সকাল ১০:১৯, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবে তুরস্ক।  রোববার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে  তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক আহমেদ রফিক এই তথ্য জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাক্ষাৎকালে তারা রোহিঙ্গা পরিস্থিতিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে দ্রুত এর সমাধান আশা করেন তারা।’ মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে তুরস্কের প্রতিনিধিকে জানান মন্ত্রী মায়া। রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে জানিয়ে আহমেদ রফিক বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এক লাখ রোহিঙ্গা নগরিকের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করে দেবেন তারা। এই আশ্রয়কেন্দ্র কোথায় নির্মাণ করা হবে তা নিয়েও মন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের প্রতিনিধির আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আহমেদ রফিক জানান, তুরস্ক শিগগিরই ১৩টি আইটেমের সমন্বয়ে তৈরি ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী দেবে। এসব ত্রাণ হস্তান্তরের বিষয়েও মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী রিসেপ আব্বাস শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন করবেন বলেও ত্রাণমন্ত্রীকে জানান তিনি। মায়া বলেন, বাংলাদেশ তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে।

 

রাজধানীসহ দেশজুড়ে অস্বস্তিকর গরম

বাড়তি তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় রাজধানীসহ দেশজুড়ে অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমের এমন আবহাওয়া আরও দুয়েকদিন থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। শরতের মাঝামাঝিতে এই আবহাওয়াকে স্বাভাবিক বলছেন আবহাওয়াবিদরা।
রোববার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় যশোরে ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। এখন মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় বিরাজ করছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, দুদিন ধরে তাপমাত্রাও বাড়তি রয়েছে। তাই গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শাহজালালে বিপুল পরিমান রিয়ালসহ দম্পতি আটক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫শ’ সৌদি রিয়ালসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। যা এক কোটি ২৭ লাখ টাকা সমমূল্যের। গতকাল রোববার মাসুদুর রহমান ও মাহমুদা উর্মি দম্পতিকে এই বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক করা হয় বলে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাওয়ার প্রাক্কালে বোর্ডিং ব্রিজ-১ (এক্স) থেকে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বাড়ি ঢাকার কদমতলীতে। তারা বেড়ানোর উদ্দেশে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিলেন বলে জিজ্ঞসাবাদে জানিয়েছেন।’ ঢাকা কাস্টম হাউজ জানিয়েছে, বৈধ অনুমোদন ব্যতীত পাচারের উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বহন করার অভিযোগে শুল্ক আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

শেখ হাসিনার উপর হামলার ব্যর্থ চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন: পিএমও

বিডিনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর ‘হামলার ব্যর্থ চেষ্টার’ যে খবর বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে খোদ তার দপ্তর। বিদেশি সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের সংবাদপত্রে খবরটি প্রকাশের পর রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর গত ২৪ আগস্ট তারিখে হামলার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার প্রেসচিবের পক্ষে উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এই বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি আসার আগে সচিবালয়ে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমুও সাংবাদিকদের বলেছিলেন,এই খবরের সত্যতা নেই।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার সপ্তাহ আগে ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে ধারাবাহিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল জেএমবি জঙ্গিরা। বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গি-সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা তা ভেস্তে দেন।

২৪ আগস্ট শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত কর্মকর্তাদের স্বজদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। কার্যালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানেও ছিলেন তিনি। একই দিন তিনি গুলশানে রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের বাড়িতে গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদে যোগ দিয়েছিলেন। ওই দিন শেখ হাসিনাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টার খবর ভারতের গণমাধ্যমে আসার পর আলোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ভাষ্য এল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বিদেশি টিভি চ্যানেল ও একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন পত্রিকায় সূত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম প্রধানমন্ত্রীর উপর প্রাণনাশী হামলার ব্যর্থ চেষ্টার খবর প্রকাশ করে। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর ২৪ অগাস্ট তারিখে ব্যর্থ হামলার সাথে একটি বিশেষ বাহিনীর কতিপয় সদস্যকে সংশ্লিষ্ট করে বাংলাদেশের কয়েকটি টিভি চ্যানেলে খবর প্রচারসহ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর গত ২৪ আগস্ট তারিখে হামলার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ এই ধরনের সংবাদকে দেশের নিরাপত্তার ‘সার্বিক স্বার্থ পরিপন্থি’ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এরূপ বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা যে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সচেতন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মোটেও কাম্য নয়।’ এই ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

 

 

 

মিয়ানমার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে: অর্থমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে মিয়ানমার এক হিসেবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল আল আব্দুল মুহিত। রোববার সকালে টঙ্গীতে অ্যানন টেক্স কারখানায় স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্যাম্প উদ্বোধন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে পাঠিয়ে মিয়ানমার এক হিসেবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা তাদের দেশের লোকজনকে আমাদের দেশে পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।”

দেশে এ মুহূর্তে একটা দুর্যোগ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে চার লাখেরও বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও ওই দেশ থেকে শরণার্থী এসেছে প্রায় চার লাখ।

“এটা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে দোলা দিয়েছে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের মানুষ। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি অস্ত্র হাতে এবং আমরা তখন বিদেশে আশ্রয় নিয়েছি, আশ্রয় পেয়েছি। আমরা এটা কখনও ভুলি না।

“আমরা চাই এ শরণার্থীদের অধিকার তাদের দেশে প্রতিষ্ঠা হউক। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সর্বসময় চেষ্টা করব। প্রধানমন্ত্রীও জাতিসংঘে এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

এ সময় গাজীপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাদল ইউনুসসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাকার বাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, দুই শিশু দগ্ধ

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি টিনশেড ঘরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন এক নারী; দগ্ধ হয়েছে তার দুই শিশু সন্তান। শনিবার ভোররাতে বৈঠাখালী এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানিয়েছেন।

নিহতের নাম ইয়াসমিন (৩৮)। তার সন্তান আমানুল্লাহ (১১)ও সানজিদাকে (৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা জীবন মিয়া বলেন, টিনশেড ওই ঘরে আসবাবপত্রের কারখানা ছিল, পাশাপাশি লোকজনও থাকতেন।

ওসি ওয়াজেদ বলেন, “রাত ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ইয়াসমিন ও তার দুই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।”

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো.বাচ্চু মিয়া  বলেন, শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল ইয়াসমিনের। হাসপাতালে আনার পর তাকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

আমানুল্লাহর শরীরের ৩০ ভাগ এবং সানজিদার দেহের ২৮ ভাগ পুড়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে।

কী কারণে এই আগুন লেগেছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগতে পারে।

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত ও চীনসহ সবাই সহানুভূতিশীল: প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে সবাই সহানুভূতিশীল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এ বিষয়ে চীন-ভারতের অবস্থান খুব একটা বিবেচ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন-ভারতের অবস্থান বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সমস্ত রাষ্ট্রদূতরা তারা কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওখানে যান। তারা তাদের (রোহিঙ্গা) অবস্থা দেখেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমরা প্রত্যেকের কাছ থেকে দেখেছি। সবাই কিন্তু সহানুভূতিশীল মন নিয়েই বিষয়টা দেখেছেন।

তিনি বলেন, কাজেই এখানে আমরা কিন্তু চীন বা ভারত- তাদের কি কথা বা তাদের কি মত সেটা এতো বিবেচ্য বিষয় নয়। কারণ এটা তাদের যার যার নিজের দেশের মতামত। তবে আমাদের দেশে তারা যখন রোহিঙ্গাদের দেখেছে তখন তাদের প্রত্যেকেই সহানুভূতিশীল। সেটা আমরা দেখেছি। ভারত চীন, সবাই কিন্তু এগিয়ে এসেছে। তারা ত্রাণ পাঠাচ্ছে, সব রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫টি দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের বর্ডার। এবং এই পাঁচটি দেশের সঙ্গে তাদের সমস্যা রয়েছে। উদ্বাস্তু সমস্যা। মিয়ানমারে ১৩৮টি জাতিগোষ্ঠী। তারা একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করেই যাচ্ছে। এটা কিন্তু মিয়ানমারের একটা সমস্যা। চীন, ভারত, বাংলাদেশ, লাওস, থাইল্যান্ড প্রত্যেকের সঙ্গে তাদের সীমান্ত। একেকদিকে একেক রকম সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত ভালো।

১৬ কোটি মানুষকে আমরা খাওয়াতে পারছি। রেহানাও বলেছে তুমি ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ার দিচ্ছো আর এই ৫-৭ লাখ লোককে খাওয়ার দিতে পারবে না। তাদের রাখতে পারবে না- নিশ্চয়ই পারবে। এটা ঠিক, আমরা তা পারি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলেছি দরকার হলে আমরা এক বেলা খাবো, আর এক বেলার খাবার তাদের দিয়ে দেবো। বাঙালিরা কিন্তু সেটুকু করতে পারি। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলাপে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বিশ্বব্যাপী শরণার্থীরা যখন ঘুরে বেড়ায় তখন অনেক উন্নত দেশও তাদের আশ্রয় দেয় না। বা তারা দেশের দরজা বন্ধ করে দেয়। সেখানে বাংলাদেশের মতো একটা স্বল্পউন্নত দেশ এতো রিফিউজিকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুঃসময়ে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে- এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যা যা করণীয় তার পক্ষ থেকে করা হবে। বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে আর কখনও প্রশ্ন না করার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করি- যারা তাদের সঙ্গে বসার কথা বলেন, ধরেন আপনার বাবা মাকে কেউ হত্যা করেছে, আপনাকে বলা হলো- ওদের সঙ্গে আপনাকে বসতেই হবে, আলোচনা করতেই হবে। পারবেন কেউ বসতে। বলেন আপনারা, বিবেককে জিজ্ঞেস করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তারপরও আমি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বসেছিতো। ২০১৪ নির্বাচনের আগে আমি নিজে ফোন করেছিলাম, সে ফোনের কথা ভুলে গেছেন আপনারা। কোকো মারা যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার গুলশানের অফিসে গিয়ে প্রবেশ করতে না পারার ঘটনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, আমি দেখতে গিয়েছি। আমাকে ঢুকতে দেয়নি। কতবড় অডার্সিটি একবার চিন্তা করে দেখেন। এ ধরনের ছোটলোকিপনা যারা করে তাদের সঙ্গে আবার বসা কিসের। শেখ হাসিনা বলেন, এরপরে আর কেউ কখনও এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন আমার কাছে তুলবেন না। বিএনপির মতো একটা সন্ত্রাসী দল, জঙ্গিবাদী দল, যারা বাংলাদেশে জঙ্গি সৃষ্টি করেছে, বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে তাদের সঙ্গে বসতে হবে, তাদের সঙ্গে সমাধান করতে হবে। এই কথাটা দয়া করে আর কেউ বলবেন না। এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের হৃদয়ে স্থান পেলে সেটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও জাতিংসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক আসা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াশিংটন যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর রওয়ানা হয়ে লন্ডনে যাত্রাবিরতি দিয়ে দুই অক্টোবর দেশে ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রীর।

 

‘শান্তি-নিরাপত্তায় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সুসংহত হয়েছে’

