সকাল ১১:০৪, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ আর্ন্তাজাতিক

করতোয়া ডেস্ক: কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানে কাটা কেকের ডিজাইন নকলের অভিযোগ উঠেছে সদ্য শপথ নেয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। অভিষেক অনুষ্ঠানের কেকের ডিজাইন নকলের অভিযোগ এনেছেন ওবামার অভিষেকের কেক প্রস্তুতকারী বেকার ডাফ গোল্ডম্যান।


তারকা বেকার ডাফ গোল্ডম্যান চার বছর আগে ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানের কেক তৈরি করেছিলেন। শুক্রবার রাতে শপথ নেয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন কেক কাটছিলেন; তখনই তিনি দেখতে পান, চার বছর আগে ওবামার অভিষেক অনুষ্ঠানের জন্য তিনি যে কেক তৈরি করেছিলেন এটি তারই নকল।

 ডিজাইন নকলের অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্পের কেক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাটারক্রিম বেকশপ বলছে, তারা গোল্ড ম্যানের অনুমতি নিয়ে কেকের ডিজাইন নকল করেছেন। ডিজাইন নকলের অভিযোগ উঠলেও কোন কেক বেশি সুস্বাদু ছিল সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

হলিউডে পা রাখছেন ওবামা কন্যা মালিয়া

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কন্যা মালিয়া হলিউডে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগ তিনি কাজেও লাগাচ্ছেন যথাযথ, বাবার মতো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার কথা অনেকে মনে করলেও আপাতত তাকে চলচ্চিত্রেই দেখা যাবে।

ওবামা ও মিশেলের বড় মেয়ে মালিয়া সদ্যই হাইস্কুল জীবন শেষ করেছেন। তার বয়স এখন ১৮; অপেক্ষায় চলতি বছরের জুনে ফল সেমিস্টারে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির। এই ফাঁকেই তিনি হলিউডে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়ে গেলেন।

 আসছে ফেব্রুয়ারিতে চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টেইনের তত্ত্বাবধানে ইন্টার্ন শুরু করবেন মালিয়া। মনে করা হচ্ছে, ওয়েইনস্টেইন কোম্পানির নিউইয়র্ক অফিসে কয়েক মাস নিয়োজিত থাকবেন তিনি; দায়িত্ব পালন করতে পারেন বিপণন কিংবা উন্নয়ন বিভাগে।

শপথ নিয়েই এ্যাকশন শুরু ওবামাকেয়ার বাতিলের নির্দেশ ট্রাম্পের, ৮০ রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত

করতোয়া ডেস্ক : ওবামাকেয়ার বলে পরিচিত অ্যাফোর্ড্যাবল কেয়ার অ্যাক্টের নিয়মকানুন ব্যবহার বন্ধ করতে ও এটি দুর্বল করতে পদপে নেওয়ার জন্য সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে নিজের প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এ নির্দেশ জারি করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার পূর্বসূরির স্বাস্থ্যসেবা আইনটি অকার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

শপথের পর শোভাযাত্রা করে হোয়াইট হাউসে আসেন ট্রাম্প। এর কিছুণের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট দপ্তর ওভাল অফিসে উপস্থিত হন। এখানে অ্যাফোর্ড্যাবল কেয়ার অ্যাক্ট নিয়ে একটি আদেশে স্বার করেন।

এই আদেশে সরকারি বিভাগগুলোকে আইনটি ‘ব্যবহার না করা, মুলতবি রাখা, অব্যাহতি প্রদান করা, বাস্তবায়নে বিলম্ব করার’ উপায় বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যে আইনটি রাষ্ট্র, কোম্পানিগুলো ও ব্যক্তিবর্গের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।  

এতে রাজ্যগুলোকে স্বাস্থ্যসেবার কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে অধিকতর মতা দিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, তথাকথিত ‘ব্যক্তিগত ম্যান্ডেট’ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সম্প্রসারিত করতে পারেন ট্রাম্প। এই ‘ম্যান্ডেট’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইন্স্যুরেন্স নিতে হতো বা জরিমানা গুণতে হতো অথবা নিয়োগকর্তাদের তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হতো।   

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, প্রশাসন ‘এসেনশিয়াল বেনিফিট’ও হ্রাস করার চেষ্টা করবে। তবে হোয়াইট হাউসের প থেকে ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদপেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অ্যাফোর্ড্যাবল কেয়ার অ্যাক্ট, যা ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। এই আইনটি বাতিল বা প্রতিস্থাপন করা ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর কেন্দ্রে ছিল।

শপথ নিয়েই ৮০ রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত ট্রাম্প
৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেয়ার কিছুণের মধ্যেই বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন ঘটেছে। নির্বাচনের আগে দেয়া ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেশিরভাগেরই কোনো মিল নেই।

দেশটির প্রবীণ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য তার সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করবে এমন অঙ্গীকার করা হলেও শপথ নেয়ার কিছুণ পরই সেই অঙ্গীকারের উল্টো চিত্র দেখা গেছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে।

ওয়েবসাইটের প্রবীণ সেনা কর্মকর্তাদের পেইজে লেখা হয়েছে, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্তের মাধ্যমে আমাদের সংস্কার শুরু হবে। এই পেইজের শিরোনাম করা হয়েছে ‘আমাদের সেনাবাহিনীকে আবারো শক্তিশালী করা হবে।’

শুধু সংস্কারের কথা বলেই ান্ত হয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প মতা হাতে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বারাক ওবামার সময় নিয়োগ পাওয়া সব রাষ্ট্রদূত চাকরি হারালেন।  
ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ৮০ জন রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওবামা প্রশাসনের নিয়োগ দেয়া যেসব রাষ্ট্রদূত রয়েছেন তারা চাকরি হারিয়েছেন। কারণ তাদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে এসব পদে নিয়োগ দেয়ার মত যথেষ্ট জনবল প্রশাসনের হাতে নেই। এই ঘটনায় বেশ কিছু দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।

 

অভিষেক চলাকালে ওয়াশিংটনে সহিংসতা : ২১৭ আটক আহত ৬ পুলিশ

করতোয়া ডেস্ক : দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন শত শত বিােভকারী। স্লোগান দেওয়াসহ প্লেকার্ড দেখিয়ে তারা বিােভ করতে থাকেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখান থেকে পুলিশ ২১৭ জনকে আটক করেছে বলে খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের। এ সময় সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল থেকেই ওয়াশিংটনে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে কয়েক হাজার বিােভকারী অবস্থান নেন। বিােভকারী ও পুলিশের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়। বিােভ হয়েছে ট্রাম্প যখন শপথ নিতে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছিলেন সে পথেও। ট্রাম্পবিরোধী কর্মসূচিতে বেধে যাওয়া সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানান, ওয়াশিংটন ডিসির ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র ভিটো ম্যাগিওলো। ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান পিটার নিউজহাম বলেন, আহতদের মধ্যে কেউ তেমন গুরুতর নন।

অভিষেক চলাকালে ওয়াশিংটনে সহিংসতা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান চলার সময় হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক ব্লক দূরে ট্রাম্প বিরোধী বিােভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

শুক্রবার বিােভকারীদের মধ্েয আপাদমস্তক কালো পোশাক পড়া বিােভকারীরাই প্রধানত সহিংসতায় জড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠান চলাকালে এ ধরনের সহিংসতা একটি বিরল ঘটনা।

দাঙ্গায় জড়িত অন্তত ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট হিলারি কিনটনকে হারিয়ে রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিস্ময়কর বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের জনতা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, মূলত তারপর থেকেই ট্রাম্প বিরোধী বিােভ শুরু হয়। এই বিােভ ট্রাম্পের অভিষেককে কেন্দ্র করে দাঙ্গায় রূপ নেয়।

অভিষেক উপলে রাজধানী ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের হাজার হাজার সমর্থকের পাশাপাশি হাজার হাজার বিরোধীও উপস্থিত হয়।

বিরোধীদের মধ্যে কালো পোশাক ও কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা বিােভকারীরা জড়ো হয়ে দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারে। কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিপে করে পুলিশ পাল্টা জবাব দেয়। এ সময় খুব নিচু দিয়ে একটি হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা যায়।

