দুপুর ২:৫০, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ গণমাধ্যম

 দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় কর্মরত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর সদস্য ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা হাসান-উজ-জামানসহ শতাধিক সাংবাদিক-কর্মচারীর গণচাকরিচ্যুতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্র্যাব কার্যনির্বাহী কমিটি। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়েজবোর্ড অনুয়ায়ী সমুদয় পাওনা পরিশোধ ও অনতিবিলম্বে চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল করতে মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান ।

গতকাল মঙ্গলবার ক্র্যাব সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোন রকম কালক্ষেপণ বা অপকৌশলের আশ্রয় না নিয়ে ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ তাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করে দ্রুত চাকরি ফিরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করি। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ক্র্যাব মনে করে, বিনা নোটিসে এই গণচাকরিচ্যুতি ও পদত্যাগে বাধ্য করার প্রক্রিয়া অবৈধ। এই অপতৎপরতা থেকে ইনকিলাব কর্তৃপক্ষের সরে আসা উচিত।’

 

 

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার নয়’

 গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছাচারীভাবে ব্যবহার না করার ব্যাপারে দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।  মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার ইনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যোগাযোগ কর্মীদের নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইন্টিন’ আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
ইকবাল সোবহান বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তেমনি সাংবাদিকদের উচিৎ দায়িত্বশীল ভাবে আইন মেনে চলা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে স্বেচ্ছাচারী ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। যথেচ্ছ সাংবাদিকতার লাইসেন্স ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। ‘হলুদ সাংবাদিকতার’ কারণে সৃষ্ট দাঙ্গা-কোন্দলের বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতার নামে আমরা যেন তথ্য বিকৃতি না করি। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, এই আইন ব্যবহার করুন। এতে আপনারা অনেক তথ্য পেতে পারেন, যা অনেক নতুন স্টোরি করতে সাহায্য করবে। সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ কর্মীদের ‘পেশাগত ঝুঁকি প্রশমন’ বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আর্টিকেল নাইন্টিনের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের পরিচালক তাহমিনা রহমান, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ফায়জুল হক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও উন্নয়ন বিষয়ক পরামর্শক সিল্কে লেভেনকিয়রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নবম ওয়েজ বোর্ড দাবি তিন ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ঘোষণা সাংবাদিকদের

আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের দাবি না মানা হলে ১৯, ২০ ও ২১ মার্চ তিনঘণ্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পূর্বঘোষিত রাস্তা অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে  রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংবাদিক নেতারা।

এ সময় বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, এ সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান না আসলে আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে স্মারক নিয়ে মিছিল করা হবে। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে, ওই দিনই সচিবালয় ঘেরাও করা হবে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় আহত সাংবাদিকদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে হবে মালিকদের। এটাও আমাদের দাবি। যে সব পত্রিকা মাসের পর মাস বেতন দেয় না, তাদের অতি দ্রুত বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া সাংবাদিক সাগর-রুনি, দীপংঙ্কর চক্রবর্তী, মানিক সাহা, হারুনুর-রশিদ, সাইফুল আলম মুকুল হত্যার সঠিক বিচারের দাবিও জানান এ সাংবাদিক নেতা।

বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকরা। সরকার রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের বেতন বাড়িয়েছেন, কিন্তু সাংবাদিকদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ওয়েজ বোর্ড না দিয়ে আগেও কেউ রেহাই পায়নি। বর্তমান তথ্যমন্ত্রীও রেহাই পাবে না। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা না খেয়ে থাকলে, বাচ্চাদের ভালোভাবে না রাখতে পারলে দেশের গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে যাবে। কেউ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে পারবে না। এ সময় দৈনিক জনকণ্ঠ ও বর্তমান পত্রিকার বেতন বন্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠ ও বর্তমান পত্রিকার বেতন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া দৈনিক মানবকণ্ঠে কোনো নোটিশ ছাড়া চাকরিচ্যুতি বন্ধেরও আহ্বান জানান তিনি। ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, ২১ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা না দিলে সাংবাদিক সমাজ আবার রাস্তায় নেমে আসবে। মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী প্রমুখ।

