সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা

ঢাবি প্রতিনিধি : প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্বে প্রতি ৮শ শিশুর মধ্যে একজন ‘ডাউন সিনড্রোম’ শিশু জš§গ্রহণ করে থাকে। সে হিসেবে বাংলাদেশে ২ লাখ লোক ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। এসব ব্যক্তিরা সমাজে অবহেলিত। অথচ ডাউন সিনড্রোম কোন রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি জেনেটিক পার্থক্য (ভিন্নতার মাত্রা) এবং ক্রোমজমের একটি বিশেষ অবস্থা।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহাম্মদ চৌধুরী মিলানায়তনে ১২তম বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ, আমদা বাংলাদেশ, ডাউন সিনড্রোম প্যারেন্টস সার্পোট গ্র“প বাংলাদেশ, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ডাউন সিনড্রোম শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বাডি সাইক্লিংয়ের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ঢাবি যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে  প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদ, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সরদার এ. রাজ্জাক, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরদার এ. নাঈম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক জোনায়েদ শফিক, সিইও ডা. সামিউল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আরপিসিটি চেয়ারম্যান ফরিদ আহাম্মেদ ভূইয়া, সুইড বাংলাদেশ ধানমন্ডি শাখার সাধারন সম্পাদক মো: মাহাবুবুল মনির প্রমূখ।

 

ঢাবিতে বিক্ষোভ-মারধর ৫ কর্মীকে বহিষ্কার ছাত্রলীগের

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে সিট দখলে বাধা পেয়ে ভাংচুর ও এক প্রতিবেদককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় পাঁচ  কর্মীকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব ও তুনান শেখ, উর্দু বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের সালাউদ্দিন ও মাহফুজ আহমেদ এবং মার্কেটিং বিভাগের  দ্বিতীয় বর্ষের সাকিব। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সোমবার রাতে বিজয় একাত্তর হলের বিভিন্ন কক্ষে নিজেদের কর্মী তুলতে শিক্ষার্থীদের বাধা পেয়ে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এক পর্যায়ে সংগঠনের নেতাদের কথায় বিক্ষোভ থেকে সরলেও শেষ রাতের দিকে ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেনকে হলে মারধর করেন তারা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে জানিয়ে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান  বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দৌড় রেকর্ড গড়লেন ঢাবি শিক্ষার্র্থী

ঢাবি প্রতিনিধি : দেশের প্রথম মানব হিসেবে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া দৌড়ে পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়লেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সামছুজ্জামান আরাফাত এ কীর্তি গড়েন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরাফাতের এ কীর্তির কথা তুলে ধরা হয়। এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের নোয়াপাড়া পরিবেশ টাওয়ার থেকে ‘দ্য গ্রেট বাংলাদেশ রান- রান ফর হেলদি বাংলাদেশ’ এর যাত্রা শুরু হয় এবং ৬ মার্চ তেতুলিয়ার বাংলাবান্ধার জিরো পয়েন্টে শেষ হয়। স্থানীয় মানুষজন তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,উপজেলা চেয়ারম্যান, বাংলাবান্ধার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেয়। তার এই ম্যারাথন দৌড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ কি.মি. এর বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। তার লক্ষ্যে পৌছাতে তিনি ২০ দিন সময় নেন। এই ২০ দিনে তিনি ১০০৪ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ যাত্রা মোটেও সহজ ছিলো না। হাটুর ইনজুরি নিয়ে প্রায় ১৫ দিনের মতো দৌড়েছি আমি। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ছিলো যমুনা সেতু পার হওয়া। যমুনা সেতুর উপর দৌড়ানোর অনুমতি পাই নাই । আমাকে এই প্রবল খরস্রোতা নদী সাতরে পার হতে হয়েছে। আমার এই অর্জনের পিছনে যাদের অবদান আছে তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার এই দৌড়ানোর উদ্দেশ্য হলো–দেশের মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য দৌড়ের কোনো বিকল্প নেই এবং মানুষকে ম্যারাথনে আগ্রহী করে তোলা। এনআরবি ব্যাংকে কর্মরত আরাফাত বলেন, একদিন অলিম্পিক সোনা জিতে আনবে বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের কাছে খেলাধুলাকে তুলে ধরতে চাই। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য প্রতিদিন অন্তত ১ কি.মি. দৌড়ান। নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকেও সুস্থ রাখুন। এসময় তিনি  পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য এনআরবি কমার্সিয়াল ব্যাংকের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

ক্যান্টিনে বাকি বা ফ্রি খেলে আজীবন বহিষ্কার করবে ঢাবি ছাত্রলীগ

ঢাবি প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বাকি বা ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল¬াহ মুসলিম হলের টিভিকক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রণীত ১৯ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান ভালো করতে চলমান মতবিনিময় সভার ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়।

হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার, ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। ক্যান্টিনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক তাদের মতামত তুলে ধরেন। আবিদ আল হাসান বলেন, নেত্রী আমাদের বলেছিলেন তোমরা (ছাত্রলীগ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। আমরা নেত্রীর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবো। ‘এখন থেকে ছাত্রলীগের কেউ বাকি ও ফ্রি খেলে তাকে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। কোনো ধরনের অন্যায় অপকর্মের দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেবে না।’ ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকে ব্যক্তিগত ব্যানার ও ফেস্টুন নামিয়ে ফেলা, ডাস্টবিন স্থাপন, পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তায় ছাত্রলীগ কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন, ভর্তি পরীক্ষায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করে সাধারণ ছাত্রদের সাহায্য করার কাজ প্রমাণ করে ছাত্রলীগ ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সব সময় ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে ঢাবি ছাত্রলীগ। ২০১৭ সাল হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক ও বহিরাগতমুক্ত করার বছর।

