বিকাল ৩:৫৯, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ অন্যান্য খেলা

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

মিয়ানমারকে হারিয়ে রোলবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাংলাদেশ


রোলবল বিশ্বকাপে জয়রথে রয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। পুল ডি-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে মিয়ানমারকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আসিফরা।

রোববার মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে মিয়ানমারকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের জয়ে সর্বোচ্চ তিন গোল করেন হৃদয়।

এ নিয়ে রোলবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ছেলেরা টানা তিন জয় পেলো। হংকংকে ১৯-১ ব্যবধানে উড়িয়ে চতুর্থ আসর শুরু করা আসিফরা দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে হারিয়েছিল ৯-২ ব্যবধানে।

 

যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি

জাতীয় যুব হকিতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বিকেএসপি। অগ্রণী ব্যাংক ২৬তম জাতীয় যুব হকিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া জাতীয় যুব হকিতে ২৬ আসরের মধ্যে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপি।

শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে বিকেএসপি ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে। শিক্ষা বোর্ডের কপালটা খারাপই বলতে হবে। সেই ১৯৮৩ সালে সর্বশেষ ঢাকা জেলার সঙ্গে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু ৩৪ বছর পর ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হলো না।

এদিন ২০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সোহানুরের গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় বিকেএসপি। ২৮ মিনিটে ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেবাশীষ। ২৯ ও ৩৭ মিনিটে পরপর দুই গোল করেন মোহাম্মদ মোহসিন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই ৫-০ করেছেন সোহানুর।

সোহানুর ৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল, পাবনার এই তরুণের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। টুর্নামেন্ট সেরা শফিউল আলম।

জাতীয় যুব হকিতে অংশ নেওয়া ৩৯টি দলের মধ্যে শুধু ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামের সঙ্গেই যা একটু লড়তে হয়েছে বিকেএসপিকে। কিন্তু বাকি দলগুলোর সঙ্গে খেলেছে একচেটিয়া।

আরচারিতে বাংলাদেশের ৬ স্বর্ণ

নয়টি স্বর্ণের মধ্যে ৬ টি জিতে প্রথম আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপকে নিজেদের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সোমবার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের আরচারদের জয়জয়কারের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

ছেলেদের এককের ব্যর্থতা ঢেকে গেছে দলগত ইভেন্টের সফলতায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৬ স্বর্ণ জয়ের যে প্রত্যাশার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা, তা পূরণ হয়েছে শতভাগ।
 
শেষ দিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে সবগুলো ইভেন্টের স্বর্ণ পদক। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পতাকা উঠেছিল নারী আরচার হীরা মনি নৈপূণ্যে। তিনি মেয়েদের রিকার্ভ এককে আজারবাইজানের রামোজানোভা ইয়ালাগুলকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে হারিয়ে স্বর্ণ উপহার দেন বাংলাদেশকে।
 
মহিলা রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের শ্যামল রায়, বিউটি রায় ও রাদিয়া আক্তার শাপলা ৬-২ সেট পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করেন। পুরুষ রিকার্ভ দলগত বিভাগের ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা, সানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ তামিমুল ইসলাম ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানকে পরাজিত করেন।
 
Archary
রিকার্ভ মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের রুমান সানা ও বিউটি রায় ৬-২ সেট পয়েন্টে ভুটানের কিনলি টি সিরিং ও কারমাকে পরাজিত করেন। কম্পাউন্ড পুরুষ এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ ফিরদাউস বিন ইসা ১৪১-১৪০ স্কোরের ব্যবধানে একই দেশের নিক আহমদ ডেনিয়াল বিন মোহাম্মদ কামারুলজামানকে পরাজিত করেন।
 
মহিলা এককে ইরাকের ফাতিমাহ আল মাসহাদানী ১৩৫-১৩৩ স্কোরের ব্যবধানে বাংলাদেশের বন্যা আক্তারকে পরাজিত করেন। পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম, নাজমুল হুদা ও মিলন মোল্লা ২১৪-২০৭  পয়েন্টে মালয়েশিয়া আরচারি দলকে পরাজিত করেন।
 
 কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ফাইনালে বাংলাদেশের আবুল কাশেম মামুন ও সুস্মিতা বনিক ইরাকের আল-দাঘমান এশাক ও ফাতিমাহ আল মাসহাদানীকে ১৪৯-১৪১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
 
সমাপণী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়।  উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সলিডারিটি স্পোর্টস ফেডারেশনের জেনারেল ডাইক্টের খালিদ বিন আল শায়েখ, বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সহ সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরী, আনিসুর রহমান দিপু ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
 