করতোয়া ডেস্ক : শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবদান ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এবারের অধিবেশনে আমি রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি এ সমস্যা সমাধানে মুসলিম বিশ্বসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি। সামগ্রিকভাবে এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহেণের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবদান ও ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল ও সুসংহত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা) নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানসহ সফর নিয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে অংশ নিয়ে আমি সাধারণ বিতর্ক পর্ব, ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের উচ্চ পর্যায়ের সভাসহ সব দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে     ধরেছি। চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা আমাদের প্রশংসা করেছেন। স্থান ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ এসব অসহায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষের এই উদারতা ও মহানুভবতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এমন একটি সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযানের ফলে হাজার হাজার নিরীহ রোহিঙ্গা প্রতিদিন প্রাণভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

 গত তিন সপ্তাহে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক। আগে থেকেই চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিল। ফলে বর্তমানে মোট আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমাদের দেশে অবস্থান করছে। এদের খাদ্য, বাসস্থান ও জরুরি সহায়তা সংকুলান এবং এদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা জটিল সংকটের মুখোমুখি। এ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহঙ্গা সমস্যা তুলে ধরা ও এর সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে যে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন, সেই প্রস্তাবগুলোর কথাও বলেন তিনি।

 তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতিসহ মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকজন নেতা ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব দেশ বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় আমি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধে এবং মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রর্ত্যাবতন নিশ্চিত করতে ওআইসির পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই। এসময় বিশ্বজুড়ে কেবল মুসলমানরাই কেন শরণার্থী হচ্ছে তার কারণ অনুসন্ধান করতেও আমি ওআইসি নেতাদের অনুরোধ জানাই। ওই সভায় রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সব দেশের সম্মতিতে একটি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।’ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা, জাতিসংঘ মহসচিবের আমন্ত্রণে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন রোধে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক। দ্বিতীয় বৈঠকটিতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীর সদস্য কর্তৃক যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে গঠিত ভিকটিম সাপোর্ট ফান্ডে এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান।

 প্রধানমন্ত্রী জানান, আইএলও ও ওইসিডি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হাই-লেভেল ফলোআপ মিটিং অব গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ শীর্ষক বৈঠকে পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পখাতে শ্রম অধিকার রক্ষা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন সংক্রান্ত গ্লোবাল ডিল ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নের সরকারের উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া বহুমুখী উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। একই দিনে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে পরিবেশ বিষয়ে একটি গ্লোবার প্যাক্ট গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত একটি শীর্ষ সভায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে এসডিজি বিষয়ে দুইটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজনের কথাও জানান তিনি। একইদিন দুপুরে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (বিসিআইইউ) উদ্যোগে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

 এ সভায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের তিনি বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিত ও সম্ভাবনা বিষয়ে অবহিত করেন এবং বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে গঠিত পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আপনারা জানেন, এ বছরের এপিলে আমাদের জাতীয় সংসদ ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বের বক্তৃতায় একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছি। বিশ্ব শান্তিতে বাংলাদেশের অবদানকে সংসহত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং ফান্ডে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১ লাখ ডলার অনুদান দেওযার ঘোষণা দিয়েছি। এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত ৭ জুলাই পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি গ্রহণ করে। নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আমাদের নীতিগত অবস্থানের কারণে আমরা এই চুক্তিতে সই করেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে এবারের অধিবেশনের এই চুক্তিটিতে সই করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে সাইডলাইনে আমি বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার আমরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এ সমস্যা রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি মহাসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছি। রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। মিয়ানমারের শিগগিরই ফ্যাক্ট ফাইন্ডং মিশন পাঠানোর অনুরোধ জানাই। এছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডেসর রানি, এস্তোনিয়া প্রেসিডেন্ট, কসোভোর প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আন্তির্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক এবং আইবিএমের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।’

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘে ৫ প্রস্তাব শেখ হাসিনার

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমারে উৎপীড়নের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘে প্রস্তাব তুলে ধরে মানবিক এই সঙ্কট অবসানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপ চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তার হৃদয় আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত।শেখ হাসিনা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নিধন’ এখনি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, শরণার্থীদের ফেরত নিয়ে তাদের সুরক্ষা দিয়ে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন।মুসলিম রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে ‘সেইফ জোন’ গঠনের প্রস্তাব বিশ্ব সংস্থায় তুলেছেন তিনি; বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবকে একটি অনুসন্ধানী দল পাঠাতে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার পাশাপাশি সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করেন তিনি।

 শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয়, মানব কল্যাণ চাই।’ রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে জাতিসংঘের অধিবেশনে আট লাখ শরণার্থীর আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা ছিলেন সবার মনোযোগের কেন্দ্রে। মিয়ানমারের নির্যাতিত এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসাও ঝরছে বিশ্বনেতাদের কণ্ঠে। সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগেই জাতিসংঘে বিভিন্ন বৈঠক ও সভায় রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

 গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে তার প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন,এই শরণার্থীদের মিয়ানমারকে ফেরত নিতেই হবে। এরপর বিশ্ব সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাব গুলো হলো: অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা। অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা। রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

এই রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও মিয়ানমার সরকার রাজি না হলেও শরণার্থীদের যাচাই সাপেক্ষে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অং সান সু চি। আন্তর্জাতিক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাননি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর। কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ, যারা নিজ দেশ  মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার। গত ২৫ আগাস্ট রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে শুরু হয় সেনা অভিযান; এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে নামে রোহিঙ্গাদের ঢল।

 জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের এই মানবিক সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সমালোচনা করছে মিয়ানমার সরকারের। জাতিসংঘে চতুর্দশবার ভাষণ দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা শুরুতেই বলেন, ‘আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি।’ কয়েকদিন আগেই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখে আসার কথা জানিয়ে তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘এদের দুঃখ-দুর্দশা আমি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারি। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে ৬ বছর উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছি।’ মিয়ানমার সরকার নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করলেও রোহিঙ্গারা যে হাজার বছরেরও অধিক সময় ধরে দেশটির রাখাইনে বসবাস করে আসছেন, বিশ্ব নেতাদের তা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

 রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এই নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ঠেকানোর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমানা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখছে।’ এই প্রসঙ্গে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে বাংলাদেশের পদক্ষেপ জাতিসংঘে জানান তিনি। ‘বিশ্বের কোথাও যাতে কখনই আর এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত না হয়, সেজন্য আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।’ মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা বন্ধে এবং সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ও জাতিসংঘের মহাসচিবকেও ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

 তিনি বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে নিজ ভূখন্ড হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত ৮ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি।’ উদ্বেগময় পরিস্থিতির বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘এ সব মানুষ যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, এখনই তার ব্যবস্থা করতে হবে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ বিষয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’নীতি মেনে চলে।

’ সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস জঙ্গিবাদকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে নিজের বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। ‘আমরা ধর্মের নামে যে-কোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাই। সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি।’ বৈশ্বিক সন্ত্রাস মোকাবেলায় তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তা হলো- সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য এবং শত্রুতা নিরসনের জন্যও সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। ‘অব্যাহত শান্তি’র জন্য অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাহসী এবং উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ তহবিলে’ এক লাখ মার্কিন ডলার প্রতীকী অনুদান দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সমুন্নত রাখার উপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আরও নারী শান্তিরক্ষী মোতায়েনে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। ‘যৌন নিপীড়ন’ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘সার্কেল অব লিডারশিপ’র প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ বিষয়ে গঠিত ‘ভিকটিম সাপোর্ট তহবিলে’ এক লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের ঘোষণাও দেন শেখ হাসিনা।

 তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে সাইবার জগত থেকে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে আমি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কার্যকর পদক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে বন্যা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবেলায় সাফল্যের কথা বলেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য দারিদ্র্য, ক্ষুধা, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্ব দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এসডিজি অর্জনের বাংলাদেশের অগ্রগতিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সাফল্যগাথাও বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

 

একজন রোহিঙ্গাও না খেয়ে মরবে না: ত্রাণমন্ত্রী

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিয়ে কোনো সঙ্কটে পড়তে দেবেন না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেছেন, একটি মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না, সে বিশ্বাস আপনারা রাখতে পারেন। আমরা সেভাবেই আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। রোহিঙ্গাদের শরণার্থী পরিস্থিতি জানাতে  বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মন্ত্রী মায়া।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, এ পর্যন্ত না খেয়ে মারা গেছে এমন দৃষ্টান্ত কোথাও নেই, এটাই বাংলাদেশের সাফল্য। প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে তিন সপ্তাহে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে। কক্সবাজারে আগের ৪ লাখের সঙ্গে নতুন শরণার্থীদের রাখতে ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র করেছে সরকার। বিশাল সংখ্যার এই শরণার্থীর জন্য নানা উদ্যোগে ত্রাণ সরবরাহ করা হলেও তা অপ্রতুল বলে ওই এলাকা ঘুরে প্রতিবেদক দেখেছেন, ব্যবস্থাপনায়ও দেখা গেছে গলদ।

এই বিষয়ে প্রশ্নে মায়া বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, এই অল্প সময়ে চার থেকে পাঁচ লাখ লোক হঠাৎ করে চলে এসেছে। যেসব জায়গায় তারা রয়েছেন, সেই জায়গা থাকার উপযোগী না। অতিবৃষ্টি চলছে, মানুষ কিন্তু স্থির থাকবে পারছে না, সেখানে তো কিছুটা প্রোবলেম থাকবেই। তবে এখন ‘৮০ ভাগ’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, খাদ্য সহায়তা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাচ্ছে, বিলি-বণ্টন হচ্ছে, কোনো বিশৃঙ্খলা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান বিশ্ববাসীর ‘মন ছুঁয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব দেশ এগিয়ে আসছে, যারা একটু নমনীয় ছিল তারাও কিন্তু অনেক দূর এগিয়ে এসেছেন, অন্যরাও এগিয়ে আসবেন। শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর বিষয়ে মায়া বলেন, বিরাট কাজকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনীকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যেই তারা কাজও করছেন। রাস্তা করা, শেল্টার তৈরি করা। পাহাড়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা করা সাধারণের পক্ষে সম্ভব না। এই শরণার্থীদের অস্থায়ীভাবে রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এরা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের ফিরে যেতে হবে। না যাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার সহযোগিতা আমরা দেব, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। সচিব জানান, প্রথম দিন থেকেই ত্রাণ গ্রহণের কাজটি সেনাবাহিনী করছে। বিশাল সংখ্যার শরণার্থীদের অবস্থানের সময় ‘নানান পদের সমস্যা হতে পারে’ বলেও স্বীকার করেন মন্ত্রী মায়া। তিনি বলেন, কান কিন্তু চারদিকে খোলা রাখা দরকার। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি কেউ কিন্তু বসে নাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্ব ভাগ করে প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে, একটু সময় দরকার।

ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ে সরকার
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিশ্রুত সহায়তা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ টন আটা এসেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ নগদ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ত্রাণ বিতরণের কাজ বাংলাদেশ সরকার সমন্বয় করছে বলে জানান সচিব শাহ কামাল। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের সঙ্গে থাকছে। ত্রাণ আসা অব্যাহত আছে, আমরা মনে করছি আমাদের সমস্যা উত্তরণে দেশি-বিদেশি ত্রাণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমান বন্দর দিয়ে ত্রাণ গ্রহণ করা হচ্ছে। যারা ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন তারা পররাষ্ট্র এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ত্রাণ দিচ্ছেন। এটা ইএফডি রিসিভ করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর শ্রমিক ও ট্রাক দিচ্ছে ত্রাণ পৌঁছাতে। এরপর তা কক্সবাজার নিয়ে পাঁচটি গুদামে রাখা হচ্ছে বলে জানান শাহ কামাল। সেখান থেকে স্থানান্তর করতে উখিয়ার কুতুপালংয়ে ১৪টি গুদাম ঘর নির্মাণ করছি, ইতোমধ্যে ছয়টি হয়ে গেছে, বাকি আটটি হচ্ছে। ত্রাণ ১৪টি গুদামে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হবে। সচিব জানান, তুরস্ক প্রতিদিন ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে খাবার দিচ্ছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) দিচ্ছে ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে। এছাড়া জেলা প্রশাসন এক লাখ মানুষকে খাবার দিচ্ছে। শাহ কামাল বলেন, প্রতিনিয়ত ত্রাণ আসছে। কেউ কেউ অর্থ, কেউ চাল, ডাল, গম, চিড়া, কেউ তাঁবু, কেউ কেউ প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করছে।

২ মাসের মধ্যে নিবন্ধন
আগামী দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, নিবন্ধন শেষ করতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। আগে ১০টি পয়েন্ট থেকে নিবন্ধনের কাজ হলেও বৃহস্পতিবার থেকে ৩০টি পয়েন্টে এই নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। পাসপোর্স অধিদপ্তর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাচ্ছে বলে জানান সচিব। ২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে এসেছেন, এদের মধ্যে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের।

র‌্যাম্প মডেল থেকে জঙ্গি নেতা মেহেদী গ্রেফতার

রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে ২৯ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করে র‌্যাব বলেছে, মেহেদী হাসান নামের এক সময়ের ওই র‌্যাম্প মডেল এখন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একজন ‘প্রথম সারির নেতা’। ঢাকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাস করা মেহেদীর বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। তার বাবা খোরশেদ আলম পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত এএসআই।

র‌্যাব বলছে, ছাত্র অবস্থায় মেহেদী নামে মডেলিং করতেন ওই যুবক। লেখাপড়া শেষ করে শুরু করেন ব্যবসা। জঙ্গিবাদে জড়ানোর পর ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিল নাম নিয়ে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, সে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের বিগ্রেড আদ-দার-ই কুতনীর কমান্ডার। তাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিনের নেতৃত্বেই বুধবার গভীর রাতে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। মেহেদীর বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা ও বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের  মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন ওই অভিযান ও মেহেদীর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী বলেছেন, ২০১৫ সাল থেকে তিনি জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। তার বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট এবং উগ্রবাদী বই জব্দ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামত থেকে জানা যায়, ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনী অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং যে কোনো স্থানে নাশকতা চালাতে সক্ষম। র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতবছর অক্টোবরে র‌্যাবের অভিযানের মধ্যে পালাতে গিয়ে নিহত হন জেএমবির তখনকার আমির সারোয়ার জাহান ওরফে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ, যিনি তামিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে জেএমবির নতুন অংশটিকে সংগঠিত করেন। সারোয়ারের বাসায় পাওয়া আলামত থেকে এই সংগঠনের দুটি ‘সামরিক ব্রিগেড’ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ হলি আর্টিজান বেকারিসহ বিভিন্ন হামলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনী’ গোপনে কর্মী সংগ্রহের পাশাপাশি ‘রিজার্ভ ফোর্স’ হিসেবে ছিল বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ‘বদর স্কোয়াড’ দুর্বল হয়ে গেলে ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনী’ সদস্য সংগ্রহ করে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব কর্মকর্তারা জেএমবির এই ব্রিগেডের বিষয়ে নতুন তথ্য পায়। তখনই জানা যায়, ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিল নামের এক নেতার নেতৃত্বে ওই ব্রিগেড নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে নিহত জঙ্গি নিবরাসসহ কয়েকজন শীর্ষ জঙ্গির সঙ্গে মেহেদীর ‘প্রত্যক্ষ যোগাযোগ’ ছিল। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি সদস্যদের ‘বাইয়্যাত’ (শপথ) দিতেন এবং তার ভিডিও বিভিন্ন উগ্রবাদী চ্যানেলে প্রচার করতেন। সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদাও সংগ্রহ করতেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কিছু সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেফতার মেহেদীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

করতোয়া ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, তুরস্ক ও এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট, নেদারল্যান্ডসের রানী ও আওএম এর মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ হয়েছে। বুধবার ও আগের দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদাভাবে এসব সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার রাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া মধ্যাহ্নভোজের পর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রসচিব জানান, সাক্ষাতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারের নির‌্যাতনের শিকার সেদেশের নাগরিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সহায়তা দেয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ। মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কন্ট্যাক্ট গ্রুপের এক সভা শেষে একটি অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা করেন এরদোয়ান।তিনি বলেন, তুর্কি জনগণ বাংলাদেশের দুঃখ কষ্টে সব সময় পাশে থাকবে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার সকালে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কারস্তি কালিউলাইদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতায় এক মত হন দুই নেতা। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রানী মাক্সিমা র্জোরেগিয়েটা র্সেরুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে।

এ ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন রানী মাক্সিমা। পররাষ্ট্রসচিব জানান, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত ছিলেন। জয়ের সঙ্গে মাক্সিমার তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইওএম বাংলাদেশে কি কাজ করছে সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানান মহাপরিচালক। আরো কি করবেন সেটাও প্রধানমন্ত্রীকে বলেন তিনি। আগামী ৫-৬ অক্টোবরের দিকে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে উইলিয়াম ল্যাসি সুইং বাংলাদেশে সফরে যাবেন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে মিয়ানমারের ওপর আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টির তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতেই হবে।

বড় তহবিলের চেষ্টায় জাতিসংঘ
মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বড় অংকের তহবিলের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস বুধবার  এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একা হয়ে যাবে না। আমরা বড় একটি তহবিলের অনুরোধ জানাতে চলেছি। বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজন করছি। আগামীতে সংশোধিত যে তহবিলের আনুরোধ জানানো হবে, তা অনেক বড় হবে।’ গত মাসের শেষ দিকে রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করলে তিন লাখ শরণার্থীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে তিন মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে সাত কোটি ৮০ লাখ ডলারের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এখন জাতিসংঘের সংস্থাগুলো মনে করছে, রাখাইন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বছরের শেষ নাগাদ আরও পাঁচ থেকে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলছেন, তারা নতুন করে যে তহবিলের আহ্বান জানাবেন তা ২৫ অগাস্টের আগে ও পরে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে করা হবে। শরণার্থীদের ত্রাণ কার্যক্রম যাতে ভালোভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য বাংলাদেশে দায়িত্বের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে ওয়াটকিনসের। নতুন তহবিল আগেরটার চারগুণ ধরে নিতে পারেন। কিন্তু তাও হবে মাত্র তিন মাসের জন্য।  পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে মনে করেন একজন বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ। ওয়াটকিনস বলেন, তারা অবশ্যই বাংলাদেশকে সহায়তা করবেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের জনগণ সাহায্য করছে। আমাদেরও তাদের সহায়তা করতে হবে, কারণ ইতোমধ্যেই তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে আমরা আরও সহায়তা চাইতে চলেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তার সেবা ও অবকাঠামোর উপর চাপ পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা অব্যাহত থাকছে। আমরা শরণার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশি মানুষকেও সহযোগিতা করতে চাই। বিভিন্ন দেশের সহায়তায় এরইমধ্যে প্রাথমিক আহ্বানের তহবিলের অর্থ উঠে আসায় দাতাদের ধন্যবাদ জানান ওয়াটকিনস। রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন বলে জানান রবার্ট ওয়াটকিনস। তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়েছি। সেখানে আসলে কী ঘটছে সে বিষয়ে তার কাছ থেকে আরও স্বীকারোক্তি আশা করেছিলাম।’ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি মঙ্গলবার বলেছেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত। কিন্তু এই শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকার করে না নেওয়ায় এবং তাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি ভাষণে এড়িয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।  

 

 

 

সোয়া ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে, মিলেছে ২৭০ টন চাল-আটা

রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর এ পর্যন্ত সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন; তাদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা হিসেবে ২৭০ মেট্রিক টন চাল ও আটা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, গত ২৫ অগাস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা ৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বর্তমানে ১৪টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৫৭৫ জনের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিশ্রুত সহায়তা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ টন আটা সরকারের হাতে এসেছে।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।   হিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সরকার সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবে জানিয়ে মায়া বলেন, “ইউএনএইচসিআর খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয়সহ সার্বিক সব ধরনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএফপি আগামী চার মাস চার লাখ পরিবারের খাবার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।”

ডব্লিউএফপি ইতোমধ্যে উখিয়ার ১৪টি স্থানে ত্রাণ সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণের কাজ ‍শুরু করেছে। সেখানে তাদের ৩৬টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

আর বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট খাবার পানি সরবারহ করছে। এছাড়া ১০০টি টিউবওয়েল স্থাপন ও ৫০০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে মায়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে পুলিশ ও বিজিবি সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে ৮ ঘণ্টায় ৬৪ হাজার লিটার খাবার পানি সরবারহ করতে পারে এমন চারটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কাজ শুরু করেছে।

বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৪ লাখের অধিক মানুষকে খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি স্থানে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মায়া।

কুতুপালং এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর জায়গায় ১৪টি শেড নির্মাণের কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিক্ষিপ্তভবে কেউ যাতে ত্রাণ বিতরণ না করে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মায়া বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি আমরা মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করছি। এত বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয়দান বাংলাদেশের জন্য কষ্টদায়ক হলেও এ মানবিক সংকটের সময়ে সাময়িক সময়ের জন্য সীমান্তবর্তী কুতুপালয় ক্যাম্পের পাশে নতুন ক্যাম্পে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব সব ধরনরে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, আজারবাইজান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করায় এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করায় প্রকৃত সংখ্যা কম-বেশি হতে পারে। ৩৩ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধিত শরণার্থী উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া ক্যাম্পে বাস করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

শাহজালালে কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, বাহক লাপাত্তা

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে পরিত্যক্ত অবস্থায় কোটি টাকার সোনা পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তবে সোনা ফেলে কোন যাত্রী উধাও হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। বুধবার সকালে মালয়েশিয়া থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ থেকে দুই কেজি ওজনের ২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়। এর আগে গত সোমবার সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে আসনের ভেতরে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা মূল্যের ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। এ ঘটনাও জড়িত কাউকে আটকতো দূরের কথা সনাক্তও করতে পারেনি কাস্টমস।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, ‘বুধবার সকাল সাতটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের মালয়েশিয়া থেকে আসা বিজি ০৮৭ ফ্লাইটের ৭ই নম্বর আসনের নিচে সোনার ২০টি বার পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আসনে কোনো যাত্রী ছিলেন না। সোনার বারগুলো কালো, হলুদ ও বাদামি রঙের স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় দুটি প্যাকেটের ভেতর পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০০ গ্রাম, যার মোট ওজন দুই কেজি। যার বাজারমূল্য এক কোটি টাকা। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে অংশ নেবে সেনাবাহিনী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সেনাবাহিনীকে ডিপ্লয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সেনাবাহিনী অংশ নেবে, যোগ দেবে-এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজারে একটি আবাসিক হোটেলে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া ত্রাণ গ্রহণ শেষে সাংবাকিদের এসব কথা জানান তিনি।

