দুপুর ২:৫০, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

ডা. মো. নাইমুল হাসান: খাদ্যনালীতে স্টেন্ট (জালের ন্যায় পাইপ বা রিং) স্থাপনের মাধ্যমে বগুড়ায় এই প্রথম খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাইমুল হাসান সফল চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন। গত ২৭ এপ্রিল রাতে বগুড়া শহরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের বিনা অপারেশনে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়।


জয়পুরহাটের দো‘গাছি গ্রামের লতিফা বেগম (৫০) দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগছিলেন। প্রায় ১ মাস ধরে তার খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে ডাঃ মোঃ নাইমুল হাসান তাকে দেখেন এবং কোন রকম কাটা ছাড়াই বা অজ্ঞান না করে এন্ডোসকপি মেশিনের সাহায্যে স্টেন্ট স্থাপন করেন। ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে এধরনের চিকিৎসা করা সম্ভব বলে জানান ডাঃ মোঃ নাইমুল হাসান। তিনি জানান স্টেন্ট স্থাপন করতে তার প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগেছে এবং চিকিৎসার পরপরই রোগি খাবার খেতে পারছেন।

গ্রীষ্মকালের ৩ টি ফেস প্যাক, যা ত্বককে করবে ফর্সা

প্রকৃতিতে চলছে রোদ বৃষ্টির খেলা । এই প্রচন্ড রোদ্দুর তো এই ঝুম ঝুম বৃষ্টি। মেঘলা আবহাওয়া দেখে অনেকে হয়ত সানব্লক না মেখেই বেরিয়ে গেলেন, আর গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বেই দেখলেন গনগনে সূর্যের আগমন। কী আর করা, রোদে পুড়ে ট্যান পড়ল ত্বকে। চিন্তা নেই এর উপায়ও প্রকৃতিতেই আছে।

 

গ্রীষ্মকাল এমন সব উপকারী ফল নিয়ে আসে যা দেহ-মনে প্রশান্তি নিয়ে আসে এক নিমিষে; সেই সাথে ত্বকের যতেœও তারা অদ্বিতীয়। আজ রয়েছে এমন ৩ টি ফেসপ্যাক, যেগুলো গরমে আদর্শ, যার উপকরণ ভীষণ প্রতুল, বানাতেও কম সময় লাগে আর ত্বকে এনে দেয় চমৎকার দ্যুতি।


তরমুজের প্যাক ঃ গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে ঠান্ডা এক গ্লাস তরমুজের রস যেন যে কোনও কিছুকে হার মানায়। তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীরের ক্লান্তি মেটাতে সক্ষম এ তরমুজের রস ত্বকের জন্যও সমান উপকারী। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল আমাদের ত্বককে রাখে ফ্রেশ, প্রাণবন্ত ও হাইড্রেটেড। একটি বাটিতে এক কাপ পরিমাণ তরমুজের টুকরো নিন, টুকরো গুলো যেন বীজহীন হয়। এবার এগুলো কে এমন ভাবে চটকে নিন যাতে সব রস বেরিয়ে না যায়। তারপর এই প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর প্যাকটি হাত দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন না। এভাবে আধ ঘণ্টা রাখতে পারেন। ৩০ মিনিট পর নরমাল পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের ক্লিনিজিং ও টোনিং দুটোই হয়ে যাবে।


পাকা আমের প্যাক ঃ আর কিছুদিন পর বাজারে প্রচুর পাকা আম পাওয়া যাবে। আম খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। এর ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার শরীরের জন্য দারুন উপকারী। আম ভিটামিন এ এর অনেক বড় উৎস। ভিটামিন এ ত্বক, চুল, চোখ ও নখের জন্য ভীষণ দরকারি। ভিটামিন এ ত্বককে ফর্সা ও উজ্জ্বল করে তোলে, সেই সাথে ত্বকে এনে দেয় মসৃণতা ও লাবণ্য যা সহজে যায় না। ভিটামিন এ এর অভাবে ত্বক নির্জীব মনে হয় আর অল্প বয়সেই বয়সের ছাপ পড়ে যায়। আম এক নাগাড়ে একনে, পিম্পল, রোদে পোড়া দাগ, ব্রণের দাগ, যে কোনও কাল দাগের বিরুদ্ধে কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহারে এ সব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলতে পারে সহজেই।


এক টুকরা আম বা কিছু আমের পাল্প ব্লেন্ড করে ত্বকে ১৫ মিনিটের জন্য ব্যবহার করুন । আর স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে আমের টুকরাটি পুরো মুখে বুলিয়ে নিন। তারপর ভালো করে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন । নিয়মিত ব্যবহারে মনে হবে আপনি যেন আপনার নতুন স্কিন পেয়ছেন। কোনও রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই মাত্র ১৫ মিনিটে পেয়ে যাবেন ত্রুটিহীন সুন্দর অবয়ব।


পেঁপে-আনারসের প্যাক ঃ আনারসের রস যে কোনও দাগ ও ব্রণ সারাতে সাহায্য করে আর পাকা পেঁপে রঙ উজ্জ্বল করে। এ দুটি উপাদান একসাথে মিশে কার্যকর ফল দিতে পারে। আনারস ও পেঁপে গরম কালে দারুন সহজলভ্য।
-১ কাপ ফ্রেশ আনারস কুচি-১/২ কাপ পাকা পেঁপে-১ টেবিল চামচ মধু
ব্লেন্ডার পদ্ধতি ব্লেন্ডারে পরিমাণ মত আনারস ও পেঁপে ভালো ভাবে চটকে নিন। তারপর এতে মধু দিন, আবার মেশান। ঠিকমত হয়ে গেলে পরিষ্কার হাতে ভালো মত মুখে লাগিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন চোখের চারপাশে না যায়। ১৫-২০ মিনিট পর পর্যায়ক্রমে কুসুম গরম পানি ও ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


এবার টোনার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এই গরমেও ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে নিয়মিত ত্বকের যতœ নিন, বেছে নিন যে কোনও একটি ফেস প্যাক কিংবা একেক সপ্তাহে একেকটা ব্যবহার করেও দেখতে পারেন। তবে যেটি আপনাকে বেশি স্যুট করবে সেটিই চালিয়ে নেয়া উচিত। সবাই ভালো থাকবেন এবং সবার পাশাপাশি নিজের যতœ নিতেও ভুলবেন না । সূত্র ঃ অনলাইন।

স্বাস্থ্যকর যে ৬টি জুস প্রতিদিন পান করবেন

ফলের রস স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। অনেকেই সকালের নাস্তায় ফলের রস পান করে থাকেন। বাইরের প্যাকেটজাত ফলের রসের পরিবর্তে ঘরে তৈরি করা ফলের রস বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর। তবে ভাল ফল পেতে এতে চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কিছু ফলের রস যা প্রতিদিন পান করা উচিত। এমন কিছু স্বাস্থ্যকর ফলের রস ৫জেনে নিন।


গাজর, আদা এবং আপেল: অনেকে শুধু গাজর অথবা আপেল রস পান করে থাকেন। এর পরিবর্তে গাজর, আদা এবং আপেল একসাথে মিশিয়ে পান করুন। এটি কমপক্ষে সপ্তাহে একবার পান করুন।

শশা এবং আপেল: একটি বা দুটি শসা এবং একটি ছোট আকৃতির আপেল একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। শসাতে ৯০% পানি। এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীর হাইড্রেইড এবং ঠান্ডা করে থাকে। এছাড়া শসাতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং স্যালিকা আছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।


গাজর, পালং শাক এবং আপেল: দুটি গাজর, দুই কাপ পালং শাক, একটি আপেল, একটি শশা এবং এক ইঞ্চি আদা কুচি দিয়ে ফলের রস তৈরি করে নিন। গাজর ভিটামিন এ, সি, ডি এবং ফলিক অ্যাসিড রয়েছে। এছাড়া এতে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কপার। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা হ্রাস করে।


জাম্বুরার রস: অর্ধেকটা জাম্বুরার রস, আধা কাপ ব্লুবেরিস এবং আধা কাপ ঠান্ডা গ্রিন টি একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস তৈরি করে নিন। এটি আমাদের মেটাবলিজমকে ধীর করে থাকে। এবং কাজের শক্তি প্রদান করে।আনারস, আপেল এবং তরমুজ ঃ তরমুজ, আনারস এবং আপেল একসাথে ব্লেন্ডারে রস তৈরি করে নিন। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে সাহায্য করে।


করলা, কলা এবং দুধ: করলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু এর তেতো স্বাদের জন্য অনেকেই করলা খেতে পারেন না। তারা করলা, কলা এবং দুধ একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস করে নিতে পারেন। এতে করলার তেতো ভাব অনেকটা কেটে যাবে। অতিরিক্ত গরমও কাটাতে সাহায্য করবে এটি।

পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট

অধ্যাপক ডা: ইকবাল হাসান মাহমুদ : পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট শতকরা ১২ থেকে ১৫ ভাগ মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুকের মাঝে আড়ষ্টভাব, ছোট করে শ্বাস নেয়া, শ্বাসের সাথে সাঁ সাঁ শব্দ হওয়া ক্লান্তি এবং ব্যায়ামের পর সুস্থ হতে অনেক লম্বা সময় লাগা। রোগ নির্ণয় নির্ভর করে প্রকৃত ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষার উপর। রোগীকে ব্যাপক স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া এ রোগের চিকিৎসায় খুবই প্রয়োজনীয় দিক। স্বল্পমেয়াদী বিটা-২ এগোনিস্ট ইনহেলারের মাধ্যমে আমরা সাধারণত চিকিৎসা করে থাকি।


 প্রদাহ রিরোধী ঔষধ যেমন ক্রোমলিন সোডিয়াম, নেডোক্রোমিল সোডিয়াম এবং স্টেরয়েড ইনহেলার এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় রোগের অন্তর্নিহিত সমস্যা দূর করার জন্য। যদিও আমরা মুখে সেব্য থিওফাইলিন অথবা সালবুটামিল জাতীয় ঔষধ প্রয়োগ করি তবুও তার ভূমিকা পরিষ্কার নয়। যদি এ রোগ নির্ণিত না হয়ে থাকে তখন এ ব্যায়ামজনিত হাঁপানি, যা কিনা খুবই প্রচলিত। তাতে দেখা যায়, শ্বাসনালীতে সাময়িক বাধা যেটা সচল জীবনযাপনকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ কয়েক মিনিট ব্যায়ামের পরেই শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট।

 

 কিন্তু যখন রোগটিকে চিহ্নিত করা হয় এবং ভালোমত চিকিৎসা করা হয় তখন চিকিৎসার সুফলে রোগীর জীবনযাত্রার ব্যাপক স্বাচ্ছন্দ্য ঘটে। ১৯৮৪ সালের আমেরিকান অলিম্পিকের দলে ৫৯৭ জনের মধ্যে ৬৭ জনেরই (১১.২%) ব্যায়ামজনিত হাঁপানি ছিল। অথচ খেলোয়াড়দের মধ্যে ৪১ জনই সেই খেলায় পদক জয় করেছিল এই হাঁপানি নিয়েই। তাদের ব্যাপক সাফল্য সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, সুষ্ঠুভাবে এবং পরিকল্পনামাফিক চিকিৎসা নিয়ে একজন হাঁপানি রোগীও পারে অলিম্পিক সোনা জয় করতে।


এখন প্রশ্ন আসে পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট কতটুকু প্রচলিত? এ রোগে জনসমষ্টির একটি বড় অংশ আক্রান্ত হয়। যাদের হাঁপানি আক্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ রোগী তাদের রোগাক্রান্ত জীবনে এটার মুখোমুখি হয়েছে এবং অনেক হাঁপানি রোগীই ধারণা করেন যে, পরিশ্রমই তাদের হাঁপানি আক্রমণের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল।


এ ছাড়া শতকারা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ রোগী যাদের এ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ রয়েছে তারা এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। কিছু এ্যালার্জেন, ভাইরাস, ঠান্ডা বাতাস, বায়ু দূষণ অথবা এ সবগুলো একসাথে মিলে এটা ঘটাতে পারে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝে যারা হাঁপানি রোগী হিসেবে নির্ণিত হয়নি এবং যাদের কোনো এ্যালার্জিজনিত শ্বাসরোগ নেই তাদের মাঝে ব্যায়ামজনিত হাঁপানির সংখ্যা খুব কম। যেমন : মাত্র ৩% থেকে ১০%। মানুষের কর্মক্ষম সময়ের জীবনে এ রোগের হার শতকরা ৩ থেকে ১২ ভাগ উঠানামা করে।

 হাঁপানি একটি শ্বাসতন্ত্রের বাধাজনিত রোগ যেখানে শ্বাসনালীতে প্রদাহ এবং প্রচন্ড সংবেদনশীলতা থাকে। শ্বাসনালীতে বাধা প্রভাবিত হয় শ্বাসনালীর দেয়াল ফুলে, মোটা হয়ে গেলে, আঁঠালো মিউকাস তৈরি হতে থাকলে, শ্বাসনালীর নরম মাংসের খিচুনি হলে, বাধাটি শুরু হতে পারে। প্রদাহজনিত ঘটনা শ্বাসনালীতে ঘটলে বিশেষত প্রদাহের মাধ্যমে বা মিডিয়েটরস মাস্ট সেল, মেক্রোফেজ এবং ইপিথেলিয়াল কোষ থেকে নিঃসরিত হলে। শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা হলো বিভিন্ন ধরনের এ্যালার্জেন, পরিবেশ উত্ত্যক্তকারী বস্তু, শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস সংক্রমণ, ঠান্ডা বাতাস এবং ব্যায়ামের কারণে।


শ্বাসতন্ত্রের বাধা যদি ব্যায়ামের জন্য হয়ে থাকে তখনই তাকে ব্যায়ামজনিত হাঁপানি বলে। এ ধরনের হাঁপানির কারণ বহুবিধ। যদিও এর কারণ অনেকগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে তবুও এ রোগের ব্যাপারে পুরোপুরি ধারণা হয় যে, শ্বাসনালীর বাধা যা কিনা পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্টে তৈরি হয় তার সম্পর্ক রয়েছে তাপমাত্রার উঠানামার উপর।

 

পরিশ্রম বা পরিশ্রমের পর অতিমাত্রায় শ্বাস গ্রহণের ফলে শ্বাসনালীর উপরের অংশ কিছুটা অক্ষম হয়ে পড়ে শ্বাস নেয়া বাতাসকে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে সমান করতে এবং ১০০% আর্দ্রতা প্রদান করতে। তাপ এবং পানিকে টেনে নেয়া হয় শ্বাসনালীর কোষগুলো থেকে যাতে করে শ্বাস নেয়া বাতাসকে গরম এবং আর্দ্র রাখা যায়। তার ফলে শ্বাসতন্ত্রের কোষগুলোতে পানির ঘাটতি থাকে এবং শ্বাসনালী ঠান্ডা থাকে।


