সন্ধ্যা ৬:৩৭, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয়

চোরাই পথে দেদার সোনা আসছে দেশে। তারপর সেসব সোনার বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে ভারতে কিংবা অন্য কোনো দেশে। কোনো অপরাধের শিকড় বেশি গভীরে চলে গেলে তাকে উপড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সীমান্ত পথে সোনা চোরাচালানের কথা সর্বজনবিদিত। বেনাপোল স্থল বন্দরে গত পাঁচ মাসে বিজিবি, পুলিশ ও কাস্টমসের সদস্যরা ২০ কেজি সোনা আটক করেছে।

প্রতি ৪০টি চালানের একটি ধরা পড়ার আশংকা থাকবে এমন হিসাব রেখেই সোনা চোরাচালানের ব্যবসা পরিচালিত হয়। স্বভাবতই ধারণা করা যায়, এ সময়ে শুধু বেনাপোল সীমান্ত দিয়েই ভারতে অন্ততপক্ষে ২০ মণ সোনা পাচার হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থল সীমান্ত বা চোরাইপথে পাচারকৃত সোনা আরও বেশি হওয়ার কথা।

 দুনিয়ার যে সব দেশে গহনা হিসাবে চোরা সোনার ব্যবহার বেশি ভারত তার মধ্যে শীর্ষে। অথচ ভারতে যেমন সোনার খনি নেই তেমনি শুল্ক বেশি হওয়ায় বৈধপথে আমদানির পরিমাণও শূন্য। বাংলাদেশেও সোনা আসে সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে। দেশের গোটা সোনা ব্যবসাই চোরাচালানের ওপর নির্ভরশীল। বৈধ আমদানি নেই। দেশের বিমান বন্দরগুলো সোনা চোরাচালানের প্রতি উদার হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে যে সোনা আনা হয় তার বৃহৎ অংশ পাচার হয় ভারতে।

 সোনা পাচারের ঘটনা ধরা পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনার চোরাচালান আসছে। দেশের অর্থনীতিতে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। কারণ বিদেশ থেকে আনা সোনার বিপরীতে পাচার হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। যে অর্থ ব্যয় হতে পারত উৎপাদনশীল খাতে তা ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। সোনা চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। সোনা চোরাচালান চক্রের গডফাদারদের গ্রেফতার করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

মাছ রপ্তানি কমছে


চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে (জুলাই-জুন) হিমায়িত ও জীবিত মাছ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫২ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যা গত অর্থ বছরের চেয়ে এক দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও তা দুই দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। অর্থ বছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি আয় কমছে এ খাতে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৬৩ কোটি ডলারের মাছ রপ্তানি হয়। পরের দুই অর্থ বছরে তা যথাক্রমে ৫৬ কোটি ডলার ও ৫৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলারে নেমে আসে।

 বাংলাদেশ থেকে যত জীবিত ও হিমায়িত মাছ রপ্তানি হয় তার ৮৫ শতাংশ চিংড়ি। আর চিংড়ি রপ্তানি কমে যাওয়ায় এ খাতের রপ্তানি আয়ে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। হিমায়িত মাছ রপ্তানিকারকরা বলছেন, চিংড়ির উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণেই হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমে যাচ্ছে।

প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চিংড়ির উৎপাদন কমছে। তারা বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চিংড়ি চাষযোগ্য এলাকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করা দরকার। এ ছাড়া বাড়তি ফলনের জন্য বিশেষ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে ভেন্নামি জাতের চিংড়ি চাষের অনুমতি চায় খামারিরা। তারা বলেন সেটা না করতে পারলে প্রতিযোগি দেশগুলো অনেক এগিয়ে যাবে।

 দেশে প্রায় পৌনে তিন লাখ হেক্টর জমিতে চিংড়ির চাষাবাদ হয়। যেখানে বছরে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। চিংড়ি ও মাছ প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য সারা দেশে ৭০টি কারখানা আছে। বাংলাদেশ থেকে হিমায়িত ও জীবিত মাছ ৬০টি দেশে রপ্তানি হয়।

এসব দেশে বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি হয়। আমরা মনে করি রপ্তানি করতে হলে আগে উৎপাদন করতে হবে। তবে ভেন্নামি চিংড়ি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিধায় সরকার এটা চাষের অনুমতি দেয় না। খামারিদের এজন্য পরিবেশ বান্ধব মাছের চাষ করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অবৈধদের ফেরত পাঠাবে ইইউ

ভূমধ্য সাগরে ডিঙি নৌকায় আর মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার নানা রুটে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অবৈধভাবে ইউরোপে যাত্রায় বাংলাদেশিদের গ্রেফতারের হার বাড়ছে। বাংলাদেশের এসব মানুষকে ফিরিয়ে আনতে এবার কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন। ইইউ এখন বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশকে দেওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আটক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফিরতে বাধ্য করা হবে।

 গত বুধবার ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠকে ২৮ দেশের ইউরোপিয় জোটটি এই প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন শর্ত যুক্ত করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটি এমওপি চূড়ান্ত করতে চায় ইইউ। কিন্তু এমন প্রস্তাবে সাড়া দিতে বাংলাদেশ অপারগতা জানিয়েছে। আমাদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে নতুন করে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়ে কঠোর মনোভাব দেখায়। কিন্তু দুটি প্রসঙ্গেই মত পার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রচার করা হয়নি।

 আসলে মানব পাচারের এসব ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। তবে এটাও স্বীকার করতে হবে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ একেবারেই কম। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে চোরাপথে বিদেশ পানে ছুটছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বৈধপথে জনশক্তি রফতানির গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিদেশে নতুন নতুন শ্রম বাজার সন্ধানের পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমাদের দুতাবাসগুলোর আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশা করি। ইইউ যে কথা বলছে, তা ঠেকাতে সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা দরকার।

এই বিভাগের আরো খবর

জলবায়ু বিপর্যয়

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব, বা পৃথিবীকে কতটুকু বিপর্যয়ের সম্মুখীন করবে, মানুষকে কতটা বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেবে তা জানতে আজ কারো বাকি নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে আশংকা করা হয়েছে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ধান উৎপাদন শতকরা ১৭ ভাগ এবং গম উৎপাদন ৬১ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। উষ্ণতা ও সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থমকে যেতে পারে।

 বিপদ যে ঘনিয়ে আসছে তা দেশের উপকূলীয় এলাকার বর্তমান জলাবদ্ধ অবস্থা তারই ইঙ্গিতবাহী। হাওর অঞ্চলের আগাম বন্যায় অন্তত এক কোটি মানুষের সারাবছরের খোরাকি নষ্ট হওয়ার ঘটনাও বিপদ সংকেতের আভাস দিচ্ছে। আগামী দশকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তাপ বাড়ার ফলে সমুদ্রস্তর বৃদ্ধি পাবে। এতে তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করবে। বিশ্বের ১৭০টি দেশের ওপর পরিচালিত জরিপে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ১৬টি দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

 ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যেন জলবায়ুর ভারসাম্য বিনষ্টকারি শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পায় তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখার চাপ সৃষ্টি করা যায়। কার্বন ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ দেশগুলো আর এর শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার প্রায় দুইকোটি মানুষ খাবার পানিতে লবণাক্ততা সমস্যার মুখে পড়ছেন। তাই আসন্ন এ দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

