রাত ৮:৪১, শুক্রবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকারকে আবারো সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে তিনি দাবি করে বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মামলার ভয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন-এ কথা কোনো আহাম্মকও বিশ্বাস করবে না।  বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের উদ্যোগে নিখোঁজ, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল।

গত সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যুক্তরাজ্য থেকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত বলে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তিনি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বন্দুকের নলে ক্ষমতায় আসেননি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছেন। তাই খালেদা জিয়া মামলার ভয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন, এ কথা কোনো আহাম্মকও বিশ্বাস করবে না। যারা এ ধরণের কথা বলছেন এবং চিন্তা করছেন, তাদের উচিত আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আবারো সরকারের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না, বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে। তাই বিএনপি সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছে। যাতে করে সেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায়।

ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ আওয়ামী দুঃশাসনের জাঁতাকলে পড়েছে। কার কাছে বিচার চাইব, কার কাছে জবাব চাইব। বর্তমান সরকার হিটলারের দলকেও অতিক্রম করে চলেছে। অথচ তারা মাঝে-মধ্যে চিৎকার করে বলেন- বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। সেই রোল মডেল হচ্ছে- কিভাবে নির্যাতন করা যায়, ভিন্নমত দমন করা এবং অসহায়-নিরীহ মানুষদের কিভাবে কুপিয়ে হত্যা করা যায়। নেতাকর্মীদের সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) জবাব দিতে হবে। আওয়ামী লীগ যাতে কোনোদিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ভোট নিয়ে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য জনগণকে সর্তক করতে হবে। হেল্প সেলের সদস্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিএনপিকে নজরদারিতে রাখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী: কামরুল

বিএনপির সব ধরনের কর্মকান্ড আইন-শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী নজরদারিতে রাখছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার চেষ্টা করলে বিএনপিকে কঠিনভাবে প্রতিরোধের হবে হুঁশিয়ার দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে তাজউদ্দীন আহমদের ৯১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও ন্যাপ ভাসানী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমরা কোনো আপোস করবো না। তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে, সন্ত্রাস করলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে বানচাল করতে আজও দেশে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মানুষ যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সেই মুহুর্তে নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিএনপি জানে জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় আনবেনা। কামরুল বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবেনা এটা বুঝেই বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনকে, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি মুশতাক আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইনজীবী নেতা কাজী সাজোয়ার হোসেন, জাতীয়পার্টি (জেপি) নেতা সাদেক সিদ্দিকী প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচন নাকি নির্বাসন সে সিদ্ধান্ত বিএনপির: হাছান

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না নির্বাসনে যাবে, সে সিদ্ধান্ত এখন বিএনপির বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও ন্যাপ ভাসানী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি করে বিএনপির কোনো লাভ হবে না। নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষেত্রে সংবিধানের এক চুল ব্যতয় হবে না। কারও আবদার পূরণের জন্য সংবিধানের এক চুল ব্যতয় ঘটবে না। এবারের নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির আর রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ নেই। বিএনপি নির্বাচনে যাবে না কি জনগণের কাছ থেকে নির্বাসনে যাবে সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দিয়েছিলেন আর রাজনীতির কাকেরা সেই উচ্ছিষ্ট খেতে জড়ো হয়েছিলো। সেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন দেশে সভা, সমাবেশের অধিকার নেই। তিনি কিন্তু সমাবেশে দাঁড়িয়েই বক্তব্য দিয়ে এই অভিযোগ করেছেন। আসলে এরা রাজনীতির সঙ্গে, জনগণের সঙ্গেই শুধু প্রতারণা করেন না, এরা নিজের সঙ্গেও প্রতারণা করেন। হাছান বলেন: খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার পর তার ছেলে তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে খালেদা জিয়াকে নিয়ে গেছেন। যে গাড়িতে নিয়ে গেলেন সেটা লেটেস্ট মডেলের লিমোজিন গাড়ি। তিনি প্রশ্ন করেন: এতো দামের গাড়ি কেনার টাকা তারেক কোথা থেকে পেলো?

 

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচন কমিশন কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না: ওবায়দুল কাদের

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেতুমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি নানা ধরণের কথাবার্তা বলে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে বিঘিœত এবং ইসিকে বিতর্কিত করছে। নির্বাচন কমিশন ও বিদেশি শক্তি  আমাদের ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। ক্ষমতায় বসাতে পারবে এদেশের জনগণ। জনগণের ওপর আমাদের ভরসা আছে।

বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ভোট চাইব জনগণের কাছে। তবে ইসি যদি সংবিধানের বাইরে যায়, তাহলে আমরাও তার সমালোচনা করব। তিনি বলেন, ইসির রোডম্যাপ নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা চাই ইসি সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান করুক। বিএনপির কার্যকলাপে মনে হয়, তারা ক্ষমতায় আসবে- ইসি এই নিশ্চয়তা দিলেই যেন তারা সন্তুষ্ট হবে। এছাড়া তাদেরকে খুশি করা সম্ভব না। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসি যদি সংবিধানের বাইরে যায় তার সমালোচনা আমরা করবো এবং সে ব্যাপারে আমাদের প্রতিক্রিয়া দেবো। কাজেই বিএনপি এই অর্বাচীনের মতো একের পর এক অভিযোগ আনছে এটার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসেরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচনকালে সহায়ক সরকার থাকতে হবে খুলনায় ফখরুল

খুলনা প্রতিনিধি: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনকালে একটি সহায়ক সরকার থাকতে হবে। যে সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে। আর নির্বাচনের আগেই সব রাজনৈতিক দলকে তাদের অধিকার দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিতে হবে। বুধবার দুপুরে খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে খুলনা জেলা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ভালো কথা শোনে না। তাদের একটাই উদ্দেশ্য, জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে। আর তাই আরেকটি সাজানো নির্বাচনের পাঁয়তারা তারা করছে। বিএনপি মহাসচিব  বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কথায় একই সুর শুনতে পাচ্ছি। তাই সরকার যাতে আরেকটি সাজানো নির্বাচন করতে না পারে, সেজন্য আগামী সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে করতে ‘বাধ্য’ করার কথাও বলেছেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে রোডম্যাপ দিলেন, সেখানে সাংবাদিকদের সামনে অবলীলায় বললেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করা- এটা এখন তাদের কাজ নয়। ফলে কী হয়েছে? আওয়ামী লীগের নেতারা যে কথাগুলো বলছেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা যে কথাগুলো বলছেন, আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মুখে সেই একই কথার প্রতিধ্বনি হচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, নির্বাচনের পূর্বে সকল রাজনৈতিক দলের যে অধিকার, সেই অধিকার সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করতে দিতে হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আরেকটি সাজানো নির্বাচনের পায়তারা করছে। আগামী নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনে করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করতে হবে। সরকারের সমালোচনায় ফখরুল বলেন, এ সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা, ছলচাতুরি করে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, লবণ ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কৃষকের সারের দাম বেড়েছে। অথচ তারা তাদের পণ্যের উৎপাদন মূল্যও পায় না। রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবন ‘ধংস হয়ে যাবে এবং খুলনা বিভাগ হুমকির মুখে পড়বে’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসনামলে বিএনপির পাঁচশর বেশি নেতা-কর্মী ‘গুম’ হয়েছে। পাঁচ বছরেও ইলিয়াস আলীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমন দেশ আমরা তৈরি করেছি যেখানে সভা-সমাবেশ করা যায় না।  ফখরুল আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে এই সরকার অনেক বড় বড় কথা বলে, বলছে প্রবৃদ্ধি এত বেশি হচ্ছে যে বাংলাদেশ নাকি দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। রোল মডেল কিসের? মানুষের স্বাধীনতা, অধিকার কেড়ে নিয়ে বিনা ভোটে বন্দুকের জোরে কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, তার রোলর মডেল এই সরকার।

