সকাল ৯:৫৫, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

ওষুধ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আমাদের দেশে তৈরি ভালো উন্নত মানের ওষুধ বিদেশেও রপ্তানি হয় যা রীতিমতো গর্বের বিষয়। আমরা জানি, বিশ্বের ১৪০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। আবার দেশের বাজারে ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রি হওয়ার অভিযোগও আছে। প্রথম বাংলাদেশি কোম্পানি হিসেবে কানাডায় ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। চোখের এলার্জির ওষুধ ওলোপটাডিন রপ্তানি শুরুর মাধ্যমে কানাডার বাজারে প্রবেশ করল বেক্সিমকো। এর আগে গত অর্থ বছরে ওলোপটাডিন হেলথ কানাডার অনুমোদন লাভ করে। খবর অনুযায়ী কানাডায় ওলোপটাডিনের বাজার ১৪ মিলিয়ন ইউএস ডলারের। রপ্তানির প্রথম চালান গত শনিবার হস্তান্তর করা হয়।

 এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকটি ওষুধ কানাডায় রপ্তানির জন্য পাইপ লাইনে রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে এক গোলটেবিল বেঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন খুব কড়া। বাংলাদেশের ওষুধের মান উন্নত বলেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বিদেশে রপ্তানি করাই যথেষ্ট নয়। দেশের কোটি কোটি মানুষের মন জয় করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ ভালো ওষুধ পেতে চায়। এক সময়কার পর নির্ভর বাংলাদেশ এখন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এমনকি বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ কোটি টাকার ওষুধ বিদেশে রপ্তানিও হচ্ছে।

 ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও আকাশ ছোঁয়া। আশা করি ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে যতটা কড়াকড়ি থাকা উচিত আমাদের দেশে সে ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। দেশে যেমন মান সম্মত ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে তেমন বাজারে নকল ভেজালের পরিমাণও কম নয়। আমরা মনে করি, ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো হেরফের বাঞ্ছনীয় নয়। প্রতিটি ওষুধ মানুষের ব্যবহারের আগে উন্মুক্ত করার আগে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী যাতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দেওয়া হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

 

এই বিভাগের আরো খবর

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগিদের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে সরকার। কেননা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) ক্ষেত্রে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি বড় দেশগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসডিজিতেও একই অবস্থা যাতে না হয়, সে জন্য বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে কর্মরত বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি, আইডিবিসহ এলসিজিভুক্ত সব দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এমডিজি বাস্তবায়নের সময় উন্নয়ন সহযোগিদের প্রতিশ্রুতি ছিল উন্নত দেশগুলো তাদের জিএনআইয়ের দশমিক ৭ শতাংশ দেবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে। কিন্তু অধিকাংশ দেশই কথা রাখেনি। ফলে বাংলাদেশ এমডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়ন সংকট পড়েছিল।

 এবারও উন্নত দেশগুলোর একই প্রতিশ্রুতি রয়েছে। যাতে তারা সেটি রক্ষা করে সে জন্য বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়। এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ৯২৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৯৬ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১৩২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের  আওতায় মোট ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে এসডিজির অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রার প্রতিফলন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 উন্নত বিশ্বের সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের পার্থক্য যেখানে আকাশ-পাতাল সে ক্ষেত্রে এ দুরত্ব কমিয়ে আনতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ চ্যালেঞ্জে হারার কোনো সুযোগ নেই। এসডিজিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ তা শুরুতেই স্পর্শ করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। বাংলাদেশ তার আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকেই সাফল্য দেখিয়েছে- এখন দাতাদের উচিত প্রতিশ্রুত অর্থ যোগান দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে পৌছে দেয়া বাংলাদেশকে।

এই বিভাগের আরো খবর

শরণার্থীর স্রোত

মিয়ানমার নিপীড়ন বন্ধ না করলে বছরের শেষ নাগাদ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশ তাদের পাশে সর্বাত্মকভাবে দাঁড়ালেও অন্যান্য দেশ যে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায় সংস্থা দুটি।

রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক ও আর্থিক সহায়তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান রেখেছে তারা। তারা বলেন এখানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা বাংলাদেশের একার পক্ষে মোকাবেলা করা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আগামীকাল বা পরশু নয়, এখনই এ বিপর্যয় মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। ইউএনএইচসিআর সহকারী হাই কমিশনার জর্জ ও কোথা ওব্বো ও আইওএমের পরিচালক মোহাম্মদ আবদিকার মোহাম্মদ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থা দুটির এ দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

 আমরা মনে করি শুধু বিশ্বের প্রতি তাকিয়ে থাকলেই হবে না, যেহেতু বিপুল শরণার্থী নিয়ে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি, তাই নিজের গরজেই আমাদের বৈশ্বিক ফোরামে আরো সরব হতে হবে, রোহিঙ্গা সংকট থেকে সৃষ্ট শরণার্থী সমস্যা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয় সে পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে এসব বিষয় আলোচনায় তুলতেই হবে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দখল ও দূষণ মুক্ত হোক নদী

দখল ও দূষণে দেশের অনেক নদী মৃতপ্রায় খালে পরিণত হলেও এসব দেখার কেউ নেই। পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক -নদী সর্বোচ্চ আদরনীয়। রাষ্ট্র-জনগণ সবাই তা মানে। কিন্তু আমাদের দেশে নদী যেন সকলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যার ক্ষমতা আছে সে-ই নদীর ওপর অত্যাচার চালানোর অধিকার ফলায়। নদী দখল হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে, দেখার যেন কেউ নেই। প্রতিবাদ আসছে কিন্তু পরিবেশবাদীদের কাছ থেকে কিন্তু যারা প্রতিকার করবে তারা চোখ বন্ধ করে বসে আছে। আমরা উন্নয়নের নামে দেশের নদ-নদীগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছি। অথচ গত আট বছরে একটি নদীও পুরোপুরি দখল ও দূষণমুক্ত হয়নি। সারা দেশে ৫০০ নদী নষ্ট হয়েছে ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কারণে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাস্তা করতে নদী ভরাট করছে।

 বাজার, মার্কেট নদীর পাশে নির্মাণ করে নদী ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা বলেন এখনো ঘুরে দাঁড়ালে নদী রক্ষা কিছুটা হলেও হতে পারে। তবে এর নেতৃত্ব দিতে হবে সরকারকে। বস্তুত নদী দখলের প্রক্রিয়া সারা দেশে প্রায় একই গতিতে চলছে। দূষণ ও দখলের এ উৎসব বন্ধে সরকার কঠোর না হলে দেশব্যাপী জালের মতো বিস্তৃত প্রতিটি নদী এলাকাবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অনেক সময় মন্ত্রী, রাজনীতিক, আমলা নদী দখলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু শুধু বলেই খালাস হলে চলবে না। নদী রক্ষার্থে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে।

