সকাল ১০:১৮, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে বিদ্রোহীদের হামলায় তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। রোববার বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের সংঘর্ষের মধ্যে বোমার বিস্ফোরণে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন- সার্জেন্ট আলতাফ, ইএমই (দিনাজপুর), ল্যান্স কর্পোরাল জাকিরুল, আর্টিলারি (নেত্রোকোণা) ও সৈনিক মনোয়ার, ইস্ট বেঙ্গল (বরিশাল)।

আহত হয়েছেন মেজর জাদিদ, পদাতিক (ঢাকা), কর্পোরাল মহিম, পদাতিক (নোয়াখালী), সৈনিক সবুজ, পদাতিক (নওগাঁ) ও সৈনিক সরোয়ার, পদাতিক (যশোর)।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের গাঁও শহরে নেওয়া হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মালিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় শনিবার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ হয়।

“আমাদের শান্তিরক্ষীরা সফলভাবে তাদের প্রতিহত করে।” দায়িত্ব পালন শেষে রোববার ক্যাম্পে ফেরার পথে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর ফের হামলা হয়।

“সাহসিকতা ও সফলতার সাথে তারা পুনরায় সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করে। তবে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে তিনজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং চারজন আহত হয়।”

২০১৩ সালে মালির উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহর থেকে বিদ্রোহী জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তুয়ারেগদের হটিয়ে দেয় ফরাসি বাহিনী। এরপর ওই বছরই দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা হয়।

জাতিসংঘের এই মিশন ‘মিনুসমা’ নামে পরিচিত। এটাই জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

 

লন্ডনে অ্যাসিড হামলা, আহত ৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফের ‘অ্যাসিড’ হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ছয়জন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব লন্ডনের ওয়েস্টফিল্ডের বিপরীত পাশে স্ট্রাটফোর্ড সেন্টারে একটি শপিং মলে এ ঘটনা ঘটে।

কয়েকজন দুর্বৃত্ত ক্ষতিকর তরল পদার্থ লোকজনের ওপর ছুড়ে মারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এটি অ্যাসিড হামলা হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্টার্টফোর্ড শপিংমলের ভেতরে কয়েকজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপরই হামলা হয়। শপিং মলের বার্গার কিং নামে ফাস্টফুডের সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, ক্ষতিকারক তরল জাতীয় পদার্থ ছিটাচ্ছিল হামলাকারীরা। হামলার পর এক ব্যক্তি মুখ ধুতে যান। তার চোখে জ্বালাপোড়া করছিল। তিনি বারবার চোখেমুখে পানি দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক ব্যক্তি এক দল লোকের ওপর ক্ষতিকর পদার্থ স্প্রে করেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল থেকে ১৫ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীকেও খবর দেওয়া হয়।

লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পল গিবসন জানান, ছয়জনকে ঘ্টনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের কারো আঘাতই গুরুতর বা প্রাণঘাতী হওয়ার মতো নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লন্ডনে বেশ কয়েকটি অ্যাসিড হামলা হয়। গত ১৩ জুলাই অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি পৃথক স্থানে হামলা হয়। এর তিন দিন পর বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার মাইল অ্যান্ড এলাকায় দুজনের ওপর একই ধরনের হামলা হয়। এরপর ২৫ জুলাই রাতে দুই বাঙালির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

লন্ডনে এসিড হামলায় আহত ৬

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের পূর্বাংশের স্ট্রাটফোর্ড এলাকায় কথিত এসিড হামলায় ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টার আগে ওয়েস্টফিল্ডের অপর পাশে স্ট্রাটফোর্ড সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা এসে মারাত্মক শারীরিক জখম করার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষদের একটি দল লোকজনের ওপর ক্ষতিকর পদার্থ স্প্রে করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীকেও খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যারা আহত হয়েছেন বলে খবর হয়েছে তারা সবাই পৃথক অবস্থানে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পল গিবসন জানান, ছয়জনকে ঘ্টনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের কারো আঘাতই প্রাণঘাতী বা জীবন পাল্টে যাওয়ার মতো গুরুতর নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একদল লোকের মধ্যে তর্কাতর্কি চলছিল। হোসেন নামের বার্গার কিংয়ের একজন সহকারী ব্যবস্থাপক জানান, এক ব্যক্তি ‘মুখের এসিড ধুঁয়ে ফেলতে’ ফাস্ট ফুডের দোকানটিতে দৌঁড়ে প্রবেশ করেন।

“তার চোখের চারপাশটা কাটা ছিল এবং কাটা জায়গাটা পানি দিয়ে ধোয়ার চেষ্টা করছিল সে,” বলেন তিনি।

ওই বিপনীবিতানের বিপরীত পাশের ভবনগুলোর একটিতে বাস করেন তাহসিন তাজ, হৈ চৈ-য়ে বিরক্ত হয়ে কী ঘটেছে দেখতে উঁকি দিয়েছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “পৌনে ৯টার দিক থেকেই আমি অনেক অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ির শব্দ পাই। কিন্তু এদিন ওয়েস্ট হ্যামের ম্যাচ থাকায় আমি ভেবেছিলাম, এটা ফুটবল নিয়ে কোনো ঝগড়া।

“কিন্তু কিছু সময় পরেও শব্দ শুধু বাড়তেই থাকে। পরে দেখি সেখানে অনেক দমকলের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স আর পুলিশ। সত্যি বলতে বেশ বিশৃঙ্খল অবস্থা। এ সময় আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম।”

 

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে বসতে চায় মিয়ানমার

করতোয়া ডেস্ক : আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার প্রায় একমাস পর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘের সাইড লাইনে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকে মিয়ানমার এ প্রস্তাব দেয়।

পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার তিনি জাপানের একটি সংবাদমাধ্যমকে এক দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের যেকোনো সময় ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হতে পারে। যা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ওপর।

অপরদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পাবলিকলি ব্রিফ বা উন্মুক্ত বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের অর্ধেক সদস্য রাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিশর, সেনেগাল, সুইডেন ও কাজাখস্তান শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সামনে উন্মুক্ত বিবৃতির আয়োজন এই সপ্তাহেই করতে পরিষদের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট ইথিওপিয়াকে অনুরোধ করেছে সাত সদস্য দেশ।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই।

