দুপুর ২:১৮, বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

রাজধানীর শেরেবাংলানগর এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২। গত সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হচ্ছে- সোহেল (২৫), মো. খলিল (১৮), মো. হালিম (৫০), আলামিন (১৮), সুমন (১৮), মো. শহিদুল ইসলাম (২৮), শারমিন আক্তার সুখি (১৯) ও রুকসানা (১৮)। তাদের কাছ থেকে ৬ টি চাকু, ৫ টি ব্লেড, ২ টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলন্ত গাড়ি ও পথচারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করতো বলে র‌্যাব-২-এর সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি মৌসুমি অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, জাল নোট চক্র ও অজ্ঞানপার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে তৎপর মৌসুমি অপরাধীরা।’

র‌্যাব জানায়, চক্রটি কয়েক বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ছিনতাই করে আসছে। বিশেষ করে তারা চলন্ত গাড়িতে অবস্থানরত মানুষের ব্যবহৃত মোবাইলসেট, হাতে থাকা ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র হঠাৎ করে টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিভিন্ন বাস ও ট্রাক কাউন্টার বা সড়কে গ্র“পের এজেন্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

শ্রদ্ধা ভালবাসায় নায়করাজ রাজ্জাককে শেষ বিদায়

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি শাসন করে গেছেন রাজার মত; ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক বাংলার মানুষের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিলেন সবার শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে। বৈরী আবহাওয়া আর যানজট উপেক্ষা করে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছিলেন সরকারের মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিবিদরা। এসেছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের সেকাল-একালের সহশিল্পীরা, শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি আর ভক্তরা। সবার হাতে ছিল শ্রদ্ধার ফুল। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে ২৫ বছর প্রায় একাই টেনে নিয়ে গেছেন এই চিত্রনায়ক। শেষ দিকে অন্য চরিত্রে অভিনয় করলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন তাকে চিরসবুজ নায়ক হিসেবেই দেখে।

সোমবার রাতে রাজ্জাকের মরদেহ রাখা হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। সেখান থেকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল এফডিসিতে। সকাল থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি, এরপর প্রখর রোদম কোনো কিছুই দমাতে পারেনি রাজ্জাক ভক্তদের; লোকে-লোকারণ্য ছিল বিএফডিসির প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের চত্বর পর্যন্ত। চলচ্চিত্রাঙ্গনের শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশাপাশি রাজ্জাককে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ভক্তরারও। সকাল ১১টার দিকে প্রয়াত নায়কের মরদেহ বহনকারী গাড়ির সঙ্গে আসেন তার ছেলে চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ ও সম্রাট। এরপর নায়করাজের কফিনে শ্রদ্ধা জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবার, সিনেম্যাক্স মুভি পরিবার, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ, বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, সিনে স্থিরচিত্র গ্রাহক সমিতি, জাসাসসহ বিভিন্ন সংগঠন। রাজ্জাককে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক ও গীতিকার মাজহারুল আনোয়ার, অভিনেতা আলমগীর, চিত্রনায়িকা ববিতা, শাবনূর, নায়ক শাকিব খান, অভিনেতা সুব্রত, আলীরাজ, রুবেল, ফেরদৌস, আহম্মদ শরিফ, ওমর সানি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি অভিনেতা মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক নায়ক জায়েদ খানসহ আরও অনেকে। প্রিয় অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে তার প্রথম জানাজা হয়। সেখানে রাজ্জাকের বড় ছেলে বাপ্পারাজ বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

এফডিসি থেকে বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজ্জাকের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সেখানে সর্বস্তরের মানুষ নায়করাজের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। প্রথমে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নায়করাজের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দেন মন্ত্রী আসাদুজ্জাসান নূর। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ফুল দেন তার দল জাসদের পক্ষ থেকে। রাজ্জাকের কফিনে শ্রদ্ধা জানানোর পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি। তার চলে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। এ শূন্যস্থান কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রের উত্তম কুমার।’ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদ্জ্জুামান নূর অভিনেতা আবদুর রাজ্জাককে ‘প্রধান স্থপতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলা ছবির নির্মাণের ইতিহাস দেখলে বলতে হয়, যে ব্যক্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলা চলচ্চিত্র দাঁড়িয়েছিল তিনি রাজ্জাক।

নিজের দক্ষতা, নিজের গুণে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি আমাদের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। আজ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রধান স্থপতি চলে গেলেন।’ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, অভিনেত্রী রোজিনা, চিত্রনায়ক শাকিব খান, চিত্রনায়ক জাভেদ, অভিনেত্রী জয়া আহসান। শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা অনেকেই জানালেন তাদের প্রতিক্রিয়া। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও রাজ্জাকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানায় বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, অভিনয় শিল্পী সংঘ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, স্মৃতি ৭১, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, এনটিভি, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, ঋষিজ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ টেলিভিশন, ওয়ার্কার্স পার্টি, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, মুক্তধারা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বাংলাদেশ বাউল একাডেমি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ যুব সমিতি, সুবচন নাট্য সংসদ, দনিয়া সাংস্কৃতিক জোট, ডিরেক্টরস গিল্ড, দেশ টিভি, প্রজন্ম ৭১, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিসহ আরও অনেক সংগঠন। নায়ক রাজ্জাক যে বর্তমান প্রজন্মের কাছেও ‘নায়করাজ’ তার প্রমাণ মিলল শহীদ মিনারে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা তরুণদের ভিড় দেখে। রাজ্জাক ভক্তদের তিনটি সারি শহীদ মিনার থেকে গিয়ে ঠেকে ঢাকা মেডিকেলের বহির্বিভাগের গেটে। এই লাইনে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

রাজ্জাকের মরদেহে বিএনপির শ্রদ্ধা : বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দলটির পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, দলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস সভাপতি ড. মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চির বিদায়ে শোক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সোমবার এক শোকবাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয়তা অর্জনে নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাঙালি সংস্কৃতি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মরণ করবে।’ রাষ্ট্রপতি রাজ্জাকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন এক কিংবদন্তিকে হারালো। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় বলা হয়, তার মৃত্যুতে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প তথা সংস্কৃতি অঙ্গন এক কিংবদন্তিকে হারালো, যে ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্জাকের অবদানের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রয়াত এই চলচ্চিত্র তারকার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খালেদা জিয়া : বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার রাতে এক শোকবাণীতে তিনি বলেন, নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারালো এবং এই অঙ্গণের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মরহুম রাজ্জাকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঢাবি উপাচার্য: বাংলাদেশের খ্যাতিমান অভিনেতা আবদুর রাজ্জাক-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এক শোকবাণীতে ঢাবি উপাচার্য বলেন, একজন দেশপ্রেমিক অভিনেতা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্রসহ বিভিন্ন চলচিত্রে তিনি অভিনয় করে নায়ক রাজ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

ওবায়দুল কাদের: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক শোক বিবৃতিতে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক ও পরিচালক নায়ক রাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি নায়ক রাজ রাজ্জাকের পবিত্র রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। আগামী প্রজন্মের নিকট নায়ক রাজ রাজ্জাক প্রেরণার শক্তি হয়ে থাকবে। এদিকে নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, জাসাসের সভাপতি ড. মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক অভিনেতা চৌধুরী মাজহার আলী শিবা শানু।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীর পশুর হাটজুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও চামড়া নিয়ে কোন নৈরাজ্য হতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়া পশুর হাটজুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার বেলা ১১টায় ডিএমপি সদর দফতরে কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় জানানো হয়, এবার ঢাকা মহানগরে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত মোট ২৩ টি পশুর হাট বসানো হবে। যার মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩ টি ও উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে ১০ টি পশুর হাট। পশুর হাটে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পশুর হাট কেন্দ্রিক মানি স্কর্ট ও জালনোট সনাক্তকরণ এবং চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পাচারোধের ব্যবস্থা থাকবে।

পশুর হাটের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন- ‘আমাদের সবার সাথে সমন্বয় করে একটি সুন্দর কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরে অনুমোদিত ২৩ টি পশু হাটে থাকবে পুলিশের কঠোর নজরদারি। পশুবাহি ট্রাক যেখানে যেতে চায়, তাকে সেখানে যেতে দিতে হবে। কোন অবস্থায় তাকে বাধা দেয়া যাবে না। এটা সরকারি নির্দেশ। প্রত্যেকটি ট্রাক তার গন্তব্য স্থানের নাম বড় করে ব্যানার বানিয়ে ট্রাকের সামনে ঝুলিয়ে দিবে। কোনভাবেই এক হাটের পশু অন্য হাটে জোর করে নামানো যাবে না।

