সন্ধ্যা ৭:১০, বুধবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার এ তথ্য জানিয়েছেন। সাক্ষাতে উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন: মির্জা ফখরুল

একুশের চেতনা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একুশের শহীদরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জীবন দিয়েছিলেন। কিন্তু একুশের চেতনার গণতন্ত্র এখন হারিয়ে গেছে। আমাদের প্রতিজ্ঞা, হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে  মঙ্গলবার সকালে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ফখরুল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একুশের চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ছিল গণতন্ত্র। কিন্তু আজ দেশকে গণতন্ত্রহীন রেখে ক্ষমতাসীনরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। এর আগে, মির্জা ফখরুল দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আজিমপুরে ভাষা শহীদদের কবরে যান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে আসেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন-বিএনপির সিনিয়র নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তাইফুল ইসলাম টিপু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

 

একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে আজ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা আজ বুধবার। এদিন বিকেল ৩ টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে আজকে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে দলের নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত দেড়টার দিকে কালো ব্যাজ বুকে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফুল দেওয়ার পর বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার খুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যেই শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসা মিছিলগুলো কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে ফুল দেওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এর আগে, রাষ্ট্রীয় কোনো প্রটোকল না থাকায় গুলশান-২ নম্বর চত্বরে পুলিশের ব্যারিকেড উঠানোর পর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গুলশানের কার্যালয় থেকে রওনা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি বহর। হাই কোর্ট মোড় ও দোয়েল চত্বর সড়ক দিয়ে রাত ১টা ১৯ মিনিটে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছান খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন-দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এদিকে, খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে এনপিপি, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে জাগপা, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ন্যাপ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জাফর) এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসার নেতৃত্বে এনডিপি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

 

 

ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে বেঈমানী করেছে আওয়ামী লীগ : ফখরুল

জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ‘হরণ করে’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে ‘বেঈমানী’ করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ দাবি করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের চেতনা-এই কথাগুলো খুব ব্যবহার করেন। কিন্তু একবারের জন্যও বলেন না যে, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছিলো মূলত গণতান্ত্রিক চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ছিলো গণতন্ত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এখনকার শাসকগোষ্ঠী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে পদদলিত করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করেছে। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করেছে।

এক সময়ের জনপ্রিয় দল মুসলীম লীগের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, রাজনীতি যদি ভুল হয় এবং শাসক দল যদি জনগণের ভাষা না বোঝে, তাহলে যত জনপ্রিয়ই হোক না কেন, সে দল জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যাবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এই দেশের মানুষ বর্জন করেছে, বিশ্বাবাসীও তা গ্রহণ করেনি। আবারো যদি ছল-চাতুরি ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতাসীনরা একদলীয় নির্বাচন করতে চায়, তাহলে এ দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসী তা গ্রহণ করবে না।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ, অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ।

 

রায়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটতে পারে শঙ্কা রিজভীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার রায়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক চন্দন রহমানের ছড়ার বই ‘খোঁচা’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ শঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি। বইটি প্রকাশ করেছে ‘লাবনী প্রকাশনী’।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এই মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হিংসাশ্রয়ী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসা পূরণের মামলা। কিন্তু তার (প্রধানমন্ত্রী) উদ্দেশ্য ভিন্ন। তিনি জার্মানীর মিউনিখ থেকে বললেন, এই মামলায় যা হওয়ার তা-ই হবে। এর মানে তিনি অন্যরকম ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

আদালত কী রায় দেবেন, সেটা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। কিন্তু মিউনিখ থেকে রায়ের একটি আগাম আভাস দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। উনি সুস্পষ্টভাবে যে আদালতকে প্রভাবিত করেন, করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে প্রভাবিত করবেন-বক্তব্যে সেটা প্রমাণিত হলো। বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো সরকারের ইচ্ছাতেই হয়েছে। যে রায় হবে, সেটাও শেখ হাসিনার মনোনীত রায়, রায়ে তার ইচ্ছারই প্রতিফলন হতে পারে-প্রধানমন্ত্রীর মিউনিখে দেওয়া বক্তব্যে সেটা ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হাতে একজন সাংসদ লাঞ্ছিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, দলের প্রধান নেতা এমপিকে চড়-কিল-ঘুষি মেরে দিচ্ছেন। দলের এমপিকে দলের নেতারা মেরে ফেলছে। রাজনীতিতে যদি সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিরা থাকতেন, তাহলে এ ধরণের সংবাদ কখনোই গণমাধ্যমে আসত না। আজকে রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত নয় বলেই এই ধরনের কালো দাগ রাজনীতিতে পড়ছে।

