দুপুর ২:১৩, বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন সি ভোজনে উচ্চ রক্তচাপের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যেমন কমলা, কিউই, ক্র্যানবেরি, পেয়ারা, আঙ্গুর এবং স্ট্রবেরি ফলের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কমিয়ে থাকে। কিছু খাবার আছে যা উচ্চ রক্তচাপ ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে আর তাই আপনার রক্ত চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার খাদ্যে এই ধরণের প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।

টিনজাত খাবার লবণ দিয়ে সংরক্ষিত করা হয় এবং এতে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। টিনজাত খাবার, স্যুপ ঝোল এবং স্টক খুব খারাপ হতে পারে। জৈব খাদ্য যাতে কম সোডিয়াম আছে এমন খাবার বেছে নিন।

লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই খারাপ। আমেরিকানদের খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-হাইপারটেনশন ব্যক্তিদের সোডিয়াম ভোজন সীমিত করা উচিত। আপনার খাদ্যে অতিরিক্ত লবন যোগ এড়িয়ে চলুন।

লবণ ক্যানিং এবং লম্বা সময়ের জন্য সংরক্ষণের জন্য আচারে সংযোজন করা হয়। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাহলে খাদ্য তালিকা থেকে আচার বাদ দিয়ে দিন।

অত্যধিক চিনি খাওয়া শুধু ডায়াবেটিস ও স্থূলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে তাই নয়, এটি আপনার রক্ত চাপ ও বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত ওজনের এবং মোটা মানুষের মধ্যে বেশি প্রচলিত। সুতরাং, চিনি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

গবেষকদের মতে, এক সঙ্গে তিন গ্লাস অ্যালকোহল পানে অস্থায়ীভাবে উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাছাড়া, অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলো প্রভাবিত করে।

মাংস নয় তবে মুরগীর চামড়ায় চর্বির মাত্রা বেশি থাকে যা রক্তচাপ প্রভাবিত করে। লাল মাংস এবং মাখন চর্বিতে পরিপূর্ণ যা রক্ত চাপ রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কফি বা ক্যাফেইনে যদি আসক্ত হন, তাহলে এই পানীয়কে বিদায় বলার সময় হয়েছে। কফি অস্থায়ীভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে তোলে।

এই বিভাগের আরো খবর

নিরামিষ খেলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে

নিরামিষ খাওয়া বাঙালির সংখ্যা হাতে গোনা। পাতে মাছের ঝোল না হলে ভোজনরসিক বাঙালির জমে না।আমিষভোজী হলে সুবিধাও অনেক। সহজেই শরীরে প্রোটিনের জোগান মেলে। প্রোটিন শরীর গঠনে সাহা‌য্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরামিষাশীদের সুবিধা আরও বেশি। নিরামিষ শরীরের পক্ষেও ভাল। তেমনই সেক্স লাইফে অত্যন্ত কা‌র্যকরী।

 

 

আমিষ খেলে শরীরে টক্সিক উপাদান ঢোকে। মাংস খেলে শরীর থেকে অ্যামোনিয়ার কটূ গন্ধ আসে। নিরামিষাশী হলে সেই সমস্যা নেই। রোম্যান্সের সময় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, মাংস, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায়। ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর। অন্যদিকে ফলে পাওয়া ‌যায় প্রাকৃতিক শর্করা। ‌যা এনার্জিবর্ধক। বেশি এনার্জি মানেই বাড়বে স্ট্যামিনা। স্ট্যামিনা বাড়লে সেক্স জমে ওঠে।

 

 

সমীক্ষায় এও জানা গিয়েছে, ফল শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। পৌরুষত্বহীনতার সমস্যা দেখা ‌যায় না। নিরামিষ খেলে ত্বক কোমল থাকে। নিরামিষ ‌যাঁরা খান, তাঁদের খাদ্য তালিকায় ফল বেশি থাকে। আর ফলে থাকে প্রচুর জল। সেই জল শরীরকে কোমল করে তোলে। মাংসে থাকে ফ্যাট। ‌যা ত্বককে করে তোলে তৈলাক্ত।

হাই ক্যালোরি ডায়েট কোলেস্টেরোল বাড়ায়। হতে পারে ক্যানসার, ডায়াবেটিসের মতো মারণ রোগ। অন্যদিকে, নিরামিষ ডায়েটে থাকে বেশি ভিটামিন ও খনিজ। তা শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।

যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁরা সাধারণত পশুপ্রেমী হন। তাঁদের মনটাও সুন্দর হয়। আর কে না চায়, হৃদয়বান মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে! তিনিই তো পারেন পার্টনারের খেয়াল রাখতে। ফল-শাকসবজি খেলে শরীর থেকে বেশি করে সেরোটোনিন হরমোন নিঃসরন হয়। তাতে মন খুশি থাকে। মন-শরীর খুশি থাকলে র‍োম্যান্স জমে ক্ষীর হবেই। 

এই বিভাগের আরো খবর

খালি পেটে খেলেই ক্ষতি

ঘুম থেকে উঠে অনেকেই খালি পেটে চা, কফি বা অরেঞ্জ জুস পান করেন। তাদের জন্য দুঃসংবাদ হলো এসব পানীয় আপনাদের স্বাস্থ্যবান করার চেয়ে পরিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করবে। আরো কিছু খাবার বা পানীয় আছে, যেগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও, খালি পেটে খেলে উল্টো ক্ষতির কারণ হবে। চলুন জেনে নেই খালি পেটে কোন কোন খাবার বা পানীয় খাওয়া ঠিক না।

কলা: খালি পেটে কাঁচা বা আধাপাকা কলা যদি আপনি খান, তাহলে তা ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করবে। অবশ্য পাকা কলা খেলে সে ঝুঁকি নেই।

মরিচ: খালি পেটে মরিচ বা ঝাল মসলা খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে, তাই সাবধান। ঝাল জাতীয় খাবার পরিপাক তন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন নষ্ট করে দেয়। ফলে বুক জ্বালা করতে পারে।

টক ফল: লেবু, কমলা লেবুসহ সাইট্রিক এসিড বেশি থাকা ফল খালি পেটে খাওয়া ঠিক না। খেলে অ্যাসিডিটি এমনকি আলসারও হতে পারে। এসব ফলে আঁশ ও ফ্রুকটোজ বেশি থাকায় খালি পেটে পরিপাক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়।

সবুজ সবজি: টাটকা সবুজ সবজি শরীরের জন্য উপকারী। তবে খালি পেটে সবুজ সবজি খেলে তা উল্টো ক্ষতি করতে পারে। এগুলোতে থাকা অতি মাত্রায় আঁশ ও অ্যামাইনো এসিড পাকস্থলীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এগুলো পেটে গ্যাস তৈরি করতে পারে  ও অ্যাবডোমিনালে ব্যথার কারণ হতে পারে।

দই: ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে। এ সময় যদি দই খান, তাহলে শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া সেগুলো নষ্ট করে দিতে পারে। তখন দই খেয়ে কোনো উপকারই পাওয়া যাবে না। তাই খালি পেটে দই নয়।

ডেজার্ট বা মিষ্টি: খাওয়ার পর ডেজার্ট বা মিষ্টি খাওয়া ভালো, আগে নয়। কারণ এসবে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, যা পরিপাক যন্ত্র ও  লিভারের জন্য ক্ষতিকর। রাতে খাবার পর ঐ দুই অঙ্গ ঘুমের কারণে বিশ্রামে থাকে। হঠাৎ করে এসব মিষ্টান্ন পেয়ে তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। তাই যারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মিষ্টি জাতীয় খাবার খান, তারা সাবধান। নইলে পাকস্থলী ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে অনেক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

লিচু: ভারতের বিহারে সম্প্রতি খালি পেটে লিচু খেয়ে বেশ কয়েক শিশু মারা গেছে। এর কারণ হিসেবে পরে জানা গেছে- খালি পেটে ব্লাড সুগার লেভেল কম ছিলো বলে সে সময় লিচু খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায়।

কফি: খালি পেটে কফি পান ক্ষতি। এতে থাকা ক্যাফেইন অ্যাসিডিটির জন্ম দেয়, এমনকি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপাদন করে বেশি, যা স্বাভাবিক পরিপাক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অ্যালকোহল:  খালি পেটে অ্যালকোহল পান করলে তা শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এমনিতেই অ্যালকোহল ক্ষতিকর, খালি পেটে তা পান করলে হার্টসহ শরীরের বড় সব অঙ্গের উপর বেশি চাপ তৈরি করে।

সফট ড্রিংকস: সফট ড্রিংকস পান করা এমনিতেই ক্ষতিকর। এটি খুব এসিডিক। তাই খালি পেটে সফট ড্রিংস পেটে গেলে পাকস্থলীর এসিডের সাথে মিশে বমি ভাব হতে পারে। মাংসপেশি ও শরীরজুড়ে ব্যথাও তৈরি করতে পারে। তাই খালি পেটে উপরের এসব খাবার ও পানীয় পান থেকে বিরত থাকুন।

পেটের সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান

পেটে গ্যাস হলে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে, বমি বমি ভাব আসলে কিংবা বদহজম হলে কিছু ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায়।

গাজর ও পুদিনার জুস
পেটের অস্বস্তি কমাতে গাজর ও পুদিনার মিশ্রণে তৈরি জুস খেলে উপকার পাবেন। গাজরে পুষ্টি পাবেন এবং পুদিনা আপনার পেট খারাপ উপশম করবে। চারটি গাজরের টুকরা টুকরা অংশ, চার কাপ পানি ও এক চা-চামচ শুকনো পুদিনা বা এক টি-ব্যাগ পুদিনা সিদ্ধ করুন। চুলার জ্বাল কমিয়ে ১৫ মিনিট বা গাজর নরম না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধ করুন। টি-ব্যাগ দিয়ে থাকলে তুলে ফেলুন। এরপর মিশ্রণটি ব্লেন্ডারে মিক্স করে জুস উপভোগ করুন। অধিকতর ভালো ফলাফল পেতে এতে আদা মেশাতে পারেন ও সুস্বাদু করার জন্য লেবুর রস দিতে পারেন।

