ধর্ষণ বর্বরতার শেষ কোথায়

ধর্ষণ বর্বরতার শেষ কোথায়

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষে পরিচিত এক ছোট ভাইকে নিয়ে রাতে রিকশাযোগে বাসায় ফিরছিল সে। পথিমধ্যে হঠাৎ তাদের পথরোধ করে চারজন। কিশোরকে নামিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। আর ওই কিশোরীকে (১৫) টেনে হিচঁড়ে সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাকের ওপর তুলে হাত-মুখ বেঁধে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ এসে উদ্ধার করে কিশোরীকে। গাজীপুরের টঙ্গীর হকের মোড় এলাকায় গত শুক্রবার রাত সাড়ে এগারটায় রোমহর্ষ এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে। সুনামগঞ্জের ধরমপাশায় ছোট বোনের সামনে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নবম শ্রেণির ছাত্রী ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাতা কুড়াতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেণির আরেক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিনটি ঘটনাই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের ঘটনায় আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোনভাবেই যেন রোধ হচ্ছে না অনাকাংখিত ঘটনা। যৌন হয়রানির ঘটনা কতটা ভয়ানক হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আর এমন সব ঘটনা যদি রোধ না হয় তবে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে। ধর্ষণের মতো ঘটনা-ঘৃণ্য মানসিকতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের চুড়ান্ত পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। আর এসব ঘটনার ভয়াবহতা কতটা তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। সঙ্গত কারণেই এরকম ঘৃণ্য ও ভয়ঙ্কর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা রোধে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। ধর্ষণ রোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালেই ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের ঘটনার চিত্র সামনে আসে। এমনকি এই ঘৃণ্য মানসিকতার নৃশংস থাবা থেকে শিশুরাও মুক্ত নয়। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার বিকল্প নেই। সমাজে ধর্ষণ এখন এক ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাময়িক ধামাচাপা বা শুধু গ্রেফতার করে এই ব্যাধি সারবে না। যত দিন পুলিশ, জনগণ, প্রশাসন সবাই সোচ্চার না হবে, সহযোগিতা না করবে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হবে, ততদিন এসব ঘটনায় পত্রিকার পাতাই শুধু ভরবে।