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কাজ : তথ্যমন্ত্রী

সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, ইলেকট্রনিকসংবাদমাধ্যমের সংবাদকর্মীদেরও এই কাঠামোতে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট দুটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবে আমরা নীতিগত সম্মতি দিয়েছি। সরকার উদ্যোগ নিলেও এটা মূলত সাংবাদিক, কর্মচারী এবং মালিক- এই ত্রিপক্ষীয় একটা ব্যবস্থা। সরকার শুধু মধ্যস্থতা করে আসছে। ওয়েজ বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া তুলে ধরে ইনু বলেন, একজন বিচারপতি এই বোর্ডের নেতৃত্ব দেন। তাকে সরকারের তরফ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।বাকিরা কিন্তু আমাদের হাতে নেই। সাংবাদিক, কর্মচারী, শ্রমিক, মালিকপক্ষ প্রতিনিধি দেবেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেটাকে একটা আইনগত রূপ দেব যে, এরা ওয়েজ বোর্ডের সদস্য। এই সদস্যরাই ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়েজ বোর্ডের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে। মন্ত্রী জানান, যেসব প্রস্তাব পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ায় তথ্য মন্ত্রণালয় হাত দিয়েছে। অনেক দূর আমরা এগিয়েও গেছি।

আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে। তিনি জানান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজ পেপার প্রেস ওয়ার্কার্স ইতোমধ্যে প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধির নাম এখনও জমা পড়েনি। মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো চূড়ান্ত করে পাঠায়নি। এখানে চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত করলে আমরা আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করব। মন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতার কারণে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন ও কমিউনিটি রেডিও এবং এফএম রেডিওর কর্মীদের ওয়েজ বোর্ডে অধীনে রাখা যায়নি। কীভাবে তা করা যায়, তা ঠিক করতে অংশীজনদের নিয়ে মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে দিয়েছে। এটা করতে আইনে হাত দিতে হবে। সেটা বড় কথা নয়।

মানুষের জন্য সব করা যায়। আমরা নীতিগতভাবে তাদেরকেও ওয়েজ বোর্ডে আনতে নীতিগতভাবে সম্মত।   সর্বশেষ ২০১২ সালে সংবাদপত্রের কর্মীদের জন্য মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করে সংবাদপত্রের অষ্টম মজুরি বোর্ড। পরের বছর অষ্টম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করা হয়।এই বেতন কাঠামো সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। টেলিভিশনসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো সার্বজনীন কোনো কাঠামো নেই।   গত বছর সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে সরকারি চাকুরেদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন সরকারি বেতন কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।

 

ডেইলি সান সম্পাদক আমির হোসেনের ইন্তেকাল

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি সানের সম্পাদক আমির হোসেন সোমবার দুপুরে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে …রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের মিডিয়া হাউজ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর, বাংলানিউজ২৪ডটকমের এডিটর-ইন চিফ আলমগীর হোসেন, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও নিউজ২৪’র সিইও নঈম নিজামসহ গ্রুপের সবকটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা জানাযায় অংশ নেন। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রথিতযশা এই সাংবাদিকের দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আমির হোসেনের মরদেহ নিজ জেলা মাদারীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডেইলি সান পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত সম্পাদক আমির হোসেনের স্মৃতিচারণ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

 

বাংলাদেশে সব থেকে নির্যাতিত মানুষ আমি – মাহমুদুর রহমান

বাংলাদেশে আমার থেকে অধিকারহীন ও নির্যাতিত মানুষ আর একজনও নেই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও এ দেশে আমরা কোনো অধিকার নেই।  মঙ্গলবার  বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথাগুলো বলছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আমার দেশ পরিবার।