ভাত চা
পেট খারাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে বা ডায়রিয়া থামাতে ভাত চা পান করতে পারেন। ৬ কাপ পানিতে ১/২ কাপ চাল ১৫ মিনিট ধরে সিদ্ধ করুন। তারপর চাল তুলে ফেলুন এবং পানির সঙ্গে অল্প মধু বা চিনি মিশিয়ে উষ্ণ থাকতে পান করুন।

পোড়া পাউরুটি
পেটে অস্বস্তি অনুভব হলে পাউরুটি খেলে ভালো ফল দেয়, কিন্তু পোড়া পাউরুটি খেলে অধিকতর ভালো ফল পাওয়া যায়। পাউরুটির পোড়া অংশ শরীরে উৎপন্ন বিষ যা আপনাকে অসুস্থ করে তোলে তা শুষে নেয়। পাউরুটিতে জেলি মাখুন যাতে খেতে সুস্বাদু লাগে।

আপেল সিডার ভিনেগার
আপেল সিডার ভিনেগার হেঁচকি ও গলা ব্যথা যেমন দূর করে, তেমনি অশান্ত পেটকেও শান্ত করে। এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, এক কাপ গরম পানি এবং এক টেবিল চামচ মধুর মিশ্রণ বদহজম উপশম করবে এবং ক্র্যাম্পিং ও পেটের গ্যাস দূর করবে। বুকজ্বালা জনিত অস্বস্তি কমাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

চেরি, কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট ও আলুবোখারা
আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাহলে চেরি, কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট কিংবা আলুবোখারা খেতে পারেন। আঁশ জাতীয় এসব ফল শরীরের ক্রিয়া গতিশীল রাখবে ও পেটের অস্বস্তি কমাবে।

দই
পেট ব্যথা হলে আপনি সম্ভবত ডেইরি জাতীয় খাবার কামনা করবেন না। আপনার জন্য সুখবর হল এমন অবস্থায় আপনি দই খেতে পারবেন। দইকে বলা হয় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া। দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ক্ষতি নয়, উপকারই করে। হজম সমস্যা দূর করতে এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে দই খেতে পারেন। পেট খারাপ হলে সাধারণ দই খাবেন, চিনি বা ফ্লেভার এতে যোগ করবেন না।

জিরা
জিরাতে রয়েছে ভিটামিন ও মিনারেল যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বদহজম, গ্যাস ও পেটে ফোলা বা পেটভর্তি সমস্যা সৃষ্টি করে পেটের অবস্থা খারাপ করে। খাবার গ্রহণের পর বা পেটে গ্যাস অনুভব করলে একমুঠো জিরা চাবাতে থাকুন।

মৌরি
বদহজম, গ্যাস বা পেট ফোলা সমস্যায় মৌরি সাহায্য করতে পারে। পেট খারাপ হলে মৌরি চায়ে চুমুক দিন। কিছু মৌরি চাবাতে থাকুন, এটি হজমে সাহায্য করে, গ্যাস কমায়, ক্র্যাম্পিং দূর করে এবং বমি বমি ভাব কমায়।

তাপ
পেটে অস্বস্তি হলে গরম পানির বোতল বা হিটিং প্যাড পেটের ওপর রাখুন। তাপ রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং ব্যথার অনুভূতি পাকস্থলী থেকে বাইরের দিকে নিয়ে যায়।

বৃষ্টির জল খান, সুস্থ থাকবেন

বর্ষায় অম্বল, গ্যাসে জেরবার? পেটের সমস্যা নিত্যসঙ্গী? কোনও ওষুধই কাজ দিচ্ছে না? বৃষ্টির জল খান! শুনে চমকে উঠলেন তো?  

বর্ষা মানেই পেটের রোগ। বর্ষা মানেই হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর। এটাই প্রচলিত ধারণা আমাদের। কিন্তু, বর্ষাই হয়ে উঠতে পারে রোগমুক্তির ঋতু। প্রশ্ন উঠবে, কীভাবে? বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশ বলছেন, বৃষ্টির জল সারা দুনিয়ায় সবচেয়ে খাঁটি জল।
 

 

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি, বৃষ্টির জল পান করা সবচেয়ে নিরাপদ। মাটি বা পাথরে থাকা মিনারেলস আর বর্জ্য, বৃষ্টির জলে থাকে না। সেকারণেই বৃষ্টির জল পানে অগাধ উপকারিতা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বৃষ্টির জলে কী হয়-

 

১) হজমশক্তি বাড়ায়

বৃষ্টির জলে থাকে অ্যালকালাইন pH যা অ্যাসিডিটি কমায়, হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

২) রাসায়নিক মুক্ত জল

ট্যাপের জল জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। আর ফ্লোরাইড আসে মাটির নিচ থেকে। বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ফ্লোরাইড পেটে গেলে গ্যাসট্রাইটিস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। বৃষ্টির জলে ফ্লোরাইড বা ক্লোরিন, কোনওটিই থাকে না।

৩) ক্যান্সার বিরোধী

বৃষ্টির জলে থাকা অ্যালকালাইন pH ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রুখে দেয়। ক্যান্সার রোগীদেরে ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে বৃষ্টির জল।

৪) পাকস্থলীর সমস্যা দূর করে

ট্যাডিশনাল ভারতীয় ওষুধ বিদ্যায় প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩ চামচ বৃষ্টির জল খেতে বলা হয়। পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা আলসার থাকলে বৃষ্টির জল ওষুধের কাজ করে।

৫) বৃষ্টির জলে সুন্দর চুল করে

কোনও মিনারেলস না থাকায়, বৃষ্টির জল অত্যন্ত কোমল। এই জলে মাথা ধুতে পারলে শ্যাম্পু বা সাবানের চেয়েও ভাল কাজ দেয়।

৬) ত্বকের পক্ষে উপকারী

বৃষ্টির জলে স্নান করলেই অসুখ। এটা পুরনো ধারণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুন্দর সুস্থ ত্বক পেতে হলে, বৃষ্টির জল অত্যন্ত উপযোগী। সুগন্ধি সাবানে থাকে অ্যাসিডিক pH যা ত্বককে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়। বৃষ্টির জলে সেসবের বালাই নেই।

৭) জ্বালা ও ব্যাকটেরিয়া নাশক

বৃষ্টির জল কোষে জমে থাকা খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে সাফ করে দেয়। ত্বকের জ্বালাও দূর হয়।

তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টি দেখে আর ঘরে বসে থাকা নয়। প্রাণ ভরে ভিজুন। বৃষ্টির জল ধরুন। বৃষ্টির জল পান করুন।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিদিন ১ মুঠো বাদাম

প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলেই অনেক রোগ-বালাই থেকে দূরে থাকবেন। সম্প্রতি একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অল্প খরচে চিকিৎসকে দূরে রাখতে হলে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক খনিজ এবং ভিটামিনে পরিপূর্ণ এই খাবারটি শরীরে অন্দরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এমন খেল দেখাতে শুরু করে যে একাদিক মারণ রোগ তো দূরে থাকতে বাধ্য হয়ই, সেই সঙ্গে শরীর এমন চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ুও বৃদ্ধি পায়।

 

 

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: এই প্রাকৃতিক উপাদনটির শরীরে রয়েছে প্রায় ৩.৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ প্রয়োজনে লাগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো একাধিক ক্রনিক রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানগুলি সাহায্য করে।

শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর করে: এটি হলো এমন একটি উপাদান যা ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে লেগে থাকে।

ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ডায়াবেটিকদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখতে পাবেন কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পয়েছে। তাই এই বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি। শরীরে যাতে কোনও ভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওজন হ্রাসে সাহায্য করে: বাদাম খাওয়ার পর ক্ষিদে একেবারে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে শরীরে প্রয়োজন অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে।

দ্রুত ভুঁড়ি কমাতে চান

ওজন নিয়ে সবাই কম বেশি সচেতন হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে ছেলেরা তাদের ভুঁড়ি কমানোর জন্য কতকিছু করছেন। কর্পোরেট জীবনে সবাই কম বেশি বসে কাজ করেন। এর ফলে বেঢপ সাইজে ভুড়ি বেড়েই চলছে। এখন কী করা যায় সেটি নিয়েই যত চিন্তা। মাত্র কয়েকটি অভ্যাস খুব দ্রুত আপনার ভুঁড়ি কমিয়ে দেবে। শুধু মানতে হবে কিছু নিয়ম-

 

 

১) কখন খাবার খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রতিটি মিলের মাঝে যেন ৩-৪ ঘন্টার ব্যবধান থাকে। কারণ খাবার হজম হতে এইটুকু সময় লেগেই থাকে। সেই সঙ্গে খাবারে উপস্থিত পুষ্টকর উপাদানগুলি শরীরের উন্নতিতে যথাযথভাবে কাজে আসার সুযোগ পায়। ফলে খাবার হজম না হতে পেরে চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হওয়ার সুযোগই পায় না।

২) পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। দা জার্নাল অব ক্লিনিকাল অ্যান্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে দিনে ৩-৪ লিটার জল পান করলে হজম ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার সুযোগই পায় না।