ফখরুল বলেন, খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুকে কারা হত্যা করেছে, তা আমরা জানি না। সরকার মিঠুর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে পারছে না। বিচারের আওতায় আনতে পারছে না। বেঁচে থাকার নূন্যতম অধিকার থেকেও মানুষ বঞ্চিত। জেলা বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ইসির রোডম্যাপ আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় নেয়ার নীলনকশা : বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার নীলনকশা বলে মনে করছে বিএনপি। ইসির রোডম্যাপ ঘোষণার দুইদিন পর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে- ইসি ঘোষিত এই রোডম্যাপে জাতির আশা-আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করে পুরনো কায়দায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নে তাদের যাত্রা প্রক্রিয়া শুরু করলো। এতে জাতি চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। এই রোডম্যাপটা তৈরিই করা হয়েছে সরকার যেভাবে নির্বাচন করতে চায়, তাকে সাহায্য করার জন্য।

সুতরাং এখনকার বাস্তবতায় সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে- নির্বাচন কমিশন সত্যিকার অর্থে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে একটা নিরপেক্ষ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেন অনুষ্ঠান করা যায়, তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ গঠনের বিষয়টি নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আলোচনায় বসুন। এভাবে একতরফা, একগুয়েমি অবস্থানে থেকে দেশ ও দেশের মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, গণতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়ান, জনগণের চাহিদা পূরণ করুন। নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপি যাবে কিনা- প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, যখন সংলাপ হবে তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেনি- মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইসি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবার জন্য রোডম্যাপ দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে- সেই ইচ্ছাও তাদের নেই। ‘বর্তমান সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব’, তিনি (সিইসি) এই কথা বলে জনগণকে আরো হতাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলনই ঘটেছে। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিরোধী দলগুলোকে বর্তমানে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হয় না। সভা-সমাবেশ ও ঘরোয়া সভা করতে বাঁধা দেয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, গুম, খুন, হত্যা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সিইসি যখন বলেন, এসব দেখার দায়িত্ব তাদের নেই। তখন সহজেই বুঝা যায়, এই নির্বাচন কমিশন আরেকটি ‘রকীব মার্কা’ নির্বাচন কমিশনে পরিণত হতে চলেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত

মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ সৃষ্টির বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উপ-প্রধানমন্ত্রী পদ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পদায়ন করা সংক্রান্ত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জনের বিষয়ে মঙ্গলবার ঢাকার মহাখালীর সেতু ভবনে অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, উপ-প্রধানমন্ত্রী- এটা স্রেফ একটা গুজব। এটার কোনো বাস্তবতা নেই। এটা একেবারে ভিত্তিহীন মিথ্যা কথা।

সরকারের মেয়াদের দেড় বছর বাকি থাকতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিচে আরেকটি পদ সৃষ্টির গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও রদবদলের সম্ভাবনা নাকচ করেননি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের। তিনি বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার.. কাকে তিনি রাখবেন, কাকে বাদ দেবেন অথবা এই মুহূর্তে একটা রিশাফল করবেন কি না? কাদের আরও বলেন, তবে একটা রিশাফল বোধ হয় হতে পারে। তবে কোন সময় হবে, কী হবে, সেটা আমি ঠিক জানি না। একটা রিশাফল হতে পারে। আওযামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ হবে নিবাচন কমিশনারের। নির্বাচনে কমিশন চাইলে তার রোড ম্যাপ সংশোধনও করতে পারে। নির্বাচনকালীন সেনবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে কি না সেটা নির্বাচন কমিশনারের ওপর নির্ভর করছে। ‘অস্ট্রোলিয়ার হাই কমিশনার আমাদের কোনো পরামর্শ দেননি। উনি শুধু জানতে চেয়েছেন নির্বাচন নিয়ে সরকার কি ভাবছে বা করছে। ওবায়দুল কাদের এসময় বলেন, আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক বিষয় আমরাই দেখবো। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু যখন করতে পারছি তখন কারও কাছে নতি স্বীকার করবো না। চাপ দিয়ে কিছু আদায় করার মতো আগের সে অবস্থা এখন আর নেই।

রোডম্যাপ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, এ ব্যাপারে এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে এই রোডম্যাপটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে আমরা কথা বলব।তারা যা বলেছেন তা রোডম্যাপ, আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা দেখতে চাই। ওবায়দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, একজন মামলার ভয়ে বিদেশ থেকে আসে না, কতিদিন হয়ে গেলে তিনি আর আসেন না। আরেকজন আবার টেমস নদীর পারে গেলেন। উনি যাচ্ছেন আমাদের এ ব্যাপারে আপত্তি বা মন্তব্য থাকার কথা নয়। খালেদা জিয়া নাও ফিরতে পারেন এমন জনশ্রুতি রয়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, গত শনিবার থেকে ফেইসবুকে দেখছি, টুইটারে দেখছি তার স্ট্যাটাস, এতো বেশি সময়ের জন্য একটি বড় দলেরচেয়ারপারসন বিদেশে যাচ্ছে, এখন জনশ্র“তি হচ্ছে তিনি কি মামলার ভয়ে পালিয়ে গেলেন, তিনি কি মামলার ভয়ে ফিরে আসবেন না। মামলায় ১৫০ বার আদালতে সময় চাওয়ার পর এই সন্দেহটা ঘনীভূত হচ্ছে, জনগণের মধ্যে এই গুঞ্জনটা শাখা প্রশাখা বিস্তার করছে। দেশে ফেরার পর খালেদা জিয়া নির্বাচনী রোডম্যাপ বা সহায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। এ বিষয়ে কাদের বলেন, শেখ হাসিনার মত ওই ওয়ান ইলেভেনের সময় সাহস করে তিনি ফিরে আসবেন কীনা, মামলার ভয়ে সময় আবার বর্ধিত হবে কীনা, ফিরে আসার বিষয় সেটা কেবল সময়ই বলে দেবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে মন্তব্য আওয়ামী লীগের: কাদের

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও অগ্রগতি দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করবে আওয়ামী লীগ।
সোমবার সচিবালয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

রোডম্যাপ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ব্যাপারে এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে এই রোডম্যাপটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে আমরা কথা বলব। তারা যা বলেছেন তা রোডম্যাপ, আমরা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা দেখতে চাই।

ওবায়দুল কাদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, একজন মামলার ভয়ে বিদেশ থেকে আসে না, কতিদিন হয়ে গেলে তিনি আর আসেন না। আরেকজন আবার টেমস নদীর পারে গেলেন। উনি যাচ্ছেন আমাদের এ ব্যাপারে আপত্তি বা মন্তব্য থাকার কথা নয়।

