সকাল ১১:০৭, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ স্বাস্থ্য

কাজের চাপে আমরা অনেকসময়ই জল খেতে ভুলে যাই। খাবারটা কোনও একফাঁকে খেয়ে নিলেও, সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি জল খাওয়ার বেলায়। নির্দিষ্ট সময় বাদে বাদে জল খাওয়ার কথা আমাদের মনেই থাকে না। আর এতে মারাত্মক ক্ষতি হয় আমাদের দেহের। শরীর সুস্থ রাখতে আমাদের সবার উচিত বেশি করে জল খাওয়া। কারণ জল খাওয়ার গুণাগুণ অনেক।

১) জল দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

২) দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, পেশী ও টিস্যুকে রক্ষা করে। বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টি উপাদানকে ভেঙে দেহের শোষণের উপযোগী করে তুলতে সাহায্য করে।

৩) কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং কিডনির মাধ্যমে টক্সিন ও দেহের বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে দূর করতে সাহায্য করে।

৪) হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টকে সচল রাখে।

৫) পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে ডিহাইড্রেশন আটকানো যায় ও ফুসফুসের কোষও আর্দ্র থাকে।

৬) পরিপাকে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

৭) দেহের কোষে কোষে পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

৮) নাক, চোখ, মুখের টিস্যু আর্দ্র থাকে। শুষ্ক হয়ে যায় না।

৯) মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে।

১০) ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। দাঁত, ত্বক ও মাড়ি সুস্থ রাখে।

 

সুগার আছে? তাও বিন্দাস আলু খান

বয়স বেড়েছে। আর সেই সঙ্গে বেড়েছে রক্তে শর্করার মাত্রা। হারিয়ে যাওয়া রূপকথার মতই দূরে সরে গিয়েছে আলুর নানা পদও। তবে আর মন খারাপ করবেন না। ব্লাড সুগারেও আলু খেতে পারেন। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন আলু সুগার বাড়ায় না বরং নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তার জন্য জানতে হবে ম্যাজিক রেসিপি।

রক্তে শর্করা বাড়লে, প্লেট থেকে জিলিপি সন্দেশ বা আলু উধাও …গরম ভাতে আলু সিদ্ধ, ঝাপসা অতীত। তবে  মন খারাপের দিন এবার শেষ।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন আলুর জাদুতেই রোখা যাবে ব্লাড সুগার…এতদিন ভাবতেন আলুর জাদু শুধু মুচমুচে পোট্যাটো চিপসেই। মোটেই তা নয়। চমকে দিয়েছে ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের গবেষণা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলু রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা  নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আলু, কাঁচা কলার মতো সবজিতে রয়েছে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চই নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা। ক্ষুদ্রান্ত্রে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ হজম হয় না। বৃহদান্ত্রে গিয়ে ফার্মেন্টেড হয়ে যায় এই স্টার্চ। তৈরি হয় ফ্যাটি অ্যাসিড চেন। ফ্যাটি অ্যাসিড চেন কোলনের কোষগুলিতে এনার্জি সোর্স হিসেবে কাজ করে। খাদ্যনালীতে অস্বাভাবিক কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রয়েছে  রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের।
গবেষণা বলেছে হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট থেকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ খেলে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কোলন ক্যান্সার, হার্টের অসুখ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। তাহলে কি পোটাটো চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর যে কোনও পদই খাওয়া যাবে?
এখানেই মনের ইচ্ছায় দাড়ি টানতে বলছেন গবেষকরা। বলছেন রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ পেতে  হলে দরকার আলুর ম্যাজিক রেসিপি। গবেষণায় দেখা গেছে সিদ্ধ করা আলু ঠাণ্ডা হলে তাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের মাত্রা বাড়ে।
বেক করা আলুর পদেও প্রচুর রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে। তাই আলু ছাড়া আলুনি জীবন এবার শেষ…ডায়বেটিসের ভয় দূর করে দু একটা আলুর পদ খাওয়া যেতেই পারে।

দাঁতের ফিলিং কখন এবং কেন করা হয়?

আমাদের যাদেরই দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে, তাদের সবারই ফিলিং ও রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট এর সাথে কখনো না কখনো পরিচয় ঘটেছে। কিন্তু এই দুটি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীরা কি সুবিধা লাভ করে। কখন এই চিকিৎসা করতে হয় অথবা কেন এই চিকিৎসা প্রয়োজন এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই সীমিত। সময় স্বল্প তার কারণে চিকিৎসকরাও রোগীদের সবসময় এই ব্যাপারগুলো বিশুদ্ধভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাই আসুন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিই।


ফিলিং:  অনেকেরই দাঁতে পোকা ধরার সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ডেন্টাল ক্যারিজ বলা হয়। যখন ক্যারিজ শুরু হয় বা ধীরে ধীরে ক্যারিজের কারণে দাঁতে গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন প্রাথমিক ভাবে ক্যারিজটি পরিষ্কার করে সেই গর্তটি কখনো রাসায়নিক পদার্থ বা কখনো মেডিকেটেড পদার্থ বা কখনো উভয় পদার্থের সমন্বয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। একেই সাধারণ ভাষায় ফিলিং বলা হয়।

অনেক সাধারণ মানুষ যাকে পুটিং বলেন। এছাড়াও যদি আঘাতের কারণে দাঁতের সামান্য অংশ ভেঙে যায় সেখানে ফিলিং করা যেতে পারে বয়সের কারণে যাদের দাঁতের ক্ষয় হয়, ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে শিরশির করে, চিকিৎসক মনে করলে সেখানেও ফিলিং করতে পারেন।
ফিলিং ম্যাটেরিয়াল: সারা পৃথিবীতে ফিলিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে বিভিন্ন পদার্থ ব্যবহৃত হয়ে থাকে তবে সামনের দাঁত বা পিছনের দাঁতের ফিলিং ম্যাটেরিয়াল এবং শিশুদের বা প্রাপ্ত বয়স্কদের ফিলিং ম্যাটেরিয়াল আলাদা।

 সামনের দাঁতের কাজ সাধারণত খাদ্যবস্তু ছেড়া বা হালকা কামড় দেওয়া। তাই এই দাঁতের ক্ষেত্রে খুব একটা শক্তিশালী ফিলিং ম্যাটেরিয়াল প্রয়োজন হয় না। অন্য দিকে কথা বলা বা হাসার সময় সামনের দাঁতগুলোই মানুষের নজরে আসে, তাই এমন ফিলিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয় যার রং দাঁতের স্বাভাবিক রং এর প্রায় কাছাকাছি পিছনের দাঁতগুলো অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী এবং চিবানো বা ভাঙার কাজ তারাই করে থাকে এবং এই দাঁতগুলো সাধারণত বাহির থেকে দেখা যায় না। তাই সৌন্দর্য্যকে প্রাধান্য না দিয়ে এমন কোন ফিলিং ম্যাটেরিয়াল বেছে নেওয়া হয় যেটি যথেষ্ট শক্তিশালী।

 বাচ্চাদের দাঁতে সাধারণত একটি বিশেষ ধরনের ফিলিং ব্যবহার করা হয় যা স্বত:স্ফুতভাবে ফ্লোরাইড নি:সরন করে এবং ভবিষ্যতে ক্যারিজ প্রতিহত করে এমন সারা পৃথিবীতে মার্কারি ফিলিং ব্যবহার করা হয়। কারণ এই মার্কারী বা পারদ শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই প্রাপ্ত বয়স্কদের পিছনের দাঁতে লাইট কিওর ফিলিং করা যায়। সময়মত ফিলিং না করলে রোগীর ব্যথা বেড়ে যাবে এবং চিকিৎসার ব্যয়ভারও বেড়ে যাবে। এমনকি দাঁত উঠানোও লাগতে পারে। তাই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন আর প্রাণ খুলে হাসুন। সুস্থ সবলও থাকবেন।

শিশুদের এ্যাংকেল ফ্রাকচার শিশুদের গোড়ালী

কি? মানবদেহে গোড়ালী সন্ধি তিনটি অস্থি এবং কিছু লিগামেন্ট নিয়ে গঠিত। অস্থিগুলো হলো ফিবুলার শেষাংশ, টিবিয়ার শেষাংশ এবং ট্যালাস অস্থি। শিশুদের ক্ষেত্রে এপিফাইসিয়াল ইনজুরি খুবই স্বাভাবিক এবং যার একতৃতীয়াংশ ঘটে গোড়ালীর চতুষ্পার্শ্বে। এই তিনটি অস্থির মধ্যে টিবিয়া এবং ফিবুলার শেষাংশে যে কোন ফ্রাকচার হলে তাকে এ্যাংকেল ফ্রাকচার বলে।


কেন এবং কিভাবে হয় ?
পায়ের পাতা স্থিরাবস্থায় অথবা কোন গর্তে আটকে পড়া অবস্থায় যদি পা একদিকে অথবা অন্যদিকে ঘুরে যায় সেক্ষেত্রে টিবিয়া অথবা ফিবুলার ফাইসিস আলাদা হয়ে যায়, যার ফলে সাল্টার-হ্যারিস ফ্রাকচার টাইপ-১, এপিফাইসিস আড়াআড়িভাবে বা ট্রান্সভারসলি ভেঙ্গে যায় এবং টাইপ-২ এপিফাইসিস আড়াআড়ি ভেঙ্গে ত্রিকোনাকার মেটাফাইসিস সহ আলাদা হয়।

 ব্যাপক বাইরের দিকে ঘুরে এবং দূরে সরে গিয়ে ফিবুলা আরো উপরের অংশে ভেঙ্গে যেতে পারে। মেটাফাইসিস স্পাইকসহ পিছনে, বাইরের দিকে অথবা পিছনে ভিতরের দিকে সরে যেতে পারে। আর যখন ভিতরের দিকে টানপড়ে অর্থাৎ এডাকশন ইনজুরি হয় তখন ফিবুলার শেষাংশ আলাদা হয়ে যায়।
আবার সালটার-হ্যারিস টাইপ-৩ অর্থাৎ এপিফাইসিসের একাংশ আলাদা হয়ে যায় এবং টাইপ-৪, এপিফাইসিস ও মেটাফাইসিসের একাংশ লম্বালম্বিভাবে আলাদা হয়ে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু এ ধরনের ফ্রাকচার খুবই কম হয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে সুপাইনেশন এডাকশন ফোর্স কাজ করার জন্যই ঘটে থাকে। এছাড়া আরো দুই ধরনের অস্বাভাবিক ফ্রাকচার ঘটতে পারে বাড়ন্ত গোড়ালীতে। এগুলো হলো-


