রাত ১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

সংসদ রিপোর্টার : ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরও দুই বছরের জন্য স্থগিত করছে সরকার।  বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিয়ে যেহেতু নানা ধরনের কথা হচ্ছে, এটা আগের মতোই থাকবে। ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে আবগারি শুল্ক কমছে। ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক ১ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আগে যেখানে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হতো, এখন তা ১৫০ টাকা করা হবে। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত যেটা বাজেটে ৮০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা ৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের পক্ষে অনড় ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সব পণ্য বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট গত ১ জুন সংসদে প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট আইন নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় মুহিতকে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং জনসাধারণের উদ্বেগের মধ্যে সরকারের শেষ সময়ে এসে ভ্যাট আইন কার্যকরের বিরোধিতা আসে সরকারি দলের নেতা এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্য থেকেও। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দুই বছর আগে এই ভ্যাট আইন কার্যকর না করতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে  বুধবার বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসায়ীরা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। সেভাবেই করে দেবেন, আগামী দুই বছরের জন্য। বর্তমান পদ্ধতিতেই ভ্যাট আদায় বজায় রাখবেন। সংসদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রীকে। ফলে ২০১২ সালে প্রণীত ভ্যাট আইনটি আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার আমলে আর কার্যকর হচ্ছে না। বিশাল বাজেটের খরচ মেটাতে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে কর ও শুল্ক হিসেবে আদায়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর। এর মধ্যে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিলেন তিনি। ফলে এখন তার পরিকল্পনা দৃশ্যত বাধাগ্রস্ত হল।

বক্তৃতায় শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মূসক আইনটি ১৯৯১ সালে করা, ২০০৮ সালে সংশোধনের জন্য খসড়া তৈরি হয়। সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেই আইনটি আমরা করে দিই ২০১২ সালে। এখন সবাই ভুলেই গেছে যে আইনটি আমরা পাস করে দিয়েছিলাম। এই ভ্যাট আইনটি কার্যকর করে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা এক বছর পিছিয়ে দিয়েছিল  সরকার, এখন আরও দুই বছর পেছাল। এখন ব্যবসায়ীরা বিক্রির অনুপাতে ভ্যাট দিচ্ছেন না, যা নতুন আইনে দিতে হবে। এখন তারা বাৎসরিক নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক ভ্যাট হিসেবে দিচ্ছেন। নতুন আইনে ভ্যাটের হিসাব বের করা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য দুষ্কর হবে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে ভোক্তা সংগঠন ক্যাব বলছিল, ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে গেলে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়বে এবং তাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্রেতারা।

অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে আগে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত ছিল।  এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী তা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আবগারি শুল্ক নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আমি অর্থমন্ত্রীকে এই বিভ্রান্তি দূর করে আরো পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। তিনি বলেন, আমি অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছি, আবগারি শুল্ক ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি পর্যন্ত তিনটি স্তর করার। এখানে  শুল্ক যাতে আর না বাড়ে অর্থমন্ত্রী সে ঘোষণা দেবেন।  ১ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পযর্ন্ত আগে যেখানে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হতো, এখন তা ১৫০ টাকা করা হবে এবং ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পযর্ন্ত যেটা বাজেটে ৮০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা ৫০০ টাকা করা হবে।

সরকারের ব্যাংকঋণ সীমার মধ্যে থাকবে
বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে না বলে বেসরকারি খাতকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বরাবরেই সরকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় এই আশ্বাস দেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ঋণের যে সীমা, তার মধ্যেই থাকবে। বাড়তি ঋণ সরকার নেবে না, ফলে আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এটা আমি কথা দিতে পারি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ধারের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকারকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা করা হয়। পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য মূল বাজেটের ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয় সংশোধিত বাজেটে।

 

রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী

পরিবার-পরিজন ও প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। রেল, বাস ও লঞ্চে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তবে বাসের তুলনায় রেলেই স্বস্তিতে ফিরছেন যাত্রীরা। ফিরতি পথে এখন পর্যন্ত যাত্রীদের কাছে ভোগান্তির তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।  বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কমলাপুর রেল স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকেই ঈদ কাটিয়ে কর্মজীবীরা ঢাকা ফিরতে শুরু করেছেন। দিনাজপুর থেকে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী শিমুল ইসলাম  বলেন, অনেক কষ্টভরা মন নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম। এতো তাড়াতাড়ি ঈদের ছুটি শেষ করে ঢাকায় ফিরতে ভালো লাগছে না। কিন্তু অফিস খুলে যাওয়ায় ফিরে আসতে হয়েছে। রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী সুমন মিয়া  বলেন, পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ কাটানোর মজাই আলাদা। কিন্তু এখন সব আনন্দের কথা ভুলে কর্মস্থলে যেতে হবে, তাই ঢাকায় চলে এলাম। এখন শুধু অপেক্ষা, আবার কবে কোরবানির ঈদে বাড়ি যাব। ঈদের ফিরতি যাত্রা সম্পর্কে কমলাপুর রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় এসেছে। এর মধ্যে ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে মোট ২১টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রওনা দিয়েছে। বুধবার মোট ৬৩টি ট্রেন কমলাপুর রেল স্টেশনে যাত্রী আনা-নেওয়া করবে বলেও জানা যায়। আগামী শুক্রবার (৩০ জুন) ও শনিবার (০১ জুলাই) ফিরতি যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে। এ সম্পর্কে কমলাপুর রেল স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী  বলেন, আমরা যেভাবে নিরাপদে যাত্রীদের পৌঁছে দিয়েছি একইভাবে নিরাপদে যাত্রীদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। ঈদের আগে যেসব স্পেশাল ট্রেন চলেছে সেগুলো এখনও চলাচল করছে। আশা করি কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই যাত্রীরা ঢাকায় আসতে পারবেন।

মানব পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের অবনমন

করতোয়া ডেস্ক: মানব পাচার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনমন ঘটেছে, যার কারণ হিসেবে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগী না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন’ শীর্ষক বার্ষিক এই প্রতিবেদনে গত পাঁচ বছর বাংলাদেশকে রাখা হয়েছিল দ্বিতীয় স্তরে (টায়ার-টু)। এবার এক ধাপ নামিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় স্তরের ‘নজরদারিতে থাকা দেশের’ তালিকায় (টায়ার-টু ওয়াচ লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৌদি আরব, আলজেরিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও হয়কংসহ৪৫টি দেশ এই নজরদারির তালিকায় রয়েছে। আর চীন, রাশিয়া ও ইরানকে এবার রাখা হয়েছে মানব পাচার পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাজে দেশের স্তুরে, অর্থাৎ টায়ার থ্রিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ২০১৫ সালে যৌনকর্মী হিসেবে মানব পাচারের ১৮১টি এবং শ্রম ক্ষেত্রে মানব পাচারের ২৬৫টি ঘটনার তদন্ত হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু গতবছর তদন্তের সংখ্যা কমে যথাক্রমে ১২২ ও ১৬৮টি হয়েছে। মানব পাচারের অপরাধে ২০১৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে শাস্তির তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সাতটি, ২০১৪ সাল ছিল ১৮টি।প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের জন্য যথেষ্ট জনবল না দেওয়ায় এবং তাড়াহুড়ো করে মামলা শেষ করার প্রবণতার কারণে বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই মানবপাচারের মামলাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। সরকার মানবপাচার বন্ধে আইন ও একটি কর্মপরিকল্পনার খসড়া করলেও আগের বছরের তুলনায় এক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে  বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে রিক্রুটিং ফি আদায় না করে তা চাকরিদাতার কাছ থেকে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি পাচারের শিকার মানুষের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা পাচারে জড়িত, তাদের তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, লেবার ইনস্পেক্টর ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

হলি আর্টিজানে হামলায় চার্জশিট শিগগিরই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অভিযোগপত্র খুব শিগগির দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।  বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার এক বছর হতে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই দিনটি আমাদের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আমরা বুঝতে শিখেছিলাম, এই জঙ্গিরা কী চায়, কী তাদের উদ্দেশ্য, কারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, কারা অর্থায়ন করেছে। সবই খুব সূক্ষ্মভাবে দেখেছি। সেই জন্য অভিযোগপত্র দিতে একটু সময় নিয়েছি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে নির্ভুল অভিযোগপত্র দেব। কোনো ত্রুটি ছাড়া অভিযোগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং খুব শিগগির অভিযোগপত্র দিতে পারব।

গুলশান হামলার এক বছরের মাথায় এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, একটি নির্ভুল অভিযোগপত্র’ দেওয়ার চেষ্টা থেকেই তাদের কিছুটা সময় লাগছে।তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করি, একটি নির্ভুল চার্জশিট আমরা দেব। যেহেতু শুধু আমাদের বাংলাদেশি নয়, বন্ধু প্রতীম দেশ জাপান, ইতালি, ইন্ডিয়া এবং আমেরিকার নাগরিকরা এখানে শাহাদত বরণ করেছেন, আহত হয়েছেন; কাজেই কোনো ভুল ছাড়া, কোনো ত্রুটি ছাড়া চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা আমরা নিয়েছি। গত বছর ১ জুলাই রাতে কূটনৈতিক পাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে একদল জঙ্গি। তাদের ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ দেন।পরদিন সকালে সেখানে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী পাঁচ তরুণ ও ক্যাফের এক পাচক নিহত হন।

