দুপুর ২:৫০, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটি।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গত রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

অনুষ্ঠানে সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা জানি না- সরকার আমাদেরকে এই সমাবেশ করতে দেবে কি দেবে না। আমরা চাইব, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা আমাদেরকে এই সমাবেশটি করবার জন্য অনুমতি দেবে। এদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে আবেদন করেছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দৈনিক করতোয়াকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্রের মুখোশে ‘এক ব্যক্তি’র শাসন চলছে, এমন অভিযোগ করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে একটা খারাপ সময়, সবচেয়ে খারাপ সময় চলছে। যারা এখন দেশ শাসন করছে তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। শুধু একদলীয় বললে বোধহয় ভুল বলা হবে, এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। গোটা দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখানে মানবাধিকার-জবাবদিহিতা বলতে কিছু নেই। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফখরুল। এ সময় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিএনপির মহাসচিব। ২০ মে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনা সম্পর্কে ফখরুল বলেন, এই আক্রমণ দেশনেত্রীর কার্যালয়ের ওপর আক্রমণ নয়, এটা গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ। এটা অশনি সংকেত। গুলশানের ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে দলের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির পর পুলিশ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী গ্রেফতারের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশও করেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রতিদিন নতুন নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব মোকাবিলা করতে আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় দলকে সংগঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমাদের রাজপথ ছাড়া কোনো পথ নেই। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ছাত্রদলের রাজিব আহসানসহ বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্য প্রয়াত জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সহধর্মিণী সাহেরা হোসেনসহ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নিহত নেতা-কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

ইভিএমে আপত্তি জানিয়ে সিইসিকে বিএনপির চিঠি

 

 

নির্বাচনে ব্যালটের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের আপত্তির বিষয়টি এবার চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)কে জানিয়েছে বিএনপি। দলটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধী। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসি কেএম নূরুল হুদার কাছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তুলে দেন।

পরে প্রতিনিধি দলের নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিইসিকে বলেছি- ইভিএম আমরা চাই না। (আগামী সংসদ নির্বাচনে) এর ব্যবহার যেন না হয়। তিনি আরো বলেন, দলের মহাসচিবের চিঠি দেওয়ার পর সিইসিকে তারা বলেছেন- বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে ইভিএম পরিত্যাগ করছে, সেখানে বাংলাদেশে তা চালু করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, এখানে ডিজিটাল কারচুপির শঙ্কা রয়েছে। সিইসি আমাদের বলেছেন, এটা একটা নতুন পদ্ধতি; এটা নিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। কমিশন বলছে, কেউ আপত্তি করলে ইভিএম তারা ব্যবহার করবে না। এখন পর্যন্ত যা বুঝলাম তাতে আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই।

সিইসির সঙ্গে আলোচনায় ইভিএম নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ব্যালট পেপারের ভোট আরও সুচারু করা এবং আইন সংস্কার নিয়ে মতামত দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ব্যালটে ভোট আরও সুষ্ঠু করার জন্য আরপিও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আইন সংস্কার নিয়ে আমরা কথা বলব। সিইসি বলেছেন- ইসির প্রস্তাবিত সংস্কার বইয়ের মতো করে রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে পাঠানো হবে, সংলাপে তাদের মতামত নেবেন। আমরা সেখানে পরামর্শ দেব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা জানান, ইসির সংলাপে আসবেন তারা। আমরা আসব, আলোচনা করব। শুধু আমরা নই; সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাবেন। আমরা নির্বাচন চাই, নির্বাচনেও অংশ নেব। তবে এর জন্যে পরিবেশও চাই। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা সুজা উদ্দিন ও ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

আওয়ামী লীগে যোগ দিতে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে: কাদের

 

অন্য দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হলে আগ থেকে কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে চলমান নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান কাদের। গত শনিবার আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিভিন্ন জেলার নেতারা দলের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জামায়াতের কাউকে দলে না ঢোকাতে নেতাদের সতর্ক করে দেন।

সভাপতির ওই হুঁশিয়ারির পর ওবায়দুল কাদেরের এ নির্দেশনা এল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দলে কোনো ভাবেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আসতে পারবে না।
দল ভারি করতে অন্য কোনো দল থেকে লোক ভেড়ালে সেটা গ্রহণ করা হবে না, নেওয়া হবে না। কেন্দ্রের অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য দলের কেউ গ্রহণযোগ্য হবে না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ মোকাবেলা’ দলের প্রধান লক্ষ্য থাকবে বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের। তিনি বলেন, সম্পাদকমণ্ডলীর জরুরি বৈঠকে আমরা কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরমধ্যে একটি হল- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার এজেন্ডা। বিএনপি ও জামায়াত থেকে ইতোমধ্যে যেসব সদস্য দলে ঢুকেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন সদস্যপদ নবায়ন ও সংগ্রহের সময় সাংগঠনিক সম্পাদকরা তা যাচাই-বাছাই করবেন। ‘দেশে অপরাজনীতি চলছে’ দাবি করে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক এক টুইট বার্তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, আমি বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি- বাংলাদেশে অপরাজনীতির সূচনা আপনার হাতে। আপনার মুখে এ ধরনের বড় বড় কথা মানায় কী? মানায় না। আসন্ন রমজান মাসে জনভোগান্তি এড়াতে বিদ্যুৎ, ওয়াসা ও জ্বালানি কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। রোজার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন নিশ্চিত হয়, ওয়াসার পানি পেতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, গ্যাস সরবরাহ যেন বিঘœ না হয় এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দীপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মোজাম্মেল হক ও মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বৈঠকে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশ বেআইনিভাবে তল্লাশি চালিয়েছে অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।  রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।
ফখরুল বলেন, বিএনপি যখন দেশে একটা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার উদ্যোগ শুরু করেছে, ‘ভিশন-২০৩০’ দিয়েছে; এরপর গুলশানে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেত্রীর কার্যালয়ে যে আগ্রাসন হয়েছে- এটা নজিরবিহীন ঘটনা। এই ধরণের ফ্যাসিবাদী আক্রমণ দেশে গণতন্ত্রের ন্যূনতম ভবিষ্যৎ বিনষ্টের একটা পাঁয়তারা এবং এটা উস্কানিমূলক আচরণ।

এটা রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। এ থেকে আবারও প্রমাণিত হলো, এই সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং জনগণের অধিকারকে হরণ করছে। সিআরপিসির ৯৬ ও ১০৩ ধারা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই আইন মেনে তল্লাশি করা হয়নি। কারণ, এ রকম তল্লাশি করতে হলে স্থানীয় দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি অবশ্যই থাকতে হবে। এখানে দেখা যাচ্ছে, গণ্যমান্য ব্যক্তি কাউকেই অবহিত করা হয় নাই। এছাড়া আইন অনুযায়ী, যে ভবনটি তল্লাশি করা হবে- সেই ভবনের মালিক কিংবা সেই ভবনে যারা থাকেন, তাদেরকেও অবহিত করতে হবে। কিন্তু সেটাও মানা হয়নি। তিনি আরো বলেন, তল্লাশির পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জেনেছি, তারা (পুলিশ) কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি তো নেননি, বরং ওই অফিসে যে দুইজন পিয়ন ছিলো, তাদেরকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তল্লাশি করেছে। এসব কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি নিয়ে দলের সিনিয়র আইনজীবীরা আলোচনা করে ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ নেবেন বলে জানান জয়নাল আবেদিন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।


 

অপরাজনীতি বিদায় করতে চাই : খালেদা জিয়া

গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির একদিন পর  রোববার ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি বলেছেন, পুলিশকে অকারণে অপব্যবহার করে বিরোধী দলের অফিস তছনছ করার মতো অপরাজনীতিকে আমরা বাংলাদেশ থেকে বিদায় করতে চাই। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আকস্মিক তল্লাশি চালায় পুলিশ। আদালতের পরোয়ানা নিয়ে তল্লাশির কথা জানালেও শূন্য হাতেই ফিরে যান তারা।

