প্রবাসে নারী কর্মিদের দুর্দশা

প্রবাসে নারী কর্মিদের দুর্দশা

রায়হান আহমেদ তপাদার : বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শ্রমবাজার মূলত ১১টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইইউ), ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া। এর বাইরে অন্য দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের হার তুলনামূলক কম। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিক মুক্তির উদ্দেশ্যে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে এসব দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। সৌদি আরব থেকেই কয়েক শ নারী গৃহকর্মি বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে কিন্তু এসব যেন ওই ছাপাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। যদি সেখানে আমাদের নারী গৃহকর্মীরা যৌন বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং সেসবের জন্য বিন্দুমাত্র শাস্তি না হয়, তাহলে কোথায় রইল তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস আর অহংবোধ? অথচ ইসলাম ধর্মে এসব কর্মের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই কি তাদের ধর্মের প্রতি অনুরাগ আর বিশ্বাসের নমুনা? আর মানবিকতা বা মনুষ্যত্ব? সে কথা না হয় আজ নাই তুললাম। কারণ যে দেশের আইন সব মানুষকে সমান চোখে দেখে না, সে দেশের কাছ থেকে এ নির্যাতনের বিচার পাওয়ার আশা করাটাই বড় ভুল।

অন্যদিকে আমাদের ঘরের খবরই বা কি? আমাদের দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নারী গৃহকর্মিদের বিদেশে পাঠিয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও কি এ কারণে শাস্তির বিধান কার্যকর করা হয়? আমাদের নারীরা তো সরাসরি নিজেরা বিদেশে কাজ নিয়ে চলে যায়নি। তাদের কারো না কারো মাধ্যমে যেতে হয়েছে। আর যতটুকু জানি, বিদেশে যেতে যেকোনো কর্মিরই সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। অতএব কে কাকে পাঠাল, তার তালিকা তো কর্তৃপক্ষের কাছে রক্ষিত রয়েছে। তাই ওই নির্যাতিত নারীকর্মিদের প্রেরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা মোটেই কঠিন কাজ নয়। তবে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা যদি নড়বড়ে হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এক বছর পরও সেই চিত্রের ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি বা নির্যাতনের বিরতি ঘটানোর জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ বা ব্যবস্থা কোনো পক্ষ থেকে গৃহীত হয়েছে বলেও জানা যায়নি। তাই তো দিন কয়েক আগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নির্যাতিত নারীকর্মির দেশে ফেরত আসার ঘটনা ঘটল। এ ধারা হয়তো ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যদি না অনতিবিলম্বে এসব বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আমাদের নারী গৃহকর্মিরা যে শুধু সৌদি আরবেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশেই কমবেশি একই চিত্র পাওয়া যায়। সেসব দেশে বাংলাদেশের নারী গৃহকর্মিদের অহরহ যৌন ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের শুধু এসব নির্যাতনই মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে না, ফিরে আসতে হচ্ছে কপর্দকহীন অবস্থায়। অর্থাৎ তাদের বেতনও দেওয়া হয় না। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে এসব নির্যাতনের একটি বিচারের নজিরও আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মিদের নির্যাতনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তা ছাড়া বাংলাদেশের নারীকর্মিদেরই যে নির্যাতনের শিকার হতে হয় তা নয়। ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ভারত বা ইন্দোনেশিয়ার নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে। তবে ইদানিং এ হারটা যেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই বেড়ে যাচ্ছে। এ কথা সত্য, অনেক ঘটনা আবার আমরা জানতেই পারি না। যেহেতু এসব নির্যাতনের আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়েও কোনো বিচার পাওয়া যায় না, তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই নির্যাতন সহ্য করে কাজ চালিয়ে যেতে হয়, নতুবা পালিয়ে দেশে ফেরত আসতে হয়।
    
নির্যাতনকারী সব সময়ই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসলে ওই নরপিশাচদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কোনো ব্যবস্থাই যে আমরা করে রাখিনি। এই যে আমাদের নারী গৃহকর্মিরা নির্যাতিত হয়ে কপর্দকহীন অবস্থায় ফিরে আসছে, এর জন্য অনেকটাই দায়ী আমাদের দেশের চলমান অভিবাসন পদ্ধতি। খেয়ালখুশিমতো চলা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে একটি অভিবাসীবান্ধব, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য কাঠামোয় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কর্মিদের অধিকার ও স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই তাদের বিদেশে পাঠানো আবশ্যক। নারীকর্মিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর বিধায় তারা যেন কোনো ধরনের নির্যাতন বা হয়রানির শিকার না হয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করে তাদের বিদেশে পাঠাতে হবে। চাকরিসংক্রান্ত ‘কন্ট্রাক্ট’ স্বাক্ষরের আগেই সব শর্তাবলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। একজন নারীকর্মিকে বিদেশ পাঠানোর প্রাথমিক কাজটি হলো চাকরির শর্তাবলি এবং কর্মস্থলে কর্মির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া চাকরির শর্তাবলির ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, কর্মঘণ্টা, সাপ্তাহিকসহ অন্যান্য ছুটি, চিকিৎসা, আহার ও বাসস্থান, স্থানীয় আয়কর, দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি বিষয় অবশ্যই কন্ট্রাক্টে উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রত্যেক নারী গৃহকর্মির সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানসংক্রান্ত নিয়োগকারীর লিখিত অঙ্গীকারনামা, যা ওই দেশের আইন বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত, তা চুক্তিনামার সঙ্গে সংযোজিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই অভিবাসী কর্মিদের মানবাধিকার-সংক্রান্ত কোনো আন্তর্জাতিক কনভেনশন স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেনি, তাই অভিবাসী কর্মিদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি একান্ত নিবেদন, কোনো কিছুর বিনিময়েই আমাদের নারীকর্মিদের সম্ভাব্য নির্যাতনের মুখে ঠেলে দেবেন না। কন্ট্রাক্ট বা চুক্তিনামায় কর্মির স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত শর্তাবলি থাকার পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তিনামাটি যেন দুই পক্ষ স্বাক্ষর করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া যেসব দেশ আমাদের নারীকর্মিদের, বিশেষ করে গৃহকর্মিদের জন্য অধিকতর নিরাপদ এবং মানবিক, সেসব দেশে পাঠানোর চিন্তা করা যেতে পারে। আমাদের নিকটবর্তী সিঙ্গাপুর, হংকং বা ম্যাকাউ মধ্যপ্রাচ্যসহ ওই এলাকার অন্য মুসলিম দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ এবং বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তুলনামূলকভাবে ভালো। এ ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য উন্নত দেশ বা ইউরোপের কথাও সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ভাবা যায়। মুসলিম দেশ না হলে যে কাজ করা যাবে না তেমন তো নয়। সংখ্যায় কম হলেও সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে আমাদের নারী গৃহকর্মিরা তো নিশ্চিন্তে কাজ করে যাচ্ছে।

