রাত ১১:৫৪, রবিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

দুদকের এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গতকাল রোববার শুনানি করে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল এ আদালতই ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিল।

তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু গতকাল সকালে আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে আসেন অ্যাম্বুলেন্সে করে। আত্মসমর্পণের সময় আসামির এজলাসে উপস্থিতির নিয়ম থাকলেও ইকবাল মান্দ বানু আদালত ভবনের নিচে অ্যাম্বুলেন্সেই অবস্থান করেন।

তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জামিনের আবেদন করে আদালতকে বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি আত্মসমর্পণের জন্য উপরে উঠতে পারেননি। পরে আদালতের নির্দেশে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম নিচে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ইকবাল মান্দ বানুকে দেখে আসেন এবং তার বক্তব্য শুনে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। এ জে মোহাম্মদ আলী ছাড়াও মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সানউল্লাহ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন শুনানিতে। ইকবাল মান্দ বানু সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্ত্রী। তাদের মেয়ে জোবাইদা খানের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিয়ে হয়।

জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ২৯ মে তারেক রহমানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেয় দুদক। এরপর ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় দায়ের করা ওই মামলায় তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকেও আসামি করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনে তারেক রহমানকে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। ওই মামলার অনুসন্ধান চলাকালে ইকবাল মান্দ বানুর নামে-বেনামে ‘বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পেয়ে’ তার সম্পদের হিসাব চেয়ে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি আলাদা নোটিস পাঠায় দুদক। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক আর কে মজুমদার ঢাকার রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সাত্তার সরকার তদন্ত শেষে গতবছর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এর বিরুদ্ধে রিট আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন তারেকের শাশুড়ি। কিন্তু হাই কোর্ট তা খারিজ করে দিলে মামলার কার্যক্রম চলার বাধা কাটে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী এ মামলায় তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড হতে পারে।

বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

নাশকতার মামলায় আজিজুল বারী হেলালসহ বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার এক ন¤॥^র বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন। যাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর সরাফত আলী সপু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মারুফ কামাল খান সোহেল।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল বলেন, পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৭ মে দিন রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডাকা হরতালে রাজধানীর ওয়ারি থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ মামলা করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারি থানার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন ২০১৬ সালের ৭ জুলাই বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, হাবীব উন নবী খান সোহেল, মীর সরাফত আলী সপু, শিমুল বিশ্বাস ও আজিজুল বারী হেলালসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় আমান উল্লাহ আমানসহ ২১ জন জামিনে আছেন।

বিনা বিচারে বন্দিদের ক্ষতিপূরণ আইন চান বিচারক

বিনা বিচারে বা বিলম্বিত বিচারে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির পর তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের উপর জোর দিয়েছেন হাই কোর্টের একজন বিচারক।

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সম্মেলন কক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এবিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি চাপ তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ইনায়েতুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এসব মানুষ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আইনি সহায়তায় তারা জামিনে মুক্তি পেলেও অর্থের অভাবে কিছু করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তিদের পুর্নবাসন প্রয়োজন। সরকার এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন। এবিষয়ে আদালত নিজেও যে কোনো আদেশ দিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত ৮ মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিনা বিচারে বন্দিরা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা বিনা অপরাধে আটক রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট আটককারী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। তাছাড়া যদি কেউ রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তবে আইনে সে বিধানও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বরত সাংবাদিকদের নিয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ নামে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অফিস উদ্বোধনের পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ৫৫৫টি মামলায় আইনি সহায়তায় যুক্ত হয়। এর মধ্যে ২৯৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৩২ জন বিচারপ্রার্থীকে মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী  মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে বন্দি ৪৬২ জনের বিষয়ে আদালতের নজরে আনা হলে ১৮ জন পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। বাকী ৪০৪ জনের বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক আবিদা সুলতানা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব টাইটাস হিল্লোল রেমা।

রাজধানীতে ডিবির সাথে গোলাগুলিতে নিহত ১

রাজধানীর ভাসানটেকে ডিবি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সোহেল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি পেশাদার সন্ত্রাসী বলে দাবি পুলিশের। গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মহানহগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখা জানায়, গত ১১ এপ্রিল ভাষানটেক এলাকায় জামাল ওরফে চিকু জামাল ওরফে মুসা নামে এক ডিস ব্যবসায়ীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ সংক্রান্তে তার স্ত্রী ভাসানটেক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে গত রোববার দিনগত রাত দুইটার দিকে ওই এলাকার দেওয়ানপাড়া মাটিকা লোহার ব্রিজের কাছে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ। পুলিশ সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিশ্চিত করে তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পালাতে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় সোহেল। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে মামলার দুই এজাহারনামীয় সন্ত্রাসী হিরন ও সোহাগকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, ২টি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্তে ভাষানটেক থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে ডিবি পুলিশ।

এদিকে নিহতের খালা নাজমা বেগম  দুপুরে ঢামেক মর্গে এসে সোহেলের লাশ সনাক্ত করেন। তিনি জানান, সোহেল সিএনজি চালক ছিল। তার বাবার নাম মঞ্জু মিয়া। তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায়। থাকতো ভাসানটেক বস্তিতে। সে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিল।

 

বনানীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষন

রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তিতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী (১৩) কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। তার স্বজনরা বলছেন, ধর্ষককে পেয়েও রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, গত শনিবার রাতে প্রতিবেশী গার্মেন্টসকর্মী রাজিব (২৫) কিশোরীকে ফুসলিয়ে বাসায় নিয়ে যায়। পরে জুসের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে রাতভর ধর্ষন করে।  রোববার দুপুরে শিশুটিকে তারা বাসায় নিয়ে যান। এ সময় ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে, তারা রাজিবের বাসায় যান এবং রাজিবকে পান। পরে রহস্যজনকভাবে রাজিবকে ছেড়ে দিয়ে পুলিশ তাদের জানিয়ে দেয়, রাজিব পালিয়েছে। পরে রাতে তারা মেয়েটিকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন।  

 

ফাঁসির দড়িতে মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গি

পাকিস্তানি ও আফগান জঙ্গিদের কায়দায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটিয়েছিলেন যিনি, সেই আবদুল হান্নান ওরফে মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে এক যুগ আগে সিলেটে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার দায়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল  জানান, বুধবার রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

একই সময়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের আরেক সহযোগী দেলোয়ার হোসেন রিপনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া জানান। হান্নান ও তার দলের জঙ্গিরা ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ওই গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে।

ওই ঘটনায় আনোয়ার চৌধুরী প্রাণে বেঁচে গেলেও দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজন নিহত হন। সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন সেদিন।

ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে হান্নান, বিপুল ও রিপনের মৃত্যুদণ্ডের রায় সর্বোচ্চ আদালতেও বহাল থাকে। সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে আপিল বিভাগ বলে, “তারা যে অপরাধ করেছে তা পূর্বপরিকল্পিত একটি অপরাধ। ব্রিটিশ কূটনীতিবিদ ও তার সফরসঙ্গীদের হত্যা করার জন্যই এ হামলা চালানো হয়েছিল। এ অভিযোগের দায় থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া যায় না।”

