দুপুর ২:৪৩, শুক্রবার, ২৩শে জুন, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

দেশের মানুষ এক নতুন ধরনের জ্বর চিকনগুনিয়ার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে, খুব বেশি দিন নয়। বিলম্ব হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে রোগটির আদ্যোপান্ত জানাতে এগিয়ে এসেছে বা স্বস্তিকর। জ্বরের কারণও জানা গেছে। এডিস মশার বদৌলতেই এই রোগটি দেখা দিচ্ছে। চিকনগুনিয়া এখন ঘরে ঘরে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই কষ্টকর ভাইরাসে। আমরা জানি, এরই মধ্যে সংবাদ মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন, এতে আক্রান্ত হলে প্রায় সাধারণ জ্বরের মতোই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঘন ঘন তরল খাবার খাওয়া জরুরি।

 চিকিৎসকের পরামর্শও প্রযোজ্য, বলা বাহুল্য। এও আমরা জানি এই রোগ ডেঙ্গুর মতোই মশা থেকে ছড়ায়। ফলে নাগরিকদের দায়িত্ব হচ্ছে, মশার জন্ম হয় ঘরের আশ পাশে এমন পানি-জমা পাত্রগুলো পরিষ্কার রাখা এবং মশারি বা কয়েল ব্যবহার করা। এক সময় এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু ভাইরাস জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বছর আটেক আগে দেশে চিকনগুনিয়া ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তখন এ রোগ নিয়ে তেমন উচ্চ বাচ্য না হলেও গত মে মাস থেকে এ রোগের প্রকাশ ব্যাপক হারে বেড়েছে।

 আমরা মনে করি, চিকনগুনিয়া পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আগেই মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগির শরীরের অস্থি সন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, এমনকি ফুলেও যেতে পারে। জ্বর সাধারণত ২ থেকে ৫ দিন থেকে এবং এরপর নিজ থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে জ্বর চলে যাওয়ার পরও তীব্র অবসাদ এবং ব্যথা কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে।

 এই জ্বরে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। তবে এডিস মশা থেকে নিজেদের নিরাপদে রাখাই জরুরি। পাড়া-মহল্লায় এ ব্যাপারে প্রচারণা চালাতে হবে। সবাই মিলে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হলে চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা। এমনকি নির্মূলও কঠিন হতে পারে না। আশ পাশের নালা ও জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবনাযুক্ত রাখা আমাদের সবার স্বাভাবিক ও সাধারণ দায়িত্ব মনে রাখতে হবে।

 

আবারও বাংলাদেশি হত্যা

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী তথা বিএসএফ’র বাংলাদেশি হত্যা কোনোভাবেই থামছে না। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক নেতাই এই হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিশ্রুতিই কাজে আসছে না। সেগুলো যেন কেবলই কথার কথা।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বেলা এগারটার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের খোশালপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সীমান্তের ওপারে নদীয়া জেলার কুমারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।


 বিএসএফ’র গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দেয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে বহু আলোচনা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভারতের তরফে উচ্চ পর্যায় থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতি গুলি চালাবে না। তারপরও গুলি করছে বিএসএফ’র সদস্যরা। শুধু তাই নয়, তারা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে অনেক।


 কেউ বেআইনীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করলে তাকে সে দেশের আইনামলে আনার অধিকার সর্বস্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত যে বর্বর আচরণ করে তা মেনে নেওয়া যায় না। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিদ্যমান বাস্তবতা অস্বীকার কিংবা এড়িয়ে গিয়ে নয় বরং সীমান্ত হত্যার মতো অমানবিক ও বেআইনি ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে ভারত সরকারকে।

 নিতে হবে সীমান্তে বিএসএফ’র স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ। এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা ভারত সব সময় নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সাফাই গায়, দুঃখজনক হলেও সত্য অনেক সময় আমাদের কোন কোন কর্মকর্তা নির্লজ্জভাবে ভারতের সুরে সুর মেলান।

দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এমন লজ্জাজনক সাফাই গাওয়া বন্ধ করতে হবে। ভারত সরকারকে তার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এই বর্বর কর্মকান্ড বন্ধে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। নতুবা এই হত্যাকান্ড বন্ধ করা যাবে না।

বরকতময় শবে ক্বদর

পবিত্র লাইলাতুল কদর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এক মহিমান্বিত রাত হিসেবে আরাধ্য ও স্বীকৃত। হিজরি সালের রমজান মাসেই এ দিনটি মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত ও রহমত হিসেবে প্রতি বছরই ফিরে আসে। মুসলিম বিশ্বে এ রাতটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়।

কঠিন সিয়াম সাধনার মধ্যেও বিশেষ ইবাদত ও অধিক সওয়াবের আশায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে রাতটি। ইসলামের ইতিহাসে ও জীবন ধারায় এ রাতটির গুরুত্ব অপরিসীম। রমজান মাসে হজরত মুহাম্মদ (স) এর ওপর পবিত্র ঐশীগ্রন্থ কোরআন নাজিলের যে বর্ণনা রয়েছে, তা প্রথম ঘটে এ রাতে। লাইলাতুল কদরকে কেন্দ্র করে কোরআনে কদর নামে আলাদা একটি সুরাই এর মহিমা প্রকাশ করছে। হাদিসেও পেয়েছে সবিশেষ গুরুত্ব।

 হাদিস মতে, রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় যে কোনো দিনগত রাতই শবে কদর। তবে ২৬ রমজান পালন করার পর দিন শেষে রাতটি কদর হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সে হিসেবে আজ দিনগত রাতই পবিত্র শবে কদর। অনাগত সময়ের চেয়ে এ রাতের ইবাদতের সওয়াব ও ফজিলত হাজারগুণ বেশি বলে বিশ্বাস করা হয়।

এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত-বন্দেগির সমতুল্য হিসেবে খোদাতালার কাছে আদৃত। মুমিন মুসলমানদের জন্য এ রাতটি তাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ রাতে যিনি নিজেকে যত বেশি ইবাদত বন্দেগিতে নিয়োজিত রাখবেন, তিনি তত বেশি সওয়াল হাসিল করবেন।

 গুনাহ থেকেও মাফ ও মুক্তি চাইতে হবে। কারণ লোভ-লালসায়, হিংসা-বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব সংঘাতপূর্ণ জীবনে মানুষ প্রতিদিনই অনেক গুনাহ ও অপরাধ করে চলেছে। অন্যদিকে ফেরেস্তাদের মাধ্যমে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন গুনাহগার বান্দাদের মাফ করে দেয়ার।

ব্যাভিচারী ও মুশরিক ছাড়া বান্দাদের সব নেক বা ভালো আশা আকাঙ্খার এই রাতে তিনি পূরণ করেন। এমন একটি সুযোগকে অবশ্যই হাতছাড়া করা যায় না। কারণ মনে ইবাদত ও ভালো কাজের স্পৃহা তৈরি হলে কারও পক্ষে খারাপ কাজ বা গুনাহ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। আমরা মনে করি, পূণ্যময় রাতে আত্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানুষ মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার প্রতিজ্ঞা করতে পারলেই সার্থক হবে এ রাতের ইবাদত।

 

মহাসড়কে ভোগান্তি এখনই

ঈদে ছুটির আগে শেষ কর্ম দিবস আগামী বৃহস্পতিবার। ধারণা করা হচ্ছে সেদিনই শুরু হবে ঈদযাত্রা। তবে এর এক সপ্তাহ আগেই মহাসড়কে শুরু হয়েছে দুর্ভোগ। গত শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ছিল যানজট।