গাড়িতে গ্যাস বন্ধে চরম দুর্ভোগ

গাড়িতে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে রাস্তায় নেমে বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে মানুষকে। ছুটির পর এই সময়ে ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা এমনিতেই কম থাকে। তার মধ্যে গ্যাসের অভাবে বুধবার সকাল থেকে অটোরিকশার সংখ্যাও কম দেখা গেছে। আগের রাতে গ্যাস নিতে পারায় সকালে যারা অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছেন, তারাও বেশি ভাড়া হাঁকছেন। ফলে লম্বা দূরত্বের যাত্রীদের পকেট থেকে বেশি টাকা যাচ্ছে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টা স্টেশনগুলো বন্ধের ঘোষনা দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে দেওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অধীনে থাকা সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন এই ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ২৩ জুন থেকে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত সব সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার কথাও জানানো হয়।

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়া এবং বাড়ি থেকে ফেরার সুবিধার জন্য সরকার ২৪ ঘণ্টা পাম্প খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ঈদের একদিন পরেই ২৪ ঘণ্টা ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত দিল। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংঘর্ষিক। অবশ্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলছেন, যেসব গাড়ি সিএনজিতে চলে, সেগুলো তেলেও চালানো যায়। ফলে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এবারের ঈদ যাত্রা সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক : ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন সরকারই নির্বাচনের সময়ে সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবেই নির্বাচন পরিচালিত হয়, বাংলাদেশেও সেই ভাবেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকবে তারা নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবে। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, শেখ হাসিনার সরকারের ভূমিকা হবে সহায়ক সরকারের। এ সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এবারের ঈদ যাত্রা নিকট অতীতের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। সড়ক মহাসড়কের অবস্থা ছিল ভাল। রেল যাত্রাও অনেক ভাল ছিল। এমনকি নৌরুটে যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। তিনি বলেন, যাত্রার আগেই ঈদে ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘেœ বাড়ি পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বিগত বছরের মতো যাত্রীদের যানজটে পড়তে হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হয়নি।

 

ঈদের ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কর্মব্যস্ত রাজধানী এখন ফাঁকা। নেই কোনো যানজট, নেই মানুষের কোলাহল। জ্যামে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো, সেখানে নেই ট্রাফিক সিগনাল। তাই অচেনা ফাঁকা শহরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছেন অনেকে। ঈদের ছুটিতে অনেকে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর প্রতিটি বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের দখলে এখন এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলো। রাজধানীর রমনা পার্ক, হাতিরঝিল, মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, বলধা গার্ডেন, ধানমন্ডি লেক, সায়েদাবাদের ওয়ান্ডারল্যান্ড, সংসদ ভবন চত্বর, শেরেবাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেক, চন্দ্রিমা উদ্যান, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বসুন্ধারা সিনেপ্লেক্সসহ সব বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন লোকে লোকারণ্য।ঈদের দিন সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর রাজধানীর রমনা পার্ক। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছেন পার্কে। দল বেধে অনেকে পার্কে ঘুরছেন। পার্কের নির্মল আবহাওয়ায় অনেক শিশুকে খেলা করতে দেখা গেছে।

ঈদের দিন সকাল থেকেই শাহবাগের কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক রয়েছে শিশুদের দখলে। অনেক বাবা-মা সন্তানকে নিয়ে এসেছেন পার্কে। রাইডে রাইডে চড়ে আনন্দে মেতে উঠেছে শিশুরা।মিরপুর থেকে বাবা-মা’র সঙ্গে শিশুপার্কে ঘুরতে এসেছে স্কুলছাত্র তাসনিম। তাসনিমের বাবা আবু রাসেল বলেন, ‘ঈদে রাস্তা ফাঁকা, যানজট নেই। ছেলে আগে থেকেই ঈদের দিনে শিশুপার্কে আসার বায়না ধরেছে। তাই ছেলেকে নিয়ে আসলাম। এখানে নানা রাইডে চড়ে আনন্দ করছে। ছেলের সঙ্গে আমরাও আনন্দ করছি।’পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা খন্দকার আব্দুল¬াহ খালেক। দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে নিয়ে রমনা পার্কে ঘুরতে এসেছেন। তিনি জানান, সারা বছর নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই ঈদের ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে রমনা পার্কে ঘুরতে এসেছি।নতুন বিয়ে করেছেন খলিলুর রহমান। ঈদের দিনে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন জাতীয় সংসদ এলাকায়। তিনি জানান, ‘অফিসের কাজে বাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই স্ত্রীকে নিয়ে একটু ঘুরতে আসলাম। ওর অনেক দিনের ইচ্ছা এখানে আসবে। ঈদের ছুটিতে তাই এলাম।বসুন্ধরা সিনেপে¬ক্সসহ রাজধানীর সিনেমা হলগুলোতে  টিকিট শেষ হয়ে গেছে। ঈদের এই ছুটিতে সিনেমা দেখছেন অনেকে।মিরপুর চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টারগুলোয় সকাল ১০টার আগেই থেকে দর্শনার্থীদের লাইন শুরু হয়ে যায়। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় পশুপাখীর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দনপার্ক হাজারো দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নগরজীবনের কোলাহল থেকে একটু বিনোদনের আশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন এখানে। এখানকার রাইডগুলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। বিভিন্ন বয়সীরা উপভোগ করেছেন তাদের পছন্দসই রাইড। ওয়াটার কিংডমেও ছিল উপচেপড়া ভিড়।

কুয়াকাটার পর্যটকদের ভিড়
ঈদের দিন শেষ হওয়ার পরমুহূর্তেই কুয়াকাটার সাগরপাড়ে পর্যটকদের পদচারণা বেড়েছে স্বাভাবিকের থেকে কয়েক গুণ। ঈদের ছুটিতে বাড়িফেরা মানুষ ও স্থানীয় পর্যটকদের ভিড়ে সমুদ সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বেলাভূমি সমুদ”সৈকত কুয়াকাটা যেন নতুন করে ফিরে পেয়েছে প”াণচাঞ্চল্য। কুয়াকায়াটায় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে ও নিরাপত্তায় সকল প্রস্তুতি আগে থেকেই নিয়ে রেখেছিল ব্যবসায়ীমহল ও স্থানীয় প”শাসন। সাগরপাড়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনি আর হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের আতিথেয়তা কুয়াকাটায় আসা পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। বাতাসের সাথে সাগরের উত্তাল ঢেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলছে। পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে কুয়াকাটার খাবার হোটেলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনাবেচার ধুম পড়েছে। তবে খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে পর্যটকদের। এদিকে অধিকাংশ হোটেল, মোটেলের রুম আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় সদ্য কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভালো রুম পেতে কষ্ট হচ্ছে।

সারাদেশে শান্তিপূর্ন পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে সোমবার সারাদেশে শান্তিপূর্ন পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। উচ্ছ্বাস আর আনন্দে ঈদ উদযাপন করছে বাংলাদেশের মুসলমানরা; উগ্রবাদের হুমকি ছাপিয়ে ঈদে এসেছে শান্তি আর সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে। বড় কোনো অঘটন ছাড়াই ঈদের দিনটি শান্তিতে কেটেছে বাংলাদেশে। এই উৎসবে মুসলমানদের সাথে অন্যান্ন ধর্মের মানুষও অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এই আনন্দ হোক সবার ঘরে ঘরে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে জাতীয় কবি নজরুলের গানের সুরে ‘দোস্ত-দুশমন’ ভুলে, সব ধর্মের মানুষ ‘হাতে হাত মিলিয়ে’ হয়েছে এবারের ঈদ উৎসব। রাজধানীর ৮০ লাখের মত মানুষ এবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গ্রামে গেছেন। তিন দিন সরকারি ছুটির আগে শুক্র-শনির সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তির অভিযোগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

ঈদের দিন প্রত্যুষে সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশের কোটি কোটি মুসলমান সোমবার সকালে ঈদগাহে কিংবা মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছেন। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়। সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ এ জামাতে অংশ নেয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সকাল সাড়ে ৯টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিচারপতি এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। সারা দেশে এবার নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঈদের আনন্দ প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক, সেটাই তার সরকার চায়। বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বেলা ১১টায় বনানীতে দলের কার্যালয়ে একসঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বেলা ১২টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এবার ঈদে বাংলাদেশের মানুষের মনে ‘আনন্দ নেই’। ঈদযাত্রার পথে দুর্ঘটনা-দুর্ভোগ আর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে ঈদে ‘উৎসবমুখর পরিবেশ এবার ছিল না’। ঈদ উপলক্ষে সোমবার দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, সেইফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো ঈদের আগে-পরে কয়েক দিন ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ঈদের শুভেচ্ছা
দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সমাজ গঠনে ঈদুল ফিতরের আবেদন চিরন্তন। সোমবার ঈদের সকালে বঙ্গভবনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় স্ত্রী রাশিদা খানম ও পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সংসদের প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও মসিউর রহমান, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন বাংলাদেশে ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরি, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার ইয়াসুজা গুনাসেকারাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চ পদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারাও বঙ্গভবনে এসেছিলেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

দেশ গড়তে সকলের সহযোগিতা চাই: প্রধানমন্ত্রী
সারা দেশে এবার নির্বিঘেœ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঈদের আনন্দ প্রত্যেকের ঘরে ঘরে পৌঁছে যান, সেটাই তার সরকার চায়। সোমবার সরকারি বাসভবন গণভবনে সর্বস্তরের মানুষ, দলীয় নেতা-কর্মী এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন । প্রস্তাবিত বাজেট আগামী অর্থবছরে জনগণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন করছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর ক্ষধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা, চার জাতীয় নেতা,স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মা-বোনদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জনগণের খাদ্য, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গৃহায়ণ ও একটি সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জনসাধারণের জন্য গণভবনের গেট খুলে দেওয়া হয়। ঈদের নামাজ শেষে সর্বস্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্যরা ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও বাণিজ্য সংগঠনের নেতা এবং ভিক্ষুক ও ছিন্নমূলসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী পরে পৃথক কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর মিষ্টি: যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা হিসাবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. সাইফুজ্জামান শিখর, প্রটোকল অফিসার এস এম খুরশিদ-উল-আলম ও সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস সোমবার বিকালে সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে ঈদের এসব উপহার মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। এ সময় কেন্দ্রের মুক্তিযোদ্ধারা ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীতে তাদের জন্য বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তারা। বিশেষ দিবসগুলোতে তাদের জন্য খবর পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

