সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে ফেসবুক লাইভে আসছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে থাকবেন বলে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে। ওই দিন নাগরিকদের সাথে ‘জননিরাপত্তা বিধানে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক মতবিণিময় করবেন ডিএমপি কমিশনার। এর আগেও গত বছর ডিএমপি কমিশনার ফেসবুক লাইভে নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

 

জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশে এখনও আইএস শনাক্ত সম্ভব হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইএসকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।  রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমরাতো চাচ্ছি আইএস বলে যদি কিছু থাকে তা দেখব, সে মানুষকে সনাক্ত করব। আমাদের সৌভাগ্য হয়নি আইএস আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে শনাক্ত করার।’

সিলেটের আস্তানায় ‘বড় কোনো জঙ্গি’ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এরা থাকতে পারে। পুরোপুরি অভিযান শেষ না হলে আমরা বলতে পারব না। অনেক কিছুই হতে পারে, অনেক কিছুই থাকতে পারে। আমরা মনে করছি এখানে কেউ থাকতে পারে।’ তার দাবি, ‘জঙ্গিরা আমাদের কন্ট্রোলে রয়েছে। জঙ্গিদের আমরা নির্মূল করেছি বা তাদের উপড়ে ফেলেছি সে ধরনের কথা আমরা কোনোদিনও বলিনি। আমরা বলছি এ ধরনের ষড়যন্ত্রকারীরা শুরু থেকে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এ ষড়যন্ত্রকারীরা আরও সুযোগ পেলেই তা করবে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সে ব্যাপারে সব সময় সজাগ রয়েছে।’ জঙ্গি আস্তানা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যে বাড়িটিতে জঙ্গিদের আস্তানা রয়েছে সেখানে অনেক অধিবাসী ছিলেন। পরে অভিযানটি নির্বিঘœ করতে সেনাবাহিনীর উপরে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ ধরনের একটি অভিযানস্থলের আশপাশে বোমা রেখে যাওয়ার ঘটনায় হঠাৎ করে বিস্ফোরণ হয়।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুইজন পুলিশ পরিদর্শক রয়েছেন। আর একজন র‌্যাব কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দারা বাড়িটি চিহ্নিত করতে পেরেছে বলেই অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জনগণ জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না, সেহেতু তারা টিকতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আব্দুল জলিল মন্ডল ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নেতৃবৃন্দসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর পুলিশ যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর পুলিশ যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানান। পরে পুলিশ আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। থেমে থাকেননি তৎকালীর পুলিশে কর্মরত বাঙালি সদস্যরা। গর্জে উঠেছিল তাদের থ্রি নট থ্রি রাইফেল। তারাই রাজারবাগে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র  প্রতিরোধের সূচনা করেন।

 

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭তম স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে  রোববার সকালে জাতির পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ভোর ৬টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়, বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দেন। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হয়। স্বাধীনতা দিবসে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে। বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে সেই ভিড়। জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের স্রোত চলার মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এসময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজানো হয়েছে জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আগের রাতেই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৭তম দিবসে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা বলেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পরিবার-পরিজন নিয়ে হাজার হাজার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সকালে ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একাত্তরের সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে যান। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়ে ৮ নম্বর সেক্টরের কিছু ঘটনা শুনিয়ে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ কীভাবে স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার বর্ণনা দেন ওই সেক্টরের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী। স্মৃতিসৌধে জনতার স্রোতে দেখা গেছে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসাধীন একদল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে, যাদের অনেকে হুইল চেয়ারে চেপে কিংবা কারও হাতে ভর করে আসেন স্মৃতিসৌধে। সজাগ (সমাজ ও জাতি গঠন) নামক সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় পতাকা মিছিল ও লাল-সবুজ পোশাক পরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্মৃতিসৌধে। এছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগসহ কয়েকটি সংগঠনকেও দেখা গেছে জাতীয় পতাকার মিছিল নিয়ে আসতে। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ চেতনাই পারে আমাদের সকল স্বপ্ন সফল করতে। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক সেই চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে। রক্ত দিয়ে অর্জিত সেই স্বাধীন দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড তাকে ‘আহত’ করে জানিয়ে সেক্টরের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আর দুর্বৃত্তরা চাচ্ছে আমাদের অধিকার করে নিতে। সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় অনুশাসনের কথা শুনিয়ে তাদের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

তিনি বলেন, এই সময়ে জনগণকে বুঝাতে হবে, সন্ত্রাসীদের রুখতে হবে এবং দেশের সব অগ্রগতি নির্ভর করবে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, এ বছর আমরা গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পেয়েছি, যেটা পালিত হয়েছে। স্বীকৃতি পাওয়াটা আমাদের একটি অর্জন। তিনি আরও বলেন, কিন্তু যে পাকিস্তানীদের পরাজিত করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি তাদের দোসর জামাত-বিএনপি অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে। তারা এবং জঙ্গিদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা দে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর এসে জঙ্গিবাদীরা এমনভাবে হামলা-আক্রমণ চালাবে সেটা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করার শপথ এখান থেকে নেওয়া উচিত। এ বছর থেকে গণহত্যা দিবস জাতীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়ায় আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়ে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তোলেন এই শিক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধের পরের ‘সামরিক শাসন ও বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনকে’ দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের কারণ উল্লেখ করে তা প্রতিরোধের আহ্বান এসেছে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কাছ থেকে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মেনন বলেন, দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হতে পেরেছে। এখন সেটা ভয়াবহ আকারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় এবং দেশের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনেকের শঙ্কা ও হতাশার মধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের উপস্থিতি দেখে আশাবাদ ঝরেছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কণ্ঠে। তিনি বলেন, সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, বিমানবন্দর এলাকায় হামলাসহ কোনো কিছুকে মানুষ বাধা মনে করেনি। এখানে আসা লোকগুলো তার প্রমাণ। অনেক হতাশার মাঝেও তারা চায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে। জনগণের সেই শক্তিকে এক করে রাখতে পারলে আমরা গণতন্ত্রের সব সিঁড়ি পেরোতে পারব, পৌঁছাতে পারব উন্নতির সোপানে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন। সকাল গড়িয়ে দুপুরেও চলতে থাকে মানুষের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে স্কুল-কলেজের পোশাকে শ্রদ্ধার ফুল নিয়ে স্মৃতির মিনারে হাজির হতে। এছাড়াও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে  সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীতে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সন্মুখে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পার্ঘ প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিকৃতির সন্মুখে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এরপর দলের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ প্রদান করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ও ড. আবদুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক। এ ছাড়াও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে পুষ্পার্ঘ প্রদান করে শ্রদ্ধা জানান। ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৮টায় যোগদেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর সমাবেশে। বিকেল সোয়া ৪টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৭ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেন। বিকেল পৌনে ৫টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রাজনৈতিকসহ বিশিষ্টজন এবং কূটনৈতিকরা অংশ নেন।

 

জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা স্বাধীনতার দিনে

স্বাধীনতার বার্ষিকীতে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা বলেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রোববার সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস; যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের মূল কেন্দ্রে ছিল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ভোর ৬টায় জাতির পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের পর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধের ফটক; বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

এবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হাজার হাজার মানুষের স্রোত, তখন সিলেটে একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে পর পর দুটি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তাসহ দুই জন।

গত স্বাধীনতা দিবসের পর থেকে এবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে দেখতে হয়েছে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সারাবিশ্বকে নাড়া দেওয়া জিম্মি সংকটের ঘটনা। এরপর পুরো সময়জুড়ে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলেছে জঙ্গিবিরোধী নানা অভিযান।

তাই জঙ্গিবাদ রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ করার আহ্বান ফিরে ফিরে এসেছে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা আর সাধারণ মানুষের মুখে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, “এ বছর আমরা গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পেয়েছি, যেটা গতকাল পালিত হয়েছে। স্বীকৃতি পাওয়াটা আমাদের একটি অর্জন।

“কিন্তু যে পাকিস্তানীদের পরাজিত করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি তাদের দোসর জামাত-বিএনপি অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে। তারা এবং জঙ্গিদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন জরুরি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা দে।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পর এসে জঙ্গিবাদীরা এমনভাবে হামলা-আক্রমণ চালাবে সেটা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করার শপথ এখান থেকে নেওয়া উচিত।”

এ বছর থেকে গণহত্যা দিবস জাতীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়ায় আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়ে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তোলেন এই শিক্ষার্থী। জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের স্রোত চলার মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সকাল গড়িয়ে দুপুরেও চলে চলতে থাকে মানুষের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে স্কুল-কলেজের পোশাকে শ্রদ্ধার ফুল নিয়ে স্মৃতির মিনারে হাজির হতে।