যেহেতু বর্তমানে দেশে সবার জন্য কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়, তাই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য আমাদের অনেক নারীই গৃহকর্মি হিসেবে বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কাজ নিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিরাপত্তাহীন তার দিকটি চিন্তা করে সেখানকার বিকল্প গন্তব্য খুঁজতে হবে। আর সে জন্য আমাদের পরিকল্পনায়ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভাষাজ্ঞান ও গৃহকর্মে ব্যবহার্য আধুনিক জিনিসগুলোর ওপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সব ধর্মের নারীকর্মিদের সম্মিলনে একটি দক্ষ ‘নারী গৃহকর্মির তথ্য ভা ার’ সৃষ্টির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। অল্প বয়সী বা অবিবাহিত মেয়েদের না পাঠানোই উত্তম। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণের সঙ্গে আত্মরক্ষার কিছু প্রাথমিক কৌশলও শেখানো যায়। সব শেষ কথাটি হলো বিদেশে যে কাজেই আমাদের নারীরা নিয়োজিত থাকুক না কেন প্রত্যেকের সঙ্গেই দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। আর এ জন্য তাঁদের কর্মস্থলের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দূতাবাসে রক্ষিত থাকবে। দূতাবাসের ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বরগুলোও তাঁদের দিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে যথাযথ মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেন একজন নারীকর্মিকে নিরাপত্তাহীন তার মধ্যে বিদেশে প্রেরণ করা না হয়। শুধু সৌদি আরব নয়, সংখ্যায় কম হলেও আরব আমিরাত, জর্ডান থেকেও একইভাবে নারীকর্মিরা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। কুয়েত সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মি নিয়োগে স্থগিতাদেশ জারি করেছে। গৃহকর্মিদের ভিসা ইস্যুতে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগে কুয়েত সরকার বাংলাদেশি গৃহকর্মি নিয়োগ আপাতত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

এদিকে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এ বছরের এপ্রিলে দুবাইয়ে দ্বি-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি বছর দেশের অন্তত ২৬ থেকে ৩০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে ঢুকতে পারছে না। ফলে ব্যাপকসংখ্যক তরুণ কার্যত বেকারই থেকে যাচ্ছে। এ কারণে আমাদের অবশ্যই নতুন নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জনশক্তি খাতে কতটা জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, সুশাসন, ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটা আত্মমূল্যায়নের সময় এসেছে। এ বছরের মার্চে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সৌদি সফরে গিয়ে নারী গৃহকর্মিদের নিরাপত্তাহীনতা বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি-না, বোঝা যাচ্ছে না। বিএমইটির ডিজি সেলিম রেজা বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুসারে অদক্ষ ও ভাষা না জানা শ্রমিক পাঠানো বন্ধ না হলে এ ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকবে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে অনেকেই বলছেন, বিদেশে যারা যে কাজটি করছেন তাদের সে বিষয়েই দক্ষতা আছে। তবে বাস্তবতা অস্বীকার করে অথবা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়। ২০১৬ সালে গৃহীত প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতিতে নারীদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণসহ বিশেষ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা বিদেশে নিজেদের শারীরিক বা মানসিক সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে জেনে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন।

এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। নারীদের সার্বক্ষণিক মোবাইল ফোন রাখার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দূতাবাসগুলোকে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আন্তরিক হতে হবে। দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মি পাঠানোর ব্যাপারে আরো সজাগ হতে হবে। তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য বাস্তব কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তা যত শিগগির সম্ভব ততই মঙ্গল। সব শেষে একটাই কথা কোনো অভিবাসী নারীকর্মির চোখেই আমরা আর জল দেখতে চাই না। আমরা নিশ্চয়ই আশা করতে পারি যে সরকার নারী গৃহকর্মিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিদেশে পাঠাতে না পারলেও তাদের আর নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসার জন্য পাঠাবে না। অভিবাসন খাতের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা দরকার। যাঁরা বিদেশে যাচ্ছেন, সেই প্রবাসীরা টাকা পাঠানোর যন্ত্র নন, তাঁরা মানুষ। কাজেই তাঁদের অধিকারের বিষয়গুলোতেও নজর দিতে হবে। নারী গৃহকর্মিরা যেন কোনোভাবেই নির্যাতিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
লেখক: কলামিস্ট
raihan567@yahoo.com