দুপুর ২:১৪, বুধবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ বিনোদন

তার অভিনয় ও পরিচালনার উচ্চতা অনেক। খ্যাতির শীর্ষে থেকেও নায়করাজ রাজ্জাক বিনয়ের কাছে নতজানু ছিলেন। মনে-প্রাণে শুধুই কাজ করে গেছেন। নিজের কাজটি নিয়েই তিনি ভেবেছেন। সাফল্যকে কখনোই বড় করে দেখেননি। নায়করাজ অভিনেতা রাজ্জাকের চেয়ে পরিচালক রাজ্জাকেরই বেশি গুণগান করেছেন। দেশীয় চলচ্চিত্রের এখনকার এই দুর্দশা তাকে অনেক পোড়ায়। খ্যাতনামা এই অভিনেতা পরিচালকের সাক্ষাৎকার তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবার্তার পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।  
প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন দেখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের বদল হয়। শৈশব থেকে আজকের নায়করাজের স্বপ্ন বদলের গল্পটা কেমন?
       
আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি, তখন আমার মধ্যে একটি স্বপ্ন কাজ করতো। আর তা হলো আমি ফার্স্ট ডিভিশন ফুটবল প্লেয়ার হবো। কারণ সেই সময়ে কলকাতায় ফার্স্ট ডিভিশন ফুটবল প্লেয়ার হওয়া মানে বিরাট ব্যাপার। একজন প্লেয়ারের খুব বেশি টাকা হয়তো নেই। কিন্তু বেশ ইজ্জত আছে। আমি গোলকিপার ছিলাম। ইন্টার স্কুলে দারুণ গোল কিপার হয়ে উঠেছিলাম। এরমধ্যে হঠাৎ করেই অভিনয়ে এলাম। অনেকটা জোর করেই আমাকে দিয়ে অভিনয় করালেন আমার স্কুলের গেম টিচার। সকালে মেয়েদের স্কুল, দুপুরে আমাদের ক্লাস। আমার অভিনয়টাকে মেয়েরা এপ্রিশিয়েট করে। ভালো লাগতে শুরু করল। এরপর তো অভিনয়ের একটা পোকা ঢুকে গেল আমার মাথায়। অভিনয়ের আসার পর থেকে এটা নিয়েই আমার যত ভাবনা। অভিনয় ছাড়া আর কোনো স্বপ্ন আমার নেই। আমি এই স্বপ্নটাই সব সময় দেখেছি যে, আমি একজন বড় অভিনেতা হবো। বড় রাজ্জাক নয়, বড়লোক রাজ্জাক না, পপুলার রাজ্জাক নয়, আমি একজন ভালো অভিনেতা হবো। এই টার্গেট আমার বরাবরই ছিল। আমার মনে হয়, আমি সফল হয়েছি। এখনও স্বপ্ন একটাই, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে করতে মারা যাবো।

 তবে সেটা বোধহয় আর হবে না। এখন আমার কাজ করার কোনো জায়গা নেই। সুতরাং কোনো শুটিং ফ্লোরে পড়ে আমি মারা যাবো সেই চান্সও নেই। হয়তো বাড়িতে, নয়তো হাসপাতালের বিছানায়ই আমার মরণ হবে। তারপরও আমি স্বপ্ন দেখি ইন্ডাস্ট্রি বড় হোক, বড় তো হয়েছিলই। মাঝে আবার ছোট হয়ে গেছে। এখন একটা জায়গাতে এসেছে। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম বিরাট ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হবে। বড় বড় বাজেটের ছবি হবে। আমি যখন এলাম, তখন কবরী, ববিতা সুচন্দা কাজ করত। আমরা রোমান্টিক ছবি করতাম। সেই সময়ে আমাদের শুটিং হতো কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে। এখন হিমছড়িতে বাসে যাওয়া যায়। তখন জোয়ার ভাটার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। জোয়ারে যেতাম, আবার ভাটা পড়লে চলে আসতাম।

 আর ছিল রাঙামাটি ও কাপ্তাই। এসব লোকেশনে কাজ করেই আমরা অনেক সুপার-ডুপার হিট ছবি উপহার দিয়েছি। আর গ্রামের লোকেশন দরকার পড়লে আমরা যেতাম সাভার নয়ারহাট। ফকিন্নির হালতে ছবি করে আমরা কোথায় নিয়ে গিয়েছিলাম ইন্ডাস্ট্রিটাকে। ওটা ছিল আমাদের স্বপ্ন। শুধু আমার একার না। আমার সঙ্গে যারা যারা ছিলেন, প্রত্যেকটি মানুষ কষ্ট করে ইন্ডাস্ট্রিটাকে দাঁড় করিয়েছিলাম। কক্সবাজারে তো এখন পর্যটন কেন্দ্র হয়েছে। তখন কিছুই ছিল না। সাইক্লোন হলে মানুষ যেখানে আশ্রয় নেয়, আমরা সেখানে বিছানাপত্র নিয়ে যেতাম। সেখানে থেকেই কাজ করেছি। সেই সময় হোটেল বলতে এক সাগরিকা আর সায়মন ছিল। আমরা স্বপ্ন দেখেছি বলেই এত পরিশ্রম করেছি সিনেমা নিয়ে। আজকাল এ ধরনের স্বপ্ন ছেলেমেয়েরা দেখে না।  একজন অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে আপনার অনেক প্রাপ্তি রয়েছে। এটা কখন আপনার ভেতর কীরকম আলোড়ন তুলেছে?


আসলে যে স্বপ্নটা আমি দেখেছিলাম। এর প্রতিফলন ঘটেছে। আমি সফলও হয়েছি। আমি এ দেশের একজন শিল্পী হিসেবে যে সম্মান ও ইজ্জত পেয়েছি, আমার মনে হয়, পৃথিবীর আর কোনো শিল্পী আমার মতো এতটা পায়নি। আমি এই বয়সে এসেও যে সম্মান পাচ্ছি, এটা আমার জন্য বিরাট পাওয়া। আর চলচ্চিত্র আমাকে এ দেশ দিয়েছে। একটি দেশ নিয়েই তো চলচ্চিত্র। আমি এ মাধ্যমে কাজ করে যা পেয়েছি, বিশ্বের আর কোনো হিরোর ভাগ্যে হয়তো তা জোটেনি। দেশের সর্বোচ্চ যে সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার, সেটাও আমি এবার পেয়ে গেলাম। আমি সবই পেয়েছি। এ দেশের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়েছে, এই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না। আমার যে স্বপ্ন ছিল আমি একজন ভালো অভিনেতা ও মানুষ হবো, আমি তা হয়েছি। আমার আর চাওয়ার কিছু নেই। আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অনেক পরিশ্রম করেছি, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমি ২০ ঘন্টা কাজ করেছি। চলচ্চিত্রের সাফল্যের যে পতাটাকে আমি ওদের হাতে তুলে দিয়ে এলাম, তা ওরা ধরে রাখতে পারল না। এক রাজ্জাক ছাড়া যদি ওরা না চলতে পারেÑএটা খুবই দুঃখজনক। আমাকে বিষয়টি খুব দুঃখ দিয়েছে।

এই সময়ের নির্মাতাদের অনেকেই বলেন এখন বিনোদনের মাধ্যম পরিবর্তন হয়ে গেছে। দর্শকরা ফেসবুক, ইন্টারনেটের বিভিন্ন সুবিধাগুলোতে বিনোদন খোঁজেন। এ কারণে দেশীয় চলচ্চিত্র দেখতে হলে আগের মতো দর্শক হয় না। কিন্তু আগের ছবিতে আমরা যেমন পারিবারিক গল্প পেতাম, সংসারের প্রতিটি চরিত্র ফুটে ওঠত তখনকার ছবিতে। এখন সেটা নেই। আমার তো মনে হয়, এখনকার নির্মাতারা গল্প বা নির্মাণ বৈচিত্র্য দিয়ে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন দোহাই দিচ্ছেন। আপনি কী বলবেন?

শোনো, চলচ্চিত্রের  ভাষা বা গল্প কিন্তু যুগে যুগে একই। ৫০ সালে একবার টাইটানিক হয়েছিল, এখন আবার সেই টাইটানিক দিয়েই নতুন করে জনপ্রিয়তা এসেছে। আমি যদি ভালো করে ছবিতে গল্প বলতে পারি, যদি মানুষের কাছে যেতে পারি, একটি উদাহরণ দিচ্ছি-আমার প্রোডাকশন থেকে যখন অ্যাকশন ছবি হচ্ছে, আমার ছেলেরা পাগল হয়ে গেছে অ্যাকশন ছাড়া ছবি চলে না, অথচ আমি ব্যবসায়িকভাবে মার খাচ্ছি। আমি ‘অভিযান’ করলাম তিনটি হিরো দিয়ে। ছবি হিট হলো কিন্তু আলোড়ন তৈরি করল না। আমি রাগ করে হজ্বে চলে গেলাম। সেখান থেকে এসে বানালাম নরমাল একটি ছবি। শরৎচন্দ্রের কাহিনী নিয়ে ‘সৎভাই’। যেটা শাবানার ক্যারেক্টার, সেখানে আমি নিলাম নূতনকে। আর যেখানে ইলিয়াস কাঞ্চণ সেখানে আমি নিলাম আলীরাজকে।

 কাঞ্চণ এর আগে আমার অভিযানে ছিল। পরে তাকে না নেওয়ায় তার দুঃখ ছিল। কিন্তু এই ছবিটি আমাকে অনেক ব্যবসা দিয়েছে। এতে কিন্তু কোনো মারামারি নেই, একটা থাপ্পরও ছিল না। একটি গান ছিল তা-ও আমি ফেলে দিয়েছিলাম। তো গল্প বলতে হবে। ভালো ছবি বানাতে হবে। এখন সেই অর্থে বানাবার লোক নেই। এখনকার সিনেমাতে তো কত অশোভন জিনিস জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপরও তো তোমরা হলে তা চালাতে পারছো না। মেয়েদেরকে অর্ধনগ্ন করছো। এখন গান করার জন্য ব্যাংকক, লন্ডন কত জায়গায়ই তো যাচ্ছে মেকাররা। আর আমাদের সময় একটি রোমান্টিক গান করার জন্য পরিচালক প্রস্তুতি নিত গানটি হিমছড়িতে হবে। এটাই আমাদের জন্য বিরাট ব্যাপার ছিল। সবাই বাসে চড়ে একসঙ্গে সকাল ৯ টায় রওনা দিয়ে রাত ১০টায় পৌঁছতাম। সুন্দর একটি গান হতো। আর এখন ওদের টার্গেট দেশের বাইরে যাওয়া। সেখানে মেয়েটাকে অর্ধনগ্ন করো, আর ছেলেটাতো উলঙ্গ আছেই। এরপরও তো কিছু করতে পারছে না। কিছু কি হচ্ছে? আমরা ময়নামতির অনেক সাধের ময়না আমারের শুটিং করেছি নয়ারহাটে। এই নয়াটোলার নয়ারহাট। এখন শিল্পীদেরও চেষ্টা নেই। ভালো কিছু করার জন্য সবার সাম্মিলিত চেষ্টার প্রয়োজন।
এবার জানতে চাই আপনার নায়করাজ হয়ে ওঠার পেছনে কাদের ভূমিকা ছিল?

আমি আজকের আমি হতে পারতাম না, যদি না আমার সঙ্গে আমার সহযোদ্ধারা থাকত। আমি যখন এ দেশে কাজ করতে এলাম তখন রহমান ভাই জীবিত ছিলেন, কিন্তু সুস্থ নন। শওকত আকবর, হাসান ভাই আছেন, কিন্তু তারা কাজ করার মতো অবস্থায় নেই। আমার ‘আগুন নিয়ে খেলা’র পর মেকাররা মনে করল আরে একে তো সব জায়গাতেই লাগানো যায়। এ দেশের মানুষ আগে বাংলা ছবি দেখত না। আগুন নিয়ে খেলা’র পর আমাকে দেখে তারা বলতে শুরু করল, আরে এতো আমাদের হিরো। তখন কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা ছবি দেখা শুরু করল। জহির রায়হানের পাশাপাশি এগিয়ে এলেন কামাল লোহানী, সুভাস দত্ত, কাজী জহিররা। আমি তাদের বললাম, আপনারা আমাকে কাজ দিন, আমি কাজ করবো। আমি কাজকে ভয় পাই না। তারা নিজেরাই আমার শিডিউল ভাগ করে নিতেন। আমি সকাল ৯টায় এফডিসিতে যেতাম, পরদিন ভোর ৫টায় বাড়িতে আসতাম। নাপিত আমার বাড়ির গেইটে থাকত।

 আমি চেয়ারে বসতাম, তিনি আমার দাঁড়ি কেটে দিতেন। ঐ অবস্থায় গিয়ে শুয়ে পড়তাম। আমার সেক্রেটারি ছিল অনেক কঠোর। ঠিক ৯ টায় আমার বউকে গিয়ে বলত, ম্যাডাম স্যারকে উঠিয়ে দিন প্লিজ! আমি উঠে মুখ ধুয়ে একটা চা খেয়েই বেরিয়ে পড়তাম এফডিসির উদ্দেশে। এফডিসিতেই আমি সকালের নাস্তা করেছি। তখন সেখানে আমাদের মারুফের নাস্তার দোকান ছিল। পুরি আর আলুর তরকারি। জীবনেও সেই স্বাদ আমি ভুলব না। হলিক্রস কলেজের সামনে রাস্তায় এক দাদা বসে মাঠা বিক্রি করতেন। আমি তাকে একটা বড় চীনা গ্লাস কিনে দিয়েছিলাম। আমি তার কাছে পৌছুলেই তিনি গ্লাস ভরে আমাকে মাঠা দিতেন। আমি গাড়িতে বসেই তা পান করতাম। এটাই ছিল আমার ব্রেকফাস্ট। তখন জীবনের দিকে তাকাবার সময় আমার ছিল না। নিজের শখ, আহ্লাদ, সবকিছুকে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু কাজ আর কাজ করেছি। আমি মনে করি, একজন স্টারের বিরাট দায়িত্ব আছে। এতবড় দায়িত্ব যদি সে পালন না করে, তাহলে ভুল হবে। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। সৈয়দ শামসুল হক তার মেয়েকে নিয়ে ‘নাজ’ সিনেমাহলে গিয়েছিলেন ইংলিশ ছবি দেখতে।

 তখন তার মেয়ে ১২ বছর বয়সী। মেয়ে ছবি দেখছে কিন্তু তার ভালো লাগছে না। সে শুধু রাজ্জাককে খুঁজছে। বাবাকে বলছে- বাবা, রাজ্জাক কই, কখন আসবে। হক সাহেব বলছেন, একটু পরেই তার দৃশ্য শুরু হবে। এভাবে কয়েকটি দৃশ্য পার হওয়ার পর যখন মেয়েটি আমাকে না পেয়ে হতাশ। সে বলে উঠল- না, এই ছবি আমি দেখব না। এরপর আমার বাড়িতে এসে হক সাহেব একদিন আমাকে বললেন, এই মিয়া আমার ৫০টাকা ফেরত দিন। আমি অবাক হয়ে  বললাম, আমি কবে ৫০ টাকা নিয়েছিলাম। তিনি মজা করে বললেন, নিয়েছেনই তো। আমি মেয়েকে নিয়ে গেলাম ইংলিশ ছবি দেখতে, আর সে সেখানে রাজ্জাককে খুঁজছে। আমি ইংলিশ ছবিতে কী করে রাজ্জাককে দেখাবো! আসলে আমাদের চলচ্চিত্রাকাশে সত্যিকার অর্থেই একজন স্টার পয়দা হয়েছে। আর সে রাজ্জাক। এটা তার ভাষ্য। কত বড় সার্টিফিকেট। এরপর আমি তার লেখা অনেক গল্পে অভিনয় করেছি। এই আমাদের ত্যাগ। আমি কিন্তু কখনোই নিজের সাফল্যকে মাথায় রাখিনি। আর এখনকার ছেলেমেয়েরা ইন্ডস্ট্রিতে এসেই নিজেকে কত কী ভাবা শুরু করে!       বাকি অংশ আগামী কালের পত্রিকা দেখুন

আপনার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ জানি। নায়ক হিসেবে খ্যাতির অনেক উঁচু জায়গাতে ছিলেন  আপনি।  এখনকার নায়ক-নায়িকরা একটু আলো পেলেই মাথা গরম করে ফেলেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনে। আপনি কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করে গেছেন?   
আমি একটা কথাই মনে করতাম, আমি একজন অভিনেতা, আমি অভিনয় করি। আর কিছুই আমি মনে করতাম না। কেউ আমাকে সুপারস্টার বলছে, কেউ নায়করাজÑএটা তাদের ভালোবাসা। আমি নিজেকে একজন শিল্পী ও চলচ্চিত্রের একজন কর্মী মনে করতাম। এখনো তাই করি। আমি কাজটাকে বড় করে দেখতাম, সাফল্যকে নয়। আমি একসময় খুব ব্যস্ত ছিলাম, এখন সেটা নেই।

 এই বিষয়টি নিয়ে আমার মধ্যে কোনো হতাশা কাজ করে না। আমি রেস্টে আছি, ভালো আছি। আমার মতো খ্যাতির জায়গায় থেকে অবশেষে অনেকে হারিয়ে যায়। স্টিল আমি বাংলার মানুষের কাছে সেই নায়করাজ। আমি যেখানেই যাই, মানুষ আমাকে অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেয়। আগে আমি পাঁচ কোটি মানুষের হিরো ছিলাম, এখন সতের কোটি মানুষের হিরো। মাঝে যখন আমি খুব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এরপর নতুন করে মানুষের ভালোবাসা টের পেলাম। চারদিকে মানুষের হাহাকার শুরু হয়েছিল, রাজ্জাক আছে, না মারা গেছে। আমার ছেলেরা তো পাগল হয়ে গেছে। বিশেষ করে সম্রাট। আমি যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, সেখানকার নামাজের জায়গায় বসে ভক্তরা আমার জন্য দোয়া করেছে। তাদের দোয়াতেই আমি মরণ পথ থেকে এবারের মতো ফিরে এসেছি। এই যে ভালোবাসা ও দোয়াÑতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।    

