সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দশ আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় দিয়েছে আদালত। ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত হাই কোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে গুলি করে দশ আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। সতের বছর আগের ওই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলার অপর ১৩ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। এ কারণে তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের বাকি ২৪ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদন্ড; একজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড  ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আসামিদের মধ্যে ১০ জন আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় মুফতি হান্নান বাদে আসামি ছিলেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে নয় জনকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন চারজন। কোটালীপাড়ার একটি কলেজের কাছে ২০০০ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভামঞ্চের নির্ধারিত স্থান ও হ্যালিপ্যাডে মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ ও ৮০ কেজি ওজনের দুটি বোমা পাওয়ার পর এই মামলা করে পুলিশ।

রায়ের পর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ শামসুল হক বাদল বলেন, তিনি ‘আংশিক সন্তুষ্ট’। রায়ের কপি পাওয়ার পর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, তার মক্কেলদের ‘টাকা পয়সা নেই’। তারা জেল আপিল করবেন। দন্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা এই রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।   

ঘটনাক্রম
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে। তার এক দিন পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজ মাঠে জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ওই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্ত শেষে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল যে অভিযোগপত্র দেন, তাতে আসামি করা হয় ১৬ জনকে। পরে ২০০৯ সালের ২৯ জুন নতুন করে ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গোপালগঞ্জের আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি যখন দেওয়া হয়, ততদিনে ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪১ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরে গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১০ সালের সেপ্টে¤॥^রে মামলা দুটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ হরকাতুল জিহাদের ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনে মূল ব্যক্তি হিসেবে মুফতি হান্নানকে দায়ী করা হয়।

শেখ হাসিনার নিজের জেলা গোপালগঞ্জেই মুফতি হান্নানের বাড়ি? পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে তার জঙ্গিবাদে হাতেখড়ি। আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এই জঙ্গি নেতা কারাগারেই ছিলেন। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় চলতি বছর ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বোমাগুলো উদ্ধারের সময় মুফতি হান্নানের মালিকানাধীন গোপালগঞ্জে হেমাঙ্গন আবাসিক এলাকার ভাড়া করা একতলা বাসা থেকে বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই বিস্ফোরক সরবরাহ করা হয়েছিল হান্নানের সোনার বাংলা সাবানের কারখানা থেকে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতার

সহকর্মী পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন এক নারী কনস্টেবল। ধর্ষণের শিকার ২২ বছর বয়সী ওই নারীকে গত শনিবার দিনগত রাত পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল আরিফুল হককে (২৪) গ্রেফতার করেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, ওই নারী কনস্টেবল শনিবার রাতে আরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। পরে রাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার আরিফুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের শিকার নারী কনস্টেবল এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ জুন তাকে মালিবাগে ‘হোটেল মৌচাক’র একটি কক্ষে নিয়ে যান আরিফুল। সেখানে তারা কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করেন। একপর্যায়ে আরিফুল তাকে ধর্ষণ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলাম জানান, আরিফুল ও ওই নারী কনস্টেবল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। বেশ কিছুদিন আগে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর তাকে বিয়ে না করে ঘুরাতে থাকেন আরিফুল। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে নারী কনস্টেবলের মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। আরিফুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলে জানান এসআই সাইদুল।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছে: প্রধান বিচারপতি

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আলোচনার আহ্বানে সরকারের সাড়া না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রোববার শুনানিতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরছে।’ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা প্রসঙ্গে বিচারপতি সিনহা সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে সেদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পরের পরিস্থিতি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’ বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও প্রধান বিচারপতি গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ডাকলেও আইনমন্ত্রী এখন পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাননি। চাকরিবিধির ওই গেজেট প্রকাশের জন্য গত ৬ অগাস্ট সরকারকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার আবারও সময়ের আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চ ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে। গেজেট প্রকাশের জন্য এ নিয়ে ২৫ বার সময় পেল রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আলোচনায় বসার আহ্বানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘গত তারিখে কি কথা ছিল? কার সঙ্গে কে কে থাকবে তা ঠিক করে আলাপ-আলোচনা করার কথা ছিল।  কে কে থাকবে?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ল মিনিস্টার।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এতই আমরা ইয়ে হয়ে গেলাম আলোচনা পর্যন্ত করলেন না?’ বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আপনারা মিডিয়াতে অনেক কথা বলেন।  কোর্টে এসে অন্য কথা বলেন। আপনাদের বলছি, আপনাকে নয়।  আপনিই বলেন। 

কবে কি হবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল তখন বলেন, ‘একটা আনস্টেবল সিচুয়েশন তৈরি হয়ছে।’ তখন প্রধান বিচারপতি সেই ‘আনস্টেবল সিচুয়েশনের’ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সবটা নিয়েই আমি বিব্রত।’ বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘আপনারা ঝড় তুলছেন।  আমরা কোনো মন্তব্য করেছি?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘না, আপনারা করেননি।’ এরপর প্রধান বিচারপতি গেজেট প্রকাশের জন্য সময় মঞ্জুর করে বলেন, ‘আপনার চাওয়া মত ৮ তারিখ রাখলাম।’ এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম এ সময় তার আবেদনের শুনানির আরজি জানান। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি।  যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি।  আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি সেখানে ধৈয্যের কথাই বলা হল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পরে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে যে রুলস ফ্রেম করার কথা, সে বিষয়টি আজ আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।  আমি আদালতকে বলেছি, যেহেতু নানা কারণে এখন অবস্থা খুব উত্তপ্ত, সুতরাং রুলস ফ্রেমিংয়ের ব্যাপারে লম্বা সময় দেওয়া হোক। যাতে এর মধ্যে সার্বিক অবস্থাটা স্থিতি লাভ করে। তখন আদালত ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তখন আদালত বলেছে, গত তারিখে কথা ছিল আমাদের সঙ্গে আপনারা বসবেন। তখন আমি বলেছি, আমার তো বসার কথা না, আমি তো এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। যাই হোক, যদি এরকম কথা হয়ে থাকে, তাহলে ফের উদ্যোগ নেব।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলি, আমি পলিসি মেকার না। এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চ এবং জুডিশিয়ারির সাথে একটা সংযোগ রক্ষা করি মাত্র। আমাকে বলা হয় একটা ব্রিজ।’

এই বিভাগের আরো খবর

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী ‘ধর্ষণে’ তিতুমীরের ছাত্র গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের সময় তিতুমীর কলেজের এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সুজন তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির জানান, বুধবার রাতে তাকে আটকের পর পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে।

“স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের সময় সুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।” দাদন ফকিরের ভাষ্য, ‘ভালোবাসার কথা বলে’ ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় ওই মামলা করেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গি সাইফুলের মৃত্যু বোমায় সাথে ছিল একাধিক লোক

রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে নিহত জঙ্গি সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে বোমার আঘাতে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ এ তথ্য জানান। এর আগে বিকাল পৌনে ৫টায় শুরু হয় সাইফুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত। শেষ হয় বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে।

এদিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, জঙ্গি সাইফুলের সাথে একাধিক লোক ছিল। ঘটনাস্থলেরর আশপাশেই তারা অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। সাইফুল নব্য জেএমবির সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সাইফুল মাত্র কিছুদিন আগেই জেএমবিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে ইত্তেহাদী হামলার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছিল। হোটেল ওলিওর ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে সাইফুলের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। তাই কম সময়ের মধ্যেই তার পরিচয় জানা গেছে।’ ডিএমপি কমিশনার দাবি করেন, বাংলাদেশে বড় কোনো জঙ্গি হামলা বা নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি নেই। এরই মধ্যে নব্য জেএমবি ও আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সাংগঠনিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। দেশে বড় কোনো নাশকতা ঘটানোর কোনো শক্তি নেই এদের। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটাতে পারে।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘সাইফুলের মরদেহে কোনো গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি। কোমর থেকে একটি ডিভাইস ও তার উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া বোমার স্পি­ন্টার তার ডান চোখ দিয়ে ঢুকে মস্তিস্ক ভেদ করে মাথার পেছনের অংশ উড়িয়ে দেয়। এটাকেই মৃত্যুর জন্য মূল ডেমারেজ হিসেবে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগুনের হল্কায় তার মৃতদেহটি পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল। সাইফুলের শরীর কেটে ভেতর থেকেও স্প্লিন্টার বের করেছি এবং একটি প্লাস্টিকের ডিভাইস পেয়েছি।’ এর আগে আত্মঘাতী বেশ কয়েকজন জঙ্গির ময়নাতদন্ত করার অভিজ্ঞতা থেকে জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘বেশিরভাগ আত্মঘাতী জঙ্গি একইরকম।’ ওই চিকিৎসক জানান, জঙ্গি সাইফুলের ভিসেরা, রক্ত ও ইউরিন সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। আত্মঘাতী হওয়ার আগে সে কোনও মাদকসেবন করেছিল কিনা তা ওই প্রতিবেদনে উঠে আসবে।

গত মঙ্গলবার সকালে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালের চতুর্থ তলায় পুলিশের ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ নামের জঙ্গি অভিযানের সময় মারা যান সাইফুল ইসলাম। অভিযান শেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, অপারেশনের সময় সাইফুল তাঁর শরীরে বাধা সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়। ২১ বছর বয়সী সাইফুলের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায় সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামে। খুলনার বিএল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন সাইফুল। পড়াশোনার জন্য খুলনার একটি মেসে থাকতেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অভিযানকালে রাজধানীতে এক জঙ্গির আত্মহনন

রাজধানীর পান্থপথে ‘ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’ আবাসিক হোটেলে আত্মঘাতি বিস্ফোরণে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের অভিযানের মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ওই জঙ্গি  ‘সুইসাইড ভেস্ট’ বিস্ফোরণ ঘটায় বলে ধারণা পুলিশের। পান্থপথের যে জায়গায় চারতলা ওই হোটেল ভবনের অবস্থান, সেখান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের দূরত্ব মাত্র ৩০০ মিটার। ৩২ নম্বর সড়কে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিপুল জনসমাগমকে টার্গেট করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গির- এমনটাই মনে করছে পুলিশ। এছাড়া নিহত জঙ্গি শিবির করতো এবং তার বাবা জামায়াত বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সকালে এক জঙ্গির অবস্থানের খবর পেয়ে পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের কাছে ‘ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’ নামের ওই হোটেল ভবন ঘিরে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার প্রতিটি গলি এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন, সোয়াট সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন অগাস্ট বাইট’। পুলিশ কয়েক ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে চারতলা হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তার দিকের অংশের দেয়াল ও গ্রিল ধসে নিচে পড়ে। চার তলার ওই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একজনের দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, ‘হোটেলের যে কক্ষে বিক্ষোরণ ঘটেছে, আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক সোমবার রাতে সেটি ভাড়া নেয়। হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম, বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়ায়। বি এল কলেজে সে অনার্স পড়ছে। আমরা ধারণা করছি, ওই যুবকই নিহত হয়েছে।’ পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহত যুবক নব্য জেএমবির সদস্য।

গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার তথ্য পায়। হোটেলে অনুসন্ধান চালানোর সময় তার কক্ষ থেকে আমরা কোনো সাড়া পাইনি। তাকে সারেন্ডার করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে করেনি। সে প্রথমে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযান শুরু হলে সে সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।’ আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সেই পরিকল্পনা নস্যাত করে দিয়েছে। ওই জঙ্গি নিহত হয়েছে।’

অন্যদিকে সকালে পুলিশ হোটেলটি ঘিরে ফেলার পরপরই রাসেল স্কয়ার থেকে পান্থপথ-গ্রিন রোড পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের প্রতিটি গলিতে অবস্থান নেন পুলিশ ও সোয়াট সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও এনে রাখা হয়। ছুটির দিনের সকালে রাস্তার এই অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আসা অসুস্থ এক ব্যক্তিকে পুলিশের সহযোগিতায় নিয়ে যেতে দেখা যায়।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে হোটেল ভবনের চতুর্থ তলার দেয়াল ও গ্রিল ভেঙে নিচে পড়লে  তৈরি হয় আতঙ্ক। স্কয়ার হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে দিকে চলে যান। এর পরপরই সামনের রাস্তা দিয়ে আহত অবস্থায় একজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহার হোসেন জানান, ওই ব্যক্তি ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে ইটের টুকরো ছিটকে গিয়ে তার মাথায় লাগে। কিছু সময় পর সোয়াট সদস্যদের হোটেলের চতুর্থ তলার ওই অংশে দেখা যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে হোটেল ভবনের চতুর্থ তলায় প্রবেশ করেন পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা। সেখানে আরও বিস্ফোরক আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখেন তারা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এক সময় শিবির করা সাইফুল নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছিলেন। অগাস্টে ‘বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা’ চলার তথ্যের ভিত্তিতেই ওই হোটেলে তারা সাইফুলের সন্ধান পান। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার সানোয়ার হোসেন জানান, অভিযানের সময় ওই জঙ্গি দুটি বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ভেতরে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগে বোমার সন্ধান পায়। তিনি বলেন, ‘ব্যাগ থেকে বের না করে ওই অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ভেতরে তল্লাশি করে দেখেছি, আর কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক নেই। এখন ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে।’ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয় শাখা) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই হোটেলে পুলিশের অভিযান শেষ  হয়েছে। তবে আশপাশের কিছু জায়গায় পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’  

 

এই বিভাগের আরো খবর

নিহত জঙ্গি শিবির বাবা জামায়াত

রাজধানীর পান্থপথে পুলিশের অভিযানের মধ্যে আত্মঘাতী হওয়া ‘জঙ্গি’ সাইফুল ইসলাম এক সময় শিবিরকর্মী ছিলেন; আর তার বাবা খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুলের বাবা আবুল খায়ের মোল্লাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান শেষে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মনিরুজ্জামান বলেন, সাইফুলের ওপর আগে থেকেই নজর রাখছিল পুলিশ। সে নব্য জেএমবির সদস্য; আগে শিবির করত। তার বাবা আবুল খায়ের মোল্লাও খুলনার জামাত নেতা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এক সময় শিবির করা সাইফুল নব্য জেএমবির হয়ে কাজ করছিলেন। অগাস্টে ‘বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা’ চলার তথ্যের ভিত্তিতেই ওই হোটেলে তারা সাইফুলের সন্ধান পান। অগাস্ট মাসে আরও কোনো হামলা পরিকল্পনার তথ্য আছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘অগাস্ট মাস আসলে আমরাও সতর্ক হই, অনেক ঘটনা ঘটেছে আপনারা জানেন। অগাস্ট মাসে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, একুশে অগাস্ট ঘটানো হয়েছে, ১৭ অগাস্ট সিরিজ বোমা হয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই আমরা গোটা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি।’

এ বিষয়ে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘জামাত শিবির না হলে আজ জাতির পিতার মৃত্যু দিবিসে শোক দিবসে আরেকটি ঘটাবে, এটা ঘটাতে পারত না। যারা বঙ্গবন্ধুকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আজকে এই জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেছিল।’ আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সেই পরিকল্পনা নস্যাত করে দিয়েছে। ওই জঙ্গি নিহত হয়েছে।’

