সন্ধ্যা ৭:১০, বুধবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

ঢাকায় বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা শূণ্যের কোঠায় নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা হত্যার ক্ষেত্রে যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সনাক্তকরণ ও মূল্যায়ন, যৌথ প্রশিক্ষণসহ কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী। এছাড়া সীমান্ত হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পর্যটন উৎসাহিত করা লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছে উভয় বাহিনী।

গত ১৮ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় শুরু হওয়া ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে  মঙ্গলবার বিকালে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে এই দুই বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে এই সংবাদ সম্মেলনে দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্ত নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসিন রেজা। এতে বলা হয়, ‘বিজিবি মহাপরিচালক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করা ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ কর্তৃক সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও ভারতীয় নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।’ সীমান্তে মৃত্যু শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় সমম্বিত যৌথ টহল, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃক যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা হত্যার ক্ষেত্রে যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সনাক্তকরণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ, কায়কিং, র‌্যাফটিং, সাইক্রিং, রোয়িং, মাউন্টেইন ক্লাইম্বিং ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণেও মতৈক্য হয় সম্মেলনে।

ব্রিফিংয়ে বিএসএফের প্রধান কে কে শর্মা দাবি করেন, সীমান্তে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসার পর এখন অপরাধীদের দ্বারা ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রাণঘাতী নয়, এমন কৌশল অবলম্বন করার ফলে মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনা গেলেও অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফের সদস্যদের উপর আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তবে শর্মা দাবি করেন, তার বাহিনীর সদস্যরা ‘আত্মরক্ষার্থেই’ অস্ত্র ব্যবহার করেন। তবে ‘নন-লেথাল’ অস্ত্র দিয়ে ‘ফায়ার’ করেন। ব্রিফিংয়ে সীমান্তে হত্যার ঘটনা বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে তদন্ত করবে- এমন প্রস্তাব থেকে ফিরে আসা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিজিবি প্রধান আবুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো হত্যাকান্ডের ঘটনার তদন্ত বিএসএফ বা বিজিবি করতে পারে না। তদন্ত করে উভয় দেশের পুলিশ।’

বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, পরিবেশ দূষণ রোধে ভারতের আগরতলা প্রান্তে এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের আখাউড়া প্রান্তে বক্স কলভার্টসহ ড্রেইনেজ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে। একই সাথে এই স্থানটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এবং জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনির জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হবে। উভয় মহাপরিচালক সীমান্ত হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পর্যটন উৎসাহিত করা লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালকে সুপারিশ করতে সম্মত হয়। বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেন। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

 

একুশের ছোঁয়ায় মুখর হলো প্রানের বইমেলা

 একুশের ছোঁয়ায় মুখর হয়ে উঠেছিল প্রানের বইমেলা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের বিনম্র  শ্রদ্ধা জানানোর পর সবার গন্তব্য ছিল বইমেলায়। বাঙালির আত্মপরিচয় উন্মেষের এ দিনে সববয়সী মানুষের ভিড়ে অমর একুশে বইমেলা পায় ভিন্ন মাত্রা।
 মঙ্গলবার মেলায় আসা বইপ্রেমীদের পোশাকেও পেয়েছে তারই বহি:প্রকাশ। বর্ণমালা লেখা বাহারি পোশাক, কালো শাড়ি, পাঞ্জাবি ও ফতুয়া পড়ে এসেছেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। কারো কারো গালে, হাতে রং তুলির ছোঁয়ায় আঁকা বর্ণমালা। বেলা গড়াতেই শহীদ মিনারের ভীড় কমে তা একুশে মেলায় চলে আসে। সব বয়সী বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

বড়দের হাত ধরে শিশুরাও মায়ের ভাষার জন্য আত্মত্যাগের গৌরব গাঁথা জানতে এসেছে বইমেলায়। তরুন প্রজন্মের মাঝে একুশের চেতনা আরো সুদৃঢ় করতে একুশে নিয়ে আরো গবেষণা ও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত বইয়েরও প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন পাঠকরা। একুশের চেতনা আর হৃদয়ের টানেই ছুটে আসা প্রাণের এ মেলায়। মানুষের বাধভাঙা এই জোয়াই প্রমাণ করে একুশ ও একুশে বই মেলা তাদের জীবনে কখনও ম্লান হওয়ার নয়। একুশের চেতনায় দোল খায় শিশুরাও। পরিচিত হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের সৈনিকদের সঙ্গে। ভাষার ইতিহাস ও একুশের চেতনা তরুনদের মধ্যে। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বন্ধুবান্ধব এবং স্বজনদের নিয়ে স্টলে স্টলে বই ঘুরে দেখেন তারা। কেউবা বই কেনেন, কেউ তোলেন সেলফি। প্রিয় কবি ও লেখকদের অটোগ্রাফও নেন অনেকে। সব মিলে গতকাল বইমেলা হয়ে ওঠে প্রানের মেলায়। সকাল ৮টার পর আসতে শুরু করেন বইপ্রেমীরা। মেলায় আসা শিশু-কিশোরীদের মাথায় ছিল নানা রঙের ফুল। কিশোর ও যুবকদের গালে-হাতে লেখা বাংলা বর্ণমালা। সকাল থেকে মেলায় শিশু-কিশোরদের বেশি দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে বইমেলায় এসেছে তারা। এদিকে একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে মেলায় ছিল বিশেষ নিরাপত্তা। মেলার জনসমাগমকে মাথায় রেখে প্রবেশপথ ও মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।

 

 

 