নির্বাচনী রোডম্যাপ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ হিসাবে কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের দেড়বছর আগে উন্মোচন করা এ রোডম্যাপে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক বিষয়গুলো কখন কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রভাবমুক্তভাবে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে, এম নুরুল হুদা বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সরকার, রাজনৈতিক দল বা দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রভাবমুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

 এই রোডম্যাপ ধরে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন কমিশন। রোববার রাজধানীতে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচনের এই কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়। কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৭টি করণীয় বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আইনী কাঠামো সমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার।

 নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, বিধি অনুসারে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানিয়েছেন ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্যে বা ঘরোয়া সভা-সমাবেশ করার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার কোন দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে না। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কোথায়, কারা বৈঠক করতে পারেনি সেটা সরকারের বিষয়।

 কমিশনের এ বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে সমাদৃত হবে না। আমরা চাই, বর্তমান ইসি সততা, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা প্রমাণে তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রদর্শন করবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রতি সরকারের সহযোগিতা থাকবে আমরা সে আশাই করতে চাই। দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার প্রয়োজন হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত ধ্বংস, কৃষি জমিতে যথেচ্ছ সার, কীটনাশক ব্যবহার, শিল্পায়ন ও মানুষের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীনতার জন্য পানি দূষণ, জনসংখ্যার বাড়তি চাহিদার মুখে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণ, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা নানাবিধ কারণে সুস্বাদু দেশি মাছ প্রায় দুর্লভ হয়ে উঠছে। দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুর ডোবা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক উৎসে জন্মানো কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, চাপিলা, টাকি, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, রিটা, পাঙ্গাস, বোয়াল, খৈলসার মতো সুস্বাদু মাছগুলো আর দেখা যায় না বললেই চলে।

 বিশেষজ্ঞরা বলেন দেশীয় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে থেকে ২০-২২ বছরের ব্যবধানে ৬৫ প্রজাতির মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দেশীয় আরও শতাধিক প্রজাতির মাছের অস্তিত্বও এখন বিপন্ন প্রায়। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বিদেশি মাত্র ২৪ প্রজাতির হাইব্রিড মাছ চাষের ব্যাপকতায় দেশি আড়াই শতাধিক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

 কৃষি জমিতে অবাধ কীটনাশক ও মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে তার ধোয়ানি পড়ছে নদী-নালা, খাল-বিলে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, অধিক মুনাফার আশায় হাইব্রিড মাছের চাষ করতে গিয়ে জলাশয়গুলো থেকে দেশি মাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। খাল-বিল-নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণেও দেশি মাছের আকাল শুরু হয়েছে। পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। দেশের নদী, খাল-বিলের পানিকে দুষণমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। জমিতে রাসায়নিক সারের বদলে অধিক পরিমাণে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার

মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় নিবাস গড়ার কর্মসূচি মালয়েশিয়ায় মাই সেকেন্ড হোমে (এমএমএএইচ) অংশগ্রহণের তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশিরা। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় ২০০২ সাল থেকে এই বছর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বাড়ি বা সেকেন্ড হোম গড়ার অনুমতি পেয়েছেন ১২৬টি দেশের ৩৩ হাজার ৩০০ মানুষ।

যদিও এ জন্য বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে কেউ টাকা নিয়ে যাননি। ফলে সেকেন্ড হোম গড়ার পুরো টাকাই হয়েছে পাচার। তবে এ জন্য কী পরিমাণ টাকা মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। মালয়েশিয়ায় জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে যে ৩ হাজার ৫৪৬ জন সে দেশে বাড়িঘর করেছেন এবং থাকার অনুমতি পেয়েছেন তারা।

 গড়ে ৩ কোটি টাকা পাচার করলেও সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, প্রচলিত নিয়মে দেশ থেকে সেকেন্ড হোম করার জন্য অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, যারা মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছে, সবাই টাকা পাচার করেছে। দেশ থেকে তো কেউ অনুমোদন নিয়ে সেখানে আবাস গড়েনি। এতেই প্রমাণিত হচ্ছে, দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো টাকা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের হাইকমিশন তাদের তালিকা বের করতে পারে।

 এরপর দেশের সংস্থাগুলো তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে পারে। তাহলে পরবর্তী সময়ে টাকা পাচারের প্রবণতা কমে আসবে। তবে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। কারণ, যারা আবাস গড়েছে, সবাই প্রভাবশালী। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রেটির (জিএফআই) তথ্য মতে, বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।

টাকার অংকে যা প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই এই অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে। দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল অংকের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির জন্য পাচারের ঘটনা বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এ বেআইনি কর্মকান্ড রোধ করা হবে। পাচারকৃত টাকা ফেরত এলে দায়ীদের বিচারের সম্মুখিন করতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

বন্ধ করো শিশু হত্যা

বড়দের রাগ-বিদ্বেষ, ক্ষোভ-বঞ্চনা, বিরহ-বিরোধ, মান-অভিমান, ঘৃণা-প্রত্যাখানের নৃশংস বলি হচ্ছে শিশুরা। সন্তানের প্রতি চিরন্তন ভালোবাসা ভুলে কখনও মা বাবাই হয়ে উঠছেন আপন সন্তানের হন্তারক। একের পর এক মর্মন্তুদ ঘটনা সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার স্বার্থহীন অটুট বন্ধনের মানবিক সম্পর্কের বিষয়টি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে কঠিন সত্যের সামনে।

কখনও আবার সমাজ ও পরিবারের নানা বিরোধের জেরে ভয়ঙ্কর হত্যার শিকার হচ্ছে অবুঝ শিশুরা। এমনকি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে প্রায় শিশুদেরই সহজ টার্গেট বানাচ্ছে দাগি অপরাধীরা। দেশের কোনো না কোনো স্থানে প্রতিদিন নানা কারণে প্রাণ হারাচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। চলতি বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, পারিবারিক, সামাজিক সচেতনতার অভাব, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সূত্রিতা, পর্ণোগ্রাফি, মানসিক অস্থিরতা, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কুপ্রভাব, মাদকাসক্তি, অসাবধনাবশত মারধর, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মানসিক অসুস্থতার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটছে।  চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৪৪টি। পর্ণোগ্রাফিতে ১৪ শিশুকে ব্যবহার করা হয়েছে। অজ্ঞাত নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ জনের। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে নিখোঁজের পর ৩৪ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখন স্বামী-স্ত্রী তাদের মধ্যকার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে শেয়ার করেন না, যার পরিণতি হয় ভয়ানক। আবার সন্তানকে হত্যা করে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। শিশুদের জন্য সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে চাইলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের কাউন্সিলিং করাতে হবে। শিশুর নিরাপত্তা ও সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করার ব্যাপারে উদাসীনতা দূর করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

