দুপুর ১:০৮, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ রাজশাহী

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দুটি মন্দিরের কালী প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। গত সোমাবার গভীর রাতে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ক্ষিদ্র জোকনালা গ্রামের বারোয়ারী কালী মন্দির ও কালীপদ সরকারের পারিবারিক মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে  মঙ্গলবার দুপুরে বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বেলকুচি থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানান, রাতের কোন এক সময় দুর্র্বৃত্তরা কালী মন্দিরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে বারোয়ারী কালী মন্দিরে কালীর মাথা ভেঙে ফেলে ও পারিবারিক মন্দিরের কালী প্রতিমা ও সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।  

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বৈদ্যনাথ রায় জানান, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। বেলকুচি থানা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। দোষীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে  মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

ধুনটে গাছ থেকে পড়ে শিক্ষার্থী নিহত

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সজিনা গাছের ডাল ভেঙে শরিফুল ইসলাম সজিব (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সজিব ধুনট উপজেলার বিলচাপড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে এবং সোনাহাটা দি নিউ আই ওপেনার কেজি স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

উপজেলার সোনাহাটা দি নিউ আই ওপেনার কেজি স্কুলের পরিচালক শাহ আলম বলেন, গত ১৯ মার্চ বিকেলে সোনাহাটা বাজারে ভাড়া বাসার পাশে একটি সজিনা গাছে উঠে সজিনা পাড়তে ছিল সজিব। এ সময় গাছের ডাল ভেঙে মাটিতে পড়ে সজিব মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রথমে তাকে বগুড়া একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন স্বজনরা। তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সকাল ৭টার দিকে সজিবের মৃত্যু হয়।

গোমস্তাপুরে অস্ত্রসহ যুবক আটক

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ১টি পিস্তল, ম্যাগজিন ও ৬ রাউন্ড গুলিসহ এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেছে গোমস্তাপুর থানা পুলিশ। গত সোমবার রাতে বোয়ালিয়া-নরশিয়া সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক ভোলাহাট উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে আরজেন আলী। এ ব্যাপারে গোমস্তাপুর থানায় মামলা হয়েছে।

নওগাঁয় পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানববন্ধন

নওগাঁ প্রতিনিধি : বেতন-ভাতা ও পেনশন সুবিধা সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী এসোসিয়েশন নওগাঁ জেলা শাখা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে।  মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে তারা ঘন্টাকালব্যাপী মানববন্ধন করে। এ সময় সংগঠনের নওগাঁ জেলা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, শহর পরিকল্পনাবিদ আনিছুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মতিউর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক  ড. মো. আমিনুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুপচাঁচিয়ায় জুয়েলার্সে ডাকাতি আটক ২ জন রিমান্ডে, নৈশ প্রহরীর দাফন সম্পন্ন

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের নিউ মার্কেটের নৈশ প্রহরী মোজাহার হোসেনকে (৬০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাকসুমা জুয়েলার্স নামের স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় আটক ২ জনকে পুলিশ  সোমবার আদালতের মাধ্যমে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। অপরদিকে দুবর্ৃৃত্তদের হাতে হত্যার শিকার নৈশ প্রহরী মোজাহার হোসেনের (৬০) ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার বিকেলে তার গ্রামের বাড়ি ডিমশহরে জানাজার  পর তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, দুপচাঁচিয়া নিউ মার্কেটের নৈশ প্রহরী মোজাহার হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আবু বক্কর ছিদ্দিকের মালিকানাধীন মাকছুমা জুয়েলার্সে ডাকাতির ঘটনায় গত রোববার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনক ৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে থেকে ২ জন উপজেলা মন্ডলপাড়ার মৃত হাছেন আলীর পুত্র গোলাম রব্বানী (৪৫) ও ডাকাহার গ্রামের আলহাজ হোসেন আলীর পুত্র আব্দুল কুদ্দুস (৪৫) কে সোমবার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিচারক উভয়কে ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। একই সাথে তিনি জানান, গত ২৫ মার্চ শনিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা দুপচাঁচিয়া নিউ মার্কেটের নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে মাকছুমা জুয়েলার্সে ডাকাতির পর থেকে তিনি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। স্বল্প সময়েই ঘটনাটির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, এ সংক্রান্তে গতকাল সোমবার “দৈনিক করতোয়া” এর  শেষ পাতায় “দুপচাঁচিয়ায় নৈশ প্রহরীকে হত্যা করে সোনার দোকানে ডাকাতি : আটক ৩” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

 

ছাত্রীদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও পারদর্শী হতে হবে : নুরুল এমপি

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলার মাধ্যমে দেহ মনও প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া যায়। ছাত্রীদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও পারদর্শী হতে হবে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া-আদমদিঘী এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ এড. নুরুল ইসলাম তালুকদার সোমবার মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী সভায় উপরোক্ত এ কথাগুলো বলেন। কলেজ মাঠে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও প্রদর্শক এমদাদুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুর রহমান দুলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বগুড়ার সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন শেফালী সহ অন্যান্যের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।       

নওগাঁ পৌরসভায় সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

নওগাঁ প্রতিনিধি : ৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) ইউজিপি দ্বিতীয় পর্যায়ে নওগাঁ পৌরসভাধীন সড়ক উন্নয়ন এবং সাইড ড্রেন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের কেড়ির মোড়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ফলক উন্মোচন করেন মোঃ আব্দুল মালেক এমপি। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী সভায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর সিদ্দিক নান্নু, পৌর মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি,  পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম,  চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল হক কমল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাজীপুরে চলাচলে বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই সেতুর কাজ শুরু

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্ধাইল গ্রামের হটার মোড়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না রেখে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় লোকজন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।এছাড়া নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩০ফুট লম্বা একটি সেতু নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। সম্প্রতি ওই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও জনসাধারন চলাচলের জন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা বা সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। যে কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায়  বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন,  সেতুর কাজ নির্মাণ করার পূর্বে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা রেখে কাজ শুরুর নিয়ম রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদার সে ব্যবস্থা না করে সেতুর কাজ শুরু করেছে। অধিকাংশ জনগণ অনেক দূর দিয়ে ঘুরে চলাচল করছে। অনেকেই দায় থেকে কষ্ট করে সেতুর পাশ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সরকারি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কাজ করার কথা থাকলেও গত ২৬মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ঠিকাদার কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতেই নিজের ইচ্ছায় ঢালাইয়ের কাজ করেছে।
এ বিষয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজের পার্শ¦বর্তী বসবাসকারী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিক, গ্রামবাসী তোতা মিয়া  জানান বিকল্প রাস্তা না থাকায় আমাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার শাহজাহান আলী জানান, ছুটির দিন তাই আমি যাই নাই তবে অল্প একটু ঢালাই ছিল বলে টেলিফোনে তাদেরকে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলাম।প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহআলম মোল্লা জানান, আমি ছুটিতে দেশের বাড়িতে রয়েছি, সরকারি প্রতিনিধি ছাড়াই ঢালাই করা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান বিষয়টি শুনে বিশ্বাসই হচ্ছেনা, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