শিগগিরই উচ্চ আদালতে সব রায় হবে বাংলায়: প্রধান বিচারপতি

উচ্চ আদালতে শিগগিরই সব রায় বাংলায় লেখার কাজ শুরুর আশা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, এ জন্য ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করা যায় এমন যন্ত্র খুঁজছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর বিচারপতি সিনহা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাই কোর্ট বিভাগ) রুলস-এ সুপ্রিম কোর্টের যে কোনো আবেদন ইংরেজিতে করার বিধান ছিল। সেই নিয়ম সংশোধন করে সেখানে ‘ইংরেজি অথবা বাংলায়’ আবেদন করার কথা বলা হলেও এখনও অধিকাংশ আবেদনও নথির কাজ চলে ইংরেজিতে। সরকারি দপ্তরগুলোতে বাংলা চালু হলেও এখনও আদালতে তা না করতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তবে আমি ব্যর্থ হয়ে যাইনি, আর এ বিষয়ে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগও নেই। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় লেখা সম্ভব হচ্ছে না, তবে কিছু কিছু বিচারপতি বাংলায় রায় দিচ্ছেন, বলেন সিনহা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আপিল বিভাগে বাংলায় রায় লেখার বিষয়টি চালু করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি। যদি কোনো ডিভাইস আসে, যার মাধ্যমে ইংরেজিতে রায় বললে তা বাংলায় কনভার্ট হয়ে যাবে, তাহলে আমরা দ্রুত সেটি সংগ্রহ করব। এ ধরনের কোনো ডিভাইস আছে কি-না খুঁজে দেখা হচ্ছে; আশা করি দ্রুতই বাংলায় রায় লেখার প্রচলন শুরু করতে পারব।

সরকার ও প্রশাসনের সব দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি গাড়ির নম্বরপ্লেট, সাইনবোর্ড, নামফলক ও টেলিভিশনে প্রচারিত সব বিজ্ঞাপন বাংলায় লেখার বিষয়ে হাই কোর্ট থেকে আদেশ এসেছে একাধিকবার। রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে বা বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বিকৃতি বন্ধে রুলও জারি হয়েছে। তবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার উদ্যোগ উচ্চ আদালতেই গতি পায়নি। সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরে দেড় শতাব্দী আগে বাংলায় দেওয়া একটি রায় রয়েছে, যে রায়ের প্যাডের লোগো ফার্সিতে। আদালতের সব কার্যক্রমে বাংলা ভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে কয়েক বছর আগে সংসদে একটি প্রস্তাব এনেছিলেন একজন সাংসদ। পরে তা আর এগোয়নি। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও এ বি এম খায়রুল হক ছাড়াও হাই কোর্টের কয়েকজন বিচারক বিভিন্ন মামলার রায় দিয়েছেন বাংলা ভাষায়। হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি এআরএম আমিরুল ইসলাম চৌধুরী তার সব আদেশ, নির্দেশ ও রায় বাংলায় দিতেন বলে এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি খায়রুল হক। জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক সকাল ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আইন কমিশনের সদস্য হাই কোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির ও মো. শাহ আলমসহ কমিশনের কর্মীরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

বিচারাঙ্গনে বাংলা ভাষার চর্চা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিচারপতি খায়রুল হক পরে সাংবাদিকদের বলেন, জনস্বার্থে হলেও উচ্চ আদালতের রায় বাংলায় লেখা উচিত। এমনকি ভেটিংও বাংলায় হওয়া উচিত। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের তিনটি লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে উচ্চ আদালতে বাংলায় রায় দিয়েছিলেন বলে জানান খায়রুল হক। আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর বাংলায় রায় দেওয়ার চিন্তা করেছি, দিয়েছিও। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ইংরেজিতে রায় বোঝে না। যে কারণে তাদের সঙ্গে বিচার অঙ্গনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ২০০টি রায় বাংলায় হয়েছে জানিয়ে উচ্চ আদালতের সব কাজে বাংলা প্রচলনের ব্যবস্থা নিতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান তিনি।

জাতিসংঘে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন

করতোয়া ডেস্ক : বাংলা ভাষার জন্যে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে সারা বিশ্বে বিলুপ্ত প্রায় ভাষা সুরক্ষায় জাতিসংঘকে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিউ ইয়র্কে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালিত হয়েছে। বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সঙ্গে মিল রেখে গতকাল মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সময় বেলা ১টা ১ মিনিটে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম ছিলেন প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের’ স্বীকৃতি আদায়ে প্রবাসীদের অবিস্মরণীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তৌফিক ইলাহী বলেন, আজ আমরা যে নতুন স্বপ্ন দেখছি, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার, বাঙালি সংস্কৃতিকে চিরজাগ্রত রাখার, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্যেই শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংকল্প গ্রহণ করলাম। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, কন্সাল জেনারেল শামীম আহসানও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে। গত ২৬ বছর ধরে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন এবং বাঙালি চেতনামঞ্চের উদ্যোগে জাতিসংঘের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হলেও বাংলাদেশের একুশের প্রথম প্রহরের সাথে সঙ্গতি রেখে গত বছর থেকে ভর দুপুরে এ আয়োজন করা হচ্ছে। তবে নিউ ইয়র্কের অন্যসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রাত ১২টা এক মিনিটেই শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ভেতরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

লন্ডনে ভাষা শহীদদের স্মরণ
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছে লণ্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রতিবছরের মত এবারও স্থানীয় সময় সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে টাওয়ার হ্যামলেটসের আলতাব আলী পার্কে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব শুরু করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন। ডেপুটি হাই কমিশনার খন্দকার এম তালহা ও প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদিরও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। এরপর ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস ও স্পিকার কাউন্সিলর খালেস উদ্দিন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পর স্থানীয় লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ, টাওয়ার হ্যামলেটস পিপলস অ্যালায়েন্স, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৯৯৯ সালে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ার পর থেকে আলতাব আলী পার্কেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবস পালন করে আসছেন প্রবাসীরা। শহীদ মিনার কমিটির মুখপাত্র বিধান চক্রবর্তী জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার শীত কম থাকায় দূর দূরান্ত থেকে এসেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। অনেক মানুষ এসেছেন এবার, তাদের মধ্যে শিশুও আছে। তারা সবাই আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গেয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে। বিধান বলেন, রাত ২টা পর্যন্ত দেড়শর বেশি সংগঠন আলতাব আলী পার্কে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