খেলাপি ঋণ

আশংকাজনক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ভেঙ্গে পড়ছে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা। একের পর এক আর্থিক কেলেংকারিতে জড়িয়ে বিপর্যয়ের মুখে দেশের ব্যাংকিং খাত। সোনালী ব্যাংকের এমডির বরাতের একটি খবর ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেছেন, মামলা করেও খেলাপি ঋণের টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। বড় ঋণ গ্রহীতাদের কাছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। ব্যাংকের ঋণের চিত্রটি তিনি নিজেই দিয়েছেন। বর্তমানে ব্যাংকের আমানত এক লাখ কোটি টাকা।

 এর মধ্যে ঋণ দেওয়া হয়েছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে ঋণের ১৯ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। মানে অর্ধেক ঋণই খেলাপি। সংসদে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ঋণ খেলাপি ১০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গড় পাওনা ১১০০ কোটি টাকারও বেশি।

এ টাকা আদৌ আদায় করা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ঋণ খেলাপিদের কেউ কেউ দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন ব্যাংক ও সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে। এই যে বিতরণ করা ঋণের সিংহভাগ খেলাপি হয়ে যায়, সেটি নিশ্চয়ই একদিনে হয়নি।

 কাদের ঋণ দেওয়া হবে, ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা সক্ষমতা পরিমাপের নিশ্চয়ই একটি মানদ  আছে। সেই মানদন্ডটি ঠিকঠাকমতো কাজ করছে কি-না, সেটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী কখনো পর্যালোচনা করে দেখেছে ? এসব ঋণ দেওয়া এবং আদায় করতে না পারার পেছনে মূলত রাজনৈতিক সংস্কৃতি দায়ী। এর পেছনে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে।

ঋণ খেলাপিরা ঋণ লোপাটের ক্ষেত্র হিসেবে সিংহভাগ ক্ষেত্রে বেছে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে। লুটেপুটে খাই তত্ত্বকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পার্সেন্টেজ দিয়ে তারা ঋণ নিয়েছেন এবং তা লোপাটের চেষ্টা করেছেন।

 শত শত কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর কাছে জামানত হিসেবে যেসব সম্পত্তি রাখা হয়েছে তার দলিল পত্রের বেশির ভাগই ভুয়া। ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির পেছনে অনৈতিক লেনদেন নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেও এরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবেন- এটা চলতে পারে না।

 

এই বিভাগের আরো খবর

হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি

দেশে দ্রুতহারে কমছে ফসলি জমির পরিমাণ। যা অচিরেই অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভা ফেলতে পারে। বিভিন্ন সংস্থা কোম্পানি প্রায় সারা দেশেই শত শত বিঘা জমি কিনছে। এতে কৃষকরা ভূমিচ্যুত হচ্ছে। কোম্পানিগুলো প্রথম দিকে কৃষি কাজের নাম করে কেনা জমিতে গাছপালা রোপণ বা বপন করে। পরে জমিটিতে মাটি ভরাট করে অন্য কাজে লাগায়।

আগের তুলনায় দ্রুতহারে কমছে ফসলি জমির পরিমাণ, এটাকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় একটি হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত এক দশকে প্রতি বছরে দেশে ফসলি জমির পরিমাণ ৬৮ হাজার হেক্টর করে কমছে, যা দেশের মোট ফসলি জমির শূন্য দশমিক ৭৩৮ শতাংশ। অথচ তার আগের তিনদশকে প্রতি বছর ফসলি জমি কমেছে মাত্র ১৩ হাজার হেক্টর।

 নানা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, আবাসন প্রকল্প, ইটভাটা, রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণেই প্রতিদিনই কমছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। অবকাঠামোই বলি, আর আবাসন, ইটভাটাই বলি নানা উছিলায় যে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে, এর প্রতিকার জরুরি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন ৯৬ বিঘা জলাভূমি। সেসব জলাভূমিও ভরাট করে ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অবৈধ নিয়ম বহির্ভূত সব ইট ভাটা বন্ধ করতে হবে।

 বৈধ ইটভাটাও যদি কাঠ ব্যবহৃত হয়, সে ক্ষেত্রেও প্রশাসনের কঠোর আইনে পদক্ষেপ প্রয়োজন। কৃষি জমির রূপান্তর বা ভিন্ন কাজে ব্যবহারে শুধু শাস্তির বিধানই যথেষ্ট নয়, ভূমির কোনরূপ পরিবর্তন বা ক্ষতি হলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও করতে হবে। সর্বসাধারণের সচেতনতাও কৃষি জমি হারানোর সমস্যা সমাধানে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর

পানি বাড়ছেই, বিপর্যস্ত জনপদ

দেশের উত্তরাঞ্চলে যমুনা, তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়েই চলেছে। ভাঙছে জনপদের পর জনপদ। এরই মধ্যে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। বসতি হারিয়ে বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। বিপর্যস্ত জনপদে বেড়েছে খাদ্যাভাব ও রোগ বালাই। সব মিলিয়ে দুর্গত মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকা এবং নিচু অংশগুলো তলিয়ে যাওয়ায় উঠতি ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বাড়ার সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রবল বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েই চলেছে।

 সরকার দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা চালালেও তা পর্যাপ্ত নয়। এদিকে দেশে দীর্ঘস্থায়ী বড় বন্যার আশংকায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলাকে বন্যা প্রবণ চিহ্নিত করে ওই সব জেলায় ত্রাণ মজুদের কাজও শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থান অতি বর্ষণ ও ঢলের কারণে তলিয়ে গেছে। সেখানকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উজানে ভারতের আসাম ও অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রবল বন্যা শুরু হয়েছে। ভাটির দেশ হিসাবে এই বন্যার পানি বাংলাদেশের উপর দিয়েই সাগরে নামবে।

 ইতোমধ্যে এই পানি নামতে শুরু করায় উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে তিস্তা ব্যারেজের গেটও খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। আবার দেশের ভাটিতে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্যার পানি নিষ্কাষণ বিলম্বিত হতে পারে। তাই সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের যাতে খাদ্যাভাব দেখা না দেয় বা সঞ্চালন ব্যবস্থায় বাধা তৈরি না হয় সে জন্য আগে ভাগেই ওইসব জেলায় খাদ্যশস্য মজুদ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে

মঙ্গলবার মূল্যস্ফীতির হাল নাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তাতে দেখা গেছে, জুনে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে। অথচ এপ্রিলেও গড় মুদ্রাস্ফীতির হার সাড়ে ৫ শতাংশের নিচে ছিল। হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে গত দুই মাসে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে চালের দাম। জুনে আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে প্রভাব পড়েছে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের ওপর। যার ফলে সদ্য বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থ বছর শেষ হয়েছে মূল্যস্ফীতির হার উর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে।

 বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, জুনে গড়ে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫.৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের মাস মে তে এই হার ছিল ৫.৭৬ শতাংশ। তারও আগের মাস এপ্রিলে এই হার ছিল ৫.৪৭ শতাংশ। এতে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।

চালের দাম বৃদ্ধিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার  কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিবিএস। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে ১৬ লাখ টন ধান নষ্ট হয়েছে। চালের সরবরাহ বাড়াতে সরকার শুল্ক কমিয়েছে ১৮ শতাংশ। ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে সরকার। যদিও সে চাল আসবে আগামী ১৩ জুলাই। অন্যদিকে জুনে সরকার আরেক দফা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।