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে এই অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াটের সদস্যরা। দুই দফা বিস্ফোরণ ও গুলির পর সেখানে খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্র সাইফুলের লাশ পাওয়া যায়। খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশ জানায়, সাইফুলদের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে। তার বাবা আবুল খায়ের নোয়াকাঠির মাঠেরহাট মসজিদের ইমাম এবং ইউনিয়ন জামায়াতের কোষাধ্যক্ষ।

ডুমুরিয়ার ওসি মো. হাবিল হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় সাইফুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা তার বাবাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সাইফুলের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।’ আবুল খায়েরের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ‘পড়াশোনার কাজের কথা বলে’ গত ৭ অগাস্ট ঢাকায় যান সাইফুল। সর্বশেষ গত রোববার ফোনে সাইফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। সে সময় বলেছিল, সোমবার খুলনা ফিরতে পারে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

বঙ্গবন্ধুর খনিদের ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে : আইজিপি

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডিবি পুলিশের গুলিবিদ্ধ সহকারী কমিশনার রাহুল পাটোয়ারীকে দেখে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারি কমিশনার রাহুল পাটোয়ারীর ওপর যারা গুলি করেছে, তাদের গ্রেফতারে পুলিশ বদ্ধপরিকর। তাদের  গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ শহীদুল হক বলেন, ‘তাকে যারা গুলি করেছে তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

দোকান বরাদ্দে অনিয়ম খোকাসহ ৭ জনের বিচার শুরু

ঢাকা সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বিপণি বিতান ঢাকা ট্রেড সেন্টারে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম ও দুনীর্তির মামলায় সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ সাতজনের বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন  ঢাকা সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার মোতালেব হোসেন, ফারুক হোসেন, বাচ্চু মিয়া, কানুনগো মোহাম্মদ আলী, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা সাহাবুদ্দিন সাবু ও মোহসীন উদ্দিন মোড়ল।আদালতের পেশকার মোকারম হোসেন জানান, সাদেক হোসেন খোকা এবং সাহাবদ্দিন সাবু পলাতক রয়েছেন।

জামিনে থাকা আসামি মোতালেব এবং ফারুক রোববার আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করেন বিচারক। এদিন আদালতে হাজির ছিলেন দুইজন আসামি। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিচার চান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ব্যক্তিগত স্বার্থে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বিপণি বিতান ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের খোলা জায়গা মাসে ১৫ টাকা প্রতি স্কয়ার ফুট হারে বরাদ্দ দিয়েছেন। ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর খোকাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ আব্দুল সালাম। সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন।কয়েকটি মামলা মাথায় নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা। সেখানে তার ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে বলে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর খোকার অনুপস্থিতিতে সম্পত্তির তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তাকে ১৩ বছরের কারাদ-ের পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আদালত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দায়সারা মামলা নিল পুলিশ হাজারীবাগে ধর্ষণ, ভিডিও করে ইন্টারনেটে ফাঁস

রাজধানীর হাজারীবাগে স্বামীর সাথে দ্বন্দের বদলা নিতে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ এবং এর ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ধর্ষকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ধর্ষিতাকে ২০ দিন ঘুরিয়ে অবশেষে মামলা নিয়েছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। চলছে দায়সারা তদন্ত। ধর্ষকরা ঘুরে বেড়ালেও এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ধর্ষিতা।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর অভিযোগ, পারিবারিক শত্র“তার জের দরে গত ২৬ মার্চ হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় একই এলাকার জুবায়ের খানসহ ৬/৭ জন। কামরাঙ্গীরচর এলাকার এক মাছের ঘেরে আটকে ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধারণকরা হয় ধর্ষণের ভিডিও। বিষয়টি কাউকে জানানো হলে বা আইনী পদক্ষেপ নিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়াসহ তার ছেলে- মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেয় ধর্ষকরা। মানসম্মান ও সন্তানদের কথা ভেবে চারমাস নিশ্চুপ ছিলেন ভুক্তভোগী ওই নারী। সম্প্রতি ভিডিওটি ছড়িয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে থানায় মামলা করতে যান তিনি। পুলিশ শুরু করে নয়ছয়। তাকে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। পরে ১৫-২০ দিন ঘুরে গত ৩ আগষ্ট মুল অভিযুক্ত জুবায়েরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ।

হাজারীবাগ থানার ওসি জানান, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্চে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে ধর্ষনের শিকার নারীর মামলা নিতে বিলম্বের বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ ওসি। অন্যদিকে পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় নিরপাত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ষোড়শ সংশোধনী রায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সারাদেশে তিনদিনের কর্মসূচি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি দিয়েছে সরকারি দল সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। আজ রোববার, আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সারা দেশে আইনজীবী সমিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হবে। একই সঙ্গে রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা স্বতপ্রণোদিত এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ষড়োশ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তাতে আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যতিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। একটি মহল রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এধরণের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনোই গ্রহণ যোগ্য নয়। রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা স্বতপ্রণোদিত এক্সপাঞ্জ করতে হবে। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। এতে আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোন মহল বিচারাঙ্গককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোন বক্তব্য দিবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মাননীয় প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচারণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুদ্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কুটুক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা।

তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রকে নস্যাৎ করতে চায় তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচার অঙ্গনকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা তাদের প্রতিহত করবো। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন করেন লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা মনেকরি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক প্রবীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে যে বলা হয় ‘এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি’ এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক।

আদালতের বিরুদ্ধে নয়, আমরা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়েছি। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে অপ্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক কিছু মন্তব্য করা হয়েছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের কর্মসূচি। সুচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ষড়োশ সংশোধনী নিয়ে আদালতের এ ধরনের পর্যবেক্ষণ অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত ও অপ্রাসঙ্গিক। আদালতের অনাকাক্সিক্ষত পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিয়ে এবং রায়ের বিকৃত ব্যাখা দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সারাদেশে আইনজীবীদের নিয়ে কর্মসূচি দিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণ আমাদের ব্যথিত করেছে। স্বাধীনতায় বিশ্বাসী আইনজীবীরাও আজকে কর্মসূচি ঘোষণা করবে, সে কারণেই সাংবাদিকদের ডাকা হয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরুসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কারও ট্র্যাপেই পড়ব না: প্রধান বিচারপতি

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রসঙ্গে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মন্তব্যের জন্য অবমাননার রুল জারির আবেদনে সাড়া দেয়নি সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, সরকার বা বিরোধী দল- কারও ‘ট্র্যাপেই’ সুপ্রিম কোর্ট পড়বে না। রায় নিয়ে যে কোনো ‘গঠনমূলক সমালোচনা’  আদালত স্বাগত জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইন কমিশনের বক্তব্যের বিষয়ে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্য আসে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে এসে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, “আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।”

সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ বলেছেন। সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে তিনি ‘অপরিপক্কতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।  

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আপিল বিভাগের সামনে তুলে ধরেন।  

তিনি বলেন, “আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন , তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার কথা বলছি।”

প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, “রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা যে কেউ করতে পারে। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি। তা না হলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা জয়নুল আবেদীন এ সময় বলেন, সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা এসেছে তা ‘অবমাননাকর’।

প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, “রায় নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। আপনারা আরও সচেতন হবেন, যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে।”

জয়নুল আবেদীন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে রুল চাইলে আদালতে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আওয়ামী লীগ নেতা শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমিতি থেকে এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান যা বলেছেন, তা ‘স্পষ্টভাবে অদালত অবমাননা’।