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের নিষ্ফল অভিযান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেড় ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে এই অভিযানে পুলিশ কিছুই পায়নি।  শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় আকস্মিকভাবেই বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় বিএনপির কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না। অভিযান চালানোর সময় পুলিশ বলেছিল, আদালতের পরোয়ানা নিয়েই তারা অভিযান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা একটি জিডির ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য পুলিশ এই অভিযান চালিয়েছে। এদিকে, খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে গুলশান-২ এর ৮৬ নম্বর সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। এক ঘণ্টা পর সকাল আটটার দিকে কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকেন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা তল্লাশি শেষ করে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খালি হাতে ফিরে যান তারা। এ সময় তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

তল্লাশি শুরুর আগে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ওই এলাকায় সাধারণ কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওই কার্যালয়ের কর্মী সোহরাব হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যরা প্রথমে কার্যালয়ের সামনের ৮৬ নম্বর সড়কের দুই প্রান্ত আটকে দেয়। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। এর আগে, প্রধান ফটকের তালা ভেঙে পুলিশ কার্যালয়ে ঢুকে। ঢুকেই তারা কার্যালয়ের চারজন কর্মীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। আর চলে যাওয়ার সময় পুলিশ ভাঙা তালাটিও নিয়ে যায়। তল্লাশিকে ঘিরে ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দেখা গেছে।

এদিকে, অভিযানের আগে গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এই কার্যালয়ের ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কিছু আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের কাছে আদালতের নির্দেশনা আছে। ওয়ারেন্ট রয়েছে, সেই অনুযায়ী তল্লাশি শুরু করেছি। তবে অভিযানের পর ওসি আবু বকর বলেন, যে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়, সে রকম কিছু পাওয়া যায়নি। অভিযান শেষে সকাল পৌনে ১০টার দিকে সড়কে বসানো ব্যারিকেড তুলে নেয় পুলিশ। তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-কমিশনার মোস্তাক আহমেদ। তল্লাশির পর পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপিকে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। পুলিশের গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই ‘তালিকায়’ তল্লাশিতে প্রাপ্ত মালামালের পরিমাণ ‘শূন্য’ বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশের তল্লাশি শেষে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, নিচের তলা ও দোতলায় দু’টি সিসি ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে। আর মূল কলাপসিবল গেটটি খোলা ছিল। কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, এই গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে। এরপর একতলা ও দোতলার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একতলার নয় নম্বর কক্ষটির দরজার লক খুলে তল্লাশি তৎপরতা বেশি ছিল। তবে লক ভাঙা পাওয়া গেলেও কাগজপত্র তেমন এলোমেলো ছিল না। বেশ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, পুলিশের সঙ্গে মিস্ত্রি ছিল। এই মিস্ত্রিদের দিয়েই তালা ভাঙা হয়। আর ফাইলসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন পুলিশ সদস্যরা। দোতলায় তল্লাশি চালালেও খালেদা জিয়ার কক্ষে ঢোকেনি পুলিশ।

এদিকে, অভিযানের খবর পেয়ে সকাল নয়টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে প্রথমে উপস্থিত হন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তিনি কার্যালয়ের ভেতর যান। এর মিনিট বিশেক পর দলের আরেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর আসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নাল আবেদিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। এ সময় রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যাওয়ার সময় বলে গেছে- তল্লাশি অভিযানে প্রাপ্তি শূন্য। পুলিশের এই অভিযানকে ‘পুলিশি হানা’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানান বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম-মহাসচিব। তিনি বলেন, এই হানা সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে সার্চ ওয়ারেন্ট করিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এই অভিযান চালানো হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে। সারাদেশে খুন-গুম-হত্যা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা ব্যর্থতা আড়াল করতেই সরকার এই অভিযান চালিয়েছে। তবে দলের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পরে বিএনপির নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এই জিডির কপি দেখান। জিডিতে সময় হিসেবে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট লেখা ছিল। তবে গুলশান ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও কোথায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় তা লেখা ছিল না। জিডিতে লেখা রয়েছে, গুলশান-২ নম্বরের ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি এবং এর আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রবিরোধী ও আইন-শৃঙ্খলাপরিপন্থী, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বিনষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের স্টিকার ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে  সামগ্রী মজুতের খবর গোপন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই দিন আগে খালেদা জিয়ার এই কার্যালয়ে তারা এক ট্রাক বই আনার খবর পেয়েছেন। সেই বইকে ঘিরে তাদের সন্দেহ হচ্ছিল।

প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি
খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আজ রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।  শনিবার সকালে দেড় ঘণ্টার তল্লাশি অভিযানের পর দুপুরে সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভা থেকে রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই তল্লাশি কাপুরুষোচিত, অন্যায় ও আওয়ামী লীগ সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এহেন ঘটনার আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচি : জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং শ্রমিক দলও একই ইস্যুতে আজ রোববার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনগুলোর পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

তল্লাশির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ : সকালে তল্লাশি অভিযানের সময় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে যুবদল এবং শফিউল বারী বাবু ও আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন। দুপুরে কাকরাইলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলও। এছাড়া বিকেলে বিজয়নগরে সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

২০ দলীয় জোটের নিন্দা : বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির তীব্র নিন্দা
ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোটের নেতারা। পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট শরিক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও মহাসচিব আমিনুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান ও মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি এবং ন্যাপ ভাসানীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গোলাম মোস্তফা আকন্দ এই নিন্দা জানান।

 

মহাজোটের ছাতার নিচে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে: ইনু

মহাজোটের ছাতার নিচে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাসদ প্রতিনিধিদের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাসানুল হক ইনু বলেন, মহাজোটের ভেতরে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। মহাজোটের ছাতার নিচে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে, শরিকদের প্রতি অবহেলা করা উচিত না। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিপজ্জনক রাজনৈতিক অপশক্তির কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। রাজাকার চক্র নির্বাচন কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, ২০৩০ সালের ভিশনে খালেদা জিয়া সুকৌশলে যুদ্ধপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। সংবিধানের ওপর বিএনপি জামায়াত গোষ্ঠী আক্রমণ করেছিলো। দেশে মিউজিক্যাল খেলা চলছে। একবার স্বাধীনতার পক্ষে শক্তি ক্ষমতায় থাকে একবার যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের শক্তি। এ মিউজিক্যাল খেলা বন্ধ না হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনের নামে রাজনীতির মাঠ গরম করে যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করছে। জাতীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। ২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে রেখে জাসদকে বহুমাত্রিক কৌশল নিতে হবে। এ সময় জাসদ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম।

সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : বিএনপির ভবিষ্যৎ রূপকল্প ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণার পর এবার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা এই দলটি। যদিও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্প ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে ইশতেহারের আগেই নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদুল ফিতরের পরপরই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই রূপরেখা ঘোষণা করবেন। আর ভিশন-২০৩০’র আলোকেই তৈরি হচ্ছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, যেটা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগে ঘোষণা করা হবে। এদিকে, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ‘ভিশন-২০৩০’ রূপকল্পে কোনোকিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন পড়লে সেটাও করবে বিএনপি। আর সেটা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগেই করা হবে। এই রূপকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি দলিল-সনদ হিসেবে রাখতে চায় দলটি। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


জানতে চাইলে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন ঈদের পরপরই এই সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। কী ধরণের সহায়ক সরকার বিএনপি প্রত্যাশা করে, রূপরেখায় সেটা স্পষ্টভাবে বলা হবে। পরে এ নিয়ে কী আলোচনা-সমালোচনা হয়, তা-ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর নির্বাচনের এক বা দুই মাস আগে ঘোষণা করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার, যেটার কাজও এগিয়ে চলছে।

