রাত ৮:৪০, শুক্রবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ জাতীয়

করতোয়া ডেস্ক : প্রায় ১৮৩ কিলোমিটারের দেশের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মিটারগেজ রেলপথ ডাবল লাইনে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর-পার্বতীপুর-কাউনিয়া সেকশনের ৫৭ কিলোমিটার মেইন লাইন ও খুলনা-দর্শনা (চুয়াডাঙ্গা) জংশন সেকশনের ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন। রেলপথ দু’টিকে ডুয়েলগেজ করতে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণের ৪ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা ব্যবহার করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। খবর বাংলানিউজ।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতীয় ঋণের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়িত হবে। ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে ১ শতাংশ সুদে ২০০ কোটি ডলার ঋণের যে ঘোষণা দেন, সেটিই দ্বিতীয় এলওসি নামে পরিচিত।

গত বছরের মার্চে ভারতের সঙ্গে করা এ ঋণচুক্তি ২৭ মে কার্যকর হয়। তার আগেই শুরু হওয়া যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত হয় প্রকল্প দু’টি।
চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে রেলপথ দু’টির ডাবল লাইনে রূপান্তর কাজ শেষ হবে।

সূত্র জানায়, পার্বতীপুর-কাউনিয়া সেকশনের ৫৭ কিলোমিটার ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ভারতীয় দ্বিতীয় এলওসি ঋণ ও  বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে।
এ রেলপথে চারটি স্টেশন ভবন, সাতটি প্লাটফর্ম ও চারটি প্লাটফর্ম শেড সম্প্রসারণ এবং সাতটি অ্যাপ্রোচ রোড, দু’টি প্রধান ব্রিজ, ১২টি কালভার্ট ও ৩৩টি বক্স কালভার্ট মেরামত করা হবে। এছাড়াও একটি টেম্পিং স্টেশন মেশিন, দু’টি ড্রিলিং মেশিন, একটি বেন্ডিং মেশিন, ২০টি জেকসহ ছয়টি সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপিত হবে।

অন্যদিকে খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনের ১২৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা ভারতীয় ঋণ ও বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে।
এ পথটি ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-চিলাহাটির (নীলফামারী) মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। ফলে সরাসরি ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে পঞ্চগড় দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। একই সঙ্গে যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোফাজ্জেল হোসেন  বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সেকশন দু’টি সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় পর্যাপ্ত ট্রেন পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ডাবল লাইনে রূপান্তরিত হলে যাত্রীর পাশাপাশি মালামাল পরিবহনও করতে পারবো’।  

তিনি বলেন, ‘নৌ-পথ হারানোর পাশাপাশি রেলপথের চাহিদা বাড়ছে।  চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব সিঙ্গেল লাইন রেলপথকে ডাবল লাইনে রূপান্তর করবো।  ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইনের কিছু সেকশন বাকি আছে। ঢাকা-টঙ্গী রুটেও চারটি লাইন করবো। এভাবে রেলপথ থেকে সিঙ্গেল লাইন উঠে যাবে’।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মাদক পাচার রোধে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ: প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক: মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্বার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদক পাচার রোধে নাফ নদীতে সাময়িকভাবে মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর এনসিডি কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে একথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ড্রাগ এডিকশন  .. হেরোইন, ইয়াবা এগুলোকে চেক দিতে হবে। সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাফ নদীতে কিছু দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। টেকনাফের নাফ নদী দিয়ে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে প্রায়ই ইয়াবা পাচারের খবর পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার থেকে মাঝেমধ্যেই ইয়াবা আটক করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১০ সদস্যের চিকিৎসক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাতীয় অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মালিক। অধ্যাপক দীন মোহাম্মদও প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। প্রতিনিধি দলটি অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং তামাকমুক্ত দেশ গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলে জানান প্রেস সচিব। এর আগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একনেকে অনুমোদিত ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন এবং সরকারি কলেজসমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের সংশোধিত নকশা উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রস্তাবিত শের-ই-বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (সাবেক নারী শিক্ষা মন্দির) এবং গোপালগঞ্জের শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নকশা। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানাজালা প্রধানমন্ত্রীর সামনে বিদ্যালয় দুটির নকশার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তা দেখে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন বলে জানান প্রেস সচিব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলোতে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা এবং টানা বারান্দা থাকতে হবে। এছাড়াও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা, অগ্নিসঙ্কেত ব্যবস্থা রাখতে বলেন তিনি। টয়লেটগুলোতে ছুটির ঘণ্টার (যাতে স্কুল ছুটির পর কোনো শিক্ষার্থী যেন সেখানে আটকা না থাকে) ব্যবস্থা রাখার কথাও তিনি বলেন বলে জানান ইহসানুল করিম। অনুষ্ঠোনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

করতোয়া ডেস্ক: জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ রুখতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার শিল্পকলা পদক-২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘটনা বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। বস্তুত কোনো ধর্মই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। আমাদের শিশু, কিশোর ও যুবাদের ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প থেকে দূরে রাখতে তাদের মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের জানাতে হবে, আমাদের এই মাতৃভূমিতে জঙ্গিবাদ বা সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই।

হাজার বছর ধরে নানা জাতি-ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের সুমহান ঐতিহ্য। সম্মিলিতভাবে এ ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালের পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাতজনকে পদক দেন রাষ্ট্রপতি।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- সঙ্গীতে মিতা হক, চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার, যন্ত্রসঙ্গীতে পণ্ডিত পবিত্র মোহন দে, নৃত্যকলায় মো. গোলাম মোস্তফা খান, আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা, লোকসংস্কৃতিতে সিরাজউদ্দিন খান পাঠান এবং নাট্যকলায় সৈয়দ জামিল আহমেদ।

পদকের সঙ্গে সবাইকে এক লাখ টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের লোকসংস্কৃতির ঐত্যিহের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, আমাদের লোকসাহিত্যের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও লোকগাঁথা। এসব সম্পদ সংগ্রহ করে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা গেলে এগুলোই হতে পারে বিশ্ব সংস্কৃতি ও সভ্যতার মূল্যবান সম্পদ। তাই আমি শিল্পীসমাজের প্রতি অনুরোধ জানাব আপনারা এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালাবেন। আমরা সবাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে চাই। আর সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন একমাত্র শিল্পীরাই দেখাতে পারে।

শিল্পীরাই পারে অসুন্দরের মধ্য থেকেও সুন্দরকে বের করে আনতে। পদকপ্রাপ্তদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। আজ যারা পুরস্কৃত হলেন, আপনারা সমাজের ‘সেলিব্রিটি’, ‘তারকা’, বা ‘আইডল’। আপনারা জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষ বিশেষত তরুণ সমাজ আপনাদের অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই মানুষের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতাও অনেক বেশি। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের শিল্পকর্মে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ও জাতিসত্তার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মাদকাসক্তিসহ সামাজিক সমস্যাবলী তুলে ধরবেন।

এতে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি সচেতন হবে এবং সৃজনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে নৈপুণ্য, উৎকর্ষ ও বিশেষ অবদানের জন্য আপনারা আজ শিল্পকলা পদকে ভূষিত হলেন। এটি অত্যন্ত গৌরবের, সম্মানের। আমি আশা করি, এই পুরস্কার আপনাদেরকে নিজ নিজ অঙ্গনে আরো অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে। আপনাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণ শিল্পীরাও উৎসাহিত হবেন। আমি মনে করি এ পুরস্কার আপনাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিলো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। আরও বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পী মিতা হক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ। পরে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখেন রাষ্ট্রপতি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

লোভে পড়ে ব্যবসা ও রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না

সামান্য মুনাফার লোভে নিজের ব্যবসা নষ্ট ও দেশের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৯ জুলাই) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৭ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের কিছুকিছু ব্যবসায়ীর হঠাৎ মুনাফার লোভে ভেজালের প্রবণতা রয়েছে। এতে তারা নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রফতানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে দেখেছি চিংড়ির ভেতর লোহা ঢুকিয়ে ওজন বৃদ্ধি করে কিছু ব্যবসায়ী রফতানি করে। এতে চিংড়ি রফতারি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতের বিদেশিদের সঙ্গে এসব সমস্যা দূর করে আবার রফতানি শুরু করি।

চিংড়িসহ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাছ প্রক্রিয়াজাত এবং নিয়ম মেনে রফতানি করার জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক, প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মৎস্য সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে ৪টি স্বর্ণ ও ৯টি রৌপ্য পদক।

এই বিভাগের আরো খবর

শহীদ মতিউরের পিতার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মতিউর রহমানের পিতা আজাহার আলী মল্লিক সোমবার রাত ৮টায় উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি . . . রাজিউন)। মৃত্যুকারে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। তিনি অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, নাতি-নাতনী, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। শহীদ মতিউরের বাবা মো. আজহার আলী মল্লিক ২০০১ সালে স্ত্রীকে হারান। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন।