রিভিউ খারিজের পর শেষ চেষ্টা হিসেবে অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন এই তিন জঙ্গি। তা নাকচ হয়ে গেলে নিয়ম অনুযায়ী দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।  

অবশেষে বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন  বলেন, “আদালতের রায় অনুযায়ী তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।”

আরেক জঙ্গি দল জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইসহ সাত জঙ্গির সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হয়েছিল এর আগে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল হরকাতুল জিহাদের তিন জঙ্গির নাম।

 

আদালতের এই রায় এমন এক দিনে কার্যকর হল, যখন বাংলাদেশের মানুষ বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ওই বর্ষবরণের উৎসবেই রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত হন দশজন।

সেই মামলাতেও নিম্ন আদালতে মুফতি হান্নানের ফাঁসির রায় এসেছে। রায়ের বিরুদ্ধে তার করা আপিলের ওপর শুনানি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে হাই কোর্টে।

বলা হয়, বিশ শতকের শেষ বছর যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে হরকাতুল জিহাদের বোমা হামলার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার সূচনা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাসহ হরকাতুল জিহাদের ১৩টি নাশকতামূলক ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পেছনে মূল ব্যক্তি হিসেবে মুফতি হান্নানকে দায়ী করা হয়।

শেখ হাসিনার নিজের জেলা গোপালগঞ্জেই মুফতি হান্নানের বাড়ি৷ পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে তার জঙ্গিবাদে হাতেখড়ি। আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত তার দুই সহযোগীর মধ্যে শরীফ শাহেদুল বিপুলের বাড়ি চাঁদপুর সদরে; দেলোয়ার হোসেন রিপনের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়।

সিআইডি অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আব্দুল কাহার আকন্দ গতবছর বিবিসিকে বলেন, “হান্নানের বিশেষত্ব হল- তিনি আফগান স্টাইলে বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার তৎপরতা চালচ্ছিলেন। প্রথমে দেশি বোমা ব্যবহার করলেও পরে পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করেন। এছাড়া বোমা বানানো এবং আক্রমণ বিষয়েও তার সামরিক প্রশিক্ষণ আছে এবং এ নিয়ে প্রশিক্ষণও দিতেন তিনি।”

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার বাড্ডা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।১৭ মামলার আসামি হান্নান ও তার সহযোগীদের মুক্ত করতে গত ৬ মার্চ টঙ্গীতে প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনাও ঘটে।


ফিরে দেখা

# সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ২০০৪ সালের ২১ মে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

# তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

# যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজার নাম প্রথমে বাদ দেওয়া হলেও পরে তাকে যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছর নভেম্বরে হয় অভিযোগ গঠন।

# ৫৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

# ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মুত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ। তাতে আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়, মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল থাকে।

# ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন হান্নান ও বিপুল। আর দেলোয়ারের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও ওই তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

# আপিল বিভাগের রায় হাই কোর্ট হয়ে নিম্ন আদালতে যাওয়ার পর বিচারিক আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে এবং তা গত ৩ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পৌঁছায়। সেখানেই আসামিদের মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।

# আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়।

# প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় সাংবিধানিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন তিন জঙ্গি। তাদের সেই আবেদন নাকচ হয়ে গেছে বলে ৯ এপ্রিল সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শেষ সাক্ষাৎ

প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দণ্ড কার্যকরের নির্বাহী আদেশ পাঠানো হয় দুই কারাগারে। ওই চিঠি পাওয়ার পর তিন আসামির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেষ দেখা করে যেতে বলে কারা কর্তৃপক্ষ।  

সেই ডাকে মুফতি হান্নানের বড় ভাই, স্ত্রী ও দুই মেয়ে সকালে কাশিমপুরে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন রুমা বলেন, “উনি বলেছেন, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করা হয়েছে। তিনি সবার দোয়া চেয়েছেন।”

রিপনের বাবা আবু ইউসুফ, মা আজিজুন্নেসাসহ পরিবারের ২৭ জন সন্ধ্যায় কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। বেরিয়ে এসে তারা কোনো কথা বলেননি।  

তবে রিপনের বাবা আবু ইউসুফ মঙ্গলবার বলেছিলেন, “আমার ছেলে খুব ভালো। সে নির্দোষ। এলাকায়ও সে ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। সে জঙ্গিদের সঙ্গে মিশিছে কি না তা আমার জানা নেই।”

বিপুলের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলেও তারা কারাগারে যাননি। তার বাবা হেমায়েত উল্যাহ ছেলের লাশ নিতেও রাজি নন বলে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক জানান।

ফাঁসি কার্যকরের আগে বাড়ানো হয় কাশিমপুর কারাগারের নিরাপত্তা
কড়া নিরাপত্তা

মুফতি হান্নানের পরিবারের সদস্যরা সকালে কামিশপুর কারাগার ঘুরে যাওয়ার পর বিকালের দিকে বদলে যেতে থাকে কারাগারের সামনের দৃশ্যপট।

বিকাল ৪টার পর থেকে দুই কারাগারেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আশপাশের এলাকায় যানবাহন ও সাধারণের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

পুলিশ ও র‌্যাবের অবস্থানের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও কারাগারের সড়কে দেখা যায়।সন্ধ্যার পর দুই কারাগারে নিয়ে আসা হয় অ্যাম্বুলেন্স।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল হাসান রাত ৮টার দিকে কাশিমপুর কারাগারে প্রবেশ করেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ মুফতি হান্নানকে তার মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেয় বলে তার ভাই আলী উজ্জামান জানান।

অসুস্থতার কারণে তাদের মা সকালে গোপালগঞ্জ থেকে আসতে না পারায় হান্নান টেলিফোনে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।  

নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের আগে আসামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। গাজীপুরের সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক রাত সাড়ে ৯টার পর কারাগারে প্রবেশ করেন।

তখনই গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, অতিরিক্তে জেলা ম্যোজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

এদিকে একই সময়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. অমল রতন সাহা। তার ঠিক জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ভেতরে প্রবেশ করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বুধবার রাতে জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের লাশ নিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে অ্যাম্বুলেন্স।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বুধবার রাতে জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের লাশ নিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে অ্যাম্বুলেন্স।
যেভাবে ফাঁসি

কারা কর্মকর্তারা জানান, কারাবিধিতে যেভাবে মৃত্যদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে সে অনুযায়ীই তারা পুরো প্রক্রিয়া শেষ করেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে তিন আসামিকে গোসল করানো হয়। কাশিমপুর কারাগারের কর্মচারী নোমানুর রশিদ পরে মুফতি হান্নান ও বিপুলকে এবং সিলেটের আবু তোরাব মসজিদের ইমাম বেলাল উদ্দীন আসামি রিপনকে তওবা পড়ান।

