সকাল ১১:০৭, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা বদলে ফেলে পুলিশ বাহিনীকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান দেশের সরকারপ্রধান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবা আরও জনবান্ধব করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা থেকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা তার ভাষণে যে কথা বলেছিলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন দেশ। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশ বাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনী। কাজেই, তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববান থাকতে হবে, জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে’। শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ চিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সোমবার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনে ১৩২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ২৬ জনকে ২০১৬ সালের বিপিএম এবং ৪১ জনকে পিপিএম দেওয়া হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ২৪ জন বিপিএম (সেবা) এবং ৪১ জন পিপিএম (সেবা) পেয়েছেন এবার। পদকপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুল সংখ্যক পদক অতীতে কখনো বিতরণ করা হয়নি। আপনরা এটা পেয়েছেন আপনাদের কাজের দক্ষতা ও যোগত্যা প্রমাণ করতে পেরেছেন এবং জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন বলে।

প্রধানমন্ত্রী সকালে রাজারবাগে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানোর পর তিনি একটি খোলা গাড়িতে প্যারেড পরিদর্শন করেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং প্যারেড কমান্ডার চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্যারেড পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই দৃষ্টিনন্দন ও সুশৃঙ্খল প্যারেডের জন্য পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ পুলিশকে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসবে বর্ণনা করে তিনি বলেন,অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রদান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য। জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনে ২০১৬ সালে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দেশকে বড় ধরনের নাশকতা ও অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করেছে। পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে জনমনে ‘আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টিতে’ সক্ষম হয়েছে এবং বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন  প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের উন্নয়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় চার পুলিশ সদস্যের নিহত হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভীক এই চার পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

আশুলিয়ার আশকোনায় এবং মিরপুরের কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ জঙ্গি হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসাবে বিশ্বের বুকে যখন প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তখন দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। যুবক-কিশোরদের ‘ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে’ জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করছে। আত্মঘাতি করছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের ২১ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামাত শিবির চক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাদের সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা পুলিশ রুখে দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে’ সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যরা ‘অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করেছেন। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর প্যারেড কমান্ডারসহ কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া শিল্পাঞ্চল, আর্মড পুলিশ ব্যাটিলিয়ন, মেট্রোপিলিটন পুলিশ, র‌্যাব, এসপিবিএন, যৌথ রেঞ্জ, বিশেষায়িত পুলিশ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী, নারী সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ কন্টিনজেন্টের অধিনায়কদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।  

পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ দিবসের কেক কাটেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার, সাইবার ট্রেইনিং সেন্টার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ‘রাজারবাগ-৭১’ এরউদ্বোধন করেন।

পরে তিনি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল ঘুরে দেখেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সকল পুলিশ সদস্েযর অংশগ্রহণে কল্যাণ সভায় অংশ নেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর শোক আগরতলা মামলার আসামি মাহফুজুল বারীর ইন্তেকাল

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আসামি মাহফুজুল বারী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজেউন)। ঐতিহাসিক এই মামলার ২২তম আসামি ছিলেন তিনি।  সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। মাহফুজুল বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বার্তায় তিনি ’৭৫ পরবর্তী সময়ে মাহফুজুল বারীর অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা প্রয়াত মাহফুজুল বারীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মাহফুজুল বারী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য ছিলেন মাহফুজুল বারী। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। মাহফুজুল বারী পাকিস্তান বিমানবাহিনী সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মুক্তি পান। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, আসামিরা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে বসে তারা এই পরিকল্পনা করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। তার তিন বছর পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাতে যোগ দেন মাহফুজুল বারী। ২ নম্বর সেক্টরে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন মাহফুজুল বারী। কলকাতা হয়ে পরে কানাডায় গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন তিনি। গত বছর তিনি দেশে আসেন।

ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ আন্দোলনে যেতে পারে হকার সংগঠনগুলো

রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে ফুটপাতের অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযান। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে রাস্তার ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান দিয়ে বসা হকারদের দৌরাত্ম্য কমাতে মেয়র কিছুটা সফলতা অর্জন করতে পারলেও ভিন্নমত হকার নেতাদের।
মেয়রের হকার উচ্ছেদের এই উদ্যোগকে অবৈধ দাবি করে তারা বলছেন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য নয়। উচ্ছেদ বন্ধে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়া হবে বলে জানান তারা। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে যে কোন সময় নতুন আন্দোলন কর্মসূচিরও ঘোষণা দেয়ার কথা জানিয়েছে হকার্স সংগঠনগুলো।

হকার্স সংগঠন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে প্রায় ৬০টিরও বেশি হকার্স সংগঠন আছে। এক একটি সংগঠনে ৫, ১০ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি হকার জড়িত। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন তাদের জন্য কোন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উল্টো ব্যবসা থেকে হকারদের বঞ্চিত করছে। সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকের এক বৈঠকে হকারদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়র একথা জেনেও কোন ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছিন্নমূল হকার্স সমিতির সভাপতি কামাল সিদ্দিকী  বলেন, আমরা ফুটপাতে বসা নিয়ে প্রতিনিয়ত পুলিশের সাথে আলাপ-আলোচনা ও যোগাযোগ করছি। তারা তো মেয়রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তবে মেয়রের এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। মেয়র আমাদের ফুটপাতে বসতে না দিলে আমরা অন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। ইতোমধ্যে আমরা শ্রমিক ইউনিয়ন, বামপন্থী দলসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে নিয়মিত বৈঠক করেছি। আমরা যে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারি। তিনি জানান, রাজধানী যদি হকার উচ্ছেদ করতে হয় তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা ফুটপাতে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করবে। মেয়র আমাদের ফুটপাতে বসতে দিচ্ছে না সেই জন্য আমরা হকার্সদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ২৫ তারিখে প্রথমে শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাথে বৈঠক করবো। সেখানে সকল হকার সংগঠনের নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে আমরা বড় আকারের সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরো জানান, আগামী মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের কাছে প্রথমে স্মারকলিপি দেয়া হবে। তারপর প্রধানমন্ত্রীর বরাবরও স্মারকলিপি দেয়া হবে। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী  বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশ অনুযায়ী সরকারি ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারে রাজধানীর পাঁচটি স্পটে হকারদের জন্য হলিডে মার্কেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন যদি হকার না বসে তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। তিনি জানান, তাছাড়া হলি-ডে ছাড়াও সরকারি অন্যান্য ছুটির দিনে হকারেরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। তবে আবার শর্ত আছে, সেটা হলো যেস্থানে হলি-ডে মার্কেট হকারদের জন্য উন্মুক্ত রাখা আছে, সেখানে স্কুল এবং অফিস খোলা থাকলে তারা বসতে পারবেনা। যেমন আইডিয়াল স্কুল যদি খোলা থাকে তাহলে সরকারি ছুটি অথবা হলি-ডে দিনেও কোন মার্কেট বসতে পারবে না। তবে হকাররা যদি মেয়রের সাথে সমঝোতা করে বসতে চায় তাহলে তো ভালোই। তাছাড়া তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নির্দেশে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। মেয়রের নির্দেশ অব্যাহত থাকলে সামনের দিনেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে তাদের (হকার) কর্মসূচি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। কাউছার আলী নামে গুলিস্থানের এক হকার  বলেন, রাজধানীতে যেসব স্থানে হলি-ডে মার্কেট রাখা হয়েছে সেসব স্থানে কোন কাস্টমার পাওয়া যায় না। তাহলে আমরা কিসের ব্যবসা করবো।