সকালে ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে স্মৃতি একাত্তরের সেক্টর কমাণ্ডারস ফোরামের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়ে ৮ নম্বর সেক্টরের কিছু ঘটনা শুনিয়ে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ কীভাবে স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার বর্ণনা দেন ওই সেক্টরের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী।

রক্ত দিয়ে অর্জিত সেই স্বাধীন দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড তাকে ‘আহত’ করে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আর দুর্বৃত্তরা চাচ্ছে আমাদের অধিকার করে নিতে। সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় অনুশাসনের কথা শুনিয়ে তাদের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

“এই সময়ে জনগণকে বুঝাতে হবে, সন্ত্রাসীদের রুখতে হবে এবং দেশের সব অগ্রগতি নির্ভর করবে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে।” স্মৃতিসৌধে জনতার স্রোতে দেখা গেছে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসাধীন একদল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে, যাদের অনেকে হুইল চেয়ারে চেপে কিংবা কারও হাতে ভর করে আসেন স্মৃতিসৌধে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মু্ক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ চেতনাই পারে আমাদের সকল স্বপ্ন সফল করতে। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক সেই চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।”

শ্রদ্ধা জানানোর সারিতে মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন সাভারের আকমল হোসেন; পরন লাল-সবুজ পোশাক আর মুখে জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল পাঁচ বছর বয়সী আফিফা জেরিনের।

শিশুমনে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গেঁথে’ দেওয়াকে আফিফার সেখানে আসার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী আকমল। “আমরা তো শিশুদের ইতিহাস জানাই না। এ কারণে জঙ্গিবাদীরা তাদের পথভ্রষ্ট করতে পারে। ও নিজে আসুক এবং দেখুক- এতে করে সবার মধ্যে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ছড়াবে।”

মুক্তিযুদ্ধের পরের ‘সামরিক শাসন ও বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনকে’ দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের কারণ উল্লেখ করে তা প্রতিরোধের আহ্বান এসেছে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কাছ থেকে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মেনন বলেন, “দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হতে পেরেছে। এখন সেটা ভয়াবহ আকারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় এবং দেশের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

সজাগ (সমাজ ও জাতি গঠন) নামক সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় পতাকা মিছিল ও লাল-সবুজ পোশাক পরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্মৃতিসৌধে। এছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগসহ কয়েকটি সংগঠনকেও দেখা গেছে জাতীয় পতাকার মিছিল নিয়ে আসতে।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনেকের শঙ্কা ও হতাশার মধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের উপস্থিতি দেখে আশাবাদ ঝরেছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কণ্ঠে।

তিনি বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, বিমানবন্দর এলাকায় হামলাসহ কোনো কিছুকে মানুষ বাধা মনে করেনি। এখানে আসা লোকগুলো তার প্রমাণ। অনেক হতাশার মাঝেও তারা চায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে। জনগণের সেই শক্তিকে এক করে রাখতে পারলে আমরা গণতন্ত্রের সব সিঁড়ি পেরোতে পারব, পৌঁছাতে পারব উন্নতির সোপানে।”

 

‘বিপথগামীদের’ ফেরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যারা ধর্মের নামে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে হত্যা-সন্ত্রাসে জড়াচ্ছে, তাদের সৎ পথে ফেরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের জীবন-জীবিকার জন্য সরকার সব কিছু করবে।

সেই সঙ্গে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, এটা চলবে এবং কঠোর হাতে তা আমরা দমন করব।” রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী যখন এই বক্তব্য রাখছেন, তখনও সিলেটে একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযান চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে পর পর দুটি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তাসহ দুই জন।

এর আগে গত দশ দিনের মধ্যে ঢাকায় র‌্যাবের একটি স্থাপনায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে, বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের কাছে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে এক বোমা বহনকারী।

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ যারা বিপথে যাচ্ছে; আমি তাদের আহবান করব; এই বিপথ ছেড়ে তারা যেন সৎ পথে ফিরে আসে। তাদের জীবন জীবিকার জন্য যা প্রয়োজন, আমাদের সরকার তা করবে। “কিন্তু এভাবে আত্মহননের পথ তারা যেন বেছে না নেয়, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসের পথ যেন বেছে না নেয়।”

শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়, সেদিকে আরও বেশি নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই, আমাদের শিশুরা মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। অভিভাবকদের কথা শুনবে, শিক্ষকদের কথা শুনবে। আর মাদক বা কোনো ধরণের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না।” ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের জঙ্গিবাদে জড়ানো হচ্ছে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, “একটা কথা মনে রাখবে- ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সৌহার্দের ধর্ম, ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। ইসলামে কখনো মানুষ হত্যার কথা বলে নাই। বরং ইসলাম ধর্ম বলেছে আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মহনন মহাপাপ; এটা গুনার কাজ। যারা আত্মহনন করে, তারা কখনো জান্নাতে যায় না, জাহান্নামে যায়। তারা কখনো বেহেশতে যেতে পারে না।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে- সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সকলের প্রচেষ্টায় আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন উন্নত জীবন পায়, সৎ চরিত্রের হয়, মানুষের মতো মানুষ হয়।… আজকের প্রজন্মই আগামী দিনে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি যেমন প্রধানমন্ত্রী হয়েছি; আজকে যারা শিশু, আগামী দিনে তাদের মধ্যে থেকেই কেউ না কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে।” সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ‘সুন্দর বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহবান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তাকে স্বাগত জানান। শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ পরিদর্শনের পর কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজের পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে দেখেন।

 

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

স্বাধীনতা তুমি/ রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান/ স্বাধীনতা তুমি/ কাজী নজরুল, ঝাকরা চুলের বাবরি দোলানো/ মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-’  আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনটিতেই সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ডাক এসেছিল দেশকে হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত করার। পাকিস্তানি শোষকের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে রনাঙ্গনে ঝাাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছিল বিজয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বানী দিয়েছেন। বানীতে তারা দেশবাসীকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে অবনত চিত্তে স্মরন করবে স্বাধীনতার জন্য আতেœাৎসর্গকারী শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও স্বাধীনতার ঘোষনাকারী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আরও স্মরন করবে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে এবং ৯ মাসের অসমান্য আতœত্যাগকারী বাংলার অকুতভয় বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের। একই সাথে দেশ আজ মেতে উঠবে স্বাধীনতার উৎসবের আমেজে।    

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ’অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল । দীর্ঘ নয়মাস মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে এবং স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে  সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করে নি। পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনকে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূললক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে গিয়ে গোলামীর জিঞ্জির পড়িয়ে দেওয়া। সেই গনহত্যার শুরুতেই পাকিস্তার হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথমপ্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্র“র বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী গৌরবোজ্জ্বল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়, মহান স্বাধীনতা।

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। প্রত্যুষে রাজধানীতে একত্রিশ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধারা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচী
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচী দিয়েছে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয় ক্ষণে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন (মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর)। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১১টা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ২৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় খামারবাড়ির (ফার্মগেইট) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালি জাতির সংগ্রামময় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক বিবৃতিতে একই সঙ্গে তিনি ২৬ মার্চ সারা দেশে দলের সকল শাখা, দলীয় সমর্থক, শুভানুধায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে ‘স্বাধীনতা র‌্যালি’সহ সাত দিনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। গত ১৩ মার্চ রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যৌথসভা শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রোববার বিকেল তিনটায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বাধীনতা র‌্যালি শুরু হবে। তারপর বিজয়নগর, পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে তা শেষ হবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর র‌্যালির উদ্বোধন করবেন। বিএনপি ইতোমধ্যে পুলিশের কাছ থেকে এ র‌্যালির অনুমতি পেয়েছে বলে দৈনিক করতোয়াকে জানিয়েছেন দলটির সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন। এছাড়া সারাদেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর শাখায় স্থানীয় সুবিধানুযায়ী সময়ে স্বাধীনতা র‌্যালি হবে। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা সকাল ৮টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। মাজার প্রাঙ্গণে ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। এর আগে, ভোর ৬টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং আলোক সজ্জাকরণ করা হবে। আগামীকাল ২৭ মার্চ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এতে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।  যুবদলের উদ্যোগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর বাইরে বিএনপির উদ্যোগে দেশব্যাপী রচনা প্রতিযোগিতা, ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং মহিলা দলের উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। ২৮ মার্চ স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ‘২৬ মার্চ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের উপর’ ভিডিও চিত্রপ্রদর্শনী হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ করবে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত। সকাল ৯ টায় ‘শিশু কিশোর আনন্দ আয়োজন’, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় যাত্রাপালা ‘গঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা’। পরিবেশনায় লোকনাট্য যাত্রা দল, মানিকগঞ্জ। মিরপুরের জল¬াদখানায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করবে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন যুব ও ছাত্র সংগঠন মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

