দুপুর ২:৪৪, রবিবার, ২৮শে মে, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

রমজানের চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মহিমান্বিত মাহে রমজান। ভোগ বিলাস, অপচয় এবং অসংযমের গড্ডলিকা প্রবাহ থেকে মানুষকে দুরে থাকার শিক্ষা দেয় এই মাস। আত্মসংযমের মাধ্যমে বিশ্বাসীরা যাতে ইন্দ্রিয় গত ও আত্মিক উভয় দিক থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানে নিয়োজিত হয় সে উদ্দেশ্যে সব সুস্থ ও সাবালক নর-নারীর জন্য সিয়াম সাধনাকে অবশ্য পালনীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পবিত্র মাসে বিশ্বাসী মানুষ সত্য -সুন্দর ও কল্যাণের পথে উদ্বুদ্ধ হয়। যা কিছু অকল্যাণকর তা পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস পায়।

 রহমত, মাগরিফরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে আসা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে এ তিন ধাপে ইবাদত বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে মুসলমানরা। সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাত সারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। হাজার রজনীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন।

 কৃচ্ছসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে মানুষ, সব রকম গুনাহ মাফ করে দেয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়। এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিতাপের বিষয়, এ মাসেই দেশের একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায় -নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এ প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। এবারও ক্রেতা সাধারণ দ্রব্য মূল্যের পাগলা ঘোড়ার দৌরাত্ম দেখতে পাচ্ছে। সরকার দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষিত হচ্ছে না। রমজান যে ত্যাগ-তিতীক্ষা,সহনশীলতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শ্রদ্ধাবোধের বাণী বয়ে আনে, তার চর্চাই সর্বাগ্রে হওয়া উচিত। স্বাগতম মাহে রমজান।

 

রিয়াদ সম্মেলন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হলো আরব ইসলামিক আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ অর্ধ শতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা যোগ দিয়েছেন।

সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যোগ দিয়েছেন এই শীর্ষ সম্মেলনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবার আগে গেলেন সৌদি আরবের একটি মুসলিম দেশে। নির্বাচনের আগে ও পরে ইসলামই ছিল তার আক্রমণের অন্যতম নিশানা।


 প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিলেন। দুনিয়ায় এমন কী ঘটল, সেই মুসলিম বিদ্বেষী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সর্বাগ্্ের সৌদি আরবে হাজির হলেন মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে মোলাকাতের জন্য?

এটি বোঝার জন্য বেশি বুজুর্গ হওয়ার দরকার নেই। সৌদি আরবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুরাগের দুটি ক্ষেত্র- এক কম দামে জ্বালানি তেল পাওয়া আর যুদ্ধে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে চড়া মূল্যে অস্ত্র কিনতে হচ্ছে। আর যুক্তরাষ্ট্র সহ কয়েকটি দেশ অস্ত্র বিক্রি করে দু’হাতে রিয়েল লুটছে। মুসলিম বিশ্ব জানে ট্রাম্প মুসলিম বিদ্বেষী। তবুও প্রটোকল বলে একটা কথা আছে। ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে গেছেন সম্মেলনে।


 সেখানে অন্যান্য মুসলিম দেশ আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। আমরা মনে করি জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের এক সাথে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। তবে আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গি আর মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি এক মত, এক পথ নাও হতে পারে।

যদিও বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তির বিরুদ্ধে বাস্তবতার কারণেই কেউ মুখ খুলতে চায় না। সমস্যায় পড়তে চায় না। আমরা মনে করি, মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যে কোনো মতভেদ দূর করা উচিত। নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হলে শক্তিশালী হলে, মুসলিম বিশ্ব আরো উপকৃত হতে পারে।

পণ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকুক

আর কদিন পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। প্রতি বছরের মতো এবারো সরকার রমজানে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের কথায় কর্ণপাত করছে না ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে তারা। পবিত্র রমজান মাস হলো সিয়াম সাধনার মাস। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য মাসটি সংযমের। তাই সবাই চায় এই মাসটিতে যেন সবকিছু স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার এক মাস আগে থেকেই বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মাছ, মাংস, মুরগি, চিনি, ছোলা, তেল, শাক-সব্জি যেটাতেই হাত দিবেন, অগ্নিমূল্য, কেউ কারো কথা শুনছে না।


 খুচরা বিক্রেতাদের মুখে এক কথা, তারা দাম বাড়াননি। বেশি দাম নিচ্ছেন পাইকাররা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথা, আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়েছে, তারাও উচ্চ মূল্যে পণ্য কিনে বাজারে সরবরাহ করছে। এতে তাদের কোন করণীয় নেই। আর আমদানিকারকরা মানেই সিন্ডিকেট। ক্ষমতাশালী-প্রভাবশালী বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থাপনা মোটেই সংগঠিত নয়। এর সুযোগ নিয়ে প্রতি বছরই রমজানের আগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। কোনো কোনো সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়।


 এরই ধারাবাহিকতায় এবারও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম উর্ধ্বমুখী হচ্ছে রোজা সামনে রেখে। মূল্য বৃদ্ধির এ প্রবণতা যদি চলতেই থাকে তাহলে ভোক্তাদের অবস্থা কী দাঁড়াবে তা বলাই বাহুল্য। অর্থনীতির সূত্র মেনে বাংলাদেশের বাজারে পণ্য মূল্য ওঠানামা করে না -এমন কথা ভুক্তভোগীরা বলে থাকেন। এখানে দাম বাড়াতে কোন কারণ লাগেনা। একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়। এই সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এমন কথাও চালু আছে। আমরা আশা করব, সাধারণের সুবিধার্থে সরকার যথাবিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতায় প্রতিকূল বিশ্ব

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমশ পৃথিবী যেভাবে উত্তপ্ত হচ্ছে- তা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমপক্ষে আরো আট ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পাবে। তবে তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় অনেকের কাছেই খুব সাধারণ মনে হতে পারে। তাদের কাছে বসন্তের শুরুতে এই তারতম্যের মানে হলো সোয়েটার পরিধান না করার নামান্তর। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে বরাবরের মতো আবারো অশনি সংকেতই প্রদান করেছেন। তাদের মতে, তাপমাত্রার এই বিশাল তারতম্যের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে মানুষসহ যাবতীয় প্রাণীকূল।


 বাস্তুতন্ত্রে দেখা দেবে ভয়াবহ বিপর্যয়। এমতাবস্থায় পৃথিবী নামক আমাদের প্রিয় গ্রহটি হয়ে পড়বে বসবাসের পক্ষে যথেষ্ট বিপদসংকুল। বৈশ্বিক এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বহুলাংশে দায়ী জীবাশ্ম জ্বালানি নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাসেসমেন্টের তথ্য মতে, ২০০০ থেকে ২০০৯ দশকটি বিগত ১৩০০ বছরের মধ্যে অন্য যে কোনো দশকের চেয়ে ছিল অধিকতর, উষ্ণ। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু সহ ভূ-ভাগ, আবহাওয়া, মহাসাগর, বরফ গলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন।


 এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মারাত্মকভাবে প্রতিকুল হয়ে ওঠা আবহাওয়ার বিষয়টিই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।  সাম্প্রতিক সময়ে অধিক তাপমাত্রার কারণে প্রায়শই দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার মধ্যে বজ্রপাত, ঝড়, দাবদাহ, বন্যা ও খরার মতো বিষয়গুলো অন্যতম। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুল্ক অঞ্চল হয়ে উঠেছে আরো শুস্ক এবং আর্দ্র অঞ্চল হয়ে পড়ছে আরো আর্দ্র। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো এত বড় এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারকারী ইস্যু কারো একার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ যে চরম জলবায়ু অবিচারের শিকার তা বিশ্বকে লাগাতারভাবে জানান দেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদেরই।

রমজানে বাজার দর উর্ধ্বমুখী

রমজান আসছে। প্রতি বছরের চেনা ছবি আবার নতুন করে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। এ চিত্র বাজারে, যেখানে রোজার মাসে নিত্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। অনেক সময় ভোক্তার ক্রয় সীমার বাইরে চলে যায়, অথচ তখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পণ্য মূল্য স্থিতিশীল বলে বাণী বর্ষণ করে থাকে। সারা বিশ্বে জাতীয় বা ধর্মীয় যে কোনো অনুষ্ঠানের সময় সব ধরনের পণ্য সামগ্রীর মূল্য ছাড় দিয়ে নানা প্রচার প্রচারণা চালানো হয়।

 

এমনকি প্রতিবেশি দেশ ভারতেও পূজা পার্বনের আগে থেকেই পোশাক পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে উৎসব আয়োজনের প্রয়োজনীয় সবকিছুতে মূল্য হ্রাসের ঢাকঢোল বাজতে থাকে। এসব ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশেই উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যায়। দেশের জাতীয়, ধর্মীয়, সর্বজনীন যে কোনো উৎসব আয়োজনে পণ্য মূল্য বৃদ্ধির পাল্লাপাল্লি শুরু হয়ে যায়।

 

 সে ক্ষেত্রে সরকারের বাজার মনিটরিং ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিস্ক্রিয় থাকায় ভোক্তারা নানাভাবেই ঠকেল, বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হন। প্রতি বছর রমজান ও ঈদ এলেই মূল্য বৃদ্ধির ন্যক্কারজনক এ চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। এবারও রমজান উপলক্ষে আরও দেড় দুই মাস আগে থেকেই প্রধান ভোগ্যপণ্যগুলোর দাম বেড়েই চলেছে। পিঁয়াজ, আদা, রসুন, ছোলা, ডাল, চিনির দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।


 ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবার নানা পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন ফন্দি নিয়ে মাঠে নেমেছে। অধিকাংশ নিত্য পণ্যের দাম এমনভাবে বাড়ানো হচ্ছে যে রমজানে তা আর বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না। বরং রমজান উপলক্ষে পণ্য মূল্যে কিছুটা ছাড় দিলেও ব্যবসায়ীদের উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, বাজারের এ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি রমজানের আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

 

অসৎ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম প্রতিরোধ ও সিন্ডিকেটের কারসাজি রুখতে শিগগিরই  সরকার হার্ড লাইনে যাবে। কিন্তু এসব ফাঁকা বুলি বলেই মনে হয়। পণ্য মূল্য যাতে ভোক্তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে তার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মনিটরিং বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ওএসএম, ফেয়ার প্রাইস কার্ড ও টিসিবির পণ্য যেন ভোক্তা সাধারণের কাছে সহজ লভ্য হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

প্রশ্নপত্র ফাঁস

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বিপর্যয়ের সংবাদ হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত। এ এক ভয়ংকর অপরাধ এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তদের কঠোর দন্ড  হবে- এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। গত শুক্রবার আরেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অর্থাৎ অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার ঘটনা ঘটল।

অগ্রণী ব্যাংকের ২৬২টি সিনিয়র অফিসার পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী ছিল দুই লক্ষাধিক। আমরা শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মাঝে বিরাজমান ভয়াবহ বেকারত্বের যে কথা বলে আসছি দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রার্থী সংখ্যাটি তারই প্রমাণ। দুটি পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর তা দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

 দ্বিতীয় পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও প্রথম পরীক্ষা এখনও বাতিল করা হয়নি। এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ সহ পরবর্তী কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উচ্চ আদালত। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ৮৩৪টি পদের বিপরীতে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি।

আড়াই লাখ চাকরি প্রার্থী এতে অংশ নেন। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকে নিয়োগের যাবতীয় বিষয় এখন ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন। তাহলে ব্যাংক নয়, সিলেকশন কমিটিই এই ফাঁসের জন্য স¤পূর্ণ দায়ী। প্রশ্নপত্র ফাঁস ভয়াবহ ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, কখনো তা স্বীকার করে পরীক্ষা বাতিল করা হচ্ছে, কখনো করা হচ্ছে অস্বীকার। আমরা মনে করি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই প্রায় ধারাবাহিক ঘটনা খুব বড় একটা বিপর্যয়ের  মুখে দেশকে ঠেলে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি জাতি বিনাশী একটি বড় ধরনের অপ্রক্রিয়া। কে বা কারা এই অপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কেন তাদের উৎস সন্ধান করে কঠোর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না – এটিই মূল প্রশ্ন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কালক্ষেপণ না করে এ ব্যাপারে সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে।

বাঙালির মননে নজরুল চিরজাগরূক

আজ আমাদের জাতীয় কবি, চির তারুণ্যের কবি, চির যৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম দিন তারুণ্যের স্বভাব যৌবনে গান গাওয়া- নজরুল সারাজীবন সেই গানটিই গেয়ে গেছেন। কারণ তিনি জানতেন একমাত্র তারুণ্যই পারে পুরনো খুনে কাটা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।

তরুণ মানেই স্বপ্নবাজ। প্রতিনিয়ত তার নতুন নতুন চাহিদা সৃষ্টি হয়। তরুণরা নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখে। অনেক সময় নেই স্বপ্ন দেখা থেকে পিছু পা হয়না। কবি যৌবনের এই পথচলার জয়গান গেয়েছেন। নজরুল একজন কবি বিদ্রোহী কবিতায় দ্রোহের সুর প্রতিধ্বনিত।


 সাম্যের যে অপূর্ব চিত্রায়ন তার রচনায়, বাংলা সাহিত্যে এটি বিরল। নজরুল মেহনতি মানুষের কথা বলেছেন। সমাজ সংস্কার আন্দোলন এবং জাতীয় স্বাধীনতার আকাঙ্খা নজরুল মানসে অপূর্ব সঙ্গতি লাভ করেছে। এই বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত নজরুল বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে দখল করে আছে জাতীয় কবির মসনদ।