আজাহার আলী মল্লিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এক শোক বিবৃতিতে মরহুম আজাহার আলী মল্লিকের পবিত্র রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, মরহুম আজাহার আলী ’৬৯-এর শহীদ মতিউর রহমানের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবি করেন এবং তিনি অদ্যবধি পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের একজন শুভাকাক্সক্ষী হয়ে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিত প্রাণকে হারালো। এদিকে  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক শোক বিবৃতিতে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মতিউর রহমানের পিতা আজাহার আলী মল্লিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অপর এক শোক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মতিউর রহমানের পিতা আজাহার আলী মল্লিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ মতিউর রহমান ছিলেন নবকুমার ইনস্টিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র। কিশোর মতিউর স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সী মতিউরের মৃত্যু আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে দুর্বার করে তুলেছিল। ওই আন্দোলনের জের ধরেই বিদায় নিতে হয়েছিল স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে। ছেলের আত্মত্যাগের কথা মনে করে গর্বে বুক ভরে উঠতো বাবা মো. আজহার আলী মল্লিকের। জীবনের গোধূলি বেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ এই শহীদ পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। জীবিতকালে শহীদ মতিউরের মাতা-পিতা তোফায়েল আহমেদর কাছে মাথা গোঁজার আশ্রয় পেয়েছিলেন।

তোফায়েলও তাদের নিরাশ করেননি। তাদের দেওয়া কথা তিনি রেখেছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি আজাহার আলী মল্লিকের নামে ১০ লাখ টাকার একটি এফডিআর করে দেন। এটির লভ্যাংশ থেকে পরিবারের খরচ মেটাতেন শহীদ মতিউরের বাবা। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠিত হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই পরিবারের পুর্নবাসনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে তিনি দৌঁড়ঝাঁপ করেন। শেখ হাসিনা সরকার এক হাজার এক টাকার বিনিময়ে শহীদ মতিউরের পিতাকে উত্তরায় ৫ কাঠার সরকারি প্লট দান করেন।  সেই প্লট ডেভলাপার কোম্পানিকে দিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হয়।

এর একটিতে থাকতেন আজহার আলী মল্লিক। বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হয়। ডেভলাপার কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া ৭০ লাখ টাকা এফডিআর করে রাখা হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি উত্তরায় আজাহার আলী মল্লিকের সঙ্গে দেখা করতে যান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সেদিন শহীদ মতিউরের বাবা বলেছিলেন, ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি আমার ছেলে মতিউর রহমান বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও আইয়ুব খানের পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিল। সেদিন প্রার্থনা করেছিলাম, মতিউরের রক্ত যেন বৃথা না যায়। সেদিন গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। শহীদ মতিউরের রক্ত বৃথা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজাহার আলী সেদিন বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নামমাত্র মূল্যে পাঁচ কাঠা জমি দিয়েছেন উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে। ডেভেলপারকে দিয়ে ছয় তলা ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি করে ৬টি ফ্ল্যাট পেয়েছি, ৭০ লাখ টাকা পেয়েছি। মতিউরের মা আর বেঁচে নেই, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো পার করছি। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন আজহার আলী মল্লিক। শহীদ মতিউর রহমানের পিতা আজহার আলী মল্লিক বলেন, মতিউর মিছিলে যাওয়ার আগে মাকে চিঠি লিখেছিল। মতিউরের লাশ দেখে ওর মা ক্রন্দনরত অবস্থায় বললেন, আমি আর মতিউরকে পাব না। কিন্তু ওর রক্ত যেন বৃথা না যায়। মতিউরের রক্ত বৃথা যায়নি। মতিউরের পরিবারের সদস্যরা মতিঝিলে ব্যাংক কলোনিতে মতিউর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এজন্য ভীত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিতত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় গত ১৬ মে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয় নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন যাতে না হয় সে জন্য নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। নির্বাচন বানচাল করতে আগে থেকেই নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে এটা নিয়ে আমাদের ভয় পেলে হবে না। ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে চোখ-কান খোলা রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, সংবিধানের বিধি-বিধানের আওতায় আগামী নির্বাচন হবে। কীভাবে নির্বাচন হবে সেটা সংবিধানেই বলা আছে। এটা নিয়ে তো আর কোনো কথা বলার দরকার নেই। কিছু মানুষ আছে তারা চায় নির্বাচন না হোক।

নির্বাচন না হলে আর অনির্বাচিতরা ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতার ভাগ পায় তাই তারা নির্বাচন চায় না। সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসুক আমরা সেটা চাই। সব দল নির্বাচনে এলে ভালো হয়। কিন্তু কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে তো কিছু করার নেই। সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসি ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক আছেন, তিনি কথা বলবেন। নির্বাচন নিয়ে অন্যদের সতর্কভাবে কথা বলতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এ আলোচনায় অংশ নেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চিকুনগুনিয়া রোধে ডিএসসিসি’র ছুটি বাতিল

করতোয়া ডেস্ক: চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোধে এডিস মশার বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতিটি ওয়ার্ডে আগের তুলনায় লোকবল বৃদ্ধি করে সকাল-বিকাল মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সোমবার দুপুরে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিএসসিসি’র কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ডিএসসিসি’র এই কার্যক্রমকে গতিশীল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে শেষ করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। রোববার আগারগাঁওয়ের ইটিআই ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, এটি একটি সূচনা দলিল। নির্বাচনের পথে কাজের জন্য এ কর্মপরিকল্পনাই সব নয়। সংযোজন-পরিমার্জন করে সবার মতামত নিয়ে আমরা কাজ করে যাব।

দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ে সংসদ নির্বাচন করতে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সার্বিকভাবে দেশে জাতীয় নির্বাচনের একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে অংশীজন, গণমাধ্যম, দলসহ সংশি¬ষ্টদের সামনে উপস্থাপন করে সবার মতামত নেবে।

 সবার মতামতের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে ইসি বিশ্বাস করে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সংলাপে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের কাছ থেকে সুপারিশের পাশাপাশি সহযোগিতাও চান সিইসি। এক প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, শুধু সরকার কেন, রাজনৈতিক দল বা যে কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পারব আমরা।

তিনি জানান, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনার সাতটি বিষয় ধরে তারা কাজ এগিয়ে নেবেন। তফসিল ঘোষণার পর ইসির কাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা এলে আইনানুগ ব্যবস্তা নেওয়া হবে। সম্প্রতি একজন রাজনৈতিক দলের নেতার বাসায় ‘সামাজিক অনুষ্ঠানে’ পুলিশের বাধার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে এলে এ ধরনের ঘটনায় ইসির পদক্ষেপ কী হবে জানতে চান একজন সাংবাদিক। জবাবে সিইসি বলেন, এটা সরকারের বিষয়।

আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখন সরকারের কাছে কোনো অনুরোধ থাকবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে অনুরোধ করা হবে। সাবেক এই আমলা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিন নির্বাচনী আইন-বিধি অনুযায়ী ইসি কাজ করবে। এ মুহূর্তে সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, রাজনৈতিক কর্মপরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা কমিশনের এখতিয়ারে নেই। সংবাদ সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত সব কাজ ‘প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রেখে’ করার চেষ্টা করেছেন তারা। আমরা পরিকল্পনা ধরেই এগোচ্ছি। সুষ্ঠু, সুন্দর, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চাই আমরা। সততা ও শক্তির স্বাক্ষর যেন আমরা রাখতে পারি, সেজন্য সবার সহযোগিতা চাই। নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল¬াহর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন চৌধুরী ও অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যার ভয় থাকলেও প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক: দেশে আরেকটি বন্যার ‘পদধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এজন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ রয়েছে।  রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৪২১ ও ১৪২২ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আরেকটা বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানটা এমন জায়গায়, প্রতিনিয়তই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাঁচতে হয়। টানা দুই সপ্তাহের ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে ইতোমধ্যে দেশের ১৩ জেলার অন্তত ৫২ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। সারাদেশে সরকারি, বেসরকারি, মিল মালিক, কৃষক পর্যায় মিলিয়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও সঙ্কট এড়াতে খাদ্য আমদানি করা হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত খাদ্য আমদানি করে মজুদ ঠিক রাখছি যাতে আমাদের দেশের মানুষ কোনোমতেই কষ্ট না পায়। বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা নগদ টাকায় খাদ্য নিয়ে আসছি। পাশাপাশি খাদ্য আমদানির ওপর যে কর ছিল সেটাও কমিয়ে এনেছি। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে খাদ্য উদ্ধৃত্ত ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন তার দল আবার ক্ষমতায় আসে তখন দেশে খাদ্যের ঘাটতি ছিল।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে খাদ্য উৎপাদন না বাড়াকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ২ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন ছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ কোটি ৮৮ লাখ মেট্রিক টন হয়। আর এবছর খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৪ কোটি মেট্রিক টনের কাছাকাছি। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে নতুন নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন এবং দুই ফসলি জমিকে চার ফসলিতে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশে দুধ, মাছ, মাংস ও ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাটি এত উর্বর যে, কোনো একটা কিছুর উদ্যোগ নিলেই কিন্তু সেটা উৎপাদন করতে পারি। স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, আঙুর, মাশরুম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছু আমরা উৎপাদন করছি। মাঠ পর্যায়ের কৃষিকাজ নিয়ে ছেলে-মেয়েদের সম্মক ধারণা দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ধান কাটা বা ধান লাগানোর মওসুমে আবশ্যই শিক্ষার্থীদের গ্রামে সেই ধানক্ষেতের পাশে নিয়ে যাওয়া উচিত… ছোটবেলা থেকেই তাদের বোঝানো উচিত এই বাংলাদেশটা কীভাবে চলছে, খাদ্য কীভাবে আসছে। কৃষিখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১০টি শ্রেণিতে পাঁচটি স্বর্ণ, নয়টি রৌপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। পুরস্কার বিজয়ীরা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক, নগদ অর্থের চেক ও সনদ গ্রহণ করেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মইনুদ্দিন আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং পুরস্কার বিতরণী পর্বের সঞ্চালনা করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচন ভন্ডুল করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আরেকটি ১/১১ এর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা চিকুনগুনিয়ার মতো কোনো বিএনপি-জামায়াতের লোকজন যেন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেদিকে তীক্ষè নজর রাখতে দলের ওয়ার্ড-ইউনিয়ন এবং থানা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস পালন উপলক্ষে বিভিন্ন আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ (দ্বিতীয় তলায়) দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারাবরণ ও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ শীর্ষক এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, কাটাতুলে গণতন্ত্রের রাস্তা বার বার আওয়ামী লীগই পরিষ্কার করেছে। যদিও দলটির নেতারা বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রকারিদের সাথে হাত মিলিয়েছে কিন্তু কর্মীরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে আজ শেক হাসিনার জঙ্গিবাদ নিমূলের মডেল প্রশংসিত হয়েছে। ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদ দমনের তত্ত্বে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসীরা পিছু হটছে। ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, যারা ধমক খেয়ে গুটিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায় তাদের হাতে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্ভব না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজের মামলা মোকাবিলা করেছেন।

কিন্তু বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা মোকাবিলার ভয়ে লণ্ডনে গিয়ে উঠেছেন। বিএনপি অচিরেই আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হতে চলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ, প্রধানমন্ত্রী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবুল হাসনাত। এ সময় আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী বলেন, অচিরেই দক্ষিনের বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

তাই সবাইকে নজর রাকতে হবে চিকুনগুনিয়ার মতো ভাইরাস হয়ে বিএনপি-জামায়াতের কেউ যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে। আওয়ামী লীগে পদ-পদবী পেতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা নানাভাবে চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে সকালে ২৫ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের উদ্যোগে ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ। তিনি বলেন, সকল প্রকার সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের মোকাবেলা করে আমরা শোষনমুক্ত সমাজ বিনির্মানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়বো। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, ঠিক তখনই বিএনপি-জামায়াত পরিকল্পিতভাবে দেশে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, রব-মান্না-বরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে আবার গোপন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী ও কে এম আজম খসরু, প্রচার সম্পাদক সুমন শেখ প্রমুখ।

অন্যদিকে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ’ (স্বাশিপ) আয়োজিত ‘শিক্ষক নির্যাতন’ ও ‘শেখ হাসিনার গ্রেফতার দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। প্রফেসর আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর

বিজিবিতে আরও ৯৭ নারী সৈনিক

ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিতে যোগ দিলেন আরও ৯৭ জন নারী সৈনিক। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল মাঠে রোববার সকালে তাদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক  শ্রী কে কে শর্মা বিজিবির নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা পুরুষ সৈনিকদের থেকে পিছিয়ে নেই। আপনারা যোগ দেওয়ায় এ বাহিনীর কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।”

বিজিবির ৯০তম ব্যাচে ১০০ জন নারী সৈনিক প্রশিক্ষণ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৯৭ জন রোববার সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন।

সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশের পর গতবছর সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেও নারী সৈনিকের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমবার ৮৮ ব্যাচ থেকে ৯৭ জন নারী সদস্য বিজিবিতে যোগ দেন। পরের ব্যাচে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও ৯৫ জন।

এবারের ৯৭ জনকে নিয়ে তিন ব্যাচে মোট ২৮৯ জন নারী সৈনিক এ বাহিনীতে যুক্ত হলেন।

৯০তম ব্যাচে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪৩৩ জন সৈনিক প্রশিক্ষণ পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সব বিষয়ে সেরা হয়েছে নারী সৈনিক পাপিয়া আক্তার।

বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা বলেন, “সবার চেয়ে সেরা হওয়ায় পাপিয়াকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন।”

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বলিষ্ঠ ও দক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কঠোর প্রশিক্ষণ, মানসিক দৃঢ়তা, অধ্যাবসায় ও সঠিক নেতৃত্ব।

বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের কমাডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মহসিন রেজা বলেন, ২০১৫ সালে বিজিবি মহাপরিচালক বিএসএফের আমন্ত্রণে তাদের নবীন সদস্যদের কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বিএসএফের মহাপরিচালক এসেছেন।

 

রাজধানীতে ৪ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ৪ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সদরঘাট, দক্ষিণখান, বাড্ডা ও লালবাগ এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।  

শনিবার বিকালে রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের সামনের রাস্তা পাপরাপারের সময় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় হালিমা (৩০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি ফুটপাতের ভাসমান বাসিন্দা। সদরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুস সাত্তার জানান, শনিবার বিকালে একটি পিআপ ওই নারীকে ধাক্কা দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিডর্ফোর্ট হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় মৃত ঘোষনা করেন। দক্ষিণখান থানার এসআই নুরুজ্জামান জানান, শুক্রবার দিনগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে , দক্ষিণখান পন্ডিত পাড়ার ৩৯ নম্বর ভাড়া বাসায় ফ্যানের সাথে ফাঁসি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়  থেকে  রনি (১৮) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চাঁদপুর ফরিদগঞ্জের   মোবারক হোসেনের ছেলে। ওই যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান এসআই। তবে কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। বাড্ডা থানার জায়েদ আলী জানান, শুক্রবার রাতে উত্তর বাড্ডার পূর্বাচল রোডের ১৭ নম্বর লাইনের ১৫ নম্বরস্থ রহমান নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন সোফা তৈরির কারখানা থেকে কর্মচারী  ফয়সালের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। সে কারখানার ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সরাইলের আবু মিয়ার ছেলে। ওই কারখানায়ই থাকত সে। এসআই জানান, ‘ছেলেটি বেশ কিছু দিন যাবত পেটের পিরায় ভুগছিলো।’ এদিকে আজিমপুরের নিউপল্টন লাইনের ৭৭ নম্বর বাড়িতে বিষপান করেন নীলা (২৭) নামে এক গৃহবধূ। তার স্বামী  আসিক জানান, বিষপান করার বিষয়টি বুঝতে পেরে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে নীলাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে কেন নীলা বিষপান করেছে- সে বিষয়ে কিচুই জানাতে পারেননি স্বামী আসিক।

 

রোডম্যাপ নিয়ে আসছে ইসি

করতোয়া ডেস্ক: বিএনপির সমালোচনার মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে দেড় বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আসছে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় আজ রোববার এই নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করা হচ্ছে। ইসির এই কর্মপরিকল্পনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া এসেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপির কাছ থেকে। তারা নির্বাচনকালীন সরকারের উপরই গুরুত্ব দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা ইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তা বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। রোববার সিইসি তা উন্মোচন করবেন। আনুষ্ঠানিক এ রোডম্যাপ ধরেই কাজ বাস্তবায়ন হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে।

এ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সবার কাছে ইসির সব কাজ তুলে ধরা হবে। তাদের মতামত নিয়ে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। এ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে অন্যতম সাতটি বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ ছয় ধরনের অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া, রাজধানীর মতো বড় শহরের আসন সীমিত করে নির্দিষ্ট করে দেওয়া, আরপিও-সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলায় রূপান্তরের প্রস্তাবও থাকছে কর্মপরিকল্পনায়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংলাপে শেষ মুহূর্তে নারী সংগঠনের নেত্রীদের সঙ্গে বসার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৩১ জুলাই থেকে অক্টোবর নাগাদ এ সংলাপে পর্যায়ক্রমে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, নারী সংগঠনের নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