পদক তালিকা
দেশ                 স্বর্ণ    রৌপ্য    তাম্র    মোট
বাংলাদেশ           ৬       ১         ২       ৯
মালয়েশিয়া         ১        ২         ০      ৩
সৌদিআরব         ১        ০         ১       ১
ইরাক                ১        ১         ২      ৪
নেপাল               ০        ১        ০       ১
ভুটান                ০        ৩         ১      ৫
আজারবাইজান     ০         ১         ১     ২
 

ফাইনালে সানিয়া মির্জা

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ হলো সানিয়া মির্জার। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠলেন ভারতের এই টেনিস সেনসেশন। ক্রোয়েশিয়ান পার্টনার ইভান ডডিজকে সঙ্গে নিয়ে অজি জুটি সামান্থা স্টোসুর ও স্যাম গ্রোথকে ৬-৪, ২-৬, ১০-৫ সেটে হারিয়ে মিক্সড ডাবলসের ফাইনাল নিশ্চিত করেন সানিয়া।   

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই সানিয়া-ইভানরা প্রথম সেটে জয় পেলেও দ্বিতীয় সেটে পিছিয়ে পড়েন সানিয়ারা। শেষ সেটে তুল্যমূল্য লড়াই চলে। ম্যাচ গড়ে টাইব্রেকারে। সেখানে ১০–৫ গেমে জয়ী ইন্দো-ক্রোয়েশিয়ান জুটি । সেমি ফাইনালের এই লড়াই চলে ১ ঘণ্টা ১৮ মিনিট। সানিয়া তার ক্যারিয়ারে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে এখন এক ধাপ দূরে।

সেমিফাইনালের অন্য এক লড়াইয়ে এলিনা সিতোলিনা ও ক্রিস গুসিয়ান জুটির সামনে নামছে আবিগেল স্পিয়ার্স জুয়ান সেবেস্তিয়ান ক্যাবেল। এদের মধ্যে আজ যে জুটি জিতবে, তাদের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলবেন সানিয়া ও ডডিজ।

সিঙ্গাপুরে সফলতা চান সিদ্দিকুর

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সাকিব-তামিম-মোস্তাফিজরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তেমনি গলফে সকলের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করে দিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার হাত ধরেই দেশের গলফ পাচ্ছে নতুন জনপ্রিয়তা।

দেশ সেরা এই গলফারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে। আলাপকালে জানা গেলো, আগামী ১৯ জানুয়ারী থেকে সিঙ্গাপুরে শুরু হচ্ছে গলফ টুর্নামেন্ট। আর এ টুর্নামেন্টে অংশ নিতেই এখানে আশা। তবে এর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাবেন তিনি। সেখান থেকে ১৫ জানুয়ারী আবার সিঙ্গাপুর ফিরবেন।

শেষ কয়েকটি টুর্নামেন্টে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি সিদ্দিকুর। তাই এ টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া দেশ সেরা এই গলফার। আর এ জন্যই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইন যাচ্ছেন তিনি।

২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফে বলবয়-ক্যাডি হয়ে আসা সুবিধাবঞ্চিত গলফারদের সুযোগ হয়। আর সেই সুযোগে কোচের অধীনে শুরু হয় সিদ্দিকুর রহমানের অনুশীলনও। তখন তার আগ্রহ এবং ধৈর্য্য ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। এক সময় এই আগ্রহ আর ধৈর্য্যের ফলও পেতে শুরু করলেন। সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে তিনি জিততে শুরু করলেন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টের শিরোপা।  

আর অপেশাদার গলফে তার সাফল্য তাকে টেনে নিলো পেশাদার গলফের দিকে এবং ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে শুরু হলো তার পেশাদার গলফের জগত। যথারীতি সেখানেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেন সিদ্দিক। ২০০৮ ও ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও বাংলাদেশ সার্কিটের ৪টি পোশাদার শিরোপা জিতলেন সিদ্দিকুর।

২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর এ অংশ নেয়ার। ২০১০ সালে বাংলাদেশি হিসেবে তিনি জয় করেছেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। আর ২০১৬ সালে রিও গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন তিনি।

লড়াই করে হারল বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবলে কিরগিজস্তানকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই গতবারের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না। আর জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠার পথও হয়ে গেল বিলম্বিত।

 

 মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে রোববার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ঘাম ঝড়ানোর পর ৩-২ সেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ফলাফলের জন্য শেষ গেম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে উভয় দলকে। এই টুর্নামেন্টে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ যেটা ৫ম সেটে গড়িয়েছে।

 বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২-২ ব্যবধানে সমান থাকা ম্যাচে ৫ম সেট গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে পরাজয় মানে। তবে ফাইনালের সুযোগ হাতছাড়া হয়নি এখনও।

