সন্ধ্যা ৭:২৮, মঙ্গলবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

শান্তিপূর্ণভাবে আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান চাই’ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন-নিপীড়ন ও দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে পারেন।

রোববার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।
‘রোহিঙ্গা নির্যাতন যদিও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় কিন্তু যেভাবে নির্বিচারে শিশুসহ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, এটা হতে পারে না’- যোগ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি। একাত্তর সালে আমাদের সঙ্গে যেমনটি ঘটেছিল, তেমনটি এখন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমরা ঘটতে দেখছি।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা রোহিঙ্গাদের বিষয়। রোহিঙ্গারাই আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার বিষয়টি চিন্তা করবে। এ ধরনের অনেক নজিরও রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ পোস্টে হামলার অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে এখন পর্যন্ত তারা প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। বাদ যায়নি নিরীহ নারী ও শিশু।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মমতায় প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

ষোড়শ সংশোধনী : রিভিউ করবে সরকার

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে অ্যাটার্নি জেনারলকে চিঠি দেব রিভিউ করার জন্য। এটি হবে আমাদের রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।’

‘আপনারা (সাংবাদিকরা) জানেন রায়ে ৭৯৯ পৃষ্ঠা রয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা এ রিভিউ করব।’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকছে না। এই ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩ জুলাই খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

রায় ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’ উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার চিন্তা-ভাবনার কথা জানান।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বিল অনুসারে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না।’ ৩ দফায় বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব-সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। আপিলের ওপর গত ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১১তম দিনে গত ১ জুন শেষ হয়। ওই দিন আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। গত ৩ জুলাই রায়ের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বাসা ভাড়া দেয়া বা পরিবহনও নয় ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিষেধ : পুলিশ সদর

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা তাদের জন্য নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান বা বাসাবাড়ি ভাড়া করে অবস্থান করতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সোহেলী ফেরদৌস স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্টস্থানে বসবাস, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করবে। তাদের অবস্থান ও গতিবিধি শুধুমাত্র কক্সবাজারের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকবে। তারা ক্যাম্পের বাইরে তাদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে অবস্থান বা আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন না। তাদের নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে কেউ বাসা ও  বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না। এছাড়া রোহিঙ্গারা নির্দিষ্ট ক্যাম্পের বাইরে অন্যান্য জায়গায় যাতায়াত করতে পারবেন না।

তারা সড়ক, রেল ও নৌপথে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গমনাগমন করতে পারবেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরিবহনের চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে রোহিঙ্গাদের পরিবহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থানের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোরও অনুরোধ করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও গণহত্যা থেকে বাঁচতে গত ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে কক্সবাজার অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গাদের অনেকেই কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

 

 

 

বনানীতে অভিনেত্রী ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন দাখিলে ফের তারিখ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে এক অভিনেত্রী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি বাহাউদ্দিন ইভানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়েছে। গতকাল সোমবার নির্ধারিত দিনে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সুলতানা আক্তার প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব ৩ অক্টোবর নতুন দিন রাখেন বলে আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মান্নান। এ মামলায় গ্রেফতার আসামি ব্যবসায়ীপুত্র বাহাউদ্দিন ইভান ইতোমধ্যে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তোলাপাড়ের দুই মাসের মধ্যে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এনে ইভানের বিরুদ্ধে গত ৪ জুলাই বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন এক তরুণী। এরপর গত ৬ জুলাই বিকালে র‌্যাব-১ ও ১১ এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইভানকে গ্রেফতার করা হয়। এর পরদিন তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।রিমান্ড শেষে গত ১২ জুলাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ইভান।

 

বিজিএমইএ-এর ভবন সরানো নিয়ে আবেদনের শুনানি ৫ অক্টোবর

স্টাফ রিপোর্টার: তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ হাতিরঝিলে বেআইনিভাবে গড়ে তোলা তাদের ভবনটি ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে যে আবেদন করেছে, আপিল বিভাগে তার শুনানি হবে ৫ অক্টোবর।চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গতকাল সোমবার বিজিএমইএ-এর আবেদন শুনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য এই দিন ঠিক করে দেন। কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ এর আগে তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলেছিল।

 সোমবার সেই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত ২৩ অগাস্ট এই আবেদন জমা দেয় বিজিএমইএ। বিজিএমইএ-এর পে অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী চে¤॥^ার আদালতে শুনানি করেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতে বর্তমানে অবকাশ চলায় চে¤॥^ার আদালত ছুটির পরে শুনানির তারিখ ঠিক করে দিয়েছে। এর ফলে ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ের পরও আরও প্রায় এক মাস সময় পেল বিজিএমইএ।

 

মেডিকেলে ভর্তিতে নম্বর কাটা নিয়ে আদেশ আজ

স্টাফ রিপোর্টার: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের মেধা তালিকা তৈরির সময় দ্বিতীয় বারের পরীার্থীদের ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈধ কি না সে বিষয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেবে হাই কোর্ট। এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অবকাশকালীন বেঞ্চে শেষ হয়। আদালতে রিট আবেদনের পে শুনানি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ; রাষ্ট্রপে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার।

পরে ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় বার এমবিবিএস ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের প্রাপ্ত ন¤॥^র থেকে মেধা তালিকা তৈরির সময় ৫ নম্বর কেটে নেওয়ার সিদ্বান্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যুক্তি দেখিয়ে এটাকে বেআইনি ঘোষণার জন্য নির্দেশনা চেয়ে ২৭ আগস্ট হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। আজ সেটির শুনানি হয়েছে; আদালত আগামীকাল এ বিষয়ে আদেশে দেবেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার জানান, মঙ্গলবার আদেশের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে শুনানি করতে পারেন।

