সকাল ১১:০৬, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা

ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পরে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ১৯ নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে দুই প।  রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজের ১৯ নেতাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূর আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক হিরণ ভূঁইয়া, শাহজাহান ভূঁইয়া শামীম, সালেহ আহমেদ (হৃদয়), সামাদ আজাদ জুলফিকার; সদস্য শাহরিয়ার রাশেদ, হাসানুজ্জামান মুন্না, রহমতুল্লাহ, রুবেল মণ্ডল, সাদ্দাম হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান সৈকত, আবদুল আজিজ ফয়েজ, নাইম ইবনে আজাদ, তুহিন, জসিম উদ্দিন, মাইনুল ইসলাম, মিল্টন খন্দকার, রানা ও সুজনকে। শনিবার সন্ধ্যায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিবদমান দুটি পরে মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক প ফাঁকা গুলিও ছোড়ে। ক্যাম্পাসে থাকা সাতটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিপরে পিটুনিতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেেিত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এদিকে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নূর আলম ভূঁইয়াসহ ১৯ জনের নামে মামলা করেছেন ওই কলেজের ছাত্র গোপাল দাস। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর কিছুণ পরেই একই অভিযোগে শাহজালাল নামের আরেক জন ছাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক হিরণ ভূঁইয়ার পরে ১২ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। এদিকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতির যেন অবনতি না হয়, এ জন্য ঢাকা কলেজে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

৫০ বছর ধরে শুনছি শিক্ষার মান কমে গেছে : নাহিদ

গত ৫০ বছর ধরে শুনছি, শিার মান কমে গেছে। বিষয়টি যদি সত্য হতো, তাহলে এতদিনে মান বলে কিছুই থাকতো না। তারপরও যারা মান নিয়ে কথা বলছেন, তারা যদি মানের মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিতেন, সেটিকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যেতাম।

বুধবার বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এসব কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা অধিদফতরের ‘মনিটরিং ইভালুয়েশন উইং’ এ কর্মশালা আয়োজন করে। দিনব্যাপী এ কর্মশালা শুরু হয় সকাল ৮ টায়। বিকেল ৩ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি টি এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ এবং কর্মশালার ওপর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং’র পরিচালক ড. মো. সেলিম মিয়া।

 

ঢাবিতে রাত ১২টার পর মিছিল না করতে ছাত্রলীগের নির্দেশ

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশাববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় রাত ১২টার পর মিছিল না করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় এ নির্দেশ দেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সমাবেশের আগে মধুর ক্যান্টিন থেকে আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স সমাবেশ সঞ্চালনা করেন। আবিদ আল হাসান বলেন, ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণার পর গভীর রাতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেøাগানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে। ১৪ জানুয়ারি থেকে রাত বারোটার পর ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সেøাগান দেওয়া যাবে না। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পলাশীসহ ক্যাম্পাসের বাইরে না পাঠতেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, বিএনপি সব সময় দেশকে পেছানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। ভিশন-২১ বাস্তবায়নে ছাত্রলীগকে কাজ করতে হবে। জাকির হোসেন বলেন, খালেদার সকল ষড়যন্ত্র অতীতের মতোই রাজপথে থেকে প্রতিহত করবে ছাত্রলীগ। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে কাজ করবে। মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নেতাকর্মীদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার দিক-নির্দেশনা দেন তিনি। সমাবেশে ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার সভাপতিরাও বক্তব্য দেন।

জাবিতে সেলিম আল দীন স্মরণে র‌্যালি

জাবি প্রতিনিধি : নাট্যচার্য সেলিম আল দীনের ৯ম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণ যাত্রা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে থেকে  শনিবার সকালে স্মরণ যাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সেলিম আল দীনের সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি নাছির উদ্দিন ইউসুফ তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, বঙ্গ থিয়েটারের প্রতিনিধি ও আরো অনেক নাট্যজনরা। এদিকে সেলিম আল দীনের ৯ম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পকলা একাডেমি চার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি ৭৫ দিন

সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে ৭৫ দিন ছুটি অনুমোদন করেছেন সরকার। সেইসঙ্গে এসব বিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মঘণ্টা এবং পরীক্ষাসূচি অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিদ্যালয়ে ‘যথাযোগ্য মর্যাদায়’ জাতীয় দিবসগুলো পালনের নির্দেশনা দিয়ে আদেশে বলা হয়, থানা/উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা সংরক্ষিত ছুটি অনুমোদন করতে পারবেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার স্কুল খোলা থাকবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। আর রোজার সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। যেসব স্কুলে দুটি শিফট চালু আছে, সেসব বিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বছরে অন্তত ৬০০ ঘণ্টা কাজ চলবে। আর এক শিফটের স্কুলে হবে ৯২১ ঘণ্টা। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুই শিফটের স্কুলে ৭৯১ ঘণ্টা এবং এক শিফটের স্কুলে ১ হাজার ২৩১ ঘণ্টা ক্লাস চলবে। সব স্কুলে ২৩ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রথম সাময়িক, ৬ থেকে ১৩ অগাস্টের মধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক এবং ১১ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা নিতে হবে। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার জন্য ২০ থেকে ৩০ নভেম্বর সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে ওই আদেশে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০১৭ সালে ৮৫ দিন ছুটি অনুমোদন করে।

‘ভুলে ভরা’ পাঠ্যবই প্রত্যাহারের দাবি বিশিষ্টজনদের

পাঠ্যবইয়ে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব বই প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ৮৫ জন অধ্যাপক, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে পাঠ্যবইয়ে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা ঢোকানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এর পরিণতি হিসেবে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থানের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিবৃতিদাতারা।

বিবৃতিদাতার মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, যতীন সরকার, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. হায়াৎ মামুদ, সনৎ কুমার সাহা, ড. অজয় রায়, লেখক-গবেষক আহমেদ রফিক, সৈয়দ হাসান ইমাম, ড. সফিউদ্দিন আহমদ, সাইদুর রহমান বয়াতী, কাজী মদিনা, আবুল মোমেন, রামেন্দু মজুমদার, শিল্পী আনোয়ার হোসেন, দ্বিজেন শর্মা, বেগম মুশতারী শফি, ডা. রশিদ ই মাহবুব, লায়লা হাসান, মামুনুর রশিদ, মাহফুজা খানম, প্রফেসর ড. রফিকুল আলম, ড. ইনামুল হক, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, কবি আসাদ চৌধুরী, অধ্যাপক শফি আহমেদ, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক বদিউর রহমান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আকমল হোসেন, সঞ্জীব দ্রং, অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন ও তানজিমউদ্দিন খান। বিবৃতি বলা হয়, ‘অবিলম্বে ভুলে ভরা এ পাঠ্যপুস্তকসমূহ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের সাম্প্রদায়িক ও কূপম-ুক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে আধুনিক ও মানবিক একটি রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে তাদের শিক্ষা দান বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।’

তিন কারণে পাঠ্যপুস্তকে ভুল এবং তথ্য ও ইতিহাস বিকৃতি হচ্ছে অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এক, বানান ও তথ্যগত বিকৃতি; দুই, বাক্য গঠনে ভুল; তিন, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির অনুপ্রবেশ ঘটানো।’ এর মধ্যে প্রথম দুই ভুলের জন্য পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবকে দায়ী করলেও ‘তৃতীয় ভুলটি পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে এতে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার নিজেকে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাবিরোধী বলে ঘোষণা করলেও এবং এর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বললেও পাঠ্য পুস্তকে উল্লিখিত বিষয়ে তার পশ্চাদপসরণের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ পাঠ্যপুস্তকে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা ঢোকানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘জঙ্গিবাদের যে ভয়াল রূপ আমরা দেখছি, তা যে কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়-একথা সকলেই মানবেন। এই ক্যান্সারের মতো জঙ্গিবাদকে দমনের জন্যে প্রয়োজন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। একদিকে পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করছে সরকার, অন্যদিকে শিশুর মনোজগতে প্রবেশ করাচ্ছে বিদ্বেষ আর বৈষম্যের বিষ।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন শাহ, সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, এস ওয়াজেদ আলী, হুমায়ুন আজাদের মতো লেখকদের বিভিন্ন রচনা পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, যে হীন চক্রান্তে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই চক্রান্তেরই ভয়ানক রূপ হিসেবে ভবিষ্যতে জঙ্গিবাদ আর মৌলবাদের প্রসার ঘটবে বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, লেখকদের লেখা-কবিতার লাইন পরিবর্তন করার দুঃসাহসও দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