জীবন দেওয়ার হুমকি ইবির ভর্তি বাতিল শিক্ষার্থীদের

ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জীবন দিয়ে নজির স্থাপন করে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।

‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় এই ইউনিটের ১০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে মঙ্গলবার ভর্তি কমিটির সভায় ১৬ মার্চ সকাল ১০টায় নতুন করে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এক মানববন্ধনে মিলিত হয় ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টার অফিসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নজির সৃষ্টি হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, তোমাদের মেধার সুবিবেচনা অবশ্যই করা হবে।

এর উত্তরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার আপনারা আমাদের ভর্তি বাতিল করে নজির সৃষ্টি করেছেন আর আমরা ১০০ শিক্ষার্থী জীবন দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নজির সৃষ্টি করে যাবো। পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান  বলেন, আমরা এখনো সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের লিখিত কোনো তথ্য পাইনি। তবে উপাচার্যের সঙ্গে আজ আমরা আবার বসবো। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা হবে। এর পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বলেন, তারা আন্দোলন করতেই পারে। তবে আন্দোলনকারীরা যে প্রশ্ন পায়নি তার প্রমাণ তারা কীভাবে দেবে। আর প্রশ্ন ফাঁসের কারণে যে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেনি তাদের কেন আমরা বঞ্চিত করবো। তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ১৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে তারা মেধার পরিচয় দিক।

 

ঢাবিতে শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় সোপার্দ

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে শিবির সন্দেহে আল ইমরান নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। শনিবার রাত ১০ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সে বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালি জেলার কোম্পানিগঞ্জে।

পুলিশে সোপর্দ করার আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ইমরানকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অতিথিরুমে বসিয়ে রেখেছে। সে শিবিরের সমর্থক বলে এই প্রতিবেদককে জানায়। সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন করতোয়াকে জানান, ইমরানকে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে শিবির বলে সন্দেহ হলে নজরদারিতে রাখা হয়। তাকে তল্লাশি করে তার কাছে শিবিরের বিভিন্ন নেতার ফটো, শিবিরের ডেইলি রুটিন, বিভিন্ন নোট পাওয়া যায়।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সে হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে মোটিভেট করার চেষ্টা করছিলো  বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে সে দীর্ঘদিন থেকে ছাত্র-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। আমরা প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, শিবির করার দায়ে একজনকে থানায় দেওয়া হয়েছে। বাকীটা প্রশাসনের ব্যাপার। এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, শিবির সন্দেহে একজনকে আমাদের কাছে দেয়া হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখবো। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

 

সমাবর্তনে উল্লাস-উচ্ছ্বাসে গ্র্যাজুয়েটরা

‘শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের স্বীকৃতি আজকে পাচ্ছি। এ আনন্দ বলে বোঝানা যাবে না। আজ যেন ফিরে গেছি ৫ বছর আগে। ক্যাম্পাসের আড্ডা, হেঁটে বেড়ানো, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে খুনসুটি, সব যেন চোখে ভাসছে। পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন ও বইমেলা; আহা! কী আনন্দের ছিলো সেই দিনগুলো।’ শিক্ষা জীবনের বহুল কাক্সিক্ষত সমাবর্তনে যোগ দিতে এসে এ কথা বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের টুম্পা রানি দে। প্রতিটি শব্দচয়নে তার গলায় ঝরছিল আবেগ, বাজছিল প্রিয় ক্যাম্পাসকে বিদায় বলার সুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন উপলক্ষে হাজারো গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায়  শনিবার মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সমাবর্তনে দেওয়া হয় গাউন পরে নিজের স্মৃতি বিজড়িত ক্যাম্পাসের শেষ মুহূর্তগুলোকে ধারণ করে রাখতে সেলফি-ছবি তুলে যাচ্ছেন বিদায়ী গ্র্যাজুয়েটরা। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সমাবর্তন উপলক্ষে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।লাল, বেগুনী ও কমলা রঙের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

সবখানেই কালো গাউন পরিহিত গ্রাজুয়েটদের পদচারণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছে সমাবর্তন অনুষ্ঠান। তার বাইরে ঐতিহাসিক কার্জন হল, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, কলা ভবন, বটতলা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, সিনেট ভবনের সামনে চলছে সমাবর্তনের আনন্দ মাতম। বহুল প্রতীক্ষিত দিনটাকে স্মরণীয় করতে গ্র্যাজুয়েটরা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে দিনটি ধরে রাখতে চলছে ক্যামেরায় একের পর এক ক্লিক। সমাবর্তনের ক্যাপ ছুড়ে দিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে আকাশ ছুঁতে চাইছেন কেউ কেউ। দু’বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন রাজিব আহসান। সময় না মেলায় এর আগের সমাবর্তনে অংশ নিতে পারেননি বন্ধুদের সঙ্গে। এবার বেছে নিয়েছেন কাঙ্ক্ষিত দিনটি। বন্ধুরা ছাড়াও সঙ্গী হয়েছেন তার প্রিয় সহধর্মিনীও।