ঘটনার শুরু গত ২৪ আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইনে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু যে কোন সময়
রোহিঙ্গা গণহত্যা-নির্যাতন ও লাখ লাখ মানুষের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার মতো ঘটনার পরও সরাসরি কোনো মন্তব্যেই যাচ্ছেন না মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণেও স্পষ্ট কথা বলেননি শান্তিতে নোবেলজয়ী এই রাজনীতিবিদ। এমনকি বুধবার জাতিসংঘের ভাষণে তার দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও-ও কথা বলেছেন অনেকটাই ভাসা ভাসা সুরে। সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের কথাও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সারা বিশ্বই যখন বলছে এটা গণহত্যা এবং তা সংগঠিত হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বারা, তখন এমন সব বক্তব্য শাক দিয়ে মাছ ঢাকার শামিল! এরই মধ্যে শুক্রবার জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কি এশিয়ান রিভিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি কথা বলেছেন, প্রাণহানির শঙ্কায় পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে। তিনি জানান, যেকোনো সময় ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হতে পারে। যা নির্ভর করবে বাংলাদেশের ওপর। তবে দীর্ঘ আলাপে তিনি এবারও রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারই করেননি। মূলত প্রশ্ন করা হয় শরণার্থী যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে তাদের ফেরত নিতে কতদিন লাগতে পারে, জবাবে সু চি বলেন, আমরা এটা দ্রুতই শুরু করতে পারি; যেকোনো সময়। তার মানে এই নয় যে এটি দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যাবে। আর এটি কোনো নতুন সমস্যা নয়। ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সরকার এ ব্যাপারে একমত।

রাখাইনে সহিংসতা এবং অন্তত ৫০ শতাংশ গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ৭২ বছর বয়সী এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ সরাসরি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বলেন, আমি বলতে পারি রাজ্যের ৩০ শতাংশ মুসলিম গ্রাম এখনও অক্ষত, সেখানে মানুষ বাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যা নেই, তারা পালিয়েও যাননি। কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বিষয়ে নোবেলজয়ী এই নেত্রী বলেন, এটি দারুণ এবং প্রশংসনীয় একটি প্রতিবেদন। তিনি (কফি আনান) বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কাজ করেছেন। সবই ঠিক আছে কিন্তু কিছু জায়গায় খানিক সংশোধন প্রয়োজন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তার সরকারের পররাষ্ট্র নীতি। তিনি দাবি করেন সে লক্ষ্য নিয়েই তিনি এবং তার সরকারের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। রাখাইনে সহিংসতায় সেখানে বিনিয়োগে কোনো ক্ষতি করবে কিনা জানতে চাইলে সু চি বলেন, কিছুটা তো ঝামেলা পাকাবেই, তবুও অযথা চিন্তিত হওয়ার কিছু দেখি না। আর এখনও ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমরা শিল্পোদ্যোগ বাড়াতে চাই এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তি মজবুত করা এবং এসএমই সুবিধা বৃদ্ধি করছি।

১৮ মাসের একটি গণতান্ত্রিক সরকার, কেউ কেউ বলেন আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি আবার কারো কারো ভাষায় ধীর কাজ। তবে আমরা থেমে নেই। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) বলছে, সহিংসতার শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষের। বেসরকারিভাবে এই সংখ্যা দশ হাজার পার করেছে মধ্য সেপ্টেম্বরেই। ঘটনার শুরু গত ২৪ আগস্ট দিনগত রাতে রাখাইনে যখন পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ‘অভিযানের’ নামে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চলে আসছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবরেও প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ছড়িয়ে পড়ছে ‘সুপার ম্যালেরিয়া’

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সুপার ম্যালেরিয়া ভয়াবহ বৈশ্বিক হুমকি।

নির্দিষ্ট ধরনের এই ম্যালেরিয়া জীবাণু প্রচলিত অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ওষুধে সহজে মরছে না। কম্বোডিয়ায় এর বিস্তার শুরু হলেও এখন তা  থাইল্যান্ড, লাওস ও ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

ব্যাংককে অক্সফোর্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইউনিট জানিয়েছে, এ ধরনের ম্যালেরিয়া নিরাময়যোগ্য না হওয়ায় প্রকৃতপক্ষে বিপদের কারণ হয়ে উঠেছে। ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আরজিন ডনডর্প বলেছেন, ‘আমরা মনে করছি, এটি একটি ভয়াবহ হুমকি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি সত্যিই ভীতিকর, কারণ এ ধরনের জীবাণু দ্রুত এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা আশঙ্কা করছি, আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এটি।’

সম্প্রতি ‘দি ল্যানসেট ইনফেকশাস ডিজিস’- এ প্রকাশিত এক চিঠিতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রচলিত ওষুধে এই ম্যালেরিয়া মরছে না।

প্রতিবছর প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ লোক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। এটি এক ধরনের জীবাণু মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং রক্তচোষা মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিশু মৃত্যুর জন্য এক ধরনের চরম ঘাতক এটি।

তবে সুপার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে প্রচলিত ওষুধ ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করছে না। ফলে একে ভয়ংকর বার্তা হিসেবে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এ ম্যালেরিয়া যদি আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যায় ঘটাবে। কারণ বিশ্বের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৯২ শতাংশই আফ্রিকার।

বিজ্ঞানীরা আরো সতর্ক করেছেন, সুপার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের উপায় যদি না উদ্ভাবিত হয়, তাহলে প্রতিবছর লাখ লাখ লোকের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে

রোহিঙ্গা গ্রাম এখনও জ্বলছে: অ্যামনেস্টি

অং সান সু চি জাতির ভাষণে এবং মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে দাবি করলেও রাখাইনে যে এখনও রোহিঙ্গাদের বাড়ি পোড়ানো হচ্ছে, তার প্রমাণ তুলে ধরেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া ভিডিও এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি শুক্রবার বলেছে, রোহিঙ্গারা ফিরলে যে থাকবে, সেই উপায়ও রাখছে না মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর আসতে থাকে। রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি বলেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে সেনা অভিযান চলছে না।

দুদিন আগে জাতিসংঘে ভাষণে মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভান থিও বলেন, রাখাইনে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। তাদের বক্তব্যের পর অ্যামনেস্টি শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, রাখাইনে এখনও যে বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, তার অন্তত তিনটি ভিডিও পেয়েছেন তারা।

২২ সেপ্টেম্বরের উপগ্রহ চিত্রেও রোহিঙ্গা গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর থেকে ওড়া ধোঁয়া চিহ্নিত করার কথাও জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি। অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, এই প্রমাণ অং সান সু চির বক্তব্যের অসারতা তুলে ধরেছে।

“তিন সপ্তাহ পরেও আমরা দেখছি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান হয়নি। রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর, গ্রাম জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার কোনো উপায়ই রাখা হচ্ছে না।”

রাখাইনে এই জাতিগত নির্মূল অভিযান বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার ৪ লাখ রোহিঙ্গা গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে।

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা ইরানের

ইরান কোনো দেশের অনুমতি ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও জোরদার করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। শুক্রবার এক সামরিক মহড়ায় দেওয়া বক্তব্যে রুহানি এই মন্তব্য করেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করল বলে ধারণা করা হচ্ছে। “বাধার মুখেও আমরা আমাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে থাকবো। আমরা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করবো। নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে কারো কাছ থেকে আমাদের অনুমতি চাইতে হবে না,” রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা ভাষণে এমনটাই বলেন রুহানি।