কাস্টমার না পাইলে সেখানে কি দোকান খুলে বসে থাকবো? তাছাড়া আমরা যেখানে কাস্টমার পাবো সেখানেই বসার নির্দেশ দেয়া হোক। তিনি বলেন, আমরা ব্যবসা করে যা আয় করবো প্রয়োজনের সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য ট্যাক্স দেব। তারপরেও আমাদের ভালোভাবে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি। হকার সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক আবুল হোসাইন  বলেন, ব্যবসায়ের উপযোগী না হলে হলি-ডে মার্কেট করলে হকারদের কি লাভ হবে। তাছাড়া এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন আমাদের সাথে কোন কথাবার্তা বা বৈঠক পর্যন্ত করেনি। অচিরেই হকারদের সমস্যা সমাধান না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব  বলেন, ছুটির দিনে গুলিস্তান লিংকরোড, মুক্তমঞ্চ, শিল্পকলা একাডেমীসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হকার বসার নির্দেশনা আছে। তারা না বসলে কারো কিছুই করার নেই। তবে তারা ফুটপাতে বসতে পারবে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন মুঠোফোনের মাধ্যমে  জানান, আমরা ইতোমধ্যে গুলিস্তান এবং মতিঝিলে পুরোদমে ফুটপাত উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি। তবে কর্মদিবসে কোন হকারদের এসব স্থানে এলাউ করা হবে না। হকারদের আন্দোলনের কথা জানালে তিনি বলেন, তারা (হকার) যদি অধিকারের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে তাহলে করুক। সেখানে আমার কোন কিছু করার নেই। ইতোমধ্যে তাদের জন্য পুনর্বাসন এবং হলি-ডে মার্কেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আন্দোলন করা হবে, এই কথাগুলো হকার্স সংগঠন বলতে পারেনা, এগুলো চাঁদাবাজদের কথা। হকাররা তো তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যেসব চাঁদাবাজ, সুবিধাবাদী এসব আন্দোলনের কথা বলছে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। জানতে চাইলে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম  জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নির্দেশ অনুযায়ী ছুটির দিন ব্যতীত অন্যদিন অফিস টাইমে রাস্তায় কোন হকারকে বসতে দেয়া হবে না।

 

জলবায়ু তহবিল বরাদ্দে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি: টিআইবি

জলবায়ু তহবিল বরাদ্দে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে বলে জানিয়েছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
 সোমবার রাজধানী ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘জলবায়ু অর্থায়ন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিপন্নতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তহবিল বরাদ্দ হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাব বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশকিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও তহবিল বরাদ্দ ও ট্রাস্টিবোর্ড গঠনে স্বার্থের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। যেখানে ঝুঁকি বেশি সেখানে বরাদ্দ কম, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারনে পছন্দ মতো প্রকল্প নিয়ে বরাদ্দ বেশি করায় ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। যেসব জায়গায় বিপন্নতা বেশি, সেখানে বরাদ্দ বাড়ানো এবং দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের ট্রাস্টিবোর্ডে রাখার সুপারিশ করে তিনি। টিআইবির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ ঝুঁকি মোকাবেলায় এসব প্রকল্পে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। জনগণের সম্মতি ছাড়া নিজেদের মতো করে প্রকল্প নিলে তার সফল পাওয়া যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ট্রাস্টিবোর্ড পুনর্গঠন, তহবিল বৃদ্ধি, নীতিমালা পরিমার্জন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।

লিটন হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির অঙ্গিকার প্রধানমন্ত্রীর

সংসদ রিপোর্টার : গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের ভয়াল তান্ডব ও সন্ত্রাসী জনগণকে সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সংসদ সদস্য লিটন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকেও তাঁর এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি। এটাই হয়তো ছিল এমপি লিটনের বড় অপরাধ। এলাকার মানুষের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছিল বলেই হয়তো তাঁকে এভাবে অকালে জীবন দিতে হলো। এ হত্যাকান্ড অবশ্যই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর অবস্থা নিয়েছি, তেমনিভাবেই লিটন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।  
 রোববার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের চৌদ্দতম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক, হুইপ মাহাবুব আরা গিনি, এ কে এম শামীম ওসমান, মীর শওকত আলী বাদশা ও জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।  বক্তাদের বেশিরই হত্যাকান্ডের শিকার মনজুরুল ইসলাম লিটনকে নিয়ে গণমাধ্যমের কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।  
প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের চরম তান্ডব, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও নাশকতার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, গাইবান্ধাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলই বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের অভয়ারণ্য পরিণত করেছিল। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে গাইবান্ধাসহ আশেপাশের এলাকায় প্রচন্ড সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ফাঁড়িয়ে আক্রমণ চালিয়ে ৪ পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা। সেখানে আওয়ামী লীগের এক থেকে দেড় হাজার সদস্যদের বাড়ি-গাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল জোটের সন্ত্রাসীরা।  সংসদ সদস্য লিটনের নির্বাচনী এলাকা জামায়াত অধ্যুষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে হাজার হাজার গাছ কেটে রাস্তায় অবরোধ করে সারাদেশের মতো ওই এলাকাতেও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যখন ওই এলাকার জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুললো, তখন এমপি হিসেবে নয়, একজন এলাকার সাধারণ মানুষ হয়ে মনজুরুল ইসলাম লিটন নেতৃত্ব দিয়েছে। এটাই যেন এমপি লিটনের জীবনে কাল হয়ে দেখা দিলো। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস লিটন রুখে দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছিল। এটা যেন ছিল লিটনের বড় অপরাধ। এজন্যই তাঁকে টার্গেট করা হলো।  
শিশু সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে ওই সময় কিছু গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য লিটন কেন একটি শিশুকে গুলি করবে? শিশু সৌরভের পরিবারও তো আওয়ামী লীগ করতো। লিটনকে হত্যার জন্য ওই সময় এ্যামবুশ করে বসেছিল। এটা দেখে লিটন নিজের জীবন বাঁচাতেই ফাঁকা গুলি করে। এটা নিয়ে কিছু পত্র-পত্রিকাগুলো এমনভাবে লিখলো, কিন্তু কেউ সত্য ঘটনাটি লিখলো না। তিনি বলেন, সে বারবার বলছিল যেখানেই যাই সেখানেই নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হয়। নইলে আমাকে মেরে ফেলা হবে। কিন্তু তাঁর, স্ত্রীসহ সবার অস্ত্র সিজ করা হলো। নির্বাচনের কথা বলে পুলিশের নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হলো। এই সুযোগেই হত্যাকারীরা বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে লিটনকে হত্যা করে।বিএনপি-জামায়াত মতায় থাকতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উলাহ মাস্টার হত্যাকা-, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার তদন্ডেই বেরিয়ে এসেছে এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটই জড়িত ছিল। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। লিটন গোলাম আযমকে তাঁর এলাকায় নামতে দেয়নি। এরই যেন প্রতিশোধ নেয়া হলো। যেখানেই আওয়ামী লীগের কেউ শক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদেরই হত্যা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের প্রবল দাবির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, গোয়েন্দাদের একটি চৌকষ দল ছাড়াও পুলিশ বাহিনী খুনীদের ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবশ্যই হত্যাকারী ও মুল পরিকল্পনাকারীদের ধরে তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে। তিনি বলেন, এমপি লিটন যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গোলাম আযমকে তাঁর এলাকায় ঢুকতে দেয়নি। যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে তদন্তেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকান্ডকে পরিকল্পিত উলেখ করে বলেন, এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। পরিকল্পিতভাবেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্যই এ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদঘাটন এবং খুনীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।  
তোফায়েল আহমেদ বলেন, অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকায় লিটনকে রাজনীতি করতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নাশকতার ও ৪ পুলিশ হত্যার বিরুদ্ধে লিটন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রূখে দাঁড়িয়েছিল। এটাই ছিল যেন তাঁর অপরাধ। তিনিও দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি লিটন হত্যাকান্ডের জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দায়ী করে বলেন, সন্ত্রাস-নাশকতা-সাম্প্রদায়িকতার বিরদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন এমপি লিটন। এই হত্যাকান্ডের মূল নায়ক হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট ও তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। এজন্য অবশ্যই তাঁকে জবাব দিতে হবে। অগণতান্ত্রিক অপশক্তির নেত্রীই হচ্ছেন খালেদা জিয়া।  ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই লিটনকে হত্যা করা হয়েছে। একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে দেশের মিডিয়া যেন লিটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শত চেস্টা করেও লিটনের সিজ করা অস্ত্র ফেরত আনা যায়নি। পেলে হয়তো তাঁকে এভাবে জীবন দিতে হতো না।  জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ নিরাপত্তা দাবি করে বলেন, তিনশ’ জনকে নাকি দেহরী দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। দেশে তো ৩০০ এমপি নেই। তবে বাকি ভিআইপি কারা তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাতে হবে। অতীতে যারা এমপিদের হত্যা করেছে তারা পুরস্কৃত হয়েছে। আগামীতে লিটনের হত্যাকারীরাও পুরস্কৃত হবে কি না জানিনা। এই হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