এ রোগের চিকিৎসার লক্ষ্য হলো একজন রোগীকে পরিশ্রমকালীন অবস্থায় সম্পূর্ণ শ্বাসকষ্ট মুক্ত রাখা। চিকিৎসা শুরু করতে হয় এমন ধারায়, যাতে করে শারীরিক অবস্থানকে ঔষধের প্রতি বেশি নির্ভর না করেও হাঁপানি আক্রমণের হারকে কমানো যায়। উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশ অর্থাৎ উষ্ণ এবং আর্দ্র হাওয়ায় শ্বাসগ্রহণ ব্যায়ামজনিত হাঁপানির চিকিৎসা উন্নতি সাধন করে এবং রোগীর ভালো হওয়ার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে। ব্যায়ামের সময় একটি ফেস মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসের সময় নেয়া বাতাস উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে বিশেষত যখন ব্যায়ামের সময় বাইরের অবস্থান ঠান্ডা এবং শুকনো থাকে।


 মুখ দিয়ে শ্বাস না নিয়ে বরং নাক দিয়ে শ্বাস নিলে বাতাস উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকবে। ওষুধ ব্যবহার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো হাঁপানির শুরুটাকে বাধা দেয়া এবং ব্যায়ামের পর যাতে শ্বাসকষ্ট শুরু না হয়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ আছে যেগুলো দিয়ে শ্বাসনালীকে প্রসারিত করাএবং প্রদাহ বিরোধী কাজ সম্পন্ন করা যায়। ওষুধগুলোর মধ্যে আছে বিটা এগোনিস্ট, ক্রোমনিল, সোডিয়াম, নেডোক্রমিল সোডিয়াম এবং স্টেরয়েড, যেগুলোর ইনহেলারের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় এবং এ ছাড়া রয়েছে মুখে সেব্য থিওফাইলিন।

 

বিটা এগোনিস্ট ওষুধের মধ্যে রয়েছে সালবুটামল টারবুটালিন সালফেট এবং সালমেটেরল। যাই হোক, স্বল্পমেয়াদী বিটাএগোনিস্ট ওষুধই হলো পরিশ্রমজনিত হাঁপানি প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ, যা কিনা ৮০% থেকে ৯৫% রোগীর বেলায় কার্যকর। এই ওষুধটি ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যায়ামের ১৫ মিনিট পূর্বে নিতে হয়। এই ওষুধটির কর্মক্ষমতা তিন থেকে ছয় ঘন্টা থকে।


 এর মধ্যে ব্যায়ামের সময় যদি হাঁপানির লক্ষণ দেখা দেয় তবে অতিরিক্ত দুই পাফ নেয়া যাবে। ক্রোমলিন এ রোগের চিকিৎসায় খুবই কার্যকর যদিও পরিশ্রমের ১০ থেকে ৪৫ মিনিট পূর্বে ইনহেলারের সাথে নেয়া হয়। নেডোক্রোমিল সোডিয়াম একটি প্রদাহ বিরোধী ইনহেলার যা কিনা এখন ব্যাপকভাবে এ রোগে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

এর কার্যকারিতা ক্রোমলিনের মতোই এবং ব্যায়ামের পূর্বে গ্রহণ করতে হয় এটা খুবই কার্যকর সেসব রোগীর সাথে যাদের পালামোনারি ফাংশন পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকে। নেডোক্রোমিল এবং বিটা এগোনিস্ট এক সাথে প্রয়োগ করলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। স্টেরয়েড ইনহেলার হাঁপানির লক্ষণকে যথেষ্ট কমায় প্রদাহ বিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে।

 

 যদিও এর তাৎক্ষণিক শ্বাসনালী প্রসারক কাজ নেই এবং ব্যায়ামের পূর্বে শুধু এটা একা গ্রহণ করে তেমন কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। এটাকে বরং সবসময়ের জন্য ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে হাঁপানি দমনের জন্য। মুখে সেব্য থিওফাইলিন কয়েক যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটার কিছু পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও এটি একটি কার্যকর ওষুধ।

কর্মক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কিছু সতর্কতা মানা উচিৎ

করতোয়া ডেস্ক: সুস্থ গর্ভবতী মায়ের কাজ করতে নিষেধ নেই। ভারী কাজ বা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া স্বাভাবিক যেকোনো কাজই তিনি করতে পারেন। তবে কর্মক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কিছু অসুবিধার মুখে তো পড়তেই হয়। তাই এ বিষয়ে কিছু সতর্কতার প্রয়োজন।
* একটানা বেশিক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। বসে কাজ করতে হলেও মাঝে মাঝে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করা ভালো। বসে থাকার কারণে অনেকেরই পায়ে পানি আসে, সে ক্ষেত্রে বসার সময় পা রাখার টুল বা টেবিল ব্যবহার করা ভালো।
* কাজের সময় বুঝে বিশ্রামের একটা নিয়ম করে নিন। গর্ভাবস্থায় রাতে আট ঘণ্টা এবং দুপুরের দিকে দু-তিন ঘণ্টা বিশ্রাম প্রয়োজন।
* অনেকেরই সকালে উঠে বমিভাব বা বমি হয়। তাড়াহুড়ায় অফিস যাওয়ার সময় বিপত্তি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সকালে উঠে অল্প একটু শুকনো খাবার খেয়ে বাসা থেকে বেরোনো উচিত। স্বাস্থ্যকর নাশতা খাবেন। ভাজাভুজিতে সমস্যা বাড়বে। একবারে খেয়ে খারাপ লাগলে বারবার অল্প করে খেতে পারেন।
* নিয়মিত বিরতিতে খাবার খেতে হবে। দুবার খাওয়ার মাঝে তিন ঘণ্টার বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। পেট খালি থাকলে বমি হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়।
* বাড়ি থেকে খাবার সঙ্গে নেওয়া ভালো। মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট বা এ ধরনের শুকনো খাবার রাখতে পারেন। বাইরের ভাজাপোড়া ও তেল-মসলাসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং আয়রন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
* পর্যাপ্ত পানি পান করুন। অফিসে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকলে বাসা থেকেই নিয়ে আসুন।
* ঢিলেঢালা পোশাক পরে অফিসে কাজ করাটা আরামদায়ক।
* উঁচু জুতা বা হাই হিল পরা ঠিক নয়।
* খুব বেশি দূরের যাত্রা না করাই ভালো। যেসব যানবাহনে অতিরিক্ত ঝাঁকি লাগে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। আর যেকোনো বাহনেই সাবধানে বসতে হবে, যেন পড়তে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে। এবড়োখেবড়ো রাস্তা এড়িয়ে চলুন।
* অফিসের পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা প্রয়োজন। খোলামেলা, পর্যাপ্ত বাতাসসমৃদ্ধ পরিবেশ গর্ভবতী মায়ের জন্য ভালো। নিজের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও খেয়াল রাখুন। কাজের মাঝেও কখনো কখনো বমি হতে পারে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার।
* অতিরিক্ত কাজের চাপ নেবেন না। হাসিখুশি থাকুন। মানসিক চাপ এড়াতে হালকা কিছু ব্যায়াম করতে পারেন।

সুন্দর ত্বক পেতে দিনের শুরুতেই কিছুটা সময় ব্যয় করা দরকার

করতোয়া ডেস্ক: সৌন্দর্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুন্দর ত্বক পেতে দিনের শুরুতেই কিছুটা সময় ব্যয় করা দরকার।ত্বক পরিষ্কার করুন: দিনের শুরুতে কোমল ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা উচিত। এমন ক্লিনজার বেছে নিন যা ত্বক শুষ্ক করবে না বরং আর্দ্রতা বজায় রেখে পরিষ্কার করবে। সকালে ঘুম কাটাতে মুখে ঠা া পানির ঝাপটা দিন। তবে মুখ পরিষ্কার করতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।


অন্তত একদিন এক্সফলিয়েট করুন: ত্বকের মৃত কোষ এবং জমে থাকা ধুলাবালি পরিষ্কার করতে সপ্তাহে একদিন স্ক্রাবার ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা ত্বকে স্ক্রাবার লাগিয়ে হালকাভাবে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন এতে ত্বকের উপরের পরত পরিষ্কার হয়ে দীপ্তি ফিরে আসবে।টোনার ব্যবহার ঃ ক্লিনজার ব্যবহারের পরের ধাপ টোনার। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য টোনার অপরিহার্য। কারণ এতে ত্বকে তেল কম তৈরি হয়। তবে টোনার বাছাইয়ের সময় খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অবশ্যই অ্যালকোহল মুক্ত হয়।

 
সিরাম ব্যবহার: সিরাম এমন এক ধরনের প্রসাধনী যাতে লোশন বা ক্রিমের তুলনায় পুষ্টি উপাদানের ঘনত্ব বেশি থাকে। আর হালকা হওয়ায় ত্বক সহজে শুষে নিতে পারে। চামড়ার উজ্জ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি তারুণ্য ধরে রাখতেও সিরাম বেশ উপযোগী।ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ঃ বছরের যে কোনো সময় এবং সব ধরনের ত্বকের জন্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। মেইকআপ যেন দীর্ঘক্ষণ সুন্দর থাকে তার জন্যও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সানস্ক্রিন: মৌসুম যাই হোক না কেন, ত্বককে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে।

হার্টের রিংয়ের মূল্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা

কার্ডিয়াক বা হার্টের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় করোনারি স্টেন্ট বা রিংয়ের মূল্য সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে জাতীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

এখন পর্যন্ত অধিদফতরের কাছে মাল্টিলাইন ভ্যাক্সিন, রেবিল, প্রিমিয়ার এলিমেন্ট ও ওরিয়েন্ট এক্সপোর্ট নামে ৪টি প্রতিষ্ঠান তাদের করোনারি স্টেন্টের মূল্য প্রস্তাব করেছে। যেখানে নন মেডিকেটেড স্টেন্টের সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ হাজার টাকা ও মেডিকেটেড স্টেন্টের মূল্য দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মে. জে. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার অধিদফতরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরও যে ২১টি কোম্পনি ৪৭ ধরনের স্টেন্ট আনে, তারা এখনও কোনো মূল্য প্রস্তাব করেনি। ভারতে একটি স্টেন্টের মূল্য ৭ হাজার ২ রুপি, যা বাংলাদেশি অর্থে ৮ হাজার ৯০০ টাকা হয়। সেখানে বাংলাদেশে স্টেন্টের মূল্য বেশি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতে উৎপাদন করা হয়। আর বাংলাদেশে পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এর আগে করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিংয়ের খুচরা মূল্য নির্ধারণে গত ১১ এপ্রিল মতবিনিময় সভায় সব পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। ওই সভায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মে. জে. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্বাস্থ্য পরিচালক, স্বাচিপের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সনালসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অভিযোগ রয়েছে, দেশের কয়েকটি হাসপাতালে ১৮ হাজার টাকার হার্টের রিং দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু অসাধু চিকিৎসকদের কমিশন বাণিজ্যের কারণেই রোগীদের কাছ থেকে এ বাড়তি মূল্য নেওয়া হচ্ছে। ফলে রিংয়ের মূল দামের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি দিতে হচ্ছে গ্রাহককে।

হাঁটু ইন্জুরি -ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরি

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল:গত সপ্তাহে হাঁটু ইন্জুরির আই ডিকে এবং কোলেটারাল ইনজুরি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। তার ধারাবাহিকতায় আজ হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইন্জুরি নিয়ে আজ আলোচনা করব।
ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট কি?
মানবদেহে দুটি ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট আছে যথা এন্টেরিয়র ক্রুসিয়েট এবং পোষ্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট। এমন দেখতে দুটো লিগামেন্ট যেন ক্রস (+) চিহ্নের মতো মনে হয় তাই এদেরকে বলা হয় ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট। এই দুই লিগামেন্ট খুবই পুরু, প্রচন্ড শক্ত ব্যান্ড যা ফিমার এবং টিবিয়ার মাঝে কঠিন বন্ধন তৈরী করেছে। এরা “নী” জয়েন্টের এ্যান্টেরিয়র এবং পোষ্টেরিয়র ষ্ট্যাবিলিটি বা মজবুত অবস্থান নিশ্চিত করে।

এন্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরি (এসিএল ইন্জুরি): এসিএল ইন্জুরির অন্যতম প্রধান কারণ বাইরের দিকে ঘুরে গিয়ে হাঁটু ভাঁজ অবস্থায় হঠাৎ এ্যাবডাকশন হলে অথবা হাইপার এক্সটেনশন অবস্থায় হাঁটু যদি ভিতরের দিকে ঘুরে যায়। এটা এত মারাত্মক ইন্জুরি যে হাঁটু সন্ধি সাথে সাথে কলাপ্স হয়ে অচল এবং প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। পটাস করে শব্দ হওয়া কিংবা পপশব্দ আঘাতের সময় শোনা গেলে বুঝে নিতে হবে এসিএল ইন্জুরি হয়েছে।

লক্ষণ/উপসর্গ:
আঘাতের নির্দিষ্ট ঘটনা থাকবে। রোগী বলবে প্রচন্ড আঘাতের সময় “পটাস” করে শব্দ শোনা গেলো। তার পরই পায়ে ভর দেওয়া সম্ভব হয়নি। হাঁটু সাথে সাথে মারাত্মক ফুলে যায় এবং তীব্র এবং অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। আংশিক ইন্জুরিতে হাঁটু নড়াচড়া করালে ব্যথা আরো তীব্রতা বাড়ে; হাঁটুতে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সম্পূর্ণ ইন্জুরিতে অস্বাভাবিক নড়াচড়া হয় তবে ব্যথা কম থাকে। লিগামেন্ট ইন্জুরিতে হাঁটুতে চাপ দিলে’ ময়দার ভেজা দোলা” বা ডাউয়ি ফিলিং অনুভূত হয়’ হাঁটুর উপরের চামড়া কালচে বরণ ধারণ করে। দেরীতে রোগী হাঁটু সন্ধি মনে যে ছুটে যাবে অথবা ঘুরে যাবে এমন তথ্য দেয়। তবে আঘাতের সাথে সাথে রোগীর স্থানীয় শারীরিক পরীক্ষা বেশ কষ্টদায়ক। অনেক সময় লিগামেন্ট আংশিক না সম্পূর্ণ হলো তা আলাদা করা কঠিন।

 যদিও আংশিক ইন্জুরিতে অস্বাভাকি সন্ধির মুভমেন্ট হয় না কিন্তু মুভ করাতে গেলে তীব্র ব্যথা হয়। অন্য দিকে কমপ্লিট ইন্জুরির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক সন্ধি মুভমেন্ট হয় তবে ব্যথা কম থাকে। এই সন্দেহ নিশ্চিত করণের জন্য রোগীকে অবশ্যই অজ্ঞান বা অবশ করে পরীক্ষা করতে হবে। আঘাত প্রাপ্ত রোগীর পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবসময় প্রথমে ভাল হাঁটু তারপর আঘাত প্রাপ্ত হাঁটুর পরীক্ষা করতে হবে। ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণের ফলাফল অন্যান্য লিগামেন্ট, কিংবা মিনিস্কাস ইন্জুরি অথবা অস্থির সংশ্লিষ্টতার উপর নির্ভর করে। যৗথ ইন্জুরির উপর নির্ভর করে জয়েন্ট ষ্ট্যাবিলিটি কতখানি এবং কোনদিকে পরিবর্তিত হয়েছে। এন্টেরিয়র ডিসপ্লেসমেন্ট অব টিবিয়া সহজেই অনুভব করা যায়।
জয়েন্টের পরীক্ষা (এসিএল ইন্জুরির ক্ষেত্রে)
এ্যান্টেরিয়র ড্রয়ার টেষ্ট- পজিটিভ হবে। ল্যাকম্যান টেষ্ট- পজিটিব হবে। পিভট শিফট টেষ্ট- পজিটিভ হবে।

