রাত ৯:৪১, রবিবার, ২০শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

অতিবৃষ্টি ও বড় বন্যার পূর্বাভাস পেয়ে সরকার বেসরকারি খাতে চাল আমদানিতে শুল্ক হার আরও কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে চাল আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমানো হলো। সব মিলিয়ে ২৮ শতাংশের পরিবর্তে এখন দিতে হবে ২ শতাংশ। তবে শুল্ক হার কমলেও বাজারে  চালের দাম সেভাবে কমে না। ফলে শুল্ক কমার সুফলও পায় না ভোক্তারা।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ইতিপূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শূন্য মার্জিনে আমদানির ঋণপত্র খুলতে পারবে ব্যাংকগুলো। সরকারের লক্ষ্য ছিল এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও কমে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। মোটা চালসহ সব ধরনের চালের দামই নাগালের বাইরে।

 এদিকে শুল্ক হার কমবে- এমন খবরে প্রায় ৮-১০ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থল বন্দরে সহস্রাধিক ট্রাক খালাসের অপেক্ষায় দিন গুনছে। বেনাপোলে চাল ভর্তি ৩০০ ট্রাক, হিলিতে ৪৫৪ ও সোনা মসজিদে ২০০ ট্রাক অপেক্ষায় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরও সহস্রাধিক চালবাহী ট্রাক গত ১০ দিন ধরে হিলি স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ওপারে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে শুল্ক হার ২ শতাংশ নামিয়ে আনার খবরে এসব চাল আমদানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশে চালের সংকট নেই। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন। অতীতে ভোজ্য তেল, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আমদানি শুল্ক কমানো হলেও ক্রেতারা তার সুবিধা পায়নি।

 ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে চড়া দামে এসব পণ্য বিক্রি করে নিজেদের মুনাফার অঙ্ক স্ফীত করেছেন। চালের দামের ক্ষেত্রেও সে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চালের বাজারে কোন সিন্ডিকেট থাকলে, এ অশুভ আঁতাত সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং তা ভাঙার আইনি কর্তৃত্ব সরকারের হাতে রয়েছে।

এসব অতি মুনাফা লোভী কারসাজি কারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কি কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এটাই প্রশ্ন। সরকারের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা সব সময় দুর্বল বলে অভিযোগ আছে। হাওরের বন্যার পর সরকারের মজুদ থেকে চাল বাজারজাত করলে কোনো ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর সুযোগ পেত না। আমরা আশা করব, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

নারী ও শিশু নির্যাতন

চলতি বছর দেশে অন্তত ৬৮৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনায় ৪১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাগুলোর মধ্যে ১১৯টিই গণধর্ষণ। গত ৮ আগস্ট জাতীয় গণমাধ্যমের খবরে এ উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ১৪টি জাতীয় দৈনিক থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করেন তারা। তথ্যে দেখা যায়, শুধু চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৩৬টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

সংগঠনটির সভাপতি আয়েশা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর লিখিত বক্তব্যে বলা হয় দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বর্তমানে এর সংখ্যা, মাত্রা ও ভয়াবহতা দিনে দিনে অন্যরূপ নিচ্ছে।

অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ও ঘটনার ভয়াবহতা লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে।  ধর্ষণের মামলায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করছে। দুর্নীতি, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ঘটনা অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে।

ধর্ষণ বিষয়ক সব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার, বিদ্যমান আইন সংস্কার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমূহের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে এবং রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ, পর্ণোগ্রাফি বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারসহ আরো বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন।

 সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও মামলার অগ্রগতি কম, খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্ত অপরাধী বিচারের আওতায় এলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শিশু নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন স্পেশাল ট্রাইবুনালের আওতায় এনে এইসব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার ত্বরান্বিত করা হোক। সেই সাথে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষকে অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধীকে, সে দলেরই হোক না কেন তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে মানুষ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় লাখ লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে বর্ণনাতীত দুর্ভোগে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে লাখ লাখ হেক্টর জমির আমন ধান ও শাক-সব্জি। ভেসে গেছে পুকুরের কোটি কোটি টাকার মাছ। শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মোট ২২ জেলা এখন বন্যার কবলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এখন ৩৩ লাখ ২৭ হাজার বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য। রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাঁচ জেলার সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 বেশ কয়েকটি এলাকার সঙ্গে বন্ধ হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগও। উত্তরাঞ্চলের অন্তত ২৩টি স্থানে বন্যা রক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। সড়কের ধারে বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে দুর্গতরা। ২২টি জেলার ৫৬টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ৯৭৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জন আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের তৎপর হতে বলা হয়েছে। সরকারি ত্রাণ তৎপরতায় ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বন্যায় পানিবন্দি মানুষের কাছে এখন ত্রাণ পৌছে দিতে হবে।

 সাথে সাথে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে বন্যা কবলিত এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা জোরদার করতে হবে। প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, খাবার স্যালাইন, অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। গবাদি পশু রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্গত মানুষের পাশে শুধু সরকার নয়, সমাজের অবস্থা সম্পন্নদেরও সহায়তার হাত বাড়াতে হবে। উন্নয়ন সহযোগীরাও জরুরি ভিত্তিতে দাঁড়াবে দুর্গত মানুষের পাশে।

এই বিভাগের আরো খবর

রাখাইনে বিপন্ন মানবতা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন সেনা অভিযানের জের ধরে কয়েক মাস বিরতির পর সেখানকার রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী আবারও উদ্বিগ্ন। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের অজুহাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য গত শুক্রবার রথিডং, বুথিডং ও মংডুতে মোতায়েন করা হয়েছে। গত সোমবার সেখানকার সেনাবাহিনী মায়ু নদীর আশে পাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

উগ্রপন্থী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও দীর্ঘ মেয়াদে রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়ার ছক থেকে সর্বশেষ এই অভিযান শুরু করেছে। গত অক্টোবরে সেনা চৌকিতে হামলার জের ধরে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। রাখাইনের সর্বশেষ সেনা অভিযান রোহিঙ্গা সমস্যায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখাইনের মংডু জেলার অন্তত নয়টি গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পরিকল্পিতভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শুরু হয় অত্যাচারের খড়গ। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ সহ অন্যান্য নিপীড়নের অভিযোগ করলেও মিয়ানমার সরকার প্রথম থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে। নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চালানোর ক্ষেত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ও বিকৃত ইতিহাস বিশ্ববাসীর অজানা নয়।

 রাখাইন রোহিঙ্গা নারীদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো লোমহর্ষক নির্যাতন, ইতিহাসে বর্বরতার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাংলাদেশের জন্যও সমূহ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদেশে আগে থেকেই প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। মিয়ানমারে নতুন সেনা অভিযান- আবারও নতুন করে রোহিঙ্গা সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। প্রাণ বাঁচাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে এ দেশে চলে আসতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মায়ানমার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেবে এমনটি কাম্য।

এই বিভাগের আরো খবর

নিরাপদ পানির অভাব

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ৪৪ শতাংশ মানুষ খাওয়ার জন্যে নিরাপদ পানি পায় না। দেশে মাটির নিচে পানির স্তর ক্রমশই আরও নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। সরকারি হিসেব মতেই সারা দেশের নানা জায়গায় পানির স্তর ৪ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত কমে গেছে। এ কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে এর বদলে সরকারি কর্মকর্তারা এখন মাটির উপরিভাগের পানি অর্থাৎ পুকুর বা নদী-নালার পানির ব্যবহার বাড়াতে জোর দেয়ার কথা বলছেন। কেউ কেউ বলছেন পানির স্তর নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। আমাদের ইকোলজিকাল ইমব্যালান্স যেটা হচ্ছে,।  আমাদের পুরো স্ট্রাটেজিটাই বদলাতে হচ্ছে। ঢাকার জন্য আশে পাশে তিনটি নদী থেকে ইতিমধ্যেই পানি শোধন করা হচ্ছে।