মাহমুদুর রহমান বলেন,  গত ৫ বছর বিনা অপরাধে জেল খাটার ফলে আমার শরীরে সব ধরনের রোগ বাসা বেধেছে। ডাক্তার বলেছেন দেশের বাইরে গিয়ে অপারেশন করাতে। কিন্তু দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করার অধিকার আমার নেই। সুপ্রিমকোর্ট আমাকে শুধু যুক্তরাজ্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন সেটাও আবার ১ মাসের জন্য। কিন্তু যুক্তরাজ্য আমাকে ভিসা দেয়নি। তারা নাকি মনে করেছে আমি যুক্তরাজ্য গেলে আর ফিরে আসবো না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে মাহমুদুর রহমানের কোনো মানবাধিকার থাকতে নেই। আজ আমার কথা বলার অধিকার নেই। ঠিক মতো চলাফেরা করারও অধিকার নেই। একজন মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা তো দেশের সংবিধানের পরিপন্থী। বিগত ৪ বছরের সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তু্লে ধরে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা যে হরণ করা হয়েছে তার প্রমাণ হচ্ছে দেশের সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা। আপনারা দেখেন গত চার বছরে সাংবাদিক হত্যা হয়েছে ১৫ জন, আহত হয়েছে ৮১৬ জন, গ্রেফতার হয়েছে ২৬ জন, মামলা হয়েছে ২০০ জনের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এসব নির্যাতনের কোনো বিচার হয়নি। এ সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদ করেছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আন্দোলন করে কোনো লাভ হয়না। আমি জেল খানায় বসেও লিখেছি এখনও লিখছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান  শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজি, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহামদ ও কবি ফরহাদ মাজাহার প্রমুখ।

সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই বরখাস্ত

রাজধানীতে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির হরতালের ফুটেজ নেওয়ার সময় সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারী শাহবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ মন্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার  এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  আরো যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ওই ঘটনায় এটিএন নিউজের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ডিসি। এর আগে দুপুরে হরতালের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহে গেলে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হন এটিএন নিউজের ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলিম ও রিপোর্টার ইসান বিন দিদার। এ সময় দিদার পুলিশকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলিম বলেন, হাতে ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও আমাকে রাইফেল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে থানার ভেতরে নিয়ে আরো লাঞ্ছিত করা হয়।

 

 

নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবিতে সাংবাদিকদের সমাবেশ

নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল করেছে সাংবাদিকদের ইউনিয়ন গুলো। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) ডাকে বুধবার কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ হয়। সমাবেশের পর মিছিলও করেন সাংবাদিকরা।

দেশের সব জেলা সদরে সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে বলে বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল জানান। নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্র“তি দিলেও তা না হওয়ায় তার সঙ্গে বৈঠক বর্জন করে কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলো। সমাবেশে বুলবুল বলেন, আর আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বসে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসলেই আমরা তার সাথে দেখা করে আমাদের কথা বলব। আমাদের আশা, নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী আসলেই নির্দেশনা দেবেন। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াব নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠনের বিরোধিতা করছে। বুলবুল বলেন,  নোয়াব বৈঠক করেও কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি, মন্ত্রীর সাথে কথা বলে কয়েকটি পত্রিকায় বিবৃতি ছাপিয়েছে। এই বিবৃতির জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আমরা মনে করি না। তাদের বিবৃতিতে মিথ্যায় ভরা। আমরা অন্তত এটুকু আশা করি, অনেক পত্রিকার সম্পাদকরা নোয়াবের সাথে জড়িত, তাদের কাছে সত্যটা আমরা আশা করি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তারা বিবৃতিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। নোয়াবের এই বিবৃতি ভূয়া বিবৃতি। তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জাসদ সভাপতি ইনু ‘বৈজ্ঞানিক ষড়যন্ত্র করছেন বলে মন্তব্য করেন বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক। তিনি বলেন, জাসদের নেতা ইনুর কাছ থেকে আমরা আর ওয়েজ বোর্ড পেতে চাই না। সাংবাদিক সমাজের সাথে ছলচাতুরি করেছেন তথ্যমন্ত্রী। সমাবেশে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল দাবি আদায়ে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সারা দেশে সভা- সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন না করলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন।সমাবেশে বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ মধুসুধন মন্ডল, যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘বগড়্যার মেলা’ সাড়া জাগিয়েছে সবার মনে

