দুপুর ১:২৬, শুক্রবার, ২৬শে মে, ২০১৭ ইং
/ আইন-আদালত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হওয়া নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এক ঘুষের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নারাণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত গতকাল বুধবার সকালে শ্যামলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর বিকালে এই শিক্ষক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক অশোক কুমার দত্ত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে শ্যামলের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান জানান।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসা শ্যামল কান্তি ভক্ত এদিন আদালতে সাংবাদিকদের বলেন, তাকে চাপে রাখতে ‘প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নির্দেশে ষড়যন্তমূলকভাবে’ ওই মামলা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গত বছরের ১৩ মে তারই স্কুলে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে শারীরিক নির্যাতন ও কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনা ঘটে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে। ওই ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সাংসদ সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, শিক্ষককে নয়, নাস্তিককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২৭ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থীকে মারধর ও শিক্ষক মোর্শেদাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে তিনটি মামলার আবেদন নারায়ণগঞ্জের আদালতে জমা পড়ে।

আপন জুয়েলার্স স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত, দাবি শুল্ক গোয়েন্দাদের

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি আরও তথ্য জানতে দ্য রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুন, জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাংক ফরগেট, গুলশান জোনের ডিসি মোশতাক আহমেদ ও বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে তলব করেছে। আগামী ২৫ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই ঘটনার ব্যাপারে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।  মঙ্গলবার বিকালে এই তলব নোটিশ পাঠায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

অন্যদিকে ৫টি শোরুম থেকে জব্দ করা প্রায় আড়াইশ কোটি মূল্যের ১৩ মনের বেশি স্বর্ণ-হীরার বিষয়ে এ পর্যন্ত বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাদের তলব করা হয়েছে। এর আগেও আপন জুয়েলার্সের মালিককে তলব করা হলে তিনি হাজির হয়ে সময় বৃদ্ধির আবেদন জানান। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ রয়েছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে  সিলেট থেকে আপন জুয়েলার্স মালিকের নামে থাকা মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল গাড়ি  জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এই গাড়িতেই ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী দিলাদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ঢাকা থেকে আত্মগোপন করতে সিলেটে গিয়েছিল। গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমান পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে এ ধর্ষনের মামলা নিতে গড়িমসি করায় গুলশান জোনের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার, বনানী থানার ওসি ফরমান আলী এবং একই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে ডিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটি। তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দেরিতে মামলার এজাহার গ্রহণ এবং তদারকিতে অবহেলার প্রমান পেয়েছে ওই কমিটি। এর আগে পুলিশের ‘গাফিলতি’ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সোমবার ডিএমপি কমিশনারের হাতে তুলে দেন তদন্ত কমিটির প্রধান এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমান। দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নিতে বনানী থানা পুলিশের কর্তব্য পালনে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, তা জানতে ডিএমপি ওই তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কাছে অবহেলার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রেইনট্রির এমডি আদনান হারুন ব্যাখ্যা দিতে শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে আসেন বেলা ১১টার পর। তাদের দুপুর ২টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তারা এসব মদের বিষয়ে বৈধ কোন কাগজ দেখাতে পারেনি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধেমাদক, ভ্যাট এবং শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঈনুল খান জানান। গত দুই মাসে হোটেল রেইনট্রি ৮লাখ টাকার বেশি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে প্রমান মিলেছে বলেও জানান ওই শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

রেইনট্রি থেকে উদ্ধার করা মদকে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে ডিজি মঈনুল বলেন, যেহেতু বনানীর দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তাদের (ভিকটিম) জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছিল, তাতে এটা প্রমাণিত যে রেইনট্রি হোটেলে এর আগেও মদ আগেও বিক্রি হয়েছে এবং ঘটনার সময়েও ব্যবহার হয়েছে। আপন জুয়েলার্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেটের জিন্দাবাজার থেকে মঙ্গলবার সকালে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের নামে থাকা একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।  তাদের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আপন জুয়েলার্সের মালিক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতেই জুয়েলার্সটির ৫টি শাখায় একইসঙ্গে অভিযান চালিয়ে সেগুলো মালামালসহ সিলগালা করা হয়েছে। তাদের উপযুক্ত কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সময় চেয়ে  আবেদন করায় আবারও তাদের সময় দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে গাড়ি জব্দ : সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জিন্দাবাজারের একটি বাসা থেকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর অভিযান চালিয়ে একটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের (ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৮৮৫৬) গাড়ি জব্দ করেছে। মঙ্গলবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সিলেটের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের সহকারী কমিশনার প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, ‘গাড়িতে থাকা কাগজপত্রে দিলদার নামে এক ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তবে এই দিলদার আপন জুয়েলার্সের মালিক কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ২০১১ মডেলের মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের ওই গাড়িটি ২০১৫ সালের দিকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের বাড়ি। তার শ্বশুর বাড়ি সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকায়। দিলদার আহমেদের শ্বশুরকে ওই এলাকায় সবাই মতিন মিয়া নামেই চেনেন। শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এই গাড়িটি নিয়ে গত ৮ মে সিলেটে এসেছিল বনানীতে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত, সাকিফসহ কয়েকজন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ওই দুই ছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করা হয়। এরপর ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে নানা নাটকীয়তার পর তরুণীদের ধর্ষন মামলা গ্রহন করে বনানী থানা। এ মামলার আসামীরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, ই- মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্র“পের  পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন। পরে ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫  মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয়  গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। ১৭ মে রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি : ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ধর্ষণ মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে সার্বিক বিষয়ে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটেছে। এগুলো কেন ঘটলো তা জানতে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।  তাদের উত্তর পেলেই তদন্ত প্রতিবেদন মিলিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সোমবার দুপুরে ডিএমপি সদর দফতরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে মামলা গ্রহণে গাফিলাতি খুঁজে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মিজানুর রহমান ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

অন্যদিকে ধর্ষনস্থল বনানীর রেইনট্রি হোটেল কর্তৃৃপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দেওয়া নোটিশের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টে আদেশ ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। সোমবার সকালে নোটিশ স্থগিত করে দেওয়া আদেশ বিকেলে স্থগিত করে দেন বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার। এর ফলে অবৈধভাবে মদ রাখার ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দাদের সামনে হাজির হতেই হচ্ছে রেইনট্রি কর্তৃৃপক্ষকে। এর আগে সেই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এমডি সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের ছেলে শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুন। সোমবার সকালে রেইনট্রি হোটেল কর্তৃৃপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দেওয়া নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। একইসঙ্গে ওই নোটিশের কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়। গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের পক্ষ থেকে রেইনট্রি হোটেলের এমডি শাহ মোহাম্মদ আদনান হারুনকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরে হাজির হয়ে তার হোটেলে পাওয়া মদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১৭ মে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদনান হারুন হাজির হননি। ওই দিন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি এক মাসের সময়ের আবেদন করেন। পরে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ তাদের সাতদিনের সময় মঞ্জুর করেন।  

