সকাল ৬:৪০, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নয়, সরকারই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। রোববার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এই অভিযোগ করেন। এর আগে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার নিজেই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তারা সঠিকভাবে জঙ্গিবাদের উৎস খুঁজে বের করছে না। যথাযথভাবে তদন্ত ও অনুসন্ধান করছে না। উপরন্তু, গণতান্ত্রিক উদারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে সরকার জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। যত দিন এই জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রাখা যাবে, তত দিন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও হাসিল হবে।সিলেটের জঙ্গি বিরোধী অভিযান ও হামলায় হতাহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা এটাকে নাটক বলেননি। এর আগেও যেসব ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটিই উদ্বেগজনক। বরং বিএনপি বলেছে প্রতিটি ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। তা না হলে জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা গণতন্ত্র এখন দেশে অনুপস্থিত। মানুষের কথা বলার কোনো অধিকার নেই। গণহত্যা দিবসে বিএনপি কোনো কর্মসূচি রাখেনি, এটি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের সমালোচনার জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দেশের নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল। বিএনপি শুরু থেকেই দিনটিকে স্মরণ করে আসছে। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে দিবস পালন করেনি। ফখরুল প্রশ্ন রাখেন, আওয়ামী লীগও ১৯৭২-৭৫, এরপর ১৯৯৬-২০০১ ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা গণহত্যা দিবস পালনের প্রয়োজনবোধ করেনি, এবার হঠাৎ করে গণহত্যা দিবস ঘোষণা দেওয়া হলো, এত দিন পর তারা গণহত্যা দিবস পালন প্রয়োজন মনে করল? বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণহত্যা দিবস, এটা স্বীকৃত গণহত্যা, ২৫ মার্চে হয়েছে, দীর্ঘকাল ধরে স্বীকৃত হয়ে এসছে। আমাদের একটা পাল্টা প্রশ্ন আছে। সেই প্রশ্ন হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ কী এতোদিন পর উপলব্ধি করল যে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস?

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা খালেদা জিয়ার

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  রোববার সকাল সোয়া নয়টার পর খালেদা জিয়া জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে সকাল নয়টার দিকে স্মৃতিসৌধ এলাকায় আসেন খালেদা জিয়া। এ সময় দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে কিছু সময় তিনি নীবরে দাঁড়িয়ে থাকেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল আল চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন।

সাভার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন,  যে জন্য আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, মানুষের সেই স্বাধীনতা আজ নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, সেই স্বপ্ন নিয়ে খালেদা জিয়ারর নেতৃত্বে গণতন্ত্র রক্ষা করব। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ। সাধারণ মানুষের কথা বলা, গণতন্ত্র যেভাবে পাকিস্তানিরা কেড়ে নিয়েছিল, সেভাবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারও কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র রক্ষায় যে অন্তর্নিহিত শক্তি নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে সেই অন্তর্নিহিত শক্তি দিয়েই এগিয়ে নিয়ে যাব। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দেন খালেদা জিয়া। কবরপ্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের উদ্যোগে মোনাজাতেও অংশ নেন তিনি। য্বু দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দল, ছাত্রদল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয় বেলা ২টায়। শোভাযাত্রা উদ্ধোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোভাযাত্রাটি বিজয়নগর হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে তা শেষে হয়।

বিএনপির মদদেই জঙ্গিরা এতোটা বেপরোয়া: কাদের

বিএনপি জঙ্গিবাদের ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের মদদেই জঙ্গিরা এতো আশকারা পাচ্ছে, এতোটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

রোববার সকালে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিরোধের আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে মাঝখানে কিছুদিন জঙ্গিরা চুপচাপ থাকলেও চলতি মাসের শুরু থেকে আবারো দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার আশকোনায় র‌্যাবের স্থাপনায় আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণের এক সপ্তাহের মধ্যে গত শুক্রবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পুলিশ বক্সের কাছে আরেক বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন এক বোমা বহনকারী। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সিলেটের এক বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে সেখানে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আসুন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, স্বাধীনতার যারা শত্রু, এদের প্রতিহত করি, প্রতিরোধ করি, পরাজিত করি।

ইতিহাস বিকৃতি করেছে খালেদা জিয়া: তোফায়েল

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের যদি কেউ বিকৃত করে থাকে, সেটা জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়া করেছেন। শনিবার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর লালবাগ আজাদ মাঠে ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। বেগম খালেদা জিয়া যখন শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তখনই পাকিস্তানিরা বই লিখে গণহত্যার চিত্রকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম­লীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

 

ঘোষক দাবিদারদের গণহত্যা দিবসের কর্মসূচি কি: কাদের

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক দাবিদার বিএনপির ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস সম্পর্কে রাজনৈতিক অবস্থান জনগণ জানতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বলে নিজেদের দাবি করে আমি সেই ঘোষক দাবীদার দলকে জিজ্ঞেস করতে চাই, ২৫ মার্চের এই গণহত্যা দিবসে আপনাদের কর্মসূচি কি? আমি জানতে চাই আপনারা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের দিনে নীরব কেন? আমি জানতে চাই আজকের এই দিনে গণহত্যার ব্যাপারে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কি? বাংলাদেশের জনগণ জানতে চায়।

শনিবার রাজধানীর লালবাগের আজাদ অফিস মাঠে ‘২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ মন্তব্য্য করেন। তিনি বলেন, এখানেই মেরুকরণ হয়ে যাবে। এখানেই মেরুকরণ হচ্ছে কারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মদদ দেয়, আলবদর শত্র“দের সঙ্গে মিত্রতা করে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে মানে না। বিএনপি নীরব কেন? বিএনপির কোন কর্মসূচি আজ নেই কেন? আজকের এই নৃশংসতম, বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের দিনে দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান কি? তাদের অবস্থান পরিস্কার করতে হবে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে? না ৪৭  পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণা লালন করে? দলীয় নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খাঁটি কর্মী ভেতরে ভেতরে কাউয়া আছে। কাউয়া পচাত্তরেও ছিলো, একাত্তরেও ছিলো কাউয়া। কাউয়া এখনও আছে। ক্ষমতার ¯্রােতে ঢুকে যায়। আর কিছু কিছু নেতা দল ভারী করার জন্য কাউয়াদেরকেও লিস্টে নাম লেখায়। আমাদের কাউয়ার দরকার নেই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোজাফফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: হানিফ

বাংলাদেশে বর্তমান জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপি দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, দালাল আইন বাতিল করে যাদের মুক্ত করে দিয়ে ছিলেন তারাই আজকে উগ্রবাদী গোষ্ঠী, তারাই মোলবাদী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আজকে সকল উগ্রবাদ জঙ্গিবাদের সাথে বিএনপি জড়িত।

শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে সাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আয়োজিত ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, জঙ্গির প্রতি বিএনপির এত মায়া কেন? তাদের রক্ষা করতেই বিএনপি নেতারা আজকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে। ২৫শে মার্চ গণহত্যার পক্ষে বিএনপি সাফাই গাইতেছে বলের মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আজকে এই ২৫শে মার্চে গণহত্যা শুরু হয়েছিল। এই ২৫শে মার্চ গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইছে বিএনপি। আপনারা দেখুন, এই যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যুদ্ধাপরাধীদের মাফ করেদিয়েছিল তারা কি বাংলাদেশ কে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে। আপনারা লক্ষ করবেন যুদ্ধাপরাধী কসাই আব্দুল কাদের মোল্লাসহ যাদের ফাঁসি হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্থানের সংসদে নিন্দা প্রস্তাব হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বরেছেন এই যুদ্ধাপরাধীরা মৃত্যুর আগমূহুর্ত পর‌্যন্ত পাকিস্থানের সৈনিক ছিলেন। আর এই জামায়াতে ইসলামী এবং পাকিস্তানের সৈনিকদের পৃষ্টপোষক হচ্ছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সনালের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক  অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ।

সরকার জঙ্গিবাদের সমাধান চায় না: ফখরুল

দেশে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এটাকে (জঙ্গিবাদ) আসলে সমাধান করতে চায় না। তারা এটাকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এ সময় জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পথ ছাড়তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যুবদল আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নিয়ে ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রত্যেকদিন যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তাতে আমরা প্রচন্ড উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছি। গত সপ্তাহে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনাসহ ৩/৪টি ঘটনা ঘটলো। অথচ এটা নিয়ে সরকারের এক একটি প্রতিষ্ঠান-এজেন্সি একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনায় বিএনপিকে দোষারোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সঠিক সত্য অনুসন্ধান, তদন্ত না করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িতদের যদি এভাবে হত্যা করা হয়, তাহলে কোনোদিনই সত্য উদ্ঘাটন হবে না, আসল যারা ক্রিমিনাল তারা বাইরেই থেকে যাবে। সেজন্য আমরা বার বার বলে আসছি, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য তৈরি করে, সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে, আর সঠিক সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তির যে দাবি উঠেছিল, তাকে দাবিয়ে দিতে ওই গণহত্যা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের মানুষের অদম্য যে আকাক্সক্ষা তাকে তারা দমন করতে পারেনি। এ সময় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে সেই বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, মানুষের অধিকার নেই। কথা বলতে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আইন সম্মতভাবে মিছিল-মিটিং-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না, উল্টো হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগের আট বছরের শাসনে এই পর্যন্ত বিএনপির ২ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী খুন, পাঁচশ’র বেশি গুম হয়েছে বলে দাবি করেন দলটির মহাসচিব। মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে গত বৃহস্পতিবারের অগ্নিকান্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন ফখরুল। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অর্থহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই চুক্তি কিভাবে হবে-এটা আমাদের জানা প্রয়োজন। কারণ, অতীতে আমরা দেখেছি সামরিক চুক্তির মাধ্যমে ক্ষুদ্র দেশগুলো কিন্তু বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, এই ধরনের চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে। আমরা বার বার বলে এসেছি, এখনো দৃঢ়ভাবে বলছি, দেশের স্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি মানুষ মেনে নেবে না। প্রদর্শনীতে একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাবেশে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে খাল কাটাসহ নানা কর্মসূচিতে জিয়াউর রহমানের ছবি স্থান পায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর প্রদর্শনীস্থল ঘুরে দেখেন মির্জা ফখরুল। এ সময় যুবদলের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

দুর্নীতির মামলায় এরশাদের আপিলের রায় হয়নি

দুর্নীতির মামলায় তিন বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের করা আপিলের ওপর বৃহস্পতিবার রায় হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এরশাদের আপিল ছাড়াও এ বিষয়ে সরকারের করা দুটি আপিল বিচারাধীন থাকায় আজ রায় দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য তিনটি আপিল আবেদনই প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, এ মামলা শুনানি শেষে রায়ের জন্য ছিল। এ পর্যায়ে দেখা যায়, সরকারের আরও দুটি আপিল (৫/১৯৯২ ও ৬/১৯৯২) রয়েছে, যা হাইকোর্টে বিচারাধীন। একসঙ্গে শুনানি হবে, তা-ও বলা আছে। একটি রায় নিয়ে তিনটি আপিল হয়েছে। এসব আপিল একসঙ্গে শুনানি হওয়া উচিত। এ পরিস্থিতিতে তিনটি আপিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলো। এর আগে ৯ মার্চ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আদেশের জন্য আজকের দিন রেখেছিলেন। এ অবস্থায় আদালত আজ এ আদেশ দেন। আদালতে এরশাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজীবুর রহমান।

খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে হাই কোর্টের দেওয়া রুলও নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আদেশের পর দুদকের আইনজীবী বলেন, এই আদেশের ফলে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা নেই।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরের বছর ৫ মে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোপত্রে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। এর বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাই কোর্ট। সাত বছর পর রুল শুনানি করে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর হাই কোর্ট স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। আপিল বিভাগেও ওই আদেশ বহাল থাকে।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার নয় নম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও দলটির নেতা মওদুদ আহমেদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ এ মামলার আসামি।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সালিশি আদালতে পেট্রোবাংলা, বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর চুক্তি ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিরোধের মামলা চলার কারণ দেখিয়ে গতবছর হাই কোর্টে যান এ মামলার আসামি মওদুদ। এরপর গত ১ ডিসেম্বর হাই কোর্ট মওদুদের বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। দুদক এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলেও স্থগিতাদেশ বহাল থাকে।
মওদুদের মতই সালিশি আদালতের যুক্তি দেখিয়ে নিম্ন আদালত ঘুরে হাই কোর্টে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ বিষয়ে শুনানি করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ গত ৭ মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে আদেশ ও রুল দেয়। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না- তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে বলা হয় বিবাদীদের। এই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক চেম্বার আদালতে গেলে গত ১২ মার্চ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি বৃহস্পতিবার আপিল বেঞ্চে উঠলে হাই কোর্টের আদেশ বাতিল হয়ে যায়। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হাই কোর্টে দুদকের মামলা শোনার জন্য বেঞ্চ ঠিক করে দেওয়া আছে। যে বেঞ্চ নাইকো মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তাদের এ বিষয়ে শুনানি করার এখতিয়ার ছিল না বলে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে আপিল বিভাগ আজ স্থগিতাদেশ ও রুল বাতিল করে আদেশ দিয়েছেন।

