রাত ১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

আপনারা লিখে রাখুন শেখ হাসিনার অধিনেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আসা ছাড়া খালেদা জিয়ার আর কোনও পথ খোলা নেই।  বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে নিজ দফতরে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ বছর যথাযত মর্যাদায় ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালিত হয়েছে। সারাদেশে বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। গতবছর শোলাকিয়ার হামলা হলেও এ বছর কোথায় দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা ভোলার চারজন এমপি জনগণের কাছে ছিলাম। তারা বলেছেন, তারা ভালো আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘দুই একটি পণ্য ছাড়া রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল। চাল ও চিনির সংকট ছিল কৃত্রিম সংকট। চালের দাম দুই তিন টাকা করে কমেছে। গ্রামে যদি পাকা রাস্তা থাকে এবং বিদ্যুৎ থাকে তবে সেটি গ্রাম থাকে না, শহরের পরিণত হয়। এবার আমি গ্রামে গিয়ে তাই দেখে এলাম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি গ্রামেও বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। রমজান মাসে ইফতার পার্টি হয়। আমরাও দিয়েছি। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রতিটি ইফতার পার্টিতে যেভাবে কটাক্ষ করে শেখ হাসিনার নাম নিয়েছে তা অশোভনীয় ও মার্জিত নয়। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই ক্ষমতাসীন সরকারের অধিনেই নির্বাচন হয়। ব্রিটেনে থেরেসা মে, আমেরিকায় বারাক ওবামার নেতৃত্বে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং সহায়তা করবে সরকার। সেই সরকারের নেতৃত্বে থাকবে শেখ হাসিনা। অন্য কারও এখানে আসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে চাল আসবে।

কাদেরের কথায় বিপদের ইঙ্গিত দেখছেন রিজভী

সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার সরকারই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে মন্তব্য করেছেন, তাতে দেশকে গভীর বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে যদি সহায়ক সরকার হয়, তাহলে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে একতরফাভাবে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের জন্য সহায়ক। অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সেটি সহায়ক হবে না।

বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য জনগণের মর্মে আঘাত করেছে। তার বক্তব্য দেশকে গভীর বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান কোনো হিমালয় পর্বত নয় যে তাকে নড়ানো যাবে না। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা যায়, সংবিধান সংশোধনও সংবিধানের বিধান।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো ‘নীল নকশা’ হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। তাই শাসকগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনের স্বপ্ন ভুলে যেতে হবে। রিজভী বলেন- এখনো সময় আছে, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক- এটা আমরা কামনা করি। একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে যাতে সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে দল নিরপেক্ষ সরকারের বিষয়ে বর্তমান সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে- এটা আমরা প্রত্যাশা করি। এর অন্যথা হলে জনগণ তার পথ বেছে নেবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না : নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না। অতীতের ও বর্তমান সরকারের মধ্যে তুলনা করে কথা বলতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষ যখন নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছিল, তা থেকে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সরকার, এসব বিবেচনায় আনুন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কারণ, জনগণ আন্দোলন চায় না, ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে চায়। তাই আন্দোলনের খেলা বাদ দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোন ছাড় নেই আন্দোলন করলে। কারণ দেশের মানুষ আন্দোলন চায় না। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণকে বলব- সব বিবেচনা করে ভোট দিন। বিগত সরকারের সময়ে দেশের কি উন্নয়ন হয়েছে, বর্তামন সময়ে সরকার কতটা উন্নয়ন করেছে আপনারা ভেবে দেখুন। দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না। অতীতের ও বর্তমান সরকারের মধ্যে তুলনা করে কথা বলতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষ যখন নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছিল, তা থেকে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সরকার, এসব বিবেচনায় আনুন।

দেশের জন্য আওয়ামী লীগের গুরুত্ব তুলে ধরে নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতো না। এটা কোনো আবেগের কথা না, ঐতিহাসিক সত্য। কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৯শে জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেট কতটা কল্যাণমুখী। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বার্তা বলা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যাবে এ বাজেট কতটা কল্যাণমুখী। তিনি বলেন, যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন বাংলাদেশের মানুষ সকল ষড়যন্ত্রেও মোকাবেলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় বসাবে। সংগঠনের কার্যকরী সভপতিত্ব অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম প্রদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাদেরের পদত্যাগ দাবি রিজভীর

ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রাপথে ভোগান্তির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঈদে জনদুর্ভোগের জন্য প্রধানত যোগাযোগমন্ত্রী দায়ী। সেজন্য তার পদত্যাগ করা উচিত।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে মন্ত্রী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না। কারণ মন্ত্রিত্বের পদ এতোই মোহনীয়-লোভনীয় যে, এটাকে যেন-তেনভাবে আঁকড়িয়ে থাকবেন। এজন্য ডাহা-টাটকা যত মিথ্যা কথা বলা যায় ওরা তা বলে যাবেন। জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঈদের প্রাক্কালে ঘরমুখী মানুষ যে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তা বর্ণনাতীত। সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কে চরম অব্যবস্থাপনা, দ্বিগুণ মূল্যে টিকেট কেটে ট্রেনের ছাদে চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করতে হচ্ছে মানুষকে, রাস্তা-ঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে নৈরাজ্য বিভৎস রূপ নিয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। গত শুক্রবার রাত ৮টায় যেসব গাড়ি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে, সেগুলো এখনো (শনিবার বিকেল) গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। সব মহাসড়কে একই অবস্থা। অথচ যোগাযোগমন্ত্রী স্বস্তি প্রকাশ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে ঈদে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারছে না তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কায়সার কামাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

বাধা আসবে, মোকাবেলা করতে হবে : গয়েশ্বর

পাহাড়িধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়ায় গাড়িবহরে হামলার পর বিএনপি মহাসচিবসহ নেতাদের সেখান থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে মনে করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন-বাধা আসবে, কিন্তু সেই বাধাকে মোকাবেলা করতে হবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুসহ কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ’৭১ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিবের ওপর আক্রমণের পরে আমাদের নেতৃবৃন্দের ফেরত আসাটাকে আমি মন থেকে গ্রহণ করি না। আক্রমণ করছে, সেই আক্রমণকে মোকাবেলা করেই আমাকে গন্তব্যে যেতে হবে। তারা (ক্ষমতাসীন) বাধা তো দেবেই। সেই বাধা মোকাবেলা করেই আমাকে সেখান পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, সরকারের নির্দেশ-আদেশ শুনে-চলে তো আমরা আন্দোলন করতে পারবো না এবং জনগণের আকাক্সক্ষাও বাস্তবায়ন করতে পারবো না। তাই বলব-বাধা আসবে, বাধাকে মোকাবেলা করতে হবে। বাধা আসলে বাঁধবে লড়াই, সেই লড়াইতে জিততে হবে। তাদেরকে (ক্ষমতাসীনরা) পরাস্ত করেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে আর কোনোকালে কোনো নির্বাচন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন-বিএনপির আহমেদ আযম খান, জাতীয় পার্টির (জাফর) আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ।

