সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল : কী? “ফুট ষ্টেইন” শব্দটি সত্যিকার অর্থে মধ্যমেয়াদী অথবা দীর্ঘমেয়াদী টারসাল লিগামেন্টের টান বা পীড়ন কে বুঝায়, এটা কখনোই হঠাৎ আঘাত প্রাপ্তির কারণে হয় না।
কেন হয়? : যদি কোন ব্যক্তি অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকে কিংবা অত্যধিক হাঁটাহাঁটি করে সেক্ষেত্রে সুস্থ স্বাভাবিক পায়ের পাতায় এ ধরনের পীড়ন/টান হতে পারে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বহু দিন যাবৎ বিদ্যমান বৈকল্য ওয়ালা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটা ঘটে থাকে।

যেমন কারো যদি জন্মগতভাবে “পেস প্লানাস” বা ফ্লাট ফুট অথবা “পেস ক্যাভাস” বা হাই আর্চড ফুট “থাকে যেখানে পায়ের পাতার লিগামেন্ট পায়ের পাতার মাংসপেশী দ্বারা সংগঠিতভাবে সুরক্ষিত থাকে না, সেখানে ফুট ষ্ট্রেইন হয়।

উপসর্গ: প্রধান উপসর্গ থাকে পায়ের পাতায় ব্যথা যা অনেকটা অস্বস্তিকর ধরনের এবং দীর্ঘ মেয়াদী। ব্যথা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে অথবা অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় অস্বস্তিকর ব্যথা ক্যালভিস পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করতে পারে।

কিশোরদের ক্ষেত্রে মাসকুলার ডিষ্ট্রোফির সাথে অনেক সময় গুলিয়ে যায়। তবে যুবক/ মধ্যবয়সী ছেলে মেয়ে যে কেউ এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় ইস্কিমিয়ার কারণে অসহ্য ব্যথা, নার্ভের কারণে ঝিনঝিন চিনচিন অনুভূতি কিংবা কম মৃদু অনুভূতিবোধ ইত্যাদিও হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন রক্ত পরীক্ষা এক্সরে এমআরআই কিংবা সিটি স্ক্যান ইত্যাদিতে তেমন কিছু ধরা পড়ে না। তবে অনেক সময় মেটা টারসাল জিয়া, সিসাময়ে ডাইটিস, ফ্রেইবারগস ডিজিজ, নার্ভ কম্প্রেশন বা মরটনস মেটাটারসাল জিয়া কিংবা ষ্ট্রেস ফ্রাকচার ইত্যাদি রোগ হতে আলাদা করতে হয়।
চিকিৎসা:  
-রোগীকে বেশীক্ষণ হাঁটাহাঁটি কিংবা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা হতে বিরত থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়।
-প্রয়োজনে পায়ের তলায় প্যাড ব্যবহার করে পায়ের পাতার স্বাভাবিক বাঁকানো আর্চ কে সাপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
-পায়ের পাতা এবং আঙ্গুলের ব্যায়ামের পরামর্শ দেয়া হয়।
-হালকা গরম সেঁক দেয়া যেতে পারে।
-পায়ের এবং পায়ের পাতার মাংসপেশীকে শক্তিশালী করার জন্য ইলেক্ট্রিক ষ্টিমুলেশন দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা প্রয়োগ করা হয়।
-অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কারণ বিশেষত: “পেস প্লেনাসের” মাত্রা বেশী হলে অথবা গ্রেড-৪ টাইপ  পেস কেভাস” থাকলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।
তবে “ফুট ষ্ট্রেইন” বেশী ভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই ভালো হয়ে যায় এবং রোগী সাধারণত: স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করে। তাই এ ধরনের অসুবিধার জন্য অহেতুক ঝাড় ফুঁক অপচিকিৎসা না করে অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের সুপরামর্শ শুরুতেই গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয়

মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):দাঁত মানুষের অমূল্য সম্পদ। দাঁতের সাহায্যে মানুষ খাদ্যবস্তু চর্বন করে থাকে। চর্বন ক্রিয়ার সময় মুখ হতে লালা রস বের হয়ে খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে পরিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে। দাঁত সৌন্দর্যের অঙ্গ। দন্তহীন ব্যক্তিরা স্পষ্ট কথা বলতে পারে না এবং তাদের মুখের শ্রী নষ্ট হয়ে যায়।

হজম কাজের সাহায্যের জন্য খাদ্যবস্তুকে টুকরা টুকরা করে গলাধঃকরণ করাই দাঁতের কাজ।দাঁতের প্রদাহ: দাঁতের ডা: গঠনজনিত ত্রুটি, দাঁতের অযতœ, আঘাত দাঁতের পোকা, বেশি গরম, শীতল খাদ্য, মিষ্টি ও টক খাদ্য গ্রহণ এবং অপরিষ্কারজনিত জীবাণু দূষণে দাঁতের গোড়া ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়।

লক্ষণ: দাঁতের ক্ষয় বা আঘাতপ্রাপ্ত অংশ ভাঙ্গা দেখা যাবে। দাঁতের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যায়। মনে হয় দাঁতের গোড়ার মাংস বৃদ্ধি হয়েছে। তীব্র ব্যথা হয়/ব্যথা সেই পার্শ্বের মাথা ও কানের চিপে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। উষ্ণ গরম পানিতে কুলকুচা করলে ব্যথা বাড়ে। দাঁতে টোকা লাগালে রক্তপাত হতে পারে।

দন্তক্ষয় রোগ/পোকা খাওয়া : আহারের পর খাদ্যদ্রব্যের কিছু দাঁতের ফাঁকে অথবা আশেপাশে লেগে থাকতে পারে। সেখানে ব্যাকটেরিয়া নামক এক জাতীয় জীবাণু অম্লের উৎপত্তি করে। এ অম্ল দাঁতে সামান্য গর্তের সৃষ্টি করে। প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ গর্ত দিনে দিনে বড় হতে থাকে। এ পর্যায়ে আক্রান্ত দাঁতের খারাপ অংশটুকু দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফেলে দিয়ে সুষ্ঠুভাবে গর্ত পূরণ করে দিতে হবে।

লক্ষণ: প্রথমে গরম, ঠান্ডা ও মিষ্টি অথবা টক (অম্ল) জাতীয় খাদ্য খেলে দাঁতে শিরশির করে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। পরে এটা সার্বক্ষণিক ব্যথায় পরিণত হয় এবং অসহনীয় হয়ে উঠে। ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতের চিকিৎসা না করা হলে দাঁতটি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায় এবং এর নিচে ক্ষতের সৃষ্টি হতে থাকে।
ক্ষতের লক্ষণ : দাঁত মৃদু নাড়ায় ব্যথা অনুভূত হয়। দাঁতের গোড়া ফুলে যায়। সম্পূর্ণ মুখমন্ডল ফুলে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. দাঁতের সৃষ্ট গর্তকে দন্ত চিকিৎসকের সাহায্যে ফিলিং করে নিতে হয়। ২. ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতটি নষ্ট হয়ে গেলে তুলে ফেলাই উত্তম।
দাঁতের গোড়ায় প্রদাহ/পায়োরিয়া : দাঁত ও মাড়িতে খাদ্যদ্রব্য জমা হওয়ায় এবং উত্তমরূপে পরিষ্কার না করার কারণে সেখানে জীবাণু জন্মে। দাঁতের গোড়ার উপরের পেরিঅস্টিয়াম মেমব্রেনের সংযোগস্থল নষ্ট করে। ঐ স্থানে জীবাণু জন্মে পচনশিল দুর্গন্ধযুক্ত দন্তরোগের সৃষ্টি করে। এভাবে দাঁতের গোড়া ফুলে উঠে এবং কখনও কখনও পুঁজ দেখা যায়। যে সকল মানুষ পরিমিত খাদ্য খেতে পায় না তাদের মধ্যে এ রোগ প্রায়ই দেখা যায়।

লক্ষণ: এক বা একাধিক মাড়ির সংযোগস্থলে ক্ষত হয়ে থাকে। দাঁতের গোড়া ফুলে এবং লালচে হয়। কখনও জ্বালা করে এবং রোগী আহারে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ফুলাস্থানে একটু আঘাত লাগলে অথবা জোরে চোষণ দিলে রক্ত ঝরে। অনেক সময় তীব্র ব্যথা হয় এবং দাঁত নড়বড়ে হয়। মুখে বিশ্রী দুর্গন্ধ হয় এবং কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করে। ক্ষতের উপর সাদা আবরণ পড়ে। মুখে ঠান্ডা পানি দিলে শির শির করে।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. দাঁতের ভিতরের কড়ালীসমূহ এর গোড়ায় সৃষ্ট শক্ত পাথর দূর করতে হয়। নড়বড়ে দাঁত তুলে ফেলতে হবে। ২. প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার রাখতে হয় এবং দাঁতের মাড়িতে আঙ্গুল দিয়ে ঘর্ষণ করে ম্যাসেজ করতে হয়। তবে গ্লিসারিন টেনিক এসিড ৩৩% দ্বারা ম্যাসেজ করলে ভাল হয় এবং দ্রুত রোগ নিরাময় হয়। ৩. লবণ পানির উষ্ণ স্যালাইন দিয়ে ৩/৪ বার কুলকুচা করলে বা অন্তত বিছানায় যাবার প্রাক্কালে এবং সকালে ঘুম হতে উঠে করলে এ রোগের
বিস্তারের সম্ভাবনা কম।

মাড়িতে ফোঁড়া : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ এবং ব্যস্ততার বা অলসতার কারণে দাঁত ও মুখ খুব ভালভাবে পরিষ্কার রাখা হয়ে উঠে না। ফলে অনেকেরই মাড়িতে জ্বালা ও রক্তপাত হয়। দীর্ঘদিন এভাবে অবহেলায় সাধারণ রোগও খারাপের দিকে যায় এবং স্নায়ুতন্ত্র নষ্ট হয়। দাঁত নড়বড় করে। দাঁতের একধার ফেটে যায় এমনকি পোকা ধরার মত দেখা যায়। মানুষের মুখে বিভিন্ন রকম জীবাণু থাকে। এ সকল জীবাণু সাধারণত বা প্রতি সময় দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা পচা খাদ্যের সাহায্যে দ্রুত জীবাণু বিস্তার করে। এ সকল জীবাণুগুলোকে ডেন্টাল প্লাক বা শর্করা বা ব্যাকটেরিয়াল প্লাক বলে। প্রলেপে অবস্থিত জীবাণুগুলো অম্ল (এসিড) তৈরি করতে সক্ষম। দাঁতে লেগে থাকা খাদ্য শর্করা বা চিনির সাহায্যে স্থানীয় এসিড তৈরি করে। ধীরে ধীরে এ এসিডে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় এবং একইভাবে জীবাণু দাঁতের একেবারে নিচে হাড়ের মধ্যে এসে পুঁজের সৃষ্টি করে।

লক্ষণ: আক্রান্ত দাঁতে প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং চোয়াল ও মুখ ফুলে যায়। আক্রান্ত দাঁতের ফুলা অংশ স্পর্শ করলে বেশ তাপ দেখা যায়। আক্রান্ত অংশে গোটা মাথা, চিপ ব্যথায় চিলিক পাড়ে। ব্যথার তাড়নায় ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত জ্বর আসে। এক সময় মাড়ি বা নিচের চোয়ালে গালের চামড়া ফেটে পুঁজ বের হয়ে আসে। জ্বালা যন্ত্রণা কমে গেলেও জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এক্ষেত্রে করণীয় : ১. উত্তমরূপে পুঁজ পরিষ্কার করে ড্রেনেজ দিতে হয় এবং প্রতিদিনই ড্রেসিং করতে হয়।
দাঁতের মাড়ি ফোলা এবং জিঞ্জিভাইটিস : সাধারণত অপরিষ্কার মুখেই এ রোগ দেখা যায়। যে সকল মানুষ পরিমিত খাদ্য খেতে পারে না তাদের মধ্যেই এ রোগ বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ : এক বা একাধিক মাড়ির সংযোগস্থলে ক্ষত হতে থাকে। মুখ জ্বালা করে ও খাবার গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। ক্ষতের উপর সাদা আবরণ পড়তে পারে। সহজে রক্ত বের হতে পারে এবং রোগীর মুখে দুর্গন্ধ হয়। মুখে লালা বাড়ে এবং রোগী অস্বস্তিবোধ করে।

দাঁত পরিষ্কার রাখার স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম : দাঁত ও মাড়িতে খাদ্যদ্রব্য জমা হওয়ার কারণেই দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগ হয়ে থাকে। এ রোগ আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাঁত পরিষ্কার নিয়ম সম্বন্ধে উপদেশ দিতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয়। দাঁত ও মাড়ির সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখলে মাড়ি ফোলা রোগ হতে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। দন্ত রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ছাড়াও সকলকে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখার উপদেশ দিতে হবে। কারণ ‘প্রতিরোধ আরোগ্য হতে শ্রেয়।’

ব্রাশ ও দাঁতন : দাঁত পরিষ্কার করার জন্য টুথ ব্রাশ এবং টুথপেস্ট ভাল। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তবে দাঁতনও একটি উৎকৃষ্ট জিনিস। টুথপেষ্টের পরিবর্তে ব্রাশ বা দাঁতনে লবণ ব্যবহার করা যায়। প্রাতরাশের পর এবং রাতে নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে দাঁত মাজা ভাল। দুপুরে আহারের পরও একবার দাঁত মাজা ভাল।

