রাত ১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন

বিনোদন রিপোর্টার : বাংলা গানের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, স্বরলিপিকার ও নজরুল গবেষক সুধীন দাশ আর নেই। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি  দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন ধরে তার হজমে সমস্যা হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে নেয়া  হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর শেষ রক্ষা হলো না। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, ‘তার সর্বশেষ জন্মদিনে পরপর দুদিন তার পাশে থেকেই জন্মদিনটি উদ্যাপন করেছি। সে সময় ভাবিনি যে তারসঙ্গে এটাই হবে শেষ দেখা।

 

 তার চলে যাওয়ায় মনটা ভীষণ খারাপ। তিনি আমার ওস্তাদ। কতো যে স্মৃতি আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে বারবার। আমরা সত্যিই অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ছি। গুণী গুণী ব্যক্তিত্বরা একে একে চলে যাচ্ছেন। কাউকেই ধরে রাখতে পারছি না। তার আতœার শান্তি কামনা করছি।’ বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক বলেন,‘ কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে শ্রোতার কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বরলিপি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন। সুরগুরো হারিয়েই যাচ্ছিলো।

 

কিন্তু যে সময়টাতে হারিয়ে যাচ্ছিলো সেই সময়টাতে সুধীন দা একা হাতে এই কাজটি করেছেন নিবিষ্ট মনে। এই স্বরলিপির জন্য তিনি নিজেকে বিলীনই করে দিয়েছেন। তার প্রতি আমরা সত্যিই অশেষ কৃতজ্ঞ। আরেকটি কথা না বললেই নয় কাজী নজরুল ইসলামকে তার যোগ্য আসন ফিরিয়ে দেবার পেছনে সুধীন দাস ইতিহাসে এক স্মরণময় অধ্যায় রেখে গেছেন শুদ্ধ স্বরলিপিকার হিসেবে। তিনি চলে গেছেন, আজ তাকে ঘিরে অনেক ঘটনা মনে পড়ছে। তিনি তার শান্তির জায়গা চলেগেছেন। তিনি যেন চিরকাল শান্তিতে থাকেন-এই আমার প্রার্থনা।


  মৃত্যুকালে হাসপাতালেই সুধীন দাসের পাশে ছিলেন তারই ছাত্রী বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। সুধীন দাসের হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনামাত্রই তিনি চলে যান গুরুজিকে দেখতে। সুধীন দাসের চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। ফেরদৌস আরা বলেন, ‘বাংলা গানে বিশেষত স্বরলিপিকার এবং নজরুল গবেষক হিসেবে তার যে অবদান তা অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। ওস্তাদ জি’র আশীবার্দ পেয়েছি আমি এ যে আমার জন্য পরম পাওয়া। তার শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সবসময় গর্বিত। তার প্রয়াণে একজন সত্যিকারের সঙ্গীতপ্রেমী গুণীজন হারালো বাংলাদেশ, বাংলা গানপ্রেমী শ্রোতা। আমি তার আতœার শান্তি কামনা করছি।’ সুধীন দাসের একমাত্র ছেলে নিলয় ছিলেন একজন প্রখ্যাত গিটারিস্ট।

 বেশ কয়েকবছর আগে তিনি পরলোকগমন করেন। তারই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। সুধীন দাসের সর্বশেষ জন্মদিনে চ্যানেল আইতে এবং সুধীন দাসের বাসাতে গিয়েছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। পরপর দু’দিন সময় দিয়েছিলেন সুধীন দাসকে। নিলয়ের অভাব যেন না বুঝতে পারেন সে কারণেই জন্মদিনে পাশে ছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। কিন্তু তার হঠাৎ মৃত্যুর খবর শুনে নিশ্চুপ হয়েগেছেন তিনি। আইয়ূব বাচ্চু বলেন, ‘যখন খবরটা শুনেছি তখনই আমার যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমি আমার নিজের বাবাকে নিয়েই একটু বেশি ব্যস্ত ছিলাম। ভাবছিলাম যে সব কাজ শেষ করে হাসপাতালে যাবো। কিন্তু যেতে যেতে দেরীই হয়ে যাচ্ছিলো। মনটাকেও মানাতে পারছিলাম না। হঠাৎ শুনলাম কাকু আর নেই। সবকিছু এলোমেলো হয়েগলো মুহুর্তে। মানুষ এভাবেই চলে যায়।

 কিন্তু এই চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয়। মাত্র কয়েকদিন আগের স্মৃতি, জন্মদিনের স্মৃতি চোখে ভাসছে। নিলয়ের করা গানের সিডি আমার হাতে দিয়ে বলেছিলেন এটা যেন বাজারে প্রকাশ করি। হয়তো নিলয়ের সিডি বাজারে আসবে। কিন্তু কাকু দেখে যেতে পারলেন না। এই আফসোস রয়ে যাবে সারাটা জীবন আমার। কাকুর আতœার শান্তি কামনা করছি।’ সঙ্গীতশিল্পী মেহরীন সুধীন দাসের ছাত্রী। মেহরীন বলেন,‘ সর্বশেষ জন্মদিনে আমার নানান ব্যস্ততার কারণে ওস্তাদ জি’কে শুভেচ্ছা জানাতে যেতে পারিনি। ভাবছিলাম শিগগিরই মিরপুরে তার বাসায় যাবো। কিন্তু যাবার আগেই ওস্তাদ জি চলে গেলেন। কী যে অপরাধ বোধ কাজ করছেন নিজের ভেতর বলে বুঝাতে পারবোনা।

 শেষ দেখাটা হলো না তারসঙ্গে। মনের গহীন কোনে তার জন্য সারাটা জীবন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকবে। তিনি নেই, এটা সত্যি, কিন্তু তিনি থাকবেন আমার স্মরণে, কর্মে আর পথচলায়।’ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সংগীত গবেষক  সুধীন দাশ তাঁর জীবনের পুরোটা সময় দিয়ে গেছেন গানের পেছনে। সুর করেছেন, সংগীত পরিচালনা করেছেন সংগীত নিয়ে গবেষণার কাজটিও করে গেছেন তিনি।  লালনগীতির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। সঙ্গীত সাধনার পাশাপাশি তার বহুমুখী কর্ম দিয়ে এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। গেলো ৩০ এপ্রিল বরেণ্য এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ৮৭ বছরে পা রেখেছিলেন। কুমিল্লা শহরের তালপুকুরপাড়ের বাগিচাগাঁওয়ে জন্মেছিলেন সুধীন দাস। সেটা ১৯৩০ সালের কথা।

 তিন বোন আর ছয় ভাইয়ের পর মায়ের কোলজুড়ে এসেছিলেন তিনি। বাবা নিশিকান্ত দাশ ও মা হেমপ্রভা দাশের আদর-স্নেহের বড় একটা অংশই তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল। বড় ভাইবোনদের আদরও কম পাননি। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজে। কলেজের চৌহদ্দি পেরোলে আসে বিএ পরীক্ষার ডাক। তবে তত দিনে পড়াশুনার চেয়ে অন্য বিষয়ে বেশি মন দিয়েছেন তিনি। এ সময় দাবা খেলাটাও প্রায় নেশার মতো হয়ে গিয়েছিল।

 

তাই পরীক্ষাটা আর দেওয়া হলো না শেষমেশ! ছেলেবেলা থেকে চঞ্চল প্রকৃতির হলেও গানের ব্যাপারে দারুণ আগ্রহ ছিল। সংগীতের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করেছিলেন তারই দাদা সুরেন দাশ। তিননিই সুধীন দাশের প্রথম গানের গুরু। পাকিস্তান বেতারে ১৯৪৮ সালের ৮ মার্চ দুটি গান গাওয়ার মধ্যদিয়ে বেতারে সুধীন দাশের গান গাওয়া শুরু।  ১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুলের গান আলাদাভাবে মর্যাদা পেল ‘নজরুলগীতি’ হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যায় নজরুলগীতি। তবে সর্বনাশের শুরুটাও সেখান থেকেই। বারোটা বেজে যায় নজরুলের গানের কথা ও সুরের।

 যাঁরা জীবনেও নজরুলের গান করেননি, তাঁরাও নজরুলগীতি গাইতে শুরু করলেন জনপ্রিয়তার মোহে। নজরুল অসুস্থ থাকাকালীন তাঁর গানের প্রচার-প্রসার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নজরুলসংগীতের অন্ধকার সময় বলা যায় সে সময়টাকে। ছেলেবেলা থেকে নজরুলের গানের আদি গ্রামোফোন রেকর্ড শুনে শুনে নজরুলসংগীত আত্মস্থ করেছিলেন সুধীন দাশ। নজরুলের গানের আদি ও অকৃত্রিম রূপটা ভালো করেই জানতেন।

 

স্বভাবতই ভুলে ভরা স্বরলিপি দেখে আঁতকে ওঠেন তিনি। প্রতিবাদের ভাষা খুঁজতে থাকেন মনে মনে। তাই সুধীন দাশ নেমে পড়েন নজরুলের গানের আদি রেকর্ড সংগ্রহের কাজে। সংগৃহীত রেকর্ডের সঙ্গে স্বরলিপি মেলাতেই দেখেন, প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট শক্তপ্রমাণ তাঁর হাতে। কিন্তু নানান ঘটনার পর ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫টি স্বরলিপি নিয়ে নজরুল সুরলিপির প্রথম খন্ডটি প্রকাশ করে নজরুল একাডেমি।


স্বরলিপির অকৃত্রিমতা প্রমাণের জন্য গ্রামোফোনের আদি রেকর্ডগুলোর লেবেলে লেখা নম্বর, শিল্পীর নাম, নজরুলের কিছু কিছু গান অন্য সুরকারেরাও করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নাম এবং গ্রামোফোন কোম্পানির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল তাতে। শুদ্ধ স্বরলিপি প্রকাশের পরপরই সুধীন দাশকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় চারপাশে। সুধীন দাশ’র ছেলে নিলয়ও খুব ভালো গিটার বাজাতেন। গান শিখেছিলেন তিনি বাবার কাছেই।

 

নিজেই লিখতেন, সুর করতেন। একটা অ্যালবামও বেরিয়েছিল। ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। সুধীন দাশের স্ত্রী নীলিমা দাশ, মেয়ে মিতু সুপর্ণা। মেয়ে রবীন্দ্র্রসংগীত শিল্পী। মিতুর দুই সন্তান, মেয়ে পারসা মাহমুদ ও ছেলে আবিত।  সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নেয়া হবে নজরুল ইন্সটিটিউটে এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ১১টায় রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে পোস্তগোলা শ্মশানে।

চলে গেলেন নজমুল হুদা বাচ্চু

অভি মঈনুদ্দীন: চলে গেলেন বরেণ্য অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পী নজমুল হুদা বাচ্চু। গতকাল বুধবার ভোর চারটা ১৪ মিনিটে তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন.ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো। বাসায় হার্টঅ্যাটাক হলে তাকে বাসার নিকটস্থ হাসপাতাল স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেন তার ছোট মেয়ে সাদিয়া নাজ। আগামী ১১ জুলাইকে ঘিরে বাচ্চুর ছিলো নানান পরিকল্পনা। কারণ সেদিন তিনি আশিতে পা রাখার কথা। কিন্তু তার আগেই তিনি চলে গেলেন পরপারে। গতকাল ২৮ জুন বাদ যোহর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।


 নজমুল হুদা বাচ্চু, চলচ্চিত্র এবং নাটকের কিংবদন্তী অভিনেতা হিসেবেই তার পরিচিতি। কিন্তু এর বাইরেও তিনি একজন সঙ্গীত শিল্পী এবং সঙ্গীত পরিচালকও ছিলে । জীবনের শুরুটাই তার সঙ্গীত দিয়ে। অথচ সঙ্গীত শিল্পী না হয়ে তিনি হলেন অভিনেতা। নজমুল হুদা বাচ্চু’র মতো মতো একজন গুণী শিল্পী অভিনয় করতে করতে দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে পরিণত করেছিলেন একজন কিংবদন্তীতে। ছোটবেলা থেকেই তার গানের প্রতি ছিলো এক অন্যরকম ভালোলাগা। আর তাই ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবার সঙ্গে সঙ্গে গানেও নিজেকে গড়ে তুলেন। তবে গানের চেয়ে তখন তিনি বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেন অভিনয়ে। এসএম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন তিনি। হলের নাটকের নির্দেশনা দেবার পাশাপাশি তিনি অভিনয়ও করতেন।


 ‘ডাকসু’রও অনেক নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ছাত্র জীবনেই বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রয়াত প্রযোজক মনিরুল আলমের প্রযোজনায় একটি নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে টিভি নাটকে তার অভিষেক ঘটে। এ নাটকে তার সহশিল্পী ছিলেন সৈয়দ আহসান আলী সিডনী (অভিনেতা জিতু আহসানের বাবা) ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে শুরুর দিকে দেশ স্বাধীনের আগে যে নাটকে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি সেটি হচ্ছে আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘চাচা-ভাতিজা’।

এতে চাচা চরিত্রে বাচ্চু এবং ভাতিজা চরিত্রে টেলিসামাদ অভিনয় করেছিলেন। এরপর থেকে আজ অবধি বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রে নজমুল হুদা বাচ্চুর অভিষেক ঘটে একজন প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে। ১৯৬১ সালে মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে প্রয়াত রবিন ঘোষের সুর সঙ্গীতে  ‘অভিমান করোনা’ গানটিতে প্রথম কন্ঠ দেন।

 এরপর তিনি ‘জোয়ার এলো’, ‘চান্দা’ , ‘ফির মিলিঙ্গে হাম দোনো’, ‘কার পাপে’সহ বহু চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেন। বাবুল চৌধুরীর নির্দেশনায় তিনি প্রথম ‘আকাঁবাঁকা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। নজমুল হুদা বাচ্চু বলেন,‘ আঁকাবাঁকা চলচ্চিত্রে আলতাফ মাহমুদের সুর সঙ্গীতে আমি একটি প্লে-ব্যাক করি। এতে তিনি আমারই গানে লিপসিং করতে বলেন। তার জোরাজুরিতেই আসলে অভিনয়ে আসা আমার।