গুম-খুনের শিকার পরিবার গুলোকে বিএনপির ঈদ উপহার

সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুম-খুন-পঙ্গুত্বের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা গত ১৪ জুন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এসব নেতাকর্মীর পরিবার ও স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও লন্ডনে চিকিৎসাধীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগে সারাদেশের কয়েকশ’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এসব উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- জায়নামাজ, তাসবিহ, আতর, শাড়ি, লুঙ্গি, পোলাওয়ের চাল, দুধ, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, খেজুর, চকোলেট, বিস্কুট প্রভৃতি। সেই সাথে রয়েছে তারেক রহমান স্বাক্ষরিত ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডও। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে যেসব নেতাকর্মী নিহত, পঙ্গু ও গুম হয়েছেন তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের তালিকা করা হয়। পরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।

এদিকে, দলের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এজন্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আন্দোলন-সংগ্রামে গুম-খুনের শিকারসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি তার একটা শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দিয়েছেন। গত দশ দিন ধরে এই কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পরিবারের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দফতর সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাচ্চু। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এই উপহার আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। আশা করি, এই উপহার পেয়ে গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা শত কষ্টের মাঝে একটু হলেও আনন্দ পাচ্ছে।

 

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় শুনানি ২৯ জুন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই মামলার শুনানির জন্য নতুন দিন ঠিক করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার বকশীবাজারের ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বিচারক মো. আকতারুজ্জামান ২৯ জুন শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেন বলে জানান আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী নূরুজ্জামান তপন। তিনি বলেন, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরায় অংশ নেওয়া মূল আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান ‘চিকনগুনিয়া’ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সময় চাওয়া হয়।

তবে সময়ের আবেদন জমা দিলেও দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় জেরা হিসাবে তদন্ত কর্মকর্তাকে কমপক্ষে একটি প্রশ্ন করার জন্য আসামি পক্ষকে নিদের্শ দেন বিচারক। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম তদন্ত কর্তাকে একটি প্রশ্ন করে দিনের বিচার ‘মুলতবির’ সুযোগ পান বলে নূরুজ্জামান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৬ মিনিটে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতে এসে পৌঁছান। এদিন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরার পাশাপাশি খালেদার আত্মপক্ষ শুনানিতে অসমাপ্ত বক্তব্যের দিনও ধার্য ছিল। পাশাপাশি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ শুনানির দিনও নির্ধারিত ছিল। হাই কোর্টে বিচারাধীন থাকার কথা তুলে ধরে এই মামলায়ও সময়ের আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ২৯ জুন দিন ঠিক করেন।

বেগম জিয়া যা আশা করছেন তা পৃথীবির কোনো দেশে নেই: কাদের

সংবিধানে সহায়ক সরকারের কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া যে নির্বাচনকালীন সরকারের আশা করছেন তা পৃথীবির কোনো দেশে নেই।  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়কে ঈদে যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি র কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে বেগম জিয়া আসবেন সেটা আমরা জানি। কারণ এ নির্বাচনে আসার জন্য তারা নিজেদের দলেরই চাপে আছে। এ নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অবস্থান মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হবে। পরপর নির্বাচন বয়কটের পরিণতি তাদেরকে চোরাবালিতে আটকে রাখবে। এ ধরনের অস্বতিত্বের ঝুঁকি বেগম জিয়া নেবেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে যে বির্তক হচ্ছে এটা গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর। এ বির্তকই হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণ। বির্তক না থাকলে গণতন্ত্র কখনো প্রতিষ্ঠা পায় না এবং গণতন্ত্রের কোনো ডিউটি থাকে না। গণতন্ত্রের ডিউটি হচ্ছে বির্তক। সংসদে সেই বির্তকই হচ্ছে। সেটা পক্ষে হবে, বিপক্ষে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচাতে অর্থমন্ত্রী বলির পাঠা : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জন অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সেজন্য সরকার প্রধানকে বাঁচাতে অর্থমন্ত্রীকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে।  বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিবের উপর হামলার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন হয়।

রিজভী বলেন, পার্লামেন্টে সরকারি দল অর্থমন্ত্রীকে ধুইয়ে দিচ্ছে। তিনি নাকি অযোগ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন, তিনি সরকারকে ডুবাচ্ছেন। আরে ভাই, বাজেট পাস হয় কেবিনেটে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে। সবই তো প্রধানমন্ত্রী ও সরকার জানে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে স্কেপ করার জন্যেই আজকে পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও তাদের বি টিমকে (জাতীয় পার্টি) দিয়ে এ সমস্ত কথা বলানো হচ্ছে। বিএনপিবিহীন সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টিকে নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এটা সরকারের একটা কৌশল।

তিনি বলেন, সবকিছু হচ্ছে একটা জায়গা থেকে। শুধু বিভ্রান্তি তৈরি কর, ব্যর্থতাকে আড়াল কর। এই আড়ালের জন্য একটার পর একটার ঘটনা। উনারা (ক্ষমতাসীনরা) একটার পর একটা অপকর্ম-অনাচার করবেন, আর জনগণ উটপাখির মতো বালির মধ্যে মাথা গুঁজে বসে থাকবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রতিটা ঘটনার বিচার হবে। বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওসি বলেছেন- যে রুট দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা পরিবর্তন করা হয়েছে। অদ্ভূত ব্যাপার!