 রাজনীতিকে একটি উন্নত মানের শিল্পকলা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সংস্কৃতিমনা ছেলেরা যত বেশি রাজনীতিতে যুক্ত থাকে, তত বেশি রাজনৈতিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এরা যখন রাজনীতির বিভিন্ন ডামাডোলে জায়গা পায় না, তখন রাজনীতিতে সন্ত্রাসী-মাস্তানের আবির্ভাব হয়। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, প্রকাশক ইকবাল হোসেন সানু, লেখক চন্দন রহমান প্রমুখ।

 

বিএনপি নেতারাই চায় খালেদা জিয়া দ্রুত জেলে যাক: হাছান

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার এতগুলো অপরাধ এবং তার নামে যতগুলো মামলায় হয়েছে যে, তার সেখান থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় নেই। এটা বিএনপির নেতাকর্মীরাও জানে। তাই তারাও তলে তলে চায় খালেদা জিয়া দ্রুত জেলে যাক। কিন্তু রাজপথে দাঁড়িয়ে বলেন খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হবে না।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহারের দাবিতে ও ভাষা শহীদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে অনেকেই ইংরেজি ঢঙ্গে বাংলা বলেন। এটা তো ঠিক নয়। যে বাংলা ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি সেই আমরা কেন বাংলাকে জগাখিচুড়ি করে ব্যবহার করবো? আমাদেরকে এই প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ইংরেজি ঢঙ্গে বাংলা বলা বন্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অভিনেতা ফারুকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অভিনেতা ড্যানি সিডাক, অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ বক্তব্য রাখেন।

 

নতুন জোট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ

সুস্থ ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে আটটি দল নিয়ে ‘ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে।  রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে এ জোট।

দলগুলো হলো : ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল-জাগদল, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাশনাল কংগ্রেস, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-বিজিএ, ন্যাশনাল লেবার পার্টি-এনএলপি, আম জনতা পার্টি ও স্বাধীনতা পার্টি।

এনডিপির একাংশের চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার নতুন এ জোটের প্রধান সমন্বয়কারী। সংবাদ সম্মেলনে জোটের ১০ দফা আশু কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি জানান, নতুন আরো তিনটি দল শিগগিরই এ জোটে অন্তর্ভুক্ত হবে। শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা মহাসচিব আব্দুল হাই মন্ডল নতুন দল গঠন করে এ জোটে যোগ দেবেন। নবগঠিত এ জোট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক প্রগতি অর্জনে সুস্থ ধারার রাজনীতির জন্য কাজ করবে।

এদিকে, জোটভুক্ত কোনো দলেরই নিবন্ধন না থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-জোটের নেতা আব্দুল মালেক চৌধুরী, এমএ রশিদ প্রধান প্রমুখ।

 

 

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেবেন খালেদা জিয়া

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর এ অনুমতি মেলে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও নাজিম উদ্দিন আলম। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন উপাচার্য।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতার পদেও নেই। সেজন্য জাতীয় দিবসগুলোতে শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রটোকল কিংবা সুবিধা ছাড়াই তাকে যেতে হয় শহীদ মিনার বা জাতীয় স্মৃতিসৌধে। তাই খালেদা জিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে এ অনুমতি নিতে হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে খালেদা জিয়া এবার সর্বোচ্চ ৬০ জন নেতাকর্মী নিয়ে ফুল দিতে পারবেন। চেয়ারপারসনের সঙ্গে ১০০জন নেতাকর্মী থাকার অনুমতি চাওয়া হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬০ জনের অনুমতি দেয়।

 

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেল।  রোববার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান। সাক্ষাতে উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেই পড়তে হয় : রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে ‘প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পরিকল্পনা’ প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘আদালতকে প্রভাবিত করছেন’ বলে অভিযোগ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেই পড়তে হয়।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গত শুক্রবার জার্মানিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালতের কাছে যদি প্রমাণ থাকে, তাহলে তার (খালেদা জিয়া) শাস্তি হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর সাজা হবে- উনারা (সরকার প্রধান) কী করে জানছেন? আসলে এটা সরকারি দল এবং সেই দলের প্রধানের মনের বাসনা, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একটা পরিকল্পনা। আমি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- অন্যকে কষ্ট দিলে, অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে নিজেকেই সেই গর্তে পড়তে হয়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না, হতে পারবে না- এটা আমি সুস্পষ্টভাবে আপনাদের সামনে জানিয়ে দিলাম। বর্তমান নিয়মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। বিএনপি সেই নির্বাচনে যাবে কিনা, জানতে চাইলে দলটির এই নেতা বলেন, আমরা এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেছি- সেই সরকারের নাম যেটাই হোক, সেটা নির্দলীয় সরকার হতে হবে। যেখানে মানুষ মনে করবে যে, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।