 

তা না হলে হয়তো অভিনেতা বাচ্চুর এভাবে অভিনয়ে আসা হতোনা।’ এরপর ‘অচেনা অতিথি’,‘ সারেং বউ’, ‘সখি তুমি কার’, ‘‘জীবন মৃত্যু’, ‘স্বামী’, ‘গাংচিল’, ‘ভালো মানুষ’, ‘বাজিমাত’, ‘মাটির মায়া’, ‘কী যে করি’, ‘ঘর জামাই’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’,‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘দুই বেয়াইয়ের কীর্তি’, ‘দড়িয়া পাড়ের দৌলতী’, ‘রানওয়ে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সর্বশেষ তিনি তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স পড়াশুনাকালীন সময়েই তিনি বেতারের তালিকাভুক্ত কন্ঠশিল্পী হন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি গানের সাএথ সম্পৃক্ত। বেতারে এখনো তিনি সরাসরি গান করেন।


 ‘লালন ফকির’র নাটক’সহ অনেক নাটকের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রয়াত নায়ক বুলবুল আহমেদ বাচ্চু’র আপন ফুফাতে ভাই। বুলবুল অভিনীত প্রথম নাটক ‘উল্কা’র নির্দেশক ছিলেন বাচ্চু। নাজমুল হুমদা বাচ্চুর বাবা শামসুল হুদা ও মা আনোয়ারা হুদা। ১৯৩৮ সালের ১১ জুলাই বাচ্চুর জন্ম। সেই হিসেবে ৭৮ বছর চলছে তার। ১৯৬৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি লিনা’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার তিনি মেয়ে সানিয়া নাজ, সায়কা নাজ ও সাদিয়া নাজ। বড় মেয়ে সানিয়া’ও গান করেন। মাগুড়া বাচ্চুর গ্রামের বাড়ি হলেও সেখানে একেবারেই যাওয়া হয়না।

 এই মুহুর্তে নজমুল হুদা বাচ্চু জাহানারা আহমেদ’র রচনায় ‘ছোবল’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছিলে নিয়মিত বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে। আমাদের দেশে নজমুল হুদা বাচ্চু’র মতো গুণী শিল্পীদের কদর হয়না। তাদের ভাগ্যে জুটেনা জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা। কারণ তারা যে পুরস্কারের আশায় পথ চেয়ে বসে থাকেননি। তারা ভালোবেসে কাজ করে গেছেন। হয়তো অর্থ পেয়েছেন এর বিনিময়ে।

কিন্তু দর্শকের ভালোবাসাটাই জীবনের পথ চলার পাথেয় হিসেবে মনে গেঁথে নিয়েছিলেন। দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই বাচ্চু শেষ খেয়ায় পা রাখতে চান। নজমুল হুদা বাচ্চু সর্বশেষ তানভীর হোসেন প্রবালের নির্দেশনায় গত বিজয় দিবসে ‘সাদায় লাল রঙ’ নাটকে অভিনয় করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বেশকিছুদিন যাবত তিনি ঘরেই সময় কাটাচ্ছিলেন।

 

যৌনপল্লীর নাচনেওয়ালি টয়া!

বিনোদন প্রতিবেদক :  অভিনয়ের স্বার্থে কত কিছুই না করতে হয় একজন জাত অভিনেত্রীকে। ছোট পর্দার উঠতি অভিনেত্রী টয়াকে তেমনই এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়েই যেতে হলো সম্প্রতি। এবং সেটি গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে! সম্প্রতি যেখানে তিনি টানা তিন দিন কাটিয়েছেন, সেখানকারই অন্যতম একজন হয়ে। অবশ্যই সেটি বিশেষ একটি কাজের স্বার্থে।

 আর সেটি হলো আসছে ঈদের বিশেষ ওয়েব সিরিজ ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’। তপুর রচনা ও পরিচালনায় এই ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ হলো সিএমভি’র ব্যানারে মোশনরকের কারিগরি সহযোগিতায়। এই ওয়েব সিরজে টয়াকে দেখা যাবে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর জনপ্রিয় (ডিমান্ডিং) একজনের চরিত্রে। চিত্রনাট্যের দাবিতে যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করা ছাড়াও এতে টয়া রাতভর নেচেছেন সেখানকার প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সামনে।

 যেটাকে তিনি তার অভিনয় জীবনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বলে অভিহিত করছেন। তার ভাষায়, ‘আমার চরিত্রটি হলো সেই ব্রোথেলের অনেক ডিমান্ডিং একজন যৌনকর্মীর চরিত্র। ফলে প্রথম দিন চরিত্রটি নিয়ে কাজ করতে বেশ বিব্রত লাগছিলো। মানের তাদের এক্সপ্রেশন রপ্ত করা বেশ কঠিন ছিলো আমার জন্য। তবে তারচেয়েও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হলো সেই এলাকার শত শত মানুষের সামনে রাতভর নাচতে গিয়ে।

’ নাচ প্রসঙ্গে টয়া আরও বলেন, ‘সেদিন রাতে দৌলতদিয়ার অসংখ্য মানুষের সামনে একটু খোলামেলা পোশাকে অমন আইটেম নাচ নাচতে গিয়ে জীবনটাকে নতুন করে দেখেছি। সেখানে যারা আমার নাচ দেখেছেন তাদের বেশিরভাগই মনে করেছেন আমি সত্যি সত্যি সেই ব্রোথেলেরই একজন! তাই নাচের ফাঁকে দর্শকদের নানা বাজে কমেন্টও আমাকে শুনতে হয়েছে। সত্যি এটা আমার জীবনের লাইফটাইম এবং ভয়ংকর এক্সপেরিয়েন্স।’ নির্মাতা তপু জানান, ওয়েব সিরিজটি ঈদের দিন থেকে টানা সাত দিনে সাত পর্ব মুক্তি পাবে যৌথভাবে সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেল ও রবিস্ক্রিনে, প্রতিদিন রাত ৯টায়।

জয়কে নিয়ে ঈদ অন্যরকম হবে-অপু বিশ্বাস

বগুড়ার গর্ব ও বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাসকে দীর্ঘদিন পর নতুন চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। এবারের ঈদে তার অভিনীত ‘রাজনীতি’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাচ্ছে। নিজের সন্তান জয়ের সঙ্গে ঈদ। সবমিলিয়ে এবারের ঈদ যেন তার জীবনের স্মরণীয় ঈদ। কথা বলেছেন মাদিহা মাহনূর।
কেমন আছেন সবমিলিয়ে?
খুব ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। একমাত্র সন্তান জয়কে নিয়ে বেশ ভালো আছি। আমার পক্ষ থেবে বগুড়া’সহ দেশবাসীকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা।
দীর্ঘদিন পর ঈদে শাকিব-অপু জুটির চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি নিয়ে কতটা আশাবাদী আপনি?
প্রায় বছরখানেক চলচ্চিত্রটির শুটিং থেকে বাইরে থাকলেও আমার চলচ্চিত্র কিন্তু নিয়মিতই মুক্তি পাচ্ছে। গত বছরের ঈদেও আমার আর শাকিব জুটির চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। এবারের ঈদেও মুক্তি পাচ্ছে। তাই আমাদের চলচ্চিত্র কিন্তু দর্শকরা দীর্ঘদিন পর দেখছেন না। তবে যেহেতু আগে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই চলচ্চিত্র মুক্তি পেত সেটা নেই। ‘রাজনীতি’ নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী।
ঈদে শাকিব খানের ‘নবাব’ ও ‘রংবাজ’ এবং কলকাতার জিৎ অভিনীত একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রাজনীতি কতটা সফলতা পাবে?
যতদূর জানি ঈদে মুক্তির জন্য চারটি চলচ্চিত্র নিশ্চিত করা হয়েছে। অথচ এমন ঈদ গেছে যে ঈদে ছয় থেকে সাতটি চলচ্চিত্রও মুক্তি পেয়েছে। চলচ্চিত্রের গল্প ভালো এবং অ্যারেঞ্জমেন্ট ঠিক থাকলে দর্শক টানবেই।
দর্শক রাজনীতি কেন দেখবেন?
চলচ্চিত্রটি অনেক কারণেই দর্শকরা দেখবেন। এর অন্যতম হচ্ছে এটি তরুণ নির্মাতা বুলবুল বিশ্বাসের একেবারে মৌলিক গল্পের চলচ্চিত্র। এতে আমাকে ও শাকিবকে ব্যতিক্রমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে এ ধরনের চরিত্রে আমাদের কখনও দেখা যায়নি। ‘রাজনীতি’ এখানকার মানুষদের বানানো চলচ্চিত্র। একেবারে খাঁটি বাংলাদেশি সিনেমা।
প্রস্তাব এলে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে কাজ করবেন কী?
আমার স্বামী শাকিব খান যৌথ পপ্রযাজনার চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তার অভিনীত ‘শিকারি’ চলচ্চিত্রটি বেশ ব্যবসাও করেছে। এবার ঈদেও তার অভিনীত যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র রয়েছে। আমার জানা মতে শাকিব খান অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলো নিয়ম মেনেই হচ্ছে। এরকম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এলে আমিও অভিনয় করব।
সম্প্রতি চিত্রনায়ক রিয়াজের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জুটি হয়েছেন…
হুম। রিয়াজ ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এবার দুই বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানির সব প্লাস্টিক পণ্য, স্টোভ এবং কিচেন সিংক-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে তার সঙ্গে বিজ্ঞাপনে জুটি হচ্ছি। ঈদের পর বিজ্ঞাপনগুলোর শুটিং শুরু হবে।
ঈদ কোথায় করছেন?
এবারের ঈদটা আমার জন্য অন্যরকম। কারণ আমার জয়কে নিয়ে এবারের ঈদ পালন করছি। ঈদে ঢাকাতেই থাকছি।

ঈদেই আসছেন নূসরাত ফারিয়া

এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে নূসরাত ফারিয়া অভিনীত। এদেশের নায়ক আরিফিন শুভ এবং কলকাতার নায়ক জিৎ, অঙ্কুশ, ওমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রিয় নায়কের তালিকায় নূসরাত ফারিয়া বাংলাদেশের আরিফিন শুভকেই রেখেছেন তিনি। কারণ তার অভিনয়ই সবচেয়ে বেশি ভালোলাগে এবং তারসঙ্গেই স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন ফারিয়া। বাংলাদেশের এই সময়ের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে এখনো অভিনয়ের সুযোগ হয়নি। তাই তাকে নিয়ে আপাতত কিছু বলতেও চাচ্ছেন না ফারিয়া। তবে চলচ্চিত্রের নায়িকা হয়েও ফারিয়ার ভালোলাগে ছোটপর্দার নূসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয়। তিশার অভিনয় থেকে নিজেও অভিনয়ের অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণাও নিয়েছেন ফারিয়া।

 আর তাই দিনদিন ক্যামেরার সামনে থেকে থেকে, সবার সহযোগিতায় নূসরাত ফারিয়া হয়ে উঠেছেন এই সময়ের নির্ভরযোগ্য একজন নায়িকা। নামের আগে বিশেষণ হিসেবে আগে যোগ হতো উপস্থাপিকা, মডেল। কিন্তু এখন যোগ হয় চিত্রনায়িকা। বিষয়টি আপনার কাছে কেমন লাগে? এমন প্রশ্নের জবাবে নূসরাত ফারিয়া বলেন,‘ অবশ্যই ভালোলাগে। আমি এখানে বিশেষভাবে বলতে চাই যারা ছোটপর্দায় কাজ করেন তাদের প্রায় সবারই কিন্তু স্বপ্ন থাকে চলচ্চিত্রে কাজ করার। আমারও স্বপ্ন ছিলো। কারণ চলচ্চিত্র অনেক বড় একটি মাধ্যমে, বিশাল ক্যানভাসের মাধ্যম। এই মাধ্যমে কাজ করতে পারটাও সৌভাগ্যের বিষয়। তাই আমি চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে কাজ করছি, এটা যেমন আমাকে গর্বিত করে প্রতিমুহুর্তে ঠিক তেমনি আমার নামের আগে যদি চিত্রনায়িকা বিশেষণটি যোগ করা হয় সেটাও আমার কাছে অনেক আনন্দের। ’ আপনিতো কলকাতা এবং বাংলাদেশ দু’দেশেই শুটিং করছেন প্রতিনিয়ত।

কোন দেশের ইউনিটে আন্তরিকতা বেশি পান? ‘অবশ্যই বাংলাদেশে যখন কাজ করি তখন মনে হয় নিজের ঘরেই কাজ করছি। কারণ ইউনিটের সবাই আমাকে এতো আদর করেন যে শুটিং চলাকালীন সময়ে আমার একটুও খারাপ লাগে না, কষ্টও হয়না। তবে এটাও সত্য যখন কলকাতায় শুটিং করি তারাও অনেক আন্তরিক থাকেন। ’ আগামী ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে নূসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘বস-টু’ চলচ্চিত্রটি। এতে তার বিপরীতে আছেন জিৎ। চলচ্চিত্রটি নিয়ে নূসরাত ফারিয়া বলেন,‘ বস-টু চলচ্চিত্রে আমি আয়েশা চরিত্রে অভিনয় করেছি। আয়েশা একজন প্রতিশোধ পরায়ন মেয়ে। চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। যে কারণে অনেক মনোযোগ দিয়ে কাজটি আমাকে করতে হয়েছে। যদিও এরমধ্যে একটি গানের কারণে আমাকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও বলবো সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখলে দর্শকের ভালোলাগবে। ’ নূসরাত ফারিয়া অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ধেৎতিরিকি’।

  এর আগে জিৎ-এর বিপরীতে ‘বাদশা’ চলচ্চিত্রে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছিলেন নূসরাত ফারিয়া। এই নিয়ে দ্বিতীবারের মতো তাকে দেখা যাবে জিৎ-এর বিপরীতে। কুমিল্লার মেয়ে নূসরাত ফারিয়ার পারিবারিক নাম সেতু। শুধু পরিবারের সদস্যরাই তাকে এই নামে ডাকেন। নিজের পারিবারিক নাম নিয়েও বেশ গর্বিত এই নায়িকা। কারণ সেতু হচ্ছে বন্ধন সৃষ্টি করা। নূসরাত ফারিয়া মানুষের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টিরই কাজটি করে থাকেন। মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে বিশ্বাসী তিনি। আর তাই যে মানুষটির সঙ্গে তিনি আজ পরিচিত হন, তাকে তার পরবর্তী জীবনেও তার পাশে চান। স্কুল জীবনে একজন বিতার্কিক হিসেবে বেশ সুনাম ছিলো নূসরাত ফারিয়ার। ২০১০ এবং ২০১২ সালে বিটিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগতিায় চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।

