সকাল ১০:৪৩, শনিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে অপহৃত হওয়ার তিনদিন পর সিয়াম নামে দশম শ্রেণীর এক ছাত্র যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হচ্ছে- মাহবুবুর রহমান সুমন, রাব্বি, রাব্বি হাসান, অনন্ত ও তরিকুল। পুলিশ বলছে, গ্রেফতার সুমনের সঙ্গে সিয়ামের পরিবারের আগে থেকে চেনাজানা ছিল। তাকে মামা বলে ডাকতো সিয়াম। আর এই সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে সিয়ামকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সুমন। বুধবার ভোর ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর একটি বাসা থেকে সিয়ামকে উদ্ধার করা হয়।

ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ১৬ জুলাই সিয়ামদের বাসার সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে আসে মাহবুবুর রহমান সুমন। এসময় বাসার বাইরে আসে সিয়াম। মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায় সুমন। এরপর তাকে নিয়ে রাখা হয় যাত্রাবাড়ী থানার দক্ষিণ কাজলীর একটি বাসায়। সেখানে তাকে একটি চেয়ারে হাত-পা ও চোখ বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়। ওয়ারীর ওসি বলেন, ‘অপহরণের পর সিয়ামের বাবা মো. শওকত হোসেন টিপুর কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এতে তিনি মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে আজ বুধবার ভোরে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আসামিদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভিকটিমকে বেঁধে রাখার রশি ও গামছা উদ্ধার করা হয়।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঘুষের টাকাসহ ধরা প্রধান নৌ প্রকৌশলী দুই দিনের রিমান্ডে

নিজের কার্যালয়ে বসে ‘ঘুষ নেওয়ার সময়’ গ্রেফতার নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের হেফাজতে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ঢাকার মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস বুধবার তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এ আদেশ দেন।

একটি জাহাজের নকশা অনুমোদন করতে মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় মঙ্গলবার তাকে হাতেনাতে আটক করে দুদকের একটি দল। এরপর এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদে  বুধবার পাঁচদিনের হেফাজত চান।

শুনানি শেষে বিচারক তাকে দুইদিন হেফাজত নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। শুনানিতে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন ফখরুল ইসলামের আইনজীবী কবির হোসাইন। আদালতে আইনজীবী কবির দাবি করেন, প্রকৌশলী ফখরুল ষড়যন্ত্রের শিকার। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা অভিযোগে।

এসময় ওই দাবির বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, দুদকের নিয়ম অনুযায়ী ফাঁদ পেতে তাকে ধরা হয়েছে। ঘুষের টাকার যে নম্বর আগে জানা যায়, সেই নম্বরের টাকাসহ তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন। ঘটনা পরিষ্কার, এতে কোনো ক্যামোফ্লেজ নেই। বেঙ্গল মেরিন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর কাছ থেকে ‘ঘুষ’ নেওয়ার সময় দুদকের দলটি ফখরুলকে গ্রেফতার করে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছিলেন। অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর ধারা ৫ (ক) অনুযায়ী নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে নকশা জমা হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ অনুমোদন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ফখরুল ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেঙ্গল মেরিনের ২২টি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন সময় প্রতিটি জাহাজের আকার ভেদে পাঁচ থেকে ১৬ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ। তাকে গ্রেফতারের পর দুদক কর্মকর্তা প্রণব জানান, ‘এমভি নওফেল লিহান’ নামের একটি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য গত বছরের ১৩ এপ্রিল আবেদন করা হয়। এর জন্য ফখরুল বেঙ্গল মেরিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এএনএম বদরুল আলমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। বদরুল বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টকে গ্রেফতারে ঘুষ দেওয়ার পূর্ব নির্ধারিত সময় মঙ্গলবার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের চারদিকে দুদকের ১১ সদস্যের একটি দল অবস্থান নেয়। এরপর নিজের দপ্তরে বদরুলের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় ফখরুল ইসলামকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন সাজা লাখ টাকা জরিমানা গৃহকর্মী আদুরিকে নির্যাতন

প্রায় চার বছর আগে মিরপুরের পল্লবীতে নির্মম নির্যাতনের পর শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ময়লার স্তূপে ফেলে রাখার ঘটনায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড  দিয়েছে আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আসামি নদীকে যাবজ্জীবন কারাদাে র পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। ওই অর্থ আদায়ের পর তা নির্যাতিত কিশোরী আদুরিকে দিতে হবে। আর জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের কারাদ  ভোগ করতে হবে নদীকে।

নদীর মা ইশরাত জাহানও এ মামলার আসামি ছিলেন। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। জামিনে থাকা ইশরাত জাহান রায়ের জন্য এদিন আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর তার মেয়ে নদীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর যাবজ্জীবন কারাদে  দি ত নদীকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে।  

২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে ১১ বছর বয়সী আদুরিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে, তার গৃহকর্ত্রী পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ২৯/১, সুলতানা প্যালেসের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা নদী আগের দিন ধারালো চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে, ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে মারাত্মক জখম করে মেয়েটিকে সেখানে ফেলে রাখেন। চার বছর আগের সেই নির্যাতনের স্মৃতি এখনও দুঃস্বপ্ন হয়ে কিশোরী আদুরির ঘুম ভাঙিয়ে দেয়। শরীরে যেসব জায়গায় নির্যাতন করা হয়েছিল, এখনও মাঝেমধ্যে সেসব জায়গায় ব্যথা হয়, চুলকায়। পটুয়াখালী সদর উপজেলার কৌরাখালী গ্রামের প্রয়াত খালেক মৃধার মেয়ে আদুরি এখন পরিবারের সঙ্গেই থাকে। সম্প্রতি পাশের গ্রাম পূর্ব জৈনকাঠীর একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে সে। মামলার রায় জানতে মঙ্গলবার মা শাফিয়া বেগমের সঙ্গে আদালতে এসেছিল আদুরি। সঙ্গে ছিলেন মামলার বাদী আদুরির মামা নজরুল চৌধুরী, খালা শাহিনুর বেগমসহ আরও কয়েকজন। রায়ের পর নজরুল বলেন, ‘ওরা প্রচুর বিরক্ত করেছে। আপসের জন্য চাপ দিয়েছে। আপস করি নাই; কঠিন যুদ্ধ করেছি। আপনারা সাহায্য করেছেন। আপনাদের সাহায্য না পেলে এই মামলা রায়ের পর্যায়ে আনতে পারতাম না।’ আদুরির পরিবারকে এ মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যদি আদুরির পরিবার চায়, তাহলে তার সারা জীবনের কর্মসংস্থান আমরা করে দেব।’ অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়বিচার হয়নি; রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

বিভৎস নির্যাতন: কয়েক বছর আগে স্বামী মারা গেলে নয় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বিপদে পড়েন আদুরির মা শাফিয়া। তখন এলাকার চুন্নু মীর ঢাকায় তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম মাসুদের বাসায় মাসিক ৫০০ টাকা বেতনে আদুরিকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব করলে তিনি রাজি হয়ে যান। ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদুরিকে ডাস্টবিন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের তিন দিন পর পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন আদুরির মামা নজরুল চৌধুরী, যিনি একটি ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে কাজ করেন।

মামলার এজাহারে গৃহকর্ত্রী নদী, তার মা ইশরাত জাহান, স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ এবং তাদের আত্মীয় সৈয়দ চুন্নু মীর ও মো. রনিকে আসামি করা হয়। হাকিমের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আদুরি বলে, গৃহকর্ত্রী নদী তাকে দিনে একবেলা খেতে দিতেন, তাও মুড়ি। মাঝেমধ্যে ভাত দিতেন, তাও শুধু লবণ কিংবা মরিচ দিয়ে। থাকতে দিতেন বেলকনিতে। আর নির্যাতন চলত অহরহ। প্রায়ই গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হত শরীরের বিভিন্ন স্থানে। ব্লেড দিয়ে গালে কেটে একবার সেখানে আগুনও দেওয়া হয়েছিল। ভয়ে এ নির্যাতনের কথা কাউকে বলতে পারেনি আদুরি। মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর ওই বছর ১ অক্টোবর দোষ স্বীকার করে হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেন নদী। তার ভাষ্য ছিল, সংসারে আর্থিক টানাটানিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আদুরি কোনো কাজে ভুল করলে তার খুব রাগ হত। ব্লেড দিয়ে শরীরে পোচ দেওয়া এবং গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দেওয়ার কথাও ওই জবানবন্দিতে নদী স্বীকার করে নেন। তদন্তের পর ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের এসআই কুইন আক্তার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেখানে নওরীন জাহান নদী ও তার মা ইশরাত জাহানকে আসামি করা হলেও বাকি তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ১৬ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দুই আসামির বিচার শুরু করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য শুনে দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই রায়ের দিন ঠিক করে দেন এ আদালতের বিচারক।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি পুলিশের

কবি ও কথা সাহিত্যিক ফরহাদ মজহারকে ফের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টার দিকে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এ সময় স্ত্রী ফরিদা আখতার তার সাথে ছিলেন।