যদি এমন কেউ করে তাকে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অপরাধে আইনের আওতায় আনা হবে। ঈদে পশুর হাট চলবে তিন দিন। ঈদের ৩ দিন আগে কোরবানির হাট ও তার ২ দিন আগে থাকবে প্রস্তুতি। তিনি বলেন- নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে। পুলিশের মানি এস্কর্ট ছাড়া কোন নগদ টাকা বহন করা যাবে না। বাইরের ভ্রাম্যমান দোকান ও হকার হাট এলাকায় ঢুকতে পারবে না। ইজারাদাররা নির্দিষ্ট দোকান ঠিক করে দিবেন এবং পাইকারদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করবেন না।

তিনি গরু ব্যবসায়ীদেরকে আহবান জানিয়ে বলেন- প্রত্যেক গরু ব্যবসায়ী নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন। নগদ টাকা পুলিশের সহায়তায় নিজ একাউন্টে জমা করবেন। এতে আপনাদের টাকা নিরাপদে থাকবে। প্রত্যেক পশুর হাটে থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশ। ইজারার চৌহদ্দির বাহিরে কোন অননুমোদিত হাট বসতে দেয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে পশুর হাটে পশু আনতে হবে। প্রত্যেক হাটে থাকবে পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার। পশুর হাটে ও তার আশপাশে জনসচেতনতামূলক ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে টানানো ও প্রচার প্রচারণা করতে হবে। জালটাকা সনাক্তকরণের জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুমে থাকবে জালটাকা সনাক্তকরণ মেশিন। এছাড়াও হাট এলাকায় বসানো হবে সিসি ক্যামেরা।

 ইজারাদাররা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটরের ব্যবস্থা নিবেন। হাসিলের হার বড় করে দৃশ্যমান স্থানে টানাতে হবে। এই সমন্বয় সভায় ডিএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, হাট ইজারাদার, চামড়া ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়াবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে জঙ্গি তৎপরতা রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে সরকার নজরদারি বাড়াবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সরকার গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।এ সময় তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে এমন কোনও বিষয়বস্তু আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান ও জঙ্গি গ্রেফতারের ঘটনায় হওয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জঙ্গি অর্থায়নের ব্যাপারে পরবর্তী সভায় বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (সিআইডি) ও বিশেষ শাখাকে (এসবি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ উস্কে দেয় এমন অনলাইন অ্যাক্টিভিটিজও খতিয়ে দেখছে সরকার। পাশাপাশি, দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট ইস্যুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দেওয়া প্রতিবেদনের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি হয় বলে টিআইবি যে অভিযোগ করেছে অনেকক্ষেত্রে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টকার্ডসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গিবাদ নির্মূলে রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন : আইজিপি

জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে সামাজিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গীকারও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক।  সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ৮ম জাতীয় বিতর্ক বিকাশ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘হলি আর্টিজানের ঘটনার পর সারাদেশে জঙ্গিদের সঙ্গে আরও ২৩টি সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও এখনও জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গিবাদ নির্মূলে শুধু আইনের ব্যবহার নয়, একই সঙ্গে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। নতুন করে যাতে আরও জঙ্গি তৈরি না হয়, সেজন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অন্যরকম সিগন্যালের কারণেই এর আগে ‘জজ মিয়া’ নাটক তৈরি হয়। ফলে মূল ঘটনা উদঘাটিত হয়নি। যা জঙ্গিবাদকে আরও উৎসাহিত করেছে।’ আইজিপি বলেন, ‘জঙ্গিবাদকে উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রতিরোধে তরুণদের সামনে সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক, সামাজিক অঙ্গীকার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যে কারণে আমরা কেবল আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিনি। ধর্মীয় নেতাদেরও পরামর্শ নিয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক সবাইকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

নায়করাজের প্রস্থান

কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই (ইন্নালিল্লাহ…রাজিউন)। সোমবার (২১ আগস্ট) বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৫।

নির্মাতা মুশফিকুর রহমান গুলজার বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘আমি যতোদুর শুনেছি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।’

নায়করাজের মরদেহ এখন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে রয়েছে। পারিবারিক কয়েকটি সূত্র তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দিন: টিআইবি

নতুন পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতির কারণে সেবাগ্রহিতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা ওই ব্যবস্থা বাতিলের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলছে, নতুন পাসপোর্টের আবেদনকারীদের তিন চতুর্থাংশকেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হয়ে ‘ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত টাকা’ দিতে হয়।

সোমবার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত ‘পাসপোর্ট সেবায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও করনীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান বলেন, “গবেষণা প্রতিবেদনে আমরা দেখিয়েছি, পুলিশ ভেরিফিকেশনে হয়রানি হচ্ছে; এটার কোনো দরকারই নেই।”

এর বদলে সকল নাগরিকের জন্য ‘বায়োমেট্রিক ডাটা ব্যাংক’ এবং ‘অপরাধী তথ্য ভাণ্ডার’ তৈরি করে তার সঙ্গে পাসপোর্ট অফিস ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সংযোগ স্থাপন করার সুপারিশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহনূর রহমান।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট করাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয় পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি), তাদের ছাড়পত্রের (ভেরিফিকেশন) জন্য।

টিআইবির জরিপে অংশগ্রহণকরীরা বলেছেন, পুলিশের ওই দপ্তর ‘অযথা’ আবেদনপত্রে ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। জঙ্গি কার্যক্রম বা অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা বলে ভয় দেখায়। বাড়িতে না গিয়ে চায়ের দোকান বা থানায় ডেকে পাঠায়। ঘুষ দাবি করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে।

# দেশের ৬৭টি পাসপোর্ট অফিসের মধ্যে বিভাগ অনুপাতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২৬টি পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করে প্রতি অফিসে পাঁচ কর্মদিবস করে জরিপ চালিয়েছে টিআইবি।

# দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচিত মোট এক হাজার ৪৫৩ জন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে নির্ধারিত প্রশ্নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এ গবেষণার কাজে।

# এ গবেষণা চলেছে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর মে মাস পর্যন্ত।

>> জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।

>> এর মধ্যে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত অর্থ দিতে বাধ্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ২৭ শতাংশ শতাংশ উত্তারদাতা অযথা সময়ক্ষেপণের শিকার হওয়ার এবং ২ দশমিক ২ শতাংশ পাসপোর্টগ্রহীতা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কথা বলেছেন।

>> জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও অনিয়ম হয় পুলিশ ভেরিফিকশনের ক্ষেত্রে। ৭৬ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা এ কাজের জন্য অনিয়ম ও হয়ারনির শিকার হওয়ার কথা বলেছেন।

>> ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের গড়ে ৭৯৭ টাকা ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত টাকা পুলিশকে দিতে হয়েছে ভেরিফিকেশনের জন্য।

>> তবে টিআইবির তথ্য অনুযায়ী পারপোর্ট অফিসে দুর্নীতি আগের তুলনায় কমেছে। ২০১৫ সালে টিআইবির জাতীয় খানা জরিপে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা পাসপোর্ট করাতে গিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার কথা বলেছিলেন। ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত অর্থ দেওয়ার কথা বলেছিলেন ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে এই ভেরিফিকেশনের বিষয়টি চলে আসছে। আগে কোনো কিছু করতে হলেই বলা হত- পুলিশের কাছে থেকে ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট লাগবে। সেখানে লেখা থাকত- ‘ওই ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নয়’। এখন এই গণতান্ত্রিক সময়েও জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের যে অবিশ্বাস সেটা রয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “জনগণের প্রতিনিধি বলে যারা নিজেদের দাবি করেন, তারা জনগণকে বিশ্বাস করেন না। অপরাধী কে সেটা পুলিশ জানে। যখন ধরা পড়ে তখন দেখা যায় সে দশ বছর ধরে অপরাধী। তার মানে পুলিশ জানত, কিন্তু দেখত না। যখনই সাধারণ মানুষের বিষয় আসে, তখন দেখা যায় পুলিশ খুব তৎপর।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

৩০ অগাস্টের টিকেট পেতে কমলাপুরে উপচে পড়া ভিড়

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিন টিকেট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে।  সোমবার সকাল ৮টা থেকে কমলাপুর স্টেশনের তেইশটি কাউন্টার থেকে একসঙ্গে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এদিন দেওয়া হচ্ছে ৩০ অগাস্ট ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট।