রাজিব আহসান বলেন, এই দিনটার জন্য ফার্স্ট ইয়ার থেকে অপেক্ষা করি। ভালো লাগা বলে বোঝানো যাবে না। তার সঙ্গে দুঃখ বোধও হচ্ছে, প্রিয় ক্যাম্পাসের সঙ্গে শিক্ষা জীবনের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায়। টিএসসি চত্বরে রাজু ভাস্কর্য ঘিরে বন্ধুদের নিয়ে উল্লাসে মেতেছেন শিখা সরকার। দলবেঁধে কালো গাউন পড়া দলটি বারবার গলা ফাটানো চিৎকার তুলে শূন্যে লাফিয়ে আনন্দ-উল্লাস করছে। এদিকে, বিশ্বিদ্যালয় থেকে সদ্য গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকরি করে ঘর সংসারে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া গ্র্যাজুয়েদেরও দেখা গেল সমাবর্তনে। এদেরই একজন শাহনাজ পারভীন। বর্তমানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অধ্যাপনা করছেন তিনি। শাহনাজ বলেন, সময় সুযোগে হচ্ছিল না সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার। এবার হলো। আজকে এসে বহু স্মৃতি মনে পড়ছে। একটা সময় ক্যাম্পাস ছিলো ধ্যান-জ্ঞান। সমাবর্তন নেওয়া হয়নি বলে মনে করতাম,  ক্যাম্পাসের কাছে আমার এখনও পাওনা রয়েছে। আজকে তা-ও শেষ, আনন্দের সঙ্গে কষ্টও হচ্ছে।

ঢাবির সমাবর্তনের শুভেচ্ছা ইউনূসের নাম উঠল, সরল

ফেইসবুকে সমাবর্তনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে গড়বড় করেছে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার ৫০তম সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেইসবুক পাতায় যে শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সমালোচনার মধ্যে তাতে কয়েকবার সংশোধনী আনা হয়। সরানো হয় মুহাম্মদ ইউনূসের নাম, যে নামটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে ফেইসবুকে দেওয়া শুভেচ্ছা বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, আমরা গর্বিত হয়েছি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেনের মত বুদ্ধিজীবীদের সম্মানসূচক ডক্টরেটে ভূষিত করতে পেরে। গর্বিত হয়েছি ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সত্যেন বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো ছাত্রদের ধারণ করতে পেরে। এই বার্তা দেখে অনেকেই সমালোচনামুখর হন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইসবুক পাতায়ই অনেকে লেখেন। বঙ্গবন্ধুর নামের আগে জাতির জনক না লেখা, তার নাম পরে লেখা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে অনেকে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণিকায় জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম রাষ্ট্রপতি’ লেখার বিষয়টিও তুলে আনেন। একজন লেখেন- পেজটা জামাতিরা চালায় মনে হচ্ছে!!!এখুনি খুঁজে বের করা উচিত। ব্যাপক সমালোচনার পর ওই শুভেচ্ছা বার্তাটি তিন দফা দফা সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে একজন লিখেছেন- তিনবার এডিট এবং ডঃ ইউনুস হাওয়া????? বর্তমানে শুভেচ্ছা বার্তার ওই অংশটি রয়েছে এভাবে- আমরা গর্বিত হয়েছি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেনের মত বুদ্ধিজীবীদের সম্মানসূচক ডক্টরেটে ভূষিত করতে পেরে। গর্বিত হয়েছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুর রাহমানের মত ছাত্র; সত্যেন বসুদের মত শিক্ষকদের ধারণ করতে পেরে। ব্যাপক উৎসা-উদ্দীপনার মধ্যে সমাবর্তনের এই অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন কার্যক্রমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।  শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বক্তব্য রাখবেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কানাডার অন্টারিও ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অমিত চাকমা।

 

ঢাবিতে পতাকা উত্তোলন দিবস উদযাপিত

ঢাবি প্রতিনিধি : আজ ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।  ২ মার্চ  বৃহস্পতিবার ছিল পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের ছাদে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা  হয়েছিলো।  দিবসটি স্মরণে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন ঐতিহাসিক বটতলা প্রাঙ্গণে মিলিত হন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাবি  উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা উক্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে এবং তৎকালীন ছাত্র নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে কলাভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়।  এই পতাকা উত্তোলন মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণার উৎস ছিল। এই সময়ই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। অসহযোগ আন্দোলন এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বাসভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই সময়কার অনুভূতি তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এখনো জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় তাদের চোখে পানি চলে আসে। জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।

বর্তমান প্রজন্ম যেমন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে তেমনি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ৭১ এর চেতনা পৌঁছে দিতে হবে ভবিষ্যতের নাগরিকদের কাছে। নতুন প্রজন্ম এই চেতনা বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে উদ্বুদ্ধ হবে। এসময় উপাচার্য বলেন, ৭১ এ সাড়ে সাত কোটি বাঙালী যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়েছিল আজও দেশমাতৃকার স্বার্থে তারা সেভাবেই সংঘবদ্ধ হলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্ল্যাহ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ প্রমুখ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

 

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের

ঢাবি প্রতিনিধি : প্রভাতফেরি করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রভাতফেরির মিছিলে যোগ দেন। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, বিভিন্ন হল থেকে আসা শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন প্রভাতফেরিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে তাদের মৌন মিছিল আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে এসে শেষ হয়। শ্রদ্ধা জানানোর পর উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক একুশের চেতনাকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিটি হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরাও আলাদাভাবে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রস্তুতি শেষ

ঢাবি প্রতিনিধি : আগামীকাল মঙ্গলবার একুশে ফেব্রুয়ারি। তবে আজ সোমবার রাত থেকেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। নানা রঙের ফুলে সুভাষিত হবে শহীদ বেদী। আর সেই বেদীকে প্রস্তুত করতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। চলছে বেদী সাজানোর প্রস্তুতি। আজ রাতে একুশের প্রথমপ্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর পরপরই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন অন্যরা। রোববার সরেজমিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা যায়, চারুকলার শিক্ষার্থীরা আল্পনার শেষ পর্যায়ের কাজ করছেন। ব্যস্ত রয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও। কেউ ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউ রয়েছেন তদারকিতে। সকাল থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শহীদ মিনারের সীমানার ভেতর নিরাপত্তা তল্লাশি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থল তদারকি করছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার কারণে সকাল থেকে সাধারণ মানুষকে শহীদ মিনারের মূল বেদীর আশপাশে যেতে দেয় নি পুলিশ। অমর একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ জানান, প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে এখন কিছু টুকিটাকি কাজ চলছে।  