অন্যদিকে দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন জানান, নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে অপহরণের মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে, তার বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবিষয়ে পুলিশের পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে বাতেন বলেন, কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে, মিথ্যা অভিযোগে মামলা করলে পেনাল কোডের (দন্ডবিধি) ২১১ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখে আইনগতভাবে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা দেখা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যে তথ্য এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে তিনি অপহৃত হননি।১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং সেই সঙ্গে উনার কার্যকলাপ ও আমাদের কাছে থাকা তথ্যের মধ্যে কোনো মিল নাই। এই বিষয়টি উনার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তিনি যদি সত্যিকার অর্থে অপহৃত হয়ে থাকেন, তাহলে একমাত্র সাক্ষী তিনি নিজেই এবং যারা অপহরণ করেছে তারা। এই পর্যন্ত তদন্তে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি অপহৃত হননি।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কবি ও লেখক ফরহাদকে শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসা থেকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের মধ্যে গরমিলের বিষয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তদন্তের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ আমাদেরকে তাদের কার্যালয়ে যেতে বলেছিল। আমি ও ফরহাদ মজহার সকাল ১১টায় ডিবি কার্যালয়ে ঢুকি। তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলে নানা বিষয়ে জানতে চান। আমরা যা জানি তাদেরকে বলেছি। পরে একটার দিকে আমরা ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসি।’

উল্লেখ্য, ৩ জুলাই ভোরে মোহাম্মদপুর লিংক রোডের হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপর ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে তিনি স্ত্রীকে ফোন করে জানান, ‘ফরিদা, ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ পরে তার স্ত্রী আদাবর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রাতে র‌্যাব-৬ যশোর নওয়াপাড়া থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে আদাবর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) হাফিজ আল ফারুকের নেতৃত্বে তাকে যশোর থেকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর ফরহাদ মজহারকে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়।

আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি নিজ জিম্মায় যাওয়ার আবেদন করলে শুনানি শেষে তার এই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালত থেকে তাকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে কয়েকদিন আগে বাসায় ফেরেন ফরহাদ মজহার। তার এই অন্তর্ধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সব মহলে আলোচনার মধ্যে তদন্তের সূত্র ধরে গত ১০ জুলাই ঢাকার আদালতে অর্চনা রানি নামে এক নারীকে নিয়ে আসে পুলিশ। নিজেকে ফরহাদ মজহারের শিষ্য দাবি করে এই নারী জবানবন্দিতে বলেন, সেদিন ফরহাদ মজহার তার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই বেরিয়েছিলেন এবং ১৫ হাজার টাকাও পাঠিয়েছিলেন। ১৩ জুলাই পুলিশ মহা পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় খুলনা গিয়েছিলেন, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার দিন কয়েকবারের টেলিফোন কথোপকথনের এক পর্যায়ে ফরহাদ মজহার তার স্ত্রী ফরিদা আখতারকে অপহরণের কথা বলতে মানা করেন বলেও দাবি করেন আইজিপি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আদুরীকে নির্যাতনের দায়ে গৃহকর্ত্রী নদীর যাবজ্জীবন

১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী আদুরীকে নির্যাতন করে মৃত ভেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার দায়ে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার ৩নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। অপর আসামি নদীর মা ইসরাত জাহান খালাস পেয়েছেন।  

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) আলোচিত আদুরী নির্যাতন মামলার এ রায় দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার।

রায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে নদীকে। এ টাকা নির্যাতিত আদুরীকে দিতে হবে।

নিজের ওপর চার ‍বছর আগে ঘটা নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতনের মামলার রায় শুনতে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে এসেছিল আদুরী। সঙ্গে ছিলেন তার মা সাফিয়া বেগম, খালা শাহিনুর বেগম ও মামা মামলার বাদী নজরুল চৌধুরীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের পূর্ব জৈনকাঠি গ্রামের বাড়ি থেকে বর্তমানে ১৪ বছরের কিশোরী আদুরী ও পরিবারের বেশ কয়েকজন লঞ্চযোগে সোমবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকায় আসেন। রাতে উত্তর বাড্ডায় আদুরীর দুলাভাইয়ের বাসায় অবস্থান করে মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসেন তারা।  

মামলার দুই আসামির মধ্যে গ্রেফতারকৃত আদুরীর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জামিনে থাকা অপর আসামি নদীর মা ইশরাত জাহানও আদালতে ছিলেন।

২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ও ডিওএইচএস তেলের ডিপোর মাঝামাঝি রেললাইন সংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কঙ্কালসার ও মৃতপ্রায় গৃহকর্মী আদুরীকে। উদ্ধারের সময় তার শরীরে ছিলো অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন।

পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ২৯/১, সুলতানা প্যালেসের দ্বিতীয় তলায় সাইফুল ইসলাম মাসুদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো শিশু আদুরী।    

দীর্ঘদিন মারধর, গরম খুন্তি ও ইস্ত্রির ছ্যাঁকা, ব্লেড দিয়ে শরীর পোঁচানো, মাথায় কোপ, মুখে আগুনের ছ্যাঁকা, খেতে না দেওয়াসহ নানা নির্মম-নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে মৃত ভেবে ওই ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন মাসুদের স্ত্রী গৃহকর্ত্রী নদী ও তার পরিবারের লোকজন।

প্রায় দেড় মাস আদুরীকে চিকিৎসা দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যখন তাকে রিলিজ দেওয়া হয়, তখনও সে ভালোভাবে কথা বলতে পারতো না। শরীর ছিলো প্রচণ্ড দুর্বল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওই বছরের ০৭ নভেম্বর আদুরী চলে যায় পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে।

নির্যাতনের ঘটনায় তিনদিন পর ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের দুলাভাই চুন্নু মীর ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা করেন আদুরীর মামা নজরুল চৌধুরী।  

তবে পুলিশি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে মাসুদ, চুন্নু মীর ও রনিকে বাদ দেওয়া হয়। তদন্তে নদীর মা ইসরাত জাহানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় নতুন করে তাকে আসামি করা হয়।

মামলার দিনই ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় নদীকে। গ্রেফতারের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদুরীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে ওই বছরের ০১ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

আদুরীও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। সে বলেছিল, গৃহকর্ত্রী নদী তাকে দিনে একবেলা খেতে দিতেন, তাও মুড়ি। মাঝে মধ্যে ভাত দিতেন, তাও শুধু লবণ কিংবা মরিচ দিয়ে। থাকতে দিতেন ব্যালকনিতে। আর নির্যাতন চলতো অহরহ।

২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী ও তার মা ইসরাত জাহানকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের এসআই কুইন আক্তার।


চার্জশিটে বলা হয়, আগেরদিন ধারালো ছুরি দিয়ে গৃহকর্মী আদুরীর শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে, ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে গৃহকর্ত্রী নদী মারাত্মক জখম করে শিশুটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসেন।

২০১৪ সালের ০৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষে গত ০৯ জুলাই রায়ের দিন ১৮ জুলাই ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বাদীপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আদুরীর পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট ফাহমিদা আক্তার রিংকি।

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীতে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি

রাজধানীর দিলু রোডে দিনদুপুরে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকাল নয়টার দিকে চালককে পাশের সিটে বসিয়ে নিজ গাড়ি চালিয়ে বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। আনোয়ার বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। বাংলামোটর এলাকার নুরজাহান টাওয়ারে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। তার গাড়ি চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ব্যবসায়ীক বিরোধ নাকি অন্য কোন ঘটনার জের ধরে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

ওই অফিসের মার্কেটিং কর্মকর্তা তানভীর জানান, আনোয়ার হোসেন নিউ ইস্কাটন এলাকার ৯ নম্বর বাসায় থাকেন। সোমবার সকালে বাসা থেকে প্রাইভেটকারযোগে নুরজাহান টাওয়ারের অফিসে যাওয়ার পথে দীলু রোডের মাথায় ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে গাড়িতে বসে থাকা আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস জানান, ঘটনাস্থলের ব্র্যাক ব্যাংকের সিসি ক্যামেরা অকার্যকর থাকায় অস্ত্রধারীদের সরাসরি সনাক্ত করা যায়নি। তবে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। ওই ব্যাংকের ক্যামেরা বন্ধ থাকার রহস্য জানার চেষ্টা চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই ব্যবসায়ীর বাম পাজোরে গুলি লেগেছে। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর লাঙ্গলগোরা গ্রামের মৃত মিয়া উল্লাহর ছেলে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীতে স্কুল শিক্ষিকা নিখোঁজ

দুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ হয়েছেন রাজধানীর ধানমন্ডির ম্যাপল লিভ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গণিত বিষয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসি ইকরাম ফৌসিয়া (৩১)। গত ২ জুলাই রাতে গ্রীণ রোড়ের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি এই খ্যাতনামা ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা। মোবাইলও বাসায় রেখে গেছেন তিনি। পরদিন তার বাবা ইকরামউল্লাহ কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ফৌসিয়া অত্যন্ত ধার্মিক-পর্দানশীল ছিলেন, হেজাব পড়তেন। তিনি কোথায় গেছেন, স্বেচ্ছায় নাকি অপহরণ এমন সব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পরিবারও পুলিশকে কোন ক্লু দিতে পারছে না।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা শিক্ষিকার স্কুলে, পরিচতজনের কাছ থেকে এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছেন। ফৌসিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, ঈদের পর স্কুল খুললেও ফৌসিয়া আর আসেননি। শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে তারা কয়েকদিনের মাথায়ই নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফৌসিয়াদের মাল্টি প্লাজা অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ার টেকার হোসেন পুলিশকে জানিয়েছে, ঘটনার রাতে বৃষ্টি ছিল। এ সময় ফৌসিয়ার বাবা কেয়ারটেকারকে মেয়ে ফেরেনি বলে জানায়। এরপর কেয়ারটেকার আশেপাশের হাসপাতাল ও তাদের নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বাসা থেকে ফৌসিয়ার বের হওয়ার বিষয়ে কেয়ারটেকার বলেছেন, ‘সাধারণত তিনি সকাল ৮ থেকে ৯ টার মধ্যেই বাসা থেকে বের হতেন, সন্ধ্যার পর পর বাসায় ফিরতেন। কিন্তু ঘটনারদিন তিনি সকালে বাসা থেকে বের হননি। সন্ধ্যায় যখন বের হয় তখনও আমরা দেখি নি, তবে তার বাবা বলেছেন, ফৌসিয়া তিনি নাকি রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছে।’ তিনি জানান, তারা খুবই পরহেজগার পরিবার, ফৌসিয়াও পর্দানশীল ছিল ও হিজাব করতেন। চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে বড়।

কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি, তার মোবাইল বাসায় রেখে যাওয়ায় তাকে ট্র্যাকিং করা সম্ভব হচ্ছে না।’ জানা গেছে, ফৌসিয়া ওই স্কুলে চারবছর ধরে চাকরি করতেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

১২ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান আশুলিয়ায় রাতভর গোলাগুলি দুপুরে ৪ জঙ্গির আত্মসমর্পন

ঢাকার আশুলিয়ায় নয়ারহাট চৌরাবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানায় টানা ১২ ঘন্টা অভিযান চালানোর পর আত্মসমর্পন করেছে নব্য জেএমবির সরোয়ার তামিম গ্র“পের চার সদস্য। তারা হচ্ছেন- মোজাম্মেল, ওরফানুল, আলমগীর ও রাশেদুল নবী। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির মালিক ও পাশ্ববর্তী এক দোকান মালিককে আটক করা হয়েছে।  রোববার দুপুরে ওই জঙ্গিরা আত্মসমর্পন করে। র‌্যাব ক্যাম্পের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে এমন জঙ্গি আস্তানা পেয়ে হতবাক র‌্যাবও।

আজাদ নাম জানিয়ে এক লোক গার্মেন্টকর্মী পরিচয় দিয়ে গত মাসে আড়াই হাজার টাকায় টিনশেডের ওই বাসা ভাড়া নেন বলে আটক বাড়ি মালিক ইব্রাহীম র‌্যাবকে জানিয়েছেন। অভিযান চলাকালে ওই আস্তানার এক কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওই আস্তানা থেকে দুটি পিস্তল, ৩টি তাজা বোমা, জিহাদি বই ও পনড্রাইভ উদ্ধার হয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

আত্মসমর্পণের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ওই বাড়ির ভেতরে কয়েকটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) পাওয়া গেছে।  তা নিষ্ক্রিয় করেছে বোম ডিসপোসাল ইউনিট। ওই চার জঙ্গির পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ করা সবাই সরওয়ার তামিম-গ্র“পের সদস্য।

হলি অর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ তামিম দ্বারীকে গত এপ্রিলে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়েছিলেন ঢাকার আশে-পাশে বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে জঙ্গিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। মুফতি মাহমুদ বলেন, গত মাসে পোশাক শ্রমিক বলে ওই বাসাটি ভাড়া নেয় তারা। বাড়ির মালিক তাদের প্রতি সন্দেহ করলে র‌্যাবের কাছে যায়। এরপর র‌্যাব ওই বাড়িতে নজরদারি বাড়ায়। পরে গত শনিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে ওই বাড়িটি ঘিরে ফেলে র‌্যাব। অন্যান্য জঙ্গি অপারেশনের সঙ্গে এই অপারেশনের কোনো পার্থক্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই জঙ্গি অপারেশনে সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। এভাবে অভিযান করা গেলে উদ্ধার করা জঙ্গিদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় এবং অন্য অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়। এর আগে শনিবার রাতে বাড়িটি ঘিরে ফেললে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে দুই দফায় কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এরপর র‌্যাব সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান : মুফতি মাহমুদ খান জানান, এপ্রিলের শেষ দিকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্র“পের কয়েকজনকে আটক করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা জানতে পারেন, এই জঙ্গি দলের কয়েকটি গ্র“প দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। এর সূত্র ধরে বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাবের গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানো হলে আশুলিয়ায় এই বাড়ির সন্ধান মেলে। র‌্যাব-৪ এর একটি দল শনিবার রাত ১টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা র‌্যাব-৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি লুৎফুল কবীর বলেন, শনিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বাড়ির ভেতরে থাকা ‘জঙ্গিরা’ র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে কমপক্ষে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এরপর রোববার সকাল ৬টার দিকে আবারও গুলি করে তারা। কয়েকটি বোমাও ছোড়া হয়। জবাবে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন।

লুৎফুল কবীর জানান, বাড়ির ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসম্পর্ণ করার জন্য হ্যান্ডমাইকে বেশ কয়েকবার আহ্বান জানানো হলেও তখন তারা সাড়া দেয়নি, বরং র‌্যাব সদস্যদের ‘তাগুতির দল’ আখ্যায়িত করে তারা গালিগালাজ করে। আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দলও সকালে ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের বাড়িগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্স ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়। সকাল ৯টার পর র‌্যাবের একটি এপিসি ওই বাড়ির কাছাকাছি যেতে দেখা যায়। আকাশে একটি হেলিকপ্টারও চক্কর দিতে দেখা যায়।

বাড়ির ভেতরে থাকা ‘জঙ্গিদের’ উদ্দেশে হ্যান্ড মাইকে বলা হয়, বেলা ১২টার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে র‌্যাব চূড়ান্ত অভিযানে যাবে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাড়ির দিক থেকে একটানা বেশ কিছুক্ষণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ আসে। এরপর ১২টার দিকে একজন বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করে। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আত্মসমর্পণের পর সে জানায়, ভেতরে আরও তিনজন রয়েছে। কোনো নারী বা শিশু তাদের মধ্যে নেই। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যে একে একে বাকি তিনজনও বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের জীবিত ধরা, এ কারণে আমরা সময় নিয়েছি।’ র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবদুল হাকিম জানান, চারজন ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করেন। পরে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এ অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। র‌্যাব-৪-এর এরিয়া কমান্ডার মেজর আব্দুল হামিদ বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানায় তিনটি বোমা পাওয়া গেছে, যা নিষ্ক্রিক্রয়ও করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে আস্তানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে আর কিছু পাওয়া যায়নি। সেজন্য অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই চূড়ান্ত: আইনমন্ত্রী

উচ্চ আদালতের বিচারক সংকট সমাধানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। চলতি বছরের ২৯ মে বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে ২ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তার আগেও আপিল শুনানিতে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে দফায় দফায় সময় নেয় সরকারপক্ষ। গত মাসে শেষবারের মতো আবারও সময় পায় রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর আগে ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

এ জন্য বারবার আদেশ দিতে হয়েছে আপিল বিভাগকে। এমনকি, ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার মামলাও করতে হয়েছে বাদীপক্ষকে। এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করেন।উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোট। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আদালত প্রাঙ্গণে ইমরানের উপর ডিম হামলা

প্রধানমন্ত্রীর মানহানির মামলায় জামিন নিয়ে ফেরার পথে আদালত প্রাঙ্গণেই আক্রান্ত হয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়িতে ডিম ছুড়ে মারে একদল লোক। এসময় ‘জয় বাংলা/জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ইমরানের দুই গালে/ জুতা মারো তালে তালে’ শ্লোগান দিতে থাকেন তারা, যাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীও ছিলেন। ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদী মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ইমরান ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী সনাতন উল্লাস। ঢাকার মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ জামান তাদের জামিনের আবেদন শুনে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তা মঞ্জুর করেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী গত ৩১ মে এই মামলা দায়ের করেন। আর্জিতে তিনি বলেন, গত ২৮ মে মশাল মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘যে কটূক্তি’ করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি ক্ষুব্ধ, অপমানিত।

ইমরান ও সনাতনের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন আইনজীবী প্রকাশ বিশ্বাস, জীবনানন্দ জয়ন্ত ও তানজিম আল ইসলাম। বাদীপক্ষে ছিলেন নোমান হোসাইন তালুকদার।

বেলা ১২টার দিকে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় ২৫-৩০ জনের একটি দল ইমরানের গাড়ির দিকে পচা ডিম ছুড়ে মারে। তখন গাড়িটি ঘুরে আবার আদালত চত্বরে ঢুকে যায়। তিনি বলেন, এসময় মামলার বাদীসহ অন্যরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘কত বড় সাহস! ছাত্রলীগই তাকে ইমরান বানিয়েছে। আর এখন সে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলে’। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। এর পরপরই নিরাপত্তারক্ষীরা আদালতের ফটক বন্ধ করে দেয়। ইমরানদের অন্যতম আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, এটা পরিকল্পিত হামলা বলে আমাদের ধারণা। পরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইমরান ফেইসবুকে লিখেছেন, আদালত চত্বরে আমাদের উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা। আদালতেও যদি হামলা হয় তাহলে আদালতের প্রতি মানুষ কীভাবে শ্রদ্ধা জানাবে? আদালতেও যখন পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে তখন এই দেশটাকে আর কোনোভাবেই সভ্য দেশ বলা যায় না। এই দেশটা এখন মাস্তান, সন্ত্রাসী আর ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। এদিকে আহ্বায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ন্যক্কারজনক এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আজ (রোববার) বিকাল ৫টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বিচার পায়নি সোহাগী

স্টাফ রিপোর্টার: বাবা মারা যাওয়ার পর মায়েরও বিয়ে হয়ে যায় অন্যত্র। আশ্রয়হীন এতিম শিশু সোহাগীর (১০) গৃহকর্মী হিসেবে ঠাঁই হয় মগবাজারের দিলু রোডের একটি বাসায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সোহাগী শিশু বয়সেই অন্যের বাসায় কাজ শুরু করে। কিন্তু তার জন্য যে আরো নির্মমতা অপো করছিল কে জানতো? তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সোহাগীর শরীরে গরম পানি ও গরম ভাতের মাড় ঢেলে দিতেন গৃহকর্তী। তারপর পুড়ে যাওয়া শরীরের তে ঢেলে দিতেন হারপিক। ভুলক্রমে একদিন ঘরের মেঝেতে ঘুমানোর অপরাধে তার বুকে পাড়া দিতেও ভোলেননি গৃহকর্তী।