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

পরে ত্রাণসামগ্রী জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে শেখ হাসিনার ৬ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে নির্যাতন বন্ধ করে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের জাতীয়তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় অপপ্রচার বন্ধ করাসহ ছয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা এই ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের অবসান দেখতে চাই। আমাদের মুসলমান ভাইদের এই দুর্দশার অবসান চাই। এই সঙ্কটের সূচনা হয়েছে মিয়ানমারে এবং সেখানেই এর সমাধান হতে হবে।”

শেখ হাসিনার ছয় দফা প্রস্তাব হল-

এক. রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।

দুই. নিরপরাধ বেসামরিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ এলাকা (সেইফ জোন) তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে তাদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

তিন. বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গা যেন নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

চার. রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পাঁচ. রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা মিয়ানমার চালাচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

ছয়. রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে না ফেরা পর্যন্ত তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হবে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোকে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৪ অগাস্ট রাতে আড়াই ডজন পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে নতুন করে দমন অভিযানে নামে।

সেনাবাহিনী কীভাবে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘরের ভেতরে আটকে রেখে কীভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, লুটপাট চালিয়ে কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায়।

ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে বক্তৃতার শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মিয়ানমারে আজ মুসলমান ভাই-বোনেরা জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখোমুখি হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চালানো সামরিক অভিযান বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।”

এ ঘটনায় এবরাই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা ব্স্তুচ্যুত হয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গত ২৫ অগাস্ট থেকে চার লাখের বেশি মানুষ মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই শরণার্থীদের ৬০ শতাংশই শিশু।

“এটা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়। আমি নিজে তাদের কাছে গেছি, তাদের মুখ থেকে , বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভয়াবহ দুর্ভোগের বিবরণ শুনেছি। আমি বলব, আপনারা সবাই আসুন, এই শরণার্থীদের মুখ থেকে শুনে যান, মিয়ানমারে কীরকম নির্মমতা চলছে।”

কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের এই দফায় আরও প্রায় চার লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে। রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

নির্যাতনের শিকার আরও চার লাখ রোহিঙ্গাকে গত তিন দশক ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়েছে। ভূমি স্বল্পতা আর সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়, খাবার আর জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে বলে বৈঠকে জানান প্রধানমন্ত্রী।  

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী’ বলে দাবি করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। অথচ ঐতিহাসিক নথিপত্র বলছে, রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে শত শত বছর ধরে।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তিন দিন আগেও তাদের সশস্ত্রবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, রোহিঙ্গা বলে কোনো জাতিসত্ত্বা মিয়ানমারে ‘কখনোই ছিল না’। যারা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছে, তারা ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’।

এ বিষয়ে মিয়ানমারের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বক্তব্যে কান না দিতে আহ্বান জানান তিনি।

রাখাইনে এবারের সহিংসতা শুরুর পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত।

কিন্তু এই শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকার করে না নেওয়ায় এবং তাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি ভাষণে এড়িয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।  

শেখ হাসিনা বলেন, “মিয়ানমার পরিকল্পিত ও সংগঠিত উপায়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বের করে দিচ্ছে। প্রথমত তারা নিবন্ধিত জাতিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়েছে। তারপর ১৯৮২ সালের আইনে তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশেই আইডিপি ক্যাম্পে পাঠিয়েছে তারা।”

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দিচ্ছে না বলে মুসলিম দেশের নেতাদের জানান শেখ হাসিনা।

“আপনারা হয়ত মিডিয়ায় দেখেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজের দেশে ফিরতে না পারে সেজন্য সীমান্তজুড়ে ভূমি মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার।”

রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় ওআইসির সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে ওআইসির যে কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

 

শরণার্থী প্রশ্নে ট্রাম্পের কাছে কী আশা করার আছে

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে, কিন্তু এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন না, কারণ শরণার্থী বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করেছেন।

জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে সোমবার নিউ ইয়র্কে এক উচ্চ পর্যায়ের সভার পর ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা হয় বলে রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে জানান শেখ হাসিনা। ‘তিনি শুধু জানতে চাইলেন বাংলাদেশের কী খবর? আমি বললাম, বাংলাদেশ খুবই ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা হল মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা। কিন্তু তিনি শরণার্থীদের বিষয়ে কিছু বলেননি।’ মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে সেনাবাহিনীর চলমান অভিযানে গতমাসের শেষ ভাগ থেকে এ পর্যন্ত চার লাখ দশ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শরণার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। সুতরাং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তার কাছে সাহায্য চাওয়া অর্থহীন। ‘যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দেশে তারা কোনো শরণার্থীকে ঢুকতে দেবে না।

তাদের কাছ থেকে আমি কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে? তিনি তো নিজের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন… তাহলে আর তার কাছে কেন সাহায্য চাইব?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়। আমাদেরই এখন ১৬ কোটি মানুষ। দেশের আয়তনও খুব কম।… যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরও ৫০০ অথবা সাত লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারব।’ এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি এও বলেছেন যে, ট্রাম্প এ বিষয়ে খুবই আগ্রহী এবং কেউ বিষয়টি সামনে আনলে তিনি অবশ্যই কথা বলবেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী বিষয়ক কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করার চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে মুসলিম প্রধান ছয় দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ওপর ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেন।

গত শুক্রবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বিস্তৃত, আরও কঠোর এবং আরও সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। কিন্তু সমস্যা হল, সেটা ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ হবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে এবং যাচাই-বাছাইয়ের আরও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া চালুর জন্যই যুক্তরাষ্ট্রে ওই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দরকার। ট্রাম্পের ওই আদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না সে বিষয়ে আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির তারিখ রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতা শুরুর আগে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস ছিল। নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত রাখার পাশাপাশি তাদের চলাচলেও ছিল কড়াকড়ি। মিয়ানমারের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই রোহিঙ্গাদের বিবেচনা করেন ‘বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে। শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি চান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে আরও চাপ দেওয়া হোক।

‘তাকে (অং সান সু চি) এটা মানতে হবে যে এই মানুষগুলো তার দেশের এবং মিয়ানমারই তাদের দেশ। তাদের উচিৎ এই মানুষগুলোকে ফিরিয়ে নেওয়া। এই মানুষগুলোকে দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।’ রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন নোবেলজয়ী সু চি। মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং তুন সোমবার রয়টার্সকে বলেন, যারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের ফেরার বিষয়টি মিয়ানমার হয়ত নিশ্চিত করবে।

কিন্তু তা হতে হবে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সেজন্য আলোচনা করতে হবে।’ জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি মিয়ানমার সরকারের প্রতি সেনা অভিযান বন্ধের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা নিশ্চত করতে এবং তাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সোমবার জাতিসংঘে যুক্তরাজ্য আয়োজিত এক সভার পর তিনি বলেন, ‘মানুষ এখনও হামলা ও হত্যার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যাদের দরকার, তাদের কাছে সাহায্য পৌঁছাচ্ছে না। নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকরা এখনও পালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি প্যাট্রিক মাফির চলতি সপ্তাহেই মিয়ানমারে যাওয়ার কথা রয়েছে।   

শেখ হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনা
নিউ ইয়র্কে এক সভার ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে কথা হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সঙ্কটে ‘বাংলাদেশের পাশে থাকার’ আশ্বাস দিয়েছেন বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের সভার ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে শহীদুল হক জানান। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। ট্রাম্পের আয়োজনেই সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘হাই লেভেল মিটিং অন ইউএন রিফর্ম’ শীর্ষক ওই সভা হয়। শেখ হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি।

অ্যান্ড উই উইল সি হাউ ইট ক্যান বি রিজলভড’।’ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে তাও ট্রাম্প জানতে চান। এ সময় শেখ হাসিনা ‘ভাল করছে’ বললে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আলোচনাতেও রোহিঙ্গা ইস্যু এসেছে। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ইন্ডিয়া অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে আছে সবসময় এবং এই সমস্যা সমাধানে হেল্প করবে।’ রোববার আবুধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একই ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান শেখ হাসিনা ও সুষমা স্বরাজ।

বিমানেও তাদের মধ্যে ‘ছোটখাট মিটিং হয়েছে’ বলে জানান শহীদুল হক। আর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মিয়ারমার থেকে যারা এসেছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে তারা (ইউএনএইচসিআর) সাহায্য করতে চায় এবং বাংলাদেশ সফর করতে চায়।’ এদিকে সোমবারই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়। চীনা, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওই বৈঠকে অংশ নেন বলে শহীদুল হক জানান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সেখানে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ যে এদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসাথে মিয়ানমারকে বলেছেন নির্মমতা দ্রুত বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রাখাইনের প্রকৃত তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে না- এমন কথা বৈঠকে বলার চেষ্টা করেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ‘তখন সবাই বলেছেন, আসলে বাস্তবতা কি সেটা আমরা সবাই জানি। আমরা ওইটা নিয়ে আলোচনা না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেইটা ফোকাস করব,’ বলেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে তারা বলেছেন, দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। অ্যাট্রোসিটিজ বন্ধ করতে হবে। মিয়ানমারের যারা পালিয়ে এসেছে, তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির দাবি।’

এদিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে, সেটা থেকে ভুটানকে সেবা দিতে পারে কি না সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নতুন যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল শুরু হল সেখান থেকে ভুটান ব্যান্ডউইথ নিতে চায়।’ সোমবার আরও দুটি উচ্চ পর্যায়ের সেশনে শেখ হাসিনা অংশ নেন। সেগুলো হল ‘হাই লেভেল মিটিং অন দ্য প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ’ এবং ‘হাই লেভেল ফলোআপ মিটিং অব গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’।

শেখ হাসিনা- আব্বাস বৈঠক
মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসাকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে ভূমিকা রাখায় সবাই শেখ হাসিনার প্রশংসা করছে বলেও বাংলাদেশের সরকার প্রধানকে বলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এ দুই নেতার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, এটা একটা দুর্যোগ।’ মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘সবাই, সর্বত্র প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) প্রশংসা করছে করছে তার মানবিক পদক্ষেপের জন্য।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানবিক সত্তা হিসেবে এ দায়িত্ব পালনের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। তবে সাময়িকভাবে আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে।’ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা চান শেখ হাসিনা। এবার এমন এক সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন বসছে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। শেখ হাসিনা প্যালেস্টাইনের প্রতি তার সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

 

 

হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

নিউ ইয়র্কে এক সভার ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সঙ্কটে ‘বাংলাদেশের পাশে থাকার’ আশ্বাস দিয়েছেন বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের সভার ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে শহীদুল হক জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। ট্রাম্পের আয়োজনেই সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘হাই লেভেল মিটিং অন ইউএন রিফর্ম’ শীর্ষক ওই সভা হয়।

এবার এমন এক সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন বসছে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।

কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের এই দফায় আরও প্রায় চার লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে। রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। অ্যান্ড উই উইল সি হাউ ইট ক্যান বি রিজলভড’।”

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে তাও ট্রাম্প জানতে চান। এ সময় শেখ হাসিনা ‘ভাল করছে’ বললে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “ভারতের সঙ্গে আলোচনাতেও রোহিঙ্গা ইস্যু এসেছে। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ইন্ডিয়া অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে আছে সবসময় এবং এই সমস্যা সমাধানে হেল্প করবে।”