যে রুট দিয়ে গেছেন সেটা কি বেলুচিস্তান না রাজস্থান যে ওই রাস্তাটি পুলিশ প্রশাসনের বাইরে ছিল। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ওই এলাকার সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ এই হামলা করিয়েছেন। তিনি দাবি করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী না জানলে হাছান মাহমুদের মতো একটা লোক এই ঘটনা ঘটাতে পারে, তার এত সাহস হতে পারে, আমার মনে হয় না। হাছান মাহমুদ কী হরিদাস পাল যে উনি এই ঘটনাটি ঘটালেন? নিশ্চয় আরও বড় জায়গা থেকে ইঙ্গিত ছিল। পাহাড় ধসে ১৬৮ জন মাটিচাপা হয়ে গেল, প্রধানমন্ত্রী আনন্দ ভ্রমণে গেলেন, লন্ডনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করলেন। এই যে জনগণের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব, এটাকে আড়াল করা। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইলিয়াস খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।

খালেদা জিয়া ছিলেন জালেম সরকারের প্রধান: হানিফ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জালেম সরকারের প্রধান ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পোস্টাল অডিটোরিয়ামে ডাক বিভাগ কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপনার দলের নেতাকর্মীরা আপনার নির্দেশে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। দেশের মা-বোনদের জীবনকে বিপর্যস্থ করেছে। কিন্তু আপনি তখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি বরঞ্চ পৈশাচিক উল্লাশ করেছেন। আসলে আপনি ছিলের জালেম সরকারের প্রধান।আয়না দিয়ে নিজের চেহারা দিয়ে দেখুন তার প্রমাণ পাবেন।

তিনি বলেন, এই সরকার স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার। দেশের উন্নয়ন করে জন মনে আশার সৃষ্টি করেছে। জনগণ বিশ্বাস করে যে কেবলমাত্র এই সরকার এলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু সুযোগ পেলেই আপনি, আপনার অযাচিতভাবে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। পুনরায় ক্ষমতায় এসে দেশের মধ্যে হত্যা, জ্বালাও, পুরাও ও ভাংচুর করে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু জনগণ কোনোদিন এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দিবে না। আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আসলে আপনার মধ্যে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নেই, দেশের মানুষের প্রতি কোনো মমতা নেই। আপনার যত প্রেম, ভালবাসা, আবেগ, অনুভূতি সব পাকিস্তানের প্রতি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মন্ডল, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদসহ ডাক বিভাগের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা : রিজভী

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক সাঈদ হাসান মিন্টুর কারামুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এই অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, আমরা বলতে চাই-ওই হামলার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। এটা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সবার শীর্ষে যিনি প্রধানমন্ত্রী, তারই নির্দেশে হাসান মাহমুদ বিএনপি মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলা করেছে। এটা অবধারিত সত্য। আওয়ামী লীগ মনে করেছে, মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার মধ্য দিয়ে বিএনপি ভয় পেয়ে যাবে। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদকে দায়ী করে বিএনপি। তবে বিএনপির এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হাছান মাহমুদ উল্টো গাড়িবহরে হামলার জন্য বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেছেন। হাসান মাহমুদ ‘ডাহা মিথ্যা কথা’ বলেছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা হচ্ছেন প্রফেশনাল মিথ্যাবাদী, পেশাগত মিথ্যাবাদী এরা। দেশের কারাগারগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, কারাগারগুলো এখন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত গ্যাস চেম্বার বা মৃত্যু চেম্বারে পরিণত হয়েছে। অপরাধীদের জন্য নয়, এই কারাগার হচ্ছে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করবে, তাদের ধরে ধরে ভরে ফেলার জন্য।

অবিলম্বে কারাবন্দি সাঈদ হাসান মিন্টু ও আমিনসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তিনি। এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এদিকে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ আয়োজিত আরেক মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আশা করেছিলাম- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহরে হামলার ওই ঘটনা তদন্ত করার নির্দেশ দিবেন এবং দুই-চারজন গ্রেফতার হবে। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) উচিত ছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়ার। কিন্তু সেটা আপনি করেননি। তাই আপনার বক্তব্যের ওপর আমার আর বিশ্বাস নেই। সংগঠনের ফরিদা মনি শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

বিএনপির গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় জনতা: হাছান

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিএনপির প্রতিনিধি দলের উপর ‘উত্তেজিত স্থানীয় জনতা’ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, আমরা জেনেছি- বিএনপির গাড়িবহরের ধাক্কায় দুইজন স্থানীয় গুরুতর আহত হয়। তারা এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতার সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়।

সোমবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় হাছান মাহমুদ আরো বলেন, এছাড়া চট্টগ্রাম ও রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে গ্র“পিং চলমান। যতটুকু জেনেছি- গাড়িবহরে এক গ্র“পের নেতারা থাকলেও অন্য গ্র“পের নেতারা ছিলেন না। এছাড়া চট্টগ্রমের রাউজান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাকা চৌধুরী জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার পরিবারের কোনো সদস্যও গাড়িবহরে ছিলেন না। এসব গ্র“পিং কারণেও হামলা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক বললেও বিএনপির পরিদর্শনে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, গাড়িবহরে ত্রাণ সামগ্রী ছিল না। প্রশাসনকে আগের দিন যেই রাস্তা দিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে সেই রাস্তা তারা ব্যবহার করেনি। প্রশাসনের সঙ্গেও তারা কোনো সমন্বয় করেনি। তাদের এসব কর্মকাণ্ড রহস্যজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সব কিছু বের করা হবে। হামলার ঘটনায় বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি এটিএম শামসুজ্জামান।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত : বিএনপি

রাষ্ট্রের ‘সবচাইতে শক্তিশালী ব্যক্তি’র প্রশ্রয়ে দেশে সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা প্রাকৃতিক মহা দুর্যোগে নিপতিত উপদ্রুত অসহায় মানুষকে ফেলে নির্বিঘ্নে বিদেশ সফর করতে পারে, তারা সবকিছুই করতে পারে। জনগণ দেখলো সরকারি সন্ত্রাস ও গুন্ডামির অভিনব বেপরোয়া, ঔদ্ধত্য ও সন্ত্রাসের আশ্রয়প্রার্থীরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিএনপির মহাসচিবসহ প্রতিনিধি দলের যাত্রাপথে আক্রমণ করতে দ্বিধা করেনি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হামলার পরদিন সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুলের ওপর ওই হামলার প্রতিবাদে সোমবার সারাদেশে বিক্ষোভ ডেকেছিল বিএনপি। ঢাকা, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে ওই বিক্ষোভেও পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি পালন করেছে, কিন্তু গ্রেফতার-উৎপীড়নের মধ্য দিয়ে সরকার তারও উত্তর দিয়েছে। এছাড়া গত রোববার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নেত্রকোনায় স্থানীয় বিএনপির ইফতার মাহফিলেও আওয়ামী লীগকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন যে সম্ভবপর নয়, বর্তমান অবস্থাকে তারই প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ডা. জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, মুনির হোসেন, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

মহিলা দলের মানববন্ধন : মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন গাড়িবহরে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই সরকারই শেষ সরকার নয়। যেভাবে তারা আক্রমণ, হামলা, গুম, খুন চালিয়ে যাচ্ছে, তার পরিণতি শুভ হবে না। বৃষ্টির মধ্যে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন-মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা পিয়ারা মোস্তফা, আমিনা খাতুন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

