সকাল ১০:১৭, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

আপনি কোনো রেস্টুরেন্টে আহারের জন্য বসলে আপনার সার্ভার আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে: আপনি কোন পানীয় পান করতে চান? আপনি হয়তো কোনো জনপ্রিয় কোমল পানীয়ের অর্ডার নাও দিতে পারেন।

আপনি পানীয় চান বা চান, সাধারণত এক গ্লাস পানি বা ডায়েট কোকের সঙ্গে এক টুকরা লেবু আপনাকে দেওয়া হতে পারে। কিন্তু সতর্ক থাকুন। লেবু পানীয়ের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সার্ভারকে সাইট্রাসমুক্ত পানীয় দিতে বলা উচিত।

জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথে প্রকাশিত ২০০৭ সালের এক গবেষণায় জীবাণুর উপস্থিতি দেখার জন্য ২১টি রেস্টুরেন্টের ৭৬টি লেবুর ওপর পরীক্ষা চালানো হয় এবং এর ফলাফল ছিল উদ্বেগজনক। প্রায় ৭০ শতাংশ লেমন ওয়েজ বা লেবুর টুকরায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং রোগসৃষ্টিকারী ই কোলি বা এসচেরিচিয়া কোলিসহ অন্যান্য জীবাণু ছিল। লেবু প্রাকৃতিক জীবাণু ঘাতক হলেও এটি নিজে নিজে দূষিত হতে পারে।

এবিসি ইনভেস্টিগেশন ১০টি রেস্টুরেন্টে একটি করে লেবুর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে লেবুর টুকরায় মানুষের বর্জ্য দেখতে পান (স্টারবার্ক আইসেও পাওয়া গেছে)।

রেস্টুরেন্টের প্লেটে যে খাবার অর্ডার করেন তার তুলনায় লেবুর টুকরায় বেশি পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, কারণ রেস্টুরেন্টের স্বাস্থ্যবিধি গার্নিশের ক্ষেত্রে কম মেনে চলা হয়।

এবিসি ইনভেস্টিগেশন লক্ষ্য করেন যে, প্রায়সময় রেস্টুরেন্টের কর্মীরা গ্লাভস বা চিমটা ছাড়া লেবু বা লেবুর টুকরা ধরে। তারা বাথরুম ব্যবহার করে বা জীবাণু অধ্যুষিত জায়গায় হাত রাখার পরে যদি ভালোভাবে হাত না ধুয়ে থাকে, তাহলে লেবুর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া লেগে আপনার পানীয়তে চলে আসার ভালো সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, প্রতিটি ফল ভালোভাবে পরিষ্কার না করে শুধুমাত্র আলতোভাবে ফলের খোসা ধোয়া হতে পারে।

আপনার সার্ভারকে লেবু পানীয় আনতে দেখে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপের আগেই অবগত থাকুন যে, গার্নিশ আপনাকে অবধারিতভাবে অসুস্থ করবে না। ২০০৭ সালে সম্পাদিত গবেষণাটির লেখকেরা সম্মত হয়েছেন যে, লেবুর সঙ্গে রোগ বা প্রাদুর্ভাবের কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এ সত্য আজও টিকে আছে।

এবিসি ইনভেস্টিগেশনে নেতৃত্ব দেওয়া মাইক্রোবায়োলজি বা জীবাণুবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ফিলিপ টিয়ের্নো পিএইচডি বলেন, সাধারণত আপনার ইমিউন সিস্টেম আপনাকে লেবু পানীয় থেকে অসুস্থ হওয়া ঠেকাবে।

এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিক্যাল সেন্টারের মাইক্রোবায়েলজি অ্যান্ড প্যাথলজির ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ড. টিয়ের্নো অনুসন্ধানের আলোচনা প্রসঙ্গে হাফিংটন পোস্টকে বলেন, সাধারণ কোর্স বা গার্নিশ সম্ভবত ইনফেকশন ঘটাবে না, কিন্তু সম্ভাবনাকে উড়িয়েও দেওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, আপনি সন্দেহের মধ্যে থেকে বাস করতে পারেন না। আপনার ইমিউন সিস্টেম সাধারণত খুব ভালো কাজ করে।

এ ব্যাপারে আপনি যদি এখনো উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে সার্ভারকে লেবুবিহীন পানি বা সোডা আনতে বলুন। লেবু ছাড়া যদি চলতে না পারেন, তাহলে চিপে রস বের করে লেবুর টুকরা ফেলে দিন। এ রসে ব্যাকটেরিয়া থাকলেও অন্ততপক্ষে পানিতে ভাসন্ত টুকরার জীবাণুর মতো বেশি জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া খাচ্ছেন না।
 

চিনি কেন কম খাবেন

চিনি খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর- কথাটি এখন প্রায়ই বলছেন ডাক্তাররা। বেশি চিনি খেলে লিভারে গিয়ে অ্যালকোহলের মতোই ক্ষতি করতে পারে। মিষ্টি, মিষ্টিজাত খাবার ও পানীয়- সবই এ কারণে বিপজ্জনক। মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস হওয়া, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগসহ আরো কিছু শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে চিনি থেকে। অনেকের কাছে চিনি খাওয়া বন্ধ করা বেশ কঠিন কাজ। তবে ধীরে ধীরে চিনি খাওয়া কমাতে পারলে শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চলুন জেনে নেই চিনি খাওয়া ছাড়লে কী উপকার পাবেন-

* দিনে অতিরিক্ত চিনি যারা খান, তারা এখন থেকেই চিনির পরিমাণ কমাতে শুরু করুন। এতে করে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কমবে, বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ থেকে রেহাই পাবেন আপনি।

* চিনি যারা বেশি খান, তাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয় বলা যায়। তাই চিনি খাওয়া কমালে আপনার ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার ঝুঁকিও কমে যাবে।

* চিনি  ও চিনিজাত খাবার দিনে যতো কম খাবেন ততোই মঙ্গল। এতে মন মেজাজ ভালো থাকবে। অতিরিক্ত চিনি খেলে অল্পতেই রেগে যাওয়া বা হতাশায় ভোগার সমস্যায় পড়তে পারেন।

* যারা চিনি ও চিনি মেশানো খাবার বেশি খান, তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হয় বেশি। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে রাতে আপনার ঘুম ভালো হবে আশা করতে পারেন।

* প্রতিদিন যারা বেশি পরিমাণে চিনি খান, তাদের মাঝে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এমনকি মস্তিষ্কের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই চিনি খাওয়া ছেড়ে দিলে আপনার স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে। সব কিছু ভালো মনে রাখতে পারবেন।

* প্রতিদিন যদি খাবারের তালিকা থেকে চিনি বাদ দেন, তাহলে ওজন কমার লক্ষ্যে খুব ভালো ফল পাবেন।

* চিনি খাওয়া বন্ধ করলে আগের চেয়ে বেশি তারুণ্যদীপ্ত হয়ে উঠবেন আপনি। আপনার চোখের নিচে কালো দাগ, ফোলা এসব দূর হয়ে যাবে। শরীর সতেজ হয়ে উঠবে।

* কয়েক দশক আগে এক গবেষণায় দেখা গেছে চিনি খেলে শরীরের সাদা রক্ত কণিকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে না। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। 

* চিনি খেলে প্রথমে শরীরে একটু চনমনে ভাব আসতে পারে। তবে ক্ষতিকর দিক হলো, এরপরই শরীরে বাজে প্রভাব ফেলে চিনি। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে আরো প্রাণবন্ত রোধ করবেন আপনি।

* শরীরের জয়েন্টে ব্যথা বা শরীর ফোলা থেকে রক্ষা পাবেন চিনি খাওয়া বন্ধ করলে। 

* চিনি বা চিনিজাত খাবার ও পানীয় দাঁতের ক্ষতি করে। এদের কারণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধে দন্তক্ষয়, মুখের দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই এসব খাবার না খেলে আপনার দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

* চিনি না খেলে শরীরে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে।

* বেশি চিনি খেলে লিভারে চর্বি জমে যায়। তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করলে লিভার ভালো থাকবে। 

* কয়েক ধরনের ক্যানসার থেকে নিরাপদে থাকবেন চিনি না খেলে।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হেতে যাচ্ছে ৬ অক্টোবর। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি এবং তা কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বুধবার সচিবালয়ে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা তত্ত্বাবধানে গঠিত ওভারসিইং কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এই নির্দেশ দেন।

 

সভায় নাসিম বলেন, গতবছর যেভাবে পরীক্ষা প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ ঘটেনি, তেমনিভাবে এবছরও যেন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে করে নিরাপত্তাজনিত কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।

তিনি বলেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সুশীল ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ চিকিৎসকদের নিয়ে ওভারসিইং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গতবছর ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য এনে দিয়েছিল।

আগামীতেও সুশীল সমাজের পরামর্শ কাজে লাগানো হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার মান সমুন্নত রাখতে কোনো আপস করা হবে না। ভর্তি পরীক্ষার আগে ভুয়া প্রশ্নপত্র বানিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণার অপকৌশল বন্ধ করতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে।

এলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও যেন কোনোভাবে এ ধরনের অপতৎপরতা না চলে তার জন্য নজরদারি বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।

নাসিম জানান, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভর্তি পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি বৈঠক হবে।

সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বিশিষ্ট কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ৭১ টেলিভিশনের পরিচালক (বার্তা) সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সহিদুল্লাসহ বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যে ৮ কারণে ঘ্রাণ অনুভূতি হারাতে পারেন

বিশ্বের অনেক কিছুর (যেমন- রসুনের গন্ধ, পূর্ণ প্রস্ফুটিত গোলাপ, তাজা কাটা ঘাস, ভালোবাসার মানুষের ব্যবহার করা পারফিউম ইত্যাদি) গন্ধ অনুভব করার জন্য ঘ্রাণ অনুভূতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু অ্যানসমিয়া হলে অর্থাৎ ঘ্রাণ অনুভূতি লোপ পেলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থা শ্রবণশক্তি বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর তুলনায় বেশি ধীরে মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এর কারণ হল ঘ্রাণ অনুভূতি নাকের সেন্সর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। বিভিন্ন কারণে ঘ্রাণ অনুভূতি লোপ পেতে পারে। এ লোপ স্বল্পস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী হতে পারে।

১. নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ
দীর্ঘস্থায়ী নাকের কনজেশন বা নাক বন্ধ সমস্যার কারণ সম্পর্কে স্নায়ুবিশারদ কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘নাকের কনজেশনের সবচেয়ে কমন কারণ হচ্ছে, সাইনাস ব্লকেজ বা সাইনাস প্রতিবন্ধকতা এবং সাইনাস কনজেশন বা সাইনাস বন্ধ যা সাইনাসে প্রদাহ এবং টক্সিন জমার কারণে হয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘মন্দ কনজেশন বহু পরত বিশিষ্ট এবং তা অতিরিক্ত স্ট্রেস বা চাপ, অতিভোজন, নিম্নমানের আহার অভ্যাস, অতি ক্ষুদ্র অণুজীবের ভারসাম্যহীনতা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যধিক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত।’ আপনার যদি ঠান্ডা বা অ্যালার্জির উপসর্গ না থাকে তাহলে পাচন সমস্যা বা স্ট্রেসের কারণে কনজেশন হতে পারে এবং ঘ্রাণশক্তি লোপ পেতে পারে। কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘সাইনাসের প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা পাচনতন্ত্র বা পরিপাক প্রক্রিয়ার উন্নয়নসাধনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’ উপযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং সাইনাস সমস্যাকে নিস্তেজ করতে চিকিৎসক বা ডায়েটেশিয়ানের সঙ্গে কথা বলুন।

২. ধূমপান
সাধারণত ধূমপান অ্যানসমিয়ার জন্য কালপ্রিট। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ওটোল্যারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির মতে, ‘তামাক ধূমপান হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত দূষণ যা বেশিরভাগ মানুষ নির্গত করে।’ এ অভ্যাস ঘ্রাণ নির্ণয় ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় এবং স্বাদ অনুভূতি কমিয়ে ফেলে। সুখবর হল যে এ ফলাফল স্থায়ী হবে না, যদি আপনি এ বদভ্যাস ত্যাগ করেন।

৩. কেমিক্যাল
বিষাক্ত কেমিক্যাল, যেমন- কীটনাশক বা দ্রাবক, নির্গত করলে আপনার নাকের ভেতর দগ্ধ হয়ে ঘ্রাণশক্তি বিনাশ হতে পারে। কেমিক্যাল আপনার নাকের টিস্যু এবং ঘ্রাণশক্তিকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। কিছু বড় কেমিক্যাল কালপ্রিট হল: মিথাক্রাইলেট ভ্যাপারস, অ্যামোনিয়া, বেনজিন, ক্যাডমিয়াম ডাস্ট, ক্রোমেট, ফরমালডিহাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, নিকেল ডাস্ট এবং সালফিউরিক অ্যাসিড। যেকোনো কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহারের পূর্বে লেবেল দেখে নিন এবং ঘরে কিংবা কর্মক্ষেত্রে কেমিক্যাল ব্যবহারে সবসময় রেস্পিরেটর ডিভাইস বা শ্বাসমুখোশ পরিধান করুন।

