দুপুর ১২:১৪, শুক্রবার, ২৪শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

নদী মরে গেলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। ইতোমধ্যেই ১২শ নদীর মধ্যে আটশত নদী হারিয়ে গেছে। বেঁচে আছে চার শ’ নদী। নদী রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজধানীতে গত রোববার এক মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ গঙ্গা ব্যারেজ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাঁচানো অসম্ভব মন্তব্য করে বলেন, নাব্যতা না থাকলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। আগে আমরা ভারতের পানি পেতাম ৫৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু এখন ২০ হাজার কিউসেকও পাওয়া যায় না।

 এই অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে আরো ২০ হাজার কিউসেক পানি গঙ্গা, মাথা ভাঙ্গা, চন্দনা নদীতে ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, যমুনার পানি এনেও বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা যাবে না, যতক্ষণ নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হবে। আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত এবং বর্জ্য দূষণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো যাবে না। এক সময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ ছিল। বর্তমানে ২০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নৌ-পথ হারিয়ে গেছে। নদ-নদীর অবদান অপরিসীম। নদী-নালা হচ্ছে দেশের প্রাণ।

 নদী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। দেশের জনগণ বাঁচবে না। পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর চরম গাফলতির কারণেই নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। নদী দূষণের পরিণতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও জরুরিভাবে আমলে নেওয়ার দাবি রাখে।

বলা বাহুল্য, নদী দখল ও দূষণরোধ সরাসরি  দায়িত্ব প্রায় ১৫টি মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু সমন্বয় না থাকায় কাজ এগোয় না। কোনো ধরনের উদাসীনতা কাম্য নয়। আমরা চাই অবিলম্বে নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করা হোক। পরিবেশ ও মানুষ বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

 

হজ এজেন্সির নামে প্রতারণা

প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষ মনের গভীরে স্বপ্ন দেখেন অন্তত একবার হজে যাওয়ার। সামর্থবানদের জন্য হজ ফরজ। অনেকে সারা জীবনের আয়ের একটি অংশ গচ্ছিত রাখেন হজে যাওয়ার নিয়তে। অল্প অল্প করে জমান টাকা। এই টাকার প্রতি মায়াটা তাই আলাদা।

এই এবাদতকে নিয়েও একশ্রেণির মানুষের প্রতারণা থেমে নেই। হজ এজেন্সি এবং দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে হয়রান হচ্ছেন হজ করতে ইচ্ছুক ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মানুষ। প্রাক নিবন্ধন এবং হজের টাকা তুলে দিয়ে এখন হজ এজেন্সি ও দালালের পেছনে পেছনে ঘুরছেন।

 বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল হাজার হাজার মানুষ সবচেয়ে ভোগান্তিতে আছেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটার অতিরিক্ত প্রায় ৭১ হাজারের বেশি প্রাক নিবন্ধন হয়ে গেছে। গত ২০ মার্চ ছিল এ বছরের প্রাক-নিবন্ধনের টাকা জমা নেওয়ার শেষ তারিখ।

ইতিপূর্বে ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সার্কুলারে জানায়, হজে যেতে পারবে না জানা সত্ত্বেও কোনো এজেন্সি প্রতারণা করে টাকা নিলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এই হুশিয়ারি মানছে না অনেক হজ এজেন্সি। সূত্র আরো জানায়, চলতি বছর দুই লাখ ১৭ হাজার ২৮৮ সিরিয়ালের বাইরে কারো হজে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাক-নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দুই লাখ ৮৮ হাজার ৪০৯ জন হয়েছে।

 অভিযোগ রয়েছে নিবন্ধনের নাম করে দালালরা অনেকের কাছ থেকে দুই-আড়াই লাখ টাকা প্রতারণা করে নিয়েছে। সরকারের উচিত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দিতে হবে কঠোর শাস্তি। চলতি বছর হজের প্রাক নিবন্ধনে অনিয়মের তদন্ত চলছে। আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, দোষী এজেন্সিদের লাইসেন্স বাতিল করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে মানুষ প্রতারিত না হতে পারে। 

মঙ্গলে ২০৩৩ সালে মার্কিন পতাকা দেখতে চান ট্রাম্প

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০৩৩ সালের মধ্যেই ‘রেড প্লানেট’ হিসেবে পরিচিত মঙ্গলগ্রহ বা মার্সে মার্কিন পতাকা দেখতে চান। এজন্যে ‘ডিপ স্পেস’ প্রকল্প বাস্তবায়নে মঙ্গলবার একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। দেশটির মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা’র পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

 আগামী দশকে মঙ্গলে মার্কিন নভোচারীরা যাতে তাদের পদচিহ্ন আঁকতে পারেন সেটাই এখন নাসার অন্যতম লক্ষ্য। ২০৩৩ সালের মধ্যেই মঙ্গলে নভোযান পাঠানো। নাসার বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করছেন এধরনের অভিযাত্রায় মানুষের সঙ্গে ভিন্ন গ্রহের প্রাণি ‘এলিয়েন’এর সঙ্গে সাক্ষাত ঘটতে পারে এবং এধরনের সাক্ষাতের সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। দুই বছর আগে মঙ্গলে পানি প্রবাহের খবরে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব বিদ্যমান। ট্রাম্প যে বিলটি অনুমোদন দিয়েছেন তাতে মঙ্গলে অভিযানের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মেগা প্রকল্পে বদলে যাবে দেশ

দেশের যোগাযোগ খাতের ছয় মেগা প্রকল্পসহ ১৪টি বৃহৎ প্রকল্পের উন্নয়ন তৎপরতায় বদলে যাচ্ছে দেশ। এর মধ্যে পদ্মা সেতুসহ একাধিক প্রকল্পের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবর্তনের এ হাওয়া বইছে দেশ জুড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে, বাড়বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। স্বপ্নের পদ্মাসেতুর কাজের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি।

 পুরোদমে এগিয়ে চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। পাশাপাশি মেট্রো রেলের লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের আরও কয়েকটি রুট। যানজট নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় সব মহলে স্বস্তি এসেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিও সন্তোষজনক।

 চীন-বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ কাজও উদ্বোধন হয়েছে গত বছরের অক্টোবর। ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীন আগ্রহ প্রকাশ করায় কাঙ্খিত প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায় শেষ হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীতে চলছে একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ। যা শেষ হলে রাজধানীর যানজট অনেকটাই সহনীয় হয়ে উঠবে।

 বছর পাঁচেক আগে শান্তি নিকেতনে এক বক্তৃতায় নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছিলেন, শুধু মাথাপিছু আয় ছাড়া বাংলাদেশ মানব উন্নয়নের সব ক’টি সূচকে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, অমর্ত্য সেন মনে করছেন বাংলাদেশ একদিন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তর অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে।