শহীদদের জন্য বায়তুল মোকাররমে দোয়া

ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে  মঙ্গলবার সকালে বায়তুল  মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআন   তেলওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, আজিমপুর কবরস্থানে সকল ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে  কোরআন   তেলওয়াত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান দোয়া পরিচালনা করেন। মোনাজাতে  ১৯৫২ সালের একুশে  ফেব্র“য়ারি ভাষা আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের  আত্মার  শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার  মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।  মোনাজাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।  অন্যদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সংস্থার সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক  মো. তাহের হোসেন।

 

রাজধানীতে তিনটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর কমলাপুর জসিম উদ্দিন রোডে অভিযান চালিয়ে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ নোমান ও নাহিদ নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ওই এলাকার আনার বেকারির সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিন রোডের বাসা থেকে আরো দু’টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় কাজ করবে ইসি: সিইসি

ভাষা শহীদের আত্মত্যাগের অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে নির্বাচন কমিশন আগামী দিনগুলোতে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। একুশের প্রথম প্রহরে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্তের ঋণ শোধ হবার নয়। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করারও তাগিদ দেন কে এম নুরুল হুদা। এসময় রাষ্ট্রপতি গঠিত নতুন ইসির অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভাষা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জয়ের

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক স্টেটাসে এ আহ্বান জানান তিনি। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের ত্যাগ ও আত্মাহুতির ঘটনাকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে দেয়া ওই স্টটাসে জয় লিখেছেন, ‘আজ এই শহীদ দিবসে, আসুন আমরা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি। এই বলিদানই চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করেছে। আজ এই দিনে আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে আমাদের ভাষা ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবো। প্রথমে এবং সর্বাগ্রে আমরা হলাম বাঙালি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, অনীশ্বরবাদী সবাই বাঙালি। ধর্মের কারণে আমাদের মাঝে বিভক্তি আসতে দেয়া যায় না।’

বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করার দাবি কাদেরের

বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি এ দাবি জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বের ৩২ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। সুতরাং বাংলা জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হওয়া এখন সময়ের দাবি। যে কোনও উপায়ে জাতিসংঘের কাছে বাংলাকে দাফতরিক ভাষার করার দাবি তুলে ধরা আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন কারণে বাংলা ভাষার মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই এটি অক্ষুন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর আগে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতারা আজিমপুর গোরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার আগে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানান।

শাহজালালে ৩ কেজি স্বর্ণসহ গ্রেফতার ২

পৃথক ঘটনায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মামুন হোসেইন (৩১) ও মোসলেম উদ্দিন (৩২) নামে দুই যাত্রীর কাছ থেকে তিন কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে এসব স্বর্ণ উদ্ধার হয়। এর মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার আহসানুল কবীর জানান, সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামুন হোসেইন মালয়েশিয়া থেকে মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। প্রথমে তাকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে তল্লাশি করা হয়। তবে সোনার বার থাকার কথা সে সময় তিনি অস্বীকার করেন। পরে মামুনের সঙ্গে থাকা চার্জার লাইটের তিনটি ব্যাটারির ভিতর থেকে ছয়টি করে মোট ১৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

শুল্ক কমিশনার আহসানুল কবীর বলেন, এ ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর  মঙ্গলবার বেলা ১০ টার দিকে মোসলেম উদ্দিন রিজেন্ট এয়ারের ফ্লাইটে করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। তল্লাশি করে তার পায়ুপথের ভিতর থেকে আটটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এসব বারের ওজন ৯২৮ গ্রাম। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আটক মানুনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। আর মোসলেমের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে বিমানে উঠে টয়লেটে গিয়ে মলদ্বার দিয়ে ৮টি স্বর্ণের বার পেটে ঢুকান বলে জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন।

শহিদ মিনারে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে প্রথমে রাষ্ট্রপতি, পরে সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শহিদ মিনারে ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ হলে শহিদ মিনার সবার জন্য খুলে দেয়া হয়।
শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে যান শহিদ মিনার অভিমুখী লাইনে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণের অপেক্ষায় দাঁড়ান।
শ্রদ্ধানুষ্ঠান ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়।

ভাষা শহিদদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি পেয়েছিল ভাষার অধিকার। সেসব শহিদ স্মরণে এদিন প্রথম প্রহরে জেগে উঠেছে সব শহিদ মিনার। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ এ প্রত্যয়ের প্রতিধ্বনিতে রফিক, জব্বার, শফিউরদের স্মরণ করছে পুরো জাতি।
গর্ব আর শোকের দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করবে জাতি। যার সূচনা হলো শহিদ মিনারে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে।

 

মাথা নত না করার অমর একুশে আজ

সৈয়দ আহমেদ অটল : একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একুশ মানে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। একুশ মহাজাগরণের দিন।

