রাত ২:৫৯, মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে বড় আকারের বাজেট দেশের জন্য ভালো বলে জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি। এ ছাড়া বেসরকারি এ সংস্থা আগামী বাজেটে ডিজেল সহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানো সহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বা অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।


 গবেষণা সংস্থা সিপিডি ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমানোর সুপারিশ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানই বলেছে, এ দুটি জ্বালানি দরিদ্র মানুষ বেশি ব্যবহার করে থাকে। এই দুটি জ্বালানি থেকে সরকার বেশি মুনাফা করলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি সাশ্রয় হবে না। দাম কমালে গরিব মানুষ লাভবান হবে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিপিডি এ কথা বলেছে।


 বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা কাটাতে ৫টি সুপারিশ হলো ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমানো। এদিকে বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা কাটাতে সিপিডির অন্য চারটি সুপারিশ হলো রফতানি ও প্রবাসি আয় খাতকে সুবিধা দিতে স্বল্প মেয়াদে টাকার মূল্যমান কমানো সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো। চালের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে স্বাধীন আর্থিক খাত সংস্থান কমিটি গঠন।  

 

জালনোট আতঙ্ক

জাল নোট সরবরাহ থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ আইনে কোনো ব্যাংকের কোনো কাউন্টার থেকে জাল নোট সরবরাহের অভিযোগ হলে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। উপরন্তু প্রস্তাবিত আইনটিতে তদন্তের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টিও যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সিআইডি।


 পুলিশ সদর দফতর বলছে, খসড়া আইনটিতে অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন’ এই বাক্যটি সংযোজন করা হোক। জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় কার্য বিবরণী থেকে এসব তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ৫ মার্চ এর কার্য বিবরণী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, বর্তমানে জাল নোটের প্রচলন বন্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ বিধি আছে। জাল নোট বন্ধে যে টাস্ক ফোর্স আছে সেই টাস্কফোর্স মনে করছে এ বিষয়ে পৃথক আইন থাকা দরকার।


 জাল নোট প্রতিরোধে ২০১১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রচলন প্রতিরোধ কেন্দ্রিয় কমিটি এ অপরাধের জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু সুপারিশ পাঠায়। জাল নোট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মৃত্যুদন্ডের বিধান ছিল। ১৯৮৭ সালে তা রহিত করে যাবজ্জীবন কারাদ  করা হয়।

 মৃত্যুদন্ডের পুনঃপ্রবর্তন না হোক, এ অপরাধের সঙ্গে জামিন অযোগ্য করে যাবজ্জীবন কারাদ , সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও আর্থিক জরিমানা নতুন আইন প্রণয়ন এবং ব্যাংকের যেসব অসাধু কর্মচারি-কর্মকর্তা জালনোট গ্রাহকের টাকার মধ্যে জাল নোট চালিয়ে দেয় – তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

শৃঙ্খলা নেই পরিবহণ খাতে

রাজধানীতে পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ঘাটে ঘাটে পথে পথে মিটিং- সভা এমনকি ধর্না দিয়েও কোনো কাজ হলো না। শেষ পর্যন্ত মালিকদের কথাই ঠিক থাকলো। যাত্রীদের মার খাওয়া থেকে শুরু করে হেনস্তা গালমন্দ শোনা কোনোটাই মালিকদের মন গলাতে পারলো না, কাজে এলো না। শুধু শুধু যাত্রী সাধারণ তিন থেকে চার দিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহালো।


 পকেটের অতিরিক্ত অর্থ দ্বিগুণ পরিমাণ খোয়ালো। বিআরটিএ এবং মালিক পক্ষের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো সিটিং সার্ভিস আরো ১৫ দিন চলবে। সিটিং সার্ভিসের বাসগুলো সরকার নির্ধারিত পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে লোকাল শুরু হওয়ার দিন থেকে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও ভাড়া কিন্তু খুব একটা কমেনি।


 বিপরীতে সিটিং ভাড়ায় গাদাগাদি করে লোকাল যাত্রী তোলা হচ্ছে। লোকাল চালানোর সিদ্ধান্ত সরকার চালিয়ে দেয়নি, মালিক-শ্রমিকরাই নিয়েছে। এর পেছনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে আবারও ভাড়া বাড়ানোর কোনো কুমতলব আছে বলে গুঞ্জন আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের গণ পরিবহণ কখনোই জনবান্ধব ছিল না যেন তেন ভাবে মালিক-শ্রমিকদের আয় বাড়ানোই এ সেক্টরের মূল উদ্দেশ্য।


 বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। একটা বিষয় আমাদের বোধগম্য নয়, পরিবহণ সেক্টরে বারবার অচলাবস্থা সৃষ্টি ও যাত্রী জিম্মি করার পেছনে সরকারেরই দু’জন মন্ত্রী ও সরকার দলীয় পরিবহণ শ্রমিক নেতার নাম উঠে এলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না ? কী তাদের খুঁটির জোর, কেন সরকার বারবার তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে ? এ ব্যাপারে জনগণের সার্বিক সংকটের দিকে তাকিয়ে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে কি-না। শৃঙ্খলা ফেরাতে জনস্বার্থের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে, না কি বারবার জনগণকে জিম্মি হতে হবে। সুশাসনের জন্য কোনটা বেশি প্রয়োজন-সেটি এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

পোলট্রিতে কর প্রত্যাহার চান ব্যবসায়ীরা

দেশে পোলট্রি শিল্পের বিকাশে আসছে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে পোলট্রি খাদ্যের আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, পোলট্রি ফিডের কাঁচামাল সয়াবিন মিল আমদানির ওপর আরোপিত ভ্যাট ও কর কমানোর দাবি জানিয়েছে ফিড ইন্ডাষ্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি অ্যাসোসি-য়েশনের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। পোলট্রি ফিডের প্রধান উপাদান ভুট্টা। কারণ এই শিল্পে প্রায় ৬০ ভাগ ভুট্টা ব্যবহৃত হয়। দেশে উৎপাদিত ভুট্টা মাত্র ৪৫ শতাংশ চাহিদা মেটাতে সক্ষম।


 বাকি ৫৫ শতাংশ ভুট্টা আমদানি করতে হয়। অথচ আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপের কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সে কারণে পোলট্রি খাদ্যের উপকরণ আমদানির ওপর অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের আহবান করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে কাস্টমস আইন পরিবর্তন করে হাঁস-মুরগীর খাদ্য তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সয়াবিন মিলের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে দেশে ফিড মিলের বার্ষিক চাহিদা ১৬ লাখ মেট্রিক টনের বিপরীতে দেশে অনুমান ৮ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন মিল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়।