 

 ফাইনালে চলে গেছে কিরজিস্তান, স্বাগতিক বাংলাদেশের এখনও শেষ ম্যাচ বাকী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই স্বাগতিকরা দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারানো সুযোগ পেয়েছিল। সোমবার বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। আর কিরগিজস্তান খেলবে নেপালের বিপক্ষে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল আর ৩য়-৪র্থ দল খেলবে র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য।

 

 কিরগিজস্তানের বিপক্ষে লড়াইটা সহজ হবে না এটা আগাম ধারনা ছিল। বিশেষ করে যারা টুর্নামেন্টে কিরজিগস্তানের খেলা দেখেছেন। ম্যাচের প্রথম সেটে বাংলাদেশ ১৭-১৭ পয়েন্টে সমান তালে লড়াই করে। শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠে, ২২-২২, ২৩-২৩ এভাবে এগিয়ে চলে প্রথম সেট। কিন্ত শেষ অবদি হেরে যায় বাংলাদেশ ২৩-২৫ কিরগিজস্তান।

 

 ২য় সেটেও যে ভয়ঙ্কর লড়াই হল, আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি কোন দলই। ১৭-১৭, ২০-২০, ২১-২১, ২৩-২২, ২৩-২৩ এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ২৫-২৩ ব্যবধানে কিরজিস্তানকে হারিয়ে দেয়। ২য় সেটে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা সৃস্টি করে বাংলাদেশ, ১-১ সেটে সমতা।

 

 ৩য় সেটে দুই দলই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। ১-১, ২-২, ৩-৩ থেকে শুরু করে ৩য় সেট ধীরে ধীরে এগুতে থাকে। এক পর্যায়ে পয়েন্ট দাঁড়ায় ২০-২০, ২১-২২। কঠিন পরিস্থিতে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ আবারো ২৫-২৩ ব্যবধানে হেরে যায়।

 

 ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ৪র্থ সেট শুরু করে অতিথি কিরগিজস্তান। এই সেটে জয় পেলেই ম্যাচ জেতা হয়ে যায় অতিথি দলের। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠে এই সেটে। ২-১ ব্যবধানে পেছনে থাকায় হেরে গেলেই ম্যাচ শেষ, জানা ছিল বাংলাদেশের। তাই তো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে বাংলাদেশ (পয়েন্ট বাংলাদেশ ২০ আর কিরগিজস্তান ১৬)।

 

 কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশ ২১ আর কিরগিজস্তান ১৯ পয়েন্টে। জয় থেকে বাংলাদেশ ৪ পয়েন্ট দূরে দাঁড়িয়ে। দুই দলের ব্যবধান কমে আসে, ২৩-২১ আর এরপর ২৩-২৩, আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৫-২৩ কিরগিজস্তান। ২-২ ব্যবধানে সমতা। ৫ম সেট মানেই তো ফাইনাল। শেষ সেট- অনুষ্ঠিত হয় ১৫ পয়েন্টে। শেষ পর্যন্ত ১৩-১৫ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ।  ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন কিরগিজস্তানের টুকটুই নূর মোহাম্মাদ।

 

 এর আগে রোববার দিনের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি মালদ্বীপ। আফগানিস্তানকে হারানোর মধ্যে দিয়ে মালদ্বীপ এদিন প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে।

 

 প্রায় দেড় বছর আগে (২৭ মে ২০১৫) ঢাকায় অনুষ্ঠিত একই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয সেমিফাইনালে মালদ্বীপ ৩-২ সেটে আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। ওই আসরে তুর্কমেনিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল মালদ্বীপ।

 

 সোমবার চতুর্থ ম্যাচে মালদ্বীপ খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে। পরদিন ২৭ ডিসেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাইফ স্পোর্টিংকে রুখে দিয়েছে চট্ট. মোহামেডান

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নাম লিখিয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। কাগজ-কলমে শক্তিশালী এ দলকে রোববার রুখে দিয়েছে এক সময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা চট্টগ্রাম মোহামেডান।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ২৪ মিনিটে রহিম উদ্দিনের গোলে এগিয়ে যায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে গোল করে সমতা আনেন চট্টগ্রাম মোহামেডানের শাকিল।

পরপর দুই ম্যাচ ড্র করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে পিছিয়ে পড়েছে পয়েন্ট টেবিলে। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইয়ংমেন্স ক্লাব। চট্টগ্রাম মোহামেডানের সংগ্রহ ৪ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট।

‘আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন দরকার’