 

লেগুনায় লেগুনায় ধাক্কা কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশু নিহত

রাজধানীর ডেমরায় ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারিয়া (৯) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে যাত্রাবাড়ির বাশেরপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের খালা নিপা বেগম জানান, ‘মারিয়া টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছিল। শনিবার মারিয়া, তার মা সীমা বেগম ও তার ছোট ভাই সাফিন এবং আমি পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। সেখানে ডাক্তার দেখিয়ে লেগুনাযোগে ডেমরার চনপাড়ার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। লেগুনায় তার কোলে ছিলো মারিয়া এবং সীমা বেগমের কোলে ছিলে সাফিন। বাশেরপুল নামক স্থানে পৌঁছাতেই তাদের বহনকারী লেগুনাকে আরেককটি লেগুনা ধাক্কা দেয়। এসময় মারিয়া কোল থেকে ছিটকে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে আনলে চিকিৎসক মৃত বলে জানায়।’ মারিয়া নারায়নগঞ্জ রূপগঞ্জ চনপাড়ার মাসুদ মিয়ার মেয়ে। সে ওই এলাকার নব কিশালয় স্কুলে ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী ছিল। এক ভাই এক বোনের মধ্যে মারিয়া ছিল বড়। ঢামেক পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, শিশু মারিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুন হিটার থেকে: ফায়ার সার্ভিস

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুনের সূত্রপাত একটি ‘ইলেকট্রিক হিটার’ থেকে বলে সন্দেহ করছে ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

রিজার্ভ চুরির এক বছর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অগ্নিকান্ড নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই ধারণার কথা জানান তিনি। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক সমরেন্দ্র প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে  বলেন, ‘ইলেকট্রিক হিটারটি প্লাকে লাগিয়ে রেখে যাওয়া হয়েছিল। ইলেকট্রিক হিটারের প্লাক যেখান ঢুকেছে, তার ৭/৮ ইঞ্চি দূর থেকে পুড়ে সুপার হিট হয়ে গেছে; ইলেকট্রিক হিটারটি সেখানেই পড়ে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায় যে, আগুনটি এখান থেকেই লেগেছে।’ ‘আগুনটার ব্যাপ্তি ছিল এক হাজার স্কয়ার ফুটের মতো জায়গা নিয়ে। আগুন কোথা থেকে লেগেছে সেটা দেয়াল দেখলে বোঝা যায়; সে জায়গাটা সাদা হয়ে আছে, আর বাকি জায়গায় কালি লেগে রয়েছে,’  যোগ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনের ১৪ তলার একটি কক্ষে আগুন লাগে।

ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের চেষ্টায় এক ঘণ্টার মধ্যে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ার কথা জানা গেলেও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পোড়েনি বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছে এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠিত তদন্ত কমিটি। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান সমরেন্দ্রও বলেন, ‘এটা একটা ছোট্ট ঘটনা, আগুন বড় ছিল না। জিএম সাহেবের রুমের পিছনের অংশ পোড়েনি, সামনের দিকে পুড়েছে। মূলত আগুনটা এত বড় দেখা গেছে, কারণ অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে ছাদটা করা, অ্যালুমিনিয়ামের ছাদটি পুড়ে এত ধোঁয়া বের হয়েছে।এর এক টেবিল পরেই চেয়ারের টাওয়ালও পোড়ে নাই।’ এই অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের জিএমের কক্ষে যে ‘ইলেকট্রিক হিটারের শর্টসার্কিট থেকে’ আগুন লেগেছে বলে ধারণা করছেন, সেটি পুলিশ নিয়ে গেছে জানান।

‘পুলিশ একটা সিপিও (কম্পিউটার) নিয়ে গেছে, সিপিওর সামনের অংশ পুড়েছে, পেছনের অংশ পোড়ে নাই। পুলিশ প্লাকসহ সেই ইলেকট্রিক হিটারও নিয়ে গেছে, যার থেকে আগুন লেগেছে।’ এক বছর আগে আট কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির অর্থের মধ্যে ফিলিপিন্স থেকে দেড় কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেলেও বাকি টাকা উদ্ধারে আশানুরূপ কিছু না দেখতে পাওয়ার মধ্যে এ আগুনকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলেছে বিএনপি। অগ্নিকান্ডটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কেউ সেখানে লাগিয়েছে, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তা সমরেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি, ওইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানে কারো আনাগোনা আছে কি-না, আমরা দেখব।’ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আরও কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলার পরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস গঠিক এ তদন্ত কমিটির প্রধান।

 

ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাসে গণহত্যা দিবসের আলোচনা

করতোয়া ডেস্ক : ৪৬ বছর আগে কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো নির্মম হত্যাকা-ের শিকার মানুষের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে‘গণহত্যা দিবস’পালন করেছে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাস। বুধবার সকালে ইসলামাবাদের দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভায় বক্তারা ২৫ মার্চের গণহত্যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংঘটিত ‘সবচেয়ে বর্বর হত্যাকান্ড’ আখ্যা দেন। এই ধরনের গণহত্যা যেন আর কোথাও না হয়, সেজন্য বিশ্ববাসীর সতর্ক দৃষ্টি ও উদ্যোগেরও প্রত্যাশা করেন তারা।

সভার শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ করে ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর গণহত্যা দিবসে দেওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনানো হয়। আলোচনা সভায় পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর বিনা উসকানিতে যে ঘৃণ্য ও বর্বর হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করেছিল পাকিস্তানী বাহিনী, তারই প্রতিক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন এবং ২৫ মার্চের ভয়াবহতা ও নিহতের সংখ্যার কারণে অনায়াসেইওই রাতের ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ অ্যাখ্যা দেওয়া যায়। ওই দিনই বাঙালি নতুন করে তার ত্যাগের অর্থ বুঝতে পেরেছিল, যা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাই আমাদের উচিত বিশ্বসম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা যেন এ ধরণের গণহত্যা আর কখনও কোথাও না ঘটে। আলোচনার পর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সবশেষে ২৫ মার্চের গণহত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাংশ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আবুধাবিতে গণহত্যা দিবস পালন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দূতাবাস মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা হয়। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন প্রথম সচিব (পাসপোর্ট) মোহাম্মদ রিয়াজুল হক। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনান দূতাবাসের মিনিস্টার ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) শহীদুজ্জামান ফারুকী। সভায় বক্তব্য দেন- বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটি আবুধাবি শাখার সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুল, দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আরমান উল্লাহ চৌধুরী, জনতা ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বিমানের আবুধাবি আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইকবাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল আবুধাবির অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ আবুধাবির সহ সভাপতি শওকত আকবর, প্রকৌশলী আশীষ বড়ুয়া ও মইন উদ্দিন। ইফতেখার হোসেন বাবুল তার বক্তব্যে বলেন, যেভাবে আজ একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে আমরা আশা করি বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গণহত্যা দিবসও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। অনুষ্ঠানে একাত্তরের গণহত্যার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়।

জাতীয় গণহত্যা দিবসে বঙ্গভবনে বৃক্ষরোপণ

করতোয়া ডেস্ক : জাতীয় গণহত্যা দিবসে ‘শহীদস্মৃতি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার বঙ্গভবনের মাঠে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চের কালরাতের স্মরণে ২৫টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতি ‘চিরসবুজ’ রাখতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ৩০ লাখ গাছ লাগানোর এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে এ দেশের নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল তা বিশ্বে বিরল। এ গণহত্যাকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এই উদ্যোগ অনন্য ও অসাধারণ। দেরিতে হলেও জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ জন্য আমি মাননীয় সংসদনেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব সংসদ সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। বাঙালির হৃদয়ের সে কান্না কোন দিন বন্ধ হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গণহত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু এবং বিচারের রায় কার্যকর করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারসহ গোটা জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। ‘শহীদস্মৃতি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি গণহত্যাকে নিরুৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ দেশ-বিদেশে জনমত ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান আবদুল হামিদ।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খান, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রাষ্ট্রপতি ও অন্য অতিথিরা বঙ্গভবনের উত্তর-পশ্চিম কোনে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ২৫ জন শহীদের স্মরণে ২৫টি গাছের চারা লাগান।

