সকাল ১০:১৭, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ‘সেফ জোন’ স্থাপনের প্রস্তাবকে ‘বিপজ্জনক’ অভিহিত করে তা প্রত্যাখান করেছে বিএনপি।  রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকসো হোটেলে বিএনপির উদ্যোগে ‘মিয়ানমারের গণহত্যা ও বাংলাদেশের ভূমিকা’-শীর্ষক এক সেমিনারে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের এই অবস্থানের কথা জানান।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমরা মনে করি, এই বিপর্যয় বাংলাদেশে মানবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে একটি জাতিগোষ্ঠিকে নিধনে কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে আজকে সমগ্র বিশ্ব ও বিশ্ব মানবতা সোচ্চার হয়েছে, আমরা ও বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু এই সঙ্কটের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এখনো দ্বিধা-দ্বন্দে¦। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাখ্যান করা দুঃখজনক। এই সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান করতে হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। আর এজন্য জাতীয় ঐক্যের দরকার। বিএনপি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলেও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটেছিলো। তখন তাদের ফেরত পাঠিয়ে নাগরিকত্ব দিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা হয়েছিলো। সেই দায়বদ্ধতা থেকে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দিয়ে ক্ষমতসীনরা দলীয় রাজনীতি করতে চাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বিএনপি সরকারের অভিজ্ঞতা অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান ও ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ‘রিপার্টিশনে এগ্রিমেন্ট’ এর আলোকে রোহিঙ্গাদের বর্তমান সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে সেফ জোন স্থাপন সম্পর্কে যে কথা বলেছেন তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ বলেন, এটা হবে বাংলাদেশ এবং রোহিঙ্গাদের জন্য বিপজ্জনক, ভয়ংকর ও স্বার্থবিরোধী। তাই আমরা সেফ জোন বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের অনুরোধ, সেভ জোন সম্বন্ধে যেন আর কোনো ধরণের কথা-বার্তা না হয়। আমরা একে ষড়যন্ত্রমূলক শব্দ হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাই। বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের এসব নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য সরকারকে যথাযথ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ’র সঞ্চালনায় এতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম। সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এছাড়া নাগরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হেমায়েত উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করীম, সাবেক রাষ্ট্রদূত ইফতেখারুল করীম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসান তালুকদার, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাইদুজ্জামান প্রমূখ রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। এতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন, সোদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, নেদারল্যান্ডের কূটনীতিকরা অংশ নেন। এছাড়া ইউএনডিপি ও ডেমোক্রেটিক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

 

 

অনুপ্রবেশে বাধায় শত শত রোহিঙ্গার সলিল সমাধি: রিজভী

কক্সবাজার প্রতিনিধি: সরকারের ‘ভ্রান্ত নীতির’ কারণে সীমান্ত অতিক্রমকালে বহু রোহিঙ্গার পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।  রোববার কক্সবাজারে বিএনপি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়া আর সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে শত শত রোহিঙ্গার সলিল সমাধি ঘটেছে। এটা একটা চরম ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক মহল রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সরকার তাদের পক্ষাবলম্বন করেছে বলে রিজভীর ভাষ্য।

রিজভী বলেন, সরকার এখন দেখছে আন্তর্জাতিক সেন্টিমেন্ট রোহিঙ্গাদের পক্ষে। এ যে মানবিক বিপর্যয়, আজকে এটার জন্য বিশ্ববাসীর হৃদয় কাঁদছে; তাদের হৃদয়ের মধ্যে অশ্রু ঝরছে। এ মুহূর্তে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম দেখে সরকার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এ ধরনের মানবিক দুযোর্গ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করা গণতান্ত্রিক সমাজের আচরণ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। যেকোনো উন্নত দেশে যখন জাতীয় সংকট তৈরি হয় তখন দলমত নির্বিশেষে তারা একযোগে কাজ করেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্য একটি গথবাঁধা ও ‘প্রতিহিংসার’ বক্তব্য। এটি সমাজের মধ্যে ক্রমাগতভাবে দেয়াল তোলার বক্তব্য। বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তাচ্ছিল্য করেছেন, উপহাস করেছেন বলে দাবি করেন রিজভী। কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হোটেল মোটেল জোনের একটি তারকামানের হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়া জেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদ শামীম আরা স্বপ্নাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

 

নির্বাচনে বিএনপি আসলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে : এরশাদ

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিই দেশে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।  শনিবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পার্টির গাজীপুরের কালীগঞ্জ শাখার নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি। এরশাদ বলেন, দেশের রাজনীতি অত্যন্ত ঘোলাটে। নির্বাচনে যদি বিএনপি আসে তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে। জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু পরিবর্তন মানে বিএনপি নয়। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিলিটারি থেকে যারা রাজনীতিতে আসে, তাদের টিকতে দেওয়া হয় না; মেরে ফেলা হয় কিংবা নির্বাসিত করা হয়। আমি বেঁচে আছি, দেশে আছি এবং রাজনীতি করছি।

এটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি বলেন, এর কারণ- আমাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন আল্লাহপাক। দেশকে, দেশের মানুষকে একটি সুন্দর আগামীতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব যদি পালন না করতে পারি, আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। মনে রেখ, দেশে দল থাকবে দুটি- আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টি। এরশাদ বলেন, ক্ষমতায় নেওয়ার মালিক আল্লাহপাক। এটা আমরা ভুলি না, ওরা (বিএনপি) ভুলে যায়। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ওরা আমাদের দেশের নাগরিক নয়, ওদেরকে নিজেদের দেশে ফেরত যেতে হবে। কিন্তু ভয় হয়, ওরা দেশে ফিরলে আবার তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবে কিনা। তাই আমার মতে, এ বিষয়টিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, আজম খান এবং জাতীয় পার্টি কালীগঞ্জ শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা : ফখরুল

