রাত ২:৩৩, শুক্রবার, ৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

হাজারীবাগে থাকতে ট্যানারি মালিকদের আবেদন হাইকোর্টে খারিজের একদিন পর ৬ এপ্রিলের মধ্যে ট্যানারি ‘ক্লোজ ডাউন’ করার কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর উচ্চ আদালতের নির্ধারিত জরিমানা স্থগিতের আবেদনটি আগামী ৯ এপ্রিল বিবেচনা করা হবে। জরিমানার আদেশ পুনর্বিবেচনা ও স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকদের করা দু’টি আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

মনজিল মোরসেদ বলেন, মালিকপক্ষ আদালতে বলেছেন- তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, বিদ্যুৎ-পানির লাইনও নেই। তাই তাদের জরিমানা মওকুফ করা প্রয়োজন। জবাবে আদালত বলেছেন- আমাদের কাছে খবর আছে, লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও আপনারা কারাখানা চালাচ্ছেন। আপনারা ৬ এপ্রিলের মধ্যে কারখানা ক্লোজ ডাউন করে আসেন। তারপর জরিমানার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। গত ২ মার্চ হাজারীবাগে রয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলোর ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জানায়। গত ১৯ মার্চ চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি চালু রাখায় গত বছর ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে মালিকরা এ আদেশের রিভিউ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান। দু’টি আবেদনই শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় আসার পর এসব আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এদিকে  হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো সাভারে সরাতে আরও তিনমাস সময় বাড়ানো হয়েছে- এমন খবর যুক্ত করে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আবেদন করে। এতে সাভারে স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত এ বিষয়ে জানতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার নিচে নন, এমন একজন কর্মকর্তাকে তলব করেন। পরে কর্মকর্তা এসে হাইকোর্টে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এরপর গত ৬ মার্চ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো বন্ধের আদেশ দেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদারের চেয়ারম্যান। গত ১২ মার্চ ট্যানারি মালিকদের করা ওই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এরপর তারা হাইকোর্টের ৬ মার্চের আদেশ মডিফিকেশন চেয়ে আবেদন করেন। এতে ঈদ-উল আযহা পর্যন্ত  হাজারীবাগে থাকার সুযোগ চান। ওই আবেদনও বুধবার খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে আর হাজারীবাগে থাকার কোনো সুযোগ নেই ট্যানারি মালিকদের।

ঈদ পর্যন্ত সময় চেয়ে ট্যানারি মালিকদের আবেদন খারিজ

আগামী কোরবানির ঈদ পর্যন্ত হাজারীবাগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা ট্যানারি মালিকদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বুধবার শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। ট্যানারি মালিকদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট স্বপ্নীল ভট্টাচার্য। অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গত ৬ মার্চ হাইকোর্টের একই বেঞ্চ অবিলম্বে হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা বন্ধ করতে ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ আদেশ সংশোধন চেয়ে আগামী ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করে। দুই দিন উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। ৬ মার্চের আদেশের পর ট্যানারি মালিকদের পক্ষে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগেও আবেদন করা হয়। পরে তা খারিজ হয়। পরে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আজকের আদেশের ফলে আবেদন খারিজ হওয়ায় হাজারীবাগে সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল থাকল।

 

ভুয়া প্রশ্নপত্র অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক রিমান্ডে

 বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ‘ভুয়া প্রশ্নপত্র’ বিক্রি ও এ সংক্রান্ত প্রচারণার অভিযোগে গ্রেফতার অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। একই মামলায় গ্রেফতার এক শিক্ষক ও অফিস সহকারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চার ছাত্রকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী তিন শিক্ষকের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই তিন শিক্ষক হলেন- আশুলিয়ার এএম গাজীর চক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফ্ফর হোসেন, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিতের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও টঙ্গীর কোনিয়া কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হামিদুর রহমান তুহিন। তদন্ত কর্মকর্তা চার ছাত্রকেও সাতদিনের রিমান্ডে চাইলে মহানগর দায়রা জজের শিশু আদালতের বিচারক রুহুল আমীন সেই আবেদন নাকচ করেন। গ্রেফতার এএম গাজীরচক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে অধ্যক্ষ মোজাফ্ফরসহ এই নয়জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতাররা বিভিন্ন নামে ফেইসবুক আইডি খুলে তাতে পাবলিক পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে মঙ্গলবার ডিএমপি কার্যালয়ে এক  সংবাদ সম্মেলনে জানায় পুলিশ।

স্তন্যদায়ী নারীকে আটক রাখায় দুই পুলিশকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

দুধের শিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দুই মাকে ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখায় মাদারীপুর সদর থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্যকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৮ মের মধ্যে এ ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে বুধবার দুই পুলিশ সদস্য হাজির হওয়ার পর বিচারপতি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহতাব ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত বলেন, এখনি ক্ষমা নয়। তদন্ত প্রতিবেদন এলে তারপর দেখা যাবে। আদালতে পুলিশদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী সাজাওয়ার হোসেন ও ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।

আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুই পুলিশ সদস্যকে মাদারীপুর সদর থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর ঘটনা তদন্ত করে ৮ মের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছে। স্তন্যদায়ী দুই নারীকে আটকের ঘটনার সংবাদপত্রের প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২ মার্চ জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রানা কাওসার। তার শুনানি নিয়ে এই আদেশ হল। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সেদিন রানা কাওসার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত ১২ মার্চ মাদারীপুরের লক্ষ্মীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ একটি জমির তদন্তে গিয়েছিলেন সদর থানার এসআই মাহাতাব হোসেন। এ সময় তিনি ওই জমির পাশের বাড়ির খালেক বেপারীর ছেলে পনির হোসেনের কাছে মামলা সংক্রান্ত বিষয় জানতে চান। পনির কিছু জানেন না বলার পর এসআই মাহাতাব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থাপ্পড় দেন। এনিয়ে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে সদর থানা থেকে তিন গাড়ি পুলিশ নিয়ে পনিরের বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালান মাহতাব। তখন পনিরের স্ত্রী ও ভাবিকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তখন পনিরের স্ত্রীর তিন মাসের শিশু এবং ভাবির ১৮ মাসের শিশুকে কোল থেকে রেখে যেতে বাধ্য করা হয় সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে রাত ১২টার দিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই দুই নারীকে। রানা কাওসার বলেন, একজন আইন কর্মকর্তা হয়েও আইন বহির্ভূতভাবে দুধের বাচ্চাকে তার মার কাছ থেকে এভাবে দূরে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং সংবিধান পরিপন্থি। রিট আবেদনের পর হাই কোর্ট গত ২১ মার্চ ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহতাবকে তলব করে। রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী পরিষদের সভানেত্রী ফাওয়াজিয়া করিম ফিরোজ, অ্যাডভোকেট শোভানা বানু ও নাজনীন আরা আহমেদ।

প্রাণভিক্ষা চাইলেন মুফতি হান্নান

২০০৪ সালে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা এবং তিনজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন সোমবার সন্ধ্যায় হাতে এসেছে। তিনি নিজ হাতে প্রাণভিক্ষার আবেদন লিখেছেন। মুফতি হান্নানের সঙ্গে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন তার সহযোগী মৃত্যুদন্ড পাওয়া জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল। তিনিও প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সিলেট কারাগারে বন্দি আরেক আসামি দেলোয়ার ওরফে রিপন প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। জঙ্গিদের ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে গ্রেনেড হামলায় সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার প্রাণে রক্ষা পেলেও পুলিশসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামি মুফতি হান্নানসহ তার দুই সহযোগী জঙ্গি বিপুল ও দেলোয়ার। একই মামলায় অপর দুই জঙ্গি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। আপিল না করায় তাদের ওই দণ্ডই বহাল রয়েছে। কারা সূত্র জানায়, ওই মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়া তিন আসামির বিষয়ে আদালতের সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর গত বুধবার সকালে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী বিপুলকে তা পড়ে শোনানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করবে বলে দু’জনই মত প্রকাশ করেছিল।

 

রাজধানীর মিরপুরে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪

রাজধানীর মিরপুর পার্বতা সেনপাড়া এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আটক করা হয়। মিরপুর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করে জঙ্গিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

 

আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের সব আদালত, এজলাস, বিচারকদের বাসভবন এবং আদালত সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন জানান, পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়ে গত ২৩ মার্চ চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। পুলিশ বিভাগসহ মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

সৈয়দ দিলজার হোসেন বলেন, সম্প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বাসভবন ও বিচারসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে দেশের প্রত্যেক আদালত অঙ্গন, এজলাস, বিচারকদের বাস ভবন, বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রধান বিচারপতি উদ্বিগ্ন। প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ উদ্বেগের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।’ এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রত্যেক আদালত, এজলাস, বিচারকদের বাসভবন, বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালতসংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

আত্মঘাতি ব্যক্তির বোমা ছিল কোমরে : চিকিৎসক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন গোলচত্বর পুলিশবক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মেলেনি। পুলিশ এ ঘটনাকে হামলা বলে স্বীকার না করলেও নিহতকে ‘আত্মঘাতি’ বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাঃ সোহেল মাহমুদ। বোমাটি নিহতের কোমরে বাঁধা ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। নিহতের মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ট্রাভেল ব্যাগে যে বোমা পাওয়া গেছে, তা শক্তিশালী বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশগামী যাত্রীর সাথে একজনের বেশি স্বজন বিমানবন্দরে না ঢুকতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশে ছিল কড়াকড়ি। এছাড়া মূল সড়ক দিয়ে বিমানবন্দরে ঢোকার পথেই চেকপোস্টে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান ছিল। তারা প্রবেশকারীদের তল্লাশি করছিল। এয়ারপোর্ট আর্মড ব্যাটেলিয়নের পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ীই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।’ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘নিহতের কোমরে ও বাম হাতে তার পেয়েছি। এতে আমরা ধারণা করছি, বোমাটি তার কোমরে বাঁধা ছিল। বোমার বিস্ফোরণে ওই ব্যক্তির মেরুদন্ড ফেটে যায় এবং কোমরের নিচের অংশ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।’ নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার দাঁত, চুল, ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘নিহত যুবক কোনো ধরনের ড্রাগ নিয়েছিল কি না, তা নির্ণয়ের জন্যও নমুনা রাখা হয়েছে। এগুলো কেমিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।’

সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘মরদেহে ৫৪ ইঞ্চি তারের টুকরা পেয়েছি। স্কচটেপ দিয়ে বোমা শরীরে দিয়ে ছিল। বাম হাতের কব্জিতে রেগুলেটরের মতো একটা জিনিস বাঁধা ছিল। তারের বাকি অংশ ছিল সেখানে। মরদেহে স্পি­ন্টার পাওয়া গেছে।’ রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে বিমানবন্দরে নিহত ব্যক্তির সাদৃশ্য আছে জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আশকোনায় নিহত ব্যক্তির বুক থেকে পুরো অংশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর এর বোমা বাঁধা ছিল পিঠের পেছন দিকে। তবে বিস্ফোরণের ধরনে মিল রয়েছে।’ হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ময়না তদন্ত শুরু করেন তিন সদস্যের তদন্তকারী দল। ডাঃ সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ময়নাতদন্তে অংশ নেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. সোহেল কবীর। প্রায় ৪০ মিনিট পর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এদিকে এ ঘটনাকে ‘আত্মঘাতী হামলা’ দাবি করে আইএস’র নামে দায় স্বীকারের বার্তা এলেও ডিএমপি পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলছেন, ‘এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়, ওই ব্যক্তি বোমা নিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কেপিআইসহ সব ধরনের স্থাপনা নিরাপদ রাখতে পুলিশ নজরদারি করছে।’