 আর সারা দেশের জন্য যে পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে বা যেগুলোর পানি নষ্ট হয়ে গেছে সে রকম পুকুর পুনরায় খনন করে কিভাবে পরিশোধন করে ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টা করছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যা যেটা হলো আমাদের মাটির ওপরের পানি হাইলি কণ্টামিনেটেড। আমাদের যেসব প্ল্যান্টে পানি ট্রিটমেন্ট করা হয় তাতে ব্যাকটেরিয়া কিছুটা থেকেই যায়। যার জন্য ডিজইনফেকশন বলে একটা ব্যবস্থা যা দিয়ে আমরা মাইক্রো অর্গানিজমগুলোকে মেরে ফেলতে পারি। ভবিষ্যতে এর একটা ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ হলো দুই কোটির বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই আর্সেনিক যুক্ত পানি খাচ্ছে।

 আর উপকূলীয় এলাকায় পানিতে বাড়ছে লবণাক্ততা। ঢাকার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে নামছে নিচের দিকে। ওয়াসা সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে পানি উত্তোলনে বাধ্য হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানীর নদীগুলোর পানি মাত্রাতিরিক্ত দুষিত হয়ে পড়ায় তা পরিশোধন করে ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর যে বাড়তি চাপ পড়ছে তা অশনিসংকেত বলে বিবেচিত হচ্ছে। আমরা মনে করি, নদ-নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো ও দূষণ বন্ধে নিতে হবে পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কোথাও হেলাফেলা কাম্য নয়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পাট পণ্যে রপ্তানি আয়

পাটজাত পণ্যকে ‘প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা দেড় বছরেও কার্যকর হয়নি। ২০১৬ সালের ৬ মার্চ পাটের আইনের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রতি বছর ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উদযাপনের ঘোষণাও দেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের মতো ২০ শতাংশ রফতানি প্রণোদনা পেত।

বর্তমানে বহুমুখী পাটপণ্য রফতানিতে প্রণোদনা রয়েছে ২০ শতাংশ। পাটের বাকি সব পণ্য যেমন হোমিয়ায সেকিংও সিবিসি পণ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ এবং পাটের সুতা রফতানিতে প্রণোদনা মাত্র ৫ শতাংশ। পাট পণ্যের একটি সার্বজনীন সংজ্ঞা না থাকায় প্রণোদনা পেতে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়েন তারা। কয়েকটি রফতানি খাত রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আওতায় কাঁচামাল আমদানিতে ২ শতাংশ সুদে ঋণ পান।

পাট খাতে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাট উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে তাদের। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কারণেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত একাধিক বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাটকে কৃষি পণ্য ঘোষণা জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত একটি খসড়া তৈরি করেছেন তারা। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও পাটপণ্যকে প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত।

 তবে কাঁচা পাটের বাইরে সব পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের ঘোষণা কার্যকর করলে প্রণোদনা বাবদ মোটা অংকের অর্থ দিতে হবে। বিপরীতে সরকারের রাজস্ব কমবে। সে কারণে মন্ত্রণালয় এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে। এদিকে বিজেএমএ’র সচিব আব্দুল বারেক খান গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অকারণে কালক্ষেপণ করছে। প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের সুযোগ-সুবিধা পেলে পাটপণ্য বড় অংকের রফতানি আয় করতে পারে। কর্মসংস্থানেও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

এই বিভাগের আরো খবর

হজ যাত্রীদের দুর্ভোগ

হজ ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি। প্রায় চল্লিশ হাজার হজ যাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির প্রাক-নিবন্ধনের সময়ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে টাকা জমা দিয়েও অনেকে হজে যেতে পারছেন না। আবার যারা নিবন্ধন করেছেন তারাও নতুন করে ই-ভিসা জটিলতায় পড়েছেন। বাড়ি ভাড়া জটিলতাও রয়েছে। হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

জেলা পর্যায়ে হজ এজেন্সিগুলোর বিভিন্ন লোকাল এজেন্টের মাধ্যমেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন হজযাত্রীরা। নানা কারণে হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। হজ যাত্রী সংকটের কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের হজ ফ্লাইট শিডিউল। প্রায় প্রতিদিনই বাতিল করা হচ্ছে নির্ধারিত ডেডিকেটেড ফ্লাইট। গত কয়েক বছরে এত জটিলতায় আর পড়েননি হজযাত্রীরা।

 ফ্লাইট বাতিল হওয়া উড়ো জাহাজের প্রতিটিতে ৪১৯ জন হজ যাত্রী যাওয়ার কথা। হজ ক্যাম্পে এখন তিল ধারণের জায়গা খালি নেই। সৌদি দূতাবাস থেকে আবেদনকৃত ভিসা সময়মতো না দেওয়ায় হজ এজেন্সিগুলো ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেনা। চলতি বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন বাংলাদেশি হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন।

গত সোমবার পর্যন্ত এসব হজযাত্রীর মধ্যে ৪১ হাজার ৭১৪ জনের নামে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্ট হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার ২৫০ জন হজের জন্য যাচ্ছেন। কিন্তু এজেন্সিগুলোর কারণে অবস্থা এমন হয়েছে যে দিনে পাঁচ হাজার জন করে পাঠালেও সময়মতো সবাইকে পাঠানো সম্ভব হবে না। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার হজযাত্রী অনিশ্চয়তায় পড়ে যেতে পারেন বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ। এদিকে বাড়ি ভাড়া জটিলতাসহ কোনো কোনো এজেন্সির গাফলতির জন্য আটকে আছে কয়েক হাজার হজযাত্রীর ভিসা।

 হজের মতো স্পর্শকাতর ইবাদতের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত হজ এজেন্সিগুলোর গাফলতিতে প্রতি বছরই কোনো না কোনো সংকট দানা বেঁধে ওঠে। হজ যাত্রীদের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অতীতে। প্রতারিত হজযাত্রীদের হজ পালনে ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা বাড়াতে হয়েছে। হজ এজেন্সিগুলোর হজ যাত্রীদের বিষয়ে নজর নেই, তাদের নজর মুনাফায়। এজেন্সিগুলো যদি বিড়ম্বনা সৃষ্টির প্রবণতা জিইয়ে রাখে, তাহলে সরকারকে ভাবতে হবে তাদের মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠাবে কি না। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও নিঁখুত করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রা

নানা প্রতিকূলতার পরও ২০১৬ সালে তৈরি পোশাক খাতের বিশ্ব বাজারের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এবারও শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীনের পরই অবস্থান। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চীনের শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দেশটি তার শিল্পনীতিতে পরিবর্তন এনে অন্য খাতের ওপর জোর দিয়েছে। ফলে পোশাক খাতের এ বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ছে বাংলাদেশ সহ অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর। গত শুক্রবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (আইডাব্লিউডিও) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালের চীনের রপ্তানি আয় কিছুটা কমলেও দেশটি ১৬১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ৬ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশ এ সময় আয় করেছে ২৮ বিলিয়ন ডলার।

 এ ছাড়া মোট রপ্তানিতেও চীনের অংশ কমেছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অংশ ছিল ৫.৯ শতাংশ। ওই বছরই বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছিল ৬ শতাংশ হারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় চীনের শিল্পায়ন নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে দেশটি পোশাক খাতের ওপর গুরুত্ব কমিয়ে অন্য শিল্পের দিকে জোর দেওয়ায় দেশটির বিশ্ব বাজারে শেয়ার কমেছে। আর এ স্থানটি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ সহ প্রতিযোগী দেশগুলো। সেই ৮০ দশকের সূচনাকালে থেকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের যাত্রা।

 হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ সেই তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানীয় পোশাক উৎপাদনকারী দেশ। তৈরি পোশাক উৎপাদনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এদেশের উদ্যোক্তারা আগের তুলনায় অধিক পরিণত। এখন তাকে শুধু নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগই নয়, যেসব পুরনো বাজার রয়েছে সেটিও অটুট রাখার দিকে সবিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আমদানিকারকদের সমর্থক প্রত্যাশা পূরণে যাতে ব্যর্থ হতে না হয় সে দিকটাতেও পোশাক মালিকদের সজাগ থাকা জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

বেদনাসিক্ত ১৫ আগস্ট

আজ রক্তস্নাত ১৫ আগস্ট-জাতীয় শোক দিবস। এখন থেকে ৪২ বছর আগে ১৯৭৫ সালের সেই ১৫ আগস্টের ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের মদদে এ দেশেরই কিছু দুর্বৃত্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। ১৫ আগস্টের ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী এবং তাদের আন্তর্জাতিক মুরুব্বিদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

 জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে তারা প্রকারান্তরে বাঙালি জাতির আত্মাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা শুধু ব্যক্তিকে হত্যার প্রয়াস ছিল না, ছিল জাতির স্বাধীনতার শক্তিকে নির্মূল করার অপচেষ্টা। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা একটি আদর্শকে খুন করতে চেয়েছিল। কিন্তু এ দেশে তা কখনো সম্ভব হয়নি এবং হবেও না। এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে হত্যাকারীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা হয়েছিল। পুরস্কৃত করেছিল তৎকালীন সরকার। খুনিদের রক্ষার জন্য দেশের সংবিধানেও হাত দেওয়া হয়েছিল।

 এই পৈশাচিক হত্যাকান্ডের বিচার চিরতরে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয় ইনডেমনিটি আইন পাসের মাধ্যমে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইনের মতো কলংকজনক আইনটিকে বাতিল করে এবং শুরু হয় প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। সে বিচারের রায়ও কার্যকর হয়েছে। যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে সুপরিকল্পিত চক্রান্তে, যারা বাংলাদেশকে একটি অনুন্নত ও পরনির্ভর দেশ হিসেবেই চিরকাল দেখতে চায়, তাদের সফলভাবে মোকাবেলা করতে হলে বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদর্শই হবে আমাদের আলোকবর্তিকা। ৪২তম শাহাদত বার্ষিকীতে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধুর অমর স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন। আজ শোক হোক আমাদের শক্তির উৎস।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল। নিয়মানুযায়ী এ সময় অঝোরে বৃষ্টি ঝরবে, প্লাবিত হবে মাঠ-ঘাট, জনপদ এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবার এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল। যাতে তলিয়ে গেছে উত্তরাঞ্চল। ১৬ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে অন্তত ২৬ জন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ১৪, কুড়িগ্রামে ৬, লালমনিরহাটে একই পরিবারে ৪ জন সহ ৫ ও ঠাকুরগাঁয়ে ১ জন রয়েছে। লালমনিরহাটে রেল লাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা।

 একই সঙ্গে বেশ কিছু এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। পানির প্রবল চাপে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন-তা বলাই বাহুল্য। বর্ষণ ও পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রেডঅ্যালার্ট জারি করা হয়েছে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায়। অন্যদিকে ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে বেড়েই চলেছে নদ-নদীর পানি।

 বিভিন্ন নদ-নদীর অন্তত ২৫টি স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৭টি স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ফের বন্যায় ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তা কিম্বা বাঁধে অবস্থান নিয়েছে বানভাসি অসংখ্য পরিবার। সবধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকা উচিত। চাই সরকারসহ বেসরকারী সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগ। উপদ্রুত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে সবাইকে একযোগে।

এই বিভাগের আরো খবর

চালের দাম কমে আসুক

চালের দাম বৃদ্ধির পর থেকে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি, সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে চাল কেনাসহ সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে না চালের দাম। প্রথমে হাওরে অকালবন্যা, এরপর অতিবৃষ্টি ও ব্লাস্টরোগে বোরোর ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবধারিতভাবেই এর প্রভাব পড়ে দেশের চালের বাজারে।

সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের মোটা চালের দাম চলে যায় তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। আমদানি শুল্ক কমানোর আগে বাজারে মোটা চাল কেজিতে ৫০-৫২ টাকায় ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ জুন ২৮ শতাংশ থেকে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে সরকার। এরপর সরকারিভাবে চালের দাম কমেছে দাবি করা হলেও মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে স্থান ভেদে প্রতিকেজি ৪৬-৪৭ টাকায়।

 তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধান্ত নিতেও সরকার খুব একটা বিলম্ব করেনি। চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারও জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। গত মাস থেকে আমদানির চাল দেশে আসা শুরু হয়েছে। এতে পাইকারি বাজারে আমদানির প্রভাব পড়েছে। চালের দাম কমে গেছে। এতে খুচরা বাজারে দাম ৩/৪ টাকা কমেছে কেজিতে। সীমিত পরিসরে কিছু চাল রপ্তানিও করা হয়েছিল। কৃষকদের কথা ভেবে চাল আমদানির ওপর সম্পূরক শুল্কও আরোপ করেছিল সরকার।

এতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি নিরুৎসাহ করা গেলেও গত অর্থ বছরের শেষের দিকে চালের মজুদে টান পড়ে। বাজারে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে থাকে। বেড়ে যায় সব ধরনের চালের দাম। তখনই চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগির বাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

এক শ্রেণির মিল মালিক চাল মজুদ করে থাকতে পারে- এমন ধারণাও করা হচ্ছে। সরকারের গুদামে চাল বিক্রির কথা থাকলেও অনেক মিলমালিক তা করেননি। এমন ১৬ হাজার মিলারের তালিকা এখন সরকারের হাতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করব, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কমছে

বিশ্বে পানির উৎস প্রতিদিনই কমছে। পানি সংকটের মুখে পড়ছে মানব জাতি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলেছে, পৃথিবীর ভূ-গর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভূ-গর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় তা জানা এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের দেশের পানির অবস্থা সম্পর্কে দুটি কথা বলা যায়। বাংলাদেশে অন্তত পানির অভাব নেই। কথাটা কয়েকযুগ আগেও খুবই সত্য ছিল এমনকি দশক ধরে আমরা যে বোতলজাত পাানি কিনে পান করি, এ বিষয়টাও সে সময় একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এখন তা বাস্তবতা।

 পানির অভাব এখনও এদেশে নেই, কথা সত্য। তবে সেই বিপুল পানির সামান্যই পানযোগ্য। আবারও নাসার কথায় আমি। তাদের মতে, পৃথিবীর ৩৭টি বৃহৎ পানির স্তরের মধ্যে ২১টির পানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ স্তরগুলোর অবস্থান ভারত ও চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সীমানার মধ্যে। নাসা ১৩টি পানির স্তরকে আখ্যায়িত করে চরম সংকটাপন্ন হিসেবে যেগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে আর্সেনিক নিয়ে। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯টি জেলায়ই পানিতে আর্সেনিক লেভেল গ্রহণযোগ্য সীমার (বাংলাদেশের জন্য ৫০পিপিবি) চেয়ে ওপরে অবস্থান করছে। ভূ-গর্ভের বেশ গভীরের পানিতে উচ্চ ঘনত্বের আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে এই দূষণ সৃষ্টি হয়। এ দেশের নলকুপের প্রায় ২৭ শতাংশ আর্সেনিক দূষণের শিকার।

