সকাল ১১:০৪, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিহবন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির দেয়া প্রস্তাবের গোপনীয়তা তারাই ভঙ্গ করেছেন।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোসেনি দালান রোডে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিন এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার বিরুদ্ধে বঙ্গভবনের গোপনীয়তা ভঙ্গেও যে অভিযোগ করেছেন, সেটা স্ববিরোধী। তিনি নিজেই বলেছেন, আমরা কার নাম দিয়েছি, সেটা আওয়ামী লীগ নেতারা জানলো কী করে? আবার বলেছেন, আমরা কোনো নামই প্রস্তাব করিনি। এটা তার স্ববিরোধী বক্তব্য।
ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।এম এ আজিজ ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে কার নাম প্রস্তাব করেছে, সেটা জানার জন্য বঙ্গভবনের সহযোগিতার দরকার হয় না। বিএনপির নেতারাই যথেষ্ট। আসলে জেলের ভয়ে বিএনপির নেতারা কেউ কেউ দলের তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে ফাঁস করে দেয়।

 

 

 

 

আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করতে চায়: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ-স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং দেশে বিদ্যমান অনৈক্য-বিভেদ দূর করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করা ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু এর ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দেশনেত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছেন, তাদের সাথে কথা বলেছেন- এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। রাষ্ট্রপতি গত রোববারও সংসদে বলেছেন, আমরা দেখতে চাই- গণতন্ত্র সকলকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরাও সে কথাই বারবার বলছি। কারণ আমরাও ইনক্লুসিভ ডেমোক্রেসি, ইলেকশন ও পলিটিক্স চাই, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বিনা নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা দলটি তা চায় না। কারণ তারা জানে, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হলে কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সে জন্য তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়, এমনকি তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও বিতর্কিত করতে চায়। দুঃখ হয়- যখন তাদের (আওয়ামী লীগ) শীর্ষ নেতারা এই সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন, যার কোনো ভিত্তি নেই। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অর্জন বিশাল-ব্যাপক। দেশের ভাগ্যকে তিনি পরিবর্তন করে দিয়েছেন, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই অর্জনগুলোকে আমরা আজ হারিয়ে ফেলছি। সেই আওয়ামী লীগ আবার সেই দানবের চেহারা নিয়ে বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছে। জনগণের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়ে তাদেরকে একটা অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে, অন্ধকারের অতল গহ্বরের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের আমরা বহুবার বলেছি- এইভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করবেন না, মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দেবেন না, কথা বলার স্বাধীনতাকে নিয়ে নেবেন না, ভিন্নমত পোষণকারীদের ধ্বংস-হত্যা ও কারাগারে নিক্ষেপ করবেন না। বহুদলীয় চিন্তা-ভাবনা, ভিন্নমতের মধ্য দিয়ে সমস্ত ফুল ফুটবে এবং সেই সৌরভ থেকে একটা সৌরভ বেরিয়ে আসবে, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে সেই বাংলাদেশ নেই, আমাদের সেই অধিকারও নেই। ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে সমস্ত কিছুকে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভিন্নমতধারী হাজার হাজার তরুণ যুবককে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হনণ করা হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে আমাদেরকে সংগ্রাম-লড়াই করতে হচ্ছে। তবে এ লড়াই-সংগ্রাম একদিন জয়ী হবেই। কারণ, ভোটাধিকার-মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কোনোদিন পরাজিত হতে পারে না। আমরা আশাবাদী, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করবই। এ সময় নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হতাশাই শেষ কথা নয়। সে জন্য আপনারা কখনো হতাশ হবেন না। বুকে বল নিয়ে আমাদেরকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে, বিজয় অর্জন করতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির লড়াই হারানো গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল হক, আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কায়সার কামাল প্রমুখ।

ট্রাম্পকে অভিনন্দন খালেদা জিয়ার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
 সোমবার সকালে বিএনপির বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন রাজধানীর বারিধারায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে দলের চেয়ারপারসনের এই বার্তা পৌঁছে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিনদিন পর ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হলো। রিপন জানান, অভিনন্দন বার্তাটি আমি দূতাবাসের পলিটিক্যাল চিফ ড্যানিয়াল র‌্যাকভের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। এদিকে, খালেদা জিয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অ্যান্টিনিও তাজানিওকেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এই বার্তাও গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে পৌঁছে দেন আসাদুজ্জামান রিপন।

 

রামপালবিরোধী হরতালে আওয়ামী লীগের সমর্থন চান আনু মুহাম্মদ

সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ২৬ জানুয়ারির আধাবেলা হরতালে বিএনপির সমর্থনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও সমর্থন আশা করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ।

সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। অন্য অনেক রাজনৈতিক দলও জনস্বার্থ রক্ষার এ হরতালে সমর্থন দিয়েছে। আমরা জানি আওয়ামী লীগের অনেকেই সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে। আমরা চাই তারাও প্রকাশ্যে আসুক। আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থনও এই হরতালে চাই। গত ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে ২৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগরীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি। এ কর্মসূচি পালনে জাতীয় কমিটির নানা প্রচার কর্মসূচির মধ্যে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। সুন্দরবনের কাছে হওয়ার কারণ দেখিয়ে শুরু থেকেই এ কেন্দ্রটির বিরোধীতা করছে বামপন্থী কয়েকটি সংগঠন। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রতিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তবে সরকার,বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এর আগেও বিভিন্ন বক্তব্যে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলেছেন,এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। শুরু থেকেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে রয়েছে তেল-গ্যাস খনিজ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। মুক্তিভবনে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি সরকারকে একগুঁয়েমি না করে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান আনু মুহাম্মদ। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ‘অনেক ভুল তথ্য’ দিয়েছেন অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবারও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে অনেক ভুল তথ্য দিয়েছেন, বিশ্ববাসীর সামনে নিজেকে ও দেশকে খেলো করেছেন। তিনি বড়পুকুরিয়া, রামপাল এবং উন্নয়ন বিষয়ে যেসব দাবি করেছেন, তার প্রায় সবগুলোই ভুল।’ সম্প্রতি সুইজ্যারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক আলোচনায় রামপাল প্রসঙ্গ প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের নেতা আল গোর। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সুন্দরবন ও এর আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণ করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আল গোরকে বাংলাদেশ সফর করে প্রকল্প এলাকা নিজ চোখে দেখারও আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠিতে বিভিন্ন দলিলপত্র ও সরকারি বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে এমন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এসবের কোনো জবাব আমরা পাইনি। উল্টো সরকার থেকে একই ভুল বারবার বলা হচ্ছে। জলজ্যান্ত সত্য অস্বীকারের সংস্কৃতি, ক্রমাগত ভুল তথ্য উপস্থাপন আর আত্মঘাতী একগুঁয়েমির কারণে সরকার সমস্যাকে আরও জটিল করছে। ২৬ জানুয়ারির হরতালকে বিপরীতধর্মী হরতাল অভিহিত করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এটি ক্ষমতার সংঘাতে সম্পদ ধ্বংসের নয়, বরং সম্পদ রক্ষা-সম্পদ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ রক্ষার হরতাল। এই হরতাল জ্বালাও পোড়াওয়ের নয়, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের। কতিপয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ছাড়া দেশের সকল মানুষের সমর্থন সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে আছে বলে দাবি করেন তিনি। কেবল পথচারী, সাইকেল, রিক্সা, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও গণমাধ্যমের গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান আনু মুহাম্মদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি মোশরেফা মিশু, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন।