তিনি রুল চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন। সরকার বা বিরোধী দল- কারও ট্র্যাপে আমরা পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তা-ভাবনা করেই রায় দিয়েছে। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। ইতিহাসই একদিন বিচার করবে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হয়েছিল ষোড়শ সংশোধনীতে।  হাই কোর্ট গতবছর ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পর গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে। এরপর ১ অগাস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানানোর কথা রয়েছে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের।

 

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত ৫ নাইজেরিয়ানসহ গ্রেফতার ৭

অংশীদারি ব্যবসার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ নাইজেরিয়ান ও দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আহসান হাবীব।

তিনি বলেন, গত মঙ্গরবার গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা থেকে নাইজেরিয়ান নাগরিক ফ্রেড আমহ ইডি (৪২), ইজুগো কেলছি মুসা (৩৭), জসিলা মাইকেল চুকওয়াকা (৩৬), ওকোরও অস্টিন আন্তো (৩০), অগোয়া রেজিন্যাল্ড ইক (৩৮) ও জুয়েল রানা ও সাহেরা বেগম নামে দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চারটি ল্যাপটপ, ১১ টি মোবাইল ফোন, ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ, অ্যাকাউন্ট তথ্য, দেশি সিমকার্ড ১২ টি, বিদেশি সিমকার্ড ৪ টি, মডেম ৬ টি ও একটি পাসপোর্টের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চক্রটি সাদারণত মোবাইল ফোন, ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখায়, বার্তা পাঠায়। বিভিন্ন পুরস্কার ও লটারি জেতা এবং অংশীদারি ব্যবসার কথাও বলে।  তারপর বিভন্নভাবে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।’

এই বিভাগের আরো খবর

মানি ট্রান্সফারের নামে অর্থপাচার, গ্রেফতার ৫

ইলেকট্রনিক্স মানি ট্রান্সফারের নামে প্রতারণার অভিযোগে ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। গত মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। গ্রেফতাররা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইমরান (২২), আশকর ইবনে ইসাহাক ওরফে শাকিল (২৪), সৈয়দ মেহেদী হাসান ওরফে মেহেদী (২৯), হায়দার হোসেন (৩০) এবং জাহিরুল হক (২৫)।

মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪১টি পাইওনিয়ার প্রিপেইড মাস্টার কার্ড, নগদ ৯ লাখ ২১ হাজার ৫শ’ টাকা, এফটিসিপিইউ লেমিনেটিং মেশিন, একটি প্রিন্টার, ইসলামী ব্যাংকের দুটি গোল সিল, দুটি ল্যাপটপ, ৩২টি ব্লাঙ্ক চেকসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিআইডি কার্যালয়ে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে আসামি রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইমরান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে মাস্টারকার্ড পাইওনিয়ারে ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ড ইস্যু করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে হাজারীবাগ এলাকার ৩৩ নম্বর পশ্চিম ধানমন্ডি প্রবাসী সুমন মিয়ার বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালায়। ওই বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।’ সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা পাইওনিয়রে অসত্য তথ্য দিয়ে মাস্টার কার্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করতো। এছাড়া মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে ডলার কিনে বিভিন্ন কৌশলে মুদ্রা পাচার করতো। এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর

বাড়ি নিয়ে করা রিট প্রত্যাহার মওদুদের

‘বিনা নোটিশে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের’ বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মওদুদের রিট প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রোববার রিট প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন মওদুদ। এর আগে রিটটির শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ড ওভার) ছিল একই হাইকোর্ট বেঞ্চে।
মওদুদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুপাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য নিম্ন আদালতেই বলতে পারবো। এজন্য হাইকোর্টে করা রিট প্রত্যাহার করেছি। নিম্ন আদালতের মামলা চালাবো’। মওদুদের পক্ষে এ জে মোহাম্মদ আলী এবং রাজউকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

দক্ষিণখানে প্রেমের টোপে ফেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

রাজধানীর দক্ষিণখানে প্রেমের টোপে ফেলে অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে আসিক (১৮) নামে এক যুবক।  সোমবার ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। দক্ষিনখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (অভিযান) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণখানের আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রীর সঙ্গে আসিক নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রোববার ওই ছাত্রীর বাসায় কেউ ছিল না। এ সুযোগে আসিক দেখা করতে তার বাসায় আসে। খালি বাসায় সে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন বাসায় আসলে সে বিষয়টি খুলে বলে। পরে সোমবার থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

২৪ ঘণ্টায় শাহজালালে ৩১ কেজি সোনা

চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩১ কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে। আগের দিন সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ইউএস বাংলা ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটে এসব সোনা পাওয়া বলে ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার এইচএম আহসান কবির জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রোববার সকালে ইউএস বাংলার বিএস ৩১৪ নম্বর ফ্লাইটের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক কেজি ওজনের ছয়টি সোনার বার পাওয়া যায়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে নামা এক যাত্রীর কাছে ২৫ কেজি সোনা পাওয়া যায় বলে আহসান কবির জানান।

এই শুল্ক কর্মকর্তা বলেন, “জামিল আক্তার নামে ওই যাত্রী অসুস্থ সেজে হুইল চেয়ারে চড়ে গ্রিন চ্যানেল পার হচ্ছিলেন। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ১০০ গ্রাম ওজনের ২৫০টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়।”

এসব সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ও তার সহযোগীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন যশোরের এক নারী। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করে যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন তাদের মধ্যে অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফারও রয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ সাইফার ঘটনাটি সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   মা আর ঘটনার দুইজন প্রত্যক্ষদর্শীকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ওই নারী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর অভয়নগরের আবাসিক হোটেল ‘আল সেলিমের’ মালিক জনি সরদারের (২৫) সঙ্গে প্রেমের সূত্রে গোপনে তার বিয়ে হয়। সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি তিনি স্বামী জনিকে জানান। বিষয়টি জনিকে জানালে সে গর্ভপাতের কথা বলে। কিন্তু আমি রাজি হইনি। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৭ জুলাই অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফার মীমাংসার কথা বলে ‘আল সেলিম’ হোটেলে তাকে ডেকে নেয়। সে সময় হোটেলে সাইফার ও জনি ছাড়াও সুমন, আজিম ও রুবেল নামে আরও তিনজন ছিলেন জানিয়ে অভিযোগকারী নারী বলেন, সেখানে সাইফারও তাকে গর্ভপাত করানোর কথা বলেন। তাতে রাজি না হওয়ায় হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে পাঁচজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেন ওই তরুণী।

এ ঘটনায় ২৫ জুলাই যশোর নারী ও শিশু নির‌্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি ওই পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করছে। ওই নারীর অভিযোগ, মামলার পর তিনি অভয়নগর যেতে পারছেন না, সাইফারের লোকজন নানাভাবে তাকে হুমকি দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে ওই নারীর সঙ্গে থাকা মারুফ শেখ ও সেলিম মল্লিক নামের দুইজন সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। মারুফ শেখ বলেন, ওই হোটেলের পাশে তার মুদি ও কাঁচামালের দোকান।৭ জুলাই দুপুরে কান্নার শব্দ শুনে হোটেলের দোতলায় উঠে তিনি দরজায় ধাক্কা দেন। দরজা খুলে গেলে সেখানে ওই নারী এবং মামলার পাঁচ আসামিকে দেখেন। বিষয়টি আমি দেখে ফেলায় জনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে আমি কথা বলে (ওই তরুণীর সঙ্গে) বিষয়টি জানতে পারি। স্থানীয় নওয়াপাড়া ঘাটের শ্রমিক সেলিম মল্লিকও একই রকম বক্তব্য দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক যুবলীগ নেতা শেখ সাইফার বলেন, আমি দীর্ঘ ৪১ বছর রাজনীতি করি। আমার বর্তমান বয়স ৫৭। ছাত্রলীগ, যুবলীগ থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুতেই জড়িত ছিলাম।