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে হুমকিতে পড়বে বাংলাদেশ : বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা এখন স্বাধীন আছি কিনা-এটা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, আমাদের তো ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই, অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও হুমকির মুখে। আমরা এখন যেটাকে জিওগ্রাফিকেল ফ্রিডম (ভৌগোলিক স্বাধীনতা) বলি, সেটাও হুমকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত র‌্যালির কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির এক প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর সমগ্র জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে কী কী চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, সেটা এখনো জনগণকে জানানো হয়নি। জনগণ এ ব্যাপারে এখনো কিছুই জানে না। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের যে পানি সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান হওয়া দরকার। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি এখনো হয়নি। এছাড়া গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি নিয়ে চুক্তি না হওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, আমাদের জেগে উঠতে হবে। উটপাখির মতো বালুর ভেতরে মুখ লুকিয়ে চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। জঙ্গিবাদের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে একে মোকাবিলা করতে সকল রাজনৈতিক দল ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার যে একটা সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া দরকার-সরকার সেটা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ২৬ মার্চ দুপুর ২টায় নয়াপল্টন থেকে বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে এই র‌্যালি শুরু হবে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এখন শুনছি হাইব্রিড লীগও গঠন হয়েছে: কাদের

সিলেট প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নানা রকম সংগঠন গড়ে তোলার সমালোচনায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগে কোনো গডফাদার আর পেশাহীন পেশাজীবীদের দরকার নেই। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বুধবার বিভাগীয় কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেকেই বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে দোকান খুলে বসে আছেন। আসার পথে দেখলাম ডিজিটাল লীগ নামে ব্যানার। এই লীগ, সেই লীগ – কত যে লীগ গঠন করছে সুবিধাভোগীরা! প্রজন্ম লীগ, তরুণ লীগ – কত লীগ! এখন শুনছি হাইব্রিড লীগও গঠন করা হয়েছে। এসব অপকর্ম আর চলবে না। এদের ধরে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের আর মাত্র দেড় বছর বাকি আছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, গডফাদার পেশাহীন পেশাজীবীরা তাদের পেশিশক্তি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে দলকে বিব্রত করছে। আওয়ামী লীগে তাদের দরকার নেই। ঘরের মধ্যে ঘর, মশারির মধ্যে মশারি টানানো চলবে না। দলকে সুশৃঙ্খল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। কথা কম, কাজ বেশি। স্ট্রঙ্গার, স্মার্টার দল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এবং বিজয়ী হতে চাই। বিএনপিকে নিয়ে নেতাকর্মীদের বিচলিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে ব্যর্থ, আন্দোলনে ব্যর্থ। মানুষ পুড়িয়ে এখন আর মানুষ পায় না। তাদের আন্দোলনের মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না। বিএনপি এখন নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়ে স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, বছরের পর বছর জমিদারদের মতো পদ নিয়ে বসে থাকা চলবে না। সম্মেলন করে কমিটি গঠন করুন। কোনো অবস্থায় পকেট কমিটি মেনে নেওয়া হবে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন প্রমুখ সমাবেশে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর তিস্তা না হলে অন্য চুক্তি অর্থহীন: বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হলে অন্য সব চুক্তি অর্থহীন হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ফলোপ্রসূ করতে হলে সবার আগে দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে, যার অন্যতম হল পানি বণ্টন। তিস্তাই হচ্ছে এখন সবার আগে প্রধান সমস্যা। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ আশা করেছিল, একটা সম্পর্ক তৈরি করে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আমরা পাব। শুধু তিস্তাই নয়, আমরা ৫৪টি নদীর কোনো ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। তিস্তার পানি চুক্তি যদি না হয়, তাহলে অন্য কোনো চুক্তি অর্থহীন হবে। দেশের ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে’ কোনো চুক্তি দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।  

মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।২০১০ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে তা আটকে যায়। সাত বছর ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরেও হচ্ছে না বলে মঙ্গলবার ইঙ্গিত দেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকায় সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দর কাষাকষি করতে পারছি না এজন্য যে, আমরা নতজানু হয়ে আছি। বাংলাদেশে যারা সরকার চালাচ্ছেন, যারা দরকাষাকষি করছেন, তারা আগেই দুর্বল হয়ে নতজানু হয়ে আছেন। তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। সেজন্য আজ এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলকে ঘরে বন্দি রেখে নিজের দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে একতরফা নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, এটাই প্রমাণ করে, এ দেশে গণতন্ত্র নেই্। একটি দল এবং তার সভাপতি তিনি রাষ্ট্রের পয়সায় হেলিকপ্টারে করে প্রত্যেকটি জনসভায় যাচ্ছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনসভা করছেন এবং ক্যাম্পেইন করছেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে চলছেন এবং গায়ের জোরে একতরফা ক্যাম্পাইন করছেন।

সম্প্রতি গত তিন সাপ্তাহে বগুড়ার শান্তাহার, চট্টগ্রাম ও মাগুরায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর নৌকায় ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, যেটা আগে করা দরকার, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিতে হবে, তাদের সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে, স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে দিতে হবে। তা না হলে নির্বাচনটা অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে। জিয়া পরিষদের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাদের নিয়ে জিয়ার কবরে ফুল দিতে আসেন বিএনপি মহাসচিব। কবীর মুরাদ ছাড়াও সংগঠনের সহসভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক আবু তাহের, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ, অধ্যাপক আলী নুর রহমান ও অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দ্রুতই পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও এক বছরেও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। কাউন্সিলে অনুমোদিত হলেও প্রকাশ হয়নি বিএনপির গঠনতন্ত্র। পুরোপুরি কার্যকর হয়নি ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি। দলের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিগুলোও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এক বছরেও ডাকা হয়নি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা। শেষ হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। কিন্তু তারপরেও কাউন্সিলের এক বছরের অর্জনে সন্তুষ্ট বিএনপি। তবে এসব কমিটি গঠনে ধীরগতির জন্য বিএনপির ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলাকে অনেকাংশেই দায়ী করছে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও জাসাসের কমিটি দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর কমিটিও যেকোনো দিন ঘোষিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও দেয়া হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের চেয়ারপারসন শিগগিরই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। এরপর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে বেগম জিয়া রাজপথেও নামতে পারেন। সেজন্য দ্রুতই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।

গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দিনই খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পুনর্র্নির্বাচিত হন। এরপর ৩০ মার্চ মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর গত ৬ আগস্ট ঘোষণা করা হয় ৫০২ সদস্যের ‘ঢাউস’ জাতীয় কমিটি। তখন ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে হান্নান শাহ মারা যাওয়ায় তার পদসহ এখন তিনটি পদ খালি রয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কয়েকটি পদও শূন্য হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী কমিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দুইটি, ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক দুইটি এবং যুববিষয়ক সম্পাদকের একটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক এই প্রক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, এটি চলতে থাকে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে। কিছু অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও হয়েছে, বাকিগুলোও খুব শিগগিরই হবে। জেলা সম্মেলন করছি, কমিটিগুলোও হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে-দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন বিএনপির প্রতিকূলে। দলের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিএনপিকে যেভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নির্মুল করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে আমরা যে এখনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় ভিত্তি, বড় অর্জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর দল পুনর্গঠনে নামে বিএনপি। ওই নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তৃণমূল পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে ৮০টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টি জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছে। এদিকে, দলে এখন পর্যন্ত এক নেতার এক পদের বিধানও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে একাধিক পদধারী ৬১ জন নেতা ছিলেন। তারা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পদের পাশাপাশি মহানগর-জেলা-উপজেলা কমিটি অথবা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক নেতা ইতোমধ্যে একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির তৃণমূূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. শাহজাহান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দলে ‘এক নেতার এক পদ নীতি’ কার্যকর শুরু হয়েছে। ১০-১২ জন ছাড়া অন্যরা একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। শিগগিরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

