বিকাল ৩:১০, রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে মানা করলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্ষমতা বেশিদিন থাকে না। অনুরোধ করি ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। এটা আমানত। টাকা-পয়সা বেশিদিন থাকবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে দেশে থাকতে পারবেন না। ভুল স্বীকার করে সংশোধন করতেও নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নেতা হিসেবে আমার ভুল হতে পারে। প্রত্যেকে ভুল করে। আমি যদি মনে করি আমি যা করি সব ঠিক তাহলে দলও ডুববে, নিজেও ডুববেন। আমারও ভুল হয়। আমিও সংশোধন করি। দলে নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পকেট ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের দলে টানবেন না। দুঃসময় আসলে তাদের হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়ে খুঁজে পাবেন না। চাটুকার-মোসাহেবদের কাছ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির প্রায় সবক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সহ-সভাপতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং আফসারুল আমীন প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আ জ ম নাছির এক পর্যায়ে মঞ্চে উপস্থিত বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের নাম বললে কয়েকজন প্রতিনিধি হৈ চৈ করতে থাকেন।

প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের অধীন বিভিন্ন থানা কমিটির নেতারা দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করা, অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব কমানোর দাবি তোলেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, তৃতীয়বারের মতো দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যেতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। নিজেদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকলে তা আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে হবে। প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়াম লীগের অধীন ১৫ থানা ও ৪৪টি ওয়ার্ডসহ মিলিয়ে আটশ’র মতো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে দলের এক নেতা জানিয়েছেন।

বিএনপি ‘নালিশ পার্টি’
প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে ‘নালিশ পার্টি’ আখ্যায়িত করেন। বিএনপি এখন খালি প্রেস ব্রিফিংয়ে ভাঙা রেকর্ড বাজায়। তারা এখন নালিশ পার্টি। একের পর এক তারা নালিশ করে যাচ্ছে, কখনও মিডিয়ায়, কখনও বিদেশিদের কাছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, কৌশল-অপকৌশল যতই করুন শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে রাজনৈতিক দাবা খেলায় আপনারা (বিএনপি) হেরে গেছেন। কোনো কৌশল করে আগামী নির্বাচনে আপনারা জিততে পারবেন না। ভারত নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বন্ধুত্ব করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বিএনপিকে ‘পাকিস্তানের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তাদের এজেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের পুনর্বাসন করে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। খালেদা জিয়াও পরবর্তীতে একই কাজ করেছেন।

হেফাজতের সঙ্গে চুক্তি হয়নি
ওবায়দুল কাদের বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো চুক্তি হয়নি। তাদের সাথে আমরা কোনো চুক্তি করিনি। তাদের মূল ধারায় আনতে স্বীকৃতি দিয়েছি। স্বীকৃতি আর এলায়েন্সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হেফাজতকে নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করেছিল বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তারা হেফাজতকে নিয়ে আগামী ৫ মে আরেকটা শাপলা চত্বর বানানোর খায়েশ ছিল। তা আপাতত চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। শফী হুজুর নিজেও তো এখন বলেন ‘জঙ্গিবাদ ইসলামের শত্রু’।

দেশে সরকার নেই দায়বদ্ধতাও নেই : মির্জা ফখরুল

দেশের একটি বৃহত্তর অঞ্চলে বন্যার মতো দূর্যোগের সময়ে হাওর অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ঘটনায় মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের হাওর অঞ্চলে যখন এত বড় একটা দূর্যোগ উপস্থিত হয়েছে, তখন হাওর অধিদফতরের কর্মকর্তারা যদি বিদেশে যান, তাহলে বুঝতে হবে যে- দেশে সরকার নেই, দায়বদ্ধতাও নেই। দেশে যে কোনো সুশাসন নেই, এ থেকে তা-ও বুঝা যায়।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকে দেখার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ফখরুল। হাসপাতালে অবস্থানকালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে ডায়াবেটিকস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এই আইনজীবীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন তিনি।
আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনামগঞ্জের হাওরের দূর্গত অঞ্চল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি-প্রধানমন্ত্রীর অনেক আগেই দূর্গত এলাকায় যাওয়া উচিত ছিল।

আগামী পহেলা মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভার জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অনুমতি দেয়নি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদেরকে ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পহেলা মে জনসভার অনুমতি পাব না। তারা (ডিএমপি) বলেছে, ২ বা ৩ তারিখে অনুমতি দিতে পারে। সেজন্য আমরা নতুন করে আবেদন করেছি। জনসভার অনুমতি না পেলে বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো কনফনট্রেশনে আমরা যাওয়ার চিন্তা করছি না। সরকারের যে চিরায়িত নীতি, বিরোধী দলকে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেবে না- এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। এ থেকে বুঝা যায় যে, গণতন্ত্রের অবস্থাটা এখন কোন জায়গায় আছে? বাংলাদেশে গণতন্ত্র যে নেই-এটা তারই প্রমাণ। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে, পহেলা মে’র শ্রমিক সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে অগ্রগতি জানতে বৃহস্পতিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। পরে এ্যানী বলেন, পুলিশ তাদের জানিয়েছে- পহেলা মে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। ওই দিনটি শ্রমিকদের জন্য থাকবে। তবে ২ বা ৩ মে কিংবা পরবর্তী যেকোনো দিন সমাবেশ করার জন্য বিএনপি আবেদন করলে তারা (ডিএমপি) তা বিবেচনা করবে। বিএনপির এই প্রচার সম্পাদক আরো বলেন, ২ বা ৩ মে যেদিনই অনুমতি মিলবে, সেদিনই তারা সমাবেশ করবেন।

যুবদলের ১২ সাংগঠনিক জেলা কমিটি ঘোষণা

সংগঠনকে আন্দোলনমুখী করার লক্ষ্যে দেশের ১২ সাংগঠনিক জেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এসব কমিটি অনুমোদন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যুবদলের দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত কামরুজ্জামান দুলাল প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিটিগুলো হলো-রংপুর জেলা ঃ সভাপতি-নাজমুল আলম নাজু ও সাধারণ সম্পাদক- সামছুল হক ঝন্টু। রংপুর মহানগর ঃ সভাপতি-মাহফুজ উন নবী ডন ও সাধারণ সম্পাদক- লিটন পারভেজ। রাজশাহী জেলা ঃ সভাপতি-মোজাদ্দেদ জামানী সুমন ও সাধারণ সম্পাদক-শফিকুল আলম সমাপ্ত। কুড়িগ্রাম জেলা ঃ সভাপতি- রায়হান কবির ও সাধারণ সম্পাদক- নাদিম আহমেদ। শরীয়তপুর জেলা ঃ সভাপতি-আরিফুজ্জামান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক-জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ। কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা ঃ সভাপতি-আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও সাধারণ সম্পাদক-আনোয়ারুল হক। কুমিল্লা মহানগর ঃ সভাপতি- উলফাতুল বারী আবু ও সাধারণ সম্পাদক- ইউসুফ মোল্লা টিপু। বরিশাল (দক্ষিণ) জেলা ঃ সভাপতি-পারভেজ আকন বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক- এইচএম তসলিম উদ্দিন। বরিশাল মহানগর ঃ সভাপতি-আক্তারুজ্জামান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক- মাহমুদ হাসান মামুন। খুলনা মহানগর ঃ সভাপতি- মাহাবুবুল হাসান পিয়ারু ও সাধারণ সম্পাদক- নাজমুল হুদা সাগর। খুলনা জেলা ঃ সভাপতি- মোহাম্মদ শামিম কবির ও সাধারণ সম্পাদক- ইবাদুল হক রুবায়েত। রাজশাহী মহানগর ঃ সভাপতি- আবুল কালাম আজাদ সুইট ও সাধারণ সম্পাদক- মাহাফুজুর রহমান রিটন।

যে কোন মুহূর্তে সরকারের পতন!

