সকাল ১০:১৮, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ শিক্ষা

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ঢাবির আই আর ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষার্থীও রয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দু’জনকে আটক করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে জালিয়াত সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করে পুলিশ।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাবির ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ৬০৫৪ নম্বর কক্ষে ভর্তি-ইচ্ছুক তানসেনের পরিবর্তে ঢাবি শিক্ষার্থী শাহজাহান পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় শাহজাহানকে দেখে পরীক্ষার হলের শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে নিশ্চিত হয়ে তাঁকে আটক করা হয়। তার মাধ্যমে তানসেনকে ফাঁদে ফেলে আটক করা হয়

। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা প্রক্সির মাধ্যমে একজনের পরীক্ষা অন্যজনে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে তাঁদের শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম। আটককৃত ঢাবি শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাহজাহান আলী। তিনি ঢাকা কলেজে থেকে ২০১৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা তানসেন মিয়ার হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছেলেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জালিয়াত চক্র সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে আটককৃতদের পরিচয় জানা যায়নি।

জালিয়াতি চক্র ধরা পড়ার বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, ‘আমরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, ঢাবি শিক্ষার্থী শাহজাহান ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী তানসেনের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তানসেনের প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে শাহজাহানের ছবির মিল ছিল না। তাই আমরা শাহজাহানকে আটক করি। পরে তার মাধ্যমে তানসেনকে আটক করি। আটককৃতদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের মোট ৫৩টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, কোনো ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ছাড়াই প্রথম পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিষয়টি বেশ ভালোভাবে কাজ করেছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার স্বপ্নের জায়গা। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ‘গ’ ইউনিটের ন’টি বিভাগে ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ২৯ হাজার ৯৫৪ জন ভতিচ্ছু পরীক্ষার্থী আবেদনপত্র জমা দেন। এ হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৪।

 তবে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তা জানা যায়নি। পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, মোবাইল ফোনসহ যোগাযোগ করা যায়- এমন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, অসদুপায় ও অনিয়ম ঠেকাতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ বিএফএ (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে চারুকলা অনুষদসহ ক্যাম্পাসের মোট ১১টি কেন্দ্রে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চ-ইউনিটে ১৩৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৭২।

 

মাধ্যমিকের ১১টি পাঠ্যবই পরিমার্জন হল

মাধ্যমিক স্তরের ১১টি পাঠ্যবই পরিমার্জন করে সেগুলো শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের হাতে তুলে দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল নবম-দশম শ্রেণির গণিত, উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞানের পরিমার্জিত বই মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এর আগে বাংলা সাহিত্য, ইংলিশ ফর টুডে, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, বাংলাদেশ ও বিশ্ব সভ্যতা এবং অর্থনীতির পরিমার্জিত বই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেন শিক্ষাবিদরা।

হিসাববিজ্ঞানের পরিমার্জিত বই শিগগিরই পাওয়া যাবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পরিমার্জিত বই তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষাবিদদের সুপারিশের ভিত্তিতে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে পাঠ্যপুস্তক আরও সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজ করতে গত ৮ জানুয়ারি দুটি কমিটি করে সরকার। একটি কমিটিকে ২০১২ সালের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে পাঠ্যবই আরও পাঠযোগ্য করার সুপারিশ এবং আরেক কমিটিকে নবম-দশম শ্রেণির কয়েকটি বই পরিমার্জন করে সুখপাঠ্য, আকর্ষণীয় ও সহজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাধ্যমিক স্তরের পরিমার্জন হওয়া ১১টি বই হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিকের অন্যান্য শ্রেণির বইগুলোও পরিমার্জন করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বলন, এবারের যে বড় কাজটি হয়েছে, আমার মনে হয় সেটি সকল মহলে প্রশংসিত হবে এবং আমাদের ছাত্ররা উপকৃত হবে। অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল বলেন, আমি সাহস করে ছয়টি বই পরিমার্জনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এখন এগুলো যারা ছাপাবে, তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া যাবে। পেইজ মেকিং কিংবা আর কিচ্ছু করতে হবে না।

কিছু অনুরোধ ছিল যে বইগুলো রঙিন করতে হবে। উনারা (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) অনুমোদন দিয়েছেন, এজন্য হয়তো তাদের কিছু বেশি ফান্ড লেগেছে। বলেছিলাম বিজ্ঞানের কিছু বিষয় আছে, সেগুলো ব্যাখ্যা করতে কিছু জায়গা বেশি দিতে হয়, কাজেই বইয়ে সাইজ বড় হতে পারে। উনারা আমাদের সেই ফ্রিডম দিয়েছেন। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, একটা ছেলে বা একটা মেয়ে বইটা হাতে নিলে তার মনটা ভালো হয়ে যায় যে, আহ কী সুন্দর বই! এটা আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্নটা নিজে নিজে করতে পারতাম না, যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বাধীনতাটা না দিত। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি যাতে এটা নির্ভুল হয়। (বই) হাতে তুলে দিলে তাদের (শিক্ষার্থী) মনটা ভালো হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পরিশ্রমটা স্বার্থক হয়েছে। আমরা পরিশ্রমের কোনো ঘাটতি করিনি। গত ১০ মাস আমি কোনো দিন রাত ২টার আগে ঘুমাইনি। অধ্যাপক কায়কোবাদ বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে চাইলে খুব ভালো মানের পাঠ্যপুস্তক করতে হবে। ভালোমানের পাঠ্যপুস্তক প্রণিত হলে অবশ্যই শিক্ষার মান ভালো হবে।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ঢাবির নতুন উপাচার্য

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা নিয়ে সমালোচনা এবং কয়েকজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটের করা মামলায় ওই প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাওয়ার এক মাসের মাথায় সরকারের তরফ থেকে এ সিদ্ধান্ত এল।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিধি অনুযায়ী তিনি পদসংশ্লিষ্ট সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। রাষ্ট্রপতি মনে করলে যেকোনো সময় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।

বরগুনার পাথরঘাটায় গ্রামের বাড়িতে অবস্থানরত অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে শিক্ষামন্ত্রী ফোনে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’ ১৯৯০ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ২০০৪ সালে অধ্যাপক হন আখতারুজ্জামান।

এই ফুলব্রাইট স্কলার পিএইচডি করেন ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও কলা অনুষদে ডিনের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে ২০১৬ সালের ২২ জুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের নীল দলের প্যানেল থেকে ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ মেয়াদে তিন দফা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। সে সময় সমিতির সভাপতি ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, যাকে ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি উপাচার্য হিসেবে সাময়িক নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচন ছাড়াই সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে আরও চার বছরের জন্য নিয়োগ পান অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। তার সেই মেয়াদ শেষ হয় গত ২৪ অগাস্ট।

তার মেয়াদ পূর্তির আগে আগে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ বা নির্বাচন না করেই ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা ডাকা হলে তাতে আপত্তি জানিয়ে আদালতে রিট আবেদন করেন ১৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট। ওই আবেদনে হাই কোর্ট সিনেট সভা স্থগিত করে রুল দিলেও চেম্বার আদালতে হাই কোর্টের আদেশ আটকে যায়। এরপর গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ভবনে সিনেটের সভা বসে।বিএনপিপন্থি সমর্থকদের বর্জন, সরকার সমর্থকদের একাংশের আপত্তি এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে ওই সভায় ভোট ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়।