 এই কারণে খাদ্য বহির্ভূত যেসব পণ্য আছে, সেসব পণ্যের দামও বেড়েছে। যার ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল নিজেও স্বীকার করেন, আগাম বন্যায় বোরোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

এই কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। বিবিএস প্রকাশিত তথ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতির যে উর্ধ্বমুখী চিত্র তুলে ধরা হয়, সেটি অর্থনৈতিকভাবে দেশে মন্দাভাবেরই প্রতিফলন। কাজেই মেঘ দেখে যাত্রা পথ ঠিক করতে সরকারকে এখনই নতুন অর্থ বছরের জন্য আগাম তৈরি হতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

টেকসই উন্নয়নে এগোতে হবে

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সূচকে জাতিসংঘভুক্ত বিশ্বের ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম। এমনকি এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১০টির অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আছে লাল তালিকায়। যার অর্থ, এসব লক্ষ্যপূরণে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাসটেইনবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক এসডিজি অর্জনে দেশগুলোর ২০১৭ সালের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই সূচকের মাধ্যমেই এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বে সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিতে জাতিসংঘে গৃহীত এসডিজিতে ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের জন্য মোট ১৭টি লক্ষ্য স্থির করা হয়। এসব লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি বিচার করেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সূচকে দেখা যায় ১৫৭ দেশের মধ্যে ১২০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের সার্বিক পয়েন্ট একশ’র মধ্যে ৫৬ দশমিক ২।

 অগ্রগতির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্ষুধামুক্তি, সবার জন্য স্বাস্থ্য সম্মত জীবন নিশ্চিত, ন্যায্যতা ভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ, সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত, সবার মানসম্মত কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও উদ্বোধনী প্রযুক্তি ব্যবহার, টেকসই নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত, সমুদ্র সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, ব্যবহার, শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আছে লাল তালিকায়। তবে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি এসেছে দারিদ্র বিমোচনে।

 জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বসম্মতিক্রমে টেকসই উন্নয়ন বা এসডিজির লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সময়সূচিও সুনির্দিষ্ট ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ বছর। সন্দেহ নেই, ২০০০ সালে গৃহীত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বের অন্তত ৭০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করার সাফল্যই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আরও উন্নত পৃথিবীর জন্যই মানবজাতির এ স্বপ্ন এবং তা পূরণে প্রতিটি দেশ অবদান রাখবে একই সঙ্গে বাংলাদেশ যে ১০টি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে তা সফলভাবে এগিয়ে নিক -এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনুন

খবরে প্রকাশ জামানত  ছাড়াই ঋণ দিয়ে বিপাকে পড়েছে দেশের বৃহত্তর একটি সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঢাকার একটি কর্পোরেট শাখা। ১৯৯৭ সালে মাত্র ৮২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে একটি কোম্পানি। ১৫ বছর ধরে ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসা করে ২০১১ সালে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে আর যোগাযোগ করছেন না খেলাপি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। ২০ বছর পরে এসে বর্তমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নিয়ে কোনো কুল কিনারা করতে পারছেন না। গত সোমবার জাতীয় সংসদে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

 ‘ফেয়ার ট্রেড’ নামের উক্ত প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান তালিকায় ১৫তম। আমাদের ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা আজকের নয়। নানামুখী কেলেংকারির কারণেও মানুষের আস্থার অভাব তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং খাতকে ঘিরে। এ ধরনের খেলাপি ঋণ শুধু নয়, সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক কেলেংকারি আমাদের ব্যাংকিং খাতকে ফেলে দেয় হুমকির মুখে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মন্দ ঋণের বোঝা। খেলাপি ঋণের সংস্কৃতিও আমাদের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম দিক। ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তা আর কখনোই পরিশোধ করতে হবে না- এই নীতি চলে আসছে আমাদের ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। ব্যাংকগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে গ্রাহককে দেয়া ঋণ আদায়ের জন্য প্রায়ই জোরদার তৎপরতা দেখায় না।

 ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলোর ঋণের বড় অংশই থেকে যায় খেলাপি হিসেবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থা কাটবে না। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরে সুশাসনের অভাব আছে। কেন্দ্রিয় ব্যাংকের যে নজরদারি করার কথা ছিল, তা হয়নি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। কারণ, ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। আমরা মনে করি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে। আমানতকারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে সরকার এটাই কাম্য।

এই বিভাগের আরো খবর

রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় ইউনেস্কোর শর্ত ও সুপারিশ সরকার মেনে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক -ই ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, আপাতত সুন্দরবনের পাশে বড় ধরনের শিল্প অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হচ্ছে না, চলবে। তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবনে কী ধরনের অবকাঠামো করা যাবে, সে বিষয়ে একটি কৌশলগত পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা প্রতিবেদন (এসইএ) তৈরির ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

 আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রতিবেদন ইউনেস্কোতে জমা দেওয়া হবে। রামপালে কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষের স্পষ্ট বিভক্তিতে ইউনেস্কো থেকে আসা বার্তাটি তাতে নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এ আশংকায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি ওই আপত্তি দেয়।

 এই প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ডের ক্রাকাও শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সংক্রান্ত ৪১তম বার্ষিক সম্মেলনের দিকে সবার দৃষ্টি ছিল। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ওই সম্মেলনে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরিবেশগত সুরক্ষার যেসব তথ্য তুলে ধরেছে, তাতে করে ইউনেস্কো আশ্বস্ত হয়েছে এবং বৈশ্বিক সংস্থাটির ঝুঁকি তালিকায় সুন্দরবনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন নিয়ে ইউনেস্কোর কোনো আপত্তি নেই। স্মর্তব্য, সুন্দরবন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে দেশের পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠন সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য ইউনেস্কোকে চিঠি দেয়। তবে পোল্যান্ড সম্মেলনে সে চিঠির অভিযোগগুলো যথার্থ বলে বিবেচিত হয়নি। আমরা আশা করব রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ সুন্দরবনের পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না বলে সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি

ভেজাল পণ্য, বাজার, দোকান, সুপারশপ কোথাও ভেজালমুক্ত খাদ্যপণ্য মিলছে না। মাছেও ফরমালিন, দুধেও ফরমালিন। ফল-ফলাদিতে দেওয়া হচ্ছে কার্বাইড সহ নানা বিষাক্ত কেমিকেল। খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোটা রীতিমতো অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ভেজালের বেপরোয়া দাপটের মধ্যে আসল পণ্য খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর। ভেজাল পণ্যের দাপট ঠেকাতে মাঝে মাঝেই চলে অভিযান। করা হচ্ছে জেল-জরিমানা। কিন্তু বন্ধই করা যাচ্ছে না খাদ্যে ভেজাল। জীবন যাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রেই রয়েছে ভেজাল আর নকলের সীমাহীন দৌরাত্ম।

