রাত ২:৪৭, সোমবার, ২৫শে জুন, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

‘ভুল চিকিৎসায়’ রাজধানীর গ্রিনরোডে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তর্ক ও হাতাহাতির একপর্যায়ে নবজাতকের এক স্বজনকে আহত করেছে হাসপাতালের লোকজন। পরে মৃত নবজাতকের স্বজন ও আশপাশের লোকজন হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে হাসপাতালটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নবজাতকের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় গত ১১ জুন ওই নবজাতককে ভর্তি করা হয়েছিল সেন্ট্রাল হাসপাতালে। দুই দিন পর তাকে নেওয়া হয় নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ)। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টও দেওয়া হয়। শুক্রবার তার লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। শনিবার সকালে নবজাতক মৃত বলে হাসপাতালের লোকজন স্বজনদের জানান। তবে এর আগে শিশুর শারিরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনদের অবগত করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে মৃত নবজাতকের ডেথ সার্টিফিকেটে বলা হয়েছে, সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। পাশাপাশি তার হার্টের একটি এক্সরে রিপোর্টও সংযুক্ত রয়েছে। নিহত নবজাতকটির খালা শিউলি বেগম বলেন, ‘হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর এম মনসুর আলীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছিলাম। তিনি বলেন, এনআইসিইউতে ভর্তি করা বেশিরভাগ বাচ্চাই মারা যায়। এই কথার পর আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কী বলার থাকতে পারে!’ নবজাতকের স্বজনরা বলছেন, তার শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই অবগত করেনি।

পরে আজ শিশুটির মৃত্যু হলে এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় হাসপাতালের এক কর্মীর আঘাতে ওই নবজাতকের এক আত্মীয় মাথায় আঘাত পান। তাকে পাশেই অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, নিহত শিশুটির স্বজনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের কাউকে হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের দুটি গেটও আটকানো রয়েছে।

 

আশকোনা অভিযান তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে ৬ আগস্ট

রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় পেল পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক সাইদুর রহমান বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হলে মহানগর হাকিম ওয়ায়েজ কুরুনী খান চৌধুরী নতুন দিন রাখেন।

আগামী ৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার দিন ঠিক করা হয়েছে বলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই লিয়াকত আলী জানান। এর আগে ১৭ জানুয়ারি, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২৩ এপ্রিল, ১১ মে, ১ জুন  প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর আশকোনা এলাকার ‘সূর্য ভিলা’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। ওই বাড়িতে অভিযানে দুজন নিহত হন। তাদের একজন আজিমপুরে নিহত জঙ্গিনেতা তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফ কাদেরী, অন্যজন পলাতক জঙ্গি রাশেদুর রহমান সুমনের স্ত্রী শাকিরা ওরফে তাহিরা। এছাড়া আহত হন শাকিরার শিশুকন্যা।

আত্মসমর্পন করেন দুই নারী। আশকোনার ওই ঘটনায় গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক এসআই শাহিনুল ইসলাম এ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন- পলাতক জঙ্গি মাইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা, তার স্ত্রী তৃষা মনি ওরফে উম্মে আয়েশা, মিরপুরে নিহত নব্য জেএমবির নেতা সাবেক মেজর জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ওরফে শিলা ওরফে সুমাইয়া ওরফে মারজুন, জঙ্গি রাশেদুর রহমান সুমন, তার স্ত্রী শাকিরা ওরফে তাহিরা এবং আফিফ কাদেরী ওরফে আদর এবং মো. সেলিম ও মো. ফিরোজ। এ মামলায় গত ৯ জানুয়ারি আত্মসমর্পণকারী দুই নারী জেবুন্নাহার শীলা ও তৃষা মণি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে দুই দফায় ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

ধর্ষণের অভিযোগে অভিনেতা তানভীর তনু গ্রেপ্তার

এক তরুণীর ধর্ষণ মামলায় মডেল-অভিনেতা তানভীর তনুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রূপনগর থানার ওসি শহীদুল আলম বলেন, রূপনগর আবাসিক এলাকায় নিজের বাসা থেকে শুক্রবার দুপুরে তনুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এক তরুণী। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ওই তরুণীর অভিযোগ, গত ৬ মে বাসায় ডেকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তনু। ওই সময় তনুর এক বন্ধু ওই বাড়িতে ছিলেন।

ওসি শহীদুল বলেন, “এতদিন পর মামলা করার কারণ সম্পর্কে ওই তরুণী বলছে, তাকে ধর্ষণের পর থেকে তনু পালিয়ে ছিলেন। আজকে বাসায় আছে নিশ্চিত হয়ে পুলিশে খবর দেন।”

তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তনুকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় বাসায় তনুর স্ত্রী ছিলেন। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই বলে ওসি জানান। মামলার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ফেইসবুকে পরিচয় থেকে তনুর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাকে মালয়েশিয়া নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তনু।

“এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ৬ মে তনু তাকে বাসায় ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন না। সেই ফাঁকে তনু মেয়েটিকে ধর্ষণ করার পর বন্ধুকেও বলে তাকে ধর্ষণ করতে। এরপর এক পর্যায়ে ওই তরুণী পালিয়ে আসেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।”

তনুর ওই বন্ধুর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, স্বপ্নছোঁয়া, গুণ্ডা ও খাস জমিনসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তানভীর তনু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘কর্মফল’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘কর্মফল’র সতীশ চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে।

 

আবারও ৫৭ ধারা, ক্র্যাবের নিন্দা বিডি নিউজের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিচারকের মামলা

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম মুজতবা ধ্র“বর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে মামলা দায়ের করেছেন মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় এই মামলা দায়ের করেন তিনি। অন্যদিকে মামলা দায়েরের পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। তারা তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই ৫৭ ধারা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া  এক বিজ্ঞপ্তিতে ধ্র“ব’র বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং ঘটনার নিন্দা-প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।

প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘একটি অসুস্থ শিশু, বিচারকের ট্রাক ও একটি মামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যাতে বিচারক মাহবুবুর রহমানের বাড়ি বদলের ট্রাকের কারণে একটি অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথ আটকে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়া ট্রাক দিয়ে পধ আটকানোর প্রতিবাদ করায় শিশুর বাবা ও স্বজনদের থানায় রাতভর আটকে রাখা হয়। এই খবর প্রকাশ করায় এ মামলা দায়ের করা হলো। উল্লেখ্য, এর আগেও এই ৫৭ ধারা ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকরা এই ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি তুলে আসছেন।

 

রাজধানীতে নব্য জেএমবির ৭ জন গ্রেফতার, আলেম হত্যার ছক ফাঁস

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে নব্য জেএমবির সদস্য সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে নিউমার্কেট থানাধীন নিউ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে ওই ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- মো. জাহিদুল ইসলাম ওরফে জোহা ওরফে বোতল ওরফে মাশরুর (২৩), আবু বকর সিদ্দিক ওরফে আবু মোহাম্মদ (১৯), মোহাম্মদুল্লাহ আদনান (১৯), মেহেদি হাসান ইমন ওরফে আবু হামজা (২১), খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে আবু মুসাব ও শামসুদ্দীন আল আমিন ওরফে আবু আহমদ। এদের মধ্যে আদনান নিউমার্কেট এলাকার একটি মসজিদে তারাবির ইমাম। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