 নদী আমাদের জীবন-জীবিকা সাহিত্য সবকিছুর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নদী দখলও দূষণ এ দুটি মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট দুর্যোগের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদী ভাঙন বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সমস্যা বটে। নদী ভাঙনের কারণেও একটি উল্লেখযোগ্য মানুষ গৃহহারা হয়। এশিয়ায় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নদী ভাঙনে প্রতি বছর এক লাখ মানুষ গৃহহারা হয়, আর্থিক ক্ষতি হয় বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার। দখলদারদের বিরুদ্ধে যাদের ভূমিকা রাখার কথা, তারা দায়িত্বে অবহেলা করলে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া পরিবেশের সুরক্ষা করা সম্ভব নয়।

এই বিভাগের আরো খবর

চালের বাজারে অস্থিরতা

চালের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মোটা চালের মূল্য বৃদ্ধি গরিব মানুষের জন্য নাভিশ্বাস হয়ে দেখা দিয়েছে। বগুড়ার বাজারে গতকাল মোটা চালের দাম কেজি প্রতি স্থান ভেদে ৪৮-৫০ টাকা এবং সরু চাল ৬৫-৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার এ কথা সরকারি দপ্তরের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্য বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম আবারও ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 গত সপ্তাহে তা ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা। আরেক সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গত বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক মাসে মোটা চালের দাম পোনে ৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮ টাকা কেজি এবং সরু চালের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় চালের দাম বাড়ছিল, তখন সরকারের নির্লিপ্ততা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে। কয়েক মাস আগে খাদ্য মন্ত্রী চালের দাম বৃদ্ধির জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমাদের জানা নেই। এ বছর হাওড় এলাকার ফসল মার খাওয়াকে অজুহাত হিসেবে নিয়ে চালকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয় চালের দাম।

 এর পেছনে চালকল মালিকদের মুনাফাখোরী মনোভাব কাজ করছে এখন অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। বোরো ধান কৃষকদের কাছে যখন ছিল তখন তারা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য হাহাকার করেছেন। সেই ধান চালকল মালিকদের গুদামে যেতে না যেতেই শুরু হয়ে যায় সাধারণ ভোক্তাদের হাহাকার। দেশে বর্তমানে চাল, গম ও ভুট্টা মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টন খাদ্য শস্য উৎপাদন হয়। হাওরাঞ্চলের বন্যার কারণে চাল উৎপাদনে ১০-১২ লাখ টন ঘাটতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে আগামী আমন মৌসুমেও উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে।

 সরকার এমন ধারণা থেকে চালের আমদানি শুল্ক ২৮ থেকে মাত্র ২ শতাংশে কমিয়ে এনেছে। এমনকি বাকিতে ঋণপত্র খোলারও সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু বাজার এসব পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব নেই। কোন সিন্ডিকেট চালের বাজারকে এমন অস্থিতিশীল করে তুলল তাদের চিহ্নিত করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। মূল্য বৃদ্ধির কারসাজির হোতারা যাতে অসৎ মনোভাব ত্যাগে বাধ্য হয় তা যে কোনো মূল্যে চিহ্নিত করতে হবে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করতে পারবেন না। বাড়িতে শিক্ষার্থী নিয়ে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। কোনো নোট বা গাইড বই চবে না। এগুলো বন্ধে আইন তৈরি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। গত বুধবার খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষা বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেন শিক্ষার্থীরা আপনাদের বাড়িতে পড়তে যায় ? ক্লাসে ভালো করে পড়ানো হয় না বলেই তো সেখানে যায়। শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হয় পড়তে যেতে। এটা করে কেউ রেহাই পাবেন না। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কথার সঙ্গে আমরা একমত।

 দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে বলা যায়। কিন্তু দু একটি ক্ষেত্রে সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কোচিং বাণিজ্য ও নিষিদ্ধ নোট গাইড তুলতে না পারা এবং বোর্ড নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অনুমোদিত বই স্কুলগুলোর পাঠ্য তালিকা থেকে সরাতে না পারা। উল্লেখিত দুটি অপরাধই নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কর্তৃপক্ষ, সুধি সমাজ, জ্ঞানী-গুণিজন, বিবেকবান মানুষ কোচিং সেন্টারের জ্ঞান সীমাবদ্ধ রাখাকে পছন্দ করেননা। কোচিং সেন্টারের জন্য আজ স্কুল-কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

 গাইড বই ছাড়া মূল বই কেউ পড়তে চায় না। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা যেমন চিরতরে নষ্ট হয়েছে তেমন তাদের অলসতা এবং খুব সহজে অধিক নম্বর প্রাপ্তির নিশ্চয়তা মনে বাসা বেধেছে। প্রাইভেট পড়ানো আর কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম এ দেশের প্রকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা এখন বিষবাষ্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকদের শিক্ষাখাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অভিভাবকদের সামর্থ্যরে বাইরে। কোচিং বাণিজ্য, ফরম বাণিজ্য এবং ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

এই বিভাগের আরো খবর

নিরাপত্তা পরিষদের উদ্বেগ

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদার বৈঠকে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে সর্বসম্মত বিবৃতিদানের বিষয়টি স্বাভাবিক নিরাপত্তা পরিষদের এ আহবানকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অবিলম্বে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং দ্রুত আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছে মিয়ানমারের প্রতি।

 রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ সহিংসতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গভীর উদ্বেগে বিশ্ব জনমতই প্রতিফলিত হয়েছে। বস্তুত নিরীহ ও নিরস্ত্র এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যেভাবে নিজ দেশের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নির্মম নিপীড়নের শিকার হচ্ছে, তা মানবতার চরম অবমাননা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। জাতিসংঘ মহাসচিব আস্তোরিও গুতেরেস যথার্থই বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর জাতিগত নির্মূল চলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বুঝতে হবে, রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন মানবতা বিরোধী অপরাধের শামিল।

 আন্তর্জাতিক আদালতে এসব অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে এ ব্যাপা রে সোচ্চার হতে হবে। কেননা মিয়ানমারে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হীন প্রচেষ্টা চলছে। অবিলম্বে নৃশংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মায়ানমারকে বাধ্য করাতে হবে। রাখাইন অঞ্চল ঘিরে এর পুনরাবৃত্তি গোটা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদ অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, উত্তেজনা প্রশমন, আইন শৃঙ্খলা পুনঃ প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও শরণার্থী সমস্যা সমাধানের যে আহবান জানিয়েছে, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভূমিকম্পে প্রস্তুতি