৪. ওষুধ
কুলরীত চৌধরীর মতে, ‘অ্যানসমিয়া হওয়ার সবচেয়ে কমন কালপ্রিটের একটি হচ্ছে, ওষুধ এবং তা সবচেয়ে সামান্য সমস্যার একটি।’ আপনি যদি সদ্য ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে আপনার ঘ্রাণ অনুভূতি বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন রকম ওষুধ, যেমন- অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ এবং অ্যান্টিহিস্টামিন- এ রকম ফলাফল প্রদান করে থাকে। আপনার ওষুধের লেবেল দেখে নিশ্চত হোন এটি সেবনে অ্যানসমিয়া উপসর্গ দেখা দেবে কিনা। বিকল্প ওষুধের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কুলরীত চৌধরী বলেন, ‘প্রায় ক্ষেত্রে, আপনি যদি ওষুধ সেবন বন্ধ করতে পারেন তাহলে সাধারণত অ্যানসমিয়া উপসর্গ চলে যাবে।’

৫. মাথায় আঘাত
নাকের সঙ্গে মস্তিষ্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে ঘ্রাণশক্তির লোপ আপনার মনে কোনো কিছু অনুপস্থিতির ভালো নির্দেশক হতে পারে। আঘাত পেলে কিংবা ব্রেইন সার্জারি হলে সতর্ক থাকবেন, কারণ মাথায় আঘাতের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওলফ্যাক্টরি বা ঘ্রাণজ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ফলাফল সাময়িক বা স্থায়ী হতে পারে। কুলরীত চৌধরী উল্লেখ করেন, ‘বিরল ক্ষেত্রে, আপনার ঘ্রাণশক্তির ধ্বংসপ্রাপ্ততা ব্রেইন টিউমারের লক্ষণও হতে পারে।’

৬. অ্যালঝেইমার’স রোগ
কান, নাক এবং গলা বিশেষজ্ঞ ড. ইলিয়ানা শোয়াল্টারের মতে, ‘দুর্বল ঘ্রাণ অনুভূতি অ্যালঝেইমার’স রোগের প্রাথমিক লক্ষণসমূহের একটি।’ প্রকৃতপক্ষে, মস্তিষ্ক ক্ষয় রোগের পূর্বে এ উপসর্গ (দুর্বল ঘ্রাণ অনুভূতি) দেখা দিতে পারে। গত বছরের গবেষণা অনুযায়ী, অ্যালঝেইমার’স সোসাইটি উল্লেখ করেছেন, অ্যানসমিয়া যে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের উল্লেখযোগ্য নির্দেশক তার স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঘ্রাণ অনুভূতি ক্ষতিগ্রস্তদের তিনগুণ বেশি স্মৃতি সমস্যা ছিল। গবেষকরা আরো দেখতে পান যে, চুইংগাম এবং পেট্রোলের গন্ধের পার্থক্য নির্ণয় অক্ষমতা অ্যালঝেইমার’স রোগ এবং ডিমেনশিয়া উদঘাটনের নতুন উপায় হতে পারে।

৭. পারকিনসন’স রোগ
অ্যালঝেইমার’স রোগের মতো পারকিনসন’স রোগও মস্তিষ্ক ক্ষয়মূলক ব্যাধি এবং অ্যালঝেইমার’স এর মতোই পারকিনসন’স এরও প্রাথমিক উপসর্গ আছে, যা সহজেই অলক্ষ্যে থেকে যেতে পারে। পারকিনসন’স রোগের একটি উপসর্গ হচ্ছে, ঘ্রাণ অনুভূতির ক্ষতিগ্রস্ততা। মাইকেল জে ফক্স ফাউন্ডেশনের মতে, যেসব লোকের অ্যানসমিয়া আছে তাদের বেশিরভাগের পারকিনসন’স রোগ হয় না, কিন্তু অধিকাংশ পারকিনসন’স রোগীরা অ্যানসমিয়া অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন এবং প্রায়ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের সময় এটি উপেক্ষিত থেকে যায়।

৮. বার্ধক্য
আপনাকে বার্ধক্য গ্রাস করতে থাকলে দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তির মতো আপনার ঘ্রাণশক্তিও কমে যেতে থাকবে। গবেষকরা তথ্য উত্থাপন করেন যে, ৮০ উর্ধ্ব মানুষের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের ঘ্রাণজ অবনতির লক্ষণ থাকে। অন্য একটি গবেষণায় প্রকাশ পায়, ৮০ থেকে ৯৭ বছর বয়সিদের মধ্যে ৬২.৫ শতাংশ মানুষের ঘ্রাণজ অবনতি ছিল।
 

মধুর জীবন

ডায়বেটিসের ঝুঁকিতে চিনি ছেড়ে দিয়েছেন, ওজন বাড়ছে খাদ্যতালিকা থেকে কাটা পড়লো চিনি। কিন্তু মিষ্টি খাবারের জন্য প্রাণ আকুপাকু। তাহলে মিষ্টি কী করে খাবেন? মিষ্টি খাওয়ার সহজ সমাধান মধু। আগে যেসব খাবারে চিনি খেতেন, সেসব খাবারে মধু ব্যবহার শুরু করেন। আর সেই সঙ্গে জেনে নিন মধুর উপকারিতা।

মধু শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এক সময় অলিম্পিকে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা মধু খেয়ে শক্তি বাড়াতো।  মধু খুব দ্রুত শরীরে শক্তির ঘাটতি দূর করে।

সর্দি এবং গলার সংক্রমণ কমায়। সর্দি, কাশিসহ গলার যেকোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে মধু দারুণ কাজ করে। প্রসঙ্গত, ১১০ জন শিশুর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এক ফোঁটা মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ডেক্সট্রোমেথরফ্যান থাকে, যা কাশি সর্দির সমস্যা কমিয়ে আরাম প্রদান করে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমোতে সাহায্য করে।

আয়ুর্বেদিক অষুধ মধু। প্রায় চার হাজার বছর ধরে ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসাবে মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে। মধুর নিয়মত ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ওজন কমে, সন্তান ধারণে অক্ষমতা দূর করতে সাহায্য করে, মূত্রনালির সংক্রমণ দূর হয় এবং শ্বাসকষ্ট কমে। এছাড়াও ডাইরিয়া এবং বমি বমি ভাব দূর করতেও মধু দারুণ উপকারি ভূমিকা নেয়। প্রসঙ্গত, যে কোনও ভেষজ ওষুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়।

ক্ষতস্থান সারায়। শরীরের কোনও জায়গায় কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে মধুর ব্যবহারে খুবই উপকার পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানে মধু এবং চিনি মিশিয়ে লাগালে জীবাণুনাশক হিসাবে তো বটেই, সেই সঙ্গে ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যেতেও সাহায্য করে মধু।

ত্বকের যত্নে কাজ আসে। সারাদিন ধুলো বালিতে আমাদের ত্বকের দারুণ ক্ষতি হয়। যে কারণে ত্বকে নানা ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে যদি মধুকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে দারুন উপকার পাওয়া যায়। কেমন ভাবে মুখে লাগাবেন মধু? নানা ধরণের ফেসপ্যাকের সঙ্গে মধু ব্যবহার করতে পারেন। এমনটা করলে দারুন উপকার মেলে। 

কোন ভিটামিন খাওয়া উচিত, কোনটি নয়

কয়েক দশকের গবেষণায় ভিটামিন সেবন কোনো সুনির্দিষ্ট দিক দিয়ে শরীরের জন্য ভালো বলে সুদৃঢ় প্রমাণ না মিললেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বিশেষ বিশেষ ভিটামিন কারও কারও জন্য ক্ষতিকর হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি ভিটামিন কয়েকধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবার কিছু কিছু কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত, আর কোনটি নয়-

মাল্টিভিটামিন: বাদ দিন-সুষম খাবারের মাধ্যমে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু পাওয়া যায়।

কয়েক দশক ধরে ধারণা ছিল, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য মাল্টিভিটামিন খুব জরুরি- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি, দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষায় ভিটামিন এ, শক্তিশালী থাকতে ভিটামিন বি।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো অতিরিক্ত সেবনে প্রকৃতপক্ষে শরীরের ক্ষতি হয়।২৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৯ হাজার নারীর উপর ২০১১ সালে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এগুলো সেবন করেছেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি যারা সেবন করেননি তাদের চেয়ে বেশি।

 

 

 

ভিটামিন ডি: এটা নিন-হাড় মজবুত করে এবং খাবার থেকে এটা পাওয়া কঠিন।

 

আমরা যেসব খাবার খাই তার বেশিরভাগেই ভিটামিন ডি থাকে না। কিন্তু ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তার মাধ্যমেআমাদের হাড় মজবুতে এটা খুবই জরুরি। সূর্যের আলো লাগলে শরীরে এটা তৈরি হয়, তবে শীতকালে তা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়েছে, তারা যারা নেয়নি তাদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে।

এন্টিঅক্সিডেন্ট: বাদ দিতে হবে-শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে তা কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এবং সেবন বাদ দিয়ে আপনি ছোট রসালো ফল খেয়েই এর প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

ভিটামিন এ, সি ও ই-এসব এন্টিঅক্সিডেন্ট অনেক ফলেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, বিশেষ করে রসালো ফল ও শাকসব্জিতে।

তবে সমীক্ষায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিমাণে নেওয়া হলেএন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।পুরুষ ধূমপায়ীদের উপর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ভিটামিন এ সেবন করতেন তাদের ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা নিতেন না তাদের চেয়ে বেশি।

 

 

 

বিভিন্ন ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্টসাপ্লিমেন্ট নিয়ে২০০৭ সালের এক পর্যালোচনার সমাপ্তি টানা হয় এভাবে: “বেটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন ই-এর মাধ্যমে চিকিৎসায় মৃত্যু হার বাড়তে পারে।”

 

ভিটামিন সি: বাদ দিতে হবে- সম্ভবত এটা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে সুস্থতায় কাজ করে না এবং লেবু, বাতাবু লেবু, কমলা, আঙুর থেকেই এটা পাওয়া যায়।

গবেষণার পর গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা রোধে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট তেমন কোনো কাজ করে না। উপরন্তু দুই হাজার মিলিগ্রাম বা তার চেয়ে বেশি কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ফল থেকেই ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করা যায়। স্ট্রবেরি এই পুষ্টি উপাদানে ভরপুর।

ভিটামিন বি৩: এটা সেবন বাদ দিয়ে স্যামন, টুনা মাছ এবং গাজর খেয়েই এর চাহিদা পূরণ করা যায়।

বছরের পর বছর আলঝেইমার থেকে হৃদরোগ পর্যন্ত সব কিছুর চিকিৎসায় ভিটামিন বি৩ দেওয়া হত।কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এর ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

২০১৪ সালে ২৫ হাজারের বেশি হৃদরোগীর উপর পরিচালিত এক গবেষণায়দেখা গেছে, ‘গুড’ বা এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে ভিটামিন বি৩ এর ব্যবহারে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মৃত্যু কমেনি। বরংযারা বিও সাপ্লিমেন্ট নিয়েছেন তাদের সংক্রমণ, লিভারের সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়েছে।

 

প্রোবায়োটিকস (ব্যাকটেরিয়াল সাপ্লিমেন্ট): বাদ দিতে হবে- দই খেয়ে এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

২০১২ সালে দুই হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যবসা হয় প্রোবায়োটিকসের, এর প্রতিটি পিলের দাম ১ ডলার পর্যন্ত রাখা হয়ে থাকে। কিন্তু দই বা গাজনের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত খাবারে স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণে এটা পাওয়া যায় তার চেয়ে ওই পিলে কম থাকে।

জিঙ্ক: এটা সেবন করতে হবে-যেসবে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার প্রশমণ ঘটে সেগুলোর একটি এটা। ‘কমন কোল্ডের’ জন্য দায়ী রিনোভাইরাসের বংশবিস্তারে বাধা দেয় এই খনিজ উপাদান।

ভিটামিন ই: বাদ দিতে হবে- অতিরিক্ত সেবনে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কথিত ক্যান্সার প্রতিরোধ সক্ষমতার কারণে ভিটামিন ই এন্টিঅক্সিডেন্টের বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু ২০১১ সালে প্রায় ৩৬ হাজার পুরুষের উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই সাপ্লিমেন্ট সেবনকারীদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

২০০৫ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ই সেবনে সামগ্রিকবাবে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।

উদ্ভিজ্জ তেল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও সবুজ শাক-সব্জিতে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

 

 

 

ফলিক এসিড: গর্ভধারণ করলে বা গর্ভধারণ করতে চাইলে সেবন করতে হবে।

 

ফলিক এসিড এক ধরনের বি ভিটামিন, যা দেহে নতুন কোষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গর্ভবতী বা গর্ভধারণে ইচ্ছুক নারীদের দৈনিক ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক এসিড সেবন করা উচিত।