কলেজ শিক্ষকদের সম্মেলনে স্লোগানের মুখে শিক্ষামন্ত্রী

বেতন-বোনাসসহ শিক্ষকদের নানা দাবি শুনে তাদের কাছে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।  শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা কলেজ শিক্ষকরা তাদের নতুন পদ সৃষ্টি, এমপিওভুক্তদের সঠিকভাবে বেতন দেওয়া, বার্ষিক ভাতা-বোনাসের ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে মিলনায়তনভরতি শিক্ষকরা সেøাগানে সেøাগানে তাদের দাবি জানাতে থাকেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, আমি সরকারের হয়ে কাজ করি বলে ভাববেন না আমি ইচ্ছা করলেই সব সিদ্ধান্ত নিতে পারি। বিষয়টা এমন নয় যে আমাদের কাছে টাকাভরতি একটি সিন্দুক আছে, আর তার চাবি নিয়ে আমি ঘুরে বেড়াই। সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি সেটি পালন করার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) এই জাতীয় সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে কলেজ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের কথা শুনতে এবং তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে এই অনুষ্ঠানে এসেছেন তিনি। সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দেওয়ার মাঝপথে শিক্ষকগণ তাদের দাবি তুলে সেøাগান শুরু করলে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ। মিটিংয়ে বক্তৃতা দিতে গেলে যে মাঝখানে চিৎকার করতে হয়, আর শিক্ষকরা যে দেশের কথা শুনতে চান না, তাও আপনাদের কাছ থেকে শিখে গেলাম, খানিকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন তিনি। শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করাসহ অন্যান্য দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে  নেওয়া আছে বলে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। সিদ্ধান্ত নিলেই প্রয়োগ হয়ে যাবে তা নয়, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন আসতে হবে; এখানে কেবল সেøাগান দিলেই কাজ হয়ে যাবে না। সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর আগে বক্তব্যে  বাকশিসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ পেশাগত জীবন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের হতাশার কথা তুলে ধরেন। নিয়ে বলেন, যে চাকরিতে কোনো পদোন্নতি নেই, সেটা কোনো চাকরি হতে পারে না। আমরা পদোন্নতি চাই, আমরা এমপিওর সঠিক প্রয়োগ চাই। আমরা সরকারকে সম্মান করি, কিন্তু এমন সমর্থন দিতে পারব না যে মানুষ আমাদের দালাল বলবে। বাকশিসের সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, আমাদের ছাত্ররাই সরকারি কলেজে চাকরি করে অধ্যাপক হয়ে যায় আর আমরা লেকচারার পদেই থেকে যাই। সরকারি কলেজের শিক্ষকরা এমন আচরণ করেন যেন তারা ব্রাহ্মণ আর আমরা বেসরকারি শিক্ষকরা নমঃশূদ্র, এমনটি চলতে পারে না। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের সুগঠিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে ও সুষ্ঠুভাবে সরকারের কাছে দাবি উপস্থাপনের পরামর্শ দেন।

সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ঢাবি ছাত্রলীগের

ঢাবি প্রতিনিধি : বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের টিভি রুমে হলের সমস্যা নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের মতামত দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এসময় তারা হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন।

সাধারন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভায় ঢাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স এসময় বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধু সারাজীবন আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। তাই সাধারন শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সর্বদা পাশে থেকে সহযোগিতা করবে ছাত্রলীগ। সভায় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদার এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- হলের  প্রাধাক্ষ্য অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম  ভূইয়া, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স সহ হল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ ও ক্যান্টিন মালিকগণ । সভাপতির বক্তব্যে ফকির রাসেল আহমেদ বলেন, হল ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আলাদা নয়। আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করব। প্রতিমাসে একবার ছাত্রলীগ হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অভিযান পরিচালনা করবে বলে এ সময় তিনি ঘোষণা করেন।

 

 

 

 

 

রাজধানীর সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত

রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজ  বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হলো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি এ কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। কলেজগুলো হচ্ছে- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে বর্তমানে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং ১ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতর সংলগ্ন লাউঞ্জে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে ৭টি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় উপাচার্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ অনুযায়ী তাঁর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব। এখন থেকে এই অধিভুক্ত কলেজগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী বিদ্যায়তনিক কার্যক্রমও পরিচালনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপাচার্য এ বিষয়ে উপস্থিত অধ্যক্ষদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোয়াজ্জাম হোসেন মোল্ল¬াহ, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক গায়ত্রী চ্যাটার্জী, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ আব্দুল কুদ্দুস, কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তি রাণী সাহা, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. দীপিকা দেওয়ান, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: ইমাম হোসেন এবং সরকারি তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু হায়দার আহমেদ নাছের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো: এনামউজ্জামান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো: বাহালুল হক চৌধুরী জনসংযোগ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. নূর-ই-ইসলাম, কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো: মোস্তাফিজুর রহমান এবং হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা।

