আবারো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

আবারো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে দুর্ভোগে পড়বে দেশের জনগণ। এর ফলে আরেক দফা দ্রব্যমূল্য বাড়বে। বাড়বে পরিবহণ ভাড়া। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্প ক্ষেত্রে ও বিনিয়োগ তথা সার্বিক অর্থনীতিতেও। তবুও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। চলতি মাসেই বিদ্যুতের নতুন মূল্য ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। পিডিবি জানায়, ২০২০ সালে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হতে পারে ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময় প্রয়োজন হবে ৪৫ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। ফলে বাকি আট হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পূরণে মূল্য সমন্বয় করতে কমিশনের কাছে অনুরোধ জানায়। প্রস্তাবিত পাইকারি বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করা হলে খুচরা মূল্যের ওপর কমিশনের আইন অনুযায়ী সমন্বয়ের বা বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে পিডিবি। প্রায় একই সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের বা বাড়ানোর প্রস্তাব নেয় ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো, আরইবি ও ওজোপাডিকো।

সঞ্চালন চার্জ সমন্বয়ের প্রস্তাব দেয় পিজিসিবিও। শুনানির পর কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি সবার প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে মূল্য বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সরকারের ভর্তুকির বিষয়টি সামনে আসে। তথ্য মতে, উৎপাদন এবং বিপণন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় না থাকায় সিস্টেম লস হওয়া এবং এ খাতের দুর্নীতির বিষয়টিও সবারই জানা। সংশ্লিষ্টরা সেদিকে নজর না দিয়ে মূল্য বৃদ্ধিকেই সহজ সমাধানের পথ হিসেবে বেছে নেন। যার খেসারত দিতে হয় জনগণকে। এ পরিস্থিতি একটি গণতান্ত্রিক দেশে কাম্য হতে পারে না। আমরা মনে করি বর্তমান বাস্তবতায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে সরকারেরও কর্তব্য ছিল ‘দায়’ এর জায়গাটা গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া। এটাও ঠিক যে, ক্রমাগত লোকসান দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ফলে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে যেমন সর্বজন গ্রাহ্য যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে তেমনি মূল্য সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার দিকেও