বিকল্প কোনো প্রস্তাব সভায় না আসায় অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীল দলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেলই সিনেটের অনুমোদন পায়। নিয়ম অনুযায়ী ওই তিনজনের মধ্য থেকেই একজনকে পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত ৩ অগাস্ট সিনেটে মনোনীত ওই প্যানেলের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করেই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেটের বিশেষ সভা ডাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্ট যে রুল দিয়েছিল, তা চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে আপিল বিভাগ। সেই আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকই উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এ বিষয়ে আগামী ৩ অক্টোবর হাই কোর্টে শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। তার আগেই ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের ১১ (২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্যানেলের বাইরে থেকে অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দিলেন।

 

ঢাবির ১০ শিক্ষার্থীর অধ্যাপক সিতারা পারভীন পুরস্কার লাভ

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৭ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করায় ১০জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘অধ্যাপক সিতারা পারভীন পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে রমেশ চন্দ্র মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- নওশীন জাহান ইতি, প্রিয়াংকা কুন্ডু, মো. মাসুদ আল মাহদী, ফহিম বিনতে সিদ্দিক, ফরহাদ উদ্দিন, অর্নব বিশ্বাস, নাদিয়া নাহরীন, জোহরা, মো. বনি মমিন ইসলাম ও শফিকুল আলম।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে ‘আমি ও আমার চলচ্চিত্র’ শীর্ষক ‘অধ্যাপক সিতারা পারভীন স্মারক বক্তৃতা’ প্রদান করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার মসিউদ্দিন শাকের। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংবাদিকতা বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রয়াত অধ্যাপক সিতারা পারভীনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মানুষের মৃত্যু চরম সত্য, মানুষ চলে যায় কিন্তু তার যে স্মৃতি রেখে যায় তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই স্মৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, অনুপ্রেরণা নেওয়া যায়। উপাচার্য অধ্যাপক সিতারা পারভীনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য এবং প্রতিবছর বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করার জন্য ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া মানেই সফল হওয়া নয়। মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ মানেই সফল মানুষ, মূল্যবোধ ধারণ করে প্রকৃত আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে অবদান রাখার জন্য বৃত্তিপ্রাপ্তদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। পরিশেষে উপাচার্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানুষকে ভালবাসার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।  

উল্লেখ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের কন্যা এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী অধ্যাপক সিতারা পারভীন ২০০৫ সালের ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

আগামী ১ নভেম্বর থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফেকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বুধবার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে।

আগামী ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্র আসতে পারবে না। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এবার থেকে জেএসসির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্মী ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা হবে না। এই তিন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে সরবারহ করতে বলা হয়েছে।

জেএসসি সূচি: ১ নভেম্বর বাংলা প্রথমপত্র, ২ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ৫ নভেম্বর ইংরেজি প্রথমপত্র, ৬ নভেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, ৭ নভেম্বর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খ্রিষ্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে। ৮ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৯ নভেম্বর বিজ্ঞান, ১১ নভেম্বর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য), ১২ নভেম্বর গণিত, ১৩ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য), ১৪ নভেম্বর কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, আরবি, সংষ্কৃত, পালি, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ১৮ নভেম্বর চারু ও কারুকলা (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য) বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

জেডিসি সূচি: ১ নভেম্বর কুরআন মাজীদ ও তাজবিদ, ২ নভেম্বর আকাইদ ও ফিকহ, ৪ নভেম্বর আরবি প্রথম পত্র, ৫ নভেম্বর আরবি দ্বিতীয় পত্র, ৬ নভেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৭ নভেম্বর বাংলা প্রথম পত্র, ৮ নভেম্বর বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হবে।৯ নভেম্বর কৃষি শিক্ষা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি, ১১ নভেম্বর গণিত, ১২ নভেম্বর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, ১৩ নভেম্বর ইংরেজি প্রথমপত্র, ১৪ নভেম্বর ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র, ১৬ বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ১৮ নভেম্বর বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

 

প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-অভিভাবক : শিক্ষামন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষক ও অভিভাবক জড়িত দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘কিছু শিক্ষক টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। এর সঙ্গে কিছু অভিভাবকও জড়িত। তিনি বলেন, এই শিক্ষক ও অভিভাবকরা চুরি করে প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীকে জিপিএ-৫ পেতে সহযোগিতা করছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় মন্ত্রী শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব কাজে সবাইকে দুর্নীর ঊর্দ্ধে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মাউশির মহাপরিচালক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।পরে মাউশির আঞ্চলিক, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাঝে এক হাজার ৩৪টি ল্যাপটপ, ৬৪০টি মোটরসাইকেল প্রদান করা হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

সাড়ে ৮ বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, গত সাড়ে আট বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। এরফলে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ,মাদরাসা, কলেজ ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে সাড়ে ১৯ হাজার ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হবে। শিক্ষামন্ত্রী শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের সাথে মতবিনিময় এবং নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের মাঝে মোটর সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ৮৫১টি একাডেমিক ভবন নির্মান করা হয়েছে এবং আরো এক হাজার ৫১টি ভবনের নির্মান কাজ চলছে। ৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হবে। ৩ হাজার ২২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার ৫০০ কলেজ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরো এক হাজার ১৭০টি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ২০০টি সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণে এক হাজার ৮০৫ কোটি টাকার কাজ এ মাসেই শুরু হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজ গুলোতে ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ করা হবে। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক হাজার ১৮৩টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরো ২ হাজার মাদরাসা ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আছে।মন্ত্রী বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৮৪টি একাডেমিক ও আবাসিক ভবন, শিক্ষার্থী হল ও গবেষণা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীর ২১ স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই দিনের পর দিন নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের কোচিং করিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। রাজধানীর এমন ২১টি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রাথমিক পর্যায়ে এসব শিক্ষকদের তালিকা করে পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে সংস্থাটি।

ভেতরে পড়াশোনায় ব্যস্ত সন্তান। আর বাইরে মায়েদের অধীর অপেক্ষা। ক্লাস শেষে সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফিরবেন, অপেক্ষাটা সেজন্য নয়। বরং দৌড়াতে হবে কোনো কোচিং সেন্টার কিংবা প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে। ক্লাসে যেসব শিক্ষকরা ভালো করে পড়ান না, বাধ্য হয়ে কোচিং করাতে হয় এমন শিক্ষকদের কাছেই। আতঙ্ক, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়া এবং নম্বর কম পাওয়া। যেসব স্কুলের শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করান এবং স্কুল চলাকালীন অন্য কোন কোচিংয়ে সময় দেন, সেসব স্কুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম। একুশটি স্কুলের মধ্যে রয়েছে মতিঝিল আইডিয়াল, ভিকারুন্নিসা নুন, ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস, রাজউক উত্তরা মডেল এবং মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে এসব স্কুলের অভিযুক্ত শিক্ষকদের। পরে প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ম্যানিজিং কমিটিকেও। অভিযোগ প্রমানিত হলে জড়িত বিরুদ্ধে নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এর আগে ঢাকা মহানগরীর ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তি বাণিজ্যে ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সতর্ক করেছিল দুদক।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবি ক্যাম্পাসে গণপরিবহনের দাপট : আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

আলী আজম সিদ্দিকী : প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন এবং যানবাহনের অবাধ প্রবেশের ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক কার্যক্রম। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে, বিকাল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও পাওয়া যায়নি সুষ্ঠু সমাধান।

