দুপুর ২:৪৯, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা

পাঠ্যবইয়ে ভুলক্রটি প্রকাশ্যে আসার সাড়ে পাঁচ মাস পর মাধ্যমিকের বইয়ে কোনো ভুল খুঁজে ‘না পেয়ে’ শুধু প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঁচটি বইয়ে ছয়টি সংশোধনী দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবির শুদ্ধিপত্র পেয়ে তা অনুসরণে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলছেন, প্রাথমিকের বইয়ের শুধু মৌলিক ভুলের’ সংশোধনী দিয়েছেন তারা, মাধ্যমিকের বইয়ে ‘মৌলিক কোনো ভুল পাওয়া যায়নি’।২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির একটি, তৃতীয় শ্রেণির তিনটি এবং পঞ্চম শ্রেণির দুটি বইয়ের ছয়টি সংশোধনী দিয়ে শুদ্ধিপত্র দেয় এনসিটিবি।

সংশোধনী: প্রথম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় ‘মৌ’ এর স্থলে ‘মউ’।তৃতীয় শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ৬৮ পৃষ্ঠায় কুসুমকুমারী দাশের আদর্শ ছেলে কবিতার বিস্তারিত সংশোধনী দেওয়া হয়েছে।তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ‘ঘোষনা’ বানান শুদ্ধ করে ‘ঘোষণা’ করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ৫৮ পৃষ্ঠায় ‘সায়েরা বেগম’ এর স্থলে ‘সায়েরা খাতুন’ সংশোধনী এসেছে। তৃতীয় শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ঐবধৎঃ এর স্থলে ঐঁৎঃ হবে। পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘সমুদ’ বানান ঠিক করে সমুদ্র করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ঘোষনা বানানটি ঠিক করে ঘোষণা’করা হয়েছে। অধ্যাপক নারায়ণ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মৌলিক ভুলগুলোর সংশোধনী দেওয়া হয়েছে, প্রাথমিকের বইয়ের আর কোনো মৌলিক ভুল নেই। বড় ভুল ছিল আদর্শ ছেলে কবিতায়।

প্রাথমিকের বইয়ে ছাগলের গাছে উঠে আম খাওয়ার চিত্র এবং ওড়না নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে তা আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন বইয়ে পরিমার্জন করা হবে বলেও জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, পাঠ্যপুস্তকে ভুল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর একটি কমিটি বিভিন্ন ভুল খুঁজে বের করে সংশোধিত আকারে সুপারিশ দেয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিরে শুদ্ধিপত্র তৈরি করে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় অনেক দেরিতে অনুমোদন করায় শুদ্ধিপত্র দিতে বিলম্ব হয়েছে। বছরের প্রথম দিন ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে সরকার।নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে ফেইসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পাঠ্যবই পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে এনসিটিবি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও দায়ীদের চিহ্নিতে একটি কমিটি করেছিল। ওইসব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় দায়ী এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। ভুলের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামের দাবি মানা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

হলের পুকুরে ডুবে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পুকুরে ডুবে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃত জনি ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুকুরে সাঁতার কাটতে নেমে তার মৃত্যু হয় বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এক বন্ধুকে জনি পুকুরে নেমেছিল। সে হঠাৎ করে ডুবে গেলে তার বন্ধুর চিৎকার শুনে হলের ছাত্ররা পুকুরে নামে।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা জনির মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ফজলুল হলের অনাবাসিক ছাত্র জনি বাইরে থেকে পড়াশোনা করতো বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছে।

তার মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

ঢাবিতে বাঁধন ট্রান্সফিউশন সেন্টার উদ্বোধন

ঢাবি প্রতিনিধি : স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে রক্তের ট্রান্সফিউশন (রক্ত সংগ্রহশালা) সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেন্টার উদ্বোধন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় এই সেন্টার নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবির প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ফরিজুল ইসলাম, বাঁধনের উদ্যোক্তা শাহিদুল ইসলাম রিপন, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী ইমন, বাঁধন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ‘বাঁধন ট্রান্সফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের জন্য বাঁধন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে দুই কিস্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কাছে মোট ৩৫ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। বাঁধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: শাহিদুল ইসলাম রিপন অনুদানের এই চেক উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

কোচিং সেন্টার-গাইড বই বন্ধে আইন হচ্ছে

কোচিং সেন্টার ও গাইড বই বন্ধ করতে এবার আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ব্যবসায়ী শিক্ষকদের এ আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘কানেক্টিং ক্লাসরুমের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিষয়টি জানান মন্ত্রী। এর আয়োজক ছিলো ব্রিটিশ কাউন্সিল।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ক্লাসে ভালো করে না পড়িয়ে ক্লাসের বাইরে কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে ভালো করে পড়ান। তাদের এ ব্যবসা বন্ধ করতে আইন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের মাথার মণি। আমি শিক্ষকদের নিয়ে গর্ববোধ করি। তাদের সর্তক থাকতে হবে, যেন কুলাঙ্গাররা এর মধ্যে ঢুকতে না পারে। বিশ্বমানের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমাদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে হবে। যাতে দক্ষতা-যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে কাজ করতে পারে। দক্ষতা-যোগ্যতা না থাকলে দেশেই কাজ পাবে না। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শিক্ষানীতি নয়, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। এজন্য ২০০৯ সালের শিক্ষানীতিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন দিয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এখন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সময়। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম বলেন, শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করানো আমাদের লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে যাচ্ছি। এতে তারা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবেন।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রাজধানীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কারাদন্ড

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। হিসাব বিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষার দিন গতকাল শনিবার সাজেদুল ইসলাম সাজিদ নামে ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ওই ছাত্রকে সাজা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে সাজিদকে মোবাইল ফোন টিপতে দেখে ভিজিলেন্স টিম। পরে তার মোবাইলে এমসিকিউ প্রশ্ন ও উত্তর দুটোই পাওয়া যায়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে ভিজিলেন্স টিম। এরপর সাজিদকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক।

 