তখন জহির রায়হানের পাশাপাশি এগিয়ে এলেন কামাল লোহানী, সুভাস  দত্ত ও কাজী জহিরা। আমি তাদের বললাম, আপনারা আমাকে কাজ দিন, আমি কাজ করবো। আমি কাজকে ভয় পাই না। তারা নিজেরাই আমার শিডিউল ভাগ করে নিতেন। আমি সকাল ৯টায় এফডিসিতে যেতাম, পরদিন ভোর ৫টায় বাড়িতে আসতাম। নাপিত আমার বাড়ির গেইটে থাকত। আমি চেয়ারে বসতাম, তিনি আমার দাঁড়ি কেটে দিতেন। ঐ অবস্থায় গিয়ে শুয়ে পড়তাম। আমার সেক্রেটারি ছিল অনেক কঠোর। ঠিক সকাল ৯ টায় আমার বউকে গিয়ে বলত, ম্যাডাম স্যারকে উঠিয়ে দিন প্লিজ! আমি উঠে মুখ ধুয়ে একটা চা খেয়েই বেরিয়ে পড়তাম এফডিসির উদ্দেশে। এফডিসিতেই আমি সকালের নাস্তা করেছি। তখন সেখানে আমাদের মারুফের নাস্তার দোকান ছিল। পুরি আর আলুর তরকারি।

 জীবনেও সেই স্বাদ আমি ভুলব না। হলিক্রস কলেজের সামনে  রাস্তায় এক দাদা বসে মাঠা বিক্রি করতেন, আমি তাকে একটা বড় চীনা গ্লাস কিনে দিয়েছিলাম। আমি তার কাছে পৌছুলেই তিনি গ্লাস ভরে আমাকে মাঠা দিতেন। আমি গাড়িতে বসেই তা পান করতাম। এটাই ছিল আমার ব্রেকফাস্ট। তখন জীবনের দিকে তাকাবার সময় আমার ছিল না। নিজের শখ, আহ্লাদ, সবকিছুকে ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু কাজ আর কাজ করেছি। আমি মনে করি, একজন স্টারের বিরাট দায়িত্ব আছে। এতবড় দায়িত্ব যদি সে পালন না করে, তাহলে ভুল হবে। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। কবি ও লেখক সৈয়দ শামসুল হক তার মেয়েকে নিয়ে ‘নাজ’ সিনেমাহলে গিয়েছিলেন ইংলিশ ছবি দেখতে। তখন তার মেয়ে ১২ বছর বয়সী। মেয়ে ছবি দেখছে কিন্তু তার ভালো লাগছে না।

 সে শুধু রাজ্জাককে খুঁজছে। বাবাকে বলছে- বাবা, রাজ্জাক কই, কখন আসবে। হক সাহেব বলছে- একটু পরেই তার দৃশ্য শুরু হবে। এভাবে কয়েকটি দৃশ্য পার হওয়ার পর যখন মেয়েটি আমাকে না পেয়ে হতাশ। সে বলে উঠল-না, এই ছবি আমি দেখব না। এরপর আমার বাড়িতে এসে হক সাহেব একদিন আমাকে বললেন, এই মিয়া আমার ৫০টাকা ফেরত দিন, আমি অবাক হয়ে বললাম, আমি কবে ৫০ টাকা নিয়েছিলাম। তিনি মজা করে বললেন, নিয়েছেনই তো। আমি মেয়েকে নিয়ে গেলাম ইংলিশ ছবি দেখতে, আর সে সেখানে রাজ্জাককে খুঁজছে। আমি  ইংলিশ ছবিতে কী করে রাজ্জাককে দেখাবো! আসলে আমাদের চলচ্চিত্রাকাশে সত্যিকার অর্থেই একজন স্টার পয়দা হয়েছে। আর সে রাজ্জাক। এটা তার ভাষ্য। কত বড় সার্টিফিকেট! এরপর আমি তার লেখা অনেক গল্পে অভিনয় করেছি। এই আমাদের ত্যাগ, আমি কিন্তু কখনোই নিজের সাফল্যকে মাথায় রাখিনি। আর এখনকার ছেলেমেয়েরা ইন্ডাস্ট্রিতে এসেই নিজেকে কত কী ভাবা শুরু করে!


আপনার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ জানি। নায়ক হিসেবে খ্যাতির অনেক উঁচু জায়গাতে ছিলেন আপনি।  এখনকার নায়ক-নায়িকরা একটু সাফল্য  পেলেই মাথা গরম করে ফেলেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনেও। আপনি কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করে গেছেন? আমি একটা কথাই মনে করতাম, আমি একজন অভিনেতা, আমি অভিনয় করি। আর কিছুই আমি মনে করতাম না। কেউ আমাকে সুপারস্টার বলছে, কেউ নায়করাজÑএটা তাদের ভালোবাসা। আমি নিজেকে একজন শিল্পী ও চলচ্চিত্রের একজন কর্মী মনে করতাম। এখনো তাই করি। আমি কাজটাকে বড় করে দেখতাম, সাফল্যকে নয়। আমি এক সময় খুব ব্যস্ত ছিলাম, এখন সেটা নেই। এই বিষয়টি নিয়ে আমার মধ্যে কোনো হতাশা কাজ করে না। আমি রেস্টে আছি, ভালো আছি। আমার মতো খ্যাতির জায়গায় থেকে অবশেষে অনেকে হারিয়ে গেছে। স্টিল আমি বাংলার মানুষের কাছে সেই নায়করাজ। আমি যেখানেই যাই, মানুষ আমাকে অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেয়। আগে আমি পাঁচ কোটি মানুষের হিরো ছিলাম, এখন সতের কোটি মানুষের হিরো। মাঝে যখন আমি খুব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এরপর নতুন করে মানুষের ভালোবাসা টের পেলাম। চারদিকে মানুষের হাহাকার শুরু হয়েছিল, রাজ্জাক আছে, না মারা গেছে। আমার ছেলেরা তো পাগল হয়ে গেছে। বিশেষ করে সম্রাট। আমি যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম সেখানকার নামাজের জায়গায় বসে ভক্তরা আমার জন্য দোয়া করেছে। তাদের দোয়াতেই আমি মরণ পথ থেকে এবারের মতো ফিরে এসেছি। এই যে ভালোবাসা ও দোয়াÑতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আপনি কয়েক প্রজন্ম নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সঙ্গে এই যে আপনার কাজ করাÑ সময়ের বিবর্তনে নির্মাণ ভাবনার মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য দেখেছেন? আমার যে জেনারেশন ছিল, এর পরের জেনারেশন পর্যন্ত নির্মাণগুলো ঠিকই ছিল। তৃতীয় প্রজন্মও মোটামুটি ঠিক ছিল। তারা ফিল্ম বানাতো, ফিল্মের ভাষাটা তারা জানতো। এর পরের জেনারেশন কিন্তু ফিল্মের ভাষা জানে না। ওরা ভাবছে হলিউড ও বলিউডে কী হচ্ছে। আমরা সেটা করার চেষ্টা করি। বলিউড যে ছবি বানাচ্ছে, তাদের যে বাজেট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, তা আমাদের নেই। আর হলিউডের কথা নাইবা বললাম। এখন যে জেনারেশন ফিল্ম বানাচ্ছেÑওরা আসছে ওদের কোনো ট্রেনিং নেই। জহির রায়হানের সহকারী ছিলেন রহিম নেওয়াজ, আমজাদ হোসেন। তাদের ক্ষমতা মানুষ দেখেছে। এরা জহির রায়হান ও কাজী জহিরের মতো মেকারের সঙ্গে কাজ করেছে। তাদের পড়াশোনা, জানার পরিধি অনেক। আমজাদ হোসেনের সহকারী ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। এরা কাজ করেছে তখন। এখন টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হয় পরিচালক হিসেবে নিজের নামটা। কী জানি বা জানি না সে ব্যাপারে কোনো তদারকি নেই। আমি কারো সহকারী হিসেবে কাজ করেছি কী করি নাই, তারও কোনো ঠিক নেই। এভাবেই চলছে। এখন ফিল্মটা বানানো তাদের কাছে অনেক সহজ ব্যাপার। আর এটা সহজ মনে করা হচ্ছে বলেই আজকের সিনেমার এই হাল।

কঠিন কঠিন কথা থেকে এখন একটু মজার কোনো স্মৃতির গল্প শুনতে চাইছি। আপনার অভিনয় জীবনকে ঘিরে নারীভক্তদের নিয়ে মজার কোনো ঘটনা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে কী? আমার জীবনে এরকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে যা অনেক মজার। আমার নারীভক্তরা আমাকে নিয়ে তাদের অনেক ভালোলাগার অনুভূতি প্রকাশ করেছে। তবে আমার দিক থেকে তারা কখনোই কোনো সাড়া পায়নি। আমার প্রেম বা ভালোবাসার পুরোটাই ছিল ফিল্ম। এখন একটি ঘটনার কথা বলি, সম্ভবত তখন আমি এফডিসির চার নম্বর ফ্লোরে ‘দর্পচূর্ণ’ ছবির শুটিং করছি। তো সকালে গেইট থেকে খবর এলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে চারটি মেয়ে এসেছে আমার সঙ্গে দেখা করতে। ওরা আমার ভক্ত। আমি ভাবলাম এতই সকালে এসেছে। না, আমি দেখা করতে পারবো না।

 তখন মেসেঞ্জার ওদের আমার মতামত জানালে ভক্তরা কান্নাকাটি শুরু করে। এরপর মেসেঞ্জার আমাকে সেটা জানায়। তখন আমি বললাম আচ্ছা, ওদের পাঠিয়ে দাও। আমি মেকআপ রুমে মেকআপ নিচ্ছি। তখন তো আজকের মতো এত সুন্দর মেকআপ রুম ছিল না। মেয়েরা এসে আমার কাছাকাছি বসল। এরপর ওরা নিজেদের মধ্যে কী যেন বলাবলি করেই আমাকে টেবিলের উপর ফেলে চারজন একসঙ্গে চুমু দেওয়া শুরু করলো। মেকআপম্যান আকবর তো চিল্লাচিল্লি শুরু করলো, নজরুল সাহেব আপনি কোথায়? এখানে আসুন, আপনার হিরো তো মরে যাচ্ছে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না। এরপর বললাম, এটা কী হলো? সে সময় ভক্তদের একজন বলল- সরি, আজ আমরা পরিকল্পনা করেই এসেছিলাম যে করেই হোক আপনাকে কিস করবো।

 এটা চিন্তা করা যায়! ওরা কী রকম ফ্যান। একটি মেয়ে চিটাগাংয়ের। সে বিয়ের আগে তার বরকে একটি শর্ত দিয়েছে, যে করেই হোক তুমি হানিমুনে আমাকে ঢাকায় নিবে এবং প্রথম দিনই নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবে। বিয়ের পর ঠিকই বর হাানিমুনে ঢাকায় এসেই সকালে আমার বাড়িতে চলে এলো। আমি সাধারণত ছুটির দিনে ফ্রি থাকলে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতাম। তো যথারীতি মেয়েটি ওর স্বামীকে নিয়ে আমার বাড়ির ড্রয়িং রুমে ঢুকলো। এরপর স্বামীকে দূরে বসিয়ে সে আমার পাশে এসে বসল। স্বামী আমাকে বললেন, ভাই আপনি আমার সংসার বাঁচান। আমি বললাম কী হয়েছে? তখন সে শর্তের কথাটি আমাকে জানায়। আমার একটি সুন্দর ছবি ছিল শোকেসে। মেয়েটি ঐ ছবিটি নেওয়ার বায়না ধরে। তখন তোমাদের আন্টিও (নায়করাজের স্ত্রী) আমার পাশে ছিল। তিনি বললেন, ছবিটি নিয়ে তুমি কী করবে? মেয়েটি বলল, এটা আমার লাগবেই। আমাদের অনুমতি পেয়ে মেয়েটি ছবিটা নিয়েই নিজের বুকে চেপে ধরেই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকে। এরপর বলল, আর কিছু লাগবে না আমার হয়ে গেছে! এরকম আরও অনেক ঘটনা আমার জীবনে এসেছে। কিন্তু আমি কখনোই এগুলোকে আমার ভেতরে ঢুকাইনি। তবে একজন আর্টিস্টের যদি এরকম ফ্যান না থাকে, তাহলে ঐ ইন্ডাস্ট্রি কী করে টিকবে?

আপনি একসঙ্গে অভিনয় এবং পরিচালনাও করেছেন। একই ছবিতে দুই ভূমিকায় কাজ করার ধরণ কেমন ছিল?  
এটা খুব কঠিন কাজ। একজন পরিচালক তার ছবির ব্যাপারে খুবই স্বার্থপর হয়। তিনি সব সময়ই চেষ্টা করেন কী করে তার ছবিটি ভালো হবে। পাশাপাশি একজন আর্টিস্টও তার অভিনয়ের ব্যাপারে খুব স্বার্থপর। এই দুটোকে কম্প্রোমাইজ করে কাজ করা এবং অন্য আর্টিস্টদের কাজ করানো খুবই কঠিন। আমি ছবির অভিনেতা ও পরিচালক, পরিচালক হিসেবে সেদিকে যেন আমার নজর বেশি না পড়ে, পাশাপাশি আবার অভিনয়ের সময় আমি অন্যদের ওপর যেন অবিচার না করি, সবদিকই খেয়াল রাখতে হয়। অভিনেতা ও পরিচালকÑএই দুটিকে আলাদা করে রাখা বেশ কঠিন। যারা এটা না পারে, তারা ব্যর্থ হয়। অনেক আর্টিস্ট পরিচালনায় এসেছে, তারা দুটিকে আলাদা করতে পারেনি বলে সফল হয়নি। আমি যখন অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি, ছবিতে আমার চরিত্রটা যেখানে মানাবে আমি সেখানেই লাগিয়েছি। আমার ছবিতে কবরীসহ অন্যরাও কাজ করেছে। যার যতটুকু গুরুত্ব, আমি ততটুকুই তাদের দিয়েছি। এটা না করতে পারলে একসঙ্গে দুই কাজ করা উচিত নয়।
আপনি একজন অভিনেতা ও পরিচালক। আপনার কাছে পর্দা বা এর  পেছনের নায়করাজের মূল্যায়ণ কেমন?

আমি পরিচালক নায়করাজকে বেশি মূল্যায়ণ করি। কারণ আমার পরিচালনায় যে কয়টি ছবি করেছি, তাতে আমি দারুণ সফল হয়েছি। অভিনয় আমি অন্যসব পরিচালকের ছবিতে যেমন করি, নিজের পরিচালনায়ও তেমনই করেছি। এখানে আহামরি কিছু করতে পারিনি। যেমন আমার ‘অনন্ত প্রেম’ ছবির গল্পটাই ছিল খুব ভালো। সেখানে আমরা দুজনই পার হয়ে গেছি। বেঈমান ছবিতে আমার সঙ্গে কবরীও ছিল। আমি পুরনো ছবি দেখতে বসলেই আমার পরিচালিত ছবিগুলো দেখে থাকি। যেমন অনন্ত প্রেম, বেঈমান, চাপাডাঙার বউ ইত্যাদি। আমি তখন পরিচালক রাজ্জাককেই বেশি পয়েন্ট দেই।

আপনি যখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন। আপনার পাশাপাশি অনেকেই নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের অবস্থান নিয়ে কখনো কী কোনো শঙ্কায় ছিলেন?
আমার ভেতর কখনোই কোনো শঙ্কা কাজ করেনি। আমি তো অনেককেই স্বাগত জানিয়েছি আমার পাশাপাশি কাজ করার জন্য। নায়ক ফারুক, আলমগীর, উজ্জ্বলদের তো আমি আমার বাসায় এনে ট্রেনিং দিয়েছি, কী করে প্রডিউসারদের সঙ্গে মিশবে, কথা বলবে, কী করে ভালো ছবিতে কাজ করবে। আমি কখনোই জেলাস ছিলাম না। ফারুক তো ওর একটা ছবি করার পর লজ্জায় এফডিসিতেই ঢুকতো না। আমি ওকে আমার বাসায় এনে বুঝিয়েছি কাজ করো। আমি বিশ্বাস করতাম আমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। আমিও কারোটা নিতে পারবো না। আমি নিজেকে জানতাম। আমার মধ্যে কী আছে সেটা আমার জানা। আমার সামনে পৃথিবীর বড় বড় আর্টিস্ট এনে দাও, আমি ঠিকই আমার কাজ করে যাবো। আমি শবনমের সঙ্গে এক্সট্রা আর্টিস্ট ছিলাম। সেই আমিই আবার তার নায়ক হয়ে কাজ করেছি। আমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যারা দেশীয় সিনেমার উন্নয়নে কাজ করেছে, আমি ওদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি যাদের এ মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম, ওরা যতদিন কাজ করেছে, ততদিন ইন্ডাস্ট্রিটা ঠিক ছিল।  

এখন ফিল্মটা বানানো তাদের কাছে অনেক সহজ ব্যাপার। আর এটা সহজ মনে করা হচ্ছে বলেই আজকের সিনেমার এই হাল।
কঠিন কঠিন কথা থেকে এখন একটু মজার কোনো স্মৃতির গল্প শুনতে চাইছি। আপনার অভিনয় জীবনকে ঘিরে নারীভক্তদের নিয়ে মজার কোনো ঘটনা এই মুহুর্তে মনে পড়ছে কী?  আমার জীবনে এরকম অনেক ঘটনাই ঘটেছে যা অনেক মজার। আমার নারীভক্তরা আমাকে নিয়ে তাদের অনেক ভালোলাগার অনুভূতি প্রকাশ করেছে। তবে আমার দিক থেকে তারা কখনোই কোনো সাড়া পায়নি। আমার প্রেম বা ভালোবাসার পুরোটাই ছিল ফিল্ম। এখন একটি ঘটনার কথা বলি, সম্ভবত তখন আমি এফডিসির চার নম্বর ফ্লোরে ‘দর্পচূর্ণ’ ছবির শুটিং করছি। তো সকালে গেইট থেকে খবর এলো ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে চারটি মেয়ে এসেছে আমার সঙ্গে দেখা করতে। ওরা আমার ভক্ত। আমি ভাবলাম এতই সকালে এসেছে। না, আমি দেখা করতে পারবো না। তখন মেসেঞ্জার ওদের আমার মতামত জানালে ভক্তরা কান্নাকাটি শুরু করে। এরপর মেসেঞ্জার আমাকে সেটা জানায়। তখন আমি বললাম আচ্ছা, ওদের পাঠিয়ে দাও।

আমি মেকআপ রুমে মেকআপ নিচ্ছি। তখন তো আজকের মতো এত সুন্দর মেকআপ রুম ছিল না। মেয়েরা এসে আমার কাছাকাছি বসল। এরপর ওরা নিজেদের মধ্যে কী যেন বলাবলি করেই আমাকে টেবিলের উপর ফেলে চারজন একসঙ্গে চুমু দেওয়া শুরু করলো। মেকআপম্যান আকবর তো চিল্লাচিল্লি শুরু করলো, নজরুল সাহেব আপনি কোথায়? এখানে আসুন, আপনার হিরো তো মরে যাচ্ছে। আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না। এরপর বললাম, এটা কী হলো? সে সময় ভক্তদের একজন বলল- সরি, আজ আমরা পরিকল্পনা করেই এসেছিলাম যে করেই হোক আপনাকে কিস করবো। এটা চিন্তা করা যায়! ওরা কী রকম ফ্যান। একটি মেয়ে চিটাগাংয়ের। সে বিয়ের আগে তার বরকে একটি শর্ত দিয়েছে, যে করেই হোক তুমি হানিমুনে আমাকে ঢাকায় নিবে এবং প্রথম দিনই নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেবে। বিয়ের পর ঠিকই বর হাানিমুনে ঢাকায় এসেই সকালে আমার বাড়িতে চলে এলো।

 আমি সাধারণত ছুটির দিনে ফ্রি থাকলে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতাম। তো যথারীতি মেয়েটি ওর স্বামীকে নিয়ে আমার বাড়ির ড্রয়িং রুমে ঢুকলো। এরপর স্বামীকে দূরে বসিয়ে সে আমার পাশে এসে বসল। স্বামী আমাকে বললেন, ভাই আপনি আমার সংসার বাঁচান। আমি বললাম কী হয়েছে? তখন সে শর্তের কথাটি আমাকে জানায়। আমার একটি সুন্দর ছবি ছিল শোকেসে। মেয়েটি ঐ ছবিটি নেওয়ার বায়না ধরে। তখন তোমাদের আন্টিও (নায়করাজের স্ত্রী) আমার পাশে ছিল। তিনি বললেন, ছবিটি নিয়ে তুমি কী করবে? মেয়েটি বলল, এটা আমার লাগবেই। আমাদের অনুমতি পেয়ে মেয়েটি ছবিটা নিয়েই নিজের বুকে চেপে ধরেই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকে। এরপর বলল, আর কিছু লাগবে না আমার হয়ে গেছে! এরকম আরও অনেক ঘটনা আমার জীবনে এসেছে। কিন্তু আমি কখনোই এগুলোকে আমার ভেতরে ঢুকাইনি। তবে একজন আর্টিস্টের যদি এরকম ফ্যান না থাকে, তাহলে ঐ ইন্ডাস্ট্রি কী করে টিকবে?