তিনি বলেন, জনি অনেক ছোট, তার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ভাবা যায় না। গতকালও (বুধবার) পিবিআই, গোয়েন্দা দল এলাকায় এসেছে। আমাকেও তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সাইফারের ভাষ্য, অভয়নগর থানায় দীর্ঘ আড়াই বছর আওয়ামী লীগের কমিটি নেই। এই সুযোগে তার ‘প্রতিপক্ষ’ তাকে ঘায়েল করতেই এই ‘নোংরা অভিযোগ’ করাচ্ছে ওই তরুণীকে দিয়ে। অভিযোগকারী তরুণীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। ওই তরুণীর স্বামী জনির বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মতিন বলেন, শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। অভিযোগকারীকে এলাকায় যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে- এমন কোনো অভিযোগ পাননি বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

অশ্লীল পর্নোগ্রাফির অভিযোগে উত্তরা থেকে ফুয়াদ গ্রেফতার

অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও ইন্টারনেটে প্রচার, ব্লাকমেইলিংসহ পর্নোগ্রাফির অভিযোগে ফুয়াদ বিন সুলতান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।
র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ফুয়াদের উত্তরার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ওই বাড়ির দু’টি ফ্ল্যাটে সে বিভিন্ন অসামাজিক কাজের আখড়া বানিয়েছিল। গ্রেফতারের পর র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফুয়াদ জানিয়েছে, ছাত্র অবস্থা থেকেই সে অনেক মেয়ের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের নামে প্রতারণা করে আসছে। ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে কমিশনের বিনিময়ে বাসা ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে।

২০১৪ সালের দিকে ফুয়াদ ইন্টারনেটের ব্যবসা শুরু করে। ২০১৬ সাল থেকে ২টি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সে পনোগ্রাফির ব্যবসা শুরু করে। এই দুটি ওয়েবসাইটে ফুয়াদ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি, মোবাইল নাম্বার দিয়ে বিভিন্নজনকে আকৃষ্ট করত। ফুয়াদ র‌্যাবকে জানায়, পুরো বাড়িটি তাদের নিজেদের। টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য ফ্ল্যাট দু’টির বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। ওই বাড়িতে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার দৃশ্য গোপন ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। এছাড়াও সে ওই ফ্ল্যাট থেকে অশালীন অবস্থায় মেয়েদের পাশে বসিয়ে নিজে মুখোশ পড়ে ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করত।

একইসঙ্গে পর্নভিডিও তৈরি করে মোটা অংকের বিনিময়ে বিক্রি করত। র‌্যাব জানায়, ফুয়াদ ৮টি ওয়েবসাইট পরিচালনা করত। এছাড়া বিভিন্নজনের কাছ থেকে গোপনে ধারনকৃত অশ্লীল ভিডিও কিনে তার সাইটে উপস্থাপন করত। বাংলাদেশে ফুয়াদই প্রথম বাণিজ্যিক আকারে নিজেকে এই পেশায় নিয়োজিত করেছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চিঠি যাচ্ছে এসপি-ওসিদের কাছে ৫৭ ধারা : মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ সদরের পরামর্শ নিতে হবে

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় থানায় মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ সদর দফতরের আইন শাখার পরামর্শ নেওয়ার জন্য অধীন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দফতরে এক অভ্যন্তরীন বৈঠকে আইজিপি এ নির্দেশনা দেন বলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান জানিয়েছেন। আইজিপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই বৈঠকে দেশে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সময় আইজিপি অধীন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যে, ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করতে হলে পুলিশ সদর দফতরের আইন শাখার পরামর্শ নিতে হবে। সারাদেশের এসপি ও ওসিসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে গণমাধ্যমকর্মীরা। এই ধারায় মামলা দায়েরের পর বেশকয়েকজন সংবাদকর্মী গ্রেফতারও হয়েছেন। এ নিয়ে পুলিশের উচ্চ মহলে বেশকিছু দিন ধরে আলোচনা চলছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চকবাজারে প্রতিবন্ধী তরুনীকে ধর্ষনের অভিযোগে ফুপা আটক

রাজধানীর চকবাজার এলাকায় এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার রাতে তরুণীর বাবা চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ সজীব (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। তরুণীর বাবার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,

চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃত্তিবাস ঢালী বলেন, তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তিনি কথা বলতে পারেন না। সজীব নামের যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি সম্পর্কে তরুণীর ফুপা হন। অভিযোগে বলা হয়, তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে সজীব নির্যাতন করে আসছিলেন সজিব। একপর্যায়ে তরুণী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। এসআই কৃত্তিবাস বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর সজীবকে আটক করা হয়েছে। তরুণীর বাবার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আমরা কি কিছুই বলতে পারব না: প্রধান বিচারপতি

নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের যে ক্ষমতা সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্ট ‘নিয়ে নিতে চায়’ বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেছেন, ‘আপনারা প্রধান বিচারপতি ও কোর্টের স্বাধীনতা খর্ব করতে করতে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন আমরা কি কিছুই বলতে পারব না? আমরা কি কোর্টে বসে মন্তব্য করতে পারব না?’

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দীর্ঘ টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওই বিধিমালার খসড়া সুপ্রিম কোর্টে জমা দিলেও প্রধান বিচারপতি রোববার তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেদিন তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হল। উনি খসড়া দিয়ে গেলেন। আমি তো খুশি হয়ে গেলাম। যদিও খুলে দেখিনি। কিন্তু এটা কী! এখানে বলা হল ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’। এটার মানে কী? সব আইনে ব্যাখ্যা থাকে। কিন্তু এখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই। কর্তৃপক্ষ বলতে বিচার বিভাগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাখলেন। তবে তো আইন মন্ত্রণালয়ই থাকছে। এর সমাধান না হলে চলবে না।’ প্রধান বিচারপতি সেদিন বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিধিমালার খসড়ায়। ‘তাহলে হাই কোর্টের কী থাকল? সবই তো মন্ত্রণালয়ের।

১৮৬১ সালে কলকাতা হাই কোর্ট হয়েছে; তখন থেকে হাই কোর্টের বিচারকরা নিম্ন আদালত পরিদর্শন করেন। এ ব্যবস্থাই চলে আসছে। হাই কোর্ট কেন রাখবেন? হাই কোর্ট উঠিয়ে দিন।’ এর জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হাই কোর্টের হাতে দেওয়া হয়েছে, আপিল বিভাগের হাতে নয়। সে অনুযায়ী শৃংখলাবিধির খসড়া তৈরি করে তিনি প্রধান বিচারপতিকে দিয়েছিলেন। ‘তারা (সুপ্রিম কোর্ট) সংশোধন করে যেটা দিয়েছিল, সেখানে দেখা গেছে আমার কাছে ডকুমেন্ট আছেৃ ১১৬ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা, সেটা তারা নিয়ে নিতে চায়। আমি কি করে সেটা দিই? আপনারা আমাকে রায় দিয়ে দেন, বলেন আমি তো দিতে পারি না।’ অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘আমি সম্মান ও অধিকার রেখে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে বলতে চাই, আমিতো হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্ট ওঠানোর কথা বলি নাই। ডিসিপ্লিনারি রুলস দিয়ে হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্ট ওঠে না।