আজ সেই অমর একুশে। সেদিন শহীদ হয়েছিলেন রফিক, বরকত, সালাম, শফিউর, জব্বার। সেই থেকে বাঙালি আর মাথা নত করেনি। জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস পালন করবে। সেই সাথে পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়। এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্যসাধারণ অর্জন। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। বাংলা আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার। তাই একুশের চেতনা ধারণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। মাতৃভাষা মা ও মাতৃভূমির মতই প্রিয়- তাই যখন বাংলা ভাষার উপর আঘাত আসে, তখন আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করি। কারণ মাতৃভাষা আমাদের সত্তার এক অপরিহার্য অংশ। তবে এ কথা তো সত্য যে, ভাষা সংগ্রামের পথ বেয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি,  কিন্ত আজও স্বাধীন দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি। শুধু তাই নয়, দিনে দিনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাকে বিসর্জন দিতে বসেছি। গ্রাস করতে চাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প। এই আগ্রাসন থেকে বাঁচতে আমাদের একুশের চেতনায় ফিরে যেতে হবে। তবেই বাংলাভাষা যেমন বাঁচবে, বাংলাদেশও বাঁচবে।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে ২১ মার্চের জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঘোষণা করলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ তখন বাংলার ছাত্রসমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এরপর ১৯৫২ সনের ৩০ জানুয়ারি আবার ঢাকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন এক জনসভায় উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে ৪ ফেব্রুয়ারি ’৫২-তে ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট, ১১ ফেব্রুয়ারি সারা প্রদেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি দিবস এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বান জানানো হয়। ছাত্রসমাজের আন্দোলন দমন করতে সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্ণে ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্ত ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় সমাবেশ করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভাষা সংগ্রামী গাজীউল হক। আরেক ভাষা সংগ্রামী আবদুল মতিনের প্রস্তাবনায় সেদিন ছাত্র সমাজ সর্বপ্রথম মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে স্বৈরশাসকের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে।

ঢাকার রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। গ্রেফতার, লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস কোন কিছুই ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি। ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে অটল থাকে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের গেট দিয়ে সবাই রাজপথে বের হয়ে আসে। আরম্ভ হয় পুলিশের বেপোরোয়া গুলিবর্ষণ। রক্তরঞ্জিত দেহে ধূলোয় লুটিয়ে পড়েন সালাম, বরকত, রফিক এবং আরো অনেকে। তাঁদের অনমনীয় দৃঢ়তা আর আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাভাষা লাভ করে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। ১৯৫২ সালের সেই স্ফুলিঙ্গ ১৯৭১ সালে এসে দাবানল সৃষ্টি করে।

যে দাবানলে পাকিস্তানিদের সকল অন্যায়- অত্যাচার পুড়ে ছাড়খার হয়েছিল। অমর একুশের পথ বেয়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এসেছে আমাদের মহান স্বাধীনতা।  ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রথম ঠিকানা। সেই ঠিকানার পথ বেয়ে ধাপে ধাপে তা এগিয়ে গেছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথানে, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসের সেই রক্ত মাখা পথে ১৯৭১-এ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন বাংলাদেশ। রক্তের আখরে লেখা আছে ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভবহানীর ঘটনা। তারপর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আন্দোলন আর সংগ্রামে নতুন নতুন বিজয় অর্জন করেছে জাতী। আজ নতুন শপথে উদ্দীপ্ত হবে বাঙালি জাতি। যে শপথ নতুন বাংলাদেশের জন্ম দেবে। শপথে শপথে উচ্চারিত হবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’।

মহান ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, অমর একুশের চেতনা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। বাঙালির শহীদ দিবস এখন বিশ্বজুড়ে নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা রক্ষার চেতনার অবিরাম উৎস। রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে।

এ উপলক্ষে তিনি বাংলাভাষীসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়েছেন। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা ভাষা-ভাষীসহ বিশ্বের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, অমর একুশে আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক। একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে শেখ হাসিনা উলে¬খ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বানী দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার বানীতে বলেন, একুশের স্বপ্নকে আজ তমসাচ্ছন্ন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশ স্বাধীন হলেও নতুন করে ভিন্ন মাত্রায় আধিপত্যবাদী শক্তি এ দেশের উপর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য কায়েম করে জাতি হিসেবে আমাদেরকে নতজানু করে রাখতে নানা কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়া বলেন, একুশের অম্লান চেতনা সকল ষড়যন্ত্রকারী-আধিপত্যবাদী শক্তিকে রুখতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে। তাই এই দুঃসময়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রেরণা যোগাবে ৫২’র মহান একুশের শহীদদের আত্মদান। এ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বাণী দিয়েছেন। এদিকে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পক্ষে অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে শেখ হাসিনা দলীয় শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধম প্রহরে দলীয় নেতাদের সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন
বেগম খালেদা জিয়া।

 

অমর একুশের কর্মসূচি

আজ সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। উত্তোলিত হবে কালো পতাকা। সারাদেশ শ্রদ্ধাবনিত চিত্তে স্মরণ করবে একুশের শহীদদের। জাতিসংঘসহ অনেক দেশে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালিত হবে। একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২১ফেব্র“য়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিবসটি পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার রাত ০০-০১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ (মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর)। ভোর সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারাদেশে সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরী সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন। (নিউ মার্কেটের দক্ষিণ গেট থেকে প্রভাতফেরী শুরু হবে)। পর দিন বুধবার বিকেল ৩ টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলতনায়তনে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকল কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সংগঠনের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে

বিএনপির কর্মসূচি : একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে  সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এর আগে, ভোরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া দলের সারাদেশের কমিটিগুলোও মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে।

 

 

শাহজালালে দেড় কেজি স্বর্ণসহ যাত্রী গ্রেফতার

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পায়ুপথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা দেড় কেজি ওজনের ১২ টি স্বর্ণের বারসহ রাসেল খান (৩২) নামে এক যাত্রী গ্রেফতার হয়েছে।  সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের দাবি, এসব সোনার আনুমানিক দাম ৬৫ লাখ টাকা।

অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, ওই যাত্রী বিজি ০৪৮ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসেন। ফ্লাইটটি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসার পথে ডোমেস্টিক যাত্রী হিসেবে তিনি ওঠেন। এই যাত্রীই বিশেষ কৌশলে সোনা নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল শুল্ক কর্মকর্তাদের জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উড়োজাহাজে ওঠার পর ১১বি নম্বর সিট থেকে তিনি সোনার বার সংগ্রহ করেন। এরপর বিশেষ কৌশলে মলদ্বারে ঢোকান। দুবাইয়ের এক যাত্রী এই সোনা ওই সিটে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাসেলকে বিমানবন্দর কাস্টমস হলে আনা হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি সোনা থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে বিমানবন্দরের শৌচাগারে গিয়ে বিশেষ কৌশলে রাসেলের কাছ থেকে সোনার বার বের করা হয়। বারগুলো দুটো করে ছয়টি পুঁটুলিতে যাত্রীর মলদ্বারে লুকানো ছিল।