এরই এক পর্যায়ে প্রতিবাদকারীরা একটি পুলিশ ভ্যানের জানালা দিয়ে কিছু একটা ছুড়ে মারে। পুলিশের গাড়িটি দ্রুতবেগে ঘুরে যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকে চলে গেলে দাঙ্গাকারীরা উল্লাস প্রকাশ করে।

এর আগে তারা ফুটপাতের পাথর তুলে এবং বেসবল ব্যাট দিয়ে মার্কিন পুঁজিবাদের প্রতীক ব্যাঙ্ক অব আমেরিকার একটি শাখার ও ম্যাকডোনাল্ডসের একটি বিক্রয় কেন্দ্রের জানালা ভাংচুর করে।

এ সময় একটি কালো লিমুজিনসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ডাস্টবিনের ঝুড়ি রাস্তার মাঝখানে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ শ্লোগান লেখা একটি লাল ক্যাপ আগুনে নিপে করে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্েেষাভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ছয় পুলিশ আহত হয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশের অস্থায়ী প্রধান পিটার নিউশাম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার আদালতে হাজির করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে শপথ গ্রহণ শেষে পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ ধরে অভিষিক্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন শোভাযাত্রা করে হোয়াইট হাউসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও মাত্র কয়েক ব্লক দূরে বিােভকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিল।

প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন দল শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ট্রাম্প বিরোধী শ্লোগান দিয়ে তাদের ােভ প্রকাশ করেন। তাদের হাতে থাকা ফেস্টুনে ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট না’, ‘বর্ণবাদীদের আবার ভীত করে তুলুন’ ইত্যাদি শ্লোগান শোভা পাচ্ছিল।

ওয়াশিংটনের ডেমোক্রেট দলীয় মেয়র মুরিয়েল বউজারসহ ডেমোক্রেট দলীয় নেতারা এসব সহিংসতার নিন্দা করেছেন। ট্রাম্পের অভিষেক উপলে ওয়াশিংটনের প্রায় সাত দশমিক আট বর্গকিলোমিটার এলাকার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস, ওয়াশিংটন পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ২৮ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন।

ম্যানিলার মার্কিন দূতাবাসে ট্রাম্প বিরোধী বিােভ
নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের প্রতিবাদে এবং ফিলিপিন্স থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ম্যানিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে বিােভ করেছে ২শ’রও বেশি ফিলিপিনো।
কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবারের এ বিােভে বিােভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। প্রায় ২শ’ পুলিশ কর্মকর্তারা কড়া নজরদারির মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবেই বিােভ হয় বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ ইএফই নিউজ।
এক বিােভকারী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পরিবর্তন হলেও তাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতি চলতেই থাকবে কিংবা বর্তমানের চেয়ে তা আরও খারাপ আকার ধারণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এখন তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার সময়।”

 

 

ট্রাম্পের প্রথম আদেশ ওবামাকেয়ার নিয়ে


ওবামাকেয়ার বলে পরিচিত অ‌্যাফোর্ড‌্যাবল কেয়ার অ‌্যাক্টের নিয়মকানুন ব‌্যবহার বন্ধ করতে ও এটি দুর্বল করতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন‌্য সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে নিজের প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ‌্যেই এ নির্দেশ জারি করেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার পূর্বসূরির স্বাস্থ‌্যসেবা আইনটি অকার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

শপথের পর শোভাযাত্রা করে হোয়াইট হাউসে আসেন ট্রাম্প। এর কিছুক্ষণের মধ‌্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্ট দপ্তর ওভাল অফিসে উপস্থিত হন। এখানে অ‌্যাফোর্ড‌্যাবল কেয়ার অ‌্যাক্ট নিয়ে একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন।

এই আদেশে সরকারি বিভাগগুলোকে আইনটি ‘ব‌্যবহার না করা, মুলতবি রাখা, অব‌্যাহতি প্রদান করা, বাস্তবায়নে বিলম্ব করার’ উপায় বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যে আইনটি রাষ্ট্র, কোম্পানিগুলো ও ব‌্যক্তিবর্গের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।  

এতে রাজ‌্যগুলোকে স্বাস্থ‌্যসেবার কর্মসূচীগুলো বাস্তবায়নে অধিকতর ক্ষমতা দিতে উদ‌্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ‌্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন, তথাকথিত ‘ব‌্যক্তিগত ম‌্যান্ডেট’ থেকে অব‌্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সম্প্রসারিত করতে পারেন ট্রাম্প; এই ‘ম‌্যান্ডেট’ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইন্স‌্যুরেন্স নিতে হতো বা জরিমানা গুণতে হতো অথবা নিয়োগকর্তাদের তাদের কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের আওতায় আনার উদ‌্যোগ নিতে হতো।   

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, প্রশাসন ‘এসেনশিয়াল বেনিফিট’ও হ্রাস করার চেষ্টা করবে।

তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সদ‌্য সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ‌্যে অন‌্যতম ছিল অ‌্যাফোর্ড‌্যাবল কেয়ার অ‌্যাক্ট, যা ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। এই আইনটি বাতিল বা প্রতিস্থাপন করা ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর কেন্দ্রে ছিল।

 

আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখার অঙ্গীকার ট্রাম্পের


যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েই ঘরে-বাইরে আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখার (আমেরিকা ফার্স্ট) নীতি মেনে চলার অঙ্ঘাকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উদ্ভোধনী ভাষণ শুরু করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন,“এ দিন আপনাদের, আপনাদের উদযাপনের দিন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র, আপনাদের দেশ।”

“আমাদের দেশ যখন জনগণ নিয়ন্ত্রণ করবে তখন কোন দল ক্ষমতায় আছে সেটি সত্যিই কোনও বিষয় নয়।”

 ট্রাম্প তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার ও শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন,“আজ থেকে শুধুমাত্র আমেরিকা সর্বাগ্রে বিবেচনায় আমরা এগিয়ে যাব, আমেরিকা সর্বাগ্রে!”

“প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি  আপনাদের জন্য লড়াই করব এবং আমি  কখনও আপনাদের পড়ে যেতে দেব না। আমেরিকা আবারও জিততে শুরু করবে এবং এমনভাবে জিতবে যা অতীতে কখনও হয়নি।”

ইসলামপন্থি জঙ্গিদের সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “চরমপন্থি ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আমরা সভ্য সমাজকে একজোট করব। আমরা তাদের পৃথিবী থেকে নির্মূল করব।”

“আমি কথা দিচ্ছি, আমরা আর কখনই অবজ্ঞার শিকার হব না। একজোট হয়ে আমরা আবার আমেরিকাকে সমৃদ্ধশালী করব। আমরা আমেরিকাকে আবারও গর্বিত করব। এবং হ্যাঁ, আমরা একসঙ্গে মিলে আমেরিকাকে অসাধারণ দেশে পরিণত করব।”

‘ঈশ্বর আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন’ দুই বার এই কামনা করে বক্তৃতা শেষ করেন ট্রাম্প।

এ সময় সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট হওয়া বারাক ওবামাকে ‘দারুণ’ ‘দারুণ’ বলতে শোনা যায়।

 

অভিষিক্ত ট্রাম্প যা যা বললেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে তুলে ধরেছেন এক ভগ্নপ্রায় আমেরিকার চিত্র; দেশকে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন করে।

ট্রাম্প বলেছেন, এই পুনর্গঠন হবে নতুন নিয়মে, তার কাছে সবার আগে থাকবে আমেরিকার স্বার্থ।

ট্রাম্পের অভিষেক বক্তৃতার চুম্বকাংশ:

 

>> দায়িত্বের যে শপথ আমি আজ নিলাম, তা সকল আমেরিকানের প্রতি আনুগত্যের শপথ।

>> বহু বছর ধরে আমরা বিদেশি শিল্পকে সমৃদ্ধ করে গেছি, যার জন্য‌ মূল্য  দিতে হয়েছে আমেরিকার শিল্পকে। আমরা বিদেশি সেনাবাহিনীকে ভর্তুকি যুগিয়েছি, যখন আমাদের সেনাবাহিনী দুঃখজনকভাবে রিক্ত হয়েছে। আমরা অন্য‌ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে গেছি, যখন নিজেদের সীমান্ত থেকেছে উপেক্ষিত। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আমরা বিদেশিদের পেছনে খরচ করেছি, যখন আমেরিকার অবকাঠামো দৈন্যদশায় নিমজ্জিত হয়েছে, ক্ষয়ে গেছে। আমরা অন্য দেশকে ধনী করে তুলেছি, যখন আমাদের সম্পদ, শক্তি আর আত্মবিশ্বাস বিলীন হয়েছে দিগন্তে। আমাদের মধ্যবিত্তের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আর তা বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো বিশ্বে।