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে আর্জেন্টিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। তবে এখনই তাদের আশা শেষ হয়ে যায়নি। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে পারলে মেসির দল টিকিট পাবে বিশ্বযজ্ঞের। তার জন্য আর্জেন্টিনা দলে পরিবর্তন চান মারিও কেম্পেস।

ইন্টার মিলানের হয়ে আলো ছড়ানো মাওরো ইকার্দিকে আর্জেন্টিনা দলে চান ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কেম্পেস। বলেন, বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে এই মুহূর্তে দলে পরিবর্তন দরকার। দলের ভেতরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না। আমরা ইকার্দিকে নিয়ে কতটা কথা বলছি? মাঠে সে কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাই বড় বিষয়। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাতামাতি করা ঠিক নয়।’

লিওনেল মেসির বন্ধু ম্যাক্সি লোপেজের বউকে পটিয়ে বিয়ে করেছেন ইকার্দি। এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনা ও ইতালিতে একের পর এক সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন ইকার্দি। সতীর্থের বউকে পটিয়ে বিয়ে করায় আর্জেন্টাইনদের চোখে তিনি এখন খলনায়ক।

আর দিয়েগো ম্যারাডোনা তো তাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘মৃত মানুষ’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে। অনেকেরই ধারণা, এই কাণ্ডে জড়ানোয় অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্বেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে সুযোগ হচ্ছে না ইকার্দির।

রোনালদো নৈপুণ্যে পর্তুগালের জয়

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। গোলও পাচ্ছিলেন না! তবে জাতীয় দলের জার্সিতে জ্বলে উঠলেন রোনালদো। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে লাটভিয়াকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে পর্তুগাল।

এই জয়ে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বের ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগিজরা। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। রোনালদোর দল তিনটিতে জয় পেয়েছে, আর একটিতে হেরেছে। সমসংখ্যক ম্যাচে সবক’টিতে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই আছে সুইজারল্যান্ড। সুইসদের অর্জন ১২ পয়েন্ট।

ঘরের মাঠে লাটভিয়ার বিপক্ষে নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়েছেন রোনালদো। ম্যাচের ২৮ মিনিটেই গোলের দেখা পেয়েছেন তিনি। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন রোনালদো। প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের বাধার সম্মুখীন হলে বলটি ঠেলে দেন নানিকে। বল পায়ে নেয়ার আগে তাকে বাজেভাবে ট্যাকেল করেন লাটভিয়ার খেলোয়াড়েরা। রেফারির চোখ এড়ায়নি। তাই পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেন রোনালদো। এভাবে এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে খানিকটা খেই হারিয়ে ফেলেছিল পর্তুগিজ। ৬৭ মিনিটে একটি গোল হজম করেছে তারা। এ সময় লাটভিয়াকে সমতায় ফেরান আরতুরস জুজিন। দুই মিনেটের ব্যবধানে উইলিয়ানের গোলে ফের এগিয়ে যায় পর্তুগাল (২-১)।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেছেন রোনালদো। ডান প্রান্ত থেকে রিকার্ডো কুয়ারেসমার বাড়িয়ে দেয়া বলটি দুর্দান্ত এক শটে লাটভিয়ার জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের সুপারস্টার। আর লাটভিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ব্রুনো আলভেজ।

এক আইরিশ ফুটবল-পাগলের গল্প

অনেক দেশ আছে যেখানে ফুটবলে লাথি দেননি এমন পুরুষ মানুষ কমই আছে। আর দেশটি যদি হয় ইউরোপের তাহলেতো কথাই নেই। আয়ারল্যান্ডের জন ব্রে তেমন এক মানুষ। ফুটবলে লাথি দেয়া পর্যন্তই। খেলা বলতে যা বুঝায় তা নেই তার জীবদ্দশায়। অথচ তিনি ফুটবলের পাগল। ফুটবল খেলা দেখতে ভ্রমণ করেছেন ১০০ টিরও বেশি দেশ। স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন চার চারটি বিশ্বকাপ। ইউরোপের বিভিন্ন টুর্ণামেন্টতো তার কাছে দুধভাত। ৫৮ বছর বয়সী এ আইরিশ এখন বাংলাদেশে। ফুটবলের টানেই ঢাকায় ছুটে আসা তার। ৭ নভেম্বর এসেছেন, ফিরে যাবেন আগামীকাল সোমবার।