 

পোলট্রি ফিড তৈরিতে উপকরণ হিসেবে সয়াবিন মিল প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। অথচ ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্কের কারণে পোলট্রি ফিডের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে সামগ্রিকভাবে ডিম, একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা ও সামগ্রিকভাবে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।


 তাই আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। পোলট্রি ফিড তৈরির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ভেজিটেবল প্রোটিন হিসেবে ব্যবহৃত পণ্যগুলোর ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আমরা আশা করি সরকার অবিলম্বে এ শিল্পের সমস্যা ও তার প্রতিকারে যথাযথ মনোযোগ দেবে। কেননা এ শিল্পের দিকে অবিলম্বে নজর না দিলে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের এ ক্ষেত্রটিতে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। যা এড়াতে এখনই সচেতন হতে হবে।

কৃষি ভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণে আলো

শিল্পখাতের দ্রুত বিকাশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণ উৎসাহ প্রদান, পশ্চাদপদ ও অনগ্রসর ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি ভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। ইতিমধ্যে এই ইপিজেড নির্মাণের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহমানপুর এলাকায় ২শ একর জমির অধিকরণের কাজ চলছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।


 এই ইপিজেড নির্মাণের কথা শুনে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার দেখা দিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে জেলাবাসী। ঠাকুরগাঁওয়ে ইপিজেড নির্মাণ হলে পাল্টে যাবে অর্থনীতির চাকা। একই সাথে এই ইপিজেডে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। জেলার ইপিজেড পরিকল্পনায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন সহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।


 জেলা পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে মোট জনসংখ্যা ১৩ লাখ ৮০ হাজার। ১৭৮১ ৭৪ বর্গ কিলোমিটার এ জেলায় ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ১টি সুগার মিল, মাঝারি শিল্প ১৪টি, (কোল্ড স্টোরেজ ১০টি), হালকা শিল্প ২,৬৩৮টি, কুটির শিল্প ৯,১৬৫টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণ ধান, গম, ভুট্টা, আলু, আম, আখ, কাঁঠাল, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু এ সময় ফসল ফড়িয়াদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়।


 আবার অনেক সময় প্রাকৃতিক কারণে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না কৃষক। আর কৃষি ভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণ হলে কৃষক এখানে উৎপাদিত ফসল সহজেই বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাবে। সরকার ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলে জনগণ খুবই খুশি। এই জেলায় উৎপাদিত পণ্য দিয়েই এই ইপিজেড চলবে।

 

নিষিদ্ধ পলিথিনে ছেয়ে গেছে সারা দেশ

সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ পলিথিনে ছেয়ে গেছে সারা দেশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছে। অবৈধ পলিথিন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও তাদের দোসররা।

 এ কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এ সবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। পলিথিন মানব দেহের ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় কয়েক বছর আগে পলিথিন উৎপাদন ও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কাগজপত্রে পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই।


 আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকার কারণে আগের চেয়ে এর ব্যবহার ও উৎপাদন ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরানো ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরানোর উদ্যোগ শুরু হলেও নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানা সরানোর কোন তৎপরতা নেই। শুধু পুরানো ঢাকার চার শতাধিক অবৈধ পলিথিন কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে দেশের পলিথিনের সিংহ ভাগ।

সব ধরনের পলিথিন উৎপাদন ব্যবহার, বিপণন বাজারজাত করণ নিষিদ্ধ হলেও অবাধে চলছে এর ব্যবহার। গত বছরও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।


 কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতে সেই উদ্যোগ চুপসে গেছে। পলিথিন অধিদপ্তরও পলিথিনের বিষয়ে উদাসিন। সব মিলে পলিথিন দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (পব) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বর্তমানে শুধু রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়।

 আর একই পরিবার প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৪টি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। পলিথিনের বিকল্প পাটের ব্যাগ ব্যবহারে করার জন্য দেশের মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। পলিথিন ব্যবহারে কুফল সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

শিশু ভিক্ষাবৃত্তি লজ্জাস্কর

শিশুরা সর্বদাই সুন্দর। আজকের শিশুরা ভবিষ্যৎ জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। এসব শিশুর মধ্যে কিছু শিশু রয়েছে যারা সত্যিই হতভাগ্য। তাদের জন্ম যেন আজন্ম পাপ। এসব শিশু সমাজের অনিয়ম, অবহেলা, বঞ্চনা লাঞ্ছনা, ঘৃণা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার, যারা দারিদ্রের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নষ্ট করছে নিজ এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তারা বাবা-মা পরিবার হারা পথ শিশু। এদের এ পরিস্থিতির জন্য একক কোনো কারণ নেই, তবে একাধিক কারণ রয়েছে। এসব পথ শিশু বেঁচে থাকার তাগিদে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য হয়।


 আর এতটাই হতভাগ্য যে সামান্য নিরাপত্তা, স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে মুড়িয়ে রাখার কেউ নেই তাদের পাশে। তারা সবাই শিশু। এটা সত্য, তাদের জীবন উপভোগ করতে দেওয়া আমাদের সবার কর্তব্য। আমাদের পথ শিশুরা তাদের সোনালি ভবিষ্যৎ বিলিয়ে দিচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে, অনেকে নিচ্ছে শিশু বয়সে ভিক্ষাবৃত্তি। কেউ ইচ্ছা করে ভিক্ষা করে না, নিরুপায় হয়েই করে।


 আবার বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায় এই অসহায় এতিম শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তিতে আবার করুণ কাহিনী যা জাতিকে কাঁদায়। নিষ্ঠুর মানুষ রূপী মানুষগুলো এসব পথ শিশুরা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভিক্ষা করতে বাধ্য করছে, থাকা খাওয়া দোহাই দিয়ে।

 

একটি জরিপে দেখা যায় আমাদের দেশে কর্মজীবী শিশু রয়েছে এর ৫৫ শতাংশই শহরে বাস করে। আবার এই ৫৫ শতাংশ শিশুর মধ্যে ৯ শতাংশ ভিক্ষাবৃত্তি জড়িত। জরিপ পরিসংখ্যান যাই হোক, শিশুরা ভিক্ষা করবে এটা আমাদের কারো কাম্য নয়। তাছাড়া শিশু ভিক্ষা বৃত্তি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার।