১। টিলাক্স ফ্রাকচার-এন্টেরিওর টিবিও-ফিবুলার লিগামেন্টের টানে টিবিয়ার ছোট্ট এভালশন ফ্রাকচারকে টিলাক্স ফ্রাকচার বলা হয়; শিশু-কিশোরদের বহিরাংশের এপিফাইসিস ভেঙ্গে সাল্টার-হ্যারিস টাইপ-৩ ফ্রাকচার হয়।


২। ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ঃ এখানে তিন মাত্রার আড়াআড়ি, লম্বালম্বি এবং পাশাপাশি প্লেসে ফ্রাকচার হয়ে এপিফাইসিস ফ্রাকচার সাল্টার হারিস টাইপ-৩ এবং টাইপ-৪ যৌথভাবে ঘটে থাকে। যার ফলে বর্ধন অস্বাভাবিক অথবা স্থগিত হতে পারে।


উপসর্গ/লক্ষণ ঃ গোড়ালীতে আঘাতের চিহ্ন এবং ইতিহাস থাকে। প্রচন্ড ব্যথা থাকে, গোড়ালী ব্যাপক ফুলে যায় গোড়ালী নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। চাপ দিলে আঘাতপ্রাপ্ত গোড়ালী সন্ধিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। সাধারণতঃ ৫-১৪ বছরের শিশু-কিশোরদের মাঝে এটা ঘটে থাকে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা এক্সরেঃ অস্থানচ্যুত ফ্রাকচার সাধারণতঃ এক্সরে-তে ধরাপড়ে না। তবে ফাইসিস এবং এপিফাইসির মাঝে ফাঁক বেশী দেখা গেলে সেক্ষেত্রে সন্দেহ করতে হবে এবং বাচ্চাকে এক সপ্তাহ পর আবার এ্যাংকেল এক্সরে করাতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ফাইসিসের এক্সরেতে সন্দেহ হতে পারে তবে কয় সপ্তাহ পর এক্সরেতে ব্যাপক নতুন অস্থি পেরিওস্টিয়ামের নীচে দেখা যায়।


স্থানচ্যুত ফ্রাকচার সহজেই এক্সরেতে বোঝা যায় হোক না সেটা এপিফাইসিস ফ্রাকচার অথবা টিলোক্স ফ্রাকচার? আর ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে টিবিয়ার এপিফাইসিস একদিকে এবং মেটাফাইসিস আরেক দিকে চলে যায় ফলে এক্সরে ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ধরা পড়ে না।
সিটি স্ক্যান: অস্থানচ্যুত, ট্রাইপ্লেন কিংবা টাইপ-৩ ফ্রাকচার নির্ধারণের জন্য সিটি স্ক্যান উত্তমপন্থা।


চিকিৎসা ঃ শিশুদের এ্যাংকেল ইনজুরি যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা প্রয়োজন। সাল্টার-হ্যারিস টাইপ-১ এবং টাইপ-২ যদি স্থানচ্যুত না হয় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র শর্ট লেগ ফুলপ্লাস্টার দিয়ে ৩-৪ সপ্তাহ অনড় রাখা হয়। আর স্থানচ্যুত ফ্রাকচার হলে সেক্ষেত্রে ক্লোজড রিডাকশন অজ্ঞান দিয়ে করা হয় এবং শর্ট লেগ ফুল প্লাষ্টার করে অনড় রাখা হয় ৩-৪ সপ্তাহ তারপর ওয়াকিং ব্রেস দিয়ে আরো ৩ সপ্তাহ রাখা হয়।


টাইপ-৩ ও টাইপ-৪ ঃ এ ধরনের ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে স্থানচ্যুত ফ্রাকচার না হলে শর্ট লেগ ফুল প্লাস্টার দিয়ে ৩-৪ সপ্তাহ রাখা হয়। তবে ৫ দিন পর এক্সরে করে কোন টুকরো স্থানচ্যুত হলো কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। স্থানচ্যুত ফ্রাকচারের ক্ষেত্রে যে কোর্সের কারণে ফ্রাকচার হয়েছে তার ঠিক উল্টো প্রক্রিয়ায় রিডাকশন করে প্লাস্টার দিয়ে অনড় করে রাখা হয় ৩-৪ সপ্তাহ। আর রিডাকশন যথাযথভাবে না হলে কিংবা পুনরায় স্থানচ্যুত হলে সেক্ষেত্রে অপারেশন করতে হয়। অপারেশনের মাধ্যমে স্থানচ্রুত টুকরো যথাযথভাবে রিডাকশন করে ইন্টাফ্রাগমেন্টারী স্ক্রু ফাইসিসের সমান্তরালভাবে প্রয়োগে করে ফিক্সেশন করে রাখা হয় এবং শর্ট লেগ ব্যাকস্লাব অথবা কাস্টপ্লাস্টার দিয়ে ৪-৬ সপ্তাহ অনড় রাখা হয়।


টিলাক্স ফ্রাকচার ঃ এ ধরনের ফ্রাকচার টাইপ-৩ এর মতো করে চিকিৎসা করতে হয়।
ট্রাইপ্লেন ফ্রাকচার ঃ যদি স্থানচ্যুত ফ্রাকচার না হয় সেক্ষেত্রে ক্লোজড রিডাকশন করে ৩-৪ সপ্তাহ প্লাস্টার দিয়ে অনড় করে রাখা হয়। আর স্থানচ্যুত ফ্রাকচার হলে অপারেশন করে স্ক্রু ফিক্সেশন করতে হয়।


জটিলতা ঃ অনেক জটিলতার মধ্যে এ্যাংকেল ফ্রাকচারের উল্লেখযোগ্য জটিলতাগুলো আলোচনা করা হলো।
১। ম্যালইউনিয়নঃ রিডাকশন যথাযথভাবে করা না হলে সেক্ষেত্রে দশ বৎসরের কমবয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভালগাস ডিফোরমিটি হয় তবে রিমডেলিং হয়ে বাঁকা সোজা হয়ে যায়। কিন্তু বয়স্ক বাচ্চাদের ও কিশোরদের ক্ষেত্রে-অপারেশনের মাধ্যমে বাঁকা সংশোধন করতে হয়।

২। অসমাঞ্জস্য বর্ধন ঃ এপিফাইসি ফ্রাকচার টাইপ ৩ ও টাইপ ৪ স্থানীয়ভাবে জোড়া লেগে যায় ফলে ভিতরের অংশে বর্ধন হয় না কিন্তু বাইরের অংশে বর্ধন চলতে থাকে। যার ফলে টিবিয়ার ভ্যারাস ডিফোরমিটি তৈরি হয়।

খর্বাকৃতি ঃ ২০% শিশুদের ক্ষেত্রে এ্যাংকেল ইনজুরিতে ফাইসিস বন্ধ হওয়ার কারণে পা ছোট হয়। ফলে অন্য পায়ের সাথে ভাঙ্গা পায়ের দৈর্ঘ্যজনিত অমিল তৈরি হয়।
এ্যাংকেল ইনজুরি শিশুদের ক্ষেত্রে একটি জরুরী কেস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিশুদের এ ধরনের ফ্রাকচারের ঘটনায় যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করা উচিত নতুবা শিশুর ভ্যালগাস বা ভ্যারাস ডিফোরমিটি কিংবা পা খাটো হয়ে বৈকল্য শিশুতে পরিণত হতে পারে। আর চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ সহজ এবং সকলের নাগালের মধ্যে। তাই অপচিকিৎসা, ঝাঁড়-ফুঁক, ঝাপ-দেয়া থেকে বিরত থেকে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ গ্রহণের অনুরোধ রইলো।

পায়ের ফোস্কা দূর করতে যা করবেন

করতোয়া ডেস্ক ঃ এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা পায়ের ফোস্কা পড়া রোধ করতে ও দাগ নিরাময়ে সহায়তা করে।   
নারিকেল তেল ঃ নারিকেল তেল ময়েশ্চেরাইজার ও অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি উপাদান সমৃদ্ধ যা দ্রুত পায়ের দাগ দূর করে। পায়ে জুতার আঘাতের দাগ দূর করার জন্য নারিকেলের একটি সবুজ পাতা পুড়িয়ে তার ছাই নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। তাছাড়া ভবিষ্যতে পায়ের দাগ পড়া থেকে রক্ষা পেতে চাইলে জুতা পড়ার আগে এই মিশ্রণ জুতার ভেতরের অংশে লাগিয়ে নিন।


মধু ঃ এটা দ্রুত কালচে ভাব দূর করে এবং পাশাপাশি প্রদাহ ও ব্যথা কমায়। তাছাড়া এটি জুতার আঘাতের দাগ হালকা করতেও সাহায্য করে। মধুর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে গরম পানির সাহায্যে তা ধুয়ে ফেলুন।    


চালের আটা ঃ এটা প্রাকৃতিক ‘এক্সফলিয়েটিং’ যা স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে মৃতকোষ ওঠাতে সাহায্য করে। এক টেবিল-চামচ চালের আটার সঙ্গে পানি মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানের উপর লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।


অ্যালোভেরা ঃ এটি পায়ে জুতার আঘাতের জ্বলুনি, প্রদাহ ও ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এতে রয়েছে জীবাণুনাশক উপাদান যা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে নিয়ে তা আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। জেল শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে।


পেট্রোলিয়াম জেলি ঃ জুতার ঘষা থেকে রক্ষা পেতে পেট্রোলিয়াম জেলির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। নতুন জুতা কিনে খানিকটা পেট্রোলিয়াম জেলি জুতার ভেতরের অংশে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। এটি জুতা নরম করতে সাহাজ্য করে। আর এরই মধ্যে যদি পায়ে ফোস্কা পড়ে থাকে তবে ওই কালচে স্থানের উপরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। এর ময়েশ্চেরাইজিং উপাদান ক্ষতদাগ দূর করতে সাহায্য করে।

এক কাপ হলুদ চা দুর করবে শরীরের সব ব্যথা

 