রাজশাহী : জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণের মধ্যে দিয়ে জঙ্গিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে উদযাপন করা হচ্ছে জাতীয় স্বাধীনতা দিবস। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে  গতকাল রোববার ভোর থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারগুলোয় মানুষের ঢল নামে। সূর্যোদয়ের পর রাজশাহী পুলিশ লাইনে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনের শুরুতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনারের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাজশাহীর কুমাপাড়ায় স্বাধীনতা চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় অন্যদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, সৈয়দ শাহাদত হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সিনিয়র সদস্য ডা. তবিবুর রহমান শেখ, যুগ্ম-সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকারসহ আরও অনেকে উপিস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্যে নেতৃবৃন্দ নগরীর কোর্ট শহীদ মিনার চত্বরে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ৮টায় টায় রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় তার সঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক এম. খুরশীদ হোসেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ও রাজশাহী পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান মহানগর পুলিশ আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এবং অন্যান্য সামাজিক সাংস্কৃতিক ও শিশু-কিশোর সংগঠনের সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করা হয়। বেলা ১১টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বিকেল ৪টায় নারীদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক একাদশ বনাম মুক্তিযুদ্ধ একাদশ প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় নগর ভবনের গ্রীণ প্লাজায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মহানগরীজুড়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছে। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

রংপুর : রংপুরের যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার রংপুর জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্যে ছিল সুর্যদয়ের সাথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে কুচকাওয়াজ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। সকালে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। স্মৃতিস্তম্ভ অর্জনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পাটি, ওয়ার্কার্স পাটি, বাসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সরকারি বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা নিজেরদের ব্যানারে পুর্স্পমাল্য অর্পণ করেন। বেরোবি ভিসি ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা নিজ কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

পঞ্চগড় : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে পাঁচ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উপহার দিয়েছে পঞ্চগড় পৌর পরিষদ। এর আগে পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে আলোচনা সভা ও ভোজের আয়োজন করা হয়। পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আমানুল¬াহ বাচ্চু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্্রাট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মির্জা আবুল কালাম দুলাল, সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডার ইসমাইল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এস এম লিয়াকত আলী, আব্দুল কাদের, সাইখুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা, পু®পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশের ব্যান্ডদল কর্তৃক শহর প্রদক্ষিণ, স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও জেলা প্রশাসক কর্তৃক অভিবাদন গ্রহণ, প্রতিযোগিতা, ডিসপে¬¬ প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলিিচ্চত্র প্রদর্শনী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া, উন্নত মানের খাবার পরিবেশন, মহিলাদের অংশগ্রহণে ক্রীড়ানুষ্ঠান, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দিনের শুরুতেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা ষ্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। পরে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেরাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

নীলফামারী : শহরের স্বাধীনতা স্মৃতি অম্লানে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন, বিএনপি তার সহযোগী সংগঠন, জাতীয় পার্টি তার সহযোগী সংগঠন, সিপিবি তার সহযোগী সংগঠন, নীলফামারী সরকারী কলেজ, নীলফামারী পৌরসভা, সচেতন নাগরিক কমিটি, উদীচী শিল্পি গোষ্ঠি, নীলসাগর গ্রুপসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শেষে সেখানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সকালে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন। বিকেলে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল, ক্রিকেট  ও লাঠি খেলা।

বিকালে নীলফামারী জেলা শিশু একাডেমী  শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে  জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা। বিকেলে সেখানে আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ( জেলা প্রশাসক জকীর হোসেনের স্ত্রী) নাহারিন আক্তার।
এসময় কলেজের অধ্যক্ষ নূরে আক্তার নার্গিস রেজোয়ানা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন জেলা মহিলালীগের সভানেত্রী রাবেয়া আলীম, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দৌলত জাহান প্রমুখ। অনুরূপ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পালিত হয়েছে দিবসটি।
মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা:
নীলফামারীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গতকাল রোববার দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.জে.এম এরশাদ আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে সংর্বধনা অনুষ্ঠানে, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  শেখ মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকের হাতে একটি করে ক্রেস্ট তুলেদেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

মাগুরা : মাগুরা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র- ছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধাদের কুজকাওয়াজে জেলা প্রশাসক মুহ: মাহবুবর রহমান কর্তৃক সালাম গ্রহণ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা, সন্ধ্যায় স্থানীয় আছাদুজ্জামান  অডিটরিয়মে আলোচনা সভা, গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমুহে আলোক সজ্জা ইত্যাদি।


নওগাঁ :  জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে  আব্দুল মালেক এমপি ও সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. ফজলে রাব্বি, জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম পিপিএম,  জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা খানম, পৌর মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি, চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকবৃন্দ, জেলা প্রেস ক্লাব, নওগাঁ সরকারি কলেজ, বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজ, জেলা বিএনপি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা কমিটি, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগ, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, এডাব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকালে নওগাঁ স্টেডিয়ামে স্বেচ্ছায় রক্তদান, কুচকাওয়াজ, ছালাম গ্রহণ, ডিসপ্লে¬ প্রদর্শন, বিজয়ী ও বিজিতদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিকেলে নওগাঁ স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মুক্তির মোড় মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও গভীর রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

কুড়িগ্রাম :দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে কুড়িগ্রাম ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত। বিকেলে প্রীতি ফুটবল, হাডুডুসহ বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। অপরদিকে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাতেও অনুষ্ঠিত হয় একই ধরণের অনুষ্ঠান।
এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়।

 গোপালগঞ্জ : টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে পু®পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর আত্মার ফাগফেরাত কামনা করে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরে গোপালগঞ্জের স্থানীয় স্বাধীনতা ও বিজয় স্মৃতি স্তম্ভে পু®পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পুপমাল্য অর্পন করে। এ ছাড়া জেলা উদীচী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে থেকেও পু®পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এছাড়া দিনটি পালন উপলক্ষে রোববার সকাল ৮টায় গোপালগঞ্জ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ৭১’-এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে সংবর্ধনা প্রদান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রোববার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির নেতৃতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এসময় যুগ্ম-সম্পাদক আবদুর রহমান এমপি, সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহম্মাদ আব্দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানসহ জেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নরসিংদী :  শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মোছলেউদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে¬, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামান্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী , চিত্রাংকন ,আবৃত্তি ,বীর মুক্তিযোদ্ধা ,যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, সিভিল সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়া। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান , স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এছাড়া জেলার ৬টি উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুরুপ আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালিত হয়েছে ।