জানা যায়, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। তবে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকায় তিনি এখন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন শেষে ঢাকায় ফিরলেই দলীয় গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র প্রকাশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু একটু সময় লাগছে। আওয়ামী লীগও তো তাদের গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেনি। আশা করছি, আমরা শিগগিরই তা প্রকাশ করতে পারব। এদিকে, বিএনপি এখনো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে ২৬টি উপ-কমিটির কথা রয়েছে। সেখানেও প্রায় ৩০০ নেতার ঠাঁই মিলবে। উপ-কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব কমিটি গঠনে আমরা ইতোমধ্যে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু তা ঘোষণা করা হয়নি। ইতোমধ্যে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে। বাকি কাজও খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।

 

 

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দুই ঘন্টার বৈঠক কানাডার হাই কমিশনারের

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার বেনয়েট পিয়েরে ল্যারামি। মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে শেষ হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন। সূত্র মতে, বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠক শেষে কোনো পক্ষ থেকেই সাংবাদিকদের কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে জনদৃষ্টি ফেরাতে জঙ্গি তৎপরতা : বিএনপি

সরকার জঙ্গিবাদকে সামনে এনে ‘অশুভ’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে আবারও দেশব্যাপী রক্তাক্ত জঙ্গি তৎপরতার কৌশল নেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব অভিযোগ করেন। বিএনপির এই নেতার দাবি, জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে-সরকার পরিকল্পিতভাবে জঙ্গিবাদের সামগ্রিক তৎপরতা আড়াল করছে। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার ফায়দা নিচ্ছে। ‘জঙ্গিবাদ জাতীয় নির্বাচনের অন্তরায়’-আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন একটি বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, তার বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে-জঙ্গি হামলার সুবিধাভোগী কারা? কারা জঙ্গিবাদ জিইয়ে রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছে। এখন জনগণের কাছে পরিষ্কার- একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বানচাল করার জন্যই জঙ্গি তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দানবীয় জঙ্গিবাদ দেশ থেকে দূর হোক তা বর্তমান সরকারই চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রীদের নানামুখী বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে দলের নেতারা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে নানা কথা বলছেন। অথচ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলছেন, আমরা তো কিছুই জানি না। তিনি বেমালুম এটা চেপে যাচ্ছেন। এখানেই তো আসল রহস্য লুকিয়ে আছে।

ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পত্রিকাটির মালিক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, সরকারের ইশারাতেই ওই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি কি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা? রিজভী বলেন, আমরা সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই-দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার সাথে সম্পর্কযুক্ত, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে কখনোই ছিনিমিনি খেলতে দেবে না জনগণ। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-দলের যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, আজিজুল বারী হেলাল, মুনির হোসেন প্রমুখ।

বিএনপি জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে : নাসিম

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কোন দেশে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার, আইনশৃংখলাবাহিনী যখন পদক্ষেপ নেয়, তখন তাদের সহায়তা করতে হয়, সাহস দিতে হয়। কিন্তু বিএনপি জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা যেসব কথা বলছে তা দুঃখজনক। জঙ্গিবাদের প্রতি তাদের দরদ এসব বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসিম বলেন, জঙ্গিদের সাথে তাদের (বিএনপি) যে সম্পর্ক তা নতুন করে প্রমাণ হচ্ছে, তাদের মহাসচিব ও অন্য নেতাদের বক্তব্যে। তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আর এ বিষয়ে কাউকে আহ্বান জানানোর কিছু নেই। এদিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ থেকে সারাদেশে জনমত গড়তে ১৪ দল জনসংযোগ ও সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে নাসিম বলেন, অতীতের মত প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি। ভারত-বাংলাদেশের সাথে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তা আরও দৃঢ হবে।

‘গণহত্যা দিবসে’ ১৪ দলের কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে এ সময় ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করা হবে বলেও জানান জোটের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ওই দিন সকাল ১১টায় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে মিরপুর ১০ নম্বরে এক জনসভার আয়োজন করা হবে। ৩০ মার্চ যশোরের চুকনগরে আরেকটি জনসভা হবে। ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান এ আওয়ামী লীগ নেতা। পাশাপাশি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বে ১৪ দলের একটি দল যাবে। এর আগে দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবদুস সোবহান গোলাপ, আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া। জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শরিফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান,  মাঈন উদ্দিন খান বাদল, শিরিন আখতার, এস কে শিকদার, ওয়াজেদুল ইসলাম খান, এম এ আউয়াল, শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

জঙ্গিবাদ দমনে আন্তরিক নয় সরকার : বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সরকার জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে। সেজন্য জঙ্গিবাদের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তারা আন্তরিক নয়। এ সময় আশকোনায় আত্মঘাতী হামলার পর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হানিফ মৃধার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে ২০ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, এই সরকার একটা গভীর ভয়ংকর খেলায় মেতেছে। সেই খেলা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যাবে, আমরা জানি না। বাংলাদেশকে আজকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো লেশমাত্র নেই। সুফিবাদ-শান্তির মধ্য দিয়ে এ দেশের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, পরস্পরের সহনশীলতার মধ্য দিয়ে এদেশ গড়ে উঠেছে। এখানে ধর্মপ্রিয়তা আছে, ধর্মান্ধতা নেই। আমরা সরকারকে স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, জঙ্গিবাদকে নিয়ে খেলবেন না। এর সুষ্ঠু তদন্ত করুন। কোথায় এর মূল কারণ, সেটা বের করুন।

হানিফ মৃধাকে নিয়ে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তার গ্রেফতার ও মৃত্যু নিয়ে র‌্যাবের ব্যাখ্যা সত্য, নাকি পরিবারের দাবি সত্য? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্পষ্টভাবে এর ব্যাখ্যা দাবি করছি। যদি পরিবারের দাবি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমরা কোন দেশে বাস করছি? কারণ, জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, একটা নয়, অসংখ্য ঘটনা এ রকম ঘটছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে এক কথা, পরিবার বলছে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি যদি সঠিক হয়, তাহলে কি আমরা এই দাবি করতে পারি যে, একটা অত্যন্ত গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই লোকগুলোকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরবর্তী সময়ে তাদের জঙ্গি বানিয়ে হত্যা করা হচ্ছে কিংবা জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্য তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে? এটা কিন্তু খুব গুরুতর প্রশ্ন। জঙ্গিবাদ দমনে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় ঐকমত্য’ গড়ে তোলার ফের আহ্বানও জানান ফখরুল। সভাপতির বক্তব্যে এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ২০ দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সংগঠনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য জহির হোসেন হাকিমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন-বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, ডিএল’র সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, অহিদুর রহমান প্রমুখ।