চার থেকে পাঁচ ঘন্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের। যেসব স্থানে সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে, সেখানেও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন মহাসড়কে ভাঙন ও গর্ত দেখা দিয়েছে। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে। মহাসড়কের ভাঙা অংশে কাদা পানিতে গাড়ি চলছে হেলে দুলে।


যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত মোজাম্মেল হক বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটের মূল কারণ গোমতি ও মেঘনা সেতু। গত শুক্রবার গোমতী সেতুতে নতুন ওয়ে স্কেল (পণ্যবাহী গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র) ও ওয়েভিত্তিক টোল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ওয়ে স্কেল ও টোল প্লাজায় গাড়ির দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানজট হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে বংশাই সেতুর মেরামত কাজ করা  হয়। এ জন্য মহাসড়কের একদিকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় রাত থেকেই যানজট হয় গাজীপুরের জিরানী এলাকায়। চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ট্রাক উল্টে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। এতে শনিবার সকাল থেকে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ও মহাসড়কে খানা খন্দের কারণও যানজট হচ্ছে।


 বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা যশোর মহাসড়ক। ভাঙা সড়কে চলছে হেলে দুলে গাড়ি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অবস্থা ভালো হলেও ঢাকা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত যানজটের কারণে গাড়ি ধীরে ধীরে চলছে।

এই ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তিন ঘন্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ঈদে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক তথা ঘরমুখো মানুষের ভ্রমণ নির্বিঘœ রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মনিটরিং করা হবে। ঈদ উপলক্ষে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এই আগাম সতর্কতা প্রশংসনীয়। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর।

ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর গাড়ি বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনাটি দুঃখজনক। পাহাড় ধসের দুর্গতদের ত্রাণ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ প্রতিনিধি দলের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি গণতন্ত্র ও রাজনীতির ওপর হামলা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারাই এই হামলা করেছে, এটি খুবই অন্যায় হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


 বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সর্বস্তর থেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব সবার। সরকারি বেসরকারি সহ সকল রাজনৈতিক দলের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও কিছু কর্তব্য রয়েছে।


 রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে, এলাকা পরিদর্শন করতে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন দফায় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গত ১৮ জুন সকাল ১০টায় রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় ৪০-৫০ জনের দুর্বৃত্ত দল এ হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়ি বহরের ওপর চড়াও হয়, ভাংচুর হয়।

ফলে সাত আটটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম সহ কয়েকজন। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাকে বাধা দেওয়া নয় বরং সহযোগি হিসেবে পাশে ডেকে নেওয়াই মহত্ত্ব প্রকাশ পায়।

 দেশে এ ধরনের রাজনৈতিক চর্চা নেই। কাছে টেনে নেওয়ার চেয়ে পেশিশক্তির ব্যবহারই বেশি দেখা যায়। এভাবে বিরোধী দলের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হলে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকবে, যা গণতন্ত্রের জন্য মোটেই সহায়ক নয়। আমরা আশা করব ঘটনা যারাই ঘটাক না কেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে দোষীদের খুঁজে বের করে আই নামলে আনতে এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

মৃত প্রায় নদ-নদী

আমাদের দেশে সুদূর অতীত থেকে নৌপথই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সাত শত নদী বেষ্টিত এ ভূখন্ডে বিশাল বিশাল পাল টানা জাহাজ প্রবেশ করত। অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পরিবহণ হতো নৌপথেই। জাহাজ, নৌকা, স্টিমার, লঞ্চযোগে পরিবহণের বিকল্প অন্য কোনো উপায় ছিল না।

নদীপথে চলাচলে খরচ কম। কিন্তু নদী-মাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরাখালে পরিণত হচ্ছে। ভারত অভিন্ন নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী ৫৪টি।

 কিন্তু এর মধ্যে পানি বন্টন নিয়ে চুক্তি আছে শুধু গঙ্গা নিয়ে। অভিযোগ আছে, সেই গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্যতা মানা হচ্ছে না। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি ঝুলে আছে অনেক দিন হলো। ১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তিতে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশকে কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।

১৯৮২ সালে তা পরিবর্তন করে শুকনো মৌসুমে নজির বিহীন কম প্রবাহ হলে তা ভাগাভাগির ফর্মুলা বের করা হয়। ১৯৯৬ সালের চুক্তিতেও এমন বিধান রয়েছে। ১৯৯৭ সালে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ গঙ্গা থেকে ১০ হাজার কিউসেক পানি পেতেও ব্যর্থ হয়।


 পরে তা নেমে আসে ৩ হাজার কিউসেকের নিচে। গঙ্গার উৎপত্তি হিমালয় থেকে। কিন্তু গঙ্গার উজানে উত্তর প্রদেশ, বিহার প্রদেশ সহ আরো অনেক প্রদেশে বাঁধ ও ড্যাম আছে। সেখান থেকে পানি প্রত্যাহার হয়। ফলে ফারাক্কা পয়েন্টে পানি মাপার আগেই অনেক পানি প্রত্যাহার  হয়।

ফলে মোট পানি প্রবাহের হিস্যা বাংলাদেশ পায় না। অভিন্ন নদ-নদীর পানি উজানেই ভারত প্রত্যাহার করায় আমাদের দেশের নদীগুলো মরে যাচ্ছে। তিস্তা নদীর ওপর গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।


 উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারির, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকরগাঁও, জেলার প্রায় ৫০টি নদী এখন মৃতপ্রায়। উজানের প্রবাহ না আসায় নাব্যতা সংকটে শুস্ক মৌসুমে কোনো নদীতে হাঁটু পানিও থাকেনা। ভারতকে অসম দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসতে হবে। ভারতকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে বাধ্য করার জন্য আমাদের সরকারের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য সোচ্চার হতে হবে জনগণকেও।

বেসামাল চালের বাজার

চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। অব্যাহত চালের মূল্য বৃদ্ধি, বিশেষ করে মোটা চালের দর বাড়তে থাকায় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছে। চালের দাম বাড়তে বাড়তে এ যাবতকালের রেকর্ড বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দাম এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। একটু ভালো সরু চাল বিক্রি হচ্ছে স্থান ভেদে ৬০-৬৪ টাকা। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে।

 তাদের আয়ের বেশির ভাগই অর্থ চলে যাচ্ছে চাল কিনতে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এদিকে বোরো মৌসুমে ধানের মিলগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মিল মালিকরা দাবি করছেন, হাওরে বন্যা ও অন্য এলাকায় ব্লাস্ট রোগের কারণে বোরো উৎপাদন কম হওয়ায় ধানের দাম বেড়েছে।

তবে ভূমি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বোরোর উৎপাদন কমবে মাত্র সাড়ে ৭ লাখ টন। এ কারণে চালের বাজারে সংকট হওয়ার কথা নয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯১ হাজার টন। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৯৬ হাজার টন।

 আগে থেকে নজরদারি না থাকায় চালের মজুদ পর্যাপ্ত রাখতে পারেনি সরকার। এ কারণে গত দুই মাস ধরে চালের উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারের সংস্থাগুলো। ফলে চাল কিনতে চড়া দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সরকারের উচিত মোটা চাল সহ সবরকম চালের দাম সহনশীল মাত্রায় রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহ দেশের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সচেষ্ট হওয়া।

 এ কথা সত্য, অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠনসহ নানা উপায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। প্রশ্ন হল, সরকার যদি ব্যবসায়ীদের কারসাজির বিষয়টি বুঝতেই পারে, তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? জানা গেছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার ব্যাপারে মিল মালিকদের অনীহা রয়েছে।

এর কারণ হল, বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের যে দাম, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত চালের দাম তার চেয়ে অনেক কম। সরকার এ সংকট মোকাবেলায় চাল আমদানি করার চেষ্টা করছে। অনেক বিলম্ব হলেও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত। কে বা কারা এই সংকট সৃষ্টি করল সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 

