রাত ২:৩৯, শুক্রবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

নিম্ন আদালতে বিচারাধীন বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় সর্বনিম্ন ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৮ বছর ধরে কারাবন্দি ১০ জনের মধ্যে চারজনকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে উচ্চ আদালতে হাজির করায় উপ কারা মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি প্রিজন) ব্যাখ্যা চেয়েছে হাই কোর্ট। আগামী ৯ মার্চ আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচার শেষ না হওয়া আলাদা ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দি ওই ১০ জনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেট ও খুলনা বিভাগের কারাগারে সর্বনিম্ন ১০ বছর ও সর্বোচ্চ ১৮ বছর ধরে ১০ কারাবন্দিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেয় বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি এসএইচ মো. নূরুল হুদা জায়গীরদারের হাই কোর্ট বেঞ্চ। ওইদিন কারাবন্দিদের বিচারিক আদালতের নথি তলবের পাশাপাশি তাদের আদালতে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে কেরানীগঞ্জের কারাগার থেকে ১০ বন্দিকে হাই কোর্টে হাজির করা হয়। হাই কোর্ট এসব বন্দির বক্তব্য শোনেন। শুনানির সময় চার বন্দিকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আনায় আদালত জানতে চায়, কেন তাদের ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছে। আদালত চারজনের ডান্ডাবেড়ি খুলে দিতে বলে। এ সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ চারজনকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে দিয়েছে। এরপর আদালত ডিআইজি প্রিজনকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যার আদেশ দেয়। ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা এই চার কারাবন্দি হলেন, হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান মুন্না, নাসিরুদ্দিন ও তার ছেলে গিয়াস।

আদালতে শুনানি করেন লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী সৈয়দা সাবিনা আহমেদ মলি। ১০ কারাবন্দির মধ্যে ফারুখ হোসেন ছাড়া বাকিদের নথি না আসায় এদিন আদালত ফের বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছে। ফারুখ হোসেনের মামলা তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে বিচারকি আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে এই হাই কোর্ট বেঞ্চ। না হয় ফারুখ হোসেন জামিন আবেদন করলে তা বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।


১০ কারাবন্দি হলেন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুয়াগাঁওয়ের বাসিন্দা মৃত আলী হোসেনের ছেলে ফরুখ হোসেন, যিনি ১১ বছর ধরে কারাবন্দি। ২০০৫ সালে সিলেট কোতয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। সিলেট দায়রা জজ বিশেষ আদালতে তাকে ১৩১ বার হাজির করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনামুড়া গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে সেলিম মিয়া ১১ বছর ৬ মাস ধরে কারাবন্দি। ২০০৫ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা হয়। তাকে সিলেট অতিরিক্তি দায়রা জজ আদালতে ১২২ বার হাজির করা হয়েছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট বেগমখালের বাসিন্দা মৃত পাণ্ডে জগন্নাথের ছেলে রাজু জগন্নাথ ১৩ বছর ৭ মাস ধরে কারাবন্দি। ২০০৩ সালে রাজুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। তাকে এখন পর্যন্ত ১১২ বার বিশেষ দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর কাউকান্দি গ্রামের উস্তার গনির ছেলে বশির উদ্দিন (৫৩) ১৩ বছর ধরে হত্যা মামলায় কারাবন্দি। ২০০৩ সালে তাহিরপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। তাকে এখন পর্যন্ত ৮১ বার সুনামগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। জামালপুর জেলার চর চড়সী গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল ১১ বছর ধরে কারাগারে বন্দি। তার বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়। সাতক্ষীরা পশ্চিমপাড়ার ইটাগাছা থানার বাসিন্দা মৃত কেরামত আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মুন্না ১১ বছর ধরে কারাবন্দি। ২০০৫ সালে তার বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।

সাতক্ষীরার ইসলামপুরের দলিল উদ্দিনের ছেলে নাসিরুদ্দিন ১১ বছর ধরে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে বন্দি। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২০০৫ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সাতক্ষীরার ওমর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন ১১ বছর ধরে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় কারাবন্দি। ২০০৫ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলাটি সাতক্ষীরার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শিবনগরের বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে হায়দার আলী (৬২) ১৮ বছর ধরে কারাবন্দি। ১৯৯৮ সালে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। এ পর্যন্ত তাকে ৯৯ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। মঠপাড়িয়ার মধ্য সোনাখালীর বাসিন্দা আব্দুল হাকিম রাজার ছেলে রফিকুল ইসলাম রাজা (৩২) ১৮ বছর ধরে পিরোজপুর জেলা কারাগারে বন্দি। ২০০৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। এ পর্যন্ত তাকে ৪২ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

পিলখানা হত্যা মামলা আপিল শুনানি ২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির মৃত্যুদন্ডের অনুমোদন ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি ২ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেছে হাই কোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির জন্য এক মাস সময়ের আবেদন করলে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাই কোর্ট বেঞ্চ  বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

পিলখানা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে এই বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল বলেন, ‘আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করতে বলেছিলেন। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কও প্রায় শেষ। ল পয়েন্টে যুক্তিতর্ক কিছু বাকি আছে, সেগুলো শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষে ল পয়েন্টে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কিন্তু আগামী মাসে স্যারকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রস্তুতি নিতে হবে। তাছাড়া ল পেয়ন্টে যুক্তি উপস্থাপনে প্রস্তুতির জন্যও সময় প্রয়োজন। এ দুটি বিষয় উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করলে ২ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত মামলার রায়ের তারিখ ধার্য করে দিতে পারে বলেও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজল জানিয়েছিলেন, ৩৫৬ কার্যদিবস ধরে এ মামলার কার্যক্রম চলছে। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিয়ে ৩৫ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক পাঠ করা হয়েছে ১২৪ কার্যদিবস। বাকি ২৩২ কার্যদিবস রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার ৩৫৯তম দিনে এসে চূড়ান্ত শুনানির তারিখ পেছানো হলো দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় এ মামলার।

চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী গ্রেফতার

সাবেক বিএনপি নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইরাদকে গ্রেফতার করা হয়।

ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০১২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (পরে ওই ভোট হয়নি) প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ইরাদ অভিযোগ তুলেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী করার বিনিময়ে তার কাছে অর্থ চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ছেলের ওই ভূমিকার কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর সিদ্দিকী। এরপর থেকে তানভীর ও ইরাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দলটির নেতারা জানান। ইরাদের নামে খোলা একটি ফেইসবুক পাতা থেকে গতবছর শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার আগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ছবিও আসে ওই ফেইসবুক পাতায়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়। তখন ইরাদ যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন বলে পরিবারকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে খবর আসে।

ফাঁসির রায়ের রিভিউ চেয়ে আবেদন মুফতি হান্নানের

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেছেন মৃতুদন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান।  বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেন মুফতি হান্নানের আইনজীবী  অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। আবেদনে ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাসের আরজি জানানো হয়েছে।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। রায়ে এ বিষয়ে আসামিদের আবেদন খারিজ ও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

হান্নান ছাড়া মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দাল আপিল না করায় তাদের দন্ডও থাকে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা। গত ১৮ জানুয়ারি ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদন জানালেন হান্নান ও বিপুলের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদন্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

ব্লগার অভিজিৎ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ মার্চ

ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আগামী ২৭ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত।  বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম খোরশেদ আলম এই দিন ধার্য করেন। আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে ১৬ বার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল বলে আদালত পুলিশের এসআই মাহমুদুর রহমান জানান। তিনি বলেন, বুধবার ধার্য দিনে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ঠিক করে দেন।

 

রাজীব হত্যার আসামি জঙ্গি রানা রিমান্ডে

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও তার সহযোগী আশরাফকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।  

রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম  মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।  
রানা ও আশরাফকে গ্রেফতারের পরদিন তাদের আদালতে হাজির করে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় রানা সভা করছিল। তার সঙ্গে আরও তিন-চার জন ছিল, যারা পালিয়ে গেছে। তাদের কাছ থেকে উগ্র মতবাদের বিভিন্ন বই উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকর। অন্যদিকে রানার আইনজীবী হাফেজ আহাম্মেদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে বিচারকের কাছে তার মক্কেলের জামিন চান। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক জামিন নাকচ করে দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে ব্লগার রাজীবকে তার বাসার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের এই সংগঠক রানার পরিকল্পনায় ওই হত্যাকান্ড হয় বলে পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহম্মেদ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই মামলার রায়ে রানা এবং ফয়সাল বিন নাঈম দীপের ফাঁসির আদেশ দেয়। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ পাঁচজনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ হয়।

নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে সাত আসামির আপিলের রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে। পলাতক থাকায় রানা হাই কোর্টে আপিল করার সুযোগ পাননি। পুলিশ বলছে, রাজীব হত্যার পর ২০১৩ সালের শেষদিকে ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান রানা। সেখানেও তিনি গত প্রায় তিন বছর ধরে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ রানাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। সোমবার দুপুরে ঢাকার উত্তরা থেকে রানা ও আশরাফকে গ্রেফতার করার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সোমবারই জানিয়েছিলেন, রানা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

তিন চ্যানেল বন্ধে রিট খারিজের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন

বাংলাদেশে ভারতীয় তিনটি টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলার সম্প্রচার বন্ধে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

আবেদনকারীর আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সোমবার চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে এ আবেদনের শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন বিবাদীপক্ষ। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন।  

গত ২৯ জানুয়ারি তিন চ্যানেল বন্ধে জারি করা রুলের রায়ে চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বৈধ বলে আদেশ দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সম্প্রচার বন্ধের আরজি জানিয়ে করা রিট খারিজ করে দেন। গত ২৫ জানুয়ারি এ রুলের শুনানি শেষে ২৯ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন।

সংবিধানের দুই অনুচ্ছেদ নিয়ে রিটের আদেশ ২৬ ফেব্রুয়ারি

বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫ এবং বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি বিষয়ক ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের আদেশের দিন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করেন বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানি শেষে গত বছরের ২২ নভেম্বর এ দুই অনুচ্ছেদ নিয়ে রিটের আদেশ স্ট্যান্ড ওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছিলো। গত বছরের ৩ নভেম্বর হাইকোর্টে রিটটি করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা মামলা করায় বাদীর সাজা

ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় বাদীকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজীনা ইসমাইল এ দন্ড প্রদান করেন। একবছর কারাদন্ড ছাড়াও বাদীকে আরও বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদ-ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- ফিরোজা বেগম। তার বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার থানার পূর্ব লটাখোলা গ্রামে।
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আসামি ফিরোজা বেগম তার চাচাতো বোনের জামাই গিয়াস উদ্দিন গোপালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে ধর্ষণের ঘটনা মিথ্যা মর্মে ওই বছরের ২০ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে মিথ্যা মামলা করায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে গিয়াস উদ্দিন গোপাল ওই মামলার বাদী ফিরোজার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় মামলা করলে বিচার শেষে বিচারক এ দন্ড প্রদান করেন।