 আমাদের কপালে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ হিসেবে যে তিলক লেগেছিল তা অপসারিত হয়েছে অনেক আগেই এবং আমরা এখন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা-প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উন্নয়নের প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত আশা জাগানিয়া। উন্নয়নের সড়কটি আমাদের চওড়া হতে পারে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতেই।

 

তাহলে পাঠ্যবইয়ের কী দরকার

কুলের পাঠ্য বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠেছে গাইড বই, শ্রেণিকক্ষের বিকল্প হয়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। একজন প্রধান শিক্ষক ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন রাখলেন তাহলে পাঠ্য বইয়েরই বা দরকার কী? স্কুলেরই বা দরকার কী? তিনি আরও বলেন, পাঠ্য বই মিলছে বিনামূল্যের কিন্তু এ বই কিনতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে যে অর্থ ব্যয় করতে হতো, তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় গাইড বই কিনতে।

 বিদ্যালয়ে পড়ার জন্য যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, তার চেয়ে ঢের বেশি ব্যয় হয় কোচিং সেন্টারে পড়ার জন্য। এ যেন বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়। দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বলা যায়। কিন্তু দুএকটি ক্ষেত্রে সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাজার থেকে নিষিদ্ধ গাইডকে তুলতে না পারা, কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করতে না পারা।

 কোচিং সেন্টার যদি চলে, তাহলে স্কুলের ক্লাস কী দরকার- এমন প্রশ্ন কেউ করতেই পারেন। কোচিং বাণিজ্য আমাদের দেশে শিশুদের মানসিক বিকাশে চাপ সৃষ্টি করে। বইয়ের চাপে আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আবার বাবা-মা’রা শিশুদের নিয়ে বিকাল সন্ধ্যা-রাত কোচিং সেন্টারে দৌড়-ঝাঁপ করছেন। একদিকে স্কুল ও অন্যদিকে কোচিং সেন্টারের বাড়তি চাপ- শিশুরা কত চাপ নেবে ? কেন যাচ্ছে কোচিং সেন্টারে শিশুরা।

 ক্লাসে পড়াশোনা কী নির্ভরযোগ্য নয়। অভিভাবকরা কী আস্থা রাখতে পারছেন না স্কুল শিক্ষার ওপর। না হলে কোচিং সেন্টার আর গাইড নির্ভর করা হচ্ছে কেন শিশুদের। এটা চলতেও দেওয়া যায় না। শিক্ষা বাণিজ্য করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, ব্যক্তির কাছে সরকারের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। তাই এ ব্যাপারে নীতি নির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

 

পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন

 

জঙ্গিবাদ দমনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৪টি দেশের পুলিশ প্রধানরা একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ সহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে রাজধানীতে তিনদিনের পুলিশ প্রধান সম্মেলনে ১৪ দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও ইন্টারপোল, ফেসবুক, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রভৃতি বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে যোগ দেন।

 এই সম্মেলনে অপরাধের ধরন চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম ও অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সম্মেলন শেষে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পুলিশ প্রধানদের যৌথ ঘোষণাকে একটি বিরাট অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ প্রধানদের পক্ষ থেকে ফেববুকের আইডি খুলতে ভোটার আইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্ট ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দেয়নি। এটিতে ফেসবুক সম্মত না হলেও এ সম্মেলন অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতার যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা আশা জাগানিয়া ঘটনা।

 সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে যেসব বিরোধ আছে সেগুলোর দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান আবশ্যক। জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা, কোনো দেশই এই বিপদ থেকে মুক্ত নয়। সেহেতু এ বিপদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের যে তাগিদ সৃষ্টি করেছে সদ্য সমাপ্ত পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন তা আরও এগিয়ে নিতে হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

অপরাধের সঙ্গে দেশের বাইরে অবস্থানরত অপরাধীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমন অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সাজানো দরকার। বৈশ্বিক সমস্যাকে মোকাবেলায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের অবদান রয়েছে। এর আগেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একথা উল্লেখ করেছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত করা হলে দারিদ্র্য বিমোচন টেকসই হবে।

একই সঙ্গে সরকারের নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণও জরুরি। ক্ষুদ্র ঋণের বড় একটি সমস্যা হলো ঋণগ্রহীতারা কেউ কেউ একটি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে গিয়ে আবার অন্য একটি সংগঠন থেকে ঋণ নিচ্ছে, যা তাদের দারিদ্র্য চক্রেই আবর্তিত রাখছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণের সমস্যা দেখা গেলেও সামগ্রিক ভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের অবদান রয়েছে।

 বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। দেশে এখনো দেড় কোটি লোক চরম দরিদ্র এবং তিন কোটি লোক দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। বর্তমানে জিডিপির ২.২ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় হলেও এ খাতে জিডিপির ৪ শতাংশ বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

দারিদ্র একটি অভিশাপ। অভিযোগ রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণের জাঁতাকলে পড়ে অনেক দরিদ্র মানুষ তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে। কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে প্রধান খাদ্য শস্য ধান উৎপাদনে আমরা মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও দারিদ্র্র্য বিমোচনের সহায়ক অন্যান্য শক্তি নিশ্চিত না হওয়ায় এ নেতিবাচক অবস্থা থেকে যাবে বলে ধরে নেয়া যায়।

 তবে ক্ষুদ্র ঋণ মন্দ-এটা বলা যাবে না। কিন্তু মানুষের এটাকে প্রকৃত অর্থে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা না করে, ঋণ করে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ক্ষুদ্র ঋণের এ অপব্যহার বন্ধ করতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে রাষ্ট্রের ব্যাপকভিত্তিক নানা উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। যে কোন মূল্যে সরকারের এ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে।

শততম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়

শ্রীলংকাকে প্রথমবারের মতো টেস্টে হারালো বাংলাদেশ, তাও নিজেদের শততম টেস্টে। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ক্রিকেটে স্বপ্নের এক ম্যাচে কলোম্বোর পিসারা ওভালে বাংলাদেশ চার উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলংকাকে। একই সঙ্গে দুই টেস্টের সিরিজ ১-১ ব্যবধানের সমতায় শেষ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্টইন্ডিজ ও পাকিস্তানের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শততম টেস্ট জিতে মাইলফলকে পৌঁছালো।

 পাকিস্তান শততম টেস্টে জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। তার ৩৮ বছর পর কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশ শততম টেস্টে জয়ের দেখা পেলো। শুধু শততম টেস্টই নয়, শততম ওয়ানডেতেও জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশের মতো ওই তিনটি দলও নিজেদের শততম ওয়ানডেতেও জয় পেয়েছিল। টেস্ট পরিবারের সবচেয়ে নবীন দল হলেও এদিক থেকে বাংলাদেশের সৌভাগ্য অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোও তাদের শততম টেস্টে জিততে পারেনি। সে দিক থেকে টাইগাররা নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে দাবি করতেই পারেন।