 আর্সেনিক মানুষের জন্য একটি নীরব ঘাতক। মানুষের জন্য এর লেথাল ডোজ হচ্ছে ১২৫ মিলিগ্রাম। আর্সেনিক মানব দেহের জন্য পারদের চেয়েও চারগুণ বেশি বিষাক্ত। এর প্রভাব মানবদেহে গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে না। গ্রহণের মাত্রা ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে আট থেকে ১৪ বছর পরে এটির কার্যকারিতা মানুষের শরীরে দৃশ্যমান হয়। শিল্পজাত বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য, পয় বর্জ্য ইত্যাদি নদ-নদী ও জলাশয়ে নিঃসরণ বন্ধ করা গেলে নদী দূষণ বন্ধ হবে এবং ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হ্রাসের ফলে আর্সেনিক দূষণের হারও কমে আসবে। সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ভূমিকম্পের ঝুঁকি

মাঝে মাঝেই ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ। অনেক আগে থেকেই বলা হচ্ছে, দেশের অন্তত ২০ জেলা উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে রয়েছে বেশ কিছু ফল্ট ও সাব-ফল্ট। ফলে যে কোনো সময় ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একদিকে আমাদের দেশ ঘনবসতিপূর্ণ। অন্যদিকে এখানে এমন অনেক বাড়িঘর তৈরি হয়েছে, যা ভূমিকম্প প্রতিরোধি নয়।

তদুপরি বাড়ছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ পরিচালিত রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলস ফর ডায়াগনসিস অব আরবান এরিয়াস এগেইনেষ্ট সিসমিক ডিজাস্টার (বডিয়াস) জরিপে ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০টি শহরের মধ্যে অন্যতম ঢাকা। সরকারি হিসাবে শুধু ঢাকায় ৭৮ হাজার ভবন আছে, যেগুলো ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ভেঙে পড়তে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্প প্রতিরোধের কোনো উপায় এখনো মানুষ আয়ত্ত করতে পারেনি।

 ঝড়-বৃষ্টি বা আবহাওয়ার মতো এর কোনো পূর্বাভাস দেওয়াও সম্ভব নয়। সে কারণেই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি যেন কম হয়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে, প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের দেশে বিগত দিনে ঘূর্ণিঝড় সিডর- আইলায় দুর্গতদের দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের দীর্ঘস্থায়িত্বই সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো ভূমিকম্প নিয়ে আগাম কিছু বলা যেহেতু সম্ভব নয়, তাই কালবিলম্ব না করে ভূমিকম্প হলে কী করা উচিত সে বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলায় নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। ভূমিকম্পের সময় নিরাপদে থাকা এবং ধ্বংসযজ্ঞের পর কীভাবে নিরাপদস্থানে বেরিয়ে আসতে হবে সেগুলো জানা থাকলে সবার পক্ষেই মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

 ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রকৃষ্ট উপায় হলো সব ধরনের স্থাপনা দুর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা। আমাদের দেশে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয় না, এমন অভিযোগই প্রবল। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও বাংলাদেশে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে মানবিক বিপর্যয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি ভূমিকম্প পরবর্তী বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি প্রায় নেই বললেই চলে। দুর্যোগ পরবর্তী কঠিন অবস্থা মোকাবিলার জন্য জনশক্তি গড়ে তোলা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্জনও জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

হজ এজেন্সিগুলোর অব্যবস্থাপনা

ভিসা জটিলতার কারণে যাত্রী সংকট হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুটি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আর এ জন্য বিমান বাংলাদেশ ও হজ এজেন্সিগুলো একে অপরকে দোষারোপ করেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রী। গত ১৬ দিনে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স ও সৌদিয়া এয়ার লাইন্সের ২৫টি হজ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফøাইটের প্রতিটিতে ৪১৯ জন যাত্রী পরিবহনের কথা ছিল। সংকট মোকাবিলায় বিমান ও হজ অফিস একটি ফ্লাইট রিসিডিউল করে হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী পাঠাতে সক্ষম হয়। এখানে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের ১০ হাজারের বেশি যাত্রী অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া,  ভিসা জটিলতা ও এজেন্সিগুলোর গাফলতিসহ বিভিন্ন কারণে এখন পর্যন্ত  ভিসা হয়নি প্রায় ৪২ হাজার হজ যাত্রীর। ১৭ আগস্ট আবেদনের শেষ সময় মাথায় রেখে ৪৮ এজেন্সিকে তাগিদ দিয়েছে হজ অফিস। বৃহস্পতিবার সে সময় সীমাও শেষ হয়েছে। এদিকে একজন হজযাত্রীকে রেখেও নিজে হজে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিক চেষ্টার পরও কিছু এজেন্সির গাফিলতির কারণে ফøাইট বাতিল হচ্ছে। হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বলছে, নির্ধারিত সময়ে বিমানের টিকিট না পাওয়ায় যাত্রী সংকট শুরু হয়। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ বলছে, হজ এজেন্সিগুলো সমন্বয়হীনভাবে বাড়ি ভাড়া করার কারণেই মূলত হজ ফ্লাইটের সিডিউলে বিপর্যয় ঘটেছে।

পত্রিকার খবরে প্রকাশ ৩৭৭টি হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৭ হাজারের বেশি লোক হজে যাবে। তাদের মধ্যে ৫৬ হাজার ৫৫০ জন ভিসা নিয়েও যেতে পারছেন না। ৯৫টি এজেন্সি এখনো একটি লোকও পাঠায়নি। তাদের মাধ্যমে ভিসা পেয়ে বসে আছেন ১৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী। অনেক হজযাত্রী এখনো ভিসাই পাননি। এজেন্সিগুলোকে তারা সব টাকাই দিয়েছেন। অথচ এজেন্সিগুলো এখনো মুয়াল্লিম ও আবাসন ঠিক করতে পারেনি। হজযাত্রা নির্বিঘœ করার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। এজেন্সিগুলো যদি বিড়ম্বনা সৃষ্টির প্রবণতা জিইয়ে রাখে, তাহলে সরকারকে ভাবতে হবে তাদের মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠাবে কিনা।

এই বিভাগের আরো খবর

ইলিশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

জামদানির পর ইলিশের ভৌগলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের হাতে ইলিশের জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের সনদ তুলে দেয়া হবে। এর ফলে স্বাদে অতুলনীয় ঝকঝকে রূপালি ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পাবে। সেই সাথে দেশীয় ঐতিহ্য সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

কোনো একটি দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া এবং ওই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে দেশের প্রথম ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

 এই নিবন্ধনটি দেয় আন্তর্জাতিক মেধা সম্পদ বিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অরগানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও), সারা বিশ্বে যে ইলিশ উৎপাদিত হয় তার সিংহভাগের উৎপাদনকারী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইলিশ রক্ষায় পাইওনিয়ার। ইলিশের স্বত্ব পাওয়ার মধ্যে দিয়ে সেটারই স্বীকৃতি মিললো। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ এবং দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে (জিডিপি) ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১ শতাংশ।

ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশ। ভারতে ১৫ শতাংশ মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী এবং প্রশস্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে ইলিশের উৎপাদন কমলেও বাংলাদেশে বাড়ছে। এই বৃদ্ধির হার প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেশের ২৫টি নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ।

