সকাল ৬:০৯, শনিবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

রাজধানীর তেজকুনি পাড়ায় পূর্বশত্র“তার জের ধরে আবদুল আজিজ (১৭) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।  বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খেলাঘর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজ নরসিংদীর রায়পুরার বশির মিয়ার ছেলে। সে তেজকুনিপাড়া রেলওয়ে কলোনির ১০১/বি নম্বর বাড়িতে থাকতো।  কাজ করতো সেখানকার একটি ওয়ার্কশপে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কয়েকজন কিশোর আবদুল আজিজকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে আজিজের বন্ধু মাফিজুর প্রতিপ গ্র“পের একজনকে চাকু  বের করে ভয় দেখায়। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিপ গ্র“পের সাইমুন, জুয়েল ও মনিরসহ ৪-৫ জন কিশোর তেজকুনিপাড়া এলাকায় গেলে আজিজ হাতে থাকা চাকু দিয়ে সাইমুনকে আঘাত করে। সাইমুনও নিজের হাতে থাকা চাকু দিয়ে আজিজকে মাথায় আঘাত করে। সাইমুন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে পুলিশ আটক করে চিকিৎসা দিচ্ছে। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘আসামিদের আমরা শনাক্ত করেছি। খুব দ্রুতই তাদের আটক করা হবে।’ ময়নাতদন্তের জন্য আজিজের মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্র“টি দুই জন আরও ৫ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজে ত্র“টির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মীকে আরও পাঁচ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন বুধবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

বিমানের প্রকৌশল কর্মকর্তা নাজমুল হক ও কনিষ্ঠ টেকনিশিয়ান শাহ আলমকে এর আগে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেই রিমান্ড শেষে বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে আরও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম। রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, আসামিরা নিজেদের মধ্যে যোগসাজশে বিমানে ইচ্ছাকৃতভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটায়। এতে প্রধানমন্ত্রীর তি করার উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। তারা রিমান্ডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবারও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নাজমুল হকের পে তার আইনজীবী এ এইচ এস রাশেদ এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও নাজমুল হকের কাছ থেকে কিছু পাওয়া যায়নি। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। অপর আসামি শাহ আলমের পে কোনো আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না।দুই পরে বক্তব্য শুনে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে দুইজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন জানান। এ মামলার আরও নয় কর্মকর্তাকে দুই দফায় ১৫ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এমপি রানাকে জামিন নয় কেন: হাই কোর্ট

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় কারাবন্দি টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ  বুধবার এ রুল জারি করলেও এর শুনানি অন্যল বেঞ্চে করাতে বলেছেন বলে একজন সহকারী অ্যা টর্নি জেনারেল জানিয়েছেন।

আদালতে এমপি রানার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, ড. বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু। পরে আমিনুর রহমান  বলেন, আমানুর রহমান খান রানার জামিনের বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি শেষ হয় গত সোমবার। আজ আদেশের অপক্ষোয় ছিল। আবেদনকারীরা এমপি রানার পক্ষে রুল চাইলে আদালত তার জামিনের বিষয়ে রুল জারি করেন। সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হলেও আবেদনকারী পক্ষকে এই বেঞ্চে রুলের শুনানি নিয়ে আসতে বিচারক নিষেধ করেছেন বলে আমিনুর রহমান জানান। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ রানার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) দেয়। তার আগে গত ২৮ নভে¤॥^র সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চও রানার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল। বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ৯ অক্টোবর এমপি রানার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় টাঙ্গাইল- ৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি রানাকে প্রধান আসামি করে এবং তার তিন ভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে সাংসদ রানা গত ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক। জেলা ও দায়রা জজ তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে এই সাংসদ হাই কোর্টে আবেদন করেন। রানা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে  রানা ও তার তিন ভাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রের অনুমোদন চেয়েছে।

কাদের সিদ্দিকীর আপিলও খারিজ

টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিলও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।  বুধবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই আদেশ দেয় বলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ইয়াসিন খান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চে তোলা হলে বুধবার তা পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্যা রাখা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ইয়াসিন খান শুনানি করেন। দশম সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী। হজ নিয়ে মন্তব্যি করে সমালোচনার মধ্যেপ তাকে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারাতে হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্যত হন। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এরপর নির্বাচন কমিশন (ইসি) টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে অন্য দলের পাশাপাশি কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেয়। এরপর নির্বাচন কমিশনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন কাদের সিদ্দিকী। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বৈধতা দিলে তার নির্বাচনে লড়ার চেষ্টা ব্যটর্থ হয়ে যায়। নির্বাচন করতে না পারলেও হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন কাদের সিদ্দিকী। গতবছর ১৫ মার্চ আপিল বিভাগ তাকে আপিলের অনুমতি দেয়। কিন্তু তার সেই চেষ্টাও টিকল না।

এমপি রানার জামিন আবেদনে আদেশ কাল

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে, আগামী বুধবার আদেশ দেবে হাই কোর্ট। রিট আবেদনের শুনানি শেষে  সোমবার বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের বেঞ্চ আদেশের দিন ঠিক করে।