এবার কোরবানির ঈদে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আগের দিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় সেদিনের টিকেটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের ২২ হাজার ৪৯৬টি টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। ৩৫ ভাগ কোটার জন্য রেখে বাকি টিকেট কাউন্টার থেকে পাচ্ছেন যাত্রীরা। এছাড়া ঈদের বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬০৬টি টিকেটও কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে।

৩০ অগাস্টের টিকেটের জন্য রোববার ভোর রাতে কমলাপুর স্টেশনের কাউন্টারের সামনে আসেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পুলিশ সদস্য আইয়ুব আলী। অপেক্ষমানদের লাইনে তিনি ছিলেন সবার আগে। ২৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পদ্মা এক্সপ্রেসের টিকেট পেয়েছেন তিনি।

“কাল সারাদিন, সারা রাত ছিলাম। খাওয়া-দাওয়ার কষ্ট, ঘুমাইতে পারি নাই। গোসল তো দূরের কথা। এখনও চোখ জ্বালা করছে। শুধু পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে এই কষ্ট সহ্য করেছি। এখন ভালোয় ভালোয়ে যেতে পারব বলে আশা করি।”
আইয়ুবের ঠিক পেছনেই ছিলেন সাগর আলী নামে আরেকজন। তিনি জানালেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ, এ কারণে ট্রেনে যেতে চায় সবাই। অপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

“২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছি। খাবার পানির খুব কষ্ট হয়েছে, খাবারও খেতে পারিনি। তারপরও টিকেট পেলে এসব কষ্ট আর থাকে না।”

জামালপুরের অগ্নিবীণা ট্রেনের টিকেটের জন্য রোববার দুপুরে এসেছিলেন সোলাইমান হোসেন নামে একজন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকেট পেয়েছেন তিনি। অনলাইনে আরও বেশি টিকেট দেওয়া হলে মানুষের কষ্ট কিছুটা কমবে বলে তার ধারণা।

“একটা টিকেটের জন্য এত কষ্ট করতে হয়। ঠিকমতো প্রাকৃতিক কাজও সারতে পারি নাই। লাইন ছেড়ে গেলে আবার যদি সিরিয়াল না পাই… এখন তো প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে। টিকেটগুলো অনলাইনে দিলে তো আমাদের এখানে আসতে হয় না। লোকজনের দুর্ভোগ কমে।”

দেড় বছরের ছেলে আলিফ আর ননদকে নিয়ে রোববার রাত ৮টা থেকে নারীদের কাউন্টারের সামনে ছিলেন এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা রহিমা বানু। সোমবার সকাল সোয়া ৮টায় জামালপুর যাওয়ার তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি এসি টিকেট কিনতে পেরেছেন তিনি।
“আমাদের এলাকার সড়ক যোগাযোগ খুব খারাপ, রাস্তা ভাঙ্গা। এ কারণে বাচ্চা নিয়ে এখানে আসতে হয়েছে। এখন টিকেট পেয়েছি, খুবই খুশি লাগছে।”

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট নিয়ে সোমবারও অভিযোগ করেছেন টিকেট প্রত্যাশীরা।

খুলনার সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এসি টিকেটের জন্য সকালে কমলাপুরে আসা রাজউকের উপপরিচালক হামিদুল ইসলাম জানান, আগের দিনও লোক পাঠিয়েছিলেন, এসি টিকেট পাননি।

“আমার সিরিয়াল ১১ নম্বরে। অথচ এসি টিকেট নাকি শেষ। তাদের সঙ্গে তো ঝগড়া করে পারব না। তাহলে এত অপেক্ষা করে লাভটা কী হল!”

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে

শাহারিয়ার হিরু/এমএ কুদ্দুস, দিনাজপুর ও প্রহল্লাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী তিন মাস বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, নতুন ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত বন্যার্তদের খাবার ও ঘর নির্মাণে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের উপর ঋণের চাপ না দেয়ার জন্য এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৫ সালের ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াননি। আমি বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। এখনও আমি আপনাদের পাশে রয়েছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারাও মঙ্গা দেখা দেয়। এই আট বছরে উত্তরবঙ্গ থেকে মঙ্গা শব্দটি উঠে গেছে। এখন কোথাও মঙ্গা নেই।

প্রায় ১৩ মিনিট বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি বাবা, মা, ভাইসহ সকলকে হারিয়েছি। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনে জীবন দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে। এসব মোকাবিলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি মানুষও না খেয়ে মরবে না, গৃহহীন থাকবে না। সকলের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। ওষুধসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা হবে। ক্ষুধার জন্য মানুষকে ছটফট করতে হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত পেয়েই সরকার বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতাকে হারিয়েছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দেশে কেউ ভূমিহীন থাকবে না। তার সে আশা পূরণ হওয়ার আগেই ঘাতকরা তাকে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করে দিয়েছে। আমিই জাতির পিতার সেই আশা, সেই স্বপ্ন পূরণ করব। এদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করে জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা হবে ইনশা আল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রোববার দিনাজপুর জিলাস্কুল ও বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ তেঘরা স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে পৃথক পৃথক ত্রাণ বিতরণের পূর্বে এসব কথা বলেন।

ত্রান বিতরণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ মাহমুদ আলী, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিছুল হক চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দিনাজপুর জিলাস্কুল মাঠে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও তেঘরা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জিলাস্কুলে তিনি বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে সড়ক পথে বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘেরা হাইস্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণ শেষে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে অবতরণ করেন।

রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষীপ্রিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আর শেখ রেহানা দেশের বাইরে ছিলাম বলে বেঁচে গেছি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। প্রতিটি মানুষ যেন খাদ্য পায় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে কোন উন্নয়ন করেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলার কোন মানুষ বেকার থাকবে না। প্রতিটি মানুষই উন্নত হবে। মেহনতি মানুষের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কোন মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে জন্য বাংলাদেশকে দরিদ্র মুক্ত করা হবে।  
                 
তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির পিতা বাংলার মানুষের জন্য ভাগ্য পরির্বতন করে দিয়েছেন। প্রতিটি মানুষ সুন্দর জীবন যাপন যাতে করতে পারে সে ব্যবস্থা তিনি করে গেছেন। মাত্র সাড়ে ৩ বছর তিনি সময় পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। তারা এখন বন্দীদশা থেকে মুক্ত। তারা বাংলাদেশী হয়ে জীবন যাপন করেছে। খাদ্য চিকিৎসা বস্ত্রসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করে দিয়ে গেছেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। সে বন্যা থেকে সকলেই রেহাই পেয়েছে। ২০১৭ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আবার দেখা দিয়েছে। আমরা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার তাদের পুনর্বাসন করবে। সে জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও গৃহ নির্মাণের জন্য টিন দেয়া হবে। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সার, বীজ,  চারা বিনামূল্যে সরকার সরবারহ করবে। বন্যায় যে সকল রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। যেসকল ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার বই বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে তাদের নতুন করে বই সরবারহ করা হবে।

আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল হাসান, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৗধুরী।

পরে প্রধানমন্ত্রী নিজ হস্তে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি করে ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, লবণ, আধাকেজি মুড়ি, ১২টি মোমবাতি ও পর্যাপ্ত পরিমাণ দিয়াশলাই বিতরণ করেন। এ ত্রাণ কার্যক্রম ৩ মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বিকাল ৪টায় পাঙ্গা হাইস্কুল মাঠ থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে: সেতুমন্ত্রী

বৃষ্টি না হলে ঈদের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসমূহ যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অতিবর্ষণ ও উজানের পানির কারণে সড়ক-মহাসড়কের ৪১টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সড়ক-সেতু তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক এবং সম্প্রতি বন্যায় আক্রান্ত দিনাজপুর সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে  রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত দেশের ৩০ জেলার ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য। আর বন্যায় ২৮০টি বাঁধের সঙ্গে দুই হাজার ৭৮৯ কিলোমিটার রাস্তা, ১২৩টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেমন্ত্রী  রোববার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সারাদেশে বন্যায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে এক জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশব্যাপি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৩টি পয়েন্টে এক থেকে তিন কিলোমিটার এখনও পানির নিচে ডুবে আছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের যে সড়কাংশগুলো ভেসে গেছে তা সংস্কার করা হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগি রাখতে দিনরাত কাজ চলছে।