মামলা দায়ের : বিমানবন্দরের সামনের গোল চত্বর এলাকায় বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় বিমনবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াসিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার নম্বর-৩৭। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া  বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।’

একজনের বেশি স্বজন নয় : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম  স্বাভাবিক রাখাসহ নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশগামী যাত্রীর সঙ্গে একজনের বেশি স্বজন না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর জন্য একজনের বেশি স্বজন না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় বাড়তি সর্তকতাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার ওই এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়নি বলেও তিনি জানান। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার যে ঘটনা ঘটেছে, তা  বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে নয়। তবু নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পয়েন্টে সতর্ক নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে। বিমানবন্দরের বাইরের  এলাকায় চেক পোস্টগুলোতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সদস্য সংখ্যাসহ তল্লাশি বাড়াতে বলা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন, অ্যাভসেক, পুলিশের সমন্বয়ে টিম পুরো বিমানবন্দর এলাকা টহল দিয়ে নজরদারি করছে।’ গত শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় এই ব্যক্তি। ময়না তদন্তের জন্য রাত আড়াইটার দিকে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম লাশ ঢামেকে নিয়ে আসেন। পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পুলিশ বক্সে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ওই যুবক। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৩-২৫ বছর। পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট । এছাড়া ঘটনাস্থলে একটি ট্রাভেল ব্যাগ পাওয়া গেছে। যেখান থেকে তিনটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

 

 

আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের ৩ জন আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের ৩ বাংলাদেশি সদস্যকে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-২) সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন- আফজাল আহমেদ (৩৩), শরীফ আলমগীর (৪৫) ও শরীফুল আহমেদ মোহন (২৩)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় র‌্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার এএসপি মো. ফিরোজ কাউসার  বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদপুর হাইস্কুল থেকে তাদের আটক করা হয়। এ চক্রের সদস্যরা ফেসবুক ও ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা আন্তর্জাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে ফেসবুক ও ই-মেইলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। পরে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে যোগাযোগ গভীর করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

মুফতি হান্নানের ফাঁসির দিন গণনা শুরু

গাজীপুর প্রতিনিধি : মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের মৃত্যু পরোয়ানা বুধবার গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের পড়ে শোনানো হয়েছে। আর বুধবার থেকেই তাদের ফাঁসির দিন গণনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, বুধবার রাতে মুফতি আব্দুল হান্নানের মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েছি। তিনি মার্সি পিটিশন করবেন বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বুধবার আমরা তাকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনিয়েছি এবং সেসময় থেকেই ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিনি সাতদিনের সময় পাবেন।

এখন তিনি সাতদিনের মধ্যে সে আবেদন করবেন কি না তা জানা নেই। এদিকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, বুধবার রাতে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের মৃত্যু পরোয়ানা এ কারাগারে এসে পৌঁছালে তদের তা পড়ে শোনানো হয়। তিনি আরো জানান, এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের কপি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর বুধবার মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী বিপুল প্রাণভিক্ষার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার মত প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া তার সহযোগী এবং ওই মামলার অপর আসামি শরীফ শাহেদুল বিপুলকে রায় পড়ে শোনানো হলে তিনিও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন বলে জানান। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তারা প্রাণভিক্ষার লিখিত কোনো আবেদন করেননি।

সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিমকোর্ট বার) ২০১৭-২০১৮ মেয়াদের নির্বাচনের দু’দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে। দুপুরে ১ ঘন্টা বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে । আজ ২৩ মার্চ একইভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে- ৫ হাজার ৮০ জন। আইনজীবীরা জানান, নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) ও জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের (নীল প্যানেল) মধ্যে। বিগত বছরগুলোতে তাই দেখা গেছে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সুপ্রিমকোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বুদুর নেতৃত্বে ১৪ পদে একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এ প্যানেলে অন্যান্য পদে রয়েছেন সহ-সভাপতি ওজিউল্লাহ ও হোসনে আরা, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম হিরু, সহ-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও সেলিম আজাদ। আর কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কুমার দেবুল দে, এ বি এম নূরে আলম উজ্জল, হাসিনা মমতাজ, রুহুল আমিন তুহিন, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাহমুদুন্নবী উজ্জল ও শেখ মো. মাজু মিয়া।অপরদিকে বিএনপি ও সমমনাদের সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) সভাপতি পদে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি মো. জয়নুল আবেদীন এবং সম্পাদক পদে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সুপ্রিমকোর্ট বার-এর বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে একটি প্যানেল। এই প্যানেল থেকে অন্যান্য পদে রয়েছেন সহ-সভাপতি পদে উম্মে কুলসুম বেগম (রেখা) ও ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে এ বি এম রফিকুল ইসলাম তালুকদার (রেজা), সহ-সম্পাদক পদে কাজী জয়নুল আবদীন ও শামীমা সুলতানা (দিপ্তি)। এ প্যানেল থেকে সদস্য পদে রয়েছেন শেখ তাহসিন আলী, মো. এমাদুল হক, আয়েশা আক্তার, মো. আহসানউল্লাহ, মো. মুসাব্বির হাসান ভূইয়া (রোমান), মো. হাসিবুর রহমান ও মৌসুমি আখতার।

এফবিসিসিআই নির্বাচন দুই মাস স্থগিত

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর নির্বাচন দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। ময়মনসিংহ চেম্বারের সভাপতির এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৪ মে এফবিসিসিআই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল। সঙ্গে ছিলেন, মুহাম্মদ সহিদুল ইসলাম।

বদরুদ্দোজা বাদল  পরে সাংবাদিকদের বলেন, আইনে আছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক বিভাগ থেকে পরিচালক মনোনয়ন করতে হবে। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বিভাগ হয়। ২০১৬ সালে ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য দরখাস্ত করে। কিন্তু গত এক বছরেও তা হয়নি। এফবিসিসিআই নির্বাচনের তফসিলের আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন ময়মনসিংহ চেম্বারের সভাপতি আমিনুল হক। ওইদিন শুনানি করে রুল দেয় আদালত। ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে পরিচালক অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