কাঙ্খিত নির্বাচন নিয়ে ইসি
দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ে সংসদ নির্বাচন করতে দৃঢ়তার সঙ্গে ও সুচিন্তিত পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। সার্বিকভাবে দেশে জাতীয় নির্বাচনের একটি অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইসি কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে অংশীজন, গণমাধ্যম, দলসহ সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন করে সবার মতামত নেবে। সবার মতামতের আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে ইসি বিশ্বাস করে।

কর্মপরিকল্পনায় ৭ করণীয়
আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুননির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, বিধি অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ।

আইন সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব
কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনায় বিদ্যমান আইন-বিধি প্রয়োগ করে অতীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে। এখন আইনি কাঠামোর আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ইসি বিবেচনা করে না। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে এগুলো আরও যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে।

যাতে ভোট প্রক্রিয়া আরও সহজতর ও অর্থবহ হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুযায়ী ‘পোস্টাল ব্যালটে’ ভোটে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরতদের সহজ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার কাঠামো বের করা প্রয়োজন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ নিয়ে বিধিতে অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে তা দূর করার প্রস্তাব কমিশনের। সেই সঙ্গে আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে আরও অসঙ্গতি পেলে তা দূর করতে উদ্যোগ থাকবে ইসির। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এ পর্যন্ত দু’শতাধিক সংশোধনী আনা হয়েছে। এ আইনটিও যুগোপযোগী করতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও সীমানা পুননির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলা ভাষায় রূপান্তর করা গেলে ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহজবোধ্য হবে বলে মনে করছে ইসি। সীমানা পুনর্বিন্যাসে নতুন প্রশাসনিক এলাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনী এলাকা পুননির্ধারণ করতে চায় ইসি।

বিদ্যমান অধ্যাদেশে জনসংখ্যার বিবেচনায় আসন বিন্যাস করা হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় শহর ও গ্রামাঞ্চলের আসনে বৈষম্য সৃষ্টি হবে। বড় শহরের জনসংখ্যা বাড়লেও অনেকে ভোটার হন গ্রামাঞ্চলে। ইসির প্রস্তাব হচ্ছে-আইন সংস্কার করে শুধু জনসংখ্যাকে বিবেচনা না করে জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা ও আয়তনকে বিবেচনায় আনা যেতে পারে। রাজধানীর মতো বড় শহরের আসন সংখ্যা সীমিত করে নির্দিষ্ট করা যায় বলে মনে করে সংস্থাটি। সীমানা পুননির্ধারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার আলোকে সংসদীয় আসনের সীমানার খসড়া করে সংশ্লিষ্ট দাবি-আপত্তি-নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত করা হবে। অবৈধ অর্থ ব্যবহার রোধ ও পেশি শক্তির ব্যবহার দমনে আইনি সংস্কার ও তা প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সবার সুপারিশ পেলে শান্তিপূর্ণ ভোট করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ইসি। এ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে গঠিত কমিটি সব পর্যালোচনা করে তা চূড়ান্ত করবে।

ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ; দলের নিবন্ধন হালনাগাদ, ইসির জনবলের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে রোডম্যাপে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩ মে আগামী দেড় বছরের কাজের খসড়া সূচি ঘোষণা করেন সিইসি নূরুল হুদা।

 

মশারির কথায় দুঃখ প্রকাশ মেয়র আনিসুলের

রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ায় সিটি করপোরেশনের দায় অস্বীকার করে ‘কারো ঘরের মশারি টানাতে পারবেন না’ বলে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।  শনিবার ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত ‘চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ র‌্যালি’ শুরুর আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের সময় এ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি পত্রিকা আমার বক্তব্য নিয়ে নিউজ করেছে, এতে অনেকেই মনে কষ্ট পেয়ে থাকতে পারেন। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমি ওভাবে বলতে চাইনি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিটি করপোরেশনগুলোকে দায়ী করার পর ‘চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ও ডিএনসিসির কার্যক্রম’ নিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে দায় অস্বীকার করে মশারি টানানো বিষয়ক ওই মন্তব্য করেছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র।

ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুজন কীট-তত্ত্ববিদদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে চিকুনগুনিয়ার জন্য ঘরের বাইরের চেয়ে ভেতরের মশাকে বড় কারণ দাবি করে সে পর্যন্ত পৌঁছানো সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব না মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ওই সময় এক সময়ের এই টিভি উপস্থাপক বলেন, ‘আপনার ঘরের ভেতরে গিয়ে আমি মশারি টানাতে পারব না। আপনার চৌবাচ্চায় আমি ওষুধ লাগাতে পারব না। আপনার ঘরের ভেতর সামান্য স্বচ্ছ পানিতে যে মশা জন্মাচ্ছে, সেটা আমি মারতে পারব না।’ করপোরেশনের যেখানে মশা মারার কথা তার চেয়ে বেশি মারা হচ্ছে বলে সেদিন দাবি করলেও শনিবার মেয়রের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালির শুরুর আগে দেওয়া বক্তব্যে মশা নিধন কাজে কর্মীদের কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানান আনিসুল হক। মেয়র বলেন, গত মাসেই কর্তব্যে অবহেলার জন্য ১০৯ জন কর্মীর চাকরি গেছে। আমরা আরও কিছু অভিযোগ পেয়েছি, দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য যত শিগগির সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঠিকমত ওষুধ দিচ্ছে কিনা তা নজরদারির ভেতর রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনের নির্ধারিত ওষুধ দেওয়ার পরই কর্মীরা বেতন পাবেন। চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ডিএনসিসি থেকে কয়েকটি কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ঢাকা উত্তরের মেয়র। তিনি বলেন, সমস্ত শক্তি দিয়ে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা হবে, সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যা করা প্রয়োজন করব। বিভিন্ন এলাকায় হ্যান্ডবিল ও মাইকিং করার পাশাপাশি কমিশনারদের দায়িত্বে রাস্তাঘাটের লিস্ট করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকার মসজিদের ইমাম ও এলাকার নেতাদের নিয়ে টিম করে কাজ করা হবে। একেক দিন একেক এলাকায় বড় করে মশক নিধন কর্মসূচি পরিচালিত হবে, একে (চিকুনগুনিয়া) আর বাড়তে দেব না। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ র‌্যালিটি গুলশান ২ নম্বরের সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে ডিসিসি মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়। এতে গুলশান ইয়ুথ ক্রিকেট একাডেমি, বনানী বিদ্যানিকেতন ও গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাসহ নগরবাসী অংশ নেয়। র‌্যালিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

ক্লিনটনও বলেছিলেন গ্যাস বিক্রি করতে, রাজি হইনি : শেখ হাসিনা

করতোয়া ডেস্ক: জিমি কার্টারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারতে হয়েছিল, বলেছেন তিনি।  শনিবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফ-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গ্যাস বিক্রির প্রসঙ্গটি আবার তোলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন বিল ক্লিনটন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিজে আমাকে অনুরোধ করেছিলেন। তখন বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট। ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। আমি তাকে ওই জবাবই দিয়েছিলাম যে আগে আমার দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েও একই অনুরোধ পেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তখন একই প্রশ্ন। আমি একই উত্তর দিয়েছিলাম। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির মাধ্যমে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির তদবিরে কথা শেখ হাসিনা আগেও বলেছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমি ক্ষমতায় আসতে পারিনি। তার পেছনে কারণ ছিল, আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে হবে। গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন অ্যামেরিকান কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করে। তাদের ইচ্ছা ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করবে। আর ভারত এই গ্যাস কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি আমাদের গ্যাস বিক্রি করার পক্ষে মত দিইনি। আমার কথা ছিল, আগে আমার কত গ্যাস আছে জানতে হবে। আমার দেশের চাহিদা পূরণ করতে হবে। ৫০ বছরের রিজার্ভ রাখতে হবে। তারপর যদি অতিরিক্ত থাকে, তবেই আমি বিক্রি করব। তাছাড়া এই গ্যাস আমি বিক্রি করতে পারব না।

যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার অনুরোধে সন্দেহ হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাস আমার কত আছে, সেটা আগে আমাকে সার্ভে করে বের করতে হবে। তারা একবার সার্ভে করায়, কিন্তু এরপর আর করেনি। আমি বারবার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তারা করেনি বলে আমার একটু সন্দেহ হয়েছিল। তার মানে আমাদের দেশে কোনো গ্যাস নাই। তাহলে কেন বিক্রির জন্য চাপ দিচ্ছে? বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবে দেশের স্বার্থহানিকর কিছু করবেন না বলে জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমি যা বলব, এককথাই বলব। ক্ষমতার লোভে দেশের সম্পদ আমি অন্যের হাতে তুলে দিতে পারি না। তাই আমি রাজি হইনি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে লতিফুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন শেখ হাসিনা। পরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায়  বসেন খালেদা জিয়া। ওই সময়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লতিফুর রহমানের বাসায় এক মধ্যাহ্ন ভোজে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি ও জিল্লুর রহমান এবং বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া ও আবদুল মান্নান ভূঁইয়া যোগ দিয়েছিলেন, যেখানে জিমি কার্টার ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টার আসেন।

