পদ্মায় নৌকা ডুবি আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার এখনও নিখোঁজ কনে

 পদ্মায় নৌকা ডুবি আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার এখনও নিখোঁজ কনে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পদ্মায় বর-কনেসহ নৌকা ডুবির ঘটনায় আরও দুটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো আট জন। তারা সবাই কনে সুইটির পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়। তবে এখনও কনে সুইটি বেগমের সন্ধান মেলেনি। এদিকে গতকাল রাতে জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম। ওই প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখসহ বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গতকাল রোববার তৃতীয় দিনের মত পদ্মা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সমন্বিত উদ্ধারকারী দল। এদিন দুপুর একটার দিকে নগরীর লালন শাহ পার্কের কাছ থেকে অস্টম শ্রেণির ছাত্রী রুবাইয়া এবং বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কাটাখালি এলাকা থেকে কনের খালা আঁখি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর শুক্রবার হাসপাতালে মারা যায় একজন।

সন্ধ্যায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম জানান, পদ্মায় নৌকা ডুবির ঘটনায় এখন নিখোঁজ রয়েছেন শুধু কনে সুইটি বেগম। গতকাল দিনভর অভিযান চালিয়ে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর সুইটির মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি। সেই সাথে পদ্মা সংলগ্ন নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানাগুলোতে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। কোথাও যদি কেউ কোনো করদেহ দেখতে পায়, তাহলে যেন সাথে সাথে সেটি উদ্ধার করে রাজশাহী জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই মূলত ওই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য মাছ ধরার নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা ও প্রমোদতরী আলাদা আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দেয়া হবে। সেই সাথে নৌকার মাঝিরও বয়স নির্ধারণ করে দেয়াসহ প্রতিটি নৌকায় যাত্রী ধারণ ক্ষমতা লিখে দেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

পদ্মার চরে বৌভাত শেষে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বর ও নববধূসহ ৪১জন যাত্রী নিয়ে দুটি নৌকা কনের বাড়িতে ফেরার পথে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় নৌকা দুটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় বর রুমনসহ ৩২ জন শুক্রবার রাতেই জীবিত উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে লাশ দাফন-কাফনের জন্য জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেইসাথে ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।