 রিট আবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ শিাবর্ষ এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির আবেদন আহ্বান করে গত ২১ অগাস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তির ৬ নম্বর প্যারায় বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণকারীদের সর্বমোট ন¤॥^র থেকে ৫ ন¤॥^র কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। রিটে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীায় অংশগ্রহণকারীদের মেধাতালিকা থেকে ৫ ন¤॥

^র কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে; তার সঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (চিকিৎসা শিা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন), বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিবাদী রাখা হয়েছে।

 

রাজধানীতে ২ জঙ্গি গ্রেফতার গাড়ি হামলার পরিকল্পনা, বিচ্ছিন্নভাবে তৎপর জেএমবি : পুলিশ

রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাইম আহমেদ ওরফে আনাস ওরফে আবু হামজা ওরফে আরিশা কুনিয়া এবং আনোয়ার হোসেন নামের এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩০টি ডেটোনেটর (বিস্ফোরক) ও উগ্রবাদী মতাদর্শের বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতাররা গাড়ি বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিলো বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতার নাঈম আহমেদ গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা মামলার অন্যতম আসামি বাশারুজ্জামান চকলেটের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০১৫ সালে তারা একই আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গত বছরের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় যারা নিহত হন, তাদের সঙ্গে নাঈমও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। মনিরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, বাশারুজ্জামান চকলেট চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছেন। সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত সাইফুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় নাঈমের যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি জানান। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, অপর আসামি আনোয়ার হোসেন সাভারের হেমায়েতপুরে একটি মোটর গ্যারেজের মালিক। ২০১৫ সাল থেকে তিনি নব্য জেএমবিতে যুক্ত হন। নব্য জেএমবির শুরা সদস্যদের পরামর্শে গাড়ি হামলার জন্য তিনি তার গ্যারেজ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেন। গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর নব্য জেএমবির সদস্যরা গাড়িবোমা হামলারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের বড় অংশ নিহত হয়েছে বা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে জেএমবির সারোয়ার জাহান, রিপন, নোমান, আল-বানী ও ডনের যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গত সোমবার মিরপুরের দারুস সালামের মাজার রোডে র‌্যাবের অভিযানে নিহত ‘আবদুল্লাহ’র সঙ্গেও ডনের পরিচয় ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা করার সামর্থ্য এখন প্রায় নেই। তবে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের তৎপরতা আছে। নোয়াখালীতে একজন পীর খুন হওয়ার ঘটনায় নব্য জেএমবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। জঙ্গিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, নব্য জেএমবির শূরা সদস্যদের পরামর্শে গাড়ি হামলার জন্য আনোয়ার হোসেন তার গ্যারেজে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলো। এই ধরণের পরিকল্পনার কথা সে স্বীকার করেছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিরপুরে পোশাককর্মীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর মিরপুরের রাইনখোলা এলাকার একটি গ্যারেজে নিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে জানিয়ে শাহ আলী থানার এসআই রোকসানা আকতার বলেন, ওই পোশাককর্মী ও তার বড় বোন রাতে কানের দুল ঠিক করাতে রাইনখোলার সি ব্লকের বাজারে একটি গহনার দোকানে গিয়েছিলেন। দুল ঠিক করতে দেরি হওয়ায় ছোট বোনকে সেখানে রেখে বড় বোন বাসায় ফিরে যান।

এরপর তিন যুবক সেখানে আসে। তারা কথা আছে বলে এক মিনিট সময় চায় এবং ‘ক’ ভবনের পেছনে একটি রিকশা গ্যারেজে নিয়ে ওই পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে। ওই যুবকদের কথোপকথনের সূত্র ধরে ওই নারী পুলিশকে জানায়, ধর্ষণকারী ব্যক্তির নাম রনি এবং তার সঙ্গে ছিল বেপারী বাবু ও রুবেল ওরফে রনি। এসআই রোকসানা বলেন, ‘এলাকার লোকজনের সহায়তায় পুলিশ প্রথমে ভন্ড রনি এবং পরে বেপারী বাবু ও রুবেলকে গ্রেফতার করে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে,  সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোর গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিম্ন আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। আর ওই দুই চুক্তির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সব সম্পত্তি এবং ৯ নম্বর ব্লকে থাকা নাইকোর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনে গতবছর দেওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের (জয়েন্ট ভেনচার) চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে অন্য চুক্তি হয়েছিল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতবছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে ওই চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে তার জবাব দিতে বলা হয়। সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেয় হাই কোর্ট, যাতে চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করে নাইকোর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর নাইকোর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণিও শুনানিতে ছিলেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, ‘এটা স্বীকৃত যে নাইকো দুর্নীতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৩ সালে যৌথ অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং গ্যাস ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি করে। এ কাজে নাইকো বাংলাদেশে তাদের তৎকালীন এজেন্ট কাসেম শরীফের সঙ্গে চার মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছিল। তাকে পরে নাইকো বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এটা স্বীকৃতি যে  কাজ পাওয়ার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে উৎকোচ দেওয়া হয়েছিল। যদিও নাইকো বলেছে যে উৎকোচ নয়, উপহার হিসেবে তারা তা দিয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের উপহার সামগ্রী দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।’

কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস ২০০৩ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী ও ছাতকে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব পায়। ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে নাইকোর ৮০ শতাংশ এবং বাপেক্সের ২০ শতাংশ মালিকানা ছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল নাইকো। কিন্তু তাদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে আদালতে যায় পেট্রোবাংলা। সেই মামলায় ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। সেইসঙ্গে ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকোর সরবরাহ করা গ্যাসের দাম পরিশোধ করা বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই অর্থ পরিশোধের দাবি নিয়ে নাইকো আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে ২০১৪ সালে নাইকোর পক্ষে রায় আসে। সেখানে বলা হয়, নাইকোর পাওনা ২১৬ কোটি টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। সংবাদমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, নাইকো কুমিল্লার বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রে তাদের অংশ বিক্রি করে বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে পেট্রোবাংলা তাতে আপত্তি তোলে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন নাইকোর কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০০৫ সালের ১৮ জুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হন মোশাররফ।

পরে কানাডার আদালতে নাইকো স্বীকার করে যে, ২০০৫ সালের মে মাসে মোশাররফকে প্রায় ২ লাখ ডলার দামের একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার উপঢৌকন দিয়েছিল তারা। এর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ বাবদ ৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছিল তাকে। ঘুষ দেওয়ার কারণে কানাডার আদালতের রায়ে নাইকোকে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। নাইকোকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে একটি মামলা করে দুদক, যাতে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলা বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে রয়েছে। নাইকোকে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল দুদক। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০১০ সালের মার্চে হাই কোর্ট ওই মামলা বাতিল করে দেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

নাইকোর সঙ্গে চুক্তি অবৈধ: হাই কোর্ট

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে এক দশকের বেশি সময় আগে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনে গতবছর দেওয়া রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে দুটি চুক্তি করে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা।

এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে (জয়েন্ট ভেনচার) কাজের চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে  অন্য চুক্তি হয়েছিল।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতবছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন।

ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করে দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

সেই সঙ্গে ওই চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এবং নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশকে তার জবাব দিতে বলা হয়।

সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দিল হাই কোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর নাইকোর পক্ষে ছিলেন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণি।

বিস্তারিত আসছে

এই বিভাগের আরো খবর

ভেজাল ওষুধে ২৮ শিশুর মৃত্যু ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট

রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যু ঘটনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি হাইকোর্ট। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবকে আজ বৃহস্পতিবার ফের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  বুধবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সচিবের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী।

গত ২১ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে তলব করেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদালতে হাজির হন সচিব।ওই দুই কর্মকর্তা হলেন- ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন। ব্যাখ্যার শুনানিকালে আদালত বলেন, ১৬ মার্চ থেকে বিবাদীরা বসে আছেন। কোনও ব্যবস্থা নেননি। ওই ঘটনায় মোট ৭৬ শিশু মারা গেছে। আপনি (দুই কর্মকর্তা) বহাল তবিয়তে আছেন। আর  বলছেন, দেখতেছি। এ সময় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আগে সতর্ক, তারপর বরখাস্ত। সতর্ক না করলে জটিলতার সৃষ্টি করতো। তখন আদালত বলেন, ‘আপনি তো (দুই কর্মকর্তা) জামাই আদরে আছেন। আদালতকে মনজিল মোরসেদ জানান, দু’জনকে বদলি বা সাসপেন্ড কিছুই করা হয়নি। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার এ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। আদালত বলেন, ‘কোর্টকে আর খাটো করার চেষ্টা করবেন না। মার্চ থেকে বলে আসছি। এক পর্যায়ে কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার আগে শোকজ, তদন্ত আছে। আমরা ব্যাখা তৈরির জন্য সময় পাইনি। আমাদের সময় দরকার। তখন আদালত বলেন, ২৪ আগস্ট যথাযথভাবে ব্যাখ্যা দেবেন। ৭৬ শিশু মারা গেল। আপনার (সচিব) ছেলে-মেয়ে এখানে থাকে না। যারা মারা গেছে, এরা কি মরার জন্য জন্মেছে? এটা দুর্ভাগ্যজনক।

এই বিভাগের আরো খবর

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলা নূর হোসেনসহ ১৫ জনের ফাঁসির রায় বহাল, ১১ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের দায়ে প্রধান ৪ আসামিসহ ১৫ জনের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে অন্য ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ডও বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিকেলে সাত খুনের দুই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের এ রায় দেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

মৃত্যুদন্ড বহাল থাকা  প্রধান ৪ আসামি হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাব-১১’র চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা। অন্য যে ১১ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রয়েছে, তারা হলেন- র‌্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব আলী, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।

তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন মুন্সী, আলামিন শরীফ ও তাজুল ইসলাম পলাতক। অন্যদিকে সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত ১১ আসামি হচ্ছেন- র‌্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক সিপাহী আসাদুজ্জামান নূর ও সার্জেন্ট এনামুল কবির এবং নূর হোসেনের ৯ সহযোগী মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, ভারতে গ্রেফতারকৃত সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান। তাদের মধ্যে সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান পলাতক। বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড পাওয়া ৯ জনও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও সদস্য।

তাদের মধ্যে কনস্টেবল (পরে এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে নৌ-থানায় কর্মরত) হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদন্ডাদেশ বহাল রয়েছে উচ্চ আদালতে। তাদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান ও কামাল হোসেন পলাতক। সব মিলিয়ে দন্ডপ্রাপ্ত ৩৫ জনের মধ্যে কারাগারে আছেন ২৭ জন আর পলাতক ৮ জন। ২৬ জনের মধ্যে গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে থাকা ২০ জন নিয়মিত ও জেল আপিল করেন। পলাতক অন্য ৬ আসামি আপিল করেননি। আপিলগুলোর আংশিক মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। মাঝে বিরতি দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত  দেওয়া দীর্ঘ এ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, কিছু সংখ্যক সদস্যের জন্য পুরো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়ী করা যায় না।

রায়কে ঘিরে হাইকোর্ট এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রায়ের সময় সাংবাদিকদের এজলাসে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে গত ১৬ জানুয়ারি নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত।