কাশিমপুরে দুই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ রাজু। তার সঙ্গে ছিলেন শফিকুল ইসলাম ও ইকবাল হোসেন। আর সিলেটে ফাঁসি কার্যকর করেন প্রধান জল্লাদ ফারুকের নেতৃত্বে চার জন।

সহকারী জল্লাদরা প্রথমে আসামিদের দুই হাত পেছনে বেঁধে মাথায় ‘যম টুপি’ পরিয়ে দেন। জেল সুপার নির্ধারিত সময়ে তার হাতে থাকা রুমাল ফেলে দিলে প্রধান জল্লাদ লিভার টেনে ধরেন। আসামিরা ঝুঁলে পড়েন ফাঁসির কূপে।

পরে নিয়ম অনুযায়ী কর্তব্যরত চিকিৎসক দণ্ডিতদের লাশ পরীক্ষা করে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন। ময়নাতদন্ত শেষে কাফন পরিয়ে লাশ কফিনে করে তোলা হয় অ্যাম্বুলেন্সে।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে সিলেট কারাগার থেকে রিপনের কফিন নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পথে রওনা হয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁওয়ে রিপনের বাড়িতে তার লাশ পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় ঈদগাঁ মাঠে জানাজার পর পাশেই তাকে দাফন করা হয় বলে কুলাউড়ার ওসি শামসুদোহা জানান।

আর কাশিমপুরেরে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে রাত ১২টার দিকে হান্নান ও বিপুলের লাশ নিয়ে দুটি অ্যাম্বুলেন্স গোপালগঞ্জ ও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান।

 

ড. ইউনূসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সমন

প্রায় ৭ কোটি টাকা পাওনা আদায়ের মামলায় গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ মো. শাহাদাত হোসেন এ সমন জারি করেন। আদালত আগামী ২৩ মে সমনের জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবোতে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ১৬২ বিঘা জায়গার ওপর ‘ঘোষবাগ’ প্রকল্পে আংশিক জায়গায় বালু ভরাটের জন্য বাদীর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিবাদীদের ৫০ লাখ সিএফটি বালু ভরাটের চুক্তি হয়। বাদীর প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী চার কিলোমিটারজুড়ে পাইপ স্থাপন করে ২০১৫ সালের  জুন থেকে নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু ভরাট করেন। ওই টাকার মধ্যে বিবাদীরা বাদীকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ টাকা বিল প্রদান করেন। অবশিষ্ট ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪.২৬ টাকা পাওনা হলে বাদী তা দেয়ার জন্য চারটি বিল সাবমিট করলেও বিবাদীরা তা দেননি। টাকা না দেয়ায় বালু ভরাট বন্ধ করে দেন তিনি।

বাদী তার পাওনা টাকা আদায়ের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দিলেও বিবাদীরা তা দেননি। এতে বাদীর  ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪.২৬ টাকার সঙ্গে ২ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ডেমারেজ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এ ঘটনায় গত ৩০ মার্চ ঢাকার সাভারে মেসার্স তাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক ব্যবসায়ী মো. বাহাদুর ইসলাম ইমতিয়াজ বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান, গ্রামীণ টেলিকমের সিএফও ও বোর্ড সেক্রেটারি, ডেপুটি ম্যানেজার মো. মাহমুদ, প্রতিষ্ঠানটির আইন সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এজিএম ও বিভাগীয় প্রধান, প্রতিষ্ঠানটির টেকনিক্যাল বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা, অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মো. আসাদ, বিশ্বজিৎ কুমার, প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইনের মতিয়ার রহমান।

 

রাতেই মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসি!

সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুত কারা কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরের কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি কারাগারে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলের এবং সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে দেলোয়ার হোসেন রিপনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। আজ বুধবার রাতেই সাজা কার্যকর করার মতো সব প্রস্তুতি সম্পন্ন আছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।   

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান  বলেন, ‘সব প্রস্তুতি শেষ করে মুফতি হান্নান ও বিপুলের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় আছি।’

কারা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, আজ বুধবার রাতেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে তিনজনের। এদিকে দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকরে ১০ জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে  জানিয়েছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া। তিনি জানান, বুধবার বিকালে আবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন রিপন। তিনি রোজা রেখেছেন এবং ইফতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করতে চেয়েছেন।
মুফতি হান্নান, রিপন ও বিপুল (ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবি)

এদিকে, কাশিমপুর ও সিলেট দুই কারাগারের আশপাশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন আছে।

কাশিমপুরে বুধবার সকালে মুফতি হান্নানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন।

উল্লেখ্য সিলেটের হযরত শাহজালালের (রা.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে আগের রায় বহাল রাখেন। এরপর তিন আসামিই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দেন। এখন ফাঁসি কার্যকরে আর কোনও আইনি বাধা নেই।

তারেকের শাশুড়িকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

সম্পদের হিসাব দাখিল না করার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বুধবার এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেন। এ মামলায় দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম  জানান, ইকবাল মান্দ বানুকে গ্রেপ্তার করা গেল কি-না সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৪ মে দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক।

“এ মামলায় সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু কখনো আদালতে আসেননি, আত্মসমর্পণ করে জামিনও নেননি।” দুদকের উপ-পরিচালক আর কে মজুমদার ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছর ১৪ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সাত্তার সরকার।

সম্পদ বিরবণীর নোটিস জারির পর দুর্নীতি দমন কমিশনে নির্দিষ্ট সময়ে সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অপরাধে তিনি দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় ওই মামলাটি করা হয়।

বিস্তারিত আসছে

 

মুফতি হান্নানের সঙ্গে দেখা করে এলেন স্বজনরা

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসির সেলে বন্দি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে শেষ দেখা করে এসেছেন তার স্বজনরা। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, হান্নানের পরিবারের চার সদস্য বুধবার সকাল ৭টা ১০ থেকে প্রায় ৪০ মিনিট তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই চারজন হলেন- মুফতি হান্নানের বড় ভাই আলি উজ্জামান মুন্সী, হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন রুমা এবং দুই মেয়ে নাজনীন খানম ও নিশি খানম। এক যুগেরও বেশি সময় আগে সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান।

ওই মামলায় তার দুই সহযোগীশরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনেরও একই সাজার রায় এসেছে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। রায় পুনর্বিবেচনা এবং অপরাধ স্বীকার করে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ায় এখন কেবল তাদের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষা।  

হান্নানের মত বিপুলকেও রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আর দেলোয়ার হোসেন রিপন আছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আসামির সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

সে অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষের ডাক পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রিপনের সঙ্গে দেখা করেন তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।  কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার মুফতি হান্নানের সঙ্গে বিপুলের পরিবারের সদস্যদেরও সাক্ষাতের জন্য খবর পাঠানো হয়।

সে অনুযায়ী মুফতি হান্নানের পরিবারের সদস্যরা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থেকে গাজীপুরে এসে দেখা করে গেলেও চাঁদপুর থেকে বিপুলের পরিবারের কেউ বুধবার সকাল পর্যন্ত এসে পৌঁছাননি।

