সকাল ৬:৪০, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন

অভি মঈনুদ্দীন ঃ অবনী মোহন দে, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, অপনু বড়–য়া, শান্তি শর্মা এবং প-িত তুষার দত্তের কাছে গানে তালিম নিয়ে নিয়মিত গান গেয়ে যাচ্ছেন এই সময়ের শ্রোতা সমাদৃত কন্ঠশিল্পী চম্পা বনিক। যথাযথভাবে গানে তালিম নিয়েই গান গাইছেন বলে সঙ্গীতাঙ্গনে এবং শ্রোতামহলে তার গানের আলাদা কদর আছে। এর আগে বাজারে তার একটি একক অ্যালবাম থাকলেও এবারই প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম নিয়ে আসছেন চম্পা বনিক। বাসু দেব’র সঙ্গীতায়োজনে এরইমধ্যে দুটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন চম্পা বনিক।

 একটি হচ্ছে ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’ এবং অন্যটি হচ্ছে ‘ওলো সই’। চম্পা জানান তিনটি কিংবা চারটি গানের সমন্বয়ে তার রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যলবামটি সাজানো হচ্ছে। চম্পা বলেন,‘ অনেকদিনের ইচ্ছে ছিলো একটি রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম করার। বাসু দাদা খুব সহযোগিতা করছেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। সেইসাথে আমার পরিবারের সহযোগিতাতো আছেই। ভক্তদের জন্যই আমার এই অ্যালবাম করা। পাশাপাশি আমার স্বপ্ন পূরণের একটি বিষয়তো রয়েছেই। ’ এদিকে নিয়মিত স্টেজ শো করছেন চম্পা বনিক।

 

গতকাল মুন্সীগঞ্জে স্টেজ শো শেষ করে স্যাটেলাইট চ্যানেলে বাংলাভিশনে রথীন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে লাইভ শো’তে গান গেয়েছেন তিনি। এদিকে ২৮ মার্চ সুনামগঞ্জের ছাতকে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। এছাড়া ৮ এপ্রিল সিলেটে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। ২০০৫ সালে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১০-এ এসে নিজেকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেন চম্পা বনিক।

 ২০১০ সালে ‘সেরাকন্ঠ’ প্রতিাযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন চম্পা। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর সঙ্গীতে চম্পা প্রথম প্লে-ব্যাক করেন। ২০১০ সালে  তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘স্বপ্নের আঙ্গিনায়’ লেজার ভিশনের ব্যানার থেকে বাজারে আসে। সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে গত বছর জন্মদিনে ওমর ফারুকের লেখায় এবং ফরিদ আহমেদ’র সুর সঙ্গীতে একটি বিশেষ গান করা হয়। এতে কন্ঠ দিয়েছিলেন চম্পা। শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চায় নিজেকে ধরে রেখেই আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চান চম্পা। ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শিল্পকলায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষে প্রভাতে একাডেমির পক্ষ থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়, সকাল ৯.৩০টায় একাডেমির আয়োজনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অনিমা মুক্তি গোমেজ, আবু বকর সিদ্দিক, আশরাফ উদাস, আরিফ রহমান ও কহিনুর আক্তার গোলাপী, আবৃত্তি করেন শিল্পী মাসকুরে সাত্তার কল্লোল, মাহমুদা আক্তার ও ডালিয়া আহমেদ, সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে দীপা খন্দকারের পরিচালনায় দিব্য ও রনি চৌধুরীর পরিচালনায় নৃত্যাঙ্গণ এবং সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে গণ সঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ।

দিনব্যাপী আয়োজনে  সন্ধ্যা ৬.৩০টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী এর সভাপতিত্বে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব তোয়াব খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক এবং জনাব নাঈমুল ইসলাম খান, বিশিষ্ট সাংবাদিক।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে ড. উর্মি মালা সরকারের পরিচালনায় পরিবেশিত হয় সমসাময়িক নৃত্য ‘মহাকাব্যের অপেক্ষায়’ এবং ভাষা সৈনিক কবি ড. এনামুল হক এর রচনা সুরারোপ ও সংগীত পরিকল্পনায় ফারহানা চৌধুরী বেবী’র পরিচালনায় নৃত্যনাট্য ‘সূর্যমুখী নদী’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস।

স্বাধীনতা দিবসে দেশের গান নিয়ে ‘সোলস’

অভি মঈনুদ্দীন : আশির দশকের কথা। তখনও ‘সোলস’র সাথে পার্থ বড়–য়ার সম্পৃক্ততা হয়নি। সে সময়ই শুধু একবার ব্যা-দল ‘সোলস’ থেকে একটি দেশের গান হয়েছিলো। এরপর ‘সোলস’-এ এলেন পার্থ বড়–য়া। চারিদিকে সোলস’র আরো জয়জয়কার শুরু হলো।

কিন্তু দেশের গান করার সুযোগ হয়ে উঠলোনা আর। কিন্তু এবার ‘সোলস’  জেগে উঠে দাঁড়ালো। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা নিয়ে বহুবছর পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশের গান করেছে সোলস। গানের কথা লিখেছেন সকাল, সুর করেছেন পার্থ বড়–য়া এবং সঙ্গীতায়োজন করেছে সোলস।

 গানের শিরোনাম হচ্ছে ‘সুপ্রিয় বাংলাদেশ’। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঢাকা, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ’সহ যেখানে গানের দৃশ্যায়নের জন্য প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই শুটিং করা হয়েছে। গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন রাজা। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল সকাল থেকে ইউটিউব’সহ গান বাংলা, দেশ টিভি, একুশে টিভি ও গাজী টিভিতে গানটির প্রচার শুরু হয়েছে। দেশের গান নিয়ে দারুণ উচ্ছসিত সোলস।

পার্থ বড়–য়া বলেন,‘ অনেকদিন ধরেই গানটি নিয়ে পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে যথাযথভাবে সময় দেয়অ হয়ে উঠছিলো না। অবশেষে সবার একনিষ্ঠতায় আমরা সুপ্রিয় বাংলাদেশ গানটি করতে পেরেছি। প্রচলিত ধারার দেশের গান নয় এটি। একটু ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করেছি আমরা। গানের কথা, সুর শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যাবে-এটা বিশ্বাস করি। সোলস দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন একটি গান স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ করেছে। সোলস পরিবার তাই অনেক বেশি আনন্দিত, উচ্ছসিত।

’ সোলস’র লাইন আপ হচ্ছে ভোকাল-পার্থ বড়–য়া, নাসিম, কী বোর্ড-মাসুম, ড্রামস-আশিক এবং বেইজ গিটারে রিয়েল। এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের নাসিরা বাদ থেকে সোলস ঢাকায় ফিরেছে শো শেষ করে। আসছে ৩১ মার্চ সোলস গাজীপুরে একটি কনসার্টে সঙ্গীত পরিবশেন করবে। উল্লেখ্য আশির দশকে সোলস ‘আমরা যে ভালোবাসি সোনার বাংলাদেশকে’ শিরোনামের একটি দেশাত্ববোধক গান করে। এরপর আর দেশের গান করা হয়ে উঠেনি। গীতিকার সকালের লেখা ‘তোমার ঐ মনটাকে একটা ধুলো মাখা পথ করে দাও, আমি পথিক হবো’ গানটি পার্থ বড়–য়ার কন্ঠে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তিনিই সোলস’র নতুন গানটি লিখেছেন।

কলকাতায় ইন্দো-বাংলা মৈত্রি পুরস্কার পাচ্ছেন আলমগীর-রুনা

বিনোদন রিপোর্টার : কলকাতায় ইন্দো-বাংলা  মৈত্রী পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের শীর্ষ তারকা দম্পতি আলমগীর ও রুনা লায়লা। ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় কলকাতার হোটেল ওবেরয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে তাদের হাতে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। কলকাতার হিন্দু-মুসলিম মৈত্রী বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। এদিকে গতকাল শনিবার ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন রুনা লায়লা।

 বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুম্বইয়ের বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের আয়োজনে ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। তার সঙ্গে আছেন আঁখি আলমগীর। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস (৩ এপ্রিল) উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের গানের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘ক্ষুদে গানরাজ’-এর দুটি বিশেষ পর্বে অতিথি বিচারক হিসেবে অংশ নিয়েছেন রুনা লায়লা। এগুলোতে তার গাওয়া কালজয়ী কয়েকটি গান পরিবেশন করেছে প্রতিযোগীরা। 

স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ টেলিফিল্ম ‘কালবেলা’

বিনোদন প্রতিবেদক : মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এটিএন বাংলায় আজ রাত ১১টায় প্রচারিত হবে বিশেষ টেলিফিল্ম ‘কালবেলা’। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সম্রাট, অরিণ, আন্না, সাগর, আশিক চৌধুরী, হান্নান শেলী, শাহেনা আক্তার, শম্পা নিজাম, হিরা ও শিশু শিল্পী জারা।

  ২৬শে মার্চের সকাল। সারা গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। উৎসবের মাঝে দ্রুত গতিতে মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতের কাছে সাইকেল নিয়ে ছুটতে থাকে কৈলাস চন্দ্র। বেওয়ারিশ মৃত ভ্রুণ শিশুকে রাস্তা থেকে সাইকেলে তুলে নিয়ে ঘুরছে সে। তাকে হিন্দু মাতে নাকি মুসলমান মতে সমাহিত করা হবে তা জানতে।

 কারো কাছে সদুত্তর না পেয়ে সে তাকে মাটিচাপা দিয়ে সমাহিত করে সজল চোখে তার প্রেমিকা মুক্তি রাণীকে সমাজের অসামঝেঞ্জর কথা বলে। এবারের স্বাধীনতা দিবসে বেসরকারী একটি বিশ্বাবিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগের টীমকে মুক্তিযুদ্ধে আক্রান্তদের নিয়ে একটি এ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। টীম মেম্বার নুসরাত বাবার তথ্য অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার খোজে ধামরাইয়ের পাল পাড়ায় দত্ত বাড়ীতে।