মহড়ায় যেসব অস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছে তার মধ্যে নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো; বেশ কয়েকটি ওয়ারহেড পরিবহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরিসীমা দুই হাজার কিলোমিটার।

রেভ্যুলেশনারি গার্ডের অ্যারোস্পেস বিভাগের প্রধান আমিরআলি হাজিজাদেহ সংবাদ মাধ্যম তাসনিমকে ক্ষেপণাস্ত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে আরও তথ্য দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘খোরামশার মিসাইল’ ছোড়ার ফুটেজও দেখানো হয়েছে। যদিও এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ শুক্রবারই হয়েছে না তার আগে, তা জানায়নি তারা।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে তারা ইয়েমেন, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশে সহিংসতা রপ্তানি করছে।

পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে তেহরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিরও সমালোচনা করেন তিনি।

ট্রাম্প শুরু থেকেই একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বিব্রতকর ও একপাক্ষিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ‘জঘন্য কর্মকাণ্ড’ এবং ফেব্রুয়ারিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণ দেখিয়ে জুলাইতে ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক অবরোধও আরোপ করেছিলেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিতে পরিবর্তন না আনলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে থাকবে না।

ইরান অবশ্য চুক্তি নিয়ে যে কোনো নতুন আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের সব দেশ ইরানের পরমাণু চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলেও টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে মন্তব্য করেন রুহানি।

রয়টার্স বলছে, বিশ্ব যখন উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কবলে তখন ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপ হবে ‘অবৈধ’ এবং তা সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে খাটো করবে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাং ঝি বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা ইরানের চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছে, চীন এ চুক্তিকে সমর্থন দিয়ে যাবে।

 

সিরিয়ার ইদলিবে তুর্কি সেনা মোতায়েন হচ্ছে

করতোয়া ডেক্স : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, গোলযোগপূর্ণ সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে তার দেশ সেনা মোতায়েন করবে। সিরিয়ায় নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে কাজাখস্তানেরর রাজধানী আস্তানায় যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে তার আওতায় এসব সেনা মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, চুক্তির আওতায় ইদলিব প্রদেশের বাইরে রুশ সেনারা এবং এর ভিতরে তুর্কি সেনারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে।

 সিরিয়ার সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আস্তানায় গত জানুয়ারি মাস থেকেই যে আলোচনা চলছে সেখানে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে। সিরিয়া বিষয়ে ভবিষ্যৎ নীতিতে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ইদলিবে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সহজ কাজ নয়। সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সন্ত্রাসীদেরকে নির্মূল করার করণীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারীর মৃত্যু

করতোয়া ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী লিলিয়ান বেটেনকোর্ট মারা গেছেন। ৯৪ বছর বয়সী লিলিয়ান বিখ্যাত প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান লরিয়েলের উত্তরাধিকারী ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাতে ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। ২০১৭ সালের এক হিসাব অনুযায়ী লিলিয়ানের নীট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ইউরো।

সে হিসেবে তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী। তিনি ২০১২ সালে লরিয়েল কোম্পানির বোর্ড থেকে সরে আসেন এবং সে সময় থেকে তাকে খুব কমই প্রকাশ্যে দেখা গেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে বিপুল সম্পদের মালিক হলেও শীর্ষ পর্যায়ে যেতে যথেষ্ট কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিশ্বের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বস চলতি বছরের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী নারী হিসেবে লিলিয়ান বেটেনকোর্টের নাম প্রকাশ করে।

এই বিভাগের আরো খবর

২৩ সেপ্টেম্বর ধ্বংস হচ্ছে না পৃথিবী

করতোয়া ডেস্ক: ২৩ সেপ্টেম্বর ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী। বিগত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে ভবিষ্যদ্বক্তা ডেভিড মিয়েড এর এমন ধারনার নিয়ে তোলপাড় চলছে সামাজিক মাধ্যমগুলোয়। তবে ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড্যানিয়েল রথমান আশা করেন আরও ৮২ বছর বাঁচবে পৃথিবী। সবাই শুধু সংখ্যাতত্ত্ব ও গ্রহাচার্যের ভবিষ্যদ্বানী বিশ্বাস করতে আগ্রহী। ড্যানিয়েল এই বিষয়ে সবসময়ই নিখুঁত বিবরণ দিয়েছেন।

তার অনুমান সম্পুর্ণ বিজ্ঞান নির্ভর। তিনি বলেন ২১০০ সালে মানবজাতি সহ সমগ্র পৃথিবী বাসের অযোগ্য হবে এবং এমন অবস্থা তৈরীর সব দোষ আমাদের সকলের। অধ্যাপক নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘আপনারা দেখবেন, বিপর্যয় আসবে আমাদের মহাসাগরগুলো কার্বন দ্রবীভুত হবে এবং ক্রমে বায়ুমন্ডল বাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ফলাফল হবে মানবজগতের বিলুপ্তি।’ তার গণনা অনুযায়ী, মহাসাগরে অতিরিক্ত ৩১০ গিগাটনের মতো কার্বন নিসৃত হলেই দেখা দেবে এমন বিপর্যয়। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) কাছাকাছি সমীকরণের তথ্য দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

রাহুলের সঙ্গে নাতালিয়া…..

করতোয়া ডেক্স : অভিনেত্রী নাতালিয়া রামোসের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর ছবি ঘিরে জোর চর্চা সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনিই রাহুলের নতুন প্রেম কি না তা নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। দু’সপ্তাহের জন্য মার্কিন মুলুকে রয়েছেন কংগ্রেস সহ সভাপতি। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময় করছেন তিনি। এর মাঝেই নাতালিয়ার সঙ্গে ছবি। আর তাই নিয়ে নানা মত ভাসছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন স্প্যানিশ-অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভুত মার্কিন অভিনেত্রী নাতালিয়ার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক খোলসা করুন রাহুল। আসলে ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন নাতালিয়াই।

 সঙ্গে রাহুলের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘গতরাতে বাগ্মী এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা হয়। তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে আমি খুশি। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। কেবল মুক্তমনা এবং মুক্তহৃদয়ের কোনও মানুষই পৃথিবীকে আরও ভাল বাসযোগ্য করতে পারেন। ’ স্প্যানিশ-অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভুত নাতালিয়ার মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘ব্রাত’এ তিনি জেসমিনের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৭ সালে গোল্ডেন রাসপবেরি পুরস্কারের জন্য ৫টি বিভাগে মনোনয়ন পায় সিনেমাটি। ২০১১ সালে নিকোলোডন টেলিভিশনে হাউস অব অনুবিস সিরিজে নিনা মার্টিনের চরিত্রে অভিনয় করেন। তার মা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বাবা স্পেনের বিখ্যাত পপ গায়ক জুয়ান কার্লোস রামোস ভাকুরো।