এদিনই টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ রানাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। রানার সঙ্গে আসামি তার তিন ভাইকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয় ক্ষমতাসীন দলের জেলা কমিটির সভায়। জামিন আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে রানার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার ও বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু। আমিনুর রহমান  বলেন, আমানুর রহমান খান রানার জামিনের বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি হয়েছে। তাকে যে দল থেকে (আওয়ামী লীগ) বহিষ্কার করা হয়েছে, শুনানিতে সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত ডে আফটার টুমোরো আদেশের জন্য রেখেছেন। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ রানার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল। তার আগে গত ২৮ নভেম্বরও সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ রানার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেয়। তারও আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ ক্ষমতাসীন দলের এই এমপির জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর গত বছরের ১৮ সেপ্টেস্ব^র আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয় বিচারক। রানা বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। এরপর রানা জামিন আবেদন করলে ২৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া তার জামিন নাকচ করে আদেশ দেয়। বিচারিক আদালতে জামিন নাকচের পর হাই কোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।  

 

নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের মামলার রায় নূর হোসেন ও তারেক সাঈদসহ ২৬ জনের ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন  সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ওই ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেয়। ওই হত্যাকান্ডে এলিট বাহিনী র‌্যাবের কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্যয় বেরিয়ে এলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যেমেরও শিরোনাম হয়। বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন বহু প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে সময় নেন মাত্র কয়েক মিনিটে। আসামিদের সাজার অংশটিই কেবল তিনি পড়ে শোনান। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা নূর হোসেন, ওই হত্যাকান্ডের সময় র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানাসহ ২৩ আসামি রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। রায় ঘোষণার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের সমর্থক এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের সমর্থকরা আদালতের বাইরে উল্লাসে ফেটে পড়েন। চন্দন সরকারের পরিবারের হয়ে এ মামলা লড়েন আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান, যিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যের সবার মৃত্যুদন্ড হলে আরও বেশি খুশি হতাম।’   

যার যেমন সাজা  
নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মৃত্যুদন্ড। তারেক সাঈদ মোহাম্মদ র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল    মৃত্যুদন্ড। আরিফ হোসেন র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার, বরখাস্ত মেজর, মৃত্যুদন্ড। মাসুদ রানা র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার    মৃত্যুদন্ড। এমদাদুল হক হাবিলদার, মৃত্যুদন্ড। আরিফ হোসেন    আরওজি-১    মৃত্যুদন্ড। হীরা মিয়া    ল্যান্স নায়েক মৃত্যুদন্ড। বেলাল হোসেন    ল্যান্স নায়েক    মৃত্যুদন্ড। আবু তৈয়ব    সিপাহি মৃত্যুদন্ড। মো. শিহাব উদ্দিন    কনস্টেবল    মৃত্যুদন্ড। পুর্নেন্দ বালা, এসআই মৃত্যুদন্ড। রুহুল আমিন কর্পোরাল    ১০ বছর। বজলুর রহমান,     এ এস আই    ৭ বছর। আলী মোহাম্মদ নূর হোসেনের সহযোগী    মৃত্যুদন্ড। মিজানুর রহমান দিপু নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। রহম আলী    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড আবুল বাশার নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। নাসির উদ্দিন হাবিলদা ৭ বছর। আবুল কালাম আজাদ এএসআই    ১০ বছর। নুরুজ্জামান    সৈনিক    ১০ বছর। বাবুল হাসান, কনস্টেবল ১০ বছর। আসাদুজ্জামান নূর সৈনিক    মৃত্যুদন্ড। মোর্তুজা জামান চার্চিল নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড।

পলাতক ১২ আসামি
মো. মোখলেছুর রহমান কর্পোরাল মৃত্যুদন্ড। আব্দুল আলীম    সৈনিক    ১০ বছর। মহিউদ্দিন মুন্সী সৈনিক মৃত্যুদন্ড। আল আমিন    সৈনিক    মৃত্যুদন্ড। তাজুল ইসলাম সৈনিক মৃত্যুদন্ড। এনামুল কবীর সার্জেন্ট মৃত্যুদন্ড। কামাল হোসেন এএসআই ১০ বছর। হাবিবুর রহমান কনস্টেবল ১০ বছর। সেলিম    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। সানাউল্লাহ ছানা নূর হোসেনের সহযোগী    মৃত্যুদন্ড। শাহজাহান    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। জামাল উদ্দিন নূর হোসেনের সহযোগী     মৃত্যুদন্ড।

সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। একই সময়ে একই স্থানে আরেকটি গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার চালককে অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর বন্দর উপজেলা শান্তির চর এলাকায় শীতলক্ষ্যা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাত জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যেকের পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন; প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নিহত ৭ জন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। লাশ উদ্ধারের পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন, যার তদন্ত চলে একসঙ্গে। দুই মামলার তদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার এই পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। অন্যনদিকে নজরুলদের অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় ঘটনাচক্রে আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালককেও হত্যান করা হয় বলে তার জামাতা বিজয় কুমার পালের ভাষ্যশ। আসামিদের মধ্যেক র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার ১৭ মাস পর মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আসামিদের মধে্যু ২১ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত চলাকালে নূর হোসেন ভারতে থাকায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায়নি পুলিশ।  গ্রেফতার র‌্যাব সদস্যেরা আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাতে হত্যাতকান্ডের ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে। তারা জানান, অপহরণের পর সাতজনকে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়। পরে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় শ্বাস রোধ করে। লাশগুলো শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়ার সময় ডুবে যাওয়া নিশ্চিত করতে বেঁধে দেওয়া হয় ইটের বস্তা। আর লাশ যাতে ফুলে না ওঠে সেজন্যা চিরে ফেলা হয় লাশে পেট। জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য  দিয়ে এ মামলার আসামিদের বিচার শুরু করেন। ৩৮টি কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬৪ জনের সাক্ষ্যে শোনে আদালত; যাদের মধ্যের ৬০ জন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ৩০ নভেম্বর বিচারক ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায়ের জন্য  দিন ঠিক করে দেন।