আপনি একসঙ্গে অভিনয় এবং পরিচালনাও করেছেন। একই ছবিতে দুই ভূমিকায় কাজ করার ধরণ কেমন ছিল?  
এটা খুব কঠিন কাজ। একজন পরিচালক তার ছবির ব্যাপারে খুবই স্বার্থপর হয়। তিনি সব সময়ই চেষ্টা করেন কী করে তার ছবিটি ভালো হবে। পাশাপাশি একজন আর্টিস্টও তার অভিনয়ের ব্যাপারে খুব স্বার্থপর। এই দুটোকে কম্প্রোমাইজ করে কাজ করা এবং অন্য আর্টিস্টদের কাজ করানো খুবই কঠিন। আমি ছবির অভিনেতা ও পরিচালক, পরিচালক হিসেবে সেদিকে যেন আমার নজর বেশি না পড়ে, পাশাপাশি আবার অভিনয়ের সময় আমি অন্যদের ওপর যেন অবিচার না করি, সবদিকই খেয়াল রাখতে হয়। অভিনেতা ও পরিচালকÑএই দুটিকে আলাদা করে রাখা বেশ কঠিন। যারা এটা না পারে, তারা ব্যর্থ হয়। অনেক আর্টিস্ট পরিচালনায় এসেছে, তারা দুটিকে আলাদা করতে পারেনি বলে সফল হয়নি। আমি যখন অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি, ছবিতে আমার চরিত্রটা যেখানে মানাবে আমি সেখানেই লাগিয়েছি। আমার ছবিতে কবরীসহ অন্যরাও কাজ করেছে। যার যতটুকু গুরুত্ব, আমি ততটুকুই তাদের দিয়েছি। এটা না করতে পারলে একসঙ্গে দুই কাজ করা উচিত নয়।
আপনি একজন অভিনেতা ও পরিচালক। আপনার কাছে পর্দা বা এর  পেছনের নায়করাজের মূল্যায়ণ কেমন?

আমি পরিচালক নায়করাজকে বেশি মূল্যায়ণ করি। কারণ আমার পরিচালনায় যে কয়টি ছবি করেছি, তাতে আমি দারুণ সফল হয়েছি। অভিনয় আমি অন্যসব পরিচালকের ছবিতে যেমন করি, নিজের পরিচালনায়ও তেমনই করেছি। এখানে আহামরি কিছু করতে পারিনি। যেমন আমার ‘অনন্ত প্রেম’ ছবির গল্পটাই ছিল খুব ভালো। সেখানে আমরা দুজনই পার হয়ে গেছি। বেঈমান ছবিতে আমার সঙ্গে কবরীও ছিল। আমি পুরনো ছবি দেখতে বসলেই আমার পরিচালিত ছবিগুলো দেখে থাকি। যেমন অনন্ত প্রেম, বেঈমান, চাপাডাঙার বউ ইত্যাদি। আমি তখন পরিচালক রাজ্জাককেই বেশি পয়েন্ট দেই।

আপনি যখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন। আপনার পাশাপাশি অনেকেই নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। নিজের অবস্থান নিয়ে কখনো কী কোনো শঙ্কায় ছিলেন?
আমার ভেতর কখনোই কোনো শঙ্কা কাজ করেনি। আমি তো অনেককেই স্বাগত জানিয়েছি আমার পাশাপাশি কাজ করার জন্য। নায়ক ফারুক, আলমগীর, উজ্জ্বলদের তো আমি আমার বাসায় এনে ট্রেনিং দিয়েছি, কী করে প্রডিউসারদের সঙ্গে মিশবে, কথা বলবে, কী করে ভালো ছবিতে কাজ করবে। আমি কখনোই জেলাস ছিলাম না। ফারুক তো ওর একটা ছবি করার পর লজ্জায় এফডিসিতেই ঢুকতো না। আমি ওকে আমার বাসায় এনে বুঝিয়েছি কাজ করো। আমি বিশ্বাস করতাম আমার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। আমিও কারোটা নিতে পারবো না। আমি নিজেকে জানতাম। আমার মধ্যে কী আছে সেটা আমার জানা। আমার সামনে পৃথিবীর বড় বড় আর্টিস্ট এনে দাও, আমি ঠিকই আমার কাজ করে যাবো। আমি শবনমের সঙ্গে এক্সট্রা আর্টিস্ট ছিলাম। সেই আমিই আবার তার নায়ক হয়ে কাজ করেছি। আমার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যারা দেশীয় সিনেমার উন্নয়নে কাজ করেছে, আমি ওদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমি যাদের এ মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম, ওরা যতদিন কাজ করেছে, ততদিন ইন্ডাস্ট্রিটা ঠিক ছিল।  
 
নায়ক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আপনার পরিকল্পনা কেমন ছিল?   
আমি বরাবরই বেছে বেছে কাজ করেছি। কেউ এলো আর আমি তার ছবিতে কাজ করবো, সেটা সম্ভব ছিল না। ‘বেহুলা’র (নায়ক হিসেবে নায়করাজের প্রথম চলচ্চিত্র) পর থেকেই আমার সেক্রেটারি ছিল। কেউ মন চাইলেই আমার কাছে আসতে পারত না। আমার কাছে আসার আগে তাকে কয়েকটি ব্যারিকেড পার হতে হতো। এই ব্যারিকেডগুলো ছিল বলেই ফালতু লোকগুলো আমার কাছে আসার সুযোগ পায়নি। একজন আর্টিস্টের প্রথম দরকার হলো চুজি হওয়া। তুমি কোন ছবি করবে বা করবে না এটা ঠিক করে নিতে হবে। আমি এই কাজে বরাবরই আমার সেক্রেটারিদের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার প্রথম সেক্রেটারি ছিল আকবর। এরপর মিরাজ। আকবর তো আমার অনেক পছন্দের ছিল। ও মারা যাওয়ার পর আমি মিরাজকে নিলাম। আমার কাছে কেউ ছবি করার প্রস্তাব দিলেই আমি বলতাম আমার সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আর আমার সেক্রেটারির কাজ হলো তুমি কে, কোত্থেতে এসেছো। তোমার কোয়ালিফিকেশন কী, এর আগে তোমাকে ইন্ডাস্ট্রিতে দেখেছি কিনা। তুমি কার সহকারী হিসেবে কাজ করেছো। কতদিন ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করছো।

 এরপর যদি সদুত্তর পাওয়া যায়, তাহলে স্ক্রিপ্ট নিয়ে আসার কথা বলা হতো। আর যদি আমার সেক্রেটারি আগেই বুঝে যায় তোমার কতটুকু ক্ষমতা, তুমি পারফেক্ট নও। তাহলে সে বলবে- না, রাজ্জাক সাহেব এই ছবি করবে না। এটাই ছিল আমার নিয়ম। এর ব্যতিক্রম হলে আমার বাপ এলেও আমি ছবি করতাম না। এমনও হয়েছে যে, আমি পঁচা পঁচা পরিচালকের কাজ করেছি। এর কারণ ছবির গল্প ভালো ছিল। আমি ভিলেনের চরিত্রেও কাজ করেছি। তো একজন আর্টিস্ট যদি গু, গোবর যা পায় তাই খায়, তাহলে হলো না। আমি নিজের কাজের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো মেনে চলেছি। আজ আমার এই স্থায়ীত্ব কেন, এ কারণেই। আমার সেক্রেটারির কাছে পরীক্ষায় পাস করার পরই আমার কাছে আসার সুযোগ পেতেন পরিচালকেরা।

 তখন তো ছুটি ছিল রোববার। ছুটির দিন সকালে আমার বাড়িতে এক থেকে দেড়’শ লোক আসত। আমি একে একে পরিচালকদের কাছে ছবির গল্প শুনতাম। এই করতে করতে বিকাল চারটা-পাঁচটা বেজে যেত। যখন আমি কারো স্ক্রিপ্ট পছন্দ করতাম, ঐ সময় থেকেই পরিচালক আমার বেস্টফ্রেন্ড হয়ে গেল। যাতে তার মধ্যে কোনো ভয় না থাকে। ঐ সময় রাজ্জাককে নিয়ে প্রথম কাজ করার মধ্যে অনেকেরই একটু ভয় কাজ করতো। কিন্তু আমি তাদের অভয় দিতাম। পরিচালকদের সঙ্গে আমি এভাবে মিশতাম যে, সবকিছু তাদের খুলে বলার পরিবেশ তৈরি করে দিতাম। আমি পরিচালকদের বলতাম, কখনোই মানের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করবেন না। তাহলে কিন্তু আমি কাজ করবো না। আমি রাজ্জাক বলে আমাকে অনেক সমীহ বা তোয়াজ করতে হবেÑএটা আমি পছন্দ করতাম না। আমি বলতাম তুমি সেটে যখন পরিচালক, আমি যত বড় সুপারস্টারই হই না কেন, আমি তোমাকে সম্মান দেখিয়েই কাজ করবো। তুমি সেটে ভুল সিদ্ধান্ত নিলেও আমি তোমার বাইরে কোনো কথা বলবো না। তবে হ্যাঁ, পরে তোমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে বলে দিবো এই এই জায়গাই এটা না করলে ভালো হয়।   এই যে পরিচালককে সম্মান দেখানো, আলাদা ডেকে নিয়ে ভুল শুধরে দেওয়া। এমন বিনয় কি আপনি নতুন প্রজন্মের মাঝে দেখেছেন?

না, না। ওরা সামনাসামনি অপমান করতে পারলেই বরং বেশি খুশি হয়। ওরা তো পরিচালককে পরিচালকই মনে করে না। ওদের বলে কন্ডাক্টর। আর এখনকার অধিকাংশ পরিচালকই আসলে কন্ডাক্টর। ডিরেক্টর মানে তো ক্যাপ্টেইন। ক্যাপ্টেইন অব দ্য শিপ। ডিরেক্টরের কথায় আর্টিস্ট উঠবে বসবে। আর এখনকার ডিরেক্টররা তো হিরো হিরোইনের চামচামি করতে করতেই সময় ব্যয় করে ফেলে। কাজ করবে কী!  আপনার দুজন যোগ্য উত্তরসূরি রয়েছেন। একজন বাপ্পারাজ, অন্যজন সম্রাট। দুজনই অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন। আপনি এরইমধ্যে সম্রাটের পরিচালনায় কাজও করেছেন। তাদের কাজ দেখে কী মনে হয়?

ভালোই মনে হয়। ওদের আমি সব সময়ই একটা কথা বলি, ভালো কাজ করবে। ওরা তাই করছে। আমি বাপ্পা ও সম্রাটের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সিনসিয়ারিটি দেখেছি। ওরা যে কাজটা করে ভালোবেসেই করে। ওরা আমার দোয়া নিয়েই কাজ করতে যায়। কোনো কাজ করার আগে আমার সঙ্গে তা শেয়ার করে, স্ক্রিপ্ট পড়তে দেয়। আমি ‘ওকে’ বললেই কাজ করে। আর যদি আমি না বলি, তাহলে সেই কাজ করবে না। আমার ছেলেরা ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল। সবার সঙ্গেই সুন্দর আচরণ করে। তোমাকে ভাই বলে কথা বলবে। এটা আজকালকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে খুবই কম দেখা যায়। আমার ছেলেরা ওদের বাপকে যতটা ভালোবাসে, এই ইন্ডাস্ট্রিকেও ততটাই ভালোবাসে। ফলে সবার সঙ্গে ওরা সহজে বিনয় দিয়ে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে নেয়। এর আগেও এ দেশে যৌথ প্রযোজনায় ছবি হয়েছে। আপনিও কাজ করেছেন। সে সময় নীতিমালা মেনেই কাজ হতো। এখন সেটা মানা হচ্ছে না। এই বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

আমি নীতিমালার কথা বলবো না। এখন যৌথ প্রযোজনার নামে যারা কাজ করছে, তারা বাংলাদেশে আমাদের মেয়েদের ন্যাংটা করতে পারছে না। ওখানে নিয়ে গিয়ে করছে। এখনকার যৌথ প্রযোজনাকারীরা হচ্ছেন স্মাগলার। আগে আনন্দ ফূর্তি করার জন্য কিছু জমিদাররা যেমন বায়েজি এনে নাচ উপভোগ করতেন, তেমনি এই স্মাগলাররা আমাদের মেয়েদের নিয়ে গিয়ে বায়েজি নাচ নাচাচ্ছে কলকাতাতে। এর মতো অন্যায় আর কিছু হতে পারে না। তাদের এই অন্যায়ের জন্যই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বা গেছে। আমাদের এখানে এখন কিছু বড়লোক গজিয়েছে। তারা নায়িকাদের বায়েজি হিসেবে ব্যবহার করছে। নীতিমালা দেখার মতো মানসিকতা তো তাদের নেই। সরকারও কিছু বলছে না। আর আমাদের সরকার তো দেখছি কোনো ব্যাপারেই সিরিয়াস না। আমি সরকারকে বলেছিলাম, আপনারা কেন এই যৌথ প্রযোজনা জিইয়ে রেখেছেন। আমাদের এখান থেকে দুজন আর্টিস্ট যাচ্ছে, আর বাকিসব ওদের।

 আমার দেশে দুদিন শুটিং করেই ওরা বলছে অর্ধেক কাজ হয়ে গেছে। বাকি কাজ করছে বিদেশে, আউটডোরে। আমরা দেশীয় লোকেশনে শুটিং করে কাজ করেছি। আমাদের ছবি দর্শকরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ দেখেছেন। হিমছড়িতে শুটিং করে ছবি হলে উঠিয়েছি আর সেটা হল থেকে নামেনি সহজে। আর এখন হংকং, সিঙ্গাপুর ও লন্ডনে শুটিং করার পর ছবি হলে উঠালে একদিন পরই নামিয়ে ফেলতে হয় দর্শক নেই বলে। আমরা গ্রামীণ ছবি করলে যেতাম সাভার। একটু মডার্ণ ছবি হলে হিমছড়ি বা রাঙামাটি। এই ছিল আমাদের গ্ল্যামার। তখন আমাদের ক্যাপিটাল ছিল ক্যামেরার সামনের লোকগুলো। এই রাজ্জাক, সুচন্দা ও কবরীÑএরা কী করছে, কী বলছে এটাই দর্শকরা দেখতেন। পরিচালকরা আর্টিস্টদের ওপরই ভরসা রাখতেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে কী আছে না আছে তা নিয়ে পরিচালকরা ভাবতেন না। তারা জানতেন ক্যামেরার সামনে তাদের কী জিনিস রয়েছে। আজ তোমরা স্কটল্যান্ডে শুটিং করেও ছবি চালাতে পারছো না। তবে আমরা কী করে এ দেশে শুটিং করে ছবি চালিয়েছি? হিমছড়িতে শুটিং করে আমরা ইন্ডাস্ট্রিটাকে এত বড় করেছি। তিন’শ হল থেকে তা চৌদ্দ’শ করেছিলাম। আর তোমরা এসে চৌদ্দ’শ থেকে তা তিন’শতে নামিয়েছো।
   
দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক হতাশার কথাই বললেন। এরপরও কি আপনি কোনো আশার আলো দেখেন  কিনা যে, একদিন আমাদের চলচ্চিত্র আবার আগের জায়গা ফিরে পাবে?  না, আমি সেই স্বপ্ন দেখি না। কারণ আমাদের নৈতিক চরিত্র শেষ হয়ে গেছে। আর শুধু চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষদেরই নয়, সারা দেশের মানুষের নৈতিক চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার বলছে, ভাই তোমরা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বাড়াইওনা। আমরা কী করছি তা না শুনে রমজান মাসে কে কত পারি জিনিসের দাম বাড়াচ্ছি। এটা কারা করছে, যারা ব্যবসায়ী। ওদের নৈতিক চরিত্র বলতে কিছু নেই। তোমরা রোজার সময় খেজুর ও ছোলার দাম বাড়াচ্ছো, যেটা রোজাদারেরা খায়। মাংস, সেটাও একই অবস্থা। রাতরাতি তো একটি গরুর দাম পাঁচ হাজার টাকা বাড়ছে না। এভাবে প্রতিটি সেক্টরের মানুষের নৈতিক চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছেÑযেটা আগে ঠিক ছিল। আগে আমি বাজারে গেলে বিভিন্ন প্রকারের সবজি কেনার পর  কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা দোকানি একমুঠো ফ্রি দিয়ে দিত গিফট হিসেবে। এখন কাঁচামরিচের কেজি এক’শো টাকা। ধনেপাতার কেচি দেড়’শ টাকা। সেই প্রেম-ভালোবাসা এখন কোথায়? (সমাপ্ত)  