তার সঙ্গে আমাদের বৈঠক। সেখানে একই কথা (গ্যাস বিক্রি) ওঠে। আমি শুধু একটি কথাই বলে এসেছিলাম যে, আমার যে কথা বলার সেটা ঢাকায় বসেও বলেছি, ওয়াশিংটনেও বলেছি। কাজেই এটাই আমার কথা। আমি দেশ বেচার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমার দেশের সম্পদ দেশের মানুষের। এটা আমি কাউকে দিতে পারব না। লতিফুর রহমানের বাড়ি থেকে তিনি ও জিল্লুর রহমান চলে যাওয়ার পরও বিএনপি নেতারা সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানান শেখ হাসিনা। বিএনপির নেত্রী থেকে যান। তারপর যা হবার; তাদের মধ্যে বোধহয় সমঝোতা হয়। ২০০১ এর নির্বাচনে আমরা যেটা দেখেছি, ভোট আমরা বেশি পেয়েছিলাম, কিন্তু সিট কম পেয়েছি। সরকারে আসতে পারেনি। এবার ক্ষমতায় বসার পর বিল ক্লিনটনের স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পদ্মা সেতুতে অর্থ আটকেছিলেন বলে অভিযোগ তোলেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে হিলারি ক্লিনটন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের প্রভাব খাটিয়েছিলেন কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সিনেট কমিটি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করে আসছিলেন, তার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাপে রাখতে এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে তদন্ত আটকাতে হিলারির কর্মকর্তারা তাকেও হুমকি দিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে সরানোর পর নিয়মিত ‘থ্রেট’ করত যুক্তরাষ্ট্র। এসএসএফের অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর বিষয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল আমার বিরুদ্ধে। আমার মন্ত্রিপরিষদের বিরুদ্ধে, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে। এটা একটা ষড়যন্ত্র ছিল, চক্রান্ত ছিল। কিন্তু তারা সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার আদালত ওটাই রায় দিয়েছে যে, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা একটা অভিযোগ ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, এখানে জনগণের সেবা করতে এসেছি। জনগণের জন্য কাজ করি। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য না। ১৯৫৪ সালে আমি মন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম। আমি রাষ্ট্রপতির মেয়ে, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ছিলাম। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। কাজেই দুর্নীতি করে যদি নিজের ভাগ্য ইচ্ছা থাকতো তাহলে বহু আগেই করতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি।

নিরাপত্তার কারণে জনবিচ্ছিন্ন হতে চাই না
প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে এসএসএফের ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দরবারে বলেন, কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হতে চাই না। এ দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, মানুষকে নিয়েই কাজ, মানুষের কাছ থেকে যেন বিছিন্ন না হয়ে যাই, সেদিকটাতে একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনীতি- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরকে যদি জনগণ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়..ওই যে বলে না জলের মাছ যদি ডাঙায় ফেলা হয়, মাছ যেমন দাপিয়ে দাপিয়ে মরে যায় আমাদের অবস্থা সে রকম হবে। মানুষের সাথে না থাকতে পারলে, মানুষকে না দেখতে পারলে আমাদের বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা থাকে না।

১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে বার বার প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। হত্যার জন্য নিজের ওপর বার বার আঘাত আসার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তবে নিজের জন্য তিনি কখনো চিন্তা করেন না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রতিদিন দেশবাসী, নিজের সন্তান ও তার সঙ্গে যারা থাকে, বিশেষ করে নিরাপত্তার দায়িত্বে, তাদের জন্য দোয়া করেন। প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের ‘দক্ষতা, আনুগত্য ও পেশাদারিত্বের’ সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান; যারা বাংলাদেশ সফরে আসেন তাদের কাছে এসএসএফ সদস্যদের প্রশংসা শুনে নিজের গর্বের কথা জানিয়ে বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। দরবারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ।

আজ শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ রোববার। ২০০৭ সালের এই দিনে তিনি গ্রেফতার হন। সেনা সমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশে ভোরে র‌্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদনে অভিযান চালিয়ে তাকে গেফতার করে। ১৬ জুলাই ভোর রাতেই যৌথবাহিনী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে গ্রেফতার করে নিু আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর পরই শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়। ওই বিশেষ কারাগারের পাশেই সংসদ ভবন চত্বরে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে তার বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।

এদিকে কারাবন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারের মধ্যেই তার চোখ, কানসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চলতে থাকে। গ্রেফতার হওয়ার প্রাক্কালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বর্ষীয়ান রাজনীতিক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান। তখন দলের মধ্যে অনেক নেতা সংস্কার দাবিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার মুক্তি এবং নির্বাচনের দাবিতে সংগঠিত হতে থাকে।

সরকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগঠিত, প্রতিবাদ ও ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তোলে। দলের সভাপতির অনুপস্থিতি ও প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখেন এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। আবার কারাবন্দি অবস্থায় শেখ হাসিনা নিজেও বার বার দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তার আইনজীবী ও চিকিৎসকরা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাদের মাধ্যমে তিনি দলকে এ ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে নেতাদের কাছে বার্তা পাঠান। অনেক ক্ষেত্রে বন্দি সভাপতি শেখ হাসিনার পরামর্শ নিয়েই দল পরিচালনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় কারা অভ্যন্তরে শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি অবস্থার মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি ওঠে। এক পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি দেয়া হয় শেখ হাসিনাকে। মুক্তি পেয়েই শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান।

বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী

সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ অপচয় রোধে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।  বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়  (আইসিসিবি) আয়োজিত নির্মাণ ও গৃহসজ্জা শিল্প সংশ্লিষ্ট পণ্যের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতাগ্রহণ করে তখন সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো মাত্র সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু গত ৭-৮ বছরে আমরা তা ১৪-১৫ হাজারে মেগাওয়াটে পরিণত করেছি। এছাড়া আমরা আরও আশা করছি আগামী ২০ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলে যাবে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে। তবে আমরা এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ অপচয় রোধেও গুরুত্ব আরোপ করছি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী জিনিসপত্র বানানোর জন্য বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে আহ্ববান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র বানানোর দিকে আরও জোর দিন। যাতে করে সর্বোচ্চ পরিমাণে আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে পারি। তবে পণ্যের মান অবশ্যই বেস্ট কোয়ালেটির হতে হবে, না হলে বাজারে তা টিকবে না। প্রদর্শনীতে রয়েছে নির্মাণ অবকাঠামো, কাঠ, লাইটিং এবং ইন্টেরিয়র এক্সটেরিয়র সংশ্লিষ্ট শিল্পের সর্বাধুনিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শন। ১৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপী এই চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ১৫ জুলাই। দেশি-বিদেশি কোম্পানিসহ সর্বমোট ২০০টি কোম্পানি এই প্রদর্শনীগুলোতে অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এই চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী খোলা থাকবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ২০০টি কোম্পানির প্রতিনিধিসহ প্রদর্শনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।

শাহজালালে আমদানি নিষিদ্ধ ৮৮০ কার্টন সিগারেট জব্দ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৮৮০ কার্টন আমদানি নিষিদ্ধ বিদেশি সিগারেট ও ১১৫০ পিস মোবাইলের মেমোরি কার্ডসহ দুই যাত্রীকে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেনটিভ ইউনিট।

আটক যাত্রীরা হলেন- চট্টগ্রামের মোহাম্মাদ আল-আমিন হাসান (৩২) ও ওয়াসিম (২৮)। একজন কুয়েত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে (কে ইউ-২৮৩) তে দুবাই থেকে ও অপরজন চীনা সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে করে শাহজালালে অবতরণ করেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার আহসানুল কবীর (প্রিভেনটিভ)  জানান, বুধবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় ওই দুই যাত্রীর কাছ থেকে সিগারেট ও মেমোরি কার্ডগুলো জব্দ করা হয়। সিগারেটগুলো ৩০৩ ব্র্যান্ডের। যার বাজার মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। এছাড়া মেমোরি কার্ডের বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। জব্দকৃত সিগারেট ও মেমোরি কার্ডের বিষয়ে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও আহসানুল কবীর।