 এরপরই তিনি কাজী চপলের সহযোগিতায় ‘মোহনা’ টিভির ‘শিবানীজ এ্যারোমা পরমা’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা শুরু করেন। তারপর একে একে দেশের বেশ কয়েকটি প্রথমসারির স্যাটেলাইট চ্যানেলে উপস্থাপনা করেন তিনি। শুরু থেকেই তার নান্দনিক উপস্থাপনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুধু চ্যানেলই নয় বিশেষ বিশেষ দিবসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নূসরাত ফারিয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন। আর এভাবেই ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একজন উপস্থাপক হিসেবে নূসরাত ফারিয়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবেও তিনি খুব অল্প সময়ে চলে আসেন আলোচনায়। সর্বশেষ তিনি গত বছর পিপলু আর খানের নির্দেশনায় ‘হুয়াই’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন।


তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো অশোকপতি নির্দেশিত ‘আশিকি’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন ওপার বাংলার অঙ্কুশ। এরপর তিনি অভিনয় করেন সৈকত নাসিরের ‘হিরো ৪২০’ এবং বাবা জাদবের ‘বাদশা’ চলচ্চিত্রে। ১৯৯৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া নূসরাত ফারিয়ার পরিবার তার চলচ্চিত্রে কাজ করাটাকে সমর্থন দিলেও তার পড়াশুনা এবং শৃঙ্খলিত জীবন যাপনের প্রতিই তাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেন। নূসরাত ফারিয়াও পরিবারের বাইরে গিয়ে কিছু করার আগ্রহও প্রকাশ করেননি কখনো। কারণ পরিবার স্বাধীনতা দিয়েছে বলেই তিনি অনায়াসে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

করতোয়ার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় রঞ্জিত মল্লিক

জানা যায় ২৪ জুলাই ১৯৮০ সালে কলকাতার মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর পুরো কলকাতার চলচ্চিত্রাঙ্গনে ভীষণ এক শূণ্যতার সৃষ্টি হয়। সাধারণ দর্শক হল বিমুখ হয়ে পড়েন। যে নায়ক সেই হলবিমুখ দর্শককে আবার হলমুখী করেছিলেন তিনিই রঞ্জিত মল্লিক। উত্তম কুমারের মৃত্যুর চার বছর পর ১৯৮৪ সালের শেষের দিকে মুক্তি পায় রঞ্জিত মল্লিক অভিনীত শান্তি ফিল্মস কর্পোরেশনের দ্বিতীয় সিনেমা অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত ‘শত্রু’ চলচ্চিত্রটি। এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য এবং এতে রঞ্জিত মল্লিকের অভিনয় দর্শককে এতোটাই মুগ্ধ করে যে এই চলচ্চিত্র দেখতে সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা আবারো হলমুখী হন।

কলকাতার আপামর দর্শক তখন রঞ্জিতের মাঝেই নতুন করে ভালোলাগা খুঁজে পান। তবে এটাও সত্যি সে দর্শক মহানায়ককেও ভুলে যাননি। তারা তাদের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার সর্বোচ্চ আসনে রেখেছেন উত্তম কুমার নামক মহানায়ককে। আর যদি তাই না হতো তাহলো মৃত্যুর ৩৬ বছর পরও তার জন্মদিনে কলকাতায় এতো বিরাট আয়োজনের মধ্যদিয়ে উত্তম কুমারের জন্মদিন উদ্যাপিত হতো না। রঞ্জিত মল্লিকও উত্তম কুমারকে নিজের দাদার মতোই মনে করতেন।

 এই মহানায়কের সঙ্গে তিনি পাঁচটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ‘করতোয়া’র পক্ষ থেকে আমি এবং আলোকচিত্রী মোহসীন আহমেদ কাওছার যখন রঞ্জিত মল্লিকের বাসায় প্রবেশ করি। তখন বিকেল ৫.৩৫ মিনিট। দিনের আলো প্রায় যাই যাই করছে। তাই রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই তার রাজপ্রাসাদের মাঠে চলে যাই ছবি তোলার জন্য। শুরুতেই তিনি কথা বলতে চাইলেও সহাস্যে ছবিটাই আগে তুলে নিলেন তিনি। অফ হোয়াইট পাঞ্জাবীতে সেই রঞ্জিত মল্লিককে যেন এখনো তরুণ বয়সের নায়কই মনে হচ্ছিলো।

মনে মনে ভাবছিলাম আমি, তার অভিনীত কতো শত ছবিই না দেখেছি আমি-এর কী কোন হিসেব আছে। সেই মানুষটির আশে পাশেই আছি আমি। হয়তো একদিন এই সময় চলে যাবে, সময়টাই স্মৃতি হয়ে রয়ে যাবে। ভাবতে ভাবতেই মোহসীনের ছবি তোলা শেষ। এবার তারসঙ্গে কিছু কথা বলার পালা। কলকাতায় রঞ্জিত মল্লিকের কাছে যাচ্ছি , একথা আগে থেকেই জানতেন আমার খুব ঘনিষ্ঠজন ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। শুরুতেই তার প্রণাম এবং শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে কথা শুরু করি।


চার দশকেরও বেশি সময় যাবত আপনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। এখনো নিশ্চয়ই দর্শকের কাছ থেকে নিজের অভিনীত সিনেমার জন্য সাড়া পান?এটা বলতে পারেন আমার সৌভাগ্য যে দর্শক এখনো আমার অভিনীত চলচ্চিত্র হলে গিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের মতো আমাদের এখানেও কিন্তু হলের সংখ্যা কমেগেছে। সিলভার স্ক্রিন বলতে গেলেস নেই-ই।

সারা বিশ্বেই আসলে সিনেমা হল সংকটে পড়েছে সিনেমা ব্যবসা। কারণ সবার হাতের মুঠোয় এখন বিশ্ব। সেই হিসেবে আমাদের কলকাতায় এখনো দর্শক হলমুখী হচ্ছেন। চেষ্টা করেন দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করার। আমাকেও আমার অভিনীত চলচ্চিত্র মুক্তির সময় হলে গিয়ে সিনেমা উপভোগ করতে হয়। তো এখনো দর্শকের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাই আমি, তা আমার জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের।

শুধু কলকাতার দর্শকই নয় বাংলাদেশের দর্শকের কাছ থেকেও আমি অনেক অনেক ভালোবাসা শুরু থেকেই পেয়ে আসছি। এখনো যখন দেশের বাইরে যাই, সেখানে বাংলাদেশের অনেক দর্শকের সঙ্গে আমার দেখা হয়। এই যে ধরুন শুধু সিনেমা দেখে দেখে একজন মানুষকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা করা এটা যে কতো বড় সৌভাগ্যের তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার আজও মনে পড়ে ওয়াশিংটনের ভার্জিনিয়াতে আমার শ্যালিকা থাকে। তো সে আমাকে বলতো যে সেখানকার বাংলা ভাষাভাষী দর্শকেরা আমার অভিনীত চলচ্চিত্রের ক্যাসেট কিনে কিনে দেখতো।


সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে, পথ চলতে গিয়ে এই যে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, এই ভালোবাসা আপনাকে অভিনয়ে কতোটা অনুপ্রেরণা দিয়েছে?আমি সবসময়ই চেয়েছি মানুষের মঙ্গল হয়, সমাজের উপকার হয় এমন চরিত্রে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। আমি সবসময়ই কিন্তু প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছি। যেন আমায় দেখে মানুষ ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হন, সমাজের যেন সার্বিক উপকার হয়।

একবার শুধু একটি চলচ্চিত্রে নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম যে এটা আসলে আমার জন্য নয়। তাই আমার ভালোলাগার চরিত্রের বাইরে যদি কেউ কখনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তখন আমি তা থেকে দূরে সরে এসেছি। কারণ আমি মানুষটাই এমন যে আমি যদি দেখি কেউ ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। আমি তাকে সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাই। আমার নিজের স্বার্থের জন্য তাকে আমি ভুল পথে রাখিনা। আমার ক্ষতি হোক কিংবা আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাক তা নিয়ে ভাবতাম না আমি। আমি চাইতাম সে মানুষটা সঠিক পথে এগিয়ে আসুক।


কলকাতার ভবানীপুরেই আপনার জন্ম। শুনেছি বেশ প্রতিথযশা পরিবারেই আপনার জন্ম। তো ছোটবেলা থেকেই কী অভিনয়ের প্রতি আপনার ভালোলাগা ছিলো?আমাদের পরিবার রাজা বাদশাদের পরিবার ছিলো না। তবে কলতাতার ভবানীপুরে মল্লিক বাড়ি সুনাম আজো আছে। আমার পরিবার ছিলো আসলে পন্ডিত, শিক্ষিত , রুচিসম্মত পরিবার। সবচেয়ে সহজে বললে বলা যেতে পারে খুব ইজ্জত ওয়ালা পরিবার। আমার ঠাকুর দাদাই কিন্তু কুকার আজ যাকে প্রেসার কুকার বলা হয় এর আবিষ্কারক। ধরেন রাইট ব্রাদার্স বিমান তৈরী করেছেন। কিন্তু সেই বিমান তো আজ নেই। অনেক মডার্ন হয়েছে। ঠিক তেমনই আমার ঠাকুর দাদার কুকারও নেই। কিন্তু তিনি তা তৈরী করেছিলেন। আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা ভবানীপুরেই।
টালিগঞ্জের এই বাড়িতে কতোদিন আপনি?


সত্যি বলতে কী আমার কাজের সুবিধার্থেই আসলে স্টুডিও পাড়ার আশেপাশে আমি আজ থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে এখানে নিজের মতো করেই একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। এখান থেকে আমার কাজের সুবিধার্থে যেকোন সময় যেকোন জায়গায় যাওয়া যায়। দুপুরের খাবারটা আমি বাসাতেই এসে খেতে পারি। যে কারণে আসলে ভবানীপুর ছেড়ে টালিগঞ্জে এসে থাকা।
নায়ক হয়ে উঠার গল্পটা জানতে চাই…
আমার নায়ক হয়ে উঠার গল্পটা আসলে বলা যায় একটি দুর্ঘটনার মতোই। আমাদের বাড়িতে গান, বাজনা , কবিতা আবৃত্তির পরিবেশটা কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছি। …রঞ্জিত মল্লিক যখন এই কথা বলছিলেন ঠিক তখই আমাদের মাঝে প্রবেশ করেন তারই সহধর্মিনী দীপা। তারসঙ্গে রঞ্জিত মল্লিক আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আবার কথা বলা শুরু করেন। রঞ্জিত মল্লিক বলেন,‘ তো আমি তখন কলেজ’র পড়াশুনা শেষ করেছি।

এই বয়সে কিন্তু সবারই মনে মনে একটা ভাব হয় হিরো হিরো ভাব। তো আমিও ভাবছিলাম যে যদি সিনেমার হিরো হওয়া যায় তাহলে ভালোই হতো। ঠিক তখনই কাগজে দেখলাম মৃনাল সেন ইয়ূথ প্রবলেম’র উপর নতুন সিনেমার জন্য নায়ক খুঁজছেন। আমি কৌতুহল বশতঃ তারসঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘অভিনয়ের কোন অভিজ্ঞতা আছে কী না’। আমি না করলাম,    
 (৬পৃ: ৪ ক: দ্র:)  

করতোয়ার সাথে একান্ত
৫ম পাতার পর
তবে এটাও বললাম অভিনয়ের পরিবেশটার সাথে আমি পরিচিত। তিনি বললেন, এসো একদিন। আমি গেলাম আবার কাছে। তিনি আমাকে লেকের পাড়ে আমার নানান অভিব্যক্তি উপভোগ করতে শুরু করলেন। কখনো বলছেন প্রাণ খুলে হাসো, আবার কখনো বলছেন খুব রেগে যাও, আবার বলছেন অবাক হও। আমি তার কথামতো একের পর এক অভিব্যক্তি দিয়ে যাই। পরে একসময় জানতে পারলাম যে তার ‘ইন্টারভিউ’ সিনেমার জন্য আমি চুড়ান্ত হয়েছি। শুরু হলো ইন্টারভিউ সিনেমার কাজ। ১৯৭১ সালে মুক্তি পেলো আমার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র।

প্রথম চলচ্চিত্রের সাফল্যের পরপরই কী সিদ্ধান্ত নিলেন পেশা হিসেবে সিনেমাতেই অভিনয় করবেন?
‘ইন্টারভিউ’ সিনেমা মুক্তি পাবার পর    কধৎষড়াু ঠধৎু ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঋরষস ঋবংঃরাধষ  এ আমি ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ইবংঃ অপঃড়ৎ  সম্মাননা লাভ করি। শুধু তাই নয় তখন এই সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য আমি দেশেও বিভিন্ন ধরনের সংবর্ধনা পাই। সবমিলিয়ে আমি বেশ পুলকিত হই এবং বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছিলাম। যে কারণে পরে সিদ্ধান্ত নেই যে এই পেশাতেই থেকে যাওয়া যায়।

এভাবেই আসলে সিনেমাতে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিলাম। আমার প্রথম চলচ্চিত্রের শুটিং-এর সময়ই ঐ চলচ্চিত্রের প্রযোজক আমাকে দিয়ে ‘পরিবর্তন’ নামের একটি হিন্দী চলচ্চিত্রে অভিনয় করান। আমার অভিনীত প্রথম সিনেমা থেকেই আমি প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার সবসময়ই কেবল মনে হয়েছে দর্শকের ভাবনায় মানুষের জন্য কল্যাণ করতে হবে এই বিষয়টি মাথায় প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। আজীবন আমি মানুষের কথা ভেবেই সিনেমাতে অভিনয় করেছি।
 