>> আজ যারা এখানে জড়ো হয়েছি, প্রতিটি শহর, প্রতিটি দেশের রাজধানী এবং প্রতিটি ক্ষমতাকেন্দ্রের জন্য আমরা ঘোষণা করছি নতুন ফরমান। আজকের পর থেকে আমাদের এই দেশ পরিচালিত হবে নতুন নীতি নিয়ে। আজ থেকে, সবার আগে থাকবে আমেরিকার স্বার্থ, সবার আগে থাকবে আমেরিকা।

>> বাণিজ্য, কর, অভিবাসন আর পররাষ্ট্রনীতি- সব পরিচালিত হবে আমেরিকার শ্রমিকের কল্যাণের জন্য,‌ আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য।

>> রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে জনগণকে সরিয়ে আমরা কর্মমুখী করব, দেশকে গড়ে তুলব নতুন করে, আমেরিকানদের হাত দিয়ে, আমেরিকানদের শ্রমে। দুটি সহজ নিয়ম আমরা মেনে চলব: আমেরিকার পণ্যে কিনব এবং কাজ দেব আমেরিকানদের।

>> অন্য দেশের বন্ধুত্ব আমরা চাই, কিন্তু তা হবে এটা মেনে, যে নিজের দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অধিকার সবারই আছে। আমাদের জীবনধারা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে আমরা চাই না। বরং আমরা জাজ্বল্যমান উদাহরণ হয়ে উঠতে চাই, যাতে সবাই আমাদের অনুসরণ করে।

>> আমাদের বহু নাগরিক বসবাস করছে ভিন্ন এক রূঢ় বাস্ততায়। প্রান্তের বহু শহরে বহু মা ও শিশু দারিদ্র্যে নিমজ্জিত। এ জাতির মানচিত্রে জংধরা বহু কারখানা কবরের ফলকের চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বহু টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে সব ধরনের জ্ঞান থেকে। আর আছে অপরাধ, গুণ্ডাদল আর মাদক, যা বহু প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, দেশের অনেক সম্ভাবনাকে লুটে নিচ্ছে বিকশিত হওয়ার আগেই।    

আমেরিকার এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে এখানেই, এবং তা এখনই।

>> পুরনো মিত্রদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক আরও মজবুত করব, গড়ে তুলব নতুন বন্ধু, এবং সভ্য দুনিয়াকে আমরা একজোট করব ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, এই পৃথিবী থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা হবে।

>> যে রাজনীতিবিদেরা কাজের বদলে কেবল কথায় বিশ্বাসী, যারা কেবল অভিযোগ করে যায়, সমাধানের জন্য কিছুই করে না, তাদের আর আমরা সুযোগ দেব না।

>> কালো, বাদামী বা সাদা, গায়ের রঙে আমরা যাই হই না কেন, আমাদের সবার দেহে দেশপ্রেমিকের একই লাল রক্ত, একই স্বাধীনতা আমরা ভোগ করছি, সবাই সালাম জানাচ্ছি আমেরিকার সেই একই পতাকাকে।

>> আমরা, একসঙ্গে, আবারও গড়ে তুলব শক্তিশালী আমেরিকা। আমাদের আমেরিকা আবার হয়ে উঠবে সম্পদশালী, আমেরিকা আবারও গর্বিত জাতি হয়ে উঠবে, আমরা আবারও আমেরিকাকে নিরাপদ করে তুলব। এবং হ্যাঁ, সবাই মিলে আবারও আমরা আমেরিকাকে করে তুলব সবার সেরা।

ট্রাম্পের অভিষেকে হিলারি


ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তার কাছে হেরে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।

হিলারির সঙ্গে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও ছিলেন।

অভিষেকে যোগ দেওয়া নিয়ে এক টুইটে হিলারি বলেন, “আমাদের গণতন্ত্রকে সম্মান জানাতে আজ আমি এখানে। আমি কখনোই আমাদের দেশ ও এর ভবিষ্যতের উপর বিশ্বাস হারাব না।”


হিলারি ছাড়াও ডেমোক্রেট নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও তার স্ত্রী লিনে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কোয়েল ও তার স্ত্রী ম্যারিলিনসহ আরও অনেক সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন।

 

<blockquote class=”twitter-tweet” data-lang=”en”><p lang=”en” dir=”ltr”>I&#39;m here today to honor our democracy &amp; its enduring values. I will never stop believing in our country &amp; its future. <a href=”https://twitter.com/hashtag/Inauguration?src=hash”>#Inauguration</a></p>&mdash; Hillary Clinton (@HillaryClinton) <a href=”https://twitter.com/HillaryClinton/status/822472212569616385″>January 20, 2017</a></blockquote>
<script async src=”//platform.twitter.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

ট্রাম্প যুগের সূচনা

করতোয়া ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানবিচারপতি জন রবার্টস। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে শপথ পড়ান আরেক বিচারপতি। শপথের পর যুক্তরাষ্ট্রের নয়া কমান্ডার ইন চিফ ও তার ডেপুটি অংশ নেন হোয়াইট হাউসে তাদের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানসহ প্যারেড বা কুচকাওয়াজে। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিল থেকে শুরু হওয়া এ প্যারেড ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ দফতর বা ভবন প্রদণি করে শেষ হয় ‘শ্বেত প্রাসাদ’ হোয়াইট হাউসে।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার দিনটি ট্রাম্প শুরু করেন হোয়াইট হাউজের কাছে সেইন্ট জনস এপিসকোপাল চার্চে সকালের প্রার্থনায় অংশ নিয়ে। এরপর ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া যান হোয়াইট হাউজে, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিদায়ী ফার্স্টলেডি মিশেলের সঙ্গে কফি খান। এরপর মোটর শোভাযাত্রা করে নতুন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ক্যাপিটলে আসেন। ওবামা ও মিশেল তাদের সঙ্গ ছিলেন। ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম ভাগে হয় নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ। নতুন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাজনীতিবিদ, কংগ্রেসের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় সুরের মূর্চ্ছনায় শুরু হয় অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা। সাড়ে ১১টায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের শপথ পড়ান বিচারপতি কেরেন্স টমাস। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বাইবেল হাতে নিয়ে পেন্স শপথ পড়েন।  

শপথ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের হাতে ছিল আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিধন্য বাইবেল। শপথ নেওয়ার পর অভিষেক বক্তৃতা দেন নতুন প্রেসিডেন্ট।বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ট্রাম্প ও পেন্স পেনসিলভানিয়া অ্যাভেনিউয়ে প্যারেডে অংশ নেন। তাদের অনুসরণ করেন সমর্থকরা। ট্রাম্পবিরোধীরাও প্রতিবাদ জানাতে সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এদিকে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে স্ত্রীদের নিয়ে তিনটি আলাদা অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন ট্রাম্প ও পেন্স।ট্রাম্পের শপথ উপলে ওয়াশিংটনে ৮ থেকে ৯ লাখ লোকের সমাগম ঘট। এদের মধ্যে কতজন ট্রামস্প সমর্থক আর কতজন তার বিরোধী, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্মকর্তারা। এর আগে ২০০৯ সালে বারাক ওবামার প্রথম শপথে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ রাজধানীতে জড়ো হয়েছিল বলে বিবিসির তথ্য। তবে আট বছর আগের সেই উদ্দীপনার সঙ্গে এবারের মিল নেই। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া নিউ ইয়র্কের এই ধনকুবের স্থলাভিষিক্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপ্রধান বারাক ওবামার। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়ালে কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টের অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে; শপথের আগের রাতে সেই কনসার্টে উৎফুল্ল সমর্থকদের উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকারের কথা।

লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকানদের জীবনে তিনি পরিবর্তন এনে দেবেন। দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন স্ত্রী মিলানিয়া আর পরিবারের সদস্যরা। আরও ছিলেন অভিনেতা জন ভয়েট, গায়ক স্যাম মুর। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রেওয়াজ অনুযায়ী, চার বছর পরপর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জানুয়ারির ২০ তারিখ স্থানীয় সময় বেলা ১২টায় প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নেন। তবে অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় আগের দিন সকালে, লিংকন মেমোরিয়ালে কনসার্টের মধ্য দিয়ে।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয় দিনব্যাপী এ কনসার্ট। ওয়াশিংটন ডিসি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এমারেল্ড সোসাইটি পাইপস অ্যান্ড ড্রামস, রিপাবলিকান হিন্দু কোয়ালিশন ও হাই স্কুল মার্চিং ব্যান্ড এ কনসার্টে তাতে অংশ নেয়।শপথ নেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স আর্লিংটনের জাতীয় সমাধিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এরপর বিকালে লিংকন মেমোরিয়ালে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন! ওয়েলকাম সেলিব্রেশন কনসার্ট’ এর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়, যেখানে ছিল শিল্পী টবি কিথ ও লি গ্রিনউডের পরিবেশনা।কনসার্টের শেষ পর্যায়ে এসে সংপ্তি বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, আমরা আমাদের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে তুলব।আমরা আমাদের সব মানুষের জন্য আমেরিকাকে অসাধারণ করে তুলব, সবার জন্য, সবার জন্য…।সমর্থকদের ট্রাম্প মনে করিয়ে দেন, ভোটের প্রচারের দিনগুলোতে তাদের সাফল্য নিয়ে অনেকেরই সংশয় ছিল। তারা আমাদের অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছিল। যে নারী আর যে পুরষদের কেউ মনে রাখেনি, আমি তাদের বলেছিলাম, তোমরা আর বিস্মৃত কেউ নও। ট্রাম্প আমেরিকানদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন। সামরিক বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করার, সীমান্তকে আরও সুরতি করার অঙ্গীকার করেন।আমরা সেই সব কাজে হাত দেব, বহু দশক ধরে যা করা হয়নি। পরিবর্তন আসবে। আমি প্রতিশ্র“তি দিচ্ছি, পরিবর্তন আসবে।এর আগে দুপুরে হোয়াইট হাউজের মাত্র কয়েক ব্লক দূরে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজে আসেন ট্রাম্প। যাদের নিয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসন সাজাচ্ছেন, তাদের জন্যই ছিল এ আয়োজন।  আমেরিকার ভাবী ফার্স্ট লেডি সংপ্তি বক্তৃতায় বলেন, আগামীকাল আমরা কাজে নামছি।ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেক স্মার্ট লোক আছে। আমি তোমাদের বলছি, একটি বিষয় আমি বুঝেছি, আগের যে কোনো মন্ত্রিসভার চেয়ে আমাদের আইকিউ বেশি।সন্ধ্যার কনসার্টের পর ট্রাম্পের বৃহস্পতিবার রাতটি কাটছে প্রেসিডেন্টের অতিথি ভবন বেয়ার হাউজে। হোয়াইট হাউজ থেকে ওই বাড়ির দূরত্ব সামান্যই।

 

বিদায় বেলায় ওবামাকে জড়িয়ে কাঁদলেন কর্মীরা

করতোয়া ডেস্ক : ইতিহাস গড়ে এসেছিলেন, যাচ্ছেনও ইতিহাস গড়েই! যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিদায়টা যেন একটু বেশিই করুণ মনে হচ্ছে না! কান্নার জলে তাকে বিদায় জানাচ্ছেন কর্মীরা।
এতো দিন যেখানে ছিল তার বাস, যেখানে কাটিয়েছেন স্মৃতির সোনালি অনেকটা সময় সেই প্রিয় ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিল ওয়াইট হাউসই এখন আর তার নয়! এক জীবনে কোনো কিছুই স্থায়ী হয় না, সেই অনুপাত মেনে যেন সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে তাকে। বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে প্রিয় প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরেন তার প্রশাসন কর্মীরা; এমন কিছু ছবি এসেছে হোয়াইট হাউসের ব্লগে। এর আগে, সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষবার সংবাদ সম্মেলন করে বিদায় জানান ওবামা। দীর্ঘ এক ঘণ্টার বক্তব্যে শোনান, গণতন্ত্র রায় সংবাদমাধ্যমের অপরিহার্য ভূমিকার কথা।

এসময় হাউসের প্রেস কর্পসকেও আন্তরিক ধন্যবাদ দেন তিনি। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে একে একে হাত মেলান; দেখান ‘বিজয়’ চিহ্নও। নতুন দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপদেশ দিতেও ছাড়েননি তিনি। ট্রাম্প যখন মসনদ বুঝে নেবেন তখন সাবেক কমান্ডার ইন চিফ স্ত্রী মিশেল এবং দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়াকে নিয়ে পাম স্প্রিংয়ের সাগর সৈকতে ঘুরবেন; সময় কাটাবেন। পাশাপাশি ওবামা লিখতে চান বইও। এর মধ্যে স্মৃতি কথামূলক বই থাকতে পারে বলে গুঞ্জন প্রবল। এর আগে, হোয়াইট হাউসে শেষবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ পরমাণু অস্ত্রের মজুদ কমাতে কাজ করা উচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নিয়ে দুটি আলাদা রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় বয়ে যাচ্ছে। দ্রুতই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলে তা দুই দেশ, তাদের জনগণ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার উপরও হুমকি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছিলেন বারাক ওবামা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মেয়াদে মতায় আসেন। এরপর ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায়ও বিজয়ী হন। শুরু থেকেই বিভিন্ন বিরোধিতা ও সমালোচনার মধ্যে দিয়ে তাকে কাজ করে যেতে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন স্মরণ রাখার মতো একজন রাষ্ট্রনায়ক হয়ত হতে পেরেছেন বটে!

শপথের দিনে ট্রাম্পবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি


শপথের দিন নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা জানিয়ে’ ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা দখল করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

অভিষেক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ-বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিকে কার্যত দূর্গে পরিণত করেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শপথের আগের রাতেই হাজারও বিক্ষোভকারী নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তারা ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয়।

ট্রাম্প সমর্থক ও বিরোধী সংগঠকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক উপলক্ষে পক্ষে-বিপক্ষের প্রায় ৯ লাখ লোক ওয়াশিংটনে জড়ো হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

যুক্তরাষ্টের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলের শপথ অনুষ্ঠান শেষে ট্রাম্প তার সমর্থকদের নিয়ে পেনসিলভানিয়া অ্যাভেনিউ ধরে শোভাযাত্রার করে হোয়াইট হাউসে যাবেন। এ সময় রাস্তার দুইপাশে ভিড় করে মানুষ নতুন প্রেসিডেন্টের প্যারেড উপভোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা এসব অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত করার হুমকি দিয়ে আসছে। ট্রাম্পের শপথকে ঘিরে যত সংগঠন বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছে,  নিকট অতীতে আর কোনো প্রেসিডেন্টের শপথ ঘিরে তা হয়নি।

এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি সংগঠন ওয়াশিংটনে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি পেয়েছে; আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বোস্টন থেকে লস অ্যাঞ্জেলস পর্যন্ত বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।

দেশ ছাড়িয়ে ট্রাম্পবিরোধী এ প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাইরেও। লন্ডন ও সিডনির মত শহরেও ট্রাম্পের শপথের দিন বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।

শপথের আগে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজনীতিবিদ, অধিকার আন্দোলন কর্মী ও খ্যাতিমান শিল্পীরা। এদের মধ্যে আছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো ও অভিনেতা অ্যালেক বল্ডউইন।

নিউ ইয়র্কের বিক্ষোভ সমাবেশে ব্লাসিয়ো বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ওয়াশিংটন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু আমেরিকার জনগণই তাদের পথ ঠিক করবে।

“আমরা ভবিষ্যৎকে ভয় করি না। আমরা জানি ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, যদি মানুষের আওয়াজ আরও শক্তিশালী হয়,”বলেন তিনি।

একই সময় ওয়াশিংটনেও শতাধিক বিক্ষোভকারী ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ করেছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়েছে।

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব ভবনের বাইরে ওই সংঘর্ষ চলার সময় ক্লাব ভবনের ভেতরে ট্রাম্পসমর্থকরা তখন ট্রাম্পের বিজয় ও শপথ উদযাপন অনুষ্ঠান করছিলেন।

শপথের দিন ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধীরা বিবাদে জড়াতে পারে, এ অনুমান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুরু থেকেই কৌশল অবলম্বন করবে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি জে জনসন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুলিশের লক্ষ্য থাকবে দুটি গ্রুপকে আলাদাভাবে তাদের যার যার কাজ করতে দেওয়া, যেমনটা গত বছর রাজনীতিক দল দুটির কনভেনশনের সময় করা হয়েছিল।

