সকাল ১০:৪৩, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে; পশু ও আকারভেদে এবার দাম ঠিক হয়েছে গতবারের মতই। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়; ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৪০ থেকে ৪৫  টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই দাম ঘোষণা করেন।

এই দাম লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি লবণ দেওয়ার আগে- সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের টানাপড়েনের মধ্যে মন্ত্রী বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম-পদ্ধতি ও বাজারের উপরে ছেড়ে দেন। গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা এবার চামড়ার দাম গতবারের মতো রেখেছি। চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পর এমনিতে মালিকরা চাপে রয়েছেন। এ কারণের ভারতে বা অন্য দেশে দাম একটু বেশি হলেও আমরা গতবারের মতো রেখেছি।

ঢাকা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, ঢাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চামড়া স্থানান্তরে বিধি-নিষেধ রয়েছে। এর ফলে চামড়া সংরক্ষণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ধানমণ্ডি এলাকার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এখানে কোথায় চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে? স্থানীয় অধিবাসীরা এটা করতে দেয় না। বেরাইদ, সাভারের মত উপশহরে এটা সংরক্ষণ করা হয়। তাই জেলার ভেতরে যেন চামড়া স্থানান্তর করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন ব্রিজ ও ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিলে মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে সীমান্তে অন্তত এক মাস বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি পৃথকভাবে মন্ত্রীকে জানান, তারা এ বিষয়ে আলাদা সভা করেছেন। পাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই তারা নেবেন। শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, হাজারীবাগে ১৫৫টি ট্যানারি ছিল। সেগুলোর মধ্যে ৬৭টি সাভারে চালু হয়ে গেছে। এ মাসের মধ্যে ১০০ ট্যানারি চামড়া শিল্প নগরীতে চালু হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন দুটি সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়। বাকি দুটো পরবর্তীতে চালু হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে পানি সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে। আর গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে যে নীতি নেওয়া হয়েছে, তাতে আবেদন করলে তারপর সংযোগ দেওয়া হবে। সেজন্য কিছু অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

তাতে কিছুটা সময় লাগবে। শিল্প সচিব বলেন, সাভারে যেসব আধুনিক কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, তাতে একটি আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে পরিণত হবে। এখানকার কঠিন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। পাঁচ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা ঢাকার ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, জমির দলিল না পেলে তারা ব্যাংক ঋণ নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, আগে যে দামটা (জমির) ছিল আমরা সেটাই দিতে চাই। এখন সিইটিপির দামসহ আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর চিঠি আমাদের কাছে আছে; যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সিইটিপির দাম সরকার পরিশোধ করবে। এ সময় শিল্প সচিব বলেন, এর সুরাহা করতে হলে একনেকের অনুমতি লাগবে। শিল্পমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন- এমন আশা প্রকাশ করে এ বিষয়ে নিজেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তোফায়েল।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার দেশের খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। এই হিসেবে এবার ভারত থেকে গরু না এলেও সমস্যা হবে না বলে সরকার মনে করছে। 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীর বাজারে আলু ছাড়া সব সবজির দাম চড়া

স্টাফ রিপোর্টার: বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও মিরপুরসহ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে গেলে সবজির দাম বৃদ্ধির জন্য সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সবজির ‘আগুন দাম’ উল্লেখ করে বন্যা পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির অজুহাত বলে অভিযোগ তোলেন ক্রেতারা। আলু ছাড়া প্রতিটি সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। খুচরা বাজারে এসে সেই সবজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে।

খুচরা বাজারে করলা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা ও শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিচ লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০-৮০ টাকা এবং হালিপ্রতি কাঁচকলা ৫০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

পাকা টমেটো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার একবারেই বাইরে চলে গেছে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। শুধুমাত্র বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২৫ টাকা করে। শাকের দামেও ঊর্ধ্বগতি। প্রতি আঁটি লাউ শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা ও কঁচু শাক ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা মনসুর  বলেন, ‘সারা দেশে বন্যা হচ্ছে, পানিতে ডুবে আছে সবজির ক্ষেত।

 ঢাকায় সবজির গাড়ি আসতে পারছে না। এ অবস্থায়  দাম তো বাড়বেই’। সবজির দাম অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা মাসুদ রহমান। তিনি বলেন, ‘একবারে লাগামছাড়া দাম দেখছি সবজির। বন্যার কারণে এতো বাড়বে- এটি মেনে নেওয়া যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষ দামের সঙ্গে পেরে উঠবেন না’। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

সাইজ ভেদে প্রতি কেজি রুই ১৭০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, চিংড়ি বড় সাইজ ৬০০ টাকা, বড় কাতলা ২৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৫০০ টাকা ও দেশি টেংরা মাছ ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ইলিশ ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারে মাছ কিনতে আসা মো. মানিক বলেন, ‘বাজারে প্রচুর মাছ দেখতে পাচ্ছি। দেশি মাছও অনেক এসেছে। দাম স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, নাগালের মধ্যেই আছে’।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে উকিল নোটিস আইনজীবীর

এক মাসের মধ্যে তিন দফায় অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও টিসিবির চেয়ারম্যানকে তিন দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটি’র পক্ষে বৃহস্পতিবার নোটিসটি পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে তিন দফায় দুইশ শতাংশেরও বেশি দাম বেড়েছে। নিঃসন্দেহে এটি অস্বাভাবিক। বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলেও সরকারের কাছ থেকে দাম বৃদ্ধির কারণ জানা যায়নি।  এছাড়া পণ্যের দাম তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন।’ তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না পেলে বা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী শিহাব। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবি ১৩ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় দাম বাড়িয়ে পেঁয়াজের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে  নোটিসে।

এতে দেখা যায়, গত ১৩ জুলাই টিসিবি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে ২৮-৩২ টাকা আর আমদানিকৃত প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ধরা হয় ২২ থেকে ২৫ টাকা। এর ২০ দিন পর অর্থাৎ ৮ আগস্ট প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে টিসিবি। অর্থাৎ, এই সময়ে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বাড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা। এরপর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট টিসিবি আবারও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে। এবারও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়।

দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে নোটিসে। সে অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। তাছাড়া সর্বশেষ জুলাই মাসে আমদানি করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম: অর্থমন্ত্রী

আকম্মিক বন্যা দেশের মানুষের সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম। সরকার এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থায় আছে। বুধবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে প্রাণ গ্রুপ ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বেড়ে গেছে। দেশ এখন অভাবে না থাকায় চাল আমদানিতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে পারছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দেশি গরু-ছাগলেই মিটবে এবার কোরবানির চাহিদা

বর্তমানে দেশে যে সংখ্যক জবাই উপযোগী গরু, মহিষ ও ছাগল আছে, তা দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়, সেখানে এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। কোরবানির জন্য ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি’ গরু থাকায় এবার ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক বলেন, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভর। এসব প্রাণির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এখন যে পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আছে তা-ই সাফিসিয়েন্ট। অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশজুড়ে সারা বছরে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। সে হিসাবে এক  কোটি ১৫ লাখের মতো গবাদিপশু দরকার হবে কোরবানির সময়, যা এখন দেশের খামারি ও গৃহস্থদের ঘরে রয়েছে। আইনুল হক জানান, বর্তমানে দেশে কোরবানি উপযোগী গবাদি পশুর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু ও মহিষ রয়েছে এবং ছাগল-ভেড়া আছে ৭১ লাখ। সারা দেশের পাঁচ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন খামারি এবং উপজেলা পর্যায়ে কৃষকের কাছে থাকা গবাদিপশুর তথ্য নিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমরা খামারি লেভেল থেকে হিসাব নিয়েছি। এছাড়া আমাদের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী আছে, তারাও আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। এভাবেই এই সংখ্যা বের করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় দেশে গবাদিপশু পালন আগের চেয়ে বেড়েছে বলে খামারি ও কৃষকরা জানিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাজহাড গ্রামের খামারি মো. হাজ্জাজ আলী বলেন, গত  দুই বছর ভারত থেকে গরু কম আসায় কৃষকরা কিছুটা লাভবান হওয়ায় সবাই আরও উৎসাহী হয়েছে।

গরু প্রচুর বেড়েছে। শুধু আমাদের এলাকায় কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন খামারি এবার গরু পেলেছে। ভারতীয় গরু ঢুকলে লোকসানে পড়বেন শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, শুনেছি পুটখালী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গরু ঢুকছে। গরু ঢোকা বন্ধ না করলে আমরা মার খাব। কুষ্টিয়া জেলায়ও কোরবানি উপলক্ষে গতবারের চেয়ে এবার বেশি গরু পালন করা হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলার বাঘডাঙা গ্রামের কৃষক শেখ সিরাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় বড় খামারি নাই।

কিন্তু কৃষকরা একটা দুইটা করে গরু পালে। প্রায় সবার ঘরেই একাধিক গরু আছে। এবার আগের চেয়ে বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ৪০ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, এবার চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু দেশেই রয়েছে, তাই ভারতীয় গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। বর্তমান অবস্থায় ভারত থেকে যারা গরু আনবে তারাও লাভবান হবে না। কারণ চাহিদার চেয়ে গরু অনেক বেশি হয়ে গেলে দাম পড়ে যাবে। খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মাংসের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন খামারিদের সংগঠনের এই নেতা। তিনি বলেন, এখন আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্যে আছি। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হলে কৃষকের পাশাপাশি বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করবে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহ বেড়ে মাংসের দামও কমে যাবে। ইমরান জানান, গত বছর নিজের খামারে সাড়ে তিনশ গরু মোটাতাজা করেছেন। এ বছর আছে সাড়ে পাঁচশ গরু।

ভারতের গরু এলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হকও। তিনি বলেন, এটা হলে আমাদের খামারিরা একেবারে পথে বসবে। খামারিদের প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ করে গরু মোটাতাজা করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

এ খাত দাঁড়াতে পারবে না। ভারতীয় গরু আনা ঠেকাতে পদক্ষেপ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভারতীয় গরু আনা বন্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ বলেন,  তারপরও নানা ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু গরু চলে আসে। এদের ঠেকানো কঠিন। তবে তা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আমরা চাই না, বাইরে থেকে গরু আসুক, আমাদের খামারিরা মার খাক। তিনি শুক্রবার বলেন, ভারতের গরু আসার প্রয়োজন নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবের চেয়ে বাস্তবে দেশে জবাই উপযোগী গবাদিপশুর সংখ্যা বেশি। আমরা যে সংখ্যাটি বলছি তা আমাদের হিসাবের ভেতর যা আছে সেটা।

এর বাইরেও অনেক আছে। সব হিসাবের ভেতর আনা যায় না। বাস্তবে গবাদিপশুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। ফলে সারা বছরের মাংসের চাহিদাও আমাদের গরু দিয়েই মেটানো সম্ভব, ঘাটতি হওয়ার কথা না। ঘাটতি হলে তখন আমরা দেখব কী করা যায়। প্রতিমন্ত্রী ও খামারিরা একথা বললেও ঢাকা গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন মন্ডল বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় গরু ছাড়া সারা বছরের মাংসের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। মাংস ব্যবসায়ীদের ইন্ডিয়ান গরু দরকার। না হলে তারা টিকে থাকতে পারবে না। আগামী ২-৪ বছর ইন্ডিয়ান গরু ছাড়া আমাদের চলবে না। তবে আমরা যদি আস্তে আস্তে স্বনির্ভর হতে পারি তাহলে হয়ত আগামী ৮-১০ বছর পর ভারত থেকে আর গরু আনতে হবে না।

 

এই বিভাগের আরো খবর

মিশর থেকে পেঁয়াজ আসছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজের দ্বিগুণ দরবৃদ্ধির মধ্যে সংকট মোকাবেলায় মিশর থেকে আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তোফায়েল বলেন, আমদানিকারকরা মিশর থেকে পেঁয়াজ আনছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বন্দরে আসার ২৪ ঘণ্টা থেকে দুই দিনের খালাসের বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন। খালাস হওয়ার পর বাজারে মাল আসলে কোনো সংকট হবে না। সপ্তাহখানেক আগেও ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকায় মিললেও এখন তা গিয়ে ঠেকেছে ৫০ এর কোটায়।

হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বন্যায় আড়তে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া, সামনে কোরবানির ঈদ এবং ভারতের বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন সেটা উপলব্দি করতে হবে। বাংলাদেশে চার লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি আছে। এই চার লাখ টন ইমপোর্ট করে ঘাটতি মেটাই। এই আমদানি হয় ভারত থেকে, ভারতেও বন্যার কারণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা চিনি ও লবণসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগামীতে না বাড়ার আশ্বাস দিলেও পেঁয়াজ নিয়ে তারা কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তোফায়েল বলেন, এটা আসলে তারা দিতে পারবেন না, এটি আমার কাছে বাস্তব সম্মত না। তারা নিজেরাই হিসেব দিয়েছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসতে এখন ৪৮ থেকে ৫০ টাকা পড়ে। এখন পেঁয়াজ ছাড়া কোনো পণ্যের মজুদ বা সরবরাহে সমস্যা নেই বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান। বন্যার কারণে দেশে মজুদ পেঁয়াজের প্রায় ৫০ শতাংশ পচে গেছে দাবি করে সভায় পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা খরচ পরে যাচ্ছে। মিশর থেকে পেঁয়াজ আনতে খরচ হয় ৩৬ টাকার মতো। তবে মিশর থেকে এখন পেঁয়াজ আমদানির পর ভারত ২০১৫ সালের মতো পণ্যটির দাম কমিয়ে দিলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। সে সময় ভারত তাদের স্টক ছেড়ে দিয়ে দাম কমিয়ে দিয়েছিল। বৈঠকে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা জানান, পাইকারিতে চিনি ৪৯ টাকা ৮৫ পয়সা দরে কেজি বিক্রি হলেও খুচরাতে তা প্যাকেট ৭০ টাকা এবং খুচরা ৬০ টাকা বিক্রি হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

বিদেশি ষড়যন্ত্রও পোশাক শিল্পের উন্নতি রুখতে পারেনি: শিল্পমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নতি আটকাতে পারেনি। এ ষড়যন্ত্র আগেও ছিল, এখনও আছে। তবুও এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি থেমে থাকেনি বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সেমস গ্লোবাল বাংলাদেশ আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘১৮তম আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী’র উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য  করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, কোনো অশুভ তৎপরতা বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না। পোশাক শিল্প খাতের ধারাবাহিক উন্নতির জন্য আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে আমরা গার্মেন্টস শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার, নূন্যতম মজুরি নির্ধারণ, শিল্প কারখানা পরিদর্শন ও মনিটরিং জোরদারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক উন্নতি করেছি। ‘১৮তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো-২০১৭’, ‘১২তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো-২০১৭’ ও ‘২৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৭’র এ প্রদর্শনী বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাতের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এতে থাকছে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, সুতা ও কাপড় তৈরির মেশিনারিজ, ডায়েস এবং বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্যের বিশাল সমাহার। বিশ্বের ২৫টি দেশের ১১৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৪০০টি স্টল প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর

ব্যাংক জমা টাকা সুদসহ দিতে হবে নমিনিকে

ব্যাংকে টাকা রেখে কোনো গ্রাহক বা আমানতকারী মারা গেলে তার নমিনিকেসুদসহ পুরো টাকা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়পত্র নিয়ে হাই কোর্টের এক রায়ের পর নমিনিকে অর্থ দিতে ব্যাংকগুলোর গড়িমসি এবং সুদ না দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা এল। গত বছর হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সঞ্চয়পত্রের মালিক মারা গেলে নমিনি যিনিই হন, অর্থের মালিক হবেন মৃতের উত্তরাধিকাররা। রায়টি আপিল বিভাগ স্থগিতের পরও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নমিনিকে পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নমিনিকেই অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

রোববার পুনরায় তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক; তাতে নমিনিকে সুদসহ অর্থ বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মৃত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব সঞ্চয়ী হিসাব (সেভিংস একাউন্ট) হলে নমিনি যখন টাকা তুলতে যাবেন তখন ওই হিসাব বন্ধ করে তাকে ব্যাংকের নির্ধারিত সুদসহ পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংককে। আর মৃত গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যদি মেয়াদি হিসাব (ফিক্সড ডিপোজিট) হয় তাহলে ওই হিসাব মেয়াদ পূর্তির পর নমিনিকে চুক্তি অনুযায়ী সুদ-আসল পরিশোধ করতে হবে। এফডিআরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর নমিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে যে সময় লাগবে, সেই সময় পর্যন্ত সুদসহ পুরো অর্থ পরিশোধ করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মৃত আমানতকারীদের হিসাবে রক্ষিত আমানত পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯৮৪ সালের ২৭ মে জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে, যেখানে সুদসহ পরিশোধের কথা রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল জারি করা সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছিল, আমানতকারীর মৃত্যুর পর নমিনিই ব্যাংকে জমানো অর্থ পাবেন। অন্য কাউকে জমানো অর্থ দিতে পারবে না ব্যাংক। ওই নির্দেশনা দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, কোনো কোনো ব্যাংক হিসাব খেলার সময় নমিনির কাছ থেকে এমন অঙ্গীকার নিচ্ছে যে, আমানতকারী বা আমানতকারীদের মৃত্যুর পর মনোনীত নমিনি মৃত ব্যক্তির আমানতের অর্থ পাওয়ার যোগ্য বা উপযুক্ত প্রাপক হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারেন। নমিনি আমানতের অর্থ প্রাপ্য নাও হতে পারেন এমন অঙ্গীকার নেওয়াকে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ (২০১৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ১০৩ ধারার নির্দেশনার পরিপন্থি বলে তখন বলা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরো খবর

প্রতিবেদন প্রকাশ না করা রিজার্ভ চুরির মামলাকে কারণ দেখালেন মুহিত

সিলেট প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য এবার ফিলিপিন্সের মামলাকে কারণ দেখালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি  শনিবার সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। ফিলিপিন্সে মামলার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এটি সম্ভব না।  শনিবার সিলেটের একটি হোটেলে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মামলার কারণ দেখান তিনি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠানো হয় ফিলিপিন্সের রিজল ব্যাংকে। ওই অর্থের অধিকাংশ জুয়ার টেবিলে চলে গিয়েছিল; তবে উদ্ধার করা দেড় কোটি ডলার বাংলাদেশকে ফেরত দেয় ফিলিপিন্স। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনায় সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে এক বছর আগে প্রতিবেদন জমা দিলেও কয়েকদফা ঘোষণা দিয়েও তা প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী। বাকি অর্থ উদ্ধারের আশা এখনও ছাড়েনি বাংলাদেশ। চুরির সব টাকা ফেরত আনার পর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন বলে কয়েক মাস আগে মুহিত জানিয়েছিলেন।

মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে রিজল ব্যাংক বলেছে,আমরা টাকা দেব না। এ অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে একটু অসুবিধা হবে। রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট শাখা, যার মাধ্যমে লেনদেন হয় বাংলাদেশের রিজার্ভের। বিশ্বজুড়ে আলোচিত পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে সরকার কী করবে, সে বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন মুহিতকে। তিনি বলেন, অনেকের নাম এসেছে। তবে আমাদের এখানে আমি যেটা শুনেছি এটা এত অথেনটিক না। বিষয়টি নিয়ে দুদক তদন্ত করছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুহিতের সঙ্গে ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আব্দুল মোমেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর

দেশে দ্রব্যমূল্য মোটামুটি স্বাভাবিক : বানিজ্যমন্ত্রী

খাদ্য উৎপাদনে বন্যার ধাক্কায় গেল অর্থবছরের শেষ দিক থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়তে শুরু করলেও দেশে বর্তমানে দ্রব্যমূল্য ‘মোটামুটি স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাওড়ে যে বন্যা হয়েছে, তাতে আমাদের উৎপাদন কম হয়েছে।

এটা বাস্তব কথা। একটা জিনিস ভালো যে, যেটা বলা উচিত না, যেহেতু মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আছে এখন, তাই বাজারে যা চায়, তাই দিয়ে কেনে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের পার্থক্যের তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকরা মন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে থাকেন। জবাবে তোফায়েল বলেন, মোহাম্মদপুর বাজারে যে পণ্যের দাম ১০ টাকা, কারওয়ান বাজারে হয়ত তা ১৫ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা ‘সম্ভব না’। তবে প্রত্যেক বিভাগ ও জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম রয়েছে, তারা এসব বিষয় দেখবে। আমি যেটা মনে করি, সবকিছুই মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। হয়ত কোন একটা জায়গায় একটা সমস্যা হয়েছে। আপনি পেঁয়াজের জন্য গুলশানের ল্যাভেন্ডারে যদি যান, আমি নিজেও যাই, সেখানে পেঁয়াজের দাম আগে যা ছিল, এখনও তাই আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী,  গত অর্থবছরের ১২ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা আগের অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ ছিল। দ্রব্যমূল্য আরও বাড়বে কি-না, এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি- না। কারণ বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমাদের দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে কোরবানির ঈদে আরও ভালো করে মনিটরিং করা হয়। মোবাইল কোর্টের বিষয়ে আরও দুই সপ্তাহ সময় পাওয়া গেছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। এ সময় এক সাংবাদিক মন্ত্রীকে বলেন, রোজার আগে যেদিন তার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মিটিং হয়, সেদিন চিনির কেজি ছিল ৫৪ টাকা। ওই বৈঠকের পর দাম চার টাকা বেড়ে যায়। উত্তর দিতে গিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী হাসতে হাসতেই বলেন, না না, এটাতো খারাপ কথা। আমার সাথেই…।

ওই সাংবাদিক তখন বলতে থাকেন, গত এক সপ্তাহে চিনির দামে বেড়েছে ১৪ টাকা। মিল গেটের দাম। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমার বাসার নিচে একটা মুদি দোকান আছে। আমার ড্রাইভার সেখানে গিয়ে দেখে দাম বেশি। পরে ওকে নিয়া আমি ল্যাভেন্ডারে গেলাম। সেখানে ২০টাকা কম। শেষে মন্ত্রী বলেন, যাই হোক, আমরা খোলামেলা আলোচনা করলাম, আমরা জানতে পারলাম, অ্যান্ড উই উইল টেক প্রোপার অ্যাকশান। ১৯৯৮ ও ২০০৮ সালের বন্যার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দশ বছর পর পর আমরা এ রকম একটা বন্যা লক্ষ্য করেছি। আমি অনেকবার মন্ত্রী ছিলাম। সচিবালয়ে এ রকম পানি আমি দেখিনি। আমি এখান থেকে যাওয়ার সময় সিঁড়ি থেকে গাড়িতে উঠেছি। আগামী বছর এগুলো আমাদের থাকবে না। অত্যন্ত ভালোভাবে এটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা না হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

এবার সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য

চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। এবার প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আশা করি এই টার্গেটে আমরা পৌঁছাতে পারব। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি (৩৭ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসেবে এবার এই লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত অর্থ বছরে ৩৪ দশমিক ৮৩৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। সেবাখাতে ৩৫০ কোটি ডলার নিয়ে চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উভেন পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে একহাজার ৫০৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫১০ কোটি ডলার; এতে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তোফায়েল জানান, গত অর্থবছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৮১৪ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমকি ৮১ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩৭৫ কোটি ডলার; উভেন পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৪৩৯ কোটি ডলার। এবার ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩৮ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ১ দশমিক ৬১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধরে হিমায়িত মাছ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৬ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে প্লাস্টিক পণ্যে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ওষুধে ১০ কোটি ডলার এবং ১০ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে হোম টেক্সটাইল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৮ কোটি ডলার।

এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি ৬০ লাখ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ২৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে চিরামিক্স পণ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪ কোটি ৩ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নমিতা হালদার, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

পোশাক রপ্তানিতে আমরা দ্বিতীয় বলেই মিথ্যাচার করা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে ২য় অবস্থানে বলেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। কেননা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম চায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের ২য় স্থানটি দখল করতে। এমনটাই জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির(বিজিএমইএ) ভবনে ‘ডিজিটাল আরএমজি ফ্যাক্টরি ম্যাপিং ইন বাংলাদেশের’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রানাপ্লাজার দুর্ঘটনার পর থেকেই তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর অবকাঠামো থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। তবু একটি মহল দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের আরএমজি সেক্টরকে নিয়ে অনেক মিথ্যাচার করে চলেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত,পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম চায় তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে ২য় স্থানটি দখল করতে। শুধু বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের ২য় স্থানটি ধরে রাখায় এই মহলটি আমাদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা আমাদের চাপ রাখতে চান, যাতে তারা আমাদের কাছ থেকে অল্প টাকায় পোশাক কিনতে পারেন। দেশে এখন সর্বমোট ২৭০টি গ্রিন কারখানা আছে। তাছাড়া বিদেশিদের নিয়ে আমি একাধিকার বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শনে গিয়েছি। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। শ্রমিকরা আমাদের বলেছেন, তারা ভালো আছেন। কই তখন তো বিদেশি ক্রেতারা আমাদের পোশাকের দাম বাড়াননি!আসলে তারা চায়, আমাদেরকে চাপে রেখে কম টাকায় পোশাক কিনে নিতে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব’—একথা উপেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল দেশ।ডিজিটাল আরএমজি ফ্যাক্টরি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে একজন ক্রেতা সহজেই যে কোনো কারখানার লোকেশন, কারখানাটি দেখতে কেমন এবং এখানে কি কি তৈরি হয় তা জানতে পারবেন।

এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এই সদস্য আগামী নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে। সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের ক্ষমতা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের আগে যে কোনো একদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ‘ডিজিটাল আরএমজি ফ্যাক্টরি ম্যাপিং ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা কেন্দ্র। আর প্রকল্পের মূল তহবিল যোগান দেবে সিঅ্যান্ডএ ফাউন্ডেশন। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি দেশের ২০টি জেলার তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কারখানার শুমারির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২১ সালের মার্চ মাসে। অনুষ্ঠানে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব ও সিঅ্যান্ডএ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শান্তনু সিংহ প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর

সবাই সম্পৃক্ত না হলে এত দুর্নীতি কেন: মুহিত

প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সবাই দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণেই দেশ আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে মত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আসছে- এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা কমে আসবে বলেই তিনি আশাবাদী। বুধবার রাজধানীতে দুদকের হটলাইন-১০৬ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

মুহিত বলেন, আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। দুর্নীতিতে আমরা সবাই নিমজ্জিত। সবাই যদি নিমজ্জিত না থাকত তাহলে দুর্নীতি হত না। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই দুর্নীতি করে। যদি এতে সবাই অংশ না নেয় তাহলে দুর্নীতি হয় কীভাবে? পরোক্ষভাবে আমরা সবাই দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত। পরিস্থিতি এখন এমন, যে অনেক সময় ‘বাধ্য হয়ে’ দুর্নীতিতে জড়াতে হয় বলে মন্তব্য করেন মুহিত। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে জীবনে দুইবার ‘বখশিশ’ দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তিনি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। “আমি তখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক। ঠিক করলাম, আমার বাড়িতে ন্যাচারাল গ্যাস কানেকশন প্রয়োজন, তখন আমি তিতাস গ্যাসকে বললাম, তোমরা একদিন এসে আমার এই কানেকশনটা দিয়ে যাও। এরপর তারা আসল, আমার বাসায় কানেকশটা দিয়ে দিল। তখন কোম্পানির যে কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান করছিলেন, যাওয়ার সময় তিনি বললেন, স্যার আমাদের কিছু বখশিশ দিতে হয়। তখন আমি ভেরি সারপ্রাইজড, কোনো দিন বখশিশ দিইনি। তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে আমি তো এখন সাধারণ নাগরিক। তখন কিছু বখশিশ দিলাম। এর আগে ফিলিপিন্সে চাকরি করার সময় বাসা ভাড়া নিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্যও বখশিশ দিতে হয়েছিল বলে জানান মুহিত। তারা এসে কাজ ঠিক-ঠাক করে দিল, তারপর তারা যাওয়ার সময় স্বাভাবিকভাবে বখশিশ চাইল, আমিও তাদেরকে কিছু দিলাম। ফিলিপিন্সে এটা খুব স্বাভাবিক কালচার, এতে আমি খুব বেশি সারপ্রাইজড হইনি। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নিজেই হেসে ফেলেন। তার সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়। মুহিত বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল না।

এটা একটা গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। একটু শরমের সংশ্লিষ্টতা ছিল। নাম উল্লেখ না করে দুদকের সাবেক এক চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় দুদকের এক চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। জেহাদের ভবিষ্যত সব সময় অন্ধকার হয়। কারণ জেহাদ একটি অন্য জিনিস।

অব্যশ্যই ধর্মে যুদ্ধে এসব ছিল, এখন আর নাই। জেহাদের নাম নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয় না। দুদক ও তদন্তকারীদের উদ্দেশে মুহিতের পরামর্শ- তদন্ত করবেন ভালো কথা, তবে জিহাদি হবেন না। জেহাদি হলে তদন্তের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়। সরকারি চাকরিতে বেতন কম বলে দুর্নীতি বাড়ার অভিযোগ ছিল এক সময়। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি চাকরিজীবীদের আগে চিন্তুা করতে হত- কীভাবে দুইবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা যায়।

এখন কিন্তু বলা যেতে পারে সরকারি বেতন মানে সুন্দর জীবন যাপন। পরিস্থিতি বদলানোর আশার কথা শুনিয়ে মুহিত বলেন, আমি আশাবাদী, আমার ধারণা, আট থেকে ১০ বছর পর আজকে যে দুর্নীতি, এই অবস্থার একটি পরিবর্তন আসবে। সাধারণ মানুষেরও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। দুর্নীতি যে করতে হবে এই মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্রসহ অন্যান্য কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দুর্নীতি কমেছে বলেও দাবি করেন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। আমরা যারা রক্ষক হিসেবে আছি, তারাই ভক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে আছি। এই প্রয়াস বন্ধ হওয়া চাই। জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাই হটলাইন-১০৬ খোলা হয়েছে। এতে যে কোনো ব্যক্তি দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগে ও পরে অভিযোগ করতে পারবেন। এর ফলে আমরা তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নিতে পারব। এই হটলাইন খোলার মাধ্যমে দুদকের সাথে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন হল।

হটলাইন উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠান থেকে অর্থমন্ত্রী দুদকের কলসেন্টারে ফোন দিয়ে কথা বলেন। অন্যদের মধ্যে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. নাসির উদ্দিন, কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এবং দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যে কোনো ফোন থেকে বিনা খরচে দুদকের হটলাইন ১০৬ এ ফোন করে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়া যাবে।

এই বিভাগের আরো খবর

ঋণ প্রবাহ কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি

মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রবণতার মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে অর্থবছরের প্রথম ভাগের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের এই মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

গত জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও মে পর্যন্ত সময়ে এ খাতে ঋণ বেড়েছে ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের মুদ্রানীতিতে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। আর জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতে এই লক্ষ্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গভর্নর ফজলে কবির গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে এনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সংকোচনমূলক’ মুদ্রনীতি দিল কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে গভর্নর বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে নতুন মুদ্রানীতির মাধ্যমে সেটা সম্ভব।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উত্তর-পূর্ব হাওর অঞ্চলে বিগত অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে আকষ্মিক বন্যায় ফসলহানীর কারণে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও কিদ্যমান। তবে প্রতিবেশী ভারতে ভোক্তমূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের নিচে নেমে আসায় এবং ২০১৭ সালের শুরু থেকে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য মুখ্য পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য নিম্নমুখী বা স্থিতিশীল থাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি পরিমিত রাখা যাবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার  ছিল ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ায় সরকারের ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় এর সুদহার কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা। এবারের মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একই সুপারিশ করেছে। নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, অচিরেই সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফার হার বিদ্যমান বাজার সুদ হারের সঙ্গে অবশ্যই সম্পর্কিত করতে হবে। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১১ মাসেই প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই অংক গত অর্থবছরের মূল বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে আড়াই গুণ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়েও ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। গত ২৮ জুন বাজেটের সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সুদের হারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে এই হার কমিয়ে আনার ইংগিত দিয়েছিলেন। তবে বাজেট আলোচনায় সংসদ সদস্যরা মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের এই মাধ্যমে সুদ হার না কমানোর পরামর্শ দেন। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের ঘোষিত আর্থিক নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রতি অর্থবছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের ২৯ জানুয়ারি। বরাবরের মতো এবারও নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

এই বিভাগের আরো খবর

ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ায় লক্ষ্যপূরণ কঠিন: অর্থমন্ত্রী

ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ায় নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই খাত থেকে ধরা আয় পূরণ করাকে ‘ভেরি ক্রিটিক্যাল’ মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সচিবালয়ে  বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আই শ্যাল নট স্পিক অ্যাবাউট ইট নাও। … আই অ্যাম হ্যাভিং ভেরিয়াস মিটিংস সেগুলোর পরে দেখব কোথায় কী করতে হবে। বিকজ ২০ হাজার কোটি টাকা ওয়াজ দি অ্যাডিশনাল ইনকাম আন্ডার দি নিউ ভ্যাট ল’। এই ২০ হাজার কোটি টাকা হবে না, কম হবে। হাউ টু মিট ইজ এ ভেরি ক্রিটিক্যাল প্রবলেম, সুতরাং এখনই বলতে পারব না।’

নতুন আইন কার্যকর করে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় ধরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট সংসদে প্রস্তাব করেছিলেন মুহিত। বিশাল বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর থেকে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা আসবে বলে ধরেছিলেন মুহিত।
কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভ্যাট আইন কার্যকর দুই বছর পিছিয়ে দিতে বলেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। ফলে মুহিতের বাজেট বাস্তবায়ন বড় ধরনের ধাক্কার মধ্যে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারের সামনে করজাল সম্প্রসারণের বিকল্প থাকবে না। আর সেই চাপ সামাল দিতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে।
ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ায় নতুন করে সংসদে পরিকল্পনা নিতে হবে কি না- এ প্রশ্নে মুহিত বলেন, এর প্রয়োজন নাও নেওয়া হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার এসব নিয়ে একটি বৈঠকের খবর জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ বাজেটে আমি যে ফাইনাল স্টেইটমেন্ট দিয়েছিলাম সেখানে মাই ফাস্ট সেনটেন্স ইজ রাইট, সেকেন্ড সেনটেন্সে একটা ভুল হয়েছে। এটা ল মিনিস্ট্রি উয়িল লুকিং ইট, কালকে অ্যাডভাইজ করবে তখন বুঝব, নেওয়া দরকার কি না। (সংসদে) নেওয়া না নেওয়ার দরকার থাকলেও আই শ্যাল মেক এ সেশনটা কনক্লুড হওয়ার আগে কিছু বলব, সেখানে জানিয়ে দেব। বর্তমানে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন কার্যকর নয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের আইনই সংশোধন করে করে চলছে। প্রতি বছরই সংশোধন করি। ভ্যাট আইন কার্যকর স্থগিত করলেও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প শুরু হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে এনবিআর

করতোয়া ডেস্ক : ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জানা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় ৩০ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছে তারা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। এ নিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করলো প্রতিষ্ঠানটি।
সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে আরো ৭১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম করেছে এনবিআর। এর ফলে রাজস্ব ঘাটতির সকল শঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করলো সংস্থাটি।

এনবিআরের পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের তিন বিভাগ থেকে এনবিআর ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১ কোটি রাজস্ব আদায় করেছে। যা এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে পরপর তিনবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রমের সাফল্য দেখিয়েছে রাজস্ব বোর্ড। যা ৩০ জুন এনবিআরের জন্মদিনে পরম পাওয়া। এজন্য সকল করদাতা ও অংশীজনকে ধন্যবাদ জানাই। আগামী ২৫ জুলাই রাজস্ব আদায়ের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।’

এনবিআরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের সকল সহকর্মী ও ফিল্ড অফিসারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। অভিনন্দন জানাচ্ছি, এনবিআরের সকল কমিশনার ও মহাপরিচালকদের। একই সঙ্গে সদ্য শুরু হওয়া ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

গত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ওই বছর রাজস্বে প্রবৃদ্ধি হয় ১৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এনবিআরকে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা এই লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাসী বলছিলেন।

২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১১ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে থাকা মুহূর্তে এনবিআর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের জন্য ১৮ হাজার টাকা কমিয়ে এনবিআরকে ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেয় জাতীয় সম্পদ কমিটি। এনবিআরের দাবি ও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবতার নিরিখে লক্ষ্যমাত্রা পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরের প্রথম নয় মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে এনবিআর। যদিও এ সময়ে গেল অর্থবছর থেকেও পাঁচ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে সংস্থাটি।

এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল এনবিআর।

চালের দামে স্বস্তি আসেনি সাধারন মানুষের জীবনে * বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

স্টাফ রিপোর্টার: কয়েকমাস ধরে বাড়তে থাকা চালের লাগামহীন দর সরকারের নানা পদেেপর ঘোষণার পরও নিয়ন্ত্রণে না আসায় নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসেনি। ঈদের ছুটির পর গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাসখানেক ধরে চলা চালের দর অপরিবর্তিত রয়েছে; মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৮-৫০ টাকা এবং সরু চাল ৫০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের একাধিক ক্রেতা চালের দরবৃদ্ধির কারণে তাদের জীবনযাত্রার কষ্টের কথা জানিয়েছেন। এদিকে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েই চলেছে।


শেওড়াপাড়া, কচুতে, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা কেজি প্রতি ৪৮-৫০ টাকা ও পাইজাম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট কেজিতে ৫৪-৫৬ টাকা, নাজিরশাইল ৫৫-৬০ ও আঠাইশ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। কচুতে বাজারে চাল কিনতে আসা চাকরিজীবী মোবারক হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই চালের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সরকারি হিসাবে জুন পর্যন্ত গত এক বছরে সাধারণ মানের মোটা চালের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি; আর এক বছরে বেড়েছে ৪৮ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি চাল সর্বনিম্ন ৪৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুক্রবার শেওড়াপাড়া বাজারে চাল কিনতে আসা স্থানীয় সাহিদা বেগম। তিনি বলেন, আমাদের যৌথ পরিবারে দিনে কয়েক কেজি চাল লেগে যায়। চালের দাম বাড়লে আমাদের খুব কষ্টে পড়তে হয়।


চালের দাম বাড়ার বিষয়ে কচুতে বাজারের খুচরা বিক্রেতা জুয়েল বলেন, আমরা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা লাভ করি। গত এক মাস ধরে বেশি টাকায় চাল কেনা পরছে।বন্যায় ধান নষ্ট হওয়াকে চালের দর বাড়ার কারণ হিসেবে দেখান শেওড়াপাড়ার খুচরা বিক্রেতা আজাদ মিয়া।তিনি বলেন, পাইকারি বিক্রেতাদের থেকে চাল কিনি আমরা। তারা চালের দাম বাড়াইলে আমাদের কিছু করার থাকে না।কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা শমশের বলেন, দুই-তিন মাস ধরেই চালের দাম বেশি, মিলাররা দাম বেশি রাখে।

 চালের বস্তা প্রতি ২০-৫০ টাকা লাভ হয় আমাদের।শুক্রবার কচুতে ও কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, পাইকারিতে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) স্বর্ণা দুই হাজার ২৭০ থেকে দুই হাজার ২৮০ টাকায়, পাইজাম দুই হাজার ৩৮০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু চালের মধ্যে মিনিকেট বস্তাপ্রতি দুই হাজার ৬৮০ থেকে দুই হাজার ৭০০, নাজিরশাইল তিন হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ এবং বিআর আঠাইশ (দেশি) দুই হাজার ৪০০ ও বিআর আঠাইশ (বিদেশি) দুই হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কচুতে বাজারের মা তৃপ্তি ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ইসমাইল হোসেন বলেন, চালের দাম অনেক চড়া, প্রচুর দাম। টাকা দিয়েও ভাল চাল পাচ্ছি না। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ‘মিল মালিকদের সিন্ডিকেট’ ও ‘সরকারের অব্যবস্থাপনা’ দায়ী বলে মনে করেন কচুতে বাজারের সবচেয়ে বড় পাইকারি চাল বিক্রেতাদের একজন জনপ্রীতি রাইস এজেন্সীর সত্ত্বাধিকারী ফজলুর রহমান।

তিনি বলেন, মিল মালিকেরা প্রচুর চাল মজুদ করে সিন্ডিকেট করছে। কুষ্টিয়া, নওগা, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মিল মালিকরা এই সিন্ডিকেট বেশি করছে। মিল মালিকেরা বুঝে গেছে সরকারের মজুদে চাল নাই, তাই তারা ইচ্ছামতো মুনাফা হাতাচ্ছে। বুধবার সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নিজেও চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন।


বাজারের অন্য পণ্যের মধ্যে রোজার শেষ দিকে মাংসের দাম বাড়লেও তা কিছুটা কমে এসেছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ৪৮০ টাকা, খাসি ৫৮০-৬০০ টাকা, বিদেশি মুরগি কেজিতে আড়াইশ টাকা ও দেশি মুরগী প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৪৫০ টাকা। এদিকে, কাঁচা মরেচর ঝাল যেন কমছেই না। দফায় দফায় বেড়েই চলেছে এর দাম। গত সপ্তাহেও যে মরিচ ছিল ৯০-১০০ টাকা কেজি তা এ সপ্তাহে এসে দাঁড়িয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।

বৃষ্টিতে মরিচ পচে যাওয়াকেই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে সবজির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েই চলেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকায়। অন্যদিকে মাছের বাজারও বেশ চড়া। শুক্রবার রাজধানীর পুর্ব রাজাবাজার, শুক্রাবাদ, গুলশান-১ এর ডিসিসি মার্কেট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

 

বাজেটে নিশ্চয়তার ঘাটতি দেখছে বিশ্ব ব্যাংক

উচ্চ আশাবাদের ভর করে আগামী অর্থবছরের জন্য যে বিশাল বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে নিশ্চয়তার ঘাটতি দেখছে বিশ্ব ব্যাংক। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই প্রতিক্রিয়া জানান। এক কথায় বাজেট নিয়ে তার মূল্যায়ন: ‘লং অন হোপ, শর্ট অন অ্যাসিউর‌্যান্স (আশাবাদে উচ্চ, কিন্তু নিশ্চয়তায় খাটো)।’

বিশ্ব ব্যাংকের এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাজেটে অনেক লক্ষ্যই বাস্তবতার নিরিখে নয়, আশার ওপর ভর করে ঠিক হয়েছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কোনো চমক নেই, গতানুগতিক। আর আয়ের লক্ষ্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আসছে অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি ২৬৬ কোটি টাকা আয়-ব্যয়ের ফর্দ ধরে তৈরি এই বাজেট ১ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেও আইন অনুযায়ী অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনায় ভর দিয়ে রাজস্ব আয়ের বিশাল লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এর মধ্যেই প্রশ্ন  উঠেছে।

১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের অভিন্ন হারের বিরোধিতা করে সাংসদ ও মন্ত্রীরা বক্তব্য দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহল থেকেও ভ্যাটের আগের হার বহাল রাখার দাবি জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভ্যাট নিয়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন। তার আগে কোনো কিছু জানানোর নেই। তবে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় সম্ভব নয় বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজেট, বড় আয়ের লক্ষ্য। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ওষুধসহ বেশ কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট নেই। ৩৬ লাখ টাকা পর‌্যন্ত ব্যবসার টার্নওভাবে ভ্যাট মূক্ত। সে কারণে দাম খুব একটা বাড়ার কারণ নেই। সামান্য বাড়তে পারে। তবে নতুন ভ্যাট নিয়ে যেভাবে অপ্রচার হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রভাবে এক ধরনের আতংক সৃষ্টি হয়ে দাম বাড়তে পারে। অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বললেও তা অর্জন নিয়ে এই বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেন। প্রবৃদ্ধির বিমান অটো পাইলটিংয়ে চলবেনা। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেভাবে চলছে সেভাবে হলে লক্ষ অর্জিত হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বাড়াতে হবে। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব বিনিয়োগের (পিপিপি) দিকেও নজর দিতে পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চালের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে গরিব মানুষ বেশি বিপদে আছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় চালের দাম খুবই স্পর্শকাতর। এটাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ভালো হয় যদি দ্রুত আমদানি বাড়িয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মিল মালিক বা আড়তদারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমদানি বাড়লে, সরবরাহ বাড়লে তারা এমনিতেই তাদের মজুদ করা চাল বাজারে ছেড়ে দেবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি
বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে।

বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন। বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি: বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে। বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন।

বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাস হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা মতো সংশোধিত আকারে পাস হবে। পাসকৃত বাজেট দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এতে মানুষ খুশি হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে এমন বাজেট পাস করা হবে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বাজেট পাসের পর আর কোনও আলোচনা বা সমালোচনা থাকবে না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ অবহিতকরণ কর্মশালায়’ এ বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজস, মনোপলি, জোটবদ্ধতার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন পাস করেছে। সে অনুযায়ী প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা কমিশন সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানীর ঘটনা দুঃখজনক।

দুর্ঘটনার পর থেকেই সরকার উদ্ধার কাজসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে সরকার। প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু। মূল আলোচক ছিলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ.কে. এনামূল হক।অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, মো. আবুল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক আফরোজা খান, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর।

 

‘ব্যাংক লেনদেনের আড়ালেও অর্থপাচার হচ্ছে’

করতোয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে আমদানি-রফতানির আড়ালে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে অর্থপাচারকারীরা চারটি কৌশল গ্রহণ করছে। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার অ্যান্ড আন্ডার শিপমেন্ট, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও একাধিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে। রোববার বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক এক কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধের নীতিমালাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এগুলো আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। স্বীকৃত ব্যাংকগুলোকে আমদানি-রফতানি মূল্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ট্রেড সার্ভিসের মাধ্যমে কেউ যেন ঋণখেলাপি হতে না পারে সেজন্য যথোপযুক্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচিত হবে, অধিক স্বচ্ছতা নির্ধারণের জন্য এসব তথ্য যাচাই করা। অনুষ্ঠানে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থপাচার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, এটা কেবল অর্থপাচার নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্যান্য আর্থিক অপরাধগুলোও ঘটছে। এসব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরে কড়া নজরদারি করছে। প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

 গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাংকিং সেবায় আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আমদানির পাশাপাশি রফতানিতেও আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছে ১৮ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালে কমে ঠেকেছে ১০ শতাংশ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো হয় ২৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ২০১১ সালে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৬৪  শতাংশ আমদানি ব্যয় মিটিয়েছে। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় আরও গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোকে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।’ বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন এনআরবি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসাইন  প্রমুখ।

 

চাউলের মূল্য বৃদ্ধি কৃত্রিম ও সাময়িক : বানিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এমন বাজেট পাস করা হবে না, যাতে দেশের মানুষ কষ্ট পায়।তিনি বলেন, বাজেট পাস করার পর সবাই খুশি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার সবকিছু করবে।

তোফায়েল আহমেদ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে থ্রি-ডি সেমিনার হলে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত বাজেট উত্তর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্রোভার্টি স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কাজল।এছাড়াও অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে জাতীয় সংসদে এবং বাইরে আলোচনা হচ্ছে। বাজেট পাস হবার পর আর কোন আলোচনা থাকবে না। ভ্যাট এবং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে বাস্তব সম্মত হবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, চাউলের মূল্য বৃদ্ধি এটি একটি কৃত্রিম সাময়িক সংকট। বাজারে চাউলের অভাব নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাউল রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরো ৬ লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।তিনি বলেন, চাউল আমদানির উপর ১০ ভাগ হারে আমদানি শুল্ক ছিল, দেশের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য আরো ১৫ ভাগ শুল্প আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে। একসময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই।তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা চাউল রপ্তানি করতে শুরু করেছি। দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন কমছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। এ উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও দেশে কোন খাদ্য সংকট হবে না।

আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হবে না: মুহিত

সিলেট প্রতিনিধি: ব্যাংক আমানতের উপর বাড়তি আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমানো হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১ জুন ঘোষিত বাজেটে ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর বাড়তি হারে আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করার পর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সেখানে বলা হয়েছে, বছরের যে কোনো সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলে আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনে ১৫ হাজার টাকার বদলে ২৫ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবগারি শুল্ক কমানোর সুযোগ নেই। তবুও এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা শেষে তা পাশ হবে। তবে  ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কোনোভাবেই কমানো হবে না জানিয়ে মুহিত বলেন, ২০১২ সাল থেকে এ বিষয়টি ঝুলে আছে। গত বছর তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, হয়নি। কিন্তু এবার কোনোভাবেই ভ্যাটের হার কমানো হবে না। সিলেট মদন মোহন কলেজ সরকারিকরণ উপলক্ষ্যে সরকারের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ প্রমুখ।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ৭ শতাংশের নিচেই

করতোয়া ডেস্ক: মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে সরকার আশা করলেও বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন তার চেয়ে কম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও বিশ্ব ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচেই থাকবে।

বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে  সোমবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এ সংস্থার হালনাগাদ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ এ চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনের আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাইরে চাহিদা বাড়ায় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়ানোর কথা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেও বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের হিসাবের চেয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রাক্কলন ও পূর্বাভাসকেই নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত বলে বিবেচনা করেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। তারা বলছেন, রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলহানি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি আরও কম হওয়ার কথা। কয়েকদিন আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ধরা হয়েছে বলে সংশয় প্রকাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানও বিবিএসের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্ব ব্যাংক প্রবৃদ্ধির হিসাব নির্ভরযোগ্য বলে মতপ্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংক অর্থনীতির ধারাবাহিকতা যাচাই করে নির্দেশকগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সামগ্রিক বাস্তবতার ভিত্তিতে একটা ‘ফিগার’ উপস্থাপন করে।

অন্যদিকে বিবিএস যে প্রক্রিয়ায় ও যে ধরণের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করছে তা পর্যাপ্ত ও বাস্তবভিত্তিক নয় বলে মনে করেন তিনি। এর ব্যাখ্যায় কয়েকটি দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বিবিএস প্রবৃদ্ধির হিসাব করেছে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তথ্যের ভিত্তিতে; তাদের হিসাবে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে সাম্প্রতিক ধাক্কাসহ অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয়নি; এবং ম্যানুফেকচারিং খাতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ধরা হয়েছে, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধির বড় দুটি চালিকা শক্তি- রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহ- দুটোই বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গতবছরের অর্ধেক হয়ে চার শতাংশে নেমেছে। রেমিটেন্সতো গত অর্থবছরের তুলনায় নেগেটিভ। দুটো চালিকা শক্তির যদি এরকম নাজুক অবস্থায় ওভারঅল প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় বাড়লে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ঠ অবকাশ থাকে। এটা আসলে কীভাবে সম্ভব?’ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে শিল্পখাতে (ম্যানুফেকচারিং) ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বড় ভূমিকার যে হিসাব বিবিএস দেখিয়েছে তাতে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

সেলিম রায়হান বলেন, ‘ম্যানুফেকচারিং খাতে গ্রোথ দেখানো হচ্ছে ১০ পার্সেন্টের মতো। এই জায়গাটায় একটা প্রশ্ন আছে- আমাদের ম্যানুফেকচারিং খাতের ৫০-৫৫ পার্সেন্ট রেডিমেট গার্মেন্টস। রেডিমেট গার্মেন্টেসের প্রবৃদ্ধি কিন্তু অনেক কম- ফোর পার্সেন্টের মতো- এবং এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড।’ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৮৭২ কোটি ডলার আয় করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। এই অঙ্ক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। তার আগের অর্থবছরে (১২ মাসে) পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। অধ্যাপক সেলিম বলেন, ‘এখন রেডিমেট গার্মেন্টেসের প্রবৃদ্ধি যদি গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হয় তাহলে ধরে নিতে হবে যে অন্য খাতগুলো অনেক ভাল করায় ওভারঅল ম্যানুফেকচারিংয়ে ১০ পার্সেন্ট গ্রোথ হয়েছে। কিন্তু আমরাতো দেখি না ‘নন-রেডিমেড গার্মেন্টস’ কোনো খাত খুব ভালো করেছে। এই হিসাবগুলোতোও মিলছে না, এগুলোতো মিলতে হবে।’ বিবিএস সারা বছরের উপাত্ত নিয়ে প্রবৃদ্ধির হিসাব সংশোধন করবে বলে আশা প্রকাশ করে সেলিম বলেন, সামগ্রিক তথ্যের ভিত্তিতে ‘রিভাইজ’ করলে দেখা যাবে তাদের প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনও বিশ্বব্যাংকের মতো বা তার কাছাকাছি হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) কয়েক দিন আগেই সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, হাওরে সাম্প্রতিক ফসলহানি, রপ্তানি ও রেমিটেন্সে মন্দা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করলে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার কথা। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও চলতি বছর বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে কৃষি ও সেবা খাত চাঙ্গা থাকার কারণে। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শিল্প উৎপাদনের পরিস্থিতিও ভালো।

‘তেলের দামে স্থিতিশীলতা ও রপ্তানিতে সামান্য হলেও প্রবৃদ্ধি থাকায় বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও কমেছে। উপযোগী আবহাওয়া ও তেলের দাম কমার কারণে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নিচে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।’ তবে রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা থাকায় কিছুটা উদ্বেগ থাকছেই। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর মন্দা ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স প্রবাহের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা মোট এক হাজার ১৫৫ কোটি ৪৮ লাখ (১১.৫৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। তার আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৫২ লাখ ( ১৩.৪৬ বিলিয়ন) ডলার। সে হিসাবে এই ১১ মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগামীতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধস দেখা দিলে বাংলাদেশের সামষ্টিক ভোগ ও বিনিয়োগেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব ব্যাংক। আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে বলে বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০১৮-২০২০ সময়ে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হলে রেমিটেন্স বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আস্থা ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে বিশ্ব ব্যাংকের ধারণা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল, পাকিস্তান ও ভারতে নির্বাচন সামনে রেখে নীতিগত ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনের ফল অর্থ বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

 

পরিবারের সবাই আয়কর দিলে ‘কর বাহাদুর পরিবার’

করতোয়া ডেস্ক: এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় পরিকল্পনার এক তৃতীয়াংশ আয়কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করে যে বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছেন, তাতে করদাতাদের উৎসাহিত করতে ‘কর বাহাদুর পরিবার’ ঘোষণার প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পরিবারের সকল সদস্য কর দিলে সে পরিবারকে তিনি ‘কর বাহাদুর পরিবার’ হিসেবে ঘোষণা করতে চান।  বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবনায় এ ঘোষনা দেন তিনি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরেও আয়করের কাঠামো মোটামুটি একই থাকছে। বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হলে কোনো কর দিতে হবে না। নারী ও প্রবীণ (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে) করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আগের মতো তিন লাখ টাকা থাকছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরও করমুক্ত সীমা থাকছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। কর আদায় বাড়ানোর চেষ্টায় জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা মুহিত তার বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ৩৭০ জন সর্বোচ্চ আয়করদাতা এবং ১৪৭ জন দীর্ঘসময়য়ের আয়করদাতা মিলিয়ে মোট ৫১৭ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সৎ করদাতাদের উৎসাহিতকরণে এবং নতুন নতুন করদাতাকে করের আওতায় আনার লক্ষ্যে ট্যাক্স কার্ডের ব্যাপ্তি সম্প্রসারণ করে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৪১টি সম্মানসূচক ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হয়েছে। আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ও করদাতা নিবন্ধনকারীর সংখ্যার যে লক্ষ্যমাত্রা গত বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটা অতিক্রম করার খবর দিয়েছেন মুহিত। তিনি জানান, রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ১৬ লাখ হয়েছে। আর করদাতা নিবন্ধন নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা ২৫ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ লাখ।

 

ভ্যাট ১৫ শতাংশই থাকছে: মুহিত

ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে তিন সপ্তাহ আগে ভ্যাটের হার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাজেটের পাঁচ দিন আগে আবার সেই ১৫ শতাংশের কথাই বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শনিবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে কয়েকজন সাংবাদিককে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “অনেক আলোচনা করে আমরা শেষ পর্যন্ত ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশই রাখছি।”

তবে ভ্যাটমুক্ত টার্নওভারের সীমা এবার বাড়ানো হচ্ছে এবং দুই এক দিনের মধ্যে নতুন সীমা ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) ভ্যাটমুক্ত। আর ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।

এবার ৮০ লাখ টাকার ওই সীমা বাড়িয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা তার বেশি করা হচ্ছে জানিয়ে মুহিত বলেন, সেক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ বা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

“অর্থাৎ, আমরা এই বাজেটে ছোট ব্যবসায়ীদের বিশেষ ছাড় দিচ্ছি,” বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট দেয় মাত্র ২৫ থেকে ২৬ হাজার।

“এই সংখ্যা আমরা আগামী বছর দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজারে নিয়ে যেতে চাই।” মুহিত দাবি করেন, এই ভ্যাট কাঠামোতে বাজারে পণ্যমূল্য কোনো অবস্থাতেই বাড়ার কথা নয়।

“রোজার কারণে ব্যবসায়ীরা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভ্যাটের কারণে বাড়ার কারণ নেই।” এ সরকারের সময়ে তার দেওয়া কোনো বাজেটের পরপরই দ্রব্যমূল্য বাড়েনি বলে মুহিতের দাবি।  

তিনি জানান, আগামী ১ জুন বেলা দেড়টায় তিনি জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা শুরু করবেন; সন্ধ্যার আগেই বাজেট বক্তৃতা শেষ হবে।

এবার তার বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম হবে ‘উন্নয়নের মহাসগরে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’। আগামী ২৯ জুন সংসদে বাজেট পাস হবে।

রপ্তানি খাতে উৎসে করের হার বাড়বে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আগামী অর্থবছরের বাজেটে দেশের রপ্তানি খাতের উৎসে আয়করের হার বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অবশ্য তা বেড়ে কতটা হবে তা উল্লেখ করেননি তিনি। বুধবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত রপ্তানি আয় বাড়াতে বাণিজ্য ও মুদ্রার বিনিময় হার সংক্রান্ত নীতি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারতের মতো দেশ রপ্তানি খাতে অনেক সুবিধা দেয়। আমরা যতই বলি দিই, আসলে ততটা সুবিধা দিতে পারি না। এই যেমন উৎসে কর, যা গত বছর শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ ছিল, তা এবার বাড়বে।এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎসে করের হার বাড়তে সিদ্দিক সাহেবরা তা কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্যে অনুষ্ঠানে সবাই হেসে ওঠেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবরার এ আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবার প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.৮ ভাগ : বিশ্ব ব্যাংক

চলতি অর্থবছর শেষে সরকার ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করলেও এর সঙ্গে একমত নয় বিশ্ব ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থা বলছে, চলতি জুনে শেষ হতে যাওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল রোববার বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ এ এই পূর্বাভাস তুলে ধরে বলা হয়, মূলত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমায় এবং রেমিটেন্সের পতনের কারণে গতবছরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান অর্থনীবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি বলতে চাই, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। রপ্তানি ও রেমিটেন্সে প্রতিকূল হওয়া বইছে। তবে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যেখানে বাংলাদেশ রপ্তানিতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল, এবার একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। আর ওই সময়ে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমিছিল ২.৫ শতাংশ; এবার কমেছে ১৬ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সরকার আশা করছে। 

আগামী বাজেট হবে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা হবে বলে  জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সাইজ অব দ্য বাজেট ইজ গোয়িং টু বি মোর দ্যান ৪ লাখ। এখন হিসাব টিসাব হচ্ছে, ৪ লাখ ৬,৭, ৮ হাজার এ রকম’। মুহিত জানান, আগামী অর্থবছর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর ব্যাংক থেকে কোনো মাশুল নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, আসন্ন বাজেট এই মেয়াদের শেষ কার্যকরী বাজেট। নেক্সট বাজেটে কাউকে অখুশি করা হবে না। আমি মনে করি প্র্যাকটিক্যালি শেষ কার্যকরী বাজেট ইন মাই লাইফ। সেই দিক থেকে আপনারা আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিবেন। কারণ আপনারা অর্থনীতি নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এই সরকার মোটামুটি ভাবে মিডিয়ার মতামতকে সাড়া দিয়ে আসছে। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রেমিটেন্স বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, এটাকে বাড়ানোর জন্য  প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে রেমিটেন্সের উপর চার্জ আর করবেন না। আই থিংক উই উইল ডু ইট। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় আমরা এটা করব। তাদের (প্রবাসীদের) আর টাকা পাঠানোর জন্য পয়সা দিতে হবে না। তবে এতদিন ব্যাংকগুলো রেমিটেন্সে যে মাশুল নিত, তা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু বলেননি। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের কিছুটা আয় কমবে। কারণটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। বেতনও কিছু কমানো হয়েছে। আরেকটা কারণ হচ্ছে, প্রবাসীরা আগের মতো তাদের সব টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন না। তাদের হাতে কিছু টাকা রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৬ দশমিক ০৩ শতাশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমেছিল ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বিদেশে টাকা পাচার রোধে জমি কেনাবেচায় সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যও তুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা ল্যান্ড প্রাইস ঠিক করে দেই। কিন্তু বাস্তবে জমির দাম অনেক বেশি। তাই বেশি দামে জমি বিক্রি করে। এই টাকা কী করবেন? এটা এদেশে ব্যবহার করতে পারে না। কালো টাকা। তাই এখন আমরা কোনো সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে না দেওয়ার চিন্তা করছি। তিনি বলেন, জমি কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকার অন্যতম উৎস। পরবর্তীতে এ কালো টাকা তারা বিদেশে পাচার করে। তাই পাচার বন্ধে আগামী বাজেটে জমির সর্বনিম্ন নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু বিদ্যুতে সাবসিডাইজড করছি, করেও যাব। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন হবে। এখন ৮০ ভাগ গ্রামে বিদ্যুত আছে। এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতকে আমরা সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছি। আমরা প্রাইমারি পর্যায়ে অনেকটা সফলও হয়েছি। সেকেন্ডারি এডুকেশনেও সেটা অনেক বেড়েছে। প্রত্যকটিতে এনরোলমেন্টটা বেড়েছে। মানটা মোটেই বাড়েনি। তাই এখন মানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মানের দিকে নজরের দাবিটা এখন শিক্ষার্থী ও গার্ডিয়ানদের কাছ থেকেও আসছে। আমরা এ ব্যাপারে সচেতন। পাঠ্য বই এখন আধুনিকায়নে সংস্কার হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষক তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক গড়া অতটা সহজ নয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। পড়ার অভ্যাস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও ব্যাপকভাবে লাইব্রেরি সংস্কার করা প্রয়োজন। গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি তৈরি করার জন্য সাধারণ মানুষের উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

 



Go Top