 

বিচারের মুখে ৫ নারী ‘জঙ্গি’

করতোয়া ডেস্ক : মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকলিমা রহমান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিানবীশ চিকিৎসক ঐশীসহ জেএমবির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলা আমলে নিয়েছে আদালত।ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা বৃহস্পতিবার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহারনগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন বলে পেশকার ফয়েজ আহমেদ  জানান।
আসামিদের মধ্যে আকলিমা ও ঐশীসহ পাঁচজন নারী।


গত বছর ১৫ অগাস্ট ও এর পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এই সদস্যদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।
মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্রী আকলিমা রহমান, খাদিজা পারভীন মেঘনা ওরফে মেঘলা, ইশরাত জাহান মৌসুমী ওরফে মৌ,  ঢাকা মেডিকেলের শিানবীশ চিকিৎসক ইসতিসনা আক্তার ঐশী, ফুয়াদ আল মাহাদী, সুলতানা বেগম ওরফে সুলতানা আক্তার কচিকে আসামি করে গত বছরের  ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র জমা দেন র‌্যাব এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক।


অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত বছরের ১৪ অগাস্ট র্য্বা-৪ জানতে পারে যে গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে উত্তর খাইলকুরে বসবাসকারী জেএমবি সদস্য আকলিমা মিরপুর জনতা হাউজিংয়ে আরও জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড করার ষড়যন্ত্র করছে। ঈদের দিন ১৫ তারিখে আকলিমাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে অন্যদের সন্ধান পাওয়া যায়।


তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন সেট, পেনড্রাইভ, উগ্রবাদী বই, বিভিন্ন ভিডিও উদ্ধার করা হয়।আসামিদের মধ্যে মাহাদী ও ঐশী জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে। এ আদালতে রাষ্ট্রপরে আইনজীবী তাপস পাল জানান, এ মামলায় রোকনুজ্জামান রানাসহ কয়েকজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল র‌্যাব।

 

বিচারকের প্রতি অনাস্থা খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি ২২ ফেব্রুয়ারি

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ঠিক করেছে হাই কোর্ট।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে  বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ শুনানির এই তারিখ নির্ধারণ করে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের কাছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এই দিন নির্ধারণ করেছেন। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, উনারা মামলার বিচারকে বিলম্বিত করার জন্যই সময় আবেদন করেছেন। আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছেন। সেদিনই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। মামলাটি ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে বিচারাধীন। আবেদনে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আরজি জানানো হয়।

 

মৃত্যুর পরও মামলা চলায় ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ময়মনসিংহের এসপি

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি ওয়াজ উদ্দিনের মৃত্যুর নয় মাস পরেও তাকে পলাতক দেখিয়ে মামলা চলার ঘটনায় পুলিশ বিভাগের গাফিলতির জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। আদালতের তলবে পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম  বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিনের মাধ্যমে ক্ষমার আবেদন করেন। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শুনানির পর এসপিকে সতর্ক করে দিয়ে তার ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদেশে পুলিশের গাফিলতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারক বলেন, ‘এখন ট্রাইব্যুনালের আদেশে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। নাক সিঁটকানো ভাব পুলিশ বিভাগের।’ মৃত ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেখানে তার বদলে আইনজীবীর স্বাক্ষর থাকায় ওই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি আদালত। বিচারক আইজিপিকে দশ দিনের মধ্যে নিজের স্বাক্ষরে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু জানান। অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, এ বিষয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর আইজিপির ব্যাখ্যায় গাফিলতির জন্য একজন পুলিশসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও কী শাস্তি হয়েছে- তা উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, ‘আদালত একটি আদেশ দিয়েছিলে, যেটি যথাযথভাবে পালিত হয়নি। এটা বিচার ব্যবস্থার প্রতি বড় ধরনের দায়িত্বে অবহেলা।’ পলাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার পরও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ময়মনসিংহের ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা চলার ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। এর পেছনে কার গাফিলতি রয়েছে, তা তদন্ত করতে সেদিনই প্রসিকিউশন ও আসামি পক্ষকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গত ১১ জানুয়ারি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ‘মৃত ওয়াজ উদ্দিনকে পলাতক ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের নজরে এলে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা ওয়াজ উদ্দিন ২০১৬ সালের ৭ মে মারা যান। তারপরও গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ওয়াজ উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন গত ১৯ জানুয়ারি মৃত ওয়াজ উদ্দিনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। সেইসঙ্গে গাফিলতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে তলব করা হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শককেও লিখিতভাবে তার ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়।

ঘুষ নেওয়ার সময় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা গ্রেফতার

ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উপ-কর কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জমাদ্দারকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
 বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান থানার নর্থ সার্কুলার রোডের ভুতেরগলির বাসিন্দা মোস্তফা মো. আলীর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই কর কর্মকর্তা মোস্তফা মো. আলীর নামে অধিক কর আরোপ করেন। পরে সেই কর কমানোর শর্তে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন তোফাজ্জল হোসেন। এরপর এই ঘুষের টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা গ্রহণের সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান প্রণব কুমার। তোফাজ্জলের কাছে আরও এক লাখ ২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। কমিশনের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যর দল তাকে গ্রেফতার করে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় কলাবাগান থানায় কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ মামলা করেছেন।