ঢাবি ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত মাত্রায় বহিরাগত যান চলাচলের ফলে দুর্ঘটনার কারণে বিগত ১০ বছরে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট শনিবার ভোর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় শুভ্র নামের ঢাকা কমার্স কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন ইমরান নামে আরও একজন। এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে গত ২ আগস্ট বুধবার বেলা দু’টার দিকে রোকেয়া হলের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টোদিক থেকে আসা বাইকের ধাক্কায় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের এমবিএ’র এক ছাত্রী। গণপরিবহন প্রবেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধা না পাওয়া, ক্যাম্পাসে যানজট কম থাকা, দুর্ঘটনার পর অল্পতেই পার পাওয়া, শাহবাগ-নিউমার্কেট এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের তীব্র যানজট, পরিবহন মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা, বেপরোয়া গতিতে যান চালানোর প্রবণতা, ছুটির দিনগুলোতে বহিরাগতদের ঢাবিমুখীতাকে ভোগান্তির জন্য দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে এ বছরের ১৩ জুন ভোরে একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের বেদিতে উঠে যায়। এতে ভাস্কর্যের বেষ্টনী ও রেলিং ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর মাত্র কয়েকমাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত হন। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর জগন্নাথ হলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী এবং ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট শাহবাগ মোড়ে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেবরা ক্রসিং, ওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায় দিন দিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। রোকেয়া হলের মার্কেটিং বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম বলেন, একাডেমিক ভবন থেকে যখন আমি আমার হলে ফিরি তখন এক ধরনের আতঙ্ক আমার ভিতর কাজ করে। রাস্তা ক্রস করার সময় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যানবাহনের উচ্চগতি আমার মত সকল শিক্ষার্থীর কাছেই আতঙ্কের। ক্যাম্পাসে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলতে-ফিরতে পারে সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য করতোয়া প্রতিবেদক ঢাবির প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলীকে অনেকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি। ঢাবি প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন ও উচ্চগতিতে গাড়ি চলার নিয়ম না থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে সব ধরনের যানবাহন।

বিভিন্ন রুটের বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধে প্রবেশ করছে। এই যানজটের মধ্যেও ফুলার রোডে বহিরাগতদের প্রতিনিয়ত বাইক এবং কার রেসিং করতে দেখা যায়। রাস্তার দু’পাশে নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা সম্বলিত পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইনবোর্ড এবং গতি নিয়ন্ত্রক নেই। শিক্ষার্থীদের এক পাশ হতে রাস্তা পার হয়ে অন্য পাশে যেতে বেগ পোহাতে হয়।

দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্টের মোড়, টিএসসি থেকে শাহবাগ, পলাশী এলাকাসহ নীলক্ষেত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে যানজটের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে। বেশ কয়েকবার ইভেন্ট খুলে এবং ঢাবির ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ছাড়াও প্রক্টর এম আমজাদ আলীর কাছে স্মারকলিপি দিলেও সমাধান পাওয়া যায়নি দাবি এই কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটা সত্যি যানজট পুরো ঢাকা শহরের সমস্যা। গণপরিবহন থাকবে কারণ এটা আমাদের ক্যাম্পাসের নিজস্ব রোড না। পাবলিক রোডে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলবে, তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্বটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাদেরকে আমরা সবসময় বলি এটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। যানবাহনের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, এ বিষয়ে কাজ করার জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি টিম আছে। কিন্তু শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়টি প্রবেশ পথ আছে সবজায়গায় গেইট থাকলে আমরা তদারকি করতে পারতাম।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ফের অবস্থান কর্মসূচিতে ব্র্যাক শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রর আশ্বাসে আগের রাতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও রেজিস্ট্ররর অব্যাহতির দাবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী বিভাগের দুটি কোর্সের পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার্থীরা তাতে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র কামরুন নাহার ডানা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অনশনকারীরা অনশন স্থগিত করেন। কিন্তু তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

 সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী রেজিস্ট্রারকে তদন্ত চলাকালে কাজ থেকে অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ায় শুক্রবার তারা ফের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন এবং পরীক্ষা বর্জন করছেন বলে জানান ডানা। আমরা বলেছিলাম, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রেজিস্ট্রার তার পদে থাকতে পারবেন না। ভার্সিটি থেকে এখনো কোন পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট দেওয়া হয়নি। আবার ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে ফোন দিয়ে হেনস্থা না করারও কোনো পাবলিক অ্যানাউন্সেমেন্টও আসেনি। রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শাহুল আফজালের অধীনে কোনো পরীক্ষা না দেওয়ারও ঘোষণা রয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

 আইন বিভাগের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদ গত রোববার রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলার পর থেকে রাজধানীর মহাখালীতে এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছে। শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভের মধ্যেই গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তাকর্মীদের ‘হামলার’ ঘটনা ঘটে। এর বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন শুরু করলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা পায়।

রোববার থেকে ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষাও বর্জনের ডাক আসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের মুখে বুধ ও বৃহস্পতিবারের ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করলেও পরীক্ষা চালানোর কথা ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে সব অভিযোগের তদন্ত করার আশ্বাস দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সামিয়া হক। এরপর ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। কিন্তু শুক্রবার সকালে শতাধিক শিক্ষার্থী আবারও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।


শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে- রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শাহুল আফজাল, সহকারী রেজিস্ট্রার মাহি উদ্দিন এবং অফিস অব কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজের সিনিয়র অফিসার জাভেদ রাসেলকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত। নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত করা। তদন্ত চলাকালে ফাইনাল পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা। শিক্ষার্থীদের হয়রানির জন্য ভিসির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা। আলোচনার ভিত্তিতে নতুন করে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র কামরুন নাহার ডানা বলেন, এই রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ সব দাবি মেনে নেওয়ার দাবি আমরা জানাচ্ছি। সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিতে হবে।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির ৫-৭ দিন সময় দিয়ে নতুন রুটিন দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আজকেও আমরা পরীক্ষা দিতে বাধা দিচ্ছি না। কারও যদি পরীক্ষার দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তারা দিতে পারে। কিন্তু সিএসই’র ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যায়নি। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের নাঈব রিদওয়ান বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা কেউই পরীক্ষায় অংশ নিইনি। আর পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্যও স্বাভাবিকভাবে সময় দেওয়া হয়। সেভাবে রুটিন দেওয়া হোক। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব চান প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার: জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরী বলেন, সকল জটিলতার নিরসন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে তাদের চলতি দায়িত্ব দিতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষদের বেতন একাদশ গ্রেডে নির্ধারণ করতে হবে।

 প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা দিতে হবে। সহকারী শিক্ষক পদকে ‘এন্ট্রি’ পদ ধরে এসব শিক্ষকের মধ্যে থেকে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের পরিচালক পর্যন্ত পদোন্নতি এবং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ছাড়া অন্য পরীক্ষার প্রশ্ন আগের মতো বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রণয়ন করে পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম চালুর দাবি জানান গাজীউল।

 জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব প্রাথমিক শিক্ষার স্তরকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ‘পদোন্নতি বঞ্চিত’ শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

 আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান এবং ১৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের নিয়ে মহাসমাবেশ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান গাজীউল। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী, সাহিত্য সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

সেপ্টেম্বর থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ

এবার সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রী ভর্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী ৬ অক্টোবর। আর ডেন্টাল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০ নভেম্বর।

বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোয় শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সভাপতিত্ব করেন। ভর্তি পরীক্ষার আগে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। কোচিং সেন্টার বন্ধে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু চিহ্নিত কোচিং সেন্টার ভর্তি পরীক্ষার সময় ভুয়া প্রশ্নপত্র বানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং নিরীহ অভিভাবকদের সাথে প্রতারণা করে। এই চক্র প্রতিরোধ করতে হলে পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ করতে হবে। মেডিকেল শিক্ষার মান ঠিক রাখতে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে নাসিম বলেন, মানহীন ও নীতিমালা যথাযথভাবে না মানা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধে সরকার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তেমনি প্রশ্ন ফাঁস বা ভুয়া প্রশ্ন বিতরণের মতো ঘটনাও যেন না ঘটে সেদিকেও সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।

গত বছর এমসিকিউ পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাংলাদেশের ১২৬টি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ১৬২ জন। অন্যদিকে ৬৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৫ হাজার ৩২৫টি। সরকারি নয়টি ডেন্টাল কলেজে ৫৩২টি আসন রয়েছে।

২৪টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে আসন রয়েছে ১ হাজার। এবার ভর্তি সংক্রান্ত সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক দুলাল, বাংলাদেশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবির তিন সদস্যের ভিসি প্যানেল ঘোষণা

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮তম উপাচার্য নিবাচনের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল মনোনয়ন করা হয়েছে। প্যানেলে মনোনীতরা হলেন- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, থিওরিটিক্যাল এন্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ।

শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেটে ভবনে বিশেষ সিনেট অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিক্যাল ১১(১) ধারা অনুযায়ী মহামান্য চ্যান্সেলর কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জনের এই প্যানেল মনোনয়ন করা হয়। ৪৭ জন সিনেট সদস্যের সম্মতিক্রমে এই প্যানেল নির্বাচিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর আর্টিক্যাল ২১(২) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সিনেটের এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন।

এদিকে সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ছাড়া উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল করে বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের ২০-২৫জন নেতাকর্মী। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে মল চত্বর ঘুরে সিনেট ভবনে প্রবেশের গেইটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তারা ‘ডাকসু ছাড়া ভিসি নির্বাচন মানি না; মানবো না’, ‘সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি চাই’, ‘অবৈধ ভিসি প্যানেল মানি না’, ‘রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন চাই’ সহ বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। এসময় সিনেট সভার নিরাপত্তার স্বার্থে গেট বন্ধ করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম সহ শিক্ষকদের একটি অংশ।

তারা গেটের ভিতরে অবস্থান করছিলেন। এদিকে গেট বন্ধ থাকায় আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকে এবং গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা গেট ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। আন্দোলনকারীরা সিনেট সভাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা বাধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষ ধাক্কাধাক্কিতে জড়ায়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় কয়েকজন শিক্ষক। আবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে দুই শিক্ষক আহত হয়। আহতরা হলেন- এমআইএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাকিবুল হক এবং ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুহিত। তারা দুই জনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর(ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, ছাত্ররা যে শিক্ষকদের লাথি-ঘুষি মারছে সেটি আমরা বলতে চাই না।

তাদের আচরণ অসৌজন্যমূলক ছিল। আমরা তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার সুযোগ দিলেও তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এদিকে শিক্ষকদের হামলায় ছয় আন্দোলনকারী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারী ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি বেনজির আহমেদ। আহতরা হলেন- ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য সাদিক রেজা, নাসির আব্দুল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য সালমান ফার্সি, সাদিকুল ইসলাম, মর্ম তমা এবং সাংবাদিকতা বিভাগের আবু রায়হান।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কোচিংবাজ শিক্ষক ধরতে মাঠে নেমেছে দুদক

রাজধানীর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য রুখতে এবার মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও তাদের সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। এজন্য সারাদেশের কোচিংবাজ শিক্ষকদের কোচিং সেন্টার খুঁজতে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়-১-এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ একটি টিমও গঠন করেছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোচিংবাজ শিক্ষকদের তালিকা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমপুর গভ:মেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং  উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ জনের মতো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। আরো জানা গেছে, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, গভ:মেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, অগ্রণী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডি গভ:মেন্ট বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্যায়ক্রমে সারাদেশের কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করবে দুদক।

এদিকে ২০১২ সালের ২০ জুন কোচিং বন্ধের নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। তবে তারা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য স্কুল, কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানে দিনে সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিজ বাসায় পড়াতে পারবেন। তবে কোনো কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করা যাবে না।  কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই দেদারছে কোচিং বাণিজ্য করে যাচ্ছে। তাই শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দুদক এই কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদেরও কড়া নজরদারি করা হচ্ছে।

জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, সেবা গ্রগিতাদের হয়রানি, দুর্নীতির কারণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখে দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে মাউশির মহাপরিচালককে কিছু দিনের মধ্যে চিঠি দেবে কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছেন। আর এতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেননা কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করছি এবং তাদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছি। কোচিং ব্যবসায় জড়িত শিক্ষকদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কেননা তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। তাই কোচিং ব্যবসায় জড়িত শিক্ষকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই জানিয়েছে, দুর্নীতির ব্যাপারে আমরা জিরো ট্রলারেন্স। শিক্ষামন্ত্রলয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে কিছু শিক্ষক দুর্নীতি করছেন এটা সত্য। সেই দুর্নীতিবাজদের শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে সরাতে চাই, কিন্তু পারছি না। তবে দুদকের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা দুদক তথ্য দিলে আমরা সেই সব দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে পারব। দুর্নীতি সব স্থানেই রয়েছে যা চেষ্টা করলেই তাৎক্ষণিক বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্নীতি সমাজের একটি ব্যাধি যা নির্মূল করতেই হবে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবি সিনেটের ভিসি নির্বাচনের সভায় বাধা নেই

রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য ডাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সভা স্থগিত করে হাই কোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আগামী ২৯ জুলাই সিনেটের এ সভা হওয়ার কথা ছিল। চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে সিনেট সভা করতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গতকাল বুধবার হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এই আদেশ দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য ৩০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুল মতিন খসরু, এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন পরে সাংবাদিকদের বলেন, চেম্বার আদালতের এ আদেশের ফলে ২৯ জুলাইয়ের ডাকা সিনেট সভা করতে বাধা নেই। রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ না করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য ডাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সভা গত সোমবার স্থগিত করে হাই কোর্ট। ২৯ জুলাই ডাকা ওই সভা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং সভা আহ্বান করে দেওয়া নোটিস কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেয় বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ ফারুকের হাই কোর্ট বেঞ্চ। উপাচার্য নির্বাচনের সভা ডেকে গত ১৬ জুলাই সিনেট সদস্যদের চিঠি দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক। ১৯৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্যরা ভোট দিয়ে তিনজনের একটি উপাচার্য প্যানেল ঠিক করেন, তার মধ্য থেকে একজনকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা রাষ্ট্রপতি। সিনেটে ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেও ২৫ জন প্রতিনিধি এই সিনেটে থাকেন।

রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্ধারণ বা নির্বাচন না করেই সিনেট সভা ডাকায় তাতে আপত্তি জানিয়ে আদালতে রিট আবেদনটি হয়েছিল। সভায় স্থগিতাদেশ এবং রুলের পাশাপাশি হাই কোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ২০ (১) ধারা অনুযায়ী সিনেট গঠনের নির্দেশও দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রো ভিসি (শিক্ষা), প্রো ভিসি (প্রশাসন), রেজিস্ট্রার ও শিক্ষা সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। রেজিস্ট্রারের চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে অর্পিত ক্ষমতাবলে উপাচার্য ২৯ জুলাই বিকেল ৪টায় সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করেছেন।