আত্মসন্তুষ্টি আওয়ামী লীগকে ডোবাবে: ওবায়দুল কাদের

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘জিতেই গেছি’ এই আত্মসন্তুষ্টি আওয়ামী লীগকে ডোবাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদ আর মাত্র এক বছর দশ মাস। উন্নয়ন অর্জনের কোনো ঘাটতি না থাকলেও সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা ভালোর জন্য আশা করব, কিন্তু মন্দের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে জিতেই গেছি এই আত্মসন্তুষ্টি আমাদেরকে ডোবাবে।

রোববার ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দেিণর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার না থাকলে নেতাকর্মীদের ‘ভয়ঙ্কর তির মুখে পড়তে হবে’ মন্তব্য করে এজন্য আরও বেশি সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আরেকবার যদি আমাদের মতা হারাতে হয়, তবে ২০০১-০৬ মেয়াদের থেকেও ভয়ঙ্কর, ভয়াল রূপ নিয়ে তারা আবির্ভূত হবে। তখন আর প্রাণে বাঁচতে পারবেন না। বিএনপি-জামায়াত জোটের ওই আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে ‘রক্ত দিতে হয়েছে’ উল্লেখ করে পরেও এমন পরিণতির শঙ্কায় সবাইকে হুঁশিয়ার করেন কাদের। তিনি বলেন, খারাপ সময়ে আমরা সবাই তিগ্রস্ত হব। যারা খারাপ কাজ করবে তারাও তিগ্রস্ত হবে, সাথে সাথে ভালোরাও তিগ্রস্ত হবে। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শেখ হাসিনার এত উন্নয়ন কারও খারাপ কাজের জন্য ম্লান হতে দিতে পারি না আমরা।
শনিবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারির উদাহরণ টানেন ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক দিন পর ঢাকায় গন্ডগোল হয়েছে। হঠাৎ ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। আমি তাদের এই ঘটনাকে অপকর্মই বলব। যেটা আমাদের পার্টির ভাবমুর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ‘অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে’ বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী  দেশে ফিরে নির্দেশ দিয়েছেন, যারা অপকর্ম করবে তাদেরকে অ্যারেস্ট করতে, দল থেকে বহিষ্কার করতে। শনিবার অপকর্ম হয়েছে ওইদিনই অ্যারেস্ট করা হয়েছে, বহিষ্কারর করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেন সেতুমন্ত্রী। তিনি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির অবস্থানেরও তীব্র সমালোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে খালেদা জিয়া কমিশনার হিসেবে নিজেদের দলীয় লোকের নাম দিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগকে দোষী বানানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনি যাদের নাম দিয়েছেন তার মধ্যে কে এম হাসান সাহেব কি বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন না? হাসান সাহেবরা কি নিরপে? তিনি আরও বলেন, উনি দলীয় লোকের নাম দিয়েছেন আবার বলেছেন সরকারের ইচ্ছায় কোনো ইসি গ্রহণ করবেন না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই শেখ হাসিনার ইচ্ছায় কমিশনে দলীয় লোকের নাম থাকবে না। এমন কি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থন করেন এমন লোকেরও নাম থাকবে না। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, দেিণর সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম।

রামপালবিরোধী হরতালে বিএনপির সমর্থন

সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আগামী ২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে তেল-গ্যাস-খনিজ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রা জাতীয় কমিটির ডাকা আধাবেলা হরতালে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।

 রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তেল-গ্যাস-খনিজ ও বিদ্যুৎ বন্দর রা জাতীয় কমিটি সুন্দরবন রায় আন্দোলন করছে অনেকদিন ধরে। তারা আগামী  ২৬ জানুয়ারি ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি আহবান জানিয়েছে। আমি দেশের প,ে দেশের মানুষের স্বার্থে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পে তাদের এই কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন করছি।
রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, শুধুমাত্র মুনাফাখোর ও দেশি-বিদেশি লুটেরার স্বার্থে আমাদের নির্মল বাতাসকে বিষাক্ত করা হবে এই সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে। বিশ্বের ঐতিহ্য, দেশের মানুষের প্রাকৃতিক রাবর্ম সুন্দরবন রা করা সকলের দায়িত্ব। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফেরামের প্ল্যানারি সেশনে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত অবস্থানের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, রামপাল নিয়ে ডাভোসে প্রধানমন্ত্রী যা বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে, তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল বিশেষজ্ঞদের অভিমতকে থোড়াই কেয়ার করেন। দেশকে দোজখে পরিণত করার ল্য পূরণই হচ্ছে তার পরিকল্পনা। ডাভোসে প্রধানমন্ত্রী যেসব তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক নয়। রিজভীর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি একে অপরকে সরকারের দালাল বলে : কাদের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের গণ-আন্দোলনের গড়ে তোলার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মওদুদ সাহেবরা আন্দোলন করতে পারেন? আমিতো বুঝি না তারা কীভাবে করবেন। বিএনপি তো তাদের নিজের অফিসে বসে একে অপরকে সরকারের দালাল বলে অভিহিত করে।  শনিবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিআরটিএ-এর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের এসব কথা বলেন। শুক্রবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না মিললে গণ-আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নিজেদের মধ্যে সংশয় ও অনাস্থা রয়েছে। তাদের মুখে আবার আন্দোলনের কথা! যাই হোক অনেক দিন তাদের আন্দোলন-সংগ্রামে দেখি না। মওদুদ সাহেবকে কত আগে রাজপথে দেখেছি, সেটা আমার মনে নেই। উনিও আন্দোলনে নামুক না। ওনার যখন ইচ্ছা আন্দোলন করুক না, আমরা তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন ছোট গাড়িকে লাইসেন্স দেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে যা খুবই ‘এলার্মিং’। তিনি বলেন, গাড়ি ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক এবং সংযমী হতে হবে। পরিবার প্রতি গাড়ি ব্যবহার সীমিত করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী জানান, ‘শিগগিরই বিআরটিএ আইন সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইনটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। কাদের বলেন, মোটরসাইকেল চলাচলে উন্নতি হচ্ছে। এখনকার বেশির ভাগ মোটরসাইকেলে যাত্রী দুজন। এর মধ্যে একজনের অবশ্যই হেলমেট থাকে। বিষয়টিতে আস্তে আস্তে মানুষের অভ্যাস গড়ে উঠবে। তবে রাজনৈতিক লোকেরা যারা মোটরসাইকেলে চলাচল করেন তাদের অধিকাংশ হেলমেট ব্যবহার করেন না। এদের মধ্যে আবার বেশির ভাগই তরুণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, পরিচালক নাজমুল আহসান মজুমদারসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