 সেখানে পরিচয় হয় ৭১ এর বীরাঙ্গনা মালতী দত্তের যুদ্ধ শিশু মুক্তি রাণীর সঙ্গে। নুসরাত ও শায়নের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আবেগ মিশ্রিত কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন মালতী। তার কান্না শুনে চিৎকার করে বেরিয়ে আসে মালতীর বড় বোন শশাংক দত্ত। নুসরাত ও শায়ন একে একে সবাইকে বুঝিয়ে শুরু করে মালতী দত্তের সাক্ষাৎকার। দুই ভাইবোন নস্টালজিক হয়ে ফিরে যায় একাত্তরের অগ্নিঝরা সেই দিনে।

কেয়ামত থেকে কেয়ামত মৌসুমী এবং দুই যুগ

অভি মঈনুদ্দীন: ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ , শুক্রবার। সেদিনই চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকেরা প্রথম রূপালী পর্দায় প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমীকে প্রথম দেখতে পান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রে। এটি নির্মাণ করেছিলেন সোহানুর রহমান সোহান এবং সিরাজুল ইসলাম, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ ‘আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড’র ব্যানারে প্রযোজনা করেছিলেন। তারসঙ্গে জুটি হয়েছিলেন এই চলচ্চিত্রে প্রয়াত অমর নায়ক সালমান শাহ।

প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই মৌসুমী দর্শকের মনে প্রিয় নায়িকা হিসেবে স্থান করে নেন। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’র মুক্তির দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয়ে মৌসুমী দুই যুগ পূর্ণ করলেন। দুই যুগে মৌসুমী অনেক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। পেয়েছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

 আবার মৌসুমী নিজেও চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। চলচ্চিত্রে নিজের দুই যুগ পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন,‘ দেখতে দেখতে এতোটা বছর পেরিয়েগেলো ভাবাই যায়না। আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে আব্বুর কথা। মনে পড়ছে আমার প্রথম চলচ্চিত্রের হিরো সালমানের এবং মান্না ভাইয়ের কথা।

কৃতজ্ঞ ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ ভাইয়ের কাছে যার ক্যামেরা দিয়ে আমাকে প্রথম দেখেন এবং পরবর্তীতে রফিকুর রহমান রেকু ভাই। কৃতজ্ঞ ক্যাসেন্ড্রা লিমিটেডর প্রধান শাকিব লোহানী, পরিচালক সোহান ভাই, যাদের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি চাষী ভাই, নারগিস আপা এবং রাজ’র প্রতি। কৃতজ্ঞ পাঠকপ্রিয় ম্যাগাজিন আনন্দ বিচিত্রা, সিনেমা, প্রিয়জন, চিত্রালী এবং সাংবাদিক বড় ভাই শ্রদ্ধেয় আওলাদ ভাই। আমার মা, দুই বোন ইরিন, ¯িœগ্ধা  আমার পাশে থেকেছে সবসময়। আর যে মানুষটির ভালোবাসায় এবং সহযোগিতায় আমি পরিপূর্ণ তিনি আমার সকল সুখ দুঃখের সাথী আমার স্বামী ওমর সানী।

 আমার দুই সন্তান ফারদিন এবং ফাইজাহর জন্য দোয়া করবেন সবাই।’ আফজাল হোসেন নির্দেশিত ‘সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেও ঐ সময় চারিদিকে হৈ চৈ ফেলে দেন মৌসুমী। এই বিজ্ঞাপনের সুমনা হকের কন্ঠের ‘প্রিয় প্রিয় সুন্দরী, সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি সুন্দরী’ জিঙ্গেলটি ছিলো সবার মুখে মুখে।

মৌসুমী প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন,‘ সেই সময় আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছিলো প্রত্যেকেই সংস্কৃতি অঙ্গনে তার কর্ম দিয়ে বেশ বড় জায়গা করে নিয়েছে। মৌসুমীও ঠিক তাই। কোন কোন মানুষ একধরনের বিশেষত্ব নিয়ে জন্মায়, নায়িকাদের মধ্যে মৌসুমীর সেই বিশেষত্ব আছে। অনেকের চেহারায় ঈশ্বর প্রদত্তও কিছু বিষয় থাকে, যাকে দেখে কিংবা না দেখেও দর্শক তাকে পছন্দ করে। মৌসুমীর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই ঘটেছে।

’ মৌসুমী প্রসঙ্গে সোহানুর রহমান সোহান বলেন,‘ মৌসুমী মৌসুমীই। মৌসুমী এমনই একজন মানুষ যে কী না মানুষকে মূল্যায়ন করতে জানে, মানুষকে সম্মান দিতে জানে। মৌসুমী এমনই একজন অভিনেত্রী তাকে যে চরিত্রেই অভিনয় করতে দেয়া হোক না কেন সে ঐ চরিত্রের রূপ নিয়ে ঠিকই বেরিয়ে আসে। তাই মৌসুমীর তুলনা শুধুই মৌসুমী।

’ ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ বলেন,‘ একজন সত্যিকারের শিল্পী মৌসুমী যার আচার আচরণ, পোশাক, অভিনয় এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তাকে সবার থেকে আলাদা করে সহজেই। ’ মৌসুমী বর্তমানে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ এবং এ কে সোহেলের ‘পবিত্র ভালোবাসা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।

প্রকাশিত হলো শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের ১২ খন্ডে কিশোর সমগ্র

বিনোদন রিপোর্টার : শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের এক সাথে প্রকাশিত হয়েছে ‘১২ খন্ডে কিশোর সমুগ্র’ গ্রন্থ। প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় শিশু একাডেমিতে ২৪ মার্চ সকালে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সময় প্রকাশনীর কর্ণধার ও  ‘১২ খন্ডে কিশোর সমুগ্র’ গ্রন্থের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন আলী ইমাম, শাহরিয়ার কবির, ইমদাদুল হক মিলন, আফজাল হোসেন, শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বইগুলোর লেখক শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কোনাল এবং  সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রেজানুর রহমান, ফারজানা ব্রাউনিয়া, আমীরুল ইসলাম প্রমুখ।

ঢাকার চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে চান বনি

অভি মঈনুদ্দীন : বনি সেনগুপ্ত, কলকাতার এই সময়ের তরুন নন্দিত নায়ক। পারিবারিকভাবেই যার শরীরে বইছে অভিনয়ের রক্তের ধারা। যে কারণে বনি অভিনয়ে আসবেন এটাও ছিলো স্বাভাবিক একটি বিষয়। বনির বাবা অনুপ সেনগুপ্ত ছিলেন একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। মা পিয়া দাশ একজন অভিনেত্রী। বনির দাদা সুখেন দাশগুপ্ত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা।

 তবে পরিবারের কারো হাত ধরেই বনিকে চলচ্চিত্রে আসতে হয়নি। অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিলো বলেই কলকাতার ‘মীনারভা’ থিয়েটারে তার আসা যাওয়া ছিলো। সেখানেই গিয়েই অভিনয়ের প্রতি তার আরো বেশি আগ্রহ জন্মায়। এভাবেই একসময় হঠাৎ করেই রাজ চক্রবর্ত্তীর নির্দেশনায় ‘বরবাদ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন বনি। প্রথম চলচ্চিত্রেই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য এক নায়ক এবং অভিনেতায় পরিণত হন তিনি। এরপর একে একে অভিনয় করলেন রাজ চক্রবর্ত্তীর ‘পারবোনা আমি ছাড়তে তোকে’ এবং রাজীব কুমারের ‘তোমাকে চাই’।

 বনি অভিনীত ‘তোমাকে চাই’ চলচ্চিত্রটি বর্তমানে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। এদিকে এবারই প্রথম ঢাকার চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন বনি। ‘হার্টবিট প্রোডাকশন’ প্রযোজিত ‘মনে রেখো-গরহফ ওঃ’ নামক চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন বনি। এটি নির্মাণ করছেন ওয়াজেদ আলী সুমন। এই চলচ্চিত্রে বনি অভিনয় করছেন লাকী চরিত্রে। ঢাকাই চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করা প্রসঙ্গে বনি বলেন,‘ ঢাকাতে প্রথমবার কাজ করতে এসেই খুব ভালোলাগছে। পরিবেশ, পরিচালক, সহশিল্পী, ইউনিট সবাই এতো বেশি আন্তরিক যে আমি মুগ্ধ হয়েগেছি।

 বলতেই হয় যে আমি বারবার ঢাকার চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ভাষা বাংলা, এখানকার ভাষাও বাংলা। তাই কোনভাবেই তেমন কোন পার্থক্যও চোখে পড়ে না। এখানকার সবাই সত্যিই কাজের ব্যাপারেও বেশ সিরিয়াস।’ ‘হার্টবিট প্রোডাকশন’র কর্ণধার তাপসী ফারুক জানান আসছে রোজার ঈদে মুক্তি দেবার লক্ষ্যে ‘মনে রেখো-গরহফ ওঃ’র নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য এই চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করছেন সাদেক বাচ্চু, আরজুমান্দ আরা বকুল, মাহিয়া ও তুলিকা বসু’সহ আরো অনেকে। ঢাকায় এই চলচ্চিত্রের শুটিং হবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর গানের দৃশ্যায়ন হবে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে।

‘সম্ভাবনা দেখে পথ চলতে হয় না’

অভিনয় জীবনে বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করার ক্ষুধা মোশাররফ করিমকে অফট্র্যাকের অভিনয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। এ ক্ষুধাকে জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন নায়কদের সাধারণত একটু লম্বা হতে হয়। আপনি তেমনটি নন। এ নিয়ে আপনার কোনো আক্ষেপ রয়েছে?