 কারণ সোহাগীকে পেপার বিছিয়ে বাথরুমে থাকতে দিতেন তারা। দু’একদিন নয়, এভাবে টানা দেড় বছর ধরে নির্মম নির্যাতন সহ্য করার পর র‌্যাবের হাতে উদ্ধার হয় শিশু সোহাগী। এর পরেও কেটে গেছে প্রায় সাত বছর। এতোদিনে হয়তো সোহাগীর শরীরের নির্যাতনের ত কিছুটা হলেও মুছে এসেছে, কিন্তু শেষ হয়নি বিচার প্রক্রিয়া। ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর দিলু রোডের ২৭/এ নম্বর বাসা থেকে মারাত্মক আহতাবস্থায় সোহাগীকে উদ্ধারসহ গৃহকর্তী কাজী মাহরুনা রহমান লিমা (৩০) ও গৃহকর্তা মো. মশিউর রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার করে র‌্যাব।

 

এদিন রাতেই র‌্যাব-৩ মগবাজার ক্যাম্পের তৎকালীন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সোলায়মান হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় নারী ও শিশু নির‌্যাতন দমন আইনে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (মামলা নং ৬৩) দায়ের করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ. কুদ্দুস ফকির আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ওই বছরের ২২ নভেম্বর। এরপর ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত চার্জ গঠন করে স্ব্যা গ্রহণ শুরু করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি। আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সাড়ে ছয় বছর পার হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার কাজ। আর এদিকে দুই আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

 গত সাড়ে ছয় বছরে স্যা গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বহুবার। তবে মামলায় ১২ জন সাীর মধ্যে স্যা দিয়েছেন মাত্র পাঁচজন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ জুন শুনানি শেষে আগামী ১৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সোহাগীর চিকিৎসা খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেবে- এই মর্মে মশিউরকে জামিন দেন আদালত। এই মামলার আইনি সহায়তা দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট ফারহানা রহমান  বলেন, এ ধরনের একটা চাঞ্চল্যকর মামলার এখনো রায় হয়নি।

 

এর অন্যতম কারণ মামলার সাীদেরকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়, কিন্তু তারা আসেন না। তিনি বলেন, দুই নম্বর আসামির জামিনের পর এক নম্বর আসামিও জামিনে রয়েছেন। তবে আমরা আর একজনের স্যা গ্রহণের চেষ্টা করবো। আশা করছি এ বছরের মধ্যেই বিচারকাজ শেষ হবে। সোহাগীকে আসামি যে তিপূরণ দিয়েছিলেন সেটা এখনো আদালতে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায়ের আগেই টাকাটা আদায়ের চেষ্টা করা হবে। সোহাগী বর্তমানে তেজগাঁওয়ের সরকারি শিশু আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে।

 চার্জশিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আ. কুদ্দুস ফকির উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের জুন থেকে সোহাগী ওই বাসায় কাজ শুরু করে। লিমা গরম পানি, গরম ভাতের মাড় সোহাগীর শরীরে ঢেলে দিতেন। ফলে তার ঘাড়, গলা, বুক পিঠসহ সারা শরীর পুড়ে ফোসকা হয়ে পরবর্তীতে ঘা হয়ে যায়। তারপর সেই ত স্থানে ঢেলে দিতেন বিষাক্ত হারপিক। যার ফলে সারা শরীর পুড়ে ঝলসে যায়। চার্জশিটে আরো উল্লেখ করা হয়, সোহাগী একদিন আসামিদের মেয়ের ঘরের মেঝেতে ঘুমায়। সে অপরাধে লিমা তার বুকে পাড়া দেন। পানির ট্যাপ বন্ধ না করায় ছুরি দিয়ে সোহাগীর বাম হাত কেটে দেন। মশিউরও রড দিয়ে সোহাগীর তার ডান হাতের কনুইতে আঘাত করে জখম করেন। তারা সোহাগীকে ঘরের বাইরে আসতে দিতেন না।

 এমনকি বারান্দায়ও না। মামলায় অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (নং- ৪৭০) দাখিল করে চার্জ গঠনের আবেদন জানানো হয়। মামলার এজাহারে বাদী সোলায়মান উল্লেখ করেন, তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর দুপুরে দিলু রোডের ওই বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের কথা জিজ্ঞাসা করলে আসামিরা সোহাগীকে সামনে আনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সামনে আনলে সোহাগীর হাতে-পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক কাটা দাগ, জখম দেখা যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

 

ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় গেছেন: আইজিপি

পুলিশ মহা পরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় খুলনা গিয়েছিলেন, অপহরণের কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।  বৃহস্পতিবার ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের এই অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরেন তিনি।    

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার তার অন্তর্ধানের বিষয়ে যা বলেছেন, তারে সত্যতা নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিল পুলিশ। বরং ফরহাদ মজহারের ‘ভক্ত’ হিসেবে পরিচয়দানকারী অর্চনা রানির বক্তব্যের সঙ্গে তদন্তে মিল পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল পুলিশের পক্ষ থেকে। কেন ফরহাদ মজহারের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ, সেই কারণগুলো তুলে ধরে আইজিপি শহীদুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ পর্যন্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা যতটুকু পেয়েছি, উনি অপহৃত হননি, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন। ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে ‘অপহৃত’ হন বলে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের অভিযোগ। পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসন্ধান শুরুর পর সেই রাতেই যশোরে এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ফরহাদ মজহারকে পাওয়া যায়। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

আর ফরিদা আখতারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদাবর থানায় নথিভুক্ত মামলায় বলা হয়, ফরহাদ মজহার তার ফোন থেকে স্ত্রীকে পাঁচবার কল করে বলেন, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে। আইজিপি বলেন, সেদিন উনি স্ত্রীর সাথে দশবার এবং আরেকটি মোবাইলে (অর্চনা রানি) ছয়বার কথা বলেছেন। তার কাছ থেকে ওই মোবাইলে একটি এসএমএসও এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দ্বিতীয় নম্বরটির সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই ফোনের মালিক ঢাকার ভাটারায় আছেন। পরে মোবাইল ট্র্যাক করতে গিয়ে দেখেন, ফোনের মালিক চট্টগ্রামে চলে গেছেন। পরে জানতে পারি,  তিনি একজন নারী। তিনি ফরহাদ মজহারের পূর্ব পরিচিত। তাদের মধ্যে ওইদিন (অন্তর্ধানের দিন)

কথোপকথন হয়। পরে আমরা তার জবাবন্দি রেকর্ড করাই। আইজিপি বলেন, ৩ জুলাই সকালে ফরিদা আখতার যখন থানায় লোক পাঠিয়ে অভিযোগ জানান, ফরহাদ মজহারের অবস্থান তখন ছিল আরিচা ঘাটের পরে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তখন আরিচার পর থেকে সব মাইক্রোবাসে তল্লাশি শুরু করে। কিন্তু কোনো মাইক্রোবাসে তাকে পাওয়া যায়নি। সেদিন বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খুলনা নিউ মার্কেট এলাকায় ফরহাদ মজহারের চলাফেরার সিসিটিভি ভিডিও পাওয়ার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে জানান শহীদুল হক। তিনি বলেন, ওই নারীকে ফরহাদ মজহার রকেটের মাধ্যমে দুই দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠান। আর স্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ডও পুলিশের হাতে আছে। তাই আমাদের কাছে এ পর্যন্ত প্রতীয়মান হচ্ছে, উনি অপহৃত হননি, উনি স্বেচ্ছায় গেছেন। আমার মনে হচ্ছে, উনি বাসে করে খুলনায় গিয়েছিলেন, কারণ আমরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করেছি।

এই বিভাগের আরো খবর

তারেকের শাশুড়ির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপিল বিভাগে বাতিল

সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে করা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলা বাতিল করেছে আপিল বিভাগ।

একইসঙ্গে ওই নোটিসের কার্যকারিতা বাতিল করে সম্পদ বিবরণী চেয়ে ফের নতুন করে নোটিস দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইকবাল মান্দ বানুর লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ  বৃহস্পতিবার এ রায় দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রাগিব রউফ চৌধুরী ও জাকির হোসেন ভূইয়া। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, সম্পদ বিবরণী চেয়ে দেওয়া নোটিসের প্রেক্ষাপটে করা মামলা বাতিল করে দিয়েছে। নতুন করে নোটিশ দেওয়ার জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, নোটিস দেওয়ার সময় ইকবাল মান্দ বানু দেশে ছিলেন না। তার তত্ত্বাবধায়কের কাছে নোটিশ দেওয়া হয়। এ যুক্তিতে আদালত মামলাটি বাতিল করে দিয়েছেন। তবে সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে দুদক নতুন করে নোটিস দিতে পারবে।

বিচারিক আদালতে থাকা এ মামলায় দেড় বছর আগে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও কয়েক দফা পিছিয়ে ১৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য রাখা ছিল। জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালে তারেক রহমানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলাকালে ইকবাল মান্দ বানুর নামে-বেনামে ‘বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পেয়ে’ ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি তার সম্পদের হিসাব চেয়ে ওই নোটিশ দিয়েছিল দুদক। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক আর কে মজুমদার ঢাকার রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সাত্তার সরকার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ওই অভিযোগপত্র দিলে ২৬ জানুয়ারি হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন তারেকের শাশুড়ি। ওই আবেদনে দুদকের নোটিস বাতিল করে নতুন নোটিস দেওয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা না করার আরজি জানানো হয়।