আদমদীঘি (বগুড়া) : এ উপলক্ষে সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন, সকাল সাড়ে ৮টায় আদমদীঘি আইপিজে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার বাহিনী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অংশ গ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কশরত দেখানো হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম ও ওসি শওকত কবির। বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা বনাম প্রশাসনের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কাহালু (বগুড়া) : এ উপলক্ষে সরকারিভাবে এবং উপজেলার রাজনৈতিক, বিভিন্ন সামাজিকও সাংস্কৃতিক  সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।সরকারি কর্মসূচির মধ্য ছিল ২৫ মার্চ কাহালু সদর ইউনিয়নের মহরাবানী গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ওমর আলীর কবর জিয়রত, শুক্রবার মধ্য রাতে কাহালু উপজেলা প্রশাসন চত্বরে তোপধ্বনিসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পু®পমাল্য অর্পণ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। গতকাল  সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, আনসার, ভিডিপিবিএনসিসি কাবস্কাউট, গার্লস্ গাইড স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীর সমন্বয়ে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, সকাল ১১টায়  একই মাঠে মহিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্রীড়া অনুষ্ঠানে কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা খাতুন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)এ.এম জহিরুল হায়াত,কাহালু পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ কাহালু  উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতা অরজু কবিতা,কাহালু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজিবর রহমান  সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।এদিকে  বাদ যোহর দেশ ও জাতির শান্তি অগ্রগতি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদের আতœার শান্তি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত,মন্দিরে প্রার্থনা,দুপুরে কাহালু হাসপাতাল ও বিভিন্ন এতিম খানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।বিকেল ৩টায় কাহালু পৌর মঞ্চে উপজেলার বীর  মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্বধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং সেখানে উপজেলার জীবিত ও প্রয়াত ৮৩ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের  পরিবারদের মাঝে প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়।এছাড়া বিকেল ৪টায় কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কাবাডি, প্রীতি ফুটবল প্রতিয়োগিতা অনুষ্ঠিত হয়।সন্ধ্যায় পৌর মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সরকারি কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কাহালু পৌর এলাকার সরদার পাড়া সূচনা স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী সরদার পাড়া এলাকায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী, ক্লাবের সভাপতি খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি শাহিন সরদার,সম্পাদক এনামুল হক সহ আরোও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাকের পার্টি কাহালু উপজেলা শাখা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মাাননা জানায়।

শেরপুর (বগুড়া) : উপজেলা ও পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ সংগঠন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেরপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় শেরপুর ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠে স্থানীয় এমপি আলহাজ হাবিবর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান, শেরপুর পৌসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার ও ওসি খান মো. এরফান উপস্থিত ছিলেন। এরপর শুরু হয় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি স্কাউট, র্গালস গাইড ও শিশু কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দুপুরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে চলে বিশেষ প্রার্থনা এবং হাসপাতাল-এতিমখানায় উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদ বনাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ধুনট (বগুড়া) : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তোপধ্বনি, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতকা উত্তোলন, গণকবর জিয়ারত, রচনা-চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ভলিবল প্রতিযোগীতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মুহাম্মাদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাবিবর রহমান এমপি। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম তৌহিদুল আলম মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, নুরজাহান আকতার, পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ, জেলা পরিষদের সদস্য নাজনীন নাহার, ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ জালাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, সহসভাপতি গোলাম সোবাহান ও ধুনট প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল আলম প্রমুখ।

শাজাহানপুর (বগুড়া) : যথাযোগ্য মর্যাদায় বগুড়ার শাজাহানপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে আলোক সজ্জা, তোপধ্বনি, পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার ও গণকবরে  পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পৃথক পৃথক আয়োজন করে। এছাড়া উপজেলার ডেমাজানী কমরউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজ, রাণীরহাট স্কুল এন্ড কারিগরি কলেজ, ডোমনপুকুর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা, জোড়া নজমুল উলুম কালিম মাদ্রাসা, সাজাপুর ফুলতলা আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, পারতেখুর দাখিল মাদ্রাসা, জামুন্না পল্লীবন্ধু স্কুল এন্ড কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপি স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালন করে।  

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া):সকাল ৮ টায় স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা ইউএনও শাহেদ পারভেজ এর সভাপতিত্বে ও ব্যাংকার ক্রীড়া সংগঠক আজিজুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র মোঃ বেলাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফজলুল হক সহ প্রমুখ। এ ছাড়াও দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুপচাঁচিয়া পৌরসভা, তালোড়া পৌরসভা, উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অনুরূপ ভাবে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।          

গাবতলী (বগুড়া) : শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পৌরসভা, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাবতলী এনজিও সংগঠনগুলো পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। সকাল ৯টায় গাবতলী পাইলট হাইস্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুচকাওয়াজ, সমাবেশ শেষে ডিসপ্লে ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় গাবতলী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পতœী মোরশেদ জাহান ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরাইয়া জেরিন রনি। দুপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান  মোরশেদ মিলটন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি কামরুন নাহান পুতুল, মুক্তিযোদ্ধা টিএম মুসা পেস্তা, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম পিন্টু, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফল ইসলাম,  মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল মোমিন মুক্তা, আনোয়ারুল ইসলাম রন্টু, এসিল্যান্ড রাম কৃষ্ণ বর্মন, মডেল থানার ওসি আনম আব্দুল্লাহ আল হাসান, উপজেলা কমান্ডার হুমায়ন আলম চাঁন্দু, ডেপুটি কমান্ডার মোতাহার আলী, সাবেক কমান্ডার খাজা নাজিমুদ্দিন কৃষি কর্মকর্তা  আহসান হাবিব সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছালাম ভোলন, আব্দুর রাজ্জাক মিলু, আব্দুল গফুর, মহিলা লীগের সভাপতি রেকসেনা জালাল যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বিটুল ও ছাত্রীগের সভাপতি মিল্টন হোসাইন প্রমুখ। বিকেলে পাইলট স্কুল মাঠে প্রীতি ফুটবল খেলা এবং বেলা ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : ভোরে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা, কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন, জাসদ, উপজেলা প্রেসক্লাব, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম, দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটি, সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন ও বিদায়ী আত্মাররুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম তানসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদ, জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি, মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, অধ্যক্ষ ওসমান গনি সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, আব্দুল মতিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক এফকে ফারুক, কৃষকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান সবুজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর সকাল ৯টায় কলেজ মাঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

বড়াইগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি : আটক ১

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতির পর পালানোর সময় জনতার হাতে আবিদ হাসান নামের এক ডাকাত আটক হয়। আবিদ হাসান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানা ও গ্রামের আব্দুলের পুত্র বলে জানা যায়। উপজেলার আহমেদপুর বাজারে ফজল হোসেনের ফজল ফল ভান্ডারে এ ঘটনা ঘটে। ফজল হোসেন ও তার ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, হ্যান্ডকাফ ও পিস্তল সহ ১১ জন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফল ভান্ডারে প্রবেশ করে। তারপর তারা অস্ত্র প্রদর্শন ও ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকে মারপিট এবং সেখানে থাকা ব্যাপারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৩২ লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ডাকাতরা পালানোর সময় মহাসড়কে তাদের রাখা মাইক্রোবাসে উঠতে ব্যর্থ হলে আবিদ হাসান নামের এক ডাকাতকে ধাওয়া দিয়ে জনতা তাকে ধরে ফেলে। পরে জনতা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহা. শাহরিয়ার খান ও ফল ভান্ডারের মালিক ফজল হোসেন জানান, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

নওগাঁয় ঝড়ে নারীসহ ২ জন নিহত

নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় ঝড়ে দেয়াল ও গাছ চাপা পড়ে এক নারীসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে আমের গুটি, পানের বরজ, ভুট্টা ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

শনিবারের এ ঝড়-বৃষ্টিতে সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন পোরশার কুশুমকুন্ডা গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী নাদিরা খাতুন (৩২) ও সাপাহার উপজেলালা সদরের মসজিদপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে মহসিন আলী মিস্ত্রি (৪৮)।

পোরশার ছাওর ইউপি চেয়ারম্যান ফফরুদ্দিন আলী আহমেদ জানান, সকালে গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন নাদিরা খাতুন। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে গাছ চাপা পড়ে মারা যান তিনি।