পরীক্ষা নিরীক্ষা:
এক্সরে- এপি, লেটারাল ইন্টারকন্ডাইলারনচ্ভিউ, সানরাইজ ভিউ- করা হয়। এভ্যালশন ফ্রাকচার অব টিবিয়াল স্পাইন- এসিএল ইনজুরিতে ধরা পড়ে।
এমআরআই: সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি এসিএল নির্ণয়ের জন্য। সিটি স্ক্যান: সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে থাকে। আর্থোস্কোপি: এসিএল/পিসিএল আলাদাভাবে ইনজুরি হলে সেক্ষেত্রে খুবই ফলপ্রসু পদ্ধতি।
চিকিৎসা: আঘাতপ্রাপ্ত রোগী সাথে সাথে এলে আংশিক ইনজুরিতে মোটা নিডল দিয়ে রক্ত টেনে বের করা হয়। তারপর লংলেগ ব্যাক স্লাব দিয়ে পায়ের বিশ্রাম ৪ সপ্তাহ দেয়া হয়। তারপর হাঁটু ভাঁজ ও সোজা করার পরামর্শ দেয়া হয়। * ব্যথানাশক ওষুধ, মিনোলাক, ইটোকক্স  ইত্যাদি  দেয়া হয়। * এন্টি আলসারেন্ট -প্যারিসেল, জেলড্রিন ইত্যাদি দেয়া হয়। ৪ সপ্তাহ পর চষধংঃবৎ খুলে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়।
কমপ্লিট বা সম্পূর্ণ ইনজুরি হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করে রিপেয়ার করা হয়।
সার্জিক্যাল চিকিৎসা: আঘাতপ্রাপ্তির সাথে সাথে এলে প্রাইমারী রিপেয়ার অপারেশন করা হয়। তবে অকৃতকার্য হওয়ার হার খুব বেশী প্রায় ৫০%।

দেরীতে রোগী এলে: রি-এনফোরসমেন্ট অব এসিএল অপারেশন করা হয়, এক্ষেত্রে ইলিও টিবিয়াল ব্যান্ড অথবা সেমিটেন্ডিনিসাস টেনডন ব্যবহার করা হয়।
রিকন্সষ্ট্রাকশন অপারেশন ইন্ট্রা আর্টিকুলার/ এক্সট্রা-আর্টিকুলার এক্ষেত্রে কোয়াড্রিসেপসটেনডন, প্যাটেলার টেনডন অথবা সেমিটেনডিনোসাস টেনডন ব্যবহার করা হয়।
এসিএল ইনজুরি হাঁটুর মারাত্মক লিগামেন্ট ইন্জুরি সাধারণত: যুবক বয়সী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বেশী হয়। তাই এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। ইমারজেন্সী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সঠিক চিকিৎসা না করালে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসে। তাই সাবধান।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার কার্যকরী ৩টি ঘরোয়া সমাধান

আমরা যতো কাজকর্ম করি তার প্রধান উদ্দেশ্য কিন্তু খাওয়াই থাকে। কিন্তু অনেকেই আছেন এই কাজের ব্যস্ততায় খাওয়ার কথা ভুলে বসে থাকেন। সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে সকালের নাস্তা না করা বা দুপুরে কাজের ব্যস্ততায় বিকেল গড়িয়ে খাবার খাওয়ার মতো কাজ অনেকেই অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। এই অভ্যাসের পরিণতি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। খাওয়ার সময় এবং খাবার একটু এদিক সেদিক হলেই প্রচন্ড ব্যথা হতে থাকে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে।

এই বিষয়টি মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। কারণ অবহেলার কারণেই সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মারাত্মক আলসারের আকার ধারণ করে। তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে অবহেলা নয়। নিয়ম মেনে চলে এবং ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত। তবে গ্যাস্ট্রিকের সাধারণ ব্যথা সমস্যার সমাধান কিন্তু আপনি ঘরেই করে নিতে পারেন। আজকে শিখে নিন এমনই কার্যকরী খুবই সহজ কিছু ঘরোয়া সমাধান।
দারুচিনির ব্যবহার :

দারুচিনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে কার্যকরী। দারুচিনি অ্যাসিডিটি, পেটে ব্যথা এবং পেটের গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে তাৎক্ষণিক ভাবেই।
১) কফি, ওটমিল কিংবা গরম দুধে দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন, খুব দ্রুত ফলাফল পাবেন। তবে যদি দুধে সমস্যা থাকে তাহলে দুধ খাবেন না।
২) চাইলে পানিতে দারুচিনি গুঁড়ো ফুটিয়ে ছেঁকে মধু মিশিয়ে চায়ের মতো পান করতে পারেন। এতেও সমস্যার উপশম হবে।
বেকিং সোডার ব্যবহার :
বেকিং সোডার অ্যাসিডিক উপাদান পাকস্থলীর অতিরিক্তি অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, গ্যাস দূর করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধানে কাজ করে।
১) ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা ১ গ্লাস পানিতে ভালো করে গুলে নিন।
২) এই মিশ্রণটি পেটে সমস্যা অনুভূত হওয়ার সময়ে পান করে নিন। এতে দ্রুত ভালো ফলাফল পাবেন।
আদার ব্যবহার :
আদা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ ও গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা উপশমে কাজ করে।
১) ২ কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ আদা কুচি একটু ছেঁচে দিয়ে ফুটাতে থাকুন।
২) পানি শুকিয়ে ১ কাপ হয়ে এলে এতে ১-২ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন, বেশ ভালো ও দ্রুত ফল পাবেন।
৩) চাইলে শুধু আদা লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। এতেও অনেক উপকার হবে।
-ইন্টারনেট

নাক ডাকা বন্ধ করতে

নাক ডাকার সমস্যা আছে এমন মানুষের সঙ্গে থাকলে আপনারও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে এই সমস্যার রয়েছে সহজ সমাধান।স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৪৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যা দেখা যায়। যখন গলার শিথিল পেশীতে কম্পন সৃষ্টি হয় তখন নাক দিয়ে শব্দ বের হয় অর্থাৎ নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। এটি মাঝে মাঝে শোয়ার ঝামেলার জন্য হতে পারে।

সমাধানের জন্য যা করতে পারেন-কক্ষের আর্দ্রতা: নাক ডাকার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ঘরের শুষ্ক বাতাস। এর ফলে অনুনাসিক ঝিল্লি বা ‘নেইজল মেমব্রেইন’ এবং কণ্ঠনালীতে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি করে। তখন এসব জায়গার কোষে কম্পন তৈরি হয় এবং নাক ডাকার শব্দ শোনা যায়। এই সমস্যা এড়াতে ঘরে ‘হিউমিডিফায়ার’ লাগাতে পারেন, এটি ঘরের আর্দ্রতা রক্ষা করবে।  


ওজন কমান: অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার অন্যতম কারণ। ওজন বেশি হলে গলায় অতিরিক্ত কোষ থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে, যা নাক ডাকার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। গলায় যত বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকবে বাতাস চলাচল ততবেশি বাধা পাবে। এটি কম্পনের সৃষ্টি অর্থাৎ নাক ডাকার কারণ। যোগব্যায়াম: ‘প্রাণায়াম’ একটি যোগব্যায়াম যা শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে। এই ব্যায়ামের মাধ্যমে দীর্ঘ ও ছোট শ্বাস নেওয়া শেখা যায়, যা ফুসফুসে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা শরীরের রক্ত চলাচল নিশ্চিত করে। তাছাড়া নাক ডাকাসহ অন্যান্য ঘুমের সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে এই ব্যায়াম। ‘প্রাণায়াম’ চর্চার মাধ্যমে শরীর উজ্জীবিত হয় ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।  
জিহবা ও গলার ব্যায়াম:

গলা ও জিহবার পেশী গঠনের মাধ্যমে নাক ডাকার সমস্যা দূর করা যায়। চর্চার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হয় এবং বিশ্রামের সময় এসব অঙ্গের শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। তাছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে কোষের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি হারায়। ফলে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়।ব্যায়ামের ধরন: – চোয়ালের নিচের অংশ দিয়ে উপরের চোয়াল ধরে দাঁত দেখানোর মতো করে দিনে সাত থেকে দশবার দশ পর্যন্ত গণনা করুন। – কিছু বলার মাধ্যমে ‘ঠোঁট, দাঁত, জিহবার ডগা’ ব্যবহার করুন, দিনে দশ থেকে বিশবার এটি চর্চা করুন।


 যতদূর সম্ভব জিহবা সোজা ভাবে রাখার চেষ্টা করুন। জিহবা ডানে ও বামে এমনভাবে নড়াচড়া করান যেন তা ঠোঁটের কোণায় স্পর্শ করে। তবে খেয়াল রাখবেন যেন সম্পুর্ণভাবে সোজা থাকে। এটি দিনে দুইবার চর্চা করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলুন
আমরা সবাই জানি ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ধূমপান হতে পারে নাক ডাকার জন্য দায়ী। কেননা এটি বাতাস চলাচলের পথে বাধার সৃষ্টি করে।মাথা উঁচু রেখে ঘুমান: ঘুমানোর সময় মাঝে মাঝে জিহবার কারণে গলা বাধা প্রাপ্ত হতে পারে অর্থাৎ বাতাস চলাচলে বাধা পায়।

এই সমস্যা এড়াতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে বালিশ ব্যবহার করুন, এটি বাতাস চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে। ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ পরিহার করুন
নাক ডাকার সমস্যা এড়াতে ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল গলার কোষ শিথিল করে ফলে জিহবা পিছনে পড়ে বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। যা নাক ডাকার সৃষ্টি করে।


বালিশের ভারসাম্য রক্ষা: বালিশ খুব বেশি উঁচু বা নিচু হওয়া ঠিক নয়। ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু থাকলে তা বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। কিন্তু এই উচ্চতা যদি অনেক বেশি হয় তাহলে বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। ফলে নাক ডাকার সৃষ্টি হয়। তাই খুব বেশিও উঁচু বা নিচু বালিশ ব্যবহার না করে মাঝারি ধরনের বালিশ ব্যবহার করা উচিত।
দুধ ও হলুদগুঁড়া: এক কাপ গরম পানিতে দুই টেবিল-চামচ হলুদগুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। এলাচগুঁড়া: এক কাপ গরম পানিতে এক বা দুই টেবিল-চামচ এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। এটি নাক ডাকা বন্ধ করতে সহায়তা করে।

শেষ কিন্তু একমাত্র নয়: নাক ডাকার সমস্যা নিদ্রাহীনতার কারণেও হতে পারে। যা জীবনের জন্যেও ক্ষতিকর। তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কোলেস্টেরল ভালো নয়। এই তথ্য প্রায় সবারই জানা। তবে ভালো কোলেস্টেরলের অভাবে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
-ইন্টারনেট

দাঁতের রুটক্যানেল কেনো করাবেন কিছু তথ্য জেনে নিন

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন): দাঁতের অবহেলা করতে করতে ক্ষতি যখন চরমে পৌঁছায় তখন দাঁত হয় ফেলে দিতে হয় নয়তো করাতে হয়ে রুট ক্যানেল। রুট ক্যানেলের ব্যাপারে অনেকের যেমন ভয় আছে, তেমনি আছে কিছু ভুল ধারণা। আসুন জেনে নেওয়া যাক রুট ক্যানলের ব্যাপারে কিছু দরকারি তথ্য।

-ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে দাঁতে বেশি অস্বস্তি হওয়া, কামড় দেবার সময়ে খচকরে ব্যথা, মাড়ি ফুলে যাওয়া বা দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হলে রুট ক্যানেল করার প্রয়োজন হতে পারে।-অনেকেই ভয় পান এই ভেবে যে রুট ক্যানেল করতে গেলে দাঁতে ব্যথা হবে। কিন্তু ডেন্টিস্ট রুট ক্যানেল করার সময়ে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েই কাজ শুরু করবেন, তাই ভয়ের কিছু নেই।

 বরং দাঁতের ক্ষতি হবার কারণে যে ভয়াবহ ব্যথা হয় তা কমাতে সক্ষম রুট ক্যানেল। রুট ক্যানেল করার পরে ব্যথা হলেও তা পেইন কিলার খেলেই অল্প সময়ের মাঝে চলে যায়। এই ব্যথাকে ভয় পাবার কিছু নেই। -রুট ক্যানেল করলে আর ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত তুলে ফেলার দরকার হয় না। দাঁতটাকে জায়গামত রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। সাধারণ দাঁতের মতোই এই দাঁতও অনেকদিন টিকে থাকে।


-রুট ক্যানেলের পর সেই দাঁতে পুনরায় ইনফেকশনের সম্ভাবনা কমে যায়।
-বর্তমানে রুট ক্যানেলের চিকিৎসায় এমন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় যাতে কোনো দাঁতের সমস্যা বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও তা শনাক্ত করা সম্ভব।


-দাঁতের ব্যথার কারণে অনেক দিন ধরে চিবিয়ে খাবার কেতে পারেন না রোগী, রুট ক্যানেল করানোর পর চিবিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা ফিরে আসে। রুট ক্যানেল পদ্ধতিটি বেশ লম্বা বটে, কিন্তু দাঁতের বেশি ক্ষতি হলে সবচাইতে ভালো চিকিৎসা এটাকেই ধরা হয়।-আপনি যদি রুট ক্যানেল কখনো করাতে না চান, তবে দাঁত এবং মাড়ির সঠিক যতœ নিতে হবে সব সময়।