বন্ধ হোক শিশু হত্যা

অপরাধের মাত্রা হ্রাস বৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র উপলব্ধি লক্ষ্যণীয়। কেউ বলছেন অপরাধের হার বেড়েছে। আবার কেউ কেউ বিশেষত সরকার তথা পুলিশের দাবি অপরাধের হার কমেছে। দেশের কোন না কোন স্থানে প্রতিদিন নানা কারণে প্রাণ হারাচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার মধ্য রাতে নোয়াখালীর চাট খিলে সৎ মায়ের হাতে খুন হয় রহিম মান্নান নামের এক শিশু। একই দিন মাগুরার শ্রী পুরে সাধন বিশ্বাস নামের একজন খুন হয়।

  সমাজ বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পারিবারিক, সামাজিক সচেতনতার অভাব, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, পর্ণোগ্রাফি মানসিক অস্থিরতা, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কু-প্রভাব, মাদকাসক্তি, অসাবধানবশত মারধর, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মানসিক অসুস্থতার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটছে। শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কেবল মা-বাবার হাতেই প্রাণ গেছে ১১৭ শিশুর।

 এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৩০টি। আমাদের সমাজ এখনও শিশুদের ব্যাপারে সংবেদনশীল নয়। নানাভাবে শিশুরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। শিশুদের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে চাইলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন বাড়াতে হবে। শিশুর নিরাপত্তা ও সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করার ব্যাপারে উদাসীনতা দূর করতে হবে। অপরাধীদের বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা জরুরি। শিশুদের মধ্যেও নানা বিষয়ে সচেতনতাবোধ সৃষ্টি করতে হবে।

জেনে শুনে বিষপান

আমরা কী খাচ্ছি- এ প্রশ্ন আজ এক ধরনের আতঙ্কে পর্যবসিত হয়েছে। অবস্থাটা এমন- খাদ্যে ভেজাল নাকি ভেজালে খাদ্য। তা নিয়েও চলে উপহাস। জীবন ধারনের প্রয়োজনে আমাদের প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। জেনে-বুঝে প্রতিদিন আমাদের খাবারে যে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়, তার প্রতিকার কি আমরা পাই ? ভেজালের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হলেও এর প্রতিকার আমরা পাইনি।

তাই প্রতিদিন জেনে বুঝেই আমাদের গ্রহণ করতে হচ্ছে বিষ। ফলে ক্যান্সারসহ নানা রকম ঘাতক ব্যাধির কবলে পড়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়, কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি খাদ্যে ভেজালকারীদের অপতৎপরতা।

 এক সময় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) পরীক্ষার রিপোর্টে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাজারে থাকা ভোজ্য তেলের ৮৭ শতাংশ তেলেই ভেজাল। এসব তেলে এসিটিক এসিডের মাত্রা নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক বেশি। আর এ ক্ষেত্রে আমদানি করা তেলেই ভেজালের পরিমাণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে গণমাধ্যমের রিপোর্টে। বছর দুয়েক আগে আইপিএইচ এর  এই  সমীক্ষা রিপোর্ট গণমাধ্যমে এসেছিল। দেশে মোট উৎপাদিত ভোজ্য তেলের পরিমাণ দুই থেকে চার লাখ টন। অন্যদিকে বাজারের চাহিদা আঠারো থেকে ২০ লাখ টন।

 ফলে ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছরই পনের থেকে ষোলো লাখ টন ভোজ্য তেল আমাদনি করতে হচ্ছে। আর আমদানি করা এই বিপুল পরিমাণ তেলের শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ১৪ সালে আইপিএইচ যে পরীক্ষা চালায় এবং সেটা গণমাধ্যমে এসেছিল যে তারা দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে ৪০০টি সয়াবিন তেলের নমুনা পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার

পর এর ৩৪৯টিতেই শনাক্ত হয়েছে ভেজালের উপস্থিতি। আর যেগুলোতে ভেজাল দ্রব্যের উপস্থিতি মেলেনি, সেগুলোতে মিলেছে এসিটিক এসিড। মানবদেহে দৈনিক ৩০ শতাংশ ক্যালরি আসা প্রয়োজন ভোজ্য তেল থেকে।

 অথচ ভোজ্য তেল ব্যবহার থেকে আমাদের দৈনিক মাত্র ৯ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয়। ভোজ্য তেল মানবদেহে শক্তির জোগান দেয় এবং টিস্যু গঠনে সহায়তা করে। কিন্তু এখানে যদি কোনো অনিয়ম ঘটে, তাহলে তা মানব দেহের স্বাভাবিকতা তো নষ্ট করেই, উপরন্তু মানব স্বাস্থ্যের জন্যও ডেকে আনে ভয়ংকর বিপর্যয়।

আমরা আশা করি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট আবার যেন ভোজ্য তেলের ওপর নতুন করে পরীক্ষা করে এর বিশুদ্ধতা নিরূপণ করে। কোনো অসৎ ব্যবসায়ী যেন পণ্যে ভেজাল মিশিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

১৫% ভ্যাট আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে

নতুন ভ্যাট আইনে ১৫% ভ্যাট ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও ভোক্তাদের সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে বলে উল্লেখ করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। বাজেট পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গত বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান প্রতিক্রিয়া জানান।

ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমানা বাড়ানোতে কম আয়ের মানুষের উপর চাপ বাড়বে। যেহেতু ধান চালের দাম বাড়ছে এবং আগামী অর্থ বছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে এবং নতুন ভ্যাট আইন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবার দাম বাড়াবে তাই ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা অন্ততপক্ষে তিন লক্ষ টাকা করার আহবান জানানো হয়।

 বাজেট বাস্তবায়নের হারের উপর লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের ব্যর্থতার হার প্রতি বছরই উচ্চ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০% এবং উগান্ডা ৯০.৩% বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলেও বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে মাত্র ৭৯.৪%, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের বাজেট বাস্তবায়নে অসক্ষমতাকেই প্রকাশ করে। সারা বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে শ্লথ গতি বিরাজ করার পর অর্থ বছরের শেষ ২-৩ মাসে বাস্তবায়ন গতি হঠাৎ বেড়ে যায় যা কোনোভাবেই প্রকল্পভিত্তিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে নিশ্চিত করে না।

 দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নানাবিধ উদ্যোগ এবং ভ্যাট অব্যাহতিকে স্বাগত জানিয়ে আইবিএফবি বেশ কিছু উদীয়মান শিল্পকে ভ্যাট অব্যাহতি না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে। ব্যাংক ডিপোজিটের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি একটি উদ্বেগজনক উদ্যোগ। সংগঠনটি সরকারের সঙ্গে আবেদন জানান, আর কোনো বাড়তি শুল্ক হার আরোপ না করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য।

মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে হবে

মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাত বাড়ালেই মাদক মেলে-এমন বাস্তবতায় শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন সবারই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সঙ্গত কারণেই বাড়ছে। মাদকের গ্রাসে হতাশার সাগরে ডুবছে অসংখ্য পরিবার। মায়ের কাছ থেকে সন্তান, বোনের কাছ থেকে ভাই এবং বন্ধুর কাছ থেকে বন্ধু হয়ে পড়ছে বিচ্ছিন্ন, একা। মাদকাসক্ততা এমন এক ব্যাধি যা স্থবির করে তোলে গোটা সমাজ।

এসব নিয়ে অনেক আলোচনা-সেমিনার হয়েছে। কিন্তু তারপরেও মাদকের ব্যবহার বাড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার। জানা গেছে, প্রতি বছর ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব মাদক ব্যবসায়ীকে মদদ দেয় আইন শৃঙ্খলা সংস্থার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