সাপাহারের আইহাই ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান, ঝড়বৃষ্টি চলাকালে দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান মহসিন আলী মিস্ত্রি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সাপাহার ও পোরশা উপজেলায়। এই দুই উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ক্ষতি হয়েছে চলতি মৌসুমের গুটি আম, ভুট্টা, পানের বরজসহ অন্যান্য ফসল।

তবে কী পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তার তালিকা প্রণয়নের জন্য জেলার ১১ উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান বলেন, “সংশ্লিষ্টদেরকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে বলেছি। তালিকা পেলে ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

গতকালশিবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে গ্রামবাসীর ওপর বিএসএফের হামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : জলাশয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নাগরিকদের বিরোধের জের ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর সীমান্তে গতকাল শনিবার দুপুরে তান্ডব চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাংলাদেশ ভূখন্ডের প্রায় ১শ’ গজ ভেতরে ঢুকে বিএসএফের চালানো সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সীমান্তে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে জমিনপুর সীমান্ত সংলগ্ন একটি জলাশয়ে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশী নাগরিকদের বাধা দেয় বিএসএফ। এর জের ধরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএসএফকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে বাংলাদেশীরা। এতে ৪/৫ জন আহত হয়। এই ঘটনার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভারতের চুরি অনন্তপুর বিএসএফ ফাঁড়ির ৩০/৩৫ জন বিএসএফ সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় ১৭৯নং সীমান্ত পিলারের ৪ ও ৫নং সাব পিলারের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের ১শ’ গজ অভ্যন্তরে জমিনপুর পশ্চিম পাড়ায় ঢুকে পড়ে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশীদের ঘর-বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ বেশ কয়েকটি সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ওই গ্রামের আবু সায়েদ, মাসুম, মোতালেব, নজরুল, সালমা, সোবহান, শামীম, কুলসুম, ডলিয়ারা, দুরুল ও রুবেলসহ ১২ বাংলাদেশী নাগরিক আহত হন। আহতদের মধ্যে মাসুমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে বিজিবির কিরনগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে  পৌঁছলে বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় অংশে চলে যায়।

ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে কিরনগঞ্জ সীমান্তের ১৭৯নং সীমান্ত পিলারের ৫নং সাব পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে ৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এসএম আবুল এহসান ও বিএসএফের পক্ষে ২৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমাডেন্ট একে হটকার নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুল এহসান জানান, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশী ভূখন্ডে বিএসএফ সদস্যদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় বিজিবি। সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে উভয় পক্ষ সম্মতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেরপুরে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ : ব্যবসায়ী গ্রেফতার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে মোহাম্মদ আলী (৩৫) নামের এক চাতাল ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার মহিপুর পিসি ভাটা এলাকায় আটক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া ব্যবসায়ী উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের একই এলাকার মনু পাইকারের  ছেলে। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন জানান, উপজেলার মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার আরিফ হোসেনের স্ত্রী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর মালিকানাধীন চাতালে শ্রমিকের কাজ করে। এই সুবাধে চাতাল মালিক বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। একপর্যায়ে  মোহাম্মদ আলী অবৈধভাবে মেলামেলার দৃশ্য  মোবাইলে ভিডিও আকারে ধারণ করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়লে ওই নারী তাকে বিয়ে করতে চাপ দেয়। কিন্তু এতে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী তালবাহানা শুরু করে। পাশাপাশি ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে গত শুক্রবার (২৪ মার্চ) রাতে বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগী নারী  মোহাম্মদ আলীকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এসআই জাহাঙ্গীর আলম।

আত্রাইয়ে হাওয়া সাগরের ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কসপ

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাইয়ে ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কসপের সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন হাওয়া সাগর নামে খ্যাত দ্বীপেন্দ্রনাথ। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে সাইকেল, ভ্যান, পাওয়ার টিলার ও টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মেরামত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সারাদিন কাঠফাটা রোদ ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

নওগাঁ জেলার তিলকপুর গ্রামে তার জন্মস্থান হলেও তিনি এখন উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৮০’র দশক থেকে তিনি এখানে অবস্থান করেন। হাওয়া সাগর বলেন, প্রথমদিকে এলাকায় রেডিও মেরামতের কাজ  করতাম। তার পাশাপাশি ভাড়া খাটাতাম প্রায় অর্ধশত সাইকেল। আর বর্তমানে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউবওয়েল, পাওয়ার টিলার, সাইকেল, মোটরসাইকেল, গ্যাসের চুলাসহ বিভিন্ন যানবাহনের  মেরামতের কাজ করছি।  জীবিকা অর্জন আর অল্প পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসা করা যায় বলেই আজ আমি এ ব্যবসা শুরু করেছি। সেই ছোট বেলা স্কুল জীবন থেকেই অভাবের সংসারে এভাবেই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকাল হলেই পাম্পার ঘাড়ে নিয়ে গ্রামের মেঠো পথ ধরে চলে যাই বিভিন্ন গ্রামে।  গ্রাম গ্রাম ঘুরে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনমতে অভাবের সংসার চলে। তিনি বলেন, সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যবসায় আরও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

 

কাজীপুরের চরাঞ্চলে কালিবোরো ধানের ভাল ফলন

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের চরাঞ্চলে এমৌসুমে কালি বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। প্রকৃতির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল যমুনার তীর ও খাড়িতে চাষ করা এই ধান অবশেষে  কৃষকের ঘরে উঠবে কিনা তা যমুনার পানি বাড়া কমার উপর নিভরশীল।  স্বল্প খরচ, বিনে চাষে উৎপাদিত, উৎকৃষ্ট মানের সুস্বাদু চাল ও অসময়ের ফসল হওয়ায় এলাকাসহ দেশব্যাপী এই চালের ব্যাপক কদর রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কালি বোরো নামে পরিচিত হলেও পরিপক্ক অবস্থায় কালো এবং  বাদামী  দু’ধরনের  জাতের ধানের শীষ শোভা পায়। নদীর পানি কমে গেলে পৌষ মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নদীর কোল, খাড়ি, অথবা জেগে ওঠা পলি অধ্যুষিত চরে এই ধান রোপণ করতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কল্যাণ প্রসাদ পাল জানান, চলতি বছর নদীর পানি ব্যাপক কমে যাওয়ায় নদীর চর ও খাড়ির সংখ্য বেড়ে যাওয়ায় প্রায় চার শত হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের এই বোরোর আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, কালিবোরো ধানের একাধিক বৈশিষ্টের মধ্যে বিনে চাষ ও বিনে সারে রোপণ ও অত্যন্ত  দুঃসময়ে পাকা ধান কৃষকের ঘরে ওঠায় এই ধান চাষে চরাঞ্চলবাসীদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এছাড়া সামান্য কিছু ইউরিয়া সার ছাড়া কোন প্রকার কিটনাশক, নিড়ানী বা অন্য কোন প্রকার পরিচর্যা করতে হয় না বলে এই ধানের উৎপাদন খরচ খুবই কম।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ধানের  চাউল খুব সরু। ভাত খুব সুস্বাদু এবং ধান উৎপাদনে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার হয় না বলে স্থানীয়ভাবে এই চালের কদর খুব বেশি হয়ে থাকে। ফলে  অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে বাজারে এই ধানের বিক্রয়মূল্য বেশি থাকে। এতসব গুণাগুণ বিশিষ্ট ধান হওয়া সত্তেও নদীর  ভাঙন ও আগাম বন্যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থোড় ধান তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের সর্বস্বান্ত করে ছাড়ে। কাজীপুরের নাটুয়ার পাড়ার ইউনিয়নের কৃষক আসগর আলী  জানান, বিগত প্রায় ৬ বছর যাবৎ নদীর পানি বিলম্বে আসায় আমরা শতভাগ ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং ভালো ফসল  জন্মালে  বিঘা প্রতি অর্থাৎ ০.৩৩ শতাংশে ১৮/২০ মণ ধান হয়ে থাকে।  

