবে এর যথার্থ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রকাশ থাকে যে এডিবি’র অর্থায়নে পর্যটক-দর্শকদের সুবিধার্থে সাউথ এশিয়ার ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’র  আওতায় মহাস্থানগড় ও জাদুঘরসহ এর আশেপাশের এলাকার সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ গত কয়েক বছর আগে শুরু হয়ে এখন শেষ হওয়ার পথে। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে গোটা মহাস্থানগড় দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। নানা সুযোগসুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।

বগুড়াকে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা প্রসঙ্গে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফ উদ্দিন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন এ কারণে বগুড়ায় বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে। এই এলাকার পর্যটনশিল্পসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক লোক ঐতিহ্য বিশ্বজুড়ে তুলে ধরা সহজ হবে। বগুড়ার নাম বিশ্বে আরও বিস্তৃত ঘটবে। তিনি বলেন মহাস্থানগড়কে ঘিরে রয়েছে পুণ্ড্র সভ্যতার কয়েক শ বছরের ইতিহাস। সার্কের রাজধানী ঘোষণার ফলে মহাস্থানগড় বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দ্বার উন্মোচিত হলো।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না এই ঘোষণাতে বগুড়াবাসীর জন্য একটা বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন গত বছর সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বগুড়ার জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের  সঙ্গে মতবিনিময়কালে মহাস্থানগড়কে সার্ক সাস্কৃতিক রাজধানী করার ব্যাপারে সরকারি প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তা বাস্তবায়নে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফ উদ্দিনকে তিনি সে সময় নানা দিক নির্দেশনাও দেন। এটি বাস্তবায়নে বগুড়ার জেলা প্রশাসকের প্রচেষ্টার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বগুড়ার মহাস্থানগড়কে সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার উদ্যোগে শহরে আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আনন্দ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বগুড়ার মহাস্থানগড় সার্ক সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষণা হয়েছে। তাদের ঐকান্তিক ভূমিকার জন্য বগুড়া সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহফুজুল হক দুলু, বগুড়া জোটের সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সিদ্দিকী, আমরা ক’জন শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি আব্দুস সামাদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোবিন জিন্নাহ, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জেএম রউফ, সংস্কৃতজন সাদেকুর রহমান সুজন, মতিউর রহমান, খলিলুর রহমান চৌধুরী, দৌলতজ্জামান, জাহিদুর রহমান মুক্তা, এইচ আলিম, আহছানুল হক দুলাল, নিভা রানী সরকার পূর্ণিমা, ইসলাম রফিক, আহমেদুর রহমান ডালিম, লুবনা জাহান প্রমুখ।

আজ তারেক রহমানকে বড় প্রয়োজন: নজরুল ইসলাম খান

বর্তমানে দেশের এ ক্রান্তিকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান  তারেক রহমানের মতো দেশপ্রেমিক নেতার বড়ই প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ও তার পরিবার দেশের জন্য শুধু দিয়েই গেছেন, কিছুই নেননি। প্রতিদানে তাকে জেল, জুলুম, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এমনকি বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের টিএমএসএস মিলনায়তনে তারেক রহমানের ৫২তম জন্মদিন শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসার কারণে বেঁচে আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা গণতন্ত্র পরিপন্থি। তাই আগামী দিনে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। তারেক রহমান দেশে ফিরলে আবারও তিনি দেশ গড়ার কাজ করবেন।’

জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হুদা পপনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, পৌর মেয়র একেএম মাহবুবুর রহমান, ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম, লাভলী রহমান, মোস্তফা আলী মুকুল, আহসানুল তৈয়ব জাকির, ডা. শাজাহান আলী, আব্দুর রহমান, মতিয়ার রহমান মতি, তৌহিদুল আলম মামুন, পরিমল দাস, আবুল বাশার, মেহেদী হাসান হিমু, ফারুকুল ইসলাম ফারুক, ডা. আজফারুল হাবীব রোজ, হুমায়ন কবির গেদা, আব্দুল গফুর দারা, আবদুর রউফ, এডাব্লিউএম মাসুদ, ইঞ্জি. হেলাল, রোস্তম আলী প্রমুখ।

বগুড়ায় বিএনপির সাবেক নারী এমপি জ্যোতির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