খালেদা জিয়া নাও ফিরতে পারেন এমন জনশ্রুতি রয়েছে উল্লেখ করে কাদের বলেন, গত শনিবার থেকে ফেইসবুকে দেখছি, টুইটারে দেখছি তার স্ট্যাটাস, এতো বেশি সময়ের জন্য একটি বড় দলের চেয়ারপারসন বিদেশে যাচ্ছে, এখন জনশ্রুতি হচ্ছে তিনি কি মামলার ভয়ে পালিয়ে গেলেন, তিনি কি মামলার ভয়ে ফিরে আসবেন না। মামলায় ১৫০ বার আদালতে সময় চাওয়ার পর এই সন্দেহটা ঘনীভূত হচ্ছে, জনগণের মধ্যে এই গুঞ্জনটা শাখা প্রশাখা বিস্তার করেছে। দেশে ফেরার পর খালেদা জিয়া নির্বাচনী রোডম্যাপ বা সহায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। এ বিষয়ে কাদের বলেন, শেখ হাসিনার মত ওই ওয়ান ইলেভেনের সময় সাহস করে তিনি ফিরে আসবেন কীনা, মামলার ভয়ে সময় আবার বর্ধিত হবে কীনা, ফিরে আসার বিষয় সেটা কেবল সময়ই বলে দেবে।

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচনের আগে পরিবেশ তৈরি করতে হবে: ফখরুল

ঘোষিত রোডম্যাপ সার্থক করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্বাচনের পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নির্বাচন করার আগে নির্বাচনের পরিবেশ তো তৈরি করতে হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমাদের খুব পরিষ্কার কথা, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আগে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন, রাস্তা তৈরি করুন, তাহলে রোডম্যাপ দেয়াটা সার্থক হবে। অন্যথায় হবে না।

নির্বাচনে যদি রাজনৈতিক দলগুলোই যেতে না পারে, আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মতো… ওই কুকুর-ছাগল ভেড়া নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, মানুষকে নিয়ে তো নির্বাচন করতে পারবেন না। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির মহানগর কার্যালয়ের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে ‘বিএনপির ভিশন ২০৩০: নারী সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মিশন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। এতে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন (রোববার) একাদশ নির্বাচনের কর্ম পরিকল্পনা দিয়েছে। খুব ভালো কথা। রাস্তাটা কৈ? ইলেকশন করবে কে? রাজনৈতিক দলগুলোতো।

তাদেরকে যে আপনি নির্বাচনে নিয়ে যাবেন, তার রাস্তা কোথায়? হোয়ার ইজ দ্যা রোড। ম্যাপ দিয়ে দিচ্ছেন, এই করছেন, ওই করছেন, অথচ রাস্তাই নাই। সারা দেশে রাস্তা তো আপনারা খানা-খন্দক খুঁড়ে শেষ করে দিয়েছেন, প্র্যাকটিক্যালি গোটা ঢাকাতে তাই, বাংলাদেশেও তাই। সেভাবেই নির্বাচনের রাস্তাকে আপনারা খান-খন্দক খুঁড়ে শেষ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে যাতে বিরোধী দল যেতে না পারে, তার জন্য আপনারা ব্যবস্থা করছেন। সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সমস্ত বাদ দিন, পথে আসুন। সব রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলে পথ বের করুন। আমরা বলতে চাই, তারা (ক্ষমতাসীন দল) যে অপকর্ম করেছে, হত্যা-গুম-খুন-জখম করেছে, দুর্নীতি করেছে, লুট করেছে সেখানে তারা পালাবার পথ খুঁজে পাবেনা। পালাবার একটাই পথ আছে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সকল দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না হলে সত্যি সত্যি এদেশের মানুষ পালাবার পথ দেবে না। রাজনীতিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে পারেন এই নারীরা।

গ্রামে আমাদের ভোটার বেশি নারীরা, দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটার নারীরা। এটা কেন? বিএনপির ধানের শীষ মহিলাদের স্বার্থের কথা ভাবে, মানুষের ভালোর কথা বলে, দেশের ভালো বলে এবং কাজ করে। এই দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি আপনাদের পালন করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে প্রচন্ড বাধা। এই সরকার চায় না যে, দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এই সরকার চায় না যে আমরা নির্বাচনে যাই। কারণ ওরা জানে যে, আমরা যদি নির্বাচনে যাই আর আমাদের মা-বোনেরা ও ভাইয়েরা যদি ভোট দিতে পারে, তাহলে ওরা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা যত অপকর্ম করেছে, চুরি-চামারি করেছে, এগুলো দেখে জনগণ ওদের ভোট দেবে না। বিএনপিকে সমাবেশ-সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ এনে এর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, নির্বাচন করার আগে নির্বাচনের পরিবেশ তো তৈরি করতে হবে। আপনি আমাকে রাস্তায় বের হতে দেবেন না, আপনি আমাকে মিটিং করতে দেবেন না, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে দেবেন না, কাউন্সিল করতে দেবেন না। এমনকি ‘ভিশন ২০৩০’ আলোচনা করার জন্য জেলাগুলোতে একটা জায়গা পর্যন্ত দেবেন না, ঢাকাতেও দেবেন না। অন্যদিকে আপনি বলবেন যে নির্বাচন করো।

গত ১৩ জুলাই রাতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুষ্ঠানে পুলিশি বাগড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কথা বাদ দিলাম। এই আ স ম আবদুর রব সাহেব ও অন্যান্য ৫/৪টা দল, ডা. বদরুদ্দোজা সাহেবের মতো মানুষ, ড. কামাল হোসেন সাহেবের মতো মানুষ তারা রাজনৈতিক আলোচনা করার জন্য আবদুর রব সাহেবের বাসা গিয়েছিলেন। পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত। বলছে, মিটিং করতে পারবেন না। আমি এর আগে একদিন বলেছিলাম, এদেশটাকে এরা বাপের তালুকদারি মনে করে। সমস্যাটা এই জায়গায়। যে কারণে ওরাই সব কিছু করবে, মিটিং করবে, ইলেকশন করবে, বিনাভোটে নির্বাচন করবে, ক্ষমতায় যাবে, মন্ত্রী হবে, এমপি হবে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করবে। আমরা-আপনারা ওই সাধারণ মানুষ শুধু হাত তালি বাজাবো, হ্যাঁ বেশ বেশ। এটা হবে না।

এটা গণতন্ত্র নয়। সবাইকে ‘জেগে’ ওঠার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বোনেরা আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে। এটা আমার দেশ। জোর করে কেউ নিয়ে যায়, আমি কি ছেড়ে দেব। বর্গিরা জোর করে নিয়েছিল, বৃটিশরা জোর করে নিয়েছিল, পাকিস্তানিরা জোর করে নিয়েছিল, আমরা তো যুদ্ধ করে সেখান থেকে ফেরত আনছি। সুতরাং এটাকে আমরা ছেড়ে দেব না। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমাদেরকে প্রতিবাদ করতে হবে। সরকারকে বাধ্য করতে হবে সব দলের অংশগ্রহণমূলক একটা অবাধ নির্বাচন করতে দিতে। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি নুর জাহান ইয়াসমীন, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, নুরুন্নাহার, শামুসন্নাহার ভুইয়াসহ অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এই বিভাগের আরো খবর

চিকুনগুনিয়ার দায় এড়াতে পারেন না ২ মেয়র : রিজভী

 বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চিকুনগুনিয়া রোগটি এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। ফলে সরকার এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এর দায় এড়াতে পারেন না। রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, মশক নিধনের ব্যর্থতার কারণে ঢাকা শহরে শুরু হওয়া চিকুনগুনিয়া যেভাবে সারাদেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে তাতে জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে মেয়রদের বক্তব্যে নগরবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। চিকুনগুনিয়ার মতো মহামারীর আগ্রাসন প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতি দূরে থাক বরং সরকার ও সরকারের প্রতিনিধিরা জনগণের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে উপহাস করছে।