যে কোন মুহূর্তে সরকারের পতন ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সরকার সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ ভারত সফরে গিয়ে দেশের সবকিছু বিকিয়ে দিয়েছে, এতে জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। দুদু বলেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার আতঙ্কিত। এখন তাদের নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সময় ফুরিয়ে এসেছে। যে কোন মুহূর্তে এই সরকারের পতন ঘটতে পারে।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আবহ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। এই সরকারকেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আবহ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনী আবহ তৈরি করতে ব্যর্থ হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

হাওর অঞ্চলে দুর্গত এলাকা রক্ষায় মন্ত্রী ও তার সচিব সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে দুদু বলেন, এই ব্যর্থতার দায়ে মন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি দুর্নীতিতে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে। জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল, এবিএম মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

হাওরাঞ্চলকে ‘দুর্গত এলাকা’ঘোষণার দাবি জানিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, হাওর এলাকার ঘরে ঘরে বিরাজ করছে কৃষকের কান্না। উজানে বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢললে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে আমাদের হাওর রক্ষাবাঁধগুলো ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে সময় মতো যথাযথভাবে নির্মিত হয়নি। আর এবার চৈত্রমাসেই ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ায় বেশির ভাগ ফসলই ছিল কাঁচা বা আধপাকা। বলা যায়, এবারের বন্যার ক্ষতিটা আর সব বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

খালেদা জিয়ার বার্তা নিয়ে তৃণমূলে যাচ্ছেন বিএনপির নেতারা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বার বার প্রত্যাখ্যান করলেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবিতে এখনো অনড় বিএনপি। এই দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে পারেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেজন্য দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসন করে তৃণমূলে সংগঠনকে চাঙ্গা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতও করতে চায় দলটি। বিএনপির এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫১টি টিম প্রধানদের এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে টিম প্রধানের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সকাল  সোয়া ১০টা থেকে দেড় ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে সারাদেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও টিম প্রধানদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া নির্ধারিত জেলা সফর আগামী ৭ মে’র মধ্যে শেষ করতে টিম প্রধানদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দেশজুড়ে বিএনপিকে উজ্জীবিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সফরে করণীয় প্রসঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে মাঠ নেতাদের সঙ্গে টিম প্রধানরা ঘরোয়া আলোচনা করবেন। যেখানে যেখানে কমিটি নিয়ে বিরোধ আছে সে সম্পর্কেও অবহিত হবেন তারা। জেলা সফর শেষে টিম প্রধানরা পৃথক সাংগঠনিক প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেবেন। নেতারা আরো জানান, সফরকালে সরকারবিরোধী বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষমতাসীনদের নির্যাতনের শিকার দলের গুম-খুন ও কারাবন্দী নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে বলা হয়েছে। কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কতটি মামলা, তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাসহ বাস্তবভিত্তিক একটি তালিকা করতে বলা হয়েছে টিম প্রধানদের। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলায় কতজন নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে, তারও একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। জেলা সফরকালে ২০ দলীয় জোট বিশেষ করে জামায়াতের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন আসলে সেক্ষেত্রে ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জোট ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে’-মর্মে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দিতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিটিকে জোরালোভাবে উচ্চারণ করতে এবং এ সংক্রান্ত আন্দোলনের ঘোষণা আসলে নেতাকর্মীদের মাঠে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে টিম প্রধানদের। টিম লিডারদের একইসঙ্গে নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার জন্যও বলতে বলা হয়েছে।       

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, এই সাংগঠনিক সফর শেষ হলে বর্তমান টিমগুলোর সদস্যদের ঠিক রেখে শুধুমাত্র টিম লিডারকে পরিবর্তন করে নতুন টিম গঠন করা হবে। নতুন ওই ৫১টি টিম আগামী ১৫ মে থেকে আবারও দেশব্যাপী ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা সফর করে একই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নতুন ওই টিম লিডারের কাছ থেকেও স্ব স্ব জেলার সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা নেয়া হবে। এরপর উভয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তা দেয়া হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দিনে আন্দোলন ও নির্বাচনে কাজে দেবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা।
   
বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ৫১টি টিম সারাদেশের বিভিন্ন  জেলায় যাবেন। সেখানে তারা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হবেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে কথা বলবেন। আমরা আশা করছি, এই সফরে আমাদের দলের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন। এই বৈঠকে টিম প্রধানদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ  হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল  নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ  হোসেন  চৌধুরী, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

১৯ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা

১৯ ইউনিয়ন পরিষদ ও ১ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৩ মে এসব ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ১৯ প্রার্থীর চূড়ান্ত করা হয়। রাতে দলটির দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের তালিকা জানানো হয়।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নে দীনেশ চন্দ্র রায়, বগুড়ার কাহালু উপজেলার কাহালু দূর্গাপুর ইউনিয়নে মো. বদরুজ্জামান খান, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নে মো. এনামুল হক বাবলু, ধুবইল ইউনিয়নে মো. মাহাবুর রহমান, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কালিয়া পাঁচগ্রাম ইউনিয়নে মো. জহুরুল হক মোল্যা।

মনোনীতদের মধ্যে আরও আছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নে মো. ছরোয়ার হোসেন, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে মাহে আলম, হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নে মো. ইকবাল হোসেন, বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে মো. সুলতান ফরাজী, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালীয়া ইউনিয়নে আবদুল কাদির, খিদিরপুর ইউনিয়নে মো. মাহবুবুর রহমান, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে এমদাদুল হক আকন্দ।
এছাড়াও মনোনয়ন পেয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর ইউনিয়নে আব্দুল্যাহ মোঃ কামাল উদ্দিন, রামগতি চর আলগী ইউনিয়নে জাকির হোসেন চৌধুরী, রামগতি বড়খেরী ইউনিয়নে মো. আলতাফ হোসেন ফরহাদ, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নে তসলিম ইকবাল চৌধুরী, কুমিল্লার বরুডা উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নে মো. আব্দুল মালেক, ভাউকসার ইউনিয়নে আহম্মেদ জামাল মাসুদ এবং জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভায় মো. সিরাজুল ইসলাম।

বিএনপিও জানে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন: হানিফ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সকল সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের ‘শ্যাডো’ গডফাদার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। সম্প্রতি সিএনএনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শ্যাডো গডফাদার তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। গতকাল মঙ্গলবার সেটেলমেন্ট প্রেস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের অভিষেক ও প্রতিনিধি সভায় হানিফ এসব কথা বলেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১২৫টি উগ্র-মৌলবাদী গোষ্ঠী তৎকালীন সরকারের মদদে প্রতিষ্ঠিত বলেও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তির বর্ণনা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, আন্তুর্জাতিক পত্র-পত্রিকায় আজ তারেক রহমানের সন্ত্রাস ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ উঠে আসছে। তিনি বলেন, মুফতি হান্নানও ২১ আগষ্ট বোমা হামলা মামলায় ওয়ান সিক্সটিফোর ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। শেখ হাসিনার জনসমাবেশে বোমা হামলার আগে কোথায় কোথায় তারেক রহমানের সঙ্গে ৪ বার বৈঠক করেছে তার বিবরণ রয়েছে ওই জবানবন্দীতে। হানিফ আরও বলেন, ২০০১ সালে আমরা যখন ক্ষমতা ছেড়ে গিয়েছিলাম দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো ৪ হাজার মেগওয়াটের বেশি। কিন্তু তারা ক্ষমতা এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিপরীতে তা কমিয়ে ৩ হাজার মেগওয়াটে নিয়ে আসলো। আজ দেশ যখন সকল দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেত্রী অবরোধের নামে দেশে অগ্নি-সন্ত্রাস চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই হবে এবং সেই বিষয়টি বিএনপি নেতারা ভালোভাবেই জানে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। এবং বিএনপি নেতারা তা ভালভাবেই জানে। বিএনপি নেতাদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারির বিষয়ে হানিফ বলেন, বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই বিগত দিনে আন্দোলনের নামে যেভাবে জ্বালাও পোড়াও করেছেন, মানুষ হত্যা করেছেন তা করতে গেলে জনগণ আর সহ্য করবে না। এ সময় সেটেলমেন্ট প্রেসের কর্মচারীদের দাবি-পদোন্নতি, জনবল নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অভিহিত করার আশ্বাস দেন তিনি। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবীবুর রহমান সিরাজ, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল্লাহ শফি প্রমুখ।