 

জিল্লুর রহমানের শূন্যতা এখনও ভোগায় : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সেতু ও পরিবহস মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জিল¬ুর রহমানের মতো আদর্শ আর নিষ্ঠাবান নেতার চলে যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর আদর্শ যুগ যুগ ধরে নেতাকর্মীদের প্রেরণা যোগাবে। জিল্লুর রহমান একসময় আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা ছিলেন, আজ তাকে খুব মনে পড়ছে। তিনি আমাদের রাজনৈতিক আর্দশ ছিলেন। তাকে সামনে রেখেই আমরা রাজনীতি করেছি। তার শূন্যতা আমাদের এখনও ভোগায়।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন মরহুমের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সকাল ৮ টায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। এসময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এই নেতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ও রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করে। এছাড়াও মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

 

টাইগারদের খালেদা জিয়ার অভিনন্দন

করতোয়া ডেস্ক : ক্রিকেটের পরাশক্তি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  রোববার তিনি এক অভিন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব সদস্য, কোচিং স্টাফ, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান খালেদা জিয়া। অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ক্রিকেটের এই অভিজাত ফরম্যাটে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিল বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা। তাদের কঠোর পরিশ্রম, মনোযোগ ও দেশপ্রেম আজ বাংলাদেশের জন্য এই অবিস্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে। এই ধারা অব্যহত রাখতে পারলে আগামী দিনে বাংলাদেশই হবে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি। এদিকে, পৃথক অভিনন্দন বার্তায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ২০ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানান।

 

ক্ষমতায় টিকে থাকতেই জঙ্গিবাদের সাইনবোর্ড : বিএনপি

সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ‘জঙ্গিবাদের সাইনবোর্ড’ সামনে এনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, জঙ্গিবাদ নিয়ে বিনাভোটের সরকার জনগণের সাথে লুকোচুরি খেলছে। সরকারের গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী বহু গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উগ্রবাদকে উপলক্ষ হিসেবে জনগণের সামনে আনা হয়েছে। মানুষ যাতে জঙ্গিবাদী তৎপরতার আলোচনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আর এরই ফাঁক দিয়ে অশুভ ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান এবং রাজধানীর আশকোনা ও খিলগাঁওয়ে র‌্যাবের উপর আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সমন্বয়হীনতায় নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের সাথে র‌্যাবের ডিজির বক্তব্যের কোনো মিল নেই। জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার একটা বিষয় চলছে। একটা ঘটনা ঘটার সাথে সাথে অন্য দলের ওপর তারা দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। তাতে স্পষ্ট মনে হয় যে, এই ঘটনাগুলোর সাথে, এই উগ্রবাদের সাথে সরকারেরই একটা সম্পর্ক আছে।

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে একটি মহল বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগের দূরত্ব তৈরি করছে বলে প্রধান বিচারপতি যে অভিযোগ করেছেন তাকে ‘যৌক্তিক’ বলেছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, আমি প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারছি না। আমার মনে হয়, এদেশের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, আজকে রাষ্ট্রশক্তি যেভাবে ভয়ানক হয়ে উঠেছে, সেখানে শেষ আশ্রয়স্থল আদালত। প্রধান বিচারপতির অভিযোগের বিষয়টি এখন সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে জানিয়ে রিজভী বলেন, দেশের প্রধান বিচারপতি যখন এই ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করেন, তখন তা জনমনে যৌক্তিক ভিত্তি পায়। কী পরিমাণ ভুক্তভোগী হলে স্বয়ং প্রধান বিচারপতিও ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী হস্তক্ষেপের বিষয়ে অভিযোগ তুলেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে বলেই আজকে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ সর্বত্র দৃশ্যমান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

 

জঙ্গি ইস্যুতে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না : তোফায়েল

জঙ্গি ইস্যু নিয়ে যে যাই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, কোনোটাই সফল হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। শনিবার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিএমইএ কর্তৃক আয়োজিত জব ফেয়ারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জঙ্গিদের পক্ষেও দেখি অনেকে কথা বলছেন। কল্যাণপুরে যখন জঙ্গি ধরা পড়ল খালেদা জিয়া তখন বললেন, তারা নাকি দেখতে সুন্দর, জঙ্গি কিনা সংশয় আছে! এদিকে আবারো আত্মঘাতী বোমা হামলা হলো। জঙ্গি দমনে বর্তমান সরকার সফল- উলে¬খ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ জঙ্গি ইস্যু নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করলে তা বাস্তবায়ন হবে না। ২০২১ সালে পোশাক শিল্পের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হলে তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এক সময় এ দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো। আর এ দেশ এখন ক্ষুধা-দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ‘রোল মডেল’। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে উলে¬খ করে তোফায়েল আরও বলেন, তাদের সব ধরনের সহায়তা দিতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এখন ক্রেতাদের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেয়া উচিত। বিজিএমইএ’র জন্য নতুন একটি সুন্দর ভবন দরকার। নয়তো ক্রেতারা আকৃষ্ট হবেন কি করে। যারা রেমিটেন্স আনছে দেশে তাদেরও নগদ প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, অর্থমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল¬াহ আল মামুন, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুখ হাসান ও বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, অনেক গার্মেন্টস মালিক এসে আমাকে ট্রেড ইউনিয়ন না দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু কেন করেন, তা আমি বুঝি না। পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা শ্রম অধিকার নিয়ে সচেতন কিনা সে তা আমি জানি না। শ্রমিক নেতাদের উচিত ক্রেতাকে পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বলা। পণ্যের দাম বাড়লেই শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো সম্ভব।
মেলার উদ্বোধন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জব ফেয়ারের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

খালেদা জিয়ার শোক কোকোর শ্বশুরের মৃত্যু

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান  কোকোর শ্বশুর এমএইচ হাসান রাজা মারা গেছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই প্রকৌশলীর। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মুখলেমা রাজা, মেয়ে সিঁথি ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় গত ১৩ মার্চ থেকে গুলশানের এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন কিডনি রোগে আক্রান্ত ডিআইটির প্রকৌশলী হাসান রাজা। বেয়াইকে চারদিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দেখে এসেছিলেন।

কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি দুই মেয়ে নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর হাসান রাজার দাফন হবে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত লাশ হিমঘরে রাখা হবে। এদিকে, হাসান রাজার মৃত্যুতে খালেদা জিয়া ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