ভাইস চ্যান্সেলরের প্যানেলে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাব করা হবে, নাম প্রস্তাবকালে তাদের লিখিত সম্মতি সিনেট চেয়ারম্যানের নিকট পেশ করতে হবে। উক্ত সভায় উপস্থিত থাকবার জন্য অনুরোধ করছি। ওই চিঠি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খান, অধ্যাপক সিতেশ চন্দ্র বাচার, অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অধ্যাপক হুমায়ুন আক্তার, অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান, অধ্যাপক এমরান কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক কে এম সাইফুল আলম খান, সহযোগী অধ্যাপক মো. হুমায়ন কবির, সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহিম, রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট ঢাকার এ কে এম আতিকুর রহমান, ফরিদপুরের আব্দুল জব্বার মিয়া ও বরিশালের আনোয়ার হোসেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর

এবার পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে

করতোয়া ডেস্ক: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার মেয়েদের গড় পাসের হার ৭০.৪৩ শতাংশ এবং ছেলেদের ৬৮.৬১ শতাংশ। সব বোর্ড মিলিয়ে গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে এসএসসির মতো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়ও এবার পাসের হার কমেছে। প্রকাশিত ফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ ফাইভের সংখ্যা কমেছে। এ বছর মোট পাসের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪২ জন।

জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৩৭ হাজার ৭২৬ শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। এবার ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডর অধীন শুধু এইচএসসিতে গড় পাসের হার ৬৬.৮৪ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২৪২ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিলো ৪৮ হাজার ৯৫০ জন। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮১৫ জন। এ বোর্ডে গতবারের তুলনায় ১১ শতাংশের বেশি পাসের হার কমেছে। কারিগরিতে শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৮১.৩৩ শতাংশ, গতবার যা ছিল ৮৪.৫৭ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬৯ জন।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশি কেন্দ্রের পাসের হার ৯৪.২১ শতাংশ

করতোয়া ডেস্ক: চলতি বছর সাত বিদেশি কেন্দ্রে এইচএসসিতে গড় পাসের হার ৯৪ দশমিক ২১ শতাংশ। শতভাগ পাস নিয়ে এগিয়ে আবুধাবি। আর সর্বনিম্ন পাসের হার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীতে ৭৫ শতাংশ। সাত কেন্দ্র থেকে ২৫৯জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৬ জন পেয়েছে জিপিএ-পাঁচ। জিপিএ-পাঁচ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৫ জন জিপিএ পাঁচ পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয় কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ মাশহুর-উল-হক মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৭৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসিতে অংশ  নেয়। পাসের হার ৯৩.১৫ শতাংশ। জিপিএ-পাঁচ পেয়েছে ১৪ জন। সবচেয়ে কম অর্থাৎ, ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এরমধ্যে একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

পাসে সিলেট, পূর্ণ জিপিএতে ঢাকা শীর্ষে

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে সিলেট বোর্ড; গতবারের মত এবারও কুমিল্লা বোর্ড থেকে সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে।

উচ্চ মাধ্যমিকে এবার সব বোর্ড মিলিয়ে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেওয়ার পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি জানান, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি গত এসএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল। তাতে পাসের হার কিছু কমেছিল। সেই পদ্ধতি এবার এইচএসসিতে প্রয়োগ করা হয়েছে।

ফলাফলে দেখা যায়, ৭২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিলেট বোর্ড। আর কুমিল্লা বোর্ডে পাস করেছে সবচেয়ে কম- ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে গতবারের মত এবারও আট বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী বোর্ড এবং ৭০ দশমিক ২৮ নিয়ে বরিশাল বোর্ডের অবস্থান তৃতীয়।

এবছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৭৭ হাজার ০২ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডের বোর্ডে ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

এক নজরে ফলাফল
২০১৭   ২০১৬   বোর্ড পাশের হার (%) জিপিএ-৫ পাসের হার (%) জিপিএ-৫ ঢাকা ৬৯.৭৪ ১৮,৯৩০ ৭৩.৫৩ ২৮,১১০ রাজশাহী ৭১.৩০ ৫,২৯৪ ৭৫.৪০ ৬,০৭৩ কুমিল্লা ৪৯.৫২ ৬৭৮ ৬৪.৪৯ ১,৯১২ যশোর ৭০.০২ ২,৪৪৭ ৮৩.৪২ ৪,৫৮৬ চট্টগ্রাম ৬১.০৯ ১,৩৯১ ৬৪.৬০ ২,২৫৩ বরিশাল ৭০.২৮ ৮১৫ ৭০.১৩ ৭৮৭ সিলেট ৭২.০০ ৭০০ ৬৮.৫৯ ১,৩৩০ দিনাজপুর ৬৫.৪৪ ২,৯৮৭ ৭০.৬৪ ৩,৮৯৯ মাদ্রাসা ৭৭.০২ ১,৮১৫ ৮৮.১৯ ২৪১৪ কারিগরি ৮১.৩৩ ২,৬৬৯ ৮৪.৫৭ ৬,৫৮৭ ডিআইবিএস (ঢাকা) ৭১.৫৮ ২৪৩ ৮১.৪৬ ৩২৫ মোট ৬৮.৯১ ৩৭,৯৬৯ ৭৪.৭০ ৫৮,২৭৬

 

আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী এবার ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯৩০ জন।

পূর্ণাঙ্গ জিপিএ অর্জনে এরপরই রাজশাহী বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অবস্থান। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ২৯৪ জন।

এবার মাদ্রাসা বোর্ডে ১ হাজার ৮১৫ জন, কারিগরি বোর্ডে ২ হাজার ৬৬৯ জন এবং ঢাকা ডিপ্লোমা-ইন-বিজনেস স্টাডিসে (ডিআইবিএসে) ২৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

উচ্চ মাধ্যমিকে পাস ৬৮.৯১ শতাংশ

মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে মাধ্যমিকের মত উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাতেও এবার পাসের হার কমেছে; সার্বিকভাবে পাস করেছে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৩৭ হাজার ৭২৬ জন শিক্ষার্থী।

গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন।

সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২০ হাজার ৫৫০ জন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন। সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

ফলাফল হস্তান্তরের পর পাসের হারের তথ্য প্রকাশের আগে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি গত এসএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল। তাতে পাসের হার কিছু কমেছিল। সেই পদ্ধতি এবার এইচএসসিতে প্রয়োগ করা হয়েছে।

পরে পাসের হার কমার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “খাতা সঠিক মূল্যায়ন করার ফলে এটা হয়েছে। আগে সাধারণ ধারণা ছিল ওজন করে নম্বর দেওয়া হয়। এখন সে সুযোগ আর নেই। এখন খাতা দেখেই নম্বর দিতে হয়। এটা আমরা ইতিবাচক বলেই মনে করি।”

ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কত শতাংশ পাস করেছে সেটা বড় বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে এবং এই বয়সে তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক ‘গাইডলাইন’ দেওয়া।

“আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান, নিজেদের ছেলেমেয়েদের প্রতি তারা যেন আরও বেশি আন্তরিক হন, ছেলেমেয়েরা নিজেদের কথাগুলো যেনে বন্ধুর মত বাবা-মাকে বলতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া।… মাদক বা জঙ্গিবাদে তারা যেন না যায়।”