ফখরুলে গাড়িবহরে হামলা

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।  রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মির্জা ফখরুল ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আঘাত পেয়েছেন। হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক ভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। আজ দেশব্যাপি বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।   

হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে গাড়ি বহরে থাকা আমির খসরু বলেন, বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সকালে চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে কাপ্তাইয়ের পথে রওনা হন। সেখান থেকে নৌপথে তাদের রাঙামাটি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক রড ও দা নিয়ে আমাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। তারা বৃষ্টির মতো পাথর মারছিল। আমাদের গাড়ি চুরমার করে ফেলেছে। গাড়ির কাঁচ ভেঙে শরীরে লেগে নিজে আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে আমাদের ধারণা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। পরে দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।  

অস্বীকার হাছান মাহমুদের
বিএনপির গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাঙামাটি যাওয়ার পথে ইছাখালী এলাকায় তাদের গাড়ির ধাক্কায় স্থানীয় দুইজন আহত হয়। এতে বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এ ঘটনা অনভিপ্রেত। আহত দুই স্থানীয় বাসিন্দা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে হাছান মাহমুদ জানান। তিনি দাবি করে বলেন, তার লোকজন হামলা চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি নেতারা করেছেন, তা সঠিক নয়। ওই এলাকার সব মানুষ আমার ভোটার। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, এতে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত না। ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তায় বিএনপি প্রতিনিধি দলকে রাঙামাটি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা সেখানে যাননি দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা চট্টগ্রামে ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, এটা রহস্যজনক।

প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ আজ
পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। রাজধানী ঢাকার থানায় থানায় এবং সারাদেশের মহানগরী, বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় এই কর্মসূচি পালিত হবে। রোববার দুপুরে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একটি মামলায় স্থানীয় আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর রিজভী হামলার ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, এই হামলা গণতন্ত্রের প্রতি অশনি সংকেত। বিরোধী দলের নেতারা যাতে পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে সরকারের ব্যর্থতা সরজমিনে না দেখতে পারে, সেজন্য বিএনপি মহাসচিবসহ নেতৃবৃন্দের ওপর এই জঘন্যতম হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে আজ দেশের সকল জেলা ও মহানগরে যুবদলও বিক্ষোভ করবে।

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ
মির্জা ফখরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। তবে মিছিলটি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কিছুদূর অগ্রসর হলে পুলিশ চারদিক থেকে মিছিলটির ওপর হামলা চালায় এবং বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ বিএনপির। এ সময় মিছিল থেকে পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক বাবলু, মুন্না, মতিঝিল থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিনসহ ৫/৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া হামলার প্রতিবাদে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বেও ঢাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। বিএনপি মহাসচিবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ যুবদল। বিকেলে শহরের চাষাঢ়া প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নিন্দা
বিএনপির মহাসচিবের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এক বিবৃতিতে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এ নিন্দা জানান। এছাড়া এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিবৃতি দিয়েছেন ২০ দলীয় জোট শরিক জাগপার সভানেত্রী রেহেনা প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা প্রমুখ। এছাড়া যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।

 

 

 

এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর: মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি যাওয়ার পথে বিএনপি নেতাদের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর।  রোবাবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় ওই হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে চট্টগ্রামে ফিরে আসে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি। দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে পৌঁছে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, এ আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। যারা মুক্ত চিন্তার কথা বলে, এ সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার- তাদের প্রতি এ আঘাত। যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন- এ আঘাত তাদের প্রতি।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্র আবার উদঘাটিত হয়েছে। সবসময় মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে এলেও তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমতেও তারা বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কিছু নেই। আমরা তো সেখানে কোনো জনসভা করতে যাইনি। আমাদের পার্টির মিটিংও করতে যাইনি। যারা নিহত হয়েছেন সেসব পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলাম। এই হামলা ‘অবিশ্বাস্য’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের অবস্থা যদি এই হয়, সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? আমি মনে করি, এ আক্রমণ গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ। সুস্থ চিন্তার মানুষের প্রতি আক্রমণ। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে’ পরাজিত করতে পারলেই এর প্রতিবাদ হবে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, একদিকে দেশ ও জাতির সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

অন্যদিকে দুর্গত মানুষের পাশেও আমরা দাঁড়াতে পারব না। আপনি এখন ত্রাণও দিতে পারবেন না। একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সেক্রেটারি জেনারেলের ওপর এ আক্রমণ। এরপর আর বাকি থাকল কি? এরপর কি আর কোনো রাজনীতি থাকে? এরপর তারা কি চায়? এক জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পাহাড়ে এত প্রাণহানির পর সরকারের উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা। জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা-দরদ নেই। পাহাড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে হামলার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনের নির্দেশে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসি। বিমানবন্দর থেকে আমরা রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে জানতে পারি সড়কে যে অংশ ভাঙন আছে, সেখান দিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই কাপ্তাই গিয়ে সেখান থেকে নদী পথে রাঙামাটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের গাড়িবহর রাঙ্গুনিয়া থানা অতিক্রম করে ইছাখালী বাজারে পৌঁছায়। সেখানে তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ৩০-৪০ জন যুবক লাঠি, হকিস্টিক ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। গাড়ির সামনের কাঁচ একটি বড় পাথর দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। তারপর হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ওই গাড়িতে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম  বলেন, আমাদের পাঁচ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, মাহবুবুবর রহমান শামীম ও ছাত্রদল নেতা গোলাম নবী। বিএনপির গাড়িবহরের ধাক্কায় দুই পথচারী আহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এরকম ন্যাক্কারজনক হামলা দেখিনি। গাড়ির সাথে দুর্ঘটনার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। দিনে দুপুরে তারা হামলা চালিয়েছে, এখন মিথ্যা বলছে। সংবাদ সম্মেলনের পর দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানান শামীম।