আবেদনটি গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চে খারিজ হয়ে গেলে এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল করেন ইকবাল মান্দ বানু। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আবেদনটির নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার রায় দিল আপিল বিভাগ। সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদক ২০১২ সালে নোটিস পাঠানোর পরও হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন ইকবাল মান্দ বানু। ওই আবেদনে নোটিসের বিরুদ্ধে তিনি স্থগিতাদেশ পেলেও দুদক আপিল করলে হাই কোর্টের ওই আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইকবাল মান্দ বানু সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় দুদক তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল।

এই বিভাগের আরো খবর

ফরহাদ মজহারের জবানবন্দি আর তদন্তে পাওয়া তথ্যের মিল নেই

অপহরন সংক্রান্ত যে জবানবন্দি কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার দিয়েছেন, তার সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের মিল নেই বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। দুই একদিনের মধ্যেই পুলিশ প্রধান এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানিয়ে দেবেন বলেও জানান ডিএমপি প্রধান। বুধবার দুপুরে ডিএমপির সদর দফতরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বিষয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অন্যদিকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ মজহার রহস্য তিনি স্পষ্ট করবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এই অপহরণ নিয়ে অত্যন্ত রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ ফরহাদ মজহার সাহেব বিজ্ঞ আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা যে ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি, সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি, কল লিস্ট পেয়েছি, বস্তুগত সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়েছি, তার সঙ্গে তার বক্তব্যের মিল নেই।’ কমিশনার আরো বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এই তথ্যের বিচার বিশ্লেষণ চলছে। তদন্তে সঠিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য আমাদের আরও দু-একদিনের মত সময় লাগবে।’ সম্মানিত আইজিপি স্যার দু-একদিনের মধ্যে এই বিষয়ে সু-স্পষ্ট তথ্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবেন বলেও কমিশনার জানান।

ডানপন্থি অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত কবি প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে ঢাকার শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে ‘অপহৃত’ হন বলে তার পরিবারের অভিযোগ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে অনুসন্ধান শুরু করে এবং রাতে যশোরে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় যে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, পরে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। ঢাকায় নিয়ে আসার পর ফরহাদ মজহারকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, সোমবার ভোরে ওষুধ কেনার জন্য তিনি বাসা থেকে বের হলে কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। আর মামলায় বলা হয়, ফরহাদ মজহার তার ফোন থেকে স্ত্রীকে পাঁচবার কল করে বলেন, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে।

ওইদিন রাতে যশোরের বাসে ফরহাদ মজহারের খোঁজ পাওয়ার আগে খুলনা নিউ মার্কেট এলাকার ‘নিউ গ্রীল হাউস’র মালিক আব্দুল মান্নান দাবি করেন, তার রেস্তোরাঁয় ফরহাদ মজহার ভাত খেয়েছেন। পরে টিভিতে ফরহাদ মজহারের ছবি দেখে তিনি র‌্যাবকে খবর দিলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের নওয়াপাড়ায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাস থামিয়ে শেষের সারির আসনে ফরহাদ মজহারকে পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

খুলনার শিববাড়িতে হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ব্যবস্থাপক নাজমুস সাদাত সাদী পরদিন জানান, ফরহাদ মজহার সেদিন তার কাউন্টার থেকে ‘গফুর’ নামে টিকেট কাটেন। সোয়া ৯টার দিকে কোচটি রয়্যাল মোড় শিববাড়িতে এলে ফরহাদ মজহার গাড়িতে ওঠেন। কাউন্টার ব্যবস্থাপক সাদীকেও পরে পুলিশ ঢাকায় নিয়ে আসে এবং গত ৬ জুলাই হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় তার বিচারিক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর ফরহাদ মজহারের প্রতিষ্ঠান উবিনীগের সাবেক একজন নারী কর্মীকে পুলিশ সোমবার ঢাকার আদালতে হাজির করে এবং তিনিও হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তাতে তাদের ধারণা হয়েছে, ফরহাদ মজহারের বিষয়টি ‘অপহরণের কোনো ঘটনা নয়’।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

হাসনাত করিমের জামিন আবেদন ফের নাকচ

গুলশান হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যায়ের সাবেক শিক্ষক আবুল হাসনাত রেজা করিমের (হাসনাত করিম) জামিন আবেদন ফের নাকচ করেছে ঢাকার জজ আদালত। মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির পর বুধবার তা নাকচ হয়।
হাসনাত করিমের আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান জামিন আবেদনটি করেছিলেন। মামলার এজাহারে হাসনাত করিমের নাম না থাকার বিষয়টি শুনানিতে তুলে ধরেন তার এই আইনজীবী।

শুনানিতে মান্নান খান বলেন, অন্য কোনো আসামি কোনো জবানবন্দিতে তার নাম বলেন নি। মোবাইল কললিস্টে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। নর্থসাউথ থেকে আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি শান্তিপ্রিয়; কুচক্রীমহল তাকে জড়িয়েছে। এছাড়া তিনি কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন বলেন, এটি হলি আর্টিজানের মামলা, এই মামলায় সে জড়িত। অভিযোগপত্রে তার নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর একটি বিষয়- আসামির বয়স বিবেচনায় এতগুলো অসুখ একসাথে থাকার কথা নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। ওকালতনামায় আইনজীবী শাহদীন মালিকের নাম থাকলেও তিনি শুনানিতে ছিলেন না। আসামি হাসনাত করিমকেও আদালতে আনা হয় নি।

গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জন নিহত হন। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অপারেশন থান্ডারবোল্টের ঠিক আগে সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৩ জন। পুলিশের হিসাবে, সকালের এই ১৩ জনসহ হামলার পর বিদেশি নাগরিক ও হোটেল কর্মচারীসহ মোট ৩২ জন জীবিত উদ্ধার পাওয়া যায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও হাসনাত করিম এবং কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান বাসায় ফেরেননি বলে তাদের পরিবার জানায়। এরপর গতবছর ৩ আগস্ট তাদের দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের কথা জানায় পুলিশ। এর মধ্যে তাহমিদকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও হাসনাতকে গুলশান হামলার মূল মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। হলি আর্টিজানে হামলার পরদিন ভোরে পাশের ভবন থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ পেলে হাসনাতের সঙ্গ জঙ্গিদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ জোরালো হয়ে ওঠে। ওই ভিডিওতে অস্ত্র হাতে তাহমিদকেও দেখা গিয়েছিল এক জঙ্গির সঙ্গে।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে হাসনাতকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতি দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের খবর। হালি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযানে যে পাঁচ হামলাকারী নিহত হন, তাদের মধ্যে নিবরাজ ইসলামও ঢাকার এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পুলিশকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ থেকে আদালতের রায়ে খালাস পান তাহমিদ। তিনি মুক্তি পেলেও গুলশান হামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার হাসনাত কারাগারেই আছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

খালাস ১৪৪৭ আনসারকে চাকরিতে বহালের নির্দেশ

১৯৯৪ সালের আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত ১ হাজার ৪৪৭ জন আনসার সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে চাকরিচ্যুতদের করা পৃথক কয়েকটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সোমবার দেওয়া রায়ে এ আদেশ দেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ের পরে রিটকারীদের আইনজীবী সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১৪৪৭ জনের মধ্যে যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে অথবা যারা চাকরি করতে অক্ষম, তাদেরকে চাকরির সময়সীমা অনুসারে পেনশন সুবিধা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। ১৯৯৪ সালের ৩০ নভেম্বর সাতটি দাবি-দাওয়া নিয়ে আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একই বছরের ২ ডিসেম্বর লালমনিরহাটেও অসন্তোষের কারণে বিদ্রোহ ঘটে। ৪ ডিসেম্বর ওই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসার পর অনেক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে সবাই মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পান। চাকরিচ্যুত আড়াই সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে কিছু কর্মকর্তা চাকরিতে পুনর্বহাল হন। বঞ্চিতরা পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২০১০ সালে তাদের নিয়োগ দিতে বললেও কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তীতে কিছু আনসার সদস্য হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৩ এপ্রিল ২৮৯ জন আনসার সদস্যকে চাকরিতে পুর্নবহালের পক্ষে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর আরও ১ হাজার ৪৪৭ জন সদস্য হাইকোর্টে দু’টি রিট করেন। রিট দু’টির রায় সোমবার ঘোষণা করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

ইলিয়াসের স্ত্রীকে বিদেশে যেতে বাধা নয়: হাই কোর্ট

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে বিদেশে যেতে বাধা না দিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। লুনার করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এম ফারুকের হাই কোর্ট বেঞ্চে গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুনার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আরেক উপদেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম। লুনার অন্যতম আইনজীবী সগির হোসেন লিয়ন আদেশের পর জানান, এ বিষয়ে আদালত একটি রুলও জারি করেছে।

যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে তাহসিনা রুশদীর লুনাকে বাধা দেওয়া ‘কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’- তা জানতে চাওয়া হয়েছে ওই রুলে। স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ডিজি (পাসপোর্ট), ওসি ইমিগ্রেশন ও এসবির ডিজিক চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে হবে। অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম বলেন, আদালত শর্ত সাপেক্ষে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, তার বিদেশ ভ্রমণে বাধা না দিতে। অর্থাৎ যদি তার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে, তবে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না। ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস এবার যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করছেন। অভিভাবক হিসেবে আগামী সপ্তাহে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় রোববার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় বলে লুনার অভিযোগ। রোববার তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে লন্ডনে যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস পাওয়ার পরও দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রেখে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে জানায়, ছেলে-মেয়েরা যেতে পারলেও তিনি যেতে পারবেন না। ওই পরিস্থিতিতে মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ও ছেলে লাবিব সারারকে নিয়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা জানান লুনা। তাকে আটকে দেওয়ার বিষয়ে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। বিএনপির অভিযোগ, সরকার তাকে ‘গুম’ করেছে। তবে বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সরকার। ইলিয়াস বিএনপির গত কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সিলেট জেলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি।

