সকাল ৮:২০, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে এসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে জিডি করতে চাইলেও থানার ওসি তা গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন কনস্টেবল হালিমা খাতুনের বাবা।

জেলার গৌরীপুর থানার কনস্টেবল ২৫ বছর বয়সী হালিমা গত ২ এপ্রিল গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন আকন্দের দায়ের করা মামলায় এসআই মো. মিজানুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন।

হেলাল উদ্দিন বলছেন, হালিমা এসআই মিজানুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দিলেও ওসি দেলোয়ার হোসেন কোনো ব্যবস্থা নেননি। হালিমা নিজেই আত্মহত্যার আগে সে কথা ডায়েরিতে লিখে রেখে গেছেন বলে বাবার ভাষ্য।

সোমবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে গ্রহণ না করা জিডির কপি এবং ‘হালিমার ডায়েরির’ দুটি পৃষ্ঠা তিনি সাংবাদিকদের দেখান। হেলাল বলেন, “ওসি যদি হালিমার জিডি গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন তাহলে হালিমা আত্মহত্যার পথ বেছে নিত না।”

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত ১৭ মার্চ রাত আনুমানিক ২টায় এসআই মিজানুল হালিমাকে ধর্ষণ করেন। এসআই রিপন, এসআই খালেকুজ্জামান, এসআই হাসান এবং তার সঙ্গীরা ঘটনা শুনে হালিমাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করেন। বিষয়টি হালিমা ওসিকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।”

এ বিষয়ে ওসি দোলোয়ার  বলেন, “হালিমার মৃত্যুর আগে এসআই মিজানুল আমাকে জানিয়েছিলেন যে হালিমা তাকে বকাবকি করেন। হালিমাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। আর এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজি বলেন, “মেডিকেল রিপোর্টের জন্য আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বলা যাবে।”

গত ২ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে গৌরীপুর থানার ব্যারাকে নিজ কক্ষে দরজা বন্ধ করে গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন কনস্টেবল হালিমা খাতুন। সহকর্মীরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়। সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

পরদিন আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা হেলাল উদ্দিন। এসআই মিজানুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

ময়মনসিংহে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আহত ১২

ময়মনসিংহে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ছাদে ভ্রমণ করা এ ব্যক্তিরা পড়ে যান বলে জানান ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মান্নান ফরাজী

আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের করণিক হেলাল উদ্দিন জানান।

ওসি মান্নান বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী মেইল ট্রেন মহুয়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছলে গাছের ডালে ধাক্কা খেয়ে ছাদে থাকা যাত্রীদের ১২ জন পড়ে যায়।

পরে তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান তিনি।

 

হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দাবি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: এ বছরে আগাম বন্যায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলাসহ হাওর অঞ্চলের লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ।

 

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে করিমগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ জেলা সচেতন নাগরিক সমাজ। মানববন্ধন থেকে বক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ, নতুন করে কৃষিঋণ দেওয়াসহ পুনর্বাসনের দাবি জানান।

 

 এসময়  তারা হাওরের নদী খনন ও ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণেরও দাবি জানান। এতে বক্তব্য রাখেন-সংগঠনের আহ্বায়ক এমরান আলী ভূইয়া, করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান চাঁন মিয়া, দেহুন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সঞ্জু প্রমুখ। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

 

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ নিহত ২

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার মাইজবাগ ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মর্তুজা আলী সরকার (৫৫) ও শাহীন মিয়া (২৮)। তাদের বাড়ি উপজেলার কুমুরিয়ার চর গ্রামে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, উপজেলার বটতলা বাজার এলাকায় একটি গাড়ির ধাক্কায় তাদের মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।  তবে কী গাড়ির সাথে সংঘর্ষ হয়েছে, তা জানা যায়নি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

জামালপুরে শিক্ষার্থীদের পিঠে আ.লীগ নেতা তদন্ত কমিটি

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ছাত্রদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিলদার হুসেন প্রিন্স। গত ২৯ জানুয়ারি ওই উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক বিদায় অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক।  