জ্ঞানীরা বলছেন, ভূ-গর্ভের গঠন পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে কেঁপে উঠছে পৃথিবী। তার প্রবল ঝাঁকুনিতে লন্ড ভন্ড হয়ে যাচ্ছে জনপদ। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি এমন যে, এর কোনো আগাম সংকেত দেয়া যায় না। ভূমিকম্পের পূর্ব ঘোষণা নেই, আবার প্রতিরোধও নেই। কিন্তু সতর্কতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতিমুক্ত থাকা যায়। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিমালয় অঞ্চলের যে ভূমিকম্প ধ্বংস করে ফেলেছে নেপালকে, তা জাপানের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এ জন্য জাপানকে ভূমিকম্পের দেশ বলা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গড়ে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প জাপানে সব সময় ঘটে। অথচ সেখানে একজন মানুষের মৃত্যু হয় না। ধসে পড়ে না একটা ভবন। হিমালয় ভূতত্ত্ববিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াদিয়া ইন্সটিটিউট অব হিমালয়ান জিয়োলজির গবেষক অজয় পাল বলেন, উৎকৃষ্ট নগর পরিকল্পনাই ভূমিকম্প প্রতিরোধের কার্যকর টেকনিক।

 তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে ভূমিকম্পের জন্য আমাদের প্রস্তুত করতে হবে। আমরা প্রস্তুত থাকলে ৯০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। দুর্যোগ কাউকে বলে কয়ে আসে না। তাই যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রস্তুত থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমরা মনে করি সরকারের প্রস্তুতির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। এগিয়ে আসতে হবে উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও।

আমরা জানি ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়, কিন্তু উপযুক্ত প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। আর প্রস্তুতিহীন থাকা আত্মঘাতেরই নামান্তর। নেপাল, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের ভূমিকম্প সে ক্ষেত্রে আমাদের জন্য ওয়েকআপ কল হয়ে থাকুক। ভূমিকম্প সম্পর্কে আতঙ্কে না ভুগে ঘর বাড়ি যাতে ভূমিকম্প সহনীয়ভাবে তৈরি করা হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। দুর্যোগ-পরবর্তী কঠিন অবস্থা মোকাবিলার জন্য জনশক্তি গড়ে তোলা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্জনও জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা জনগণের ওপর অমানবিক আচরণ বন্ধ করে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে অন্যায়-অবিচার সহ্য করবে না। গত মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমার থেকে আশ্রয়ের জন্য আসা মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের প্রত্যেক নাগরিককে ফেরত নিতে হবে।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমারের শরণার্থীদের পাশে রয়েছি এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাব, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তাদের দেশে ফিরছে আমরা পাশে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মানুষদের ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেয়া হয়। মানুষ উপায় না পেয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। তাই আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্য করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার সরকারেরই সৃষ্টি। এর সমাধানে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কী করণীয়, সেটা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনে।

 এ কমিশন মিয়ানমার সরকারই গঠন করেছিল। আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই কমিশন তার ৮৮ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারে কাঠামো সৃষ্টি এবং মন্ত্রী পর্যায়ে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা আশা করব, মিয়ানমার সরকার সৃষ্ট এই অমানবিক সংকট থেকে উদ্ধার এবং রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে -বিশ্ব সম্প্রদায়কেই এগিয়ে আসতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কম নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও থেকে খবর আসে। প্রশ্ন হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনার পর কেবল আহাজারি ও আফসোসই কি আমাদের জন্য একমাত্র প্রতিকার ? প্রায় প্রতিদিনই এভাবে সড়কে-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবার-পরিজনের কান্না কেবল নয়, পরিবারের সদস্যকে কিংবা নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে সারাজীবন কতজন গুমরে গুমরে কাঁদে এবং জীবনের দায় বহন করে বেঁচে থাকে। একটা পরিসংখ্যান দেখি। সারা দেশে গত আট মাসে ২ হাজার ৪১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৮৭৩ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৪৪ জন নারী ও ৩৮১টি শিশু।

 জানুয়ারি থেকে আগস্ট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার  বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। ২২টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা গত তিন মাসে ধীরে ধীরে কমলেও তা এখনো সহনীয় মাত্রায় নেমে আসেনি।

 তবে এই ধারা অব্যাহত থাকলে জাতিসংঘ ঘোষণা অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০২১ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমরা মনে করি, দেশে বিস্তৃত সড়ক পথে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। চাই ব্যক্তিগত চালকদেরও সচেতনতা। তবে তারও আগে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর

চালের দামে উর্ধ্বগতি

দুই দফা আমদানি শুল্ক কমানোর পরও বাজারে চালের দাম কমেনি, বরং বাড়ছে। কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। গতকাল বগুড়ার বাজারে মোটা চাল আটাশ প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং সরু চাল মিনিকেট ৫২-৫৪, কাঠারি ভোগ ৫৫-৫৬ টাকা বিক্রি হয়। শুল্ক কমানোর পর বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বেড়েছে, কমেছে আমদানি খরচ। সরকারি মজুদও বেড়েছে। কিন্তু কোনভাবেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। গত মাসে চালের শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়। কিন্তু শুল্ক কমলেও দাম কমেনি।

 চলতি বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় চালের দাম বাড়ছিল। কিন্তু তখন সরকার সতর্ক হয়নি। এবার চালের বাজার আমাদের দেখিয়েছে, সরকারের পরিকল্পনায় ঘাটতি যেমন আছে, তেমনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রয়েছে আরো বড় ঘাটতি। এবার বাজারে বছরের শুরু থেকেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সেই অস্থিরতা তুঙ্গে ওঠে হাওড়াঞ্চলে বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির কারণে। ক্রমেই দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরমে ওঠে। এ বছর হাওড় এলাকায় ফসল মার খাওয়াকে অজুহাত হিসাবে নিয়ে চালকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয় চালের দাম।

 বোরো ধান কৃষকদের কাছে যখন ছিল তখন তারা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য হাহাকার করেছেন। সেই ধান চালকল মালিকদের গুদামে যেতে না যেতেই শুরু হয় সাধারণ ভোক্তাদের হাহাকার। দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অসঙ্গতির জন্য চালকল মালিকদেরই পোয়াবারো। তাদের কাছে কৃষক এবং ভোক্তা দুই পক্ষই জিম্মি। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষক ধান উৎপাদন করে তারা প্রতিবছরই উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার কৃষকদের বদলে চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করায় সেখানেও তারা মুনাফা লোটার সুবর্ণ সুযোগ পায়। এবার খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের বেহাল অবস্থা-খতিয়ে দেখতে হবে কে বা কারা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

 

সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ

সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে এখন বাংলাদেশ। ভূ-কেন্দ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সমুদ্র ভিত্তিক এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সৃষ্টি করতে পারে নবজাগরণের। বিশ্বের সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশের ব্লু ওশেন ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। সবার চোখ সম্ভাবনাময় এ বিশাল খাতে। তথ্য মতে, এখনই দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষের জীবনযাত্রা সমুদ্র অর্থনীতির বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমুদ্র সীমায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার ব্যাপক সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, পরিবহন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের বহুমুখী ক্ষেত্র প্রস্তুত।