করতোয়া ডেস্ক ঃ ঘাড় ব্যথা, মাথা ব্যথা কিংবা হাত-পাসহ সারা শরীরের ব্যথা কাবু করে ফেলেছে আপনাকে। কোনো কাজে মনযোগী হতে পারছেন না। তাই বরাবরের মতো এবারও সহজেই মুক্তি পেতে পেইনকিলারের সাহায্য নিয়েছেন। তবে একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, পেইনকিলার সাময়িকভাবে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। পরে আবারও আপনাকে একই রকম ব্যথার সম্মুখিন হতে হবে, এটা আপনি বিশ্বাস করতে না চাইলেও সত্যি! চিকিৎসকের মতে,  অতিরিক্ত পেইনকিলার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আবার এ অসহ্য ব্যথা নিয়ে বসে থাকাও তো যায় না। তাহলে উপায়?
আরে এতো চিন্তা করছেন কেন? প্রাকৃতিক উপদান হলুদ দিয়ে তৈরি জাদুকরি এক চা, আপনার অসহ্য ব্যথা নিমিষেই কমিয়ে দেবে।
গবেষকদের মতে, হলুদের স্বাস্থ্যগুণ সবার জানা। হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদানও দেহের প্রদাহ জনিত ব্যথা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী।
হলুদ চা তৈরির জন্য

যা যা লাগবে ঃ চার কাপ পানি, দুই টেবিল চামুচ টাটকা মিহি হলুদ, একই পরিমাণ লেবু ও মধু (স্বাদ বাড়াতে)।
যেভাবে করবেন ঃ চুলায় পানি গরম করেত দিন। পানি গরম হলে এতে হলুদ গুঁড়া দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সিদ্ধ করুন। আপনি যদি ফ্রেশ হলুদ কুচি ব্যবহার করেন, তবে ১০ মিনিট সিদ্ধ করুন। পানি সিদ্ধ হয়ে আসলে এতে লেবুর রস অথবা মধু মিশিয়ে পান করুন। তারপর দেখুন কীভাবে অল্প সময়ে জাদুকরি চায়ের সাহায্যে চিরবিদায় নিয়েছে আপনার শরীরের সব ব্যথা।

শীতে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে…

 

করতোয়া ডেস্ক, শীতকাল মানেই অলসতা। গোসল করতে ইচ্ছে করে না। পানি খেতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু গোসল না করলে কিংবা পানি না খেলে তো আর শরীর ভালো থাকবে না।

 শীতকালে ত্বক এমনিতেই খুবই রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে থাকে। তার উপর গরম পোশাক পরা, অপেক্ষাকৃত পানি কম খাওয়া কিংবা তুলনায় কম পানিতে গোসল করার কারণে অনেকেরই ত্বক আরও বেশি রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়। কিন্তু এমন কিছু ফল রয়েছে, যা শীতকালে আমাদের ত্বককে রুক্ষতার হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়।

আমলকি, আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য প্রচুর উপকারী উপাদান রয়েছে, যা আমাদের ত্বকের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। ত্বককে ডিটক্সিফিকেশন করতে সাহায্য করে। আমলকি রক্ত পরিশুদ্ধ করে। যা ত্বককে পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল দেখায়।

পেঁপে ঃ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায়, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। পেঁপে আমাদের ত্বকে বয়সের ছাপ পরতে দেয় না।
ডালিম ঃ ত্বকে রিঙ্কল, বয়সের ছাপ, দাগ, ছোপ প্রভৃতি পরতে দেয় না ডালিম। শীতকালে ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ডালিম।
কলা ঃ কলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি রয়েছে। যা আমাদের ত্বককে ডিহাইড্রেট করে, ত্বককে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।

লাল চালের দারুণ পুষ্টিগুণ, জেনে নিন

আমরা অনেকেই জানি যে, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ভাবা হয়ে থাকে লাল চালকে। কারণ লাল চালের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। সুস্বাস্থ্যে যেগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১) হার্টের জন্য ভালো- নিয়মিত লাল চালের ভাত খেলে ধমনীতে ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। লাল চাল সেলেনিয়ামে সমৃদ্ধ। যা হেলদি হার্টের জন্য দরকারী।

২) ক্যান্সার প্রতিষেধক- লাল চালে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, লিউকেমিয়া প্রভৃতির প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

৩) গল ব্লাডার স্টোনের ঝুঁকি কমায়- পিত্তরসের ক্ষরণ কমায়। খাবার পরিপাক করে হজমে সহায়তা করে।

৪) হাড়ের স্বাস্থ্য- প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়াম থাকে যা অস্টিওপোরোসিস ও অন্য হাড়ের রোগ প্রতিরোধ করে।

জানেন নারকেল তেল ব্যবহার করলে কী কী সাইড এফেক্ট হয়?

সেই ছেলেবেলা থেকেই জেনে এসেছেন যে, নারকেল তেল আমাদের কত উপকারে লাগে। ঠিকই তো। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং গবেষণার পর দেখা যাচ্ছে, নারকেল তেলের সবটাই ভালো নয়। এটা নিয়মিত ব্যবহার করলে রয়েছে বেশ কিছু সাইড এফেক্টও। তাই আমাদের জেনে নেওয়া দরকার সেগুলোও। তাই এক ঝলকে দেখে নিন, নারকেল তেলের ব্যবহারে আমাদের শরীরে কী কী সাইড এফেক্ট দেখা দেয়।

১) ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দেয় – বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, নিয়মিত নারকেল তেলের ব্যবহার শরীরের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। আসলে এর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট। সেইজন্যই এমনটা হয়।

২) আপনি ওজন কমাতে চান? তাহলে নারকেল তেলের থেকে দূরে থাকাই ভালো। কারণ, নারকেল তেল ব্যবহারে শরীরের ওজন বাড়ে।

৩) নারকেল তেল বেশি ব্যবহারে ডায়রিয়াও হতে পারে।

৪) বেশি নারকেল তেল ব্যবহার করলে ত্বকে অ্যালার্জিও দেখা দেয়।

তাই এবার থেকে নারকেল তেল ব্যবহার করার সময় তার সাইড এফেক্টগুলোর কথাও মাথায় রাখুন।

এক বছর মাংস না খেলে কী হবে জানেন?

বহু এমন মানুষ আছেন যাঁরা মাছ-মাংস ছাড়া খেতে পারেন না। আবার এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা মাছ-মাংস একেবারেই পছন্দ করেন না। নিরামিশ খাবারই খান। আপনি হয়তো কখনও কখনও মাংস খান। কিন্তু এক বছরের জন্য যদি আপনি মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন অথবা মাংস না খান, তাহলে কী হবে জানেন?

১) যদি কোনও ব্যক্তি এক বছরের জন্য মাংস না খান, তাহলে গড়ে তাঁর ওজন ১০ পাউন্ড কমে যাবে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শাক-সব্জি জাতীয় খাবার ডায়েটে রাখলে এবং মাংস না খেলে ব্যায়ামের নিয়ম পরিবর্তন না করেই ওজন কমে যাবে।

২) কোলেস্টেরল, রক্তচাপ, হৃদরোগের সম্ভাবনাও অনেক কমে যাবে। শাকাহারি ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্ত অসুখের সম্ভাবনা কম দেখা দেয়।

৩) একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভেজিটেরিয়ান ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা অনেক কম দেখা যায় যাঁরা মাংস খান তাঁদের তুলনায়। আবার যাঁরা প্রসেসজ মিট বেশি খান, তাঁদের মধ্যে ডায়াবিটিসের প্রকোপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন এই খাবারগুলো খেলেই থাইরয়েড থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব

৪) ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন মাংসের মধ্যে শ্রেণীবিভক্ত করে দিয়েছিল। প্রসেসড মিট এবং অন্যান্য মাংসের মধ্যে। বেকন, সসেজ, সালামি প্রভৃতি প্রসেসড মাংস স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে ক্যানসারও হতে পারে। রেড মিট খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে।

৫) সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গাট ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা যাঁরা মাংস খান না তাঁদের তুলনায় যাঁরা মাংস খান তাঁদের অনেক বেশি।

ঢামেক হাসপাতালে অগ্নিকান্ড

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের একটি কক্ষে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে তাৎক্ষণিক উপস্থিত সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট পাঠানোর কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান। তিনি জানান, ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে কর্তৃপক্ষ আগুন নিভিয়ে ফেলে। ঢামেক হাসপাতালের উপ পরিচালক খাজা আবদুল গফুর জানান, ওই কক্ষের উপরে প্লাস্টিকের টিনে জমে থাকা ময়লার স্তূপে কে বা কারা সিগারেট ফেললে তা থেকে আগুন ধরে যায়। এতে টিনটি বেশ খানিকটা পুড়েছে। তবে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

নারীদের তলপেটে ব্যথার কারণ

ঋতুস্রাবের সময় নারীদের তলপেটে হালকা ব্যথা হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। হটবাথ বা গরম ছ্যাক দিলে এটা কমে যায়। তবে এই ব্যথা যদি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় বা যখন তখন ব্যথা শুরু হয়, তাহলে বুঝবেন এটা খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা হতে পারে জীবাণু সংক্রমন যাকে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বলা হয়।


সাধারণত ১৪-২৫ বছর বয়সের নারী পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অপরিচ্ছন্ন ও অসচেতন নারীদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। নাইসেরিয়া, গনোকক্কাস, স্ট্রেটোকক্কাস, ব্যাকটেরয়েড, বিশেষ করে ক্লামাইডিয়া দ্বারা জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালীসহ আশপাশের অন্যান্য অঙ্গ আক্রান্ত হয়ে এ প্রদাহের সৃষ্টি হয়। প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে অশিক্ষিত ও অসচেতন নারীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। অনেকে লজ্জায় বিষয়টা এড়িয়ে যান। ফলে রোগ জটিল হতে থাকে।

 এক পর্যায়ে তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অথবা, সন্তান ধারণে বিঘœ সৃষ্টি করে। দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব।
এই প্রদাহ দুই রকম হতে পারে। প্রথমত জননাঙ্গের নিচের দিকের প্রদাহ, দ্বিতীয়ত জননাঙ্গের ওপরের দিকের প্রদাহ। এ রোগ হলে তলপেটে তীব্র ব্যথা হয়। এ ব্যথা কোমর ও বাহুতে বিস্তার করে। পেটে ভারী অনুভব করা, সহবাসে এবং জরায়ুমুখ স্পর্শ করলে প্রচ  ব্যথা অনুভব করা। যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব বা পুঁজ নির্গত ও জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। এছাড়া শরীরে জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, পেট ফাঁপা, খেতে অরুচি ও স্বাস্থ্য ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে।


স্বামীর যদি যৌনরোগ থাকে তা থেকেও নারী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। একাধিক যৌন সঙ্গীর কারণেও এ রোগ হতে পারে। গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণের কারণেও পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) হতে পারে। জননাঙ্গে যক্ষ্মা জীবাণুর সংক্রমণেও পিআইডি হতে পারে। এছাড়া অল্প বয়সে যৌন জীবন শুরু, মাসিকের সময় সহবাস, অস্বাস্থ্যকর ও অদক্ষ হাতে গর্ভপাত ও ডেলিভারি করানোর কারণে হতে পারে পিআইডি। এ রোগ দেখা দিলে একেবারেই সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিলে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ অনেকাংশে রোধ
করা সম্ভব। তবে অবস্থা
জটিল হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে
হবে।     -তথ্যসূত্র ইন্টারনেট

দাঁত মাজবেন কি দিয়ে?