হাঁটু ইন্জুরি

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল : আই, ডি, কে, কি?হাঁটু সন্ধি বা নী জয়েন্ট মানব শরীরে অন্যতম জটিল এবং প্রচন্ড ষ্ট্রেসফুল জয়েন্ট। এ জয়েন্ট ফিমার এবং টিবিয়ার হিন্জ-জয়েন্ট এবং প্যাটেলা ও ফিমারের মাঝে স্যাডল-জয়েন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত “জটিল সাইনোভিয়াল জয়েন্ট।” বাইরে এবং ভিতরে মাংসপেশী লিগামেন্ট, অস্থি, সাইনোভিয়াস, ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট এবং সর্বোপরি মিনিস্কাসের বিশাল উপাদান নিয়ে এ জয়েন্ট গঠিত। যদি কোন কারণে এই সুগঠিত সন্ধির ভিতরে বাইরে লিগামেন্ট-মিনিস্কাস কিংবা অস্থি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে ব্যথা সহকারে অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা এ্যাবনরমাল মুভমেন্ট হয় তবে তাকে “ইন্টারন্যাল ডির‌্যাঞ্জমেন্ট অব নী” বা আই, ডি, কে বলে থাকে।
কারণ কি? হাঁটু সন্ধির সু-স্থিরতা নির্ভর করে:
(১) জয়েন্টের যান্ত্রিক অক্ষরেখার উপর। (২) অস্থি দ্বারা গঠিত মনোরোম কাঠামোর উপর। (৩) সন্ধির অন্ত:স্থ মিনিস্কাস এবং দুইটি ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের অবিচ্ছিন্নতার উপর। (৪) সন্ধির বহিস্থ: শক্ত কাঠামো যেমন সাইনোভিয়াস ক্যাপসুল, কোলেটারাল ২টি লিগামেন্ট, মাংস দেশী ও টেনডনের উপর।
যে কারণে হাঁটুর ইঞ্জুরি হয়:
(১) খেলোয়াড়দের- ফুটবল খেলতে গিয়ে অর্ধ-ভাঁজ হাঁটুতে সরাসরি আঘাত কিংবা শট নিতে গিয়ে হাঁটু মোচড় খেলে। (২) এ্যাথলেটসদের: সরাসরি একজনের সাথে আরেকজনের আঘাত অথবা পরোক্ষভাবে হাঁটু মোচড় খেয়ে ঘুরে গেলে। (৩) সড়ক যান দুর্ঘটনায় সরাসরি ড্যাসবোর্ড ইনজুরি। (৪) উঁচু স্থান থেকে পড়ে গিয়ে হাঁটু ঘুরে গেলে।
এসব ক্ষেত্রে যেবাবেই হোক না কেন কোলেটারাল লিগামেন্ট মেডিয়াল অথবা লেটারাল, ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট এন্টেরিওর অথবা পোষ্টেরিয়র, কিংবা মিনিস্কাস মিডিয়াল অথবা লেটারাল, এমনকি প্যাটেলা, টিবিয়াল কন্ডাইল/ ফিমোরাল কন্ডাইল পর্যন্ত ভেঙ্গে যেতে পারে।

 

আজ আমরা হাঁটু ইঞ্জুরির মেকানিজম সহ কো-লেটারাল লিগামেন্ট নিয়ে আলোচনা করবো। অন্যান্য বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে আপনাদের জন্য তুলে ধরবো। নিম্নলিখিত কারণে এবং পদ্ধতিতে নী ইঞ্জুরি হয়। (১) হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় শরীরের মধ্যখান থেকে দুরে গিয়ে ভিতরের দিকে ঘুরে গেলে অর্থাৎ এ্যাবডাকশন, ফ্লেকশন এবং ইন্টারন্যাল রোটেশন অব ফিমার যদি টিবিয়ার কন্ডাইলের উপরে হয়। সেক্ষেত্রে হাঁটুর ভিতরের পার্শ্বের অবকাঠামো যেমন মিডিয়াল কোলেটারাল লিগামেন্ট, মিডিয়াল ক্যাপসুল, মিডিয়াল মিনিস্কাস, আরো জোরের আঘাতে এ্যান্টেরিওর স্ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরি হতে পারে।


(২) শরীরের মধ্যলাইনের কাছে এসে, হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের দিকে ঘুরে গেলে অর্থাৎ এ্যাডাকশন, ফ্লেকশন এবং এক্সটারনাল রোটেশন অব ফিমার যদি টিবিয়ার উপর ঘটে সেক্ষেত্রে লেটারাল হাঁটুর কাঠামো সমূহ যেমন- ফিবুলার কোলেটারাল লিগামেন্ট, লেটারাল ক্যাপসুল, আরকুয়েট কমপ্লেক্স, পপলিটিয়াস, ইলিও টিবিয়াল ব্যান্ড, বাইসেপসমাংস, কমন পেরোনিয়াল নার্ভ, এন্টেরিওর অথবা পোষ্টেরিওর অথবা উভয় ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইঞ্জুরি হতে পারে।
(৩) হাইপার এক্সটেনশন ফোর্স অর্থাৎ হাঁটু সন্ধি যদি উপরের দিকে অধিক বাঁকানোর ফোর্স কাজ করে, সেক্ষেত্রে এন্টেরিয়র অথবা পোষ্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। (৪) সামনে পিছনে জোরে আঘাতের কারণে স্থানচ্যুত হলে সেক্ষেত্রে হাঁটুর এ্যান্টেরিয়র অথবা পোষ্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


কোলেটারাল লিগামেন্ট ইঞ্জুরি:
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আঘাতজনিত কারণে কোলেটারাল লিগামেন্ট ইঞ্জুরি হয়ে থাকে। তবে মিডিয়াল কোলেটারাল লিগামেন্ট বেশী পরিমাণে এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কারণ ‘ভালগাস ষ্টেস’ অর্থাৎ খেলোয়াড়দের হাঁটুর বাইরের দিকে আঘাত প্রাপ্ত হয় পরস্পরের সংঘর্ষের কারণে। ভ্যারাস ফোর্স অর্থাৎ ভিতরের দিকে আঘাতের কারণে লেটারাল কোলেটারাল লিগামেন্ট ইঞ্জুরি হয়। কিন্তু আরেক পায়ের সাপোর্ট থাকায় লেটারাল কোলেটারাল লিগামেন্ট ইঞ্জুরি খুবই কম হয়।
শ্রেণীভাগ: আমেরিকান মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের মতে লিগামেন্ট ইঞ্জুরি তিন গ্রেডের: (স্প্রেইন) এবং (স্ট্রেইন)
(র) ডিগ্রী: ন্যূনতম ছিঁড়ে যায়, স্থানীয় ব্যথা থাকে, কোনরূপ সন্ধি অ-স্থিরতা থাকে না, সন্ধি সেপারেশন ৫ মি. মি. এর কম।
(রর) ডিগ্রী: মাঝারী রকমের ছিঁড়ে যায়, ব্যথা থাকে, সন্ধি সু-স্থির সন্ধি- সেপারেশন ৫০-১০ মি মি এর বেশী থাকে।
(ররর) ডিগ্রী: পুরাপুরি লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। সন্ধি অ-স্থিরতা উপস্থিত, জয়েন্ট সেপারেশন ১০ মি. মি. এর বেশী হয়।


লক্ষণ/ উপসর্গ:  যেহেতু মিডিয়াল কোলেটারাল লিগামেন্ট ইঞ্জুরি বেশী হয় এটা নিয়েই বলি। ভালগ্রাস এবং বাইরের দিকে ঘুরে গিয়েছে এরূপ একটা তথ্য রোগী দেয়। মারাত্মক আঘাতের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা খেলতে গিয়ে সরাসরি হাঁটুতে আঘাতের ঘটনা বলে। অনেক সময় মিনিস্কাস কিংবা এ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইঞ্জুরি থাকতে পারে। প্রচন্ড ব্যথা, সন্ধি: ফুলে যাওয়া এবং সন্ধিতে রক্ত জমা হওয়া দেখা যায়। চাপ দিলে টিবিয়াল কোলেটারাল লিগামেন্টের সংযোগ স্থলে জয়েন্ট লাইনে অথবা এ্যাডাক্টর টিউরাকলে ব্যথা অনুভূত হয়। ২০% ক্ষেত্রে প্যাটেলার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া অথবা প্যাটেলা ভেঙ্গে যেতে পারে।
ক্লিনিক্যাল কিছু টেষ্ট: (ঈষরহরপধষ ঞবংঃ)
(১) এ্যাবডাকশন ষ্ট্রেস টেষ্ট +াব –মিডিয়াল কোলেটারাল ইঞ্জুরি। (২) এ্যাডাকশন ষ্ট্রেস টেষ্ট +াব -লেটারাল কোলেটারাল ইঞ্জুরি। (৩) পষ্টেরিয়ার ড্রয়ার টেষ্ট +াব –পষ্টেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইঞ্জুরি। (৪) এ্যান্টেরিয়ার ড্রয়ার টেষ্ট +াব –এ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরি। (৫) ম্যাকমারি টেষ্ট +াব –মিনিস্কাস ইঞ্জুরি। (৬) ল্যাকমানস টেষ্ট +ঃাব –এ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইঞ্জুরি।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা: এক্সরে: ষ্ট্রেস এক্সরে নী-এপি এন্ড লেটারাল ভিউ করলে অস্থি ভাঙ্গা আছে কিনা পাশাপশি লিগামেন্ট ইঞ্জুরি বোঝা যায়।
এমআরআই: পুরো সন্ধির সমস্ত কাঠামো সম্পর্কে ক্লিন কাট ধারণা পাওয়া যায়।
আর্থোসস্কোপি: এসিএল, পিসিএল, লেটারাল অথবা মিডিয়াল মিনিস্কাস ইঞ্জুরি পরিস্কার বোঝা যায়।


চিকিৎসা: জেনারেল প্রিন্সিপ্যাল: তাজা কেস অর্থাৎ ঘটনার পরপরই রোগী এলে (র) ¯েপ্রণ: ব্যথানাশক নন-ষ্টেরোয়েডাল এন্টি ইনফ্লামেটরী ওষুধ। -এন্টি আলসারেন্ট ওষুধ। -মাসল বিলাক্সান্ট ওষুধ। -এন্টি বায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। -পায়ের বিশ্রাম -৩ সপ্তাহ। (রর)  ¯েপ্রণ: হাঁটু ২০-৩০০ ফ্লেকশন অবস্থায় লংলেগ ব্যাক গ্ল্যাব দিয়ে অনড় রাখা হয় ৪-৬ সপ্তাহ। এর সাথে ১০ স্প্রেনের চিকিৎসা পাশাপাশি চলবে। (ররর)  ¯েপ্রণ: অপারেশন। অপারেশনের মাধ্যমে ছেঁড়া লিগামেন্ট রিপেয়ার করা হয়।
 দেরীতে যদি রোগী আসে, সেক্ষেত্রে রিকন্সট্রাকশন অপারেশন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। লেটারাল কোলেটারাল লিগামেন্টের ইনজুরি হলে ফ্যাসা-ল্যাটা অথবা বাইসেপ মাসলের টেনডন দিয়ে রিকন্সট্রাকশন করা হয়। আর মিডিয়াল কোল্যাটারাল লিগামেন্টর ক্ষেত্রে হ্যামসষ্ট্রিং অথবা সেমিটেন ডিনোসাস টেনডন দিয়ে রিকন্সট্রাকশন করা হয়।
জটিলতা: হাঁটু একটি জটিল জয়েন্ট তাই এর ইনজুরিতে বড় ধরনের জটিলতা দেখা যায়। যেমন- জয়েন্ট ইন্ট্যাবিলিটি, জয়েন্ট ইফুসন ওষ্টিও আর্থ্রাইট্রিস ইত্যাদি।
কোলেটারাল লিগামেন্ট হোক সেটা লেটারাল কিংবা মিডিয়াল ইনজুরির সাথে সাথে চিকিৎসা করালে রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। তবে এসিএল, পিসিএল, মিনিস্কাস কিংবা ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট সহ ছিঁড়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব সার্জারী করাতে হবে নতুবা রোগীরা বড় ধরনের জটিলতায় পড়বে। তাই অপচিকিৎসা নয়, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ গ্রহণের আবেদন রইল এবং আগামী দিন অন্যান্য লিগামেন্ট কিংবা মিনিস্কাস ইনজুরি সম্পর্কে লেখার আশা রাখি ইনশাআল্লাহ।

পিল খাওয়ার পরও যে চারটি কারণে গর্ভধারণ হতে পারে

ডাঃ মোঃ হারুন আল মাকসুদ: অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে অধিকাংশ নারী জন্মবিরতিকরণ পিল ব্যবহার করেন। দাবি করা হয়, এসব পিল ৯৯.৭ শতাংশ নারীকে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ থেকে বাঁচায়। তবে পরীক্ষাগারের গবেষণায় কিন্তু এসব পিলের যথেষ্ট ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

দেখা গেছে, গর্ভনিরোধে এসব পিলের ব্যর্থতা ৯ শতাংশ। কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পিলের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। সবমিলিয়ে চারটি বিষয় বের করা হয়েছে যার ফলে জন্মবিরতিকরণ পিল কোনো কাজ করে না।

১. নিয়মিত না খাওয়া : নিয়মমতো পিল না খেলে এটি কাজ করবে না। অন্যান্য হরমোন কন্ট্রাসেপ্টিভের মতোই এসব পিল নারী দেহের সংশ্লিষ্ট হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অধিকংশ পিল এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্ট্রন হরমোনের সমন্বয়ে কাজ করে। পিল নিয়মিত না খেলে এসব হরমোনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে নারীর ডিম্বাশয় আগের মতোই উর্বর হয়ে ওঠে বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গাইনেকোলজির প্রফেসর ফিলিপ ডার্নে।


২. সময়মতো পিল না খাওয়া : বিজ্ঞানীরা ওরাল হরমোন ডোজকে নিরাপদ করতে গবেষণা চালিয়েছেন। প্রোজেস্টেরন-এস্ট্রোজেন পিলের কার্যকারিতা পেতে হলে ৬ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। প্রোজেস্টেরন পিল ব্যবহার করতে হবে প্রতিদিনের ভিত্তিতে। একদিন বাদ পড়লে দেহে হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে বলে জানান প্ল্যান্ড প্যারেন্টহুড অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেনেসা কুলিনস।


৩. বিশেষ চিকিৎসা অবস্থায় : কিছু বিশেষ চিকিৎসাপদ্ধতির জন্য এসব পিল কাজ করে না। যেমন- টিউবারকুলোসিসের জন্য রিফাডিন চিকিৎসা, গ্রিসেওফালভিনের জন্য অ্যান্টি-ফানগাল ড্রাগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে পিল কার্যকারিতা দেখাতে পারে না। তাই চিকিৎসকদের এসব ওষুধ নেওয়ার ক্ষেত্রে পিলের বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে।৪. হার্বাল সাপ্লিমেন্ট : যেকোনো হার্বাল সাপ্লিমেন্টের কারণে গর্ভনিরোধক পিলের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ ওষুধ ও হার্বাল সাপ্লিমেন্টের কারণে গর্ভনিরোধনে ব্যাকআপ ব্যবস্থার কথাও বলেন বিশেষজ্ঞরা।
লেখকঃ
ডাঃ মোঃ হারুন আল মাকসুদ
মেডিকেল অফিসার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ফুলবাড়ীয়া
০১৭১২-১৯৪৪৪৫

সারাদিন প্রাণবন্ত থাকতে ঘুম থেকে উঠেই যা করবেন

করতোয়া ডেস্ক: একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলিত আছে-‘Morning shows the day’? ? তাই দিনটা আপনি কীভাবে শুরু করছেন তার উপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। হয়তো অনেক কিছুই আমাদের হাতে থাকে না, তবে এমন অনেক কিছুই আছে, যা দিয়ে শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রাণবন্ত রাখতে পারেন আপনার গোটা দিন।যেকোনও চ্যালেঞ্জই সামলে নিতে পারেন হাসি মুখে।

* সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠাটা কিন্তু খুব জরুরি। শুধু শরীর ভাল থাকে, তেমনটাই নয়। মনও চাঙ্গা রাখে।
* চোখ খুলেই একটু স্থির হয়ে নিন, স্মরণ করুণ গ্রষ্টাকে। এরফলে ভাগ্যের বাধা কেটে যায়, এমনটাই বলছে শাস্ত্র।
* প্রিয় মানুষটির কাছে যান, তার সান্নিধ্য নিন হতে পারেন তিনি আপনার মা-বাবা অথবা সন্তান।
* ঘুম ভাঙতেই গুটিসুটি মেরে বিছানায় পড়ে থাকবেন না। হাত-পা মেলুন। নিজেকে যত প্রসারিত করবেন ততই বাড়বে আত্মবিশ্বাস। দিনভর তা আপনাকে খুশি রাখবে।* চোখ খুলতেই কি হাতের সামনে এক কাপ গরম গরম কফি আপনার চাই-ই? প্লিজ! এই অভ্যাসটা এখনই বদলান। কারণ সকাল ৮-৯টার মধ্যে আমাদের শরীরে এনার্জিবর্ধক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ হয়। তাই সকাল সাড়ে ন’টার আগে যদি আপনি কফির কাপে চুমুকখানা মেরে দেন, তা হলে সবই গেল!