বর্তমানে মেঘনা অববাহিকার ২০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায়। দেশের প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে ইলিশ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ইলিশ প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে আরও ২৫ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইলিশ এখন দেশের মানুষের নাগালের বাইরে। ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ। পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিদেশের অন্যান্য দেশে প্রচুর ইলিশ রপ্তানি হয়। সাধারণ মানুষ যেন ইলিশ কিনতে পারে- সেভাবেই ইলিশের উৎপাদন এবং বাজারজাত করণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোশাক খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে না

পোশাক খাতে ২০১০ সালের পর থেকে কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে খাতটি আর আগের মতো ভূমিকা রাখতে পারছে না। অবস্থা বেশি খারাপ হয়েছে ২০১৩ সালের পর থেকে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থান তৈরিতে পোশাক খাতের অবদান নিয়ে ১৯৯০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ২৫ বছরের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়, ২৫ বছর আগে ১৯৯০ সালে পোশাক খাতে কর্মসংস্থান হয় ৫ লাখের মতো লোকের। আর ২০১৫ সালে কর্মসংস্থান হয় ৪০ লাখ লোকের, যার বড় অংশই নারী।

 তবে এই সময়ে একই গতিতে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়নি। নব্বইয়ের দশকের প্রথম পাঁচ বছরে পোশাক খাতের কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধিটা ভালো হলেও এরপরের ১০ বছরে গতিটা নিম্নমুখী হয়। তবে ২০০৫-১০ সময়ে এ গতি আগের ১০ বছরের তুলনায় উর্ধ্বমুখীই হয়নি শুধু, প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। গতিটা একটা জায়গায় এসে আটকে যায় ২০১০ সালের পরে এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দাঁড়ায় ২০১৩-১৫ সময়ে। প্রতিবেদনে ২০০৫-১০ সময়ের প্রবৃদ্ধিকে ‘উল্লেখযোগ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, এই সময়টা হচ্ছে ২০০৫ সালে মাল্টি ফাইবার অ্যারেঞ্জমেন্টের (এমএফএ) আওতায় কোটা প্রথা বাতিল হওয়ার পরের সময়। অনেকের আশংকা কাটিয়ে এই সময়ে পোশাক খাত নিজের অবস্থান বরং আরও পোক্ত করেছে।

 সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গণমাধ্যমকে বলেন, পোশাক খাতে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আলোচনার সঙ্গে উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধিকেও রাখতে হবে। ২৫ বছরের মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে শেষ পাঁচ বছরে (২০১০-১৫)। এই সময়ে উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি বেশি বেড়েছে। এর কারণও আছে। এই সময়ে শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়েছে ও কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। একজন শ্রমিক ১৯৯৫ সালে উৎপাদন করতে পারতেন ১ হাজার ৮৫৬ ডলারের পণ্য, আর ২০১৫ সালে উৎপাদন করেন ৬ হাজার ৬৭৩ ডলারের পণ্য। কারখানায় আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরিতে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বলে শংকা করছেন সিপিডির গবেষক।

এই বিভাগের আরো খবর

ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশি

দালালের মাধ্যমে ইউরোপে গিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে এমন অভিবাসীদের নিয়ে রীতিমতো চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপের দেশগুলো থেকে ৯৩ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের ভিসা প্রক্রিয়াও কড়াকড়ি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্রিটেন প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ বসবাসের অভিযোগ তুলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তুরস্ক অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে সার্বক্ষণিক চাপ দিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত এই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা চালানো হয়েছে। তবে আগের মতো অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢালাও বসবাসের সুযোগ শেষ হয়ে যাবে খুব দ্রুতই।

 কারণ, এই অভিবাসীদের জন্য  বৈধ অভিবাসী, পর্যটনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়া বাংলাদেশিরাও সংকটে পড়েছেন। বিশ্বের মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বাস্তবতা হলো, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবসে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, আগে বিভিন্ন সময় পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা এখন নিজেদের পাচারের ঘটনা তুলে ধরে মানব পাচারে প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখলেও সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

 সমুদ্রপথে ইউরোপ-মালয়েশিয়া গমনের কথা আমরা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জেনে এসেছি। অবৈধ পথে গিয়ে কতজনের প্রাণ গেছে, কতজন নির্যাতনের শিকার হয়েছে এসবই গণমাধ্যমে উঠে আসে। মানব পাচারের অন্যতম কারণ হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অপ্রতুলতাকে দায়ী করা হয়। এ ছাড়া দরিদ্রতা, অশিক্ষা এবং উচ্চ জীবনযাপনের প্রত্যাশাও জড়িত রয়েছে এর সঙ্গে। জীবন-জীবিকার তাগিদে মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে যখন মানুষ অবৈধ পথে মরণযাত্রায় পা দেয়, তখন বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আমরা আইনের যথাযথ প্রয়োগ চাই, বাংলাদেশ থেকে এই জঘন্য অপরাধের অবসান চাই। পাচার রোধে যুগোপযোগী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

ঘরে ঢুকে পড়ল বাস

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাড়ির বারান্দায় খেলছিল ছয় বছরের শিশু আছিয়া। এ সময় দ্রুতগতির একটি বাস ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশুটি। মারা পড়েন বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তি। গত শুক্রবার এ ঘটনাসহ সাতক্ষীরায় আরও দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সিলেটে বাস চাপায় মারা গেছেন এক ব্যবসায়ী।

এর আগে গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছয় জেলায় দুর্ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে দু’জন রাজবাড়ী, লালমনিরহাট, ফেনী,  ঝালকাঠি ও যশোরে একজন করে মারা যান। গত ১৭২ দিনে এ নিয়ে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৬৮৮ জন নিহত হয়েছেন। বস্তুত প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু কিম্বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

 আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ। এ থেকে মুক্তি পেতে দেশের মানুষ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। তবে শুধু কঠোর শাস্তির বিধান করে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। আরো অনেকগুলো বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে দোকানপাট, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি, খেয়ালখুশি মতো যত্রতত্র পার্কিং, মহাসড়কের ওপর স্ট্যান্ড সহ রাস্তার মাঝখানে ডাস্টবিন ও হাটবাজার স্থাপন ও পথচারীদের অসচেতনতা ইত্যাদি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

 বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার ১৪টি কারণ শনাক্ত করেছে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১০টি সুপারিশ করেছে যা আমলে নেয়া উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা অপ্রতিরোধযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। সড়ক পথের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়াও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবে -এটিই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

বেড়েছে খুন-ধর্ষণ

সারা দেশে খুন ধর্ষণ, ডাকাতির মতো অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে। গত তিন মাসে (এপ্রিল জুন ২০১৭) সারা দেশে খুন হয়েছে ৯৫০ জন আর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১১০৯টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে খুনের ঘটনা ঘটছে ১০টি আর ধর্ষণের ঘটনা ১২টি। এ তথ্য খোদ পুলিশ সদর দফতরের। গত সপ্তাহে ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

তবে পুলিশ দাবি করেছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ নিয়ে আতংকিত হবার কিছু নেই। গত মাসে রাজধানীর উপকন্ঠে এক ঘরে তিন শিশু সন্তান ও মায়ের লাশ প্রাপ্তির খবরের নেপথ্যে যে রহস্যই থাকুক- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সমাজ ক্রমেই নৃশংস থেকে নৃশংস হচ্ছে। কোথাও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও প্রচলিত আইনে তার বিচার শুরু হয়।

 বিচারের দীর্ঘ সূত্রতা নিয়ে অনেক সময় জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। শিশু রাকিব ও রাজন হত্যার দ্রুত বিচার মানুষকে আশাবাদী করলেও কোন কোন ক্ষেত্রে পুরানো প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসে। কেন এমন হয়? এ নিয়ে সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। গত বছর ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হয় তিন শিশু, ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে ধারণা  করা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক অনুশাসন বলে এখন কিছু আর অবশিষ্ট নেই। পারিবারিক বন্ধন শিথিল হতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই।