আপনিতো সত্যজিৎ-রায়ের সিনেমাতে, মহানায়ক উত্তম কুমারের এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। তাদেরসঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা যদি বলতেন…
সত্যজিৎ রায়ের নির্দেশনায় ‘শাখা প্রশাখা’ চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ হয়েছিলো আমার। তার চলচ্চিত্রে কাজ করার সুবিধা ছিলো এই যে আমি আর আপনি যে সহজ সরল ভাষায় কথা বলছি, এটা করা যেতো তার চলচ্চিত্রে। তিনি বলতেন, তোমার যেভাবে কাজ করতে বা অভিনয় করতে সহজ লাগে তুমি সেভাবেই অভিনয় করো। অভিনয়ের জন্য তিনি শিল্পীকে ছেড়ে দিতেন। আর এ কারণেই তার চলচ্চিত্রে চরিত্রগুলো হয়ে উঠতো জীবন্ত। উত্তম কুমারের সঙ্গে আসলে আমার সম্পর্কটা ছিলো বড় ভাই ছোট ভাইয়ের মতো।

আমি যখন চলচ্চিত্রে আসি তিনি তখন সুপারস্টার। তারসঙ্গে পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি যারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘মৌচাক’। তো শুটিং এর সময় তিনি আমাকে বেশ আগলে রাখতেন। আমার সঙ্গে কথা বলে বলে সম্পর্কটাকে সহজ করে নিতেন যাতে আমি প্রাণখুলে অভিনয় করতে পারি। তিনি নেই আজ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় হলো। কিন্তু তারপরও তিনি আছেন আমাদের মাঝে। আর সৌমিত্র দাদাতো খুব রসিক মানুষ। একজন শক্তিমান অভিনেতাতো বটেই। অনেক বয়স হয়েছে তার। কিন্তু এখনো তিনি বেশ ভালোভাবেই কাজ করে যাচ্ছেন, এটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।
কলকাতার শীর্ষ নায়িকা কোয়েল মল্লিকের বাবা আপনি, এই বিষয়টা আপনাকে কতোটা পুলকিত করে?
নিশ্চয়ই অনেক আনন্দ দেয়। তবে শীর্ষ নায়িকা কী না তা বলবো না, ও ভালো করছে। এটাই আমাদের ভালোলাগা। পাড়ার ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যখন আমাকে দেখে বলে ,  কোয়েলের বাবা, কোয়েলের বাবা। তখন মনে বড় আনন্দ হয়। আবার মনে মনে এটাও বলি , কোয়েলের বাবা নারে, বল কোয়েল আমার মেয়ে। হয়তো এটাই নিয়ম সন্তান খ্যাতি অর্জন করলে তার পরিচয়েও একসময় বাবা মাকে পরিচিত হতে হয়। এটাও বাবা মায়ের জন্য অনেক গর্বের, আনন্দের।
বাংলাদেশে কবে গিয়েছিলেন?

বাংলাদেশে গিয়েছিলাম ১৯৯৬ সালে। তখন সেখানকার হিরো সালমান শাহ’র মৃত্যুর কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছিলো। খুব ভালো একজন হিরো নাকি ছিলেন তিনি। ৯৬ সালেই পরপর দু’বার গিয়েছিলাম আমি। ‘আমি সেই মেয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। এতে আমি জয়াপ্রদা, আলমগীর’সহ আরো অনেকেই অভিনয় করেছিলাম। তবে আবার যাবো ভাবছি। আপনাদের ওখানকার কক্সবাজারের কথা বহু শুনেছি। বিশ্বের কম দেশেতো আর ঘুরে বেড়াইনি। ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের কক্সবাজারে বেড়ানোর। সমুদ্রের গর্জনটা খুব কাছে থেকে শুনতে চাই, কক্সবাজারের মনোরম দৃশ্য কাছে থেকে উপভোগ করতে চাই।
ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন ?

১৯৮০ সালের কথা। তখন আমি পিনাকি মুখার্জির ‘কপালকু-ুলা’ সিনেমার শুটিং করছিলাম। সেই বছরই আমার এবং দীপার বিয়ে হয়। দীপা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ করা। পারিবারিকভাবে বিয়ে হলেই আমাদের আগেই জানাশুনা ছিলো, একের প্রতি অন্যের ভালোলাগা ভালোবাসা ছিলো।
সেদিন রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কথা শেষ হয়। পরেরদিন কলকাতার নজরুল মঞ্চে আজীবন সম্মাননা গ্রহণের সময় আবার দেখা হয়। সম্মাননা পাবার পর তাকে আবারো প্রশ্ন রাখি, গত টেলি-সিনে’অ্যাওয়ার্ডে আজীবন সম্মাননা পেলেন? কেমন লাগলো?

খুউব ভালোলাগলো। একই মঞ্চে বাংলাদেশের নায়ক রাজ্জাক সাহেব সম্মাননা পেলেন আমিও পেলাম। আমরা দু’জন একসঙ্গে একটি চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছিলাম। আমরা একই ভাষার চলচ্চিত্রের নায়ক, এটা অনেক বড় ভালোলাগার। ধন্যবাদ দিতে চাই টেলি-সিনো অ্যাওয়ার্ড আয়োজকদের এবং বাংলাদেশের ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’কে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য। ধন্যবাদ বিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটনেট’কেও আমাকে সম্মাননা দেবার জন্য। আমি খুব আনন্দিত, পুলকিত। যদি বেঁচে থাকি তবে বাংলাদেশে শিগগিরই আবার যাবার ইচ্ছে রাখি।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

 

 

 

 

 

ত্রিশ বছর পর আলমগীরের বিপরীতে চম্পা

অভি মঈনুদ্দীন: দীর্ঘ বিশ বছর পর আসছে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চিত্রনায়ক আলমগীর আবারো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্রটির নাম ‘একটি সিনেমার গল্প’। এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য আলমগীরের নিজের। এরইমধ্যে গত মে মাসে চলচ্চিত্রটির প্রায় সব শিল্পী চুড়ান্ত থাকলেও আলমগীরের নিজের বিপরীতে চলচ্চিত্রটিতে কে অভিনয় করবেন তাই ছিলো চমক। অবশেষে চলচ্চিত্রটিতে আলমগীরের নির্দেশনায় তারই বিপরীতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন চিত্রনায়িকা চম্পা। ১৯৮৬ সালে চম্পা আলমগীরের নির্দেশনাতেই ‘নিষ্পাপ’ চলচ্চিত্রে আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করেন।


 একক নায়িকা হিসেবে এটিই ছিলো চম্পার প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর আলমগীরের সঙ্গে আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও আলমগীরের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ হয়ে উঠেনি তার। দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর আলমগীরেরই নির্দেশনায় আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পেলেন চম্পা। এরইমধ্যে নিজের পোশাক, অভিনয় কেমন হতে পারে তা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা করছেন চম্পা।

কারণ দীর্ঘদিন পর তার কাছে এটি নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। যে কারণে ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে ভাবনায় আছেন চম্পা। চম্পা প্রসঙ্গে আলমগীর বলেন,‘ চম্পা খুবই সিরিয়াস একজন অভিনেত্রী। নিজের অভিনয় কীভাবে সুন্দর করা যায় সেই চেষ্টাটা তার এখনো আছে। অভিনয়ের প্রতি তার দুর্বলতা, একাগ্রতা, নিষ্ঠাই সাধারণত চোখে পড়ে না। আর এ কারণেই আমার চলচ্চিত্রে কাজ করার বিষয়ে চুড়ান্ত হবার পর থেকেই অভিনয়ের বিষয়ে নানান বিষয় নিয়েই আলোচনা করছে।


 এটা একাগ্রতারই দৃস্টান্ত।’ দীর্ঘদিন পর নিজের একক নায়িকা হিসেবে প্রথম নায়কের সঙ্গে আবারো আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে চম্পা বলেন,‘ আমি যে সময়ে তার নির্দেশনায় কাজ করেছি সে সময় চলচ্চিত্র সম্পর্কে আমার ধারণাই কম ছিলো। কিন্তু সেই সময়ের কথা আজ মনে পড়লে একটি বিষয়ই আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায় , আ তা হলো সেই সময়ই আলমগীর ভাই একজন নির্মাতা হিসেবে ছিলেন অসাধারণ। তিনি অবশ্যই অনেক বড় মাপের একজন অভিনেতা। কিন্তু তারপরও আমি বলবো অন্য অনেকের চেয়ে তিনি অনেক গুণী একজন নির্মাতা।

 আলমগীর ভাই চাইলেই আরো অনেক ভালো ভালো চলচ্চিত্র দর্শককে উপহার দিতে পারতেন। আলমগীর ভাই সবসময়ই অত্যন্ত বিনয়ী এবং খুবই সহযোগিতা পরায়ণ একজন শিল্পী। তার নির্দেশনায় এতোদিন পর কাজ করতে যাচ্ছি, এ অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।’ আলমগীরের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আইকন এন্টারটেইনম্যান্ট’র ব্যানারে ‘একটি সিনেমার গল্প’ নির্মিত হবে। এদিকে আসছে ঈদে শাহীন মাহমুদের প্রযোজনায় এসএ টিভিতে ‘বন্ধু আমার’ অনুষ্ঠানে আলমগীর, ফারুক ও চম্পাকে আড্ডায় দেখা যাবে।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

‘ছোটকাকু ক্লাব’ ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে সেমাই-চিনি বিতরণ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘ছোটকাকু ক্লাব’ দুস্থদের মাঝে সেমাই-চিনি ও টি-শার্ট বিতরণ করেছে। ২২ জুন বিকেলে চ্যানেল আই ভবনে অনুষ্ঠিত সেমাই-চিনি বিরতণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘ছোটকাকু’র স্রষ্টা বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, নায়ক রাজ রাজ্জাক, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ছড়াকার আমীরুল ইসলাম, অভিনতো শহিদুল আলম সাচ্চু, সাংবাদিক রেজানুর রহমান, চিত্রনায়ক সম্রাট, উপস্থাপক জিল্লুর রহমান, ফারজানা ব্রাউনিয়া প্রমুখ।
 
‘ছোটকাকু’ প্রসংঙ্গে নায়ক রাজ রাজ্জাক বলেন, ‘ছোটকাকু’ আমাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সিরিজ। ছোটকাকু আমরা খুবই উপভোগ করি। এ প্রসংঙ্গে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ছোটকাকু’র সেমাই বিরণ অনুষ্ঠানে এসে খুব ভালোবোধ করছি। ‘ছোটকাকু’ সম্পর্কে ছোকাকু’র স্রষ্টা ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ছোটকাকু একটি পরিবার। যেখানে দুর্যোগ সেখানেই ছোটকাকু। ছোটকাকু পরিবার দিন দিন বড় হচ্ছে এটাই আনন্দের। ছোটকাকু সবার সাথে আছে, থাকবে।  

ছড়াকার আমীরুল ইসলাম জানালেন ‘ছোটকাকু’ সিরিজের ৩০টি বই ১৪ বছর যাবত লিখছেন ছোটকাকু’র স্রষ্টা ফরিদুর রেজা সাগর। প্রতিটি বইয়ের নাম করণ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলার নামে। যার থেকে আফজাল হোসেন নির্মাণ করছেন ছোটকাকু সিরিজ। এবারের ছোটকাকু সিরিজ নির্মিত হয়েছে ‘খেলা হলো খুলনায়’। এ সিরিজটি চ্যানেল আইতে দেখানো হবে চাঁদরাত থেকে ঈদের সপ্তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬.১০ মিনিটে।   

 

গ্রামীণফোন এর ঈদ আয়োজন

এবারের ঈদে গ্রামীনফোন চারটি চ্যানেলে নিয়ে আসছে  ২০টি নাটক।  এছাড়াও আয়নাবাজি অরিজিনাল সিরিজ মুখোমুখী একযোগে প্রচারিত হবে মাছরাঙা, আরটিভি আর জিটিভিতে ঈদের ৫ম দিন রাত ৮টায় গ্রামীনফোনের সৌজন্যে। জন আর  সোহানা সাবা অভিনীত এই নাটকটি পরিচালনা করেছেন রবিউল আলম।  গ্রামীনফোন নিবেদীত বিশেষ নাটক প্রিয় রঞ্জনা পরিচালনা করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল আর অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও তারিন।

 এই নাটকটি প্রচারিত হবে আরটিভিতে ঈদের প্রথম দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে।  একই চ্যানেলে একই সময়ে ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রচারিত হবে তানিম রহমান অংশু পরিচালিত আর তাহ্্সান ও মমো অভিনীত নাটক স্বপ্নচুরি। ঈদের তৃতীয় দিন একই সময় প্রচারিত হবে নাটক ভাবনার বিপরীত। এতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান ও মিলি আর পরিচালনা করেছেন গোলাম মুক্তাদির। নাটক রেইনবো প্রচারিত হবে ঈদের চতুর্থ দিন রাত ১১টা ৫মিনিটে।


 আরটিভিতে প্রচারিতব্য রেইনবো পরিচালনা করেছেন আশফাক নিপূন, এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা ও জন। অপূর্ব ও মিথিলা অভিনীত নাটক ফরএভার প্রচারিত হবে ঈদের পঞ্চম দিন একই সময়ে একই চ্যানেলে। এটি পরিচালনা করেছেন মিজানুর রহমান আরিয়ান। শিহাব শাহিন পরিচালিত নাটক জ্যাকসন বিল্লাল এ অভিনয় করেছেন সিয়াম ও উর্মিলা। একই চ্যানেলে এটি প্রচারিত হবে ঈদের ৬ষ্ঠ দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে। অর্পূব-সুজানা অভিনীত নাটক সরি পরিচালনা করেছেন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। এটি একই চ্যানেলে ঈদের ৭ম দিন প্রচারিত হবে একই সময়ে।