এছাড়া বন্যার পানির প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ১৮টি স্থানের সড়কাংশ।তিনি বলেন, মহাসড়কের উপর কিংবা পাশে কোরবানির পশুরহাট বসানো যাবে না এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িতে কোরবানির পশু বহন করা যাবে না। সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় চাপ কমাতে গার্মেন্টসগুলো অঞ্চল ভেদে ভিন্নভিন্ন দিনে ছুটি দেয়ার জন্য বিজিএমইএ’কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগে পাঁচদিন এবং পরে পাঁচদিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনসমূহ চব্বিশ ঘন্টা খোলা রাখার বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যানজট এড়াতে ঈদের আগে তিনদিন ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ঈদযাত্রায় পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মহানগরীর বিভিন্ন টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিম কার্যকর থাকবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহি পরিচালক সৈয়দ আহম্মদসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিনস্থ সংস্থাসমূহের মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

টাঙ্গাইলের রেলসেতু সোমবারের মধ্যেই মেরামত করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হবে : রেলপথমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, সোমবার সকালের মধ্যেই পৌলী রেলসেতু মেরামতের জন্য দক্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্যই যাতে সঠিকভাবে ট্রেন চলাচল করে সেজন্য যা যা প্রয়োজন জনবলসহ সব যোগান দেয়া হচ্ছে।

তিনি রোববার বিকেলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী রেলসেতুর ধস পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার পানির স্রোতে এই ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও কি কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। এরজন্য যদি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা দায়ী হয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মুজিবুর রহমান, রেল বিভাগের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো: নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার মো: মাহবুব আলম প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলা দিবস আজ

আজ রক্তঝড়া সেই ভয়াল ২১ আগস্ট। দেশের ইতিহাসে পৈশাচিক গ্রেনেড হামলা দিবস। ২০০৪ সালের এ দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে’ একের পর এক বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই হামলা থেকে রক্ষা পান। তবে আকস্মিক এই হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ প্রাণ হারান ২৪ জন। আহত হন শত শত নেতাকর্মী।

আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সেদিন বিকেলে ওই সমাবেশে একটি ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চে যখন শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন আকস্মিক এই হামলা চালানো হয়। একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃংখলা ও ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এসময় ঢাকা’র তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং ব্যক্তিগত দেহরক্ষীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে একটি মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে দলীয় সভানেত্রীকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন। তবে গ্রেনেডের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও তার (শেখ হাসিনা) শ্রবণ শক্তির ক্ষতি হয়।

এই বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু,  মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন, ইসাহাক মিয়া প্রমুখ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই হত্যাকান্ডের বিচারের ব্যাপারে তৎকালীন বিএনপি সরকার নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছিল। শুধু তাই নয় এ হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে সরকারের কর্মকর্তারা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। তবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বিচার কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।

কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (খামারবাড়ী, ফার্মগেইট) আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। তবে প্রতিবারের মত এবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

২৮ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি

ঈদুল আযহা সামনে রেখে ২৮ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি দিতে গার্মেন্ট মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, আজ বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট থেকে পোশাক শ্রমিকদের পর্যায়েক্রমে ছুটি দেওয়া এবং ছুটির আগে তাদের ঈদ বোনাস দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। ঈদযাত্রার পথে যাত্রীদের যেন দুর্ভোগ না হয়, সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঈদে হাইওয়েতে পশুর হাট ১৯৩ ও হাইওয়ের কাছে ২২৬টি বাজার যেন না বসে সে বিষয়ে সংশিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে নদীতে কোনো বালুবাহী ট্রলার চলবে না এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, এক্সপোর্ট ও পশুবাহী ট্রাক ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে চলবে না বলে জানান মন্ত্রী। ঢাকা মহানগরের ২৩টি পশুর হাটে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জালনোট শনাক্ত করতে হাটে পর্যাপ্ত মেশিন থাকবে। অন্যদের মধ্যে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

আগাম টিকেটের দ্বিতীয় দিনে ভিড় কমলাপুরে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরুর দ্বিতীয় দিন টিকেট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় হয়েছে ঢাকার কমলাপুরে। প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে কমলাপুর স্টেশনের ২৩টি কাউন্টার থেকে একসঙ্গে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এদিন দেওয়া হয়েছে ২৮ অগাস্টের টিকেট।

এবার কোরবানির ঈদে তিন দিনের সরকারি ছুটি শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আগের দিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় সেদিনের টিকেটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শনিবার ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের ২২ হাজার ৪৯৬টি টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। ৩৫ ভাগ কোটার জন্য রেখে বাকি টিকেট কাউন্টার থেকে পাচ্ছেন যাত্রীরা। এছাড়া ঈদের বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬০৬টি টিকেটও কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে।

শনিবার সবগুলো কাউন্টারের সামনেই ছিল দীর্ঘ লাইন। টিকেটের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের সারি টার্মিনাল ভবন ছাড়িয়ে স্টেশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া যাওয়ার টিকেটের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় স্টেশনে এসেছেন বলে জানান বেসরকারি চাকুরে কামরুজ্জামান। শনিবার সকাল ৮টায় টিকেট পেলেন তিনি।

কামরুজ্জামান বলেন, “পরিবারের সবাইকে নিয়ে যাবে। আমাদের ওই দিকে সড়কপথ ভালো, তবে সবাই বাসে চলতে পারে না। এজন্য ট্রেনে যাই। টিকেট কনফার্ম করার জন্যই আগের এসে বসেছিলাম। টিকেট পাওয়ার পর এখন ভালো লাগছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে জয়ন্তিকা ট্রেনের টিকেট কিনেছেন ধোলাইখালের টায়ার ব্যবসায়ী মো. জুয়েল। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে আগে পাঠিয়ে দিতেই ট্রেনের টিকেট নিতে আসেন তিনি।

“আমার পরিবারের সবাই ট্রেনে যেতে চায়। বাসে গেলে বমি করে দেয়। ট্রেনে সেই সমস্যা নাই। আরামে যাওয়া যায়।”

উত্তরবঙ্গের ট্রেনের টিকেট কাউন্টারে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব ট্রেনের টিকেটের জন্য শুক্রবার দুপুর থেকেই লোকজন কাউন্টারের সামনে ভিড় করেছেন।

রাজশাহীর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের জন্য শুক্রবার দুপুর ২টায় কমলাপুরে আসা মাদ্রাসা ছাত্র মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ কাঙ্ক্ষিত টিকেট পেয়ে বেশ খুশি।

“আমরা উল্লাপাড়া যাব। আগে এসেছিলাম বলে ১০ নম্বর সিরিয়ালে থাকতে পেরেছি। এ কারণে টিকেটও পাইছি। এখন বেশ শান্তি লাগছে।”

পদ্মা এক্সপ্রেসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের টিকেট পেয়েছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

“গতকাল দুপুর থেকে ছোটভাইকে দাঁড় করিয়েছিলাম। আমি এসেছি সকাল ৭টায়। ১০ নম্বর সিরিয়াল ছিল বলে কেবিনের টিকেট পেয়েছি। বাচ্চাকাচ্চা যাবে, স্ত্রী যাবে, সবাইকে নিরাপদে পাঠাতে পারছি, এটা সন্তুষ্টির। সবাই যদি টিকেট পেত, তাহলে খুবই ভালো হত।”
তবে বিক্রি শুরুর আধাঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট শেষ হয়ে গেছে জেনে ক্ষোভ জানিয়েছেন টিকেট প্রত্যাশীরা।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. নাসিম অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুরে এসে ১৪ নম্বর সিরিয়ালে থাকার পরও রাজশাহীর কোনো ট্রেনের এসি টিকেট পাননি।

“আমার আগে ৪ জন ১৬টা এসি টিকেট নিয়েছে। এখনই বলছে আর কোনো টিকেট নাই। শুধু পদ্মা ট্রেনেই তিনটা এসি বগি আছে। এতগুলো ট্রেন মিলিয়ে কি মাত্র ১৬টা টিকেট? তাহলে বাকি টিকেটগুলো গেল কই? ২০ ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর যদি বলে টিকেট নাই তাহলে কেমন লাগে বলেন।”

এসি টিকেট না থাকার বিষয়ে কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্ত্তী সাংবাদিকদের জানান, যাত্রীদের অভিযোগ সত্যি নয়।