এক বছররে কম বয়সী শশিুকে যে খাবারগুলো দতিে পারনে

করতোয়া ডেস্ক: শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই। এইজন্য জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ দেওয়া হয়। ছয় মাসের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এই বয়সে শিশুকে কী খাওয়াবেন আর কী খাওয়াবেন না তা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় বাবা মাকে। এক বছর হওয়ার আগে শিশুকে দিতে পারেন এই খাবারগুলো।


ডিম প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল ডিম। এটি শিশুর মেধা বিকাশে সাহায্য করে। এছাড়া এটি হাড়কে মজবুত করে থাকে। সিদ্ধ অথবা খাবারের সাথে ডিম মিশিয়ে শিশুকে খাওয়ান। একটি ডিম একবারে খেতে না চাইলে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ান।পালং শাক ঃ পালংশাক আয়রন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি শরীরে রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে যা আপনার শিশুকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে।


পেঁয়াজ পেঁয়াজ নামটি শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এতটুকু শিশুকে কীভাবে পেঁয়াজ খাওয়াবেন! অল্প পরিমাণ পেঁয়াজের পেস্ট শিশুর খাবারের সাথে মিশিয়ে নিন। পেঁয়াজের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে।আপেল ফলের মধ্যে আপেল দিতে পারেন। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আপেল কুচির পেস্ট করে নিন। এটি শিশুকে খেতে দিন। আপেলের রসও দিতে পারেন। তবে বাজারের জুস দেবেন না। এতে রাসায়নিক পর্দাথ থাকে, যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর।


রসুন পেঁয়াজের মত রসুন শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি। শিশুর খিচুড়ির সাথে অল্প করে রসুনের পেস্ট দিয়ে দিন। এটি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে।মাছ শিশুর খাবারে মাছ যুক্ত করুন। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন মাছ খাবারে রাখুন। সামুদ্রিক মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা শিশুর অভ্যন্তরীণ গঠন মজবুত করে। চেষ্টা করুন সপ্তাহে এক বার সামুদ্রিক মাছ শিশুর খাবারে রাখার।


সাইট্রাস ফল ঃ সাইট্রাস ফল যেমন কমলা, মাল্টা ইত্যাদি খাবারের প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে যা শিশুর অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো অসুস্থতা সারিয়ে তোলে।এছাড়া ওটস, শস্যদানা, খিচুড়ি, সুজি শিশুকে দিতে পারেন। খিচুড়িতে মাছ, সবজি একসাথে মিশিয়ে রান্না করুন। এতে সবগুলো উপাদান একসাথে পাওয়া যাবে। এছাড়া সুজির হালুয়া দিতে পারেন মাঝে মাঝে। ফলের জুস খাওয়াতে পারেন, তবে তা অব্যশই ঘরে তৈরি হওয়া উচিত।

ফুট স্ট্রেইন পায়ের পাতার পীড়ন

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল : কী? “ফুট ষ্টেইন” শব্দটি সত্যিকার অর্থে মধ্যমেয়াদী অথবা দীর্ঘমেয়াদী টারসাল লিগামেন্টের টান বা পীড়ন কে বুঝায়, এটা কখনোই হঠাৎ আঘাত প্রাপ্তির কারণে হয় না।
কেন হয়? : যদি কোন ব্যক্তি অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কিংবা অত্যধিক হাঁটাহাঁটি করে সেক্ষেত্রে সুস্থ স্বাভাবিক পায়ের পাতায় এ ধরনের পীড়ন/টান হতে পারে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বহু দিন যাবৎ বিদ্যমান বৈকল্য ওয়ালা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটা ঘটে থাকে।

যেমন কারো যদি জন্মগতভাবে “পেস প্লানাস” বা ফ্লাট ফুট অথবা “পেস ক্যাভাস” বা হাই আর্চড ফুট “থাকে যেখানে পায়ের পাতার লিগামেন্ট পায়ের পাতার মাংসপেশী দ্বারা সংগঠিতভাবে সুরক্ষিত থাকে না, সেখানে ফুট ষ্ট্রেইন হয়।

উপসর্গ: প্রধান উপসর্গ থাকে পায়ের পাতায় ব্যথা যা অনেকটা অস্বস্তিকর ধরনের এবং দীর্ঘ মেয়াদী। ব্যথা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে অথবা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় অস্বস্তিকর ব্যথা ক্যালভিস পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করতে পারে।

কিশোরদের ক্ষেত্রে মাসকুলার ডিষ্ট্রোফির সাথে অনেক সময় গুলিয়ে যায়। তবে যুবক/ মধ্যবয়সী ছেলে মেয়ে যে কেউ এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় ইস্কিমিয়ার কারণে অসহ্য ব্যথা, নার্ভের কারণে ঝিনঝিন চিনচিন অনুভূতি কিংবা কম মৃদু অনুভূতিবোধ ইত্যাদিও হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন রক্ত পরীক্ষা এক্সরে এমআরআই কিংবা সিটি স্ক্যান ইত্যাদিতে তেমন কিছু ধরা পড়ে না। তবে অনেক সময় মেটা টারসাল জিয়া, সিসাময়ে ডাইটিস, ফ্রেইবারগস ডিজিজ, নার্ভ কম্প্রেশন বা মরটনস মেটাটারসাল জিয়া কিংবা ষ্ট্রেস ফ্রাকচার ইত্যাদি রোগ হতে আলাদা করতে হয়।
চিকিৎসা:  
-রোগীকে বেশীক্ষণ হাঁটাহাঁটি কিংবা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা হতে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়।
-প্রয়োজনে পায়ের তলায় প্যাড ব্যবহার করে পায়ের পাতার স্বাভাবিক বাঁকানো আর্চ কে সাপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
-পায়ের পাতা এবং আঙ্গুলের ব্যায়ামের পরামর্শ দেয়া হয়।
-হালকা গরম সেঁক দেয়া যেতে পারে।
-পায়ের এবং পায়ের পাতার মাংসপেশীকে শক্তিশালী করার জন্য ইলেক্ট্রিক ষ্টিমুলেশন দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা প্রয়োগ করা হয়।
-অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কারণ বিশেষত: “পেস প্লেনাসের” মাত্রা বেশী হলে অথবা গ্রেড-৪ টাইপ  পেস কেভাস” থাকলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।
তবে “ফুট ষ্ট্রেইন” বেশী ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়ে যায় এবং রোগী সাধারণত: স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করে। তাই এ ধরনের অসুবিধার জন্য অহেতুক ঝাড় ফুঁক অপচিকিৎসা না করে অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের সুপরামর্শ শুরুতেই গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয়

মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):দাঁত মানুষের অমূল্য সম্পদ। দাঁতের সাহায্যে মানুষ খাদ্যবস্তু চর্বন করে থাকে। চর্বন ক্রিয়ার সময় মুখ হতে লালা রস বের হয়ে খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে পরিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে। দাঁত সৌন্দর্যের অঙ্গ। দন্তহীন ব্যক্তিরা স্পষ্ট কথা বলতে পারে না এবং তাদের মুখের শ্রী নষ্ট হয়ে যায়।

হজম কাজের সাহায্যের জন্য খাদ্যবস্তুকে টুকরা টুকরা করে গলাধঃকরণ করাই দাঁতের কাজ।দাঁতের প্রদাহ: দাঁতের ডা: গঠনজনিত ত্রুটি, দাঁতের অযতœ, আঘাত দাঁতের পোকা, বেশি গরম, শীতল খাদ্য, মিষ্টি ও টক খাদ্য গ্রহণ এবং অপরিষ্কারজনিত জীবাণু দূষণে দাঁতের গোড়া ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়।

লক্ষণ: দাঁতের ক্ষয় বা আঘাতপ্রাপ্ত অংশ ভাঙ্গা দেখা যাবে। দাঁতের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যায়। মনে হয় দাঁতের গোড়ার মাংস বৃদ্ধি হয়েছে। তীব্র ব্যথা হয়/ব্যথা সেই পার্শ্বের মাথা ও কানের চিপে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। উষ্ণ গরম পানিতে কুলকুচা করলে ব্যথা বাড়ে। দাঁতে টোকা লাগালে রক্তপাত হতে পারে।

দন্তক্ষয় রোগ/পোকা খাওয়া : আহারের পর খাদ্যদ্রব্যের কিছু দাঁতের ফাঁকে অথবা আশেপাশে লেগে থাকতে পারে। সেখানে ব্যাকটেরিয়া নামক এক জাতীয় জীবাণু অম্লের উৎপত্তি করে। এ অম্ল দাঁতে সামান্য গর্তের সৃষ্টি করে। প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ গর্ত দিনে দিনে বড় হতে থাকে। এ পর্যায়ে আক্রান্ত দাঁতের খারাপ অংশটুকু দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফেলে দিয়ে সুষ্ঠুভাবে গর্ত পূরণ করে দিতে হবে।

লক্ষণ: প্রথমে গরম, ঠান্ডা ও মিষ্টি অথবা টক (অম্ল) জাতীয় খাদ্য খেলে দাঁতে শিরশির করে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। পরে এটা সার্বক্ষণিক ব্যথায় পরিণত হয় এবং অসহনীয় হয়ে উঠে। ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতের চিকিৎসা না করা হলে দাঁতটি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায় এবং এর নিচে ক্ষতের সৃষ্টি হতে থাকে।
ক্ষতের লক্ষণ : দাঁত মৃদু নাড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়। দাঁতের গোড়া ফুলে যায়। সম্পূর্ণ মুখমন্ডল ফুলে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. দাঁতের সৃষ্ট গর্তকে দন্ত চিকিৎসকের সাহায্যে ফিলিং করে নিতে হয়। ২. ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতটি নষ্ট হয়ে গেলে তুলে ফেলাই উত্তম।
দাঁতের গোড়ায় প্রদাহ/পায়োরিয়া : দাঁত ও মাড়িতে খাদ্যদ্রব্য জমা হওয়ায় এবং উত্তমরূপে পরিষ্কার না করার কারণে সেখানে জীবাণু জন্মে। দাঁতের গোড়ার উপরের পেরিঅস্টিয়াম মেমব্রেনের সংযোগস্থল নষ্ট করে। ঐ স্থানে জীবাণু জন্মে পচনশিল দুর্গন্ধযুক্ত দন্তরোগের সৃষ্টি করে। এভাবে দাঁতের গোড়া ফুলে উঠে এবং কখনও কখনও পুঁজ দেখা যায়। যে সকল মানুষ পরিমিত খাদ্য খেতে পায় না তাদের মধ্যে এ রোগ প্রায়ই দেখা যায়।

লক্ষণ: এক বা একাধিক মাড়ির সংযোগস্থলে ক্ষত হয়ে থাকে। দাঁতের গোড়া ফুলে এবং লালচে হয়। কখনও জ্বালা করে এবং রোগী আহারে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ফুলাস্থানে একটু আঘাত লাগলে অথবা জোরে চোষণ দিলে রক্ত ঝরে। অনেক সময় তীব্র ব্যথা হয় এবং দাঁত নড়বড়ে হয়। মুখে বিশ্রী দুর্গন্ধ হয় এবং কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করে। ক্ষতের উপর সাদা আবরণ পড়ে। মুখে ঠান্ডা পানি দিলে শির শির করে।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. দাঁতের ভিতরের কড়ালীসমূহ এর গোড়ায় সৃষ্ট শক্ত পাথর দূর করতে হয়। নড়বড়ে দাঁত তুলে ফেলতে হবে। ২. প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার রাখতে হয় এবং দাঁতের মাড়িতে আঙ্গুল দিয়ে ঘর্ষণ করে ম্যাসেজ করতে হয়। তবে গ্লিসারিন টেনিক এসিড ৩৩% দ্বারা ম্যাসেজ করলে ভাল হয় এবং দ্রুত রোগ নিরাময় হয়। ৩. লবণ পানির উষ্ণ স্যালাইন দিয়ে ৩/৪ বার কুলকুচা করলে বা অন্তত বিছানায় যাবার প্রাক্কালে এবং সকালে ঘুম হতে উঠে করলে এ রোগের
বিস্তারের সম্ভাবনা কম।

মাড়িতে ফোঁড়া : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ এবং ব্যস্ততার বা অলসতার কারণে দাঁত ও মুখ খুব ভালভাবে পরিষ্কার রাখা হয়ে উঠে না। ফলে অনেকেরই মাড়িতে জ্বালা ও রক্তপাত হয়। দীর্ঘদিন এভাবে অবহেলায় সাধারণ রোগও খারাপের দিকে যায় এবং স্নায়ুতন্ত্র নষ্ট হয়। দাঁত নড়বড় করে। দাঁতের একধার ফেটে যায় এমনকি পোকা ধরার মত দেখা যায়। মানুষের মুখে বিভিন্ন রকম জীবাণু থাকে। এ সকল জীবাণু সাধারণত বা প্রতি সময় দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা পচা খাদ্যের সাহায্যে দ্রুত জীবাণু বিস্তার করে। এ সকল জীবাণুগুলোকে ডেন্টাল প্লাক বা শর্করা বা ব্যাকটেরিয়াল প্লাক বলে। প্রলেপে অবস্থিত জীবাণুগুলো অম্ল (এসিড) তৈরি করতে সক্ষম। দাঁতে লেগে থাকা খাদ্য শর্করা বা চিনির সাহায্যে স্থানীয় এসিড তৈরি করে। ধীরে ধীরে এ এসিডে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় এবং একইভাবে জীবাণু দাঁতের একেবারে নিচে হাড়ের মধ্যে এসে পুঁজের সৃষ্টি করে।

লক্ষণ: আক্রান্ত দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং চোয়াল ও মুখ ফুলে যায়। আক্রান্ত দাঁতের ফুলা অংশ স্পর্শ করলে বেশ তাপ দেখা যায়। আক্রান্ত অংশে গোটা মাথা, চিপ ব্যথায় চিলিক পাড়ে। ব্যথার তাড়নায় ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত জ্বর আসে। এক সময় মাড়ি বা নিচের চোয়ালে গালের চামড়া ফেটে পুঁজ বের হয়ে আসে। জ্বালা যন্ত্রণা কমে গেলেও জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. উত্তমরূপে পুঁজ পরিষ্কার করে ড্রেনেজ দিতে হয় এবং প্রতিদিনই ড্রেসিং করতে হয়।
দাঁতের মাড়ি ফোলা এবং জিঞ্জিভাইটিস : সাধারণত অপরিষ্কার মুখেই এ রোগ দেখা যায়। যে সকল মানুষ পরিমিত খাদ্য খেতে পারে না তাদের মধ্যেই এ রোগ বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ : এক বা একাধিক মাড়ির সংযোগস্থলে ক্ষত হতে থাকে। মুখ জ্বালা করে ও খাবার গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ক্ষতের উপর সাদা আবরণ পড়তে পারে। সহজে রক্ত বের হতে পারে এবং রোগীর মুখে দুর্গন্ধ হয়। মুখে লালা বাড়ে এবং রোগী অস্বস্তিবোধ করে।