জেলসুপার মিজানুর রহমান জানান, হান্নানের ভাই, স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভোরে কাশিমপুরে পৌঁছানোর পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন এবং ৭টা ১০ এ হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

সকাল ৮টার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে হান্নানের বড় ভাই আলি উজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “উনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।… বলেছেন, তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে এ অবস্থায় দাঁড় করানো হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে যেটা হয়েছে সেটাই মেনে নিতে হবে।”

বড় ভাই জানান, তাদের মা অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। হান্নান মায়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করায় কারা কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছে। তারা বলেছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভব হলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।

# সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। এতে তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন; আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।

# ওই ঘটনায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর হুজি নেতা মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

# ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রাখে।

# এ মামলার চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

# গত ৬ মার্চ একটি মামলার শুনানি শেষে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে টঙ্গীতে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

# আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে।

# প্রাণ বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় সাংবিধানিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন তিন জঙ্গি। তাদের সেই আবেদন নাকচ হয়ে গেছে বলে ৯ এপ্রিল সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ মামলার তিন আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র সুপার মো. মিজানুর রহমান  বলেন, “কারাগারে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চসহ সব কিছু প্রস্তুত আছে।”

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়াও বলেছেন, “দণ্ড কার্যকরে আমরা প্রস্তত আছি। উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও সব প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।”

তবে কখন এই তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারেননি।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন উর রশিদ বলেন, “রায় যেহেতু হয়েছে। কার্যকর এক সময় না এক সময় হবেই। সেটাকে (রায়) কেন্দ্র করে আমাদের একটু বাড়তি নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে, গাজীপুরের প্রতিটি জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছি।”

কারাগারের আশপাশে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি বহু সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রয়েছে বলে জানান তিনি।

মামলা চলবে, তারেকপত্নী জোবায়দাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা বাতিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের আবেদন খারিজ করে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ মামলার রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেয়। চিকিৎসক জোবাইদা স্বামী তারেকের সঙ্গে আট বছর ধরে যুক্তরাজ‌্যে রয়েছেন। নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য হাই কোর্ট তাকে আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে বলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জোবাইদার বিরুদ্ধে দদুক মামলাটি করেছিল সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০০৮ সালে এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এখন সেই বাধা কাটল।

নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মাহবুব আলী খানের মেয়ে জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন। তার দুই বছর আগে তারেকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান। ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর কর্মস্থলে না ফেরায় ২০১৪ সালে জোবায়দাকে বরখাস্ত করে সরকার।

তারেক মুদ্রাপাচারের এক মামলায় দণ্ডিত। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলাও রয়েছে। আর তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন।

তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শ্বাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় তারেক রহমানকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় জোবাইদা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারেক তার স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার দুটি এফডিআর করে দেন। এভাবে জোবাইদা তার স্বামীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।

২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর জোবাইদা রহমানের মামলা বাতিলের আবেদনে হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেয়।

ওই রুল শুনানির জন্য গতবছর হাই কোর্টের একটি বেঞ্চে তোলা হলে বিচারক বিব্রত বোধ করেন। প্রধান বিচারপতি এরপর মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেব নাথের হাই কোর্ট বেঞ্চে পাঠান। সেখানে রুল শুনানির পর আদালত গত ১০ জানুয়ারি বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

হাই কোর্টে জোবায়দা রহমানের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

বুধবার রায়ের পর খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছে এবং আট সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।” 
অন্যদিকে জোবায়দার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “উনি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, তাই আদালত আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে, যেন কোনো বাধাবিঘ্ন ছাড়া তিনি বিচারিক আদালতে গিয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। এটা আত্মসমর্পণের নির্দেশ নয়।”

 

সিলেটে রাজন হত্যা কামরুলসহ ৪ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল

সিলেটের আলোচিত সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামসহ চার আসামিকে নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। এ মামলার পাঁচ আসামিকে দেওয়া বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ডের রায় বহাল রাখা হলেও একজনের যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীদেরই এক সহযোগী নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে সারা দেশে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভে¤॥^র এ মামলার রায়ে চারজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবন এবং পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে যাবজ্জীবন সাজার রায় পাওয়া নূর মিয়াই ঘটনার দিন রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করেন এবং পরে ছড়িয়ে দেন ইন্টারনেটে। হাই কোর্ট তার সাজা কমিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ডের রায় দিয়েছে। বাকি আসামিদের সবার সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

যার যেমন সাজা
কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেল আহমদ ফাঁসি বহাল। নূর মিয়া    যাবজ্জীবন ৬ মাস কারাদন্ড। কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদ সাত বছর করে কারাদন্ড বহাল। দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলী    এক বছর করে কারাদন্ড বহাল। আসামিদের মধ্যে জাকির হোসেন পাভেল এবং কামরুলের ভাই শামীম আহমদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ফিরোজ মিয়া, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিন নামের তিন আসামিকে সিলেটের আদালত খালাস দিয়েছিল। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রাজনকে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিত আলম নামে একজনকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। পরে মুহিত, তার ভাই কামরুল ইসলাম ও আলী হায়দার এবং ময়না মিয়া চৌকিদারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের মধ্যে পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান মূল আসামি কামরুল। পরে ভিডিও দেখে প্রবাসীদের সহযোগিতায় তাকে আটক করে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। রাজন হত্যার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ওই বছর ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৫ সালের ৮ নভে¤॥^র এ মামলার রায় দেন। চার আসামির মৃত্যুদন্ডের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে গত ১২ মার্চ হাই কোর্ট রায়ের জন্য ১১ এপ্রিল দিন ঠিক করে দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল ইসলাম ও নিজামুল হক নিজাম। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, মো. শাহরিয়ার ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।

ব্যারিস্টার ফখরুলের জামিন আদেশ বহাল

রায় ফাঁসের মামলায় ১০ বছরের কারাদন্ড পাওয়া ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামকে এক বছরের জামিন দিয়ে হাই কোর্টের আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ জামিন স্থগিতের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেয়। ফখরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদিন এবং মাহবুব উদ্দীন খোকন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটার্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মাহবুব উদ্দিন খোকন পরে  বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে ব্যারিস্টার ফখরুলের জামিনে মুক্তি পেতে আর ‘আইনি বাধা থাকল না’। ব্যারিস্টার ফখরুল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পক্ষে যুদ্ধাপরাধের মামলা লড়েন। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ফাঁসির দন্ড পান সাকা চৌধুরী। ওই রায়ের দিন সকালে তার স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন। তারা রায়ের ‘খসড়া কপি’ সংবাদকর্মীদের দেখান। পরে রায় ফাঁসের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধকের পক্ষ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গতবছর ১৫ সেপ্টেম্বর ফখরুলকে ১০ বছরের কারাদন্ড এবং দশ লাখ টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদন্ডের রায় দেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার ফখরুলের আপিল গ্রহণের পর থেকে শুনানি চলে হাই কোর্টে। আপিল গ্রহণের পর জামিন চেয়ে আবেদন করেন ব্যারিস্টার ফখরুল। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৪ এপ্রিল হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে এক বছরের জামিন দেয়। পরদিন ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে যায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ফখরুলের জামিন স্থগিত করার আদেশ দেয়। মঙ্গলবার শুনানি শেষে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল রাখল আপিল বিভাগ। 