বিচারপতি শিবলীর আবেদন শুনানি আপিলের নিয়মিত বেঞ্চে

স্থায়ী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর রিট আবেদনের বিষয়ে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে শুনানির জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন।
বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে মনজিল মোরসেদ বলেন, আমরা আগামী রোববার আবেদনটি শুনানির আরজি জানিয়েছিলাম। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল আমাদের আরজির বিরোধিতা করে এপ্রিলে তারিখ দিতে বলেছিলেন। পরে আদালত আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।

ফরিদ আহমদ শিবলীসহ ১০ জনকে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুই বছরের জন্য হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দুই বছর মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি গত ৭ ফেব্রুয়ারি আটজনকে স্থায়ী নিয়োগ দিলেও ফরিদ আহমেদ শিবলী বাদ পড়েন।

 

পদ্মায় দুর্নীতির গল্প সৃষ্টিকারীদের কাঠগড়ায় নিতে হাই কোর্টের রুল

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির মিথ্যা গল্প’ বানানোর নেপথ্যে ‘প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের’ খুঁজে বের করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ খুঁজে বের করতে ১৯৫৬ সালের ‘ইনকোয়ারি আক্ট’ এর তৃতীয় অনুচ্ছেদ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন অনুযায়ী কমিটি বা কমিশন গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এই রুলে। সেই সঙ্গে ‘প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের’ কেন বিচারের মুখোমুখী করা হবে না- তাও জানতে চেয়েছে আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  বুধবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করে।

এ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, এই রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, যোগযোগ সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও আইজিপিকে বিবাদী করা হয়েছে। তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে। এছাড়া কমিটি বা কমিশন গঠনে কী উদ্েযাগ নেওয়া হয়েছে- তা জানিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবে ‘ইউনূসের বিচার দাবি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি পত্রিকায় আসা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত এই রুল জারি করেছে। বিষয়টি আগামী ২০ মার্চ শুনানির জন্য আবার আদালতে উঠবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের জন্য চুক্তি করেও পরে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তা স্থগিত এবং পরে বাতিল করে। পরে তাদের বাদ দিয়েই নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে মামলা হয়েছিল কানাডার আদালতে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত গত শুক্রবার ওই মামলার তিন আসামিকে খালাস দেয়। রায়ে বিচারক বলেছেন, এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে যেগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ‘অনুমানভিত্তিক, গাল-গল্প ও গুজবের বেশি কিছু নয়’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই বলে আসছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ তোলা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এতে বাংলাদেশিরাও জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি সংসদে তিনি বলেন, হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন আটকেছিলেন নোবেলজয়ী বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাতে বাংলাদেশের এক সম্পাদকেরও ভূমিকা ছিল।

মঙ্গলবারও একনেক বৈঠকে শুরুতে কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ‘মিথ্যা অভিযোগের’ পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে বলে তিনি মনে করেন। ‘একটা ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত লাগল বলে, সেই ব্যক্তি দেশের এত বড় একটা মূল্যবান প্রোজেক্ট…  যা হলে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হতে পারত…।’ দুর্নীতির ওই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগে বাধ্য হন সেই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। অভিযোগ ছিল সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। তখনকার সেতু সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওই মামলায় কারাগারেও যেতে হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দুদকের পক্ষ থেকে তদন্তের পর জানানো হয়। দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পদ্মা দুর্নীতি মামলার অবসান ঘটে। সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ সাত আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেয় আদালত।

সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ, জানতে চায় হাই কোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গোবিন্দগঞ্জের ইউএনওকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এক রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া সাঁওতালদের পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করা হয়েছে। ভূমি সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে দুই সপ্তাহের মধ্েেয এ রুলের জবাব দিতে হবে। রিট আবেদনকারী আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত নিজেই আদালতে শুনানি করেন। চিনিকল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন এ এম মাসুম, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

১৯৬২ সালে রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতাল ও বাঙালিদের ১৮টি গ্রামের ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল। ওই জমি ইজারা দিয়ে ধান ও তামাক চাষ করে অধিগ্রহণের চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে তার দখল ফিরে পেতে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। পরে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে বিরোধপূর্ণ চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কয়েকশ’ ঘর তুলে বসবাস শুরু করে তারা। গতবছর ৬ নভে¤॥^র চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে।

সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে। ওই জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে অভিযোগ করে গত বছর ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুপ্রকাশ দত্ত অমিত। নেই নোটিসের জবাব না পেয়ে তিনি হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন। তার আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি করে হাই কোর্টের এই বেঞ্চ গত ৮ জানুয়ারি একটি রুল জারি করে। সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চায় আদালত। স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদালতে যে প্রতিবেদন দেন, বুধবার তার ওপর শুনানির সময় আদালত সাঁওতালদের পুনর্বাসনের বিষয়ে নতুন এই নির্দেশনা দিল।

