চলনবিলের সেই গোলাঘর বিলুপ্তির পথে

চলনবিলের সেই গোলাঘর বিলুপ্তির পথে

আব্দুল মান্নান পলাশ, চাটমোহ(পাবনা) প্রতিনিধি: এখন পুকুর ভরা(হাইব্রীড)মাছ থাকলেও নেই সেই ধানভরা গোলাঘর(মুগা)। গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ’ এটি চলনবিলে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদবাক্য। বিলের মানুষ আর এখন গোলাঘরে ধান বা শস্য রাখে না। কালের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই ‘গোলাঘর’।

অশির দশকের আগে-পরে চলনবিলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ক্ষেতের ধান, খেসারি, মশুরসহ নানা রকম শস্যদানা গোলাঘরে মজুদ করে রাখতো। বসতবাড়ির আঙ্গিনায় মাটি, বাঁশ আর টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হতো শস্য মজুদ রাখার এ ঘর। গোলাঘর বসানো হতো বেশ উঁচুতে। যেন তাতে বর্ষার পানি প্রবেশ না করে। গোলায় প্রবেশের জন্য রাখা হতো একটি দরজা। দরজায় বাইরে থেকে তালা মেরে রাখা হতো যেন চোরের হাত থেকে ফসল রক্ষা পায়। জানা গেছে, একটি গোলাঘর তৈরি করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ লাগতো।

 আগের দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেতো এলাকায় কে কত বড় জোতদার বা জমির মালিক। এখন গোলাঘরের কুষক চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন। কথা হয় উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সাথে যাদের বাপ-দাদারা গোলাঘরে ফসল মজুদ রাখতেন। চাটমোহর উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, আগের দিনে ফসল(বিশেষ করে)রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে ধান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা পেতো। একটি বড় গোলা ঘরে সাধারণতঃ ২০০/৩০০ মণ পর্যন্ত ধান রাখা যেতো। উপজেলার কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা যায় গোলাঘর। তবে এতে আর রাখা হয় না ফসল। তবে ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন তারা।

বিলপাড়েরর চাটমোহর উপজেলা ছিল একদা হিন্দু বধিষ্ণু একজনপদ। পাশেই শ্রোতশিণী বড়াল নদী। কুন্ড বাবুদের ছিল বাদাই ব্যবসা। তাদের গদিঘরের পেছনেই সারি সারি থাকছে ফসল মজুদের বড়বড় গোলাঘর(মুগা)। সারা বছরই বড়াল নদীতে পানি থাকতো একদা। ফলে হাজারমনী মহজনী নৌকা ভিরতো বড়ালে। বাবুদের গোলা(মুগা)থেকে নানা রকম শস্য নৌকা বোঝাই হতো। চলে যেতো দেশের বিভিন্ন বন্দরে। সে অনেকদিন আগের কথা। যা এখন শুধুই স্মৃতি। বাবুরা আর নেই। চলে গেছেন অনেক আগে ওপারে। পড়ে আছে গদিঘর আর গোলাঘর স্মৃতির স্বাক্ষী হয়ে।