দাঁত মাজার প্রণালী : সব সময় ভিতর বা বাইরের মাড়ির উপর হতে দাঁত মাজা শুরু করতে হয়। যাতে প্রত্যেকটি দাঁত কমপক্ষে ১০ বার ঘষা হয়। এরপর পানি দ্বারা কমপক্ষে ৩ বার ভালভাবে কুলকুচা করতে হবে যাতে সমস্ত ময়লা বের হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ৫ নিয়ম

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে হৃদযন্ত্রের জন্যেও ক্ষতিকর হয়।গবেষণার ফলাফল হচ্ছে, বয়স যাদের পঞ্চাশের নিচে এবং শরীরে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের অস্বাভাবিকভাবে কম, তাদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা ক্ষেত্র বিশেষে অপকারী কোলেস্টেরল বেশি এমন ব্যক্তিদেরই চাইতেও বেশি হতে পারে। ‘এলডিএল-সি’ যাকে শরীরের জন্য অপকারী কোলেস্টেরল বলা হয়, বেশি মাত্রায় থাকলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

 কারণ এই কোলেস্টেরল রক্তনালীতে ‘প্লাক’ নামক পদার্থ জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরলকে বলা হয় ‘এইচডিএল-সি’, যা কাজ করে ঝাড়ুদার হিসেবে। রক্তনালী থেকে বাড়তি চর্বি ও বাজে কোলেস্টেরল ঝেঁটিয়ে বিদায় করে।

প্রধান গবেষক, হার্ভার্ড মেডিকল স্কুলের ছাত্র ব্র্যাডলি কলিন্স বলেন, “তরুণ হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের উপর করা এই গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষ এবং ৭৫ শতাংশ নারীর মধ্যে ‘এইচডিএল-সি’র মাত্রা কম।” চল্লিশোর্ধ পুরুষ এবং পঞ্চাশোর্ধ নারীদের শরীরে ‘এইচডিএল-সি’য়ের স্বাস্থ্যকর মাত্রা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

 এই সুরক্ষার পেছনে কিছুটা অবদান ‘এইচডিএল-সি’য়ের রক্তনালী থেকে বাজে কোলেস্টেরল পরিষ্কার করা, প্রদাহ রোধ, রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। অপরদিকে ‘এইচডিএল-সি’ কম থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি বাড়বে। কলিন্স আরও বলেন, “এইচডিএল-সি’য়ের মাত্রা কম থাকাও কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত।

 ওয়াশিংটনে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি’র ৬৬তম বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটি তুলে ধরা হবে। গবেষণার জন্য মোট ৮১৩ জন ৪৫ বছরের নিচে পুরুষ এবং ৫০ বছরের নিচে নারীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাদের হার্ট অ্যাটাকের পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।

ধূমপান ত্যাগ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শারীরিকভাবে কর্মচঞ্চল থাকা, ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে শরীরে এইচডিএল-সি অর্থাৎ উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব বলে গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়।          -ইন্টারনেট

ডাবের পানিতে ত্বকের চর্চা

করতোয়া ডেস্ক: ডাব খেতে কে না ভালোবাসে! যদিও এটি ফল, তবে ভেতরে তেষ্টা দূর করার জন্য মিষ্টি পানি থাকার কারণে অন্যান্য ফলের থেকে একেবারেই আলাদা। কচি ডাবের স্বচ্ছ, টলটলে পানির পুষ্টিমূল্যও অনেক। শুধু তেষ্টা মেটানো কিংবা পুষ্টি যোগানোর কাজেই নয়, সৌন্দর্য চর্চায়ও এটি সমান উপকারী। তাজা ডাবের পানি নিয়মিত মাখুন হাতে এবং মুখে।

 ট্যান রিমুভ করতে এটি খুবই উপকারী। একই সঙ্গে ত্বক নরম ও মসৃণ করে তুলবে ডাবের পানি। এক চিমটে কর্পূর, মসুর ডাল, শসার রস ও ডাবের পানি মিশ্রণ তৈরি করে স্ক্রাবিং করুন। রোদে পোড়া কালো দাগও কমবে নিয়মিত ব্যবহারে।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য তাজা ডাবের পানিতে চন্দন কাঠ ভিজিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। তারপর চন্দন কাঠ ঘসে যে পেস্ট তৈরি হবে, তা পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন পানি দিয়ে। এই পেস্ট ন্যাচারাল স্কিন ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে এবং ত্বক থেকে মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডাবের পানির সঙ্গে মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।

 মুখের ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য ১০টি কাঠবাদাম ডাবের পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। আধঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন।

সেরিব্রাল পলসি (সিপি)

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল : কি? একগুচ্ছ অরাজকতা যা মস্তিষ্কের অবর্ধনশীল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বর্ধনের শুরুতেই নবজাতকের ক্ষেত্রে ঘটে। এ ঘটনা প্রতি হাজার জীবন্ত জন্মলাভকারীর দুইজন নবজাতকের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।কি কারণে হয়: একক কোন কারণ নয়। ব্রেইন বা মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে কোন কারণেই এটা হতে পারে। কারণগুলো তিন ভাগে শ্রেণী বিভক্ত করা হয়।


(১) প্রি-ন্যাটাল কারণ: নার্ভাস সিস্টেম সঠিকভাবে গঠিত না হলে, ইরাথ্রোব্লাষ্টোসিস, ইকটেরাস গ্রাভিস, কার্নিক্বেরাস্ ইত্যাদি।
(২) ন্যাটাল কারণ: জন্মের সময় মস্তিষ্কের বার্থ ইনজুরি, রক্ত শূন্যতা, সেরিব্রাল এনোক্সিয়া, প্রিম্যাচুরিটি ইত্যাদি।
(৩) পোষ্ট-ন্যাটাল কারণ: ইনফেকশন, হুপিং কাশি, এনকেফালাইটিস, মেনিঞ্জাইটিস, হেড-ইনজুরি, ষ্ট্রোক ইত্যাদি। প্রধান কারণ হিসাবে প্রসবকালীন মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ততা এবং কষ্টসাধ্য ডেলিভারীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত কিংবা সেরিব্রাল এনোক্সিয়া অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
 
শ্রেণীভাগ বা টাইপ: (১) স্পাষ্টিক প্যারেসিস: এটা সবচেয়ে বেশী প্রায় ৬০%। মাসলটোন বেশী এবং হাইপারএকটিভ বিফ্লেক্সফকে (২) এথেটোসিস- অনিয়ন্ত্রিত সার্বক্ষনিক মুভমেন্ট থাকে। (৩) এটা ক্সিয়া: নড়াচড়া করতে গেলে মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। (৪) রিজিড পলসি: মাংসপেশী সার্বক্ষণিক কণ্ট্রাকশনে ফাকে যাতে পেশী বেশ শক্ত থাকে। (৫) মিশ্র বা মিক্সড টাইপ: এছাড়া ট্রপোগ্রাফিক শ্রেণীভাগ করা হয়। যেমন- হোমপ্লেজিয়া, ডাইপ্লেজিয়া, মনোপ্লেজিয়া, ট্রাইপ্লেজিয়া টেট্রাপ্লেজিয়া এবং হোলবডি ইনডলভলবমেন্ট ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশী স্পাষ্টিক প্যারেসিস নিয়ে আলোচনা করবো।


 প্যাথোলজী: মটর কর্টেক্সের কিছু অংশ ব্রেন গ্লাওসিস দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে পিরামিডাল ট্রাক্ট-এ ডিজেনারেশন হয়।
উপসর্গ/লক্ষণ: প্রিন্যাটাল টেক্সি মিয়া, হেমোররেজ, প্রিম্যাচুর বার্থ, কষ্টসাধ্য ডেলিভারী কিংবা নবজাতকের ডিসট্রেজ ইত্যাদির ইতিহাস থাকতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে মার্বনে নবজাতক বুকের দুধ টানতে পারে না, গিলতে পারে না বাচ্চার মুখের কোনা দিয়ে লাল পড়ে। বাচ্চার সাধারণ মাইল ষ্টোন ঘাড় তোলা, হামাগুড়ি দেয়া, বসা, দাঁড়ান, হাঁটা কিংবা দাঁত উঠা সবকিছু দেরীতে হয়। সাধারণত: এক পার্শ্বের হাত পা (হেমিপ্লেজিয়া) যে কোন হাত বা নিম্ন বাহু (মেনোপ্লেজিয়া) উভয় নিম্ন বাহু (প্যারাপ্লেজিয়া) উপরের এবং নিচের মোট চার বাহু (টেট্রাপ্লেজিয়া) হতে পারে। এমন কি শরীর বা মুখমন্ডলের পেশীও আক্রান্ত হতে পারে। বাচ্চাকে পর্যবেক্ষণ করলে দুর্বলতা, শক্তপেশী বা স্পাষ্টিসিটি ইচ্ছাকৃত নড়াচড়া অনিয়ন্ত্রিত ইত্যাদি দেখা যায়। বাচ্চার মানসিক বৈকল্য, দুষ্টিত্রুটি অথবা বধিরতা অথবা কানে কম শোনা ইত্যাদি থাকতে পারে।


বৈকল্যতা: যখন মাংসপেশীতে স্পাজম কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা বিরাজ করে তখন নানা ধরনের বৈকল্যতা দেখা যায়। সাধারণত: উর্ধ্ববাহুর ফ্লেকশন কণ্ট্রাকচার কনুই, সম্মুখবাহুর প্রনেশন, কব্জির ফ্লেকশন, বৃদ্ধাঙ্গুলীর এ্যাডাকশন প্রভৃতি ডিফোরমিটি থাকে। নিম্ন বাহুতে হিপ জয়েন্ট এ্যাডাকশন, ফ্লেকশন হাঁটু সন্ধি এবং এ্যাংকেল জয়েন্ট ইকুইনাস অবস্থায় থাকে, স্পাইনে স্কোলিওসিস, কাইকোসিস কিংবা পেলভিক অবলিকুইটি থাকতে পারে। বাচ্চা স্পাষ্টিসিটির কারণে লাফিয়ে হাঁটে অনেক সময় সাপোর্ট ছাড়া হাঁটতে পারে না। চলন বৈকল্য অনেকটা কাঁচির মতো অর্থাৎ এক পায়ের মধ্যে আরেক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে জার্কিং “সেইজারস গেইট” অবস্থায় চলাচল করতে চেষ্টা করে।


 সেন্সেশন সাধারণত উপস্থিত থাকে জার্ক অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়। বাচ্চার চোখ অনেকসময় টেরা হয়। বৈকল্যতা বিভিন্ন বাচ্চার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়। কম বৈকল্যের ক্ষেত্রে বাচ্চা কোন রকমে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে আবার সামান্য প্রতিবন্ধী হতে পারে। আর তীব্র বৈকল্যের ক্ষেত্রে খুবই মারাত্মক প্রতিবন্ধী হিসাবে হেল্প লেস জীবন যাপন করে।
 

যেহেতু ব্রেনের একটা অংশ ধ্বংস হয়, যা কোনক্রমেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয় তাই সম্পূর্ণ সুস্থতা আশা করা বাঞ্ছনীয় নয়। সাহায্যকারীকে চরম ধৈর্য্য ধারণ করে সিপির বাচ্চার নিবির পরিচর্যা করলে শুরু থেকে শেষে মোটামুটি ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে কোন ফল নাও মিলতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগী অপরের সাহায্য নিয়ে তার দৈনন্দিন কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে। ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে অনেকে পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে নিজে নিজে কিছু দৈনন্দিন কাজ করতে পারে। তবে নিঃসন্দেহে ‘সিপি’-র বাচ্চা প্রতীকী হিসাবে সবার কাছে বোঝা হয়ে থাকে।


চিকিৎসা: সেরিব্রাল পলসি এমনি একটি রোগ যার জন্য এক্সরে, সিটিস্ক্যান এমআরআই এবং মাইলোগ্রাফি প্রভৃতি রোগ নির্ণয় পদ্ধতির প্রয়োজন পড়তে পারে। প্রয়োজনে ইলেক্ট্রো মাইওগ্রাফিরও দরকার হতে পারে। তবে চিকিৎসা পদ্ধতি মাল্টিডিসিপ্লিনবো এ্যাপ্রোচ। একার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপী, স্পিচ-থেরাপী, শিশু রোগী চিকিৎসক, মনোরোগ চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, অর্থোপেডিক সার্জন ও সার্জারী বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।


পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত: পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাইরে চিকিৎসা করা যেতে পারে কিন্তু পাঁচ বছর বয়স পার হলে প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে নিবির পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে মাংস পেশীর প্রশিক্ষণ যা ফিজিও থেরাপিষ্ট করবে এবং সেক্ষেত্রে রিলাক্স-স্পাষ্টিক পেশীই প্রধান উদ্দেশ্য। বৈকল্যগুলো সংশোধনের জন্য স্পিøন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

 প্রয়োজন হলে অজ্ঞান দিয়ে প্লাষ্টার করা যেতে পারে। কথা থেরাপী: বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সিপি’র বাচ্চাদের কথা শেখানোর জন্য এবং মুখের জড়তা কাটানোর জন্য স্পিচ থেরাপী প্রয়োজন হয়। অপারেশন:  যে কারণে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে-(১) স্পাষ্টিক বৈকল্য সংশোধনের জন্য। (২) স্থিরবৈকল্য বা ফিক্সড, ডিফোরমিটি থাকলে। (৩)  সেকেন্ডারী ডিফোরমিটি যেমন হিপ স্থানচ্যুৎ হওয়া, জয়েন্ট অস্থিরতা, অস্থির বৈকল্য প্রভৃতি সংশোধনের জন্য।

 বিশেষজ্ঞ সার্জনদ্বারা অষ্টিওটন্সি, টেন্ডন ট্রানফার টেন্ডনের লেন্দেনিং অপারেশন, আর্থোডেসিস কিংবা নিউরেকটাম অপারেশন করা হয়। সেরিব্রাল পন্সির রোগী শুধু একটি পরিবার বা গ্রামের বোঝা নয়, সারা দেশের বোঝা। তাই শুরুতেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা বোঝা আরও বাড়বে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সাহায্য করুন। ধন্যবাদ

অবহেলায় যেসব ব্যথা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে!