বিএনপি পুনর্গঠনে ৫১টিম গঠন

সারাদেশে সংগঠনকে পুনর্গঠন করতে ৫১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করেছে বিএনপি। এইসব টিম সারাদেশে কর্মিসভা এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে নির্দেশনা দেবে।  সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সারাদেশে বিএনপির ৭৫টি রাজনৈতিক জেলায় এই ৫১টি টিমের নেতারা কর্মিসভায় অংশ নেবেন।
কার দায়িত্বে কোন এলাকা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং মানিকগঞ্জ, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন- চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর, মির্জা আব্বাস-বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়- রাজশাহী জেলা ও মহানগর, আবদুল মঈন খান-নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর, নজরুল ইসলাম খান- রংপুর জেলা ও মহানগর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী- সিলেট জেলা ও মহানগর, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান- ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, অধ্যাপক এমএ মান্নান নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-নীলফামারী ও লালমনিরহাট, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ- রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী- ঝালকাঠি, সেলিমা রহমান-নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ, মোহাম্মদ শাহজাহান- মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, মীর মো. নাসিরউদ্দিন- চাঁদপুর ও কক্সবাজার, খন্দকার মাহবুব হোসেন-ঢাকা, রুহুল আলম চৌধুরী-কুড়িগ্রাম, ইনাম আহমেদ চৌধুরী-শেরপুর, আমিনুল হক-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আবদুল আউয়াল মিন্টু- কুমিল্লা উত্তর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ডা. জাহিদ হোসেন- সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শামসুজ্জামান দুদু-কুমিল্লা দক্ষিণ ও বান্দরবান, আহমেদ আজম খান- জামালপুর ও শরীয়তপুর, জয়নাল আবেদিন- গাজীপুর, নিতাই রায় চৌধুরী-বরগুনা, শওকত মাহমুদ- রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান-টাঙ্গাইল, মিজানুর রহমান মিনু-পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও, আবুল খায়ের ভুঁইয়া- মাগুরা, জয়নুল আবদিন ফারুক- জয়পুরহাট, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন-ঝিনাইদহ, মনিরুল হক চৌধুরী-মেহেরপুর, ফজলুর রহমান-নরসিংদী, হাবিবুর রহমান হাবিব-পটুয়াখালী, আতাউর রহমান ঢালী- ফেনী, নাজমুল হক নান্নু-ফরিদপুর, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-খুলনা জেলা ও মহানগর, যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন-মাদারীপুর, মজিবুর রহমান সারোয়ার- ভোলা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল- যশোর, খায়রুল কবির খোকন- নাটোর, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল- বগুড়া ও গাইবান্ধা, হারুন-অর রশীদ-নওগাঁ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন- মুন্সিগঞ্জ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু- বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা, নজরুল ইসলাম মঞ্জু-নড়াইল, আসাদুল হাবিব দুলু- দিনাজপুর ও সৈয়দপুর, সাখাওয়াত হোসেন জীবন- সুনামগঞ্জ, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন- পিরোজপুর, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী- সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মশিউর রহমান-কুষ্টিয়া জেলায় কর্মিসভা করবেন। জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী গত শনিবার থেকে দলের এই সাংগঠনিক সফর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো শুরু হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম প্রধানদের নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে। এরপর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সাংগঠনিক সফর শুরু করবেন, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত চলবে। এদিকে, সারাদেশে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই বিশেষ অভিযানের নামে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আবারো গণগ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। এর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসবে : নজরুল

 শিগগিরই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ডাক আসবে জানিয়ে এর জন্য সকলকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।  রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবিতে ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ জেলার সাবেক ছাত্রদল নেতাদের ব্যানারে এ সমাবেশ হয়।

নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং বিএনপিকেই তারা ‘বিকল্প’ মনে করে। তাই বিএনপি ও অন্যদলগুলো, সবার কাছে বলব- এটা আমাদের অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সাথে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদেরকে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে দলকে আরও সংহত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শিগগিরিই ডাক আসবে। তাই সবার কাছে আমার অনুরোধ, সেই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিন। সেই লড়াই হবে বিজয়ের লড়াই। জনগণ কষ্টে আছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। চাল-ডাল-নুনসহ জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষ আর চলতে পারছে না। তারা পরিবর্তন চাইছে। তবে ভূমিকম্পের ওপর ছেড়ে দেওয়া তো চলবে না।

আমাদের নিজেদের চেষ্টা করতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের লড়াই হবে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক লড়াই। সেই লড়াইয়ে জনগণ আমাদের পক্ষে থাকবে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে হাওড় অঞ্চলে জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ টেনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়ে কী গোপন চুক্তি করেছেন, তার কী প্রতিফলন পাচ্ছি? আজকে সুনামগঞ্জে ঢলে জলপ্রাণী মারা গেছে। ৫০ টন মাছ পঁচে গিয়ে গন্ধ উঠছে- এর কারণটা কী? পানির মধ্যে জলজপ্রাণী থাকবে, তারা তো মারা যাওয়ার কথা নয়। ভারতেই একটা ফেসবুকে উঠেছে যে, ইউরেনিয়াম খনি থেকে যে বর্জ্য, সেই বর্জ্য প্রবাহিত হচ্ছে। তাহলে আপনি উজাড় করে ঢেলে দিলেন ভারতকে, আমাদের নিরাপত্তা তাদের কাছে জিম্মি করে দিলেন। তার পরিবর্তে তারা ঢেলে পানি দিলেন ইউরেনিয়াম বর্জ্যসহ। সেই কারণে আজকে জলজপ্রাণী টনকে টন মারা যাচ্ছে। বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ক্ষমতা না, খাদের দিকে যাচ্ছে বিএনপি: হানিফ

বিএনপি ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ক্ষমতা না, খাদের দিকে যাচ্ছেন আপনারা। গতকাল রোববার রাজধানীর পোস্টাল অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে হানিফ বলেন, ভুল রাজনীতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে রক্ষা করার কারণে আপনারা জনগণ থেকে পা পা করে খাদের কিনারার দিকে যাচ্ছেন। তাই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন আপনাদের আপাতত না দেখলেও চলবে। তিনি বলেন, তার মানে কি আপনারা আগেই ‘ওয়াক ওভার’ দিতে চাচ্ছেন? নির্বাচনে আসবেন কি আসবেন না, সেই সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছেন নাকি? আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, আমরা কি বলেছি, আমাদের সরকার কি বলেছে যে, আগামী নির্বাচন আমরা এক তরফা করবো? আপনাদের বাদ দিয়ে করবো? এমন কথা কি কোথাও এসেছে? আমরা তো সব সময়ই বলেছি, সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা চাই। কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করায় বিশ্বাসী আমরা নই। দশম নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ভুল আর করবেন না। ভুল করলে, ভুলের খেসারত আপনাদের দিতে হবে। এটার জন্য জনগণ খেসারত দিবে না। আপনাদের ভুলের খেসারত জনগণ দিতে পারে না। হানিফ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছেন।’ উনি (খালেদা জিয়া) বুঝতে পেরেছেন কারণ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তো, জনগণের আওয়াজ তিনি পাচ্ছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বিএনপি জামায়াত মিথ্যাচার করে বলছে, এ সফর ব্যর্থ। কীভাবে? তিস্তা চুক্তি হয়নি এ জন্য? আপনি তো রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, কীভাবে এমন কথা বলেন? তিস্তা চুক্তি তো এজেন্ডাতেই ছিল না। তাহলে সফর ব্যর্থ কীভাবে? তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের কাছে মোদি বলেছেন, ‘এ সরকারের আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে। কিন্তু আপনারা ইর্ষায় জ্বলেপুড়ে মরছেন। সরকারের ভাবমূর্তি, দেশের ভাবমূর্তি আপনারা চান না।’ হানিফ দলেন, আওয়ামী লীগ যে ক্ষমতায় যাবে, সেটি বুঝতে পেরেই বিএনপি এখন নির্বাচনে যেতে চায় না বলে অজুহাত তুলছে। নির্বাচনে না যাওয়ার একটা যৌক্তিক ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে বিএনপি। সরকারের সফলতায় ইর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করে তৃপ্তি লাভ করছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কি নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছেন? না হলে কয়দিন ধরে একতরফা নির্বাচনের কথা বলছেন কেন? আমরা কি একতরফা নির্বাচনের কথা কখনো বলেছি? বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নাছির আহমেদের সভাপতিত্বে সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমারশ্রন্ডল, শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, শ্রমিক লীগের ফজলুল হক মন্টু, বিসিএস পোস্টাল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী প্রমুখ।

