দুর্নীতির রাহুগ্রাস

দুর্নীতির রাহুগ্রাস

আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি তার শেকড়-বাকড় গেঁড়ে বসেছে। সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ম্লান করে দিচ্ছে, এ কথাটিও বহুল আলোচিত। ইতিমধ্যে ডিআইজি মিজান, দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ডিআইজি প্রিজন পার্থ গোপাল বনিকের ঘুষ কেলেংকারি নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় হয়েছে। দুদকের মামলায় তারা তিনজনই এখন কারাগারে। বিষয়টি এখন আদালতে। এভাবেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনি জালে আটকা পড়েছেন রাষ্ট্র ও সমাজের প্রভাবশালী শতাধিক কর্তা ব্যক্তি। ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ, ঘুষ, অর্থ পাচার সহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত করেছে দুদক। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন গণমাধ্যমকে দুদকের জালে চুনোপুটি বেশি আটকা পড়লেও রুই-কাতলা বা বোয়ালও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার বলে এসেছেন দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, রেহাই নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বলা যায়, ১৬ কোটি মানুষের পুরো জাতিই দুর্নীতিবাজদের কাছে জিম্মি। বিশেষ করে সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতির অবস্থান এতটাই পাকাপোক্ত যে দেশের জনগণের কল্যাণ ও ভাগ্যোন্নয়নের পথে তা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মচারি-কর্মকর্তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা গত এক দশকে সন্তোষজনকভাবে বাড়ানো হলেও দুর্নীতিবাজদের অভ্যাসে তা ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এই পরিস্থিতি থেকে রাষ্ট্রকে বের করে আনতে হবে অতিদ্রুত এবং এই বের করার ক্ষমতা একমাত্র আইন, বিচার এবং নীতি নির্ধারণী মহলের হাতে। কিন্তু তারা আবার নিজেরাই এর শিকার। সুতরাং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। সেখানে অবশ্যই সরকারকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।