 শিশুদের ভিক্ষুক বানানোর কারিগরদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শিশু ভিক্ষা বৃত্তির স্থায়ী একটা সমাধানও চাই। এ জন্য দরকার সরকার ও বিরোধী দল এবং সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা।

 

পাটের আবার বহুমুখী সুদিন

একটা সময় ছিল বাংলাদেশে পাটের জয় জয়কার অবস্থা ছিল। কিন্তু আশির দশকের পর থেকে পাটের বাজার আস্তে আস্তে কমতে থাকে। আয় কমতে কমতে এক সময় এমন অবস্থার মধ্যে এসে ঠেকেছিল যে গরু বাঁধা দড়ি কিংবা পাট খড়ি ব্যবহারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু পাট -আবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সেই পাটের সুদিন আবার ফিরতে শুরু করেছে।

 

 সারাদেশের কৃষি ব্যবস্থা ছিল পাটময়। মৌসুমে যেদিকেই যাওয়া যেত সারি সারি পাট ক্ষেত দেখতে মন জুড়িয়ে যেত। রাস্তার দুধারে পাটের ক্ষেতের জন্য আশেপাশে কোনো ক্ষেত দেখতে পাওয়া যেত না। সে সময় হাট বাজার করার জন্য পাটের ব্যাগ ছিল ঐতিহ্য। কিন্তু দিন পাল্টায়ে আর দিন পাল্টানোতে পাটের জন্য খারাপ সময় ডেকে এনেছে।

 

একদিকে দিনে দিনে বিশ্ব বাজারে পাটের বিকল্প তন্তু আবিষ্কার হয়েছে অপরদিকে সে সময় কৃত্রিম তন্তু দামে পাটের তুলনায়। অনেক সস্তা হওয়াতেই অনায়াসে সেগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেজন্য কমতে থাকে পাটের গুরুত্ব ও দাম। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃ স্থানীয় সরকার ক্ষমতায় এসে শিল্প ও কলকারখানা চালু করার ক্ষেত্রে কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

 

 পাটের কোন কিছুই ফেলনা নয়। ছোট বড় সব ধরনের পাট গাছ থেকে পুষ্টিকর পাটশাক পাওয়া যায়। পাট যে আবার গুরুত্ব পেতে শুরু করে তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে সেটি ধরে রাখতে হলে এর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার


গত রোববার চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগর থেকে শত কোটি টাকার ২০ লাখ পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী মোজাহের সিন্ডিকেটের প্রধান মোজাহের সহ ৯ জনকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। কোনোভাবেই ইয়াবার সরবরাহ ঠেকানো যাচ্ছে না।

দেশে ইয়াবা পাচারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গ্রুপ ও রাজনৈতিক নেতা কর্মিদের সমন্বয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বলে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রায়শই প্রকাশিত হয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৫ বছর পর দেশে একজন সুস্থ তরুণও পাওয়া যাবে না বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন।


টেকনাফ এখন ‘ইয়াবা জোন’। ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ইয়াবায় আসক্ত। টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার চালান ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও ইয়াবার চালান আসছে বলে খবরে বলা হয়েছে।


 মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে রয়েছে ইয়াবা কারখানা। মিয়ানমার থেকে ২৫ টাকায় ইয়াবা কিনে ঢাকায় এনে ৫০০ টাকা পিস বিক্রি করা হয় বলে আটককৃতরা জানিয়েছে। মাদকাসক্তরা যেমন নিজেদের ধ্বংস করছে, তেমনি পরিবারকেও ঠেলে দিচ্ছে বিপর্যয়ের দিকে। দ্রুত এর গতিরোধ করা না গেলে সামাজিক-অর্থনৈতিক সব ধরনের স্থিতিই বিঘিœত হবে। এ ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে আরো বেশি কৌশলী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সম্মিলিত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

 

 

বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ছে

পাইকারি ও খুচরা গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে পাইকারি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ (৭২ পয়সা) বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে ৮ থেকে ১২ শতাংশ হারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।


 এর আগে ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে ছয়বার এবং খুচরা গ্রাহক পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন মূল্য ৫ টাকা ৫৯ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয় যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গড় দাম পড়ে ৬ টাকা ৭৩ পয়সা।

 

কোম্পানিগুলোর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে প্রতি ইউনিটের গড় দাম হবে প্রায় ৭ টাকা ৭১ পয়সা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি তো নেই-ই, বরং দাম কমানোর সুযোগ আছে। সরকারও বলেছিল ২০১৩-১৪ সালে দাম কমানোর কথা।


 সেটা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তার দায়ভার গ্রাহকের ঘাড়ে চালানো তা অনৈতিক। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফার্নেস তেলের দাম বাজার দর অনুযায়ী নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বর্তমান বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কমে আসবে। তখন দাম বাড়ানোর কোনো প্রশ্ন উঠবে না। কিন্তু সরকার তা না করে বিদ্যুৎ খাতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

 

 এতে সরকারের যে বিশেষ কোনো লাভ হচ্ছে, তা-ও নয়। কেননা, সরকার একদিকে ফার্নেস তেল বেশি দামে সরবরাহ করে মুনাফা করছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন মূল্য বেশি পড়ায় ভর্তুকি দিচ্ছে। আমরা মনে করি জনগণের কাঁধে এই বোঝা চাপানোর আগে তারা বিকল্প উপায়ে ক্ষতি নিরসনের চেষ্টা করলে ভালো হতো।

এসডিজি অর্জনে বৈষম্য দূর হোক

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন করতে হলে প্রথমে বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন বিশেষ করে সার্বজনীন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কৃষি ও এসএমই খাতকে অন্তর্ভূক্ত করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে সরকারকে।

 

এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার অংশগ্রহণে কৌশল পত্র প্রণয়নের কাজ এপ্রিলে শেষ হবে। সার্বজনীন শিক্ষার মানোন্নয়ন না হলে এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে না- তা কাগজেই থেকে যাবে।

 

 এসডিজির জন্য শিক্ষার মান বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারকে এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিতেহবে। সরকার বড় চিন্তা করছে অবকাঠামো নিয়ে। এর পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দেশে যে মডেলে উন্নয়ন হচ্ছে, সেখানে বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য এসডিজিতে সরকারি-বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।


 এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো ব্যবসায় নতুন নতুন খাত তৈরির সম্ভাবনা জাগিয়েছে। বৈষম্য রেখে সমাজ এগোবে না। এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান লক্ষ্য হতে হবে বৈষম্য দূর করা। অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই বাংলাদেশ ২০২৭ সালে না হোক ২০৩১ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।


 তবে সুশাসনের অভাব থাকলে, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমাদের জন্য তা দুরূহ হয়ে উঠবে। রাষ্ট্র পরিচালনাকারী এবং দেশের নীতি নির্ধারকদের বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি এই সব সমস্যাকে উতরিয়ে বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬৪ হাজার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৬ সালে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ২৩ বছরে সারা দেশে ৮৪ হাজার ৪৩৫ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় ৬৪ হাজার ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

এ ছাড়া এসব দুর্ঘটনায় আরও ৬৩ হাজার ৫৬২ জন আহত হয়েছেন। এ আর আই জানিয়েছে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী থেকে পাওনা তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর মামলা হলেই পুলিশ তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে।


 ভুক্তভোগী কেউ মামলা না করলে কিংবা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে থাকলে পুলিশের খাতায় কোন তথ্য থাকে না। এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে কেউ মারা গেলে সেই হিসাবও পুলিশের কাছে থাকে না। গত ২৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে কোন গাড়ি চালকের উল্লেখযোগ্য সাজা হয়েছে এমন তথ্য জানা নেই এ আর আইয়ের।

 

এ আর আই সূত্র জানায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনিরের প্রাণহানির ঘটনায় সম্প্রতি যে রায়টি হয়েছে এটিই স্মরণীয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিয়মিতভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালক বা মালিকের উপযুক্ত শাস্তি হয় না।


পুলিশ ও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় পাশাপাশি চালক ও মালিকদের সাজা শিথিল এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না বলে মন্তব্য তাদের। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর আদালত থেকে পাওয়া এ তথ্যে দেখা গেছে গত ছয় বছরে গাড়ি চাপায় নিহতের ঘটনায় দায়ের মামলার ৫৯ শতাংশ আসামি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

দেশে ভারি যানবাহনের চালক তৈরির কোন প্রতিষ্ঠান নেই। আমরা অনেক ড্রাইভিং স্কুল দেখি যারা শুধু হালকা যানবাহন চালনা শেখান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভারি যানবাহনের চালকরা হেলপার থেকে চালক হয়ে যান। তারা তাদের ওস্তাদের কাছ থেকে গাড়ি চালনা শেখেন।

উদ্বৃত্ত জমিতে পাট শিল্প

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমির সংকটকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে মনে করা হয়। নতুন বিনিয়োগে এবার জমির একটা সংস্থান হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো অক্ষত রেখে উদ্বৃত্ত জমি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন উপযোগী করে প্লট আকারে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে ইজারার মাধ্যমে এসব প্লট পাবেন উদ্যোক্তারা।


তবে অব্যবহৃত এসব জমিতে শুধু পাটকলই স্থাপন করার শর্ত থাকছে। দ্রুত এসব জমি বিনিয়োগে নিয়ে আসতে কাজ করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক হিসাবে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে ৭৫ একর উদ্বৃত্ত জমি রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অব্যবহৃত জমি বিনিয়োগে বেসরকারি খাতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে প্লট করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাঝে বিভিন্ন মেয়াদে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাকি অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে উদ্যোক্তাদেরই। তবে পাট ছাড়া অন্য কোনো শিল্প স্থাপন করা যাবে না এসব প্লটে। অন্য আরো শর্ত সহ বরাদ্দ এবং ব্যবহার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরিতে কাজ করছেন তারা।


 নীতিমালা অনুমোদনের জন্য যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। গত জানুয়ারিতে পাট সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের অব্যবহৃত  জমি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। পাট খাতকে চাঙ্গা করতে পাট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো বিদ্যমান রেখে উদ্বৃত্ত জমিতে খুব সহজে নতুন বিনিয়োগে শিল্পায়ন সম্ভব। অন্যান্য খাতের মতো পাট খাতেও জমির সংকটে বিনিয়োগ বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উদ্বৃত্ত জমি পাওয়া গেলে বিনিয়োগের জন্য সেটা বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। আর বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান রয়েছে ১১ ভাগ। অন্তর্ভূক্তি মূলক প্রবৃদ্ধির হাত ধরেই দারিদ্র্যে বিমোচন সম্ভব। এ জন্য এ খাতটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।


 বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতের বিনিয়োগে জোর দিতে হবে। তাহলে প্রবৃদ্ধি এবারও ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনীতি। গত কয়েক বছরে এ সব উদ্যোক্তাদের পুঁজি ও আকার সমানতালে বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ে জিডিপিতে অবদান রাখছে। বর্তমানে সারাদেশে এ ধরনের প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন। এরা কোন না কোনভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের কাজে নতুনত্ব রয়েছে। কেউ কেউ লোকালি পণ্যের ব্র্যাডিং করেছেন।


 বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক থেকে ধনাত্মক পর্যায়ে নিয়ে আসাটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানো ভিন্ন গত্যন্তর নেই। প্রতিবছর বাজেটে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে যে প্রাক্কলন করা হয়, তার একটা বড় অংশ পাওয়া যায় না। আবার ক্ষেত্র বিশেষে সময়মতো প্রকল্পের কাজ করতে না পারার কারণেও বিদেশি ঋণ ফেরত পাওয়ার নজিরও কম নয়। বাস্তবমুখী কর্মসূচি নিয়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে সেটাই সরকারের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।


 অর্থনীতির গতিশীলতার সঙ্গে যদি সরকার অর্থনৈতিক খাতের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারত, তাহলে বৈদেশিক ঋণের সদ্ব্যবহার করা যেত। বিদেশি ঋণ কেন খরচ হয় না-তা সরকারকে বুঝতে হবে সেটা। যারা এ কাজ করতে চায়না, তাদের কাছ থেকে জবাব নিতে হবে। দুর্নীতি করা যাবে না বলে, বিদেশি ঋণের টাকা খরচ হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে না। এ মানসিকতার কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

 

তিন জঙ্গির ফাঁসি

হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান সহ তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে, বিষয়টি স্বস্তির। সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ) এর মাজারে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার দায়ে গত বুধবার রাতে কাশিমপুর কারাগারে মুফতি হান্নান এবং তার সহযোগী বিপুলকে এবং সিলেট কারাগারে রিপনের মৃত্যুদ  কার্যকর করা হয়েছে। এনিয়ে গত ১০ বছরে শীর্ষ ১০ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হল।