 

কবি সৈয়দ হায়দারের স্ত্রী হাসিনা হায়দারের ইন্তেকাল

প্রয়াত কবি সৈয়দ হায়দারের স্ত্রী হাসিনা হায়দার  রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর আদাবরের বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। হাসিনা হায়দার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহ্সানুল করিমের ছোট বোন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তিনি একমাত্র পুত্র, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।  সোমবার বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে মরহুমা হাসিনা হায়দারকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার বাদ আসর মোহাম্মদপুরের আদাবরে বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির (১৪ নম্বর সড়কের, ৬৬০ নম্বর বাড়ি) বাসভবনে মরহুমা হাসিনা হায়দারের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

খালেদা জিয়া শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছেন : প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে ‘পকিস্তানিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে’ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে পাকিস্তানের নানা অপপ্রচারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানিদের এই অপপ্রচার আর তার (খালেদা জিয়া) এই বক্তব্যে কোনও সূত্র আছে কি না- আমি জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে ওই একই সুরে যেন তিনি কথা বলার চেষ্টা করছেন এবং এটা শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা ও অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না। পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো ‘শেষ হয়নি’ এবং কিছুদিন আগে তারা একটি বই প্রকাশ করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে তাদের এদেশীয় দোসরদের গণহত্যায় লিপ্ত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্ভাগ্য যে, আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, তারা নতুনভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ওই গণহত্যার ছবিতে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেছে বলে ক্যাপশন দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করে সব জায়গায় বিলি করার চেষ্টা করছে। এখন আমরা স্বাধীন দেশ।

অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সময় এ ধরনের অপপ্রচার এখনো তারা করে যাচ্ছে, এটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ২৫শে মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস হিসেবে’ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিকভাবে এর স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালানার ওপর জোর দেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বাধিকারের প্রত্যােশাকে ১৯৭১ সালে অস্ত্রের মুখে রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। সেই চেষ্টায় ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় শ্বাপদের হিংস্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে শুরু হয় তাদের গণহত্যায়। শেখ হাসিনা বলেন, সেই সময় যে জঘন্য ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

দিনের পর দিন হত্যা করেছে। ৩০ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছে। দুই লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছে। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশে কোনও কোনও রাজনৈতিক নেতা, আমি নাম ধরেই বলতে চাই, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া কিছু দিন আগে বলেছিল, ৩০ লাখ শহীদ মৃত্যুবরণ করে নাই, নিহত হয় নাই। এই সংখ্যা নাকি ঠিক না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর থেকে লজ্জার আর কী হত পারে! এর থেকে জঘন্য কথা বোধহয় আর কিছু হতে পারে না। গণহত্যায় মানুষের মৃত্যুর সেই চিহ্ন সারা বাংলাদেশে রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন করা বাঙালি জাতির প্রতি চরম অবমাননা। যে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তাদের প্রতি চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছুই না। ভাষার দাবিতে বাঙালির সংগ্রামের ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং মাতৃভাষা সংরক্ষণে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক এবার একুশে পদক পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন ও ভাষা আন্দোলন শুরুর ইতিহাস বর্ণনা করেন। ভাষা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছয় দফা আন্দোলন পার হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে উপনীত হওয়ার প্রেক্ষাপটও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির যখন যা কিছু অর্জন তখন অনেক ত্যাগ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমাদের আর্জন করতে হয়। সেই অর্জনগুলি আমাদের ধরে রাখতে হবে। কোনোমতেই কেউ যেন এই অর্জনগুলি নস্যাৎ করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। স্বাধীনতা ও ভাষার সংগ্রামের চেতনা যেন কখনো নস্যাৎ হয়ে না যায় সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজয়ী জাতি হিসেবে কারও কাছে মাথা নত করে চলবো না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরও বক্তব্য দেন।

১৬ গাড়ির দুটি ফেরত দিল বিশ্ব ব্যাংক

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ১৬টি গাড়ি নিয়ম বহির্ভূতভাবে হস্তান্তরের অভিযোগে তদন্ত শুরুর পর দুটি গাড়ি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান, বিশ্ব বাংক ঢাকা কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা সোমবার সকালে এসে টয়োটার একটি আরএভি-ফোর এসইউভি এবং একটি সেডান জমা দিয়ে যান।

মইনুল খান বলেন, দুটি গাড়ি জমা দেওয়ার মধ্য  দিয়ে প্রমাণিত হল, তারা শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যরবহার করেছে। এখন আদালতের মাধ্যমে গাড়িগুলোর বিষয়ে ‘যথাযথ ব্যেবস্থা’ নেওয়া হবে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বাকি ১৪টি গাড়ির বিষয়ে বিশ্ব ব্যাং ক কী পদক্ষেপ নেয়, সেজন্যাও নজরদারি অব্যাকহত রাখা হবে। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কানাডার আদালতে ‘মিথ্যার’ প্রমাণিত হওয়ার পর বিশ্ব ব্যাং কের সমালোচনার মধ্যেসই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গত সপ্তাহে ঋণদাতা ওই সংস্থার কর্মকর্তাদের অনিয়ম নিয়ে তদন্তের এ উদ্যোরগ নেয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আনা ১৬টি গাড়ির বিষয়ে জানতে চেয়ে গত বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টরকে একটি চিঠি পাঠানো হয় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়- গাড়িগুলো কারা ব্যবহার করতেন, তারা এখন কোথায় আছেন এবং গাড়িগুলোর সর্বশেষ অবস্থা কী।