শর্ত পূরণে ব্যর্থ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: নাহিদ

ন্যূনতম শর্ত পূরণ না করে চলমান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আবারও সতর্ক করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  শনিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি বলেন, এরকম কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। আশা করি, যারা আন্তরিক তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন, না হলে আমাদের কোন বিকল্প থাকবে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরপরও যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে চলতে চান নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় দেশের বাস্তবতা ও জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফিসহ সার্বিক খরচ কমাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, “বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে আইন না মেনে ছলচাতুরি করছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ উচ্চহারে বেতন নিলেও শিক্ষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সুবিধা প্রদানে কার্পণ্য করার অভিযোগ রয়েছে। এটি সস্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সম্পূর্ণ সজাগ। শিক্ষার্থীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে এবার ১৬১০ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদ দেওয়া হয়; কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৬ শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. রিজওয়ান খান ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা বক্তব্য দেন।

পহেলা বৈশাখে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে মাঠে থাকবে ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি: আজ পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা এবং সকল প্রকার অপ্রীতিকর অবস্থা প্রতিরোধসহ আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সেবা দিতে মাঠে থাকবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এজন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ২৫-৩০টি স্থানে  তাদের ৫০০ নেতা-কর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান রনি সহ বিভিন্ন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ জানায়, উৎসবে যোগ দিতে আসা দর্শনার্থীদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা, অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা সহ নানা সহযোগিতা প্রদান করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করবে ছাত্রলীগ। লিখিত বক্তব্যে আবিদ আল হাসান বলেন, যুগ যুগ ধরে বাংলার সর্বস্তরেরর মানুষ অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে পালন করে। তাই এই দিনটি আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নির্বিঘেœ পালন করতে ঢাবি ছাত্রলীগ বদ্ধ পরিকর। বর্ষবরণ উৎসব উদ্যাপনে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে উৎসবকে সঙ্কুচিত করা হচ্ছে কিনা এমন প্রেেশ্নর জবাবে মোতাহর হোসেন প্রিন্স বলেন, এটা সঙ্কুচিত করা নয় বরং সুশৃঙ্খল করা হয়েছে। উৎসবকে উচ্ছ্বাসে পরিণত করে শান্তিপূর্ণভাবে দর্শনার্থীদের বাড়ি ফিরতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তাটা অবশ্যই সবথেকে বেশি গুরুতপূর্ণ।

প্রাথমিকের বৃত্তির ফল প্রকাশ

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। প্রাথমিক সমাপনীর ফলাফলের ভিত্তিতে গতবারের মতো এবারও ৮২ হাজার ৫০০ জন বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুলে এবং ৪৯ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা পাওয়া যাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd)|। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের কথা জানান এবং এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও সুষম মেধা বিকাশের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। সকল শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আগে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। ফলে অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত। বর্তমানে সে সুযোগ বেড়েছে। ফিজার বলেন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পাবে। আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হত। ২০১০ সালে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা চালুর পর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। গত ২৯ ডিসেম্বর প্রাথমিক সমপানীর ফল প্রকাশিত হয়, যাতে উত্তীর্ণ হয় ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন।

তিন বছরের বেশি কলেজ শিক্ষকরা সরকারি দপ্তরে নয়

শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা একটানা তিন বছরের বেশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় থাকতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষকরা চাকরি জীবনে তিনবারে সর্বোচ্চ ছয় বছরের বেশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় নিয়োগ পাবেন না। এমন বিধান রেখে সোমবার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও প্রেষণে পদায়নের নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি কলেজের শিক্ষকরা প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব নিয়োগে আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া অনেক শিক্ষক দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের বছরের পর পর চাকরিতে বহাল থাকেন।  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় পদায়নের জন্য প্রতি বছরের এপ্রিল ও অক্টোবরে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে। নির্ধারিত মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে ই-মেইলে আবেদন জমা দিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে দাখিলকৃত অথবা ই-মেইল বাদে অন্যভাবে দাখিল করা আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না। শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ অনুবিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা যাচাই করবে। এই কমিটিতে কলেজ অনুবিভাগের উপ-সচিব সদস্য এবং সরকারি কলেজ-১ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে শিক্ষকদের আবেদনপত্র জমার শেষ কর্মদিবসের ১০ দিনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা করতে হবে। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আরেকটি কমিটি প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি ফিটলিস্ট তৈরি করবে।

এই ফিটলিস্ট থেকে বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। এই কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব ও সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ/প্রতিষ্ঠান প্রধান সদস্য এবং উপসচিব (কলেজ) সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। নীতিমালায় বলা হয়, কোনো কর্মকর্তা একটি দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় একসঙ্গে তিন বছরের বেশি থাকতে পারবে না। কোনো কর্মকর্তাকে একটি দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা ও প্রকল্প থেকে বদলি করে অন্য কোনো দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় বদলি করা যাবে না। মধ্যবর্তী সময়ে তাকে কোনো কলেজে ন্যূনতম দুই বছর কাজ করতে হবে। নীতিমালায় বলা হয়, একজন কর্মকর্তা সমগ্র চাকরিজীবনে অনধিক তিনবার সর্বমোট ছয় বছরের বেশি দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় থাকতে পারবেন না। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো কারণে ওএসডি হিসেবে কর্মকালকে বিবেচনা করা হবে না। নীতিমালায় যাই থাক না কেন, সরকার জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো সময় যে কোনো কর্মকর্তাকে যে কোনো দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় পদায়ন করতে পারবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। এই নীতিমালা জারির পর থেকে এ বিষয়ে আগের নেওয়া অন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত, নীতিমালা এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

চারুকলায় নববর্ষ উদযাপন প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

আলী আজম সিদ্দিকী : আগামী শুক্রবার পহেলা বৈশাখ। বাকি মাত্র তিন দিন। বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। নানা আয়োজনে বাঙালির শত বছরের ঐতিহ্যকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ স্লোগানে এবারের নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে। এছাড়াও এবারের পয়লা বৈশাখে ঢাকা শহরসহ সারাদেশব্যাপী ব্যাপক নিরাপত্তা কর্মসূচী নেওয়া হবে।

বাংলা নববর্ষ-১৪২৪ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও গঠন করা হয়েছে বিভিন্ন কমিটি। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এ কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