রোববার আবুধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একই ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান শেখ হাসিনা ও সুষমা স্বরাজ। বিমানেও তাদের মধ্যে ‘ছোটখাট মিটিং হয়েছে’ বলে জানান শহীদুল হক।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে শেখ হাসিনা তার বক্তব্য তুলে ধরবেন; সেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকবে।

জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের এই মানবিক সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মিয়ানমার তাদের অবস্থানে অনড়। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবার জাতিসংঘ অধিবেশনেও থাকছেন না।

২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর ওইদিনই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

আর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “মিয়ারমার থেকে যারা এসেছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে তারা (ইউএনএইচসিআর) সাহায্য করতে চায় এবং বাংলাদেশ সফর করতে চায়।”

এদিকে সোমবারই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়। চীনা, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওই বৈঠকে অংশ নেন বলে শহীদুল হক জানান।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সেখানে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ যে এদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসাথে মিয়ানমারকে বলেছেন নির্মমতা দ্রুত বন্ধ করতে এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যারা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।”

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রাখাইনের প্রকৃত তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে না- এমন কথা বৈঠকে বলার চেষ্টা করেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

“তখন সবাই বলেছেন, আসলে বাস্তবতা কি সেটা আমরা সবাই জানি। আমরা ওইটা নিয়ে আলোচনা না করে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় সেইটা ফোকাস করব,” বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, “বৈঠকে তারা বলেছেন, দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। অ্যাট্রোসিটিজ বন্ধ করতে হবে। মিয়ানমারের যারা পালিয়ে এসেছে, তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির দাবি।”

এদিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোগবের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে, সেটা থেকে ভুটানকে সেবা দিতে পারে কি না সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নতুন যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল শুরু হল সেখান থেকে ভুটান ব্যান্ডউইথ নিতে চায়।”

সোমবার আরও দুটি উচ্চ পর্যায়ের সেশনে শেখ হাসিনা অংশ নেন। সেগুলো হল ‘হাই লেভেল মিটিং অন দ্য প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ’ এবং ‘হাই লেভেল ফলোআপ মিটিং অব গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’।

 

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান

করতোয়া রিপোর্ট : চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে দোষীদের অর্থদন্ড, মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত ও মিলারদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কালো তালিকাভুক্ত করা  হয়েছে। জেলা প্রশাসকের বাজার মনিটরিংয়ের ফলে কিছু জেলায় চালের দাম কমতেও শুরু করেছে।

আমাদের নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মজুতদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও খোলা বাজারে চাল বিক্রির ফলে খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে চালের দাম।  সোমবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের চাল প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা করে কমেছে। গত রোববার ওই দুই জাতের চাল বিক্রি হয়েছে প্রকার ভেদে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা দরে।  ওই চাল ৫০ থেকে ৫৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। শহরের কানাইখালী চাউলপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, আব্দুল আজিজ, আব্দুল মান্নান জানান, খুচরা বাজারে চালের দাম  ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের চাল প্রতি কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা করে কমে গেলেও ক্রেতা নেই। ফলে অধিকাংশ চালের আড়ত বা দোকানদার অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপরদিকে অটোরাইস মিল মালিক কেতাব আলী জানান, খুচরা বাজারে চালের দাম ২/১ টাকা করে কমতে শুরু করলেও ধানের বাজার এখনও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে অধিকাংশ মিলে কোন কাজ হচ্ছে না। বিদেশ থেকে চাল আমদানিও বন্ধ রয়েছে। ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায়  সরকারের নির্ধারিত দরে চাল সরবরাহের চুক্তি করেননি অধিকাংশ মিলার।

 


নাটোরে চার ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড : দাম কমা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাল দেয়নি ১৬৫ মিলার : নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

রাজশাহীতে ধান-চালের অবৈধ
মজুদ, দুই মিলকে জরিমানা

কাহালুতে ১৫৭ মিলারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

কুমিল্লায় বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন

রানীশংকৈলে শতাধিক মিল
কালো তালিকাভুক্ত

ফলে বাজারে চালের সরবরাহ কম হওয়ায় হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। এছাড়া দেশের বড় বড় কোম্পানীগুলো চালের ব্যবসা শুরু করায় সংকট দেখা দেয়।  সরকার শুল্ক বৃদ্ধি করায় ব্যবসায়ীরা আমদানি শুরু করলেও খরচ বেশি হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বন্যার খবর ভয়াবহ আকারে প্রচার হওয়ায় ভোক্তাসহ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে তারা বেশি করে চাল কিনে ঘরে মজুত করে। এতে করে সৃষ্টি হয় সংকট। তিনি বলেন সরকার বেশি দিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করাসহ বেশি করে চাল আমদানি করলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীসহ মিলাররা বাজারে চাল ছাড়তে বাধ্য হবে। এদিকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে  জেলার বিভিন্ন চাল মিল ও আড়তদারের প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় বাজার নিয়ন্ত্রক কমিটিসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে অভিযান চালিয়ে ভেজাল মিনিকেট, ওজনে কম ও মজুত করার অভিযোগে চার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এদের মধ্যে সততা রাইস মিলের মালিক রায়হান উদ্দিনের লাইসেন্স না থাকায় তার কাছে থেকে ৭০ হাজার টাকা, চৌধুরী অটোরাইস মিলের কালীপদ দাসের কাছে থেকে ওজনে কম হওয়ায় ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জাহাঙ্গীর চালকল মালিক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে থেকে ভেজাল মিনিকেট চাল বাজারজাতের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা ও মেসার্স এমএ আলমগীর চালকল মালিক আলমগীর হোসেনকে চাল মজুত, ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান। অভিযানকালে অন্যান্যের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম, র‌্যাব, ক্যাবসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম জানান  থেকে নাটোরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে প্রতি জনকে ৫ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। নাটোর শহর এলাকার জন্য ১৫ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিদিন এক হাজার কেজি করে চাল বিক্রি করবেন তারা। দু’দিনে খুচরা বাজারে  প্রতিকেজি চালে ২/১ টাকা করে কমতে শুরু করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ খাদ্যগুদামে চাল দেয়নি ১৬৫ মিলার  
আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ অভিযানে ১৬৫টি মিলের মালিক চাল সররবারহের জন্য চুক্তি করেননি। ফলে বিপুল পরিমাণ চাল থেকে গেছে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া ওই মিল মালিকদের কাছে। চাল সরবারহ না করায় এই ১৬৫ মিলারকে কালো তালিকাভুক্ত করে আগামী ২ বছর তাদের কাছ থেকে চাল না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে চলতি মৌসূমে তালিকাভুক্ত ১৯৪টি মিলারের কাছ থেকে ১৬ হাজার মট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২৯ জন মিলার চাল সরবারহের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তিবদ্ধ এসব মিলাররা এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৪০৬ মেট্রিকটন চাল খাদ্যগুদামে সরবারহ করেছেন। ফলে এবার সরকারি খাদ্য গুদামে জমা না হওয়া সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল মিলারদের কাছেই থেকে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াজুর রহমান রাজু জানান, চাল সরবারহ না করায় ১৬৫ মিল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের কাছ থেকে আগামী ২ বছর চাল না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কালো তালিকায় থাকা মিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজী হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিলার জানান, এবার ধানের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এক কেজি চাল উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ৪০ টাকারও বেশি। অথচ সরকার চাল সংগ্রহের জন্য কেজিপ্রতি ৩৪ টাকা দর নির্ধারণ করায় ব্যাপক লোকসানের আশংকায় অধিকাংশ মিলার এবার সরকারকে চাল দেয়নি। ধান-চাল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার বোরো মৌসুমের শুতেই ধানের দাম ছিলো বেশ চড়া। শুরুর দিকে ৯০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা মন দরে। এছাড়া ধানের সরবারহ কম থাকায় অনেক মিল পর্যাপ্ত চাল উৎপাদন করতে পারছে না। কাজেই চালের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তায় তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন। এছাড়া জেলার বড় বড় মিলগুলোতেও নিয়মিত যাচ্ছেন তারা।

রাজশাহীতে ধান-চালের অবৈধ মজুদ, দুই মিলকে জরিমানা
চালের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে রাজশাহী নগরীর সপুরায় বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।  সোমবার বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল। অভিযানে আসলাম রাইস মিলের কয়েকটি গুদামে এক হাজার ২৮৫ বস্তা ধানের মজুদ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া হা-মীম এগ্রো ফুড নামের একটি রাইস মিলের আরও কয়েকটি গুদামে চার হাজার ২৯ বস্তা চাল মজুদ পাওয়া গেছে। এ দুটি মিলের কোনো লাইসেন্সও নেই।

এ কারণে আসলাম রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী আসলাম তোহা এবং হা-মীম এগ্রো ফুডের ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। পরে তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদের দায়ে রাতে আসলাম রাইস মিলকে ৫০ হাজার এবং হা-মীম এগ্রো ফুডকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাইসমিল দুটির পক্ষ থেকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হলে আটক দুই জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত মজুদ করা ধান-চাল বাজারে বিক্রি করে দেয়ার জন্য মিল মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আবার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাবাসসুম ও রহিমা সুলতানা বুশরা, রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম, জেলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, বোয়ালিয়া থানা খাদ্য অফিসের পরিদর্শক মীর্জা জাকারিয়া আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তা করে পুলিশের একটি দল।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হা-মীম এগ্রো ফুড কর্তৃপক্ষ রাজশাহীতেই চাল প্রক্রিয়াজাত করে। তবে তারা চালের বস্তায় কুষ্টিয়ার মেসার্স হালিমা অটো রাইস মিলের স্টিকার ব্যবহার করে বাজারজাত করে। অন্যদিকে আসলাম রাইস মিলে পাঁচজন ফড়িয়া বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ করেন। তারা এই মিলের চাতালের শ্রমিকদের মাধ্যমেই ধান থেকে চাল প্রস্তুত করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত পাল বলেন, মিল দুটিতে তিন-চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদ করা হয়েছিল। এভাবে ধান-চালের মজুদ করার এখতিয়ার এসব মিল মালিকদের নেই। তারা অবৈধভাবেই এই বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের মজুদ করেছেন। বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির জন্য এরাও দায়ী।

রাজশাহী সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এ ধরনের মিল পরিচালনা করতে হলে সরকারি লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু হা-মীম এগ্রো ফুড ও আসলাম রাইস মিলের কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স থাকলে তাদের মজুদের তথ্য খাদ্য অফিসে সরবরাহ করতে হতো। ফলে মিল মালিকরা ধান-চালের অতিরিক্ত মজুদ করতে পারতেন না। এ জন্য তারা লাইসেন্সই করেননি।

তিনি জানান, জেলায় ৩২২টি মিলের লাইসেন্স আছে। বাকিগুলো চলছে লাইসেন্স ছাড়াই। তারা মনে করছেন, লাইসেন্সহীন চাল মিলের গুদামে অতিরিক্ত মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তাই ধান-চালের এ অবৈধ মজুদ ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে তারা সব মিলের গুদামেই অভিযান চালাবেন।
কাহালুতে ১৫৭ মিলার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা

এদিকে আমাদের কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, কাহালু উপজেলায় বোরো মৌসুমে (১ মে থেকে) চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৭ মে. টন এবং এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র  ১ হাজার ৬৭৫ মে. টন। এ উপজেলায় মোট মিলার সংখ্যা ২১৮ জন। এর মধ্যে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মাত্র ৬১ জন মিলার। তবে চুক্তিবদ্ধ মিলারের মধ্যে অনেকে তাদের সুবিধামত পার্শ্ববর্তী উপজেলা খাদ্যগুদামেও  চাল বিক্রি করেছে। অপরদিকে খাদ্য অধিদফতর থেকে কাহালু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে; যেসব মিলার সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হননি তারা আগামী ৪ মৌসুম সরকারকে কোন চাল দিতে পারবে না। আর যারা চুক্তিবদ্ধ হয়েও চাল দেননি তারাও আগামী ২ মৌসুম কোন চাল দিতে পারবেন না। কাহালু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, সরকারি এ নিষেধাজ্ঞার কথা উপজেলার চুক্তিবদ্ধ না হওয়া ১৫৭ জন মিলারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কাহালু খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ২ হাজার ৫শ’ মে. টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কাহালু খাদ্যগুদামে  সোমবার দুপুর পর্যন্ত চালের মজুত ছিল ১ হাজার ১৮ মে. টন। এদিকে কাহালুতে সরকারকে চাল না দেয়ার অভিযোগে কোন মিলারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম মওলার সাথে কথা বলা হলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান।

কুমিল্লায় বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসন
কুমিল্লা থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, অস্থির কুমিল্লার চালের বাজার। প্রতিদিনই চালের বাজারে এই অস্থিরতা বাড়ছেই। অস্বাভাবিক হারে চালের দাম বৃদ্ধিতে কুমিল্লার খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। চাল ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটসহ নানা অজুহাতে দিন দিন বেড়েই চলছে চালের দাম। এই অস্থির চালের বাজারকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বাজার মনিটরিং করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। সোমবার নগরীর রাজগঞ্জ বাজার ও রাণীর বাজারের ৭টি চালের আড়ত এবং বিসিক শিল্প এলাকায় একটি চাল কারখানায় কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদারের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির সালেহ ইমন, কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি আবু ছালাম মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। মনিটরিং চলাকালে চালের বাজার অস্থির হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কোন কারণ আসলে আমরা খুঁজে পায়নি। আমরা খুচরা দোকানিদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে চালের পাইকারি ও আমদানি কারকদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়।

রানীশংকৈলে শতাধিক মিল কালো তালিকাভুক্ত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মিল মালিকরা খাদ্য গুদামে চাল বিক্রি করার চুক্তি না করায় খাদ্য অধিদফতর শতাধিক হাসকিং মিলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।  খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, রাণীশংকৈল উপজেলায় ২৭৬টি হাসকিং মিল রয়েছে। চালের বাজার উর্ধমুখী হওয়ায় চলতি বোর মৌসুমে ১৫৬টি মিল মালিক সরকারের সাথে চাল বিক্রির চুক্তি করেননি। ১২০টি মিল মালিক জামানত দিয়ে চুক্তি করলেও তারা অনেকেই চাল দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। নেকমরদ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, যারা চুক্তিবদ্ধ করেছে তাদের চাল ক্রয়ের জন্য হাসকিং মিলে মিলে গিয়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি সভাপতি আইনুল হক মাষ্টার বলেন, বাজারে চালের মূল্য বেশি হওয়ার কারনে এবার মিল মালিকরা সরকারের সাথে চাল বিক্রির চুক্তি করেননি। তারা অনেকেই চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। সরকার চালের প্রতি কেজি মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৪ টাকা। বাজারে চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা। কেন মিল মালিকরা লোকসান দিয়ে সরকারকে চাল দিবে। আপনার মিল মালিকরা কি পরিমান চাল মজুত করেছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাদের তেমন বড় ব্যবসায়ী নেই, তবে কয়েকজন মিল মালিক চাল মজুত করেছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিখিল চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, যারা সরকারের সাথে চাল বিক্রির জন্য চুক্তি করেননি তারা আগামি ২ বছর খাদ্য গুদামে চাল বিক্রি করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজাম্মান এ প্রতিনিধিকে বলেন, যারা চাল বিক্রির চুক্তি করেননি তারা ২ বছর, আর যারা চুক্তি করেও চাল খাদ্য গুদামে দেবে না তারা ১ বছর সরকারের সাথে ব্যবসা করতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত গুদামে চাল মজুত করেছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৩০ দিন পর্যন্ত নিজস্ব গুদামে চাল রাখতে পারবেন। এর বেশি দিন হলে তা ভোক্তা অধিকার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জাতিসংঘ অধিবেশনে ২১ সেপ্টেম্বর ভাষন দেবেন প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক: আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষন দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘মূল কারণগুলো’ তুলে ধরে তা নিরসনে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষন দেবেন বাংলায়। ভাষণ দেওয়ার পর ওইদিনই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে শেখ হাসিনা রোববার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় নিউ ইয়র্ক পৌঁছান। জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রবাসীরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলেও জড়ো হন। এবারের নিউ ইয়র্ক সফরে শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা এ হোটেলেই থাকছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর চলবে সাধারণ বিতর্ক, যেখানে এই বিশ্ব সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এবার এমন এক সময়ে বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের এই দফায় আরও প্রায় চার লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে।

রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের এই মানবিক সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মিয়ানমার তাদের অবস্থানে এখনো অনড় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের অভ্যর্থনা: যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে সমাবেশ করেছে প্রবাসে দলটির নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সময় রোববার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তর্র্রা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্বাগত-সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা এখন বিশ্ব-মানবতার নেতায় পরিণত হয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনও এখন তাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করছে। দল-নিরপেক্ষ বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতির কারণেই বিএনপি পাততাড়ি গুটিয়েছে। এটি শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের বিজয়।

 

 

কূটনৈতিক পন্থায় রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান চায় বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টির উসকানি রোধ করতে হবে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলছেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সামরিক নয়, কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বাসী। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে  সোমবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যাটি জাতিগত, কোনো ধর্মীয় সমস্যা নয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে পুনর্বাসনই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করার জন্য দেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করনে জাসদ সভাপতি ইনু।তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সামরিক নয়, কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বাসী। দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির সাথে আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় তথা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে পাচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যুদ্ধকে আমরা সমাধান মনে করি না।

কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।ইনু বলেন, মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফলে উদ্ভূত উদ্বাস্তু সমস্যাকে কূটনৈতিক মুন্সিয়ানার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া মানবিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এ সমস্যার সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক কর্মকান্ড গুলোর কথাও জানান। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, অন্যের সমস্যা আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা বর্ডার বন্ধ করে দিয়ে এ সমস্যা এড়াতে পারতাম। কিন্তু মানবতা ও মনুষ্যত্বকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে আমরা সমস্যাটা গ্রহণ করেছি, কারণ মানবিক সংকট নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার রাজনীতি করে না। অন্যরাও এ নিয়ে রাজনীতি করবেন না- সেটাই একান্ত কাম্য। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ইনু বলেন, এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্ব এবং জাতিসংঘ যে ব্যাপক তৎপরতায় কাজ করছে তা খালেদা জিয়া দেখতে পারছেন না বা দেখতে চাচ্ছেন না। জঙ্গিদমন আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা ব্যবহার করাই তার চক্রান্ত। এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, কোনো সমাধান তার কাম্য নয় বরং রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সরকারকে ঘায়েল করার এক চক্রান্তের জাল বোনার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া। সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ খুঁজছেন তিনি। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার ছাড়াও তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট স্বাধীন আরাকান রাজ্যই সমাধান: হেফাজত

স্বাধীন আরাকান রাজ্য গঠনের মাধ্যমেই কেবল রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব বলে মনে করে হেফাজতে ইসলাম। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশে মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন। দুপুর ১২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে থেকে হেফাজতে ইসলামের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী মিছিল করে গুলশানে মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের আটকে।

পুলিশের বাধার মুখে সংগঠনের নেতারা শান্তিনগর মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নুর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ আর সামনে যেতে না দেওয়ায় সেখান থেকে সংগঠনের ছয়জন নেতা মিয়ানমার দূতাবাসে গিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। স্মারকলিপিতে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে ফেরত নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সোমবার দুপুরে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার দূতাবাসে গিয়ে প্রোটোকল অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। এরপর ঢাকাস্থ জাতিসংঘের কার্যালয়ে গিয়ে আরেকটি স্মারকলিপি দেয় প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন মাওলানা শাহ আতাউল¬াহ, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, মাওলানা হাকীম আব্দুল করীম, মাওলানা আজীজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা মুনীর হোসাইন কাসেমী ও মুফতী জাকির হোসাইন কাসেমী। এর আগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট সড়কে সমাবেশ করে হেফাজত। এরপর  মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও করতে মিছিল নিয়ে  শান্তিনগর পৌঁছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল¬ামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে নির্মম গণহত্যা চলছে, তা ইতিহাসের সব বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ধিক্কারের পরেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা তাদের নিষ্ঠুরতা বন্ধ করেনি। তাই রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সরকারকে কূটনৈতিকভাবে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। কূটনৈতিক পথে সফলতা না এলে আরাকানকে স্বাধীন করার জন্য সামরিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে দেশের মানুষ সরকারের পাশে থাকবে। মাওলানা শাহ আতাউল¬াহ বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্মম গণহত্যা বন্ধ না হলে আরাকান স্বাধীন করতে জিহাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’ মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, সরকারকে এই গণহত্যার প্রতিবাদে বন্ধ করে দিতে হবে মিয়ানমার দূতাবাস। মাওলানা আজীজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘মিয়ানমারের সামরিক জান্তারা এ যাবত একাধিকবার  বাংলাদেশের আকাশ সীমা লংঘন করেছে। সরকার এ বিষয়ে তেমন কোনও পদক্ষেপ না নিয়ে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি প্রদর্শন করেছে।

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘সন্ত্রাসী বাবার সন্ত্রাসী মেয়েই হচ্ছেন অং সান সু চি, তার বাবাও  রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলা খেলে গেছেন। অং সান সু চির এই হোলি খেলা বন্ধ না হলে আরাকান  স্বাধীন করতে এদেশের মুসলমানেরা মিয়ানমার যেতে প্রস্তুত রয়েছে। মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ করতে না পারলে সরকার আমাদের অনুমতি দিক। আমরা  এদেশের গণমানুষ দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে আরাকান স্বাধীন করতে জিহাদে যেতে প্রস্তুত আছি। মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি রাশিয়া, চীন ও ভারতকে ভয় করবেন না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এদেশের জনগণ আপনার সঙ্গে আছে।

রিলিফ দেয়ার ফাঁদে জঙ্গিবাদে জড়ানো ঠেকাতে নজরদারি

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২শ’ রোহিঙ্গাকে আটক করে নির্ধারিত শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক জানিয়েছেন। সোমবার পুলিশ সদর দফতরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের স্বার্থেই শরণার্থী শিবিরে থাকতে বলা হচ্ছে দাবি করে আইজিপি বলেন, ‘অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গাদের বিপথগামী করার চেষ্টা হতে পারে।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরের বাইরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করার পর অনেকেই বিরূপ সমালোচনা করেছেন। তবে যা কিছু করা হচ্ছে, তাদের স্বার্থেই করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কে এম শহীদুল হক বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের বিপদে ফেলতে পারে। ত্রাণ বিতরণের নামে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধও করতে পারে। সে কারণে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যক্তি, দেশীয় ও বিদেশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভূখন্ড কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকান্ডে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে প্রতিবেশী দেশে হামলা করার সাহসও কেউ পাবে না। তা বরদাস্ত করা হবে না। রিলিফ দেওয়ার নামে যাতে কেউ কাউকে মোটিভেট করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও রয়েছে। আর যে-ই রিলিফ দিতে যাক না কেন তাদেরকে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী রিলিফ দিতে হবে। শহীদুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বিদেশি, অন্য দেশের নাগরিক। এদেশে থাকার কোনও বৈধ কাগজপত্র তাদের নেই। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, মানবিক কারণে তাদেরকে বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যাতে তাদের আইডি কার্ড দেওয়া যায়। ডাটাবেজ তৈরি করা যায়। বাইরে থাকলে তো আর এটা করা যাবে না। তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।’