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আলী হোসেন তালুকদার জানান,    কালিবোরো ধান সরকারিভাবে অনুমোদিত কোন ধান না হলেও নানাবিধ  বৈশিষ্ট সম্পন্ন হওয়ায় ক্রমান্বয়ে এই ধান চাষে চরের চাষিরা আগ্রহী হয়ে পড়ছে। চলতি মৌসুমে কাজীপুরে চার শত হেক্টর জমিতে কালিবোরো চাষ হয়েছে

রায়গঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারদের জমজমাট ব্যবসা

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারগুলোতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ ব্যবসায়ী ও হাতুড়ে ডাক্তারদের ব্যবসা এখন জমজমাট ভাবে চলছে। ভুল চিকিৎসার জন্য নানাভাবে ভুগছে গ্রামের সাধারণ মানুষ। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ হাতুড়ে ডাক্তারদের চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের হাট বাজারগুলোতে রিক্সা, ভ্যান, মাইক্রোবাস যোগে মাইকে প্রচার করে হাতুড়ে ডাক্তাররা তাদের ব্যবসা রমরমা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেটের ব্যথা, সর্দি জর, গ্যাসটিক, আলসার, ক্যান্সার, মেহ, প্রমোহসহ বিভিন্ন প্রকারের যৌন রোগ থেকে শুরু করে সব ধরনের নতুন পুরাতন চিকিৎসার পাশাপাশি এসব ডাক্তাররা অপারেশনের ঝুকিও নিয়ে থাকেন। রাস্তার পাশে হাট বাজারে প্রবেশের মুখে স্কুল কলেজের দেওয়ালে দেওয়ালে চমৎকার চমৎকার পোষ্টার সেটে এরা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন। লিফলেট পোস্টার কাগজের বিজ্ঞাপন দিয়েও অনেকে ডাক্তারী করে থাকেন।

উপজেলার চান্দাইকোনা, নিমগাছি, ঘুড়কা, ধানগড়া, ব্রক্ষ্মগাছা, পাঙ্গাসী, নলকা, সাহেবগঞ্জসহ সলঙ্গার বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে হাতুড়ে ডাক্তাররা তাদের ঔষধ বিক্রি করছে দেদারচ্ছে। এসব ডাক্তারদের কোন বৈধ সার্টিফিকেট বা কোন ড্রাগ লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। তবুও তারা ঢাক ঢোল পিটিয়ে ঔষধ বিক্রি করে যাচ্ছেন। ডাক্তারদের নামের শেষে চিকিৎসা শাস্ত্রের বড় বড় ডিগ্রিজুড়ে দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে ডাক্তারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুয়া সার্টিফিকেট সংগ্রহের অভিযোগ করেছে। আবার কেউ কেউ অল্প সময়ে কোন ডাক্তারের কম্পাউন্ডার বা ঔষধের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে থাকেন। তারা পরবর্তীতে ডেনটিষ্ট সার্জন কিংবা বিশেষজ্ঞের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

হাতুড়ে এসব ডাক্তার রোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য স্বল্প সময়ে বেশি মাত্রার ঔষধ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে এন্টিবায়োটিকের প্রয়োগ চলছে ব্যাপক হারে। এতে করে কিছু রোগী রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করলেও পরবর্তীতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাময়িকভাবে আরোগ্য লাভকারী এসব রোগী পুনরায় আক্রান্ত হলে তার শরীরে আর এ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হয় না। এছাড়াও কিছু কিছু এলাকার হাট বাজার গুলোতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির হার বেড়ে গেছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ডাক্তারদের বিষয়ে কোন তদারকি না থাকায় তারা চুটিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকা বাসীর অভিযোগ এসব ডাক্তারদের নিকট খুব কম রোগী এবং কম ওষুধ  বিক্রি হওয়ায় তাদের দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ জমা থাকে। এসব ঔষধ খেয়ে এলাকার গরিব, অসহায় মানুষ নানা রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ায় অনেকে অকালে মৃত্যু বরণও করে থাকে।

শিবগঞ্জে পরিত্যক্ত ককটেল উদ্ধার

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি অবিস্ফোরিত ও একটি বিস্ফোরিত ককটেলের উপকরণ উদ্ধার করা হয়। শিবগঞ্জ থানার ওসি রমজান আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে পাইলিং মোড়-সেলিমাবাদ কাজির বাগানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি অবিস্ফোরিত ও একটি বিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 

কিস্তি না দেওয়ায় শাজাহানপুরে দিনমজুরের বসতঘরে তালা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় বগুড়ার শাজাহানপুরে মানবিক নামধারী একটি এনজিও দিনমজুরের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে অমানবিক কাজ করেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার স্থানীয় কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠলে তড়িঘড়ি করে তালা খুলে দেয়া হয়। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ঘরে ফিরেছে ওই পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাজাপুর কাগজীপাড়ার দিনমজুর বাবলু মিয়ার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম গত বছরের আগস্ট মাসে ওই এনজিও থেকে মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি অভাব অনটনের কারণে ২-৩টি কিস্তির আংশিক পরিশোধে ব্যর্থ হন। এমতাবস্থায় গত সোমবার সন্ধ্যায় বাবলু মিয়ার বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে চরম বিপাকে পড়ে দিনমজুর বাবলু মিয়ার পরিবার। ওই রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। নুরনবী ও মীম নামের দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তারা বৃষ্টির পানিতে ভিজে বাড়ির উঠানে রাত কাটায়। রান্না করা খাবার ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় না খেয়েই রাত কেটেছে তাদের। পরদিন মঙ্গলবার তাদের ক্ষুধা মিটেছে প্রতিবেশীদের দেয়া খাবারে। সন্ধ্যায় এ সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শাজাহানপুর উপজেলা শাখার কর্মীরা ‘মানবিক সাহায্য সংস্থার’ শাজাহানপুর শাখা কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেন। এ সময়  সংস্থাটির শাখা ম্যানেজার রেজাউল করিম কৌশলে দিনমজুর বাবলু মিয়ার বসতঘরের তালা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ফলে একরাত একদিন বাইরে কাটানোর পর ঘরে ফিরেছেন বাবলু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

নুরুন্নাহার বেগম জানিয়েছেন, তিনি নিজে পরের বাড়িতে ঝি’র কাজ করেন। স্বামী বাবলু মিয়া দিনমজুর। দু’জনের সামান্য আয় দিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকা এবং ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে অতি কষ্টে। তাই মাঝে মধ্যে কিস্তি দিতে সমস্যা হয়।