বিয়ে যেভাবে হার্টের ক্ষতি করে অথবা ভালো করে

অনেক গবেষণার মতে, মানুষের হার্টের স্বাস্থ্য তাদের সম্পর্কের ধরনের সঙ্গে খুব জড়িত। গবেষণায় দেখা যায় যে তালাকপ্রাপ্ত, সিঙ্গেল বা অবিবাহিত এবং বিচ্ছিন্ন মানুষদের তুলনায় সুখী বিবাহিত মানুষদের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর প্রাণঘাতী করোনারি হার্ট রোগের পরিমাণ কম।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ডিভোর্স বা তালাকের সঙ্গে করোনারি অ্যাথেরোসক্লেরোসিস নামক হার্টের রোগ জড়িত। নতুন এক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এবং কার্ডিয়াক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক বেশি জটিল হতে পারে।

অ্যামেরিকান সাইকোলজিস্ট জার্নালের এক বিশেষ সংস্করণে ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহের অধ্যাপক টিমোথি স্মিথ এবং ব্রায়ান বাউকাম হার্টের স্বাস্থ্য ও বিয়ে বা বিয়ের মতো সম্পর্কের বিভিন্ন দিক প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, মানুষের অনেকগুলো গুণ, যেমন- ব্যক্তিত্ব, মানসিক বা আবেগের সুসমন্বয় এবং অন্যান্য গুণ যা মানুষে মানুষে সম্পর্ক উন্নত করে তা তাদেরকে সুস্থ রাখতে, স্ট্রেস বা চাপ সামলাতে এবং ভালোভাবে ঘুমাতেও ভূমিকা রাখে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, বিয়ে মানুষকে সুস্থ রাখছে না। তাদের যেসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাদের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা তাদের বিয়ে ভাঙনও ঘটাচ্ছে এবং উভয়েই একটি আরেকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।

ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহের মনোবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক স্মিথ বলেন, কার্ডিওভাসকুলার রোগ বা বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ক্রোধ, বৈরভাব, হতাশা, বুদ্ধিস্বল্পতা এবং পোস্ট ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের উন্নতি বা অবনতির জন্য আপনি যদি সর্বাধিক তথ্যবহুল স্বতন্ত্র ঝুঁকিসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করেন তাহলে দেখবেন এসবের সঙ্গে সম্পর্কের অসুবিধাগুলোর খুব নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, বাস্তবিক জ্ঞানের আলোকে বলা যায় যে, মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, যেমন- হার্টের রোগ বাড়া বা কমা সম্পর্কের আচরণের ওপর নির্ভর করে। বৈবাহিক কলহ না হলে বা কম হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম থাকে এবং নিয়মিত বৈবাহিক কলহ হলে হার্টের সংবহনে বেশি চাপ সৃষ্টি হয়।

কার্ডিয়াক বা হার্টের রোগের জন্য কিছু স্পষ্ট ব্যবহারিক বিষয়কে দায়ী করা হয়। কার্ডিয়াক রোগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়সমূহ যেমন- ধূমপান, ব্যায়ামের অভাব এবং চর্বিযুক্ত খাবার, কোনো মানুষের পক্ষে পরিবর্তন বা বর্জন করা সহজ হয় যদি এসব ত্যাগের ব্যাপারে উৎসাহী জীবনসঙ্গী থাকে। যদি স্বামী বা স্ত্রী ধূমপায়ী হয় ও শুধুমাত্র ভাজাপোড়া খাবার খায় এবং জীবনসঙ্গী তার এসব অভ্যাস বর্জনে যথেষ্ট উদ্যমী না হয় তাহলে কার্ডিয়াক রোগীর পক্ষে এসব ছাড়া কঠিন।

প্রচুর গবেষণায় ইতোমধ্যে বিয়ে এবং ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছেন যে, স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে। স্মিথ বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত সমস্যাসমূহ (যেমন- বিষণ্নতা এবং বৈরভাব) ধূমপান বর্জন কিংবা ব্যায়ামের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’ এর কারণ হচ্ছে মানুষ যখন দুর্দশা অনুভব করে তখন সুস্থ থাকার নিয়মাবলী পালন করে না বললেই চলে।

অন্যদিকে কার্যকরী বা সুসম্পর্কের জুটি চিকিৎসা পরিকল্পনাকে (যেমন- বিশেষ করে হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে) সহজে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। অবিবাহিত বা একাকী দিন কাটানো মানুষদের তুলনায় সমর্থনমূলক এবং সুখী সম্পর্কে আবদ্ধ লোকদের ওষুধ গ্রহণে বেশি করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় ও তাদের ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টও বেশি হয় এবং তারা তিক্ত বা অকার্যকর সম্পর্কে জড়িত ব্যক্তিদের তুলনায় কম জ্বালাতন এবং শাসানির মুখোমুখি হন।

এবার ঘুমের কথায় আসা যাক। স্মিথ বলেন, ‘স্লিপ ডিসঅর্ডার এবং ইনসমনিয়া দৃঢ়ভাবে হার্টের রোগের পূর্বাভাস দেয়।’ যেসব মানুষেরা তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে বা যারা একাকী থাকে কিংবা অসুখী চিন্তাভাবনায় মগ্ন থাকে তাদের তুলনায় বিবাহিত জীবনে সুখী মানুষেরা ভালো ঘুমাতে পারে। এসব সুখী মানুষদের কর্মক্ষেত্রে চাপপূর্ণ দিন অতিবাহিত করে ঘরে ফিরে কলহে লিপ্ত হতে হয় না, তারা শান্ত হতে পারে এবং তাদের সংবহন প্রক্রিয়াকে চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

কার্ডিওলজিস্টদের প্রতি স্মিথ এবং বাউকামের পরামর্শ হল রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা যেন স্বামী-স্ত্রীর জটপাকানো ভূমিকা অনুধাবন করে। চেস্ট ক্যাভিটির বহুপ্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট অঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি চিকিৎসকরা হার্টের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে দেখতে পারেন যা স্ক্যানে ধরা পড়ে না। চিকিৎসক মন্দ বা তিক্ত সম্পর্কে জড়িত রোগীদের অনলাইন ভিত্তিক বৈবাহিক কোর্স বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিবাহ শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন।

স্মিথ বলেন, ‘স্বামী বা স্ত্রী হচ্ছে বিস্ময়কর সত্য পর্যবেক্ষণকারী।’ অনেক চিকিৎসক রোগীদের নিজস্ব রিপোর্ট বা বিবরণ এবং প্রশ্নাবলীর উত্তরের ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে মূল্যায়ন করেন। কিন্তু বিখ্যাত টিভি ডক্টরের ভাষ্যমতে, ‘রোগীরা মিথ্যা বলে।’ একজন রোগী বলতে পারে যে তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন অথবা কোনো ব্যথা অনুভব করছেন না, কিন্তু এ ব্যাপারে প্রকৃত সত্য জানেন তার জীবনসঙ্গী এবং তিনি সত্য অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন।

স্মিথ ১১৪ দম্পতির ওপর একটি গবেষণা চালান। গবেষণায় তিনি তাদের সাম্প্রতিক কলহের বিষয়ে কথাবার্তা বলার সময় পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রত্যেকের ওপর করা পর্যবেক্ষণ নোট করে রাখেন এবং তারপর প্রত্যেকের কার্ডিয়াক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় যে, যারা বৈরভাব এবং কম গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাদের মধ্যে উচ্চতর করোনারি অ্যাথেরোসক্লেরোসিস ছিল। তাদের প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, ‘তাদের নিজস্ব রিপোর্টের চেয়ে তাদের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া ভালো পূর্বাভাষদাতা ছিল (রোগের ব্যাপারে)।’ তিনি বলেন যে, কলহ ধূমপান বা স্থূলতার মতোই কার্ডিয়াক সমস্যার জন্য দায়ী।

কিন্তু তিনি গ্রাহ্য করেন না যে, বিবাহ একটি জাদুকরী বুলেট। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে এই সম্পর্কে জাদুকরী কোনো কিছু আছে, এটি হচ্ছে দীর্ঘসময়ের আন্তঃব্যক্তিগত সম্পর্কের পুনরাবৃত্তিমূলক নমুনা।’ তিনি কতগুলো প্রশ্ন রাখেন: আমাদের কি অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত সন্তোষজনক সম্পর্ক আছে বা আমরা কি ভিন্নতা এবং একাকিত্ব অনুভব করি? আমরা যখন ভিন্নতা অনুভব করি তখন গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য কাউকে আহ্বান করতে পারি, এটা কি আমরা অনুভব করি? অথবা আমরা কি সরাসরি দ্বন্দ্বমূলক কোনো প্রবৃত্তির সঙ্গে জড়িত?

তিনি অনুমান করেন যে, বিয়ে এসব স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়াকে বাড়িয়ে তুলবে। কিন্তু এসব সংঘটিত হওয়ার জন্য এটি কোনো পারফেক্ট মার্কার নয়।
 

যেভাবে রক্তে চর্বির পরিমাণ কমাতে পারেন

প্রতিটি মানুষের রক্তে নির্দিষ্ট মাত্রায় চর্বি থাকে। কিন্তু এই চর্বির পরিমাণ যখন বেড়ে যায় তখন বেড়ে যায় অনেক মারাত্মক রোগের ঝুঁকি। রক্তে অতিমাত্রার চর্বি করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হূদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হূদরোগের হাত থেকে রেহাই পেতে রক্তে কোলেস্টেরলের মান বা চর্বির মাত্রা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত রাখা প্রয়োজন। এবং মনে রাখা দরকার যে, সেটি করতে হলে প্রথমেই নজর দিতে হবে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার দিকে। বর্জন করতে হবে অনেক কিছু আবার গ্রহণ করতেও হবে বাড়তি কিছু। আর লিপিড প্রফাইল করে জেনে নিতে হবে সব কোলেস্টেরলের মাত্রা।

আসুন আমরা জেনে নেবো কিভাবে আমরা রক্তে চর্বির পরিমাণ কমাতে পারি বা কম রাখতে পারি। প্রথমেই বলা যাক খাদ্যতালিকায় কী কী সংযোজন বা পরিহার করতে হবে।

গরু ও খাসির গোশত খাওয়া কমিয়ে দিন। আর, হ্যাঁ, সেই সাথে অবশ্যই কলিজা জাতীয় খাবারও আপনাকে কম খেতে হবে বা খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

প্রচুর মপরিমাণে মাছ খান।

শাকসবজি ও ফল খান।

দুধ বা দুধ থেকে উত্পন্ন খাদ্য যেমন- ঘি, পনির, মাখন, আইসক্রিম খাবেন না।

ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে খাবেন, তার মানে শুধু ডিমের সাদা অংশ খেতে হবে।

নারকেল বা নারকেল দেয়া খাবার পরিত্যাগ করুন।

খাবার তালিকা সংশোধনের সাথে সাথে হূদরোগ-এর ঝুঁকি বাড়ায় এমন কোনো অভ্যাস যেমন ধূমপান পরিহার করতে হবে।

তাছাড়া উচ্চরক্তচাপ থাকলে তার জন্য সঠিক চিকিত্সা নেয়া জরুরি।

ব্যায়াম করার আগে চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যায়াম করা স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন।

ভিটামিন-এ রয়েছে রঙিন শাক সবজিতে। আর প্রতিদিন অন্তত ১৫ গ্রাম ভিটামিন এ আমাদের জন্য প্রয়োজন। তাই ভিটামিন সমৃদ্ধ প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ও রান্নাকরা শাকসবজি, ফল গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

খুব দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, তারপরও রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির পরিমাণ বেশি এ রকম অনেকেই আমাদের কারো না কারো পরিবারে আছেন। আর তাদেরকে তখন নানারকম ওষুধের মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

৫০ বছর এর অধিক বয়সী অনেক মহিলার সার্জারি করে জরায়ু ফেলে দেয়া হয়। আবার সে সময় তারা এমনিতেই মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি কালে চলে যান। এই সময় তারা যদি ইস্ট্রোজেন নেন তাহলে তারা হূদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন। কারণ ইস্ট্রোজেন বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেয়া হলে তা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাঁটবেন কেন?