শুল্ক গোয়েন্দার ডিজিকে চিঠি লিখে বিলাসবহুল গাড়ি ফেলে গেলো হাতিরঝিলে

 রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে জার্মানির তৈরি  পোরশে মডেলের একটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দারা। এটির দাম প্রায় চার কোটি টাকা। গাড়ির ভিতরে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালককে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। এতে গাড়িটির মালিকের নাম-ঠিকানা কিছুই উল্লেখ করা নেই। গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয় বলে চিঠিতে স্বীকার করা হয়েছে। সোমবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।

আবেদনপত্রের আদলে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘বরাবর, মাননীয় ডিজি শুল্ক গোয়েন্দা, বিষয়- গাড়ি জমা দেওয়া।’ এরপর লেখা হয়, ‘জনাব, আমি বিগত কয়েকবছর ধরে এই গাড়িটি ব্যবহার করছি। গাড়িটি আমার অনেক প্রিয় ও আবেগের। সম্প্রতি আমি জানতে পারি, এই গাড়িটিতে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। আমি সমাজের সম্মানি ব্যক্তি। আমাকে অনেকে এক নামে চেনে। মানসম্মানের কথা ভেবে আমি নিজের ইচ্ছায় গাড়িটি ফেলে রেখে গেলাম। দয়া করে আমাকে আপনারা খোঁজার চেষ্টা করবেন না। সারাদেশব্যাপী পরিচালিত আপনাদের অভিযানগুলোর আমি প্রশংসা করছি। আমার অতি প্রিয় এই গাড়ি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অন্যায় করলেও এটি জমা দেয়ার মাধ্যমে আমি সেটির প্রায়শ্চিত্ত করলাম।’ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপপরিচালক শরীফ আল হাসান বলেন, হাতিরঝিলের রানার বিল্ডিংয়ের সামনের ব্রিজের ওপর গাড়িটি পড়ে ছিল। এর চাবি ভেতরে পাওয়া যায়। আর চালকের আসনে একটি চিঠি রাখা ছিল। পোরশে কায়ানে ৯৫৫ মডেলের গাড়িটি ২০০৫ সালে তৈরি। ২০১০ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। কারনেট সুবিধায় গাড়িটি আনা হয়েছিল। তবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি এটি। গ্যারেজের নাম লেখা নম্বর প্লেট লাগিয়ে গাড়িটি চলছিল। শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কারনেট সুবিধার আওতায় কোনো বিদেশি চাইলে তার নিজের গাড়ি নিয়ে বিনা শুল্কেই যেকোনো দেশে প্রবেশ করতে পারেন। তবে ফিরে যাওয়ার সময় তা ফেরত নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত এক বছরের জন্য এই সুবিধা বহাল থাকে। ইংল্যান্ড প্রবাসী ফরিদা রশিদ নামের এক নারী গাড়িটি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। শুল্কসহ গাড়িটির মূল্য চার কোটি টাকা।

মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষা নাকচ : ফাঁসির প্রস্তুতি

জঙ্গিনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার দুই সহযোগীর প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কারাবিধি অনুযায়ী তাদের দন্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। এই তিনজনের মধ্যে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুলকে রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। আর দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন আছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। তবে কখন কোথায় তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি মন্ত্রী।

 রোববার মন্ত্রণলয়ে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নামঞ্জুর করেছে। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে জেল কোড অনুযায়ী যা করা দরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ায় অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কৃপা প্রার্থনাই ছিল এই তিন জঙ্গির প্রাণ বাঁচানোর শেষ সুযোগ। সেই সুযোগ নিতে গত ২৭ মার্চ কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিলেন তারা। কারাবন্দিদের ক্ষমার আবেদন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে যায় আইন মন্ত্রণালয়ে।

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে তা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ওই নথি ফিরে আসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তবে শনিবার পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো আদেশ বা নথি কারাগারে পৌঁছায়নি বলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রায় কার্যকর করতে অনেক ধরনের প্রক্রিয়া রযেছে, টাইম ফ্রেম রয়েছে। জেলকোড অনুযায়ীই রায় কার্যকর করা হবে। তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের ক্ষেত্রে কোনো হুমকি পাননি বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান কামাল। সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে। আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। ওই ঘটনায় করা মামলার চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় বহাল রাখে। এ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডিত দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাই কোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছিল। আপিল না করায় তাদের ওই সাজাই বহাল থাকে। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। তাদের আবেদন গত ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ফলে চূড়ান্ত বিচারেও ফাঁসির রায় বহাল থাকে।

মাছ ও মুরগীর খাদ্যে ট্যানারি বর্জ্য নয়

 মাছ ও পোল্ট্রিসহ গবাদিপশুর খাবার তৈরিতে ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ  রোবাবর এ আদেশ দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

২০১০ সালের ২৪ জুলাই ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে ‘বিষাক্ত মুরগির খাদ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি/মাছ উৎপাদনেও ব্যবহার হচ্ছে ট্যানারি বর্জ্য’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৫ জুলাই দৈনিক যুগান্তরে ‘আলোচনা সভায় বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতারা, ট্যানারি বর্জ্য মিশিয়ে পোল্ট্রি ফিড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখনই বন্ধ করতে হবে’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৬ জুলাই ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মাছ ও পোল্ট্রি ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ এ বিষয়ে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়, ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি করা খাদ্য মুরগি ও মাছ উভয়ের জন্যই অস্বাস্থ্যকর। এসব অস্বাস্থ্যকর খাদ্য দিয়ে চাষ করা মুরগি ও মাছ খেলে মানুষের জন্যও মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরপর ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে তৎকালীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এক মাসের মধ্যে বর্জ্যকে মাছ-মুরগির খাবার তৈরির কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়।২০১১ সালের ২১ জুলাই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে ট্যানারি বর্জ্য ব্যবহার করে মৎস্য ও পোল্ট্রি ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধে শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব, খাদ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফিশ মিট ও অ্যানিমেল গ্লু-প্রস্তুতকারক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার লিভ টু আপিল করেন। সেই লিভ টু আপিল গত ৭ ডিসেম্বর খারিজ করে দেয় আদালত। এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আনা একটি আবেদনও আজ নাকচ করে দেয় আপিল বিভাগ।

বিচারকদের চাকরিবিধি ‘৮ মের পর কোনো অজুহাত চলবে নয়’