খালেদা জিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
দেশের মানুষ এবার আনন্দ নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর কারণ হিসেবে সারাদেশে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর শোক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আকাশচুম্বি চালের দাম এবং ঈদে ঘুরমুখো মানুষের যাত্রাপথের ভোগান্তির কথা বলেন তিনি। সোমবার ঈদের দিন দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সর্বস্তরের নাগরিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মুসলমানদের জন্য ঈদ অত্যন্ত আনন্দের। কিন্তু এই ঈদে আমাদের কারো মধ্যে আনন্দ নেই, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। উৎসবমুখর পরিবেশ এবার ছিলো না। রমজান মাসে চালের দাম ছিল সর্বকালের রেকর্ড পরিমাণ। এই বছর নিম্নমানের চালের দামও এতো বেশি যে, সাধারণ গরিব মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারেনি। প্রতিটি জিনিসের দাম অতিরিক্ত বেশি। তারপর আবার বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই অবস্থায় ঈদ কতটুকু আনন্দ দিতে পেরেছে? পারেনি। সামগ্রিকভাবে মানুষের হাতে এখন ‘অর্থ নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, টাকা শুধু একটা শ্রেণির কাছে আছে- যারা সরকারের সঙ্গে, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। তারা এবার ঈদের জন্য কেউ ব্যাংককে, সিঙ্গাপুরে, কেউ কলকাতা-দিল্লিসহ বিভিন্ন জায়গায় শপিং করেছেন। আর সাধারণ মানুষ হয়ত ঈদের কাপড়-চোপড়ও কিনতে পারেনি। বাজেটে সবক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং ব্যাংকের আমানতের ওপর অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন বেগম জিয়া। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন করলে কোনোদিনই ভোট সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ হবে না। আমরা মনে করি, সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলে জনগণ ভোটকেন্দ্রে আসতে পারবেন, নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন এবং একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, যুক্তরাজ্যের হাই কমিশনার অ্যালিসন ব্লেক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের সেমাই-জর্দা-মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শিক্ষাবিদ এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক ইউসুফ হায়দারসহ বিএনপিপন্থী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জেবেল রহমান গাণি, শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ অন্যরাও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসেছিলেন।
জিয়া ও কোকোর কবর জিয়ারত : ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে খালেদা জিয়া প্রথমে শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং পরে বনানীতে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় বিএনপির সিনিয়র নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক এ মাঠে ঈদুল ফিতরের ১৯০তম জামাত পরিচালনা করেন মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ। নামাজ শেষে জঙ্গিবাদের নির্মূল কামনা ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগের সব ঈদে মাঠের পশ্চিম প্রান্তের ঈদগাহ জামে মসজিদের খোলা দোতলায় মুসল্লিদের দিকে মুখ করে ইমাম খুতবা পাঠ ও মোনাজাত করে এলেও এবার নিরাপত্তার কারণে মসজিদের নিচতলায় নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে জামাত পরিচালনা করেন মাওলানা মাসঊদ। এর ফলে মাঠে অবস্থানরত মুসল্লিরা তাকে দেখতে পাননি। আনুমানিক দুই লাখের বেশি মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন। গত বছর ঈদুল ফিতরে সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনাটি মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৮ প্লাটুন বিজিবি, ২০ প্লাটুন এপিবিএনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যা ব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এছাড়া মাঠে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি করে। প্রবেশ পথগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও আটটি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে মাঠের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাঠে প্রবেশের পূর্বে লম্বা লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রত্যেক মুসল্লিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে আর্চওয়ে দিয়ে মাঠে প্রবেশ করানো হয়। শোলাকিয়া মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে তিনটি, ৩ মিনিট আগে দুইটি এবং ১ মিনিট আগে একটি শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসুল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়। মোনাজাতের আগে সংক্ষিপ্ত বয়ানে জঙ্গি হামলাকারীদের সন্ত্রাসী ও দুস্কৃতিকারী আখ্যায়িত করে মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসঊদ বলেন, তাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কখনো জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের লাখো আলেমের একসাথে ফতোয়া প্রদান সারা বিশ্বে নজীরবিহীন ঘটনা। এর আগে জামাত শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ির কারণে মুসল্লিদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।  

 

ভ্যাট বদলাচ্ছে না আগামী দুই বছর

ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরও দুই বছরের জন্য স্থগিত করছে সরকার। বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিয়ে যেহেতু নানা ধরনের কথা হচ্ছে, এটা আগের মতোই থাকবে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের পক্ষে অনড় ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সব পণ্য বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট গত ১ জুন সংসদে প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট আইন নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় মুহিতকে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং জনসাধারণের উদ্বেগের মধ্যে সরকারের শেষ সময়ে এসে ভ্যাট আইন কার্যকরের বিরোধিতা আসে সরকারি দলের নেতা এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্য থেকেও।

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দুই বছর আগে এই ভ্যাট আইন কার্যকর না করতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা আহ্বান জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। সেভাবেই করে দেবেন, আগামী দুই বছরের জন্য। বর্তমান পদ্ধতিতেই ভ্যাট আদায় বজায় রাখবেন।”

ফলে ২০১২ সালে প্রণীত ভ্যাট আইনটি আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার আমলে আর কার্যকর হচ্ছে না। বিশাল বাজেটের খরচ মেটাতে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে কর ও শুল্ক হিসেবে আদায়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর।

এর মধ্যে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিলেন তিনি। ফলে এখন তার পরিকল্পনা দৃশ্যত বাধাগ্রস্ত হল। বক্তৃতায় শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “মূসক আইনটি ১৯৯১ সালে করা, ২০০৮ সালে সংশোধনের জন্য খসড়া তৈরি হয়।

“সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেই আইনটি আমরা করে দিই ২০১২ সালে। এখন সবাই ভুলেই গেছে যে আইনটি আমরা পাস করে দিয়েছিলাম।” এই ভ্যাট আইনটি কার্যকর করে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা এক বছর পিছিয়ে দিয়েছিল  সরকার, এখন আরও দুই বছর পেছাল।

এখন ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভিত্তিতে ভ্যাট দিয়ে আসছেন। যে সুবিধা আরও অন্তত দুই বছর পাচ্ছেন তারা।

 

সরকারের ব্যাংকঋণ সীমার মধ্যে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে না বলে বেসরকারি খাতকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরেই সরকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় এই আশ্বাস দেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ঋণের যে সীমা, তার মধ্যেই থাকবে।

“বাড়তি ঋণ সরকার নেবে না, ফলে আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এটা আমি কথা দিতে পারি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।” ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ধারের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকারকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা করা হয়।

পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য মূল বাজেটের ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয় সংশোধিত বাজেটে।

 

ধামরাইয়ে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় রোগীসহ নিহত ২

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন চালকসহ আরও চারজন। ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার সাহা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী এলাকায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।

পরিদর্শক দীপক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল তার স্বজনরা।

“বাথুলী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রোগী ও এক স্বজন মারা যান।” এ দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হলে তাদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান পরিদর্শক দীপক।

 

রাজধানীতে হোটেল থেকে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ভাটারায় স্টার আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভাটারা থানার এসআই জিয়াউর রহমান জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলেও এসআই জিয়াউর রহমান জানান।

 

 

রাজধানীতে ঈদের শেষ সময়ের কেনাকাটা জমজমাট

ঈদের ছুটির শুরুতে গ্রামের উদ্দেশ্যে হাজারো মানুষ রাজধানী  ছাড়লেও শেষ সময়ের কেনাকাটায় জমজমাট রাজধানীর মার্কেটগুলো। অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত-সবখানেই ক্রেতা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেটগুলো ছিল সরগরম। পোশাক থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দোকানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে অনেক বিপণিবিতানের তুলনায় ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতেতুলনামূলক বেশিভিড় দেখা যায়। দুপুরে নিউ মার্কেট ও গাউছিযা মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের সামলাতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের।

গাউছিয়া মার্কেটের ‘কটন ওয়ার্ল্ডের’ বিক্রয়কর্মী আদিল বলেন, ‘বিক্রি বেশ হচ্ছে। শেষদিকে তো সবসময়ই কাস্টমার বেশি থাকে।’ সেখানকার শামীমা ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপক হানিফ বলেন, ‘মাসের শুরুতে তেমন বেচতে পারিনি। এখন খুশি। ক্রেতাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি।’ নিউ মার্কেটে মেয়েদের পোশাকের দোকান বর্ণালী ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক নাসির হোসেন বলেন, ‘বিক্রি চলছে ভালো, তবে গত শুক্রবারের চেয়ে একটু কম। সবাই তো এখন বাড়ি চলে যাচ্ছে, তাই হয়ত কাস্টমার এতটা আসছে না।’ তবে নিউ মার্কেট ও গাউছিয়ার ভিতরের দোকানের তুলনায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছিল তীব্র ভিড়। ফুটপাতে ১০০ টাকায় মেয়েদের ব্যাগ বিক্রি করছিলেন হাসান। তিনি বলেন, ‘বিক্রি ভালো হচ্ছে, দামও কম রাখছি। এতদিন তো ভাবছিলাম বৃষ্টিতে বিক্রিটা যাবে শেষ হয়ে।’ ফুটপাতের আরেক বিক্রেতা কাইয়ুম বলেন, ‘১৫০ টাকায় কাপড় বেচতেছি, চালান দামে।