৩)ভাজাভুজি খাওয়া চলবে না। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, যেমন- চিনি, ভাত এবং ময়দা যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। এই তিনটি খাবার পুষ্টিকর তো নয়ই, সেই সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। এখন নিশ্চয় ভাবছেন ভাত ছাড়া থাকবেন কীভাবে, তাই তো? চিন্তা নেই। সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস খাওয়া শুরু করুন।

৪) হঠাৎ করে ক্যালোরি গ্রহণ বন্ধ করে দেবেন না। একথা ঠিক যে ওজন বৃদ্ধির পিছনে ক্যালরি অনেকাংশেই দায়ী থাকে। কিন্তু তাই বলে ওজন কমানো চেষ্টায় লেগে পরা মানেই ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার বন্ধ করে দেওয়া, এমন নয় কিন্তু। কারণ শরীরকে সচল রাখতে ক্যালোরির প্রয়োজন পড়ে।সারা দিন যে পরিমাণে পরিশ্রম করছেন, সেই অনুপাতে কত পরিমাণ ক্যালরি আপনার শরীরে প্রবেশ করা উচিত। সেই অনুপাতে যদি ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া শুরু করুন।

৫) প্রোটিন খাওয়া চাইই-চাই। প্রতিটি মিলে, অর্থাৎ ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনারে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থাকা আবশ্যক। কারণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে বাড়ে বাড়ে ক্ষিদে পায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। আর এমনটা হলে ওজন যে কমবেই, তা বলাই বাহুল্য! প্রসঙ্গত, ওজন কমাতে আরেকভাবেও প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাহলে দেরি কেনও। এসব নিয়মের সঙ্গে নিয়ম করে হাঁটাটা যুক্ত করে নেন। তাহলেই হবে

এই বিভাগের আরো খবর

নিয়মিত লালশাক খাবেন কেন?

লালশাকে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান যা সুস্থ থাকার জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত লালশাক খেলে দূরে থাকতে পারবেন রোগব্যাধি থেকে। এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি ভালো রাখে কিডনি। রক্তশূন্যতা দূর করতেও লালশাকের বিকল্প নেই।

 

জেনে নিন লালশাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে-    

 

 

  • লালশাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এতে হজমের সমস্যা দূর হয়।
  • আয়রন সমৃদ্ধ লালশাক শরীরের লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে দূর হয় রক্তশূন্যতা।
  • নিয়মিত লালশাক খেলে কিডনি ভালো থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকারক পদার্থ বের হয়ে যায়।
  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে লালশাকে থাকা ভিটামিন সি ও এ।
  • নিয়মিত লালশাক খেলে ক্যান্সার থেকে দূরে থাকা যায়। লালশাকে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ভিতামিন-ই, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি শরীরে ক্যান্সারের কোষ বিকাশকে বাধা দেয়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকতে লালশাকের বিকল্প নেই।
  • অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করে লালশাক

ক্লান্তি দূর করতে খাবার

সারাদিন কাজ করার পর বিশেষত সন্ধ্যায় আমাদের শরীর ক্লান্ত থাকে। আর এই ক্লান্তি থেকে আমরা মুক্তি পেতে আমরা সাধারণত হালকা ভাজাভুজি জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি। যাতে প্রচুর পরিমাণে সুগার ও ক্যাফেইন থাকে। কিন্তু এতে দ্রুত সমাধান হলেও মাঝে মাঝে আরও ক্লান্ত লাগে আমাদের। তাই দ্রুত এ ধরনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে খেতে পারেন প্রাকৃতিক কিছু খাদ্য। যা সাধারণত আমাদের হাতের নাগালেই থাকে।

 

কলা

শরীরের ক্লান্তি দূর করতে কলাই হচ্ছে প্রাকৃতিক খাওয়ারগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ কলার মধ্যে শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট, প্রাকৃতিক চিনি, এমিনো এসিড, ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আর একটি কলাতে ৮০ থেকে ১২০ ক্যালোরি রয়েছে।

বাদাম

ক্লান্তি থেকে দ্রুত রেহায় পেতে খেতে পারেন বাদাম। কারণে বাদামে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম ও ফলিক এসিড। তবে প্যাকেটে পাওয়া যায় এমন বাদাম না খাওয়াই ভালো কারণ এগুলোতে অনেক সময় বেশি লবন ও তেল থাকে।

ডিম

ডিমে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ৯ ধরনের এমিনো এসিড রয়েছে যা আপনাকে দ্রুত প্রশান্তি দিবে। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন-ডি আছে যা আপনাকে সারাদিনের শক্তি যোগাতে সাহায্য করবে।

সবুজ পাতার শাক

কম ক্যালোরি, উচ্চমাত্রা ফাইবার ও মিনারেল থাকায় ক্লান্ত শরীরে শাক ও সবজি খেতে পারেন। বিশেষত পুই শাক, বাঁধা কপি ও গাজর খেতে পারেন। কারণ এগুলো ডাইজেস্ট হতে অনেক সময় লাগে যে কারণে পরবর্তী খাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে। এই খাবারগুলো মূলত সালাদ হিসেবে খেতে পারেন।

পানি

পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করলে সারাদিনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায়

ইউরিক অ্যাসিড। রক্তে এটি বাড়ার কারণে দেখা দিতে পারে শরীরে নানা উপসর্গ। যার ফলে হতে পারে মারাত্মক সমস্যা। গাঁটে গাঁটে ব্যথা, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যার মতো নানারকম জটিলতা দেখা দিতে পারে শরীরে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম.এ. আজহারের সঙ্গে। তিনি জানান এ রোগের বিস্তারিত।

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কেন বাড়ে

 

 

* বংশগত কারণে।

* অতিরিক্ত ওজন।

* মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পান।

* চাহিদার তুলনায় প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি খেলে।

* পিউরিনযুক্ত খাবার (লাল মাংস, কলিজা, ইস্টের তৈরি খাবার, পালং শাক, মাশরুম, ওটমিল, ফুলকপি, মুসুরির দাল, মটরশুঁটি ইত্যাদি)।

* প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয় পান।

* এছাড়া লিভার যদি পর্যাপ্ত ইউরিক অ্যাসিড না তৈরি করতে পারে কিংবা কিডনি যদি ইউরিক অ্যাসিড না বের করতে পারে সেটাও এ জটিলতার অন্যতম কারণ।

* বাতের সমস্যা, ‍হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা থাকলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ

* গাঁটে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে পায়ের বুড়ো আঙুল, হাঁটু, পায়ের পাতা, কবজি, হাতের গাঁটে অসহ্য ব্যথা হয়। সাধারণত এই ব্যথা ৫-১০ দিন একটানা চলে।

* ঘন ঘন জ্বর আসতে পারে।

* শরীরে অস্বাভাবিক ঘাম হয়।

* পেট এবং কোমরে খুব ব্যথা হয়।

* কখনো কখনো সারা শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়।

* কিডনির সমস্যা হতে পারে।

* পিঠে ব্যথা করতে পারে।

* প্রস্রাব করার সময় সমস্যা হতে পারে।

 

ইউরিক অ্যাসিডের পরীক্ষা

রক্ত এবং প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হয়।

ইউরিক অ্যাসিড সমস্যায় যা খাবেন, যা খাবেন না

* পিউরিনযুক্ত খাবার কম খান।

* দুধের তৈরি খাবার খুব উপকারী।

* মুরগির মাংস, কুসুম ছাড়া ডিম খেতে পারেন।

* প্রচুর পানি এবং তরল খাবার খাবেন। ফলের রস, হারবাল চা খুব উপকারী।

* আপেল, কলা, আনারস, লেবু ইত্যাদি ফল খাবেন।

* ভিটামিন সি যুক্ত খাবার এবং সয়াবিন খেতে পারেন।

* বেশি আঁশযুক্ত খাবার যেমন সবজি, শাক খাবেন।

* লাল মাংস, চিংড়ি মাছ এবং সামুদ্রিক মাছ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।

* খাদ্যতালিকা থেকে সব রকমের ডাল পরিহার করুন।

* ফুলকপি, পুঁইশাক, মিষ্টিকুমড়া, পাকা টমেটো, মটরশুঁটি, মাশরুম, অ্যাসপারাগাস, পালংশাকে ইউরিক অ্যাসিড থাকে। এসব খাবার বর্জন করুন।

* অ্যালকোহল বর্জন করুন।
 

পরামর্শ

* শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।

* স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট মেনে চলুন।

* নিয়মিত হাঁটা প্রয়োজন।

* যেকোনো কায়িক পরিশ্রমের পর বেশি করে পানি পান করুন।

* ৩ মাস পর পর লিপিড প্রোফাইল চেক করুন। কারণ যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকে, তাদের হাই কোলেস্টেরলের প্রবণতা থাকে।

* চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন। চিকিৎসা চলাকালে কোনো অবস্থাতেই ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না।

এই বিভাগের আরো খবর

টুথব্রাশ যত্নে আছে তো?

