রাত ১০:১৭, রবিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

রাজধানী ঢাকায় প্রতি মাসে যানজটের কারণে ২২৭ কোটি টাকা শুধু আর্থিক ক্ষতি হয় বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যয়বহুল প্রকল্প ছাড়াই ঢাকার ভয়াবহ যানজট অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষণাপত্রে কর্মঘন্টা অপচয়, পরিবেশ দুষণ, জ্বালানি অপচয় সহ বিভিন্ন খাতে যানজটের প্রভাব তুলে ধরা হয়।

 রাজধানীর যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে রাস্তার অপর্যাপ্ততা, অপরিকল্পিত নকশা, অধিক জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রাইভেট কারের সংখ্যা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন লংঘন, সর্বোপরি অপরিকল্পিত কার পার্কিংকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকায় ৯৮.৩ ভাগ গণপরিবহণ ও ৬৮ ভাগ প্রাইভেট কার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ২০ মিলিয়ন ঘন্টা অর্থাৎ ৪০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে ব্যবসায়িক কর্মঘন্টা।

  প্রতিবার যাতায়াত করতে একজন যাত্রীকে যে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় তার আর্থিক মূল্য গড়ে জনপ্রতি ৫৩ টাকা। প্রতি মাসে যেখানে নগরবাসীর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৭ কোটি টাকা। গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয় শুধু গত বছরেই বিআরটিএ থেকে পরীক্ষা ছাড়াই দেওয়া হয় ২০ লাখ ভুয়া সনদ। আর বছরে হকারদের কাছ থেকে লাইনম্যান যে অর্থ আদায় করে তার পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

 যা দুই সিটি কর্পোরেশনের মোট বাজেটের সমপরিমাণ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমান বন্দর থেকে পোস্তগোলা ভায়া গুলশান, মহাখালি, গুলিস্তান সড়কটি ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই রুটে অপেক্ষাকৃত কর্মব্যস্ত সময়ে গাড়ির গতিসীমা কমে দাঁড়ায় ঘন্টায় ৯ কিলোমিটার। ঢাকার যানজট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে হকারদের দায়ী করা হয়, বাহ্যিকভাবে দেখা যায় এরা নিয়ন্ত্রণাধীন নেই। ঢাকায় হাঁটার পথের বড় অংশ হকারেরা দখল করে আছে। ফুটপাতে পার্কিং, যত্রতত্র দোকানের ব্যবস্থা করে ফুটপাত দখল এটা কিন্তু যানজটের একটা বড় কারণ। ব্যক্তিগত গাড়ির কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

দেশে শিশুশ্রম বন্ধ হোক

শিশুরা ফুলের মতো নিষ্পাপ। সব দেশের সবকালে মানুষের হৃদয়ে শিশুরা পরম স্নেহে লালিত। তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ কারণে প্রতিটি শিশুর নিরাপদ জন্মগ্রহণ, বিকাশ ও বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই হবে জাতির লক্ষ্য।

 এ ব্যাপারে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সবার সহযোগিতায় অদূর ভবিষ্যতে দেশ এর সুফল পাবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ শিশুর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। আবার শিশু শ্রমের ব্যাপকতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ নিয়ে সবার উদ্বেগ থাকলেও এ থেকে পরিত্রাণের উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক নয়। এখন একটি শিশু নিজ গৃহেও নির্যাতিত হচ্ছে।

 দেশে বা বিদেশে সর্বত্রই কমবেশি এ দৃশ্য চোখে পড়ে। যেখানে নিজ গৃহ শিশুর জন্য নিরাপদ নয়, সেখানে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবনা বৃত্তে আনাটাই আজ ভীষণভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। সাধারণভাবে শিশুশ্রম বলতে বোঝায় শিশুদের দ্বারা সম্পাদিত যে কোন ধরনের কাজ যা শিশুর পরিপূর্ণ দৈহিক বিকাশ প্রত্যাশিত ন্যূনতম শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনীয় চিত্ত বিনোদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলেমেয়ে সবাই শিশু। যখন কোন শ্রম, কর্ম বা পরিবেশ শিশুর স্বাস্থ্য, দৈহিক, মানসিক, নৈতিক এবং সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায় তখনই তা শিশু শ্রম হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাম বাংলার শিশুরা কৃষি কাজে পিতামাতাকে সাহায্য করে আসছে বহুকাল ধরে। কিন্তু বর্তমানে শিশুদের কাজের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। ক্ষতিকর সে কাজগুলো শিশু সনদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

স্বপ্নের পদ্মাসেতু

অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে সমৃদ্ধ আগামীর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। মাওয়া প্রান্তে ও জাজিরা প্রান্তে সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অনেক দিনের স্বপ্ন পদ্মা সেতু।

 সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পদ্মার অনেক পানি গড়ালেও পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। সেতু মাথা তুলে দাঁড়ায়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়েও দেশীয় ও বিদেশি কত প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে।

 বৃহৎ আন্তর্জাতিক অর্থকরী সংস্থাগুলো নানা খোঁড়া অজুহাতে সরে গেলেও তিনি যেভাবে দেশের অর্থায়নে এবং দেশিয় ও বিদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পদ্মাসেতু নির্মাণের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন। তা সত্যিই তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের জন্য বিস্ময়কর, সত্যিই রাষ্ট্র নায়কোচিত। আমরা জেনেছি, সড়ক ও রেলপথ সংযুক্ত দেশের দীর্ঘতম এ সেতু চালু হলে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বাড়বে এক দশমিক দুই শতাংশ। আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের প্রাপ্তিযোগ কেবল অর্থনীতিতে সীমিত থাকবে না।

সারা দেশেরই অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অনেক বেশি গতি পাবে। মংলাবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বহু গুণে বেড়ে যাবে। কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে। পদ্মাসেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে। পদ্মাসেতু যে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে।

বিদেশ থেকে বই ছাপানো নয়

এবার বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী। জানুয়ারি মাসের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বই পৌঁছেনি ৩০ উপজেলার ওই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে। লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উপজেলার শিশুরা এমন পরিস্থিতির শিকার হলো। প্রাথমিকের বই ছাপাতে যা ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্ব ব্যাংক।

যা ছাপাতে ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্বব্যাংক। যা টাকার অংকে মাত্র ২৬ কোটি। এবার ভারতের মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান শর্তের বরখেলাপ করে ওই প্রতিষ্ঠান এখনো ৪৭ লাখ বই বুঝিয়ে দেয়নি। ওই বই কবে আসবে তাও কেউ বলতে পারছে না। ১ জানুয়ারির বই বিতরণ অনুষ্ঠানটি জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে কোন অধিকারে ১০ লক্ষাধিক শিশুকে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হলো।

সারা দেশে যখন পাঠদান শুরু করা হয়েছে বঞ্চিত শিশুরা বইয়ের জন্য পথ চেয়ে আছে। যাদেরই গাফলতিতে শিশুদের এই ক্ষতিতে পড়তে হলো, তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের আগেই দেশি বেশির ভাগ ছাপাখানা বই সরবরাহ করলেও বিদেশে ছাপা হওয়া বেশির ভাগ বই এখনো স্কুলগুলোয় পৌঁছেনি।

 শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের বই জোগান দেওয়ার জন্য দেশি ছাপাখানা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক টেন্ডারে ছাপা কাজ বন্ধ করা সময়ের দাবি। তথ্যগত ভুল ও মুদ্রণগত বিপত্তি বই উৎসবের আনন্দ এবার অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া যাবে না। বিদেশে বই ছাপানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশেই যেন বই ছাপানোর ব্যাপারে স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে পারি – সেদিকটা অগ্রাধিকার দিতে হবে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোচ্ছে দেশ

 

বাংলাদেশের অর্থনীতি মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদায়ী বছরের পুরোটা সময় অর্থনীতির প্রধান ছয় সূচকে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। এর মধ্যে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কমেছে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার কমানো হয়েছে। ব্যালান্স অব পেমেন্ট ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল, চলতি আয় ইতিবাচক।

জানুয়ারিতে আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এতে করে শিল্পের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে। বাড়বে বিনিয়োগ। সব মিলিয়ে রূপকল্প-২১ সামনে রেখে যেসব অর্থনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তার পুরোটা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রতিটি সূচকে দেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল, প্রাণোদীপ্ত, অগ্রসরমান। এই সময়ে রফতানি আয় বেড়েছে, রেমিটেন্স প্রবাহ একটু কমলেও আবার তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

 নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলেও দাতারা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন করে অর্থায়ন করছেন। মেগা দশ প্রকল্প বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বিদায়ী বছর জুড়েই অর্থনীতিতে স্বস্তি ছিল। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় বড় অবকাঠামো বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। মধ্য আয়ের দেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। অর্থনীতিতে এতসব ভাল খবরের মধ্যে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এর মধ্যে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা চাপে আছে অর্থনীতি। বিনিয়োগ বোর্ডের ওয়ান স্টাপ সার্ভিস এখনও বাস্তবায়ন হতে পারেনি। চাহিদা অনুযায়ী উদ্যোক্তারা কলকারখানায় গ্যাসের সংযোগ পাচ্ছে না। কারখানা গড়তে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ধীরগতির লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সবে কর্মসংস্থানেও বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন বছরে ছয়টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে দুর্বল অবকাঠামো, অর্থনৈতিক বহুমুখিতার অভাব, অর্থায়নে সীমিত সুযোগ, বন্দর সমস্যা, অদক্ষ শ্রমশক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, জনসংখ্যা চাপ ইত্যাদি।

অভ্যন্তরীণ পর্যটনে বিপ্লব সাধন

 


গত ১০ বছরে বাংলাদেশের যেসব শিল্পের উন্নয়নে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হচ্ছে পর্যটন। যদিও এ শিল্পের কোনো রকম উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রসার ঘটেনি।

 তবে অভ্যন্তরীণ পর্যটনে এক প্রকার বিপ্লব সাধন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বদৌলতে দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শনীয় স্থানগুলোকে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর সামনে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে প্রচুর পর্যটকের কাছে সামাজিকভাবে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত সমাজে ভ্রমণ এখন একটি অতি জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য কর্মকান্ডে পরিণত হয়েছে।

 এই শিল্পের প্রসারের সময় স্থানীয় সম্পদগুলোকে যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিপর্যয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকে। সমুদ্র সৈকতে গেলে দেখা যায় হাজার ধরনের আবর্জনা, জলপ্রপাত ও ঝরনাগুলোতেও একই অবস্থা, পাহাড়ে দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক প্যাকেট, বোতল ছাড়াও আরো অনেক কিছু। এসব আবর্জনা কোনো শিল্প কারখানা নিঃসৃত আবর্জনা নয়, এগুলো সবই পর্যটকদের ফেলে যাওয়া, যা শুধু প্রাকৃতিক গুণাবলিই নষ্ট করছে না বরং নানন্দিক দিকগুলোকেও নষ্ট করছে নির্দ্বিধায় যা পরবর্তী সময় অন্যান্য পর্যটকের ভ্রমণকেও নিরুৎসাহী করছে।

 পর্যটন সংক্রান্ত যে কোন উন্নয়নে স্থানীয় জনসাধারণের স্বল্পগুলোকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। এসব উন্নয়ন যাতে স্থানীয় সাধারণের জীবন যাত্রা মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখে তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় শিল্প সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যথা উৎসব, ঐতিহ্য, ভাষা, লোক সাহিত্য, ইত্যাদি বিষয়কে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পর্যটকের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ে পর্যটকদের উৎসাহ করতে হবে এবং পর্যটন ব্যবসায় স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের দিকে দৃষ্টি দিন

 


অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন যানবাহনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, যানবাহনের চালক এবং জনসাধারণের মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনায় নিরীহ যাত্রীরা হতাহত হচ্ছেন।

গত রোববার গাজীপুরে এমন একটি লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে দুই শিশু সহ এক পরিবারের পাঁচ জনের  প্রাণ গেছে। সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের দুই হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথে প্রায় দুই হাজার ৫৪১টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর বেশির ভাগে কোনো গেট নেই। কোনো সংকেত বাতি তো দূরের কথা, নেই যান নিয়ন্ত্রণের কোনো কর্মি।

 দেশের রেলক্রসিংগুলো নিরাপদ নয়। নিরাপত্তার অভাবে প্রায়ই রেলক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। তাতে করে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিচ্ছে। একটি দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের মাঝে বেশ দৌড় ঝাঁপ দেখা যায়। কিন্তু তারপর আবারও পুরনো অবস্থায় ফিরে যায়। বিশেষত যেসব রেলক্রসিংয়ে প্রহরার ব্যবস্থা নেই সেসব জায়গায় ট্রেন চলাচলের সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় না এবং যানবাহন চালকদের অসতর্কতার কারণে প্রায়ই অঘটন ঘটে।

 যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও কখনও কখনও যানবাহন রেলক্রসিংয়ে আটকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা দেখাতে হবে। আমরা আশা করব মানুষের জীবন নিয়ে খেলা থেকে যানবাহন চালকরা বিরত থাকবেন। সামান্য সময় বাঁচানোর জন্য মূল্যবান প্রাণের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পাশাপাশি রেলক্রসিংগুলোতে পাহারাদার নিয়োগের ব্যবস্থা করা জরুরি।

 

এনার্জি ড্রিংকসও ছড়াচ্ছে নেশা


দেশে এনার্জি ড্রিংকস নামে বিক্রয় হচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্য। এসব নকল ও ভেজাল এনার্জি ড্রিংকস পান করে বিপথগামী হচ্ছে যুব সমাজ। যারা নিয়মিত এগুলো পান করে তারা ধীরে ধীরে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। যুবক, তরুণ-তরুণী সহ সব বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে এনার্জি ড্রিংকস অতি  জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বেশকিছু এনার্জি ড্রিংকসের সরকারি কোনো অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। বিএসটিআইয়ের লেবেলও লাগানো থাকে না এসব ড্রিংকস এর গায়ে।