১/১১’র ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন দাবি মওদুদের

২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই কমিশন গঠন করা হবে। যারা এর পেছনে ও সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের মানুষ তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবে।  শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাব মিলনায়তনে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন লিমিটেড আয়োজিত ‘জরুরি আইনের সরকারের দুই বছর (২০০৭-২০০৮)’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মওদুদ। বইটি রচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বইটি প্রকাশ করেছে আহমদ পাবলিশিং হাউজ। এই বইয়ে ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার বেশকিছু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করা। মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন শুধু রাজনীতিবিদদের সাথে নয়, সমগ্র বাংলাদেশের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা ২০০৭-২০০৮ এই দুই বছরে ক্ষমতায় থেকে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা এবং রাজনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আর বর্তমান সরকার ওয়ান-ইলেভেন সরকারের ধারাবাহিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আজকে বিচার বিভাগের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ তা ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সময়েই শুরু হয়। তারা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে। আদালতে তখন মিলিটারি লোকেরা বসে থাকতো, মনিটরিং করতো। সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে আছে- অসাংবিধানিকভাবে কেউ যদি মতা দখল করে কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনা করে, সেেেত্র তার সাজা হবে মৃত্যুদন্ড। যদি সেটাই সংবিধানে থাকে, তাহলে যারা ২০০৭-০৮ সালে অসাংবিধানিকভাবে মতায় এসে দেশকে শাসন করে সবকিছুই ধ্বংস করে গেছেন তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনা ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থান। আর বর্তমান সরকার ‘সামরিক’ না হলেও সামরিক বাহিনীর আদলেই তা পরিচালিত হচ্ছে। এদের কাছে কোনো সভা-সমাবেশের অনুমতি চাইলে তা দিতে অস্বীকার করছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে, একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ। এদিকে, বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মওদুদ আহমদ। সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র-যুগ্ম মহাসচিব রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভা হয়।

জঞ্জাল মুছে নতুন স্বপ্নের দিকে এগোতে চায় বিএনপি

বিএনপি অতীতের সব জঞ্জাল পেছনে ফেলে নতুন একটা স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এ জন্য নিরপে, যোগ্য ও সঠিক নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সার্চ কমিটি নিয়ে ‘ইতিবাচক সিদ্ধান্ত’ প্রত্যাশা করছে দলটি।  শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে জিয়া পরিষদের প্রতিনিধি সম্মেলনে দলের এমন প্রত্যাশার কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, রাষ্ট্রপতি এখনো সার্চ কমিটি ঘোষণা করেননি। আমরা বরাবরই বলেছি- আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি। আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করেছেন রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্যে একজন। তিনি নিঃসন্দেহে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ করবার জন্য বাংলাদেশের মানুষের চোখের ভাষা বুঝে সার্চ কমিটি করবেন। তার গঠিত কমিটি অবশ্যই নিরপে ও যোগ্য হবে এবং সঠিক নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সম হবে। আমরা অতীতের সব জঞ্জাল মুছে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এগোতে চাই একটা সুন্দর স্বপ্ন ও প্রভাতের দিকে। সেটাই বাংলাদেশকে রা করতে পারবে, আওয়ামী শাসন থেকে আমাদেরকে আলোর দিকে নিয়ে যাবে।
বিদায়ী নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের পত্রিকায় দেখলাম- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন, পাঁচ বছর নির্বাচন কমিশন খুব সফল হয়েছে। সফলতার বিবরণ দেখেন- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন। এরপরে উনি (সিইসি) পাঁচ শতাংশ ভোটকে ৪০ শতাংশ করেছেন-এসব সফলতার নমুনা। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘অত্যন্ত সূক্ষ্ম নতুন কৌশলে উনি সফল’ বলে অনেকে বলেন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আবার দেখলাম উনি (সিইসি) ঘোষণা করেছেন- ইভিএম নয়, ডিজিটাল ভোটিং। আপনারা বুঝেন- ডিজিটাল ভোটিংয়ে আমেরিকার মতো দেশের ভোট হাইজ্যাক করে চলে যায় রাশিয়া। এখন উনারা ডিজিটাল ভোট করবেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে চিরদিন মতায় রাখার জন্য যা যা করার উনারা করবেন। এই অবস্থার থেকে উত্তোরণে সকলকে পায়ের উপর শক্ত করে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। এ ব্যাপারে জিয়া পরিষদকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান কবির মুরাদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ড. উবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক মমতাজ হোসেন প্রমুখ। এছাড়া সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরাও আলোচনায় অংশ নেন। তারা বিএনপির তৃণমূলের নির্যাতিত নেতাকর্মীর স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দলের হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানান। এ লক্ষ্যে ৫/৬ জন কর্মঠ ব্যক্তির সমন্বয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘তৃণমূল যোগাযোগ ইউনিট’ গঠনের আহ্বান জানান তারা। এর আগে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা-বেলুন উড়িয়ে প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল।

 

‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়েও রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ চায় বিএনপি’

বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে তার কাছে ‘নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’ নিয়েও উদ্যোগ চাইছে বিএনপি।  শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাবে স্বাধীনতা ফোরামের এক আলোচনা সভায় দলের এমন প্রত্যাশার কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলে এ সভা হয়। মওদুদ বলেন, নতুন ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেভাবে সংলাপ করেছেন, সেভাবে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েও সংলাপ করবেন, এই সংলাপের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন। আমরা আরও সংলাপে যেতে চাই, যাতে করে দেশে এমন একটি সরকার হয়, যে সরকারের অধীনে ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

নতুন ইসি গঠনে ‘জনগণ আস্থা রাখতে পারে’-রাষ্ট্রপতির কাছে এমন একটি সার্চ কমিটির প্রত্যাশা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন যতই শক্তিশালী হোক না কেন দলীয় সরকার থাকলে তারা নিরপেভাবে কাজ করতে পারবে না। এ জন্য নির্বাচনের সময় ‘সহায়ক সরকার’ চায় বিএনপি। এই সরকার কেমন হবে, এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এমন একটি সরকার থাকতে হবে- নির্বাচনের ফলাফলে যে সরকারের কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারবে না। সহায়ক সরকার বলতে আমরা এটাকেই বুঝি।

বিএনপি নেতা মওদুদ বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ইসি এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের বিষয়ে ফয়সালা না হলে আন্দোলন করা ছাড়া দেশের মানুষের অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। সেই আন্দোলনের মধ্যেই তখন আমাদের এই সমস্যার সমাধান আনতে হবে। তবে আমরা ততটুকু যেতে চাই না। আমরা মনে করি, সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভবপর।

সার্চ কমিটি গঠন ও ইসি নিয়োগের বিষয়ে বিএনপির ১৩ দফা প্রস্তাবের আলোকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। তবে সেই প্রস্তাবের সব কিছু মানতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। এখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অনেক মতামত দিয়েছেন। তাদের সব মতামত নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার জন্য আমাদের রাষ্ট্রপতি যদি একটা সমন্বিত কাঠামো তৈরি করে দিতে পারেন বা প্রস্তাব ও সুপারিশ করতে পারেন, তাহলে আমরা সাফল্যের সঙ্গে প্রথম পদপে পেরিয়ে যেতে পারব। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।

 

নিরপে ইসি গঠনে নিরাশা উঁকি দিচ্ছে : বিএনপি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে মতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যে ‘নিরপে কমিশন’ গঠনে ‘আশার বদলে নিরাশা’ উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনে শেষ পর্যন্ত নিরপে ভূমিকা রাখতে সম হবেন কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে দলটি।  শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সম্প্র্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষ করেছেন। সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ইসি গঠনের লক্ষ্যে তিনি ‘নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি’ গঠন করবেন- এমন প্রত্যাশা শুধু বিএনপির নয়, এ দেশে প্রতিটি নাগরিকের। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নিরপেক্ষ ইসি গঠনে সকলের মনে আশার বদলে নিরাশা উঁকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রধান থেকে শুরু করে তাদের সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা যেভাবে ধমকের সুরে কথাবার্তা বলছেন তাতে রাষ্ট্রপতি ইসি গঠনে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন কিনা, সে বিষয়ে সন্দেহের উদ্রেক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ইসি গঠনে বিএনপিসহ দেশবাসী রাষ্ট্রপতির প্রতি আস্থা রাখতে চাই জানিয়ে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে দলীয় লোকদের দিয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠন করেন, তাহলে জনগণ তা মানবে না।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে সব দলের সঙ্গে সংলাপ হওয়া খুবই জরুরি।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলার রায়ের পর র‌্যাব ১১-এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- র‌্যাব-১১ ছিল কসাইখানা। সাত খুন ছাড়াও র‌্যাব ১১ এর অধীনে কমপক্ষে ১১ জন নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। দায়সারাভাবে তদন্ত চাপা পড়ে আছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলেও খবর বেরিয়েছে। সরকারের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাউকে পাত্তা দিতেন না। তাদের কাছে মানুষ খুন করা ছিল অনেকটা পাখি শিকারের মতো। বিগত কয়েক বছরে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী আলমসহ বিএনপির প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আজও তাদের কোনো হদিস নেই। বর্তমানে দেশে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, এখানে নিঃশব্দে ক্রন্দনও করা যায় না। কান্নার আওয়াজেও বিপদ ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুন হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করার জন্য মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। ঠিক একইভাবে ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া শত শত বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবারের দায়েরকৃত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা এবং অবিলম্বে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশা করি।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।

 

রাজনীতিতে বিভেদের দেয়াল ভালো পরিণতি নয় : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতিতে বিভেদের দেয়াল ভালো পরিণতি বয়ে আনবে না। এ দেয়াল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে যা উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে  ইয়াবা সেবনে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অচিরেই যদি এটা রোধ করা না যায় তবে একটা প্রজন্ম গ্যাপ তৈরি হবে।

 শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক কেন্দ্র মিলনায়তনে (টিএসসি) জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা করবেন না। মাদকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন গড়ে তুলবেন। নিজ নিজ এলাকাকে মাদক মুক্ত করে তুলবেন। মনে রাখবেন তথাকথিত রাজনীতিকরা সময় পরবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবে আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবেন। বিভেদের দেয়াল নয় সম্পর্কের সেতু তৈরি করতে হবে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, প্রেসকাব, চিকিৎসক, আইনজীবী থেকে শুরু করে সর্বত্র সংশয়, অবিশ্বাস ও বিভাজনের দেয়াল উঠে গেছে। এর পরিণতি ভালো নয়। এই বিভেদ দূর করতে হবে। মনে রাখতে হবে অন্ধকার দিয়ে অন্ধকার প্রতিহত করা যায় না, অন্ধকার দূর করতে চাই আলো। শান্তি না হোক মানের মাঝে অন্তত স্বস্থি ফিরে আসুক। তিনি বলেন, আমাদের কমন ডেঞ্জার হলো সাম্প্রদায়িকতা। আর কমন এনেমি হলো দরিদ্রতা। এটা প্রতিহত করতে না পারলে আমাদের আমাদের অবিনাশী চেতনা ব্যাহত হবে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে কাদের বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের মাইনিরিটি ভাববেন না। সংবিধান ও সরকার আপনাদের পাশে আছে। তাই কোনো আঘাত আসলে পালটা আঘাত দেওয়ার মানসিকতা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ। এছাড়া ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিলসহ এসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এর আগে সকালে দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন করেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। উদ্বোধনী আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি পান্না লাল দত্ত।