 অসহিষ্ণুতা থেকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব সে ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে পুলিশ। জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে তারা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় পুলিশের এই ভূমিকা খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতাশালীদের প্রভাবে প্রশ্রয়ে-আশ্রয়ে। এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে হচ্ছে না। আবার অসাধু এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রেও তারা সরকারের আনুকূল্যে পার পেয়ে যাবার একটা প্রবণতা রয়েছে আমাদের সমাজে। এখন বাঁচতে হলে সমাজকেই এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সুমতিও বড় বেশি কাম্য।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পশু মোটাতাজাকরণ

আর ক’দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিন প্রতীকী পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে স্রষ্টার প্রতি আত্মোৎসর্গের মর্মবাণী স্মরণ করা রীতি। কিন্তু সেই মর্মবাণীর মূল চেতনা অপসৃত হয়ে এখন আমরা অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের পথে পা বাড়িয়েছি। নকল-ভেজালের এই দেশে কোনো কিছুতেই আসল পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়েছে। কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে কয়েক বছর ধরে সৃষ্টি হয়েছে একই বিড়ম্বনা। স্টেরয়েড জাতীয় এক ধরনের হরমোন প্রয়োগ করে গরু-ছাগল মোটা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গরু-ছাগল বিক্রি হয় দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ দামে।

 তবে মোটাতাজাকরণের জন্য গরু-ছাগলকে উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড খাওয়ানোর ফলে এর মাংস ভক্ষণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোরবানি সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এটা শুধু অনৈতিক নয়, অপরাধমূলক কর্মকান্ড বটে। কারণ মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ এর ১৪ এর এক উপধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে – ‘মৎস্য খাদ্য ও পশু খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হইবে না।’  ১৪ এর দুই উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে’- কোনো ব্যক্তি এই ধরনের স্টেরয়েড জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হইবে।’ এ অপরাধের জন্য জেল-জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে আইনে।

 কিন্তু আইন ও দন্ডের বিধান থাকা সত্ত্বেও দ  প্রয়োগের অভাবে সারা দেশে মহামারী আকারে এই অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এভাবে মোটা তাজা করা পশুর মাংস খেয়ে জনসাধারণের হার্ট, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে। এ ধরনের বেআইনি কর্মকান্ড কেবল যে পশু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে ঘটছে তা নয়- মাছ, মুরগির খামারেও বিষাক্ত ট্যানারির বর্জ্যে তৈরি নানা খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ কোরবানির পশুতে আর প্রতিদিনের মাছ, মুরগিতে একই বিপদ মূর্তিমান। আমরা আশা করব, এদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা পেতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এই বিভাগের আরো খবর

নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন নয়

প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৮ শতাংশ দেশেই তৈরি হচ্ছে। ১৪০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি হওয়ার অভিযোগ আছে। দেশের মানুষের জন্য স্বল্প মূল্যে মান সম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে এ যাবত আলোচনা-পর্যালোচনা কম হয়নি। কখনো কখনো ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ আটকে অভিযানও চালানো হয়েছে। কিন্তু এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অনেক প্রসার ঘটেছে এ যেমন সত্য, তেমনি এ ক্ষেত্রে নানা রকম তুঘলকি কান্ড  চলছে এও সত্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর ১৪০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৫ সালে ৮১২ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়।

গত বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পশ্চিমা দেশে আইন খুব কড়া। বাংলাদেশের ওষুধের মান উন্নত বলেই সেসব দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বিদেশে রপ্তানি করাই যথেষ্ট নয়। দেশের কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ ভালো ওষুধ পেতে চায়। নকল-ভেজাল ওষুধ বিক্রি বা মানহীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান সরকার বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী।

আমরাও মনে করি ওষুধের মান নিয়ে কোনো রকম ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জবাবদিহিতা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ নিশ্চিত করতে না পারলে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে পড়তে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহ প্রত্যেকটি বিভাগকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠ হতে হবে। দৃষ্টান্তযোগ্য ব্যবস্থাই কেবল এমন সর্বনাশা কর্মকান্ডের যব নিকাপাত ঘটাতে পারে। এ ক্ষেত্রে যা যা করণীয় এর সবকিছুই কতে হবে দ্রুত। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যারা রাখেন, বিপণন করেন কিংবা যারা ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরি করেন, রাষ্ট্র তাদের শাস্তি নিশ্চিত করবে -এমনটিই-দেশবাসীর প্রত্যাশা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মূল্যস্ফীতি মুদ্রানীতির বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিককালে খাদ্য মূল্য স্ফীতির উর্ধ্বমুখী প্রবণতা মুদ্রানীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া শুধু ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অšে¦ষণের জুলাই মাসের পর্যালোচনায় এমন মন্তব্য করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রথমার্ধের (জুলাই – ডিসেম্বর) জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতির ওপর এ পর্যালোচনায় বলা হয়, মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান মুদ্রানীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া গুণগতমান না বাড়িয়ে শুধু লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ালে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে না। বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

 জুন মাসে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়। অন্যদিকে একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ৫১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বার্ষিক গড় হার হিসেবেও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতিতে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান অর্থ বছরের প্রথমার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নির্ধারিত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা  ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জন সম্ভব হবে না।

এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের  স্থবিরতা আরও তীব্র হবে। খাদ্য পণ্য সহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ও সেবা সামগ্রীর দাম বাড়তে থাকায় জনজীবনও অস্থির। বাজারের গতি প্রকৃতি এখন খুব সুখকর নয়। এটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে নতুন অর্থবছরটা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সেটা নিশ্চয়ই আরো বেশি বিব্রতকর হবে।

 সার্বিক মূল্যস্ফীতির যে উর্ধ্বমুখী চিত্র তুলে ধরা হয়, সেটি অর্থনৈতিকভাবে দেশে মন্দাভাবেরই প্রতিফলন। বিগত ক’বছরে ভয়াবহ সব দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে পড়ার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দুর্নীতির অন্যান্য না জানা তথ্যসহ দেশের সার্বিক দুর্নীতির চিত্রের বাস্তবতা। যার প্রভাব সার্বিক বাজার চিত্রে কিছুটা হলেও পড়তে বাধ্য। সরকার এসব ঘটনা প্রবাহে যতই নিরুদ্বিগ্ন থাকুক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে এসব ঘটনাপ্রবাহ থেকেই আন্দাজ করা যেত প্রকাশিত তথ্যেরও সঠিক বাস্তবচিত্র। কাজেই মেঘ দেখে যাত্রাপথ ঠিক করতে সরকারকে এখনই নতুন অর্থ বছরের জন্য আগাম তৈরি করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

বাইশে শ্রাবণ

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তিরোধান দিবস আজ। আজ থেকে দেড়শ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলা ভাষার সর্বকালের সেরা এই কবি। ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে তার জন্ম। রবীন্দ্রনাথের পুুর্ব পুরুষরা ছিলেন বাংলাদেশের খুলনার অধিবাসী। তার মাতুলালয় ও শ্বশুরবাড়িও খুলনায়।

ঠাকুরবাড়ির জমিদারিও ছিল বাংলাদেশের ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা জুড়ে। এই দিনে তাকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। কিন্তু আমাদের এমন কোন দিন নেই যেদিন তাকে স্মরণ করি না। আমাদের প্রয়োজনেই তাকে স্মরণ করা হয়। দেশের মানুষ সংস্কৃতিমনা ও ঐতিহ্য মনস্ক। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে রবীন্দ্র নাথ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। জড়িয়ে আছেন আমাদের ভাষার সঙ্গে।