দাঁত জীবাণুমুক্ত রাখতে আমরা টুথব্রাশ ব্যবহার করি। তবে সেই ব্রাশেই আবার জীবাণু বাসা বাধছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। টুথব্রাশ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে যা দাঁতের জন্য মারাত্নক ক্ষতির কারণ।

জেনে নিন প্রয়োজনীয় কিছু টিপস-   

 

  • ব্রাশ কেনার সময় নরম কিনা সেটা দেখে দেখে নেবেন।
  • নিজের ব্রাশ সবসময় আলাদা করে রাখবেন। ভুলেও যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে ফেলে সেক্ষেত্রে সেটি বাতিল করে দিন।
  • বাথরুমে প্রচুর জীবাণু থাকে। তাই বাথরুমের ভেতরের বেসিনে ব্রাশ রাখা উচিৎ নয়।   
  • ব্রাশ কখনও প্লাস্টিকের ক্যাপ অথবা টিস্যু দিয়ে কভার করে রাখবেন না। এতে ব্রাশে আদ্রতার মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে সেখানে জীবাণু বাসা বাধে।
  • টুথব্রাশ সবসময় ব্রাশ খাঁড়া করে রাখবেন। এতে ব্রাশে থাকা অতিরিক্ত পানি ঝরে যাবে।
  • দুটি ব্রাশ একদম পাশাপাশি না রাখাই ভালো।
  • মাউথওয়াশে টুথব্রাশ ডোবাবেন না।   
  • ৩ মাস পরপর টুথব্রাশ বদলে ফেলবেন অবশ্যই।
  • টুথব্রাশ সংরক্ষণ করতে পারেন ক্যাবিনেটে। ভালো করে ধুয়ে ঝেড়ে অতিরিক্ত পাবনি ফেলে রাখবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

মধু ও বেকিং সোডা: ত্বক হবে উজ্জ্বল

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহারের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে ত্বক রাখতে পারেন সুন্দর। মধু ও বেকিং সোডার  তৈরি ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও কোমল। ত্বকের যত্নে দুইভাবে ব্যবহার করতে পারেন মধু ও বেকিং সোডা। জেনে নিন কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করবেন ফেসপ্যাক।

ফেসপ্যাক- ১

 

 

  • পাত্রে ১ চা চামচ দই নিন।
  • ১ চা চামচ মধু মেশান।
  • মিশ্রণে ১ চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নিন।
  • মিশ্রণটি ত্বকে লাগান।
  • ৩০ মিনিট পর ধীরে ধীরে ঘষে উঠিয়ে ফেলুন।

ফেসপ্যাক- ২

  • একটি পরিষ্কার ও পাতলা কাপড় পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন।
  • কাপড়ের ওপর ১ চা চামচ মধু নিন।
  • মধুর উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন।
  • আঙুলের সাহায্যে দুইটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে কাপড়টি ত্বকে ঘষুন।
  • ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ত্বক।

বেকিং সোডা ও মধু ত্বকে ব্যবহার করবেন কেন?

  • বেকিং সোডা ত্বকের মরা চামড়া দূর করে।
  • মধু ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
  • বেকিং সোডা ও মধু একসঙ্গে ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • ফেসপ্যাকটি ত্বক ব্লিচ করে। ফলে উজ্জ্বল ও কোমল হয় ত্বক।
  • লোমকূপে জমে থামা ময়লা পরিষ্কার করতে পারে এই ফেসপ্যাক।
  • ত্বকের কালচে দাগ দূর করে সুন্দর করে ত্বক।

এই বিভাগের আরো খবর

স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াবেন যেভাবে

সুস্বাস্থ্য মানে উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন। অতিরিক্ত মেদ যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকারক, তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় কম ওজন থাকাও অসুস্থতার লক্ষণ। ওজন যদি একদম কম থাকে, তবে নিয়ম মেনে ওজন বাড়ানোর দিকে মনোযোগী হওয়া জরুরি। ওজন বাড়ানোর জন্য জীবনযাপন পদ্ধতি বদলে ফেলতে হবে। কারণ খাওয়া-দাওয়ার ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া মানসিক চাপ, ঘুম না হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কারণেই ওজন কমে যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করার পরও ফল না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

জেনে নিন ওজন বাড়াতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে কোন কোন বিষয়ের প্রতি-

 

  • টানা ৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকবেন না। সম্ভব হলে ২ ঘণ্টা পর পরই কিছু না কিছু খান। সঙ্গে শুকনা ফল, বাদাম রাখতে পারেন।
  • একই সঙ্গে কয়েক ধরনের খাবার খেতে পারেন। যেমন- আমিষ, ফল কিংবা সালাদ।
  • মুখরোচক নয়, পুষ্টিকর খাবার রাখুন ডায়েট চার্টে। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এমন খাবার খান।
  • শুকনা ফল খেতে পারেন নিয়মিত। এটি চিনির চাহিদা পূরণ করবে।
  • তাড়াহুড়া করে খাবার খাবেন না। সময় নিয়ে আস্তে ধীরে খান। খাবারের স্বাদ উপভোগ করার চেষ্টা করুন।
  • স্মুদি কিংবা মিল্কশেক পান করতে পারেন। এটি যেমন পুষ্টির যোগান দেবে, তেমনি চিনির চাহিদা মেটাবে।
  • সকালে নাস্তায় ডিম, রুটি কিংবা ভারি খাবার খাবেন। এটি দিনভর কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করবে।
  • রাতের খাবারও খুব জরুরি। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে খাবার খাবেন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ রাখুন। রাতে ৮ ঘণ্টার ঘুম ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে।  
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করুন। এটি সতেজ রাখবে আপনাকে।

এই বিভাগের আরো খবর

থানকুনি পাতা খাবেন কেন?

পেঁয়াজ কুচি, মরিচ কুচি, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে থানকুনি পাতার ভর্তা খেয়েছেন কখনও? কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য এই ভর্তা। ঔষধি গুণসম্পন্ন থানকুনি পাতা খেতে পারেন রস করে অথবা বেটেও। তরকারিতে কুচি করে মিশিয়ে দিতে পারেন। চাইলে চায়ের সঙ্গেও মিশিয়ে নিতে পারেন এটি। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে।

জেনে নিন থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে-

 

 

  • হজম শক্তি বাড়াতে পারে থানকুনি পাতা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, থানকুনি পাতায় উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান হজমে সহায়ক অ্যাসিডের ক্ষরণ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে।
  • পেটের সমস্যা লেগেই থাকে? নিয়মিত থানকুনি পাতা খান, দূর হবে পেটের সমস্যা।
  • অ্যাসিডিটি দূর করতেও জুড়ি নেই থানকুনি পাতার। দুধের সঙ্গে মিসরি ও থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে পান করুন প্রতিদিন।
  • কাশি ও ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা দূর করতে থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খান।
  • খাবার এবং আরও নানাভাবে একাধিক ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে ও রক্তে প্রবেশ করে। প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদানগুলি বেরিয়ে যায়।
  • ভিটামিন সিযুক্ত থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে বাড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
  • থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামিনো অ্যাসিড, বেটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইটোকেমিকাল ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে। পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এটি। ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখা পড়ে না সহজে।

 

ভরা পেটেও খাই খাই বাতিকে রোগের ইঙ্গিত, জেনে নিন প্রতিকার

খাই খাই বাতিক মিষ্টি
শরীরে ভিটামিন B12 বা প্রোটিনের ঘাটতি হলে মিষ্টি দেখলেই খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে
রোজকার ডায়েটে টাটকা ফল, সবজি, দারচিনি রাখলে মিষ্টির খাই খাই কেটে যাবে

 

খাই খাই বাতিক চা, কফি
দেহে সালফারের ঘাটতি হলে চা-কফির নেশা বাড়ে
পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি ডায়েটে রাখলে মুক্তি পাওয়া সম্ভব

খাই খাই বাতিক চিজ
অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি হলে চিজ দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়
ডায়েটে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার যেমন ফ্লাক্সসিড অয়েল, বাদাম তেল বা আখরোটের মতো খাবার রাখলে সমস্যা মিটবে

খাই খাই বাতিক পাস্তা, পেস্ট্রি
শরীরে প্রয়োজনীয় ট্রেস এলিমেন্ট ক্রোমিয়ামের ঘাটতি হলে পাস্তা বা পেস্ট্রির মতো খাবার দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়
আঙুর, আপেল, পেঁয়াজ, টমেটো, দারচিনি বেশি করে খেলে ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব

খাই খাই বাতিক পাউরুটি বা টোস্ট
দেহে নাইট্রোজেনের ঘাটতির জন্য পাউরুটি বা টোস্ট খাওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ে
ডায়েটে যত বেশি পরিমাণে সম্ভব প্রোটিন, সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম রাখলে ঘাটতি মেটানো সম্ভব

খাই খাই বাতিক পপকর্ন
অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থাকলে অনেকে বেশি করে পপকর্ন খান
বেশি পরিমাণ ভিটামিন C ও ভিটামিন B যুক্ত খাবার খেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব

খাই খাই বাতিক চকোলেট
দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে চকোলেট খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না
দানাশস্য, কোকো পাউডার, বাদাম খেলে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মেটানো সম্ভব

খাই খাই বাতিক সোডা
শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে সোজা খাওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ে
তিল, ব্রকোলি, সর্ষে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির পরিপূরক

খাই খাই বাতিক নোনতা খাবার
দেহে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, ডিহাইড্রেশনের কারণে নোনতা খাবার বা নুন খেতে ইচ্ছে হয়
ডায়েটে আদা, রসুন, গোলমরিচ, লেবু, ভিনিগার রাখলে সমস্যা মিটবে

বুঝতেই পারছেন, সমস্যা গভীর! তবে একটু নজর দিলেই কিন্তু সমাধান সম্ভব।

এই বিভাগের আরো খবর

ঘামের স্পর্শে হবে হেপাটাইসিস বি!