আজ কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন

আজ শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা। জোটের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া, রংপুর ও সিরাজগঞ্জের শীতার্ত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করবেন তারা। এই সফরকালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম মোজাম্মেল হক এমপি ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, নাজমুল হক প্রধান এমপি, বীরেন সাহা, ডা. শাহাদাত হোসেন, এজাজ আহমেদ মুক্তা, নজরুল মজিদ বেলাল, শফিক আহমদ খান, মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, মোঃ আলী ফারুকী, রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।

জিয়ার কবরে খালেদা জিয়ার ফুলেল শ্রদ্ধা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্ত্রী ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে এ শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এ সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন-দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, কাজী আবুল বাশার, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ। শ্রদ্ধা জানানোর পর নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প থেকেও আলাদাভাবে জিয়ার কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। খালেদা জিয়া দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে যাওয়ার আগে থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হন। এদিকে, জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলে দলের প থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

 

রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষে নিরপে সার্চ কমিটির আশায় বিএনপি

গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে স্বাধীন-নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি ‘নিরপে সার্চ কমিটি’ গঠন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের বিষয়েও তিনি ‘কার্যকরী পদপে’ নেবেন বলে আশা দলটির।  বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অপর্ণের পর সাংবাদিকদের কাছে দলের এমন প্রত্যাশার কথা বলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। তাই নতুন ইসি গঠনে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ ৩১টি রাজনীতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মাসব্যাপী সংলাপ গত বুধবার শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বেশিরভাগ দল সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। তবে তা না হওয়া পর্যন্ত সার্চ কমিটির পইে মত দিয়েছে বেশিরভাগ দল। সংলাপ শেষ হওয়ার পর ইতোমধ্যে সব দলের প্রস্তাব বিবেচনা করে ইসি গঠনের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যেও সংলাপ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির এ আহ্বান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র কখনোই ফলপ্রসূ ও কার্যকরী হবে না, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা না থাকে। একটা সহনশীল সমঝোতা-সংলাপের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত হয়। সেটা রাষ্ট্রপতিও বলেছেন। সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন, আমরা বরাবরই ইতিবাচক রাজনীতি করি। এই ইতিবাচক রাজনীতির মধ্য দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন একটি সুন্দর প্রস্তাব দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন, কথা বলেছেন। এখন আমরা আশা করব, রাষ্ট্রপতি সত্যিকার অর্থে একটি নিরপে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, যা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য যোগ্য হবে। তবে নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠিত না হলে এ দেশের মানুষ তা কখনোই গ্রহণ করবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। আমরা তার ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে শপথ নিতে এসেছি- জিয়াউর রহমানের আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রা এবং গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে বিএনপি।

 

নির্বাচন কমিশন নিয়ে কারো সংলাপের সুযোগ নেই: কাদের

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : মতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অন্য কারো সংলাপের সুযোগ নেই।  বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের কাচপুরে কাচপুর, মেঘনা, গোমতী (দ্বিতীয়) চার লেন সেতুর প্রকল্পের পাইলিং কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রাষ্ট্রপতি সব দলের সাথে সংলাপ করেছেন; তার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশন গঠন করার। তিনি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এ বিষয়ে অন্য কারো বা কোনো দলের সংলাপের সুযোগ নাই।
জাপান-বাংলাদেশের যৌথ আর্থিক সহায়তায় এ তিনটি সেতু নির্মাণে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে জাইকা সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ও বাংলাদেশ সরকার দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর সঙ্গে এ তিনটি সেতুও জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ রায় দেশের অপরাধীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা। এ মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের এ নেতা জানান। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে সেতু প্রকল্প পরিচালক সাঈদুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দিবসটি পালন উপলে কেন্দ্রীয়ভাবে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এছাড়া সারা দেশে দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এর আগে, সকাল ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া বিএনপির উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও অন্যান্য ইউনিটসমূহে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার গুলিস্তানের ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আলোকসজ্জিত করা হয়েছে।

এদিকে, জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলে দেয়া বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বারিত বাণীতে দলটির মহাসচিব বলেন, এ দেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথেই আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা বর্তমান ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে। মির্জা ফখরুল এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা; গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়-বিচার ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের হারানো মৌলিক ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। জিয়াউর রহমানের ডাকনাম ছিল কমল। তার বাবার নাম মনসুর রহমান। বগুড়া ও কলকাতায় তার শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত হয়। এরপর শিাজীবন শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর ১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। নানা পটপরিবর্তনের এক পর্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার তাকে বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিত করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সামরিক বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন জিয়াউর রহমান।

বিএনপি নেতা সাবিহ উদ্দিন হাসপাতালে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খালেদা জিয়ার প্রেস উইংযের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, মঙ্গলবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাবিহ উদ্দিনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ‘উনি মস্তিষ্কের জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা উনাকে নিবিড় পর্যবেণে রেখেছেন; সিটি স্ক্যানও করা হয়েছে।’ ইউনাইটেড হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. ইকবালের তত্ত্বাবধানে সাবিহ উদ্দিনের চিকিৎসা চলছে বলে শায়রুল কবির জানান।
সরকারের সাবেক সচিব সাবিহ উদ্দিনকে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে যুক্তরাজ্যো বাংলাদেশের হাই কমিশনার করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন এক সময়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে সাবিহ উদ্দিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন বলে শায়রুল জানিয়েছেন।