 সেজন্য সরকারি বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সমুদ্র ও নদী বন্দরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। অ্যাকুয়া ট্যুরিজম প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ, ক্রুজশিপ সার্ভিস চালুসহ নানা কার্যক্রম হাতে নেয়া যেতে পারে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সমুদ্রে ও অপশোর যে জ্বালানি আছে, তা বাংলাদেশ তুলতে পারছে না। সমুদ্র অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আগ্রহ কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচাম) সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম।

 মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এমসিসিআই) জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে সমুদ্র সম্পর্কিত বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটছে। ২০০৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। ২০২০ সালের মধ্যে তা বেড়ে এক লাখ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। বর্তমানে বিশ্ববাণিজ্যের ৮০ শতাংশ সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ হয় সমুদ্রপথে। পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশি জাহাজ যুক্ত হওয়ায় এখাতে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান বাড়ছে। বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠা পানির মাছের বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৭৫ প্রজাতির মাছ। বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮ মিলিয়ন টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন বাংলাদেশের মৎস্যজীবিরা আহরণ করে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত।

এই বিভাগের আরো খবর

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গত সোমবার থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টাতেই বাংলাদেশে ৩৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, তাদের ঘরবাড়িতে আগুন ও নারীদের ধর্ষণ শুরু করে সে দেশের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। রোহিঙ্গাদের পুরোপুরি বাস্তুহারা করতে অগ্নিকান্ড ও হত্যাকান্ডে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় রাখাইনের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও।

 মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে রাজপথে সভা-সমাবেশ হয়েছে। নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান মিয়ানমার নেত্রী অংসান সুচিকে ফোন করে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবিক আচরণ করার আহবান জানান। মায়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মালদ্বীপ। আলোচনার জন্য চলছে দৌড়ঝাঁপ। ইতিমধ্যেই মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী।

 গত বুধবার ঢাকায় এসেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের গণতন্ত্র পন্থী নেত্রী অংসান সুচি রোহিঙ্গাদের প্রতি তার দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর চরম দমন-পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ করতে এবং নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমাজে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আগের মিলিয়ে চার লাখেরও বেশি বলে অনুমান করা হয়। নিজের জনসংখ্যার বাইরে এই বিপুল শরণার্থীর ভার বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। নতুন করে আশ্রয় দেওয়াও খুবই মুশকিল। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রেলক্রসিং নিরাপদ করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটনা প্রতিদিনের। মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের যোগ হয়েছে রেলে কাটা পড়ে মৃত্যু। প্রায়ই সারা দেশের কোথাও না কোথাও রেলক্রসিং সহ রেল লাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু যেমন হচ্ছে, তেমনি ভাবে হতাহতের সংখ্যা কম নয়। একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলও। অথচ রেলক্রসিংগুলোর নিরাপত্তায় জোরদার এবং কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি জাতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সারা দেশে গত সাতমাসে রেললাইনে মৃত্যু হয়েছে ৫৭০ জনের। ট্রেনের নিচে বা ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে তারা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে গত প্রতিদিনই রেল লাইনে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হচ্ছে।

 বেশি দুর্ঘটনা ঘটে উন্মুক্ত রেল ক্রসিংয়ে। জানা গেছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মোট ১ হাজার ২৪৯টি রেলক্রসিংয়ের ১ হাজার ২৮ রেলক্রসিং সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এ অঞ্চলে সুরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা মাত্র ১২১টি। আর্থিক সংকটের কারণে রেল কর্র্তৃপক্ষ এগুলোর সবকটিতে এখনো পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি। ফলে ক্রসিংগুলোতে নেই কোনো গেটম্যান, এমনকি এসব গেটে কোন গেট ক্যারিয়ারও নেই। নেই ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেমও। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যেমন রেলপথে চলছে রেল, তেমনিভাবে রেলক্রসিং পার হচ্ছে শত শত মানুষ ও যানবাহন।

 আর এই ঝুঁকির মুখে রেলক্রসিংগুলোতে পরিণত হয়েছে এক একটি মৃত্যু ফাঁদে। একদিকে রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা লোকজন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না, অন্যদিকে যানবাহনের চালকরা রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে সাবধান। পথচারীর ক্ষেত্রেও তাই। অন্য মনস্ক হয়ে রেল লাইন পার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা কবলিত হন। সবার সচেতনতা ও সহযোগিতায় দুর্ঘটনারোধ হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

কর্মস্থলে ফেরা নির্বিঘœ হোক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের ছুটির পর ঢাকামুখী যাত্রীরা প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই যানজটে পড়ে নাকাল হচ্ছেন। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে গত শুক্রবার রাত থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। মহাসড়কের যে সব এলাকায় খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে সেখানে খুব ধীরে বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। এর ফলে হাজারো যাত্রী দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। টাঙ্গাইলের করোটিয়া সহ শুক্রবার রাতে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় শত শত যানবাহন আটকে থাকার কথা যাত্রীরা জানিয়েছেন।

 টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীর গতিতে চলছে। এক যাত্রী জানান তিনি শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ১৪ ঘন্টা ভোগান্তির পর তিনি সাভারের জিবানি পৌছেছেন। পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলের দিকে ফিরতি এমন হাজারো মানুষের যানজটে নাভিশ্বাস উঠেছে। আরেক যাত্রী জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত শত শত যানবাহন প্রায় ১১ ঘন্টা ধরে যানজটে আটকে ছিল। এর মধ্যে শুধু করোটিয়াতেই ছয় ঘন্টা যানজট লেগে ছিল। আপনজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে যারা নাড়ির টানে আপন ঠিকানায় গিয়েছিলেন তারা রাজধানীতে ফিরছেন শুক্রবার থেকে।

 এখন রাজধানী কিংবা প্রধান প্রধান নগরমুখী যানবাহন সাধারণ সময়ের চেয়ে যেমন বেশি ভিড় থাকবে তেমনি সড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে মারাত্মক যানজটের প্রবণতা। এ ছাড়া অতিবৃষ্টি ও বন্যায় এবার সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তাগুলো খানা খন্দকে ভরে গেছে। বন্যাত্তোর রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজও শুরু হয়ে গেছে। রাস্তায় এসব কাজ অনেক সময় যানজট তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের যারা দায়িত্বশীল তারা সতর্ক থাকলে যানবাহন চালকদের সামাল দেয়া সম্ভব হবে। হ্রাস পাবে দুর্ঘটনার আশংকা। কর্মস্থলে ফেরার যাত্রা নির্বিঘœ করতে তারা সাধ্য অনুযায়ী অবদান রাখবেন আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