জনসন  এমএসএনবিসি টিভিকে বলেন, “উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে কিছু দল ট্রা্ম্পের সমর্থক, কিছু ট্রাম্পবিরোধী। তারা হয়তো একই সময়ে একই জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি নাও করতে পারে।”

নির্বাচনী প্রচারে নারী, অবৈধ অভিবাসী ও মুসলমানদের নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য, ওবামার সময় নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা বাতিল ও মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলে দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনেককেই খেপিয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকান সমর্থকরা দেখেছেন রিয়েল এস্টেটসহ নানান ব্যবসায় ট্রাম্পের অবিস্মরণীয় সাফল্য।

রিয়েলিটি শো’র তারকা ও খোলামেলা কথা বলায় পারদর্শী এ ব্যবসায়ী রাজনীতিতে নতুন চিন্তাধারার সমাবেশ ঘটাবেন বলেও প্রত্যাশা তাদের। এদেরই একটি দল ‘বাইকারস ফর ট্রাম্প’, পেনসিলভানিয়া অ্যাভেনিউর প্যারেডের সময় শোভাযাত্রার সামনে ও পেছনে থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা দিবে বলে জানিয়েছেন।

দলটি এর আগে ক্লিভল্যান্ডে রিপাবলিকান কনভেনশনেও এভাবে শোভাযাত্রার সামনে-পেছনে অবস্থান নিয়েছিল।

বাইকারস ফর ট্রাম্পের ৬৩ বছর বয়সী সংগঠক ডেনিস এগবার্ট জানান, ট্রাম্পবিরোধীরা যেন শোভাযাত্রার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে সেজন্য সজাগ থাকবেন তারা।

নিরাপত্তার চাদর

শপথের দিন কমবেশি ২৮হাজার নিরাপত্তা কর্মী ওয়াশিংটনের কেন্দ্রস্থলের তিন বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নিরাপত্তার দেয়াল গড়ে তুলবে। সঙ্গে থাকবে মাইলখানেক লম্বা কাঁটাতারের বেড়া, রাস্তা ও সড়ক অবরোধের যন্ত্রপাতি, ডাম্প ও বালুভর্তি শতাধিক ট্রাক।

ট্রাম্পবিরোধী ‘ডিজরাপ্ট জে ২০’ দলের সদস্যরা এদিন শপথস্থলে ঢোকার ১২টি প্রবেশপথে বিক্ষোভ দেখিয়ে ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বাধা দিয়ে ক্যাপিটল হিলের উৎসব বানচালের ঘোষণা দিয়েছে।

পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ক্ষেত্রে তারা আন্দোলনকারীদের বাধা দেবেন না। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে, ছেড়ে দেয়া হবে না।

তারপরও শুক্রবারের এ জনসমাগম ৮ বছর আগে বারাক ওবামার শপথের তুলনায় অনেক কম।

আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৯ এর ২০ জানুয়ারি শপথের দিন ওয়াশিংটনে প্রায় ২০ লাখ সমর্থকের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন ওবামা। দ্বিতীয় দফায় শপথ নেওয়ার দিনও ওয়াশিংটনে জড়ো হয়েছিল ১০ লাখ সমর্থক।

ট্রাম্পের শপথের দিন বৃষ্টি হতে পারে এমন পূর্বাভাস থাকায় ছাতার ব্যাপারে আগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে পুলিশ। এখন তারা বলছে, যে কেউ চাইলে এদিন ছোট আকারের ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

তুরস্কের বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৩২

কিরগিজস্তানে তুরস্কের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্তে অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কিরগিজ সরকার বলছে, রাজধানী বিশকেকের উত্তরাঞ্চলের মানাস বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৪৭ বিমানটি মানাস বিমানবন্দরের কাছে বাড়ি-ঘরের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই এলাকার ১৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছেন।  

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, তুরস্কের ওই কার্গো বিমানটি মানাস হয়ে ইস্তাম্বুলে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়েছে।

কিরগিজ সরকার বলছে, বিমানটি টার্কিশ এয়ারলাইন্সের। তবে কিরগিজ সরকারের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানটি টার্কিশ ক্যারিয়ার অ্যাক্টের; যা ‘মাই কার্গো এয়ারলাইন্স’ নামে পরিচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইট বার্তায় টার্কিশ এয়ারলাইন্স বলছে, কিরগিজস্তানে অ্যাক্ট এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।

স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ডাচা-সু গ্রামের ওপর বিমানটি আঁছড়ে পড়েছে। বিমান বিধ্বস্তের পর মানাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিরগিজস্তানের প্রধানমন্ত্রী সুরনবাই জিনবেকভ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০০৮ সালে মানাস থেকে উড্ডয়নের পর ইরানগামী একটি বিমান বিধ্বস্তে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়।

ট্রাম্পের শপথ ভন্ডুল করতে লাখো মানুষ ওয়াশিংটনমুখী

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার বিজয়ে হতাশা প্রকাশ করতে আগামী সপ্তাহে এখানে লাখো মানুষ ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভও করতে পারেন।

 ট্রাম্পের অভিষেকের দিনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে। ট্রাম্প বিরোধী প্রধান বিক্ষোভ হবে অভিষেকের পরদিন সকাল ১০ টায়। উইমেন মার্চ অন ওয়াশিংটন শিরোনামে এ বিক্ষোভের সামনের সারিতে থাকছেন কেটি পেরি, জুলিয়ান মুর, চের ও স্কারলেট জনসনের মত প্রথম সারির সেলিব্রেটিরা।

অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী তেরেসা শক ফেসবুকে তার ৪০ জন বন্ধুকে প্রথম ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভের আহবান জানায়। এরপর এ নিয়ে হৈচৈ তৈরি হয়। আর এ সুযোগ কাজে লাগায় ফেসবুকে হিলারি ক্লিনটনপন্থী গ্রুপ পানসুইট নেশন। গ্রুপটি দেশব্যাপী বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ গ্রুপের সদস্য প্রায় ৪০ লাখ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, এক লাখ ৯০ হাজারের মত মানুষ জানান, তারা বিক্ষোভে অংশ নেবেন। আর দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষ জানান, তারা আগ্রহী। উদ্যোক্তারা জানান, ‘আমরা আশা করি, নির্বাচিত নেতারা নারী, তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে।’ তবে বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি একেবারে যে নিশ্চিত তা নয়।

 বিশেষ করে মধ্য জানুয়ারিতে প্রায়ই তুষারপাত ও প্রচন্ড শীতের কারণে আবহাওয়া বৈরি থাকে। অভিষেকের দিন যেখানে কয়েকশ গাড়ি পার্ক করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে সেখানে পরদিন বিক্ষোভের জন্য ওয়াশিংটনের আরএফকে স্টেডিয়ামে কমপক্ষে ১২শ’ গাড়ি পার্ক করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা সরাসরি একে ‘ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ’ বলেননি। তবে বার্তা স্পষ্ট।

তারা বলেন, অভিবাসীদের সুরক্ষা, গর্ভপাতের সুযোগসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লিঙ্গ, বয়স, বর্ণ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পটভূমির লোকজন সবাই একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে।

প্লেন ওড়াতে ৭০ হাজার পাখি নিধন

 

করতোয়া ডেস্ক: ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো পাখিকে ওরা আর উড়তে দিলো না! থমকে দিলো তার গতিপথ, দূর দিগন্ত। প্রাণীর প্রাণনাশেই বুঝি যান্ত্রিক জীবন পাবে আরও গতিশীলতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রায় ৭০ হাজার পাখি নিধন করা হয়েছে। গাঙচিল, স্টারলিং, রাজহাঁসসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এই ব্যাপক নিধনের শিকার। যার মধ্যে কোনোকে মারা হয়েছে গুলি করে, নয়তো ফাঁদ পেতে।

 স্থানীয় লাগর্ডিয়া এয়ারপোর্ট ও নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টের প্লেন দুর্ঘটনা এড়াতে এতো বিপুল সংখ্যক পাখিকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। ২০০৯ সালের একটি দুর্ঘটনার জের ধরে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তারা।