এজলাসে বসে আপনার এগুলো বলারতো দরকার হয় না।’ আইনমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার আপিল বিভাগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মামলার শুনানিতে কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। অ্যাটর্নি জেনারেলকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু মন্ত্রী এজলাসে বসে কথা বলার বিষয়ে মন্তব্য করেন। এটা কি ফেয়ার? আপনাকে প্রশ্ন করছি।’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘দুই দিক থেকে বক্তব্য আসে। বক্তব্য মিডিয়া লুফে নেয়।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি কেন এ কথা বলছেন? কোর্ট প্রসিডিংসে আমরা পলিটিক্যাল বক্তব্য দিই না। বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বক্তব্য দেই। বিচার বিভাগে যখন যে ইস্যু চলে আসে যেমন আজকে মোবাইল কোর্ট সম্পর্কে। না বললে কি থাকল? মাসদার হোসেন মামলা আমরা পলিটিক্যাল কথা বলছি না।’

এ সময় বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ‘শৃঙ্খলা বিধির খসড়ায় গেজেট প্রকাশের বিষয়টি আমরা সুপ্রিম কোর্টের কথা অনুসারে বলেছিলাম। কিন্তু আপনারা সেখানে সরকারের কথা বলেছেন।’ এরপার প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পলিটিক্যাল কথা বলছি না। কিছু কিছু মিনিস্টার মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল, আপনারা জাজদের মধ্যে ডিভিশন সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। পত্রিকায় এসেছে একজন বলেছেন যে কোর্ট প্রসিডিংসে আদালতের কার্যক্রমে যা হয় তা নিয়ে পার্লামেন্ট বা পাবলিকলি কথা বলার সুযোগ নেই।’ সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের ‘ক’ ধারার ব্যাখ্যা দিয়ে মাসদার হোসেন মামলার রায় হয়েছিল জানিয়ে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘এখন যদি আপনার কাছ থেকে ব্যাখ্যা শুনতে হয়, তাহলে তা দুঃখজনক।’

এই বিভাগের আরো খবর

আপিলে ষোড়শ সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।  

হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ মঙ্গলবার সকালে বলেন, “৭৯৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।”

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত।

সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবীর এক রিট আবেদনে হাই কোর্ট ২০১৬ সালে সংবিধানের ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে।

গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হল।

সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়ের ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা আবারও জাতীয় সংসদ থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই রাখা হয়েছিল।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু আমলে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনের পর বিচারক অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়।

পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধন এনে বিচারক অপসারণের বিষয় নিষ্পত্তির ভার দিতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন।

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী আদালত অবৈধ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনলেও তাতে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের বিধানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়, যাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পায় সংসদ। বিলটি পাসের পর ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ৯ আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল দেয়। রুলে ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

২০১৬ বছরের ৫ মে হাই কোর্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় ওই বছরের ১১ অগাস্ট।

তিন বিচারকের ওই বেঞ্চের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন। অন্য বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল তাতে ভিন্নমত জানিয়ে আলাদা রায় দেন।

হাই কোর্টের রায়

“বলতে দ্বিধা নেই, ষোড়শ সংশোধনী একটি কালারেবল লেজিসলেশন (কোনো কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা যখন ছদ্ম আবরণে ভিন্ন প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে একটি আইন তৈরি করে), যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন।

“এটা সংবিধানের দুটি মূল কাঠামো ৯৪(৪)ও ১৪৭(২) অনুচ্ছেদেরও লঙ্ঘন। একইসঙ্গে সংবিধানের ৭(বি) অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে।

“সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রুল যথাযথ (অ্যবসলিউট) ঘোষণা করা হল। ষোড়শ সংশোধনী আইন ২০১৪ কালারেবল, এটি বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হল।”

হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে চলতি বছর ৮ মে আপিল বিভাগের ‘ফুলবেঞ্চে’ শুনানি শুরু হয়। সব মিলিয়ে ১১ দিন রাষ্ট্র ‍ও রিট আবেদনকারীর বক্তব্য শোনেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা।

গুরুত্বপূর্ণ মামলাটির শুনানিতে আপিল বিভাগ আদালতবন্ধু হিসেবে ১০ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন। তাদের মধ্যে কামাল হোসেনসহ নয়জনই সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পক্ষে অর্থাৎ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দেন।

কামাল হোসেনের সঙ্গে একই মত পোষণকারীরা হলেন টি এইচ খান, এ এফ এম হাসান আরিফ, এম আমীর উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, এম আই ফারুকী ও আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। অন্যদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনের পক্ষে অবস্থান জানান শুধু আজমালুল হোসেন কিউসি।

আদালত মোট ১২ জন আইনজীবীকে অ্যামিচি কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিলেও তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মতামত দেননি।

তাদের বাইরে ‘ইন্টারভেনার’ হিসেবে সংবিধানের এই সংশোধনের পক্ষে যুক্তি দেখান সাবেক আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু।

শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বিভাগ ৩ জুলাই যে রায় দেয়, তাতে হাই কোর্টের রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জ (বাদ দিয়ে) করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ‘সর্বসম্মতভাবে’ খারিজ করে দেওয়া হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার মামলা

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে একটি গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের দুই মাস পর মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বিতর্কিত এ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই গাড়ির ক্ষেত্রে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে ৯৬ হাজার কোটি টাকার ‘অস্বচ্ছ হিসাব’ তিনি দাখিল করেছেন। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মঈনুল খান জানান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে সোমবার সকালে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগই এ মামলার তদন্ত করবে বলে মঈনুল খান জানিয়েছেন।

‘কারনেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় জনৈক ফারুক উজ-জামান চৌধুরীর নামে নিবন্ধিত ওই রেঞ্জ রোভার গাড়ি গত ২১ মার্চ মুসার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তারপর মুসাকে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভোলা বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে ভুয়া কাগজ দিয়ে ওই গাড়ি রেজিস্ট্রেশন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা ওই সময়ই জানিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। মঈনুল খান বলেন, মুসা বিন শমসের ১৭ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধ দেখিয়ে ভুয়া বিল অব এন্ট্রি প্রদর্শন করে গাড়িটি বেনামে রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্ত শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই গাড়িতে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শুল্ক প্রযোজ্য।

শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা লিখিতভাবে জানান, সুইস ব্যাংকে তার ৯৬ হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত আছে। কিন্তু তিনি এই টাকার কোনো ব্যাংক হিসাব বা বৈধ উৎস দেখাননি। কয়েকবার নোটিস দিলেও তিনি তা জমা দেননি। ওই তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মুসার বিরুদ্ধে মামলা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সুপারিশ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। পাশাপাশি ফাঁকি দেওয়া অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলার অনুমতি চাওয়া হয় রাজস্ব বিভাগের কাছে। সেই অনুমতি পাওয়ার পর সোমবার মুদ্রা পাচারের মামলা হল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বেয়াই মুসা বিন শমসেরের সম্পদ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি দিয়ে মুসার ব্যবসার শুরু হলেও তার পরিচয় দিতে গিয়ে অস্ত্র ব্যবসার কথাই বেশি আসে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। বিলাসি জীবন-যাপনের কারণে বিদেশি গণমাধ্যমে অনেক সময় তাকে বলা হয় ‘প্রিন্স অব বাংলাদেশ’।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এই ব্যবসায়ী। একটি দৈনিকে সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৫১ হাজার কোটি টাকা থাকার খবর ছাপা হয়েছিল। তবে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত বছর মুসা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বাংলাদেশে বসে কেউ এত অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। মুসার বিরুদ্ধে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে, যার অনুসন্ধান করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সম্প্রতি তার ‘যুদ্ধাপরাধের তথ্য’ সম্বলিত নথি তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছেন সাংবাদিক সাগর লোহানী ও প্রবীর সিকদার। তবে মুসার দাবি, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর

খুনী ধর্ষক ৬ দিনের রিমান্ডে বাড্ডায় শিশুকে ধর্ষন, চিৎকার দেওয়ায় গলাটিপে হত্যা

রাজধানীর বাড্ডায় তিনবছর নয় মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষনের পর গলাটিপে হত্যা করেছে শিপন নামের এক নরপশু। গত রোববার দিনগত মধ্যরাতে শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে চকবাজার থানার একটি ডাকাতি মামলায় ৫ বছর জেল খেটে বেরিয়ে দিনমজুরের ছদ্মবেশে বাস করছিল।  সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের সময় গলাটিপে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে শিপন।

অন্যদিকে  শিপনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত  হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে  গ্রেফতার শিপনকে একমাত্র আসামি করে বাড্ডা থানায় একটি মামলা করেন নিহত শিশুর বাবা।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন জানান, শিশুটি বাড্ডার আদর্শনগরে মিনহাজের টিনশেট বাসায় পরিবারের সাথে ভাড়া থাকতো।

রোববার বিকালে শিশুটি তাদের পাশের কক্ষে আসা নতুন ভাড়াটিয়া পূর্বপরিচিত জাহেদা আক্তার কলির বাসায় যায়। সে কলিকে আন্টি বলে ডাকত। কলির ঘরের পাশেই আরেকটি কক্ষে শিপন ও তার স্ত্রী ভাড়া থাকে। আবদুল বাতেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিপন স্বীকার করেছে যে, কলির ঘর থেকে বিকাল ৫টার দিকে নিজেদের ঘরে যাওয়ার সময় খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে টেনে নিয়ে যায় শিপন। এরপর শিশুটিকে সে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে গলা চেপে ধরে হত্যার পর পাশের টয়লেটে মৃতদেহ ফেলে দেয়।’ এদিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম আদর্শনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার দিনগত রাত একটার দিকে শিপনকে গ্রেফতার করে। শিপন ভোলার লালমোহন থানার ভাঙ্গাপুল এলাকার শামসুল হকের ছেলে।

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

বিচারকদের চাকরিবিধি সরকারের খসড়া গ্রহণ করেনি আপিল বিভাগ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার যে খসড়া চূড়ান্ত করে সরকার সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে, তা গ্রহণ করেনি সর্বোচ্চ আদালত। ওই খসড়ার কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রোববার বলেছেন, আদালত যেসব সুপারিশ করেছিল, খসড়ায় এসেছে তার উল্টোটা। আইনমন্ত্রী আমার সঙ্গে সাক্ষাতের পর পুরোপুরি ইউটার্ন করেছেন।

ওই চাকরিবিধির গেজেট জারি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েনের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চূড়ান্ত খসড়াটি হস্তান্তর করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত সপ্তাহে ওই গেজেট প্রকাশের জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। সে অনুযায়ী রোববার বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারকের আপিল বেঞ্চে আসে। কিন্তু খসড়া গ্রহণ না করে প্রধান বিচারপতি মতপার্থক্য নিরসনে বৈঠকে বসার কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সুন্দর একটা আইন হোক। তাই আসুন আমরা বসি।

আমি এবং আপিল বিভাগের আমরা সব বিচারক, আপনি, মাননীয় আইন মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয় চাইলে তাদের পক্ষ থেকে এক্সপার্ট যে কয়জন ইচ্ছা সে মিটিংয়ে রাখতে পারবে। আজ থেকে বৃহস্পতিবার যে কোনো দিন দুপুর ২টার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমাদের বসতে সমস্যা নেই।’ এরপর আগামী রোববার বিষয়টি আদেশের জন্য রাখে আদালত। শুনানির শুরুতেই আইনমন্ত্রীর দেওয়া খসড়ায় ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ শব্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হল। উনি খসড়া দিয়ে গেলেন। আমি তো খুশি হয়ে গেলাম। যদিও খুলে দেখিনি। কিন্তু এটা কী! এখানে বলা হল ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’।

এটার মানে কী? সব আইনে ব্যাখ্যা থাকে। কিন্তু এখানে কোনো ব্যাখ্যা নেই। কর্তৃপক্ষ বলতে বিচার বিভাগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাখলেন। তবে তো আইন মন্ত্রণালয়ই থাকছে। এর সমাধান না হলে চলবে না। ওই খসড়া থেকে উদ্ধৃত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ থেকে গেজেট কার্যকর হবে বলা আছে। অথচ মাসদার হোসেন মামলায় নির্দেশনা আছে, সুপ্রিম কোর্ট যে তারিখ থেকে কার্যকরের পরামর্শ দেবেন, সেই তারিখ থেকে কার্যকর হবে। আমরা যেটা পাঠিয়েছি তার উল্টোটা পাঠিয়েছেন। রায়ের ষোলো বছরে হয়নি। আর এভাবে হলে ষোলো শ বছরেও গেজেট হবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিধিমালার খসড়ায়। তাহলে হাই কোর্টের কী থাকল? সবই তো মন্ত্রণালয়ের। ১৮৬১ সালে কলকাতা হাই কোর্ট হয়েছে; তখন থেকে হাই কোর্টের বিচারকরা নিম্ন আদালত পরিদর্শন করেন। এ ব্যবস্থাই চলে আসছে। হাই কোর্ট কেন রাখবেন? হাই কোর্ট উঠিয়ে দিন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম মাননীয় আইনমন্ত্রী এসেছেন। এসে খসড়া দিয়ে গেছেন। প্রেসে বক্তব্য দিয়েছেন যে বিধিমালা হয়ে গেছে।

কিন্তু এ কী রকম হল!’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি বিদেশে যাওয়ার সময় মন্ত্রণালয় জিও দেয়।’ তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনি তাহলে অ্যাভয়েড করছেন?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘না।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘খসড়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সাথে আমার যে আলাপ হয়েছিল, আমি যে বিষয়গুলো খসড়ায় রাখার কথা বলেছিলাম, হি ওয়াজ টোটালি স্যাটিসফায়েড। বাট তিনি সেদিন যে খসড়া দিলেন সেখানে ‘কম্পিটলি ইউটার্ন’। এই মতপার্থক্য দূর করে বিধিমালা চূড়ান্ত করার জন্য বৃহস্পতিবারের মধ্যে যে কোনো দিন বৈঠকে বসার তাগিদ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন,  ‘আপিল বিভাগের বিচারপতিরা রাত ১২টা পর্যন্ত আপনাদের সময় দেব। বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা নিয়ে আর রশি টানাটানি নয়। আইনমন্ত্রীসহ সরকারের যে কোনো এক্সপার্ট আসবেন, বৈঠকে বসব।’

ঘটনাক্রম: মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনায় গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও সরকার ওই বিধিমালার গেজেট প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে আপিল বিভাগ। দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে ‘রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে’। সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে সরকারকে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সময় নেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে এবং সরকার শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট চার সাক্ষীকে জেরার অনুমতি