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাড়া না দেওয়ার বিষয়টিকে ‘সরকারের ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বশংবদ’ রাজনীতির কারণেই এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার জাতীয় ঐক্য করতে ভয় পাচ্ছে। আশা করি, আমরা জনগণের সঙ্গে ঐক্য করেই এই সঙ্কট মোকাবেলা করতে সমর্থ হবো।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি (জাফর) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিউইয়র্কে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন ফখরুল। দলটির চেয়ারম্যান প্রয়াত কাজী জাফর আহমদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভা হয়। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (সরকার) এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইনে যা হচ্ছে তাকে গণহত্যা বলতে পারলেন না, মিয়ানমার সরকারের প্রতিও কোনো নিন্দা করেননি। এই বিষয়গুলো থেকে বুঝা যায়- এখনো আপনারা সেই বংশবদ রাজনীতির মধ্যেই রয়েছেন। এখনো আপনারা (সরকার) ভয় পান, মিয়ানমারকে যারা সমর্থন দিচ্ছে তারা যদি আপনাদের প্রতি বিরাগভাজন হয়ে যান। সেজন্য আপনারা এ কথা (জাতীয় ঐক্য না করার) বলছেন। এখানেই পার্থক্যটা, সেজন্য আপনারা আমাদের (বিএনপি) সাথে ঐক্য করতে চাইবেন না। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হবে কী করে, কারণ বিএনপি তো সত্যিকার অর্থে একটি জনপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল। কোনো কিছুর বিনিময়ে বিএনপি নিজের দেশের স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে না।  সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা জনগণের ঐক্য তৈরি করতে বলেছি। আমি বলব- এই সংকীর্ণতা, এই আমিত্ব বাদ দিয়ে আসুন সমগ্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করুন। ইনশাল্লাহ জনগণের ঐক্য তৈরি করেই আমরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলার জন্য সংস্থার মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান ফখরুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটা ক্ষমতাসীন দলের সমস্যা না, এটা একটি জাতীয় সমস্যা। তাই সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, অন্য কেউ না। জাতীয় পার্টির (জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-মহাসচিব এএসএম শামীমের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, জাগপার রেহানা প্রধান, বিএনপির হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রয়াত কাজী জাফরের মেয়ে কাজী জয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।


 
 
 
 

 

 

জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দুঃখজনক : মোশাররফ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী দলীয় রাজনীতি করছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মোশাররফ। বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ধরণের কথা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয়, সবচাইতে বৃহৎ দল। এই দলকে বিদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে সন্ত্রাসী বলা, জঙ্গি বলা- এটার নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তিনি দলীয় রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ তাদের এই ধরণের পদক্ষেপ সমর্থন করবে না।

বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলে আওয়ামী লীগ ফের গায়ের জোরে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, মিয়ানমারে দমন-পীড়ন শুরুর সময়ই বাংলাদেশ সরকার তা বন্ধে কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিলে আমাদের দেশে এতো রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে পালিয়ে আসতে বাধ্য হতো না। এক্ষেত্রে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থ হয়েছে। ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

বিএনপির মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির মুখের কথা আর মনের কথা এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য ডেকে লিভ সার্ভিস (বক্তৃতা সর্বস্ব) দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই কী জাতীয় ঐক্য হয়ে যায়? জাতীয় ঐক্য কী তাদের মুখে না মনে আমি জানতে চাই। আমি তো ওখান থেকে এলাম, তাদের কি এ ধৈর্য আছে? তারা যা করছে তা হলো দায়সারা। তাদের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়।

এটা এতদিনে প্রমাণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে, সেনিটেশন দেয়া হচ্ছে, মেডিকেশন দেয়া হচ্ছে, খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বাস্তবে ওই উখিয়া টেকনাফ গিয়ে পরিস্থিতি দেখে কথা বলছে না। আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, সারা দুনিয়া বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার মানবিক ও সাহসিক ভূমিকাকে প্রসংশা করছে। ঠিক তখন বিএনপি ঢাকায় বসে বসে টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে লিভ সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন,  রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করে বিশ্ব দরবারে জনমত গড়ে তুলে তাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 আমি মনে করি বিএনপির বাস্তবে বক্তৃতা সর্বস্ব কথা বাদ দিয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেবে। যে নেতিবাচক পদ বেচে নিয়েছে তা থেকে ফিরে আসবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বিএনপি প্রথম প্রথম বলেছিলো তাদের ত্রাণ দিতে দিচ্ছে না। আমি সেইদিন যাওয়ার সময় একই প্লেনে আব্দুল্লাহ আল নোমান সাহেব এবং আলাল সাহেবসহ তাদের নেতারা ছিলেন। আমি তাদের বলেছি, এখানে আমি আছি। আপনাদের কে বাধা দেয়, সেটা আমাদের জানাবেন। আমার ফোন নম্বর, আমার সঙ্গে নানক (জাহাঙ্গীর কবির নানক) ছিল। তার ফোন নম্বর নিয়ে গেছে। পরের দিন কয়েকবার তাদের আমরা জিজ্ঞাসা করেছি। কোনো অসুবিধা রয়েছে কি না? নোমান সাহেব সেখানে একটা মেডিকেল টিম নিয়ে ক্যাম্প করেছেন, তা আমি নিজেই দেখেছি। কেউ তাদের বাধা দেয়নি।

পচা গমের পর এবার পচা চাল আমদানি : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পচা গমের পর এবার পচা চাল আমদানি করা হয়েছে। এই চাল নিয়ে দেন-দরবার করতে গিয়ে গত দু’দিন আগে ফাঁস হয়ে যায় পচা চালের গোমর, যেগুলো একেবারেই খাওয়ার অনুপযোগী এবং অত্যন্ত নিম্নমানের। এর পিছনে সরকারের রাঘব বোয়ালরা জড়িত। ভোটারবিহীন বর্তমান সরকার পচা সরকার। তাই এই পচা সরকারই পচা গম-চাল আমদানি করতে পারে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কিন্তু খাদ্যের অনুপযোগী চাল বা গম সরবরাহ করা সংবিধান পরিপন্থী। এটির মাধ্যমে সরকার শুধু সংবিধানবিরোধী কাজই করেনি, মানবতাবিরোধী কাজও করছে। জনগণের ক্ষুধাকে নিয়ে তামাশা করছে তারা। তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে ভয়ঙ্কর দুঃসময়ের মধ্যে পতিত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ভয়াবহ সঙ্কট ডেকে আনতে পারে। বিএনপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের পাশাপাশি সীমাহীন বেকারত্ব যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে কোনোভাবে দুর্ভিক্ষ ঠেকানো যাবে না।

 আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, সর্বোচ্চ আদালত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কিভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন- তা মানুষ ভুলে যায়নি। রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী রক্তাক্ত উৎপীড়নের মর্মস্পর্শী ইস্যুটির চেয়েও ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে খিস্তি-খেউর প্রাধান্য পেল ক্ষমতাসীনদের কাছে। সুতরাং আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হাস্যকর ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং বাড়িতে তল্লাশি ও পুলিশী হামলা চলছে জানিয়ে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলামের (ভিপি সাইফুল) জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কাজী আবুল বাশার, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