 কৌতুহল, হতাশা, পারিবারিক অশান্তি, সহজে হাতের কাছে মাদক পেয়ে যাওয়া, সামাজিক নানা কারণে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা এমন একটি অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে পড়ার কারণ অল্প পরিশ্রমে অধিক টাকার মালিক হওয়া।

সমাজের সব শ্রেণির তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদক সেবন একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মাদক এখন সামাজিক মূল্যবোধের শেকড় আকড়ে ধরেছে। একে নিশ্চিহ্ন করা যেন দুস্কর। মাদকের এই ভয়াবহতা থেকে সমাজ রক্ষার জন্য বেশ আগে থেকেই গণমাধ্যমে লেখালেখি, সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হলেও তা আসলে যেন অরণ্যে রোদন মাত্র।

 কারণ মাদক ব্যবসায় প্রভাবশালীরা জড়িত। এর গডফাদাররা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পুষ্ট এবং দারুণ ক্ষমতাবান। প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অথচ এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিস্ক্রিয়তা মেনে নেয়া যায় না। মাদকের আগ্রাসন ঠেকাতে সর্বোতো প্রয়াস চালাতে হবে কালবিলম্ব না করে।

মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। দায়িত্বশীল প্রত্যেকটি সংস্থা ও বিভাগের তরফে চালাতে হবে সাঁড়াশি অভিযান। মাদকের উৎস খুঁজে বের করে মাদক ব্যবসায়ী তথা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে তাদের কঠোর দন্ডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনী রোড ম্যাপ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। আশার কথা এই যে, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে যে প্রস্তুতি শুরু করেছে, তারা একটি রোড ম্যাপ তৈরি করেছে।

এর ভিত্তিতে কমিশন বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিধি-বিধান নিয়ে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিতে চাচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের মতামতও চাওয়া হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তিনটি প্রধান করনীয় রয়েছে।

 এক. নির্বাচন কমিশন রোড ম্যাপ ঠিক করে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হবে। দুই. বিধি-বিধান তৈরি করবে এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করবে; তিন. সব দলের জন্য সমতল ক্ষেত্র তৈরি করবে। আমরা রাজনীতিকে গণতন্ত্রকরণ হিসেবে পেতে চাই। গণতান্ত্রিক চর্চা দেখতে চাই।

গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা চাই। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা যে দেশটি অর্জন করেছি, বহু ত্যাগ-তিতীক্ষার ভেতর দিয়ে যে দেশটি এত দূর এগিয়ে এসেছে, আমরা আমাদের সেই প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে এমন অনৈক্য, ভেদাভেদ, বিদ্বেষ, প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।

 রাজনীতির উদ্দেশ্য যদি হয় জনকল্যাণ, রাজনীতির লক্ষ্য যদি হয় দেশের সমৃদ্ধি, তাহলে বর্তমান রাজনীতিকে আমরা কোনোভাবেই কাঙ্খিত রাজনীতি বলতে পারি না। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের অভাব আমাদের রীতিমতো ব্যথিত করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য, এই প্রতিযোগিতা আজ দেশকে বিশাল ক্ষতির মুখে নিয়ে গেছে।

 ভিন্ন মতকে সহ্য করা হচ্ছে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে মাঠে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে। আমরা আশা করব, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করবে। প্রধান বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনবে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে আগামী নির্বাচনের পথ পরিষ্কার করবে।

 

ঈদে নির্বিঘেœ ঘরে ফেরা

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিবছরই ঈদের সময় লাখ লাখ মানুষ রাজধানী ছাড়ে। এ সময় মহাসড়কে ভুগতে হয় তাদের। কখনও দুর্ভোগের কারণ ভাঙাচোরা সড়ক, কখনও দীর্ঘ যানজট। বাসের ট্রিপ সংখ্যা ঠিক রাখতে বেপরোয়া গতি। বর্ষায় বেহাল রাস্তায় দুর্ঘটনা বাড়ে। আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হলেও সরকারি হিসাবে এখনও ২৫ শতাংশ মহাসড়ক ভাঙাচোরা।

তাই এবারও পথে দুর্ভোগের মানসিক প্রস্ততি নিয়ে ঘর থেকে বের হতে হবে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে চলা উন্নয়ন কাজও হবে যানবাহন শ্লথ হওয়ার কারণ।

 ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে আগের সমস্যা গুলো এখনও আছে। মহাসড়কে যানজট প্রবণ এলাকাগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা ও বাজার উচ্ছেদ না হওয়া একই সমস্যার জন্ম দেবে। যানজটের কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলো কাঙ্খিত সংখ্যক ট্রিপ দিতে না পেরে তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বেপরোয়া গতিতে চালানো হয় বলেই প্রতি বছর ঈদযাত্রা পরিণত হয় মৃত্যুর মিছিলে। এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়ক সচল ও দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত মঙ্গলবার তিনি জাতীয় সংসদে বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে লক্কর ঝক্কড় যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না।

 ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা বেহাল। অর্থাৎ সড়ক মহাসড়কের এক তৃতীয়াংশই ভাঙাচোরা। বাস-ট্রেন-লঞ্চের টিকিট সংগ্রহ করাও আর এক বিড়ম্বনা। কার আগে কে টিকিট নেবে শুরু হয় সেই প্রতিযোগিতা।

মানুষের ভিড় যত বাড়ে তেমনি বাড়তি ভাড়ায় টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই মহাসড়কে শুরু হয়ে যায় তীব্র যানজট। বাস্তবতার ওপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাট-বাজার ও অস্থায়ী দোকান পাট। অবৈধ স্ট্যান্ড, ইজিবাইক জাতীয় যানবাহন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকাও যানজটের ভোগান্তি অনেক বাড়িয়ে দেয়। তারপরও আমরা আশা করবো ঈদে ঘরে ফেরার বিড়ম্বনা দূর করতে সংশ্লিষ্ট মহল সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করবে। নির্বিঘœ হবে মানুষের ঈদযাত্রা।

 

 

ভ্যাট আইনে জনদুর্ভোগ বাড়বে

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাব বলেছে, নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইনের কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এনবিআর আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন ক্যাবের সভাপতি ও দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

তার মতে, বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য সেবা খাতে হ্রাস কৃত (৫ শতাংশ) হারে ভ্যাট আদায় হয়। ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে এসব খাতে বিলের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ফলে ভোক্তাকে বেশি দামে এসব সেবা কিনতে হবে। ভোক্তারা ভ্যাট আইনের সংস্কার চায়, দেশের উন্নয়ন চায়।

আবার পণ্যের দামে স্বস্তিও চায়। প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে পণ্যের মূল্যে উর্ধ্বগতি হবে। এ জন্য এ আইনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। গত বছর পানির দাম ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন নতুন ভ্যাটের কারণে আরও দাম বাড়লে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে। নতুন আইনে সব পণ্যে একই হার (১৫ শতাংশ) ভ্যাট আদায় করা হবে। এতে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। অথচ ভ্যাটের টাকা সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। তা সরকারের কোষাগারে আসছে না।

 তার সুবিধা ভোগ করেন ব্যবসায়ীরা। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে গ্রাহকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ, বর্তমানে ব্যাংক আমানতের সুদহার সর্বনিম্ন অন্যদিকে মূল্য স্ফীতি ৫ শতাংশের কিছু বেশি। এতে গ্রাহকের ব্যাংকে জমা রাখায় অর্থের প্রকৃত মূল্য কমছে।

গ্যাসের মূল্য বাবদ ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি হাজার ফুটে নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। এ থেকে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৫৫ শতাংশ নেয় এনবিআর। ভোক্তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ ভ্যাট দেয়। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ দিতে হবে। তাতে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে।

 