বিএনপির ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে- বিএনপি এটা নিয়ে সকলের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, উন্মুক্ত রাখতে চায়। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেকোনো পয়েন্টে পরিবর্তনের প্রয়োজনে যদি ঐকমত্য হয়, তাহলে নিশ্চয় সেই পরিবর্তন আনা হবে। সব সতর্কতার পরেও ভুল হতেই পারে। সুতরাং রূপকল্পে জরুরি সংশোধনের প্রয়োজন হলে নিঃসন্দেহে তা করা হবে।


বিএনপি ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চায়, সেটার ওপর ভিত্তি  করে ৩৭টি ইস্যু ও ২৫৬টি দফা নিয়ে গত ১০ মে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করে। এই রূপকল্পের পক্ষে জনমত সৃষ্টি ও জনগণের কাছে তুলে ধরতে কর্মিসভা, সেমিনার, সুধী সমাবেশসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীতে ইতোমধ্যে দিনব্যাপী শিক্ষা বিষয়ক সেমিনারও হয়েছে। সেখানে দলের চেয়ারপারসনসহ শিক্ষাবিদরা বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানের সুপারিশমালা যুক্ত হবে ইশতেহারে। এছাড়া স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়েও সেমিনার করবে বিএনপি। সবগুলোতেই উপস্থিত থাকবেন বিএনপি প্রধান। সেখানে উঠে আসা প্রস্তাবগুলোও নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত হবে। এদিকে চিঠিসহ রূপকল্পের একটি কপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দ্রুতই পাঠানো হবে। এ প্রক্রিয়ায় কারও কোনো যুক্তিসঙ্গত-গ্রহণযোগ্য মতামত থাকলে তা সংগ্রহ করে ভিশন ও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিশন-২০৩০’র আলোকেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি। ভিশনে প্রতিটি ইস্যুর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলেও ইশতেহারে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকবে। নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে বিএনপি ভিশনের কী কী বাস্তবায়ন করবে, তা থাকবে ইশতেহারে। ইশতেহারের নানা দিক নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কথা বলেছেন দল সমর্থিত কয়েকজন বুদ্ধিজীবী।

আরো জানা গেছে, ইশতেহারে অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চমক থাকবে। কম সময়ের মধ্যে বড় ধরণের অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানোর বিশেষ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। রাজনীতিতেও ইতিবাচক আমূল পরিবর্তন আসবে। ইশতেহারের জন্য একটা ভালো সেøাগানও খুঁজছে দলটি। এজন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বায়নের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদের আকৃষ্ট করতে নানামুখী উদ্যোগ থাকছে ইশতেহারে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিকে। বিভক্তি ও বিভাজনের রাজনীতির অবসান, বিরোধী দলকে সত্যিকার অর্থেই বিকল্প সরকারের মর্যাদা দেওয়াসহ ইতিবাচক সব অঙ্গিকার থাকছে এ নির্বাচনী ইশতেহারে।


এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল, যারা সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনের জন্য ইশতেহার অবশ্যই দেওয়া হবে। ইশতেহারে ভিশন-২০৩০ এর নানাদিক গুরুত্ব পাবে। তবে বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভিশন-২০৩০’র সংযোজন-বিয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিশন-২০৩০ উপস্থাপনের সময়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমেই বলেছেন- এটাতে আপনারা মতামত দেবেন। আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটাকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান ফখরুল।


বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হলে শক্তিশালী-স্বাধীন নির্বাচন কমিশনও কখনো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে না। তাই অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের প্রয়োজন; যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ-অভিলাষ থাকবে না, নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও তাদের নিজস্ব কোনো স্বার্থ থাকবে না।

জানা গেছে, সহায়ক সরকারের রূপরেখায় বেশকিছু বিকল্প প্রস্তাব থাকতে পারে। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন সময়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা গুরুত্ব পাবে। তবে জামায়াতকে নিয়ে নানামুখী সমালোচনার কারণে নিবন্ধন বাতিল হওয়া ২০ দলীয় জোটের শরিক এই দলটিকে বাইরে রেখেই কৌশলে দেয়া হতে পারে ওই প্রস্তাব। এছাড়া ক্ষমতা হ্রাস করা সাপেক্ষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও আগামী নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকতে পারে প্রস্তাবে। সেক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ না করার শর্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ওই সরকারের প্রধান থাকতে পারবেন। এছাড়া রূপরেখায় সংবিধান সংশোধন করে নতুন কাঠামোয় নির্বাচন দেয়ার প্রস্তাবও আসতে পারে। বিএনপি মনে করছে, সংবিধানে এ ‘সহায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। কারণ, তারাই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। তাছাড়া বর্তমান সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই আইন পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুধু সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

বিএনপির গণতন্ত্র আসলে মেজিকের তাস: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়ুদল কাদের বলেছেন, বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের বুলি ‘ভূতের মুখে রাম নাম’। বিএনপির গণতন্ত্র আসলে মেজিকের তাস।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইউরো আসিয়ানো রমনা গ্রিন রেস্তোঁরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হল শাখার ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কথায় কথায় রং বদলায়। কখনো বিবি, কখনো গোলাম। তাদের গণতন্ত্র আসলে মেজিকের তাস। তাদের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল, রাতের বেলায় কারফিউ আর দিনের বেলায় খাল কাটা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করল গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে। কিন্তু গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে তারা ১৬৫ জন মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করল। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালালো। রাস্তা ও গাছ কেটে ফেলল। শিক্ষক ও ছাত্রদের অন্ধ করে দিল। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ দেখে খালেদা জিয়া গদ গদ হয়ে ঢাকাবাসীকে তাতে যোগ দিতে আহ্বান জানালো। এর পর বায়তুল মোকররমে মসজিদে আমরা আগুণ জ্বলতে দেখলাম। কোরআন শরীফ পুড়তে দেখলাম। এটা কি বিএনপির গণতন্ত্র? পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মারা কি তাদের গণতন্ত্র?

হাওড় অঞ্চলের দুর্গত মনুষের ত্রাণ নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা হাওড় নিয়ে এতো কথা বললেন। কিন্তু তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কি একবারের জন্যও হাওড়ে গিয়েছেন। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একবার হাওড় অঞ্চলে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দুর্গত মানুষদের কোনো সাহায্য দেননি। বরং যারা সাহায্য নিতে এসেছিলেন, তারা খালি হাতে ফিরে গেছেন। তিনি গিয়েছিলেন সেখানে ফটো সেশন করতে। এর পর ঢাকায় এসে এটা নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। এটাই তাদের রাজনীতি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমরা ছাত্র রাজনীতিকে আকর্ষনীয় করতে চাইলে, আগে নিজেদের আকর্ষনীয় করতে হবে। নৈতিকতা দিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে আকর্ষনীয় করতে হবে। সাধারণ মানুষ নেতাদের সামনে কিছু বলে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তীতে রাজনীতির ক্ষতি হয়। তবে মাঝে মাঝে ছাত্রলীগের কিছু কিছু ঘটনা আমাদের লজ্জায় ফেলে। এগুলো করা যাবে না। সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ২৮ বছরে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন না হয়েছে তা গত ৩ বছরে বেশি হয়েছে। দারিদ্রতা নির্মূলে ভারতের চেয়েও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। এ মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক শামসুনাহার চাপা, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ঢাবির শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

 

সেই ষড়যন্ত্রকারীরা এখন আপনার সঙ্গে কেন? শেখ হাসিনাকে রিজভী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীদের দায়ী করলেও তখন বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারীদের এখন সঙ্গে রাখার কারণ জানতে চেয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শেখ হাসিনার বক্তব্যের একদিন বাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্ন রাখেন তিনি।  