বগুড়ায় বিএনপির অযৌক্তিক হরতালের প্রতিবাদে আজ যুবলীগের বিক্ষোভ

বগুড়া জেলা বিএনপির অযৌক্তিক হরতালের প্রতিবাদে আজ সকাল ৯ টায় জেলা যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ সাতমাথাস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন জেলা যুবলীগ সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শনিবার জেলা বিএনপির অযৌক্তিক হরতালের নামে যেকোন ধরনের নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা বগুড়ার যুবসমাজকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

শেখ হাসিনা কূটনৈতিক ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান চান: মতিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে চান বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, আগেও রোহিঙ্গা এসেছে, আপনারা তো কিছুই করেন নাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়েও বলছেন- রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য। শেখ হাসিনা চায়, কূটনৈতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে। আর আপনারা (বিএনপি) বলেন, হেন করেঙ্গা, তেন করেঙ্গা, ধুনা সাপের বিষ মারেঙ্গা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ভবনের স্বাধীনতা হলে এক সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘দেশ ও বিদেশি কুচক্রী মহলের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ পন্থায় সরকার পতনের অপচেষ্টায় লিপ্ত সকল গণশক্রর অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামে একটি সংগঠন।

বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে কিছুদিন আগে পাহাড়ি ঢলে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। এর পর দেশে এলো বন্যা। এর পর পরই চলে এলো রোহিঙ্গা সংকট। এ সংকট যুদ্ধের মাধ্যমে নয় বরং কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাল আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা যেখানে বিদেশে চাল রফতানি করতাম, সেখানে আমাদের বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু মিডিয়ায় হঠাৎ করে নিউজ এলো, ভারত আমাদের চাল দেবে না। পরে সেটা যে মিথ্যা, তা প্রমাণ হয়েছে। আমাদের এবার আউশের ফলন আগের বছরের চেয়ে পাঁচ লাখ টন বেশি উৎপাদন হয়েছে। খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৯২ দিন চাঙ্গে উইঠা বসে ছিলেন।

ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটিয়ে সিংহাসনে বসে যাবেন। কিন্তু কী হলো? এখন আপনি বিদেশে গিয়ে বসে আছেন। বলছিলেন, ১৫ তারিখে দেশে আসবেন। এখন শুনছি, দেশে আসবেন না। আবার বলেন, ডাক্তারের সিরিয়াল পেয়েছেন, ডাক্তার দেখিয়ে দেশে আসবেন। এসব ভাঁওতাবাজি বাংলাদেশের মানুষ বোঝে। আপনি বিদেশে বসে ভেবেছিলেন, উমুকটা ঘটিয়া যাইবে, কিন্তু ঘটে নাই। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছেন। আমরা আশা করি, যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারব। সংগঠনের সভাপতি এইচ রহমান মিলুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী, চারুকলা একাডেমির পরিচালক মনিরুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেক রহমান প্রমুখ।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই : বিএনপি

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে দিতে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য চায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সব সময়েই বলে আসছি- রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সরকারের জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কারণ, সংখ্যায় প্রায় এক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া মানুষকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে রোহিঙ্গা ত্রাণ তহবিলে অর্থ প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার সংগঠনের পক্ষে ২ লাখ টাকার অর্থ বিএনপি মহাসচিবের হাতে হস্তান্তর করেন। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি সম্পর্কে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এগুলো তো আমরা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমাদের সরকার তো কখনো ঐক্যের কথা বিশ্বাসই করে না। সংস্কৃতিতে একটা কথা আছে- এক নেইবো দ্বিতীয়াম। অর্থাৎ আমি ছাড়া আর কেউ নেই, আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ নেই।

সুতরাং তারা একাই সবকিছু করতে চায়। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, তারা (সরকার) এই ইস্যুটাতে প্রথমদিকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। উপরন্তু তারা রোহিঙ্গাদের ঠেলে পেছনে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে বিএনপিসহ দেশবাসীর সোচ্চার কন্ঠ উচ্চারিত হওয়া ও জনমত তৈরি হওয়ার কারণে বিশ্ববাসী যখন সোচ্চার হয়েছে, এগিয়ে আসতে শুরু করেছে- তখনই তারা (সরকার) পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে সরকার এখন পর্যন্ত সেখানে প্রোপার ম্যানেজমেন্ট তৈরি করতে পারেননি। তাই সরকারকে বলব, অবিলম্বে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় সমগ্র বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, মানবতার স্বার্থে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান এবং গণহত্যা বন্ধ করতে ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করুন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, আসাদুল করিম শাহীন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পটুসহ মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

চালের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি রিজভীর

চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির জন্য ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ী চক্রকে দায়ী করে ওএমএসসহ সকল প্রকার চালের মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পরও কমেনি চালের দাম। চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকেরা চালের দাম ২ থেকে ৩ টাকা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে গত দু’দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য বাগাড়ম্বর ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, এর প্রভাব বাজারে এখনো পড়েনি। চালের দাম নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্য ডাহা চাপাবাজিতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তাদের কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। দু’দিন আগে মন্ত্রীদের সাথে চাল ব্যবসায়ীদের বৈঠকের সময় ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছিলেন-কোথায় এক কোটি টন চাল আছে দেখান। সে সময় মন্ত্রীরা এর কোনো সদুত্তর দিতে পারা দূরে থাক অসহায়ের মতো নিরুত্তর ছিলেন। এই ভোটারবিহীন সরকারের দম্ভ আর ধমক ছাড়া জনগণকে দেওয়ার আর কিছুই নেই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, মুনীর হোসেন, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সঙ্কট নিরসনে সরকারকে নোমানের পরামর্শ
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় চালের বাজারে সঙ্কট থেকে উত্তরণে সরকারকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান। বর্তমান সঙ্কটের জন্য সরকারের চালের মজুদ কম থাকাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেছেন, এখন সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বেসরকারি পর্যায়ে চালের আমদানি কমে যাওয়া এবং ক্রয় সফল না হওয়ার জন্য সরকারের নীতিকে দায়ী করেন নোমান। সাবেক এই খাদ্যমন্ত্রী বলেন-সরবরাহ যখন বাড়বে, তখন যারা স্টক রেখে লাভবান হতে চায়, তারা সেই জায়গা থেকে সরে আসবে এবং মূল্য স্বাভাবিকভাবেই কমতে শুরু করবে। সংগঠনের সভাপতি মো. লিটনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী, গৌতম চক্রবর্তী, আবদুস সালাম আজাদ, অপর্ণা রায়, ইউনুস মৃধা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