যেসব ব্যত্যয় পেল তদন্ত কমিটি : ডিএমপির তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানায়, বনানী থানার ওসি ৪ মে ও ৫ মে অভিযোগকারী দুই তরুণীর মামলা গ্রহণ করেননি। ৬ মে বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযোগকারী দুই ছাত্রীকে থানায় বসিয়ে রাখেন। রাত ৯টার পর গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ থানায় যান। কেন একজন অভিযোগকারীকে দুই দিন ধরে থানায় হয়রানি করা হচ্ছে- অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ওই দিন রাত ১০টায় ওসি থানায় মামলা গ্রহণ করেন বলে তদন্ত কমিটি তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে। সর্বশেষ মে মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ বনানী থানায় দায়িত্বরত দুই কনেস্টবলের সাক্ষ্য নিয়েছে কমিটি। সেইসঙ্গে কমিটি বনানী থানার ওসি ফরমান আলীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই কমিটিও ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। তাই জমা দেয়া প্রতিবদনে বেশ কিছু অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। বনানী থানার ওসি বিভিন্ন অভিযোগের মৌখিক ও লিখিত জবাব দিয়েছে তদন্ত কমিটিকে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের নামে ওই দুই ছাত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করা হয়। এরপর ধর্ষনের ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরে নানা নাটকীয়তার পর তরুণীদের ধর্ষন মামলা গ্রহন করে বনানী থানা। এ মামলার আসামীরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, ই- মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্র“পের  পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন। পরে ১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫  মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয়  গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী। ১৭ মে রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

 

 

 

 

জনতা ব্যাংকে নিয়োগের ফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশসহ নিয়োগের কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ জনের রিট আবেদন শুনে সোমবার হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান।

গত ২১ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ইডেন কলেজ, লালমাটিয়া কলেজ ও সেন্ট্রাল রোডের আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ৮৩৪টি সিনিয়র অফিসার পদের বিপরীতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। গত ২৪ মার্চ সকাল ও বিকালে প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় আড়াই লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ১৫০ জন। পরে ২১ এপ্রিল নয় হাজার ৪০০ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অতল করসহ ১৫ জন প্রার্থী প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে হাই কোর্টে রিট করেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সত্যি নয় বলে দাবি করেছিলেন। রিটকারীদের আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, অন্তর্র্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে ও পরীক্ষার ফলাফল বাতিলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে নাইম এক তরুণীর খোঁজে পুলিশ

রুদ্র রাসেল : বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা গ্রহনের বিষয়ে বনানী থানা পুলিশের গাফেলতি পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতি কমিটির নজরে এসেছে। এসব অনিয়ম ও অসঙ্গতির সঙ্গে যে জড়িত থাকুক না কেন, তার শাস্তির সুপারিশ করা হবে।’ তবে  রোববার এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তারা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে তাদের আরও তিনদিনের সময় দেন ডিএমপি কমিশনার। এ ধর্ষন ঘটনার মামলা গ্রহণবিষয়ক কর্তব্য পালনে বনানী থানা পুলিশের কোনও গাফিলতি রয়েছে কিনা- তা জানতে এডিশনাল কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ডিএমপির যুগ্মকমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন ও যুগ্মকমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত মামলার আসামীসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে নাইম আশরাফ। আর ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীর খুব কাছাকাছি থাকা এক তরুনীকে খুঁজছে পুলিশ। তবে তার কোন হদিস মিলাতে পারছে না পুলিশ।

এদিকে এ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন  আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে  আদালত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও রেগনাম গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে সাদমান সাকিফের কাছ থেকে জব্দ করা ৫টি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংক ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ গ্রেফতার নাইম আশরাফের ডিএনএ পরীক্ষারও অনুমতি মিলেছে। ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগকে এ আদেশ দেন। সংশ্নিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধক উপ-পরিদর্শক আবদুল মান্নান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আসামিদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে গত শনিবার আদালতে আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফের পর গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান-এর আদালতের খাসকামরায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আদালতসূত্র জানায়, মামলার এজাহারে বিল্লালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা দায়েরে পর বিল্লাল ভিডিওটি মুছে ফেলে বলেও জানিয়েছে। এর আগে গত ১৮ মে ছয় দিনের রিমান্ডের একদিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা করেন। মামলায় সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও বডিগার্ড রহমত আলী ওরফে আজাদকে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে হাই কোর্টের রায় ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারকের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

হাই কোর্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গিয়েছিল গত সপ্তাহে। চেম্বার বিচারপতি হাই কোর্টের রায়ের কার্যকারিতা ১৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিলে রোববার তা শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। অ্যাটর্নি জেনারেল রোজাসহ বিভিন্ন কারণে শুনানি ছয় সপ্তাহ পেছানোর আবেদন করলে আপিল বিভাগ ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী তারিখ রাখে।

আদেশে বলা হয়, ওই সময় পর্যন্ত হাই কোর্টের রায় স্থগিত থাকবে এবং এর মধ্যে হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে হবে। তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ ও ২০১২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ১১ মে ওই রায় দেয়।

২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা-উপধারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, এ আইন বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও পরিপন্থি।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস করে তা আইনে পরিণত করে। এরপর থেকে এটি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন নামে পরিচিত।

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার বন্ধে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলামোটর মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। এ আইনের ৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯ ও ১০ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পদ্ধতি, ১১ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা ও ১৩ ধারায় আপিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। আর ১৫ ধারায় তফসিল সংশোধনে সরকারের ক্ষমতার বিধান রয়েছে।

রায়ের সার-সংক্ষেপে হাই কোর্ট বলে, “ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের এসব ধারা মাসদার হোসেন মামলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে সংবিধানের মৌলিক দুটি স্তম্ভ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। তাই এ ধারাগুলোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হল।”

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, “আসলে ২০০৯ সালে আইনটি হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতায় সমাজে এক ধরনের ডিমান্ড তৈরি হয়েছে। ভেজাল, নকলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে মানুষের এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বাল্যবিবাহ রোধ, নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা ইতিবাচক। এ কারণে জনস্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মাদক আইনে মামলা গ্রেফতার ২৮ যুবক দুই দিনের রিমান্ডে

ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২৮ যুবককে গ্রেফতারের সময় ‘সমকামিতার অভিযোগ’র কথা বললেও তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার এই যুবকদের শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মাদক আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

শনিবার পুলিশ তাদের যখন ঢাকার আদালতে নিয়ে আসে,তখন তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই আদালতে প্রসিকিউশন পুলিশের প্রধান পরিদর্শক মো.আসাদুজ্জামান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসান গ্রেফতার যুবকদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান। মাদক আইনে মামলার বিষয়ে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক জাহাঙ্গীর মাতুব্বর শনিবার বলেন, অভিযানের সময় তারা সেখানে সমকামিতায় লিপ্তরত ছিল বা মিলিত হয়েছিল,এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের মাদক সেবনরত অবস্থায় কিছু মাদকসহ পাওয়া যায়। তাই তাদের মাদক আইনের মামলায় আদালতে চালান করা হয়েছে। মামলাটি মাদক আইনে হলেও এই যুবকদের রিমান্ডের আবেদনে আবার সমকামিতার কথা উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।

এতে বলা হয়, ‘তাদের কাছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া গেছে। এরা প্রকৃতি বিরুদ্ধ যৌনাচারের জন্য ওই কমিউনিটি সেন্টারে মিলিত হত। একজনের ফেইসবুক আইডি থেকে সমকামিতায় লিপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান হত। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চক্রের সদস্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য জানা প্রয়োজন। সৈয়দ শাহ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে আসামিদের জামিন চান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আনোয়ারুল কবীর বাবুল রিমান্ড আবেদন সমর্থন করেন। শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাইরুজ তাসনীম জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

 

বনানীতে দুই ছাত্রীকে ধর্ষন মামলা সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে যাচ্ছে ধর্ষকদের ৬ মোবাইল