 অতিমাত্রায় কীটনাশক, কেমিকেল আর রঙের আধিক্যতায় বেশির ভাগ খাদ্য পণ্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেমিক্যাল আর পিঁয়াজের রস মিশিয়ে তৈরি করা হয় খাটি সরিষার তেল। দুধের মধ্যে রাসায়নিক কেমিক্যাল ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, বোরিক অ্যাসিড, স্যালিসাইলিক, ইউরিয়া, চিনি, লবণ, সোডিয়াম বেনজয়েট, সোডিয়াম কার্বনেট, ফ্লেভার, ক্ষতিকর রং এবং শ্বেতসার ও স্কিম মিল্ক পাউডার মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে গাভীর খাঁটি দুধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফরমালিন উচ্চ মাত্রার বিষাক্ত পদার্থ, এর কারণে দ্রুত কিডনি নষ্ট, ক্যান্সার, লিভার ব্যাধি হওয়ার আশংকা থাকে। শিশুদের হার্টের রোগ ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। ব্রেড, বিস্কুট, সেমাই, নুডলসহ সব রকম মিষ্টি খাদ্য পণ্যে টেক্সটাইল লেদারের রং, মুড়িতে ইউরিয়া-হাইড্রোজের অবাধ ব্যবহার চলছে। চাল, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, আলু থেকে শুরু করে রুটি, কেক, মিষ্টি ভেজালের ছোবল থেকে বাদ যাচ্ছে না।

 জীবন ধারনের জন্য সবচেয়ে জরুরি ‘পানি’ পর্যন্ত নিরাপদ থাকছে না। কলা, আম, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস থেকে শুরু করে আপেল আঙ্গুর, নাশপাতিসহ দেশি-বিদেশি প্রায় সব ফলেই মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল। অপরিপক্ক ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও তা উজ্জল বর্ণে রূপান্তরের জন্য অধিক ক্ষার জাতীয় টেক্সটাইল রং ব্যবহার হচ্ছে অবাধে।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নকল ও ভেজাল পণ্য বিক্রি এবং বাজারজাত করার চেষ্টা করে সর্বদা। সারা দেশে ভেজাল প্রতিরোধ ও নিরসনের জন্য বিএসটিআই ও ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে। এ লক্ষে কাজ করে থাকে পৌর কর্তৃপক্ষও। তবে প্রায়ই এসব অভিযান পরিচালিত হয় মৌসুমী ভিত্তিতে, খন্ডকালীন সময়ের জন্য। জনস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তৎপর হবে – এই প্রত্যাশা সচেতন সবার।

এই বিভাগের আরো খবর

জলবায়ু চুক্তি নিয়ে বিভেদ

জলবায়ু চুক্তি নিয়ে বিভক্তি দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রভাবশালী বিশ্ব নেতাদের দুইদিন ব্যাপী জি-২০ সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার সত্ত্বেও বাকি ১৯ দেশের নেতারা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সম্মেলনের শেষদিনে জলবায়ু চুক্তি ইস্যুতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্ব নেতারা একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছতে সক্ষম হন। হামবুর্গে জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে ভর্ৎসনার মধ্য দিয়ে জি-২০ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। মার্কেল বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিতাপের।

 তবে বাকি দেশগুলো এ চুক্তির ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ রয়েছে। গত মাসে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। যে কারণে এবারের জি-২০ সম্মেলনে চেষ্টা ছিল জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে গত রোববার জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন হলেও বাকি সদস্যরা এই চুক্তির বাস্তবায়ন জরুরি বলে জানিয়েছে। তবে জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার আরো পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরভাবে করতে অন্যান্য দেশগুলোকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

 বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন। বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব তা পৃথিবীকে কতটুকু বিপর্যয়ের সম্মুখীন করবে, মানুষকে কতটা আশ্রয়হীন অথবা বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেবে তা জানতে আজ কারো  বাকি নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে দুর্যোগ অপেক্ষা করছে তা মোকাবিলায় তাই সারা পৃথিবীর মানুষ এক জোট। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে একমত হয়নি। তারা একা চলার নীতি গ্রহণ করেছে। হামবুর্গ জি-২০ সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তি হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো এত বড় এবং বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারকারী ইস্যু কারো একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।

 

এই বিভাগের আরো খবর

কমে আসছে বিদেশে শ্রম বাজার

হঠাৎ করেই বিশ্বের কয়েকটি দেশে থাকা প্রায় ১০ লক্ষ বাংলাদেশী কর্মি সংকটে পড়েছেন। এর বেশিরভাগেরই অবশ্য ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বা ভিন্ন পদ্ধতিতে ওসব দেশে গিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি যে কোন মুহূর্তে গ্রেফতারের আতংকে ভুগছেন। সৌদি আরবে কাজ হারানো ও গ্রেফতার হয়ে দেশে ফেরার শঙ্কা তৈরি হয়েছে ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশির। বিশ্বরাজনীতির মারপ্যাঁচে বিপাকে পড়েছেন কাতারে থাকা ৩ লাখ বাংলাদেশি। ভিসার সমস্যার চরম সংকটে আছেন আরব আমিরাতে থাকা ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশি।

 ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে ৯৩ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার চাপ কঠোর থেকে কঠোরতর করার চেষ্টা করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ইউরোপে যাওয়ার পথে তুরস্ক গিয়ে পৌঁছানোর ২ হাজার বাংলাদেশী সেখানে আছেন বন্দিদশায়। বিপদসংকুল জেনেও ইউরোপে যাওয়ার আরেক পথ হিসেবে লিবিয়াকে বেছে নেওয়া কয়েক হাজার ভাগ্যান্বেষী রয়েছেন চতুর্মুখী শংকায়। এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক বছরে সবমিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হবে বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা।

 অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন অবৈধপথে অদক্ষ কর্মিদের প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর পথ ধীরে ধীরে রুদ্ধ হয়ে আসছে। এদের ফিরেয়ে এনে বৈধ পথে নতুন কর্মি পাঠানোর সুপারিশও করেন কেউ কেউ। মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশি কর্মি ধরতে সরকারি অভিযান জোরদার। তাই সেখানে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে ৩ লক্ষ বাংলাদেশিকে। ইতোমধ্যেই সেখানে ৮০০শ বাংলাদেশি অবৈধ কর্মি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন। এ অভিযানে শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে ইমেজ সংকটেও পড়ছেন প্রবাসীরা।

 বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাংলাদেশ দূরে সরে যাচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যেমন নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য আবশ্যক। তেমনি পুরনো বাজারে ধরে রাখতেও ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। বৈদেশিক শ্রমবাজার খাত কোন মতেই হাতছাড়া না হয়, সে ব্যাপারে কুটনৈতিক তৎপরতাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হোক।

এই বিভাগের আরো খবর

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভিন্নতা আছে, এখন চারটি বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে ভোট গ্রহণ করা না করা, নির্বাচনী আইনের কিছু ধারা সংশোধন, ব্যাপক পরিসরে সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটের দিন সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় কমিশন।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন রোড ম্যাপের যে একটি খসড়া গত মে মাসে প্রকাশ করেছিল, সেটা চূড়ান্ত  করা হচ্ছে। তা ১৬ জুলাই প্রকাশ করার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কমিশনের করণীয় এই রোড ম্যাপে থাকছে।

 দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে পাওয়া মতের ভিত্তিতে ইভিএম ও ভোটের দিন সেনা মোতায়েন সহ নির্বাচনী আইনের কিছু ধারা সংশোধন এবং ভোটার অনুপাতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় কমিশন। রোড ম্যাপ অনুযায়ী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হবে সংলাপ। শুরুতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে, এরপর নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বা আলোচনা হবে।

নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। দেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অর্থবহ করে তুলতে এই নতুন নির্বাচন কমিশনের আওতায় অনুষ্ঠিতব্য সব নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিতা মূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। নির্বাচনের ফলাফলে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে করণীয় কমিশন অবিচল ভূমিকা পালন করবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমাবদ্ধতা দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে যে সংশয় সৃষ্টি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে ইসিকে তৎপর হতে হবে। আমরা আশা করব নতুন নির্বাচন কমিশন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটাবে এবং সবার আস্থা অর্জনে সক্ষমতার পরিচয় দেবে। চলে আসা ভুল-ত্রুটি, ব্যর্থতা, দলবাজি এড়াতে হবে। ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছা ও সহযোগিতা থাকবে আমরা সে আশাই করতে চাই। আমরা বর্তমান ইসির সর্বাঙ্গিন সাফল্য কামনা করি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

এডিবি বাস্তবায়ন সর্বনিম্ন

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) মাধ্যমে সরকার যে ব্যয় করতে চেয়েছিল তার ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। যা গত অর্থ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের কম ছিল। তার পরের ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে সবসময় এডিপির সংশোধিত বরাদ্দের ৯০ ভাগের বেশি বাস্তবায়ন হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদায়ী অর্থ বছরে এডিপির মূল বরাদ্দ ও সংশোধিত বরাদ্দ সমান ছিল। কিন্তু আগের বছরগুলোতে সংশোধিত বরাদ্দ মূল বরাদ্দের তুলনায় কম ছিল। যে কারণে বছর শেষে বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবায়ন হার বেশি হয়েছে। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মূল বরাদ্দ ও সংশোধিত বরাদ্দ সমান থাকায় বাস্তবায়ন হার কম হয়েছে। তাদের মতে অভ্যন্তরীণভাবেও আয়ের যে উচ্চ লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে, তাতে দেখা যায়, বছর শেষে অর্থ সংগ্রহে বড় ধরনের বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানও ভোক্তাদের উৎসাহ জোগান সম্ভব হবে না।

 আমরা মনে করি, এডিপির বরাদ্দকৃত অর্থ যদি ঠিকমতো কাজে লাগানো যায় তবে তার অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হবে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়নি অনেক প্রকল্পের। অনেক প্রকল্পই থমকে থেকেছে, বাস্তবায়ন হয়নি। কোন কোন প্রকল্প আবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ হয়নি। কিন্তু অসাধু লোকের দৌরাত্ম্যে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। এডিপিতে যে পরিমাণ টাকা বিদেশি সাহায্যের প্রত্যাশা করা হয়েছে তা পুরণেও কাজ করতে হবে আন্তরিকভাবে। প্রকল্পগুলো সময়মত ও যথার্থভাবে বাস্তবায়ন হবে-এটা কঠোরভাবে নজর দারি দরকার। কোন অজুহাতই গ্রহণযোগ্য হবে না-এটিই প্রত্যাশা।

এই বিভাগের আরো খবর

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের বিপর্যয়

মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া অভিবাসীরা আছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কে। বিপাকে পড়েছে বৈধ অভিবাসীরাও। গত তিনদিনের অভিযানে দেখা যায় গ্রেপ্তার হওয়া ১ হাজার ৫৩৯ জন বিদেশির মধ্যে ৭৫২ জনই বাংলাদেশের নাগরিক, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করা কঠিন নয়।

দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে যে শক্ত ভিতের ওপর, তার সিংহভাগই বৈদেশিক রেমিট্যান্স। অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার যে প্রবাহ তা নির্ভর করে বিদেশ কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর। প্রতি বছর হাজার হাজার কর্মক্ষম যুবক চাকরির আশায় বৈধ এবং অবৈধভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।

 এসব শ্রমিকের ঘামে ভেজা কষ্টার্জিত অর্থে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে আমাদের অর্থনীতি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব শ্রমিকের কথা, তাদের সুবিধার কথা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। কি বিদেশ যাত্রায়, কি বিদেশে তাদের অবস্থানকালে প্রতি পদে তারা সমস্যার সম্মুখিন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে থাকেন উদাসীন। বাংলাদেশের বেশির ভাগ শ্রমিক মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক, ইরান, কুয়েত, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত।

 মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, বিদেশের মাটিতে কর্মরত শ্রমিকদের দেখভালের জন্য আমাদের দুতাবাসগুলোর তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন খুব বেশি হয়নি।

মালয়েশিয়ায় যেসব বাংলাদেশি অবৈধ হয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তাদের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মুক্ত করা এবং মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবৈধ হয়ে পড়া শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি নিয়ে জরুরিভাবে আলোচনা করা উচিত। আমরা আশা করব, সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অবিলম্বে মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের অবৈধ হয়ে পড়া শ্রমিকদের বৈধ করার যাবতীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে- এটিই প্রত্যাশা।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সোনা পাচার চক্র

হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে পৃথক অভিযানে সাড়ে ১১ কেজি সোনাসহ সিরাজুল ইসলাম নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত সোনার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। বুধবার রাতে থাইল্যান্ড থেকে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে এক যাত্রী ও সোনা আনেন।

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোন না কোনো বিমান বন্দর কিংবা স্থল বন্দরে সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। এতে চোরাচালানীরা ধরা পড়ছে আবার কখনও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সোনা চারাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।

 চোরাচালানিরা বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমাদের প্রশ্ন কেন সোনা চোরাচালানিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না? দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা দ্রুত রোধ করা না গেলে দেশের বন্দরগুলো ঝুঁকিতে পড়বে বলেই আমরা মনে করি।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিমান বন্দরে সোনা চোরাচালানের ঘটনার সময়ে যাদের আটক করা হয়, তারা কেবল বাহকমাত্র। মূলত এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে দেশি-বিদেশি পাচারকারি চক্র। এরা দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনার চোরাচালান আসছে। দেশের অর্থনীতিতে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে।

 কারণ বিদেশ থেকে আসা সোনার বিপরীতে পাচার হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে একের পর এক সোনার চোরাচালান ধরা পড়ার পরও নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরাচালানের প্রবণতার বাদ সাধা যাচ্ছে না। একটি শক্তিশালী চক্র লাগেজ ব্যবসার আড়ালে সোনা, রূপা, মাদক ও মুদ্রা সহ নানারকম দ্রব্য পাচার করছে।

 অবৈধ এ লাগেজ ব্যবসার বেনিফিসিয়ারি হচ্ছে বিমানের অনেক কর্মকর্তা- কর্মচারিরাও। তবে শুধু চোরাচালান নয়, বর্তমানে বিমান বন্দরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ চোরাচালান সহ সব ধরনের অপরাধ দমনে শতভাগ আন্তরিক – এটা প্রমাণ করতে হবে। সোনা চোরাচালান চক্রের গডফাদারদের গ্রেফতার করতে হবে। 