ঘাবরে যাচ্ছেন তাই না পাঠকবৃন্দ? আসলে এমন ভাবাটাই স্বাভাবিক কাপড় পরিষ্কার করে কাঁচতে যেমন সাবান লাগে কোন জিনিস ভালো রাখতে যেমন তার যতœাদি করতে হয়। তেমনি আমাদের সুন্দর মুখের সুন্দর দাঁতগুলোকে পরিষ্কার করতে চাই পরিষ্কার কিছু।

 কি হতে পারে দাঁত পরিষ্কারের হাতিয়ার হিসাবে? আগে মানুষ দাঁত পরিষ্কার করতো না। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ দাঁত পরিষ্কারের কথা চিন্তায় নিয়ে এল। নানারকম জিনিস দিয়ে দাঁত মাজতে লাগল। যেমন ছাই, কয়লা, বালু, মাটি ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়াও গাছের নরম জল মোড়ানো পাতাও বাদ গেল না। একে মেসওয়াকও বলা চলে।


দিনের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ আবিষ্কার করল দাঁত পষ্কিারের এসব জিনিস দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করছে কিন্তু কিছুদিন পর দাঁতে নানারূপ সমস্যা দেখা দিল। সমস্যা দেখা দিল নরম মাড়িতেও। আবিষ্কার হলো এ মাজনগুলোর দানাদার অংশ দাঁতকে ক্ষয় করার ফলেই এমন হচ্ছে। আস্তে আস্তে তৈরি হলো টুথপেস্ট, টুথব্রাশ ইত্যাদি। অবশেষে টুথপেস্টকেই দাঁত পরিষ্কারক হিসাবে বিবেচিত হলো।

টুথপেস্ট কেন? দাঁত মাজার জন্য ছাই কয়লা, বালু অর্থাৎ মোটা দানাদার যুক্ত দ্রব্যাদি ব্যবহার করলে আমাদের দাঁতের সবচেয়ে শক্ত অংশ (যা দাঁতের বাহিরের আবরণ) এনামেলকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করে ফেলে। এরূপ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দাঁতের অভ্যন্তরের ডেন্টিল অতপর পাল্প/মজ্জাকেও ক্ষয় করে ফেলে। ফলে প্রাথমিকভাবে দাঁতে শিরশির থেকে শুরু করে ব্যথা হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

 এছাড়া মাড়ি ক্ষয় হয়ে দাঁতের স্থায়িত্বও কমে যায়। টুথপেস্ট এর উপাদানগুলো খুব মিহি থাকে তাই দাঁত ক্ষয় হবার সম্ভাবনা কম থাকবে বেশি বড় দানাযুক্ত টুথপেষ্ট দাঁতকে ক্ষয় করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে অবশ্যই টুথপেস্ট করার নিয়ম ও অন্তর্ভুক্ত। তাই ভুল করে ছাই কয়লা দিয়ে দাঁত মেজে সাময়িক শুভ্র দাঁতের উজ্জ্বলতার চেয়ে টুথপেস্ট ব্যবহার উত্তম। তবে যাদের টুথপেস্ট ক্রয়ক্ষমতার বাইরে তারা টুথপাউডারও ব্যবহার করতে পাবেন। সুন্দর মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে দাঁতের সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। তার জন্য চাই নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং সঠিক নিয়মে নিয়মিত দুবেলা টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।

রাপচারস্ অব এক্সটেন্সর অ্যাপারেটাস অব নী -রাপচারস্ অব কোয়াড্রিসেপস এ্যাপারেটাস

কি? কোয়াড্রিসেপ্স টেনডন, প্যাটেলা এবং প্যাটেলার টেনডন/লিগামেন্ট মিলে তৈরী হয় হাঁটু সন্ধির “এক্সটেন্সর এ্যাপারেটাস” বা “কোয়াড্রিসেপস এ্যাপারেটাস” যদি কোন কারণে এই কোয়াড্রিসেপ্স এ্যাপারেটাসের কোন অংশ ছিঁড়ে বা ভেঙ্গে সরে যায় তাকে বলা হয় রূপচারস্ অব এক্সটেন্সর অ্যাপারেটাস অব নী জয়েন্ট।


কিভাবে এবং কেন হয়? কোয়াড্রিসেপ্স মাংসপেশী প্যাটেলার সহযোগিতায় টিবিয়া অস্থিতে গিয়ে শেষ হয় “প্যাটেলার টেন্ডন “রূপে।” কোয়াড্রিসেপ্স এ্যাপারেটাস্ প্যাটেলার ঠিক উপরের অংশের সংযোগ স্থলে, প্যাটেলা বরাবর অথবা প্যাটেলার টেন্ডন যেখানে টিবিয়ার টিউবারকলের সাথে যুক্ত থাকে সেথায় পুরাপুরি ছিড়ে যেতে পারে। বাধাগ্রস্ত প্রসারণ করার সময় হাঁটুর এক্সটেন্সন মেকানিজম উপরিল্লিখিত যে কোন স্থানে ছিঁড়ে যেতে পারে।

 সিঁড়িতে উঠতে গিয়ে পড়ে গেলে, হাঁটতে অথবা দৌড়াতে গিয়ে পা দিয়ে হঠাৎ মাটি আঁকড়ে ধরতে গেলে, কর্দমাক্ত ফুটবলে কিক করতে গেলে প্রত্যক্ষ হাঁটু সন্ধি: প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এক্সটেন্সন এ্যাপারেটাস কোন বরাবর ছিঁড়ে যাবে, তা রোগীর বয়সের উপর নির্ভর করে। বয়স্ক ব্যক্তির বেলায় প্যাটেলার উপরের অংশে, মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে প্যাটেলা ফ্রাকচার এবং যুবক বয়সে প্যাটেলার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।

 আবার কিশোর বয়সে টিবিয়া অস্থির এ্যাপোফাইসিস টেনডনের টানে কিছু অংশসহ এ্যাভাল্সন হয়ে যায়। আবার কতক সময় শুধুমাত্র লিগামেন্টে ষ্ট্রেইন হয়। আবার সামান্য আঘাতেই টেন্ডন ষ্ট্রেইন হয়। কিছু সংযোগ কলার রোগে যেমন- সিষ্টোলিক লুপাস ইরাথ্রোমেটোসাস এ আক্রান্তের কারণে, কিংবা রিউমাটোয়েড আর্থ্রাইটিসের রোগী দীর্ঘদিন ষ্টেরোয়েড ব্যবহার করার কারণেও কোয়াড্রিসেপ্স এ্যাপারেটাস ছিঁড়ে যেতে পারে।

উপসর্গ/লক্ষণ: প্যাটেলার উপরে ছিঁড়ে গেলে সাধারণত মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে উরুতে একটা মাংসল পিন্ড দেখা যায়। বয়স্ক লোকদের ক্ষেত্রে এটা ঘটে থাকে এবং ষ্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন যাবৎ সেবনের ইতিহাস থাকে। অনেক সময় প্যাটেলার উপরি অংশের কিছু অস্থিসহ আলাদা হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে উভয় হাঁটুর একসাথে এ ঘটনা ঘটে। হাঁটুর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে কোনরূপ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

যুবক বয়সে প্যাটেলার নীচের অংশে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। মধ্যবয়সে প্যাটেলা বরাবর ভেঙ্গে এভালশন ফ্রাকচার হয়ে যায়।
সেক্ষেত্রে প্রচন্ড ব্যথা, হাঁটু ফুলে যাওয়া এবং হাঁটু প্রসারণ বা এক্সটেনশন করা যায়না-ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। তবে সকল ক্ষেত্রেই হাত দিয়ে ছেঁড়া/ভাঙ্গা অংশে গ্যাপ পাওয়া যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা: এক্সরে করলে সুপ্রা-প্যাটেলার বা ইনফ্রাপ্যাটেলার এভালশন ফ্রাকচার অথবা প্যাটেলা ফ্রাকচার সহজেই ধরা পড়ে।
চিকিৎসা: হাঁটুর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে কোনরূপ চিকিৎসা প্রয়োজন পড়ে না। সেক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধ এবং হাঁটুতে প্লাষ্টার স্লাব দিয়ে ৩-৪ সপ্তাহ বিশ্রাম দেয়া হয়।
তবে হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বিশেষত: এক্সটেনশন বিঘিœত হলে, এ্যাভালশন ফ্রাকচার অব সুপেরিয়র অথবা ইনফেরিওর পোল অব প্যাটেলা কিংবা প্যাটেলা ফ্রাকচার হলে অপারেশন প্রয়োজন হয়।

 এ্যাভালশন ফ্রাকচার প্যাটেলার উপরের অংশে অথবা নীচের অংশে হলে ষ্টেইনলেস ষ্টিলের ওয়ার দিয়ে টেনডন, হোক সেটা কোয়াড্রিসেপস অথবা প্যাটেলার টেনডন পুনরায় প্যাটেলার সাথে সংযোজিত করা হয় সেলাই দিয়ে। আর প্যাটেলা ফ্রাকচার হলে “ক” ওয়ার এবং এসএস ওয়ার দিয়ে টেনডন ব্যান্ড ওয়ারিং অথবা স্ক্রু দিয়ে ফিক্সেশন করে দেয়া হয়।

সতর্কতা: এক্সটেনশন এ্যাপারেটাস রাপচার হলে অনেকক্ষেত্রে রোগী এটা সঠিকভাবে বুঝতে পারেনা। ফলে ঝাঁড়ফুক অপচিকিৎসা, ঝাঁপ দেয়া ইত্যাদির মাধ্যমে অনেক  দেরী করে ফেলে তখন অপারেশন করেও ভাল ফলাফল পাওয়া যায় না। অপারেশনের ক্ষেত্রে অপচিকিৎসার সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজন সকলের সচেতনতা জাগ্রত করে তোলা; কারণ এসব চিকিৎসা বগুড়াতেই অর্থোপেডিক সার্জনেরা হরহামেশাই করছেন। ধন্যবাদ।

কথায় কথায় অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন? জানেন কী বিপদ ডেকে আনছেন?