বিদ্যুতের লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জে, মফস্বল শহরে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং। এমনকি রাজধানীও এর ব্যতিক্রম নয়। তারপরও বিদ্যুতের উন্নতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্টির কথা অহরহ জনগণকে শুনিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সত্ত্বা ও স্বরূপ মিথ্যা দর্শণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অবাধ দুর্নীতি আর লুটপাট জারি রাখতে এরা ক্ষমতার পর্বতচূড়ায় উঠে এখন আর নামতে পারছে না। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে ক্ষমতাসীনরা দুর্নীতির আখড়া বানায়নি। তাই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মানুষের মনভোলানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের নামে দেশে হরিলুট চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাড়া-জাগানো চিৎকার করলেও বন্যাদুর্গতদের কাছে এখনও সরকারি ত্রাণ পৌঁছায়নি। বন্যা আক্রান্ত এলাকায় যতটুকু সরকারি ত্রাণ গেছে তা স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরাই লুটে নিচ্ছে। ফলে গরিব-অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষরা কোনো ত্রাণ পাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

লন্ডনে তারেক রহমানের বাসায় খালেদা জিয়া

করতোয়া ডেস্ক : চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্য পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ২০মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এরপর নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কিংস্টন এলাকায় বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় যান বেগম জিয়া। বাংলাদেশে ফেরার আগ পর্যন্ত এই বাসাতেই থাকবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার দৈনিক করতোয়াকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিএনপির নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার এ সফর একান্তই ব্যক্তিগত। পা ও চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে বেশ কিছুদিন অবস্থান করবেন তিনি। জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদসহ দলের নেতাকর্মীরা হিথ্রো বিমানবন্দরে আগ থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। এছাড়া বেগম জিয়াকে স্বাগত জানাতে জাতীয়তাবাদী ঘরানার বিপুল সংখ্যক লন্ডনপ্রবাসী ভক্তরাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভিআইপি লাউঞ্জে আসলে তারেক রহমান ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মা খালেদা জিয়াকে নিয়ে কিংস্টন এলাকায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। তবে বাসায় যাওয়ার আগে টার্মিনালে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া।

গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন। যুক্তরাজ্য সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন তার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমা আখতার। এর আগে, গত শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা থেকে এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাংকক থেকে যুক্তরাজ্য যান। খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। ওই সময় লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত তারেক রহমানসহ তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে দেড় মাস পর দেশে ফিরেছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই সন্তানও তখন লন্ডনে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে এবার ঈদুল আযহা উদযাপন করে দেশে ফিরতে পারেন বেগম জিয়া। ফলে বিএনপি চেয়ারপারসনের এবারের সফরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে খালেদা জিয়া কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা নির্ভর করবে নেত্রীর চিকিৎসার উপর।

 

ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবসম্মত: তোফায়েল

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপকে বাস্তবসম্মত উল্লেখ করে সব দলকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল বলেন, নির্বাচন কমিশন যে পথনকশা জাতির সামনে পেশ করেছে তা খুবই সুন্দর হয়েছে এবং বাস্তবসম্মত হয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনকালীন যে সরকার নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে- সহায়ক সরকার নিয়ে, পৃথিবীর কোনো দেশে সহায়ক সরকার বলে কোনো শব্দ নেই। সংবিধানে আছে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নিরপক্ষেভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন। আগামী নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেদিন শিডিউল ঘোষণা করবে তারপর থেকে এই ক্ষমতাসীন সরকার অন্তবর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে, তাদের কাজ হবে ডে টু ডে কার্যকলাপ করা, নির্বাচন কমিশন যা চাইবে সরকার তাই করবে। এখন সব দলেরই আগামী নির্বচানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন তোফায়েল আহমেদ।

সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে কোনো উদ্যোগ আছে কীনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি সংবিধান পরিপন্থী কোনো প্রস্তাব পেশ করে, কখনো গ্রহনযোগ্য হবে না, বিএনপি নির্বাচন করবে কি করবে না, এটি তাদের ব্যাপার। ২০১৪ সালে করেনি, আমরা ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছি। এই নির্বাচনে আমি তো বলতে পারি না বিএনপি আসবেই আবার এও বলতে পারি না বিএনপি না আসলে সমস্যা নেই। তবে বাস্তব সম্মত হলো সংবিধান বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব না। তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন, আমরা আশা করি জ্বালাও পোড়াও করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগামীতে এটি তারা করবে বলে বিশ্বাস করি না। কারণ আরেকবার তারা আগুনে ঝাঁপ দেবে আমি তা বিশ্বাস করি না, কারণ ভুল থেকে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করে। সম্প্রতি উত্তরায় রাজনৈতিক নেতাদের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাগড়া নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উত্তরায় বামপন্থী নেতাদের বৈঠকের সময় আমি জেনেভাতে ছিলাম, আ স ম আব্দুর রবের বাসায় মিটিং হয়েছে, সুন্দরভাবে যেন তারা মিটিং শেষ করতে পারে, কোনো ঝামেলা যেন না হয়.. আপনারা জানেন সেখানে যদি হঠাৎ জঙ্গি তৎপরতা হয়, সরকারকে তো দোষারোপ করা হতো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়তবা সেখানে খেয়াল রেখেছে, যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, সেজন্য সেটা হয়েছে।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হবে এ বছরের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা হবে এবং আগামীতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সাথেও এ চুক্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি বলেন, টেলিভিশনের টকশোতে বলা হয় আমরা কেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অন্য দেশের সাথে করি না। আমাদের না করার কারণ হল, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই এবং আমরা যদি তাদের সাথে এফটিএ করি তাহলে তারা লাভবান হবে, আমরা লাভবান হব না। কারণ আমরা তো পাচ্ছি অলরেডি। শ্রীলংকার সাথে করলে আমরা লাভবান হব, আমরা অনেক কিছু রপ্তানি করছি, আরো অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারব, তাদের এক্সপোর্ট বাস্কেট আমাদের মত না। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সাথে এফটিএ করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ওই সমস্ত দেশের সাথে করব, যারা আমাদের ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি মার্কেট এক্সসেস দেয় না।

এই বিভাগের আরো খবর

আরেকটি ১/১১’র ষড়যন্ত্র হচ্ছে: খালিদ মাহমুদ

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আরেকটি ১/১১ এর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে আগামী নির্বাচনকে ভ-ুল করার  চেষ্টা হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার ‘শেখ হাসিনার গ্রেফতার দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা ১/১১ সরকারের সহযোগী ছিল তারা এখনো আমাদের আশে-পাশে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি ক্ষমা করতে পারি; কিন্তু ভুলতে পারি না। কাজেই তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে হবে, ভুলা যাবে না। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, পুত্র হলেও; একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে যেতে পারেন না। এটা দেশকে ও দেশের মানুষকে অপমান করার শামিল। ২০০৭ সালের এই দিনের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সেদিন বিনা ওয়ারেন্টে দানবীয় কায়দায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। জনগণের তুমুল প্রতিবাদে তৎকালীন সরকার তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়। আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ১/১১ সময়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ ছিল।  কিন্তু সিনিয়র নেতারা তখন কাপুরুষত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমি তা নিজ চোখে দেখেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা কখনো বেইমানি করেনা। সারাদেশের কর্মীরা শেখ হাসিনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল বলেই শেখ হাসিনা মুক্তি পেয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, চিকিৎসার জন্য নয়, মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্যই লন্ডন গেছেন বিএনপি  চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

