সড়কে মৃত্যুর মিছিল

সড়কে মৃত্যুর মিছিল

একের পর এক সড়কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সড়ক নিয়ে নানা পরিকল্পনা, দুর্ঘটনার জন্য নতুন শাস্তির বিধান, চালক ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরও কোনো কিছ্ইু যেন রোধ করতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সড়ক পথে যেন মানুষের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে অত্যন্ত নির্মমভাবে। আমরা মনে করি, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ৫৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৭ জন নিহত হয়েছেন। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০১৯ সালে মোট ৫ হাজার ৫১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৫৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৩৩০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বড় দুর্ঘটনায় অনেক বেশি প্রাণহানি এক সঙ্গে ঘটলে যখন হৈ চৈ পড়ে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন নড়ে চড়ে বসে।

তারপর আবার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসে। সব ভুয়া চালক ও জরাজীর্ণ ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোকে সড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কিছু মাত্রায় কমে আসত। আমরা কাজটি করতে পারছি না। সরকারি উদ্যোগে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ পাস হয়, যা চলতি মাসের শুরু থেকেই কার্যকর করে সরকার। এটি জনস্বার্থে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়। বাস্তবতা হলো, এ বিষয়টি নিয়েও পরিবহণ খাত সংশ্লিষ্টরা হঠাৎ করে ধর্মঘট ডাকে। পরে সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। শুধু সরকার নয় সাধারণ মানুষ এবং পরিবহণ খাত সংশ্লিষ্টদেরও সড়ক আইন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা দরকার। আমাদের প্রত্যেকের চাওয়া হোক সড়কের নিরাপত্তা। সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি  রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিশ্চিত হোক- এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।