রোহিঙ্গারা থেকে গেলে বিপদ : গয়েশ্বর

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো না গেলে ভবিষ্যতে তারা বাংলাদেশের ভেতরেই বিপদের কারণ হতে পারে বলে সবাইকে সতর্ক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অবর্ণনীয় দূর্ভোগ লাঘবে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ‘একসুরে’ কথা বলতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর। বিএনপির এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থায়ী সমাধান অর্থাৎ তাদের নিজ জন্মভূমিতে ফেরৎ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই সমস্যাটা বাংলাদেশের জন্য এক সময় স্থায়ী হবে এবং এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, আন্তর্জাতিক অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপ অথবা অনেক দেশ আছে, যারা আমাদেরকে দুর্বল রাখার জন্য বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অথবা আগত রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আগামী দিনে এখানে স্থায়ী অস্থিতিশীল অবস্থা গড়ে তুলতে পারে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি এমএ হালিম এতে সভাপতিত্ব করেন।

এদিকে, দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বেগম খালেদা জিয়ার দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে ‘জাতীয় সঙ্কট’ আখ্যা দিয়ে জাতীয়ভাবে তা মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, শওকত মাহমুদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

রোহিঙ্গা নিয়ে সু চির বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয় : রিজভী

মিয়ানমারের রাখাইন সঙ্কট নিয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে তা সমর্থনযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই সঙ্কটের কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন রিজভী। সু চির বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ভাষণে আপনি বলেছেন- ৫ সেপ্টেম্বরের পরে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা হয়নি, বন্ধ হয়ে গেছে। আপনার (সূ চি) বক্তব্য সেখানে (রাখাইন) যারা জুলুম করছে, নারকীয় তান্ডব চালাচ্ছে- সেই সিকিউরিটি বাহিনীর বক্তব্য ও কর্মকান্ডের অনুরূপ।

এতবড় মিথ্যা কথা আপনি বললেন কী করে? তাহলে দুই সপ্তাহ ধরে এতো গ্রাম পুড়লো, এতো বাড়ি-ঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, এতো মানুষের মৃত্যু, এতো শিশুকে নাফ নদীতে নিক্ষেপ করা হলো- এসব অবলীলায় আপনি অস্বীকার করলেন। যাচাই করে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সু চির বক্তব্য মানবতাবিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক- এটা সু চি তার বক্তব্যে স্বীকার করেননি। বরং তিনি তাদেরকে শরণার্থী স্ট্যাটাস দিতে চান- সেটা তার বক্তব্যে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাষায় সু চিকে বলতে চাই, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী-ট্রাম্প আলোচনা
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট) সাথে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘আমি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো আশ্বাস প্রত্যাশা করি না’। অর্থাৎ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বুঝাতে পারেননি। এই বিপন্নতা ও এই অমানবিকতার কথা তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে তুল ধরতে পারেননি, ট্রাম্পের কাছেও তুলে ধরতে পারেননি। এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতাই নয়, তাঁর অযোগ্যতাও। ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে আরেক মানববন্ধনে চালের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সংগঠনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কাদের গনি চৌধুরী, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জিনাফ সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হলে প্রতিহত করবে ১৪ দল

ধর্মীয় সম্প্রীতির মধ্যে কেউ যদি ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম। তিনি বলেছেন, হিন্দুদের দুর্গাপূজা, বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাদের সাথে বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বৈঠকে মোহাম্মাদ নাসিম বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই আমাদের দেশে সম্মিলিতভাবে বসবাস করে আসছি। আগামীতেও আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। যেকোনো মূল্যে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের সম্প্রীতির মধ্যে কেউ যদি ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। হিন্দুদের দুর্গাপূজা, বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। জাতির উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির দেয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা শব্দটিই উচ্চারণ করেননি। বারবার তিনি বাঙালি বাঙালি বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, আমরা ১৪ দলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়ে কিভাবে এই নির্যাতনকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নাসিম বলেন, আজকে আমরা আশা করবো বিশ্ববাসী জেগে উঠবে।

চাপ সৃষ্টি করবে মিয়ানমারের ওপর। তারা যেন এই নিরীহ মনুষদের ফিরিয়ে নেয়। তাদেরকে যেন নিজের দেশের আশ্রয় পাওয়ার ব্যবস্থা করে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিএনপির ঐক্যের ডাকে সাড়া মিলবে কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সফলতার কারণে আজকে সমগ্র বিশ্ব জেগে উঠেছে। ওরা কী বলছে সেটা দেখার বিষয় না। সভায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনকে জাতীয়ভাবে ‘মানবতা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বাশার মাইজভান্ডারী, জাতীয় পার্টির (জেপির) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক, মনিন্দ্র কুমার দেবনাথ, রঞ্জিত বড়ুয়া, পিয়ার বড়ুয়া, প্রমুখ।

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কারের আহ্বান খসরুর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরকারের অবস্থান ‘অস্পষ্ট’ দাবি করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করে উগ্র জাতীয়তাবাদকে উসকে দেওয়া হয়েছে। এটা এই অঞ্চলের স্বাধীনতা, শান্তি, নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে, যা এই অঞ্চলকে অশান্ত করে তুলতে পারে। এটা কারো জন্য ভালো হবে না। তাই সরকারকে বলব, অবস্থান পরিষ্কার করুন এবং সিদ্ধান্ত কিভাবে নেবেন জাতির সামনে তা পরিষ্কার করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরামের উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আমীর খসরু। বিএনপিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ করতে না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

‘মানুষ মানুষের জন্যে’ এটাই আওয়ামী লীগের স্লোগান : কাদের

কক্সবাজার প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আর কোনো স্লোগান নয়; ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এটাই আজ আওয়ামী  লীগের স্লোগান। মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফ উনচিপ্রাংএ কক্সবাজার পৌরসভার উদ্যোগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, নির্যাতিত এসব রোহিঙ্গারা কতদিন ধরে খায়নি, কতদিন ঘুমায়নি। সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে। এতে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। তারা যে কত অসহায়। আসুন আমরা অসহায় এসব নির্যাতিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। যেভাবে যা পারি তাই দিয়ে আমরা তাদের সাহায্য করি।

রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকারের অমানুষিক নির্যাতনের কথা আর দুর্দশা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওবায়দুল কাদের। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ স্থানীয় নেতারা।

চালের মজুদ থাকলে দাম বাড়ছে কেন প্রশ্ন রিজভীর

দেশে চালের ‘পর্যাপ্ত’ মজুদ থাকলে বাজারে দাম বাড়ছে কেন, সরকারের কাছে সেই প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমানে চালের দাম সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মোটা চালের দাম এখন ৫৫ টাকা এবং মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা পর্যন্ত। দেশে বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার লেশমাত্র নেই। যে মজুদ থাকার কথা ছিলো, তার অর্ধেকের কম চাল আছে কিনা সন্দেহ। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা বলছেন- কোটি কোটি টন চালের মজুদ আছে। আমাদের প্রশ্ন- তাহলে চালের বাজারে অস্থিরতা কমছে না কেন?