এই বিভাগের আরো খবর

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ হোক

আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনটি কাগজে-কলমে বলবৎ থাকলেও তেমন প্রয়োগ নেই। ফলে কোনো কাজেই আসছে না। প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ। বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা। দাম দিয়েও সঠিক ওজনের সঠিক পণ্য বাড়িতে নিতে পারছেন না তারা। এতে একদিকে ক্রেতাকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে মানের বিষয়েও তিনি নিশ্চিত হতে পারছেন না।

একদিকে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ে, অন্যদিকে প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে নানা ধরনের রাসায়নিক। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সব কেমিক্যাল দেদারছে মেশানো হয় ফলমূলসহ শাক সবজি, ডিম সবখানেই এসব দ্রব্যের ব্যবহার। বাজার থেকে কিনে ফল মাসাধিককাল ফ্রিজের বাইরে নষ্ট হচ্ছে না।

 সঙ্গে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করা তো আছেই। নানা ভোগান্তি ঠেকাতেই ২০০৯ সালে প্রণীত হয়েছিল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯। কিন্তু প্রয়োগ না থাকায় ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ কাজে আসেনি আইনটি। এতে ক্রেতাসাধারণকে বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার আইনটি প্রয়োগ না হওয়ার পেছনে লোকবল সংকটকেই বড় করে দেখা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, নামে একটি সংস্থা রয়েছে।

 তবে সে সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও নানা মহলের সংশয়ের কথা খবরের কাগজে এসেছে। ভোক্তা অধিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, পণ্যের মোড়কের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দোকানদাররা গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মানেন না। আমরা চাই ভোক্তা অধিকার আইনের বাস্তবায়ন। যে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী কাজ হোক। দাম দিয়ে ক্রেতা যেন সঠিক পণ্য পায়, সে অধিকার তাকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি হোক

দৈনন্দিন জীবনে নষ্ট হয়ে যাওয়া টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। একটি এনজিওর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়। অথচ এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ধ্বংসে অথবা রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোনো আইন, নীতিমালা, কিংবা উদ্যোগ। অথচ পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকায় রয়েছে ই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আলাদা আইন। বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা এনভারমেন্ট এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) পরিচালিত ‘ই-বর্জ্য’ বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র, ২০১৪’ শীর্ষক গবেষণা অনুসারে, ২০১১-১২ অর্থ বছরে দেশে বাতিল হয়ে যাওয়া ই-বর্জ্যরে পরিমাণ ছিল প্রায় ৫১ লাখ মেট্রিক টন।

 ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১০ লাখ টনে। এর মধ্যে শুধু মুঠোফোন থেকেই তৈরি হয়েছে ৫১ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য। আর টেলিভিশন ও কম্পিউটার বর্জ্য তৈরি হয়েছে যথাক্রমে ৮ লাখ ৬০ হাজার ও ৩৪ হাজার ৪০০ টন। জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের জন্য আমদানি করা প্রতিটি জাহাজে বিপুল পরিমাণে অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পণ্য থাকায় এ থেকে তৈরি হওয়া বর্জ্যরে পরিমাণই সর্বাধিক, যা প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। প্রতি বছর ২০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়। তার ২৫ থেকে ৩০ ভাগই আসে মোবাইল ফোন থেকে।

 এসব পরিত্যক্ত বর্জ্য পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি খাদ্য শৃঙ্খলার মাধ্যমে মানুষের শরীরের ভিতর প্রবেশ করে। এসব বর্জ্যরে ভিতর থাকে সিসা, মার্কারি, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিকসহ বিভিন্ন ধরনের হেভি মেটাল। এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। উন্নত দেশগুলোতে মোবাইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানই বাতিল মোবাইল পুনরায় কিনতে বাধ্য থাকে। বাংলাদেশেও এ রকম ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

 তাহলে কমবে ই-বর্জ্যরে পরিমাণ। ই-বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভাগাড় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ই-বর্জ্য পচনশীল না হওয়ায় এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদি। এর থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্যরে প্রভাবে শরীরে বাসা বাঁধছে দুরারোগ্য ব্যাধি। এসব ক্ষতিকর উপাদানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শারীরিক বিকাশ। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা রিসাইকেলের কোনো উদ্যোগ নেই। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট, ভাগাড় এবং নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

দুর্নীতি রোধ করুন

প্রতিটি সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) প্রায় ২০ হাজার টাকা করে কেনা হয়েছিল, ৪৫ হাজার ২০৩টি কিনতে ব্যয় হয় ৮৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। নিম্নমানের হওয়ায় ৪৯৪টি এস এইচ এস অকেজো হয়ে স্টোরে পড়ে আছে। চাহিদার অতিরিক্ত ওই সোলার সিস্টেমগুলো কিনতে ব্যয় হয় সর্বমোট ১৮ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। কিন্তু অকেজো এসএইচএস গুলোর বর্তমান বাজার মূল্য মাত্র ৯০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এভাবে প্রকল্পের ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকা পানিতে গেছে। বাকি সোলার সিস্টেমগুলো স্থাপনের ছয় মাসের মাথায় নষ্ট হয়।

 পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) সোলার হোম সিস্টেম কেনার নামে বিভিন্ন ধাপে এভাবেই প্রায় ৮৯ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। উচ্চ মূল্যে এসএইচএস কেনা, সরবরাহ না করেই বিল প্রদান ও অকেজো সোলার সিস্টেম গ্রহণ করে স্টোরে ফেলে রেখে মোটা অংকের অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

পিডিবিএফ’র সৌরশক্তি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে লুটপাটের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি মনে করে, পিডিবিএফ’র সৌরশক্তি প্রকল্প মৃত প্রায়। ফাউন্ডেশনের স্বার্থেই অবিলম্বে প্রকল্পটি বন্ধ করা প্রয়োজন। গত রোববার একটি জাতীয় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত খবর বেরিয়েছে।

 আমরা মনে করি দুর্নীতির মূলোচ্ছেদ প্রয়োজন। সেবার প্রায় প্রতিটি খাতেই চলছে দুর্নীতি। অবৈধ লেনদেন ছাড়া কোনো কাজ হয় না। দুর্নীতি মানুষের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। কোনোভাবেই এটি দূর করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি দমন নিয়ে দেশে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে দুর্নীতি রোধে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখছি না। দুর্নীতি দেশের প্রধান সমস্যা।

এ সমস্যা থেকে বের না হতে পারলে আমরা একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে পারব না। এক সময় দুদকের চেয়ারম্যান বলেছিলেন দুদক নখদন্তহীন বাঘ। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবে দুদক কতটা স্বাধীন সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। দুর্নীতি দমন নিয়ে চলছে গলাবাজি। এভাবে দুর্নীতি দমন সম্ভব না। সম্ভব জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা হলে। এজন্য সুশাসন দরকার।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোশাক খাতের পথ মসৃণ হোক

দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। ইউরোপিয় ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড পোশাক শিল্পের কর্ম পরিবেশ উন্নয়নে দ্বিতীয় মেয়াদে আরও তিন বছর থাকতে ব্রান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে নতুন চুক্তি  করায় এই অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার ও মালিক পক্ষ। বর্তমান চুক্তিতে আগামী বছর মে মাসে অ্যাকর্ডের চলে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নতুন এক তরফা চুক্তির কারণে আগামী ২০২১ সালের ৩১মে পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাবে অ্যাকর্ড। এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে তিন প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূতের রুদ্ধদার বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য ও আইন মন্ত্রণালয়ের সভা হয়।


 এতে ঢাকায় মার্কিন, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। এভাবে অ্যাকর্ড চুক্তি করতে পারে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়। ওই সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আছে। এই ধরনের চুক্তি সবাই মিলে করতে হবে। কিন্তু যেভাবে করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কিছু জানানো হয়নি। শুনেছি সরকারও কিছু জানে না। আমরা মনে করি অংশীজন ছাড়া এমন চুক্তি অ্যাকর্ড করতে পারে না।

 আমরা চাই, বিলম্বে হলেও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নকামী দেশ হিসেবে আমাদের দরিদ্র শ্রমিকদের শ্রম ঘামে উৎপাদিত পোশাক বিক্রি করে যেসব বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান বিশাল অংকের মুনাফা করছে, তারা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেবে। অ্যাকর্ডের পরামর্শ মোতাবেক বাংলাদেশের পোশাক খাতের মালিকরা তাদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সংস্কার সাধন করেছেন। অ্যাকর্ডকেও বুঝতে হবে সেটা।

আমরাও চাই ক্রেতাদের প্রত্যাশা পূরণে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা আইএলওর বিধি যথাযথভাবে পালন করে বাংলাদেশের এই রপ্তানিমুখি খাতকে আরো চাঙ্গা করতে সংশ্লিষ্ট সব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাক শিল্প আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধানতম অবলম্বন।

এই বিভাগের আরো খবর

শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা

শিশুদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দান ও মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিশুরা যদি জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কঠিন পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, তবে সে পরিস্থিতি একটি রাষ্ট্রের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, এ রকম পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই নয় বরং আগামীর জন্য অশনি সংকেত বহন করে, যা থেকে উত্তরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে শিশুদের নিয়ে যে তথ্য উঠে আসছে, তা ভীতিপ্রদ। অভাব-অনটনের ফলে প্রতিনিয়ত শিশুরা যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ নানা কাজে। (সেভ দ্য চিলড্রেনের অঙ্গ সংগঠন কর্মজীবী শিশু সংগঠন প্রদীপণ ও আরো কয়েকটি এনজিও জরিপে দেখা যায়, দেশে প্রায় ৭০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত।


 এর মধ্যে ১৫ লাখের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করতে গিয়ে শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগ ব্যাধিতে। অথচ শিশু আইন অনুযায়ী জানা যায়, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দানে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু আইন থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। আইনকে তোয়াক্কা না করে শিশুদের অবলীলায় কাজে লাগানোর ঘটনা ঘটছে অহরহ।

বিদ্যমান শিশু আইন অনুযায়ী, শিশুদের নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু তারপরও যখন কল কারখানাসহ বিভিন্নভাবে শিশুদের কাজে লাগানো হচ্ছে, তখন তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। কেননা আইন অমান্য করার সাহস পাওয়ার অর্থই হলো সংশ্লিষ্টদের অবহেলা।


আমরা জানি, সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সনদে স্বাক্ষর করেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, বহু শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। তাই দারিদ্র্যের কাছে যখন প্রতিনিয়তই উপেক্ষিত হচ্ছে শিশু আইন, তখন তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

শিশুদের অবহেলা না করা, কঠোর কাজে নিয়োগ থেকে বিরত রাখাসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে অভিভাবকদের সচেতনতাও বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। বাধ্য করতে হবে যেন শিশুদের কঠোর কাজে নিয়োজিত করার সাহস কেউ না পায়। লোভ আর অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে যারা শিশুদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে উদ্যত হয়, তাদের এ অপতৎপরতা রুখতে হবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভয়াবহ বায়ু দুষণ

বায়ু দুষণের কারণে দেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে ধুলা দুষণ প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্বে দুষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে বায়ু দুষণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত ও বাংলাদেশে।

আর এই দুষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে প্রকাশিত ‘‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৭’’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বায়ু দুষণের কারণে শিশু মৃত্যু হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান।


 সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’- এর সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে ধুলা দূষণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ধুলাজনিত রোগ ব্যাধির প্রকোপ।

রাস্তার পাশে দোকানের খাবার ধুলায় বিষাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণু মিশ্রিত ধুলা ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাস কষ্ট, হাঁপানি ও যক্ষ্মা সহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি।


 সর্বোপরি শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে ধুলাজনিত রোগ, বালাইয়ে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুলা দুষণ প্রতিরোধে পরিবেশ আইন অনুসারে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধুলা দুষণ বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করা প্রয়োজন।

ধূলা দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শান্তি মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত রাস্তা পরিস্কার করা, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহণের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা ধূলা দুষণের উৎস সমূহ বন্ধ করতে হবে। নিজেদের স্বার্থেই এ বিপদ মোকাবিলা ত্বরিত পদক্ষেপ দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে সরকার ও পরিবেশ সংগঠনই শুধু নয়, নাগরিকদেরও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচার

১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ থেকে গত বছর সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে পাচার হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত থেকে পাচার হওয়া অর্থের প্রায় সমান। পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও নেপালের মতো দেশগুলো থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় নস্যি।

এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ৯৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি পাচার হয়েছে। এই হিসাব ইঙ্গিত করে যে বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকগুলোতে যে হারে অর্থ পাচার বাড়ছে, তাতে আগামী বছরই ভারতকে টপকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ পাচারকারী দেশের তকমা মিলবে বাংলাদেশের।

 অর্থ পাচার প্রতিরোধে সরকারের সব সংস্থার হাঁকডাকের মধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের ঘটনা ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রিয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দেশটির ব্যাংকগুলোর ২০১৬ সালের সামগ্রিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড, ২০১৬ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ অর্থ ওই দেশের তাতে বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের এসব তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি সোনাসহ অন্যান্য মুল্যবান ধাতুও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে রাখে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা।

 পাচার হওয়া অর্থের হিসাবে ওই সব ধাতুর মূল্য যোগ করা হয়নি। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির জন্য পাচারের ঘটনা বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। অবৈধ টাকা চিহ্নিত করে এসব টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই অবৈধ পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
]
 বলা যায় বিদেশে অর্থ পাচার রোধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে ব্যাপারেই উদ্যোগী হতে হবে। স্বাধীনতার পর সব আমলেই বাগদাদের চোরদের আছর ছিল। তাদের সবার পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা দুদকের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। বিদেশ থেকে অর্থ ফেরত আনা নিয়ে দুদক রাজনীতিতে প্রবৃত্ত হবে না। রাজনীতিমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু হোক-এটাই আমরা দুদকের কাছে প্রত্যাশা করি।

 

এই বিভাগের আরো খবর



Go Top