বসতঘরের দরজায় তালা লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করে শাখা ম্যানেজার রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নুরুন্নাহার বেগম সহজে কিস্তি দিতেন না। অনেক কষ্টে তার কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করা হতো। তারপরও ২-৩টি কিস্তির আংশিক টাকা পরিশোধ করেননি। তাই কিস্তি আদায়ে চাপ সৃষ্টির জন্যই বসতঘরের দরজায় তালা দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কর্মীদের বেতন থেকে অনাদায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এনজিও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাজাহানপুরের আড়িয়া বাজারে পলিথিনের ছাউনীর নিচে বেচাকেনা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : হাটসেড না থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুরের আড়িয়া বাজারের ইজারাদার। পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অর্ধশত ব্যবসায়ী। তাদের পরিবারে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্দশা। সচেতন মহলের দাবি জরুরি ভিত্তিতে হাট সেড নির্মাণ করলেই আড়িয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার ও ব্যবসায়ীগণ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাবেন।

ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সরকারি হাট-বাজারের তালিকাভুক্ত আড়িয়া বাজার। এটি প্রতি বছর সরকারিভাবে ইজারা হয়। ১৪২৩ সালে বাজারটি ৭ লাখ টাকায় ইজারা নেয়া হয়েছে। আগামী ১৪২৪ সালের জন্য বাজারটি ৯ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। বাজারের নিজস্ব জায়গা অবৈধ দখলে থাকায় আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এবং আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারি বালক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাজার বসতো। ইজারাদারের লোকজন টোল আদায় করতেন। কিন্তু গত ১৩ ফেব্রয়ারি স্কুলের মাঠ থেকে বাজারটি উচ্ছেদ করা হয়। আবার ৯ মার্চ বাজারের নিজস্ব জায়গায় থাকা অবৈধ স্থাপনা হিসেবে প্রায় অর্ধশত দোকান-পাট উচ্ছেদ করা হয়। এতে উচ্ছেদের শিকার ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বাজারে ব্যবসায়ী না থাকায় ইজারাদার টোল আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইজারাদারের প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, উচ্ছেদের আগে দৈনিক ৪-৫ হাজার টাকা টোল আদায় হতো। কিন্তু উচ্ছেদের পর মাত্র ৮-৯ শ’ টাকা টোল আদায় হচ্ছে। এতে বিগত দেড় মাসে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাজারের নিজস্ব জায়গায় সেড নির্মাণ করে দ্রব্য-সামগ্রী বেচা-কেনার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। অপরদিকে ত্রিপল টানিয়ে মুদি দোকান চালানো পুটু মিয়া জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ২০ বছর যাবত আড়িয়া বাজারে ব্যবসা করছেন। উচ্ছেদের আগে দৈনিক ৩০-৩৫ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি করতেন। এতে যা আয় হতো তা দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ চলতো। ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে নেয়া ঋণের কিস্তিও চলতো। উচ্ছেদের পর থেকে দিনে ৭-৮ হাজার টাকার মালামাল বিক্রি হচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্টে আছেন। একই ধরণের সমস্যার কথা জানিয়েছেন, চা দোকানী ওবায়দুল এবং জিয়াউর রহমান।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস.এম জাকির হোসেন জানিয়েছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আড়িয়া বাজারের নিজস্ব জায়গা মুক্ত করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা সাময়িক অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। হাট-বাজার উন্নয়ন তহবিলের অর্থ দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবসায়ীদের জন্য আপাতত বসার ব্যবস্থা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া স্থায়ীভাবে সেড নির্মাণে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, হাট সেড নির্মাণের জন্য ইজারাদারের প্রতিনিধি আবেদন করেছেন। যত কম সময়ে সম্ভব হাটসেড নির্মাণ সহ ড্রেনেজ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে।

কিস্তি না দেওয়ায় শাজাহানপুরে দিনমজুরের বসতঘরে তালা

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় বগুড়ার শাজাহানপুরে মানবিক নামধারী একটি এনজিও দিনমজুরের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে অমানবিক কাজ করেছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার স্থানীয় কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠলে তড়িঘড়ি করে তালা খুলে দেয়া হয়। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ঘরে ফিরেছে ওই পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাজাপুর কাগজীপাড়ার দিনমজুর বাবলু মিয়ার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম গত বছরের আগস্ট মাসে ওই এনজিও থেকে মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি অভাব অনটনের কারণে ২-৩টি কিস্তির আংশিক পরিশোধে ব্যর্থ হন। এমতাবস্থায় গত সোমবার সন্ধ্যায় বাবলু মিয়ার বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে চরম বিপাকে পড়ে দিনমজুর বাবলু মিয়ার পরিবার। ওই রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। নুরনবী ও মীম নামের দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তারা বৃষ্টির পানিতে ভিজে বাড়ির উঠানে রাত কাটায়। রান্না করা খাবার ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় না খেয়েই রাত কেটেছে তাদের। পরদিন মঙ্গলবার তাদের ক্ষুধা মিটেছে প্রতিবেশীদের দেয়া খাবারে। সন্ধ্যায় এ সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শাজাহানপুর উপজেলা শাখার কর্মীরা ‘মানবিক সাহায্য সংস্থার’ শাজাহানপুর শাখা কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেন। এ সময়  সংস্থাটির শাখা ম্যানেজার রেজাউল করিম কৌশলে দিনমজুর বাবলু মিয়ার বসতঘরের তালা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ফলে একরাত একদিন বাইরে কাটানোর পর ঘরে ফিরেছেন বাবলু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

নুরুন্নাহার বেগম জানিয়েছেন, তিনি নিজে পরের বাড়িতে ঝি’র কাজ করেন। স্বামী বাবলু মিয়া দিনমজুর। দু’জনের সামান্য আয় দিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকা এবং ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে অতি কষ্টে। তাই মাঝে মধ্যে কিস্তি দিতে সমস্যা হয়।
বসতঘরের দরজায় তালা লাগানোর বিষয়টি স্বীকার করে শাখা ম্যানেজার রেজাউল করিম জানিয়েছেন, নুরুন্নাহার বেগম সহজে কিস্তি দিতেন না। অনেক কষ্টে তার কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করা হতো। তারপরও ২-৩টি কিস্তির আংশিক টাকা পরিশোধ করেননি। তাই কিস্তি আদায়ে চাপ সৃষ্টির জন্যই বসতঘরের দরজায় তালা দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কর্মীদের বেতন থেকে অনাদায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এনজিও’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

বরেন্দ্র অঞ্চলে অবিশ্বাস্য হারে কমছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ব্যাপক হারে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে অবিশ্বাস্য হারে কমছে পানির স্তর। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণে ১০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে অকেজো হয়ে পড়েছে বেশির ভাগ হস্তচালিত নলকূপ। গভীর নলকূপগুলোতেও ঠিকমত পানি উঠছে না। ফলে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। ইতিমধ্যেই গবেষণা সংস্থা ‘ডাসকো ফাউন্ডেশন’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নকে পানি সংকটপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অবিশ্বাস্য হারে পানির স্তর নিচে নামতে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে গবেষণা সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশন। সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে পানির স্তর পরিমাপের জন্য কূপ বসিয়েছিল। কূপ বসানোর সময় সেখানে পানির স্তর ছিল ১০১ ফুট নিচে। মাত্র দুই বছর পর এ বছর প্রায় ১০৯ ফুট নিচে পানির স্তর পাওয়া গেছে। দুই বছরে ৮ ফুট নিচে চলে গেছে পানির স্তর। শুধু ঝিলিম ইউনিয়নই নয়, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলাসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে এভাবেই কমছে পানির স্তর।