নতুন করে বিচার শুরু জেএমবি নেতা সাইদুরের

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় জেএমবির সাবেক প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমানসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মঙ্গলবার অভিযোগ গঠন করে বিচারের জনি মামলার নথি ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই আদালতে আগামী ২২ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ শুরুর দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার কদমতলী থানার এ মামলার প্রধান আসামি সাইদুরকে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্যক এদিন কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সুবিচার চান। এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলী তাপস পাল জানান, মামলার অপর দুই আসামি আবদুল্লাহেল কাফী ওরফে আবদুল্লাহেল কাদরী এবং তার স্ত্রী আয়শা আক্তার এর আগে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। ২০১০ সালের ২৫ মে ঢাকার দনিয়া নূর মসজিদের কাছে একটি বাড়ি থেকে মাওলানা সাইদুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তাদের কাছে উগ্র মতবাদের বই ও সরকারবিরোধী প্রকাশনার কাগজপত্র পাওয়া যায় বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে বলা হয়।

পরে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগে ঢাকার কদমতলী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগপত্র হওয়ার পর ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারও শুরু হয়; রাষ্ট্রপক্ষে পাঁচজনের সাক্ষ্যা শোনে আদালত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বিচারের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যরবাধকতা থাকলেও এ মামলায় তা না থাকায় বিচার মাঝপথে আটকে যায়। অনুমোদনের জন্যর ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে নথিপত্র পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। গতবছর ২৬ অগাস্ট অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন করে গতি পায় এ মামলার কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতায় আদালত গত ৪ জানুয়ারি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নতুন করে আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করে দেয়।

দীর্ঘদিন কারাবন্দি ৮ জনকে জামিন নয় কেন: হাই কোর্ট

বিচার শেষ না হওয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি আটজনকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার স্বতঃপ্রণোদিত এই রুল জারির পাশাপাশি মামলার নথিও তলব করেছে।

সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের নথিও তলব করেছে আদালত। সিলেট, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের কারাগারে এই আট আসামির দীর্ঘদিন বন্দি থাকার বিষয়টি সোমবার আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন,  (সোমবার) বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আজ আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল দিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন কারাবন্দিদের হাই কোর্টে হাজির করা হয়। তবে কবে তাদের হাজির করতে হবে, সেই তারিখ এখনও দেওয়া হয়নি। বিকালের আগেই হয়তো তারিখটা আমরা পেয়ে যাব। কারাবন্দি ৮ জন হচ্ছেন- মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার দক্ষিণ পাউসার গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল (৫১) কারাগারে আছেন ১৪ বছর ধরে। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা  মামলা রয়েছে, যেটি মুন্সিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারধীন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ছৈনপাড়ার বাসিন্দা জাহেদ আলীর ছেলে সাজু মিয়া (৪৫) ১০ বছর ধরে কারাবন্দি। সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।

কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার পশ্চিম টেংগুরী গ্রামের বাসিন্দা নেকবর আলীর ছেলে মো. তকদীর মিয়া (৩৫) কারাবন্দি আছেন ১০ বছর ধরে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্তি দায়রা জজ (তৃতীয় আদালত) আদালতে তার হত্যা মামলার বিচার ঝুলে আছে। বাগেরহাটের মহেন্দ্রনাথ হালদারের ছেলে অসীম হালদারও কারাবন্দি ১০ বছর ধরে। বাগেরহাট থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলাটি বাগেরহাটের অতিরিক্তি দায়রা জজ আদালতে (প্রথম আদালত) বিচারাধীন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দোহার গ্রামের ছিফাত উল্লাহ সরদারের ছেলে আসাদুল ওরফে আছা ১০ বছর ধরে কারাগারে। সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তার হত্যা মামলাটি বিচারাধীন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার চরলাপাংয়ের বাসিন্দা মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. দানা মিয়া (৫৫) হত্যা মামলার আসামি। তিনি ১০ বছর ধরে সিলেটের কারাগারে বন্দি। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (তৃতীয় আদালত) মামলাটি বিচারাধীন। দানা মিয়াকে ৮১ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। সিলেটের গোপালগঞ্জ থানার বাদে পাশা গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল আলম ওরফে বেলাল ১০ বছর ৫ মাস ধরে কারাবন্দি। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরও দুটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (চতুর্থ আদালত) তার মামলা বিচারাধীন। বেলালকে ৮৭ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হকের ছেলে সাব্বির আহমেদ ওরফে দুলাল (৪৫) ১০ বছর ৭ মাস ধরে সিলেটের কারাগারে কারাবন্দি। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দব্য আইনের মামলাটি সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (পঞ্চম আদালত) বিচারাধীন। সাব্বিরকে ৯২ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে।  

ভুয়া প্রশ্নপত্রে অর্থহাতানো চক্রের ৬ জন গ্রেফতার

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে ফেসবুকের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে অর্থহাতানো চক্রের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তারা হলেন- রাজু আহম্মেদ, ফয়সালুর রহমান ওরফে আকাশ, জোহায়ের আয়াজ, মহিউদ্দিন ইমন, স্বাধীন আল মাহমুদ ও কাজী রাশেদুল ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর কলাবাগান, পশ্চিম রামপুরা ও ভাটারা থানা এলাকায়  অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, সিপিইউ, রাউটার, মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।  মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন এসব তথ্য জানান। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুকে পোস্ট করা প্রশ্নের স্ন্যাপশটের সঙ্গে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এসব প্রশ্নের সঙ্গে শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ মিল পাওয়া গেছে। গ্রেফতার চক্রটি ফেসবুকে ক্লায়েন্ট গ্র“প খুলে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা বিভিন্ন পোস্ট দেয়। এরপর প্রশ্ন পাঠিয়ে বিকাশে টাকা আদায় করে। পরীক্ষার গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী তারা প্রতি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ৫শ’ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা আদায় করে আসছিল। গ্রেফতারদের আসামী করে কলাবাগান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানায় ডিবি পুলিশ। উল্লেখ্য, ২ ফেব্র“য়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এ পরীক্ষার কয়েক বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিচারকদের চাকরি বিধি গেজেট প্রকাশে শেষবারের মত দুই সপ্তাহ সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্যত সরকারকে ‘শেষবারের মত’ দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। কেন সময় প্রয়োজন তা জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ  সোমবার এই আদেশ দেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার দুই সপ্তাহের সময়ের আবেদন করলে আপিল বিভাগ তাকে লিখিতভাবে সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছিল। সোমবার আদালতে সেই লিখিত আবেদন জমা দেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। প্রধান বিচারপতি আদেশে বলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আমরা আশা করি, সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যে গেজেট প্রকাশ করবে।’