সভায় কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে শৃঙ্খলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটি গঠন করা হয়। ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ এবং সদস্য-সচিব সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান। ২৯ সদস্যবিশিষ্ট মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবং সদস্য-সচিব মৃৎশিল্প বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম। সভায় উপ-কমিটিগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে উপাচার্যকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলা নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৯০ সাল থেকে প্রতি বছরই এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। অতীতের মতো এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি; চলছে জোর প্রস্তুতি।

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারুকলা করিডোরে মঙ্গলশোভা যাত্রার প্রস্তুতি পর্বের মহাযজ্ঞ চলছে। প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী শোভা যাত্রার উপকরণ তৈরি করতে একযোগে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের নিরলস শ্রম এবং মেধা ও মননের নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে নানা শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম। ভিন্ন ভিন্ন টেবিলের উপর চলছে পটচিত্র, জলরংয়ের চিত্রের কাজ। এ ছাড়া সারিসারি করে রাখা হয়েছে মাটির সরা। সেগুলোর ওপর রঙের প্রলেপ দিয়ে নানা অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে বেশি ব্যস্ত দেখা গেলো চারুকলার শিক্ষার্থীদের। আর সে সব সরাচিত্রে উদ্ভাসিত হচ্ছে পল্লীবধুর মুখচ্ছবি, সাপুড়ে, কাকতাড়ুয়া, হরেক রকমের পাখি, হাতি, লক্ষীপেঁচা, বিড়াল, বাঘসহ বৈচিত্রময় নানা লোকজ অনুষঙ্গ। চারুকলা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আহমেদ রনি জলরংয়ের পেইন্ট করছিলেন। তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত গ্রুপে গ্রুপে এসে বিভিন্ন কাজ করছেন তারা। তিনি আরও জানান, এবারের আয়োজনকে সফল করতে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচশ ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত পালা করে কাজ করছেন। এর মধ্যে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। মাটির পুতুল, বাঘ, মাছ, কাঠের তৈরি গহনা, সুতোর তৈরি পুতুল ও কারুকার্যসহ নানাবিধ ভাস্কর্য তৈরি করছেন তারা। এ সব বিক্রি করে উৎসবের খরচের বিরাট একটি অংশের যোগান দেন তারা বলে জানান তিনি। চারুকলার আরেক ছাত্র সুদীপ্ত সিকদার বলেন, তাদের কাছে যে সব জল রংয়ের পেইন্ট আছে তার মধ্যে পাঁচশ থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা মুল্যেরও আছে। ভাস্কর্য বিভাগে কাজ করছিলেন প্রায় ২০/২৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চন্দ্রনাথ পাল জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তারা বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য তৈরি করছেন। এখন পর্যন্ত আটটি বড় ভাস্কর্যের কাজে হাত দিয়েছেন। প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এর মধ্যে হাতি, ঘোড়া, টেপা পুতুল, নৌকা, মাছ, হরিণ, পাখি, মা ও শিশু বিষয়ক ভাস্কর্য রয়েছে। দিনাজপুরের পটচিত্রশিল্পী পটুয়া নাজির হোসেন জানান, তিনি মূলত চারুকলার ছাত্র নয়। পড়াশোনা করেছেন দিনাজপুরে। কিন্তু সংস্কৃতির টানে আর ঐতিহ্য লালনের নেশায় তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পটচিত্র আঁকেন। এই ১২ বছরের প্রতিটা নববর্ষে চারুকলায় স্বেচ্ছাশ্রমে পটচিত্র ও সরাচিত্র তৈরির কাজ করেছেন তিনি। তিনি জানান, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তিনি এই কয়দিনে প্রায় ২০টি সরাচিত্র ও ১৫টি পটচিত্র এঁকেছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৬০ থেকে ৭০ টি চিত্র আঁকার ইচ্ছা আছে তার। পেপার ম্যাশ বিভাগে ব্যস্ত তুহিন দাশ জানান, রাজা-রানীসহ বিভিন্ন আকারের ৫০-৬০টি পেপার ম্যাশ তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে রাজা-রানীর পেপার ম্যাশ জোড়ার মূল্য ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যগুলো ৪/৫ হাজার টাকা এবং ছোটগুলো পাঁচশ টাকায় বিক্রি হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে শুধু বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা হিসেবে চিন্তা করা ঠিক হবে না জানিয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষিজীবী মানুষদের একটি উৎসব হলো পয়লা বৈশাখ। তাদের এ উৎসব ঘিরে যে সব সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে সেটা আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে উপস্থাপন করি। এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে।

আমরা জানি রাজধানীর জীবনে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার তেমন সুযোগ থাকে না। আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নগরবাসীকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করি।’ মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের লোকসংস্কৃতির উৎসব; সার্বজনীন উৎসব। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে টানাটানি করলে চলবে না।’

ঢাবি শিক্ষক রিয়াজুলের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রিয়াজুল হককে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত এবং রিয়াজুলকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না তা জানতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এর পাশপাশি ঢাবির উপাচার্য, সহ-উপাচার্যদ্বয় (প্রশাসন ও শিক্ষা), সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রারসহ ছয় বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রোববার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। শুনানিতে ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রিয়াজুল হকের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন জ্যোতির্ময় বড়–য়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাঈম আহমেদ। বাদীপক্ষের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুসারে সাময়িক বরখাস্তের কোনো বিধান নেই। রিয়াজুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তদন্ত কমিটি, সিন্ডিকেট নয়। তাছাড়া তাঁকে কারণ দর্শানোরও নোটিশ দিতে হবে। এসব বিধিমালা অনুসরণ না করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, রিয়াজুলের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত হওয়ায় তাঁর কাজে যোগ দিতে আর আইনগত কোনো বাধা নেই।

উল্লেখ্য, জেন্ডার কোর্সের অংশ হিসেবে শ্রেণিকক্ষে ‘অশ্লীল চিত্র’ প্রদর্শন করার অভিযোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় রিয়াজুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রিয়াজুলকে চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। পরে এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৭ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন রিয়াজুল। এ বিষয়ে  প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলজারি করে এ আদেশ দেন আদালত।