“আমি নিজেই গিয়ে দেখে এসেছি সার্ভারে। এসি টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে, এগুলো কাউন্টার থেকেই বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু লোক অযৌক্তিক কথা বলছে।”

এসি টিকেটের স্টেশন প্রতি কোটা থাকে জানিয়ে যাত্রীদের কাঙ্ক্ষিত স্টেশনের না পেলে পরবর্তী স্টেশনের টিকেট কেনার পরামর্শ দেন সীতাংশু চক্রবর্ত্তী।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ

করতোয়া ডেস্ক: আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাকে ‘গণসংবর্ধনা’ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ও ২৮ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের ভাষণ দেওয়ার পরদিন শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় চলে যাবেন। ২১ সেপ্টে¤॥^র বিকেলে শেখ হাসিনা বাংলায় ভাষণ দিতে পারেন। এরপরই জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবো আমি।

 জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে আগামী ১৭ সেপ্টে¤॥^র নিউ ইয়র্কে আসবেন শেখ হাসিনা। এ সফর নিয়ে নিউ ইয়র্কে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নানা প্রস্তুতি চলছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছেন জেএফকে এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানানো ও জাতিসংঘে ভাষণের সময় বাইরে ‘শান্তি সমাবেশ’ এর জন্য, গণসংবর্ধনার জন্য চলছে প্রস্তুতি। নিউ ইয়র্কে টাইমস স্কোয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলের বলরুমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের সমর্থনে একটি তথ্যচিত্র দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

 সংগঠনটির নির্দেশনায় ১৮ থেকে ২০ মিনিটের এ তথ্যচিত্রটির নাম হচ্ছে ‘বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’। ২৮ সেপ্টে¤॥^র শেখ হাসিনার জন্মদিন। সফরসূচি অনুযায়ী তখন তিনি থাকবেন ভার্জিনিয়ায় স্বজনদের সঙ্গে। ৩০ সেপ্টে¤॥^র ঢাকার উদ্দেশ্যে তার ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়ার কথা।

 

শাহবাগে ইমরানের ওপর হামলা

ঢাবি প্রতিনিধি: বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য শাহবাগে সমবেত গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ‘লাঠিসোটা নিয়ে’ এই হামলায় তিনি নিজেসহ চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জাগরণ মঞ্চের সংগঠক ইমরান এইচ সরকার জানিয়েছেন।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা বিকালে ত্রাণ সংগ্রহের জন্য শাহবাগে জাদুঘরের সামনে মিলিত হয়েছিলেন। সমাবেশের শেষের দিকে ১০ থেকে ১২ জন ইমরান এইচ সরকারকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর আগে গত ১৬ জুলাই ঢাকার আদালতপাড়ায় ছাত্রলীগকর্মীদের হামলার শিকার হন ইমরান এইচ সরকার।  

হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদী মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কটূক্তি’র অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতার করা মানহানির মামলায় ওই দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ইমরান। জামিন নিয়ে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণেই তার গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

এদিনের হামলা নিয়ে ইমরান বলেন, বানভাসী মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে সামনে বিকালে সমাবেশ করছিলাম, সমাবেশ শেষের দিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ১০ থেকে ১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। ‘দেশে কোথায় বন্যা? বন্যা নেই, তোরা তো দেশে বন্যা নিয়ে আসছিস’- এই কথা বলে প্রথমে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে লাঠি দিয়ে তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। আহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- রিয়াজুল আলম ভূঁইয়া ও নাসির উদ্দিন সোহাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র রিয়াজুল গণজাগরণ মঞ্চের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। আহত সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে ইমরান জানিয়েছেন।

 

ঈদে ট্রেনের আগাম টিকেট আজ থেকে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে আজ ১৮ আগস্ট শুক্রবার থেকে। আজ ২৭ আগস্টের ট্রেন যাত্রার টিকেট বিক্রি শুরু হবে বলে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রেলভবনে ঈদসেবা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির সূচি তুলে ধরেন তিনি। রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, রেলওয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়। মন্ত্রী জানান, ১৮ থেকে ২২ আগস্ট ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঈদযাত্রার আগাম টিকেট বিক্রি হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাউন্টারে এই টিকেট পাওয়া যাবে। বর্ষায় দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ট্রেনের ওপর এবার বাড়তি চাপ পড়বে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, চাপ সামলাতে রেলওয়ে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে। আমরা ১৩৮টি কোচ বাড়তি যোগ করেছি। এছাড়া ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আগে ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চালাতাম। এবার ঈদের চার দিন আগে থেকে সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন দিচ্ছি, তা চলবে ঈদের পর সাত দিন পর্যন্ত।

বিশেষ ট্রেন: এবার ঈদ উপলক্ষে ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে এসব বিশেষ ট্রেন। শোলাকিয়া ঈদগায় যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চালানো হবে। বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঈদযাত্রার বিষয়টি মাথায় রেখে আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর তো আমাদের হাত নেই। তারপরও আমাদের চেষ্টা আছে। সেখানে জনবল দেওয়া আছে। আশা করি ঈদের আগে রেললাইনগুলো মেরামত করা যাবে। আমরা সবশেষ চেষ্টা করব। এরপরও সেসব লাইনে ট্রেন চালাতে না পারলে আমরা যাত্রীদের বলে দেব ট্রেন চালাতে পারছি না। টিকেট কালোবাজারি রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন মুজিবুল হক।

কবে কোন তারিখের টিকেট: ১৮ আগস্ট বিক্রি হবে ২৭ আগস্টের টিকেট, ১৯ আগস্ট বিক্রি হবে ২৮ আগস্টের টিকেট, ২০ আগস্ট বিক্রি হবে ২৯ আগস্টের টিকেট, ২১ আগস্ট বিক্রি হবে ৩০ আগস্টের টিকেট, ২২ আগস্ট বিক্রি হবে ৩১ আগস্টের টিকেট।

দরকার না থাকলে ভোটে সেনাবাহিনী নয়: সিইসি

রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটে আনতে ‘সমঝোতার’ কোনো উদ্যোগে নির্বাচন কমিশনের কোনো ভূমিকা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না, কোনো দলের চাওয়া বা না চাওয়ার ওপর তা নির্ভর করবে না বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের সংলাপে এ কথা জানান সিইসি নূরুল হুদা, যার কমিশনের অধীনে ২০১৮ সালের শেষে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে। আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কি না- সে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। কেউ চাইল, বা না চাইল- তার ওপর নির্ভর করে কিছু হবে না। পরিবেশ পরিস্থিতিতে যদি প্রয়োজন মনে করি, সবই আসবে। দরকার মনে না করলে সেনাবাহিনী আসবে না। এটা সম্পূর্ণভাবে ইসির ওপর ছেড়ে দিতে হবে।’ দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনীকে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির মত নির্দলীয় কোনো সরকারের মধ্যে নির্বাচন না হলে তা প্রতিহত করার হুমকিও তাদের রয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলে আসছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। আর তাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মত প্রকাশ করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সিইসি বলেন, আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির যে সংলাপ শুরু হবে, সেখানে কারো ভোটে আসা-না আসার বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। আমরা যে ডায়লগ করব পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে, এটা শুধু ডায়লগ। তাদের কথা শুনব, আমাদের কথা তারা শুনবেন। এ নিয়ে কে আসবে- না আসবে তা নিয়ে আমাদের কোনো ইস্যু থাকবে না। ভোট নিয়ে চাপের মুখে পড়লে কী করবেন- এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, এর সুযোগ নেই। কারও কাছে যদি আমরা আত্মসমর্পণ করি, তাহলে এটা আমাদের দুর্বলতা। এটা আমরা করব না। কারণ আমাদের কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ইসি সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নূরুল হুদা বলেন, চাপের মুখেও ‘কম্প্রোমাইজ’ না করার অঙ্গীকার যদি থাকে, তাতেই কাজ হবে। ইটস এনাফ, আর কোথাও যেতে হবে না।