বাংলাদেশে আসলেও তার এ সফর শুধু ঢাকাকেন্দ্রীক। যে কারণে দেশের শীর্ষ প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচ দেখা হচ্ছে না তার। প্রিমিয়ার লিগ এখন চলছে ময়মনসিংহে। পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের খেলা দেখতে শনিবার তিনি ছুটে গিয়েছিলেন কমলাপুর স্টেডিয়ামে।

football

কখনো রিক্সায়, কখনো মটর সাইকেলে অনিকের পেছনে-এভাবেই ঘুড়ছেন জন। তো অনিক কে? এমন প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। পুরো নাম-রেজাউল হোসাইন অনিক। কাজ করেন এশিয়াটিকের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের নির্বাহী হিসেবে। জন ব্রে‘র গল্পটা শোনা যাক তার কাছেই- ‘গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে আমি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক ছিলাম। আমার ডিউটি ছিল রিও‘র মারাকানা স্টেডিয়ামে। সেখানে আমার এক আমেরিকান বন্ধুর মাধ্যমে জনের সঙ্গে পরিচয়। ফুটবল খেলা দেখতে তার দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানোর গল্প শুনেছি। তিনি আমার কাছে শুনেছেন বাংলাদেশের ফুটবলের গল্প। তখনই তিনি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। দেশে আসার পরও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অনেক দিন ধরেই তিনি বাংলাদেশে আসার কথা বলছিলেন। বিভিন্ন কারণে আমি তাকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি। গুলশানের সন্ত্রাসি হামলায় বিদেশিদের প্রাণহানির ঘটনাও তিনি জানতেন। কিন্তু তিনি ওসব পাত্তা দেননি। বাংলাদেশে চলে এসেছেন’।

জন ব্রে ইতিমধ্যে জেনেছেন, বাংলাদেশের ফুটবল এক সময় রমরমা ছিল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৫০/৬০ হাজার দর্শক খেলা দেখেছে শুনে অবাক হয়েছেন তিনি। এ সব গল্পই আসলে জনকে টেনেছে বাংলাদেশে। যদিও তিনি যখন ঢাকায় তখন বাংলাদেশের ফুটবল শুধুই অতীতের কঙ্কাল।

‘অনিকের কাছে আমি বাংলাদেশের ফুটবলের গল্প শুনেছি। আমি যখন এশিয়া সফরের পরিকল্পনা করি তখনই সিদ্ধান্ত নেই বাংলাদেশে আসবো। চলে এলাম। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ব্রনাইয়ের পর বাংলাদেশে এসেছি।’ আপানি কতগুলো দেশে এভাবে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছেন? ‘একশ`র বেশি হবে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এলাম বাংলাদেশে। আমি ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান-কোরিয়া ও ব্রাজিল বিশ্বকাপ দেখেছি স্টেডিয়ামে বসে।’

football

বাংলাদেশ কেমন লাগছে? কোনো ভয় কাজ করছে? ‘আসলে বাংলাদেশ বলতে ঢাকা। আমি অন্য কোথাও যাচ্ছি না। গুলশান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবন, মোহামেডান ক্লাব, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামসহ অনেক জায়গা ঘুরেছি। বন্ধু অনিকের বাসায়ও গিয়েছি। আমার কোনো সমস্যা হয়নি। কোনো ভয়ও পাইনি। এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক। সমস্যার মধ্যে যা দেখলাম তাহলো যানজট, মশা আর বিরিয়ানি। বিরিয়ানি খেয়ে আমার পেট খারাপ করেছিল, হা হা হা। ’

তো এই যে, আপনি দেশে দেশে ঘুরে বেড়ান। পরিবারের লোকজনকে সময় দেন কখন? ‘আমার ছেলে ফুটবল খেলা পছন্দই করে না। আর স্ত্রী? যখন ঘরে ফিরবো তখন আগাম বাই বাই দিয়ে রাখবে, আবার কখন কোন দেশের ফ্লাইট ধরি তাই। কিন্তু আমার এটা নেশা, আমি ফুটবল পাগল। যতদিন শরীর কাজ করবে আমি এটা করবো’-বলেন জন। শরীর না হয় কাজ করলো, কিন্তু এই যে আপনি দুনিয়া চষে বেড়াচ্ছেন এ খরচের উৎস কি? কোনো স্পন্সর আছে? ‘না, কোনো স্পন্সর নেই। আমি নিজের অর্থে ঘুরি। আমি একটি টেলিকম কোম্পানিতে চাকুরি করতাম। আমার অনেক সঞ্চয় আছে। সেখান থেকেই খরচ করি’- জবাব জন ব্রে নামের এ ফুটবল পাগলের।

রোবেন-ডিপাইয়ে ঘুরে দাঁড়ালো নেদারল্যান্ডস

গত বিশ্বকাপের পর নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিল নেদারল্যান্ডস। অবশেষে রোবেন-ডিপাইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে রোববার রাতে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে ডাচরা।

এই জয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডস। সমসংখ্যক ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষেই রয়েছে ফ্রান্স। আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা লুক্সেমবার্গের সংগ্রহ মাত্র ১।

নেদারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল করেছেন আরিয়েন রোবেন। ৩১ মিনিটে লুক্সেমবার্গের জাল কাঁপান তিনি। আর ডাচদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মেম্পিস ডিপেই। ৫৮ ও ৮৪ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। আর লুক্সেমবার্গের হয়ে একটি গোল শোধ দিয়েছেন ম্যাক্সিম শ্যানট।

মাঠের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সে মতভেদ কুমিল্লা শিবিরে!