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, চালের বাজার অস্থির হওয়ায় নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। মজুতদারি ও সিন্ডিকেট এটা তো সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে।

তারাই দীর্ঘ নয় বছর যাবৎ সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করছে। রিজভী জানান, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক সহায়তা প্রদানে কক্সবাজারে বিএনপি একটি কন্ট্রোল রুম (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) স্থাপন করেছে। সেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পর্যায়ক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দেশের বিভিন্ন পূজা মন্ডপে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সারাদেশে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও সরকারের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনীর তান্ডব চরম মাত্রায় উপনীত হয়েছে। সাতক্ষীরা, নাটোর, মানিকগঞ্জ, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামন্ডপে ক্ষমতাসীনরা প্রতিমা ভাঙার উৎসবে মেতে উঠেছে। এটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নোংরা রাজনীতি। আমরা এসব ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ৫ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার বিষয়ে ঢাকা মহানগর হাকিমের আদেশ দেয়ার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডনে চিকিৎসাধীন। তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, চিকিৎসা অব্যাহত আছে। ডাক্তাররা ফলোআপ করছেন। আমি বলতে চাই, এই নির্দেশ সরকারের একটা ঘৃণ্য নীল-নকশার পরিকল্পনার অংশ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, মুনির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, সকালে ঢাকা জজকোর্ট প্রাঙ্গণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বারের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রিজভী। সংগঠনের সভাপতি সানাউল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জন গোমেজ, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

 

শেখ হাসিনা এখন বিশ্বে মানবতাবাদী নেত্রী: যুবলীগ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ‘ঐতিহাসিক ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ’ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের মানবতাবাদী নেত্রীতে রুপান্তরিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিন ৭৫ নং ওয়ার্ড ( সাবেক নাসিরাবাদ ইউনিয়ন) এর ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ’৭১ এসেছিল বলে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বনন্দিত নেত্রী হয়েছিলেন। তেমনি রোহিঙ্গা ইস্যু-রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করে বিশ্বের মানবতাবাদী নেত্রীতে রুপান্তরিত হয়েছেন। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন নোবেল লরিয়ট নয়, দরকার নোবেল ওয়ার্কার। ইতিমধ্যে যাকে বৃটিশ মিডিয়া  ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাবে ভূষিত করেছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিনের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট বলেন, যে সব কর্মীরা কর্মসূচি ফাঁকি দেন তাদের নেতা নির্বাচন করা হবে না। যে সব কর্মীরা কর্মীদের ভালবাসে, কর্মীদের সুখে দুঃখে সাথে থাকেন তাদের নেতা নির্বাচিত করা হবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। মনির হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলন শেষে নাসিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটি বিলুপ্ত করে ৭৫  নং ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি পদে মনির হোসেন মোল্লা, সহ-সভাপতি পদে আমজাদ হোসেন, মো: জুয়েল,  সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুল ইসলাম রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মোমেন কে নির্বাচিত করা হয়।

 

 


 

আওয়ামী লীগ একটা পিকুলিয়ার দল : রিজভী

সরকারের অক্ষমতার কারণেই মিয়ানমারের বিমান বার বার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সেক্যুলার দল নয়, তারা আসলে পিকুলিয়ার দল। কারণ, ওরা যেকোনো সময় নিজেদের স্বার্থে কাজ করতে পারে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তারা। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কেরানিগঞ্জের বাড়িতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে সারা দেশের মানুষ আজ কষ্টে আছে। চালের দাম সীমা অতিক্রম করেছে। সাধারণ গরিব মানুষ এখন চাল কিনে খাওয়ার অবস্থায় নেই। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন এমন এক সরকার আসীন, যে সরকারের অধীনে শুধু বিরোধী দল নয়, সব ধর্মও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কেউ এই সরকারের আমলে রাজনীতি করতে পারবে না, ধর্মও পালন করতে পারবে না। এসব করতে হলে তাকে আওয়ামী লীগ করতে হবে।

গয়েশ্বর রায়ের বাড়িতে পুলিশী হামলার নিন্দা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একটি আয়োজনে পুলিশ যে নগ্ন হামলা করেছে, এই হামলা আর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের হামলার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? তারা (মিয়ানমার) রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নির্মূল করছে, হিন্দুদেরও অত্যাচার করছে। আর বাংলাদেশে বিরোধী দল-মত দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অং সান সু চির নিরাপত্তা বাহিনী আর শেখ হাসিনার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এক কাজ করছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করছেন। অর্থাৎ বিরোধী মতকে লেভেল করে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন তিনি। সেক্যুলারিজম বা অন্য ধর্মের প্রতি তাদের কোনো মত নেই, তাদের একটাই ধর্ম-তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকবে। এর মধ্যে যদি কারও কাছ থেকে বিরোধী মত শোনে, তখন সেটিকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানানোর চেষ্টা শুরু করে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়–য়া, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম চক্রবর্তী, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, জন গোমেজ, অমলেন্দু দাস অপু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, রমেশ দত্ত, সুশীল বড়–য়া, নিপুন রায় চৌধুরী, অ্যালবার্ট পি কস্টা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি বিএনপির

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে সরকারের কোনো ব্যবস্থাপনা নেই বলে অভিযোগ করে ত্রাণ বিতরণ ও তাদের পুনর্বাসন কর্মকান্ডে অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা এই দাবি জানান।

বিএনপি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় জানিয়ে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে আসুন জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা কোনো বিভক্তি সৃষ্টি করিনি, বিভক্তি চাইও না। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। সরকারের উচিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং সঙ্কট নিরসনে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আলোচনা করা। সংবাদ সম্মেলন থেকে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও তাদের পুনর্বাসনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমের আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দলের এই রিলিফ টিম মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারের উখিয়ায় ত্রাণ দিতে গেলে স্থানীয় কক্সবাজারেই বিএনপির ২২টি ট্রাক আটকিয়ে দেয়া হয়। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদেরকে ত্রাণ বিতরণ করতে বাধা দেয়া হলেও পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সাহেবকে ত্রাণ বিতরণ করতে এবং মঞ্চ করে ব্যানার লাগিয়ে বক্তৃতা দিতে দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারের এহেন দ্বিমুখী আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