এবার আর কোথাও যাব না, এটা আমার অঙ্গীকার। এজন্য আপনাদের সাক্ষী রেখেই কথাগুলো বলছি। সব দলকে নির্বাচনে আনতে ‘মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকা নিতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কারও কারও সুপারিশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বলেন, আমার মনে হয় না আমি নিতে চাই না। বিগত নির্বাচনের আগে বিদেশিদের মধ্যস্থতায় প্রধান দুই দল আওয়াম লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা সবাই ভুলে যাই- আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক মেডিয়েটর এসে আমাদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসে সমাঝোতায় আনতে পারেনি। সেখানে আমি কেন চাইব সে রিস্ক নিতে? অযথা সময় নষ্ট করতে? এটা আমার কাজ না। ভেরি ফার্মলি- এটা আমার কাজ না। সকাল ১০টার পর ইসির সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। সিইসি নূরুল হুদার সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন ও রেডিওর ২৬ জন প্রতিনিধি বেলা ১টা পর্যন্ত তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যা দুর্গত এলাকায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যা দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে আগামী রোববার দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার প্রধানের এই সফরের কথা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় দফার বন্যায় এ পর্যন্ত ২২ জেলার ৩৩ লাখ ২৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর ও রাঙামাটি জেলার ১২২টি উপজেলা ও ৩৮টি পৌরসভা এখন বন্যায় প্লাবিত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যাজনিত কারণে গত জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জনেরই মুত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে।

দুর্গত জেলাগুলোতে কয়েক লাখ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কটের পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

গত এপ্রিলে দেশের সিলেট অঞ্চলে আগাম বন্যায় বাঁধ ভেঙে হাওর এলাকার ছয় জেলা প্লাবিত হলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে সময়ও প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে গিয়ে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিজে চোখে দেখেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পরিচয় যাই হোক উল্টা পথে গাড়ি চালালে ব্যবস্থা : ডিএমপি প্রধান

পরিচয় যাই হোক, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে উল্টাপথে গাড়ি নিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘শব্দ দূষণ ও হাইড্রলিক হর্ন বন্ধে করণীয়’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উল্টোপথে গাড়ি চলাচলে বাধা দিলে পুলিশকেও নাজেহাল হতে হয় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থায় ‘রাতারাতি’ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন আছাদুজ্জামান মিয়া।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মিডিয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো মন্ত্রী-এমপির গাড়িও উল্টাপথে চলতে পারবে না। যদি আইন অমান্য করেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কঠোর অবস্থানের পরও এখনও অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তথাকথিত প্রভাবশালী মহল এখনো উল্টোপথে গাড়ি চালাতে চায়। এতে পুলিশ বাধা দিলে তাদেরকে নাজেহাল করার অপপ্রয়াস আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি। কিন্তু কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে আমরা আমাদের পেশাদারিত্ব পালন করে যাচ্ছি।’ পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমি বিনয়ের সাথে আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই, পরিচয় যাই হোক, ট্রাফিক আইন ভায়োলেশন করলে, উল্টোপথে গেলে, সিগন্যাল ভায়োলেশন করলে, অবৈধ পার্কিং করলে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আমি মনে করি ট্রাফিক ব্যবস্থার টেকসই উন্নতির জন্য ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমরা সেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের একটু সময় দেন। গত এক বছরে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আরও এক বছরের মধ্যে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অপতৎপরতা ও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’ ডিএমপি কমিশনার দাবি করেন, উল্টাপথে গাড়ি চলা, মোটরসাইকেলে তিনজন যাত্রী ওঠা, হেলমেট ব্যবহার না করা, বিভিন্ন ধরণের স্টিকার ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা, হাইড্রলিক হর্নের অননুমোদিত ব্যবহার অনেকটা কমে এসেছে। নগরীর শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে গত এক বছরে ১০ হাজার হাইড্রলিক হর্ন জব্দ করা হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির মত সম্পাদকদের

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতোই একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে যথাযথ পরিবেশ তৈরির পরামর্শ এসেছে প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাকিদদের কাছ থেকে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে আস্থা অর্জনের কথাও বলেছেন প্রায় সব গণমাধ্যম প্রতিনিধি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনঃনির্ধারণসহ ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে নির্বাচনের কমিশনের সঙ্গে বুধবার সংলাপে তারা এ মত তুলে ধরেন।

বেলা সোয়া ১০টা থেকে দেড়টা পর‌্যন্ত নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময়ে অংশ নেন ২৬ জন গণমাধ্যম প্রতিনিধি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, “সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি।”

বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান জানান, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সমর্থন করেন না তিনি। সেই সঙ্গে নাম সর্বস্ব পর্যবেক্ষক সংস্থাকে যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেওয়া হয়।

“অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি,” বলেন তিনি।

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, “নির্বাচন একটা রাজনৈতিক উৎসব। সব দলের অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে হবে।”

তিনি জানান, সার্বিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে অনেকে মত দিয়েছেন। অনেকে বলেছেন এখন যেভাবে মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে তারা থাকতে পারে। কেউ কেউ বলেছেনে ‘নো’ ভোট না থাকা ভালো, কেউ কেউ বলেছেন নো ভোট থাকতে পারে।

সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্ত নিশ্চিতে বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

তিনি বলেন, “এ নির্বাচনের দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইসির স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। এমন আচরণ করতে হবে যাতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়। আস্থা অর্জনে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।”

শ্যামল দত্ত জানান, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। সামনে সিটি নির্বাচনের ওপরই জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত হবে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর জানান, এখন থেকেই সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরি করতে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ইভিএম নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, “বিদ্যমান সীমানাতেই ভোট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতেই সীমানা পুননির্ধারণ করতে হবে। ২০১১ সালে সর্বশেষ আদমশুমারি প্রতিবেদন হওয়ায় নতুন করে আর সীমানা পুননির্ধারণের দরকার নেই।”

তবে নতুন প্রশাসনিক এলাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহল যোগ করেই সংসদীয় আসনের গেজেট করার পরামর্শ দেন তিনি।

সেই সঙ্গে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান আশিস।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “স্বাধীনতা বিরোধী কোনো দল যাতে নিবন্ধন না পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত যাতে অন্য কোনো নামে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে ভোট করতে না পারে সে বিষয়ে আইনী উদ্যোগ নিতে হবে।”

উপস্থিতি

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের প্রথম ধাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রিন্ট মিডিয়া ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মিলিয়ে ৩৭ জনকে।

বুধবার তাদের মধ্যে ১২ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

যারা সংলাপে অংশ নিয়েছেন তারা হলেন- নূরুল কবীর, সাইফুল আলম, আশিস সৈকত, মোস্তফা কামাল, মতিউর রহমান চৌধুরী, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, শ্যামল দত্ত, নাঈমুল ইসলাম খান, নঈম নিজাম, আনিস আলমগীর, মো. শফিকুর রহমান, ফরিদা ইয়াসমিন, সামশুল হক, মনজুরুল আহসান বুলবুল, ওমর ফারুক, মো. আব্দুল্লাহ, মাহফুজউল্লাহ, কাজী সিরাজ, আনিসুল হক, আমানুল্লাহ কবীর, গোলাম মর্তুজা, বিভুরঞ্জন সরকার, মাহবুব কামাল, সোহরাব হাসান, কাজী রোকনুদ্দীন আহমদ (ইসির তালিকার ক্রমানুসারে)।

বৃহস্পতিবারের সংলাপে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও এজেন্সির প্রধান সম্পাদক এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, রেডিওর বার্তা প্রধানসহ ৩৪ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

যেসব সুপারিশ এলো

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পরে সংলাপে পাওয়া সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।

১. সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন প্রত্যাশা করেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।

২. বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ করার পরামর্শ

৩. সেনা মোতায়েনের পক্ষে বলেছেন কেউ কেউ; অধিকাংশই বলেছেন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

৪. না ভোটের পক্ষে-বিপক্ষে মত; কেউ ভালো বলেছেন, কেউ কেউ বিপক্ষে বলেছেন।

৫. দেশ-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৬. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বাংলায় করার পরামর্শ

৭. জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুননির্ধারণ করার পরামর্শ

৮. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি

৯. আচরণবিধি প্রয়োগে কঠোর হওয়ার পরামর্শ

১০. প্রবাসীদের ভোটার ও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা

১১. নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ

১২. ধর্মকে কোনোভাইবে যাবে ভোটের প্রচারে ব্যবহার করতে না পারে

১৩. অবৈধ অর্থ ও পেশি শক্তির ব্যবহার রোধ

১৪. প্রার্থীদের হলফনামা প্রকাশ ও প্রচারের উদ্যোগী হতে হবে

১৫. নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও কাউকে যেন ভোকেন্দ্রে গিয়ে ফিরে আসতে না হয়

১৬. ইসিকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে

১৭. অনলাইনে মনোনয়ন নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে

১৮. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে

১৯. ভোটার ও প্রার্থীর আস্থা তৈরি করতে হবে

২০. নারী ভোটার উপস্থিতি ও নারী নেতৃত্বের অগ্রগতি ধরে রাখতে ভূমিকা নিতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