 দেশের গর্ব এগার ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও দলের সঙ্গে থাকা সবাইকে আমাদের অভিনন্দন। এই জয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছে পুরো বাংলাদেশ। দেশের জেলা, উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লার ক্রিকেট প্রেমীরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে। খেলার ফলাফল অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই শহর গঞ্জ-বন্দরে বিজয় মিছিল করে ক্রিকেট প্রেমীরা। টেস্টের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট ছল ১৯১ রান।

 শ্রীলংকা দুই উইকেট হাতে নিয়েও যেভাবে লড়াই করেছে তা সমীহ জাগাবার মতো। শততম এই জয়ে সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য (সেঞ্চুরি ও ৬ উইকেট), মুস্তাফিজুর রহমান ও মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং এবং মোসাদ্দেক, মুশফিক, সৌম্য ও তামিমের গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি এই টেস্ট জয়ে পালন করেছে অনন্য ভূমিকা। আমরা আশা করি, এই জয়লাভের মাধ্যমে আমাদের ক্রিকেটারদের মনোবল আরও বেড়ে যাবে। মানসিক চাপ মোকাবিলায় আরও দৃঢ়তার পরিচয় দিবেন। আবারও অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে।

 

কমছে ফসলি জমি

বাংলাদেশের তিন চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়নের ফলে ক্রমশ কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। আগের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত এক দশকে প্রতি বছরে দেশে ফসলি জমির পরিমাণ ৬৮ হাজার ৭০০ হেক্টর করে কমছে, যা দেশের মোট ফসলি জমির শূন্য দশমিক ৭৩৮ শতাংশ। একইভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন ৯৬ বিঘা জলাভূমি। সে সব জলাভূমিও ভরাট করে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 দেশে অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমিতে নানা অবকাঠামো গড়ে উঠছে, কমছে চাষের জমি। বাংলাদেশে ১৭৬০০৮০৪ কৃষক পরিবার রয়েছে। তাদের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। এই প্রান্তিক কৃষকরা অপেক্ষা করে ধানের ফলনের জন্য আর ধানের আয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি  হয় তাদের সংসারের আয়-ব্যয়ের বাজেট।

 বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপন্ন হওয়ায় এবং এতে বিদেশ নির্ভরতা কমছে আর গ্রামীণ ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উচিত দেশের কৃষি জমি সংরক্ষণের দিকে নজর দেওয়া এবং ভূমি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। যেখানে সেখানে কৃষি জমিতে যার খুশি যেমন তেমনভাবে যাতে অবকাঠামো গড়ে তুলতে না পারে সে  ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সর্ব সাধারণের সচেতনতাও কৃষি জমি হারানোর সমস্যা সমাধানে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। 

অভিন্ন নদীর পানি সংকট

নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরাখালে পরিণত হচ্ছে। ভারত অভিন্ন নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীগুলোর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবেশ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ৫০টি নদী এখন মৃতপ্রায়। উজানে প্রবাহ না থাকায় নাব্যতা সংকটে শুস্ক মওসুমে কোনো নদীতে হাঁটু পানিও থাকে না।

 তিস্তার বুক জুড়ে এখন ধু ধু বালু চর। মৌসুমের শুরুতেই তিস্তায় এখন হাঁটু পানি। উজানে ভারত ব্যরাজ নির্মাণ করে এক তরফা পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ তিস্তার এই হাল। জেগে উঠছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। তিস্তার বুক জুড়ে এখন ফসলের আবাদ হচ্ছে। করতোয়া নদী ও পানি শূন্যতায় অস্তিত্ব সংকটে ধুকছে। প্রসঙ্গত এক সময়, বাংলাদেশে ১২শ’ চলমান নদীর নাম পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ২শ’র বেশি হবে না।

শীতকালে চলমান নদীর সংখ্যা কমে ৫০-৬৫টিতে নেমে আসে। নদীর এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছরে বাংলাদেশের প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার নদী পথ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আসলে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহের বিকল্প নেই। ভারতের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক দর কষাকষি ছাড়া পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তিরও বরখেলাপ হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যেই যে সবার কল্যাণ এ বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্ধি করা যাবে ততই মঙ্গল।

 

 

ভোক্তা স্বার্থ রক্ষা করুন

কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই, আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন একই দশা। কাগজে কলমে আইনটি বলবত আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। আইনের প্রয়োগ না থাকায় প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ। পণ্য ও সেবার মান যেমন কম, তেমনি দাম ক্রমাগত বাড়ছে। যান্ত্রিক ওজন যন্ত্রেও ত্রুটি বা কারসাজির কারণে ওজনে পণ্য কম পাচ্ছেন ক্রেতারা।

 বিভিন্ন দোকানে মাপে হেরফের পাওয়া যায়। বহু খাদ্য পণ্য আছে যার মোড়কে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও ঠিকানা নেই। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন না অনেক বিক্রেতা নানা অজুহাতে। দাম লেখা না খোলা পণ্য তো হরেক রকম দামে বিকোয়। ক্রেতা ও ভোক্তা সাধারণ যে ন্যায্য মূল্যে সঠিক পণ্য ও সেবাটি পাবেন, সে জন্য ব্যবসায়ে সততা একান্ত কাম্য।

 আর রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ আইন-বিধি বিধান দ্বারা একদিকে ব্যবসা বাণিজ্যের পথ সহজ করা এবং নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতি মুনাফা বাজি কঠোরভাবে দমন করে ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে কাজে আসেনি সংশ্লিষ্ট আইনটি। এতে ক্রেতাসাধারণকে বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 ভোক্তা অধিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, পণ্যের মোড়কের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধ্যকতা থাকলেও দোকানিরা গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনেক ক্ষেত্রে মানে না। আইনের এ শর্তগুলো অমান্য করার কারণে কোনো ব্যবসায়ীকে শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে তেমন দৃষ্টান্ত বিরল। আমরা চাই ভোক্তা অধিকারগুলো যথাযথভাবে পালিত হোক। দাম দিয়ে ক্রেতা যেন সঠিক পণ্য পায়, সে অধিকার তার নিশ্চিত করতে হবে।

মাদকের সর্বনাশা থাবা

দেশজুড়ে মাদকের ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। অবৈধ অস্ত্র, অর্থ আর রাজনৈতিক প্রভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে এই মাদক মাফিয়ারা। দেশের ৩২ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো শাসন করছে এখন তারাই। এসব সীমান্ত এলাকার ৫১ পয়েন্ট দিয়েই পাচার করে আনছে হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। সিন্ডিকেটের ছড়িয়ে থাকা শক্তিশালী জালের মাধ্যমে সহজেই তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।

 গত বুধবার ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বদরপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলা চালিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে একজন আনসার সদস্য নিহত এবং ম্যাজিস্ট্রেটসহ দু’জন আহত হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা আনসার সদস্যের অস্ত্রটিও লুটে নিয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা এখন অত্যাধুনিক সব অস্ত্র রাখছে।

