সকাল ১১:০৪, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ খুলনা

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় চিত্তরঞ্জন বাইন নামের এক কলেজ শিক্ষককে হত্যা মামলার আসামি আজিজুলকে (২৩) নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে গোলাগুলিতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আসামি আজিজুল। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল উদ্দিন, মো. আব্দুল হান্নান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুন হোসেন ও শুভেন্দ্র কুমার পাল। রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর বাগমারা প্রধান সড়কে শাহানারা বেগমের বাড়ির দক্ষিণ পাশে মো. নাসির উদ্দিনের ধানী জমির উত্তর পাশে কলা গাছের ঝোপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহত খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম  বলেন, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার আসামি আজিজুলকে রাত ১১টার সময় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়া হয়। অভিযানে আজিজুলের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে আমিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। আসামি আজিজুল গুলিবিদ্ধ হলেও তার সহযোগিরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি এম এম পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা রয়েছে। শিক্ষক হত্যা মামলাসহ আসামি আজিজুলের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাতে শহীদ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইকে হত্যা এবং তার বাড়ির মালামাল লুট করা হয়।

দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট

খুলনা প্রতিনিধি: দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় ১২ দফা দাবিতে ২৩ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।  শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস কাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ধর্মঘটের ডাক দেয় দণি-পশ্চিমাঞ্চল (২১ জেলা) পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল গফফার বিশ্বাস।

খুলনায় পাট গুদামে আগুনে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় খান জাহান আলী জুট ট্রেডিং নামে পাটগুদামে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।  বুধবার দুপুর ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকান্ডে ২০ লাখ টাকা মূল্যে মাল য়তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিগ্রস্ত জুট টেডিংয়ের মালিক শেখ সেলিম ও তার বাবা আকতার।
এলাকাবাসী  জানায়, দুপুরে হঠাৎ করে পাটগুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে আগুনের শিখা দেখা যায়। তাৎণিকভাবে খবর পেয়ে খুলনা ও দৌলতপুর ফায়ার স্টেশনের নয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আড়ংঘাটা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে  জানান, আগুন পাটগুদাম ছাড়াও পাশের কয়েকটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাৎণিকভাবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

খুলনায় কলেজ শিক্ষক খুন

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা নগরে নিজ ভাড়া বাসা থেকে এক কলেজ শিক্ষকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডের আমতলা মোড়ের বাসায় চিত্তরঞ্জন বাইনের (৪৫) মৃতদেহ পাওয়া যায় বলে খুলনা সদর থানার এসআই তাপস পাল জানিয়েছেন। নিহত চিত্তরঞ্জন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া এলাকার ‘শহীদ শেখ আবু কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের’ ইংরেজির প্রভাষক ছিলেন।

শেরে বাংলা রোড আমতলার মোড়ে মো. আব্দুল মজিদের বাড়ির প্রথমতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন তার জেঠা চিত্তরঞ্জন। চিত্তরঞ্জনের ভাতিজা বাপী গাইন জানান, তার জ্যাঠিমা (চিত্তরঞ্জনের স্ত্রী) লাকি গোলদার এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়ি বটিয়াঘাটার ঝড়ভাঙ্গা গ্রামে বেড়াতে যান। সঙ্গে তাদের দুই মেয়ে প্রমা (৮) ও ছয় মাস বয়সী প্রাপ্তিকে নিয়ে যান। শনিবার রাতে বাসায় একা ছিলেন চিত্তরঞ্জন। রাতের কোনো এক সময় জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে চিত্তরঞ্জনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে স্টিলের আলমারি ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বাপী বলেন, রোববার বেলা ১১টার দিকে চিত্তরঞ্জনের মোবাইল ফোনে স্ত্রী লাকি গোলদার একাধিকবার কল দিলেও তা রিসিভ না করায় লাকি বিষয়টি তার শ্বশুর রতন গোলদারকে জানান। পরে রতন গোলদার সেখানে গিয়ে চিত্তরঞ্জনকে ডাকাডাকি করলে ভিতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের জানালার দিকে যান। সেখানে দেখতে পান জানালার গ্রিল কাটা। পরে কাটা জানালা দিয়ে একজন ঘরে ঢূকে দরজা খুলে দেয়। শয়নকক্ষে খাটের উপর চিত্তরঞ্জনের মৃতদেহ পড়েছিল বলে বাপী জানান। এসআই তাপস পাল বলেন, চিত্তরঞ্জনের দুই হাত, দুই পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথার ডান পাশে ও ডান পায়ে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মাথা ও পায়ে আঘাতে রক্ত জমে থাকার চিহ্ন দেখা গেছে। খুলনা থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল তৈরি ও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে জানান তাপস।