না, কারণ চার্লি চ্যাপলিন মোটেও লম্বা ছিলেন না। অথচ অভিনয় দক্ষতা দিয়েই বিশ্বজয় করেছেন। আর তাই দৈহিক উচ্চতা নিয়ে কখনই আমি মনের মধ্যে কোনো কমপ্লেক্স তৈরি না।
 
আপনি প্রথম দর্শকদের চোখে পড়েন ক্যারাম নাটকে কাজ করে। সাফল্যের শুরুর রঙগুলো কেমন ছিল?
এটি পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।এই নাটকটি প্রচার হয়েছিল ঈদের অনুষ্ঠানমালায়। সে সময় এত এত নাটকের ভিড়ে এটি হয়তো অনেকেরই দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ফলে আমি ভেবেছিলাম, কাজটির জন্য বোধ করি দর্শকদের সাড়া পাব না।

কিন্তু না, কিছু যেতেই একদিন শান্তিনগর মোড়ে (ঢাকা)  হঠাৎ করেই একদল ছেলে আমাকে ঘিরে ধরল। আমি ভাবলাম ওরা বোধ হয় ছিনতাইকারী। আমার এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে ওদের একজন বলে ওঠল-ইউ হ্যাভ ডান গ্রেট জব এ্যাট ক্যারাম। এই কথা শোনার পর আমার মনটা আনন্দে ভরে ওঠল।

আপনাকে জনপ্রিয় করেছে বেশকিছু নাটক। এই মুহুর্তে কোন কোন নামগুলো মনে পড়ছে?
তালা, শূন্য, পিক পকেট, ফাউল, জাঁতাকল, ঠুয়া, গুগল ডট কম, বনলতা সেন, ৪২০, ভবের হাট, ঘরকুটুম, হাউজফুল, তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা, ফিফটি ফিফটি, এফএনএফ, পাটি গণিত, সিকান্দার বক্স সিরিজ ও সিনেমাটিক।

এই যে নিজেকে ভুলে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র হয়ে ওঠা। এটা কী করে সম্ভব হয়?
প্রতিটি নাটকে কাজের সময় আমি এবং আমার চরিত্রÑএই দুটোর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করার চেষ্টা করি। একটি নির্দিষ্ট সিকোয়েন্সে বা মুহুর্তে  আমি মোশাররফ করিম হলে কী করতাম আর চরিত্রটি কী করবে, সে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট একটি চিত্র এঁকে নেই।


অভিনয়ের বাইরে মাঝে  উপস্থাপনাও নাম লিখিয়েছেন আপনি। অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বলবেন কি?
চ্যানেল আইতে প্রচারিত ‘রূপচাঁদা ফ্যান্টাস্টিক ফ্যামিলি’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আমি দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছি।  আমি অভিনয় করি, ওটাই ভালো পারি। কিন্তু আমাকে যখন উপস্থাপনার জন্য বলা হলো-কিছুটা সংশয় ছিল মনে। কারণ এর আগে কখনই এ কাজটি করা হয়নি আমার। অনুষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন ফাহমি। ওর পরিচালনায় অনেক নাটকে কাজ করেছি।

ওর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলেই কাজটি করতে রাজি হয়েছিলাম। আপনার জীবন দর্শন কী?কখনই সম্ভাবনা দেখে পথ চলতে হয় না। ফলাফল ঠিক করে সেদিকে এগিয়ে গেলে মানুষ আর মানুষ থাকে না, সে রাক্ষস হয়ে যায়। এটি শুধু অভিনয় ক্ষেত্রেই নয়, জীবন সম্পর্কেও আমার দর্শন। 

তৌকির-তারিনের পুনশ্চঃ জয়ীতা

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আরটিভিতে প্রচার হবে বিশেষ নাটক পুনশ্চঃ জয়ীতা। শ্রাবনী ফেরদৌস এর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন শুভ্র খান । নাটকে অভিনয করেছেন তৌকির আহমেদ,তারিন জাহাস,ডলি জহুর,আল মামুন,খায়রুল টিপু,আশরাফুল আশীষ,মাধবী লতা,এমদাদ শপথ সহ আরো অনেকে। নাটকটি প্রচার হবে ২৬ মার্চ আরটিভিতে রাত ৮ টা ১০ মিনিটে। নাটকে দেখা যাবে, উচ্ছিষ্ট-ই সে।

  জয়িতা বীরাঙ্গনার সন্তান। জয়িতার বাবা তার মা ও পেটের সন্তান কে ছেড়ে গিয়েছিল ৭১-এ। মা-ই তাকে শিখিয়েছেন কিভাবে একজন নারী মাথা উঁচু করে গর্বের সাথে তার নিজ যোগ্যতায় বাঁচতে পারে। জয়িতার মা যে যোদ্ধা। সে পথেই জয়িতাও তার পথ নেয় ফিল্ম কে। সে একটি ফিল্ম বানায় মুক্তিযুদ্ধেও উপর। প্রচুর খ্যাতি অর্জন করে সে।  ফিল্ম বানানোর সময় পরিচয় হয় তার সুজন কবীরের সাথে।

যে কি না এই ফিল্মের লেখক। ঘনিষ্ঠতা তৈরী করে তাদেও কাজের ,ভাললাগার। কিন্তু যখন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জয়িতা নির্ভীক কন্ঠে জানায় ছবির গল্পের নায়িকা তার মা- সে বীরাঙ্গনার সন্তান। তখন সুজন ছেড়ে যায় জয়িতাকে। যেমনটি ৭১-এ ছেড়ে গিয়েছিল তার বাবা তার মা কে। বাবা অথবা সুজন  কি ক্ষমা চাইবে তাদের কাছে। এমই একটি গল্প পুনশ্চঃ জয়িতা।

বরাবরই বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান করেছি

নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মনের আসনে তারিন বসেছেন অনেকে আগেই। তিনি অভিনয় দিয়ে হাসাতে জানেন, কাঁদাতেও জানেন। তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক ভাবনা ও শ্রমের গল্প। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন
আপনি এরইমধ্যে নানা চরিত্রে কাজ করে সফল হয়েছেন। এর পেছনে আপনার ভাবনা  কেমন ছিল?

আমি অভিনয় করি নিজের ভাললাগার পাশাপাশি দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য। আমার অভিনয় যদি দর্শকদের ভালো না লাগত, তাহলে আমি আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। এই জায়গা থেকে আমি মনে করি, একজন শিল্পীকে দর্শকরাই তৈরি করেন। তবে আমার বরাবরের ভাবনা ছিল কীভাবে আমি আমার কাজ দিয়ে নিজেকে আনন্দ দিতে পারি এবং দর্শকরাও আমার অভিনয়  দেখে আনন্দ পান। ফলে মানহীন কাজের সঙ্গে আমার কখনোই আপস ছিল না। বরাবরই বৈচিত্র্যের অনুসন্ধান করেছি।
এখন অভিনয় করতে গেলে কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?

একজন অভিনয় শিল্পীর যত বয়স বাড়ে ততই তার অভিনয়ে ম্যাচিউরিটি আসে। আমার সমসাময়িক যারা এখন কাজ করছেÑপ্রত্যেকের মধ্যেই এই জিনিসটি এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের কথা যদি বলি, তাহলে বলতে হবে-অভিনয় করে আমি দর্শকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে অন্যরকম করে আলোড়িত করে। দর্শকদের এই যে ভালোবাসা, তা ধরে রাখতে গিয়ে এখন  কোনো কাজ করতে গেলে আমাকে নতুন করে ভাবতে হয় । কারণ, আমার কাছে দর্শকদের প্রত্যাশা কিন্তু দিনকে দিনতে বাড়ছেই। তারা আমাকে নতুন নতুন করে  দেখতে চায়। আমার করা আগের চরিত্রটি আর দেখতে চায় না। আমিও আমার চরিত্রের রিপিটেশন চাই না।
সবসময় কী তা সম্ভব হয়?

এটাও ঠিক যে, সবসময়ই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে কাজ করা কঠিন। কেননা অনেক কাজের মাঝে যে কাজগুলো ভিন্ন গল্পের ছবি আঁক, তা আবার সবার মাঝে ভাগ হয়ে যায়। তাই চাইলেও নিয়মিত সবগুলো এক্সপেরিমেন্টাল চরিত্রে কাজ করার সুযোগ নেই। তার পরও আমি ভিন্ন কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমাদের টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই।  এ কারণে টিভি নাটকের মান নেমে গেছে বলে মনে করছেন বোদ্ধাদের অনেকেই। আপনি কী মনে করেন?
আমাদের টিভি নাটকের পথচলা শুরু হয়েছে বিটিভি দিয়েই।  তখন একটাই চ্যানেল ছিল।  কাজও হতো অনেক যতœ নিয়ে। শুটিংয়ের আগে আমরা রিহার্সেল করারও সুযোগ পেতাম। কোনো কাজ করার আগে সে সময় রীতিমতো একটা গবেষণা করা হতো।

 এখন সেটা হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়ে যায়। তবে এখন আগের মতো রিহার্সেল না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য নির্মাতা-শিল্পী নানা রকম ভাবনা শেয়ার করেন ফোনে ফোনে। আবার কখনোবা শুটিং স্পটে। এ কথা ঠিক যে, চ্যানেল বাড়লেও আমাদের নাটকের মান খুব একটা বাড়েনি। খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা না করে যারা কাজ করেন, তাদের কাজ মানসম্পন্ন  নয়। এত কিছুর পরও মাঝে মাঝে ভালো ভালো কাজ হয়। আমার মনে হয়, এ বিষয়ে চ্যানেলগুলোর নজর রাখা দরকার।