পাঁচ ঘটনায় জাবির ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

করতোয়া ডেস্ক : ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, শিক্ষার্থীকে মারধরসহ পাঁচটি ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক আবু বকর সিদ্দিক জানান, গত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেটের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী মারধর ও জালিয়াতির ঘটনায় ১১ জনকে সাময়িক এবং পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বিধির ৪ ও ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী এসব শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলামকে। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এস এম শরীফ আহমেদ ও গণিত বিভাগের মো. নাজমুল হুদা।
এদের মধ্যে শরীফ হলেন আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির দপ্তর সম্পাদক এবং নাজমুল হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে গত ১৮ ডিসেম্বর জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এ দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। ৩০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ থেকে এ আদেশ কার্যকরের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে এই ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া গত ১০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ও বটতলায় মওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় ১০ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের সাইদুল, প্রতœতত্ব্ বিভাগের মো. মিজানুর রহমান, দর্শন বিভাগের জাহিদ হাসান শিহাব, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মো. ইয়াছিন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী, গণিত বিভাগের নাজমুল হুদা ও দীব্যেন্দু বিশ্বাস দ্বীপ, অর্থনীতি বিভাগের জহুরুল হক, এস এম ইনামুজ্জামান শুভ ও আশিকুর রহমান। বহিষ্কৃত সবাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী। এদের মধ্যে গণিত বিভাগের নাজমুল হুদা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায়ও আলাদাভাবে সাময়িক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনার অধিকতর তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করার জন্য বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ এস এম বদিয়ার রহমানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বহিষ্কৃত থাকাকালীন ছাত্ররা হলে অবস্থান করতে এবং ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, আমরা বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজনকে বহিষ্কারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের কথা শুনেছি। এদের মধ্যে ছাত্রলীগের কেউ থাকলে তাদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

বসন্ত আর ভালবাসা পেরিয়ে জমজমাট একুশের বইমেলা

ঢাবি প্রতিনিধি : বসন্ত আর ভালবাসা দিবস পেরিয়ে ১৫তম দিনের দরজা মেললো অমর একুশে গ্রন্থমেলা। তাইতো বিকেল ৩টায় গত দু’দিনের তুলনায় মূল গেটে যেমন চাপ কম, তেমনি শাহবাগ বা দোয়েল চত্বর থেকে মেলামুখী মানুষের স্রোতও কম। তবে উৎসবহীন বিকেলে ক্রেতারা আসবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা।

বুধবার বিকেল সোয়া ৩টায় মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের চাপ অনেক কম। বিকিকিনিও তেমন শুরু হয়নি। গত দু’দিনের চাপ সামলে বিক্রেতাও একটু খোশ মেজাজে দোকানের পর্দা মেলছেন। বিক্রেতা সোলেমান বলেন, গত দু’দিন উৎসব থাকলেও বিক্রি কিন্তু তুলনামুলক কম হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুনে মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন মানুষ। বসন্ত উৎসব পালনের অন্যতম স্থানও এ বইমেলা প্রাঙ্গণ। আর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসেও ছিলো উৎসব পরিবেশ। মানুষ মেলা প্রাঙ্গণে যেমন ঘুরেছে বা ছবি তুলেছে, তেমন বই কিনেনি। এর তুলনায় গত শুক্র ও শনিবারে বই বিক্রি ভালো ছিলো বলে জানান তিনি।  বুধবারের মেলাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে।

বিক্রিও হয়েছে বেশ। এদিকে মেলার ১৫তম দিনে এসে পূর্ব প্রান্তে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে মাত্র নির্মিত হচ্ছে পুস্তক মালিক সমিতির স্টল। মেলায় গত সোমবার থেকে বেশ কিছু চত্বর নির্ধারণ করে কাঠের ফ্রেমে বাক্স আকৃতির চিহ্ন স্থাপন করলেও, নেই চত্বর নির্দেশনা। মেলায় কাগজ, পানির বোতল বা অন্য আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি এখনো। ফলে খাবারের প্যাকেট বা পানির বোতল ছুড়ে ফেলছে মেলা প্রাঙ্গণেই। এসব টানা পোঁড়নের মধ্য দিয়েই ১৫তম দিনে পা দিয়েছে এবারের গ্রন্থমেলা।

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের ডাক

ঢাবি প্রতিনিধি : এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩-র ফেব্রুয়ারিতে নিহত ছাত্রদের স্মরণে নির্মিত প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা।

 মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট মোড়ের শিক্ষা অধিকার চত্বরে শিক্ষার প্রতিটি ধাপে সাম্প্রদায়িকতার উৎস খুঁজে বের করে তা অপসারণে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেন তারা। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে তার শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানের সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে মোজাম্মেল, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চনসহজন কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন। সেই থেকে দিনটিকে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। প্রতিবছরের মত এবারও সকাল ৮টায় শিক্ষা অধিকার চত্বরে ফুল দিয়ে শহীদ ছাত্রদের স্মরণ করে ৮৩ স্মৃতিসংরক্ষণ পরিষদ। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানায় প্রগতিশীল ছাত্র জোট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ফুল দেয়ার পর এক মিনিট নীরবতা পালন করে নিহত সহযোদ্ধাদের স্মরণ করেন সেসময়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক কর্মীরাও। পরে শিক্ষা অধিকার চত্বরেই এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক বলেন, মজিদ খানের সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলনের মতো পাঠ্যপুস্তকের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে। মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধ্বে রুখে দাঁড়িয়ে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম। আজ সেই বিজয়ী জাতির ওপর পুনরায় সাম্প্রদায়িক ভেদবিভেদের শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক শক্তি মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ‘চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধাপরাধী চক্রের বিচার হয়েছে, হচ্ছে- আমরা খুশি, আমরা আনন্দিত। যুদ্ধাপরাধী দল আর তাদের মদদদানকারীরা ক্ষমতায় নেই- আমরা খুশি। ২১ অগাস্টের গ্রেনেড হামলাকারীরা ক্ষমতায় নেই- আমরা খুশি। অথচ আজ সেই শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে; এভাবেই নীরব ঘাতকরা হত্যা করতে আসছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে। শিক্ষার্থীদের হাতে এখন যেসব পাঠ্যবই আছে সেগুলোকে ‘পশ্চাৎপদ’ অ্যাখ্যা দিয়ে সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, এই ধরনের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি স্বাধীনতার পর আর আসেনি। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যে কোনো উপায়ে হোক, যেকোনো পন্থায় হোক, সর্বশক্তি নিয়োগ করে আজকের এই অন্ধকারের শক্তিকে রুখে দিতে হবে। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার বলেন, শিক্ষানীতির ওই আন্দোলনকে কোনো দিন ভুলে যাওয়া সম্ভব হবে না। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসকে সুকৌশলে ভুলিয়ে দিতেই ‘ভালোবাসা দিবসের’ আমদানি করেন শফিক রেহমান। তিনি লাল গোলাপ টক-শো আর ভালোবাসা দিবসের প্রচলন করে ঐতিহাসিক এ দিনটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তরুণ প্রজন্ম পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতা এবং শিক্ষার অধিকার আদায়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।