প্রথম বর্ষে কোটায় ভর্তির আবেদনের শেষ দিন ১৫ এপ্রিল

করতোয়া ডেস্ক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ শিাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) প্রফেশনাল ভর্তি কার্যক্রমে বিভিন্ন কোটায় ভর্তি প্রার্থীকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সরাসরি আবেদন করতে বলা হয়েছে। এেেত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/আদিবাসী/প্রতিবন্ধী/পোষ্য কোটায় আবেদন করেছে কিন্তু মেধা তালিকায় স্থান পায়নি অথবা স্থান পেয়েও ভর্তি হয়নি, তাদেরকে সংশ্লিষ্ট কোটার েেত্র যথাযথ কর্তৃপরে ইস্যুকৃত মূল সনদপত্রের সত্যায়িত কপি ও প্রাথমিক আবেদন ফরমসহ ডীন স্নাতকপূর্ব শিা বিষয়ক স্কুল বরাবর আবেদন জমা দিতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট(www.admissions.nu.edu.bd – nu.edu.bd/admissionsএ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৩-১৪ শিাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীা আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে।পরীার পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী এ পরীা ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ জুন তারিখ শেষ হবে।১৭ এপ্রিল  থেকে ২৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীাগুলো প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে এবং রমজান মাসে ২৭ মে থেকে ১৩ জুন তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীাগুলো প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে।

 

স্মার্টফোন নিয়ে ট্রেজারিতে ৩ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্মার্টফোন নিয়ে ট্রেজারিতে প্রশ্ন আনতে যাওয়ায় রাজধানীর দু’টি কলেজের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিন শিক্ষক হলেন- শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রশিদ এবং মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মহিলা কলেজের প্রভাষক নাঈমা নাসরিন ও মাহাবুবুর রহমান।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এক আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং শিক্ষা বোর্ডকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সম্প্রতি স্মার্টফোনে প্রশ্নের ছবি তুলে পরীক্ষার আগেই কেন্দ্রের বাইরে পাঠানোর অভিযোগ আসার পর গত বছর থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিবের যোগাযোগের জন্য সাধারণ ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কিন্তু এ তিন শিক্ষক স্মার্টফোন নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে স্মার্টফোন নিয়ে প্রশ্ন আনতে গিয়েছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্মার্টফোনসহ ট্রেজারিতে প্রবেশপূর্বক প্রশ্নপত্র সংগ্রহের অভিযোগে তিন শিক্ষকের স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হলো। অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিও অবিলম্বে স্থগিত করে কেন তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকালে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে পরিদর্শনে গিয়ে জানান, তিন শিক্ষককে স্মার্টফোনসহ আটক করা হয়েছিল।

 

আবাসিক শিক্ষিকার অপসারণ দাবিতে ঢাবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রধান আবাসিক শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে হলটির সাধারণ ছাত্রীরা। হলরে ছাত্রীদরে নয়িে কুরুচপর্িূণ মন্তব্য ও অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠেছে প্রধান আবাসিক শিক্ষিকা লোপা আহমেদের বিরুদ্ধে। এর আগওে কয়কেবার তাকে প্রত্যাহারে দাবতিে আন্দোলন করছেলিনে তারা। ২০১৬ সালে তাকে সাময়কিভাবে র্কমস্থল থকেে দূরে থাকার নর্দিশেও দয়িছেলি বশ্বিবদ্যিালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে  হলের ভেতরে ঐ শিক্ষিকার অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রীরা। এরপরে একই দাবি নিয়ে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাংলোর সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রীরা। এ সময় বাংলোর সামনের রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অভিযোগ শোনেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বিক্ষোভরত ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে হলে  ফিরে যায় ছাত্রীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৭ মার্চ পুনরায় হলের আবাসিক  কার্যক্রমে যোগদান করেন ঐ আবাসিক শিক্ষিকা। গত মঙ্গলবার বিষয়টি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুবিনা খন্দকারকে জানান হলের ছাত্রীরা। কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বিক্ষোভ শুরু করে। ছাত্রীদের বিক্ষোভের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক  আমজাদ আলী বলেন, খারাপ আচরণ করার অভিযোগে হলের ছাত্রীরা এর আগেও প্রিন্সিপাল আবাসিক শিক্ষিকা লোপা আহমেদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল। পরে গত বছর তাকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু তিনি পুনরায় হলের কার্যক্রমে যোগ দিলে ছাত্রীরা বিক্ষোভ করে। উপাচার্য ছাত্রীদের আশ্বস্ত করলে রাত ১২ টার দিকে হলের ফিরে যায় তারা। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘ফেইসবুক থেকে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা দিলে ফল বাতিল’

ফেইসবুক থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রমাণ পেলে ওই শিক্ষার্থীর ফল বাতিল করবে সরকার। আগামী ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এ কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের উদ্দেশে সচিব বলেন, ফেইসবুক অ্যাডমিন বা যারা এর সাথে লিঙ্কড আছেন যদি তিনি ছাত্র হন তার ইনফরমেশনও আমাদের দরকার। কারণ আমরা আগামীতে যদি এমন কোনো প্রমাণ পাই যে কোনো ছাত্র এভাবে পরীক্ষা দিয়েছে তাহলে আমরা তার রেজাল্ট বাতিল করতে চাই। কারণ এটা একটি বিশাল বিষয়। জাতি গঠনে আগামী প্রজন্ম যদি এভাবে নষ্টের দিকে এগিয়ে যায়, আর আমরা যদি তা প্রতিরোধ করতে না পারি তাহলে এই দায়দায়িত্ব আমরা কোনোমতেই এড়াতে পারব না। গত কয়েক বছর ধরে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ার পর ওই প্রশ্নেই বেশ কয়েকটি পরীক্ষা নিয়েছে সরকার। মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আগের রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই এবারের এসএসসির ঢাকা বোর্ডের গণিতের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিক হয়েছে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, শুধু যারা (প্রশ্ন পেতে) প্রলুদ্ধ করছেন তারা ছাড়াও যারা প্রলুদ্ধ হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে যেতে হবে। কারণ অন্যায় যিনি করেন এবং অন্যায়কে যিনি সহায়তা করেন উভয়েরই সমান শাস্তি। আমরা যদি সেই পর্যায়ে না যাই তাহলে আমাদের ছাত্র-অভিভাবকদের মধ্যে লোভ থেকে যাবে। আমরা সেটাও প্রতিরোধ করতে চাই, যাতে আগামী দিনে ফেইসবুকে যারা এ রকম অ্যাড দিয়ে যোগাযোগ করে প্রশ্ন নেওয়ার উদ্যোগেৃ সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।