 এসব পানীয় পাওয়া যাচ্ছে যে কোনো মুদি দোকানে। এমনকি পাড়া মহল্লায় প্রতিটি দোকানে পাওয়া যায় এসব ভেজাল ও নেশাযুক্ত যৌন উত্তেজক পানীয়, এ ছাড়া বিভিন্ন দোকানে হারবাল নামের শক্তিবর্ধক বা এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে তার অনেকগুলোই যৌন উত্তেজক পানীয়। এসব ড্রিংকস মাদকের বিকল্প হিসেবে পান করছে বিপথগামীরা। যারা নিয়মিত এগুলো পান করে, তারা আস্তে আস্তে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এসব ড্রিংকসে অ্যালকোহল থাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ জন্য দামের তোয়াক্কা না করে এগুলো পান করছে যুবকরা।

এসব ড্রিংকসের অর্থ যোগাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব পানীয় পান করে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নিম্নমানের কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি এসব ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংকস তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিভাবে এসব সরকারি অনুমোদনহীন নেশা জাতীয় এনার্জি ড্রিংকসের নামে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে অনতিবিলম্বে এসব দ্রব্যের বাজারজাত বন্ধ এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আমলে আনতে হবে। একটি জাতি ও রাষ্ট্রকে সর্বনাশের উন্মত্ততা থেকে রক্ষার সব রকম প্রয়াস নিতে হবে নির্মোহ ও কঠোর হাতে। সরকার ও প্রশাসন ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না।

জলবায়ু ফান্ডের স্বচ্ছতা প্রয়োজন

 

সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সরকারের সব উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নিয়মিত নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে মহাসচিব নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়। প্রতিবছর অন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের নিরীক্ষা করলেও জলবায়ু তহবিলের আওতায় দেওয়া প্রকল্পগুলো নিরীক্ষা করছে না সিএজি। তাদের কাছে জলবায়ু তহবিলের তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা নিয়ে কোনো হিসাবও নেই।

 বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সারা দেশে চলমান ও শেষ হওয়া সব প্রকল্পের ওপর নজরদারি এবং এর প্রভাব মূল্যায়ন করে থাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (এআইএমডি)। কিন্তু জলবায়ু তহবিলের প্রকল্প দেখভাল করছে না সরকারের একমাত্র নজরদারি সংস্থাটিও। আইএমইডির কাছেও জলবায়ু তহবিলের কোনো হিসাব নেই। দুর্বল নজরদারির কারণে জলবায়ু তহবিলের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের অভিযোগ উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নজরদারি না থাকায় এবং নিরীক্ষা না হওয়ায় জলবায়ু তহবিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম- দুর্নীতি হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চলছে হরি লুট। তহবিলের টাকা দিয়ে সারা দেশে এখন প্রায় ৪৫০ প্রকল্পের কাজ চলছে, শতাধিক প্রকল্পের ইতি ঘটেছে। কিন্তু এসব প্রকল্পের কোনো নিরীক্ষা প্রতিবেদন হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম শীর্ষে থাকায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০১০ সালে আলাদা আইনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ বা বিসিসিটি ফান্ড গঠন করে। গত সাত বছরে বাজেট থেকে এই তহবিলের তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

 কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় এবং কিভাবে খরচ হচ্ছে সে খবর কারো কাছে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু তহবিল অভিভাবকহীন। আর এই অভিভাবকহীন হওয়ার প্রধান কারণ আইনের দুর্বলতা। জলবায়ু ফান্ডের টাকা যথাযথভাবে খরচ হয়েছে কি-না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। স্বচ্ছতার জন্যই এটা করা জরুরি।

কৃষকের স্বার্থ

 


প্রযুক্তি, কৃষিমুখী পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তার সুবাদে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে দেশের কৃষি উৎপাদন। খাদ্য শস্যের উৎপাদন বাড়ছে, ভরে উঠেছে শস্য ভান্ডার। আট বছরের ব্যবধানে খাদ্য শস্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬০ লাখ মেট্রিক টন।

 এমন ধারাবাহিক অগ্রযাত্রাকে বিস্ময়কর মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। সরকার এ জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছে ফসলের মাঠে যারা শ্রম-ঘাম দিয়েছে, সেই কৃষকদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে সরকারের কৃষি বান্ধব নীতির কারণেই। তবে উৎপাদন বাড়লেও কৃষক তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় না। দুঃখজনক বাস্তবতা যে, স্বাধীনতার দীর্ঘ দিনেও দেশে টেকসই বিপণন গড়ে ওঠেনি। যে কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় মাঝে মধ্যেই ধস চোখে পড়ে। এমনটি ঘটে মূলত তিনটি কারণে, প্রথমত, কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। দ্বিতীয়টি, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং তৃতীয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

 তবে এর মধ্যে মূখ্য কারণটি ধরা যায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া। কৃষকরা যে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না এটি সরকার অবগত নয়, বিষয়টি তেমনও নয়। ধান-চালের ভরা মওসুমে একদিকে কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হন অপরদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্যজনিত কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় করা হলেও তা ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।

 ফলে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয় না। এটি আজকের সমস্যা নয়। চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। মধ্যস্বত্বভোগি ফড়িয়া মওসুমি ব্যবসায়ীরা কৃষকের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। ফলে কৃষক যতই উৎপাদন বাড়াক না কেন, তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। গরিব কৃষক গরিবই থাকে। কৃষক তার কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাক এর নিশ্চয়তা যেমন জরুরি, তেমনিভাবে তারা যেন কৃষি কাজে আগ্রহ না হারান, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর।

গত বছরের নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা

 

গত বছর জুড়েই আলোচনায় ছিল নিখোঁজ ও গুমের ঘটনা। রাজনৈতিক দলের কর্মি, পেশাজীবী, ছাত্র, শ্রমিক কেউ বাদ নেই নিখোঁজ ও গুমের তালিকায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এসব ব্যক্তির আর খোঁজ মেলেনি। আবার অনেকেই স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৬-এর ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় স্মরণকালের নৃশংস হামলাকারী ৫ জঙ্গির হামলার কয়েক মাস আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিল। পুলিশ সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে নিখোঁজ ৪০ যুবকের তথ্য। অপরদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ক্রমাগতভাবেই আসছে।

 ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ২৮৪ জন গুম হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এমনকি বছর গড়িয়ে গেলেও তাদের খোঁজ মেলেনি। প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়নি স্বজনদের। ২০১৬ সালে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত গুম হয়েছেন ৮৮ জন। এই ৮৮ জনের মধ্যে ৮ জনের লাশ পরবর্তীতে উদ্ধার হয়েছে। ফেরত এসেছে তিনজন ও গ্রেফতার হয়েছে ২০ জন।