 এ ছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাঠ পর্যায়ের লোকজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সব সময় রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যারা ধরা পড়ছে, তারাও আবার আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছেন। আসল নাটের গুরুরা ধরা পড়লে এদের মুখোশ যেমন উন্মোচিত হতো, তেমনি মাদক ব্যবসায়ও ভাটা পড়ত।

 এখনো মাদককে ফেরাতে না পারলে এ বিষ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়বে। তখন করার কিছুই থাকবে না। সামাজিক জবাবদিহিতার জায়গাগুলো স্পষ্ট করা দরকার। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক কীভাবে দেশের অভ্যন্তরে ঢোকে, সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি জাতি ও রাষ্ট্রকে সর্বনাশের উন্মত্ততা থেকে রক্ষার সব রকম প্রয়াস নিতে হবে নির্মোহ ও কঠোর হাতে।

 

এসএমই খাত সম্প্রসারিত হোক

যে কোনো দেশেরই মূল লক্ষ্য থাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। আর এ প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ। একটি দেশের প্রাণ হলো সে দেশের অর্থনীতি। অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজন আরও বেশি বিনিয়োগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসএমই খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এটা ভালো খবর।

 কেন্দ্রিয় ব্যাংকের তথ্য মতে জানা যায়, এসএমই খাতে ২০১৬ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ১ লাখ ৪১ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। সে হিসেবে গত বছর এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

আর গত বছর এসএমই খাতে ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৩৪৩ লাখ টাকা। এতে গত বছর লক্ষ্যমাত্রার ১২৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে। তবে এসএমই খাতে ঋণ সরবরাহে বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় খাতের কয়েকটি ব্যাংককে এসএমই শিল্পে ঋণ সরবরাহে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ দেশের কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে  বলে আমরা মনে করি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের উৎসাহিত যেমন করবে।

 তেমনি এসএমই’র উৎপাদিত নানা ধরণের পণ্য আরও বর্ধিত হারে বিদেশে রফতানি হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও বিকল্প নেই। এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোকে ঋণ সরবরাহের জন্য নীতিগত ও বাস্তব সহযোগিতা দিতে পারে। এসএমই খাতকে আরো শক্তিশালী করতে ঋণ সহায়তা আরো বাড়াতে হবে।

সীতাকুন্ডে জঙ্গি বিরোধী অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জঙ্গি আস্তানায় চার ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চারজঙ্গি নিহত হয়েছে। পরে ৭ বছরের আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযান শুরুর ১৯ ঘন্টা পর নারী ও শিশু সহ তিন পরিবারের ২১জনকে জিম্মি দশা মুক্ত করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে মূল অভিযান। অপারেশন অ্যাসল্ট ১৬ শুরু হয়। সকাল ১০টায় অভিযান সফলভাবে শেষ হয়। বুধবার দুপুরে সীতাকুন্ড পৌরসভারই আমিরাবাদের এক কুটিরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে দুই মাসের শিশু সহ এক জঙ্গি দম্পতিকে আটক করেছিল।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘ছায়ানীড়ে’ অভিযান চালাতে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু জঙ্গিদের বাধার সম্মুখিন হয় তারা এবং উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ অবস্থায় জঙ্গিরা ওই বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাটে থাকা সদস্যদের জিম্মি করে রেখেছিল। জঙ্গিরা নতুন নতুন নামে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করছে। সীতাকুন্ডু, কল্যাণপুর বা নারায়ণগঞ্জের মতো আগামী দিনেও জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে তারা কাজ করে যাবে।

 সাধারণ মানুষও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। জঙ্গিরা পবিত্র ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে ও ধর্মকে কলুষিত করতে চায়। এ অপচেষ্টা রোধে জঙ্গিরা যে ইসলামের কেউ নয় সে সত্যটি তাদেরই তুলে ধরতে হবে। এরা যে বিপথগামী ও ধর্মের শত্রু এ বিষয়টি দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে হবে। জঙ্গি নামের ঘৃণ্য পিশাচরা যাতে কোথাও ঠাঁই না পায় তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

রাজধানীতে পরিকল্পিত পার্ক নেই

বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে ঢাকায় অস্বাভাবিক জনস্ফীতিতে একদিকে বাড়ন্ত মানুষজনের ঘরবাড়ি নির্মাণের চাপ, অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনুমোদিত মহাপরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহারে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যায়। স্থানে স্থানে অনেক উন্মুক্ত স্থান দখল-বেদখল হয়ে তথা অযতœ অবহেলায় বেহাত হয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতি শুধু ঢাকা নয় বিভিন্ন জেলায় উন্মুক্ত স্থান দখল-বেদখল হয়ে যায়। এভাবে বর্তমানে নগরীর বেশির ভাগ জায়গায় পার্ক-মাঠ ও অন্যান্য খোলা জায়গা প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে।

 বাস্তবে নগর ব্যবস্থাপনায় কম পক্ষে ২৫ ভাগ জমি খোলা জায়গা বা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও ঢাকায় এর পরিমাণ এখন ৭/৮ ভাগের বেশি নয়। চতুর্দিকে নদী পরিবেষ্টিত সমন্বয়ে ঢাকা আগে জন সবুজে পরিপূর্ণ একটি জায়গা ছিল। ঘরবাড়ি ও বসতির মধ্যে উঠোন-বাগান এবং অনেক বসতবাটিতে পুকুর দীঘিও ছিল। প্রতিটি পাড়া মহল্লা এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি সব ছাত্র হল প্রাঙ্গণেও পুকুর মাঠের অবস্থান ছিল। পার্ক বা মাঠের সহস্থান ছিল। কিন্তু কালক্রমে নগরীতে বাড়তি জনগণের অবস্থানের জন্য প্লট সৃষ্টিসহ অন্যান্য সুবিধার সংযোজন করতে গিয়ে বর্তমানে কোথাও আর তেমন পার্ক-মাঠ বা খোলা জায়গা নেই। কিন্তু সেভাবে ঢাকার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটেনি।

বরং একটি মহাপরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ক্ষেত্রে এর থেকে বিচ্যুতির উন্নয়ন হয়েছে বা ঘটানো হয়েছে অর্থাৎ যেখানে যা হওয়ার কথা ছিল সেখানে তা করা হয়নি। ফলে সার্বিকভাবে ঢাকা একটি অপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে ওঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরীতে যেসব খাল-নালা ছিল সেগুলোকে ভরাট করে বক্স কালভার্ট ড্রেন নির্মাণ করেও বড় ধরনের সর্বনাশা ঘটানো হয়েছে। বাস্তবে ঢাকায় পার্ক-মাঠ তথা অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট বা আলাদাভাবে কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ নেই। ঢাকা ও অন্যান্য নগরীতে কমপক্ষে ২৫ ভাগ জায়গা উন্মুক্ত স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করে সেখানে পার্ক ও খোলা জায়গা হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে একটি দেশ চিহ্নিত করা হয় তিন কারণে- কম আয়, মানব সম্পদের উন্নয়ন না হওয়া ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতা। এই তিন সূচকের ওপর ভিত্তি করে স্বল্পোন্নত দেশ তা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ। তবে দক্ষিণমুখী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে অচিরেই বের হয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ। সে জন্য মানব সম্পদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে এবং এসব ক্ষেত্রে সূচকের উন্নয়ন ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