এই বিভাগের আরো খবর

আবারো বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষ করেছে। পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। এই প্রস্তাবের ওপর ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে গণশুনানি শুরু হবে। ২০১০ সালের ১ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সব সময়ের অজুহাত হচ্ছে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। আর সেই উৎপাদন খরচ যে সরকারের নীতির কারণে বাড়ছে, তা তো প্রায় সর্বজনস্বীকৃত। আর তার দায় নিতে হচ্ছে দেশের ভোক্তা সাধারণকে। এবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আগের যুক্তির কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। মূলত লোকসান এড়ানোর যুক্তি থেকেই দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 এমন গতানুগতিক যুক্তি আগেও দেখানো হয়েছে। কিন্তু সিস্টেম লস ও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে লোকসান কমিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখছি না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এটাও ঠিক যে, লোকসান দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকতে পারে না। তবে বিদ্যুতের এই মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব যে সর্বত্র পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়, দেশের সর্বত্র উৎপাদন নির্ভর করে বিদ্যুতের ওপর। কাজেই  বাজারে এর প্রভাব পড়বে। ক্যাব বলছে, দাম বাড়ানোর বর্তমান প্রক্রিয়া অযৌক্তিক।

 কারণ, বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ অনুসরণ করছে না, বরং বেশি দামের তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ফার্নেস তেলের দাম বাজার দর অনুযায়ী করে দিলেও উৎপাদন ব্যয় অনেক খানি কমত। ভোক্তা পর্যায়ে এই বোঝা বহন করতে হবে। কাজেই বিদ্যুতের মূল্যভার এখনই চাপিয়ে না দিয়ে আরেকবার বিবেচনার সুযোগ আছে কিনা, সেটা ভেবে দেখতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

খুন-ধর্ষণ বেড়েছে

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকদের ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। এ ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফলে ঈদের আগের দিন। আর ঈদের ছুটির তিন দিনে ওই কিশোরীসহ দেশের নানা স্থানে পাঁচজন ধর্ষণের শিকার হয়। সাত বছরের শিশুকেও ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। একই সময় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০ জন খুন হয়েছেন। ঢাকায় যুবলীগ নেতা-কর্মিদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমানকে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

 জামালপুরে প্রেক্ষাগৃহে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালানোকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছে নবম শ্রেণির ছাত্র মমিনুর রহমান। বগুড়ায় খাওয়ার পর বিল চাওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে মুশফিকুর রহমান নামের হোটেল ব্যবস্থাপক খুন হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে পুলিশের কনস্টেবল মাহমুদ সুমন খুন হয়েছেন। এসব খুনের বেশির ভাগের কারণ রেষারেষি ও আধিপত্য বিস্তার। ধর্ষণ ও খুনের যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে আশংকার ব্যাপার হচ্ছে, অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি।

 অর্থবিত্ত, রাজনৈতিক প্রতিপত্তি-সবকিছুকে খাটিয়ে, ব্যবহার করে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের অপরাধ চিত্র এবং অপরাধের মাত্রা ও পরিমাণ দেখে শংকিত না হয়ে পারা যায় না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই এই সমাজের বসবাসযোগ্যতা বিনষ্ট হবে। দেশ অপরাধীদের অভয়ারন্যে পরিণত হবে। তাই বিষয়টি এখনই দেশের নীতি নির্ধারক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী ও সচেতন নাগরিকদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। অপরাধীরা যেন কোনক্রমেই রাজনৈতিক প্রশ্রয়-আশ্রয় না পায়। পাশাপাশি পুলিশের কার্যকর ভূমিকা বাড়াতে হবে। অপরাধীদের বিচার হতে হবে। শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

চামড়া পাচারের আশংকা

কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া পাচারের আশংকা করছেন উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিক সিন্ডিকেটের কারসাজিতে টানা তৃতীয় বছরেও চামড়ার দামে ধস নেমেছে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় দুই হাজার চামড়া ব্যবসায়ী এবার টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারেননি। চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় কোরবানির সময় দুই থেকে আড়াই লাখ পিস চামড়া আমদানি হয়।

সে হিসেবে প্রতি বছর কোরবানির সময় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ পিস গরুর চামড়া হয়। চামড়ার নিয়ন্ত্রণ এখন বড় বড় কয়েকজন ট্যানারি মালিকের হাতে। ট্যানারি মালিকরা চামড়া সংগ্রহে তেমন আগ্রহ দেখান না। আড়তদারদের শত শত কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া। যে সামান্য মূল্যে এবার চামড়া কিনেছেন আড়তদাররা তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য ভারতে পশুর চামড়া।

 চামড়া ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা দাম নির্ধারণ করেছে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা। গরুর চামড়ার বেচাকেনা ছিল ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা। সূত্র আরো জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে একটি গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার ওপর। এ ছাড়া খাসির চামড়া কেনা হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। ভারতে এই চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার ওপরে। ফলে ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামে ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে পারবেন না। তাই ভারতে চামড়া পাচার হওয়ার আশংকা করছেন কউ কেউ বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে।

 আমরা আশা করব চলমান সংকটে দেশ থেকে কাঁচা চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ প্রয়োজন। এবার কারসাজি করে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশেই লবণ উৎপাদন বা পর্যাপ্ত লবণ আমদানি করার ব্যবস্থা আগেই গ্রহণ করতে হবে। যাতে কেউ অজুহাত সৃষ্টির সুযোগ না পায়। সীমান্তেও কড়া নজরদারি রাখতে হবে যাতে এখান থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ওপারে পাচার না হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

বাংলাদেশের উন্নয়ন

পরিবেশকে ভিত্তি করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই হলো টেকসই উন্নয়ন। এই উন্নয়নের অনেক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে মানুষের বাঁচার ন্যুনতম প্রয়োজন, যেমন – খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষার প্রয়োজন মিটিয়ে জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি করা, গ্রাম উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া, যাতে গ্রামের সব মানুষ শহরের দিকে না আসে। সুষম ভূমি ব্যবহার ও তা নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা আনা, আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পুনর্বন্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ। ভূমির ক্ষয়রোধ, নদী ভাঙন, জমির উর্বরতা রক্ষায় আমাদের তেমন কোন অগ্রগতি নেই। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে আমাদের জমি বসত ভিটা। কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। বিশ্বে প্রতি বছর ৩৪ লাখের মতো মানুষের মৃত্যু ঘটে বিশুদ্ধ পানির অভাবজনিত রোগের কারণে।