ভ্যাট আইনে জনদুর্ভোগ বাড়বে

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ক্যাব বলেছে, নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইনের কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এনবিআর আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন ক্যাবের সভাপতি ও দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

তার মতে, বর্তমানে গ্যাস-বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য সেবা খাতে হ্রাস কৃত (৫ শতাংশ) হারে ভ্যাট আদায় হয়। ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে এসব খাতে বিলের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নেওয়া হবে। ফলে ভোক্তাকে বেশি দামে এসব সেবা কিনতে হবে। ভোক্তারা ভ্যাট আইনের সংস্কার চায়, দেশের উন্নয়ন চায়।

 আবার পণ্যের দামে স্বস্তিও চায়। প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে পণ্যের মূল্যে উর্ধ্বগতি হবে। এ জন্য এ আইনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। গত বছর পানির দাম ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এখন নতুন ভ্যাটের কারণে আরও দাম বাড়লে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে। নতুন আইনে সব পণ্যে একই হার (১৫ শতাংশ) ভ্যাট আদায় করা হবে। এতে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে। অথচ ভ্যাটের টাকা সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। তা সরকারের কোষাগারে আসছে না।

তার সুবিধা ভোগ করেন ব্যবসায়ীরা। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে গ্রাহকরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ, বর্তমানে ব্যাংক আমানতের সুদহার সর্বনিম্ন অন্যদিকে মূল্য স্ফীতি ৫ শতাংশের কিছু বেশি। এতে গ্রাহকের ব্যাংকে জমা রাখায় অর্থের প্রকৃত মূল্য কমছে।

গ্যাসের মূল্য বাবদ ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি হাজার ফুটে নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। এ থেকে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ ৫৫ শতাংশ নেয় এনবিআর। ভোক্তারা বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ ভ্যাট দেয়। নতুন আইনে ১৫ শতাংশ দিতে হবে। তাতে ভোক্তাদের আপত্তি রয়েছে।

 

মন্দাভাব পোশাক রফতানিতে

তৈরি পোশাক রফতানিতেও মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এ খাতের রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কমে গেছে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রধান এ খাতের রফতানি আয় আগের চেয়ে বাড়ে। মাঝে মাঝে বৃদ্ধির হার আগের চেয়ে কম হলেও ঋণাত্মক ধারায় যায় না। দীর্ঘদিন পর এখন সে অবস্থায় নেমেছে পোশাক রফতানি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এ চার মাসে রফতানি আদেশও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। রফতানির পাশাপাশি এ খাতে বিনিয়োগের অবস্থাও করুণ।

 বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত চার মাসে পোশাক খাতে এক টাকাও বিনিয়োগ হয়নি। এ কারণে রফতানিতে মন্দাভাব দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা কারখানাও এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবটা এখনই ভেবে দেখতে হবে। মোট রফতানির মধ্যে পোশাকই হলো ৮০ ভাগের ওপরে। ওদিকে রেমিট্যান্স একটানা কমছে। সব মিলে অর্থনীতিতে কম-বেশি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 অর্থ বছরের হিসাবেও রফতানির চিত্র প্রায় একই রকম। বিজিএমইএর তথ্য, গত চার মাস ধরে ইউডি কমছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ইউডির সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৫৯৫টি। এ বছরের জানুয়ারিতে তা কমে হয় দুই হাজার ৫৭৭টি। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতেও একই অবস্থা। এ সময় আগের বছরের দুই হাজার ৮০০ থেকে ইউডির সংখ্যা দুই হাজার ৭২৩টিতে নেমে এসেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ফলে রফতানি আদেশ কমে যাওয়ার প্রভাব দেখা যাবে আগামী কয়েক মাসের রফতানি আয়ে। সে হিসাবে ইউডির তথ্য মতে, আগামী মাসগুলোর রফতানি আয় গতিশীল হবে না। ব্যবসায়ীরা সব বাজারে রফতানির জন্য পাঁচ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া উচিত। অন্তত আগামী দুই বছর রফতানিতে উৎসে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

পাহাড়ে লাশের মিছিল

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে কমপক্ষে শতাধিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে সড়কের ওপর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে মাটি চাপায় নিহত হয়েছেন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ সহ এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্য রয়েছে।

টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের ওপর মাটি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা যথেষ্ট বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে রবিবার রাত থেকে শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। সোমবার পেরিয়ে রাত নামে, রাত গড়িয়ে ফের সকাল। তবুও বৃষ্টি থামছে না। ততক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা মানুষের মধ্যে। শেষ মেষ তাদের আশঙ্কাই সত্য হলো।

 নির্বিচারে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন এবং বন-জঙ্গল ও গাছ উজাড়ের কারণেই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এর আগে ২০০৭ সালে এ বর্ষাকালেই বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তখন ১২৭ জন নিহত হন। এই ঘটনায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি করা হয়।

এই কমিটি পাহাড় ধসের ২৮ কারণ চিহ্নিত করেছিল। পাহাড় রক্ষা ও ধস ঠেকাতে প্রণয়ন করেছিল ৩৬ দফা সুপারিশ। কিন্তু সে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি ১০ বছরেও। বিশেষজ্ঞরা বলেন পাহাড়ের গায়ে জমানো বন-জঙ্গল এবং গাছপালা এর অভ্যন্তরীণ বন্ধন শক্ত রাখে।

কিন্তু লোভি মানুষেরা অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটছে। অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষ বসতির প্রয়োজনেও পাহাড় কাটছে। এতেই পাহাড় ধসের পথ তৈরি করা হয়। ফলে টানা বৃষ্টিপাত হলে পাহাড় ধসে পড়ে। এ কারণে প্রতি বছরই ছোট খাটো দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। পাহাড় ধসের মৃত্যু রোধ করতে পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি ন্যাড়া পাহাড়গুলোকে সবুজ আচ্ছাদনে ছেয়ে দিতে হবে।

পাহাড়ের নিচে বস্তি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হোক এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। এর আগে কমিটি যে ২৮ কারণ চিহ্নিত করেছিল, তার প্রতিকারে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে আসবেন। এই দুর্যোগে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাই।

 

এলপি গ্যাসের দাম বাড়বে

এলপি গ্যাসের ওপর সার্বজনীন পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে অন্যান্য খাতের মতো প্রয়োজনীয় এই খাতটিতেও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি। একই রকম আশংকা করছেন দেশের এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীরা।

সূত্র মতে, নতুন অর্থ বছরের বাজেটে ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ইউনিফায়েড রেট প্রতিস্থাপিত হবে এলপিজি গ্যাসে। বর্তমানে এলপিজির ওপর ভ্যাট, ট্যারিফ মান ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত সিলিন্ডার ভেদে ৫৪ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দেবে বলে আশংকা করছেন অপারেটররা।


 জানা গেছে, ১২ কেজি সিলিন্ডারটি পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটির খুচরা দাম এখন এক হাজার ৫০ টাকা, যা নতুন ভ্যাট রেট কার্যকর হওয়ার পর এক হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। গ্যাস অপারেটররা বলছেন, সরকার এলপিজি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর থেকে চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু ভ্যাট বাড়ানো হলে এ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে এলপিজি অপারেটররা সরকারকে জ্বালানি তেলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন। নতুন আইনে জুলাই মাস থেকে ১৫ শতাংশ হারে ইউনিফাইড রেটে ভ্যাট প্রযোজ্য হলে এলপিজির দাম ভোক্তা পর্যায়ে বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে এলওএবি। গত বছর বাংলাদেশে মোট এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫ লাখ টন।


 দেশে ২ শতাংশ জনগোষ্ঠী এলপিজি ব্যবহার করে শহরাঞ্চলে। শিল্প ও অটো মোবাইলগুলো জ্বালানি হিসেবে এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি’র ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে দেশে ৫০টি এলপিজি বোতলজাত প্লান্ট স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে,