এই বিভাগের আরো খবর

লিবীয় উপকূলে ৫০ শরণার্থীর মৃত্যুর শঙ্কা

করতোয়া ডেস্ক: লিবীয় উপকূলে নৌকাডুবে কমপক্ষে ৫০ শরণার্থী নিহত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানী শেষ হয়ে তাদের নৌকা উল্টে যায়। এতে নৌকায় থাকা শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। ছোট নৌকাটিতে কমপক্ষে ১শ জন যাত্রী ছিল। গণমাধ্যম জানিয়েছেন, ওই শরণার্থীরা লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সাবরাথ থেকে গত শুক্রবার যাত্রা করেছিলেন।

নৌকাটি বেশ কয়েকদিন ধরেই সাগরে অবস্থান করছিল। পরে জ্বালানি শেষ হওয়ায় এটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ডুবে যাওয়া নৌকাটি থেকে আটটি মৃতদেহ এবং ৩৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। লিবীয় নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সাব সাহারান আফ্রিকার নাগরিক। ইউরোপে পাড়ি দেয়া অধিকাংশ শরণার্থীদের কাছে লিবিয়া একটি জনপ্রিয় রুট। লিবিয়া দিয়েই অধিকাংশ শরণার্থী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।

এই বিভাগের আরো খবর

বেনজির ভুট্টো হত্যায় জারদারি জড়িত : মুশাররফ

করতোয়া ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যায় তার স্বামী পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা আসিফ আলি জারদারি জড়িত। এমনই দাবি করেছেন পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ। যিনি বেনজির হত্যার সময়টিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মুশাররফ বৃহস্পতিবার তার অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় একটি ভিডিও পোস্ট করে এ দাবি করেন এবং বেনজির ভুট্টো হত্যাকান্ডের ফলে পিপিপি নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জারদারিই সবচেয়ে লাভবান হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। বেনজির হত্যায় জড়িত থাকা নিয়ে মুশাররফ অভিযুক্ত হওয়ার বেশকিছুদিন পর এ ভিডিও পোস্ট করলেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী সমবেশের পরপরই বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত হন বেনজির ভুট্টো। হত্যার ঘটনা তদন্তে তখন মুশাররফকে দোষী করা হয়। বলা হয়, মুশাররফ সরকার বেনজিরের অনুরোধ সত্ত্বেও তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেনি।

 বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সালে মুশাররফের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বৃহস্পতিবারের ভিডিওতে বেনজির-জারদারি দম্পতির তিন সন্তান, ভুট্টো পরিবার এবং সিন্ধুর জনগণের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তায় মুশাররফ বলেন, “ভুট্টো পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার জন্য আসিফ আলি জারদারি দায়ী। তিনি বেনজির ভুট্টো এবং মুর্তজা ভুট্টো হত্যাকাে ও জড়িত।” তিনি বলেন, “সবসময়ই কোনও হত্যাক  ঘটলে প্রথমেই যে বিষয়টি লক্ষ্য করা দরকার তা হচ্ছে, এ ঘটনা থেকে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে কে। এক্ষেত্রে আমি ক্ষমতায় থাকায় সবকিছুই হারানোর ?মুখে ছিলাম। এ হত্যাকা  আমার সরকারকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল।

” “মাত্র একজন মানুষই ছিলেন যার বেনজির হত্যাকা  থেকে সবকিছুই পাওয়ার ছিল। আর তিনি হচ্ছেন (বেনজির ভুট্টোর স্বামী) আসিফ আলি জারদারি।” মুশাররফ আরও বলেন, “জারদারি ৫ বছর পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি এ হত্যা মামলাটি তদারক করলেন না কেন। তদন্তকাজ কেন এগোয়নি। কারণ, তিনি বেনজির হত্যায় জড়িত ছিলেন।” বিষয়টিকে আরও বিশ্লেষণ করে মুশাররফ বলেন, “বেনজিরকে তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ ও তার লোকজন হত্যা করেছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। এর  প্রমাণ আছে। কিন্তু কে   বেনজিরকে হামলার লক্ষ্য করার জন্য বায়তুল্লাহ মেহসুদের গোষ্ঠীকে ব্যবহার করেছে?’

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গাদের ত্রাণের গাড়িতে বৌদ্ধদের হামলা

রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলা চালিয়েছে বৌদ্ধরা। একদল বিক্ষুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহায়তায় ত্রাণ সরবরাহকারী গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ওই এলাকায় পাঠানো ত্রাণের গাড়ি প্রবেশে বাধা দেয় বিক্ষোভকারীরা। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। 

ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে পুলিশ আট বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। পুলিশ কর্মকর্তা ফিও ওয়েই খিয়াও জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়েতে রেড ক্রসের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ওই ত্রাণ পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ৩শ লোক ত্রাণবাহী একটি গাড়িতে পাথর, ককটেল ছুড়ে মারে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করেছে।

 

ত্রাণবাহী ওই গাড়িতে পানির বোতল, কম্বল, মশারি, খাবার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ছিল। এগুলো নৌকায় করে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে পৌঁছানো হয়। গত মাসে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তীব্র মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। সেখানকার প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন থেকে বাঁচতেই নিজেদের বাড়ি-ঘর থেকে পালিয়েছে রোহিঙ্গারা। তবে সেখানে এখনও বহু রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছেন। তারা তীব্র সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রাখাইনের বৌদ্ধরা অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের সমর্থন করছে।

মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গণআদালতে

করতোয়া ডেস্ক: মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলমান আন্তর্জাতিক গণ-আদালতের শেষ পর্বের শুনানিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন, কারেনসহ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এ অভিযোগ আনেন। আদালতে রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে। ওই গণ-আদালতে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। আদালতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেন এর চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি ওই আদালতে চলা শুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বুধবার এসব কথা বলেন।

রোমভিত্তিক পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি) নামের একটি সংগঠন এই আদালত গঠন করে। পিপিটি ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত। এর যাত্রা শুরু ইতালির বোলোগনাতে, ১৯৭৯ সালে। কুয়ালালামপুরের মালয় ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সিভিলাইজেশন ডায়ালগের পরিচালক ও বুদ্ধিজীবী চন্দ্র মোজাফফর পিপিটির এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমন্বয় করেছেন। মালয় ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদেই এই বিচার চলছে। আগামী শুক্রবার এর রায় দেওয়া হবে। এ আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ সরকারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনকে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় বলে কমিশন সূত্র জানায়। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেন, ‘আমি রোহিঙ্গা ও কাচিন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বক্তব্য শুনেছি।