৮৪ সালের সীমানায় নির্বাচন চায় বিএনপি

১৯৮৪ সালের সংসদীয় সীমানা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসি কার্যালয়ে  রোববার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যর খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে ৮৬, ৯১, ৯৬, ৯৮, ২০০১ সালের সংসদের নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সেটাই ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আইন ভঙ্গ করে ওয়ান এলেভেনের সরকার ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে আসনগুলোকে ভেঙে প্রায় ১৩৩টি আসনে পুনর্বণ্টন করেছে। ভৌগলিক সীমারেখা, প্রশাসনিক সুবিধা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা এগুলো বিবেচনা না করে ১৩৩টি আসনে পুনর্বিন্যাসের নামে একটা ‘হসফস’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজকে যেটা দাবি নিয়ে এসেছি ২০০৮ এর নির্বাচনের পূর্বে যে আসন ছিল সেই আসন সম্পর্কে যেহেতু এরপরে কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, সুশীল সমাজ এ ব্যাপারে আপত্তি করে নাই। সেজন্য আমরা ২০০৮ এর পূর্ববর্তী যে আসনগুলো সেইভাবে পুনর্নিধারণ করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাতে এসেছি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ান এলেভেনের সময়ের সরকার জনগণের সরকার ছিল না। এটা একটা জরুরি আইনের সরকার ছিল। তারা কি মনে করে করেছে, কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করেছে সেটা আমরা জানি না। তবে ওই কাজগুলো সঠিক হয়নি। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নিধারণ নিয়ে কথা হয়েছে। সীমানা পুনর্নিধারণ নিয়ে তারা ১৯৮৪ সালের যে সীমানা পুনর্নিধারণ করা হয়েছিল, সেই নীতিতে ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করব। সীমানা পুনর্নিধারণের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পরিবর্তন আনতে চাই। সেটা প্রথম শুনলাম একটা বড় রাজনৈতিক দলের কাজ থেকে। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, সুশীল সমাজ, মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা করব। কাজেই এই মুহূর্তেই ৮৪ সালে ফিরে যাব এটা বলা যাবে না। বিএনপির দাবির সঙ্গে একমত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে তারা যেমন কনসার্ন আমরাও কনসার্ন। ৮৪ তে ফিরে যাবে এ কথা বলিনি। তারা যেই প্রস্তাবটা দিয়েছে এটা পরিবর্তনের বিষয়ে, সেটার ব্যাপারে আমরা একমত, কিছুটা পরিবর্তন আমরা আনতে চাইব। সরকারকে চাপে রাখার কোনো এখতিয়ার তো আপনাদের নাই এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, নাই। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুর রশীদ সরকার ও ক্যাপ্টেন সুজা উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সিইসির সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্।

হামলার প্রতিবাদে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ

কুমিল্লা প্রতিনিধি : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার সারা দেশের জেলা সদর, মহানগর এবং ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন দলটি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে গতকাল রোববার তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিবসহ নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ক্যাডারদের হামলা গণতন্ত্রের উপর হামলা। এটা দেশের স্থিতিশীলতার উপর আঘাত। এ হামলা করে সরকার প্রমাণ করলো তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে প্রধানমন্ত্রী দুর্গতদের রেখে সুইডেন গিয়ে আনন্দ ভ্রমণ করেছেন। দুর্গত এলাকায় সরকারের ব্যর্থতা আছে বলেই সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহাড় ধস এলাকায় যেতে বাধার সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের সময়ে কোন উন্নয়ন হয়নি, হয়েছে চাপাবাজির উন্নয়ন। এই সরকার গণবিরোধী সরকার, দানব সরকার। ভোটার বিহীন সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের মানুষের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে এ হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার সারা দেশের জেলা সদর, মহানগর এবং ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া,বিএনপি নেতা সৈয়দ জাহাঙ্গীর,আবদুর রউফ চৌধুরী ফারুক ও সারোয়ার জাহান দোলনসহ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমায় ৮ জন নিহতের মামলায় হাজিরা দিতে রিজভী গতকাল রোববার কুমিল্লা আদালতে এসেছিলেন।  

ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা অন্যায়: কাদের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে যে বা যারাই হামলা করুক, তাদেরকে খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এই হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অন্যায়। রোববার রাজধানীতে বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, যে বা যারাই মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করুক না কেন, সেটা অন্যায়। আওয়ামী লীগ এটা খতিয়ে দেখছে, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। চট্টগ্রামের ডিসি-এডিশনাল এসপির সাথে কথা বলেছি।

কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওবায়দুল কাদেরের অভিযোগ, বিএনপি তার কর্মসূচি সম্পর্কে পুলিশকে আগে থেকে জানায়নি। তিনি বলেন, বিএনপি পুলিশকে সঠিক তথ্য দেয় না। তাদের রাউজান হয়ে যাওয়ার তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পরে তারা বামুনিয়া হয়ে গেছে। পুলিশের কাছে এ তথ্য ছিল না। তথ্য থাকলে পুলিশ ওখানেই পাহারার ব্যবস্থা করত। এই ‘হামলা’র পর বিএনপির প্রতিনিধি দল রাঙ্গামাটিতে না গিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যায়। আর ওবায়দুল কাদের জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তাদেরকে ত্রাণ বিতরণে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

 

রাঙামাটি যাওয়ার পথে ফখরুলদের গাড়িবহরে হামলা

পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটি পরিদর্শনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকায় এই হামলায় মির্জা ফখরুল হাতে আঘাত পেয়েছেন। গাড়ি বহরে থাকা আমির খসরু বলেন, মহাসচিবের নেতৃত্বে তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সকালে চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে কাপ্তাইয়ের পথে রওনা হন। সেখান থেকে নৌপথে তাদের রাঙামাটি যাওয়ার কথা ছিল।

“সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক রড ও দা নিয়ে আমাদের গাড়ি বহরে হামলা চালায়। তারা বৃষ্টির মতো পাথর মারছিল।”

এতে নিজেও আঘাত পেয়েছেন জানিয়ে আমির খসরু বলেন, “আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।” হামলার পর রাঙামাটি যেতে না পেরে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চট্টগ্রামের দিকে রওনা হন। দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে তাদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।  

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

 

খাদ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মির্জা ফখরুলের

সরকারের ‘অদক্ষতা ও দুর্নীতি’র কারণে চালের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে দেশে অত্যন্ত এলার্মিং সিচুয়েশন- আজকের (শনিবার) পত্রিকার খবর অনুযায়ী আমাদের খাদ্য মজুদ মাত্র ১ লাখ ৯১ হাজার টনে এসেছে। কেন? সরকারের দূরদর্শিতার অভাব। সরকারের দুর্নীতি ও তাদের অদক্ষমতার কারণে এই অবস্থায় চলে এসেছে। চালের দাম যেভাবে বেড়েছে অশনি সংকেত। আমার মতে এজন্য সরকারই দায়ী। তাই খাদ্যমন্ত্রীর উচিত পদত্যাগ করা, নতুন খাদ্যমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে ‘বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন-২০৩০ : যুব সমাজের ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে দেশে খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এখন চালের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