এনসিটিবি’র ডিজাইনার সুজাউল সাময়িক বরখাস্ত


স্টাফ রিপোর্টার: নতুন বছরের পাঠ্যবইয়ে ভুলত্রুটি থাকায় জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বোর্ড কর্তৃপ। এনসিটিবি’র আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার সুজাউল আবেদিনকে গতকাল মঙ্গলবার বরখাস্ত করা হয়।


শিা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিা বিভাগের উপসচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী বলেন, এনসিটিবি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 পাঠ্যবইয়ের ভুল পর্যালোচনা করতে গত ৫ জানুয়ারি এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) কাজী আবুল কালামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় সংস্থাটি। ওই কমিটির প্রাথমিক তদন্তের পরিপ্রেেিত সোমবার এনসিটিবি’র প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে ওএসডি করা হয়।

জঙ্গিদের মৃত্যুতে গুলশান হামলা তদন্তে বাধা আসবে না : আইজিপি

ঢাবি প্রতিনিধি : মারজান ও সাদ্দামের মৃত্যুতে গুলশান হামলার তদন্তে কোনো বাধা আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক(আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সন্ত্রাসবাদের ওপর এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দুই জঙ্গির মৃত্যুতে গুলশান হামলার তদন্তে কোনো বাধা আসবে না। সরকারের কাছে সব ধরনের তথ্য রয়েছে। আর কোনো তথ্যের দরকার নেই। গুলশান হামলায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। গুলশান হামলায় অর্থায়নে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে জানান তিনি। দুই দিনব্যাপী টেরোরিজম ইন দ্যা ওয়েব অব ইসলামিক স্টেট’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নেদারল্যান্ডস’র রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারিটা কুলোনার। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। আজ ৮ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। সম্মেলনে ১৬ টি সেশনে ৪৫টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে।

পাঠ্যবইয়ের ভুল শুধরাতে কমিটি


স্টাফ রিপোর্টার : নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে ফেইসবুকে তীব্র সমালোচনার পর পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করেছে জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। যেসব ভুল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সেগুলো ছাড়াও নতুন শিাবর্ষের সব বই পরিমার্জনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ইতোমধ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের সব ভুল-ক্রটি ঠিক করে সংশোধনী শিট দেওয়া হবে।

 
এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) অধ্যাপক কাজী আবুল কালামকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


তবে প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগতে পারে জানিয়ে অধ্যাপক নারায়ণ বলেন, ভুলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে হয়। কোথায় কীভাবে ক্রটি হয়েছে পুরো বইগুলো দেখা হবে। কমিটি বলেছে, আরেকটু সময় লাগবে। যারা বই রচনা করেছেন, পাণ্ডুলিপি দেখেছেন। প্রতি বছরই নতুন বই প্রকাশের পর পরিমার্জন করা হয় জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন বই প্রকাশ করা হয়।

 প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘ও’ দিয়ে বাক্য গঠন করা হয়েছে- ওড়না চাই; যা নিয়ে চলছে বিতর্ক। প্রথম শ্রেণির বইয়ে ‘ও’ দিয়ে বাক্য গঠন করা হয়েছে- ওড়না চাই; যা নিয়ে চলছে বিতর্ক। এত কাজের মধ্যে কিছু ভুল-ক্রটি হয়, সবার সাহায্য নিয়ে তা সংশোধন করব। ভুল কোন পর্যায় থেকে এসেছে সেটা বের করা হবে। যেটা হয়েছে হয়েছে, একটা সংশোধনীতে যেতে হবে, আমরা সংশোধনী দেব। বছরের প্রথম দিন ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিা উপকরণ বিতরণ করে সরকার। নতুন বই বিতরণের পরদিন গত ২ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বইগুলো দেওয়ার কথা জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, তারা বইগুলো দেখছেন, এটা ধারাবাহিক পরিমার্জন। আমরা বিষয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলব।

 কি ধরনের ভুল সেগুলো দেখা হবে। ২০১২ সালে তৈরি করা নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী ২০১৩ সালের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পায় শিার্থীরা। সে সময়ও ভুল-ক্রটি সংশোধন করা হয়েছিল জানিয়ে অধ্যাপক নারায়ণ বলেন, এখনও ওই কারিকুলামই আছে। তবে কোনো গল্প পরিবর্তন, ভুল থাকলে সেগুলো পরিবর্তন অর্থাৎ পরিমার্জন করা হয়েছে। কোনো একটা কবিতা দেওয়া হয়েছে কিন্তু দেখা গেল ওই কবিতাটি ওই বাচ্চার জন্য কঠিন হয়ে গেছে তখন আমরা ওরকম একটা কবিতা রিপ্লেস করে দিই। প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারও জানিয়েছেন, পাঠ্যবইয়ের ভুল দ্রুত সংশোধন করতে এনসিটিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ সম্মান পরীা আগামীকাল শুরু


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষ অনার্র্র্স পরীা আগামী ৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হবে।
সারাদেশের ৬২১টি কলেজের ২২০টি কেন্দ্রে  মোট ২,৮৭,০৫৭ জন পরীার্থী ৩০টি বিষয়ে পরীায় অংশ গ্রহণ করবে।
পরীা অনুষ্ঠানের ল্েয যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ সুষ্ঠুভাবে পরীা অনুষ্ঠানে প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কলেজ, শিক, শিার্থী এবং অভিভাবকগণের সহযোগিতা কামনা করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।

 

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভ্যাট নিয়ে রায় স্থগিত

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাই কোর্টের রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আবেদনে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ  মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়ে তার মধ্যে রাজস্ব বোর্ডকে আপিলের আবেদন করতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত।

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমের ১০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর ২০১২ সালে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয় সাড়ে ৭ শতাংশ, সেই সঙ্গে এর আওতায় আনা হয় বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়গুলোকে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে সফল হওয়ার পর ভ্যাট বাতিলের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেন ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এরপর সানিডেল ও সান বিম স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনে ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি শামীম হাসনাইন ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ ভ্যাট স্থগিতের আদেশ দেয়। ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সে সময় রুল দেয় হাই কোর্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গেলে বিচারক হাই কোর্টের আদেশের কার্যকারিতা আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়। রিট আবেদন হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পর ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেয় বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও মো. মজিবুর রহমান মিয়ার হাই কোর্ট বেঞ্চ। রায়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে জানুয়ারি সেশন থেকে টিউশন ফির ওপর আর ভ্যাট আদায় না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আপিল বিভাগে যাওয়ায় হাই কোর্টের ওই রায় আটকে গেল।