জিমনেশিয়ামে গিয়ে প্রতিদিন শরীরচর্চা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত হার্ভার্ড স্টাডি মতে, প্রতিদিন নিয়ম করে ১৫ মিনিট হাঁটলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে। সকালে অথবা সন্ধ্যায় কাছাকাছি কোনও পার্কে হাঁটাহাঁটি করুন। সেটাও সম্ভব না হলে কাছাকাছি দূরত্বের কর্মক্ষেত্র থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরুন।

জেনে নিন প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটা জরুরি কেন-

  • বয়স ত্রিশ পার হলেই শরীরের হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিন খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে বাড়ে হাড়ের শক্তি।
  • শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি ক্ষয় করতে প্রতিদিন হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়ম করে ১৫ মিনিট হাঁটতে পারলে এটি আপনাকে সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
  • প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত কিছু সময় কাটালে সেটি ব্যক্তিগত হতাশা দূর করতে সাহায্য করে- এমনটি বলেছে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তরুণদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে আসে।
  • নিয়মিত হাঁটলে চিন্তার পরিধি ও সৃজনশীলতা বাড়ে বলে জানিয়েছে স্টানফোর্ড স্টাডি। সৃজনশীল কোন কাজ নিয়ে চিন্তা করতে চাইলে হাঁটার সময়কে তাই কাজে লাগাতে পারেন।
  • প্রতিদিন হাঁটলে শক্তিশালী হয় স্মৃতিশক্তি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এটি লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
  • প্রতিদিন নিজের জন্য কিছু সময় বের করে সবুজের সংস্পর্শে থাকাকে বিভিন্ন রোগের মহৌষধ বলা হয়। একারণেই জাপানে ‘ফরেস্ট বাথ’ বা সবুজের সঙ্গে সময় কাটানোকে আবশ্যক বলে ধরা হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

টক তেঁতুলের নানা গুণ

মুখরোচক তেঁতুল কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য। তেঁতুলে থাকা একাধিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান দেহের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে পারে। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির উন্নতি, ত্বকের পরিচর্যায় এবং আরও নানা শারীরিক উন্নতিতে এই ফলটি গুরুত্বপূর্ণ।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, ই এবং বি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ডায়াটারি ফাইবার। এখানেই শেষ নয়, একাধিক শক্তাশালী অ্যান্টিঅক্সিডন্টেরও দেখা মেলে এই ফলটিতে।
জেনে নিন তেঁতুল আমাদের শরীরের কী কী উপকার করে-

 

  • তেঁতুলে উপস্থিত ডায়াটারি ফাইবার হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে হজম শক্তির বাড়ে। এছাড়া তেঁতুলে থাকা ‘বিলিয়াস সাবস্টেন্স’  খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে যায়।
  • তেঁতুলে থাকা একাদিক ভিটামিন এবং খনিজ ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অ্যানিমিয়ার মতো রোগ দূর হয়।
  • তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা ব্রেন ফাংশনের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র নার্ভ সেলের শক্তি বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কগনেটিভ ফাংশনে উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে।
  • তেঁতুল খেলে শরীরে হাইড্রোক্সিসিট্রিক অ্যাসিড বা এইচ সি এ-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে সার্বিকভাবে ওজন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে তেঁতুল খাওয়া শুরু করলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্ষুধা কমে যায়।
  • সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেঁতুল কার্যকর।
  • প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকার কারণে তেঁতুলে খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

এই বিভাগের আরো খবর

এসব কারণেও হার্ট অ্যাটাক!

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লোক মনে করে যে, অত্যধিক চর্বিযুক্ত খাবার এবং আলস্য জীবনযাপন এর জন্য দায়ী।

হ্যাঁ, এটা সত্য যে, খাবার এবং জীবনযাপন প্রণালী হার্ট অ্যাটাকে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যা হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এমন কিছু কারণে হার্টের ক্ষতি হতে পারে যা সম্ভবত আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এখানে হার্ট অ্যাটাক বা হার্টের সমস্যা সম্পর্কিত ১৫টি বিষয়ের উল্লেখ করা হলো।

১. আপনার প্রতিবেশী

 

দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে ২০০১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোকেরা নিম্ন আয়ের প্রতিবেশীদের সঙ্গে থাকেন তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ সমৃদ্ধশালী জনগোষ্ঠীতে একই আয়, শিক্ষা এবং পেশায় কর্মরত প্রতিবেশীদের সঙ্গে থাকা লোকদের তুলনায় তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ছিল। গবেষকরা ৯ বছর ধরে চারটি রাজ্যে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের লোকদের হার্ট অ্যাটাক পর্যবেক্ষণ করেন।

২. অ্যান্টিবায়োটিক

২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাজিথ্রোমাইসিন (যা সাধাররণত জেড-প্যাকস প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়) হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকির কারণ, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ আছে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল হার্ট সেন্টারের কোরিগ্যান উইমেন’স হার্ট হেলথ প্রোগ্রামের এমডি এবং সহপরিচালক ম্যালিসা জে উড বলেন, ‘হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এ প্রমাণটি যথেষ্ট ছিল না।’ তবুও তিনি পরামর্শ দেন, আপনার যদি হৃদরোগ থাকে তাহলে চিকিৎসককে বলুন যেন অ্যাজিথ্রোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

৩. ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট

২০১২ সালে ২৩,০০০ লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে পাওয়া যায় যে, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির পরিমাণ বেশি, যদিও খাবারের সঙ্গে গৃহীত ক্যালসিয়ামের কারণে এ সমস্যা দেখা যায় না। তাই ক্যালসিয়াম গ্রহণের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে, ক্যালসিয়াম হার্টকে সুরক্ষা দিতে পারে।

ড. উডের পরামর্শ, ‘আমি হার্টের রোগীদেরকে তাদের খাবার তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে বলি। অন্যান্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার তৈলাক্ত মাছ খান।’

৪. ইনফেকশন

আপনার যদি ফ্লু বা শ্বাসযন্ত্রে ইনফেকশন ধরা পড়ে তাহলে বুঝবেন যে, অন্যান্য রোগের তুলনায় আপনি পাঁচগুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে ইনফেকশন প্রদাহমূলক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের দিকে ধাবিত করে। একটি ফ্লু ভ্যাকসিন গ্রহণে ইনফেকশন প্ররোচিত হার্টের স্ট্রেস থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

৫. সোরিয়াসিস

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ডার্মাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোয়েল এম গেলফ্যান্ড বলেন, ‘কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সোরিয়াসিস হার্ট অ্যাটাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় যার ঝুঁকিপূর্ণ দিকটাকে ডায়াবেটিসের সঙ্গে তুলনা করা যায়।’ সোরিয়াসিস হল ত্বকের একপ্রকার প্রদাহজনিত রোগ এবং সাধারণত এটি নির্মূলে মেডিকেল সেবা অত্যাবশ্যক। তীব্র মাত্রার সোরিয়াস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা ধূমপান, স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝূঁকিপূর্ণ বিষয়গুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ড. গেলফ্যান্ড গবেষণায় দেখান যে, সোরিয়াস একটি স্বাধীন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় এবং এটি একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার বা রোগ যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে।

আসলে অটোইমিউন রোগ সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। ড. উড বলেন, লুপাস স্কিন ডিজিজে (যেমন- সোরিয়াস ব্যাধি) আক্রান্ত লোকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হল হার্ট অ্যাটাক।

৬. সম্পর্কের সমস্যা

আক্ষরিকভাবে আপনার গুরুত্বপূর্ণ লোকদের সঙ্গে নেতিবাচক সম্পর্ক আপনার হার্টে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এপিডেমিওলজিস্ট দ্বারা পরিচালিত গবেষণার মতে, সম্পর্কের সমস্যা আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৩৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

৭. নিম্ন এইচডিএল কোলেস্টেরল

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির এক গবেষক প্রায় ৭,০০০ লোকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরল এবং মেজর করোনারি ইভেন্টের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রায়র হার্ট ডিজিজ এবং বয়সের পর নিম্ন এইচডিএল কোলেস্টেরল হচ্ছে করোনারি ইভেন্টের তৃতীয় শক্তিশালী কারণ।

স্মার্ট অ্যাট হার্টের গ্রন্থকার ড. উড বলেন, যদি অল্প বয়সিদের হার্ট অ্যাটাক হয় তাহলে আমি প্রায়সময় বলব যে, তাদের এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরল কম রয়েছে। তিনি বলেন, উপকারী কোলেস্টেরল বাড়ানোর উপায় রয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি মাধ্যম হল ব্যায়াম করা এবং ওজন কমানো।

৮. কিডনি সমস্যা

নেদারল্যান্ডসের রটারডামে বয়স্কদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, দুর্বল কিডনির লোকদের (এমনকি কিডনি রোগ না থাকলেও) হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেশি।

১০,০০০ মানুষের ওপর চালিত অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীদের যাদের কিডনি রোগ নেই তাদের তুলনায় দুই গুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি রয়েছে।

৯. শহুরে জীবনযাপন

এক জার্মান গবেষণা অনুযায়ী, আপনি কার, বাইক বা জনসাধারণের পরিবহনের মাধ্যমে যেখানে ভ্রমণ বা চলাচল করেন সেখানে যদি ভারী যানবাহন থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। এর আগের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রধান সড়কের কাছে বসবাসকারী লোকদের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বেশি কার্ডিওপালমোনারিজনিত মৃত্যু হয়ে থাকে।

১০. অ্যাসপিরিন বন্ধ করা

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, হার্টের রোগীদের অ্যাসপিরিন থেরাপি বা অন্যান্য ননস্টেরয়েডাল প্রদাহনিরোধক ড্রাগ সেবন বন্ধ করার পর অন্তত এক সপ্তাহের জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এমডি এবং কার্ডিওলজিস্ট ম্যাথিউ সরেনটিনো সতর্ক করে বলেন, আপনার যদি হৃদরোগ থাকে বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে এবং অ্যাসপিরিন গ্রহণ বন্ধ করতে চাইলে তাহলে কোনো ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলে তা ধীরে ধীরে করুন।

১১. বিষণ্নতা

ড. উড বলেন, ‘বিষণ্নতা এবং হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে যোগসূত্রের যথেষ্ঠ তথ্য রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিষণ্নতামুক্ত লোকদের তুলনায় বিষণ্নতায় ভোগা লোকদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির পরিমাণ বেশি।’

২০০৯ সালে অ্যামেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাওয়া যায়, বিষণ্নতামুক্ত নারীদের তুলনায় বিষণ্ন নারীদের হৃদরোগের বিকাশ দ্বিগুণ বেশি ছিল।

১২. আপনার বস

২০০৫ সালের এক গবেষণায় গবেষকরা ব্রিটিশ সরকারের শ্রমিকদের পর্যবেক্ষণ করেন এবং দেখেন যে, যারা মনে করেন না যে তাদের বসেরা তাদের মতামতকে বিবেচনা করেন এবং যারা অনুভব করেন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশ বা গুরুত্ব নেই তাদের মধ্যে হৃদরোগের বিকাশ এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা লোকদের তুলনায় বেশি ছিল।

অন্যান্য গবেষণায় দেখা যায় যে, চাপপূর্ণ কাজে নিয়োজিত লোকদের হৃদরোগের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ বেশি ছিল।

১৩. মাড়ির রোগ

গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভালো দন্ত স্বাস্থ্যের অধিকারীদের তুলনায় মাড়ির রোগে আক্রান্ত লোকেরা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে।

মাড়ির রোগ থেকে হৃদরোগ হয়ে থাকে মুখের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে। মুখের ব্যাকটেরিয়া ব্লাড ভেসেল বা রক্তবাহিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ড. উড বলেন, ‘যদি আপনার শরীরের কোনো অংশের ব্লাড ভেসেলে রোগ থাকে তাহলে তা অন্যান্য অংশের ব্লাড ভেসেলেও ছড়িয়ে পড়ে।’

১৪. ডায়াবেটিস

যদিও ডায়াবেটিস রোগীরা অ্যাম্পিউটেশন (অঙ্গচ্ছেদ) এবং ভিশন লসের (দৃষ্টিশক্তি হারানো) ভয়ে থাকেন, প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হল হৃদরোগ।

ডায়াবেটিস নেই এমন লোকদের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের দুই থেকে চার গুণ বেশি হৃদরোগ সংক্রান্ত মৃত্যু হয়ে থাকে। সুসংবাদ হল যে, উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে এবং ব্যায়ামের অনুশীলন করে ডায়াবেটিস রোগীরা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

১৫. প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা

২০০৬ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকদের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রোস্টেট ক্যানসার বা মূত্রথলির ক্যানসারের হরমোন চিকিৎসা হার্ট অ্যাটাকে আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। গবেষকরা বলেন যে, তাদের পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে না যে উভয়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র আছে, কিন্তু প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার সময় এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

এই বিভাগের আরো খবর

থাইরয়েড ক্যানসারের ৬ উপসর্গ

বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যানসার হঠাৎ করে ধরা পড়ে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলে ডাক্তাররা থাইরয়েড ক্যানসারের সন্ধান পান।

নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের এমডি এবং এনডোক্রিনোলজিস্ট মাইকেল টাটল বলেন, রোগীদের মধ্যে গুটি বা ক্ষুদ্র স্ফীতি খুব কম দেখা যায়। রোগীরা সাধারণত এই ক্যানসারের ওপর খুব একটা লক্ষ্য রাখে না এবং নিশ্চিত থাকে যে সরাসরি চিকিৎসা না করলেও এর অবস্থা খারাপ হবে না।

মাইকেল টাটল বলেন, আমি অ্যাসিম্পটমেটিক(রোগ বা ইনফেকশনের উপসর্গবিহীন) মিলিমিটার আকারের পিণ্ড বা গুটি বা স্ফীতিকে উপেক্ষা করব যা আপনি খোঁজার কারণে খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু আপনার গলার ওপর কোনো উপসর্গ বা কোনো কিছু অনুভূত হয়ে থাকলে তাহলে আপনার এসব উপেক্ষা করা উচিত হবে না। আপনার মধ্যে যদি সম্ভাব্য থাইরয়েড ক্যানসারের নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। এমনকি সামান্য শ্বাসাঘাত হলেও এড়িয়ে যাবেন না, ক্যানসার হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখুন।

গলায় গুটি বা স্ফীতি

 

 

ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেতে অবস্থিত মায়ো ক্লিনিকের মেডিসিন বিভাগের এমডি ও অধ্যাপক এবং মায়ো ক্লিনিক ক্যানসার সেন্টারের উপ-পরিচালক রবার্ট স্মলরিজ বলেন, ‘পুরুষেরা প্রায়সময় শেভিংয়ের সময় গুটি বা স্ফীতি দেখবে এবং মেয়েরা দেখবে মেকাপ দেবার সময়।’ প্রায় ৯০ শতাংশ থাইরয়েড গুটি বিনাইন প্রকৃতির হয়ে থাকে, কিন্তু আপনার গলার সম্মুখে অ্যাডাম’স অ্যাপলের নিচে বড় গুটি দেখা দিলে এটি কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাতে মনোযোগ দিন। ড. টাটল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বড় গুটি চেনার উপায় হল গলাধঃকরণের সময় এটি উপরে-নিচে উঠানামা করবে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যান্য গুটি তা করে না।

কর্কশ কণ্ঠস্বর

রিকারেন্ট ল্যারিনজিয়্যাল নার্ভ বা পুনরাবৃত্ত বাকযন্ত্র স্নায়ু যা ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী খোলা ও বন্ধ করার পেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে তা ডানে থাইরয়েডের পেছনে অবস্থিত থাকে। ড. স্মলরিজ বলেন, ‘খুব কম ক্ষেত্রে কোনো গুটি (বিশেষ করে ক্যানসারযুক্ত) থাইরয়েডের বাইরে প্রসারিত হতে পারে এবং রিকারেন্ট ল্যারিনজিয়্যাল নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে আপনার ভয়েস বক্স বা ল্যারিনক্স বা স্বরযন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। অধিকাংশ রোগীরা ভয়েস বক্সের ওপর এ প্রভাবকে কর্কশতা হিসেবে বিবরণ দেয়। আপনার ল্যারিনজাইটিস(কণ্ঠনালীর প্রদাহ) যদি ঠান্ডা থেকে হয়ে থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর ফিরে পেতে সমাধান খুঁজুন।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি

থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যে রহস্যময় কাশির বৃদ্ধি হয়ে থাকে যা সাধারণত কনজেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। ড. টাটল বলেন, ‘থাইরয়েড ক্যানসারের কাশি সংক্রামক নয়, তাই লোকেরা হতভম্ব ও বিস্মিত হয় যে তারা কেন জ্বর ও কফ বা শ্লেষ্মা ছাড়াই কাশছে।’ কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কাশি না সারার অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান বা পরীক্ষা করুন।

গিলতে বা গ্রাসে অসুবিধা

গুটি বা স্ফীতি যথেষ্ট বড় হয়ে গেলে কোনো কিছু গিলতে বা গ্রাসে কষ্ট বা সমস্যা হবে এবং এ অবস্থা নির্দেশ করবে যে ক্যানসার মারাত্মক রূপ নিয়েছে এবং খুব ক্ষতিকর পর্যায়ে চলে এসেছে। এ প্রসঙ্গে ড. টাটল বলেন, ‘এটি বিরল, কিন্তু দুশ্চিন্তার।’ তিনি আরো বলেন, ‘গিলতে বা গ্রাসে সমস্যা হলে বুঝা যায় যে গুটি বা স্ফীতি বড় হয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান হচ্ছে।’ গ্রাসে সমস্যা গলার ক্যানসারের উপসর্গও হতে পারে। তাই আপনি যদি এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন তাহলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

গলা ব্যথা

আপনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসারের পিণ্ড বা গুটি বা ফোলার ব্যথায় ভুগবেন না। কিন্তু গলা ব্যথার কতগুলো কারণে বেদনায় ভুগতে পারেন। ড. টাটল বলেন, ‘থাইরয়েড ক্যানসারজনিত কোনো পিণ্ড বা গুটি বা ফোলা খুব কমই বেদনাদায়ক বা অস্বস্তিদায়ক হয়ে থাকে। কিন্তু বিরল ক্ষেত্রে গুটি বা স্ফীতি বা ফোলা ব্যথা বা বেদনার উদ্রেক করতে পারে।’ আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, গলার সম্মুখ থেকে ব্যথা শুরু হয় এবং মাঝেমাঝে দুই কান পর্যন্ত সমস্ত অংশ জুড়ে ব্যথা পৌঁছতে পারে।

শ্বাসে সমস্যা

আপনি কোনো কিছু না গিললে বা না খেলে বা কথা না বললেও থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে আপনার শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিরল প্রকৃতির অ্যানাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসারের কারণে এক শতাংশ থাইরয়েড ক্যানসারের ক্ষেত্রে গুটি বা স্ফীতি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ড. স্মলরিজ বলেন, ক্রমবর্ধমান গুটি বা স্ফীতি উইন্ড পাইপ বা ট্র্যাকিয়া বা শ্বাসনালী এবং নার্ভ বা স্নায়ুর বিরুদ্ধে ধাক্কা দেয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের মতে, ‘নিষ্ক্রিয় থাকা অবস্থায় আপনি শ্বাস স্বল্পতায় ভুগতে পারেন, বিশেষ করে আপনি যখন ফ্ল্যাট স্লিপিং বা চিৎ হয়ে শুবেন।’ তবে মনে রাখতে হবে যে শ্বাসজনিত সমস্যা ফুসফুস রোগের উপসর্গও হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

যেসব লক্ষণ দেখলে মাংস খাবেন না

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অথবা শরীরের পুষ্টির জন্য আমরা অনেক পুষ্টিকর খাদ্য বা আমিষ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি। যেমন মাংস এক ধরনের প্রোটিন জাতীয় খাবার। যা পানি, প্রোটিন এবং চর্বির সমন্বয়ে গঠিত।

শরীরের কোষ তৈরির জন্য প্রতিদিন আমাদের কিছুটা প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে মাংসের মতো প্রাণিজ প্রোটিন সবার শরীর ও বিপাক ক্রিয়ায় সমানভাবে খাপ খাওয়ানো যায় না। বরং মাংস কারো দেহের জন্য অসহিষ্ণু ও সংবেদনশীলতা হতে পারে, এমনকি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তাই যাদের মাংস হজমে সমস্যা হয় তারা যদি তা কিছু উপসর্গ দেখে জানতে পারেন এবং মাংসের পরিপূরক বিকল্প আমিষ গ্রহণ করেন তাহলে তারা ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি আরো স্বাস্থ্যকর ও স্মার্ট জীবন যাপন করতে পারবেন।

একজন প্রত্যয়িত স্বাস্থ্য প্রশিক্ষক বলেন, ‘এমন কোনো খাদ্য নেই যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য মাংস আবশ্যক নয়, যদিও মাংস খাওয়াটা একজনকে স্বাস্থ্যবান করতে পারে আবার অন্যজন উদর সংক্রান্ত অস্বস্তি বা পীড়া আক্রান্ত হতে পারে।’

আপনার দেহ যদি মাংস সহ্য করতে না পারে তাহলে আপনি উদ্ভিজ্জ আমিষভোজী হতে পারেন যা আপনাকে অনেক ভালো অনুভূতি দেবে।

এখানে ১১টি উপসর্গ দেয়া হলো, যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার দেহ মাংস প্রক্রিয়াকরণ করতে অক্ষম এবং আপনার সুস্থতার জন্য যতটা সম্ভব মাংস এড়িয়ে চলা উত্তম।

* পেট ফাঁপা : মাংস খাওয়ার পর পেট ভারী বোধ ও ফোলা বা ফাঁপা ভাব এবং সেই সঙ্গে পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা ইত্যাদি অনুভূত হতে পারে। এর পাশাপাশি আপনি যদি পেটের স্ফীতি এবং অবসাদ বোধ করেন তাহলে অবশ্যই সুস্থ থাকার জন্য মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

* বমি ভাব : মাংস পরিপাক না হবার উপসর্গগুলোর মধ্যে বমিবমি ভাব, অম্বল আর বদহজম অন্যতম। এই উপসর্গগুলো আপনাকে প্রচন্ড অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। আসলে কাজের সময় যদি আপনি এমন পাকস্থলীর অসুস্থতায় ভুগেন তাহলে কাজে মনোনিবেশ করে ফলদায়ক কিছু করাটা সত্যি কঠিন। এমতাবস্থায় দুপুরের খাবারে আপনি মাংস এড়িয়ে সবজি সালাদ খাবেন।

* অত্যধিক বড় টুকরা গ্রহণ : প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ প্রতিদিন ২৮ গ্রামের মতো মাংস (হাতের তালুর সমান পাতলা এক টুকরো) খেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মাংস খেলে আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। আর তাই মাংস খেতে হবে বুঝে-শুনে, মেপে-ঝেপে।

* দূর্বল চর্বণ : উদ্ভিজ্জ খাবারের চেয়ে মাংস সরল কণার বিশ্লিষ্ট করে পরিপাক করা পাকস্থলীর জন্য বেশি কঠিন। তাই মাংস খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করবেন না, আস্তে ধীরে চিবিয়ে খান। একটু সময় নিয়ে খাবার খান। গোগ্রাসে গেলা ঠিক না। পেটে বাতাস ঢুকবে না। মাংস কম চিবানো হলে পেট ভারী বোধ ও ব্যথার সৃষ্টি করে।

* খাদ্যজনিত রোগাক্রান্ত : আপনি যদি মাংস ঠিকমতো হজম করতে অক্ষম হন তবে আপনি প্রায়ই খাদ্যজনিত রোগে বিশেষ করে ই-কোলাই,  স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রে আক্রান্ত হবেন। মাংস সঠিকভাবে হজম করে ব্যর্থ হওয়ার কারণে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে।

* উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে মাংস খাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেটা হয়তো আপনি বুঝতেই পারেন না। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ হলো নিরব ঘাতক। এক্ষেত্রে সবজি খেয়ে রক্তচাপ কমানো যায়, কিন্তু একজন শাকাহারী মানুষকে অবশ্যই সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপধারীদের মাংস খাওয়ার অভ্যস্ততা ধীরে ধীরে বাদ দিতে হবে।

* কোষ্ঠকাঠিন্য : জিনগতভাবে প্রতিটি মানুষের যেমন অনন্য পাচনতন্ত্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে খাদ্যতালিকাগত অভ্যাস। কোষ্ঠকাঠিন্য ৮০% বেলায় খাবারের সমস্যাজনিত কারণেই হয়ে থাকে এবং ২০% বেলায় পরিপাক তন্ত্রের যেকোনো ধরনের ইনফেকশন, প্রদাহ, ওষুধ অথবা হজমজনিত কারণে হতে পারে। বিশেষকরে লাল মাংসের চর্বি ও আয়রন কোষ্ঠকাঠিন্য হবার প্রধান কারণ। কেননা খাদ্য তালিকার যেকোনো খাবারের চেয়ে চর্বি পরিপাক হতে বেশি সময় নেয়।

* চোখের নিচে কালো দাগ : শুধু নির্ঘুম কাটালেই চোখের নিচে কালো দাগ পরে না, মাংস ঠিকমতো পরিপাক না হবার প্রভাব স্পষ্টত আপনার সৌন্দর্যের ওপর পড়বে। আপনি যদি দেখেন মাংস খাওয়ার ঠিক পরের দিন আপনার চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে, তাহলে বুঝতে হবে এটা মাংস পরিপাকজনিত সমস্যার লক্ষণ।

* শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ : মাংস ঠিকমত পরিপাক না হবার কারণে আপনার শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। পাচনতন্ত্রে মাংস পরিপাকে সমস্যা হলে পাচক অ্যানজাইম দ্বারা দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যা আপনার শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ আনে।

* অবসাদ : মাংস খাওয়ার পর আপনার যদি কুঁড়ে এবং ক্লান্ত অনুভূত হয়, তাহলে ধরে নিন আপনি মাংস পরিপাকজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মাংস পরিপাকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয়িত হবার কারণে আপনি এমনটি অনুভব করেন। কয়েকদিন যাবত যদি আপনার অন্ত্রে ইটের মতো বোঝা অনুভূত হয় তাহলে জানবেন আপনার মাংস পরিপাকে সমস্যা রয়েছে।

* পেশী কমে যাওয়া : আপনি মাংস পরিপাকজনিত সমস্যায় এক ধরনের বমিবমি ভাব, পেট ফাঁপা ও মোচড়ানো, অবসাদ এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হবার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি লক্ষণ দেখতে পাবেন। সেটা হলো আপনার পেশী কমে যাওয়া।

উল্লেখিত যেকোনো একটি উপসর্গও দেখা দিলে মাংসের বিকল্প উদ্ভিজ্জ আমিষে অভ্যস্ত হওয়াটা আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মাংস ছেড়ে দেয়াটা আপনার কাছে ভীতিকর মনে হতে পারে। কিন্তু আপনার সুস্থ জীবনধারা যদি নষ্ট করতে না চান তবে আপনার জেনে নেয়া উচিত,  খাদ্যতালিকার কোনটি আপনার জন্য সঠিক খাদ্য এবং কোনটি আপনাকে শক্তি দেবার বদলে দুর্বল করে দিবে। তাই মাংস খাওয়ার সময় একটু সচেতনতা আপনাকে দিতে পারে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা

এই বিভাগের আরো খবর

দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে এই ফলটা রোজ একটি করে খান, বলছেন গবেষকরা

য়েব ডেস্ক: শরীরকে সুস্থ রাখতে, শরীরের প্রয়োজনীয় ঘাটতি পূরণ করতে আমরা অনেক কিছুই খেয়ে থাকি। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের প্রত্যেকদিন একটি করে অ্যাভোক্যাডো অবশ্যই খাওয়া দরকার। এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষকরা।

 

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় প্রকাশ হয়েছে যে, অ্যাভোক্যাডো রয়েছে এমন কিছু উপকারী উপাদান, যা আমাদের চোখ ভালো রাখে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। যাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি, এমন ৪০ জন মানুষের উপর একটি পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের টানা ছ’মাস প্রত্যেকদিন একটি করে তাজা অ্যাভোক্যাডো খাওয়ানো হয়। দেখা যায়, প্রত্যেকের চোখের কগনিটিভ ফাংশন অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। এবং ২৫ শতাংশ বেড়েছে চোখের লুটেন লেভেল। এই লুটেন লেভেল বৃদ্ধিতে শুধুমাত্র যে দৃষ্টিশক্তিই উন্নত হয়েছে, তা নয়, শক্তিশালী হয়েছে মস্তিষ্কও। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দৃষ্টিশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে প্রত্যেকদিন একটি করে অ্যাভোক্যাডো খাওয়া দরকার।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিদিন দুটো লবঙ্গ

লবঙ্গ একটি সুপরিচিত মশলা। মাংস রান্নায় দুটো-তিনটে লবঙ্গ দেওয়া হবে না, এমনটি হতেই পারে না। এই মশলাটি লবঙ্গ লতিকা নামক একটি পিঠা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় সুঘ্রাণ ও সৌন্দর্যের জন্য। এই সুপরিচিত মশলাটির ভেষজ গুণ সম্পর্কে কী আপনার জানা আছে? আপনি জানেন কী প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লবঙ্গ খেলেই অনেক রোগ থেকে দূরে থাকবেন। জেনে নিন এই উপকারি মশলাটার গুণ।

মাথা যন্ত্রণা কমায়। কয়েকটি লবঙ্গ, বিট লবণের সঙ্গে বেটে দুধের মধ্যে মিশিয়ে খেলে মাথা যন্ত্রণার থেকে মুক্তি মেলে। তাই যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন তারা এই ঘরোয়া টোটকা সেবন করে দেখতে পারেন।  

মুখগহ্বরের নান রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত এবং মুখের ভিতরে হওয়া নানা সমস্যার সমাধানে লবঙ্গ খুবই উপকারে লাগে। যেমন ধরুন, দাঁতে ব্যাথা, দাঁতে গর্ত হয়ে যাওয়া, মুখের দুর্গন্ধ ইত্যাদি রোগ খুব সহজেই সারিয়ে তোলে লবঙ্গ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লবঙ্গ বহুল পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের শুকনো ফুল সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়াও রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

ডায়বেটিস রোধ করে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া এখন খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়াবেটিস হলে শরীরে ইনসুলিন কম পরিমাণে তৈরি হয়। এদিকে লবঙ্গ ইনসুলিন তৈরির পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগারকে প্রতিহত করে।

লবঙ্গ জীবাণুনাশক। লবঙ্গের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুনাশক উপাদান রয়েছে। ফলে নানাবিধ জীবাণু, যা আমাদের শরীরে রোগ তৈরি করতে পারে, সেগুলিকে ধ্বংস করে। সেই সঙ্গে কলেরার জীবাণু রোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয় লবঙ্গ।

হজম শক্তি বাড়ায়। যে কোনও পেট ফাঁপা, এসিডিটির সংকট দূর করে লবঙ্গ মিশ্রিত পানি।

দিনে অত্যধিক ঘুমের কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসা

দিনে অত্যধিক ঘুম আসলে বা ঘুমে অত্যধিক সময় ব্যয় হওয়াকে হাইপারসোমনিয়া বলে। হাইপারসোমনিয়া হলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে দিনে জেগে থাকা কঠিন হয়।

আক্রান্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ঘুমিয়ে পড়তে পারে, যেমন- কর্মক্ষেত্রে বা গাড়ি চালানোর সময় নিজের অজান্তেই ঘুমে তলিয়ে যেতে পারে। তাদের ঘুম সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যাও থাকতে পারে, যেমন- শক্তির অভাব ও চিন্তার অস্পষ্টতা। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের মতে, ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষের হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়।

হাইপারসোমনিয়ার কারণ

 

 

হাইপারসোমনিয়া সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। যেমন-

* স্লিপ ডিজঅর্ডার নারকোলেপসি বা দিনে অতিমাত্রায় ঘুম হওয়া এবং স্লিপ এপনিয়া বা রাতে ঘুমের সময় শ্বাসক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটা।
* স্লিপ ডিপ্রাইভেশন বা রাতে যথেষ্ট ঘুম না হওয়া।

* প্রয়োজনাতিরিক্ত ওজন হওয়া

* মাদক বা অ্যালকোহলের ব্যবহার

* মাথায় আঘাত বা স্নায়বিক দুর্বলতা, যেমন- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা পারকিন’স ডিজিজ

* প্রেসক্রিপশনভুক্ত ওষুধ, যেমন- ট্রানকুইলাইজারস বা অ্যান্টিহিস্টামিনস

* জিনগত সমস্যা বা মা-বাবার হাইপারসমনিয়া থাকা

* বিষণ্নতা

হাইপারসোমনিয়ার উপসর্গ

হাইপারসোমনিয়ায় ভোগা লোকেরা দিনে জেগে থাকার চেষ্টা করে এবং সাধারণত বারবার ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম দীর্ঘ বা অসময়ে হতে পারে। কথা বলার সময়, খাওয়ার সময় বা গাড়ি চালানোর সময় বা অন্য কোনো কাজের সময় তারা ঘুমিয়ে পড়তে পারে। সাধারণত ঘুম থেকে তারা মুক্তি পায় না। এ রোগে আক্রান্ত লোকেরা প্রতিরাতে ১০ ঘণ্টারও বেশি ঘুমায় এবং সকালে ওঠার জন্য সংগ্রাম করে, কারণ তারা তন্দ্রালু অনুভব করে এবং ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে সন্দিহান বা ঘুম উন্মত্ততায় থাকে। অত্যধিক ঘুম ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হাইপারসোমনিয়ার অন্যান্য উপসর্গ হল-

* মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন- উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভোগা

* কম শক্তি থাকা

* অস্থির বা উত্তেজিত থাকা

* ধীরগতিতে চিন্তা বা কথা বলা

* স্মরণ সমস্যায় ভোগা বা কোন কিছু ভুলে যাওয়া

* মনোযোগ দিতে না পারা।

এসব উপসর্গসমূহ কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে দেখা দিতে পারে। যদিও তা আরো আগে বা পরে দেখা দিতে পারে।

হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়

আপনি যদি দিনে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। হাইপারসোমনিয়া নির্ণয়ে ডাক্তার আপনার ঘুমাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাইবেন, যেমন- রাতে কতটুকু ঘুমান, রাতে জাগেন কিনা এবং দিনের কোন কোন সময় ঘুম আসে। আপনার আবেগজনিত সমস্যা বা বর্তমানে সেবনকৃত ওষুধ বা মাদক সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিবেন, যেমন- রক্ত পরীক্ষা, কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান বা সিটি স্ক্যান এবং পলিসমনোগ্রাফি বা ঘুম পরীক্ষা। কিছুক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম(ইইজি) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতে পারে যা ব্রেইনের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে কিংবা ব্রেইনের অস্বাভাবিকতা বা সমস্যা খুঁজে বের করে।

হাইপারসোমনিয়ার চিকিৎসা

যদি আপনার হাইপারসোমনিয়া ধরা পড়ে তাহলে ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন ওষুধ খেতে বলতে পারেন। এসবের মধ্যে স্টিমিউল্যান্টস (উদ্দীপক বা শরীর চাঙাকারী ওষুধ), অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস (বিষণ্নতা প্রতিরোধক) এবং কিছু নতুন ওষুধ থাকতে পারে। যদিও হাইপারসোমনিয়া চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। স্টিমিউল্যান্টস আপনাকে দিনে জাগ্রত থাকতে সাহায্য করবে। আবেগতাড়িত সমস্যায় অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টস কাজে আসতে পারে। স্লিপ এপনিয়া হলে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেও হাইপারসোমনিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যেতে পারেন যাতে বেশি করে ঘুম হয়। রাতে কাজ করা বন্ধ করুন। প্রতিরাতে রুটিন মেনে ঘুমান। অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন বর্জন করুন। যদি কোনো ওষুধ তন্দ্রালুভাব আনে তাহলে ডাক্তারকে বলুন যেন তা পরিবর্তন করা হয়।

দাঁতের যত্নে নারকেল তেল!

বেশিরভাগ টুথপেস্টেই থাকে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল। ফলে অনেক সময়ই দাঁতে গর্ত হওয়া ও দাঁত ব্যথার মতো সমস্যাগুলো কমার বদলে আরও বেড়ে যায়! এসব সমস্যা এড়াতে দাঁতের যত্নে নিয়মিত নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন।  

আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এবার ১৫-৩০ ফোঁটা লেবুর রস ও কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট তেল মেশান। সবকটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। ব্রাশে পেস্টটি নিয়ে সাধারণভাবে ব্রাশ করে নিন দাঁত। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহারে দাঁতে গর্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়াও দাঁত খুব পরিষ্কার ও সাদা রাখতেও প্রাকৃতিক এই পেস্টের জুড়ি নেই।

উচ্চ রক্তচাপ হলে যা খাবেন না

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন সি ভোজনে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যেমন কমলা, কিউই, ক্র্যানবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং স্ট্রবেরি ফলের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কমিয়ে থাকে। কিছু খাবার আছে যা উচ্চ রক্তচাপ ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে আর তাই আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার খাদ্যে এই ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

টিনজাত খাবার লবণ দিয়ে সংরক্ষিত করা হয় এবং এতে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। টিনজাত খাবার, স্যুপ ঝোল এবং স্টক খুব খারাপ হতে পারে। জৈব খাদ্য যাতে কম সোডিয়াম আছে এমন খাবার বেছে নিন।

লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই খারাপ। আমেরিকানদের খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-হাইপারটেনশন ব্যক্তিদের সোডিয়াম ভোজন সীমিত করা উচিত। আপনার খাদ্যে অতিরিক্ত লবন যোগ এড়িয়ে চলুন।

লবণ ক্যানিং এবং লম্বা সময়ের জন্য সংরক্ষণের জন্য আচারে সংযোজন করা হয়। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাহলে খাদ্য তালিকা থেকে আচার বাদ দিয়ে দিন।

অত্যধিক চিনি খাওয়া শুধু ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে তাই নয়, এটি আপনার রক্ত চাপ ও বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত ওজনের এবং মোটা মানুষের মধ্যে বেশি প্রচলিত। সুতরাং, চিনি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

গবেষকদের মতে, এক সঙ্গে তিন গ্লাস অ্যালকোহল পানে অস্থায়ীভাবে উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলো প্রভাবিত করে।

মাংস নয় তবে মুরগীর চামড়ায় চর্বির মাত্রা বেশি থাকে যা রক্তচাপ প্রভাবিত করে। লাল মাংস এবং মাখন চর্বিতে পরিপূর্ণ যা রক্ত চাপ রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কফি বা ক্যাফেইনে যদি আসক্ত হন, তাহলে এই পানীয়কে বিদায় বলার সময় হয়েছে। কফি অস্থায়ীভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে।

এই বিভাগের আরো খবর

নিরামিষ খেলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে

নিরামিষ খাওয়া বাঙালির সংখ্যা হাতে গোনা। পাতে মাছের ঝোল না হলে ভোজনরসিক বাঙালির জমে না।আমিষভোজী হলে সুবিধাও অনেক। সহজেই শরীরে প্রোটিনের জোগান মেলে। প্রোটিন শরীর গঠনে সাহা‌য্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরামিষাশীদের সুবিধা আরও বেশি। নিরামিষ শরীরের পক্ষেও ভাল। তেমনই সেক্স লাইফে অত্যন্ত কা‌র্যকরী।

 

 

আমিষ খেলে শরীরে টক্সিক উপাদান ঢোকে। মাংস খেলে শরীর থেকে অ্যামোনিয়ার কটূ গন্ধ আসে। নিরামিষাশী হলে সেই সমস্যা নেই। রোম্যান্সের সময় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, মাংস, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায়। ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। অন্যদিকে ফলে পাওয়া ‌যায় প্রাকৃতিক শর্করা। ‌যা এনার্জিবর্ধক। বেশি এনার্জি মানেই বাড়বে স্ট্যামিনা। স্ট্যামিনা বাড়লে সেক্স জমে ওঠে।

 

 

সমীক্ষায় এও জানা গিয়েছে, ফল শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। পৌরুষত্বহীনতার সমস্যা দেখা ‌যায় না। নিরামিষ খেলে ত্বক কোমল থাকে। নিরামিষ ‌যাঁরা খান, তাঁদের খাদ্য তালিকায় ফল বেশি থাকে। আর ফলে থাকে প্রচুর জল। সেই জল শরীরকে কোমল করে তোলে। মাংসে থাকে ফ্যাট। ‌যা ত্বককে করে তোলে তৈলাক্ত।

হাই ক্যালোরি ডায়েট কোলেস্টেরোল বাড়ায়। হতে পারে ক্যানসার, ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ। অন্যদিকে, নিরামিষ ডায়েটে থাকে বেশি ভিটামিন ও খনিজ। তা শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।

যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁরা সাধারণত পশুপ্রেমী হন। তাঁদের মনটাও সুন্দর হয়। আর কে না চায়, হৃদয়বান মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে! তিনিই তো পারেন পার্টনারের খেয়াল রাখতে। ফল-শাকসবজি খেলে শরীর থেকে বেশি করে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরন হয়। তাতে মন খুশি থাকে। মন-শরীর খুশি থাকলে র‍োম্যান্স জমে ক্ষীর হবেই। 

এই বিভাগের আরো খবর

খালি পেটে খেলেই ক্ষতি

ঘুম থেকে উঠে অনেকেই খালি পেটে চা, কফি বা অরেঞ্জ জুস পান করেন। তাদের জন্য দুঃসংবাদ হলো এসব পানীয় আপনাদের স্বাস্থ্যবান করার চেয়ে পরিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করবে। আরো কিছু খাবার বা পানীয় আছে, যেগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও, খালি পেটে খেলে উল্টো ক্ষতির কারণ হবে। চলুন জেনে নেই খালি পেটে কোন কোন খাবার বা পানীয় খাওয়া ঠিক না।

কলা: খালি পেটে কাঁচা বা আধাপাকা কলা যদি আপনি খান, তাহলে তা ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করবে। অবশ্য পাকা কলা খেলে সে ঝুঁকি নেই।

মরিচ: খালি পেটে মরিচ বা ঝাল মসলা খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, তাই সাবধান। ঝাল জাতীয় খাবার পরিপাক তন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন নষ্ট করে দেয়। ফলে বুক জ্বালা করতে পারে।

টক ফল: লেবু, কমলা লেবুসহ সাইট্রিক এসিড বেশি থাকা ফল খালি পেটে খাওয়া ঠিক না। খেলে অ্যাসিডিটি এমনকি আলসারও হতে পারে। এসব ফলে আঁশ ও ফ্রুকটোজ বেশি থাকায় খালি পেটে পরিপাক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়।

সবুজ সবজি: টাটকা সবুজ সবজি শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে সবুজ সবজি খেলে তা উল্টো ক্ষতি করতে পারে। এগুলোতে থাকা অতি মাত্রায় আঁশ ও অ্যামাইনো এসিড পাকস্থলীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করতে পারে  ও অ্যাবডোমিনালে ব্যথার কারণ হতে পারে।

দই: ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে। এ সময় যদি দই খান, তাহলে শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া সেগুলো নষ্ট করে দিতে পারে। তখন দই খেয়ে কোনো উপকারই পাওয়া যাবে না। তাই খালি পেটে দই নয়।

ডেজার্ট বা মিষ্টি: খাওয়ার পর ডেজার্ট বা মিষ্টি খাওয়া ভালো, আগে নয়। কারণ এসবে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, যা পরিপাক যন্ত্র ও  লিভারের জন্য ক্ষতিকর। রাতে খাবার পর ঐ দুই অঙ্গ ঘুমের কারণে বিশ্রামে থাকে। হঠাৎ করে এসব মিষ্টান্ন পেয়ে তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। তাই যারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মিষ্টি জাতীয় খাবার খান, তারা সাবধান। নইলে পাকস্থলী ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে অনেক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

লিচু: ভারতের বিহারে সম্প্রতি খালি পেটে লিচু খেয়ে বেশ কয়েক শিশু মারা গেছে। এর কারণ হিসেবে পরে জানা গেছে- খালি পেটে ব্লাড সুগার লেভেল কম ছিলো বলে সে সময় লিচু খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায়।

কফি: খালি পেটে কফি পান ক্ষতি। এতে থাকা ক্যাফেইন অ্যাসিডিটির জন্ম দেয়, এমনকি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপাদন করে বেশি, যা স্বাভাবিক পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অ্যালকোহল:  খালি পেটে অ্যালকোহল পান করলে তা শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমনিতেই অ্যালকোহল ক্ষতিকর, খালি পেটে তা পান করলে হার্টসহ শরীরের বড় সব অঙ্গের উপর বেশি চাপ তৈরি করে।

সফট ড্রিংকস: সফট ড্রিংকস পান করা এমনিতেই ক্ষতিকর। এটি খুব এসিডিক। তাই খালি পেটে সফট ড্রিংস পেটে গেলে পাকস্থলীর এসিডের সাথে মিশে বমি ভাব হতে পারে। মাংসপেশি ও শরীরজুড়ে ব্যথাও তৈরি করতে পারে। তাই খালি পেটে উপরের এসব খাবার ও পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন।

পেটের সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান

পেটে গ্যাস হলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে, বমি বমি ভাব আসলে কিংবা বদহজম হলে কিছু ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায়।

গাজর ও পুদিনার জুস
পেটের অস্বস্তি কমাতে গাজর ও পুদিনার মিশ্রণে তৈরি জুস খেলে উপকার পাবেন। গাজরে পুষ্টি পাবেন এবং পুদিনা আপনার পেট খারাপ উপশম করবে। চারটি গাজরের টুকরা টুকরা অংশ, চার কাপ পানি ও এক চা-চামচ শুকনো পুদিনা বা এক টি-ব্যাগ পুদিনা সিদ্ধ করুন। চুলার জ্বাল কমিয়ে ১৫ মিনিট বা গাজর নরম না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধ করুন। টি-ব্যাগ দিয়ে থাকলে তুলে ফেলুন। এরপর মিশ্রণটি ব্লেন্ডারে মিক্স করে জুস উপভোগ করুন। অধিকতর ভালো ফলাফল পেতে এতে আদা মেশাতে পারেন ও সুস্বাদু করার জন্য লেবুর রস দিতে পারেন।

ভাত চা
পেট খারাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে বা ডায়রিয়া থামাতে ভাত চা পান করতে পারেন। ৬ কাপ পানিতে ১/২ কাপ চাল ১৫ মিনিট ধরে সিদ্ধ করুন। তারপর চাল তুলে ফেলুন এবং পানির সঙ্গে অল্প মধু বা চিনি মিশিয়ে উষ্ণ থাকতে পান করুন।

পোড়া পাউরুটি
পেটে অস্বস্তি অনুভব হলে পাউরুটি খেলে ভালো ফল দেয়, কিন্তু পোড়া পাউরুটি খেলে অধিকতর ভালো ফল পাওয়া যায়। পাউরুটির পোড়া অংশ শরীরে উৎপন্ন বিষ যা আপনাকে অসুস্থ করে তোলে তা শুষে নেয়। পাউরুটিতে জেলি মাখুন যাতে খেতে সুস্বাদু লাগে।

আপেল সিডার ভিনেগার
আপেল সিডার ভিনেগার হেঁচকি ও গলা ব্যথা যেমন দূর করে, তেমনি অশান্ত পেটকেও শান্ত করে। এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, এক কাপ গরম পানি এবং এক টেবিল চামচ মধুর মিশ্রণ বদহজম উপশম করবে এবং ক্র্যাম্পিং ও পেটের গ্যাস দূর করবে। বুকজ্বালা জনিত অস্বস্তি কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

চেরি, কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট ও আলুবোখারা
আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাহলে চেরি, কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট কিংবা আলুবোখারা খেতে পারেন। আঁশ জাতীয় এসব ফল শরীরের ক্রিয়া গতিশীল রাখবে ও পেটের অস্বস্তি কমাবে।

দই
পেট ব্যথা হলে আপনি সম্ভবত ডেইরি জাতীয় খাবার কামনা করবেন না। আপনার জন্য সুখবর হল এমন অবস্থায় আপনি দই খেতে পারবেন। দইকে বলা হয় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া। দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ক্ষতি নয়, উপকারই করে। হজম সমস্যা দূর করতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে দই খেতে পারেন। পেট খারাপ হলে সাধারণ দই খাবেন, চিনি বা ফ্লেভার এতে যোগ করবেন না।

জিরা
জিরাতে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেল যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বদহজম, গ্যাস ও পেটে ফোলা বা পেটভর্তি সমস্যা সৃষ্টি করে পেটের অবস্থা খারাপ করে। খাবার গ্রহণের পর বা পেটে গ্যাস অনুভব করলে একমুঠো জিরা চাবাতে থাকুন।

মৌরি
বদহজম, গ্যাস বা পেট ফোলা সমস্যায় মৌরি সাহায্য করতে পারে। পেট খারাপ হলে মৌরি চায়ে চুমুক দিন। কিছু মৌরি চাবাতে থাকুন, এটি হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়, ক্র্যাম্পিং দূর করে এবং বমি বমি ভাব কমায়।

তাপ
পেটে অস্বস্তি হলে গরম পানির বোতল বা হিটিং প্যাড পেটের ওপর রাখুন। তাপ রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং ব্যথার অনুভূতি পাকস্থলী থেকে বাইরের দিকে নিয়ে যায়।

বৃষ্টির জল খান, সুস্থ থাকবেন

বর্ষায় অম্বল, গ্যাসে জেরবার? পেটের সমস্যা নিত্যসঙ্গী? কোনও ওষুধই কাজ দিচ্ছে না? বৃষ্টির জল খান! শুনে চমকে উঠলেন তো?  

বর্ষা মানেই পেটের রোগ। বর্ষা মানেই হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এটাই প্রচলিত ধারণা আমাদের। কিন্তু, বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু। প্রশ্ন উঠবে, কীভাবে? বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির জল সারা দুনিয়ায় সবচেয়ে খাঁটি জল।
 

 

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি, বৃষ্টির জল পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির জলে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির জল পানে অগাধ উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বৃষ্টির জলে কী হয়-

 

১) হজমশক্তি বাড়ায়

বৃষ্টির জলে থাকে অ্যালকালাইন pH যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

২) রাসায়নিক মুক্ত জল

ট্যাপের জল জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির জলে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনওটিই থাকে না।

৩) ক্যান্সার বিরোধী

বৃষ্টির জলে থাকা অ্যালকালাইন pH ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির জল।

৪) পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে

ট্যাডিশনাল ভারতীয় ওষুধ বিদ্যায় প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির জল খেতে বলা হয়। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির জল ওষুধের কাজ করে।

৫) বৃষ্টির জলে সুন্দর চুল করে

কোনও মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির জল অত্যন্ত কোমল। এই জলে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভাল কাজ দেয়।

৬) ত্বকের পক্ষে উপকারী

বৃষ্টির জলে স্নান করলেই অসুখ। এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির জল অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক pH যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। বৃষ্টির জলে সেসবের বালাই নেই।

৭) জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশক

বৃষ্টির জল কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়।

তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির জল ধরুন। বৃষ্টির জল পান করুন।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিদিন ১ মুঠো বাদাম

প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলেই অনেক রোগ-বালাই থেকে দূরে থাকবেন। সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অল্প খরচে চিকিৎসকে দূরে রাখতে হলে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক খনিজ এবং ভিটামিনে পরিপূর্ণ এই খাবারটি শরীরে অন্দরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে একাদিক মারণ রোগ তো দূরে থাকতে বাধ্য হয়ই, সেই সঙ্গে শরীর এমন চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ুও বৃদ্ধি পায়।

 

 

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: এই প্রাকৃতিক উপাদনটির শরীরে রয়েছে প্রায় ৩.৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ প্রয়োজনে লাগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো একাধিক ক্রনিক রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানগুলি সাহায্য করে।

শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে: এটি হলো এমন একটি উপাদান যা ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে লেগে থাকে।

ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ডায়াবেটিকদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখতে পাবেন কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পয়েছে। তাই এই বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি। শরীরে যাতে কোনও ভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওজন হ্রাসে সাহায্য করে: বাদাম খাওয়ার পর ক্ষিদে একেবারে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে শরীরে প্রয়োজন অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে।

দ্রুত ভুঁড়ি কমাতে চান

ওজন নিয়ে সবাই কম বেশি সচেতন হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে ছেলেরা তাদের ভুঁড়ি কমানোর জন্য কতকিছু করছেন। কর্পোরেট জীবনে সবাই কম বেশি বসে কাজ করেন। এর ফলে বেঢপ সাইজে ভুড়ি বেড়েই চলছে। এখন কী করা যায় সেটি নিয়েই যত চিন্তা। মাত্র কয়েকটি অভ্যাস খুব দ্রুত আপনার ভুঁড়ি কমিয়ে দেবে। শুধু মানতে হবে কিছু নিয়ম-

 

 

১) কখন খাবার খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রতিটি মিলের মাঝে যেন ৩-৪ ঘন্টার ব্যবধান থাকে। কারণ খাবার হজম হতে এইটুকু সময় লেগেই থাকে। সেই সঙ্গে খাবারে উপস্থিত পুষ্টকর উপাদানগুলি শরীরের উন্নতিতে যথাযথভাবে কাজে আসার সুযোগ পায়। ফলে খাবার হজম না হতে পেরে চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হওয়ার সুযোগই পায় না।

২) পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। দা জার্নাল অব ক্লিনিকাল অ্যান্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে দিনে ৩-৪ লিটার জল পান করলে হজম ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই পায় না।

৩)ভাজাভুজি খাওয়া চলবে না। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, যেমন- চিনি, ভাত এবং ময়দা যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। এই তিনটি খাবার পুষ্টিকর তো নয়ই, সেই সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। এখন নিশ্চয় ভাবছেন ভাত ছাড়া থাকবেন কীভাবে, তাই তো? চিন্তা নেই। সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস খাওয়া শুরু করুন।

৪) হঠাৎ করে ক্যালোরি গ্রহণ বন্ধ করে দেবেন না। একথা ঠিক যে ওজন বৃদ্ধির পিছনে ক্যালরি অনেকাংশেই দায়ী থাকে। কিন্তু তাই বলে ওজন কমানো চেষ্টায় লেগে পরা মানেই ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার বন্ধ করে দেওয়া, এমন নয় কিন্তু। কারণ শরীরকে সচল রাখতে ক্যালোরির প্রয়োজন পড়ে।সারা দিন যে পরিমাণে পরিশ্রম করছেন, সেই অনুপাতে কত পরিমাণ ক্যালরি আপনার শরীরে প্রবেশ করা উচিত। সেই অনুপাতে যদি ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন।

৫) প্রোটিন খাওয়া চাইই-চাই। প্রতিটি মিলে, অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনারে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকা আবশ্যক। কারণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে বাড়ে বাড়ে ক্ষিদে পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর এমনটা হলে ওজন যে কমবেই, তা বলাই বাহুল্য! প্রসঙ্গত, ওজন কমাতে আরেকভাবেও প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাহলে দেরি কেনও। এসব নিয়মের সঙ্গে নিয়ম করে হাঁটাটা যুক্ত করে নেন। তাহলেই হবে

এই বিভাগের আরো খবর

নিয়মিত লালশাক খাবেন কেন?

লালশাকে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান যা সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত লালশাক খেলে দূরে থাকতে পারবেন রোগব্যাধি থেকে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি ভালো রাখে কিডনি। রক্তশূন্যতা দূর করতেও লালশাকের বিকল্প নেই।

 

জেনে নিন লালশাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে-    

 

 

  • লালশাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এতে হজমের সমস্যা দূর হয়।
  • আয়রন সমৃদ্ধ লালশাক শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দূর হয় রক্তশূন্যতা।
  • নিয়মিত লালশাক খেলে কিডনি ভালো থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকারক পদার্থ বের হয়ে যায়।
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে লালশাকে থাকা ভিটামিন সি ও এ।
  • নিয়মিত লালশাক খেলে ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যায়। লালশাকে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ভিতামিন-ই, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি শরীরে ক্যান্সারের কোষ বিকাশকে বাধা দেয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকতে লালশাকের বিকল্প নেই।
  • অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে লালশাক

ক্লান্তি দূর করতে খাবার

সারাদিন কাজ করার পর বিশেষত সন্ধ্যায় আমাদের শরীর ক্লান্ত থাকে। আর এই ক্লান্তি থেকে আমরা মুক্তি পেতে আমরা সাধারণত হালকা ভাজাভুজি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি। যাতে প্রচুর পরিমাণে সুগার ও ক্যাফেইন থাকে। কিন্তু এতে দ্রুত সমাধান হলেও মাঝে মাঝে আরও ক্লান্ত লাগে আমাদের। তাই দ্রুত এ ধরনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে খেতে পারেন প্রাকৃতিক কিছু খাদ্য। যা সাধারণত আমাদের হাতের নাগালেই থাকে।

 

কলা

শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কলাই হচ্ছে প্রাকৃতিক খাওয়ারগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ কলার মধ্যে শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট, প্রাকৃতিক চিনি, এমিনো এসিড, ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আর একটি কলাতে ৮০ থেকে ১২০ ক্যালোরি রয়েছে।

বাদাম

ক্লান্তি থেকে দ্রুত রেহায় পেতে খেতে পারেন বাদাম। কারণে বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম ও ফলিক এসিড। তবে প্যাকেটে পাওয়া যায় এমন বাদাম না খাওয়াই ভালো কারণ এগুলোতে অনেক সময় বেশি লবন ও তেল থাকে।

ডিম

ডিমে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ৯ ধরনের এমিনো এসিড রয়েছে যা আপনাকে দ্রুত প্রশান্তি দিবে। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন-ডি আছে যা আপনাকে সারাদিনের শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে।

সবুজ পাতার শাক

কম ক্যালোরি, উচ্চমাত্রা ফাইবার ও মিনারেল থাকায় ক্লান্ত শরীরে শাক ও সবজি খেতে পারেন। বিশেষত পুই শাক, বাঁধা কপি ও গাজর খেতে পারেন। কারণ এগুলো ডাইজেস্ট হতে অনেক সময় লাগে যে কারণে পরবর্তী খাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে। এই খাবারগুলো মূলত সালাদ হিসেবে খেতে পারেন।

পানি

পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করলে সারাদিনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায়

ইউরিক অ্যাসিড। রক্তে এটি বাড়ার কারণে দেখা দিতে পারে শরীরে নানা উপসর্গ। যার ফলে হতে পারে মারাত্মক সমস্যা। গাঁটে গাঁটে ব্যথা, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যার মতো নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে শরীরে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম.এ. আজহারের সঙ্গে। তিনি জানান এ রোগের বিস্তারিত।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কেন বাড়ে

 

 

* বংশগত কারণে।

* অতিরিক্ত ওজন।

* মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান।

* চাহিদার তুলনায় প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেলে।

* পিউরিনযুক্ত খাবার (লাল মাংস, কলিজা, ইস্টের তৈরি খাবার, পালং শাক, মাশরুম, ওটমিল, ফুলকপি, মুসুরির দাল, মটরশুঁটি ইত্যাদি)।

* প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয় পান।

* এছাড়া লিভার যদি পর্যাপ্ত ইউরিক অ্যাসিড না তৈরি করতে পারে কিংবা কিডনি যদি ইউরিক অ্যাসিড না বের করতে পারে সেটাও এ জটিলতার অন্যতম কারণ।

* বাতের সমস্যা, ‍হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা থাকলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ

* গাঁটে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে পায়ের বুড়ো আঙুল, হাঁটু, পায়ের পাতা, কবজি, হাতের গাঁটে অসহ্য ব্যথা হয়। সাধারণত এই ব্যথা ৫-১০ দিন একটানা চলে।

* ঘন ঘন জ্বর আসতে পারে।

* শরীরে অস্বাভাবিক ঘাম হয়।

* পেট এবং কোমরে খুব ব্যথা হয়।

* কখনো কখনো সারা শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়।

* কিডনির সমস্যা হতে পারে।

* পিঠে ব্যথা করতে পারে।

* প্রস্রাব করার সময় সমস্যা হতে পারে।

 

ইউরিক অ্যাসিডের পরীক্ষা

রক্ত এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হয়।

ইউরিক অ্যাসিড সমস্যায় যা খাবেন, যা খাবেন না

* পিউরিনযুক্ত খাবার কম খান।

* দুধের তৈরি খাবার খুব উপকারী।

* মুরগির মাংস, কুসুম ছাড়া ডিম খেতে পারেন।

* প্রচুর পানি এবং তরল খাবার খাবেন। ফলের রস, হারবাল চা খুব উপকারী।

* আপেল, কলা, আনারস, লেবু ইত্যাদি ফল খাবেন।

* ভিটামিন সি যুক্ত খাবার এবং সয়াবিন খেতে পারেন।

* বেশি আঁশযুক্ত খাবার যেমন সবজি, শাক খাবেন।

* লাল মাংস, চিংড়ি মাছ এবং সামুদ্রিক মাছ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

* খাদ্যতালিকা থেকে সব রকমের ডাল পরিহার করুন।

* ফুলকপি, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়া, পাকা টমেটো, মটরশুঁটি, মাশরুম, অ্যাসপারাগাস, পালংশাকে ইউরিক অ্যাসিড থাকে। এসব খাবার বর্জন করুন।

* অ্যালকোহল বর্জন করুন।
 

পরামর্শ

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।

* স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট মেনে চলুন।

* নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন।

* যেকোনো কায়িক পরিশ্রমের পর বেশি করে পানি পান করুন।

* ৩ মাস পর পর লিপিড প্রোফাইল চেক করুন। কারণ যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের হাই কোলেস্টেরলের প্রবণতা থাকে।

* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন। চিকিৎসা চলাকালে কোনো অবস্থাতেই ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না।

এই বিভাগের আরো খবর

টুথব্রাশ যত্নে আছে তো?

দাঁত জীবাণুমুক্ত রাখতে আমরা টুথব্রাশ ব্যবহার করি। তবে সেই ব্রাশেই আবার জীবাণু বাসা বাধছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। টুথব্রাশ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে যা দাঁতের জন্য মারাত্নক ক্ষতির কারণ।

জেনে নিন প্রয়োজনীয় কিছু টিপস-   

 

  • ব্রাশ কেনার সময় নরম কিনা সেটা দেখে দেখে নেবেন।
  • নিজের ব্রাশ সবসময় আলাদা করে রাখবেন। ভুলেও যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে ফেলে সেক্ষেত্রে সেটি বাতিল করে দিন।
  • বাথরুমে প্রচুর জীবাণু থাকে। তাই বাথরুমের ভেতরের বেসিনে ব্রাশ রাখা উচিৎ নয়।   
  • ব্রাশ কখনও প্লাস্টিকের ক্যাপ অথবা টিস্যু দিয়ে কভার করে রাখবেন না। এতে ব্রাশে আদ্রতার মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে সেখানে জীবাণু বাসা বাধে।
  • টুথব্রাশ সবসময় ব্রাশ খাঁড়া করে রাখবেন। এতে ব্রাশে থাকা অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে।
  • দুটি ব্রাশ একদম পাশাপাশি না রাখাই ভালো।
  • মাউথওয়াশে টুথব্রাশ ডোবাবেন না।   
  • ৩ মাস পরপর টুথব্রাশ বদলে ফেলবেন অবশ্যই।
  • টুথব্রাশ সংরক্ষণ করতে পারেন ক্যাবিনেটে। ভালো করে ধুয়ে ঝেড়ে অতিরিক্ত পাবনি ফেলে রাখবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

মধু ও বেকিং সোডা: ত্বক হবে উজ্জ্বল

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহারের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে ত্বক রাখতে পারেন সুন্দর। মধু ও বেকিং সোডার  তৈরি ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও কোমল। ত্বকের যত্নে দুইভাবে ব্যবহার করতে পারেন মধু ও বেকিং সোডা। জেনে নিন কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করবেন ফেসপ্যাক।

ফেসপ্যাক- ১

 

 

  • পাত্রে ১ চা চামচ দই নিন।
  • ১ চা চামচ মধু মেশান।
  • মিশ্রণে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।
  • মিশ্রণটি ত্বকে লাগান।
  • ৩০ মিনিট পর ধীরে ধীরে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন।

ফেসপ্যাক- ২

  • একটি পরিষ্কার ও পাতলা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন।
  • কাপড়ের ওপর ১ চা চামচ মধু নিন।
  • মধুর উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন।
  • আঙুলের সাহায্যে দুইটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে কাপড়টি ত্বকে ঘষুন।
  • ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ত্বক।

বেকিং সোডা ও মধু ত্বকে ব্যবহার করবেন কেন?

  • বেকিং সোডা ত্বকের মরা চামড়া দূর করে।
  • মধু ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
  • বেকিং সোডা ও মধু একসঙ্গে ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • ফেসপ্যাকটি ত্বক ব্লিচ করে। ফলে উজ্জ্বল ও কোমল হয় ত্বক।
  • লোমকূপে জমে থামা ময়লা পরিষ্কার করতে পারে এই ফেসপ্যাক।
  • ত্বকের কালচে দাগ দূর করে সুন্দর করে ত্বক।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top