নির্বাচনের ব্যাপারে কোন আবদার শুনবো না: নাসিম

নির্বাচনের ব্যাপারে কোন আবদার শুনা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, নির্র্বাচনে কে আসল, কে আসল না, এটা কোন ব্যাপার না। সংবিধান অনুযায়ি যথাসময়ে শেখ হাসিনার অধিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হোমিপ্যাথিক শিক্ষক ও চিকিৎসকদের সমাবেশে এ কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগনের প্রতি যদি আস্থা না থাকে তাহলে কেন রাজনীতি করেন? কেউ যদি দেশের জনগনের প্রতি আস্থা না রাখে তাহলে সে দোষতো আমাদের নয়। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করে তারাই এখন গণতন্ত্রের কথা বলে। আরা যাই হোক মানুষ হত্যাকারিদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। গণতন্ত্র ছাড়া কোন দেশ চলতে পারে না। এখন গণতন্ত্র আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্লোগানের রাজনীতি বন্ধ করে জনগণের সেবা করার জন্য ডাক্তারদের প্রতি আহবান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন না করে শুধু রাজনীতি করবেন, জয়বাংলা স্লোগান দিবেন তা হবে না। যার যা দায়িত্ব তা সঠিক ভাবে পালন করতে হবে। শুধু শ্লোগান দিলে চলবে না। ভুয়া ক্লিনিক ও ঔষধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চটকদার বিজ্ঞাপন নিয়ে যারা ভেজাল ঔষধ বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ভেজাল ঔষধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। হোমিপ্যাথিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দিলীপ রায়ের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সহজ হবে না : ফখরুল

বিএনপিকে বাইরে রেখে একাদশ সংসদ নির্বাচন করা সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি নিবন্ধন বাতিল নিয়ে শঙ্কিত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, গতবার একতরফা নির্বাচন করতে পারলেও এবার বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সহজ হবে না। কারণ, বিএনপি দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাই বিএনপিকে বাদ দিয়ে যদি আবারো নির্বাচন হয়, তাহলে সেটি দেশ-বিদেশ কোথাও গ্রহণযোগ্য হবে না।
 শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ফখরুল। নির্বাচনে যাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ‘পরিবেশ তৈরির’ বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনমুখী দল। আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচন করার জন্য তো উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সচেতনভাবে সেই পদ্ধতিকে নষ্ট করেছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য ভিন্ন আঙ্গিকে আজকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। এখানে কখনই কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।

আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে সঠিক সময়ে এই সরকারের রূপরেখা দেওয়া হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। এই সহায়ক সরকারের রূপরেখা কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল ফোকাস থাকবে কিভাবে একটি নির্বাচন করা যেতে পারে? নির্বাচনটা যেন দল নিরপেক্ষ হয়, সেই নির্বাচনে যেন জনগণ গিয়ে ভোট দিতে পারে, তার ভোট দেওয়ার অধিকারটা প্রয়োগ করতে পারে- এই বিষয়টা হবে প্রধান। সেটা নিঃসন্দেহে এই দেশ, জনগণ ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য-সেই ধরণেরই একটা প্রস্তাব দেওয়া হবে। বৃষ্টি-বর্ষণে ঢাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার বিষয়ে ফখরুল বলেন, এর মূল কারণ দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু কাজ হয় না। বিশেষ করে শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) নেই। যে কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই হাওড় অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করছে না। সরকারের উচিত হবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওড় অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির জন্য আলাদা কার্যালয়
সদ্য ঘোষিত ‘উত্তর’ ও ‘দক্ষিণ’ শাখার জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপি আলাদা কার্যালয় করছে বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা (নয়া পল্টন) দক্ষিণে (দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়) পড়েছে। তাই এটা দক্ষিণের অফিস। উত্তরের অফিস উত্তরেই (উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়) হবে। উত্তরের অফিস আলাদাভাবে তৈরি করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে আপাতত নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে মহানগর কার্যালয়ে দুই কমিটি কাজ করবে। দুই বছর আট মাস পর গত মঙ্গলবার ঢাকাকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন আংশিক কমিটি দেয় বিএনপি। নতুন কমিটির ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি, জনগণকে নিয়ে এই কমিটি আন্দোলন করতে পারবে।

নগর বিএনপির নতুন কমিটির কাজ শুরু
ঢাকা দক্ষিণ শাখার নতুন সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ নেতৃবৃন্দ  সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিবের হাতে ফুল দিয়ে ভাসানী ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন।

 

 

তৃণমূলের অন্তর্কোন্দল মেটাতে আওয়ামী লীগের তৎপরতা শুরু

মাহফুজ সাদি: দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূলে অন্তর্কোন্দল বিরাজ করছে। অভ্যন্তরীণ সেই দ্বন্দ্বের জেরে সহিংসতা ও প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটছে। এ নিয়ে প্রায়ই নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এজন্য বিরাজমান দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধান করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এর সাথে তারা বিরোধ নিষ্পত্তির সুপারিশমালাও দিয়েছেন। সেই আলোকে তৃণমূল নেতাদের কেন্দ্রে ডেকে সমাধানের তৎপরতা আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে। কোন্দলপূর্ণ জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কথা বলবেন। আওয়ামী লীগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ধারাবাহিক বৈঠক। এদিন চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার নেতাদের সাথে কোন্দল নিরসনের জন্যে বসবেন দলের সাধারণ সম্পাদক। আগামীকাল সোমবার ডাকা হয়েছে যশোর জেলার নেতাদের। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলার নেতাদের ডাকা হবে। তারপর নীলফামারীর নেতাদেরকে ডাকা হয়েছে ২৭ এপ্রিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে ডাকা হবে কোন্দলপূর্ণ অন্যান্য জেলার নেতাদেরকেও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক দৈনিক করতোয়াকে বলেন, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু জেলায় দলের নেতাকর্মীদের মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এর ফলে সহিংস ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। দলীয় প্রধানের নির্দেশ মতো দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধান করে সমাধান বের করার জন্য আমারা প্রতিবেদন ও সুপারিশ দলের সম্পাদকমন্ডলীর জমা দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জেলার নেতাদের কোন্দলের মূলে রয়েছে নেতৃত্বের দ্বন্দ, আধিপত্য বিস্তার, জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত স্বার্থ ইত্যাদি। এর ফলে তারা প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। দলীয় কোন্দলের কারণে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতাই শুধু নয়, জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে হার হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, কয়েকটা সাংগঠনিক জেলায় সমস্যা সমাধান করা গেলেও কিছু জায়গায় এখনও সমাধান করা যায়নি। আর বেশি বিরোধপূর্ণ জায়গার সমস্যা সমাধানের জন্য তারা কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বারস্থ হয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয় কমিটিই তা সমাধান করবে।

সূত্রমতে, কোন্দলের কারণে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনসহ সিলেটের ওসমানীনগর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হেরেছেন বিএনপির প্রার্থীর কাছে। তিনটি উপজেলাতেই ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ভুগিয়েছে নৌকার প্রার্থীকে। দলের দুই নেতার সম্মিলিত ভোট তিনটি এলাকাতেই বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর দেড়গুণ বা তার চেয়ে বেশি ছিল। এরপর জেলা পর্যায়ের কোন্দলের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ। সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় দলে শৃঙ্খলা না থাকলে বিরোধী পক্ষ সুযোগ নেবে-এই আশঙ্কা থেকেই মাঠে নামে ক্ষমতাসীন দল। আর এই প্রক্রিয়ায় সুফলও মিলেছে। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫২ টি এলাকার মধ্যে অল্প কিছু এলাকা ছাড়া সবগুলোতেই জিতেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেড়শ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছিল টেস্ট কেইস। এখানে আওয়ামী লীগের কোন্দল ছিল না। এবং নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ একাট্টা হলে এই মুহূর্তে নির্বাচনে কোনো দল হারাতে পারবে না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিরোধপূর্ণ সাংগঠনিক জেলার নেতাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। এর অংশ হিসাবে যেসব ইউনিটের কমিটি নেই, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে আমরা সংশ্লিষ্ট জেলা ইউনিটকে তাগাদা দিচ্ছি।

খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, সংগঠনকে অধিক শক্তিশালী ও গণমুখী করা ছাড়া আগামী নির্বাচনে ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। তাই দলের কোন্দল নিরসন করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। সবাই এক সাথে নিয়ে কাজ করতে আমরা চেষ্টা করছি। দলের স্বার্থে সবাই সকল দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। গত বুধবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। ওই সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকরা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কয়েকটি জেলার উপর সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন ওবায়দুল কাদেরের সামনে। এর প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের পাঁচ জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট জেলার থানার নেতাদের ঢাকায় ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