 

তদন্তে প্রমাণিত হলে গণিত পরীক্ষা বাতিল: নাহিদ

তদন্তে এসএসসির ঢাকা বোর্ডের গণিত (আবশ্যিক) বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেলে পরীক্ষাটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষার আগেই হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী বলেন, যদি দেখা যায় যে আগেই (গণিতের) প্রশ্ন আউট হয়ে গিয়েছিল এবং তার ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা কেউ লাভবান হয়েছে, তাহলে নিশ্চয়ই আমরা গণিতের পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে ভাবব। এটা নিশ্চিত হতে তদন্ত করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কমিটি আমাদের করাই আছে। আমরা বিভিন্নভাবে বিষয়টি তদন্ত করছি। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, আগের রাতে গণিতের যে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল তা মূল প্রশ্নের সঙ্গে মেলেনি। তবে পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট আগে গণিতের প্রশ্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে চলে আসে বলে স্বীকার করেন তিনি। পরীক্ষার্থী সেজে যোগাযোগ করে মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আগের রাতেই প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন। রাতে পাওয়া সৃজনশীল প্রশ্নপত্র এবং সকালে পাওয়া এমসিকিউ প্রশ্ন মূল প্রশ্নত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তা গ্রেফতার

কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।  সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টচার্য্যো জানান। গ্রেফতাররা হলেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এইচ এম তাওহিদুজ্জামান, সহকারী রেজিস্ট্রার সিদ্দিকুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মোফাজ্জেল হোসাইন। প্রণব জানান, ২০১২ সালে এক ব্যক্তির দায়ের করা একটি দুর্নীতি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছ, সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গণনিয়োগ’ পাওয়া কর্মচারীদের অবৈধভাবে সিলেকশন গ্রেড দিয়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারের এক কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৪ টাকা আত্মসাত করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠালে সহকারী পরিচালক ফজলুল বারী এর দায়িত্ব পান। তদন্তের অংশ হিসেবে সোমবার ভোরে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে উপ-পরিচালক প্রণব জানান।

 

ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই হল এসএসসির গণিত পরীক্ষা

মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আগের রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই নেওয়া হয়েছে এসএসসির ঢাকা বোর্ডের গণিতের পরীক্ষা। একটি ফেইসবুক গ্রুপ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে পরীক্ষার্থী সেজে এই প্রতিবেদক শনিবার রাতে গণিতের যে প্রশ্ন পেয়েছিলেন, হুবহু সেই প্রশ্নেই গণিতের সৃজনশীল ও এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা হয়েছে।

এসএসসিতে রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গণিত (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষা হয়। দুপুরে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র দেখার পর মিলিয়ে ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাবরই তা নাকচ করা হচ্ছিল। এবার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হলে তার বিস্তারিত শুনে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার একে ‘উদ্বেগের বিষয়’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি  বলেন, শনিবার রাতে বোর্ডে কর্তৃপক্ষও কথিত ফাঁস হওয়া একটি প্রশ্নপত্র পেয়েছিল। তবে তার সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্র মেলেনি। তবে সকাল সাড়ে ৯টায় যে প্রশ্ন তারাও পেয়েছিলেন, তা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গেছে বলে স্বীকার করেন তপন কুমার। এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে রোববার রাতে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনেরে মোবাইলে কল করলে তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস পাঠালেও সাড়া দেননি তিনি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার বলেন, আমাদের সহযোগিতা করলে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব। গোয়েন্দা সংস্থাকে ওইসব তথ্য জানান। কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন বের করে কেউ ওই প্রশ্ন বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

তপন কুমার জানান, বিজি প্রেসে ছাপা হওয়ার পর পরীক্ষা শুরুর ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সিল করা প্রশ্ন পাঠানো হয় বিভিন্ন জেলার ডিসি অফিসে, রাখা হয় সেখানকার ট্রেজারিতে। ডিসি অফিসের ট্রেজারি থেকে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রশ্ন যায় প্রতি উপজেলার থানায়। থানা থেকে পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সিলকরা প্রশ্নের ফাইল খুলতে হয়।

 

গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ঢাবিতে মানববন্ধন

ঢাবি প্রতিনিধি : গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।  রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনিস্টিটিউটের  শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে দাবি করা হয়, ওই পার্কে ইজারাদাররা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মানববন্ধনকারীরা এই বর্বরোচিত হামলার বিচার দাবি করে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ইজারাদারদের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনা পার্কের ইজারাদারের রাজত্বের প্রমাণ করে। দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না এনে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এখনো যারা গ্রেপ্তার হয়নি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতার হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ। একই দাবিতে আজ সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন আয়োজন করার কথা জানানো হয়।

বইমেলায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের কবিতা সংকলন

ঢাবি প্রতিনিধি : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের কবিতা সংকলন ‘জন্মাতে চাই প্রাক্তন সময়ের গর্ভে’। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৪০ জন শিক্ষার্থীর কবিতা রয়েছে এই গ্রন্থে।

আলী আহসান বাবু ও মাহফুজা আক্তার কবিতা সংকলনটির সম্পাদনা করেছেন। এটি প্রকাশ করেছে ‘বাংলার কবিতা প্রকাশন’। কাব্য সংকলনটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সংকলনটির মুখবন্ধ লিখেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। একুশে বইমেলার লিটলম্যাগ চত্বরের ২৭ নম্বর স্টলে সংকলনটি পাওয়া যাচ্ছে। মূল্য রাখা হয়েছে ৯০ টাকা। কাব্য সংকলনটি প্রকাশের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছে ‘লেখালেখির আড্ডাঘর, ঢাবি’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র সাদমান শাকিলের কবিতা স্থান পেয়েছে কাব্য সংকলনটিতে। তরুণ এ কবি বলেন, আমরা যারা ঢাবির শিক্ষার্থী লেখালেখি করি তাদের সবাইকে একই প্লাটফর্মে আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ নামে সংগঠন গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। পহেলা বৈশাখে ঢাবি শিক্ষার্থীদের গল্প সংকলনও বের করা হবে বলে জানান তিনি।

 

পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে মৌলবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে

নতুন বছরের শুরু থেকেই পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে মৌলবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের নেতারা।  শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন সংগঠন নেতারা।

সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ্ পলাশ বলেন, ’৭১-এর পরাজিত শক্তি এখন সুকৌশলে আধিপত্য বিস্তার করছে আমাদের শিশুদের মনে। এখন এক ভয়ানক সাম্প্রদায়িক বিষে আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সার, সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, সদস্য জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা। অন্য বক্তারা বলেন, এবারের পাঠ্যপুস্তকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন সেনের কবিতা বাদ দেওয়া হলো। কুসুমকুমারী দাশের কবিতার সম্পাদনায় ছুরি চালানো হলো। ২০১৭ সালের প্রথম দিনেই পাঠ্যপুস্তকের ঝকঝকে মলাটে মৌলবাদী চিন্তা সুকৌশলে শিশুদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবই করা হয়েছে পরিকল্পনা করে। সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্যমূলক ও ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহার করে নেওয়াসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে শিশু সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।

 

এসএসসি পরীক্ষা প্রথম দিন অনুপস্থিত ৮৫২০, বহিষ্কার ১৬

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন  বৃহস্পতিবার সারাদেশে ৮ হাজার ৫২০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল; পরীক্ষায় নকলের দায়ে বহিষ্কার হয়েছে ১৬ শিক্ষার্থী। প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার সরকার জানান, এসএসসিতে সর্বোচ্চ চারটি পত্রে ফেল করলে ওইসব বিষয়ে পরের বছর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের ৩ হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার থেকে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমামানের পরীক্ষা; যাতে অংশ নিচ্ছে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৯২১) আর দাখিল ভোকেশনালে নতুন সিলেবাসে বাংলা-২ (১৭২১) সৃজনশীল ও পুরাতন সিলেবাসে বাংলা-২ (১৭২১) সৃজনশীল বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিনের পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে ১ হাজার ২৩৯ জন, রাজশাহীতে ৪৩১ জন, কুমিল্লায় ৭১৬ জন, যশোরে ৪৩২ জন, চট্টগ্রামে ৩২৫ জন, সিলেটে ২৬৫, বরিশালে ২৯৪ এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৩৬৯ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ২১২ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ২৩৭ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। কারিগরি বোর্ডে ১০ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৫ জন এবং ঢাকা বোর্ডে একজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন এক শিক্ষককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক নোটিসে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পরে পরীক্ষার প্রশ্ন বিতরণ এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ায় ওই কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে অব্যাহতি দেওয়া কেন্দ্র সচিবের নাম, পরিচয় প্রকাশ করেনি শিক্ষা বোর্ড। ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে এই কলেজের এসএসসির কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ এপ্রিল

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ এপ্রিল শুরু হবে, তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৫ মে পর্যন্ত।  বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি অনুমোদন করে তা প্রকাশ করেছে।

গত কয়েক বছর ধরে ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হলেও এবার এপ্রিলের প্রথম দিন শনিবার হওয়ায় ২ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী, ১৫ মে এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ১৬ থেকে ২৫ মে হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ৩ এপ্রিল শুরু হয়ে ৯ জুন শেষ হয় অর্থাৎ ৬৮ দিনে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার পরীক্ষার সময় কমিয়ে ৪৪ দিনে সূচি সাজানো হয়েছে। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার সময় কমেছে ২৪ দিন। এবারও শুরুতে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশ এবং পরে রচনামূলক অংশের পরীক্ষা হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার সময় আড়াই ঘণ্টা। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে সেগুলোর ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৫ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ পেলেও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে না। পরীক্ষার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সময় কমানো হয়েছে, আগামীতে এই সময় আরও কমিয়ে আনা হবে।

 