যত বেশি বেচা যায় ততই লাভ।’ এই এলাকায় কেনাকাটা করা ফরহাদ হোসেন জানান, গ্রামের বাড়ী ঝিনাইদহে যাওয়ার আগে চলতি পথেই কিছু কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন তিনি। থাকি আজিমপুর, বাসে উঠব গাবতলী থেকে। বৃষ্টি, ব্যস্ততাসহ নানা ঝামেলায় আসা হয়নি। এখন সব কিনে নিলাম। এলিফ্যান্ট রোডে পোশাকের ব্র্যান্ড ওয়েস্টিনের শো-রুমের ব্যবস্থাপক ইমরান বলেন, ব্যান্ড কলারের কাতুয়া শার্ট ও ক্যাজুয়াল শার্ট বিক্রি হচ্ছে বেশি। বিক্রি ভালই হচ্ছে। শেষ শুক্রবার তো, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। এলিফ্যান্ট রোডে কেনাকাটা করা কামরুন নাহার বলেন, ঈদ এবার ঢাকাতেই করতে হবে। তাই একটু দেরিতেই কেনাকাটা করতে আসলাম। আজ জ্যাম ছিল না একদম, স্বস্তিতে আসা গেছে। একই অবস্থা দেখা যায় বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সেও। বসুন্ধরার পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও অলঙ্কারের দোকানগুলোতে দুপুরের পর থেকেই তীব্র ভিড় হয়। ক্রেতাদের সামলাতে বেশ ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে প্রায় সব দোকানের বিক্রয়কর্মীদের। সেখানকার অ্যাপেক্সের শো-রুমের বিক্রয়কর্মী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপচেপড়া ভিড় যেটা বলেন, সেটা তো দেখতেই পারছেন। অনেক কাস্টমার আসছে।’ বসুন্ধরায় পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা উজ্জ্বল হাসান বলেন, ‘পরিবারের সবাই ব্যস্ত। সবার একসাথে সময় মিলছিল না। আজ তাই সবাই মিলে কেনাকাটা করলাম, কাল তো বাড়িই চলে যাব।’

ঈদের শেষ কেনাকাটায় টুপি, জায়নামাজ, আতরের দোকানে ভিড়

রোজা ২৯টি হলে ঈদ হবে সোমবার, আর রোজা ৩০টি হলে ঈদ হবে মঙ্গলবার। তবে ঈদ যেদিনই হোক শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ভিড় বেড়েছে টুপি, জায়নামাজ ও আতর দোকানগুলোতে। দেশ-বিদেশের বাহারি টুপির পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।  শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, জামা-কাপড়ের মতো টুপির দোকানগুলোরও বেশিরভাগই দখল করে আছে বিদেশি পণ্য। পাশাপাশি জায়নামাজ এবং আতরের বাজারও রয়েছে বিদেশি পণ্যের দখলে। নতুন নতুন ডিজাইন আর কম দামের কারণে বিদেশি টুপির চাহিদা বেশি বলে অভিমত বিক্রেতাদের। এছাড়া ভালো মানের দেশি টুপি সবই রফতানি হয়ে যায় বলে বিদেশি পণ্যের প্রসার অব্যাহত আছে বলে মনে করেন তারা।

এ বছর দেশের বাজারে পাকিস্তান ও চীনে তৈরি টুপির চাহিদা বেড়েছে। রাজধানীর বায়তুল মোকররম মসজিদ মার্কেট, গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, কাঁটাবন মসজিদ মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ মার্কেটসহ ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি টুপি, জায়নামাজ ও আতর। ডিজাইন, কাপড়ের বৈচিত্র ও কম দামের কারণে পাকিস্তান ও চীনের তৈরি টুপির চাহিদা বেশি। এছাড়া বিক্রির দিক দিয়ে বাংলাদেশ, তুরস্ক, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া থেকে আসা টুপিও বেশি। ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দামের টুপি বিক্রি হচ্ছে ডিজাইন ভেদে। পাকিস্তানের বুগিজ ও স্টোন টুপি চোখে পড়বে প্রতিটি দোকানে। এসব টুপি পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। চীনা টুপির দাম ১৮০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। তুরস্ক থেকে আসা টুপি মিলছে ৩০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। সৌদি আরবের টুপি পাওয়া যায় ২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। বাংলাদেশে তৈরি টুপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের আল মোত্তাকিম হাউজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আলামিন বলেন, মানুষ এখন নতুন নতুন ডিজাইনের টুপি পরতে চায়। মূলত এ কারণে চীনা ও পাকিস্তানি টুপির চাহিদা বেশি। এছাড়া তুর্কি টুপি, পাগড়ি টুপি, গোল টুপি, জালি টুপিও বিক্রি হচ্ছে বেশি। কেন বিদেশি টুপি বেশি বিক্রি হয় এমন প্রশ্নের জবাবে ইসলাম টুপি হাউজের বিক্রয়কর্মী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে পাকিস্তানের বুগিস, স্টোন টুপি, মালয়েশিয়ার বেলবেট মাহতির টুপি, ইন্ডিয়ান বুরি টুপির চাহিদা বেশি। বিদেশি টুপি প্রতি বছর নতুন নতুন ডিজাইনে আসে। ডিজাইনের ভিন্নতা যেমন আছে, তেমনি দাম খুব বেশি না। আর ভালো মানের দেশি টুপি তো সবই রফতানি হয়ে যায়,আমাদের লোকাল মার্কেটে সেসব পণ্য আসে না। শুধু টুপি নয়, জায়নামাজের বাজারও বিদেশি পণ্যের দখলে। নকশা ও কাপড়ের ধরন ভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা দামের জায়নামাজ পাওয়া যায়। পাকিস্তান,তুরস্ক ও সৌদি আরবের জায়নামাজ বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। এছাড়া চীন, ভারত, বেলজিয়াম,সিরিয়ার তৈরি জায়নামাজ পাওয়া যায় বাজারে। জায়নামাজ সিঙ্গেল ও ডাবল এই দুই প্রকারের ভেদে দামের ভিন্নতা থাকে। দেশি সুতি কাপড়ের জায়নামাজ ১০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তুরস্কের আইডিন কোম্পানির জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার টাকায়। পাকিস্তানি জায়নামাজ ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, ভারত ও বেলজিয়ামের তৈরি জায়নামাজ পাওয়া যায় ৫ হাজার টাকার মধ্যে। সিরিয়ার ভেলভেট কাপড়ের তৈরি জায়নামাজ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের ইসলাম কালেকশন হাউজের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, নরম ও দেখতে সুন্দর জায়নামাজের প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশি। দেশি সুতির জায়নামাজের চাহিদাও আছে। তবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মখমল ও ভেলভেট কাপড়ের তৈরি জায়নামাজ বেশি চলে। এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সুবাসের আতর বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আতর যত পুরনো হয় দাম তত বেশি। দুবাই, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কম্বোডিয়া, ভারত, বুলগেরিয়া থেকে বেশি আতর আসে। এছাড়া দেশি আল মীম, সুলতান, কেপিপি, স্কয়ার, আলিফ নামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশি আতরও বিক্রি হচ্ছে। আতর ছাড়াও বাহারি ডিজাইনের আতরের দানি (বোতল) পাওয়া যায়। কাচ ছাড়াও বিভিন্ন ধাতু মিশ্রণে তৈরি এসব আতরদানি বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, বিভিন্নভাবে প্রস্তত হয় আতর। এর মধ্যে রাসায়নিকভাবে তৈরি আতরের দাম তুলনামূলকভাবে কম।১০০ মিলিলিটারের বোতলে ম্যাডার রোজ আতর ১ হাজার ৬০০ টাকা, লর্ড ১ হাজার টাকা, সিলভার ১ হাজার ৭০০ টাকা, ইগুবস দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কম্বোডিয়ান আগর আতর তোলাপ্রতি (এক তোলায় ১১.৬৬ গ্রাম) ৬৪ হাজার টাকা, ভারতের চন্দনকাঠের তৈরি আতর তোলাপ্রতি ৪ হাজার টাকা, গোলাপের আতর তোলাপ্রতি ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় আতর পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। সিলেটের আগর গাছ থেকে তৈরি আতর বিক্রি হয় তোলাপ্রতি ৩ থেকে ৭ হাজার টাকায়।বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটের খুশবু কালেকশনের বিক্রেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, আতরবেশি আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। স্টাইল উদ, হাটকরা উদ, হোয়াট উদ, আগর, আম্বার, দরবার, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোজ আইটেমের চাহিদা বেশি। দুবাইয়ের হোয়াট উদ ৬ হাজার টাকা আর আগর বিক্রি হয় ৩২ হাজার টাকা তোলা। আতরের মান ও ধরন ভেদে দামের ভিন্নতা থাকে।

 

জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা, তল্লাশির পর প্রবেশ

জাতীয় ঈদগাহ ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।   শনিবার জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহে আসার সময় প্রত্যেককে তল্লাশির মধ্যে দিয়ে আসতে হবে।’ এছাড়া ঈদ জামাতে যাওয়ার সময় জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু না নিতে সবাইকে অনুরোধও করেন তিনি। পুলিশের তল্লাশির সময় জায়নামাজ দেখতে চাওয়া হলে সবাইকে সহযোগিতা করতেও অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশ জানায়, জাতীয় ঈদগাহে ৮৪ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এর মধ্যে পাঁচ হাজার নারীরও ঈদ জামাতে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ জামাত ঘিরে জাতীয় ঈদগাহে থাকবে চারস্তরের নিরাপত্তা। ঈদগাহের এক কিলোমিটার দূরে থাকবে তল্লাশি চৌকি। বিভিন্ন স্থানে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার ও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। ঈদগাহের চারপাশে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশ এবং সাধারণ পোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড থাকবে নিরাপত্তার দায়িত্বে। জাতীয় ঈদগাহে থাকবে তিনটি প্রবেশ পথ। এর মধ্যে একটি নারীদের জন্য, একটি সাধারণের জন্য এবং অন্যটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য। নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা।’ কোনো ধরনের জঙ্গি হুমকি নেই বলেও আরেক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।
আছাদ্জ্জুামান মিয়া বলেন, ঢাকা মহানগরে ছোট-বড় অন্তত পাঁচশ ঈদ জামাত হবে। সবগুলো জামাত ঘিরেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সোম অথবা মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। বরাবরের মত এবারও ঈদের প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। তবে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় হবে ঈদের প্রধান জামাত। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।