বেলা ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। তারপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (www.educationboardresults.gov.bd) এবং নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও যে কোনো মোবাইল থেকে এসএমএস করে ফল জানতে পারবেন।

চলতি বছর ২ এপ্রিল থেকে ১৫ মে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলে। এরপর ১৬ থেকে ২৫ মে নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা

আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭১১ জন।

এর মধ্যে আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে পাস করেছে ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ পরীক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ১ হাজার ৮১৫ জন পেয়েছে জিপিএ ৫।

আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে; ২ হাজার ৬৬৯ জন পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে।

ফল জানা যাবে যেভাবে

গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে ফলাফলের হার্ডকপি সরবারহ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ই-মেইলে কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের সফট কপি সরবারহ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করতে পারবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ছাড়াও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ইআইআইএন ব্যবহার করে ফলাফলের কপি ডাউনলোড করতে পারবে।

যে কোনো মোবাইল থেকে এসএসএম করেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ জন্য HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

আলিমের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে।

এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৭ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

ফল পুনঃনিরীক্ষা

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ২৪ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে।

ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইযেন্টিফিকেশন নম্বর-PIN) দেয়া হবে।

আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।

যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

শাহবাগে পুলিশের সাথে ঢাবি অধিভূক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আটক ১২

ঢাবি প্রতিনিধি : পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে শাহবাগ থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয় বলে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, ওরা মানববন্ধন শেষ করে জাতীয় জাদুঘর থেকে কাঁটাবনের দিকে যাওয়ার রাস্তা অবরোধ করে। সেখান থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, কিন্তু তারা মানববন্ধন শেষ করে যাওয়ার সময় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। এসময় আমরা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে কয়েকজনকে আটক করি। মানববন্ধনকারীদের সমন্বয়ক দাবি করে আতিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে জাদুঘরের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ করি। কাঁটাবনের দিকে যাওয়ার সময় আমাদের একটি গ্রুপ রাস্তা অবরোধ করে; কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল ইসলাম কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও মিরপুর বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি
অধিভুক্ত কলেজগুলো নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ। সম্মান দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভাইভা/ব্যাবহারিক পরীক্ষা শিগগিরই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশ। সম্মান তৃতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেওয়া। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্বের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা। ডিগ্রির আটকে থাকা সব বর্ষের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা। অধিভুক্ত কলেজগুলোর তথ্য সংবলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরি। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সেশনজট নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

ঢাবির অধিভুক্ত ৭ কলেজের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত সাতটি সরকারি কলেজের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করে অবশেষে নোটিস আকারে জানানো হয়েছে। পরীক্ষার ওই সূচির দাবিতেই বৃহস্পতিবার শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার জানান, গত ১৮ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে অধিভুক্ত সাতটি কলেজের অধ্যক্ষের সভায় পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর তারিখ জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার নোটিসও দিতে শুরু করেছে।

সেলিম উল্লাহ জানান, সাতটি কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হবে। মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর, অনার্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর এবং ডিগ্রি প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হবে। এছাড়া ডিগ্রি প্রথম বর্ষ, মাস্টার্স প্রথম ও শেষ পর্বের প্রাইভেট (রেজি) পরীক্ষা ২৫ জুলাই থেকে ২৯ অগাস্টের মধ্যে হতে পারে বলে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সেলিম উল্লাহ জানান, অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের অনার্সের খাতা দুইজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাতটি কলেজে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা হবে, এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম ঠিক করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা সেলিম উল্লাহ জানান। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল ইসলাম কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও মিরপুর বাঙলা কলেজকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ঢাবির ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৬৬০ আসনের গ্রন্থাগার!

আলী আজম সিদ্দিকী, ঢাবি প্রতিনিধি : প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য গ্রন্থাগারে রয়েছে মাত্র ৬৬০ আসন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে জায়গা দিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম আসন সংকটে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আসন সংকটের সাথে সময়োপযোগী বইয়ের অভাব, নতুন জার্নাল প্রকাশ এবং বইগুলোর যথোপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় গ্রন্থাগারে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক ওয়াশরুম। যে জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এর সাথে রয়েছে আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা ‘বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ’। গ্রন্থাগারে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে এ বছরের ২৩ এপ্রিল নতুন ডিজিটাল গেট তৈরী করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো তা পরিপূর্ণভাবে চালু হয়নি। এ পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল কার্ডের (আইডি) কুইক রেসপন্স কোড (কিউআর) দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে এবং একই পদ্ধতিতে বের হয়ে আসতে পারবেন।  

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। পরিসংখ্যান করে দেখা গেছে, গ্রন্থাগারে আসা অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন। চাকরির পড়াশোনার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে গেলেও ব্যবহার করছেন ঢাবি’র গ্রন্থাগার। পিছিয়ে থাকছেন না বহিরাগতরাও। অনেক ক্ষেত্রে ঢাবি শিক্ষার্থীরা বহিরাগতদের সহায়তা করছেন। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নিয়মিত শিক্ষার্থীরা। তাই তো গ্রন্থাগারে জায়গা পাওয়া যায় না এই সত্যকে নিয়তি ধরেই নিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রন্থাগারের উপপরিচালক জনাব মো: মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারেন। আমরা শুধুমাত্র বর্তমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে ফিংগার প্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের কাজ করতে শুরু করেছি। খুব শিগগিরই এই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শতভাগ বর্তমান শিক্ষার্থীদেরক গ্রন্থাগার ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হবে। গ্রন্থাগারে সীট না পেয়ে ফিরে যাওয়াদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান আশিকের সাথে কথা হয়। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে লাইব্রেরীতে পড়া আমার নায্য অধিকার। কিন্তু অবৈধদের দৌরত্ম্যের কারণে সেই ভোর বেলা থেকে ১ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাড়িয়ে বহু কষ্টে প্রবেশ করতে পারলেও পাওয়া যায়না বসার সিট।

আমরা যাতে পড়তে পারি সেই ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবন থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ সেশন পর্যন্ত বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজারেরও অধিক। এই বিশাল সংখ্যার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য রয়েছে একটি মাত্র গ্রন্থাগার, যার আসন সংখ্যা মাত্র ৬৬০টি! এই সীমিত আসনের অনেক আসনই আবার ব্যবহারের অনুপযোগী। যার জন্য প্রতিদিন গ্রন্থাগার খোলার অনেক আগেই শিক্ষার্থীরা নেমে পড়েন সীট দখলের লড়াইয়ে। নিজেদের ব্যাগ দিয়ে সিরিয়াল করে লাইন দিয়ে রাখেন। চাকরির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে কিংবা পরীক্ষার সময় চলে এলে এই লাইন অনেক সময় লাইব্রেরির গেট থেকে প্রায় ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার পর্যন্তও দীর্ঘ হয়। এতে আসন পাওয়ার পরও থাকতে হয় দুশ্চিন্তায়। জরুরি প্রয়োজনে আসন থেকে উঠলেই তা দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। এভাবেই চলতে থাকে পড়ার জন্য তাদের সংগ্রাম। কেউ কেউ এই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিকল্প রাস্তা খুঁজে নেয়, আবার কেউ নিয়তিকে মেনে নিয়ে হলের রিডিং রুমের দিকে পা বাড়ায়। গত মঙ্গলবার গ্রন্থাগারে প্রবেশ করা একাধিক শিক্ষার্থীকে জায়গা না পেয়ে ফিরে পেতে দেখা যায়। তবে আশার কথা হলো দেরীতে হলেও টনক নড়েছে ঢাবি প্রশাসনের। সকালে অনেক শিক্ষার্থীই প্রবেশ করতে না পারায় গেইটে পাহারা বসান। লাইব্রেরি কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছিলেন না। অনেককে কার্ড না থাকায় ফিরে যেতে দেখা যায়। তবে লাইব্রেরীতে সবাই যে পড়তে আসেন তা নয়। কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা চেয়ারে বসে গল্পে মেতে উঠেন কেউ আবার প্রাইভেট পড়ানোর কাজটাও চালিয়ে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বসেই। আবার কাউকে আসন দখল করে রাখতে দেখা যায় বন্ধুর জন্যও যা বৈধ নয়।