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা আপনার বাবার রক্ত ডিঙ্গিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সেই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন; তারা ১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে কী করে আপনার অধীনে রাজনীতি করলেন, এমপি হলেন, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হলেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন? এ সময় আওয়ামী লীগের এইচ টি ইমাম, কেএম সফিউল্লাহ, আবদুল মালেক উকিলের পাশাপাশি তৎকালীন ন্যাপ নেতা মতিয়া চৌধুরী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সরকারপ্রধান গত বুধবার যে বক্তব্য রেখেছেন, সেখানে তিনি কিছুটা হলেও উপলব্ধি করেছেন যে- ১৫ অগাস্টের হত্যাকান্ডের সাথে আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন। তবে একইসঙ্গে জিয়াউর রহমানকে দায়ী করার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, কিছুটা উপলব্ধি থাকলেও বেশিরভাগই হচ্ছে তার স্বভাবসুলভ এবং অনর্গল মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি। এসব কথাগুলো (ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ে) কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বুধবার আলোচনা সভায় বলেননি। শুধু আক্রমণ করছেন বিএনপি ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্যদের দিকে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই, আপনার আশে-পাশের লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। দেশে ফিরতে জিয়া বাধা দিয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ শেখ হাসিনা করেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, তাহলে আপনি ১৯৮১ সালে ১৭ মে কী করে দেশে ঢুকলেন? তখন তো জিয়াউর রহমান সাহেবই রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হক নান্নু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

আমার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হয় : সৈয়দ আশরাফ

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো বেঁচে আছেন, দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এসব আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, পরবাসে থাকার যে যন্ত্রণা তা আমি বুঝি। এটা রিমান্ড থেকেও ভয়াবহ। সবাইকে হারিয়ে পরবাস জীবন শেষে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দেশে এসেছিলেন। সেই থেকে আজ অবধি দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এখন সবার কাজ হবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,  যতদিন এই দেশে এই প্রকৃতি বেঁচে থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো দক্ষতা ও সৃজনশীলতার জন্য শেখ হাসিনাও বেঁচে থাকবেন। বিএনপি প্রসঙ্গে কাদের বলেন, বিএনপি নাকি ভিশন ২০৩০ ঘোষণার পর অনেক চাঙ্গা হয়েছে। আমি মনে করি ভেতরে ভেতরে আরো ফাটল ধরেছে। তার প্রমাণ সারাদেশে বিএনপির ধাওয়া পালটা ধাওয়া দেখেই বোঝা যায়। তিনি বলেন, তারা মনে করে বিএনপিকে ভাঙার জন্য  আওয়ামী লীগ ইন্দন দিচ্ছে। কিন্তু তাদের দলের যে অবস্থা এতে ভাঙনের প্রয়োজন পড়েনা। তারা নিজেরাই ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নিজেদের ভেতরে ঐক্য নিয়ে কাজ করছে। ঐক্যই আওয়ামী লীগের শক্তি।

বাণিজ্যমন্ত্রী  তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপির অনেক কাজের সমালোচনা হতে পারে কিন্তু একটি কাজের প্রসংশা করতে হয়। আমি জানি না আমার সঙ্গে আমার নেতাকর্মী ভাইয়েরা এক হবেন কি না। বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনকে আদর্শ মনে করে সেটার অনুকরণে তাদের ভিশন ঘোষণা করেছে। এসময় তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রসংসা করে তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করেন। সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, যেদিন শেখ হাসিনা দেশে এসেছিলেন সেদিন রবীন্দ্রনাথের ‘মন আবার নাচেরে আজিকে’ গানের অনুরননে নেচে ছিল। বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য উন্নয়ন হয়েছে তা মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, সেটা ভালভাবে পৌঁছে দিতে হবে, শুধু ভাষণ দিলে হবে না। গোলাম সারওয়ার বলেন, শেখ হাসিনা ৩ ঘণ্টার নেত্রী নন, তিনি ১৬ ঘণ্টার নেত্রী। তার সফলতা বলে শেষ করা যাবেনা।

নাট্যবক্তিত্ব মমতাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আমি এত নাটক লিখেছি, অভিনয় করেছি, অনেক বই পড়েছি কিন্তু কোথাও শেখ হাসিনার মতো এমন স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ, ধার্মিক, ত্যাগী মানুষ আমি দেখিনি। মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, আবদুল মান্নান, মুকুল বোস, আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মাহবুবুল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম,  শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান সোহাগ, এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ। বক্তব্য প্রদান করেন শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তার ডা. নুজহাত চৌধুরী। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

 

উন্নয়ন দেখাতে জনগনকে প্রতারিত করা হচ্ছে: ফখরুল

উন্নয়ন দেখাতে সরকার ভুল উপাত্ত দিয়ে জনগণকে বোকা বানাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারি তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আজকে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। বলেছেন যে, এখানে উন্নয়নের লহরী বয়ে গেছে। কী উন্নয়নের লহরী বয়ে গেছে! গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জোট শরিক লেবার পার্টির  প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় একথা বলেন ফখরুল।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে যেটা শেষ হবে জুন মাসে, তার প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে আওয়ামী লীগ বলছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। এখানকার অর্থনীতিবিদরা, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা, সবাই বলছেন যে এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার। কিছুতেই এটা ৬ দশমিক ৮ এর উপরে যেতে পারে না। এই যে মানুষকে প্রতারিত করা, মিথ্যা বুঝিয়ে একটা জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা, এটা আওয়ামী লীগই পারে, তা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব না। মূল্যস্ফীতি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যেও গলদ আছে বলে দাবি করেন অর্থনীতির এক সময়কার শিক্ষক ফখরুল। মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী বলছেন, প্রতিমাসের যে গড় হিসাব করা হয়, এটা না কি সঠিক না। তিনি প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করে তিন মাসের গড় হিসাব দিয়ে করার জন্য বলছেন। যেটা পুরো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটা বড় রকমের সমস্যার সৃষ্টি করবে। সরকার এভাবে বিভ্রান্ত করছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিথ্যা সমস্ত ডাটা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন, এই কাজটা তারা করছেন। গত কয়েক বছরে বিনিয়োগের পরিমাণ হিসাব করলেই সরকারের দাবির অসারতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ফখরুল। তিনি আরও বলেন, রেমিটেন্সের হার কমেছে, গার্মেন্টসের প্রবৃদ্ধি যেটা বাড়ছিল, এক্সপোটের যে প্রবৃদ্ধি ছিল, সেটা কমে এসেছে। চালের দাম বাড়ছে। সেদিকে কোনো খেয়াল নেই, তারা মানুষকে বোকা বানিয়ে বোঝাচ্ছে যে খুব সহজে তারা মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করবে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি মহাসচিব এই সভায়ও বলেন, তার দল ভারতবিরোধী নয়। পানির কথা বলতে গেলে বলা হয়, আমরা ভারতবিরোধী। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা কখনোই ভারতবিরোধী নই। প্রশ্নই উঠতে পারে না ভারতবিরোধী হওয়ার। বড় দেশ ভারতের পাশে থাকা বাংলাদেশ ছোট হলেও তা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই বলে মনে করেন ফখরুল। তিনি বলেন, সরকারের ‘নতজানু’ নীতির কারণে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ‘ন্যায্য পাওনা’ আনা যাচ্ছে না। খালেদা জিয়া ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা কুতর্ক করছেন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা কনটেন্টসে যাচ্ছেন না, তারা সত্য বিষয়টাতে যাচ্ছেন না এবং আমাদের প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব দিচ্ছেন না। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেদেহী, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মান্নান, ফরিদউদ্দিন, ফারুক রহমান, এমদাদুল হক চৌধুরী, শামসুদ্দিন পারভেজ, মাসুদ খান, আহসান হাবিব ইমরোজ বক্তব্য রাখেন।

 