রায় যেভাবে
এ রায় ঘিরে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিউদ্দিন জানান, আদালত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সাইনবোর্ড এলাকা থেকে আদালত চত্বর পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়। আদালতে ঢোকার মুখে বসানো হয় আর্চওয়ে; সেখানে সবাইকে তল্লাশি করা হয়। আইনজীবী এবং বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনদের ছাড়া কাউকে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গ্রেফতার ২৩ আসামির মধ্যে  ১৮ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। সকাল ৯টার দিকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। আর নূর হোসেন, তিন সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ আসামিকে তিনটি প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। ঘড়িতে ১০টা বাজার ঠিক আগে আগে আসামিদের আদালত কক্ষে নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর পরপরই এজলাসে আসেন বিচারক, আদালত কক্ষে নামে পিন পতন নীরবতা। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হলেও বিচার চলে একসঙ্গে। বিচারক একটি মামলা হিসেবে বিবেচনা করেই রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের অপরাধের বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ অংশ বাদ দিয়ে কেবল সাজার অংশটি মাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যেজ পড়ে শোনান বিচারক।   

 

সাত খুন: নূর হোসেনসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায়

 

নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এখন থেকে ঘরে বসেই মিলবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য এখন আর থানা বা পুলিশের অন্য কোন কার্যালয়ে যেতে হবে না। দেশে বা বিদেশে ঘরে বসেই অনলাইনে মিলবে পুলিশের এই সেবা।  রোববার রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম মিলনায়তনে ‘অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ সেবা উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই পদ্ধতিতে আবেদন করার ১০ দিনের মধ্যেই ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

সেবা গ্রহণের জন্য ঢ়পপ.ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ ব্রাউজ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি পরিশোধের চালান স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সে জন্য আবেদনকারীকে সশরীরে থানায় আসার প্রয়োজন হবে না। আবেদনের পর অনলাইনে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কাজের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন। ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর, পুলিশ সুপার বা উপ-কমিশনারের প্রতিস্বাক্ষর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন হওয়ার আবেদনের সময় উল্লেখিত স্থান থেকে সশরীরে এটি সংগ্রহ করতে পারবেন। অথবা কুরিয়ারের ফি পরিশোধ সাপেক্ষে ঘরে বসেই সার্টিফিকেট নিতে পারবেন।

ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে একটি কিউ-আর কোড প্রিন্ট করা থাকে। যেকোনো স্মার্ট ফোন থেকে কিউ-আর কোডটি স্ক্যান করলে ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটের একটি অনলাইন লিংক পাওয়া যাবে। যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকে লিংকটি ভিজিট করলে সার্টিফিকেটের একটি অবিকল ডিজিটাল কপি দেখা যাবে। ফলে এই সার্টিফিকেট জাল হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। এই সেবা গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে কুমিল্লা জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে প্রায় ১৪ হাজার আবেদন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তখন অনেকেই হাসা-হাসি করেছেন, বিদ্রুপ করেছেন। কিন্তু তার কথা কতটা স্বার্থক তা পদে পদে বোঝা যাচ্ছে।’ নাগরিক সেবা জনগণের দোর- গোঁড়ায় পৌঁছে দিতে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত উন্নত বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা তার প্রমাণ।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক। বক্তব্য রাখেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার প্রমুখ।

বিচারকদের চাকরিবিধি গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে ১ মাস সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় পেয়েছে সরকার। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম  রোববার ওই গেজেট প্রকাশের জন্যা আরও এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করলে বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আট বিচারকের আপিল বিভাগ এই দিন ঠিক করে দেয়।  

বার বার সময় দেওয়ার পরও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যারয় আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে ‘রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’ সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যহ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী বিষয়টি রোববার আদালতে উঠলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গেজেট প্রকাশের জন্যআ আরও সময় প্রয়োজন। আদালত এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করতে বললে পরে মাহবুবে আলম এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আদেশ বাস্তবায়নের জন্যআ ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় সরকারকে।

মামলা বৃত্তান্ত: মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ। এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় চাওয়া হলেও সেই গেজেট আর প্রকাশ হয়নি।   

 

কারাগারেই থাকতে হচ্ছে কল্যাণ কোরাইয়াকে

গাড়ির ধাক্কায় আলোকচিত্রী জিয়া ইসলাম আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার জামিন হয়নি। কল্যাণের নতুন আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক এদিন জামিনের আবেদন করলে ঢাকার মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন প্রাপ্তি ও আসামির আগের আইনজীবীর অনাপত্তি সাপেক্ষে জামিন শুনানির নির্দেশ দেন। এর ফলে কল্যাণ কোরাইয়াকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