পূর্ব নিউইয়র্কের হাডসন নদী সংলগ্ন এই দুই বিমানবন্দরে পাখির জন্য প্লেন ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। যা এড়াতেই জীববৈচিত্র্যের ওপর এমন আঘাত। ইতোমধ্যে নিধনকান্ডে সমালোচনাও শুরু হয়েছে জোরেশোরে। অনেকের দাবি ছিল বিকল্প পদ্ধতি বের করার, কিন্তু তা না করে অন্তত ৭০ হাজার পাখি হত্যা কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারে না; বরং তা পরিবেশের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ভারতে ঘুড়ি উৎসবে যাওয়ার পথে নৌকাডুবি, নিহত ৪০

করতোয়া ডেস্ক: ভারতে ঘুড়ি উৎসবে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিহার রাজ্যের পাটনার কাছে গঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

 শনিবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে তিন দিনব্যাপী ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। নিহতরা এ ঘুড়ি উৎসবেই যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। নৌকাটিতে দারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ উঠেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবার লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, কেন্দ্র বিহার সরকারের পাশে আছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রসাশনের পক্ষ থেকে প্রথমে অধিকাংশ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে দেখা যায় তা একেবারেই ঠিক নয়। পাটনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাটনায় রাজ্যটিতে এমনিতেই শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যেই গঙ্গার হিমশীতল পানিতে পড়েছেন নৌকার যাত্রীরা। অতিরিক্ত ঠান্ডায় অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ বলে মত চিকিৎসকদের।

শরণার্থীদের লাথি মারা সেই হাঙ্গেরীয় সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা

করতোয়া ডেস্ক: ২০১৫ সালে সার্বিয়া সীমান্তের কাছে ধাবমান শরণার্থীদের লাথি মেরে দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেওয়া সেই হাঙ্গেরিয়ান নারী সংবাদকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শান্তি বিনষ্টের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে তিন বছরের দন্ড  দিয়েছে হাঙ্গেরির একটি আদালত। অবশ্য, তাকে জেলে থাকতে হবে না। ওই তিন বছর বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে তাকে।

 এরইমধ্যে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। উল্লেখ্য, দোষী সাব্যস্ত ওই নারী সাংবাদিক হাঙ্গেরির একটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি হাঙ্গেরিতে পুলিশের ধাওয়ায় পলায়নরত শরণার্থীদের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে দিগ্বিদিক ছুটে যাওয়া শরণার্থীদের ধাক্কা লাগে। আর এতে চরম ক্ষুব্ধ হন এই ভিডিও সাংবাদিক।

 ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ পেত্রা লাজলো প্রথমে দুই শিশুকে লাথি মারেন। তারপর সন্তানকে কোলে নিয়ে পুলিশের হাত থেকে পলায়নরত এক বাবাকে ল্যাং মারেন। এতে সন্তানসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বাবা। অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি দ্রুত ভাইরাল হয়। দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এই ঘটনা।

 সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পেত্রাকে চাকরিচ্যুত করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬  তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন দেশটির প্রসিকিউটররা। শরণার্থীদের লাথি মারা ঘটনায় পেত্রা লাজলো’র বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। তবে বর্ণবাদী চিন্তাভাবনা থেকে তার এমন  আচরণের অভিযোগ সেসময় প্রত্যাখ্যান করেন প্রসিকিউটররা।

কর দিতে ৭২৬ কেজি কয়েন নিয়ে হাজির ব্যবসায়ী

করতোয়া ডেস্ক: কর দিতে পাঁচটি ঠেলায় তিন লাখ কয়েন ভর্তি করে হাজির হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ভার্জিনিয়ার সেডার বাফ শহরের বাসিন্দা নিক স্ট্যাফোর্ড। কয়েনগুলোর মোট ওজন দাঁড়ায় ৭২৬ কেজি। আর সেগুলো গুণে নিতে সাত ঘণ্টা সময় লাগে কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, সরকারি বিভাগগুলোর ওপর নাখোশ হয়েই এমন অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানান স্ট্যাফোর্ড।

 ভার্জিনিয়ার সেডার বাফ শহরের বাসিন্দা নিক স্ট্যাফোর্ডের সঙ্গে মোটরযান নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ডিএমভি) ঝামেলা চলছিল ছয় মাস ধরে। সংস্থার পীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন নিক। বুধবার চাকা লাগানো ঠেলায় (হুইলব্যারো) কয়েন নিয়ে ওই বিভাগে হাজির জন স্ট্যাফোর্ড। ডিএমভি’র স্বয়ংক্রিয় গণনাযন্ত্র এত কয়েনের ভার সামলাতে পারেনি। পরে সংস্থার কর্মীরা সাত ঘণ্টা শ্রম দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েন গোণা শেষ করেন।

  ডিএমভির সঙ্গে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ‘ঝামেলা’ শুরু হয় তার। কোম্পানির তিনটি গাড়ির নিবন্ধন করা এবং কোথায় বিক্রয় কর দিতে হবে তা জানতে সংশ্লিষ্ট কারও ফোন নম্বর চেয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। কিন্তু ডিএমভি তাকে এটা দিতে অনেক ঘুরিয়েছে।  ব্রিস্টল হেরাল্ড কুরিয়ারের খবরে বলা হয়, ডিএমভির সহযোগিতা না পেয়ে স্ট্যাফোর্ড তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন।

 তখন তাকে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হলেও সেখানে ফোন করার পর স্ট্যাফোর্ডকে বলা হয়, এই নম্বর সাধারণ মানুষের অনুসন্ধানের উত্তর দেওয়ার জন্য নয়। পরে ডিএমভি অনুসন্ধানের বিষয়ে তথ্য দিলেও স্ট্যাফোর্ড অন্যান্য শহরের আরও নয়টি কর অফিসের ফোন নম্বর চান। এবার তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আদালতে ডিএমভি ও এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জরিমানা করতে তিনটি আলাদা আবেদন করেন নিক। কিন্তু, আবেদনগুলো খারিজ করে দেয় আদালত।

এক মাস সাগরে ভেসে জীবিত ফিরলেন বাবা-মেয়ে!

করতোয়া ডেস্ক: তাসমানিয়ান সাগরে নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে তীরে জীবিত ভেসে এসেছেন এক বাবা ও তার মেয়ে। নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ওই বাবা-মেয়ে এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত নৌকায় চড়ে তাসমানিয়ান সাগরে প্রায় দু’হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। অবশেষে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন তারা।

 মেয়ে কোরাইয়াকে সঙ্গে করে ২১ ফুট লম্বা নৌকা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের কাউহিয়া থেকে পূর্বতীরের সাগর ভ্রমনে বের হয়েছিলেন অ্যালান লংডন (৪৬)। কিন্তু সাগরে ওঠে হঠাৎ ঝড়। তীর থেকে অনেক দূরে ভেসে যায় নৌকা। ঝড়ে অ্যালানের নৌকার রাডার ভেঙে যায় এবং বাবা-মেয়ে সাগরে হারিয়ে যান। দীর্ঘ এক মাস তারা সাগরে ভেসে বেড়ান। এ সময় মাছ ধরে তাই খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখেন বাবা-মেয়ে।

আশা ছাড়েননি তীরে ফেরার। অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সময় বুধবার সিডনি থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উল্লাডুল্লা এলাকায় সৈকতে ভেসে আসে বাবা-মেয়েকে বহনকারী নৌকাটি।

মাকে খাঁচায় বন্দি রেখেছে ছেলে

করতোয়া ডেস্ক: চীনে বৃদ্ধ মাকে শুকরের খাঁচার ভেতর বন্দী করে রেখেছে ছেলে। এমন একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।  দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজি প্রদেশে ৯২ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধাকে তার নিজের ছেলে এবং ছেলের বউ এভাবে খাঁচার মধ্যে বন্দী করে রেখেছে। বছরের পর বছর ধরে ওই বৃদ্ধাকে এভাবে বন্দী রাখা হয়েছে।

 ইয়াং নামের ওই নারীকে ১০ বর্গমিটার সেলের ভেতর কাঠের বেঞ্চিতে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে। প্রিটি নান গুলান নামে স্থানীয় এক নারীই ওই বৃদ্ধাকে এভাবে খাঁচায় রাখার একটি ভিডিও পোস্ট করার পরই তা নিয়ে বেশ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মিয়াওপাই নামের জনপ্রিয় ভিডিও সার্ভিসে খাঁচার ভেতর বসে থাকা বৃদ্ধার ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি।

 চলতি মাসের ৬ তারিখে প্রকাশের পর থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আঠারো লাখের বেশিবার ভিডিওটি দেখা হয়েছে। দশ হাজারের বেশি অনলাইন ব্যবহারকারী হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্ট শেয়ার করেছেন যেখানে বৃদ্ধার ছেলে এবং ছেলের বউকে পশু বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বিশ্বে প্রথম, এই বিমানে ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় মিলবে হাই স্পীড Fly-Fi

যত গতিতে আকাশের বুক চিরে মেঘ কাটিয়ে ছুটবে উড়োজাহাজ, তার থেকেও বেশি গতিতে মিলবে ওয়াই-ফাই। সমতল থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ইন্টারনেট ব্যবহার করার আকর্ষণীয় পরিষেবা গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে চলেছে মার্কিন বিমান কর্পোরেশন জেট-ব্লু (JetBlue)। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি বৃহৎ বিমান কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে একটি হল জেট-ব্লু। বিমান কর্পোরেশন জেট-ব্লু এই পরিষেবার নাম রেখেছে Fly-Fi। 

মার্কিন এই বিমান কর্পোরেশনের দাবি, বিমানযাত্রীরা এবার থেকে ৩৫,০০০ উচ্চতাতেও ইন্টারনেটের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারবেন। Fly-Fi পরিষেবায় বিমানের মধ্যে থেকেই একজন যাত্রী অনায়াসেই নিজের পছন্দের সিনেমা, মিউজিক ভিডিও দেখতে পারবেন। মন চাইলে গানও শুনতে পারবেন কিংবা পড়তে পারবেন ই-বুকও। শুধু তাই নয়, Fly-Fi পরিষেবায় সংযুক্ত করা হবে ১০০টি টেলিভিশন চ্যানেল। মন চাইলে নিজের পছন্দের টেলিভিশন চ্যানেল ডিরেক্ট দেখতে পারবেন বিমান যাত্রীরা। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এমন পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছে কেবলমাত্র মার্কিন বিমান কর্পোরেশন জেট-ব্লু।   

বিদায় ভাষণে কাঁদলেন-হাসলেন ওবামা, বললেন আমরাই শ্রেষ্ঠ

করতোয়া ডেস্ক: ‘সব মাপকাঠিতেই আমেরিকা এখন আরও সেরা, আরও শক্তিশালী’ বলে জানিয়েছেন যুক্তারাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আট বছর আগে আমেরিকা যেখানে ছিলো তার চেয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। হাজারো সমর্থকের উল্লাস-চিৎকার চলছিলো। ঠিক সেই মুহূর্তে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে শিকাগোতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায়ী ভাষণে বারাক ওবামা তার সরকারের সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরেন।

ক্ষমতার আট বছরের অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আবেগ তাড়িত হয়ে কথনো হাসলেন, কখনো কাঁদলেন। চোখের পানি আড়ালেরও চেষ্টা করলেন। একই সঙ্গে আবার উদ্বেগের কথাও জানালেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে দেশটির ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুই মেয়াদে ৮ বছর কাটিয়ে বিদায়ী ভাষণে বারাক ওবামা বললেন, আমাদের গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। আমেরিকানদের বললেন, আমাদের ইতিহাস থেকে শিখতে হবে, একে অন্যের কথা শুনতে ও বুঝতে হবে। আমাদের ধৈর্য্যধারণ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম এই কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট এখন ৫৫’য় পড়েছেন। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এরপর ২০১২ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। ওবামার উত্তরসূরী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ধনকুবের ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি তিনি শপথ নেবেন।

 তার আগে এটিই বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে সবশেষ ভাষণ। বারাক ওবামা বলেন, আমরা আমেরিকাকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছি। যা পরবর্তী প্রজন্ম অনুসরণ করবে। ভাষণে তিনি জাতিকে ‘বিদায়’ জানিয়ে বলেন, তার মানে এই নয় যে অগ্রগতির পরিবর্তন থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। যেখানেই থাকবেন দেশের উন্নয়নে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করে যাবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বারাক ওবামা।

প্যান্ট ছাড়াই পাতালরেল সফরে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রীরা!

করতোয়া ডেস্ক: প্রতিদিনের মতোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাবওয়েতে মানুষের ভিড। লেগেছিল। ট্রেন আসা মাত্রই যে যার মতো উঠে পড়লেন ট্রেনে। কেউ বসলেন, কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেন। কেউ কারও দিকে তাকানোর প্রশ্ন নেই। সবাই ব্যস্ত নিজের কাজে। কাজ বলতে খবরের কাগজ পড়া, মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও গেম খেলা কিংবা গান শোনা। আশেপাশে কে কী করছেন সেটা দেখার সময় নেই।


কিন্তু নিউইয়র্কের সাবওয়েতে খুবই অদ্ভুত একটি ঘটনা ঘটেছে। নিত্যযাত্রীদের অবাক করে বিনা প্যান্টেই ট্রেনে যাত্রা করে এক দল যুবক-যুবতী। আর এই উদ্যোগ নেয় ‘ইমপ্রুভ এভরিওয়্যার কমেডি কালেক্টিভ’ নামক এক সংগঠন।


২০০২ সালে তৈরি হয়েছিল এই সংস্থা। মাত্র সাত জন সদস্য নিয়ে। এখন তা অনেকটাই বেড়ে গেছে। লক্ষ্য একটাই মানুষের জীবনে হাসি ফিরিয়ে আনা, প্রাণ ফিরিয়ে আনা। শুধুমাত্র বাঁচার তাগিদে না ছুটে বাঁচতে শেখানো। অনেকেই এই পদক্ষেপকে শ্লীল আর অশ্লীলতার মাপকাঠিতে মাপতে  পারেন। তবে এটা তার থেকে অনেক বেশি বলে মনে করেন সংগঠনের সদস্যরা।

রাশিয়া ও চীনের হুমকিতে গর্জে উঠলেন ট্রাম্প

করতোয়া ডেস্ক: চীন ও রাশিয়ার সমর প্রস্তুতির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশের সবচেয়ে বড় নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫৫-রণতরী বহর, বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ওই বহরে থাকছে। সারা বিশ্ব জুড়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প এধরনের রণহুংকার দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার নৌ প্রতিরক্ষাকে জোরদার করতে শুরু করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধের শীতল বার্তা হিসেবে, ‘ আপনি একটি যুদ্ধ চাইলে তা পাবেন’ এমন ধরনের ঘোষণা আসার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে।


এর পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সর্ম্পক এমনিতেই উত্তপ্ত হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে ট্রাম্প যে সমর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে আরো আধুনিক করতে খরচ হবে সাড়ে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া পেন্টাগন ইতিমধ্যে ১২টি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরি করতে ১’শ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২৭৪টি যুদ্ধজাহাজ থাকলেও দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি আরো বৃদ্ধি করতে দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।


শিপবিল্ডার্স কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ প্যাক্সটন বলেছেন, রাশিয়া ও চীন তাদের নৌবাহিনীর জন্যে অব্যাহতভাবে জাহাজ নির্মাণ করে যাচ্ছে। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করা মোটেই সহজ হবে না। নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি অন্য যে কোনো শক্তির চেয়ে জরুরি। আমাদের সে ধরনের নৌবাহিনী প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার জন্যে আরো বড় ধরনের নৌবহর প্রয়োজন। রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে আরো বেশি সময় লাগে হবে এ বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। তবে সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ফের নৌবহর শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয় তাহলে পরিস্থিতি ফের ঠান্ডা যুদ্ধের আগের পর্যায়ে চলে যাবে।

সুইডেনের রাজপ্রাসাদে ‘ভূত আছে’, দাবি রানির

 

করতোয়া ডেস্ক: সুইডেনের রাজপ্রাসাদে ভূত আছে বলে দাবি করেছেন দেশটির রানি সিলভিয়া। তিনি বলেন, ‘এই প্রাসাদের ‘ক্ষুদে বন্ধু’ অর্থাৎ ভূতদের সঙ্গেই তার বসবাস। এটা খুবই উত্তেজনাকর, তবে এতে ভয়ের কিছু নেই।