সচিবের বক্তব্যের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সঠিকভাবে সুনির্দিষ্টভাবে (প্রশ্ন ফাঁসকারীদের) চিহ্নিত করব। যদি ছাত্র, শিক্ষক বা স্কুলও হয় তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। অভিভাবক হলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেব, যার বিরুদ্ধেই তথ্য থাকবে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমাদের যত বড়ই অপারেশন করতে হোক, হাত অর্ধেক কাটতে রাজি আছি, কিন্তু এই ক্যান্সার আমরা বহন করতে পারছি না, জাতি বহন করতে পারছে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা সব কথা খুলেও বলতে পারছি না, হজমও করতে পারছি না- আমরা এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে আছি, তবে আমরা মোটেই বসে নেই। ৃ মিথ্যা প্রচার করলে সেও দায়ী হবে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সভার শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থার একটি ‘ডেডিকেটেড ইউনিট’ কাজ করছে। গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) শেখ নাজমুল আলম সভায় জানান, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকায় গত দুই মাসে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন অধ্যক্ষ, তিনজন শিক্ষক, একজন কোচিং স্টোরের শিক্ষক এবং ২০ জন ছাত্র।

ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের অ্যাডমিনও রয়েছেন তাদের মধ্যে। ফেইসবুকে একটি গ্রুপ থেকে এবারে এইচএসসির প্রশ্ন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে নাজমুল বলেন, “ওই গ্রুপে দুইজন অ্যাডমিনের নেতৃত্বে ১৬ হাজার সদস্য আছে। এই চক্রকে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব, তাদের চিহ্নিত করেছি।” প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ সংক্রান্ত আইনে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসরোধে বিজি প্রেসে নজর দিলেও গত তিন বছরে সেখান থেকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন বিতরণেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। শিক্ষকদের কাছে প্রশ্ন যাওয়ার পর তারা প্রচারে সম্পৃক্ত হয়ে যান। অভিভাবকরা নিজেরাও প্রশ্ন পাওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এরপরে তো আমাদের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। সমাজের সার্বিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধহীনতা যদি শিক্ষকদের একটি অংশকে গ্রাস করে, তাহলে আমরা কীভাবে রক্ষা করব? তাদের হাতে আমাদের প্রশ্ন দিতেই হবে। কারণ তিনি তার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠাবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তোমরা দয়া করে ভালো করে লেখাপড়া করে ভালো ফল কর। প্রশ্ন পাওয়ার ধান্দায় ছুটলে তোমার মূল শিক্ষটা নষ্ট হয়ে যাবে। আর গার্ডিয়ানদের বলি, আপনার সন্তানকে শুধু সার্টিফিকেট দিলে হবে না, তাকে প্রকৃত মানুষ বানাতে হবে। গার্ডিয়ান যদি টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে এসে তার হাতে প্রশ্ন তুলে দেন, তাহলে সর্বনাশ। সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যার যার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়ে সঠিক ন্যায্য কাজ করেন। আর ওই ধরনের শিক্ষক যারা, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দয়া করে মান-ইজ্জত থাকতে থাকতে এখনই নিজেরা স্বেচ্ছায় সরে যান, আপনাদের জন্য শিক্ষকতা না। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবারের মতো ঢাবিতে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস

ঢাবি প্রতিনিধি : প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্বে প্রতি ৮শ শিশুর মধ্যে একজন ‘ডাউন সিনড্রোম’ শিশু জš§গ্রহণ করে থাকে। সে হিসেবে বাংলাদেশে ২ লাখ লোক ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। এসব ব্যক্তিরা সমাজে অবহেলিত। অথচ ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য (ভিন্নতার মাত্রা) এবং ক্রোমজমের একটি বিশেষ অবস্থা।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহাম্মদ চৌধুরী মিলানায়তনে ১২তম বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ, আমদা বাংলাদেশ, ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সার্পোট গ্র“প বাংলাদেশ, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ডাউন সিনড্রোম শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বাডি সাইক্লিংয়ের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ঢাবি যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে  প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সরদার এ. রাজ্জাক, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরদার এ. নাঈম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক জোনায়েদ শফিক, সিইও ডা. সামিউল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আরপিসিটি চেয়ারম্যান ফরিদ আহাম্মেদ ভূইয়া, সুইড বাংলাদেশ ধানমন্ডি শাখার সাধারন সম্পাদক মো: মাহাবুবুল মনির প্রমূখ।

 

ঢাবিতে বিক্ষোভ-মারধর ৫ কর্মীকে বহিষ্কার ছাত্রলীগের

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে সিট দখলে বাধা পেয়ে ভাংচুর ও এক প্রতিবেদককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় পাঁচ  কর্মীকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব ও তুনান শেখ, উর্দু বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সালাউদ্দিন ও মাহফুজ আহমেদ এবং মার্কেটিং বিভাগের  দ্বিতীয় বর্ষের সাকিব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সোমবার রাতে বিজয় একাত্তর হলের বিভিন্ন কক্ষে নিজেদের কর্মী তুলতে শিক্ষার্থীদের বাধা পেয়ে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এক পর্যায়ে সংগঠনের নেতাদের কথায় বিক্ষোভ থেকে সরলেও শেষ রাতের দিকে ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেনকে হলে মারধর করেন তারা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে জানিয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান  বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দৌড় রেকর্ড গড়লেন ঢাবি শিক্ষার্র্থী