রাজকুমার নন্দী : ঐতিহাসিক করতোয়া নদীবিধৌত সমৃদ্ধনগরী পুন্ড্রবর্ধন আজকের বগুড়া। ঐতিহ্য আর সভ্যকার পীঠস্থান, আউলিয়া দরবেশের পূণ্য স্মৃতিধন্য উত্তরের সবচাইতে সমৃদ্ধ আর উজ্জীবিত জনপদ এই বগুড়া। এই জেলার পবিত্র ভূমিতে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য বরেণ্য মানুষ, যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্র-সমাজের প্রতিটি স্তরে। সমৃদ্ধ বগুড়া জেলার গৌরবোজ্জ্বল সেই ইতিহাসের সাথে আজকের প্রজন্মের সেতুবন্ধন তৈরি করতে আয়োজিত হয়েছিল মিলন মেলার। নামকরণ করা হয়েছে ‘বগ্ড়্যার মেলা’। গত ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বগড়্যার মেলা’ সাঙ্গ হলেও এর মধ্য দিয়ে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন মেলার আয়োজকরা। তারা বলছেন, বগুড়ায় আরো কী কী উন্নয়ন হওয়া দরকার, মেলার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে সেই বার্তাও, যা ভবিষ্যতে বগুড়ার উন্নয়নে সহায়ক হবে। এছাড়া এর মধ্য দিয়ে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়াবাসীর মিলনমেলা ঘটানো সম্ভব হয়েছে, যা ধরে রাখতে প্রতি বছর এ আয়োজনের আশা উদ্যোক্তাদের।

মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোর মধ্যে দৈনিক করতোয়ার স্টলে ছিল উপচেপড়া ভীড়। সমাপনী দিনে স্টলটিতে আসেন দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক। করতোয়া স্টলে আরো আসেন করতোয়া সম্পাদক পতœী রীনা মোজাম্মেল ও দৈনিক ভোরের দর্পণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসরিন হায়দারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। এছাড়া মেলায় আগত অতিথিরাও করতোয়া স্টল ঘুরে দেখে তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। করতোয়া স্টলে রক্ষিত ‘মন্তব্য খাতায়’ দর্শনার্থীরা পত্রিকাটির উন্নয়নে তাদের সূচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। এদিকে, স্টলে স্থাপিত মনিটরে চারদিন ধরেই দৈনিক করতোয়া পত্রিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হককে নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়, যেখানে পত্রিকাটির ‘সুদীর্ঘ ইতিহাস’ তুলে ধরে তিনি। ‘বগড়্যার মেলা’ প্রসঙ্গে করতোয়া সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকায় চারদিনব্যাপী এই মেলার মধ্য দিয়ে জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে আমরা শুধু রাজধানী ও দেশবাসী নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই একটা ম্যাসেজ-ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি। মেলায় দৈনিক করতোয়ার একটি স্টল ছিল, যেখানে আমরা মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশা করছি, বগুড়াকে পরিচিত করানোর এ মেলা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হবে।’ ‘দৈনিক করতোয়া’ স্টলটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল মানুষের উপচেপড়া ভীড়। স্টলটি দৈনিক করতোয়া ও ভোরের দর্পণ পত্রিকা, বগুড়ার করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, করতোয়া অডিটরিয়াম, করতোয়া প্রিন্টার্স এন্ড পাবলিকেশন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, করতোয়া ফিলিং স্টেশন ও ন্যাশনাল প্রিন্টিং এন্ড প্রেস সম্পর্কিত তথ্য, করতোয়ার লোগো সম্বলিত সেরামিকের মগ, ক্যাপ, টি-শার্ট (পোলো), টি-শার্ট, টাই, ব্যাগ, কোর্টপিন, ঘড়ি ও কলম নিয়ে সাজানো হয়েছিল। স্টলটি থেকে মেলায় অংশ নেয়া প্রত্যেকটি স্টলে চারদিনই বিনামূল্যে দৈনিক করতোয়া ও ভোরের দর্পণ পত্রিকা সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনার্থীদেরও প্রতিদিনই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় পত্রিকা দু’টি। দৈনিক করতোয়া’র ঢাকা অফিসের সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগিতায় আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত। পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক মাহমুদুর রহমান খোকন, চীফ রিপোর্টার সৈয়দ আহমেদ অটল, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক এম এস সাহাব, মফস্বল সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, জেনারেল ম্যানেজার সহিদুর রহমান বুলু, সহকারি জেনারেল ম্যানেজার মো. খবির উদ্দিন, বিজ্ঞাপন ম্যানেজার মামুনুর রশিদ, স্পোর্টস রিপোর্টার আমিনুল হক মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার রুদ্র রাসেল, মাহফুজ সাদি, সুলতানুর রহমান, মশিউর রহমান নেরু, মো. এরশাদ আলী, গনেশ মোদক  এবং স্টলটির সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন আঞ্জুুমান আরা মুন।