বাণিজ্যসচিব, এফবিসিসিআই সভাপতিসহ সকল সদস্য ও নির্বাচন বোর্ডকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বাণিজ্যসচিব সে সময় জানান, তফসিল হয়ে যাওয়ায় এখন আর অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই। বিষয়টি আবার আদালতের নজরে আনা হলে বিচারক আবারও ময়মনসিংহের আবেদনটি বিবেচনা করতে বলেন। কিন্তু গত ১৪ মার্চ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একই কথা জানানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আটকাতে নতুন আবেদন করেন ময়মনসিংহ চেম্বারের সভাপতি, যার শুনানি নিয়ে স্থগিতাদেশ দিল আদালত। উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত তফসিলে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহীদের ১০ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল  করতে বলা হয়। ১৪ মে ভোটের পর নির্বাচিত পরিচালকদের বৈঠকে ১৬ মে সভাপতি, প্রথম সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের কথা ছিল।

জামিন জালিয়াতির দায়ে ৫ আদালতকর্মীর সাজা

বিচারকের সই জাল করে ১০৬ জনকে জামিনের ভুয়া কাগজ দেওয়ার দায়ে ঢাকার জজ আদালতের পাঁচ কর্মীকে দুটি ধারায় মোট ১৪ বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান বুধবার এই রায় দেন।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার মুসলেহ উদ্দিন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শেখ মো. নাঈম এবং উমেদার (অবৈতনিক অস্থায়ী কর্মী) মো. ইসমাইল, মো. আলমগীর ও মো. জাহাঙ্গীর। রায়ে দুটি আলাদা ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আসামিদের প্রত্যেককে। সেইসঙ্গে দুটি অপরাধে ১০ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যার্থ হলে তাদের আরও দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাবাস করতে হবে। মোট ৭৬টি মামলায় বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ১০৬ জনকে ভুয়া জামিন দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এ মামলা দায়ের করে। দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড হলেও দুটি আলাদা ধারার শাস্তি একসঙ্গে চলবে বলে দণ্ডিতরা কেবল সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। তিনি জানান, ওই ভুয়া জামিননামা গুলোতে মোট ৬১ জন আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হলেও বাকি ৪২ জনকে সাক্ষী করা হয়নি। এটা তদন্তে গাফিলতি বলে রায় ঘোষণার সময় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকে রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে। দুদকের আইনজীবী বলেন, এদেরকে (জালিয়াত চক্র) প্রতিহত করা না গেলে এবং সঠিক বিচার করা না হলে আদালতে দুর্নীতিগ্রস্তরা উৎসাহিত হবে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে আদালত। দণ্ডিতদের মধ্যে মুসলেহ উদ্দিন, নাঈম ও ইসমাঈলকে রায় দেওয়ার সময় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আলমগীর ও জাহাঙ্গীর  পলাতক। দুই বছর ধরে চলা এই মামলার বিচার কাজে রাষ্ট্রপক্ষে ১৫ জনের সাক্ষ্য শুনেছে আদালত।

আদেশ পেলেই মুফতি হান্নানের দন্ড কার্যকর : কারা মহাপরিদর্শক

সরকারের আদেশ পেলেই জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

বুধবার ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের যমুনা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মৃত্যুদন্ড কার্যকরের নির্বাহী আদেশ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফাঁসি কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই প্রস্তুত রয়েছে। তিন আসামির মধ্যে হরতাকুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল রয়েছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আরেক আসামি দেলোয়ার ওরফে রিপনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলেও আপিল বিভাগ গত ১৯ মার্চ তা খারিজ করে দেয়। মঙ্গলবার সেই রায় প্রকাশের পর বুধবার তা আসামিদের পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, মুফতি হান্নান ও বিপুল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার ইংগিত দিয়েছেন। আর রিপন সিলেট কারাগারের কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার সিদ্ধান্ত তিনি পরে জানাবেন। কারাবিধি অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে তারা ওই আবেদন করতে পারবেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সরকার তারিখ ঠিক করে দেবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ আসামিদেরদন্ড কার্যকর করবে। এ মামলার বাকি দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাই কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছিল। আপিল না করায় তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে। সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন।

এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলার চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ পাকিস্তানি সেনা শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ জড়িত থাকার অভিযোগে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক এক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামে সাবেক ওই বাঙালি ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হচ্ছে।  মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।

এ মামলার আসামি শহীদুল্লাহর বয়স ৭৫ বছর, বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার আমিরাবাদ গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই এলাকাতেই তিনি যুদ্ধাপরাধ ঘটান বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঢাকা সেনানিবাসে পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। পরে তিনি ঢাকা সেনানিবাস থেকে কুমিল্লার সেনানিবাসে যোগ দিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিজ এলাকা দাউদকান্দি সদরে ক্যাম্প স্থাপন করেন। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ না দেওয়ায় শহীদুল্লার বিষয়ে কোনো রেকর্ড বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু আসামি এখনও তার এলাকায় ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় জানিয়ে হান্নান বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চলেছে। আজই এই প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করা হবে। প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল গত বছর ২ অগাস্ট শহীদুল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই দিনই কুমিল্লা জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন আসামিকে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন- এমন অনেক বাঙালি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই তদন্ত চলছে জানিয়ে সানাউল হক বলেন, তদন্তের স্বার্থেই তাদের নাম-ঠিকানা বা পরিচয় প্রকাশ করতে চাই না। আশা করি পরে ধাপে ধাপে তা আপনাদের কাছে তুলে ধরতে পারব। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলতাফুর রহমান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ১৯ জনকে সাক্ষী করা হচ্ছে। এছাড়া জব্দ তালিকার সাক্ষী করা হয়েছে আরও তিনজনকে। তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হকসহ কর্মকর্তারা এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।    