এবারের ঈদে দর্শক শ্রোতাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে আরো  উপভোগ্য করতে গ্রামীনফোন জিটিভিতে ৭ দিনে সাতটি নাটক নিয়ে হাজির হবে। ঈদের প্রথম দিন প্রচারিত হবে নাটক চিলেকোঠা ও ভারাটিয়া। এটি পরিচালনা করেছেন গোলাম মুক্তাদির আর অভিনয় করেছেন সুর্বণা মুস্তাফা, তারিক আনাম। গোলাম সোহরাব দোদুল পরিচালিত লাভ লেটার বক্স এ অভিনয় করেছেন নিশু, তিশা, লৎফর রহমান ও  কেয়া।


টি দ্বিতীয় দিন প্রচারিত হবে। আর ঈদের তৃতীয় দিন প্রচার হতে যাওয়া নাটক মেঘের গল্প এ অভিনয় করেছেন জন ও মমো। এটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদুর রহমান হিমি। শিহাব সরকার পরিচালীত নাটক এক্স ফেক্টর রিলোডেট। সিয়াম, তৌসিফ ও শবনম ফারিয়া অভিনীত এই নাটকটি প্রচার নির্ধারণ তারিখ ঈদের চর্তুথ দিন। সিক্রেট হ্যাপিনেস প্রচারিত হবে পঞ্চম দিন, মাহরুর রশীদ বন্যার পরিচালনায় এই নাটকে অভিনয় করেছেন স্পশিয়া ও সায়েম জামান।

জন, ইরফান সাজ্জাদ, অর্পনা ও সুজানা অভিনীত নাটক অ্যাওয়ার্ড নাইট প্রচার নির্ধারিত দিন ঈদের ৬ষ্ঠ দিন। সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় নাটক জীবন সঙ্গী এ অভিনয় করেছেন নিশো, মৌসুমী হামিদ প্রমূখ। এটি প্রচারীত হবে ঈদের ৭ম দিন। জিটিভিতে প্রচারিত এই নাটকগুলো প্রচারিত হবে প্রতিদিন রাত ১১টা ৫০ মিনিটে।


গ্রামীনফোনের সৌজন্যে বাংলাভিশনে প্রচারিত হবে ৫টি নাটক। ঈদের প্রথম দিন থেকে ৫ম দিন পর্যন্ত প্রচারিত নাটকগুলো হলো গোয়েন্দা ঘটক, গৃহপালিত স্বামী, স্বপ্নের মানুষ, মন মানুষের খোজেঁ ও ৯ নম্বরের পা কিন্তু ৬ নম্বারের জুতো। প্রতিটি নাটকের প্রচার নির্ধারিত সময় ৮ টা ৫০ মিনিট।

 

প্রথম দিন প্রচারিতব্য নাটক গোয়েন্দা ঘটকে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান ও  মৌসুমী হাদিম আর পরিচালনা করেছেন সৈয়দ শাকিল। গৃহ পালিত স্বামী নাটকে অভিনয় করেছেন জন ও মিথিলা। পরিচালনা করেছেন ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। সজল ও রুজলান অভিনীত নাটক স্বপ্নের মানুষ পরিচালনা করেছেন শিহাব শাহিন। চর্তুথ দিন প্রচারিত হতে যাওয়া নাটক মন মানুষের খোজেঁ নাটকটি পরিচালনা করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল আর অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ ও সুমাইয়া সুমি।

 

৯ নম্বরের পা কিন্তু ৬ নম্বরের জুতা নাটককে অভিনয় করেছেন আবিবা মৌটুসী বিশ^াস, আবুল কালাম আজাদ ও নাদিয়া । প্রতিটি উপলক্ষ্যে গ্রামীনফোন দর্শক শ্রোতাদের রুচি ও পছন্দের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বৈচিত্র্যময় নাটক প্রচার করে আসছে। ইতিপৃর্বে প্রচারিত এসব নাটক দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার সাথে সাথে পুুরষ্কৃত হয়েছে।  এবারের ঈদ আনন্দকে আরো বর্ণিল করতে বিষয়বস্তুর বৈচিত্রতার জন্য গ্রামীনফোনের সৌজন্যে প্রচারিত নাটকগুলো দর্শক প্রিয়তা পাবে আশা করা হচ্ছে।  

 

আমিন খানের বিপরীতে অভিনয়ে ফিরলেন রুহী

অভি মঈনুদ্দীন : চিত্রনায়ক আমিন খান শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ দিবসেই ছোটপর্দার জন্য অভিনয় করেন। গেলো বছর ঈদে, বিজয় দিবসে এবং স্বাধীনতা দিবসে তিনি কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। এবারের ঈদেও তার ভক্ত দর্শকের জন্য আরেকটি বিশেষ নাটকে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে মডেল ও অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী বিগত প্রায় দেড় বছর যাবত তার একমাত্র সন্তান রোহান মনসুর আলীকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।

যে কারণে ২০১৪ সালের পর থেকে তাকে আর নতুন করে কোন কাজে দেখা যায়নি। বিরতির পর আমিন খানের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্যদিয়েই অভিনয়ে ফিরেছেন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী রুহী। ইশমত আরা চৌধুরী শান্তির নির্দেশনায় ‘অনুভূতির ছোঁয়া’ নাটকে তারা দু’জন প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেছেন।


 এর আগে এই পরিচালকের নির্দেশনায় রুহী ‘মায়ানগর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যে কারণে রুহী ও শান্তির মধ্যে যোগাযোগটা ছিলো নিয়মিত। যোগাযোগের সূত্র ধরেই শান্তি এবারের ঈদেও পরেরদিন দেশেটিভিতে প্রচারের জন্য নির্মাণ করেছেন ‘অনুভূতির ছোঁয়া’ নাটকটি। এর গল্প প্রসঙ্গে শান্তি বলেন,‘ আমরা আসলে সুস্থ অনুভূতি নিয়ে জন্মাই। কিন্তু পরবর্তীতে নানান কারণে সেই সুস্থ অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়।

প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে যোগাযোগের নানান মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আমরা তা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছিনা। পরশ এবং পুর্তি’র ফেসবুকে কবিতার মধ্যদিয়ে দু’জনের পরিচয় হয়। দু’জনের পরিচয় থেকেএ এগিয়ে যায় নাটকের গল্প।’ গত ২০জুন নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।


 এতে অভিনয় প্রসঙ্গে আমিন খান বলেন,‘ গল্পটা সময়োপযোগী, যে কারণে কাজটি করে খুউব ভালোলেগেছে। আর রুহীর সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। রুহী খুব ন্যাচারাল অ্যাক্টিং করেন। আমি কাজটি দারুণ উপভোগ করেছি।’ রুহী বলেন,‘ নানান কারণে মায়ানগর আটকে থাকলেও শান্তি আপার নির্দেশনায় এই কাজটি অন্ততঃ দর্শক দেশ টিভির পর্দায় দেখতে পাবেন। আমিন ভাই অনেক বড় মাপের একজন অভিনেতা। কিন্তু তারপরেও শুটিং-এ তিনি আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন তাতে সত্যিই মুগ্ধ আমি।

 আমি, শান্তিু আপু এবং আমিন ভাই-আমাদের এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি ভালো কাজ হলো।’ আমিন খানকে এবারের ঈদে রাকিবের নির্দেশনায় ‘মধ্যরাতের যাত্রী’ নাটকেও দেখা যাবে। রুহী সর্বশেষ ২০১৪ সালে ‘মঙ্গলাকাঙ্খী’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে মনসুর আলী’র ‘সংগ্রাম’, অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রী’ এবং কলকাতার মহুয়া চক্রবর্তীর ‘গ্ল্যামার’।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

যৌথ প্রযোজনার ছবি চালালে হলে আগুন দেয়ার হুমকি হল মালিক নেতা নওশাদ লাঞ্ছিত

বিনোদন প্রতিবেদক : যৌথ প্রযোজনার নিয়ম না মেনে নির্মাণ করা ‘নবাব’ এবং ‘বস টু’ ছবি দুটি ঈদে মুক্তি পেলে যে সিনেমা হল সেগুলো প্রদর্শন করবে সেখানে আগুন লাগানো হবে। গতকাল বুধবার ইস্কাটন গার্ডেন রোডে অবস্থিত চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে চিত্রপরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর এই ঘোষণা দেন।

এর আগে আন্দোলনরত চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৬টি সংগঠন বুধবার দুপুরে সেন্সর বোর্ড ঘেরাও করে রেখেছেন। সেখানেই ঘেরাওকারীদের হাতে লাঞ্চিত হলেন হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। ওইখানে আগে থেকেই ছিলেন যৌথ প্রযোজনার ‘বস টু’ ও ‘নবাব’-এর পক্ষ নেওয়া নওশাদ।


চল?চ্চিত্র রক্ষা  আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তিনি বাকবিন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কয়েক কর্মী উত্তেজিত হয়ে পে?য়ে তার উপর আক্রমণ করেন। ওই সময় নওশাদের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সেন্সর বোর্ড অফিসে নিয়ে যান। অন্যদিকে সেন্সরবোর্ড ঘেরাও চলাকালে চলচ্চিত্রের নেতা কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, আলীরাজ, ডিপজল, খোরশেদ আলম খসরু ও আরও অনেকে। নির্মাতা খোকন বলেন, ‘সেন্সর বোর্ডের কাছে সবিনয় নিবেদন আপনারা প্রতারণায় অভিযুক্ত ছবি দুটিকে মুক্তির সনদ দেবেন না।

 যদি এগুলো মুক্তি পায় তবে যে হলে চালানো হবে সে হলেই আগুল দেয়া হবে। কিন্তু তার দায় আমরা নেব না।’ মিশা বলেন, ‘আমরা শিল্পী, চলচ্চিত্রকে ধ্বংস হতে দেব না। যতক্ষণ আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকবে আন্দোলন চলবেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনার নামে কলকাতার একক ছবি এদেশে আমরা চলতে দেবো না। যদি চলে তাহলে সিনেমা হল ভাঙচুর করা হবে।’ মিশা আরো বলেন, ‘আমরা আাজ রাস্তায় নেমে এসেছি। যৌথ প্রযোজনার নামে অনিয়ম বন্ধ করতে চাই, যৌথ প্রযোজনা নয়।’ শিল্পী সমিতির সহসভাপতি রিয়াজ বলেন, ‘আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, প্লিজ চলচ্চিত্র বাঁচান।


আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটিকে ধ্বংস করতে দালালদের সঙ্গে সরকারের লোকেরাও যোগ দিয়েছে। তারা কারো কথাই শুনছেন না, মানছেন না। নিজেদেরকে দেশের সর্বসেবা মনে করছেন এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করছেন। এতে একদিকে আমাদের চলচ্চিত্র ধ্বংস হবার পথ সুগম হচ্ছে অন্যদিকে অন্যায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।’ অন্যদিকে আক্রমণের শিকার নওশাদ বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি কেউ আমার উপর হাত তুলতে পারে।


আমরা তর্কাতর্কি করছিলাম। ওরা আমাকে দালাল বলে গালি দিচ্ছিলো। আমি প্রতিবাদ করছিলাম। হঠাৎ করেই তারা আমাকে আক্রমণ করে বসে। আমি এ লাঞ্চনার বিচার চাই।’ এ সময় তারা শ্লোগান দেন- ‘চলচ্চিত্রের দালালরা হুশিয়ার সাবধান’, ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, সেন্সর বোর্ড ঘেরাও হবে’, ‘যৌথ প্রতারণা চলবে না’। উল্লেখ্য, চলমান যৌথ প্রযোজনা বিতর্কে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত কলা-কুশলী, প্রদর্শক ও বুকিং এজেন্ট সমিতির মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

‘দূরের মানুষ’-এ কাছের চারজন

অভি মঈনুদ্দীন : বিশিষ্ট নাট্যকার ও নাট্যনির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ আসছে ঈদ উপলক্ষে নির্মাণ করেছেন বিশেষ নাটক ‘দূরের মানুষ’। নাটকটির রচয়িতা বদরুল আনাম সৌদ নিজেই।  নির্মাতা জানান অর্পা নামের একটি মেয়ের নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প নিয়েই এই নাটকের কাহিনী। নাটকটিতে তিনটি গুরুত্বপর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন খুব কাছের তিনজন মানুষ তারিক আনাম খান, সুবর্ণা মুস্তাফা ও ফজলুর রহমান বাবু।

অর্পা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিবা বাশার। এরইমধ্যে রাজধানীর উত্তরায় নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তারিক আনাম খান বলেন,‘ সবমিলিয়ে একটু অন্যরকম গল্পের নাটকটি এটি। নাটকটির গল্পে সাইকোলজিক্যাল প্রেসারের ব্যাপার আছে।

 যে কারণে যারা একটু অন্যরকম গল্পের নাটক দেখতে চান তাদের কাছে নাটকটি ভালোলাগবে আশা করছি।’ বরেণ্য অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন,‘ খুবই স্ট্রং একটি স্ক্রিপ্টের নাটক এটি। হঠাৎ করে কোন ঘটনা যেমন মানুষের সম্পর্কের ইকুয়েশনকে বদলে দেয়, এমনই গল্পের একটি নাটক এটি।

আর যেহেতু নাটকে তারিক আনাম খান, ফজলুর রহমান বাবুর মতো গুণী অভিনেতা অভিনয় করেছেন, স্বাভাবিক ভাবেই নাটকটি ভালো হয়েছে। পাশাপাশি নাজিবার অভিনয়ের প্রতি রয়েছে প্রবল আগ্রহ। প্রচ- শ্রম দিতে পারে সে। যে কারণে তার অভিনয়ও বেশ ভালো হয়েছে।

 সবমিলিয়ে একটি খুব ভালো কাজ হয়েছে। দর্শকের ভালোলাগবে আশা করছি।’ ফজলুর রহমান বাবুল বলেন,‘ সৌদ’র নির্দেশনা সবসময়ই অসাধারণ হয়। তারিক ভাই, সুবর্ণা আপার সঙ্গে কাজ করাটা খুবই আনন্দের এবং উপভোগের। কাজটি আমি যথেষ্ট আন্তরকিতা নিয়ে করেছি এবং খুবই ভালোলেগেছে কাজটি। ’ আসছে ঈদে বাংলা ভিশনে প্রচার হবে ‘দূরের মানুষ’ নাটকটি। এদিকে বদরুল আনাম সৌদেরই রচনায় ও নির্দেশনায় গতকাল থেকে সুবর্ণা মুস্তাফা, ফজলুর রহমান বাবু ও নাজিবা নতুন আরো একটি নাটকের শুটিং শুরু করেছেন।