গত ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হন মোটর সাইকেলে থাকা জিয়া। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কল্যািণও সেখানে গিয়েছিলেন। পরদিন সন্ধ্যাদয় এই অভিনেতা ফেইসবুকে ‘আই এম ইনোসেন্ট’ লিখে স্ট্যাীটাস দিলে তা অনেকের নজরে পড়ে। পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য্ তাকে থানায় ডেকে নেয়। এরই মধ্যেয প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যনবস্থাপক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাজ্জাদুল কবির কলাবাগান থানায় কল্যাাণের নামে মামলা করেন। রাতেই কল্যাযণকে গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। ১১ জানুয়ারি কল্যাণকে হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ড নাকচ করে আদাশে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে তিন দিনের মধ্যেয কারা ফটকে গিয়ে কল্যাাণকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন। রোববার কল্যাণের নতুন আইনজীবী হিসেবে মোহাম্মদ ফারুক আদালতে জামিনের আবেদন করলে বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আগের আইনজীবীর কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র না নিয়েই নতুন আইনজীবী আবেদন করেছেন। তাছাড়া এ মামলায় এখনও পুলিশ প্রতিবেদনও হয়নি। এ অবস্থায় জামিন শুনানি হতে পারে না। শুনানি শেষে বিচারক এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন এবং আগের আইনজীবীর অনাপত্তিপত্র পাওয়া সাপেক্ষে জামিন শুনানির নির্দেশ দেন বলে প্রশান্ত কর্মকার জানান।

 

হত্যা মামলায় গ্রেফতার দুই শিশুকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

খুনি সন্দেহে গ্রেফতার দুই শিশুকে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একজন পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে আগামী ২৯ জানুয়ারি ওই দুই শিশুকে আদালতে হাজির করতে হবে। আর আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করবেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। দুই শিশুর বয়স নির্ণয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এ আদেশ দেয়।

রিট আবেদনকারী সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম নিজেই এদিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। পরে আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের ২৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘লাশের পরিচয় মেলেনি, খুনি সন্দেহে ২ শিশু গ্রেপ্তার’ শিরোনামে একটি প্রতেবদন প্রকাশিত হয়। তা যুক্ত করে এই রিট আবেদন করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুরু করে আদালত গত ২৯ নভেম্বর রুল জারি করে। পাশাপাশি ওই দুই শিশুর বয়স নির্ণয় করা হয়েছে কিনা- সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ ওই দুই শিশুর বয়স নির্ণয়ে ব্যবস্থা নেয়।

গত ৪ জানুয়ারি লালবাগের ডিসি ও কামরাঙ্গীচরের ওসি আদালতে প্রতিবেদন দেন। আব্দুল হালিম বলেন, তারা পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাকে তলব করার আবেদন করেছিলেন। বিচারক পুলিশ কর্মকর্তাদের না ডেকে দুই শিশুকে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন। দুই শিশুকে গ্রেফতার করা কেন শিশু আইনের ১৩, ১৪, ৪৪, ৪৫, ৪৭ ও ৫২ ধারার পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে হাই কোর্টের রুলে। সেই সঙ্গে দুই শিশুর পরিবারকে কেন ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তাও জানাতে বলেছে আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার মুখ্যর মহানগর হাকিম, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার ও কামরাঙ্গীর চরথানার ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে হবে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলোতে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বরে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছিল। ১০ দিন পর লাশটি নিখোঁজ এক শিশুর দাবি করে তার পরিবার খুনের মামলা করে। খুনি সন্দেহে সে সময় পুলিশ দুই শিশুকে গ্রেফতার করে। বিচারিক হাকিম জবানবন্দি নিয়ে তাদের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠান। শিশু আইন ২০১৩-এর ৪৪/১ ধারা অনুযায়ী, নয় বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা যায় না। মামলার এজাহারে শিশু দুটির বয়স বলা হয়েছে ১২ বছর। কিন্তু অভিভাবকরা বলছেন, তাদের বয়স নয় বছরের কম। এর পক্ষে আদালতে জন্মসনদ দাখিল করে এক শিশুর অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। ওই সনদে বলা হয়েছে ছেলেটির জন্ম তারিখ ২০০৮ সালের ২৯ জানুয়ারি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও চেষ্টা, আটক ৩

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির (বিএইচবিসিএপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।  রোববার বেলা ১১ টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও হামলার প্রতিবাদ’ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের জন্য রওনা হলে তাদের আটক করা হয়। শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকী জানান, ‘পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও হামলার প্রতিবাদে সংগঠটির নেতা-কর্মীরা পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ সভা ও কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করতে  সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা  প্রধামন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং ওই কার্যালয়ের দিকে রওনা হন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তারা বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে ওই তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। অন্যরা পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

 

গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার : ৮ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নিও-জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক কমান্ডার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে শান্ত ওরফে টাইগার ওরফে আদিল ওরফে জাহিদকে (৩২) গ্রেফতার করেছে ডিএমটির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। জঙ্গি সংগঠনে সে রাজীব গান্ধি নামেই বেশি পরিচিত।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের এ্যালেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। অন্যদিকে  পুলিশ দুর্ধর্ষ এই জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মনিরুল বলেন, গুলশান হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত যে কয়জনকে জীবিত ধরা হয়েছে, তাদের মধ্যে রাজীব গান্ধী অন্যতম। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে চালানো জেএমবির বোমা হামলার অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল আওয়ালের বগুড়ার আস্তানায় রান্না-বান্নার কাজ করতো রাজীব। সেখান থেকেই বড় নেতাদের ইশারায় সেও ধীরে ধীরে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে ও অভিযানে অংশ নিয়ে এই রাজীবও এক সময়ে শীর্ষ জঙ্গি নেতায় পরিণত হয়। পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের সঙ্গে গুলশান হামলার পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পশ্চিম রাঘবপুর এলাকার ভূতমারী ঘাট এলাকায়। তার বাবার নাম মাওলানা ওসমান গণি মন্ডল এবং মা রাহেলা বেগম। শুভ নামে তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ২০১৫ সালে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ‘হিজরত’ করে রাজীব। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে সে এসএসসি পাস করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব গান্ধী গুলশান ও শোলাকিয়া হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, টাঙ্গাইলের দরজি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার, পাবনার পুরোহিত নিত্যরঞ্জন পান্ডে, রংপুরের মাজারের খাদেম রহমত আলী, কুষ্টিয়ার চিকিৎসক সানাউর, পঞ্চগড়ের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর, দিনাজপুরের হোমিও চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীসহ ২২টি হত্যার পরিকল্পনাকারী ছিলো বলেও স্বীকার করেছে সে।

