দুপচাঁচিয়ায় বাল্যবিয়ে ইভটিজিং ঠেকাতে ইউএনও’র বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

দুপচাঁচিয়ায় বাল্যবিয়ে ইভটিজিং ঠেকাতে ইউএনও’র বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মুজিব বর্ষে মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং’সহ বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলের মাধ্যমে আধুনিক ও ডিজিটাল উপজেলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকির হোসেন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে এগিয়ে আসতে পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপচাঁচিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজে অভিযোগ বাক্স বিতরণ করেন। অভিযোগ বাক্সগুলো প্রতিষ্ঠান প্রধানের কক্ষের সামনে ঝুলানো থাকবে।

ইউএনও জাকির হোসেন জানান, ইভটিজিং ও বাল্য বিয়ের শিকার অনেক ছাত্রীই অনেক সময় চক্ষু লজ্জার কারণে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদেরকে ঘটনাগুলো জানাতে পারে না। এসব ছাত্রীরা তাদের অভিযোগ গোপনে লিখে এই বাক্সে জমা দিতে পারবে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ইভটিজিংকারী’সহ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল হক আকন্দ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এই মহতী উদ্যোগকে কলেজের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি। তাঁর এ মহতী কাজে আমরাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকির হোসেন বলেন, মাদক, ইভটিজিং, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাল্যবিয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে ছাত্রীরাই পারে ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে। এ ক্ষেত্রে পরিবার কিংবা অন্য কোনভাবে বাধাগ্রস্ত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি আগামীতে দুপচাঁচিয়া উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদানকৃত অভিযোগ বাক্সগুলোর চাবি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) ও ইউনিয়ন উপ-কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তাদেরকে মনিটরিং এর জন্য উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে একদিন এই সব ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন উপ-কৃষি কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে অভিযোগ বাক্সের চাবি নিয়ে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগ বাক্সের তালা খুলে কোন অভিযোগ পেলে দ্রুত তার কাছে নিয়ে আসবেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ব্যবস্থা নিবেন। এ ক্ষেত্রে বাল্য বিয়ের মতো ঘটনার অভিযোগ পেলে তা বন্ধ ও ইভটিজিং এর অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।