নজরুল তার গান-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধে সরব। নজরুল সৃষ্টি করেছেন একান্ত নিজ স্বত্ত্বার ভাষার জগত। আর এই ভাষার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে হয়েছেন সোচ্চার, ঠিক সেভাবে প্রেম-সাম্যের গানও গেয়েছেন।


 ফলে তার সৃষ্ট সাহিত্য আজ নন্দিত। জীবন সংগ্রামের কথা, সাধারণ মানুষের দুঃখ -দুর্দশার কথা নজরুল সাহিত্যে উঠে এসেছে বারবার। নজরুল তার সাহিত্যের মাধ্যমে পরাধীনতা, অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে যে নতুন মুক্ত সমাজের কামনা প্রকাশ করেছেন, তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেরই সৃষ্ট রূপ প্রতিফলিত হয়েছে, বাঙালি সমাজ-বাস্তবতা, জীবন-সাহিত্যে নজরুল অনবদ্য, বাঙালি মননেও নজরুল থাকবেন চির জাগরূক।

 

কবি নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তবে তিনি শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নন। তিনি সমগ্র মানব জাতির সম্পদ। মুক্তিযুদ্ধে এই মহান কবির কবিতা ও গান প্রতিকূলতাকে জয় করার সাহস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জাতীয় কবির মৃত্যু বার্ষিকীতে তার প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

 

পরিবর্তিত জলবায়ু মোকাবিলা

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমশ পৃথিবী যেভাবে উত্তপ্ত হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা আরো আট ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থা খুবই ভয়াবহ।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় কার্বন নিঃসরণ আর বিলাসী জীবন যাপনের কারণে পৃথিবীর জলবায়ুতে যে পরিবর্তন ঘটছে তাতে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ম্যাপলক্রাফট ১৭০টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৬টি দেশকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।


 আর এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। ১৬টি দেশের মধ্যে ৫টিই দক্ষিণ এশিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব কেবল বাংলাদেশেই পড়ছে না। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে। একথা সত্য পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে গলে যাচ্ছে জমে থাকা বরফ। ফলে অনিবার্যভাবে বেড়ে যাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা। ডুবে যাবে পৃথিবীর নিম্নাঞ্চল। এতে পরিবেশ উদ্বাস্তু হতে হবে কোটি কোটি মানুষকে।

 

 পৃথিবীর তাপমাত্রা আর মাত্র ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৪৫ সেন্টিমিটার। ফলে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যেতে পারে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেলে বাংলাদেশের অনেক মানুষ ও জীবজন্তুর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখিন হবে। পরিবেশ- উদ্বাস্তু হবে প্রায় ১ কোটি লোক।

 

কমে যাবে খাদ্যের উৎপাদন। ধনী-দরিদ্র, উন্নত-অনুন্নত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংস্থাসহ সবাইকেই মানুষের ঝুঁকি ও ক্ষতির সম্ভাবনা রোধে, সহিংসতা ও হানাহানি কমাতে কাজ করা প্রয়োজন এবং এর কোনো বিকল্প নেই।

 

বাড়ছে ধর্ষণ ঘটনা

এপ্রিল মাসে ৪০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফাওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল-এ চার মাসে ধর্ষণের সংখ্যা মোট ২৫৮টি এবং ৪০ শিশু শুধু এপ্রিল মাসে ধষর্ণের শিকার হয়েছে। রোববার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে তিনি এ কথা বলেন। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা দেখছি ধর্ষণের ঘটনাগুলোর কোন বিচার হচ্ছে না। ধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সমস্যার মিমাংসা করার জন্য বলা হয়।


 সে কারণে ঘটনাগুলো বার বার ঘটছে। গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলের ঘটনায় দেখা গেছে বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় সে জন্য দুই শিক্ষার্থীকে ভয় দেখানো হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা মামলার সিদ্ধান্ত নেন। বক্তারা বলেন, ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে একজন নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।


 এ সংস্কৃতি দেখে মনে হচ্ছে শুধুমাত্র ধর্ষণটাই তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা নারীকে পণ্য হিসেবে দেখছেন। তারা সব ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব সে ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে পুলিশ। জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় পুলিশের এই ভূমিকা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।


 অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞাত কারণে ধর্ষিতাকে সহযোগিতার বদলে তারা অজ্ঞাত কারণে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে থাকে। এটা অনেক ক্ষেত্রে হয় প্রভাব প্রতিপত্তি আর রাজনৈতিক চাপে পড়ে পুলিশকে এমন অনৈতিক পক্ষ নিতে বাধ্য করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে থাকা এ অভিযোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা না করলে ধর্ষণ কেন, সমাজে সব ধরনের অপরাধই ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তার আগেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

অলস টাকা বাড়ছে

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রায় পোনে তিন লাখ কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই টাকা বিনিয়োগযোগ্য কিন্তু বিনিয়োগ হয়নি, অব্যবহৃত রয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশি তিনটি কোম্পানির বিদেশে বিনিয়োগ অনুমতির বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে অতিরিক্ত এই তারল্যের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, বর্তমানে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যথেষ্ট উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে-যার পরিমাণ ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা, যা অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। জিডিপির সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ন্যূনতম স্থানীয় বিনিয়োগ ৩২ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

 এ পর্যায়ে স্থানীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত না করে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করা যথাযথ হবে কি-না তা সতর্ক বিবেচনা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আলী আকবর ফারাজী গত মার্চে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠান অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তিনি ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগযোগ্য এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যে হিসাব দেন তা গত নভেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ওপর তৈরি করা।

 এর আগের বছর একই সময় অর্থাৎ ২০১৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগযোগ্য তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাংখিত বিনিয়োগ না হওয়ার কারণেই ব্যাংকে অলস টাকার পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে অব্যবহৃত তারল্যের কথা বলছে, এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগযোগ্য অর্থ। আমাদের দেশে যদি বিনিয়োগের সুযোগ থাকত, তবে এই অর্থ নিস্ক্রীয় পড়ে না থেকে আরও বেশি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়তে সহায়তা করতে পারত।

বাল্য বিয়ে রোধ

বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ এর বিশেষ ধারা দিয়ে বাল্য বিয়েকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এই ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটের’ কোনো ব্যাখ্যা নেই। একে যে কেউ যে কোনো প্রেক্ষাপট বানিয়ে ব্যবহার করবে। গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাল্য বিয়ের বিশেষ বিধান বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক নারী ফোরাম আয়োজিত নারী সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা বলছেন, ধর্ষিত হয়ে নারী যদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায় তাহলে এই আইনে বিয়ে হবে।