সাফল্যের আনন্দে শিশুরা

চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৯৩.০৬ শতাংশ। জেএসসিতে জিপিএ ফাইভ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন, জেডিসিতে পাসের হার ৯৪.০২ শতাংশ, জিপিএ ফাইভ ১২ হাজার ৫২৯ জন; পিইসিতে পাসের হার ৯৮.৫১ শতাংশ, ইবতেদায়ীতে পাসের হার ৯৫.৮৫ শতাংশ, জিপিএ-পাঁচ ৫ হাজার ৯৪৮।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একই সময়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন। এবারে ৯ হাজার ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবারের চেয়ে এবার ৮৬৭টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮। গতবার এই সংখ্যাটি ছিল ৪৩। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শুধু আট বোর্ডের অধীন জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯২.৮৯ শতাংশ। এই পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থী। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৬ জন। এবার জেএসসি পরীক্ষায় বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ৬২৬ জন পরীক্ষা দিয়েছি
এরমধ্যে পাস করেছে ৬২৩ জন শিক্ষার্থী অর্থাৎ বিদেশের কেন্দ্রে পাসের হার ৯৯.৫২। এ বছর ৯ হাজার ৪৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত ১ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৬ নভেম্বরের জেএসসির বরিশাল, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বোর্ড এবং জেডিসির সারা দেশের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। জেএসসির স্থগিত পরীক্ষা ১২ নভেম্বর এবং জেডিসির পরীক্ষা হয় ১৯ নভেম্বর নেওয়া হয়।২০১৫ সালে এ পরীক্ষায় আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।

বিদেশের ৮ কেন্দ্রে পাস ৯৯.৫২
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় বিদেশের আটটি কেন্দ্রের ৯৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন। গত বছর বিদেশের কেন্দ্র থেকে ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সেই হিসাবে এবার বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ পয়েন্ট। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এবার দেশের বাইরের আটটি কেন্দ্রে ৬২৬ জন শিক্ষার্থী জেএসসিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬২৩ জন। ছয়টি কেন্দ্রের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জেএসসি-জেডিসিতে এবার সম্মিলিতভাবে ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন।

প্রাথমিকে পাশের হার ৯৮.৫১, ইবতেদায়ীতে ৯৫.৮৫
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এ বছর। এর মধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। আর ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৯৪৮ জন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার  বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর। ২০১৫ সালে এ পরীক্ষায় প্রাথমিকে ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এই হিসাবে এবার ইবতেদায়ীতে পাস বাড়লেও প্রাথমিকে সামান্য কমেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই পূর্ণ জিপিএ, অর্থাৎ ৫-এ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবার। গতবছর প্রাথমিকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৪৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। চলতি বছর ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর সারা দেশে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় হয়। প্রাথমিকে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ জন এবং ইবতেদায়ীতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ জন এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

প্রাথমিকে পাশের হার ৯৮.৫১

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এ বছর। এর মধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন। আর ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৯৪৮ জন।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার  বৃহস্পতিবার গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কথা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর।

২০১৫ সালে এ পরীক্ষায় প্রাথমিকে ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এই হিসাবে এবার ইবতেদায়ীতে পাস বাড়লেও প্রাথমিকে সামান্য কমেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই পূর্ণ জিপিএ, অর্থাৎ ৫-এ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবার। গতবছর প্রাথমিকে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৫ হাজার ৪৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। চলতি বছর ২০ থেকে ২৭ নভেম্বর সারা দেশে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় হয়। প্রাথমিকে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ জন এবং ইবতেদায়ীতে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ জন এ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

 

পূর্ণ জিপিএ দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন

চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৯৩.০৬ শতাংশ। জেএসসিতে জিপিএ ফাইভ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন, জেডিসিতে পাসের হার ৯৪.০২ শতাংশ, জিপিএ ফাইভ ১২ হাজার ৫২৯ জন; পিইসিতে পাসের হার ৯৮.৫১ শতাংশ, ইবতেদায়ীতে পাসের হার ৯৫.৮৫ শতাংশ, জিপিএ-পাঁচ ৫ হাজার ৯৪৮।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একই সময়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

মোট জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন শিক্ষার্থীÑএ সময় শিক্ষামন্ত্রী ফলাফলের আংশিক তথ্য তুলে ধরেন।তিনি বলেন, এবার দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন। এবারে ৯ হাজার ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান থেকে সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবারের চেয়ে এবার ৮৬৭টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮। গতবার এই সংখ্যাটি ছিল ৪৩।শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শুধু আট বোর্ডের অধীন জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯২.৮৯ শতাংশ। এই পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯ জন পরীক্ষার্থী। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৯ জন। এরমধ্যে পাস করেছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৬ জন।

এবার জেএসসি পরীক্ষায় বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ৬২৬ জন পরীক্ষা দিয়েছিল এরমধ্যে পাস করেছে ৬২৩ জন শিক্ষার্থী অর্থাৎ বিদেশের কেন্দ্রে পাসের হার ৯৯.৫২।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ফল হস্তান্তরের পর দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ঘটেছে বড় উল্লম্ফন। জেএসসি-জেডিসি মিলিয়ে এ বছর মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে; গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ জন। গতবছর এ পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। এই হিসাবে এবার পাসের হার শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে পরীক্ষার ফলের অনুলিপি তুলে দেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরাও তার সঙ্গে ছিলেন।দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর।এ বছর সারা দেশে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫৯ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জন পাস করেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।৯ হাজার ৪৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।গত ১ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৬ নভেম্বরের জেএসসির বরিশাল, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বোর্ড এবং জেডিসির সারা দেশের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। জেএসসির স্থগিত পরীক্ষা ১২ নভেম্বর এবং জেডিসির পরীক্ষা হয় ১৯ নভেম্বর নেওয়া হয়।

২০১৫ সালে এ পরীক্ষায় আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।ফল জানা যাবে মোবাইলে: যে কোনো মোবাইল থেকে ঔঝঈ/ঔউঈ লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৬ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করলে ফিরতি এসএমএসে জেএসসি/জেডিসির ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।এছাড়া শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জেএসসি-জেডিসির ফল জানা যাবে।সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ই-মেইলেও জেএসসি-জেডিসির ফলাফলের সফটকপি পাঠাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। প্রয়োজনে এদের কাছ থেকেও ফলাফলের কপি সংগ্রহ করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানিয়েছে।সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ই-মেইলেও জেএসসি-জেডিসির ফলাফলের সফটকপি পাঠাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। প্রয়োজনে এদের কাছ থেকেও ফলাফলের কপি সংগ্রহ করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানিয়েছে।

বিদেশের ৮ কেন্দ্রে পাস ৯৯.৫২%
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় বিদেশের আটটি কেন্দ্রের ৯৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪ জন। গত বছর বিদেশের কেন্দ্র থেকে ৯৮ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। সেই হিসাবে এবার বিদেশ কেন্দ্রে পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ পয়েন্ট। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এবার দেশের বাইরের আটটি কেন্দ্রে ৬২৬ জন শিক্ষার্থী জেএসসিতে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬২৩ জন। ছয়টি কেন্দ্রের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জেএসসি-জেডিসিতে এবার সম্মিলিতভাবে ৯৩ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন।

পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর ফল প্রকাশ আজ

পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩ জন শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। একসঙ্গে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি-জেডিসির ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে হস্তান্তর করবেন। বেলা সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরবেন তিনি। আর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রাথমিক ও ইবেতেদায়ি সমপানীর ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেবেন। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন ফিজার। দুই মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর পরই শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারবে। যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করেও ফল জানা যাবে। এবার ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমপানী এবং ২৪ লাখ ১২ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসিতে অংশ নেয়। গত বছর প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও ইবতেদায়ীতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। জেএসসি-জেডিসিতে ২০১৫ সালে সম্মিলিতভাবে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। এর মধ্যে জেএসসিতে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জেডিসিতে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।


মোবাইলে ফল জানতে : যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে উচঊ লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৬ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে প্রাথমিক সমাপনীর ফল জানা যাবে। আর ইবতেদায়ীর ফল পেতে ঊইঞ লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৬ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এই এসএমএস লেখার সময় সরকারি অথবা রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊগওঝ কোড নম্বরের প্রথম পাঁচ সংখ্যা উপজেলা/থানা কোড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস ও প্রথমিক বিদ্যালয় থেকে জানা যাবে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট থেকেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীর ফল জানা যাবে। অন্যদিকে যে কোনো মোবাইল থেকে ঔঝঈ/ঔউঈ লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৬ লিখতে এসএমএস করলে ফিরতি এসএমএসে জেএসসি/জেডিসির ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জেএসসি-জেডিসির ফল জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ই-মেইলেও জেএসসি-জেডিসির ফলাফলের সফটকপি পাঠাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড। প্রয়োজনে এদের কাছ থেকেও ফলাফলের কপি সংগ্রহ করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানিয়েছে।

জাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কাল

করতোয়া ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার ও নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালাম  এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার শিক্ষক ক্লাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নির্বাচন চলবে। এবারে নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৫৩৫ জন।

আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী শিক্ষক’ এ দুই প্যানেলে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৫টি পদে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), সহ-সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ হাফিজুর রহমান (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ), কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন (অর্থনীতি বিভাগ), সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ (দর্শন), যুগ্ম-সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মো. ফখরুল ইসলাম (ফার্মেসি বিভাগ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই প্যানেল থেকে সদস্য পদে- সহযোগী অধ্যপক কে এম আককাছ আলী (আইআইটি), অধ্যাপক কৌশিক সাহা (রসায়ন বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক বদরুন্নাহার (পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ), সহকারী অধ্যাপক মো. আউয়াল আল কবীর (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ), অধ্যাপক মো. রুহুল ফুরকান সিদ্দিক (পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স), অধ্যাপক রাশেদা আখতার (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), সহযোগী অধ্যাপক লাইজু নাসরীন (ইংরেজি), অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক (ভূগোল ও পরিবেশ), অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান (প্রতœতত্ত্ব বিভাগ), সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা (ইতিহাস বিভাগ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-সভাপতি অধ্যাপক মো. শামছুল আলম (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ), সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবেদা সুলতানা (গণিত বিভাগ), কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার (ফামেসি) সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন (পরিবেশ বিজ্ঞান), যুগ্ম-সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক আমিনুর রহমান খান (গণিত বিভাগ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে- অধ্যাপক এ এন এম ফখরুদ্দিন (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক
মাহবুব কবির (রসায়ন), সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ এমাদুল হুদা (পরিবেশ বিজ্ঞান), অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান (প্রাণীবিদ্যা), অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার (ফার্মেসি), সহযোগী অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারি (আইআইটি), অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন (প্রাণিবিদ্যা), অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন (গণিত) অধ্যাপক মো. সোহেল রানা (ফার্মেসি), অধ্যাপক শামীমা সুলতানা (বাংলা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শোক বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত নৃবিজ্ঞানী সামসুল আরেফিন

ঢাবি প্রতিনিধি : সহকর্মী, ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বিশিষ্ট নৃবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন খান সামসুল আরেফিনকে। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে ২টার দিকে বনানীতে তাকে দাফন করা হয়েছে। অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন খান আরেফিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মৃত্যুতে দেশে নৃবিজ্ঞান চর্চা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদানের কথাও প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করেন। শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শনিবার বিকালে রাজধানীর লালমাটিয়ায় নিজের বাসায় তার মৃত্যু হয় অধ্যাপক আরেফিনের। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তার দুই ভাই বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যা পক এবং মহীউদ্দীন খান আলমগীর আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বড় বোন নীলুফার বেগম বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব ছিলেন। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন অধ্যাপক আরেফিনের বড় ভাই মেসবাহ উদ্দীন খানের ছেলে। তিনি চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জানাজার আগে বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া সামুল আরেফিনের মরদেহ। সেখানে কৃতী এই নৃবিজ্ঞানীকে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। অন্যান্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা জানান জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, অনুপ্রাণ ও প্রাণরাসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও নব নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও  সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

শিার মানোন্নয়নই বড় চ্যালেঞ্জ : নাহিদ


স্টাফ রিপোর্টার : শিার গুণগত মান উন্নয়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে শিা প্রকৌশল অধিদফতরের পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
শিামন্ত্রী বলেন, শিার দিক থেকে দেশ এগিয়ে গেলেও ধারাবাহিকভাবে এর মান ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা আমাদের নতুন প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আধুনিক শিায় শিতি করে গড়ে তুলতে হবে। আমরা যদি তা না করতে পারি তাহলে সেটাই হবে আমাদের ব্যর্থতা। তাই শুধু শিার উন্নয়ন হলে হবে না, শিার মানেরও উন্নয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাকরির েেত্রও এখন মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকে শতকরা ৫১ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৫৩ শতাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শতকরা ৪৫ শতাংশ মেয়েরা শিাগ্রহণ করছে। ফলে ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে এখন মেয়েরাও এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি অনুকরণীয় দেশ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন এক সময় ছিলো যখন বাংলাদেশে শিার মানের উন্নয়ন ছিলো না। বিয়ের বয়স হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো। এখন আর সেই দিন নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে নেয়। বাংলাদেশকে অনুকরণ করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, শিা প্রকৌশলী অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা, শিা প্রকৌশলী অধিদফতর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি মো. আলতাফ হোসেনসহ প্রমুখ।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমান অর্জন করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন,দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমান অর্জন করতে হবে। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমান অর্জন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য শিক্ষক ও শিক্ষাদান পদ্ধতির গুনগত মান বাড়াতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বায়নের যুগে প্রযুক্তি ও মানব সম্পদ অপার সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এ সুযোগকে কাজে লাগাতেই বিশ্ববিদ্যলয়গুলোকে এ মান অর্জন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল সমাবর্তন বক্তৃতা প্রদান করেন। অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, ইউল্যাব-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রহমান এবং ইউল্যাব-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাজী আনিস আহমেদ।

 

মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে চারুকলায় অনুষ্ঠান শনিবার


ঢাবি প্রতিনিধি : বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ যে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে আসছে তা সম্প্রতি ইউনেস্কোর ইন্টার গবর্নমেন্টাল কমিটি অব আইসিএইচ কর্তৃক ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃত ও তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে  শনিবার দুপুর ১টায় চারুকলা অনুষদের বকুল তলায় ‘এসো গাহি মঙ্গলের জয়গান’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের সূচনালগ্নে যারা যুক্ত ছিলেন সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিতদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উত্তরীয় পরিয়ে দেবেন বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার এবং চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক রফিকুন নবী।

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০ শিক্ষকের তালিকায় স্থান পাওয়া শাহনাজ প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের শিক্ষার আলোকঘর

নিমাই ঘোষ ঃ প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলবাসে তুলে দিয়ে আসতাম। এসময় শ্রমজীবী শিশুরা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো। এদের মধ্যে দু’জন আমার নজর কাঁড়ে সেলুন শ্রমিক সাদমান ও লেদ শ্রমিক শামীম। বয়সে দুইজনই শিশু। অভাব তাদের এই পেশায় নামতে বাধ্য করে। পড়াশোনা করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে ইচ্ছে শক্তির কোন কমতি ছিল না। তাই একদিন তাদের সঙ্গে কথা বলতেই লেখাপড়া শেখার আগ্রহ প্রকাশ করলো। এরপর থেকে তাদের পড়াশোনা শেখানোর দায়িত্ব নিলাম। এভাবেই বলছিলেন বিশ্বসেরা ৫০ শিক্ষকের একজন বগুড়ার শাহনাজ পারভীন।

সেই ২০১৩সালের কথা। এই দুই শিশুকে বাড়িতে ডেকে এনে তিনি পড়াশোনা শেখাতে শুরু করেন। নতুন জীবনের শুরুটা তখন থেকেই। আস্তে আস্তে তারা ওপর ক্লাসে ওঠতে থাকে। দেখাদেখি অনেক কর্মজীবী শিশু শিক্ষকের কাছে ছুটে যায়। বাড়তে থাকে কর্মজীবী শিশু শিক্ষার্থীর সংখ্যা। চিন্তায় পড়ে যান এই শিক্ষক। তবে পথশিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এক পর্যায়ে হয়ে উঠেন জ্ঞানের বাতিঘর। সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর পাশাপাশি সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য গড়ে তুলেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম দিয়েছেন ‘শেরপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়’। বর্তমানে এই স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০জন। সবাই সমাজের অসহায় ঝরে পড়া অভাবী পরিবারের কর্মজীবী পথশিশু।