যার মধ্যে বেশ কয়েকটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এলওবি বলছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুতগতিতে হ্রাসের কারণে বাড়ি ও ক্ষুদ্র শিল্পে এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। নতুন ভ্যাটের বোঝা যেন ভোক্তাদের ওপর না বাড়ে- সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

খেলাপি ঋণ ব্যাংকের মন্দ-প্রথা

ছোট অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের থেকে মামলা করে ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে সফল হলেও বড় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের কাছে অসহায়। কিছু ঋণগ্রহীতার কাছে বিপুল পরিমাণের ঋণ আটকে আছে। তারা রিটের পর রিট করে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত করছেন।

ফলে বিপুল পরিমাণের ঋণ আদায় হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ এখন শুধু ব্যাংক খাতের নয়, পুরো দেশের সমস্যা। সমস্যার সমাধানে আলাদা আদালত করা দরকার। গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এসব কথা বলেন।


 এমডি জানান, সোনালী ব্যাংকের এক লাখ কোটি টাকার আমানতের বিপরীতে ঋণ রয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং পুনঃতফসিল ও মামলার দুই হাজার কোটি টাকা যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণ হবে ১৯ হাজার কোটি টাকা। দেশে ব্যাংকটির এক হাজার ২১০টি শাখার মধ্যে ৬০০ শাখার খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে আছে।

অন্যদিকে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের ৮৪ শতাংশ রয়েছে ২০টি শাখায় ও পাঁচ শাখায় রয়েছে ৫৪ শতাংশ। হলমার্ক কেলেংকারির বিষয়ে ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে ব্যাংক খাতে সুনামি বয়ে গেছে।


 ওই সময় শুধু হলমার্ক নয়, বেসিক ব্যাংকসহ বড়সব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ঋণের নামে হলমার্ক টাকা লুট করেছে। খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে তো পারিইনি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক খাতে বড় ধরনের কয়েকটি জালিয়াতি পুরো ব্যাংক ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে তুলেছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে।

সাধারণ কৃষককে অনাদায়ী সামান্য কৃষি ঋণের জন্য মামলার ভয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে হয়। অথচ শিল্প স্থাপনের নামে হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে লোপাট করলেও তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যেমনি জরুরি তেমনি জরুরি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও ফিরিয়ে আনা।

পরিবেশ দূষণে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ছে

শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে শব্দ, বায়ু ও পানি দূষণ। বহুমাত্রিক এসব দূষণে কানে কম শোনা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থায়ী মাথা ব্যথা, ক্ষুধা মন্দা, অবসাদ গ্রস্ততা, নিদ্রাহীনতা সহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এমনকি শুধু বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিদিন অকালে মারা যাচ্ছে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত কারণ বিশেষত শিশু জন্মের পূর্বে ও পরে মায়ের দৈহিক স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি শিশু স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। তাই নবজাতককে জন্মপূর্ব এসব রোগ ও মৃত্যু ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন প্রস্তুতির জন্য শিশুর জন্ম-পরবর্তী এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও উন্নত পরিবেশ সম্মত আবাসস্থল।

 কিন্তু বিভিন্ন ধরনের দূষণের কারণে মা ও শিশু উভয়েই উন্নত পরিবেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এ হিসেবে একজন শিশু জন্মের আগে থেকেই পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণের ফলে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কমবয়সী প্রায় ১৭ লাখ শিশু অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এ হিসেবে দিনে মারা যাচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৬৫৮ শিশু।

 কারণ হিসেবে অনিরাপদ পানি, স্যানিটেশনের অভাব, দরিদ্র স্বাস্থ্য বিধির অনুশীলন ও পারিপার্শ্বিক দূষণের পাশাপাশি আহত হওয়াকেও এর মধ্যে সংস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ১৪ বছরের নিচে প্রায় ১ কোটি শিশু বিভিন্ন পরিবেশ দূষণ জনিত কারণ, দুষিত পানি, খাবার ও দুর্ঘটনায় মারা যায়। এভাবে শব্দ দূষণ চলতে থাকলে কোনো শব্দই ভবিষ্যতে আর শুনতে পারবে না শিশুরা। এ ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

মোটা চালের দাম নাগালের বাইরে

চালের মূল্য বৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মোটা চালের কেজি ঠেকেছে ৫০-৫২ টাকার আর সরু চাল ৬৫ টাকায়। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে দেশ স্বাধীনের পর থেকে কেবল ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোটা চালের কেজি ৪০ টাকা এবং ৫৬ টাকা হয়েছিল সরু চালের কেজি। বর্তমানে চালের বাজারে যে টালমাতাল অবস্থা তা আর কখনও হয়নি। কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না চালের বাজারের। আর চালের এই উচ্চ মূল্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

 সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। যারা সচ্ছল ও সম্পদশালী চালের দাম বৃদ্ধিতে হয়তো তাদের গায়ে খুব একটা লাগে না। মধ্য বিত্ত শ্রেণির মানুষও লোক লজ্জার ভয়ে কিছু বলতে পারে না বা কোনো না কোনো ভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছে। সারা দেশের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। তাদের সংসারের খরচ বেড়েছে, তাই এখন তারা ভাত খাওয়া কমিয়েছে আগের চেয়ে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চালের দামটা বেশি বেড়েছে গত পাঁচ মাসে। প্রতি মাসেই সব ধরনের চালে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ টাকা করে।


 দাম বাড়তে বাড়তে এখন সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে দফায় দফায় চালের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, অথচ এটা নিয়ে সরকারের তেমন মাথা ব্যথা নেই। সরকারের দায়িত্বশীলরা মিথ্যাচার করছেন, তাদের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত চিত্র এখন সারা দেশে। চালের দাম বৃদ্ধিতে আসলেই খুব কষ্ট বেড়েছে দেশের মানুষের। সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য চালের দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

বিদেশে অর্থ পাচার

সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন জনগণের ট্যাক্সের টাকা যেন তেন ভাবে খরচ করা হচ্ছে। দেশ থেকে অবাধে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। এক লাখ কোটি টাকা বিদেশে ইতিমধ্যে পাচার হয়ে গেছে। পাচারের অর্থ ফেরতের কোন উদ্যোগ নেই। গত মঙ্গলবার প্রথমে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠ ভোট সম্পূরক বাজেট সংসদে পাস হয়। আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব) এটিম আব্দুল ওয়াহাব, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম ও নুরুল ইসলাম ওমর।


 অপরদিকে আমাদের গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কর ফাঁকি, সরকারি সুযোগ সুবিধার অপব্যবহার এবং সস্তা শ্রমের সুবাদে অসৎ ব্যবসায়ীরা যে মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলেছে তার এক বড় অংশই পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনটিগ্রিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়ে থাকে।


 ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। আয়ের ৮০ শতাংশ নানা পথে বিদেশে চলে যায়। কম দামে যন্ত্রপাতিসহ উৎপাদন সামগ্রী কিনে বেশি দাম দেখিয়ে হর হামেশাই অর্থ পাচার করা হচ্ছে। পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের পাচারের সঙ্গে বেশি জড়িত। অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার করে অনেকে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। দুদক ও এনবিআর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করলে অনেক বিস্ময়ভরা দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আমাদের ধারণা।

 