১৯২১ সালের ১ জুলাই তৎকালীন ঢাকা কলেজের গ্রন্থাগার থেকে পাওয়া ১৭ হাজার বইয়ের সাথে আরও ১ হাজার বই যুক্ত করে সর্বমোট ১৮ হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। সেই বই এখন প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়লেও গ্রন্থাগারের সেবার পরিধি বাড়ছে না। বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও যথাযথ সমাধান পাওয়া যায়নি। মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা নেমে পড়েন আন্দোলনে। এ বছরের ৪ এপ্রিলও শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে পানি না থাকায় নিরবিচ্ছিন্ন পানি সংযোগসহ বেশকিছু দাবিতে ভিসির বাংলোর সামনে বিক্ষোভ করে। পরে তাদের দাবি মেনে নিলে তারা আন্দোলন তুলে নেয়। গ্রন্থাগারের কার্যালয় থেকে জানা যায়, এবারের বাজেটে ঢাবির গ্রন্থাগারের জন্য ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গ্রন্থাগারের বাজেট প্রয়োজন অনুযায়ী না বাড়ানোর কারনে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না দাবি গ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের।

তবে এবারের বাজেট আগের থেকে বেশি হওয়ার কারণে আগের থেকে ভালো মানের সেবা পাওয়ার আশা করছেন গ্রন্থাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা। সীট সংকটের ব্যাপারে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সকালে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমান শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গ্রন্থাগার ব্যবহার করে থাকেন। তাদেরকে গ্রন্থাগার ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে আমরা নিরুৎসাহিত করছি যার সর্বশেষ উদাহরণ ‘ডিজিটাল গেইট নির্মাণ’। তিনি এসময় ঢাবি’র প্রাক্তনদের গ্রন্থাগার ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং তাদেরকে পাবলিক লাইব্রেরী ব্যবহারসহ নিজস্ব গ্রন্থাগার ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দেন। সীট সংকট মেটাতে গ্রন্থাগারের বর্ধিতকরণ কিংবা নতুন কোন ভবন তৈরী করার পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ফাউন্ডেশন তিন তলা হওয়ায় এটাকে বর্ধিত করার সুযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে একটা গ্রন্থাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা করতে কাজ করছে। যতদ্রুত সম্ভব আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার নির্মাণ করবো।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পঞ্চমের সমাপনী শুরু ১৯ নভেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে ১৯ নভেম্বর, চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের সভাপতিত্বে এ পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই তারিখ চূড়ান্ত হয়।সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম     মনজুর কাদির বলেন, অন্যবারের মত এবারও আড়াই ঘণ্টা করে পরীক্ষা হবে। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীতে এবার প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেবে।

 সব ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফল প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান ছাড়াও মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।গত বছর ২০ নভেম্বর শুরু হয়ে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এই সমাপনী পরীক্ষা হয়েছিল।পরীক্ষার সময় সূচি: প্রাথমিক সমাপনীতে ১৯ নভেম্বর ইংরেজি, ২০ নভেম্বর বাংলা, ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নভেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৩ নভেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ও ২৬ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা হবে। আর ইবতেদায়ী সমাপনীতে ১৯ নভেম্বর ইংরেজি, ২০ নভেম্বর বাংলা, ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নভেম্বর আরবি, ২৩ নভেম্বর কুরআন ও তাজবীদ এবং আকাঈদ ও ফিকহ এবং ২৬ নভেম্বর গণিত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

একাদশে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশ

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে মনোনীতদের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ঘোষণা অনুযায়ী রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয় বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আশফাকুস সালেহীন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রথম তালিকায় ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৮ জনকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের তালিকা কলেজে ভর্তির সরকারি ওয়েবসাইটে (http://www.xiclassadmission.gov.bd/) পাওয়া যাবে। এছাড়া মোবাইলে এসএমএস করেও প্রার্থীদের ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আশফাকুস জানান, আদেনকারীদের মধ্যে ৯৫ দশমিক ০৩ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবেন। আগামী ১৩ জুন দ্বিতীয় এবং ১৮ জুন তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ফল প্রকাশ করে কলেজে ভর্তির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মনোনীত আবেদনকারীদের আগামী ৮ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ বাদে ১৮৫ টাকা টেলিটক, শিওর ক্যাশ অথবা রকেটের মাধ্যমে জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। তা না হলে মনোনয়ন ও ভর্তির আবেদন বাতিল হবে।

গত কয়েক বছরের মত এবারও মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।

এবার মাধ্যমিকে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ জন পাস করলেও এদের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৮ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তি নির্দেশিকা

রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের পদ্ধতি

>> ৯ থেকে ২৬ মে অনলাইনে এবং টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএসে আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা।

>> যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণার আবেদন করেছে, তাদেরকেও এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়।

>> ২৭ থেকে ২৯ মে শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়।

>> পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হয়েছে তারা ৩০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন।

>> ৫ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়।

>> প্রথম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ৬ থেকে ৮ জুন সিলেকশন নিশ্চিত (যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই যে শিক্ষার্থী ভর্তি হবেন- তা এসএমএসে নিশ্চিত করা) করতে হবে।

>> মাইগ্রেশনের আবেদন (অপশন প্রদান) এবং নতুন আবেদন করা যাবে ৯ থেকে ১০ জুন।

>> ১৩ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং ১৮ জুন তৃতীয় পর্যায়ের ভর্তি ফল প্রকাশ করা হবে।

>> দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ১৪ থেকে ১৫ জুন সিলেকশন নিশ্চিত করবে এবং মাইগ্রেশন আবেদন (অপশন প্রদান) ও নতুন আবেদন করতে হবে ১৬ থেকে ১৭ জুন।

>> তৃতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ১৯ জুন সিলেকশন নিশ্চিত করবেন।

>> ২০ থেকে ২২ জুন এবং ২৮ থেকে ২৯ জুন দুই দফায় শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে আগামী ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।

এ বছর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ছাড়াও ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন।

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে। অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) পাশাপাশি টেলিটক মোবাইল থেকে এসএমএস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ঠকাল বন্ধ ঘোষনা

করতোয়া ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ছাত্র নিহতের পর বিক্ষোভ-ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ ছাত্রীসহ ৪২ শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছে আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে  রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান সবার জামিন মঞ্জুর করেন। তিন ছাত্রীর আইনজীবী সানাউল ইসলাম টিপু জানান, এ মামলায় হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি গুরুতর জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নাজমুল হাসান রানা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরাফাত শুক্রবার ভোরে সাভারের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় নিহত হন। ওইদিন দুপুরে এক ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাদের সহপাঠীরা। এরপর নিহতদের লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে না এনে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দোষারোপ করেন। শনিবার দুপুর থেকে তারা ফের মহাসড়কে অবস্থান নিলে বিকালে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। সে সময় সাতজন শিক্ষার্থীসহ অন্তত আটজন আহত হন। তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এদিকে অবরোধের মধ্যেই ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বিকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দিলেও পরে উপাচার্যের বাসভবনের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে ভাংচুর চালায়। এর মধ্যেই উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন। সিন্ডিকেটের সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা বেরিয়ে এলে পুলিশ উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে থাকা ১০ ছাত্রীসহ আন্দোলনকারী ৪২ শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি হল থেকে শিক্ষার্থীদের চলে যান। নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশ। আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে শনিবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আটক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে তাদের ঢাকার আদালতে তোলা হয় বলে জানান ওসি।