তাঁরা সবাই একবাক্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর নিপীড়নের নানা চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনেন। রোহিঙ্গারা রাখাইনে চলমান অভিযানকে জাতিগত নিপীড়ন হিসেবে তুলনা করেন।’ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা কী বললেন? জবাবে রিয়াজুল হক বলেন, ‘সবাই সু চির প্রতি চরম ক্ষোভ দেখান। তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনেন রোহিঙ্গারা। রাখাইনে চলমান সেনা অভিযান ও নিপীড়ন সু চির অবস্থানের প্রতি ঘৃণা জানান তাঁরা। একজন রোহিঙ্গা প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা তাঁর মুক্তির আন্দোলন করেছি। তাঁর বাবার সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষেরা লড়াই করেছেন। আমরা দেশে ভোট দিয়েছি। অথচ আমাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করা হয় না। আর এ নিয়ে সু চি কিছু বলেন না।’ গত ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল কক্সবাজারের কুতুপালংসহ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে। রিয়াজুল হকের নেতৃত্বে এই পরিদর্শন হয়।

এ দলের উদ্দেশ্য ছিল ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে সেখানকার অবস্থার তথ্যানুসন্ধান করা। সেই তথ্যানুসন্ধানের প্রাথমিক প্রতিবেদন কুয়ালালামপুরে চলা গণ-আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা নারী-পুরুষ-শিশুসহ অসংখ্য মানুষের কথা শুনেছি। তাঁরা তাঁদের প্রতি বর্বর অত্যাচারের কথা বলেছেন। বলেছেন, কীভাবে তাঁদের চোখের সামনে নিজেদের আত্মীয়দের হত্যা করতে দেখেছেন।

এসব কথা আমরা বলেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এসব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেছি।’ ওই পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে আট মিনিটের একটি তথ্যচিত্র আদালতে তুলে ধরা হয়। এ আদালতে নয় সদস্যের বিচারকের একটি প্যানেল শুনানি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আর্জেন্টিনায় সেন্টার ফর জেনোসাইডের প্রতিষ্ঠাতা দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন, আয়ারল্যান্ডের ডেনিস হেলিডে, ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত-প্রক্রিয়ায় যুক্ত মালয়েশিয়ার জুলাইহা ইসমাইল, কম্বোডীয় আইনবিদ হেলেন জার্ভিস, অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার, ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার আইনজীবী নুরসিয়াবানি কাতজাসুংকানা, ভারতের মুম্বাই দাঙ্গার তদন্তকারী ও দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি বেলুর নারায়ণস্বামী শ্রীকৃষ্ণ, ইরানের মানবাধিকার আইনজীবী সাদি সদর এবং ইতালির সুপ্রিম কোর্ট অব ক্যাসেসনের বর্তমান সলিসিটর জেনারেল নিলও রেসি। পিপিটি সূত্র জানায়, মিয়ানমারে গণহত্যা নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল এ বছরের মার্চে প্রথম শুনানির আয়োজন করে। এবার চূড়ান্ত শুনানি চলছে। কুয়ালালামপুরের আদালতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব হিরণ্ময় বাড়ৈ এবং উপপরিচালক এম রবিউল ইসলামও অংশ নেন।

 

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় পৌনে ৩ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বুধবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের একথা জানান। মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন বার্নিকাট। শরণার্থীরা যাতে নিজেদের দেশে ফিরতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তায় সৌদি আরব দেড় কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশে সম্প্রতি চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। সেখানে ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে আসা বিপুল সংখ্যক এই রোহিঙ্গাদের সামলানোকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে সরকার। তাদের আশ্রয়ের পাশাপাশি নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে।

দেড় কোটি ডলার সৌদি সহায়তা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ। সৌদি প্রেস এজেন্সির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিং সালমান সেন্টারের ত্রাণ ও মানবিক বিভাগের কর্মকর্তা এবং সৌদি রয়েল কোর্টের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ আল রাবিহ এ সহায়তার কথা জানান। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইউএস হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদর দপ্তরে মার্কিন-আরব সম্পর্ক বিষয়ক এক বৈঠকের পর রাবিহ রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের অবস্থা দেখতে সৌদি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে যাচ্ছে।এই মুহূর্তে শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ, মানবিক সাহায্য ও আশ্রয়সহ আর কী কী সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে তা তারা দেখবেন। রাবিহ বলেন, বাদশার নির্দেশে বেশ কিছু প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি, আগে নেওয়া কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।

ভিয়েনায় মানববন্ধন
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে অস্ট্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা মানববন্ধন করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভিয়েনায় জাতিসংঘ দপ্তরের সামনে অস্ট্রিয়া প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সর্ব-ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এম.নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অস্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের কমান্ডার বায়েজিদ মীর, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম সওকত আলী, সিরাজ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক ইমরুল কায়েস।

 

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় চায়

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের গুলি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কয়েক শতাধিক হিন্দু ভারতে আশ্রয় চাইছে। এ বিষয়ে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তেক্ষেপ চাইছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনা চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার জের ধরে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানে নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের হিসেবে সেনাদের দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৪ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান। সেনা অভিযানের মুখে এসময় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫০০ হিন্দু। নতুন  করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের থেকে একটু দূরে একটি মুরগির খামার খালি সরিয়ে তাদের সেখানে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

এসব হিন্দু শরণার্থী জানিয়েছেন, তারা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের গ্রামে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আবার মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ বাংলাদেশে থাকতেও তারা ভয় পাচ্ছেন।

নিরঞ্জন রুদ্র নামে খামারে আশ্রয় নেওয়া এক হিন্দু বলেন, ‘ ভারত হিন্দুস্তান হিসেবেও পরিচিত, যা হিন্দুদের ভূমি। আমার বেশি না, ভারতে স্রেফ শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে চাই। আমরা সেটি মিয়ানমার অথবা এখানে নাও পেতে পারি।’ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য হিন্দুরাও জানালেন, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে আনতে চান।

ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

হিন্দু শরণার্থীদের এ আশার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভারত থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদনের শুনানি চলছে। সরকার আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের আদর্শগত অংশীদার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতা অচিন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হিন্দুদের স্বাভাবিক গন্তব্য ভারত।

তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই হিন্দু পরিবারগুলোকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তারা আর কোথায় যাবে? এটাই তাদের উৎপত্তিস্থল।’
 

মেক্সিকোতে ভূমিকম্পে নিহত দুই শতাধিক

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, ধসে পড়েছে রাজধানী মেক্সিকো সিটির কয়েক ডজন দালান।মঙ্গলবার দুপুরে ৭ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে মোরেলাস ও পুয়েবলা রাজ্যে।

বিভিন্ন স্থানে গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; কয়েকটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডেরও খবর এসেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর মধ্যে কোয়াপা এলাকায় একটি স্কুল ধসে পড়ে ২০টি শিশুসহ অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে; ৩০টি শিশুসহ ৪২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা।

দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগের বরাত দিয়ে রয়টার্স এক পর্যায়ে ২৪৮ জনের মৃত্যুর খবর দিলেও পরে সেই সংখ্যা ২১৬ জনে নামিয়ে আনা হয়।  এর মধ্যে মেক্সিকো সিটিতে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকো সিটি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে পুয়েবলা রাজ্যের আতেনসিঙ্গো এলাকায়। কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ৫১ কিলোমিটার গভীরে।