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জীবন

যে বয়সটা আগামীর পথে হাঁটার, যে বয়সটা দুরন্তপনার কিংবা আবিষ্কারের নেশায় মোহবিষ্ট হওয়ার সেই বয়সেই কিছু কিশোর ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আতংকের কারণ হয়ে উঠছে দেশ ও সমাজের জন্য। মূলত পারিবারিক ও আর্থিক নিরাপত্তাহীনতাই তাদের ঠেলে দিচ্ছে এ ধরনের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। শিশুদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দান ও মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিশুরা যদি জীবন জীবিকার প্রয়োজনে কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, তবে সে যে পরিস্থিতি একটি রাষ্ট্রের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

 আমরা মনে করি, এ রকম পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই নয় বরং আগামীর জন্যও অশনিসংকেত বহন করে। যা থেকে উত্তরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত রিপোর্টগুলোতে শিশুদের নিয়ে যে তথ্য উঠে আসছে, তা ভীতিপ্রদ। অভাব-অনটনের ফলে প্রতিনিয়ত শিশুরা যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ নানা কাজে। আর এর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছেই। অথচ শিশু আইন অনুযায়ী জানা যায়, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দানে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই।


 আইনকে তোয়াক্কা না করে শিশুদের অবলীলায় কাজে লাগানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ, বিদ্যমান শিশু আইন অনুযায়ী শিশুদের দিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনী। কিন্তু তারপরও যখন কল-কারখানাসহ বিভিন্নভাবে শিশুদের কাজে লাগানো হচ্ছে, তখন তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। কেননা আইন অমান্য করার সাহস পাওয়ার অর্থই হলো সংশ্লিষ্টদের অবহেলা। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পড়বে। বেঁচে থাকার ন্যুনতম অধিকার বঞ্চিত শিশুরা নানা ধরনের অপকর্মেও লিপ্ত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎকে করবে আরো বেশি শঙ্কিত। আমরা চাই শিশুর জীবন হোক সঠিক পথের অনুগামী।

পদ্মা সেতুর কাজ এগোচ্ছে

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৃহৎ এ প্রকল্প ক্রমেই বাস্তবের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে সেতুর অনেক স্ট্রাকচার। বিশেষ করে জাজিরা অংশে সাতটি পিলারের ওপর বসানো হবে সুপারস্ট্রাকচার বা স্প্যান। দৃশ্যমান হবে মূল সেতু। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৮ সালেই স্বপ্নের এই সেতু খুলে দেওয়া হবে যান চলাচলের জন্য।

 

সেই লক্ষ্যেই দিনরাত কাজ চলছে পদ্মা সেতুর। ২০১৪ সালে সংসদে প্রশ্নোত্তর কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মীয়মান পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে গাড়ি চলবে। সেতু নির্মাণের কাজ ২০১৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ২০১৭ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

 সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পদ্মা সেতু হবে বিশেষায়িত সেতু। যার ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল আর নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ কাজ সে বছরের জুলাইয়ের মধ্যে শুরু হবে ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এ জন্য কারও কাছে হাত পাততে হবে না।

শুধু পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করাই নয়, বর্তমান সরকারের আমলে আরিচায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজও শুরু হবে। আসলেই প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের আশাবাদ আজ বাস্তবের মুখোমুখি। আগামী মাসেই দৃশ্যমান হবে পদ্মাসেতু। পদ্মাসেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ উপকৃত হবে। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে।

 ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এই সেতু তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। নিজস্ব অর্থায়নে দেশের এই বৃহৎ অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকেই বর্তমান সরকারের প্রধান এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ চলছে।

সুষম উন্নয়ন ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশা পূরণেও পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। আমরা আশা করব যথাসময়ে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি এ সেতু নির্মাণের সুফল যাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দ্রুত ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিতরূপে আনুষঙ্গিক সব ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।

 

বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা

গত কয়েক বছর ধরে দেশে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। অর্থ শাস্ত্র অনুযায়ী, সরকারি বিনিয়োগ বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ে। বাংলাদেশে অর্থ শাস্ত্রের এ নিয়ম খাটছে না। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি বিনিয়োগে ব্যয় বাড়লেও অপচয়ের কারণে কাঙ্খিত অবকাঠামো পাওয়া যাচ্ছে না।  ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। তা ছাড়া গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না।

 অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনেক সময় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পর অবকাঠামো তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়তে দেরি হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটিও হচ্ছে না। কারণ দীর্ঘ সময় পরও কাঙ্খিত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় না। তা ছাড়া যেসব অবকাঠামো তৈরি হয়, তাতে অপচয়ের কারণে খরচ অনেক বেশি হয়। ফলে সরকার যতটা ব্যয় করছে সে অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না। আমাদের সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হলেও এ ক্ষেত্রে অদক্ষতা রয়েছে। প্রতি বছরই অর্থ বছরের নয় বা দশ মাস শেষ হওয়ার পরও এডিপি বাস্তবায়নের হার খুবই কম থাকে।


 শেষ দুই মাসে তাড়াহুড়া করে অর্থ খরচ করা হয়। এভাবে সরকারি ব্যয় বাড়ালে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এবারের বাজেটে উদ্যোক্তারা ভেবেছিলেন বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকার কর্পোরেট করের হার কমাবে। তা করা হয়নি। তাই সরকারের উচিত হবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

ব্যাংকগুলো ভালো প্রকল্পেও ঋণ দিচ্ছে না। সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মূলত ব্যাংকারদের অজ্ঞতা ও মানসিকতার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। বিনিয়োগের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা থাকা দরকার। আমাদের এখানে দুটোরই সংকট রয়েছে। শিল্পে ঠিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর দফায় দফায় দাম বাড়ানো হচ্ছে। 

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর হোন

ভেজাল পণ্য। নোংরা পরিবেশ। নেই অনুমোদন। নামি দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের লেভেল লাগিয়ে ভেজাল পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। বাজার, দোকান, সুপারশপ কোথাও ভেজাল মুক্ত খাদ্যপণ্য মিলছে না। মাছেও ফরমালিন, দুধেও ফরমালিন। ফল-ফলাদিতে দেওয়া হচ্ছে কার্বাইড সহ নানা বিষাক্ত কেমিক্যাল। খাদ্য পণ্যে ভেজাল মেশানোটা রীতিমতো অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

ভেজালের বেপরোয়া দাপটের মধ্যে আসল পণ্য খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর। ভেজাল পণ্যের দাপট ঠেকাতে চলছে অভিযান। করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। কিন্তু বন্ধই করা যাচ্ছে না খাদ্যে ভেজাল। জীবন যাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই রয়েছে ভেজাল আর নকলের সীমাহীন দৌরাত্ম। অতিমাত্রায় কীটনাশক, কেমিক্যাল আর রঙের আধিক্যতায় বেশির ভাগ খাদ্য পণ্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


 কেমিক্যাল আর পিঁয়াজের রস মিশিয়ে তৈরি করা হয় খাঁটি সরিষার তেল। দুধের মধ্যে রাসায়নিক কেমিক্যাল ফরমারিন, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, বোরিক অ্যাসিড, স্যালিসাইলিক, ইউরিয়া, চিনি, লবণ, সোডিয়াম বেনজোয়েট, সোডিয়াম কার্বনেট, ফ্লেভার, ক্ষতিকর রঙ, আলকাতরা, আটা, ময়দা ভাতের মাড়।

শ্বেতসার ও স্কিম মিল্ক পাউডার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গাভির খাঁটি দুধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরমালিন উচ্চ মাত্রার বিষাক্ত পদার্থ, এর কারণে দ্রুত কিডনি নষ্ট, ক্যান্সার, লিভার ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের হার্টের রোগ ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।