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

এক্সট্রা থেকে নায়করাজ

নায়করাজ রাজ্জাকের ৭৬ তম  জন্মদিনে এ বছরের ২৩ জানুয়ারি তাঁকে নিয়ে লিখেছিলেন মুম রহমান। তুলে ধরেছিলেন সাধারণ অভিনেতা থেকে তাঁর নায়করাজ হয়ে ওঠার কাহিনী। আব্দুর রাজ্জাককে কেউ চিনতো না। অথচ তার জন্মই হয়েছে টালিউডে। টালিউড মানে কলকাতা, তথা ভারতের চলচ্চিত্রের আঁতুর ঘর। এখানেই বেড়ে উঠেছেন উত্তম কুমার থেকে সৌমিত্র, প্রসেনজিৎ থেকে শুরু করে হালের দেব কিংবা পরমব্রতরা। টালিউডে জন্ম নেয়া আব্দুর রাজ্জাক অভিনেতা হতে চাইলেন। কিন্তু অভিনয় তো দূরের কথা, তাকে টালিউড ছাড়তে হলো ভাগ্যদোষে।

১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে আব্দুর রাজ্জাক চলে এলেন ঢাকা। এলেন শরণার্থী হয়ে, কিন্তু বুকে তার স্বপ্ন- অভিনয় করবেন। পকেটে সম্বল মাত্র একটি চিঠি। যে চিঠি কলকাতার এক স্বজনের লেখা; আব্দুল জব্বার খানের প্রতি। আব্দুল জব্বার খানকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্মদাতা বলা যায়। তার প্রযোজনা ও পরিচালনাতেই এই ঢাকা শহরে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। আব্দুর রাজ্জাক কমলাপুর এসে ঠাঁই নিলেন। এখানেই থাকেন আব্দুল জব্বার খান। অবশেষে আব্দুর রাজ্জাক দেখা করার সুযোগ পেলেন তার সঙ্গে। এই সাক্ষাত থেকেই শুরু হলো বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি অধ্যায়।

এই অধ্যায়ের নাম নায়ক রাজ রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাককে অবশ্য নায়ক রাজ হতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে। ঢাকার কমলাপুরে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে আধবেলা খেয়ে-না-খেয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। আব্দুল জব্বার খান অবশ্য তাকে হতাশ করেননি। তিনি রাজ্জাককে ইকবাল ফিল্মস লিমিটেডে কাজ করার সুযোগ দেন। কামাল আহমেদের উর্দু চলচ্চিত্র ‘উজালা’তে সহকারী পরিচালক হিসেবে শুরু হয় রাজ্জাকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করার সূচনা। কথাটি এখানে যতটা সহজভাবে আপনি পড়লেন, ততটা সহজ ছিল না। সহকারী পরিচালক থাকা অবস্থাতেই রাজ্জাক অভিনয়ের চেষ্টা করতে থাকেন।

 কলকাতায় খানপুর হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে তিনি সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে নির্মিত নাটক ‘ব্রিদোহী’তে অভিনয় করেন। সেই থেকে তার অভিনয়ের স্বপ্ন। টালিউডেও চেষ্টা করেছেন দুয়েকটা ছবিতে অভিনয় করার। অভিনয়ের নেশাটা আসলে তার রক্তে ছিলো। ‘কার বউ’ ‘ডাকবাবু’ ‘১৩নং ফেকু ওস্তাগার লেন’ ‘আখেরী স্টেশন’ (উর্দু) ইত্যাদি ছবিতে তিনি ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেন। বলে রাখা ভালো চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে তিনি এক্সট্রা শিল্পী হিসেবেও সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সে সময় পাকিস্তান টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটকেও তাকে আমরা অভিনয় করতে দেখেছি।

প্রতিষ্ঠা পেতে জীবন যুদ্ধ যখন চলমান ঠিক সে সময়, তিনি জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়ে যান। জহির রায়হান তখন বাংলার বিখ্যাত লোকগল্প ‘বেহুলা’ বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।  নায়িকানির্ভর এই ছবিতে নায়ক লক্ষীন্দরকে অধিকাংশ সময় শবদেহ হয়ে শুয়ে থাকতে হবে। তখনকার নামকরা কোনো নায়কই এ চরিত্রে অভিনয় করতে রাজী হলেন না। জহির রায়হানের জহুরি চোখের নজর পড়ল রাজ্জাকের উপর। রাজ্জাক প্রথম নায়ক হওয়ার সুযোগ পেলেন বেহুলা ছবিতে।

আর প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। বেহুলা সকলের হৃদয় কেড়ে নিলো আর রাজ্জাক নায়ক হিসাবে ঠাঁই পেয়ে গেলেন এ দেশের মানুষের অন্তরে। এরপর কেবল নিজের সীমানাকে অতিক্রম করে পথ চলা। একের পর এক বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন নতুন মাইল ফলক তৈরি করে হয়ে উঠলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক। ৫০ বছরের চলচ্চিত্র জীবনে দুই বাংলা মিলিয়ে প্রায় পাঁচশটি উর্দু-বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক এক বৈচিত্রময় নাম। তিনি নায়কের চিরচেনা রূপ ভেঙেছেন বহুবার। স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’-এ তিনি অভিনয় করেছেন ভিন্ন ধরণের চরিত্রে। ‘আলোর মিছিল’ চলচ্চিত্রে রানা মামা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সহ-চরিত্রকে দেন ভিন্ন মাত্রা। উল্লেখ্য এ ছবিতে ববিতার মামা হন তিনি।

ববিতার প্রেমিক হিসেবে এ ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক। রাজ্জাক চাইলেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে পারতেন, কিন্তু ভিন্নতার জন্যেই তিনি মামার চরিত্রটি বেছে নেন। ১৯৭৪ সালে চিত্রনায়ক সোহেল রানা বাংলাদেশের বিখ্যাত থ্রিলার উপন্যাস ‘মাসুদ রানা’ অবলম্বনে একই শিরোনামে চলচ্চিত্র বানান। কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সোহেল রানার যাত্রা শুরু হয়। আর এ ছবিতে ক্লাবের গায়ক হিসেবে একটি দৃশ্যে অভিনয় করেন রাজ্জাক। নতুন একজন পরিচালক-নায়কের ছবিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা নায়কের এমন ভিন্ন একটি চরিত্র অসাধারণ দৃষ্টান্ত।

১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ ছবিতে মাস্তানের চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে এ্যাকশন ঘরানার শুরু করেন নায়ক রাজ রাজ্জাকই। ১৯৭৮ সালে আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’ এবং ১৯৮০ সালে ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। প্রথম ছবিটিতে গ্রাম্য পাহারাদার আর ছুটির ঘণ্টায় স্কুলের দপ্তরির চরিত্রে অভিনয় সে সময়ের বিবেচনায় একজন সাহসী অভিনেতার কাজ ছিলো।

শিশুতোষ এই দুটি ছবিতেই তিনি নায়কের প্রচলিত ভাবনা ভেঙে দিয়েছেন। অভিনয়ের জন্য তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪) এবং যোগাযোগ (১৯৮৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন। এর বাইরেও পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূতও হয়েছেন তিনি।

এক সময়ের আব্দুর রাজ্জাক একদিন টালিউডে ফিরে গেলেন। যে টালিউডে তিনি থাকতে পারেননি, সেই টালিউড তাকে বরণ করে নিলো রাজার মতোই। এখন তো তিনি বেড়ে উঠতে যাননি, বরং টালিউডের সীমানাটাই আরেকটু বড় করে দিয়ে এসেছেন। টালিউডেও নায়ক রাজ্জাক সৃষ্টি করলেন একাধিক মাইলফলক।
প্রযোজক রাজ্জাক : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প আরো বেগবান হয়েছে নায়ক রাজ রাজ্জাকের রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের কল্যাণে। নিজের এবং স্ত্রীর নাম মিলিয়ে তিনি তৈরি করেন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অনন্ত প্রেম, পাগলা রাজা, চাঁপাডাঙার বউ, মৌচোর, বাবা কেন চাকর-এর মতো সফল চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে তার প্রযোজনা সংস্থা থেকে। শুধু সিনেমা তৈরিই নয়, প্রযোজক হিসেবে তিনি অরুণা বিশ্বাস, পুত্র বাপ্পারাজকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন।

 খল অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে তিনি চাঁপাডাঙার বউ চলচ্চিত্রে শাবানার বিপরীতে অভিনয় করিয়ে নতুন ইমেজ তৈরি করেন। ছোট ছেলে সম্রাটও তার হাত ধরে চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। রাজলক্ষ্মী প্রোডকশন থেকে ২০টি চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। এই প্রোডাকশন থেকে তৈরি হওয়া চলচ্চিত্র ‘বাবা কেন চাকর’ এতটাই সফল হয়েছিল যে, পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে এই চলচ্চিত্র আবার নির্মিত হয়। উল্লেখ্য, বাবা কেন চাকর প্রযোজনার সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প অশ্লীলতার অন্ধকারে ছিলো। সেই অন্ধকার সরাতে চলচ্চিত্রটি বিরাট ভূমিকা রাখে। এরপর তিনি ‘আরএস এন্টারটেইনমেন্ট’ নামে আরেকটি প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তোলেন। এই প্রযোজনা সংস্থা থেকেও আমি বাঁচতে চাই, কোটি টাকার ফকির ও মন দিয়েছি তোমাকে-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

পরিচালক রাজ্জাক : ভুলে গেলে চলবে না, চলচ্চিত্রে নায়ক রাজের যাত্রাটা শুরু হয়েছিলো পরিচালকের সহকারী হিসেবে। কাজেই পরবর্তীতে চলচ্চিত্র পরিচালনা করাটা তার জন্য খুবই স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত রাজ্জাক ১৮টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন যার অধিকাংশই তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত। অনন্ত প্রেম, বদনাম, চাঁপাডাঙার বউ, মৌচোর, সৎ ভাই, বাবা কেন চাকর, জ্বিনের বাদশা, কোটি টাকার ফকির, মন দিয়েছি ইত্যাদি তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র ‘অনন্ত প্রেম’ দিয়েই তিনি তার নিজস্বতা প্রমাণ করেন।

 গল্প নির্বাচন, দৃশ্যায়ণ, চরিত্রায়ণ সব মিলিয়ে ‘অনন্ত প্রেম’ কালজয়ী আসনে ঠাঁই পেয়ে যায়। এই চলচ্চিত্রে নায়ক-নায়িকার মৃত্যু দেখানো হয়েছে। সে সময়ের বিবেচনায় এটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিলো। বাংলাদেশের ছবির দর্শক মিলনই দেখে এসেছে এতোকাল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাপা ডাঙার বউ’কে সিনেমার পর্দায় তিনি তুলে আনেন। এছাড়াও নীহাররঞ্জন গুপ্তের কালজয়ী উপন্যাস ‘উত্তর ফাল্গুনী’কে তিনি চলচ্চিত্রে রূপ দেন।

এই বিভাগের আরো খবর

একজন মেন্টর, দার্শনিক ছিলেন রাজ্জাক ভাই : ববিতা

সোমবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক। তার মৃত্যুর খবরে হতবাক হয়ে পড়েছেন তার ভক্তরা। শোবিজ অঙ্গনেও নেমেছে শোকের ছায়া। সবাই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন প্রিয় অভিনেতাকে হারিয়ে।অভিনয় জীবনে যে কজন অভিনেত্রীর সঙ্গে রাজ্জাক জুটি বেঁধে দর্শক মাতিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম রাজ্জাক-ববিতা জুটি। কথা হয় জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতার সঙ্গে।তিনি বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে রাজ্জাক ভাইকে ফোন করে বলেছি, রাজ্জাক ভাই আমি নিজে এসে আপনাকে আর ভাবিকে আমার বাসায় নিয়ে আসবো। আমি আপনাকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতে চাই। এ কথা শুনে রাজ্জাক ভাই বললেন, ‘আমি থাইল্যান্ড যাচ্ছি ঘুরতে। ফিরে আসার পর তুমি এসো।’ কিন্তু তা আর হয়ে উঠলো না।

’ তিনি আরো বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এমন ছিল যেন আমরা একটা পরিবার। জহির (জহির রায়হান) ভাইয়ের হাত ধরে আমি-রাজ্জাক ভাই চলচ্চিত্রে এসেছি। জহির ভাইয়ের বাসায় একসঙ্গে কত আড্ডা দিয়েছি। সবকিছু আমরা একসঙ্গে করতাম। আমার যেকোনো বিষয়ে রাজ্জাক ভাইকে জানাতাম। পরামর্শ নিতাম। আমাদের সম্পর্কটা অন্যরকম ছিল।

 রাজ্জাক ভাইয়ের বিষয়ে বলে শেষ করা যাবে না। তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইনস্টিটিউশন ছিলেন। একজন মেন্টর, একজন দার্শনিক ছিলেন রাজ্জাক ভাই। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হান পরিচালিত ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই চলচ্চিত্রে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।  এরপর ‘কি যে করি’, ‘অনন্ত প্রেম’ প্রভৃতি সিনেমায় রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ববিতা।

এই বিভাগের আরো খবর

মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন

নায়করাজ রাজ্জাক, ১৯৬৬ সালের ২৮ অক্টোবর ‘ বেহুলা’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে রূপালি পর্দায় পা রাখেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এক নজরে জেনে নেয়া যাক তাঁর জীবনী :
নাম : আবদুর রাজ্জাক।
উপাধি : নায়করাজ (উপাধি দিয়েছিলেন চিত্রালি সম্পাদক আহমেদ জামান চৌধুরী)।
জন্ম : ২৩ জানুয়ারি, ১৯৪২।
জন্মস্থান : নাকতলা, দক্ষিণ কলকাতা, ভারত।
জাতীয়তা : বাংলাদেশি।
বাবা : আকবর হোসেন।
মা : নিসারুননেছা।
স্ত্রী : খাইরুন্নেছা (ভালোবেসে লক্ষ্মী বলে ডাকতেন)।
সন্তান : বাপ্পারাজ (রেজাউল করিম), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না, খালিদ হোসেইন সম্রাট।
পেশা : অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক।
অভিনয়ের শুরু : কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সরস্বতীপূজায় মঞ্চনাটকে। গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। প্রথম অভিনীত নাটক ‘বিদ্রোহী।’
সিনেমায় প্রবেশ : কলেজজীবনে ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। এ ছাড়া কলকাতায় ‘পঙ্কতিলক’ ও ‘শিলালিপি’ নামে আরও দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন।
বাংলাদেশে আগমন : ১৯৬৪ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।
ঢালিউডে নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র : জহির রায়হানের ‘বেহুলা’।
প্রথম নায়িকা : সুচন্দা।
জুটি হিসেবে জনপ্রিয় নায়িকা : কবরী
নায়ক হিসেবে শেষ ছবি : ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। শেষ ছবি ‘মালামতি’। নায়িকা ছিলেন নূতন।
চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয় : ১৯৯৫ সাল থেকে।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র : ‘এতটুকু আশা, ‘নীল আকাশের নিচে, ‘জীবন থেকে নেয়া, ‘নাচের পুতুল, ‘পিচঢালা পথ, ‘আবির্ভাব, ‘দ্বীপ নেভে নাই, ‘টাকা আনা পাই, ‘রংবাজ, ‘আলোর মিছিল, ‘অশিক্ষিত, ‘ছুটির ঘণ্টা, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘শুভদা, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’।
পুরস্কার : নায়করাজ রাজ্জাক পাঁচবার জাতীয? চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান। এছাড়া ইন্দো-বাংলা কলা মিউজিক পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা (চলচ্চিত্র), ইফাদ ফিল্ম ক্লাব পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। যেসব চলচ্চিত্রে জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সেগুলো হলো : কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮),বড় ভালো লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), যোগাযোগ (১৯৮৮), আজীবন সম্মাননা ২০১৩ ও মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা -২০১৪।

এই বিভাগের আরো খবর

ভিক্ষা করছেন তিশা!