খালেদার জিয়ার তিন মামলা স্থগিত

ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও দারুস সালাম থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাশকতার তিনটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। এসব মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার করা আবেদন শুনে বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বসির উল্লাহর বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়। ওই তিন মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর।

আদেশের পর মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন। তারপরও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাকে ‘নির্দেশদাতা ও উসকানিদাতা’ হিসেবে এসব মামলায় জড়োনো হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির বলেন, হাই কোর্টের এ আদেশের বিপক্ষে আপিল বিভাগে যাবেন তারা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও দারুসসালাম থানায় ওই তিন মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযোগপত্র দিলে ঢাকার হাকিম আদালত গতবছর অগাস্টে তা আমলে নেয়। হাকিম আদালতের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টে এসেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হওয়া আরও অন্তত ছয়টি মামলা গত এপ্রিলে হাই কোর্ট স্থগিত করে দিয়েছে।

আগামী নির্বাচন হবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ : কাদের

ঢাবি প্রতিনিধি: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও আগামী নির্বাচন হবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই আওয়ামী লীগে প্রয়োজন ঐক্য। ঐক্যের পলভপনভ বিকল্প নেই।
 মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, টানা দুইবার ক্ষমতায় থাকার কারণে উন্নয়ন হয়েছে অনেক বেশি। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য একটা দলের পরপর চারবার ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ সরকার যদি কনটিনিউ না করে তাহলে সরকারের উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেগুলো শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগবে। আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, বিএনপি ভিশনের বিপরীতে ভিশন দিয়ে বলছে চাঙ্গা হয়ে গেছে। অথচ অর্ভন্তরীণ কোন্দলের কারণে তারা সভা করতে পারে  না। আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করে  বিএনপি যদি ভিশন দিয়ে থাকে তাহলে বলবো নেতিবাচক রাজনীতি থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরছে বিএনপি। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে, শূন্যতা পূর্ণতা পায় ১৯৭২ এর ১০ই জানুয়ারির মতো। রাজনীতির পথ বড় ঝুকিপূর্ণ ও দুর্গম পথ। ৭৫ পরবর্তীতে সবচে সফল রাজনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। তবে এখনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনাকে তাড়া করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

 

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৩৬তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ বুধবার। তিন দশক আগে ১৯৮১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। ওই দিনটি ছিল রোববার। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার তৎকালীন কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে তাকে একনজর দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে অধিকার বঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা সেদিন ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। এ সময় সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী লাখো কণ্ঠের শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বিমানবন্দর এলাকা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘাতকচক্র সপরিবারে হত্যা করলেও তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পান।

১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঐতিহাসিক হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ নির্বাসিত সময় কাটানোর পর আজকের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে লাখো জনতার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলার মানুষের মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর বঙ্গবন্ধু কন্যা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘…আমি সামান্য মেয়ে। সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থেকে আমি ঘর-সংসার করছিলাম। কিন্তু সবকিছু হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উত্সর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ছোটভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নিরলসভাবে দেশের অধিকারহারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তিনি। ‘রূপকল্প ২০২১’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত আধুনিক সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

কর্মসুচি: আজ বুধবার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপির সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এদিকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ সারা দেশে আনন্দ র‌্যালী বের করবে। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আগামীকাল সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি আনন্দ র‌্যালী বের করবে। র‌্যালীটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এসে শেষ করবে।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্যে শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী (ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) দোয়া, মিলাদ মাহফিল, বিজয় র‌্যালী ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্যে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দুশ্চিন্তায় এমপি-মন্ত্রীরা তৃণমূলে নির্বাচনী প্রস্তুতি

মাহফুজ সাদি : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্ব চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একক ও ‘জনপ্রিয়’ প্রার্থী নিশ্চিত এবং তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায় দলটি। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০ মে জেলা নেতাদের সাথে বসছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এর আগে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিরোধপূর্ণ কিছু জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। এদিকে দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরুর পর ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি দলীয় প্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। এতে মনোনয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শতাধিক বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রী। অন্যদিকে এই ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃণমূল নেতারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারা নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হবে। এজন্য তৃণমূলে ‘জনপ্রিয়’ ও ‘ক্লিন ইমেজের’ একক প্রার্থী চুড়ান্ত করতে চায় আওয়ামী লীগ, যাতে ভোটের লড়াইয়ে জয় নিয়ে ঘরে ফেরা যায়। এর অংশ হিসেবেই গত ৭ মে সংসদীয় দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর  সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যেসব এমপির এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা নেই, জনপ্রিয়তা নেই, যারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের দ্বিধা-বিভক্ত করেছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণের অভিযোগ রয়েছে তারা মনোনয়ন পাবেন না। এ সময় অন্যান্য মন্ত্রীও তার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে। চারদিক দিয়ে হিসাব-নিকাশ করে এই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। মন্ত্রী ও এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত করে তুলতে হবে। কোনো কোনো জায়গায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ দূরত্ব দ্রুত ঘোঁচাতে হবে। তা না হলে আপনারা (এমপি-মন্ত্রী) ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বর্তমানে এমপি আছেন, তারা নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা নিয়ে থাকলে ভুল করবেন। কারণ আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। যারা এলাকার জনগণের জন্য কাজ করেছেন জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী জরিপের কথাও উল্লেখ করেছেন। জানা গেছে, বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে দলীয় প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পর থেকে তৃণমূলে চলছে নির্বচনী প্রস্তুতি। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতা নিজেদের ‘জনপ্রিয়তা’ দেখাতে মাঠে নেমেছেন। জেলা পর্যায়ের অন্তত তিন নেতা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ নেতাকর্মীদের সাথে সময় দেওয়া তো দূরে থাক, অনেক সংসদ সদস্য আছেন ঢাকা ছেড়ে এলাকায় আসেননি গত তিন বছর। দলের নেতাকর্মীদের জেলে বন্দি হওয়ার পেছনেও অনেক এমপির ষড়যন্ত্র আছে। অন্তত ৩০টি জেলায় পাওয়া যাবে এমন নজির। বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, এমপি হিসেবে তৃণমূলে জনপ্রিয় হওয়া খুবই কঠিন। কারণ এমপিদের কাছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কোনো সীমা নেই। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা অসীম নয়, তাই সব চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসদ সদস্যদের জনপ্রিয় হওয়া অনেক কঠিন। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয়তাই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়, তাহলে একজন এমপিও খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি জনপ্রিয়। ওইসব এমপিরা আরো বলেন, তৃণমূলের নেতাদের কাছে শতভাগ জনপ্রিয় হওয়া কষ্টসাধ্য। তাদের অনেক চাওয়া-পাওয়া থাকে। তা পূর্ণ করতে না পারলে সৎ থেকেও তৃণমূলে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না।

২০ মে মুখ খুলতে পারে জেলা নেতারা: আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২০ মে সকাল সাড়ে ১০টায় দলের জেলা নেতাদের সাথে বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই মতবিনিময় সভার অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন তৃণমূলের নেতারা। একাধিক জেলা নেতার সাথে কথা বলে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। এই বৈঠক তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নেতারা। জানা গেছে, এই সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সভায় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এ লক্ষ্যে দলের সদস্যপদ নবায়নের পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এই ল্যাপটপ নিয়েই সদস্য সংগ্রহ শুরু করবেন তৃণমূল নেতারা। সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। তাদের সহযোগিতা করবেন আট সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের কী করলে মনোনয়ন পাবে আর কী করলে মনোনয়ন পাবে না, সেই প্রসঙ্গে কিছু বার্তা দিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায় থেকে সতর্কতা অনেকের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাজ দেখিয়ে তাদের অবস্থান সুসংহত করার সময় এখনও আছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে যার যার কর্মফল মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এতে তার কিছু করার নেই। যে জনপ্রিয় সে মনোনয়ন পাবে।