ছাত্রলীগকে স্বার্থরক্ষার পাহারাদার বানাবেন না: কাদের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ‘বেপরোয়া’ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠিন ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  একইসঙ্গে ছাত্রলীগকে স্বার্থরক্ষার পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রলীগকে নিয়ে এসব বক্তব্য দেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে অনুরোধ করব, ছাত্রলীগকে স্বার্থরক্ষার পাহারাদার হিসেবে ব্যবহার করবেন না।  তাতে আপনাদেরও ক্ষতি হবে, ছাত্রলীগেরও ক্ষতি হবে।  ঘরের মধ্যে আর ঘর করবেন না। নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে খেলার মাঠে সুইমিং পুল তৈরির বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ১৮ এপ্রিল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় নগর ছাত্রলীগ।  জেলা ক্রীড়া সংস্থা এই সুইমিং পুলটি নির্মাণ করছে, যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম ছাত্রলীগের সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতাকে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের সঙ্গে নাছিরের বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।  এর মধ্যে ছাত্রলীগকে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য এসেছে। সভায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কোন কাজ হলে সাংগঠনিকভাবে, প্রশাসনিকভাবে আমরা কাউকে রেহাই দেব না। ‘খারাপ খবরের শিরোনাম হওয়া যাবে না। 

সুনামের ধারায় ফিরে আসুন।  তা না হলে আরও কঠিন, আরও কঠোর ব্যবস্থা আমরা নেব।’ তিনি বলেন, আমরা এত উন্নয়ন, এত অর্জন, এত র্কীর্তি, এত খ্যাতিকে, শেখ হাসিনার কীর্তিকে গুটিকয়েকের অপকর্মের হাতে জিম্মি হতে দিতে পারি না। আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগকে নিয়ে এই বক্তব্য দেয়ার পর ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক কথা বললাম।  কেউ অসন্তুষ্ট হলে আমি দু:খিত।  তবে আমি যা বললাম দলের স্বার্থে বললাম, রাজনীতির স্বার্থে বললাম, আওয়ামী লীগের স্বার্থে বললাম।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সহ-সভাপতি ও রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন,  কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা এবং সীতাকু-ের সাংসদ দিদারুল আলম।

আন্দোলন ও নির্বাচন প্রস্তুতিতে তৃণমূলে বিএনপির ৪০ টিম

রাজকুমার নন্দী : দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করে তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালীকরণ ও সরকারি মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে সাংগঠনিক সফরে যাচ্ছে বিএনপি। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও আন্দোলনে যেতে চায় দলটি। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ৪০টি দল (টিম) গঠন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম-মহাসচিবদের টিম লিডার করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিজ জেলার বাইরের টিমের প্রধান করা হয়েছে। এসব টিমের নেতারা দেশব্যাপী ৮০টি সাংগঠনিক জেলা সফর করবেন।

গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী আজ শনিবার থেকে এই সাংগঠনিক সফর শুরু হবে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত চলবে। সফর শেষে টিম লিডাররা বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরে সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। পরে সব প্রতিবেদন সমন্বয় করে একটি সার্বিক প্রতিবেদন তৈরি করে দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে দেয়া হবে। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।    

সাংগঠনিক সফর প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- সাংগঠনিক ব্যাপারে কাজ করার জন্য বিভিন্ন জেলায় আমাদের দলের নেতারা যাবেন। আর সফর শেষে সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে কেন্দ্রের কাছে জমা দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও মহানগরে দ্রুতই কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

জানা যায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সফরে নেতাদের করণীয় সম্পর্কে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের নিয়ে কর্মিসভা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মিসভার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের তা অবহিত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার সব কেন্দ্রীয় নেতাকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। জেলার উদ্যোগে এসব কর্মিসভায় টিম প্রধানদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের অবস্থান ও দলের ঐক্য সম্পর্কে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত সাংগঠনিক সফর সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা ও মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত তার কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান। ফেনি জেলা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীও দ্রুত সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

ভবিষ্যৎ আন্দোলন ও আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়াই সাংগঠনিক সফরের লক্ষ্য বলে দৈনিক করতোয়াকে জানান যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের প্রধান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, নেতাদের মধ্যে ছোট-খাটো কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করে তৃণমূলকে চাঙ্গা করাও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলনের পর সরকারি মামলা-হামলা ও নির্যাতন-নিপীড়নে আমাদের সারাদেশের নেতা-কর্মীরা জর্জরিত। এই অবস্থা থেকে তাদের সক্রিয়-উজ্জীবিত করার অংশ হিসেবে এই সাংগঠনিক সফর। কারণ, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফলে আমরা পুনরায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চাই।

ভয় না দেখিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করুন: ফখরুল

নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ভয় না দেখিয়ে বিএনপিকে কিভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আনা যায়, সেই চেষ্টা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না বলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির এক প্রতিবাদ সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীসহ দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুনের প্রতিবাদে এ সভা হয়।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলব- বিএনপিকে কী করে নির্বাচনে আনবেন, সেই চেষ্টা করুন। বিএনপি নির্বাচনে না আসলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে, ওই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। সুতরাং বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন চাই। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কথা আমরা কখনো চিন্তাও করি না। কিন্তু সেই নির্বাচনে যাওয়ার জন্য তো একটা পথ লাগবে। আপনি ক্ষমতায় বসে থাকবেন, সমস্ত কল-কবজা নাড়বেন। ইলেকশন মেনিপ্যুলেটেড করবেন, আর আমাকে বলবেন- তুমি নির্বাচনে যাও, সেটি হবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সেই নির্বাচন হতে হবে। অন্যথায় এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শুধু ইলিয়াস আলী নয়, আমাদের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এই অপরাধ ক্ষমা করার নয়, যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত, তারা ক্ষমার যোগ্য নয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন থামানোর কৌশল হিসেবে এভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব জায়গায় নতুন কমিটি করা হচ্ছে। সবাই রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে সংগঠনকে বিস্তৃত করেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটির উদ্দেশে দলটির মহাসচিব বলেন, মহল্লায় মহল্লায় কমিটি করতে হবে। মহানগরে বিএনপির দুর্গ গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই সরকারকে বিদায় করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতিকে ‘প্রতিবন্ধী’ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভুটানে গিয়েছেন প্রতিবন্ধীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করতে। কিন্তু তার দেশের রাজনীতিকে যে তিনি পুরোপুরি প্রতিবন্ধী করে রেখে দিয়েছেন, মানুষকে সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছেন, সেই দিকে তার কোনো খেয়াল নেই। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরকেও ব্যর্থ দাবি করেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে এবং সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

 

পদ্মা সেতুতে ব্যর্থ হয়ে রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ড. হাছান

 পদ্মা সেতুতে ষড়যন্ত্রে সফল না হয়ে এখন রামপাল নিয়ে ষড়যন্ত্র করার পথ বেছে নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, কাল যিনি সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি এবং তাঁর সংগঠনসহ টিআইবি এবং জাতীয় তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা কমিটির অনেকেই পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠে পরে লেগেছিলেন। কিন্তু মামলায় বিশ্বব্যাংক হেরে যায়। এ মামলার রায়ের পরে আমরা তাদেরকে জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। রামপাল ইস্যুতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তখন একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ও সচিব গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের বক্তব্যই প্রমাণিত হয়েছে। রামপাল ইস্যুতে এখন যারা জাতি বিভ্রান্ত করে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এবারও সরকারের বক্তব্যই সত্য বলে প্রমাণিত হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, রামপাল নিয়ে তাদের অভিযোগ অনুমান নির্ভর, আবেগ এবং জ্যোতিষ বিদ্যা নির্ভর। বিজ্ঞান নির্ভর নয়। যারা অভিযোগ করছেন, তাদের শীর্ষ ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুমান কিংবা আবেগ নির্ভর নয়, ষড়যন্ত্র নির্ভর। যারা আবেগের কারণে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। তাদের আমরা সন্মান জানাই। তাদেরকে বিজ্ঞান নির্ভর কোন যুক্তি উপস্থাপনের আহ্বান জানাই। রামপাল নিয়ে সরকার দেশে-বিদেশে অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছে না- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন না। সুলতানা কামালের প্রতি সন্মান রেখে আমি বলছি, তিনিসহ যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তারাই জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এক্সিম ব্যাংক ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। তাই এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি বলেন, রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশাপাশের এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রথমে সুপার ক্রিটিকাল পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু সরকার অধিকতর নিরাপত্তার জন্য আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি করছে সরকার। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্সরিত ছাই কিনতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা এখনই যোগাযোগ করছে বলেও জানান হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বড় পুকরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সেখানখার ক্ষেতখামারের উৎপাদন না কমে, কোন কোন জায়গায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে। সনাতন পদ্ধতির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে যেখানে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয়নি। সেখানে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির কারণে ওইসব এলাকার কোন ক্ষতি হবে না। আওয়ামী লীগ নেতা হাছান বলেন, গতকালকের সংবাদ সম্মেলনে যেসব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত উপস্থাপন করেছেন, তাদের কয়েকজনকে আমি চিনি। পৃথিবীতে টাকা দিলে অনেক ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ পাওয়া যায় । রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরানোর সরকারের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সরকার প্রধান বলেছেন সকল প্রকার সুরক্ষা নিয়েই আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেতেছি। তাই এ প্রকল্প অন্যত্র সরানোর কোন সম্ভাবনাই নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলী, আবদুস সোবহান গোলাপ, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আব্দুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার‌্যনির্বাহী সদস্য গোলাম রাব্বানী চিনু, রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