 যে কোনো দেশেরই মূল লক্ষ্য থাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। আর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সে দেশের জনসাধারণের জীবনযাপনের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়ে ওঠে। আর তা না হলে, দারিদ্র্যাঘাতে, নানা রকম সমস্যায় দেশের সব ক্ষেত্রই অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। যা দেশের জন্য কোনোভাবেই শুভফল বয়ে আনে না। তাই এসব বিষয় বিবেচনা করে রাষ্ট্রের উচিত সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনে সচেষ্ট থাকা। এই দেশ এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন কিছু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে যা বিশ্বের কাছে অবশ্যই অভিনন্দন পাওয়ার দাবি রাখে।

বিশ্বব্যাংককেও বলেছে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দুটিই কমেছে এবং গত এক দশকে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। এ তথ্য মোতাবেক বলা যায় – এ ধারাকে আরো এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ একটি দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, এই দিন খুব বেশি দূরে নয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রধানত দুটি কারণে বাংলাদেশ এ সফলতা অর্জন করেছে। এর একটি হলো মজুরি বৃদ্ধি, আরেকটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসার ফলে উপার্জনক্ষম লোকের সংখ্যা একাধিক হওয়া। দারিদ্র্য সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক ঝুঁকি, লিঙ্গ এবং সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় বৈষম্য ইত্যাদি সমস্যা মোকাবেলা করতে পারলে তা হবে জাতিগত দিক থেকেও একটি অন্যতম অর্জন।

 

বিপন্ন দেশীয় মাছ

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত ধ্বংস, কৃষি জমিতে যথেচ্ছ সার, কীটনাশক ব্যবহার, শিল্পায়ন ও মানুষের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য পানি দূষণ, জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার মুখে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা নানাবিধ কারণে সুস্বাদু দেশি মাছ প্রায় দুর্লভ হয়ে উঠছে। দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর ডোবা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক উৎসে জন্মানো কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, চাপিলা, টাকি, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, রিটা, পাঙ্গাস, বোয়াল, খৈলসার মতো সুস্বাদু মাছগুলো আর দেখা যায় না বললেই চলে।

 বিশেষজ্ঞরা বলেন দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে থেকে ২০-২২ বছরের ব্যবধানে ৬৫ প্রজাতির মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশীয় আরও শতাধিক প্রজাতির মাছের অস্তিত্বও এখন বিপন্ন প্রায়। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বিদেশি মাত্র ২৪ প্রজাতির হাইব্রিড মাছ চাষের ব্যাপকতায় দেশি আড়াই শতাধিক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। কৃষি জমিতে অবাধ কীটনাশক ও মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে তার ধোয়ানি পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিলে। ফলে বিল-ঝিলের স্বচ্ছ পানিও মুহূর্তে বিষাক্ত হয়ে পড়ে, পরিণত হয় তরল ময়লা বর্জ্যরে আধার।

 সেসব বিষাক্ত পানির কারণে দেশি মাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, অধিক মুনাফার আশায় হাইব্রিড মাছের চাষ করতে গিয়ে জলাশয়গুলো থেকে দেশি মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। খাল-বিল-নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণেও দেশি মাছের আকাল শুরু হয়েছে। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। দেশের নদী, খাল-বিলের পানিকে দুষণমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে অধিক পরিমাণে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের রান্না ঘর পর্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উত্তোলন যেমন বাড়ানো প্রয়োজন, তেমনি সঞ্চালন লাইন গ্যাস সরবরাহের উপযোগী করে তোলাও জরুরি। আমাদের আরো অনুসন্ধান কূপ খনন করা প্রয়োজন।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর অনাবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র আছে। সরকার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে কেন ? বলা হয় গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার যে অজুহাত তোলা হয় তা ধোপে টেকে না। গ্যাসের অনুসন্ধান না চালিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এর স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারবে না। ২০১২ সালে সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তির পর থেকে মিয়ানমার অসংখ্য অনুন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছে। সেখানে আমাদেরও যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। গ্যাস শহরের রান্নার একমাত্র উপকরণ বলা চলে, যা স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়াবে।

 ফলে সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের বৈষম্য বাড়বে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বাড়বে। আজকের যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়নে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। শিল্পায়নের জন্য চাই ইন্ধন শক্তি। এদিক থেকে আমরা খুব পিছিয়ে। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন ইন্ধন শক্তির মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও কয়লা। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশে কয়লার মজুদ মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও ঘনবসতির এই দেশে কয়লা উত্তোলন কতটা লাভজনক তা সংশয়ের উর্ধ্বে নয়।

 অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষত শিল্পায়নের জন্য ইন্ধনশক্তির সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, সেহেতু সাগর প্রান্তে নতুন গ্যাসের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত স্থলভাগের মজুদ গ্যাস সতর্কভাবে ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে শুরু করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয়, সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার ব্যয় বাড়বে। তাই দাম বাড়ানোর কথা না ভেবে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নিজেদের সামর্থ্য গড়ে তুলতে হবে। গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন।

 

নদী দখল-দূষণ চলছেই

নদী দূষণ ও দখল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তা সত্ত্বেও এ দেশে এটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ বাদীরা এ ব্যাপারে যতই সোচ্চার হোক না কেন কোনো কাজ হচ্ছে না। যারা পরিবেশ দূষণ করছে তারা কেবল প্রকৃতির শত্রুই নয় মানুষের শত্রু। কারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে তারা। নদী দখল ও দূষণ, গাছ কাটা, পাহাড় কাটা, ফসলি জমি নষ্ট করে নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা এসব কোনো ব্যাপারেই সংশ্লিষ্ট কারো তেমন মাথা ব্যথা নেই। ফলে দেশের নদ-নদী দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে অবলীলায়।

 আমাদের দেশে নদী যেন কারো পৈত্রিক সম্পত্তি। যার ক্ষমতা আছে সে-ই নদীর ওপর অত্যাচার চালানোর অধিকার রাখে যেন। নদী দখল হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে। নদী আমাদের জীবন-জীবিকার সাহিত্য সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা নির্দিষ্ট কোনো নদীর কথা বলছি না, দেশের যেসব নদ-নদী, খাল-বিল জলাশয়ের ওপর অত্যাচার চলে তার সব ক’টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে কাজটি অতীব জরুরি। মনে রাখতে হবে, নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধই শুধু নয়, দখলদারদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করতে না পারলে আমাদের সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে।