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের জন্য  সরকারকে ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বলেছে, ওই সময়ের পর আদালত সরকারের আর কোনো ‘অজুহাত’ শুনবে না। এই গেজেট প্রকাশের জন্য দফায় দফায় সময় নিয়ে আসা রাষ্ট্রপক্ষকে সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আদলত।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ওইদিনই এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চাকরিবিধি রাষ্ট্রপতির কাছে আছে এবং তার দেখা শেষ হলেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকার মঙ্গলবার আপিল বিভাগের কাছে আরও দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি এ সময় রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তাকে বলেন, ‘সময়ের আবেদনের এ বিষয়টি এলে আপনি মাথা নিচু করে থাকেন। রাষ্ট্রপতির বিষয় টানেন।রাষ্ট্রপতি সবার শ্রদ্ধেয়, তাকে কেন টানেন? তার দোহাই যখন দেন, তখন আমাদের কষ্ট লাগে। রাষ্ট্রপতি খুব ভালো লোক।’ সরকারের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হলেও সামনে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ থাকায় আচরণবিধির গেজেট প্রকাশের জন্যই সরকারকে ৮ মে পর্যন্ত সময় দেয় সর্বোচ্চ আদালত। নতুন তারিখ রাখার পর প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বলেন, ‘আপনি যে সময় নিলেন, সেটা ঠিক থাকবে তো? ৮ মের পর আর কোনো অজুহাত চলবে না।’

জাবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

অব্যাহতি পাওয়া একজন সহকারী অধ্যাপককে চাকরিতে বহালের আদেশ প্রতিপালন না করায় জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ  মঙ্গলবার এই রুল জারি করে। আদালত অবমাননার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে তাকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সাইয়েদা ফাহমিদা বেগম ২০০৯ সালের ১৯ ডিসে¤॥^র থেকে দুই মাসের অনুমোদিত ছুটিতে থাকার পরও ওই তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালের ১২ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর তা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন ফাহমিদা বেগম। হাই কোর্ট প্রথমে এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং পরে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের বেঞ্চ রুল শুনানি করে ২০১৬ সালের ২৯ অগাস্ট ফাহমিদার পক্ষে রায় দেয়। রায়ের কপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে ফাহমিদা গতবছর ডিসে¤॥^রে রেজিস্ট্রারের বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল করে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু রেজিস্ট্রার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিস পাঠান ওই শিক্ষক। তারপরও তার চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে কোনো উদ্যোগে না নেওয়ায় ফাহমিদা বেগম রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। তার পক্ষে হাই কোর্টে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। মঙ্গলবার আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং আইনবহির্ভূতভাবে ড. ফাহমিদাকে অপসারণ করায় হাই কোর্ট এই আদেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, আদালত রায়ে তার অব্যাহতি আদেশকে বেআইনি, মেলাফাইড এবং অকার্যকর ঘোষণা করেছে। এরপর বারবার আবেদন করা হলেও তার যোগদানের পদক্ষেপ নেননি রেজিস্ট্রার, যা আদালত এবং রায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও আদালত অবমাননার সামিল।

রাকিব হত্যা: দুই আসামির সাজা কমে যাবজ্জীবন

খুলনার আলোচিত শিশু রাকিব হাওলাদার হত্যা মামলার দুই আসামি ওমর শরিফ ও মিন্টু খানের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় দিয়েছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে বিচারক বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, দুই পক্ষের তথ্য-প্রমাণ বিচার করে যথার্থ রায় দেওয়ার। যারা অফেন্ডার, তাদের মধ্যে ভিকটিমকে বাঁচানোর একটা চেষ্টা ছিল। এটা তথ্য প্রমাণে এসেছে।”

রায়ে বলা হয়, জরিমানার অর্থ রাকিবের পরিবারকে দিতে হবে। তা না হলে দুই আসামিকে আরও দুই বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ১২ বছর বয়সী রাকিব এক সময় খুলনা নগরীর টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফের মোটর ওয়ার্কশপে কাজ করত। কাজ ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট তাকে হত্যা করেন শরীফ ও তার দূর সম্পর্কের চাচা মিন্টু।  

ওই ওয়ার্কশপে আটকে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসারের মাধ্যমে মলদ্বারে বাতাস ঢোকানো হলে রাকিবের পেটের ভেতরের নাড়ি, মলদ্বার, ‍মুত্রথলি ফেটে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

বর্বর ওই ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালত ওই বছরই ১৮ নভেম্বর শরীফ মোটর্সের মালিক ওমর শরীফ ও মিন্টুর ফাঁসির রায় দেয়।

মিন্টুর মা বিউটি বেগমকেও এ মামলার অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছিল। তবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেয় জজ আদালত।  

 

যোগাযোগকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগ্রহের চেষ্টা করলে ওইসব পরীক্ষার্থীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা ও অপরাধতথ্য (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজার নয়াটোলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের দুই সদস্য শহিদুল ইসলাম (১৮) ও গোলাম সরোয়ার সাজিদকে (১৮) গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে শেখ নাজমুল আলম বলেন, মোবাইল অ্যাপস টেলিগ্রামের মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করছিলো এ চক্রটি। প্রশ্নপত্র ফাঁস না করতে পারলে নিজেদের তৈরি প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যও ছিলো তাদের। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও আইটি ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে ফেসবুক ফেক আইডি, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ ও হোয়াটস আ্যাপের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের কাছে ভুয়া প্রশ্নপত্র দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিলেন। চক্রের সদস্য শহিদুল ‘এসএসসি-এইচএসসি/২০১৭’ ও ম্যাসেঞ্জারে ‘এইচএসসি-২০১৭’ এর অ্যাডমিন। গোলাম সরোয়ার সাজিদ ম্যাসেঞ্জারে ‘হ্যালো ব্রাদার্স’ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শতভাগ প্রশ্ন কমন দেবেন’ বলে স্ট্যাটাস দিতেন। এছাড়াও তারা একেক পরীক্ষার জন্য একেক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে ভুয়া প্রশ্নপত্র শেয়ার করতেন। এ চক্রের আরও সহযোগী রয়েছে, তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান শেখ নাজমুল আলম।

 

৬ এপ্রিলের মধ্যে ট্যানারি ‘ক্লোজ ডাউন’ করতে হবে

হাজারীবাগে থাকতে ট্যানারি মালিকদের আবেদন হাইকোর্টে খারিজের একদিন পর ৬ এপ্রিলের মধ্যে ট্যানারি ‘ক্লোজ ডাউন’ করার কথা বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর উচ্চ আদালতের নির্ধারিত জরিমানা স্থগিতের আবেদনটি আগামী ৯ এপ্রিল বিবেচনা করা হবে। জরিমানার আদেশ পুনর্বিবেচনা ও স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকদের করা দু’টি আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