 নাটকের নাম ‘আমার না লেখা কিছু চিঠির কথা’। এদিকে সুবর্ণা মুস্তাফা এরইমধ্যে শেষ করেছেন আরিফ খানের নির্দেশনায় ঈদ বিশেষ টেলিফিল্ম ‘ছুটির এক দিনে’ এবং গোলাম মুক্তাদিরের নির্দেশনায় ‘চিলেকোঠা ও ভাড়াটিয়া’ টেলিফিল্মের কাজ। ‘ছুটির এক দিনে’ আসছে ঈদে এনটিভিতে প্রচার হবে এবং ‘চিলেকোঠা ও ভাড়াটিয়া’ প্রচার হবে গাজী টিভিতে। ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত।

ফ্ল্যাট থেকে অভিনেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বিনোদন ডেস্ক : মুম্বাইয়ে নিজের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল অভিনেত্রী অঞ্জলি শ্রীবাস্তবকে। সোমবার বিকেলে অন্ধেরি ওয়েস্টে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রথম দেখতে পান ফ্ল্যাটের মালিক। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেয়া হয় পুলিশকে। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। জানা গেছে, অভিনেত্রীর আত্মীয়রা ফ্ল্যাটে এসে ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায়াড় ফ্ল্যাটের মালিকের সাহায্য নেন তারা।

 পরে মালিক এসে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুললে অভিনেত্রীকে পাখা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে অঞ্জলির নিকট আত্মীয় ও পরিচিতদের মধ্যে। তবে ঠিক কি কারণে আত্মহননের পথ বেঁচে নিলের ২৯ বছরেরে অভিনেত্রী তা এখনও জানা যায়নি।

 পুলিশ সূত্রে খবর, কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি। ময়না তদন্তের জন্য তার দেহ পাঠানো হয়েছে মর্গে। মূলত একটি ভোজপুরী সিনেমার জন্য অভিনয় করছিলেন অঞ্জলি? এছাড়াও আরও ভোজপুরী সিনেমাতে দেখা গেছে তাকে। তবে মুম্বাই জগতে বারবার কমবয়সী অভিনেতা অভিনেত্রীদের আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়া প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এই ঈদে বৈশাখীতে ‘সেলিব্রেটি বুয়া’

বিনোদন প্রতিবেদক : প্রতি ঈদ উল ফিতরে বৈশাখী টেলিভিশন আয়োজন করে গল্পকার খোঁজার রিয়েলিটি শো- তোমার গল্পে সবার ঈদ। এ বছর থাকছে তোমার গল্পে সবার ঈদ-এর ৬ষ্ঠ আয়োজন। সারাদেশ থেকে পাঠানো গল্প থেকে নির্বাচিত সেরা ৫টি গল্পে নির্মিত হয়েছে হয়েছে মজার ৫টি ঈদের নাটক।

সেরকম নির্বাচিত একটি গল্পের নাটক ‘সেলিব্রেটি বুয়া’। কবির হোসেইন-এর গল্পে নাটকটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তুহিন হোসেন। মজার গল্পের এই নাটকে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম, তাসনুভা তিশাসহ অনেকে। সেলিব্রেটি বুয়া প্রচারিত হবে বৈশাখী টেলিভিশনে ঈদের তৃতীয় দিন রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে।

চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালকসহ অন্যদের অবস্থান ধর্মঘট

বিনোদন প্রতিবেদক : বিগত বেশ কয়েকবছর যাবত বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন ঈদে দেশীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘বস টু’ ও ‘নবাব’ ছবি দুটি প্রসঙ্গে এ কথাটি বেশি আলোচিত হচ্ছে। এদিকে এ ছবি দুটি যেন মুক্তি দেয়া না হয় সেজন্য এফডিসির প্রিভিউ কমিটিকে চিঠি দেয়ার পাশাপাশি গতকাল দুপুর ১২ টায় চলচ্চিত্রের শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজকসহ অনান্য সংগঠনের নেতা কর্মীরা এফডিসির ভেতরে ও প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।

 এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, মনতাজুর রহমান আকবর, সোহানুর রহমান সোহান, মোহাম্মদ হোসেন জেমি, শাহীন সুমন, বজলুর রশীদসহ আরো অনেকে। সমাবেশে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফারুক, অঞ্জনা, রুবেল, মিশা সওদাগর, রিয়াজ, পপি, জায়েদ খান, সাইমন, ইমন, পরীমনি, বাপ্পী, শিমুল খান, আরজু, শিপন মিত্র, অমৃতা, নিঝুম রুবিনা, মৌমিতা, জেসমিনসহ আরো অনেকে।

এ সময় শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এফডিসিতে কোনো অনিয়ম চলবে না। এটা আমরা হতে দিব না। জায়েদ খান বলেন, যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রারণার ছবি বন্ধ করতে হবে। শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি রিয়াজ বলেন, যৌথ প্রযোজনার নামে যারা প্রতারণা করছে তারা চলচ্চিত্রের রাজাকার। তাদের ছবি এদেশে চলবে না।

এরপর দুপুর একটার দিকে ধর্মঘটকারীরা এফডিসির গেট থেকে মিছিল নিয়ে ইস্কাটনস্থ সেন্সর বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। এরপর সেখান থেকেই একটি দল তথ্য মন্ত্রাণালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এ সময় পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, এখন আমরা তথ্য মন্ত্রাণালয় অভিমুখে রওনা করেছি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক শ্রেনীর মানুষ চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে।

 বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠা করা এই এফডিসি বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও চিত্রনায়িকা পপি বলেন, আমরা যৌথ প্রযোজনায় ছবি চাই না। যদি যৌথ প্রযোজনায় ছবি হয় তবে নীতিমালা অনুসারে হতে হবে। পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর জানান, তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এখন এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।

প্রকাশিত হলো ফাহমিদার শিক্ষার্থীদের অ্যালবাম ‘কারিগরী’

বিনোদন প্রতিবেদক ঃ গত ১২ জুন রাজধানীর বেইলী রোডের একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবীর ভয়েজ গ্রুমিং স্কুল ‘কারিগরী’র ১১ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম অ্যালবাম ‘কারিগরী’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সেদিন প্রচুর বৃষ্টি ছিলো। কিন্তু বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই অনেক আগ্রহ নিয়ে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ফাহমিদা নবীর শিক্ষার্থী’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রতিকুল পরিবেশে সবার উপস্থিতি দেখে অনেকটাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফাহমিদা নবী।


 ফাহমিদা নবীর উদ্যোগে সজীব দাসের সুর সঙ্গীতে ‘কারিগরী’ অ্যালবামে বিভিন্ন গীতিকারের লেখা গান যে ১১জন শিক্ষাথীয় গেয়েছেন তারা হচ্ছেন বিশিষ্ট সংবাদ পাঠিকা শামীম আরা মুন্নী, রাজ আজিম, কামরুন্নাহার পুতুল, রমজানুল কাদের বিল্লাহ, বৃষ্টি মাওলা, ফারজানা কামাল, পিলু, ফৌজিয়া সুলতানা, রুবনা তামরিন অনন্যা, ফাহমিদা আহমেদ ও শামীম আফরোজ সীমা। অ্যালবামটিতে ফাহমিদা নবী নিজেও ‘চোখের কার্নিশে’ শিরোনামের একটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই তিনি নিজেও এই অ্যালবামের সাথে একটি গান গেয়ে সম্পৃক্ত থাকলেন। ২০০৮ সাল থেকে এই অ্যালবামের পরিকল্পনা করা হয়ে আসছিলো। অবশেষে নয় বছর পর সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হলো।


 কেমন লাগছে আপনার? এমন প্রশ্নের জবাবে ফাহমিদা নবী বলেন,‘ এই অনুভুতি, ভালোলাগা সত্যিই প্রকাশের মতো নয়। তারপরও বলবো আজ মনে হচ্ছে অনেক বড় একটি দায়িত্ব শেষ করতে পেরেছি। কিন্তু এই শেষ দিয়েই আমার শিক্ষার্থীদের নতুন পথচলা শুরু। আমি শ্রোতাদের কাছে আমার শিক্ষার্থীদের গান তুলে দিলাম। শ্রোতারা গানগুলো শুনুক এবং আমাকে তার রেসপন্স জানাক যে তারা কতোটুকু আমার দেয়া শিক্ষাকে রপ্ত করতে পেরেছে। তবে আমি বলতে পারি আতœবিশ্বাস নিয়ে আমার প্রত্যেক শিক্ষার্থীই খুউব ভালো গেয়েছে এবং তাদের আগামীর সুন্দর নিয়ে আমি অনেক বেশি আশাবাদী। ’ ফাহমিদা নবীর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আনমল প্রেজেন্টস’ থেকে ‘কারিগরী’ অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়েছে। অ্যালবামের জন্য গান লিখেছেন ওয়াহিদ আহমেদ, মোহসীন মেহেদী, রিপন চৌধুরী, তারেক আনন্দ, রমজানুল কাদের বিল্লাহ, সুহৃদ সুফিয়ান, পার্থ রহমান, প্রান্তি, রঞ্জু রেজা ও শামীম আফরোজ সীমা।

ইত্যাদিতে গাইলেন তারা চারজন

বিনোদন প্রতিবেদক : দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির ঈদের বিশেষ পর্বে প্রতিবারের মত এবারও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। ঈদের ইত্যাদির গানগুলিও বেশ ব্যাতিক্রমী। কথায়, সুরে ও চিত্রায়ণে। যে কারণে ঈদের সময় বিভিন্ন চ্যানেলে অনেক সঙ্গীতানুষ্ঠান ও ম্যাগাজিনের ভীড়ে ইত্যাদির গানগুলি প্রতিবারই মানুষের মুখে মুখে ফেরে। নান্দনিক নির্মাতা হানিফ সংকেতের সার্বিক তত্বাবধানে ও পরিচালনায় নির্মিত এসব গানের শিল্পী নির্বাচনেও থাকে ভিন্নতার ছাপ। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদের ইত্যাদিতে গাইবেন এই প্রজন্মের ক’জন জনপ্রিয় শিল্পী প্রতিক হাসান, প্রিতম হাসান, কনা ও ঐশী। গানটি লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু, সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছে প্রিতম হাসান।

 উল্লেখ্য প্রতিক হাসান ও প্রিতম হাসানের সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু ইত্যাদির মাধ্যমে। প্রয়াত শিল্পী খালিদ হাসান মিলুর সঙ্গে প্রতিক হাসানকে ‘ইত্যাদি’তে উপস্থাপন করা হয়েছিল মিলুর অসুস্থ অবস্থায় তার জীবনের শেষ গানটি গাওয়ার সময়। এরপর বরিশালে ধারণকৃত ইত্যাদির আর একটি পর্বে প্রতিক হাসানের সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছিলেন খালিদ হাসান মিলুরই আরেক সন্তান প্রিতম হাসান।

 আর কনাকে এর আগে দেখা গ্যাছে ঈদের ইত্যাদিতে হৃদয় খানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করতে। সেই অর্থে ঐশীকে প্রথম বারের মত ইত্যাদিতে দেখা যাবে। ফাগুন অডিও ভিশন জানায়, এই প্রজন্মের এই চারজন জনপ্রিয় শিল্পী এই প্রথম একসঙ্গে গাইলেন। গানটি এই প্রজন্মের তরুন-তরুনীদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। বিটিভির ঈদ অনুষ্ঠানমালায় ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টার ইংরেজী সংবাদের পর। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

সাংবাদিকদের সঙ্গে নিপুণের জন্মদিন উদ্যাপিত

বিনোদন প্রতিবেদক : চিত্রনায়িকা নিপুণ সবসময়ই একটি কথা অনায়াসে স্বীকার করে আসছেন। আর তা হলো তার আজকের অবস্থানের পেছনে প্রযোজক, পরিচালক, সহকর্মীদের ভূমিকা থাকার পাশাপাশি বিনোদন সাংবাদিকদের ভূমিকাও অপরিসীম। যে কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার সম্পর্কটা সবসময়ই বন্ধুত্বের। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিপুণ সাংবাদিকদের কাছ থেকে পেয়ে আসছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা।

যে কারণে কোন সাংবাদিক কখনো বিপদে পড়লেও পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নিপুন সহাস্যে। তারই দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায় সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ সাংবাদিক জুটর চৌধুরীকেও পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। গত ৯ জুন ছিলো নিপুণের জন্মদিন। নিজের জন্মদিনের বিশেষ একটি সময় তিনি চেষ্টা করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কাটাতে।

 গল্প, আড্ডাই তাকে এই উদ্যোগের মূল কারণ। জন্মদিনে নিপুণ এবার একটু বেশি ব্যস্ত থাকায় জন্মদিনের পরেরদিন তারই বাসায় নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিনোদন সাংবাদিকদের। নিজেদের ব্যস্ততার ফাঁকে নিপুণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার জন্মদিনকে আরো আনন্দময় করে তুলতে রাজধানীর বনানীতে তারই বাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিক।

দৈনিক ইত্তেফাকের বিনোদন প্রতিদিন’র ইনচার্জ তানভীর তারেক, দৈনিক করতোয়ার বিনোদন প্রধান অভি মঈনুদ্দীন, যুগান্তরের বিনোদন প্রধান এফ আই দীপু, সমকালের বিনোদন প্রধান মীর সামী, সকালের খবরের বিনোদন প্রধান এমদাদুল হক মিল্টন, ডেইলি ই-িপে-েন্ট’র বিনোদন প্রধান নাজির আহমেদ, নয়াদিগন্তের স্টাফ রিপোর্টর আলমগীর কবির, মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার কামরুজ্জামান মিলু, ফটোগ্রাফার মোহসীন আহমেদ কাওছার,  গোলাম সাব্বির ও বিপ্লব মোল্লা। ইফতারির সময় থেকে রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত নিপুণ আগত সাংবাদিকদের সঙ্গে গল্প, আড্ডায় মেতে উঠেন।