বগুড়ার শেরপুর পৌরশহরের শান্তিনগরস্থ নিজ বাসভবনে কথা হয় শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের সঙ্গে। জানা যায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠার কথা। এমনকি তাঁর যেসব কর্মকাে র কারণে আজ সারাবিশ্বে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। পাশাপাশি তার নাম উঠেছে বিশ্বসেরা শিক্ষক-২০১৭ (গোবাল টিচার প্রাইজ) এর তালিকায়। লন্ডনভিত্তিক ভারকি ফাউন্ডেশন বিশ্বের ১৭৯টি  দেশ থেকে প্রাপ্ত বিশ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে ৫০জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেন। এই তালিকায় গোবাল টিচার’র পুরস্কারের জন্য প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে স্থান পেয়েছেন শিক্ষক শাহনাজ পারভীন। তাঁর সঙ্গে এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তানসহ ৩৭টি  দেশের একজন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত পথশিশুদের শিক্ষাদানে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি দিতেই সংস্থারটি পক্ষ থেকে তৃতীয়বারের মত এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামি বছরের ১৯মার্চ দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি বিজয়ীদের ১০লাখ মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

শাহনাজ পারভীন জানান, স্কুলে যাতায়াতের পথে প্রায়ই ইভটিজিংয়ের শিকার হতেন। ফলে দফায় দফায় স্কুলে যাওয়া তার বন্ধ হয়। এমনকি বখাটেদের ভয়ে মাত্র ১৪বছর বয়সে বাবা-মা তাঁর বিয়ে দিয়ে দেন। তবে এরপরও হাল ছাড়েননি তিনি। উচ্চ শিক্ষার জন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। তাই বিয়ের পর আবারও পড়াশোনা শুরু করেন।
জন্ম ও শিক্ষা: শাহনাজ পারভীন ১৯৭৬ সালে বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার দাঁড়িগাছা গ্রামে শিক্ষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মানিক উল্লাহ ও মা মিসেস নুরজাহান বেগম দু’জনই পেশায় ছিলেন শিক্ষক।

 মায়ের কর্মস্থল শেরপুর পৌরশহরের উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। ধর্মীয় রক্ষণশীল বাবা-মা শাহনাজ পারভীনকে ভর্তি করে দেন শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে ১৯৯০সালে বৃত্তিসহ  প্রথম বিভাগে এসএসসি (দাখিল) পাস করেন। এরপর ১৯৯১সালে তাঁর বিয়ে হয় শেরপুর উপজেলার সাধুবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী মাষ্টারের ছেলে শিক্ষক মোহাম্মাদ আলীর সঙ্গে। কিন্তু  বিয়ের পর অদম্য শাহানাজের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের দৃঢ় মনোবলকে দুর্বল করতে পারেনি। ১৯৯২ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে কৃতিত্বের সাথে আলিম পাশ করেন। পরে কৃষিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারিবারিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি হাল ছাড়েননি। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পিতা-মাতা ও স্বামী শিক্ষক হওয়ার কারণে শিক্ষকতা পেশা  বেছে নেন।

কর্মজীবন: ২০০৩ সালে শাহানাজ পারভীন শেরপুর উপজেলা সদর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে শিক্ষক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া অবসর সময়টুকু প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করে চলেছেন। সরকারি ভাবে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হওয়ার দুই বছর পূর্বেই কর্র্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তিনি তার স্কুলে প্রাক প্রাথমিক ক্লাস চালু করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি দেন। একইসঙ্গে নিজের পেশায় অনবদ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা অর্জনে আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেন। সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য গড়ে তোলেন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শেরপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহের ৬দিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে  এই স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম। এদের পরিধেয় পোষাক, বইপুস্তক, খাতা-কলমসহ লেখাপড়ার যাবতীয় যোগান দেন তিনি। পাঠদান কার্যক্রমের সুবিধার্থে দু’জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের বেতনভাতার ব্যয়ও বহন করেন তিনি। এতো কিছু শুধুই পথশিশুদের শিক্ষা প্রসারে। পুরো আয়োজনের পেছনের কারিগর একজন নারী শিক্ষক। তিনি শাহনাজ পারভীন।

অবদান ও স্বীকৃতি: ছাত্র জীবনে বিভিন্ন সাময়ীকিতে তার লেখা ছাপা হতো। শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখে চলেছেন। তিনি ২০১০সালে “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন মান সম্মত শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ ” এই বিষয়ের উপর গবেষণা পত্র “অনুসন্ধান” রচনা করেন। ২০১৪ সালে “পাখির মুখে ফুলের হাসি” নামে একটি ছড়ার বই প্রকাশ করেন। শিক্ষক শাহানাজ পারভীন ২০১০সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১৩সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০১৬সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ক্লাব লিডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০১৭সালে একুশে পদক পাওয়ার জন্য রাজশাহী বিভাগ থেকে মনোনয়ন  পেয়েছেন তিনি।

শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, অভাব-অনটন অনেক শিশুকে স্কুলের বারান্দায় যেতে দিচ্ছে না। আবার অনেক শিশু একই সমস্যার শিকারে পরিণত হয়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। এসব শিশুদের অনেকেই প্রচ  মেধাবী। কিন্তু অভাব তাদের কর্মজীবীর তালিকায় নাম লেখাতে বাধ্য করছে। চোখের সামনে হরহামেশাই ঘটনাগুলো ঘটে চলছে। যা কখনো মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। তাই শিক্ষকতার পাশাপাশি তাদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নেই। প্রথমে বাড়িতে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু করি। পরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। সেখানে সাধ্যানুযায়ি এসব সুবিধা বঞ্চিত কর্মজীবী পথশিশুদের লেখাপড়া  শেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। শাহনাজ পারভীন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।

পারিবারিক জীবন: চার সদস্যের সংসার তাঁর। বড় মেয়ে মাসুমা মরিয়ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রথমবর্ষে অধ্যয়নরত। ছোট মেয়ে আমেনা মুমতারিন শ্রেয়া বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। স্বামী মোহাম্মাদ আলী শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় আরবী প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য: উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, এক কথায় শাহনাজ পারভীন একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তিনি আমাদের গৌরব। দেশ ও জাতির সাথে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের জন্য তিনি বিরাট সম্মান বয়ে এনেছেন।

গণহত্যায় জড়িতদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঢাবি উপাচার্যের