তারা স্বীকার করতে চায় না, ভয়ে বলতে চায় না, উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে। খাদ্যমন্ত্রী গত শুক্রবার বলেছেন যে, অসাধু ব্যবসায়ী আর বিএনপির ব্যবসায়ীরা নাকি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের অযোগ্যতা ও দুর্নীতিকে ঢাকার জন্য সবকিছু উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় এতে বক্তব্য দেন-অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, শওকত মাহমুদ প্রমুখ। এদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজা মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ওই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সরকার নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে নানা ফন্দি-কৌশল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শামীম ইশতিয়াক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ফোরামের সভাপতি সাইদুর রহমানের পরিচালনায় এতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

 

 

পাহাড় ধস নিহত আজ সারাদেশে ২০ দলের বিশেষ দোয়া

পার্বত্য জেলায় ভূমিধসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সারাদেশের মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল করবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সংঘটিত ভয়াবহ পাহাড়ধসে মাটি চাপায় নিহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। পাহাড়ধসে দুর্গতদের দুর্ভোগে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পাহাড়ী বানে বাঁধ ভেঙে এখনো অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ। সহায় সম্বল হারিয়ে উপদ্রুত হাজার হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে আছেন। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এই ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থা লাঘবে কোনো উদ্যোগ নেই, জনদুর্ভোগ দূরীকরণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ভূমি ধসে আহতদের সুচিকিৎসার দাবিও জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, তৈমুর আলম খন্দকার, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

‘জনগণই আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনবে’

দেশের জনগণই আওয়ামী লীগকে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। দেশের জনগণ আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। কৃষকদের উন্নয়নে নেয়া সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। এই উন্নয়ন ধরে রাখতে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এসময় দলীয নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভয় পায় না। ভয় পায় বলেই বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ক্যান্টনমেন্ট আপনাদের স্বপ্ন, আবার স্বপ্ন দেখেন ক্যান্টনমেন্ট ওয়ালারা আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। নির্বাচনকালীন অন্তববর্তী সরকার বলে কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন রাজ্জাক। বলেন, আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সহায়তা করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভোট চাওয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শত শত মানুষ পুড়িয়ে খালেদা জিয়া আজকে কোন মুখে ভোট চায়। তার লজ্জা থাকা উচিত।

ভোট চাওয়ার আগে অতীতে জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা ও সম্পদ নষ্ট করার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে কৃষকরা সার পায়নি। সার চাওয়ায় সেদিন খালেদা জিয়া কৃষকদের বুকে গুলি চালিয়েছিলেন। কৃষক লীগের সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাতক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে কৃষক-উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে বিভিন্ন জাতের গাছ তুলে দেওয়া হয়।

পাহাড়ে দুর্যোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির

চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসে শতাধিক প্রাণহানির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুইডেন সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহসচিব রুহুল কবির রিজভী এই প্রশ্ন তোলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে লাশের সংখ্যা যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তখন সরকারপ্রধান ভ্রূক্ষেপহীন, নিরুদ্বেগে আনন্দ ভ্রমণে সুইডেন সফরে বেরিয়েছেন। অথচ কোনো দুর্যোগ হলে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা বিদেশ সফর বাতিল করে নিজ দেশে উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়ান। অবশ্য বিপদের সময়ে নিজ দেশের জনগণকে ফেলে চলে যাওয়ার ঐতিহ্য ও ইতিহাস আওয়ামী লীগের আছে। প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরের কোনো ‘কূটনৈতিক তাৎপর্য নেই’ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশের শোক সঙ্কটে অযৌক্তিক বিদেশ ভ্রমণ হবুচন্দ্র রাজার কীর্তিকলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই দুর্যোগের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপদ্রুত মানুষ, বিধ্বস্ত জনপদ ও অসংখ্য লাশকে উপহাস করার শামিল বলে আমরা মনে করি।

এই প্রসঙ্গে ২০০৪ সালে জেএমবির বোমা হামলার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসার কথা বলেন তিনি। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোতে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থে সেখানে টেকসই উন্নয়ন হতো, তাহলে এত মানুষের জীবন যেত না। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এড়িয়ে রাস্তা-ঘাট ও বসতি তৈরি হলে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এড়ানো যেত বলে মনে করেন রিজভী। স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে মানুষজন পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেনাবাহিনীর চার সদস্যসহ ব্যাপক মানুষের হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও অসহায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ।

 

আওয়ামী লীগের শতাধিক এমপির আমলনামা সভানেত্রীর হাতে

মাহফুজ সাদি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘৩০ আসন’ বনাম ‘হেট্রিক’ তত্ত্ব দিয়ে বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগামী নির্বাচনে ‘জয়-পরাজয়’কে দেশের প্রধান দুই দলই ‘বাঁচা-মরা’র ভোট হিসেবে দেখছে। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যাস্ত। এর অংশ হিসেবে শতাধিক বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিদের আমলনামা দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। যাদের কারণে দলের ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে তারা ‘শাস্তি স্বরূপ’ আগামী নির্বাচনে নৌকার টিকেট বঞ্চিত হবেন। দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, আগামী নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী  বিএনপি। এটি মাথায় রেখেই ‘জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিভিন্ন মাধ্যমে বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন, একাধিক সংস্থাও আলাদা সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ তালিকায় শতাধিক এমপি-মন্ত্রীর নাম রয়েছে। সূত্র জানায়, নির্বাচনের দেড় বছর বাকি থাকলেও এখন থেকেই হোমওয়ার্ক শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে একাধিক সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বশেষ প্রতিবেদন এখন তার হাতে রয়েছে।

রয়েছে তিন মাস পর পর পরিচালিত মাঠ জরিপগুলোর ফলাফলও। এসব প্রতিবেদনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শতাধিক বিতর্কিত এমপি-মন্ত্রীর নেতিবাচক কর্মকান্ডের ফিরিস্তি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সূত্রমতে, এমপি-মন্ত্রীদের আমলনামা সংগ্রহ ছাড়াও তিনি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক আসনে বিকল্প এক বা একাধিক প্রার্থীর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান গেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই দলীয় প্রার্থী বাঁছাইয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ভালোভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার পর্যবেক্ষণ ও জরিপের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। ‘অজনপ্রিয়’ ও ‘গডফাদার’ চরিত্রের কেউকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জনবিচ্ছিন্ন’, ‘গডফাদার’ ও ‘বিতর্কিত’ এমপি-মন্ত্রীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আগামী নির্বাচনে যার যার কর্মফল মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এতে তার কিছু করার নেই। যে জনপ্রিয় সে মনোনয়ন পাবে। দলীয় সভাপতির বক্তব্য অনেকের ভেতরে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। ওই সভায় শেখ হাসিনা আরও বলেন, যারা বর্তমানে এমপি আছেন, তারা নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন- এমন ধারণা নিয়ে থাকলে ভুল করবেন। কারণ আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের মতো হবে না। যারা এলাকার জনগণের জন্য কাজ করেছেন, জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি কারও দায়িত্ব নেব না। নিজ দায়িত্বে জয়লাভ করে আসতে হবে।