যা খাচ্ছেন তাতেই অম্বল? নিজেই করছেন ডাক্তারি? কথায় কথায় খাচ্ছেন অ্যান্টাসিড? নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন। দফারফা হচ্ছে কিডনির। ওত পেতে রয়েছে আরও বড় অসুখ।

ফাস্ট লাইফ। দিনভর ব্যস্ততা। কাজের গুঁতোয় লাইফস্টাইলে বদল। বেশিরভাগ সময় খালি পেট। তার ওপর ফাস্টফুডে প্রেম। ব্যস। শরীরের কলকব্জার দফারফা। যা খাচ্ছেন, তাতেই অম্বল। জল খেলেও পেট ভুটভাট। চোঁয়া ঢেকুর। গলা-বুক জ্বালা। বুকে ব্যথা। হাতের কাছে মজুত অ্যান্টাসিড। নিজেই করছেন ডাক্তারি। জানেন কি কী বিপদ ডেকে আনছেন?

অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে কিডনির। আর কিডনি দফারফা মানে হাট করে খুলে যাচ্ছে আরও বড় অসুখের দরজা। এমটাই বলছেন চিকিত্সকেরা। অ্যান্টাসিড কীভাবে ক্ষতি করছে কিডনির? কী রয়েছে অ্যান্টাসিডে? শুধু কিডনিই নয়, অ্যান্টাসিডে ক্ষতি গোটা শরীরের। চিকিত্সকদের দাবি,

অ্যান্টাসিডে রয়েছে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। যা কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়। শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট অম্বল কমানোর চেয়ে বাড়িয়ে দেয়।

অ্যান্টাসিডের অ্যালুমিনিয়াম হাউড্রক্সাইডও কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে দেয়। কিডনির সমস্যা থাকলে তো বিপদ সাঙ্ঘাতিক। রক্তে ফসফেটের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকী ডেকে আনতে পারে অ্যালঝাইমার্স রোগ।

ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রক্সাইড ও ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইডের কারণে ডায়েরিয়া প্রকট হয়। কিডনির সমস্যা থাকলে তো মারাত্মক বিপদ।

অ্যান্টাসিডে থাকে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট। রক্তে নুনের প্রকৃতিটাই বদলে দেয়।

অ্যান্টাসিডের বিসমুঠ নুন এন্সিফ্যালোপ্যাথি ঘটাতে পারে। মস্তিষ্কের মারাত্মক রোগ। যার অন্য নাম ডিমেনশিয়া।

অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড মিল্ক অ্যালকালি সিনড্রোম ঘটায়। অর্থাত্‍ রক্তে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম পৌছনো। যা কিডনি ফেলিওরের জন্য যথেষ্ট।

শুধু তাই নয়, দিনের পর দিন অ্যান্টাসিড ব্যবহারে ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাক। দীর্ঘস্থায়ী মাথার যন্ত্রণা এবং হাড়ের রোগ হতে পারে। পেশির ক্ষতি করে। আলসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

তাই অম্বল হলেই যথেচ্ছ অ্যান্টাসিড নয়। গোড়া থেকে নির্মূল করতে হবে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা। বাড়াবাড়ি হলে নিতেই হবে চিকিত্সকের পরামর্শ। না হলে কিডনি গোল্লায়।

শীতে গাঁটের ব্যথা কমান

শীতে শরীরের একাধিক গাঁটে ব্যথা একটা খুব পরিচিত সমস্যা। বিশেষত, বয়সটা একটু বাড়লেই এই ঝামেলাটির সম্মুখীন হতে হয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেককেই। কিন্তু একটু যত্ন নিলেই এই সমস্যার থেকে মিলতে পারে মুক্তি। আসুন জেনে নিই কী করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব-

নি-গার্ড পড়ুন

নি-গার্ড পড়া অভ্যাস করুন। এতে শুধুই হাঁটু ব্যাথা কমেবে তাই নয়, বরং আপনার হাঁটুকে অনেক আঘাত থেকে রক্ষা করবে এই নি-গার্ড।

প্রচুর পরিমানে জল খান

ব্যাথা থেকে মুক্তির জন্য শরীরকে সবসময় সিক্ত রাখুন। আর সেজন্য জল খান প্রচুর পরিমানে।

সঠিক ধরনের জুতো ব্যবহার করুন

ঠিক মাপের জুতো পায়ে দিন। খুব উঁচু হিলের জুতো দীর্ঘক্ষণ না ব্যবহার করাই ভাল।

ব্যালান্সড ডায়াট

শরীরের প্রয়োজন অনুসারে ব্যালান্সড ডায়াট অত্যন্ত জরুরী। গাঁটের ব্যথার ক্ষেত্রে অনেকটাই উপশম মেলে সুখাদ্যাভ্যাসের ফলে। ভিটামিন সি, ডি এবং কে সমৃদ্ধ খাবারের খেলে ব্যাথা অনেকটাই কমে। চেষ্টা করুন কমলালেবু, বাঁধাকপি, টমেটোর মতো খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় রাখতে।

ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান

সুস্থ সবল হাড়ের জন্য ক্যালশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিজ, দুধ, শাক ইত্যাদি খান পেটভরে।

এগুলো যদি মেনে চলতে পারেন তাহলেই বাই বাই ব্যথা।

স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন

সুস্থ মানে শুধুমাত্র শারীরিক সুস্থতাই নয়। একজন ব্যক্তি তখনই পুরোপুরি সুস্থ হন, যখন তিনি শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই সুস্থ থাকেন। কিন্তু প্রচন্ড ব্যস্ততার মাঝে আমরা শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দিতে দিতে আমাদের মানসিক সুস্থতার দিকে নজরই দেওয়ার মতো সময় থাকে না।

মানসিক সুস্থতার দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। তার কারণ আমাদের মস্তিষ্ক সুস্থ থাকলে তবেই আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে। অনেক সময়েই দেখা যায়, আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই। বিশেষ কিছু মনে রাখতে পারি না। কেন ভুলে যাই আমরা? এই ভুলে যাওয়া প্রতিরোধের উপায়ই বা কী? চিকিত্‌সকেরা বলছেন, এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা খেলে আমাদের স্মৃতিশক্তি অনুন্নত হয়। তাহলে স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে কী কী খাবার খাবেন না জেনে নিন-

১) সামুদ্রিক খাবারে প্রচুর পরিমানে পারদ থাকে। একটি সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে যে, যে সমস্ত মানুষ প্রচুর পরিমানে সামুদ্রিক মাছ যেমন, টুনা বা অন্যান্য যেকোনও সামুদ্রিক মাছ প্রতি সপ্তাহে কিংবা নিয়মিত খান, তাঁদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় কম উন্নত।

আরও পড়ুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এই খাবারগুলো খান

২) প্রচুর পরিমানে ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে তা আমাদের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এই ট্রান্স ফ্যাট মার্জারিন, স্ন্যাকস ফুড কিংবা যেকোনও প্যাকেট বেকড খাবারে থাকে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এই ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩) মিষ্টি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমানে খেলেও তা আমাদের মনে রাখার ক্ষমতায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন কথায় কথায় অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন? জানেন কী বিপদ ডেকে আনছেন?

৪) নোনতা খাবার এড়িয়ে চলুন। নোনতা খাবারে সোডিয়াম থাকে। যা আমাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং চিন্তাশক্তিকেও দুর্বল করে দেয়।

৫) পিত্‌জা, পাস্তায় যে সমস্ত চিজ বা স্যাট্যুরেটেড ফ্যাট থাকে, তাও আমাদের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দেয়।

 

যে খাবারগুলোতে শক্তির ক্ষয় হয়

করতোয়া ডেস্ক  সুস্থ ও সচল থাকতে আমাদের পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্য  যেমন আমাদের বাঁচিয়ে রাখে অন্যদিকে এটা জীবন উপভোগ করার সুযোগও করে দেয়। খাবার এবং পানীয় আপনার শরীর সুস্থও ক্রিয়াশীল রাখে।

স্ট্রেস, দুশ্চিন্তায় আমাদের শক্তি নিঃশেষিত হয়। তাই, সুস্থ থাকতে ও প্রতিদিন নতুন করে কাজ শুরু করতে, আপনার সঠিক আহারের প্রয়োজন। কিন্তু আপনি অবাক হবেন, যখন জানবেন প্রতিদিনের খাবারই আপনার শক্তির ক্ষয় করতে পারে!