 জড়িয়ে রয়েছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তার নাম। বাঙালির অহংকার  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যকে স্বদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার কৃতিত্ব দেখান। ঔপনিবেশিক সেই যুগে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে তিনি বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির মর্যাদা যে উচ্চতায় নিয়ে যান, তা ছিল তার আগের হাজার বছরের সেরা অর্জন।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা জুগিয়েছে তার গান ও কবিতা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ রবীন্দ্রনাথ সব সময় আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। শুধু বাংলা ভাষাভাষি বা বাঙালিকে নয়, বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ আজ বহুল পঠিত।

 রবীন্দ্রনাথ সব সময় আমাদের ছুঁয়ে আছেন তার অসাধারণ সৃজনশীলতা দিয়ে। মানুষ যতদিন মানবতার জয়গান গাইবে, সত্য-সুন্দরের কথা বলবে, ততদিন বাঙালি ও রবীন্দ্রনাথ অবিচ্ছেদ্য থাকবে। তার কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে বিশ্ব মানবতা, বিশ্বজনীনতা। কৃষকের উন্নতির চিন্তা থেকেই নিজের নোবেল পুরস্কারের টাকা দিয়ে তিনি কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন।

তার সাহিত্য, গান এখনও আমাদের প্রেরণা দিচ্ছে, উদ্বুদ্ধ করছে। মানুষ যতদিন মানবতার জয়গান গাইবে, সত্য সুন্দরের কথা বলবে, ততদিন বাঙালি ও রবীন্দ্রনাথ অবিচ্ছেদ্য থাকবে। আজ এই বিশেষ দিনে আমরা তাকে স্মরণ করি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সামাজিক অবক্ষয়

গত বৃহস্পতিবার আমাদের গণমাধ্যমগুলোর পাতায় চোখ রাখলে আমরা দেখতে পাই ভয়াবহ সব খবর, রাজশাহীতে এক তরুণীকে গণধর্ষণ, চলন্ত ট্রেনে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ, জামালপুরে দুই বোনকে গলা কেটে হত্যা,’ একের পর এক ধর্ষণের অভিযোগ, চার দিনে আরও পাঁচ ঘটনা। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ারই কথা। ধর্ষণ, গুম, খুন, রাহাজানি সহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের খবর চারদিকে। বিচ্ছিন্ন কিম্বা পরিকল্পিত ঘটনা, যা-ই হোক না কেন, একের পর এক অঘটন ঘটেই চলেছে।

 নিষ্ঠুরতা কি সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে ? তা না হলে একের পর এক এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে কেন ? আমরা কি ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি – যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া মায়া, মমতা জাতীয় শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই! তার জায়গা দখল করে নিয়েছে অনৈতিকতা, অমানবিতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা এ জাতীয় সব নেতিবাচক শব্দের কালো হাত। প্রতিদিনের খবরের কাগজে এমন অনেক খবর আসে, যা দেখলে যে কোনো সভ্য মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হওয়ার কথা।

 কিন্তু সমাজের হৃদয়ে কোনো রক্তক্ষরণ আছে কি? মানুষের অসহিষ্ণুতা যেন ক্রমেই লাগামছাড়া হয়ে উঠছে। সমাজের এই অধঃপতনের শেষ কোথায়? এর জন্য দায়ী কে? এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী? বারবার হুশিয়ার করা হয়েছে, অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া, অপরাধীদের শাস্তি না হওয়া, ক্ষমতাশালী প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, সমাজকে ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাস্তবে তাই ঘটছে এখন। অপরাধ সমাজকে ক্রমেই গিলে খাওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। স্বার্থান্ধ রাজনীতি তাকে আরো উসকে দিচ্ছে। এখন বাঁচাতে হলে সমাজকেই এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সুমতিও বড় বেশি কাম্য।

এই বিভাগের আরো খবর

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনুন

আমাদের ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা আজকের নয়। অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা আর সমন্বয়হীনতার কারণে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে অস্থিতিশীল হিসেবে চিহ্নিত। সেই সঙ্গে নানামুখী কেলেংকারির কারণেও মানুষের আস্থার অভাব তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং খাতকে ঘিরে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় চলছে বেশি অনিয়ম। এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠিত হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন- বিতরণ ও নিয়োগ পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভুয়া, অস্তিত্বহীন, নামসর্বস্ব ও খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নামে শত শত কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ খুঁইয়ে চলেছে পরিচালনা পর্ষদ।

 এসবই প্রায় নিত্যই গণমাধ্যমের খবর হয়ে আসে। আমরা দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে আর্থিক বিশৃঙ্খলার কারণে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। আমরা ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জেনেছি সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্যদের খুশি করে হলমার্ক ও অন্য একটি গ্রুপ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নাম সর্বস্ব, ভুয়া, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বেসিক ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত নানা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের লাগামহীন এসব দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সরকারকে। যার মূল্য সার্বিকভাবে দিতে হবে জনগণকেই।

 সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা কাটবে না, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই ব্যাংকিং খাতকে রক্ষা করতে এ খাতে সংস্কার করা দরকার। প্রতিনিয়তই ব্যাংক গুলোর বিশৃঙ্খলার চিত্র উঠে আসছে গণমাধ্যমে।

এসব দুর্নীতি, জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করবে। যার প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। আমরা চাই না, মানুষের আস্থার এই জায়গাটিতে সামান্যতম চিড় ধরুক। তাই আমরা মনে করি ঢেলে সাজাতে হবে পরিচালনা পর্ষদকে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাটাও জরুরি এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যদি কোন অনিয়ম-অনৈতিক সুবিধাভোগের অভিযোগ উঠে থাকে তা তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সমুদ্র পথে মানব পাচার

ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১৩১। আর এ বছর প্রথম পাঁচ মাসেই ৭ হাজার ১০৬ জন, যা মোট অবৈধ প্রবেশকারীদের ১১ শতাংশ। বাংলাদেশিদের এভাবে দেশত্যাগের জন্য আর্থিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের ওপর জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা পরিচালিত একটি সমীক্ষা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের ৯৮ শতাংশ বলেছে, ইতালির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে তারা এক বছরের বেশি সময় লিবিয়ায় ছিল। ১৭ জুলাই ইতালির রোমে জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) কো-অর্ডিনেশন অফিস ফর দ্যা মেডিটেরিনিয়ানের পরিচালক ফেদেরিকো সোডা গণমাধ্যমকে বলেন বাংলাদেশিরাই কেন এত বেশি হারে এই অবৈধ পথে আসছে, তা আমরা জানি না।

 এর রহস্য আমরা বুঝতে চাই। কারণ, আমরা মনে করি, বিশ্বের যেসব দেশ উদ্বাস্তু তৈরি করে, তেমন দেশ অবশ্যই বাংলাদেশ নয়। বেকারত্মকে অভিশাপ বলা হয়ে থাকে, তবে এই অভিশাপ যে তাদের জীবনকে কতটা দুঃসহ করে তুলতে পারে, তার কোনো পরিমাপক নেই। অবৈধপথে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা সেই অনেক আগে থেকেই। এ পথে কত যে জীবন দিতে হয় তার খোঁজ রাখা সম্ভব হয়ে উঠে না। ১৪ সালে চোরাপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে মায়ানমার সীমান্তে দালালদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল ৫ বাংলাদেশী যাত্রীকে। অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টার খেসারত এর আগেও দিয়েছেন অনেকে। এই খেসারত শুধু বিড়ম্বনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, জীবনও দিতে হয়েছে কখনও কখনও।