বিপিএলের গত আসরে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হার দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিলো নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। তার পরই জয়ের পথ খুঁজে পাওয়া। টানা তিন ম্যাচ জয়। আর পরের ইতিহাস সবারই জানা। আগের দু’বার ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করা মাশরাফি, প্রথমবার দায়িত্ব নিয়েই কুমিল্লাকে এনে দেন শিরোপা।

কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে মাঠে নামলেও জয়ের দেখা নেই কুমিল্লার। এই জয়ের নাগাল না পাওয়ায় খানিক হতাশ কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফিও। হাজারো ইনজুরি ও না পাওয়ার গ্লানি যাকে এখন পর্যন্ত স্পর্শ করেনি- সেই মাশরাফি রোববার খুলনার বিপক্ষে হারের পর হতাশার বদলে খানিক ক্ষুব্ধ।

রোববার রাতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কারো কথা উল্লেখ না করে মাশরাফি বলেন, সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলার আশা করছি। মাশরাফির ধারণা, যে উইকেটে খেলা হয়েছে, এই উইকেটে অনায়াসে ১৪৪ টপকে যাওয়া সম্ভব ছিলো।

খুলনার বিপক্ষে দলের বোলারদের পারফরম্যান্সে খুশি মাশরাফি। ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯২ রান করা খুলনাকে ১৪৪-এ আটকে ফেলতে বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আর পাল্টা ব্যাটিংয়ে নেমে আমাদের শুরুটাও ভালো হয়েছিল। কিন্তু আমার দলের মূল তিন ব্যাটসম্যান ইমরুল, লিটন আর স্যামুয়েলস যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতো তাহলে অনায়াসেই জয়ের বন্দরে পৌঁছানো যেতো।

comilla

এদিকে মাশরাফির হতাশ হওয়ার আরও একটি কারণ হলো তার দলের প্রিয় দুই ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও লিটন দাসের ফর্মহীনতা। লিটন দাস আসরের শুরু থেকেই ভালো খেলতে পারছেন না। তারপরও মাশরাফি আগের ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, লিটনই আমার দলের সেরা ব্যাটসম্যান।

তবে জানা গেছে, লিটন দাসকে খেলানো নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও দলের ম্যানেজমেন্টের মধ্যে একটা মতপার্থক্য রয়েছে। সেটা বিবাদের পর্যায়ে না গেলেও একাদশ সাজানো নিয়ে কুমিল্লা শিবিরে একটা মতভেদ তৈরি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির চাপ উপেক্ষা করে লিটনকে খেলানো এবং তার ক্রমাগত খারাপ ফর্মও মাশরাফির মনে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও লিটন দাসকে ওপেন থেকে সরিয়ে নিচে নামিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মাশরাফির। এর জন্যই দলে নেওয়া হয়েছিল সৈকত আলিকে। তবে ফিল্ডিং করার সময় সৈকত ব্যথা পাওয়ায় অধিনায়কের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। আর ওপেন করতে নেমে বরাবরের মতো আবারো ব্যর্থ হয় লিটন।

তার কন্যা নাফিসা কামাল ফ্র্যাঞ্চাইজি হলেও সবার জানা কুমিল্লার আসল স্বত্বাধিকারী হচ্ছেন বিসিবি, এসিসি ও আইসিসির সাবেক সভাপতি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কুমিল্লার প্রতিটি ম্যাচ দেখতে আসেন। রোববারও মাঠে বসে নিজের দলকে টানা তৃতীয় ম্যাচ হারতে দেখেন।

ম্যাচ শেষে খানিক হতাশ মুস্তফা কামাল শেরেবাংলার গ্রান্ড স্ট্যান্ডের খোলা আকাশের নিচে বসে দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলটের সঙ্গে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একান্তে কথা বলেন। এসময় ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ মুস্তফা কামালের চোখের নিচে ছিলো খানিক হতাশার ছাপ। তবে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে- তা খালেদ মাসুদ না জানালেও জোর গুঞ্জন দলের একাদশ নিয়ে অসন্তুষ্ট মুস্তফা কামাল, নাফিসা কামাল ও তার পরিবার।

এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একাদশ সাজানো নিয়েই ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অধিনায়কের মধ্যে মূল মতপার্থক্য জন্ম নিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি চাচ্ছেন ভালো পারফরম্যান্সে ও জয়। এ নিয়ে আধিনায়ক মাশরাফি পড়েছেন বিপাকে। তার সাজানো একাদশের নির্ভরযোগ্য দুই তারকা ইমরুল কায়েস (তিন ম্যাচে ২৭) ও লিটন দাস (তিন ম্যাচে ২৫) চরমভাবে ব্যর্থ, আগের বিপিএল সেরা জাইদিও এখনো জ্বলে ওঠেনি। ফলে তার সাজানো কম্বিনেশনও হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির কথা রাখবেন, নাকি নির্ভরযোগ্য পারফরমারদের প্রতি আস্থা রাখবেন, এ নিয়ে মাশরাফি পড়েছেন উভয় সংকটে। তবে সব মতভেদ দূর করা সম্ভব, যদি আজ ঢাকার বিপক্ষে মাশরাফির হাতিয়ারগুলো সঠিক সময়ে জ্বলে উঠে জয় তুলে আনতে পারে। তা না হলে এই মতভেদ যে কোথায় গিয়ে ঠেকবে- কে জানে।

দুর্দান্ত বোলিংই শীর্ষে তুললো মাহমুদউল্লাহর খুলনাকে!

বিপিএলের গত আসরে ছিলো না খুলনা। এবার নতুন নাম (খুলনা টাইটান্স) নিয়ে চতুর্থ আসরে খেলতে এসেছে তারা।  সাদামাটা দল নিয়েই লড়াইয়ে নেমেছে খুলনা। কারণ এবার খুব বেশি নামিদামি ক্রিকেটার দলে টানেনি। এই দল নিয়েও দারুণ লড়াই করেছে তারা। আপাতত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রয়েছে তারা। দুর্দান্ত বোলিং-ই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে সবার উপরে তুলেছে!

এ পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেছে খুলনা। তিনটিতে জয় পেয়েছে, আর একটি ম্যাচে হেরেছে। মাহমুদউল্লাহর দলের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। সমসংখ্যক ম্যাচে (৩) চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রংপুর রাইডার্স ও বরিশাল বুলস।

এদিকে খুলনা টাইটান্স যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে, ওই ম্যাচগুলোতে তাদের ইনিংস খুব একটা লম্বা নয়। ইনিংস তিনটি থেমেছে ১৩৩, ১২৭ ও ১৪৪ রানে। তিনটি ম্যাচই খুলনা জয় পেয়েছে বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ১৩৩ রানের পুঁজি সংগ্রহ করেছিলো খুলনা। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহ-ম্যাজিকে ৩ রানে জয় তুলে নিয়েছে তারা।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটা অবশ্য ভালো কাটেনি খুলনার। মাত্র ৪৪ রানেই অলআউট হয়েছিল তারা। যা বিপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডও। ওই ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরে গিয়েছিলো তারা। এই রান নিয়ে লড়াই করাটা বড্ড কঠিনই।

বিপিএলের অষ্টম ম্যাচ ও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ফের ঘুরে দাঁড়ায় খুলনা। চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ১২৭ রানের সংগ্রহ নিয়েও ম্যাচটিতে জয় পেয়েছে ৪ রানে। শেষ ওভারে ছিলো বোলার মাহমুদউল্লাহর সেই ভেলকি।

আর নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪৪ রান করে খুলনা। শফিউল ইসলাম ও জুনায়েদ খানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে মাহমুদউল্লাহর দল জয় পায় ১৩ রানে।

তবে খুলনা টাইটান্সে হাইপ্রোফাইলের বোলার নেই! পাকিস্তানি পেসার জুনায়েদ খান ভালো বল করছেন। তবে জাতীয় দলে তিনি উপেক্ষিত রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলে পেসার শফিউল ইসলামের অবস্থানও নড়বড়ে! গত আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি কেভিন কুপার এবার খেলছেন খুলনার হয়ে।

আট বছর পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মোশাররফ হোসেন রুবেল আছেন মাহমুদউল্লাহর দলে। অলরাউন্ডার শুভাগত হোমও হাত ঘোরাচ্ছেন খুলনার হয়ে। মাহমুদউল্লাহ নিজেও বোলিং করছেন। এসব বোলার নিয়েও বেশ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

সংকট উত্তরণে গাজী আশরাফের শরণাপন্ন কুমিল্লা

পরপর তিন ম্যাচে হেরে সংকটে রয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যদিও এখনো সংকট কাটিয়ে ওঠার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ আছে। সাত দলের এই আসরে ডাবল লিগে প্রতিটি দল ১২টি করে ম্যাচ। সে হিসাবে মাত্র চার ভাগের এক পার করেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

