অবশেষে ইইউ ও ব্রিটেনের মধ্যে বিচ্ছেদ

অবশেষে ইইউ ও ব্রিটেনের মধ্যে বিচ্ছেদ

রায়হান আহমেদ তপাদার : এই কোন প্রথম দেশ হিসাবে ব্রিটেন বেরিয়ে এল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। ফলে ইইউ-র সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২৭-এ। ৪৭ বছর ইউনিয়নে থাকার পর শেষ পর্যন্ত বিদায় নিল ব্রিটেন। এর জেরে রঙও পরিবর্তন হবে ব্রিটিশ পাসপোর্টের। ৩১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিদায় নিল যুক্তরাজ্য। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে হওয়া চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে চুক্তির শর্তে সমর্থন জানিয়েছেন অধিকাংশ সদস্য। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেন ৬২১ জন, আর বিপক্ষে ৪৯ জন। ভোটাভুটির পর স্কটিশ ভাষায় রচিত একটি বিদায়ী সঙ্গীত গলা মেলান পার্লামেন্টের সদস্যরা। ভোটের আগে আবেগঘন এক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ব্রিটিশ এমপিরা তাদের বক্তব্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেন। তবে পুরো অধিবেশনেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল, অনেক সদস্যদের অশ্রুসিক্তও দেখা গেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ডেভিড সাসোলির বক্তব্যের সময় ভিড় থেকে ‘আপনার জন্য লজ্জা’ এবং ‘বেদনাদায়ক’ এমন কিছু চিৎকারও ভেসে আসে। বেশিরভাগ এমপি ইইউ সমালোচনা করলেও কয়েকজন এমপি উল্টোটাও বলেছেন। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে কোন না কোন সময় যুক্তরাজ্য আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর আগে ২৪ জানুয়ারি ব্রেক্সিট বিলে স্বাক্ষর করেন রানি এলিজাবেথ। গতসপ্তাহে কোনও ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত অন্তর্র্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ইইউর সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত সমস্ত সম্পর্ক একই থাকবে।
কিন্তু এই সময়ের মধ্যে ব্রিটেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের কোনও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাজ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না। শুধু ব্রেক্সিট প্রশ্নে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ব্রিটেনের ২০১৯। পেছনে ফিরলে এটা স্পষ্ট, বছরটি তাদের ইতিবাচক তেমন কিছু দেয়নি, বরং উত্তাল ছিল ব্রিটিশ রাজনীতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে কমন্সে পরপর ব্যর্থ হয়ে টেরিজা মের প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়া, নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন, এরপরও ব্রেক্সিট নাস্তানাবুদ। অবশেষে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়ে বছরটিকে নিজেদের রেকর্ডের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করেছে ব্রিটেন। দেখা যাচ্ছে, নতুন বছর ঢুকতেই টালমাটাল ছিল ব্রিটেনের রাজনীতি। বিরোধী দল লেবার পার্টি এমনকি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিও ব্রেক্সিট প্রশ্নে বিপক্ষে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের। ব্রিটিশদের নিজ দেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধ মেনে চলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল। এছাড়া ব্রিটেনে অভিবাসী সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে তাদের ছিল অস্বস্তি। ইইউয়ের নিয়মানুযায়ী, কাউন্সিলের ২৮ দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলাচল করতে পারে। এ হিসেবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন নিজের সরকারের প্রথম মেয়াদে ইইউয়ের বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ইউরোপীয় নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেননি। পরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করতে চার বছরের জন্য সুবিধা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন। এতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা সদস্য দেশের নাগরিকদের সুবিধা ভাতা দেওয়ার বৈষম্য হলে তা ইইউ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে দাবি তোলেন। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্ন ওঠে।