 

আ’ লীগে অনুপ্রবেশকারীরা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায় : ইনু


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা দিনের বেলায় আওয়ামী লীগ হলেও রাতের বেলা পুরোনো রূপ ধারণ করে। দেশের চলমান উন্নয়ন যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে এ সব কুচক্রি মহলকে প্রতিহত করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা জাসদ কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আমবাড়ীয়ায় লুৎফর রহমান সাবু হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে ইনু বলেন, হত্যাকারীরা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এ হত্যাকান্ডের পর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলনের বাড়ি ও উপজেলা জাসদ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান।

 উপজেলা জাসদের সভাপতি মহম্মদ শরীফের সভাপতিত্বে এ সময়ে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আত্মসমর্পণ করা ১২ দস্যু কারাগারে

বাগেরহাট প্রতিনিধি : স্বরাষ্ট্রন্ত্রীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করা সুন্দরবনের ১২ দস্যুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।  রোববার দুপুরে বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেট মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন নোয়া বাহিনী প্রধান বাকি বিল্লাহ ওরফে নোয়াসহ ১২ দস্যু। এসময় তারা দেশি-বিদেশি ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক হাজার ১০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন। শনিবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের পর বাগেরহাটের মংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এ পর্যন্ত নোয়া বাহিনীসহ সুন্দরবনের আট দস্যু বাহিনীর ৭৬ দস্যু র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৮ এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন। ৭৬ দস্যুর মধ্যে অধিকাংশই এখন জামিনে মুক্ত।

‘আমাকে পুলিশ ধরেছিল তবে নির্যাতন করেনি’


যশোর প্রতিনিধি : যশোরে চাঁদা আদায়ের জন্য এক যুবককে ধরে নিয়ে থানায় উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, থানার মধ্যে ওই যুবকের দুই পায়ের মাঝে কাঠ রেখে পিঠমোড়া দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।


অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। আর ঘটনার শিকার আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের মাদক বিক্রেতা নুরুল হকের ছেলে। তবে আবু সাঈদ ওই দিন আটক হলেও তার ওপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি বলে দাবি করেছেন। আর ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত বুধবার সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আবু সাঈদকে আটক করে কোতোয়ালি পুলিশের সিভিল টিম।

 আটকের পর তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হাতকড়া পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে কাঠ দিয়ে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে পেটানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই রাতেই ছাড়া পায় সাঈদ। কোতোয়ালি থানায় পিঠমোড়া দিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের এই ছবি বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে।

 পুলিশের সিভিল টিম তুলে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে সিভিল টিম মাঠে থাকায় এবং তাদের হাতে এমন ঘটনা ঘটায় পুলিশের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, থানায় নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মো. আবু সরওয়ারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 তবে ভুক্তভোগী আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করছে। এই ছবি ও খবর নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শুক্রবার দুপুরে আবু সাঈদ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রেসকাব যশোরে আসেন। প্রেসকাবে সাঈদ দাবি করেন, বুধবার পুলিশের সিভিল টিম তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলার খোঁজ-খবর নেয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। সাঈদের দাবি, তাকে আটক করলেও পুলিশ তার ওপর কোনো নির্যাতন চালায়নি এবং ছেড়ে দেয়ার জন্য কোনো টাকাও নেয়নি।

ঘটনার শিকার আবু সাঈদের মা রোমেছা বেগম, বাবা নুরুল ইসলাম ও ভাই আশিকুর দাবি করেন, পুলিশ আবু সাঈদকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টাকা পয়সা লেনদেন কিংবা মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনিতেই পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। ছাড়া পাওয়ার পর পলাতক ছিল আবু সাঈদ। এমনকি শুক্রবার সকালে গিয়ে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনে দেখা মেলে আবু সাঈদের। এরপর দুপুরে তিনি প্রেসকাবেও আসেন।

 

 

যশোরে পুলিশি হেফাজতে যুবককে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়