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, যে জীবনে কখনই ব্যথায় ভোগেননি। বেশিরভাগ সময় আমরা শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথাকে সেভাবে গুরুত্বই দেই না। কিন্তু আপনি জানেন কী? এসব ব্যথাই হতে পারে অনেক বড় সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ! ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও। কাজেই কখনই গাফিলতি করে কোনো ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
যেসব ব্যথাকে কখনই অবহেলা করা ঠিক নয়-

বুকে ব্যথা: বুকে ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন গ্যাসের কারণে ব্যথা হচ্ছে। আবার অনেকের মতে বুকে পিঠে ভারি কিছু চেপে বসে থাকার সমস্যা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হয়। হ্যাঁ, বিষয়গুলো সত্য। কিন্তু বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, ছোটো ছোটো শ্বাস নেওয়া এবং অনেকটা সময় বুকে ব্যথা দূর না হওয়ার বিষয়টি কখনই অবহেলা করবেন না। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।


দাঁত ব্যথা: অনেকেই দাঁতের সমস্যায় ভুগে থাকেন। কখনও কখনও এর মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে মাঝরাতে গভীর ঘুমও ভেঙে যায়। আবার দাঁতের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে তা মাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ক্যান্সারের মতো জটিল ব্যাধি হতে পারে। কাজেই বিলম্ব না করে দ্রুত ডাক্তার দেখান।


মাথা ব্যথা: হঠাৎ করে যদি অস্বাভাবিক মাথা ব্যথা ওঠে এবং আপনি চোখে ঘোলা দেখতে আরম্ভ করেন, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা কিন্তু একেবারেই উচিত নয়। কারণ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কোনো আঘাত, টিউমার ইত্যাদি কারণে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
তলপেটের ডান দিকে ব্যথা: এ ধরনের ব্যথা যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় তাহলে এটা অ্যাপেন্ডিসাইটের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি অপারেশন করাতে হতে পারে।পিঠের মাঝখানে ব্যথা: পিঠের মাঝখানে ব্যথা, জ্বর এবং ক্লান্তিকে একদমই অবহেলা করবেন না।

 কারণ এগুলো হতে পারে কিডনি সমস্যার লক্ষণ। কিডনিতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এবং ইউরিন ইনফেকশনের জন্য এ ধরনের ব্যথা হতে পারে।মাসিকের সময়ে অস্বাভাবিক পেট ব্যথা: মাসিকের সময়ে পেটে যদি অস্বাভাবিক ব্যথা হয় এবং সেই ব্যথা সহজে না কমে তাহলে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নতুবা বিপদ এড়াতে পারবেন না।যে কোন ব্যথায় একটু অবহেলায় সারা জীবনের কান্না নিয়ে আসতে পারে। কাজেই আগে থেকেই সতর্ক হোন। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচুন।    -ইন্টারনেট

মুখে ঘা হলে কী করবেন?

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন) : মুখের ভেতর, মাড়ি বা জিভে অনেক সময় ঘা দেখা যায়। এটি যেমন কষ্টদায়ক তেমনি মুখের ভেতর একধরনের অস্বস্তির অনুভূতি হয়। বিভিন্ন কারণে মুখে ঘা হয়, তার মধ্যে যে সকল অন্যতম কারণগুলো হলো:উপদেশ: ১. ডায়াবেটিস রোগী, ২. গর্ভাবস্থায়, ৩. বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক সংক্রমণ, ৪. ভিটামিন এর অভাব, ৫. মানসিক চাপ, ৬. দাঁত ও মাড়িরোগ, ৭. ওপরের দিকের মাড়ির দাঁত ও নিচের দিকের মাড়ির দাঁতের কারণে অনেক সময় গালে কামড় লাগে, এর কারণেও মুখে ঘা হয় বলে ধারনা করা হয়, ৮.  জোরে দাঁত ব্রাশ করলে অনেক সময় মাড়িতে আঘাত লাগে, সেখান থেকেও এক ধরনের ঘা হতে পারে। সাধারণত সকল বয়সী নারী-পুরুষের মুখে এপথাস আলসার নামের একধরণের ঘা বেশি দেখা যায়।

 এর কারণ হিসেবে মনে করা হয় ভিটামিন বি-এর স্বল্পতা, অনিদ্রা, অপরিচ্ছন্ন মুখগহ্বর, মানসিক চাপ, ধারালো বা : অস্বাভাবিকভাবে দাঁত ক্ষয় হয়। এর ফলে দাঁতের ধারালো অংশ ক্রমাগতভাবে জিহ্বা বা মুখের ভেতর আঘাত করে। বেশির ভাগ আলসার বা ঘা এর কারনে হয়ে থাকে। ৯. এছাড়া স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, অনেক দিন ধরে রোগে ভোগা, ক্যান্সার এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে- এসব কারণে ক্যানডিডা নামক এক ধরণের ছত্রাক সংক্রমিত হয়, এর ফলে মুখে ঘা হয়ে থাকে। ১০. যেসব হাঁপানি রোগী অনেক সময় ইনহেলার গ্রহণ করে, তাদের সাবধানতার সঙ্গে সেটি গ্রহণ করা উচিত। এটি গ্রহণের পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। মুখে ঘা হওয়ার কারণে সামান্য ব্যথা, ক্ষত জায়গায় জ্বালা হতে পারে।

 
প্রতিরোধ: ১.  যেহেতু আঘাতের কারণে এটি বেশি দেখা যায়, তাই দাঁত ব্রাশের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। ২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকা দরকার। ৩. ধারালো দাঁতের কারণেও ঘা হতে পারে। এমন অবস্থায় আপনি যদি খুব বেশি অসুবিধা মনে করেন তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে আশার কথা এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তাই মুখগহ্বর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

 

মুখে বাজে গন্ধ হওয়ার মূল ৭টি কারণ ও সমাধান

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):মুখে দুর্গন্ধের অস্বস্তিকর সমস্যায় কমবেশি সবাইকেই পড়তে হয়। তবে এটা যদি আপনার দীর্ঘস্থায়ী বা পুরনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে এর মূলোৎপাটন করতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তার মাউথ ওয়াশ বা এ ধরণের কিছু দিয়ে থাকেন। এতে কিছু সময়ের জন্য দুর্গন্ধ চলে যায়। মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার সাতটি মূল কারণ ও এর সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ জেনে নিন।
১. আপনি দাঁতের যতœ নিচ্ছেন না
২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওরাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দাঁতের পরিচ্ছন্নতা না থাকার জন্য শতকরা ৮৫ ভাগ দায়ী মানুষের বদ অভ্যাস। আর এর পেছনে কাজ করে মুখের ভেতরে খাদ্যকণা ঠিকমতো পরিষ্কার না করা। এর কারণে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জিহ্বার নিচে অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকা এ ব্যাকটেরিয়া সালফার কম্পাউন্ড উৎপাদন করে যার গন্ধ অনেকটা পচা ডিমের মতো। আর এ গন্ধ দূর করতে হলে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
২. যথেষ্ট পানি খান না: দেহে পানির অভাবে খুব অল্প পরিমাণ সেলিভা উৎপন্ন হয়। সেলিভা মুখের এসব ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে। পানির অভাবে মুখের ভেতর শুকনো থাকে এবং সেলিভা মরে যায়। এই মৃত সেলিভা কোষ থেকেও বাজে গন্ধ তৈরি হয়।
৩। এলার্জিও দায়ী: এলার্জির কারণে অনেকে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে পারেন না। তখন মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয় এবং এতে মুখের ভিতরটা শুকিয়ে যায়। ফলে সেই একই সমস্যা। নাক-কান-গলা এলার্জির সমস্যা থাকলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। এলার্জির চিকিৎসা নিন।
৪। বাজে গন্ধ উৎপন্নকারী খাবার বেশি খেলে: এটা বলে বোঝাতে হবে না যে, রসুন খেলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। আবার দুধ খুবই ভালো খাদ্য। কিন্তু এ দ্রব্য মুখে এক ধরণের শ্লেষ্মা উৎপন্ন করে যা দুর্গন্ধ তৈরি করে, এ জাতীয় উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে বাজে গন্ধের শ্লেষ্মা হয়। তাই এগুলো বেশি পরিমাণ খাবেন না।
৫। সাইনাস অথবা টনসিলে সংক্রমণ থাকলে: সাইনাসে সংক্রমণ ঘটলে বাজে গন্ধ আসে মুখ থেকে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়োটিক বা নেটি পট থেরাপির মাধ্যমে সাইনাসের বাজে শ্লেষ্মা দূর করা যায়, জানালেন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ জেমস এন পালমার। এছাড়া টনসিলে সংক্রমণ ঘটলে এক ধরণের ক্যালসিয়াম পাথর জন্মে যা কটু গন্ধ সৃষ্টি করে।
৬। এসিডিটির সমস্যা: এসিডিটির ফলে পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া থেকে ভিনেগারের মতো গন্ধ তৈরি হয়। টক জাতীয় ঢেকুর হয়ে তা মুখে বাজে গন্ধ ছড়িয়ে দেয়।
৭। ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে: মুখে খুব বাজে ধরণের গন্ধ ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে হতে পারে। তবে তা কদাচিৎ দেখা যায়। এ গন্ধের বৈশিষ্ট্য অনেকটা টক এবং পনিরের মতো। যেসব মানুষের নানা ব্যাধির কারণে বেশি পরিমাণ তেজক্রিয় রশ্মির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, তাদের এমনটি হতে পারে।
সমাধান: প্রতিদিনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের মতো দাঁতের যতœ নেয়া ও দাঁত পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরী। তবে উপরোক্ত সমস্যাগুলোর কারণে দাঁতের সঠিক যতœ নিলেও বিব্রতকর দূর্গন্ধ এড়ানো যায় না। এসব ক্ষেত্রে মূল সমস্যা অনুধাবণ ও রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নেয়া উচিত। প্রথমে একজন দন্ত চিকিৎসকের সরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। তবে রোগ নির্মূল হওয়ার আগ পর্যন্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

যে ১০টি খাবার তারুণ্য ধরে রাখে

একেক খাবারের একেক ধরনের গুণাগুণ রয়েছে। সঠিক খাবার বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়তা উপকারিতা পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. জোসুয়া জেচনার জানিয়েছেন ১০টি খাবারের কথা যা আপনার তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করে।
১. কফি : আমেরিকার জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে বলা হয়, প্রতিদিন এক কাপ কফি খেলে দেহে ২০ শতাংশ কম মেলানিন উৎপন্ন হয়। এটি দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে চেহারায়।
২. তরমুজ : এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন। বিশেষজ্ঞ ড. কেরি গ্লাসম্যান জানান, এটি এমন এক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব থেকে বাঁচতে সহায়তা করে। এতে ত্বকের সজীবতা অটুট থাকে।
৩. ডালিম : অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি পরিপূর্ণ থাকে ডালিম। আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বকে যে বয়সের ছাপ ফেলে তা নিরাময় করে ডালিমের উপাদান। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের গবেষণায় এ তথ্য দেওয়া হয়।
৪. ব্লুবেরি : এই ফলটি ভিটামিন সি এবং ই সরবরাহ করে। এর উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এতে আরো আছে প্রাকৃতিক লাইটেনার যা ত্বকের পুষ্টি জোগায়।
৫. গলদা চিংড়ি : জিঙ্ক রয়েছে প্রচুর। এই উপাদানটি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে নিরাময় করে। এতে বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
৬. পাতাকপি : সবুজ এই সবজিতে ভিটামিন কে রয়েছে। খাবারে আয়রনের অভাব ঘটলে ত্বকে ম্লান ভাব চলে আসে। ভিটামিন কে চোখের চারদিকের রক্তবাহী নালীগুলোকে সুস্থ রাখে। এতে চোখের নিচে কালি পড়ে না।
৭. ডিম : আপনার নখও প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই প্রোটিনের অভাব দেহটাকে বুড়ো বানিয়ে দেয়। ডিমে রয়েছে এমন প্রোটিন যা দেহকে পরিপুষ্টতা দেয়। প্রোটিনের ব্লক তৈরি হয় দেহে যা আপনার তারুণ্য ধরে রাখে।
৮. ওয়ালনাট : ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে এতে। এর প্রাকৃতিক তেল আপনার চুলকে পুষ্টি জোগায়। এর ভিটামিন ই ক্ষতিগ্রস্ত চুলের কোষকে সুস্থ করে তোলে।
৯. অ্যাভোকাডো : এতে আছে ওমেগা-৯ ফ্যাটি এসিড। ত্বকের কোষে ময়েশ্চার জোগায় এই উপাদান। ফলে ত্বকের সজীবতা অটুট থাকে।
১০. ফ্রুটি : এই মিষ্টি ফলটিতে রয়েছে বেটা ক্যারোটিন। অনেকের মতে, এই উপাদান কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে দ্রুত ক্ষয় হয় না ত্বকের। -ইন্টারনেট