 এসব ঘটনা জঙ্গিবাদ রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে সন্দেহ নেই। এ ছাড়া দেশব্যাপী বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে ৬১টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। দেশে সবচেয়ে বড় জঙ্গি মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে হজরত শাহজালালের মাজারে বোমা হামলা ছাড়াও আরও ১৬টি জঙ্গি হামলার মামলা রয়েছে। যার মধ্যে রমনার বটমূলে বোমা হামলা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে বোমা পেতে রাখার মামলাও রয়েছে।


 বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানে যারা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন মুফতি হান্নান ছিলেন তাদেরই একজন জঙ্গিবাদ আজ এক বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের কোনো প্রান্তই জঙ্গি হামলার আশংকা থেকে মুক্ত নয়। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

 আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চাই না। আমরা বৈশ্বিকভাবেও জঙ্গিবাদের অবসান চাই। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও ধর্মীয় নেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গিবাদের নামে যা করা হচ্ছে তার সঙ্গে প্রকৃত ইসলামের যে কোনো সম্পর্ক নেই তা মানুষকে জানাতে হবে। বিভ্রান্তির কবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হবে।

বিদেশি ঋণ সহায়তা অলস থাকে

রাষ্ট্রীয় তহবিলের টাকা খরচের বেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যতটা উৎসাহ-আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখা যায়, বিদেশি ঋণের টাকা খরচের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। কারণ বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিদের টাকা নয়-ছয় করা কঠিন। তাদের প্রতিটি নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।

 

কেনাকাটাতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয়। এতসব ঝঁক্কি-ঝামেলা পোহাতে চান না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তাদের চেষ্টা থাকে, বিদেশি টাকা যাতে অব্যবহৃত থেকে থাকে। এই অপচেষ্টার ফল হয় দেশের জন্য ক্ষতিকর। অব্যবহৃত টাকা জমতে জমতে অলস টাকার পাহাড় গড়ে ওঠে।


 উন্নয়ন কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। মাঝখান দিয়ে সরকারকে গুণতে হয় বাড়তি ঋণের সুদ। এসব ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই। অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ই আর ডি) থেকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ফ্লো অব এক্সটারনাল রিসোর্স’ বই পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে করা চুক্তির পর এখন দুই হাজার ২০৬ কোটি ডলার অব্যবহৃত পড়ে আছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। (এক ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে)।


 এত টাকা পড়ে থাকা সত্বেও তা খরচ করতে পারে না সরকার। ঋণ নেওয়ার হার বাড়লেও সে হারে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে অব্যবহৃত টাকার পরিমাণ বেড়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কর্মদক্ষতার মারাত্মক অভাব আছে। আবার উন্নয়ন সহযোগিদেরও সমস্যা আছে। ঢাকায় উন্নয়ন সহযোগিদের যেসব কার্যালয় আছে, তাদের সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে থাকতে হয় সদর দপ্তরের দিকে।

 

তাই ঋণ খরচ হচ্ছে না। অব্যবহৃত পড়ে থাকছে, বিদেশি ঋণে নিয়মকানুন কড়াকড়ি থাকায় তা খরচে সংশ্লিষ্ট বিভাগ উৎসাহী নয়। এমন ধারণা আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক। এমন মানসিকতা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। দেশি-বিদেশি যাই হোক, উন্নয়নের টাকা স্বচ্ছভাবে খরচ করতে তৎপরতা বাড়াতে হবে।

ব্যাংকিং স্বাস্থ্য শিক্ষা পাসপোর্ট খাতে দুর্নীতি বেশি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বলেছেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পাসপোর্ট খাতে দুর্নীতির প্রকোপ বেশি। পদ্ধতিগত পরিবর্তন ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল কঠিন। দুদক সরকারি সেবা প্রদানের পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি কোন একক দেশের সমস্যা নয়। এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন আমাদের সকলের মানসিকতার পরিবর্তন। তবে এই কাজটি খুব সহজ নয়, প্রবীণদের চেয়ে নবীনদের মানসিকতার পরিবর্তন সহজ। তাই কমিশন তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজপথে নেমেছে।

 মহান স্বাধীনতার এই মাসে দেশব্যাপী সততা সংঘের সদস্যদের স্বতস্ফুর্ত আহবানে প্রায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি সাধারণ মানুষ, দুর্নীতি বিরোধী মানব বন্ধনে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানব বন্ধনে অংশ নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানে সংহতি প্রকাশ করেছে। আগামী প্রজন্মের মধ্য দিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

 আগামীতে এই শিক্ষার্থীদের মধ্য দিয়েই দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে। আগামীতে এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সৎ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। দেশে দুই থেকে তিন ভাগ জিডিপি নষ্ট হচ্ছে এই দুর্নীতির কারণে। আমরা চাই গোড়া থেকেই দুর্নীতি নির্মূল হোক। ক্ষমতা কিংবা অর্থের জোরে কেউ আইন মানবেন না, সে সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন আমরা ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে দিয়েছি। আমরা কেউই আইনের উর্ধ্বে নই। প্রত্যেকে আইন মানতে হবে। অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা।

মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

নতুন বছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতার ফেব্রুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্টভিত্তিক সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। যা জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ অর্থাৎ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে পণ্য সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারিতে সে পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কালাম।

 

 মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ করে গরুর মাংস ও ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছু বেড়ে যায়, এর আগে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ হিসেবে মোটা চালের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত মাসে খাদ্য খাতে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ যা জানুয়ারিতে কিছুটা কমে ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ নেমেছে।

 

যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। সাধারণ মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত মাসে শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

 

বিপন্ন সুন্দরবন

সুন্দরবন সংলগ্ন নদনদীতে লবণাক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবনের পরিবেশ ব্যবস্থায় চিড় ধরছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাদাবনের বিস্তার। জীববৈচিত্র্যেও তার অশুভ প্রভাব পড়ছে। সুন্দরবনের দুনিয়া জুড়ে পরিচিতি রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামের ব্যাঘ্রকুলের জন্য।

 

এ সত্যটি উঠে এসেছে কলকাতায় বিশ্ব ব্যাংক আয়োজিত বাংলাদেশ ও ভারতের গবেষক নীতি নির্ধারকদের এক কর্মশালায়। ওই কর্মশালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে সাগরের লবণাক্ত পানির আগ্রাসন বাড়ছে।