৩৫ জন আসামির বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ দেওয়া হয়। এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে গত ৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়। গত ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই রায়ের দিন ১৩ আগস্ট ধার্য করেন হাইকোর্ট। ওইদিন তা পিছিয়ে ২২ আগস্ট পুনর্নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান্ন মোহন ও জাহিদ সরওয়ার কাজল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান প্রমুখ।

 

ডিবির এসিকে গুলি বন্দুকযুদ্ধে নিহত এক, গ্রেফতার ১

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রাহুল পাটোয়ারীকে গুলির ঘটনায় জড়িত মামুন (৩০) নামের একজন পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন।  মঙ্গলবার ভোরে জুরাইন কবরস্থান এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে মারা যায় বলে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, ‘এসি রাহুলকে গুলি করে যারা পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন দেলোয়ার হোসেন শান্ত। আমরা তাকে প্রথমে গ্রেফতার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার দিনগত রাতে শ্যামপুরের জুরাইন কবরস্থান এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে যায় ডিবি পুলিশ। এসময় ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি গ্র“প গুলি ছোঁড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে একজনকে আহতাবস্থায় পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘মামুনের মৃত্যু কাদের অস্ত্রের গুলিতে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অস্ত্র ও গুলির ব্লাস্টিক পরীক্ষা করা হবে। তারপর জানা যাবে। নিহত মামুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর জুরাইনে পোস্তগোলার নিউ সার্কুলার রোডের নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ডিবির এসি রাহুল পাটোয়ারী অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় এসির সোর্স বিল্লাল হোসেন মৃদুল ও সেলিম নামে এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বিকালে ডিবির এসআই মো. সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৭। এতে আসামি হিসেবে অস্ত্র ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন শান্ত ওরফে রনি ওরফে পেটকাটা রনি ছাড়াও অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

মিরপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরে পূর্ব শত্র“তার জের ধরে কবির হোসেন (২০) নামের এক যুবক খুন হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে উত্তর পীরেরবাগের ৩৬৩/৮/১ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

মিরপুর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, (সোমবার) বজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে কবির হোসেন ও তার সহযোগীরা। এরপর আজ (মঙ্গলবার) বজলুর রহমানের ছেলে ও তার সহযোগীরা কবিরকে মেরেছে। এতে কবিরের মৃত্যু হয়।’ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উত্তর পীরেরবাগের বাইতুস ফালাহ জামে মসজিদের পাশের একটি গলি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কবিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত কবির একটি গেঞ্জির কারখানায় প্রিন্টের কাজ করতেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফায়ারিং স্কোয়াডে দশ জনের মৃত্যুদন্ডের রায়

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দশ আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত হাই কোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে গুলি করে দশ আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। সতের বছর আগের ওই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলার অপর ১৩ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। এ কারণে তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের বাকি ২৪ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ড; একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড  ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আসামিদের মধ্যে ১০ জন আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় মুফতি হান্নান বাদে আসামি ছিলেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে নয় জনকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন চারজন। কোটালীপাড়ার একটি কলেজের কাছে ২০০০ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভামঞ্চের নির্ধারিত স্থান ও হ্যালিপ্যাডে মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ ও ৮০ কেজি ওজনের দুটি বোমা পাওয়ার পর এই মামলা করে পুলিশ।

রায়ের পর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ শামসুল হক বাদল বলেন, তিনি ‘আংশিক সন্তুষ্ট’। রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, তার মক্কেলদের ‘টাকা পয়সা নেই’। তারা জেল আপিল করবেন। দন্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা এই রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।   

ঘটনাক্রম
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে। তার এক দিন পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজ মাঠে জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ওই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্ত শেষে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল যে অভিযোগপত্র দেন, তাতে আসামি করা হয় ১৬ জনকে। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গোপালগঞ্জের আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি যখন দেওয়া হয়, ততদিনে ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালের সেপ্টে¤॥^রে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ হরকাতুল জিহাদের ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনে মূল ব্যক্তি হিসেবে মুফতি হান্নানকে দায়ী করা হয়।

শেখ হাসিনার নিজের জেলা গোপালগঞ্জেই মুফতি হান্নানের বাড়ি? পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে তার জঙ্গিবাদে হাতেখড়ি। আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এই জঙ্গি নেতা কারাগারেই ছিলেন। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চলতি বছর ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বোমাগুলো উদ্ধারের সময় মুফতি হান্নানের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জে হেমাঙ্গন আবাসিক এলাকার ভাড়া করা একতলা বাসা থেকে বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই বিস্ফোরক সরবরাহ করা হয়েছিল হান্নানের সোনার বাংলা সাবানের কারখানা থেকে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

সহকর্মী পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন এক নারী কনস্টেবল। ধর্ষণের শিকার ২২ বছর বয়সী ওই নারীকে গত শনিবার দিনগত রাত পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল আরিফুল হককে (২৪) গ্রেফতার করেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, ওই নারী কনস্টেবল শনিবার রাতে আরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। পরে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার আরিফুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারী কনস্টেবল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ জুন তাকে মালিবাগে ‘হোটেল মৌচাক’র একটি কক্ষে নিয়ে যান আরিফুল। সেখানে তারা কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করেন। একপর্যায়ে আরিফুল তাকে ধর্ষণ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম জানান, আরিফুল ও ওই নারী কনস্টেবল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। বেশ কিছুদিন আগে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে বিয়ে না করে ঘুরাতে থাকেন আরিফুল। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে নারী কনস্টেবলের মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। আরিফুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলে জানান এসআই সাইদুল।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছে: প্রধান বিচারপতি