ঢাবি প্রতিনিধি : একাত্তরে বুদ্ধিজীবীসহ লাখো মানুষ হত্যায় জড়িতদের রাজনীতি করার অধিকার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক।  বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মদদে রাজাকার, আল বদর আর আল শামসের সদস্যরা জাতির যে মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে তাদের অনেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। উপাচারর্য সে কথা স্মরণ করে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রাজনীতিক অধিকার রহিত করতে হবে। তাদের কোন রাজনীতিক পরিচয় থাকবে না, রাজনীতিতে তাদের কোনো অধিকার থাকবে না। এ দেশে বসবাস করবে, কিন্তু সাধারণ জনতা তাদের মেনে নেবে না। মেধাবী সন্তানদের মৃত্যুতে শহীদ পরিবারের পাশাপাশি জাতিরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ মৃত্যু কত বেদনাদায়ক, আজ শহীদ পরিবারে স্বজনদের নিকট সেটা উপলদ্ধি করা যাবে, আমরাও উপলদ্ধি করি। বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি- শিক্ষক, চিকিৎসক হত্যাকান্ডের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্পৃক্ততা ছিল বলেও দাবি করেন উপাচারর্য। উপাচার্য এসময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে দন্ড পাওয়া প্রবাসী দুই যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের কথা উল্লেখ করে তাদের দেশে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান। আরেফিন সিদ্দিক একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ‘পুনর্বাসনের’ জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপচার্য (প্রশাসন) মো. আখতারুজ্জামান,  উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমদ ও শিক্ষক সমিতির  সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়াও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সকালে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনের কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গনের স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে। মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে  শ্রদ্ধা জানানো হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হলের মসজিদ ও উপাসনালয়ে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগে ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিতে ৩ থেকে ২০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  রোববার দুপুরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য ও ফলাফল প্রকাশ করেছে টিআইবি।
সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ওঠে আসে। অর্থ লেনদেনের সঙ্গে উপাচার্য, শিক্ষক নেতা, রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, ছাত্রনেতাসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির চেয়ারম্যান ইফতেখারুজ্জামান, প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেজাউল করিম ও দিপু রায়, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোস্তফা কামাল, টিআইবির সদস্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য সরকার কাজ করছে :শিক্ষামন্ত্রী

প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, তাই আমাদের বিশ্ব ও গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জন করতে হবে। আর এই চ্যালেঞ্জ অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর আমরা ইংরেজি বছরের প্রথম দিন প্রথম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দিয়ে বই ঊৎসব দিবস পালন করছি। এবারও প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত গতবারের চেয়ে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৩টি বই বেশি ছাপা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় সকল স্কুলে বই পৌঁছে গেছে। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও নির্ধারিত ১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বই বা পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালিত হবে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝরে পড়া কমছে। যার ফলে প্রতিবছরই বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে।

গত বছর বই বিতরণ করা হয়েছিল ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২টি। আর এবার বিতরণ করা হবে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আমরা ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব। আর আগামী দুই বছরের মধ্যে বিরামহীনভাবে বিদ্যুৎ সরকার দিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হলো নতুন প্রজন্ম। তাই তাদেরকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের জ্ঞান, দক্ষতা ও শিক্ষা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র জ্ঞান ও দক্ষতা দিলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের আসল শক্তি হলেন আমাদের শিক্ষকরা। তিনি শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে শিক্ষার্থীদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বিগত বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা আপনাদের শাসনামলে সৎ লোকের শাসনের নাম করে দেশ শাসন করেছেন। আর সে সময় দেশ কয়েকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

পাঠ প্রস্তুতি
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অধ্যাপক রেজাউল করিম বরিশাল জেলার মধ্যযুগের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে সে যুগের সাহিত্য, নথিপত্র, বিভিন্ন মানুষের জীবনী, মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, মুদ্রা, লিপি, ইমারত প্রভৃতির ওপর স্টাডি করেন এবং বিভিন্ন রকম তথ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় জনশ্র“তির সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে তা যাচাই-বাছাই করে তিনি বরিশাল জেলার অনেক অজানা তথ্য আবিষ্কার করেন।
(ক)    ‘ইতিহ’ শব্দের অর্থ কী?
(খ)    ইতিহাস কিভাবে মানুষের জ্ঞান ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করে?
(গ)    উদ্দীপকে অধ্যাপক মিজানুর রহমান ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে যেসব জিনিস স্টাডি করেছেন, সেগুলোকে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ)  উদ্দীপকে অধ্যাপক মিজানুর রহমান যেভাবে ঢাকা জেলার বহু অজানা তথ্য আবিষ্কার করেছেন,  বাস্তবজীবনে এ ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :
ক)    ‘ইতিহ’ শব্দের অর্থ ঐতিহ্য।

খ)    ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়। অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম, গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। সে ক্ষেত্রে জাতীয়তাবোধ, জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাস পাঠের বিকল্প নেই।

গ)  উদ্দীপকে অধ্যাপক রেজাউল করিম ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে যেসব জিনিস স্টাডি করেছেন, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়। যেসব তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব, তাকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়। ইতিহাসের উপাদানকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- লিখিত উপাদান ও অলিখিত উপাদান। উদ্দীপকে অধ্যাপক রেজাউল করিম বরিশাল জেলার মধ্যযুগের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে সে যুগের সাহিত্য, নথিপত্র, বিভিন্ন মানুষের জীবনী প্রভৃতির ওপর স্টাডি করেন। এগুলোকে ইতিহাসের লিখিত উপাদান বলে। এ ছাড়া লিখিত উপাদানের মধ্যে আরো রয়েছে— বৈদেশিক বিবরণ, দলিলপত্র প্রভৃতি। সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে— বেদ, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র প্রভৃতি। বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ সব সময়ই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে বিবেচিত হয়। যেমন— ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে বতুতার বর্ণনা। এ ছাড়া রয়েছে নানা রূপকথা, কিংবদন্তি, কল্পকাহিনী, সরকারি নথি, চিঠিপত্র প্রভৃতি। এগুলো ছাড়া অধ্যাপক মিজানুর রহমান মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, মুদ্রা, লিপি, ইমারত নিয়েও গবেষণা করেন। এগুলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদান বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি স¤পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই, সে বস্তু বা উপাদানই অলিখিত উপাদান বা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনভুক্ত। যেমন— মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত প্রভৃতি। ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি অধ্যাপক রেজাউল করিম ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে যেসব জিনিস অর্থাৎ সাহিত্য, নথিপত্র, বিভিন্ন মানুষের জীবনী, মূর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, মুদ্রা, লিপি, ইমারত প্রভৃতির স্টাডি করেছেন, সেগুলোকে ইতিহাসের উপাদান বলা হয়।

ঘ)  উদ্দীপকে অধ্যাপক রেজাউল করিম যেভাবে বরিশাল জেলার বহু অজানা তথ্য আবিষ্কার করেছেন, বাস্তবজীবনে এ ধরনের কাজের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অধ্যাপক রেজাউল করিম মূলত যে কাজটি করেছেন তা হলো, তিনি অতীতের বিভিন্ন লিখিত ও অলিখিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অতীতের সঠিক ইতিহাস উ™ঘাটন করেছেন। ইতিহাস এক প্রজন্মের সভ্যতা ও সংস্কৃতি স¤পর্কে আরেক প্রজন্মকে অবহিত করে। মানুষ তার অতীত ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করে। উদ্দীপকে অধ্যাপক রেজাউল করিম বরিশাল জেলার ইতিহাসের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গবেষণা করে এ জেলার অনেক অজানা ইতিহাস আবিষ্কার করেছেন। বাস্তবজীবনে এ ধরনের কাজ খুব প্রয়োজন। কেননা ইতিহাস পাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যৎ অনুধাবন করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজের ও নিজ দেশ স¤পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। তা ছাড়া অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম, গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধু করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী ও  আত্মবিশ্বাসী হতেও সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠ মানুষকে ভবিষ্যৎ স¤পর্কে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্যটা সহজে বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি স¤পর্কে সচেতন থাকে এবং সে অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যায়। উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে অধ্যাপক রেজাউল করিম যেভাবে বরিশাল জেলার বহু অজানা তথ্য আবিষ্কার করেছেন, বাস্তবজীবনে এ ধরনের কাজ খুবই প্রয়োজন।

