তৈরি পোশাক রফতানিতে সংকট

তৈরি পোশাক রফতানিতে সংকট

তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় অব্যাহতভাবে কমছে। একে একে বন্ধ হচ্ছে অনেক পোশাক কারখানা। গেল এক বছরেই নিট ও ওভেন পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে অন্তত ১৪৩টি। চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৭৩ হাজার কর্মি। নতুন বিনিয়োগও আসছে না। উদ্যোক্তারা মনে করেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ও উদ্যোক্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এ খাতটি চরম হুমকিতে পড়বে। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমা, ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়া, কমপ্লায়েন্ট ইস্যু, অর্ডার কমে যাওয়া, নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তির প্রসার, উদ্যোক্তাদের খরচ বাড়ার সঙ্গে পণ্যের কাংখিত দাম না পাওয়া, করোনাভাইরাসের হুমকিসহ বেশ কিছু কারণে প্রধান এ রপ্তানি খাতটি এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এক হাজার ৯০৬ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫.৭১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ১৩.৮১ শতাংশ। বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বিশ্ববাজারে নানা প্রতিকুলতার কারণে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি বাজার কমছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাচ্ছে পোশাক শিল্প। ব্যাংক ঋণের সুদের হার, কারখানা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব, প্রতিযোগি দেশগুলোতে ডলারের দরপতন, দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। এছাড়া বেশি মজুরি, বিশ্বচাহিদা কম, নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ফলে দাম কম পাওয়ায় তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় নিয়মিত কমছে। ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দাও একটি কারণ।