তিন অভিযোগ
অভিযোগ ১: একাত্তরের ৭ জুন বিকালে মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ পাকিস্তানি বাহিনীর ৮/১০ জন সদস্যসহ দাউদকান্দি বাজারে হামলা চালিয়ে হোমিও চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে আটক করেন। পাকিস্তানি ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতনের পর দাউদকান্দি ফেরিঘাটের পাশের গোমতি নদীতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ফেলে দেওয়া হয় নদীতে। অভিযোগ ২: একাত্তরের ১৬ জুন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহিদুল্লাহ পাকিস্তানি বাহিনীর ৪০/৫০ জন সদস্যকে সঙ্গ নিয়ে দাউদকান্দির উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি ও গোলাপেরচর গ্রামে হামলা চালান। তারা স্বাধীনতার পক্ষের ২০ জনকে আটক করেন এবং পাঁচটি বাড়ির মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেন। আটকদের মধ্যে ছয়জনকে ছেড়ে দিয়ে বাকি ১৪ জনকে দাউদকান্দি সেনা ক্যাম্পে নেওয়ার পথে গোলাপেরচর টেকে তাদের লাইন ধরে দাঁড় করানো হয়। সেখান থেকে একজনকে বের করে গোমতী নদীর পাশে নিয়ে গুলি করে লাশ নদীতে ফেলে দেন শহিদুল্লাহ। পরে অন্যদের ক্যাম্পে এনে নির্যাতনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে খবর দেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ ৩: একাত্তরের ২১ জুলাই শহিদুল্লাহ পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে দাউদকান্দি বাজারে হামলা চালান। সেখান থেকে কালামিয়া নামে এক গাড়ি চালককে ধরে নির্যাতন চালানো হয়। পরে কালামিয়াকে চান্দিনা থানার চান্দিনা হাসাপাতালের পিছনে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর লাশ খালে ফেলে দেন শহীদুল্লাহ।

ভুল তথ্য দিয়ে হৃদযন্ত্রে রিং বসানোর চেষ্টা চিকিৎসককে তলব

প্রয়োজন না হলেও ভুল তথ্য দিয়ে হৃদযন্ত্রে রিং বসাতে (এনজিওপ্লাস্টি) রোগীকে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকসহ দুজনকে তলব করেছে আদালত।  মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাওলা দক্ষিণখানের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান কামরুলের করা মামলায় মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- উত্তরার আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রাকিবুল ইসলাম লিটু (৪৫) ও উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. জহুরুল ইসলাম। বিচারক আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তাদেরকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদির আইনজীবী মঞ্জুরুল আহসান জানিয়েছেন। লুবানা হাসপাতালে করা এনজিওগ্রামে হৃদযন্ত্রে ব্লকের পরিমাণ ‘প্রতারণামূলকভাবে’ বেশি দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিরা রিং বসানোর উদ্যোগ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে আরজিতে বলা হয়, ৩৮ বছর বয়সী বাদী কামরুল ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টার দিকে বুকে ব্যথা ও চাপ অনুভব করলে উত্তরার সোনারগাঁও জনপদে অবস্থিত উত্তরা আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে তার ইসিজি করে ডা. রাকিবুলের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করে নেন। পরদিন আবার ইসিজির সঙ্গে হেমাটোলজি ও বায়োকেমিক্যাল ও ইকো কালার ডপলার পরীক্ষা করেন। ওই দিনই বিকাল ৪টায় রিপোর্ট পাওয়ার পর রাকিবুল রোগীর লোকজনকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ‘হৃদযন্ত্রে সমস্যা থাকায় এনজিওগ্রাম করতে হবে’ বলেন। ‘কম খরচে উন্নত চিকিৎসার’ কথা বলে রোগীকে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলে ওই চিকিৎসক।  কামরুল ওই দিনই সেখানে ভর্তি হলে রাকিবুল নিজেই তার এনজিওগ্রাম করেন। পরে তিনি রোগীর স্বজনদের বলেন, রোগীর হৃদযন্ত্রে ব্লকের পরিমাণ ৯০ শতাংশ, জরুরি ভিত্তিতে রিং না বসালে বিপদ হবে, এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ওই দুই আসামি রিংয়ের দাম এবং আনুসঙ্গিক চিকিৎসা সেবাসহ রোগীর স্বজনদের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাতে রিং বসাতে সম্মত না হলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে রোগী শেরে বাংলানগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানে এনজিওগ্রাম রিপোর্ট দেখে সেখানকার চিকিৎসক অধ্যাপক এম আক্তার আলী বলেন, ব্লকের পরিমাণ এতো সামান্য যে আদৌ রিং বসানোর দরকার নেই। বাদির আইনজীবী মঞ্জুরুল বলেন, ‘আসামিরা বাদি ও তার আত্মীয়স্বজনকে মারাত্মক রকমের হেনস্থা করেন; তারা ভয়ভীতি দেখান এবং গালিগালাজও করেন।’

চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনস থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।

আদালত অবমাননার দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রুল জারি করে। এই ১১ জন হলেন- পরিবেশ ও বন সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ও সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সাইদ আহমেদ কবির।

পরে সাইদ আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭ সালে কোস্টাল অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডারভার্সিটি ম্যানেজম্যান্ট প্রোজেক্টের (সিডব্লিউবিএমপি) এক জরিপে দেখা যায়, সেন্ট মার্টিনসে ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। ওই জরিপের প্রেক্ষিতে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে বেলার পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে হাই কোর্টে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৪ অক্টেবার আদালত রায় দেয়। রায়ে সেন্ট মার্টিনসের পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ছাড়পত্রহীন স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়। সেইসঙ্গে ছাড়পত্রহীন নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করা ও বিরল প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও নির্দেশ আসে হাই কোর্টের ওই রায়ে। আদালতের এ নির্দেশনা থাকার পরও সেন্ট মার্টিনসে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় থাকা হোটেল, মোটেলসহ অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি, বরং এসব স্থাপনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে বেলার পক্ষ থেকে দুই দিন আগে হাই কোর্টে আদালত অবমাননার এই আবেদন করা হয় বলে আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির জানান।