গণহত্যা দিবস এ মাসেই প্রস্তাব যাবে জাতিসংঘে

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালনে জাতিসংঘকে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। যদিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। গণহত্যা দিবস পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, সর্বোপরি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে ২৫ মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানানোর দায়বদ্ধতা সবার রয়েছে। এ লক্ষ্যে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

 

স্বাধীনতা পদকে ভূষিত ১৫ বিশিষ্টজন এবং বিমানবাহিনী

এ বছর ১৫ জন বিশিষ্টজন এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে স্বাধীনতা পদক ২০১৭ ভূষিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন- গ্র“প ক্যাপ্টেন (অব:) শামসুল আলম-বীরউত্তম, স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নাজমুল হক, প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী (মরণোত্তর), শহীদ এন এম নাজমুল আহসান (মরণোত্তর), শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ (মরণোত্তর), চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যাপক ডা. এএইচএম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী (মরণোত্তর), সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রফেসর ড. এনামুল হক ও নৃত্যকলায় ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল, সমাজকল্যাণে খলিল কাজী, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রশাসনে অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং স্বাধীনতা পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে অধ্যাপক ড. এনামুল হক নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। আর বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর পদকের ক্ষেত্রে শহীদ মো. নাজমুল হকের পক্ষে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম হক, সৈয়দ মহসিন আলীর পক্ষে স্ত্রী সৈয়দা সায়রা মহসিন এমপি, শহীদ এন এম নাজমুল আহসানের পক্ষে ছোট ভাই এম এন সদরুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের পক্ষে কন্যা মিসেস সুফিয়া খাতুন, মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শীর পক্ষে পুত্র গোলাম ইয়াজদানী কোরায়শী এবং প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথের পক্ষে স্ত্রী আরতি নাথ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদক বিজয়ীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশগ্রহণ করেন।

 

বাংলাদেশকে আর অবহেলা করতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগ তোলা বিশ্ব ব্যাংককে ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করায় বাংলাদেশকে নিয়ে আর কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে যারা নিচু করে দেখতে চায় তারা শিক্ষা পেয়ে গেছে। বাংলাদেশটাকে যে আর অবহেলা করা যায় না, যারা বাঙালিকে নতজানু করতে চায় তারা সে শিক্ষাটা পেয়ে গেছে। তারা মাথা নিচু করিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর ১৫ জন ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর একটি বিধ্বস্ত দেশ এখন ঘুরে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর শক্তিশালী অর্থনীতির একটিতে পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯০ ভাগই আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে হয়। আমরা নিজেরাই কাজ করার ক্ষমতা অর্জন করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক একটি প্রশ্ন তুলে ছিল। অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে কানাডার আদালতে। তখনই ঘোষণা দিয়ে ছিলাম পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে করব। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেছি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ যাত্রা শুরু করেছিল। জাতির পিতা এমন একটি ভুখণ্ড পেয়েছিলেন যা বিট্রিশ দুইশ বছর শোষণ করেছে। এরপর ২৩ বছর পাকিস্তান শোষণ করেছে এবং নয় মাসের ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। তার ওপর দাড়িযে শূন্য থেকে দেশ গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন জাতির পিতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর শুরু হয় সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা।

তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশের আর্থ সামাজিক অগ্রযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। সম্পূর্ণ এক ভিন্ন ধারায় বাংলাদেশকে নিয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়। বিজয়ের ইতিহাস থেকে জাতিকে বঞ্চিত করা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি দেশকে এগিয়ে নিতে। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে ৯৬ থেকে ২০০১ সালে দেশ খাদ্যে সয়ংসম্পূন্ন হয়। আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। সামাজিক কার্যক্রমের ফলে দারিদ্র্য অনেকাংশে হ্রাস পায়। ২০০১ সালে ক্ষমতায় না আসায় আবার বাংলাদেশ পেছনে চলে যায় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছে সরকার। আজকে বাংলাদেমের প্রবৃদ্ধি ৭.১ ভাগে উনীত হয়েছে। মাথা পিছু আয় ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে উঠে এসেছে। হতদরিদ্রের হার ১২ ভাগে নেমে এসেছে, আরও কমিয়ে আনব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামাজিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি, বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি, বৃত্তি দেয়া হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদেরকে। বিশেষায়িত বিভিন্ন ধরণের বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। প্রতিটি জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করে কারিগরি শিক্ষা দিচ্ছি। একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যা যা করণীয় তাই করে যাচ্ছি। ২০২১ সালে দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব মাথা উঁচু করে, মর্যাদা নিয়ে। আমাদের আর পরমুখোপেক্ষী হতে হবে না।

জঙ্গিবাদের মদদে কারা: প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : কারা জঙ্গিবাদে অস্ত্র, অর্থ ও উৎসাহ দিচ্ছে- তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জঙ্গিবাদের থাবা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৩ ও ২০১৪’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের প্রসারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এখানে কথা হচ্ছে, কারা এদের হাতে অস্ত্র দিচ্ছে? কারা এদের টাকা দিচ্ছে? কারা এদের উৎসাহিত করছে? শেখ হাসিনা বলেন, অনেক উন্নত দেশ, সেখানে পড়াশোনা করতে গিয়ে উল্টো এ ধরনের জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেমেয়েরা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে কি না- সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে তারা বিপথে যেতে না পারে। সত্যিই আমি অবাক হয়ে যাই, মেধাবী, শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত (পরিবারের) ছেলেমেয়েরা কীভাবে ধর্মান্ধ হয়ে যায়, আর কীভাবে জঙ্গিবাদের পথে যায়। এটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। ইসলামকে ‘শান্তির ধর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কখনোই বলা হয়নি যে, নিরীহ মানুষ হত্যা কর। আর নিরীহ মানুষ হত্যা করলে বেহেস্তে চলে যাবে- এটা কি করে হয়? জঙ্গিদের আত্মঘাতি হামলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা মহাপাপ। সেই মহাপাপের পথে কি করে যায় ধর্মের নামে? প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথাও তুলে ধরেন। আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি, ধর্ম পালন করি, আমরা ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নই। আর আমাদের বাংলাদেশে, এই ভূখন্ডে সকলে যার যার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে। সেই অসাম্প্রদায়িক একটা চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চলে আমরা সবসময় একটা সম্প্রীতি নিয়ে চলি। কিন্তু সেই জায়গায় উগ্রবাদ যে ধ্বংস এনে দেয়, বা আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামের যে বদনাম করে দিচ্ছে- সেটা তারা (জঙ্গি) বোঝে কি না তা জানি না। জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদকাসক্তি থেকে ‘ছেলেমেয়েদের’ রক্ষা করতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকেই আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, এসব মোকাবিলায় তার সরকার শিক্ষার প্রসার ঘটানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রীড়া ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। যেন মেধাগুলো বিপথে গিয়ে তাদের জীবনটাকে নষ্ট করে না দেয়। ওরকম আত্মহননের চিন্তা যেন তাদের মধ্যে না থাকে। আত্মঘাতমূলক কাজ যেন তারা না করে বা তারা যেন ধর্মান্ধ হয়ে না যায়। ধর্ম মানতে হবে, কিন্তু ধর্মান্ধ যেন না হয়- সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এ অনুষ্ঠানে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাওয়া ২৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জনের হাতে পদক তুলে দেন শেখ হাসিনা। অন্যদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

দুই প্রকৌশলীসহ ৫ জঙ্গি গ্রেফতার

বুয়েট থেকে পাস করা দুই প্রকৌশলীসহ জেএমবি’র সারোয়ার-তামীম গ্রুপের ৫ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, জিহাদী বই ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৌশল সহায়তায় জঙ্গিরা সরকারি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছিলো বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব এ তথ্য জানায়।