 তার অর্থ দাঁড়ায়, যে আমাকে ধর্ষণ করল তার গলায় আমাকে পরাতে হবে বরমাল্য- এ কেমন বিধান। দেশে বাল্য বিয়ের অন্যতম কারণ দারিদ্র্য, অসচেতনতা ও শিক্ষার অভাব। এ ছাড়া সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও বাল্য বিয়ে কাঙ্খিত মাত্রায় কমছে না। অল্প বয়সে মা হলে মাতৃ মৃত্যুহার বৃদ্ধিসহ নারীদের নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার দিক থেকে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখালেও বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে এ দেশের মেয়েদের রক্ষা করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না।


বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় বাংলাদেশে বাল্য বিয়ের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বাল্য বিয়ে নিরোধ আইনে বিশেষ প্রেক্ষাপট’- অধ্যায়টি বাল্য বিয়ের পক্ষে অপপ্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। তাই এই ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ – ধারাটি বাতিলের যে কথা উঠেছে – সেটা সরকারকে ভেবে দেখা উচিত। আমার করণীয় হল, নারীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে তারা ব্যাপক হারে মূল ধারার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এটা নিশ্চিত করা না গেলে দেশে বাল্য বিয়ে রোধে কাঙ্খিত সুফল প্রাপ্তিতে বিদ্যমান বাধাগুলো সহজে দূর হবে না।

 

কৃষি ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন

বাংলাদেশের তিন চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়নের ফলে ক্রমশ কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। পরিবেশকে ভিত্তি করে আর্থ সামাজিক উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন। ভূমির ক্ষয়রোধ, নদী ভাঙন, জমির উর্বরতা রক্ষায় আমাদের তেমন কোন অগ্রগতি নেই।

নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের জমি, বসতভিটা, কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯,১৯৭৬ মিলিয়ন হেক্টর। গত চল্লিশ বছরে এই জমির পরিমাণ কমেছে ১,২৪১ মিলিয়ন হের্ক্ট আর জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। অনেকেই বলে থাকেন কৃষি জমি কমে যাওয়ার পেছনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি দায়ী।


 কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নের জন্য আবাদি জমি অকৃষিতে পরিণত হচ্ছে। এভাবে কৃষি জমি কমতে থাকলে ৬৮ শতাংশ মানুষের জীবন -জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে। দেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের কৃষকরা কৃষি কাজে প্রচুর পরিমাণে রসাায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে থাকে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তথ্য প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নে ছোট ছোট অনেক ঋণ দেয়া হয় ইইএফ ফান্ড থেকে।

 এ ফান্ড থেকে বরাদ্দ পেয়ে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আমরা মনে করি, আমাদের কৃষি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা হলে গ্রামীণ ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো আবার উঠে দাঁড়াবে। দেশের কৃষি পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানিও কঠিন হবে না। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তৎপর হয়ে পথটি মসৃণ করতে হবে।

খেলাপি ঋণ

ব্যাংকিং খাতে ধারাবাহিকভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়াকে ব্যাংকিং খাতের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের সাড়ে ১০ শতাংশ। যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা অপলোপন করা হয়েছে তা যোগ করলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।


 দেশের ব্যাংকিং খাতে এটি যে অস্বাভাবিক ঘটনা, তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের দৈন্য দশার মূল কারণ। এ খেলাপি ঋণের কারণেই ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখনও নাগালের বাইরে। আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের সংকট তৈরি হয় নব্বইয়ের দশকে।

খেলাপি ঋণের সেই সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে তো পারিইনি, বরং নিকট অতীতে আর্থিক খাতে বড় ধরনের কয়েকটি জালিয়াতি পুরো ব্যাংক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের সম্মুখিন করে তুলেছে। ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে সরকার এবং বিশেষভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায় বেশি।


 কারণ খেলাপি ঋণের সিংহভাগ রয়েছে সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক এবং এগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সুবিদিত। এসব ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ দেয় সরকার এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা বিস্তর, যা মোটেই অমূলক বলা যাবে না।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে। সাধারণ কৃষককে অনাদায়ী সামান্য কৃষি ঋণের জন্য মামলার ভয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে হয়, অথচ শিল্প-ব্যবসার নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে লোপাট করলেও তারা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংক ব্যবস্থার উপর মানুষের সুদৃঢ় আস্থা তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সংকুচিত বাংলাদেশের শ্রম বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি কমেছে। সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান প্রভৃতি দেশে যুদ্ধের কারণে বন্ধ রয়েছে শ্রম বাজার। এসব দেশ থেকে শ্রমিকরা ফিরে এসেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থেকে যাওয়া বাংলাদেশিরাও নিরাপত্তার অভাবে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

একদিকে ফিরে আসা জনশক্তির চাপ, অন্য দিকে দেশে প্রতি বছর বাড়ছে বেকারের সংখ্যা – স্বাভাবিকভাবেই কর্মক্ষম শ্রমশক্তি নিয়ে বিপাকে আছে বাংলাদেশ। সংকুচিত হয়ে আসা বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন ও বিকল্প বাজার তৈরি করা যায়নি।

 কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে আমাদের শ্রমশক্তির এক সময় ব্যাপক কদর ও চাহিদা থাকলেও এখন আর সেই ঔজ্জল্য নেই। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের শ্রম বাজার যেমন হারিয়েছি তেমনি নতুন নতুন শ্রম বাজার সন্ধানের কাজটিও করা সম্ভব হয়নি। আমাদের শ্রম বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে নেয় সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ।


 বাংলাদেশি শ্রমিকরা যথেষ্ট কর্মক্ষম এবং তাদের শ্রম মজুরি তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি আমদানিকারকদের আগ্রহ থাকলেও আমাদের তরফে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। অর্থনৈতিক মন্দাসহ অন্যান্য বেশকিছু কারণে বিভিন্ন দেশ-বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রেখেছিল। জনসংখ্যা রফতানি বৃদ্ধি ও এ ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোয় কর্মরতদের আরো ব্যাপক ভূমিকা নেয়া দরকার। বাংলাদেশ থেকে এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানি করা হতো।


 প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ১৬০টি শ্রম বাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি পাঠানো হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এর মধ্যে ১৪০টিতেই পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। নতুন ৬০টি শ্রম বাজারে গত পাঁচ বছরে ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। অনেক দেশেই কর্মি নেওয়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সরকার ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের যৌথভাবে আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতে কাজ করতে হবে।

নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি

চাহিদা মতো পণ্য বাজারে পাওয়া গেলে আকস্মিক মূল্য ওঠানামার কথা নয়। যদি মজুদদারের গুদামে পণ্য থাকে এবং অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হয়, তাহলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবেই। ভোক্তারা পণ্য মূল্য বৃদ্ধির সেই ফাঁদে নিজেদের পরিশ্রমলব্ধ অর্থ মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় করতে বাধ্য হন।

 