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা ছয়টি মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। এছাড়া আসামি নাঈম আশরাফের ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামী আপন জুয়েলার্স মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আজাদকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঢাকার মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করার পর রহমত আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে রহমত আলীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুরে তাকে আবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমত আরা এমি। আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের পারিপার্শ্বিক যেসব তথ্য ছিল রহমত আলীর কাছে, সবই সে পুলিশকে জানিয়েছে। ধর্ষণে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ কারণে নতুন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে রহমত আলী ওরফে আজাদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

পুলিশ জানায়, ‘বনানীর ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কিছু ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন। তাই শনিবার আদালতের কাছে এসব ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস পরীক্ষার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে সেগুলো ল্যাবে পাঠানো হবে।’
গত ২৮ মার্চ রাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার প্রায় ৪০দিন পর গত ৬ মে তারা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লাল হোসেন ও বডি গার্ড রহমত আলী ওরফে আজাদকে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

 

আদালতে সাফাত ও সাদমানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছয় দিনের রিমান্ডের একদিন বাকি থাকতে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সাদমানকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। দুজন হাকিমের খাস কামরায় জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান। তিনি বলেন, আজ এই দুইজনকে আদালতে নেওয়া হলে তারা দুই জন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত পুলিশের এস আই আবদুল মান্নান জানান, আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত জবানবন্দি দেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের কাছে। আর রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান জবানবন্দি দেন মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর খাস কামরায়।

সাফাত ও তার বন্ধু সাদমানকে গত ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাফাতকে ছয়দিন এবং সাদমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এরপর ১৫ মে এ মামলার অপর দুই আসামি সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত বিল্লালকে চারদিন এবং রহমতকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায়।

মামলার পঞ্চম আসামি নাঈম আশরাফকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফকার করে পুলিশ।  বৃহস্পতিবার তাকে হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকেও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায়। গত ৬ মে বনানী থানায় দায়ের করা এ মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। বাকি তিনজন তাদের সহযোগিতা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে চার আসামি অভিযোগ ‘অনেকটাই স্বীকার করেছে’ এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য তারা যাচাই বাছাই করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, নারী নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া সে অনুযায়ী অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক কিছু তথ্য তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছেন।

অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করেন। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি। সাফাত আহমেদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের চিত্র পাওয়া যায় তার সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার বক্তব্যে। তার ভাষ্য, ইয়াবা আসক্ত সাফাত ও তার বন্ধুরা বনানীর এক রেস্তোরাঁয় নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। ওই হোটেলের ‘যে কোনো ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলেই’ তাদের কর্মকাণ্ডের বিবরণ পাওয়া যাবে। বনানীর যে চার তারকা হোটেলে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে বাদীর অভিযোগ, সেই রেইনট্রি হোটেলের মালিক ঝালকাঠির সরকারদলীয় সাংসদ বজলুল হক হারুন ও তার সন্তানরা। সাংসদ হারুনের ছেলেদের মধ্যে এইচ এম আদনান হারুন আছেন ওই হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে। তবে দেখাশোনা করেন মূলত তার ভাই মাহির হারুন। মাহিরের বন্ধু পরিচয় দিয়েই সাফাত ধর্ষণের ঘটনার দিন ওই হোটেলে উঠেছিলেন বলে হোটেলকর্মীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। অভিযোগকারী তরুণীদের একজন জানিয়েছিলেন, পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে তারা রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তাদের নিতে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী। ধর্ষণের সময় দেহরক্ষী রহমতকে দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।


প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ
বনানীর ধর্ষণ মামলার চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে এবং গ্রেফতার পঞ্চম আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতারের পর এ মামলার আসামি নাঈম আশরাফ বা হাসান মোহাম্মদ হালিমকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান শাফিককে গত ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার চার দিনের মাথায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় অপর দুই আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী এবং গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে। ওই চারজন রিমান্ডে অভিযোগ ‘অনেকটাই স্বীকার করেছে’ জানিয়ে মনিরুল বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, নারী নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের যে সংজ্ঞা দেওয়া সে অনুযায়ী অভিযোগের সমর্থনে প্রাথমিক কিছু তথ্য তারা জিজ্ঞাসাবাদে পেয়েছেন। তবে চার আসামির রিমান্ড এখনও শেষ না হওয়ায় এবং পঞ্চম আসামি মাত্র ধরা পড়ায় ঘটনার খুঁটিনাটি নিয়ে এখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বলা সীমীচীন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘এখন পর্যন্ত যেহেতু মেইন একিউজড, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কেবল শুরু হয়েছে। সেখানে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কথা আমরা জানতে পেরেছি।  কী পরিস্থিতিতে কী হয়েছিল জিজ্ঞাসবাদ শেষেই আমরা তা নিশ্চিত করতে পারব।’

এ মামলার আসামিদের মধ্যে সাদমান রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।আর যে হোটেলে ঘটনা, সেই রেইনট্রির মালিক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের সন্তানরা। ধর্ষণের ঘটনা গত ২৮ মার্চ ঘটলেও প্রভাবশালী আসামিদের হুমকির কারণে মামলা করতে এক মাসের বেশি সময় দেরি করার কথা বাদী নিজেই এজাহারে বলেছেন। পুলিশ সেই মামলা নিতে গড়িমসি করেছিল বলে অভিযোগ ওঠায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আইনের কাছে প্রভাবশালী বলে কিছু নেই। অপরাধী অপরাধীই। ওই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতারণার অনেক অভিযোগ নাঈমের নামে
গ্রামবাসী জানায়, হালিম প্রভাবশালী বিভিন্ন জনকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা আদায় এমনকি বিয়েও করেছিল দুই বার। ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম নিয়ে ‘ই-মেকার্স’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি। ২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে ‘নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন নাঈম ওরফে হালিম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈম বিভিন্ন জনের সঙ্গে নিজের সেলফি দিতেন, যা সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত বলে এখন মনে করছেন ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা। নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে হালিম এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগাতেন; যদিও সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজীপুরের নেতারা। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে নাঈমের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার কথা সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারাহ মাহবুব পিয়াসাও জানিয়েছেন। সাফাত সব সময় নাঈমের কথায় চলতেন বলে পিয়াসার ভাষ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈমের নিজের পাতায় সাফাতের বাড়িতে পারিবারিক আবহে ছবিতে তাকেও দেখা যায়। অভিযোগকারী তরুণীদের দাবি, সেদিন রেইনট্রি হোটেলে নাঈম ও সাফাত ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের নির্যাতনও করেন। পা ধরে নিস্তার চাইলেও তারা ছাড়া পাননি।

 

 

 

 

মানবতাবিরোধী অপরাধ সাবেক এমপি খোকাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বগুড়ার আদমদীঘির সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আব্দুল মোমিন তালুকদার ওরফে খোকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল  বৃহস্পতিবার পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেয়। পরোয়ানা জারির আবেদনে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন সুলতান মাহমুদ সীমন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।
আদেশের পর প্রসিকিউটর সিমন  বলেন, আব্দুল মোমিন তালুকদার একাত্তরে আদমদীঘি এলাকায় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। সে সময় হত্যা, গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এলাকায় ‘প্রভাবশালী’ হওয়ায় এবং সঠিক তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেফতারের আবেদন করা হয় বলে এই প্রসিকিউটর জানান।