সবচেয়ে বড় পকেটমারের ভূমিকায় সরকার : ফখরুল

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সবচেয়ে বড় পকেটমারের ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই বাজেট দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র সরকারি লোকদের পকেটকে স্ফীত করবার জন্য জনগণের পকেট কেটে নিয়ে। এটাই বাস্তবতা, এটাই সত্য।

মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদগেটের ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড গ্র্যান্ড হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ জাতীয়তাবাদী প্রাক্তন ছাত্রকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফখরুল। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সূচিন্তিতভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্র কাঠামোকে নষ্ট করেছে, গণতন্ত্রের সমস্ত স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশকে একটি পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। তিনি আরো বলেন, আমরা আতঙ্কিত হয়ে উঠি, আশঙ্কাগ্রস্ত হয়- যখন দেখি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সরকার তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এই কারণে আজকে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে এবং স্তম্ভগুলো ভেঙ্গে পড়ছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, সরকার নিম্ন আদালতগুলোকে কব্জা করে ফেলেছে এবং এখন উচ্চ আদালতকে কব্জা করবার জন্য পায়তারা করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখন সরকার পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা মনে করি, এই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েই তারা তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রেখেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় আমরা এই সংসদকে কখনোই বৈধ সংসদ বলি না। সেজন্য আইন পাশ করবার কোনো বৈধতা এই সরকারের আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। তাই এই সংসদে যে বাজেট পাস করা হবে তা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পাস করা হবে না। সুতরাং সেটা হবে তাদের দলীয় বাজেট। বর্তমান সরকার মিথ্যার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং ডা. আরমান রেজার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফরহাদ হোসেন শুভ, ড্যাবের ডা. রফিকুল কবির লাবু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুজ্জামান খান শিমুলসহ ড্যাবের নেতৃবৃন্দ।

 

বর্তমান সরকারের আমলে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে: খালেদা জিয়া

সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের ইমান্যুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির উদ্যোগে ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, সারাদেশেই এখন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইওয়ের যে বেহাল অবস্থা, তাতে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই বাড়বে। এই সরকারের আমলেই আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি মৃত্যু, মৃত্যু আর মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে। অথচ এই সরকার মহা আনন্দে আছে। তারা দেশে-বিদেশে ভ্রমন করে বেড়াচ্ছেন, তারা আকাশে উড়েন, তারা মাটির কথা চিন্তাও করেন না। মাটির দিকে দেখেনও না, কী অবস্থায় আছে দেশ? সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা (সরকার) অনেক উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু রাস্তা-ঘাট, গ্রামে-গঞ্জের রাস্তা-ঘাটের যে অবস্থা, সেটা দেখে কী বুঝা যায়- উন্নয়ন হয়েছে দেশে? উন্নয়নের সুফল কী দেশের মানুষের কাছে পৌঁছেছে? যদি উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতো, তাহলে দেশের মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতো এবং ভালোভাবে, শান্তিতে ও আনন্দে থাকতো। রমজানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊধর্বগতিতে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আহতদের অবিলম্বে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান বেগম জিয়া। ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার কতগুলো কৌশল ঠিক করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তাও করে না।

তারা শুধু জানে, তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। সেজন্য যাদেরকে হাতে রাখা দরকার তাদেরকে অবাধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে এবং বলছে ‘নিজেরা করো’। প্রয়োজনে সেখানে যেটা সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সেটা তারা করে দিচ্ছে। নির্বাচনে জেতা যাদের নিয়ে সম্ভব, যারা তাদের জিতিয়ে দিতে পারবেন, তাদের জন্য কাজ করছে সরকার। সাধারণ মানুষের এখানে ভোটের কোনো দাম নেই্। সেজন্য আমাদের দাবি দেশে ভোট হতে হবে, গত ১০ বছর দেশে ভোট হয়নি। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেরা ভালো আছে, খাচ্ছে, আরো যতটুকু রিলিফ আছে রিলিফ চুরি করছে, লুটপাট করছে, ব্যাংকের টাকা নিচ্ছে।

এবার বাজেটে যত রকমের কর আছে সেটা বসিয়েছে, ভ্যাট বসিয়েছে এবং মুদির দোকানেও ভ্যাট বসিয়েছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? বিএনপি চেয়ারপারসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম কী দেশের এই অবস্থা দেখতে। এক পরিবার সমস্ত কিছু দখল করে নেবে, কেউ গণভবন দখল করে নেবে, অমুক বাড়ি দখল করবে, তমুক করবে। তাদের সব নিরাপত্তা দিতে হবে। শুধু তারাই নিরাপত্তা পাবে, সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নাই। গুম-খুন হচ্ছে, যাকে তাকে গুম করে নিয়ে যাচ্ছে। আজকে মানুষ পরিবর্তন চায়, এদেশের মানুষ আজকে জালেমদের কাছ থেকে মুক্তি চায়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান বেগম জিয়া। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, এলডিপির অলি আহমদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের মাওলানা আবদুল হালিম, জাগপার রেহানা প্রধান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিজেপির আবদুল মতিন সাউদ, লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদি প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম প্রমুখ  ইফতারে অংশ নেন। ইফতারের পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

 

মওদুদ সম্পর্কে বিএনপির কথায় মানুষ হাসে: কাদের

আইনি লড়াইয়ে হেরে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের বাড়ি হারানোর পর দলটির নেতাদের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মওদুদ সম্পর্কে বিএনপি যা বলছে, এইসব কথায় মানুষ হাসে। আপনার (মওদুদ) বাড়ি সরকার নিয়ে যায়নি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। আপনি নিজেই দুটি মামলার ফাইট করেছেন। তাহলে কি আপনার দুর্বল যুক্তির জন্য চলে গেছে? সরকার নয়, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে আপনাদের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। আমাদের অনেককে আদালতের রায় ছাড়াই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। সব রকম আইনি লড়াইয়ের পর রাজধানীর গুলশাল এলাকায় প্রায় চার দশক দখলে রাখা একটি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ। গত ৭ জুন সেই বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক। আইনি লড়াইয়ে হারের পর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেও মওদুদ বিএনপি করেন বলেই তাকে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তার দলের নেত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য নেতারা।

রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তাঁতি লীগের ঢাকা মহানগরের সম্মেলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদালতের বিরুদ্ধে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আদালত স্বাধীন ভাবে কাজ করছে একথা আপনারাই বলেন, আবার যখন নিজেরা হারেন- তখন বলেন আদালত সরকারের কথায় রায় দিচ্ছে। আদালতের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার বন্ধ করুন। যানজট নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কাদের বলেন, আপনি (খালেদা) বলেছেন এই সরকারের আমলে যানজট বেড়েছে। আপনাদের সময় এই শহরকে অপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, আর এখন দুই মেয়র পরিকল্পিত ভাবে এই নগরী গড়ে তুলছে। আশা করি ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে ঢাকা শহরে আর যানজট থাকবে না। বিএনপির যেসব নেতারা প্রেস ব্রিফিং করে তাদেরকে ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ আখ্যা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ তার দলের নেতারা মিথ্যাচার করছে। তবে বিএনপিতে ভালো লোক কিছু আছে; যারা প্রেসব্রিফিং করে, ফটোসেশন করে তারা প্যাথলজিক্যাল লায়ার। এই দলের লোকজন এত মিথ্যা কথা বলে, যে তাদের নৈতিকতার ভিত্তি দুর্বল। বিএপির আন্দোলনের ডাককে আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন মন্তব্য করে কাদের বলেন, বিএনপির কমিটিতে ৫৯৬ জন নেতা আছে। ওনারা এক সাথে মাঠে নেমে মিছিল করতে পারে না। নেতারা মাঠে না নামলে কর্মীরা কিভাবে মাঠে নামবে। বিএনপির আন্দোলন আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন। বিএনপির নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে।

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভীষিকাময় দিন আসবে জানিয়ে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবার সেই বিভীষিকাময় দিন ফিরে আসবে। আপনাদের মনে আছে সেই ২০০১ সালের কথা। তারা (বিএনপি) আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি পুড়িয়েছে, পুকুরের মাছ ধরে নিয়েছে, গবাদি পশু নিয়ে গেছে। আর এখন বিএনপি নেত্রী বলেছেন, ক্ষমতায় আসলে এক কাপড়ে বের করে দেবে। বুঝতে পেরেছেন… বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসলে তারা কত ভয়ংকর হবে? অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে নিহতদের প্রতি শোক জানিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ যাওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানবন্দরে সরকারিভাবে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও পুলিশ প্রধানদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এগিয়ে আসার জন্য বলেছেন। আর দলীয় ভাবে আমাকে বলেছেন নেতাকর্মীদের বলার জন্য- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নেতাকর্মীরা যাতে অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায়। তাঁতি লীগের সভাপতি শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ ও কার্যকরী সভাপতি সাধনা দাশ গুপ্ত বক্তব্য রাখেন।

আগামী নির্বাচনে ফাকা মাঠে গোল দিতে চাই না : কাদের

ঢাবি প্রতিনিধি : বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের পায়তারা হচ্ছে বিএনপি’র এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। ওবায়দুল কাদের বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিজেরাই নিজেদেরকে বাদ দিয়েছে। নিজেরাই যদি নিজেদের বাদ না দেয় আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই, আমরা খালি মাঠে গোল দিতে চাই না। আমরা মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।

সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দু’দিনব্যাপী বর্ধিত সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি এসব কথা বলেন। শেষদিনে দিনব্যাপী আয়োজনে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখে শুনে যাচাই বাছাই করে জনগণের জরিপের ভিত্তিতে যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য আওয়ামী লীগ তাদেরকেই মনোনয়ন দিবে। যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নন, যারা তাদের কর্মকান্ডের জন্য ‘উইনেবল’ ক্যান্ডিডেট নন এমন কাউকে আমরা মনোনয়ন দিব না। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ সংগ্রহ করে পাঠ করার আহ্বান জানান সংগঠনের সাবেক সভাপতি। কোথাও যদি আর্থিক সমস্যার কারণে কেউ বই দুটি সংগ্রহ করতে না পারে তবে তাদেরকে দলীয় কোষাগার থেকে সাহায্য করার আশ্বাস দেন তিনি। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লেখাপড়া না জানলে ‘ইম্প্রেসিভ’ বক্তৃতা দিবে কীভাবে? সাধারণ ছাত্ররা তো বক্তৃতা শোনার আগ্রহ দেখাবে না। জাতীয় নির্বাচনের বেশি সময় নেই। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় ছাত্রলীগের যারা দক্ষ, মেধাবী, ভালো চরিত্রের নেতাকর্মী তাদের নিয়ে একটি টিম থাকবে। ছাত্রলীগকে অনেকেই ব্যবহার করতে চায়। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার হওয়া থেকে ছাত্রলীগকে বিরত থাকতে হবে। ছাত্রলীগ কারও লাঠিয়াল নয় উল্লেখ করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি বলেন, ছাত্রলীগ ছাড়া আন্দোলন হয় না, নির্বাচন হয় না। তবে তা করতে হবে গণতন্ত্র মেনে। ছাত্রলীগকে কেউ যেন তার লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।

হেফাজতের সাথে আওয়ামী লীগের কোন সমঝোতা হয়নি: রাজ্জাক

 হেফাজতে ইসলামের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সাথে আপোস করে না, কখনও করবেও না। দেশের উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমন্বিত রাখতে আওয়ামী লীগকে বর্তমানে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কৌশল অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘সংকটের আবর্তে শিক্ষা ও সংস্কৃতি : গতিপ্রবণতা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) ও বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওই সময় শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের জন্য একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন তার দলের নেতাকর্মীদের হেফাজতের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন, অন্যদিকে স্বৈরাচার এরশাদ ঠান্ডা পানি ও খাবার বিতরণ করে তাদের শাপলা চত্বরে অবস্থানের মদদ দিতে থাকে। তখন হেফাজত সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু শেখ হাসিনাকেই খুঁজে বের করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে ধর্মান্ধ ওই অপশক্তিতে প্রতিহত করতে কোন সুভাকাক্সক্ষী, কোনো রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজ এগিয়ে আসেনি। তিনি বলেন, প্রতি বিষয়ের উপর এমসিকিউ’তে ৩০ বা ৪০ নম্বর থাকলে শিক্ষার মান আর কিভাবে থাকে? এ পদ্ধতির পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে। তবে শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদেরই বড় ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে শিক্ষকদের গণআন্দোলন বা জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাশিস সভাপতি মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বাকবিশিস সভাপতি প্রফেসর ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, বিশ্ব শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মাহফুজা খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এমএম আকাশ, বাশিস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রঞ্জিত কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষক নেতা ও প্রাবন্ধিক কানাই দাশ।



Go Top