অন্যদিকে গত শনিবার রাতে রাজধানীর ডেমরা থেকে নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্র“পের শরিয়া বোর্ডের আমির শায়েখ মামুনুর রশীদ ওরফে শায়েখ মামুনকে আটক করা হয়েছে বলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে র‌্যাব। তিনি ডেমরার একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার ছয়জন নব্য জেএমবির সদস্য। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র, নোটবুক, জঙ্গিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যসংবলিত পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। রমজানে নাশকতার উদ্দেশে এই ছয়জন বৈঠক করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির আইয়ুব বাচ্চু ওরফে মাখনদা ওরফে লাল ভাই এবং আর্থার নামে দুই ব্যক্তির নির্দেশে গ্রেফতার ছয়জন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের এই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অস্ত্রের জোগান দেওয়াসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন সাদী ওরফে আবু জান্দাল ওরফে আবু দারদা নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ও আবু বকর সিদ্দিকের এক ওলামাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। এ জন্য তারা ওই ওলামাকে কয়েক দিন রেকিও করেছেন। ওই ওলামা জঙ্গিবিরোধী বক্তব্য দেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম। নিরাপত্তার স্বার্থে ওলামার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। মনিরুল জানান, জেএমবির কেন্দ্রীয় কমিটি বা মজলিসে শুরার সদস্য সংখ্যা এখন পাঁচজন। তাদের একজনের নাম সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ। আর তাদের পরের স্তরের আরেক নেতা হলেন সাদী ওরফে আবু জান্দাল ওরফে আবু দারদা ওরফে আবু, যিনি অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে গ্রেফতার ওই ছয়জনকে সংগঠিত করেছেন।

জঙ্গি দলে তারাবির ইমাম : গ্রেফতার ৬ জঙ্গির মধ্যে আদনানা ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকার এক মসজিদে তারাবির নামাজ পড়িয়ে আসছিলেন। এর সূত্র ধরে ওই সংগঠনের জঙ্গিরা নিয়মিত সেখানে সমবেত হচ্ছিল এবং একজন আলেমকে হত্যার পরিকল্পনা তাদের ছিল বলে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ভাষ্য। এ ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেফতার আদনান নিউ মার্কেট এলাকার একটি মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ান। এজন্য প্রতিদিন তারা সেখানে সমবেত হত।’

সারোয়ার-তামিম গ্র“পের শরিয়া বোর্ডের আমির আটক : নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্র“পের শরিয়া বোর্ডের আমির শায়েখ মামুনুর রশীদ ওরফে শায়েখ মামুনকে ঢাকার ডেমরা থেকে আটক করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার বিকেলে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আটক নব্য জেএমবির শুরা সদস্য ইমরান আহমেদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার ভোরে ডেমরার একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে মামুনুর রশীদকে আটক করে র‌্যাব। মামুনুর রশীদ ওই মাদ্রাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে সারোয়ার-তামিম গ্র“পের সদস্য হন। উগ্র জঙ্গিবাদী মতাদর্শের বিভিন্ন নথিপত্র অনুবাদে মামুনুর রশীদ পারদর্শী বলে জানায় র‌্যাব।

৬ নব্য জেএমবি ৩ দিনের রিমান্ডে : রাজধানীতে নব্য জেএমবি সন্দেহে গ্রেফতার ছয় জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল সোমবার তাদের তাদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নাহার ইয়াসমিন প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।

 

জঙ্গি কানেকশনের অভিযোগে গার্মেন্টস মালিক গ্রেফতার

নব্য জেএমবিকে অস্ত্র ও অর্থসহায়তার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে জিম টেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ ও তার গাড়িচালক মো. শামিমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় দাওয়াবিষয়ক কমিটির শুরা সদস্য। তার কারখানা ও বাসা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও দাওয়াতি উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান আহমেদ জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। মুফতি মাহমুদ দাবি করেন, আতিয়া মহলে অভিযানের আগে সাজিদ নামের এক ব্যক্তি পালিয়ে যান। তিনি ঢাকায় এসে ইমরান আহমেদের মহাখালীর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সাজিদ জেএমবির নতুন আমির আবু মুহারিবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর। র‌্যাব জানায়, সাজিদ ছাড়াও জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেককেই ইমরান তার বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন এবং অর্থ সাহায্য করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এই তালিকায় জঙ্গি নেতা জুন্নুন শিকদারও আছেন।

ধারণা করা হচ্ছে জুন্নুন শিকদার সিরিয়ায় রয়েছেন। গত বছর র‌্যাবের অভিযানে জঙ্গি আবদুল হাকিম গ্রেফতার হন। সম্প্রতি ইমরান আইনি সহযোগিতার জন্য আবদুল হাকিমের স্ত্রীকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানতে পেরেছে, জেএমবি এখন দাওয়াতি কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। ইমরান গুলশান, বনানী ও মিরপুর এলাকায় জেএমবিতে সদস্য সংগ্রহের কাজ করতেন। এছাড়া দেশের ১০টি জেলায় দাওয়াতি কমর্কান্ড সমন্বয়ের কাজও তিনি করছিলেন। র‌্যাব জানায়, গত এপ্রিল মাসে ইমরান বগুড়ার সোনাতলার একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পান। ওই বাড়ির মালিক শায়খ এনামুল।

বৈঠকে জেএমিবর ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি দাওয়াতি শুরা বোর্ড গঠন করা হয়। দাওয়াতি শুরা বোর্ডের আমির নির্বাচিত হন ঢাকার নন্দীপাড়ার কুরআন-সুন্নাহ একাডেমির শায়খ আরিফ এবং নায়েবে আমির নির্বাচিত হন শায়খ এনামুল। জেএমবির প্রধানের দায়িত্ব¡ পালনকারী আবু মুহারিবের কাছ থেকে এই কমিটির অনুমোদন নিয়ে দেন সাজিদ। ধারণা করা হচ্ছে, সাজিদ জেএমবির সামরিক বিভাগের প্রধান। তিনি আবু মুহারিবের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। এই যোগাযোগ হতো অ্যাপসের মাধ্যমে। সাজিদ ছাড়াও সানজিদ, আরমান ও লাল ভাইসহ আরও বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে তার। এদিকে জঙ্গি মুসা নিহত হওয়ার পর আইয়ুব বাচ্চু নামের একজন জেএমবির হাল ধরেছিলেন বলে এক সপ্তাহ আগে দাবি করেছিল কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। এখন র‌্যাবের পক্ষ থেকে আবু মুহারিব ও সাজিদের কথা বলা হচ্ছে। আসলে কোন তথ্যটি সঠিক জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘জঙ্গিদের প্রায় প্রত্যেকের একাধিক নাম আছে।’

ঢাকায় ‘অজ্ঞান পার্টির’ ১১ সদস্য আটক

ঢাকায় ‘অজ্ঞান পার্টির’ ১১ সদস্যকে আটকের খবর দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, পরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

গুলশানের বাড়ি মওদুদের রিটের শুনানি ২ জুলাই

গুলশানের বাড়ি ফিরে পেতে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের করা রিট আবেদনের শুনানি ২ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেছে হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই আবেদনের ওপর শুনানি শুরুর পর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চে এই আদেশ দেয়। নোটিস ছাড়াই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই রিট আবেদন করেন মওদুদ। সেই সঙ্গে গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে ওই বাড়ির নকশায় কোনো ধরনের পরিবর্তন না করা এবং পজেশন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দুটি অন্তর্বতীকালীন আদেশও চেয়েছেন তিনি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

মওদুদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। শুনানি শুরু হলে এজে মোহাম্মাদ আলী কোনো ধরনের নোটিস ছাড়া উচ্ছেদ অভিযানকে ‘আইনের লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করে অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনাসহ রুলের আর্জি জানান। এ সময় নির্দেশ ও রুল জারির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ মামলায় একটি লম্বা কাহিনী আছে। শুনানি করতে সময় প্রয়োজন। তাছাড়া এ বিষয়ে নিম্ন আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন। বিচারক এ সময় বলে, ‘আজকে আর এক ঘণ্টা সময় আছে। কাল থেকে অবকাশ শুরু হবে। এ মামলায় উভয়পক্ষকে শুনতে হবে। এ জন্য সময় প্রয়োজন। আপনারা হয় অবকাশের পরে আসেন. না হয় অবকাশকালীন বেঞ্চে যান।’ মওদুদের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন পরে সাংবাদিকদের বলেন, রিটের শুনানি অবকাশের পর, অর্থাৎ ২ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে শুনানির পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই বাড়ির প্রকৃত মালিক একজন প্রবাসী নারী। তিনি মারা যাওয়ার পর বাড়িটি রাষ্ট্রের হয়ে গেছে। বাড়ি নিয়ে মওদুদ আহমদের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পাঁচ মাস আগেই তিনি মারা যান। তার কোনো উত্তরসূরী ছিল না। অথচ মৃত মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করে তা নিজের নামে করে নিয়েছেন। তিনি কখনোই বলেননি যে তিনি ওই বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে ঢুকেছেন। মাহবুবে আলম বলেন, ওই বাড়ি যে মওদুদ আহমদের ভাইয়ের না, তা আপিল বিভাগের রায়ে উঠে এসেছে। ভাইয়ের পক্ষে কী করে তিনি এই বাড়ি দখল করে থাকেন? পৃথিবীর অন্য কোনো রাষ্ট্রে কোনো আইনজীবী এমন করলে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে বাড়ি ছেড়ে দিতেন। অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, বাড়ি ছাড়া নিয়ে মিডিয়ায় মওদুদ আহমদের নাটক ভালোভাবে প্রচার হচ্ছে। অথচ এ নিয়ে আমার বিস্তারিত বক্তব্য প্রচার হচ্ছে না।

 

মওদুদের সেই বাড়ির নিয়ন্ত্রন নিয়েছে রাজউক

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ চার দশক ধরে গুলশানের যে বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর অভিযান চালিয়ে সেই বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে বুধবার বেলা ১২টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে। এরপর রাজউকের একটি ট্রাক ও তিনটি পিকআপ ভ্যানে করে ওই বাড়ির মালপত্র মওদুদ ও তার এক আত্মীয়র মালিকানাধীন অন্য দুটি বাড়িতে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলে। এই উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ওই বাড়ির সামনে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সেখানে ছিল; ছিল জলকামান, প্রিজনভ্যান, সাঁজোয়া যান ও রাজউকের বুলডোজার।

অলিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এটা রাজউকের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা দখল করে রেখেছিলেন। আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমরা দখলমুক্ত করছি। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা রাজনীতি করি বলে, বিরোধী দল করি বলেই কি আজকে এই অবস্থা? সরকারি দলের কেউ হলে আজকে এরকম হত? আজকে বিরোধী দল করি বলেই প্রতিহিংসার এই চরম দৃষ্টান্ত। ওই বাড়ির কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মওদুদের স্ত্রী ও মেয়ে আছেন দেশের বাইরে। কেয়ারটেকার ও অন্যরা মিলেই জিনিসপত্র গাড়িতে তোলার জন্য কিছুটা গুছিয়ে দেন। একটি পিয়ানো, কাঠের একটি বড় সিন্দুক, অর্ধশতাধিক স্যুটকেস, কয়েক ডজন সোফা ও চেয়ার, বেশ কয়েকটি আলমারি, খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র, রেফ্রিজারেটর, শীতাতপ নিযন্ত্রণ যন্ত্রসহ গৃহস্থালীর যাবতীয় সামগ্রী ট্রাক ও পিকআপে করে দফায় দফায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এক বিঘা ১৩ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ির প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে তিনি ওই বাড়ির মালিকানা পান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। ওই বছরই মওদুদ ওই বাড়ির দখল নেন। কিন্তু ইনজে মারিয়া প্লাজের মৃত্যুর পর ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির দখল নেওয়ার অভিযোগ এনে দুদক মামলা করলে চার বছর আগে শুরু হয় আইনি লড়াই। মওদুদ সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গেলেও রায় তার বিপক্ষে যায়। বএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও গত রোববার তা খারিজ হয়ে গেলে মওদুদের বাড়ি ছাড়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। ওই রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেছিলেন, দেশে কি আইন নাই? আমি আইনের আশ্রয় নেব। আদালতের আশ্রয় নেব। বাড়ি ছাড়ব না। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, মামলায় হেরে গিয়ে এ কথা বলাও দুঃখজনক।

অবশ্যই বাড়ি ছাড়তে হবে। এর দুই দিনের মাথায় বুধবার দুপুরের দিকে ওই বাড়ির দখল বুঝে নিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক, পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। অভিযান শুরুর কিছু সময় পর আইনজীবীর পোশাকে ওই বাড়ির সামনে হাজির হন ব্যারিস্টার মওদুদ। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুরোধে গেট থেকে সরে রাস্তার পাশে দাঁড়ান তিনি। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা ছিল সেটার নিষ্পত্তি হয়ে গেছেৃ কোনো আইন নেই? যে এত দিনের মধ্যে আপনাকে বাড়ি ছাড়তে হবে?… আজকে আদালতের কোনো অর্ডার আছে? তাদের (রাজউক) কোনো অর্ডার আছে? একটা বাড়িতে ঢুকে গেল ! আমাদের দেশে কি আইন নেই? রাজউক কোনো নোটিস ছাড়াই এ অভিযান চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিউর রহমান বলেন, এটা তো আমাদের সম্পত্তি।

আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটা কি উনার সম্পত্তি? নোটিস দেব কেন? রাজউকের এই কর্মকর্তা বলেন, মওদুদ আহমদ এ বাড়ি দখলে রেখেছিলেন ‘অবৈধভাবে’। এখন রাজউক বিধি অনুযায়ী তার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। আপতত এটা তালাবদ্ধ থাকবে, পরে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। উনার মালামাল তিনি যেখানে চেয়েছেন, সেখানে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ওই বাড়ির সামনে যান। চলে যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আইনি বিষয় জানি না। আমরা জানি উনি ছিলেন। এখন দেখছি তাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। মওদুদের জুনিয়র ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান বলেন, আপাতত মালপত্রগুলো দুটো ফ্ল্যাটে রাখা হচ্ছে। গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে একটি ফ্ল্যাট আছে, ওটা স্যারের নিজের ফ্ল্যাট। কিছু মালামাল ওখানে যাবে। আর কিছু যাবে ৫১ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটে। সেটা স্যারের এক আত্মীয়র বাসা।

 

হত্যা-ডাকাতি: মানিকগঞ্জে ৫ জনের ফাঁসির রায়

সাত বছর আগে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বাড়িতে ঢুকে তার মা কে হত্যা করে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ আল মাহমুদ ফায়জুল কবির মঙ্গলবার এ রায় দেন।