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

নির্যাতনের অভিযোগ সানিকে রিমান্ডে পায়নি পুলিশ

নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী দাবিদার এক তরুণীর করা মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
গতকাল রোববার সানিকে আদালতে হাজির করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাকসুদুর রহমান। আবেদনের শুনানি করে বিচারক ঢাকার মহানগর হাকিম শরাফত আনসারী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে আসামির আইনজীবী এম জুয়েল আহমেদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সানির পক্ষে এই মামলায় জামিন চাওয়া হলে শুনানির জন্য যোগ্য আদালত অর্থাৎ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যেতে বলেন বিচারক। জাতীয় দলের এই খেলোয়াড় একই তরুণীর করা আরেকটি মামলায় আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার সানির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলার আবেদন করেন তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই তরুণী।

বিচারকদের চাকরিবিধি গেজেটে আরও সময় কেন ব্যাখ্যা চায় আপিল বিভাগ

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্য কেন বার বার সময় নেওয়া হচ্ছে তা লিখিতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ  রোববার এই আদেশ দেয়। গেজেট প্রকাশের জন্য এ মামলার সর্বশেষ দিনে এক সপ্তাহ সময় পেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করে। এরপর প্রধান বিচারপতি বার বার সময় চাওয়ার কারণ আজ সোমবার লিখিলতভাবে জানাতে নির্দেশ দেন।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নাই। এটাকে নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে এটার বিশেষ অংশ সংশোধন করে পুনরায় পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি আদালতের কাছে সেই কথাটি বলেছি এটা পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আদালত আমাকে লিখিতভাবে উল্লেখ করে দরখাস্ত করতে বলেছেন। আগামীকাল সেটি দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা বলেন, রুলস ফ্রেইম করবেন তো রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি একবার অপারগতা প্রকাশ করেছেন বা এটার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন। কাজেই ফের যদি এটা করতেই হয় তাহলে সেটি সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির কাছেই পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠানো উচিৎ। সেটিই করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, এটাতো আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। তার কারণ রুলস সুপ্রিম কোর্ট যেটা চেয়েছিলেন সেটার কোনো কোনো জায়গায় আইন মন্ত্রণালয় বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার খর্ব হয়। এটা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।তিনি বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে, এখন আর কোনো অসুবিধা নেই। এটা সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে পুনর্বিবেচনার বিষয় যেহেতু, গেজেট প্রকাশে একুট সময় লাগতে পারে।

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত।মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়।

রাজশাহীর গৃহবধূ সিফাত হত্যার রায় ২৭ ফেব্রুয়ারি

রাজশাহীর গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ।  রোববার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মাহবুব আহমেদ জানান, বিচারক এ মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে এ তারিখ রাখেন। এ আইনজীবী জানান রাষ্ট্রপক্ষে এ আলোচিত মামলায় ৩২ জনের মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ প্রিসলি, শ্বশুর হোসেন মোহাম্মদ রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নজলী ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান। আসিফ কারাগারে থাকলেও অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে মৃত্যু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় মহানগরীর রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করে। পরে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মিলে বলে জানানো হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতজনিত কারণে সিফাতের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনে গত ১২ জুলাই মামলাটি রাজশাহী থেকে ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। গত বছরের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার আহমেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

 

নতুন সিইসি নিয়ে মন্তব্য টিভি সঞ্চালকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন

টেলিভিশন টকশোর আলোচনায় হবু প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘গোপাল’ বলে সম্বোধন করায় এসএ টিভির সঞ্চালকের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলার আবেদন করেছেন এক আইনজীবী। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে  বৃহস্পতিবার এসএ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদ ও উপস্থাপক ফয়সাল আল মাহমুদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার অনুমতি চেয়ে এ আবেদন করা হয়। ঢাকা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক মো. বাহালুল আলম বাহার এই আবেদন করেন। মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তার জবানবন্দি নিয়েছেন জানিয়ে আইনজীবী বাহালুল  বলেন, পরে আদেশ দেবেন বলে (হাকিম) জানিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়, ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এসএ টিভিতে লেট এডিশনে ‘নতুন নির্বাচন কমিশনার গোপাল, কী আছে জাতির কপালে,’- এই মন্তব্য করেন উপস্থাপক ফয়সাল আল মাহমুদ। অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মাহমুদ মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু। দুজনই এর প্রতিবাদ করেন, তবে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পর গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশ করা ১০ জনের তালিকা থেকে পাঁচজনকে নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ পান সাবেক আমলা কে এম নুরুল হুদা।

হাসেমপুত্র রাসেল ও সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান কারাগারে