মনজিল মোরসেদ বলেন, মালিকপক্ষ আদালতে বলেছেন- তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নেই, বিদ্যুৎ-পানির লাইনও নেই। তাই তাদের জরিমানা মওকুফ করা প্রয়োজন। জবাবে আদালত বলেছেন- আমাদের কাছে খবর আছে, লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও আপনারা কারাখানা চালাচ্ছেন। আপনারা ৬ এপ্রিলের মধ্যে কারখানা ক্লোজ ডাউন করে আসেন। তারপর জরিমানার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। গত ২ মার্চ হাজারীবাগে রয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলোর ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া জরিমানা দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আবেদন জানায়। গত ১৯ মার্চ চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে হাজারীবাগে ট্যানারি চালু রাখায় গত বছর ১৫৪ প্রতিষ্ঠানের মালিককে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ করে দেন আপিল বিভাগ। পরে মালিকরা এ আদেশের রিভিউ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানান। দু’টি আবেদনই শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় আসার পর এসব আদেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এদিকে  হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো সাভারে সরাতে আরও তিনমাস সময় বাড়ানো হয়েছে- এমন খবর যুক্ত করে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আবেদন করে। এতে সাভারে স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আদালত এ বিষয়ে জানতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার নিচে নন, এমন একজন কর্মকর্তাকে তলব করেন। পরে কর্মকর্তা এসে হাইকোর্টে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এরপর গত ৬ মার্চ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ হাজারীবাগে থাকা ট্যানারিগুলো বন্ধের আদেশ দেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদারের চেয়ারম্যান। গত ১২ মার্চ ট্যানারি মালিকদের করা ওই আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এরপর তারা হাইকোর্টের ৬ মার্চের আদেশ মডিফিকেশন চেয়ে আবেদন করেন। এতে ঈদ-উল আযহা পর্যন্ত  হাজারীবাগে থাকার সুযোগ চান। ওই আবেদনও বুধবার খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে আর হাজারীবাগে থাকার কোনো সুযোগ নেই ট্যানারি মালিকদের।

ঈদ পর্যন্ত সময় চেয়ে ট্যানারি মালিকদের আবেদন খারিজ

আগামী কোরবানির ঈদ পর্যন্ত হাজারীবাগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে করা ট্যানারি মালিকদের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বুধবার শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। ট্যানারি মালিকদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস ও অ্যাডভোকেট স্বপ্নীল ভট্টাচার্য। অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন বেলার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। গত ৬ মার্চ হাইকোর্টের একই বেঞ্চ অবিলম্বে হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা বন্ধ করতে ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ আদেশ সংশোধন চেয়ে আগামী ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করে। দুই দিন উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। ৬ মার্চের আদেশের পর ট্যানারি মালিকদের পক্ষে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগেও আবেদন করা হয়। পরে তা খারিজ হয়। পরে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আজকের আদেশের ফলে আবেদন খারিজ হওয়ায় হাজারীবাগে সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল থাকল।

 

ভুয়া প্রশ্নপত্র অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক রিমান্ডে

 বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ‘ভুয়া প্রশ্নপত্র’ বিক্রি ও এ সংক্রান্ত প্রচারণার অভিযোগে গ্রেফতার অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। একই মামলায় গ্রেফতার এক শিক্ষক ও অফিস সহকারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চার ছাত্রকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী তিন শিক্ষকের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই তিন শিক্ষক হলেন- আশুলিয়ার এএম গাজীর চক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাফ্ফর হোসেন, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিতের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও টঙ্গীর কোনিয়া কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হামিদুর রহমান তুহিন। তদন্ত কর্মকর্তা চার ছাত্রকেও সাতদিনের রিমান্ডে চাইলে মহানগর দায়রা জজের শিশু আদালতের বিচারক রুহুল আমীন সেই আবেদন নাকচ করেন। গ্রেফতার এএম গাজীরচক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে অধ্যক্ষ মোজাফ্ফরসহ এই নয়জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতাররা বিভিন্ন নামে ফেইসবুক আইডি খুলে তাতে পাবলিক পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র পোস্ট করে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে মঙ্গলবার ডিএমপি কার্যালয়ে এক  সংবাদ সম্মেলনে জানায় পুলিশ।

স্তন্যদায়ী নারীকে আটক রাখায় দুই পুলিশকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

দুধের শিশু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দুই মাকে ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখায় মাদারীপুর সদর থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্যকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ৮ মের মধ্যে এ ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে বুধবার দুই পুলিশ সদস্য হাজির হওয়ার পর বিচারপতি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহতাব ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত বলেন, এখনি ক্ষমা নয়। তদন্ত প্রতিবেদন এলে তারপর দেখা যাবে। আদালতে পুলিশদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী সাজাওয়ার হোসেন ও ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।

আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুই পুলিশ সদস্যকে মাদারীপুর সদর থেকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর ঘটনা তদন্ত করে ৮ মের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছে। স্তন্যদায়ী দুই নারীকে আটকের ঘটনার সংবাদপত্রের প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ২ মার্চ জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রানা কাওসার। তার শুনানি নিয়ে এই আদেশ হল। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সেদিন রানা কাওসার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত ১২ মার্চ মাদারীপুরের লক্ষ্মীগঞ্জে বিরোধপূর্ণ একটি জমির তদন্তে গিয়েছিলেন সদর থানার এসআই মাহাতাব হোসেন। এ সময় তিনি ওই জমির পাশের বাড়ির খালেক বেপারীর ছেলে পনির হোসেনের কাছে মামলা সংক্রান্ত বিষয় জানতে চান। পনির কিছু জানেন না বলার পর এসআই মাহাতাব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থাপ্পড় দেন। এনিয়ে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে সদর থানা থেকে তিন গাড়ি পুলিশ নিয়ে পনিরের বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালান মাহতাব। তখন পনিরের স্ত্রী ও ভাবিকে টেনে-হিঁচড়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। তখন পনিরের স্ত্রীর তিন মাসের শিশু এবং ভাবির ১৮ মাসের শিশুকে কোল থেকে রেখে যেতে বাধ্য করা হয় সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে রাত ১২টার দিকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই দুই নারীকে। রানা কাওসার বলেন, একজন আইন কর্মকর্তা হয়েও আইন বহির্ভূতভাবে দুধের বাচ্চাকে তার মার কাছ থেকে এভাবে দূরে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং সংবিধান পরিপন্থি। রিট আবেদনের পর হাই কোর্ট গত ২১ মার্চ ওসি জিয়াউল মোরশেদ ও এসআই মো. মাহতাবকে তলব করে। রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী পরিষদের সভানেত্রী ফাওয়াজিয়া করিম ফিরোজ, অ্যাডভোকেট শোভানা বানু ও নাজনীন আরা আহমেদ।

রাজধানীর মিরপুরে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৪

রাজধানীর মিরপুর পার্বতা সেনপাড়া এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আটক করা হয়। মিরপুর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করে জঙ্গিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

 

 