যশোর প্রতিনিধি : যশোরে দু’লাখ টাকা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আবু সাঈদ নামে এক যুবককে থানার ভেতরে ঝুলিয়ে পেটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণ ঘটনা শুনেছেন জানালেও ওই যুবকের পরিবার তা অস্বীকার করেছে। তবে পুলিশ এ বিষয়ে এখনও কোন বক্তব্য দেয়নি। যশোর জেলা পুলিশের প থেকে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ছবিটি অনেক পুরনো। আবু সাঈদ নামে কাউকে সম্প্রতি ধরে এনে এমন নির্যাতন করা হয়নি।


সূত্র জানায়, যশোর সদর উপজেলার দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের কলেজপাড়ার নূরুল হকের ছেলে আবু সাঈদ। তাকে গত বুধবার রাতে আটক করেন কোতোয়ালি থানার এসআই নাজমুল, এসআই নাহিয়ান ও এএসআই হাদিবুর রহমান। পরে তার কাছে দু’লাখ টাকা দাবি করেন ওই দুই অফিসার। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আবু সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানার মধ্যে দুই টেবিলের মাঝে বাঁশ দিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো হয়। এ কথা তার পরিবার জানতে পেরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সে ওই রাতেই ছাড়া পায়। সাঈদকে ঝুলিয়ে মারপিটের এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড হয়।

 এরপর বিভিন্ন সংবাদও প্রকাশ হওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছেলেটি মাঝে মধ্যে নেশা করলেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তবে পুলিশের এ নির্মম নির্যাতন ও বাণিজ্য বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে এসআই নাহিয়ান জানান, ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। এদিকে অপর অভিযুক্ত এএসআই হাদিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। অভিযুক্ত এসআই নাজমুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি গত দুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাঈদ নামে কাউকে আটক বা ঘুষ গ্রহণের সাথে তিনি জড়িত নন।


এএসআই হাদিবুর রহমান বলেন, যা বলা হচ্ছে থানায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সাঈদের বড়ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, বুধবার রাতে আমার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আসমত আলী চাকলাদার দাবি করেছেন, সাঈদ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, পুলিশ আবু সাইদের উপর কোন নির্যাতন করেনি। তবে এ অভিযোগ ওঠায় ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নড়াইলে যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার


নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ মল্লিকের (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।


আশরাফের ভাতিজা আলমগীর মল্লিক আরব বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর লোহাগড়া বাজার থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন তার চাচা (আশরাফ)। প্রতিপরে লোকজন তার চাচাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে আশরাফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে আশরাফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও জানান ওসি।

খুলনায় পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২


খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার রূপসা উপজেলায় পিকনিকের বাস দুর্ঘটনা পড়ে দুই যাত্রী নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মো. রফিকুজ্জামান ও জহুরুল হক। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎণিকভাবে জানা যায় নি। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার তিলকের কুদী এলাকার বটতলা মোড়ে পিকনিকের বাসটির সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি বাসের সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা হয় বলে জানান খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান।

 স্থানীয়দের বরাত দিয়ে  তিনি জানান, সাতীরা থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পিকনিকের দুটি বাস যাচ্ছিল। এর মধ্যে একটি বাস রূপসা সেতু পার হয়ে তিলক পৌঁছালে একটি বাস এই দুর্ঘটনায় পড়লে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা যান। গুরুতর আহত ১০ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পিকনিকের বাসটিতে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বাসটি উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। আহতদের খোঁজখবর ও চিকিৎসার জন্য এনডিসিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

খুলনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় মাহিদ্রার ধাক্কায় সরোয়ার শেখ (৩৫) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।  সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহানগরীর গোয়ালখালি নয়াবাটি মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সরোয়ার খালিশপুর নয়াবাটি এলাকার শেখ বাড়ির মৃত হাতেম শেখের ছেলে।

খালিশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুর রহমান  বলেন, সরোয়ার শেখ তার মোটরসাইকেলে করে দৌলতপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহিন্দ্রা তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসআই আরও জানান, ঘটনার পর-পরই মাহিন্দ্রাটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। সরোয়ার শেখের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

 