পুলিশ বলছে, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী আরও স্বীকার করেছেন, তিনি গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারী মো. খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাধন, মো. শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশকে নব্য জেমএবিতে ঢোকান। পরে তাদের হামলার জন্য বাছাই করেন। শোলাকিয়া হামলায় জড়িত শফিউল ইসলাম ওরফে ডনকেও তিনি প্রস্তুত করেছিলেন। নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়ার আগে রাজীব গান্ধী জেএমবির সুরা সদস্য নজরুল ইসলামের সহযোগী ছিলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশান হামলার ঘটনায় তারা এই প্রথম এমন একজনকে আটক করলো যার কাছে এ হামলা সম্পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে। তার গ্রেফতার ওই হামলার ঘটনা তদন্তে এবং এ হামলার পরিপূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তাদের সাহায্য করবে।’

 

 

 

 

প্রশিক্ষিত জনবল ও বিচারকের অভাবে মামলাজট : সিনহা

প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিচারক স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে মামলা জট বাড়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।  শনিবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে ‘অধস্তন আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জুডিশিয়াল পলিসি প্রণয়নে বিচারকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা’র উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। কর্মশালাটির আয়োজন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএসএইড। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম ও ইউএসএইডের কর্মকর্তা ড. শারমিন নাহার। কর্মশালায় অধস্তন আদালতের ৪০ জন বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে মামলা জট বাড়ে। সেগুলো হলো- সেকেলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সেকেলে অফিস প্রযুক্তি, ঐতিহ্যগতভাবে মামলা ব্যবস্থাপনায় আটকে থাকা, মামলার শাখা বিন্যাস, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে দক্ষতার অভাব, প্রশিক্ষিত জনবল ও বিচারকের স্বল্পতা ইত্যাদি’। তিনি বলেন, ‘অধস্তন আদালতে কোনো পদ খালি হলে সেটি দ্রুত পূরণ করতে হবে। পদ খালি পড়ে থাকলে সেখানে মামলার সংখ্যা বাড়বে। বিচার বিভাগে বর্তমান সময়ে যেসব কর্মকর্তা নিয়োগ পাচ্ছেন, তারা অনেক বেশি দক্ষ। এ বিভাগকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিচারকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা  করা হচ্ছে’। ‘অধস্তন আদালতের মামলা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে এ কর্মশালার আলোচনা ও প্রশিক্ষণ ও মতামত জুডিশিয়াল পলিসি প্রণয়নে একটি বড় ভূমিকা রাখবে’। আর জুডিশিয়াল পলিসি তৈরি হলে মামলার নিষ্পত্তিতে কর্মপন্থা তৈরি, প্রশাসনিক উৎকর্ষ বৃদ্ধি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের বিচারক।  তারাই মামলা ব্যবস্থাপনার সমস্যগুলো বেশি চিহ্নিত করতে পারবেন। তাই আশা করি, এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিচারকরা এ সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন’।

পটুয়াখালীতে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালী পৌর শহরের নিউমার্কেট গোলচত্বর এলাকায় এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সদর থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মাহাবুব পেয়াদা (২০) শহরের সবুজবাগ ৯ ন¤॥^র লেনের ইউসুফ পেয়াদার ছেলে।
ওসি তারিকুল  বলেন, মাহাবুব ও তার বন্ধু কাওছার নিউমার্কেট এলাকা দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েক যুবক মাহাবুবের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বরিশাল নিতে বলেন। বরিশালের পথেই তিনি মারা যান। কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে পুলিশ কিছু বলতে পারেনি। ঘটনার পরপরই খুনি ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান ওসি তারিক।

ইসি নিয়োগের আইন রয়ে সয়ে করার পক্ষে আইনমন্ত্রী

 নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে ঝুলে থাকা আইন এখনই প্রণয়নে রাজি বলে রাষ্ট্রপতির কাছে বলে এলেও ওই বিধান করার ক্ষেত্রে আরও চিন্তা-ভাবনার পক্ষপাতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি  বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, আমার মনে হয়, এই আইনটা কিন্তু ঝটপট তৈরি করা যায় না। এটার একটা সুদূর প্রসারী ইফেক্ট আছে। সে কারণে এই আইনটা চিন্তা-ভাবনা করে করা উচিৎ। সেক্ষেত্রে আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশনার অপেক্ষা করছি। বৃহস্পতিবার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ‘ই-প্রকিউরমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালা উদ্বোধনের পর এনিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আইনমন্ত্রীকে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন কমিশন গঠনের এখতিয়ার দিলেও একটি আইনের অধীনে তা করবেন বলে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনও সেই আইন হয়নি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে আইনটি দ্রুত প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