সরকার যদি মজুদদারির ওপর কড়াকড়ি আরোপ এবং আইন মানাতে সচেষ্ট হয়, তাহলে ইতিবাচক ফল লাভ সম্ভব। ভোক্তাদের তখন নিত্য পণ্য কিনতে পকেট উজাড় হয় না। এতে সরকার ও ভোক্তা সাধারণ উভয়েরই লাভ।


 এ জন্য পণ্যের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের পাশাপাশি অসাধু মজুদদারি রোধ করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। রমজান আসন্ন। কিন্তু তার আগেই বাজারে অগ্নিমূল্য। মাছ, মাংস মুরগি থেকে শুরু করে শাক, সব্জি, চাল, চিনি, ডাল সহ নিত্য পণ্যের দাম অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

 

সবকিছুই বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ, এবার বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর বাহানা অতি বৃষ্টি আর হাওড়ে বন্যা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যখন বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে সব সময় দ্রব্যমূল্য ওঠানামা করে না, সেখানে সব সময় বাজারের ওপর চোখ রাখতে হয়।


দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে আগে ভাগেই সরকারি মনিটরিং এর ব্যবস্থা থাকতে হবে। পণ্যের আমদানি, মজুদ ও বাজার মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল রাখার জন্য টিসিবির মাধ্যমে নিত্য পণ্য আমদানির উদ্যোগ কতটা যুক্তিগ্রাহ্যভাবে এগোচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।

 

সঙ্গত কারণেই টিসিবিকে আমদানির পরিমাণ যুক্তিগ্রাহ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে। এভাবে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান রাখতে হবে। আমদানি, মজুদ ও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখুন।

 

ঘনবসতির শহর ঢাকা

জাতিসংঘের আবাস জরিপ অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবসতিপূর্ণ শহর। বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান জাতিসংঘের বসতি সম্পর্কিত উপাত্তের বরাত দিয়ে বলেছে, ঢাকার পরেই ঘনবসতি ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাই। তৃতীয় স্থানে কলম্বিয়ার মেডেলিন, চতুর্থ স্থান ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার।

 

ঢাকা দুনিয়ার সবচেয়ে ঘনবসতির নগরী, এটি যেমন হতাশার তেমন উদ্বেগের। ঢাকার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৪ হাজারের অধিক লোকের বসবাস। তবে এগিয়ে থাকার এ অবস্থান নিয়ে গর্ব করার মতো কিছু নেই। মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও কেউ মানতে চাইবে না।


 জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে গত বছর ঢাকায় প্রতিদিন যুক্ত হওয়া নতুন মুখের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন। গ্রাম ও জেলা শহর থেকে কর্মসংস্থানের জন্য আসছেন তারা স্থায়ী হয়ে যাচ্ছেন এই শহরে। ফলে বেড়েই চলেছে ঢাকা ও এর আশে পাশ এলাকার জনসংখ্যা।

উচ্চ শিক্ষার বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই ঢাকাতেই। যে কারণে সারা দেশ থেকে এখানে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। শিল্প-কারখানাও ঢাকাকে ঘিরে। তাই আসতে হয় শ্রমিক ও নানা পেশার নর-নারীকে। এসব কারণে ঢাকার আয়তন ও লোকসংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।


 জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। রাষ্ট্রকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, সবকিছু কি ঢাকাতে পুঞ্জিভূত রাখবে, না বিকেন্দ্রিকরণ করবে। এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন কল-কারখানা, বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। বর্তমান কারখানাগুলো ইপিজেড বা অন্য শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পোশাক খাতের কারখানা-গুলোর জন্য আলাদা একটি শিল্প নগরীই গড়ে উঠতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট -দারিদ্রমুক্ত বিশ্ব গঠন, যা হবে টেকসই এবং যেখানে আরো বেশি বেশি লোকের কাছে পৌছবে সমৃদ্ধির সুফল। এ সুফল পৌছাতে কতিপয় করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন সুস্বাস্থ্য, উন্নত শিক্ষা, নারী-পুরুষ সমতা জলবায়ুর জন্য পদক্ষেপ, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিস্কাশন, টেকসই শহর ও সমাজ ইত্যাদি। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র পনের সালে সর্বসম্মতভাবে টেকসই উন্নয়ন বা এসডিজির লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সময়সূচি ও সুনির্দিষ্ট গত বছরের প্রথম দিন থেকে ১৫ বছর।


সন্দেহ নেই ২০০০ সালে গৃহীত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল এমডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অন্তত ৭০ কোটি মানুষকে দারিদ্র মুক্ত করার সাফল্যই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আরও উন্নত পৃথিবীর জন্যই মানব- জাতির এ স্বপ্ন এবং তা পূরণে প্রতিটি দেশ অবদান রাখবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জাতিসংঘ নির্ধারিত টেকসই উন্নয়ন বা এসডিজিতেও বাংলাদেশ নেতৃত্বদানের সক্ষমতা দেখাচ্ছে এবং এ সাফল্যকে প্রশংসার দৃষ্টিতেই দেখছে বিশ্ব সমাজ।


 এর আগে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে থাকার ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে  বাংলাদেশের সাফল্যকে এখন মডেল হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌছতে জাতীয়ভাবেও নিতে হবে সমন্বিত পরিকল্পনা। আর তা বাস্তবায়নে চালাতে হবে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

 

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে

বিশ্বে পানির উৎস প্রতিদিনই কমছে। পানি সংকটের মুখে পড়ছে মানবজাতি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলছে, পৃথিবীর ভূ-গর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।

ভূ-গর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলার জন্য ৫০পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে।


ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে গভীর নলকূপ দ্বারা পানি উত্তোলনের ফলে মূলত এই দুষণের উৎপত্তি হয়। নাসার মতে পৃথিবীর ৩৭টি বৃহৎ  পানির স্তরের মধ্যে ২১টির পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ স্তরগুলোর অবস্থান ভারত ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সীমানার মধ্যে। বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েকগুণ আগেও খুবই সত্য ছিল। এমনকি দশক ধরে আমরা যে বোতলজাত পানি কিনে পান করি, এ বিষয়টিও সে সময় একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল।


 কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন তা বাস্তবতা। পানির অভাব এখনও এদেশে তেমন নেই, কথা সত্য। তবে সেই বিপুল পানির সামান্যই পানযোগ্য। নদী-নালা, পুকুর-ঝিল, এসবের পানি বেশির ভাগই দুষিত। বাংলাদেশ যে পানির সংকটের সম্মুখিন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানির ধারণ ক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী। নদী দূষণ অবস্থাকে ভয়াবহভাবে বিপজ্জনক করে তুলছে। অস্তিত্বের স্বার্থে উজানে পানি প্রত্যাহার রোধে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

কর ছাড় চান পোলট্রি উদ্যোক্তারা

নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পোলট্রি শিল্প। উদ্যোক্তাদের চেষ্টার পরও সরকারের নীতি সহায়তার অভাব ও করের বোঝার চাপ বেড়ে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়ছে এ খাত। আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে দেশ এখন মুরগির ডিম ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