আব্দুল মোমিন তালুকদার বগুড়া-৩ আসন (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর বন ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি। আদমদীঘি থানার কায়েত পাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ সুবেদ আলী ২০১১ সালের মার্চে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করলে পরে তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর আনুমানিক ১১টার দিকে আদমদীঘি বাজারে পশ্চিমে খারির ব্রিজের উত্তর শ্মশান ঘাটে আব্দুল মোমিন তালুকদার গুলি করে মুক্তিযোদ্ধা মনসুরুল হক তালুকদার টুলু, আব্দুস ছাত্তার, আব্দুল জলিল, আলতাফ হোসেনসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। বাদীর অভিযোগ, আব্দুল মোমিনের বাবা আব্দুল মজিদ তালুকদার (বর্তমানে মৃত) মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবা-ছেলে দুজনেই সেসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেন। অবশ্য আব্দুল মোমিন সে সময় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে ১৭ বছর এবং তিনি কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ‘রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যেই’ তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে সে সময় অভিযোগ করেছিলেন এই বিএনপি নেতা। অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে আসার পর প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা গত বছরের জানুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত কর্মকর্তা জেড এম আলতাফুর রহমান ওই এলাকায় গিয়ে আদমদীঘির সুদিন, খাড়িপাড় শ্মশানঘাটি ও সান্তাহার রথবাড়ী (জমিদার সুরেন্দ্রনাথের বাড়ি) বধ্যভূমি ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। ওই তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউটরদের ভাষ্য। 

বনানীর ধর্ষণ মামলা দুই তরুণীর নিরাপত্তায় পুলিশ তদন্ত দ্রুত শেষ করতে কমিটি

রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (ডিবি) বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এছাড়া আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য উচ্চপার্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন এ কমিটির সদস্য।

এদিকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে গতকাল হাজির হয়েছে আপন জুয়েলার্সের মালিক। তবে জুয়েলার্সটির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জব্দকৃত প্রায় সাড়ে ১২ মন স্বর্ণের কোন বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। আর গতকাল হোটেল রেইনট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের পুত্র আদনান হারুনও গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হননি। তার পক্ষে আইনজীবী হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করলে ২৩ মে আদনান হারুনকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, ‘দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আসামিদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখনও এক আসামি পলাতক, তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।’ আসামিরা আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১২টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদ রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে ব্যবসায়িক কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন। গত ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে ব্যাখ্যাহীনভাবে মজুদ স্বর্ণ ও ডায়মন্ড আটকের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকে শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতরে তলব করা হয়।

একইদিনে দ্য হোটেল রেইনট্রি কর্তৃপক্ষকে তলব করা হলেও হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান হারুণের পক্ষ থেকে আইনজীবী এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির ও রিয়াজ আহমেদ উপস্থিত হন। শুল্ক গোয়েন্দার কাছে লিখিথ আবেদনে আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রেইন ট্রি’র মালিক অসুস্থ থাকায় তলবে উপস্থিত হতে পারিনি। এজন্য শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে এক মাসের তলবের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানালে আগামী ২৩ মে রেইন ট্রির এমডিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় আইনজীবীরা ‘রেইন ট্রি’ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি রেকর্ড বার্তা শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের শোনান।

আমি গ্রেফতার হলে সবাইকে জেলে যেতে হবে : নিজেদের জুয়েলারি ব্যবসা ‘বৈধ’ দাবি করে বনানীর  হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণে অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের বৈধ ব্যবসা। আমাকে যদি ডার্টি মানি ও স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য গ্রেফতার করা হয়, তাহলে কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বাইরে থাকবে না। সবাইকে জেলে যেতে হবে।’ বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে ব্যবসা করছি, সারা বাংলাদেশে সেভাবে ব্যবসা চলছে। এরপরও যদি আমার স্বর্ণের দোকান বন্ধ করা হয় তবে সারাদেশের সকল দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’ বৈধ কাগজপত্র  দেখাতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কী আর কাগজপত্র দেখাতে পারে? গত পাঁচ বছর ধরে কোনো স্বর্ণ আমদানি নেই। একটা ব্যবসা চললে তার নীতিমালা থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কোনো নীতিমালা করতে পারিনি।’

দুই তরুণীকে পুলিশি নিরাপত্তা : ধর্ষনের শিকার দুই তরুণীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি। তিনি এলন, তাদের নিরাপত্তায় পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যও নিয়োজিত রয়েছে। আদালত মঙ্গলবার ওই তরুণীদের নিরাপত্তা দেয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন, এই নিরাপত্তা তার অংশ কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। তা পেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে না চাইলেও পরে পুলিশ সাফাত আহমেদ ও মামলার অপর আসামি সাকিফ, সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করে। আরেক আসামি নাঈম আশরাফ এখনও পলাতক।

চার আ. লীগ কর্মী হত্যায় ২৩ জনের ফাঁসির রায়

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পনের বছর আগে চার আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যার দায়ে ২৩ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুন্নাহার বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত ১৯ আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্য চারজন এখনও পলাতক। অতিরিক্ত পিপি জাফরিন আহমেদ বলেন, ২০০২ সালের ১২ মার্চ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক চারজনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

বিস্তারিত আসছে

 

আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলায় ৬ জনের ফাঁসি ২ জনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার গাড়িচালক হারুনুর রশিদকে হত্যা মামলায় ছয় জনের ফাঁসি ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাহেদুল কবির মঙ্গলবার এই রায় দেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-রায়হান খোকন (পলাতক),মো. হীরা, জাকির হোসেন (কারাগারে), জাভেদ প্রিন্স (কারাগারে), মো. জুম্মন (কারাগারে) ও আরিফ হোসেন (কারাগারে)।যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- শরীফুল ইসলাম (জামিনে বের হয়ে পলাতক)ও কালা আমির (পলাতক)। এ মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন-শাহ আলম প্রধান, শফিকুল আলম সুমন, মো. ইমন ও মো. মিলন ।

খালাস পাওয়া দুই আসামির আইবজীবী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শাহ আলম প্রধান, শফিকুল আলম সুমন মামলার শুরু থেকে আজ রায় ঘোষণার দিন পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। তারা যে খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, রায়ে সেটা প্রমাণিত হলো।  এই দুজনের সাত বছর কারাবাসের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
একটি বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানার জুরাইনে খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ ও তার গাড়িচালক মো. হারুনুর রশিদ।এ ঘটনায় কদমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর রায়হান খোকনকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়,মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৫৬ জনের মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।এ মামলার প্রধান আসামি রায়হান খোকন গ্রেফতার হন ২০১১ সালের ২৭ মার্চ। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ, হাইকোর্ট এমনকি  আপিল বিভাগও তাকে জামিন দেননি।

 

সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল

মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ডের যে রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দিয়েছিল, পুনর্বিবেচনায় তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনে খালাস চেয়েছিলেন একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায় পুনর্বহাল চেয়েছিল। গত রবি ও সোমবার শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ দুটি রিভিউ আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সকল বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটল এবং তার আমৃত্যু কারাদন্ডের রায়ই বহাল থাকল। ৭৭ বছর বয়সী সাঈদী বর্তমানে আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। ২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে তিনি কারাবন্দী। রিভিউ রায়ের পর তার ছেলে মাসুদ-বিন- সাঈদী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেলাম না, ন্যায় বিচার হলো না। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, একদিনের সাজাও প্রাপ্য ছিল না।’

আর এই জামায়াত নেতার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যেহেতু সর্বোচ্চ আদালতের রায়, তাই ক্ষোভ-দুঃখ যাই থাকুক না কেন, রায় মেনে নিতে হবে।’ অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাঈদীকে দেশ, সভ্যতা ও মানুষের জন্য ‘ক্ষতিকর’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপারধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং তদন্ত সংস্থার ব্যর্থতা ও দুর্বলতার কারণে সাঈদীকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। সাঈদী যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমনি, তার সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত।’