নতুন নির্বাচন কমিশন আমাদের মতোই হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নির্বাচনের সুবাতাস বইছে। আশাকরি এ বাতাস এ দেশে চলমান থাকবে। যারা নতুন দায়িত্বে আসবে তারা যেন এ কাজটিকেই এগিয়ে নিতে পারে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মতোই নতুন কমিশন হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার আগারগাঁওয়ে নতুন নির্বাচন ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি কাজী রকিব বলেন, পরবর্তী সময়ে যে নির্বাচন কমিশন হবে, ওই কমিশন আমাদের মতোই হবে। নারায়াণগঞ্জসহ সব নির্বাচন আমরা যেভাবে পরিচালনা করেছি, আশা করি নতুন নির্বাচন কমিশনও আমাদের মতো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, আমাদের সময় তো বেশি নেই। আশাকরি এই স্বল্প সময়ে যতটুকু পারি জনগণের কাছে তাদের কাঙ্খিত সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো। অফিস হস্তান্তের কাজ শেষ করে গেলাম। আশা করি এটি বৈধ অফিস হিসেবে গড়ে উঠবে। সিইসি বলেন, ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হতে আরো সময় লাগবে। সিইসি বলেন, এর আগে পরের ঘরে ছিলাম। কীভাবে ছিলাম তা আপনারা সবাই দেখেছেন। অনেক সময় বারান্দাতেও ফাইলপত্র রাখতে হতো। আমরা আজকে থেকে নতুন ভবনে অফিসিয়াল কাজ শুরু করলাম। এ সময়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী রকিব বলেন, আপনারা এতদিন তো সিঁড়িতে আমাদের প্রশ্ন করতেন, এখন আমাদের নতুন ভবনে রুমে বসে প্রশ্ন করতে পারবেন। কোনও সমস্যা হবে না। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর নির্বাচন কমিশন রবিবার থেকে আগারগাঁওয়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর কমিশনের ১১ তলাবিশিষ্ট নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

 

সরকারের প্রচেষ্টায় ব্যাপক সাফল্য : সংসদে রাষ্ট্রপতি

সংসদ রিপোর্টার : সমৃদ্ধ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা ‘ব্যাপক সাফল্য’ পেয়েছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার যে ল্য নেওয়া হয়েছে তা অর্জন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এসব ল্য অর্জনে সম হব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

রোববার জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আবদুল হামিদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে জাতির অগ্রযাত্রার আকাঙ্াকে বাস্তব রূপ দিতে বর্তমান সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথ ধরেই বাংলাদেশ আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে। ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং দিনবদলের সনদের ভিত্তিতে প্রণীত প্রেতি পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এ কার্যক্রমে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আর্থ-সামাজিক েেত্র গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। ‘রূপকল্প-২০২১’, দিনবদলের সনদ ও এসডিজি’র ল্যমাত্রা অর্জন এবং বিভিন্ন পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির এ প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ হবে।”

বিকাল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন শুরুর পর সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হয়। এর পর রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার। পরে সন্ধ্যা ৬টায় আবার অধিবেশন শুরু হয়। কোনও সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে পুরো অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। সংসদের মুলতুবি বৈঠক শুরুর পরে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানান। সংসদ কে রাষ্ট্রপতি ঢোকার পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সংসদে রাষ্ট্রপতির জন্য স্পিকারের ডান পাশে লাল রঙের গদি সম্বলিত চেয়ার রাখা হয়। স্পিকারের অনুরোধের পর রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণের সংপ্তিসার পড়া শুরু করেন। এসময় তার মূল বক্তব্য পঠিত বলে গণ্য করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিনকে অনুরোধ জানান আবদুল হামিদ। স্পিকারের আসনের বাম পাশে রাখা ‘রোস্ট্রামে’ দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন তিনি। ১১৯ পৃষ্ঠার ভাষণের সংপ্তিসারে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’, দিনবদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ল্েয নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধিশালী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ল্েয সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ২০৪১ সালের দিকে-বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাঙ্া পূরণে সম হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একাত্তরের শহীদদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, আসুন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এবং দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

 

আজ থেকে শুরু পুলিশ সপ্তাহ

আজ সোমবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে বলে  রোববার  পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্যÑ ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’।

পুলিশ সপ্তাহ উপলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং মহা-পুলিশ পরিদর্শক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রায় বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তাসহ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা-প্রগতি এ মন্ত্রে দীতি দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যগণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দেশের সকল প্রয়োজন ও সঙ্কটকালে পুলিশ জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে আমাদের পুলিশ বাহিনীর সাফল্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিমন্ডলে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সপ্তাহের প্রথম দিন আজ সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্যদিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন। এসময় তিনি পুলিশের ১০টি কন্টিনজেন্ট এবং পতাকাবাহীদলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ উপলে ২০১৬ সালে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৬ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ৪১ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান করা হবে।এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৪ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা এবং ৪১ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে পদক পরিয়ে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডি’র ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার, সাইবার ট্রেনিং সেন্টার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ‘রাজারবাগ-৭১’ উদ্বোধন করবেন। তিনি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)-এর স্টল পরিদর্শন করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের সাথে কল্যাণ প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন। পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে এবারও একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অধিনায়ক হিসেবে প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি হলেনÑ চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তার নেতৃত্বে প্যারেডে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নিবেন। জেন্ডার সমতা এবং নারীর মতায়নে এ উদ্যোগ এক নতুন মাইলফলক।
পুলিশ সপ্তাহ উপলে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলসমূহ পুলিশ সপ্তাহ উপলে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। পুলিশ সপ্তাহের অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছেÑঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, পুরস্কার বিতরণ (আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র/মাদক উদ্ধার প্রভৃতি), অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সাথে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ইত্যাদি। আগামী ২৭ জানুয়ারি শুক্রবার আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভার মধ্যদিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শেষ হবে।

 

আগামীদিনের নেতৃত্ব নিতে শিার্থীদের প্রতি আহবান প্রধানমন্ত্রীর

করতোয়া ডেস্ক : আগামীদিনের নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে শিার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পড়ালেখার পাশপাশি শিার্থীদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাতেও থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
 রোববার ৪৬তম শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সরকারপ্রধান। শিকদের আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারদিন যদি পড় পড় বলতে থাকে, এটা কারোরই ভালো লাগে না। পড়াশোনার সাথে সাথে খেলাধুলায়ও থাকতে হবে, সংস্কৃতি চর্চাও করতে হবে। সৎ চরিত্রের আদের্শবান হয়ে বাংলাদেশকে আগামীদিনে যেন নেতৃত্ব দিতে পারে, সেভাবেই আজকের ছেলেমেয়েদের নিজেদের গড়ে তোলার আহবান জানাই। একই সাথে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের দূরে থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৬ হাজার ১০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাত হাজার ৬১১টি মাদ্রাসায় সাতটি ইভেন্টে অংশ নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিার্থীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। চ্যাম্পিয়ন, রানারআপ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মেডেল ও সনদপত্র ছাড়াও যথাক্রমে পঞ্চাশ, চল্লিশ ও ত্রিশ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। শিার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অনেক মেধাবী ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে, যা পর্যায়ক্রমিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অব্যাহত রাখতে পারব। আমাদের ছেলেমেয়েরা ধীরে ধীরে প্রতিটি খেলায় পারদর্শী হয়ে উঠছে। শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা বিভাগের সচিব মো. সোহবার হোসাইন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা শিা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান।
এর আগে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর ডিসপ্লে প্রদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল। ‘জাগো বাংলাদেশ’ শীর্ষক ডিসপ্লে প্রদর্শন করে বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন।

 