অসুস্থ মেয়র আনিসুল হক লন্ডনে আইসিইউতে

লন্ডনে অবস্থানরত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের মেয়র আনিসুল হক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আনিসুল হক সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ) আক্রান্ত হয়েছেন। তার স্ত্রী রুবানা হক সবার দোয়া চেয়েছেন।”  

নাদিম কাদির বলেন, মেয়র আনিসুল আগে থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তবে দেশে চিকিৎসকরা তার সমস্যাটা ঠিক ধরতে পারেননি।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রুবানা হককে ফোন করে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি মেয়রের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।”

মেয়ের সন্তানের জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডনে যান ৬৫ বছর বয়সী আনিসুল হক।

তার ব্যক্তিগত সহকারী আবরাউল হাসান  বলেন, “স্যার নানা হয়েছেন এ মাসের ৮ তারিখে। উনার ১৪ তারিখে এসে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সবশেষ ১৩ তারিখ রাতে উনার সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি তখন জানিয়েছিলেন যে আসতে পারছেন না। শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যেন কাউন্সিলররা অংশ নেয়।”

আনিসুল হকের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন  জানান,  বেশ কিছুদিন ধরেই মেয়রের মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ খারাপ লাগার পর আবার ঠিক হয়ে যেত। ঢাকায় তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ঢাকার চিকিৎসরা তাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে সিঙ্গাপুরে গেলে সেখানেও চিকিৎসকরা একই কথা বলেন।

“এবার লন্ডনে গিয়ে আবারও সমস্যা দেখা দিলে গত শুক্রবার তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে পরীক্ষা চলার মধ্যে একবার সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। সেখানকার ডাক্তরারা দেখেছেন, উনার ব্রেইনে ব্লাড ভেসেলে ইনফ্লেমেশন আছে। এজন্য আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।”

কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমে মেয়রের স্ট্রোক হওয়ার খবর এলেও তা সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য মেয়র হিসেবে তিনি প্রশংসা পেলেও জলাবদ্ধতা আর মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য হয়েছেন সমালোচিত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ

জাতীয় শোক দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় বাঙালি জাতির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছে গোটা জাতি। প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিলসহ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন করা হয় কাঙ্গালীভোজের। এসব কর্মসূচি থেকে জাতির পিতার খুনিদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের পাশাপাশি পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে ছিল সর্বস্তরের জনতার ঢল। সেখানে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন। পরে শ্রদ্ধা জানান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, শামসুর রহমান শরীফ, মেহের আফরোজ চুমকি, মীর্জা আজম, তারানা হালিম প্রমুখ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মুহম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, মুহম্মদ ফারুক খান, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আফজাল হোসেন, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, শেখ হেলাল উদ্দিন, এএইচএম খায়রুজ্জাসান লিটন, ইকবাল হোসেন অপু, অনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সকাল ৬টার মধ্যেই অগণিত মানুষের পদচারণায় ভরে ওঠে ৩২ নম্বর সড়ক। হাতে কালো ব্যানার ও বুকে কালোব্যাজ ধারন করে নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ। সকলেই পরম শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে জাতির জনককে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকলের জন্য উš§ুক্ত করে দেয়া হয়। সকাল সাতটা থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেন।

শোকাবহ ভাবগাম্ভীর্যের মাঝেও জোরালো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধ নিবেদন করা হয়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবলীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবমহিলা লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্বিবিদ্যালয়, উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠনগুলোর নেতারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইডেন কলেজ, ঢাকা কলেজ ও তিতুমীর কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাংবাদিকদের সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনী। অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। কালো পাড়ের সাদা শাড়ি আর বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। দলীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার আলাদাভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু ভবনে অবস্থান নেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছান।

এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ, শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বী মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানত আব্দুপাহ, শেখ কবির হোসেন, মোজাম্মেল হক, উম্মে রাজিয়া কাজল, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ১১টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়াসহ এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলার কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তপাশি করা হচ্ছে।

বঙ্গভবনে দোয়া অনুষ্ঠান: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত মিলাদে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অংশ নেন। মিলাদ শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরাসহ বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলাদে অংশ নেন। বঙ্গভবন মসজিদের পেশ ইমাম সাইফুল কবীর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে দরবার হলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তৈরি প্রামাণ্য চিত্র ‘সোনালি দিনগুলি’ প্রদর্শিত হয়।

যুবলীগের শ্রদ্ধা ও খাবার বিতরণ: দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে সকাল ৭ টায় ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও ১৫ আগষ্টের শহীদ স্মরণে বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রাদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ সেরনিয়াবাত, মহিউদ্দিন আহম্মেদ মহি, বদিউল আলম, কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, মাইনুল হোসেন খাঁন নিখিল, ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, ইসমাইল হোসেন, রেজাউল করিম রেজাসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির একটি টিম টুংগিপাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: হারুনুর রশীদ গুলশান ও গুলিস্থানে দুস্থদেও মাঝে খাবার বিতরন করেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোথায় তা সনাক্ত: এদিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক হত্যাকারীরা কে কোথায় আছে মোটামুটি আমরা সনাক্ত করেছি। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, শিগগিরই নূর চৌধুরীসহ তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আদালতের রায় আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি খুনিদের কার কোথায় কোন সম্পত্তি আছে সেগুলোকে আমরা বাজেয়াপ্ত করবো।

আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার আহ্বান: যাত্রাবাড়ি মালঞ্চকমিউনিটি সেন্টারের সামনে শোক দিবসের আলোচনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে শেখ হাসিনা এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দেশের স্বার্থে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে। গিয়াস উদ্দিন গেসুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যাত্রাবাড়ি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ হারুনর রশীদ মুন্না, ৪৮ নং ওয়াড কমিশনার আবুল কালাম অনু প্রমুখ।

চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচন প্রয়োজন: শোক দিবসে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, শোক দিবসে গোটা জাতির কাছে আমাদের আহ্বান- আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে, ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যার রাজনীতিকদের বের করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হই। জিয়াউর রহমানের মরোণত্তর বিচার দাবি করে হানিফ বলেন, জাতির পিতার হত্যার পেছনের মূল চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচন হওয়া প্রয়োজন, এটা আজকে জনগণের দাবি। আমরা আজকে শোক দিবসে এটা দাবি করছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে মূল চক্রান্তকরী খুনি জিয়াউর রহমানের মরোণত্তর বিচার দাবি করছি, তার বিচারের মাধ্যমে জনগণের সামনে চক্রান্তকারীদের মুখোশ উšে§াচিত হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফুল আলম, সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জী প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ২০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জী, ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক, প্রেসক্লাবের সদস্য আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

রাজধানীর নাম মুজিবনগর করার দাবি: রাজধানী ঢাকার নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী, বাংলাদেশ জনতা পার্টি ও জয়বাংলা মঞ্চ মানববন্ধন করে এ দাবি জানায়। বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে রাজধানী ঢাকার নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিলেন।

দোয়া ও খাবার বিতরণ: এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিজিবি সদর দফতরসহ রিজিয়ন, সেক্টর প্রতিষ্ঠানসমূহে কোরআন খতম এবং দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা তার নির্বাচনী এলাকায় শতাধিক স্থানে কাঙালি ভোজের আয়োজন করেন। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান মোল্লা সজল, আওয়ামী লীগ নেতা দীন মোহাম্মদ দিলু, এনামুল ইসলাম এনামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এনপিপির শ্রদ্ধা : এদিকে জাতীয় শোক দিবসে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি। মঙ্গলবার দুপুরে দলটির কো-চেয়ারম্যান বাবুল সর্দার চাখারীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় এনপিপির বিদায়ী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আবুল কালাম, আনিসুর রহমান দেওয়ান, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন শেখ হাসিনা: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার গাজিপুরের কাপাসিয়ার তারাগঞ্জে শহীদ তাজউদ্দীন ও ময়েজউদ্দীন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা, কোরআন তেলওয়াত, দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন। তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এসময় সমর্থন অব্যাহত রেখে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করার আহবান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যকে রাখেন থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজগর রশীদ খান এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় স্থানীয় মাদারাসাগুলোতে কোরান শরীফ বিতরণ করা হয়।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোন দেশে তা সনাক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কোন-কোন দেশে আছে তা সনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক হত্যাকারীরা কে কোথায় আছে মোটামুটি আমরা সনাক্ত করেছি। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, শিগগিরই নূর চৌধুরীসহ তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আদালতের রায় আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো। আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি খুনিদের কার কোথায় কোন সম্পত্তি আছে সেগুলোকে আমরা বাজেয়াপ্ত করবো।