প্রাণভিক্ষা চাইলেন মুফতি হান্নান

২০০৪ সালে সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা এবং তিনজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ড বহাল থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন সোমবার সন্ধ্যায় হাতে এসেছে। তিনি নিজ হাতে প্রাণভিক্ষার আবেদন লিখেছেন। মুফতি হান্নানের সঙ্গে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন তার সহযোগী মৃত্যুদন্ড পাওয়া জঙ্গি শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল। তিনিও প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সিলেট কারাগারে বন্দি আরেক আসামি দেলোয়ার ওরফে রিপন প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। জঙ্গিদের ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে গ্রেনেড হামলায় সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার প্রাণে রক্ষা পেলেও পুলিশসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামি মুফতি হান্নানসহ তার দুই সহযোগী জঙ্গি বিপুল ও দেলোয়ার। একই মামলায় অপর দুই জঙ্গি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। আপিল না করায় তাদের ওই দণ্ডই বহাল রয়েছে। কারা সূত্র জানায়, ওই মামলায় মৃত্যুদন্ড পাওয়া তিন আসামির বিষয়ে আদালতের সব বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের ফাঁসির রিভিউ আবেদন খারিজের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর গত বুধবার সকালে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী বিপুলকে তা পড়ে শোনানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন করবে বলে দু’জনই মত প্রকাশ করেছিল।

 

আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের সব আদালত, এজলাস, বিচারকদের বাসভবন এবং আদালত সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন জানান, পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়ে গত ২৩ মার্চ চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। পুলিশ বিভাগসহ মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে ওই চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

সৈয়দ দিলজার হোসেন বলেন, সম্প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গণ, বিচারকদের বাসভবন ও বিচারসংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে দেশের প্রত্যেক আদালত অঙ্গন, এজলাস, বিচারকদের বাস ভবন, বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালত সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রধান বিচারপতি উদ্বিগ্ন। প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ উদ্বেগের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।’ এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রত্যেক আদালত, এজলাস, বিচারকদের বাসভবন, বিচারক ও কর্মচারীসহ আদালতসংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে চিঠিতে।

আত্মঘাতি ব্যক্তির বোমা ছিল কোমরে : চিকিৎসক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন গোলচত্বর পুলিশবক্সের সামনে বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মেলেনি। পুলিশ এ ঘটনাকে হামলা বলে স্বীকার না করলেও নিহতকে ‘আত্মঘাতি’ বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডাঃ সোহেল মাহমুদ। বোমাটি নিহতের কোমরে বাঁধা ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। নিহতের মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া ট্রাভেল ব্যাগে যে বোমা পাওয়া গেছে, তা শক্তিশালী বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশগামী যাত্রীর সাথে একজনের বেশি স্বজন বিমানবন্দরে না ঢুকতে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশে ছিল কড়াকড়ি। এছাড়া মূল সড়ক দিয়ে বিমানবন্দরে ঢোকার পথেই চেকপোস্টে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান ছিল। তারা প্রবেশকারীদের তল্লাশি করছিল। এয়ারপোর্ট আর্মড ব্যাটেলিয়নের পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ীই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।’ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘নিহতের কোমরে ও বাম হাতে তার পেয়েছি। এতে আমরা ধারণা করছি, বোমাটি তার কোমরে বাঁধা ছিল। বোমার বিস্ফোরণে ওই ব্যক্তির মেরুদন্ড ফেটে যায় এবং কোমরের নিচের অংশ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।’ নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার দাঁত, চুল, ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘নিহত যুবক কোনো ধরনের ড্রাগ নিয়েছিল কি না, তা নির্ণয়ের জন্যও নমুনা রাখা হয়েছে। এগুলো কেমিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।’

সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘মরদেহে ৫৪ ইঞ্চি তারের টুকরা পেয়েছি। স্কচটেপ দিয়ে বোমা শরীরে দিয়ে ছিল। বাম হাতের কব্জিতে রেগুলেটরের মতো একটা জিনিস বাঁধা ছিল। তারের বাকি অংশ ছিল সেখানে। মরদেহে স্পি­ন্টার পাওয়া গেছে।’ রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দফতরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে বিমানবন্দরে নিহত ব্যক্তির সাদৃশ্য আছে জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আশকোনায় নিহত ব্যক্তির বুক থেকে পুরো অংশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আর এর বোমা বাঁধা ছিল পিঠের পেছন দিকে। তবে বিস্ফোরণের ধরনে মিল রয়েছে।’ হাসপাতাল সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ময়না তদন্ত শুরু করেন তিন সদস্যের তদন্তকারী দল। ডাঃ সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ময়নাতদন্তে অংশ নেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. সোহেল কবীর। প্রায় ৪০ মিনিট পর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এদিকে এ ঘটনাকে ‘আত্মঘাতী হামলা’ দাবি করে আইএস’র নামে দায় স্বীকারের বার্তা এলেও ডিএমপি পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলছেন, ‘এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়, ওই ব্যক্তি বোমা নিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কেপিআইসহ সব ধরনের স্থাপনা নিরাপদ রাখতে পুলিশ নজরদারি করছে।’

মামলা দায়ের : বিমানবন্দরের সামনের গোল চত্বর এলাকায় বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় বিমনবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াসিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার নম্বর-৩৭। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া  বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।’

একজনের বেশি স্বজন নয় : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম  স্বাভাবিক রাখাসহ নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশগামী যাত্রীর সঙ্গে একজনের বেশি স্বজন না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরে একজন যাত্রীর জন্য একজনের বেশি স্বজন না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় বাড়তি সর্তকতাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার ওই এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়নি বলেও তিনি জানান। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শুক্রবার যে ঘটনা ঘটেছে, তা  বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে নয়। তবু নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পয়েন্টে সতর্ক নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে। বিমানবন্দরের বাইরের  এলাকায় চেক পোস্টগুলোতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সদস্য সংখ্যাসহ তল্লাশি বাড়াতে বলা হয়েছে। সিভিল এভিয়েশন, অ্যাভসেক, পুলিশের সমন্বয়ে টিম পুরো বিমানবন্দর এলাকা টহল দিয়ে নজরদারি করছে।’ গত শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় এই ব্যক্তি। ময়না তদন্তের জন্য রাত আড়াইটার দিকে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম লাশ ঢামেকে নিয়ে আসেন। পুলিশের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর পুলিশ বক্সে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় ওই যুবক। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার বয়স আনুমানিক ২৩-২৫ বছর। পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও ফুলহাতা শার্ট । এছাড়া ঘটনাস্থলে একটি ট্রাভেল ব্যাগ পাওয়া গেছে। যেখান থেকে তিনটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

 

 

আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের ৩ জন আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের ৩ বাংলাদেশি সদস্যকে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-২) সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন- আফজাল আহমেদ (৩৩), শরীফ আলমগীর (৪৫) ও শরীফুল আহমেদ মোহন (২৩)। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় র‌্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার এএসপি মো. ফিরোজ কাউসার  বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদপুর হাইস্কুল থেকে তাদের আটক করা হয়। এ চক্রের সদস্যরা ফেসবুক ও ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা আন্তর্জাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে ফেসবুক ও ই-মেইলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। পরে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে যোগাযোগ গভীর করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।



Go Top