অভিনেত্রী তাসনুভা তিশাকে সাধারণত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান কিংবা রোমান্টিক প্রেমিকার চরিত্রেই বেশি দেখা গেছে। এবার সেই বলয় থেকে থেকে বেরিয়ে এসে তিশা অভিনয় করছেন ভিক্ষুকের চরিত্রে।

‘জলতরঙ্গ’ শিরোনামের একটি নাটকের জন্য ময়লা ছেঁড়া শাড়ি পরে, চোখে মুখে অভাব আর ভাগ্যের অনিশ্চয়তার ছাপ নিয়ে ভাঙা থাল নিয়ে পথের পাশে বসে ভিক্ষা করতে দেখা গেছে তিশাকে।

 

এই নাটকে তিশা অভিনয় করেছেন শিউলী নামে। যার তিনটি চরিত্র। এর জন্য মেকআপেও নিতে হয়েছে আলাদা প্রস্তুতি। প্রথমে তাকে দেখা যাবে স্কুলের শিক্ষার্থী, এরপর ভিক্ষুক এবং সবশেষে পতিতার চরিত্রে। তিশা জাগো নিউজকে বললেন, ‘নাটকের গল্পে দেখা যাবে আমার জীবনে তিনটি ধাপ। দারুণ অভিজ্ঞতা হলো এই নাটকে কাজ করে।’

‘জলতরঙ্গ’ নাটকটি রচনা করেছেন মেহেদী হাসান সজীব আর পরিচালনা করছেন রিয়াজুল রিজু। বর্তমানে টাঙ্গাইলে এর শুটিং চলছে। এই নাটকটি নির্মিত হচ্ছে পিআর প্রোডাকশনের ব্যানারে। অন্যান্যের মধ্যে আরও অভিনয় করছেন শ্যামল মাওলা, বৈদ্ধ নাথ, রওশন আরা নিপা, মিহি আহসান, রোজ আফরোজ, মেহেদী আকাশসহ অনেকে।

নির্মাতা রিজু বলেন, ‘কয়েক বছর পর নাটক নির্মাণ করছি। গল্পটি ভালো লাগায় হাঠৎ করেই নির্মাণ করছি। আগামী ঈদুল আযহায় চ্যানেল নাইনে নাটকটি প্রচারিত হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর

নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকীতে শিল্পীদের শ্রদ্ধা

বিনোদন রিপোর্টর : বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিকের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তারই লেখা ও সুর করা ‘নবীন আশা জাগলো যে রে আজ’ গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মিত হয়েছে। গানটির দৃশ্য ধারণের কাজ গতকাল শেষ হয়েছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

সাদিয়া আফরিন মল্লিকের নির্দেশনায় মিউজিক ভিডিওটিতে ফাতেমা তুজ জোহরা, রেবেকা সুলতানা, নওরীন ও মুহিন’সহ আরো ৪১জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। সাদিয়া আফরিন মল্লিক নিজেও ভিডিওটিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

 আসছে ১২ ভাদ্র কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীতে চ্যানেল আই’সহ দেশের বেশ কয়েকটি চ্যানেলে গানটি প্রচার হবে। নজরুলের এই গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন ইমন সাহা। গানটি প্রসঙ্গে সাদিয়া আফরিন মল্লিক বলেন,‘ কাজী নজরুল ইসলামতো সুর স¤্রাট। তার সুরের সেই বিভিন্ন ধারা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই আমাদের সবার লক্ষ।

তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার গান সেলিব্রেট করি আমরা। নজরুলের গানের যে একটা জোয়ার ছিলো সেই জোয়ারটাও আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন,‘ এই ধরনের আয়োজনে সত্যি বলতে কী সবার আন্তরিক অংশগ্রহণে বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

 এই গানটিও ঠিক তেমনি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।’ রেবেকা সুলতানা বলেন,‘ সাদিয়া আফরিন মল্লিকের নির্দেশনায় এর আগেও এই ধরনের গানে অংশগ্রহণ করেছি। সব সময়ই তার আহ্বানে অংশ নিতে ভালোলাগে।’ মুহিন বলেন,‘ কিছু কাজ থাকে নিজেকে ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত রাখার। এই সুযোগটা সবার কাছে আসেনা।

আমার সৌভাগ্য যে এমন কিংবদন্তী শিল্পীদের সঙ্গে একই সুরে, তালে, লয়ে কন্ঠ দিয়েছি। একই ফ্রেমে তাদের সঙ্গে থেকেছি। অবশ্যই সাদিয়া আপার প্রতি কৃতজ্ঞ।’ নওরীন বলেন,‘ কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তার গান অন্যরকম শিহরণ জাগায়। এমন একটি গানে সম্পৃক্ত থাকতে পারাটা সত্যিই অনেক ভালোলাগার।’ নজরুল ইন্সটিটিউট, ছায়ানট এবং সানিডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও গানটিতে অংশগ্রহণ করেন। এই গানটি ‘জেমস অব নজরুল’র পঞ্চম প্রযোজনা। 

এই বিভাগের আরো খবর

ঈদ ধারাবাহিকে নাম ভূমিকায় পূর্ণিমা

অভি মঈনুদ্দীন : চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা আসছে ঈদ উপলক্ষে বেশ কিছু নাটক টেলিফিল্মে অভিনয় করছেন। তবে এবাওে ঈদে নাটক টেলিফিল্মে অভিনয়ের পাশাপাশি একটি ছয় পর্বের ঈদ ধারাবাহিক নাটকেও অভিনয় করতে দেখা যাবে। তরুণ নাট্যনির্মাতা সাখাওয়াত মানিক এবারই প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা পূর্ণিমাকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করছেন।

গত শুক্রবার থেকে রাজধানীর উত্তরায় ঈদের জন্য নির্মাণ চলতি এই ধারাবাহিক নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। নাটকের নাম ‘রূপালি’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন পূর্ণিমা। নাটকে তারসঙ্গে আরো অভিনয় করছেন জিয়াউল হাসান কিসলু, মিলি বাশার, মনিরা মিঠু, এফ এস নাঈম, নাদিয়া খান’সহ আরো বেশ ক’জন তরুণ অভিনয় শিল্পী। ‘রূপালি’ নামটি শুনেই বুঝা যায় নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে রূপালি নামকে ঘিরেই।

 আর রূপালির ভূমিকাতেই অভিনয় করতে দেখা যাবে পূর্ণিমাকে। নাটকের গল্প প্রসঙ্গে জানা যায় যেকোন বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রূপালি পজিটিভলিই দেখার চেষ্ট করে। কিন্তু একসময় রূপালির শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় দেয়া একজন মানুষ বাসার সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। রূপালির উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব বিরক্ত হয়। এগিয়ে যায় গল্প। গল্পটি লিখেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন,‘ গল্প ভাবনায় নতুনত্ব আছে। যে কারণে স্ক্রিপ্ট পড়ে ভালোলাগায় কাজটি করছি।

তাছাড়া সাখাওয়াত মানিকের নির্দেশনায় এবারই প্রথম কোনো নাটকে কাজ করছি। কিসলু ভাই, মিঠু আপা, মিলি আপা, নাঈম, নাদিয়া সবাই মিলে একটি দারুণ টিমওয়ার্ক’র মধ্যদিয়েই আমরা গল্পটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আশা করছি দর্শকের কাছে নাটকটি বেশ উপভোগ্য হবে।’ নির্মাতা সাখাওয়াত মানিক বলেন,‘ সত্যি বলতে কী একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে আমি পূর্ণিমা আপুর ভীষণ ভক্ত।

 বলা যায় তিনি আমার ড্রীম গার্ল। সে কারণে যেদিন থেকে নির্মাণে এসেছি সেদিন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিলো এই ড্রীম গার্লকে নিয়ে একটি নাটক নির্মাণের। পূর্ণিমা আপু আমার সেই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আর শুটিং-এ তিনি এতোটাই কোঅপারেটিভ যে ভাবাই যায়না। একটি ইউনিটের কেন্দ্রীয় চরিত্রের শিল্পী যখন সর্বোচ্চ সহযোগিতা পরায়ণ হয় তখন আসলে কাজটার মান বেড়ে যায় অনেকাংশে।’  আসছে কোরবানীর ঈদের দিন থেকে ষষ্ঠদিন পর্যন্ত একুশে টিভির পর্দায় ‘রূপালি’রূপে দেখা যাবে পূর্ণিমাকে।

এদিকে পূর্ণিমা এরইমধ্যে শেষ করেছেন এসএ হক অলিকের ‘হঠাৎ প্রেম অনেক ভালোবাসা’, মাকসুদুর রহমান বিশালের ‘পোট্রেট’ , সাইদুর রহমান রাসেলের ‘ও ঝরাপাতা’ নাটকের কাজ’সহ বাংলাভিশন ও মাছরাঙ্গা টিভির দুটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের কাজ। এছাড়া আরো দু’তিনটি নাটক’র কাজ শেষ করবেন ঈদ আসার আগেই। ছবি : মোহসীন আহমেদ কাওছার ।

এই বিভাগের আরো খবর

নভেম্বরে পরীর ‘ইনোসেন্ট লাভ’

বিনোদন রিপোর্টার : অপূর্ব রানা পরীমনিকে নিয়ে ‘ইনোসেন্ট লাভ’ নামে একটি ছবির কাজ দুই বছর আগে শুরু করেন। এ ছবিতে পরীমনির বিপরীতে অভিনয় করেছেন জেফ। ছবিটির কাজ গত বছর শেষ হলেও মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে হয় পরীমনিকে। অবশেষে সম্প্রতি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে এটি। ছবির পরিচালক অপূর্ব রানা বলেন, এখন দেশের চলচ্চিত্র আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ছবিটি ১৬ই আগস্ট বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পেয়েছে। ছবিতে পরী ও জেফ দুজনই বেশ ভালো কাজ করেছেন। আমার বিশ্বাস, ছবিটি দর্শক পছন্দ করবেন। আমরা নভেম্বরে এটি মুক্তি দিতে চাই।

 পরীমনি বলেন, এটি আমার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের ছবি। এতে আমার চরিত্রের নাম থাকছে পরী। আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল রানা। ভার্সিটিতে পড়–য়া এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। অবশেষে আমার অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। ছবিটি এবার প্রেক্ষাগৃহে দর্শক দেখতে পাবেন। ছবির প্রযোজক রমিজ উদ্দিন বলেন, চলচ্চিত্রের বাজার অনেকদিন ধরেই মন্দা যাচ্ছিল। তাই ছবিটি মুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। বর্তমানে ছবির বাজার ভালোর দিকে এসেছে। তাই ছবিটি মুক্তির জন্য মনস্থির করেছি। জাহিন চলচ্চিত্রের ব্যানারে এটি মুক্তি দেয়া হবে আর পরিবেশনায় থাকবে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

 পরী ও জেফ ছাড়াও এ ছবিতে  বিভিন্ন চরিত্রে আরো অভিনয় করেছেন সোহেল রানা, সুচরিতা, মিজু আহমেদ, সুব্রত, আমির সিরাজী, রমিজ, কাবিলা, ঝিনুক, হাবিব খান, শরীফ চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে, আসছে ঈদে পরীমনি অভিনীত ‘সোনাবন্ধু’ ছবিটি মুক্তি পাবে। এটি পরিচালনা করেছেন জাহাঙ্গীর আলম সুমন। উল্লেখ্য, পরীমনি ঈদের আগে ‘বাহাদুরী’ নামে নতুন একটি ছবির কাজ শুরু করেন। ছবিটি পরিচালনা করছেন শফিক হাসান। এছাড়া শাওকতের পরিচালনায় ‘নদীর বুকে চাঁদ’ ছবির কাজ কক্সবাজারে করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

জন্মদিনে প্রবীর মিত্র

বিনোদন রিপোর্টার : প্রবীর মিত্র, দেশীয় চলচ্চিত্রের অনবদ্য এক চলচ্চিত্রাভিনেতার নাম। চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুরদিকে তিনি নায়ক হিসেবে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেও তিনি পেয়েছেন দর্শকের অপরিসীম ভালোবাসা। দর্শকের ভালোবাসাই তার পথ চলার পাথেয়। চলচ্চিত্রের জীবন্ত এই কিংবদন্তী অভিনেতা আজ ৭৭ বছরে পা রাখছেন। নিজের জন্মদিনে বাসা থেকে কোথাও বের হচ্ছেন না তিনি। কারণ তিনি কিছুটা অসুস্থ। প্রবীর মিত্র বলেন,‘ কিছুটা অসুস্থ আমি। ঠিক মতো হাটতে পারিনা।

লাঠির সাহায্য নিয়ে হাটতে হয়। যে কারণে ঘর থেকে সাধারণত প্রয়োজনের বাইরে একেবারেই বের হইনা। জন্মদিনে বাসাতেই থাকবো। কোথাও বের হবার কোন পরিকল্পনা নেই। বাসাতেই পরিবারের সদস্যরা হয়তো কিছু করবে। সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভালো থাকি, সুস্থ থাকি।’ বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজন অভিনয়শিল্পীর অভিনয়ের স্থান থেকে ধীরে ধীরে নিজেদেও সরিয়ে নিতে হয় যেন তারই প্রমাণ বহন করছেন প্রবীরমিত্র। অথচ মনেপ্রাণে এবং শারীরিকভাবে তিনি এখনো বেশ সুস্থ সবল অভিনয় করার জন্য।

 কিন্তু এমন কিংবদন্তী অভিনয়শিল্পীদের জন্য চলচ্চিত্রে চরিত্র সৃষ্টিই প্রায় বন্ধ হয়েগেছে। যে কারণে প্রবীরমিত্র’র মতো একজন গুণী শিল্পী ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নামক একটি চলচ্চিত্রেই সর্বশেষ অভিনয় করছেন।  শুধু সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছেই নয় প্রবীর মিত্র’র সহকর্মীদের কাছেও প্রবীর মিত্র ভীষণ প্রিয়। সবসময়ই সাদাসিদে জীবন পছন্দ ছিলো প্রবীর মিত্র’র। যে কারণে উচ্চাভিলাষ তাকে কখনোই পেয়ে বসেনি। জীবনের মতো করেই জীবন চলে গেছে। জীবনের নিয়মে জীবন চলে যাচ্ছে।

বয়স বেড়েছে, তা মেনেও নিয়েছেন। আর তাই সব মেনে নিয়েই চলচ্চিত্র থেকে অনেকটা দূরেও আছেন তিনি। বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। প্রবীর মিত্র’র ভাষায় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ‘রিমার্কেবল’ ছবি ‘নয়নের আলো’। সুমিতা দেবী এই ছবিতে প্রবীর মিত্র’র অভিনয় দেখে বলেছিলেন , ‘তুমি যদি এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাও তাহলে অভিনয় ছেড়ে, এই দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেও’। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না মিললেও প্রবীর মিত্র তার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে, ভালোবাসার জায়গা থেকে অভিনয়ই করেগেলেন আজীবন।

 জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সে ছবিতে না পেলেও পরে তিনি মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। মূলত ছবিতে কাজের ব্যাপারে তার বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামানই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ‘জলছবি’র পর নায়ক হিসেবে প্রবীর মিত্র ‘চাবুক’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, জালিয়াত’, ‘তীর ভাঙ্গা ঢেউ’, ‘ ‘বড় ভালো লোক ছিলো’, ‘রামের সুমতি’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জীবন তৃষ্ণা’ ছবিতে শিল্পী আব্দুল জব্বারের গাওয়া ‘এ আঁধার কখনো যাবেনা মুছে আমার পৃথিবী থেকে’ গানটি তাকে ব্যাপকভাবে পরিচিতি এনে দেয়।

এই বিভাগের আরো খবর

নিশোর প্রেমের রঙে রঙিন ফারিয়া

বিনোদন প্রতিবেদক : নির্মিত হচ্ছে খণ নাটক ‘প্রেমের রঙে রাঙানো’। এই নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। নাটকে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় দুই তারকা আফরান নিশো এবং শবনম ফারিয়া।বর্তমানে ‘প্রেমের রঙে রাঙানো’ নাটকটির শুটিং চলছে নগরীর পুরান ঢাকায়। নাটকটি নিয়ে নির্মাতা রাজ বললেন, ‘এটি পুরোপুরি বিশুদ্ধ প্রেমের নাটক। যেগুলো আমাদের অনেকের জীবনের সঙ্গে মিল রয়েছে। আর ভালোবাসায় ক্যানভাস কিন্তু একটাই। শুধুমাত্র মানুষভেদে প্রেম-ভালোবাসা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

নিশো-শবনম ফারিয়া জুটি বেঁধে এর আগে অনেকগুলো নাটক-টেলিছবিতে অভিনয় করেছেন। তাদের বেশিরভাগ কাজই পেয়েছে জনপ্রিয়তা। যার জন্য ‘প্রেমের রঙে রাঙানো’ নাটকটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, ‘নাটকের গল্পে দেখা যাবে আমি এবং নিশো ভাই দুজনেই পুরান ঢাকার বাসিন্দা। আমি ভীষণ ধার্মিক একটা মেয়ে। নামাজ আদায় করি, পর্দা করে চলি। একটা সময় নিশো ভাইয়ের প্রেমে পড়ে যাই।নির্মাতা রাজ জানালেন, এই নাটকে আরও অভিনয় করেছেন, মনিরা মিঠু, মিনু, আব্দল্লাহ রানা, আনোয়ার প্রমুখ। ‘প্রেমের রঙে রাঙানো’ নাটকটি আগামী ঈদুল আযহায় এনটিভিতে প্রচার হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ঈদের দিন থেকে তিন তারকা’র ওয়েব সিরিজ ‘বাঘবন্দি’

অভি মঈনুদ্দীন : খুব অল্প সময়ে নির্মাতা হিসেবে ভিকি জাহেদ বেশ প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে এই সময়ের তরুণদের নিয়ে তার কাজগুলো বেশ প্রশংসিত হয়ে আসছে। তরুণ শিল্পীরাও তার কাজে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যতা খুঁজে পাচ্ছেন। যে কারণে তার নির্দেশনায় কাজ করার আহ্বান পেলেই তরুণরা আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন। বস্তুত ভিকি জাহেদ ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন। এখন পর্যন্ত তিনি শর্টফিল্মই বেশি নির্মাণ করেছেন। যারমধ্যে আলোচিত হচ্ছে ‘মায়া’, ‘দেয়াল’, ‘মোমেন্ট’, ‘অক্ষর’, ‘দূরবীণ’। তবে এবারই প্রথম এই নির্মাতা আসছে ঈদের জন্য ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করছেন।

ছয় পর্বের এই ওয়েব সিরিজের নাম ‘বাঘবন্দি’। এর রচয়িতাও তিনি। এই ওয়েব সিরিজে এবারই প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করছেন এই প্রজন্মের তিন তরুণ তুর্কী তৌসিফ, জোভান ও সাফা। গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় ‘বাঘবন্দি’র শুটিং-এ অংশ নিয়েছেন এই তিন তারকা। ভিকি জাহেদ জানান সমসাময়িক গল্প নিয়েই ‘বাঘবন্দি’ নির্মিত হচ্ছে।

 আসছে ঈদে ইউটিউবের ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’-এ ‘বাঘবন্দি’ প্রচার হবে বলে জানান নির্মাতা। প্রতি পর্বে দশ মিনিট করে ঈদের টানা ছয়দিন ‘ধ্রুব মিউজিক স্টেশন’-এ এই ওয়েব সিরিজটি দেখা যাবে। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে তৌসিফ বলেন, ‘ ভিকি জাহেদের নির্দেশনায় আমি, জোভান এবং সাফা তিনজনই আলাদাভাবে কাজ করেছি। কিন্তু এবারই প্রথম আমরা তিনজন একসঙ্গে কাজ করছি। যেহেতু আমাদের মধ্যে সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। সে কারণে কাজটা আমরা দারুণ উপভোগ করেছি। আমাদের তিনজনের আন্তরিক অভিনয়ে আশাকরছি একটি প্রানবন্ত কাজ হবে এই ওয়েব সিরিজটি।’