ঈদযাত্রা: দক্ষিণের পথে জট, উত্তরে ধীরগতি

করতোয়া ডেস্ক : ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া যানবাহনের চাপে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট। সড়কে নির্মাণকাজের কারণে উত্তরের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশেও যানবাহন চলছে ধীরগতিতে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু থেকে বাউশিয়া পর্যন্ত সড়কে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যানজট রয়েছে। তবে মাওয়ার পথে যানবাহনের সংখ্যা সে তুলনায় অনেক কম।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. হাসেম উদ্দিন বলেন, গতকাল সকাল থেকে গাড়ির চাপ বাড়ায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী যানের সংখ্যাই বেশি।
ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গাড়িকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতি সেতু পার হতে হয়। চার লেনের সড়কের পর দুই লেনের সরু সেতুতে টোল আদায়ে বেশি সময় লাগায় সৃষ্টি হয় যানজট। এর মধ্যে কোনো গাড়ি বিকল হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করে।
ঈদের সরকারি ছুটি শুরুর আগে গতকাল শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অফিস করে অনেকেই পরিবার নিয়ে বাড়ির পথ ধরবেন। ফলে রাতে মহাসড়কে গাড়ির চাপ আরও বাড়বে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

আমাদের মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, সাভার, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
টাঙ্গাইলের ভোগান্তি চার লেনে
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোথাও কোথাও গাড়ির লম্বা লাইন দেখা দিলেও অসহনীয় যানজট তৈরি হয়নি।
যানজট নিরসনে সড়কে এক হাজারের মতো পুলিশ সদস্য কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “বুধবার এ সড়কে ১৯ হাজার যান চলাচল করেছে।”
গতকাল এ সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলে মনে করেন টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাসুদুর রহমান মনির।
তিনি বলেন, “অতিরিক্ত এই গাড়ির চাপ আর চার লেনের কাজে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় মাঝে মাঝে কিছুটা জট দেখা দিচ্ছে। তবে টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগকে খানাখন্দ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যেতে দেখা গেছে।”

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম নূর-এ-আলাম জানান, এ মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথে চার লেনের কাজ চলছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গতকাল বিকেল তিনটার পর থেকে যানচলাচল বাড়তে শুরু হয়। ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে ধীরগতিতে  চলে। এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, করটিয়া, পাকুল্লা ও ধেরুয়া রেলক্রসিং-এ থেমে থেমে যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ। আবার মহাসড়কের চার লেনের কাজ বন্ধ থাকলেও কোথাও কোথাও খানাখন্দক মেরামত চলেছে। এ কারণেও যানচলাচলেও বিঘœ ঘটে।
অপরদিকে গার্মেন্টস কর্মীদের ছুটি হওয়ায় বিকেলের পর থেকেই মহাসড়কে আগের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এরমধ্যে অন্য জেলার ফিটনেসবিহীন গাড়িও রয়েছে।

ধলেশ্বরী বাসের যাত্রী আশরাফ আলী জানান, টাঙ্গাইল আসার জন্য মহাখালি বাস টার্মিনাল বেলা ১১টায় গাড়িতে উঠেন। যেখানে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সর্বোচ্চ তিন ঘন্টা লাগার কথা। কিন্তু দীর্ঘ আট ঘন্টায় টাঙ্গাইল এসে পৌঁছান তিনি। মোঃ মনিরুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জ যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছি। সন্ধ্যা সাতটায় টাঙ্গাইল রাবনা শহর বাইপাস এলাকায় পৌঁছলাম। গন্তব্যে যেতে আর কয়ঘন্টা লাগবে সেটি বুঝতে পারছেন না।
টাঙ্গাইল জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু বলেন, মহাসড়কে ঈদ উপলক্ষে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অনেক বেড়ে গেছে। আর এই ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোই মহাসড়কের মাঝ পথে এসে বিকল হয়ে পড়ে। আর এই বিকল হওয়া গাড়িটি সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমপক্ষে আধাঘন্টা সময় লেগে যায়। এ কারণে এই সময়টাতেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে যায়।

সকালে শহর বাইপাসের আশেকপুর এক ব্রিফিংয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম জানান, টাঙ্গাইলের অংশে ৬৫ কিলোমিটার সড়ককে ৬টি ভাগে বিভক্ত করে আট শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ৪৫টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করছে। একই সাথে দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দ্রুত অপসারনের জন্যে তিনটি রেকার নিয়োজিত রয়েছে।  
এ মহাসড়কে উত্তরবঙ্গ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্তত ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করছে। একই সাথে মহাসড়কে চারলেন প্রকল্পের কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়েছে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ওভারপাস
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণের কাজ চলায় সেখানে প্রায়ই এক-দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে, চট্টগ্রামমুখী লেইন খানাখন্দে ভরা। শুধু ঢাকামুখী লেইন দিয়ে উভয় দিকের যান চলাচল করায় গাড়ির জটলা তৈরি হচ্ছে।
দাউদকান্দি টোল প্লাজাতেও সকালে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ জট দেখা যায়।

টোল প্লাজার ব্যবস্থাপক জিয়া আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “গাড়ির তুলনায় টোল আদায়ের ক্ষমতা কম। এ কারণে মাঝে মাঝে ১০-১৫ মিনিট করে জট থাকে, আবার কমে যায়।”
সাভারে গাড়ি চলছে থেমে থেমে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যান চলছে থেমে থেমে। সড়কের রেডিও কলোনি থেকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে সকাল থেকে মাঝে মধ্যেই জট তৈরি হচ্ছে।
সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবুল হোসেন বলছেন, অন্যবারের তুলনায় যানজট এখনও কম। কিছু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সেখানে মাঝেমধ্যে থেমে থেমে গাড়ি চলছে। সাভার বাজার এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার কারণেও জট তৈরি হচ্ছে।

পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। গাজীপুরে ভারী গাড়ির চাপ বেশি নাওজোর মহাসড়ক পুলিশের এসআই বিনয় কুমার সরকার জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে টঙ্গীর তারগাছ পর্যন্ত এবং বাইপাস মোড় থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা পর্যন্ত গাড়ির চাপ রয়েছে।
“গাড়ি ধীরগতিতে চললেও বড় যানজট নেই। তবে সড়কে ট্রাক-লরি ও পণ্যবাহী গাড়ি বেশি দেখা গেছে।”

ঈদের তিন দিন আগে ও তিন দিন পরে মহাসড়কে ভারি যান চলাচল নিষিদ্ধ করায় এখন এ ধরনের গাড়ির চাপ বেশি বলে তিনি মনে করছেন।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই জায়গায় গাড়ি বিকল হওয়ায় যান চলাচল সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়।

“পুলিশ বিকল গাড়ি দুটি সারানোর পরও মহাসড়কে গাড়ির চাপ ছিল। এ কারণে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় মাঝে মাঝে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে দুপুরে গাড়ির সংখ্যা কমে যায়।”

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে। তবে এ পথে যাতে যানজট না হয় এমন প্রস্তুতি আছে পুলিশের।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শঙ্কা ‘অবৈধ পার্কিং’ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে সবসময়ই গাড়ি রাখায় ঈদের সময় যানজটের শঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।
মহাসড়কের চরপাড়া মোড়, চুরখাই, বইলর, ত্রিশাল, ভরাডোবা, ভালুকা, সিডস্টোর, জৈনা বাজার হয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বহু এলাকায় গিয়ে রাস্তার দুইপাশে অসংখ্য গাড়ি রাখা হয়।

এ রুটে চলাচলকারী এনা পরিবহনের বাসচালক রাজু মিয়া বলেন, সড়কের পাশে গাড়ি পার্ক করায় সারা বছরই যানজট থাকে। দুই ঘণ্টার জায়গায় চার ঘণ্টা সময় লাগে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এ কারণে ঈদের সময় তীব্র যানজট হতে পারে।

ময়মনসিংহের মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের শ্রমিকনেতা ও স্ট্যান্ড সুপারভাইজার মিলন মিয়া বলেন, “গত বছর ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে বাস আসতে সময় লেগেছে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। এবারও প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একই রকম যানজটের আশংকা রয়েছে।”

ময়মনসিংহ শহরের জলি আক্তার বলেন, “ঈদের আগেই সড়ক থেকে এসব জঞ্জাল অপসারণ করা দরকার। না হলে দুর্ভোগ এড়ানো যাবে না।”
ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলছেন, ঈদের কথা চিন্তা করে যানজট নিরসনে মহাসড়কের ময়মনসিংহ অংশে থাকা অবৈধ স্ট্যান্ড ও বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে।

“তারপরও যারা সড়ক দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

পাটুরিয়া ঘাটে বহু গাড়ি
ঈদে ঘরমুখো মানুষের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার পাটুরিয়া ফেরিঘাটে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও গাড়ির চাপ বেশি থাকায় বহু সংখ্যক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। সকালের দিকে যানবাহনের তেমন চাপ না থাকলেও দুপুরের পর চাপ বাড়তে থাকে। যানবাহনের সারি কখনো দুই কিলোমিটার, কখনো তিন কিলোমিটারে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-আরিচা ঘাটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপারের কাজ চলছে। এর মধ্যে নয়টি রো-রো, ছয়টি কে-টাইপ ও দুটি ইউটিলিটি ফেরি। যানবাহনের চাপ বাড়লে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ড থেকে আরেকটি ফেরি আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুপুরে পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, ঘাটের আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়শ’ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপদে পার করতে তারা সচেষ্ট রয়েছেন।