নতুন বিজ্ঞাপনে বিপাশা হায়াত

অভি মঈনুদ্দীন : নন্দিত অভিনেত্রী, চিত্রশিল্পী এবং কন্ঠশিল্পী বিপাশা হায়াত সর্বশেষ একটি ডিটারজেন্ট পাউডারের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছিলেন। সেটি গত বছর দেশের প্রায় সবগুলো টিভি চ্যানেলেই প্রচার হয়েছে। এতে তারসঙ্গে ছিলেন তৌকীর আহমেদ।

নতুন বছরে নতুন আরেকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন বিপাশা হায়াত। একটি বহুজাতিক কোম্পানীর নুডুলস’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন বিপাশা হায়াত। এটি নির্মাণ করেছেন গুণী বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও নাট্যপরিচালক নজরুল ইসলাম রাজু। বিপাশা’র মডেল হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনিই।

 পরিচালক জানান বিপাশা হায়াতের নতুন বিজ্ঞাপনটি চলতি মাসেই দেশের প্রায় সবগুলো চ্যানেলে প্রচারে আসার কথা। এদিকে আজ ২৩ মার্চ বিপাশা হায়াতের জন্মদিন। তবে জন্মদিনে যাচ্ছেন না কোন টিভি চ্যানেলের বিশেষ অনুষ্ঠানে। পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন বিপাশা হায়াত।

বিপাশা হায়াতের জন্মদিনে তার স্বামী অভিনেতা ও নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাতা তৌকীর আহমেদ বলেন,‘ সবকিছু মিলিয়েই বিপাশা হায়াত একজন পরিপূর্ণ মানুষ, একজন আলোকিত মানুষ। তার জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।’

 বিপাশা হায়াতের বাবা আবুল হায়াত তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,‘ বিপাশা তার নিজের চেষ্টায় নিজেকে এমন একটি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে যা পিতা হিসেবে সত্যিই আমাকে গর্বিত করে তোলে প্রতিমুহুর্তে। শুধু তার অভিনয়েই নয়, তার আঁকাআঁকিতে, তার লেখনীতেও মুগ্ধ হই আমি।

তার জন্মদিনে অনেক অনেক দোয়া, ভালোবাসা। আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন। সেইসাথে তার কর্মময় পৃথিবীর আরো সাফল্য কামনা করি।’ বিপাশা হায়াত সর্বশেষ গেলো পহেলা বৈশাকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘বাক বাকুম পায়রা’ অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন।

দুই দশক পর চলচ্চিত্রে ফিরলেন দিলারা

বিনোদন রিপোর্টার : প্রায় দুই দশক আগে চলচ্চিত্রের এক সময়ের সাড়া জাড়ানো নায়িকা দিলারা অভিনীত চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। এরপর দিলারাকে আর নতুন কোন চলচ্চিত্রে অভিনয়ে দেখা যায়নি। প্রায় দুই দশক অর্থাৎ বিশ বছর পর দিলারাকে আবারো নতুন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ে দেখা যাবে। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

এতে তিনি আহমেদ শরীফের স্ত্রী, চিত্রনায়ক বাপ্পী সাহা’র মা আমেনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এরইমধ্যে দিলারা তার অংশের শুটিং সম্পন্ন করেছেন বলে জানান। দিলারা বলেন, ‘বহুবছর পর চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সত্যিই ভীষণ ভালোলেগেছে। মাঝে দেখতে দেখতে প্রায় বিশ বছর পেরিয়েগেছে। সত্যি বলতে কী আমার একমাত্র মেয়ে রাকা’র জন্যই এতোদিন চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে দূরে ছিলাম।

 এখন রাকা বড় হয়েছে, তারও এক কন্যা সন্তান আছে। নাম রিভা। সবমিলিয়ে আমি এখন বেশ ভালো আছি, অবসরও আছে। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে নিয়মিত হবো কী তা এখনই বলতে পারছিনা।’ দিলারা অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিলো এম এ কাশেম পরিচালিত ‘রঙ্গিন বাহরাম বাদশাহ্’। এতে তিনি ও দিতি অভিনয় করেছিলেন বলেও স্মৃতিচারণ করেন দিলারা। মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে মিডিয়ার সাথে দিলারার সম্পৃক্ততা ঘটে। রফিকুল বারী চৌধুরীর নির্দেশনায় তিনি প্রথম ‘মুসলিম শাড়ি’র বিজ্ঞাপনে মডেল হন।

 এই বিজ্ঞাপনে কাজ করার পরপরই আমজাদ হোসেনের নির্দেশনায় ‘সুন্দরী’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর তিনি ‘শেষ উত্তর’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘এখনই সময়’, ‘নাজমা’, ‘কালো গোলাপ’, ‘অসতী’, ‘স¤্রাট’, ‘আওলাদ’, ‘নাদিরা’, ‘রাজভিখারী’, ‘পদ্মগোখরা’, ‘হাইজ্যাক’, ‘আশা নিরাশা’, ‘রক্তের বন্দী’সহ প্রায় একশো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার একমাত্র আলোচিত কমার্শিয়াল মঞ্চ নাটক ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। এতে তিনি লুৎফা চরিত্রে অভিনয় করতেন। এই নাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি অষ্ট্রেলিয়াও সফর করেছিলেন। দিলারা প্রযোজিত চলচ্চিত্র হচ্ছে কামরুজ্জামান পরিচালিত ‘রসিয়া বন্ধু’ এবং খসরু নোমান পরিচালিত ‘সাজা’। দুটোতেই তার বিপরীতে নায়ক ছিলেন প্রবীরমিত্র। ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত।

তুষ্টির সঙ্গে কিছুক্ষণ…

অভিনেত্রী থেকে নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন শামীমা ইসলাম তুষ্টি। পেশাগত কাজ অভিনয়ের পাশাপাশি ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’র হয়ে বিভিন্ন কাজেও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাকে। যে কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় তুষ্টি নিজেকে আর সেভাবে সময় দিতে পারছেন না। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মাদিহা মাহনূর। রাজধানীর উত্তরায় সকাল আহমেদ পরিচালিত এটিএন বাংলায় প্রচার চলতি দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বাব্ ুপাখির বাসা’র লোকেশনে দেখা হয় নূসরাতের সঙ্গে। মেকাপরূমে নূসরাত হয়ে উঠার জন্য তিনি মেকাপ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বলছি, তুষ্টির কথা।

 ‘বাবুই পাখির বাসা’ নাটকে তার চরিত্রের নাম নূসরাত। তুষ্টির ভাষ্যমতে এই ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করে ভীষণ তুষ্ট তিনি। তবে বেশি তুষ্ট ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ’র আইন ও কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হতে পেরে। একজন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শককে বিনোদন দেবার পাশাপাশি চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের মানুষকে নানানভাবে সচেতন করতেন তুষ্টি। কিন্তু এবার আইন ও কল্যাণ সম্পাদক হয়ে তিনি শিল্পীদের পাশে থাকতে চান সবসময়। গল্পে গল্পে তুষ্টি বলেন,‘ কোন শিল্পীকেই যেন কখনো বলতে না হয় যে আমি দুঃস্থ।

 এর জন্যই আমি কাজ করে যেতে চাই। মোটকথা শিল্পীদের নানান সমস্যা দূরীকরণেও কাজ করবো আমি। আমি চাইবো শিল্পী, পরিচালকের মধ্যে যেন খুব চমৎকার একটি সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে যাতে আমরা ভালো থাকি, ভালোভাবে কাজ করতে পারি। পাশাপাশি নাটকের মানও যেন উন্নত হয়। জানি এটা সময়ের ব্যাপার। কিন্তু এখন থেকেই আমি, আমরা তা চেষ্টা করছি। আশাকরছি সবাই আমরা এক পরিবারের হয়ে একে অন্যের পাশে থাকবো।’ তুষ্টি জানান শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনীত চতুর্থ চলচ্চিত্র ‘হাছন রাজা’।

 এতে তিনি কুসুম চরিত্রে অভিনয় করেছেন। হাছন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন রুহুল আমিন। তুষ্টি অভিনীত অন্য তিনটি চলচ্চিত্র হচ্ছে প্রয়াত বেলাল আহমেদ’র ‘নন্দিত নরকে’, প্রয়াত শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘লাল সবুজ’ এবং গোলাম রব্বানী বিপ্লবের ‘স্বপ্ন ডানায়’। বর্তমানে তুষ্টি ব্যস্ত আছেন মোহন খানের ‘নীড় খোঁজে গাংচিল’, সাজ্জাদ সুমনের ‘গ্যারাকলে মীরাক্কেল’, মুন্তাসির বিপনের ‘অল্প স্বল্প গল্প’, তৌহিদ হোসেন খানের ‘তেরে কেটে টক্কা’। তুষ্টি এরইমধ্যে শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে গড়ে তুলেছেন ‘আমরা মানুষ’ নামের একটি ফাউ-েশন। নানামাত্রিক স্বপ্নে বিভোড় তুষ্টির মনের আশা পূরণ হোক, এই প্রত্যাশা।

গাইবান্ধায় নূরুলদীনের সারাজীবন মঞ্চস্থ

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদের আয়োজনে গত সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ভারতীয় কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রের নাটক নূরুলদীনের সারাজীবন মঞ্চস্থ হয়। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় কিশোর সেন গুপ্তের নির্দেশনায় নাটক শুরুর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম।

 পরে কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রের দলনেতা তাপস সেনের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জাতীয় সংসদের হুইপ গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব আরা বেগম গিনি, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক প্রমতোষ সাহা, পদক্ষেপ নাট্য সংগঠনের নজরুল ইসলাম, মোহনার পরিচালক মশিউর রহমান, জাহানারা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পরিচালক খাজা সুজন, সত্যেন সেন সঙ্গীত বিদ্যালয়ের চুনি ইসলাম।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ ক্রেস্ট তুলে দেন সংগঠনের পরিচালক আবু সায়েম জান্নাতুন নুর রিশাদ, উদীচী জেলা সংসদের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান যথাক্রমে জেলা সংসদের জেষ্ঠ্য সদস্য মশিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল গণি রিজন।

সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় দিতি’কে স্মরণ করলেন শিল্পীরা

অভি মঈনুদ্দীন : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ‘শিল্পী সমিতি’ আয়োজিত ‘শিল্পী হৃদয়ে দিতি’ শীর্ষক স্মরণ সভায় এবং মিলাদ মাহফিলে চলচ্চিত্রের সর্বজন স্বীকৃত একজন ভালো মানুষ চিত্রনায়িকা দিতিকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হলো। গেলো ২০ মার্চ দিতি’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আগত শিল্পীরা দিতির প্রতি তাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করে তার আতœার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

শিল্পী সমিতির উদ্যোগে ভাইস প্রেসিডেন্ট ওমরসানী এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘শিল্পী হৃদয়ে দিতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেন চিত্রনায়ক অমিত হাসান। বিএফডিসির মূল মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই মঞ্চে এসে দিতিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন চিত্রনায়ক ইমন।

 এরপর একে একে দিতিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন চিত্রনায়িকা শিল্পী, নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুল, অভিনেত্রী দিলারা, নাসরিন, চিত্রনায়ক সুব্রত, জায়েদ খান, অভিনেতা আমির সিরাজী, সিরাজ হায়দার, আহমেদ শরীফ, মিজু আহমেদ, ওমরসানী, সাইমন, শাহীন খান’সহ আরো অনেকে। তবে দিতির সঙ্গে বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এমন অনেক শিল্পীরই দেখা মিলেনি সেদিনের অনুষ্ঠানে।

 শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে ২০ মার্চ সকালে শুধুমাত্র চিত্রনায়ক ওমরসানীই দিতি যেখানে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন সেখানে গিয়েছিলেন। ওমরসানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ’তে গিয়ে কবর জিয়ারত করার পাশাপাশি দিতির মেয়ে লামিয়া এবং দীপ্তর সঙ্গে প্রায় বিকেল পর্যন্ত সময় দিয়ে শিল্পী সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ‘শিল্পী হৃদয়ে দিতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যারা দিতিকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তাদের প্রত্যেকের কথা থেকে একটি কথাই বারবার উঠে এসেছে যে দিতি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। শিল্পীরা বলেন, যখন সবাই মিলে সমস্বরে বলে উঠেন যে তিনি ভালো মানুষ ছিলেন, তখন আল্লাহও তাকে ক্ষমা করে দেন, নিশ্চয়ই। সেদিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে আরো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।

আর তা হলো দিতি প্রথম চলচ্চিত্রে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান চিত্রনায়ক সুব্রত’র বিপরীতে শামসুল আলম পরিচালিত‘ চলার পথে’ চলচ্চিত্রে। এই চলচ্চিত্রটির সেন্সর সার্টিফিকেটও পেয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী এক অজানা কারণে এটি মুক্তি পায়নি। অনুষ্ঠানে আরো জানা যায় দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো ‘তিন টেক্কা’ যার নায়ক ছিলেন নৃত্যপরিচালক মাসুম বাবুল। আলোচনা অনুষ্ঠানের পরপরই মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে দিতির মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। শিল্পী সমিতি’র পক্ষ থেকে অমিত হাসান ও ওমরসানী বলেন, আমরা চেষ্টা করবো এরপর থেকে যারই মৃত্যু বার্ষিকী আসে তাকে নিয়ে এমনভাবে স্মৃতিচারণ মূলক অনুুষ্ঠান এবং মিলাদ মাহফিল করার এবং এটা সবসময়ই অব্যাহত থাকবে। ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত।

পরীমনির নতুন ছবি

বিনোদন প্রতিবেদক : নতুন ছবির কাজ নিয়ে এখন দারুণ ব্যস্ততা যাচ্ছে চিত্রনায়িকা পরীমনির। এরইমধ্যে আবার একটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘চাঁদনী’ নামের এই ছবির নাম ভূমিকায় দেখা যাবে নায়িকাকে। সম্প্রতি ‘আজকে আমি মাতাল হব’ কথার একটি গান রেকর্ডিয়ের মধ্যদিয়ে ছবির কাজ শুরু হলো। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর ও মুন। আসিফের স্টুডিওতেই ধারণ করা হয় এই গান। ছবিটি পরিচালনা করছেন শামীমুল ইসলাম শামীম। এতে দেখা যাবে, পাহাড়ি মেয়ে। পাহাড়-পর্বত চষে বেড়ায় চাঁদনী। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে এ ছবির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।

এতে পরীমনির সহশিল্পী হচ্ছেন জায়েদ খান, আসিফ নূর ও মিশা সওদাগর। এর বাইরে মাঝে ‘স্বপ্নজাল’ শিরোনামের একটি ছবির শুটিং শেষ করে ডাবিংয়েও অংশ নিয়েছেন পরীমনি। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে তার  বিপরীতে অভিনয় করেছেন নবাগত ইয়াশ রোহান। বাংলাদেশ থেকে বেঙ্গল ক্রিয়েশনস ও ভারতের বেঙ্গল বারতা এটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন, ফজলুর রহমান বাবু, শিল্পী সরকার অপু, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও ইরেশ যাকের প্রমুখ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি বাড়িতে ‘স্বপ্নজাল’-এর শুটিং শুরু হয়। এরপর কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন লোকেশনে এটি চিত্রায়িত হয়েছে। এছাড়াও পরীমনি অভিনীত ‘অন্তর জ্বালা’, ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’সহ আরও কয়েকটি ছবির শুটিং শেষ হয়ে তা মুক্তির প্রহর গুনছে।

বগুড়ার নাট্যোৎসবে ৫টি নাটক মঞ্চস্থ

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া থিয়েটার, লিটল থিয়েটার ও ভোর হলো বগুড়া’র আয়োজনে আট দিনব্যাপি আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা নাট্যোৎসব ২০১৭ এর গতকাল রোববার ছিল ৪র্থ দিন। শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত এই নাট্যোসবে গতকাল মোট ৫ টি নাটক মঞ্চস্থ হয়। 

দিনের শুরুতে বগুড়ার টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মঞ্চস্থ করে রহিম চৌধুরী রচিত রবিউল ইসলাম নির্দেশিত নাটক ‘সকলের জন্য ভালবাসা’। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাজিয়া, রশিদা, নাঈম, শুকরিয়া, সাজু, সুমাইয়া, নাফিসা, সুফিয়া, সোনিয়া, মারুফ, জয়, সাজু, তরিকুল, বিথী, অর্চনা।


এরপরই করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া মঞ্চে আনে শুভেন্দু মাইতি রচিত আমজাদ হোসেন শোভন নির্দেশিত নাটক ‘তোতা কাহিনী’। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে জাকারিয়া আহম্মেদ জোহা, নাসিব ইমতিয়াজ চৌধুরী, ইমরান হোসেন ইমন, ইসমাইল হোসেন ইবন, মারুফ হাসান মুন্না, মাহফুদুল ইসলাম, মেহেরুন নেছা তিশা, নাফিসা তাবাসসুম মালিহা, ঊষা চৌধুরী, আলামিন, ফাহিম রেজওয়ান বন্ধন, সামসিল আরিফিন, মোতাসসিম বিল্লাহ, তানভীর, আব্দুল্লাহ বিন সামাদ, আসিফ আল গালিব, মারুফ আহম্মেদ।

এই নাটকে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন আশরাফুল ইসলাম এবং সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রেহেনা আরিফ।  পর্যায়ক্রমে উচ্চারণ একাডেমী, বগুড়া মঞ্চায়ন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পলাশ খন্দকার নির্দেশিত নাটক ‘ডাকঘর’।

 এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে সৈয়দ মিসকাতুল মাসাবী, মনোমোহণ রায় মনণ, আফরিনা রহমান রিমি, খন্দকার সাফায়াৎ আনান, নুসরাত জাহান জ্যোতি, মোনালী দে, প্রতীতি রায় শ্রেয়া। বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া মঞ্চায়ন করে প্রদীপ দেওয়ানজী রচিত সাইফুল ইসলাম বুলবুল নির্দেশিত নাটক ‘ইচ্ছে’।

এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে সাদমান সাকিব, ইসতিয়াক হক, আবু আমেব ফয়সাল, তকি তাজওয়ার, সাজিদ ফারুক, সাদমান চৌধুরী প্রিতম, রাহাত মাহমুদ, জয়দ্বীপ কুমার, জারিফ তাহমিদ, মুরতাসীম সারওয়ার অংকুর, পারভেজ মোশাররফ সাহানা।

 এই চারটি স্কুল দলের নাট মঞ্চায়নের পর বগুড়া থিয়েটারের সহ-সভাপতি এড. পলাশ খন্দকারের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি’র সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এড. মাসুদুর রহমান রন্টু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান মিঠু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বগুড়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না।


আলোচনা শেষে আন্তঃজেলা নাট্যোৎসবে পাবনা ড্রামা সার্কেল হাসান শাহরিয়ারের নাট্যরূপ এবং দোলন আজিজ ও মুস্তাফিজ রাসেলের নির্দেশনায় ‘সাইলক এন্ড সিকোফেন্টস’ নাটক মঞ্চায়ন করে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মেহেদী হাসান শাহিন, মুস্তাফিজ রাসেল, বরকতুল্লাহ শিমুল, শিশির ইসলাম, সুমানা নাহার ম্ক্তুা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক হোসেন, সরোয়ার উল্লাস, সৌকত আফরোজ, সিরাজুল পিন্টু, সামসুর নাহার বর্না, শিল্পি, সেতু। আজ একই মঞ্চে আন্তঃস্কুল নাট্যোৎসবে নুনগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  ‘রোগের চিকিৎসা’, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ‘অভিযান’, ফয়েজুল্বা উচ্চ বিদ্যালয় ‘সকলের জন্য ভালোবাসা’ এবং আন্তঃজেলা নাট্যোৎসবে রংপুর নাট্যকেন্দ্র ‘শিখন্ডী কথা’ নাটক মঞ্চস্থ করবে।