এই বিভাগের আরো খবর

কালো তালিকাভুক্ত ১৬ হাজার মিলার

অবৈধভাবে চাল মজুদ করায় ১৬ হাজার মিল মালিককে তিন বছরের জন্য ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
সচিবালয়ে  বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, কালো তালিকাভুক্ত এসব মিলারদের কাছ থেকে আগামী তিন বছর সরকার চাল কিনবে না।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল বলেন, বাজারে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যার পর থেকেই চাল মজুদ করেছিল। আমরা যে ক্রয়মূল্য (৩৪ টাকা) দিয়েছিলাম, বাজারের মূল্যের সঙ্গে বিরাট ফারাক ছিল। ফলে আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব মিল মালিকরা অসাধুভাবে চাল মজুদ করেছে তাদের আমরা তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা আর চাল কিনব না। সংখ্যা লক্ষাধিক। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর ডান পাশে বসে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. বদরুল হাসান এ সময় নিচুস্বরে মন্ত্রীকে বলেন, না হাজার।

মন্ত্রী বলেন, কয় হাজার? ডিজি বলেন, মোট তো ১৮ হাজার এর মধ্যে ১৬ হাজারের মত হবে। এরপর কামরুল বলেন, আমি স্যরি। ১৬ হাজারের মত সেই সংখ্যা, সেই সংখ্যা হচ্ছে ১৬ হাজার, যাদেরকে আমরা কালো তালিকাভুক্ত করেছি। টানা কয়েক বছর বাম্পার ফলনের কারণে টানা কয়েক বছর চালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এবার বোরো মৌসুমে আগাম বন্যায় সরকারি হিসাবে ছয় লাখ টনের মতো ধান নষ্ট হয় হাওরে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে (১০ টাকা কেজি দরের চাল) সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণ করায় সরকারি মজুদ অনেক কমে আসে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার উগ্যোগী হয়। সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য দরপত্র দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত চালকলের সংখ্যা জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান পরে বলেন, দেশে প্রায় ২০ হাজার মিল আছে, যাদের মধ্যে ১৬ হাজার মিলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত চার হাজার মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা সম্ভব কি না- এ প্রশ্নে বদরুল বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণভাবে ১০ থেকে ১২ লাখ টন চাল সংগ্রহ করে।

এই পরিমাণ চাল দুই থেকে আড়াই হাজার মিল থেকেই সংগ্রহ করা যাবে। খাদ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বেসরকারিভাবে ভারত থেকে চাল আসার পর মজুদকরীরা এখন ধরে রাখা চাল বাজারে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারিভাবে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের প্রথম চালানে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে একটি জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এসেছে জানিয়ে কামরুল বলেন, কিছু কাস্টমস ফরমালিটিজ আছে, সেগুলো যদি আজকে শেষ হয় তাহলে কালকে সকাল থেকে খালাস করতে পারব। আর ফরমালিটিজগুলো যদি আজকে শেষে হতে বিলম্ব হয় তাহলে রোববার খালাস হয়ে যাবে। ভিয়েতনামে বাকি চাল জাহাজে তোলা শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব চাল লোডিং শেষ হবে, এরপর আসতে যতটুকু সময় লাগে। সরকারিভাবে চাল আনতে চারটি টেন্ডার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারও আরেকটি টেন্ডার হচ্ছে। টেন্ডারে ৪০ দিনের মধ্যে চাল সরবারহ করতে বলা হচ্ছে। ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকেও সরকারিভাবে চাল আসছে। সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন চাল পাইপ লাইনে আছে। যে চালগুলোর বেশিরভাগ এই মাসের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ অগাস্টের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টন চাল আমাদের ঘরে চলে আসবে।

আমরা আশা করছি এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। টেন্ডার হতেই থাকবে, টেন্ডার বন্ধ থাকবে না, টেন্ডার চলতেই থাকবে। তিনি জানান, আগামী ১৬ জুলাই ভারতের একটি প্রতিনিধি দল এবং ২৮ জুলাই থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের সঙ্গে বসে দরদাম ঠিক কের জিটুজি ভিত্তিতে চাল আনা হবে। এছাড়া কম্বোডিয়া সমঝোতা চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগস্টে কম্বোডিয়া যাব। সেখান থেকেও জিটুজি ভিত্তিতে চাল আনতে পারব। মিয়ানমারও আমাদের চাল দিতে আগ্রহী। বর্তমানে দেশে কি পরিমাণ চাল মজুদ আছে তা জানতে সাংবাদিকরা দফায় দফায় প্রশ্ন করলেও উত্তর দেননি খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও চালের প্রকৃত মজুদ নিয়ে কোনো কথা বলছেন না। মজুদ কম থাকায় চালের দাম বেড়েছে- এমন প্রশ্নে কামরুল বলেন, এটা যারা বলেছে তারা ভুল ব্যাখ্যা করছে।

আমরা শুধু সরকারি বিতরণ ব্যবস্থায় চাল সরবারহ করি। বর্তমানে চালের মজুদ কত – এই প্রশ্নে কামরুল বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ আছে। চালের মজুদ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা একজন সাংবাদিক জানালে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের যে ব্রিফ করলাম আমাদের পর্যাপ্ত মুজদ আছে, এখন এই মুর্হূর্তে ত্রাণ তৎপরতা ছাড়া খরচ করার অন্য কোনো খাত নাই। সেপ্টেম্বরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি আসবে। যে কোনো ব্যাপারে সহায়তা দেওয়ার মত যথেষ্ট পরিমাণ চাল মজুদ আছে, মজুদ কেবল বাড়ছেই। মজুদ কতটুকু- আবারও এমন প্রশ্নে কামরুল বলেন, আমি আর কিছুই বলতে চাই না। আমি বলতে চাই, ট্যারিফ উঠিয়ে দেওয়ার পর ঈদের পর থেকে ভারত থেকে বেসরকারিভাবে ৮৪ হাজার টন চাল দেশে এসেছে। এখন আমাদের কোনো রকম সমস্যা নাই, অভ্যন্তরণীভাবেও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। কামরুল বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের মজুদ অগাস্টের মধ্যে হ্যান্ডসাম করতে পারব এবং আগামী মাসের মধ্যে ৮ থেকে ১০ লাখ টন মজুদ আমাদের হবে। অগাস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুদ কমপক্ষে ১২ লাখ টন করতে চাচ্ছি।

সাংবাদকিদের এ নিয়ে আর ‘নেগেটিভ নিউজ’ পরিবেশনের সুযোগ থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন থেকে মজুদ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনাদের পজিটিভ নিউজই আশা করছি এবং পজিটিভ হবে বলে আশা করছি। নেতিবাচক নিউজ করারই সুযোগ পাবেন না। সরকার দেরিতে চাল আমদানি প্রক্রিয়া কেন শুরু করল- এমন জিজ্ঞাসায় মন্ত্রী বলেন, আমরা যথাসময়ে চাল আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমরা ট্যারিফ উঠিয়ে দেওয়ার জন্য আগেই চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছেন। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ট্যারিফটা দেরিতে উঠিয়েছেন এবং ট্যারিফটা যথাসময়ে উঠিয়েছেন। যথাসময়ে ট্যারিফ উঠানোর যে প্রতিক্রিয়া, সে প্রতিক্রিয়া আমরা লক্ষ্য করছি বাজার ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

জ্যেষ্ঠ সচিব হলেন চার কর্মকর্তা

জনপ্রশাসনের আরও চারজন সচিবকে জ্যেষ্ঠ সচিব করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়  বৃহস্পতিবার চার সচিবকে জ্যেষ্ঠ সচিব করে আদেশ জারি করেছে। এদেরকে আগের কর্মস্থলেই পদায়ন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা হলেন-কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর (সচিব) এম আসলাম আলম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান এবং সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। নতুন চারজনকে নিয়ে জনপ্রশাসনে বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জন। ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনপ্রশাসনে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদ চালু করে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভিয়েতনাম থেকে চালের প্রথম চালান চট্টগ্রামে

ভিয়েতনাম থেকে আমদানি চালের প্রথম চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভিয়েতনাম থেকে আসা জাহাজ ‘ভিসাই ভিসিপি-০৫’বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চাল খালাস শুরু করব। আগামী ১৮ জুলাই দ্বিতীয় চালান এবং ২২ জুলাই তৃতীয় চালানটি দেশে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।” হাওরে অকাল বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরকারি গুদামের মজুদ কমে আসার প্রেক্ষাপেটে সরকার সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ৯০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৪ জুন দরপত্র ছাড়াই সরকারি পর্যায়ে এই চাল আমদানির অনুমতি দেয়।

ভিয়েতনাম থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪৭০ মার্কিন ডলার দরে ৫০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কিনতে খরচ পড়ছে ১৯৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানিতে ৭১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানি ভিনাফুড টু এই চালের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাকায় পৌঁছেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট

তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। তাকে বহনকারী শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। উড়োজাহাজ থেকে নামার পরপরই রীতি অনুযায়ী দুটি শিশু শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্টকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাকে; তিন বাহিনীর সুসজ্জিত দল তাকে দেয় গার্ড অব অনার। গার্ড পরিদর্শন শেষে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে লাইন অব প্রেজেন্টেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

বিমানবন্দরে এসময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কূটনৈতিক কোরের ডিন বাংলাদেশে ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চ বিশপ জর্জ কোচেরি, শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার ইয়াসুজা গুনাসেকারা, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া এবং তিন বাহিনীর প্রধান।

সিরিসেনার সফর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকাও বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। টার্মিনালের উপরে এবং সামনে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিপুল সংখ্যক পতাকা রয়েছে সেই সাজে।

ভিভিআইপি টার্মিনালের দু’পাশে দুই রাষ্ট্র প্রধানের দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়েছে এবং টার্মিনালের উপরে বড় করে লেখা ‘স্বাগতম হে মহামান্য অতিথি’। এর সঙ্গে স্বাগত বক্তব্যের ইংরেজি অনুবাদও রয়েছে।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাইথ্রিপালা সিরিসেনার প্রথম বাংলাদেশ সফরে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ ঘুরে গিয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। পরে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।

শুক্রবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করবেন সিরিসেনা। সেখানে তার সম্মানে দেওয়া এক ভোজেও অংশ নেবেন তিনি।

শনিবার ঢাকা ছাড়ার আগে এক বাণিজ্য সংলাপে অংশ নেবেন তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীতে জলজট-যানজটে নগরবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

মাত্র ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে রাজধানীর দুই অংশের প্রধান প্রধান সড়ক, গলিপথসহ আশপাশের অনেক এলাকা। এটাই এখন বাস্তবতা। ফলে দুর্ভোগও যেন নিয়তি। এই দুর্ভোগ জলাবদ্ধতার, এই দুর্ভোগ অসহ্য যানজটেরও। সব মিলে মাঝারি বৃষ্টিতেই স্থবির এখন রাজধানী।  বুধবার ও আগের দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে মৌচাক ও মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর মোড়, সিদ্ধেশ্বরী রোডের শুরু থেকে সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুল পর্যন্ত সড়ক, আনারকলি মার্কেটের সামনে ঘোলা পানির ¯্রােত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেই জলমগ্নতা। লোকজন চলাচলে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে। মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, গোল্ডেন প্লাজার নিচতলা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই এলাকার অন্য মার্কেটগুলোতেও বেচাকেনা কমে যায়।

আষাঢ়ের শেষ সময়ে এসে সারা দেশেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এবার ঢাকায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে  বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। আর সকাল ছয়টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৩ মিলিমিটার। বৃষ্টিপাতের এই পরিমাণ অন্য সব বিভাগীয় শহরের চেয়ে বেশি। ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে রাজশাহীতে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহে ২৮, সিলেটে ১৯, চট্টগ্রামে ৫, খুলনায় ৬, বরিশালে ৬ ও রংপুরে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা আরও অন্তত তিন দিন থাকতে পারে।

বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, চকবাজার রোড (কারা অধিদপ্তরের সামনের অংশ), সিদ্দিকবাজার, নাজিরাবাজার, কাজী আলাউদ্দিন রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়ক। জলমগ্ন হয়ে পড়ে মধ্য ঢাকার মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগর, রাজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথ। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পরও দিলকুশা, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও নয়াপল্টনের প্রধান সড়কে ছিল হাঁটুপানি। একই অবস্থা উত্তর ধানমন্ডি, কলাবাগান বশিরউদ্দীন রোড এবং জিগাতলার।উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন কারওয়ান বাজার এলাকা, এফডিসির সামনের সড়ক, গ্রিনরোডের কিছু অংশ, মিরপুর, কাওলা, খিলক্ষেতে জলজট পরিস্থিতি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। এর মধ্যে শান্তিনগর, মালিবাগ ও মগবাজার এলাকার ভাঙা সড়কে পথচলতি মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে। খানাখন্দে ভরা সড়কে পানিতে ডোবা চোরা গর্তে পড়ে বেশ কয়েকটি রিকশা উল্টে যায়। পানি ঢুকে পড়ে মৌচাক মার্কেটের ভেতরের অংশে। সিদ্ধেশ্বরী, খিলগাঁও, গোড়ান, সিপাহীবাগ ও সবুজবাগ এলাকাও ছিল পানির নিচে। এ সময় শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত রোকেয়া সরণির দুই পাশ ছিল পানিতে থই থই। বেলা দুইটার পর যানজটে এই অংশটুকু পার হতেই ঘণ্টাখানেক লেগে যায়। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় পানির ঢেউ কখনো কখনো ঢুকে যাচ্ছিল সড়কের পাশের দোকানগুলোতে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে  সকাল ছয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৩ মিলিমিটার। আবহাওয়ার পরিভাষায় এটি মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি। অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, ১৪ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা আছে। তাতে অবশ্যম্ভাবী জলজট ও যানজটে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান বলেন, ঢাকায় কোনো জলাবদ্ধতা নেই। তবে জলজট আছে। এই জলজট নিরসনের জন্য আমাদের যে কৃত্রিম ব্যবস্থা, তা যথেষ্ট উন্নত। কিন্তু একবারে বেশি বৃষ্টি হলে নিষ্কাশনে সময় বেশি লাগে। বৃষ্টিপাত আরও প্রলম্বিত হলে শহরের কী অবস্থা দাঁড়াবে? জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাবিব বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্থায়ী হলে ঢাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বসবাসরত নিম্ন-নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবন ভীষণভাবে পর্যুদস্ত হবে। জলাবদ্ধতার কারণে ঢাকা পানিদূষণের মুখে পড়বে। অসুখ-বিসুখের প্রকোপ বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ধাক্কা খাবে।সমাধান জানতে চাইলে ইকবাল হাবিব বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের সঙ্গে ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি প্রশাসন ও জেলা পরিষদÑএ পাঁচটি সংস্থা জড়িত। এগুলোর মধ্যে একটি সমন্বিত, সার্বিক, সময়নির্ভর কর্মপরিকল্পনা দরকার। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় যদি সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা না যায়, এতে কোনো লাভ হবে না।

 

মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। তিনি বলেন, আলেমদের দাবির প্রেক্ষিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো উচুমানের আলেম তৈরি হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় প্রতিযোগিতা ২০১৭’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে আন্ত:মাদরাসা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকাসহ মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার ফাজিল, ফাজিল (অনার্স) ও কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করছে। প্রতিযোগিতার বিষয় আরবি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞান। সারাদেশে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসলামের নামে যারা ছাত্র-শিক্ষকদের বিপথগামী করছে, তারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে। তারা দেশকে এবং ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, জমিয়াতুল মোদার্রেছিন বাংলাদেশের মহাসচিব শাব্বির আহমদ মোমতাজী এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির প্রধান মাওলানা আবু বকর বক্তৃতা করেন।

১৩ জেলায় বন্যায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ : ত্রানমন্ত্রী মায়া

দেশের ১৩ জেলার সাড়ে ছয় লাখ মানুষ চলমান বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ত্রাণসামগ্রীর ‘অভাব নেই’ জানিয়ে ‘বন্যা নিয়ে রাজনীতি’ না করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলতি মাসের শুরু থেকে বন্যা চলছে। সব মিলিয়ে মোট ৪৫ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছেন। পানি ওঠায় বন্ধ রাখা হয়েছে কয়েকশ বিদ্যালয়। এর মধ্যে আরও কয়েকদিন ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর; ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মায়া বলেন, সিলেট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলা বর্তমানে বন্যা কবলিত। উত্তরের পানি মধ্যাঞ্চলে নেমে এলে আরও নতুন জেলা প্লাবিত হতে পারে। মায়া বলেন, উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানে এবার বন্যা হয়েছে। ভাটির দেশ হিসেবে উজানের প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে। তার আলোকে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি এবং মানুষের জন্য সহনশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। বন্যা কবলিত ১৩ জেলায় গত ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চার হাজার মেট্রিক টন চাল, এক কোটি নয় লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নয় ধরনের শুকনো খাবারের সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। দুর্গত ১৩ জেলার ৪৫ উপজেলায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসকদের বলেছি, তাদের চাহিদা মত খাদ্যশষ্য ও আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে। একটি লোকও যাতে খাবারের কারণে কষ্ট না পায় সেজন্য জেলা প্রশাসনকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রী বলেন, যারা খোলা আকাশের নিচে, উঁচু বাঁধে বা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানাব, তারা যেন বন্যা প্লাবিত এলাকার টিউবওয়েলগুলো উঁচু করে দিয়ে এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরাঞ্চলের বন্যা প্লাবিত প্রত্যেকটি এলাকা সফর করবেন জানিয়ে মায়া বলেন, সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব নিজ নিজ এলাকা সফর করে বন্যা প্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে, আমাদের ত্রাণসামগ্রীর কোনো অভাব নেই। আর বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্য- বন্যা নিয়ে রাজনীতি না করে আমি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আহ্বান জানাব- আসুন আমরা বন্যা প্লাবিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানবিক কর্তব্য পালন করি। মায়া বলেন, সরকার প্রত্যেক জেলার বন্যা পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত বন্যা ও ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রতিদিন প্রতি জেলার ক্ষয়ক্ষতি, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি। এক প্রশ্নের জবাবে মায়া বলেন, সিলেট ও মৌলভীবাজারে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলেও আশ্রয়কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বন্যা হবে ধরে নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। প্রত্যেক জেলায় প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। এবার ৯৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট তৈরি করে রেখেছি। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের চিন্তা করতে না হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