২২টি ট্রাকের ত্রাণসামগ্রী স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রিলিফ টিম টেকনাফ ও উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরের কাছে ৪০টি স্যানেটারি টয়লেট ও ১২টি টিউবওয়েল স্থাপন, মৃত রোহিঙ্গাদের দাফনে সহযোগিতা প্রদান, চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ক্ষমতাসীনরা চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ করেন আব্বাস। বিএনপির রিলিফ টিমের প্রধান বলেন, আমাদের ত্রাণ তৎপরতা বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশমতো অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপকৌশলে সরকার এই কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না। মির্জা আব্বাস কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় ৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার ও তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার নিন্দাও জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মুনির হোসেন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ নেই : রিজভী

দেশে মোটা চালসহ বিভিন্ন ধরণের চিকন চালের দাম হু হু করে বাড়লেও তা সামাল দিতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশে চাল নিয়ে চালবাজি চলছে। কিন্তু তা সামাল দিতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। চারদিকে আজ দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তোরণে এই অবৈধ সরকারের পতনের জন্য আমাদেরকে সব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। সরকার কাঁচা টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের প্রথমে উগ্রবাদী-সন্ত্রাসী সাজানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন রোহিঙ্গাদের সাহায্য করছে, ত্রাণ-টাকা পাঠাচ্ছে এবং সমর্থন জানাচ্ছে; তখন ওই লোভে কাঁচা টাকার জন্য তাদের (সরকার) গলার সুর এখন নরম, রোহিঙ্গাদের প্রতি এই সহমর্মিতা। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতারা রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী বানানোর জন্য এখনো ভিতরে ভিতরে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য বিএনপির ২২ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী আটকানোর ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী একটি রাজনৈতিক দলের ২২ ট্রাক ত্রাণ আটকিয়ে দিতে পারে, তাঁর মানবতা কী হতে পারে? এই মানবতা লোক-দেখানো। তাঁর (শেখ হাসিনা) এবং সূ চির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য দেন-জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: খাদ্যমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সমস্ত বিশ্ব যেখানে শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে সেখানে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এখন দিশেহারা হয়ে গেছে।  রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেত্রী লন্ডনে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন অভিযোগ করে কামরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সব দূতাবাসে চিঠি দিচ্ছেন, সেই চিঠিতে কী লেখা আছে তার ভাষা আমাদের জানা নেই। খালেদা জিয়া বিদেশ থেকে আসবেন কি না সন্দেহ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এই সদস্য বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) কী ধরনের অসুস্থ তা আমাদের জানা নাই। লন্ডন থেকে আসার সময় দীর্ঘ হচ্ছে। আগারতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের ৮৫তম জš§বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আজিজুল হক ভূঁইয়া, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ প্রমুখ।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ ২০ দলের

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার ‘জাতীয় ঐক্যে’র পরিবর্তে ‘বিভক্তি’ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এত বড় একটা সমস্যা, যেকোনো সভ্য সরকার হলে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের একটা জরুরি সভা ডাকত এবং সেখানে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করত। এদিকে, ২০ দলীয় জোটকে ভয় দেখাতেই কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপিকে ত্রাণ দিতে বাধা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে দলটির মহাসচিব বলেন, আপনারা (সরকার) জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছেন। আপনাদের কাছে সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে বিএনপি আর ২০ দল। নাম ও গন্ধ শুনলে যেন আপনাদের ভয়াবহ একটা রি-অ্যাকশন তৈরি হয়। এভাবে তো হবে না। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০ দলীয় জোট ‘অটুট ও ঐক্যবদ্ধ’ আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জোটকে ভয় দেখাতেই কল্যাণ পার্টির মহাসচিবকে অপহরণ করা হয়েছে। ২০ দলের এই পর্যায়ের নেতা এই প্রথম গুম হলো। কারণটা হচ্ছে- আমাদের সবাইকে স্তিমিত করে দেওয়া, কাজ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। তবে এত কিছুর মধ্যেও ২০ দলীয় জোট অটুট ও ঐক্যবদ্ধ আছে।

আমিনুর রহমানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারের কছে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান জোটের এই সমন্বয়ক। সাম্প্রতিক গুমের ঘটনাগুলো তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যদি রাষ্ট্রের অবস্থা হয়, রাষ্ট্র যদি এভাবে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা-প্রতারণা করে এবং জনগণকে সঠিক তথ্য না দেয়, তাহলে তো সেই রাষ্ট্রকে নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলতে হবে। সরকার চালের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার রেহানা প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ রকীব, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিজেপির আবদুল মতিন সাউদ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। তবে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

 

শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলছে বিশ্ববিবেক : তোফায়েল

মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দেয়ায় বিশ্ববিবেক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ব আজ মিয়ানমারকে ধিক্কার দিচ্ছে। এটা হতে পারে না। গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বৃদ্ধ, যুবক, নারী-শিশুকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটা হতে পারে না।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটউট মিলনায়তনে এস এম জাহাঙ্গীরের চারটি বইয়ের মোড়ক উšে§াচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষ। অতি ঘনবসতিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের হƒদয় আছে, মন আছে। এসব দেখে আমাদের একাত্তরের স্মৃতি ভেসে উঠে। কীভাবে আমাদের মা-বোন সেদিন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে এদেরকে (রোহিঙ্গাদের) বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছি। আমরা মনে করি অনতিবিলম্বে সে গণহত্যা বন্ধ করা উচিত।

‘বিলম্বে হলেও প্রধানমন্ত্রীর বোধদয় হয়েছে’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিজিবি যে মায়ানমারের গৃহহারা মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, এ নির্দেশ তো প্রধানমন্ত্রীর। তার নির্দেশেই তো আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তিনি বলেন, লন্ডনের একটি নাম করা টেলিভিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউমেনিটি’ খেতাবে ভূষিত করে নিউজ প্রচার করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের একটি দল আছে যারা অং সান সূচির সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। চিন্তা করে দেখেন- ওরা কত নোংরা। এদের চিন্তা চেতনা কত নিচু। রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করে বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এসেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছেন, ইন্দোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছে, জাতিসংঘে আজ এটা আলোচনা হবে। পত্রিকায় দেখলাম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্ব সম্মতিক্রমে একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছে- কেউ তার ভেটো প্রদান করেনি। কিন্তু কোথায় খালেদা জিয়া? আপনারা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বোধদয় হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী কি না করেছেন? মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া নিখোঁজ। তিনি হারিয়ে গেছেন। তিনি লন্ডনে বসে টুইটারে একটা বিবৃতি দিয়েছেন। তার এমনকি রোগ যে কারণে দেশে আসতে পারছেন না? মানবিক গুণবলি থাকলে তিনি সবকিছু ত্যাগ করে এখানে এসে সেই গৃহহারা সর্বহারা মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। যে দলের নেত্রীর খোঁজ নাই, সেই দলের নেতার মুখে এমন কথা সাজেনা।

সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহিম খান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। মুক্তধারা থেকে প্রকাশিত ৪টি বই হল- বঙ্গবন্ধুর মর্মকথা দ্বিতীয় খণ্ড, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জ্বালানী খাতের ভূমিকা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ, সমসাময়িক সাধারণ জ্ঞান, চলমান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য।

 

ত্রাণ দিতে নয়, ছবি তুলতে গিয়েছিল বিএনপি: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ দেওয়ার ‘নিয়ম না মানায়’ বিএনপিকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির ত্রাণ দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, বিএনপি তো ত্রাণ দিতে যায় না, তারা যায় কয়েকটা নিউজ আর ছবির জন্য যায়। কয়েকটা ট্রাক নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ত্রাণ ছিল কিনা, অনেক কিছু থাকলেও থাকতে পারে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের দুর্যোগ ও ত্রাণ উপ-কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা রুলস আছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটির মাধ্যমে সবাই ত্রাণ দিচ্ছে। তারা যদি কমিটির কাছে ত্রাণ দিত, তাদের মাধ্যমে বিএনপি ত্রাণ দিতে গেলে, (বিএনপির) নেতারা শরণার্থী শিবিরে পৌঁছার আগেই ত্রাণ পৌঁছে যেত।

 এটা মানবিক সাহায্যের বিষয়, এখানে আমরা রাজনীতি করব কেন? তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ, তাদের খাদ্য দিতে হবে, তাদের থাকার জায়গা দিতে হবে, তাদের স্যানিটেশন, বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। এটা আমরা একা মোকাবেলা করব, এটা তো কখনো ভাবিনি। এটা আমরা কেন বাধা দিব, এই অমানবিক ব্যবহার আমরা কেন করব। কিন্তু বিএনপি সেখানে রাজনীতি নিয়ে গেছে। না হলে নিয়ম মানবে না কেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আপনারা কি ভাবতে পেরেছেন ওখানে কী ভয়াবহ অবস্থা? সেখানে সব না খাওয়া লোক। প্রতিনিয়ত এই স্রোত আসছে। সেখানে নিয়মের বাইরে কেউ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে গেলে, তাদের জীবনই সংশয়ের মধ্যে পড়ে যেত। তিনি বলেন, আমি সেখানে কয়েকবার গিয়েছি, বাস্তবতা হচ্ছে এই- ঢাকায় বসে বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায় না। শৃঙ্খলা না রাখলে সব লুটপাট হয়ে যেত। যারা বিতরণ করতে যেত, তারাও নাজেহাল হতেন।

 বিএনপি নেতাদের তো সিকিউরিটির ব্যাপার আছে। সেখানে কিছু ট্রাক নিয়ে গেলে কি অবস্থা হবে, ওখানকার না খাওয়া লোকেরা যদি জানে যে এই ট্রাকে খাদ্য আছে? রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার নামে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য চাঁদাবাজির মহোৎসব যেন না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে চাঁদাবাজি বা জোর-জবরদস্তি সহ্য করা হবে না। এটি তো মানবিক ব্যাপার, যারা স্বেচ্ছায় সাহায্য করবে সেটি আমরা গ্রহণ করব। দলের দুর্যোগ ও ত্রাণ উপকমিটি আগামী শীতকে সামনে রেখে ২০ হাজার কম্বল রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করবে বলে জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মুহুর্তে রোহিঙ্গাদের চাপ সামলানো বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা খুব সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করছে সরকার।

 তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল বাংলাদেশে এসেছে। রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযানের খবর আমরা পাচ্ছি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনও আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। এরপর বর্তমান সরকারের সময়ে আমাদের ওপর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো ঠান্ডা মাথায় অতিক্রম করছি। কাদের বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কত দীর্ঘায়িত হবে আমরা তা জানি না। তবে আশার কথা হচ্ছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতসহ বিশ্বজনমত আমাদের পক্ষে। আমরা আশা করছি চীনকেও পাশে পাবো। সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিতে পারে বলে আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম।

 কিন্তু এ প্রথমবার জাতিসংঘের নিরপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের বিষয়ে বিবৃতি দেয়ার বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে। কেউ মিয়ানমারের পক্ষে কেউ অবস্থান নেন নাই। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের একটা শক্তিশালী টিম চীন যাচ্ছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও অবশ্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হবে। এছাড়াও আগামী মাসে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের আমন্ত্রণে একটি টিম ভারত যাবে। আগামী মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাংলাদেশ সফরের পরেই এ সফর হবে বলে আমরা আশা করি।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

 

ব্যর্থতা ঢাকতে কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা থেকে জনদৃষ্টি ভিন্নদিকে সরাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ছু-মন্তর’ কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই কৌশলের অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী সংসদে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচারের অভিযোগ এনেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নাগরিক সংসদের উদ্যোগে ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, চক্রান্ত এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

 তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন মরছে ক্ষুধায়, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অভাবে; কোনো ছায়া নেই। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যাতে আন্তর্জাতিকভাবে কেউ এবং দেশের মানুষ জানতে না পারে, সেজন্য এটাকে আড়াল করতেই হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন- ১২শ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। জনদৃষ্টিকে ভিন্নদিকে সরানোর জন্য মাঝে-মধ্যে ছু-মন্তর দেন শেখ হাসিনা, যাতে এটা নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনেরা দেশ থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাঁচার করেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, আপনি (শেখ হাসিনা) আজকে জোর করে ক্ষমতায় আছেন। সেজন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্টের নামে আপনি ১ টাকার কাজকে ১০০ টাকা করেছেন। সেইসব প্রকল্পের টাকা কোথায়? আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন হিসাব-নিকাশ করে বলেছে- শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্টজনেরা এখান (বাংলাদেশ) থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাঁচার করেছে। আমরা বলতে চাই, একদিন জনগণের কাছে এই টাকার হিসাব দিতে হবে।

 দেশে হঠাৎ করে ফের গুম ও ক্রসফায়ার বেড়েছে দাবি করে এর পেছনে সরকারের অশুভ পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা। বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দির স্বপনের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনাসহ নওগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, ফেনি, পটুয়াখালী, রংপুর, রাজশাহী, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীকে ‘গুম-হত্যাকান্ড’ ও গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানান রিজভী। 

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ দিতে বিএনপি প্রতিনিধি দলকে উখিয়াতে যেতে না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সূ চির কর্মকান্ডের সাথে শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের কোনো গরমিল নাই, একই কর্মকান্ড। সংগঠনের সভানেত্রী খালেদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে এবং এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