’ রাজধানী স্টকহোমের কাছে ১৭‘শ শতাব্দীতে নির্মিত ড্রটনিংহোলম প্রাসাদে বাস করেন সুইডেনের রাজপরিবার। রানি সিলভিয়ার বয়স এখন ৭৩ বছর। প্রাসাদ সম্পর্কে রানি জানান, আপনি এটা অনুভব করবেন যে প্রাসাদে আপনি পুরোপুরি একা নন। তিনি বলেন, ‘তবে সেখানকার ভূতেরা খুবই বন্ধুসুলভ।’ রাজা কার্ল গুস্তাফের বোন প্রিন্সেস ক্রিস্টিনাও রানির কথা সমর্থন করেছেন।

 তিনি বলেন, ‘প্রাসাদটির ভেতরে অনেক শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।’ প্রাসাদটি সারা বছরই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে দক্ষিণ দিকের যে অংশে রাজপরিবারের সদস্যরা থাকেন, সেখানে দর্শকরা যেতে পারেন না।

গোল্ডেন গ্লোবে সোনালি আভা ছড়ালেন প্রিয়াঙ্কা

 

করতোয়া ডেস্ক: চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম সেরা আসর গোল্ডেন গ্লোব ২০১৭ এর আসর বসল গতকাল রোববার। ক্যার্লিফোর্নিয়া ব্রেভারি হিলসের ব্রেভারি হিল্টনে অনুষ্ঠিত হলো এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। উপস্থাপনায় ছিলেন জিমি ফ্যালন।

 ৭৪ তম গোল্ডেন গ্লোব অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড?া। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি গোল্ডেন গ্লোব অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হলেন। প্রিয়াঙ্কার পরনেও ছিল সোনালি পোশাক। পা পর্যন্ত লম্বা গাউন। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা পরেছিলেন একটি পেনডেন্ট। ঠোঁটে মেরুন লিপস্টিক। পোশাকের ডিজাইনার
র‌্যালফ লরেন।

নিলামে প্রিন্সেস ডায়ানার ছয় চিঠি


করতোয়া ডেস্ক: ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার নিজের হাতে লেখা ৬টি চিঠি নিলামে বিক্রি হয়েছে। ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসের সাবেক স্ত্রীর লেখা এই চিঠি কেমব্রিজের শেফিনস অকশন হাউসের মাধ্যমে নিলামে প্রায় ১৫ হাজার ১০০ পাউন্ডে বিক্রি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।

 
ছয় চিঠির প্রাথমিক মূল্য দুই হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার ৬০০ পাউন্ড ধরা হয়েছিল। ডায়ানার হাতে লেখা ছয় চিঠির একটি ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারিকে নিয়ে লেখা। সেখানে বলা হয়েছে, হ্যারি অনবরত স্কুলে ঝামেলার মধ্যে ছিল। চিঠিগুলো বাকিংহাম প্যালেসের তৎকালীন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শেরিল ডিকম্যানকে লেখা হয়।

সিরিয়ার ব্যস্ত মার্কেটে বোমায় ঝরলো ৪৩ প্রাণ

করতোয়া ডেস্ক: সিরিয়ার তুরস্ক সীমান্তে বিদ্রোহী অধ্যুষিত একটি শহরে বোমা হামলায় অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বেশ কিছু মানুষ
শনিবার আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলীয় শহর আজাজের মধ্যাঞ্চলের ওই জনাকীর্ণ মার্কেটে এ বোমা হামলা হয়। সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এসওএইচআর’র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

এসওএইচআর’র প্রধান রামি আবদুররহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালতপাড়ার কাছে বিদ্রোহীদের একটি ক্যাম্প সংলগ্ন মার্কেটটিতে হঠাৎ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিহত হন ৪৩ জন, যাদের মধ্যে ৬ বিদ্রোহী যোদ্ধাও ছিলেন। বোমার আঘাতে আদালত ভবন, সরকারি কিছু দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কারা এ হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যে সম্প্রদায়ের লোকেরা বউদের ঠেলে দেয় পতিতাবৃত্তিতে !

 

করতোয়া ডেস্ক: ৭০ বছর হয়েছে ভারত স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু এখনও দেশটির নারীরা পাননি তাদের প্রাপ্য সম্মান। নারীর অবমাননার অজস্র ঘটনা প্রত্যেক দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাচ্ছে। কিন্তু দিল্লির নজফগড়ের পরনা সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ভয়াবহ রীতি প্রচলিত রয়েছে, তা কল্পনার অতীত। কারণ এখানে বাড়ির বউদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানোই রীতি।

 এবং এই অসম্মানজনক পেশায় নারীদের ঠেলে দেন তাঁদের শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই। যেভাবে এলো এই রীতি: পরনা সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের বাড়িতে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলে বাড়ির লোকজন খুশিই হন। কারণ তারা জানেন, একটু বড় হয়ে ওঠার পরে ‘পন্য’ হিসেবে এই মেয়েই খুলে দেবে তাদের উপার্জনের রাস্তা। পরনাদের মধ্যে ছোটবেলায় মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর রীতি নেই।

 বরং সাত-আট বছর বয়স হলেই বাবা-মা মেয়েকে পাঠিয়ে দেন কোন দালালের কাছে। সেই দালালের কাজ হয়, পতিতাবৃত্তিতে মেয়েদের প্রশিক্ষিত করা।  ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য বিয়েটাও এক রকম বাজার।

ট্রাম্পকে জেতাতে পুতিনের হয়ে কাজ করেছেন এই সুন্দরী?

করতোয়া ডেস্ক: মার্গারিটা গ্রিটুইডা জেল্যে। তবে বিশ্বব্যাপী তাঁর পরিচিতি মাতাহারি নামেই। অপূর্ব সুন্দরী নর্কতী মাতাহারিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে ফরাসি ফায়ারিং স্কোয়াডের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

 যদিও তিনি আদতে গুপ্তচর ছিলেন কিনা, তার সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে! তার পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। পাল্টেছে প্রেক্ষাপট। বদলেছে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের রসায়ন। কিন্তু এক দেশের অন্য দেশের উপর নজরদারি চলে আসছে একই ভাবে। আর এই চরবৃত্তিতে এখনও কাজে লাগানো হয় মনমোহিনী সুন্দরীদের। আলোচনায় নবতম সংযোজন আলিসা শেভচেঙ্কো। সুন্দরী এই রুশ যুবতী নাকি বড? ভূমিকা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভোটের আগে হ্যাকিং কাে ।

 এমনই বলছে মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্ট। তবে ফারাক একটা আছে। রূপে ভুলিয়ে তিনি গোপন তথ্য হাতিয়ে নেননি। বরং মস্তিষ্ক কাজে লাগিয়ে ভেঙে ফেলেছেন আমেরিকার বহু গুরুত্বপূর্ণ গোপন কোড।


কে এই আলিসা শেভচেঙ্কো?
রিপোর্ট বলছে, আলিসা একজন দক্ষ হ্যাকার। বড় বড় কোম্পানি তাদের অনলাইন নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করতে তাঁর শরনাপন্ন হয়। জোর (তঙজ) নামে একটি কোম্পানি রয়েছে আলিসা শেভচেঙ্কোর। রুশ ফেডারেশনের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য নাকি ‘টেকনিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে ‘জোর’। মেরিকার সাম্প্রতিক নির্বাচনে হিলারিকে হারাতে, বা ট্রাম্পকে জেতাতে, রুশ গুপ্তচরেরা কোমর বেঁধে নেমেছিলেন বলে অভিযোগ। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, স্বয়ং পুতিনের নির্দেশে এই কাজে নেমেছিল রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। হ্যাক করা হয় বহু মার্কিন সাইট, ইমেল।

এ ভাবেই ফাঁস হয়েছিল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের ব্যক্তিগত ইমেল। বিদায়ী মার্কিন প্রশাসনের মতে, হিলারির ইমেজকে কালিমালিপ্ত করতেই এ সব হয়েছিল এবং মার্কিন ভোটারদের মনে এর প্রভাবও পড?েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বারাক ওবামাও। এই হ্যাকিং-এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৩৫ জন রুশ কূটনীতিককে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করেছেন। নিউ ইয়র্ক ও মেরিল্যান্ডে রাশিয়ার দূতাবাসের দু’টি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার উপর গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওবামা প্রশাসন। এর মধ্যে আছে আলিসার সংস্থাও।