 অপর ৫৭ জনের কোন হদিস মেলেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র একজন, জামায়াতে ইসলামী একজন, ছাত্র শিবিরের দুইজন, ব্যবসায়ী ছয়জন, আইনজীবী একজন, গৃহকর্মী একজন, চাকরিজীবী দুইজন, যুবলীগের তিনজন, ছাত্র ১৫ জন, কৃষক ১ জন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা একজন, আওয়ামী লীগের ১ জন ছাত্রলীগের একজন, শ্রমিক লীগের একজন। র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, র‌্যাব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি গ্রেফতার করে। কোন আসামিকে গ্রেফতারের সময় র‌্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেন। গ্রেফতারের পর আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করেন।

সীমান্তে হত্যাকান্ড


চুয়াডাঙ্গার দামড়হুদা পিলের ঢাকুরিয়া সীমান্তের ওপারে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নওগাঁর পোরশা সীমান্ত থেকে আরো দুই যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় এই বাহিনী।

 গত শনিবার এ দুটি ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের ওপারে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত যুবকের নাম বকুল মন্ডল (২৮)। অন্যদিকে পোরশার নিতপুর সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া দুজন হলেন নইমুল হোসেন (২৬) ও আলিফ উদ্দিন। প্রকৃতিগতভাবে বাংলাদেশের তিনদিক দিয়ে রয়েছে ভারত সীমান্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যা যেন কিছুতেই দূর হচ্ছে না। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ নানা অজুহাতে বাংলাদেশের নিরীহ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে ধরনের নির্মম আচরণ করে চলেছে তা মেনে নেয়া কঠিন।

 দু’দেশের উচ্চ মহলে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে একাধিক আলোচনা, সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণা দেয়া সত্বেও প্রকৃত অর্থে অবস্থার কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের সন্ত্রাসী, চোরাচালানসহ নানা অভিযোগে গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। নির্মম নির্যাতনও করেছে অনেকের ওপর। সীমান্ত আইনে ইচ্ছে করলেই বিএসএফ যে কাউকে গ্রেফতার, নির্যাতন কিংবা হত্যা করার অধিকার রাখেনা।

 এ জন্য জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা দরকার। কিন্তু কোন নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তগুলোতে যে ধরনের আচরণ করে, তা তাদের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের পরিচয়কেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে বিএসএফের এ ধরনের অসহিষ্ণু আচরণ বন্ধ হওয়া জরুরি। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যার প্রতিটি ঘটনা আমাদের হৃদয়কে শোকাভিভূত করে। সেই শোকবিধ্বস্ত হৃদয় নিয়েও আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষায় এবং সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আর কত? দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষার প্রয়োজনেই সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত যে আন্তরিক তা সে দেশের সরকারকেই দায়িত্বের সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপও নিতে হবে।

৪৮৯ উপজেলায় উন্নয়ন মেলা

 

বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারের পাশাপাশি এবার হচ্ছে উন্নয়ন মেলা। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রান্তিক জনগণকে সম্পৃক্ত করতে দেশে ৪৮৯ উপজেলায় আগামী ৯-১১ জানুয়ারি উন্নয়ন মেলা আয়োজন করা হবে।

 মেলার প্রতিপাদ্য-উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র। এই মেলা মূলত আলোচনা ভিত্তিক হবে, সেখানে প্রান্তিক মানুষ তাদের মনোভাব প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে সরকারের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সাতটি বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। তাতে সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাসহ উন্নয়নের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মেলায় অংশ নেবেন।

  দেশে প্রতিটি মেলা এক যোগে এবার উন্নয়ন মেলা করা হচ্ছে। এই মেলার মূল উদ্দেশ্য আগামী দিনে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তা তুলে ধরা এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রান্তিক জনগণসহ সব মানুষকে সম্পৃক্ত করা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠনো নির্দেশনায় মেলাতে ৭টি বিষয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আগামী দিনের বাংলাদেশ।

 মুক্তিযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ। আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ ও আমাদের প্রযুক্তি, দারিদ্র বিমোচনে বর্তমান সরকারের সামগ্রিক সাফল্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নাগরিক সেবার উদ্ভাবন এবং রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১। আমাদের প্রস্তুতি ও করণীয়। ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সরকার তার উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে প্রচারের আয়োজন করে। এবারের উন্নয়ন মেলা সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনা ও দেশের সম্ভাবনাময় বিষয়ে দেশে প্রান্তিক জনগণ জানতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুলে ভরা পাঠ্যবই কাম্য নয়

 

পাঠ্য বইয়ের নানা ভুল নিয়ে তুলকালামের মধ্যে ভুলের কারণ খুঁজতে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে জাতীয় শিক্ষা ক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র বলেছেন, কমিটি পাঠ্য বইয়ের ভুলগুলো চিহ্নিত করবে, একই সঙ্গে ভুলের কারণও খুঁজে বের করবে।

 পাঠ্য বইয়ের সব ভুলত্রুটি ঠিক করে সংশোধনী শিট শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বছরের প্রথম দিনে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিঃসন্দেহে সরকারের সাফল্য বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু সে সাফল্য অনেকাংশেই নষ্ট করে দিয়েছে অসংখ্য ভুলে ভরা বই প্রকাশের ঘটনা। এবার বই অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বদলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জাতীয় গণমাধ্যমে এসব নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

 অভিভাবকরা বলছেন, পাঠ্য পুস্তকে ভুলের ছড়াছড়িই শুধু নয়, অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর নানা বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদ, সমাজবিদসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠ্য পুস্তকে পরিবর্তন আনার এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

 শিশুদের পাঠ্য বইয়ে ভুলভ্রান্তি ও অপ্রাসঙ্গিক ছবি জুড়ে দিয়ে বই প্রকাশের দায়িত্বে নিয়োজিতরা শুধু নিজেদের অযোগ্যতারই প্রমাণ রাখেননি, সরকারের সুনামের জন্য যে বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছেন তা এক কথায় দুর্ভাগ্যজনক। শিশুরা বড় হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে, কাজের মাধ্যমে জাতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী স্বার্থে তাদের আমরা নীতির ক্রীড়নক বানাতে পারি না।

 বিষয়টি দুঃখজনক উদ্বেগজনকও। শিশুদের রাজনীতির খুঁটি বানানো নয়। কর্তৃপক্ষ অবশ্য বললেন, তারা বইগুলোতে ভুল-ত্রুটি  সংশোধন করবে। কিন্তু কোটি কোটি বইয়ের ভুল ভ্রান্তি সংশোধনের সুযোগ কীভাবে পাওয়া যাবে, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অভিভাবকরা বলছেন, ভুল বইয়ের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয় তবে তারা সারা জীবন ভুল শিখবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। মহল বিশেষ নয়, সার্বজনীন মতামতের ভিত্তিতে শিশুদের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজান।

বাংলাদেশ এগোচ্ছে

 

বর্তমান সরকারের ৫ বছর মেয়াদকালের ৩ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেছেন, এই তিন বছর আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছি। দেশের উন্নয়ন কাজের গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

 অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিগ্রাহ্য সাফল্য থাকলেও আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনেক করণীয় রয়েছে। দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চলমান তাতে একজন সরকারের কোন ব্যর্থতা দেখতে পায় না। শতভাগ সফলতা দেখে।

 আবার আরেক দল সরকারের কোন সফলতা দেখে না। যথার্থ মূল্যায়ন করা হলে দেখা যাবে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটিই আছে। তবে সাফল্যের পাল্লা ভারি বলে মনে হয়। সরকারের ভাষ্য, এর ফলে দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হয়নি।

 সরকারের এ দাবিকে উপেক্ষা করা যায় না। সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাহ্য করা সঙ্গত হবে না। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রেকর্ড রিজার্ভ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বহির্বিশ্বে স্বীকৃত হচ্ছে।

 প্রতিবেশি ভারত ও চীন সহ অন্যান্য দেশে সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে। তবে জরুরি হচ্ছে উন্নয়নকে টেকসই করা এবং সুষম বন্টন। টেকসই উন্নয়ন এবং সুষম বন্টনের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। দুর্নীতি নির্মূল করা দরকার।

  গত তিন বছরে বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ হয়নি। যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখা একটি ভালো দিক। দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। আদিবাসীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের আরও করণীয় আছে।

 

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অনাকাঙ্খিত মৃত্যু

 

২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক। হিসাব অনুযায়ী ১০ বছর ১০ মাসে গড়ে ৩৬ জন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবার প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পেলেও তা মোটেও ন্যায্য নয় বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

 শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণে যে আইন রয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। পুরোপুরি ত্রুটিপূর্ণ। ফলে এটা পরিবর্তন করতে হবে। তাহলেই শ্রমিকরা ন্যায় বিচার পাবে। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। এতে সুনির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি নেই। ফলে অপরাধিরা আইনের ফাঁক ফোঁকড় দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কন্দ্রের সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, রানা প্লাজার আগে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে এমন কোন নজির নেই।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা মালিক, বিদেশি বায়ার ও সরকার মিলে একটি আইন তৈরি করেছে। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট নয়। এখনো মারাত্মক জখম ও অঙ্গহানির মতো ঘটনাকেও তুচ্ছ করে দেখানো হচ্ছে এবং শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে। এক জরিপে বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ বছর ১০ মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

 অগ্নিকান্ডে নিহত হয়েছেন ৫৫৬ জন। এর মধ্যে বেশি নিহত হয়েছেন ২০১৩ সালে। এই সময় ১ হাজার ১১১ জন শ্রমিক নিহত হন। এরপরেই রয়েছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেমন হোটেল, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি ১০১ জন, কৃষিতে ৬ জন এবং পরিবহণ খাতে জড়িত শ্রমিক নিহত হয়েছে ২৬ জন। জরিপে উল্লেখ করা সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যার সংখ্যা মোট ১১০ জন। আগুনে পুড়ে মারা যায় ৩১ জন। আমাদের দেশে আইনের বিভিন্ন ফাকফোঁকর রয়েছে।

ভূমিকম্পের ঝুঁকি

 

ভূমিকম্প নিয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় গত বছরের জুলাই মাসে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। মাত্রায় তা রিখটার স্কেলে ৯ পর্যন্ত হতে পারে।

 কবে নাগাদ এই ভূমিকম্প হতে পারে তার পূর্বাভাস না মিললেও বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প আঘাত হানার আভাস দিয়েছিলেন গবেষকরা। বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা এবং ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন আশংকার কথা জানিয়েছিলেন। বিগত দশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাংশের ভূগাঠনিক প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের ভূ-গাঠনিক প্লেটে চাপ সৃষ্টি করছে।

 বাংলাদেশ অঞ্চলের নিচে দুটি ভূগাঠনিক প্লেট চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তি জমা হচ্ছে। এই ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশ সহ আশে পাশের অঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষ ক্ষতির মুখোমুখি হবে। ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মানুষ অর্জন করতে পারেনি। ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রকৃষ্ট উপায় হলো সব ধরনের স্থাপনা দুর্যোগ মোকাবিলা উপযোগী করে গড়ে তোলা।

 আমাদের দেশে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয় না। এমন অভিযোগই প্রবল। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও বাংলাদেশে বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে মানবিক বিপর্যয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি ভূমিকম্প-পরবর্তী বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। উদ্ধার কাজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তির যেমন অভাব রয়েছে, তেমন অভাব প্রযুক্তিগত সুবিধার ভূমিকম্প সম্পর্কে আতঙ্কে না ভুগে ঘরবাড়ি যাতে ভূমিকম্প সহনীয়ভাবে তৈরি করা হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। দুর্যোগ পরবর্তী কঠিন অবস্থা মোকাবিলার জন্য জনশক্তি গড়ে তোলা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্জনও জরুরি।

 

প্রায় এক দশক পর দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ঘর অতিক্রম করে ৭ শতাংশও অতিক্রম করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

 বেড়েছে মানুষের গড় আয়ু। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থ বছর শেষে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৬৬ ডলারে। শুধু তাই নয় মাথা পিছু আয়ের ভিত্তিতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতিও পেয়েছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতির চাপ বলা যায় পুরোপুরিই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। রপ্তানী আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর বিনিয়োগের খরা কাটেনি সারা বছরেও।

 বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে নভেম্বরে শেষে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগের মাস অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকায় এবং বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্য মূল্য স্থিতিশীল থাকায় মূল্য স্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়েছে। চলতি অর্থ বছর শেষে অর্থাৎ জুন ২০১৭ শেষে মূল্যস্ফীতি চাপ ৫ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যেই থাকবে বলে বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ডলারের বিপরীতে টাকার মানও মোটামুটি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য সঠিক পথে রয়েছে। এমনকি উচ্চ রেমিট্যান্স আর উচ্চ রপ্তানি আয় বাংলাদেশের রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে যা কোনভাবেই কাটানো যাচ্ছে না। ফলে বড় ধরনের কোনো বিনিয়োগে কেউ এগিয়ে আসছে না। উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের আগে পুঁজির নিশ্চয়তা চান। ফলে বিনিয়োগ হচ্ছে না যার প্রভাবে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বাড়ছে। নতুন বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা স্বচ্ছতার বড় অন্তরায়

 


বিচারে বিলম্ব হওয়া বিচার অস্বীকার করার নামান্তর এটা বহু পুরনো এবং বহুল প্রচারিত একই উদ্ধৃতিতে বিচার ব্যবস্থায় মামলা জট ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা জনগণের বিচার লাভের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। আমাদের নিম্ন আদালতে প্রায় ২৭ লাখ মামলার জট আমরা বয়ে চলেছি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এই মামলা জটের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 আর তা করতে করনীয় হিসেবে তিনি বিচারকদের প্রতি বিচার কাজে অপ্রয়োজনীয় সময়দানের সংস্কৃতি পরিহারের আহবান জানিয়েছেন। আমরা মনে করি প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং যে আহবান জানিয়েছেন তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাষ্ট্র ও সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গতিশীল বিচার ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই।