কুসিকে জিততে নানা প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্বাচনে নতুন ইসির ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। আর নারায়ণগঞ্জে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিএনপি। সেজন্য কুসিকে দলের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক ২৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ১০৩টি কমিটিও গঠন করা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন। আর সুচারুরূপে প্রচারের স্বার্থে প্রতিটি কমিটির কর্মকান্ড সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা ভোটকেন্দ্রেই সীমিত থাকবে। এছাড়া প্রচারণায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে নামানো হচ্ছে। তারা কুমিল্লার স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং টিমও গঠন করা হবে। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নাসিকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সহযোগিতা করছেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, নির্বাহী সদস্য শেখ মো. শামীম, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। আর নির্বাচনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিনকে প্রধান স্থানীয় সমন্বয়কারী এবং মোস্তাক মিয়া ও আবদুল আউয়াল খানকে সহকারী স্থানীয় সমন্বয়কারী করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম তাদেরকে নিয়ে ইতোমধ্যে কুমিল্লায় বৈঠকও করেছেন। ওই বৈঠক থেকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার কর্মপদ্ধতি ঠিক করে সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে। এদিকে, নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রচার কাজে মাঠে নামানো হচ্ছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কুকে জোট ইতোমধ্যে তাদের সমর্থনও জানিয়েছে। এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ কুসিক নির্বাচনে জোটের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং প্রয়োজন হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তবে আপাতত তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে কুসিকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনী কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির মেয়রপ্রার্থীসহ তার পক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রতিদিনকার নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ খবর গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে প্রধান করে একইস্থানে একটি মিডিয়া সেলও গঠন করা হয়েছে। শামসুদ্দিন দিদারকে এ সেলের সহকারী সমন্বয়কারী করা হয়েছে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জে ১০৪জন কেন্দ্রীয় নেতাকে মাঠে নামানো হলেও কুসিক নির্বাচনে এতো বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রচারণায় নামাতে চায় না বিএনপি। দলটি মনে করছে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কু পরপর দুইবার মেয়র (পৌর ও সিটি করপোরেশন) ছিলেন। সুতরাং তার নিজস্ব একটা সেটআপ আছে, নিজস্ব ভোটও আছে। এছাড়া তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। আর নারায়ণগঞ্জে অনেক ভাসমান ভোটার থাকলেও কুসিকে স্থানীয় ভোটারই বেশি। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে প্রচারণায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় কুমিল্লায় প্রচুর স্থানীয় নেতাকর্মী রয়েছে। এসব কারণে কুসিকে প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান।

নারায়ণগঞ্জের মতো কুসিক নির্বাচনেও স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল বিজয়ের পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব নেই। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লার স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করেছেন। যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল সেই ইয়াছিন ইতোমধ্যে সাক্কুর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। তাই কুসিকে সুষ্ঠু ভোট হলে সাক্কুই মেয়র হবেন বলে আশা তার কর্মী-সমর্থকদের। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি এতোদিন সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসলেও কুসিকে ভিন্ন কথা বলেছেন দলটির মেয়র প্রার্থী সাক্কু। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ভোটের সময় সেনাবাহিনীর পরিবর্তে কুসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চান তিনি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সাক্কু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সেনাবাহিনী চাওয়া হলেও সহজে তা পাওয়া যায় না।

তাছাড়া অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনী ত্বরিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক্ষেত্রে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মেয়র থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে কুসিক নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন।

কুসিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহিলা হওয়ায় সেখানে মহিলা ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। বিশেষ করে গত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বামী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগ করে সাড়া ফেলে দেয়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে সামনে রেখে এ দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে জেতাতে দলটির অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও অনুরূপভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। কুমিল্লাবাসীর কাছ থেকে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে নির্বাচনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুইবার মেয়র থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। তাছাড়া সরকারের দুঃশাসনে সারাদেশের সঙ্গে কুমিল্লাবাসীও অতিষ্ঠ। তাই সুষ্ঠু ভোট হলে ও কুমিল্লাবাসী নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে বিপুল ভোটে সাক্কুই বিজয়ী হবেন।

জঙ্গি হামলা জাতীয় নির্বাচনের অন্তরায় : কাদের

জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা দেশের জাতীয় নির্বাচনের জন্য অন্তরায় বলে মন্তব্য করেছন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে ‘ডিস্টার্ব’ করে স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির বার্ষিক যক্ষ্মা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেড়বছর পর জাতীয় নির্বাচন, এ ধরণের হামলা নির্বাচনের অন্তরায়। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের প্রতি হুমকি। দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবাইকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

উগ্র সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা জাতির জন্য চ্যালেঞ্জ। এখানে দল-মত খণ্ডিত চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দল করি, কিন্তু দেশটা আমাদের সবার। দেশ যদি ঠিক না থাকে, তাহলে আপনি-আমি কেউ নিরাপদ নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে অপশক্তিকে আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্বাস করি আমরা পাক হানাদার বাহিনীর মত এ অপশক্তিকেও পরাজিত করবো। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সফল অভিযানের কারণে জঙ্গিরা তাদের টার্গেট করছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রথমে চান্দিনা, এরপর ফেনী, সীতাকুন্ড হয়ে আশকোনায় আমাদের এলিট ফোর্স র‌্যাবের ওপর আত্মঘাতী হামলা করেছে। তারা বাংলাদেশে একটি স্থিতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। জঙ্গি হামলায় দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি হলি আর্টিজান ঢাকার চেহারা পাল্টে দিয়েছিলো। আমাদের জীবনের ওপর প্রভাব পড়েছিল। এ ধরণের হামলায় বিদেশিরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়। যে কারণে মেট্রোরেলের মত একটা প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। তিনি আরও বলেন, উগ্রবাদীরা মাঝে কিছু সময় বিরতিতে ছিল। তখন আমিসহ অনেকেই বলেছিলাম তারা বিরতি নিচ্ছে কিন্তু ভেতরে আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা এখন আমাদের স্বাধীনতার মাসকে বেছে নিয়েছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, হেল্প সার্ভিসের ডিরেক্টর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ, একমি ল্যাবরেটরির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিনহা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের উদ্দিন আহমেদ মুকুল প্রমুখ।

জঙ্গিবাদ নিয়ে রাজনীতি করতে চায় সরকার : বিএনপি

জঙ্গি হামলা ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। সেজন্য জঙ্গিবাদের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগ করেন। নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মুনির, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং মহানগর শাখার সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে নিয়ে এ শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর প্রয়াত নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য একটা মহল কাজ করে চলেছে। আমরা বলেছি, জঙ্গিবাদের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হচ্ছে না। জঙ্গিবাদে যারা অভিযুক্ত হয়েছে, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের খুব অল্প সংখ্যককে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে বিচারাধীন অবস্থায়। এজন্য কিছুটা রহস্য থেকেই যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দাবির মধ্যে ফাঁক রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার বক্তব্যও পরস্পর সাংঘর্ষিক। সে কারণে গোটা জাতির কাছে বিষয়টি রহস্যবৃত্ত।

দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’র পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী যিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করে এখন পর্যন্ত দুইটি জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে, নির্বাচনের বিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে, নির্বাচনের জন্য সকলের যে সমান সুযোগ সেই সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। কবে নাগাদ বিএনপি প্রচারে নামবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় একটি নির্বাচনমুখী দল, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। সেজন্য আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকি। তফসিল যখন ঘোষণা হবে, তখন আমরা সেই প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেব। বিএনপি ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের’ রূপরেখা কবে দেবে-জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, খুব শিগগিরই দেওয়া হবে।