 

এই বিভাগের আরো খবর

এবার পানি বাড়ছে ঢাকার চারপাশের নদী গুলোতে

এবার পানি বাড়ছে ঢাকার আশেপাশের নদী গুলোতে। উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ঢাকার নদীগুলোর পানিও বাড়তে শুরু করেছে; তবে তা এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।  মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, টঙ্গী খাল, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গার পানি সর্বোচ্চ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে।

এসব নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হলেও আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে তা বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। যমুনার নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সে পানি কয়েকদিন পর মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এ কারণে আগামী ৩-৪ দিন পর থেকে মধ্যাঞ্চলের পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বাহাদুরাবাদে যমুনার পানি রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সে পানি কমতে শুরু করেছে। যমুনার পানি যেহেতু মধ্যাঞ্চলে আসে, সে কারণে একটা ঝুঁকি থেকেই যায়।’ এই বর্ষায় দ্বিতীয় দফার বন্যায় সারাদেশে ২০টি জেলা এখন কবলিত বলে সরকার জানিয়েছে, এর অধিকাংশ জেলাই উত্তরাঞ্চলের। মোট ৬ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। উত্তরের পানি মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে যাবে বলে মধ্যাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বুড়িগঙ্গার পানি ঢাকা পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

ডেমরায় বালু নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার, শীতলক্ষ্যার পানি নারায়ণগঞ্জে ১১ সেন্টিমিটার, মিরপুরে তুরাগ নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার, টঙ্গী পয়েন্টে টঙ্গী খালের পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া কালীগঙ্গা নদীর পানি তরাঘাট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী জাগির পয়েন্টে ১৯ এবং রিকাবী বাজার পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার এবং বংশী নদীর পানি নয়ারহাট পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বুড়িগঙ্গার পানি ঢাকায় এখনও বিপদসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার নিচে বইছে। বালু বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার, শীতলক্ষ্যা ৫০ সেন্টিমিটার, তুরাগ ৮৮ সেন্টিমিটার, টঙ্গী খাল ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে। এছাড়া কালীগঙ্গার পানি তরাঘাটে ৯৩ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি জাগির পয়েন্টে ১৫১ ও রিকাবীবাজারে ৮৮ সেন্টিমিটার এবং বংশী নদীর পানি নয়ারহাটে বিপদসীমার ১৯১ সেন্টিমিটার নিচে বইছে।

 

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

ফুল দেওয়ার পর এসময় সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি, তখন বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এসময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করা হয়।  এরপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও স্পিকার শিরীন শারমিন। এসময় মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনী প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা জানানোর পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ফুল দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও। এসময় বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া শেষে ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢোকেন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। তারা বাড়িটি ঘুরেফিরে দেখেন। সেখানে রাখা জিনিসপত্র ও ছবিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেন। সেখানে নফল নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াৎ করেন তারা। এরপর শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু গুলিবিদ্ধ হয়ে যে সিঁড়িতে পড়েছিলেন সেখানে গোলাপের পাঁপড়ি ছড়িয়ে দেন। 
এরপর সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে গিয়ে নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চলে যাওয়ার পর স্থানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর আগে, ভোর থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। যারা এসেছেন তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো পোশাক। এছাড়া ৩২ নম্বরের আশপাশের এলাকাও কালো পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

চার দেশে একযোগে বন্যা সংকটে লাখ লাখ মানুষ

করতোয়া ডেস্ক: বাংলাদেশের পাশাপাশি এশিয়ার আরও তিন দেশ নেপাল, ভারত ও চীনে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা পুরোপুরি নিরূপণ করা গেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া চীনে চলমান বন্যায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এপি জানায়, নেপালে তিন দিন ধরে ভারি বর্ষণের পর সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ভারতের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। আর বাংলাদেশে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ২২। চীনেও গত মে মাস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এখনও বিরাজ করছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল নতুন করে প্লাবিত এলাকায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতের আসামে বন্যার কারণে প্রায় ২ লাখ মানুষ জরুরি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

নেপাল সীমান্তের কাছে বিহারের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে ১৫ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার সাতটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ভারতের রেলপথ বিভাগের মুখপাত্র অনীল সাক্সেনা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে ট্রেন চলাচল বুধবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যার কারণে রেললাইনের বেশ কিছু অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসে দুইটি বাস খাদে পড়ে গিয়ে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এরপর থেকেই ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে আছে। ব্রহ্মপুত্রসহ ১০টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক, পবিত্র অভয়াশ্রম ও লখুয়া অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ বন এলাকা পানির নিচে রয়েছে। নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার কারণে দেশটির ৪৮ হাজারেরও বেশি সংখ্যক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ৩৬ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তারা মৃত। এরইমধ্যে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। নেপাল রেডক্রস সতর্ক করেছে, পানি ও খাদ্যের ঘাটতির কারণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

বন্যায় রবিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় রিসোর্টে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকা পড়েন। তাদের উদ্ধারে বেশ কয়েকটি হাতিকে নামানো হয়। সৌরাহা এলাকার একটি হোটেলের মালিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, ‘হাতি ব্যবহার করে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছের যেসব সড়ক ও বিমানবন্দর চালু আছে সেখানে পাঠানো হচ্ছে।’এই শহরটি রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দক্ষিণ এশিয়ার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দারিদ্র-বিমোচনমূলক দাতব্য সংস্থা হেইফার ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র সুমনিমা শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন, ‘এমন এক সময়ে ভারী বর্ষণ শুরু হলো যখন কৃষকরা মাত্র তাদের ধান চাষ শুরু করেছিলেন। ওই ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ফসলের বিশাল অংশ ভেসে গেছে।’ এদিকে চীনেও গত মে মাস থেকে বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লংনান সিটির ওয়েনজিয়ান কাউন্টিতে নতুন করে সৃষ্ট বন্যায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত দুইজন। ওই এলাকার প্রায় ১০০০ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। হুনান প্রদেশে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ৪৮ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কাদেরের সাক্ষাৎ

করতোয়া ডেস্ক: ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলছেন, রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের ‘প্রকৃত’ অবস্থান জানাতেই তার এই সাক্ষাৎ। সোমবার বেলা ১২টা ২০ থেকে এক ঘণ্টা বঙ্গভবনে অবস্থান করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের।

বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর অবজারভেশনের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের পার্টির অবস্থানের কথা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছি। রায় নিয়ে আমাদের দলের প্রকৃত অবস্থান কী সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছি। যেহেতু রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তিনিই নিয়োগ দেন। তাকে আমি বিষয়টি জানিয়েছি। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হয়েছে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি।’ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের এই সাক্ষাতে কিশোরগঞ্জে তার এলাকার রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন বিষয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন বলে সড়কমন্ত্রী জানান। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সব সময় তার এলাকায় বাই রোডে যেতে পারেন না- সব সময় দুঃখ করে এ কথা বলেন। আমরা উনার এলাকার রাস্তা তৈরির যে কাজ করছি সে বিষয়ে কথা বলতে এসেছি।

কথা প্রসঙ্গে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি সামনে আসে বলে তিনি। কাদেরের সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ করে করে বঙ্গভবন ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তার সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। এখানে যে অনুষ্ঠান আছে আমার জানা ছিল না।’ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, শেষ হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘আক্রমণাত্মক’ বক্তব্যের মধ্যে শনিবার রাতে কাকরাইলে তার বাসভবনে সাক্ষাত করেন ওবায়দুল কাদের। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তাতে ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকারি দল কড়া সমালোচনা করছে। তবে বিএনপি রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রায়ের পর্যবেক্ষণের ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ (বাদ) দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও কীভাবে তা করা হবে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা আদালত স্বতপ্রণোদিত হয়ে এক্সপাঞ্জ করবে বলে দাবি করলেও জেষ্ঠ আইনজীবী ও অন্যতম সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেন বলছেন, রায়ে এক্সপাঞ্জ করার মতো কিছু নেই। স্বতপ্রণোদিত হয়ে এক্সপাঞ্জ করারও বিধান নেই । তার জন্য আবেদন করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top