ডাসকোর কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক যুগ আগেও এসব অঞ্চলে ৬০ থেকে ৭০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত। বর্তমানে কোথাও কোথাও ১৫০ ফুট বা তারও নিচেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে সেচের জন্য বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএর গভীর নলকূপের মাধ্যমে নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেই বরেন্দ্র এলাকায় পানির এমন ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও ঝিলিম ইউনিয়ন এলাকায় ৩২টির অটো রাইস মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রায় দেড়শ গভীর নলকূপ দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ মিঠাপানি ব্যবহার করা হচ্ছে। মিলগুলো তাদের প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করতে ভূগর্ভের অনেক গভীর থেকে পানি উত্তোলন করায় সংকট আরো বাড়ছে বলে জানিয়েছে ডাসকো ফাউন্ডেশন।
ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি জানান, পানি সংকটের কারণে তার ইউনিয়নের এক হাজারের বেশি হস্তচালিত নলকূপ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। এর ফলে আমনুরা বাজার, ঝিলিম বাজার, মিয়াপাড়া, কেন্দুল, গসিরাপাড়া, ধিনগর, আতাহার, বাবুডাইং, জামতলাসহ এর আশপাশের গ্রামগুলো খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেককেই দূর দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি জমিতে সেচ ও খাওয়ার পানির সংকট আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভূগর্ভ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার জন্য জেলার দুই প্রধান নদী পদ্মা ও মহানন্দার পানি শূন্যতাকেও দায়ী করেছেন পরিবেশবিদরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারী সংগঠন সেভ দ্য ন্যাচারের সমন্বয়ক রবিউল হাসান ডলার জানান, প্রতিটি নদ-নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ভূগর্ভে পানির রিচার্জ হচ্ছে না। ফলে শুধু বরেন্দ্র অঞ্চলেই নয়, পুরো জেলাতেই পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাহার উদ্দিন মৃধা জানান, সদর উপজেলার ঝিলিম, বালিয়াডাঙ্গা ও গোবরাতলা, নাচোল উপজেলার নাচোল, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর এবং গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর, রহনপুর ও চৌডালা ইউনিয়নে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। এসব ইউনিয়নে পানির স্তর ১৩০ ফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত নলকূপগুলো দিয়ে পানি উঠছে না।

বিষয়টি নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, ভূগর্ভের পানি উত্তোলন বন্ধ করে কিভাবে উপরিভাগের পানিকে সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে এখন কাজ করছেন তারা। এছাড়া কম সেচ লাগে, এমন ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।  

রেকর্ড জটিলতায় ৪৩ বছর!

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুরে রেকর্ড জটিলতার কারণে ১৩ শতক জায়গার মালিকানা ফিরে পেতে ৪৩ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন একটি পরিবার। এদিকে আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চালাতে গিয়েও পরিবারটি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও আদালতে দায়ের করা নথিসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নাজিরপুর হাটে নাজিরপুর মৌজার নন্দকুঁজা নদী সংলগ্ন ১৯২নং আর এস খতিয়ানের ১১৩নং দাগের ২৫ শতক জায়গা ক্রয়সূত্রে ভোগ দখল করছিলেন। ১৯৭৪ সালের রেকর্ডের সময় তৎকালীর সার্ভেয়ার ভুলক্রমে ওই ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে  সরকার কেটে নেয় ১৩ শতক। কিন্তু সরকার একোয়ার করেও নেয়নি।

ওই ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৮ জুলাই জায়গাটির মালিক আব্দুল হামিদ নাটোর আমলি আদালত-৩ (গুরুদাসপুর) রেকর্ড সংশোধনী মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর আব্দুল হামিদ মারা গেলে তার তিন ছেলে সামসুল হক মোল্লা, নাজিমউদ্দীন মোল্লা ও নজরুল ইসলাম মোল্লা ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়। বর্তমানে নাজিম উদ্দিন মোল্লা মামলাটির বাদী।
মামলাটির বর্তমান বাদী নাজিম উদ্দিন মোল্লা অভিযোগ করেন, জায়গাটি তাদের পৈতৃক সূত্রের। স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে। তৎকালীন সার্ভেয়ারের ভুলের খেসারত হিসাবেব আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করা হয়েছে। বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে ঘুরতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি। একই সাথে বাড়ছে আর্থিক খরচ। এদিকে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় কোন স্থাপনাও নির্মাণ করতে পারছেন না তিনি।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী আবুল কামাল আজাদ বলেন, তৎকালীন সার্ভেয়ারে জরিপ রিপোর্ট নিয়ে আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জরিপটি সঠিক না ভুল তা বলা যাচ্ছে না।

দেশ সবদিক দিয়ে এগিয়ে চলছে: ডিসি আশরাফ উদ্দিন

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেছেন বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন মানুষও ঘরছাড়া থাকবে না।  দেশ সবদিক দিয়ে এগিয়ে চলছে। সমাজের দুস্থ, অসহায় মানুষকে সাবলম্বী করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের এই কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভার আয়োজনে মঙ্গলবার বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ মহিলা, অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণকারী সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তালোড়া পৌরসভা চত্বরে মেয়র আব্দুল জলিল খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, বগুড়া উপ-পরিচালক এস,এ,এম রফিকুন্নবী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেসমিন প্রধান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ্জাহান আলী আকন্দ, ডাক্তার শফিউল আলম মিন্টু, বগুড়া  জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি এটিএম আমিনুল হক, তালোড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কামান্ডার মোকলেছার রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেহেরুল ইসলাম, তালোড়া পৌর প্যানেল মেয়র মোশারফ হোসেন মুন্সী সেলিমসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ধুনটে আত্মহননকারী ব্যবসায়ীর লাশ পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনটে ঋণের দায়ে আত্মহননকারী ব্যবসায়ীর লাশ ২০ ঘন্টা পর পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন সম্পন্ন করেছেন স্বজনরা।  মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের নাংলু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাংলু গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে নায়েব আলী লাবু (৫৫) একজন মুদিখানার ব্যবসায়ী। নিঃসন্তান দম্পতির অভাব অনটনের সংসার। পৈতৃক সূত্রে ১৫ শতক জমির মালিক। শেষ সম্বল ১৫ শতক জমি কৌশলে ৬ জনের নিকট বন্ধক রেখে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ৪ মাস আগে মুদি খানার দোকান বন্ধ করে দেন। এদিকে, ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য পাওনাদাররা নায়েব আলীর ওপর বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বিষপানে অসুস্থ হয়ে পড়েন নায়ের আলী। তখন বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পাওনাদাররা সোমবার রাতে নায়েব আলীর বাড়িতে হাজির হয়ে ঋণের টাকার দাবিতে লাশ দাফনে বাধা দেন। সংবাদ পেয়ে  মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নায়েব আলীর লাশ দাফনে সহযোগিতা করেন। এদিকে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাবে আলীর বাড়ি থেকে পাওনাদাররা কৌশলে সটকে পড়েন।