সারা দেশ জুড়ে যা গরম পরেছে তাতে ঘাম হবেই। আর ঘাম হলেই বিপদ! কারণ একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, অন্যের ঘামের থেকেও মারাত্মক সব রোগ হতে পারে। তাই বাসা থেকে বের হলে আরও বেশি সতর্ক হয়ে বের হবেন।

এই গরমে খেলার মাঠে, বাসে, গাড়িতে অথবা অফিসে খেয়াল রাখবেন কারও ঘাম যেন আপনার শরীরে না লাগে, আর যদি ভুল করে লেগেও যায়। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলবেন। আরেকটি বিষয়, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কারও হাতে ধরা হ্যান্ডেল সঙ্গে সঙ্গে ধরবেন না। এমনটা করলেও কিন্তু সমান ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এবার আসুন জেনে নেয়া যাক, অন্যের ঘাম লাগলে কি কি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে-

১. ঘাম থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে:
বেশ কিছু সংক্রমণ ঘামের মাধ্যমে এক জনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে আক্রমণ বাঁধতে পারে। আর এক্ষেত্রে যার শরীরে গিয়ে জীবাণু ঘর বানায়, তিনি এ সম্পর্কে জেনেও উঠতেও পারেন না, যতক্ষণ না সেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কারণ আপনার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার শরীরে যে কোনও জীবাণু বাসা বেঁধে থাকতে পারে, তা তো খালি চোখে দেখে বোঝা সম্ভব নয়। তাই সাবধান থাকুন।

২. এম আর এস এ:
মেথিসিলিন রেজিসটেন্ট স্টেফিলোক্কাস অ্যারিয়াস বা এম আর এস এ নামক এই সংক্রমণটি মারাত্মক ভয়ঙ্কর। একবার কেউ যদি এই রোগে আক্রান্ত হয়, সহজে সেরে ওঠা একেবারেই সম্ভব হয় না। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল ঘামের মাধ্যমে এই ইনফেকশনটি খুব অল্প সময়েই এক জনের শরীর থেকে আরেক জনের দেহে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং একবার যদি শরীরে এই জীবাণুটি প্রবেশ করে যায়, তাহলে একে একে ইউরিনারি ট্রাক্ট, ফুসফুস এমনকী রক্তেও বিষ ছড়িয়ে যেতে পারে। আর কোনও সময় রক্তে যদি এই সংক্রমণ মিশে যায়, তাহলে জীবন হানির আশঙ্কা থাকে।

৩. হেপাটাইটিস বি ভাইরাস:
এত দিন মনে করা হত ঘাম এবং লালার মাধ্যমেই এই ভাইরাসের প্রসার ঘটে। কিন্তু সম্প্রতি ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে ঘামের থেকেও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস এক জনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে গিয়ে বাসা বাঁধতে পারে। আর একবার যদি এই ভইরাস শরীরে এসে ঘর বানায়, তাহলে ধুম জর, ক্লান্তি, ক্ষিদে কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বমি হওয়া, পেটে যন্ত্রণা, কালো প্রস্রাব হওয়া এবং পেট খারাপ হওয়ার মতো লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে।

৪. ভাইরাল ইনফেকশন:
সরাসরি ঘামের সঙ্গে এই ধরনের সংক্রমণের যোগ না থাকলেও ভাইরাল ফিবারে আক্রান্ত রোগী যখন কাশ দেন বা হাঁচি দেন, তখন প্রচুর পরিমাণে ভাইরাস তার ত্বকের উপরে ছড়িয়ে পরে, যা পরবর্তী সময় ঘামের সঙ্গে মিশে গিয়ে খুব সহজেই অন্য কাউকে অসুস্থ করে তুলতে পারে।

৫. ইমপেটিগো:
এটি এক ধরনের ত্বকের সংক্রমণ, যা মারাত্বক দ্রুত গতিতে এক জনের শরীর থেকে আরেক জনের শরীরে গিয়ে প্রবেশ করে। আর এক্ষেত্রে ঘাম এই জীবাণুর বাহকের কাজটা করে থাকে। প্রসঙ্গত, স্টেফিলোকক্কাস অ্যারিয়াস নামে একটি জীবাণুর কারণে এই চর্মরোগটি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগীর শরীরে লাল লাল ছোপ দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ফোঁড়ার মতো ফুসকুড়িও হতে পারে।

৬. হার্পিস:
এই চর্মরোগটির সঙ্গে তো সবাই পরিচিত। সবথেকে ভয়ের বিষয় হল হার্পিস ঘামের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পরতে পারে। তাই এমন রোগীদের একটু সচেতন থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, তার কারণে যাতে অন্য কেউ এমন রোগে আক্রান্ত না হয়ে পারেন। এক্ষেত্রে হার্পিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি যতটা পারবেন ভিড় জায়গায় যাবেন না। সেই সঙ্গে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে চলারও চেষ্টা করবেন।

৭. হেপাটাইটিস এ, সি এবং এইডস:

অনেকে মনে করেন ঘাম এবং হাঁচির সঙ্গে এই তিন ধরনের ভাইরাসের ছড়িয়ে পরার সরাসরি যোগ রয়েছে। যদিও এই যুক্তির সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি

এই বিভাগের আরো খবর

সহজ ৫ টি উপায়ে ফলমূল থেকে দূরে রাখুন মাছি

মৌসুমি ফল খেতে কে না ভালোবাসে। আম, কাঁঠাল এর সময়ে এমন কোন বাসা খুঁজে পাওয়া যাবে না যে বাসাতে এই ফলগুলো থাকবে না। আমাদের প্রত্যেকের বাসাতেই কিছু বারোমাসি সাধারণ ফল থাকেই যা কিনা প্রতিদিনের খাবারের তালিকাতেও থাকে, যেমন: কলা, পেঁপে ইত্যাদি। এই সকল ফলের পুষ্টিগুণ অনেক বেশী বলে যে কোন বয়সের মানুষের জন্য তো বটেই শিশুদের জন্যেও খুব উপকারী। 

কিন্তু এই সকল ফল অতি বেশী পচনশীল। একটু বেশী পেকে গেলেই দেখা যাবে বিভিন্ন রকম পোকা এবং মাছির রাজত্ব শুরু হয়ে গেছে একদম। কোন ধরণের পোকা এবং বিশেষ করে মাছি যে কোন ফলের উপরে বসলেই সেটা সংক্রমিত হয়ে যায়। যার কারণে সেই ফল খাওয়া একেবারেই অনিরাপদ হয়ে যায়।

এই সকল সমস্যা থেকে সুন্দরভাবে মুক্তি পেতে   সহজ পাঁচটি উপায় যা আপনার ঘরের ফল কে সুরক্ষিত রাখবে অনাকাঙ্ক্ষিত পোকামাকড়ের হাত থেকে।  

১/ ব্যবহার করুন অ্যাপল সাইডার ভিনেগার:

যেকোন একটি খালি বোতলে খুব অল্প পরিমাণে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার নিন। বোতলের মুখে ক্যাপ এর পরিবর্তে একটি প্লাস্টিক পেপার দিয়ে ভালো করে ঢেকে দিন এবং বোতলের মুখের চারপাশ একটি রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে নিন। এরপর একটি টুথপিক দিয়ে সাবধানে প্লাস্টিক পেপার এর উপর এমনভাবে একটি ছিদ্র করুন যেটা দিয়ে যেকোন পোকা এবং মাছি খুব সহজেই ঢুকে যেতে পারবে। তবে একবার বোতলের ভেতর ঢুকে গেলে বের হতে পারবে না। অ্যাপল সাইডার ভিনেগার এর গন্ধ এমন যা পোকা এবং মাছিদের খুব বেশী করে আকৃষ্ট করে

২/ ভিনেগার এবং লিকুইড ডিশ সোপ:

একটা বাটিতে ভিনেগার নিয়ে তিন থেকে চার ফোঁটা লিকুইড ডিশ সোপ দিয়ে দিন। ভিনেগার এবং ডিশ সোপ এর মিশ্রণের ফলে মিশ্রণের উপরিভাগে একটি স্তরের সৃষ্টি হবে। ভিনেগারের গন্ধে মাছি এবং পোকা আকৃষ্ট হয়ে সেই মিশ্রণের ভেতর ঢুকে যাবে এবং মিশ্রণের নীচে তলিয়ে যাবে।

  

৩/ দুধ, চিনি এবং গোলমরিচ:

আধা কাপ দুধ, কয়েক চিমটি চিনি এবং কয়েক চিমটি গোলমরিচ এর গুঁড়ো একটা সসপ্যানে নিয়ে ফুটাতে হবে। এরপর একটি ছড়ানো পাত্রে মিশ্রনটি ঢেলে দিতে হবে। এই মিশ্রণের দিকে মাছি খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয় এবং মিশ্রণের ভেতর ডুবে মারা যায়।

৪/ কাগজের কোন এবং এক টুকরা ফল:

একটি বড় মুখের জারের মধ্যে কিছুটা ভিনেগার নিয়ে পাকা কোন এক ফলের এক পিস সেটাতে দিয়ে দিতে হবে। এরপর কগজের কোন এর চিকন মুখের দিকটা নীচের দিকে দিয়ে জারের মুখের সাথে ভালোমতো এঁটে দিতে হবে। এতে করে পোকা এবং মাছিরা জারের ভেতর ঢুকে গেলেও আর বের হতে পারবে না। এটি খুব সহজ একটি উপায়। 

৫/ ফ্রুট ফ্লাই স্ট্রাইপ্স:

প্রথমে একটা সসপ্যানে কয়েক চা চামচ চিনি এবং পানি নিয়ে ভালোমতো জ্বাল দিয়ে মিশ্রনটা ঘন করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রনটা যেন ঘন হয়। এরপর আইসক্রিমের কাঠি অথবা কোন লম্বা কাপড়ের টুকরাতে মিশ্রনটা ভালো মতো লাগিয়ে ঘরের কোন একটা কোনায় রেখে দিতে হবে। মিষ্টি ঘ্রানে পোকা, মাছি তো বটেই মশা পর্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে কাঠিটার কাছে যাবে এবং আঠালো মিশ্রণের সাথে আটকে যাবে।

এই সকল উপায়ে খুব দ্রুত এবং ভালোভাবে আপনি আপনার ঘরের পোকা এবং মাছিদের দূরে রাখতে পারবেন আপনার প্রিয় ফল থেকে।