এবার খাল উদ্ধারে নামছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

অবৈধ দখলে হারিয়ে যেতে বসা ঢাকার খারগুলো উদ্ধারে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে অভিযানে নামছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নন্দীপাড়ার ত্রিমোহনী খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে এ  অভিযান শুরু হবে বলে  রোববার দেিণর মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসন, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মেয়র জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি গাবতলি থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত যে বেড়িবাঁধ আছে তা সংলগ্ন সড়কগুলো দখলমুক্ত করার কাজও শুরু হবে। তিনি বলেন, দখলদার যে দলেরই হোক, যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাই থাকুক, তা আমাদের বিবেচিত বিষয় নয়। জনগণের রাস্তা, ফুটপাত তাদের অধিকারে ফিরিয়ে দেব। এ ব্যাপারে কোনো মহল যড়যন্ত্র করতে চাইলে আমরা তা প্রতিহত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্প্রতি দণি সিটি করপোরেশন গুলিস্তান, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার রাস্তা ও ফুটপাত হকারমুক্ত করেছে। তবে এসব স্থানে কর্মদিবসে সন্ধ্যা থেকে এবং ছুটির দিনগুলোতে সারাদিন হকাররা মালামাল নিয়ে বসতে পারবেন বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

প্রধানমন্ত্রীর নতুন এপিএস ইমরুল

করতোয়া ডেস্ক : বাংলাদেশ বেতারের উপ-বার্তা নিয়ন্ত্রক এম এম ইমরুল কায়েস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী প্রেস সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপ-নিয়ন্ত্রক (মনিটরিং অফিসার) হিসেবে সংযুক্ত এই কর্মকর্তাকে প্রেষণে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস নিয়োগ গতকাল রোববার আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস অনুবিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের দায়িত্বে আছেন ইহসানুল করিম। এই বিভাগে চারজন উপ-প্রেস সচিব, একজন সহকারী প্রেস সচিবসহ ১১ জন কর্মরত আছেন। ইমরুলের এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিবের সংখ্যা হল দুটি।

 

সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসছে আজ

সংসদ রিপোর্টার : চলমান দশম জাতীয় সংসদের ১৪তম ও শীতকালীন অধিবেশন আজ রোববার  শুরু হবে। এদিন বিকেল ৪টায় অধিবেশন বসবে। সন্ধ্যা ৬টায় ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংবিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। এজন্য এ অধিবেশনের কার্যদিবস দীর্ঘ হয়।
বছরের এ অধিবেশন কয়দিন চলবে তা কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। অধিবেশন শুরুর এক ঘণ্টা আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

বিকেল ৪টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও পরে কিছুণের জন্য মুলতবি রাখা হবে। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে অধিবেশন শুরুর পর শোকপ্রস্তাব এনে এ বিষয়ে আলোচনার পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন।

জানা গেছে, বছরের প্রথম অধিবেশন উপলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ। এছাড়া ফুলগাছসহ বিভিন্ন পাতাবাহার গাছে সাজানো হয়েছে সংসদের ভেতর। বেশ কয়েকদিন আগেই সংসদের ভেতরে ঘষামাজার কাজ শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের দিন প্রধান বিচারপতিসহ দেশের অনেক কূটনীতিকও উপস্থিত থাকেন।

 

মুক্তিযোদ্ধারা স্যা দিলেই মুক্তিযোদ্ধা

করতোয়া ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে কোনো পেপারস লাগবেনা। পেপারস ম্যান্ডেটরি নয়। যদি সহযোদ্ধারা সাী দেয় এবং বলে সে ট্রেনিং নিয়েছে ও যুদ্ধ করেছে, তাহলেই যথেষ্ট। মুক্তিযুদ্ধ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, কেউ একা একা যুদ্ধ করেনি।
 শনিবার সকালে বন্দর উপজেলার গোকুলদাসের বাগ এলাকায় আমিজউদ্দিন এতিমখানায় সানড্রা ম্যাককারসি হলের উদ্বোধন উপলে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই হলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আসার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি কোথাও বরখেলাপ হয়, তাহলে সেটা বাতিল করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রত্যেক শনিবার এ কার্যক্রম চলবে। যাতে কোনো অসত্য তথ্য দেয়া না হয়। এজন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য যারা মিথ্যা সাী দিবেন ওই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এক থেকে তিন বছর বন্ধ থাকবে। আইন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা পাওয়ার পর আইনানুগ ভাবে তাদের সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হবে।
রোটারিয়ান এম জামালউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জেলা রোটারিয়ান গভর্নর মুহাম্মদ আইয়ুব, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হাবিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর থানা পুলিশের ওসি আবুল কালাম প্রমুখ।

‘ভিশন-২০৪১’র লক্ষ্যে এগিয়ে যাবো: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার  আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘আইন প্রয়োগ নয়, কাউন্সেলিং ও মোটিভেশনের মধ্য দিয়ে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’  শনিবার দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর  রেলস্টেশনে ঢাকা এফএম আয়োজিত পথশিশু ও দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিশন ২০৪১ ঘোষণা করেছেন, আর তা হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা এই ল্েয এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশ পুলিশ আপনাদের পাশে সবসময় আছে, থাকবে।’ শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মতিঝিল জোনের ডিসি আনোয়ার হোসেন, ক্রিকেটার আশরাফুল, ঢাকা এফএম’র চেয়ারম্যান জলি ইকবাল প্রমুখ।

 

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সভায় যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শনিবার সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮২ ফাইটটি শাহজালাল আšর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৮ মিনিটে) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৮৮ ফাইটে দেশের উদ্দেশে জুরিখ আর্šজাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান। যাত্রাপথে দুবাই আšর্জাতিক বিমানবন্দরে চার ঘণ্টা বিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এমিরেটস এয়ারলাইন্সের আরেক ফাইটে (ইকে-৫৮২) দেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি। ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে পাঁচ দিনের সফরে ১৬ জানুয়ারি ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। আবুধাবি হয়ে ওই দিন রাতেই জুরিখে পৌঁছান তিনি। সফরকালে শেখ হাসিনা দাভোসের সিলভ্রেত্তা পার্ক হোটেলে ছিলেন। ডব্লিউইএফের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান কস সোয়াবের আমন্ত্রণে সংস্থাটির বার্ষিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে এ সভায় অংশ নেন শেখ হাসিনা। সফরকালে ডব্লিউইএফের উদ্বোধনী, প্লেনারিসহ বিভিন্ন সেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপ হয় তার। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাাৎ করে তাকে শুভেচ্ছা জানান। ‘ক্রিয়াশীল ও দায়িত্ববান নেতৃত্ব’ শীর্ষক সেøাগানে ১৭ জানুয়ারি সকালে দাভোসের কংগ্রেস সেন্টার শুরু হয় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভার আনুষ্ঠানিকতা। বিশ্বনন্দিত সংগীতশিল্পী শাকিরার গান পরিবেশন, ভায়োলিন বাদক আনি সোফি মাটারের মিউজিক্যাল কনসার্ট এবং ডব্লিউইএফের প্রতিষ্ঠাতা কস সোয়াবের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে শুরু হয় এই সভা। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সভার উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও বিশ্বের ৪৫টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এতে অংশ নেন। অংশ নেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), ইউনেস্কো, ইউএনডিপি, আঙ্কটাড, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এডিবিসহ বিশ্বের বিভিন্ন আšর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও ৭০টি দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা। এই সভা তিন হাজার শীর্ষ ব্যবসায়ী, আর্šজাতিক রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের এক জায়গায় মিলিত হওয়ার সুযোগ করে করে দেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বদরবারে আরও সমুন্নত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলকও ছিলেন।

তেল ও চালের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা

করতোয়া ডেস্ক : তেল ও চালের বাজারে দেখা দিয়েছে হঠাৎ অস্থিরতা। আড়াই মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ১১ টাকা। আর চালের দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ১ থেকে ২টাকা। গত অক্টোবরে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছিলো লিটারে ৬ টাকা। আর এবার লিটার প্রতি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ টাকা। তবে এখনো এর অনুমোদন দেওয়া না হলেও বুধবার থেকে বাড়তি দামেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল।

জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই ট্যারিফ কমিশনকে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানায় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের প্রস্তাবে প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে সেই প্রস্তাব এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু বুধবার থেকে বাজারে পরিবেশক ও বিক্রেতাদের মৌখিকভাবে বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।
তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কারওয়ানবাজারে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের পরিবেশক আমির এন্ড ব্রাদার্সের মালিক আমির হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে রূপচাঁদা তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ১০৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কেন দাম বাড়িয়েছে কোম্পানি সেটা তারা জানেন না। কোম্পানি থেকে বলা হয়েছে লিটারে ৫ টাকা করে বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে। তারা সেইভাবেই বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের রাজ্জাক ট্রেডার্সের মালিক রাজ্জাক হোসেন বলেন, সিটি গ্রুপের তীর তেল সবচেয়ে বেশি চলে হোটেলে। আর রূপচাঁদা চলে পরিবারে। লিটারে ৫ টাকা দাম বাড়ার কথা বললে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে কিইবা করার আছে। কোম্পানির প থেকে বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে তাই লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এক প্রকার নির্বিকার হয়েই আমাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে চালের দামও।  চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে গুলশানের ফেনী রাইস ভান্ডারের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, মোটা চাল গত সপ্তাহে বিক্রি করেছেন ৩৭ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়। মিনিকেট বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকায়। আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৪২ টাকা। শুধু তাই নয়, সব ধরনের চালের দামই প্রতি কেজিতে ১-২টাকা করে বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে চালের সরবরাহ কম। আর কিছু আমদানিকারক চাল গুদামে আটকে রেখেছেন ফলে বাজারে চালের দাম বস্তা প্রতি ১০০-২০০টাকা বেড়েছে। ফলে চালের দাম বেড়েছে।


তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। এই কারণে আমাদের তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কেননা তেল হচ্ছে একটি আমদানি নির্ভর পণ্য। তাই যে দামে ক্রয় করতে হবে ঠিক সে দামে আমাদের বিক্রিও করতে হবে। এছাড়া এই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে সেটার অনুমোদনও দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যখন তখন দ্রব্য-সামগ্রীর দাম বাড়লে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায়। তবে কি কারণে তেল বা চালের দাম বাড়ছে সেটা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। কেননা তেল হচ্ছে আমদানি নির্ভর একটি পণ্য। এটির দাম যদি আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে থাকে তাহলে দাম বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে তাহলে দাম বাড়াটা দুঃখজনক। চালের দাম বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে রয়েছে। তাই যেকোনো কিছু অনুমোদন দেওয়ার আগে সরকারকে সঠিক পর্যবেণ করে সেটার অনুমোদন দিতে হবে। অন্যথায় ভোগান্তির মাত্রা শুধু বাড়তেই থাকবে।


সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, চালের দাম কেন কেজি প্রতি ১-২ টাকা বাড়ছে সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। দাম বাড়ার পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা সেটাও অনুসন্ধান করা হবে। অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠনের একটি চিঠিতে প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে পর্যবেণের জন্য ট্যারিফ কমিশনকে বলেছি। তারা আমাদের বিষয়টি জানালে, তারপর বিবেচনা করা হবে তেলের দাম বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়া হবে কি না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে এটা সত্য। ফলে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক নয়। তারপরও আমরা সবকিছু পর্যবেণ করে সিদ্ধান্ত নেব।

ইলিয়াস মোল্লার মাতার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

করতোয়া ডেস্ক : আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এমপি’র মাতা আজমা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী  মরহুমার পবিত্র রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আওয়ামী লীগের এক শোক বার্তায়  এ তথ্য জানানো হয় ।
এতে বলা হয়, রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় আজমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহে—রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়েস হয়েছিল ৭২ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পলকের সেলফিতে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা

করতোয়া ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক কর্মসূচি শেষে দেশে ফেরার পথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সেলফিতে একই ফ্রেমবন্দী হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে তোলা সেলফি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন এই প্রতিমন্ত্রী।

ক্যাপশন হিসেবে লিখেছেন, ডব্লিউইএফের (ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরাম-২০১৭) বার্ষিক সভার সফল সমাপ্তির পর ডাভোস থেকে জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রার পথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত। ছবিতে দুই বোনকে হাস্যজ্জ্বল ভঙ্গিতে তুষার সিক্ত পরিবেশ উপভোগ করতে দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ৫ দিনের সরকারি সফরে সোমবার রাতে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সুইজারল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় আল্পস অঞ্চলে গ্রাউবান্ডেনে পার্বত্য রিসোর্ট ডাভোসে ১৭ জানুয়ারি চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘প্রতিবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব’।

 

 

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরছেন আজ

করতোয়া ডেস্ক : আজ শনিবার সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় অংশগ্রহণ শেষে  শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফাইট জুরিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। দুবাই হয়ে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি শামীম আহসান।

ধনী ও মতাধর ব্যক্তিদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত নেতার অংশগ্রহণ এবারই প্রথম। সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কর্মসংস্থানসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। একটি সেশনে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুসৎ কেন্দ্র প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাভোসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন পর্যায়ে চলে গেল। ডাভোসে প্রধানমন্ত্রী আসার সাথে সাথে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের ফোকাস এসে গেল। এখন বাংলাদেশকে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রাডারের মধ্যে রেখে বড় বড় কোম্পানি, বড় বড় দেশ চিন্তা করবে- বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য খুব ভালো জায়গা।’

প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগদান করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমস্যাগুলো যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি বিশ্বনেতাদের কাতারে দাঁড়িয়ে সারা পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য করার জন্য কী করা উচিৎ- সেই মতামতগুলো ব্যক্ত করেছেন।’ শেখ হাসিনাকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এবারের বার্ষিক সভায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কস সোয়াব। এর আগে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এ সভায় অংশ নিয়েছিলেন। চার দিনের এ সম্মেলনে অংশ নিতে শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডের আল্পস রিসোর্ট শহর ডাভোসে পৌঁছান ১৬ জানুয়ারি। পরদিন কস সোয়াবের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধি এবারের সম্মেলনে অংশ নেন।

ছুটির দিনেও ফুটপাতে হকার বসতে দেয়নি পুলিশ

রাজধানীর গুলিস্তানে বেশ কয়েকদিন ধরেই বসতে দেয়া হচ্ছে না হকারদের। শুধু গুলিস্তান নয় বরং মতিঝিলেও একই রকম অবস্থা। তবে দণি সিটি করপোরেশন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ফুটপাতে হকার বসতে বাধা নেইÑ এমন কথা বলা হলেও ছুটির দিনে গুলিস্তানের ফুটপাতে হকারদের বসার কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে পুলিশ তাদের বসতে দেয়নি।বিুব্ধ শ্রমিকরা বলছেন, সিটি করপোরেশন নিজেই তাদের কথা রাখছে না আর ফুটপাতেই নির্ধারিত স্থানে হকারদের বসতে দিলে, ফুটপাত মুক্ত রাখতে তারাই সব সহযোগিতা করবেন। আর হকাররা বলছেন, সকাল থেকে তারা গুলিস্তানের বিভিন্ন অংশে দোকান গুছিয়ে বসার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের বাধার কারণে বসতে পারেননি তারা।এদিকে, শ্রমিক নেতাদের দাবি, দণি সিটির মেয়র তার কথা থেকে সরে এসেছেন। জানান, রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে স্বারকলিপি দেয়া হবে। ২৫ জানুয়ারি হকার সমন্বয় পরিষদের যৌথসভা থেকে দেয়া হবে পরবর্তী কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হকার সমন্বয় পরিষদ, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিলেও ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন তা না করে উচ্ছেদ করছে বলে অভিযোগ তাদের। উচ্ছেদ অব্যাহত থাকলে দেিণর মেয়র সাঈদ খোকনকে মামলার হুমকিও দিয়েছেন তারা। মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টনসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ-বিােভের মধ্যে বৃহস্পতিবার তোপখানা রোডের শহীদ আসাদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন হকার সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

 

নির্বাচন কমিশন নতুন ভবনে যাচ্ছে কাল

দীর্ঘ ৪৩ বছরের অফিস ছেড়ে নতুন ঠিকানায় যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন; পরিকল্পনা কমিশনের পাশের ভবন থেকে শুক্র ও শনিবার চলবে অফিস স্থানান্তরের কার্যক্রম। আগামীকাল রোববার থেকে আগারগাঁওয়ে ইসির নিজস্ব কার্যালয় ‘নির্বাচন ভবনে’ অফিস করবেন বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। গত ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ১১ তলা ‘নির্বাচন ভবন’ উদ্বোধন করেন।