বিবিসির খবেরে বলা হয়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টার পরপর এই ভূমিকম্পে সব কিছু কাঁপতে শুরু করলে মানুষ আতঙ্কে রাস্তার বেরিয়ে আসে।

ড্যানিয়েল লিবারসন নামের এক পর্যটক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি ছিলেন একটি হোটেলের ২৬ তলায়। পুরো ভবন তখন এপাশ-ওপাশ দুলছিল। ভেঙে পড়ছিল জানালর কাচ।

“মাত্র আধা মিনিটের ভূমিকম্প; আমার মনে হচ্ছিল যে সারা জীবন ধরে চলছে।” টেলিভিশনে আসা ছবিতে দেখা যায়, রাজধানীতে একটি বহুতল ভবনের মাঝের একটি ফ্লোর ধসে গেছে, সেখানে ছুটে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সরকারি ভবনের এক পাশ রাস্তায় পড়ছে এবং পথচারীরা চিৎকার করছেন। মেক্সিকো সিটির দক্ষিণ দিকের শহর কুয়েরনাভাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে অনেকে চাপা পড়েছেন বলে স্থানীয় রেডিওর সংবাদে বলা হয়।

১৯৮৫ সালের এই দিনেই আরেকটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল মেক্সিকোতে। উত্তর আমেরিকার ভূমিকম্পপ্রবণ এই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চলতি মাসের শুরুতেই আরেকটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়। ৮ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে নিহত হয় অন্তত ৯০ জন।

 

১ লাখ রোহিঙ্গার ক্যাম্প তৈরি করে দেবে তুরস্ক

করতোয়া ডেস্ক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ক্যাম্প তৈরি করে দেবে তুরস্ক। সেই ক্যাম্পে এক লাখ রোহিঙ্গা থাকতে পারবেন। আর এই ক্যাম্পে প্রতিটি পরিবারের জন্য থাকবে একটি করে থাকার ঘর, টয়লেট ও রান্নাঘর। পাশাপাশি ওই ক্যাম্পের বাসিন্দাদের জন্য থাকবে একটি মসজিদ ও হাসপাতাল। কক্সবাজার সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দকৃত এলাকায় ১ লাখ লোক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন শরণার্থী শিবিরটি নির্মাণ করা হবে।

আর এই স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের তুর্কি শাখা। তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট কেরেম কিনিক সম্প্রতি ওই অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাদের দুর্ভোগ দূর করার চেষ্টা করছেন। শরণার্থী শিবির তৈরির জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। 

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে সু চিকে ট্রুডোর চিঠি

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সু চির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাস বন্ধ করে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন।’

কানাডাভিত্তিক বাংলাদেশি নিউজ পোর্টাল নতুনদেশ.কম জানিয়েছে, সোমবার কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাস্টিন ট্রুডোর পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়ে চিঠির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। এর আগে ট্রুডো টেলিফোনে অং সান সু চির সঙ্গে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। জাতির উদ্দেশ্যে সু চির ভাষণ দেয়ার পরিকল্পনার মধ্যে জাস্টিন ট্রুডো এ চিঠি পাঠালেন। সু চিকে লিখা চিঠিতে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘প্রকাশ্যে রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানান, তাদের নাগরিকত্ব, মানবাধিকার ও সমতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিন।’ চিঠিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গভীর বিস্ময়, হতাশা এবং অত্যন্ত বেদনা নিয়ে আপনার সাথী কানাডিয়ানরা লক্ষ্য করছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত সন্ত্রাসে আপনি টানা নীরবতা পালন করছেন।’

‘মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে, মানবাধিকারের প্রচারক হিসেবে বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা বলা এবং তা বন্ধে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা আপনার নৈতিক এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা,’ চিঠিতে বলেন ট্রুডো। চিঠিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আক্রান্ত রাখাইন রাজ্যে অবাধে প্রবেশের অধিকার দেয়ার দাবি জানিয়ে ট্রুডো লিখেছেন, ‘বহির্বিশ্বে আপনি যে সম্মান পেয়েছেন, আপনাকে উদ্দেশ্য করে যে সব প্রশংসাবাণী এ যাবতকাল  উচ্চারিত হয়েছে, সেগুলোকে অর্থবহ রাখতে আপনাকে অবশ্যই মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ ট্রুডো বলেন, প্রকাশ্যে সন্ত্রাসের নিন্দা করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করে মিয়ানমারকে একটি জাতিগত বিভক্তি থেকে সু চিই রক্ষা করতে পারেন।

 

এখনও বালুতে মাথা গুঁজে রেখেছেন সু চি: অ্যামনেস্টি

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি’র মঙ্গলবারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ তুলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি মিথ্যাচার করেছেন। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান জেমস গোমেজের অভিযোগ, রাখাইন নিয়ে আগের অবস্থানেই রয়েছে মিয়ানমার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর অনলাইন সংস্করণে গোমেজকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সু চির পূর্ববর্তী অবস্থানে অটল থাকার এই নীতিকে গোমেজ  আখ্যা দিয়েছেন ‘বালুতে মাথা গুঁজে রাখা’ হিসেবে।

সেই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকে গোমেজ বলেন, ‘সু চি’র জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বোঝাই গেছে তিনি এবং তার সরকার রাখাইনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। বরং তার ভাষণে মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে রোহিঙ্গাদেরকেই দায়ি করা হয়েছে।’ চলতি মাসের প্রথমে একটি স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশের মাধ্যমে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েঠিলো অন্তত ৭০০ বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে কাজ করার সুযোগ দিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলো। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংবাদমাধ্যম রাখাইনে প্রবেশ করতে পারছে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান বলেন, ‘সু চি বলেই যাচ্ছেন যে চলতি বছরের গোড়ার দিকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রতিষ্ঠায় তার সরকার সহযোগিতা করবে না।

এরসঙ্গে যোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনার বিষয়ে তিনি এবং তার সরকার ভীত নয়। যদি মিয়ানমারের লুকোনোর কিছু নাই থাকে তবে দেশটিতে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা কোথায়?’ গোমেজ বলেন, সু চি সরকারের উচিৎ অবিলম্বে রাখাইনসহ মিয়ানমারের সব স্থানে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া। এবং যেসব অঞ্চলে সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে সেসব এলাকায় জাতিসংঘের কাজ করার অনুমতি দেয়া। জেমস গোমেজ বলেন, ‘সু চি মিয়ানমারের অন্যত্র জাতিগত সংঘাতের চ্যালেঞ্জের বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চাইছেন। কিন্তু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তাতে নির্বিকার রয়েছেন।’ অবিলম্বে মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর উপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানান জেমস গোমেজ।