তিনি আশঙ্কা করেন, খালেদা জিয়া দুই মাসের জন্য লন্ডন গেলেও সেখানে আরো বেশি দিন থাকতে পারেন। খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যে অজুহাতেই যান না কেন আপনি মামলা থেকে রেহাই পাবেন না। প্রফেসর আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ইসির রোডম্যাপে নির্বাচন নিয়ে সঙ্কটের সমাধান হবে না : বিএনপি

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত রোডম্যাপে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলমান সঙ্কটের সমাধান হবে না বলে মনে করছে বিএনপি। রোববার ইসির রোডম্যাপ ঘোষণার পর দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কটকে ‘রাজনৈতিক’ অভিহিত করে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ এর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন যদিও একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু আমরা মনে করি- এটা প্রধান বিষয় না, এটা প্রধান সঙ্কট নয়। প্রধান সঙ্কটটা হচ্ছে, নির্বাচনটা কিভাবে হবে? নির্বাচনের সময় সরকার কোন জায়গায় থাকবে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে? সেজন্য আমরা বার বার বলে আসছি, নিরপেক্ষ-অবাধ নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকার প্রয়োজন। সেই সহায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা এই মুহূর্তে বড় প্রয়োজন। কিন্তু সেদিক থেকে কোনো আলোচনা না করে এই রোডম্যাপ দিয়ে তো সমস্যার সমাধান হবে না, সেই সঙ্কটের নিরসন হবে না। রোডটা তো থাকতে হবে। দেয়ার মাস্ট বি রোড টু ইলেকশন। এখন পর্যন্ত আমরা রোড দেখতে পারছি না। সুতরাং ম্যাপ তো পরের প্রশ্ন। বিএনপির পক্ষ থেকে পরে এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে জানিয়ে ফখরুল বলেন, এটা যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা বিষয়। সেজন্য লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ঢাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে ইসির আশাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, উদ্দেশ্য খুব ভালো। সবাই তাই বলে। বর্তমান সরকারও বলছে যে, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই, সহায়তা করতে চাই। তারপরও দেখতে পাচ্ছেন যে কী অবস্থা দেশের মধ্যে আছে? আমরা একটা সভা করার অনুমতি পাই না। আমাদের দেশনেত্রী গত শনিবার বিদেশে গেলেন। আমাদের সিনিয়র নেতাদের রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই একটা পরিস্থিতি-পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশে নির্বাচনের আদৌও কোনো পরিবেশ আছে কিনা সেটাও তো সবার আগে দেখতে হবে? এই অবস্থায় ইসির কোনো ধরণের আলোচনা ছাড়াই ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির মহাসচিব। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বলেছি-গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক যতগুলো পদ্ধতি আছে, আমরা সবগুলো এক্সজস্ট করতে চাই। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেতে চাই। সেটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সদিচ্ছার ওপরে, তারা আমাদেরকে যেতে দিতে চায় কিনা। এ সময়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আমি বোকা না হলে নৌকায় উঠি: মান্না

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গণফোরাম সভাপকি ড. কামাল যে নৌকা থেকে নেমেছেন, আমি আবার সেই নৌকায় উঠেছি, বোকা নাহলে এমন কাজ আমি করি।  শনিবার বেলা ১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের আয়োজনে ‘দেশে অব্যাহত গুম-খুন-অপহরণ: শংকিত নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। মান্না বলেন, বর্তমানে মানুষ ক্ষমতার লোভে যে কতটা অমানুষ হয়ে গেছে তা আমরা দেখছি। এই আওয়ামী লীগের কাছে কোনো মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নেই। বাংলাদেশ এখন একটি মৃত্যু উপত্যকা। এরকম দেশতো আমরা চাই না। বৈঠকে অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন-  নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহিল মাসুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব এম গোলাম মো¯ফা ভুইয়া প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন খালেদা জিয়া

চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্য গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫৮৭ নং ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার এ সফর একান্তই ব্যক্তিগত। পা ও চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি লন্ডনে বড় ছেলে তারেক রহমানের কাছে বেশ কিছুদিন অবস্থান করবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে সফরসঙ্গী হয়ে লন্ডনে গেছেন তার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। এছাড়া গত কয়েকদিনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ বেশ কয়েকজন নেতা লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

সন্ধ্যা ৭টা ২৫মিনিটের দিকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। নেতা-কর্মীদের ভিড়ে তার গাড়ি বিমানবন্দরে ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে দুপুর ২টার পর থেকেই এই এলাকায় নেতা-কর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর হাজার হাজার নেতা-কর্মী ব্যানার-প্লাকার্ড বহন করে চেয়ারপারসনকে বিদায় জানান। ‘সফল হোক, লন্ডন যাত্রা’, ‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’- এ ধরণের নানা শ্লোগান তোলেন নেতা-কর্মীরা। খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের বিদায় জানান। এদিকে, খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিমাবন্দরে উপস্থিত ছিলেন-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মীর মো. নাসির উদ্দিন, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, মিজানুর রহমান মিনু, রহুল কবির রিজভী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন। ওই সময় লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত বড় ছেলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে দেড় মাস পর দেশে ফিরেছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই সন্তানও তখন লন্ডনে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে এবার ঈদুল আযহা উদযাপন করেও দেশে ফিরতে পারেন বেগম জিয়া।  

ফলে বিএনপি চেয়ারপারসনের এবারের সফরও দীর্ঘ হতে পারে। তবে খালেদা জিয়া কবে নাগাদ ফিরবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এটা নির্ভর করবে নেত্রীর চিকিৎসার উপর। বিএনপির নেতারা বলছেন, লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন খালেদা জিয়া। এর আগে লন্ডনে অবস্থানকালে এই রূপরেখা নিয়ে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা মা ও ছেলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া আগামী নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারেও তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। ফলে খালেদা জিয়ার এই সফর নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। এদিকে, লন্ডনে যাওয়ার আগে সংগঠন যাতে গতিশীলভাবে চলে সে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।  

 

এনপিপিতে একীভূত হলো বিপিপি

বাংলাদেশ পিপলস পার্টিকে (বিপিপি) বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে (এনপিপি) একীভূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান আবদুল হাই মন্ডল। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি রেস্টুরেন্টে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে এনডিএফসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শেখ ছালাউদ্দিন ছালু।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনপিপি থেকে পদত্যাগ করেন আবদুল হাই মন্ডল। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ ফেব্রুয়ারি আরো ৪৪জন পদত্যাগ করেন। ফলে নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়ে এনপিপি। পরবর্তীতে পদত্যাগকারী এসব নেতাদের নিয়ে ১৫ মার্চ বিপিপি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন হাই মন্ডল।

জানা গেছে, আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এনপিপির পঞ্চম ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে আবদুল হাই মন্ডলকে দলটির কো-চেয়ারম্যান করা হতে পারে। তবে নেতাকর্মীদের চাপ থাকায় শেষপর্যন্ত তাকে এনপিপির মহাসচিবও করা হতে পারে।

 

 

 

নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন : মওদুদ

দেশে ‘এক ব্যক্তি’র শাসন চলছে অভিযোগ করে তার অবসানে ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের’ এক দফা দাবিতে সব রাজনৈতিক দলের জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।  শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।   