ফাঁসি থেকে আমৃত্যু সাজা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে একাত্তরে জামায়াত নেতা সাঈদীকে পিরোজপুরের মানুষ চিনত ‘দেইল্লা রাজাকার’ নামে। সে সময় রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন, তা উঠে এসেছে এ মামলার বিচারে। বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়। ওই রায়ের পর দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। ওই তান্ডবে প্রথম তিন দিনেই নিহত হন অন্তত ৭০ জন। এছাড়া বহু গাড়ি-দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের মন্দির-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এরপর সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেয়। তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ আসে। আপিলের রায়ের ১৫ মাস পর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে বিষয়টি রিভিউয়ের পর্যায়ে আসে। এরপর গতবছর ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচদিনের মাথায় খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী। দুটি আবেদনই খারিজ হয়ে যাওয়ায় এই যুদ্ধাপরাধীর আমৃত্যু কারাদন্ডের সাজাই বহাল থাকল।

তিন অপরাধে আমৃত্যুদন্ড
আপিলের রায়ে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরে বাধ্য করায় সাঈদীকে ‘যাবজ্জীবন’ কারাদন্ড দেয়া হয়। যাবজ্জীবন বলতে ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় পর্যন্ত’ কারাবাস বোঝাবে বলে ব্যাখ্যা দেয় আদালত। এছাড়া ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদন্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত বিচারে তা টেকেনি। অভিযোগ-১০:  ১৯৭১ সালের ২ জুন সকাল ১০টার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে তার সশস্ত্র সহযোগীরা ইন্দুরকানি থানার উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় হানা দিয়ে ২৫টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। যার মধ্যে রয়েছে চিত্তরঞ্জন তালুকদার, হরেণ ঠাকুর, অনিল মন্ডল, বিসাবালী, সুকাবালী, সতিশবালার ঘর। সাঈদীর ইন্ধনে তার সহযোগীরা বিসাবালীকে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করে। অভিযোগ-১৬:  স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সাঈদীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন সশস্ত্র রাজাকার পারেরহাট বন্দরের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি থেকে তার তিন বোনকে অপহরণ করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাদের আটকে রেখে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযোগ-১৯: স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে সাঈদী জোর করে মধুসুদন ঘরামী, কৃষ্ট সাহা, ডা. গণেশ সাহা, অজিত কুমার শীল, বিপদ সাহা, নারায়ণ সাহা, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল, নারায়ণ পাল, অমূল্য হাওলাদার, শান্তি রায়, হরি রায় জুরান, ফকির দাস, টোনা দাস, গৌরাঙ্গ সাহা, হরিদাস, গৌরাঙ্গ সাহার মা ও তিন বোন মহামায়া, অন্যরাণী ও কামাল রাণীসহ ১০০/১৫০ জন হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করেন।

রায়ে গণজাগরণমঞ্চের ক্ষোভ
মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ডের যে রায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দিয়েছিল, পুনর্বিবেচনায় তাতে কোনো পরিবর্তন না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।  সোমবার এক বিবৃতিতে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দেলোওয়ার হোসাইন সাইদীর মামলার রিভিউতে সর্বোচ্চ শাস্তির বদলে আমৃত্যু কারাদন্ডের রায়ে জনগণ ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। এই রায়ে জাতির আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মনে করেন তিনি। বিবৃতিতে ইমরান বলেন, দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়েও এই যুদ্ধাপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছিল।

 

দিলদার ও শাফাতের ব্যাংক হিসাব তলব, রেইনট্রিতে মদ

রিমান্ডে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে আপন জুয়েলার্স মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু রেগনাম গ্র“পের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ। তারা ওই দুই তরুনীকে ধর্ষনের জন্য জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ফাঁদ পেতেছিল বলেও স্বীকার করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে  রোববার ধর্ষনস্থল ঝালকাঠী-২ আসনের সংসদ সদস্য বিএইচ হারুনের ছেলের মালিকানাধীন রেইনট্রি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশী মদ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দারা। ওই হোটেলে  মদ রাখার কোন অনুমতি ছিল না। একইদিন আপন জুয়েলার্সের ৫টি বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা। পরে জুয়েলার্সের গুলশান শাখা সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে ‘ধর্ষক’ শাফাত আহমেদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুলিশ জানায়, ধর্ষণ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে শাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের ৫ ও ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শাফাত ও সাদমান তাদের জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন- ইমেকার্স ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের স্বত্বাধিকারী নাঈম আশরাফ, শাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

রেইনট্রি হোটেলে অভিযান : রোববার দুপুর ১২টায় হোটেল রেইনট্রিতে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মইনুল খান বলেন, ‘হোটেলের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’ হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফ্র্যাংক ফরগেট জানিয়েছিলেন, হোটেলটির মদের লাইসেন্স নেই। অভিযোগ রয়েছে, এমপিপুত্রের মালিকানাধীন এই হোটেলটিতে প্রতি রাতেই জমে ওঠে মদের আসর। পুলিশ ও শুল্ক গোয়েন্দারা এসব বিষয় জানলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বনানী থানার ওসি, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জোনের পরিদর্শক, শুল্ক গোয়েন্দা অদিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে আতাত করেই চলছিলেন। মদ-নারীসহ সবকিছুই মিলতো ওই হোটেলে।

আপন জুয়েলার্সে অভিযান : আপন জুয়েলার্সের মালিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই অলঙ্কার ব্র্যান্ডের পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে একটি শোরুম সিলগালা করে দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। গতকাল রোববার এই অভিযান চালানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেছেন, ‘স্বর্ণ ও রতœ সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের অবৈধ সম্পদের’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আপন জুয়েলার্স যে সোনা ও ডায়মন্ড বিক্রি করে, তা সংগ্রহের সোর্স স্বচ্ছ নয়। অভিযোগ আমলে নিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা। এই পরিবারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে এই তদন্ত চালাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে রোববার বেলা ১১টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ভ্যাট কর্মকর্তারা ছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দেন এই অভিযানে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়ার পর এ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার শাফিউর রহমান বলেন, ‘আমরা এটা সিলগালা করেছি। এখন এটা খুলতে হলে তাদের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমরা দেখব- সেখানে তাদের কী পরিমাণ মালামাল মজুদ আছে।’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, ‘শো রুমগুলোতে আমরা স্টক চেকিং করছি। দেশে তো স্বর্ণের আমদানি নেই। তারপরও তারা এগুলো কোথা থেকে কীভাবে এনেছে বৈধ উপায়ে আনলে ভাল, না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেব।’ দিলদার আহমেদের নামে দেশে-বিদেশে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে গত বৃহস্পতিবার একটি চিঠিও পাঠিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানের বিষয়ে দিলদার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। দিলদারের বড় ছেলে সাফাত আহমেদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর একটি বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে বনানী থানায় একটি মামলা হয় এক সপ্তাহ আগে। ওই মামলার অপর আসামিদের মধ্যে দুজন সাফাতের বন্ধু, বাকি দুজন তার দেহরক্ষী ও গাড়িচালক। গত বৃহস্পতিবার সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী বলেছেন, ‘ধর্ষণের পর সাফাত তাকে বলেছিলেন, তারা সোনা চোরাচালান করেন। দুই একটা খুন বা ধর্ষণ করে পুলিশকে টাকা দিলে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।’