 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে চুক্তি: কাদের

সামরিক কিংবা বেসামরিক যে কোনো চুক্তি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে হতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে গিয়ে সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রেখে জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি করবেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও এর সড়ক ভবন প্রাঙ্গণে সড়ক ও জনপথ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির ১৪তম জাতীয় সম্মেলন ও ১৯তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সামরিক-বেসামরিক সব চুক্তি জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে করা হবে। সামরিক, বেসামরিক, কূটনৈতিক সব ধরনের চুক্তি হতে পারে। আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গেও অনেক দেশ চুক্তি করে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হলেই দেশের একটি মহল বলে, ইন্ডিয়া নিয়ে গেল; এই ইন্ডিয়া ফোবিয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আরও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। কেউ ছোট, কেউ বড় নয়; সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থে। ভারতের গোলামী করলে ১৫ আগস্টের পর আমরাই ক্ষমতায় থাকতাম। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো পদানত নই। কারো কাছে আমাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ভারতের চেয়েও এগিয়ে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কারো দাসত্ব করি না, কারোর চেয়ে পিছিয়ে নেই। কারো আনুগত্য স্বীকার করি নাই, আমরা বীরের দেশ। বীরের মতই শেখ হাসিনা মাথা উঁচু করে ভারত যাবেন। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে জনগনের জন্য তিনি চুক্তি করবেন। আর চুক্তি তো একতরফা না, এটি উভয়পক্ষের সম্মতিতেই হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটা অংশ নাকি ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়ে যাবে, এমন অপপ্রচারও চালানো হয়েছিল। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সামঞ্জস্য নেই। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। কেউ ছোট, কেউ বড় নয়; সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থে। ভারতের গোলামী করলে ১৫ আগস্টের পর আমরাই ক্ষমতায় থাকতাম। বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনায় মন্ত্রী বলেন, কোন চুক্তি গোপন থাকবে না। এই তথ্যপ্রবাহের বিস্ফোরণের যুগে কিছুই গোপন থাকবে না। আর কিছু গোপন করার দরকারই নেই। কেন গোপন করবো? আমরা তো রাজনীতি করি জনগণের জন্য। তাই জনগণের সামনে কোনকিছু গোপন করা আমরা সমীচীন মনে করি না। তিনি বলেন, আমরা কারো পদানত নই। কারো কাছে আমাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা ভারতের চেয়েও এগিয়ে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা কারো দাসত্ব করি না, কারোর চেয়ে পিছিয়ে নেই। কারো আনুগত্য স্বীকার করি নাই, আমরা বীরের দেশ। বীরের মতই শেখ হাসিনা মাথা উঁচু করে ভারত যাবেন। জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে জনগনের জন্য তিনি চুক্তি করবেন। আর চুক্তি তো একতরফা না, এটি উভয়পক্ষের সম্মতিতেই হয়। সড়ক ও জনপথ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি আব্দুন নুমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স সভাপতি এ কে এম এ হামিদ প্রমুখ।

 

‘র’ নিয়ে বক্তব্য পাতানো খেলার অংশ: বিএনপি

ভারত সফরের আগে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য সরকারের ‘পাতানো খেলার অংশ’ বলে মন্তব্য এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে।
 বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, করেছেন। তিনি বলেছেন ২০০১ সালে ভারতের ‘র’ এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। হঠাৎ করে শেখ হাসিনার ‘র’ এর বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান রহস্যজনক। হঠাৎ করে তার ‘র’ এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া একটি পাতানো খেলা ও তামাশারই অংশ বলে আমরা মনে করি। রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

রিজভী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি এবং তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার পর ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ভারত। সেই উদ্বেগ দূর করতেই প্রধানমন্ত্রীর সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের তোড়জোড় করছে ভারত। আমরা মনে করি, ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হলে তা হবে আত্মঘাতি ও স্বাধীনতাবিরোধী। দেশের নিরাপত্তা যদি ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয় এবং সে দেশের ইচ্ছা অনুযায়ী যদি প্রতিরক্ষানীতি গ্রহণ করতে হয়, তাহলে এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বলে কিছুই থাকবে না।

আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, এরকম রাষ্ট্রবিরোধী গোপন চুক্তি হলে জনগণ তা কখনও মেনে নেবে না বরং তা প্রতিরোধে সর্বশক্তি দিয়ে এগিয়ে আসবে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা একটি ফাইল খুলেছিল, যা ভারতের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘সানডে’তে ছাপা হয়েছিল প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই আসার পর ওই ফাইলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগে ইন্ধিরা গান্ধী ওই ফাইলটি চালু করেন। পুনরায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসলে ফাইলটি আবার চালু করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৈনিকদের হাতে। সুতরাং ‘র’ কাদের স্বার্থে কাজ করে দেশের জনগণ ভালোভাবেই জানে। জনসভায় নৌকার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, আরপিও অনুযায়ী এটা নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘন। উনি প্রধানমন্ত্রী, উনি তো হচ্ছেন একটি লাভজনক পদে আছেন, উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী।

উনি জনসভা করে নৌকায় ভোট চাওয়ার কথা বলেছেন। এর এফেক্ট তো লক্ষèীপুরে হবে, কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও হবে। আমরা মনে করি, কুমিল্লায় যে নির্বাচন হচ্ছে, তার প্রাক্কালে ওই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য এই কথাটি প্রধানমন্ত্রী বলছেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জিয়াউর রহমান খান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশির বাধায় পন্ড

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (নিপিবি) ও বাসদসহ বাম দলগুলোর জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশি বাধার মুখে পন্ড হয়ে গেছে।  বুধবার আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং কাঁদুনে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রতিবাদে আজ সারাদেশে বিক্ষোভ পালন করা হবে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলসহ সাত দফা দাবিতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের এই কর্মসূচি দিয়েছিল সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। এর আগে এসব দাবিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরতালও পালন করে তারা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ তিনটি দলের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে পল্টন ঘুরে প্রেসক্লাবের পূর্ব পাশের গলি দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। তারা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে এবং টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যাবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন বাম নেতা-কর্মীরা। সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স এ সময় বলেন, এটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছিল।

আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবারবুলেটে আমাদের ৫০ এরও বেশি কর্মী আহত হয়। আমরা হরতাল পালন করার পরও সরকার দাবি মানেনি। আমাদের এই আন্দোলন চলবে। জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফ্রন্ট শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অনিমেষ রায়, সদস্য অপু, কেন্দ্রীয় ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য অর্ণব চক্রবর্তী। পুলিশের আঘাতে কতজন আহত হয়েছেন জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এখন পর্যন্ত সঠিক সংখ্যা বলতে পারব না, তবে ছাত্র ইউনিয়নের শাহরিয়ার নামের এক কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি আমরা। পুলিশের বাধার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নাবিদ কামাল বলেন, তারা ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করে রাস্তার উভয় পাশে রাখা গাড়ি ভাঙচুর করছিল, পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছুড়ছিল। পুলিশ তখন অ্যাকশনে গেছে। আমি নিজেও হাতে আঘাত পেয়েছি। এদিকে সংঘর্ষ শুরুর পর বেলা ১২টার দিকে প্রেসক্লাব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বেলা পৌনে ১টার দিকে আবার যান চলাচল শুরু হয়।