দুর্গাপূজা ও আশুরায় কড়া নিরাপত্তা : সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা ও  শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখেই দুর্গাপূজা ও আশুরা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন থাকবে বিজিবি ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা ও আশুরা। আইজিপি বলেন, ‘মানুষ নিরাপত্তা বোধ করছেন বলেই এ বছর পূজামন্ডপের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জন, একই দিনে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই যেন নির্বিঘেœ পালিত হয়, সে জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি যেন না হয়, সেজন্য দুই সম্প্রদায়ের নেতাদেরকে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।’ তিনি জানান, এবার তাজিয়া মিছিলের নিশানার লাঠি ১২ ফুটের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া ব্যাগ, পোটলা, ছুরি, কাঁচি এসব মিছিলে নিয়ে যাওয়া যাবে না। যে কেউ মিছিল নিয়ে হোসনি দালান এলাকায় ঢুকতে পারবে না বলেও জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক।

চাল মজুদ, প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা : সংবাদ সম্মেলনে চাল মজুদদারদের কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘দেশে এ নিয়ে থাকা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌসসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত তিন সপ্তাহে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। এরপর রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দফতর থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা শিবিরের বাইরে যেতে পারবে না, তাদের শিবিরের বাইরে বাসা ভাড়া দেওয়া বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে শিবিরের বাইরে দেখা গেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধও জানানো হয় ওই নির্দেশনায়।

 

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; যেখানে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটের ‘মূল কারণগুলো’ তুলে ধরে তা নিরসনে বাংলাদেশের প্রস্তাব তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

রোববার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন সেখানে তাকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দরে উপস্থিত প্রবাসীরা এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তারা ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলেও জড়ো হন।

এবারের নিউ ইয়র্ক সফরে শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীরা এ হোটেলেই থাকবেন।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর চলবে সাধারণ বিতর্ক, যেখানে এই বিশ্ব সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।

এবার এমন এক সময়ে বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গার পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছেন।

কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের এই দফায় আরও প্রায় চার লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে।

রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের এই মানবিক সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মিয়ানমার তাদের অবস্থানে অনড়।

রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানকে মিয়ানমার সরকার বর্ণনা করছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে। এমনকি রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও তারা রাজি নয়।

এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও সমালোচিত হচ্ছেন। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও তিনি এবার জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন না।

দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা বলে কোনো জাতিসত্ত্বা মিয়ানমারে কখনোই ছিল না। সুতরাং বিদেশি সংস্থাগুলো যা বলছে তাতে কান দেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের উচিৎ হবে না এবং এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  

অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার রাখাইনের ঘটনাপ্রবাহকে চিহ্নিত করেছেন ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে।

জাতিসংঘের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শরণার্থী সঙ্কট এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুতর আকার ধারণ করেছে।

“লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দিতে এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সঙ্কটের মুখোমুখি।”

তিনি জানান, এই সঙ্কটের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট প্রস্তাব তিনি জাতিসংঘে উপস্থাপন করবেন।

গত বছর অক্টোবরে রাখাইনে সেনা অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনর প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের কথাও বাংলাদেশের প্রস্তাবে থাকবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

গত ২৪ অগাস্ট সু চির হাতে তুলে দেওয়া আনান কমিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব না পাওয়ায় এবং নিদারুণ বৈষম্যের কারণে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন রাজ্যে মুসলমান রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। তাদের ওপর বলপ্রয়োগের পথ ছেড়ে মিয়ানমার সরকারকে যৌক্তিক সমাধানের পথে আসতে হবে।

কফি আনান ওই প্রতিবেদন দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমার সরকার। এরপর নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল চলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সকল রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সাধারণ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন এই বিশ্ব সংস্থার রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সঙ্কট যে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, জাতিসংঘ মহাসচিবও সে কথা বলেছেন।

জাতিসংঘ অধিবেশন সামনে রেখে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, মিয়ানমার যে এখনও অনেকখানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, তা বেশ স্পষ্ট। আর রাখাইনে যা ঘটছে, তা সেনাবাহিনীর কারণেই ঘটছে।

মিয়ানমারের নেত্রী এখনই সেনা অভিযান বন্ধের উদ্যোগ না নিলে তা ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।  

২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর ওইদিনই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তার আগে ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত ‘জাতিসংঘ সংস্কার’ বিষয়ক এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।

‘গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ বিষয়ক এক ফলোআপ বৈঠকেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ওইদিন।

১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। অন্যান্য দেশের নেতারাও সেখানে থাকবেন।

একই দিনে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে ‘উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ফর লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে যোগ দেবেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ও কমনওয়েলথের বর্তমান চেয়ার-ইন অফিস মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকেট আয়োজিত কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। পরে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ের প্যালেস হোটেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

রাতে নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট স্কয়ারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অয়োজিত একটি সংবর্ধনা সভাতেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

তিনি ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ‘এসডিজি ইমপ্লিমেন্টেশন, ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড মনিটরিং: শেয়ারিং ইনোভেশনস থ্রু সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রাইয়াঙ্গুলার কো-অপারেশন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। ইউএনডিপি ও ইউএন অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

একই দিনে ‘ক্রিয়েটিং এ পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফাইন্যান্স: ফ্যাসিলিটেটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজিস শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত একটি মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেবেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে ইথিওপিয়ার প্রতিনিধিদল আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনাতেও সেদিন যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া এবং মহাসচিবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের একটি প্যানেলের চতুর্থ বৈঠকে তিনি যোগ দেবেন। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ফাঁকে বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

সেদিন সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এই সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফর শেষে ২২ সেপ্টেম্বর তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সেখানে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

সূচি অনুযায়ী ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

অবৈধ চাল মজুদকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ

অবৈধভাবে চাল মজুদকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন অবৈধভাবে চাল মজুদকারীদের প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার সচিবালয়ে অটোমিল মালিক অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে মজুদকারীদের জন্য চালের দাম বাড়ছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চালের অবৈধ মজুদ পেলেই মালিককে গ্রেফতার করতে হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে চাল সংকট কাটাতে দেশের কোথায় এবং কোন গুদামে চাল মজুদ আছে সে বিষয়টি জানতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী। একপর্যায়ে বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে আব্দুর রশিদের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া ও নওগাঁয় তার চালের মিল ও গুদাম আছে। সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার গুদামে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত চাল মজুদের প্রমাণ পায়। এসময় তাকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাণিজ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়ার এডিসি ও নওগাঁর ডিসি এবং দুই জেলার এসপির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের বলেন, রশিদের মতো লোকরে কোন আইনে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি অতিরিক্ত চাল মজুদ করে যে অপরাধ করেছেন তাতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। এ মুহূর্তে আবারও তার গুদামে অভিযান চালান। সেখানে মজুদ করা অতিরিক্ত চাল ও ধান জব্দ করে তাকে গ্রেফতার করুন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একইভাবে আমি সব জেলার ডিসিদের সঙ্গে ফোনে কথা বলব। যেখানে চালের গুদাম আছে সেখানে অভিযান চালানো হবে। অতিরিক্ত মজুদ রাখলে মিল মালিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে। কারণ তারা সিন্ডিকেট করে বাজারে চাল সংকটের গুজব ছড়িয়েছে। তারাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ষড়যন্ত্র করছে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা ষড়যন্ত্র করছেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সব মিল মালিক অ্যাসোসিয়েশন, আমদানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যদি প্রমাণ হয় আব্দুর রশিদ ও লায়েক আলীর অ্যাসোসিয়েশন চাল সংকটের জন্য দায়ী, তবে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।

ওএমএসের চালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার খোলা বাজারে বিক্রির (ওএমএস) চালের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৩০ টাকা করেছে সরকার। ঢাকা মহানগরীতে চালের পাশাপাশি আগের দামেই অর্থাৎ ১৭ টাকা কেজিতে আটা বিক্রি হবে। আর ঢাকার বাইরে জেলা শহরে বিক্রি হবে শুধু চাল। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বদরুল হাসান রোববার এতথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগে ওএমএসের চালের দাম ২৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫ টাকায় করা হয়। অনেক দিন হয়ে গেছে, চালের দামও বেড়েছে। আকাশ-পাতাল পার্থক্য তো রাখা যায় না। বেশি পার্থক্য থাকলে লিকেজের সম্ভাবনা রেড়ে যায়, নানান রকমের সমস্যা হয়। রোববার থেকে সারা দেশে ওএমএস চালু হওয়ার কথা থাকলেও সব জায়গায় চালু হয়নি। বদরুল হাসান বলেন, আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে সব জায়গায় ওএমএস চালু হবে। ৬২৭টি ট্রাক থেকে ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রি করা হবে জানিয়ে বদরুল হাসান বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ১২০টি ট্রাকে করে চাল ও আটা বিক্রি করা হবে, প্রতি ট্রাক থেকে দুই টন আটা ও এক টন চাল বিক্রি করা হবে। ঢাকার বাইরে বিক্রি হবে শুধু চাল। ওএমএসের প্রতি কেজি চালের গুদাম মূল্য সাড়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ওএমএসে আগের মতোই ১৫ টাকা কেজিতে চাল এবং ১৭ টাকা কেজিতে আটা বিতরণ করা হবে। কিন্তু এই কর্মসূচি চালুর দিন দ্বিগুণ দামে চাল বিক্রি করছে সরকার।

কুষ্টিয়ায় রশিদ চালকলে অভিযান
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, দেশের বড় চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস নামের চালকলে যৌথ অভিযান চালিয়েছে বাজার  মনিটরিং টিম। রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার খাজানগরে অবস্থিত রশিদ এগ্রো ফুড মিলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। হাবিবুর রহমান জানান, নিয়মিত বাজার মনিটরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের চালকলে এ অভিযান চালানো হয়। এদিনের মতো অভিযান শেষ হয়েছে। তবে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ চালকলের মালিক আবদুর রশিদ বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি। দেশের মিনিকেট চালের প্রধান জোগান যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর মোকাম থেকে। ওইখানে অন্তত ৩১টি অটো রাইস মিল আছে। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় এক শ ট্রাক (প্রতি ট্রাকে ১৫ টন) চাল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। যার সিংহভাগ (প্রায় ৩০ ট্রাক) মিনিকেট চাল শুধু রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্ট সরবরাহ করে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে কুষ্টিয়া জেলা টাস্কফোর্স টিম বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদের কুষ্টিয়ার খাজানগরে অবস্থিত রশিদ এগ্রো ফুডের গোডাউনে অভিযান চালায়। এ সময় অভিযানে গোডাউনে অতিরিক্ত ধান মজুদের প্রমান মেলায় তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাকে সর্তক করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুনরায় রশিদ এগ্রো ফুডে অভিযান চালায় বাজার মনিটরিং টিম।