দাঁত পরিষ্কার রাখার স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম : দাঁত ও মাড়িতে খাদ্যদ্রব্য জমা হওয়ার কারণেই দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাঁত পরিষ্কার নিয়ম সম্বন্ধে উপদেশ দিতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয়। দাঁত ও মাড়ির সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখলে মাড়ি ফোলা রোগ হতে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। দন্ত রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও সকলকে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখার উপদেশ দিতে হবে। কারণ ‘প্রতিরোধ আরোগ্য হতে শ্রেয়।’

ব্রাশ ও দাঁতন : দাঁত পরিষ্কার করার জন্য টুথ ব্রাশ এবং টুথপেস্ট ভাল। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তবে দাঁতনও একটি উৎকৃষ্ট জিনিস। টুথপেষ্টের পরিবর্তে ব্রাশ বা দাঁতনে লবণ ব্যবহার করা যায়। প্রাতরাশের পর এবং রাতে নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে দাঁত মাজা ভাল। দুপুরে আহারের পরও একবার দাঁত মাজা ভাল।

দাঁত মাজার প্রণালী : সব সময় ভিতর বা বাইরের মাড়ির উপর হতে দাঁত মাজা শুরু করতে হয়। যাতে প্রত্যেকটি দাঁত কমপক্ষে ১০ বার ঘষা হয়। এরপর পানি দ্বারা কমপক্ষে ৩ বার ভালভাবে কুলকুচা করতে হবে যাতে সমস্ত ময়লা বের হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ৫ নিয়ম

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে হৃদযন্ত্রের জন্যেও ক্ষতিকর হয়।গবেষণার ফলাফল হচ্ছে, বয়স যাদের পঞ্চাশের নিচে এবং শরীরে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের অস্বাভাবিকভাবে কম, তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ক্ষেত্র বিশেষে অপকারী কোলেস্টেরল বেশি এমন ব্যক্তিদেরই চাইতেও বেশি হতে পারে। ‘এলডিএল-সি’ যাকে শরীরের জন্য অপকারী কোলেস্টেরল বলা হয়, বেশি মাত্রায় থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

 কারণ এই কোলেস্টেরল রক্তনালীতে ‘প্লাক’ নামক পদার্থ জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরলকে বলা হয় ‘এইচডিএল-সি’, যা কাজ করে ঝাড়ুদার হিসেবে। রক্তনালী থেকে বাড়তি চর্বি ও বাজে কোলেস্টেরল ঝেঁটিয়ে বিদায় করে।

প্রধান গবেষক, হার্ভার্ড মেডিকল স্কুলের ছাত্র ব্র্যাডলি কলিন্স বলেন, “তরুণ হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের উপর করা এই গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষ এবং ৭৫ শতাংশ নারীর মধ্যে ‘এইচডিএল-সি’র মাত্রা কম।” চল্লিশোর্ধ পুরুষ এবং পঞ্চাশোর্ধ নারীদের শরীরে ‘এইচডিএল-সি’য়ের স্বাস্থ্যকর মাত্রা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

 এই সুরক্ষার পেছনে কিছুটা অবদান ‘এইচডিএল-সি’য়ের রক্তনালী থেকে বাজে কোলেস্টেরল পরিষ্কার করা, প্রদাহ রোধ, রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। অপরদিকে ‘এইচডিএল-সি’ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি বাড়বে। কলিন্স আরও বলেন, “এইচডিএল-সি’য়ের মাত্রা কম থাকাও কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত।

 ওয়াশিংটনে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি’র ৬৬তম বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটি তুলে ধরা হবে। গবেষণার জন্য মোট ৮১৩ জন ৪৫ বছরের নিচে পুরুষ এবং ৫০ বছরের নিচে নারীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাদের হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

ধূমপান ত্যাগ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শারীরিকভাবে কর্মচঞ্চল থাকা, ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে শরীরে এইচডিএল-সি অর্থাৎ উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব বলে গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়।          -ইন্টারনেট

ডাবের পানিতে ত্বকের চর্চা

করতোয়া ডেস্ক: ডাব খেতে কে না ভালোবাসে! যদিও এটি ফল, তবে ভেতরে তেষ্টা দূর করার জন্য মিষ্টি পানি থাকার কারণে অন্যান্য ফলের থেকে একেবারেই আলাদা। কচি ডাবের স্বচ্ছ, টলটলে পানির পুষ্টিমূল্যও অনেক। শুধু তেষ্টা মেটানো কিংবা পুষ্টি যোগানোর কাজেই নয়, সৌন্দর্য চর্চায়ও এটি সমান উপকারী। তাজা ডাবের পানি নিয়মিত মাখুন হাতে এবং মুখে।

 ট্যান রিমুভ করতে এটি খুবই উপকারী। একই সঙ্গে ত্বক নরম ও মসৃণ করে তুলবে ডাবের পানি। এক চিমটে কর্পূর, মসুর ডাল, শসার রস ও ডাবের পানি মিশ্রণ তৈরি করে স্ক্রাবিং করুন। রোদে পোড়া কালো দাগও কমবে নিয়মিত ব্যবহারে।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য তাজা ডাবের পানিতে চন্দন কাঠ ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। তারপর চন্দন কাঠ ঘসে যে পেস্ট তৈরি হবে, তা পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন পানি দিয়ে। এই পেস্ট ন্যাচারাল স্কিন ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে এবং ত্বক থেকে মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডাবের পানির সঙ্গে মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।

 মুখের ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ১০টি কাঠবাদাম ডাবের পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। আধঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন।

অবহেলায় যেসব ব্যথা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে!

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, যে জীবনে কখনই ব্যথায় ভোগেননি। বেশিরভাগ সময় আমরা শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথাকে সেভাবে গুরুত্বই দেই না। কিন্তু আপনি জানেন কী? এসব ব্যথাই হতে পারে অনেক বড় সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ! ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও। কাজেই কখনই গাফিলতি করে কোনো ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
যেসব ব্যথাকে কখনই অবহেলা করা ঠিক নয়-

বুকে ব্যথা: বুকে ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন গ্যাসের কারণে ব্যথা হচ্ছে। আবার অনেকের মতে বুকে পিঠে ভারি কিছু চেপে বসে থাকার সমস্যা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হয়। হ্যাঁ, বিষয়গুলো সত্য। কিন্তু বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, ছোটো ছোটো শ্বাস নেওয়া এবং অনেকটা সময় বুকে ব্যথা দূর না হওয়ার বিষয়টি কখনই অবহেলা করবেন না। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।


দাঁত ব্যথা: অনেকেই দাঁতের সমস্যায় ভুগে থাকেন। কখনও কখনও এর মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে মাঝরাতে গভীর ঘুমও ভেঙে যায়। আবার দাঁতের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে তা মাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ক্যান্সারের মতো জটিল ব্যাধি হতে পারে। কাজেই বিলম্ব না করে দ্রুত ডাক্তার দেখান।


মাথা ব্যথা: হঠাৎ করে যদি অস্বাভাবিক মাথা ব্যথা ওঠে এবং আপনি চোখে ঘোলা দেখতে আরম্ভ করেন, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা কিন্তু একেবারেই উচিত নয়। কারণ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কোনো আঘাত, টিউমার ইত্যাদি কারণে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
তলপেটের ডান দিকে ব্যথা: এ ধরনের ব্যথা যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় তাহলে এটা অ্যাপেন্ডিসাইটের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি অপারেশন করাতে হতে পারে।পিঠের মাঝখানে ব্যথা: পিঠের মাঝখানে ব্যথা, জ্বর এবং ক্লান্তিকে একদমই অবহেলা করবেন না।

 কারণ এগুলো হতে পারে কিডনি সমস্যার লক্ষণ। কিডনিতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এবং ইউরিন ইনফেকশনের জন্য এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।মাসিকের সময়ে অস্বাভাবিক পেট ব্যথা: মাসিকের সময়ে পেটে যদি অস্বাভাবিক ব্যথা হয় এবং সেই ব্যথা সহজে না কমে তাহলে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নতুবা বিপদ এড়াতে পারবেন না।যে কোন ব্যথায় একটু অবহেলায় সারা জীবনের কান্না নিয়ে আসতে পারে। কাজেই আগে থেকেই সতর্ক হোন। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচুন।    -ইন্টারনেট

মুখে ঘা হলে কী করবেন?

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন) : মুখের ভেতর, মাড়ি বা জিভে অনেক সময় ঘা দেখা যায়। এটি যেমন কষ্টদায়ক তেমনি মুখের ভেতর একধরনের অস্বস্তির অনুভূতি হয়। বিভিন্ন কারণে মুখে ঘা হয়, তার মধ্যে যে সকল অন্যতম কারণগুলো হলো:উপদেশ: ১. ডায়াবেটিস রোগী, ২. গর্ভাবস্থায়, ৩. বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ, ৪. ভিটামিন এর অভাব, ৫. মানসিক চাপ, ৬. দাঁত ও মাড়িরোগ, ৭. ওপরের দিকের মাড়ির দাঁত ও নিচের দিকের মাড়ির দাঁতের কারণে অনেক সময় গালে কামড় লাগে, এর কারণেও মুখে ঘা হয় বলে ধারনা করা হয়, ৮.  জোরে দাঁত ব্রাশ করলে অনেক সময় মাড়িতে আঘাত লাগে, সেখান থেকেও এক ধরনের ঘা হতে পারে। সাধারণত সকল বয়সী নারী-পুরুষের মুখে এপথাস আলসার নামের একধরণের ঘা বেশি দেখা যায়।

 এর কারণ হিসেবে মনে করা হয় ভিটামিন বি-এর স্বল্পতা, অনিদ্রা, অপরিচ্ছন্ন মুখগহ্বর, মানসিক চাপ, ধারালো বা : অস্বাভাবিকভাবে দাঁত ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁতের ধারালো অংশ ক্রমাগতভাবে জিহ্বা বা মুখের ভেতর আঘাত করে। বেশির ভাগ আলসার বা ঘা এর কারনে হয়ে থাকে। ৯. এছাড়া স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, অনেক দিন ধরে রোগে ভোগা, ক্যান্সার এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে- এসব কারণে ক্যানডিডা নামক এক ধরণের ছত্রাক সংক্রমিত হয়, এর ফলে মুখে ঘা হয়ে থাকে। ১০. যেসব হাঁপানি রোগী অনেক সময় ইনহেলার গ্রহণ করে, তাদের সাবধানতার সঙ্গে সেটি গ্রহণ করা উচিত। এটি গ্রহণের পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। মুখে ঘা হওয়ার কারণে সামান্য ব্যথা, ক্ষত জায়গায় জ্বালা হতে পারে।

 
প্রতিরোধ: ১.  যেহেতু আঘাতের কারণে এটি বেশি দেখা যায়, তাই দাঁত ব্রাশের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। ২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা দরকার। ৩. ধারালো দাঁতের কারণেও ঘা হতে পারে। এমন অবস্থায় আপনি যদি খুব বেশি অসুবিধা মনে করেন তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে আশার কথা এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তাই মুখগহ্বর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

 

সেরিব্রাল পলসি (সিপি)

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল : কি? একগুচ্ছ অরাজকতা যা মস্তিষ্কের অবর্ধনশীল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বর্ধনের শুরুতেই নবজাতকের ক্ষেত্রে ঘটে। এ ঘটনা প্রতি হাজার জীবন্ত জন্মলাভকারীর দুইজন নবজাতকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।কি কারণে হয়: একক কোন কারণ নয়। ব্রেইন বা মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে কোন কারণেই এটা হতে পারে। কারণগুলো তিন ভাগে শ্রেণী বিভক্ত করা হয়।


(১) প্রি-ন্যাটাল কারণ: নার্ভাস সিস্টেম সঠিকভাবে গঠিত না হলে, ইরাথ্রোব্লাষ্টোসিস, ইকটেরাস গ্রাভিস, কার্নিক্বেরাস্ ইত্যাদি।
(২) ন্যাটাল কারণ: জন্মের সময় মস্তিষ্কের বার্থ ইনজুরি, রক্ত শূন্যতা, সেরিব্রাল এনোক্সিয়া, প্রিম্যাচুরিটি ইত্যাদি।
(৩) পোষ্ট-ন্যাটাল কারণ: ইনফেকশন, হুপিং কাশি, এনকেফালাইটিস, মেনিঞ্জাইটিস, হেড-ইনজুরি, ষ্ট্রোক ইত্যাদি। প্রধান কারণ হিসাবে প্রসবকালীন মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ততা এবং কষ্টসাধ্য ডেলিভারীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত কিংবা সেরিব্রাল এনোক্সিয়া অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
 
শ্রেণীভাগ বা টাইপ: (১) স্পাষ্টিক প্যারেসিস: এটা সবচেয়ে বেশী প্রায় ৬০%। মাসলটোন বেশী এবং হাইপারএকটিভ বিফ্লেক্সফকে (২) এথেটোসিস- অনিয়ন্ত্রিত সার্বক্ষনিক মুভমেন্ট থাকে। (৩) এটা ক্সিয়া: নড়াচড়া করতে গেলে মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। (৪) রিজিড পলসি: মাংসপেশী সার্বক্ষণিক কণ্ট্রাকশনে ফাকে যাতে পেশী বেশ শক্ত থাকে। (৫) মিশ্র বা মিক্সড টাইপ: এছাড়া ট্রপোগ্রাফিক শ্রেণীভাগ করা হয়। যেমন- হোমপ্লেজিয়া, ডাইপ্লেজিয়া, মনোপ্লেজিয়া, ট্রাইপ্লেজিয়া টেট্রাপ্লেজিয়া এবং হোলবডি ইনডলভলবমেন্ট ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশী স্পাষ্টিক প্যারেসিস নিয়ে আলোচনা করবো।


 প্যাথোলজী: মটর কর্টেক্সের কিছু অংশ ব্রেন গ্লাওসিস দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে পিরামিডাল ট্রাক্ট-এ ডিজেনারেশন হয়।
উপসর্গ/লক্ষণ: প্রিন্যাটাল টেক্সি মিয়া, হেমোররেজ, প্রিম্যাচুর বার্থ, কষ্টসাধ্য ডেলিভারী কিংবা নবজাতকের ডিসট্রেজ ইত্যাদির ইতিহাস থাকতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে মার্বনে নবজাতক বুকের দুধ টানতে পারে না, গিলতে পারে না বাচ্চার মুখের কোনা দিয়ে লাল পড়ে। বাচ্চার সাধারণ মাইল ষ্টোন ঘাড় তোলা, হামাগুড়ি দেয়া, বসা, দাঁড়ান, হাঁটা কিংবা দাঁত উঠা সবকিছু দেরীতে হয়। সাধারণত: এক পার্শ্বের হাত পা (হেমিপ্লেজিয়া) যে কোন হাত বা নিম্ন বাহু (মেনোপ্লেজিয়া) উভয় নিম্ন বাহু (প্যারাপ্লেজিয়া) উপরের এবং নিচের মোট চার বাহু (টেট্রাপ্লেজিয়া) হতে পারে। এমন কি শরীর বা মুখমন্ডলের পেশীও আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চাকে পর্যবেক্ষণ করলে দুর্বলতা, শক্তপেশী বা স্পাষ্টিসিটি ইচ্ছাকৃত নড়াচড়া অনিয়ন্ত্রিত ইত্যাদি দেখা যায়। বাচ্চার মানসিক বৈকল্য, দুষ্টিত্রুটি অথবা বধিরতা অথবা কানে কম শোনা ইত্যাদি থাকতে পারে।