বগুড়ার সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতির বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দিয়েছে। ৮১ লক্ষাধিক টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

দুদক সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার প্রফেসর আবদুর রউফের স্ত্রী, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। দুদকের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হবার পর তদন্ত করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি ২৮ লাখ ১৭ হাজার ১৮৪ টাকার সম্পদের কথা গোপন করে মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান এবং ৫৩ লাখ ২২ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার আদালতে তার (জ্যোতি) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনের ২০০৪এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, চার্জশিটের (নং-১২১৬) কপি পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি জানান, এক প্রভাবশালী ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে এ সব মিথ্য তথ্য দিয়ে দুদকে মামলা করাতে সহযোগিতা করেছেন। তিনি এ মামলা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

রাবির সমাবর্তন ফি কমানোর দাবিতে স্মারকলিপি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমিয়ে ২ হাজার ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সমাবর্তনে অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপ-উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এ স্মারকলিপি দেন। এছাড়া সমাবর্তনে ‘মানসম্মত’ বক্তা ও নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর ক্যাটাগরিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই একটি ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ৫৭০টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ঢাবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ছিল দুই হাজার টাকা করে, জাবিতে  স্নাতক ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৫০০টাকা, স্নাতকোত্তর ক্যাটাগরিতে এক হাজার ৫০০টাকা, স্নাতক-স্নাতকোত্তর যৌথ ক্যাটাগরিতে দুই হাজার ৫০০টাকা এবং চবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ক্যাটাগরিতে দুই হাজার টাকা নির্ধারিত ছিল। সেই হিসেবে রাবির এই ফি নিঃসন্দেহে অতিরিক্ত ও বাস্তবতা বিবর্জিত। যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত চাকরি পায়নি এবং এখনও বাড়ি থেকে টাকা এনে নিজের খরচ বহন করছে, সেখানে এতটাকা খরচ করে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।

অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১১-২০১৪ সেশনে মাস্টার্স পাস করা ব্যাচকে হিসাবের আওতায় আনলে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে, যারা এখনও বেকার। কেউবা ঢাকায় টিউশনি করে চলছেন আর চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ বাড়ি থেকে খরচ এনে কোচিং করছেন, কেউ পার্ট টাইম চাকরি করে নিজের খরচটা কষ্ট করে চালিয়ে নিচ্ছেন, অনেকে আবার বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন এই অবস্থায় তাদের পক্ষে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন, তারপর রাজশাহীতে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করে কাঙ্ক্ষিত সমাবর্তনে অংশ নেওয়া কতজনের পক্ষে সম্ভব হবে?

শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাবি, জাবি ও চবির তুলনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যদি ২ হাজার টাকায় সমাবর্তন করতে পারে তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন পারবে না?

গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের নিবন্ধন শুরু হবে। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীরা এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারীদের ৩ হাজার ৫৭০টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মশিহুর রহমান।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘উপাচার্য রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আসলে সমাবর্তন কমিটির মিটিং-এ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সাংবাদিক পরিচয়ে ক্লিনিকে চাঁদাবাজির চেষ্টা, আটক ২

বগুড়া শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে শহরের খান্দার এলাকায় অ্যানজেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় সদর থানা পুলিশ তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

আটককৃতরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার আবদুল হান্নানের ছেলে হাসান মুহাম্মদ (৩০) ও গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত লোকমান মন্ডলের ছেলে এইচএম তারেক (৪৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ওই দুই ব্যক্তি শহরের খান্দার এলাকায় অ্যানজেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তারেক নিজেকে দৈনিক সময়ের সংবাদ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও হাসান বগুড়া জেলা প্রতিনিধি দাবি করেন। তারা প্রশাসনের অনুমতির অজুহাতে ওই প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও মালিকের সঙ্গে দেখা করতে চান। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থাপক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তারেক ও হাসান কৌশলে অর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছিল। তাদের আচরণ সন্দেহ হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানো হয়। পরে ওই দুজনকে আটক করে সদর থানা পুলিশে দেওয়া হয়।

এর আগে গ্রেফতারকৃতরা শহরের মা ক্লিনিকের কাগজপত্র দেখতে গিয়েছিল। সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, কথিত সাংবাদিক তারেক ও হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে পাঠানো হবে।