পাশাপাশি বিদেশে রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশি কোম্পানিগুলো। এ অবস্থায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার চাপ তৈরি হয়েছে। এসব থেকে উত্তরণের দাবি জানিয়েছেন পোলট্রি শিল্পের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে এ খাত রক্ষায় সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।


 সংগঠনটি প্রস্তাবে পোলট্রি খাদ্য আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, ফিডের কাঁচামাল সয়াবিন মিল আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক মওকুফসহ সর্বপর্যায়ে আরোপিত ভ্যাট ও কর কমানোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর অবকাশ সুবিধার দাবি করা হয়। পোলট্রি শিল্পকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে এবং এ খাতের বিকাশে আরও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। কেউ কেউ বলেন পোলট্রিকে কৃষি খাত হিসেবে সুবিধা দেওয়া উচিত। এ খাত বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ছে।


 এসব সুবিধা নিশ্চিত না হলে দেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন। এ খাতের রফতানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি নীতি থাকতে হবে। পোলট্রি খাতে বিদেশি বেশ কয়েকটি কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। আরও অনেক কোম্পানি বিনিয়োগে আসছে বলে জানা গেছে। অথচ দেশি কোম্পানিগুলো করের চাপে তেমন এগোতে পারছে না। এ খাতের উন্নয়নে নীতিমালা তৈরি হয়নি। ফলে দেশের উদ্যোক্তারা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। এ খাত টিকিয়ে রাখতে নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি প্রণোদনা ও কর অবকাশ সহ বিশেষ সুবিধা দাবি করেছেন দেশি উদ্যোক্তারা।

বিশাল আকারের এডিপি

বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ছয় কোটি টাকা। বছর শেষে ব্যয় হয় ৯৯৯ কোটি টাকা। গত চার দশকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এ বৃদ্ধি আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। সরকারের রাজস্ব আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং একই ভাবে বাড়ছে উন্নয়ন কর্মসূচির আকার।

তবে আরেকটি চিত্রও ধারাবাহিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রতি বছর কাট ছাট করতে হয় এবং হ্রাসকৃত বাজেটেও আরেক দফা কাঁচি চলে। আগামী অর্থ বছরের এডিপিতে চলতি বছরের বাস্তবায়নাধীন এডিপির চেয়ে ৩৯ শতাংশ বা ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বলা যায়, বাজেটে এডিপিই একমাত্র খাত সেটি সাধারণ মানুষের সরাসরি কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।


 বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আট বছরের ব্যবধানে তার পরিমাণ ৭ গুণেরও বেশি স্ফীত হওয়া দেশের আর্থিক সামর্থ্যরেই পরিচায়ক। চার দশকে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হারের চিত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন বছরে সংশোধিত বাজেটের ৮১ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। দুয়েক বছর কেবল ব্যতিক্রম-সংশোধিত বাজেটের চেয়ে চূড়ান্ত ব্যয় কিছু পরিমাণ বেশি হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ ব্যয় করতে না পারার ব্যর্থতার ধারা চলতি অর্থ বছরেও চলছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম ৯ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কারণে সন্তুষ্ট যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।


 কারণ, গত অর্থ বছরের এই নয় মাসে ব্যয় হয়েছে ৪৪ শতাংশ। আমাদের সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ নানা পর্যায়ে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যায়। উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নানা অজুহাতে বাড়িয়ে নেওয়া এবং সময়মতো কাজ শেষ না হওয়াও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বড় সমস্যা। কিন্তু দুর্ভাগ্য প্রতি বছর সেই একই তাগিদ অর্থ বছর শেষ হতে  চললেও প্রকল্প বাস্তবায়নের হার হতাশাব্যঞ্জক। শুধু বিশাল এডিপি প্রণয়ন নয়, আমরা চাই প্রকল্পগুলোর যথাযথ ও সময়মতো বাস্তবায়ন।

 

চীনের এক অঞ্চল, এক পথ

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তার এক অঞ্চল, এক পথ বা নতুন রেশম পথের উদ্যোগে বাড়তি কয়েক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সি চিন পিং তার পররাষ্ট্র নীতির এই উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উল্লেখ করে, এটি যাতে পুরোনো বৈরিতা আর ক্ষমতার লড়াইয়ে জিম্মি না হয়ে গড়ে সেটিও উল্লেখ করেছেন। গত রোববারের চীনের রাজধানী বেইজিং-এ দুইদিনের সম্মেলনের আলোচনার প্রথম দিনে মূল বক্তৃতায় সি চিন পিং এ কথা বলেন।


 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এর দোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে সহ অন্তত ২৯টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানেরা এতে অংশ নিয়েছিলেন।

এর মধ্যে ভারত এই সম্মেলনে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ সহ অন্য দেশগুলো প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। নাম উল্লেখ না করলেও পুরানো বৈরিতা আর ক্ষমতার লড়াই, বলতে সিচিন পিং তার বক্তৃতায় ভারতের কথাই বুঝিয়েছেন। কারণ এক অঞ্চল এক পথ (ওবিওআর) নামের তার এই উদ্যোগের অন্যতম প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্যে দিয়ে গেছে বলে নতুন রেশম পথের উদ্যোগের বিরোধিতা করছে ভারত।

 ভারত এই ভূখন্ডকে সব সময়ই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে। বিশ্বায়নের এই যুগে চীনের উঠতি নেতৃত্বের জানান দিতে বেইজিংয়ে আয়োজন করা দুদিনের সম্মেলনটি মূলত সিচিন পিংয়ের বহুল প্রত্যাশিত ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পটি উপস্থাপনের একটি প্লাট ফর্ম।

বলা হচ্ছে, এই প্রকল্প বিশ্ব বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে চীনের বিদ্যমান শক্তিশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। ভারতের নাম উল্লেখ না করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওবিও আর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলে পিছিয়ে পড়তে হবে। ওবিওআর প্রকল্পে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

 

ইয়াবার সর্বনাশা থাবা

মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে নীরব ঘাতক ইয়াবা। টেকনাফ থেকে শুরু করে দেশের অপরপ্রান্ত তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বড় বড় শহর ছাড়িয়ে গ্রামগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী শুধু নয়, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সমাজের প্রায় সব শ্রেণির মানুষই এখন এই নেশায় আসক্ত।

 ইয়াবার ভয়াবহ ধোঁয়া এ রকম আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইয়াবা পাচারকারীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে এক সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। একজন মানুষকে যখন মাদক সেবন করে, সে তার চিন্তাশক্তি হারায়। মাদকের ছোবলে জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।

 প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত। আমরা বিভিন্ন সময়েই পত্র- পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইয়াবার যে চিত্র দেখছি তাতে স্পষ্ট যে, ইয়াবার দৌরাত্ম্য ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মাত্র ৫ বছর আগেও দেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিল ৫৫৪। এ সংখ্যা এখন দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ হাজার ২২৫-এ দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক বটে।

 ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এ তালিকা খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা, সবার নাম ঠিকানা ও আইন শৃঙ্খলা সংস্থার নখদর্পণে। তারপরও অজানা কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এদের বিরুদ্ধে। আমরা সরকারকে বলতে চাই, মাদক চক্রের গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুন। এ ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে আরো কৌশলী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সম্মিলিত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

বনানীতে ধর্ষণ ঘটনা

রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের নিষ্পৃহতার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির বিষয়টি মিডিয়ায় এসেছে। গত ২৮ মার্চ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়া দুই ছাত্রীকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে তাদের দু’জনকে আলাদা আলাদা কক্ষে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। শুধু ধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও চিত্রে ধারণ করা হয়। ভিকটিমরা তাদের ভয়ভীতি দেখালে তারা পরিবারের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে বনানী থানায় মামলা করতে যায়।


 মামলা গ্রহণে পুলিশ প্রথমে টালবাহানা করে এমনকি ওই ভিকটিমদের অপরাধী প্রমাণের চেষ্টা করে। তাদের চরিত্র খারাপ বলে প্রমাণের চেষ্টা করে। মেডিকেল টেস্টের নামে থানায় আটকে রাখা হয়। অপরাধীরা ধণাঢ্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় অনেকের মনেই যথেষ্ট সন্দেহ দানা বাঁধে যে, অতীতের কোন কোন অপরাধ ঘটনার মতোই এই ধর্ষণ ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে একটা পর্যায়ে মামলা হয়। এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।


 পুলিশ আসামীদের আটক করতে গড়িমসি করে। মিডিয়া সোচ্চার হয়, মিডিয়া জানায় আসামীরা সিলেটে আছে। একটা পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত সিলেটে দুই ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। এখনও তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়নি। যে কোন অপরাধের মামলায় আসামি গ্রেফতার হবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে এটাই আইনের বিধান। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে, মানুষ রাস্তায় নেমে দাবি জানিয়ে তারপর পুলিশ তৎপর হবে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি তদন্ত যেন প্রভাবিত না হয়। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ করা যাবে না।

উপকূলীয় এলাকায় খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বালিতে মিশে আছে প্রচুর পরিমাণে অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ সম্পদ। কক্সবাজারসহ টেকনাফ ও এর আশেপাশে উপকূলীয় এলাকায় এই অতিমূল্যবান খনিজ পদার্থের মোট ১৭টি স্থান রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় খনিজ বালি আবিষ্কার হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা সমুদ্রে গ্যাসের সন্ধান করছি।


 বিভিন্ন ব্লক করে বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে জরিপ করারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ গ্যাস তো আমরা অনেক আগে থেকেই উত্তোলন করে বাসাবাড়িসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফুলবাড়িয়া কয়লাখনিও রয়েছে আমাদের। এখন উপকূলীয় অঞ্চলে বালুকারাশি থেকে সংগ্রহ করতে হবে মুল্যবান ধাতব পদার্থ। অথচ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহারের জন্য এসব খনিজ পদার্থ বাংলাদেশ উচ্চমূল্যে আমদানি করে থাকে।


 আবিষ্কৃত এসব খনিজ সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানি খাতে ব্যয় যেমন কমত, তেমনি প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ দেশীয় শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বারও উন্মুক্ত হতো। খনিজ বালি শিল্পে ব্যবহার, বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন ও বাজারজাত করণে অনেকের আগ্রহ থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।


 এ কারণে এসব মূখ্য সম্পদ দেশব্যাপী অবহেলা ও অযতেœ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। আমরা দেশের খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার চাই। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দেশ ও জাতির স্বার্থকে অক্ষুন্ন রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশের ওপর কোন আঘাত না এলে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, এর সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, উত্তোলন এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের লাভ কতটুকু, সেটা দেখে আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে, যেন এ প্রাকৃতিক সম্পদ আমরা কাজে লাগাতে পারি।

ভোক্তার স্বার্থ রক্ষিত হোক

কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই, আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটির একই দশা, কাগজে কলমে, আইনটি বলবত আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। ফলে কোনো কাজে আসে না এসব আইন। একদিকে বাজারে নিত্য পণ্যের দাম আকাশ ছুঁতে চাইছে, অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক। যান্ত্রিক ওজনযন্ত্রেও ত্রুটি বা কারসাজির কারণে ওজনে পণ্য কম পাচ্ছেন ক্রেতারা।


 বহু খাদ্য পণ্য আছে, যার মোড়কে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও ঠিকানা নেই। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন না অনেক বিক্রেতা নানা অজুহাতে। দাম লেখা না থাকায় খোলা পণ্য বা হরেক দামে বিকোয়। গরুর মাংস বলে গছিয়ে দেয়া হচ্ছে মহিষের মাংস। ভেড়ার মাংস চলছে খাসির মাংস হিসেবে।

 

ফলমূল সহ শাক-সব্জি, মশলাপাতি সবখানেই রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। ফল দ্রুত পাকাতে এবং রঙিন করতে বিষাক্ত কেমিক্যাল দেয়া হচ্ছে, শাক-সব্জি, ফল তাজা রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। বাজার থেকে কিনে আনা ফল মাসাধিককাল ফ্রিজের বাইরে থাকলেও নষ্ট হচ্ছে না।


 সঙ্গে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করা তো আছেই। যানবাহনে সিটিং ও ননস্টপ সার্ভিসের ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নৈমিত্তিক ঘটনা। ক্রেতা ও ভোক্তাগণ যে ন্যায্য মূল্যে সঠিক পণ্য ও সেবাটি পাবেন, সে জন্য ব্যবসায়ে সততা একান্ত কাম্য। আর রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে যথাযথ আইন বিধি-বিধান দ্বারা একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করা এবং নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অতি মুনাফাবাজি কঠোরভাবে দমন করে ভোক্তা সাধারণের স্বার্থ রক্ষা করা।

 

আমরা চাই ভোক্তা অধিকার আইনের বাস্তবায়ন। যে আইন-কানুন রয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ হোক। প্রয়োজনে আইনটি আরো যুগোপযোগী করা হোক। আর ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার সংগঠনগুলোকে বিদেশি তহবিল নির্ভর এনজিওর ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে প্রকৃত সামাজিক আন্দোলন হিসেবে দাঁড়াতে হবে।

বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা

প্রতি বছরই বড় বাজেট হচ্ছে। তবে বাস্তবায়নের গুণগত মান এবং সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে বাজেট বাস্তবায়নের হার খুবই কম।

 

কিন্তু শেষ তিন মাসে শতভাগের কাছাকাছি বাজেট বাস্তবায়ন দেখানো হয়। এ ক্ষেত্রে বাজেট বাস্তবায়নের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। আর এডিপি বাস্তবায়নে এ দুর্বল চিত্রের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সঠিকভাবে নেওয়া হয় না। আমাদের বাজেটের আকার কিন্তু বাস্তবায়নের কোন পরিকল্পনা নেই।