 নদ-নদীর টিকে থাকার সঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্বের সম্পর্ক জড়িত। কাজেই যে কোনোও মূল্যে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে  হবে। সারা দেশের নদী ও খালগুলো উদ্ধার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, এসব উৎসের পানি সেচ কাজেও ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সাবমেরিন যুগে প্রবেশ

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় নৌশক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুণগতভাবে এক ধাপ বাড়ল। বহিঃ শত্রুর আক্রমণ মোকাবেলা করার সামর্থ্য অর্জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মনোবলও চাঙ্গা রাখে।

কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধ কিংবা সংঘাত কাম্য না হলেও আক্রান্ত হলে আক্রমণকারীদের যাতে সমুচিত জবাব দেওয়া যায় সে জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে সময়ের চাহিদা মনে রেখে। নৌবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিকরূপে গড়ে তোলার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন।

 তিনি গত রোববার চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটিতে একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী যুক্ত প্রথম দুটি সাবমেরিন বানৌজ নবযাত্রা ও ‘বানৌজ জয়যাত্রা’ উদ্বোধন করে দুই কমান্ডারের হাতে কমিশনিং ফরমান বা সমুদ্র যাত্রার অনুমতি পত্র তুলে দেন।

বিশ্বের যে গুটিকতক দেশ সাবমেরিন পরিচালনা করে থাকে, সে তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। এই দুই সাবমেরিন দিয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে আরো দৃঢ় করল, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষায় জলসীমার সবিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দূর অতীতে এ জাতিকে যেমন আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে হয়েছে সেসব হুমকি অনেকাংশে এসেছে জলসীমানা থেকে।

 আধুনিক যুগেও জাতীয় প্রতিরক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিকতার দাবিদার। বাংলাদেশ যুদ্ধ নয় শান্তি এই ভাবনা বুকে ধারণ করলেও কখনো কারের দ্বারা যাতে আক্রান্ত হতে না হয়, সে জন্য প্রতিরক্ষার চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শান্তিবাদী হয়েও প্রতিরক্ষা শক্তিতে বাংলাদেশের দুর্বল থাকা চলে না। দুর্বলের সঙ্গে কারও সমমর্যাদার সম্পর্ক হয় না। নৌবাহিনীতে সাবমেরিন যুগের সুচনা দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল, মর্যাদাবান ও শক্তিশালী করে তুলবে -এটিই আমাদের আশা।

সঞ্চয়ে আগ্রহী হচ্ছে পথ শিশুরা

এক বেলা খাবার জোটে তো অন্যবেলা উপোস। ছেঁড়া পোশাক গায়ে। বসবাস ফুটপাতে, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা লঞ্চ ঘাট। আর শিক্ষা চিকিৎসা তো তাদের কাছে বিলাসিতার মতই। মানুষ হিসাবে পাঁচটি মৌলিক অধিকারের কোনটিতেই নেই তাদের পূর্ণতা।

আর এ জীবন শুরু হয় শিশুকাল থেকেই। দেশে শহরগুলোতে এমন দৃশ্যের মাঝে রয়েছে ভিন্ন চিত্র। এই না খেয়ে থাকা পথ শিশু ও কর্মজীবী শিশুদের আছে ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট)। আর তাদের এসব অ্যাকাউন্টে রয়েছে ভাল পরিমাণ অর্থ।


বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে পথ শিশু ও কর্মজীবী শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব দেখলে বিস্মিত হতে হয়।  মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে এসব অ্যাকাউন্ট খোলা এবং সেসব অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়াসহ পরিচালনা বিষয়ে সহযোগিতা করছে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায় ২০১৪ সালে ৯ মার্চ মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে ছিন্নমূল শিশুসহ পথ শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছিল। তারপরই এনজিওর সহায়তায় পথ শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নেয় ব্যাংকগুলো।

 তারপর ওই বছরের ৩১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান পথ শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই সময় প্রাথমিকভাবে ৮টি এনজিওর সহায়তার ১০টি ব্যাংকে ৩ শতাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। পথ শিশুদের জন্য আর্থিক কর্মসূচিকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলার কার্যক্রম হাতে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 পথ শিশুদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পথ শিশু ও কর্মজীবী শিশুদের নামে সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। তাদের পক্ষে হিসাবটি পরিচালনা করবেন এনজিও প্রতিনিধিরা। পথশিশুদের একেক জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্রে মহীরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথশিশুরা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীও হয়ে উঠবেন কেউ কেউ।

গণহত্যা দিবস

সংসদে শনিবার সর্বসম্মতিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে-২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হবে। গত মাসে দিবসটি পালনের বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়। পাকিস্তান সবসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে এসেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র নামে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায়।

 ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির দায় বোধের প্রকাশ ঘটেছে। প্রস্তাবটি পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের ঘোষণায় ‘জেনোসাইড’-এর যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে ২৫ মার্চ রাতে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাঙালির ওপর প্রয়োগ হয়েছে। তিনি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাসের আহবান জানান এবং বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদর এদেশিয় দোসরদের চালানো গণহত্যার কথা যারা ভুলে যায়, তাদের বাংলাদেশে থাকার কোন অধিকার নেই।

 যারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে দহরম মহরম করে, তাদেরও পাকিস্তানে চলে যাওয়াই ভাল। এই বাংলাদেশে তারা থাকলে এ দেশের মানুষের ভাগ্য সবসময় দুর্ভাগ্যে পরিণত হবে। স্মরণ করা যেতে পারে পাকিস্তানিদের এ গণহত্যা বা জেনোসাইডের এপিসেন্টার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তর ও পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর হলও প্রকৃত পক্ষে তারা নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করেছিল।

 রাজনৈতিক নেতা ও কর্মি, খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক থেকে বস্তিবাসী সবাই ছিল তাদের টার্গেট। পকিস্তানি বর্বর সেনাবাহিনী খুব দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বত্র গণহত্যা পরিচালনা করতে থাকে। সংসদে প্রস্তাব পাশ হয়েছে ‘এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে হবে’ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে আমরা দেখতে চাই।

 

উত্তরাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর

দেশে উত্তরাঞ্চলে গত দুই বছরে গড়ে আরো ১০ ফুট নিচে নেমেছে ভূগর্ভস্থ পানি স্তর। সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৮টি এলাকা। বরেন্দ্র অঞ্চল গবেষণা সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশন পরিচালিত সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার যেসব এলাকা সংকটাপন্ন বলে চিহ্নিত হয়েছে সেসব জায়গায় গত দুই বছরে পানির স্তর নেমে গেছে ৮ থেকে ১২ ফুট। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এই অঞ্চলের ১০০টি পয়েন্টে বোরিং করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা।

আর অধিক সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নকে। বোরো মৌসুম শেষে আগামী মে মাসে আবার ১০০টি পয়েন্টে নিরীক্ষার পর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