বৈকল্যতা: যখন মাংসপেশীতে স্পাজম কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা বিরাজ করে তখন নানা ধরনের বৈকল্যতা দেখা যায়। সাধারণত: উর্ধ্ববাহুর ফ্লেকশন কণ্ট্রাকচার কনুই, সম্মুখবাহুর প্রনেশন, কব্জির ফ্লেকশন, বৃদ্ধাঙ্গুলীর এ্যাডাকশন প্রভৃতি ডিফোরমিটি থাকে। নিম্ন বাহুতে হিপ জয়েন্ট এ্যাডাকশন, ফ্লেকশন হাঁটু সন্ধি এবং এ্যাংকেল জয়েন্ট ইকুইনাস অবস্থায় থাকে, স্পাইনে স্কোলিওসিস, কাইকোসিস কিংবা পেলভিক অবলিকুইটি থাকতে পারে। বাচ্চা স্পাষ্টিসিটির কারণে লাফিয়ে হাঁটে অনেক সময় সাপোর্ট ছাড়া হাঁটতে পারে না। চলন বৈকল্য অনেকটা কাঁচির মতো অর্থাৎ এক পায়ের মধ্যে আরেক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে জার্কিং “সেইজারস গেইট” অবস্থায় চলাচল করতে চেষ্টা করে।


 সেন্সেশন সাধারণত উপস্থিত থাকে জার্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়। বাচ্চার চোখ অনেকসময় টেরা হয়। বৈকল্যতা বিভিন্ন বাচ্চার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়। কম বৈকল্যের ক্ষেত্রে বাচ্চা কোন রকমে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে আবার সামান্য প্রতিবন্ধী হতে পারে। আর তীব্র বৈকল্যের ক্ষেত্রে খুবই মারাত্মক প্রতিবন্ধী হিসাবে হেল্প লেস জীবন যাপন করে।
 

যেহেতু ব্রেনের একটা অংশ ধ্বংস হয়, যা কোনক্রমেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয় তাই সম্পূর্ণ সুস্থতা আশা করা বাঞ্ছনীয় নয়। সাহায্যকারীকে চরম ধৈর্য্য ধারণ করে সিপির বাচ্চার নিবির পরিচর্যা করলে শুরু থেকে শেষে মোটামুটি ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে কোন ফল নাও মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগী অপরের সাহায্য নিয়ে তার দৈনন্দিন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে। ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে অনেকে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজে নিজে কিছু দৈনন্দিন কাজ করতে পারে। তবে নিঃসন্দেহে ‘সিপি’-র বাচ্চা প্রতীকী হিসাবে সবার কাছে বোঝা হয়ে থাকে।


চিকিৎসা: সেরিব্রাল পলসি এমনি একটি রোগ যার জন্য এক্সরে, সিটিস্ক্যান এমআরআই এবং মাইলোগ্রাফি প্রভৃতি রোগ নির্ণয় পদ্ধতির প্রয়োজন পড়তে পারে। প্রয়োজনে ইলেক্ট্রো মাইওগ্রাফিরও দরকার হতে পারে। তবে চিকিৎসা পদ্ধতি মাল্টিডিসিপ্লিনবো এ্যাপ্রোচ। একার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপী, স্পিচ-থেরাপী, শিশু রোগী চিকিৎসক, মনোরোগ চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক সার্জন ও সার্জারী বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।


পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত: পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাইরে চিকিৎসা করা যেতে পারে কিন্তু পাঁচ বছর বয়স পার হলে প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে নিবির পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে মাংস পেশীর প্রশিক্ষণ যা ফিজিও থেরাপিষ্ট করবে এবং সেক্ষেত্রে রিলাক্স-স্পাষ্টিক পেশীই প্রধান উদ্দেশ্য। বৈকল্যগুলো সংশোধনের জন্য স্পিøন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

 প্রয়োজন হলে অজ্ঞান দিয়ে প্লাষ্টার করা যেতে পারে। কথা থেরাপী: বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সিপি’র বাচ্চাদের কথা শেখানোর জন্য এবং মুখের জড়তা কাটানোর জন্য স্পিচ থেরাপী প্রয়োজন হয়। অপারেশন:  যে কারণে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে-(১) স্পাষ্টিক বৈকল্য সংশোধনের জন্য। (২) স্থিরবৈকল্য বা ফিক্সড, ডিফোরমিটি থাকলে। (৩)  সেকেন্ডারী ডিফোরমিটি যেমন হিপ স্থানচ্যুৎ হওয়া, জয়েন্ট অস্থিরতা, অস্থির বৈকল্য প্রভৃতি সংশোধনের জন্য।

 বিশেষজ্ঞ সার্জনদ্বারা অষ্টিওটন্সি, টেন্ডন ট্রানফার টেন্ডনের লেন্দেনিং অপারেশন, আর্থোডেসিস কিংবা নিউরেকটাম অপারেশন করা হয়। সেরিব্রাল পন্সির রোগী শুধু একটি পরিবার বা গ্রামের বোঝা নয়, সারা দেশের বোঝা। তাই শুরুতেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা বোঝা আরও বাড়বে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ

মুখে বাজে গন্ধ হওয়ার মূল ৭টি কারণ ও সমাধান

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):মুখে দুর্গন্ধের অস্বস্তিকর সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই পড়তে হয়। তবে এটা যদি আপনার দীর্ঘস্থায়ী বা পুরনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তার মাউথ ওয়াশ বা এ ধরণের কিছু দিয়ে থাকেন। এতে কিছু সময়ের জন্য দুর্গন্ধ চলে যায়। মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সাতটি মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ জেনে নিন।
১. আপনি দাঁতের যতœ নিচ্ছেন না
২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওরাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দাঁতের পরিচ্ছন্নতা না থাকার জন্য শতকরা ৮৫ ভাগ দায়ী মানুষের বদ অভ্যাস। আর এর পেছনে কাজ করে মুখের ভেতরে খাদ্যকণা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জিহ্বার নিচে অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকা এ ব্যাকটেরিয়া সালফার কম্পাউন্ড উৎপাদন করে যার গন্ধ অনেকটা পচা ডিমের মতো। আর এ গন্ধ দূর করতে হলে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
২. যথেষ্ট পানি খান না: দেহে পানির অভাবে খুব অল্প পরিমাণ সেলিভা উৎপন্ন হয়। সেলিভা মুখের এসব ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। পানির অভাবে মুখের ভেতর শুকনো থাকে এবং সেলিভা মরে যায়। এই মৃত সেলিভা কোষ থেকেও বাজে গন্ধ তৈরি হয়।
৩। এলার্জিও দায়ী: এলার্জির কারণে অনেকে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে পারেন না। তখন মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এবং এতে মুখের ভিতরটা শুকিয়ে যায়। ফলে সেই একই সমস্যা। নাক-কান-গলা এলার্জির সমস্যা থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। এলার্জির চিকিৎসা নিন।
৪। বাজে গন্ধ উৎপন্নকারী খাবার বেশি খেলে: এটা বলে বোঝাতে হবে না যে, রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। আবার দুধ খুবই ভালো খাদ্য। কিন্তু এ দ্রব্য মুখে এক ধরণের শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা দুর্গন্ধ তৈরি করে, এ জাতীয় উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে বাজে গন্ধের শ্লেষ্মা হয়। তাই এগুলো বেশি পরিমাণ খাবেন না।
৫। সাইনাস অথবা টনসিলে সংক্রমণ থাকলে: সাইনাসে সংক্রমণ ঘটলে বাজে গন্ধ আসে মুখ থেকে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়োটিক বা নেটি পট থেরাপির মাধ্যমে সাইনাসের বাজে শ্লেষ্মা দূর করা যায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জেমস এন পালমার। এছাড়া টনসিলে সংক্রমণ ঘটলে এক ধরণের ক্যালসিয়াম পাথর জন্মে যা কটু গন্ধ সৃষ্টি করে।
৬। এসিডিটির সমস্যা: এসিডিটির ফলে পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া থেকে ভিনেগারের মতো গন্ধ তৈরি হয়। টক জাতীয় ঢেকুর হয়ে তা মুখে বাজে গন্ধ ছড়িয়ে দেয়।
৭। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে: মুখে খুব বাজে ধরণের গন্ধ ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে হতে পারে। তবে তা কদাচিৎ দেখা যায়। এ গন্ধের বৈশিষ্ট্য অনেকটা টক এবং পনিরের মতো। যেসব মানুষের নানা ব্যাধির কারণে বেশি পরিমাণ তেজক্রিয় রশ্মির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, তাদের এমনটি হতে পারে।
সমাধান: প্রতিদিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মতো দাঁতের যতœ নেয়া ও দাঁত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরী। তবে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে দাঁতের সঠিক যতœ নিলেও বিব্রতকর দূর্গন্ধ এড়ানো যায় না। এসব ক্ষেত্রে মূল সমস্যা অনুধাবণ ও রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেয়া উচিত। প্রথমে একজন দন্ত চিকিৎসকের সরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। তবে রোগ নির্মূল হওয়ার আগ পর্যন্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

যে ১০টি খাবার তারুণ্য ধরে রাখে

একেক খাবারের একেক ধরনের গুণাগুণ রয়েছে। সঠিক খাবার বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়তা উপকারিতা পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. জোসুয়া জেচনার জানিয়েছেন ১০টি খাবারের কথা যা আপনার তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করে।
১. কফি : আমেরিকার জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে বলা হয়, প্রতিদিন এক কাপ কফি খেলে দেহে ২০ শতাংশ কম মেলানিন উৎপন্ন হয়। এটি দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে চেহারায়।
২. তরমুজ : এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন। বিশেষজ্ঞ ড. কেরি গ্লাসম্যান জানান, এটি এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। এতে ত্বকের সজীবতা অটুট থাকে।
৩. ডালিম : অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি পরিপূর্ণ থাকে ডালিম। আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বকে যে বয়সের ছাপ ফেলে তা নিরাময় করে ডালিমের উপাদান। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের গবেষণায় এ তথ্য দেওয়া হয়।
৪. ব্লুবেরি : এই ফলটি ভিটামিন সি এবং ই সরবরাহ করে। এর উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এতে আরো আছে প্রাকৃতিক লাইটেনার যা ত্বকের পুষ্টি জোগায়।
৫. গলদা চিংড়ি : জিঙ্ক রয়েছে প্রচুর। এই উপাদানটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে নিরাময় করে। এতে বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
৬. পাতাকপি : সবুজ এই সবজিতে ভিটামিন কে রয়েছে। খাবারে আয়রনের অভাব ঘটলে ত্বকে ম্লান ভাব চলে আসে। ভিটামিন কে চোখের চারদিকের রক্তবাহী নালীগুলোকে সুস্থ রাখে। এতে চোখের নিচে কালি পড়ে না।
৭. ডিম : আপনার নখও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই প্রোটিনের অভাব দেহটাকে বুড়ো বানিয়ে দেয়। ডিমে রয়েছে এমন প্রোটিন যা দেহকে পরিপুষ্টতা দেয়। প্রোটিনের ব্লক তৈরি হয় দেহে যা আপনার তারুণ্য ধরে রাখে।
৮. ওয়ালনাট : ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে এতে। এর প্রাকৃতিক তেল আপনার চুলকে পুষ্টি জোগায়। এর ভিটামিন ই ক্ষতিগ্রস্ত চুলের কোষকে সুস্থ করে তোলে।
৯. অ্যাভোকাডো : এতে আছে ওমেগা-৯ ফ্যাটি এসিড। ত্বকের কোষে ময়েশ্চার জোগায় এই উপাদান। ফলে ত্বকের সজীবতা অটুট থাকে।
১০. ফ্রুটি : এই মিষ্টি ফলটিতে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। অনেকের মতে, এই উপাদান কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে দ্রুত ক্ষয় হয় না ত্বকের। -ইন্টারনেট

রক্ত পরীাতেই ধরা পড়বে ক্যান্সার

করতোয়া ডেস্ক:এবার রক্ত পরীাতেই ধরা পড়বে ক্যান্সার। রক্ত পরীাতেই বুঝতে পারবেন চিকিৎসকরা কোথায় রয়েছে টিউমার। এমনই এক ধরনের বিশেষ রক্ত পরীা উদ্ভাবন করেছেন সান দিয়েগোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।গবেষণা করে তারা দেখেছেন, শরীরে কোন কোষে যখন টিউমার বেড়ে ওঠে, তখন আশপাশের কোষগুলি মরতে থাকে। সেই মৃত কোষগুলির ডিএনএ রক্তে এসে মেশে। সেই ডিএনএ থেকেই বোঝা যায় টিউমারের উৎসস্থল।

 

গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জন্য জরুরী কিছু টিপস

করতোয়া ডেস্ক: গর্ভাবস্থা এমন একটি সময় যখন শরীর আপনার আনুগত্য পালন করবে না বরং আপনাকেই শরীরের আনুগত্য মেনে নিতে হয়। গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জীবন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু গর্ভাবস্থা কোন রোগ নয়, তাই আপনি এই সময়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রেও ভালো করতে পারেন যদি কিছু নিয়ম মেনে চলেন। চলুন, তাহলে জেনে নিই গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জন্য কিছু টিপস।

* আপনার স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিটা কর্মক্ষেত্রেই কিছুনা কিছু স্ট্রেস থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অবস্থাটি পার করছেন। তাই এই সময়টাতে সকল নেতিবাচক চিন্তাকে দূর করে দিন এবং আপনার শরীরের ভেতরে বেড়ে ওঠা ছোট শিশুটিকে নিয়ে ভাবুন।
* গর্ভাবস্থায় আপনার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকে বলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই বাইরের খাবার খাবেন না। নিজেই খাবার তৈরি করে নিয়ে যান অফিসে।
* বিরতি নেয়া আবশ্যক। কাজ থেকে বিরতি নিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন, দম চর্চা করুন এবং প্রতি দুই ঘন্টা পর পর কিছু খান।
* সচেতনভাবে সোজা হয়ে বসুন। স্বাস্থ্যকর দেহভঙ্গি বজায় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে এই বিষয়ে সচেতন হোন। যদি আপনার পা ফুলে যায় তাহলে একটি পাদানির উপর পা রাখুন।
* সিঁড়ি এড়িয়ে চলুন । গর্ভাবস্থায় শ্রমসাধ্য কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। তাই অফিসে লিফট ব্যবহার করুন।
* কর্মক্ষেত্রে মনোযোগী থাকার জন্য কফি অনেক কার্যকরী হলেও গর্ভকালীন সময়ে কফি বা সিগারেট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। ক্যাফেইন এবং নিকোটিন আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
* সুপারওমেন হওয়ার চেষ্টা করবেন না। গর্ভাবস্থায়ও আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন এটাই যথেষ্ট। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে এই সময়ে আপনার শরীর দুর্বল থাকে বলে আপনার বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। তাই এই সময়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।
* অফিসে যাওয়া আসার সময় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এড়িয়ে চলুন। অনেক বেশি ঝাঁকুনি হলে তা আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
* প্রচুর পরিমাণে পানি ও জুস পান করুন। হাইড্রেটেড থাকলে বমি বমিভাব দূর হয় এবং পেট ফাঁপা কমতেও সাহায্য করে।
* আপনার পার্সে এবং অফিসের ডেস্কে আপনার জরুরী নাম্বারগুলো রাখুন।