এই বিভাগের আরো খবর

ত্বকের ক্যানসার সারাতে সাহায্য করে এই দুই সব্জি

বিভিন্ন কারণে এখন হামেশাই ত্বকের ক্যানসারের মাত্রা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। যা হয়তো বহু ওষুধ খেয়েও সম্পূর্ণভাবে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সারানো সম্ভব নয়, তাই এবার সম্ভব দুই সব্জির মাধ্যমে।

 

সম্প্রতি একটি তথ্যে জানা গিয়েছে যে, ব্রকোলি এবং ফুলকপি তে যে উপকারী উপাদান রয়েছে, তা সম্ভাবত ত্বকের ক্যানসার সারাতে সাহায্য করে। ব্রকোলি এবং ফুলকপি মেলানোমার টিউমার ধ্বংস করে। পাশাপাশি সুস্থ কোষগুলিতেও কোনওরকম ক্ষতি করে না। ক্যানসার আক্রান্ত অংশের ম্যালিগন্যান্ট কোষ ধ্বংস করে কিন্তু সেই জায়গারই সুস্থ কোষগুলি একেবারে অক্ষত থাকে।

মেলানোমা, ইউভি রশ্মির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। আর এটিই সবথেকে ভয়ঙ্কর ত্বকের ক্যানসার । একেবারে প্রথম ধাপে ধরা পড়লে অপারেশনের মাধ্যমে এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। কিন্তু এই রোগ যদি একবার বেড়ে যায়, তাহলে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ত্বকের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে পারে ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলোর মতো সব্জি ।

এই বিভাগের আরো খবর

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলো জেনে নিন

সদ্যই মারা গিয়েছেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ইন্দ্র কুমার । মাত্র ৪৩ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তিনি। তাঁর এই অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক -র মতো রোগ। নিজে সুস্থ থাকতে এবং প্রিয়জনদের সুস্থ রাখতে জেনে নিন এই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায়গুলি।

 

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ-

 

১) হার্ট অ্যাটাকের সবথেকে বড় লক্ষ হল বুকে ব্যথা হওয়া। তাই আপনি যদি বুকে ব্যথা অনুভব করেন, কিংবা কোনও ব্যক্তিকে বুকে ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখেন,তাহলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগে তাড়াতাড়ি চিকিত্‌সকের কাছে যান।

 

২) ক্লান্তি-অবসাদও হার্ট অ্যাটাকের বড় লক্ষণ।

৩) বুকে ব্যথা হওয়ার সঙ্গে কিংবা ছাড়াই যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় তাহলে অবশ্যই সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্‌সকের কাছে যান।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়-

১) স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন মেনে চলা। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। প্রচুর পরিমানে ফল এবং সব্জি খেতে হবে।

২) রক্তচাপ ঠিক রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। এর ফলে একদিকে যেমন রক্তচাপ সঠিক থাকে, তেমনই ওজনও সঠিক থাকে।

৩) তামাকজাতীয় দ্রব্য বর্জন করতেই হবে।

৪) তামাকের মতো অ্যালকোহলে প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি থাকে। অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সুস্থতার জন্য আপেল সিডার ভিনেগার

সুস্থ থাকতে নিয়মিত পান করতে পারেন আপেল সিডার ভিনেগার। তবে কখনোই সরাসরি পান করবেন না এটি। ২৫০ মিলি পানির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন। ১ টেবিল চামচ মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন চাইলে। তবে অনেকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

জেনে নিন আপেল সিডার ভিনেগারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে-    

 

 

  • আপেলকে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে আপেল সিডার ভিনেগারে রূপান্তরিত করা হয়। ফলে এতে পাওয়া যায় ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ফসফরাসসহ আরও কিছু পুষ্টি উপাদান।
  • কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখে আপেল সিডার ভিনেগার।
  • মেদ দূর করতে জুড়ি নেই এটির।
  • খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করা একাধিক দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে আপেল সিডার ভিনেগার।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তরা বাসায় ফ্রি চিকিৎসা পাবেন যেভাবে

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিজ বাসা-বাড়িতেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ পাবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ ঘোষণা দিয়েছেন।
কিন্তু কীভাবে মিলবে সে সুযোগ?
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চিকিৎসাসেবা পেতে আক্রান্তদের ০৯৬১১০০০৯৯৯ এই নম্বরে ফোন করে জানাতে হবে। তাহলেই সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সেবা দিতে রোগীর বাসায় পৌঁছে যাবেন।
আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার প্রকল্পাধীন ২৮টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৫টি নগর মাতৃসদন এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ২টি হাসপাতাল ও ১টি মাতৃসদন কেন্দ্র থেকে বৃহস্পতিবার থেকে এই সেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় গণমাধ্যমকে একথা জানান।
তিনি বলেন, মেয়র দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে নগরবাসীদের আশ্বস্থ করেছেন। এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি ওয়ার্ডে স্পেশাল লার্ভি সাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম, জনসচেতনমূলক র্যালি, মসজিদে বয়ান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং ও সমাবেশের আয়োজন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, টিভি চ্যানেলে টিভিসি সম্প্রচার, বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান।

এই বিভাগের আরো খবর

পার্সলে পাতার বরফ

পার্সলে পাতার নাম আমরা অনেকেই শুনেছি৷ কিন্তু এর সঠিক ব্যবহার ক’জন জানি?  বাজারে পার্সলে পাতা কিনতে পাওয়া যায় দেখেছি৷ তবে, এই পাতা খায় না মাখে, কিস্যু জানিনা৷ আজ আমরা এই পার্সলে পাতার অভিনব কিছুগুণ আপনাদের জানাবো৷

 

তবে, সব থেকে উপকারি বিষয় হল এই পার্সলে গরমকালে বা বর্ষায় আমাদের ত্বককে রক্ষা করতে খুব সাহায্য করে৷ক্রান্তিয় এবং উপ-ক্রান্তিয় অঞ্চলের আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে এই পার্সলে গাছ বা বাগান৷ পার্সলে পাতার বাগান জল নিকাষি ব্যবস্থায় সহায়তা করে৷আমেরিকান রন্ধন পদ্ধতিতে পার্সলে পাতার প্রচুর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়৷ মাছ, মাংস, ভাত প্রভৃতি রান্নায় এই পাতা কখনও কখনও ব্যবহৃত হয় আবার কখনও শুধুমাত্র গার্নিশিং এর কাজে লাগে৷ পার্সলে পাতায় ফ্ল্যাভেনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যাপিজেনিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন k, ভিটামিন C ভিটামিন A থাকে৷

 

এবার আসল তথ্যে আসা যাক, যেটার জন্য আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন৷ নিজেকে সুন্দর দেখতে কে না চায় বলুন? তবে, সুন্দর হওয়ার লোভে সবাই আজকাল বড্ডো বেশি পার্লারে সময় কাটায়৷ অথচ আমরা যদি একটু পুরাতন কালের মডার্ন সুন্দরীদের ব্যপারে জানি তবে, জানতে পারব যে তাদের সময় এতো প্রযুক্তি বা পার্লার ছিলইনা৷ তারা কিন্তু প্রাকৃতিক সমস্ত ভেষজ সামগ্রীর ব্যবহারে নিজেদের সুন্দরী করে তুলতেন৷নীম, জবা গাছের পাতা বা আরও অনেক পাতার মতোই পার্সলে এমনই এক ধরনের পাতা৷

 

পার্সলে পাতাকে কুচিয়ে নিন প্রথমে৷ গ্যাসে জল গরম করুন৷ জল ফুটতে শুরু করলে তাতে পাতাগুলো দিয়ে ভাল করে ফোটান৷ পাতা থেকে সবুজ নির্যাস বেরিয়ে আসবে৷এরপর ওই জল কে ভাল করে ঠাণ্ডা করে ফ্রিজের বরফের ট্রে’তে ঢেলে দিন৷ডি-ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন৷ ওগুলো সবুজ রঙের বরফের আকৃতি নেবে৷

এরপর আপনি ঘর থেকে বেরোনোর সময় বা যেসব সময় বরফ ব্যবহার করতেন সেসময় পার্সলের বরফের ওই টুকরোগুলো ব্যবহার করুন৷ এই একইাবে নিম পাতাকেও ব্যবহার করা যায়৷ এর ফলে ত্বক উজ্বল থাকে ও পরিষ্কার থাকে, ব্রণর সমস্যা এড়ানো যায়, তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে৷

প্রেশার, থাইরয়েড, বাতের ব্যথা থেকে ধীরে ধীরে মুক্তির অভাবনীয় দিশা দেখাচ্ছেন বাঙালি বিজ্ঞানী

কানের মধ্য দিয়ে শব্দ ঢুকিয়ে মস্তিষ্কের মধ্যে ঘূর্ণন। মস্তিষ্কে শব্দের প্রভাব সারা শরীরে ছড়িয়ে দেওয়া। প্রেশার, থাইরয়েড, বাতের ব্যথার মতো কঠিন রোগ থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি। অভাবনীয় দিশা দেখাচ্ছেন বাঙালি বিজ্ঞানী। অভিনব উদ্ভাবনে রোগমুক্তি।

রোগ একটা বিষয়। কিন্তু তার আধার মস্তিষ্ক। রোগী নয়, রোগই কালপ্রিট। সুগার, প্রেশার, থাইরয়েডের মতো হরমোনঘটিত রোগ মানুষের শরীরে থাবা বসাচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে।

 