২৯ জানুয়ারি মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের স্কাউট দলের সদস্যরা একটি মানবসেতু নির্মাণ করে। সেই মানবসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যান অনুষ্ঠানের অতিথি এবং বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দিলদার হুসেন প্রিন্স। এ সময় সেই দৃশ্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করার পাশাপাশি তাকে হেঁটে যেতে সাহায্য করেন ওই বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হাফিজুর রহমান। বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যদের মানবসেতুর উপর দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর পরিবর্তে দিলদার হুসেন প্রিন্সের হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। দিলদার হুসেন প্রিন্সের ভাই জানান, বিদ্যালয়ে এই প্রথা অনেকদিন থেকেই চলে আসছে। সেদিন তার ভাই উপস্থিত না থাকলে অন্য কেউ ওই মানবসেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতো।

এ ব্যাপারে মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় তার ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান মো. আছানতুজ্জামান জানান, বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে আলোচনা করছেন। জামালপুর জেলা শিশু সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, শিক্ষার্থীদের পিঠের ওপর দিয়ে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যান্ত ন্যক্কারজনক। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না নেয়া হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনে যাবেন তারা। জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ সুপারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছি। এছাড়াও ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবলীগ নেতা নিহত

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরে ভটভটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও একজন। মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ গাঙপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিম জানান। নিহত বিধান দে রানা (৩৬) জামালপুর শহর যুবলীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য। শহরের বোসপাড়া এলাকার মলিন চন্দ্র দের ছেলে তিনি। আহত হয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী চিকু নামে এক যুবক। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম- পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। ওসি মাজহারুল বলেন, সকালে মোটরসাইকেলে করে জামালপুর থেকে মেলান্দহে যাচ্ছিলেন বিধান। পথে বিপরীতমুখী একটি ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।     

 

গফরগাঁওয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে টাকা চুরি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অগ্রুী ব্যাংকের শাখা থেকে এক গ্রাহকের আট হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক।  রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
গফরগাঁও ইউনিয়নের দুগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন  বলেন, মালয়েশিয়া থেকে তার ছেলের পাঠানো ৬০ হাজার টাকা অগ্রুী ব্যাংক গফরগাঁও শাখা থেকে উত্তোলন করে ক্যাশ কাউন্টারের পাশে গণনার সময় অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক তার পকেট থেকে আট হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। চুরির ঘটনাটি দ্রুত ব্যাংক ব্যবস্থাপকে জানানো হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

বাসাইলে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো ছাত্রী

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রশাসনের সাহায্যে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকালো কল্পনা শীল (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রী। সে বাসাইল পৌর শহর পূর্বপাড়ার শ্রীভাস চন্দ্র শীলের কন্যা ও বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা জায়, সোমবার পারিবারিকভাবে কল্পনা শীলকে বিয়ে দেওয়ার সকল প্রস্তুতি শেষ করে তার বাবা-মা। কিন্তু বাধ সাধে কল্পনা শীল। সে ১৮ বছরের আগে বিয়ে করবে না বলে তার বাবা-মাকে জানায়। তার মতামত উপেক্ষা করে তার বাবা-মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা সোমবার কল্পনার বিয়ের দিন ধার্য করে। গত রবিবার ভোকেশনাল পরীক্ষা শেষ করে দুই বান্ধবীসহ কল্পনা হাজির হয় বাসাইল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাজমুল আহসানের কার্যালয়ে। পরে জোর করে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জেনে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল আহসান কল্পনার বাবা-মাকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। এ সময় কল্পনার বাবা শ্রীভাস চন্দ্রশীলকে এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের জেল দেওয়া হয়। মেয়েকে আঠার বছরের আগে বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে কল্পনাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় তার বাবা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমসহ অন্যরা।

কল্পনা শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাল্য ও শিশু বিবাহের বিভিন্ন কুফল ও আইনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন হয়েই আমি প্রতিজ্ঞা করি ১৮ বছরের আগে বিয়ে করবো না। তাই স্যারের (এসিল্যান্ড) শরণাপন্ন হয়েছি।’

বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ‘অর্থের অভাবে যদি কল্পনাকে তার পিতা মমাতা পড়াতে না চান তবে তাকে এসএসসি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।’

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, ‘আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় করছি। মানুষ সচেতন হচ্ছে কল্পনা শীল তারই প্রমাণ।’

ফুলপুরের প্রতিবন্ধী পিএসসি পরিক্ষার্থী মরিয়মের দায়িত্ব নিল সরকার

ময়মনসিংহের ফুলপুরের শারিরীক প্রতিবন্ধী সমাপনী পরীক্ষার্থী মরিয়ম আক্তারের লেখাপড়া ও জীবন চলার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। ফেসবুকে ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি পিএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে যাওয়া অদম্য মরিয়মের ছবি দেখে জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান তার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।.