বিদায়ের আগে মাত্র দুই সপ্তাহ নতুন ভবনে অফিস করার সুযোগ পাবেন বিদায়ী কমিশনের সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সচিবালয়ের কর্মকতারা বৃহস্পতিবার শেরেবাংলানগরে পুরনো কার্যালয়ে শেষ অফিস করেন।  নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, রোবরার থেকে নতুন ভবনে অফিস শুরু হবে। পুরনো ভবনের শেষ কর্মদিবসে বৃহস্পতিবার নিজেদের কাগজ-পত্র গোছানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাঁটিয়েছেন কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ দিনের স্মৃতি জড়ানো পুরনো অফিসে নিজেদের শেষ ছবি তুলে রাখতেও দেখা গেছে অনেককে। পুরনো অফিস ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে একজন কর্মকর্তা ফেইসবুকে লিখেছেন, স্মৃতিবিজড়িত এ অফিস ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার শেষ অফিস করলাম। রাজনীতিবিদসহ অনেক সাংবাদিকেরও স্মৃতি বিজড়িত এ ক্যাম্পাস। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের অফিস তার নতুন ঠিকানায় যাবে। হারিয়ে যাবে ইতিহাসের সাী সেই সিঁড়ি, যে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনাররা।স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ছিল ঢাকার মোমেনবাগে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে মে মাসের শেষ দিকে ইসির একজন কর্মচারীর সহায়তায় মুক্তিসেনারা ওই কার্যালয়টিতে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে সচিবালয়ে এবং পরে ১৯৭৩ সালে পরিকল্পনা কমিশনের লাগোয়া ৫ ও ৬ নম্বর ব্লকে স্থানান্তরিত হয়। এক পর্যায়ে জেলা নির্বাচন, থানা নির্বাচন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত উইংয়ের কাজ শুরু হয় ভাড়া বাড়িতে। ২০০৭ সালে পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশে নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য ২ একর ৩৬ শতাংশ জমি নির্বাচন কমিশনকে বরাদ্দ দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়। নতুন ভবন নির্মানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। 

রামপাল দেখতে আল গোরকে সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

করতোয়া ডেস্ক : রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন ও আশপাশের পরিবেশের কোনো তি হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডবিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সভায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের পেনারি সেশনে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দাভোসের কংগ্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সেশনের আলোচনায় আল গোর রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সুন্দরবনের তির আশঙ্কা করলে শেখ হাসিনা তাকে আশ্বাস দিয়ে এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। সেশনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিবেশবিদ আল গোর সুন্দরবনের পাশে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি তোলেন। তার বক্তব্যের প্রেেিত শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছি, সেটা সুন্দরবনের প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে, ওর্য়াল্ড হেরিটেজ ঘোষিত এলাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। আল গোরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই, বাংলাদেশে আসুন। আপনি নিজেই এসে দেখুন রামপালে কী হচ্ছে, সেখানে কোনো তি হচ্ছে কিনা। শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশের নাগরিক, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিসে তি হবে কিসে তি হবে না, আমার চেয়ে কেউ উদ্বিগ্ন নয়। কোনো তি হলে আমি নিজেই তা করবো না। রামপালের বিরুদ্ধে বিােভ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি তোমরা এসে দেখো। তারা যুক্তিসংগত কোনো কারণ দেখাতে পারেনি। তাদের সেখানে পরিদর্শন করার কথা বলেছি। তারা সাড়া দেয়নি। তারা কেন হইচই করছে তারাই জানে, অযথাই ইস্যু তৈরি করছে। তাদের মনে হয়তো অন্য উদ্দেশ্য আছে। রামপালে সুন্দরবনের তির আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে যে পাওয়ার প্যান্ট করছি সেটা কিন কোল পাওয়ার প্যান্ট। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ রায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমাদের একটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। ওখানে কৃষির কোনো তি হয়নি, পরিবেশ, গাছপালা, মানুষ কোনো ধরনের তি হয়নি। প্রায় দেড় দশক ধরে এখানে কার্যক্রম চলছে, কোনো তিই চোখে পড়েনি। সমুদ্র উচ্চতা বেড়ে গেলে বাংলাদেশের বিরাট অংশ নিমজ্জিত হবে। এ রকম পরিস্থিতি হলে তা কীভাবে মোকাবেলা করা হবে? সেশনের সঞ্চালক থমাস এল ফ্রিডম্যানের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদেেপর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি সমুদ্রের পানি এক মিটার বৃদ্ধি পায় বাংলাদেশের একটা বিরাট অংশ ডুবে যাবে। এটা মোকাবেলার জন্য আমরা নিজস্ব কিছু পদপে গ্রহণ করছি। আমরা উপকূলে গ্রিন বেল্ট করছি, সবুজায়ন করা হচ্ছে। নতুন জেগে ওঠা চরে বনায়ন করা হচ্ছে। নিজস্ব সম্পদে কাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। তি মোকাবেলা ও অভিযোজনে কাজ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র তল বৃদ্ধির জন্য আমরা দায়ী নই। এ সমস্যা আমাদের তৈরি নয়। এটা উন্নত দেশগুলোর সৃষ্টি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সমুদ্র তলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কার্বন নিঃসরণের জন্য এটা হচ্ছে। উন্নত দেশগুলো এটা করছে। তাদেরও দায়িত্ব আছে, বাংলাদেশের মতো তিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়া উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তিগ্রস্ত দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী। অথচ আমরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। দেশে বনায়ন বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে যখন দায়িত্বগ্রহণ করি তখন বাংলাদেশে বন ছিলো মাত্র ৭ শতাংশ। সেটাকে আমরা ১৭ শতাংশে উন্নীত করেছি। দ্রুতই বনায়নকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সেশনে অন্যদের মধ্যে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ, এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট গালিভার প্রমুখ।

 

 

 