উত্তর দেওয়ার জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হয় বিশ্ব ব্যাং ক ঢাকা কার্যালয়কে। তবে শুল্ক ফাঁকির ওই অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের কোনো বক্তব্যা সে সময় পাওয়া যায়নি। চিঠি পাঠানোর পর মইনুল খান  বলেছিলেন, ২০০৩ সালের প্রিভিলেজড পারসনস (কাস্টমস প্রসিডিউর) রুলসের আওতায় বাংলাদেশে কর্মরত দাতা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মিশন হেডের সুপারিশ থাকতে হয় এবং এনবিআর ওই গাড়ির বিপরীতে একটি পাসবুক দেয়। ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে চলে গেলে তার আগে তাকে গাড়ি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ও ওই পাস বইয়ের তথ্যগ কাস্টমসের নিবন্ধন খাতায় লিপিবদ্ধ করে যেতে হয়। ওই সুবিধার আওতায় ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৯ সালে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নামে বিভিন্ন মডেলের ১৬টি গাড়ি আনা হয়। সেই কর্মকর্তারা দেশত্য্গা করলেও কাস্টমসের কাছে তাদের গাড়ির বিষয়ে কোনো তথ্যব জমা পড়েনি বলে মইনুল খানের তথ্য । তিনি জানান, প্রিভিলেজড পারসনস রুলসের আওতায় আনা গাড়ি হস্তান্তর করার তিনটি বৈধ উপায় আছে।

ওই গাড়ি নিলামে বিক্রি করা যেতে পারে, অন্য কোনো প্রিভিলেজড পার্সনকে হস্তান্তর করা যেতে পারে, অথবা সব ধরণের কর ও শুল্ক দিয়ে সাধারণ ব্যলক্তির যানবাহন হিসেবে ব্যেবহারের জন্যক কাওকে হস্তান্তর করা যেতে পারে। কেউ যদি আইন অমান্যর করে গাড়িগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে থাকেন এবং সেই অর্থ যদি তিনি দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে শুল্ক আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হতে পারে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন মইনুল খান।

 

এপ্রিলে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের ভিত্তিপ্রস্তর

চলতি বছরের এপ্রিলে পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে বলে আশা করছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।  সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নতুন কোচ সংযুক্ত করে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে ঋণ চুক্তির জন্য রেল সংযোগের কাজটি আটকে আছে। আগামী মাসে চীনের সঙ্গে লোন এগ্রিমেন্ট হবে। এরপর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে আশা করছি।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত বছর আগস্টে চুক্তি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ নামের এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। গত বছরের ৩ মে একনেকে অনুমোদিত ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০ বছর মেয়াদে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা চীনের, যার জন্য সুদ গুণতে হবে ২ শতাংশ হারে। বাকি ১০ হাজার ২৪০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।

বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে কুষ্টিয়া থেকে যশোর-খুলনায় রেল যোগাযোগ আছে। পদ্মায় সেতু হলে ফরিদপুর হয়ে ট্রেন যাবে যশোরে। বহু প্রতীক্ষিত এ সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ কাজ চলছে এখন। ২০১৮ সাল নাগাদ সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আশা করছে সরকার। একই সময়ে সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু করাও সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুও উদ্বোধন করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। রেলের যাত্রী সেবায় বিভিন্ন উদ্যেগে নেওয়ার কথাও তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাত্রীসেবায় নতুন কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে, আগামীতে আরও উন্নতমানের কোচ আনা হবে। রেলপথ সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। 

এমপি লিটনের খুনিরা শনাক্ত: আইজিপি

সাভার প্রতিনিধি : গাইবান্ধার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এমপি লিটন হত্যা মামলার তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। অতিশিগগিরই তারা ধরা পড়বে। সাভারের আশুলিয়ায় শিল্প পুলিশ-১-এর বহুতল ব্যারাক ভবন ও অস্ত্রাগার ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে  সোমবার সকালে তিনি এ কথা বলেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহাবাজ গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলিতে মারা যান। মহাপরিদর্শক শহিদুল বলেন, ইতোমধ্যেই এমপি লিটন হত্যার দেড় মাস গড়িয়ে গেছে। আমি ঘটনার পরপরই সেখানে গিয়েছিলাম। হাজার হাজার মানুষের সামনে ওয়াদা করেছি, খুনিদের আমরা বের করব। সেই লক্ষ্যে তদন্তের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। যে মোটরসাইকেল নিয়ে তিনজন হত্যাকান্ডে অংশ নেয় সেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই তিন ব্যক্তিও পুলিশের নজরদারিতে আছে। যেকোনো সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে। গ্রেফতারের পরই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হবে। ওই তিনজনকে গ্রেফতার করলেই কে হত্যা পরিকল্পনা করেছিল আর কারা অংশ নিয়েছিল সেসব জানা যাবে বলে দাবি করেন মহাপরিদর্শক। ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নারী কনস্টেবলদের প্রথম ওরিয়েন্টশন কোর্স সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন শিল্প পুলিশের ডিআইজি আব্দুস সালাম, শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান।