নায়েব আলীর ছোট ভাই এমদাদুল হক বলেন, আমার ভাই ভবঘুরে স্বভাবের এবং সংসারের প্রতি খুবই উদাসীন ছিলেন। তাই ঋণদেনা করে তাকে সংসার চালাতে হয়েছে। দিনে দিনে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এদিকে, ঋণের টাকা চেয়ে পাওনাদাররা আমার ভাইয়ের লাশ দাফন করতে বাধা দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। অবশেষ পুলিশের সহযোগিতায় ভাইয়ের লাশ দাফন করা হয়েছে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফারুকুল ইসলাম বলেন, ঋণের দায় এড়াতেই নায়েব আলী আত্মহত্যা করেছে। ঋণের টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে তার পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় লাশ দাফনে বিলম্ব হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর মৃতদেহের দাফন সম্পন্ন করেছেন স্বজনরা।

দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই: আব্দুল মান্নান এমপি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি :  সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেছেন, দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারো ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের উন্নয়ন ধারা ত্বরান্বিত হচ্ছে। একজন সন্তানের লেখাপড়ায় বাবা-মা’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মা’দের উপবৃত্তি প্রদান করবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

মঙ্গলবার সারিয়াকান্দির কুপতলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক দুলু, সহ-সভাপতি রেজাউল মন্টু। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মমতাজুর রহমান, নারচী ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন, আহসান উল্লাহ বাদশা, প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ, খোরশেদ আলম, ইউনুছ আলী, আব্দুল হান্নান, আব্দুর রহমান, মোঃ মজনু, ছাত্রী দিলরুবা আকতার প্রমুখ।
এছাড়াও বিকালে আব্দুল মান্নান এমপি সারিয়াকান্দি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে রৌহাদহ গ্রামে ভুট্টা কৃৃষক মাঠ দিবসে এবং সারিয়াকান্দি পাবলিক মাঠে আব্দুল মান্নান এমপি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

দুপচাঁচিয়ার বজরাপুকুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের বজরাপুকুর বাজারে সোমবার ভোরে  আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭টি দোকানের মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের বজরাপুকুর বাজারে গতকাল ভোরে আকস্মিকভাবে মাহবুবুর রহমানের মালিকানাধীন মার্কেটে অগ্নিকান্ড ঘটে। স্বল্প সময়ে ওই মার্কেটের আমিনুর রহমানের মালিকানাধীন সার ও কীটনাশকের দোকান, আবু তৈয়বের জহুরুল ভ্যারাইটি স্টোর, জামাল হোসেনের জামাল ভ্যারাইটি স্টোর, রাশেদ তালুকদারের রাশেদ ইলেকট্রনিক্স, ফজের আলীর হোন্ডা ওয়ার্কসপ, শহিদুল ইসলাম এর শহিদুল টেইলার্স, মার্কেট মালিকের গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে। আগুন নিভানোর চেষ্টা চালায়। এক পর্যায় ভোর ৪টায় জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একদল বাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। ততক্ষণে উক্ত ৭টি দোকানের সকল মালামালসহ দোকান আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন অগ্নিকান্ডে তাদের মোট পরিমাণ ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ ঘটনাস্থলে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাজার এলাকার দোকানগুলো পরিদর্শনসহ ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় চেযারম্যান আব্দুল হাকিম তালুকদারসহ স্থানীয় মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিপাতের সূত্র হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেয়র মিরুর শটগানের গুলিতেই মারা গেছেন সাংবাদিক শিমুল

সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর প্রতিনিধি : সিআইডি’র ব্যালাস্টিক পরীক্ষায় সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের মাথায় বিদ্ধ গুলির সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের গুলির মিল পেয়েছে সিআইডি। গত রোববার রাতে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার (জিআর-৪১১৭) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আবুল কাশেম মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানান, সাংবাদিক শিমুলের মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দল তার মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি (০.০৫ গ্রাম ওজনের সিসার বল) উদ্ধার করেন। গুলিটি মেয়র মিরুর শটগানের কী না তা নিশ্চিত হতে শাহজাদপুর থানা পুলিশ গত ৮ ফেব্র“য়ারি ঢাকার সিআইডিতে ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠান। ঢাকাস্থ সিআইডি’র ব্যালাস্টিক পরীক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট শাহজাদপুর আমলি আদালতে জমা দিয়েছেন।

ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়র মিরুর শটগানের গুলির সঙ্গে সাংবাদিক শিমুলের ময়নাতদন্তে পাওয়া গুলির স্লিন্টারটির (সিসার বল) মিল পাওয়া গেছে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে ব্যালাস্টিক রিপোর্টটি এখনও পায়নি। তাই পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে এ ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।’

গত ৮ ফেব্র“য়ারি এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম শাহজাদপুর আমলি আদালতের মাধ্যমে পৌর মেয়র মিরুর কাছ থেকে জব্দ করা তার লাইসেন্সকৃত বারো বোরের একটি শটগান, ওই শটগানের ৪টি গুলি, ময়নাতদন্তে নিহত সাংবাদিক শিমুলের মাথার ভেতর থেকে পাওয়া একটি স্লিন্টার (সিসার বল) ও একটি গুলির খোসা ঢাকার সিআইডিতে ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠান।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্র“য়ারি সকালে ছাত্রলীগ ও মেয়র গ্র“পের সংঘর্ষের সময় দায়িত্বপালনকালে মেয়র হালিমুল হক মীরুর ব্যক্তিগত শটগানের গুলিতে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বগুড়া ও পরে ঢাকা নেয়ার পথে শিমুল মারা যায়।

সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ীর মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ অফিস : সিরাজগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের এ্যাসোসিয়েট গ্র“পের পরিচালক ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম মমতাজ (৭০) চারদিন পর মারা গেছেন।

সোমবার ভোরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৬ মার্চ সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে জমি সংক্রান্তে বিরোধ  নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম মমতাজ শ্যামপুর গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের এ্যাসোসিয়েট গ্র“পের পরিচালক। সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হরেন্দ্রনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১৬ মার্চ সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন আব্দুস সালাম মমতাজসহ ওই পরিবারের আরও ৩ সদস্য। গুরুতর আহত মমতাজকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৪ দিন চিকৎসাধীন থাকার পর ভোরে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বগুড়া থেকে আনা হচ্ছে।

সরকার ৮ বছরে বিনামূল্য আড়াইশ’ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে: আব্দুল মান্নান এমপি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেছেন, বর্তমান সরকার নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক এবং মেয়েদের পাশাপাশি মা’দের উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও সরকার মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার গত ৮ বছরে দেশে আড়াইশ’ কোটি পাঠ্যপুস্তক শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে। যা উন্নত দেশের পক্ষেও সম্ভব নয়। ফলে দেশ আজ শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের শিক্ষার হার বাড়ছে। পাশাপাশি নিরক্ষরতা সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। তিনি  বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথা বলেন। আব্দুল মান্নান আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারিয়াকান্দিবাসীকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সময় তিনি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি খোর্দ্দবলাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ মতিউর রহমান মতি,  হাটশেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, খোর্দ্দবলাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাফি, রেজাঊল করিম বাবলু, ফজলার রহমান আকন্দ, সেলিম রেজা, শামছুল হক সরকার, সানোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।



Go Top