 সুন্দরবনের মিঠাপানি নির্ভর গাছপালার পক্ষে অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ অনিন্দ্য সুন্দর এই বাদাবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে লবণ-পানির চিংড়ি চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনাকাাঙ্খিত ঘটনা। বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার কারণেও।

 

এর ফলে ভূমিক্ষয় বাড়ছে। গাছপালার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের নদনদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুন্দরী গাছের বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। সুন্দরবনের সমুদ্র ঘেঁষা এলাকায় সুন্দরীগাছের ঘনত্ব হ্রাস পেয়েছে। এসব এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃণভোজীরা তা মুখে তুলছে না।


 ফলে তারা খাদ্য সংকটের শিকার হচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘের অস্তিত্বের সঙ্গে তৃণভোজী জন্তুর সম্পর্ক ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। লবণাক্ততার কারণে তৃণভোজী প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন  হয়ে পড়ায় বাঘের অস্তিত্বের ওপরও অপছায়া পড়ছে। বাঘের অস্তিত্ব রক্ষায় লবণাক্ততা সমস্যার ইতি ঘটাতে হবে।

 

বিশ্বের বৃহত্তম বাদাবনের অস্তিত্বের জন্য এটি এখন প্রধান হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিষ্টি পানি নির্ভর মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে তা তুলে ধরা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মিষ্টি পানির মাছ বিপন্ন হয়ে পড়ায় সুন্দর বন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলেদের জীবিকা হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। বনকে রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এই বাদাবন রক্ষায় মিষ্টি পানির প্রবাহ কীভাবে সচল রাখা যায় সে বিষয়টি ভাবতে হবে।

 

পোলট্রি খাতে বাড়তি প্রণোদনা প্রয়োজন

পোলট্রি ফর বেটার টুমরো শ্লোগান নিয়ে দেশে চলছে দশম আন্তর্জাতিক পোলট্রি প্রদর্শনী। কিন্তু নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত সম্ভাবনাময়ী এ খাতের উদ্যোক্তারা। পোলট্রিতে ব্যবহৃত কাঁচামালে ট্যাক্স আরোপ করায় খাবারের বাড়তি দাম, পরিবহণ ভাতা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল খামারিদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে গত দুই বছর পোলট্রি খাতে কর আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক ও অ্যাডাভ্যান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) আরোপ করায় বাড়তি করের বোঝায় ক্ষতিগ্রস্ত এ খাতের উদ্যোক্তারা।


 অন্যদিকে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহণ খাতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। আর বিদ্যুতের দাম বাড়ায় বাড়ছে মুরগির বাচ্চার দাম। এমন পরিস্থিতিতে এ খাতের বিকাশে বাড়তি প্রণোদনা ও ২০২১ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, পোলট্রি খাতে ব্যবহৃত খাবারের প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে ভুট্টা।

 খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর ৫২ শতাংশ ভুট্টা ব্যবহার করা হয় কিন্তু সরকার ভুট্টার ওপর ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া পোলট্রি খাবারের গুরুত্বপূর্ণ সয়াবিনের বীজ। সয়াবিন বীজ আমদানিতে সরকারকে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক ৪ শতাংশ  অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট প্রদান করতে হয় উদ্যোক্তাদের অর্থাৎ পোলট্রি খাতে ব্যবহৃত ৮৭ শতাংশ কাঁচামালের ওপর ১৯ শতাংশ কর প্রদান করতে হয় সরকারকে। ফলে খামারিদের ব্যয় হচ্ছে বাড়তি অর্থ, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের উপর।

 এ ছাড়া গত ৬ বছরে পাইকারি ও ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ছয়বার। সর্বশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর। এ দিকে পহেলা মার্চ থেকে নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ায় আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতির নতুন করে উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়ার শংকা পোলট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের। 

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা’

বিদায় ১৪২৩। জীর্ণ শীর্ণ ঝরাপাতা তুল্য বছরটি আজ বিগত। নববর্ষের সূর্যোদয়ে নতুন সম্ভাবনা সবুজ পাতার মতো অংকুরিত হবে আমাদের জীবনে, সমাজে এই প্রত্যাশায় স্বাগত জানাই আজ নতুন বঙ্গাব্দকে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতেই আজ বর্ণিল আয়োজন। গোটা দেশ পালন করছে নববর্ষ। জীর্ণ মলিনকে পেছনে ফেলে নতুনকে বরণ করে নেওয়ার দিন এটি। ধর্ম-বর্ণ -নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব।


 গ্রামাঞ্চলে শুরু হলেও পয়লা বৈশাখের উৎসবের আড়ম্বর এখন শহরগুলোতেই বেশি। জেলায়- উপজেলায় বসে বৈশাখী মেলা, আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়ীরা খুলে বসেন হালখাতা। পথ-ঘাট, মাঠ মঞ্চ সবকিছু ভরে ওঠে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসে। বাংলা সনের উদ্ভব হিজরি সনের অনুসরণে। পার্থক্য এই যে, হিজরি চন্দ্র সন আর বাংলা সৌর সন, যার সঙ্গে মিল রয়েছে খ্রীষ্টিয় সনের। কৃষি ভিত্তিক সমাজে ফসলের সঙ্গে সম্পৃক্ত উৎসবের দিন। এভাবে বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব হয়ে। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে এটি ওৎপ্রোতভাবে জড়িত।


 বাংলা নববর্ষ আমাদের সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। ধর্ম-বর্ণ-ধনী দরিদ্র, জাতি গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই বাংলা নববর্ষে মিলিত আমরা যে উৎসবে, যে উৎসব আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির মানবিক মূল্যবোধে দেশকে ভালবাসতে শেখায়। শেখায় ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য-এই সত্যকে। পুরনো বছরের সব দুঃখ-বেদনা, ব্যর্থতাকে ঝেড়ে ফেলে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ধরে এগিয়ে চলার নতুন প্রত্যয়ে শুরু হোক নতুন বছর। নতুন বছর হোক সবার জন্য কল্যাণকর।

 

এসডিজি অর্জনে বাধা দুর্নীতি

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে দেশে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস করতে হবে। সেই সঙ্গে গণতন্ত্র শক্তিশালী ও উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস করতে হবে। একই ভাবে গণতন্ত্র শক্তিশালী করে এই প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইক্যুইটিবিডিসহ ২২টি নাগরিক সংগঠন। গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান, সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আমিনুল হক। এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি।


