সরকারকে নজর দিতে হবে। নদী থাকলেও নাব্যতা নেই

সরকারকে নজর দিতে হবে। নদী থাকলেও নাব্যতা নেই

দেশের নদ-নদীতে প্রতি বছর গড়ে জমা পড়ছে চার কোটি টন পলি। দিনের পর দিন পলি পড়ে ভরাট হয়ে নাব্যতা ও গভীরতা দুটোই হারাচ্ছে নদী। ফলে ছোট হয়ে আসছে নৌ পথ। গত ৪৮ বছরে নৌপথের দৈর্ঘ্য কমেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার। স্বাধীনতার আগে দেশে নৌপথের দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজারের নিচে। এক সময়ের প্রমত্তা নদীও খননের অভাবে এখন ধূ ধূ বালুচর। সেই সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে দখল দূষণ। তাই নদী বাঁচানোর জন্য খনন এবং তীর বাঁধার দাবি করেছেন নদী বিশেষজ্ঞরা। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ নদ-নদী সংরক্ষণ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সূত্র মতে, ভাটির দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোতে প্রতি বছর ১ দশমিক ২ বিলিয়ন (১২০ কোটি) ঘন মিটার পলি প্রবাহিত হয়। এর বড় অংশই নদীর তলদেশে জমে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে। ৪৮ বছরে নদীগুলোতে পলি জমেছে প্রায় ১৭৮ কোটি টন। পলির কারণে মান চিত্র থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ৩০০ নদী।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী অধিক হারে পলি জমা, সংরক্ষণে অবহেলা, অবকাঠামো নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তন, খনন যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবলের অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, নদ-নদী রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএা, ডিসিসিসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা গত ১০ বছরে প্রায় ৪০ দফা অভিযান চালিয়েছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা। বিআইডব্লিইটিএর অধীনে থাকা ৫৩ নৌ পথের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবিদদের মতে, ১৯৬০ সালে ঢাকায় জলভাগের তুলনায় নগরায়িত স্থলভাগের পরিমাণ প্রায় পাঁচগুণ বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ অনুপাত চার গুণ কমে গেছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণেও নৌপথ সংকুচিত হচ্ছে। বিঘœ ঘটছে নৌপথের স্বাভাবিকতা। ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে গতিপ্রকৃতিও। আমরা চাই, দেশের নদ-নদী রক্ষা করে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হোক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে কাজটি অতীব জরুরি। পরিবেশ ও মানুষ বাঁচাতে এর বিকল্প নেই।