মাছের খনি বঙ্গোপসাগর

মাছের খনি বঙ্গোপসাগর

মাছে-ভাতে বাঙালি পরিচয় অক্ষুন্ন রাখা যাবে কি-না সে প্রশ্নটি উদয় হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছরে মাছ চাষ শনৈ: শনৈ: বেড়েছে, গত এক যুগে এ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মিঠে পানির মাছ চাষে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ দেশ। এখন আমাদের লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে। সাগর, উপসাগর, মহাসাগর বেষ্টিত দেশগুলো সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছে। পাল্টে দিয়েছে তাদের অর্থনীতির চেহারা। কেবল বাংলাদেশই ভাগ্য বঞ্চিত। অথচ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ কিনারা ঘেঁষে রয়েছে উপকূল, চর ও দ্বীপ, ব-দ্বীপ, উপদ্বীপ যা গোটা দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের সোপান হতে পারে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র সম্পদ গবেষকরা অনেক আগে থেকেই বাংলার এ সাগরকে বিভিন্ন ধরনের সম্পদের খনি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দেশের মূল ভূ-খন্ডের প্রায় সমান সমুদ্র রয়েছে আমাদের। কিন্তু দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের মাত্র ১৫ দশমিক ৪২ ভাগ আসে বিশাল এ জলরাশি থেকে।

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা কৌশল জানা না থাকার কারণেই আমরা কাঙ্খিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বলে মনে করছেন সামুদ্রিক মৎস্য বিজ্ঞানীরা। তবে সেই ব্যবস্থাপনা কৌশল রপ্তের জন্য কয়েক বছর ধরে বিজ্ঞানীরা নিবিড় গবেষণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তাদের অনুসন্ধানে বঙ্গোপসাগরে শনাক্ত হয়েছে ৪০০ প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ মাছের ক্যাটালগিং করা হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) সম্প্রতি এ তথ্য তুলে ধরে। বর্তমান সরকার সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে ব্লু-ইকোনমি জোরদারের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তারই লক্ষ্যে এমন নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে জোর গবেষণা চলছে। আর গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত দেশের মৎস্য বিজ্ঞানীদের সেসব সফল প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে মাছ হবে দেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্য।