এ বিষয়টা হালকাভাবে না নিয়ে, গভীরভাবে চিন্তা করুন। আপনার সন্তান বা প্রিয়জনের স্বাস্থ্য তো অবহেলার বিষয় না। তাই  শক্তি ক্ষয় করা আহার নিয়ে এখন থেকেই সচেতন হতে হবে। সুতরাং, যে খাবারগুলি শক্তি নষ্ট করে সেগুলির সম্বন্ধে জানতে হবে।

গবেষকদের মতে শক্তি ক্ষয় করে, এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল :

স্যান্ডউইচ ও বার্গার  বাজারে বড় স্যান্ডউইচ, বার্গার বা সাবমেরিন স্যান্ডউইচ রুটি প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে তৈরি হয় যা শর্করার উৎস। তাছাড়া, সোডিয়াম নাইট্রাইটের মত পদার্থ, গংম, সংরক্ষক, কৃত্রিম রং ইত্যাদি উপাদান শুধুমাত্র স্থূলতা বাড়ায় যা শক্তি নিঃশেষিত করে।

চেরি ঃ চেরি সেই খাবার যা আপনার শক্তি নষ্ট করে দেয়। আসলে, চেরিতে একটি উপাদান আছে যাকে বলে মেলাটোনিন। এটি আপনার স্নায়ুর ওপর কাজ করে এবং আপনার শক্তি বিপর্যস্ত করে। সুতরাং, যদি আপনি চেরি খেতে ইচ্ছুক হন তাহলে শুধু রাতে খান।

পাস্তুরাইজড দই পাস্তুরাইজড সুগন্ধযুক্ত দই যা স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি শক্তি হত্যাকারী উপাদান। কৃত্রিম গন্ধ, রং এবং চিনির যোগ এটাকে অস্বাস্থ্যকর করে। এছাড়া এই সব দইয়ে সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার অভাব থাকে। এটা শুধুমাত্র আপনার ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

চর্বিযুক্ত মাংস চর্বিযুক্ত মাংসকে না বলুন, মানে কখনও ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চে সসেজ বা বার্গার খাবেন না। এইগুলি মেদযুক্ত মাংস দিয়ে তৈরি হয়, যা ভাঙতে শরীরের প্রচুর শক্তি নিয়ে নেয়।


মফিন সুস্বাদু ও মিষ্টি ছোট্ট মফিনটি চিনি, কার্ব, কৃত্রিম স্বাদ ও রঙে ভরপুর যা আপনার ইনসুলিন স্তর বৃদ্ধি করে এবং আপনাকে ক্লান্ত করে।
ওটমিল আপনি হয়তো এই খাবারটি দেখে বিস্মিত হচ্ছেন! এটি চিনি ছাড়া খাবেন, কারণ এটি আপনার দুপুরের শক্তি নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি মধু ব্যবহারও করবেন না কারণ এতে গ্লুকোজ আছে যার থেকে ঝিমুনি ভাব আসতে পারে।

চিপস চিপস, অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা আপনাকে শুধুই সচল থাকার বদলে মেদ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, চিপস তৈরির গরম করার প্রক্রিয়ায় একটি রাসায়নিক উপজাত, আক্রিলামায়িড সৃষ্টি হয় যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বয়স ২৮ বছরের বেশি হলেই গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ

 

করতোয়া ডেস্ক  বয়স ২৮ বছর শুনেই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ‘হাই রিস্ক মাদার’ লিখে চিহ্নিত করেন শায়লা রহমানকে (ছদ্মনাম)। প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মাস্টার্স পাস করে বিসিএস দিয়ে সবেমাত্র চাকরিতে যোগ দিয়েছি। এখন বাচ্চা নেওয়ার জন্যে মন স্থির করেছি। আর আপনি আমাকে বলছেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’!’
জবাবে চিকিৎসক বলেন, ‘আপনার বয়সের কারণেই আপনি এখন ঝুঁকিপূর্ণ মা’।

রাহেলা সিদ্দিকী (ছদ্মনাম) পেশায় ব্যাংকের কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের জুন মাসে ৩১ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার গর্ভধারণের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দুই মাসের মাথায় তার গর্ভপাত হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে আবারো গর্ভপাত হয় রাহেলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি বয়সে গর্ভধারণেই বাড়ছে এই ঝুঁকি। ২৮ বছর বয়সের পর থেকেই মেয়েদের প্রথমবার মা হওয়ার ক্ষেত্রে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শুধু গর্ভপাতের ঝুঁকি নয়, সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে এবং সন্তানের স্বাভাবিকতার ক্ষেত্রেও ঝুঁকিতে পড়ছেন মায়েরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি ও অবস্টাকল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম কাজল জানান, নগরায়নের প্রভাবে এই সমস্যা বাড়ছে। অনেক মা’কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করলে তারা সেটি সহজে মেনে নিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ২৮ বছরের বেশি বয়স হলেই মেয়েদের প্রথম সন্তান গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হয়। ৩০ বছরের বেশি হয়ে গেলে এ ঝুঁকি আরো বাড়ে। ৩৫ বছরের বেশি বয়স হয়ে গেলে প্রথম সন্তান জন্মদান অনেক বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায়। যেটি গর্ভধারণের জন্যে খুবই বিপদজনক হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেই নয়, সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের প্রশ্নটিও ওঠে বেশি বয়সে মা হতে গেলে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক, নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার বলেন, অটিজমের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।

 তবে অনুমান করা যায়, জিনগত কারনেই সন্তানের অটিজম সমস্যা হয়ে থাকে। এছাড়াও যে কারণগুলো অনুমাণ করা যায়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে, মেয়েদের বেশি বয়সে মা হওয়া। নগরায়নের কারণে পরিবেশগত সমস্যাকেও এ ক্ষেত্রে দায়ী করেন তিনি।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে যে গবেষণা পরিচালনা করে, সেখানে দেখা যায়, ঢাকায় শিশুদের অটিজমের হার ৩ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে এ হার মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রথম সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে গর্ভপাত হওয়ার জন্যে আরো তিনটি বিষয়কে দায়ী করেন ডা. কাজল। তিনি মায়ের বেশি বয়স ছাড়াও পরিবেশগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, আমাদের শহরের বাতাস, পানি এবং খাবারে বিষাক্ত উপাদান থাকে, সেগুলোও সন্তান গর্ভধারণের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। খাদ্যে ফরমালিন, মার্কারি, স্টেরয়েড, হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে মায়ের জন্যে।

আমাদের বাজারে এন্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা যেমন, এন্টি ফাঞ্জেট, সিপ্রোফ্রেক্সিন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক মেয়েদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করে।
এছাড়াও প্রকৃতিগত কারণ রয়েছে। যেমন, জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে অসুস্থতাও দায়ী। মেয়েদের মা হওয়ার জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স হিসেবে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সকে উল্লেখ করেন তিনি।

 বলেন, এই সময় মেয়েদের উর্বরতা ভালো থাকে। আমাদের সরকার থেকে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে এবং মা হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে ২৫ বছরের আগে ‘মা’ হওয়া নিরাপদ- এ তথ্যটিও প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এক দশক ধরেই বাড়ছে সময়ের আগেই গর্ভপাত হওয়া এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বে  প্রতি ৪টি গর্ভের মধ্যে একটি গর্ভপাত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সর্ম্পকিত বৈশ্বিক পত্রিকা ল্যনসেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি বছর ৫ কোটি ৬০ লাখ গর্ভপাত হয়। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ভয়াবহ।

ত্বক ও চুলের গ্লিসারিনের ব্যবহার

করতোয়া ডেস্ক  ত্বকের যতœ-আত্তিতে গ্লিসারিন বেশ উপকারী, যার কোনো পার্শ্বপ্রতক্রিয়া নেই। ত্বকের যেকোনো সমস্যার সমাধানে এটি খুবই কার্যকরী। একনজরে জেনে নেওয়া যাক গ্লিসারিন আপনার ত্বক এবং চুলের যতেœ কতটা প্রয়োজনীয় :


বলিরেখা দূর করে এক চা চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চা চামচ মধু ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের বলিরেখা দূর হবে।

ত্বকের টোনার হিসেবে কাজ করে এক চা চামচ গ্লিসারিন এক কাপ গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে একটি বোতলে রেখে দিন। নিয়মিত মুখ ধোয়ার পর এই মিশ্রণ দিয়ে মুখের ত্বক মুছে নিন। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও নরম হবে।

ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে গ্লিসারিন ত্বকের ময়েশ্চাইজার ধরে রাখে। প্রতিদিন মুখ ধোয়ার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের শুষ্কতা দূর হবে।

ত্বকে ক্লিনজারের কাজ করে এক টেবিল চামচ গ্লিসারিন এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। একটি তুলার বলে মিশ্রণটি নিয়ে পুরো মুখে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া এক চা চামচ বরিক এসিড পাউডারের সঙ্গে আধা চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ব্রণ দূর হবে।

ব্ল্যাকহেড দূর হয় এক টেবিল চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে এক চা চামচ আমন্ড পাউডার ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের ব্ল্যাকহেড দূর হবে।

ঠোঁট নরম করে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে গ্লিসারিন ব্যবহার করুন। এতে ঠোঁট নরম হবে এবং কালচে ভাব দূর হবে।
চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে
 শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে গ্লিসারিন ব্যবহার করুন। এটি চুলে প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজ করে, যা চুলকে ঝরঝরে ও মসৃণ করে।

সুস্বাস্থ্যে আলুর রসের কী দারুণ জাদু, জেনে নিন

আলু খেতে কে না ভালোবাসে? আলু ছাড়া হেঁশেল অন্ধকার। রান্নাতেই হোক, কি পটাটো চিপস হোক। পাতে আলু চাই-ই চাই। আলু শুধু যে খেতে সুস্বাদু, তা নয়। সুস্বাস্থ্যে আলুর অনেক গুণাগুণও রয়েছে। বিশেষ করে আলুর রসে। ভিটামিন A, C, B, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফাইবার ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ আলুর রস। আলুর রস আপনি শুধুও খেতে পারেন, আবার মধু বা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন!

চুইংগামের উপকারিতাগুলো কি জানেন?