বাধাইড় ইউনিয়ন ঝিলাইখোর এলাকায় ২০১৫ সালে ফেব্রুয়ারিতে পানির স্তর ছিল ৯৯ ফুট নিচে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেখানে পানির স্তর পাওয়া গেছে ১১১ ফুট ৯ ইঞ্চি নিচে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝিলিম ইউনিয়নে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পতি স্তর ছিল ১০১ ফুট নিচে।

 

 চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে সেখানে পানি পাওয়া গেছে ১০৮ ফুট ৯ ইঞ্চি নিচে। এক যুগ আগে এসব এলাকায় ৬০ থেকে ৯০ ফুট নিচে পানি স্তর ছিল। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব এলাকা থেকে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে বোরো আবাদ দ্রুত বন্ধ করার সুপারিশ করা হবে।

বিকল্প হিসেবে বড় পুকুর ও খাল খনন করে ভূ-উপরিস্থিত পানি বাড়ানোর সুপারিশ করা হবে। বোদ্ধপুর গ্রামের গভীর নলকূপ অপারেটর আব্দুল আজিজ জানান ২০১৫ সাল থেকে তার গভীর নলকূপের পানি কমতে থাকে। আর ২০১৫ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ২০০ বিঘার বেশি জমি পতিত পড়ে আছে পানির অভাবে।

শিশুশ্রম বন্ধে আইনি পদক্ষেপ জরুরি

আমাদের দেশে শিশুদের বৃৃহত্তম অংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। অল্প বয়স থেকেই অভাব অনটনের তাগিদে বাধ্য হয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে হচ্ছে তাদের। এসব শিশুকে সুকৌশলে স্কুলমুখী করা তো দূরের কথা সামাজিক বৈষম্যের কারণে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর শিশুরা তাদের জীবনের তাগিদে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

আমাদের দেশে শহর-শহরতলীতে বসবাসকারী বস্তিবাসী সহ রেল স্টেশন, টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, হাটবাজার, অস্থায়ী বা স্থায়ী ভাবে বসবাসকারী পরিবারের অধিকাংশ শিশু অভিভাবকদের সঙ্গে কাজে সহযোগিতা ছাড়াও রিকসা গ্যারেজ, গাড়ি গ্যারেজ, বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে এমনকি বালু পাথর, হোটেল, রেস্টুরেন্টে গ্লøাস বয় হিসেবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

 এসব ছাড়াও কৃষি ক্ষেত্রেও শিশুরা অবাধে শ্রম বিক্রি করলেও অল্প মজুরিতে এসব শিশুরা রাতদিন খেটে যাচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ বলতে কিছুই নেই। এসব শিশু সামাজিকভাবে অবহেলিত। শিশু হিসেবে যে অধিকার পাওয়ার কথা তা থেকে বঞ্চিত। শিশু শ্রম বন্ধে আইন থাকলেও দেশে প্রায় ৫০ লাখ শিশু শ্রমে জড়িয়ে আছে। তারা হারিয়ে ফেলেছে তাদের দুরন্ত শৈশব। অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের সোনালী ভবিষ্যৎ।

 পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে মোট ৪৫ ধরনের কাজে। এর মধ্যে ৪১ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজেই শিশুরা অংশ নিচ্ছে। সরকারের পরিসংখ্যান বিভাগের এক হিসাব মতে দেশের মোট শ্রমিকের ১২ শতাংশই শিশু।

শিশুরা এসব কাজে নিয়োজিত থেকে অনেক সময়ই শুধু জীবনধারনের খোরাকি পেয়ে থাকে যা দায়দায়িত্ব বলেও বিবেচিত হয়। গত পাঁচ বছরে দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ১০ লাখেরও বেশি। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শিশু শ্রমের প্রবণতা অনেক বেশি। শিশু শ্রমিকের মধ্যে ১৫ লাখ শহরে এবং ৩৫ লাখ গ্রামে কাজ করে।  

 

মৎস্য চাষ লাভজনক ব্যবসা

নদীমাতৃক আমাদের বাংলাদেশে প্রাকৃতিক এবং চাষাবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সাম্প্রতিককালে মাছের ব্যাপক চাষাবাদ এবং পোনামাছ নিধন বন্ধ করায় মাছের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীতে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ।

থাইল্যান্ড, ভারত, চীনের পরই বাংলাদেশে স্থান। বর্তমান সময়ে মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় সবাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষ করছেন। দেশে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাছ চাষে এগিয়ে এসেছেন। এখন আর সনাতন পদ্ধতিতে মাছের চাষ করা হয় না। বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে মাছের চাষ করা হচ্ছে। যে কারণে মাছের উৎপাদন আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্য চাষ প্রকল্পগুলোর জন্য দেশে অসংখ্য মৎস্য হ্যাচারি গড়ে উঠেছে।

 এসব হ্যাচারি উন্নতমানের মাছের পোনা উৎপন্ন করে মৎস্য প্রকল্পগুলোতে সরবরাহ করে থাকে। সারা দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক মৎস্য হ্যাচারি রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে তিন লাখ ৭১ হাজার ৩০৯ হেক্টর আয়তনের পুকুরে মাছের চাষ করা হচ্ছে। ২০১০ সালে সারা দেশে পুকুর জলাশয়ে মাছ উৎপাদিত হয়েছে ১৬ লাখ টন। বর্তমানে দেশে মাছের চাহিদা ৪২ থেকে ৪৬ লাখ টন। বর্তমানে উৎপাদিত হচ্ছে ৩৬ লাখ টন। প্রতি বছর মাছের উৎপাদনে গড়ে দেড় লাখ টন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে আমাদের দেশ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।

 পুকুর জলাশয় থেকে মোট উৎপাদন মাছের ৫৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, আর নদী খাল বিলের মতো উন্মুক্ত জলাশয় থেকে আসে ২৮ শতাংশ এবং দেশে দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য উৎপন্ন কেন্দ্র থেকে আসে ১৭ শতাংশ। বর্তমানে সারা দেশের মৎস্য প্রকল্প এবং মৎস্য চাষের সাথে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ লোক জড়িত আছেন। গত চার বছর আগেও বাংলাদেশে মানুষের মাথা পিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১৪ কেজি। চলতি বছরের হিসাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর ১৯ কেজি মাছ খাচ্ছে। আমাদের দেশে মৎস্য চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। এর উন্নয়নে একটু মনোযোগী হলে এর ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। বর্তমানে আমাদের দেশের মিঠাপানি এবং সমুদ্রের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশের মাছ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নিম্নমানের ওষুধ তৈরি