রাজধানীর বাড্ডা, লালবাগ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় অলিউজ্জামান অলি, আনোয়ারুল আলম, সালেহ আহমেদ শীষ, আবুল কাশেম এবং মোহনকে। এদের মধ্যে অলি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাস করে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করতো। দলের অন্য সদস্যদের ইন্টারনেটে প্রশিক্ষণ দিতো সে। অলির সহপাঠী আনোয়ারুল আলমও বুয়েট থেকে পাস করেছে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করে একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতো আলম। সে বোমা তৈরিতে পারদর্শী। অন্যদের মধ্যে সালেহ আহমেদ শীষ ও মোহন অস্ত্র চালনায় চট্টগাম থেকে প্রশিক্ষণ নেয়। আর আবুল কাশেম করতো উদ্ধুদ্ধকরণের কাজ। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান জানান, সরকারি স্থাপনায় নাশকতার জন্য মনির ও সালমান নামে দু’জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার ৫ জঙ্গি ১০ থেকে ১২ জনের একটি মিলে একটি সেলের সদস্য। জঙ্গিরা যাতে এরকম ছোট ছোট দলে সংগঠিত হতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আনোয়ার লতিফ খান বলেন, মিরপুর ও কাফরুলে সরকারি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। জঙ্গিদের অধিকাংশই এ এলাকার বাসিন্দা। এর আগে সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ জঙ্গিকে আটক করেন র‌্যাব।-১০ এর সদস্যরা। প্রথমে  গ্রেফতার করা হয় অলিউজ্জামান অলি ও আনোয়ারুল আলমকে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সালেহ আহমেদ শীষ, আবুল কাশেম ও মোহন ওরফে মহাসীনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অলিউজ্জামান ও অনোয়ারুল, সারোয়ার ও তামিম গ্র“পের সদস্য। তারা দু’জন বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরজ্ঞাম, জঙ্গিবাদী বই, ডামি পিস্তল, বন্দুক এবং নগদ তিন লাখ চৌদ্দ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আনোয়ার লতিফ খান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জঙ্গি সংগঠনের একটি সেলের সদস্য। এ সেলের নিয়ন্ত্রক ছিলেন অলিউজ্জামান। নাশকতা পরিচালনায় সেলের প্রধান মনির ও সালমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।  তাদেরকে ধরতে অভিযান অব্যহত রয়েছে। হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি-না, কোন সরকারি স্থাপনায় হামলা, কি ধরনের হামলা, অস্ত্রের যোগান ইত্যাদি বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে র‌্যাবের এই অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, আপনারা যে প্রশ্নগুলো করেছেন, সেগুলোর সঠিক জবাব আমাদের কাছে নেই। কেবলমাত্র গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের পরেই কেবল এ সকল বিষয়ে তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আনোয়ারুল আলম বোমা তৈরিতে পারদর্শী। আবুল কাশেম সংগৃহীত আরবিতে লেখা বিভিন্ন উগ্রবাদী মতাদর্শ বাংলায় ভাষান্তর করে ভাইরাল আকারে নেটে ছড়িয়ে দিতেন। সালেহ আহম্মেদ এক বছর আগে চট্টগ্রামে অস্ত্র চালানোর ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আর মো. মোহন গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করেন।

 

উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সামিল হোন

মাগুড়া প্রতিনিধি : বিএনপি আবারো ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়নের চলমান ধারা ধ্বংস করে দিবে। তাই উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশকে বিএনপি-জমায়াতের চক্রান্তের হাত থেকে বাঁচাতে আবারো নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যাদের ভোট চুরির অপরাধে জনগণ পদত্যাগে বাধ্য করিয়েছিল, যারা নির্বিচারে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের সৃষ্টি করেছে, যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না- তারা ক্ষমতায় আসলে দেশকে আবারও ধ্বংস করে দেবে। তাই উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বার্থে সবাই আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সামিল হোন, আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন।

মঙ্গলবার বিকেলে মাগুরা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে আগামী নির্বাচনে পুনর্বার নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ করা। আপনারা বার বার নৌকায় ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আপনারা উন্নয়নের মুখ দেখছেন। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের আরও দ্রুত উন্নয়ন করবো, দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার পাশপাশি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিময়, কল্যাণকর ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো।

বিশাল এ জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই ক্রিকেট বিশ্বের বিম্ময় মাগুরার কৃতি সাবিক আল হাসানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাকিব এ মাটিরই সন্তান। শ্রীলংকাকে শততম টেস্টে হারিয়ে জয় বাংলার জয় এনে দিয়েছেন তাঁরা। এজন্য ক্রিকেটের সকল খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই দেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয়, তা আমরা প্রমাণ করেছি। আবেগজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, পিতা-মাতা, ভাইসহ সবাইকে হারানোর দুঃষহ দুঃখ-যন্ত্রণা বুকে নিয়েই দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে শুধু মাগুরাই নয়, গোটা বাংলাদেশের সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। ৯৪ সালের ২০ মার্চ উপ-নির্বাচনে মাগুরাবাসীর ভোট চুরি করে নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এর বিরুদ্ধে আমরা তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলি। আর সেই গণআন্দোলনেই ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়া ক্ষমতা থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন।

জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোন জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। আমি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাব- নিজেদের সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখবেন। তারা যাতে কোনভাবেই জঙ্গী-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তে জড়িয়ে পড়তে না পারে। জঙ্গী-সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে আসতে চাইলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এ পথ থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবনে আসতে চাইলে তাকে পুনর্বাসনসহ সরকার থেকে যা যা করার তার সবই করা হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোন যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারী, যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি বলেন, আমার জীবনের কোন চাওয়া পাওয়া নেই। মাত্র একদিনে আমরা নিঃস্ব-রিক্ত ও এতিম হয়ে গেছি। আমার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জনকে হত্যা করেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমিও যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে বাবার মতোই আমার বুকের রক্ত দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ।

গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের কাছে বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই আমাদের সব উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ করে দেয়, সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারোর কাছে মাথানত করি না, কাউকে ভয় পাই না।
 
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ কুন্ডুর পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, আবদুর রহমান এমপি, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়ায়াহাব, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, পারভীন জাহান কল্পনা, মহিলা আওয়ামী লীগের সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার ও অপু উকিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্মল রঞ্জন গুহ, যুবলীগের আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের এস এম জাকির হোসেন, স্থানীয় নেতা এএফএম আবদুল ফাত্তাহ, মুন্সী রেজাউল হক, রুস্তম আলী, হাজী গোলাম মাওলা প্রমূখ।

হেলিকপ্টারযোগে প্রধানমন্ত্রী মাগুরা এসে সার্কিট হাউজে নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়েই প্রায় ৩১০ কোটি ব্যয়ে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্পের ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশাল এ জনসভায় মাগুরার মাটি ও মানুষের নেতা প্রয়াত আছাদুজ্জামানের পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারি সচিব এ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইন, মেডিকেল কলেজ এবং আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় মাগুরায় রেললাইন, আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং গগণবিদারী স্লোগাণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। খুলনা বিভাগের প্রথম এ নির্বাচনী জনসভায় পুরো বিভাগে সাড়া পড়ে। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে গোটা সমাবেশস্থল। লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে জনসভার তীব্র জনস্রোতে কয়েক ঘন্টার জন্য যেন থমকে গিয়েছিল পুরো মাগুরা জেলা শহর। মাগুরা স্টেডিয়াম ছাপিয়ে চতুর্দিকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকার দীর্ঘ পথই ছিল জনতরঙ্গ। যেন জনতরঙ্গের শুরু আছে, শেষ নেই। জনতরঙ্গ থেকে ভেসে আসা লাখো মানুষের গগনবিদারী একই স্লোগাণ ছিল- ‘শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার’। প্রায় আট বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাগুরা সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল বৃহত্তর ফরিদপুরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে। দুপুর ১২টার পর থেকেই হাজারো মিছিলের তোড়ে পুরো শহরই যেন থমকে দাঁড়িয়েছিল। যেদিকে চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। আর এ বিশাল জনসমুদ্রে নির্বাচনের  দেড় বছর আগেই নির্বাচনী আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়াম ছাপিয়ে জনসভায় আসা মানুষের  ¯্রােত ভায়নার মোড়, ঢাকা রোড, চৌরঙ্গীর মোড়, নতুন মাজার, ইসাখাদা বাজার, কাটাখালি বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অজ¯্র মিছিলের প্রতিটিতেই ছিল বিশাল বিশাল নৌকার প্রতিকৃতি ও বিশাল বিশাল আসল নৌকা। ঠেলাগাড়িতে বিশাল বিশাল নৌকা তুলে তার ওপর বৈঠা নিয়ে নৌকার মাঝির নৌকা চালানোর অসংখ্য দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করেছেন মাগুরাবাসী। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সত্যিই এক অন্যরকম গণজাগরনের সৃষ্টি হয়েছিল নৌকার ঘাঁটি বলে পরিচিত এই জেলাটি।