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আলোচনার আহ্বানে সরকারের সাড়া না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রোববার শুনানিতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছে।’ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে বিচারপতি সিনহা সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পরের পরিস্থিতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’ বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও প্রধান বিচারপতি গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডাকলেও আইনমন্ত্রী এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাননি। চাকরিবিধির ওই গেজেট প্রকাশের জন্য গত ৬ অগাস্ট সরকারকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার আবারও সময়ের আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে। গেজেট প্রকাশের জন্য এ নিয়ে ২৫ বার সময় পেল রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আলোচনায় বসার আহ্বানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘গত তারিখে কি কথা ছিল? কার সঙ্গে কে কে থাকবে তা ঠিক করে আলাপ-আলোচনা করার কথা ছিল।  কে কে থাকবে?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ল মিনিস্টার।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এতই আমরা ইয়ে হয়ে গেলাম আলোচনা পর্যন্ত করলেন না?’ বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আপনারা মিডিয়াতে অনেক কথা বলেন।  কোর্টে এসে অন্য কথা বলেন। আপনাদের বলছি, আপনাকে নয়।  আপনিই বলেন। 

কবে কি হবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল তখন বলেন, ‘একটা আনস্টেবল সিচুয়েশন তৈরি হয়ছে।’ তখন প্রধান বিচারপতি সেই ‘আনস্টেবল সিচুয়েশনের’ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সবটা নিয়েই আমি বিব্রত।’ বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আপনারা ঝড় তুলছেন।  আমরা কোনো মন্তব্য করেছি?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘না, আপনারা করেননি।’ এরপর প্রধান বিচারপতি গেজেট প্রকাশের জন্য সময় মঞ্জুর করে বলেন, ‘আপনার চাওয়া মত ৮ তারিখ রাখলাম।’ এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম এ সময় তার আবেদনের শুনানির আরজি জানান। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি।  যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি।  আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি সেখানে ধৈয্যের কথাই বলা হল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পরে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে যে রুলস ফ্রেম করার কথা, সে বিষয়টি আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।  আমি আদালতকে বলেছি, যেহেতু নানা কারণে এখন অবস্থা খুব উত্তপ্ত, সুতরাং রুলস ফ্রেমিংয়ের ব্যাপারে লম্বা সময় দেওয়া হোক। যাতে এর মধ্যে সার্বিক অবস্থাটা স্থিতি লাভ করে। তখন আদালত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তখন আদালত বলেছে, গত তারিখে কথা ছিল আমাদের সঙ্গে আপনারা বসবেন। তখন আমি বলেছি, আমার তো বসার কথা না, আমি তো এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। যাই হোক, যদি এরকম কথা হয়ে থাকে, তাহলে ফের উদ্যোগ নেব।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি, আমি পলিসি মেকার না। এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ এবং জুডিশিয়ারির সাথে একটা সংযোগ রক্ষা করি মাত্র। আমাকে বলা হয় একটা ব্রিজ।’

এই বিভাগের আরো খবর

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী ‘ধর্ষণে’ তিতুমীরের ছাত্র গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সময় তিতুমীর কলেজের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সুজন তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির জানান, বুধবার রাতে তাকে আটকের পর পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে।

“স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় সুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।” দাদন ফকিরের ভাষ্য, ‘ভালোবাসার কথা বলে’ ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় ওই মামলা করেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গি সাইফুলের মৃত্যু বোমায় সাথে ছিল একাধিক লোক

রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে নিহত জঙ্গি সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে বোমার আঘাতে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ এ তথ্য জানান। এর আগে বিকাল পৌনে ৫টায় শুরু হয় সাইফুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত। শেষ হয় বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে।

এদিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, জঙ্গি সাইফুলের সাথে একাধিক লোক ছিল। ঘটনাস্থলেরর আশপাশেই তারা অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। সাইফুল নব্য জেএমবির সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সাইফুল মাত্র কিছুদিন আগেই জেএমবিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে ইত্তেহাদী হামলার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছিল। হোটেল ওলিওর ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে সাইফুলের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। তাই কম সময়ের মধ্যেই তার পরিচয় জানা গেছে।’ ডিএমপি কমিশনার দাবি করেন, বাংলাদেশে বড় কোনো জঙ্গি হামলা বা নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি নেই। এরই মধ্যে নব্য জেএমবি ও আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। দেশে বড় কোনো নাশকতা ঘটানোর কোনো শক্তি নেই এদের। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘সাইফুলের মরদেহে কোনো গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি। কোমর থেকে একটি ডিভাইস ও তার উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া বোমার স্পি­ন্টার তার ডান চোখ দিয়ে ঢুকে মস্তিস্ক ভেদ করে মাথার পেছনের অংশ উড়িয়ে দেয়। এটাকেই মৃত্যুর জন্য মূল ডেমারেজ হিসেবে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগুনের হল্কায় তার মৃতদেহটি পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল। সাইফুলের শরীর কেটে ভেতর থেকেও স্প্লিন্টার বের করেছি এবং একটি প্লাস্টিকের ডিভাইস পেয়েছি।’ এর আগে আত্মঘাতী বেশ কয়েকজন জঙ্গির ময়নাতদন্ত করার অভিজ্ঞতা থেকে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘বেশিরভাগ আত্মঘাতী জঙ্গি একইরকম।’ ওই চিকিৎসক জানান, জঙ্গি সাইফুলের ভিসেরা, রক্ত ও ইউরিন সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। আত্মঘাতী হওয়ার আগে সে কোনও মাদকসেবন করেছিল কিনা তা ওই প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