বিএনপি না এলেও নির্বাচন হবে: নাসিম

বিএনপি না এলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করেই নির্বাচন হবে এবং বিএনপি না এলেও নির্বাচন হবে।

বুধবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচনে জনগণের মন জয় করেই মহাজোট ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতায় আসবে। ১৪ দল সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ের জন্য, জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করার মাধ্যমে উন্নয়নযুদ্ধে আছে এ সরকার সেই যুদ্ধ অব্যাহত রেখেই আগামীতে পুনরায় ক্ষমতায় আসবে মহাজোট সরকার। সেই নির্বাচনে কে এলো, কে এলো না, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন হবে ব্যালটের যুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তা হবে। নির্বাচনে কে এলো, কে এলো না, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। যে যত শ্লোগান তুলুক কাজ হবে না,এর কোন অর্থ  নেই আমাদের কাছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারকেই ক্ষমতা আসতে হবে। জনগণও এটা চায়। তা না হলে উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়বে, জনগণ আবারো অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। ১৪ দল আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে অংশ গ্রহণ করবে এবং জনগনের ভোটে বিজয়ী হবে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, আমাদের সামনে যুদ্ধ দুটি। একটি জঙ্গিবাদবিরোধী যুদ্ধ, আরেকটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত উন্নয়নের যুদ্ধ। যথাসময়ে এই যুদ্ধের সফল সমাপ্তি ঘটাতে নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার দেশকে যতটুকু এগিয়ে নিয়ে যায়, বিপক্ষের সরকার ততটুকুই পেছনে নিয়ে যায়। এই যে মিউজিক্যাল চেয়ার, এ থেকে দেশকে রেহাই দিতে হবে। তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, জঙ্গী দমনের যুদ্ধ চলছে এবং তা এখনও শেষ করা যায়নি। তবে এটা অনেক অগেই শেষ হয়ে যেতো যদি বিএনপি জঙ্গীদের আশ্রয় পশ্রয় না দিত। দেশ দু’টি যুদ্ধ চলছে। এটি হচ্ছে উন্নয়ন যুদ্ধ। অন্যটি হচ্ছে জঙ্গী দমনে যুদ্ধ। এ দুই কাজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে অনেকের মতে ভাব রয়েছে যে যুদ্ধটা যেনো এটা প্রধানমন্ত্রীর নিজের। আসলে এটা মহাজোট, ১৪ দলের সবারই যুদ্ধ।

জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, জাতীয় পার্টি (জে-পি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির জাকির হোসেন প্রমুখ। ‘জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ-উন্নয়ন সাফল্যকে  শ্লোনকারী দুর্নীতি-দলবাজি-দখলবাজি-অন্তর্কলহ ও অরাজনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহত করুন’ শীর্ষক সেমিনারের ধারণপত্র পাঠ করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি।

 

পানির দাবি জাতিসংঘে নেওয়ার আহবান বিএনপির

ভারতের সঙ্গে তিস্তাসহ ৫৮টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।  বুধবার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (সরকার) পানি আনতে ব্যর্থ হয়েছেন, জনগণের যে দাবি তা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে তিস্তা নদীর পানিসহ ৫৮টি অভিন্ন নদীর পানি হিস্যা পাওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘে তুলে ধরুন। জাতিসংঘকে এটার মধ্যে সংযুক্ত করে এই সমস্যা সমাধানে তাদেরকে সম্পৃক্ত করুন। পানির ন্যায্যা হিস্যার দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আমরা যে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলন কোনো নেত্রীর জন্য নয়, কোনো দলের জন্য নয়, এটা দেশের মানুষের অধিকার পাওয়ার আন্দোলন। এটা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন। আসুন আমাদের ন্যায্য পাওয়া আদায়ের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, সকল দল, ব্যক্তি সংগঠনকে আবার জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছি। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন হয়। ‘নতজানু’ পররাষ্ট্র নীতির কারণেই সরকার ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ‘দর কাষাকষি’ করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।

এই সরকার দেশের স্বার্থে কেন ব্যর্থ হচ্ছে? ব্যর্থতার একটি কারণ, তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত না, জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। সেজন্যই যারা তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে, তাদের কাছে তারা নিজের জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো সেভাবে তারা পেশ করতে পারছেন না, আদায়ও করতে পারছেন না। বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে হাওর অঞ্চলে বন্যার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমি নেত্রকোণা গিয়েছিলাম। উজান থেকে পানি এসে হাওর এলাকার ১০ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। মানুষ হাহাকার করছে, কোটি কোটি মানুষ দুর্গত হয়েছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, যেহেতু আমাদের কোনো চুক্তি নেই, তাদের যখন বন্যা হয়, তখন ভারত তার অঞ্চলের বাঁধগুলো খুলে দেয়, আমরা পানিতে তলিয়ে যাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। আজকে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছে। আজকে দেশের মানুষ একটা কারাগারের মধ্যে পড়ে গেছে। সেই কারাগার থেকে অবশ্যই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সরকারের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক, আপনারা নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং একই সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল জয়নাল আবেদীন, মহিলাদলের নেত্রী শিরিন সুলতানাসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

রাডার দুর্নীতি মামলায় এরশাদ খালাস

রাডার কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে দুই যুগ আগের এক মামলা থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ আসামিদের সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গতকাল বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার চার আসামির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ ছাড়াও বিমান বাহিনীর দুই সাবেক প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সুলতান মাহমুদ রায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন আদালতে। অপর আসামি ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা মামলার বিচার চলাকালে পলাতক অবস্থায় মারা গেছেন।

রায়ে বিচারক বলেছেন, কোন আসামি কীভাবে এই রাষ্ট্রীয় টাকা আত্মসাত করেছেন, সেটা প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্যে আসেনি। এ কারণে এই অভিযোগ ‘সন্দেহের উদ্রেক করে’। এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা সচিব এম এ আনিসুজ্জামান, তৎকালীন মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। এ কারণে সন্দেহাতীতভাবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণে ব্যার্থ হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক শাহজাদ আলী অন্যদের দায়ী করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাকে পরে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যে হাকিম শাহজাদ আলীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন, তাকে আসামিপক্ষ জেরা করার সুযোগ পায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।

১৯৯২ সালে দায়ের করা এ মামলায় দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। তাদের পক্ষে মামলা লড়া আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে পর্যালোচনার পর তারা উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

এরশাদ নির্বিকার, বাবলু খুশি
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এদিন আদালতে এসেছিলেন কালো সাফারি পরে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারতে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিচার কক্ষে প্রবেশ করেন। অবশ্য পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং কাজী ফিরোজ রশীদ তার আগেই সেখানে হাজির ছিলেন।

একদল নেতা-কর্মীকে এ সময় আদালত চত্বরে এরশাদের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দিতেও দেখা যায়। আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর ৮৭ বছর বয়সী এরশাদকে বসতে দেওয়া হয় আসামির কাঠগড়ার কোনায় একটি চেয়ারে। রায় ঘোষণার শুরুতে তিনি দৃশ্যত নির্বিকার ছিলেন। রায়ের পরেও তিনি কোনো কথা বলেননি। বিচারক আসামিদের খালাস দেওয়ার পর উপস্থিত জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ সম্বস্বরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ওঠেন। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি খুশি, খুব খুশি।’

মামলা পরিক্রমা
১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে। ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির ‘অত্যাধুনিক’ রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ওয়েস্টিন হাউজের রাডার কিনে রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষে ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ অগাস্ট এরশাদসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলেও ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত থাকে। আইনি বাধা কাটলে মামলা হওয়ার ১৮ বছর পর ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট শুরু হয় বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ। ২০১৪ সালের ১৫ মে এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখিত বক্তব্য দেন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। সেদিন অন্য দুই আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও সুলতান মাহমুদও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দেন।

সাক্কুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে : ফখরুল

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাক্কুর বিরুদ্ধে এই মামলা ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