দুপুর আড়াইটায় জনসভার জন্য নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই আশেপাশের জেলা-উপজেলা থেকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত অসংখ্য মিছিল আসতে শুরু করে সার্কিট হাউজ ময়দান অভিমুখে। বিশাল এই মাঠটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসার আগেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে জনসভার ব্যতিক্রমী বিষয় ছিল পুরো স্টেডিয়ামসহ আশেপাশে এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় ২৫ হাজার লিটার পানি, ২৫ মন চিড়া, ৫ মন বাতাসাসহ নানা শুকনো খাবারের ব্যবস্থা। এছাড়া জনসভায় আসা নারী নেতাকর্মীদের জন্য আশেপাশের বাড়িতে বিশ্রাম ও টয়লেট ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প: মাগুরা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার উন্নয়নে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্্েরক্স ভবন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা মঘি ইউপি অফিস থেকে আন্দোলবাড়িয়া সড়কে ফটকি নদীর ওপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার ব্রিজ, সদর উপজেলাধীন জিসি-ইছাখাদা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সড়ক, মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতিঘণ্টা ক্ষমতা সম্পন্ন মাগুরা ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার, প্রশাসনিক ভবন সরকারি হোসেন শহীদ সোহওয়ার্দী কলেজ, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মাগুরা টেক্সটাইল মিল্স, আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও মাগুরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। এছাড়া মাগুরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শালিখা উপজেলাধীন বুনাগাতি থেকে বেরোইলপলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকী নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, একই উপজেলাধীন বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকী নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্র ্রকল্প (২য় পর্যাায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাইটেকপার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাতে এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বাসস : সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবার দক্ষতা ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এই প্রকল্পটিসহ এক লাখ ২৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে এটি একটি ধারাবাহিক কর্মসূচি। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

তিনি জানান, চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে আগামী ২০২২ সালের জুনে এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হবে। মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের ইউএনএফপিএ সহ আরো দুটি সংস্থার কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮৪৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে। বাকী ৯৬ হাজার ৬৩৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন,‘এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি সেবা, সচেতনতামুলক কর্মকান্ড, প্রশিক্ষণ-উচ্চ শিক্ষা,ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্য ব্যবস্থাপনা, মানব সম্পদের উন্নয়ন এবং গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে এ প্রকল্পটিসহ এক লাখ ২৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ের ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অুনমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৪ হাজার ১৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আর বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ১৮ হাজার ৮৪৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমুহের উন্নয়ন প্রকল্প’, এর ব্যয় ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ‘সরকারি কলেজসমুহে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় হবে এক হাজার ৮০৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্প। ৯৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘গৌরনদী টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প। ৭৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘বিসিআইআর এর আইএমএমএম এ একটি খনিজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ’ প্রকল্প। ‘যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৬) যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ ব্যয় হবে ৩২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ১৫৭ কোটি ২১ লাখ টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘বগাছড়ি-নানিয়ারচর লংগদু সড়কের ১০ম কিলোমিটার চেংগি নদীর উপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প এবং ২৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প।
বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য,সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে প্রস্তাব গেছে জাতিসংঘেও

জাতীয় সংসদের স্বীকৃতির পর একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিকভাবেও দিবসটি পালনের জন্য ইতোমধ্যে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার বিষয়টি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালনের জন্য ২৫ মার্চকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
গত ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে গণহত্যা দিবস পালনের এই প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে। এ বছর থেকেই তা শুরু হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে শফিউল আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সেটা বলতে পারবে। আমরা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, কারণ তাদের প্রস্তুতি আছে কি না জানি না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসে সরকারিভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ আর্থ খরচ করা যায়। কারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তার বিবরণও সেখানে লিপিবদ্ধ আছে। দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জাতিসংঘে এ সংক্রান্ত একটি সংস্থা আছে। তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তেইশ বছরের শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। অবশ্য তার আগেই ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ কার্যত সেটাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, যার পথ ধরে কালরাতের পর শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।

নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের দাবির মধ্যেই জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার গত ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলেন। তার প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হউক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রহণ করা হউক।’ সেদিন প্রায় সাত ঘণ্টা আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ ৫৬ জন সংসদ সদস্য ওই আলোচনায় অংশ নেন।

 

গ্রামাঞ্চলে বাড়িঘর নির্মানে ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা আইনে মন্ত্রিসভার সায়

নগরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বাড়িঘর নির্মাণ এবং যে কোনো উন্নয়ন কাজে ভূমি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। এই নিয়ম না মানলে পাঁচ বছর কারাদন্ডের সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন, ২০১৭’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এটি অনেক দিনের প্রত্যাশিত আইন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় যেন শৃঙ্খলা আসে সেজন্য এই আইন করা হচ্ছে।

পরিকল্পিতভাবে যেন জমির ব্যবহার করা হয় সেজন্য আইনে অনেকগুলো প্রস্তাব আছে। খসড়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাদের মূল দায়িত্ব হবে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বা তাদের ছোট পরিষদের তত্ত্বাবধান করা। এছাড়া গণপূর্ত সচিবের নেতৃত্বে থাকবে ২৫ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ থাকবে। শফিউল আলম জানান, পূর্তমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদ মূলত নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে কাজ করবে। আর উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে নির্বাহী পরিষদের কাজ। এছাড়া জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের কাছে পরিকল্পনাগুলো সুপারিশসহ উপস্থাপন করবে নির্বাহী পরিষদ। ভূমি ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র নিতে হবে। সব সরকারি-বেরকারি সংস্থা, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যাদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে- সেসব সংস্থা, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপদেষ্টা পরিষদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা দিতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজউকসহ এ সংক্রান্ত অন্য কর্তৃপক্ষের কাজের সমন্বয় করবে উপদেষ্টা পরিষদ।

নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে নগর ও অঞ্চলের পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে। এ আইনের অধীনে প্রণীত পরিকল্পনা, বিধি, কোনো আদেশ, নির্দেশ মোতাবেক কাজ না করলে বা কোনো ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এগুলো লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড দেওয়া যাবে। শফিউল বলেন, গ্রাম এলাকাতেও কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলো তাদের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে নিজেরাই অনুমোদন দেবে। পৌরসভা ও স্থানীয় পরিষদ নিজেদের গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদন করবে। ইতোপূর্বে তারা যেসব কাজ করছে তা এই আইনের মধ্যে গণ্য হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে ‘মানুষের বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়টিও’ আছে। ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি গ্রাম পর্যায়ে চলে যাবে, এটি পুরো দেশ কভার করবে।

সারা দেশের যে কোনো জমি ব্যবহার করতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। সচিব বলেন, গ্রামে বাড়িঘর তৈরির আগে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম এখনও আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নেওয়া হয় না। কৃষি জমিতে বাড়ি করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু মানুষ সাধারণত সেই অনুমতি নেয় না। এগুলো আইনে আছে, পালন করা হয় না বলতে পারেন। নতুন আইন তৈরির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শফিউল আলম বলেন, জমির অপব্যবহার ঠেকানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনা করে যেন আমরা ল্যান্ড ইউজ করি। জমির মিসইউজ যেন কম হয়। প্রতি বছর এক শতাংশ করে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেটা ‘ঠেকানো দরকার’। প্রস্তাবিত নতুন আইনে যেসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা নেই, সেগুলো বিধির মাধ্যমে বিশদ করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীতে মাইক্রোবাস ফুটপাতে, মা-মেয়েসহ আহত ৫

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ এলাকায় রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ন্ত্রণহারা একটি মাইক্রোবাস ফুটপাতে উঠে গেলে রিকশারোহী দুই নারীসহ ৫জন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করেছে উপস্থিত জনতা। মাইক্রোবাস চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- রিকশারোহী ফারহানা ইসলাম দিশা (২৮) ও তার মা রোকেয়া বেগম (৫০)। রিকশাচালক জাহিদুল ইসলাম (৩০) ও আলমগীর (৪৫) এবং ফুটপাতের ফল বিক্রেতা  জসিম উদ্দিন ্(৪০)। গোলাম রব্বানী নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ঢামেক বহির্বিভাগ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের রাস্তায় একটি রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে ফুটপাতে উঠে পরে।

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক, স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। জিল্লুর রহমান ২০১৩ সালের ২০ মার্চ বার্ধক্যজনিত রোগে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং ২০০৯ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি পাঁচটি পৃথক মেয়াদে ১২ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন, অন্যান্য সমমনা সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংস্থা মরহুম নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রাজধানী ও দেশব্যাপী মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া, মোনাজাত ও আলোচনা সভার আয়োজন। আওয়ামী লীগ সকাল ৮টায় রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সাবেক রাষ্ট্রপতির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে এবং বাদ আসর গুলশানে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কবরস্থানে যাবেন এবং সেখানে দোয়া-মোনাজাত করবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মুশফিক-সাকিবকে ফোন তোমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছ : প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : বাংলাদেশের শততম টেস্টে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জয়ের পরপরই শেখ হাসিনা  তার অভিনন্দন বার্তা পাঠান বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানানো হয়, জয়ের পরপরই প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটদলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এবং ম্যান অব দ্য সিরিজ সাকিব আল হাসানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি দলের সদস্যদের  জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, ‘তোমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছো, তোমাদেরকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাচ্ছি ।’ জয় বাংলা বলে কথা শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে পৃথক এক অভিনন্দন বার্তায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শততম ম্যাচে জয়লাভ ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এ ছাড়া পৃথক বার্তায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। 