যুবদল সভাপতি নিরব সাধারন সম্পাদক টুকু

প্রায় সাত বছর পর বিএনপির প্রধান অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সাইফুল আলম নিরবকে সভাপতি এবং সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া মোরতাজুল করিম বাদরুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং মামুন হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। নিরব যুবদলের গত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক এবং টুকু বিএনপির গত কমিটিতে সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি ও সাইফুল আলম নিরবকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হয়েছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব হওয়ার পর আলাল যুবদলের সভাপতির পদ ছাড়লে গত কয়েক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা।
এদিকে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দেিণর নতুন আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরের সভাপতি হয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সফিকুল ইসলাম মিল্টন হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। ৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে মোস্তফা কামাল রিয়াদকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, শরিফউদ্দিন জুয়েলকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেিণর সভাপতি হয়েছেন রফিকুল আলম মজনু আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গোলাম মাওলা শাহিন। সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন-শরিফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টু, আর টি মামুন, আনন্দ শাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জামাল উদ্দিন খান শাহীন। বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী তিন বছরের জন্য যুবদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর উত্তর-দক্ষিণের এই আংশিক কমিটি অনুমোদন করেন।  উভয় কমিটিকেই আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। গত সোমবার গভীর রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিছিল : যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল করেছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কমিটি ঘোষণার পর  মঙ্গলবার দুপুরে নতুন কমিটির নেতারা রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এলে তাদের কর্মী-সমর্থকরা এ মিছিল করেন। এ সময় নতুন নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছাও জানান তারা।

 

এই রায়ে মানুষের আতঙ্ক দূর হবে: দুদু

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার রায় ‘মানুষের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব দূর করতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

সোমবার রায় ঘোষণার পর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, মানুষের ভেতরে যে আতঙ্ক, যে অসহায়ত্ব, সেই অসহায়ত্বটা দূর করার জন্য নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার রায় প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, আমাদের নিখোঁজ হওয়া ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য ছাত্রনেতা, তাদের এখন পর্যন্ত খোঁজ পাইনি, তারা গুমের শিকার হয়েছে। এই গুম-হত্যার বিচারও আগামী দিনে হবে- এটা আমরা প্রত্যাশা করি। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সোমবার সাত খুনের মামলায়  সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দেন। এছাড়ার মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে নয়জনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড। তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

ওই হত্যাকান্ডে র‌্যাবের কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্যন বেরিয়ে এলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও শিরোনাম হয়। ‘জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ সংগঠনের উদ্যোগে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে দুদু মতিঝিল-গুলিস্তান এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদের সমালোচনা করেন। কিছু নিম্নবিত্ত মানুষ কোনো অর্থ নাই, তারা রাস্তা-ঘাটে ফেরি করে জীবন-যাপন করে এবং সংসার চালায়। কোনো কথা-বার্তা নেই,  কর্মের সংস্থান নেই, তাদের অন্য জায়গায় ব্যবস্থা না করে সরিয়ে দেওয়া হলো। আমরা মনে করি না যে, এটা আইনের শাসন ও কোনো সুন্দরের পক্ষে কাজ করবে। সরকারকে অবশ্যই বিকল্প ভাবনা ঠিক করে এটা করতে হবে। এটা না করে এখন যা করা হচ্ছে এটাকে আমরা তুঘলকি কাজ বলে আমরা মনে করি। এরকম উচ্ছেদের আমরা প্রতিবাদ করি, বিরোধিতা করি। রাষ্ট্রপতিকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে ক্ষমতাসীন দলকে সুপরামর্শ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। মানববন্ধন কর্মসূচিতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বক্তব্য রাখেন। 

এমপি রানাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত টাঙ্গাইল আ. লীগের

 

টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংসদ সদস্যপদও হারাতে হয়। তবে রানার বিষয়ে জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এখনও ‘জানে না’ বলে দলটির দপ্তর সম্পাদক জানিয়েছেন।

সোমবার টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে এক সভায় রানা ও তার ভাইদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, জেলা কমিটির সভায় ওই চারজনের সদস্য পদ বাতিলের এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

“মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারীরা কখনোই আওয়ামী লীগে থাকতে পারে না; তাই তাদের দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ফারুক হত্যার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি এমপি রানা কারাগারে থেকেই ঘাটাইলের ছাত্রলীগ নেতা আবু সাঈদ রুবেলকে হত্যার নির্দেশ দেন বলে সম্প্রতি সংবাদপত্রে খবর এসেছে।
“সভায় এ বিষয়গুলো ছাড়াও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে,” বলেন জোয়াহেরুল।

রানা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আহের কমিটিতে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান কমিটিতে তিনি কোনো দে নেই।

ফারুক হত্যা মামলার আসামি এমপি রানার তিন ভাই হলেন- টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা এবং টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহিদুর রহমান খান কাঁকন।

ফারুকের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। ওই পদটি চাচ্ছিলেন রানার ভাই মুক্তিও। সেজন্যই ২০১৩ সালে ফারুককে হত্যা করে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবার।

রানাদের চাচা শামসুর রহমান খান শাহজাহান আওয়ামী লীগের নেতা ও সংসদ সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ভাতিজারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন।
রানা ও তার ভাইদের বহিষ্কারের খবরে জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে আনন্দ মিছিল বের করে।
এ খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে নিহত ফারুক আহম্মদের স্ত্রী নাহার আহম্মেদ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুককে।
তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী টাঙ্গাইল মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরে ওই মামলায় টাঙ্গাইল- ৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি রানাকে প্রধান আসামি করে এবং তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে সাংসদ রানা ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক।

জেলা ও দায়রা জজ তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে এই সাংসদ হাই কোর্টে আসেন। সোমবার ওই আবেদনের শুনানি করে বুধবার আদেশের দিন রেখেছে হাই কোর্ট।
‘কেন্দ্র এখনও কিছু জানে না’
রানাকে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ সোমবার বিকালে বলেন, “আমানুর রহমান রানাকে জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কারে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত আমরা জানি না; এ সংক্রান্ত কিছু পাইনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “রানা ও তার তিন ভাইকে দল থেকে বহিষ্কারে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আসতে হবে।

“তা পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক বিষয়টি উপস্থাপন হবে। কার্যনির্বাহী সংসদ অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হতে পারে। তার জবাব পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।”

বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদন হলেই সংসদ সদস্যপদ হারাবেন রানা।

এর আগে ২০১৪ সালে হজ নিয়ে মন্তব্যের পর মন্ত্রিত্ব ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর পদ হারানো আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে তাকে আওয়ামী লীগ।
দল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। স্পিকার তা নির্বাচন কমিশনকে জানালে কমিশন শুনানি করেছিল।
শুনানি বন্ধে আদালতে গেলেও তাতে পক্ষে আদেশ না পাওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী নিজেই সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আশা কাদেরের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আদালত যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন; আমরা আশা করি নিম্ন আদালতের এ রায় উচ্চ আদালতেও একই থাকবে, বজায় থাকবে।