 প্রধান বিচারপতি মামলা জট ও বিলম্বিত বিচারের ব্যাপারে যে সতর্কবাণী করেছেন তাও প্রতিধান যোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘অনিষ্প মামলার এ বোঝা (মামলা জট) আদালত ব্যবস্থাপনাকে গতিহীন করতে পারে।’ ‘বার বার অপ্রয়োজনীয় সমাধান যে মামলার ব্যয় বাড়িয়ে দেয় এটা কারও অজানা নয়। এতে পরোক্ষভাবে কায়েমি স্বার্থের প্রভাবই বৃদ্ধি পায় এবং বৃহত্তর অর্থে জনগণের আইনের শাসনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। সমাজে অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতের  প্রসার ঘটিয়ে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগায়।

 সমাজে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিকাশে এবং অর্থনৈতিক উন্নতিতেও এটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এমন একটি পরিস্থিতি কোন ক্রমেই কাম্য হতে পারে না। লোকবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিচার ব্যবস্থার অন্যসব অপ্রতুল হয়তো রয়েছে। স্বল্প ব্যয়ে ও প্রকাশ্যে বিচারের মাধ্যমে আইন সম্মত সুবিচার প্রাপ্তি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। এ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

 

কৃষির উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা

 

কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক তথ্য প্রযুক্তি রয়েছে। এসব তথ্য প্রযুক্তি কৃষকের ব্যবহার উপযোগী ও সহজবোধ্য করে স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের দোর গোড়ায় পৌছে দিতে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের আর্থ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। জীবন যাত্রার মান বাড়বে। কৃষি লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত হবে।

 তরুণ উদ্যোক্তারা এ খাতে এগিয়ে আসবে। কৃষিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। সারা দেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ১৩ হাজার কৃষি কর্মী আছেন। আর কৃষি পরিবার রয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ। এই বিপুল সংখ্যক কৃষি পরিবারের মধ্যে আধুনিক লাগসই প্রযুক্তি পৌছে দিতে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ই-কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 ই-কৃষি হলো ইলেকট্রনিক প্রবাহের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক তথ্য সরবরাহের একটি আধুনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেট, রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে কৃষিকে পণ্য ব্যবসায়ী, গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মী, পরিকল্পনাবিদ এবং ভোক্তা ইত্যাদি গোষ্ঠীর কাছে পৌছে দেয়া হয়। দীর্ঘ ৫ বছরের চেষ্টায় ফসলের অধিক উৎপাদন ও সুষম মাত্রার সার প্রয়োগের লক্ষ্যে একটি সফটওয়্যার মাধ্যমে জানা যাবে কৃষি জমিতে কোন সার কী পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে।

 বেসরকারি সংস্থাগুলোর চেয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি কৃষকের আস্থা ও বিশ্বাস বেশি। এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এক যোগে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ ফোনের ২৭১৭৬ নম্বরে কল করেও কৃষি বিষয়ক সেবা পাওয়া যায়। এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের নিকট সহজলভ্য হতে হবে এবং ব্যবহার সম্পর্কে কৃষক ভাইয়ের যথেষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পের বিপর্যয় ও ভবিষ্যৎ

 

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক। তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক দুই ক্রেতা জোটের অতি বাড়াবাড়িতে বর্তমানে বিপর্যস্ত পর্যায়ে গড়িয়েছে এ শিল্পটি। বিধি বহির্ভূত অতিরিক্ত খবরদারি ও কারখানা সংস্কারের ধুয়া তুলে এরা একের পর এক অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের এ ধরনের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নানা শর্ত পূরণ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের এখন কঠিন দশা।

 এদের অব্যাহত অতিরিক্ত চাপের মুখে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে এ ব্যবসায় অনেকের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মালিক তাদের কারখানা গুটিয়ে নিয়েছেন। আরো প্রায় চারশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এর ফলে এরই মধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় সোয়া দুই লাখ শ্রমিক। এ সংখ্যা দিন দিন আরো বাড়ছে। এরা কমপ্লায়েন্সের নামে বাড়াবাড়ি করলেও পোশাকের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সুপারিশ করে না। তাদের কাজ শুধু শ্রমিকের বেতন-ভাতা বাড়ানো ও অবকাঠামো নিয়ে ত্রুটি তালাশ করা।

 বাংলাদেশের অগ্রসরমান গার্মেন্টস সেক্টরের বিরুদ্ধে কোথায় যেন ষড়যন্ত্র চলছে। তারা মূলত এখানকার গার্মেন্টস ব্যবসা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশসহ কয়েকটি দেশে নিয়ে যেতে চায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের চলমান অবস্থাকে কেন্দ্র করেই এই চিন্তা। এ দেশের পোশাক খাত সংস্কার তদারকিতে ত্রি-পক্ষীয় চুক্তিপত্র অনুযায়ী ছয়টি প্রধান শর্ত মেনে তাদের কাজ করার কথা। কিন্তু প্রতিনিয়ত তাদের কাজের মধ্যে এর কোনো বালাই নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার কিংবা কাজ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখা।

 এ দেশের তৈরি পোশাক থেকে বিদেশি ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ও খবরদারি দেশগুলোর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে তারা। প্রতিযোগী দেশগুলোর পোশাক বিক্রি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের পোশাকের বিশ্ব বাজার হাত ছাড়া করতে কৌশলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দেওয়ার গোপন মিশনে নেমেছে এরা। এ সবের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এ দেশের তৈরী পোশাক খাতে। এর ফলে দেশে নতুন কারখানা চালুর হার কমে গেছে। সংস্কারের ধুয়া তুলে তারা কারখানা মালিককে অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংস্কার মানেই উন্নতি। কাউকে আর্থিকভাবে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া নয়।

বিদেশি বিনিয়োগে আশা

 

একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ। বর্তমান সরকারেরও স্বপ্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়া। আমরা অর্থনীতিতে অনেক এগিয়ে গেছি।

 আমরা একুশেতে এই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌছবে বলে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। আমরা পোশাক খাতে খুবই ভালো অবস্থানে আছি। চীনে গত তিন দশকে শ্রমের মূল্য বেড়েছে বিপুলভাবে। বাংলাদেশে শ্রমের দাম এখনো সস্তা হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে চীনের বিকল্প হিসেবে ভাবছে। বাংলাদেশের এই সম্ভাবনার বিষয়ে দু’বছর আগে জাইকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল সস্তা শ্রমের পাশাপাশি দেশটিতে শ্রমিকও সহজলভ্য।

 এ ছাড়া স্থিতিশীল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, গার্মেন্টস এবং চামড়া শিল্পে অগ্রগতি, মধ্যম আয়ের ভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, আকর্ষণীয় বাজার, পশ্চিমা উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের পদক্ষেপের তালিকায় রেখেছে। বর্তমান সরকারের টার্গেট বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। এটি অবশ্যই মহৎ উদ্দেশ্য। এ জন্য প্রয়োজন বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮-১০ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