 বস্তুত আর্থিক সংকট যখন তীব্র হয়, তখন মানুষের মধ্যে ঝুঁকি প্রবণতা ও বেপরোয়া মনোভাব জন্ম নেয়। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ার কারণে কখনও কখনও কর্মহীনরা যেসব ঝুঁকি নিয়ে থাকেন, সেগুলোর অন্যতম হল অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা। এই ঝুঁকি কারও  জীবনে সাফল্য বয়ে আনলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশ গমনেচ্ছুকদের জীবনে ঘটে বিপত্তি। আমরা মনে করি অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে হলে দেশে চাহিদার অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প কিছু নেই। জনশক্তি রপ্তানির আওতা ও পরিসরও বাড়াতে হবে। সরকার এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেবে এটাই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনিশ্চয়তায় তিন হাজার হজ্জ যাত্রী

চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে আসা শত শত যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অব্যবস্থাপনা নিয়ে হজযাত্রীদের বিক্ষোভ হচ্ছে বিমান বন্দর ও হজ ক্যাম্পে। বাদ যায়নি মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশন অফিসও। অব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে বর্ধিত মোয়াল্লেম ফি, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া, ই-ভিসা জটিলতা, নিম্নমানের ট্রলিব্যাগ প্রদান, ফ্লাইট জটিলতায় প্রায় তিন হাজার হজ যাত্রীর পবিত্র হজ পালনে অনিশ্চয়তা ইত্যাদি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর হজ অনুষ্ঠিত হবে।

 গত ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। ফলে গত কয় দিনে বাংলাদেশ থেকে ব্যালটি ও নন ব্যালটি মিলিয়ে ১৯ হাজার ১১ জন হজ যাত্রী সৌদি আরব পৌছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই হাজার ৮৭৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ হাজার ১৩৫ জন। হজ যাত্রীদের সবাই মক্কায় নিয়ে জানতে পেরেছেন মোয়াল্লেম ফির কোটা শেষ হওয়ায় তাদের সবাইকে ৭২০ রিয়ালের স্থলে ১৫০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে তারা হজ পালন করতে পারবেন না। এমন ঘোষণায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের যাত্রীরা।

 বর্ধিত এ ৭৮০ রিয়াল সৌদি আরবের মোয়াল্লেমদের চাপে বাংলাদেশের হজ এজেন্টরা হজযাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় সেখানে অবস্থানরত প্রায় আড়াই হাজার হজযাত্রীর পক্ষে বর্ধিত ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। এদের অনেকে মুঠো ফোনে ঢাকার পরিচালক হজ অফিসে অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ই-ভিসা জটিলতায় গত শনিবার পর্যন্ত ৪২ হজযাত্রীর হজযাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। এসব হজযাত্রী কবে নাগাদ যেতে পারবেন সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কেউই। কিন্তু নতুনভাবে বিমান টিকিট কিনে যেতে হলে মাথা পিছু ৩৫০ রিয়াল গুণতে হবে।

এ টাকা কে দেবে এমন জটিলতাও নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কাগজপত্রের অভাবে গত শুক্রবার সৌদি এয়ার লাইন্সের আরও ৭৮ হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারেননি। এদেরকেও এখন নতুন করে টিকিট কিনে সৌদি আরব যেতে হবে। এ নিয়ে গত শনিবার আশকোণা হজ অফিসে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। আমরা আশা করি, হজ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ সমূহ সুচারুরূপে তাদের দায়িত্ব পালন করে হজযাত্রীদের সমস্যাগুলো জরুরিভাবে সমাধান করবেন।

এই বিভাগের আরো খবর

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে

দেশের ৪৪ শতাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ পানি পাচ্ছে না বলে তথ্য উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউ এইচও) ও ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে। সংখ্যার হিসাবে সাত কোটি মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। সংস্থা দুটি বলছে, নিরাপদ পানির জন্য উপকূল বর্তী একজন মানুষ আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা সময় পার করে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর এখানকার মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর চার মিটার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। ইউনিসেফ ও ডাব্লিউএইচও বলছে, বাংলাদেশে এখন ৫৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি ব্যবহার করছে।

 অর্থাৎ ৯ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতায় রয়েছে। তবে ইউনিসেফ ও ডাব্লিউএইচওর এ তথ্যের সঙ্গে একমত নয় সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আক্তার গণমাধ্যমে বলেন বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা আরো বেশি। এত কম হওয়ার কথা নয়, দেশে এখন ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে। নিরাপদ পানির জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান নাসরিন আক্তার। প্রসঙ্গত ডাব্লিউএইচও মানদ  অনুযায়ী, প্রতি লিটার পানিতে ১০ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) আর্সেনিকের উপস্থিতি থাকলেই তা খাওয়ার অনুপযোগী বলে বিবেচিত হয়।

 বাংলাদেশের মানদ  অনুযায়ী তা ৫০ পিপিবি। কৃষি, সেচ সহ দৈনন্দিন কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় দেশের কোথাও কোথাও চার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত পানির স্তর নিচে নেমে গেছে- বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পানির স্তর যাতে আর নিচে না নামে সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আর তা করতে মাটির উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে সেটি করতে গেলে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে পানির দূষণ। এই দূষণ হতে পারে মানুষ ও শিল্প কারখানার বর্জ্য থেকে। বর্জ্যরে মাধ্যমে পানির যে দূষণ হতে পারে, তা সমাধান করে উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ

দেশে দারিদ্র্যের হার কমছে। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর যে ক্ষেত্রে সিংহভাগ মানুষ ছিল দরিদ্র অথবা হতদরিদ্র সেখানে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। হতদরিদ্র্যের সংখ্যা এখন ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস, ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদদের অভিমতের ভিত্তিতে যেসব চিত্র চিত্রিত হয়েছে তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের সার্বিক গুরুত্ব নতুন করে মূল্যায়নের পথটি নি:সন্দেহে প্রশস্ত করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যেতে বাংলাদেশের অর্থনীতির আর মাত্র চার দশক লাগবে এবং এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান থাকছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। তাদের পাঠানো অর্থেই বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার হচ্ছে।

 ক্রমেই স্ফীত হচ্ছে অর্থনীতির চিত্র। একই সঙ্গে বাড়ছে অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ। আর এই উন্নয়নের হার মন্দায় পতিত পশ্চিমা দেশগুলোকে এক সময় ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্যসেন ও বিশ্বের খ্যাতিমান আরো অর্থনীতিবিদরা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার কর্ণধাররা অতীতে বহুবার বাংলাদেশের সম্ভাবনার নানাদিক নিয়ে যেসব ইতিবাচক কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে যেসব মহল থেকে যা যা বলা হয়েছে তা আমাদের নীতিনির্ধারকরা আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা কী লিখেছেন তা অজানা।

 তবে একথা তো সত্য, নানা রকম প্রতিবন্ধকতা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উন্নয়নের প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত আশা জাগানিয়া। নীরবে- নিভৃতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে অবিস্মরণীয় অগ্রগতি হয় তা যেন হঠাৎ করে নজরে আসে বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের। সে জন্য বাংলাদেশ আজ আর ‘টেস্ট কেস’ নয়। ‘সাকসেস কেস’।

শেয়ার বাজারের ধস, টাকার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারে, আশা করতে পারে একদিন এ দেশ পৃথিবীর বুকে সফল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। আমরা একটু উদ্যোগ নিলেই আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি।

এর সঙ্গে প্রয়োজন অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন। দুর্নীতিকে হটাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা তরুণদের কাজ দিতে হবে। জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশকে যদি উৎপাদনে লাগানো যায় তাহলে এ দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top