সংঘর্ষের পর দিল্লির ‘রক্ষাকর্তা’ বিচারপতিকেই মাঝরাতে বদলি

সংঘর্ষের পর দিল্লির ‘রক্ষাকর্তা’ বিচারপতিকেই মাঝরাতে বদলি

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষের কারণে ঘরছাড়া মানুষের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মাঝ রাতে বদলি করা হয়েছে তাকে। একইসঙ্গে বদলি করা হয়েছে দিল্লির পাঁচ আইপিএস অফিসারকেও।


বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়।

খবরে বলা হয়, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরকে গত সপ্তাহেই পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করেছিল সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেন দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাঝরাত থেকে বিচারপতি মুরলীধরের ভূমিকা দেখার পরে ওই আইনজীবীরা বলছিলেন, মুরলীধর দিল্লির মানুষের ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠলেন।

কিন্তু কলেজিয়ামের সুপারিশ মেনে বুধবার রাতেই বিচারপতি মুরলীধরকে বদলি করে দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বুধবার মাঝ রাতে এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। বুধবার রাতে বদলি করা হয়েছে দিল্লির পাঁচ আইপিএস অফিসারকেও।

আরও পড়ুন>> দিল্লির সহিংসতায় মৃত বেড়ে ৩৪

উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদে সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের এলাকার বাইরে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছিল  না। মিলছিল না পুলিশের সাহায্যও। তাই চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার সময় বিচারপতি মুরলীধরের বাড়িতে যান। তখন বিচারপতি তাদের কথা শোনেন এবং রাত পৌনে ২টার সময় দিল্লি পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এসময় তিনি বলেন, ‘এটা মানুষের কাছে পৌঁছে ভরসা তৈরির সময়।’

এসময় তিনি সংঘর্ষের জেরে ঘরছাড়া মানুষের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এর আগেও ২০১৮-র ডিসেম্বর ও ২০১৯-এর জানুয়ারিতে দিল্লি হাইকোর্ট থেকে বিচারপতি মুরলীধরের বদলির প্রসঙ্গ উঠেছিল। দু’বারই রাজি হয়নি কলেজিয়াম।