ওষুধ যেমন জীবন বাঁচায়, সব পরিমাণ ঠিক না হলে সেই ওষুধ প্রাণ কেড়েও নেয়। রোগীর কাছে চিকিৎসক, নার্সসহ ওষুধ সংশ্লিষ্ট সবার দায়বদ্ধতা এখানেই। মানুষের জীবন-মরণ যেখানে জড়িত, এর সঙ্গে কোন আপস চলে না। সংসদীয় কমিটির সুপারিশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে প্রতিষ্ঠানটির ওষুধ উৎপাদনের সনদই বাতিল করে দিয়েছিল তাদেরই ওষুধ কিনেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। অর্থ ও ওষুধের পরিমাণও কম নয়। ৪৬ লাখ ভায়াল, দাম ১৮ কোটি টাকা। সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ফলাও করে পত্র-পত্রিকায় এসেছে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে।

 কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি, কানে যায়নি। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হলো, তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা হলো। প্রশ্ন হচ্ছে কার স্বার্থে। সম্প্রতি মানহীন বলে ২৮ কোম্পানীর এন্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড, এ্যান্টিক্যান্সার ও হরমোন সংক্রান্ত ওষুধ উৎপাদন বন্ধে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য ও শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ পাঁচজনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করতেও বলা হয়েছে। আন্তরিক ও সততার সঙ্গেও নির্দেশ পালন করতে হবে।

 দেখা গেছে, মানহীন, ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারক মূলত ঢাকার বাইরে জেলা ও গ্রামাঞ্চলে তাদের ওষুধ বিপণন করে থাকে। কেন্দ্রীয় কোনো নিষেধাজ্ঞা এলে ওইসব এলাকার অনেক চিকিৎসকও সে খবর পায়নি। কিংবা রাখেন না। তারাও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করতে বলেন রোগীকে। অনেক ডাক্তার ওষুধ কোম্পানীগুলো থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কৃতজ্ঞতা থেকেও মানহীন বা ভেজাল ওষুধের নাম ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। এ জাতীয় অনৈতিক চর্চা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। বিভিন্ন প্রশাসনিক যন্ত্র কাজে লাগিয়ে এই অধিকার নিশ্চিত করার কাজটি রাষ্ট্রের পালন করার কথা।  

রফতানি আয়ে ধীরগতি

রফতানি আয়ে ধীরগতি কাটছে না। আয় বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ও আয়ের ব্যবধান বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে রফতানি কম হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। অথচ গত বছরের একই সময়ে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে গত আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আগের একই সময়ের তুলনায় আয় বেশি হয়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৯ শতাংশ। একক মাস ও সম্মিলিত উভয় হিসাবেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে রফতানি আয় কম হয়েছে যথাক্রমে ১০ এবং ৫ শতাংশ। অর্থাৎ সব বিবেচনায় আগের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমছে লক্ষ্যণীয় হারে।

 রফতানি কমে যাওয়ার পেছনে অভ্যন্তরীনের তুলনায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে বড় করে দেখছেন রফতানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, রানা প্লাজা ধসের পর সংস্কার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে দেড় হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। রফতানিতে এসব কারখানার অবদান না থাকায় মোট আয়ে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রফতানিকারক দেশ হওয়ায় ভারতীয় পরিকল্পনার প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে। গত এক বছরে বৈশ্বিক বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।

 রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০২ কোটি ডলার। আয় হয়েছে ২৭৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ২৯ কোটি ডলার। পোশাকের বাইরে বড় পণ্যের মধ্যে চিংড়িসহ সব ধরনের হিমায়িত মাছের রফতানি কমেছে চার শতাংশের মতো। রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি না হলে রপ্তানি আয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতিকে আরো সুসংহত করতে হবে।

স্বনির্ভরতার পথে দেশের অর্থনীতি

২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৩২তম। এ হিসাবে ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৮তম হবে বৃহৎ বাংলাদেশের অর্থনীতি। এই ৩৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখনকার তুলনায় ১৩তম বড় হবে। প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি চীনের প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালের পর কমবে। বলতে দ্বিধা নেই এ ভাবেই হাজারো সমস্যার অন্তর্জাল ছিন্ন করে অনন্ত সম্ভাবনায় পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের পুঁজি জনগণের কর্মশক্তি, মেধা, ৫ কোটি তরুণ প্রাণ ও অনন্ত উদ্ভাবনী ক্ষমতা।

 বাঙালি মানুষ বড়ই কাজের পথ দেখিয়ে দিলেই হলো অসাধ্যকে করে সাধন। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিরক্ষর বাঙালিরা তাদের উদ্যম, মেধা আর ত্যাগের মহিমা শক্তি দিয়েই বিজয় ছিনিয়ে এনে বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছে বাঙালিরা পারে। যা বলে তা করেই ছাড়ে। বিজয় অর্জনের সাড়ে চার দশকে তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব ঘুচিয়ে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছে। একটি দেশের অর্থনীতি কতটা বড় ও শক্তিশালী সেটি নির্ধারণে সর্বস্বীকৃত দুটি উপায় আছে।

 একটি হলো ক্রয় ক্ষমতার সক্ষমতার ভিত্তিতে জিডিপির আকার অন্যটি হলো বাজার বিনিময় হারের ভিত্তিতে জিডিপির আকার, দুই হিসাবেই বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতি উঠে এসেছে। বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখন মধ্যবিত্ত। ১৯৯২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে।

 বিশ্বে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে আম উৎপাদন বিশ্বের সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। গত ৪ বছরে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেয়ারা, ও আনারসের মতো দেশি ফল উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ছে। বিজ্ঞান প্রতিবেদন ২০১৫ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে শিক্ষার মান বেড়েছে। নারী পুরুষের আয় বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতির ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ।

 

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শীর্ষে বাংলাদেশ

গত সাত বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণের বেশি বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। তা সত্ত্বেও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিয়মিতই চলে বিদ্যুতের যাওয়া-আসা। ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বাংলাদেশ রয়ে গেছে শীর্ষ তালিকাতেই। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মিটিং এশিয়ান ইনফ্রাসট্রাকচার নিডস শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০১২ সালে এটি বছরে গড়ে সাত দশমিক ৪০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

 

 তবে এ হার এখনো অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু দেশ এখনো মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনে আঞ্চলিক গড়ের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এ জন্য দেশগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে দেশগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর হ্রাস পাচ্ছে শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা।

 প্রতিবেদনের তথ্য মতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উন্নয়নশীল এশিয়ার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। এর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তান। বাংলাদেশে মাসে গড়ে ৬৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। নেপালে এর সংখ্যা মাসে ৫১ ও পাকিস্তানে ৩১। চীনে ও ফিলিপাইনে এ হার একেবারেই নুন্যতম। মাসে একবার দুবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয় দেশ দুটিতে। বিদ্যুতের সিস্টেম লস বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয় এশিয়ার সবচেয়ে বেশি সিস্টেম লস নেপালে প্রায় ৩০ শতাংশ, চীন ও আজারবাইজানে এ হার ১৪ এবং বাংলাদেশে ১৩ শতাংশ।

 বিদ্যুৎ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সড়ক ও রেল অবকাঠামো উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। এতে প্রতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বল চিত্র দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর তিন।



Go Top