এই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মহামান্য হাই কোর্ট তাকে জামিন প্রদান করেছেন। তারপরেও কীভাবে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারি করা হল তা বোধগম্য নয়। আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাক্কুর এই মামলা প্রত্যাহার করে মেয়র হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণের ‘আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার’ দাবি জানান ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব তার বিবৃতিতে বলেন, সরকার শুধুমাত্র ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ার কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা মামলায় বরখাস্ত করছে এবং নতুন করে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। সিলেট মহানগর, রাজশাহী মহানগর, খুলনা মহানগর ও গাজীপুর মহানগরগুলোর মেয়রদের মিথ্যা মামলায় বরখাস্ত করার মাধ্যমে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশনার পরও পুণরায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছিল। জনাব সাক্কুকে একইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

জনগণই এই সরকারকে বিদায় করবে : রিজভী

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘জুলুমবাজ সরকার’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন কোনো জুলুমবাজ সরকারকে ক্ষমতায় রাখেনি। তাই জনগণই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করবে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল মোহাম্মদপুর থানার কর্মিসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণ, নির্বাচন ও ভোটকে তালাক দিয়ে এখন জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন। জনমতকে অগ্রাহ্য করে নিজের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে দিল্লীর দরবারে দেশের সবকিছু উজাড় করে দিয়ে এসেছেন। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ তার (শেখ হাসিনা) সাথে নেই, আছে একমাত্র ভারত ও দিল্লী। সেজন্য তাদেরকে খুশি করতে হবে। এ কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তিনি দিল্লীর কাছে সঁপে দিয়েছেন, সমর্পণ করেছেন। এই ধরণের একটি জঘন্য-দেশবিরোধী কাজ করেছেন শেখ হাসিনা।

হেফাজতের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সরকার ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ সমাবেশে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে গুলি চালিয়েছিল। তাদেরকে ঢাকা থেকে বিতাড়িত করেছিল। সরকারের মন্ত্রিরা তখন বলেছিলেন, তেঁতুল হুজুর। অথচ আজকে যখন শেখ হাসিনা মাথা নিচু করে মাওলানা আল্লামা শফির দোয়া নিতে যাচ্ছেন, তখন তেঁতুল হুজুর হচ্ছে না? এরা আলেম-ওলামাদের লাঞ্ছিত করে, হত্যা করে। আজকে যখন শেখ হাসিনা দেখছেন- তার পায়ের তলায় মাটি নেই, তখন তিনি হেফাজতের কাছে যাচ্ছেন। এইটা হচ্ছে রাজনৈতিক ভন্ডামি। আওয়ামী লীগের মতো রাজনৈতিক ভন্ডামি আর কেউ করতে পারে না। ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘ক্রসফায়ার, গুম-খুন ও বন্দুকযুদ্ধের সরকার’ আখ্যায়িত করে রিজভী বলেন, এরা মানুষকে শান্তি-স্বস্তি দিতে পারে না। তাই এদের হাত থেকে দেশ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে, তাহলেই আমাদের মুক্তি নিশ্চিত হবে। অন্যথায় কারো কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা বক্তব্য দেন।

 

আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্রে সরকার : বিএনপি

সরকার আবারও একতরফা ভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীনরা হেফাজতকে বশে এনে কাছে টানার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ দলটির। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ করেন। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়কার আওয়ামী লীগের সব মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির প্রত্যেকটি মামলা আবার নতুন করে চালু করা হচ্ছে। এই সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই এই মামলা-মোকদ্দমা করে বিএনপিকে মোকাবিলা করতে চায়। আমরা সরকারকে বার বার বলেছি, আসুন- খোলা ও সমান্তরাল ময়দানে একসাথে খেলি। সেটার মধ্যে তারা নেই। আমাদের সবাইকে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে দিয়ে তারা একতরফা খেলতে চায়। কিন্তু এই খেলা কখনই এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি আগের অবস্থানেই আছে। হেফাজতের সব নয়, কিছু কিছু দাবিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করায় আমরা সেগুলোকে সমর্থন দিয়েছিলাম। বিএনপি এখনো সেই অবস্থানেই আছে। এ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান ডাবল স্ট্যান্ড (দ্বৈত নীতি) না। বরং ক্ষমতাসীনরা হেফাজতকে পিটিয়ে-পুটিয়ে এখন বলছে, এসো-বন্ধুত্ব করি। সরকার এখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে বশ করে কাছে টানার, সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করছে।


মির্জা ফখরুল দেশের হাওর অঞ্চলকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষকেরা তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা। এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় লাখ লাখ লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কোনো মন্ত্রীও ওই এলাকায় যাননি। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা লোক দেখানো ও অপ্রতুল। মির্জা ফখরুল সেখানে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো কৃষিঋণ মওকুফ, সুদবিহীন কৃষিঋণ প্রদান, বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণসহ কয়েকটি দাবি জানান। গত ১৫ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেজন্য পরিবেশ তৈরি, ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রাখবেন, মিথ্যা মামলা দেবেন- আর বলবেন যে, তোমরা নির্বাচনে যাও। তাহলে আমরা নির্বাচনে কিভাবে যাব? আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিলে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে সকল দলের সমান সুযোগ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে আমাদের একটা জরুরি বিষয় আছে, সেটা হচ্ছে-জলবিদ্যুৎ। যদি দেখি ভারতের মতো উনি (প্রধানমন্ত্রী) খালি হাতে ফিরে আসলেন, দিয়ে আসলেন সবকিছু- তখন সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মো. আলমগীর, আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাখাওয়াৎ হোসেন জীবন প্রমুখ।

 

জনস্বার্থ ইস্যুতে মাঠে নামতে চায় বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ইস্যু, সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে রাজপথে নামতে চায় বিএনপি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ দু’টি বৈঠকে দলটির নেতারা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজপথে নামার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও নেতারা জোটনেত্রীকে একই প্রস্তাব দেন। এছাড়া দল গুছিয়ে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে বেগম জিয়াকে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও। বিএনপি চেয়ারপারসনও সবকিছু গুছিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে দ্রুততম সময়ে রাজপথে নামার চিন্তাভাবনা করছেন। কর্মসূচি চূড়ান্ত হলে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি বড় জেলাগুলোয় সমাবেশ করতে পারেন তিনি। তবে সেটা পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সম্ভব নয়। অবশ্য এর আগে আগামী পহেলা মে ঢাকায় শ্রমিক সমাবেশে খালেদা জিয়া অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক সমাবেশের অনুমতির জন্য শ্রমিক দল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছে।

গত ডিসেম্বরে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার চিন্তা-ভাবনা ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের পর আগের সেই অবস্থান থেকে সরে আসে দলটি। বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলন সফল না হওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। তাছাড়া সরকারের মামলা-হামলা ও নির্যাতনে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এখনো এলাকাছাড়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করা প্রয়োজন। জেলায় জেলায় সম্ভব না হলেও অন্তত বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে ওই এলাকার নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা যাবে। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া তৃণমূলকে চাঙ্গা-উজ্জীবিত করা কঠিন হবে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারপারসনের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও চাঙ্গা করা সম্ভব হবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে উজ্জীবিত হলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া ঢাকার বাইরে সফরে যাওয়ার আগে দলের তৃণমূল পুনর্গঠন কাজও শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে অনেক জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোও দ্রুততম সময়েই দেয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

এদিকে, খালেদা জিয়া সরাসরি মাঠে না নামলেও তার নির্দেশে সরকারবিরোধী জনমত তৈরিতে নতুন কৌশলে পোস্টার ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে গত মাস থেকে দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ‘জাতীয় সম্পদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়ার ডাক’ সংবলিত ওই পোস্টারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ১৯টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দলের ৮০টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মাধ্যমে সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রচারপত্রটির লক্ষাধিক কপি সাঁটানো হয়েছে। দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

গত মাসে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপিপন্থী পাঁচজন বুদ্ধিজীবী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে খালেদা জিয়াকে জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে রাজপথে নামার পরামর্শ দেন তারা। কথিত সংস্কারপন্থীদের ফিরিয়ে নেয়াসহ দল গুছিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে জনগণের মাঝে যাওয়ার আহ্বান জানান। খালেদা জিয়াও সবকিছু গুছিয়ে দ্রুতই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে বুদ্ধিজীবীদের জানান। জানতে চাইলে ওই বৈঠকে থাকা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়ার উচিত জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, জনগণের সাথে কথা বলা। এ জন্য অবিলম্বে দল গুছিয়ে তার (খালেদা জিয়া) জনগণের মাঝে যাওয়া দরকার।

গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও খালেদা জিয়াকে রাজপথে নামার প্রস্তাব দেন দলটির নেতারা। ওই বৈঠকে নেতারা বলেন, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় আমাদের আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন তৃণমূলে গেলে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তির প্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে ১০ এপ্রিল স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দেশের জনগণ কিছুই পায়নি বলে মনে করে বিএনপি। দলটির দাবি, সফরে দেশের জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছে। বৈঠকে এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির নীতি-নির্ধারকরা। এ লক্ষ্যে বেগম জিয়াকে তারা আবারো রাজপথে নামার তাগিদ দেন। এছাড়া গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশবাসী কিছুই পায়নি বলে জোটের নেতারা মত দেন। এই ইস্যুতে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে জোট নেতারা খালেদা জিয়াকে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলোতে সমাবেশ করার প্রস্তাব দেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ দলীয় জোটের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টিতে জোটনেত্রীকে আমরা ঢাকার বাইরে একাধিক সমাবেশের প্রস্তাব দিয়েছি। তবে ঈদুল ফিতরের আগে এসব সমাবেশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল। দলটি সবসময় জনগণের জন্যই কাজ করে থাকে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারপারসনের ঢাকার বাইরে সফরের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হলেই উনি (খালেদা জিয়া) ঢাকার বাইরে সফরে যাবেন।

 

খালেদা জিয়ার টুইট সব গুম-খুনের রহস্য উন্মোচনের অঙ্গিকার

সব গুম-খুনের রহস্য উন্মোচন এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গিকার করে টুইট করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের সিলেট বিভাগীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পাঁচ বছর পূর্তির দিনে গতকাল সোমবার বিকেলে এক টুইটার বার্তায় এই অঙ্গিকারের কথা জানান তিনি। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও মেয়ের ছবি দিয়ে এ টুইটটি করেন বিএনপি প্রধান। টুইটার বার্তায় খালেদা জিয়া লিখেছেন, ‘আমাদের অঙ্গিকার- সব গুম-খুনের রহস্য উন্মোচন এবং বিচারের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের সাজা নিশ্চিত করব।’ ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানীর রাস্তা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। পুলিশ পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করে।

 

 

ঐক্যবদ্ধ হলে অপশক্তি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না : ফখরুল

‘নিজেরা ও জাতীয় শক্তি’ ঐক্যবদ্ধ হলে বর্তমান ‘অপশক্তি’ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নেত্রকোনায় গিয়ে মানুষের সাড়া দেখে তার এই বিশ্বাস জন্মেছে যে- আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং জাতীয় শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তাহলে এই অপশক্তি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় বন্যা কবলিত নেত্রকোনার হাওড় অঞ্চলের মানুষের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পাঁচ বছর পূর্তির দিনে সিলেট বিভাগ সংহতি সম্মেলনী, ঢাকা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইলিয়াস আলীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ইলিয়াস আলীর মতো বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকেও গুম করা হয়েছে। এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আসুন, আমরা সবাই শপথ গ্রহণ করি-যেকোনো মূল্যে আমাদের গণতন্ত্র ও  মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনবো, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবো। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তার পানি আনার ক্ষমতা এই সরকারের নেই। কারণ, তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। দর-কষাকষি করার ক্ষমতা নেই। প্রধানমন্ত্রী বলতে পারতেন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে অন্য চুক্তিও হবে না। এই নতজানু, সেবাদাস সরকার দিয়ে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা পাওয়া যাবে না, আমাদের জনগণের কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না।

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে তুলে ধরার জন্য পরিবারসহ আয়োজক সংগঠনকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। বিএনপি ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে আরও শক্ত ভূমিকা নিতে পারত, এমন মন্তব্য করে দলটির মহাসচিব বলেন, সে সময় একটা সফল অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। এরপর আন্দোলন থিতিয়ে পড়ে। সবচেয়ে কার্যকর হতো যদি সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে বারবার যাওয়া যেত। নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা দেশে একটি নির্বাচন চাই, সেই নির্বাচন দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশে এই গুম-খুনের রাজনীতি। বিএনপির নেতাদের আজকে হয় জেলে দেবে, না হয় গুম-হত্যা করবে অর্থাৎ বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করবে। আমি বলতে চাই, বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য যারা আওয়ামী লীগকে বুদ্ধি দিচ্ছে, একদিন তারাই আওয়ামী লীগকেও নেতৃত্বশূন্য করবে- এটা তারা বুঝতে পারছে না। এখনো সরকারকে বলব- সঠিক পথে আসেন, দেশকে ভালোবাসেন। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে আমাদের হাজারো ইলিয়াস আলী দরকার। গ্রামে-গঞ্জে, পথে-প্রান্তরে, ঘরে-ঘরে আমাদের ইলিয়াস আলী প্রয়োজন। একটি আন্দোলন, একটি সংগ্রাম, একটি যুদ্ধ আমাদের করতেই হবে। সেই যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন রাখতে হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদী লুনা উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি।

মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানেন না: হানিফ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানেন না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে তারা (বিএনপি জোট) আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলো। এটার নাম কি গণতন্ত্র ছিল।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন হানিফ। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থেকেও ৯০দিন পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। এটার নাম গণতন্ত্র হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে খালেদা জিয়া বললেন, আওয়ামী লীগ আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার জন্য বাইরের শক্তির সমর্থনের জন্য পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করেছে। তারা ধরেই নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরবর্তী আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। যেহেতু তারা এটা ধরেই নিয়েছেন সেহেতু নির্বাচনের জয় পরাজয়ের নতুন করে হিসাব নিকাশের দরকার নেই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ারুল করিম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতায় এলে গুম-খুনের জন্য আওয়ামী লীগের বিচার : আমীর খসরু

ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ বিএনপির গুম হওয়া নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি হঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এদের হিসাব-কিতাব আওয়ামী লীগকে বুঝিয়ে দিতে হবে। তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে এসব গুম-খুনের জন্য আন্তর্জাতিক মানদন্ডে আওয়ামী লীগের বিচার হবে।

রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমীর খসরু। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার প্রতিবাদ ও তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এ সমাবেশ হয়। বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম-খুনের যে বিচার করবো, সেটা আন্তর্জাতিক মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে করবো। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জুরিস্টগণ এখানে যোগ দেবেন, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিচারকরা এখানে জড়িত থাকবেন। তিনি বলেন, আজকে বিরোধী দলকে গুম-হত্যার মাধ্যমে দমন করা হচ্ছে। এটি বিশ্ববাসী সবাই জানেন। সুতরাং গুম-খুন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটা থেকে বাঁচার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার দল (আওয়ামী লীগ) অনেক কাজ করছে। হেফাজতের সঙ্গেও সম্পর্ক করছে।

হেফাজতের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আমীর খসরু বলেন, এখন আওয়ামী লীগের অবস্থাটা এমন হয়েছে যে- ফাউল করতে করতে একটা সময়ে তারা (ক্ষমতাসীনরা) নিজেরাই নিজেদের পোস্টে গোল দিয়ে দেবে। তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিসাব হতে হবে, আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে এটার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে, এটাকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমদের অবিলম্বে ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথায় চরম মূল্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আজ ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। এদিনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির ভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে ষোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এইদিন থেকে এই স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বদেশ ভূমি থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের লক্ষে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বানী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বানীতে বলেন, ‘বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের নিকট সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের তরুণ প্রজš§ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি গঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে এই প্রত্যাশা করি।’ প্রধানমন্ত্রী তার বানীতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশবাসীকে জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী- সমৃদ্ধ স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের  জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের  মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করব, ইনশা-আল্লাহ।’

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বে-আইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়-নীতি বর্হিভূত এবং বিশ্বাস ঘাতকতামূলক যুদ্ধ শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়।

নবজাত রাষ্ট্রের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের লক্ষে অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। অবশেষে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত দিনটিকে প্রতিবারের ন্যায় সমগ্র দেশবাসীর সাথে একত্রিত হয়ে এবারও আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহ যথাযথ মর্যাদার সাথে স্মরণ ও পালন করবে।


আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: আজ সোমবার ভোর  ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও কেন্দ্রীয় এবং দেশের সকল জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১০টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সকাল সোয়া ১০টায় গার্ড অব অনার। সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুরের মুজিবনগরে শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 



Go Top