স্কাফোয়েড বোন ফ্রাকচার

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল :কি? হাতের ছোট ছোট অস্থিগুলোকে কারপাল বোন বলা হয় যেগুলো দু’সারিতে মোট আটটি থাকে। ১ম সারিতে বাইরের দিক হতে ভিতরের দিকে প্রথম অস্থির নাম “স্ক্যাফোয়েড।” এ অস্থি আড়াআড়ি ভাবে দু’সারির মাঝে থাকে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং সম্মুখবাহু বা ফোর আর্মের মাঝে লোড বহন করে। যদি এই অস্থি পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায় তবে, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রোগী এমন কি চিকিৎসক (অভিজ্ঞতা সম্পন্ন্ না হলে)-ও বুঝতে পারে না। কারপাল অস্থির মধ্যে প্রায় ৭৫% ক্ষেত্রে স্ক্যাফোয়েড বোন ফ্রাকচার ঘটে যদিও বৃদ্ধ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটার সম্ভাবনা সাধারণত: খুবই কম।

কিভাবে হয়? যখন কেউ কব্জি উপরের দিকে বাঁকানো বা ডরসি ফ্লেকশন অবস্থায় মাটিতে অথবা শক্ত কোন বস্তুর উপর পড়ে যায়, তখন কারপাল মুভমেন্ট এবং কমপ্রেশন ফোর্স যৌথভাবে কাজ করে, ফলে প্রচন্ড রকমের ধাক্কা স্ক্যাফোয়েড বোনের উপর পড়ে এবং তা ভেঙ্গে যায়। সাধারণত: স্ক্যাফোয়েড ফ্রাকচার সু-স্থির; কিন্তু টুকরো সরে গেলে এটা অস্থির বা আনষ্টেবল হয়ে যায়। স্ক্যাফোয়ে-লুপেট লিগামেন্টের টানে নীচের ভাঙ্গা অংশ সরে যায়, উপরের টুকরো সংকুচিত হয়ে পিছনের দিকে ঠেলে উঠে “হাম্প ব্যাক” ডিফোরমিটি তৈরী করে। স্ক্যাফোয়েডের বিশেষ ব্যতিক্রমধর্মী রক্তের সরবরাহ পদ্ধতির কারণে নীচের তৃতীয়াংশে ১%, মধ্যাংশ ২০% এবং উপরের তৃতীয়াংশ ৪০% ক্ষেত্রে এভাস্কুলার নেক্রোসিস বা ননইউনিয়ন, উপরাংশের টুকরোর ক্ষেত্রে ঘটে।


উপসর্গ: আপাত: দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও কব্জির পিছনের বাইরের দিকে বৃদ্ধাংগুলির গোড়ায় অর্থাৎ এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে ফোলা লক্ষ্য করা যায়। এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে চাপ দিলে রোগী ব্যথা অনুভব করবে। সামনে অথবা পিছন থেকে স্কোফোয়েড বোনে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। বৃদ্ধাংগুলির লম্বারেখা বরাবর উপরের দিকে চাপ দিলে রোগী তীব্র ব্যথা অনুভব করে। এটাকে অনেকে ‘স্ক্যাফোয়েড ফ্রাকচারের” নির্ণয় চিহ্ন বা ‘ডায়াগনষ্টিক সাইন” বলে।


পরীক্ষা-নিরীক্ষা: ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে এক্সরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এক্সরে এপি, লেটারাল এবং অবলিক এই তিন ভিউয়েই করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে ফ্রাকচার অবলিক ভিউয়ে দৃষ্টিগোচর হয়। কখনো আড়াআড়ি বা ট্রান্সভারস ফ্রাকচার লাইন, কখনো আবার চাপা চিকন অংশে অথবা উপরের মেরু বরাবর কিংবা স্ক্যাফোয়েড টিউবারকল বরাবর ভাঙ্গা দেখা যায়। এক্সরেতে ভাঙ্গা অংশের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবলিক ফ্রাকচার, টুকরো দুরে সরে যাওয়া, টুকরোর মাঝের কোণের পরিমাণ এবং স্ক্যাফোয়েড ভেঙ্গে ছোট আকৃতির হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখে ভাঙ্গা স্থির বা ষ্টেবল নাকি অস্থির বা আনষ্টেবল তা নির্ধারণ করা হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এক্সরে করলে ভাঙ্গা টুকরো, এভাসকুলার নেক্রোসিস অথবা নন ইউনিয়ন হলো নাকি জোড়া লাগলো ভালভাবে অবলোকন করা যায়। সিটি স্ক্যানেও তা ধরা পড়ে।


চিকিৎসা: (১) স্ক্যাফোয়েড টিউবারকল ফ্রাকচার হলে কোন প্লাষ্টারের প্রয়োজন পড়ে না। সেক্ষেত্রে ক্রেপ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়া হয় ৪ সপ্তাহ।
(২) আন-ডিসপ্লেসড বা অস্থানচ্যুত ফ্রাকচারে ক্ষেত্রে কোনরূপ রিডাকশন করা প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র স্ক্যাফোয়েড প্লাষ্টার দিয়ে ৬ সপ্তাহ রাখা হয়। স্ক্যাফোয়েড প্লাষ্টারের বৈশিষ্ট হলো এটা বৃদ্ধাঙ্গুলি মেটা-কারপো- ফ্যালাঞ্জিয়াল জয়েন্টের কভারেজ করে শুধুমাত্র ইন্টার ফালেঞ্জিয়াল জয়েন্ট ফ্রি রেখে মধ্য বাহু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে; কনুই ৯০০, কব্জি ডরসি ফ্লেক্সড এবং হাতের আঙ্গুলগুলো “গ্লাস ধরার পজিশনে” রাখা হয়। ৬ সপ্তাহ পর প্লাষ্টার খুলে কব্জি সরাসরি পর্যবেক্ষণ, এক্সরে করে দেখা হয়। যদি কব্জি কিংবা এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে এ ব্যথা না থাকে এবং এক্সরেতে ভাঙ্গা জোড়া লাগা পর্যবেক্ষণ করা যায় সেক্ষেত্রে কব্জি ফ্রি রাখা হয়। আর যদি ব্যথা থাকে এবং এক্সরে-তে ফ্রাকচার দেখা যায় তবে আরো ৬ সপ্তাহ আবার একই পদ্ধতির প্লাস্টার রাখা হয়।


(৩) ডিসপ্লেসড ফ্রাকচার বা স্থানচ্যুত ফ্রাকচার- এক্ষেত্রে প্লাষ্টার করা যায় তবে ফলাফল খুব ভাল নয়। তাই ফ্রাকচার অপারেশনের মাধ্যমে স্ক্রু দিয়ে ফিক্সেশন করা হয়। এক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে এবং অনড় করে রাখার সময় কম লাগে।
জটিলতা:
(১) এ ভ্যাস্কুলার নেক্রোসিস: এটা আর্থ্রাইটিস এবং ব্যথার অন্যতম কারণ অপারেশন প্রয়োজন হয়।
(২) নন-ইউনিয়ন: তিনমাসের মধ্যে ভাঙ্গা জোড়া না লাগলে নন-ইউনিয়ন হয়। এক্ষেত্রে অপারেশন এবং বোন গ্রাফটের প্রয়োজন পড়ে।
(৩) অষ্টিও আর্থ্রাইটিস: নন-ইউনিয়ন অথবা এ্যাভাসকুলার নেক্রোসিসের কারণে আথ্রাইটিস অষ্টিও আর্থ্রাইটিস হয়। কারপাল রোলগুলোর জয়েন্টে অথবা কব্জিতে এই অষ্টিও আর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রেও অপারেশন প্রয়োজন হয়। স্ক্যাফোয়েড ছোট্ট একটা অস্থি যা কারপাল বোনের প্রথম সারিতে প্রথম। ভেঙ্গে গেলে অনেকক্ষেত্রেই এটা ভ্রম হয়। রোগী কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসক কেউই বুঝতে পারেননা যে কি ক্ষতি হয়েছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই রোগী দেরীতে ব্যথা এবং অস্বস্থি নিয়ে আসে। এক্সরে কিংবা সিটিস্ক্যান করে তখন ধরা পড়ে নন-ইউনিয়ন অথবা এ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস যার চিকিৎসা অপারেশন। তাই অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা গ্রহণের জন্য কেবলমাত্র অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনই হোক প্রথম চয়েস। ধন্যবাদ

শিশুর দাঁতের সমস্যা

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):অনেক সময়ই আমাদের বাচ্চাদের মুখ ফুলে যায়। কোথাও ব্যথা না পেয়ে অথবা কোন কারণ ছাড়াই মুখের একপাশে ফুলে যায়। আর তখনই বাবা মা বেশ বিচলিত হয়ে পড়ে। এটি মূলত এক প্রকারের দাঁতের রোগ। যার নাম “অ্যালভিওলার অ্যাবসেস।” বাচ্চারা ঠিকমত ব্রাশ না করলে এবং বিস্কুট, চকলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে ভালমত মুখ না ধুলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর এই ক্ষয় ধীরে ধীরে অ্যালভিওলার অ্যাবসেস রোগে রূপ নেয়। সাধারণত ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের এই সমস্যা হয়ে থাকে।
নিচে এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে দেয়া হল: * প্রাথমিকভাবে শিশুর দাঁতের গোঁড়ায় ও মাড়িতে পুঁজ জমা হতে থাকে। * পুঁজ বের না হতে পারার কারণে মাড়ি থেকে শুরু করে গাল পর্যন্ত ফুলে যায়।
* দাঁতে প্রচুর ব্যথা হয়।
* সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে দাঁতের মজ্জা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিকার: প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই এটি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন করা যাবে না। তবে ব্যথা প্রকট আকার ধারণ করলে, হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করা যায়। এতে ব্যথা প্রশমিত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে মাড়ি ফুলা ধীরে ধীরে কমে আসে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে ২ সপ্তাহ পার হয়ে যায়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগীকে নরম ভাত ও দুধ আর পাউরুটি বা এ জাতীয় নরম খাবার দিতে হবে। চিকিৎসা শেষ হলে রোগীকে নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ করার পরামর্শ এবং নরম ভাত, দুধ ও পাউরুটি বা এ জাতীয় নরম খাবার খেলে মুখ ভালমত পরিষ্কার করতে হবে।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অত্যন্ত শক্তিশালী ১৬টি ভেষজ উপাদান

ডায়াবেটিস শুধু উন্নত দেশগুলোতেই নয়,এটা ক্রমবর্ধমান ভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও মহামারী আকার ধারণ করছে। তবে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার এই রোগটির জন্য জীবন যাপনের একটি ভালো মান বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়াও বেশ কিছু ধরনের ভেষজ উপাদানের ব্যবহার ভালো সাহায্য করতে পারে। উপাদানগুলো আমাদের সবার বেশ পরিচিত এবং সহজলভ্য। তাই এই উপাদানগুলো সম্পর্কে ধারনা সবারই থাকা উচিত।


১) মেথি : এই বীজটিতে অনেক বেশি পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজমের সময় শর্করার ভাঙ্গনের গতিকে ধীর করে ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির থাকে।
২) করলা : এই সবজিতে থাকা বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং এটি ক্ষুধা উদ্দীপক হিসেবে কাজে করে বলে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভালো উপকারি।
৩) জামরুল : এই ফলটিতে লধসনড়ষরহব নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ আছে যা শর্করাকে চিনিতে রূপান্তরিত হতে বাধা দিয়ে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪) বেল পাতা : এই পাতার ডায়াবেটিস বিরোধী গুণাগুণ আছে। তাই বেল পাতার রস খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
৫) রসুন : এতে থাকা অষষরপরহ নামক যৌগ ডায়াবেটিসের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রমাণিত।
৬) অ্যালোভেরা : লিভারের ঔষধ হিসেবে কাজ করে অ্যালোভেরা। তাই এটা লিভারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে রক্তের সুগারের শর্করার নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
৭) বাঁধাকপি- ঈৎঁপরভবৎড়ঁং গোত্রীয় অন্যান্য সবজির মতো বাঁধাকপিও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়মিত করতে এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৮) হলুদ : আমলকীর সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে তা ডায়াবেটিস এর চিকিৎসায় বেশ কার্যকরী।
৯) দারুচিনি : চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে দারুচিনি রক্তের শর্করার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে।
১০) কারি পাতা : সকালে তাজা কারি পাতা খেলে তা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
১১) আমলকী : করলার সাথে আমলকীর রস মিশিয়ে খেলে তা ইন্সুলিনের প্রাকৃতিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
১২) ইসবগুল : এটি ক্ষুদ্রান্তে চিনি শোষণে বাধা দিয়ে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
১৩) শিম : এটি জটিল শর্করা এবং খাদ্য আঁশের একটি সমৃদ্ধ উৎস। এছাড়া এটি ইন্সুলিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে।
১৪) মুলা এবং শসা : শসা ও মুলার শাকে আছে উচ্চ মাত্রার আঁশ এবং খুব কম পরিমাণ শর্করা, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।
১৫) পেঁয়াজ : রসুনের মতো পেঁয়াজও অষষরঁস গোত্রীয়। এই গোত্রের সক্রিয় উপাদান ধষষরপরহ ও ধষষুষ ঢ়ৎড়ঢ়ুষ ফরংঁষঢ়যরফব দুটিই হাইপোগ্লাইসেমিক পদার্থ হিসেবে পরিচিত। হাইপোগ্লাইসেমিক পদার্থ রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
১৬) আদা : তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত এই মূলটিতে থাকা এরহমবৎড়ষ নামক যৌগ দেহের পেশী কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করে। যার ফলে সামগ্রিক রক্তের শর্করার মাত্রা কমায়।
ডায়াবেটিস একটি গুরুতর অবস্থা এবং দিন দিন এর ব্যাপক প্রকোপ সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যের উপর একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই রোগ মানুষকে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির কারণে সৃষ্ট অন্ধত্বের ঝুঁকিতে নিয়ে যায় এবং এর ফলে যে পরিমাণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে বাদ দিতে হয় তা অনেক সময় কোন দুর্ঘটনা বা ট্রমার কারণেও করতে হয় না। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং আরো গুরুতর ক্ষতি এড়ানোর জন্য দিনের পর দিন একটি স্বাস্থ্যকর মাত্রার মাঝে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে একটি অন্যতম শর্ত। তাই উল্লেখিত ভেষজ উপাদান গুলো প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।  -ইন্টারনেট



Go Top