ব্যাংক হিসাব তলব : বাংলাদেশ ব্যাংক আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের সব ব্যাংক হিসাব চেয়ে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দারা বেশ কয়েকদিন ধরে কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে তাদের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোর কাছে। শুধু ব্যাংক হিসাবই নয়, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বাইরে তারা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে।’ এর আগে বৃহস্পতিবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্যাদি চেয়ে চিঠি দেয়। একই দিন পুলিশও তাদের যাবতীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ রাতে রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে ওই দুই তরুণী গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

 

সাঈদীর মামলায় রিভিউ শুনানি ফের আজ

একাত্তরের মানবতাবিরোধঅ অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া সাজার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চে  রোববার বেলা ১২টার দিকে এই রিভিউ শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিন প্রায় এক ঘণ্টা শুনানির পর এ মামলার কার্যক্রম সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সাঈদীর পক্ষে প্রথমে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনে খালাস চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বহাল চাওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে রায় দেয়, তাতে সাজা কমে আমৃত্যুকারাদণ্ডের আদেশ আসে। আপিলের রায়ে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরে বাধ্য করায় সাঈদীকে ‘যাবজ্জীবন’ কারাদণ্ড দেয়া হয়। যাবজ্জীবন বলতে ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় পর্যন্ত’ কারাবাস বোঝাবে বলে ব্যাখ্যা দেয় আদালত। এছাড়া ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেও্য়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল। আপিলের রায়ের ১৫ মাস পর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে বিষয়টি রিভিউয়ের পর্যায়ে আসে। এরপর গতবছর ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচদিনের মাথায় খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী।

দেশের অর্ধেক মানুষই বোঝেনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, প্রকৃত জ্ঞান না থাকায় দেশের অর্ধেক মানুষই বোঝেনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সর্বস্তরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিচারকদের আরও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এসময় সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ হিসেবে বাংলাদেশের আইন ও দন্ডবিধির রিভিউয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত ‘ওয়াচ ডগের’ ভূমিকা তা কার্যকর ভাবে পালন করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অন্য তিন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের রূপ রেখা নির্ধারণ করা সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে কাজ করে আসছে সর্বোচ্চ আদালত। রাষ্ট্রের অন্য প্রধান দুই অঙ্গ যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে সর্বোচ্চ আদালত নিরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেনা। আইনের বিভিন্ন বিধির সীমাবদ্ধতা থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত সব সময় সংবিধানের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে কাজ করে থাকে। এটা অস্বীকার করবার উপায় নেই যে একটি দেশের জনগণের তাদের বিচার বিভাগ ও আইনের প্রতি যে আত্মবিশ্বাস থাকে তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন-গণভবন কত দূর: আপিল বিভাগ

সরকার আড়াই বছরেও অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গতকাল সোমবার প্রশ্ন রেখেছেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি ফাইল বঙ্গভবন ও গণভবনে যেতে কতদিন সময় লাগে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এর আগে গত ৪ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারকে ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছিল, ওই সময়ের পর আদালত সরকারের আর কোনো ‘অজুহাত’ শুনবে না। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সোমবার আপিল বিভাগের কাছে আরও দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ সরকারকে আরও এক সপ্তাহ সময় দেয়। সকালে আদালত বসার পর অ্যাটর্নি জেনারেল একটি ফাইল উপস্থাপন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এটা কি সময়ের আবেদন? আমরা তো ভেবেছি গেজেট।’ এরপর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন- ‘বলেন তো, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর কোনটা?’ উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন- ‘টোকিও’। প্রধান বিচারপতি এ সময় বলেন, ‘আমি তো জানতাম নিউ ইয়র্ক।’

 রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম এ সময় বলেন, ‘আপনার হিসেবে নিউ ইয়র্ক, আমার মনে হয় টোকিও।’ এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘বলেন তো, নিউ ইয়র্ক থেকে টোকিও যেতে কত সময় লাগবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল চুপ করে থাকলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার তো মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শহর ঢাকা।’ তিনি আবার জানতে চান- ‘সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন আর গণভবনের দূরত্ব কত?’ এবারও নিশ্চুপ থাকেন মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার মনে হয় লক্ষ মাইলেরও বেশি, কারণ একটি ফাইল সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন আর গণভবনে যেতে আড়াই বছরের বেশি সময় লাগে। মনে হয়, আড়াই বছরেও পাড়ি দেওয়া যাবে না।’ সময় বাড়ানোর আদেশ দেওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘এর আগেও আপনি সময় চেয়েছিলেন, আমরা মঞ্জুর করেছি। আপনার কাছে এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ যা, দুই বছরও একই। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এটা আমরা করব।’

ঘটনাক্রম
মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থি ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থি বলে গত ২৮ আগাস্ট শুনানিতে জানায় আপিল বিভাগ।

এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় দেওয়া হলেও সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় গত ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলব করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দুই সচিবের হাজিরার আগে ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি নোটিসে বলা হয়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক পরদিন আদালতের তলবে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিধিমালা নিয়ে ‘রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। সেদিন শুনানি করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। এরপর আরও আট দফায় প্রায় পাঁচ মাস সময় পেল সরকার।

আনসারুল্লার চার সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার এলাকা থেকে  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) দাওয়া শাখার চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তারা সিরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। গত রোববার সন্ধ্যায় গ্রেফতাররা হচ্ছে- এবিএম সোহেল-উদ-দৌলা ওরফে সোহেল, আহাদুল ইসলাম সাগর, জগলুল হক মিঠু এবং তোয়াসিন রহমান। এদের মধ্যে সোহেল আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি ব্লগার হত্যার পরিকল্পনা করার দায়িত্বে ছিলেন। অন্যরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, দুটি নোটবুক, দুটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট, কিছু জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে  সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম  জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামীরা দাওয়াতী শাখার পাশাপাশি ব্লগারদের হত্যার পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিল। তারা পলাতক জঙ্গি হাসান ওরফে রেজার মাধ্যমে ২০১৪ সালে সংগঠনে যোগদান করে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে তারা সকলেই টেলিগ্রাম অ্যাপস ও টুটানোটা মেইল ব্যবহার করত।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্যরা বিশ্বাস করে প্রকৃত জিহাদি হতে হলে যে জায়গায় সত্যিকারের জিহাদ হচ্ছে সেসব জায়গায় প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রকৃত ‘মুজাহিদিনের’ কাছ থেকে জিহাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ ধারণা থেকে তারা জিহাদ করতে আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তাদের ভাষায় সেখানে প্রকৃত জিহাদ চলমান রয়েছে। আফগানিস্তানে যাওয়া সহজ না হওয়ায় সিরিয়ার যে কোন অঞ্চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। কিন্তু সিরিয়ায় যেতে হলে অন্যান্য দেশের ভিসা দিয়ে পাসপোর্ট ভারী করতে হবে বলে সেখানেও তারা যেতে পারেনি।

গ্রেফতাররা পলাতক জঙ্গি জিয়ার অনুসারী কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা একই সংগঠনের। তবে সোহেল কিংবা বাকিদের সঙ্গে মেজর জিয়ার কখনো দেখা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বা তারা স্বীকার করে নাই। এছাড়াও আরো বেশ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি কিন্তু তদন্ত ও কৌশলগত কারণে আমরা মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করতে পারছি না।
সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘গ্রেফতারদের মধ্যে সোহেল মূলত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং বাকি তিনজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের সিরিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছিল সোহেল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোহেল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বিদেশে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পলাতক নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।’

 