রাজধানীতে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৬

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৬ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহম্মেদ। রোববার বিকালে নারী সদস্যসহ চক্রের ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি তার। গ্রেফতাররা হলেন- রবিউল ইসলাম (৪৫), শামীম আহম্মেদ (৩৭), আসমা আহম্মেদ (৩৭), মনোয়ারা বেগম (৬০), স্বপ্না বেগম (৩০) ও মাহমুদা রানী (৪৬)। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতারদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তারা সবাই একসঙ্গে স্যানিটারি ব্যবসার আড়ালে ১০ বছর ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল।

 

 

স্ত্রীসহ এসআইর মৃত্যুর কারণ ‘পারিবারিক কলহ’, মামলা

গুলিতেই বাড্ডা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. কবির সোহেল জানান, দু’জনের মাথায়ই গুলির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। রোববার দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই দুজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যান স্বজনরা। চিকিৎসক কবির সোহেল জানান, ‘গুলি তাদের মাথার বাম দিক দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে।’ এর আগে  দুপুর এ বিষয়ে রূপনগর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন এসআই সাত্তারের ভাই বাবলু রহমান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার ২২ নম্বর রোডের ৩২ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাত্তার ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেছিলেন, ‘পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’ পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এসআই সাত্তার তার সরকারি অস্ত্র দিয়ে সম্পাকে গুলি করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন। প্রতিবেশীরা ওই বাসা থেকে দু’টি গুলির শব্দ পেয়েছেন।

নিহত এসআই আবদুস সাত্তারের ছোট ভাই বাবুল আক্তার মরদেহ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ৭ ভাই-বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট আর সাত্তার ভাই ঠিক আমার বড়। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

সাত্তার সম্প্রতি এএসআই থেকে এসআই হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর গত ২৫ জুন বাড্ডা থানায় যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি দারুস সালাম, শাহ আলী ও পল্লবী থানায় দায়িত্ব পালন করেন। নিহত শম্পা ছিলেন সাত্তারের দ্বিতীয় স্ত্রী। বছরখানেক আগে প্রথম স্ত্রীর খালাত বোন শম্পার সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে ১০ ও ৬ বছরের দুটি ছেলে রয়েছে। প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে অন্য বাসায় থাকেন।


 

 

 

মাল্টি ফ্যাবসের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা চেয়ে রিট

গাজীপুরের কাশিমপুরে মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেডে বয়লার বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইর করার নির্দেশনা এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। পাশাপাশি বয়লার আইনের বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।  
রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান মিলন। আজ সোমবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান ও বিচারপতি মো.ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে।

মিলন জানান, বয়লার নিয়ে ১৯২৩ সালের একটি আইন ছিলো। এ আইনে বয়লারের ব্যবহার নিয়ে একটি বিধিমালা প্রণয়নের কথা রয়েছে। কিন্তু সেটা এখনো করা হয়নি। তাই এটি প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বয়লার নিয়ে আইনের বিধান অনুসরণে বিবাদীদের ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না  তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, শ্রম সচিব, শিল্প সচিব, বিজিএমইএর সভাপতি, প্রধান বয়লার পরিদর্শকসহ ১৭ জনকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে ৫ জুলাই ওই কারখানার মালিক, মহাব্যবস্থাপক বা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা করে গ্রেফতার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।  

ওই নোটিশে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড নামের কারখানায় ডাইং সেকশনে বয়লার বিস্ফোরণে অপারেটর সালাম, এরশাদ এবং মন্সুর হকসহ ১৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ  আহত হন। এ ঘটনায় কারখানার মালিক অপরাধ ডাকা দেওয়ার জন্য  সালাম, এরশাদ এবং মন্সুর হকসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুর রশিদকে বাদী করে মঙ্গলবার মামলা দায়ের করেন। ‘নিহত সালামের ছেলে জানিয়েছেন, তার বাবা ওই ফ্যাক্টরীতে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে কাজ করছেন। কারখানার বয়লার ছিলো পুরাতন ও ফিটনেস বিহীন।

মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনার দিন তার বাবার ডিউটি না থাকলেও ম্যানেজার টেলিফোনে বাবাকে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন।’ ‘কারখানার মালিক ও কর্তাব্যক্তিরা এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না।’ নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার আগেই মামলা করার অর্থ হলো অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা।’ ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কারাখানার মালিক/জিএম/ম্যানেজারকে আসামি করে এই নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করে এবং নিহতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা জয়দেবপুর থানার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এছাড়া আহতদের সুচিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেন। অন্যথায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করতে বাধ্য হবো’ বলে নোটিশে উপেখ করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

‘চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ নয় কেন’

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। এছাড়া উপযুক্ত ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশাসহ অন্যান্য মশা নিধন, সারাদেশে চিকুনগুনিয়া উপদ্রুত এলাকাসহ ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনগুলো পরিষ্কারে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে রোববার এই রুল জারি করে। স্বাস্থ্যসচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে।

হাই কোর্টে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুজাউদ্দোলা আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। শুনানিতে অমিত তালুকদার বলেন, ওই আদালতের দুই কর্মকর্তা এখনো চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুজাউদ্দোলা আকন্দ গত ৪ জুলাই হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন। চিকুনগুনিয়া নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনও রিট আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দেন তিনি। চলতি বর্ষা মওসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ঢাকার ২৩টি এলাকাকে এ রোগের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারের রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর।

জেএমবি নেতা সোহেল গুলশান হামলার মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষনেতা সোহেল মাহফুজকে গুলশান হামলার মামলায় সাত দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। একদিন আগে গ্রেফতার সোহেলকে রোববার ঢাকার আদালতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন হেফাজতের আবেদন করেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।

শুনানিতে এসআই কবির বলেন, সোহেল মাহফুজের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার জন্য তাকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আবেদনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় কারা কারা জড়িত, তা আসামিকে রিমান্ডে নিলে পাওয়া যাবে। সোহেলের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। গোলাপি রঙের টি শার্ট ও লুঙ্গি পরা সোহেল এজলাসে কোনো কথাও বলেননি। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম কে এইচ এম তোয়াহা আসামির সাত দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোহেল গত বছরের গুলশান হামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী বলে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, যে হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হন। হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাটির তদন্ত সোহেলসহ কয়েকজন জঙ্গি গ্রেফতার না হওয়ায় আটকে আছে বলে ক’দিন আগেই তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাদিপুর কাবলিপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে সোহেল জেএমবির প্রতিষ্ঠাকালীন শূরা সদস্য বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

তারা বলছেন, সোহেল নসরুল্লাহ, শাহাদাত, রিমনসহ নানা নামে পরিচিত। এক হাত না থাকায় তিনি ‘হাতকাটা সোহেল’ নামেও পরিচিত। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ২০০৫ সালে নওগাঁর আত্রাই এলাকায় বাংলাভাইয়ের সঙ্গে বোমা বানাতে গিয়ে সোহেলের একহাত উড়ে গিয়েছিল। দুই বছর আগে সোহেল নব্য জেএমবিতে যোগ দেন বলে গোয়েন্দারা তথ্য পায়। তার আগে তিনি ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে। তিন বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণকাণ্ডেও সোহেলকে সন্দেহ করছে ভারতের গোয়েন্দারা।
বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সোহেল জেএমবির ভারত শাখার প্রধান ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

সাভারে ২ তরুণী ধর্ষণ দুই আসামি দুই দিনের রিমান্ড

সাভারে দুই তরুণী ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলো নিরাপত্তাকর্মী মোকাররম ও মিজান। শনিবার ঢাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাওহীদ আল আজাদ এই রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এসআই আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নাম-ঠিকানা জেনে গ্রেফতার করার জন্য দুই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন জিআরও আতিকুর রহমান। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌরসভার সোবহানবাগ এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের পাশের ভবন লিজেন্ড কলেজের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের সোর্স লিটনকে প্রধান আসামি করে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার এক তরুণী। মামলার বাকি দুই আসামি লিজেন্ড কলেজ ভবনের দুই নিরাপত্তাকর্মী মোকাররম ও মিজান। শুক্রবার ভোরে দুই তরুণীকে উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে মোকাররক ও মিজানকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রধান আসামি লিটন এখনও পলাতক রয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ধর্ষণের দায় স্বীকার ইভানের: র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ডেকে নিয়ে এক টিভি অভিনেত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতারকৃত বাহাউদ্দিন ইভান (২৮) প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইভানকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মামলা দায়েরের পর পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও ইভানকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে।

 পরিবারের কাছ থেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের তথ্য সংগ্রহ করে সেসব এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নারায়ণগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে ইভানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ইভান প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। আরো কয়েকটি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথাও স্বীকার করেন তিনি। ইভান ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন মাদকে আসক্ত তিনি। দু’বার তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

 বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ২০০৮ সালে ইভানকে বিয়ে করায় পরিবার এবং তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। তার সঙ্গে মামলার বাদিনী ওই তরুণীর অনেকদিন আগে পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেছেন ইভান। মুফতি মাহমুদ বলেন, বুধবার দুপুরে বনানী থানায় মামলা হলেও তরুণী অভিযোগ করেন সকালে। অভিযোগের পর পরই ইভানের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।