ব্যর্থতা ঢাকতেই সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচার : বিএনপি

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলা ও চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন- জিয়া পরিবারের সদস্যদের বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং এই ধরণের মিথ্যাচারের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরণের মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলার ব্যর্থতা ঢাকতে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীরা অবলীলায় মিথ্যাচার করছেন। আওয়ামী লীগের কাজই হচ্ছে প্রকৃত ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন ইস্যু তৈরি করা। দলের নেতৃবৃন্দের নামে ‘কল্পিত সম্পদের’ যে কথা প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থাপন করেছেন তার কোনো প্রমাণ সরকার দিতে পারবে না বলেও চ্যালেঞ্জ করেন বিএনপি মহাসচিব।

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গত বুধবার কক্সবাজারে বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দেয়ার অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ আমাদের ত্রাণের ২২টি ট্রাক আটকে রাখে। নেতৃবৃন্দকে বিএনপি অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের নামে সরকারি অর্থে ত্রাণ বিতরণ করেন। তিনি বলেন, ত্রাণের নামে আওয়ামী লীগের বিশাল লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং অন্য কাউকে ত্রাণ দেয়ার সুযোগ না দেয়া মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংবাদ সম্মেলনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে নিজের বাসভবনে পূজা উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভায় পুলিশের বাধার কথা জানিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, দুপুরে গুলিস্থানের মহানগর নাট্যমঞ্চে বেগম খালেদা জিয়ার দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। এতে জিয়া পরিবারের সদস্যদের সম্পদ নিয়ে সংসদে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীনদের সম্পদেরও হিসাব তদন্ত করার হুঁশিয়ারি দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আপনাদের (ক্ষমতাসীনরা) বিরুদ্ধেও তদন্ত করার জন্য সবকিছু তৈরি হচ্ছে। এই আট বছরে যে লুটপাট করেছেন, যে সম্পদের পাহাড় গড়ে চলেছেন; আমেরিকা, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াতে যে সম্পদ পাঁচার করেছেন-তার সব হিসাব রাখা হচ্ছে এখন। বেশিদিন দেরি নাই এগুলোর জবাব আপনাদের দিতে হবে। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এতে সভাপতিত্ব করেন। আলোচনার শেষ দিকে চেয়ারে বসা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে চেয়ার ছুড়াছুড়ির ঘটনা ঘটলে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়।

 

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ নিতে বাধার অভিযোগ বিএনপির

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় যাওয়ার পথে দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।  বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভার মধ্যে মোবাইলে এই খবর পেয়ে তা উপস্থিত সবাইকে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্ত দিবস উপলক্ষে এই সভা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এইমাত্র আমাদের কাছে খবর এসেছে- জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারে আমাদের যে কেন্দ্রীয় রিলিফ টিম ২০টি ট্রাক নিয়ে গিয়েছিল, প্রশাসন তাদেরকে উখিয়াতে যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়ে আছেন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেয়ার জন্য বিএনপির রিলিফ টিমকে সেখানে যেতে দিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। মির্জা ফখরুল বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। তারা যে বলছেন রোহিঙ্গাদের পাশে তারা দাঁড়িয়েছেন, এটা শুধু আইওয়াশ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। যদি তারা দাঁড়াতেন, তাহলে তারা আজকে বিএনপির রিলিফ টিমকে উখিয়ায় অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বাধা দিতেন না। মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া আরো বক্তব্য দেন-দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার পৌঁছায় মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতিনিধি দলটি।

আটকে দেয়া হলো বিএনপির ত্রাণবাহী ২০ ট্রাক
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানায়, কক্সবাজারে পুলিশি বাধায় আটকে পড়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য নেয়া বিএনপির ত্রাণবাহী ২০টি ট্রাক। বুধবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে ট্রাকগুলোকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা আটকে দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ট্রাকগুলো ঘিরে রাখে। বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে আটকে দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলটির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা ত্রাণ দিতে এসেছি। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি।  রাজনীতি করতে আসিনি।  আওয়ামী লীগের উচিত ছিল আমাদের স্বাগত জানানো। কিন্তু তারা তা না করে উল্টো আমাদের ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তারপরও আমরা এসেছি। ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য একটি নিয়ম করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান-সংগঠন তাদের নিজস্ব ব্যানারে কোনো আর্থিক সাহায্য বা ত্রাণ বিতরণ করতে পারবেন না। ত্রাণ দিতে চাইলে জেলা প্রশাসনের ‘দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখায়’ আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ত্রাণসামগ্রী জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই ত্রাণ রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। তাই বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের আমরা ত্রাণসামগ্রী জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলেছি।

এদিকে, জানতে চাইলে শামসুজ্জামান দুদু  সন্ধ্যা ৭টার দিকে দৈনিক করতোয়াকে জানান, কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আটক থাকার পর আমরা হোটেলে ফিরে এসেছি। তবে এখনো জেলা কার্যালয়ে বিএনপির ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ফলে বুধবার আর রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। রাতে বসে নেতৃবৃন্দ পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। অন্যদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরের এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে ‘সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করবো। নগর আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু’র সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শহীদুননবী ডাবলু’র সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় খুশি ফখরুল

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখতে যাওয়ায় খুশি বিএনপি। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব না আনায় সরকারের সমালোচনা করেছে দলটি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারাবিশ্ব প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও এরা (সরকার) এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। আমরা কিছুটা খুশি, দেরিতে হলেও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গেছেন। এতোদিনে বোধোদয় হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি বোধোদয় হয়নি, সুযোগ পেলেই বিএনপিকে দোষারোপ করে বসেন। গত সোমবার জাতীয় সংসদে নেয়া প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে (জাতীয় সংসদে) আপনারা (সরকার) প্রস্তাব (রেজুলেশন) নিয়েছেন যে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ দিতে হবে। কিন্তু মিয়ানমার যেভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে, সুপরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য কাজ করছে- তার জন্য কোনো নিন্দা জানান নাই। সেজন্য এই সভা থেকে আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। মিয়ানমার সীমান্তে দুই দেশের যৌথ অভিযান করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন- বিএনপি নয়, বরং আওয়ামী লীগই রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করতে চায়।

সেজন্য এখন তারা (সরকার) মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ও বাংলাদেশের বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিচ্ছে। কোথায়, কার বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হবে? যাদের হত্যা-ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে, গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে-তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? সেখানে বিজিবি থাকবে?

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের নিরব ভূমিকার সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব। যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, মামুন হাসান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।



Go Top