 দুর্নীতির কারণে দেশের শতকরা ২ ভাগ জিডিপি কম অর্জিত হচ্ছে। দুর্নীতি এবং জনগণের সম্পদের অপচয় বন্ধ করতে হবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, মুক্ত গণমাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসন, স্বায়ত্বশাসিত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে আবশ্যকীয় শর্ত।

 

সরকারের অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ দুর্নীতির কারণে নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে।  সরকার কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, কিন্তু বর্তমান সময়ে ঘুষ ছাড়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো কৃষি নির্ভর, অথচ কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাননা। কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে। ধনী-দরিদ্র এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান উন্নয়ন বৈষম্য হ্রাস করতে হবে।


 শ্রমিক শ্রেণির কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া এসডিজিসহ কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর কথাও বলেন তারা। এসডিজি বাস্তবায়নে ধনী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত সহায়তা দেয়নি। এসডিজিতেও তারা উন্নয়ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি রাখবে না। তাই আমাদেরকে নিজের উন্নয়নের জন্য নিজস্ব সম্পদের ওপর নির্ভর করতে হবে। এজন্য অবৈধ অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। প্রতি বছর জিডিপির ১ দশমিক ২ ভাগ চলে যায় অর্থ পাচারের মাধ্যমে।

সম্পর্ক এগিয়ে যাক

প্রায় সাত বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে দেশে ফিরেছেন। সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর এবং দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তুলবে বলে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও অনেকে আবার মনে করেন কূটনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হলেও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার বিচারে বর্তমান সরকারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফর খুব বেশি ইতিবাচক হয়নি। তিস্তার পানি বন্টন এবং গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হওয়ায় দেশের মানুষের আশা পূরণ হয়নি। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে রচিত হয়েছে বহুমুখী সম্পর্কের এক সেতুবন্ধন।


 এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ৬টি চুক্তি ও ১৬টি সমঝোতা স্মারকসহ ৩৪টি দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি ভবনে রেখে সর্বোচ্চ আতিথ্যের নজির রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বহুল আলোচিত সফরকালে ভারত বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণদানের ঘোষণা দিয়েছে। ডলারের ঋণ দেবে ভারত। সামরিক কেনাকাটায় দেবে আরো ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ। চুক্তি হয়েছে ৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনে।


 আরো কিছু সীমান্ত হাট চালু করতে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কলকাতা-খুলনা-ঢাকা বাস চলাচল, খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচল ও বাধিকাপুর- বিরল রেললাইন উদ্বোধন হয়েছে। এছাড়া আরো ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেবে ভারত। আমরা আশা করছি ভারত তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদ-নদীর পানি বন্টন সমস্যার দ্রুত সমাধান করে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

 

রিজার্ভ চুরির সঙ্গে কারা জড়িত

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার ‘গায়েব’ বা হ্যাকড হয়েছে গত বছরের প্রথম দিকে এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা শাখায় যারা জড়িত বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছিল, তাদের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল- এম- কোনো তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে নেই।

ফেডারেল রিজার্ভ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকাররা কীভাবে নিয়ে গেল তার কোনো সদুত্তর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে নজরদারিতে রাখা হয়। পাসপোর্টও নাকি জব্দ করা হয়েছে, যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে।


 ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমে হ্যাকাররা হিসেবের গোপনীয় সাংকেতিক নম্বর পেয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তৃতীয় একটি দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের দিকেও সন্দেহের তীর ছিল। এটা আমরা জানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগে এসব লেনদেন নানা স্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী কোডের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। আর এসব কোড সংরক্ষিত হয় ব্যাংকের ঐ বিভাগে সংশ্লিষ্ট অল্প কয়েকজন কর্মকর্তার মাধ্যমে। এ ঘটনার সঙ্গে ফিলিপাইনে যে সব ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তারা তখন পদত্যাগ করেছিলেন।


 তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের কিছু টাকা ফেরত আনা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সে সময়ের গভর্নর ড. আতিয়ার রহমানকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগে যাদের ওপর বৈদেশিক লেন-দেন এর দায়িত্ব এবং নিরাপদ নিরাপত্তা সাংকেতিক কোড ব্যবহার করেন তারা এ ঘটনার দায়-দায়িত্ব কীভাবে নিলেন বা আদৌ নিয়েছেন কি-না, তা জাতিকে জানতে হবে। এটাই জবাবদিহিতা শৃঙ্খলতা, এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত কি-না তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার নয়

নদী অধ্যুষিত বাংলাদেশের মানুষের জীবিকা প্রধানত কৃষিনির্ভর। এদেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমাদের কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৫২ মিলিয়ন হেক্টর। এবার শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই কৃষকদের মধ্যে চিন্তার ছাপ পড়েছে। কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে। ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত এবং নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ২৫-৩০ ফুট গভীরেও পানি মিলছে না।

 

 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলেছে, পৃথিবীর ভূগর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় তা জানা এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েক বছর আগে থেকে থাইল্যান্ডে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডিপটিউবওয়েল, শ্যালোটিউবওয়েল। সেখানে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে গেলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশের বছর দশেক আগে থেকে কৃষিবিজ্ঞানীরা এ কথাগুলো বলতে শুরু করেন।

 

 কিন্তু তাতে পানি উত্তোলন বন্ধ, জলাধারের পানি ব্যবহার বা বর্ষায় পানি সঞ্চয় বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ যে পানির সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী। নদী দূষণ অবস্থাকে ভয়াবহভাবে বিপজ্জনক করে তুলছে। অস্তিত্বের স্বার্থে উজানে পানি প্রত্যাহার রোধে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

 

 তিস্তার পানি সংকট এখন একতরফা বিষয় নয়। এ ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তাগিদ দিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের অনাগ্রহের কারণে সফল হচ্ছে না। বিকল্প তিস্তা ব্যারেজ সৃষ্টি হয়েছিল এ সমস্যা সমাধানের জন্য। ১৫ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প কার্যত কোনও কাজেই লাগছে না। আমাদের নদ-নদীর পানি প্রবাহ ফিরে পেতে হলে প্রতিবেশি দেশের পানি প্রত্যাহার বন্ধ করতে হবে। না হলে আমাদের নদ-নদীগুলোতে পানি আসবে না।

 