বিসিএস কোটা ৩৫ এর শূন্য পদে নিয়োগ ৩৬ থেকে

পঁয়ত্রিশতম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় পূরণ না হওয়া ৩৩৮টি পদ ৩৬তম বিসিএসের মেধাতালিকা থেকে পূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। এছাড়া ৩৬তম বিসিএসে প্রাধিকার কোটার ৭৩৭টি পদে পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল এবং ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পাননি) ৮০২টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ৩৫তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটার অপূরণকৃত সংরক্ষিত পদ ৩৬তম বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের শূন্য পদের সঙ্গে যোগ করে তা পূরণ এবং ৩৬তম বিসিএসে প্রাধিকার কোটার অপূরণকৃত পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেসব পদ খালি রাখার সিদ্ধান্ত আছে। পিএসসি বলেছে- ৩৬তম বিসিএসে ২ হাজার ১৮০টি শূন্য পদের মধ্যে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের জন্য ১ হাজার ৬৩৮টি পদ আছে। এসব পদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৪৯১টি, ১০ শতাংশ মহিলা কোটায় ১৬৪টি, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় ৮২টি পদ নিয়ে মোট ৭৩৭টি পদের বেশিরভাগই খালি থাকবে এবং তা সংরক্ষণ করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩৬তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারের শর্ত শিথিল করলে ওইসব পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে জানিয়ে এ বিষয়ে সরকারের অনুমোদন চায় পিএসসি। ৩৬তম বিসিএসের জন্য প্রাধিকার কোটার পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল করায় ওই বিসিএসের মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে ওইসব পদ পূরণ করা হবে বলে জানান শফিউল আলম।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা যা ছিল তাই আছে, শুধু কোটা শিথিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা, সংবিধানেও কোটার বিধান আছে। অন্যদিকে ৩৫তম বিসিএসে কৃতকার্য হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্য থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট পদে ৩০২ জন এবং ধাত্রী পদে ৬০০ জনকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে ৫ হাজার ৫১৭ জন উত্তীর্ণ হলেও এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৮ জন। অন্যরা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করলে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। আর গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে পিএসসি। এই বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত আছে। তবে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অনেক পদ শূন্য রয়েছে। বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পদ স্বল্পতায় অনেকেই বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পান না। এদের মধ্য থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে ওইসব পদ খালি রাখতে ২০১০ সালে নির্দেশনা দেয় সরকার। এর আগে ৩২তম বিসিএসের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পূরণ না হওয়া এক হাজার ১২৫টি পদ ৩৩তম বিসিএসের মেধা তালিকা থেকে পূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

এবার একুশে পদক পেলেন ১৭ জন

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৭ বিশিষ্ট নাগরিক এবার একুশে পদক পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মনোনীত ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক তুলে দেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। ভাষা আন্দোলনের জন্য এবার একুশে পদক পেয়েছেন অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন এবং শিক্ষায় ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন এ পদক পেয়েছেন। ভাষা ও সাহিত্যে প্রয়াত কবি ওমর আলীর সঙ্গে এবার একুশে পদক পেয়েছেন ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া। ভাস্কর্যে শিল্পকলায় আবদুল্লাহ খালেদ, চলচ্চিত্রে তানভীর মোকাম্মেল, নাটকে সারা যাকের ও নৃত্যে শামীম আরা নীপা এ পুরস্কার পেয়েছেন এবার। সংগীতে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে সুষমা দাস, জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ও ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম ও উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ সেলিমকে। সাংবাদিকতায় এবার এ পদক পেয়েছেন আবুল মোমেন ও স্বদেশ রায়; সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান। পদক বিজয়ী প্রত্যেকে পেয়েছেন ১৮ ক্যারেট মানের ৩৫ গ্রাম সোনার একটি পদক এবং দুই লাখ টাকা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন

জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে জার্মানি সময় শনিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। আবুধাবিতে ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করে রোববার রাতে ঢাকা পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা আলোচনার সেরা ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কনফারেন্স’ হিসেবে বিবেচিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগ দিতে শুক্রবার ভোরে মিউনিখে পৌঁছান শেখ হাসিনা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র সচিব কামালউদ্দিন আহমেদ ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। ওই দিন বিকালে সিকিউরিটি কনফারেন্সের ৫৩তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ সাড়ে চারশ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, পোল্যান্ড ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস এবং রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এই সম্মেলনে যোগ দিলেন।

 

বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু

২০১৭ সালের জন্য বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান  রোববার সচিবালয়ে বেসরকারি হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ বছর এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫৮ জন হজের জন্য বেসরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে পারবেন। ১ হাজার ১১৮টি হজ এজেন্সি এ লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রতিটি এজেন্সি সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে নিবন্ধিত করতে পারবে। অন্যদিকে, গত ২০ জানুয়ারি থেকে সরকারিভাবে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বছর মোট ১০ হাজার হজযাত্রী সরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।

 

সিআইপি কার্ড পেলেন ৫৬ শিল্প উদ্যোক্তা

বেসরকারিখাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫৬ জনের মাঝে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (শিল্প)-২০১৫ কার্ড’ বিতরণ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু  রোববার  আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্ড বিতরণ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণ থেকে রাজধানীবাসীকে সুরক্ষায় সরকার সাভারে আধুনিক চামড়া শিল্পনগরি গড়ে তুলছে। এ মাসের মধ্যেই হাজারীবাগ থেকে সকল কাঁচা চামড়া কারখানা সরিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি বিসিকের মাধ্যমে রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনগরি গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। সিআইপি (শিল্প) হিসেবে নির্বাচিত উদ্যোক্তারা শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নতুন উদ্যেমে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।  

উল্লেখ্য, পাঁচ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ৪৯ জন এবং পদাধিকার বলে ৭ জন শিল্প উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠান সিআইপি (শিল্প) পরিচয়পত্র পেয়েছেন। এদের বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে ২৫ জন, মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে ১৫ জন, ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে ৫ জন, মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে ২ জন, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে ২ জন রয়েছেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে সিআইপি (শিল্প) কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুষেণ চন্দ্র দাস, সিআইপি (শিল্প) কার্ডপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা রূপালী হক চৌধুরী এবং মোঃ আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।

 