 সকল সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নিপুণ জন্মদিনের কেকও কাটেন। নিপুণ বলেন,‘ যারা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে এবং কিছুটা সময় কাটাতে উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি চলচ্চিত্র আমার পরিবার। সেই পরিবারেই সদস্য আমার সাংবাদিক ভাই বোনেরা। তাই তাদের প্রতি সবসময়ই আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা থাকে অপরিসীম।

তাদের আন্তরিক সহযোগিতাতেই আমি আজকের নিপুণ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ এদিকে এবারের ঈদে সকাল আহমেদ’র নির্দেশনায় নিপুণ অভিনয় করেছেন ‘অভিনেত্রী’ নামের একটি নাটকে। সম্প্রতি শেষ করেছেন উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘ধুসর কুয়াশা’ চলচ্চিত্রের কাজ। ছবি ঃ গোলাম সাব্বির।

এবার সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ফারুকীর ‘ডুব’

বিনোদন রিপোর্টার : মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ডুব’ রাশিয়ার ৩৯তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে লড়াইয়ের আগে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন গবলেট অ্যাওয়ার্ডে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে।

এ নিয়ে ফারুকী তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, আজ যখন তার (বিল আগস্ট) নতুন ছবির সঙ্গে একই প্রতিযোগিতায় আমার ছবিও নির্বাচিত হয়, তখন আমার ভিতর এক ফ্যানবয়ের উচ্ছ্বাস শুরু হয়। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালের মেইন কম্পিটিশনে নির্বাচিত হলো ‘ডুব’! সেখানে অন্য পনেরো ছবির সঙ্গে আছে বিল অগাস্টের নতুন ছবিও। বাংলাদেশ ছাড়া এ উৎসবে আরো ১২টি দেশের ১৫টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

 এ তালিকায় আছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, ভারত, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া এবং ফিলিপাইনের চলচ্চিত্র। চীনের অন্যতম সম্মানজনক এ চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসর বসছে ১৭ জুন থেকে। উৎসব চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। জানা গেছে, উৎসবে অংশ নেবেন ছবিটির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, ইরফান খান, প্রযোজক অশোক ধানুকা ও আব্দুল আজিজ।

এছাড়া ২৫ জুন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। জুরি বোর্ডে থাকছেন-পাম দ্য অর জয়ী ক্রিস্টিয়ান মুঙু জুরি বোর্ড সভাপতি। তাকে বলা হয় রোমানিয়ান নিউ ওয়েভের পোস্টার বয়। তার তিন ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবে চারটি পুরস্কার জিতেছে।

আছেন অস্কারজয়ী হুইপল্যাশের প্রযোজক গ্যারি মিশেল ওয়াল্টার, গোল্ডেন লায়ন জেতা মিলশো মানচেভস্কি এবং তিন গুরুত্বপূর্ণ চীন ও জাপানিজ পরিচালক। ‘ডুব’ ছবিটিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের তিশা, রোকেয়া প্রাচী ও ভারতের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান খানসহ আরও অনেকেই। বাংলাদেশ থেকে প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারত থেকে প্রযোজনা করেছে এসকে মুভিজ, ছবির সহপ্রযোজক ইরফান খান।

একই ফ্রেমে আফজাল-সুবর্ণা ও তারিন

অভি মঈনুদ্দীন : বাংলাদেশের টিভি নাটকের অন্যতম রোমান্টিক জুটি আফজাল হোসেন-সুবর্ণা মুস্তাফা। এই তারকা জুটির সঙ্গে একই টেলিফিল্মে কাজ করা যে কোন শিল্পীর জন্যই সৌভাগ্যের। ঠিক তেমনি সৌভাগ্য সম্প্রতি হয়েছে টিভি নাটকের আরেক অন্যতম গুণী অভিনেত্রী তারিনের।

আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে তারিনকে নিয়ে এবারের ঈদে দর্শকের জন্য আরিফ খান নির্মাণ করছেন বদরুল আনাম সৌদ রচিত ঈদ বিশেষ টেলিফিল্ম ‘ছুটির এক দিনে’। যেহেতু টেলিফিল্মে আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনয় করছেন, তাই বেশ আগ্রহ এবং ভালোলাগা নিয়েই টেলিফিল্মটিতে অভিনয় করছেন তারিন। হয়তো দেখা যাবে যে আগামীতে আফজাল, সুবর্ণা মুস্তাফা ও তারিনের আর একসঙ্গে কাজ নাও করা হয়ে উঠতে পারে।


 তাই এবারের ঈদে এই টেলিফিল্মটি দর্শকের জন্য বাড়তি চমকও বটে। ব্যক্তিগত কাজে আফজাল হোসেন বেশকিছু দিন দেশের বাইরে ছিলেন। যে কারণে আরিফ খান সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিন ও হিল্লোলকে নিয়ে দু’দিন টেলিফিল্মটির শুটিং-ও করেন। গত ৭ জুন আফজাল হোসেন দেশে ফিরেন। পরেরদিনই ‘ছুটির এক দিনে’ টেলিফিল্মের শুটিং-এ অংশ নেন আফজাল হোসেন।

 যথারীতি শুটিং-এ উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, তারিন ও হিল্লোল। সেদিন পরিচালকের জ্বর ছিলো বিধায় অনেক কষ্ট করেই পরিচালক এমন গুণী শিল্পীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় শুটিং করেন। তবে সেদিনও টেলিফিল্মের শুটিং শেষ হয়নি। জুন মাসের মাঝামাঝিতে আরো দু’দিন এই টেলিফিল্মের শুটিং করতে হবে বলে জানান নির্মাতা। নির্মাতা আরিফ খান জানান,‘ পারিবারিক জটিলতা এবং জীবনে পাওয়া না পাওয়ার ব্যর্থতার গল্প নিয়েই মূলত এগিয়ে যাবে ছুটির একদিন টেলিফিল্মের গল্প।


আবারো সুবর্ণা মুস্তাফা এবং তারিনের সঙ্গে একই টেলিফিল্মে অভিনয় প্রসঙ্গে নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন বলেন,‘ যেহেতু আমি নিয়মিত অভিনেতা নেই, সেহেতু আমার ক্ষেত্রে শুটিং-এর পরিবেশটা আরামদায়ক হলে এবং ইউনিট আন্তরিক হলে অভিনয় করাটা উপভোগ্য হয়ে উঠে। সুবর্ণা ও তারিনের সঙ্গে সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। শুটিং-এ তাদের সঙ্গে কাজ করা, একসঙ্গে কিছু মুহুর্ত কাটানো আনন্দদায়ক এবং বাড়তি পাওনাও বটে।

’ নির্মাতা আরিফ খান জানান আসছে ঈদে এনটিভিতে প্রচার হবে ‘ছুটির এক দিনে’ টেলিফিল্মটি। এদিকে গতকাল থেকে আফজাল হোসেন তার নির্দেশনায় ‘ছোট কাকু’ সিরিজের শুটিং শুরু করেছেন। টানা সাতদিন তিনি আট পর্বেও এই সিরিজের শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। আফজাল হোসেন ও তারিন সৈয়দ সালাহ উদ্দিন জাকীর নির্দেশনায় অভিনয় করেছেন টেলিছবি ‘হারানো পাতায় প্রেম’। আসছে ঈদে এটি চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। ছবি : আলিফ হোসেন রিফাত

আজ চ্যানেল আইতে দীপু নাম্বার টু

বিনোদন প্রতিবেদক : চ্যানেল আইতে আজ বিকেল ১.০৫ মিনিটে প্রচার হবে ফেয়ার এন্ড লাভলী সিনেদুপুর ‘দীপু নাম্বার টু’। মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস নির্মিত এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, বুলবুল আহমেদ, আবুল খায়ের, কেরামত মাওলা, গোলাম মুস্তাফা, ডলি জহুর, শামসুজ্জামান খান বেনু, আনোয়ার বেগম, মাসুদ আলী খান, শিশুশিল্পী অরুণ, সুভাশিষ, সাফফাত, ফরহাদ, হিরা, মাশফিক, পিয়াল, ফয়সাল, শ্বাশত প্রমুখ।

এবার ভিন্নরূপে পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক : তিনি দর্শকের হৃদয়ে বর্তমানে ডানাকাটা পরী হয়ে রয়েছেন। কারণ তার অভিনীত ‘রক্ত’ ছবির ‘ডানা কাটা পরী’ শিরোনামের এ গানটি দর্শক বেশ পছন্দ করেন। সেই ডানাকাটা পরী এবার একটি ছবিতে আসছেন ভিন্নরূপে। কাহিনীতে দেখা যাবে, মা নেই জারার। পরিবারে শুধু বাবা বেঁচে আছেন। জারা পড়াশোনা শেষ করে বাবাকে না জানিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা শুরু করেন।

 তবে এ বিষয়টি বাইরের কেউই প্রথমে জানতে পারে না। সবশেষে আবিষ্কার হবে জারা একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এভাবেই পরিচালক শফিক হাসান তার নতুন ছবি ‘বাহাদুরি’-তে পরীমনির চরিত্র নিয়ে বলছিলেন। গত ২১শে মে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় টানা এ ছবির কাজ চলছে। আর ছবিতে জারা চরিত্রে অভিনয় করছেন পরীমনি। তার বিপরীতে রয়েছেন সাইমন সাদিক।

 আগের মতো কয়েকটি ছবিতে কাজ না করে বর্তমানে বেশ বেছে কাজ করছেন পরীমনি। এ ছবিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাহাদুরি’ করার সময় অন্য ছবির কাজ হাতে নেইনি। মন দিয়ে জারা চরিত্রে কাজ করছি। আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন সাদেক বাচ্চু আঙ্কেল। রোমান্টিক ও অ্যাকশন এ ছবির কাজ টানা শেষ করব। ঢাকার আশপাশে চলতি মাসেই ছবির বাকি কাজ শেষ হবে। এরপর গানের শুটিং। আশা করি দর্শক ছবিটি পছন্দ করবেন।

 পরীমনি অভিনীত সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নাম ‘আপন মানুষ’। এ ছবিটি পরিচালনা করেছেন শাহ আলম ম-ল। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বাপ্পি। পরীমনি অভিনীত বেশকিছু ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’, মালেক আফসারীর ‘অন্তর জ্বালা’ ও শওকাতের ‘নদীর বুকে চাঁদ’।

ঈদের ইত্যাদিতে নিরব-ইমন

বিনোদন প্রতিবেদক : এবারের ঈদেও রয়েছে নানান আয়োজনে সমৃদ্ধ ‘ইত্যাদি’। ঈদ ‘ইত্যাদি’র নানান চমকের একটি হচ্ছে বিশেষ মিউজিক্যাল ড্রামা। গ্রাম থেকে সদ্য ঢাকায় আসা এক ব্যক্তির রাস্তা পাড়ি দিতে দ্বিধা, ঈদে বিদেশ যাওয়া এবং ঈদে বিভিন্ন উদ্ভট রেসিপির বাড়াবাড়ি নিয়ে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মিউজিক্যাল ড্রামা করা হয়। একটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনয় তারকা আজিজুল হাকিম আর একটিতে সঙ্গীত শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী ও অভিনেত্রী কুসুম শিকদার এবং অন্যটিতে অভিনয় করেছেন এই প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা ঈমন ও নিরব।

 উল্লেখ্য এই পর্বে প্রথম বারের মত স্বকণ্ঠে গাইলেন আজিজুল হাকিম। অভিন শিল্পী কুসুম শিকদারও আর একটি পর্বে স্বকণ্ঠে গেয়েছেন। এই পর্বে সঙ্গীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী প্রথম বারের মত অভিনয় করেছেন। এই পর্বটিও দর্শকদের ভীষণ আনন্দ দেবে বলে ফাগুন অডিও ভিশন জানায়।

বিটিভির ঈদ অনুষ্ঠানমালায় ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে ঈদের পরদিন রাত ১০টার ইংরেজী সংবাদের পর। ‘ইত্যাদি’ রচনা, উপস্থাপনা ও পরিকল্পনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মান করেছে নন্দিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফাগুন অডিও ভিশন। প্রচারিত হবে যথারীতি কেয়া কস্মেটিকস্ লিমিটেড এর সৌজন্যে।

প্রথমবারের মতো মিউজিক ভিডিওর মডেল হলেন সাফা

অভি মঈনুদ্দীন : প্রায় চার বছর যাবত নাটকে এবং বিজ্ঞাপনে সমানতালে কাজ করছেন এই সময়ের তন্বী তরুনী মডেলকাম অভিনেত্রী সাফা। এই সময়ের মধ্যে অনেকেরই গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হবার প্রস্তাব পেলেও এবারই প্রথম সাফা কবির একটি মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। গতকাল থেকে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি মনোরম লোকশনে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্য ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।

 নতুন কন্ঠ শিল্পী মেহেদী নাহিদের গাওয়া একটি গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করছেন শাহরিয়ার পল্লব। গতকাল দুপুর থেকে মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্য ধারণের কাজ শুরু হয়। আজও চলবে এর শুটিং। হঠাৎ মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে কাজ করা প্রসঙ্গে সাফা বলেন,‘ আমাদের দেশের মিউজিক ভিডিওর মান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের।

যে কারণে ইউটিউবে প্রায়ই সেসব কাজ উপভোগ করি। আমার ইচ্ছে ছিলো সবকিছু মিলিয়ে একটি ভালো গানের ভালো মিউজিক ভিডিওতে মডেল হওয়া। মেহেদী নাহিদ ভাইয়ার আগ্রহ, মিউজিক ভিডিওটির স্টোরি টেলিং এবং শুটিংকে ঘিরে যতোসব আয়োজন আমাকে মুগ্ধ করেছে বলেই এতে কাজ করছি।


 আমার মনে হচ্ছে কাজটি আমার মনমতোই হবে এবং দর্শকের খুব ভালোলাগবে।’ সাফা জানান ঈদের আগেই তার ভক্তদের ঈদ চমক হিসেবে এটি ইউটিউব’সহ বিভিন্ন চ্যানেলেও প্রচার শুরু হবে। আর এবারের ঈদে এটিই হচ্ছে সাফার বড় চমক। এদিকে এরইমধ্যে সাফা বেশকিছু ঈদ নাটকের কাজ শেষ করেছেন।