রিজভীর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জরুরি অবস্থার সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা তুলে নেওয়া হলেও কেবল হয়রানি করার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলো চলমান রাখা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণ কাজের কারণে ‘ধুলি দূষণ’ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

নির্বাচনের ফরমুলা দিয়ে লাভ হবে না: নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের ফরমুলা দিয়ে লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 রোববার বিকেলে রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গণ আজাদী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোন ফরমুল দিয়ে লাভ হবে না। সংবিধানে যা আছে তাই হবে। সংবিধানের বাহিরে যাবার কোন ক্ষমতা নেই। ফরমুল দিয়ে আহেতুক ধু¤্রজাল সৃষ্টির কোন দরকার নেই। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় বাংলাদেশ আগামী দুই বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্য নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে। কমিশন কাজও শুরু করেছে। বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে এমন আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, যে যাই বলুক, যে যত কথা বলুক। বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সুষ্ঠ ভাবে অনুষ্ঠিত করতে সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়, গণআজাদী লীগের উপদেষ্টা সৈয়দ শামসুল আলম হাসু, সাধারণ সম্পাদক আতা উল্লাহ খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহবায় ড. আসীত বরণ রায় প্রমুখ।

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি : গয়েশ্বর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলের এমন মনোভাবের কথা জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচনও হবে না।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সভাপতি হুমায়ুন ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে এ শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিএনপি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব করবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে গয়েশ্বর পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে যদি আমরা নির্বাচনেই যাব, তাহলে ২০১৪ সালেই নির্বাচনে যেতে পারতাম, পাঁচ বছর পরে যাব কেন? এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারণী পরিষদ এখনো বৈঠক করেনি। দলের মধ্যে নানা মতের মানুষ আছেন।

বিএনপি এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়নি। খালেদা জিয়ার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাননি। আগামী নির্বাচনও ৫ জানুয়ারির মতো হলে সে নির্বাচনেও ভোটাররা যাবেন না। এ ধরণের নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইলে থাকুক। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর রায় বলেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্যই খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি এসব মামলা আদালতের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করবে। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

অমর একুশে স্মরণে আওয়ামী লীগের দুই দিনের কর্মসূচি

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর)। ভোর সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। (নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট থেকে প্রভাতফেরী শুরু হবে)। পর দিন বুধবার বিকেল ৩ টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বিচার প্রভাবিত হবে, শঙ্কা ফারুকের

খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিচার প্রভাবিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।  শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই শঙ্কার কথা জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উদ্যোগে নির্বাচন কমিশন, সহায়ক সরকার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে এ মানববন্ধন হয়।

গত শুক্রবার জার্মানির মিউনিখে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যদি সত্যি কোর্টের কাছে এভিডেন্স থাকে চুরি করেছে, তাহলে (খালেদা জিয়ার) শাস্তি হবে। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের সূত্র ধরে ফারুক বলেন, এতে বোঝা যায়- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করেন, তাহলে তো খালেদা জিয়াকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। রায়ের আগেই যদি দলীয় ফোরামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি (শেখ হাসিনা) এ রকম বক্তব্য দেন, সেটা কী সঠিক হলো? তিনি দাবি করে বলেন, যদি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও নিরপেক্ষ বিচারক হয়ে থাকেন, তাহলে আইনজীবীর মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া যেসব বক্তব্য তুলে ধরেছেন, নিশ্চয়ই সেই বক্তব্যে প্রমাণিত হবে, অর্থলুটের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই। নতুন ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না দাবি করে তিনি বলেন, সরকারকে বলব-নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি মেনে নিন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করুন। সংগঠনের সভাপতি আমির হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, কৃষক দল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

 