 প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির এক মামলায় পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীর জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশন মতিঝিল থানার এ মামলায় রাসেলকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিল; ওই আবেদনও আদালত নাকচ করে দিয়েছে।
মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার  বৃহস্পতিবার শুনানি করে এই আদেশ দেন বলে দুদকের আইনজীবী মাহামুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন।
বিচারক আদেশে বলেছেন, আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে যে কোনো দুই দিন তদন্ত কর্মকর্তা কারা ফটকে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। পারটেক্স থেকে ভাগ হয়ে গঠিত আম্বার প্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। রাসেলের ভাই সিটি ব্যাংকের পরিচালক আশফাক আজিজ রুবেলও দুদকের দায়ের করা এ মামলার আসামি, যিনি পারটেক্স গ্রুপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছেন। রাসেল, রুবেল, ইকবালউদ্দিনসহ আটজনকে আসামি করে বুধবার মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন দুদকের উপ সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস। ইকবালউদ্দিন চৌধুরী রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে’ অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে দুই ভাই রাসেল ও রুবেলকে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার পরীবাগের বাসা থেকে ইকবালউদ্দিন এবং গুলশানের বাসা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করেন দুদক কর্মকর্তারা।

মামলার বাকি পাঁচ আসামি এসডি ফয়েজ, একেএম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফরুল্লাহ, এইচএম জহিরুল হক ও রেজাউল করিম তরফদার এক সময় রাজউক বোর্ডের সদস্য ছিলেন। দুদকের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইকবালউদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত সময়ে রাজউকের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৮টি সরকারি ভবন বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইকবালউদ্দিনকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

 

রাজধানীতে প্রতিবন্ধী কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার : আটক ১

রাজধানীর শ্যামপুর থানার মীর হাজিরবাগে তের বছর বয়সী এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সেলিম (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই কিশোরী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

কিশোরীর বাবা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেলিম তাকে খুঁজতে তাদের বাসায় আসে। তখন বাসায় তার মেয়েকে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করে সেলিম। নির্যাতনের বিষয়টি মাকে জানায় কিশোরী। পরে শ্যামপুর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ সেলিমকে আটক করে। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, বুধবার বেলা দেড়টার দিকে যৌন নির্যাতনের শিকার শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে স্কুলছাত্র আদনান খুন: গ্রেফতার ৮

রাজধানীর উত্তরায় স্কুললছাত্র আদনান কবীর হত্যার ঘটনায় ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগ বস’ নামে কিশোরদের দুই গ্যাংয়ের দলনেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাকু, দুইটি চাপাতি, দুইটি রড, তিনটি ¯েপ্র কালার বোতল, দুইটি স্কুল ব্যাগ এবং চার পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাররা হচ্ছে- শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু (২২), আক্তারুজ্জামান ছোটন (১৯), শাহীনুর রহমান (১৭), রমজান মোবারক (১৭), সেলিম খান (২৩), মো. ইব্রাহিম হোসেন সানি (২৮), মিজানুর রহমান সুমন (২২) ও জাহিদুল ইসলাম জুইস (২১)। র‌্যাবের ভাষ্য, গ্রেফতার সেতু ‘ডিসকো গ্যাং’ দলের নেতা। আর আকতারুজ্জামান ‘বিগ বস গ্যাং’ দলের নেতা। এই দুই গ্যাং ও নাইন স্টার গ্যাংসহ স্থানীয় কয়েকটি গ্র“পের আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদনান খুন হয়। আদনানের সাথে নাইনস্টার গ্র“পের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে  বুধবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিচালক (গণমাধ্যম) মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জাহিদুল নিজের মুখে কাপড় বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আদনানের ওপর হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব জানায়, সেতুর নেতৃত্বে ২০০৯ সালে উত্তরায় ‘ডিসকো বয়েজ’ গ্র“পের উত্থান ঘটে। এই গ্র“পের সহযোগী হিসেবে ২০১৬ সালে আকতারুজ্জামানের নেতৃত্বে ‘বিগ বস’ গ্র“পের আবির্ভাব ঘটে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাজু নামে এক তরুণের নেতৃত্বে ২০১৩ সালে আসে ‘নাইন স্টার’ গ্র“প। সম্প্রতি তাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্র“পগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি ডিসকো বয়েজ ও বিগ বস গ্র“পের সদস্যরা নাইন স্টার গ্র“পের রাজুসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। হামলার মূল লক্ষ্য রাজু হলেও ঘটনার শিকার হয় আদনান খুন হয় নাইন স্টার গ্র“প ঘনিষ্ঠ আদনান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় ৩০টির মতো ছোট-বড় গ্যাং রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের বর্তমান সদস্যসংখ্যা শতাধিক। গ্যাংয়ের সদস্যরা উঠতি বয়সী তরুণ ও কিশোর। তারা উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে। গ্যাংয়ের মূল্য লক্ষ্য এলাকাভিত্তিক প্রাধান্য বিস্তার। তারা এলাকার স্কুল-কলেজে র‌্যাগিং, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদকসেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, অশ্লীল ভিডিও শেয়ারের মতো কাজ করে। অনেক সময় এলাকার নিরীহ ও মেধাবী তরুণ-কিশোরদের জোর করে গ্যাংয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। ফেসবুকে এক গ্র“প অন্য গ্র“পকে হুমকি দেয়। আইডি হ্যাক করে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু ডিসকো বয়েস গ্র“পের ‘গ্যাং লিডার’। এই গ্র“পের আরেক সদস্য জুইস উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে বাকি ছয়জন বিগবস গ্র“পের সদস্য জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিগবস গ্র“পের লিডার হচ্ছে আক্তারুজ্জামান ছোটন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে অধ্যায়নরত ছোটনের নামে আগেও একটি মামলা রয়েছে। এই গ্র“পে গ্রেফতারদের মধ্যে সুমন এইচএসসি পাশ বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে বলেছে। মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেফতার অন্যদের স্কুলে যাতায়াত নেই বললেই চলে।