৪৭ বছরের বেশি সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ জুন এ প্রশ্নে একটি গণভোট হয় ব্রিটেনে। সেখানে সে দেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- ব্রিটেনের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা উচিত, না-কি উচিত না? ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে। আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। অনেক উত্তাপ ছাড়ানোর পর আজও প্রক্রিয়াধীন ব্রেক্সিট। ১৯৭৩ সালে ব্রিটেন ইইউতে যোগ দিয়েছিল। তখন জোটের নাম ছিল ইইসি। ব্রেক্সিট ইস্যুটা নতুন নয়। ব্রিটেনের আরেক জনপ্রিয় এবং বহু সমালোচিত প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আমল থেকেই ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ইস্যুটি আলোচিত, যা লেবার পার্টির টনি ব্লেয়ারের সময়কালীন ঢাকা পড়ে গেলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নির্বাচনী প্রচারণায় তা গুরুত্ব পেয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়েই ব্রেক্সিট গণভোট। চড়াই-উতরাই পেরুতে হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের। ক্যামেরন থেকে থেরেসা মে, দুজনই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিটে লেগে থাকা পাগলা টাইপ মানুষটাকেই ব্রিটেনের মানুষ নির্ভর করল। ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেন কোন দিকে এগোচ্ছে। সাধারণ মানুষ যে ‘এবস্ট্রাক্ট’ ধারণা নিয়ে ব্রেক্সিটের জন্য ভোট দিল, তাতে কি কোনো সুফল নিয়ে আসবে, নাকি রাজনীতির মাঠে শুধুই ভোটের বৈতরণী পাড়ি দিলেন বরিস জনসন, তা এখন পর্যালোচিত হচ্ছে। ব্রিটেন পার্লামেন্ট-এ ব্রেক্সিট বিল পাস হয়েছে। তাও ছিল নিরঙ্কুশ সাংসদদের ভোটে। এমনকি লেবার পার্টির ৬ এমপিও ব্রেক্সিটের পক্ষেই সংসদে ভোট দিয়েছেন। পুননির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সংসদে ৩৫৯ ভোট নিয়েই ব্রেক্সিটের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন।
সত্যি কথাটা হলো, ব্রিটেনের মানুষ এই ব্রেক্সিটই চাইছিলেন। আর সেজন্যই ছিল কনজারভেটিভ পার্টির ভূমিধস বিজয়। আবারো বরিস পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই তিনি ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ঘটাবেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। সত্যিই তাই হলো। দীর্ঘদিন থেকে ব্রিটেনে বসবাস করা মানুষের মাঝে কোনো আতঙ্ক না থাকলেও কিছুটা হলেও উৎকণ্ঠায় আছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকে এ দেশে আসা মানুষগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্যাম্পেইনার গ্রুপ আশঙ্কা প্রকাশ করছে, ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করা ৫ লাখ ২৫ হাজার ২০০-এরও বেশি মানুষের দরখাস্ত এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। এদের ভাগ্যে কী আছে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে এবারের ভোট প্রমাণ করেছে, ব্রিটিশ জনগণ নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, ইইউর ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিরাপত্তা এবং আইনি সিদ্ধান্ত তাদের দেশের অভ্যন্তরেই রাখতে ব্রেক্সিট সমর্থন করেছে। এক ধরনের ব্রিটিশ জাতীয়তাবাদ অর্থাৎ ‘গ্রেট ব্রিটেন’ কনসেপ্টটা তারা পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে। ব্রিটেনের ঘটনা আকস্মিক নয়। এই আরম্ভের আগেও আরম্ভ আছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী গণভোটের ভিত্তিতে ইস্তফা দিলেন এক সঙ্কটবিন্দুতে। কিন্তু ডেভিড ক্যামেরনের বিরুদ্ধে লন্ডনের প্রাক্তন মেয়র বরিস জনসন অনেক বেশি জঙ্গি রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ছাত্রদের সেখানে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে ব্রিটেনের সরকার অনেক রক্ষণশীল মনোভাব নিতে শুরু করেছিল। পূর্ব ইউরোপ শুধু নয়, ভারত-চিন-পাকিস্তান সমেত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশের মানুষকে ব্রিটেনে বসবাস করার ব্যাপারে কঠোরতর মনোভাব নেওয়া শুরু হয়েছিল।