ক্রিকেটে এ জয় মাইলফলক: রাষ্ট্রপতি

করতোয়া ডেস্ক : শততম টেস্টে স্মরণীয় জয়ের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কলম্বো টেস্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ।  রোববার টেস্ট জয়ের পরপরই এক অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শততম টেস্টের এ বিজয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি মাইলফলক। এ জয়ের ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেট অনুরাগীরা আরো উৎসাহিত হবে এবং ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতেও জয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখবে। ক্রিকেট দলের ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দলের খেলোয়াড়, কোচ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ক্রিকেট ভক্তদের উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

 

রাজধানীতে গাড়ি চাপায় শিশুসহ নিহত ২

রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শনিরআখড়ার আয়েশা-মোশাররফ মার্কেটের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় হিমাচল পরিবহনের একটি বাস হুমায়ুন কবীর (৫০) নামে এক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রাব্বি নামে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে আনলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হুমায়ুন নরসিংদির রায়পুরের মৃত শফিউদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি দনিয়া এলাকায় তাকতেন। এদিকে গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহাখালীর ডিএমআরসি ভবনের গেটের সামনে সাদা রঙের একটি পাজেরো গাড়ি সুজানা আক্তার (৫) নামে এক শিশুকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে নিহত শিশুর খালু তাহের জানান। তিনি জানান, সুজানার বাবার নাম সজীব। তারা ময়মনসিংহের মুক্তাগাজার সুজাতি গ্রামের বাসিন্দা। তারা মহাখলীর ডিএমআরসি ভবনের পাশের বস্তিতে থাকে।

 

 

গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে অচিরেই সমঝোতা – পানিসম্পদ মন্ত্রী

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে আলোচনা চলছে, অচিরেই এ বিষয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।  রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রিমিয়ার নিউজ সিন্ডিকেট লিমিটেড আয়োজিত ‘নদী বাঁচাও- দেশ বাঁচাও- মানুষ বাঁচাও’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, অনেকে প্রশ্ন করছেন গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে কেন ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে? ভারত তো ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। যারা এ প্রশ্ন করছেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে জায়গা অধিগ্রহণের জন্য। ১৩ কি.মি. জায়গার অর্ধেক বাংলাদেশের আর অর্ধেক ভারতের। সেজন্যই জমি ক্রয় করতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে ব্যারেজের এক চতুর্থাংশ পানি জমা হবে ভারতের জায়গায়। এনিয়ে সমঝোতার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, অচিরেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে। গঙ্গা ব্যারেজ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাঁচানো অসম্ভব মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পানির নাব্যতা ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। আগে আমরা ভারতের পানি পেতাম ৫৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু এখন ২০ হাজার কিউসেকও পাওয়া যায় না। ওই অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে আরও ২০ হাজার কিউসেক পানি গঙ্গা, মাথা ভাঙ্গা, চন্দনা নদীতে ধরে রাখতে হবে। যমুনার পানি এনেও বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ না হবে মন্তব্য করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে দখল মুক্ত এবং বর্জ্য দূষণ বন্ধ করতে হবে।

তা না হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো যাবে না। মতবিনিময় সভায় নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, নদী দখল হচ্ছে, নদীর নাব্যতা হারাচ্ছে। এজন্য মানুষ দায়ী, মানুষের অসচেতনতা দায়ী। অতীতের কোনো সরকার নদী সংরক্ষণের জন্য কাজ করেনি। আমরাই বঙ্গবন্ধুর কেনা ৭টি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং শুরু করি। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে আমরা ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছি। বেসরকারি খাতেও ৭০টি ড্রেজার সংগ্রহ করে নদী খননের বিপ্লব ঘটিয়েছি। এছাড়াও আরও ১০টি ড্রেজারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশোক মাধব রায় প্রমুখ।

৮০ শতাংশ ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিকদের হাতে জিম্মি

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ‘আইন ১৯৯১’র বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গণমোর্চার নেতারা। রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এ দাবি জানান। এ সময় সংগঠন জাগো বাঙালির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ‘আইন ১৯৯১’র পুর্নবাস্তবায়ন না হওয়াতে দেশের ৮০ শতাংশ ভাড়াটিয়া বাড়ি মালিকদের হাতে জিম্মি। তারা বিভিন্ন সময় নির্যাতনেরও শিকার। তিনি বলেন, এই আইনের বাস্তবায়ন না হওয়াতে দেশের বিভিন্ন শহরের ভাড়াটিয়াদের জীবনের ন্যুনতম স্বাচ্ছন্দ্য নেই। তাই আমরা সরকারে কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- ভাড়াটিয়াদের কথা চিন্তা করে দ্রুত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করুন। না হলে দেশের নির্যাতিত ভাড়াটিয়ারা রাজপথে নেমে আসবেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তোজাম্মেল হক তাজিম, বাংলাদেশ ন্যায় বিচার পার্টির সভাপতি হোসেন খান লিটন, নাগরিক অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান দুলাল সাহা ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের সিরাজগঞ্জ জেলার সভাপতি গাজী একরামুল হক প্রমুখ।

তাঁতীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে নেতাদের

তাঁতশিল্পকে আরও আধুনিক ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁত শিল্পের প্রসারে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই সরকার নেবে। তাঁত যেন আরও উন্নত হয়, সম্প্রসারিত হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সংগঠন করা মানে শুধু নেতা হয়ে বসে থাকা নয়। যে সম্প্রদায়ের জন্য সংগঠন সে সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তাঁতীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে তাঁতী লীগকে। এ শিল্পের বিকাশে নজর দিতে হবে। রোববার রাজধানীর ফার্মগেইেটের কৃষিবিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসলিনের ওপর চার ইঞ্চি জরির কাজ করতে পুরোটা দিন লেগে যায়। এই যে তারা মনযোগ দিয়ে একটি বস্ত্র তৈরি করছেন এটাও তো একটি অত্যন্ত উন্নতমানের শিল্প। কাজেই এটাকে আরও  বেশি সহযোগিতা করার জন্য আমাদের সরকার সব সময় প্রস্তুত এবং আমরা তা করে যাব। তাঁত বোর্ডকে ডিজিটাইজড করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা একটা টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ও দেশে প্রতিষ্ঠা করেছি । তাঁত শিল্পের উন্নয়নকে কিভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায় সেটাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তাঁতীদের মেধা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই লক্ষ্য করেছেন, তাঁতী ভাইয়েরা লক্ষ্য করেছেন, আমি কিন্তু কখনো ফ্রেঞ্চ শিপন পড়ি না। বাংলাদেশে তৈরি, আমাদের তাঁতীদের তৈরি কাপড়ই সব সময় ব্যবহার করি। এটা সুতির কাপড় হোক, সিল্কের কাপড়, এমনকি খদ্দর শাড়ি আছে তাও পরি। তিনি বলেন, বিদেশে যত উপহার দেই। সেখানে উপহারের খাতায় কিন্তু সবসময় দেশে তৈরি কাপড় রাখি, উপহার দিয়ে থাকি। তিনি বলেন, তাঁতের শাড়ি আমরা ব্যবহার করি । তবে, আমার মনে হয় আমাদের ছেলে-মেয়েরাও এই তাঁতীদের তৈরী কাপড় ব্যবহার করতে পারে। এই শাড়ি দেখতেও সুন্দর। তাঁর সন্তান-সন্ততিদের তিনি খদ্দরের কাপড় কিনে দেন এবং সবাই সেটা পড়ে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের তাঁত শিল্পের কাপড় শুধু পরিধান নয়, গৃহে নানামুখী কাজে এর ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করবো সকলে সেদিকে নজর দেবেন।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিনকে আবার ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে আমরা একটা সমীক্ষা করছি যে মসলিন কোন কোন এলাকায় তৈরি হতো, এর সুতা আবার পাওয়া যায় কিনা এজন্য আমরা গবেষণা করছি। প্রধানমন্ত্রী তাঁত শিল্পের প্রসারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ৪২৬টি তাঁতের বিপরীতে ১৪২ জন তাঁতীকে ৪৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁতীদের প্রশিক্ষণের জন্য নরসিংদীর তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে আমরা আরও উন্নত করেছি।  সেখানে ৪ বছর মেয়াদে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল কোর্স চালু করা হয়েছে এবং এতে ভর্তির ক্ষেত্রেও তাঁতী পরিবারের সদস্যদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা নতুন নতুন ডিজাইন উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফ্যাশন ডিজাইন ও ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট এবং একটি বেসিক সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রকল্পের আওতায় নরসিংদীতে একটি ফ্যাশন ডিজাইন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি, টাঙ্গাইল এবং মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে একটি করে তিনটি প্রশিক্ষণ উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, পাশাপাশি স্বতন্ত্র জামদানী পল্লী, বেনারসি পল্লী ও তাঁত পল্লী স্থাপনেরও কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁতীদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। মাদারিপুরের শিবচর এবং শরিয়তপুরের জাজিরায় ১শ’ ২০ একর জমিতে তাঁত পল্লী স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটে মনিপুরি তাঁত শিল্পের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ৬শ মনিপুরি তাঁত শিল্পীকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ তাদের পণ্য বিক্রিতে সিলেটের জিন্দাবাজারের ‘ওয়েস্ট ওয়াল্ড শপিং সিটিতে’ একটি বিপনী কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রংপুরের সতরঞ্জি এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।  