বাল্য বিয়ে বাড়বে ইইউ পার্লামেন্টের উদ্বেগ

বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে নিরোধ সংক্রান্ত নতুন আইনে বিদ্যমান ফাঁক ফোঁকরের সুযোগ নিয়ে বাল্য বিয়ের ঘটনা বেড়ে যাবে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্ট। সম্প্রতি পাস করা ওই আইনের সেসব ফাঁকফোকর বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইইউ পার্লামেন্ট। গত বৃহস্পতিবার এ আহবান জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইইউর হিউম্যান রাইটস বিভাগ। ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার সবচেয়ে বেশি।

 

 ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। এরই মধ্যে নতুন বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন পাশ করেছে দেশটির সরকার। ওই আইনে মেয়ে ও ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স আগের মতো ১৮ ও ২১ বছর বহাল থাকলেও বিশেষ প্রেক্ষাপটে তার কম বয়সেও বিয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতেই উদ্বেগ জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা বলেন, নতুন আইনে বাল্য বিয়ে বৈধতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সব ধরনের জোরপূর্বক বিয়ে ও বাল্য বিয়ের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা বাংলাদেশের বাল্য বিয়ের সংখ্যাধিক্য কমানোর প্রচেষ্টা থেকে আসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন। এমপিরা এ সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল থাকবে এবং লৈঙ্গিক সমতা ও নারীর অধিকার নিশ্চিত করবে।

খনিজ সম্পদ আহরণ

শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়েই নয়, আমাদের দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বালুতে মিশে রয়েছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ। এ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধির পথে এ দেশটির অগ্রযাত্রা অনেকখানি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আমরা ইতিপূর্বে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জেনেছি কক্সবাজার সহ টেকনাফ  ও এর আশ পাথে উপকূলীয় এলাকায় এই অতি মূল্যবান খনিজ পদার্থের মোট ১৭টি স্থান রয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় খনিজ বালি পাওয়া গেছে।

 এসব সম্পদ শিল্পে ব্যবহার, বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে অনেকের আগ্রহ থাকলেও আমরা এর যথাযথ ব্যবহার স্থির করতে পারছি না। দুঃখজনক হলেও সত্য, ষাটের দশকে তৎকালীন জিও লজিক্যাল সার্ভে বিভাগ ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করে বালিতে খনিজ সম্পদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর কয়েক দশক পর ২০০১ সালে সৈকতে বালি আহরণ কেন্দ্র নামে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

 আমরা দেশের খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার চাই, তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশ ও জাতির স্বার্থকে অক্ষুন্ন রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহারের জন্য এসব খনিজ পদার্থ বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যে আমদানি করে থাকে। আবিষ্কৃত এসব খনিজ সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানি খাতে ব্যয় যেমন কমত, তেমনি প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ দেশিয় শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দ্বারও উন্মুক্ত হতো। সুতরাং সব ধরনের দ্বিধা কাটিয়ে খনিজ সম্পদের যথার্থ ব্যবহারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে-এটিই প্রত্যাশা।

 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী শিক্ষায় পিছিয়ে

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের গড় শিক্ষার হার মাত্র ২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। সামাজিক বাধা-বৈষম্য ও আয়ের উদ্দেশ্যে কাজে যোগ দেওয়া, দুরত্ব সামাজিক সমস্যা, মাতৃভাষায় শিক্ষার অভাব, উৎসাহহীনতা, জ্ঞানের অভাবসহ নানা কারণে প্রান্তিক শিশুরা পড়ালেখা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের চালচিত্র শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। ১৮টি জেলার সাতটি সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী, দলিত, জেলে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যৌনকর্মি প্রতিবন্ধী মানুষের দুই হাজার পরিবারের ওপর এ গবেষণা চালায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

 প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া ও তার এই পিছিয়ে পড়া চলমান থাকার পেছনে রাষ্ট্রীয়, সমাজ ও বাজার অর্থনীতির প্রভাব রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও চাহিদাগুলোর প্রতি রাষ্ট্র খুবই উদাসীন এবং রাষ্ট্রের কোনো জবাবদিহিতাও নেই। সরকারের সেফটি নেট কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য। বাংলাদেশ বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের অংশগ্রহণ খুবই সামান্য।

 বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। তাদের কাজের সুযোগ সীমিত, জীবন জীবিকা খুবই ভঙ্গুর এবং সামাজিক পরিচয় ও মর্যাদা নিচু মানের। যতদিন পর্যন্ত না দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের নির্দিষ্ট কিছু বাধা বিপত্তি, শোষণ- বঞ্চনা ও নির্যাতন বন্ধ করা না যাবে, ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম এজেন্ডা- কাউকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন নয়’ অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগের সহায়ক হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা, প্রতারণা ও জনগণকে সম্পৃক্তকরণ মূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিশু নির্যাতন

চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে শিশুর যৌন নির্যাতন বেড়েছে বলে এক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, গত তিন মাসে ১৪৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। যা গত বছর একই সময় ছিল ৯৬ জন। উক্ত তথ্য মতে, ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শিশুর জন্য গণধর্ষণ বেড়েছে ১৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। পর্ণোগ্রাফির শিকার হয়ে শিশু নির্যাতন বেড়েছে ৩শ শতাংশ। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত ২৬২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমূহের জাতীয় নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের রিসার্চ ইনফরমেশন এন্ড ডকুমেন্টশন ইউনিট থেকে ১৩টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।


 বিজ্ঞজনরা বলেন, বিচারহীনতা, বাবা-মায়ের অসচেতনতা, দারিদ্র্য, সুস্থ বিনোদনের অভাব, ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে শিশুর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা। বিচারহীনতার কারণে বেড়ে চলছে শিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত কয়েক বছর ধরে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চললেও বিচারের হয়ে শাস্তি পাওয়ার তালিকায় তেমন কোনো আসামি নেই। অর্থাৎ নির্যাতন বাড়লেও আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি।

 

সামাজিক মূল্যবোধ কমে যাওয়া এবং অবাধ আকাশ সংস্কৃতি বাড়িয়ে দিচ্ছে যৌন নিপীড়নের ঘটনা। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরদানকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম দিকে এবং এর বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংবিধানের মৌলিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ওপর ভিত্তি করে শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।

কিন্তু শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপর না হলে, দুর্বৃত্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেলে ভবিষ্যতে অপরাধ আরো বাড়বে।

 



Go Top