 এ জন্য বছর শেষে তা বাস্তবায়ন হয় না। বাজেট সবকিছু উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য বাজেটে বাস্তবায়ন না হলেও, কোন ধরনের জবাবদিহিতা করতে হয় না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চাহিদা প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকা থাকলেও, চাহিদা ও সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে কাজের ক্ষেত্র ও জনস্বার্থ উপেক্ষিত থেকে যায়।

 

এডিপি কোন বৎসরেই ঠিকমত সম্পন্ন হয় না। অথচ এর বরাদ্দকৃত অর্থ যদি ঠিকমত কাজে লাগানো যায় তবে তার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হতো। অতীতে আমরা দেখেছি কিছু অসাধু লোকের দৌরাত্ম্যে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়।


 পূর্বের বিভিন্ন সমস্যা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে একদিকে যেমন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়, তেমনি জনস্বার্থও রক্ষা হয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের জাতীয় বাজেটের আকার বাড়ছে। বৈদেশিক সূত্র থেকে কাঙ্খিত সাড়া না পেলে বিশাল বাজেটের ঘাটতি মেটাতে দেশের ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বেড়ে যায়।

 

সেই চাপ দেশীয় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে। এ জন্য বছর শেষে একই ঘূর্ণাবর্তে রয়ে যাবে অর্থনীতি। সে জন্য আমরা আশা করি, প্রকল্পগুলো যেন সময়মতো ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় আগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

জঙ্গিবিরোধী অভিযান

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর ‘সান ডেভিল’ অপারেশন চলাকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এক নারী সহ ৫ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। বৃহস্পতিবার সকালে এ জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে জঙ্গিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মি আব্দুল মতিনও নিহত হন।

 

৩৬ ঘন্টা পর শুক্রবার দুপুরে অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) নিশারুল আরিফ। জঙ্গি আস্তানা থেকে এক নারী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুই শিশুকে।

 

 জঙ্গি আস্তানা থেকে পুলিশ বেশ কিছু বোমা, একটি পিস্তল, দুটি সুইসাইড ভেষ্ট এবং গান পাউডারও উদ্ধার করেছে। জঙ্গিবাদ একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এটা দেশে দেশে দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে জঙ্গিদের মধ্যে আত্মঘাতী হামলা ও পারিবারিক ইউনিট গড়ে তোলার এক ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

 

ইতিপূর্বে আতিয়া মহলের বাইরের দুটি বিস্ফোরণের একটি আত্মঘাতী ছিল বলে জাতীয় গণমাধ্যমেই খবর ছিল। এবারও গোদাগাড়ীতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেওয়ার উপায় নেই।


 স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য যে কোনো মূল্যে এ ব্যাধির মূলোৎপাটনের চেষ্টা নিতে হবে। আশার কথা, চৌকস আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে জঙ্গিদের অপচেষ্টা একের পর এক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। তবে সবাইকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

 

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অস্বীকার করার উপায় নেই, ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমেই তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়ানো হচ্ছে। ফলে ধর্মের সঠিক শিক্ষা ও উপলব্ধি ছড়িয়ে দিতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগই পারে সব ধরনের জঙ্গিবাদ রুখে দিতে।

 

ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে পরিবার

পরিবারতন্ত্র কায়েম হতে যাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক। নতুন নিয়মে একই পরিবারের চারজন ব্যাংকের পরিচালক হতে পারবেন। আর পরিচালকেরা ব্যাংকে থাকতে পারবেন একটানা ৯ বছর। জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবর অনুযায়ী মূলত প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দিতেই এভাবে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন ২০১৭ গত সোমবার মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। সংশোধিত আইনটি সংসদে অনুমোদিত হলে ব্যাংকে একই পরিবার থেকে চারজন পরিচালক থাকতে পারবেন। বর্তমানে কোনো পরিবার থেকে দু’জনের বেশি পরিচালক থাকতে পারবেন না।

 

 আবার সংশোধিত আইনে কোনো পরিচালক এক নাগাড়ে তিন মেয়াদ বা ৯ বছর দায়িত্বে থাকতে পারবেন, যা বর্তমানে দুই মেয়াদে সীমিত। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান আইনে অনেকেরই পরিচালক থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। এর মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালকদের কাছে নতি স্বীকার করল সরকার। কেউ কেউ মনে করেন এর ফলে বেসরকারি ব্যাংক-লুটপাটের দরজা খুলে দেওয়া হলো।


 আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন, অর্থশক্তির ক্ষমতা যে রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তিকে অতিক্রম করে গেছে, এ সংশোধনীর মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো, যা ব্যাংক খাতের জন্য খুবই খারাপ হবে। বর্তমানে দেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা ৪০। এসব ব্যাংকে উদ্যোক্তারা মূলধনের জোগান দিয়েছেন ১৬ হাজার কোটি টাকা।

 

এসব ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। তারাই এখন ব্যাংক মালিক হিসেবে স্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করে নিলেন। ব্যাংকের মতো একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের স্বার্থ জড়িয়ে যায় তা পুরোপুরি কোনো একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে তার পরিণতি সুখকর হতে পারে না।

বাজারে উর্ধ্বগতি, মনিটরিং চাই

প্রতি বছরই রমজানে বিভিন্ন নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির একটি অপচেষ্টা থাকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। প্রচুর পরিমাণ মজুদ থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধির চেষ্টা, খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মতো কাজও করে থাকে ব্যবসায়ীরা। এসব অপচেষ্টা প্রতিরোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪টি টিম বাজারে তদারকি করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের আলাদা মনিটরিং থাকবে বলেও জানা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই ১৪টি টিম সারা বছর কাজ করে। তবে তাদের এ বছর ব্যাপী কাজ খুব একটা দৃশ্যমান হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।


 তাই তারা রমজানের আগে বিশেষভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে থাকে। সারা মাস বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। এসব টিম ইতিমধ্যে ঢেলে সাজানো হয়েছে। কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, পণ্য মজুদ করে রাখে, খাদ্যে ভেজাল প্রদান করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এসব কমিটি। রমজান আসার আগেই অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্য পণ্যের বাজার। চিনি, চাল ও ছোলার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে কথা দিয়েছিল রমজানে কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে না।


 কিন্তু রমজান আসার আগেই এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতি বছর এসব টিম কাজ করলেও রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে দেয়। যা মনিটরিংয়ে সরকারের কোন সংস্থাই কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারছে না। টিসিবি, ট্যারিফ কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশন, বিএসটিআই, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম মূলত অকার্যকর। রমজানের আগে শুরু হয় এসব সংস্থার কথার তোড়জোড়, কিন্তু দৃশ্যত বাজারে এর কোনো সুফল দেখতে পাওয়া যায় না।



Go Top