গত মঙ্গলবার সকালে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলায় পুলিশের ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ নামের জঙ্গি অভিযানের সময় মারা যান সাইফুল ইসলাম। অভিযান শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, অপারেশনের সময় সাইফুল তাঁর শরীরে বাধা সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়। ২১ বছর বয়সী সাইফুলের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায় সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামে। খুলনার বিএল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন সাইফুল। পড়াশোনার জন্য খুলনার একটি মেসে থাকতেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অভিযানকালে রাজধানীতে এক জঙ্গির আত্মহনন

রাজধানীর পান্থপথে ‘ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’ আবাসিক হোটেলে আত্মঘাতি বিস্ফোরণে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের অভিযানের মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ওই জঙ্গি  ‘সুইসাইড ভেস্ট’ বিস্ফোরণ ঘটায় বলে ধারণা পুলিশের। পান্থপথের যে জায়গায় চারতলা ওই হোটেল ভবনের অবস্থান, সেখান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের দূরত্ব মাত্র ৩০০ মিটার। ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিপুল জনসমাগমকে টার্গেট করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গির- এমনটাই মনে করছে পুলিশ। এছাড়া নিহত জঙ্গি শিবির করতো এবং তার বাবা জামায়াত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সকালে এক জঙ্গির অবস্থানের খবর পেয়ে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের কাছে ‘ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’ নামের ওই হোটেল ভবন ঘিরে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার প্রতিটি গলি এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন, সোয়াট সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন অগাস্ট বাইট’। পুলিশ কয়েক ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে চারতলা হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে। চার তলার ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একজনের দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, ‘হোটেলের যে কক্ষে বিক্ষোরণ ঘটেছে, আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক সোমবার রাতে সেটি ভাড়া নেয়। হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম, বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। বি এল কলেজে সে অনার্স পড়ছে। আমরা ধারণা করছি, ওই যুবকই নিহত হয়েছে।’ পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত যুবক নব্য জেএমবির সদস্য।

গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার তথ্য পায়। হোটেলে অনুসন্ধান চালানোর সময় তার কক্ষ থেকে আমরা কোনো সাড়া পাইনি। তাকে সারেন্ডার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে করেনি। সে প্রথমে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযান শুরু হলে সে সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।’ আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সেই পরিকল্পনা নস্যাত করে দিয়েছে। ওই জঙ্গি নিহত হয়েছে।’

অন্যদিকে সকালে পুলিশ হোটেলটি ঘিরে ফেলার পরপরই রাসেল স্কয়ার থেকে পান্থপথ-গ্রিন রোড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের প্রতিটি গলিতে অবস্থান নেন পুলিশ ও সোয়াট সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও এনে রাখা হয়। ছুটির দিনের সকালে রাস্তার এই অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আসা অসুস্থ এক ব্যক্তিকে পুলিশের সহযোগিতায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে হোটেল ভবনের চতুর্থ তলার দেয়াল ও গ্রিল ভেঙে নিচে পড়লে  তৈরি হয় আতঙ্ক। স্কয়ার হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে দিকে চলে যান। এর পরপরই সামনের রাস্তা দিয়ে আহত অবস্থায় একজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহার হোসেন জানান, ওই ব্যক্তি ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে ইটের টুকরো ছিটকে গিয়ে তার মাথায় লাগে। কিছু সময় পর সোয়াট সদস্যদের হোটেলের চতুর্থ তলার ওই অংশে দেখা যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে হোটেল ভবনের চতুর্থ তলায় প্রবেশ করেন পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা। সেখানে আরও বিস্ফোরক আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এক সময় শিবির করা সাইফুল নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছিলেন। অগাস্টে ‘বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা’ চলার তথ্যের ভিত্তিতেই ওই হোটেলে তারা সাইফুলের সন্ধান পান। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার সানোয়ার হোসেন জানান, অভিযানের সময় ওই জঙ্গি দুটি বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ভেতরে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগে বোমার সন্ধান পায়। তিনি বলেন, ‘ব্যাগ থেকে বের না করে ওই অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ভেতরে তল্লাশি করে দেখেছি, আর কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক নেই। এখন ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে।’ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয় শাখা) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই হোটেলে পুলিশের অভিযান শেষ  হয়েছে। তবে আশপাশের কিছু জায়গায় পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’  

 

এই বিভাগের আরো খবর

নিহত জঙ্গি শিবির বাবা জামায়াত

রাজধানীর পান্থপথে পুলিশের অভিযানের মধ্যে আত্মঘাতী হওয়া ‘জঙ্গি’ সাইফুল ইসলাম এক সময় শিবিরকর্মী ছিলেন; আর তার বাবা খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুলের বাবা আবুল খায়ের মোল্লাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান শেষে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান বলেন, সাইফুলের ওপর আগে থেকেই নজর রাখছিল পুলিশ। সে নব্য জেএমবির সদস্য; আগে শিবির করত। তার বাবা আবুল খায়ের মোল্লাও খুলনার জামাত নেতা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এক সময় শিবির করা সাইফুল নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছিলেন। অগাস্টে ‘বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা’ চলার তথ্যের ভিত্তিতেই ওই হোটেলে তারা সাইফুলের সন্ধান পান। অগাস্ট মাসে আরও কোনো হামলা পরিকল্পনার তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘অগাস্ট মাস আসলে আমরাও সতর্ক হই, অনেক ঘটনা ঘটেছে আপনারা জানেন। অগাস্ট মাসে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, একুশে অগাস্ট ঘটানো হয়েছে, ১৭ অগাস্ট সিরিজ বোমা হয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই আমরা গোটা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি।’