 এসব সমস্যার পাশাপাশি আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব জাতির হাতে রয়েছে পর্যাপ্ত বৈষয়িক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ। পারস্পরিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এ সুবিধা আমাদের কাজে লাগাতেই হবে। মানবজাতির এ সম্মিলিত অভিযাত্রায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এ সব মৌলিক সমস্যা সমাধানে জরুরিভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে – যা ইতিমধ্যে বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 প্রতি বছর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অনিয়ম-অপচয় ধরা পড়লেও এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হয় না। এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এ জন্য দুদককে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। আমরা মনে করি সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌছতে জাতীয়ভাবেও নিতে হবে সমন্বিত পরিকল্পনা। আর তা বাস্তবায়নে চালাতে হবে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টা। দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে ১৬ কোটি মানুষকেই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যতœবান হতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয় সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ গড়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এসব দুর্ঘটনার কারণে বছরে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশ হারাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআর আই) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কগুলোতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং চালকদের দক্ষতা বাড়াতে তাদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয় দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষতি ও দুর্ঘটনা থেকে সৃষ্ট যানজট অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। দুর্ঘটনা হ্রাসে সরকার পদক্ষেপ নিলেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার সমন্বয়হীনতার অভাবে এক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না।

 শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও সচেতনতার উপর জোর দিতে হবে। গতি নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনায় যানবাহনের গতি পর্যবেক্ষণে আধুনিক স্পিড ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কে নজরদারির জন্য স্থায়ী লোকবল নিয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও সেবাদানের জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জাতীয়ভাবে বাংলাদেশের নানা অর্জন থাকলেও সড়কের নিরাপত্তা বিধানে দেশটি পিছিয়ে আছে। সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাসে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দেশে বিস্তৃত সড়কগুলোকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করতেই হবে। এর বিকল্প নেই।

এই বিভাগের আরো খবর

জঙ্গিবিরোধী অভিযান

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও একটি জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার জঙ্গি আস্তানা থেকে বুধবার নারী শিশু সহ সাতজনের দগ্ধ ও ছিন্ন ভিন্ন মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। দু’দিন ধরে ধরে ঘিরে রাখা ‘কমল প্রভা’ নামের বাড়িতে গড়ে ওঠা ওই জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর গত বুধবার সকাল থেকে ধ্বংসস্তুপে তল্লাসি চালিয়ে এই সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

র‌্যাবের ধারণা অনুযায়ী, ওই সাতজন হলেন, সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্য আব্দুল্লাহ তার দুই স্ত্রী নাসরিন ও ফাতেমা, তিন থেকে নয় বছর বয়সী দুই ছেলে এবং আব্দুল্লাহর দুই কর্মচারি, যাদের নাম জানা যায়নি। দেশে জঙ্গি আস্তানায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে তেমনি জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় প্রাণহানির বিষয়টিও এসব ঘটনার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।

 জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় এ পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের মানুষের শত শত বছর ধরে পালন করা উদার ধর্মীয় চেতনার পরিপন্থী। শান্তির ধর্ম ইসলামের সঙ্গে অশান্তি ও অকল্যাণের অপচর্চাকারীদের যে দুরতম সম্পর্ক নেই তা সহজে অনুমেয়। ইসলামে আত্মঘাতী হওয়াকে কবিরা গুনাহ বা গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং কোনো অবস্থায় তা অনুমোদনযোগ্য নয়।

আমরা আশা করব, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতার ভূমিকায় অবতীর্ণ জঙ্গিবাদের অনুসারীদের দমনে সরকারের কড়া মনোভাব আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জঙ্গিদের ব্যাপারে নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা ও তাদের নির্মূলে লাগসই ব্যবস্থা গ্রহণই পারে দুষ্টক্ষত থেকে সমাজকে মুক্ত করতে। সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দেবে- এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পানির দরে কোরবানির পশুর চামড়া

ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার বেহাল অবস্থা।  একদিকে লবণের দাম বেশি, আরেক দিকে চামড়ার দাম কম। আছে সিন্ডিকেট ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরিব মানুষ। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছে কেউ কেউ। দাম কম হওয়াতে চামড়া পাচারের আশংকাও রয়েছে। এবারের কোরবানির পশুর চামড়া গত বছরের অর্ধেক দামে বিক্রি হয়েছে। চামড়ার যে দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, বেশির ভাগ জায়গায় তার চেয়ে অনেক কম দরে বেচাকেনা হয়েছে। এবারের দর ছিল এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন।

 এর ফলে কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ যেসব দরিদ্র মানুষ পান, তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও ভালো দাম  পাননি। বগুড়ায় প্রতিটি গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০-৪৫ টাকা নির্ধারণ করা ছিল। খাসি ছিল ১৫-২০ টাকা। কিন্তু গরু যত দামিই হোক বা যত বড়ই হোক চামড়া বিক্রি হয়েছে ১ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে।

 বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বিটিএ আশংকা প্রকাশ করে বলেছে, এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে। এ জন্য আগামী এক মাস যাতে চামড়া পাচার না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। চামড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেছে, অন্য বছরের তুলনায় এবার ৩০ শতাংশ কাঁচা চামড়া কম হয়েছে।

 তবে জোগান কম থাকলেও দাম বাড়েনি চামড়ার। নানা অজুহাতে ন্যায্য মূল্য থেকে এবারও বঞ্চিত হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের চামড়া বিক্রেতারা। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বেশ কম দামে চামড়া কিনে চড়া দামে বড় ব্যবসায়ীরা আড়তদারের কাছে বিক্রি করেছেন। কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা মাঠ পর্যায় থেকে বেশি দামে কিনে আড়তে কম দামে, অর্থাৎ লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

চালের বাজারে অস্থিরতা

চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। অব্যাহত চালের মূল্য বৃদ্ধি, বিশেষ করে মোটা চালের দর বাড়তে থাকায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে। বছরের শুরু থেকে মোটাসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। যে মোটা চাল বিক্রি হতো ৩৪-৩৬ টাকা সেটাই বেড়ে আজ কয়েক মাস হলো ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বললেন বিদেশ থেকে আমদানি করা চাল এসে গেলে দাম কমে আসবে। কিন্তু আমদানি করা চাল বাজারে এলেও দাম কমেনি। দাম বৃদ্ধির পর থেকে শুল্ক কমিয়ে বেসরকারি ভাবে চাল আমদানি, সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে চাল কেনা সহ সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে আসছে না চালের দাম। একবার গেল হাওড়ের বন্যা।

 ধানের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আবার চলছে অতি বৃষ্টি আর উজানের  ঢলে আগাম বন্যা। দেশের বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে তাতে ধারণা করা যায় আমাদের হাতে মজুদও পর্যাপ্ত নেই। আমাদের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা শুনে ভারতসহ চাল আমদানিকারক অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে। এ জন্য আমাদের দায়-দায়িত্ব রয়েছে। কারণ হাওড়ের বন্যার পর সরকার যখন বিদেশ থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় তখন চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

 সেই চিঠিতে বাংলাদেশের সংকট, কী পরিমাণ চাল কেনা হবে তার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার সহ সবগুলো দেশ চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। এমন বার্তা দেওয়ায় দেশগুলো দাম বাড়িয়ে দেয়। আমদানির চাল বাজারে ঢুকতেও সময়ের প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ আর যাতে না বাড়ে, সে জন্য চালের দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

