ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুক্কুর আলী (৩৫) হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক সাবেরা সুলতানা খানম এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আমিরুদ্দিনের ছেলে আফজাল কৈয়া ও আফজালের স্ত্রী হেলেনা বেগম। এ মামলা আফজালের বাবা আমিরুদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমিরুদ্দিনের অপর দুই ছেলে মো. সুমন ও ওমর ফারুককে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায় দেওয়ার সময় আফজাল কৈয়া ও আমিরুদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হেলেনা বেগম আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার শুক্কুর আলী উরফে ফালান মিয়া একই এলাকার আমিরুদ্দিনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করতে ৫ লাখ টাকা দেন। কিন্তু এই জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা করেন আমিরুদ্দিন। পরে আমিরুদ্দিন শুক্কুর আলীকে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ওই জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্মত হয়। রেজিস্ট্রি করার দু’দিন আগে আমিরুদ্দিন ও তার ছেলে আফজাল কৈয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দিতে আফজালের শ্বশুর বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যায়। এসময় শুক্কুর আলীর সঙ্গে আমিরুদ্দিন, তার ছেলে আফজাল কৈয়া, মো. সুমন, ওমর ফারুক ও আফজালের স্ত্রী হেলেনা বেগম বেড়াতে যায়। এর মধ্যে আমিরুদ্দিন, সুমন ও ওমর ফারুক রূপগঞ্জে সেদিনই ফিরে আসে। এসময় তাদের কাছে শুক্কুর আলীর কথা তার স্ত্রী পারভীন আক্তার জানতে চাইলে জানান,  তিনি (শুক্কুর আলী) সেইদিনই ফিরে এসেছে। এর একসপ্তাহ পর আফজাল কৈয়া ও তার হেলেনা বেগম ফিরে এলে তাদের জিজ্ঞাস করলে তারাও অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন। পরে গ্রামের লোকজন নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, শুক্কুর আলীকে মেরে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় গ্রামের লোকজন হেলেনাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের ৮ তারিখে সকালে মেঘনা নদীরপাড়ে গলাকাটা অজ্ঞাত (৩৫) একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই এলাকার চৌকিদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শুক্কুর আলীর স্ত্রী রূপগঞ্জ থানাকে জানালে তারা বাঞ্ছারামপুর থানায় যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়। পরে পুলিশ আমিরুদ্দিন, সুমন ও ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে।
 
হেলেনা বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে জানায়, শুক্কুর আলীকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দুইদিন আগে বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দিরে দাওয়াত খাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হেলেনা শুক্কুর আলীকে সন্ধ্যার পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলে নদীপাড়ে নিয়ে যায়৷ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের আগে হেলেনা তার সাথে থাকা ছুরি দিতে শুক্কুর আলীর লিঙ্গ কেটে ফেলে, পরে সেখানে আগে থেকে থাকা হেলেনার স্বামী আফজাল শুক্কুর আলীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

এই মামলায় ৫ জনকে আসামি করে ২০১৩ সালের ২৯ মে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তখনকার বাঞ্ছারামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অংশু কুমার দে।

পরে বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরিফুল ইসলাম এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করন।