‘বগড়্যার মেলা’ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ঢাকায় প্রথমবারের মতো এ মেলা হওয়ায় ছোট-খাট ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে বগুড়ার প্রচুর মানুষ  পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসায় এটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বগুড়ায় আরো কী কী উন্নয়ন হওয়া দরকার, মেলার মধ্য দিয়ে আমরা সেই বার্তা দিতে পেরেছি। এটি অবশ্যই মেলার সার্থকতা। ঢাকায় প্রতি বছর ‘বগড়্যার মেলা’ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

মেলায় বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দই, ক্ষীরসা ও অন্য পণ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে কিউট, সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস, বগুড়া থেকে এলাম, লেখিকা রোমেনা আফাজের বই প্রদর্শনী, গোয়ালা, গোল্ডেন বাংলাদেশ, বগুড়া থিয়েটারের মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, লাইট হাইস, ঐতিহ্য বগুড়া, হিমাচল বুটিক, নাজনীন বুটিক হাউস, টিএমএসএস, টিএমএসএস’র সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং কন্সট্রাকশন লিমিটেড ও পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, পিঠা ঘর, প্রাণ ও দৈনিক করতোয়াসহ ২০টির মতো স্টল অংশ নেয়। মেলায় প্রকাশ করা হয় ‘বগুড়া ডাইরেক্টরি’। শেষদিনে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজেরও উদ্বোধন করা হয়। মেলা থেকে জেলার শতাধিক লোক বগুড়া সমিতির সদস্য হতে ফর্ম সংগ্রহ করেন এবং ১৫ জনের মতো সমিতির সদস্য হন। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে চারদিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটিএন বাংলা এবং দৈনিক করতোয়া ছিল মেলার মিডিয়া পার্টনার।

মেলার উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান-এমডি মাহফুজুর রহমান। ওইদিন দ্বিতীয়পর্বের অনুষ্ঠানে বগুড়ার মেয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক ছিলেন প্রধান অতিথি। দ্বিতীয় দিনে মেলায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। মেলার তৃতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শোয়েব শাহরিয়ার ও বিশিষ্ট অভিনেতা আহসানুল হক মিনু। মেলা সমাপ্তির দিনে এসেছিলেন-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। চারদিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু। মেলার প্রথমদিকে উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা বাড়তে থাকে। শেষদিনের উপচেপড়া ভীড়ে সন্তুষ্ট আয়োজকরা। তবে মেলায় শুধু বগুড়ার লোকেরাই নয়, ঢাকায় বসবাসরত অন্য জেলার মানুষের উপস্থিতিও ছিল আশাব্যঞ্জক। মূলত বগুড়ার ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং বগুড়ার প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন কিনতে তারা মেলায় আসেন। বগুড়ার শিল্পীদের দিয়ে জেলার সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে প্রতিদিন বগুড়া থেকে দু’টি বাসে করে ৪৫০ জনের মতো শিল্পী ঢাকায় এসে মেলায় পারফর্ম করেন। তারা বগুড়ার ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরে গান (পালাগান-বাউলগান-কবিগান), লাঠিখেলা, নাটক, নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। ‘আমরা বগড়্যার ছল, পুঁটি মাছ মারবার য্যায়ে ম্যারা আনি ব্যোল’, বগুড়ার এই আঞ্চলিক গানটি মেলায় ছিল সবার মুখে মুখে।

 

 

দৈনিক করতোয়া’র সম্পাদক মোজাম্মেল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকা অফিসের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান

দৈনিক করতোয়া’র সম্পাদক মোজাম্মেল হক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায়  ঢাকা অফিসের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান

দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত

বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচনে চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত শনিবার প্রার্থীতা প্রত্যাহার  দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক

শেষে সভাপতি পদে দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু ও দপ্তর সম্পাদক পদে শফিউল আযম কমল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। রাত দশটার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।

এছাড়া সহ-সভাপতি তিনটি পদে জিয়া শাহীন, আব্দুস সালাম বাবু, চপল সাহা ও মীর্জা সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফ রেহমান, আবুল কালাম আজাদ ঠান্ডা ও  সবুর শাহ লোটাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ২টি পদে নাজমুল হুদা নাসিম, জিএম সজল ও মমিনুর রশিদ সাইন,  কোষাধ্যক্ষ পদে  কালাম আজাদ ও আবুল কালাম আজাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক  পদে এইচ আলিম ও সাইফুল ইসলাম