হল ছেড়েছে জাবি শিক্ষার্থীরা
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ-ভাংচুরের প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণার পর হল ছেড়ে গেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের রোববার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ছাত্রদের সাতটি এবং ছাত্রীদের আটটি হল থেকে রোববার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসে দেখা যায় বাড়তি পুলিশ। এদিকে হল খালি করে দেওয়ার আকস্মিক এই নির্দেশে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র  মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ৩ জুন থেকে ফাইনাল পরীক্ষার শুরু হওয়ার কথা। এ সময় হল বন্ধের সিন্ধান্ত আমাদের জটিলতায় ফেলে দিল।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, তারা হল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বদলাতে উপচার্যের সঙ্গে কথা বলবেন। সরকার সমর্থক এ সংগঠনের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানাতে উপাচার্যের কাছে যাব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নাজমুল হাসান রানা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরাফাত শুক্রবার ভোরে সাভারের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসের ধাক্কায় নিহত হলে ওইদিন দুপুরে এক ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তাদের সহপাঠীরা।

 

 

পাঠ্যবইয়ে ভুল সাড়ে ৫ মাস পর ৬ সংশোধনী

পাঠ্যবইয়ে ভুলক্রটি প্রকাশ্যে আসার সাড়ে পাঁচ মাস পর মাধ্যমিকের বইয়ে কোনো ভুল খুঁজে ‘না পেয়ে’ শুধু প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঁচটি বইয়ে ছয়টি সংশোধনী দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবির শুদ্ধিপত্র পেয়ে তা অনুসরণে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলছেন, প্রাথমিকের বইয়ের শুধু মৌলিক ভুলের’ সংশোধনী দিয়েছেন তারা, মাধ্যমিকের বইয়ে ‘মৌলিক কোনো ভুল পাওয়া যায়নি’।২০১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম শ্রেণির একটি, তৃতীয় শ্রেণির তিনটি এবং পঞ্চম শ্রেণির দুটি বইয়ের ছয়টি সংশোধনী দিয়ে শুদ্ধিপত্র দেয় এনসিটিবি।

সংশোধনী: প্রথম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় ‘মৌ’ এর স্থলে ‘মউ’।তৃতীয় শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ৬৮ পৃষ্ঠায় কুসুমকুমারী দাশের আদর্শ ছেলে কবিতার বিস্তারিত সংশোধনী দেওয়া হয়েছে।তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ‘ঘোষনা’ বানান শুদ্ধ করে ‘ঘোষণা’ করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ৫৮ পৃষ্ঠায় ‘সায়েরা বেগম’ এর স্থলে ‘সায়েরা খাতুন’ সংশোধনী এসেছে। তৃতীয় শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ঐবধৎঃ এর স্থলে ঐঁৎঃ হবে। পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘সমুদ’ বানান ঠিক করে সমুদ্র করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ঘোষনা বানানটি ঠিক করে ঘোষণা’করা হয়েছে। অধ্যাপক নারায়ণ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মৌলিক ভুলগুলোর সংশোধনী দেওয়া হয়েছে, প্রাথমিকের বইয়ের আর কোনো মৌলিক ভুল নেই। বড় ভুল ছিল আদর্শ ছেলে কবিতায়।

প্রাথমিকের বইয়ে ছাগলের গাছে উঠে আম খাওয়ার চিত্র এবং ওড়না নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে তা আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন বইয়ে পরিমার্জন করা হবে বলেও জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, পাঠ্যপুস্তকে ভুল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর একটি কমিটি বিভিন্ন ভুল খুঁজে বের করে সংশোধিত আকারে সুপারিশ দেয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিরে শুদ্ধিপত্র তৈরি করে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় অনেক দেরিতে অনুমোদন করায় শুদ্ধিপত্র দিতে বিলম্ব হয়েছে। বছরের প্রথম দিন ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে সরকার।নতুন পাঠ্যবইয়ের ভুল নিয়ে ফেইসবুকে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে পাঠ্যবই পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে এনসিটিবি। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও দায়ীদের চিহ্নিতে একটি কমিটি করেছিল। ওইসব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় দায়ী এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন আটজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। ভুলের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামের দাবি মানা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

হলের পুকুরে ডুবে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পুকুরে ডুবে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃত জনি ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুকুরে সাঁতার কাটতে নেমে তার মৃত্যু হয় বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এক বন্ধুকে জনি পুকুরে নেমেছিল। সে হঠাৎ করে ডুবে গেলে তার বন্ধুর চিৎকার শুনে হলের ছাত্ররা পুকুরে নামে।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা জনির মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ফজলুল হলের অনাবাসিক ছাত্র জনি বাইরে থেকে পড়াশোনা করতো বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছে।

তার মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

ঢাবিতে বাঁধন ট্রান্সফিউশন সেন্টার উদ্বোধন

ঢাবি প্রতিনিধি : স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে রক্তের ট্রান্সফিউশন (রক্ত সংগ্রহশালা) সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেন্টার উদ্বোধন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় এই সেন্টার নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবির প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সভাপতি ফরিজুল ইসলাম, বাঁধনের উদ্যোক্তা শাহিদুল ইসলাম রিপন, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী ইমন, বাঁধন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বিভিন্ন ইউনিটের কর্মীবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় ‘বাঁধন ট্রান্সফিউশন সেন্টার’ স্থাপনের জন্য বাঁধন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে দুই কিস্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কাছে মোট ৩৫ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। বাঁধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: শাহিদুল ইসলাম রিপন অনুদানের এই চেক উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

কোচিং সেন্টার-গাইড বই বন্ধে আইন হচ্ছে

কোচিং সেন্টার ও গাইড বই বন্ধ করতে এবার আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ব্যবসায়ী শিক্ষকদের এ আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘কানেক্টিং ক্লাসরুমের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিষয়টি জানান মন্ত্রী। এর আয়োজক ছিলো ব্রিটিশ কাউন্সিল।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ক্লাসে ভালো করে না পড়িয়ে ক্লাসের বাইরে কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে ভালো করে পড়ান। তাদের এ ব্যবসা বন্ধ করতে আইন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের মাথার মণি। আমি শিক্ষকদের নিয়ে গর্ববোধ করি। তাদের সর্তক থাকতে হবে, যেন কুলাঙ্গাররা এর মধ্যে ঢুকতে না পারে। বিশ্বমানের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমাদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে হবে। যাতে দক্ষতা-যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে কাজ করতে পারে। দক্ষতা-যোগ্যতা না থাকলে দেশেই কাজ পাবে না। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শিক্ষানীতি নয়, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। এজন্য ২০০৯ সালের শিক্ষানীতিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন দিয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এখন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সময়। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম বলেন, শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করানো আমাদের লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে যাচ্ছি। এতে তারা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবেন।



Go Top