দলীয় সভাপতির বক্তব্য অনেকের ভেতরে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে, ভালো কাজ করে থাকলে চিন্তামুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানুষের জন্য, তাই মানুষের সংস্পর্শে যেসব এমপি আছেন তারাই আবারও মনোনয়ন পাবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বর্ধিত সভার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য তৃণমূল নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে সরকারের গত আট বছরের উন্নয়নমূলক কাজের এবং আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী তৎপরতার ভিডিওচিত্র দেওয়া হবে। উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া বলেছেন, বিশেষ বর্ধিত সভার পর ২১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডির প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, উপ-দপ্তর সম্পাদক এবং উপ-প্রচার সম্পাদকদের বৈঠক হবে। বৈঠকে ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

 

 

খালেদা জিয়ার মার্কশিট দেখালেন হাছান মাহমুদ

অতীত মনোবেদনা থেকেই এসএসসি ফল নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘বিরূপ মন্তব্য’ করেছেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।  সোমবার বিকালে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক বিশেষ উপকমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সাফল্যেও ঈর্ষান্বিত মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, আমারা খালেদা জিয়ার মনোবেদনা বুঝি। তাকে ছোটো করার জন্য বলছি না! তিনি তার সময়ের মেট্রিকের গোন্ডি পেরোতে পারেননি। এসময় তিনি খালেদা জিয়ার মার্কশিট সাংবাদিকদের সামনে প্রদর্শন করেন। এতে দেখা যায় ইংরেজির দুই পত্রেই খালেদা জিয়া ফেল করেছিলেন। প্রথমপত্রে ২৬ আর দ্বিতীয়পত্রে ১৫। বাংলার দুই পত্রে পাশ করেছিলেন ৩৮ ও ৩৭ নম্বর পেয়ে।  তবে উর্দূতে পেয়েছিলেন তারও বেশি ৪২। বাংলা থেকে উর্দূতে বেশি পাওয়ার কারণ হিসেবে পাকিস্তান প্রীতিকে বড় করে দেখছেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। তবে, সর্বোচ্চ ৫০ নম্বর ছিলো গণিতে। এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন ভবিষ্যতে চুরি-টুরি করতে হবে! এজন্যই হয়তো গণিতটা ভালো করে রপ্ত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা হাছান বলেন, আপনার (খালেদা জিয়া) এখনই জাতির সামনে ক্ষমা উচিত। তার এ বক্তব্য শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের হতাশ করেছে। বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালেই যদি ভিশন-২০৩০ দেওয়া হয়ে থাকলে কেউ জানতে পারলো না কেনো? খালেদা জিয়া কি ফখরুল সাহেবের কানে কানে বলে দিয়েছিলেন? বিএনপি তাদের ভিশন-২০৩০ কে রংধনু ভিশন নামে আখ্যা দিয়েছে। প্রকৃত অর্থেই তাদের ভিশন-২০৩০ রংধনুর মতোই। রংধনু যেমন হঠাৎ আকাশে উঠে আবারও বাতাসে মিলিয়ে যায়, বিএনপির ভিশনও রংধনুর মতো বাতাসে মিলিয়ে গেছে।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে মিথ্যাচার করছে সরকার : রিজভী

স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ‘হুমকি’ উল্লেখ করে তার অপসারিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এদিকে, ক্ষমতাসীন সরকার অর্থনীতির বারোটা বাজিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখন চরম মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। মাহবুবে আলমের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনার দেখেছেন- বিচারপতিদের অভিশংসন নিয়ে শুনানিতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা কিভাবে প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতিদের ধমকি-ধামকি দিয়েছেন।

গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর সরকারের আসল রূপ উন্মোচিত হয়েছে। তারা (ক্ষমতাসীনরা) যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীকে জেল-জুলুমসহ মিথ্যা মামলায় নানাভাবে হয়রানি করছে, তা প্রধান আইন কর্মকর্তার হুমকি-ধামকির মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, সরকার এই অ্যাটর্নি জেনারেলকে দিয়েই বিগত কয়েকটি বছর বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর জেল-জুলুম দিয়ে পর্যুদস্ত করার জন্য আদালতে নানা কারসাজি করার চেষ্টা চালিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল গণতন্ত্র নিধনে সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আদালতে নিয়মিতভাবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই অ্যাটর্নি জেনারেল স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি এক হুমকি। নিশ্চয় এই ধরণের অ্যাটর্নি জেনারেলের অপসারিত হওয়া উচিত।

সরকার দেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে চরম মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গতকাল (রোববার) এনইসি বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী দাবি করেন- বর্তমান অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। অথচ রোববারই বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে-বর্তমান অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ওইদিন প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে- চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরেও প্রবৃদ্ধি কমবে, যা হতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সুতরাং সরকারের তরফ থেকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে, সেটি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যাচারেরই একটি অংশ। প্রবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষমতাসীনদের এই বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আর এ ধরণের অসত্য পরিসংখ্যান দিয়ে মানুষের সমর্থনও পাওয়া যাবে না। আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বরাবরের মতোই আসন্ন বাজেট যে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের চাওয়া-পাওয়ার ওপর লক্ষ্য রেখেই রচিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ হোসেন, তৈমুর আলম খন্দকার, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বিএনপি: ফখরুল

জামায়াতসহ ২০ দলের জোট ‘আন্দোলনকেন্দ্রিক’ উল্লেখ করে এর সাথে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়কারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে বিএনপির ভিশন-২০৩০ সম্পর্কে তিনি বলেন, চিন্তা ও কাজের ক্ষেত্রে বিএনপি যে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে, এর বড় প্রমাণ দলের ‘ভিশন-২০৩০’।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির ভিশন-২০৩০ নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন ফখরুল। সেন্টার ফর ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল রিসার্চ স্টাডিজ নামের একটি সংগঠন এ আলোচনার আয়োজন করে। ভিশন-২০৩০ নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা বলছে- বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ অন্তঃসারশূন্য। কেউ বলছেন, বিএনপি তাদের অনুকরণ করেছে। কিন্তু বিএনপির দর্শন অনুকরণ করে আওয়ামী লীগই তাদের রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি পরিবর্তন করেছে। ‘ভিশন-২০৩০’তে যুবক-যুবতীসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের মজুরি, ২০৩০ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৫০০০ মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়া, বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ডবল ডিজিটে উন্নীত করা, তথ্য প্রযুক্তি, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ দমন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাখাত, অর্থনৈতিক সংস্কার প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনাগুলো ব্যাখ্যা করেন দলটির মহাসচিব। এ সময় আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটাকে আরো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান ফখরুল।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপির ভিশনে বলা হয়েছে- বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ডকে যথাযথভাবে সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে এতে প্রশ্ন থেকে যায়, বিএনপি যদি আগামী দিনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন জামায়াতে ইসলামী আপনাদের সাথেই থাকবে। জামায়াত যদি তখন একটা মামলা ঠুকে দেয়- যাদের যুদ্ধাপরাধীর নামে বিচার করা হয়েছে, তাদের পুনঃবিচার করতে হবে। কী করবেন আপনারা? খালেদা জিয়া এ বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তাই এই ভিশনে সত্যতা, সঠিকতা, আন্তরিকতা যেমন আছে, তেমনি আছে ভক্তিপ্রবণতা। তবে নানা সমালোচনা করলেও এ রকম একটা পরিকল্পনা দেয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদও জানান তিনি। মান্নার এই বক্তব্যের জবাবে এবং বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’-তে জোটসঙ্গী জামায়াতের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না থাকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট পুরোপুরি আন্দোলনকেন্দ্রিক। সুতরাং ২০৩০ সালে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কী সম্পর্ক হবে, সেটা বোধহয় এখন বলার অবকাশ নেই। তাই ভিশনে জামায়াতের বিষয়টি উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। তিনি আরো বলেন, ২০ দলের ঘোষণাপত্রে পরিষ্কার করে বলা হয়েছিলো- এই ২০ দল গঠন করা হচ্ছে স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার, যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদেরকে পরাজিত করে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে একটা আন্দোলন সৃষ্টি করা। সেটা কিন্তু এখনো বলবৎ আছে। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদের সভাপতিত্বে এই মুক্ত আলোচনায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঈসমাইল জবিউল্লাহ প্রমুখ অংশ নেন।