রাজধানীতে কলেজছাত্রীসহ ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীর বাড্ডায় কর্মচারীর হাতে আবুদল আউয়াল (৪৫) নামে এক ফার্মেসি মালিক খুন হয়েছেন। রোববার দুপুরে বাড্ডার সাঁতারকুল  রোডের ‘লিভা মেডিক্যাল স্টোর’ নামের ওই ফার্মেসিতে এ ঘটনা ঘটে।  বাড্ডা থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) কামারুজ্জামান জানান, কর্মচারী ফখরুল ধারালো ছুরি দিয়ে মালিক আব্দুল আউয়ালকে আঘাত করে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মচারী ফখরুলকে আটক করা হয়েছে। কি কারণে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন- তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

৬ জনের অস্বাভাবিক মুত্য : রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে তাসলিমা সুলতানা ইভা (৪৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী মোঃ  মনিরুজামানকে জিজ্ঞাসাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। মিরপুর থানার এসআই আতিকুর রহমান জানান, রোববার দুপুর সোয়া ২ টার দিকে নিহতের বড় বোন তাহমিনা আকতারের সনাক্ত মতে   পূর্ব মনিপুরের ১১৬৮ নম্বর ৫ তলা বাড়ির তিন তলার দক্ষিন পাশের ফ্লাটের ড্রইং রুমের মেঝে থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের মাথার তালুর উপরের সামনের অংশে রক্তাক্ত কাটা জখম ছিল এবং গালের ডান পাশে ছোলা জখম ও মুখের ডান পাশে রক্ত নির্গত হতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারনা, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের ইমরান (৭) ও ইহান (৫) নামে দুই সন্তান রয়েছে। তার পরিবার দাবি করছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর নিহতের স্বামীর দাবি, সে আত্মহত্যা করেছে। রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে মতিউর রহমান (৫৪) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার সহকর্মীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন বলে জানালেও স্বজনরা বলছেন তাকে হত্যা করা হতে পারে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর উপজেলার তাড়াইল গ্রামের মৃত মানিক মোল্লার ছেলে। গুলশান থানার এসআই বেলাল হোসেন জানান, মতিউর রহমান গুলশানে পিসট্রিম সিকিউরিটি কোম্পানীতে চাকরি করতেন। থাকতেন ক/৪২/সি কালাচাঁদপুর এলাকার একটি মেসে। শনিবার সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সকাল সাড়ে ১১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়ি পাঠানোর জন্য কফিনবন্দি করা হয়। এ অবস্থায় নিহতের ভাতিজা তৌহিদুর রহমান তার চাচার মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ তোলেন।

তিনি পুলিশকে বলেন, ঈদের আগেও বেতন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। কোন কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ অবস্থায় পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে শনিবার দিনগত গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।  মর্গ সুত্র জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে নিহতের হার্ট ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকার ফাঁসি দিয়ে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তার নাম ঝুনু রানী পাল (২২)। 

রুপনগর থানার উপ পরিদর্শক  (এসআই) আলমগীর কবির জানান, পরিবারের সঙ্গে রূপনগরের শিয়ালবাড়ি ৬ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন ঝুনু রাণী। তার বাবার নাম নিখিল চন্দ্র পাল। রোববার দুপুর ২টার দিকে পরিবারের লোকজনের অগোচরে ঝুনু রানী তার রুমে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁসি দেন। পরে পরিবারের লোকজন খবর দিলে পুরিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠায়। ঝুনু লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ইংরেজী বিভাগের  অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তবে কি কারনে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে পরিবার পুলিশকে কোন ধারণা দিতে পারছে না।  

এদিকে শনিবার রাতে মিরপুর বেরিবাঁধে সড়ক দুর্ঘটনায় শাকিব (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার বাবা আহসান হাবীব জানান, শাহ আলী থানার নবাবেরবাগ এলাকার ১৫১/২ নম্বর বাসায় থাকেন তারা। শাকিব শনিবার রাত ৮টার দিকে মিরপুর বেরিবাঁধে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই রাতে ক্যান্টনমেন্ট-বিমানবন্দরের মাঝামাঝি স্থানের রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে সজিব মোল্লা (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। রোববার ঢাকা রেলপথ থানার পুলিশ তার মৃত ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক পাঠায়। সজীব যমুনা ব্যাংকের গুলশান শাখায় পিয়ন পদে চাকরি করতেন। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকতেন।

স্ত্রীর পরকীয়া, স্বামীর আত্মহত্যা : রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীর পরকীয়া সইতে না পেরে মাসুম মিয়া (২৩) নামে এক যুবক ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠিয়েছে। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে গেছেন স্বজনরা। নিহতের মামা এনামুল জানান, মাসুম মিয়া খিলক্ষেত লামাপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। গত তিন বছর আগে নাদিয়া আক্তার নদী নামে এক তরুনীকে বিয়ে করেন। নদী ও মাসুম দুজনেই কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ পলিটেকনিক থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে লেখাপড়া শেষ করেছেন। বাসায় বসে তারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতেন। এনামুলের অভিযোগ, নদীর সঙ্গে অন্য এক ছেলের পরকীয়া ছিল। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে কয়েকদিন আগে নদী তার বাবার বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় চলে যান। এদিকে শনিবার দুপুরে খালি বাসায় মাসুম ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার দাবি, নদীর কারণেই মাসুম আত্মহত্যা করেছে। তিন বছর আগে প্রেম করে তারা বিয়ে করেছিল।

 

দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর

দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রুটে নতুন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। শনিবার রেলভবনে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, বর্তমান সরকার রেল খাতকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্যই বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে আমরা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী আরো বলেন, রেল খাত এগিয়ে চলছে। এই রেললাইন নির্মিত হলে পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে দেশি ও বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই রেললাইন দ্বারা বাংলাদেশ ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়েতে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে মোট ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদ ৩ বছর।

প্রকল্পটি দুটি লটে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম লটে কাজ হবে দোহাজারী থেকে চকরিয়া পর্যন্ত। এর কাজ পেয়েছে যৌথভাবে চায়নার সিআরইসি ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। প্রথম লটের চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় লটে চকরিয়া থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত। এ অংশের কাজ পেয়েছে যৌথভাবে চায়নার সিসিইসিসি ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। দ্বিতীয় লটের চুক্তি মুল্য ৩ হাজার ৫০২ কোটি ৫ লাখ ২ হাজার টাকা।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০২ কিলোমিটার নতুন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এতে ১৮৪টি ছোট-বড় সেতু, ৯টি স্টেশন বিল্ডিং, প্লাটফরম ও শেড নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সমুদ্রের ঝিনুকের আদলে কক্সবাজারে একটি আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ হবে।

এ দুটি লটের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান ও প্রথম লটে চায়নার সিআরইসির প্রতিনিধি, দ্বিতীয় লটের সিসিইসিসির প্রেসিডেন্ট।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

পৃথক ঘটনায় বন্দির মৃত্যু ছুটি শেষে কর্মস্থলের পথে, অতঃপর লাশ

রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রেললাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ফারুক (২৬) নামে এক যুবক। ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি রংপুর থেকে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় আসার পর শনিবার সকাল ৯ টার দিকে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। এক বছর আগে বিয়ে করা ফারুক বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ৪৭৬ নম্বর বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকা রেলপথ থানার এসআই রবিউল ইসলাম জানান, সকালে কুড়িল বিশ্বরোডে রেললাইন পার হওয়ার সময় কমলাপুরগামী একতা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে মারা যান ফারুক। তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে তার ভাই আকমল হোসেন শাহীন মৃতদেহ নিয়ে গেছেন। নিহত ফারুক রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাহামুদপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। তার স্ত্রী নাম রোজিনা। একবছর আগে বিয়ে করে সে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ফারুক ছোট।

কারাবন্দির মৃত্যু : ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে জলিল ওরফে পাগলা জলিল (৫৫) নামে এক বন্দিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল ও কারাগার সূত্র জানায়, জলিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ)  বন্দি ছিলেন। তার বন্দি নম্বর (২৫৮৭৪/১৭)। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত কারণে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারাকর্তৃৃপক্ষ ঢামেক হাসপাতালে পাঠালে রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থে সবার সহযোগিতা চান ওবায়দুল কাদের

‘সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভক্তি সৃষ্টি করছে’ বিএনপির মহাসচিবের এমন অভিযোগ নাকচ করে দলটির সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা করতে বিএনপির সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা আছে এমন প্রমাণ আমরা এ পর্যন্ত পাচ্ছি না। তারা এ সমস্যাকে জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে বিবেচনা করে তার সমাধানে কতটা আন্তরিক, সেটা আগে দেখতে হবে।

শনিবার আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপিই বিভক্তির সৃষ্টি করছে’ এমন পাল্টা অভিযোগ তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা ২০ দিন পরে ত্রাণ নিয়ে কক্সবাজার গেল। ত্রাণের ট্রাক সাজিয়ে মিডিয়াকে কল করেছে। মিডিয়াকে নিয়ে তারা ওই (কক্সবাজার) দিকে যাবেন। কিন্তু কোনো নিয়ম মানবেন না। তারা তো প্রশাসনের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করেনি। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে কাউকে বাধা দেয়া হচ্ছে না দাবি করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ত্রাণ প্রদানে নিয়ম মেনে গেলে কোনো বাধা দেয়া হবে না।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি লন্ডনে বসে কয়েকটি দেশের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। লন্ডনে বসে কথা বলছেন, কিন্তু দেশে আসার তারিখ বারবার পরিবর্তন করছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান যদি জাতীয় সমস্যা বিবেচনা করেন, দেশে থেকে সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবেন না? তিনি বিদেশে বসে কথা বলছেন, যেখানে দেশের বাস্তবতা তিনি বুঝতে পারছেন না। জাতীয় স্বার্থে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, সারা দুনিয়ায় শেখ হাসিনার প্রশংসা দেখে তাদের (বিএনপি) গাত্রদাহ হচ্ছে। সারা দুনিয়া বলে এক কথা, আর বিএনপি বলে আরেক কথা। চীনা কমিউনিষ্ট পর্টির আমন্ত্রনে ১৯ সেপ্টেম্বর চীন যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। আসন্ন চীন সফর নিয়ে আলোচনা করতে এই সভায় আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের চীন সফরে রোহিঙ্গা নিয়ে আলোচনা হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দল কাদের বলেন, যে বিষয়ে আলোচনা জাতিসংঘে হচ্ছে সেই আলোচনা তো এখানে অবশ্যই আসবে। আর চীন বিষয়টি অস্বীকারও করেনি। তার প্রমাণ হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বসম্মতভাবে বিবৃতি দিয়েছে। মিয়ানমারকে রাশিয়ার সমর্থনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার বিবৃতি নিয়ে শেষ কথা বলার এখনো সময় আসেনি। রাশিয়া ইন্টারফেয়ারের কথা বলেছে। আমি আমার দেশে কারো ইন্টারফেয়ার চাইব?

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শাম্মী আহমেদ, আফজাল হোসেন, অসীম কুমার উকিল, দেলোয়ার হোসেন, শ ম রেজাউল করিম, শামসুন্নাহার চাঁপা, বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার, নজিবুল্লাহ হিরু, রিয়াজুল কবির কাওছার, উপাধ্যক্ষ রেমণ্ড আরেং প্রমুখ।



Go Top