মওদুদ আহমদ বলেন, আমিই সবকিছু করব, আই অ্যাম দি স্টেট- এই কর্তৃত্ববাদের আমরা অবসান চাই, এই কর্তৃত্ববাদ আমরা নির্মুল করে দিতে চাই। দেশে জনগণের মাধ্যমে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে আমরা সেটা করতে পারি। এই কারণে একটা ন্যূনতম কর্মসূচির উপরে ভিত্তি করে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে-আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে চাই, মানুষের অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য আমরা একটা অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

এটাই একদফা। এখানে পাঁচ কিংবা দশ দফার তো দরকার নাই। মওদুদ আহমদ বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। সেজন্য রাষ্ট্রপতি এবং স্পিকার একবার নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর তারা তাদের নিজের দল থেকে পদত্যাগ করবেন। কারণ, তারা তখন নিজেরা এক একটি প্রতিষ্ঠান, তাদেরকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এটা আমার মত, দলের মত নয়। তবে ভবিষ্যতে সেটা দলের মত হতেও পারে। যিনি রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংসদের প্রধান, তারা যদি দলীয় হয়ে যান, তাহলে তো সেখানে অনেক কিছু অচল হয়ে যাবে, আইনের শাসন তখন রক্ষা করা সম্ভবপর হবে না।

সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিএনপির আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ। এদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১ আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা মোকাবেলায় ‘সর্বদলীয় বৈঠক’ ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সকল দলের অংশগ্রহণে প্রধানমন্ত্রী যদি এই উদ্যোগ নেন, তাহলে সেটি হতে পারে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার প্রথম পদক্ষেপ। বিএনপির ভাইস চেয়্যারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকসহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন-জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির আব্দুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান কাদেরের

নোয়াখালী প্রতিনিধি: মেধাবী, সৎ ও চরিত্রবান লোকদের রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মেধাবীরা রাজনীতি না করলে মেধাশূন্য ব্যক্তিরা দেশ চলাবে। অযোগ্যরা এমপি হবে। অযোগ্য ব্যক্তিরা মন্ত্রী -মিনিস্টার হবে। চরিত্রবানরা না এলে চরিত্রহীন-খারাপ লোকেরা রাজনৈতিক মঞ্চ দখল করবে। রাজনীতি মেধাবী, সৎ লোকদের করতে হবে, চরিত্রবানদের করতে হবে। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মাদক ও দুর্নীতিকে না বলার শপথ করান। মাদককে নীবর সুনামি মন্তব্য করে  সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের নতুন সমাজের একটা অংশ মাদকে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদক, ইয়াবা বাংলাদেশের সাইলেন্ট সুনামি।  এই সুনামির বিরুদ্ধে আমাদের তরুণ সমাজকে, সকল রাজনীতিককে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ হন্তারক, নীবর সুনামি মাদক-ইয়াবাকে প্রতিরোধ করি। এর আগে তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইউসুফ মিয়া। রেজিস্টার অধ্যাপক মো. মমিনুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য আবুল হোসেন।

 

রবের বাসভবনে পুলিশি হস্তক্ষেপ গণবিরোধী : খালেদা জিয়া

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র সভাপতি আসম আব্দুর রবের উত্তরার বাসায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নেতাদের বৈঠকে পুলিশি বাগড়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, রবের বাসভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সিনিয়র নেতাদের সভায় পুলিশি হস্তক্ষেপে আবারো প্রমাণিত হলো- রাষ্ট্র এখন অমানবিক এবং চরম গণবিরোধী। শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে একদলীয় দুঃশাসনের চরম অন্ধকারে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর এই চরম সীমা লঙ্ঘনের কারণেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উন্মুক্ত কোনো স্থানে তো নয়ই বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। পুলিশি বাধা অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে সেসব সভা ও আলোচনা নস্যাৎ করতে যে ন্যাক্কারজনক অসদাচরণ করা হচ্ছে, সেটির ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই।

তিনি বলেন, বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমন করতে পুলিশকে লাগামহীন লাইসেন্স দেয়ার কারণেই সামাজিক অপরাধগুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে তীব্র মাত্রায়। অনাচার বৃদ্ধির কারণেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি-শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অশুভ উদ্দেশ্যেই দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আসম আব্দুর রবের বাসায় পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে-রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে না পারে। খালেদা জিয়া হঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরো বেশি সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ। সময় অতি সন্নিকটে যখন জনগণের সম্মিলিত গণরোষে এই নিপীড়ক সরকারের মূলোৎপাটন ঘটবে। তাই সরকারকে বলব, গণবিরোধী জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসুন, অন্যথায় যুগে যুগে সকল স্বৈরাচারের মতোই আপনাদেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে। এদিকে, আসম রবের বাসভবনে সভায় পুলিশি বাগড়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

 

বিদেশি শক্তির দিকে চেয়ে থাকে না আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের

রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ কোন বিদেশি শক্তির দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেনা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের সম্মেলন কবে হবে তা খুব শিগগিরই জানা যাবে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা সময় বুঝে ভারত প্রীতিও করে, ভারত ভীতিও করে। যেহেতু নির্বাচনী হাওয়া বইছে; সে কারণে ইদানিং তাদের মধ্যে উপরে উপরে ভারত প্রীতি দেখা যাচ্ছে। ভেতরের কথা আমি বলতে চাই না। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে। অশালীন মন্তব্য করছে, মিথ্যাচার করে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত জয়কে ঠেকানো যাবে না। নতুন সদস্য সংগ্রহের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দল প্রতিনিয়ত সদস্য সংগ্রহের বিষয়ে কাজ করছে, আমরা এক্ষেত্রে প্রথমে নতুন ভোটার এবং পরে নারী ভোটারদের উপর ফোকাস দিচ্ছি। এর আগে বৈঠকে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বিবদমান কোন্দল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। যেখানে গত বুধবারও আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

পুরো জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের- বাহাউদ্দিন নাছিম ও জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২৬ জুলাই পর্যন্ত। নতুন কমিটি গঠনের জন্য নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে এখন বিশেষ পরিস্থিত (বন্যা) বিরাজ করছে। আমাদের (আওয়ামী লীগের) জাতীয় সম্মেলনের তারিখও কার্যনির্বাহী কমিটির সভার অনুমোদন নিয়ে পেছানো হয়েছিল। আমি বলতে পারি খুব বেশি বিলম্বিত হবে না। আশা করি খুব শিগগিরই জানতে পারবেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন কবে হবে। ছাত্রলীগ আমাদের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন। সেখানে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ফরিদুন্নাহার লাইলী, শাম্মী আহমেদ, বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

খালেদা জিয়ার দুই দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে পুন:জেরা আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন পিছিয়ে একইদিন পুননির্ধারণ করেছেন।  বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত খালেদার আইনজীবীদের সময়ের আবেদনে দুই মামলারই পরবর্তী শুনানির এ দিন ধার্য করেন রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওই দুই দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে এ আদালতে। এর মধ্যে চ্যারিটেবল মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদকে আংশিক পুন:জেরা করে সময়ের আবেদন জানান খালেদা জিয়ার অ্যাড. আব্দুর রেজ্জাক খান। অন্যদিকে উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির অপেক্ষায় থাকার কথা বলে অরফানেজ মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন পেছানোর আবেদন জানানো হলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক হলেন শাম্মী আহমেদ

ড. শাম্মী আহমেদকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং আতাউর রহমানকে সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দলটির উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ড. শাম্মী আহমদকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং বিশিষ্ট নাট্যজন আতাউর রহমানকে সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