তখন তিনি বাসার ছাদে লুকিয়ে ছিলেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পরই বাসা থেকে বের হয়ে দণিখানের এক আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। পরদিন সকালে সিলেট অথবা কুমিল্লা যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও নারায়ণগঞ্জের খালার বাসায় যান ইভান। বিকেলে সেই বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি যেহেতু বনানী থানা তদন্ত করছে, সেহেতু আসামিকে ওই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান মুফতি মাহমুদ।

 বুধবার দুপুরে বনানী থানায় বাহাউদ্দিন ইভানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা (মামলা নং-৮) দায়ের করেন ওই তরুণী। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ইভান জন্মদিনের পার্টির কথা বলে পূর্বপরিচিত ওই তরুণীকে বনানীর নিজ বাসায় ডেকে নেন। কিন্ত ওই তরুণী সন্ধ্যার পর বাসায় গিয়ে দেখেন, কেউ নেই। এরপর তাকে আটকে ধর্ষণ করে রাত ৩টার দিকে বাসা থেকে বের করে দেন ইভান।

 

বনানীতে আবার জন্মদিনের কথা বলে নিয়ে ধর্ষণ, মামলা

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের ঘটনার রেশ না কাটতেই রাজধানীর বনানীতে আবারও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আরেক ব্যবসায়ীপুত্রের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে মামলার পর বাহাউদ্দিন ইভান (২৮) নামে ওই যুবককে ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। ইভানের বাবার নাম বোরহানউদ্দিন বলে জানিয়েছেন বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন। বনানীতে এই ব্যবসায়ীর একটি বিপণি বিতান রয়েছে বলেও জানান তিনি।  

মঙ্গলবার রাতে ইভান বনানী ২ নম্বর সড়কে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিচিত এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী তরুণী টিভি অভিনেত্রী বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা মতিন। এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি  বলেন, ‘ইভান তার ওই বান্ধবীকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে আসে। ইভান তার মায়ের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। ওই তরুণী সন্ধ্যার পর বাসায় এসে দেখে কেউ নেই। এরপর তাকে আটকে গভীর রাত পর্যন্ত ধর্ষন করে এবং রাত ৩টার দিকে বাসা থেকে বের করে দেয়।’ ইভান মোবাইল ফোনটিও রেখে দেয় বলে ওই তরুণী জানান। ভোরে থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানান ওই তরুণী। পরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শের পর মামলা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা মতিন বলেন, ‘ওই তরুণী আজ (বুধবার) থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর ইভানকে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ।’ তবে মধ্যরাত পর্যন্ত ইভানকে গ্রেফতার করা যায়নি। ইভান বিবাহিত এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা মতিন জানান। ওই তরুণীকে ভিকটিম সাপোর্টে সেন্টারে রাখা হয়েছে।

অভিযোগকারী তরুণীর নমুনা সংগ্রহ
রাজধানীর বনানীতে ধর্ষণের অভিযোগকারী তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বেলা সোয়া ২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তা সংগ্রহ করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ  বলেন, তরুণীর রেডিওলজিএক্সরে, হাইভেজানালসফট সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছিলো কিনা তার জন্য ব্লাড ও ইউরিন সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেমিকেল অ্যানালাইসিস করার জন্য সংগ্রহ করা নমুনা ল্যাবে পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করা হবে।  তবে এ পরীক্ষার জন্য ক’দিন সময় লাগবে। তরুণীর সঙ্গে আসা নারী কনস্টেবল  বলেন, তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে বনানী থানায় বাহাউদ্দিন ইভান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে একটি মামলা (মামলা নং-৮) দায়ের করেন তরুণীটি। মামলায় তিনি দাবি করেন, জন্মদিনের পার্টির নামে ডেকে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তরুণীর অভিযোগ প্রসঙ্গে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন  জানান, মঙ্গলবার রাতে ইভান জন্মদিনের পার্টির কথা বলে পূর্ব পরিচিত ওই তরুণীকে বনানীর ২ নম্বর রোডের নিজ বাসায় ডেকে নেন। কিন্তু ওই তরুণী সন্ধ্যার পর বাসায় গিয়ে দেখেন কেউ নেই। এরপর তাকে আটকে ধর্ষণ করেন ওই যুবক। পরে রাত ৩টার দিকে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন ইভান। এসময় তার মোবাইল ফোনটিও রেখে দেওয়া হয়। তরুণীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইভানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

শাহজালালে ৪৪৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তজাতিক বিমানবন্দরে মোহাম্মদ হাসান (৩৪) নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে আমদানী নিষিদ্ধ ৪৪৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ ইউনিট। বৃহস্পতিবার দুপুরে  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার (প্রিভেনটিভ) আহসানুল কবীর। তিনি বলেন, জব্দ হওয়া সিগারেট ৩০৩ ব্রান্ডের। কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইটের কেইউ ২৮৩ করে কুয়েত থেকে সিগারেটগুলো আনা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা। জব্দ করা সিগারেটের বিষয়ে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আহসানুল কবীর।

আবারও চুরি করে ধরা সেই ইউজিসি কর্মকর্তা ওয়ারেছ

আবারও চুরির অভিযোগ উঠলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী সচিব এম এ ওয়ারেছের বিরুদ্ধে। এবার তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি শপের টাকা চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়েন। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগ তদন্তে কমিটিও গঠন করেছে ইউজিসি। এর আগে তার বিরুদ্ধে উপ-সচিবের কক্ষ থেকে ফাইল এবং ইউজিসির তৎকালীন চেয়ারম্যানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তখনও তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ, বিমানবন্দর ও ইউজিসি সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টায় তুরস্কের কাউন্সিল অব হায়ার এডুকেশনের (সিওএইচই) একটি প্রতিনিধি দলকে বিদায় দিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে যান এম এ ওয়ারেছ।  তাদের বিদায় জানিয়ে তিনি বিমানবন্দরে একটি ডিউটি ফ্রি শপে ঢুকে টাকা চুরি করে বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হাতে পড়েন। প্রথমে টাকা চুরির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলে পুলিশ তাকে চ্যালঞ্জ করে। এক পর্যায়ে সিসি ক্যামেরা দেখিয়ে তার পকেট তল্লাশি করে টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর ইউজিসির পক্ষ থেকে মুচলেকা দিয়ে বিমানবন্দর থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকালে ইউজিসির এক জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ইউজিসি জানায়, বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি শপে টাকা চুরির অভিযোগে কমিশনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মনে করে কমিশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লাকে আহ্বায়ক ও আইএমসিটি বিভাগের পরিচালক খন্দকার হামিদুর রহমানকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন ও প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি। কমিটিকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে। এর আগে এম এ ওয়ারেছ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) জিন্নাত রেহেনার কক্ষ থেকে গোপনীয় ফাইল চুরি ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরীর ৫০ হাজার টাকা চুরি করেছিলেন বলে ইউজিসি সূত্র থেকে জানা গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওই সময় বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

আদালতে জবানবন্দি শেষে ফরহাদ মজহার বাসায়

যশোরের নওয়াাড়ায় একটি বাস থেকে বিশিষ্ট কলামিস্ট, কবি ও লেখক ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর জবানবন্দি গ্রহনের জন্য ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে নেওয়া হয়।  মঙ্গলবার বিকালে তিনি জবানবন্দি দিয়ে ভাগ্নের সাথে নিজ বাসায় গেছেন। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় ১০ হাজার টাকার বন্ডে সাক্ষর নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তাকে তার ভাগ্নের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তিনি জানান, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম আহসান হাবীব খাস কামরায় নিয়ে বিকাল সোয়া তিনটা থেকে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে কি বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া জানান, ‘আদালত বলেছেন, চাঁদার জন্য তাকে (ফরহাদ মজহার) অপহরণ করা হয়েছিলো। মামলার নথি থেকে পরবর্তী মূল তথ্য দেয়া যাবে।’

এর আগে ফরহাদ মজহারকে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আদাবর থানা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দুপুরে তাকে নেওয়া হয় চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ফরহাদ মজহারকে গত সোমবার রাতে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে উদ্ধারের পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ দুপুরে ফরহাদ মজহারকে আদালতে হাজির করার পর তাকে নিজের  জিম্মায় যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, যিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষেও মামলা লড়েন।  ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার, মেয়ে শমতলী হক, ভাগ্নে মেজর ফেরদৌসসহ কয়েকজন পারিবারিক বন্ধু এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের মামলার বিষয় আমরা কিছুই জানি না। জবানবন্দিতে কী বলেছেন তাও জানি না। আপনি কি দয়া করে আমাদের জানাবেন?’