রক্ত পরীাতেই ধরা পড়বে ক্যান্সার

করতোয়া ডেস্ক:এবার রক্ত পরীাতেই ধরা পড়বে ক্যান্সার। রক্ত পরীাতেই বুঝতে পারবেন চিকিৎসকরা কোথায় রয়েছে টিউমার। এমনই এক ধরনের বিশেষ রক্ত পরীা উদ্ভাবন করেছেন সান দিয়েগোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।গবেষণা করে তারা দেখেছেন, শরীরে কোন কোষে যখন টিউমার বেড়ে ওঠে, তখন আশপাশের কোষগুলি মরতে থাকে। সেই মৃত কোষগুলির ডিএনএ রক্তে এসে মেশে। সেই ডিএনএ থেকেই বোঝা যায় টিউমারের উৎসস্থল।

 

গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জন্য জরুরী কিছু টিপস

করতোয়া ডেস্ক: গর্ভাবস্থা এমন একটি সময় যখন শরীর আপনার আনুগত্য পালন করবে না বরং আপনাকেই শরীরের আনুগত্য মেনে নিতে হয়। গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জীবন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু গর্ভাবস্থা কোন রোগ নয়, তাই আপনি এই সময়েও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রেও ভালো করতে পারেন যদি কিছু নিয়ম মেনে চলেন। চলুন, তাহলে জেনে নিই গর্ভবতী কর্মজীবী নারীদের জন্য কিছু টিপস।

* আপনার স্ট্রেসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিটা কর্মক্ষেত্রেই কিছুনা কিছু স্ট্রেস থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম অবস্থাটি পার করছেন। তাই এই সময়টাতে সকল নেতিবাচক চিন্তাকে দূর করে দিন এবং আপনার শরীরের ভেতরে বেড়ে ওঠা ছোট শিশুটিকে নিয়ে ভাবুন।
* গর্ভাবস্থায় আপনার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকে বলে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই বাইরের খাবার খাবেন না। নিজেই খাবার তৈরি করে নিয়ে যান অফিসে।
* বিরতি নেয়া আবশ্যক। কাজ থেকে বিরতি নিয়ে কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন, দম চর্চা করুন এবং প্রতি দুই ঘন্টা পর পর কিছু খান।
* সচেতনভাবে সোজা হয়ে বসুন। স্বাস্থ্যকর দেহভঙ্গি বজায় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে এই বিষয়ে সচেতন হোন। যদি আপনার পা ফুলে যায় তাহলে একটি পাদানির উপর পা রাখুন।
* সিঁড়ি এড়িয়ে চলুন । গর্ভাবস্থায় শ্রমসাধ্য কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। তাই অফিসে লিফট ব্যবহার করুন।
* কর্মক্ষেত্রে মনোযোগী থাকার জন্য কফি অনেক কার্যকরী হলেও গর্ভকালীন সময়ে কফি বা সিগারেট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। ক্যাফেইন এবং নিকোটিন আপনার গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
* সুপারওমেন হওয়ার চেষ্টা করবেন না। গর্ভাবস্থায়ও আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন এটাই যথেষ্ট। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে যে এই সময়ে আপনার শরীর দুর্বল থাকে বলে আপনার বিশ্রাম নেয়া প্রয়োজন। তাই এই সময়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।
* অফিসে যাওয়া আসার সময় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন এড়িয়ে চলুন। অনেক বেশি ঝাঁকুনি হলে তা আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
* প্রচুর পরিমাণে পানি ও জুস পান করুন। হাইড্রেটেড থাকলে বমি বমিভাব দূর হয় এবং পেট ফাঁপা কমতেও সাহায্য করে।
* আপনার পার্সে এবং অফিসের ডেস্কে আপনার জরুরী নাম্বারগুলো রাখুন।

স্কাফোয়েড বোন ফ্রাকচার

ডা : এম নজরুল ইসলাম বকুল :কি? হাতের ছোট ছোট অস্থিগুলোকে কারপাল বোন বলা হয় যেগুলো দু’সারিতে মোট আটটি থাকে। ১ম সারিতে বাইরের দিক হতে ভিতরের দিকে প্রথম অস্থির নাম “স্ক্যাফোয়েড।” এ অস্থি আড়াআড়ি ভাবে দু’সারির মাঝে থাকে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং সম্মুখবাহু বা ফোর আর্মের মাঝে লোড বহন করে। যদি এই অস্থি পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায় তবে, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রোগী এমন কি চিকিৎসক (অভিজ্ঞতা সম্পন্ন্ না হলে)-ও বুঝতে পারে না। কারপাল অস্থির মধ্যে প্রায় ৭৫% ক্ষেত্রে স্ক্যাফোয়েড বোন ফ্রাকচার ঘটে যদিও বৃদ্ধ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটার সম্ভাবনা সাধারণত: খুবই কম।

কিভাবে হয়? যখন কেউ কব্জি উপরের দিকে বাঁকানো বা ডরসি ফ্লেকশন অবস্থায় মাটিতে অথবা শক্ত কোন বস্তুর উপর পড়ে যায়, তখন কারপাল মুভমেন্ট এবং কমপ্রেশন ফোর্স যৌথভাবে কাজ করে, ফলে প্রচন্ড রকমের ধাক্কা স্ক্যাফোয়েড বোনের উপর পড়ে এবং তা ভেঙ্গে যায়। সাধারণত: স্ক্যাফোয়েড ফ্রাকচার সু-স্থির; কিন্তু টুকরো সরে গেলে এটা অস্থির বা আনষ্টেবল হয়ে যায়। স্ক্যাফোয়ে-লুপেট লিগামেন্টের টানে নীচের ভাঙ্গা অংশ সরে যায়, উপরের টুকরো সংকুচিত হয়ে পিছনের দিকে ঠেলে উঠে “হাম্প ব্যাক” ডিফোরমিটি তৈরী করে। স্ক্যাফোয়েডের বিশেষ ব্যতিক্রমধর্মী রক্তের সরবরাহ পদ্ধতির কারণে নীচের তৃতীয়াংশে ১%, মধ্যাংশ ২০% এবং উপরের তৃতীয়াংশ ৪০% ক্ষেত্রে এভাস্কুলার নেক্রোসিস বা ননইউনিয়ন, উপরাংশের টুকরোর ক্ষেত্রে ঘটে।


উপসর্গ: আপাত: দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও কব্জির পিছনের বাইরের দিকে বৃদ্ধাংগুলির গোড়ায় অর্থাৎ এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে ফোলা লক্ষ্য করা যায়। এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে চাপ দিলে রোগী ব্যথা অনুভব করবে। সামনে অথবা পিছন থেকে স্কোফোয়েড বোনে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। বৃদ্ধাংগুলির লম্বারেখা বরাবর উপরের দিকে চাপ দিলে রোগী তীব্র ব্যথা অনুভব করে। এটাকে অনেকে ‘স্ক্যাফোয়েড ফ্রাকচারের” নির্ণয় চিহ্ন বা ‘ডায়াগনষ্টিক সাইন” বলে।


পরীক্ষা-নিরীক্ষা: ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে এক্সরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এক্সরে এপি, লেটারাল এবং অবলিক এই তিন ভিউয়েই করা হয়। তাৎক্ষনিকভাবে ফ্রাকচার অবলিক ভিউয়ে দৃষ্টিগোচর হয়। কখনো আড়াআড়ি বা ট্রান্সভারস ফ্রাকচার লাইন, কখনো আবার চাপা চিকন অংশে অথবা উপরের মেরু বরাবর কিংবা স্ক্যাফোয়েড টিউবারকল বরাবর ভাঙ্গা দেখা যায়। এক্সরেতে ভাঙ্গা অংশের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবলিক ফ্রাকচার, টুকরো দুরে সরে যাওয়া, টুকরোর মাঝের কোণের পরিমাণ এবং স্ক্যাফোয়েড ভেঙ্গে ছোট আকৃতির হয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখে ভাঙ্গা স্থির বা ষ্টেবল নাকি অস্থির বা আনষ্টেবল তা নির্ধারণ করা হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এক্সরে করলে ভাঙ্গা টুকরো, এভাসকুলার নেক্রোসিস অথবা নন ইউনিয়ন হলো নাকি জোড়া লাগলো ভালভাবে অবলোকন করা যায়। সিটি স্ক্যানেও তা ধরা পড়ে।


চিকিৎসা: (১) স্ক্যাফোয়েড টিউবারকল ফ্রাকচার হলে কোন প্লাষ্টারের প্রয়োজন পড়ে না। সেক্ষেত্রে ক্রেপ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়া হয় ৪ সপ্তাহ।
(২) আন-ডিসপ্লেসড বা অস্থানচ্যুত ফ্রাকচারে ক্ষেত্রে কোনরূপ রিডাকশন করা প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র স্ক্যাফোয়েড প্লাষ্টার দিয়ে ৬ সপ্তাহ রাখা হয়। স্ক্যাফোয়েড প্লাষ্টারের বৈশিষ্ট হলো এটা বৃদ্ধাঙ্গুলি মেটা-কারপো- ফ্যালাঞ্জিয়াল জয়েন্টের কভারেজ করে শুধুমাত্র ইন্টার ফালেঞ্জিয়াল জয়েন্ট ফ্রি রেখে মধ্য বাহু পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে; কনুই ৯০০, কব্জি ডরসি ফ্লেক্সড এবং হাতের আঙ্গুলগুলো “গ্লাস ধরার পজিশনে” রাখা হয়। ৬ সপ্তাহ পর প্লাষ্টার খুলে কব্জি সরাসরি পর্যবেক্ষণ, এক্সরে করে দেখা হয়। যদি কব্জি কিংবা এনাটমিক্যাল স্নাব বক্সে এ ব্যথা না থাকে এবং এক্সরেতে ভাঙ্গা জোড়া লাগা পর্যবেক্ষণ করা যায় সেক্ষেত্রে কব্জি ফ্রি রাখা হয়। আর যদি ব্যথা থাকে এবং এক্সরে-তে ফ্রাকচার দেখা যায় তবে আরো ৬ সপ্তাহ আবার একই পদ্ধতির প্লাস্টার রাখা হয়।


(৩) ডিসপ্লেসড ফ্রাকচার বা স্থানচ্যুত ফ্রাকচার- এক্ষেত্রে প্লাষ্টার করা যায় তবে ফলাফল খুব ভাল নয়। তাই ফ্রাকচার অপারেশনের মাধ্যমে স্ক্রু দিয়ে ফিক্সেশন করা হয়। এক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি জোড়া লাগে এবং অনড় করে রাখার সময় কম লাগে।
জটিলতা:
(১) এ ভ্যাস্কুলার নেক্রোসিস: এটা আর্থ্রাইটিস এবং ব্যথার অন্যতম কারণ অপারেশন প্রয়োজন হয়।
(২) নন-ইউনিয়ন: তিনমাসের মধ্যে ভাঙ্গা জোড়া না লাগলে নন-ইউনিয়ন হয়। এক্ষেত্রে অপারেশন এবং বোন গ্রাফটের প্রয়োজন পড়ে।
(৩) অষ্টিও আর্থ্রাইটিস: নন-ইউনিয়ন অথবা এ্যাভাসকুলার নেক্রোসিসের কারণে আথ্রাইটিস অষ্টিও আর্থ্রাইটিস হয়। কারপাল রোলগুলোর জয়েন্টে অথবা কব্জিতে এই অষ্টিও আর্থ্রাইটিস হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রেও অপারেশন প্রয়োজন হয়। স্ক্যাফোয়েড ছোট্ট একটা অস্থি যা কারপাল বোনের প্রথম সারিতে প্রথম। ভেঙ্গে গেলে অনেকক্ষেত্রেই এটা ভ্রম হয়। রোগী কিংবা অনভিজ্ঞ চিকিৎসক কেউই বুঝতে পারেননা যে কি ক্ষতি হয়েছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই রোগী দেরীতে ব্যথা এবং অস্বস্থি নিয়ে আসে। এক্সরে কিংবা সিটিস্ক্যান করে তখন ধরা পড়ে নন-ইউনিয়ন অথবা এ্যাভাসকুলার নেক্রোসিস যার চিকিৎসা অপারেশন। তাই অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা গ্রহণের জন্য কেবলমাত্র অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনই হোক প্রথম চয়েস। ধন্যবাদ