আতঙ্কের নাম সড়ক

গত শুক্রবার থেকে গত সোমবার পর্যন্ত চার দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে, কলেজ ছাত্র ও স্কুল শিক্ষকসহ নিহত হয়েছে অন্তত ৪০জন। এর মধ্যে বগুড়ায় কলেজ ছাত্রসহ ২ জন নিহত হয়েছে। পরিবারের যে কারও স্বাভাবিক-অস্বাভাবিক মৃত্যুই মেনে নেওয়া কতটা কঠিন, আমরা জানি। বস্তুত প্রায় প্রতিদিনই সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের পরিবার-পরিজনের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। কেবল একদিনের কান্না নয়। পরিবারের সদস্যকে কিংবা নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে সারাজীবন কতজন গুমরে গুমরে কাঁদে এবং জীবনের দায় বহন করে বেঁচে থাকে, কে তার খবর রাখে।

 বিপুল বিনিয়োগ, সতর্কতা, আলোচনা সত্ত্বেও আমাদের সড়ক পথ এখনও কতটা অনিরাপদ, এটা তার খন্ড চিত্র। আমরা জানি, গত কয়েক দশকে সড়ক নেটওয়ার্ক দেশের মহানগরী থেকে আনাচে-কানাচে বিস্তৃত হয়েছে, দিনের পর দিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা এবং নাগরিকদের চলাচল, কিন্তু সেই অনুপাতে সড়ক পথের নিরাপত্তা যে বাড়ানো সম্ভব হয়নি, তার প্রমাণ প্রায় প্রতিদিনই পেতে হচ্ছে মূল্যবান জানমালের বিনিময়ে। সড়ক নিরাপত্তাহীনতার এই সার্বিক চিত্রের কারণ সাধারণভাবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, লেন না মানা, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিযুক্ত যানবাহন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সড়কের বিপজ্জনক বাঁক বা খানাখন্দ দায়ী থাকে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকদের বেপরোয়া আচরণ দায়ী হলেও চালকদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই।

 আইনের ফাঁক গলিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেও দায়ী যানবাহন চালকরা পার পেয়ে যায়। আমরা চাই না, কারো জীবন এভাবে ঝরে যাক। কারো আনন্দ শোক ও বিষাদে রূপ নিক। কেউ স্বামী সন্তান হারা হোক। অথবা কেউ স্ত্রী কিংবা ভাইবোন হারা, পিতা-মাতা হারা। আলোচনা হয় রাস্তার অবস্থা নিয়ে, চালকদের বেপরোয়া চালানোর বিষয় নিয়েও। এসব উদ্যোগের দরকার আছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এসব কার্যকর করা। সবাইকে বুঝতে হবে সময়ের চেয়ে জীবনের দাম বেশি। সড়ক পথগুলোকে নিরাপদ করে মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি বাড়াতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ করো

মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা দলে দলে আসছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হিসাব অনুযায়ী গত ১২ দিনে বাংলাদেশে ৯০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। তবে বেশির ভাগই বিভিন্ন সংস্থা ও স্থানীয়দের মতে, এ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি। আইসি’র মুখপাত্র অনিতা শাগ সোমবার বলেন, ২০১২ ও গত বছর অক্টোবরে রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের চেয়ে এবারের হত্যাযজ্ঞের মাত্রা আরো ভয়াবহ আকারে ছাড়িয়ে গেছে। রাখাইনে যা ঘটছে তা পরিষ্কার ঠান্ডা মাথায় ধীরে গণহত্যা।

 এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি এর আগে কখনো হয়নি। অনিতা শাগ বলেন, গত রোববার রাখাইনের সগাপাড়া গ্রামে কমপক্ষে ৯শ থেকে ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়। ওই গ্রামে মাত্র একটি বালক বেঁচে আছে। গ্রামটি বাথেডাং শহরের কাছে। অনিতা শাগ সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। শাগ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনি কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে জাতিসংঘের, তা না হলে রাখাইনে কোনো রোহিঙ্গা অবশিষ্ট থাকবে না। মিয়ানমারের সংখ্যা লঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। মালদ্বীপ দেশটির সঙ্গে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

 আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মিয়ানমারে আরাকান বা রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা বন্ধ করতে মিয়ানমারকে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। আমরাও চাই সেখানে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ বন্ধ হোক। ঐতিহ্যগতভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি এ দেশের মানুষের সহানুভূতি রয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বোরোর পর আমনেও বন্যার ধাক্কা

বোরোর পর এবার আমন ও আউশে বন্যার বড় ধাক্কা লেগেছে। বোরোতে শুধু হাওরের ফসল ডুবে নষ্ট হয়েছিল। আর এবার দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে মাঠের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ধানের সঙ্গে ডুবেছে সবজিও। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৪০ জেলায় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এবার প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে তিনটন করে চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে তলিয়ে যাওয়া জমিতে অন্তত ২৩ লাখ টন চাল হওয়ার কথা ছিল। এর অর্ধেক ধানও নষ্ট হলে এবার আমন ও আউশে কমপক্ষে ১০ লাখ টন চাল পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বোরো মৌসুমে হাওরে ১০ লাখ টন চাল কম হয়েছিল।

তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে তা ২০ লাখ টন ও চালকল মালিক সমিতির হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টন। তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে  গেলেই তাদের বিনামূল্যে বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হোক। হাওড়ের ৬ লাখ কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। খুব দ্রুত তাদের হাতে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বোরো ও আমন-আউশ মিলিয়ে এবার দেশে ধানের বড় ধরনের ঘাটতি হবে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার এ পর্যন্ত চারটি দেশের সঙ্গে চাল আমদানির সমঝোতা স্মারক ও আমদানি চুক্তি করলেও এখন পর্যন্ত খুব সামান্য পরিমাণে চাল এসেছে।

 খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গত সোমবারের খাদ্য শস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৪৬ হাজার টন এবং বেসরকারিভাবে ২ লাখ ৬২ হাজার টন আমদানি হয়েছে। আর সরকারি চালের মজুদ বর্তমানে ২ লাখ ৯৫ হাজার টন। গত বছর একই সময় মজুদ ছিল প্রায় সাত লাখ টন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বোরো ও আমন মিলিয়ে মোট চাল উৎপাদনের ১০ শতাংশ এবার কম উৎপাদন হতে পারে। ফলে চালের দাম নিয়ে গরিব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে মজুদ বাড়ানো।