 গর্ভজাত মায়ের শিশুও বিকলাঙ্গ হওয়ার আশংকা থাকে। শাক সব্জিতে রাসায়নিক কীটনাশক, জিলাপি- চানাচুর, মবিল, ব্রেড, বিস্কুট, সেমাই, নুডুল সহ সব রকম মিষ্টিতে টেক্সটাইল লেদারের রঙ, মুড়িতে হাইড্রোজেন-ইউরিয়া অবাধ ব্যবহার চলে। চাল, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল আলু থেকে শুরু করে রুটি কেক, মিষ্টি, বিস্কুট কিছুই ভেজালের ছোবল থেকে বাদ যাচ্ছে না।

 জীবন ধারণের জন্য সবচেয়ে জরুরি ‘পানি’ পর্যন্ত নিরাপদ থাকছে না। কলা, আম, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস থেকে শুরু করে আপেল আঙ্গুর, নাশপাতিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলেই মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। মূলত গ্যাস জাতীয় ই থাইলিন ও হরমোন জাতীয় ই থরিল অতিমাত্রায় স্প্রে করে এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করার কারণেই ফলগুলো রীতিমতো বিষে পরিণত হয়। জনস্বার্থে এ ব্যাপারে সরকারকে আইনগত ব্যবস্থা যেমন জোরদার করতে হবে তেমন নকল ও ভেজাল প্রতিরোধে দায়িত্ব প্রাপ্ত সংস্থাগুলোতে লোকবলও বাড়াতে হবে।

 

কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে

জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে গতি কমে গেছে। কর্মসংস্থানের প্রধান দুটো খাত কৃষি ও তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের প্রধান দুটো খাত কৃষি ও তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এ অবস্থার মূল কারণ। বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক যৌথ নিবিড় পর্যালোচনায় ব্যুরোর (বিবিএস) এক যৌথ নিবিড় পর্যালোচনায় কর্মসংস্থানের এমন চিত্র উঠে এসেছে।


 দেশে মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থানের পরিমাণ খুবই কম। প্রতি পাঁচজন শ্রমিকের মাত্র একজন নির্দিষ্ট মজুরিভিত্তিক কাজে নিয়োজিত। অন্যদিকে প্রতি তিনজন কর্মজীবী নারীর একজন তার কাজের বিনিময়ে টাকা পান না। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ অনুপাত পাঁচ জনের মধ্যে একজন। এ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলেও অনেক খরচ করে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নারীদের ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ শ্রম বাজারে আছে, যা বিশ্ব গড়ে অনেক কম। বিশ্বে গড়ে ৪৯ শতাংশ নারী শ্রমবাজারে আছেন।


 প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান কম হচ্ছে। এ খাতটিতে বস্ত্র ও প্রযুক্তি বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি থেকে কর্মসংস্থান কমে উৎপাদন ও সেবা খাতে চলে আসছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের অর্থনীতিতে যে ধরনের বৈচিত্র্যকরণ দরকার, যাতে করে আরও বেশি কর্মসংস্থান হয় সেখানে বড় ধরনের বিচ্যুতি রয়েছে। এ বিচ্যুতি দূর না করলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি হবে বা বেশি রফতানি আয়ত্ত হবে, কিন্তু যে সংখ্যার মানুষ দিয়ে হওয়া উচিত, তা হবে না।

 এ জন্য রফতানি বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে নতুন নতুন খাতে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। এ কর্মসংস্থানগুলো করতে হবে দক্ষ মানব সম্পদের মাধ্যমে। এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণে নজর দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শহর ও গ্রামের পার্থক্য কমাতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য রাজস্বনীতি, প্রণোদনা নীতি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

চালের মজুদ ঝুঁকিপূর্ণ

সরকারের বিভিন্ন গুদামে চালের বর্তমান মজুদ এক লাখ ৯৮ হাজার টন। গত মঙ্গলবার ভিজিএফ’র (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) জন্য এক লাখ টন বরাদ্দ দেওয়ার পর তা ছাড়ের পর চালের মজুদ নেমে আসবে ৯৮ হাজার টনে। এই মজুদকে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

হাওরাঞ্চলের আগাম বন্যা, সারা দেশে অতি বৃষ্টি ও ব্লাস্ট রোগের কারণে এবার বোরোর আবাদ কম হয়েছে। গত ৪ জুন সরকারের গুদামে চাল ও গমের মজুদ ছিল মোট চার লাখ ৮৯ হাজার টন। এর মধ্যে চাল এক লাখ ৯৮ হাজার টন।

আর গম দুই লাখ ৯১ হাজার টন। হাওরাঞ্চলের আগাম বন্যা, সারা দেশে অতিবৃষ্টি ও ব্লাস্ট রোগের কারণে এবার বোরোর আবাদ কম হয়েছে। তাই সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ লাখ থেকে ১৫ লাখ টন চাল কম হওয়ার আশংকা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ পর্যায়ে সরকারের মজুদও তলানিতে নেমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে মজুদ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আট লাখ টন চাল ও সাত লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা পূরণে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। চালকল মালিকরা সরকারের নির্ধারিত ৩৪ টাকা কেজি দরে চাল দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।


 তারা প্রতিকেজিতে অতিরিক্ত চার টাকা করে প্রণোদনা দিলে চালের বাজার দর আরো বাড়ার আশংকা করছে সরকার। ইতিমধ্যে মোটা চালের কেজি সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে চাল সংগ্রহের পাশাপাশি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিমধ্যে দেড় লাখ টন চাল আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়েছে।


 এসব চাল দেশে পৌছাতে দেড় মাস সময় লাগবে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি পদ্ধতি) আড়াই লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন। এসব চাল আসতেও দেড় থেকে দুই মাস সময়ের প্রয়োজন। কোনো কারণে এসব চাল আমদানিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে বলে মনে করেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সরকারের উচিত মোটা চাল সহ সব রকম চালের দাম সহনশীল মাত্রায় রেখে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সহ দেশের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সচেষ্ট হওয়া। চাল আমদানি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য চালের দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি।

 

এডিপি বাস্তবায়ন কম

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৬৪ দশমিক ৭২ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। শুধু মে মাসে এডিপির ১০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

টাকার অংকে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১২২ কোটি টাকা। এরপরেও অর্থ বছরের শেষ মাসে এডিপির বিশাল অংশ বাস্তবায়নের চাপ রয়ে গেছে। চলতি অর্থ বছরের আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬  কোটি টাকা।


এর মধ্যে এই ১১ মাসে ব্যয় হয়েছে ৭৭ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ব্যবহার হয়েছে ২০ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। তথ্যানুযায়ী এগার মাস পেরিয়ে গেলেও এডিপির ৫০ ভাগের নিচে বাস্তবায়ন করেছে।

উল্লেখযোগ্য ১৪টি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ৮০ ভাগের বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করছে ৭টি বিভাগ ও মন্ত্রণালয়। গত এক দশকের এডিপি সংশোধন পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, যে পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ প্রথমে দেয়া হয়, শেষ পর্যন্ত প্রকৃতপক্ষে তার চার পঞ্চমাংশ খরচ হয়।


 আবার এডিপি বাস্তবায়নের প্রতি বরাবরই শেষ প্রান্তিকে এসে, অর্থ খরচ করতে হবে। এ রকম একটা তাগিদ থেকে এডিপির বাস্তবায়ন বেড়ে যায়। এর ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। বেশ কিছু অর্থ অপচয়ও হয়। এ ছাড়া অনেক প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের কথা মাথায় রেখেই।

কে কত বেশি কমিশন দেবে, তার ভিত্তিতে কার্যাদেশ বন্টন করা হয়। বস্তুত ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্প জালিয়াতি, আর্থিক দুর্নীতি, ভুয়া বিল ভাউচার তৈরির মাধ্যমে নিত্য নতুন কৌশল আবিষ্কার করে লুটপাট চালানো হয়। দুর্নীতি ও লুটপাট কঠোর হাতে দমন করে অনুমোদন প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট হবে- এটিই প্রত্যাশা।



Go Top