এ বিষয়ে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘জামাত শিবির না হলে আজ জাতির পিতার মৃত্যু দিবিসে শোক দিবসে আরেকটি ঘটাবে, এটা ঘটাতে পারত না। যারা বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আজকে এই জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল।’ আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সেই পরিকল্পনা নস্যাত করে দিয়েছে। ওই জঙ্গি নিহত হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে এই অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াটের সদস্যরা। দুই দফা বিস্ফোরণ ও গুলির পর সেখানে খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্র সাইফুলের লাশ পাওয়া যায়। খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানায়, সাইফুলদের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে। তার বাবা আবুল খায়ের নোয়াকাঠির মাঠেরহাট মসজিদের ইমাম এবং ইউনিয়ন জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ।

ডুমুরিয়ার ওসি মো. হাবিল হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় সাইফুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা তার বাবাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সাইফুলের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।’ আবুল খায়েরের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ‘পড়াশোনার কাজের কথা বলে’ গত ৭ অগাস্ট ঢাকায় যান সাইফুল। সর্বশেষ গত রোববার ফোনে সাইফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। সে সময় বলেছিল, সোমবার খুলনা ফিরতে পারে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

বঙ্গবন্ধুর খনিদের ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে : আইজিপি

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডিবি পুলিশের গুলিবিদ্ধ সহকারী কমিশনার রাহুল পাটোয়ারীকে দেখে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার রাহুল পাটোয়ারীর ওপর যারা গুলি করেছে, তাদের গ্রেফতারে পুলিশ বদ্ধপরিকর। তাদের  গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ শহীদুল হক বলেন, ‘তাকে যারা গুলি করেছে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

দোকান বরাদ্দে অনিয়ম খোকাসহ ৭ জনের বিচার শুরু

ঢাকা সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বিপণি বিতান ঢাকা ট্রেড সেন্টারে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম ও দুনীর্তির মামলায় সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ সাতজনের বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন  ঢাকা সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন, ফারুক হোসেন, বাচ্চু মিয়া, কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন সাবু ও মোহসীন উদ্দিন মোড়ল।আদালতের পেশকার মোকারম হোসেন জানান, সাদেক হোসেন খোকা এবং সাহাবদ্দিন সাবু পলাতক রয়েছেন।

জামিনে থাকা আসামি মোতালেব এবং ফারুক রোববার আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করেন বিচারক। এদিন আদালতে হাজির ছিলেন দুইজন আসামি। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার চান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ব্যক্তিগত স্বার্থে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বিপণি বিতান ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের খোলা জায়গা মাসে ১৫ টাকা প্রতি স্কয়ার ফুট হারে বরাদ্দ দিয়েছেন। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর খোকাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ আব্দুল সালাম। সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন।কয়েকটি মামলা মাথায় নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা। সেখানে তার ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে বলে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর খোকার অনুপস্থিতিতে সম্পত্তির তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তাকে ১৩ বছরের কারাদ-ের পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দায়সারা মামলা নিল পুলিশ হাজারীবাগে ধর্ষণ, ভিডিও করে ইন্টারনেটে ফাঁস

রাজধানীর হাজারীবাগে স্বামীর সাথে দ্বন্দের বদলা নিতে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ এবং এর ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষিতাকে ২০ দিন ঘুরিয়ে অবশেষে মামলা নিয়েছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। চলছে দায়সারা তদন্ত। ধর্ষকরা ঘুরে বেড়ালেও এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ধর্ষিতা।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর অভিযোগ, পারিবারিক শত্র“তার জের দরে গত ২৬ মার্চ হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একই এলাকার জুবায়ের খানসহ ৬/৭ জন। কামরাঙ্গীরচর এলাকার এক মাছের ঘেরে আটকে ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধারণকরা হয় ধর্ষণের ভিডিও। বিষয়টি কাউকে জানানো হলে বা আইনী পদক্ষেপ নিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়াসহ তার ছেলে- মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয় ধর্ষকরা। মানসম্মান ও সন্তানদের কথা ভেবে চারমাস নিশ্চুপ ছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। সম্প্রতি ভিডিওটি ছড়িয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে থানায় মামলা করতে যান তিনি। পুলিশ শুরু করে নয়ছয়। তাকে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। পরে ১৫-২০ দিন ঘুরে গত ৩ আগষ্ট মুল অভিযুক্ত জুবায়েরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।

হাজারীবাগ থানার ওসি জানান, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্চে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে ধর্ষনের শিকার নারীর মামলা নিতে বিলম্বের বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ ওসি। অন্যদিকে পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় নিরপাত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ষোড়শ সংশোধনী রায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সারাদেশে তিনদিনের কর্মসূচি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি দিয়েছে সরকারি দল সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। আজ রোববার, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সারা দেশে আইনজীবী সমিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা স্বতপ্রণোদিত এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ষড়োশ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তাতে আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যতিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। একটি মহল রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এধরণের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনোই গ্রহণ যোগ্য নয়। রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা স্বতপ্রণোদিত এক্সপাঞ্জ করতে হবে। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোন মহল বিচারাঙ্গককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন বক্তব্য দিবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচারণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুদ্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কুটুক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা।

তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রকে নস্যাৎ করতে চায় তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচার অঙ্গনকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা তাদের প্রতিহত করবো। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন করেন লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা মনেকরি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রবীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয় ‘এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি’ এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক।

আদালতের বিরুদ্ধে নয়, আমরা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছি। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে অপ্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের কর্মসূচি। সুচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ষড়োশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের এ ধরনের পর্যবেক্ষণ অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত ও অপ্রাসঙ্গিক। আদালতের অনাকাক্সিক্ষত পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিয়ে এবং রায়ের বিকৃত ব্যাখা দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সারাদেশে আইনজীবীদের নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণ আমাদের ব্যথিত করেছে। স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আইনজীবীরাও আজকে কর্মসূচি ঘোষণা করবে, সে কারণেই সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরুসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কারও ট্র্যাপেই পড়ব না: প্রধান বিচারপতি