বগুড়ায় নাট্যোৎসবে কোলকাতার নাট্যদলসহ তিনদলের নাটক মঞ্চস্থ

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া থিয়েটার, লিটল থিয়েটার ও ভোর হলো বগুড়া’র আয়োজনে আট দিনব্যাপি আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা নাট্যোৎসবের গত শনিবার ছিল দ্বিতীয় দিন। এইদিন শহীদ টিটু মিলনায়তনে নাট্যোৎসবে মোট ৩টি নাটক মঞ্চায়িত হয়। প্রথমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মঞ্চায়ন করে সুরেন্দু মাইতি রচিত ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ নির্দেশিত নাটক “যাদুরতুলী”।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে মন্দ্রিতা, সিয়াম, লিজান, ইমা, প্যারিস, সৈকত, নাকিব, নওরিন, সাদিয়া, মোহিনী, সিলভিয়া, রিয়াদ, মুশফিকা, আনিকা, রায়হানা। ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মঞ্চস্থ করে শৈলেন্দ্রনাথ রায় রচিত সঞ্চয়িতা সরকার বীথি নির্দেশিত নাটক “একদিনের রাজা”। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছে শ্রাবণী, তন্না, আসমানি, আসমাউল, আরবী, সাদিয়া, রাফিন, রূপা, রিদিয়া, সোমা, মোহনা, নাতাশা, অন্যন্যা, ইন্নিকা। আবহ সংগীতে ছিলেন মিঠু দাস। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা।

 আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর এমপি। তিনি বলেন, শিশুদের মননশীলতায় নাটকের অবদান অন্যতম। নাটকের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে শিশুরা জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হবে না এবং বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে। তারা নাট্যচর্চার মাধ্যমে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।

 সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মাশরাফি হিরো, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের নাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বগুড়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া থিয়েটারের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশিদ রাজা।  সবশেষে কোলকাতার রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ূধ মঞ্চায়ন করে নাটক “ছৌ ম্যাকবেথ”। ছৌ ম্যাকবেথ এর নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ছিলেন দানী কর্মকার। নাটক শেষে দলগুলোকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উৎসব স্মারক তুলে দেওয়া হয়।  

একই ফ্রেমে তারা দু’জন

বিনোদন রিপোর্টার : গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর অদূরে সাভারের ফুলবাড়িয়াতে শুরু হয়েছে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ চলচ্চিত্রের কাজ। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন ডিপজল। ডিপজলের স্ত্রীর জ্যোৎ¯œা’র ভূমিকায় অভিনয় করছেন প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী এবং তারই ছোট বোন যমুনা চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিন্হা মিম। এর আগে মৌসুমী ও মিম মোস্তফা কামাল রাজের নির্দেশনায় ‘তারকাঁটা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মৌসুমী ও মিম একই চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।

 মৌসুমী’র মতো গুনী এবং মিশুক প্রকৃতির একজন অনবদ্য নায়িকার সঙ্গে আবারো একসঙ্গে অভিনয় করতে পেরে বেশ উচ্ছসিত ও আনন্দিত বিদ্যা সিনহা মিম। পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর জানান আগামী ১৫দিন পর্যন্ত এই চলচ্চিত্রের শুটিং হবে। তবে কবে নাগাদ চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেয়া হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি তিনি। ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ চলচ্চিত্রের গল্প এই চলচ্চিত্রের প্রযোজক নাদির খানের।

 সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু। আবারো মৌসুমীর সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে বিদ্যা সিন্হা মিম বলেন,‘ মৌসুমী আপুর মতো এমন গুণী শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করতে পারাটা অবশ্যই সৌভাগ্যের এবং অনেক আনন্দেরও বটে। মৌসুমী আপু একজন অভিভাবকেরই মতো। ভালো মন্দের পরামর্শ দেন তিনি একজন অভিভাবক হয়েই। আমি তা নিজের মতো করেই মেনে নিয়ে তা বুঝার চেষ্টা করি। সবচেয়ে বড় কথা তিনি এতো বড় মাপের একজন শিল্পী হয়েও আমার সঙ্গে খুব সাধারণভাবেই মিশেন। এটা আমাকে অনেক বেশি মুগ্ধ করে প্রতিমুহুর্তে। সত্যিই তার আন্তরকিতায় আমি মুগ্ধ। মৌসুমী আপুর সঙ্গে আমি বারবার কাজ করতে চাই।

’ মিম প্রসঙ্গে মৌসুমী বলেন,‘ মিম খুব লক্ষী একটি মেয়ে। বেশ ভালো অভিনয় করে। সবমিলিয়েই চলচ্চিত্রে এখন সে অনেক ভালো করছে। তার জন্য সবসময়ই আমার শুভ কামনা। এই চলচ্চিত্রে সে আমার ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করছে। শুটিং-এর সময় তাই তাকে আমার ছোট বোনই মনে হয়। কারণ মিম সবার যেমন অনেক আদরের, আমারও অনেক ¯েœহের একজন।

 আকবর অনেক যতœ নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন। আশাকরি অনেক ভালো একটি চলচ্চিত্র হবে।’ মৌসুমী এবং মিম দু’জনই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা। নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা’ আকাশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মৌসুমী প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অন্যদিকে প্রয়াত খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত ‘জোনাকীর আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মিম প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। এদিকে মৌসুমী তার নিজের নির্দেশনায় নির্মিত ‘শূণ্য হৃদয়’র কাজ শেষ করেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি মৌসুমী তার স্বামী ওমরসানীর নির্বাচনী প্রচারণা নিয়েও বেশ ব্যস্ত। আগামী ৫ মে অনুষ্ঠিতব্য শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ওমরসানী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

নতুন পাঁচ ধারাবাহিকে ডায়না

অভি মঈনুদ্দীন : মাঝে বেশকিছুদিন অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন নাট্যাভিনেত্রী ডায়না। এই সময়ে এসে নাটকে বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। যে কারণে সংসারের পাশাপাশি অভিনয়ে বেশ সময় দিচ্ছেন তিনি। এরইমধ্যে নতুন পাঁচটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। এরমধ্যে চারটি ধারাবাহিক বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হওয়ার মধ্যদিয়ে দর্শকেরা কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতাও পেয়েছে। ডায়না অভিনীত প্রচার শুরু হওয়া নতুন ধারাবাহিকগুলো হচ্ছে জাহিদ হাসানের ‘ভ্যাগাব-’ ও ‘রাজু ৪২০’, এজাজ মুন্নার ‘আস্থা’ এবং সাগর জাহানের ‘আমাদের হাটখোলা’।

 চারটি ধারাবাহিকে চারটি ভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ে করতে দেখা যাবে । এরমধ্যে কয়েকটি নাটকে ডায়না অভিনীত পর্বের প্রচার শুরু হয়েছে। আবার কিছু নাটকে তার অভিনয়ের পর্ব প্রচারে আসবে শিগগিরই। আবার দেবাশীষ বড়–য়া দীপের ‘আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করচেন তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে। চারজন জন গুণী নির্মাতার পাঁচটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করতে পেরে দারুণ উচ্ছসিত ডায়না। এদিকে আজ ডায়নার জন্মদিন। তবে জন্মদিনকে ঘিরে বিশেষ কোন আয়োজন নেই। স্বামী এবং একমাত্র সন্তান নুহাদকে নিয়েই সময় কাটবে তার আনন্দে। ডায়না বলেন,‘ জন্মদিনের কথা ভাবলেই অনেক ভাবনা চলে আসে। কেবলই মনে হয় যে বয়স হয়ে যাচ্ছে, জীবনের সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।


কিন্তু কিছুই করা হয়ে উঠেনি এখনো। তারপরও অনেক ভালোলাগে, প্রিয় প্রিয় মানুষগুলো মনে করে শুভেচ্ছা জানায়, দোয়া করে। তখন ভাবি আজকের দিনটি শুধুই আমার। এই ভালোলাগা নিয়েইতো আসলে বেঁচে আছি, ভালো আছি। আল্লাহ সবার ভালো করুন। ’ ডায়না অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র খিজির হায়াত খানের ‘জাগো’। এরপর তিনি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘গেরিলা’ এবং সাইফ চন্দনের ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এরইমধ্যে তিনি নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের নির্দেশনায় ‘ভালোবাসা না বাসা’ নাটকের কাজ শেষ করেছেন। ছবি : দীপু খান

মুক্তি পাচ্ছে মিষ্টির ছবি

বিনোদন রিপোর্টার : আগামী ২১ এপ্রিল সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে মিষ্টি জান্নাত অভিনীত ছবি ‘তুই আমার’। এটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা সজল আহমেদ। এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিষ্টি জান্নাত জানান, ‘ছবিটির মুক্তির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে

সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এটি মুক্তি পাবে। এর গল্পটি খুবই আকর্ষণীয়। ভারতসহ দেশের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে এর দৃশ্যায়ন হয়েছে। হ্যাভেন মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ ছবিতে আরো অভিনয় করেছেনÑ সাইমন, আলী রাজ, রেবেকা, বড়দা মিঠু, বিপাশা কবির, তানিন সুবহা, চিকন আলী, সজল প্রমুখ।