সোমবার রায়ের পর দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলানয়তনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি-জামায়াতের বর্বরোচিত তান্ডব ও অগ্নি সন্ত্রাসের’ খন্ড চিত্র প্রর্দশনীর আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা পরিষদ। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। এ সরকারের আমলে ন্যায়বিচার যে হয়, সাত খুনের মামলার এ রায়ই তার প্রমাণ। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না, সে যত প্রভাবশালীই হোক। এদেশে আর বিচারহীনতা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান হবে সংবিধান অনুযায়ী।

সংবিধানে যদি সংলাপের কোনো সুযোগ থাকে, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য সংলাপ হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেতুমন্ত্রী বলেন, যারা দুই নেত্রীকে সংলাপে বসাতে চান, তাদেরকে বলবো, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট কিংবা পুত্র শোকে শোকাহত মা খালেদা জিয়াকে সমাবেদনা জানাতে গিয়ে শেখ হাসিনার ফিরে আসা, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার কথা স্মরণ করুন। এখন যে বিষয়ে সংলাপ তা নিয়ে তো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেছে বিএনপি। তাহলে আবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কিসের সংলাপ।  সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে আগামী নির্বাচন হবে। কাদের বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাব খালেদা জিয়া কি অশ্রাব্য, নোঙরা ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছিল, এটা আমরা ভুলে যায়নি। এখন সংলাপের কথা বলছেন, সেই দিন কেন সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন? এ প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, পুত্র শোকে শোকাহত মাকে দেখতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর খালেদা জিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। ঘরের দরজা বন্ধ করে সংলাপের দরজা বন্ধ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন কাদের। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন, তাদের আগুন সন্ত্রাসে পঙ্গু হওয়া মানুষের আহাজারি, আর্তনাদের জবাব দেবে কে? গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য মায়াকান্না করছেন, নাকি গণতন্ত্র হত্যার জন্য মায়াকান্না করছেন?

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সংহিংসতার শিকার মাইসা খাতুনের মা মারুফা বেগম, নায়েক দুদু মিয়া, পিয়ারুল ইসলাম, পটল মিয়া, রেজাউল করিম, মিষ্টি মিয়া ও অমল চন্দ্র রায় তাদের কথা তুলে ধরেন।

 

এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে : বিএনপি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যকে ‘দ্বি-চারিতা’ বলছে বিএনপি। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে দলটি বলেছে, প্রকৃত অবস্থা আরও ভয়ংকর।  রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা উনারা মেনে নেবেন- ক্ষমতাসীন দলের এই কথার মধ্যে দ্বৈত্যতা, এক ধরণের দ্বি-চারিতা আছে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে একটা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যেটা আজকে জনগণেরও দাবি, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সেই দাবির প্রতিধ্বনি করছেন না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচনের যে অভিপ্রায়, সেই নির্বাচনই তারা করবেন- ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেই অভিপ্রায়টি ফুটে উঠে। নতুন নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে রিজভী বলেন, তারা (ক্ষমতাসীন দল) যদি রাষ্ট্রপতিকে সুপরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। শুধু আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে সেটা একতরফা কমিশন হবে। ওই কমিশনকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিশীল অবস্থার সাথে একমত পোষণ করে রিজভী বলেন, এইচআরডব্লিউ‘র প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে। তবে প্রকৃত অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক হারে গ্রেফতার, পুলিশি হেফাজতে গুলি করা, সরকারের চাপে গণমাধ্যম সেলফ সেন্সরশীপের পথ বেছে নিয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়ার জন্যই মূলত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা, সমাবেশ বা কোনো কর্মসূচি বাংলাদেশের কোথাও করা যাবে না। মানুষের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেওয়ার জন্যই এ আদেশ।

জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের কর্মসূচি : ১৯ জানুয়ারি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে দুইদিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন রিজভী। কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি বিকেলে মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৯ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বেগম খালেদা জিয়া শেরেবাংলা নগরে জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। দিবসটি উপলক্ষে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো পৃথকভাবে পোস্টার প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাজী আসাদ, কবির মুরাদ প্রমুখ।

আর এ গণির জন্য দোয়া : বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ড. আর এ গণির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করেছে ‘আর এ গণি স্মৃতি সংসদ’। দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই দোয়া মাহফিল হয়। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শেখ হাসিনাকে কটূক্তি তারেককে গ্রেফতারের প্রতিবেদন পিছিয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির অভিযোগে করা মানহানির মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়েছে। প্রায় আড়াই বছর আগের এই  মামলায় রোববার তারেকের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদন দিতে ব্যার্থ হলে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর ১৮ এপ্রিল নতুন দিন ঠিক করে দেন।

মামলার বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বলেন, এর আগেও কয়েকবার প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে কতবার তারিখ পেছানো হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেন নি তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তি ও অসত্য বক্তব্য দেয়ার’ অভিযোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন এ বি সিদ্দিকী। তার আর্জিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে তারেক রহমান এক আলোচনা সভায় ‘আওয়ামী লীগ নেতারা কুলাঙ্গার এবং শেখ হাসিনা কুলাঙ্গারদের নেত্রী’ বলেন। এছাড়া ২ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানকে ‘বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি’ বলেন, যা মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আর্জিতে বলা হয়। অন্যদিকে একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণ শেষে ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন এবং ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই’ বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। মামলাটিতে ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অপর আসামি  মির্জা ফখরুল জামিনে রয়েছেন।

অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের খন্ডচিত্র প্রদর্শন করবে আওয়ামী লীগ

আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপি-জামাতের ‘অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের খন্ডচিত্র’ প্রদর্শনের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ। শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ২দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী হবে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যে’র অসহায় শিকার অনেকেই আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন।