 

মা দিবসে খালেদার টুইট

আন্তর্জাতিক মা দিবসে বিশ্বের সকল মাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার টুইটারে এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “ক্ষয়ে যাওয়া সময়ে সকল মাকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সন্তানদের কল্যাণ ও তারা যেন সঠিক পথ বেছে নিতে পারে, সেই কাজ করতে হবে।”

আরেক বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।”

পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটানো হয়েছে : খালেদা জিয়া

বর্তমান সরকার শিক্ষার মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করেছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, আত্মতুষ্টির কারণে পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মানের ক্রমাবনতি ঘটানো হয়েছে। তার শঙ্কা, এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে আগামী দিনে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে এবং আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ব।  শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

শিক্ষার প্রসারে তার দলের অবস্থান তুলে ধরে ‘ভিশন-২০৩০’ পরিকল্পনায় শিক্ষাখাতে জিডিপি’র শতকরা ৫ ভাগ ব্যয় করে দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ ও অন্যান্য শিক্ষা সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, আমরা এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলব যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের হাতিয়ার হবে না, হবে জীবনে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার হাতিয়ার। সর্বোপরি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জেন্ডার ও অর্থৈনৈতিক বাধাসমূহ দূর করা হবে।

মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো যেভাবে বদলে যাচ্ছে তা মোকাবেলায় মূল কৌশল হবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা এবং আকর্ষণীয় চাকরির বাজার সৃষ্টি করা। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেতুবন্ধন রচনা করা। অগ্রসর জ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি ও শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান, প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিক গবেষণাসহ সব ধরণের জ্ঞান চর্চার মধ্যে ভারসাম্য অর্জন করতে পারলে পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষকে গণতন্ত্র, ভিন্নমত ও ভিন্নমত প্রকাশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষার এই মৌলিক লক্ষ্যকে পদদলিত করেছে। বিরোধী মতের লোকজনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। মোদ্দাকথা, শিক্ষার সকল উদ্দেশ্য আজ ভূলুন্ঠিত। সুশাসন, আইনের শাসন আজ নেই বললেই চলে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষমতাসীন সরকার সকল বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জীবনভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার মতো শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বর্তমানে একাধিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রত্যেকটি ব্যবস্থার লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে প্রচলিত সব ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। জন ইচ্ছার প্রতিফলনে আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি শিক্ষা ব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী করবে। শুধুমাত্র ডিগ্রী প্রাপ্তির মোহ থেকে দেশের তরুণদের মুক্ত করতে হবে। সামর্থ্য, মেধা ও কর্মসংস্থানের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চিত ব্যবস্থা আমরা করতে চাই। পেশাগত ও কারিগরি শিক্ষা, প্রকৌশল বিদ্যা, চিকিৎসা বিদ্যা, বিজ্ঞান শিক্ষা ও বিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা, শত শত ধরণের ট্রেড ও পেশার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মানবসম্পদকে বিকশিত করতে পারে। এই ব্যাপারে ‘ভিশন-২০৩০’ চিন্তা-ভাবনাও তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ শিক্ষা দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করেন। এর আগে সকাল থেকে চার পর্বের এই সেমিনারে বিভিন্ন শিরোনামে শিক্ষার ওপর আলোচনা সভা হয়, যাতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সকালে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ। প্রথম অধিবেশনে সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহের সভাপতিত্বে ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও শাহ শামীম আহমেদ। দ্বিতীয় অধিবেশনে ঢাবির অধ্যাপক সদরুল আমিনের সভাপতিত্বে ‘শিক্ষার বিভিন্ন ধারা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে তৃতীয় অধিবেশনে ‘উচ্চ ও প্রাগ্রসর শিক্ষা’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার। চতুর্থ অধিবেশনে ঢাবির অধ্যাপক আজমেরী এসএ ইসলামের সভাপতিত্বে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা’-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল। সমাপনী অধিবেশনে ঢাবির নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান দিনব্যাপী সেমিনারের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্যে নুরুল আমিন, খলিলুর রহমান, লুৎফর রহমান খান, সুকোমল বড়–য়া, আবদুল লতিফ মাসুম, এম এনামুল্লাহ (পারভেজ), মাহমুদুল হাসান, খসরুল আলম, নজরুল ইসলাম, নাজমুস সালাত, মামুন আহমেদ, এমতাজ হোসেন, মোরশেদ হাসান খানসহ ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনাসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকরা অংশ নেন। এছাড়া বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ এবং ২০ দলীয় জোটের আন্দালিব রহমান পার্থ, ফজলে রাব্বী চৌধুরী, শফিউল আলম প্রধান, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেদোয়ান আহমেদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, গোলাম মোস্তফা আকন্দ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

১৪ দলীয় জোটে আসতে চায় ইসলামিক ফ্রন্ট

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের জোটে ভিড়ছে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ।  শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে ইসলামিক ফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ইসলামিক ফ্রন্টের দুই নেতা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন। তারা ১৪ দলের সঙ্গে থেকে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র এবং আদর্শ-উদ্দেশ্য দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই তারা কাজ করতে চান। দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে এইসব ব্যাপারে আমরা জানাবো তিনি মতামত দিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তিনি আরও বলেন, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। কেউ কাজ করতে চাইলে এবং আমাদের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো। তবে জোটের নামের কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ ১৪ দল একটা ব্র্যান্ড। এ দিকে গত ৭ মে মাওলানা এম এ মান্নানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট জাতীয় পার্টির নেতৃত্বধীন একটি জোটে যোগ দিয়েছে। সেই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (ইউএনএ) বা ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’। ৫৮টি রাজনৈতিক দল এতে শামিল হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

 

এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াঁজো কমিটি গঠন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত জাতীয় জোটের লিয়াঁজো কমিটির নাম ঘোষণা করেছেন।  শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর জানানো হয়।

লিয়াঁজো কমিটিতে জাতীয় পার্টি থেকে রয়েছেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, আবু হোসেন বাবলা এমপি, আলহাজ্ব সাহিদুর রহমান টেপা, এস.এম. ফয়সল চিশতী, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার (অব.)। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে- মওলানা এম.এ. মতিন, মওলানা স.উ.ম. আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক এম.এ. মোমেন, মাওঃ আ.ন.ম. মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, মওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। জাতীয় ইসলামি মহাজোট থেকে- আলহাজ্ব আবু নাছের ওহেদ ফারুক, হাফেজ মওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী, ক্বারী মওলানা আসাদুজ্জামান, মুফতি মহিবুপাহ, বঙ্গদ্বীপ এম.এ. ভাসানী। বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) থেকে অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ আখতার হোসেন ও এ.আর.এম. জাফর বিপাহ চৌধুরী।

জোটের প্রথম সভা আগামী ১৫ মে সকাল ১১টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জোটের প্রধান মুখপাত্র জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি। গত ৭ মে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতৃত্বে ৫৮টি দল মিলে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ আত্মপ্রকাশ করে। মোট ৫৮টি দল দিয়ে গঠিত এ জোটে জাতীয় পার্টি ছাড়া আর মাত্র দুটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে।