তিনি বলেন, ‘মরিয়মের লেখাপড়াসহ জীবন চলার প্রয়োজনীয় খরচ সরকার বহন করবে।’

ফুলপুরের শারিরীক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থী মরিয়মের জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই। জন্মের কয়েকদিন পর তার বাবা মুক্তার হোসেন মারা যায়। বর্তমানে মা থেকেও নেই। ছোটবেলায় এই মরিয়মকে রেখে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় মা ছালেহা বেগমও জর্ডান চলে যায়। একা হয়ে যায় প্রতিবন্ধী শিশু মরিয়ম। পরে অসহায় এ মরিয়মের লালন-পালনের দায়িত্ব নেন নানা ফছর উদ্দিন। তার কাছে থেকই প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবলের সাহায্যে লেখাপড়ার চালিয়ে যায় মরিয়ম।

শিক্ষকরা বলেন, ‘মরিয়মের ভেতরে অনেক সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে । যা কাজে লাগাতে পারলে মরিয়মও হতে পারে অন্য দশ জনের মতোন। পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

ইউএনও মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ পা দিয়ে লিখলেও মরিয়মের লেখা খুব সুন্দর। সে দ্রুত লিখতে পারে। ভবিষ্যতে মরিয়ম নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।’

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী মরিয়মকে নতুন পোশাক ও কিছু খাবারের জিনিস পত্র কিনে দেন। এরপর জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমানের নির্দেশে ফুলপুর ইউএনও মরিয়মের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিয়ে বলেন, ‘সমাজের বিত্তশীলরাও মরিয়মকে সাহায্য করতে পারেন।’

মরিয়মের একাউন্ট নাম্বার হলো: মোছা. মরিয়ম আক্তার, সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২০০০০৯২২৬৫৯৩, অগ্রণী ব্যাংক, ভাইটকান্দি শাখা, ফুলপুর, ময়মনসিংহ।

এসময় উপজেলা সমবায় অফিসার কামরুজ্জামান ও সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ময়মনসিংহে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত

ময়মনসিংহে সহপাঠীর ছুরিকাঘাতে রাশেদুজ্জামান লিয়ন (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী রেলওয়ে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। রাশেদুজ্জামান ওই স্কুলে পড়ত। সে শহরের বাইপাস এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী আক্তারুজ্জামানের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ‘সকালে রাশেদুজ্জামান বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে যায়। স্কুলের মূল ফটকের কাছে পৌঁছালে তার সহপাঠী নাইমসহ কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে অন্য সহপাঠীরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কোনও বিষয় নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।’

ময়মনসিংহে তোরণ-ফেস্টুন অপসারণ অভিযান শুরু

পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ’-এর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন ময়মনসিংহ ও পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের সব এলাকায় সড়কের ওপর তোরণ, ফেস্টুন, ব্যানার ইত্যাদি নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে অপসারণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। দায়ীরা এর তোয়াক্কা না করায় মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) থেকে শহরের টাউন হল মোড় হতে এগুলো অপসারণের কাজ শুরু হয়।.

জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান জানান, ‘কোনও জাতীয় অথবা বিশেষ দিবস উপলক্ষে তোরণ, গেইট, ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানাফ্লেক্স ইত্যাদি প্রদর্শন করার পর পালিত দিবসের পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে তা অপসারণ করতে হবে।’এ মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত ৭ দিন পার হলেও উল্লেখিত তোরণ, গেইট, ফেস্টুন, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার ইত্যাদি সম্পূর্ণ অপসারিত হয়নি। তাই ময়মনসিংহের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার স্বার্থে এ অভিযান শুরু হয়েছে।

জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাপসী বেগম (২৪) ওই এলাকার লাভলু মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের আ. লতিফের ছেলে লাভলু মিয়ার (৩২) সঙ্গে পাঁচ বছর আগে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি চন্দনপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে তাপসী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ে পর থেকেই সংসারে নানা অশান্তি বিরাজ করছিল। লাভলু ভাটারা বাজারে ফলের ব্যবসা করায় তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাটারা বাজারে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বুধবার তাপসী বেগমকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাভলু একমাত্র মেয়ে সিনজিনকে (৩) নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