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় চার সাক্ষীকে জেরা করার অনুমতি পেয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. শওকত হোসেন ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, জাকির হোসেন ভূঁইয়া ও রাগীব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ সাক্ষীকে জেরা করার আবেদন বিচারিক আদালতে প্রত্যাখাত হওয়ার পর হাই কোর্টে এসেছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তাদের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের ৬ নম্বর সাক্ষী জনতা ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপক শেখ মকবুল আহমেদ, ১২ নম্বর সাক্ষী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, ১৩ নম্বর সাক্ষী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার অমল কান্তি চক্রবর্তী এবং ১৭ নম্বর সাক্ষী দুদকের উপ পরিচালক চৌধুরী এম এন আলমকে জেরার অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্ট। এছাড়া ১৬ নম্বর সাক্ষী মো. সাইফুল ইসলামকেও জেরা করতে চেয়েছিল আসামিপক্ষ। কিন্তু আবেদনে ক্রমিক লিখতে ভুল হওয়ায় তার বিষয়টি হাই কোর্ট মঞ্জুর করেনি বলে জাকির হোসেন ভূঁইয়া জানান। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘এ মামলার সাক্ষী মোট ৩৬ জন। তার মধ্যে ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই ৩২ জনের মধ্যে ছয় সাক্ষীর জেরা সে সময় ডিক্লাইন (জেরা করতে অস্বীকার করা) করেছিলাম। পরে অন্যান্য সাক্ষীর জেরার পর্যায়ে আমাদের মনে হয়েছিল, ওই পাঁচজনকেও জেরা করা প্রয়োজন।’ ওই পাঁচ সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নতুন করে জেরা করার জন্য গত ৮ জুন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের কাছে আবেদন করেছিল আসামিপক্ষ। বিচারক পাঁচ সাক্ষীকে পুনরায় জেরার আবেদন নাকচ করে কেবল তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর রশীদকে আবার জেরার অনুমতি দেন।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আসেন। জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ অগাস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। খালেদা জিয়ার একান্ত রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএয়ের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানও এ মামলায় আসামি।

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীতে ‘অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে’ জাসদ নেতা খুন

রাজধানীর চকবাজারে লবণ ফ্যাক্টরির পাশে বাগানবাড়ি এলাকায় একটি দোকানের সামনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) ২৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মঞ্জুর হোসেনকে (২৮) হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত শুক্রবার দিনগত রাতে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। লালবাগ থানার ওসি জানান, অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তব্ েএ বিষয়ে মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

সূত্র মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সন্ত্রাসীরা মঞ্জুকে গুলি করে এবং কোপায়। পরে তাকে তার সহযোগীরা মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা জানায়, মঞ্জু সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। পরে চিকিৎসক মঞ্জুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার শরীরে গুলির চিহ্ন পেয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সহযোগীরা হাসপাতাল থেরেক জোর করে মরদেহ নিয়ে যান। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে মধ্যরাতে মঞ্জুর নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ। আর মরদেহ খুঁজে পায় মঞ্জুর বাড়ি কেরানীগঞ্জে। চকবাজার থানার ওসি জানান, সেখান থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে চকবাজার থানায় মালাও দায়ের হয়। তবে কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা যায়নি বলে জানান ওসি। নিহতের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা ছিল বলেও জানায় পুলিশ।
 

 

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গি রাশেদ ৬ দিনের রিমান্ডে গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিদের গ্রেনেড ছোড়ার প্রশিক্ষক সে

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারীতে হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের বুড়িগঙ্গা নদীতে গ্রেনেড ছোঁড়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন নাটোরের সিংড়া থেকে শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ।  শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গুলশান হামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। অন্যদিকে জঙ্গি রাশেদকে  দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম নূরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল বলেন, ‘তাকে (রাশেদ) গ্রেফতারের পর গুলশান হামলার তদন্ত কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। সে যদি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় অথবা নাও দেয় তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চার্জশিট প্রস্তুত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছর রমজানের আগে কোনো একদিন গুলশানে হামলাকারী জঙ্গিদের বুড়িগঙ্গা নদীতে নিয়ে যান রাশেদ ওরফে র‌্যাশ। সেখানে তাদেরকে কীভাবে গ্রেনেড ছুড়তে হয় সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওই সময় গুলশানের হামলাকারী রোহান ইমতিয়াজের পায়ে গ্রেনেডের স্পি­ন্টার লাগে। তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিল রাশেদ। গুলশান হামলার জন্য প্রথমে রাশেদকে মনোনিত করা হলেও পরে তাকে বাদ দেন নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরী। রাশেদ তামিম চৌধুরীর খুবই আস্থাভাজন এবং স্নেহভাজন ছিলেন। কিন্তু দলে তার কোনো পদ ছিল না। পরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরো বলেন, গুলশানে হামলাকারীরা যখন কথিত হিজরতের নামে বাসা ছাড়ে তখন তাদেরকে রাশেদ রিসিভ করে মিরপুরের আস্তানায় নিয়ে যায়।

ভাটারা থানাধীন তাদের আস্তানার সকল ফার্নিচার কেনা ও আজিমপুরের আস্তানাটি ভাড়া নেয় সে।’ জঙ্গি খালেদের মাধ্যমে রাশেদ নব্য জেএমবিতে যোগদান করে জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘সে গত বছর ঢাকায় চলে আসে এবং গত রমজানের শুরুর দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার কারণে একের পর এক জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর নব্য জেএমবি সদস্যদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এজন্য বিশ্বাসঘাতক হিসেবে শনাক্ত করে জঙ্গি নেতারা তাদের অন্তত ৫ জন সদস্যকে নিজেরাই হত্যা করেছে’। তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার মামলার অন্যতম আসামি পলাতক হাদিসুর রহমান ওরফে সাগরকে খুঁজে পেলে তাকেও হত্যা করতে পারে জেএমবি। এর আগে পুরনো জেএমবি সদস্যরা তাদের ৫/৭ জনকে মেরে ফেলেছে। এদের মধ্যে নজরুল ছাড়া আর বড় মাপের তেমন কেউ ছিল না। বাকিরা সবাই ছোট মাপের কর্মী।’ আস্থাহীনতার কারণেই সংগঠিত হতে পারছে না নব্য জেএমবি সদস্যরা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচন্ড অবিশ্বাস থেকেই তাদের মধ্যে এই অন্তঃকলহ শুরু হয়েছে। ওরা মনে করে তাদের দলের মধ্যে অন্য লোক ঢুকে পড়েছে।’

বর্তমানে দেশে থাকা জঙ্গি সদস্যদের বড় কোনও হামলার সক্ষমতা বা অপারেশনাল ক্যাপাসিটিও নাই বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের কেউ কেউ জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পড়ছেন।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার পর বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন এই হামলা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অ্যানালাইসিস প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এরমধ্যে আনসারুল ইসলাম তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, হলি আর্টিজানে হামলাকারীরা জিহাদের প্রতি এদেশের মানুষের যেমন ভালবাসা ছিল সেটি নষ্ট করে দিয়েছে। এটা কোনও জিহাদের অংশ না। এরা জিহাদকারীদের মন-মানসিকতা নষ্ট করে দিয়েছে।’

হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কোনও দেশ, দল বা সংস্থার সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত চলছে। আইএস’র যেমন নির্দিষ্ট কোনও আইডিওলজি নেই, পুরনো বা নব্য জেএমবির তেমন কোনও নির্দিষ্ট আইডিওলজি নাই। এরা ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে বিশেষ করে যারা ধর্ম সম্পর্কে কম জানেন তাদের মধ্যে এক ধরণের উন্মাদনা সৃষ্টি করতো। মূল ঘরানার জেএমবি আর নেই। নব্য জেএমবি বা অন্যান্যরা এখন দল গোছানোর কাজে মনোযোগী। তাদের অপারেশন বা হামলার প্রস্তুতি নেই। এখন তারা মূলত সদস্য রিক্রুট করার কাজে বেশি মনোযোগী। হাদিসুর রহমান ওরফে সাগরও একটা গ্র“প তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে।’ হলি আর্টিজান হামলা মামলার অন্যতম আসামি এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাদিসুর রহমান দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top