সুন্দরবনের সুরক্ষা

সুন্দরবনের সুরক্ষা

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক  ও প্রাণ বৈচিত্র্য বাংলাদেশের অমূল্য জৈব সম্পদ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে এটা দক্ষিণাঞ্চলের পরীক্ষিত রক্ষাকবচ। বিপর্যয়ের মুখে বরাবরই বুক পেতে দেশকে আগলে রাখছে সুন্দরবন। লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম সুন্দরবন তাদের বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসন বাড়ছে। সুন্দরবনের মিঠাপানি নির্ভর গাছপালার পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ অনিন্দ্য সুন্দর এই বাদাবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে লবণ-পানির চিংড়ি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা। পশুর নদীতে ২০১০ সালের লবণাক্ততার সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ৫ পিপিটি, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৬ পিপিতে। তা ছাড়া এ নদীসহ অন্যান্য পয়েন্টে পানির পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা সরকার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করলেও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে নির্দেশনা উপেক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সরকারি বিধানও। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পড়ছে নদীতে। দেশি-বিদেশি জাহাজের জ্বালানি তেল পড়ছে নদীতে এবং তাতে হুমকি বাড়াচ্ছে। জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। বন্য প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র হচ্ছে সংকুচিত। লবণাক্ততা বাড়ায় জীব বৈচিত্র্যে হুমকি বাড়ার পাশাপাশি বন্য প্রাণীর প্রজনন সংকটও দেখা দিয়েছে। লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনের মিষ্টি পানি নির্ভর সুন্দরী গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে গেওয়া, কেওড়া ও গরানের মতো লবণাক্ততা নির্ভর গাছপালা। ফলে সুন্দরবন তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে। লবণাক্ততার হুমকি সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য যে বিপদ সৃষ্টি করছে তা রোধের সর্বোত্তম পথ হলো উজানে পানি প্রত্যাহারের কান্ডজ্ঞানহীনতা থেকে সরে আসা। আমাদের অস্তিত্বের জন্য বন লাগবে, জীব বৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান লাগবে। তাই যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বাঁচাতেই হবে।