ভিয়েতনাম থেকে চালের প্রথম চালান পনের দিনের মধ্যে

ভিয়েতনাম থেকে চালের প্রথম চালান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ভিয়েতনামের নতুন রাষ্ট্রদূত ট্রান ভ্যান খাও। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এ কথা জানান।

সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসায় বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হবে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন দরপত্র ছাড়াই সরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানির অনুমতি দেয়। ভিয়েতনাম থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ হবে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হবে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি ভিনাফুড টু এই চালের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে। সর্বশেষ ২০১১-১২ সালে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করেছিল সরকার। তবে ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় এরপর বেশ কয়েক বছর আর সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করতে হয়নি। ভিয়েতনামের নতুন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর তার প্রেস সচিব ইছসানুল করিম সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান।

ইহসানুল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে চাল আমদানির সমঝোতা স্মারক নিয়ে রাষ্ট্রদূত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভিয়েতনাম থেকে চালের প্রথম চালান ১৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা বলেছেন। চাল আমদানীর বিষয়ে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত খাদ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মতো ভিয়েতনামেরও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিয়েতনাম বাংলাদেশের জন্য অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। এ সময় তিনি ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরেন। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বাণিজ্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কথাও তিনি বলেছেন। দারিদ্র্যকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘সাধারণ সমস্যা’ হিসাবে চিহ্নিত করে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বলে প্রেস সচিব জানান।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান চেষ্টার প্রশংসা করে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার আছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক ক্ষেত্রে ‘চূড়ান্ত সাফল্য’ অর্জিত হয়েছে। সাত শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করার কারণেও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ভিয়েতনামের দূত। অন্যদের মধ্যে মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন।

 

মুহিতের পাশে এখন অন্য সহকর্মীরাও

সংসদ রিপোর্টার: শুরুটা করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ; বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনার জবাবে এখন সংসদে সরব হতে শুরু করেছেন অন্য সহকর্মীরাও। ঈদের আগে সংসদের শেষ দিনের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ৮৪ বছর বয়সী মুহিতকে নিয়ে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণের’ সমালোচনা করেন। অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন সরকার দলীয় এমপি আবদুল মতিন খসরু।

বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, ভ্যাট নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে। এই বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে মন্ত্রিসভায় পাস হয়। তখন কেউ কোনো আপত্তি করেননি। ব্যক্তিগতভাবে অর্থমন্ত্রীর প্রতি এখানে কটাক্ষ করে অনেকে বক্তব্য দিয়েছেন। এটা অনভিপ্রেত। আমু বলেন, একটা বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটের ভেতর ভালো-খারাপ থাকতে পারে। সেটা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। সেই আলোচনা আমরা করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৩০ তারিখে একটা সিদ্ধান্ত আসবে। কিন্তু এজন্য অপেক্ষা না করে যারা সমালোচনার নামে কটাক্ষ-কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করছেন এটা ঠিক নয়, দুঃখজনক। বাজেটের বিভিন্ন ‘ইতিবাচক’ দিক তুলে ধরে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির উদ্দেশে আমু বলেন, এত কিছু দিক নিয়ে তারা কথা বলেনি। তারা শুধু কটূক্তি-সমালোচনা করেছে। স্বৈরশাসনের ফলে যাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের চিন্তা-চেতনা সেরকমই থেকে যায়। আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাজেট নিয়ে অনেক কথা, আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে, মন্ত্রী হিসেবে একজন নাগরিক হিসেবে এগুলো পড়ছি ও শুনছি। ১৫ শতাংশ ভ্যাট, আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক, সঞ্চয়পত্রে সুদ হার নিয়ে সব কথা হচ্ছে। সবাই অর্থমন্ত্রীর দিকে তীর ছুঁড়ছেন, তাকে দোষারোপ করছেন। মনে রাখতে হবে, অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেছেন।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন, আবগারি শুল্ক, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার এই তিনটি বিষয় নিয়েই বাজেট নয়। আরও বিষয় আছে, যা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করছি না। ভ্যাট, সুদ হার ও আবগারি- এই তিন বিষয়ের এদিক ওদিকে হিসাব করে বাজেট মাপবেন না। এক মুখে অর্থনীতির প্রশংসা আর একদিকে ব্যর্থ অর্থমন্ত্রী বলবেন- এটা কিন্তু হয় না। বাজেটে আলোচনায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু বলেন, অর্থমন্ত্রীর মত একজন ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা গৌরব বোধ করি। তাকে নিয়ে যেভাবে কথা বলা হয়েছে তাতে জাতি বিব্রত হয়েছে। আমিও বিব্রত হয়েছি। তিনি সিনিয়র ম্যান। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। তাহলে জাতি আমাদের কাছ থেকে কী শিখবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুন বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট এবং ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক নিয়ে সংসদে সরকারি ও  বিরোধী দলের সমালোচনা সইতে হচ্ছে মুহিতকে। এমনকি মন্ত্রীদের মধ্যে কয়েকজনও সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেটের সমালোচনা করেছেন, যদিও তাদের উপস্থিতিতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস হওয়া বাজেট মুহিত উপস্থাপন করেছেন। জাতীয় পার্টির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশীদ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। কাজী ফিরোজ রশিদ মুহিতের পদত্যাগ দাবি করেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন সাংসদও বাজেট আলোচনায় ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। বুধবারের অধিবেশনে তোফায়েল আহমেদ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ‘বক্রোক্তির’ জবাব দেন।

শ্রমিক অধিকার সবচেয়ে বাজে ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ

বিডিনিউজ: শ্রমিক অধিকার বিবেচনায় সবচেয়ে খারাপ বিশ্বের ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বৈশ্বিক শ্রম অধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি)। বৈশ্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত ভিয়েনাভিত্তিক সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
‘আইটিইউসি গ্লোবাল রাইটস ইনডেক্স ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের ওপর সরকার ও নিয়োগকর্তার চাপিয়ে দেওয়া অব্যাহত ভোগান্তির কারণে বাংলাদেশ র‌্যাটিংয়ে ৫ পেয়েছে, যার অর্থ হলো- শ্রমিকদের ‘অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই’। এই ১০ দেশের তালিকায় আরো রয়েছে কলাম্বিয়া, মিশর, গুয়াতেমালা, কাজাখস্তান, ফিলিপিন্স, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমারও র‌্যাটিং ৫ পেয়েছে; নেপাল ও শ্রীলংকা ভাল অবস্থানে রয়েছে।

এই দুটি দেশের র‌্যাটিং ৩, যার অর্থ ‘সেখানে নিয়মিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নেই’। আইটিইউসির মহাসচিব শারান বারো বলেন, ‘অনেক দেশেই করপোরেট স্বার্থের নিচে পড়ে আছে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার।’ পুলিশের বর্বরতা, গণগ্রেফতার ও বৈষম্যকে বাংলাদেশে শ্রমিক সংগঠনের ওপর নির্যাতনের প্রধান দিক হিসেবে গত ১৩ জুন প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই ধরনের নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চলা শ্রমিক ধর্মঘটের পর ৩৫ জন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিক অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং এক হাজারের বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। ওই ধর্মঘটের পর বিজিএমইএ ৫৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় উইন্ডি অ্যাপারেলস ও ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড২৩৯ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে এবং হা-মীম গ্রুপ সাতটি মামলা করে, যাতে ছয় হাজারের বেশি শ্রমিককে আসামি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইটিইউসি বলছে, ‘২০১৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে একহাজার ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক বরখাস্ত করেছে এবং ৬০০ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ ধর্মঘটীদের ঘরে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ এবং তাদের বিরুদ্ধে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও আমলে নিয়েছে আইটিইউসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যবহারিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য বিরাজমান রয়েছে।

আইইউটিসি বলেছে, ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতির বাধ্যবাধকতার কারণে বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার  তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ কারখানায় আংশিকভাবে নিবন্ধিত ইউনিয়ন আছে। তার সঙ্গে জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতার বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হওয়ায় উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী নীতির কারণে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির উদাহরণ দিতে গিয়ে বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের কথা উল্লেখ করেছে আইইউটিসি।  ২০১৫ সালের মে মাসে ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর ১৪৫ শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাবিব ফ্যাশনস নামে পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা আটকে দেয় এবং তারপর ২০১৬ সালের আগস্টে কারখানা বন্ধ করে দেয়। ইউনিয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বরগুনায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মো. হায়দার আলী হত্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মওদুদ চাইলে খাট পাঠাবেন নাসিম

সংসদ রিপোর্টার: বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের জন্য খাট পাঠাতে চান আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম তার এই আগ্রহের কথা জানান। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, উনার নাকি (মওদুদ) খাট নেই। চাইলে খাট পাঠিয়ে দেব। চাইলেই পাঠিয়ে দেব। অবৈধভাবে বাড়ি দখল করেছিলেন। লজ্জা হওয়া উচিত। আবার নাটক করেন। রাজউকের উচ্ছেদে মালপত্র সরিয়ে দেওয়ার সময় খাটসহ বেশ কিছু আসবাব ভেঙে গেছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ গত ১৫ জুন বলেন, এখন তাকে মেঝেতে ঘুমাতে হচ্ছে।

গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িতে মওদুদ বসবাস করে আসছিলেন গত কয়েক দশক ধরে। কিন্তু ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাইয়ের নামে ওই বাড়ির দখল নেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে দুদক মামলা করলে শুরু হয় আইনি লড়াই। সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় মওদুদের বিপক্ষে গেলে গত ৭ জুন ওই বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করে রাজউক। সেদিন মওদুদের সামনেই ওই বাড়ি থেকে রাজউকের ট্রাকে করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে তার এক ফ্ল্যাটে। ওই ফ্ল্যাটেই তিনি উঠেছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম বলেন, এখানে তোফায়েল সাহেব আছেন। মেনন সাহেব আছেন। আমরাও রাস্তায় আন্দোলন করেছি। পুলিশের মার খেয়েছি। আর উনি (ফখরুল) জামা খুলে ফেললো! নিজে জামা খুলে ফেললো!! এটা কোনো কথা হলো? ফখরুলের জন্য তার পরামর্শ, নিজের কষ্টের কথা বলতে হয় না। আমরা বলি নাই।

নতুন সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

 সৌদি আরবের নতুন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সদ্যঘোষিত ক্রাউন প্রিন্সকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যের সম্পর্ককে ‘সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সর্বোচ্চ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক’ আখ্যা দেন । আগামী দিনগুলিতে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নতুন যুবরাজের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেন এবং সৌদি আরবের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ জনগণের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে আশা প্রকাশ করেন। বুধবার এক ফরমানের মাধ্যমে ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে নিজের ছেলেকে ‘ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন’ বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যানজট, মাওয়ার পথ ফাঁকা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফাঁকা রয়েছে ঢাকা- মাওয়া সড়ক। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা সেতু থেকে বাউশিয়া পর্যন্ত উভয় পাশেই যানজট রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জটের তীব্রতা।

সেই হিসেবে ফাঁকাই রয়েছে ঢাকা-মাওয়া সড়ক। যে সড়ক দিয়ে চলাচল দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের। ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো হাসেম উদ্দিন জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী যানের সংখ্যাই বেশি।

শিমুলিয়া ঘাট বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, “বৃহস্পতিবার সকালে ছোট গাড়ির চাপ কিছুটা থাকলেও এখন ঘাট ফাঁকা। যাত্রীবাহী গাড়ি না থাকায় এখন আমার পণ্যবাহী ট্রাক পার করছি।”

তিনি জানান, ঈদে যাত্রীদের পারাপার নির্বিঘ্ন করতে এবার বহরে চারটি রো রো ফেরিসহ ১৮টি ফেরি রয়েছে। তাছাড়া নৌ পথের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার কমে যাওয়ায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও বেড়ে গেছে।

“তাই যানবাহন পারাপারে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই বাড়ি যেতে পারবেন।” তবে শুক্রবার এ ঘাটে যানবাহনের চাপ একটু বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তা।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, দুইটি মহাসড়কেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশ আনসারসহ পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর বাইরে সাদা পোশাকে ডিবি, পুলিশের বিশেষ শাখাসহ র‌্যাব সদস্যরা কাজ করবে।

 

বাজেট নিয়ে আলোচনা মুহিতের পাশে তোফায়েল

সংসদ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে ঘরে বাইরে সমালোচনায় বিদ্ধ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পাশে দাঁড়ালেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বুধাবর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তোফায়েল সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিরোধী সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনা ও ‘বক্রোক্তির’ জবাব দেন।

বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যখন আমি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও কাজী ফিরোজ রশীদকে দেখলাম যে ভাষায় তারা অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছ থেকে এই ভাষা আশা করি নাই। জাতীয় পার্টির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য বাবলু ও ফিরোজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে তার বয়স নিয়েও কথা বলেন এবং পদত্যাগ দাবি করেন। আর কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকসহ সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন সাংসদ বাজেট আলোচনায় ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক ও ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। সংসদে উপস্থিত বাবলু ও ফিরোজের উদ্দেশে তোফায়েল বলেন, বয়স নিয়ে কথা বলেন, আপনার নেতা  হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বয়সের কথা বিবেচনা করেন নাৃ যিনি আপনাকে মহাসচিব বানান, তারপর আবার রুহুল আমিন হাওলাদারকে বানান, যার বয়স অর্থমন্ত্রীর চেয়েও ৫ বছর বেশি। বাবলু আমার খুব প্রিয় লোক। তার মামা শ্বশুর তার নেতা এরশাদ। তিনি কী করে ভুলে গেলেন যে তার নেতার বয়স ৮৬ বছরের বেশি। তিনি যদি বলতেন এরশাদ আপনি পদত্যাগ করেন, বয়স হয়েছে…। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল বলেন, একজন সম্মানিত মানুষকে সম্মান দিতে হয়। বাবলু (মুহিতকে) বলেছেন- ‘এখন বিদায় হন’। উনি আপনাদেরও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। উনি ১২টা বাজেট দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আরও দেবেন। উনার ওপর প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আছে।

গত ১ জুন বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট এবং ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক নিয়ে সংসদে সরকারি ও  বিরোধী দলের সমালোচনা সইতে হচ্ছে মুহিতকে। এমনকি মন্ত্রীদের মধ্যে কয়েকজনও সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেটের সমালোচনা করেছেন, যদিও তাদের উপস্থিতিতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাস হওয়া বাজেট মুহিত উপস্থাপন করেছেন। বাজেট নিয়ে মন্ত্রীদের সমালোচনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেট কেবিনেট অনুমোদিত। আমার কথা থাকলে সেটাই প্রোপার প্লেস। পাস হয়ে যাওয়ার পর এমপিরা বলতে পারেন । এটা প্রস্তাবিত বাজেট। আমার যদি কোনো কথা থাকে আবগারি, ভ্যাট, সঞ্চয়পত্র নিয়ে ….। তোফায়েল বলেন, আমি বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন মানুষ কী চায়। ২৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। সেই দিনই তিনি অর্থমন্ত্রীকে বলবেন- এটা করেন, ওটা করেন। এমনভাবে অনুমোদিত হবে, বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রশংসা করবে না, বলবে এটা শ্রেষ্ঠ বাজেট। সমালোচকদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন কেন? আমারও পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। আমিও এর পার্ট। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনও সমস্যা থাকে, করের বোঝা আসে, তিনি সেগুলো দেখবেন। আলোচনা অবশ্যই করবেন। বাজেট কি সব শুধু নেগেটিভ? এর পজেটিভ দিক নেই? নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও সুখবর আসতে পারেও বলে আভাস পাওয়া যায় তোফায়েলের কথায়। তিনি বলেন, বাজেট সকলের।

অর্থমন্ত্রী মুখপাত্র। আপনারা আলোচনা করবেন প্রস্তাব নিয়ে। ভ্যাট নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে… আশা করছি এমনভাবে করা হবে যে সব নিরসন হবে। এই সরকার ব্যবসাবান্ধব। ব্যবসায়ীরা খুশি হবে আমার বলা ঠিক না। প্রধানমন্ত্রী বলবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট থেকে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়ে জাতীয় পার্টির দুই সাংসদের সমালোচনা প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, আমি অন্যায়কে সমর্থন করি না। ব্যাংকে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর প্রত্যাশা মানুষ করে না। জিয়াউদ্দিন বাবলুও ব্যাংকের মালিক। শেয়ার বাজারে ফিরোজের দুইটা ব্রোকারেজ হাউজ আছে। আপনার ব্যাংকের হিসাব হবে। জনাব ফিরোজ প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা। অবদান অনেক। মন্ত্রীও ছিলেন। অভিজ্ঞতা আছে। সকল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আছে। চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিল মালিকরা চাল বাজারে ছাড়ছেন না। আমরা শুল্ক কমিয়েছি। প্রতি কেজি ছয় টাকা দাম কমবে, এটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

রাজধানী ছাড়ছে মানুষ স্বস্তির শুরুর পর বিলম্বে ট্রেন যাত্রা

ঈদযাত্রার শুরুর দিন সকালের ভাগে আগাম টিকিটের যাত্রীদের নিয়ে রাজধানী থেকে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়েও গেলেও কয়েক ঘণ্টা পার হতেই শুরু হয়েছে জটিলতা। বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে পাঁচটি ট্রেনের কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও সবগুলোই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে যাত্রা করে। কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলছেন, বগিতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এবং ঢাকায় ফিরতে দেরি হওয়ায় সময়সূচিতে এই গড়বড়। সিলেটের উদ্দেশে ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ দুপুর ১২টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও একটি বগিতে সমস্যা থাকায় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ‘রাজশাহী এক্সপ্রেস’ ১২টা ২০ মিনিটের বদলে দুপুর ২টায় স্টেশন ছেড়ে যায়। ময়মনসিংহের উদ্দেশে ‘ঈশাখাঁ এক্সপ্রেস’ বেলা সাড়ে ১১টার ছাড়ার কথা থাকলেও দেরি করে দুপুরে সোয়া ১২টায় ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে।

অন্যদিকে ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ বেলা ১টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস স্টেশনে আসতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি এর একটি বগিতে সমস্যা থাকায় ছাড়তে দেরি হয়।’ একই ধরনের সমস্যার কারণে চট্টলা এক্সপ্রেসও ছাড়তে দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি। আর রাজশাহী এক্সপ্রেস লোকাল ট্রেন জানিয়ে সিতাংশু বলেন, ‘এই ট্রেনটি নিয়মিতভাবে সময়সূচির অনিয়ম করে থাকে।’ এর আগে সকাল ৯টায় ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ এক ঘণ্টা দেরি করে ১০টায় রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি আসতে দেরি হওয়ায় ও একটি বগি পরিবর্তনের কারণে ছাড়তে দেরি হয় বলে স্টেশন ম্যানেজার জানান। ট্রেনের সময়সূচি বিগড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাগর চৌধুরী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী। স্টেশনে তিনি ছোট ভাইকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সাগর বলেন, ‘আমরা দুই ভাই সকাল সাড়ে ১১টায় স্টেশনে আসি, কিন্তু দেড় ঘণ্টা দেরির পর ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে আসে। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকাটা বড় কষ্টকর।’