বিরতির পর আবার অপূর্ব-নওশীন

অভি মঈনুদ্দীন : ছিলেন তিনি আর জে। কিন্তু আর জে থেকে একসময় অভিনয়েই ব্যস্ত হয়ে উঠেন তিনি। তিনি দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী নওশীন। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নির্মাতাই মনে করেন নওশীন ‘রেডিও আম্বার’-এ সময় দিচ্ছেন বেশি। যে কারণে অনেকেই ভুল করে তাকে অভিনয়ে ডাকেন না। সেই ভুলটাই ভাঙ্গলেন নওশীন। নওশীন অভিনয় করছেন নিয়মিত। মাঝে গত বছর বেশকিছুটা সময় তিনি রেডিওতে একটু বেশি সময় দিয়েছিলেন, এটা সত্যি। কিন্তু এখন আবার তিনি অভিনয়ে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন। শুটিং-এর সিডিউলের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি রেডিওতে সময় দিচ্ছেন। সমন্বয় করেই শেখ সেলিমের নির্দেশনায় ঋড়ৎঃঁহব নাটকের কাজ শেষ করলেন। এতে একবছর পর আবারো জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন অপূর্ব ও নওশীন। গত বছর তারা দু’জন সর্বশেষ একটি খ- নাটকে অভিনয় করেছিলেন। শেখ সেলিমের নির্দেশনায় তারা দু’জন বিরতির পর আবারো একসঙ্গে কাজ করেছেন।

গেলো মঙ্গল ও বুধবার নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে রাজধানীর উত্তরায় একটি শুটিং হাউজে। আবারো নওশীনের সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন,‘ শেখ সেলিমের নির্দেশনায় আবারো আমি আর নওশীন একসঙ্গে কাজ করেছি। নাটকের নামেই আমার চরিত্রের নাম। দেখা যাবে যে আমার মাঝে আতœবিশ্বাস খুব কম। যে কারণে আমার ভাগ্যে উল্টো যাই ঘটেনা কেন আমি মনেকরি এটা আমার দুর্ভাগ্য। নওশীনের সঙ্গে সবসময়ই কাজ বেশ উপভোগ করি। কারণ শুটিং-এর ফাঁকে ফাঁকে দারুণ আড্ডা দেয়া যায়। নাটকটি সবমিলিয়ে বেশ ভালো হয়েছে। আশাকরি ভালোলাগবে দর্শকের। ’ নওশীন বলেন,‘ আমি যখন আর জে তখন অপূর্বই আমাকে নিয়ে একটি নাটকে অভিনয়ের কথা বলেছিলো। সাজ্জাদ সুমনের নির্দেশনায় আমরা প্রথম একসঙ্গে কাজ করি।

ৎএরপর আরো বেশকিছু নাটকে কাজ করেছি আমরা। অপূর্ব সবসময়ই খুব সহযোগিতা করে। আমাদের দু’জনের সম্পর্কটা এমন যে কেউ দেখলেই বুঝবেন আমরা একে অন্যের প্রতি কতোটা আন্তরিক। শেখ সেলিমকে ধন্যবাদ একটি ভালো কাজের সাথে আমাকে সম্পৃক্ত রাখার জন্য।’ আসছে ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারের লক্ষ্যে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। এদিকে এরইমধ্যে অপূর্ব, নাঈম ও মেহজাবিন শেষ করেছেন ‘হারিয়ে যাওয়া ইচ্ছেগুলো’ নাটকের কাজ। এবারই প্রথম তারা তিনজন একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। এছাড়া অপূর্ব ও মেহজাবিন সম্প্রতি সুস্মিতা আনিসের গানে তানিম রহমান অংশুর নির্দেশনায় মডেল হয়েছেন। নওশীন সপ্তাহে তিনদিন ‘রেডিও আম্বার’র সকালের শো ‘এক কাপ চা’ অনুষ্ঠানটি করছেন সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। এছাড়া এই রেডিও চ্যানেলেটির অনুষ্ঠান পরিচালক তিনি। তার অভিনীত নতুন ধারাবাহিক হচ্ছে অসীম গোমেজের ‘উথাল তরঙ্গ’।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইটি নাটক

কথক নাট্য সম্প্রদায় চট্টগ্রাম তাদের ৩৫ বৎসর পূর্তিতে আগামী ২৪-২৫ মার্চ, ২০১৭ জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হল ঢাকায় রবীন্দ্রনাথের দু’টি নাটক ‘শাস্তি’ ও ‘চার অধ্যায়’ মঞ্চায়ন করতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষে ২৪ মার্চ  এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছ্ েউক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জনাব মামুনুর রশীদ এবং  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী।

 সন্ধ্যা সাতটা জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট গল্প অবলম্বনে বিরু মুখোপাধ্যায়ের নাট্য রূপায়নে আহমেদ হায়দার নির্দেশিত নাটক পরিবেশিত হবে ‘শাস্তি’। ২৫ মার্চ ২০১৭ সন্ধ্যা সাতটা জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে শম্ভু মিত্রের নাট্য রূপায়নে বিক্রম চৌধুরীর নির্দেশিত নাটক পরিবেশিত হবে ‘চার অধ্যায়’।

 নাটক শেষে সমাপনি বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল আখতারুজ্জামান। ১৯৮২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে পথচলা শুরু। নিয়মিত নাটক প্রদর্শনী, সেমিনার, কর্মশালা আয়োজন এবং উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারা দেশে নাটক চর্চার ৩৫ বছর অতিক্রম করে ৩৬ বছরে পর্দাপন করেছে।

দশ চলচ্চিত্রে ফেরদৌস…

অভি মঈনুদ্দীন : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ’র হাতে দশটি চলচ্চিত্র রয়েছে। এরমধ্যে আটটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং বাকী দুটি কলকাতার। কিছু চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করেছেন, কিছুর কাজ শেষ করেছেন আবার কিছু চলচ্চিত্র রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। সবমিলিয়ে চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্শকনন্দিত এই নায়ক। এরমধ্যে টানা কয়েকদিন ব্যস্ত ছিলেন একে সোহেল পরিচালিত ‘পবিত্র ভালোবাসা’ এবং মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’ চলচ্চিত্রের শুটিং নিয়ে। আগামী সপ্তাহে আবারো ‘পবিত্র ভালোবাসা’র শুটিং করবেন তিনি।

এতে তার বিপরীতে আছেন মৌসুমী। ‘বিউটি সার্কাস’-এ তার বিপরীতে রয়েছেন জয়া। ফেরদৌস শেষ করেছেন তার প্রযোজনায় দ্বিতীয়বারের মতো নির্মিত আবীর খান ও রাশেদ শামীম পরিচালিত ‘পোষ্টমাস্টার-৭১’ চলচ্চিত্রের কাজ। পাশাপাশি শেষ করেছেন নিঝুম রুবিনার বিপরীতে ‘মেঘকন্যা’ চলচ্চিত্রের কাজ। শিগগিরই ফেরদৌস ডাবিং শেষ করবেন মৌসুমী পরিচালিত ‘শূণ্য হৃদয়’ চলচ্চিত্রের কাজ। আসছে এপ্রিলে আইরিনের বিপরীতে আবারো শুটিং শুরু করতে যাচ্ছেন দ্বিতীয় লটের অরন্য পলাশ পরিচালিত ‘গন্তব্য’ চলচ্চিত্রের। ফেরদৌস’র ভাষ্যমতে মুক্তির মিছিলে আছে তার অভিনীত সাইফুল ইসলাম মান্নু পরিচালিত ‘পুত্র’ এবং আঁকা রেজা গালিব পরিচালিত ‘কালের পুতুল’ চলচ্চিত্র দুটি।

 এছাড়া কলকাতার যে দুটি চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় আছে সে দুটি হচ্ছে ‘সাঁঝের জোনাকি’ ও ‘ওরা রোদ্দুর থেকে সরে এসেছিলো’। ফেরদৌস আহমেদ তার নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো প্রসঙ্গে বলেন,‘ এই মুহুর্তে আমি যে চলচ্চিত্রগুলোর কাজ করছি বা শেষ করেছি সবগুলোই কিন্তু বেশ গল্প প্রধান চলচ্চিত্র। যে কারণে দর্শক আমাকে আমার অভিনীত চরিত্রে যথেষ্ট নুতনত্ব খুঁজে পাবেন। আমি কিন্তু সবসময়ই চলচ্চিত্রে কাজ করেছি আমার সর্বোচ্চ ভালোলাগা থেকে, পেশা হিসেবে নিয়েই কাজ করেছি আন্তরিকতা নিয়ে। যে কারণে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বাইরে কিছু ভাবিনি কখনো।

 তাই আমার অভিনীত প্রতিটি চলচ্চিত্রই আমার কাছে সবসময়ই নতুন একটি পৃথিবী মনে হয়েছে। তাই প্রতিটি চলচ্চিত্র নিয়েই আমি আশাবাদী।’ এদিকে আসছে রোজার ঈদে ফেরদৌস’র প্রযোজনায় আবার নাটক অথবা টেলিফিল্ম নির্মিত হবে এমনই জানালেন তিনি। তবে অভিনয় যে করবেন না তা নিশ্চিত করেছেন। ছোটপর্দার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে জানান তিনি। সেটিও এক্সক্লুসিভ কিছু হবে বলেই জানান তিনি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ফেরদৌস আহমেদ এখন পর্যন্ত সর্বাধিক চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

একদশক পর একই ফ্রেমে

বিনোদন প্রতিবেদক : একদশক আগে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ও বরেণ্য নাট্যাভিনেত্রী রোজী সেলিম। একদশক পর আবারো তারা দু’জন একসঙ্গে অভিনয় করছেন সাজ্জাদ সুমন নির্দেশিত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ছলে বলে কৌশলে’তে। এতে এটিএম শামসুজ্জামান গৃহকর্তার চরিত্রে এবং তারই ঘরের কাজের বুয়ার চরিত্রে অভিনয় করছেন রোজী সেলিম। গল্পে দেখা যাবে নানান কারণে এটিএম শামসুজ্জামান অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে রোজী’র উপর।