শিশুর দাঁতের সমস্যা

ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন):অনেক সময়ই আমাদের বাচ্চাদের মুখ ফুলে যায়। কোথাও ব্যথা না পেয়ে অথবা কোন কারণ ছাড়াই মুখের একপাশে ফুলে যায়। আর তখনই বাবা মা বেশ বিচলিত হয়ে পড়ে। এটি মূলত এক প্রকারের দাঁতের রোগ। যার নাম “অ্যালভিওলার অ্যাবসেস।” বাচ্চারা ঠিকমত ব্রাশ না করলে এবং বিস্কুট, চকলেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে ভালমত মুখ না ধুলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর এই ক্ষয় ধীরে ধীরে অ্যালভিওলার অ্যাবসেস রোগে রূপ নেয়। সাধারণত ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের এই সমস্যা হয়ে থাকে।
নিচে এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে দেয়া হল: * প্রাথমিকভাবে শিশুর দাঁতের গোঁড়ায় ও মাড়িতে পুঁজ জমা হতে থাকে। * পুঁজ বের না হতে পারার কারণে মাড়ি থেকে শুরু করে গাল পর্যন্ত ফুলে যায়।
* দাঁতে প্রচুর ব্যথা হয়।
* সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে দাঁতের মজ্জা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিকার: প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই এটি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ সেবন করা যাবে না। তবে ব্যথা প্রকট আকার ধারণ করলে, হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে কুলি করা যায়। এতে ব্যথা প্রশমিত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেলে মাড়ি ফুলা ধীরে ধীরে কমে আসে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে ২ সপ্তাহ পার হয়ে যায়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে রোগীকে নরম ভাত ও দুধ আর পাউরুটি বা এ জাতীয় নরম খাবার দিতে হবে। চিকিৎসা শেষ হলে রোগীকে নিয়মিত দুই বেলা ব্রাশ করার পরামর্শ এবং নরম ভাত, দুধ ও পাউরুটি বা এ জাতীয় নরম খাবার খেলে মুখ ভালমত পরিষ্কার করতে হবে।

ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অত্যন্ত শক্তিশালী ১৬টি ভেষজ উপাদান

ডায়াবেটিস শুধু উন্নত দেশগুলোতেই নয়,এটা ক্রমবর্ধমান ভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও মহামারী আকার ধারণ করছে। তবে গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার এই রোগটির জন্য জীবন যাপনের একটি ভালো মান বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়াম ছাড়াও বেশ কিছু ধরনের ভেষজ উপাদানের ব্যবহার ভালো সাহায্য করতে পারে। উপাদানগুলো আমাদের সবার বেশ পরিচিত এবং সহজলভ্য। তাই এই উপাদানগুলো সম্পর্কে ধারনা সবারই থাকা উচিত।


১) মেথি : এই বীজটিতে অনেক বেশি পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজমের সময় শর্করার ভাঙ্গনের গতিকে ধীর করে ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির থাকে।
২) করলা : এই সবজিতে থাকা বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং এটি ক্ষুধা উদ্দীপক হিসেবে কাজে করে বলে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভালো উপকারি।
৩) জামরুল : এই ফলটিতে লধসনড়ষরহব নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ আছে যা শর্করাকে চিনিতে রূপান্তরিত হতে বাধা দিয়ে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪) বেল পাতা : এই পাতার ডায়াবেটিস বিরোধী গুণাগুণ আছে। তাই বেল পাতার রস খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
৫) রসুন : এতে থাকা অষষরপরহ নামক যৌগ ডায়াবেটিসের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রমাণিত।
৬) অ্যালোভেরা : লিভারের ঔষধ হিসেবে কাজ করে অ্যালোভেরা। তাই এটা লিভারকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে রক্তের সুগারের শর্করার নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।
৭) বাঁধাকপি- ঈৎঁপরভবৎড়ঁং গোত্রীয় অন্যান্য সবজির মতো বাঁধাকপিও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়মিত করতে এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৮) হলুদ : আমলকীর সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে তা ডায়াবেটিস এর চিকিৎসায় বেশ কার্যকরী।
৯) দারুচিনি : চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে দারুচিনি রক্তের শর্করার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে।
১০) কারি পাতা : সকালে তাজা কারি পাতা খেলে তা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
১১) আমলকী : করলার সাথে আমলকীর রস মিশিয়ে খেলে তা ইন্সুলিনের প্রাকৃতিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
১২) ইসবগুল : এটি ক্ষুদ্রান্তে চিনি শোষণে বাধা দিয়ে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে।
১৩) শিম : এটি জটিল শর্করা এবং খাদ্য আঁশের একটি সমৃদ্ধ উৎস। এছাড়া এটি ইন্সুলিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে।
১৪) মুলা এবং শসা : শসা ও মুলার শাকে আছে উচ্চ মাত্রার আঁশ এবং খুব কম পরিমাণ শর্করা, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।
১৫) পেঁয়াজ : রসুনের মতো পেঁয়াজও অষষরঁস গোত্রীয়। এই গোত্রের সক্রিয় উপাদান ধষষরপরহ ও ধষষুষ ঢ়ৎড়ঢ়ুষ ফরংঁষঢ়যরফব দুটিই হাইপোগ্লাইসেমিক পদার্থ হিসেবে পরিচিত। হাইপোগ্লাইসেমিক পদার্থ রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
১৬) আদা : তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত এই মূলটিতে থাকা এরহমবৎড়ষ নামক যৌগ দেহের পেশী কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করে। যার ফলে সামগ্রিক রক্তের শর্করার মাত্রা কমায়।
ডায়াবেটিস একটি গুরুতর অবস্থা এবং দিন দিন এর ব্যাপক প্রকোপ সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যের উপর একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই রোগ মানুষকে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির কারণে সৃষ্ট অন্ধত্বের ঝুঁকিতে নিয়ে যায় এবং এর ফলে যে পরিমাণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে বাদ দিতে হয় তা অনেক সময় কোন দুর্ঘটনা বা ট্রমার কারণেও করতে হয় না। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং আরো গুরুতর ক্ষতি এড়ানোর জন্য দিনের পর দিন একটি স্বাস্থ্যকর মাত্রার মাঝে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে একটি অন্যতম শর্ত। তাই উল্লেখিত ভেষজ উপাদান গুলো প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।  -ইন্টারনেট

কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা

স্টাফ রিপোর্টার : কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। কারণ জনসচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অন্যদিকে কিডনি রোগীর চিকিৎসার ব্যয়ভারও অনেক। ফলে অধিকাংশ েেত্র কিডনি রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার আগেই মৃত্য হয়।গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস’ উপলে ‘ক্যাম্পস’ আয়োজিত ‘স্থুলতা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সুস্থ কিডনির জন্য সুস্থ জীবনধারা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ পরামর্শ ও শঙ্কার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রণজিৎ রায় বলেন, ১৮ বছরের নিচে অধিকাংশ শিশুর কিডনি রোগ হতে পারে। এজন্য শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুদের েেত্র প্রথম থেকেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। অন্যদিকে সাধারণত রোগীর কিডনি ৭০ শতাংশ বিকল হওয়ার পর এর লণ ধরা পড়ে। ফলে রোগী বুঝে ওঠার আগেই অধিকাংশ েেত্র মৃত্যুবরণ করে থাকে।


কিডনি ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মহিবুর রহমান বলেন, কিডনি রোগ থেকে রা পেতে আমাদের খাদ্যাভ্যাসটা পরিবর্তন করতে হবে। দিনে অন্তত ৫ বার ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কেননা স্থুলতার সবচেয়ে বড় কারণ উচ্চরক্তচাপ। এেেত্র খাবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়া কিডনি সুস্থ রাখতে কায়িক পরিশ্রমও করতে হবে। এর ফলে কিডনি অনেক ভালো থাকে। বেলা’র নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. রিজওনা হাসান বলেন, বায়ু দূষণে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে। বাইরে হাঁটতে গেলে আজ নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।

 হাঁটা চলার মতো জায়গাও রাজধানীতে কমে যাচ্ছে। আবার শাক-সবজি ও ফলমূলেও এখন বিষ মেশানে হচ্ছে। এটা খেয়ে আমরা সুস্থতার পরিবর্তে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এেেত্র সরকারকে নজর রাখতে হবে, অধিক ফসল উৎপাদনের নামে যেন নাগরিকদের বিষ না খাওয়ানো হয়। এজন্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। কারণ এটা ছাড়া কোনোভাবেই কিডনি রোগ থেকে রা পাওয়া সহজ নয়।

 কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির সভাপতি অধ্যপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় ৫ জন কিডনি রোগী মৃত্যুবরণ করছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। ২০০৫ সালে ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সারাবিশ্বে কিডনি রোগে মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বে শতকরা ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত।

 তবে কিডনি রোগটি হয়ে থাকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিকসের কারণে। আবার ২০১০ সালে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় স্থুলতার কারণে। অপরদিকে কিডনি রোগে আক্রান্ত ৫ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য নেই। ফলে জনসচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই এটি রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার উপদেষ্টা মির মোতাহার হোসেন, সংবাদ উপস্থাপক শামিম আরা মুন্নি, সাবেক ক্রিকেটার আশরাফুর রহমান লিপু প্রমুখ।

 

বুকে ব্যথা মানেই ভয়ের কারণ নেই

বুকে ব্যথা হলে প্রথমে আমাদের ঘিরে ধরে আতঙ্ক। হার্টের সমস্যা ভেবে বসি। কিন্তু বুকে ব্যথা মানেই ভয়ের কারণ নেই। কারণ হার্টের সমস্যা ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে হতে পারে বুকে ব্যথা।

১) অ্যাসিডিটি- অ্যাসিডিটি থেকে বুকে ব্যথা হয়। পাকস্থলীতে যে অ্যাসিড তৈরি হয়, তা ইসোফেগাস (পাকস্থলীর সঙ্গে গলার সংযোগকারী টিউব) দিয়ে উপরে উঠে এলে বুকে ব্যথা হয়। সাধারণভাবে পাঁজরের নীচে ডানদিক ঘেঁষে এই ব্যথা হয়।
২) পেশীতে টান- ভারী জিনিস তোলার কারণে অনেকসময় পেশীতে টান ধরে। যার জন্যই বুকে ব্যথা হয়।
৩) করোনারি আর্টারি ডিসিজ (CAD)- হার্ট অ্যাটাক নয়, তবে হ্যাঁ উদ্বেগজনক। CAD হচ্ছে হৃদপিণ্ডের ধমনীগুলিতে ব্লকেজ। যার ফলে হৃত্পেশীতে রক্ত ও অক্সিজেন সঞ্চালন বাধা পায়। তখনই বুকে ব্যথা হয়।
৪) পালমোনারি এমবলিজম- ফুসফুসে সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হয়।
৫) নিউমোনিয়া ও নিউরাইটিস- বুকে ও ফুসফুসে কফ বসে সংক্রমণ হতে পারে। যার ফলে নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়, কাশতে গেলে বুকে ব্যথা লাগে।
এই সবগুলোর সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথার পার্থক্য আছে। সেক্ষেত্রে ব্যথা হয় চিনচিনে কিন্তু গভীর। সেই ব্যথা বুক থেকে গলা, বাহু এমনকী চোয়ালেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজের ঝুঁকি

করতোয়া ডেস্ক: জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে আমাদের অফিস বা ব্যবসা ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকতে হয়। এই চেয়ারে বসে থাকার ফলে আমাদের ভুগতে হয় নানা সমস্যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলো কোমর ও ঘাড় ব্যথা। ডেস্ক জব করেন, কিন্তু কোমর বা ঘাড়ে ব্যথা হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেকের জন্য এটা একটা অভিশাপের মতো দেখা দেয়, কারণ এই সমস্যার জন্য অনেকে পেশা পরিবর্তন করতেও বাধ্য হন। আজ আমরা আলোচনা করব, এই ধরনের বসে থাকার জন্য যে কোমর বা ঘাড়ে ব্যথা হয় তার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে। স্বাভাবিক ভাবেই চেয়ারে বসার সময় আমরা কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে বসি। আমাদের কোমরের যে মেরুদ  আছে, তা কিন্তু সরল রেখার মতো সমান বা সোজা নয়। মেরুদ  অনেকগুলো ছোট হাড়ের সমন্বয়ে তৈরি।

 এই হাড়গুলোর মাঝখানে আবার রয়েছে নরম জেলির মতো ডিস্ক যা হাড়ের মধ্যে ঝাঁকুনি প্রতিহত করে ও পুরো মেরুদ কে ফ্লেক্সিবল করে। আমরা যখন দীর্ঘক্ষণ সামনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকি, তখন আমাদের মেরুদে র এই ডিস্কগুলোতে অনেক চাপ পড়ে, সেই সাথে চাপ পড়ে মেরুদে র আশেপাশের মাংসপেশি ও লিগামেন্টের ওপর। ডিস্কগুলো যেহেতু নরম, তারা এই অস্বাভাবিক চাপের দরুন আস্তে আস্তে স্ফিত হয়ে মেরুদে র ভেতর থেকে শরীরের বিভিন্ন নার্ভের ওপর চাপ দেয়। আর এজন্য আমরা ব্যথা অনুভব করি। এই চাপের তারতম্য বা তীব্রতার ওপর ব্যথার ধরণ নির্ভর করে।