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

১।    মুদ্রা, শিলালিপি, তাম্রলিপি প্রভৃতি হচ্ছে—
র. প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন
রর. ইতিহাসের অলিখিত উপাদান
ররর. ইতিহাসের লিখিত উপাদান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. র    খ. র ও রর   গ. র ও ররর   ঘ. র, রর ও ররর
২।    নিচের কোন স্থানে প্রাচীন যুগের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে?
র. সিন্ধু       রর. মহাস্থানগড়      ররর. ময়নামতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. র   খ. র ও রর    গ. র ও ররর   ঘ. র, রর ও ররর
৩।    উয়ারী-বটেশ্বর কোথায়?
(ক) ঢাকা জেলায়    (খ) মুন্সীগঞ্জ জেলায়
(গ) নরসিংদী জেলায়    (ঘ) বগুড়া জেলায়
৪।    ইতিহাসকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
(ক) দুই ভাগে     (খ) তিন ভাগে
(গ) চার ভাগে     (ঘ) পাঁচ ভাগে
৫।    ইতিহাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—
র. ইতিহাস অতীতমুখী
রর. ইতিহাসে আবেগের কোনো ঠাঁই নেই
ররর. ইতিহাস নিরন্তর প্রবহমান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. র   খ. র ও রর   গ. র, রর ও ররর   ঘ. র ও ররর
৬।    প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রথম পর্বের মানুষের কর্মকা —
(ক) কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল
(খ) শিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল
(গ) খাদ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল
(ঘ) শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ৭ ও ৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
সজল তার গ্রামের অতীত ইতিহাস জানার জন্য বিভিন্ন সরকারি নথি, চিঠিপত্র ইত্যাদি স্টাডি করে।
৭।    সজল ইতিহাসের কী ধরনের উপাদান স্টাডি করে?
(ক) লিখিত উপাদান    (খ) অলিখিত উপাদান
(গ) সরকারি উপাদান    (ঘ) ঐতিহাসিক উপাদান
৮।    সজলের এ ধরনের কাজ মানুষের কী কাজে আসে?
র. জ্ঞান বৃদ্ধি করে    রর. সচেতনতা বৃদ্ধি করে
ররর. বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. র    খ. র ও রর   গ. র ও ররর   ঘ. র, রর ও ররর
৯।    কোনো বিশেষ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে ইতিহাস রচিত হয়, তাকে বলা যায়—
(ক) সামাজিক ইতিহাস    (খ) রাজনৈতিক ইতিহাস
(গ) বস্তুগত ইতিহাস    (ঘ) বিষয়বস্তুগত ইতিহাস
১০।    মার্ক্সবাদের প্রচারের পর—
(ক) রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস রচিত হতে থাকে।
(খ) অর্থনীতি, সমাজ ও শিল্পকলার ইতিহাস রচিত হতে থাকে।
(গ) সাহিত্য ও শিল্পকলার ইতিহাস রচিত হতে থাকে।
(ঘ) বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস রচিত হতে থাকে।

উত্তর :
১. খ ২. ঘ ৩. গ  ৪. ক ৫. গ ৬. গ ৭. ক ৮. ঘ ৯. ঘ ১০. খ।

শিাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউট বাধ্যতামূলক করা হবে

দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউট বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে টিএসসি অডিটরিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের ৫০ বছর পূর্তি উপলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিামন্ত্রী বলেন, রোভার স্টাউটে কাজ করা একজন শিার্থী চারিত্রিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে যায়। যেকোনো দুর্গম এলাকায় প্রাকৃতিক দুযোর্গে তারা কাজ করে থাকে। তারা দেশের জন্য কাজ করে ও কল্যাণ বয়ে আনে। সারাদেশে কম বেশি স্কাউটের প্রসারতা আছে। তবে দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠানে স্কাউট বাধ্যতামূলক করা হবে, যেন প্রসারতা বাড়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে শিা ব্যবস্থা আছে তা দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। বিশ্বমানের শিা ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে উন্নত একটি শিা প্রদ্ধতি প্রণয়ন করা জরুরি। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার হিসেবে প্রস্তুত করতে কাজ করছে শিা মন্ত্রণালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি ও প্রো উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, স্কাউট ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম আজাদ, ডা. মো. মোফাজ্জেল হকসহ আরো অনেকে।

বাংলা ২য় পত্র

সারাংশ (অনুশীলনী)

১।     অপরের জন্য তুমি প্রাণ দাও, আমি তা বলতে চাইনে। অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ তুমি দূর কর। অপরকে একটুখানি সুখ দাও। অপরের সাথে একটুখানি মিষ্টি কথা বল। পথের অসহায় মানুষটির দিকে একটু করুণ কটাক্ষ নিক্ষেপ কর, তাহলেই অনেক হবে। চরিত্রবান, মনুষ্যত্বস¤পন্ন মানুষ নিজের চেয়ে পরের অভাবে বেশি অধীর হন, পরের দুঃখকে ঢেকে রাখতে গৌরব বোধ করেন।

সারাংশ : পরের জন্য জীবন বিলিয়ে না দিয়েও মানুষের উপকার করা যায়। দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো, তাদের সঙ্গে মিষ্টি কথা বলার মতো ছোট ছোট উপকারে ব্রতী হওয়ার মধ্যেই মনুষ্যত্বের প্রকাশ ঘটে।

২।    নিষ্ঠুর ও কঠিন মুখ শয়তানের। কখনো নিষ্ঠুর বাক্যে প্রেম ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠা হয় না। কঠিন ব্যবহারে ও রূঢ়তায় মানবাত্মার অধঃপতন হয়। সাফল্য কিছু লাভ হইলেও যে আত্মা দরিদ্র হইতে থাকে, সুযোগ পাইলেই সে আপন পশু স্বভাবের পরিচয় দেয়। যে পরিবারের কর্তা ছোটদের সঙ্গে অতিশয় কদর্য ব্যবহার করে, সে পরিবারের প্রত্যেকের স্বভাব অতিশয় মন্দ হইতে থাকে। শিশুর প্রতি একটি নিষ্ঠুর কথা, এক একটা মায়াহীন ব্যবহার, তাহার মনুষ্যত্ব অনেকখানি কমাইতে থাকে। অতএব, শিশুকে নিষ্ঠুর কথা বলিয়া তাহার সঙ্গে প্রেমহীন ব্যবহার করিয়া তাহার সর্বনাশ করিও না। একটা মধুর ব্যবহার অনেকখানি রক্তের মতো শিশুর মনুষ্যত্বকে সঞ্জীবিত করে। পরিবারের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নতির জন্য সকলের চেষ্টা করা উচিত। ইহাই পরিবারের প্রতি প্রেম।

সারাংশ : নিষ্ঠুর ও কঠিন আচরণে শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। এ ধরনের আচরণ মনুষ্যত্বের অন্তরায়। তাই পারিবারিক প্রেম ও সর্ম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য একে অপরের সঙ্গে রূঢ় ও কঠিন ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

৩।     এ জগতে যিনি ওঠেন, তিনি সাধারণের মধ্যে জন্মিয়া, সাধারণের ওপর মস্তক তুলিয়া দাঁড়ান। তিনি অভ্যন্তরীণ মাল-মসলার সাহায্যেই বড় হইয়া থাকেন। কুষ্মা -লতা যেমন যষ্ঠির সাহায্যে মাচার ওপর ওঠে, তেমনি কোনো কাপুরুষ, কোনো শ্রমকাতর মানুষ কেবল অপরের সাহায্যে জগতে প্রকৃত মহত্ত্ব লাভ করিতে পারিয়াছে? এ জগতে উঠিয়া-পড়িয়া, রহিয়া-সহিয়া, ভাঙিয়া-গড়িয়া, কাঁদিয়া-কাটিয়া মানুষ হইতে হয়। ইহা ছাড়া মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্ব লাভের আর কোনো পথ নাই।

সারাংশ : এ পৃথিবীর অসাধারণ ব্যক্তিরা সাধারণের মধ্যেই জন্ম নেন। দুঃখ-কষ্ট, ঘাত-প্রতিঘাতকে সহ্য করে, নিজের শক্তি বলেই তাঁরা মাথা তুলে দাঁড়ান। অপরের সাহায্য নিয়ে কেউ প্রকৃত মহত্ত্ব লাভ করতে পারেন না। মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্ব লাভের জন্য জীবনে অক্লান্ত সংগ্রাম করতে হয়।