ফাঁসির আদেশ পাওয়া পাঁচ আসামির মধ্যে মো. ইছাক ভূইয়া, বাচ্চু মিয়া ও শহিদুল ইসলাম রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ইমান আলী ও নান্নু মিয়া জামিন নিয়ে পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দৈনিক ইত্তেফাকের সিংগাইর প্রতিনিধি মানবেন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়িতে ২০১০ সালের ৯ অগাস্ট রাতে ডাকাতি হয়।

ডাকাতরা সিংগাইর পুকুরপাড় এলাকায় ওই বাড়িতে ঢুকে মানবেন্দ্রর মা উমা দেবীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং ১২ ভরি সোনার গয়না লুটে নিয়ে যায়।

মানবেন্দ্র চক্রবর্তী পরদিন সিংগাইর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযেগে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ পাঁচজনকে আসামি করে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

এ মামলায় বাদীপক্ষে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন বলে এপিপি মথুর নাথ সরকারজানান। রায়ের পর মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “সাত বছর পর আজ বিচার পেয়েছি। এখন পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত এই রায় কার্যকর হবে- এই প্রত্যাশা করি।”

আসামিপক্ষে এ মামলায় শুনানি করেন মেজবাহুল হক, মাধব সাহা ও শিপ্রা রানী সাহা। তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

 

সাজা কমিয়ে ঐশীকে যাবজ্জীবন

ঢাকায় পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে হাই কোর্ট।

আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানি করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় দেয়।

রায়ে হাই কোর্ট বলেছে, ঐশীর অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য হলেও তার বয়স ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাজা কমানোর এই রায় দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সঙ্গে ঐশীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  

হত্যায় সহযোগিতার জন্য ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমানকে বিচারিক আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের রায় হাই কোর্টেও বহাল রাখা হয়েছে। হাই কোর্টে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহুরুল হক জহির; তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম। অন্যদিকে ঐশীর পক্ষে ছিলেন সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী।

রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট এসবি কর্মকর্তা মাহফুজ ও তার স্ত্রী স্বপ্নার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাহফুজের ভাই মশিউর রহমান পরদিন পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরদিনই নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে তার বাবা-মাকে নিজেই খুন করার কথা স্বীকার করেন। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর এ মামলার রায় দেন।

ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি হত্যায় সহায়তার দায়ে ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে খালাস পান ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত ও নৃশংস। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ঘটনার সময় আসামি ঐশী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। নৃশংস হত্যাকাণ্ড বিবেচনায় ঐশীকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ওই বছর ডিসেম্বরে খালাস চেয়ে হাই কোর্টে আপিল করেন ঐশী। সেই সঙ্গে নিম্ন আদালতের রায় ও অন্যান্য নথি হাই কোর্টে আসে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য।

এরপর চলতিবছর ১২ মার্চ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শুরু হয়। একটি মানবাধিকার সংস্থা ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রিট আবেদন করার পর হাই কোর্টের দুই বিচারক গত ১০ এপ্রিল ওই তরুণীর বক্তব্য শোনেন।

এ মামলায় ঐশীদের অপ্রাপ্তবয়স্ক গৃহকর্মীকেও আসামি করা হয়। তার বিচার কিশোর আদালতে চলছে।

 

রাজধানীতে অজ্ঞানপার্টি ভুয়া ডিবিসহ গ্রেফতার ১৬ প্রতারক

রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞানপার্টি চক্রের ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- জাকির হোসেন, আলামিন, রুবেল হাওলাদার, হিরা, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর, আনাজ, আমির হোসেন, হুমায়ুন, মঞ্জু মিয়া ও মানিক পাটওয়ারী। এছাড়া রাজধানীর অন্যস্থান থেকে ভুয়া পুলিশসহ আরও ৫ প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, পল্টন এলাকা থেকে গ্রেফতার চক্রটির সদস্যরা মানুষকে চেতনানাশক মেশানো খাবার খাইয়ে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। আব্দুল বাতেন বলেন, চক্রটি বাসে অথবা পথে কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে তার সঙ্গে সখ্যতা স্থাপন করে। সখ্যতার এক পর্যায়ে আগে থেকে  তৈরি করে রাখা চেতনানাশক মেশানো খাবার ওই ব্যক্তিকে খাইয়ে অজ্ঞান করে টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। তাদের কাছে চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।

জাল কাগজসহ গ্রেফতার ২ : গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ শনিবার রাতে গুলশান এক নম্বরের ডিসিসি মার্কেট থেকে দুই জালিয়াতকে গ্রেফতার করেছে। তারা বিভিন্ন সরকার-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র জাল করায় জড়িত বলে দাবি পুলিশের। গ্রেফতাররা হলেন- মনিরুল ইসলাম (২৭) ও আল-আমিন (২৩)। যুগ্ম-কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, তাদের কাছ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফরম, বিভিন্ন থানার ওসি ও এলজিইডি প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের সীলমোহর, ম্যারেজ সার্টিফিকেট  তৈরির কাগজপত্র, কম্পিউটারের সিপিইউ, প্রিন্টার, মনিটর ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে, এসব জাল কাগজপত্র তৈরিতে তারা দুই-তিনদিন সময় নিত এবং বিনিময়ে ৫শ’ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত নিত।

৩ ভুয়া ডিবি আটক : গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- মনিরুজ্জামান উজ্জল, জাকির হোসেন ও লাভলু। তাদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি, ডিবির জ্যাকেট ও হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন। তিনি জানান, গ্রেফতাররা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কোনো ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিত। এছাড়া চক্রটি ছিনতাইয়েও জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে বলে জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।

 

রিভিউ খারিজ, মওদুদকে বাড়ি ছাড়তেই হচ্ছে

মওদুদ আহমদ তিন দশক ধরে গুলশানের যে বাড়িতে বসবাস করে আসছেন, সেই বাড়ি ছাড়তে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ রোববার এই রায় দেয়। গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়ি মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) করে ডিক্রি জারির রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু আপিল বিভাগে গতবছর ২ অগাস্ট ওই রায় বাতিল হয়ে যায়।

সেই সঙ্গে মওদুদের বিরুদ্ধে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলাও বাতিল হয়ে যায়। মওদুদের পাশাপাশি ভাই মনজুর আহমদ নামজারি বাতিলের বিরুদ্ধে এবং দুদক মামলা বাতিলের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি রিভিউ আবেদন করেছিল। ওই দুই আবেদনও আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছে।

রিভিউয়ের এই রায়ের ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা মওদুদ আহমদকে গুলশানের ওই বাড়ি হারাতেই হচ্ছে। তবে সরকারি বাড়ি আত্মসাতের মামলা থেকে তিনি রেহাই পাচ্ছেন।

আদালতে মওদুদ নিজেই রিভিউ শুনানিতে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও কামরুল হক সিদ্দিকী অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আবদুল মতিন খসরু ও খুরশীদ আলম খান।

বিস্তারিত আসছে

 

‘নব্য জেএমবির ৩ সদস্য’ আটক

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান জানান, শনিবার রাতে সাভার ও লক্ষ্মীপুর থেকে আটক করা হয়।

আটকদের নাম পরিচয় না জানালেও তারা সাভারের একটি বিস্ফোরক মামলার সন্দেহভাজন বলে মাসুদুর রহমানের ভাষ্য।

তিনি বলেন, পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

 

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন নিয়ে রায় যে কোনো দিন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের রায় যে কোনো দিন ঘোষণা হবে। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

বিস্তারিত আসছে….