 

এই বিভাগের আরো খবর

শাক দিয়ে মাছ ঢেকে লাভ হবে না: রিজভী

সুইস ব্যাংকে অর্থ লেনদেন নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার দুপুরে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা সর্বজনবিদিত যে, সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাটে শুন্য হয়ে গেছে। সরকারের লুটপাট আর দুর্নীতিতে তারা এখন টালমাটাল হয়ে গেছেন। আমরা বলতে চাই, সেদিন আর বেশি দূরে নয়- লুটপাটের জন্য একদিন তাদের জনগণের নিকট জবাবদিহি করতেই হবে। অর্থমন্ত্রী যতই ‘নৌকা মার্কা-জাহাজমার্কা বাজেট’ দিন না কেন, দেশের অর্থনীতি যে ফাঁকা, ফাঁপা শুন্যগর্ভ তা দেশ-বিদেশের কারো নিকট আজ অজানা নয়। তাই যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন না কেন, তাতে লাভ হবে না। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদের পর এতে ‘অতিশয়োক্তি’ রয়েছে বলে মঙ্গলবার সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “অর্থমন্ত্রী একবার বলছেন, ‘সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার হয়নি, লেনদেন হয়েছে।

আবার তিনি এও বলেছেন যে, তবে সামান্য কিছু অর্থ পাচার হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে সিলেটের এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারে আমরাও দায়ী। এই ধরনের স্ববিরোধী বক্তব্য আওয়ামী নেতাদের চিরাচরিত টেকনিক। আসলে ক্ষমতাসীনদের উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতারই লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা পাঁচারে জড়িত বলেই তাদের চাপে অর্থমন্ত্রীকে আগের কথা থেকে সরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে। তাকে (অর্থমন্ত্রী) আবারো বলিরপাঠা করা হয়েছে। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে অভিযোগ করে একে ‘সুদূর প্রসারী নীল নকশা’র বলে আখ্যায়িত করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব। তিনি বলেন, আজকে একটি দৈনিক পত্রিকায় নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদোন্নতি কমিটির যিনি প্রধান- তিনি গণবদলি ও পদোন্নতির বিষয় কিছু জানেন না বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসির নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার, পুনঃবিন্যাস ও দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির প্রধান যিনি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার- এ বিষয়ে ইসির সচিবকে নোট দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেশবাসীর মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ডিসেম্বর থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে অশুভ উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত ও গণবদলির ঘটনা ঘটনো হয়েছে কিনা- সেটি নিয়ে সকলের মনে এক বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনের এই ব্যাপক পরিবর্তন একটি সুদুর প্রসারী নকশারই অংশ। আগামী নির্বাচনগুলোকে প্রভাবিত করার জন্য একটা চক্রান্ত জ্বাল বিস্তারের আলামত কিনা- সেটাই দেশের ভোটারদের এখন ভাবিয়ে তুলেছে। রিজভী বলেন, এই গণবদলি ও পদোন্নতির ঘটনায় স্বয়ং ইসির অনেক কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

আমরা মনে করি, এ ঘটনায় শুধু ইসির ভাবমূর্তিই নষ্ট হয়নি বরং নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড বিশাল প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতায় আন্দোলনকারীদের ওপর মঙ্গলবারের এক কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দাও জানান এই বিএনপি নেতা। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অন্য দেশ হলে বিএনপি নিষিদ্ধ হতো : হাছান

বিএনপি যেভাবে দেশে ‘আগুন-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য’ চালিয়েছে, তা অন্য দেশে হলে এত দিনে দলটি নিষিদ্ধ হতো বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।  বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আওয়ামী প্রজন্ম লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির সব নেতা হচ্ছেন পেট্রলবোমা বাহিনীর নেতা। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করার রাজনীতি যারা করে, বাংলাদেশ বলে তারা এখনো রাজনীতি করতে পারছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ হলে এই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হতো। এই কর্মকান্ডের জন্য একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তাদের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতো। তাদের নেতৃবৃন্দকে অনেক আগেই কারাগারে যেতে হতো। বাংলাদেশে সেটি এখনো হয় নাই। বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গী উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতা হাছান বলেন, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চিকিৎসাধীন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশে কাদের

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে দেখতে গিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বুধবার তাদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের সুচিকিৎসার নির্দেশ প্রদান করেন।

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আমির হোসেনকে বারডেম হাসপাতালে, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ কামরুজ্জামানের স্ত্রী নুরুননাহার বেগম ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য রহমতউল্লাহ ভুঁইয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াসকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান।

এই বিভাগের আরো খবর

আওয়ামী লীগ আমলের গুমের হিসাব দিলেন রিজভী

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন সময় গুম ও নিখোঁজ হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা প্রকাশ করলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির কাছে গুম ও নিখোঁজদের তালিকা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। বিভিন্ন সংস্থা ও গুম হওয়া স্বজনদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গুম ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ পান না অথচ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং গুম হওয়া পরিবার থেকে পাওয়া তথ্য মতে ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৫ ব্যক্তি গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫২ জনের এখনও হদিস পাওয়া যায়নি। ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৩৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলোর নীরব কান্না থেমে নেই। এগুলোর বিষয়ে কী কোনো জবাব দিতে পারবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক? আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের চোখে পানি না আসলেও গুম হওয়া, খুন হওয়া, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্বজন ও সহকর্মীদের চোখের পানিতে এখন বাংলাদেশ ভাসছে। রিজভীর দেয়া তথ্য মতে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে কেবলমাত্র ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেই থেকে পরিবারগুলো সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তারা পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবির কার্যালয়ে গিয়ে ধরণা দিয়েছেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বিএনপি বা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ৭০ দিন গুম করে রাখার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ফেলে আসা হয়। আন্তর্জাতিক সব আইন-কানুন উপেক্ষা করে একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত কী করে আরেকটি দেশের দুঃশাসন ও অন্যায়ের অংশীদার হতে পারে- আজ সারাবিশ্বের মানুষের মনে এ প্রশ্ন’- যোগ করেন রিজভী। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকির, তেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমন, সাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম (তানভীর), পূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া (মাসুম), পশ্চিম নাখালপাড়ার মাজহারুল ইসলাম (রাসেল), মুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান (রানা), উত্তর বাড্ডার আল আমিন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা এ এম আদনান চৌধুরী ও কাওসার আহমেদ, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান, খালিদ হাসান (সোহেল) ও সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির), পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল (চঞ্চল), নিজাম উদ্দিন (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (ঝন্টু), কাজী ফরহাদ, সেলিম রেজাকে (পিন্টু), ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমসহ অনেকের হতভাগ্য পরিবার।