 সব সমস্যা কাটিয়ে উঠে বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত সকল পরিবেশ সৃষ্টি হোক-এটিই প্রত্যাশা।

 

সংসদ সদস্যকে হত্যা

 

নতুন বছরের প্রথম দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। সংবাদপত্রে বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের আশা-জাগানিয়া নানা অগ্রগতির ঘটনা ও তরুণ সমাজের সৃজনশীলতার বিভিন্ন খবরের পাশে অনেক স্থান জুড়ে শংকা জাগিয়ে রয়েছে এমন খবরে।

 একজন সংসদ সদস্যকে তার বাড়িতে ঢুকে এভাবে গুলি করে হত্যা করা আমাদের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ওপর বড় আঘাত। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণকে মিলেমিশে থাকতে হয় তাদের। সংসদ সদস্য লিটনও এর বাইরে যেতে পারেন না। ঘটনার সঙ্গে উগ্রবাদীদের সম্পৃক্ততা সন্দেহ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করছে, সংসদ সদস্য লিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লিটন সমর্থকদের ধারণা, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনের ক্যাডাররা জড়িত থাকতে পারে।

 যে কারণেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটুক না কেন, তা একটি উদ্বেগজনক বিষয়। রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের মাধ্যমে অদৃশ্য কোনো মহল দেশে সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে এমন ধারণাও করছেন অনেকে। হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃত হত্যাকারী শনাক্ত করা ও শাস্তি দেওয়া। একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

 হানাহানি ও সংঘাত আমাদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে। যারা এসব অপরাধ করে তাদের কোনক্রমেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আইনের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য আমরা চাই, সঠিকভাবে তদন্ত কাজ এগিয়ে চলুক। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়–ক। মানুষের জান-মাল, নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব -এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

 

চাঙ্গা হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি

 

চাঙ্গা হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বিজয়ের ৪৫ বছর বাংলাদেশের অর্থনীতির এমন অর্জনকে বিস্ময়কর বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। ১৯৭২-৭৩ অর্থ বছরে মাত্র ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানি আয় গত অর্থ বছরে ৩ হাজার ৪শ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। মেশিনারিজ আমদানির তথ্যই বলছে, দেশে এখন বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করছে।

 একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতকের বেশি। আগের বছরের চেয়ে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে মূল্যস্ফীতি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, রেমিটেন্স প্রবাহ, বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যসহ সব সূচকেই এখন উর্ধ্বমুখী ধারায় অবস্থান করছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতাও কমে আসছে। জানা গেছে, ১৯৭১ সালে অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তানি শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল বাঙালি জাতি।

 স্বাধীনতার পর চার দশক পর সে স্বপ্ন অর্জনের পথে অনেকটাই এগিয়েছে দেশ। আর তা পূরণের সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে রফতানি খাত। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের রফতানি খাত কাঁচা চামড়া ও পাট নির্ভর হলেও সময়ের আবর্তনে সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণসহ হাল্কা ও মাঝারি শিল্পের নানা পণ্য। ১৯৭২-৭৩ অর্থ বছরে মাত্র ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানি আয় গত অর্থ বছরে পৌছেছে প্রায় ৩ হাজার ৪শ কোটি ডলারে। মাথাপিছু কম জমি নিয়ে আর কোন দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে এমন ইতিহাস করেনি।


 আমাদের বিশ্ব অর্থনীতির সাথে ক্রমাগত ভাবে বেশি করে সংযুক্ত হতে হবে। যে শিল্প পণ্যগুলো বহুমুখী করে রফতানি করব, সে গুলোর কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমাদের আমদানি করতে হবে। এটাই এখন চ্যালেঞ্জ। অর্থ বছরের জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে অর্থাৎ অর্থ বছরের প্রথম ৫ মাসে রফতানি খাতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৬৯ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।

 

অবৈধ পথে দেদার মোবাইল সেট আসছে


দেশে মোবাইল ফোনের বাজারে ২৫ শতাংশের বেশি সেট অবৈধভাবে আসছে। সরকার এখান থেকে ৫শ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসি এই বাজার বন্ধ করার নানা উদ্যোগ নিলেও কোন কাজ হচ্ছে না।

 অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল সেট বাজার থেকে তুলে নেয়ার জন্য বিটিআরসি কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু তাতে অবৈধভাবে মোবাইল সেট আসা বন্ধ হয়নি। তবে অবৈধভাবে আসা মোবাইল সেটের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব মোবাইল সেট আসা বন্ধ করা হবে। অবৈধভাবে মোবাইল সেটের কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। মোবাইল সেট আমদানি করতে বিটিআরসির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

 দেশে এক শ্রেণীর আমদানিকারক রয়েছে তাদের কোন লাইসেন্স নেই। লাগেজ বা অন্য কোন উপায়ে তারা নামী দামী ব্রান্ডের মোবাইল সেট দেশে নিয়ে আসছে। এর বিরুদ্ধে বিটিআরসি সোচ্চার থাকলেও কোনভাবেই অবৈধভাবে আসা মোবাইল আমদানি রোধ করতে পারছে না। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পথে আসা কয়েক লাখ মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছিল। যেসব মার্কেটে অভিযান চালানো হয় ওই সব মার্কেটে আবার পুরোদমে অবৈধভাবে আসা মোবাইল বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এ ধরনের সেটের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি। দেশে প্রতি বছর মোবাইল সেটের বাজার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার।

 এর মধ্যে অবৈধভাবে আসা মোবাইল সেটের বাজার ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার ওপরে। কয়েক বছর ধরে এই বাজার ক্রমাগত বাড়ছেই। অবৈধভাবে আসা মোবাইল ফোনের বাজার দিন দিন হুমকি হয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, এসব মোবাইল সেট কিনে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই মোবাইল সেটগুলো- কোন গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি থাকে না। কোন সমস্যা হলে বিক্রেতা এর দায় নেয় না। এ বছর দেশে প্রায় ৩ কোটি মোবাইল সেট অবৈধভাবে এসেছে।

পোশাক খাতে সম্ভাবনা

 

তৈরি পোশাকের জন্য আশীর্বাদের বছর হতে পারে চলতি বছর। ভাবমূর্তি ও রফতানি আয় এ দুই বিবেচনায় পোশাক খাতের সবচেয়ে কাংখিত বছর হবে এটি। এ রকম আশাবাদ উদ্যোক্তা ও বাণিজ্য বিশ্লেষকের।

অভ্যন্তরীণভাবে সংস্কারে ব্যাপক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবাধ বাণিজ্য বিষয়ক ট্রান্সপ্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি বাতিলের ঘোষণাসহ অন্তত অনেক কারণ রয়েছে এ রকম আশাবাদের পেছনে। তবে প্রশ্নাতীতভাবে সংস্কার শেষ করাসহ নতুন বছরে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