ঢাকায় সন্দেহভাজন তিন জেএমবি আটক

নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির সদস্য সন্দেহে রাজধানীর তেঁজগাও এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ওই তিনজনের কাছ থেকে ‘বিস্ফোরক ও উগ্র মতবাদের বই’ উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকদের পরিচয় বা অভিযানের বিষয়ে আর কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেনননি এই র‌্যাব কর্মকর্তা। মিজানুর রহমান বলেন, পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

 

চোরাচালানে সোনা-হীরা এনেছে আপন জুয়েলার্স

রাজধানীর ৫টি বিক্রয় কেন্দ্র থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরা ক্রয়ের উৎসের সপক্ষে আপন জুয়েলার্স কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।  মঙ্গলবার এসব স্বর্ণ ও হিরার বৈধ কাগজপত্র শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে জমা দেয়ার কথা ছিল জুয়েলার্সটির। তবে তারা মাত্র ১২৫ কেজি সোনার নামমাত্র কাগজ নিয়ে আসলেও তার কোন বৈধতা পাননি শুল্ক গোয়েন্দারা। ফলে এ জুয়েলার্স থেকে জব্দ করা সোনা ও হিরা চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান। মঙ্গলবার বিকালে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জুয়েলার্সটির পক্ষ থেকে কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য আরেক দফা সময় চাইলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) রয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়ে কাগজপত্রাদিসহ তাকে তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সফিউর রহমান বলেন, আপন জুয়েলার্সের জব্দকৃত সাড়ে ১৩ মণ স্বর্নের মধ্যে প্রায় ১২৫ কেজি স্বর্ণের ব্যাপারে তথ্য দলিলাদি দাখিল করেছেন। ওই তথ্য ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে তা সংগতিপূর্ণ নয়। এসব স্বর্ণ তারা ব্যাগেজ রুলে আনা বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। যুগ্ম পরিচালক বলেন, আপন জুয়েলার্স যেসকল ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্বর্ণের বার কিনেছিলেন তার কোন তথ্য দিতে পারেননি। সোনা কেনার কাগজপত্র এবং পারচেজ রেজিস্টারের সঙ্গেও গরমিল রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপন জুয়েলার্স সময়ের আবেদন করেছেন। কিন্তু আমরা ১৪ মে তাদের স্বর্ণ আটক করেছিলাম। আটক আইনে আটককৃত পণ্যের ব্যাপারে দুই মাসের মধ্যে নিস্পত্তি করতে হয়। যেহেতু আপন জুয়েলার্স দুই থেকে তিন বার সময় নিয়ে কোন যুক্তিযুক্ত কোন ব্যাখা দিতে পারেননি অথবা ওই স্বর্ণের ব্যাপারে কোন বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। সেহেতু তাদের আর সময় দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবেনা। তবুও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনে কোনও মালামাল জব্দের পর প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় থাকে দুই মাস। এ কারণে আপন জুয়েলার্সকে নতুন করে আর সময় দেয়ার সুযোগ নেই। সে সম্ভাবনাও নেই বলে আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি।’

এর আগে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জব্দ করা সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম হীরার ব্যাখ্যা দিতে বেলা পৌনে ১২ টার দিকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে আসেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম। এ সময়ে তার সঙ্গে আসেন তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ ও তিন আইনজীবী। স্বর্ণের ব্যাখ্যা দিতে এর আগেও দিলদার আহমেদকে তিন দফা তলব করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়।

বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামী সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ। ওই ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আপন জুয়েলার্সের ৫টি শাখায় অভিযান চালায়।

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্সকে আর সময় দেবে না শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তিন পর্বে সময় দেয়ার পরও জব্দকৃত স্বর্ণের ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পথেই হাঁটবে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা দফতর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আপন জুয়েলার্সের পক্ষে আসা আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সাইফুল সিরাজ বলেন, জব্দ করা মালামালের বৈধ হিসাব দেয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। আমরা পাঁচটি ইউনিটের বিভিন্ন উৎস থেকে জব্দ করা মালামালের কিছু হিসাব দিয়েছি। বাকি মালামালের হিসাব দেয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। আমরা শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের কাছে সময় চেয়েছি।

শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতর সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্সের প্রকৃত গ্রাহকদের স্বর্ণালঙ্কার ১৮২ জনের স্বপক্ষে প্রায় সাড়ে ৩ কেজি ফেরতযোগ্য স্বর্ণের হিসাব পাওয়া গেছে। এই গ্রাহকদের রশিদ ও ব্যক্তিগত আইডিসহ (এনআইডি/পাসপোর্ট) গ্রাহকদের উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়। এর প্রক্ষিতে ৮৫ জন গ্রাহককে স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ও ১৫ মে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দারা প্রায় ১৩.৫ মণ স্বর্ণালংকার ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড আটক করেন। এখন পর্যন্ত মালিক পক্ষ এসবের কোন  বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। ধারণা করা যাচ্ছে তারা এ স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। এরপর তলবের প্রেক্ষিতে গত ১৭ মে কাকরাইলস্থ শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকরা আটক স্বর্ণের স্বপক্ষে বৈধ কাগজ দেখাতে সময় প্রার্থনা করেন।

রেইনট্রি ম্যানেজারের কাগজ তলব : বনানীর রেইনট্রি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে কাজ করার অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) রয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, তারা রেইনট্রি হোটেলের ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশে থাকার এবং কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে সেসব কাগজপত্র জমা দিতে তাকে এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও সেই সময় শেষ হয়নি।’ তবে কবে নাগাদ তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেটা  জানাতে চাননি তিনি। ফ্র্যাংক ফরগেটের বাংলাদেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. মইনুল খান বলেন, ‘এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।’

 

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ঘুষের মামলায় কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হওয়া নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এক ঘুষের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নারাণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত গতকাল বুধবার সকালে শ্যামলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর বিকালে এই শিক্ষক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক অশোক কুমার দত্ত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে শ্যামলের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসা শ্যামল কান্তি ভক্ত এদিন আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, তাকে চাপে রাখতে ‘প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নির্দেশে ষড়যন্তমূলকভাবে’ ওই মামলা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গত বছরের ১৩ মে তারই স্কুলে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে শারীরিক নির্যাতন ও কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে। ওই ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সাংসদ সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, শিক্ষককে নয়, নাস্তিককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৭ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থীকে মারধর ও শিক্ষক মোর্শেদাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে তিনটি মামলার আবেদন নারায়ণগঞ্জের আদালতে জমা পড়ে।

আপন জুয়েলার্স স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত, দাবি শুল্ক গোয়েন্দাদের

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি আরও তথ্য জানতে দ্য রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুন, জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাংক ফরগেট, গুলশান জোনের ডিসি মোশতাক আহমেদ ও বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে তলব করেছে। আগামী ২৫ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই ঘটনার ব্যাপারে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।  মঙ্গলবার বিকালে এই তলব নোটিশ পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