এমপি রানার জামিন ৪ মাস স্থগিত

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি কারাবন্দি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে সোমবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। সেইসঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে এই হত্যা মামলার বিচার শেষ করতে বলে আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম; রানার পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল  বলেন, এমপি রানার জামিন চার মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আদালত ছয় মাসের মধ্যে এই মামলার বিচারকাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

বিস্তারিত আসছে…

 

আশুলিয়ায় বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ দুই ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার

ঢাকার আশুলিয়া থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে ইমরান ও রফিক নামের ওই দুই তরুণকে তারা গ্রেপ্তার করেন।

তিনি বলেন, “তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।” পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে মুফতি মাহমুদ জানান।

 

হলি আর্টিজানের নিব্রাশও ঝিনাইদহে কিছুদিন ছিল

গত ৫ মে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার শামীমই জিজ্ঞাসাবাদে মহেশপুরের বজরাপুর জঙ্গি আস্তানার সন্ধান দেয় বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুলিশানের হলি আর্টিজানের হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ঝিনাইদহে কিছুদিন ছিল। শামীম তাকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। রোববার বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ঝিনাইদহ অভিযান সম্পর্কিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। মনিরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার পুলিশ ঝিনাইদহ থেকে শামীম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানান, ‘ঝিনাইদহে তার বাড়ির নিচে বিস্ফোরক আছে। এছাড়া আরও একটি জঙ্গি আস্তানার খবর তিনি জানেন। শামীম সংগঠনটির আঞ্চলিক সমন্বয়ক ছিলেন।’ তিনি বলেন, ঝিনাইদহেই হলি আর্টিজানে অন্যতম হামলাকারী নিবরাস বেশ কিছুদিন ঝিনাইদহে ছিলেন। সে সময় নিবরাসের সঙ্গে শামীমের যোগাযোগ ছিল বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

শনিবার রাতেই কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল করিমের  নেতৃত্বে একটি দল শামীমকে নিয়ে ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। রোববার ভোরে সেখানে পৌঁছে শামীমের বাড়িতে ব্যাগের ভেতর থেকে পুলিশ বিস্ফোরক উদ্ধার করে। পরে শামীমই দ্বিতীয় আস্তানাটি দেখিয়ে দেয়। তার তথ্য অনুযায়ী রোববার ভোরে  সেখানে অভিযান চালায় সিটিটিসি।

মনিরুল বলেন, ‘হলি আর্টিজানের হামলাকারী নিব্রাশসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি ঝিনাইদহে অবস্থানকালে তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতো শামীম। সে জেএমবির সদস্য ছিল পরে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়। তার সঙ্গে হলি আর্টিজান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীরও ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল।’

মনিরুল জানান, ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। আস্তানার মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য। অভিযানকালে আহত হয়েছেন কাউন্টার টেররিজমের এডিসি নাজমুল ইসলাম ও পুলিশের এসআই মহসিন। তাদের মধ্যে নাজমুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। ঝিনাইদহের বজরাপুরে আরও একটি আস্তানায় অভিযান চলছে। ১৪৪ ধারা জারি করে ওই এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে ঢাকা থেকে বোম্ব ডসপোসাল ইউনিটের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।
 
জঙ্গিরা সাম্প্রতিককালে কেন বর্ডার এলাকায় আস্তনা গড়ে তুলছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন জণসাধারণের মধ্যে সচেতনা তৈরি হয়েছে। তারা সহজে যাচাই বাছাই ছাড়া কাউকে বাসা ভাড়া নিতে দেয় না। ফলে জঙ্গিদের নতুন বাসা ভাড়া নিতে শহর অঞ্চলে কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।  তিনি বলেন, জঙ্গি আস্তনাগুলোতে তারা নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহে রাখে। মূলত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘায়েল করতে তারা এসব ব্যবহার করে থাকে।

 

বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা: গ্রেপ্তার শহীদের মুক্তি

শ্রীপুরে বাবা-মেয়ের ট্রেনের নীচে আত্মহত্যার মামলার আসামি মনে করে যে শহীদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছিল, একদিন পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। শ্রীপুর থানার এসআই মো. কায়সার বলেন, ওই শহীদ মামলার আসামি নন বলে বাদী শনাক্ত করার পর বুধবার সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এসআই কায়সার জানান, মঙ্গলবার রাতে শ্রীপুর কর্ণপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা মো. শহীদুল ইসলাম শহীদকে (৪০)। তিনি শ্রীপুর থানার কর্ণপুর গ্রামের মো. নাজির উদ্দিনের ছেলে।

“কিন্তু তাকে রেলওয়ে থানা পুলিশে হস্তান্তরের আগে শনাক্ত করতে গিয়ে বাদী হালিমা বেগম বলেন ওই শহীদ মামলার আসামি নন। তিনি অন্য শহীদ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. ইয়াসিন জানান, ট্রেনের নীচে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি শহীদ গ্রেপ্তারের খবর শুনে বুধবার বিকালে রেলওয়ে থানার এএসপি (সার্কেল) মো. ওমর ফারুক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলী আকবর শ্রীপুর থানায় যান।

পরে তারা ওই ঘটনা জানতে পারেন। এরপর বাদীকে দিয়ে শনাক্ত করার পর ওই শহীদ শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছ রেখেইে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরে যান বলে জানান ইয়াসিন। শ্রীপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের কর্নপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্ত এ শহীদ মামলার আসামি শহীদ নয় বলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত শনিবার ওই মামলার এজহারভুক্ত আসামি গোসিঙ্গা ইউপির এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবুল হোসেন ওই মামলার ৭ নম্বর আসামি। এক নম্বর আসামি মো. ফারুকসহ অন্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলাপুর রেলওয়ে থানার এসআই মো. আলী আকবর জানান, বসত ঘরের জায়গা দখল চেষ্টা এবং স্থানীয় কর্নপুর ভিটিপাড়া গ্রামের মো. হযরত আলী ও তার আট বছরের শিশু আয়শা নির্যাতনের সুবিচার না পাওয়ায় গত শনিবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনের নীচে পড়ে বাবা মেয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনার প্ররোচণার অভিযোগে ওইদিনই শ্রীপুর থানা পুলিশ গোসিঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার আবুল হোসেনকে আটক করে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশে দেয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে দুইদিনের রিমান্ড নেয় পুলিশ।

ঘটনার পরদিন রোববার নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম গ্রেপ্তার ওই মেম্বার ও শহীদসহ সাত জনের বিরুদ্ধে কমলাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

আদাবরে হিযবুত সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর আদাবর থেকে জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২। তার নাম তমাল উদ্দিন। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০১৪ সালে  মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী বলে র‌্যাব-২ এর এএসপি ফিরোজ কাওসার জানান। তিনি বলেন, তমাল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

‘আনসারউল্লাহর আইটি প্রধান’ গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলাটিমের ‘তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের প্রধানকে’ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ওই জঙ্গির নাম আশফাক উর রহমান নয়ন। সে আরিফ ও অনিক নাম ব্যবহার করেও জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

সোমবার রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইউসুফ আলী জানান। তিনি বলেন, পরে সংবাদ সম্মেলন করে নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

২০১৩ সালে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তৎপরতার খবর আসে। সংগঠনটির আমির মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী ওই মামলার রায়ে দোষি সাব‌্যস্ত হয়ে কারাভোগ করছেন।

২০১৫ সালের মে মাসে নিষিদ্ধ হওয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিম লেখক অভিজিৎ রায় হত‌্যাসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলা ও হত‌্যার ঘটনায় জড়িত বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।

 