মাত্র ১০ বছরে ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি, অবশেষে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে

মোবাইল কোম্পানীর কাস্টমার কেয়ারের লোক পরিচয়ে বিকাশ এজেন্ট ও গ্রাহকদের নম্বরে ফোন দিত ওরা। এরপর নেটওয়ার্ক সমস্যা থেকে রেহাইয়ের কথা বলে টিপতে বলতো কয়েকটি নম্বর। আর নম্বরগুলো টেপার সাথে সাথে ওই বিকাশ নম্বর থেকে সব টাকা চলে যেতো চক্রটির নিজস্ব নম্বরে। চক্রের হাতে স্বর্বশান্ত হওয়াদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন রায়নগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোঃ ফারু হোসেন মাতবর (২৮) ও রাজিব খান (২০) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৯৩ টি বিভিন্ন কোম্পনীর মোবাইল সিম, ৫ টি মোবাইল সেট ও বিভিন্ন বিকাশ নম্বর লেখা ২ টি টালী খাতা পাওয়া যায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিকাশের টাকা আত্মসাত করেই প্রতারক ফারুক গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি।   

পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ জানান, কাজী জাকির হোসেন নামে শ্যামপুর মার্কেটে এক বিকাশ এজেন্ট রয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে তার বিকাশ (০১৭৮৭৬৬১৯১৫) নম্বরে ০১৮৭১৪১৬২৪৭ নম্বর থেকে কল আসে এবং গ্রামীন ফোনের কাস্টমার সার্ভিসের লোক বলে পরিচয় দেয়। তার বিকাশ নম্বরে নেটওয়ার্ক সমস্যা সংক্রান্তে জানতে চায়। কথাবলার একপর্যায়ে অজ্ঞাত লোকটি কয়েকটি নম্বর  উঠাতে বলে এবং সেই নম্বরগুলোতে কল করতে বললে জাকির কল দেন। পরে তিনি দেকতে পান তার বিকাশ মোবাইল একাউন্টে থাকা ৪৪ হাজার টাকা ০১৮৫০৮৫৪১৮৩, ও ০১৭৮২৮৬২২৬৭ মোবাইল নম্বরে চলে গেছে। এ বিষয়ে তিনি শ্যামপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তে নামে পিবিআই। ঘটনায় জড়িত মোবাইল ফোন কোম্পানীর কথিত কাস্টমার সার্ভিসের সংঘবদ্ধ চক্র সর্ম্পকে তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। তাদের দখল থেকে প্রতারণাকাজে ব্যবহৃত

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, তারা মোবাইল ফোন কাস্টমার সার্ভিসের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।অ  গ্রেফতার ফারুক ১০ বছর ধরে বিকাশের টাকা আত্মসাত ছাড়াও বিভিন্ন মোবাইলে ফোন দিয়ে পুরষ্কারের লোভ দেখিয়ে নানা ফন্দিতে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে বিশেষ এ্যাপস্ ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানীর কাস্টমার সার্ভিস ও বিকাশের কাষ্টমার সার্ভিসের নম্বর ক্লোন করে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন গ্রাহক বা বিকাশ এজেন্টদের মোবাইলে থাকা টাকা প্রতারণামূলক ভাবে হাতিয়ে নেয়। ফারুক তার দীর্ঘদিনের প্রতারণার টাকা দিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। যা এলাকার লোকজনের মধ্যে এক ধরনের কৌতুহলের সৃষ্টি করে। এক সময় ফারুক ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরিকরে কাঁচের গ্লাস বিক্রি করতো। এদিকে গ্রেফতার রাজিব বিভিন্ন দোকান থেকে ভূয়া নামে রেজিষ্ট্রি করা সিম সংগ্রহ করে থাকে এবং ফারুকের প্রতারনার মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা ভাঙ্গা থানা এলাকার কতিপয় অসাধু বিকাশ দোকানদারদের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন বিকাশের দোকান থেকে বিকাশ লেন-দেনকারীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কতিপয় অসাধু বিকাশ দোকানদাররা প্রতারক চক্রের কাছে ম্যাসেজের মাধ্যমে গ্রাহক বা টার্গেটকৃতদের মোবাইল নম্বর দিয়ে থাকে। চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অবিযান চলছে বলেও জানান পিবিআই কর্মকর্তা বশির আহমেদ।

 

খিলগাঁও চেকপোস্টে নিহত জঙ্গিকে আসামী করে মামলা

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের চেষ্টার সময় গুলিতে ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে র‌্যাব। মামলায় নিহত যুবকসহ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে র‌্যাব-৩-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) কাজী হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা দায়ের করেন বলে খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান।

এদিকে গতকাল রোববার ওই যুবকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। গুলিতেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ময়নাতদন্তকারী সূত্র। অন্যদিকে গতকাল পর্যন্ত ওই যুবকের খোঁজে কোন স্বজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে আসেনি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে সংকেত অমান্য করে তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের চেষ্টার সময় র‌্যাবের গুলিতে এক যুবক নিহত হন। তার কোমরে বাধা অবস্থায় দুটি বোমা উদ্ধারের দাবি করেছে র‌্যাব। ওই যুবক জঙ্গি দলের সদস্য বলেও দাবি র‌্যাবের।

 

 

ম্যানহোলে পরে মৃত্যুর ঘটনায় মামলার নির্দেশ

রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পরে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পল্টন থানার ওসিকে এ মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় ইতিপূর্বে দায়ের করা প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ভুল তথ্য সংযোজন করায় পল্টন থানার এসআই মুহিবুর রহমান সুজন ও ইন্সপেক্টটর রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। রোববার দুপুরে এ এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে সকালে হাইকোর্টের তলবে হাজির হন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। শুনানি শেষে পল্টন এলাকার ওয়াসা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর তালিকা চান হাইকোর্ট। পরে দুই সংস্থা তালিকা দিলে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। ওয়াসার এমডি ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতিও দিয়েছেন আদালত। ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাসকিম এ খানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও মাহবুব শফিক। ডিএসসিসি’র সিইও খান মো. বেলালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন।

ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে হাই কোর্টের রুল জারি

দুই যুগের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং গত ২৬ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ভিসি, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, কোষাধ্যক্ষসহ ছয়জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুল দুটির জবাব দিতে হবে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এই রুল জারি করে। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর আহমদ, সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান নাদিম গত বৃহস্পতিবার এই রিট আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোকলেসুর রহমান। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনের পর ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে নির্বাচন হয়নি।

রিভিউ খারিজ, ফাঁসিতেই ঝুলতে হবে মুফতি হান্নানকে

জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিনজনকে আপিল বিভাগের দেওয়া প্রাণদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে পুলিশসহ তিনজনকে হত্যার দায়ে হরকাতুল জিহাদের এই তিন জঙ্গির দণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

বাকি দুই আসামি হলেন শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। নিয়ম অনুযায়ী তারা এখন কেবল কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। এর নিষ্পত্তি হলেই সরকার কারাবিধি অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করবে।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রোববার এই রায় ঘোষণা করে। রিভিউ শুনানিতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন এনকে সাহা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিস্তারিত আসছে

 

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ব্যবসায়ী আটক

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে শোভন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সোবহান সাদিককে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে থেকে দুদকের একটি দল তাকে আটক করে। দুদকের পরিচালক ইকবাল হোসেন  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি  জানান, ফ্যাক্টরি করার জন্য ২০০৭ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় শোভন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড বিভিন্ন মেশিনারিজ আমদানি করে। কিন্তু মেশিনারিজ আমদানি করা হলেও তারা ফ্যাক্টরি করেনি। এমনকি আমদানি বাবদ সরকারের শুল্কও পরিশোধ করেনি। যার মাধ্যমে সরকারের মোট ৭১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৪ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে কোম্পানিটি। এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য  বলেন, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দুদকের  উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে বৃহম্পতিবার সকালে  রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৩১। মামলার পর দুপুরে সাদিককে আটক করে দুদক। দাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে অপসারণ নয় কেন: হাই কোর্ট

ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে আসা ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার জন্য তাদেরকে চাকরি থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। অভিযুক্ত এ দুই কর্মকর্তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে করা একটি সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জবাব দিতে বলেছে আদালত।

রায়ের পর্যবেক্ষণে যে দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি ওঠে আসে তারা হলেন- ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় এ দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা প্রমাণ হওয়ার পরও তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা জনস্বার্থবিরোধী। তাই আদালত আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে চাকরি থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা আগামী আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে স্বাস্থ্য সচিব ও ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে।

একইসঙ্গে আদালাতের এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে আদালত। প্যারাসিটামল সেবনে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় রিড ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে ৯ মার্চ আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। আদেশের কপি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকার ড্রাগ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান রিড ফার্মার মালিকসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছিল। তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, মিজানুর রহমানের স্ত্রী রিড ফার্মার পরিচালক শিউলি রহমান, পরিচালক আবদুল গনি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক। এই রায়ের বিরুদ্ধে পাঁচজনের পর্যাপ্ত সাজা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গত জানুয়ারিতে আপিল করে। ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে সারা দেশে ২৮ শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ঢাকার ড্রাগ আদালতে ওষুধ কোম্পানিটির মালিকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

জরুরি অবস্থায় ‘বাজেয়াপ্ত’ ৬১৫ কোটি টাকা ফেরতের রায়

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করা ৬১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

১১টি প্রতিষ্ঠানকে ওই অর্থ ফেরত দিতে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা আপিল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। আদালতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে শুনানি করেন আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী।  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে  আলম।

রায়ের পর আহসানুল করিম বলেন, “হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১১টি আপিল হয়েছিল। যেসব প্রতিষ্ঠান আদালতে রিট করেছিল, কেবল তাদের টাকাই ফেরত দিতে বলেছে আদালত।”

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ফখরুদ্দীন আহমেদের সরকার।

জরুরি অবস্থা জারি করে দুর্নীতি দমন অভিযানের কথা বলে গ্রেপ্তার করা হয় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। ওই সময়ই ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করা হয়।

২০১০ সালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, তত্ত্বাবধায়ক আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রয়েছে।

এরপর বিভিন্ন সময়ে ১১টি প্রতিষ্ঠান হাই কোর্টে রিট আবেদন করলে আদালতের রায় তাদের পক্ষে যায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এর বিরুদ্ধে আপিল করলে হাই কোর্টের রায় স্থগিত হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের অনেকেই জরুরি অবস্থার সময়ে ওই অর্থ আদায়ের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এতোদিন গতি পায়নি।

 

বিচারপতি ফজলুল হকের দুর্নীতি মামলা চলবে

তথ্য গোপন ও জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা বাতিল চেয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও আপিল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি ফজলুল হকের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি মো. শওকত হোসাইন ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই রায় দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। ফজলুল হকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল।

পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, বিচারপতি ফজলুল হকের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল গত বছরের ১৪ নভেম্বর। মামলাটি বাতিল চেয়ে তিনি যে আবেদন করেছিলেন, শুনানি শেষে হাই কোর্ট তা খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, তিনি (ফজলুল হক) অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছেন কিনা সেটা বিচারিক আদালতে বিচার চলার সময়ই নির্ণয় করা হবে। বিতর্কিত এ বিষয়টি দেখবে বিচারিক আদালত। এটা দেখার এখতিয়ার এ আদালতের নেই। হাই কোর্টের এই আদেশের ফলে বিচারকি আদালতে মামলার কার্যক্রম চলতে আইনগত আর কোনো বাধা থাকল না বলে দুদকের আইনজীবী জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদকের নোটিসের জবাবে বিচারপতি ফজলুল হক সম্পদের যে হিসাব বিবরণী দাখিল করেছিলেন, সেখানে প্রায় ৯৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার তথ্য পেয়ে এই মামলা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, ঘোষিত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদ তিনি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন। পরে এই দুটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচারকি আদালতে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। জরুরি অবস্থার সময় ২০০৮ সালের ১৩ এপ্রিল রমনা থানায় এই মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে হাই কোর্ট মামলার কার্যকারিতা স্থগিতের আদেশ দিলেও পরে আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ উঠে যায়।