নিহত তাপসীর বাবা তোফাজ্জল হোসেন ও মা রোজিনা বেগম জানান, তাপসীর স্বামী লাবলু মিয়া সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় লাবলু তার স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করতো। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সে তাপসীর কাছে মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতেও নির্যাতন চালাতো।

যৌতুক না দেওয়ায় ও পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে লাবলু তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

নেত্রকোনায় আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২, জাসদের ১

জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর ব্যাতিক্রম নেই নেত্রকোনায়ও। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোনয়নের জন্য মরিয়া হয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণি ফোরামের নেতাদের কাছে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নেত্রকোনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১২জন নেতা কেন্দ্রীয়ভাবে আবেদন করে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে যেকোনও একজন মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদ ছাড়া অন্য কোনও দলের নেতাকে এই নিবার্চনে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে মনোনয়নের জন্য লবিং করতে দেখা যায়নি।

এছাড়া দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপি কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী জেলা পরিষদ নিবার্চনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ওই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তেমন কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন খান দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে বলেন, ‘দলীয় হাই কমান্ড থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জেলা বিএনপির তেমন কোনও তৎপরতা নেই।’
জেলা পরিষদের আইন অনুযায়ী সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই নিবার্চনে ভোটার হবেন। তারা জেলা পরিষদের ২১ সদস্য বিশিষ্ট প্যানেলে একজনকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (উপ-মন্ত্রী পদমর্যাদা) সম্পন্ন, ৫ জনকে সংরক্ষিত নারী সদস্যা ও ১৫ জনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন। এই নির্বাচনের ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ মেম্বার ও সংরক্ষিত নারী মেম্বাররা।
এবার নেত্রকোনা জেলা পরিষদের নিবার্চনে চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের হেবি ওয়েট নেতাদের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা। তারা বলছেন, দলীয় সভানেত্রী এবার তরুণদেরকেই বেশি প্রাধান্য দিতে পারেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মতিয়ুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুজ্জোহা, সাবেক সহ-সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক তফসির উদ্দিন খান, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের বড় ভাই নুর খান মিঠু, সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম বজলুল কাদের শাজাহান, আওয়ামী লীগের নেতা লে. কর্নেল (অব.) আবদুন নুর খান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা অসিত কুমার সরকার এবং সাবেক যুবলীগ নেতা এস.বি খান শাহীন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ুর রহমান খানের নাম শোনা যাচ্ছে। দলের মনোনয়ন পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়ুর রহমান খান বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই দায়িত্ব আমি শতভাগ পালন করেছি। আমি ইতোমধ্যে দেশের ১০টি বৃহত্তর অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুম নিমার্ণের মধ্যে নেত্রকোনায় এর কাজ শুরু করেছি। নেত্রকোনায় জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মোড়াল নিমার্ণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এছাড়াও সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য জেলার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করেছি। তাছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছি বাস্তবায়নের জন্য। আমি দলীয়ভাবে মনোনীত হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দলীয় সভানেত্রী ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদা,দারিদ্রমুক্ত,ডিজিটাল সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শতভাগ কাজ করে যাব।’
অন্যদিকে বর্তমান সরকারের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু) একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইছেন জাতীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. মুখলেছুর রহমান মুক্তাদির। তিনি দলের একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি, তাই স্থানীয় জাসদ নেতা-কর্মীদের ধারণা দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দিলে এবার জেলা পরিষদ নিবার্চনে লড়াই হবে জাসদ আর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে।
এ ব্যপারে জাসদ মনোনয়ন প্রত্যাশী মুখলেছুর রহমান মুক্তাদির বলেন, ‘যদি মনোনয়ন পাই তাহলে নিবার্চন অব্যই করবো। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে নিবার্চনের বিকল্প কিছু নেই।’
তবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন কথা এখনও শোনা যাচ্ছে না। এছাড়া সদস্য (পরিচালক) পদের জন্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তদবির করছেন। তবে বিএনপির জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে কোনও তৎপরতা নেই।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনাসহ সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জেলার ১০টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৮৬টি ইউনিয়নে এক হাজার ২১৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে।



Go Top