 চাপ যত বেশি হবে, ব্যথার তীব্রতাও বেশি হবে, সেই সাথে কোমর থেকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়বে। অনেক সময় এই ব্যথা পায়েও অনুভূত হতে পারে। উন্নত দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের এ ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ অ্যাডজাস্টেবল চেয়ারের ব্যবস্থা করে থাকে, যা মেরুদে র আকৃতি ঠিক রেখে বসতে সাহায্য করে। তবে বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো এ চেয়ার ব্যবহার করা হয় না। আশার কথা হচ্ছে, সাধারণ চেয়ারে কিছু বিশেষ ধরনের কুশন ব্যবহার করে মেরুদ কে সোজা রেখে কোমর ও ঘাড় ব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। যারা কোমর অথবা ঘাড়ের ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, কোনোভাবেই সামনে ঝুঁকে বসা যাবে না। কাজের চাপে আমাদের মনে থাকে না সোজা হয়ে বসার কথা।

 এজন্য আমরা একটি বিশেষ কুশন চেয়ারের সাথে ব্যবহার করতে পারি। এগুলোকে বলা হয় লাম্বার রোল। এই লাম্বার রোল ব্যবহার করলে আমাদের কোমর সোজা থাকবে। ২-৩ ঘণ্টা বসে কাজ করার পর ১০-১৫ মিনিটের জন্য হালকা হাঁটা চলা করে নিন। ব্যথা বেশি হলে অবশ্যই আপনাকে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ (সাধারণ এক্সারসাইজ নয়) দেবেন, যাতে আপনার মেরুদে র ডিস্কগুলো আগের জায়গায় ফিরে আসে। শেষ কথা হচ্ছে, বেশিদিন কর্মক্ষম থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই সামনে ঝুঁকে বসে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব সময় কোমরের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় রেখে বসতে হবে। প্রয়োজনে লাম্বার রোল ব্যবহার করতে হবে যাতে ব্যথার উৎপত্তিই না হয়।

রূপচর্চায় তেজপাতার ব্যবহার

করতোয়া ডেস্ক: সুগন্ধী মশলা হিসেবে তেজপাতার সুনাম অনেক যুগের। কিন্তু জানেন কি, তেজপাতা আপনাকে সুন্দর করে তুলতেও রাখতে পারে চমৎকার ভূমিকা। রূপচর্চায় তেজপাতা দারুণ একটি উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
* একটি প্যানে ২ কাপ পানিতে ৫ টি শুকনো তেজপাতা নিয়ে ঢেকে জ্বাল দিন। এরপর ঢাকনা খুলে ২ মিনিট জ্বাল দিয়ে একটি সসপ্যানে নামিয়ে নিন। এরপর একটি তোয়ালে দিয়ে মাথাসহ সসপ্যানটি ঢেকে ভাপ আপনার ত্বকে নিন। এভাবে মিনিট দশেক ভাপ নিলেই যথেষ্ট। সপ্তাহে ২বার এভাবে করুন, ব্রণ ও রিংকেল সমস্যার সমাধান থাকবে না।
* তেজপাতার অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের যে কোনো ইনফেকশন দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। ছোটখাটো কাটা ছেঁড়া, জখমের দাগ এবং পোকামাকড়ের কামড়ের সমস্যা সহজেই দূর করতে পারেন কাঁচা তেজপাতার রসের মাধ্যমে।
* পানিতে তেজপাতা ভালো করে ফুটিয়ে তা ছেঁকে নিয়ে চুল ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুল পড়ার সমস্যা একেবারেই দূর হয়ে যাবে। এছাড়াও তেজপাতার তেল মাথার ত্বকে লাগালে চুলের খুশকি সমস্যা থেকেও দ্রুত রেহাই পাবেন।
* ৫০ গ্রাম তেজপাতা গুঁড়ো করে নিয়ে ৪০০ মিলি পানিতে জ্বাল দিতে থাকুন, যতোক্ষণ না ১০০ মিলিতে পৌঁছায়। শুকিয়ে এলে ছেঁকে পানি আলাদা করে নিন। এই পানি চুলের গোঁড়ায়, মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসেজ করে নিন। ৩-৪ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। ব্যস, উকুন সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
* তেজপাতা গুঁড়ো করে টুথপেস্টের সঙ্গে মিশিয়ে তা দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নিন। দেখবেন খুব দ্রুত দাঁতের হলদেটে দাগ একেবারেই দূর হয়ে গিয়েছে। তবে ঘন ঘন এই পদ্ধতি অবলম্বন করবেন না।
* কাঁচা তেজপাতা অলিভ অয়েলে ফুটিয়ে তেজপাতার তেল তৈরি করে নিতে পারেন। এই তেল দেহে ব্যবহার করলে মশা থাকবে দূরে এবং মশার কামড়ের জ্বালাপোড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত

বাংলাদেশে দুই কোটির অধিক মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘন্টায় অকাল মৃত্যুবরণ করছেন পাঁচ জন।  রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ফ্রি কিডনী পরীক্ষা ও কিডনী সচেতনতা মূলক সেমিনারে ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের কিডনি বিভাগের চীফ কনসালটেন্ট ও ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে এই কথা বলেন।

অধ্যাপক এম এ সামাদ বলেন, সাধারণত ৭৫ ভাগ কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে রোগীরা বুঝতেই পারে না যে, সে ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত। কিডনি রোগের চিকিৎসা এতোই ব্যয়বহুল যে, এদেশের শতকরা ১০ ভাগ লোকেরও সাধ্য নেই এই ব্যয় বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাবার। সচেতন হলে শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে ভয়াবহ কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬৩ ভাগ লোকের মৃত্যু হয়, আগামী ১০ বছরে এ হার ৭০ ভাগ ছাড়িয়ে যাবে, কারণ প্রতিবছর ২ ভাগ হাড়ে বৃদ্ধি পায়। সচেতন হলেই এবং লাইফ ষ্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বর্তমান বিশ্বে ১০ জনের মধ্যে ১ জন কিডনি রোগী। কিডনি রোগ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভাবে ১০ টি স্বর্ণালী সোপান কঠিন ভাবে অবলম্বনের তাগিদ তৈরি হয়েছে জানিয়ে এম এ সামাদ বলেন, কায়িক পরিশ্রম ও খেলাধূলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান থেকে বিরত থাকা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ যাতে প্রতিদিন শাকসবজি ও ফল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ফাষ্টফুড পরিহার করা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরিচ্চন্ন থাকা ও খাবার পূর্বে হাত ধোয়া, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ব্যাথা নাশক ও এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন না করা, নিয়মিত কিডনির কার্যকারীতা পরীক্ষা করা। তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ব্যাপি আজ কিডনি রোগের ভয়াবহতা সংশ্লি¬ষ্ট সকলেই উপলব্ধি করতে পারছেন। তারা মনে করেন যে, চিকিৎসা করে নয় বরং প্রতিরোধ করেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব প্রশমন করতে হবে। আর এ জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।

কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) এই ফ্রি এর বিবিধ সেবা কার্যক্রমের বিশেষ অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ফ্রি কিডনি স্ক্রিনিং ও কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা মূলক সেমিনারের আয়োজন করে। ক্র্যাব সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী, ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক সরোওয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দিন ব্যাপী চলমান ফ্রি স্ক্রিনিং কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রায় ২শ সাংবাদিক এর স্ক্রিনিং করা হয়।

 

 

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দাঁতের বিভিন্ন কসমেটিক চিকিৎসা

,ডা: মো: সাব্বির মোস্তাক রহমান (ডুরেন)দাঁত মাড়ি ও দাঁতের বিন্যাসজনিত সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কসমেটিক চিকিৎসা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতের অবস্থান, আকার-আকৃতি ও রঙের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুন্দর হাসি তৈরিতে সাহায্য করে। মাড়ি ও মুখের শল্যচিকিৎসাও অবদান রাখছে সুন্দর হাসি ও মুখমন্ডলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে। দাঁতের বিভিন্ন কসমেটিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করা হলো।


ব্লিচিং: দাঁতের কসমেটিক চিকিৎসায় দাঁত সাদা করা বা দাঁতের ব্লিচিং পদ্ধতি সচরাচর ব্যবহার করা হয়। বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে এ চিকিৎসা করা হয়। যদিও ডেন্টাল ক্লিনিকে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তবুও ঘরে বসে দাঁত সাদা করতে বিশেষ ধরনের ‘ব্লিচিং কিট’ দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। বিশেষ ব্লিচিং উপাদান ব্যবহার করে লেজাররশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমেও দাঁত সাদা করা যায়।


রিশেপিং: এ পদ্ধতিতে দাঁতের বাইরের অ্যানামেল স্বল্পমাত্রায় কেটে দাঁতের আকার আকৃতি বদল করা যায়। এ পদ্ধতির নাম অ্যামিলোপ্লাস্টি বা ওডোন্টপ্লাস্টি। এক্ষেত্রে ডেন্টিননামক দাঁতের সংবেদনশীল আবরণ উন্মুক্ত হয়ে গিয়ে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। বন্ডিং: এ পদ্ধতিতে দাঁতের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কম্পোজিটের মাধ্যমে দাঁতের সামঞ্জস্যপূর্ণ আকৃতি তৈরি করা হয় এবং বিশেষ আলোকরশ্মি প্রয়োগ করে তা শক্ত করা হয়। মুখের সামনের দিকের ভাঙা বা বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক আকার ও রঙ ফিরিয়ে আনার জন্য এ পদ্ধতি খুব কার্যকর।


ভিনির: এক্ষেত্রে পোরসিলিনের পাতলা ল্যামিনেশন দাঁতের ওপর বন্ডের মাধ্যমে বসিয়ে দেওয়া হয়। দাঁত সাদা করার চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায় নি। এমন বিবর্ণ দাঁতের স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে এ পদ্ধতি কার্যকর। সামনের দাঁতের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা থাকলে তা ভিনির মাধ্যমে বন্ধ করে ফেলা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিনির করার আগে দাঁতের অ্যানামেলের কিছু অংশ চেঁছে ফেলতে হয় ভালো ফল পাওয়ার জন্য।ক্রাউন: ভাঙা দাঁত বা দাঁতের অস্বাভাবিক আকারের কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে দাঁতে ধাতব মুকুট বা ক্রাউন পরিয়ে দেওয়া হয়। বাইরের দিকে থাকে পোরসিলিনের আবরণ।

 তা ব্যক্তিবিশেষের দাঁতের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। ডেন্টাল ব্রিজ: মুখে এক বা একাধিক দাঁত না থাকলে তা প্রতিস্থাপন করা যায় ব্রিজ করার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে হারানো দাঁতে পোরসিলিনের দাঁত ঝুলন্ত অবস্থায় বসিয়ে দেওয়া হয় ভার বহন করতে সক্ষম এমন হারানো দাঁতের উভয়পাশের দুটি দাঁতে।
ব্রেস: যারা আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু দাঁতের কারণে সৌন্দর্যহানিতে ভুগছেন, তাদের দাঁত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দাঁতে ব্রেস পরানো হয়। অর্থোডন্টিস্টরা এ চিকিৎসা করে থাকেন।ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: মুখের হারানো দাঁত প্রতিস্থাপনে এটি আধুনিক একটি পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে চোয়ালের হাড়ে টাইটেনিয়াম উপাদানের স্ক্রু বসিয়ে দেওয়া হয়। এ স্ক্রুর ওপর ভর করে বসিয়ে দেওয়া হয় কৃত্রিম দাঁতের মুকুট, ক্ষেত্রবিশেষে বাঁধাই করা দাঁত।


চোয়ালের শল্যচিকিৎসা: যাদের নিচের চোয়াল সামনের দিকে বাড়ানো, তাদের মুখমন্ডলের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রয়েছে ‘অর্থোগ্নেথিক সার্জারি’ নামক শল্যচিকিৎসা।
গাম লিফটিং: হাসার সময় কারো কারো দাঁতের মাড়ি সহজেই দেখা যায়। এ সমস্যার নাম ‘গামি স্মাইল। এক্ষেত্রে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে মাড়ি উপরের দিকে তুলে দেওয়া হয় বা মাড়িতে সৌন্দর্যরেখা তৈরি করা হয়। হাসার সময় মাড়ির পরিবর্তে দাঁতগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ফিরে আসে হাসির সৌন্দর্য।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ ৬ টি খাবার…