সময়-সুযোগ মতো রাজপথের আন্দোলন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি সময়-সুযোগমতো আবারো রাজপথে আসবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে পারি, উই আর কমিটেড উইল ফাইট টু দ্য লাস্ট (আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব)।  শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বাংলাদেশ’র উদ্যোগে কবি আবদুল হাই শিকদার রচিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া এবং কালো মেঘের দল’ গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন একটা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন কৌশলের ব্যাপার। রাজনীতিতে উত্থান-পতন আছে, কখনো আমার ভালো সময় যাবে, কখনো খারাপ সময় যাবে। আমরা প্রতিবার রাজপথে আসছি, সময়-সুযোগমতো অবশ্যই আবারো রাজপথে আসবো। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবার জন্য, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সংগ্রাম-লড়াই করবো। সেই লড়াইয়ে সফল হব, ইনশা আল্লাহ। এর আগে বিএনপির রাজপথে না থাকার সমালোচনা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার ওপর সব দায়-দায়িত্ব দিয়ে ভুল করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাদের বড় দলের অহমিকা ছাড়তে হবে। ছোট-বড় সব বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত যুক্তফ্রন্ট গঠনের কথা চিন্তা করতে হবে। খালেদা জিয়াকে দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত ফোনালাপ করতে হবে, প্রয়োজনে তাকে রাস্তায় নামতে হবে। এর জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, উনার কথাগুলো আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে নিয়েছি। তবে একটা কথা না বললেই নয়, আমরা লড়াই করছি একটা ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে। এই এক বছরে আমাদের হাজারের ওপরে নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ গুলি করে মেরেছে। পাঁচশ’র ওপরে আমাদের নেতা-কর্মী গুম হয়ে গেছে, হাজার হাজার নেতা-কর্মী পঙ্গু হয়েছে, ক্রাচে ভর করে এখনো আসে, কেউ রিকশা চালায়। গোটা বাংলাদেশে এখন বিএনপি মানেই হচ্ছে আসামি, বিএনপি মানেই হচ্ছে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে অথবা জেলখানায় থাকতে হবে। বিএনপি মানেই হচ্ছে তাকে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হবে অথবা এলাকা থেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় থাকতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার তার ফ্যাসিস্ট বাহিনী দিয়ে নির্মম নির্যাতনে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে। তবে সেটা কোনোদিনও সম্ভব হবে না। এত কিছুর পরও তারা আমাদের একজন নেতা-কর্মীকেও বিচ্যুৎ করতে পারেনি। এখানেই বিএনপি ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শক্তি। সংগঠনের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, গ্রন্থের লেখক কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

 

পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ নয় : সেলিম

পুনর্বাসন না করে দিনের বেলায় গুলিস্তান এলাকায় হকারদের বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে  শনিবার সকালে হকারদের সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এই আহ্বান জানান।

গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে রোববার থেকে কর্মদিবসগুলোতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে কোনো হকার বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা কথা গত বুধবার জানিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ফুটপাতে বসতে পারবেন হকাররা। হকার সমাবেশে মেয়রের উদ্দেশ্যে সিপিবি সভাপতি বলেন, হকাররা সন্ধ্যার পর ফুটপাথে বসলে তাদের যে আয় হবে তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে একবেলা খাবার জুটবে না। বাকি দুই বেলা কী হকাররা আপনার বাসায় দাওয়াত খাবে এবং আসার সময় পরিবারের জন্য ব্যাগে করে খাবার নিয়ে আসবে? পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দিয়ে সেলিম বলেন, আপনার এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান করুন। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে সমাবেশে সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল হাশেম কবীর রোববার ফুটপাতে বসতে না দিলে সিটি কর্পোরেশন ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন তিনি। মেয়র তার সিদ্ধান্ত না বদলানো পর্যন্ত হকাররা সিটি করপোরেশনের সামনে অবস্থান করবে। হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। আব্দুল হাশেমের সভাপতিত্বে সেকেন্দার হায়াৎ, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, হযরত আলী, সরদার বাবুল, জসিম উদ্দিন, দুলাল মিয়া, আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে পল্টন ঘুরে গুলিস্তানে গিয়ে শেষ হয়।

 

আ’ লীগে অনুপ্রবেশকারীরা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায় : ইনু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা দিনের বেলায় আওয়ামী লীগ হলেও রাতের বেলা পুরোনো রূপ ধারণ করে। দেশের চলমান উন্নয়ন যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে এ সব কুচক্রি মহলকে প্রতিহত করতে হবে।
শুক্রবার সকালে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা জাসদ কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আমবাড়ীয়ায় লুৎফর রহমান সাবু হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে ইনু বলেন, হত্যাকারীরা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এ হত্যাকান্ডের পর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলনের বাড়ি ও উপজেলা জাসদ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। উপজেলা জাসদের সভাপতি মহম্মদ শরীফের সভাপতিত্বে এ সময়ে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিএনপি সমর্থকরাও খুশি: কাদের

জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভাষণে বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা ‘খুশি হয়েছে’ বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শুধু ফখরুল সাহেবরা অখুশি হয়েছেন।  শুক্রবার সকালে রাজধানীর রাসেল স্কয়ারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শীতার্ত ও অসহায় মানুষজনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শীতবস্ত্র বিতরণের এ আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন, পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়াসহ সার্বিকভাবে ‘সব কিছু নিয়ে’ কথা বলেছেন। সারা বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে খুশি, এমনকি বিএনপির সাধারণ সমর্থকরাও খুশি।… যারা কর্মসূচি দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে তারা শুধু অখুশি। তিনি আবারও বলেন, পরবর্তী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই হবে। ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ভবিষ্যতে রাস্তা বন্ধ করে সভা-সমাবেশ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে নিষেধ করেন এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পষ্ট নির্দেশ’ আছে বলে জানান। কাদের বলেন, রাস্তায় কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি সারাদেশে সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছি যে, রাস্তা বন্ধ করে বাংলাদেশের কোথাও সমাবেশ করা যাবে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তা বন্ধ করে কোথাও সমাবেশ করা যাবে না। কোনোভাবেই রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। তিনি বলেন, আমি এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান ভেতরে করার নির্দেশ দিয়েছলাম। কিন্তু তারা এমনভাবে করেছে যে রাস্তার কাছাকাছি চলে এসেছে।

ভবিষ্যতে আর এ জায়গায় মঞ্চ করবেন না, এটা স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি। কাদের বলেন, ছুটির দিনে আমরা রাস্তায় র‌্যালি করার ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছি। এর আগে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে র‌্যালির কারণে ব্যাপক জনভোগান্তির সৃষ্টি হয় ঢাকায়। এজন্য ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, সেদিন ছাত্রলীগ নেতাদের যানজটের ভোগান্তির কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল। তারা সতর্ক থাকলে যানজটের যন্ত্রণা কম হতো।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের উপস্থিতিতে রাসেল স্কয়ারের অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।