খুলনায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি, পথচারী নারী নিহত

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতার দিকে ছোড়া গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়ে পথচারী এক নারী নিহত হয়েছেন।  শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে নগরীর দোলখোলার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও পথচারীরা জানান। নিহত শিপ্রা কুণ্ডু ব্যাংক কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন কুণ্ডুর স্ত্রী। এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এ মাহমুদ অক্ষত রয়েছেন। মাহমুদ ডন সাংবাদিকদের বলেন, সামসুর রহমান মানি ওয়েলফেয়ার সেন্টারে একটি কাজ শেষ করে একটু সামনে গিয়ে পরিচিত এক লোকের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। এ সময় মৌলভীপাড়ার দিক থেকে দুটি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আমার সঙ্গে থাকা লোকটি আমাকে ধাক্কা দিয়ে পাশের ওয়ালের উপর ফেলে দেয়। এতে গুলি আমার গায়ে না লেগে পাশের এক পথচারী নারীর বুকে গায়ে লাগে। ডন বলেন, ওই নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক এস এম মনোয়ারুল ইসলাম মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর ডন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। তখন মুখোশধারী হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি করতে করতে শীতলাবাড়ির মন্দিরের দিক দিয়ে চলে যায় বলে জানান তিনি। কারা গুলি করেছে জানতে চাইলে ডন বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা এ কাজ করেছে। তবে মুখোশ পরা থাকায় কাউকে চিনতে পারেননি তিনি। এর আগেও আগেও ডনের উপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসেছি। সন্ত্রাসীদের আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

শামুক বেঁচে শখ মেটায় ওরা

রাস্তার ধারে অনেকক্ষণ ধরেই অধীর আগ্রহে ছোট ছোট বস্তা নিয়ে বসেছিল ওরা। বস্তা ভর্তি শামুক। একজনকে আসতে দেখেই হইহই করে উঠে রনি, বিকাশরা। তাদের উল্লাসের কারণ শামুক কেনার মহাজনকে দেখে। এই শামুক বিক্রির টাকা দিয়েই এসব শিশুরা তাদের শখ মেটায়। পাশাপাশি পরিবারকেও সাহায্য করে।

শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ও লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিশুরা শামুক বিক্রি করে এভাবেই তাদের জীবন-জীবিকা চালাচ্ছে। শিশুরা শামুক বিক্রি করে যে টাকা পায় তা নিয়েই ছুটবে দোকানে। কিনবে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস। কেউ কেউ কিছু টাকা জমাবে বাবা-মায়ের কাছে। শার্শা উপজেলার গ্রামগুলোয় হতদরিদ্র শিশুর সংখ্যা আশপাশের এলাকার চেয়ে একটু বেশিই। পরের জমিতে শ্রম দিয়ে, মাছ ধরে, শামুক বিক্রি করে চলে তাদের জীবন।

অন্যান্য শিশুরা যখন স্কুলে গিয়ে এটা-ওটা কিনে খায়, তখন বিকাশ আর রনির মতো দরিদ্র পরিবারের শিশুরা তা চেয়ে চেয়ে দেখতো। তবে এখন আর তাদের বন্ধুদের খাবার দেখতে হয় না। স্কুল শেষে অবসর সময়ে তারা আশপাশের খাল-বিল ও বাওড় থেকে শামুক কুড়ায়। পরে ওই শামুক বিক্রি করে এটা-ওটা কিনে খায়। যেদিন শামুক বেশি পায়, টাকাও বেশি আসে। তখন বাবা-মায়ের কাছে থাকা জমানো টাকা নেয়।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বিকাশ জানায়, আগে স্কুলে যাওয়ার সময় মা-বাবার কাছে টাকা চাইলে দিতে পারতেন না। তাই স্কুলে বন্ধুরা যখন খাবার খায় তখন সে তাকিয়ে দেখতো। এখন স্কুল ছুটির পর শামুক কুড়ায়। প্রত্যেক দিন ৬ থেকে ৮ কেজি  শামুক পায়। বিকালে ওই শামুক গ্রামের নূর ইসলামের কাছে বিক্রি করে মিষ্টি কেনার জন্য কিছু রেখে বাকি টাকা সংসার খরচের জন্য বাবা-মাকে দিয়ে দেয়।

 

সে জানায়, প্রতি কেজি শামুকের দাম ৫-৭ টাকা। স্কুলে গিয়ে খরচার জন্য ১০ টাকা করে নিয়ে যায়। বাকি টাকা বাবা-মায়ের কাছে জমা রাখে। বাবা ওই জমানো টাকায় তার খাতা-কলম, ব্যাট-বল, কখনও জামা-প্যান্ট কিনে দেয়।  শামুক ক্রেতা নূর ইসলাম জানান, কুড়ানো শামুক বিক্রি করে বাচ্চারা তাদের শখ মেটায়। আর সংসার চলে।