ঢাবি প্রতিনিধি : দেশের প্রথম মানব হিসেবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দৌড়ে পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়লেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সামছুজ্জামান আরাফাত এ কীর্তি গড়েন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরাফাতের এ কীর্তির কথা তুলে ধরা হয়। এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের নোয়াপাড়া পরিবেশ টাওয়ার থেকে ‘দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান- রান ফর হেলদি বাংলাদেশ’ এর যাত্রা শুরু হয় এবং ৬ মার্চ তেতুলিয়ার বাংলাবান্ধার জিরো পয়েন্টে শেষ হয়। স্থানীয় মানুষজন তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,উপজেলা চেয়ারম্যান, বাংলাবান্ধার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়। তার এই ম্যারাথন দৌড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ কি.মি. এর বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। তার লক্ষ্যে পৌছাতে তিনি ২০ দিন সময় নেন। এই ২০ দিনে তিনি ১০০৪ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিলো না। হাটুর ইনজুরি নিয়ে প্রায় ১৫ দিনের মতো দৌড়েছি আমি। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিলো যমুনা সেতু পার হওয়া। যমুনা সেতুর উপর দৌড়ানোর অনুমতি পাই নাই । আমাকে এই প্রবল খরস্রোতা নদী সাতরে পার হতে হয়েছে। আমার এই অর্জনের পিছনে যাদের অবদান আছে তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার এই দৌড়ানোর উদ্দেশ্য হলো–দেশের মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য দৌড়ের কোনো বিকল্প নেই এবং মানুষকে ম্যারাথনে আগ্রহী করে তোলা। এনআরবি ব্যাংকে কর্মরত আরাফাত বলেন, একদিন অলিম্পিক সোনা জিতে আনবে বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে খেলাধুলাকে তুলে ধরতে চাই। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য প্রতিদিন অন্তত ১ কি.মি. দৌড়ান। নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকেও সুস্থ রাখুন। এসময় তিনি  পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংকের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

ক্যান্টিনে বাকি বা ফ্রি খেলে আজীবন বহিষ্কার করবে ঢাবি ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বাকি বা ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল¬াহ মুসলিম হলের টিভিকক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রণীত ১৯ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান ভালো করতে চলমান মতবিনিময় সভার ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার, ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। ক্যান্টিনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক তাদের মতামত তুলে ধরেন। আবিদ আল হাসান বলেন, নেত্রী আমাদের বলেছিলেন তোমরা (ছাত্রলীগ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। আমরা নেত্রীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবো। ‘এখন থেকে ছাত্রলীগের কেউ বাকি ও ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। কোনো ধরনের অন্যায় অপকর্মের দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেবে না।’ ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকে ব্যক্তিগত ব্যানার ও ফেস্টুন নামিয়ে ফেলা, ডাস্টবিন স্থাপন, পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তায় ছাত্রলীগ কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন, ভর্তি পরীক্ষায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে সাধারণ ছাত্রদের সাহায্য করার কাজ প্রমাণ করে ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সব সময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে ঢাবি ছাত্রলীগ। ২০১৭ সাল হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক ও বহিরাগতমুক্ত করার বছর।

জীবন দেওয়ার হুমকি ইবির ভর্তি বাতিল শিক্ষার্থীদের

ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জীবন দিয়ে নজির স্থাপন করে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।

‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় এই ইউনিটের ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে মঙ্গলবার ভর্তি কমিটির সভায় ১৬ মার্চ সকাল ১০টায় নতুন করে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে মিলিত হয় ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টার অফিসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, তোমাদের মেধার সুবিবেচনা অবশ্যই করা হবে।

এর উত্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার আপনারা আমাদের ভর্তি বাতিল করে নজির সৃষ্টি করেছেন আর আমরা ১০০ শিক্ষার্থী জীবন দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নজির সৃষ্টি করে যাবো। পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান  বলেন, আমরা এখনো সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের লিখিত কোনো তথ্য পাইনি। তবে উপাচার্যের সঙ্গে আজ আমরা আবার বসবো। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা হবে। এর পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, তারা আন্দোলন করতেই পারে। তবে আন্দোলনকারীরা যে প্রশ্ন পায়নি তার প্রমাণ তারা কীভাবে দেবে। আর প্রশ্ন ফাঁসের কারণে যে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেনি তাদের কেন আমরা বঞ্চিত করবো। তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ১৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে তারা মেধার পরিচয় দিক।

 

ঢাবিতে শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় সোপার্দ

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে শিবির সন্দেহে আল ইমরান নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। শনিবার রাত ১০ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সে বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালি জেলার কোম্পানিগঞ্জে।

পুলিশে সোপর্দ করার আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ইমরানকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অতিথিরুমে বসিয়ে রেখেছে। সে শিবিরের সমর্থক বলে এই প্রতিবেদককে জানায়। সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন করতোয়াকে জানান, ইমরানকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে শিবির বলে সন্দেহ হলে নজরদারিতে রাখা হয়। তাকে তল্লাশি করে তার কাছে শিবিরের বিভিন্ন নেতার ফটো, শিবিরের ডেইলি রুটিন, বিভিন্ন নোট পাওয়া যায়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সে হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে মোটিভেট করার চেষ্টা করছিলো  বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে সে দীর্ঘদিন থেকে ছাত্র-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। আমরা প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, শিবির করার দায়ে একজনকে থানায় দেওয়া হয়েছে। বাকীটা প্রশাসনের ব্যাপার। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, শিবির সন্দেহে একজনকে আমাদের কাছে দেয়া হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

 

সমাবর্তনে উল্লাস-উচ্ছ্বাসে গ্র্যাজুয়েটরা

‘শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের স্বীকৃতি আজকে পাচ্ছি। এ আনন্দ বলে বোঝানা যাবে না। আজ যেন ফিরে গেছি ৫ বছর আগে। ক্যাম্পাসের আড্ডা, হেঁটে বেড়ানো, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে খুনসুটি, সব যেন চোখে ভাসছে। পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ও বইমেলা; আহা! কী আনন্দের ছিলো সেই দিনগুলো।’ শিক্ষা জীবনের বহুল কাক্সিক্ষত সমাবর্তনে যোগ দিতে এসে এ কথা বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের টুম্পা রানি দে। প্রতিটি শব্দচয়নে তার গলায় ঝরছিল আবেগ, বাজছিল প্রিয় ক্যাম্পাসকে বিদায় বলার সুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন উপলক্ষে হাজারো গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায়  শনিবার মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সমাবর্তনে দেওয়া হয় গাউন পরে নিজের স্মৃতি বিজড়িত ক্যাম্পাসের শেষ মুহূর্তগুলোকে ধারণ করে রাখতে সেলফি-ছবি তুলে যাচ্ছেন বিদায়ী গ্র্যাজুয়েটরা। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সমাবর্তন উপলক্ষে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।লাল, বেগুনী ও কমলা রঙের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