গুম হওয়া বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি এম এ আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন ছেলের অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অসুস্থ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। সরকারের সর্বশেষ আক্রোশের শিকার হয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। তিনি এখন এতোটাই মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত যে, শোনা যাচ্ছে মানুষজন ও আত্মীয়-স্বজনদের চিনতেও নাকি কষ্ট হচ্ছে তার। অথচ তার অপহরণ ঘটনা এখন নাটক বানাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার। কিন্তু সরকারি কোনো চক্রান্ত ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনা ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারবে না। মানুষ যা বোঝার তা ইতোমধ্যেই বুঝে গেছেন- বলেন বিএনপি এ নেতা।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের নেতাকর্মীদের লুটপাটের টাকায় সুইস ব্যাংক জোয়ারের পানির মতো উপচে উঠেছে। তাই অন্যের আহাজারিতে আপনাদের মনে আনন্দ ধরে। সম্প্রতি দেশের মানুষ যখন পাহাড়ধসের মাটিচাপায় জীবন দিচ্ছে, দুর্যোগে-দুর্ভোগে বিপন্ন তখন আপনার নেত্রী লন্ডনে ভাগ্নিকে সংবর্ধনা দিতে যান। বর্তমানে দেশে উজানের পানিতে ভয়াবহ বন্যায় যখন মানুষ ভাসছে তখন আপনারা সংসদে বসে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে মেতে আছেন। সংসদে বসে মানুষের গীবত গাইছেন, যদি আপনারা প্রকৃত অর্থে জনপ্রতিনিধি হতেন, যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন তা হলে বন্যার্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষের নিকট ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।’ রিজভী বলেন, গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের বেদনার্ত কান্নার আওয়াজ কাদের সাহেব আপনাদের কানে ঢোকে না। এমনকি সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কারও কর্ণ কুহরেই যেন এদের কান্নার শব্দ প্রবেশ করে না। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনেরা জানতেও পারেননি তারা এখন জীবিত নাকি মৃত। পিতার অপেক্ষায় তার সন্তান, স্বামীর অপেক্ষায় স্ত্রী, সন্তানের অপেক্ষায় মা-বাবা। এ অপেক্ষার যেন শেষ নেই। বুকভরা বেদনা নিয়ে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে নিরাপত্তাজনিত আতঙ্ক। শুধু গুম আর অপহরণই নয়, বরং আওয়ামী লীগ ও তাদের পেটোয়া বাহিনীর হাতে নির্যাতিত লাখ লাখ মানুষ এখন কাঁদছে আর আওয়ামী নেতারা মানুষের দুঃখ-বেদনা ও কান্না নিয়ে উপহাস করছেন- যোগ করেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সরকার হতাশ: রিজভী

বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত হয়নি বলেই আওয়ামী লীগের এতো হতাশা ও ক্ষোভ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায়  (৯ জুলাই) সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আসলে তাদের কাছে ৭২ এর সংবিধান বিষয় নয়। তারা চেয়েছিলো বিচার বিভাগকে নিজেদের মতো করে নিতে। চেয়েছিলো বিচারপতিদের ওপর হস্তক্ষেপ করতে। তাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের এতো ক্ষোভ, হতাশা। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় মহাজোটের অনেক নেতা সংসদে বলেছেন সংবিধানের বেসিক থেকে সরা যাবে না। আমি সেই চাটুকার নেতাদের বলবো, ৭২ এর সংবিধান আওয়ামী লীগ নষ্ট করে যখন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো তখন আপনারা কোথায় ছিলেন। তখন যদি কথা না বের হলে এখন বের হচ্ছে কেন? তিনি আরও বলেন, জাসদের এক নেতা কাল সংসদে সংবিধানের বেসিক নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমি তাকে বলতে চাই, সংবিধান কি ধ্রুবতারা, যে পরিবর্তন করা যাবে না? দেশ ও জাতীয় স্বার্থে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্যবার পরিবর্তন হয়েছে। ফ্যাসিবাদী ও ক্ষমতালোভীদের জন্য সংবিধান ধ্রুবতারা। সকালে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী। বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে এতো শঙ্কা থাকতো না। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ডেকেছিলো আসলাম চৌধুরী মুক্তি পরিষদ। যেখানে রুহুল কবির রিজভীর প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিলো। কিন্তু পুলিশ অনুমিত না দেওয়ায় তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসে আলোচনা সভার আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনে হাসি পায়: ফখরুল

বাহাত্তরের সংবিধানে পঁচাত্তরে সংশোধন এনে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা যে সংসদের কাছ থেকে যে বঙ্গবন্ধুর আমলেই সরানো হয়েছিল, তা আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিএনপিবিহীন সংসদে ক্ষোভ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে বাকশাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এখন আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনে তার হাসি পায়। ওই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রোববার সংসদে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ, জাসদ ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। তার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার রাজধানীর নয়া পল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ‘সদস্য সংগ্রহ অভিযান’ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের প্রসঙ্গ তোলেন ফখরুল।

ফখরুল বলেন, চতুর্থ সংশোধনীতে এই বিচারপতিদের অভিসংশনের ক্ষমতা আপনারাই তো রাষ্ট্রপতির কাছে দিয়ে দিয়েছিলেন। ভুলে গেছেন? এখন সেটা মনে পড়ে না। ভুলে গেছেন যে, আপনারাই সমস্ত কথা বলার অধিকার হরণ করে দিয়েছিলেন, পত্রিকায় লেখা ও পত্রিকা প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, অন্য কোনো সংগঠন করা যাবে না- এসব ভুলে গেছেন?

গণতন্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বড় বড় কথা বলে প্রত্যেকদিন। গণতন্ত্রের একমাত্র ধারক-বাহক হয়ে বসে আছে। কালকে (রোববার) সংসদে বহু লেকচার করেছেন, তুলোধুনো করেছে বিচার বিভাগকে। ১৯৭২ সালে যে সংবিধান তৈরি করা হল, সেই সংবিধানকে এক এক করে শেষ করলো কে? এই আওয়ামী লীগ। তারা বিশেষ ক্ষমতা আইন করল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল। এরপর যখন তাও সামাল দিতে ব্যর্থ, তখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল করেছে। সেই তারা যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন আমরা যারা বয়ঃবৃদ্ধ মানুষ আছি, যারা দেখিছি, আমরা না হেসে তো পারি না। বিচার বিভাগকে চাপে রাখতেই আওয়ামী লীগ সং বিধানের ষোড়শ সংশোধন করেছিল বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। এই প্রসঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রসঙ্গও টানেন তিনি। আমার বিরুদ্ধে একটা মানহানির মামলা করেছে।

মানহানি করলাম প্রধানমন্ত্রীর, মামলা করল তাঁতী লীগ না স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন। মামলা এমনিতেই হবে না, অথচ বিচার কাজ শুরু করেছে। এই যে আইনকে তারা তাদের মতো করে ব্যবহার করতে চায়। আরে সেজন্যই তো আমাদের বিচারক মহোদয়রা বলেছেন যে তোমরা আবার বিচারকদের অভিশংসন করবা কী? তোমরা তো তোমাদেরটা ছাড়া কিছু দেখবা না। সুতরাং তোমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। সেজন্য তারা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে জুডিসিয়াল কাউন্সিল বহাল রেখেছেন। লজ্জা নাই? যেহেতু পার্লামেন্টে ইমিউনিটি আছে, যা খুশি তা বলতে পারে, বলতেছে। আমাদেরও বাইরে ইমিউনিটি আছে, আমরাও আপনাদের সমালোচনা করতে পারি। বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারের মামলাকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সঙ্গে তুলনা করে ফখরুল বলেন, নর্থ কোরিয়া যেমন মিসাইল মারে মাঝে মাঝে।

এদের (সরকার) অস্ত্র হচ্ছে কী মিথ্যা মামলা। মামলা করো, আদালতে ওদের সময় কাটবে। উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুম সাহেবের (বিদেশে আত্মগোপন) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিল। ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা মারা গেল গুলশানে। একদিনও যায়নি প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক থেকে বললেন, এই হত্যার সাথে না কি বিএনপি জড়িত। এরপর তারা যা করার, তাই তো করতেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক এ জি এম শামসুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও বক্তব্য রাখেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top