৫-৭ টাকা কেজিতে শামুক কিনে শিশুদের ঠকানা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন জেলার মাছের ঘেরে ওই শামুক তিনি ১০-১২ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। পথে পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। পথের খরচ না থাকলে তিনি কেজিতে আরও ২/১ টাকা বেশি দিতে পারতেন।

পুলিশের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে নাভরণ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, এসব পথে পুলিশ কোনও গাড়ি আটকে টাকা নেয় না।

যশোরে ছবি তোলার নাম করে শিশু চুরি

যশোরে সরকারি সাহায্যের জন্য ছবি তোলার নাম করে আলী নামে নয়দিন বয়সী এক শিশু চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যায় অভিনব কায়দায় ৯ দিন বয়সী ছেলেশিশু চুরি হয়।

প্রতারণার মাধ্যমে এক মহিলা ওই শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির নানী।

আলী নামে ওই শিশুটি যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। সন্তান প্রসবের পর শিশুটির মায়ের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শিশুটির বাবা রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘নয় দিন আগে তার স্ত্রী তহমিনা নিজবাড়িতে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর তার স্ত্রীর জরায়ুর নাড়িতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোনও উন্নতি না হওয়ায় ১৯ নভেম্বর সকালে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার বিকেলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের কাছ থেকে এক মহিলা প্রতারণার মাধ্যমে শিশুটি চুরি করে নিয়ে যায়।’

শিশুটির নানি ফিরোজা বেগম জানান, ‘রবিবার বিকেলে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় গাইনি ওয়ার্ডে নাতিকে নিয়ে বসে ছিলাম। এ সময় অপরিচিত এক মহিলা তাকে বলেন, তোমরা গরিব মানুষ। তোমার নাতি ছেলের ছবি তুলে নিয়ে গেলে সরকার তোমাদের টাকা দেবে। সেই টাকা দিয়ে তোমার মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারবে।’

তিনি আরও জানান, ‘তার কথামত শহরের দড়াটানা মোড়ে ছবি তুলতে যায়। ছবি তোলার পর ওই অপরিচিত মহিলার কথামত শিশুটিকে নিয়ে আমি জেল রোডে কুইন্স হাসপাতালের তৃতীয় তলায় টাকা আনতে যায়। তখন ওই প্রতারক মহিলা শিশুটিকে তার কাছে দিয়ে ভেতরে যেতে বলে। আমি শিশুটিকে তার কোলে দিয়ে ভেতরে গিয়ে কিছু না পেয়ে ফিরে দেখি মহিলাটি উধাও।’

এ ব্যাপারে কোতয়ালী কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘কুইন্স হাসাপাতাল থেকে ৯ দিন বয়সী একটি শিশু চুরি হয়েছে শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

এমপি আনার হত্যা চেষ্টা মামলা: আরও এক আ.লীগ নেতা আটক

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা চেষ্টা মামলায় এবার আটক হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান অদু। সোমবার বিকালে উপজেলার কলাহাটা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (আশার আলো হোটেল) থেকে তাকে আটক করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত তিন আওয়ামী লীগ নেতা ও একজন সরকারি কর্মচারীসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার ও আটক করলো।
ওহিদুজ্জামান অদু কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির প্রচার সম্পাদক ও উপজেলার ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
এদিকে, গোপন একটি সূত্র জানায়, এ মামলায় কালীগঞ্জের দুই শীর্ষ স্থানীয় নেতাও জড়িত। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে তাদের নাম বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ তাদের নজরদারিতে রেখেছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। যেকোনও সময় তারাও গ্রেফতার হতে পারেন।
এমপি আনার হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান আলম জানান, মালিয়াট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের ১৬৪ ধারা জবানবন্দি মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অদুকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এ মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় নিয়ামতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদকে। তার স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার করা হয় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসের কর্মচারী (সার্ভেয়ার সহকারী) কওছার আলীকে। তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে গ্রেফতার করা হয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আজিজুর রহমান খানকে। আজকে আটক করা হলো সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান অদুকে।
উল্লেখ্য, ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা প্রচেষ্টা চালায় আট দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় এমপি আনারের পিএস আব্দুর রউফ বাদী হয়ে ২ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও তিনজনসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।