সবখানেই কালো গাউন পরিহিত গ্রাজুয়েটদের পদচারণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছে সমাবর্তন অনুষ্ঠান। তার বাইরে ঐতিহাসিক কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কলা ভবন, বটতলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সিনেট ভবনের সামনে চলছে সমাবর্তনের আনন্দ মাতম। বহুল প্রতীক্ষিত দিনটাকে স্মরণীয় করতে গ্র্যাজুয়েটরা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে দিনটি ধরে রাখতে চলছে ক্যামেরায় একের পর এক ক্লিক। সমাবর্তনের ক্যাপ ছুড়ে দিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে আকাশ ছুঁতে চাইছেন কেউ কেউ। দু’বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন রাজিব আহসান। সময় না মেলায় এর আগের সমাবর্তনে অংশ নিতে পারেননি বন্ধুদের সঙ্গে। এবার বেছে নিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত দিনটি। বন্ধুরা ছাড়াও সঙ্গী হয়েছেন তার প্রিয় সহধর্মিনীও।

রাজিব আহসান বলেন, এই দিনটার জন্য ফার্স্ট ইয়ার থেকে অপেক্ষা করি। ভালো লাগা বলে বোঝানো যাবে না। তার সঙ্গে দুঃখ বোধও হচ্ছে, প্রিয় ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষা জীবনের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায়। টিএসসি চত্বরে রাজু ভাস্কর্য ঘিরে বন্ধুদের নিয়ে উল্লাসে মেতেছেন শিখা সরকার। দলবেঁধে কালো গাউন পড়া দলটি বারবার গলা ফাটানো চিৎকার তুলে শূন্যে লাফিয়ে আনন্দ-উল্লাস করছে। এদিকে, বিশ্বিদ্যালয় থেকে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকরি করে ঘর সংসারে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া গ্র্যাজুয়েদেরও দেখা গেল সমাবর্তনে। এদেরই একজন শাহনাজ পারভীন। বর্তমানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যাপনা করছেন তিনি। শাহনাজ বলেন, সময় সুযোগে হচ্ছিল না সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার। এবার হলো। আজকে এসে বহু স্মৃতি মনে পড়ছে। একটা সময় ক্যাম্পাস ছিলো ধ্যান-জ্ঞান। সমাবর্তন নেওয়া হয়নি বলে মনে করতাম,  ক্যাম্পাসের কাছে আমার এখনও পাওনা রয়েছে। আজকে তা-ও শেষ, আনন্দের সঙ্গে কষ্টও হচ্ছে।

ঢাবির সমাবর্তনের শুভেচ্ছা ইউনূসের নাম উঠল, সরল

ফেইসবুকে সমাবর্তনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে গড়বড় করেছে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার ৫০তম সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় যে শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সমালোচনার মধ্যে তাতে কয়েকবার সংশোধনী আনা হয়। সরানো হয় মুহাম্মদ ইউনূসের নাম, যে নামটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ফেইসবুকে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, আমরা গর্বিত হয়েছি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেনের মত বুদ্ধিজীবীদের সম্মানসূচক ডক্টরেটে ভূষিত করতে পেরে। গর্বিত হয়েছি ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সত্যেন বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ছাত্রদের ধারণ করতে পেরে। এই বার্তা দেখে অনেকেই সমালোচনামুখর হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইসবুক পাতায়ই অনেকে লেখেন। বঙ্গবন্ধুর নামের আগে জাতির জনক না লেখা, তার নাম পরে লেখা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে অনেকে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ লেখার বিষয়টিও তুলে আনেন। একজন লেখেন- পেজটা জামাতিরা চালায় মনে হচ্ছে!!!এখুনি খুঁজে বের করা উচিত। ব্যাপক সমালোচনার পর ওই শুভেচ্ছা বার্তাটি তিন দফা দফা সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে একজন লিখেছেন- তিনবার এডিট এবং ডঃ ইউনুস হাওয়া????? বর্তমানে শুভেচ্ছা বার্তার ওই অংশটি রয়েছে এভাবে- আমরা গর্বিত হয়েছি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেনের মত বুদ্ধিজীবীদের সম্মানসূচক ডক্টরেটে ভূষিত করতে পেরে। গর্বিত হয়েছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুর রাহমানের মত ছাত্র; সত্যেন বসুদের মত শিক্ষকদের ধারণ করতে পেরে। ব্যাপক উৎসা-উদ্দীপনার মধ্যে সমাবর্তনের এই অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন কার্যক্রমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বক্তব্য রাখবেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কানাডার অন্টারিও ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অমিত চাকমা।

 

ঢাবিতে পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত

ঢাবি প্রতিনিধি : আজ ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।  ২ মার্চ  বৃহস্পতিবার ছিল পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের ছাদে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা  হয়েছিলো।  দিবসটি স্মরণে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলা প্রাঙ্গণে মিলিত হন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাবি  উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা উক্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে এবং তৎকালীন ছাত্র নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে কলাভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়।  এই পতাকা উত্তোলন মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস ছিল। এই সময়ই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অসহযোগ আন্দোলন এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বাসভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই সময়কার অনুভূতি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এখনো জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় তাদের চোখে পানি চলে আসে। জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।

বর্তমান প্রজন্ম যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে তেমনি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ৭১ এর চেতনা পৌঁছে দিতে হবে ভবিষ্যতের নাগরিকদের কাছে। নতুন প্রজন্ম এই চেতনা বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে। এসময় উপাচার্য বলেন, ৭১ এ সাড়ে সাত কোটি বাঙালী যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়েছিল আজও দেশমাতৃকার স্বার্থে তারা সেভাবেই সংঘবদ্ধ হলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্ল্যাহ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ প্রমুখ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

 