ছাত্রদলের কমিটি গঠন বিলম্বে বাড়ছে হতাশা-উত্তেজনা

রাজকুমার নন্দী : ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দ্রুতই দল পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে চায় দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন থেকে বাইরে থাকা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড এখন ঢাকা মহানগর বিএনপি ও কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ত। শিগগিরই এই দু’টি কমিটি ঘোষিত হবে। এরপরেই ঘোষণা করা হবে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের বয়স নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও জুনিয়র-সিনিয়র সমন্বয়েই এ কমিটি গঠন করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বয়সের কারণে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির কেউ বাদ পড়লে তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক-যুবদলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনে পদায়ন করা হবে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা দুই-ই বিরাজ করছে। দিন যতই যাচ্ছে এ উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে তৎপরতা শুরু হওয়ায় দায়িত্বশীল নেতা ও ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণকারী তথাকথিত ভাইয়া গ্রুপের ভাইদের কাছে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের দৌঁড়-ঝাপও শুরু হয়েছে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের সম্পৃক্ততার প্রমাণসহ জীবনবৃত্তান্ত। এছাড়া ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার আশপাশের লোকদের কাছেও পৌঁছে দেয়া হয়েছে এসব তথ্য-প্রমাণ। ঢাকা-লন্ডন সমানতালে যোগাযোগ রাখছেন নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা। তবে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রদলের সাবেক কিছু নেতাকে দিয়ে তারেক রহমান নিজেও একটি কমিটি গঠন করেছেন, যারা পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সাবেক এসব ছাত্রনেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও  আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ষোল মাস পর ঘোষণা করা হয় ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি, যেটা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কমিটি। কমিটি গঠনের পর শীর্ষনেতারা খালেদা জিয়ার কাছে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া ও নিয়মিত অবস্থান করার পাশাপাশি ছাত্রদলকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রিয়াশীল করার’ অঙ্গিকার করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ সভাও করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। এজন্য ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।

গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতারা। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন শতাধিক নেতা নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। এর আগে, একই দাবিতে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির এক নেতা দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় অনশন কর্মসূচি পালন করেন। নতুন কমিটির দাবিতে সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া, নিয়মিত ছাত্রদের দিয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০-০১ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রনেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে ছাত্রদলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। তবে কোন সেশনকে বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হবে সে ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

জানা গেছে, সারাদেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখা, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপির ভবিষ্যৎ সঙ্কট মোকাবেলা এবং আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামকে সামনে রেখে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদকদের মধ্য থেকেই সংগঠনটির নতুন কান্ডারি নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাজীব, মামুনুর রশিদ মামুন ও আকরামকে গত বছর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রাজীব ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বী না হলেও আকরাম ও মামুন সভাপতি পদের জোরালো প্রার্থী। এছাড়া শীর্ষপদে ঘুরেফিরে আলোচিত অন্য নামগুলো হলো : বর্তমান সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, মামুন বিল্লাহ, ইখতিয়ার রহমান কবির, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ও জহিরুল ইসলাম বিপ্লব। আলোচনায় আরো রয়েছেন-বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, মিজানুর রহমান সোহাগ, নুরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, বায়েজিদ আরেফিন, সামছুল আলম রানা, করিম সরকার, মির্জা ইয়াছিন আলী, বিএম নাজিম মাহমুদ, মেহবুব মাসুম শান্ত, ওমর ফারুক মুন্না, গোলাম মোস্তফা, সম্পাদকীয় পদের মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, সৈয়দ মাহমুদ, আরাফাত বিল্লাহ খান ও তরিকুল ইসলাম। সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলনে এরা সবাই রাজপথের কর্মসূচিতে সামনের কাতারে ছিলেন।

মেহবুব মাসুম শান্ত ও গোলাম মোস্তফা উভয়েই দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই সম্পৃক্ত থেকেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতিতও হয়েছি। আশা করি, নতুন কমিটি গঠনে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এটা দলের সবাই জানেন। সাংগঠনিক নেত্রী (খালেদা জিয়া) যখন ভালো ও উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। আমরা এখন আমাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ছোটখাট কিছু ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে ১১ বছর পর ঢাবির হল কমিটি দেয়াসহ অনেক সফলতাও রয়েছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্বাভাবিক নেতৃত্বই আসবে বলে মনে করেন রাজীব আহসান।

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবে বিএনপি: আমির খসরু

খুলনা প্রতিনিধি : নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করছে বিএনপি। যা অচিরেই প্রস্তাব আকারে জাতির সামনে তুলে করা হবে। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একথা জানান।