খালেদা জিয়া ক্ষমতা পেলে দেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করবে : ইনু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতা পেলে দেশকে আবারো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তথ্যমন্ত্রী  শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার সার্কিট হাউসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ভিশন ২০৩০-এ যে প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছে তার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত রয়েছে। ভিশন ২০৩০ এ স্বাধীনতার ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ২৫ শে মার্চের কালো রাত সর্ম্পকে উল্লেখ নেই। সু-কৌশলে তিনি এগুলো এড়িয়ে গিয়েছেন।

খালেদা জিয়া আগের জায়গায়ই আছেন উল্লেখ করে ইনু বলেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া রাজাকার, জঙ্গী সন্ত্রাসী, জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগের কোন ঘোষণা দেননি সেহেতু বিএনপির ভিশন ২০৩০-এ কোন রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়নি। জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ জাসদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি রবীন্দ্রমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সভায় যোগদান করেন।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির পক্ষে আওয়ামী লীগ: কাদের

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে করার পক্ষে মত আওয়ামী লীগের বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চে চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতির জাতীয় কাউন্সিলে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইভিএম একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা ইভিএম পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব সমর্থন করি। তিনি আরো বলেন, ইভিএম এর মতো একটা ভাল পদ্ধতির বিএনপি বিরোধিতা করছে। আমরা মনে করি, ইভিএম একটি আধুনিক, প্রযুক্তি নির্ভর, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে ভাল হয়। তবে এটা চালু করা, না করা নির্বাচন কমিশনের ব্যপার। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের ডাকলে আমরা ইভিএম চালুর পক্ষে মত দেবো। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় আগামী নির্বাচনে ইভিএম চালু করার মত দিয়েছেন। আমরা সজিব ওয়াজেদ জয়ের এ মতামতকে সমর্থন করি। ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আওয়ামী লীগের ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ এর অনুকরণ করে আরেকটি নকল ভিশন দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার নকল ভিশন-২০৩০ এর লক্ষ্যটা কি। তাদের নাকি এর আগেও একটি ভিশন ছিলো যেটা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করিয়ে দিয়েছেন। সেটা হলো ২০০১ এর ভিশন। তাদের ২০০১ সালের ভিশন ছিলো হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন। এটা নাকি তাদের ভিশন ছিলো। তখন আমরা কি দেখেছি, আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আবারো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বানানো হয়েছিলো। যারা হওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার বানিয়েছিলো তাদের হাতে কি গণতন্ত্র নিরাপদ। তারা যে ভিশন দিয়েছে তাতে জঙ্গিবাদ মোকবিলা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কোনো কথা নেই। জঙ্গিবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নিয়ে কোনো কথা নেই। তার মানে খালেদা জিয়া এদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন। তাদের বিএনপি মদত দিচ্ছে এটা মনে করিয়ে দিয়েছেন। কাউন্সিলে পদ্মাসেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু করার দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে নির্মাণ কাজ চলার সময় তার নামকরণ হয়ে যায়। শেখ হাসিনা এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। তিনি তার নামে পদ্মাসেতু করার বিষয়ে রাজি নন। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা চান পদ্মানদীর নামেই সেতুর নাম থাক। এ কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগ ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

জিয়া দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেন : তোফায়েল

জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন। ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে গতকাল বুধবার দুপুরে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিয়াউর রহমান ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ করে না দিলে আজ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হতো না। অসাম্প্রদায়িক দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে রক্তের বিনিময়ে  দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বুদ্ধের দর্শন শুধু বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের  জন্য নয়, সমগ্র মানব জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সকলের ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ হয়ে যাবে’। বিএনপি সরকার জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছিল, বাংলা ভাই সৃষ্টি করে মানুষকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়ে বিদেশে চাকরি দিয়েছিল। দেশব্যাপী বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। বিএনপি নেত্রী তাদের উস্কানি দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার জঙ্গি দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এখন কঠোর হস্তে  দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি দমন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধনান্দ মহাথের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এবং ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমন সুওয়ানাপংস।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বে সরকার দায়ী : ফখরুল

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে দায়ী করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে আওয়ামী লীগ যা বলবে ও করবে, সেটাই আইন; তারা যা বলবে, সেটাই বিচার। আইনের শাসন কোথাও নেই। এই অবস্থা আমরা কখনো কল্পনা করতে পারি না।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পিন্টু স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এক স্মরণ সভায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন- প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে গত সোমবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি জানি না আমাদের চিফ জাস্টিস কিভাবে বললেন-দেশে আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। উনি (প্রধানমন্ত্রী) তো জানবেন না। কারণ, এই আইনের শাসন তিনি ধ্বংস করেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তো তিনিই হরণ করছেন। যে কারণে আজকে বাংলাদেশের কোনো মানুষ শান্তিতে-স্বস্তিতে নেই, তাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, আইনের শাসন কোথাও নেই। দেশের মানুষ ভালো নেই মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে আজকে এখানে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে, সুশাসন নেই।

তাদের দুঃশাসনে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নেই। তাই আজকে যতই তারা কথা বলুক, যতই উন্নয়নের ফিরিস্তি দিক, তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, সাধারণ মানুষ এখানে অত্যন্ত কষ্টে রয়েছে। সরকারের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখতে চায়। কারণ, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। তারা রাজনৈতিকভাবে আজ দেউলিয়া হয়ে গেছে। ফখরুল আরো বলেন, তারা (ক্ষমতাসীন দল) আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বন্দুক-অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু এ দেশের জনগণ কোনোদিনই এটা মেনে নেবে না। সংগঠনের সভাপতি সাঈদ হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি ও প্রয়াত পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আখতার কল্পনা প্রমুখ।

 

আইনের শাসন থাকলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারতেন না : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে শেখ হাসিনা আজকে প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারতেন না। এখানে ন্যায্য বিচার ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতো। সেই নির্বাচনে জনগণ নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভোট-নির্বাচনকে জাদুঘরে পাঠিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানি মিলনায়তনে মহিলা দল খিলক্ষেত থানার কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। গত সোমবার দশম সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করা মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী, আপনি হলেন শাসন বিভাগের কর্তা। আজকে আপনার গায়ে জ্বালা ধরছে যখন প্রধান বিচারপতি বলছেন- দেশে আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। দেশে যদি সত্যিই আইনের শাসন থাকতো তবে আপনার গায়ে জ্বালা ধরতো না। দেশে আইনের শাসন কোথায়? কোথায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা? এটা হচ্ছে হাসিনার শাসন, যেখানে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার থাকে না। ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুুলতানা আহমেদ প্রমুখ।

ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী মরহুম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।  মঙ্গলবার এ উপলক্ষে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও তার অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো দোয়া-মিলাদ ও আলোচনা-স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহনগর দক্ষিন আওয়ামী লীগ বাদ আসর ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করে। ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদের সঞ্চালনায় আলোচনা ও মিলাদ-দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ আরো অনেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ছিলেন এ বিজ্ঞানী। তিনি ছিলেন, নির্লোভ, নিরহংকার মানুষের প্রতিমুর্তি। বাংলাদেশে পরমাণু গবেষণার ক্ষেত্রে রংপুরের এ কৃতি সন্তানের অবদান সবচেয়ে বেশী। এছাড়া, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, মহাজোটের শরীক দলসমূহ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফাতেহ পাঠ ও জিয়ারত, স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ-দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ। এদিন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের নেতৃত্বে প্রায় ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া-মিলাদ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার কর্মময় জীবনী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ, এ কে স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল ইসলাম, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, ছাত্রনেতা কৌশিক আহমেদ জসিম, জামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মুন্সীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকমীরা। পরমানু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়ার ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ২৫, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ। মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন পীর ইয়ামেনী মসজিদ’র ইমাম মাওলানা শাহজাহান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী, কার্যকরী সভাপতি মো. আজাহার আলীসহ আরো অনেকে।



Go Top