চট্টলার যাত্রী ভাই-বোন আসাদুজ্জামান আবির ও আয়েশা খানম আশা জানান, ট্রেন দেড় ঘণ্টাও বেশি সময় দেরি করেছে। এত দেরি হওয়াটা কাম্য নয়। গরমের মধ্যে বসে বসে ব্যাগ পাহারা দিতে হয়েছে তাদের। তবে সকালে নির্ধারিত সময় মেনে ট্রেনগুলোর ঢাকা ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন স্টেশন ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী নিজেই। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় পারাবত এক্সপ্রেস; চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ছেড়েছে সকাল ৭টায়। এগারসিন্দুর ৭টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে, তিস্তা ৭টা ৩১ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে, মহানগর প্রভাতি ৭টা ৪৮ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে আর নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় চিলাহাটির পথে ছেড়ে যায়। রোজার ঈদে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য গত ১২ জুন থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে।

মিরপুরে এএসপির লাশ উদ্ধার শ্বাসরোধে হত্যার আলামত

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় গলায় কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিজানুর রহমান তালুকদারের লাশ পাওয়া গেছে। বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রূপনগরের বিরুলিয়ায় বেড়িবাঁধের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে মৃতদেহ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আজ বৃহস্পতিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ওই এসএসপির মরদেহ পাওয়ার পরই খুনি সনাক্তে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক দল।

রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) মোকাম্মেল হক বলেন, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সেতুর কাছে ঢাকা বোট ক্লাবের বিপরীত দিকের রাস্তার পাশে মিজানুর রহমানের লাশ পড়ে ছিল। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এএসপি মিজানুর রহমানের পরনের প্যান্টটি ছিল পুলিশের। রূপনগর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম বলেন, ‘তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।’ পঞ্চাশোর্ধ্ব মিজানুর রহমান হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের সাভার সার্কেলের দায়িত্বে ছিলেন। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার গাজীপুরের টঙ্গিতে হাইওয়ে পুলিশের সুপারের কার্যালয়ে একটি বৈঠক ছিল। সেই সভা শেষ করে রাতে উত্তরার বাসায় ফেরেন মিজানুর রহমান তালুকদার। বুধবার ভোরে সেহেরি খাওয়ার পর ৫টার দিকে সাধারণ পোশাকেই বাসা থেকে কর্মস্থল সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হন সহকারী সুপার। সে সময় তার সঙ্গে কোনো দেহরক্ষী বা সরকারি গাড়ি ছিল না বলে আতিকুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ‘সকালের দিকে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।’ হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে সড়কে যানবাহন চলাচল নির্বিঘœ করতে আশুলিয়ায় ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সেখানে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। সেসব তদারকি করতেই ভোরবেলায় বাসা থেকে বের হন মিজানুর রহমান। রূপনগর থানার ওসি জানান, এএসপির বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব পায়ে হেঁটে প্রায় ৪০ মিনিটের পথ; আর মোটরসাইকেলে গেলে ১৫/২০ মিনিট লাগে। তিনি যে বাসা থেকে গাড়ি ছাড়াই বের হয়েছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। ওসি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, ভোর ৬টার আগেই ঘটনা ঘটেছে। তবে তাকে সেখনেই হত্যা করা হয়েছে, না কি অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ ওখানে ফেলে রাখা হয়েছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ এই পুলিশ কর্মকর্তা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন কি না, এই হত্যাকান্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না- সেসব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি। মিজানুর রহমানের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও তিনি বড় হয়েছেন উত্তরা এলাকায়। সপরিবারে উত্তরাতেই থাকতেন ।

 

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় মেয়েসহ কনস্টেবল নিহত

রাজধানীর ডেমরায় বাসের ধাক্কায় আরিফুজ্জামান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার মেয়ে সুমাইয়া (১৬) নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আরিফুজ্জামান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কর্মরত ছিলেন।

ডেমরা থানার ওসি এসএম কাউসার বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডেমরার বামৈল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় তারা মারা যান। দুর্ঘটনার পর আসিয়ান পরিবহনের ওই বাস ও চালক সাইফুলকে আটক করা হয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করে যাত্রাবাড়ি থেকে বামৈল বাসস্ট্যান্ডে এসে বাবা- মেয়েরাস্তা পার হচ্ছিলেন। এসময় বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। আর আরিফুজ্জানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

রাজধানীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

ঢাকা মহানগরের আদাবর থেকে অস্ত্র-গুলিসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে আদাবর থানা পুলিশ। তার নাম-আনোয়ার হোসেন রিপন (২৩)। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবর থানাধীন বায়তুল আমান হাউজিংয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে একটি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলিসহ আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

চাল আমদানির শুল্ক কমে ১০ শতাংশ হচ্ছে

চালের বাজারের অস্থিরতায় লাগাম দিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতদিন বিদেশ থেকে চাল আনতে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের সঙ্গে ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি দিতে হত। সরকার আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কম্পিটিশন আইন নিয়ে এক কর্মশালার শুরুতেই মন্ত্রী শুল্ক কমানোর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে আদেশ জারি হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজার দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি। ইতোমধ্যে সরকারি পর্যায়েও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করা যায় বাজার দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির মুখে সরকারের চালের মজুদও তলানিতে পৌঁছে যাওয়ায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের চাল আমদানিতে বিনা মার্জিনে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানায়, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাল আমদানির এলসি খুলতে ব্যাংকগুলো কোনো  ‘মার্জিন’ ধার্য করতে পারবে না। অর্থাৎ, চাল আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় ব্যবসায়ীদের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা থাকতে হবে না। তারা বাকিতে চাল আমদানি করতে পারবেন এবং চাল দেশে আসার পর ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে পারবেন।

হাওরাঞ্চলে বন্যা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে চিঠিতে। দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের দাম গত তিন মাস ধরে বাড়তে থাকায় কষ্টে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরকারি হিসাবে গত এক বছরে মোটা চালের দাম বেড়েছে আট শতাংশের বেশি; চিকন চালের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

সন্তোষজনক বাড়তি মজুদ থাকায় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে চালের শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করে সরকার। এর সঙ্গে রেগুলেটরি ডিউটি তিন শতাংশ যোগ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ২৮ শতাংশ শুল্ক গুণতে হয়। ফলে গত দেড় বছর ধরে বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) চাল আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। কিন্তু এবার বোরো মৌসুমে আগাম বন্যায় সরকারি হিসাবেই হাওরে ছয় লাখ টনের মতো ধান নষ্ট হওয়ায় এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে (১০ টাকা কেজি দরের চাল) সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণ করায় সরকারি মজুদ তলানিতে নেমে আসে। গতবছর এপ্রিলে যেখানে সরকারি গুদামগুলোতে সাড়ে ৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল ছিল, সেখানে এ বছর ১৫ জুনে তা ১ দশমিক ৯০ লাখ মেট্রিক টনে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে চালের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সরকারিভাবে মোট ছয় লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়। পরে সরকারিভাবে ভিয়েতনাম থেকে আরও আড়াই লাখ টন আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এর মধ্যে প্রথম দেড় লাখ টনের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আরো ৫০ লাখ টন চাল আমদানির দরপত্র চাওয়া হয়েছে।

 

ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের কাজ বন্ধের নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

গাজীপুর প্রতিনিধি: ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল। ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এই মহাসড়কের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তারগাছ এলাকায় সংস্কার কাজ পরিদর্শনে গিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদের ১০ দিন আগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলমান ফোর লেনের কাজ এখন বন্ধ   থাকবে।  পাশাপাশি গার্মেন্ট, পণ্যবাহী গাড়ি, ওষুধ, পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছাড়া কোনো ভারী গাড়ি ঈদের তিন দিন রাস্তায় চলতে পারবে না। জনস্বার্থে যা যা করা দরকার সবই করা হবে। আমরা আশা করছি জনস্বার্থে-জাতীয়স্বার্থে এটা সবাই মেনে নেবেন। বাস মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় বন্ধ হয়ে যায়, এক্সসিডেন্ট হয়। রাস্তায় গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে লম্বা টেইল বের হয়। তাই ফটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামাতে আমি বাস মালিকদের অনুরোধ করছি। আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে মহাসড়কে বেপরোয়া মনোভাব, বেপরোয়া ড্রাইভিং।

আমি অবাক হয়ে দেখি  আট লেনের রাস্তায় মধ্যরাতেও যানজট হচ্ছে। যানজট রোধে চালকদের ও মালিকদের এই মানসিকতার পরিবর্তন করে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি গার্মেন্ট শ্রমিকদের ঈদের ছুটি এক সময়ে না দিয়ে ভাগ ভাগ করে ছুটির ব্যবস্থা করতে গার্মেন্ট মালিকদের অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা। ঘরমুখো মানুষ যাতে রাস্তায় বিপদে না পড়ে, অসহায়বোধ না করে, সে জন্য সড়ক-মহাসড়কে পুলিশকে সহযোগিতা করতে তরুণ নেতা-কর্মীদের ভলানটিয়ারের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে কাদের বলেন, এ সময় জনগণকে যদি স্বস্তি দিতে না পারি, তাহলে এটা অত্যন্ত কষ্টের ব্যাপার হবে। এটা হবে আমাদের জন্য একটা নেতিবাচক দিক। এজন্য আমি প্রতিদিনই রাস্তা আছি, রাস্তায় থাকব। প্রয়োজনে ঈদের দিনও থাকব। পাশাপাশি নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের রাস্তা সংষ্কারের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিএন নাহিন রেজাসহ সওজের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



Go Top