  জোভান বলেন,‘ তৌসিফ, আমি, সাফা-আমরা তিনজনেই অভিনয়ে আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো করছি। একসঙ্গে কাজ করলে নিজেদের অভিনয়ের ইমপ্রুভমেন্ট টা বুঝা যায়। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা তিনজন একসঙ্গে আরো গুণী নির্মাতার নির্দেশনায় কাজ করতে পারবো। ধন্যবাদ দিতে চাই ভিকি জাহেদকে আমাদের নিয়ে এমন চমৎকার একটি কাজ করার জন্য।’

সাফা বলেন,‘ তৌসিফ, জোভান-দু’জনই আমার খুউব ভালো বন্ধু। এই নাটকে আমি অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করছি। নামটি আমার খুউব পছন্দ হয়েছে। এবারের ঈদে ওয়েব সিরিজ এই একটিই করছি আমি। কাজটি এতো ভালো হচ্ছে যে আমি সত্যিই অনেক আশাবাদী কাজটি নিয়ে।’ ‘ওয়েব সিরিজ’টিতে তৌসিফ নাঈম চরিত্রে, জোভান ফয়সাল চরিত্রে এবং সাফা অনামিকা চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

এই বিভাগের আরো খবর

এই সময়ে ব্যস্ত আসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক :  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে এগিয়ে নিতে বরাবরই ভালোবাসেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। আর তাইতো সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নানামাত্রায় নিজেকে মেলে ধরছেন ভক্ত-শ্রোতা-দর্শকদের সামনে। চলতি বছর ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশ পায় তার ‘আগুন’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিও। এ ভিডিওতে অন্য এক আসিফকেই আবিষ্কার করেছেন দর্শক। গানটির অডিও-ভিডিও দুটির মাধ্যমেই বাজিমাত করেছেন এ শিল্পী। এখন পর্যন্ত এটি চলতি বছরের সর্বাধিক জনপ্রিয় গানও বটে। ইউটিউবে গানটি উপভোগ করেছেন ৪৫ লাখেরও বেশি দর্শক। তবে চলতি বছরের আসিফ চমক এখানেই শেষ নয়। খুব শিগগিরই তাকে দেখা যাবে নতুন রূপে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

 প্রকাশ করেছেন নিজের এক ভিন্নধর্মী লুকের ছবি। নতুন একটি গান করেছেন এ শিল্পী। আসিফ ইকবালের কথায় ও অটমনাল মুনের সুর ও সংগীতে ‘সাদা আর লাল’ শীর্ষক এ গানটি ঈদে প্রকাশ পাবে গানচিল মিউজিকের ব্যানারে। এ গানের ভিডিওতে সত্তরের দশকের লুক নিয়েছেন আসিফ। আর তা করতে গিয়ে সাজ-পোশাক, হেয়ার স্টাইল ও পারফর্মে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। এ গানে তার মডেল চিত্রনায়িকা পপি। গত কয়েকদিনে আসিফের এ সত্তরের দশকের লুকের ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে নেটদুনিয়ায়। সবাই তার এমন নয়া লুকের প্রসংশা করেছেন। তার ভক্তরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই গানের ভিডিও মুক্তির। এদিকে এর বাইরে খুব শিগগির রোমান্টিক আসিফকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন শ্রোতা-দর্শক।

 ‘কি করে বোঝাই’ শিরোনামের একটি নতুন গান করেছেন এ শিল্পী। এ গানটির সুর করেছেন নাজির মাহমুদ। আর সংগীতায়োজনে ছিলেন মুশফিক লিটু। এ গানের ভিডিওর শুটিং হয়েছে কক্সবাজারে। গানটিতে আসিফের সহশিল্পী কর্নিয়া। এ গানেও অন্যরূপে দেখা যাবে আসিফকে। তবে বিষয়টি এখনই প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। গানটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশ হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নানামাত্রিক আসিফের রহস্যটা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নানামাত্রিকতা শুরু থেকেই আমার পছন্দ। একটি গ-ি কখনোই আমি পছন্দ করি না। শ্রোতাদের জন্যই সব সময় গান করি। আমি তাদের শিল্পী। তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা সব সময় থাকে।’

এই বিভাগের আরো খবর

আবারও ঈদ ধারাবাহিকে শখ

বিনোদন রিপোর্টার : গেলো ঈদে খুব বেশি নাটক টেলিফিল্মে অভিনয় করতে পারেননি এই সময়ের দর্শকপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ। কিন্তু এবারের ঈদের কাজের জন্য এতোটাই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি যে বেশ কয়েকজন পরিচালককে তিনি সিডিউলই দিতে পারেননি শুটিং-এর জন্য। যে কারণে বেশ কিছু গুণী নির্মাতার কাজও তাকে ছাড়তে হয়েছে আগেই দেয়া সিডিউলের জন্য। এজন্য শখের মনও মাঝে মাঝে কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে যাদের নাটকে তিনি শুটিং করছেন এবং করবেন তারাও বেশ যতœ নিয়েই তাকে দিয়ে অভিনয় করাচ্ছেন। গল্প এবং চরিত্র ভালো হলেই শখ অভিনয় করছেন ঈদ বিশেষ নাটক, টেলিফিল্ম এবং ঈদ ধারাবাহিকে। গত ঈদের মতো এবারের ঈদেও শখ সাগর জাহানের রচনা ও নির্দেশনায় সাত পর্বের ঈদ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। গতকাল সকাল থেকে শখ রাজধানীর লক্ষীবাজারে শখ সাগর জাহানের নির্দেশনায় ‘মেরিড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম’ নাটকের শুটিং শুরু করেছেন।

 এতে শখ পারিহা চরিত্রে অভিনয় করছেন। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে শখ বলেন,‘ সাগর ভাইয়ার নিদের্শনায় কাজ করাটা সবসময়ই আমি দারুণ উপভোগ করি। তাছাড়া সঙ্গে যখন মোশাররফ ভাই থাকেন কোআর্টিস্ট হিসেবে তখন কাজটাও হয়ে উঠে উপভোগ্য। আশাকরছি এই নাটকটিও দর্শকের কাছে ভীষণ উপভোগ্য হবে। বরাবরের মতো ধন্যবাদ দিতেই হয় সাগর ভাইকে। কারণ তিনি আমার অভিনয়কে পছন্দ করেন বলেই আমাকে এই চরিত্রে কাজ করাচ্ছেন। আমিও চেষ্টা করছি নিজের চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে।’ আসছে ঈদে বাংলাভিশনে প্রচার হবে শখ অভিনীত এই নাটকটি।  সাগর জাহানের নির্দেশনায় শখ প্রথম অভিনয় করেন টেলিফিল্ম ‘সিকান্দার বক্স এখন পাগল প্রায়’। এরপর ‘সিকান্দার বক্স’র সিক্যুয়ালের শেষ পর্যন্ত শখ টানা অভিনয় করেন। এছাড়া এবারের ঈদে শখকে দেখা যাবে হিমেল আশরাফের ‘হ্যালো আর জে’সহ আরো একটি নাটক’সহ শামীম জামান’র একটি, মাবরুর রশীদ বান্নাহর তিনটি, মেহেদী হাসান জনির পাঁচটি নাটকে শখকে অভিনয়ে দেখা যাবে।


এছাড়া সাগর জাহান জানান জাহিদ হাসান ও শখকে নিয়ে তিনি আরো আকেটি খ- নাটক নির্মাণ করবেন। ২২ থেকে ২৯ আগস্ট শখ কক্সবাজারে ‘মেরিড লাইফ-এ অ্যাভারেজ আসলাম’ নাটকের শুটিং-এ ব্যস্ত থাকবেন। ঢাকায় ফিরে আর একটি নাটকের শুটিং করার সময় পাবেন তিনি। এদিকে আপাতত চলচ্চিত্রে শখকে আর না দেখা গেলেও এখনো শখের আগ্রহ আছে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। শখ বলেন,‘ গল্প এবং চরিত্র যদি আমার ভালোলেগে যায় তাহলে অবশ্যই আবারো চলচ্চিত্রে অভিনয় করবো। তবে এবার আবার যদি চলচ্চিত্রে অভিনয় করি তাহলে পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়েই অভিনয় করবো। ’ ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত

এই বিভাগের আরো খবর

আজ এনটিভিতে ভাওয়াইয়া গাইবেন শিল্পী মোস্তাফিজুর

করতোয়া ডেস্ক: আজ সকাল ৮.১০ মিনিটে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এন টিভিতে সরাসরি ভাওয়াইয়া গাইবেন প্রবীণ ভাওয়াইয়া শিল্পী এ.কে.এম মোস্তাফিজুর রহমান। একাধারে তিনি কবি, গীতিকার, সুরকার, সংগ্রাহক, গবেষক, লেখক, ভাওয়াইয়া অঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের সংগীত প্রযোজক। সম্প্রতি গতিধারার ব্যানারে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গবেষণাধর্মী পুস্তক ‘চার যুগের বাংলাদেশের ভাওয়াইয়ার ইতিহাস’ এবং কাব্যগ্রন্থ ‘আমি কবি নই’। খবর বিজ্ঞপ্তির।

এই বিভাগের আরো খবর

দিলীপ কুমারকে দেখে এলেন শাহরুখ

বিনোদন ডেস্ক :  শাহরুখ খান সম্মান করে বলিউড কিংবদন্তি দিলীপ কুমারকে বাবা আর তার স্ত্রী সায়রা বানুকে মা বলে ডাকেন। দিলীপ কুমারও নিজের পুত্র হিসেবে পরিচয় দেন শাহরুখকে। সম্প্রতি বলিউডের রাজকুমার খ্যাত অভিনেতা দিলীপ কুমার গুরুতর অসুস্থবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন । কয়েকদিন হাসপাতালেও থাকতে হয়েছে তাকে। অনেকেই দেখতে গেছেন। তবে নিজের নতুন ছবির প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সময় করে উঠতে পারেননি শাহরুখ। অবশেষে সময় পাওয়াতেই ছুটে গেলেন বাবাকে দেখতে। মঙ্গলবার রাতে মুম্বাইয়ে দিলীপ কুমারের বাড়ি যান শাহরুখ।

 সেখানে অনেকক্ষণ সময় কাটান তিনি বাবা ও মায়ের সঙ্গে। এক ফাঁকে তারা ছবিও তুলেন। সে ছবি সায়রা বানু টুইটারে পোস্ট করে লেখেন, ‘দিলীপের মুখ ডাকা ছেলে এসেছিল দেখা করতে’। দিন কয়েক আগেই মারাত্মক অসুস্থ হয়ে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হন ৯৪ বছর বয়সি বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমার। কিডনিজনিত সমস্যার কারণে দিন পাঁচেক তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

জন্মদিনে শবনম

অভি মঈনুদ্দীন : আজ চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী নায়িকা শবনমের জন্মদিন। গত বছর তিনি তার স্বামী বরেণ্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষকে হারিয়েছেন। তাকে হারানোর পর অনেকটা একাকী এবং নীরবে নিভৃতেই জীবন যাপন করছেন তিনি। তার একমাত্র ছেলে রনি ঘোষ পেশাগত কাজে বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকেন। তবে মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে রনি দেশে এসেছেন।

মায়ের জন্মদিনে মায়ের সয্গে সময় কাটাবেন রনি। জন্মদিন প্রসঙ্গে শবনম বলেন,‘ একটা সময় ছিলো যখন জন্মদিনকে ঘিরে অনেক ভালোলাগা ছিলো। কিন্তু এখন আর সেই ভালোলাগাটা নেই। এখন জন্মদিন এলেই শুধু বারবার মনেপড়ে জীবন থেকে আরো একটি বছর চলেগেলো। মৃত্যুর দিকে আরো একধাপ এগিয়ে যাচ্ছি। এসব মনে হলেই মন আরো খারাপ হয়ে যায়।

 তাই জন্মদিন মানে এখন মন খারাপের দিন। আনন্দের দিন নয়। তারপরও সবার কাছে দোয়া চাই যেন যতোদিন বাঁচি-যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।’ ১৯৯৮ সালে শবনম কাজী হায়াৎ’র নির্দেশনায় সর্বশেষ ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রে তার সহশিল্পী ছিলেন মান্না, আমিন খান ও মৌসুমী। এরপর শবনমকে আর নতুন কোন চলচ্চিত্রে অভিনয়ে দেখা যায়নি। তবে এখনো তার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ আছে। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র পেলে নিশ্চয়ই অভিনয় করবেন তিনি, এমনটাই জানালেন শবনম। এদিকে আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে প্রয়াত পরিচালক নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় শবনম নাদিম জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছিলেন ‘আয়না’ চলচ্চিত্রে। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি একটি ব্যাপক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র।

এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শবনম পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মানজনক অ্যাওয়ার্ড ‘নিগার অ্যাওয়ার্ড’ও লাভ করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা’সহ নানান কিছু শেয়ার করেেত পাকিস্তানে গিয়েছিলেন শবনম। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় শবনম ও নাদিমকে নিয়ে আবার ‘আয়না’ চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। চলচ্চিত্রের নাম ‘আয়না-টু’। এটি নির্মাণ করবেন সৈয়দ নূর। যথারীতি এতে অভিনয় করবেন শবনম-নাদিম।

তবে তারা দু’জন মা বাবার ভূমিকায় অভিনয় করবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে এর শুটিং শুরু হবে।  নায়ক রাজ রাজ্জাক অভিনীত ‘নাচের পুতুল’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় করেছেন শবনম। এই চলচ্চিত্রের ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’ গানটি এখনো দর্শকের মুখে মুখে ফিরে। নাচের পুতুল’র পর তিনি ‘সন্ধি’, ‘সন্দেহ’, ‘কারণ’, ‘সহধর্মিনী’, ‘শর্ত’, ‘যোগাযোগ’, ‘জুলি’, ‘বশিরা’, ‘দিল’সহ আরো বেশ কিছু বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। অভিনয় জীবনের শুরুতেই শবনম বাংলাদেশের ‘এদেশ তোমার আমার’, ‘রাজধানীর বুকে’ এবং  ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

এই বিভাগের আরো খবর

আরিফ খানের নির্দেশনায় এবারই প্রথম নাটকে তিন বন্ধু

বিনোদন রিপোর্টার : নির্মাতা হিসেবে সবসময়ই চমক দিতে তিনি যেমনটা ভালোবাসেন, ঠিক তেমনি নির্মাণে মুন্সীয়ানার কারণে তার নির্মিত নাটক ও টেলিফিল্ম সবসময়ই পায় ভীষণ দর্শকপ্রিয়তা। তিনি গুণী নাট্যনির্মাতা আরিফ খান। আগামী ঈদের জন্যও তিনি যথারীতি নিয়ে আসছেন দর্শকের জন্য নতুন চমক। আর তা হচ্ছে এবারই প্রথম আরিফ খান তিন বন্ধু মডেল অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ, অভিনেত্রী নির্দেশক তানিয়া আহমেদ ও মডেল অভিনেত্রী তানভীন সুইটিকে নিয়ে আসছে ঈদের জন্য ছয় পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করছেন।

শিল্পী মহলানবীশের রচনায় ও আরিফ খানের নির্দেশনায় এই তিন বন্ধু এবারই প্রথম কোনো নাটকে প্রথমবারের মতো অভিনয় করছেন। ছয় পর্বের এ নাটকের নাম ‘টেইক এ ব্রেক’। গত সোমবার থেকে রাজধানীর উত্তরায় নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে। চলবে টানা ১৯ আগস্ট পর্যন্ত। মূলত নব্বই দশকের শুরুর দিক থেকে মৌ,তানিয়া ও সুইটির মধ্যে বন্ধুত্বের শুরু। সেই বন্ধুত্ব আজও অটুট আছে।

 আর তাই শুটিং শুরুর দিকে মেকাপরুমেই মেকাপ নিতে নিতে গল্প আর আড্ডা জমে উঠে এই তিন তারকার। শ্বেতা, তৃণা আর ঝুমা-এই তিন বান্ধবীর মধ্যে খুউব মিল। কিন্তু তিন বান্ধবীরই স্বামীর সঙ্গে নানান ঝামেলা লেগেই থাকে। একসময় তিন বান্ধবী মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয় স্বামীদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। শিক্ষা দিতে গিয়ে একসময় উপলদ্ধি হয় তিনজনেরই স্বামী তাদের স্ত্রী, সংসার এবং সন্তানদের ভীষণ ভালোবাসে। যে কারণে পরবর্তীতে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, যতো ঝগড়াই হোক কেউ কাউকে ছেড়ে যাবেনা কোনদিন। নাটকে শ্বেতা চরিত্রে মৌ, তৃণা চরিত্রে সুইটি এবং ঝুমা চরিত্রে তানিয়া অভিনয় করছেন। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন,‘ নাটকটিতে অভিনয় করতে সত্যিই ভীষণ ভালোলেগেছে। যেহেতু আমরা তিনজনই একে অন্যের ভালো বন্ধু যে কারণে শুটিং করতে গিয়ে বিভিন্ন দৃশ্যে সময়ও কম লেগেছে।

 অনেক বছর পর হলেও অবশেষে আমরা একটি নাটকে অভিনয় করলাম। ধন্যবাদ আরিফ খানকে।’ তানিয়া আহমেদ বলেন,‘ নির্মাতা আরিফ খান দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের তিন বন্ধুদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখে আসছিলো বলেই অবশেষে আমরা কাজটি করতে পারছি। শুটিং করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে আমাদের বন্ধুত্বের নতুন এক জাগরণ হলো। কাজ করতে এসে উপলদ্ধি হয়েছে এমন যে, সত্যিই চলার পথে জীবনে খুউব ভালো বন্ধুর প্রয়োজন আছে।

’ তানভীন সুইটি বলেন,‘ শুটিংতো করছিই আমরা, কিন্তু এর পাশাপাশি তিন বন্ধুর গল্প, আড্ডা এটা ভীষণ উপভোগ করেছি আমরা। আমি এবং তানিয়া বিজ্ঞাপনে একসঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু আমরা তিনজন কখনো কোন কাজ একসঙ্গে করিনি। যে কারণে এই কাজটা আমাদের নিজেদেরও স্বপ্নের একটি কাজ। তাই সবাই বেশ আন্তরিকতা নিয়েই কাজটি করছি।’ আসছে ঈদে এসএ টিভিতে প্রচার হবে ‘টেইক এ ব্রেক’ নাটকটি।

