পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় ৬০ একর জমির চাষাবাদ বন্ধ

পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় ৬০ একর জমির চাষাবাদ বন্ধ

মনজুরুল আলম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পল্লী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় একটি গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। ফলে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ৬০ একর জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে রয়েছে। অথচ পার্শ্ববতী জমিতে কৃষকরা রোপা লাগানো শেষ করেছে। জানা যায়, ১৯৭৩ সালে স্থাপিত রামপুর মন্ডলপাড়া গভীর নলকূপটি (যার হিসাব নম্বর-২৫৯/২১৬৫) দীর্ঘ ৩০ বছর অকেজো অবস্থায় পড়েছিল। ২০০৩ সালে জনৈক অলিউল ইসলামের প্রচেষ্টায় গভীর নলকূপটি চালু করে এলাকাবাসীর ৬০ একর জমিতে চাষাবাদ করতে থাকে। এবারে এলাকার জনৈক ব্যক্তি বিএডিসির নিকট অভিযোগ করলেও কোন কিছু হয়নি। কিন্তু দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নিকট গভীর নলকূপটিতে বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন জানানো হলে কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে গভীর নলকূপটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। ইতিমধ্যে পার্শ্ববতী গভীর নলকূপের আওতাধীন কৃষকরা তাদের জমির রোপা লাগানো শেষ করে ফেলেছে। শুধুমাত্র রামপুর মন্ডলপাড়া গভীর নলকূপের আওতাধীনে থাকা ৬০ একর জমি সেচের অভাবে অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম আব্দুল আলীম জানান, বিএডিসির অপারেটর জটিলতার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগটি পুরানো শুধু রিকানেক্ট করতে হবে, আমাদের এখানে কোন জটিলতা নেই।
গভীর নলকূপের ম্যানেজার অলিউল ইসলাম জানান, আমি ইতিমধ্যে গভীর নলকূপের ভাড়া ও বারিড পাইপ বর্ধিত করনে (২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০) জন্য ৫৭ হাজার টাকাও গত ৯ ডিসেম্বর বিএডিসি (সেচ বিভাগ) দিনাজপুরে জমা দিয়েছি। বিএডিসি গত ১৪ জানুয়ারী এক পত্রে উক্ত গভীর নলকূপে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা বিদ্যুৎ সংযোগ দেন নাই। আমি অনেক দিন দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অফিসে ধর্ণা দিয়েছি কিন্তু আমার কোন কথায় শোনেনি। নিরুপায় হয়ে সমস্যা নিরুপনের লক্ষ্যে দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জিএম, ডিজিএম, নির্বাহী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) দিনাজপুর, উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতিসহ ৮ জনকে বিবাদি করে দিনাজপুরের পার্বতীপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেছি। বিজ্ঞ আদালত ইতিমধ্যে বিবাদিগনের প্রতি কারন সাত দিনের মধ্যে দর্শানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।এলাকায় গেলে অনাবাদি জমির মালিক মন্ডলপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম সহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নলকূপের পানি না পেয়ে সেচের অভাবে আমরা জমিতে রোপা লাগাতে পারি নাই। আমাদের ক্ষতপূরন কে দেবে?