জাতিসংঘে তোপের মুখে সু চির প্রতিনিধি

করতোয়া ডেস্ক: চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন এমন আশঙ্কায় এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দেননি মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। তার প্রতিনিধি হিসেবে অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গেছেন সু চির উপদেষ্টা থাং তুন। সেখানে মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে তোপের মুখে পড়েন সু চির প্রতিনিধি। তিনি বিষয়টিকে ‘অতিরঞ্জন’ ও ‘মনগড়া’ হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও তা হালে পানি পায়নি। যোগদানকারী দেশগুলোর মন্ত্রীরা তার বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সম্মেলনের ফাঁকে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ব্রিটেন মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে অধিকাংশ পশ্চিমা শক্তিধর দেশ রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে অংশগ্রহণের পর পররাষ্ট্র সচিব এম. শহিদুল হক সাংবাদিকদের এ সম্পর্কে বলেন, অধিকাংশ দেশ মুসলিম রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চির ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মিয়ানমার নেত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী উপদেষ্টা থাং তুন রোহিঙ্গা নির্যাতনের ওপর বিভিন্ন প্রতিবেদন, ছবি ও তথ্যকে ‘মনগড়া’ অবহিত করে অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিরা মিয়ানমার নেত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে জানান, তারা ওই অঞ্চলের বাস্তবিক অবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বিষয়ক বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে এই সহিংসতাকে জাতিগত নির্মূল হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. মাহমুদ আলী। এতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, রাশিয়া, সুইডেন, সুইজাল্যান্ড, চীন, ডেনমার্ক, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জেষ্ঠ্য কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে সু চির উপদেষ্টা অংশগ্রহণ করেন।

মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা এড়াতে অং সান সু চি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেয়া থেকে বিরত আছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় ও অন্যান্য সাহায্য করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দ্রুত তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান। বরিস জনসন মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংশতাকে মিয়ানমারের জন্য একটি কলঙ্ক হিসেবে অবহিত করে এসব কার্যক্রম বন্ধে অং সান সু চি ও তার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জনসন বলেন, যখন মিয়ানমার গত কয়েক বছরে গণতন্ত্রের উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশটির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করল। এই সহিংসতা বন্ধ করা মিয়ানমান নেত্রী অং সান সু চি ও সরকারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে তিনি জানান।

‘যাচাই করে’ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে রাজি সু চি

নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি।   

তিনি বলেছেন, “যে শরণার্থীরা মিয়ানমারে ফিরতে চায়, ওই চুক্তির আওতায় আমরা যে কোনো সময় তাদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। আর যে শরণার্থীরা মিয়ানমার থেকে গেছে বলে চিহ্নিত হবে, কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার পূর্ণ নিশ্চিয়তা দিয়ে আমরা তাদের গ্রহণ করব।”   

রাখাইনে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন দেশটির স্টেট কাউন্সেলর সু চি।

রাখাইনের পরিস্থিতির কারণ ওই রাজ্যের মুসলমানদের পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বক্তৃতার কোথাও তাদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি সু চি।   

রাখাইন থেকে মুসলমানরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা মিয়ানমার সরকার খুঁজে বের করতে চায় জানিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

সু চি দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অভিযান চালানো হয়নি। সঙ্কট নিরসনে কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করতে চায়।  

তিনি বলেন, “আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। রাখাইনের সবার দুর্দশার বেদনা আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি।”

মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী সু চি।

বিস্তারিত আসছে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক

করতোয়া ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলের চলমান অভিযান থামাতে দেশটির সেনাবাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি এই আহ্বান জানিয়ে রোববার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি বিবৃতি দিয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন বলেন, ‘বর্মী নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতি নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে এবং বিশ্বনেতাদের নিন্দার কোনো তোয়াক্বা করছে না। এখন এমন কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে, যেন বার্মার জেনারেলরা আর উপেক্ষা না করতে পারে।’ মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী একটি অংশ সম্প্রতি রাখাইনের পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পর পাল্টা সেনা অভিযানে ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানকার সেনা নির্যাতন, হত্যা ও নারী ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের মুখে। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিতেও দেখা গেছে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে।

তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সু চি বলে আসছেন, রাখাইনের অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ আসছে। এ ভূমিকার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও সমালোচিত হচ্ছেন সু চি। ইতোমধ্যে তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

অং সান সু চির কানাডার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি : রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কানাডায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি উঠেছে। রাজনীতিবিদ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ছাড়াও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিকরা বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে এ দাবি তুলে ধরছেন। ইন্টারনেটে এ বিষয়ে একটি পিটিশন ক্যাম্পেইন চলছে, যেখানে পাঁচ দিনে প্রায় নয় হাজার মানুষ সই করেছেন। শনিবার টরন্টোতে কয়েকটি সংগঠন আয়োজিত এমন এক সমাবেশে অংশ নেন খোদ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। রাখাইনে চলমান সেনা অভিযান সম্পর্কে ফ্রিল্যান্ড     বলেন, মিয়ানমার সরকারের অভিযান মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

কানাডার সরকার এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। মিয়ানমারের নেত্রী সু চিকে ২০১২ সালে কানাডার সন্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। কানাডার ১৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বের মাত্র ছয়জনকে সন্মানসূচক এ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছয়জনের মধ্যে সু চিসহ চারজন আবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী। কানাডার আইনে সাধারণ নাগরিক ও সন্মানসূচক নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য উলেখ করা হয়নি। অন্যদিকে দেশটির প্রচলিত আইনে কোনো নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা কানাডা বা কানাডার বাইরে সরাসরি বা অন্য কোনো উপায়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধে জড়িত হলে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যোগালে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদে র বিধান রয়েছে। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী একটি অংশ সম্প্রতি রাখাইনের পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পর পাল্টা সেনা অভিযানে ইতোমধ্যে চার লাখ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানকার সেনা নির্যাতন, হত্যা ও নারী ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের মুখে। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিতেও দেখা গেছে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সু চি বলে আসছেন, রাখাইনের অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ আসছে। এ ভূমিকার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও সমালোচিত হচ্ছেন সু চি। ইতোমধ্যে তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

কানাডা প্রবাসী আইনজীবী ফয়সল কুট্টি ও ওয়াসিম আহমেদ এক বিবৃতিতে সু চির কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, সু চির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তিনি অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন এবং বিভিন্ন ঘটনা অস্বীকার করে আসছেন। সু চির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা উচিৎ। যুদ্ধাপরাধসহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে রোম সনদের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন পাস করে কানাডা। রোম সনদে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িতদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফয়সল কুট্টি ও ওয়াসিম আহমেদ বলছেন, মিয়ানমারে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কানাডার এ প্রতিশ্রুতি পালন করা উচিৎ। অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শরণার্থী হিসেবে কানাডায় আশ্রয় দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