 

 

কল্যাণ কোরাইয়ার গাড়ি জব্দ

ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলামকে গাড়ি চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মডেল ও অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়ার গাড়ি জব্দ করেছে কলাবাগান থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ায় কল্যাণের বাসায় অভিযান চালিয়ে গাড়িটি জব্দ করা হয়।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান জানান, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা যে বর্ণনা পেয়েছি, তার সঙ্গে এ গাড়ির মিল রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এটিই সেই গাড়ি। এ কারণে মামলার আলামত হিসেবে কল্যাণের গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

কল্যাণকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

দৈনিক প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামকে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত করার অভিযোগে অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে ৩ দিনের মধ্যে জেলগেটে (কারাফটক) জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে আদালতে কোরাইয়াকে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক। আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও শুভ্র সিনহা রায় শুনানিতে বলেন, এ মামলায় মূল রহস্য কী ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধারে আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন ও রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। বুধবার দুপুর ১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক খান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে কল্যাণকে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

 

আওয়ামী লীগ নেতাকে বাসায় খোঁজ, না পেয়ে মাকে গুলি

রাজধানীর শান্তিবাগের চামেলীবাগে সাবেক ওয়ার্ড  আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় ঢুকে তার মা শারমিন সুলতানাকে (৬৫) গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তার শরীরে দুটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান রানার চামেলীবাগের ৩৩ নম্বর বাসায় গিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নক করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় রানার মা দরজা খুললে তারা রানা কোথায় জানতে চায়। সে বাসায় নেই জানালে তারা রানার মাকে লক্ষ করে গুলি চালিয়ে চলে যায়। পরে বাসার লোকজনকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন। কে বা কারা গুলি করেছে- সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারছেনা রানার পরিবার। পুলিশ বলছে, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

‘অভিমানে’ ২ সন্তান হত্যার পর মা আনিকার আত্মহত্যা

রাজধানীর মিরপুর দারুস সালামে দুই শিশুসন্তান ও তাদের মায়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে  বুধবার  দুপুর দেড়টায় শুরু হয়ে ময়নাতদন্ত দুইটার দিকে শেষ হয়। অন্যদিকে এ ঘটনায় দুই শিশুর বাবা সেলুন কর্মচারী শামীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।  

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, ‘বাচ্চাদুটির শ্বাসনালী কেটে গিয়েছিল। এ কারণেই তাদের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে- তাদের মা বাচ্চাদুটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছে।’ এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে টিনশেডবাড়ির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভিতর থেকে  মা আনিকা (২০), তার মেয়ে শামিমা (৫) ও ছেলে আব্দুল্লাহর (৩) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আনিকার লাশ ফাঁস দিয়ে জুলানো ছিল। আর দুই শিমুর মৃতদেহ জবাই করা অবস্থায় খাটের উপর ছিল বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ জানায়, অনিকার স্বামী শামীম ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার রাতে থানায় নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার (দারুস সালাম  জোন) সৈয়দ মামুন মোস্তফা বলেন, মা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর স্বামী শামীম হোসেনকে  রাতে দারুস সালাম থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন শামীম। তার ভাষ্য, সকালে স্ত্রীর সঙ্গে তার সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর বাইরে চলে যান তিনি।

বিকালে বাসায় ফিরে সন্তানদের গলা কাটা লাশ ও স্ত্রীর মরদেহ দেখেন। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের এই সহকারী কমিশনার বলেন, শামীমের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্য স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সবকিছু খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশের ধারণা, শামীম হোসেনের প্রতি অভিমান করে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। শামীম সেলুন কর্মচারী। দারুস সালাম থানার ছোট দিয়াবাড়িতে টিনশেডের একটি কক্ষে সপরিবারে ভাড়া থাকছিলেন তিনি।

ঘটনায় মামলা
এদিকে রাজধানীর দারুস সালামে দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১১। আত্মহত্যাকারী আনিকার (২০) মা নাদিরা বেগম বাদী হয়ে বুধবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে দারুস সালাম থানায় মামলাটি করেন। দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল আলম  বিষয়টি জানান। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে নিহত আনিকার স্বামী শামীম হোসেনকে (৩৩) আসামি করা হয়েছে।

 

পঙ্গুতে ২৪ দালালের কারাদন্ড রোগী ভাগালেই মিলে নগদ দুই হাজার টাকা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) আসা রোগীদের হয়রানি ও অন্য ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার দায়ে ২৪ জনকে কারাদন্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এঁদের মধ্যে পঙ্গু হাসপাতালের হুমায়ুন কবির ও মাহফুজা আক্তার নামে দুজন কর্মচারীও রয়েছেন। এ হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি করালেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের রোগী প্রতি দুই হাজার টাকা দিত বলে দন্ডপ্রাপ্তরা স্বীকার করেছেন বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান।