ক্রীড়া সম্পাদক পদে আমিনুল ইসলাম মুক্তা ও মোস্তফা মোঘল, পাঠাগার সম্পাদক  পদে শাহীনুর রহমান বিমু ও জাফর আহমেদ মিলন নিবার্হী সদস্য ৯টি পদে তানসেন আলম, সাজ্জাদ হোসেন পল্লব, রেজাউল হাসান রানু, আমজাদ হোসেন মিন্টু, মীর সাজ্জাদ আলী সন্তোষ, জেএম রউফ, সবুর আল মামুন, শাহ মোঃ ইলিয়াস লেলিন, আতাউর রহমান মিলন, এফ শাহজাহান, সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার, আব্দুল ওহাব,  রেজাউল হক বাবু, লিমন বাসার ও মহসিন আলী রাজু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন মিন্টু জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

১৮ জানুয়ারি এশিয়ান টিভি’র চার বছরপূর্তি

হাটি হাটি পা পা করে সফলতার সাথে ৪টি বছর শেষ করেছে এশিয়ান টেলিভিশন ও এশিয়ান রেডিও। সংবাদসহ নানা অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের মধ্য দিয়ে দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে মাধ্যম দু’টি। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৮ জানুয়ারি নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ।  রোববার রাজধানীর নিকেতনে এশিয়ান টিভি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ান টিভি ও রেডিও’র চেয়ারম্যান আলহাজ হারুন-উর-রশিদ সিআইপি, এশিয়ান টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক বিপ্লব শাহরিয়ার, অতিরিক্ত অনুষ্ঠান প্রধান রুমানা রহমান, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ফারিয়া হোসেন চৈতি উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব শাহরিয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতে অনেক টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট এশিয়ান টিভি। বাংলাদেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ইতিহাস আর ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে এশিয়ান টিভি। সংবাদ, বাংলা সঙ্গীত, নাটক নির্মাণ ও প্রচারের মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিতে একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও শিক্ষামূলক, রুচিশীল ও সৃষ্টিশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানান। এ জন্য তারা দর্শক, শ্রোতা, শুভানুধ্যায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। এসময় বাংলাদেশে বিদেশী চ্যানেল ও অনুষ্ঠানের আগ্রাসন ঠেকাতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বর্ষপূর্তির প্রথম প্রহরে ১৭ জানুয়ারি রাত ১২ টা ০১ মিনিটে এশিয়ান টিভি কার্যালয়ে কেক কেটে পঞ্চম বর্ষে পদার্পনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। পরের দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থাকবে নানা আয়োজন। এ দিন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সহ গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়। এ আয়োজনে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি কামনা করেন।  

 

ঢাকায় ‘বগড়্যার মেলা’র উদ্বোধন বগুড়ার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ দাবি তোলার আহ্বান

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বগুড়ার উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ বগুড়া-৬ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম ওমর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বগুড়াবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী দলীয় হুইপ বলেন, বগুড়ার উন্ন্য়নে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি তুললে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। মেলার উদ্ধোধক এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান-এমডি মাহফুজুর রহমান বগুড়ার উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ হওয়া দরকার। আমরা বগুড়ার উন্নয়ন চাই। তবে কী কী উন্নয়ন চাই, সেটা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলতে হবে। এ সময় বগুড়ায় আরো কী কী উন্নয়ন হওয়া দরকার, সংবাদ সম্মেলন করে সেই সংক্রান্ত দাবিসমূহ সরকারের কাছে তুলে ধরতে বৃহত্তর বগুড়া সমিতির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বগুড়া-৬ আসনের এ সাংসদ বলেন, অবহেলিত বগুড়াবাসীকে উন্নয়নে সচেষ্ট হতে হবে। বগুড়ার সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, আপনারা বগুড়ার উন্নয়নে জাতীয় সংসদে প্রকল্প পাস করান। শুধু ছোট নয়, বড় প্রকল্পও পাস করান। সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন থেকে অর্থায়ন করে দেয়ার কথা জানান এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের এ চেয়ারম্যান-এমডি।

ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৩ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম তালুকদার, ওয়ানফার্মার এমডি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়ার টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা, ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম, মেলা কমিটির আহ্বায়ক শামসুল হুদা, যুগ্ম-আহ্বায়ক তৌফিক হাসান ময়না প্রমুখ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ‘আমরা বগড়্যার ছল, পুঁটি মাছ মারবার য্যায়ে ম্যারা আনি ব্যোল’ শিরোনামে বগুড়ার আঞ্চলিক গান পরিবেশন করা হয়। এরপর বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘লাঠিখেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘বগড়্যার মেলাত বাজ্যা উঠুক মহামিলনের ছন্দিত সুর।’ মেলায় স্পন্সর করছে-প্রাণ গ্রুপ। কো-স্পন্সরে রয়েছে-গ্যাটকো, ওয়ানফার্মা ও টিএমএসএস। মিডিয়া পার্টনার-এটিএন বাংলা এবং দৈনিক করতোয়া। মেলায় কিউট, সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস, বগুড়া লেখক, লেখিকা রোমেনা আফাজের বই প্রদর্শনী, গোয়ালা, গোল্ডেন বাংলাদেশ, বগুড়া থিয়েটারের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, লাইট হাইস, ঐতিহ্য বগুড়া, হিমাচল বুটিক, নাজনীন বুটিক হাউস, টিএমএসএস ও দৈনিক করতোয়ার স্টল রয়েছে। দৈনিক করতোয়ার স্টলে দৈনিক করতোয়া ও ভোরের দর্পণ পত্রিকা, বগুড়ার করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, করতোয়া অডিটরিয়াম, করতোয়া প্রিন্টার্স এন্ড পাবলিকেশন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, ন্যাশনাল প্রিন্টিং এন্ড প্রেস সম্পর্কিত তথ্য, করতোয়া ও ভোরের দর্পণের লোগো সম্বলিত সিরামিকের মগ, ক্যাপ, টি-শার্ট, টাই, ব্যাগ, কোর্টপিন ও কলম পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে রাত ৭টায় বৃহত্তর বগুড়া সমিতি শিক্ষা ট্রাস্টের উদ্যোগে বগুড়ার অসচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এরপর বগুড়া ডাইরেক্টরি প্রকাশনা এবং বগুড়া ইয়্যূথ কয়্যার ও ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। এছাড়া হাডসন ফার্মাসিটিক্যালসের এমডি এসএম শফিউজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। আগামী সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে। এ মেলার মধ্য দিয়ে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে পরিচিত করানোর আশা আয়োজকদের।

 

 

জাতীয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে জাতীয় প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি।  বুধবার দুপুরে ক্লাব ভবনে ২০১৭-১৮ মেয়াদে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যরা দায়িত্ব বুঝে নেন। এরপর চলছে বিদায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে নবনির্বাচিতদের যৌথসভা।  

গত ৩১ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পুননির্বাচিত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান একই পদে দায়িত্ব নেন। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরীর  কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নেন ফরিদা ইয়াসমীন। মুহাম্মদ শফিকুর রহমান সভাপতি পদে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচিত হন। আর ফরিদা ইয়াসমীন হলেন প্রেসক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী সাধারণ সম্পাদক। এ সময় আরও দায়িত্ব নেন নির্বাচিত সিনিয়র সহ সভাপতি সাইফুল আলম, সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী ও ইলিয়াস খান, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যার্টাজি এবং  ১০ জন সদস্য পদে শ্যামল দত্ত , মাঈনুল আলম, কুদ্দুস আফ্রাদ, রেজোয়ানুল হক রাজা , মোল্লা জালাল, শামসুদ্দিন আহমেদ চারু, শাহনাজ বেগম, হাসান হাফিজ, কল্যাণ সাহা ও হাসান আরেফিন। এবারের নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শফিকুর রহমান-ফরিদা ইয়াসমীন প্যানেল নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। ১৭ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য পদের মধ্যে এ প্যানেলের প্রার্থীরা ১৪টিতেই জয়লাভ করেন। বিএনপি-জামায়াতের একাংশের প্যানেল থেকে যুগ্ন সম্পাদক পদে ১ জন ও সদস্য পদে ১ জন নির্বাচিত হন। বাকি সদস্য পদটিতে জেতেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। 