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রসঙ্গে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মন্তব্যের জন্য অবমাননার রুল জারির আবেদনে সাড়া দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, সরকার বা বিরোধী দল- কারও ‘ট্র্যাপেই’ সুপ্রিম কোর্ট পড়বে না। রায় নিয়ে যে কোনো ‘গঠনমূলক সমালোচনা’  আদালত স্বাগত জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন কমিশনের বক্তব্যের বিষয়ে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্য আসে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, “আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।”

সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ বলেছেন। সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে তিনি ‘অপরিপক্কতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।  

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আপিল বিভাগের সামনে তুলে ধরেন।  

তিনি বলেন, “আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন , তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার কথা বলছি।”

প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, “রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা যে কেউ করতে পারে। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি। তা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা জয়নুল আবেদীন এ সময় বলেন, সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা এসেছে তা ‘অবমাননাকর’।

প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, “রায় নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। আপনারা আরও সচেতন হবেন, যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে।”

জয়নুল আবেদীন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে রুল চাইলে আদালতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আওয়ামী লীগ নেতা শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতি থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান যা বলেছেন, তা ‘স্পষ্টভাবে অদালত অবমাননা’।

তিনি রুল চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন। সরকার বা বিরোধী দল- কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তা-ভাবনা করেই রায় দিয়েছে। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। ইতিহাসই একদিন বিচার করবে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হয়েছিল ষোড়শ সংশোধনীতে।  হাই কোর্ট গতবছর ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। এরপর ১ অগাস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানানোর কথা রয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের।

 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত ৫ নাইজেরিয়ানসহ গ্রেফতার ৭

অংশীদারি ব্যবসার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ নাইজেরিয়ান ও দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আহসান হাবীব।

তিনি বলেন, গত মঙ্গরবার গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা থেকে নাইজেরিয়ান নাগরিক ফ্রেড আমহ ইডি (৪২), ইজুগো কেলছি মুসা (৩৭), জসিলা মাইকেল চুকওয়াকা (৩৬), ওকোরও অস্টিন আন্তো (৩০), অগোয়া রেজিন্যাল্ড ইক (৩৮) ও জুয়েল রানা ও সাহেরা বেগম নামে দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চারটি ল্যাপটপ, ১১ টি মোবাইল ফোন, ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ, অ্যাকাউন্ট তথ্য, দেশি সিমকার্ড ১২ টি, বিদেশি সিমকার্ড ৪ টি, মডেম ৬ টি ও একটি পাসপোর্টের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চক্রটি সাদারণত মোবাইল ফোন, ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখায়, বার্তা পাঠায়। বিভিন্ন পুরস্কার ও লটারি জেতা এবং অংশীদারি ব্যবসার কথাও বলে।  তারপর বিভন্নভাবে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।’

এই বিভাগের আরো খবর

মানি ট্রান্সফারের নামে অর্থপাচার, গ্রেফতার ৫

ইলেকট্রনিক্স মানি ট্রান্সফারের নামে প্রতারণার অভিযোগে ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। গ্রেফতাররা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইমরান (২২), আশকর ইবনে ইসাহাক ওরফে শাকিল (২৪), সৈয়দ মেহেদী হাসান ওরফে মেহেদী (২৯), হায়দার হোসেন (৩০) এবং জাহিরুল হক (২৫)।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪১টি পাইওনিয়ার প্রিপেইড মাস্টার কার্ড, নগদ ৯ লাখ ২১ হাজার ৫শ’ টাকা, এফটিসিপিইউ লেমিনেটিং মেশিন, একটি প্রিন্টার, ইসলামী ব্যাংকের দুটি গোল সিল, দুটি ল্যাপটপ, ৩২টি ব্লাঙ্ক চেকসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডি কার্যালয়ে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামি রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইমরান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে মাস্টারকার্ড পাইওনিয়ারে ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ড ইস্যু করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হাজারীবাগ এলাকার ৩৩ নম্বর পশ্চিম ধানমন্ডি প্রবাসী সুমন মিয়ার বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়। ওই বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।’ সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা পাইওনিয়রে অসত্য তথ্য দিয়ে মাস্টার কার্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করতো। এছাড়া মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে ডলার কিনে বিভিন্ন কৌশলে মুদ্রা পাচার করতো। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

বাড়ি নিয়ে করা রিট প্রত্যাহার মওদুদের

‘বিনা নোটিশে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের’ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মওদুদের রিট প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রোববার রিট প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন মওদুদ। এর আগে রিটটির শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ড ওভার) ছিল একই হাইকোর্ট বেঞ্চে।
মওদুদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুপাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য নিম্ন আদালতেই বলতে পারবো। এজন্য হাইকোর্টে করা রিট প্রত্যাহার করেছি। নিম্ন আদালতের মামলা চালাবো’। মওদুদের পক্ষে এ জে মোহাম্মদ আলী এবং রাজউকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

দক্ষিণখানে প্রেমের টোপে ফেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

রাজধানীর দক্ষিণখানে প্রেমের টোপে ফেলে অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে আসিক (১৮) নামে এক যুবক।  সোমবার ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। দক্ষিনখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (অভিযান) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণখানের আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রীর সঙ্গে আসিক নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রোববার ওই ছাত্রীর বাসায় কেউ ছিল না। এ সুযোগে আসিক দেখা করতে তার বাসায় আসে। খালি বাসায় সে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন বাসায় আসলে সে বিষয়টি খুলে বলে। পরে সোমবার থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top