৪।    তুমি জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করিতে চাও? কিন্তু সে জন্য তোমাকে প্রাণান্ত পরিশ্রম করিতে হইবে। মহৎ কিছু লাভ করিতে হইলে কঠোর সাধনা দরকার। তোমাকে অনেক দুঃখ সহ্য করিতে হইবে। অনেক বিপদ-আপদের সম্মুখীন হইতে হইবে। এই সব তুচ্ছ করিয়া যদি তুমি লক্ষ্যের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হইতে পার, তবে তোমার জীবন সুন্দর হইবে। আরো আছে, তোমার ভেতরে এক ‘আমি’ আছে। সে বড় দুরন্ত। তাহার স্বভাব পশুর মতো বর্বর ও উচ্ছৃঙ্খল। সে কেবল ভোগ-বিলাস চায়, সে বড় লোভী। এই ‘আমি’ কে জয় করিতে হইবে। তবেই তোমার জীবন সার্থক ও সুুন্দর হইয়া উঠবে।

সারাংশ : কঠোর পরিশ্রম দ্বারাই জীবনকে সার্থক করে তোলা যায়। জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে ‘আমিত্ব’ অহংকারকে ত্যাগ করতে হবে এবং ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকতে হবে। সর্বোপরি লোভ-লালসাকে জয় করতে পারলেই জীবন সুন্দর ও সার্থক হয়ে উঠবে।

৫।     জীবনের কল্যাণের জন্য, মানুষের সুখের জন্য এ জগতে যিনি যত কথা বলিয়া থাকেন তাহাই সাহিত্য। বাতাসের ওপর চিন্তা ও কথা স্থায়ী হইতে পারে না, মানবজাতি তাই অক্ষর আবিষ্কার করিয়াছে। মানুষের মূল্যবান কথা, উৎকৃষ্ট চিন্তাগুলি কোনো যুগে পাথরে, কোনো যুগে গাছের পাতায় এবং বর্তমানে কাগজে লিখিয়া রাখা হইয়া থাকে। যে নিতান্তই হতভাগা, সেই সাহিত্যকে অনাদর করিয়া থাকে। সাহিত্যে মানুষের সকল আকাক্সক্ষার মীমাংসা হয়। তোমার আত্মা হইতে যেমন তুমি বিচ্ছিন্ন হইতে পার না, সাহিত্যকেও তুমি তেমনি অস্বীকার করিতে পার না— উহাতে তোমার মৃত্যু, তোমার দুঃখ ও অসম্মান হয়।

সারাংশ : মানুষের কল্যাণ ও সুখের জন্য সুবিন্যস্ত কথামালাই সাহিত্য। অক্ষর আবিষ্কারের পর যখন কাগজ আবিষ্কৃত হয়নি, তখন মানুষের মূল্যবান কথা, উৎকৃষ্ট চিন্তা কখনো পাথরে, কখনো গাছের পাতায় লিখে রাখত। সাহিত্যের অনাদর অনুচিত। মানুষের সব আকাক্সক্ষার মীমাংসা সাহিত্যে নিহিত। সাহিত্য আত্মার মতোই অবিচ্ছিন্ন।

সারমর্ম (অনুশীলনী)
১।   আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত,
গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত।
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান,
তাজা জীবন্ত সে নব সৃষ্টি শ্রম-মহান,
চলমান-বেগে প্রাণ-উচ্ছল,
রে নবযুগের স্রষ্টা দল,
জোর কদমে চল রে চল।

সারমর্ম : নষ্ট অতীতকে পেছনে ফেলে, সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আÍপ্রত্যয়ী যুবসমাজ এক নতুন জগৎ সৃষ্টি করবে। তাদের সাধনায়ই জন্ম নেবে এক নতুন পৃথিবী। তাই প্রাণচঞ্চল তরুণদের সজোরে সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে।

২।    একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে,
দহিল হৃদয় মম সেই ক্ষোভানলে।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।
সেথা দেখি একজন পদ নাহি তার,
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন,
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ।

সারমর্ম : পরের জন্য দুঃখ অনুভব করলে নিজের দুঃখ হ্রাস পায়। পদহীন দুঃখীজনের কথা চিন্তা করলে কারো পায়ে জুতা না থাকার দৈন্য মনে স্থান পায় না। আসলে পরের দুঃখ-কষ্টকে উপলব্ধি করার মধ্যেই আÍতৃপ্তি নিহিত।

৩।    এই সব মূঢ় ¤¬ান মূক মুখে
দিতে হবে ভাষা, এই সব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে
ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা; ডাকিয়া বলিতে হবে—
মুহূর্ত তুলিয়া শির একত্র দাঁড়াও দেখি সবে,
যার ভয়ে তুমি ভীত সে অন্যায় ভীরু তোমা-চেয়ে,
যখনি জাগিবে তুমি তখনই সে পলাইবে ধেয়ে।
যখনি দেখিবে তুমি সম্মুখে তাহার তখনি সে
পথ কুক্কুুরের মত-সংকোচে সন্ত্রাসে যাবে মিশে।
দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার;
মুখে করে আস্ফাালন, জানে সে হীনতা আপনার
মনে মনে।

সারমর্ম : সবাইকে দীন-দুঃখী নিপীড়িতদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তাদের বুকে সাহস ও মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। অত্যাচারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তার হীন কর্মের জন্য সে মনের দিক থেকে দুর্বল থাকে বলে সবাই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে অত্যাচারী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিদূরিত হয়।

৪।      মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে,
স্বীয় কীর্তি-ধব্জা ধরে,
আমরাও হব বরণীয়।
সময় সাগর তীরে
পদাঙ্ক অঙ্কিত করে,
আমরাও হব যে অমর
সেই চিহ্ন লক্ষ্য করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর।
করো না মানবগণ,
বৃথা ক্ষয় এ জীবন
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে,
সংকল্প করেছ যাহা
সাধন করহ তাহা,
ব্রতী হয়ে নিজ নিজ কাজে।

সারমর্ম : জীবনের আনন্দ ও সার্থকতা কর্মস¤পাদনের মধ্যে নিহিত। মহৎ ব্যক্তিরা অমর কীর্তি দ্বারা পৃথিবীর বুকে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁদের মতো কর্মোদ্দীপনাকে পাথেয় করে আমরাও সম্মানের স্থান অধিকার করব। কর্মস¤পাদন দ্বারা যেখানে জীবনের সার্থকতা আসে, সেখানে কর্মহীন থেকে জীবন নষ্ট করা অনুচিত।

৫।    শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে প শ্রম
ফল চাহে, সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?

সারমর্ম : উপযুক্ত সময়ে সব কাজ স¤পন্ন না করলে যথার্থ ফল লাভ করা যায় না। শৈশবে সদুপদেশ গ্রহণ না করলে, জীবনে কারো যেমন মূর্খতা ঘোচে না, সঠিক সময়ে জমি চাষ না করলে যেমন ভলো ফসল পাওয়া যায় না, খেয়াতরী চলে গেলে যাত্রী যেমন পার পায় না, ঠিক তেমনি সময় মতো সব কাজ না করলে—মানবজীবনে সার্থকতা লাভ করা যায় না। তাই জীবনে সার্থকতা অর্জনের জন্য শৈশব থেকেই সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ের সদ্ব্যবহারের অনুশীলন করা উচিত।

৬।    জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান,
মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি, কত বোন দিল সেবা,
বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারী,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে, বিজয়-লক্ষ্মী নারী।

সারমর্ম : যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর সব বড় বড় কাজের মূলে রয়েছে নারী ও পুরুষের যৌথ ভূমিকা ও অবদান। পুরুষের পাশে থেকে সব সময় নারী তাদের শক্তি, সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু তবুও নারীর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি; ইতিহাসের পাতায় তাদের ভূমিকা যথাযথ লিপিবদ্ধ হয়নি।