এই বিভাগের আরো খবর

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একজন কলেজ ছাত্রীকে যেভাবে চলন্ত বাসে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার পাঁচজন গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে তা আমাদের একই সঙ্গে স্তম্ভিত, উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ না করে পারে না। সমাজ যেন ক্রমেই বর্বতার চরমে চলে যাচ্ছে। দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর বিভৎস কায়দায় খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। স্থানে স্থানে কিছু প্রতিবাদ হলেও ব্যাপক অর্থে গণপ্রতিরোধ গড়ে উঠছে না। উচ্চ শিক্ষিত তরুণী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে এবার প্রাণ দিতে হয়েছে কিছু নরপশুর হাতে। রূপা বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করে ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজে এলএলবি পড়ছিল।

 পাশাপাশি ময়মনসিংহে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি বগুড়া গিয়েছিলেন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে। এরপর ময়মনসিংহ ফেরার পথে টাঙ্গাইল মধুপুর অঞ্চলে বাসের মধ্যে তিনি ধর্ষিতা হওয়ার পর ওই নরপশুদের দ্বারা খুন হন। আমাদের মনে আছে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে এ ধরনের প্রথম অপরাধের খবরে দেশে তোলপাড় হয়েছিল। কিন্তু মন্দের ভাল যে তাকে হত্যা করা হয়নি। এই আশংকা অমুলক নয় যে, আগের ধর্ষণের ঘটনাগুলোর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতেই দুর্বৃত্তদের দুঃসাহস বেড়ে চলেছে।

 আল্লাহর আরশ কাঁপানো এ পৈশাচিক ঘটনার পর পুলিশ তরুণীর পরিচয় উদ্ধার করতে না পেরে পরদিন শনিবার তার লাশ দাফন করে। সোমবার রাতে রূপার ভাই তার নিখোঁজ বোনের খোঁজে মধুপুর থানায় আসে এবং রূপার পরনের সালোয়ার কামিজ দেখে নিজ বোন হিসেবে সনাক্ত করে। পুলিশ ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত বাস চালক পাঁচ নরপশুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের তিনজন তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। স্মর্তব্য টাঙ্গাইলের মধুপুর সড়কে গত বছরের মার্চে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন গার্মেন্ট কর্মি। আমরা আশা করি, রূপা হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে এবং ধর্ষণকারীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

কর্মস্থলে ফেরা নির্বিঘœ হোক

ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ট্রেন-বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ফিরতি মানুষের ভিড় বাড়বে। রাজধানী ঢাকা আবার ফিরে পাবে তার পুরানো রূপ। বছরে দুটি ঈদ মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব। কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে যে যেখানেই থাকুক না কেন, ছুটির দিনে অন্তত তারা নিজ নিজ পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরে যায়।

এবার ঘরমুখো মানুষদের প্রচন্ড যানজটের মুখে পড়তে হয়। রাজধানী থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে সড়কপথে ২০-২৫ ঘন্টা লেগে যায়। বৃহস্পতিবার একটি পরিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে ৭টায় বগুড়াগামী বাসে উঠে শুক্রবার বিকেল চারটায় বগুড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয় যাত্রীরা। যে কোন দুর্ঘটনা মানেই যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা নয়। নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া।

 ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের নিরাপত্তাও রাখতে হবে তীক্ষ্ম নজরে। ঈদে কর্মস্থলে ফেরার পালায় সড়ক ও নৌপথে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে সরকার সক্ষমতার পরিচয় দেবে বলে আমরা আশা করি। সড়কপথে কোথাও যাতে যানজটের সৃষ্টি না হয় সে জন্য নজর রাখতে হবে। ফেরি চলাচল নির্বিঘœ রাখতে দিতে হবে বাড়তি নজর।

 আমাদের দেশে ঈদ উৎসব উপলক্ষে মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ে ছুটিতে বাড়ি যাওয়া এবং কর্মস্থলে ফেরা। সড়ক, নৌ ও রেলপথে মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। এর টিকিট সংগ্রহ এবং বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়াটা নির্বিঘœ হওয়া সবাই আশা করে। কিন্তু এটা সম্ভব হয়ে উঠে না। টিকিট সংগ্রহে বিড়ম্বনা এবং যাত্রাপথে যানজট-মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে। আমরা চাই আগামী বছর ঈদের আগেই এখনকার সমস্যাগুলো আর থাকবে না-সে মনোভাব নিয়ে কাজ করুন। ফিরতি যাত্রা নির্বিঘœ হোক।

এই বিভাগের আরো খবর

পবিত্র ঈদুল আজহা

একবছর পর আবার পৃথিবীর মুসলমানদের সামনে হাজির হয়েছে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার দিন ঈদুল আজহা। ইসলাম সাম্যের ধর্ম, ধর্মীয় উৎসব ও আচার অনুষ্ঠানাদি পালন করা মুসলিম উম্মাহর এক অনিবার্য অংশ। এ উৎসব একদিকে যেমন মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতা জাগ্রত করে অপরদিকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে খোদার অপার করুণা লাভের পথ প্রশস্ত  করে। পবিত্র এই দিনটিতে আল্লাহর রাহে প্রিয় জিনিস হিসেবে পশু উৎসর্গ করা হয়। কোরবানির ভেতর দিয়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে অগ্রসর হয় মুসলিম সম্প্রদায়। কোরবানির অর্থ হচ্ছে উৎসর্গ করা।

 পশু কোরবানি হচ্ছে তার মাধ্যমে। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূর্ত হয় মানুষের জীবনে, তার জন্য চায় ত্যাগ স্বীকারের এক প্রতীকী আচার এই কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ উৎসর্গ  করা। আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী হজরত ইব্রাহিম (আ)এর আনুগত্য পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে।

স্নেহের পুত্র হজরত ইসমাইল (আ) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ) এর সবচেয়ে প্রিয়। স্নেহ মমতায় ভরা জগত-সংসারে পিতার পক্ষে আপন পুত্রকে কোরবানি দেওয়া অসম্ভব এক অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ) বিনা দ্বিধায় আপন পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

 মহান আল্লাহর নির্দেশে ছুরির নিচে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ) এর স্থলে কোরবানি হয়ে যায় একটি দুম্বা। এই প্রতীকি ঘটনার অন্তর্নিহিত বাণী স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকার। ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা। পশু কোরবানি করা হয় প্রতীকী অর্থে। আসলে কোরবানি দিতে হয় মানুষের সব রিপুকে- কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পর নিন্দা, পরশ্রীকাতরতা।

 সৎ পন্থায় উপার্জিত অর্থের বিনিময়ে কেনা পশু কোরবানির মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে আল্লাহর ঘোষণা- পশুর রক্ত  বা মাংস নয়, তার কাছে পৌছে বান্দার তাকওয়া। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের উৎস মহান। আল্লাহ। আল্লাহর নির্দেশনানুযায়ী জীবন গড়ার মধ্যেই রয়েছে কোরবানির আসন মাহাত্ম্য। ঈদ সবার জন্য। সবার অংশগ্রহণে ঈদুল আজহা হয়ে উঠুক আনন্দময়। সবাইকে ঈদ মোবারক।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top