এদিকে দলের পারফরম্যান্স উন্নত করতে চিন্তায় মাশরাফি। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন, সারাক্ষণ তা-ই ভাবছেন। তার প্রথম একাদশ টিম না করায় এখন ফরমুলা টু-তে এগোনোর চেষ্টা। সে পথে হেঁটে খুলনার সঙ্গে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলো কুমিল্লা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৪৫ রানের লক্ষ্য টপকানো সম্ভব হয়নি।

এই হারের বৃত্তে আটকে পড়া দলকে উজ্জীবিত করতে ব্যস্ত কুমিল্লার ফ্রাঞ্জাইজি। দলের প্রধান উপদেষ্টা, নাফিসা কামালের বাবা, বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত সংগঠক, বিসিবি ও আইসিসির সাবেক সভাপতি আ হ ম মুস্তাফা কামালও গভীর চিন্তায়। এ সংকট উত্তরণে তিনি শরণাপন্ন হয়েছেন দেশের ক্রিকেটের আরেক পরীক্ষিত সৈনিক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি শনিবার রাতে টিম হোটেলে ক্রিকেটারদের চাঙা করতে বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্লাব ক্রিকেটে আবাহনীরও অধিনায়ক ছিলেন গাজী আশরাফ। তখন আবাহনীর ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আ হ ম মুস্তাফা কামাল। সেই সূত্রে দুই যুগের সম্পর্ক দুজনার। এরপর গাজী আশরাফ জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।

দেশের ক্রিকেট বোর্ডে গাজী আশরাফের বুদ্ধির সুনাম রয়েছে। হয়তো সে বিচার-বিবেচনা করেই তাকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে কুমিল্লা। দেশের ক্রিকেটের এক নম্বর অধিনায়ক মাশরাফি- নেতৃত্বে! জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ম্যানেজার। তাদের সঙ্গে ঝানু ও অভিজ্ঞ গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তাতেও কি কুমিল্লার সংকট কাটবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এদিকে জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে কুমিল্লার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন গাজী আশরাফ। বলেন, ‘কামাল ভাইয়ের (আ হ ম মুস্তাফা কামাল) সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেক দিনের। সেটা আবাহনীর সূত্রে তো বটেই। বিভিন্ন সময় জাতীয় দলসহ অন্যান্য ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে কামাল ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক এরকম- অন্তরঙ্গ।’

গাজী আশরাফ আরো যোগ করেন, ‘কুমিল্লার উপদেষ্টা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি খুলনার সঙ্গে ম্যাচের আগের রাত থেকেই কাজ করছি। একটি ম্যাচ দেখে মন্তব্য করা ঠিক নয়। আজ (সন্ধ্যা ৭টায়) ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখার পর দলের (কুমিল্লা) প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।’

ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চরমে : হোটেল ছেড়ে বাসায় মাশরাফি

বিপিএলের চলতি আসরে টানা তিন ম্যাচে কোনো জয়ের দেখা পায়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের একাদশ নির্বাচন নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি আর অধিনায়ক মাশরাফির মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে। এবার রাগে-ক্ষোভে টিম হোটেল ছেড়ে বাসায় চলে এসেছেন কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি।

বিস্তারিত আসছে…  

বিফলেই গেলো সাব্বিরের সেঞ্চুরি

একা ১২২ রান করলেন সাব্বির রহমান। তবুও তার এই লড়াই কোন কাজে আসলো না। শেষ মুহূর্তে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিতে ৪ রানে বরিশাল বুলসের কাছে হেরে গেলো সাব্বিরের রাজশাহী।

বরিশালের করা ১৯২ রানের জবাব দিতে নেমে রাজশাহীর আইকন সাব্বির রহমান তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। শুধু তাই নয়, বিপিএলে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়েন তিনি; কিন্তু ১২২ রান করে সাব্বির আউট হয়ে যাওয়ার পরই সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় রাজশাহীর।

মূলত সাব্বির রহমানের আউট নয়, অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির আউটই রাজশাহীকে পরাজয়ের পথে ঠেলে দেয়। তবুও শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। নুরুল হাসান সোহান আর আবুল হাসান রাজু ছিলেন উইকেটে। বোলার থিসারা পেরেরার কাছ থেকে দুজন মিলে নিতে সক্ষম হলেন মাত্র ৫ রান। ফলে ৪ রানের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রাজশাহী কিংসকে।

বিস্তারিত আসছে…



Go Top