রাষ্ট্রের সব বিষয়ে সংসদে আলোচনার স্বাধীনতা রয়েছে: আইনমন্ত্রী

সাভার প্রতিনিধি: রাষ্ট্রের ভালো-মন্দ সব বিষয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করার স্বাধীনতা সংসদ সদস্যদের রয়েছে। তাই ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ লোক ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) ভূমি রেজিস্টার অফিসারদের দুই মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপব্যবহার নিয়ে ৫৭ ধারার অনুচ্ছেদের বিষয়ে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলেও জানান। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী। এসময় তিনি ভূমি রেজিস্টারদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের ভূমি রেজিস্টার অফিসগুলোকে পরিদফতর থেকে অধিদফতরের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে আরো উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে অফিসারদের বিদেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। পরে মন্ত্রী দুই মাসব্যাপী এ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ৩০ জন ভূমি রেজিস্টার অফিসারের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন

রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে সংলাপ ৪০ দলের ফোকাল পয়েন্ট চেয়েছে ইসি

সংলাপের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসিতে নিবন্ধিত ৪০টি দলের নির্ধারিত ঠিকানায় যোগাযোগ করে নিয়মিত সাড়া না পাওয়ায় এ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি।

ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বুধবার সব দলের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়ে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে একজনের নাম, ফোন নম্বর ও যোগাযোগের ঠিকানা চেয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেসব তথ্য ইসি সচিবালয়ের পাঠাতে বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার প্রয়োজনে আপনার দলের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে (সভাপতি/প্রেসিডেন্ট/আমির/আহ্বায়ক/চেয়ারম্যান অথবা সমপর্যায়ের পদাধিকারী এবং সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব/সেক্রেটারি জেনারেল অথবা সমপর্যায়ের পদাধিকারীর মধ্য থেকে যে কোনো একজন) একজনের নাম, ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর, ফ্যাক্স নম্বর, ই-মেইল ও পত্র যোগাযোগের ঠিকানা সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।’

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইন সংস্কারসহ অন্তত সাতটি বিষয়ে আগামী ৩১ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। কিন্তু সব দলের হালনাগাদ তথ্য কমিশনের কাছে না থাকায় চিঠি দিয়ে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ খোঁজার এই উদ্যোগ। ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে এসব দলের নির্ধারিত ঠিকানায় চিঠি দিয়ে তারা সাড়া পাননি। কয়েকটি দল আগের ঠিকানা বাদ দিয়ে এখন দলের চেয়ারম্যানের বাসার ঠিকানা ব্যবহার করছে। এছাড়া সব দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটি বহাল রয়েছে কিনা তা নিয়েও সংশয়  রয়েছে। দলগুলো নিবন্ধনের শর্ত ঠিকভাবে পালন করছে তাও দেখা দরকার বলে কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন। ইসির কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগ্রহী নতুন দলের কাছে নিবন্ধনের আবেদন চাওয়া হবে অক্টোবরে। পাশাপাশি নিবন্ধতি ৪০টি দল শর্তগুলো মেনে চলছে কি না তা নিরীক্ষা করা হবে। ইসির ‘নিবন্ধন যাচাই কমিটি’ এ বিষয়ে কাজ করবে বলে কমিশনের একজন উপ সচিব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে পুরনো দলগুলোর অবস্থা যাচাই করা হবে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা।

এনপিপির হালনাগাদ তথ্য চেয়ে চিঠি
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নিবন্ধনের শর্ত পূরণের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য চেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে রোববার চিঠি দিয়েছে ইসি। ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, নিবন্ধন বিধির ৯ ধারা অনুসারে নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালন সম্পর্কে কমিশনকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী শর্ত পূরণের হালনাগাদ তথ্য ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসিকে জানাতে হবে। নিবন্ধন বিধিমালার ৯ ধারা অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নতুন কমিটির সদস্যদের তালিকা ও সভার কার্যবিবরণী কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন সময়ে সময়ে যেসব তথ্য-দলিল চাইবে তা দেওয়ার পাশাপাশি যেসব বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইবে তা দিতে হবে। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর ২০০৮ সালে এনপিপি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

একনেকে ৯ প্রকল্পের অনুমোদন: ব্যয় ৬৩৯৩ কোটি টাকা

করতোয়া ডেস্ক: চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার হতে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ ৯ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৩৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা,বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫৭ কোটি ৩ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ৪৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।  মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম শহর এলাকা এবং এর দক্ষিণ অংশের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে। এতে যানজট হ্রাস পাবে এবং বিমানবন্দরে যাতায়াতের পথ সুগম হবে।তিনি জানান,এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত। মুস্তাফা কামাল বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হলে সেটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কেরানীগঞ্জ ও ঢাকায় বিচিছন্নভাবে নানা জায়গায় প্রকল্প না করে সমন্বিতভাবে বিশ্ববিদালয়টির উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমি খুঁজে বের করতে বলেছেন তিনি।সদ্য বিদায়ী ২০১৬-১৭অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (্এডিপি) বাস্তবায়ন হার অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি ছিল বলে তিনি জানান। একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-পাঁচদোনা-ডাঙ্গা- ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন ইসলামপুর খেয়াঘাট প্রকল্প,এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

জামালপুর জেলার তিনটি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও এনভায়রমেন্টাল স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নীতকরণ প্রকল্প,এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম রিয়ায়েবিলিটি এন্ড ইফিসিয়েন্সি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। নরসিংদী জেলার অন্তর্ভূক্ত আড়িয়াল খাঁ নদী,হাড়িদোয়া নদী, ব্রক্ষপুত্র নদ,পাহাড়িয়া নদী,মেঘনা শাখা নদী ও পুরাতন ব্রম্মপুত্র শাখা নদ পুনঃখনন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হযেছে ৫০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া সীমান্ত নদী তীর সংরক্ষন ও উন্নয়ন প্রকল্প, এতে ব্যয় হবে ৪৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। কৃষি শুমারি ২০১৮ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। খুলনার পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প,এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস ঢাকা, চট্রগ্রাম,রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, দিনাজপুর ও রংপুর এর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প,এতে ব্যয় হবে ২১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

এই বিভাগের আরো খবর

শাহজালালে সন্দেহজনক সেই চালানের আরও ১৯ অস্ত্র জব্দ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখায় পাওয়া সন্দেহজনক সেই অস্ত্রের চালান থেকে আরও ১৯টি আমদানি নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। মঙ্গলবার এগুলো জব্দ করা হয়। এর আগে গত ৯ জুলাই ওই চালান থেকে দুটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছিল। এনিয়ে মোট ২১টি অস্ত্র জব্দ করা হলো।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, ওই চালানে ইতালি থেকে মোট ৫৮টি অস্ত্র নিয়ে আসে মেসার্স ইমরান আর্মস অ্যান্ড কোম্পানি। এসব অস্ত্রের মধ্য থেকে পুরনো ও অকার্যকর ১৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কারণ আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী পুরনো ও অকার্যকর অস্ত্র আনার ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমদানি করা এসব অস্ত্র পরীক্ষার সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের অস্ত্র বিশেষজ্ঞগণ উপস্থিত ছিলেন। ড. মইনুল খান আরও জানান, পরীক্ষা করে দেখা গেছে ১৯টি অস্ত্র পুরনো ও ফ্যাব্রিকেটেড। একই সঙ্গে এসব অস্ত্রের অধিকাংশের বডির বিভিন্ন অংশের গায়ে খোদাই করা মুদ্রিত ইউনিক নম্বর ভিন্ন ভিন্ন। এই অনিয়মের কারণে শুল্ক আইনের বিধান অনুযায়ী এসব অস্ত্র জব্দ করা হয়। এর আগে গত ৯ জুলাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই চালানের আরও দুটি পিস্তল জব্দ করা হয়েছিল।

 



Go Top