প্রধানমন্ত্রী তাঁতী লীগকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাঁতী পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া শেখার পাশাপাশি তাদের এই শিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার বিষয়েও উদ্যোগী হবার আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ জামদানীর পেটেন্ট রাইটস অর্জন করায় এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা এবং পাশাপাশি তাঁত ও সিল্ক শিল্প  যেন বিশ্বব্যাপী প্রসার লাভ করতে পারে তার জন্য সবাইকে কাজ করার আহবান জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের আহবায়ক এনাজুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তাঁতী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সাধনা দাস গুপ্তা। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন প্রথম যুগ্ম আহবায়ক খগেন্দ্র চন্দ্র  দেবনাথ । শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো.শওকত আলী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, কারাগারে নিহত জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতন্ত্র উদ্ধারে আত্মাহুতিদানকারী তাঁতী লীগের প্রয়াত নেতৃবৃন্দ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় অনুষ্ঠানে। এর আগে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী এই সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মেলনে ডেলিগেট, কাউন্সিলর ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সম্মেলন মূলতবি করা হয়।

 

নিজ এলাকার জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের তথ্য সংস্থাকে দিতে হবে

বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না এমন প্রত্যয় পুর্নব্যক্ত করে দলের সকল নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের তথ্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শনিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। দেশে চলমান জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে আবারো সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  এই বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান হবে না। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আমি অহ্বান জানিয়েছি। আমি আমাদের নেতাকর্মীদের বলবো, আপনাদেরকেও সেভাবে সজাগ থাকতে হবে। যে যেখানে বসবাস করেন, যার যার নিজ নিজ এলাকায় কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসী আছে কী না। সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য আপনাদের সংগ্রহ করতে হবে এবং সেটা আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তুলে দিতে হবে। কারণ এই দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস হোক আমরা তা চাই না।

এর বিরুদ্ধে আমাদের যে কঠোর অবস্থান আমরা নিয়েছি, সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের সকল পেশাজীবিদেরকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আজকে সর্বস্তরের জনগণ; আমাদের শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম, ওলামাগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সকলকে, বাংলাদেশের জনগণকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যাতে কারো ছেলেমেয়ে কেউ যেনো এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়। দেশবাসীকে জঙ্গিবাদ দমনের নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরণের কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিজের সন্তানদেরও খবর নিতে হবে, কোথায় যায়, কার সাথে মেশে, কি করে। ওই মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড থেকে যেন যার যার সন্তান দূরে থাকে, তারা যেনো মানুষের মতো মানুষ হয়, তারা যেনো এদেশকে আগামী দিনের নাগরিক হিসেবে পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত হিসেবে গড়ে ওঠে এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকণ্যা বলেন, আমরা চাই, জাতির পিতা যে কথা বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। কাজেই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি উন্নত শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে উঠেবে। এখানে কোনো দারিদ্র থাকবে না। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। কোনো মানুষ রোগে কষ্ট পাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারবে। সেই ভাবে আমরা এই দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।

২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য এখন থেকেই আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্ততি নেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা পালন করবো। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। আমি এখন থেকেই আওয়ামী লীগের সকল সংগঠনকে বলবো এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে। প্রায় এক ঘন্টার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য বঙ্গবন্ধু পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ পেটভরে খাবে, তাদের উন্নত জীবন হবে, তারা ভালভাবে বাঁচবে এটাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করাটাকেই আমি আমার কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি বলে আজকে আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। কাজেই যে যেখানেই আছেন, সেখান থেকেই কাজ করতে হবে।

 বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি বলেন, তাঁর জন্ম না হলে এ স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন স্বাধীনচেতা, তিনি দেশকেও স্বাধীন করেছেন। বাবার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে তিনি না গিয়েছেন। তিনি মানুষের মাঝে আত্মসচেতনতা সৃষ্টি করেছিলেন। অধিকার চেতনা সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন ছয় দফা; করেছেন কারাবরণ। কোনো লোভ-লালসার কাছে তিনি মাথা নত করেন নি। আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আব্দুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা এ কে এম রহমতউল্লাহ, সাদেক খান, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

 

মক্কা-মদিনার প্রধান দুই ইমাম ঢাকা আসছেন

করতোয়া ডেস্ক : প্রথমবারের মতো ঢাকায় আসছেন পবিত্র মক্কা ও মদিনার প্রধান দুই ইমাম। পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ড. শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসি ও মদিনা শরীফের মসজিদে নববীর সিনিয়র ইমাম শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুযাইফি ঢাকায় আসার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছেন। সৌদি বাদশাহর অনুমোদনের পর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফাবা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের বিশেষ মেহমান হিসেবেই ঢাকা আসবেন মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।  
দায়িত্বশীল পর্যায়ের একাধিক জন বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন। খবর বাংলানিউজ।

তারা জানান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি বৈঠকে মক্কা ও মদিনার দুই ইমামের ঢাকায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালসহ ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস-এর কয়েকজন সদস্য রয়েছেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে দুই ইমামকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ৭ মার্চ আমন্ত্রণপত্র নিয়ে সৌদি আরব যান।

ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন- আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য আলহাজ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।
মক্কা-মদিনার ইমামকে ঢাকায় আনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইফাবা মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল  বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ইসলামের প্রচার-প্রসারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। অন্যদিকে মক্কা-মদিনার ইমাম সাহেবরাও ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজে নিবেদিত। তাদের মুখে ইসলামের কথা শুনতেই মক্কা-মদিনার ইমামকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে।’

ফাউন্ডেশন প্রধান আরও বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সৌদি আরব গিয়ে কথা বলে এসেছি, তারা দাওয়াত কবুল করেছেন, এখন তারিখ চূড়ান্ত করার অপেক্ষা।’
শামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘যেহেতু মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী সৌদি আরব সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। সে কারণে তাদেরকে ঢাকায় আনতে হলে সৌদি সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। বর্তমানে সৌদি বাদশাহ বিদেশ সফরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।’

‘দুই ইমামই বাংলাদেশের দাওয়াত কবুল করেছেন। এখন শুধু তারিখ চূড়ান্ত বাকী। আশা করছি, দ্রুতই সব সম্পন্ন হবে,’ বলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রধান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রতিবছর জাঁকজমকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে আসছে। ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও এবার একটু পিছিয়ে তা এপ্রিলে উদযাপন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা অন্য কোনো স্থানে হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল এ বিষয়ে বলেন, আমরা চাইছি সরকারি কোনো ছুটির দিন অনুষ্ঠানটি করতে। যেন মানুষের দুর্ভোগ না হয়।

উল্লেখ্য, মসজিদুল হারামের ইমাম ড. সুদাইসি সুমধুর কোরআন তেলাওয়াতের জন্য মুসলিম বিশ্বে সুপরিচিত। ড. সুদাইসি এবার আরাফার ময়দানে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম হিসেবে তিনি ইসলামের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নিয়ে সারাবিশ্বেই উচ্চকিত কণ্ঠ।
আর মসজিদে নববীর সিনিয়র ইমাম ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল হুযাইফি আরব বিশ্বের একজন খ্যাতনামা কারি। শিক্ষাবিদ হিসেবে আরব বিশ্বে তার বেশ সুনাম রয়েছে।



Go Top