অং সান সু চির কানাডার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি

করতোয়া ডেস্ক: রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় কানাডায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি উঠেছে। রাজনীতিবিদ, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ছাড়াও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিকরা বিভিন্ন বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে এ দাবি তুলে ধরছেন। ইন্টারনেটে এ বিষয়ে একটি পিটিশন ক্যাম্পেইন চলছে, যেখানে পাঁচ দিনে প্রায় নয় হাজার মানুষ সই করেছেন। শনিবার টরন্টোতে কয়েকটি সংগঠন আয়োজিত এমন এক সমাবেশে অংশ নেন খোদ কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। রাখাইনে চলমান সেনা অভিযান সম্পর্কে ফ্রিল্যান্ড বলেন, মিয়ানমার সরকারের অভিযান মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। কানাডার সরকার এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

মিয়ানমারের নেত্রী সু চিকে ২০১২ সালে কানাডার সন্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। কানাডার ১৫০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বের মাত্র ছয়জনকে সন্মানসূচক এ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছয়জনের মধ্যে সু চিসহ চারজন আবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী। কানাডার আইনে সাধারণ নাগরিক ও সন্মানসূচক নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য উলে¬খ করা হয়নি। অন্যদিকে দেশটির প্রচলিত আইনে কোনো নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা কানাডা বা কানাডার বাইরে সরাসরি বা অন্য কোনো উপায়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধে জড়িত হলে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে ইন্ধন যোগালে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী একটি অংশ সম্প্রতি রাখাইনের পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে হামলা চালানোর পর পাল্টা সেনা অভিযানে ইতোমধ্যে চার লাখ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানকার সেনা নির্যাতন, হত্যা ও নারী ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের মুখে। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিতেও দেখা গেছে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে সু চি বলে আসছেন, রাখাইনের অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ‘ভুয়া খবর’ আসছে। এ ভূমিকার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও সমালোচিত হচ্ছেন সু চি। ইতোমধ্যে তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়ারও দাবি উঠেছে। কানাডা প্রবাসী আইনজীবী ফয়সল কুট্টি ও ওয়াসিম আহমেদ এক বিবৃতিতে সু চির কানাডীয় নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, সু চির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তিনি অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন এবং বিভিন্ন ঘটনা অস্বীকার করে আসছেন। সু চির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করা উচিৎ। যুদ্ধাপরাধসহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে রোম সনদের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন পাস করে কানাডা। রোম সনদে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িতদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফয়সল কুট্টি ও ওয়াসিম আহমেদ বলছেন, মিয়ানমারে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কানাডার এ প্রতিশ্রুতি পালন করা উচিৎ।

অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে শরণার্থী হিসেবে কানাডায় আশ্রয় দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শনিবার টরন্টোতে এক মানববন্ধন থেকে মিয়ানমারে গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কানাডা শাখা। ‘সু চির কানাডার নাগরিকত্ব বাতিল কর’, ‘রোহিঙ্গাদের বাঁচাও, বিশ্ব বিবেক জাগাও’, ‘মিয়ানমারে শিশু হত্যা বন্ধ কর- করতে হবে’, ‘মানবতাকে বাঁচাও, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে পুনর্বাসন কর’, ‘মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ান’- ইত্যাদি ¯ে¬াগান সম্বলিত পোস্টার ও প¬্যাকার্ড দেখা যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে। টরন্টোর সমাবেশে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড জানান, রোহিঙ্কা সঙ্কটের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিবের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি।

সু চির সামনে ‘শেষ সুযোগ’

সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধ করে রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানের ‘শেষ একটি সুযাগ’ মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের সারাধণ অধিবেশন সামনে রেখে বিবিসির হার্ডটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সু চি এখনও সাড়া দিতে ব্যর্থ হলে তা ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনবে।  

গত ২৪ অগাস্ট রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর শুরু হওয়া ওই সেনা অভিযানে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক হারে হত্যা-ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। 

ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে বলছে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’। বেসামরিক রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে।   

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রয়টার্স জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রয়টার্স  এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে আসছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি; আর এই ভাষণকেই মিয়ানমারের সামরিক অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। 
“এখন যদি তিনি পরিস্থিতি পাল্টাতে না পারেন, তাহলে আমার মনে হয়, বিপর্যয়টা হবে ভয়ঙ্কর। আর সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী করে এর সমাধান সম্ভব- তার কোনো উপায় আমি দেখছি না।”    

গুতেরেস বলেন, মিয়ানমার যে এখনও অনেকখানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, তা বেশ স্পষ্ট। আর রাখাইনে যা ঘটছে, তা সেনাবাহিনীর কারণেই ঘটছে।  

এই দমন-পীড়নে যে রোহিঙ্গারা দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে, তাদের নিজেদের ঘরে ফেরার সুযোগ দিতে আবারও আহ্বান জানান তিনি।  

যেকোনো মুহূর্তে উত্তর কোরিয়া আক্রমণ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র!

করতোয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একের পর এক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। আর তারই জের ধরে এবার ওয়াশিংটন জানিয়ে দিল, যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংয়ংয়ের বিরুদ্ধে যদি নয়া নিষেধাজ্ঞা পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধে ব্যর্থ হয় তবে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাববে ওয়াশিংটন।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে বারবার এই বিষয়ে শান্ত থাকতে বলা হচ্ছে। এমনকি, আলোচনার মাধ্যমেও সমস্ত সমস্যা সমাধান করার কথা বলা হচ্ছে।

 কিন্তু তা না করে একের পর এক মিসাইলের পরীক্ষা করে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়া। কিন্তু নয়া এই নিষেধাজ্ঞা না মানলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো রাস্তা খোলা থাকবে না। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার সাংবাদিকের আরও বলেন, জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে সময় লাগবে। সেই সময় শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করবে। হ্যালি বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিষয়টি শিগগিরই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিসের বিষয়ে পরিণত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

জাতিসংঘ সম্মেলনে যাচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি

করতোয়া ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে মোদি কী কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে যাচ্ছেন না তা স্পষ্ট নয়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ অধিবেশন। এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুষমা স্বরাজ বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে, প্রতিদিন আসছে ১৮ হাজার

রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের ডি-ফ্যাক্টো সরকারের নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন গড়ে ১৮,০০ মানুষ প্রবেশ করছে বাংলাদেশ সীমান্তে। জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গা’রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। তখন থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ববাসীর সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করার পর জাতিসংঘ ৪ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার নতুন তথ্য জানায়।

 

ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার হওয়ার পর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দেয় সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। তাই পালিয়ে আসতে থাকে মানুষেরা। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার আগমনে এরই মধ্যে জনাকীর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে গেছে। জাতিসংঘ বলেছে, শুক্রবার একটি ক্যাম্পের কাছে কিছু ব্যক্তির কাপড় বিতরণের সময় ‘ছুটাছুটি’ করতে গিয়ে দুই শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।



Go Top