 এরইমধ্যে রাজধানীর একটি শুটিং হাউজে নাটকটির দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় এবং রোজী সেলিম প্রসঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামান বলেন,‘ রোজীর সঙ্গে এর আগে আমি একটিমাত্র কাজই করেছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে রোজী খুব বিচক্ষণ একজন অভিনেত্রী। চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে খুব সহজেই অভিনয়ে নিয়ে খেলতে পারে রোজী। তারসঙ্গে আবারো কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি আমি উপলদ্ধি করতে পেরেছি নতুন করে। রোজীর মতো অভিনয় জানা শিল্পীদের নিয়ে ভালো ভালো কাজ করা উচিত।

 সাজ্জাদ সুমনকে আন্তরিক ধন্যবাদ এই নাটকে আমাকে রাখার জন্য, সেইসাথে রোজীকেও রাখার জন্য। সুমনের নির্দেশনায় কাজ করে বেশ ভালোলাগছে।’ রোজী সেলিম বলেন,‘ এমন একজন কিংবদন্তী অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পারটা সবসময়ই সৌভাগ্যের বিষয় বলে আমি মনেকরি। বয়স হয়েছে তার যথেষ্ট। কিন্তু তারপরেও কাজে কোনে অনীহা নেই। সবসময়ই হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করেন। তারসঙ্গে বহুবছর পর কাজ করতে পেরে খুবই ভালোলাগছে। বারবার কেবল ই মনে হচ্ছে যে এটিএম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করছি, গল্প করছি আর আমার নিজেকে আমি আরো সমৃদ্ধ করছি।’

 ‘ছলে বলে কৌশলে’ ধারাবাহিকটি শিগগিরই একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। এদিকে মীর সাব্বিরের নির্দেশনায় এটিএম শামসুজ্জামান আরটিভিতে প্রচার চলতি ধারাবাহিক ‘নোয়াশাল’-এ নিয়মিত অভিনয় করছেন। তার অভিনীথ সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র এসএ হক অলিক পরিচালিত ‘এক পৃথিবী প্রেম’। এদিকে ‘ঢাকা থিয়েটার’ নতুন দুটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করছেন রোজী সেলিম।

 একটি হুমায়ূন কবির হিমু নির্দেশিত ‘আওয়ার কান্ট্রি ইজ গুড’ এবং এহসান নির্দেশিত ‘অরোনাব মৌরী’। এছাড়া শহীদুজ্জামান সেলিম নির্দেশিত রোজী’র একক মঞ্চ নাটক ‘পঞ্চনারী আখ্যান’ নিয়মিত মঞ্চস্থ হচ্ছে। উল্লেখ্য একদশক আগে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নির্দেশনায় এনেছি সূর্যের হাসি’র বিজ্ঞাপনে এটিএম শামসুজ্জামান ও রোজী সেলিম প্রথম একসঙ্গে কাজ করেছিলেন।
ছবি ঃ মোহসীন আহদে কাওছার

ভারতীয় দুই নায়িকার বিপরীতে শাকিব

বিনোদন প্রতিবেদক : ভারতীয় বাংলা ছবির দুুই নায়িকার বিপরীতে এবার অভিনয় করতে যাচ্ছেন দেশিয় ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তিনি অভিনয় করবেন টালিগঞ্জের জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত ও সায়ন্তিকার বিপরীতে। এজন্য মাঝে কয়েক দফা কলকাতায় আসা-যাওয়া করেছেন নায়ক। জানা গেছে, শাকিব খানের হাত ধরেই বাংলাদেশে যৌথ প্রযোজনার কাজ শুরু করছে কলকাতার প্রতিষ্ঠান শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।

 ১৬ মার্চ থেকে শুটিংয়ের শিডিউল দিয়েছেন কিং খান। শুটিং শুরু হবে কলকাতা থেকে। এরপর বাংলাদেশ, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির ভেনিসেও ছবিটির শুটিং হওয়ার কথা রয়েছে। যৌথভাবে এটি প্রযোজনা করছে বাংলাদেশের আরাধনা এন্টারপ্রাইজ ও কলকাতার শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। এদিকে ঢাকাই ছবির নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব যৌথ প্রযোজনার নতুন মিশন শুরু করেছেন ‘শিকারি’ দিয়ে।

 এতে তার নায়িকা ছিলেন কলকাতার শ্রাবন্তী। তাদের অভিনীত এ ছবিটি দুই বাংলাতেই দারুণ ব্যবসা করে। নতুন ছবিতে কাজ করা প্রসঙ্গে শাকিব বলেন, ‘এই ছবির কাহিনিতে নতুনত্ব রয়েছে। আমি আশাবাদী কাজটি ভালো হবে।’ প্রসঙ্গত, নুসরাত কলকাতায় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ‘শত্রু’, ‘খোকা ৪২০’ ও ‘খিলাড়ি’ ছবিতে অভিনয় করে। এছাড়া সায়ন্তিকা আলোচিত হয়েছেন ‘আওয়ারা’, ‘হিরোগিরি’ ও ‘অভিমান’ ছবিগুলোর জন্য। 

সাভারে শেষ হলো ‘চেয়ারম্যান নাট্যোৎসব’

বিনোদন রিপোর্টার : গত ১৩মার্চ রাজধানীর অদূরে সাভারে শেষ হলা ‘চেয়ারম্যান নাট্যোত্সব ২০১৭’। গত ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নাট্যোৎসবের ১৩মার্চ সমাপনী দিনে বিশেষ কিছু আয়োজন করা হয়। সাভারের জাগরণী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠার ২২ বছরপূর্তি উপলক্ষে এই নাট্যোৎ্সব আয়োজন করা হয়।  প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে এনাম মেডিকেল কলেজ মিলনায়তন মঞ্চে একটি করে নাটক মঞ্চায়ন করা হয়ে।

 বাংলাদেশ ও ভারতের ৬টি আলোচিত নাট্য প্রযোজনা নিয়ে নাট্যোত্সবের আয়োজন করা হয়। চেয়ারম্যান নাট্যোত্সবের আহ্বায়ক স্মরণ সাহা বলেন, ‘ সবমিলিয়ে আমাদের নাট্যোত্সব সফল হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যথেষ্ট আন্তরিকতা নিয়ে উত্সবটি করতে। সবার সহযোগিতাও পেয়েছি বলেই সফলভাবে তা শেষ করতে পেরেছি। আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে আশা রাখছি। ’ এদিকে উতসবে প্রতিদিন গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 যারা সম্মাননা পেয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশিদ, লিয়াকত আলী লাকী, গোলামকুদ্দুস, ঝুনা চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, গাজী রাকায়েত, এসএ হক অলিক, এএইচএম নোমান খান, শিলা সাহা, আহম্মেদ গিয়াস, আনন জামান, ঠান্ডু রায়হান, মাহফুজা হিলালী ও দেবাশীষ ঘোষ। উত্সবের প্রথম দিন উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হয় জাগরণী থিয়েটারের নাটক ‘রাজার চিঠি’।

 মাহফুজা হিলালীর রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। এরপর ১০ মার্চ প্রদর্শিত হয় ‘দেবতার বলি’, ১১ মার্চ ‘মায়ানদী’, ১২ মার্চ ‘সিক্রেট অব হিস্টোরি’ ও শেষদিনে প্রদর্শিত হয় ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ নাটকটি।

নিজের কলেজেই গান গাইবেন কর্ণিয়া

বিনোদন প্রতিবেদক : শ্রোতাপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কর্ণিয়ার সঙ্গীত জীবনে এক অন্য রকম অধ্যায়ের শুভ সূচনা হতে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে যে কলেজ থেকে তিনি এইচ এস সি পাস করেছিলেন সেই কলেজেরই প্রতিষ্ঠার একযুগ পদার্পণের বিশেষ পুণঃর্মিলনী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতে যাচ্ছেন তিনি। আসছে ১৮ মার্চ রাজধানীর ফার্মগেট-এ অবস্থিত ‘আইডিয়াল কমার্স কলেজ’র একযুগ পদার্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ধানম-ির উইমেন্স কমপ্লেক্স—এ।

 সেদিন দুপুরে সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন কর্ণিয়া। টানা এক ঘন্টারও বেশি সময় ধরে কর্ণিয়া সেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বলে জানান তিনি। তবে এজন্য তিনি কোন পারিশ্রমিকও নিচ্ছেন না। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে বেশ গর্বিত করেছে। কর্ণিয়া বলেন, ‘সত্যিই খুব ভালোলাগছে যে আমি যে কলেজে থেকে এইচ এস সি পাস করেছি সেই কলেজেরই একযুগ’র অনুষ্ঠানে গান গাইতে পারছি। আমার শিল্পী জীবনের এটি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি কলেজের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল হালিম পাটোয়ারী স্যার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমি বেশ আন্তরিকতার সাথে পালন করছি।

আশাকরি খুব চমৎকার একটি অনুষ্ঠান হবে। ’ এদিকে বর্তমানে স্টেজ শো নিয়েই যতো ব্যস্ততা কর্ণিয়ার। আজ রাজধানীতে একটি কর্পোরেট শোতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। ইউটিউবে দুটি মিউজিক ভিডিও দেখা যায় কর্ণিয়ার। একটি ‘হিরো’ এবং অন্যটি ‘গাঙচিল’। হিরো গানটির সুর-সঙ্গীত করেছেন আরিফিন রুমী এবং গাঙচিল গানটির সুর-সঙ্গীত করেছেন সেতু চৌধুরী।

কর্ণিয়া প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তন্ময় তানসেন পরিচালিত ‘রানআউট’ চলচ্চিত্রে। এরপর তিনি ‘রাঙ্গামন’, ‘স্টোরি অব সামারা’সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। উল্লেখ্য কর্ণিয়া’র কলেজের অনুষ্ঠানে কর্ণিয়ার পর সঙ্গীত পরিবেশন করবেন আঁখি আলমগীর। আর তাই এই নিয়েও উচ্ছসিত কর্ণিয়া।



Go Top