শনিবার  দুপুরে  অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনা জেলা শাখার আয়োজনে মহানগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রস্তাবের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটিয়ে তিনি একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন। যিনি বিতর্কিত ও দলীয়। তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান রচিত হয়েছে জনগণের প্রয়োজনে। জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকতো না। এখন আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংগঠনের জেলা শাখার সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. শেখ মো. আখতার-উজ-জামান।সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ।আলোচনায় অংশ নেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মনা প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

ষড়যন্ত্রকারীরা বার বার পরাজিত হয়: শামীম

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী সব সময় পরাজিত হয়। ওয়ান ইলেভেনে আওয়ামী লীগকে ভাঙ্গার চেষ্ঠা করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। পদ্মা সেতু নিয়েও বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্রকারীরা কলকাঠি নাড়েন। এতেও তারা সফল হয়নি। বার বার তারা পরাজিত হয়েছে। আগামীতেও কোন ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করার চেষ্টা করা হলে জনগণ তাদের রুখে দাঁড়াবে।

বুধবার বিকালে ধানমন্ডিতে চট্রগ্রাম-১৫ আসনের এমিপ প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শামীম বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায় না তারাই পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছে। বাংলাদেশকে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব দরবারে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই বিশ্বব্যাংক এই দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ করেছে। এর পেছনে ছিল এ দেশের একজন অকৃতজ্ঞ মানুষ ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এর পেছনে কলকাঠি নাড়িয়েছে।

চট্রগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ সাংগঠনিক সম্পাদক স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে-আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম বলেই টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। আগামীতেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সামনের নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থের কারণে যেন দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী এমপি ছাড়াও এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নুরুল আফসার, সাতকানিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ লিটন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার কামাল, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচম গনি সম্রাট, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আবদুল জব্বার এবং আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক জহির সিকদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর ভাবনা নেই সরকারের : কাদের

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর কোনো ভাবনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার কিংবা জেলে পাঠানোর কোনো ভাবনা সরকারের নেই। আদালতে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে সে কারাগারে যাবে কিনা, সে মাফ পাবে কিনা সেটা আদালত বলতে পারবে। সময় ও স্রোত যেমন কারো জন্য অপেক্ষা করে না, তেমনি বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচন কারও জন্য অপেক্ষা করবে না।

বৃহস্পতিবার র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে বিমানবন্দর সড়ক সৌন্দর্য্যকরণ, আধুনিকায়ন ও রক্ষনাবেক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের এসব কথা বলেন। বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ওবায়দুল কাদের বলেন, তামিলনাড়–র মুখ্যমন্ত্রীর খুব কাছাকাছি গিয়েও শশিকলাকে জেলে যেতে হয়েছে। তার জন্য ভারতের সরকার কিংবা নির্বাচন যেমন বসে থাকবে না, খালেদা জিয়ার জন্যও বাংলাদেশের নির্বাচন ও সংবিধান বসে থাকবে না। তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। সময় এবং নদীর গ্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। দেশের সংবিধান ও নির্বাচন কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক সৌন্দর্য বর্ধন, ডিজিটালাইজেশন, আধুনিকায়ন করছে ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এ কাজ। আগামী জুলাই মাসে এ কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল সড়ক। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ নিজস্ব অর্থায়নে এ কাজ করে দিচ্ছে। আর তত্ত্বাবধায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবেদ মনসুরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম দুরভিসন্ধিমূলক : বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনার যে কথা বলছেন, সেটিকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই পদ্ধতিতে ই-ভোটিংয়ের সার্ভার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সুতরাং সরকারের জন্য ভোট ম্যানিপুলেট (কারসাজি) করা খুবই সহজ হবে। এটি জনগণের ভোটকে নিজ উদ্দেশ্য সাধনে জালিয়াতি করার প্রচেষ্টা মাত্র। এটি প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ভেল্কিবাজিরই বর্ধিত প্রকাশ। জনগণের দৃষ্টিকে সিইসির দিক থেকে অন্যত্র সরানোর জন্য ই-ভোটিং ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ম্যাজিক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। ই-ভোটিং চালুর বিষয়ে গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এক-এগারোর সময় সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা ইভিএম চালুর প্রস্তাব করেছিলেন। তখন বুয়েটসহ কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং প্রায় সব রাজনৈতিক দল সেটির বিরোধিতা করেছিল। সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও এই পদ্ধতিটি চালুর জোর প্রচেষ্টা চালান। ২০১০ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়। ওই সময়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপত্তি তোলায় ইভিএম চালু থেকে সরে আসেন কাজী রকিবউদ্দীন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ভারত, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ ই-ভোটিং পদ্ধতি চালু করলেও এটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এই পদ্ধতি দূর থেকে হ্যাক করা সম্ভব বলেই স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে সেসব দেশে। বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ নিরক্ষর। এতো টেকনিক্যাল বিষয় বোঝা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ই-ভোটিং করার যে কথা বলেছেন, এটি সরকারের ভোটারবিহীন নির্বাচন করার আরেকটি ডিজিটাল প্রতারণা কিনা তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা মনে করি, তার (প্রধানমন্ত্রী) ঘোষণা জনগণকে আরেকটি তামাশার বায়োস্কোপ দেখানো ছাড়া অন্য কিছু নয়। যদিও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার বিদ্যা প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই জানেন। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই-প্রধানমন্ত্রীর উচ্চাভিলাষের কাছে সংগ্রামী জনগণ নিজেদেরকে সঁপে দেবে না। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন মহলের যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণ রুখে দেবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ।