এই বিভাগের আরো খবর

‘আমাদের সালমান শাহ’ নির্মাণে নীলা চৌধুরীর আপত্তি

বিনোদন প্রতিবেদক : মৃত্যুর ২১ বছর পরও আলোচনার শীর্ষে চিত্র নায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু রহস্য ইস্যুতে একের পর এক নতুন নতুন তথ্য দিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি করছেন সালমান শাহ ‘হত্যা মামলা’র আসামি রুবি সুলতানা। আর রুবির ভিডিও বার্তার সূত্র ধরে সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।   এমন সময়ে ‘আমাদের সালমান শাহ’ শিরোনামের সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অনন্য মামুন। কিন্তু সালমানের মা নীলা চৌধুরী বলছেন, তিনি কাউকে ছেলের জীবনী নিয়ে সিনেমা বানানোর অনুমতি দেননি।

 এ বিষয়ে নীলা চৌধুরী সোমবার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আচ্ছালামু আলাইকুম, এইমাত্র দেখলাম একটা পোস্ট। কেউ একজন ঘোষণা দিয়েছেন সালমানকে নিয়ে তিনি ফিল্ম করছেন, আমি নাকি তাকে পারমিশন দিয়েছি? কখন, কীভাবে? এইসব বাজে প্রচারণা বন্ধ করো। ’ তিনি আরো লেখেন, ‘এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় যাচ্ছে। এই সময় জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে নিতে এসব প্রচারণা শুরু করেছে। আমি কাউকে কোনো পারমিশন দেই নাই। সালমান শাহকে নিয়ে ফিল্ম করা হবে না। তাকে খুন করা হয়েছে কি ফিল্মের গল্প বানাবার জন্য? এসব নোংরামি বন্ধ করো।

 এফডিসি কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করা হবে এ ব্যাপারে। ’ এদিকে আগেরদিন অনন্য মামুন লিখেছিলেন, ?‘আগেই বলেছিলাম তার জন্যই আমার ফিল্মে আসা। হিরো হতে পারি নাই, গল্প লেখক থেকে পরিচালক হয়েছি। তবে এবার তাকে নিয়েই কাজ করবো, আমার স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহকে নিয়ে। ছবির নাম ‘আমাদের সালমান শাহ’। আজ নাম নিবন্ধন করলাম। তবে আইডিয়া কিন্তু আমার না, লাইভ টেকনোলোজিসের আরাফাত ভাইয়ের আইডিয়া।

ডিজিটাল পাটর্নার লাইভ টেকনোলোজিস্। ‘চালবাজ’ শেষ করে শুরু করব ‘আমাদের সালমান শাহ’, হিরো-হিরোইন নিয়ে থাকবে অনেক চমক। ‘ সালমানের আদর্শে বিশ্বাস করেন ও তাকে হৃদয়ে লালন এমন একজন অভিনেতাকে মূল চরিত্রে দেখা যাবে। এর জন্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমেও অভিনয়শিল্পী নির্বাচনের ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান মামুন।

‘আমাদের সালমান শাহ’ যৌথভাবে প্রযোজনা করবে লাইভ টেকনোলজিস ও অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। শুটিং শুরু হবে নভেম্বরে। ১৯৯৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান সালমান শাহ। সব মিলিয়ে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার বেশিরভাগই ব্যবসাসফল। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন এ নায়ক। সালমানের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দুই দশক ধরে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি ফেসবুক ভিডিওতে দাবি করেন- সালমান আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই নারী নিজেকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ দাবি করলেও আলোচনা থামছে না।

এই বিভাগের আরো খবর

ঈদে বিপাশা হায়াতের দুই নাটক

অভি মঈনুদ্দীন : আসছে ঈদে অভিনয়ে বিপাশা হায়াতের দেখা না মিললেও তার রচিত দুটি নাটক দুটি ভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হবে। বিপাশা হায়াত রচিত ‘এ কি খেলা’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন আরিফ খান। আবার ‘ছায়া’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন তানিয়া আহমেদ। ‘এ কি খেলা’ নাটকে অভিনয় করেছেন ওমরসানী ও মৌসুমী দম্পতি এবং ‘ছায়া’ নাটকে অভিনয় করেছেন নোবেল, জাকিয়া বারী মম ও এফএস নাঈম। নাটক দুটির গল্প প্রসঙ্গে বিপাশা হায়াত বলেন,‘ মানুষের লোভ, পাপ এবং প্রায়শ্চিত্ত-এগুলো নিয়েই নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে। মানুষের এই বিষয়গুলো যখন প্রকাশ হয়ে যায় তখন তার সুখটাও কলুষিত হয়।

 আবার মানুষের ছোট কিংবা বড় পাপ কখনোই চাপা থাকেনা, কালের আবর্তে তা একসময় প্রকাশ পাবেই। এই বিষয়গুলোই আমি নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময়ই এমনকিছু লিখতে চাই যেন তা মানুষকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও ভাবায়। আবার ছায়া নাটক প্রসঙ্গে বলতে হয় যখন একজন মানুষ চলে যায় তখন কোন না কোনভাবে তার ছায়া আমাদের চারপাশে থেকে যায়। এই বিষয়টিকে ঘিরেই নাটকের গল্প এগিয়ে যায়।’ আসছে ঈদে এনটিভিতে প্রচার হবে ‘এ কি খেলা’ নাটকটি এবং চ্যানেল আইতে প্রচার হবে ‘ছায়া’ নাটকটি। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই বিভাগের আরো খবর

মঞ্চস্থ হবে তিনটি শহরে ‘দ্রোহ’ নিয়ে আজ ভারত যাচ্ছে বগুড়া থিয়েটার

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া থিয়েটার তার শিল্পনন্দিত নাটক ‘দ্রোহ’ নিয়ে আজ ভারত যাচ্ছে। এটি দলটির এবার নাটক নিয়ে তৃতীয় ভারত সফর। এর আগে বগুড়া থিয়েটার তাদের কালজয়ী নাটক  ‘কথা পূন্ড্রবর্ধন’ নিয়ে ২০০০ সালে ও ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ ২০০৫ সালে কোলকাতায় মঞ্চস্থ করেছে।এবারের নাট্য সফরে ‘দ্রোহ’ পশ্চিম বঙ্গের তিনটি শহরে মঞ্চায়িত করবে। আগামীকাল ১৫ আগস্ট ঋষি অরবিন্দুর জন্মতিথি ও ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অরবিন্দু অনুশীলন সোসাইটির আয়োজনে শিউড়িতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম মঞ্চায়ন। এরপর ১৭ আগস্ট অলটারনেটিভ লিভিং থিয়েটারের আয়োজনে নজরুল শতবার্ষিকী মঞ্চে হবে দ্বিতীয় মঞ্চায়ন, এরপর দিন ১৮ আগস্ট ইউনিটি মালঞ্চের আয়োজনে নৈহাটি ঐক্যতান মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে দ্রোহের তৃতীয় মঞ্চায়ন।


দ’ুদেশের মধ্যে সংস্কৃতি বিনিময়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যদল বগুড়া থিয়েটার ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতির সূতিকাগার এ শহরগুলিতে নাটক মঞ্চায়ন করবে।  বাংলাদেশের নাট্যদলের নাট্য পরিবেশনাকে উপলক্ষ করে ইতোমধ্যেই শিউড়ি, মধ্যমগ্রাম আর নৈহাটির দর্শকবৃন্দের মধ্যে প্রচুর উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে এ কথা নিশ্চিত করেছেন কোলকাতার আয়োজকবৃন্দ। জানা গেছে বাংলাদেশের নাট্যদল বগুড়া থিয়েটার ও নাট্যকার তৌফিক হাসান ময়নাকে তারা সেখানে নাগরিক সংবর্ধনা দেবে। উল্লেখ্য ‘দ্রোহ’ নাটকটি বছর জুড়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক কয়েক জেলায় বিভিন্ন উৎসবে মঞ্চায়ন করে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে মঞ্চপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘দ্রোহ’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন তৌফিক হাসান ময়না।


এ নাটকে উঠে এসেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলের  মানুষের জীবনভাষ্য। বর্ণনাত্মক রীতি অবলম্বনে নাট্যকার নাটকে মানুষের হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িকতা বোধের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। নাটকে গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও নানা লোকাচারও তুলে ধরা হবে। যমুনার করাল ছোবল আর স্বার্থান্বেষী মানুষের সাথে পলি পললের প্রলেপে গড়া সাধারণ মানুষের দ্বন্দ্ব সংঘাত নাটকে প্রাণ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ে দেশে দেশে, সমাজের স্তরে স্তরে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধর্মান্ধতা, এই ধর্মান্ধতায় পবিত্র ভূমি রক্তে লাল হয়ে উঠছে। হাজার বছরের শান্তি আর সম্প্রীতির বন্ধন হয়ে যাচ্ছে আলগা।মানুষের অমানবিক হয়ে উঠবার চিত্র যেমন পাওয়া যায় এই ‘দ্রোহ’ নাটকে, তেমনি সকল অশুভ শক্তিকে রুখে দিয়ে শান্তির পথে মানুষ আবারো ফিরে আসবে, এই আশাবাদ উচ্চারিত হয়েছে বারংবার দ্রোহ নাটকের সংলাপে।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক হোসেন, কনক কুমার পাল অলক,জাকিউল ইসলাম সবুজ, বিধান কৃষ্ণ রায়, এমজি মোস্তফা জিয়ন, পাপড়ি ইসলাম, জিনিয়া ফারজানা, নিশু ইসলাম, রাইয়া রাকা, সুপিন বর্মন, সর্দার হামিদ, সিজুল ইসলাম, ওসমান গনি, সাইফুল, মাসুম, রাফি, আশিক, রবিউল, আশিকুর, জাদু।

এই বিভাগের আরো খবর

বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচলেন চিত্রনায়ক ইমন

বিনোদন প্রতিবেদক : বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন চিত্রনায়ক ইমন। ঝর্ণার পানিতে শুটিংয়ের সময় হঠাৎ তিনি ¯্রােতের তোড়ে ভেসে যান। এসময় পাথরের ধাক্কায় হাত, পায়ে প্রচ- ব্যথা পান। এছাড়া শরীরের বেশ কিছু অংশ থেঁতলে গেছে তার। রোববার বেলা ১১ টার দিকে বান্দরবানে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, ‘না জাগতিক না পুরান’ টেলিছবির শুটিং করতে বান্দরবান রয়েছেন ইমন।

সেখানে শৈলপ্রপাতে ঝর্ণার পানিতে শট দেয়ার সময় ভেসে যান তিনি। রপর ইউনিটের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে পানির ¯্রােত থেকে টেনে তোলেন। ইমন জানান, কাজ করতে গিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই। এরপর বেশ ক’জন মিলে দড়ি দিয়ে আমাকে টেনে তোলেন। এখনো সে কথা মনে হলে গা শিওরে উঠছে। ১০ আগস্ট থেকে বান্দরবানে রয়েছেন। ইমন ছাড়াও এতে আরও অভিনয় করছেন প্রভা, জীবনসহ অনেকে। টলিছবিটি আগামী ঈদে একটি টেলিভিশন প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

দুই যুগ পর বিটিভিতে রুনা লায়লা উপস্থাপনায় আঁখি, অতিথি আলমগীর

অভি মঈনুদ্দীন : দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শকের জন্য গান গাইলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা। আসছে ঈদে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নির্মিত ‘তোমাদেরই গান শুনাবো’ অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে সঙ্গীত পরিবেশন করতে দেখা যাবে। বিটিভির মহাপরিচালক এস.এম. হারুন অর রশীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মাহবুবা ফেরদৌস’র প্রযোজনায় রুনা লায়লা বাংলাদেশ টেলিভিশনের দর্শকের জন্য বহুদিন পর গান গাইলেন।

এরইমধ্যে অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তবে এর আগে রুনা লায়লা বাংলাদেশ টেলিভিশনে যতোবার গান গেয়েছেন তার চেয়ে চমক আছে এবারের অনুষ্ঠানে। কারণ এবারের অনুুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন আঁখি আলমগীর এবং অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেখা যাবে নায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক আলমগীরকেও। এর আগে উপস্থাপনায় আঁখির বেশ ভালো অভিজ্ঞতা থাকলেও এমন একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে থাকতে পেরে ভীষণ খুশি আঁখি আলমগীর।

 আগামী ঈদে রুনা লায়লার কন্ঠে যে গানগুলো দর্শক দেখতে ও শুনতে পাবেন সেগুলো হচ্ছে ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘যখন থামবে কোলাহল’,‘ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’,‘ আমায় ভাসাইলিরে’, ‘কার তরে নিশি জাগো রাই’সহ আরো দুটি গজল। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান গাওয়া প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন,‘ প্রায় দুই যুগ পর বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য গান গাইলাম। সত্যিই খুউব ভালোলেগেছে। সেট ডিজাইন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য আয়োজন বেশ গুছানো ছিলো।

 সবমিলিয়েই ভালোলেগেছে। তাছাড়া আঁখি’র উপস্থাপনাও খুউব ভালো হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠানটিই আশা করছি দর্শকের কাছে উপভোগ্য হবে।’ আঁখি আলমগীর বলেন,‘ এমন একটি অনুষ্ঠানে আমাকে উপস্থাপক হিসেবে রাখার জন্য বিটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি কখনো ভাবিনি এমন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করার সুযোগ পাবো। আমি চেষ্টা করেছি আমার উপস্থাপনার মধ্যদিয়ে তারমতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীকে যথাযথভাবে তুলে ধরার। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আব্বার উপস্থিতিটাও ছিলো রুনা আন্টির জন্য অনেক বড় চমক।

সবমিলিয়ে খুউব ভালো একটি অনুষ্ঠান হয়েছে।’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে রুনা লায়লা প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন ১৯৭৪ সালে। এরপর আরো তিন/চারবার তিনি বিটিভিতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে তিনি বিটিভিতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আসছে ঈদে বিটিভি’র ঈদ অনুষ্ঠানমালায় রুনা লায়লা’র ‘তোমাদেরই গান শুনাবো’ অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্ধুর নির্দেশনায় বন্ধু

অভি মঈনুদ্দীন: চিরসবুজ মডেল ও অভিনেতা আদিল হোসেন নোবেল ও নন্দিত অভিনেত্রী, নির্দেশক তানিয়া আহমেদ’র বন্ধুত্ব দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি।দীর্ঘদিনের এই পথচলায় দু’জন একসঙ্গে বিজ্ঞাপনে এবং নাটকে অভিনয় করলেও একের নির্দেশনায় অন্যের কাজ করা হয়ে উঠেনি। এবারই প্রথম তানিয়া আহমেদ’র নির্দেশনায় নাটকে অভিনয় করছেন নোবেল। বিপাশা হায়াতের রচনায় তানিয়া আহমেদ’র নির্দেশনায় নোবেল গতকাল থেকে ‘ছায়া’ নাটকের শুটিং শুরু করেছেন।

নাটকের মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে তানিয়া আহমেদ বলেন,‘ যখন একজন মানুষ চলে যায় তখন কোন না কোনভাবে তার ছায়া আমাদের চারপাশে থেকে যায়। এই বিষয়টিকে ঘিরেই নাটকের গল্প এগিয়ে যায়।’ নোবেলকে নিয়ে নাটক নির্মাণ প্রসঙ্গে তানিয়া আহমেদ বলেন,‘ আমি দীর্ঘদিন যাবত নাটক নির্মাণ করে আসছি। কিন্তু নোবেল যেহেতু আমার বন্ধু এবং তার অবস্থানটা অনেক উঁচুতে। সে কারণে নোবেলকে নিয়ে কাজ করার জন্য আমি এতোদিন তৈরী ছিলাম না।


এই সময়ে এসে আমার মনে হয়েছে যে এখন নোবেলকে নিয়ে আমি একটি নাটক নির্মাণ করতে পারি। নোবেলকে গল্প শুনানোর পর তার ভালোলেগেছে এবং অবশেষে আমরা দুই বন্ধু একসঙ্গে কাজ করছি। নোবেল আমার খুউব ভালো একজন বন্ধু। দুই বন্ধু’র এই কাজটি আশা করছি অনেক ভালো হবে।নোবেল বলেন,‘ নাটকে আমি খুব কম কাজ করি। আমার অফিস নিয়েই আমাকে খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে বিপাশা হায়াতের লেখা ছায়া গল্পের বিষয়বস্তু আমার খুউব ভালোলেগেছে। তাছাড়া নাটকটি যেহেতু আমার বন্ধুই নির্মাণ করছে , তাই বেশ আগ্রহ নিয়েই কাজটি করছি।


দুই বন্ধু একসঙ্গে কাজ করছি, গল্প করছি, ফিরে যাচ্ছি কখনো কখনো ফেলে আসা দিনে। বেশ ভালোলাগছে। আশা করছি নাটকটি দর্শকের কাছে বেশ উপভোগ্য হবে।’ তানিয়া আহমেদ জানান আসছে ঈদে চ্যানেল আইতে নাটকটি প্রচার হবে। এই নাটকে আরো অভিনয় করছেন নাঈম, জাকিয়া বারী মম। আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় এইচআরসি’র বিজ্ঞাপনে নোবেল ও তানিয়া আহমেদ প্রথম একসঙ্গে বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। তাদের অভিনীত একমাত্র নাটক হচ্ছে রায়হান খান নির্দেশিত ‘নীরবে তিন মিনিট’।

 এবারের ঈদে নোবেল অভিনীত একমাত্র নতুন নাটক হচ্ছে ‘ছায়া’। তবে গত বছরের শেষপ্রান্তে হিমেল আশরাফের নির্দেশনায় ‘হ্যালো আর জে’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন যা এবারের ঈদে প্রচার হবে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেরে। এদিকে তানিয়া আহমেদ এরইমধ্যে শেষ করেছেন ‘মধ্য দুপুর’ নাটকের কাজ। চলতি মাসের শেষপ্রান্তে তিনি নির্মাণ করবেন ‘তুমি আমি পাশাপাশি’ শিরোনামের একটি নাটক।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার

এই বিভাগের আরো খবর

তৌকীরের রচনা ও নির্দেশনায় ঈদে তিন নাটক-টেলিফিল্ম

অভি মঈনুদ্দীন : আসছে ঈদে বেশ কয়েকটি নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় করার পাশাপাশি দুটি টেলিফিল্ম ও একটি নাটক নির্মাণ করছেন নন্দিত অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। এরইমধ্যে তিনি দুটি টেলিফিল্মের শুটিং শেষ করেছেন। আগামী ১৯ ও ২০ আগস্ট আরেকটি নাটকের কাজ শেষ করবেন। যে দুটি টেলিফিল্মের শুটিং এরইমধ্যে শেষ করেছেন সে দুটি হচ্ছে ‘মেঘের আড়ালে মেঘ’ এবং ‘প্রতিপক্ষ’। দুটি টেলিফিল্মের রচয়িতাও তিনি।

 ‘মেঘের আড়ালে মেঘ’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, তৌকীর আহমেদ, তারিন ও রওনক। ‘প্রতিপক্ষ’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী নাগ, রাজীব সালেহীন ও ভাবনা। তৌকীর আহমেদ’র রচনা ও নির্দেশনায় ১৯ ও ২০ আগস্ট ‘দাম্পত্য’ নাটকের শুটিং-এ অংশ নেবেন সাবেরী আলম, মারিয়া নূর ও সিয়াম। ‘মেঘের আড়ালে মেঘ’ ঈদে প্রচার হবে এনটিভিতে, ‘প্রতিপক্ষ’ প্রচার হবে চ্যানেল আইতে।

 এদিকে তৌকীর আহমেদ তার নির্দেশিত নতুন চলচ্চিত্র ‘হালদা’র কাজ প্রায় শেষ করেছেন। আগামী ঈদের পরপরই তিনি সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দিবেন তিনি। ঈদের কাজ ও ‘হালদা প্রসঙ্গে তৌকীর আহমেদ বলেন,‘ কারো কাছ থেকে ভালো স্ক্রিপ্ট পাওয়া এই সময়ে খুব কঠিন। যে কারণে নিজেই সময় নিয়ে তিনটি ভালো স্ক্রিপ্ট লিখেছি। চেষ্টা করেছি নিজের মনের মতো কিছু কাজ করার। আশাকরি ভালোলাগবে দর্শকের। অন্যদিকে হালদা চলচ্চিত্রটি আমি গল্পের চাহিদা অনুযায়ীই ভালোভাবে নির্মাণ করার চেষ্টা করেছি।

 হালদা চলচ্চিত্রে বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যাবে, খুজে পাওয়া যাবে নদী মাতৃক বাংলাদেশকে। হালদা সাধারণ মানুষের গল্পের চলচ্চিত্র। তাই আমি মনেকরি চলচ্চিত্রটি যারা দেখতে হলে যাবেন তাদের নিশ্চয়ই ভালোলাগবে।’ তৌকীর আহমেদ সর্বশেষ ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি এরইমধ্যে নানান আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছে। আগামী ঈদে তৌকীর আহমেদকে নিজের নির্দেশনার বাইরে পাঁচটি নাটক টেলিফিল্মে অভিনয়ে দেখা যাবে। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

এই বিভাগের আরো খবর

বিজ্ঞাপনের নতুন জুটি ইমন-নাদিয়া

বিনোদন রিপোর্টার : বিশিষ্ট বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও অভিনেতা সৈয়দ আপন আহসানের নির্দেশনায় এবারই প্রথম বিজ্ঞাপনে প্রথমবারের মতো জুটিবদ্ধ হয়ে কাজ করলেন ইমন ও নাদিয়া খান। আপন আহসানের নির্দেশনায় তারা দু’জন ‘আইএফআইসি ব্যাংক’র হোম লোন’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। ইমন ও নাদিয়া খান গত বুধবার দিনব্যাপী রাজধানীর অদূরে সাভারের মমতাপল্লী এবং উত্তরার একটি শুটিং হাউজে বিজ্ঞাপনটির শুটিং-এ অংশ নেন।

তিনদিনব্যাপী বিশাল আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিজ্ঞাপনটির শুটিং শেষ হয়েছে গতকাল। এর আগে সৈয়দ আপন আহসানের নির্দেশনায় ইমন বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনে মডেল হলেও নাদিয়া খান এবারই প্রথম তার নির্দেশনায় মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। বড় পর্দায় ও ছোটপর্দায় নিয়মিত ইমন অভিনয় করলেও নাদিয়া খানের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে কখনো কাজ করা হয়ে উঠেনি। আপন আহসানের নির্দেশনাতেই তারা দু’জন প্রথম কোন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।

 আগামী ঈদের আগেই প্রচারের লক্ষে বিজ্ঞাপনটি নির্মিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে ইমন বলেন,‘ আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আপন ভাইয়ার নির্দেশনায় বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলাম। তার নির্দেশনায় তিন/চারটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। একজন নির্মাতা যখন ভালোবাসা, আদর দিয়ে কাজ আদায় করার চেষ্টা করেন তখন শিল্পীরও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে কাজটি আন্তরিকতা দিয়ে শেষ করার। আপন ভাই নির্মাতা হিসেবে যেমন অসাধারণ, মানুষ হিসেবেও অনেক অমায়িক। তার নির্দেশনায় নতুন বিজ্ঞাপনটিতে কাজ করে আমি উচ্ছসিত। এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী।’ নাদিয়া খান বলেন,‘ আপন ভাইয়ার নির্দেশনায়  এবারই প্রথম কাজ করেছি। বিশাল সেট-এ বিশাল আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিজ্ঞাপনটি নির্মিত হয়েছে। চমৎকার একটি ইউনিটের সাথে কাজ করেছি।

 আপন ভাই খুব যতœ নিয়ে কাজটি করেছেন। তার নির্দেশনার ভাবনা আমার কাছে খুব ভালোলেগেছে। ইমন ভাই যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন।’ এর আগে ইমন আপন আহসানের নির্দেশনায় ‘কসমস বিস্কুট’, ‘র‌্যাংগস’ ব্যাটারীর বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন। ইমন ও নাদিয়া খান কচি খন্দকারের নির্দেশনায় ‘সিনেমা হল’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন।

এটি শিগগিরই একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারে আসবে। ইমন গতকাল থেকে মাহমুদ দিদারের নির্দেশনায় বান্দরবানে শুরু করেছেন ‘না জাগতিক না পুরান’ টেলিফিল্মের কাজ শুরু করেছেন। সেখানে কাজ শেষে ১৩ আগস্ট ঢাকায় ফিরবেন তিনি। নাদিয়া খান গতকাল অপূর্ব’র বিপরীতে রুবেলের নির্দেশনায় ‘না বলা সেই ডায়েরী’ নাটকের কাজ শেষ করেছেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রাঙ্গণেমোর-এর দুইটি নাটকের প্রদর্শনী

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের দুটি নাটক মঞ্চায়িত হবে আজ  ও ১৩ আগস্ট। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়িত হবে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের ১২তম প্রযোজনা ‘দাঁড়াও… জন্ম যদি তব বঙ্গে’।মাইকেল মধুসূদন দত্তকে নিয়ে অর্পূব কুমার কু-ুর রচনায় এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা।

 নাটকটির মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনা করেছেন নূনা আফরোজ, সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন রামিজ রাজু ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন আহমেদ সুজন। ‘দাঁড়াও… জন্ম যদি তব বঙ্গে’ নাটকটিতে অভিনয় করেছেন অনন্ত হিরা, রামিজ রাজু, শুভেচ্ছা রহমান ও আল-আভী জাহান টুুসি।

১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চায়িত হবে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের ৮ম প্রযোজনা ঈর্ষা।সৈয়দ শামসুল হক রচিত এ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু ও অনন্ত হিরা।  উল্লেখ নাটকটিতে সংলাপ মাত্র ৭টি এবং চরিত্র ৩টি। নাটকটির সবচেয়ে বড় সংলাপের ব্যাপ্তি ৩৬ মিনিট এবং সবচেয়ে ছোট সংলাপটি ১৬ মিনিট ব্যপ্তিকালের।

এই বিভাগের আরো খবর

বিপাশা হায়াতের গল্পে নাটকে জুটিবদ্ধ হলেন ওমরসানী-মৌসুমী

অভি মঈনুদ্দীন ঃ চলচ্চিত্রের সফল তারকা জুটি, তারকা দম্পতি ওমরসানী-মৌসুমী সাধারণত চলচ্চিত্রেই জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন। তবে ছোটপর্দাতেও তারা দু’জন অভিনয় করেছেন। হিসেবের খাতায় সেটা খুবই কম। আগামী ঈদের জন্য একটি নাটকে তারা দু’জন আবারো অভিনয় করেছেন। শুধুমাত্র গল্প ভালোলাগায় ব্যস্ততার মধ্যে ওমরসানী-মৌসুমী ‘এ কি খেলা’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকটি রচনা করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত। এটি নির্মাণ করেছেন মেধাবী নাট্যনির্মাতা আরিফ খান। নাটকের গল্প প্রসঙ্গে বিপাশা হায়াত বলেন, ‘ মানুষের লোভ, পাপ এবং প্রায়শ্চিত্ত-এগুলো নিয়েই নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে। মানুষের এই বিষয়গুলো যখন প্রকাশ হয়ে যায় তখন তার সুখটাও কলুষিত হয়।

 আবার মানুষের ছোট কিংবা বড় পাপ কখনোই চাপা থাকেনা, কালের আবর্তে তা একসময় প্রকাশ পাবেই। এই বিষয়গুলোই আমি নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময়ই এমনকিছু লিখতে চাই যেন তা মানুষকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও ভাবায়।’ গত সোম ও মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউজে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে ওমরসানী বলেন,‘ অনেক ভালো একটি কাজ করলাম। যে কারণে আমি সন্তুষ্ট। আরিফ খানের নির্দেশনায় এর আগে কাজ করিনি। এটিই প্রথম। বেশ বুঝে শুনেই তিনি যতœ নিয়ে কাজ করেন। স্ক্রিপ্টে প্রাণ আছে। আমি জানতাম বিপাশা হায়াত ছোটপর্দার জন্য গল্প লিখেন, কিন্তু তিনি যে এতো চমৎকার লিখেন-এটা আমার জানা ছিলোনা। তার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ।

’ প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী বলেন,‘ সত্যি বলতে কী প্রতিনিয়তই নাটকে-টেলিফিল্মে কাজ করার প্রস্তাব আসে। কিন্তু ভালো স্ক্রিপ্ট পাইনা। বিপাশা হায়াতের লেখা এ কি খেলা নাটকের গল্প পড়েই ভীষণ ভালোলেগে যায়। তাছাড়া গল্পটি স্বামী স্ত্রীকে নিয়ে। নাটকে আমার স্বামীর চরিত্রে সানীই অভিনয় করেছেন। যে কারণে কাজটি করতেও সবমিলিয়ে অনেক ভালোলেগেছে। আরিফ খান মেধাবী একজন নির্মাতা। তার কাজ করতে গেলে. স্বাচ্ছন্দ্যতা নিয়ে কাজ করা যায়। এই কাজটি নিয়ে আমি খুব আশাবাদী।’ পরিচালক আরিফ খান জানান আসছে ঈদে এনটিভিতে প্রচার হবে ‘এ কি খেলা’ নাটকটি। ‘এ কি খেলা’ নাটকে আরো অভিনয় করেছেন পরেশ আচার্য্য, মুনিরা ইউসুফ মেমী, বৃন্দাবন দাস প্রমুখ। ওমরসানী মৌসুমী সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘ভালোবাসার বিশ বছর’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। তারা দু’জন বর্তমানে উত্তম আকাশের নির্দেশনায় ‘আমি নেতা হবো’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

এই বিভাগের আরো খবর

মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে অনুষ্ঠিত ‘ইত্যাদি’র পুনঃপ্রচার বৃহস্পতিবার

আগামী ১০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার রাত ০৯টায় প্রচারিত হবে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে সামনে ধারণ করা ইত্যাদির একটি বিশেষ পর্ব। কয়েক হাজার দর্শক নিয়ে ২০১০ সালের ১২ জুন জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য দেশে খুঁজে পাওয়া জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে বালিয়াটিই আয়তনের দিক থেকে সবচাইতে বড়।বিষয় বৈচিত্রে ভরপুর ইত্যাদির এই পর্বে ছিল কিছু মানবিক, অনুসন্ধানী, সচেতনতামূলক ও শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। বগুড়া জেলার কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেলের উপর ছিল একটি মানবিক প্রতিবেদন। যারা বংশানুক্রমে তাদের ব্যবসার আয়ের একটা অংশ দরিদ্র ও দুস্থ মানুষদের জন্য ব্যয় করে আসছেন।

 রয়েছে মুন্সিগঞ্জের সাত্রাপাড়া গ্রামের মোঃ রহমতউল্লাহ খান আনোয়ারের উপর প্রতিবেদন। যিনি তার বাড়ীর ব্যবহার্য প্রায় প্রতিটি জিনিষই নিজে নকশা করে নিজের হাতেই বানিয়েছেন। শিক্ষা গ্রহণের জন্যে কোন বয়সসীমা নেই। যেকোন বয়সেই যে শিক্ষা গ্রহণ করা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেমনি একটি পরিবারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবারের অনুষ্ঠানে। বগুড়ার ধুনটের প্রতিবন্ধী যুবক কফিলউদ্দিনের উপর রয়েছে একটি মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন। বিদেশী প্রতিবেদন করা হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বাংলার নবাবদের আবাসস্থল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদে।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথা ও আলী আকবর রূপুর সুরে গান পরিবেশন করেন ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ। এ অনুষ্ঠানে সংকলিত হয়েছে মোঃ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল হাদী, এ্যান্ড্রু কিশোর ও কুমার বিশ্বজিৎ পরিবেশিত একটি দেশের গান। গানটির চিত্রায়ন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি জেলায়। এই গানটিও লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং সুর করেছেন আলী আকবর রূপু। ইত্যাদির এই পর্বে দর্শক বাছাই করা হয়েছে আমন্ত্রিত দর্শকদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দিয়ে। রয়েছে মামা-ভাগ্নে, নানী-নাতি, চিঠিপত্রসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বেশ ক’টি নাট্যাংশ। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। একযোগে পুনঃপ্রচারিত হবে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এ। ‘ইত্যাদি’ স্পন্সর করেছে কেয়া কস্মেটিকস্ লিমিটেড।

এই বিভাগের আরো খবর

‘জোছনার আড্ডা’ নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে লুইপা

অভি মঈনুদ্দীন : বগুড়াবাসীর গর্ব লুইপা। কারণ লুইপা, এই প্রজন্মের আলোচিত কন্ঠশিল্পীদের মধ্যে অন্যতম একজন। বলা যায় খুব অল্প সময়ে নিজের অসাধারণ গায়কী দিয়ে নিজের আলাদা একটি অবস্থান তৈরী করে নিয়েছেন সঙ্গীতাঙ্গনে। যে কারণে শুধু দর্শক শ্রোতাদের মধ্যেই যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে-এমনটি নয়। সিনিয়র জুনিয়ার কন্ঠশিল্পী’সহ গীতিকবি, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালকদের কাছেও তার রয়েছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা।

 লুইপা’র গান যারা একবার শুনেছেন তারা তার সুরেলা কন্ঠের এবং গায়কীর প্রশংসা করেছেন আপনা থেকেই। লুইপা সবসময়ই সবার এই উৎসাহ আগামী দিনের চলার পাথেয় হিসেবে নিয়ে নিজের মতো করেই এগিয়ে চলেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই লুইপা পুরোনো দিনের গান গাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি বেগম আখতারকে উৎসর্গ করে তারই একটি গান পুণঃসঙ্গীতায়োজন করে গাইলেন। ‘জোছনা করেছে আড়ি, আসেনা আমার বাড়ি’ গানটির পুণঃসঙ্গীতায়োজন করেছেন অটামনাল মুন।

 গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন শাহরিয়ার পলক এবং সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন এই সময়ের আলোচিত ক্যামেরাম্যান রাজু রাজ। রাজু রাজ তার সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে মিউজিক ভিডিওটিতে গানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লুইপাকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। যে কারণে যারাই গানটি শুনার পাশাপাশি ইউটিউবে উপভোগ করেছেন তারাই মুগ্ধ হয়েছেন। প্রশংসা করেছেন তার গায়কীর এবং মিউজিক ভিডিওটিরও। দেশের আন্তর্জাতি খ্যাতিসম্পন্ন সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা লুইপার কন্ঠে এই গান শুনে তার গায়কীর প্রশংসা করেন। লুইপার মুঠোফোনে ফোন করে তাকে অভিনন্দনও জানান রুনা লায়লা। একটি গান গাওয়ার পর যখন রুনা লায়লা’র কাছ থেকে প্রশংসা বাণী আসে, তখন সত্যিই এই প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে আর পাওয়ার কিছু বাকী থাকে না।

 লুইপা বলেন,‘ আমাকে বিস্মি করে দিয়েছিলো রুনা ম্যাডামের ফোন। তার কথাগুলো এখনো কানে বাজছে। কী সৌভাগ্য আমার তার মতো এমন গুনী, মহান শিল্পী আমার গানের প্রশংসা করেছেন। এই গানকে ঘিরে আর কী-ইবা চাওয়ার থাকতে পারে আমার। আমি সত্যিই ধন্য।’ এদিকে আজ লুইপা’র জন্মদিন। জন্মদিনে যারা গান ভালোবাসেন, যারা সঙ্গীতাঙ্গনকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছেন তাদের কাজের মাধ্যমে এবং তার গানের বন্ধুদের নিয়ে আজ সন্ধ্যায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজনের নাম রাখা হয়েছে ‘জোছনার আড্ডা’।

আর এতে তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করছেন তারই স্বামী আলমগীর হোসেন। এদিকে শিগগিরই লুইপা আকাশ সেন’র সুর সঙ্গীতে প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানে ভয়েস দিতে কলকাতা যাবেন তিনি। আগামী ঈদে গান বাংলা’র ‘উই- অব চেঞ্জ’-এ প্রচার হবে লুইপার গাওয়া ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’ গানটি। খুব অল্প সময়েই লুইপা তার সমসাময়িক অনেক শিল্পীর চেয়ে নিজের যোগ্যতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন জাত শিল্পী হিসেবে। করতোয়ার পক্ষ থেকে লুইপাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তার আগামীদিনগুলো হোক আরো উজ্জ্বল, গানে গানে ভরে থাক তার আপন ভুবন-এই শুভ কামনা।

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top