অন্যদিকে ৫টি শোরুম থেকে জব্দ করা প্রায় আড়াইশ কোটি মূল্যের ১৩ মনের বেশি স্বর্ণ-হীরার বিষয়ে এ পর্যন্ত বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাদের তলব করা হয়েছে। এর আগেও আপন জুয়েলার্সের মালিককে তলব করা হলে তিনি হাজির হয়ে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানান। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ রয়েছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে  সিলেট থেকে আপন জুয়েলার্স মালিকের নামে থাকা মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল গাড়ি  জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এই গাড়িতেই ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী দিলাদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ঢাকা থেকে আত্মগোপন করতে সিলেটে গিয়েছিল। গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমান পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে এ ধর্ষনের মামলা নিতে গড়িমসি করায় গুলশান জোনের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, বনানী থানার ওসি ফরমান আলী এবং একই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে ডিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দেরিতে মামলার এজাহার গ্রহণ এবং তদারকিতে অবহেলার প্রমান পেয়েছে ওই কমিটি। এর আগে পুলিশের ‘গাফিলতি’ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সোমবার ডিএমপি কমিশনারের হাতে তুলে দেন তদন্ত কমিটির প্রধান এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমান। দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নিতে বনানী থানা পুলিশের কর্তব্য পালনে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা জানতে ডিএমপি ওই তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কাছে অবহেলার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রেইনট্রির এমডি আদনান হারুন ব্যাখ্যা দিতে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন বেলা ১১টার পর। তাদের দুপুর ২টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তারা এসব মদের বিষয়ে বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধেমাদক, ভ্যাট এবং শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান জানান। গত দুই মাসে হোটেল রেইনট্রি ৮লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমান মিলেছে বলেও জানান ওই শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

রেইনট্রি থেকে উদ্ধার করা মদকে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে ডিজি মঈনুল বলেন, যেহেতু বনানীর দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের (ভিকটিম) জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছিল, তাতে এটা প্রমাণিত যে রেইনট্রি হোটেলে এর আগেও মদ আগেও বিক্রি হয়েছে এবং ঘটনার সময়েও ব্যবহার হয়েছে। আপন জুয়েলার্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটের জিন্দাবাজার থেকে মঙ্গলবার সকালে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের নামে থাকা একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।  তাদের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আপন জুয়েলার্সের মালিক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতেই জুয়েলার্সটির ৫টি শাখায় একইসঙ্গে অভিযান চালিয়ে সেগুলো মালামালসহ সিলগালা করা হয়েছে। তাদের উপযুক্ত কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সময় চেয়ে  আবেদন করায় আবারও তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে গাড়ি জব্দ : সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জিন্দাবাজারের একটি বাসা থেকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর অভিযান চালিয়ে একটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের (ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৮৮৫৬) গাড়ি জব্দ করেছে। মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী কমিশনার প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, ‘গাড়িতে থাকা কাগজপত্রে দিলদার নামে এক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তবে এই দিলদার আপন জুয়েলার্সের মালিক কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ২০১১ মডেলের মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের ওই গাড়িটি ২০১৫ সালের দিকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের বাড়ি। তার শ্বশুর বাড়ি সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকায়। দিলদার আহমেদের শ্বশুরকে ওই এলাকায় সবাই মতিন মিয়া নামেই চেনেন। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এই গাড়িটি নিয়ে গত ৮ মে সিলেটে এসেছিল বনানীতে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত, সাকিফসহ কয়েকজন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ওই দুই ছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করা হয়। এরপর ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে নানা নাটকীয়তার পর তরুণীদের ধর্ষন মামলা গ্রহন করে বনানী থানা। এ মামলার আসামীরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, ই- মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্র“পের  পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন। পরে ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫  মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয়  গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। ১৭ মে রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ধর্ষণ মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে সার্বিক বিষয়ে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। এগুলো কেন ঘটলো তা জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।  তাদের উত্তর পেলেই তদন্ত প্রতিবেদন মিলিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সোমবার দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মামলা গ্রহণে গাফিলাতি খুঁজে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মিজানুর রহমান ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

অন্যদিকে ধর্ষনস্থল বনানীর রেইনট্রি হোটেল কর্তৃৃপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দেওয়া নোটিশের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টে আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। সোমবার সকালে নোটিশ স্থগিত করে দেওয়া আদেশ বিকেলে স্থগিত করে দেন বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার। এর ফলে অবৈধভাবে মদ রাখার ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দাদের সামনে হাজির হতেই হচ্ছে রেইনট্রি কর্তৃৃপক্ষকে। এর আগে সেই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এমডি সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের ছেলে শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন। সোমবার সকালে রেইনট্রি হোটেল কর্তৃৃপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দেওয়া নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। একইসঙ্গে ওই নোটিশের কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়। গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের পক্ষ থেকে রেইনট্রি হোটেলের এমডি শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুনকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে হাজির হয়ে তার হোটেলে পাওয়া মদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১৭ মে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদনান হারুন হাজির হননি। ওই দিন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি এক মাসের সময়ের আবেদন করেন। পরে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ তাদের সাতদিনের সময় মঞ্জুর করেন।  

যেসব ব্যত্যয় পেল তদন্ত কমিটি : ডিএমপির তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, বনানী থানার ওসি ৪ মে ও ৫ মে অভিযোগকারী দুই তরুণীর মামলা গ্রহণ করেননি। ৬ মে বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযোগকারী দুই ছাত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাত ৯টার পর গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ থানায় যান। কেন একজন অভিযোগকারীকে দুই দিন ধরে থানায় হয়রানি করা হচ্ছে- অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ওই দিন রাত ১০টায় ওসি থানায় মামলা গ্রহণ করেন বলে তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে। সর্বশেষ মে মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ বনানী থানায় দায়িত্বরত দুই কনেস্টবলের সাক্ষ্য নিয়েছে কমিটি। সেইসঙ্গে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। তাই জমা দেয়া প্রতিবদনে বেশ কিছু অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। বনানী থানার ওসি বিভিন্ন অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ওই দুই ছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করা হয়। এরপর ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে নানা নাটকীয়তার পর তরুণীদের ধর্ষন মামলা গ্রহন করে বনানী থানা। এ মামলার আসামীরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, ই- মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্র“পের  পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন। পরে ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫  মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয়  গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। ১৭ মে রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

 

 

 

 

জনতা ব্যাংকে নিয়োগের ফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশসহ নিয়োগের কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ জনের রিট আবেদন শুনে সোমবার হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।

গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ইডেন কলেজ, লালমাটিয়া কলেজ ও সেন্ট্রাল রোডের আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ৮৩৪টি সিনিয়র অফিসার পদের বিপরীতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। গত ২৪ মার্চ সকাল ও বিকালে প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় আড়াই লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ১৫০ জন। পরে ২১ এপ্রিল নয় হাজার ৪০০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অতল করসহ ১৫ জন প্রার্থী প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে হাই কোর্টে রিট করেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সত্যি নয় বলে দাবি করেছিলেন। রিটকারীদের আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে ও পরীক্ষার ফলাফল বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে নাইম এক তরুণীর খোঁজে পুলিশ

রুদ্র রাসেল : বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা গ্রহনের বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের গাফেলতি পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতি কমিটির নজরে এসেছে। এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির সঙ্গে যে জড়িত থাকুক না কেন, তার শাস্তির সুপারিশ করা হবে।’ তবে  রোববার এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে তাদের আরও তিনদিনের সময় দেন ডিএমপি কমিশনার। এ ধর্ষন ঘটনার মামলা গ্রহণবিষয়ক কর্তব্য পালনে বনানী থানা পুলিশের কোনও গাফিলতি রয়েছে কিনা- তা জানতে এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিএমপির যুগ্মকমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন ও যুগ্মকমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত মামলার আসামীসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে নাইম আশরাফ। আর ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীর খুব কাছাকাছি থাকা এক তরুনীকে খুঁজছে পুলিশ। তবে তার কোন হদিস মিলাতে পারছে না পুলিশ।