প্রতিদিন আমরা শরীরের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকি। এই খাবারগুলো আমাদের দেহে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া আরও অনেক ধরনের উপাদানই আমাদের দেহের জন্য বেশ প্রয়োজনীয় তার মধ্যে ক্যালসিয়াম অন্যতম।কেননা ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে সেটি হল দেহের হাড় মজবুত করে থাকে। আসুন এমনই কিছু ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জেনে নিই যেগুলো আমাদের দেহের হাড় মজবুতে সহায়তা করে থাকে।
১. দুধ :
দুধ সর্বোৎকৃষ্ট ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ একটি খাবার। শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্যই না এটি প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্যও একটি প্রয়োজনীয় খাবার। এটি এমনই একটি খাবার যা দেহে খুব সহজেই জারিত এবং শোষিত হয়ে থাকে যার ফলে শারীরিক বৃদ্ধি এবং হাড় মজবুতে সহায়তা করে থাকে।
২. দই :
এটি প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে কিছু স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা হজমে সহায়তা করে। এছাড়া এতে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড় মজবুত করে থাকে।
৩. সবুজ শাক সবজি :
বিভিন্ন প্রকারের সবুজ শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে। যেমন ধরুন বিভিন্ন শাক, শালগম, বাঁধাকপি, লেটুস পাতা, মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যেগুলো হাড় গঠনে সহায়তা করে।
৪. মটরশুটি :
মটরশুটিতেও প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যেগুল হাড় মজবুত করে। এক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধির জন্য আপনি বিভিন্ন জাতের মটরশুটি খেতে পারেন।
৫. বিভিন্ন ঔষধি এবং মসলা:
বিভিন্ন ধরনের ঔষধি অর্থাৎ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, দারুচিনি এবং মসলা জাতীয় খাবার যেমন রসুন ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা শরীরের বিভিন্ন হাড় মজবুত করে থাকে।
৬. কমলা :
সাইট্রাস জাতীয় ফল কমলাতে শুধু ক্যালসিয়ামই নয় ভিটামিন ডি আছে যেগুলো শরীরের হাড় মজবুত করে। তাই প্রতিদিন সকালে নাস্তার সময়ে এক গ্লাস কমলার জুস খেতে পারেন এতে শরীরের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করবে এবং হাড় মজবুত করবে।  -ইন্টারনেট

মাথা ব্যথা হয় চোখের কারণে

চোখের কারণে মাথা ব্যথা হয়!
আজকাল খুব মাথা ব্যথা করছে? ভাবছেন মাইগ্রেন বা অন্য কিছু হয়েছে? আপনার এই ধারণা কিন্তু সত্য নাও হতে পারে। এমনও হতে পারে যে মাথা ব্যথাটি করছে চোখের কারণে।অনেকে ভাবেন কেবল চোখের পাওয়ারের গরমিল হলেই বুঝি মাথা ব্যথা হয়। সেটাও কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। চোখের আরও অনেক গুলো সমস্যার কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে, যেগুলো আসলে খুবই কমন। আসুন, জেনে নেই সেইসব সমস্যার ব্যাপারে।চোখের যেসব সমস্যায় মাথাব্যথা হয় সেগুলো হচ্ছে- চক্ষু গোলকের নিজস্ব রোগ, চোখের প্রেসার বৃদ্ধি, চোখে আঘাতজনিত সমস্যা, চোখের পাওয়ারজনিত সমস্যা, চোখের মাংসপেশির সমস্যা।


চক্ষু গোলকের রোগ-
চক্ষু গোলকের নিজস্ব রোগ বলতে বুঝি সাধারণত বিভিন্ন রকম প্রদাহ। এসব প্রদাহ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক সংক্রমণে সৃষ্ট। এসব ক্ষেত্রে মাথাব্যথার সঙ্গে চোখের ব্যথা থাকবে। কখনো কখনো চোখের ব্যথা তীব্রতায় মাথাব্যথাকে ছড়িয়ে যায়। আর মাথা এবং চোখ ব্যথার পাশাপাশি চোখ লাল হওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া বা চোখ থেকে পানি পড়া ইত্যাদি অবশ্যই থাকবে।কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো যেমন, চোখের পাতার লোমকূপের প্রদাহ কর্নিয়ার প্রদাহ বা কর্নিয়ায় ঘা, নেত্রনালির ইনফেকশন, চোখের কোনো বস্তু (ফরেন বডি) ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে চোখের ব্যথা। ওইদিকের মাথাব্যথা থাকতে পারে, তবে চোখের উপসর্গগুলোই প্রধান।
চোখের উচ্চচাপ বা গ্লুকোমা

গ্লুকোমা অনেক রকমের হয়। কিছু কিছু গ্লুকোমার ধরন রয়েছে সেখানে চোখে প্রচন্ড ব্যথা হয়, চোখ লাল হয়ে যায়, ঝাপসা হয়ে যায় ইত্যাদি। এসব গ্লুকোমার আক্রমণে চোখের দিকের মাথার অংশেও ব্যথা হয়।ব্যথাটা প্রচন্ড, সঙ্গে বমিও হয় সাধারণত অনেক সময় এ ধরনের গ্লুকোমার রোগী মেডিসিন বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হয়ে মাথাব্যথা আর বমি নিয়ে বিচক্ষণ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিজেই চোখের সমস্যা ধরে ফেলতে পারেন, তখন তিনি রোগীকে পাঠিয়ে দেন চক্ষু চিকিৎসকের কাছে।
আরেক ধরনের গ্লুকোমা আছে যেখানে চোখে ঝাপসা, লাল বা ব্যথা কিছুই হয় না, শুধু চশমার প্রতি অসহনশীলতা। দেখা যায়, নতুন চশমা নিলে কিছুদিন ভালো চলে পরে ওই চশমায় আর চলছে না একটু ঝাপসা হয়ে আসছে আরে একটু একটু মাথাও ব্যথা হচ্ছে ব্যথাটা হচ্ছে মাথার সামনের দিকে, কপালের ওপরে বিশেষ করে কোনোকিছু মনোযোগ দিয়ে পড়ার সময়।


রোগী চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যান চিকিৎসক চশমা পাল্টে দেন আর কিছুদিন ভালো আবার তথৈবচ। এমন অবস্থায় চোখের উচ্চচাপের কথাটি বিশেষজ্ঞের মাথায় থাকা উচিত।চোখের আঘাত,চোখের যে কোনো ধরনের আঘাত তা সে ধারালো বস্তু দিয়েই হোক বা ভোঁতা শক্ত বস্তু শক্তি দিয়েই হোক চোখ এবং চোখের দিকে মাথার অংশে ব্যথা হবে। চোখে কোনো বস্তু (ফরেন বডি) পড়লে তা থেকেও চোখ এবং মাথাব্যথা হয়।চোখের পাওয়ারজনিত সমস্যা


অনেক ক্ষেত্রে চোখের পাওয়ারের সমস্যা প্রকাশ পায় মাথাব্যথা দিয়ে। সাধারণত মাথার সামনের দিকে কপালের উপরিভাগে এবং দু’দিকে ব্যথা হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ভালো, আস্তে আস্তে সকাল পেরিয়ে দিন যত গড়ায়, কাজের ব্যস্ততা যত বাড়ে মাথাব্যথা আস্তে আস্তে তত মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে।
সঙ্গে একটু বমি বমি ভাব অথবা মাথা ঘুরানো থাকতে পারে। এসব উপসর্গ দিনের শেষভাগে বাড়ে রাতে ঘুমিয়ে সকালে ওঠে আবার ভালো। আবার দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাথাব্যথাও জেগে ওঠে। তবে সপ্তাহান্তে ছুটির দিন স্কুলে পড়া নেই, অফিসের ফাইলে নেই মাথাব্যথা।

এসব ক্ষেত্রে একটু একটু আন্তরিকতার সঙ্গে ধৈর্য ধরে রোগীর সমস্যা শুনলে যে কোনো ডাক্তার বিষয়টি ধরে ফেলতে পারবেন। রোগীকে প্রয়োজনীয় চশমার পরামর্শ দিলে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের মাথাব্যথা সেরে যায়। অনেক চোখে ঝাপসা বা কম দেখেন এবং বিশেষ করে চল্লিশোর্ধ্বরা কাছের কোনো লেখাপড়ার সময় ঝাপসা দেখেন কিছুক্ষণ পড়ার পর আস্তে আস্তে মাথা ধরে যায়।


চশমাই এসব মাথাব্যথার মোক্ষম অস্ত্র। শিশুরা অনেক সময় মাথাব্যথা বলে, স্কুলে যেতে চায় না, পড়তে বসে মাথাব্যথায় কাঁদে। অভিভাবকরা প্রথমেই বাচ্চার পড়ার ফাঁকি দেয়ার কথা না ভেবে চোখের সমস্যার কথা ভাবুন ঘুরে আসেন একবার কাছের চক্ষু ডাক্তারের কাছ থেকে কোনো কিছু না পাওয়া গেলে আপনি ভাবতে পারেন যা ভেবেছিলেন।চোখের মাংসপেশির সমস্যা

দুটি চোখে সবসময় সমভাবে একই দিকে ঘুরে এভাবেই সব অবস্থানেই সমান্তরাল অবস্থা ধরে রাখে। এজন্য সাহায্য করে আমাদের চোখের দুটি মাংসপেশি এবং এদের সুবিন্যস্ত নার্ভ সাপ্লাই। কোনো কারণে চোখের এ মাংসপেশির সমান্তরালতা নষ্ট হলে ওই ব্যক্তি দুই চোখে একটি বস্তুকে দুটি দেখবে।এটিকে ডিপ্লোপিয়া বলে। এ বড় যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা। তখন মাথাব্যথা, ঘোরানো ইত্যাদি উদ্ভব ঘটে।

আবার মস্তিষ্কে অনেক সময় টিউমার বা সেরকম কিছু হলে ওই টিউমারের কারণে রোগীর চক্ষু মাংসপেশি দুর্বল হয়ে ডাবল ভিশন বা দ্বৈতদৃষ্টি এবং মাথাব্যথা একসঙ্গে হতে পারে।মস্তিষ্কে টিউমারের কারণে মাথাব্যথা হয় সাধারণত সকালে বেশি বসা থেকে উঠতে গেলে বা কাশি দিলে মাথাব্যথা বাড়ে। অনেক সময় হঠাৎ বমি হয়ে যায়। এরকম উপসর্গ পেলে বা হঠাৎ দ্বৈতদৃষ্টি শুরু হলে দেরি না করে অবশ্যই চক্ষু ডাক্তার দেখান হয়তো এখনো অনেক দেরি হয়নি। -ইন্টারনেট

গর্ভের সন্তানটি ছেলে না মেয়ে নড়াচড়াই তা বলবে

করতোয়া ডেস্ক, আগের দিনে এখনকার সময়ের মতো বৈজ্ঞানিক উপায় ছিল না যে, সন্তান জন্মের আগেই বলা যাবে সে ছেলে হবে, নাকি মেয়ে? আর এ কারণে জন্মের আগেই এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ ছিল না। এখন অবশ্য গর্ভজাত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ণয় করা যায়। কিন্তু অনেক দেশেই আছে এটা বেআইনি। কারণ সন্তান মেয়ে হলে অনেকেই ভ্রুণ নষ্ট করে ফেলে।

প্রাকৃতিকভাবে কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে। হ্যাঁ, আপনি ওর গতিবিধি থেকে বুঝতে পারবেন যে, ছেলে না মেয়ে। বাচ্চার নড়াচড়া যদি তাড়াতাড়ি শুরু হয়, তাহলে ছেলে। স্বভাবত ২০ সপ্তাহের পর বোঝা যায় সন্তানের নড়াচড়া। আবার অনেক মা মাত্র ১৬ সপ্তাহের পরই সন্তানের নড়াচড়া বুঝতে শুরু করেন। এই ক্ষেত্রে বলা হয়, বাচ্চাটা হয়ত ছেলে। বাচ্চা যদি খুব ছটফটে হয়, তাহলে মেয়ে।

মেয়ে বাচ্চাকে মনে করা হয় ছেলে বাচ্চার থেকে শক্তিশালী। এটা বৈজ্ঞানিক মতেও প্রমাণিত। যেহেতু মেয়ে ভ্রুণের ডাবল এক্স ক্রোমসোম থাকে, তাই ছেলের থেকে বেশি শক্তিশালি। এর ফলে মেয়ে বাচ্চা গর্ভে অনেক বেশি নড়াচড়া করতে পারে। আধা ঘণ্টায় তিনবার ভ্রুণের আন্দোলন স্বাভাবিক মানা হয়। এর বেশি নড়াচড়া করলে বুঝতে হবে মেয়ে


সন্তান হবে। ছেলে বাচ্চারা যখন নড়ে তখন বেশি লাথি মারে। গর্ভে থাকা বাচ্চার মারা লাথি ও নড়াচড়ার মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়। মেয়েরা পেটে বেশি নড়ে। আবার ছেলেরা তাদের ফুটবল খেলার দক্ষতা বোধ হয় পেটে থাকতেই শুরু করে দেয়। বলা হয় ছেলেরা বেশি লাথি মারে মেয়ে বাচ্চার থেকে। অবশ্য বাচ্চার এই গতিবিধি অনেকটা নির্ভর করে তার প্রতিস্থাপন ও নাড়ীর অবস্থানের ওপর।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিটা ঠিক কী? জেনে নিন

সেই ছোটবেলার শিক্ষা। খাওয়ার আগে হাত ধোয়া মাস্ট। নইলে নানান রোগ। হাত ধুচ্ছেন ঠিকই। কিন্তু জীবাণুমুক্ত হচ্ছে কি? হচ্ছে না। কারণ, আপনি যেভাবে হাত ধুচ্ছেন, তাতেই গলদ। কখন হাত ধুতে হবে, কীভাবে ধুতে হবে? দেখুন।

ঠিক তাই। হাত তো ধুচ্ছেন। কিন্তু জীবাণু যাচ্ছে কি? যাচ্ছে না। যাওয়ার কথাও নয়। কারণ, হাত ধোয়াতেই রয়েছে গলদ। মাঝে মাঝেই ধুয়ে নিতে হবে হাত। জীবাণু সংক্রমণ হবে কম। শরীর থাকবে সুস্থ। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, সাজ-সরঞ্জাম জোগাড় করে হাত ধুতে হবে না। শুধু চাই জল আর একটু সাবান। অথবা কোনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ব্যস।

বাড়ি হোক বা অফিস, সারাদিন সংস্পর্শে আসতেই হয় বিভিন্ন মানুষের।এছাড়া হাতে নিতেই হয় ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিস। টেবিল, চেয়ার বা মাটিতেও হয়ত কখনও হাত রাখতে হয়। মানে, উড়ছে জীবাণু। চোখ, নাক অথবা মুখে হাত দিলেই ব্যস। শরীরে সহজেই ঢুকছে জীবাণু।


সেই সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ধুতেই হবে হাত। রান্না করা ও খাওয়ার আগে ধুয়ে নিতে হবে হাত। ক্ষতর চিকিত্সা, ওষুধ খাওয়া অথবা অসুস্থ ও আহত মানুষকে শুশ্রূষার আগে। কনট্যাক্ট লেন্স পরা বা খোলার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে। রান্না করা, বিশেষ করে কাঁচা মাছ, মাংস রান্নার পর হাত ধোয়া মাস্ট। টয়লেট ব্যবহারের পর। ডায়াপার চেঞ্জ করার পর। হাঁচি ও কাশির পর। পোষ্যের সঙ্গে খেলার পর। ক্ষতর চিকিত্সা, ওষুধ খাওয়া অথবা অসুস্থ ও আহত মানুষকে শুশ্রূষার পর। জামাকাপড় কাচা ও জুতো পরিষ্কারের পর। কারও সঙ্গে হাত মেলানোর পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা।

কীভাবে ধুতে হবে হাত?