তানিয়া আহমেদ, রাজীবুল ইসলাম রাজীব, মাস্তফা কামাল রাজ, শিকদার রাসেল, মাবরুর রশীদ বান্নাহ,’সহ আরো বেশ কয়েকজন নির্মাতার নির্দেশনায় ঈদ বিশেষ নাটকে অভিনয় করেছেন সাফা কবির। ঈদের পূর্ব পর্যন্ত আরো বেশ কয়েকজন নির্মাতার নির্দেশনায় ঈদ নাটকের কাজেই ব্যস্ত থাকবেন তিনি।  ২০১৩ সালে আদনান আল রাজীবের নির্দেশনায় ‘এইটিন অলটাইম দৌড়ের উপর’ টেলিফিল্মে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে মিডিয়াতে সাফার যাত্রা শুরু হয়।


 এরপর প্রথম বিজ্ঞাপনে মডেল হন আশফাক বিপুলের নির্দেশনায় এয়ারটেল’র বিজ্ঞাপনে। তবে রাহাত রহমানের নির্দেশনায় একটি প্রতিষ্ঠানের পিনাক বারের বিজ্ঞাপনে ‘ফেসবুক পারেনা’ সংলাপটি সাফার মুখে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। আলোচনায় চলে আসেন সাফা।

সম্প্রতি সাফা নতুন দুটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। একটি বহুজাতিক কোম্পানীর কোল্ডড্রিংকস এবং কাপ নুডুলস’র বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তিনি। এদিকে প্রতি রবিবার রাত ৯ থেকে ১১টা পর্যন্ত রেডিও এবিসিতে ‘লাভ স্ট্রাক বাই সাফা’তে আরজে হিসেবে উপস্থিত থাকেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিলো আতিক জামান নির্দেশিত ‘ইউনিভার্সিটি’। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে এবং ঈদ নাটকে পপি

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিশেষ বিশেষ দিবসের বিষয়ভিত্তিক অনুষ্ঠান, ছায়াছন্দ’সহ আরো নানান ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা হিসেবে অনেক আগে থেকেই প্রশংসিত পপি। বিটিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই তাকে বেশি দেখা যায়।

যে কারণে দেশের অন্যান্য স্যাটেলাইট চ্যানেলের নাটক কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে তার দেখা খুব কমই মিলে। তবে এবারই প্রথম পপি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নাম ‘বাস্টার্ড’। এই চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুকসানা আক্তার পপি। এরইমধ্যে ইউটিউবে পপি অভিনীত ‘বাস্টার্ড’ চলচ্চিত্রটি বহু দর্শক দেখেছেন।


 পপির অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে। পপি বলেন,‘ হোক তা ছোট চরিত্র। কিন্তু চরিত্রের যথাযথ গুরুত্ব থাকলে কাজ করতে ভালো লাগে। যে কারণে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। কাজটির জন্য বোদ্ধামহল এবং দর্শকের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। আমি নিজেও খুব আনন্দিত কাজটি করে।

’ এদিকে আগামী ১০ জনু থেকে পপি তুর্য’র নির্দেশনায় একটি ঈদ বিশেষ নাটকে অভিনয় করবেন। আসছে ঈদে নাটকটি বাংলা ভিশনে প্রচার হবে বলে জানান পপি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘অপেক্ষা’ ধারাবাহিক নাটকটি পপি অভিনীত দর্শকপ্রিয় একটি নাটক। বিটিভিতে এটিই তার অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক। ভালো গল্পের নাটকে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে পপির।


 ইচ্ছে আছে ভালো চরিত্র পেলে চলচ্চিত্রেও কাজ করার। একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় মগ্ন পপি। একজন ভালো উপস্থাপিকা এবং একজন অভিনেত্রী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান বি. বাড়িয়ার মেয়ে পপি। ২০১৩ সালে পপি ঢাকা ওয়াসা থেকে জাতীয় প্যারেড গ্রাউ-ে শ্রেষ্ঠ মডেল হিসেবে পুরস্কৃত হন।

অমিতাভ রেজা চৌধুরীর নির্দেশনায় একটি মুঠোফোন কোম্পানীর বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন পপি। ধীরে ধীরে পপি নিজেকে অভিনয়েই ব্যস্ত করে তুলছেন। একজন গুণী অভিনেত্রী হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হতে চান তিনি। পপির মনোবাসনা পূর্ণ হোক। ছবি ঃ গোলাম সাব্বির।

অপু-পরী, একে অন্যের ভালো বন্ধু

বিনোদন প্রতিবেদক : অপু বিশ্বাস চলচ্চিত্রে পরীমনির অনেক আগেই এসেছেন। তাতে কি আসে যায়। বন্ধুত্বে কোনো বয়সের সীমা নেই। এখন তারা খুব ভালো বন্ধু। অপু বিশ্বাসের সঙ্গে অনেকেরই চলচ্চিত্রে খুবই ভালো সম্পর্ক হয়েছে। তবে বর্তমানে পরীমনির সঙ্গে অপুর বন্ধুত্বটা খানিকটা বেশি।

পরীমনি কয়েকদিন আগে অপু বিশ্বাসকে ঘিরে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই স্ট্যাটাসে অপু বিশ্বাসকে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের রানী বলেও অভিহিত করেন। অপুও তা জানার পর পরীর প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 অপু বিশ্বাস এসব বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, পরীমনি চলচ্চিত্রে খুব ভালো কাজ করছে। আর সব সময়ই আমার খোঁজ খবর নেয়। আমি চলচ্চিত্রে তার সিনিয়র হলেও তাকে বন্ধুর মতোই জানি। আমরা একে অপরের ভালো চাই। ও সব সময়ই আমার খোঁজ খবর রাখে। চলচ্চিত্রের স্বার্থে একসঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যেতে চাই। পরীমনিও একই মত পোষণ করেছেন। সমপ্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠানেও তারা অতিথি হিসেবে একসঙ্গে অংশ নেন এবং অনুষ্ঠানের  শেষে অপু ও পরীমনি সেলফি তোলার উৎসবে মেতে উঠেন।

 উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষ্যে নির্মিত বাংলাভিশনের তারকাদের এই আড্ডা অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক নায়ক ফেরদৌস, নায়িকা অপু বিশ্বাস ও পরীমনি। যেখানে নিজেদের ব্যক্তি ও কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক জম্পেশ আড্ডায় মেতেছিলেন তারা।  এছাড়া আসছে ঈদে অপু বিশ্বাস অভিনীত মুক্তি পেতে যাওয়া ‘রাজনীতি’ ছবির প্রচারণায়ও অংশ নিয়েছেন পরী।

পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন তানিয়া হোসাইন। অনুষ্ঠানটি ঈদের দিন বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে বাংলাভিশনে প্রচার হবে। এদিকে, পরীমনি বর্তমানে ‘বাহাদুরি’ ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। শফিক হাসানের পরিচালনায় এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন সাইমন সাদিক। এ ছবিতে জায়েদ খান, মৌ এবং মিশা সওদাগরও অভিনয় করছেন।

ঈদ ধারাবাহিক ‘ব্রেক ফেইল’ -এ একঝাঁক তারকা

ঈদের জন্য নির্মিত হয়েছে ৭ পর্বের ধারাবাহিক ‘ব্রেক ফেল’। টিপু আলমের গল্প ভাবনায় নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন আকাশ । নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের এক ঝাঁক জনপ্রিয় তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাদের মধ্যে আছেন এটিএম শামসুজ্জামান,

চিত্রলেখা গুহ, মীর সাব্বির, রওনক হাসান, ফারুক আহমেদ, হাসান মাসুদ, অহনা, আরফান, সিদ্দিক, হোমায়রা হিমু, ম ম মোর্শেদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, কচি খন্দকার, নাজিরা মৌ, সাঈদ বাবু, তানিয়া বৃষ্টি, শামীম সহ আরও অনেকে। ‘ব্রেক ফেইল’ ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে বৈশাখী টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠানমালায়। ঈদের দিন থেকে ঈদের ৭ম দিন প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে।

জন্মদিনে চিত্রনায়ক আরজু

বিনোদন প্রতিবেদক : আজ চিত্রনায়ক আরজুর জন্মদিন। এবারের জন্মদিন যথারীতি তার ঢাকাতেই কাটবে। সাধারণত আরজুর জন্মদিনে তার জন্মস্থান চট্টগ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার আর তার সেই সুযোগটি হচ্ছে না। তাই ঢাকাতেই বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এবারের জন্মদিন উদ্যাপন করবেন তিনি। তবে তার জন্মদিনের সবচেয়ে আনন্দময় মুহুর্তে হচ্ছে মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলা।

 জন্মদিনে মাকে পাচ্ছেন না বলে খুব মন খারাপও তার। কিন্তু কিছু করারও নেই এবার। কারণ ঢাকায় তার বেশকিছু কাজের ঝামেলায় এবারের জন্মদিনে মায়ের কাছে যাওয়া হচ্ছে না। তবে দ্রুত সেসব কাজ শেষ করে আরজু চলে যাবেন মায়ের কাছে। আরজু বলেন,‘ এবারের জন্মদিনে তেমন কিছুই করা হচ্ছে না। মায়ের জন্যও মনটা ভীষণ খারাপ।


 সবমিলিয়ে মনটা ভালোও নেই। জন্মদিনটা অন্যান্য দিনের মতো সাধারণভাবেই কাটবে আমার। সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভালো থাকতে পারি, সুস্থ থাকতে পারি-ভালোভাবে যেন রোজাগুলো পালন করতে পারি।’ এদিকে আরজু এরইমধ্যে শেষ করেছেন শামীমুল ইসলাম শামীমের নির্দেশনায় পরীমনির বিপরীতে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ চলচ্চিত্রের কাজ।

 এতে অসাধারণ পারফর্ম্যান্স করেছেন তিনি, এমনটাই জানালেন পরিচালক। এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলে নতুন করে আলোচনায় আসবেন আরজু তার অনবদ্য অভিনয়েরই কারণে। এই চলচ্চিত্রে আরজু ও পরীমনির লিপে সালমান শাহ ও শাবনূরের লিপে জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘পৃথিবীতে সুখ বলে যদি কিছু থেকে থাকে’ গানটি দর্শক দেখতে পাবেন। 

আরজু অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিলো হাছিবুল ইসলাম মিজানের ‘তুমি আছো হৃদয়ে’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন মুক্তি। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘প্রেম বিষাদ’, ‘অবুঝ প্রেম’, ‘বাজাও বিয়ের বাজনা’ ইত্যাদি। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

একসঙ্গে নতুন প্লে-ব্যাকে এবং সম্মাননা গ্রহণ করলেন কনা

অভি মঈনুদ্দীন : শ্রোতাপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কনা কলকাতা গিয়েছেন। উদ্দেশ্য দুটি। একটি নতুন চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দেয়া এবং একটি সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা। গত ৩ জুন কনা ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ‘মনে রেখো’ চলচ্চিত্রে ‘বন্ধু তুমি বিনে প্রাণ বাঁচেনা’ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন। প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের কথায় , আকাশের সুর সঙ্গীতে কলকাতার একটি স্টুডিওতে কনা গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন।

গানটি গাওয়া প্রসঙ্গে কনা বলেন,‘ খুব সহজে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো এক কথায় অসাধারণ একটি গান গাইলাম। আমি বরাবরই প্লে-ব্যাকে চুজি। এ গানটিও আমার সঙ্গীতাঙ্গনে চলার পথকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলেই আমি মনে করছি। আমি গানটি গেয়ে অনেক সন্তুষ্ট। শ্রোতারাও গানটিতে নতুন কিছু পাবেন বলে আশা করছি।

’ গানটিতে কনার সঙ্গে গেয়েছেন আকাশ। এই চলচ্চিত্রে মাহির বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার বনি সেনগুপ্ত। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতায় শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে ‘টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। দুই বাংলার শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের এই অনুষ্ঠানে কনা বাংলাদেশ থেকে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে এই সম্মাননা লাভ করেছেন। আর এই সম্মাননা লাভের পর তিনি বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। এরইমধ্যে কনা প্লে-ব্যাক ও সম্মাননা লাভের পর কলকাতা থেকে ঢাকায় ফেরার কথা তার। এদিকে আসছে ঈদে শাকিব খান ও শুভশ্রী অভিনীত ‘নবাব’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে।


 এতে শ্রভশ্রীর কন্ঠে ‘ও ডিজে’ গানটি গেয়েছেন কণা। এই গান নিয়েও দারুণ আশাবাদী তিনি।  সর্বশেষ গত নজরুল জন্মজয়ন্তীতে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে কনার কন্ঠে ইউটিউবে প্রকাশিত হয় ‘পরদেশী মেঘরে যাওরে ফিরে’। এরইমধ্যে গানটি শ্রোতা দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। আসন্ন ঈদে তিনটি মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি একটি ইপি অ্যালবাম প্রকাশ করছেন শ্রোতাপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা। এর মধ্যে তার তিনটি মিউজিক ভিডিও তিনটি অডিও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হবে। এ তালিকায় রয়েছে- সিএমভি থেকে ‘খামুখাই ভালোবাসা’।

 এর কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি। সুর-সংগীত করেছেন সাজিদ সরকার। এ ছাড়া রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় ডিজে রাহাতের সুর-সংগীতে অ্যাডবক্স থেকে ‘চাঁদের কণা’ প্রকাশ পাবে। অন্যদিকে জুয়েল মোর্শেদ-এর সুর ও সংগীতে ধ্রব মিউজিক স্টেশন থেকে ‘গার্ডেন গার্ডেন’ শিরোনামে গানটি প্রকাশিত হবে। এদিকে মিনার রহমানের সুর-সংগীতায়োজনে অ্যাডবক্স থেকে কণার ইপি অ্যালবামটি প্রকাশিত হবে। সবমিলিয়ে ঈদ আনন্দে অডিওর পাশাপাশি শ্রোতাদের একাধিক ভিডিও চমক উপহার দিচ্ছেন কণা।



Go Top