এদিকে এ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে  আদালত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সাদমান সাকিফের কাছ থেকে জব্দ করা ৫টি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংক ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ গ্রেফতার নাইম আশরাফের ডিএনএ পরীক্ষারও অনুমতি মিলেছে। ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগকে এ আদেশ দেন। সংশ্নিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধক উপ-পরিদর্শক আবদুল মান্নান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আসামিদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে গত শনিবার আদালতে আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান-এর আদালতের খাসকামরায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আদালতসূত্র জানায়, মামলার এজাহারে বিল্লালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা দায়েরে পর বিল্লাল ভিডিওটি মুছে ফেলে বলেও জানিয়েছে। এর আগে গত ১৮ মে ছয় দিনের রিমান্ডের একদিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা করেন। মামলায় সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আজাদকে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে হাই কোর্টের রায় ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারকের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

হাই কোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গিয়েছিল গত সপ্তাহে। চেম্বার বিচারপতি হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিলে রোববার তা শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। অ্যাটর্নি জেনারেল রোজাসহ বিভিন্ন কারণে শুনানি ছয় সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রাখে।

আদেশে বলা হয়, ওই সময় পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় স্থগিত থাকবে এবং এর মধ্যে হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে হবে। তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে ওই রায় দেয়।

২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থি।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস করে তা আইনে পরিণত করে। এরপর থেকে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন নামে পরিচিত।

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার বন্ধে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলামোটর মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। এ আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯ ও ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা ও ১৩ ধারায় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আর ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারের ক্ষমতার বিধান রয়েছে।

রায়ের সার-সংক্ষেপে হাই কোর্ট বলে, “ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের এসব ধারা মাসদার হোসেন মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক দুটি স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। তাই এ ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হল।”

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “আসলে ২০০৯ সালে আইনটি হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতায় সমাজে এক ধরনের ডিমান্ড তৈরি হয়েছে। ভেজাল, নকলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে মানুষের এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ রোধ, নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা ইতিবাচক। এ কারণে জনস্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাদক আইনে মামলা গ্রেফতার ২৮ যুবক দুই দিনের রিমান্ডে

ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২৮ যুবককে গ্রেফতারের সময় ‘সমকামিতার অভিযোগ’র কথা বললেও তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার এই যুবকদের শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মাদক আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার পুলিশ তাদের যখন ঢাকার আদালতে নিয়ে আসে,তখন তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই আদালতে প্রসিকিউশন পুলিশের প্রধান পরিদর্শক মো.আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসান গ্রেফতার যুবকদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান। মাদক আইনে মামলার বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর মাতুব্বর শনিবার বলেন, অভিযানের সময় তারা সেখানে সমকামিতায় লিপ্তরত ছিল বা মিলিত হয়েছিল,এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের মাদক সেবনরত অবস্থায় কিছু মাদকসহ পাওয়া যায়। তাই তাদের মাদক আইনের মামলায় আদালতে চালান করা হয়েছে। মামলাটি মাদক আইনে হলেও এই যুবকদের রিমান্ডের আবেদনে আবার সমকামিতার কথা উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

এতে বলা হয়, ‘তাদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া গেছে। এরা প্রকৃতি বিরুদ্ধ যৌনাচারের জন্য ওই কমিউনিটি সেন্টারে মিলিত হত। একজনের ফেইসবুক আইডি থেকে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান হত। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য জানা প্রয়োজন। সৈয়দ শাহ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে আসামিদের জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন সমর্থন করেন। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাইরুজ তাসনীম জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

 

বনানীতে দুই ছাত্রীকে ধর্ষন মামলা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে যাচ্ছে ধর্ষকদের ৬ মোবাইল

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা ছয়টি মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। এছাড়া আসামি নাঈম আশরাফের ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামী আপন জুয়েলার্স মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আজাদকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করার পর রহমত আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে রহমত আলীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুরে তাকে আবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমত আরা এমি। আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের পারিপার্শ্বিক যেসব তথ্য ছিল রহমত আলীর কাছে, সবই সে পুলিশকে জানিয়েছে। ধর্ষণে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ কারণে নতুন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে রহমত আলী ওরফে আজাদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

পুলিশ জানায়, ‘বনানীর ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কিছু ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন। তাই শনিবার আদালতের কাছে এসব ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস পরীক্ষার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে সেগুলো ল্যাবে পাঠানো হবে।’
গত ২৮ মার্চ রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার প্রায় ৪০দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও বডি গার্ড রহমত আলী ওরফে আজাদকে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

 

আদালতে সাফাত ও সাদমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছয় দিনের রিমান্ডের একদিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। দুজন হাকিমের খাস কামরায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান। তিনি বলেন, আজ এই দুইজনকে আদালতে নেওয়া হলে তারা দুই জন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত পুলিশের এস আই আবদুল মান্নান জানান, আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত জবানবন্দি দেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের কাছে। আর রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান জবানবন্দি দেন মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর খাস কামরায়।

সাফাত ও তার বন্ধু সাদমানকে গত ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাফাতকে ছয়দিন এবং সাদমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এরপর ১৫ মে এ মামলার অপর দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত বিল্লালকে চারদিন এবং রহমতকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায়।

মামলার পঞ্চম আসামি নাঈম আশরাফকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফকার করে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার তাকে হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকেও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায়। গত ৬ মে বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। বাকি তিনজন তাদের সহযোগিতা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে চার আসামি অভিযোগ ‘অনেকটাই স্বীকার করেছে’ এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য তারা যাচাই বাছাই করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, নারী নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া সে অনুযায়ী অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক কিছু তথ্য তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছেন।

অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করেন। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি। সাফাত আহমেদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের চিত্র পাওয়া যায় তার সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বক্তব্যে। তার ভাষ্য, ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর এক রেস্তোরাঁয় নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। ওই হোটেলের ‘যে কোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলেই’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে। বনানীর যে চার তারকা হোটেলে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে বাদীর অভিযোগ, সেই রেইনট্রি হোটেলের মালিক ঝালকাঠির সরকারদলীয় সাংসদ বজলুল হক হারুন ও তার সন্তানরা। সাংসদ হারুনের ছেলেদের মধ্যে এইচ এম আদনান হারুন আছেন ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে। তবে দেখাশোনা করেন মূলত তার ভাই মাহির হারুন। মাহিরের বন্ধু পরিচয় দিয়েই সাফাত ধর্ষণের ঘটনার দিন ওই হোটেলে উঠেছিলেন বলে হোটেলকর্মীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। অভিযোগকারী তরুণীদের একজন জানিয়েছিলেন, পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে তারা রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাদের নিতে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী। ধর্ষণের সময় দেহরক্ষী রহমতকে দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।


প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
বনানীর ধর্ষণ মামলার চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এবং গ্রেফতার পঞ্চম আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর এ মামলার আসামি নাঈম আশরাফ বা হাসান মোহাম্মদ হালিমকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান শাফিককে গত ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার চার দিনের মাথায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অপর দুই আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী এবং গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে। ওই চারজন রিমান্ডে অভিযোগ ‘অনেকটাই স্বীকার করেছে’ জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, নারী নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া সে অনুযায়ী অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক কিছু তথ্য তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছেন। তবে চার আসামির রিমান্ড এখনও শেষ না হওয়ায় এবং পঞ্চম আসামি মাত্র ধরা পড়ায় ঘটনার খুঁটিনাটি নিয়ে এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বলা সীমীচীন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘এখন পর্যন্ত যেহেতু মেইন একিউজড, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কেবল শুরু হয়েছে। সেখানে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কথা আমরা জানতে পেরেছি।  কী পরিস্থিতিতে কী হয়েছিল জিজ্ঞাসবাদ শেষেই আমরা তা নিশ্চিত করতে পারব।’

