৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি ব্রিজ

৪৯ বছরেও নির্মিত হয়নি ব্রিজ

এসএম সাইফুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের সীমান্তবর্তী এলাকার বোদলা, পালশা, তেবাড়িয়া ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া, দমদমা, কাজিপুর, ছাতনী, তারাপুর সান্তাহারসহ দুই উপজেলার প্রায় ১০টি গ্রামের রক্তদহ বিল পার হয়ে চলাচলের জন্য কাঠের নৌকাই একমাত্র ভরসা। শুস্ক মৌসুমে বিলের মধ্যে হাঁটু পানি থাকলেও ভোগান্তি পিছু ছাড়েনা দুই উপজেলার প্রান্তিক জনপদের বসবাসরত জনসাধারণের।
এখানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য জনসাধারণে ৪৯ বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, সর্বসাধাণের চলাফেরা ও কৃষি পণ্যসামগ্রী আনা নেয়ায় কাঠের নৌকাই ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে শুস্ক মৌসুমে হাঁটু পানি থাকায় না চলে নৌকা না চলে পা। দু’পারের প্রায় ১০ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক ভাগ্য বঞ্চিত মানুষগুলো রক্তদহ বিলে একটি ব্রিজের দাবিতে নিরাশ হয়ে পড়েছে। তবে নওগাাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি এখানে একটি ব্রিজ নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে পূর্ব-উত্তর রাণীনগর-আবাদপুকুর প্রধান সড়ক থেকে  বেলঘড়িয়া গ্রামের ভিতর দিয়ে বোদলা হয়ে রক্তদহ বিলের মধ্য দিয়ে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিরা-সান্তাহার মহল্লার সাথে যুক্ত হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে বোদলা, পালশা, বিলকৃষ্ণপুর, সরকাটিয়া, তেবারিয়াসহ রক্তদহ বিল পারের ১০ গ্রামের  মানুষ চলাচল করে।

 রক্তদহ বিলের মধ্যে সান্দিরা-বোদলা সড়কের মধ্য দিয়ে খাল প্রবাহিত হওয়ায় দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাগ হয়ে পড়েছে। ফলে পারাপারের জন্য দুই পার্শ্বের জনগণ নৌকার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। বর্ষা মৌসুমে অনেক শ্রমজীবি মানুষ সময় বাঁচাতে নৌকার অপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতার দিয়ে খাল পার হয়ে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা চাহিদা মেটানোর জন্য নওগাঁ জেলা সদর থেকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশানসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামে চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাাঁড়ায় রক্তদহ বিলের খেয়া ঘাট। রাণীনগর উপজেলার বোদলা গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, একটি ব্রিজের অভাবে দুই পারের মানুষ চলাচল করতে চরম কষ্ট হয়। ব্রিজটি নির্মান করা হলে এই জনপদে বসবাসরত মানুষগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবাসহ অনেক অংশে এগিয়ে যাবো। রানীনগর উপজেলা প্রকৌশলী শাইদুর রহমান মিঞা জানান, ৯৫ মিটার ব্রিজের জন্য প্রস্তাবপত্র পাঠানো হয়েছিলো। ব্রিজটি একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।