র‌্যাব জানায়,  বুধবার সকালে র‌্যাব-২ এর উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্বে হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ওই ২৪ জনকে আটক করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে সারওয়ার আলম জানান, দীর্ঘদিন থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এখানে চিকিৎসা নিতে বাধা দিত। অনেক সময় রোগীদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করাত। সেখানে চিকিৎসার নামে এসব রোগীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। অভিযানকালে রোগীদের ভাগিয়ে নেওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে এই চক্রের তৎপরতা বেশি থাকে। একজন রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করালে দুই হাজার টাকা পেতেন দালাল চক্রের লোকজন। এ ছাড়া এক্স-রেসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারলে কমিশনের হার প্রায় ২০০ টাকা। তিনি বলেন, সাজা পাওয়া ২৪ জনের মধ্যে ছয়জন স্থানীয় সততা ক্লিনিকের, দুজন মক্কা ক্লিনিকের ও একজন মুন্নী ডায়াগনস্টিকের বেতনভুক্ত কর্মচারী। ২৪ জনের মধ্যে পঙ্গু হাসপাতালে কর্মচারী হুমায়ুনসহ ১০ জনকে তিন মাসের ও মাহফুজাসহ দুজনকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য দালালদের মধ্যে একজনকে চার মাসের, ৫ জনকে দুই মাসের ও ছয়জনকে এক মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এদিকে সততা ও মক্কা ক্লিনিক এবং মুন্নী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগকৃত রোগী ভাগানোর দালালের সাজা হলেও ওইসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতি দুদকের চিঠি পনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ও নীতিমালা জানতে চেয়ে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। চিঠিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি ও নীতিমালা, এ বছরের আসন সংখ্যাসহ অন্যান্য তথ্য বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ১২ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এসব চিঠি পাঠানো হয়।

যেসব প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি পাঠানো হয়েছে সেগুলো হলো- মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অগ্রণী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এছাড়া রয়েছে ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গতকাল বুধবার দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানান, বিভিন্ন স্কুলে, বিশেষ করে রাজধানীর স্কুলগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তারা পাচ্ছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা স্যামপ্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি স্কুল বাছাই করে তাদের কাছে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ও নীতিমালা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি। স্কুলগুলোর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কিত নীতিমালা রয়েছে কি না, থাকলে সে নীতিমালা কতটুকু মানা হচ্ছে, অতিরিক্ত টাকা ডোনেশন দিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে কি না ছাড়াও ভর্তি সংক্রান্ত নানা দুর্নীতি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হবে বলে দুদক চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তদন্ত জোরদার করতে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। গত বছর সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ার যুক্তি দেখিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন ব্যাপক হারে বাড়ায়, যার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন অভিভাবকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতবছরের ৯ আগস্ট বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে বলা হয়, অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের বেতন সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা) অনুমোদন পেলেই বাড়বে এই ফি। প্রাথমিকভাবে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে অন্য স্কুল-কলেজগুলোকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান ইকবাল মাহমুদ। কমিশনের গত দুই বছরের কার্যক্রম ও ২০১৭ সালের পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং কমিশনার নাসিরুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার বহিষ্কৃত কূটনীতিকের ‘রোলস রয়েস’ জব্দ

সিগারেট চোরাচালানের দায়ে গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কৃত উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিক হ্যান সন ইক’র আমদানি করা বিলাসবহুল রোলস-রয়েস গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

সোমবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি থেকে দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখার পর গাড়িটি জব্দ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, দীর্ঘদিন নজরদারির পর কমলাপুর আইসিডিতে আনা কন্টেইনার খুলে গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিএমডব্লিউ এক্স-৫ ঘোষণা দিয়ে ৬৬০০ সিসির সিলভার কালারের ঘোস্ট মডেলের বিলাসবহুল গাড়িটি আমদানি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন কন্টেইনারটি নজরদারিতে রাখা হয়। গাডড়টির বাজার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। শুল্ককর প্রায় ২২ কোটি টাকা। কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালানের দায়ে গত আগস্ট মাসে হ্যান সন ইককে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ঢাকায় উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের এই ফার্স্ট সেক্রেটারিকে ২৭ কেজি সোনা চোরাচালানের সময় হাতেনাতে ধরা হয়। উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের নামে আসা একটি কন্টেইনার পরীক্ষা করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও বিদেশি সিগারেটসহ অবৈধ পণ্য পাওয়া যায় বলেও জানান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

প্রেসক্রিপশন যাতে পড়া যায়, সার্কুলারের নির্দেশ হাই কোর্টের

স্পষ্ট অক্ষরে ‘পড়ার উপযোগী করে’ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র লেখার নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের মধ্যে সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাত বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

‘দুর্বোধ্য ব্যবস্থাপত্র: ভুল ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকিতে রোগীরা’ শিরোনামে গত ১৭ ডিসে¤॥^র বণিক বার্তায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ গত সপ্তাহে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করে।  সোমবার এই আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের দুর্বোধ্য হাতের লেখার কারণে একদিকে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে লেখা পড়তে না পেরে ফার্মেসি থেকে প্রায়ই ভুল ওষুধ গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক চিকিৎসক ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে ব্যবস্থাপত্রে ওই নির্দিষ্ট কোম্পানির তৈরি ওষুধের নাম লেখেন। এতে করে রোগীরা কখনও বেশি দামে আবার কখনও মানসম্মত নয়- এমন ওষুধ কিনতে বাধ্য হন। এ কারণে পাশের দেশ ভারতে রোগীর প্রেসক্রিপশনে বড় হরফে ওষুধের জেনেরিক নাম (একটি ওষুধের মূল কেমিকেল কম্পোজিশনের নাম) লেখার নিয়ম থাকলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো আইন নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশের হাই কোর্ট গতবছর ফেব্রুয়ারিতেও একটি রুল জারি করেছিল। ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের জেনেরিক নাম স্পষ্ট করে লিখতে বিধি তৈরির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই রুলে। ওই রিটকারীর বক্তব্য ছিল, চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্রে জেনেরিক নাম না লিখে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ব্র্যান্ড নাম লেখায় রোগীরা সেই কোম্পানির ওষুধ কিনতে বাধ্য হন। প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম থাকলে রোগী ফার্মেসিতে ওই নাম দেখিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো কোম্পানির ওষুধ কিনতে পারবে।

সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব: দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধ অসম্ভব নয়।  রোববার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ স্কাউটস ও বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মাঝে দুর্নীতিবিরোধী বাণী সম্বলিত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুদকের প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ গার্ল গাইড এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্কাউটস ও কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভারতীয় তিন চ্যানেল নিয়ে রুলের শুনানি শুরু

বাংলাদেশে ভারতীয় তিনটি টিভি চ্যানেলের (স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলা) সম্প্রচার বন্ধে জারি করা রুলের শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে  রোববার এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। শুনানিতে তিনি ওই তিনটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত বিভিন্ন সিরিয়াল বাংলাদেশের সমাজ সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন বলে উল্লেখ করেন। পরে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের পাখি চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করে। এ নিয়ে পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে ওই বছরের আগস্ট মাসে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট করেন আইনজীবী সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী।

‘জঙ্গিরা সুযোগ পেলেই ব্লগারদের ওপর হামলা চালাতে পারে’

জঙ্গিরা সুযোগ পেলেই ব্লগারদের ওপর হামলা চালাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন।  রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই ব্লগাররা চলাফেরা শুরু করেন।  মনে হয় তারা সারা বছরই এ সময়টার জন্য অপেক্ষা করেন। বইমেলা আসলে তারা লেখালেখিতে তৎপর হয়ে ওঠেন। বইমেলাকে সামনে রেখে ব্লগারদের ওপর কোনো হুমকি আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই, তবে আমাদের নিষ্ক্রীয় হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। জঙ্গিরা সুযোগ পেলেই হামলা চালাতে পারে। তাই বইমেলাকে সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। ব্লগার হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্লগার হত্যা মামলার মধ্যে শুধুমাত্র জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যাকান্ড ছাড়া সবকটি মামলাতেই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে জুলহাজ ও তনয় হত্যায় জড়িতদের নাম জানা গেছে। এছাড়া  ব্লগার হত্যা মামলার অনেকগুলোতে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান আব্দুল বাতেন।

গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল এমডির বিরুদ্ধে কেন মামলা নয়: হাই কোর্ট

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় সংঘর্ষের ঘটনার পর ‘আলামত নষ্ট করায়’ রংপুর সুগার মিলের এমডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাই কোর্ট। ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগে’ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ  রোববার এই রুল জারি করে। স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গাইবান্ধা সদর থানার ওসিসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারী সুপ্রকাশ দত্ত নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

সুপ্রকাশ দত্ত পরে বলেন, কী কারণে বা কী উদ্দেশ্যে ওই কার্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দিতে হবে। গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জন্য  অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ-সংঘর্ষের পর কোন আইনে ও ক্ষমতাবলে আলামত নষ্ট বা অদৃশ্য করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। রেজিস্ট্রি ডাকে ওই নোটিস পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী জবাব না পেয়ে হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন বলে জানান সুপ্রকাশ। তার নোটিসে বলা হয়েছিল, ‘গতবছর ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে, সাঁওতালদের হত্যা করে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিন্তু ৮ নভে¤॥^র থেকে আপনি (চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) উচ্ছেদকৃত এলাকায় ট্রাক্টর চালিয়ে ঘটনার আলামত নষ্ট করেছেন। সরকারি কর্মচারী হিসেবে আলামত সংরক্ষণ ও আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সহায়তা করা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু আপনি এবং অন্য কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন এলাকা থেকে আলামত অদৃশ্য করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এটা দ-বিধি ২০১ ধারায় ফৌজদারি অপরাধ।’ সেদিন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। ওই ঘটনায় আরও দুটি রিট আবেদন হয়, যা হাই কোর্টে বিচারাধীন।

এরশাদের দুর্নীতির মামলা সাক্ষ্য নিরীক্ষার আদেশ আপিলে বাতিল

রাষ্ট্রপতি থাকার সময় রাডার কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষীদের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।  রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌসুঁলি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশের ফলে রাডার দুর্নীতি ক্রয় সংক্রান্ত মামলা নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। গত বছরের ২৪ নভে¤॥^র এই মামলায় দুদককে সাক্ষীদের পরীক্ষা-নীরিক্ষার অনুমতি দিয়ে ৩১ মার্চের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই আদেশ চে¤॥^ার আদালতও বহাল রেখে মামলার শুনানির জন্য নিয়মিত আপিল বেঞ্চে পাঠান। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে এই মামলার আসামি বিমান বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান সুলতান মাহমুদ আবেদনও করেন। এই মামলা ও আবেদনের নিষ্পত্তি করেই আপিল বিভাগ রোববার এ রায় দেয়। এরশাদ ও সুলতান মাহমুদ এই মামলায় বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা আসামি হিসেবে রয়েছেন। ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে।