সন্ধ্যা ৭:১০, বুধবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

সেই ছোটবেলার শিক্ষা। খাওয়ার আগে হাত ধোয়া মাস্ট। নইলে নানান রোগ। হাত ধুচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু জীবাণুমুক্ত হচ্ছে কি? হচ্ছে না। কারণ, আপনি যেভাবে হাত ধুচ্ছেন, তাতেই গলদ। কখন হাত ধুতে হবে, কীভাবে ধুতে হবে? দেখুন।

ঠিক তাই। হাত তো ধুচ্ছেন। কিন্তু জীবাণু যাচ্ছে কি? যাচ্ছে না। যাওয়ার কথাও নয়। কারণ, হাত ধোয়াতেই রয়েছে গলদ। মাঝে মাঝেই ধুয়ে নিতে হবে হাত। জীবাণু সংক্রমণ হবে কম। শরীর থাকবে সুস্থ। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, সাজ-সরঞ্জাম জোগাড় করে হাত ধুতে হবে না। শুধু চাই জল আর একটু সাবান। অথবা কোনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ব্যস।

বাড়ি হোক বা অফিস, সারাদিন সংস্পর্শে আসতেই হয় বিভিন্ন মানুষের।এছাড়া হাতে নিতেই হয় ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিস। টেবিল, চেয়ার বা মাটিতেও হয়ত কখনও হাত রাখতে হয়। মানে, উড়ছে জীবাণু। চোখ, নাক অথবা মুখে হাত দিলেই ব্যস। শরীরে সহজেই ঢুকছে জীবাণু।


সেই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ধুতেই হবে হাত। রান্না করা ও খাওয়ার আগে ধুয়ে নিতে হবে হাত। ক্ষতর চিকিত্সা, ওষুধ খাওয়া অথবা অসুস্থ ও আহত মানুষকে শুশ্রূষার আগে। কনট্যাক্ট লেন্স পরা বা খোলার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে। রান্না করা, বিশেষ করে কাঁচা মাছ, মাংস রান্নার পর হাত ধোয়া মাস্ট। টয়লেট ব্যবহারের পর। ডায়াপার চেঞ্জ করার পর। হাঁচি ও কাশির পর। পোষ্যের সঙ্গে খেলার পর। ক্ষতর চিকিত্সা, ওষুধ খাওয়া অথবা অসুস্থ ও আহত মানুষকে শুশ্রূষার পর। জামাকাপড় কাচা ও জুতো পরিষ্কারের পর। কারও সঙ্গে হাত মেলানোর পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা।

কীভাবে ধুতে হবে হাত?

প্রথমে জলে ভিজিয়ে নিতে হবে হাত। হাতে সাবান দিতে হবে। ১৫ সেকেন্ড ঘষতে হবে। জলের নিচে ভাল করে ঘষতে হবে। ন্যাপকিন দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে। ন্যাপকিন হাতে নিয়ে কল বন্ধ করতে হবে।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিটা ঠিক কী?

হাতে সাবান দিয়ে তালুতে তালু ঘষে নিতে হবে। আঙুলের মাঝে ঘষে নিতে হবে। হাতের ওপরের দিকেও ভাল করে  ঘষতে হবে। বুড়ো আঙুলের গোড়ায় ঘষে নিতে হবে। আঙুলের ওপরের দিকে ঘষে নেওয়ার প্রয়োজন। নখের ডগা ঘষে নিতে হবে। কব্জি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। ভাল করে মুছে শুকনো করে নিতে হবে। হাত ধুয়ে নিন। কিন্তু নিয়ম মেনে। জীবাণু বলবে টা টা বাই বাই।

মাংস বেশি খেলে বাড়বে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

মাংস আপনার ভীষণ প্রিয়। সামনে চিকেন বা মটন দেখলে স্থির থাকতে পারেন না। কিন্তু এবার সাবধান হোন। রোজ যদি আপনি চিকেন বা মটন খান তাহলে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়বে। গবেষণা বলছে এমনই।

গবেষণা বলছে, চিকেন বা মটনের মত অ্যানিম্যাল প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যার ফলে কারোর খাদ্যতালিকায় যদি রোজ অ্যানিম্যাল ফ্যাটে থাকে, তবে তা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। যাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকলেও, প্রথমে কোনও ডায়াবেটিস ছিল না। তাদের খাদ্যাভ্যাসের উপর নিয়মিত নজর রাখা হয়। কিছুদিন পর দেখা যায়, যাদের মধ্যে চিকেন বা মটন খাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ডায়াবেটিসের মত ‘ঘুণপোকা’র হাত থেকে বাঁচতে চাইলে, এখনই সাবধান হোন।

রাজধানীতে ৬ জন দগ্ধ হাসপাতালে ভর্তি

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বংশাল সিক্কাটুলী বটতলা মাজার এলাকায় একটি জুতার কারখানায় সলিউশনের কাজ করার সময় কেমিক্যালের মিশ্রণে আগুন লেগে মালিকসহ ৪ জন দ্বগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- কারখানা মালিক মুরছালিন মিয়া (২১), কর্মচারি আব্দুল হাদিছ (১৯), আজিজুল ইসলাম (১৫) ও সোহেল মিয়া (২০)। দুপুর ২টার দিকে তাদের ঢামেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে আনা হয়। কারখানা মালিক মুরছালিন মিয়া বলেন, একটি ৫ তলা ভবনের নীচ তলায় তার জুতার কারখানা। সেখানে ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরে কাজ করার সময় সলিউশন  থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে তারা ৪ জন দ্বগ্ধ হন। অন্যদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় কাজ করার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শ্রমিক আশরাফ আলী (৫৫) ও শাকিল আহমেদ (২০)। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের সহকর্মী আলামিন জানান, তারা ওই ভবনে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। দগ্ধ দুজচনের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার বনগ্রামে। বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, আশরাফ আলীর শরীরের ৪২ শতাংশ এবং শাকিল আহমেদের শরীরের ৬০ শতাংশ দ্বগ্ধ হয়েছে।

 

পটলের যতগুণ

পটল একটি পুষ্টিকর সবজি। পটল আমাদের দেশে রান্নায় বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। পটল ভাজি বা পটলের দোলমা খেতে বেশ সুস্বাদু। সবুজ রঙের এ সবজিটি মাছ বা মাংসের সঙ্গে বা অন্য সবজির সঙ্গেও রান্নায় ব্যবহার করা হয়। পটল কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও যথেষ্ট উপকারী। ভিটামিন এ ও সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে পটোল ত্বকের জন্য উপকারী। ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিস্তার রোধ করে পটল বয়সের ছাপ ঠেকাতে সাহায্য করে।

 পটলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধানে এবং লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে। পটল পেট ভরা রাখতে ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। পটল রক্তকে পরিশোধিত করে। পটলের ছোট গোলাকার বিচিগুলো কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ঠা া, জ্বর ও গলা ব্যথা কমাতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয় পটল।

ওজন নিয়ন্ত্রণের সহজ কিছু টিপস

করতোয়া ডেস্ক ঃ বেশিরভাগ সময় স্লিম থাকতে গিয়ে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমসিম খেতে হয় সবাইকে। বিশেষ করে চাকরিতে ঢোকার পর কিংবা বিয়ের কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যায় মোটা হওয়া। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার পর তো কথাই নেই, ওজন দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায়। কে চায় ওজন বেশি নিয়ে ঘুরতে? ওজন যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ডায়েট, ব্যায়াম ইত্যাদি সবকিছুকে ব্যর্থ করে ওজন যেন দিন দিন শুধু বাড়তেই থাকে!
জেনে নিন ওজন নিয়ন্ত্রণের কিছু টিপস। এগুলো মেনে চললে সারা জীবন ওজন থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে।
* ওজন নিয়ন্ত্রণে ডায়েটিং জরুরি। কিন্তু খাবার খাওয়ার মধ্যে বেশি সময় গ্যাপ রাখা যাবে না। আবার ডায়েট করতে গিয়ে না খেয়ে থাকারও কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ বার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন। তাতে শরীর ভালো থাকবে। কখনো হাঁটতে পারেন, আবার কখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেরে নিতে পারেন জগিং। এতেও ব্যায়াম হবে।
* রাতের খাবার খাওয়ার পর খানিকক্ষণ হালকা শরীরচর্চা করা ভালো। আবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর একটু হেঁটে নিতে পারেন। এতে শরীর ঝরঝরে থাকবে।
* মেয়েদের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহনের পরিমান দিনে ১০০০-১৫০০ বেশি না হওয়াই ভালো। তবে পুরুষের শারীরিক চাহিদা একটু বেশি বিধায় তাদের জন্য ২০০০ ক্যালোরি বরাদ্দ। এর বেশি হলেই ভুঁড়ি জমতে শুরু করবে।
* এলোপাথাড়ি ব্যায়াম না করে নিজের শরীরের সাথে মানানসই ব্যায়াম করুন। সেই সাথে বাজার থেকে সস কিনে খাওয়া বাদ দিন, এতে প্রচুর চিনি থাকে।
* প্রত্যেক সপ্তাহে একই দিনে ও একই সময়ে ওজন মাপুন। এটা ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র আপনাকে সতর্ক করে তুলবে।
* সঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া সারুন। কারণ হজম ক্ষমতা গতিশীল রাখতে এটা খুব জরুরি।
* প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট খাওয়া প্রয়োজন। পেট দীর্ঘক্ষণ খালি রাখবেন না। এতে মেটাবলিজম কমে যাবে ও ওজন বাড়বে।
* ভাজা-পোড়া খাবেন সপ্তাহে একদিন।
* নির্দিষ্ট বেলার খাবারের মাঝের সময়ে যদি খিদে পায়, তাহলে প্রচুর পরিমানে পানি খান। আবার ফলও খেতে পারেন।
* মিষ্টি, কোমল পানীয়, কেক ইত্যাদি খাবার সপ্তাহে একদিন খেতে পারেন। বিস্কুট খেতে চাইলে ডায়েট বিস্কিট কিনুন।
* প্রাণীজ ফ্যাট, বিশেষত লাল মাংস ও ডালডা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিন। মাংস খেলে চামড়া ও চর্বি বাদ দিয়ে খান।
* অতিরিক্ত দুধ জাতীয় খাবার যেমন মাখন বা চিজ বেশি খাবেন না।
* দিনে দুইকাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* মাদকজাতীয় দ্রব্যের নেশা ছেড়ে দিন।
* পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন আলু, ভাত, রুটি খান। তবে লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খাওয়া সবচাইতে ভালো।
* দুপুরে ও রাতে অবশ্যই এক কাপ করে সালাদ বা কম মশলায় রান্না সবজি খাওয়া ভালো।
* খাবারের প্লেটের আকার ছোট করুন এবং একবারের বেশি দুবার নিয়ে খাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করুন। খাবার একবারেই প্লেটে তুলে নেবেন।
* চেষ্টা করুন সকালে ভারী ব্রেকফাস্ট করার। সামান্য ভারি লাঞ্চ এবং হালকা ডিনার করার। নাস্তা হিসাবে খান বাদাম, মুড়ি, ফল, ডায়েট বিস্কুট।
* চিনি দুই চামচের বেশি খাবেন না।
না খেয়ে থাকার চেয়ে বার বার অল্প অল্প করে খান। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবেন না। দেখবেন, সঠিক সময়ে পরিমিত খাবার গ্রহণে ওজন থাকবে একবারে আপনার হাতের মুঠোয়।

শিশুর অতিরিক্ত কাঁদার কারণ

করতোয়া ডেস্ক শিশুর কান্নায় সব মা-বাবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। শিশুর কান্না দ্রুত থামাতে মা-বাবা সাধারণত সব কিছুই করেন। তবে অনেক সময় দেখা যায় শিশু অতিরিক্ত কাঁদছে। মা-বাবা বা অভিভাবকরা অনেক সময় বুঝে ওঠেন না শিশুর কান্নার কারণ।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে শিশুর অতিরিক্ত কান্নার কিছু কারণের কথা।
শিশুর অতিরিক্ত কান্নার একটি বড় কারণ ক্ষুধা। পেট ভালোভাবে না ভরলে শিশু কাঁদতে থাকে। অনেক মা-বাবাকে দেখা যায় ময়লা ডায়াপার অনেকক্ষণ পরিয়ে রাখে। এতে শিশুর অস্বস্তিবোধ হয়, তখন সে কাঁদে।


ময়লা ডায়াপার অনেকক্ষণ পরিয়ে রাখলে শিশুর র?্যাশ হতে পারে। এ থেকে শিশু অনেক সময় বেশি কান্না করে। শিশুর ছয় থেকে আট মাস হলে সে অনেক সময় বেশি কাঁদতে থাকে। এর কারণ হতে পারে তার দাঁত ওঠা। দাঁত ওঠার সময় অস্বস্তি ও ব্যথা হয়।
শিশু খুব বেশি ক্লান্ত থাকলে কাঁদতে থাকে। এই সময় শিশুর ঘুম প্রয়োজন। ঘুমালে সে স্বস্তি ফিরে পায়। পেটের গ্যাস হওয়ার কারণে শিশু অনেক সময় অতিরিক্ত কাঁদে। এ রকম হলে শিশুকে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করান। কিছুটা আরামবোধ করবে।


শিশুরা সাধারণত একা থাকতে পছন্দ করে না। মানুষের মাঝে থাকতে চায়। অনেক সময় অন্য কারো মনোযোগ আকর্ষণের জন্য শিশু কাঁদে।
অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলেও শিশু কাঁদে। তাই শিশু এই কারণে কাঁদছে কি না সেটা অভিভাবকদেরই বুঝতে হবে।
অসুস্থ হলেও শিশু কিন্তু অতিরিক্ত কাঁদে। অসুস্থ হলে সাধারণত শিশুরা বিরক্তবোধ করে।
এ ছাড়া অনেক সময় সিনথেটিক কাপড় পরালে গায়ে অস্বস্তিবোধ হয়। এতেও সে কাঁদে।

জেনে নিন পুষ্টিমান বজায় রেখে খাবার রান্নার কৌশল

করতোয়া ডেস্ক, শরীরে পুষ্টিমান বাড়ানোর জন্য খাবারের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু খাবার টেবিলে সাজানো আপনার প্রিয় নানাবিধ খাবারে কি ঠিকঠাক পুষ্টিমান বজায় থাকছে?
আসলে রান্না করতে গিয়েই খাবারের সবচেয়ে বেশি পুষ্টিমান নষ্ট হয়। এ কারণে গৃহীত খাদ্য হতে যতটুকু পুষ্টি উপাদান আমাদের পাওয়া উচিত আমরা তা পাই না।
একটু সচেতন হয়ে রান্না করলেই হয়তো আশানুরূপ পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তাই পুষ্টিমান ধরে রেখে কিভাবে রান্না করা যায় তা জানা জরুরী।

* অনেকে শাকসবজি কেটে এরপর ধুয়ে থাকেন। পুষ্টিমান বজায় রাখতে চাইলে আগে ধুয়ে পরে কাটুন।
* সবজি একেবারে ছোট ছোট করে না কেটে কিছুটা বড় টুকরো করে কাটুন। এতে  পুষ্টিমান ভাল থাকবে।
* সবজি কাটার ক্ষেত্রে খোসাসহ কাটার চেষ্টা করুন। কেননা, খোসার নিচেই বেশিরভাগ পুষ্টিমান থাকে।
* রান্না করার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। এতে রান্না যেমন তাড়াতাড়ি হবে তেমনি এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে। কেননা অক্সিজেন খাদ্যের সংস্পর্শে আসার ফলে ভিটামিন বেশি নষ্ট হয়।
* কোন খাদ্যই বেশি সময় নিয়ে রান্না করা উচিত নয়। বেশি সেদ্ধ হলে পুষ্টিমানও বেশি নষ্ট হয়। তাই শাকসবজি, মাছ, মাংস বা ডিম রান্না করার সময় কম পানিতে দ্রুত রান্না শেষ করুন।

বারবার নখ ভাঙে?

কারও কারও নখ বেশ নরম আর ভঙ্গুর হয়। নখ প্রায়ই ভেঙে যায়, টুকরা বের হয়ে আসে বা খুলে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে বলা হয় অনাইকোস্কিজিয়া। বয়োবৃদ্ধি এ সমস্যার একটি অন্যতম কারণ। তবে আরও নানা কারণে নখ বারবার ভেঙে যেতে পারে। যেমন – বারবার পানি লাগানো বা খুব বেশি ডিটারজেন্ট, নেইলপলিশ রিমুভার বা এ-জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার।

যাঁরা বাসনকোসন বা কাপড়চোপড় পরিষ্কার করেন, সারা দিন বা সাঁতারুদের এই সমস্যা হতে পারে। পানিতে ভিজলে নখ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পানি শোষণ করে ও এর অণুগুলো ফুলে ওঠে, পরে শুকিয়ে গেলে আবার কুঁচকে যায়। বারবার এমনটি হলে নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়। এ ছাড়া অপুষ্টি, যক্ষ্মা, থাইরয়েডের সমস্যা, সোরিয়াসিস, রেনোড ডিজিজ ইত্যাদিতেও নখ ভাঙে। সেলেনিয়াম বিষক্রিয়ায়ও এমনটা ঘটে।

নখে আঘাত, যেমন দাঁত দিয়ে নখ খুঁটলেও ভঙ্গুর হয়।  নখের ভঙ্গুরতা রোধ করতে হলে নিয়মিত নখ কাটুন, পানি ব্যবহার বেশি হলে নখের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য হ্যান্ড অ্যান্ড নেইল ক্রিম ব্যবহার করুন। যাঁদের সারা দিন হাত ভেজাতে হয়, তাঁরা দস্তানা ব্যবহার করতে পারেন। প্রোটিন নেইলপলিশ ব্যবহার করুন, যা নখকে পুষ্টি দেয়। বায়োটিনসমৃদ্ধ খাবার নখ ভালো রাখতে সহায়ক, আর এটি পাওয়া যায় ডিমে। পুষ্টিকর খাবার খান।

সাইনোসাইটিসের সমস্যায় করণীয়

সাইনোসাইটিস সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা নানা ধরনের জীবাণুর আক্রমণে হয়ে থাকে। তবে নাকে আঘাত পাওয়া, অ্যালার্জি, ঠান্ডা লাগা, ধুলোবালি, নাকের বাঁকা হাড়, নাকে টিউমার ইত্যাদি সমস্যা এ রোগের প্রকোপ বা ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।সাইনোসাইটিসের লক্ষণ হলো নাক দিয়ে পানি পড়া বা হঠাৎ করে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, সেই সঙ্গে তীব্র-দীর্ঘ ও মাথাব্যথা। সাইনাসগুলোর ঠিক ওপরেও চাপ চাপ ব্যথা থাকতে পারে। মাথা ভারী ভারী লাগে ও খাবারের স্বাদ বা রুচি নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় এর সঙ্গে জ্বর, গা ম্যাজ ম্যাজ করা এবং মানসিক অবসাদ যোগ হয়।

 অনেকের এই সমস্যা বারবার, যেমন বছরে কয়েকবারই হতে দেখা যায়, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন অ্যালার্জিতে ভোগেন। সাইনোসাইটিসের সমস্যা এড়াতে শুষ্ক, খোলামেলা এবং যথেষ্ট আলো-বাতাস আছে এমন ঘরে বা পরিবেশে বসবাস করুন। ধুলোবালি থেকে দূরে থাকুন। ঘন ঘন ঠান্ডা লাগাবেন না। পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং প্রচুর ভিটামিনযুক্ত খাবার খান। সাইনোসাইটিসের সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক অবস্থায়ই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রোগটিকে দীর্ঘমেয়াদি হতে দেওয়া যাবে না। এই সমস্যা থেকে আরাম পেতে সেই সঙ্গে নাকে বাষ্পের ভাপ নিতে পারেন, পরিমিত বিশ্রাম নিন।
 -ইন্টারনেট

দিনে আট গ্লাস পানি?

সাধারণত শোনা যায় যে সুস্থ থাকতে হলে দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে। কিন্তু এটা আসলে একধরনের মিথ – এমনটাই বলছেন সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা। এই কথার পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২.৬ লিটার ও পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ২.১ লিটার পানি দরকার হয়। কিন্তু এর সবটাই পানি পান করার মাধ্যমে আসে না।

পানি ছাড়াও খাবারের মধ্যে থাকা জলীয় অংশ এবং বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন পানি, সবটা মিলিয়েই এই চাহিদা পূরণ হয়। চা, কফি, দুধ, দই ও ফলমূলে যথেষ্ট জলীয় অংশ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন যে আমিষ, ফ্যাট ও শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়া হয়, তা বিপাক ক্রিয়ায় প্রায় ২৫০ মিলিলিটার পানি উৎপন্ন করে। এর বাইরে ঠিক কতটুকু পানি খেতে হবে তা নির্ণয় করার জন্য আমাদের মস্তিষ্কে পিপাসাকেন্দ্র রয়েছে। সাধারণ আবহাওয়ায় ছয় গ্লাসের মতো পানি খাওয়া যথেষ্ট হলেও কঠোর পরিশ্রম, ঘাম, গরম আবহাওয়া এই চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর আপনার পিপাসা ও প্রা¯্রাবের রং তার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে কাজ করে।

পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট

 

অধ্যাপক ডা: ইকবাল হাসান মাহমুদ,পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট শতকরা ১২ থেকে ১৫ ভাগ মানুষকে আক্রান্ত করে চলেছে। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বুকের মাঝে আড়ষ্টভাব, ছোট করে শ্বাস নেয়া, শ্বাসের সাথে সাঁ সাঁ শব্দ হওয়া ক্লান্তি এবং ব্যায়ামের পর সুস্থ হতে অনেক লম্বা সময় লাগা। রোগ নির্ণয় নির্ভর করে প্রকৃত ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষার উপর। রোগীকে ব্যাপক স্বাস্থ্য শিক্ষা দেয়া এ রোগের চিকিৎসায় খুবই প্রয়োজনীয় দিক। স্বল্পমেয়াদী বিটা-২ এগোনিস্ট ইনহেলারের মাধ্যমে আমরা সাধারণত চিকিৎসা করে থাকি।

প্রদাহ বিরোধী ঔষধ যেমন ক্রোমলিন সোডিয়াম, নেডোক্রোমিল সোডিয়াম এবং স্টেরয়েড ইনহেলার এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় রোগের অন্তর্নিহিত সমস্যা দূর করার জন্য। যদিও আমরা মুখে সেব্য থিওফাইলিন অথবা সালবুটামিল জাতীয় ঔষধ প্রয়োগ করি তবুও তার ভূমিকা পরিষ্কার নয়। যদি এ রোগ নির্ণিত না হয়ে থাকে তখন এ ব্যায়ামজনিত হাঁপানি, যা কিনা খুবই প্রচলিত। তাতে দেখা যায়, শ্বাসনালীতে সাময়িক বাধা যেটা সচল জীবনযাপনকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ কয়েক মিনিট ব্যায়ামের পরেই শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট। কিন্তু যখন রোগটিকে চিহ্নিত করা হয় এবং ভালোমত চিকিৎসা করা হয় তখন চিকিৎসার সুফলে রোগীর জীবনযাত্রার ব্যাপক স্বাচ্ছন্দ্য ঘটে। ১৯৮৪ সালের আমেরিকান অলিম্পিকের দলে ৫৯৭ জনের মধ্যে ৬৭ জনেরই (১১.২%) ব্যায়ামজনিত হাঁপানি ছিল। অথচ খেলোয়াড়দের মধ্যে ৪১ জনই সেই খেলায় পদক জয় করেছিল এই হাঁপানি নিয়েই।

 তাদের ব্যাপক সাফল্য সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, সুষ্ঠুভাবে এবং পরিকল্পনামাফিক চিকিৎসা নিয়ে একজন হাঁপানি রোগীও পারে অলিম্পিক সোনা জয় করতে। এখন প্রশ্ন আসে পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্ট কতটুকু প্রচলিত? এ রোগে জনসমষ্টির একটি বড় অংশ আক্রান্ত হয়। যাদের হাঁপানি আক্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ রোগী তাদের রোগাক্রান্ত জীবনে এটার মুখোমুখি হয়েছে এবং অনেক হাঁপানি রোগীই ধারণা করেন যে, পরিশ্রমই তাদের হাঁপানি আক্রমণের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। এ ছাড়া শতকারা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ রোগী যাদের এ্যালর্জিজনিত নাকের প্রদাহ রয়েছে তারা এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। কিছু এ্যালার্জেন, ভাইরাস, ঠান্ডা বাতাস, বায়ু দূষণ অথবা এ সবগুলো একসাথে মিলে এটা ঘটাতে পারে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝে যারা হাঁপানি রোগী হিসেবে নির্ণিত হয়নি এবং যাদের কোনো এ্যালর্জিজনিত শ্বাসরোগ নেই তাদের মাঝে ব্যায়ামজনিত হাঁপানির সংখ্যা খুব কম।

 যেমন : মাত্র ৩% থেকে ১০%। মানুষের কর্মক্ষম সময়ের জীবনে এ রোগের হার শতকরা ৩ থেকে ১২ ভাগ উঠানামা করে। হাঁপানি একটি শ্বাসতন্ত্রের বাধাজনিত রোগ যেখানে শ্বাসনালীতে প্রদাহ এবং প্রচন্ড সংবেদনশীলতা থাকে। শ্বাসনালীতে বাধা প্রভাবিত হয় শ্বাসনালীর দেয়াল ফুলে, মোটা হয়ে গেলে, আঁঠালো মিউকাস তৈরি হতে থাকলে, শ্বাসনালীর নরম মাংসের খিচুনি হলে, বাধাটি শুরু হতে পারে। প্রদাহজনিত ঘটনা শ্বাসনালীতে ঘটলে বিশেষত প্রদাহের মাধ্যমে বা মিডিয়েটরস মাস্ট সেল, মেক্রোফেজ এবং ইপিথেলিয়াল কোষ থেকে নিঃসরিত হলে। শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা হলো বিভিন্ন ধরনের এ্যালার্জেন, পরিবেশ উত্ত্যক্তকারী বস্তু, শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস সংক্রমণ, ঠান্ডা বাতাস এবং ব্যায়ামের কারণে।

 শ্বাসতন্ত্রের বাধা যদি ব্যায়ামের জন্য হয়ে থাকে তখনই তাকে ব্যায়ামজনিত হাঁপানি বলে। এ ধরনের হাঁপানির কারণ বহুবিধ। যদিও এর কারণ অনেকগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে তবুও এ রোগের ব্যাপারে পুরোপুরি ধারণা হয় যে, শ্বাসনালীর বাধা যা কিনা পরিশ্রমজনিত শ্বাসকষ্টে তৈরি হয় তার সম্পর্ক রয়েছে তাপমাত্রার উঠানামার উপর। পরিশ্রম বা পরিশ্রমের পর অতিমাত্রায় শ্বাস গ্রহণের ফলে শ্বাসনালীর উপরের অংশ কিছুটা অক্ষম হয়ে পড়ে শ্বাস নেয়া বাতাসকে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে সমান করতে এবং ১০০% আর্দ্রতা প্রদান করতে। তাপ এবং পানিকে টেনে নেয়া হয় শ্বাসনালীর কোষগুলো থেকে যাতে করে শ্বাস নেয়া বাতাসকে গরম এবং আর্দ্র রাখা যায়। তার ফলে শ্বাসতন্ত্রের কোষগুলোতে পানির ঘাটতি থাকে এবং শ্বাসনালী ঠান্ডা থাকে।

 এ রোগের চিকিৎসার লক্ষ্য হলো একজন রোগীকে পরিশ্রমকালীন অবস্থায় সম্পূর্ণ শ্বাসকষ্ট মুক্ত রাখা। চিকিৎসা শুরু করতে হয় এমন ধারায়, যাতে করে শারীরিক অবস্থানকে ওষুধের প্রতি বেশি নির্ভর না করেও হাঁপানি আক্রমণের হারকে কমানো যায়। উষ্ণ, আর্দ্র পরিবেশ অর্থাৎ উষ্ণ এবং আর্দ্র হাওয়ায় শ্বাসগ্রহণ ব্যায়ামজনিত হাঁপানির চিকিৎসা উন্নতি সাধন করে এবং রোগীর ভালো হওয়ার সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে। ব্যায়ামের সময় একটি ফেস মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসের সময় নেয়া বাতাস উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে বিশেষত যখন ব্যায়ামের সময় বাইরের অবস্থান ঠান্ডা এবং শুকনো থাকে। মুখ দিয়ে শ্বাস না নিয়ে বরং নাক দিয়ে শ্বাস নিলে বাতাস উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকবে। ওষুধ ব্যবহার করে চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো হাঁপানির শুরুটাকে বাধা দেয়া এবং ব্যায়ামের পর যাতে শ্বাসকষ্ট শুরু না হয়। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ আছে যেগুলো দিয়ে শ্বাসনালীকে প্রসারিত করাএবং প্রদাহ বিরোধী কাজ সম্পন্ন করা যায়।

 ওষুধগুলোর মধ্যে আছে বিটা এগোনিস্ট, ক্রোমনিল, সোডিয়াম, নেডোক্রমিল সোডিয়াম এবং স্টেরয়েড, যেগুলোর ইনহেলারের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় এবং এ ছাড়া রয়েছে মুখে সেব্য থিওফাইলিন। বিটা এগোনিস্ট ওষুধের মধ্যে রয়েছে সালবুটামল টারবুটালিন সালফেট এবং সালমেটেরল। যাই হোক, স্বল্পমেয়াদী বিটাএগোনিস্ট ওষুধই হলো পরিশ্রমজনিত হাঁপানি প্রতিরোধে কার্যকর ওষুধ, যা কিনা ৮০% থেকে ৯৫% রোগীর বেলায় কার্যকর। এই ওষুধটি ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যায়ামের ১৫ মিনিট পূর্বে নিতে হয়। এই ওষুধটির কর্মক্ষমতা তিন থেকে ছয় ঘন্টা থকে। এর মধ্যে ব্যায়ামের সময় যদি হাঁপানির লক্ষণ দেখা দেয় তবে অতিরিক্ত দুই পাফ নেয় যাবে। ক্রোমলিন এ রোগের চিকিৎসায় খুবই কার্যকর যদিও পরিশ্রমের ১০ থেকে ৪৫ মিনিট পূর্বে ইনহেলারের সাথে নেয়া হয়। নেডোক্রোমিল সোডিয়াম একটি প্রদাহ বিরোধী ইনহেলার যা কিনা এখন ব্যাপকভাবে এ রোগে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 এর কার্যকারিতা ক্রোমলিনের মতোই এবং ব্যায়ামের পূর্বে গ্রহণ করতে হয় এটা খুবই কার্যকর সেসব রোগীর সাথে যাদের পালমোনারি ফাংশন পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকে। নেডোক্রোমিল এবং বিটা এগোনিস্ট এক সাথে প্রয়োগ করলে খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। স্টেরয়েড ইনহেলার হাঁপানির লক্ষণকে যথেষ্ট কমায় প্রদাহ বিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে। যদিও এর তাৎক্ষণিক শ্বাসনালী প্রসারক কাজ নেই এবং ব্যায়ামের পূর্বে শুধু এটা একা গ্রহণ করে তেমন কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। এটাকে বরং সবসময়ের জন্য ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে হাঁপানি দমনের জন্য। মুখে সেব্য থিওফাইলিন কয়েক যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটার কিছু পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও এটি একটি কার্যকর ওষুধ।

মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকর কফি তৈরি করবেন যে ৭টি উপায়ে

করতোয়া ডেস্ক- কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কফি ডায়াবেটিস মেলাইটিস, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এটি মেজাজের উন্নতি ঘটায় এবং বিষন্নতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। কফি আপনাকে সতর্ক ও মনযোগী থাকতে সাহায্য করে। কিছু উপায়ে আপনি কফিকে মস্তিস্কের জন্য স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারেন। চলুন তাহলে জেনে নিই মস্তিস্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীভাবে কফি তৈরি করার পন্থাগুলো।


অর্গানিক কফি বেছে নিন- সাধারণত ফসল উৎপাদনের সময় কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। অর্গানিক ফসলে সেই ঝুঁকি নেই। তাই কফি কেনার সময়ে অর্গানিক কফি কিনুন।
দুধ বাদ দিন- কফিকে মস্তিষ্কের জন্য স্বাস্থ্যকরভাবে তৈরি করতে চাইলে এতে দুধ যোগ করা বাদ দিন। যদি একান্তই দুধ ছাড়া কফি পান করতে না পারেন তাহলে সয়া দুধ বা কাঠবাদামের দুধ বা রাইস মিল্ক ব্যবহার করুন।

 গবেষণা মতে গরুর দুধের চেয়ে এই দুধগুলো উপকারী ।ক্রিম বাদ দিন- যদি আপনার কফিতে ক্রিম যোগ করার অভ্যাস থাকে তাহলে তা আজই বাদ দিন। এটি মস্তিষ্ক এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। এটি ওজন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

কৃত্রিম মিষ্টিকারক বাদ দিন- অনেকেই চিনির পরিবর্তে কৃত্রিম মিষ্টিকারক ব্যবহার করেন। কিন্তু এটি মস্তিষ্কের জন্য উপকারী তো নয়ই বরং লুজ মোশন, ত্বকের যন্ত্রণা, মাথাব্যথা এবং শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে।চিনি বাদ দিন- চিনি ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে এবং মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। চিনির পরিবর্তে প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক মধু ব্যবহার করতে পারেন। মধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।


মসলা যোগ করুন- দারুচিনি, জায়ফল এবং এলাচি শুধু সুগন্ধি মসলাই নয় এগুলোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও থাকে। দারুচিনি রক্তের কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং গ্লুকোজের মাত্রা কমতে সাহায্য করে যা হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তাই আপনার কফির সাথে দারুচিনি যোগ করতে পারেন।


চকলেট যোগ করুন- ডার্ক চকলেটে বায়ো এক্টিভ নাইট্রিক অক্সাইড (ঘঙ) থাকে যা রক্তনালীকে প্রসারিত হতে সাহায্য করে। যার ফলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই কফিতে ডার্ক চকলেট যোগ করতে পারেন।কিন্তু অন্য সব জিনিসের মতোই কফিও পরিমিত পরিমাণেই পান করা উচিৎ, যেহেতু এতে ক্যাফেইনের মত আসক্তি সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে।

আশকোনার জঙ্গি আস্তানা আহত সেই শিশুটি হাসপাতাল ছেড়েছে

রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় গ্রেনেড বিস্ফেরণে আহত শিশু সাবিনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।  সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র দেয়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে তার নানা-নানীর জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে বলে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর প্রথমে শিশুটিকে ঢামেক  হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে বার্ণ ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা হাজী ক্যাম্পের পাশে নব্য জেএমবির জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে ‘অপারেশন রিপোল টুুয়েন্টিফোর’ চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অভিযানে আফিফ এবং সাকিরা নামে দুই জঙ্গি নিহত হয়। এছাড়া আত্মসমর্পনের সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হয় ‘জঙ্গি মায়ের’ সঙ্গে থাকা শিশু সাবিনা।

পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হলে করণীয়

গোড়ালির ব্যথাকে ইংরেজিতে ‘হিল পেইন’ বলে। গোড়ালির ব্যথা সাধারণত গোড়ালির নিচের দিকে অথবা গোড়ালির পেছন দিকে হয়। যদি আপনার গোড়ালির ব্যথা নিচের দিকে হয় তাহলে বুঝতে হবে এটার কারণ হলো প্লান্টার ফাসাইটিস। এ ক্ষেত্রে হাঁটলে পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা বাড়ে, সকালবেলা ব্যথা বেশি থাকে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে ব্যথা কিছুটা কমে; কখনও কখনও গোড়ালি শক্ত বলে মনে হয় এবং শক্ত জুতা ব্যবহার করলে ব্যথা বেড়ে যায়; গোড়ালি কখনও কখনও ফুলে যায়। আর পায়ের গোড়ালির পেছনের দিকে ব্যথা হয় সাধারণত অ্যাকিলিস টেনডিনাইটিস হলে- এই ব্যথা গোড়ালির হাড়ের সাথে যেখানে অ্যাকিলিস টেনডন মিশেছে সেখানে হয়। গোড়ালির ব্যথা বেশ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে এবং অনেকে এই ব্যথায় চলাফেরা করতে পারেন না।
গোড়ালিতে ব্যথা কেন হয়?


ক্যালকেনিয়াম বা গোড়ালির হাড়ে এবং পায়ের তলার মাংসপেশিতে সমস্যা হলে সামান্য থেকে মারাত্মক ধরনের ব্যথা হয়। যেহেতু শরীরের সব চাপ পড়ে গোড়ালি ও পায়ের পাতার ওপর, তাই গোড়ালিতে ব্যথা হলে গোড়ালিতে ভর দিয়ে হাঁটাচলা করতে কিংবা কোনো কাজকর্ম করতে রোগী অসমর্থ হন। বিভিন্ন কারণে গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। তবে সাধারণ কারণগুলো হলো- ১. অ্যাকিলিস টেনডিনাইটিস। এ ক্ষেত্রে অ্যাকিলিস টেনডনে প্রদাহজনিত কারণে ব্যথা হয়। ব্যথা বেশ তীব্র হয়।
২. অ্যাকিলিস টেনডন রাপচার। এ ক্ষেত্রে অ্যাকিলিস টেনডেন ছিঁড়ে যায়।


৩. আঘাতজনিত কারণ। এ ক্ষেত্রে গোড়ালিতে আঘাত লাগলে ব্যথা অনুভূত হয়। হাড় ভাঙলে অথবা চাপ পড়লে ব্যথার সৃষ্টি হয়।
৪. হাড়ের টিউমার। ৫. বার্সাইটিস। ৬. ফাইব্রোমায়ালজিয়া। ৭. গোড়ালির হাড় ভাঙা। ৮. গাউট। ৯. গোড়ালির প্যাড ছিঁড়ে যাওয়া।
১০. হিল স্পার। দীর্ঘ দিন প্লান্টার ফাসাইটিস থাকলে ফাসা টিস্যু ব্যান্ড যেখানে আপনার হিল বোনের বা গোড়ালির হাড়ের সাথে সংযুক্ত হয়, সেখানে হিলস্পার (ক্যালসিয়াম জমা হওয়া) গঠন হতে পারে।

 আপনার হাড়ের উদ্ভেদ দেখার জন্য এক্স-রে করা যেতে পারে। উদ্ভেদ বা প্রকটন বিভিন্ন মাপের হতে পারে। ১১. অস্টিওমাইলাইটিস। এটি হাড়ের সংক্রমণ। ১২. প্রান্তিক স্নায়ুর সমস্যা। ১৩. প্লান্টার  ফাসাইটিস। এটি গোড়ালির বিশেষ ধরনের বাত। বেশি দৌড়ালে বা লাফঝাঁপ দিলে টিস্যু ব্যান্ড বা ফাসার (এটি গোড়ালির হাড় থেকে পায়ের আঙুলের গোড়া পর্যন্ত বিস্তৃত) প্রদাহ হতে পারে।
১৪. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস।  ১৫. স্ট্রেস ফ্রাকচার।  
১৬. টারসাল টানেল সিনড্রোম।  
কখন ডাক্তার দেখাবেন
যদি নিচের উপসর্গগুলো থাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
-গোড়ালির আশপাশে তীব্র ব্যথা হলে ও ফুলে গেলে।


-যদি পায়ের পাতা বাঁকা করে নিচের দিকে নামাতে না পারে, পায়ের আঙুল ওঠাতে না পারে কিংবা ভালোভাবে হাঁটতে না পারে।
-যদি গোড়ালির ব্যথার সাথে জ্বর থাকে, গোড়ালি অবশ হয়ে যায় কিংবা ঝিনঝিন করে।
-আঘাতের সাথে সাথে যদি গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা হয়।
গোড়ালির ব্যথা খারাপ কি না বুঝব কিভাবে
আপনি না হাঁটলেও কিংবা দাঁড়িয়ে না থাকা সত্ত্বেও যদি আপনার গোড়ালিতে অবিরাম ব্যথা থাকে। আপনি বিশ্রাম নেয়া, বরফ দেয়া ও অন্যান্য ঘরোয়া চিকিৎসা নেয়ার পরও যদি গোড়ালির ব্যথা কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী থাকে।
চিকিৎসা: -পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন এবং কিছু ব্যায়াম করবেন। -ব্যথানাশক শুধু খাবেন। -পেছনে খোলা- এমন জুতা পরবেন। -নিচু হিলের (৩/৮  অথবা ১/২) জুতা পরবেন।  
-প্রদাহ কমাতে আপনার গোড়ালির পেছনে বরফ দেবেন।     -ইন্টারনেট

দাঁত সম্পর্কিত বিষয়গুলো জেনে রাখুন

১) আপনার বাচ্চার দুধ দাঁত উঠবে ৬ মাস থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত। ২) আপনার বাচ্চার মূল দাঁত উঠবে ছয় বছর বয়সের পর থেকে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত। ৩) আপনার সন্তানের আক্কেল দাঁত উঠবে সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে। ৪) বাচ্চা দুধ দাঁতগুলো সাধারণত ৬ বছর বয়সের আগে থেকে ক্রমানুসারে পড়তে থাকবে। ৫) বাচ্চাকে অন্তত ২ বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াবেন যা দাঁত ও চোয়ালের গড়নে সহায়তা করে। ৬) ঘুমন্ত অবস্থায় বাচ্চাকে ফিডার দিয়ে দুধ খাওয়াবেন না।

 ফিডারে দুধ খাওয়ালে দাঁত ক্ষয়রোগ করে।  ৭) বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পর তুলাতে সামান্য পানি ভিজিয়ে দাঁতের পৃষ্ঠ ঘষে দেবেন যা ক্ষয়রোগ থেকে দাঁতকে রক্ষা করবে। ৮) বড়দের দাতের ক্ষেত্রে যদি দাঁতের মধ্যে কালোদাগ বা ক্ষয় রোগ বা ডেন্টাল ক্যারিজ দেখা যায়, তাহলে ব্যথা হওয়ার আগেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা ফিলিং করিয়ে নিবেন। মনে রাখবেন যত দেরি করবেন, তত বিপদ অর্থাৎ দাঁতে ব্যথা শুরু হবে এবং সে ক্ষেত্রে আর ফিলিং এর মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না। ৯) ব্যথা যুক্ত দাঁতের ফিলিং করা যায় না। সে ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল করে দাঁতকে ব্যথা মুক্ত করতে হয়। মনে রাখবেন, রুট ক্যানেল চিকিৎসা ব্যয় বহুল তাই ব্যথা শুরুর আগেই দাঁত ফিলিং করিয়ে নিন।


১০) দাঁতের মুকুট বা ক্রাউন যদি বেশি ভেঙ্গে যায় অথবা চারদিকের যে কোন একদিকে দাঁতের দেয়াল ভাঙ্গা থাকে সে ক্ষেত্রে ফিলিং দীর্ঘ স্থায়ী হয় না। ব্যথাযুক্ত দাঁতে রুট ক্যানেল করে তার উপর কৃত্রিম মুকুট বা ক্রাউন পরিয়ে দেয়া হয় যা দাঁতকে দীর্ঘ স্থায়ী রূপ দেয়।
১১) দাঁতের ক্রাউন কয়েক ধরনের হয়। যেমন- ক)-পোরসেলিন ক্রাউন (সিরামিক মুকুট) খ) মেটালিক ক্রাউন (স্টিলের মুকুট) গ) সিরামেজ কাউন
ঘ) অ্যাক্রেলিক জ্যাকেট ক্রাউন (শুধুমাত্র সামনের দাঁতের প্লাস্টিক মুকুট)
ঙ) মেটাল ফিউজড টু পোরসেলিন ক্রাউন চ) ক্যাড ক্যাম মিল্ড জিরকোনিয়া ক্রাউন, ইত্যাদি।


১২) উপরের ক্রাউন বা মুকুট বা ক্যাপগুলোর মধ্যে আমাদের দেশের অবস্থা অনুযায়ী মেটাল ফিউজড টু পোরসেলিন ক্রাউন সবচেয়ে সুন্দর দীর্ঘস্থায়ী ও উন্নত। ১৩) তাই দাঁতের মুকুট বা ক্রাউন বা ক্যাপ ধরতে হলে একটু বেশি দাম দিলে উন্নত ক্যাপ লাগানোই উচিত হবে। ১৪) প্রতি ৬ মাস অন্তর উন্নত দেশে দাঁত ওয়াশ বা স্কেলিং করে থাকে। রোগীরা আমাদের দেশে আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রতি বছর অন্তত একবার স্কেলিং করানো ভালো। ১৫) আজকাল দাঁতে অনেক উন্নত ধরনের ফিলিং করা যায় দাঁতের কালারের সাথে মিশে যায়। ১৬) আপনার শিশুর দাঁতের যতœ নিন ও নিয়মিত পরিচর্যা করুন।

 প্রথম ৬ বছর অন্তত ৩ বার ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন, নতুবা দুধ দাঁতগুলো ঠিক সময়ে না পড়ে অনেক দেরিতে পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে মূল দাঁত ঠিক সময় ঠিক জায়গায় না উঠে আঁকা বাঁকা ভাবে অন্যত্র উঠতে পারে। ফলে চোয়াল ও দাঁতে অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। আবার সময়ের আগেই দুধ দাঁত পড়ে গেলে ও পরে উঠার মূল দাঁত আঁকা বাঁকা হতে পারে। ১৭) বাচ্চার আঁকা-বাঁকা দাঁতগুলো সাধারণ ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করিয়ে নিতে হবে। ১৮) আঁকা বাঁকা দাঁতের এ ধরনের চিকিৎসা অর্থোডেন্টিক ট্রিটমেন্ট বলে। ১৯) তুলনামূলক কম খরচে রিমুভেল অ্যাপ্লায়েন্স দিয়ে যথাসময়ে চিকিৎসা সম্ভব। ২০) তবে ফিক্সড অর্থোডেন্টিক ট্রিটমেন্টটি বা ব্রেইস পদ্ধতির চিকিৎসা অত্যাধুনিক কিন্তু ব্যয় বহুল ও অধিক কার্যকরী। ২১) মনে রাখবেন দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয় থাকলে যদি ফিলিংয়ে সমাধান না হয়, সেক্ষেত্রে দাঁতের ক্যাপ করার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসা ছাড়াও ক্যাপ বা ক্রাউন করা যায়।
২২) মনে রাখবেন রুট ক্যানেল ছাড়া দাতে ক্যাপ করলে ভবিষ্যতে যদি ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে ওই ক্যাপ না খুলে ডেন্টাল ড্রিল মেশিনের সাহায্যে ক্যাপ ফুটো করে কেটে আক্রান্ত দাঁতের রুট ক্যানেল করে নিতে হবে।


২৩) মনে রাখবেন, দাঁত স্কেলিং করলে দাঁতের মাড়ি সুস্থ ও সবল থাকে।
২৪) অনেকের ধারণা স্কেলিং করলে দাঁতের গোড়া আলগা হয়ে যায়। আসলে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। বরং দাঁতের গোড়ার পাথর তা দাঁতকে মাড়ি থেকে আলগা করতে থাকে এবং দীর্ঘদিন এক রকম পাথর জমতে থাকলে মাড়ির প্রদাহজনিত রোগ হয়। ২৫) আপনার ভাঙ্গা দাঁত বা দাঁতের গোড়া ব্যথা না করলেও ফেলে দিন নতুবা দীর্ঘদিন এ অবস্থা থাকলে মারাত্মক রোগ যেমন – চোয়ালে সিস্ট, টিউমার এমনকি ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি করতে থাকে।
২৬) দাঁত তোলার আগে রোগীর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) হৃদরোগ (হার্ট ডিজিজ), জন্মগত হৃদরোগ, প্রোস্থেটিক বডি পার্টস, ডায়াবেটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।


কিছু রোগ থাকলে দাঁত তোলার ১ ঘন্টা আগে রোগীকে প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ড্রাগ খাওয়াতে হবে যাতে হৃদরোগের ঝুকি কম থাকে। মনে রাখবেন এন্টিবায়োটিক খেলে দাঁতের ক্ষত জলদি শুকায় না।
দাঁত তুলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এন্টিবায়োটিক লাগে না। কিছু রোগের ক্ষেত্রে আগে প্রতিষেধক এন্টিবায়োটিক ছাড়া দাঁত তোলা নিষেধ।
২৭) দাঁত তোলার আগে ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে নিতে পারেন। তাহলে পরে আর ঝামেলা হবে না। ব্যথা না করলে ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ২৮) দাঁত তোলার পর অন্তত ২৪ ঘন্টা গরম ও শক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। দাঁত তোলার পর ঘন্টা খানেক পর প্রেসার প্যাক এর গজ ফেলে দেবেন ২৪ ঘন্টা ঠান্ডা ও পাতলা খাবার খেতে হবে।

২৯) গজ ফেলে দেয়ার পর শুকনো তুলো ব্যবহার করবেন না। তাহলে রক্ত পড়া শুরু হতে পারে। ২৪ ঘন্টা জোরে কুলি করা বা থু থু ফেলা নিষেধ। কারণ এতে ডেন্টাল সকেটে জমাটবাধা রক্ত সরে গিয়ে এখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে পারে এবং সেখানে খাবার জমে ড্রাইসকেট নামক যন্ত্রণাদায়ক ইনফেকশান তৈরি করতে পারে।

৩০) দাঁত ফেলার পর আইসক্রিম খাওয়া একটি বোকামী। কারণ আইসক্রিম এর চিনি জমাট বাঁধা রক্তের সাথে মিশে ব্যাকটেরিয়ার উৎকৃষ্ট খাবার হতে পারে। এতে ইনফেকশান হওয়ার সুযোগ বেশী থাকে।
৩১) বাচ্চাকে চকলেট জাতীয় খাবার খেতে বারণ করা উচিত। এগুলো দাঁতের ক্ষয়রোগ সৃষ্টি করে।

বয়স ত্রিশের আগেই নারীদের প্রথম সন্তান নেওয়া উচিৎ

করতোয়া ডেস্ক ,বয়স ২৮ বছর শুনেই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ‘হাই রিস্ক মাদার’ লিখে চিহ্নিত করেন শায়লা রহমানকে (ছদ্মনাম)। প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মাস্টার্স পাস করে বিসিএস দিয়ে সবেমাত্র চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এখন বাচ্চা নেওয়ার জন্যে মন স্থির করেছি। আর আপনি আমাকে বলছেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’!’
জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনার বয়সের কারণেই আপনি এখন ঝুঁকিপূর্ণ মা’।

রাহেলা সিদ্দিকী (ছদ্মনাম) পেশায় ব্যাংকের কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের জুন মাসে ৩১ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দুই মাসের মাথায় তার গর্ভপাত হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে আবারো গর্ভপাত হয় রাহেলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি বয়সে গর্ভধারণেই বাড়ছে এই ঝুঁকি। ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই মেয়েদের প্রথমবার মা হওয়ার ক্ষেত্রে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শুধু গর্ভপাতের ঝুঁকি নয়, সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে এবং সন্তানের স্বাভাবিকতার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিতে পড়ছেন মায়েরা।

বগুড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ সামসী আরা বেগম জানান, নগরায়নের প্রভাবে এই সমস্যা বাড়ছে। অনেক মা’কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করলে তারা সেটি সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, সাধারণত ২৮ বছরের বেশি বয়স হলেই মেয়েদের প্রথম সন্তান গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হয়। ৩০ বছরের বেশি হয়ে গেলে এ ঝুঁকি আরো বাড়ে। ৩৫ বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে প্রথম সন্তান জন্মদান অনেক বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায়। যেটি গর্ভধারণের জন্যে খুবই বিপদজনক হয়ে দাঁড়ায়।

 শুধু সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেই নয়, সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের প্রশ্নটিও ওঠে বেশি বয়সে মা হতে গেলে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার বলেন, অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।

তবে অনুমাণ করা যায়, জিনগত কারনেই সন্তানের অটিজম সমস্যা হয়ে থাকে। এছাড়াও যে কারণগুলো অনুমাণ করা যায়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, মেয়েদের বেশি বয়সে মা হওয়া। নগরায়নের কারণে পরিবেশগত সমস্যাকেও এ ক্ষেত্রে দায়ী করেন তিনি।

২০১৩ সালে সরকার কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে যে গবেষণা পরিচালনা করে, সেখানে দেখা যায়, ঢাকায় শিশুদের অটিজমের হার ৩ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে এ হার মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রথম সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে গর্ভপাত হওয়ার জন্যে আরো তিনটি বিষয়কে দায়ী করেন ডা. সামসী। তিনি মায়ের বেশি বয়স ছাড়াও পরিবেশগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, আমাদের শহরের বাতাস, পানি এবং খাবারে বিষাক্ত উপাদান থাকে, সেগুলোও সন্তান গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। খাদ্যে ফরমালিন, মার্কারি, স্টেরয়েড, হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে মায়ের জন্যে।

আমাদের বাজারে এন্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা যেমন, এন্টি ফাঞ্জেট, সিপ্রোফ্রেক্সিন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক মেয়েদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করে।
এছাড়াও প্রকৃতিগত কারণ রয়েছে। যেমন, জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থতাও দায়ী।

মেয়েদের মা হওয়ার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স হিসেবে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সকে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, এই সময় মেয়েদের উর্বরতা ভালো থাকে। সরকার থেকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে এবং মা হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে ২৫ বছরের আগে ‘মা’ হওয়া নিরাপদ- এ তথ্যটিও প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশক ধরেই বাড়ছে সময়ের আগেই গর্ভপাত হওয়া এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি ৪টি গর্ভের মধ্যে একটি গর্ভপাত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সর্ম্পকিত বৈশ্বিক পত্রিকা ল্যনসেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি বছর ৫ কোটি ৬০ লাখ গর্ভপাত হয়। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ভয়াবহ।

সুগার আছে? তাও বিন্দাস আলু খান

বয়স বেড়েছে। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা। হারিয়ে যাওয়া রূপকথার মতই দূরে সরে গিয়েছে আলুর নানা পদও। তবে আর মন খারাপ করবেন না। ব্লাড সুগারেও আলু খেতে পারেন। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন আলু সুগার বাড়ায় না বরং নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তার জন্য জানতে হবে ম্যাজিক রেসিপি।

রক্তে শর্করা বাড়লে, প্লেট থেকে জিলিপি সন্দেশ বা আলু উধাও …গরম ভাতে আলু সিদ্ধ, ঝাপসা অতীত। তবে  মন খারাপের দিন এবার শেষ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন আলুর জাদুতেই রোখা যাবে ব্লাড সুগার…এতদিন ভাবতেন আলুর জাদু শুধু মুচমুচে পোট্যাটো চিপসেই। মোটেই তা নয়। চমকে দিয়েছে ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের গবেষণা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলু রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা  নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আলু, কাঁচা কলার মতো সবজিতে রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চই নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা। ক্ষুদ্রান্ত্রে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ হজম হয় না। বৃহদান্ত্রে গিয়ে ফার্মেন্টেড হয়ে যায় এই স্টার্চ। তৈরি হয় ফ্যাটি অ্যাসিড চেন। ফ্যাটি অ্যাসিড চেন কোলনের কোষগুলিতে এনার্জি সোর্স হিসেবে কাজ করে। খাদ্যনালীতে অস্বাভাবিক কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রয়েছে  রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের।
গবেষণা বলেছে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট থেকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ খেলে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কোলন ক্যান্সার, হার্টের অসুখ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। তাহলে কি পোটাটো চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর যে কোনও পদই খাওয়া যাবে?
এখানেই মনের ইচ্ছায় দাড়ি টানতে বলছেন গবেষকরা। বলছেন রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ পেতে  হলে দরকার আলুর ম্যাজিক রেসিপি। গবেষণায় দেখা গেছে সিদ্ধ করা আলু ঠাণ্ডা হলে তাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের মাত্রা বাড়ে।
বেক করা আলুর পদেও প্রচুর রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে। তাই আলু ছাড়া আলুনি জীবন এবার শেষ…ডায়বেটিসের ভয় দূর করে দু একটা আলুর পদ খাওয়া যেতেই পারে।

রোজ কেন বেশি করে জল খাবেন? ১০টি কারণ

কাজের চাপে আমরা অনেকসময়ই জল খেতে ভুলে যাই। খাবারটা কোনও একফাঁকে খেয়ে নিলেও, সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি জল খাওয়ার বেলায়। নির্দিষ্ট সময় বাদে বাদে জল খাওয়ার কথা আমাদের মনেই থাকে না। আর এতে মারাত্মক ক্ষতি হয় আমাদের দেহের। শরীর সুস্থ রাখতে আমাদের সবার উচিত বেশি করে জল খাওয়া। কারণ জল খাওয়ার গুণাগুণ অনেক।

১) জল দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

২) দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, পেশী ও টিস্যুকে রক্ষা করে। বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টি উপাদানকে ভেঙে দেহের শোষণের উপযোগী করে তুলতে সাহায্য করে।

৩) কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং কিডনির মাধ্যমে টক্সিন ও দেহের বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে দূর করতে সাহায্য করে।

৪) হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টকে সচল রাখে।

৫) পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে ডিহাইড্রেশন আটকানো যায় ও ফুসফুসের কোষও আর্দ্র থাকে।

৬) পরিপাকে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

৭) দেহের কোষে কোষে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

৮) নাক, চোখ, মুখের টিস্যু আর্দ্র থাকে। শুষ্ক হয়ে যায় না।

৯) মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে।

১০) ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দাঁত, ত্বক ও মাড়ি সুস্থ রাখে।

 

দাঁতের ফিলিং কখন এবং কেন করা হয়?

আমাদের যাদেরই দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে, তাদের সবারই ফিলিং ও রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট এর সাথে কখনো না কখনো পরিচয় ঘটেছে। কিন্তু এই দুটি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীরা কি সুবিধা লাভ করে। কখন এই চিকিৎসা করতে হয় অথবা কেন এই চিকিৎসা প্রয়োজন এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই সীমিত। সময় স্বল্প তার কারণে চিকিৎসকরাও রোগীদের সবসময় এই ব্যাপারগুলো বিশুদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাই আসুন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিই।


ফিলিং:  অনেকেরই দাঁতে পোকা ধরার সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ডেন্টাল ক্যারিজ বলা হয়। যখন ক্যারিজ শুরু হয় বা ধীরে ধীরে ক্যারিজের কারণে দাঁতে গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন প্রাথমিক ভাবে ক্যারিজটি পরিষ্কার করে সেই গর্তটি কখনো রাসায়নিক পদার্থ বা কখনো মেডিকেটেড পদার্থ বা কখনো উভয় পদার্থের সমন্বয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। একেই সাধারণ ভাষায় ফিলিং বলা হয়।

অনেক সাধারণ মানুষ যাকে পুটিং বলেন। এছাড়াও যদি আঘাতের কারণে দাঁতের সামান্য অংশ ভেঙে যায় সেখানে ফিলিং করা যেতে পারে বয়সের কারণে যাদের দাঁতের ক্ষয় হয়, ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে শিরশির করে, চিকিৎসক মনে করলে সেখানেও ফিলিং করতে পারেন।
ফিলিং ম্যাটেরিয়াল: সারা পৃথিবীতে ফিলিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে বিভিন্ন পদার্থ ব্যবহৃত হয়ে থাকে তবে সামনের দাঁত বা পিছনের দাঁতের ফিলিং ম্যাটেরিয়াল এবং শিশুদের বা প্রাপ্ত বয়স্কদের ফিলিং ম্যাটেরিয়াল আলাদা।

 সামনের দাঁতের কাজ সাধারণত খাদ্যবস্তু ছেড়া বা হালকা কামড় দেওয়া। তাই এই দাঁতের ক্ষেত্রে খুব একটা শক্তিশালী ফিলিং ম্যাটেরিয়াল প্রয়োজন হয় না। অন্য দিকে কথা বলা বা হাসার সময় সামনের দাঁতগুলোই মানুষের নজরে আসে, তাই এমন ফিলিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয় যার রং দাঁতের স্বাভাবিক রং এর প্রায় কাছাকাছি পিছনের দাঁতগুলো অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী এবং চিবানো বা ভাঙার কাজ তারাই করে থাকে এবং এই দাঁতগুলো সাধারণত বাহির থেকে দেখা যায় না। তাই সৌন্দর্য্যকে প্রাধান্য না দিয়ে এমন কোন ফিলিং ম্যাটেরিয়াল বেছে নেওয়া হয় যেটি যথেষ্ট শক্তিশালী।

 বাচ্চাদের দাঁতে সাধারণত একটি বিশেষ ধরনের ফিলিং ব্যবহার করা হয় যা স্বত:স্ফুতভাবে ফ্লোরাইড নি:সরন করে এবং ভবিষ্যতে ক্যারিজ প্রতিহত করে এমন সারা পৃথিবীতে মার্কারি ফিলিং ব্যবহার করা হয়। কারণ এই মার্কারী বা পারদ শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই প্রাপ্ত বয়স্কদের পিছনের দাঁতে লাইট কিওর ফিলিং করা যায়। সময়মত ফিলিং না করলে রোগীর ব্যথা বেড়ে যাবে এবং চিকিৎসার ব্যয়ভারও বেড়ে যাবে। এমনকি দাঁত উঠানোও লাগতে পারে। তাই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন আর প্রাণ খুলে হাসুন। সুস্থ সবলও থাকবেন।

শিশুদের এ্যাংকেল ফ্রাকচার শিশুদের গোড়ালী

কি? মানবদেহে গোড়ালী সন্ধি তিনটি অস্থি এবং কিছু লিগামেন্ট নিয়ে গঠিত। অস্থিগুলো হলো ফিবুলার শেষাংশ, টিবিয়ার শেষাংশ এবং ট্যালাস অস্থি। শিশুদের ক্ষেত্রে এপিফাইসিয়াল ইনজুরি খুবই স্বাভাবিক এবং যার একতৃতীয়াংশ ঘটে গোড়ালীর চতুষ্পার্শ্বে। এই তিনটি অস্থির মধ্যে টিবিয়া এবং ফিবুলার শেষাংশে যে কোন ফ্রাকচার হলে তাকে এ্যাংকেল ফ্রাকচার বলে।


কেন এবং কিভাবে হয় ?
পায়ের পাতা স্থিরাবস্থায় অথবা কোন গর্তে আটকে পড়া অবস্থায় যদি পা একদিকে অথবা অন্যদিকে ঘুরে যায় সেক্ষেত্রে টিবিয়া অথবা ফিবুলার ফাইসিস আলাদা হয়ে যায়, যার ফলে সাল্টার-হ্যারিস ফ্রাকচার টাইপ-১, এপিফাইসিস আড়াআড়িভাবে বা ট্রান্সভারসলি ভেঙ্গে যায় এবং টাইপ-২ এপিফাইসিস আড়াআড়ি ভেঙ্গে ত্রিকোনাকার মেটাফাইসিস সহ আলাদা হয়।

 ব্যাপক বাইরের দিকে ঘুরে এবং দূরে সরে গিয়ে ফিবুলা আরো উপরের অংশে ভেঙ্গে যেতে পারে। মেটাফাইসিস স্পাইকসহ পিছনে, বাইরের দিকে অথবা পিছনে ভিতরের দিকে সরে যেতে পারে। আর যখন ভিতরের দিকে টানপড়ে অর্থাৎ এডাকশন ইনজুরি হয় তখন ফিবুলার শেষাংশ আলাদা হয়ে যায়।
আবার সালটার-হ্যারিস টাইপ-৩ অর্থাৎ এপিফাইসিসের একাংশ আলাদা হয়ে যায় এবং টাইপ-৪, এপিফাইসিস ও মেটাফাইসিসের একাংশ লম্বালম্বিভাবে আলাদা হয়ে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু এ ধরনের ফ্রাকচার খুবই কম হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সুপাইনেশন এডাকশন ফোর্স কাজ করার জন্যই ঘটে থাকে। এছাড়া আরো দুই ধরনের অস্বাভাবিক ফ্রাকচার ঘটতে পারে বাড়ন্ত গোড়ালীতে। এগুলো হলো-


১। টিলাক্স ফ্রাকচার-এন্টেরিওর টিবিও-ফিবুলার লিগামেন্টের টানে টিবিয়ার ছোট্ট এভালশন ফ্রাকচারকে টিলাক্স ফ্রাকচার বলা হয়; শিশু-কিশোরদের বহিরাংশের এপিফাইসিস ভেঙ্গে সাল্টার-হ্যারিস টাইপ-৩ ফ্রাকচার হয়।


২। ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ঃ এখানে তিন মাত্রার আড়াআড়ি, লম্বালম্বি এবং পাশাপাশি প্লেসে ফ্রাকচার হয়ে এপিফাইসিস ফ্রাকচার সাল্টার হারিস টাইপ-৩ এবং টাইপ-৪ যৌথভাবে ঘটে থাকে। যার ফলে বর্ধন অস্বাভাবিক অথবা স্থগিত হতে পারে।


উপসর্গ/লক্ষণ ঃ গোড়ালীতে আঘাতের চিহ্ন এবং ইতিহাস থাকে। প্রচন্ড ব্যথা থাকে, গোড়ালী ব্যাপক ফুলে যায় গোড়ালী নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। চাপ দিলে আঘাতপ্রাপ্ত গোড়ালী সন্ধিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। সাধারণতঃ ৫-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের মাঝে এটা ঘটে থাকে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা এক্সরেঃ অস্থানচ্যুত ফ্রাকচার সাধারণতঃ এক্সরে-তে ধরাপড়ে না। তবে ফাইসিস এবং এপিফাইসির মাঝে ফাঁক বেশী দেখা গেলে সেক্ষেত্রে সন্দেহ করতে হবে এবং বাচ্চাকে এক সপ্তাহ পর আবার এ্যাংকেল এক্সরে করাতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ফাইসিসের এক্সরেতে সন্দেহ হতে পারে তবে কয় সপ্তাহ পর এক্সরেতে ব্যাপক নতুন অস্থি পেরিওস্টিয়ামের নীচে দেখা যায়।


স্থানচ্যুত ফ্রাকচার সহজেই এক্সরেতে বোঝা যায় হোক না সেটা এপিফাইসিস ফ্রাকচার অথবা টিলোক্স ফ্রাকচার? আর ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে টিবিয়ার এপিফাইসিস একদিকে এবং মেটাফাইসিস আরেক দিকে চলে যায় ফলে এক্সরে ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ধরা পড়ে না।
সিটি স্ক্যান: অস্থানচ্যুত, ট্রাইপ্লেন কিংবা টাইপ-৩ ফ্রাকচার নির্ধারণের জন্য সিটি স্ক্যান উত্তমপন্থা।


চিকিৎসা ঃ শিশুদের এ্যাংকেল ইনজুরি যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সাল্টার-হ্যারিস টাইপ-১ এবং টাইপ-২ যদি স্থানচ্যুত না হয় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র শর্ট লেগ ফুলপ্লাস্টার দিয়ে ৩-৪ সপ্তাহ অনড় রাখা হয়। আর স্থানচ্যুত ফ্রাকচার হলে সেক্ষেত্রে ক্লোজড রিডাকশন অজ্ঞান দিয়ে করা হয় এবং শর্ট লেগ ফুল প্লাষ্টার করে অনড় রাখা হয় ৩-৪ সপ্তাহ তারপর ওয়াকিং ব্রেস দিয়ে আরো ৩ সপ্তাহ রাখা হয়।


টাইপ-৩ ও টাইপ-৪ ঃ এ ধরনের ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে স্থানচ্যুত ফ্রাকচার না হলে শর্ট লেগ ফুল প্লাস্টার দিয়ে ৩-৪ সপ্তাহ রাখা হয়। তবে ৫ দিন পর এক্সরে করে কোন টুকরো স্থানচ্যুত হলো কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। স্থানচ্যুত ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে যে কোর্সের কারণে ফ্রাকচার হয়েছে তার ঠিক উল্টো প্রক্রিয়ায় রিডাকশন করে প্লাস্টার দিয়ে অনড় করে রাখা হয় ৩-৪ সপ্তাহ। আর রিডাকশন যথাযথভাবে না হলে কিংবা পুনরায় স্থানচ্যুত হলে সেক্ষেত্রে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনের মাধ্যমে স্থানচ্রুত টুকরো যথাযথভাবে রিডাকশন করে ইন্টাফ্রাগমেন্টারী স্ক্রু ফাইসিসের সমান্তরালভাবে প্রয়োগে করে ফিক্সেশন করে রাখা হয় এবং শর্ট লেগ ব্যাকস্লাব অথবা কাস্টপ্লাস্টার দিয়ে ৪-৬ সপ্তাহ অনড় রাখা হয়।


টিলাক্স ফ্রাকচার ঃ এ ধরনের ফ্রাকচার টাইপ-৩ এর মতো করে চিকিৎসা করতে হয়।
ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ঃ যদি স্থানচ্যুত ফ্রাকচার না হয় সেক্ষেত্রে ক্লোজড রিডাকশন করে ৩-৪ সপ্তাহ প্লাস্টার দিয়ে অনড় করে রাখা হয়। আর স্থানচ্যুত ফ্রাকচার হলে অপারেশন করে স্ক্রু ফিক্সেশন করতে হয়।


জটিলতা ঃ অনেক জটিলতার মধ্যে এ্যাংকেল ফ্রাকচারের উল্লেখযোগ্য জটিলতাগুলো আলোচনা করা হলো।
১। ম্যালইউনিয়নঃ রিডাকশন যথাযথভাবে করা না হলে সেক্ষেত্রে দশ বৎসরের কমবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভালগাস ডিফোরমিটি হয় তবে রিমডেলিং হয়ে বাঁকা সোজা হয়ে যায়। কিন্তু বয়স্ক বাচ্চাদের ও কিশোরদের ক্ষেত্রে-অপারেশনের মাধ্যমে বাঁকা সংশোধন করতে হয়।

২। অসমাঞ্জস্য বর্ধন ঃ এপিফাইসি ফ্রাকচার টাইপ ৩ ও টাইপ ৪ স্থানীয়ভাবে জোড়া লেগে যায় ফলে ভিতরের অংশে বর্ধন হয় না কিন্তু বাইরের অংশে বর্ধন চলতে থাকে। যার ফলে টিবিয়ার ভ্যারাস ডিফোরমিটি তৈরি হয়।

খর্বাকৃতি ঃ ২০% শিশুদের ক্ষেত্রে এ্যাংকেল ইনজুরিতে ফাইসিস বন্ধ হওয়ার কারণে পা ছোট হয়। ফলে অন্য পায়ের সাথে ভাঙ্গা পায়ের দৈর্ঘ্যজনিত অমিল তৈরি হয়।
এ্যাংকেল ইনজুরি শিশুদের ক্ষেত্রে একটি জরুরী কেস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিশুদের এ ধরনের ফ্রাকচারের ঘটনায় যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা উচিত নতুবা শিশুর ভ্যালগাস বা ভ্যারাস ডিফোরমিটি কিংবা পা খাটো হয়ে বৈকল্য শিশুতে পরিণত হতে পারে। আর চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ সহজ এবং সকলের নাগালের মধ্যে। তাই অপচিকিৎসা, ঝাঁড়-ফুঁক, ঝাপ-দেয়া থেকে বিরত থেকে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ গ্রহণের অনুরোধ রইলো।

পায়ের ফোস্কা দূর করতে যা করবেন

করতোয়া ডেস্ক ঃ এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা পায়ের ফোস্কা পড়া রোধ করতে ও দাগ নিরাময়ে সহায়তা করে।   
নারিকেল তেল ঃ নারিকেল তেল ময়েশ্চেরাইজার ও অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি উপাদান সমৃদ্ধ যা দ্রুত পায়ের দাগ দূর করে। পায়ে জুতার আঘাতের দাগ দূর করার জন্য নারিকেলের একটি সবুজ পাতা পুড়িয়ে তার ছাই নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। তাছাড়া ভবিষ্যতে পায়ের দাগ পড়া থেকে রক্ষা পেতে চাইলে জুতা পড়ার আগে এই মিশ্রণ জুতার ভেতরের অংশে লাগিয়ে নিন।


মধু ঃ এটা দ্রুত কালচে ভাব দূর করে এবং পাশাপাশি প্রদাহ ও ব্যথা কমায়। তাছাড়া এটি জুতার আঘাতের দাগ হালকা করতেও সাহায্য করে। মধুর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে গরম পানির সাহায্যে তা ধুয়ে ফেলুন।    


চালের আটা ঃ এটা প্রাকৃতিক ‘এক্সফলিয়েটিং’ যা স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে মৃতকোষ ওঠাতে সাহায্য করে। এক টেবিল-চামচ চালের আটার সঙ্গে পানি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানের উপর লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।


অ্যালোভেরা ঃ এটি পায়ে জুতার আঘাতের জ্বলুনি, প্রদাহ ও ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এতে রয়েছে জীবাণুনাশক উপাদান যা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে নিয়ে তা আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। জেল শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।


পেট্রোলিয়াম জেলি ঃ জুতার ঘষা থেকে রক্ষা পেতে পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। নতুন জুতা কিনে খানিকটা পেট্রোলিয়াম জেলি জুতার ভেতরের অংশে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। এটি জুতা নরম করতে সাহাজ্য করে। আর এরই মধ্যে যদি পায়ে ফোস্কা পড়ে থাকে তবে ওই কালচে স্থানের উপরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। এর ময়েশ্চেরাইজিং উপাদান ক্ষতদাগ দূর করতে সাহায্য করে।

এক কাপ হলুদ চা দুর করবে শরীরের সব ব্যথা

 

করতোয়া ডেস্ক ঃ ঘাড় ব্যথা, মাথা ব্যথা কিংবা হাত-পাসহ সারা শরীরের ব্যথা কাবু করে ফেলেছে আপনাকে। কোনো কাজে মনযোগী হতে পারছেন না। তাই বরাবরের মতো এবারও সহজেই মুক্তি পেতে পেইনকিলারের সাহায্য নিয়েছেন। তবে একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, পেইনকিলার সাময়িকভাবে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। পরে আবারও আপনাকে একই রকম ব্যথার সম্মুখিন হতে হবে, এটা আপনি বিশ্বাস করতে না চাইলেও সত্যি! চিকিৎসকের মতে,  অতিরিক্ত পেইনকিলার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আবার এ অসহ্য ব্যথা নিয়ে বসে থাকাও তো যায় না। তাহলে উপায়?
আরে এতো চিন্তা করছেন কেন? প্রাকৃতিক উপদান হলুদ দিয়ে তৈরি জাদুকরি এক চা, আপনার অসহ্য ব্যথা নিমিষেই কমিয়ে দেবে।
গবেষকদের মতে, হলুদের স্বাস্থ্যগুণ সবার জানা। হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদানও দেহের প্রদাহ জনিত ব্যথা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী।
হলুদ চা তৈরির জন্য

যা যা লাগবে ঃ চার কাপ পানি, দুই টেবিল চামুচ টাটকা মিহি হলুদ, একই পরিমাণ লেবু ও মধু (স্বাদ বাড়াতে)।
যেভাবে করবেন ঃ চুলায় পানি গরম করেত দিন। পানি গরম হলে এতে হলুদ গুঁড়া দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সিদ্ধ করুন। আপনি যদি ফ্রেশ হলুদ কুচি ব্যবহার করেন, তবে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। পানি সিদ্ধ হয়ে আসলে এতে লেবুর রস অথবা মধু মিশিয়ে পান করুন। তারপর দেখুন কীভাবে অল্প সময়ে জাদুকরি চায়ের সাহায্যে চিরবিদায় নিয়েছে আপনার শরীরের সব ব্যথা।

শীতে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে…

 

করতোয়া ডেস্ক, শীতকাল মানেই অলসতা। গোসল করতে ইচ্ছে করে না। পানি খেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু গোসল না করলে কিংবা পানি না খেলে তো আর শরীর ভালো থাকবে না।

 শীতকালে ত্বক এমনিতেই খুবই রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে থাকে। তার উপর গরম পোশাক পরা, অপেক্ষাকৃত পানি কম খাওয়া কিংবা তুলনায় কম পানিতে গোসল করার কারণে অনেকেরই ত্বক আরও বেশি রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়। কিন্তু এমন কিছু ফল রয়েছে, যা শীতকালে আমাদের ত্বককে রুক্ষতার হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়।

আমলকি, আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রচুর উপকারী উপাদান রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ত্বককে ডিটক্সিফিকেশন করতে সাহায্য করে। আমলকি রক্ত পরিশুদ্ধ করে। যা ত্বককে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল দেখায়।

পেঁপে ঃ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায়, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। পেঁপে আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে দেয় না।
ডালিম ঃ ত্বকে রিঙ্কল, বয়সের ছাপ, দাগ, ছোপ প্রভৃতি পরতে দেয় না ডালিম। শীতকালে ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ডালিম।
কলা ঃ কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি রয়েছে। যা আমাদের ত্বককে ডিহাইড্রেট করে, ত্বককে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।

লাল চালের দারুণ পুষ্টিগুণ, জেনে নিন

আমরা অনেকেই জানি যে, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ভাবা হয়ে থাকে লাল চালকে। কারণ লাল চালের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। সুস্বাস্থ্যে যেগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১) হার্টের জন্য ভালো- নিয়মিত লাল চালের ভাত খেলে ধমনীতে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। লাল চাল সেলেনিয়ামে সমৃদ্ধ। যা হেলদি হার্টের জন্য দরকারী।

২) ক্যান্সার প্রতিষেধক- লাল চালে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, লিউকেমিয়া প্রভৃতির প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

৩) গল ব্লাডার স্টোনের ঝুঁকি কমায়- পিত্তরসের ক্ষরণ কমায়। খাবার পরিপাক করে হজমে সহায়তা করে।

৪) হাড়ের স্বাস্থ্য- প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়াম থাকে যা অস্টিওপোরোসিস ও অন্য হাড়ের রোগ প্রতিরোধ করে।

জানেন নারকেল তেল ব্যবহার করলে কী কী সাইড এফেক্ট হয়?