এ মামলার আসামিদের মধ্যে সাদমান রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।আর যে হোটেলে ঘটনা, সেই রেইনট্রির মালিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের সন্তানরা। ধর্ষণের ঘটনা গত ২৮ মার্চ ঘটলেও প্রভাবশালী আসামিদের হুমকির কারণে মামলা করতে এক মাসের বেশি সময় দেরি করার কথা বাদী নিজেই এজাহারে বলেছেন। পুলিশ সেই মামলা নিতে গড়িমসি করেছিল বলে অভিযোগ ওঠায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আইনের কাছে প্রভাবশালী বলে কিছু নেই। অপরাধী অপরাধীই। ওই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতারণার অনেক অভিযোগ নাঈমের নামে
গ্রামবাসী জানায়, হালিম প্রভাবশালী বিভিন্ন জনকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা আদায় এমনকি বিয়েও করেছিল দুই বার। ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম নিয়ে ‘ই-মেকার্স’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি। ২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে ‘নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন নাঈম ওরফে হালিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈম বিভিন্ন জনের সঙ্গে নিজের সেলফি দিতেন, যা সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত বলে এখন মনে করছেন ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা। নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে হালিম এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগাতেন; যদিও সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজীপুরের নেতারা। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে নাঈমের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার কথা সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারাহ মাহবুব পিয়াসাও জানিয়েছেন। সাফাত সব সময় নাঈমের কথায় চলতেন বলে পিয়াসার ভাষ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈমের নিজের পাতায় সাফাতের বাড়িতে পারিবারিক আবহে ছবিতে তাকেও দেখা যায়। অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করেন। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি।

 

 

 

 

মানবতাবিরোধী অপরাধ সাবেক এমপি খোকাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বগুড়ার আদমদীঘির সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল  বৃহস্পতিবার পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেয়। পরোয়ানা জারির আবেদনে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন সুলতান মাহমুদ সীমন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।
আদেশের পর প্রসিকিউটর সিমন  বলেন, আব্দুল মোমিন তালুকদার একাত্তরে আদমদীঘি এলাকায় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। সে সময় হত্যা, গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এলাকায় ‘প্রভাবশালী’ হওয়ায় এবং সঠিক তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেফতারের আবেদন করা হয় বলে এই প্রসিকিউটর জানান।

আব্দুল মোমিন তালুকদার বগুড়া-৩ আসন (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। আদমদীঘি থানার কায়েত পাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ সুবেদ আলী ২০১১ সালের মার্চে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করলে পরে তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর আনুমানিক ১১টার দিকে আদমদীঘি বাজারে পশ্চিমে খারির ব্রিজের উত্তর শ্মশান ঘাটে আব্দুল মোমিন তালুকদার গুলি করে মুক্তিযোদ্ধা মনসুরুল হক তালুকদার টুলু, আব্দুস ছাত্তার, আব্দুল জলিল, আলতাফ হোসেনসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। বাদীর অভিযোগ, আব্দুল মোমিনের বাবা আব্দুল মজিদ তালুকদার (বর্তমানে মৃত) মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবা-ছেলে দুজনেই সেসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন। অবশ্য আব্দুল মোমিন সে সময় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১৭ বছর এবং তিনি কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ‘রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যেই’ তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে সে সময় অভিযোগ করেছিলেন এই বিএনপি নেতা। অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে আসার পর প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা গত বছরের জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তা জেড এম আলতাফুর রহমান ওই এলাকায় গিয়ে আদমদীঘির সুদিন, খাড়িপাড় শ্মশানঘাটি ও সান্তাহার রথবাড়ী (জমিদার সুরেন্দ্রনাথের বাড়ি) বধ্যভূমি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। ওই তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউটরদের ভাষ্য। 

বনানীর ধর্ষণ মামলা দুই তরুণীর নিরাপত্তায় পুলিশ তদন্ত দ্রুত শেষ করতে কমিটি

রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (ডিবি) বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এছাড়া আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য উচ্চপার্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন এ কমিটির সদস্য।

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে গতকাল হাজির হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিক। তবে জুয়েলার্সটির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জব্দকৃত প্রায় সাড়ে ১২ মন স্বর্ণের কোন বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। আর গতকাল হোটেল রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের পুত্র আদনান হারুনও গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করলে ২৩ মে আদনান হারুনকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, ‘দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আসামিদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখনও এক আসামি পলাতক, তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।’ আসামিরা আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১২টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে তলব করা হয়।

একইদিনে দ্য হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষকে তলব করা হলেও হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুণের পক্ষ থেকে আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির ও রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত হন। শুল্ক গোয়েন্দার কাছে লিখিথ আবেদনে আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রেইন ট্রি’র মালিক অসুস্থ থাকায় তলবে উপস্থিত হতে পারিনি। এজন্য শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে এক মাসের তলবের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানালে আগামী ২৩ মে রেইন ট্রির এমডিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা ‘রেইন ট্রি’ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি রেকর্ড বার্তা শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শোনান।

আমি গ্রেফতার হলে সবাইকে জেলে যেতে হবে : নিজেদের জুয়েলারি ব্যবসা ‘বৈধ’ দাবি করে বনানীর  হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের বৈধ ব্যবসা। আমাকে যদি ডার্টি মানি ও স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য গ্রেফতার করা হয়, তাহলে কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাইরে থাকবে না। সবাইকে জেলে যেতে হবে।’ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে ব্যবসা করছি, সারা বাংলাদেশে সেভাবে ব্যবসা চলছে। এরপরও যদি আমার স্বর্ণের দোকান বন্ধ করা হয় তবে সারাদেশের সকল দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’ বৈধ কাগজপত্র  দেখাতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কী আর কাগজপত্র দেখাতে পারে? গত পাঁচ বছর ধরে কোনো স্বর্ণ আমদানি নেই। একটা ব্যবসা চললে তার নীতিমালা থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কোনো নীতিমালা করতে পারিনি।’

দুই তরুণীকে পুলিশি নিরাপত্তা : ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি। তিনি এলন, তাদের নিরাপত্তায় পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যও নিয়োজিত রয়েছে। আদালত মঙ্গলবার ওই তরুণীদের নিরাপত্তা দেয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন, এই নিরাপত্তা তার অংশ কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। তা পেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে না চাইলেও পরে পুলিশ সাফাত আহমেদ ও মামলার অপর আসামি সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে। আরেক আসামি নাঈম আশরাফ এখনও পলাতক।

চার আ. লীগ কর্মী হত্যায় ২৩ জনের ফাঁসির রায়

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পনের বছর আগে চার আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যার দায়ে ২৩ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুন্নাহার বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত ১৯ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্য চারজন এখনও পলাতক। অতিরিক্ত পিপি জাফরিন আহমেদ বলেন, ২০০২ সালের ১২ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক চারজনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

বিস্তারিত আসছে

 



Go Top