ইসলামে হত্যাকারী ও জঙ্গিদের কোনো স্থান নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যারা জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তোমরা ভুল করছ, তোমরা ফিরে এসো। এটা কোনো পথ নয়, অন্ধকারে হারিয়ে যেয়ো না। রোববার দুপুরে তেজগাঁও ১ নম্বর রেলগেটসংলগ্ন ইসলামী মিশন মাঠে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে মন্ত্রী রহমতে আলম মিশন পরিচালিত মদিনাতুল উলুম মডেল ইনস্টিটিউট মহিলা কামিল মাদ্রাসার ১০তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান খান বলেন, কেন বিশ্বব্যাপী জঙ্গি উত্থান হচ্ছে, সেটা বুঝতে হবে। একটি অপশক্তি ইসলামকে জঙ্গি ধর্ম বানানোর চেষ্টা করছে। মুসলমানদের জঙ্গি বানানোর চেষ্টা করছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। উচ্চকণ্ঠে বলতে হবে, ইসলামে হত্যাকারী ও জঙ্গিদের কোনো স্থান নেই।অনুষ্ঠানের সভাপতি সরকারদলীয় সাংসদ এ বি এম গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পৃথিবীর বহু দেশই এটা পারেনি।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইরানের দূতাবাসের কাউন্সিলর মুসা হোসাইনি, রহমতে আলম মিশন এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

যাবেন শহীদ মিনারেও আজ ঢাকায় আসছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ সোমবার সকালে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোরগ ব্রেন্ডে। সফরকালে বাংলাদেশ-নরওয়ে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বোরগকে জানানো হবে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য নরওয়েকে অংশীদার হিসেবে চায় বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রেন্ডেকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই সময় তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।’ তিনি আরও জানান, ‘নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে বাংলা ভাষা ও ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো কোনও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ মিনারে সম্মান জানাবেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার প্রসার ঘটবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানানো ছাড়াও দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও টেলিকম প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে পৃথক বৈঠক করবেন।’ নরওয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেলিকম, সুমদ্র অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আগ্রহী। নরওয়ের স্ক্যাটেক সোলার নামের একটি কোম্পানি নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নরডিক দেশগুলোতে সফরের বিষয় নিয়েও নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হবে।’

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন শুরু

করতোয়া ডেস্ক : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছে। এ সম্মেলন চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  রোববার সকালে রাজধানীর পিলখানার বিজিবি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে।

এবারের সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- সীমান্ত এলাকায় নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি, হত্যা-আহত করা, বাংলাদেশি নাগরিকদের অপহরণ-আটক, অস্ত্র ও গোলা-বারুদ পাচার, সীমান্তের অপরপ্রান্ত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বন্ধ, অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজ, আখাউড়া আইসিপির ভারতীয় অংশে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট), উভয় দেশের সীমান্তে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে সহায়তা, চোরাচালানি ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য বিনিময় এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

সম্মেলন শেষে যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরিত হবে। সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফ্রন্টিয়ার আইজি, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে, সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেনের নেতৃত্বে ২৮ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক, বিজিবি সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সার্ভে অব বাংলাদেশ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে বিএসএফ পরিচালিত বিএসএফ ওয়াইভস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের’ (ইডডঅ) ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিজিবি পরিচালিত সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতির (সীপকস্) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করবেন। সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে পারস্পরিক সুসম্পর্ক জোরদার ও সৌহার্দ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন এবং আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করবেন।

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো

করতোয়া ডেস্ক : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি/ ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু গড়া এ ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।’ আজ ২০ ফেব্রুয়ারি। আগামীকাল বাঙালির খুন রাঙা অমর একুশে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার আদায় করতে গিয়ে রাজপথে শহীদ হয়েছিলেন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত শফিউল্লাহসহ আরও অনেকে। সেই থেকে একুশ আমাদের সংগ্রামী দিন। একুশ আমাদের প্রেরণার উৎস।

১৯৪৭ সালের জুন মাসে নন্দিত কথা সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমেদ সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘মিল্লাতে’ বাংলাকে সম্ভাব্য রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেয়া হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে আবদুল হক জুন-জুলাই মাসে বাংলা, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হওয়া উচিৎ বলে বিভিন্ন কলামে লেখেন। অন্যদিকে মুসলিম লীগ ও মুসলীম লীগের বাইরের উর্দুভাষিরা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য সমর্থন দিতে থাকেন। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ এক কনফারেন্সে বলেন, ঙহষু টৎফঁ ফবংবৎাবং ঃড় নব ঃযব ংঃধঃব ষধহমঁধমব ড়ভ ধ গঁংষরস হধঃরড়হ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালিন প্রধান ও প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর তিব্র প্রতিবাদ করেন। ১৯৪৭ সালের ২৯ জুলাই, দৈনিক আজাদে ‘পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা’ শিরোনামে এক কলামে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনে বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরি

করতোয়া ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সম্মিলিত, কার্যকর ও সঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে জোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একইসঙ্গে পানির জন্য একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ‘ক্লাইমেট সিকিউরিটি: গুড কপ, ব্যাড কপস’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ডয়েচে ভেলের চিফ পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট মেলিন্ডা ক্রেইনের সঞ্চালনায় আলোচনায় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তো, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগোট ওয়ালস্টোম, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর সেলডন হোয়াইটহাউস অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক ইস্যু এবং এর সমাধান অবশ্যই বৈশ্বিকভাবে হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ। কোনো একটি দেশের অসহযোগিতা সবার জন্য হুমকি হতে পারে। সেজন্য আমরা অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেবো। জলবায়ু পরিবর্তন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে। এতে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সংঘাত তৈরি হতে পারে- যা মূলত জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন এবং মান উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য কারণে জীবন ও জীবিকার জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনকে তৃতীয় উপাদান হিসেবে তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে। এটি সরাসরি সামাজিকভাবে সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, এর ফলে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণ নিম্নমাত্রায় নিয়ে আসার লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৯ সালে ৪শ’ মিলিয়ন ডলারের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন’ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বনেতাদের বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের এ সাফল্যে অনেক দেশ তা অনুসরণ করছে। এসময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে কোস্টাল গ্রিন বেল্ট প্রকল্প, দেশব্যাপী প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রভৃতি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানিতে দুই দিনের সফর শেষে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টা) মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি আবুধাবিতে পৌঁছায় স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টা ১০ এ। সেখানে যাত্রাবিরতি করে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি রওনা হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ ইমরান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। রাতেই শেখ হাসিনার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।