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক চেয়ারম্যানকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

দুর্নীতির দুই অভিযোগ অনুসন্ধানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরাসত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  মঙ্গলবার দুপুরে দুদক প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে সংস্থাটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচায্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরাসত আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুইটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তাকে এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে প্রণব বলেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ব্যাংকে নিজে কোনো বিনিয়োগ না করে শেয়ার প্রিমিয়ামের টাকা সংগ্রহ করে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিনিয়োগ তথা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফরাসত আলী ব্যাংকে বিভিন্ন অনিয়ম এবং বোর্ড সভার অনুপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে এবং সেইসব সদস্যদের সভায় উপস্থিত দেখিয়ে গ্রাহকদেরকে মোটা অংকের অর্থ ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

জমি কেনায় অনিয়ম রাবি ভিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের রুল

জমি কেনাসহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, নিবন্ধক ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের বেঞ্চ এই রুল জারি করে। অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, দুদক চেয়ারম্যানসহ সাত বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন এ এম আমিনুদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। গত ৫ ফেব্র“য়ারি ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: জমি কেনা নিয়ে নয়ছয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জমি কেনা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে অন্য গণমাধ্যমেও খবর আসে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে ১২ মার্চ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান। আবেদনটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য আসে। শুনানি নিয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।

ট্যানারি লে অফ ঘোষণা করতে যাচ্ছে মালিকরা

আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে কারখানা ‘লে অফ’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ট্যানারি মালিকরা। আদালতের রায় অনুযায়ী হাজারীবাগের ট্যানারি পল্লীর গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন বন্ধ হলে এবং সাভারের ট্যানারি পল্লীতে গ্যাস সংযোগ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ট্যানারি মালিকরা। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশিড লেদার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের রফতানি আদেশ বাতিলের পাশাপাশি সাময়িক বেকারত্বের শিকার হবেন এ শিল্পের ৩০ হাজার প্রত্যক্ষ ট্যানারি শ্রমিক। এছাড়াও ট্যানারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত আরও ১০টি উপখাত ও তাদের আরও লক্ষাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যতও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা আদালতের কাছে পরিস্থিতি বিবেচনায় ৬ মাস সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু আদালত উই আর সরি বলে আমাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা আদালতের ওপর শতভাগ আস্থাশীল এবং সম্মান রেখে আমাদের করণীয় ঠিক করছি। কারখানা লে অফ’ ঘোষণা করা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো অপশন নেই। তিনি বলেন, আমরা শতভাগ চামড়া বিদেশে রফতানি করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফিনিশড লেদার গুডস প্রস্তুতকারীদেরও চামড়া সরবরাহ করি। চামড়া ওয়েট ব্লুতেই পরিবেশ সবচেয়ে বেশি (৭৫ ভাগ) নষ্ট হয়। আমরা এমনিতেই এ মাসের মধ্যে হাজরীবাগে ওয়েট ব্লু  বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু ওয়েট ব্লু’র পর চামড়া ক্রাস্ট ও ফিনিশড এর যে দুটো ধাপ, তার জন্য গ্যাস সংযোগ বাধ্যতামূলক। আমাদের এখানকার লাইন কেটে দিলে আমরা ওয়েট ব্লু  করা চামড়া ক্রাস্ট ও ফিনিশড করতে পারব না। কারণ সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণদাড়ায় যে চামড়া শিল্পপল্লী গড়ে উঠেছে, সেখানে এখনো গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আমাদের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের যে অর্ডার আছে তা বাতিল হয়ে যাবে। দেশে যে ১৫০টি রফতানিমুখী জুতা কারখানা গড়ে উঠেছে তাদেরও চামড়া সরবরাহ করা যাবে না। এতে তাদেরও রফতানি আদেশ বাতিল হবে। এতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে এক বিলিয়ন ডলারের মতো। আর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তারপরও এই অবস্থায় কারখানা লে অফ ঘোষণা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। কেবল তাই নয়, বর্তমান অবস্থা দৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সারা দেশের মাংস ব্যবসায়ী, চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার, কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও ট্যানারি মালিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। শাহীন বলেন, কেবল লে অফ ঘোষণা করাই নয়, আমাদের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো সিদ্ধান্তও নিতে হবে।

কারখানা না চললে তাদের বেতন-ভাতা দিতে পারব না। ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে। কারখানা বন্ধ হলে এবং রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা ব্যাংকের কিস্তি দিতে পারব না। তখন ব্যাংকও আমাদের দেউলিয়া ঘোষণা করবে। আবার যেসব বায়ারদের রফতানি আদেশ বাতিল হবে তারাও অন্য দেশে চলে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ট্যানারি মালিকরা উভয় সংকটে পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছি জানিয়ে তিনি বলেন, আজও সকালে আমরা সাভারের চামড়া পল্লিতে গ্যাসের সংযোগের বিষয়ে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি আমাদের বলেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজারীবাগে যেসব ট্যানারিতে গ্যাস সংযোগ আছে সাভারের চামড়া পল্লীতে তাদের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। শাহীন আরও বলেন, সে জন্য হেমায়েতপুরে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন স্টেশন করতে হবে। সে কাজ শেষ হতেও ৬ মাস সময় লাগবে। বলা যায় কম পক্ষে ৬ মাস কারখানা বন্ধ রাখতে হবে।



Go Top