ছেলেবেলায় নিশ্চয়ই চুইংগাম চিবিয়েছেন? বেশ কিছুক্ষণ ধরে রং-বেরঙের চুইংগাম চিবিয়ে, তারপর সেটাকে ফোলানো। এসব কাজ ছেলেবেলায় কে না করেছেন? আর ক্লাসের মধ্যে চুইংগাম চিবানোর জন্য কে না শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু এই চুইংগাম চিবানো কিন্তু মোটেই কী উপকার কিংবা কী অপকার হচ্ছে, তা জেনে নয়। শৈশব-কৈশোরকালে এই সব কাজ করতে আমাদের সকলেরই ভালোলাগে। তাই করা। কিন্তু আসলে কি সত্যিই চুইংগাম চিবানোর কোনও উপকারিতা রয়েছে? হ্যাঁ, চুইংগাম চিবানোর এমন অনেক উপকারিতা রয়েছে, যা আমাদের জানা নেই। জেনে নিন সেগুলো কী কী-

১) অনেক সময়েই আমাদের কাজে মন বসে না। একঘেয়ে লাগে। কাজ করতে করতে ঘুম পায়। অর্থাত্‌, কাজের দিক থেকে সমস্ত মনোযোগ চলে যায়। কাজের প্রতি আমাদের সেই মনোযোগ বা একাগ্রতা ফিরিয়ে আনে চুইংগাম। ২০০৯ সালে প্রকাশিত নিউট্রিশনাল নিউরোসায়েন্স জার্নালে বলা হয়েছে যে, চুইংগাম আমাদের মনোযোগ বাড়ায়।

২) চুইংগাম আমাদের খিদে কমায়। আর এর ফলে আমাদের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধিও কমে যায়। তবে অবশ্যই সুগারফ্রি চুইংগাম হতে হবে।

৩) মুখের মধ্যে স্বাস্থ্যের দিকে দেখা আমাদের প্রত্যেকের উচিত্‌। তাই যখন আপনি আপনার পছন্দের সুগারফ্রি চুইংগাম চিবাচ্ছেন, তখন জানবেন, সেটি আপনার মুখের মধ্যেকার স্বাস্থ্যের উপকার করছে। সামান্য চুইংগাম দিয়েই ক্যাভিটি রোধ করা যায়।

৪) গবেষকেরা বলে থাকেন, মাড়ির সঙ্গে আমাদের মুডের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই চুইংগাম চিবানোর সময়ে কোনওভাবেই আমাদের উপর কোনও কাজের চাপ পড়ে না।

একিউট ক্যালসিফিক টেন্ডিনাইটিস -ক্যালসি ফিকেশন অব রোটেটর কাফ

কি? ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সি -এ্যাপেটাইট ক্রিষ্টাল সুপ্রাস্পাইনাটাস টেনডনের সংযোগস্থলের ভিতরের দিকে কিংবা রোটেটর কাফের যে কোন স্থানে স্তুপাকারে জমা হওয়ার ফলে হঠাৎ স্কন্ধসন্ধিতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তাকে আমরা “একিউট ক্যালসিফিক টেন্ডিনাইটিস” বলে থাকি। এটা শুধুমাত্র স্কন্ধ সন্ধিতে হয় না, গোড়ালী সন্ধি, হাঁটু সন্ধি, উরুসন্ধি কিংবা কনুই সন্ধিতেও হতে পারে।

কেন এবং কিভাবে হয়? এ রোগ কি কারণে হয় এখন পর্যন্ত তার কোন সঠিক কারণ জানা যায় নি, তবে ধারণা করা হয় রক্ত সরবরাহ স্থানীয়ভাবে বন্ধের কারণে যে ইস্কিমিয়া হয় তাতে করে ফাইব্রোকার্টিলেজিনিয়াস মেটাপ্লেসিয়া হয় এবং তরুণাস্থি কোষ কন্ড্রোসাইট ক্যালসিয়াম ক্রিষ্টাল স্তুপাকারে জমা করে। শুধু মাত্র ক্যালসিয়াম জমার কারণে ব্যথা হয় না বরং হঠাৎ তীব্র রক্তের সরবরাহের প্রতিক্রিয়ায় টেনডনের চাপ বাড়ে এবং ফুলে যায় তখন তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ক্যালসিয়াম সামগ্রী দ্রুত পুনঃশোষিত হয়, ফলে ফোলা অংশ নরম হয়ে যায় কিংবা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভাল হয়ে যায়।

উপসর্গ/লক্ষণ: সাধারণত ৩০-৫০ বৎসর বয়সে এ রোগ দেখা যায়। ব্যথা শুরু হলে অতিরিক্ত সন্ধির নড়াচড়ার ফলে হঠাৎ তীব্র এবং অসহ্য ব্যথা অনুভূত হয়। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে রোগী অসহ্য ব্যথার কারণে কাতরাতে থাকে। কিছু দিন পর ব্যথা কমতে থাকে এবং স্কন্ধসন্ধি স্বাভাবিক হয়ে আসে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যথা ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং দেরীতে তা সেরে যায়। হঠাৎ তীব্র ব্যথার কারণে স্কন্ধ সন্ধি অনড় থাকে, সন্ধিতে চাপ দিলে কিংবা নড়াচড়া করাতে গেলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা: রক্তের পরীক্ষায় তেমন তারতম্য দেখা যায় না।
এক্সরে: সাদা চকের ন্যায় ক্যালসিয়াম স্তুপ ঠিক গ্রেটার টিউবারোসিটির উপরে দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যালসিফিকেশন পরিষ্কারভাবে দৃষ্টিগোচর হয় অনেকটা “উলি” সিষ্টের মতো; শেষের দিকে আর থাকে না।

চিকিৎসা: রোগের তীব্রতা এবং চিকিৎসার কার্যকারিতার চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে
* কলার এবং কাফ স্লিং দিয়ে বাহুর বিশ্রাম দেয়া হয়।
* নন ষ্টেরয়েডাল এন্টি ইন ফ্লামেটারী -ব্যথানাশক ওষুধ ওমেপ্রাজল সহ প্রয়োগ করা হয়।
* ব্যথার তীব্রতা বেশী থাকলে অতিরিক্ত রক্ত সমৃদ্ধ অংশে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর ষ্টেরয়েড, স্থানীয় চেতনা নাশকসহ (মিথাইল প্রেডনিসোলন এবং ২% জেসোকেইন) প্রয়োগ করা হয় এবং তা অবশ্যই ইনজেকশন আকারে দেয়া হয়।

উপরোক্ত পদ্ধতিতে কার্যকর ফলাফল না পেলে কিংবা ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম সামগ্রী স্কুপ দিয়ে বের করে আনা হয় এবং কোরাকো এ্যাক্রোমিয়াল লিগামেন্টা দু’ভাগ করে দেয়া হয়।
একিউট ক্যালসিফিক টেন্ডিনাইটিস ক্যালসিয়াম লবণ স্তুপাকারে টেন্ডনের সংযোগস্থলে জমার কারণে স্কন্ধ সন্ধিতে ব্যথাজনিত রোগ। এ রোগ সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা করলে রোগ মুক্তি ঘটে। তাই কাঁধের ব্যথাজনিত এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ঝাঁড়ফুঁক, তাবিজ-কবচ অপচিকিৎসা না নিয়ে একজন অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। এটাই হোক বছর শেষে আমাদের সবার প্রত্যাশা। খোহাফেজ।

অকালে চুল পাকা সমস্যা দূর করতে…

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুলে পেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেই আছেন যাদের চুল কম বয়সেই পেকে যায়। পরিবেশের বদল, দূষণ, ধূমপান, দুশ্চিন্তা ও অপুষ্টি থেকে অকালে পাকা চুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
মাখন: মাখন প্রাকৃতিকভাবে চুলকে পুষ্টি জোগায় ও ময়শ্চারাইজ করে। প্রথমে মাখন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন। নরম হলে গেলে আঙুলের সাহায্যে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালভাবে লাগিয়ে নিন। হাল্কা হাতে এই মাখন মাথার তালুতে লাগান। তিন থেকে চার ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। মাথায় ৩-৪ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। মাসে দুই বার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

মেথি: মেথি ভেজানো পানি দিয়ে চুল ধুলে চুল কালো হয়। এছাড়া ভেজানো মেথি বেটে তার সঙ্গে ডিম বা দই মিলিয়ে চুলের মাস্ক তৈরি করে তা লাগাতে পারেন তাতে অল্পবয়সে পাকা চুলের সমস্যা দূল হবে। এই মাস্কটি ৩০ মিনিট মাথায় রেখে ঢুয়ে নিন। শেষে মেথি ভিজানো জল কন্ডিশনার হিসাবে ব্যবহার করুন।
পেঁয়াজ: পাকা চুলের সমস্যা দূর করতে পেঁয়াজের রস যেন জাদুকরী। পেঁয়াজের রস মাথার চামড়ায় ভাল করে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি করলে আপনার সাদা চুল ধীরে ধীরে কালো হবে।

কারি পাতা: নারকেল তেল ও কারি পাতা একসঙ্গে ফোটান। যতক্ষণ না তেলের রং কালচে হয়ে আসছে। এই তেল মাথায় ভাল করে হাল্কা হাতে মালিশ করুন। চাইলে ৫-৬ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পুও করে নিতে পারেন। এতে পাকা চুলের সমস্যা তো কমবেই সঙ্গে চুল নরমও হবে।
কফি: ১০০ মিলিলিটার পানিতে চার চা চামচ কফি পাউডার দিয়ে ভাল করে ফোটান। এই মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে গোসল করার সময় মাথায় ঢেলে নিন। এর ফলে পাকা চুলের সমস্যা দূর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলে সুন্দর খয়েরি রং আসবে। -ইন্টারনেট

পা ফাটা দূর করবে পাকা কলা!

শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে প্রকৃতিতে। রুক্ষ হাওয়ায় ত্বক হয়ে পড়ে প্রাণহীন। বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি ফাটতে শুরু করে সবার আগে। এখন থেকেই তাই যতœ নিন পায়ের।
পা ফাটা থেকে মুক্তি পেতে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে পা। পাশাপাশি খানিকটা বিশেষ যতœও প্রয়োজন। জেনে নিন পা ফাটা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন-  
স্ক্রাব:
পা ফাটা থেকে মুক্তি পেতে পায়ের গোড়ালি নিয়মিত স্ক্রাব করা জরুরি। গোসলের আগে কুসুম গরম পানিতে পায়ের গোড়ালি ডুবিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর পিউমিস স্টোন দিয়ে ঘষে মরা চামড়া তুলে দিন। গোসল শেষ করে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে মোজা পরে ঘুমাবেন।
গ্লিসারিন:
গ্লিসারিনের সঙ্গে লেবুর রস ও গোলাপজল মিশিয়ে ফেটে যাওয়া গোড়ালিতে লাগান। দূর হবে ফাটা।
পাকা কলা:
অতিরিক্ত পাকা কলা পা ফাটা দূর করার জন্য খুবই কার্যকর। একটি পেকে যাওয়া কলা ব্লেন্ড করে নিন। একটি অ্যাভোকাডোর পেস্ট মেশান। মিশ্রণটি পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
নারিকেল তেল:
গোড়ালির ফাটা অংশের চামড়া ঘষে উঠিয়ে ফেলুন। পা ধুয়ে মুছে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করে নিন গোড়ালিতে। ধীরে ধীরে দূর হবে ফাটা।
লেবু:
কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর পা উঠিয়ে স্ক্রাব করে নিন। ধুয়ে মুছে গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
আপেল সিডার ভিনেগার:
২ কাপ পানি ও ১ কাপ আপেল সিডার মিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে পায়ের গোড়ালি ডুবিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর স্টোনে সাহায্যে স্ক্রাব করে ধুয়ে ও মুছে নিন।

ব্যথানাশক ওষুধ নারীর গর্ভধারণে ঝুঁকি বাড়ায়

 

করতোয়া ডেস্ক . যেসব তরুণী নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের জন্মদানক্ষমতা বা উর্বরতা কমে যেতে পারে। ব্যথানাশক ওষুধ যেমন এনএসএআইডি (ননস্টেরোয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি ড্রাগস)- এ ধরনের ওষুধ নারীর প্রজননের জন্য হুমকি। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি জানিয়েছে এই তথ্য।

গবেষকরা বলেন, জনপ্রিয় এসব ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শপত্র ছাড়াই অনেকে সেবন করেন। এ জাতীয় ওষুধ নারীর ডিম ফোটা রোধ করতে পারে এবং মেয়েলি হরমোন প্রোজেসটেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
ইউনির্ভাসিটি অব বাগদাদের এমডি সামি সালমান বলেন, ‘যেসব নারী নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ সেবন করেন এবং তাদের যদি সন্তান ধারণে সমস্যা হয় তবে চিকিৎসকের উচিত এখনই এসব ওষুধ খাওয়া থেকে তাদের বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া।’ গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয় এ বছর রোমের ইউরোপিয়ান লিগ অ্যাগেইনস্ট রিউমাটিজস কনগ্রেসে।

সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা আছে এবং কোমর ব্যথা রয়েছে এমন ৩৯ জন নারীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। পরীক্ষা চালানোর আগে নানা আনুষঙ্গিক পরীক্ষা করা হয় এসব নারীর ওপর। মাসিক চক্রের ১০ দিন পর পরীক্ষা শুরু করা হয়। গবেষকরা ডিম নিষিক্ত হওয়ার প্রস্তুতির সময় ফলিকল বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না, এই বিষয়ে নিশ্চিত হন।
এর ১০ দিন পর প্রভাব দেখার জন্য গবেষকরা তাঁদের আরেকটি আল্ট্রাসাউন্ড করেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা এনএআইডিএস সেবন করেছেন, তাঁদের এই বৃদ্ধি অনেক কমে গেছে।

এরপর পরের মাসে অর্ধেক নারীকে ডাকা হয় পরীক্ষার জন্য; এরা সবাই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। গবেষণায় দেখা যায়, তাদের এই ডিম্বোস্ফুটন অনেকটা স্বাভাবিক।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া নারীস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, তাই গবেষণাটি আবারও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান গবেষকরা।

কীভাবে কমবে শিশুমৃত্যুর হার? জানুন কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

শিশুর স্বাস্থ্য-বুদ্ধির বিকাশের সেরা ওষুধ মায়ের শরীরের ওম। ক্যাঙারুর মতো সবসময় বুকে আগলে রাখতে হবে সন্তানকে। কমবে শিশুমৃত্যুর হারও। এমনই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যে শিশুর পৃথিবীর বুকে পা রাখাই অনিশ্চিত ছিল, সেই-ই এখন লালিত হচ্ছে মায়ের ওমে।

সমৃদ্ধার ছোঁয়ায় সমৃদ্ধি ফিরেছে খড়দার সরকার পরিবারে। বাড়িতে খুশির জোয়ার। নেপথ্যে অবশ্য বাণী সরকার। সমৃদ্ধার দিদা। সরকারি হাসপাতালের নার্স। ফলে, সদ্যোজাতর লালন-পালনের হালহকিকত্‍ তাঁর নখদর্পণে। মেয়ের ঘরের মেয়ে। এত কষ্ট করে পাওয়া আদরের ধন। তাই সমৃদ্ধাকে লালনের জন্য মেয়ে সুলগ্নাকে নিজের হাতে শিখিয়েছেন ক্যাঙারু-মাতৃত্ব।

মেয়েকে এক মুহূর্তের জন্যও কাছছাড়া করেন না মা। দাদু দোলনা এনে দিয়েছেন। কিন্তু মায়ের পরামর্শে মেয়ে তাঁর মেয়েকে সেই দোলনায় শোয়ান না। খুশিতে ভরে আছে বাড়ি। নতুন অতিথির মুখ দেখতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের আনাগোনা। তবে সমৃদ্ধাকে কাছছাড়া করছেনই না সুলগ্না।

বাজার থেকে কেনা মাছ, মশলা, সবজি কতটা স্বাস্থ্যকর?

ভালো ভালো খাবার খেয়েও স্বাস্থ্যের বেহাল দশা। অ্যাসিড,অম্বল,ছোঁয়া ঢেকুরে জেরবার জীবন। পেটের রোগ বারোমাস। বাজার থেকে কেনা মাছ,মশলা,সবজি কতটা স্বাস্থ্যকর? তা দেখতেই ছোট্ট একটা পরীক্ষা করেছিলাম আমরা। বাজারভর্তি ব্যাগ ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যেতেই চোখ উঠল কপালে। ধরা পড়ল দুধ-দই -মশলায় সবেতেই বিষ।ব্যাগ দুলিয়ে বাজার গেলেন। বাজার সেরে মহানন্দে ঘরে ফিরলেন। কিন্তু আপনার করা বাজার কতটা স্বাস্থ্যকর? চলুন দেখে নেওয়া যাক।

২৪ এর বাজার সফর
বাজার থেকে কিনলাম
হলুদ
লঙ্কার গুঁড়ো
ময়দা
বেসন
দই
নিয়ে যাওয়া হল ল্যাবরেটরিতে।
হলুদ
——-
হলুদে বাড়িতে ব্যবহূত মিউরিয়াটিক অ্যাসিড মেশাতেই বদলে গেলে হলুদের রঙ। মেশানো হয়েছে কেশরি রঙ।
যা থেকে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা ১০০%
লঙ্কার গুঁড়ো
——-
লঙ্কার গুঁড়োয় মেশানো হল নেল রিমুভার। কয়েক ফোঁটা মেশালেই বেরিয়ে যাবে লঙ্কা গুড়ো আসল না ভেজাল ?ভেজাল থাকলে দ্রবণের তলায় পড়ে থাকবে সাদা গুঁড়ো। তারমানেই মেশানো হয়েছে কাঠের গুঁড়ো।
ময়দা
—-
ময়দায় মেশান সামান্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। ব্যাস তাতেই কেল্লা ফতে। বেরিয়ে যাবে ভেলকিবাজি। ময়দায় বাবল উঠলেই বুঝতে হবে ময়দায় মেশানো হয়েছে ভেজাল।
বেসন
—–
চপ-মুড়ি বাঙালির প্রিয় সান্ধ্য টিফিন।আর চপ মানেই বেসন। কিন্তু সেই বেসনেই মেশানো থাকছে ভয়ঙ্কর বিষ।
যা থেকে শরীরে বাসা বাঁধছে পেটের রোগ। লিভার ক্যানসার।
বেসনে ভেজাল আছে কিনা তা বাড়িতেই পরখ করা যায়। গোলা বেসনে দিন কয়েক ফোঁটা নেল রিমুভার। দ্রবণের ওপরে ভেসে ওঠবে রঙ।
দই

শেষ পাতে দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। চাপ দই দেখে মন খুশির কিচ্ছু নেই। ওখানেই বিপদ। দইকে জমাট ও ঘন বাঁধাতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক বনস্পতি। হলুদ রঙ আনতে মেশানো হচ্ছে রঙ।
ছবি
দইয়ে কয়েক ফোঁটা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিলেই বেরিয়ে যাবে বুজরুকি। ওপরে ভেসে উঠবে রঙ।
দুধে ভেজাল ধরতে দেখে নিন কী করবেন? তাহলে বুঝুন। ছোট্ট একটা পরীক্ষাতেই বোঝা গেল কেমন বাজার আমার করি। আর প্রতিদিন কী আমরা খাচ্ছি। ব্যাগভর্তি বাজারের ৯০% জিনিসেই মিশছে ভেজাল। বিষ খেয়েই বেঁচে আছি আমরা।

জানুন গাজর খেলে কোন ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব

শাক-সব্জি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাজা শাক সব্জি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, অনায়াসেই বহু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই ছেলেবেলা থেকেই বাবা-মায়েরা বাচ্চাদের শাক সব্জি খাওয়ার কথা বলেন।

গাজর। কেবলমাত্র শীতকালেই এই সব্জিটা পাওয়া যায়। অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা গাজর খেতে একেবারেই পছন্দ করেন না। গাজরের হালুয়া খেতে ভালোবাসেন, কিন্তু স্যালাড কিংবা তরকারিতে গাজর খেতে পছন্দ করেন না। গাজরের গুণাগুণগুলিও তাই বহু মানুষের কাছে অজানাই। জানেন কি, গাজর ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে? কিন্তু কোন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধ করে গাজর? জেনে নিন-

প্রত্যেকদিন গাজর খেলে মহিলাদের স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। গাজরে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

একটি ইংরেজী জার্নালে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত কয়েক হাজার মহিলার রক্তে বিটা ক্যারোটিনের মাত্রা পরীক্ষা করে হয়েছে। একটি সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে যে, যে সমস্ত মহিলারা নিয়মিত খাবারের তালিকায় গাজর রেখেছেন, তাঁদের শরীরে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ স্তন ক্যানসারের কোষ বৃদ্ধি হ্রাস হয়েছে।
ক্যানসার ছাড়াও গাজর ওজন ঠিক রাখতে, দৃষ্টিশক্তি আরও প্রখর করতেও সাহায্য করে। তাই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হলে, এখন থেকেই গাজর খাওয়া অভ্যাস করুন।