নোট-গাইড নির্ভরতা কমান

 নোট-গাইড নির্ভরতা কমান

শিক্ষার্থীদের প্রতি নোট ও গাইড বই ব্যবহার না করার নির্দেশ থাকলেও এটি বন্ধ হচ্ছে না। বরং এক শ্রেণির শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক চাহিদা থাকায় নোট ও গাইড নির্ভরতা কমানো যায়নি বিগত কয়েক বছরে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘অ্যাকটিভ লার্নিং’ না থাকায় নোট ও গাইডের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। শিক্ষাবিদ বা শিক্ষানুরাগীদের মতে, দেশে শিক্ষার মান ক্রমেই কমছে। অনেক ছেলে-মেয়েই পরীক্ষায় পাস করে কিংবা সনদপত্র পায়, কিন্তু জ্ঞানার্জন করে না। এইচএসসি পরীক্ষায় প্রচুর জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে কিংবা গবেষণায় তার প্রভাব পড়ে। কেন এমন হচ্ছে? এক বাক্যে প্রায় সবাই স্বীকার করে কোচিং বাণিজ্য ও নোট-গাইড বই ছেলে মেয়েদের সর্বনাশ করছে। উচ্চ পদস্থ অনেক নীতি নির্ধারকদের মুখে সেই কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কিন্তু কিছুই বদলায় না। বদলানোর দায়িত্ব যাদের, তারাই অনৈতিক স্বার্থের কারণে সেগুলো টিকিয়ে রাখেন। এ পরিস্থিতিতে কীভাবে নোট ও গাইডের কবল থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা যায়, তার বিকল্প খুঁজছে সরকার। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, তারাও নোট ও গাইডের বিকল্প খুঁজছেন। নোট ও গাইড ছাড়া শিক্ষার্থী যেন ভালো ভাবে লেখাপড়া করতে পারে, সেই কৌশলটি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা। তবে প্রকাশকরা বলছেন, নোট বই বলে এখন আর কিছু নেই। সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করার পর থেকে বাজারে চলছে শিক্ষা সহায়ক বই। নোট-গাইডকে যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের গাইড নির্ভরশীলতার অভিশাপ থেকে রেহাই দিতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসুন।