সন্ধ্যা ৬:১৬, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

উচ্চ আশাবাদের ভর করে আগামী অর্থবছরের জন্য যে বিশাল বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে নিশ্চয়তার ঘাটতি দেখছে বিশ্ব ব্যাংক। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই প্রতিক্রিয়া জানান। এক কথায় বাজেট নিয়ে তার মূল্যায়ন: ‘লং অন হোপ, শর্ট অন অ্যাসিউর‌্যান্স (আশাবাদে উচ্চ, কিন্তু নিশ্চয়তায় খাটো)।’

বিশ্ব ব্যাংকের এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাজেটে অনেক লক্ষ্যই বাস্তবতার নিরিখে নয়, আশার ওপর ভর করে ঠিক হয়েছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কোনো চমক নেই, গতানুগতিক। আর আয়ের লক্ষ্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আসছে অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি ২৬৬ কোটি টাকা আয়-ব্যয়ের ফর্দ ধরে তৈরি এই বাজেট ১ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেও আইন অনুযায়ী অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনায় ভর দিয়ে রাজস্ব আয়ের বিশাল লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এর মধ্যেই প্রশ্ন  উঠেছে।

১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের অভিন্ন হারের বিরোধিতা করে সাংসদ ও মন্ত্রীরা বক্তব্য দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহল থেকেও ভ্যাটের আগের হার বহাল রাখার দাবি জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভ্যাট নিয়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন। তার আগে কোনো কিছু জানানোর নেই। তবে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় সম্ভব নয় বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজেট, বড় আয়ের লক্ষ্য। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ওষুধসহ বেশ কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট নেই। ৩৬ লাখ টাকা পর‌্যন্ত ব্যবসার টার্নওভাবে ভ্যাট মূক্ত। সে কারণে দাম খুব একটা বাড়ার কারণ নেই। সামান্য বাড়তে পারে। তবে নতুন ভ্যাট নিয়ে যেভাবে অপ্রচার হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রভাবে এক ধরনের আতংক সৃষ্টি হয়ে দাম বাড়তে পারে। অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বললেও তা অর্জন নিয়ে এই বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেন। প্রবৃদ্ধির বিমান অটো পাইলটিংয়ে চলবেনা। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেভাবে চলছে সেভাবে হলে লক্ষ অর্জিত হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বাড়াতে হবে। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব বিনিয়োগের (পিপিপি) দিকেও নজর দিতে পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চালের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে গরিব মানুষ বেশি বিপদে আছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় চালের দাম খুবই স্পর্শকাতর। এটাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ভালো হয় যদি দ্রুত আমদানি বাড়িয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মিল মালিক বা আড়তদারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমদানি বাড়লে, সরবরাহ বাড়লে তারা এমনিতেই তাদের মজুদ করা চাল বাজারে ছেড়ে দেবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি
বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে।

বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন। বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি: বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে। বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন।

বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাস হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা মতো সংশোধিত আকারে পাস হবে। পাসকৃত বাজেট দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এতে মানুষ খুশি হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে এমন বাজেট পাস করা হবে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বাজেট পাসের পর আর কোনও আলোচনা বা সমালোচনা থাকবে না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ অবহিতকরণ কর্মশালায়’ এ বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজস, মনোপলি, জোটবদ্ধতার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন পাস করেছে। সে অনুযায়ী প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা কমিশন সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানীর ঘটনা দুঃখজনক।

দুর্ঘটনার পর থেকেই সরকার উদ্ধার কাজসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে সরকার। প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু। মূল আলোচক ছিলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ.কে. এনামূল হক।অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, মো. আবুল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক আফরোজা খান, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর।

 

‘ব্যাংক লেনদেনের আড়ালেও অর্থপাচার হচ্ছে’

করতোয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে আমদানি-রফতানির আড়ালে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে অর্থপাচারকারীরা চারটি কৌশল গ্রহণ করছে। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার অ্যান্ড আন্ডার শিপমেন্ট, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও একাধিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে। রোববার বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক এক কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধের নীতিমালাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এগুলো আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। স্বীকৃত ব্যাংকগুলোকে আমদানি-রফতানি মূল্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ট্রেড সার্ভিসের মাধ্যমে কেউ যেন ঋণখেলাপি হতে না পারে সেজন্য যথোপযুক্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচিত হবে, অধিক স্বচ্ছতা নির্ধারণের জন্য এসব তথ্য যাচাই করা। অনুষ্ঠানে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থপাচার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, এটা কেবল অর্থপাচার নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্যান্য আর্থিক অপরাধগুলোও ঘটছে। এসব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরে কড়া নজরদারি করছে। প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

 গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাংকিং সেবায় আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আমদানির পাশাপাশি রফতানিতেও আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছে ১৮ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালে কমে ঠেকেছে ১০ শতাংশ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো হয় ২৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ২০১১ সালে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৬৪  শতাংশ আমদানি ব্যয় মিটিয়েছে। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় আরও গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোকে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।’ বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন এনআরবি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসাইন  প্রমুখ।

 

চাউলের মূল্য বৃদ্ধি কৃত্রিম ও সাময়িক : বানিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এমন বাজেট পাস করা হবে না, যাতে দেশের মানুষ কষ্ট পায়।তিনি বলেন, বাজেট পাস করার পর সবাই খুশি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার সবকিছু করবে।

তোফায়েল আহমেদ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে থ্রি-ডি সেমিনার হলে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত বাজেট উত্তর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্রোভার্টি স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কাজল।এছাড়াও অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে জাতীয় সংসদে এবং বাইরে আলোচনা হচ্ছে। বাজেট পাস হবার পর আর কোন আলোচনা থাকবে না। ভ্যাট এবং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে বাস্তব সম্মত হবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, চাউলের মূল্য বৃদ্ধি এটি একটি কৃত্রিম সাময়িক সংকট। বাজারে চাউলের অভাব নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাউল রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরো ৬ লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।তিনি বলেন, চাউল আমদানির উপর ১০ ভাগ হারে আমদানি শুল্ক ছিল, দেশের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য আরো ১৫ ভাগ শুল্প আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে। একসময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই।তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা চাউল রপ্তানি করতে শুরু করেছি। দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন কমছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। এ উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও দেশে কোন খাদ্য সংকট হবে না।

আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হবে না: মুহিত

সিলেট প্রতিনিধি: ব্যাংক আমানতের উপর বাড়তি আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমানো হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১ জুন ঘোষিত বাজেটে ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর বাড়তি হারে আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করার পর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সেখানে বলা হয়েছে, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনে ১৫ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবগারি শুল্ক কমানোর সুযোগ নেই। তবুও এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা শেষে তা পাশ হবে। তবে  ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কোনোভাবেই কমানো হবে না জানিয়ে মুহিত বলেন, ২০১২ সাল থেকে এ বিষয়টি ঝুলে আছে। গত বছর তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, হয়নি। কিন্তু এবার কোনোভাবেই ভ্যাটের হার কমানো হবে না। সিলেট মদন মোহন কলেজ সরকারিকরণ উপলক্ষ্যে সরকারের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ প্রমুখ।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ৭ শতাংশের নিচেই

করতোয়া ডেস্ক: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশা করলেও বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন তার চেয়ে কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও বিশ্ব ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচেই থাকবে।

বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে  সোমবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এ সংস্থার হালনাগাদ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ এ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনের আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাইরে চাহিদা বাড়ায় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানোর কথা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেও বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের হিসাবের চেয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ও পূর্বাভাসকেই নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। তারা বলছেন, রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলহানি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি আরও কম হওয়ার কথা। কয়েকদিন আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ধরা হয়েছে বলে সংশয় প্রকাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানও বিবিএসের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্ব ব্যাংক প্রবৃদ্ধির হিসাব নির্ভরযোগ্য বলে মতপ্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক অর্থনীতির ধারাবাহিকতা যাচাই করে নির্দেশকগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিক বাস্তবতার ভিত্তিতে একটা ‘ফিগার’ উপস্থাপন করে।

অন্যদিকে বিবিএস যে প্রক্রিয়ায় ও যে ধরণের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করছে তা পর্যাপ্ত ও বাস্তবভিত্তিক নয় বলে মনে করেন তিনি। এর ব্যাখ্যায় কয়েকটি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বিবিএস প্রবৃদ্ধির হিসাব করেছে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তথ্যের ভিত্তিতে; তাদের হিসাবে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ধাক্কাসহ অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয়নি; এবং ম্যানুফেকচারিং খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ধরা হয়েছে, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধির বড় দুটি চালিকা শক্তি- রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহ- দুটোই বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গতবছরের অর্ধেক হয়ে চার শতাংশে নেমেছে। রেমিটেন্সতো গত অর্থবছরের তুলনায় নেগেটিভ। দুটো চালিকা শক্তির যদি এরকম নাজুক অবস্থায় ওভারঅল প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় বাড়লে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ঠ অবকাশ থাকে। এটা আসলে কীভাবে সম্ভব?’ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে শিল্পখাতে (ম্যানুফেকচারিং) ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বড় ভূমিকার যে হিসাব বিবিএস দেখিয়েছে তাতে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

সেলিম রায়হান বলেন, ‘ম্যানুফেকচারিং খাতে গ্রোথ দেখানো হচ্ছে ১০ পার্সেন্টের মতো। এই জায়গাটায় একটা প্রশ্ন আছে- আমাদের ম্যানুফেকচারিং খাতের ৫০-৫৫ পার্সেন্ট রেডিমেট গার্মেন্টস। রেডিমেট গার্মেন্টেসের প্রবৃদ্ধি কিন্তু অনেক কম- ফোর পার্সেন্টের মতো- এবং এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড।’ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৮৭২ কোটি ডলার আয় করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। এই অঙ্ক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। তার আগের অর্থবছরে (১২ মাসে) পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। অধ্যাপক সেলিম বলেন, ‘এখন রেডিমেট গার্মেন্টেসের প্রবৃদ্ধি যদি গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হয় তাহলে ধরে নিতে হবে যে অন্য খাতগুলো অনেক ভাল করায় ওভারঅল ম্যানুফেকচারিংয়ে ১০ পার্সেন্ট গ্রোথ হয়েছে। কিন্তু আমরাতো দেখি না ‘নন-রেডিমেড গার্মেন্টস’ কোনো খাত খুব ভালো করেছে। এই হিসাবগুলোতোও মিলছে না, এগুলোতো মিলতে হবে।’ বিবিএস সারা বছরের উপাত্ত নিয়ে প্রবৃদ্ধির হিসাব সংশোধন করবে বলে আশা প্রকাশ করে সেলিম বলেন, সামগ্রিক তথ্যের ভিত্তিতে ‘রিভাইজ’ করলে দেখা যাবে তাদের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনও বিশ্বব্যাংকের মতো বা তার কাছাকাছি হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কয়েক দিন আগেই সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, হাওরে সাম্প্রতিক ফসলহানি, রপ্তানি ও রেমিটেন্সে মন্দা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার কথা। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও চলতি বছর বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে কৃষি ও সেবা খাত চাঙ্গা থাকার কারণে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প উৎপাদনের পরিস্থিতিও ভালো।

‘তেলের দামে স্থিতিশীলতা ও রপ্তানিতে সামান্য হলেও প্রবৃদ্ধি থাকায় বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও কমেছে। উপযোগী আবহাওয়া ও তেলের দাম কমার কারণে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।’ তবে রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা থাকায় কিছুটা উদ্বেগ থাকছেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মন্দা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স প্রবাহের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা মোট এক হাজার ১৫৫ কোটি ৪৮ লাখ (১১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। তার আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৫২ লাখ ( ১৩.৪৬ বিলিয়ন) ডলার। সে হিসাবে এই ১১ মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগামীতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশের সামষ্টিক ভোগ ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে বলে বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০১৮-২০২০ সময়ে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হলে রেমিটেন্স বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আস্থা ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে বিশ্ব ব্যাংকের ধারণা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল, পাকিস্তান ও ভারতে নির্বাচন সামনে রেখে নীতিগত ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনের ফল অর্থ বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

 

পরিবারের সবাই আয়কর দিলে ‘কর বাহাদুর পরিবার’

করতোয়া ডেস্ক: এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় পরিকল্পনার এক তৃতীয়াংশ আয়কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে যে বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছেন, তাতে করদাতাদের উৎসাহিত করতে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ ঘোষণার প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পরিবারের সকল সদস্য কর দিলে সে পরিবারকে তিনি ‘কর বাহাদুর পরিবার’ হিসেবে ঘোষণা করতে চান।  বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবনায় এ ঘোষনা দেন তিনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরেও আয়করের কাঠামো মোটামুটি একই থাকছে। বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হলে কোনো কর দিতে হবে না। নারী ও প্রবীণ (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে) করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আগের মতো তিন লাখ টাকা থাকছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরও করমুক্ত সীমা থাকছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। কর আদায় বাড়ানোর চেষ্টায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ৩৭০ জন সর্বোচ্চ আয়করদাতা এবং ১৪৭ জন দীর্ঘসময়য়ের আয়করদাতা মিলিয়ে মোট ৫১৭ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সৎ করদাতাদের উৎসাহিতকরণে এবং নতুন নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনার লক্ষ্যে ট্যাক্স কার্ডের ব্যাপ্তি সম্প্রসারণ করে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৪১টি সম্মানসূচক ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ও করদাতা নিবন্ধনকারীর সংখ্যার যে লক্ষ্যমাত্রা গত বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটা অতিক্রম করার খবর দিয়েছেন মুহিত। তিনি জানান, রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ১৬ লাখ হয়েছে। আর করদাতা নিবন্ধন নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা ২৫ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ লাখ।

 

ভ্যাট ১৫ শতাংশই থাকছে: মুহিত

ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে তিন সপ্তাহ আগে ভ্যাটের হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজেটের পাঁচ দিন আগে আবার সেই ১৫ শতাংশের কথাই বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শনিবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে কয়েকজন সাংবাদিককে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “অনেক আলোচনা করে আমরা শেষ পর্যন্ত ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই রাখছি।”

তবে ভ্যাটমুক্ত টার্নওভারের সীমা এবার বাড়ানো হচ্ছে এবং দুই এক দিনের মধ্যে নতুন সীমা ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) ভ্যাটমুক্ত। আর ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

এবার ৮০ লাখ টাকার ওই সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা তার বেশি করা হচ্ছে জানিয়ে মুহিত বলেন, সেক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ বা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

“অর্থাৎ, আমরা এই বাজেটে ছোট ব্যবসায়ীদের বিশেষ ছাড় দিচ্ছি,” বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট দেয় মাত্র ২৫ থেকে ২৬ হাজার।

“এই সংখ্যা আমরা আগামী বছর দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজারে নিয়ে যেতে চাই।” মুহিত দাবি করেন, এই ভ্যাট কাঠামোতে বাজারে পণ্যমূল্য কোনো অবস্থাতেই বাড়ার কথা নয়।

“রোজার কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভ্যাটের কারণে বাড়ার কারণ নেই।” এ সরকারের সময়ে তার দেওয়া কোনো বাজেটের পরপরই দ্রব্যমূল্য বাড়েনি বলে মুহিতের দাবি।  

তিনি জানান, আগামী ১ জুন বেলা দেড়টায় তিনি জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা শুরু করবেন; সন্ধ্যার আগেই বাজেট বক্তৃতা শেষ হবে।

এবার তার বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হবে ‘উন্নয়নের মহাসগরে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’। আগামী ২৯ জুন সংসদে বাজেট পাস হবে।

রপ্তানি খাতে উৎসে করের হার বাড়বে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের বাজেটে দেশের রপ্তানি খাতের উৎসে আয়করের হার বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অবশ্য তা বেড়ে কতটা হবে তা উল্লেখ করেননি তিনি। বুধবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত রপ্তানি আয় বাড়াতে বাণিজ্য ও মুদ্রার বিনিময় হার সংক্রান্ত নীতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের মতো দেশ রপ্তানি খাতে অনেক সুবিধা দেয়। আমরা যতই বলি দিই, আসলে ততটা সুবিধা দিতে পারি না। এই যেমন উৎসে কর, যা গত বছর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ছিল, তা এবার বাড়বে।এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎসে করের হার বাড়তে সিদ্দিক সাহেবরা তা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যে অনুষ্ঠানে সবাই হেসে ওঠেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার এ আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবার প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.৮ ভাগ : বিশ্ব ব্যাংক

চলতি অর্থবছর শেষে সরকার ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করলেও এর সঙ্গে একমত নয় বিশ্ব ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থা বলছে, চলতি জুনে শেষ হতে যাওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল রোববার বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ এ এই পূর্বাভাস তুলে ধরে বলা হয়, মূলত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমায় এবং রেমিটেন্সের পতনের কারণে গতবছরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান অর্থনীবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি বলতে চাই, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। রপ্তানি ও রেমিটেন্সে প্রতিকূল হওয়া বইছে। তবে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যেখানে বাংলাদেশ রপ্তানিতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল, এবার একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। আর ওই সময়ে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমিছিল ২.৫ শতাংশ; এবার কমেছে ১৬ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সরকার আশা করছে। 

আগামী বাজেট হবে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা হবে বলে  জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সাইজ অব দ্য বাজেট ইজ গোয়িং টু বি মোর দ্যান ৪ লাখ। এখন হিসাব টিসাব হচ্ছে, ৪ লাখ ৬,৭, ৮ হাজার এ রকম’। মুহিত জানান, আগামী অর্থবছর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর ব্যাংক থেকে কোনো মাশুল নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, আসন্ন বাজেট এই মেয়াদের শেষ কার্যকরী বাজেট। নেক্সট বাজেটে কাউকে অখুশি করা হবে না। আমি মনে করি প্র্যাকটিক্যালি শেষ কার্যকরী বাজেট ইন মাই লাইফ। সেই দিক থেকে আপনারা আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিবেন। কারণ আপনারা অর্থনীতি নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এই সরকার মোটামুটি ভাবে মিডিয়ার মতামতকে সাড়া দিয়ে আসছে। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রেমিটেন্স বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, এটাকে বাড়ানোর জন্য  প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে রেমিটেন্সের উপর চার্জ আর করবেন না। আই থিংক উই উইল ডু ইট। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় আমরা এটা করব। তাদের (প্রবাসীদের) আর টাকা পাঠানোর জন্য পয়সা দিতে হবে না। তবে এতদিন ব্যাংকগুলো রেমিটেন্সে যে মাশুল নিত, তা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু বলেননি। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের কিছুটা আয় কমবে। কারণটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। বেতনও কিছু কমানো হয়েছে। আরেকটা কারণ হচ্ছে, প্রবাসীরা আগের মতো তাদের সব টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন না। তাদের হাতে কিছু টাকা রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৬ দশমিক ০৩ শতাশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমেছিল ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বিদেশে টাকা পাচার রোধে জমি কেনাবেচায় সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যও তুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা ল্যান্ড প্রাইস ঠিক করে দেই। কিন্তু বাস্তবে জমির দাম অনেক বেশি। তাই বেশি দামে জমি বিক্রি করে। এই টাকা কী করবেন? এটা এদেশে ব্যবহার করতে পারে না। কালো টাকা। তাই এখন আমরা কোনো সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে না দেওয়ার চিন্তা করছি। তিনি বলেন, জমি কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকার অন্যতম উৎস। পরবর্তীতে এ কালো টাকা তারা বিদেশে পাচার করে। তাই পাচার বন্ধে আগামী বাজেটে জমির সর্বনিম্ন নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু বিদ্যুতে সাবসিডাইজড করছি, করেও যাব। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন হবে। এখন ৮০ ভাগ গ্রামে বিদ্যুত আছে। এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতকে আমরা সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছি। আমরা প্রাইমারি পর্যায়ে অনেকটা সফলও হয়েছি। সেকেন্ডারি এডুকেশনেও সেটা অনেক বেড়েছে। প্রত্যকটিতে এনরোলমেন্টটা বেড়েছে। মানটা মোটেই বাড়েনি। তাই এখন মানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মানের দিকে নজরের দাবিটা এখন শিক্ষার্থী ও গার্ডিয়ানদের কাছ থেকেও আসছে। আমরা এ ব্যাপারে সচেতন। পাঠ্য বই এখন আধুনিকায়নে সংস্কার হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষক তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক গড়া অতটা সহজ নয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। পড়ার অভ্যাস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও ব্যাপকভাবে লাইব্রেরি সংস্কার করা প্রয়োজন। গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি তৈরি করার জন্য সাধারণ মানুষের উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

 

‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’ বেড়েছে মসলার দাম

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রতিবছরই দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারো যেন ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা ও তেজপাতার দাম। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, উৎসব মৌসুমের অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

 

অন্যদিকে পাইকাররা বলছেন, আমদানি পণ্য হওয়ায় এ সময়ে চাহিদা বেড়ে যায়, তাই দামও বেড়ে যায়। তবে ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের মতে, এর সবই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সরকার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করলে এ ধরনের অসাধু দৌরাত্ম বন্ধ হয়ে যেত।


তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রমজান মাস এবং কোরবানির ঈদ এলেই দেশে মসলার দাম বেড়ে যায়। অন্য সময়ে বরং কিছু কিছু মসলার দাম কমতেও দেখা যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালের নভেম্বরে দেশে এলাচ ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৪৪০ টাকা, দারুচিনি ২৪০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৫০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ২৮০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৮৬০ টাকা, জয়ফল ১২শ’ টাকা, আলু বোখারা ৫৫০ টাকা, কিসমিস ৬শ’ টাকা, পেস্তা বাদাম ৬২০ টাকা এবং শাহজিরা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তখন দেশে কোরবানির ঈদের বাজার চলছিল। এরপর ২০১২ সালের জানুয়ারিতেই অর্থাৎ ঈদের দেড় মাস পর প্রায় সব পণ্যের দাম কমে আসে।


এলাচ বিক্রি হয় এক হাজার থেকে ১৮শ’ টাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশে এলাচের দাম বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে দেশটিতে এলাচের দাম বাড়তি, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। রমজান মাস শুরু হতে এখনো দু’সপ্তাহ বাকি।

 গত কয়েক দিন রসুনের পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলে হঠাৎ পণ্যটির দর বেড়েছে। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে বাজারে এক কেজি রসুন ২০ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে চায়না রসুনের দাম ছিল কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজি প্রতি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে।

 ভারতীয় রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে দেশি রসুন আগের মতোই ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক বলেন, ‘রমজান মাসকে টার্গেট করে কোনো ব্যবসায়ী একতরফাভাবে বা সিন্ডিকেট করে মুনাফা করলে অবশ্যই তা ঠেকাতে হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অধিকাংশ মসলাই আমদানি নির্ভর। তাই দামের ক্ষেত্রে ততটা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে চোরাই পথে মসলার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

 

যা কিছু ‘চাপাচাপি’, এবারের বাজেটেই: অর্থমন্ত্রী

ভোটের আগে আগামী বছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণের জন্য ‘চাপাচাপি’ করতে যে পারবেন না, তা বুঝে এবারই তা করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আগামী মাসে সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় একথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের শেষে কিংবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য বর্তমান সরকার শেষ বাজেট দেবে।

সচিবালয়ে সম্পাদক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় মুহিত জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য নিজের দ্বাদশ বাজেটই হবে তার দেওয়া শেষ বাজেট।

তিনি বলেন, “আগামী ২০১৮-১৯ অর্থছরের বাজেট হবে নির্বাচন পূর্ব বাজেট। সুতরাং সেখানে খুব যে একটা চাপাপাপি করতে পারব, সেটা মনে করি না। চাপাচাপি যা করার, এই বছরেই শেষ করতে হবে।”

‘চাপাচাপি’র ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “চাপাচাপি হলো ইনক্রিজ ইন রেভিনিউ বাই ৩০ পারসেন্ট, হোয়ার দা ইউজুয়াল পারসেন্টেজ ফিফটিন টু সিক্সটিন- এ রকম। সে জায়গায় ৩০% করছি। দেন আরও বেশ কিছু কিছু প্রমিসেস অলরেডি মেইড।”

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাজেটের আকার বাড়াচ্ছেন মুহিত। উচ্চাভিলাষী সমালোচনা মানতেও তার আপত্তি নেই। বাজেটের আকার বাড়ানোর সঙ্গে রাজস্ব আয়ও বাড়াতে হচ্ছে মুহিতকে। এবার বাজেটের আকার ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা হবে বলে ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আরও বাড়াতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের স্বাভাবিক গতিধারায় এটা (আগামী) হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট। আট বছরের গতিধারায় যেটা, তাতে এটা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট।”

নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানতে চান, “এই বাজেটে ভ্যাটের আকার কত হবে? গত বছরের ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কি বাস্তবায়ন করা গেছে, না কি ঘাটতি আছে?”

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ছিল, বাস্তবায়িত হয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

“ঘাটতি কম। এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা প্রথম।”

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৩৭ শতাংশ ভ্যাট, ৩৬ শতাংশ আয়কর এবং বাকিটা কাস্টম ডিউটির মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে বলে সভায় জানান এনবিআরের একজন কর্মকর্তা। আগামী ৫ বছরের মতো ভ্যাটদাতার সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত আট বছরে রাজস্ব বোর্ডকে ‘ভয়ঙ্কর শক্তিশালী’ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,  “সেখানে লোকজন নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ১৩ থেকে ১৪ লাখ। এটা এবারে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এটা মনোভাব ও বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে সম্ভব হয়েছে।

“নতুন করদাতাদের বেশির ভাগ ৪০ বছরের নিচে। এটা খুব উৎসাহমূলক। এটার উপর ভিত্তি করে (রাজস্ব আদায়ে) উচ্চবিলাসী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”

নিবন্ধিত ব্যবসায় ইউনিট সাড়ে আট লাখ হলেও এরমধ্যে মাত্র ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে মুহিত বলেন, “সংখ্যায় খুবই কম। আমাদের প্রচেষ্টা হবে এ সংখ্যা বাড়ানো।”

যারা ভ্যাট দেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান কাজী মিডিয়া লিমিটেডের (দীপ্ত টিভি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা মেশিন আমদানি করছি। যাদের ভ্যাট দেওয়া উচিৎ, সেখানে আমার তা স্থাপন করব। এই মুহূর্তে ৪০ বা ৫০ হাজার মেশিন আমরা আনছি। সেই মেশিনে সব লেনদেন রেকর্ড হবে।”

শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রশ্রয় পায় বলে বাজেট বাস্তবায়নের ধারা সারা বছর এক রকম রাখার প্রস্তাব দেন দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের বেতন-ভাতায়ই শিক্ষা বাজেটের বেশির ভাগ চলে যায়। শিক্ষা উন্নয়নে বাজেট কম থাকে বলে সব সময়ই অভিযোগ উঠে।”

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলে উঠেন, ‘উন্নয়নটা কী, হোয়াট ইজ উন্নয়ন?”

সমকাল সম্পাদক বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন থাকে…”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা ঠিক নয়। জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বরাদ্দ আছে। শেষ মুহূর্তে বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতি হয়, এটা সত্য নয়। বরং অপচয় দুর্নীতি কম হয়।”

মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন এগুলোর উপর বাজেটে জোর দেওয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বরাদ্দের প্রথমেই থাকবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ খাত থাকবে দ্বিতীয় নম্বরে।”

২০/৩০ বছর ধরে কর দিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের কোনো কার্ড দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার সুপারিশ করেন চ্যানেল আইর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। তিনি সারাদেশে শস্য বীমা চালুর প্রস্তাবও করেন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হচ্ছে, এজন্য প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে।

“বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু বিতরণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। ডিজেলের দাম কমানোর কথা বলা হলেও তা কমানো হয়নি। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চাই,” প্রশ্ন রাখেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “ডিজেলের দাম কিছু কমানো হয়েছে। আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় আছে।”

আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, “ই-টেন্ডারিং যখন বাস্তবায়ন হচ্ছে, তখন আমাদের (সংবাদপত্র) মরে যাওয়ার অবস্থা। বিজ্ঞাপন না দিলে পত্রিকা বেশ সমস্যায় পড়বে, যারা মধ্যম পর্যায়ের পত্রিকা।”

দরপত্র বিজ্ঞাপন সংবাদপত্রে আগের মতোই প্রকাশ এবং বিজ্ঞাপন দর বাড়ানোর প্রস্তাবও করেন সম্পাদকরা।

টেলিভিশনের পক্ষে শাইখ সিরাজ বলেন, “ডিএফপির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন হলে পত্রিকাগুলো সরকারি অর্থ পায়, তবে চ্যানেলগুলো যুগ যুগ ধরে সরকারি প্রচারণা বিনামূল্য চালিয়ে যাচ্ছে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন অর্থ দিলে টেলিভিশনে দেবেন না কেন, এ বিষয়ে প্রস্তাব করছি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “যখন কম্পিউটার প্রিন্টিং শুরু হল, তখন মনে করা হচ্ছিল বইপত্র পাবলিশড হবে না, কিন্তু তা হয়নি। একই বিষয় ই-টেন্ডারিং এ হচ্ছে।”

আরটিভি কর্মকর্তা আশিক রহমান বলেন, “টিভিগুলো বিজ্ঞাপন বিল আনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছি, কিন্তু বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে আমার অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছি। কোনো রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সঙ্কটে, আমরা আমাদের চ্যানেল বাঁচাতে পারছি না।”

অর্থমন্ত্রী তখন বলেন, “বাংলাদেশে চ্যানেলের সংখ্যা অত্যাধিক।”

প্রতিক্রিয়ায় এক সম্পাদক বলেন, “আপনারাই তো দিচ্ছেন, একের পর এক।”

এরপর অর্থমন্ত্রী বলেন, “যে ব্যবসা করেন সে হিসেব করেই আসেন, ব্যবসা হচ্ছে কি না?”

ব্যাংক খাত চাঙা করতে কোনো উদ্যোগ আসছে কি না- এ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টর খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে, এতগুলো ব্যাংক ব্যবসা করছে, অন্য কোনো দেশে আছে বলে জানি না।।’

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন ব্যাংক না দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি, সেখানে আবার যারা নতুন ধনী-টনী হয়েছেন, তাদের চেষ্টা থাকে।”

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, “নিউজ পেপার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ ডিউটি, এ্আইটি আড়াই শতাংশ। এটি একটি বিরাট চাপ, প্রতিবার বাজেটের সময় বলা হয়; দেখা করি, দেন-দরবার করি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে কাগজ ইমপোর্ট করা অনুচিত, উই হ্যাভ ভেরি গুড কোয়ালিটি পেপার।”

দেশি কাগজ দিয়ে ছাপার সময় ছিড়ে যাওয়ায় আমদানি করা কাগজের তুলনায় বেশি খরচ হয় বলে দাবি করা হয় সম্পাদকদের পক্ষ থেকে।

 

৮৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পেলো ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরকে ৮৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ সেগুলো গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের একটি চাহিদা অনুযায়ী ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইক্যুইপমেন্ট ফর সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন ফর আর্থকোয়্যাক অ্যান্ড আদার ডিজাস্টার (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় ফায়ার সার্ভিসের কাছে যন্ত্রপাতিগুলো হস্তান্তর করা হয়। এসময় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আজ ফায়ার সার্ভিসের কাছে যেসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়েছে, এসব দিয়ে দুর্যোগের সময় ফায়ার সার্ভিসের ২৫০টি টিম একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। কেমিকেল কারখানায় আগুন লাগলে সহজেই উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে। এখানে এমন যন্ত্র রয়েছে যা দিয়ে রাতেরও উদ্ধার কাজ চালানো যাবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের ১৮তলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালানোর ক্রেন ছিল। কিন্তু আজ একটি ক্রেন হস্তান্তর করা হয়েছে, যা দিয়ে ২০ তলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালাতে পারবে। এসব যন্ত্রপাতি পাওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়বে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. শহীদ মোতাহার হোসেন প্রমুখ।
 

গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি, পেটার ফারবার্গ বোর্ড চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাইকেল ফোলি। আর গত অক্টোবর থেকে অস্থায়ী সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা পেটার-বি ফারবার্গ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

গতবছর ১ নভেম্বরে রাজীব শেঠির কাছ থেকে অস্থায়ী সিইও হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন ফারবার্গ। ছয় মাসের মাথায় তাকে বোর্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে সিইও হিসেবে মাইকেল ফোলির নাম ঘোষণা করা হল।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, ছাপ্পান্ন বছর বয়সী ফোলির এই নিয়োগ আগামী ২৬ মে থেকে কার্যকর হবে। উপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সঙ্গে পাবেন ইয়াসির আজমানকে।

আজমান গ্রামীণ ফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। রোববার পরিচালনা পর্ষদের ১৭৭তম সভায় এসব নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিস্তারিত আসছে

 

সোনার দাম কমেছে

করতোয়া ডেস্ক: সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার (২২ ক্যারেট) দাম এক হাজার ১৬৬ টাকা কমেছে। অন্যান্য মানের সোনার দরও ভরিতে ৮১৬ টাকা থেকে ১ হাজার ১০৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর আগে টানা কয়েক দফা সোনার দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

আজ সোমবার থেকে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনা (১১.৬৬৪ গ্রাম) ৪৫ হাজার ৮৯৮ টাকায় বিক্রি হবে। গতকাল রোববার পর্যন্ত এই সোনা ভরিতে ৪৭ হাজার ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম কমানোর এই ঘোষণা দিয়ে জানায়, সোমবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। এর আগে সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি সোনার দাম বাড়িয়েছিল জুয়েলার্স সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, সোমবার থেকে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা ৪৩ হাজার ৮৫৬ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ৩৮ হাজার ৬৬৬ টাকায় বিক্রি হবে। রোববার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা ৪৪ হাজার ৯৬৫ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ৩৯ হাজার ৪৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। পরিবর্তিত দর অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতির সোনা বিক্রি হবে ২৪ হাজার ৮৪৪ টাকায়, যা এতদিন ২৫ হাজার ৬৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল। সোনার সঙ্গে রুপার দরও ভরিতে ৫৮ টাকা কমেছে। আজ থেকে প্রতি ভরি রুপা এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হবে। রোববার পর্যন্ত এই রুপা ভরিতে এক হাজার ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

রমজানে স্থিতিশীল থাকবে পণ্যের দাম, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লেও পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রমজানে তা স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে রমজান উপলক্ষে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া তথ্য অনুসারে মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি দেশের মাথাপিছু আয় ১৪৬৫ ডলার, যার বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। এ সব কারণে দু-একটি পণ্যের সামাণ্য মূল্য বৃদ্ধি পেলেও এতে জনজীবনে খুব বেশি প্রভাব পড়ছে না। চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্যের মজুদ আছে। সুতরাং দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভবনা নাই। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের তৈরি করা একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন মন্ত্রী। প্রতিবেদনে চাল, গম, ভোজ্য তেল, চিনি, লবণ, ডাল, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, রসুন আদা, হলুদ ও বিবিধ মসলার বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করা হয়। রমজানে ভোজ্য তেলের দাম ঠিক রাখতে দুইটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম। তিনি বলেন, সরবরাহ লাইন ঠিক থাকলে দাম বাড়ে না। 

আমাদের চাহিদা কত, কি পরিমাণ আছে- সেটা তারা ভাল বলতে পারবেন। চাহিদা অনুসারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলে সমস্যা হবে না। খুচরা ও পাইকারি বাজারের মধ্যে পার্থক্য যেন খুব বেশি না হয়। এ বিষয়ে নজরদারি করা..এখানে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীকে কাজে লাগানো যেতে পারে। ট্যারিফ কমিশনের সদস্য মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ভোজ্য তেল ও চিনির সরবরাহ লাইন ঠিক আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কোনো প্রবণতা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে চিনির দাম বাড়ার বিষয়ে সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ডলারের দাম বাড়ায় এটা হয়েছে। ডলারের দাম ৮০ টাকায় ফেরত এলে দ্রব্যমূল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।

এ সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কথা হয়েছে। ডলারের দাম আরও কমবে। প্রত্যেকটা মালই চাহিদার চেয়ে বেশি আছে। তাহলে দাম বাড়বে কিভাবে? কিছু ব্যবসায়ীর বেশি দামে ছোলা কেনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের দাম নির্ধারণ করে দিতে চাই না। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সেটা সম্ভবও নয়। তবে আমার মনে হয়, বাজারে কেউ বেশি দামে ছোলা বিক্রি করতে পারবে না। কারণ ছোলারও অতিরিক্ত মজুদ আছে। মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মাওলা বলেন, খুচরা বাজারের মূল্য যেন পাইকারি বাজারের মূল্য বিবেচনায় যৌক্তিক থাকে। খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ালে সেটা চাপিয়ে দেয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের উপর। বাজারে মনিটরিং দরকার। খুচরা ব্যবসায়ীরা যেন তাদের সঙ্গে পাকা রশিদ রাখে, যাতে মনিটরিংয়ের সময় সেটা দেখা যায়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্সে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক ক্যাপ্টেন নুরুল হক পণ্য পরিবহনে রাস্তায় চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে অনেক সময় চাঁদাবাজি হয়। অনেকক্ষেত্রে আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এতে বাড়াবাড়ি করেন।  অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ভাল না। এগুলো ঠিক করতে হবে। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধি উপ-মহাপরিদর্শক হুমায়ুন কবির বলেন, রমজানে সাধারণ সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়। আমাদের রিজার্ভ ফোর্স কাজ করে। রমজানে অতীতে কোনো সমস্যা হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গাড়ী অন্য কারণেও আটকানো হয় না। ছেড়ে দেওয়া হয়। আমাদের বাহিনীর কেউ নিয়ম বহির্ভূত কাজ করলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ রকম নির্দেশনা সদর দপ্তর থেকে দেওয়া আছে।

ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, তবে কারা এর পেছনে আছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।  বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মে মাসে রোজা শুরু হয়ে যাবে। আমার মনে হয় এটা (ডলারের দাম বৃদ্ধি) একটা কারসাজি। হঠাৎ ডলারের মূল্য। এই বছরের শুরু থেকে ডলারের দাম বাড়ছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা তিন থেকে চার টাকা বেড়ে ৮৪ টাকা ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এবার এপ্রিলে ডলারের দর প্রায় ২ শতাংশ বেশি। ডলারের দামের এই বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানি বেড়ে যাওয়াকে দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রমজানের আগে ডলারের দাম বৃদ্ধিতে আমদানি করা পণ্য বিশেষ করে খেজুর, তেল, ডালের মূল্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের দর কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী তোফায়েল আশা প্রকাশ করেছেন, দর আবার ৮০ টাকার নিচে নামবে।

ডলারের দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করেছি। যে কারণে বেড়েছে, সেটাকে সমাধান করার পদক্ষেপ নিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে গত দুই দিনে দুই বার কথা বলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি (গভর্নর) পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই মধ্যে দাম ৮৪ টাকা থেকে কমে ৮২ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য ব্যাংকগুলোকে ডলার দিচ্ছে, যার কারণে কমে যাচ্ছে। আশা করি, আরও কমবে। রিজার্ভ আমাদের ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সেখানে আমরা যদি ২০০ মিলিয়ন ডলার বা ৪০০-৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যাংকে দিয়ে দেই, তাতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। রোজায় ভোজ্য তেলসহ আমদানি করা পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ডলারের দাম কমানোর পক্ষপাতি বাণিজ্যমন্ত্রী। রোজায় পণ্যমূল্য যেন স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য ৩০ এপ্রিল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। আগের রোজার মাসগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যেমন ছিল, এবারও তেমন থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তোফায়েল।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে ভারতীয় কোম্পানি

করতোয়া ডেস্ক : বহুল আলোচিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস (বিএইচইএল)। মঙ্গলবার কোম্পানির ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৫০ কোটি (১ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলারের এই কাজ পাওয়ার কথা জানানো হয়। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির এটাই দেশের বাইরের সবচেয়ে বড় নির্মাণ কাজ। বাংলাদেশে এর আগে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিল ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে ১৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) নামে যৌথ কোম্পানি গঠন করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। যৌথ কোম্পানির ৫০ শতাংশ করে মালিক বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) লিমিটেড। মোট ২০০ কোটি ডলারের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে এই ঋণচুক্তি সই হয়।  বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় সংস্থা ১৫ শতাংশ করে বিনিয়োগ করবে। বাকি ৭০ শতাংশ দিবে এক্সিম ব্যাংক। এই ৭০ শতাংশ অর্থায়নের ব্যাংক গ্যারান্টার থাকবে বাংলাদেশ।

ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কার্যাদেশ অনুযায়ী তারা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে নির্মাণের পুরো কাজ এমনকি নদীতে জেটি স্থাপনের কাজও ‘টার্নকি’ ভিত্তিতে করবে। ‘টার্নকি’ ভিত্তিতে কাজের মানে হল- নির্বাচিত কোম্পানিকে নির্মাণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হবে। কোম্পানি কাজ শেষে প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেবে। সুন্দরবনের কাছে হওয়ায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছে, কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। তবে বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবন রক্ষায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি ন্যূনতম মাত্রায় রাখা হবে।

ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালসের বিজ্ঞপ্তিতে রামপালে পরিবেশ রক্ষায় এফজিডি প্ল্যান্ট স্থাপনের কথা বলা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিঃসরিত সালফার গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছাই দূষণ বন্ধের পদ্ধতি ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কোম্পানিটি। রামপালের বড় কাজ পাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ভারতের পুঁজিবাজারে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালসের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ভারতীয় কোম্পানির এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিআইএফপিসিএলের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বাংলাদেশকেও নেবে ব্রিকস ব্যাংক, আশা মুহিতের

করতোয়া ডেস্ক: ব্রিকস ব্যাংক নামে পরিচিত নিউ ডেভলেপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) সদস্য করতে যে ১৫টি দেশের তালিকা করছে, তাতে বাংলাদেশও স্থান পাবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘এনডিবি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা ১৫টি দেশের লিস্ট করছে। আমার আশা, বাংলাদেশ ১৫টি দেশের একটি হবে।’ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক চলাকালে এনিডিবির প্রেসিডেন্ট কুন্ডাপুর ভামান কামাথের সঙ্গে বৈঠক শেষে  একথা বলেন মুহিত। মুহিত বলেন, ‘এনডিবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের ব্যাপারে পজিটিভ মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারা ১৫টি দেশ নিয়ে একটি লিস্ট করছেন।

বাংলাদেশকে সেই লিস্টে রাখার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন।’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ব্রিকস ব্যাংকে যোগ দিতে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন মুহিত। ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ব্রিকস ব্যাংক নামে পরিচিত নিউ ডেভলেপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) যাত্রা শুরু হয়েছে। চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী সাংহাইয়ে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার (ব্রিকস) উদ্যোগে গঠিত নতুন এই ব্যাংককে এই দেশগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। চীনের নেতৃত্বে এশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) প্রতিষ্ঠার পর এনডিবির যাত্রা শুরু হয়। ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক আইসিআইসিআইয়ের সাবেক নির্বাহী কে ভি কামাথ এনডিবির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রাথমিকভাবে এনডিবির ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল থাকছে। ব্রিকসের পাঁচ সদস্য দেশ সমানভাবে এখানে অর্থ দিচ্ছে এবং প্রতিটি দেশেরই সমান ভোটাধিকার রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তহবিল ১০০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর বাইরে আরও ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের একটি রিজার্ভ কারেন্সি পুল গড়ে তোলা হবে। চীন ৪১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; ব্রাজিল, ভারত ও রাশিয়া ১৮ বিলিয়ন ডলার করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ বিলিয়ন ডলার দিবে। আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আছেন গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম ও বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশের বিকল্প পরিচালক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে টেলিনর প্রধানের কাছে মুহিতের নালিশ

বাংলাদেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কলড্রপ নিয়ে এবার টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিগবে ব্রেকের কাছে অসন্তোষ জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব ব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠক চলাকালে টেলিনর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে মুহিত  বলেন, “টেলিনর প্রেসিডেন্টকে আমি বলেছি, তোমাদের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ প্রত্যেকবার একটা; এত কলড্রপ হয় কেন?

“তিনি আমার অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, আমরা তাদের যে স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) দিয়েছি সেটা সাফিসিয়েন্ট (যথেষ্ট) নয়। তিনি বললেন, আমাদের স্পেকটাম ডিভাইডেড টু পার্ট। একটি হচ্ছে-ডেটা এবং অপরটি টেলিফোন। ডেটাতে অনেক আনইউজড ক্যাপাসিটি আছে। কিন্তু টেলিফোনে নেই। সে কারণেই এই কলড্রপ সমস্যা।”

১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা গ্রামীণফোনের ৫৫.৮ শতাংশের মালিকানা রয়েছে নরওয়ের কোম্পানি টেলিনরের হাতে।

কলড্রপ সমস্যা নিরসনে আরও তরঙ্গ বরাদ্দ টেলিনর প্রেসিডেন্ট চেয়েছেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “নামে থ্রি জি হয়েছে বলা হলেও আসলে আমরা কিন্তু টু জিতেই আছি। এখন আমাদের ফোর জিতে যেতে হবে। টেলিনর প্রেসিডেন্টও সেই গুরুত্বই দিয়েছেন।

ফোর জির নিলামের বিষয়ে দেশে ফিরেই বিটিআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান মুহিত।

কবে নাগাদ নিলাম ডাকা হবে-এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‍“দেশে ফিরেই আমার আবার মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এডিবির বার্ষিক সভায় যোগ দিতে জাপান যেতে হবে। তার পর বাজেট…। বাজেটের পর অকশন ডাকা হবে।”

পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহকের অপারেটর গ্রামীণফোনের কলড্রপের বিষয়টি এর আগেও আলোচনায় এসেছে। প্রতিটি ভয়েস কল ড্রপের জন্য এক মিনিট ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও দিয়েছিল তারা।

গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ওই ‘অফার’ চালুর কথা ফলাও করে প্রচার করলেও ‘গ্রাহকদের না জানিয়েই’ কয়েক দিনের মধ্যে তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ লবনের দাম বৃদ্ধি, কমেছে চিনি রসুন মসুর ডালের

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় এক বছর পর পাইকারি বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ৬০ টাকার নিচে নেমেছে: আর মওসুম শুরুর সময়ে দেশি রসুন ও মসুর ডালের দামও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে দ্রব্যমূল্যে স্বস্তির এ সময়ের মাঝেও দেশে উৎপন্ন পেঁয়াজ আর লবণের দাম কেজিতে অন্তত ৫ টাকা করে বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া যায়।


উত্তর বাড্ডায় নূর জাহান ট্রেডার্সের পরিচালক আসলাম মিয়া জানান, পাইকারিতে চিনির
বস্তা (৫০ কেজি) ২৮৮০ টাকা। মিল গেইট থেকে তারা ২৮৭০ টাকায় চিনি সংগ্রহ করতে পারছেন। চিনির দাম কেজিতে অন্তত ৩ টাকা করে কমে এখন ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এর আগে গত বছর জুলাইয়ের শুরুতে রোজাকে সামনে রেখে আকস্মিকভাবে চিনির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা হয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন সময় দাম উঠানামা করলেও তা ৬০ টাকার নিচে নামেনি।

 

 মওসুম শুরু হওয়ায় মসুর ডাল ও রসুনের দামও বেশ কমেছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল হক। তিনি জানান, সবচেয়ে ভালো মানের মসুর ডাল এখন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটা দানার ডাল ৬২ টাকায় এবং মাঝারি মানের মসুর ডাল ৭৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুনের দাম সারা বছর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে উঠানামা করলেও নতুন মওসুমের শুরুতে পাইকারি বাজারগুলোয় তা ১০০ টাকায় নেমে আসতে দেখা গেছে। রসুনের এই দাম আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে কয়েকজন বিক্রেতা আভাস দেন।


বাজারে সয়াবিন তেল লিটারে ৮১ টাকা এবং পাম তেল ৭১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহান্তে এ দুটির পণ্যের দামও কেজিতে ২ টাকা করে কমেছে বলে কয়েকজন বিক্রেতা জানান। তবে সম্প্রতি লবণের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বলে জানান উত্তর বাড্ডা এলাকার ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া। তিনি বলেন, সম্প্রতি লবণের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। ৪০ টাকা এমআরপির মিহি লবণ এখন বাজারে এসেছে।

 

মোটা লবণ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজিতে। মিহি লবণে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে অন্তত ৫ টাকা। এসিআই, মোল্লা সুপার সল্ট প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও গত এক সপ্তাহে কেজিতে ৪ টাকা করে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারগুলোতে পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) এখন ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা।


 সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৮ টাকা। তবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ এখন ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ২২ থেকে ২৪ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল। আর একমাস আগে পাইকারি বাজারগুলোতে ১৮ টাকা কেজিতে মিলেছিল পেঁয়াজ। সবজির বাজার বরাবরের মতোই স্থিতিশীল আছে। কাঁচা বাজারগুলোয় বেগুন ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৩০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, দুন্দল ৪০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা এবং করলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

প্রান্তিক কৃষকদের থেকে ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

সরকার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ  থেকে চাল কিনবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী  অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে  ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ ভবনে (আইইবি) বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর সরকার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনেছিল। এবারও সরকার তাদের কাছ থেকে ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধান কেনার সময় কোনো মধ্যসত্ত্বভোগী থাকবে না উপেখ করে মন্ত্রী বলেন,  যাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে প্রতিটি গোডাউনে কৃষকদের নামের তালিকার সঙ্গে ব্যাংক একাউন্টও থাকবে। চেকের মাধ্যমে কেনা ধানের মূল পরিশোধ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, ধান সংগ্রহের সময় মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা দুর্নীতি করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার। মিল মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমরা মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনবো। তবে চালের মান অবশ্যই উন্নত হতে হবে। চাল নিম্ন মানের হলে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রশিদ এগ্রো ফুড প্রডাক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশিদ।

বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে চায় রাশিয়ার গ্যাজপ্রম

করতোয়া ডেস্ক: ঢাকায় সম্প্রতি অফিস খোলা রুশ কোম্পানি গ্যাজপ্রম বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা বাড়াতে চায়। রাশিয়ার এই রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির চেয়ারম্যান অ্যালেক্সি মিলার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলীকে বলেছেন, বিশ্বে গ্যাজপ্রমের কাজের যে বিস্তার, তার তুলনায় বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি নিতান্তই সামান্য। কেবল খনিজ উত্তোলন নয়, বাংলাদেশে জ্বালানি উৎপাদন ও বিতরণ, এলএনজি সঞ্চালন ব্যবস্থা ও টার্মিনাল নির্মাণ এবং পাইপলাইন বসানোর মত কাজেও গ্যাজপ্রমকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সফরে মস্কোয় থাকা মাহমুদ আলী শনিবার গ্যাজপ্রম কার্যালয় পরিদর্শন করেন। গ্যাজপ্রম চেয়ারম্যানের আগ্রহকে তিনি স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর জানান বলে উল্লেখ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের সাতটি গ্যাসক্ষেত্রে এ পর্যন্ত ১৫টি পরীক্ষামূলক কূপ খনন করেছে রাশিয়ার এই কোম্পানি। ভোলায় আরও দুটি পরীক্ষামূলক কূপ খননের বিষয়ে সম্প্রতি পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি করেছে গ্যাজপ্রম। মিলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাজপ্রমের বিপুল কর্মযজ্ঞের বিবরণ তুলে ধরেন, যা থেকে বছরে ৯ কোটি ডলার আয় হয়। বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তিনি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা জ্বালানি সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী তাকে জানান, এ বিষয়ে একটি খসড়া তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গ্যাজপ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্দ্রেই ফিক তার কোম্পানির কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য তার কোম্পানি প্রস্তুত। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গতি পেয়েছে। দুই দেশ কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুযোগ দিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। এছাড়া অর্থ-বাণিজ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে একটি আন্তসরকার কমিশন গঠনেও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।    

 

সরকারি ক্রয় মূল্য ধান ২৪, চাল ৩৪ টাকা কেজি

চলতি বোরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ২৪, চাল ৩৪ ও গম ২৮ টাকা দরে কিনবে সরকার।  রোববার সচিবালয়ে খাদ্য পকিল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী  সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৪ টাকা কেজি দরে ৭ লাখ টন ধান ও ৩৪ টাকা দরে ৮ লাখ টন চাল কেনা হবে। গত বছর ২৩ টাকা কেজি দরে ৭ লাখ টন ধান এবং ৩২ টাকা কেজিতে ৬ লাখ টন চাল কিনেছিল সরকার। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার বোরো ধান-চালের বাইরে ২৮ টাকা কেজি দরে এক লাখ টন গম কেনা হবে। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গম কেনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিকেজি গমের উৎপাদন খরচ ২৮ টাকার মতো পড়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আমরা অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট করব, যাতে সরাসরি সেই মূল্যটা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়, কোনো রকম যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম না থাকে। এ বছর প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ২২ টাকা এবং এক কেজি চালের উৎপাদন খরচ ৩১ টাকা পড়েছে বলে জানান তিনি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ৮ লাখ টন চালের মধ্যে ৩৩ টাকা কেজি দরে এক লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে। অসময়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণায় হাওরের কৃষকদের ক্ষতি হওয়ায় তাদের ওএমএসের মাধ্যমে চাল ও আটা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কামরুল বলেন, এছাড়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান আছে। বোরোর উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকায় বোরোর কিছু ক্ষতি হলেও অন্য জায়গায় বাম্পার ফলন হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। হাওর এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় (চালের আকারে) সাড়ে চার লাখ টনের মত চাল নষ্ট হবে বলেও জানান তিনি। এ বছর এক কোটি ৯১ লাখ ৫৩ হাজার টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে জানিয়ে কামরুল বলেন, টার্গেট ফুলফিল করতে পারব, কোনো অসুবিধা হবে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

ভারতীয় ৯০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসছে

করতোয়া ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে চুক্তি করেছে। সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির হারে উভয়পক্ষই সন্তুষ্টি জানিয়েছে।’ চারদিনের সরকারি সফরে সাড়ে তিনশ সঙ্গী নিয়ে শুক্রবার ভারত যান প্রধানমন্ত্রী। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বেসরকারি উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের আড়াইশ প্রতিনিধি আছেন। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেছিলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও বন্দর খাতে প্রায় একহাজার ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ভারতীয় বিনিয়োগ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নিবন্ধিত হয়েছে বলে জানান হাই কমিশনার। তিনি বলেন, মেরিকো, সিয়াট, টাটা মটরস, গোদরেজ, সান ফার্মা ও এশিয়ান পেইন্টসের মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলো এর মধ্যে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছে বা প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

গত দেড় দশকে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি দশগুণ বেড়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ছয়গুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্েয ৬১৪ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। শনিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত ও পরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশেরে মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে বন্দরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সব বাধা দূর করতে হাসিনা ও মোদী একমত হয়েছেন। এর মধ্যে ভারত বাংলাদেশের পাটপণ্যে আরোপ করা শিল্প সুরক্ষা (অ্যান্টি ডাম্পিং) শুল্ক নিয়ে নতুন করে ভেবে দেখবে বলে আশ্বস্ত করেছে।অন্যদিকে ভারতের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ন্যূনতম আমদানি মূল্যের বিষয়টি বাংলাদেশ বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে জায়গা খুঁজতে এবং এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নত করে পণ্য বিনিময় ও দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক বৃদ্ধিতেও দুই প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

 

রিজার্ভ চুরিতে উত্তর কোরিয়া কাসপারস্কির কাছে প্রমাণ

করতোয়া ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি কাসপারস্কি ল্যাব। এই কোম্পানি বেশ কিছু ‘ডিজিটাল’ প্রমাণ হাতে পেয়েছে, যেগুলো উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ পাকাপোক্ত করে বলে গবেষকদের বরাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০১৪ সালে সনির হলিউড স্টুডিওতে ও বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত হ্যাকিং গ্রুপ ল্যাজারাসের বিষয়ে রুশভিত্তিক কাসপারস্কির প্রকাশিত ৫৪ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়।ওই দুটি ঘটনার জন্যই উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ল্যাজারাসের হ্যাকাররা উত্তর কোরিয়ার একটি ‘আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) অ্যাড্রেস’ থেকে ইউরোপে একটি সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। এই গোষ্ঠী যেসব সিস্টেম হ্যাক করেছিল, সেগুলো ওই সার্ভার থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ল্যাজারাসের সরাসরি সংযোগ থাকার বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রমাণ পাওয়া গেল বলে কাসপারস্কির গবেষক ভিটালি কামলুক রয়টার্সকে বলেন। ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন ল্যাজারাসের হ্যাকিং কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজর রাখছেন বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি। তবে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানির তোলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তরা কোরিয়া। কামলুক বলেন, উত্তর কোরিয়া যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিত করে বলতে চান না তিনি।কারণ, এমনও হতে পারে যে হ্যাকাররা দেখানোর চেষ্টা করছিল যে, উত্তর কোরিয়া থেকেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে অথবা উত্তর কোরিয়ানরা অন্য কারও সঙ্গে কাজ করছে। তবে কোরিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি যে এই ঘটনার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা বলে মনে করেন তিনি। গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে উত্তর কোরিয়ার দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) উপপরিচালক রিক লেজেট ১৫ মার্চ ওয়াশিংটনের আসপেন ইনস্টিটিউটে এক গোলটেবিল বৈঠকে এই চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘সনিতে হামলাকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে হামলাকারীদের সম্পর্কের বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তার অর্থ দাঁড়ায় যে, একটি দেশ ব্যাংক ডাকাতি করছে। এটা অনেক বড় ঘটনা।’

বেসরকারি তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার হামলার সঙ্গে ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সের হলিউড স্টুডিও হ্যাকডের মধ্যে যে সম্পর্ক খুঁজে বের করেছেন সেদিকে ইঙ্গিত করেন লেজেট। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভুয়া সুইফট বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অফ নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের রিজল ব্যাংকে পাঠানো হয়েছিল। ওই অর্থ পরে জুয়ার টেবিলে চলে যায়। ওই ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশের নিযুক্ত করা সিলিকন ভ্যালির সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইও সে সময় এই সাইবার চুরিতে উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানের দুটি হ্যাকার গ্রুপের সম্পৃক্ততার তথ্য ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটি এই ঘটনার তদন্ত শুরুর পর এক ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধারের পর তা ফেরত পায় বাংলাদেশ। বাকি অর্থ উদ্ধারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাই ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ

সরকার যে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে, থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা চাইলে সেগুলোর একটি তাদের দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে থাই পণ্যের মেলা ‘থাইল্যান্ড উইক ২০১৭’ এর উদ্বোধন করে বাণিজ্যমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে থাই ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ড এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। এগুলোর একটি নিয়ে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা তাদের বিনিয়োগের সব সুযোগ সুবিধা দেব।

মন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের বিশ্বাসী ও পরীক্ষিত বন্ধু। যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। অধিকাংশ পণ্যই থাইল্যান্ড বাংলাদেশে রপ্তানি করে। আর আমাদের রপ্তানির পরিমাণ কম। এই ঘাটতির পরিমাণ কমাতে হবে। থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেড প্রমোশন এবং রয়্যাল থাই দূতাবাস যৌথভাবে চার দিনের এই মেলার আয়োজন করেছে। থাই উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের নিয়ে পঞ্চদশ বারের মত আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আয়োজকরা জানান, মেলার প্রথম দুই দিন কেবল ব্যবসায়ীদের জন্য। ২৪ ও ২৫ মার্চ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রসাধন সামগ্রী, তৈরি পোশাক, ফ্যাশন সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, জুয়েলারি, কনফেকশনারি, খবার ও পানীয় এবং গৃহস্থলী পণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এদেরই একটি ‘থাই আইডিয়া, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’; প্রতিষ্ঠানটি কাঠ থেকে বিভিন্ন ধরনের চামচ ও চপস্টিক উৎপাদন করে। এর ব্যবস্থাপক প্রাংনুত সুরিয়াপর্ন জানান, প্রথমবারের মত তারা এ মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তাদের পণ্যের প্রচার পাবে বলে তিনি আশা করছেন। বাংলাদেশে অনেকেই থাই খাবার খায়। কিন্তু থাইল্যান্ডের মত চপস্টিক ব্যবহার করে না। আমি মনে করি, মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে তারা আমাদের খাবারের মতই খাওয়ার পদ্ধতিও ভালবাসবে। তখন তাদের রান্নাঘর আর খাবার টেবিলে আমাদের পণ্য ব্যবহার করবে। প্রাংনুত জানান, তাদের পণ্যগুলো মূলত তালগাছ থেকে বানানো হয়। গাছ কেটে কোনো ধরনের জোড়া না দিয়েই পণ্য উৎপাদন করেন তারা। প্রসাধন সামগ্রীর উৎপাদক ফিনেলও বাংলাদেশে তাদের বাজার সম্প্রসারিত করতে চায়। ‘বাংলাদেশে থাইপণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমরা বাজার গবেষণা করে দেখেছি, আমাদের কোম্পানির পণ্যও এখানে বেশ চলবে,’ বলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। তিনি জানান, বাংলাদেশের বাজারে প্রসাধনসামগ্রী নিয়ে সারা বছর হাজির থাকতে তারা সব প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছেন। ‘এখন কেবল আনুষ্ঠানিক যাত্রার অপেক্ষা। তবে এরইমধ্যে মেলা চলে আসায় আমরা এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি,’ বলেন নাজমুন।



Go Top