এক বছর পর দায়িত্ব ফিরে পেলেন খুলনার মেয়র

টানা ১ বছর ১৮ দিন পর খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বহিস্কৃত মেয়র মনিরুজ্জামান মনি সোমবার বিকালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল ১৩ নভেম্বর খারিজ হয়। এরপর সোমবার বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে মনির নগর ভবনে যান এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন।.” 
কেসিসির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু জানান, সোমবার বিকালে মেয়র মনিরুজ্জামান মনি নিজ দফতরে আসেন এবং চেয়ারে বসেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সুধীজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ জুন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। এরপর নাশকতার মামলায় ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন তিনি (নম্বর-৭০৭৯/১৬)। চলতি বছরের ৬ জুন হাইকোর্ট সরকারের আদেশকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল ইস্যু করে ও সাময়িক বহিস্কারাদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে ১০ আগস্ট চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে সরকার। ১৩ নভেম্বর শুনানি শেষে সরকারের ওই আপিল খারিজ করে দেন আদালত। এ দিন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির পর হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে সরকারের আপিল খারিজ করে দেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, মেয়র মনিরুজ্জামান মনির দায়িত্ব গ্রহণে নগরবাসী নতুনভাবে আশার আলো দেখছেন। হতাশা কেটে নাগরিকদের মুখে আবার হাসির ঝলক দেখা দিয়েছে। এ হাসিকে মনি তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আরও উজ্জ্বল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতার।
তিনি আরও বলেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিহিংসাপরায়ন সরকার গায়ের জোরে জনগণের রায়কে পদদলিত করে মিথ্যা, বানোয়াট মামলায় একজন জনপ্রতিনিধিকে তার দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছিল। মেয়র মনিরুজ্জামান মনির অনুপস্থিতির কারণে নগরবাসী তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। জনদুর্ভোগ ও জনভোগান্তি বাড়ছিল।
আমরা আশা করছি সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতের রায়কে মেনে নিয়ে তাকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনও জনপ্রতিনিধিকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
এদিকে, মেয়র হিসেবে মনির দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু ও আসাদুজ্জামান মুরাদ।

মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবার ওপর হামলা: ১৩ আসামির আত্মসমর্পণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বাবা শাহনুর বিশ্বাসের দুই পা হারানোর ঘটনায় ১৩জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার তারা ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট কাজি আশরাফুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করনে। আদালতের বিজ্ঞ বিচার তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।.

এর আগে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও মো. উল্লাহ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। পরে মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে মরিয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান আলম জানান, শাহনুরের ওপর হামলার ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর তার বড় ভাই সামাউল বিশ্বাস বাদী হয়ে ১৬জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ দুই নম্বর আসামি আজাদ, তিন নম্বর আসামি কোরবান আলী ও ৭ নম্বর আসামি লিখনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে লিখন জামিনে রয়েছেন। বাকি ১৩জন আসামি আজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আত্মসমর্পণ করতে আসা ১৩জন আসামি হলেন- মামলার প্রধান আসামি কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্ঠভাঙা ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, মাহাবুবুর বিশ্বাস, আজম, মোতালেব, আবু তালেব, হাসান, বিল্লাল হোসেন, জাহিদ হোসেন, রুহুল আমিন, শিপন ওরফে দুখু, এমদাদুল, আরিফ হোসেন ও বিপ্লব।
হাইকোর্টের জারি করা এই রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়। রুলে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদক দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার এসআই ইমরান আনম জানান, মেয়েকে উত্ত্যক্তের বিষয়ে নয়, সামাজিক কোন্দলের কারণে শাহনুরের ওপর উপরোক্ত ব্যক্তিরা হামলা চালায়। তাদের এজাহারে মেয়ের উত্ত্যক্তের বিষয় কোথাও লেখা নেই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে দুই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিচার চাইতে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে ও শাবল দিয়ে কুপিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নল ভাঙা গ্রামের শাহনুর বিশ্বাসকে আহত করে উত্ত্যক্তকারীরা। পরে মাহবুর ও কামাল মেম্বার শাহনুরের ডান পায়ে গুলি করে। এরপর শাবল দিয়ে বাম পায়ের গোড়ালি থেকে মাংস তুলে নেয় তারা। এ সময় মাহাবুর বলছিল, ‘টাকা যত লাগে আমার লাগবে। খুন করি ফেলা, মামলা মোকদ্দমা কিচ্ছু হবি না।’