সবই অবশ্য পিটুইটারি গ্রন্থির খেলা। মস্তিষ্কের প্রভাব। কারও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, কারও কম। তাই, রোগ সারাতে পৌছতে হবে রোগের উতসে। ধীরে ধীরে নির্মূল করতে হবে শিকড় থেকে। এমনটাই মনে করেন বাঙালি চিকিত্সা বিজ্ঞানী সজল ব্যানার্জি। সেই ভাবনা থেকেই এক অভিনব উদ্ভাবন।

শব্দ ও আলো সাধারণত সরলরেখায় চলে। এই ধারণার মূলে আঘাত করেছেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী। কানের মধ্য দিয়ে শব্দ প্রবেশ করিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরিয়ে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলার এক অভিনব পদ্ধতির জন্ম দিয়েছেন তিনি। ২০১০ সালে পেটেন্ট দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রথমে তবলার তাল। তারপর হালকা পিয়ানোর শব্দ। সারা শরীরে সঙ্কেত পাঠায় মস্তিষ্ক। সব কাজের কারণ এই মস্তিষ্ক। জাইরো পদ্ধতিতে দেহের ছন্দ ফিরিয়ে আনার সঙ্কেত দেবে মস্তিষ্ক। ধীরে ধীরে সাড়া দেবে শরীর। জমে থাকা রোগ থেকে মুক্তি। থাইরয়েড হোক বা হাঁটুর ব্যথা, সময় নিয়ে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। এমনটাই দাবি বাঙালি বিজ্ঞানীর। শিশুর শরীরেও প্রভাব ফেলা সম্ভব। চিকিত্সা বিজ্ঞানের এক নতুন দিক খুলে দিয়েছেন এই বাঙালি বিজ্ঞানী। তবে তিনি এটাকে মিউজিক থেরাপি বলতে নারাজ। শব্দের মায়াজালে সুস্থতা।

বাড়তি নুন-চিনিই ভোগাচ্ছে আপনাকে

বাড়তি চিনি খাচ্ছেন? চায়ে-দুধে চিনি ছাড়া চলছে না? নুনের বেলাতেও বেলাগাম? ফলে, খাবারে কাঁচা নুন এড়িয়ে চলুন। বাড়তি নুন-চিনিই ভোগাচ্ছে আপনাকে।

চিনি নিয়ে মিথ্যে বলেছেন কি মরেছেন। চিনির প্রতি বেশিমাত্রায় ভালবাসা দুঃখ ডেকে আনতে যথেষ্ট। চায়ে বেশি চিনি বা চিনি দিয়ে দুধ খেলে মুশকিল। নুনেও তাই। যাঁর নুন খাচ্ছেন, তাঁর গুণ গান। আপত্তি  নেই। কিন্তু বেশি নুনে সর্বনাশ। খাবার পাতে নুন, টক ফল খেতে নুন। বিপদ বাড়ছে হু হু করে।

চিনির অপকারিতা আমরা কম বেশি জানি। দাঁত নষ্ট, বাড়তি ক্যালরির কারণে ওজন বাড়া, ব্লাড প্রেশার বাড়ার তথ্য আমাদের অনেকেরই জানা। এ ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু অপকারিতা। যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতি। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বেশি চিনি লেপটিন প্রতিরোধক। এই লেপটিন খিদে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বেশি চিনি খেলে খিদে বাড়তেই থাকে। অতিরিক্ত চিনি খেলে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে বা বেড়ে গেলে মারাত্মক সব সমস্যা দেখা দেয়। মাত্রাতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস লিভারকে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।

অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে সফট পানীয়ের সঙ্গে নেওয়া বাড়তি চিনি কিডনির রোগের জন্য দায়ী। চিনির প্রতি আসক্তি দেহের পুষ্টি গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিনিতে রয়েছে ইউরিক অ্যাসিড। বাড়তি চিনিতে যে কোনও ধরনের বাতের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত চিনি খেলে প্যানক্রিয়াসের ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে বাড়তি নুনের বিপদবার্তা। ক্ষয়রোগ থেকে হাই ব্লাড প্রেশার, সবের জন্য দায়ী অতিরিক্ত নুন। নুনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, শরীরে জল ধরে রাখা। নুনের পরিমাণ বেশি হলে শরীরে অতিরিক্ত জল বেরোতে পারে না। ফলে, উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ ও ব্রেনস্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কিডনি মূত্রের মাধ্যমে অনবরত বাড়তি নুন শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনির এতটুকু সমস্যা থাকলে, সেই বাড়তি নুন মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। কিডনি, লিভার, মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। অতিরিক্ত নুনে হাড়ের ক্যালসিয়াম ক্ষইতে থাকে। অস্টিওপোরোসিস রোগ দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত কাঁচা নুন মস্তিষ্কের নিউরনকে প্রভাবিত করে। জ্ঞানসম্পর্কীয় ফাংশনগুলিতে প্রভাব পড়ে। পাকস্থলীর ঘা এবং কোলন ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত কাঁচা নুন। সুস্থ থাকতে তাই নুন কম, চিনি কম।

এই বিভাগের আরো খবর

পেটের মেদ কমাতে চান? কী করবেন জেনে নিন

অতিরিক্ত মেদ শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। অতিরিক্ত মেদ বিভিন্ন অসুখের কারণ হতে পারে। তাই আমাদের লাইফ স্টাইল, খাওয়া দাওয়া প্রভৃতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। যাতে কোনওভাবেই যেন শরীরের অতিরিক্ত মেদ না জমে। শরীরের অন্যান্য অংশের মেদ কমানো গেলেও, বহু মানুষ এমনটা দাবি করেছেন যে, পেটের মেদ কোনওভাবেই কমাতে পারছেন না। পেটের মেদ কমানোর জন্য কী করবেন জেনে নিন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেট কিংবা কোমরের মেদ কমানোর জন্য ব্রেকফাস্টে বেশি পরিমানে খাবার খেতে হবে। তাঁরা বলছেন, যাঁরা সারাদিনে ৩ বারের বেশি সময় খাবার খান এবং ডিনারে বেশি পরিমানে খাবার খান, তাঁদের মধ্যে বডি মাস ইনডেক্স বৃদ্ধি পায়। এর ফল হিসেবে বিভিন্ন অসুখ দেখা দিতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষক হানা জানাচ্ছেন যে, ব্রেকফাস্টে সবথেকে বেশি পরিমানে খাবার খেতে হবে। ব্রেকফাস্ট এবং লাঞ্চ করতে হবে। রাতে খুব দেরিতে খাওয়া একেবারেই চলবে না। রাতে হালকা অর্থাত্‌ খুব কম পরিমানে খাবার খেতে হবে। স্ন্যাকস জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

এবার ডায়েট চার্টে সামান্য বদল আনার সময় এসেছে।

১) আমন্ড- আমন্ডে আছে পলিস্যাচুরেটেড ও মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট।  এগুলি অত্যাধিক খিদে নষ্ট করে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খিদে মেটায়। অতিরিক্ত মেদ ঝরাতেও কাজ করে।

২) তরমুজ- গ্রীষ্মের ফল। তরমুজের প্রায় ৯১ শতাংশই জল। যা অনেক সময় পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখে।  এছাড়াও তরমুজে রয়েছে ভিটামিন B1, B6 এবং ভিটামিন C।  তাই শরীরে মেদ জমারও ভয় থাকে না।

৩) আপেল- আপেলের মধ্যে প্রোটিন অ্যাসিড যা ওজন কমায়। ফাইবার, ফ্ল্যাভোনয়েডস্ ও বেটা ক্যারোটিন যুক্ত আপেল অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখে।

৪) আনারস- ব্রোমেলাইন এনজ়াইমযুক্ত আনারস পেটের মেদ কমায়।

৫) শসা- শশাতে লো ক্যালরি। শসা খেলে আপনার ওজন যেমন কমবে, তেমনই বাড়বে হজম শক্তি। সেই সঙ্গে ত্বক হবে উজ্জ্বল।

৬) টোম্যাটো- টোম্যটোর পেটের মেদ বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। এই উপাদানটি ডায়াবিটিজ় প্রতিরোধ করে।

৭) বিনস্- শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে বিনস। বিনস্ হজম শক্তি ও পেশির শক্তি বাড়ায়। অনেকক্ষণ পেট ভর্তিও রাখে। অতিরিক্ত খিদের ইচ্ছেও দূর করে।

৮) সেলেরি- লো ক্যালোরি সেলেরিতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন C। খাবার খাওয়ার আগে রোজ একগ্লাস সেলেরির রস খান। চাইলে স্যালাড বা সুপ বানিয়েও খেতে পারেন। এতে ওজন কমবে।

৯) অ্যাভোকাডো- অ্যাভোকাডোয় রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং পলিস্যাচুরেটেড ও মোনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। অ্যাভোকাডো শরীরে ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মেদও ঝরায়।

এই বিভাগের আরো খবর

জানুন কেন লেবুর খোসা ফেলে দেওয়া উচিত্‌ নয়

 লেবু শুধুমাত্র সুস্বাদু একটি ফলই নয়। লেবু আমাদের স্বাস্থ্য , ত্বক এবং চুলের জন্যেও খুবই উপকারী। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই লেবু খাওয়ার পরে তার খোসা ফেলে দেন। আপনিও নিশ্চয়ই তেমনটাই করেন? তাই তো? কিন্তু লেবুর খোসার উপকারিতা কি আপনি জানেন? লেবুর ভিতরের অংশের পাশাপাশি লেবুর খোসাও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী এবং কোন কোন উপকার করে তা জেনে নিন-

১) মারণ রোগ ক্যানসার । আর এই মারণ রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে লেবুর খোসা । চিকিত্‌সকেরা জানাচ্ছেন, চায়ের সঙ্গে লেবুর খোসা মিশিয়ে খেলে আমাদের শরীরের ক্যানসার কোষ তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

