ইয়াবার সর্বনাশা থাবা

ইয়াবার সর্বনাশা থাবা

মাদকের ভয়ংকর থাবা দেশের তরুণ সমাজকে ক্রমেই গ্রাস করে ফেলছে। দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেছে মরণ নেশা ইয়াবা। আর তার প্রধান শিকার হচ্ছে কিশোর-তরুণরা। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে সমাজে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে অভিভাবকরা যেমন শঙ্কিত তাদের সন্তানদের নিয়ে, তেমনি দেশের সচেতন প্রত্যেক মানুষ আজ অজানা এক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে ২১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ঘটা করে আত্মসমর্পণ করানো হয়েছে। এক বছর আগে এই টেকনাফেই ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ বা প্রশাসনের অভিযানের পরও ইয়াবা পাচারের বিষয়টি সামনে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর টেকনাফে সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই কোটির বেশি ইয়াবা জব্দের রেকর্ড রয়েছে। এর আগের বছর ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল ৫ কোটি ৩০ লাখ। উল্লেখ্য, প্রথম দিকে ইয়াবাকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বলা হয়েছিল এটি বড় লোকের নেশা।

সময়ের ব্যবধানে এ রাজকীয় নেশা এখন মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তকেও পেয়ে বসেছে। সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এর বিস্তার। এছাড়া কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রধান টার্গেট পরিণত হয়েছে। একটি দেশের যুব সমাজ তথা মেধাবী প্রজন্ম যদি নেশার খপ্পরে পড়ে তবে আগামী দিন কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। দ্রুত এর গতি রোধ না করা গেলে সামাজিক-অর্থনৈতিক সব ধরনের স্থিতিই বিঘিœত হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মি সুলতানা কামাল মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা রাঘব-বোয়ালরা আত্মসমর্পণ করছে না বা তাদের ধরা হচ্ছে না, সে কারণে ইয়াবা ব্যবসা থামছে না। মাদকের আসল ব্যবসায়ীদের কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, সে প্রশ্ন থাকছেই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য আরও গভীরে যাওয়া প্রয়োজন। চোরাচালান রোধেও সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে। আর শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদক প্রতিরোধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।