প্রথমে জলে ভিজিয়ে নিতে হবে হাত। হাতে সাবান দিতে হবে। ১৫ সেকেন্ড ঘষতে হবে। জলের নিচে ভাল করে ঘষতে হবে। ন্যাপকিন দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে। ন্যাপকিন হাতে নিয়ে কল বন্ধ করতে হবে।

হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতিটা ঠিক কী?

হাতে সাবান দিয়ে তালুতে তালু ঘষে নিতে হবে। আঙুলের মাঝে ঘষে নিতে হবে। হাতের ওপরের দিকেও ভাল করে  ঘষতে হবে। বুড়ো আঙুলের গোড়ায় ঘষে নিতে হবে। আঙুলের ওপরের দিকে ঘষে নেওয়ার প্রয়োজন। নখের ডগা ঘষে নিতে হবে। কব্জি ঘষে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। ভাল করে মুছে শুকনো করে নিতে হবে। হাত ধুয়ে নিন। কিন্তু নিয়ম মেনে। জীবাণু বলবে টা টা বাই বাই।

মাংস বেশি খেলে বাড়বে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

মাংস আপনার ভীষণ প্রিয়। সামনে চিকেন বা মটন দেখলে স্থির থাকতে পারেন না। কিন্তু এবার সাবধান হোন। রোজ যদি আপনি চিকেন বা মটন খান তাহলে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়বে। গবেষণা বলছে এমনই।

গবেষণা বলছে, চিকেন বা মটনের মত অ্যানিম্যাল প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যার ফলে কারোর খাদ্যতালিকায় যদি রোজ অ্যানিম্যাল ফ্যাটে থাকে, তবে তা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। যাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকলেও, প্রথমে কোনও ডায়াবেটিস ছিল না। তাদের খাদ্যাভ্যাসের উপর নিয়মিত নজর রাখা হয়। কিছুদিন পর দেখা যায়, যাদের মধ্যে চিকেন বা মটন খাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ডায়াবেটিসের মত ‘ঘুণপোকা’র হাত থেকে বাঁচতে চাইলে, এখনই সাবধান হোন।

রাজধানীতে ৬ জন দগ্ধ হাসপাতালে ভর্তি

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে বংশাল সিক্কাটুলী বটতলা মাজার এলাকায় একটি জুতার কারখানায় সলিউশনের কাজ করার সময় কেমিক্যালের মিশ্রণে আগুন লেগে মালিকসহ ৪ জন দ্বগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- কারখানা মালিক মুরছালিন মিয়া (২১), কর্মচারি আব্দুল হাদিছ (১৯), আজিজুল ইসলাম (১৫) ও সোহেল মিয়া (২০)। দুপুর ২টার দিকে তাদের ঢামেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে আনা হয়। কারখানা মালিক মুরছালিন মিয়া বলেন, একটি ৫ তলা ভবনের নীচ তলায় তার জুতার কারখানা। সেখানে ৬-৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরে কাজ করার সময় সলিউশন  থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে তারা ৪ জন দ্বগ্ধ হন। অন্যদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় কাজ করার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শ্রমিক আশরাফ আলী (৫৫) ও শাকিল আহমেদ (২০)। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের সহকর্মী আলামিন জানান, তারা ওই ভবনে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। দগ্ধ দুজচনের বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার বনগ্রামে। বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, আশরাফ আলীর শরীরের ৪২ শতাংশ এবং শাকিল আহমেদের শরীরের ৬০ শতাংশ দ্বগ্ধ হয়েছে।

 

পটলের যতগুণ

পটল একটি পুষ্টিকর সবজি। পটল আমাদের দেশে রান্নায় বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। পটল ভাজি বা পটলের দোলমা খেতে বেশ সুস্বাদু। সবুজ রঙের এ সবজিটি মাছ বা মাংসের সঙ্গে বা অন্য সবজির সঙ্গেও রান্নায় ব্যবহার করা হয়। পটল কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও যথেষ্ট উপকারী। ভিটামিন এ ও সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে পটোল ত্বকের জন্য উপকারী। ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিস্তার রোধ করে পটল বয়সের ছাপ ঠেকাতে সাহায্য করে।

 পটলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাবার হজমে সাহায্য করে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধানে এবং লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে। পটল পেট ভরা রাখতে ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। পটল রক্তকে পরিশোধিত করে। পটলের ছোট গোলাকার বিচিগুলো কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ঠা া, জ্বর ও গলা ব্যথা কমাতে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয় পটল।

ওজন নিয়ন্ত্রণের সহজ কিছু টিপস

করতোয়া ডেস্ক ঃ বেশিরভাগ সময় স্লিম থাকতে গিয়ে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হিমসিম খেতে হয় সবাইকে। বিশেষ করে চাকরিতে ঢোকার পর কিংবা বিয়ের কিছুদিন পরই শুরু হয়ে যায় মোটা হওয়া। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে সন্তান হওয়ার পর তো কথাই নেই, ওজন দ্বিগুণ হারে বেড়ে যায়। কে চায় ওজন বেশি নিয়ে ঘুরতে? ওজন যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ডায়েট, ব্যায়াম ইত্যাদি সবকিছুকে ব্যর্থ করে ওজন যেন দিন দিন শুধু বাড়তেই থাকে!
জেনে নিন ওজন নিয়ন্ত্রণের কিছু টিপস। এগুলো মেনে চললে সারা জীবন ওজন থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে।
* ওজন নিয়ন্ত্রণে ডায়েটিং জরুরি। কিন্তু খাবার খাওয়ার মধ্যে বেশি সময় গ্যাপ রাখা যাবে না। আবার ডায়েট করতে গিয়ে না খেয়ে থাকারও কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ বার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন। তাতে শরীর ভালো থাকবে। কখনো হাঁটতে পারেন, আবার কখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেরে নিতে পারেন জগিং। এতেও ব্যায়াম হবে।
* রাতের খাবার খাওয়ার পর খানিকক্ষণ হালকা শরীরচর্চা করা ভালো। আবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর একটু হেঁটে নিতে পারেন। এতে শরীর ঝরঝরে থাকবে।
* মেয়েদের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহনের পরিমান দিনে ১০০০-১৫০০ বেশি না হওয়াই ভালো। তবে পুরুষের শারীরিক চাহিদা একটু বেশি বিধায় তাদের জন্য ২০০০ ক্যালোরি বরাদ্দ। এর বেশি হলেই ভুঁড়ি জমতে শুরু করবে।
* এলোপাথাড়ি ব্যায়াম না করে নিজের শরীরের সাথে মানানসই ব্যায়াম করুন। সেই সাথে বাজার থেকে সস কিনে খাওয়া বাদ দিন, এতে প্রচুর চিনি থাকে।
* প্রত্যেক সপ্তাহে একই দিনে ও একই সময়ে ওজন মাপুন। এটা ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র আপনাকে সতর্ক করে তুলবে।
* সঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া সারুন। কারণ হজম ক্ষমতা গতিশীল রাখতে এটা খুব জরুরি।
* প্রতিদিন ব্রেকফাস্ট খাওয়া প্রয়োজন। পেট দীর্ঘক্ষণ খালি রাখবেন না। এতে মেটাবলিজম কমে যাবে ও ওজন বাড়বে।
* ভাজা-পোড়া খাবেন সপ্তাহে একদিন।
* নির্দিষ্ট বেলার খাবারের মাঝের সময়ে যদি খিদে পায়, তাহলে প্রচুর পরিমানে পানি খান। আবার ফলও খেতে পারেন।
* মিষ্টি, কোমল পানীয়, কেক ইত্যাদি খাবার সপ্তাহে একদিন খেতে পারেন। বিস্কুট খেতে চাইলে ডায়েট বিস্কিট কিনুন।
* প্রাণীজ ফ্যাট, বিশেষত লাল মাংস ও ডালডা খাবারের তালিকা থেকে বাদ দিন। মাংস খেলে চামড়া ও চর্বি বাদ দিয়ে খান।
* অতিরিক্ত দুধ জাতীয় খাবার যেমন মাখন বা চিজ বেশি খাবেন না।
* দিনে দুইকাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* মাদকজাতীয় দ্রব্যের নেশা ছেড়ে দিন।
* পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন আলু, ভাত, রুটি খান। তবে লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি খাওয়া সবচাইতে ভালো।
* দুপুরে ও রাতে অবশ্যই এক কাপ করে সালাদ বা কম মশলায় রান্না সবজি খাওয়া ভালো।
* খাবারের প্লেটের আকার ছোট করুন এবং একবারের বেশি দুবার নিয়ে খাওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করুন। খাবার একবারেই প্লেটে তুলে নেবেন।
* চেষ্টা করুন সকালে ভারী ব্রেকফাস্ট করার। সামান্য ভারি লাঞ্চ এবং হালকা ডিনার করার। নাস্তা হিসাবে খান বাদাম, মুড়ি, ফল, ডায়েট বিস্কুট।
* চিনি দুই চামচের বেশি খাবেন না।
না খেয়ে থাকার চেয়ে বার বার অল্প অল্প করে খান। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবেন না। দেখবেন, সঠিক সময়ে পরিমিত খাবার গ্রহণে ওজন থাকবে একবারে আপনার হাতের মুঠোয়।

শিশুর অতিরিক্ত কাঁদার কারণ

করতোয়া ডেস্ক শিশুর কান্নায় সব মা-বাবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। শিশুর কান্না দ্রুত থামাতে মা-বাবা সাধারণত সব কিছুই করেন। তবে অনেক সময় দেখা যায় শিশু অতিরিক্ত কাঁদছে। মা-বাবা বা অভিভাবকরা অনেক সময় বুঝে ওঠেন না শিশুর কান্নার কারণ।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে শিশুর অতিরিক্ত কান্নার কিছু কারণের কথা।
শিশুর অতিরিক্ত কান্নার একটি বড় কারণ ক্ষুধা। পেট ভালোভাবে না ভরলে শিশু কাঁদতে থাকে। অনেক মা-বাবাকে দেখা যায় ময়লা ডায়াপার অনেকক্ষণ পরিয়ে রাখে। এতে শিশুর অস্বস্তিবোধ হয়, তখন সে কাঁদে।


ময়লা ডায়াপার অনেকক্ষণ পরিয়ে রাখলে শিশুর র?্যাশ হতে পারে। এ থেকে শিশু অনেক সময় বেশি কান্না করে। শিশুর ছয় থেকে আট মাস হলে সে অনেক সময় বেশি কাঁদতে থাকে। এর কারণ হতে পারে তার দাঁত ওঠা। দাঁত ওঠার সময় অস্বস্তি ও ব্যথা হয়।
শিশু খুব বেশি ক্লান্ত থাকলে কাঁদতে থাকে। এই সময় শিশুর ঘুম প্রয়োজন। ঘুমালে সে স্বস্তি ফিরে পায়। পেটের গ্যাস হওয়ার কারণে শিশু অনেক সময় অতিরিক্ত কাঁদে। এ রকম হলে শিশুকে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করান। কিছুটা আরামবোধ করবে।


শিশুরা সাধারণত একা থাকতে পছন্দ করে না। মানুষের মাঝে থাকতে চায়। অনেক সময় অন্য কারো মনোযোগ আকর্ষণের জন্য শিশু কাঁদে।
অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলেও শিশু কাঁদে। তাই শিশু এই কারণে কাঁদছে কি না সেটা অভিভাবকদেরই বুঝতে হবে।
অসুস্থ হলেও শিশু কিন্তু অতিরিক্ত কাঁদে। অসুস্থ হলে সাধারণত শিশুরা বিরক্তবোধ করে।
এ ছাড়া অনেক সময় সিনথেটিক কাপড় পরালে গায়ে অস্বস্তিবোধ হয়। এতেও সে কাঁদে।



Go Top