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হবে। এ বছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ৩ হাজার ২শ’৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩শ’ ৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬শ’ ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, এ বছর গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ৯৩টি নতুন কেন্দ্রও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এরমধ্যে বিদেশে ৪শ’ ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর জন্য ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এ বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী হচ্ছে ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪ জন । এছাড়া অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ জন ও বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১, ২, ৩, ও ৪ বিষয়ে) ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন।এসএসসিতে ৭ লাখ ২ হাজার ২৯৯ জন ছাত্র ও ৭ লাখ ২৩ হাজার ৬০১জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ২১ হাজার ৩০২ জন বেশি।দাখিলে ছাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৫ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৬ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ছাত্র ৭৭ হাজার ৬১৭জন ও ছাত্রী ২৬ হাজার ৫৯৫ জন ।তত্ত্বীয় পরীক্ষা থেকে শুরু হয়ে ২ মার্চ শেষ হবে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ শুরু হয়ে ১১ মার্চ শেষ হবে।

এবছর বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ২২ হাজার ২শ’৮৭জন। অন্যদিকে এ বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। এদিন পরীক্ষাসংক্রান্ত কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয় , প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সকল পরীক্ষার্থীর কাছে হাতে খাতা দেয়া হবে। এতে তারা প্রায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় পাবেন।একমাত্র কেন্দ্র সচিব ছাড়া আর কোন ব্যাক্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না বলে মন্ত্রী জানান।

কেন্দ্র সচিবের অনুমতি ছাড়া কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না।মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে , দেশের বাইরে বিদেশে জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবী, দুবাই, বাহরাইন এবং ওমানের সাহামে ৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা  নেয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রালপালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্র“তি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, অতীতে পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ অন্যান্য অভিযোগে যারা দোষী হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।আর যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সে ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফেসবুকে কেউ প্রশ্নপত্র আপলোড করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে বিটিআরসিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কাল শুরু

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামীকাল শুরু হচ্ছে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেবে ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০ জন বেশি।  এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে  মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হবে ২ মার্চ। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪-১১ মার্চের মধ্যে শেষ হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিন হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। বিদেশে কেন্দ্র রয়েছে আটটি, যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৪৬ জন। আটটি সাধার বোর্ডে এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন।

এরমধ্যে ছাত্র সাত লাখ দুই হাজার ২৯৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা সাত লাখ ২৩ হাজার ৬০১ জন। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে (ভোকেশনাল) এক লাখ চার হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও এবার এক লাখ ৩৫ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার ছাত্রের সংখ্যা নয় লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা আট লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন। প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে সাধারণ বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি; মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শুরুতে এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সকাল সাড়ে নয়টায় শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে হবে। নয়টা ৩৫মিনিটে উত্তরপত্র দেওয়া হবে। এবার এসএসসিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ বছর হতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম, সেরিব্রাল পালসি) পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা প্রদানের সুযোগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডসমূহের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থা চালু রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ জানান, এর ফলে কেন্দ্রগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।

সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠানে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করেন নাহিদ। সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, শিক্ষা মরন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমতি ছাড়া পিকনিক অন্য জেলায় নয়: শিক্ষামন্ত্রী

 শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এখন থেকে কোনো স্কুল বা কলেজ কর্তৃপক্ষ অন্য জেলায় পিকনিক করতে যেতে পারবে না। নিজ জেলাতেই করতে হবে। যেতে হলে আগে থেকেই জেলা প্রশাসক অথবা শিক্ষা অফিসারকে জানাতে হবে। এটি যদি কেউ না মানে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মন্ত্রী।
সোমবার দুপুরে যশোরের চৌগাছায় স্কুলের পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এরপর বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক দুর্ঘটায় আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেখতে আসছিলাম। দুই শিক্ষার্থী অভি ও রিপা আই সি ইউ’তে ও এক শিক্ষক সত্য কুমার নায়েক (৬০) এবং বাস চালক ইব্রাহীম (৩৫) নিউরোসার্জারিতে ভর্তি রয়েছে। আগের চেয়ে এখন তাদের অবস্থা ভালো। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গত ২৫ জানুয়ারি রাতে যশোর চৌগাছা থেকে দিনাজপুর স্বপ্নপুরী যাওয়ার পথে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ ছাত্রলীগের ১৯ জনকে বহিষ্কার, মামলা

ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পরে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ১৯ নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে দুই প।  রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজের ১৯ নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূর আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক হিরণ ভূঁইয়া, শাহজাহান ভূঁইয়া শামীম, সালেহ আহমেদ (হৃদয়), সামাদ আজাদ জুলফিকার; সদস্য শাহরিয়ার রাশেদ, হাসানুজ্জামান মুন্না, রহমতুল্লাহ, রুবেল মণ্ডল, সাদ্দাম হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান সৈকত, আবদুল আজিজ ফয়েজ, নাইম ইবনে আজাদ, তুহিন, জসিম উদ্দিন, মাইনুল ইসলাম, মিল্টন খন্দকার, রানা ও সুজনকে। শনিবার সন্ধ্যায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পরে মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক প ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। ক্যাম্পাসে থাকা সাতটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিপরে পিটুনিতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেেিত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এদিকে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূর আলম ভূঁইয়াসহ ১৯ জনের নামে মামলা করেছেন ওই কলেজের ছাত্র গোপাল দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কিছুণ পরেই একই অভিযোগে শাহজালাল নামের আরেক জন ছাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক হিরণ ভূঁইয়ার পরে ১২ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। এদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির যেন অবনতি না হয়, এ জন্য ঢাকা কলেজে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 



Go Top