 

খালেদা জিয়ার ২ দুর্নীতি মামলার শুনানি পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পুননির্ধারণ করেছেন আদালত। প্রধান আসামি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার আইনজীবীদের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে  বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালত।

বৃহস্পতিবার চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমাপ্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ এবং অরফানেজ মামলায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে তার অনুপস্থিতিতে সময়ের আবেদন জানান খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এর বিরোধিতা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। সময়ের আবেদনে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও এ আদালত পরিবর্তনে উচ্চ আদালতে করা তার আবেদন শুনানির অপেক্ষায় থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির দুই মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা এবং অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে খালেদা জিয়ার করা দু’টি আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। এরপর আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন তিনি, যে আবেদন বিচারাধীন। এরপর অরফানেজ মামলার আসামি শরফুদ্দিন আহমেদের আইনজীবী রেজাউল করিম সরকার এ মামলার দুই সাক্ষীকে ফের জেরার আবেদন জানালে সেটিও মঞ্জুর করে ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।

অন্যদিকে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করে দুদক। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। চ্যারিটেবল মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়।

যুদ্ধাপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে : ইনু

যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমা না চাওয়ায় আমরা বিপদে আছি। কারণ যে কোনো সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিম এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন দু’টি চ্যালেঞ্জ। একটি সময় মতো নির্বাচন করা, আরেকটি যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদের বিচার করা। গণতন্ত্রের সঙ্গে জঙ্গিবাদ, আগুন সন্ত্রাস যায় না। তাই আমাদের সময় মতো নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে এসব বিচার কাজও অব্যাহত রাখতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ, আগুন সন্ত্রাসের ‘মা’ উল্লেখ করে ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার উস্কানিতেই দেশে জঙ্গিবাদের সৃষ্টি। তিনি জঙ্গিবাদের জন্ম দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াত ও রাজাকারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ভুল করেছে। ভুল শোধরাতে হলে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। তানাহলে নির্বাচনের সময় জঙ্গিবাদ, আগুন সন্ত্রাসের নেত্রীকে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। আগুন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো সমাধান নয়। জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মাইনুর রহমানের সভাপতিত্ব স্মরণ সভায় জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী আরেফের ছোট ভাই কাজী মাসুদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমন্বয়ক মীর হোসেন আকতার, উত্তরের সভাপতি শফিউদ্দিন মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।

এনপিপি থেকে মহাসচিব আবদুল হাই মন্ডলের পদত্যাগ

শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই মন্ডল।  বুধবার দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে এনপিপিতে আবারো ভাঙল ধরলো।

এক সময় জাতীয় পার্টি থেকে এনপিপিতে যোগ দেওয়া বগুড়ার এই রাজনীতিক আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নিবেন। তারপর রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীদের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন তিনি। এনপিপি থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক করতোয়াকে এ তথ্য জানান আবদুল হাই মন্ডল।

পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে এনপিপির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন-দল পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি ইদানিং এতো প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, তা কোনো স্স্থু মস্তিষ্কের মানুষ/রাজনৈতিক কর্মীর পক্ষে হজম করা সম্ভব নয়। এছাড়া স্বেচ্ছাচারিতাও চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলীয় নীতি-আদর্শের প্রতি তোয়াক্কা না করে যা ইচ্ছা তাই করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দলের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভবপর নয়। তাই এনপিপি থেকে পদত্যাগ করলাম।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন শওকত হোসেন নিলু। কিন্তু সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকায় ওইদিন থেকে আবদুল হাই মন্ডলের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে, জোটকে না জানিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইফতার মাহফিলে নিলুর অংশ নেয়া এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মতদ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে ওই বছর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এনপিপি।