তিনি জানান, বিগবস গ্র“পে ছোটন এবং সুমন দুই ভাই। এরা হকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সানি ইজি বাইক চালক, সেলিম পোশাক কারখানায় চাকরি করে, রমজান সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আর শাহীন পরিবহন সেক্টরে চাকরি করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি বলেন, ২০০১ সালে উত্তরা এলাকায় গ্যাং কালচার শুরু হয়। সেই সময় কাঁকড়া নামে একটি গ্র“প তৈরি হয়। তবে ওই গ্র“পটি বেশিদিন টিকেনি। র‌্যাবের অনুসন্ধানে উত্তরায় অন্তত ১৫টি এ ধরনের গ্র“প চালু থাকার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ গ্র“পের সদস্য সাধারণত ‘স্কুল ড্রপ’ বালক। এই সব গ্র“পে বাইরের সদস্যরা প্রধান হয় এবং তারা প্রভাব বিস্তার করে। গ্রেফতাররা আদনান হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল কিনা জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে তাদের ধরেছি। বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। তবে জুইস ঘটনার সময় ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।’

 

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে বার অ্যামিকাস কিউরি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানিতে ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর কাছে আইনি ব্যাখ্যা ও মতামত শুনবে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আট সদস্যের আপিল বিভাগ  বুধবার অ্যামিচি কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে ১২ জন আইনজীবীর নাম ঘোষণা করে। এই ১২ জন হলেন- ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, রফিক-উল হক, আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, টিএইচ খান, এমআই ফারুকী, শফিক আহমেদ, এজে মোহাম্মদ আলী ও ফিদা এম কামাল। তিন বছর আগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যূমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবীর করা একটি রিট আবেদনে দেওয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ করে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, ‘সংসদের মাধ্যমে বিচারকগণের অপসারণ প্রক্রিয়া ইতিহাসের একটি দুর্ঘটনা।’ ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে গত ৫ জানুয়ারি বিষয়টি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের বেঞ্চ ওঠে। আদালত সেদিন জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগের ‘ফুলবেঞ্চে’ শুনানি হবে।

সে অনুযায়ী বুধবার আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অ্যাটর্নি জেনারেল আপিলের ওপর শুনানির প্রস্তুতির জন্য  আট সপ্তাহ সময় চাইলে আদালত ৭ মার্চ শুনানির তারিখ রেখে বলে, এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের নিষ্পত্তিতে বিল¤॥^ করা উচিৎ নয়। আদেশে বলা হয়, ৭ মার্চ রিটকারী ও রাষ্ট্রপক্ষকে তাদের বক্তব্যয় মৌখিকভাবে উপস্থাপনের জন্যত এক ঘণ্টা করে সময় দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের লিখিতভাবে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা শোনার জন্য  ১২ জন অ্যামিকাস কিউরির
নাম ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি।

পাইপে জিহাদের মৃত্যু রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি

রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলের পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ ছয় আসামির সাজা হবে কি না, তা জানা যাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান  বুধবার এ মামলায় রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন।
দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান  বুধবার এ মামলায় রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন। এ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি শওকত আলম আগেই জানিয়েছিলেন, জিহাদের মৃত্যুর ঘটনাটি আলোচিত ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সম্ভব হলে ফেব্রুয়ারিতেই রায় দিতে পারে আদালত।

২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েকশ ফুট গভীর এক নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অনেক নিচে ক্যামেরা নামিয়েও ফায়ার সার্ভিস কোনো মানুষের ছবি না পাওয়ায় পাইপে জিহাদের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ওই সন্দেহ রেখেই উদ্ধার অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকজন তরুণের তৎপরতায় তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে উঠে আসে অচেতন জিহাদ। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেঁচে নেই। জিহাদের মৃত্যুর পর ওই ঘটনা সে সময় সারাদেশে আলোড়ন তোলে। এর জন্য দায়ীদের শাস্তিরও দাবি ওঠে। এরপর জিহাদের বাবা নাসির ফকির অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক আবু জাফর ২০১৫ সালের এপ্রিল যে অভিযোগপত্র দেন তাতে শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআর এর মালিক প্রকৌশলী আব্দুস সালামকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ‘অপরাধজনক প্রাাণনাশের’ অভিযোগ আনা হয়।পরে বাদীর নারাজি আবেদনে গত বছরের ৩১ মার্চ আরও চারজনকে যুক্ত করে নতুন করে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান। তাতে জাহাঙ্গীর ও সালাম ছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার আবু আহমেদ শাকি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দিপক কুমার ভৌমিককে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, রেল কলোনির একটি পানির পাম্পে লোহার পাইপ দিয়ে কূপ খনন করা হয়। কূপে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে মুখ খোলা অবস্থায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্তভাবে ফেলে রাখা হয়। ফলে বাদীর ছেলে জিহাদ কূপের পাশে খেলার সময় পড়ে মারা যায়। এরপর ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় বাদীপক্ষে মোট ১০ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনজন।



Go Top