বদলে গেছে রাজধানীর ফুটপাতের চেহারা

রাজধানীর চিরচেনা  ফুটপাতের চেহারা বদলে গেছে। চলাচলের পথে নেই ভাসমান দোকানপাট। হকার উচ্ছেদের কারণে সুন্দর পরিবেশ ফিরেছে রাস্তাঘাটে। স্বাচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কেউ। এমন অবস্থা ফিরেছে ঢাকা দণি সিটি কর্পোরেশন মেয়র সাঈদ খোকনের প্রচেষ্টায়। ফুটপাতে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পেরে বেশ খুশি নগরবাসীও।
নগর কর্তৃপরে কাছে ফুটপাত যেন বিষফোড়া হয়ে দাঁড়ায়।সিটি কর্পোরেশনের একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানেও কোনো পরিবর্তন আসছিল না। উচ্ছেদ করতে গিয়ে হকার ও লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজদের হামলার শিকারও হয়েছেন নগর ভবনের কর্মকর্তারা। আক্রান্ত হয়েছে নগর ভবনও। বেসামাল হকারদের লাগাম টেনে ধরতে সিটি কর্পোরেশনের প থেকে হকার নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক, মতবিনিময়সহ বিভিন্ন পদপে নেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য হকার তালিকা, হলিডে (ছুটির দিন) মার্কেট, নির্দিষ্ট সময়ে ফুটপাতে হকার বসতে দেয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট না হকাররা। তারা ফুটপাত দখল শেষে নগরীর রাস্তাও দখল করতে থাকেন। পরে বেসামাল হকারদের ফুটপাত ছাড়াতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সিটি কর্পোরেশন। নগরীর ফুটপাত হকারমুক্ত ও হলিডে মার্কেট চালুর লে গত ১১ জানুয়ারি হকার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় হকাররা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরলেও ফুটপাত ছাড়ার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। পরে মেয়র সরকারি কর্মদিবসে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কে কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি হলিডে মার্কেটে হকারদের বসতে অনুরোধ করেন। ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ জানুয়ারি থেকে গুলিস্তান, জিপিও, পল্টন, মতিঝিল, দৈনিক বাংলাসহ আশপাশ এলাকায় হকার উচ্ছেদ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। এ সময় সড়ক ও ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেয়া হয়নি।  বুধবার ছিল ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের চতুর্থ দিন। এই চারদিন হকারদের ফুটপাতে বসতেই দেয়া হয়নি। উচ্ছেদকালে পুরো এলাকা ফাঁকা করে দেয়া হয়েছে। এ এলাকার ফুটপাতগুলো এখন মুক্ত। মেয়রের অনড় সিদ্ধান্তে বদলে গেছে দণি সিটির প্রায় সব ফুটপাতের চিত্র। এর আগেও নগরীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে একাধিক অভিযান চালিয়েছে দণি সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু অভিযান শেষ হতে না হতেই ফুটপাত আবার হকারদের দখলে চলে যায়।বছরের পর বছর ধরেই এভাবে চলে আসছে। এ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে দৃঢ় উদ্যোগ নেন দণি সিটির মেয়র। কিন্তু মেয়রের এ উদ্যোগ কতো দিন থাকবে তা নিয়ে চিন্তিত নগরবাসী। মেয়র সাঈদ খোকনও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের পথ জনগণকেই ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণের সম্পদ কারও দখল করার অধিকার নেই। যতদিন আছি ততদিন আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হকার হোক আর যেই হোক রাজপথ দখল করা যাবে না। আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’ হাইকোর্টের আদেশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নগরবাসীর দাবির পরিপ্রেেিত মেয়র সাঈদ খোকন ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়রের সিদ্ধান্তে খুশি নগরবাসী। উচ্ছেদের ফলে পুরো এলাকা এখন যানজটমুক্ত। অফিস কিংবা গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন আর কেউ রিকশা কিংবা যানবাহনের দারস্থ হচ্ছেন না। হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন অধিকাংশ পথচারী। বুধবার সকাল থেকে গুলিস্তান, পল্টন, জিপিও, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল ও আশপাশ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে তেমন কোনো যানজট নেই। ফুটপাত একেবারেই ফাঁকা। কোথাও কোনো জটলা নেই। পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই হেঁটে চলাচল করছেন।সবার মুখে হাসি। ফাঁকা হয়ে যাওয়া ফুটপাত যেন সবার কাছে অপরিচিত। তবে ফুটপাতে কোনো হকার দেখা না গেলেও কোথাও কোথাও তাদের রেখে যাওয়া চৌকি, মাচা ও বাক্স দেখা গেছে। মালামাল রাখার চৌকিগুলো ফুটপাতের লোহার গ্রিলের সঙ্গে শিকল দিয়ে তালা মেরে রেখেছে হকাররা। সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ তৎপরতা কোনোভাবে থেমে গেলে সেই আগের মতো আবার দখলের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার বলেন, হকারদের একমাত্র ঠিকানা হলিডে মার্কেট। ফুটপাতে কোনোভাবেই তাদের বসতে দেয়া হবে না। ফুটপাতে রেখে যাওয়া অধিকাংশ চৌকি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে, চলবে।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ ভাগ হল

জননিরাপত্তা ও সুরার দায়িত্ব আলাদা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজকে দুটি বিভাগে ভাগ করে দিয়েছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ  বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জননিরাপত্তা’ বিভাগ ও ‘সুরা সেবা বিভাগ’ নামে দুটি আলাদা বিভাগ গঠনের এই আদেশ জারি করেছে।

আইনশৃঙ্খা বাহিনীর পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব থাকবে জননিরাপত্তা বিভাগের হাতে। আর সুরা সেবা বিভাগ দেখবে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কাজ। দুই বিভাগে আলাদা দুজন সচিব দায়িত্ব পালন করবেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগ গঠন করে দিয়েছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর শিা মন্ত্রণালয়কে ভেঙে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগে ভাগ করে সরকার। একইভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণায়ের অধনে আলাদা দুটি বিভাগ করার বিষয়েও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ধর্মের নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধীরা: রাষ্ট্রপতি

স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করতে ধর্মের নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আমাদের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করতে এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ধর্মের নামে হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করতে চাইছে।
১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির রজতজয়ন্তী ও সপ্তম জাতীয় সম্মেলন উপলে  ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিসত্তার নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে ঘর ছাড়তে, দেশান্তরি হতে বাধ্য হচ্ছে। জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী অত্যন্ত দতার সঙ্গে জঙ্গি দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সরকার ও নাগরিক সমাজ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করছে তা বহু দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। রাষ্ট্রপতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পরমত সহিষ্ণুতাকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ‘শ্রেষ্ঠ উপাদান’ হিসেবে বর্ণনা করে। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তি এই গৌরবময় অর্জনকে ম্লান করতে পারবে না। আমাদের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ শুধু সংরণ নয়, এর বিকাশও ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, শুধু ইসলাম নয়, কোনো ধর্মই নরহত্যা, সন্ত্রাস, ধ্বংসযজ্ঞ সমর্থন করে না। সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজ ও মানুষের কল্যাণ। মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের পরিচয়, তারা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে, হতে হবে ঐক্যবদ্ধ। স্বাধীনতার দুই দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলন গড়ে ওঠা এবং সেই আন্দোলনে শহীদ জননী জাহানার ইমামের অবদানের কথাও অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও চেতনা সম্পর্কে সচেতন করতে এ আন্দোলন বিশাল ভূমিকা পালন করে। আজ আপনারা এই আন্দোলনের রজতজয়ন্তী উদযাপন করছেন। গত ২৫ বছরে অনেক ঝড়ঝাপটা আপনাদের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। কিন্তু শত বাধা উপো করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকে আপনারা এই সময়ে অনেক অর্জনও করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করলেও তাকে হত্যার পর সেই বিচার যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সংসদে প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে বহু প্রতীতি সেই বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হয়। সে সময় আবদুল হামিদ ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। সেদিনের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে পুনরায় এই বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। ২০০৯ সালে মহান জাতীয় সংসদে ১৯৭১ এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হয়। আমার সৌভাগ্য, তখন আমি স্পিকারের চেয়ারে আসীন ছিলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার প্রক্রিয়া এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা অর্জন করেছে। বাঙালি আজ ‘অনেকটা’ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প থেকে এ অনুষ্ঠানে পাঁচ শহীদ পরিবারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। শহীদজায়া লিলি চৌধুরী, পান্না কায়সার, শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, সুচন্দা রায়হান ও সারা মাহমুদকে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে রজতজয়ন্তী ও সপ্তম সম্মেলনের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি গোলাম রব্বানী। অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নর্থ আমেরিকা জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি উইলিয়াম স্লোন, ফোরাম ফর সেকুলার নেপালের আহ্বায়ক যুবনাথ লামসাল, সুইডিশ মানবাধিকার কর্মী এরিক হুদলান্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

রাজধানীর দণিখান ও তুরাগ এলাকায় ট্রাক চাপায় দুই জন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন একটি টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক ফাহিম মুনতাসির (১৯) ও কামারপাড়া এলাকার আনোয়ারা বেগম (৮০)।
ময়নাতদন্তের জন্য  বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ দু’টি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠায় পুলিশ। বুধবার দিনগত রাতে দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের বরাত দিয়ে দণিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ সাহা জানান, টেক্সটাইল মিল থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে ফাহিম বাসায় ফেরার সময় দণিখানের হল্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। অন্যদিকে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবে খোদা জানান, রিকশায় যাওয়ার সময় কামারপাড়া গোল চত্বরে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো উ ১৪-১৯৩০) চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারার মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন তার ছোট বোন সাহিদা।

প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর


জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ‌্যোগের কথা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরে জলবায়ু তহবিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণে কম ভূমিকা রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ দেশকেই বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বুধবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোস কংগ্রেস সেন্টারে ‘লিডিং দ্য ফাইট এগেইনস্ট ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক প্ল‌্যানারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন ।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট গালিভার এই সেশনে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও হস্তান্তরে অলাভজনক মডেল নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশকে ‘পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির’ পথে নেওয়ার চেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এই অর্থের অন্তত অর্ধেক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর কাছে যেতে হবে।”