৯ম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে ১৮ জানুয়ারি সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

দেশের প্রিন্টিং ও ইলেকট্রোনিক উভয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা আগামী ১৮ জানুয়ারি অবিলম্বে ৯ম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।  রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংগঠনের এক সভায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ওয়েজ বোর্ড ঘোষণায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।


সভায় তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক সমাজের দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় উল্লেখ করে বলা হয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশিত নয়। সভায় আরো বলা হয়, প্রতি ৪ বছরে সাংবাদিকদের একটি নতুন ওয়েজ বোর্ড পাওয়ার কথা, কিন্তু এবার এই ৪ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে ইতোমধ্যেই সাত মাস পেরিয়ে গেছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএফইউজে’র মহাসচিব ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি জাফর ওয়াজেদ ও শহীদুল আলম, যুগ্ম-মহাসচিব অমিয় ঘটক পূলক, কোষাধ্যক্ষ মধুসূদন মন্ডল, ডিইউজে’র সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, মফিদা আকবর, স্বপন দাসগুপ্ত ও শফিউদ্দিন আহমেদ বিটু বক্তৃতা করেন। সভায় বিএএফইউজে’র আওতাধীন সকল ইউনিয়নের প্রতি ওইদিন সকাল ১১টায় নিজ নিজ ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করার আহবান জানানো হয়। ওইদিন ঢাকায় একই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাজপথে এই কর্মসূচি পালিত হবে।

 

ফালুর বিদেশ যেতে বাধা নেই, অনুসন্ধান চলবে

বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুকে বিদেশ যেতে বাধা না দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে দুদেকের আবেদন খারিজ করে  রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ফালুর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন রুহুল কুদ্দুস কাজল ও তাজুল ইসলাম। পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, বিদেশ যেতে বাধা না দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলবে। তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালের ২৭ জুন মোসাদ্দেক আলীকে বিদেশ যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এরপর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তাকে বিদেশ যেতে বাধা না দিতে রায় দেন। এ রায়ের পর তিনি যথারীতি বিদেশে আসা যাওয়া করছেন। এর মধ্যে গত ২৮ নভেম্বর বিদেশ যেতে চাইলে ফের ওনাকে বাধা দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে আবারও হাইকোর্টে রিট করলে দুদকের আইনজীবী আদালতে জানান, ফালুর বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে অনুসন্ধান চলমান থাকায় বিদেশ যেতে বাধা দিতে দুদকের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপর ফালু আবার দুদকের ওই চিঠির বিরুদ্ধে রিট করেন। এ দুই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ফালুকে বিদেশ যেতে বাধা না দিতে নির্দেশ দেন এবং তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রমও চলবে। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

 

নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বৈঠক বর্জন সাংবাদিক নেতাদের

তথ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ঘোষণা না আসায় নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন নিয়ে তার ডাকা বৈঠকে যাননি সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতারা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ৩১ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সেই ঘোষণা হয়নি। সে কারণেই ইউনিয়নের সদস্যদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে আমরা মনে করেছি এরকম বৈঠক যোগ দেওয়াটা অর্থহীন, সেজন্য যাইনি। সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বৈঠকের পর গত ১ ডিসেম্বর এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছিল, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। কিন্তু মন্ত্রী কিংবা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, কেন, কী কারণে এটি হয়নি- তা রহস্যের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবারের এই বৈঠক বর্জনের পর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আবার বুধবার দুপুর ২টায় সভা ডেকে ইউনিয়ন নেতাদের সেই সভায় যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রেস) মাহফুজুল হকের নামে ইউনিয়ন নেতাদের কাছে বিকাল সাড়ে ৩টায় ই-মেইল আসে। তবে ডিইউজে সভাপতি শাবান বলেন, আমরা আর বৈঠক নয়, এখন ওয়েজ বোর্ড গঠনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিইউজের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সর্বশেষ অষ্টম ওয়েজ বোর্ড গঠন হয় ২০১২ সালে। চার বছর অন্তুত নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও চার বছর ৭ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। শাবান মাহমুদ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই আমরা নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি করে এসেছি। এটা আমাদের রুটি-রুজির মৌলিক দাবি। এই দাবির প্রতি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহমত প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছেন। নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে সরকারের এই পর্যন্ত তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।



Go Top