দেখে শুনে মনে হচ্ছিল যে ব্রিটেনেও রাজনৈতিক দলগুলি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের মতো কট্টর স্বদেশি লাইন নিতে চাইছে। গোটা পৃথিবীতে দু’টি শক্তি পেন্ডুলামের মতো এক বার এ দিক আর এক বার ও দিক করেছে। একটি শক্তি হল একত্রীকরণের শক্তি। যেমনটি হয়েছিল হিটলারের জার্মানিতে, বিসমার্কের ইতালিতে কিংবা স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়নে। ভারতের প্রেক্ষাপটে বলা যায়, যেমন হয়েছিল সম্রাট অশোক বা আকবরের সময়। আর একটি শক্তি হল, বিচ্ছিন্নতা শক্তি। সেই শক্তিতে শক্তিশালী সাম্রাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে জাতি রাষ্ট্র গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নে যাকে বলা হয়েছে বলকানাই- জেশন। সেই বলকানাইজেশনের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত বোধহয় স্কটল্যান্ড। দিল্লির মসনদে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসার আগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অধ্যাপক ভারতের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেই বইটিতে অধ্যাপকেরা বলেছিলেন, ভারতেও আবার এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা বাড়ছে। মুখে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারতের কথা বললেও আসলে হিন্দুত্বকে মূলধন করে এক শক্তিশালী ভারত গঠনই হল মোদিত্ব। আর্থিক মন্দা বিশ্বজুড়ে। দারিদ্র ও বেকার বাড়ছে পৃথিবীর বহু উন্নত দেশেও। এই পরিস্থিতিতে এক দিকে কুসংস্কার বাড়ছে, ধর্ম এবং ঈশ্বরকেন্দ্রিক মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরশীলতা বাড়ছে। আর সেই পরিস্থিতিতে বাড়ছে রাষ্ট্রের উগ্র জাতীয়তাবাদ। ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের অর্থনৈতিক ফলাফল কী হবে, সেটি ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর এক রাজনৈতিক ট্রেন্ড উপলব্ধি করা যায়, যে প্রবণতা থেকে ভারতও বিচ্ছিন্ন নয়। এ বারে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের কাহিনি যখন গোটা দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে।
ব্রিটেন শুধু ইউরোপ কেন, একদা গোটা পৃথিবীর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সংযোগ স্থাপন করেছিল, সেই ব্রিটেন আবার ফিরে আসছে এক শক্তিশালী রাষ্ট্র নির্মাণে। সেখানে ব্রিটেন সার্বভৌম জাতি রাষ্ট্র হিসেবে উদারবাদের পথ ছেড়ে রক্ষণশীলতার পথে হাঁটছে। অর্থনীতিতে একেই তো বলে প্রোটেকশনিজম। চীন সফরে গিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এক বার সকলের সামনে বলেছিলেন, ভারত তথা দেশের বাইরে চিন বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু নিজের দেশের ভিতর অন্য দেশের লগ্নি আনতে আগ্রহী নয়। এর ফলে ভারত-চিনের বাণিজ্যিক ঘাটতির সমাধান হয় না। আজ চীন কেন, গোটা পৃথিবী এই রক্ষণশীলতার পথে হাঁটছে। এই উল্টোরথের প্রক্রিয়াকেই টনি ব্লেয়ার বলছেন, শক্তিশালী কেন্দ্রবাদ। অ্যাডাম স্মিথ যে অবাধ বাণিজ্য নীতির কথা বলেছিলেন, সেই অর্থনীতির মডেল আমদানি-রফতানি নীতিকে শিথিল করে বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করল নব্বইয়ের দশকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও আমাদের দেশেও সেই পথ অনুসরণ করে অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংহের মাধ্যমে নিয়ে এলেন আর্থিক উদারবাদ। ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের সংযুক্তিকরণের সময় টনি ব্লেয়ার ছিলেন অন্যতম স্থপতি। ইউরো জোন আর অভিন্ন ইউরো মুদ্রা তৈরির সময় ঘটনাচক্রে তিনিই ছিলেন সে দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী। আসলে রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদের প্রকোপ বাড়ছে বিশ্বজুড়েই এ বারে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদের কাহিনী যখন গোটা দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় শুরু করে দিয়েছে, ঠিক সেই সময় ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এ লেখা এক নিবন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন, গোটা পৃথিবী কি আবার এক শক্তিশালী কেন্দ্রের ভাবনার দিকে ধাবিত হচ্ছে? এটাই এখন অপেক্ষার পালা।
লেখক ঃ  কলামিস্ট
raihan567@yahoo.com