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের

ঢাবি প্রতিনিধি : প্রভাতফেরি করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরির মিছিলে যোগ দেন। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন হল থেকে আসা শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন প্রভাতফেরিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে তাদের মৌন মিছিল আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে এসে শেষ হয়। শ্রদ্ধা জানানোর পর উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক একুশের চেতনাকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিটি হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরাও আলাদাভাবে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রস্তুতি শেষ

ঢাবি প্রতিনিধি : আগামীকাল মঙ্গলবার একুশে ফেব্রুয়ারি। তবে আজ সোমবার রাত থেকেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। নানা রঙের ফুলে সুভাষিত হবে শহীদ বেদী। আর সেই বেদীকে প্রস্তুত করতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। চলছে বেদী সাজানোর প্রস্তুতি। আজ রাতে একুশের প্রথমপ্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর পরপরই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অন্যরা। রোববার সরেজমিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায়, চারুকলার শিক্ষার্থীরা আল্পনার শেষ পর্যায়ের কাজ করছেন। ব্যস্ত রয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও। কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ রয়েছেন তদারকিতে। সকাল থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শহীদ মিনারের সীমানার ভেতর নিরাপত্তা তল্লাশি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থল তদারকি করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার কারণে সকাল থেকে সাধারণ মানুষকে শহীদ মিনারের মূল বেদীর আশপাশে যেতে দেয় নি পুলিশ। অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ জানান, প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে এখন কিছু টুকিটাকি কাজ চলছে।  

কলেজ শিক্ষকদের সম্মেলনে স্লোগানের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

বেতন-বোনাসসহ শিক্ষকদের নানা দাবি শুনে তাদের কাছে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা কলেজ শিক্ষকরা তাদের নতুন পদ সৃষ্টি, এমপিওভুক্তদের সঠিকভাবে বেতন দেওয়া, বার্ষিক ভাতা-বোনাসের ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে মিলনায়তনভরতি শিক্ষকরা সেøাগানে সেøাগানে তাদের দাবি জানাতে থাকেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, আমি সরকারের হয়ে কাজ করি বলে ভাববেন না আমি ইচ্ছা করলেই সব সিদ্ধান্ত নিতে পারি। বিষয়টা এমন নয় যে আমাদের কাছে টাকাভরতি একটি সিন্দুক আছে, আর তার চাবি নিয়ে আমি ঘুরে বেড়াই। সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি সেটি পালন করার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) এই জাতীয় সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কলেজ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের কথা শুনতে এবং তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে এই অনুষ্ঠানে এসেছেন তিনি। সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দেওয়ার মাঝপথে শিক্ষকগণ তাদের দাবি তুলে সেøাগান শুরু করলে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ। মিটিংয়ে বক্তৃতা দিতে গেলে যে মাঝখানে চিৎকার করতে হয়, আর শিক্ষকরা যে দেশের কথা শুনতে চান না, তাও আপনাদের কাছ থেকে শিখে গেলাম, খানিকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন তিনি। শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করাসহ অন্যান্য দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে  নেওয়া আছে বলে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। সিদ্ধান্ত নিলেই প্রয়োগ হয়ে যাবে তা নয়, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন আসতে হবে; এখানে কেবল সেøাগান দিলেই কাজ হয়ে যাবে না। সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর আগে বক্তব্যে  বাকশিসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ পেশাগত জীবন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের হতাশার কথা তুলে ধরেন। নিয়ে বলেন, যে চাকরিতে কোনো পদোন্নতি নেই, সেটা কোনো চাকরি হতে পারে না। আমরা পদোন্নতি চাই, আমরা এমপিওর সঠিক প্রয়োগ চাই। আমরা সরকারকে সম্মান করি, কিন্তু এমন সমর্থন দিতে পারব না যে মানুষ আমাদের দালাল বলবে। বাকশিসের সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, আমাদের ছাত্ররাই সরকারি কলেজে চাকরি করে অধ্যাপক হয়ে যায় আর আমরা লেকচারার পদেই থেকে যাই। সরকারি কলেজের শিক্ষকরা এমন আচরণ করেন যেন তারা ব্রাহ্মণ আর আমরা বেসরকারি শিক্ষকরা নমঃশূদ্র, এমনটি চলতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের সুগঠিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে ও সুষ্ঠুভাবে সরকারের কাছে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন।

সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ঢাবি ছাত্রলীগের

ঢাবি প্রতিনিধি : বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের টিভি রুমে হলের সমস্যা নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের মতামত দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এসময় তারা হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন।

সাধারন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় ঢাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স এসময় বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। তাই সাধারন শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সর্বদা পাশে থেকে সহযোগিতা করবে ছাত্রলীগ। সভায় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদার এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- হলের  প্রাধাক্ষ্য অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম  ভূইয়া, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স সহ হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ও ক্যান্টিন মালিকগণ । সভাপতির বক্তব্যে ফকির রাসেল আহমেদ বলেন, হল ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আলাদা নয়। আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করব। প্রতিমাসে একবার ছাত্রলীগ হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অভিযান পরিচালনা করবে বলে এ সময় তিনি ঘোষণা করেন।

 

 

 

 

 

রাজধানীর সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত

রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজ  বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হলো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি এ কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। কলেজগুলো হচ্ছে- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে বর্তমানে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ১ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতর সংলগ্ন লাউঞ্জে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ৭টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপাচার্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ অনুযায়ী তাঁর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। এখন থেকে এই অধিভুক্ত কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী বিদ্যায়তনিক কার্যক্রমও পরিচালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপাচার্য এ বিষয়ে উপস্থিত অধ্যক্ষদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোয়াজ্জাম হোসেন মোল্ল¬াহ, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক গায়ত্রী চ্যাটার্জী, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আব্দুল কুদ্দুস, কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তি রাণী সাহা, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. দীপিকা দেওয়ান, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: ইমাম হোসেন এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হায়দার আহমেদ নাছের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো: এনামউজ্জামান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: বাহালুল হক চৌধুরী জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. নূর-ই-ইসলাম, কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো: মোস্তাফিজুর রহমান এবং হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা।



Go Top