 

 

বিশ্বব্যাংককে জবাব দিতে হবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাঙালি চোরের জাতি নয়, বীরের জাতি। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কেন অপবাদ দিল, তাদের জবাব দিতে হবে। তাদের জবাবের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংক থেকে টাকা নেবে কি নেবে না।

বুধবার রাজধানীর শাহবাগের গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ট্যানারিশিল্প স্থানান্তর- পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিভাগ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতে প্রতি ঘণ্টায় ১৭ জন মারা যায়। আর বাংলাদেশে তো কয়েক দিন আগে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১০-১২ জন মানুষ মারা গেছে। গতকাল পাঁচজন মারা গেছে; তাও পত্রিকায় আলাদা শিরোনাম হয়েছে। বিশ্বে অনেকে দেশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় এক-দেড় শ মানুষ মারা যায়। কই সংবাদপত্রগুলোতে তো এগুলো আসে না। আর বাংলাদেশে পাঁচজন মারা গেলেই তা আলাদা করে সংবাদের শিরোনাম হয়। রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর আবার দখল হওয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, একটা কথা আছে, প্রথম রাতে বিড়াল মারতে হয়। নির্বাচনের বছরে এ ধরনের উচ্ছেদ করতে গেলে অনেকে মনে করেন ভোট নষ্ট হয়। একবার এ ধরনের উচ্ছেদের সময় একজন প্রবীণ সাংসদ এসে আমাকে বলেছিলেন, আপনি তো আমার সব ভোট নষ্ট করে দিচ্ছেন। তো আমি শুধু বলব, সব একসঙ্গে ঠিক হবে না। পলিটিকস ঠিক হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা যেমন জনপ্রিয়, আওয়ামী লীগকেও তেমন জনপ্রিয় দলে পরিণত করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছি। ঢাকা কলেজের ঘটনার পর ওই রাতেই ১৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৌরসভার চেয়ারম্যান যা ঘটাল, এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আপনারা এ ধরনের অ্যাকশন আরও দেখবেন। বাংলাদেশের দূষণের চিত্র তুলে ধরে করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের অনাগত শিশুদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু আমাদের বায়ুদূষণ, পানিদূষণ- দূষণে দূষণে সর্বস্বান্ত আমরা। কিন্তু বর্তমান থেকে আমাদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হবে। সাহস নিয়ে এগোতে হবে। ট্যানারিশিল্পের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আমরা আশা করি, জনস্বার্থে অচিরেই ট্যানারিশিল্পের স্থানান্তর হবে। মালিকরা সরকারের আদেশ মেনে তাদের জায়গা বদল করে নেবে।

 

 

 

 

 

বিশ্বব্যাংকের কাছে এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি ১৪ দলের

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আদালত খারিজ করে দেওয়ার পর এখন এই প্রকল্পের কাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক বিলিয়ন ডলার মঞ্জুরী হিসেবে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল। গতকাল বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি তুলে ধরেন জোটের মূখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, তিন বছর আগে বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ায় জাতির কাছে আমরা অসম্মানিত হয়েছিলাম, আমাদের সারা বিশ্বের কাছে ছোট করা হয়েছিল। আমরা তৎকালীন সময়ে করা অভিযোগ এখন কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন স্বিদ্ধান্তকে নিন্দা জানাই। আমরা এখন তাদের জবাব জানতে চাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, পাশাপাশি পদ্মা সেতু থেকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অর্থায়ন ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে কাজের বিলম্বসহ অনেক ক্ষতি হয়েছে। পদ্মায় এই কাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক বিলিয়ন ডলার মঞ্জুরী হিসেবে আমাদের দিতে হবে। নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুস পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মূল হোতা দাবি করে ১৪ দলের মূখপাত্র বলেন, পদ্মা সেতুসহ দেশ বিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নাটের গুরু ড. ইউনুস। তিনি বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক প্রভাব খাটিয়ে, লবিষ্ট নিয়োগ করে দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন। এই ভাবে পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ প্রতিহত করার জন্যই তিনি কাজ করে গেছেন। তাই ইউনূসসহ ষড়যন্ত্রকারিদের জাতীয় সংসদে হাজির করতে হবে। এর জন্য আমি স্পিকারকে অনুরুধ জানাবো।

 সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দাবি অনুযায়ী পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তৎকালীন সময়ে অভিযুক্তদের স্ব-পদে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, এই প্রস্তাবের জন্য ওনাকে ধন্যবাদ। এর আগে মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাম্যবাদি দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, কমউনিষ্ট কেন্দ্রের অশিত বরুন রায় প্রমুখ।

বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখান হাছানের

বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখান করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংবিধানের আলোকেই বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কোনো হেরফের হবে না। সারা পৃথিবীর নিয়ম, আর বিএনপির কাছে আরেক নিয়ম, তা তো হতে পারে না।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কোনো সরকারের অধীনে হয় না। নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। ওই সময় সব কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। সব কিছু নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকে। সরকার কেবল তার নিয়মিত কাজগুলো করবে। এসময় ইসিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা যখন সফল হয়নি, তখন তারা ফের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ওকাম্পো টিম সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসনকে রিমান্ডে নিতে বলেছিল। আজ প্রমাণ হয়েছে পদ্মাসেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

সুতরাং পদ্মাসেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হোক। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে, তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, নূ্যূনতম লজ্জা থাকলে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। আজ আমি বলতে চাই, উনার ন্যূনতম লজ্জা থাকলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিএনপির চেয়ারপারসন, আপনি পদ থেকে পদত্যাগ করুন। আয়োজক সংগঠনের নেতা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

পদ্মা সেতু নিয়ে কুচক্রিদের শাস্তি দাবি শেখ নিলুর

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে দেশি-বিদেশী কুচক্রি মহল জড়িত ছিল উল্লেখ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভবিষ্যতে এ ধরণের চক্রান্ত রোধে এসব কুচক্রিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) আহ্বায়ক শেখ শওকত হোসেন নিলু।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এনডিএফ আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে নিলু দাবি করে বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিলের ষড়যন্ত্রে বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে সহযোগিতা করা কিংবা উস্কে দেয়ার কাজটি করেছেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের তখনকার প্রতিনিধি এবং দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী। অথচ কানাডার আদালতসহ সব জায়গায় প্রমাণিত হয়েছে, ওই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি করার সুযোগই ছিল না। কারণ, তখন পদ্মা সেতুর কাজই শুরু হয় নাই এবং কোনো অর্থও ছাড় দেয়া হয় নাই।

এনপিপির য্গ্মু-মহাসচিব সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাসের সঞ্চালনায় এতে এনডিএফভুক্ত দলগুলোর নেতারা বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন-সংগ্রামসহ যা কিছু দরকার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বিএনপি তাই করবে।  বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ‘জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাজী আসাদ এবং দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফরের রোগমুক্তি কামনায় এ দোয়া মাহফিল হয়। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকার হুদার (কেএম নুরুল হুদা) মতো একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রেখে দেশে ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটি নির্বাচন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে। সেজন্য তারা সব পদক্ষেপ নিয়েছে। হারিকেন দিয়ে খুঁজে বহু তামাশা ও নাটক করে নূরুল হুদাকে সিইসি করা হয়েছে। বিএনপির এই নেতার দাবি, কোনো স্বৈরশাসক জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না, এই সরকারও পারবে না।

 

খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে নির্বাচন দেওয়া হলে দেশের মানুষ এ নির্বাচন মেনে নেবে না এবং দেশপ্রেমিক কোনো দলও সে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আয়োজিত ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সহায়ক সরকারের দাবি’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ড. ইউনূস আমাদের গর্ব। সারা পৃথিবী তাকে সম্মান দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে শত্রু চিহ্নিত করেছেন। কারণ, লোকে বলে- পার্বত্য শান্তি চুক্তির জন্য নোবেল পুরস্কারটি নাকি আপনার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ড. ইউনূস বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছেন। সিইসি কেএম নুরুল হুদাকে ‘দলীয় ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, নুরুল হুদা ছাত্ররাজনীতি করেছেন। পরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে সরকারি চাকুরি হারিয়েছেন। চিহ্নিত একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে তার নিজের পরিচয় আছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসবের সব প্রমাণ আছে। সেই মানুষটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আজকে (বুধবার) শপথ নিয়েছেন।

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরাবরই অংশ নিয়েছি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কি যাব না, সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সেই সময় কোন ধরনের সরকার থাকছে এবং নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা থাকে, তার উপর। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বাংলার মাটিতে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। ২০ দলীয় জোট নির্বাচন চাই। জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই নির্বাচনে যাবে ২০ দল। এতে আরো বক্তব্য রাখেন- জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।