উত্তরে বিচারক বলেন, ‘এটা ৩৮৫ এবং ৩৬৫ ধারার মামলা; অর্থাৎ অপহরণ ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত অপরাধ। ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে আমার কাছে কী বলেছেন, তা আপনাকে আমি বলতে পারি না। সে বিষয়ে পুলিশ ব্রিফ করবে।’

এরপর বিচারক আদালতে উপস্থিত ফরহাদ মজহারকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি নিজের জিম্মায় যেতে ইচ্ছুক?’ উত্তরে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘জি, আমি ইচ্ছুক।’ পাঁচ মিনিটের শুনানি শেষে মুচলেকায় সই করে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন ডানপন্থি অধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত এই কবি, প্রাবন্ধিক, যিনি ঢাকার শ্যামলী রিং রোডের বাসা থেকে সোমবার ভোরে বের হয়ে অপহৃত হন বলে তার স্ত্রীর করা মামলার অভিযোগ।

এদিকে যশোরে একটি বাস থেকে নাটকীয়ভাবে ‘উদ্ধারের’ পর ফরহাদ মজহারকে ঢাকার আদাবর থানায় আনা হয় সোমবার রাতে। আদাবর থানায় এএসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাদের একটি দল ফরহাদ মজহারকে নিয়ে থানায়  পৌঁছায়। ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার, মেয়ে সমতলী হকসহ পরিবারের সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এএসআই সাখাওয়াত জানিয়েছেন। সোমবার সকালে ফরহাদ মজহারের পরিবার অপহরণের অভিযোগ করার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সন্ধ্যায় খুলনা অঞ্চলে অভিযান শুরু করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই অভিযানের মধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের নওয়াপাড়ায় ঢাকাগামী একটি বাসে তাকে পাওয়ার কথা জানান র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নওয়াপাড়ায় পাওয়ার পর ফরহাদ মজহারকে প্রথম অভয়নগর থানায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে খুলনায় নিয়ে গিয়ে রাত দেড়টার দিকে ঢাকার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবার অপহরণের কথা বললেও পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক দিদার আহম্মেদ রাতে ফুলতলা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ফরহাদ মজহার অপহরণের ‘নাটক’ সাজিয়েছিলেন বলে তাদের সন্দেহ। ডিআইজি দিদার বলেন ‘একজন সুস্থ মানুষ যেভাবে জার্নি করে, সেভাবেই তিনি ছিলেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল, গেঞ্জি ছিল। কিছু টাকাও ছিল। এমনকি মোবাইল চার্জার নিতেও ভোলেননি তিনি। এতে করে অপহরণের বিষয়টি প্রমাণ হয় না। মনে হয় না এটা অপহরণ।’ উদ্ধারের তিন ঘণ্টা আগে ফরহাদ মজহারকে খুলনায় নিজের রেস্তোরাঁয় দেখার দাবি করেছিলেন ‘নিউ গ্রীল হাউস’র মালিক আব্দুল মান্নান। খুলনার নিউ মার্কেটের সামনে এই রেস্তোরাঁটি। মান্নানের কাছে খবর পাওয়ার পর র‌্যাব জোর অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায়। র‌্যাব কর্মকর্তা রফিকুল বলেন, ‘ফরহাদ মজহার খুলনার শিববাড়ী মোড় থেকে রাত সোয়া ৯টায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা রওনা হয়েছিলেন।’ শাহরিয়ার পলক নামে একজন নিজেও ওই বাসে ছিলেন দাবি করে তার ফেইসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘খুলনা থেকে আসছি হানিফের বাসে করে! নোয়াপাড়ায় হঠাৎ করে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হল! সুপারভাইজার কোনো কথার উত্তর দিলো না। প্রায় ৪০ মিনিট পর ৩টি র‌্যাবের গাড়ি এসে তল্লাশি করলো, আর বাসের পেছনের সিট থেকে উদ্ধার হলো – নিখোঁজ কবি ফরহাদ মজহার।’

ফরহাদ মজহার যে টিকেটে ওই বাসে উঠেছিলেন সেখানে যাত্রীর নামের জায়গায় ‘গফুর’ লেখা ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। রাতে ফরহাদ মজাহার উদ্ধার পাওয়ার পর তার স্ত্রী ফরিদা আখতার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকারকর্মী, সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট হলে সবকিছুই সম্ভব।’

ভোর থেকে নিখোঁজ : সোমবার রিং রোডের ভোর ৫টায় বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ফরহাদ মজহার নিখোঁজ বলে তার স্বজনরা আদাবর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালে পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। ফরিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, ফরহাদ মজহার ভোরে লেখালেখি করেন। সাধারণত বের হন না। এদিন ভোরেও কম্পিউটারের সামনে স্বামীকে দেখেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির মধ্যে একটি ফোন পান। তাতে ফরহাদ মজহার বলেন, তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে। এরপর উদ্বিগ্ন হয়ে বিষয়টি পুলিশে জানায় পরিবার। তখন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রিং রোডের হক গার্ডেনের চার তলায় ফরহাদ মজহারের বাসায় যায়। আদাবর থানার এসআই মহসিন আলী বলেন, ‘ফরহাদ মজহার সকাল ৫টা ৫ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ভিডিও দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।’

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও ফরহাদ মজহারকে দ্রুত উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ আন্দোলনের সমালোচনামূলক বিভিন্ন বক্তব্যের জন্য আলোচিত। শাহবাগের ওই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের পক্ষে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিতেও দেখা যায় তাকে। জাসদের প্রতিষ্ঠাতা তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খান দাদাভাইয়ের মামাত ভাই ফরহাদ মজহার নিজেকে মার্কসিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। তবে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে বাম দলগুলোর সমালোচনা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতালের মধ্যে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে একুশে টেলিভিশনের ‘টকশো’তে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়াতি করে গণমাধ্যমের ওপর হামলাকে ‘সঠিক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ৭০ বছর বয়সী ফরহাদ মজহার। ওই সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে এক সভায় আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অর্থনীতিতে ডিগ্রি নেন ফরহাদ মজহার। দেশে ফিরে তিনি উবিনীগ নামে একটি এনজিও গড়ে নয়াকৃষি আন্দোলন শুরু করেন। চিন্তা নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ মজহার সব সময় লুঙ্গি পরে থাকেন, যা নিয়েও রয়েছে আলোচনা।

পুলিশকে যা বলেছেন ফরহাদ মজহার : ফরহাদ মজহার পুলিশকে জানিয়েছেন, সকালে ওষুধ কিনতে বের হলে কে বা কারা তাকে চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, কারা চোখ বেধে নিয়ে গেছে তা তদন্ত করবে ডিবি। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উনি (ফরহাদ মজহার) বলেছেন, সকালে তিনি ওষুধ কিনতে নিচে নেমেছিলেন। তখন তাকে কে বা কারা জোর করে মাইক্রোতে তুলে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়।’ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায়  যে জবানবন্দী দেবেন, সেই জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা জানতে পারি তার কাছে (ফরহাদ মজহারের স্ত্রী) টাকা দাবি করা হয়। পরে স্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেন তিনি (ফরহাদ মজহার)। যেহেতু টাকা দাবি করা হয়েছে তাই অভিযোগের প্রেক্ষিতে (সোমবার) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করে জানার চেষ্টা করছি, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল?’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ মজহার কী বলেছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘উনিও বলেছেন, সকালে উনাকে মাক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। যেহেতু উনার ফোন দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিজেই কথা বলেছেন তাই এ বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করছি। আমরা ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে যা পেয়েছি সেটাই আপনাদের (সাংবাদিকদের) জানালাম। সব তথ্য প্রমাণ হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো হবে। ’

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলী রিং রোডের ‘হক ভবন’ থেকে স্বাভাবিক পোশাকে, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বের হয়েছিলেন ফরহাদ মজহার। কিছুক্ষণ পরে তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই জানিয়েছিলেন, কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেসময় তাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ফরহাদ মজহার নিয়মিত যে নম্বর ব্যবহার করেন তার বদলে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন এমন নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে ফোন আসে। প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে ফোনে ফরহাদ মজহার নিজেই ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দুই হাত হারা সিয়ামকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ

শরীয়তপুরে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে দুই হাত হারানো কলেজ পড়–য়া ছাত্র সিয়াম খানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

ওই ঘটনা নিয়ে গত এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৯ মে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত সে সময় রুল জারিসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন ‘অবহেলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং সিয়াম খানের ওই পরিণতির জন্য বিবাদীদের দায়ী করে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

রুল জারির পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে আদালত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড সাপ্লাই), জেনারেল ম্যানেজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নড়িয়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেক্রেটারিকে ২৯ মে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৯ মে তারা আদালতে হাজির হন এবং সিয়াম খনের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানান। পরে ওই চারজনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালত ৪ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুনানি করে আদালত মঙ্গলবার ক্ষতিপূরণের রায় দেয়। রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মাহবুব শফিক বলেন, রায়ে আদালত পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে। রায়ের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ টাকা দিতে হবে।

জানা যায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী গ্রামের দরিদ্র জাহাজশ্রমিক ফারুক খানের ছেলে সিয়াম খান (১৭) নড়িয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ত।  পড়াশোনার পাশাপাশি সে টিউশনি করে চলত। গত ৫ এপ্রিল বিকালে ঝড়ে গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যায় বিঝারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য মজিবুর রহমান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা কার্যালয়ে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরদিন সকালে ওই সঞ্চালন লাইন মেরামত করা হবে বলে সেদিন মজিবুরকে জানানো হয়। কিন্তু সঞ্চালন লাইন মেরামত না করেই পরদিন দুপুরে লাইনটি চালু করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ওই সময় সিয়াম তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে বিকট শব্দ হয়। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর অবনতি হলে তাকে  পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে দুই দফা অস্ত্রোপচারের পরও সংক্রমণ দেখা দিলে ১২ এপ্রিল কবজির ওপর থেকে সিয়ামের বাঁ হাত এবং ১৬ এপ্রিল একই জায়গা থেকে ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়, গত ৫ এপ্রিল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যান মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার পর তা লিপিবদ্ধ করেননি। ফলে অভিযোগটি এবং ঝড়ে তার ছিঁড়ে  পড়ে থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। দুর্ঘটনার পরের দিন ৬ এপ্রিল উপসি সেকশনের আওতাধীন পশ্চিম বিজারি গ্রামের ছেঁড়া তারের বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত লাইনম্যানরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মেরামত শেষে ওই সেকশন চালু করলে ওই ঘটনা নাও ঘটতে পারত।

 



Go Top