নিজস্ব সম্পদ থেকে ২০০৯ সালে ৪০ কোটি ডলারের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করার কথা আলোচনায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা খুব সামান্য হলেও পরিবেশের ক্ষতির কারণে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষকে স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে, নিঃশব্দে।

“জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের কৃষক, জেলে ও নারীরা ঝুঁকিতে পড়ছে। তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার দিকে ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব বাণিজ্য ও গবেষণায় এমন সমাধান বের করতে হবে যাতে জীবন, শস্য, কৃষি ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।”

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের যে সীমা রয়েছে, তা অতিক্রম না করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা কম কার্বন নিঃসরণ করে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছি। আমাদের উৎপাদন খাতকে আমরা গড়ে তুলছি পরিবেশবান্ধব হিসেবে।”

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে; যা থেকে দেড় কোটি মানুষ সৌর বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সৌর বিদ‌্যুৎ ব্যবহারকারী সবচেয়ে বড় জাতিতে পরিণত হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের কৃষি ব‌্যবস্থাকে জলবায়ু সহনীয় করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা হচ্ছে, যেগুলো প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। ধান উৎপাদনে পানির ব‌্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি সেচ কাজে সৌর বিদ্যুৎ ব‌্যবহারের উদ‌্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধনী ও ক্ষমতাধরদের আলোচনা সভা হিসেবে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নেতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন শেখ হাসিনা। চার দিনের এ সম্মেলনে বিভিন্ন সেশনে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বুধবারের এই সেশনে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে অনুসমর্থন জানিয়েছে এই আশা নিয়ে যে, বিশ্ব সম্প্রদায় যৌথ সমৃদ্ধির এই প্রচেষ্টায় তাদের দায়িত্বটুকু পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে রক্ষার জন‌্য প্যারিস চুক্তিকে অবশ‌্যই কার্যকর করতে হবে।

 

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব কাল শুরু

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। গত রোববার প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরপরই বিশাল ময়দানে দ্বিতীয় পর্বের প্রস্তুতি কাজ শুরু হয়েছে। ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার, প্রথম পর্বের লাখো মুসল্লির ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট, কাগজ, পলিথিন, বিছানার ছেঁড়া টুকরো ইত্যাদি এক জায়গায় জড়ো করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হচ্ছে। ঝাড় মোছ করা হচ্ছে ১৬০ একর ময়দানে তৈরি সুবিশাল সামিয়ানার নিচ, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, বধিরদের বয়ান কামরা, মাসলেহাল জামাতের কামরা, বয়ান কামরা, মাস্তুরাত কামরা। ইজতেমা ময়দানের চারপাশে তৈরি করা হাজার হাজার কাঁচা-পাকা শৌচাগার, ওজু-গোসল ও রান্না-বান্নার স্থান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্বে যোগ দেয়া মুসল্লিদের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত বন্দেগীর সুবিধার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ছিঁড়ে যাওয়া, খসে পড়া চট ঠিক করে বাঁধাসহ নতুন করে সাজানো হচ্ছে পুরো ময়দানকে। এসব কাজগুলো জামাতবন্দী মুসল্লিরা স্বেচ্ছাশ্রমে করছেন। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার জন্য পুরো ময়দানকে জেলাওয়ারি ২৬টি খিত্তায় সাজানো হয়েছে। এ উপলক্ষে  বুধবার থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলিগ অনুসারী ও সাধারণ মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। মুসল্লিদের পদচারণায় পুনরায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ নদের পূর্বতীর, যেন ফিরে পাচ্ছে হারানো প্রাণ। শুক্রবার অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ২২ জানুয়ারি রোববার জোহরের নামাজের পূর্বে যে কোন একসময় আখেরি মোনাজাতের পরই সমাপ্তি ঘটবে ওই পর্বের তথা মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় মিলন মেলা ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার।

ইজতেমায় দ্বিতীয়পর্বে খিত্তা ও খুঁটিওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান : দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের খিত্তা ও খুঁটি নম্বর অনুযায়ী অবস্থান হচ্ছে- ঢাকা- (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭ নং খিত্তা, খুঁটি-৭৪০১, খুঁটি-৬৮০১, খুঁটি-৫৩০৭, খুঁটি-৫১১৬, খুঁটি-৫১২৪, খুঁটি-৪৭২০), মেহেরপুর (৬নং খিত্তা, খুঁটি-৪৫০৭), লালমনিরহাট (৮নং খিত্তা, খুঁটি-৪১২২), রাজবাড়ি (৯নং খিত্তা, খুঁটি-৩৩০৭), দিনাজপুর (১০নং খিত্তা, খুঁটি-৩৩২২), হবিগঞ্জ (১১নং খিত্তা, খুঁটি-২৫০৭), মুন্সিগঞ্জ- (১২ ও ১৩নং খিত্তা, খুঁটি-১৭০৯, খুঁটি-২১১৯), কিশোরগঞ্জ- (১৪ ও ১৫নং খিত্তা, খুঁটি-২৩২৭ ও খুঁটি-১১২৭), কক্সবাজার (১৬নং খিত্তা, খুঁটি-৮৩৮), নোয়াখালী- (১৭ ও ১৮নং খিত্তা, খুঁটি-৮৪৪ ও খুঁটি-১৮৪০), বাগেরহাট (১৯নং খিত্তা, খুঁটি-২৪৪০), চাঁদপুর (২০নং খিত্তা, খুঁটি-২৪৫২), পাবনা- (২১ ও ২২ নং খিত্তা, খুঁটি-১৪৫২ ও খুঁটি-৬৫০), নওগাঁ (২৩নং খিত্তা, খুঁটি-৬৬২), কুষ্টিয়া (২৪নং খিত্তা, খুঁটি-২৪৬২), বরগুনা (২৫নং খিত্তা, খুঁটি-৭৭৭) ও বরিশাল (২৬নং খিত্তা, খুঁটি-৭৮৯)। দ্বিতীয় পর্বে আগত মুসল্লিরা তাদের জন্য নির্ধারিত স্ব-স্ব খিত্তা ও  খুঁটির অভ্যন্তরে অবস্থান করে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন মুসল্লিরা অংশ নিবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্লিরা ইজতেমার প্রতি পর্বেই অংশ নিবেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দণি দিকে খিত্তা ও খুঁটির নম্বর বসানো হয়েছে।

সব দলের প্রস্তাব বিবেচনা করে ইসি গঠন: রাষ্ট্রপতি

সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর যে মতামত ও প্রস্তাব এসেছে, তা বিবেচনা করে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। নতুন ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের শেষ দিনে এই আশাবাদ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান; তবে কী প্রক্রিয়ায় নতুন ইসি গঠন হবে, তা জানাননি তিনি।
 বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও জাকের পার্টির সঙ্গে আলোচনা করেন মো. আবদুল হামিদ। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনায় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনে অনেক সুচিন্তিত প্রস্তাব এবং মতামত দিয়েছেন। তিনি (রাষ্ট্রপতি) আশা প্রকাশ করেন, এসব প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনা করে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও মতামত শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখবে। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে সব রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বানও রাষ্ট্রপতি রেখেছেন বলে প্রেস সচিব জানান।

জাকের পার্টি
জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় তারা আশা প্রকাশ করেন সংবিধান অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য, স্বাধীন ও নিরপে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির চলমান উদ্যোগ সফল হবে। প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, জাকের পার্টি সব নিবন্ধিত দলের থেকে একজন করে প্রতিনিধি সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

ইসলামী ফ্রন্ট
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এ.এ মান্নান নয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বলেন, ইসলামী ফ্রন্টের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন গঠনে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তারা বলেন, স্বাধীন, শক্তিশালী ও নিরপে নির্বাচন কমিশনই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারে। তারা নির্বাচন কমিশনের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং কমিশন সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা প্রদানের প্রস্তাব করেন। ইসলামী ফ্রন্ট আশা করেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

মুসলিম লীগ
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে; প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের সভাপতি এ এই এম কামরুজ্জামান খান। মুসলিম লীগ নেতারা বলেন, দেশের উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দৃঢ় মনোবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয় মুসলিম লীগ। ইসিতে একজন নারী কমিশনার রাখারও প্রস্তাব দেয় তারা।