 নতুন বছর বাংলাদেশের পোশাকের সুবিধাজনক অবস্থানের জন্য কারণের মধ্যে রয়েছে আমদানিতে সব দেশের পণ্যের ওপর দশ শতাংশ হারে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপে প্রভাব। প্রস্তাবটি পাস হলে এত দিন যুক্তরাষ্ট্রে রফাতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেশগুলোকেও দশ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে। শুল্ক মুক্ত সুবিধা প্রাপ্ত দেশের তালিকায় না থাকায় বাংলাদেশি পণ্যকে গড়ে ১৬ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে চীনের পণ্যের ওপর বড় হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।

 এর বাইরে দেশে অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পরিবেশসম্মত এবং সাশ্রয়ী উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে আশানুরূপ গতি পাবে এ খাতে। এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য এখন খুবই অনুকূল। টিপিপি বাতিলের ঘোষণা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অনুকূল হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সহযোগিতা পেলে পোশাক খাতের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।

মধ্যম আয়ের পথে এখন দেশের অর্থনীতি

 

বিজয়ের ৪৫ বছরের বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী ক্ষুধার্ত মানুষ আর তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয় শূন্যের অর্থনীতি নিয়ে। কিন্তু বীর বাঙালির উদ্যম আর কঠোর পরিশ্রমে মধ্যম আয়ের দেশের পথে এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি।

 

বর্তমান রেমিটেন্স আহরণে কিছুটা ছেদ পড়লেও রিজার্ভে অনন্য উচ্চতায় এখন বাংলাদেশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। কমেছে অতি দরিদ্রতার হার। রপ্তানিতেও উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। মানব সম্পদ রপ্তানি বেড়েছে।

 

 মূল্যস্ফীতিও কমেছে। অর্থনীতির সূচকগুলো এখন অনন্য উচ্চতায়। এসবের পাশাপাশি সুষম উন্নয়ন পরিকল্পনার দেশে ১ কোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের ধারায় অর্থনীতি ও শিল্পায়নে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো এখন শিল্পায়নে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সর্বশেষ চীন বাংলাদেশে বিশাল অংকের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছে।

 

সরকারও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান দেশসমূহে হাঙ্গেরি রফতানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও পূর্বের ব্যাপক সম্প্রসারণ দেশসমূহে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-হাঙ্গেরি বিজনেস ফোরামের সমাপনি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ৬৭ শতাংশ জার্মানির সঙ্গে ৫৭ শতাংশ ও ফ্রান্সের সঙ্গে ৬৯ শতাংশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এই তথ্য থেকে ভালো ভাবে বোঝা যায়, বাংলাদেশে যথাযথ পেশাগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধা বিদ্যমান, যার মাধ্যমে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে যাচ্ছে। গত সাত বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৮ থেকে নেমে ৪৪তম অবস্থানে এসেছে। ২০৪০ সালে বিশ্বের ২৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।

 

ব্যাংকের প্রতি আস্থা বাড়াতে হবে

 


চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার হ্যাক করে নেয় শক্তিশালী বিদেশি পাচার চক্র। বাড়ছে না বিনিয়োগ। চলতি বছরে শুরু করে টালমাটাল ব্যাংকিং খাত এখনো পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ভুয়া সুইফট বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) ৪টি হিসাবের মাধ্যমে এই অর্থ দেশটির জুয়ার টেবিলে চলে যায়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাত থেকে চুরির সবচেয়ে বড় এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গত মার্চে তদন্ত কমিটি করা হয়। এ ঘটনা তদন্ত করে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিও।

 এরপর এক ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫২ লাখ ডলার উদ্ধারের পর তা ফেরত পায় বাংলাদেশ। ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অসতর্কতার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ব্যাংকগুলোর ৫ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে কমেছে সুদের হার। প্রতিনিয়তই বাড়ছে বিনিয়োগ যোগ্য তহবিলের পরিমাণ।

 কিন্তু তা সত্ত্বেও বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোন সাড়া নেই। ফলে দিন দিন ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো অসুবিধা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুশাসনের অভাব ও যথাযথ ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ না থাকায় সুদ হার কমার পরও বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে একদিকে ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জিভূত তারল্য বা অলস টাকা বাড়ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে কমেছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সুদ হার অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও উদ্যোক্তা ঋণ নিচ্ছে না। এর প্রধান কারণ অবকাঠামোগত সমস্যা।

নদ-নদী হারাচ্ছে দীর্ঘকালের ঐতিহ্য

 


বাংলাদেশের সব নদ-নদী হারিয়েছে দীর্ঘকালের ঐতিহ্য। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় বেশির ভাগ নদীই আজ বিপন্ন ও অস্তিত্বহীন। দেড় হাজার নদীর মধ্যে বছর জুড়ে নাব্য নদীর অস্তিত্ব রয়েছে মাত্র ২৩০টির।

 নিয়ন্ত্রণহীন দূষণের যাঁতাকালে পিষ্ট হয়ে মরে গেছে অধিকাংশ নদ-নদী এমন কি খাল-বিলও। নগর সভ্যতার বিকাশে উন্নয়ন পরিকল্পনার ও উজান থেকে নেমে আসা পানি সংকটেও নদ-নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভয়াবহ নদীর দূষণ। রাজধানী ঢাকার পাশ ঘেঁষে বহমান ঐতিহ্যবাহী বুড়িগঙ্গা নদী সহ বাংলাদেশের বেশির ভাগ নদ-নদী আজ মানুষের কাছে ইতিহাস হয়ে পড়ে আছে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ঢাকার চার নদী ছাড়াও দেশে বিভিন্ন নদীর তীরে রয়েছে ছোট-বড় লঞ্চ মেরামত শিল্প।

শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশে শিল্পজনিত নদী দূষণের মাত্রা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে দেশে শিল্পজনিত নদী দুষণের মাত্রা আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে। চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলের সীতাকুন্ডে প্রতিষ্ঠিত জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে ঘটছে ভয়াবহ পরিবেশ দুষণ।

 ভয়াবহ দূষণে আক্রান্ত বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, যমুনা, গঙ্গা, মধুমতি, ধলেশ্বরী, আড়িয়াল খা, ভৈরব, বিষখালি, বালু, মনু, কপোতাক্ষ করতোয়া, মহানন্দা, সুরমা, কুশিয়ারা, কীর্তন খোলা, ধলেশ্বরী, সন্ধ্যা খোয়াই, ধরলা, গোমতি, পায়রা, বংশী, হালদা, কালীগঙ্গা ইত্যাদি নদী ও খান বিলের পানি দুষণের কারণে ভু-পৃষ্ঠের পানি হয়ে পড়েছে ব্যবহার অযোগ্য। নদীকে ঘিরে চলছে সভ্যতার ক্রম বিকাশ। নদীর পানি দূষিত করে নদীকে গলা টিপে মেরে সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব নয়।