নতুন কর্মসূচি: ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশি বাধা ও হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ পালন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ পালন করা হবে।

 

খালেদা জিয়ার ডাকের অপেক্ষায় সংস্কারপন্থীরা

রাজকুমার নন্দী : দীর্ঘ দশ বছর প্রতীক্ষার পর গত মাসে সংস্কারপন্থী দুই নেতার ভাগ্য ফেরায় এখন বাকি নেতারা বিএনপিতে ফিরতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনের চরম দুর্দিনে বিএনপির পাশে থাকতে না পারায় এখন দারুণ অনুতপ্ত দলটির সাবেক এই নেতারা। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দলের পক্ষে এখন ভূমিকা রাখতে চান তারা। তাই মাতৃসম নেত্রীর কাছে মাফ চেয়ে বিএনপিতে ফিরতে তারা এখন মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তবে ধাপে ধাপে তাদের অধিকাংশকে দলে ফেরানো হবে। এবার ডাক পড়তে পারে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিসহ আরও কয়েকজনের। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশও প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংস্কারপন্থী নেতাদের বিএনপিতে ফিরিয়ে নেয়ার পক্ষে দলটির রাজনীতির পরামর্শক ও সমালোচক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে। হাতে খুব বেশি সময় নেই। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে অতীত ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়ে খুব দ্রুতই সংস্কারপন্থিদের ফিরিয়ে নিয়ে বিএনপির এখনই মাঠে নামা উচিত।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনের আগে দলকে একটি প্লাটফর্মে দাঁড় করাতে চান খালেদা জিয়া। কারণ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবিতে প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে চান বিএনপি প্রধান। এ কারণেই সাংগঠনিক ঐক্যের প্রতি জোর দিয়েছেন তিনি। তাই দলের বাইরে থাকা সংস্কারপন্থিদেরও কাছে টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেগম জিয়া। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহিরউদ্দিন স্বপন এবং সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকে পাঠান খালেদা জিয়া। অতীত কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা চাইলে বেগম জিয়া তাদের দলে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে, স্বপন ও বকুল বিএনপিতে ফেরায় বাকি সংস্কারপন্থী নেতা ও তাদের অনুসারী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার আলোর সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, অতীত কর্মকান্ড ক্ষমা করে দিয়ে খালেদা জিয়া তাদেরকেও দলে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দিবেন। তবে সংস্কারপন্থী বাকি নেতারা যাতে বিএনপিতে ফিরতে না পারেন, সেজন্য তাদের দুই-একজনের বিরুদ্ধে দলীয় বিরোধিতাও হচ্ছে। তৃপ্তি যাতে দলে ফিরতে না পারেন, সেজন্য সম্প্রতি যশোর প্রেসক্লাবে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তবে এর পেছনে দলের এক সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তৃপ্তির কর্মী-সমর্থকদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংস্কারপন্থী অভিযোগে ২০০৭ সালে তৃপ্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় হওয়ায় তার নিজের এলাকা শার্শা থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা তৃপ্তির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তৃপ্তি দীর্ঘদিনেও দলে ফিরতে না পারলেও হতাশ নন তারা। সম্প্রতি তৃপ্তির ঢাকার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শার্শার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসে তৃপ্তির সঙ্গে কথা বলছেন। তৃপ্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত শার্শা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, তৃপ্তি ভাই যাতে বিএনপিতে ফিরতে না পারেন, সেজন্য দলের এক সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতার ইন্ধনে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। যেখানে শার্শার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিয়নের হাতেগোনা দুই-চারজন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যা সমগ্র থানা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না। শার্শার অধিকাংশ নেতাকর্মী তৃপ্তি ভাইয়ের সঙ্গেই রয়েছেন। তারা মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে দলে স্বাগত জানাতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। জানতে চাইলে মফিকুল হাসান তৃপ্তি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আমাকে যেখানে যেভাবে সক্রিয় করবেন, সেখানে থেকেই কাজ করব। অনেক সুযোগ ও প্রলোভন এসেছে, আমি যাইনি। বিএনপিতে ছিলাম, বিএনপিতেই থাকতে চাই। শার্শার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করব।

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের জুনে ১৫ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং তাকে সমর্থনকারী শতাধিক সাবেক এমপি ও সিনিয়র নেতা সংস্কারপন্থী বলে বিএনপিতে পরিচিতি পান। খালেদা জিয়া সে সময় মান্নান ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। এরপর অবশ্য অনেককে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসানো হয়। বাকিরা ক্ষমা চেয়ে দলে ফিরতে বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠান। এ ধারা অব্যাহত থাকায় সংস্কারপন্থিদের দলে ফেরাতে ২০১৫ সালের দিকে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেন। সর্বশেষ গত বছরের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাদের ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়া নেতাকর্মীরা আপত্তি জানানোয় তাদের আর দলে ফেরা সম্ভব হয়নি। এতে কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেও হাল ছাড়েননি তারা। কোনো পদ-পদবি না থাকলেও দলের পক্ষে নানা মাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন। এমনকি তারা অন্য কোনো দলেও যাননি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দশম সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেননি।

জানা যায়, সংস্কারপন্থি অভিযোগে এখনো প্রায় অর্ধশত সাবেক এমপি ও নেতা বিএনপির বাইরে রয়েছেন। দু-একজন বাদে দলের বাইরে থাকা সব নেতাকেই পর্যায়ক্রমে দলে নেওয়া হবে। সাংগঠনিক দায়িত্বও পাবেন কেউ কেউ। দলের বেশ কয়েকটি শূন্যপদসহ বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিতেও এই নেতাদের জায়গা করে দেয়া হতে পারে। জনপ্রিয়তাভেদে এদের কয়েকজন আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। বিএনপির কয়েকজন নেতা এ নিয়ে কাজও করে যাচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলের হাইকমান্ড।

সংস্কারপন্থিদের দলে ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বিগত ওয়ান-ইলেভেনে খালেদা জিয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপিতে খ্যাতনামা সংস্কারপন্থী যারা ছিল তারা অনেক আগেই দলে ফিরেছে। তাহলে ছোটো-খাটোরা দলের বাইরে থাকবে কেন? সবাই তো একই অপরাধে অপরাধী। ম্যাডাম বড়দের ক্ষমা করতে পারলে ছোটদের কেন ক্ষমা করতে পারবেন না? তাই একজন-দু’জন করে নয়, বাকি সবাইকে একসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে একই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া উচিত। এরপর তাদের কর্মকান্ড দেখে কাকে কোথায় কী অবস্থায় রাখা হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

 

 



Go Top