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনের ভাস্কর্য ঘিরে যেন অরাজকতা না হয়: আইনমন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভাস্কর্য সরানো নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সেটা ঘিরে যেন কোনো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ তৈরি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি। এখানে যখন ভাস্কর্য বসানো হয়, তখন সেটা আমাদের জানানো হয়নি; সরানো হবে কিনা, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত প্রধান বিচারপতিই নেবেন। যখন এই ভাস্কর্যের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে কিছু বিপরীত যুক্তি আসছে, তখন আমাদেরকে দেখতে হবে, সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এখানে যেন কোনো অরাজক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটা সকলের বিবেচনা করা উচিত। তাহলে রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে তৈরি ওই ভাস্কর্য সুপ্রিম কোর্টের পবিত্রতাকে কলুষিত করেছে কিনা- সে প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বলেছি, এটা কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে, সেটা ধরে আপনারা বুঝে নেন আমি কী বলতে চাইছি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ন্যাশনাল ‘ইন্টারন্যাশনাল লেবার স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড লেবার লেজিসলেশন ফর জাজেস অ্যান্ড জুডিসিয়াল অফিসার্স’ শীর্ষক ট্রেইনিং কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এই অনুষ্ঠান শেষে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে আমৃত্য কারাদণ্ড বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় যেটা বেরিয়েছে সেটা যদি আমি না পড়ে একটা কথা বলি, তাহলে সেটা অন্য রকম হয়ে যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিটা যদি আজকে পাই, সেটা পড়ে কয়েকদিনের মধ্যে সে বিষয়ে কথা বলব। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রম আদালতের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শ্রমিকরা সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, দেখা যায়, ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকার জন্য শ্রমিকরা আদালতে যায়। কিন্তু বিচারে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আবার আপিল হয়। আপিলের পরেও যদি পক্ষে রায় আসে, তারপরও মালিকপক্ষ আবার হাই কোর্টে গিয়ে বিরুদ্ধে রিট করে। তখন শ্রমিকরা আর বিচার এগিয়ে নিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক আপিল ব্যবস্থার শ্রম আপিল আদালতে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কি-না সে প্রস্তাব আইনমন্ত্রীর কাছে রাখেন তিনি। বিচারপ্রাপ্তির পথ সহজ করার জন্য মতিঝিলে একই ভবনে থাকা তিনটি শ্রম আদালতের দুটিকে নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে সরানোর দাবি জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

প্রয়োজনে শ্রম মন্ত্রণালয় সেজন্য আলাদা ভবন করে দিতে রাজি আছে বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নাগরিকের বিচারপ্রাপ্তির যে ধারা সেটাতে হাই কোর্টে রিট করার সুযোগ দিতে হবে মালিকপক্ষকে। তবে শ্রম আদালতেও অর্থ ঋণ আদালতের মতো পাওনার অর্ধেক আগেই পরিশোধ করার বিধান রাখা যায় কিনা, সে বিষয় দেখা যেতে পারে। শ্রম মন্ত্রণালয় জায়গা করে দিলে দুটি আদালত ‘অবশ্যই’ নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সিলেট ও রংপুর জেলায়ও শ্রম আদালত করার শ্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে বলে মন্তব্য করে আনিসুল হক। বিচার প্রশাসন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি মুসা খালেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন, আইএলওর দেশীয় পরিচালক শ্রিনিবাসন বি রেড্ডি বক্তব্য দেন।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তারেকের শাশুড়ি

দুদকের এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা গতকাল রোববার শুনানি করে তার জামিন মঞ্জুর করেন। দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ১২ এপ্রিল এ আদালতই ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিল।

তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু গতকাল সকালে আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে আসেন অ্যাম্বুলেন্সে করে। আত্মসমর্পণের সময় আসামির এজলাসে উপস্থিতির নিয়ম থাকলেও ইকবাল মান্দ বানু আদালত ভবনের নিচে অ্যাম্বুলেন্সেই অবস্থান করেন।

তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জামিনের আবেদন করে আদালতকে বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি আত্মসমর্পণের জন্য উপরে উঠতে পারেননি। পরে আদালতের নির্দেশে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম নিচে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ইকবাল মান্দ বানুকে দেখে আসেন এবং তার বক্তব্য শুনে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন। এ জে মোহাম্মদ আলী ছাড়াও মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সানউল্লাহ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন শুনানিতে। ইকবাল মান্দ বানু সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্ত্রী। তাদের মেয়ে জোবাইদা খানের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিয়ে হয়।

জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ২৯ মে তারেক রহমানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেয় দুদক। এরপর ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় দায়ের করা ওই মামলায় তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকেও আসামি করা হয়। অবৈধ সম্পদ অর্জনে তারেক রহমানকে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। ওই মামলার অনুসন্ধান চলাকালে ইকবাল মান্দ বানুর নামে-বেনামে ‘বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পেয়ে’ তার সম্পদের হিসাব চেয়ে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি আলাদা নোটিস পাঠায় দুদক। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক আর কে মজুমদার ঢাকার রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করেন। দুদকের উপ-পরিচালক আবদুস সাত্তার সরকার তদন্ত শেষে গতবছর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এর বিরুদ্ধে রিট আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন তারেকের শাশুড়ি। কিন্তু হাই কোর্ট তা খারিজ করে দিলে মামলার কার্যক্রম চলার বাধা কাটে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী এ মামলায় তিন বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা অর্থদন্ড হতে পারে।

বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

নাশকতার মামলায় আজিজুল বারী হেলালসহ বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার এক ন¤॥^র বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন। যাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর সরাফত আলী সপু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মারুফ কামাল খান সোহেল।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল বলেন, পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৭ মে দিন রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডাকা হরতালে রাজধানীর ওয়ারি থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ মামলা করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারি থানার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন ২০১৬ সালের ৭ জুলাই বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, হাবীব উন নবী খান সোহেল, মীর সরাফত আলী সপু, শিমুল বিশ্বাস ও আজিজুল বারী হেলালসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় আমান উল্লাহ আমানসহ ২১ জন জামিনে আছেন।

বিনা বিচারে বন্দিদের ক্ষতিপূরণ আইন চান বিচারক

বিনা বিচারে বা বিলম্বিত বিচারে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির পর তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের উপর জোর দিয়েছেন হাই কোর্টের একজন বিচারক।

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সম্মেলন কক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। এবিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি চাপ তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ইনায়েতুর রহিম বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এসব মানুষ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আইনি সহায়তায় তারা জামিনে মুক্তি পেলেও অর্থের অভাবে কিছু করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তিদের পুর্নবাসন প্রয়োজন। সরকার এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেবেন। এবিষয়ে আদালত নিজেও যে কোনো আদেশ দিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গত ৮ মার্চ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিনা বিচারে বন্দিরা ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা বিনা অপরাধে আটক রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট আটককারী কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। তাছাড়া যদি কেউ রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তবে আইনে সে বিধানও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বরত সাংবাদিকদের নিয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’ নামে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অফিস উদ্বোধনের পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি ৫৫৫টি মামলায় আইনি সহায়তায় যুক্ত হয়। এর মধ্যে ২৯৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৩২ জন বিচারপ্রার্থীকে মৌখিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারা মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী  মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ৫ থেকে ১০ বছর ধরে বন্দি ৪৬২ জনের বিষয়ে আদালতের নজরে আনা হলে ১৮ জন পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। বাকী ৪০৪ জনের বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ ও জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সহকারী পরিচালক আবিদা সুলতানা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব টাইটাস হিল্লোল রেমা।



Go Top