২) সৌন্দর্যের দিক থেকে লেবুর খোসা সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে ত্বকে সানবার্ন প্রতিরোধ করা যায়।

৩) লেবুর খোসায় প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। যা আমাদের হাড়কে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। হাড়ের বিভিন্ন অসুখ যেমন, পলিআর্থারাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং বিভিন্ন প্রকার আর্থারাইটিস প্রতিরোধ করে।

৪) প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকার জন্য লেবুর খোসা দাঁতের জন্যেও খুবই উপকারী। দাঁতের বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধ করে লেবুর খোসা ।

৫) অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য লেবুর খোসার উপকারিতা অনেক।

৬) শরীর থেকে স্ট্রেস কমায় লেবুর খোসা ।

৭) লেবুর খোসা আামদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, এবং বিভিন্ন হৃদরোগ যেমন স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।

৮) হজম শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় লেবুর খোসা ।

এই বিভাগের আরো খবর

ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে টমেটো

আমরা রোজ যে সমস্ত ফল কিংবা সব্জি খাই, তার মধ্যেই এমন কিছু গুণাগুণ রয়েছে, যা বিভিন্ন মারণ রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এর বেশিরভাগই আমাদের অজানা। কোন সব্জি কোন রোগ প্রতিরোধ করে, তা আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই জানা নেই। যেমন, টমেটো । বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, টমেটোতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ত্বকের ক্যানসারের পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রকার হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে, রক্ত পরিশুদ্ধ করতে, টক্সিন রিমুভ করতে, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে, কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করার মতো উপকারও করে টমেটো ।

টমেটো কাঁচা হোক কিংবা তরলরূপে, সব প্রকারেই ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে টমেটো ।

এই বিভাগের আরো খবর

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে হারাবে সুস্থতা

অনেক সময়ই আমরা দাঁড়িয়ে পানি পান করি। তাতেই ডেকে আনছি বিপদ। একটা নয়, একগুচ্ছ রোগ বাসা বাঁধছে শরীরে। বিকল হচ্ছে কিডনি। ভাবছেন, এ আবার কী উদ্ভুতুড়ে কথা? পানি পান করার আবার কোনও নিয়ম হয় নাকি? শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টা সত্যি।

পানি । শরীরে জলের গুরুত্ব অসীম। কিন্তু এই পানি খাওয়ারও কিছু নিয়মকানুন আছে। রাস্তাঘাটে চলতে ফিরতে ঢকঢক করে পানি খাওয়া আমরা হামেশাই করে থাকি। এমনকী বাড়িতেও। এই দাঁড়িয়ে পানি খাওয়াতেই তৈরি হচ্ছে বিপদ। শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রোগ।

দাঁড়িয়ে পানি পান করার বিপদ

    টক্সিনের পরিমাণ বাড়ে- পানি পান করার পরেই  ছাঁকনিগুলো শরীর পরিশ্রুত করার কাজ শুরু করে দেয়। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরের অন্দরে থাকা ছাকনিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। পরিশ্রুত করার কাজ বাধা পায়। শরীরে টক্সিনের মাত্রা বাড়তে থাকে।
    পাকস্থলীতে ক্ষত তৈরি হয়- দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। স্টমাক থেকে নিঃসৃত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বদহজমের আশঙ্কা বাড়ে। তলপেটে যন্ত্রণা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়।
    আর্থারাইটিসের আশঙ্কা- শরীরের মধ্যে থাকা কিছু উপকারি রাসায়নিকের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা কমে যায়। সেখান থেকে আর্থারাইটিসের আশঙ্কা বাড়ে।
    উদ্বেগ বাড়ে- দাঁড়িয়ে পানি পান করলে নার্ভ উত্তেজিত হয়ে যায়। উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
    কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়- দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে। কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা থাকে।
    G.E.R.D রোগ শরীরে বাসা বাঁধে- দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এরফলে পাকস্থলীর ভেতরের সরু নালিটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার ফলে গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা G.E.R.D এর মতো রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।

পানি পান করার সঠিক নিয়ম- বসে পানি পান করুন । ছোট ছোট চুমুকে জল খান।

সচেতন থাকলেই এই অভ্যাস আমরা সহজেই করে ফেলতে পারি। থাকতে পারি সুস্থ, সতেজ।

এই বিভাগের আরো খবর

চুলপড়ার যত সমস্যা চুল কেন পড়ে?

এ প্রশ্ন আজ আমাদের প্রায় সবার। এই চুলপড়া রোধে সারা বিশ্বে বছরে প্রায় ১ বিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ হয়। নানা উপায়ে আমরা চুলপড়া রোধ করতে চাই। অনেক রকমের ইনফেকশন, বিভিন্ন রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং খাদ্যের ভিন্নতার কারণে সাধারণত চুল পড়ে যায়। কিন্তু গবেষকরা গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ৯৫ ভাগ চুল পড়ার কারণ জিনগত। বাবা কিংবা মা অথবা দু’জনের কাছ থেকে আগত জিনই নির্ধারণ করে দেয় কখন আমাদের চুল পড়বে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া এবং অ্যানড্রোজেন অর্থাৎ পুরুষদের হরমোন এই সমস্যার জন্য দায়ী।

 গবেষকরা বিশ্বাস করেন, চুল পড়ার জন্য চুলের গোড়ার বা ফলিকলে একটি এনজাইম তৈরি হয়, যার নাম ফাইভ আলফা রিডাকটেজ। এই এনজাইম রক্তে অতিবাহিত হরমোন টেস্টোটেরনকে ডাই হাইপ্রোটেস্টস্টেরনে পরিণত করে। যার আরেক নাম ডিএইচটি। ডিএইচটি চুলের গোড়ায় আক্রমণ চালায় এবং চুল দুর্বল করে ঝরে পড়তে সাহায্য করে। পুরুষদের চুল সাধারণত সামনের দিকে পড়ে এবং টাকে পরিণত হয়। আর মহিলাদের পুরো মাথার চুলই এককভাবে পড়ে এবং পাতলা হয়ে যায়। মহিলাদের শরীরে অ্যারোমাটেজ নামে এক প্রকার এনজাইম তৈরি হয় যা ডিএইচটিকে ইস্ট্রোজেনে পরিণত করে। এতে কিছু হলেও মহিলাদের চুল রক্ষা পায়। চুল পড়ার রাসায়নিক কারণ খুবই জটিল।

 চুলপড়া রোধে এবং নতুন চুল গজানোর জন্য মাথায় অনেক সময় নানারকম ভিটামিন ও ভেষজ নির্যাসযুক্ত তেল দেয়া হয়। এ ছাড়া ড্রাকোনিয়ান পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে চুলের গোড়ায় মৃদু ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়। এতে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করা হয়। কিছু কিছু শ্যাম্পু ও জেল ব্যবহারে চুল ঘন দেখায়। নানা ভেষজ গুণসম্পন্ন এসব দ্রব্য চুলের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

তাছাড়া চুলের জৌলুস বাড়িয়ে দেখতে ভালো দেখায়। চুলের জন্য ব্যয়বহুল চিকিৎসা গ্রহণের আগেই আমরা চুলের কিছু নিজস্ব যতœ নিয়ে দেখতে পারি। প্রতি একদিন অন্তর অন্তর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলা দরকার। অবশ্যই সেই শ্যাম্পু দিয়ে, যা আপনার চুলের জন্য উপযোগী। বন্ধু-বান্ধবের কথায় বা চটকদার বিজ্ঞাপনে মুগ্ধ না হয়ে নিজের উপযোগী শ্যাম্পু নিজের পছন্দ করাই ভালো। গবেষকরা জানান, ঘন ঘন শ্যাম্পু করার ফলে চুলের গোড়ায় জমে থাকা সাবান ও তৈলাক্ত পদার্থ থাকে, যাতে ডিএইচটি তা ধুয়ে যায়।

 আগেই বলা হয়েছে, ডিএইচটি চুল ঝরে পড়াকে ত্বরাম্বিত করে থাকে। আবার এভাবে চুল ধোয়ার পর প্রথম দিকে আপনার মনে হতে পারে, চুল বোধহয় আগের তুলনায় বেশি ঝরে যাচ্ছে। কিন্তু না, শুধুমাত্র সেই চুলগুলো ঝরে যাচ্ছে, যার গোড়া আলগা হয়ে আছে এবং দু-একদিনের মধ্যেই ঝরে পড়তো। ভেজা চুল বেশি আঁচড়ানোর কারণে এবং ঘষাঘষির কারণেও চুল বেশি পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার। চুলের স্বাস্থ্যের সাথে শরীর ও মনের স্বাস্থ্যও অনেকাংশে জড়িত। আপনি কেমন খাবার গ্রহণ করছেন, তার ওপরে আপনার চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমাণগত শাক-সবজি, ফল যথেষ্ট পরিমাণে অর্থাৎ ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া অতিরিক্ত ডায়েট কন্ট্রোল চুল পড়ার কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিউট্রিশনিষ্ট কিংবা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া মানসিক চাপ এবং অন্যান্য ওষুধ গ্রহণের ফলে চুল ঝরে যাচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।
ডা: মিনহাজুল হক (পলাশ)
চর্ম, যৌন, এলার্জি, লেজার ও কসমেটিক্স বিশেষজ্ঞ
এমবিবিএস (ঢাকা), এমপিএইচ;ডিডি (থাইল্যান্ড)
ফেলো, লেজার ও স্কীন সার্জারী (থাইল্যান্ড)
এক্স ডার্মাটোলজিস্ট, ইন্সটিটিউট অব ডার্মাটোলজি, ব্যাংকক
ফোন: ০১৮৬৫০৫৫৮০০



Go Top