সেই ছেলেবেলা থেকেই জেনে এসেছেন যে, নারকেল তেল আমাদের কত উপকারে লাগে। ঠিকই তো। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং গবেষণার পর দেখা যাচ্ছে, নারকেল তেলের সবটাই ভালো নয়। এটা নিয়মিত ব্যবহার করলে রয়েছে বেশ কিছু সাইড এফেক্টও। তাই আমাদের জেনে নেওয়া দরকার সেগুলোও। তাই এক ঝলকে দেখে নিন, নারকেল তেলের ব্যবহারে আমাদের শরীরে কী কী সাইড এফেক্ট দেখা দেয়।

১) ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দেয় – বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। আসলে এর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট। সেইজন্যই এমনটা হয়।

২) আপনি ওজন কমাতে চান? তাহলে নারকেল তেলের থেকে দূরে থাকাই ভালো। কারণ, নারকেল তেল ব্যবহারে শরীরের ওজন বাড়ে।

৩) নারকেল তেল বেশি ব্যবহারে ডায়রিয়াও হতে পারে।

৪) বেশি নারকেল তেল ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালার্জিও দেখা দেয়।

তাই এবার থেকে নারকেল তেল ব্যবহার করার সময় তার সাইড এফেক্টগুলোর কথাও মাথায় রাখুন।

এক বছর মাংস না খেলে কী হবে জানেন?

বহু এমন মানুষ আছেন যাঁরা মাছ-মাংস ছাড়া খেতে পারেন না। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা মাছ-মাংস একেবারেই পছন্দ করেন না। নিরামিশ খাবারই খান। আপনি হয়তো কখনও কখনও মাংস খান। কিন্তু এক বছরের জন্য যদি আপনি মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন অথবা মাংস না খান, তাহলে কী হবে জানেন?

১) যদি কোনও ব্যক্তি এক বছরের জন্য মাংস না খান, তাহলে গড়ে তাঁর ওজন ১০ পাউন্ড কমে যাবে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শাক-সব্জি জাতীয় খাবার ডায়েটে রাখলে এবং মাংস না খেলে ব্যায়ামের নিয়ম পরিবর্তন না করেই ওজন কমে যাবে।

২) কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, হৃদরোগের সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে। শাকাহারি ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্ত অসুখের সম্ভাবনা কম দেখা দেয়।

৩) একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভেজিটেরিয়ান ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা অনেক কম দেখা যায় যাঁরা মাংস খান তাঁদের তুলনায়। আবার যাঁরা প্রসেসজ মিট বেশি খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবিটিসের প্রকোপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন এই খাবারগুলো খেলেই থাইরয়েড থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব

৪) ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন মাংসের মধ্যে শ্রেণীবিভক্ত করে দিয়েছিল। প্রসেসড মিট এবং অন্যান্য মাংসের মধ্যে। বেকন, সসেজ, সালামি প্রভৃতি প্রসেসড মাংস স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে ক্যানসারও হতে পারে। রেড মিট খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।

৫) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গাট ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা যাঁরা মাংস খান না তাঁদের তুলনায় যাঁরা মাংস খান তাঁদের অনেক বেশি।

ঢামেক হাসপাতালে অগ্নিকান্ড

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের একটি কক্ষে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তাৎক্ষণিক উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট পাঠানোর কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান। তিনি জানান, ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে কর্তৃপক্ষ আগুন নিভিয়ে ফেলে। ঢামেক হাসপাতালের উপ পরিচালক খাজা আবদুল গফুর জানান, ওই কক্ষের উপরে প্লাস্টিকের টিনে জমে থাকা ময়লার স্তূপে কে বা কারা সিগারেট ফেললে তা থেকে আগুন ধরে যায়। এতে টিনটি বেশ খানিকটা পুড়েছে। তবে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

নারীদের তলপেটে ব্যথার কারণ

ঋতুস্রাবের সময় নারীদের তলপেটে হালকা ব্যথা হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। হটবাথ বা গরম ছ্যাক দিলে এটা কমে যায়। তবে এই ব্যথা যদি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় বা যখন তখন ব্যথা শুরু হয়, তাহলে বুঝবেন এটা খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা হতে পারে জীবাণু সংক্রমন যাকে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বলা হয়।


সাধারণত ১৪-২৫ বছর বয়সের নারী পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অপরিচ্ছন্ন ও অসচেতন নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। নাইসেরিয়া, গনোকক্কাস, স্ট্রেটোকক্কাস, ব্যাকটেরয়েড, বিশেষ করে ক্লামাইডিয়া দ্বারা জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালীসহ আশপাশের অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে এ প্রদাহের সৃষ্টি হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অশিক্ষিত ও অসচেতন নারীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। অনেকে লজ্জায় বিষয়টা এড়িয়ে যান। ফলে রোগ জটিল হতে থাকে।

 এক পর্যায়ে তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অথবা, সন্তান ধারণে বিঘœ সৃষ্টি করে। দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব।
এই প্রদাহ দুই রকম হতে পারে। প্রথমত জননাঙ্গের নিচের দিকের প্রদাহ, দ্বিতীয়ত জননাঙ্গের ওপরের দিকের প্রদাহ। এ রোগ হলে তলপেটে তীব্র ব্যথা হয়। এ ব্যথা কোমর ও বাহুতে বিস্তার করে। পেটে ভারী অনুভব করা, সহবাসে এবং জরায়ুমুখ স্পর্শ করলে প্রচ  ব্যথা অনুভব করা। যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব বা পুঁজ নির্গত ও জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। এছাড়া শরীরে জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, খেতে অরুচি ও স্বাস্থ্য ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।


স্বামীর যদি যৌনরোগ থাকে তা থেকেও নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একাধিক যৌন সঙ্গীর কারণেও এ রোগ হতে পারে। গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণের কারণেও পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) হতে পারে। জননাঙ্গে যক্ষ্মা জীবাণুর সংক্রমণেও পিআইডি হতে পারে। এছাড়া অল্প বয়সে যৌন জীবন শুরু, মাসিকের সময় সহবাস, অস্বাস্থ্যকর ও অদক্ষ হাতে গর্ভপাত ও ডেলিভারি করানোর কারণে হতে পারে পিআইডি। এ রোগ দেখা দিলে একেবারেই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিলে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ অনেকাংশে রোধ
করা সম্ভব। তবে অবস্থা
জটিল হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে
হবে।     -তথ্যসূত্র ইন্টারনেট

দাঁত মাজবেন কি দিয়ে?

ঘাবরে যাচ্ছেন তাই না পাঠকবৃন্দ? আসলে এমন ভাবাটাই স্বাভাবিক কাপড় পরিষ্কার করে কাঁচতে যেমন সাবান লাগে কোন জিনিস ভালো রাখতে যেমন তার যতœাদি করতে হয়। তেমনি আমাদের সুন্দর মুখের সুন্দর দাঁতগুলোকে পরিষ্কার করতে চাই পরিষ্কার কিছু।

 কি হতে পারে দাঁত পরিষ্কারের হাতিয়ার হিসাবে? আগে মানুষ দাঁত পরিষ্কার করতো না। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ দাঁত পরিষ্কারের কথা চিন্তায় নিয়ে এল। নানারকম জিনিস দিয়ে দাঁত মাজতে লাগল। যেমন ছাই, কয়লা, বালু, মাটি ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও গাছের নরম জল মোড়ানো পাতাও বাদ গেল না। একে মেসওয়াকও বলা চলে।


দিনের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ আবিষ্কার করল দাঁত পষ্কিারের এসব জিনিস দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করছে কিন্তু কিছুদিন পর দাঁতে নানারূপ সমস্যা দেখা দিল। সমস্যা দেখা দিল নরম মাড়িতেও। আবিষ্কার হলো এ মাজনগুলোর দানাদার অংশ দাঁতকে ক্ষয় করার ফলেই এমন হচ্ছে। আস্তে আস্তে তৈরি হলো টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ইত্যাদি। অবশেষে টুথপেস্টকেই দাঁত পরিষ্কারক হিসাবে বিবেচিত হলো।

টুথপেস্ট কেন? দাঁত মাজার জন্য ছাই কয়লা, বালু অর্থাৎ মোটা দানাদার যুক্ত দ্রব্যাদি ব্যবহার করলে আমাদের দাঁতের সবচেয়ে শক্ত অংশ (যা দাঁতের বাহিরের আবরণ) এনামেলকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে ফেলে। এরূপ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দাঁতের অভ্যন্তরের ডেন্টিল অতপর পাল্প/মজ্জাকেও ক্ষয় করে ফেলে। ফলে প্রাথমিকভাবে দাঁতে শিরশির থেকে শুরু করে ব্যথা হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

 এছাড়া মাড়ি ক্ষয় হয়ে দাঁতের স্থায়িত্বও কমে যায়। টুথপেস্ট এর উপাদানগুলো খুব মিহি থাকে তাই দাঁত ক্ষয় হবার সম্ভাবনা কম থাকবে বেশি বড় দানাযুক্ত টুথপেষ্ট দাঁতকে ক্ষয় করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে অবশ্যই টুথপেস্ট করার নিয়ম ও অন্তর্ভুক্ত। তাই ভুল করে ছাই কয়লা দিয়ে দাঁত মেজে সাময়িক শুভ্র দাঁতের উজ্জ্বলতার চেয়ে টুথপেস্ট ব্যবহার উত্তম। তবে যাদের টুথপেস্ট ক্রয়ক্ষমতার বাইরে তারা টুথপাউডারও ব্যবহার করতে পাবেন। সুন্দর মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে দাঁতের সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। তার জন্য চাই নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং সঠিক নিয়মে নিয়মিত দুবেলা টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।