সকাল ১১:০৩, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

মূল্যসূচক ও লেনেদনে বড় উল্লম্ফন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে । লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৮০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯১ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার শেয়ার।
 সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইতে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএসইএক্স এক পর্যায়ে ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে পাঁচ হাজার ৭০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। দিনশেষে এই সূচক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা গত সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০ সালের ১ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ১২২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সোমবার ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় ৫১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। রোববার এই বাজারে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার দর। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৭ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে দুই হাজার ২৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে সিএসইতে ১১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো: বেক্সিমকো লিঃ,বারাকা পাওয়ার, ইসলামি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি: ফরচুন সুজ, ইসলামি ব্যাংক, ফনিক্স ফাইন্যান্স, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, পুবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কাশেম টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল ও সাউথইস্ট ব্যাংক।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি:- সিভিওপিআরএল, সমতা লেদার, রহিমা ফুড,  বিডি অটোকারস, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কেডিএস, মিরাকল ইন্ডাট্রিজ ও বাংলাদেশ সিপিং কর্পোরেশন।

৩ বছরের মধ্যে নতুন দিগন্ত দেখছেন মুহিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ২০২০ সালের মধ্যে ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রোববার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে হয়নি, এ রকম রেকর্ড খুব কম দেশের আছে। আমার বিশ্বাস, আমরা যেভাবে চলছি, আরও যদি কিছু পরিবর্তন আমরা করতে পারি, তাহলে এই দশকেই, মানে ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের অনেকগুলো নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমি বিশ্বাস করি, ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের এখানে একটা শক্তিশালী পুঁজিবাজার সৃষ্টি হবে, যেখান থেকে আমরা বিভিন্ন বিনিয়োগে আগ্রহ নিতে পারব। মাত্র তিন বছর বাকি। এই তিন বছরের মধ্যেই হবে বলে আমরা বিশ্বাস। মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের যাত্রা শুরু উপলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আশির দশকে এনজিও হিসেবে কাজ শুরু করা মাইডাস এখন নিজের টাকায় চলছে। মাইডাস চলত বিদেশি সহযোগিতার টাকায়। এক সময় এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা ঘোষণা দিয়েছিল- তারা নিজের টাকাতেই চলবেন। নিজের টাকায় চলার ঘোষণা অনেকেই দেয়। তবে সেটা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। মাইডাস সেটা পেরেছে। নতুন এ কোম্পানির চেয়ারম্যান রোকেয়া আফজাল রহমান; যিনি মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডেও একই দায়িত্ব পালন করছেন। রোকেয়া বলেন, ১৯৮২ সালে উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ একদল মানুষ মাইডাস প্রতিষ্ঠা করে। তখন স্যামসন চৌধুরী, আমিরুল ইসলামরা ছিলেন। মানুষের কল্যাণ করার উদ্দেশ্য সেই সময় থেকেই আমাদের ছিল। এসএমই খাতে আমরা ভাল করেছি। নব্বইয়ের দশকে আমরা নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়েছি। তখন নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হত না। এটা করে আমরা বেশ ভাল ফল পেয়েছি। নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য মূল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদেও আছেন বলে  জানান রোকেয়া। তিনি বলেন, মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন করা কোম্পানিগুলোর অ্যাডভাইজারি ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা করবে। আশির দশকে মাইডাস এসএমই ঋণ দেওয়া শুরু করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তার আগে বাংলাদেশে এ ধরনের ঋণ দেওয়া হত না। আর এখন দোকানদার থেকে শিল্পপতি, সেলসম্যানের চাকরি করা নারী থেকে সফল উদ্যোক্তা-এ ধরনের বহু সফলতার গল্প মাইডাসের ঝুলিতে। মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক-উল-আজম অনুষ্ঠানে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুঁজিবাজারে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের ভূমিকা খুবই সীমিত। এ কারণেই নতুন প্রতিষ্ঠান খুলেছেন তারা। মাইডাস ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাতে সর্বশান্ত না হন- আমরা সেই কাজ করব, পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিগুলোর অর্থ সংগ্রহের জড়তা কাটাতে কাজ করব। শেয়ারের বিপরীতে ুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেব। ভবিষ্যতে ব্রোকার ও অ্যাসেট ব্যবস্থাপনা কোম্পানি করারও ইচ্ছার কথা জানান মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

রানার গ্রুপের হাত ধরে নতুন যুগে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মোটরসাইকেল নেপালে রপ্তানি হতে যাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে মোটরবাইকের জগতে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আর এই মাইলফলক বয়ে এনেছে দেশখ্যাত রানার গ্রুপ।  শনিবার এই মাইলফলকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রথম দফায় সাতটি কাভার্ড ভ্যানে করে শতাধিক মোটরসাইকেল কাকরভিটা সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করবে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে মোটরসাইকেলের নাম। রানার অটোমোবাইলস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, নেপালে আমাদের এই মোটরসাইকেল রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে। সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেলে বিশ্ব বাজারে রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আশা করেন তিনি। রানার গ্রুপ, চীনের ডায়াং মোটরসাইকেল বিপণনের মাধ্যমে রানার অটোমোবাইলস্ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালে। সেখান থেকে প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে অটোমোবাইলস্ লিমিটেড ডায়াং মোটরসাইকেলকে বাংলাদেশে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় স্থাপন করা হয় মোটরবাইকের কম্পোনেন্টস তৈরির কারখানা। ২০১১ সালে রানার ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং, এসেম্বলিং, টেস্টিং, চেসিস, রিয়ার ফোরক, ফুয়েল ট্যাঙ্ক, মেইন স্ট্যান্ড, সাইড স্ট্যান্ড, ফুট পিগ এবং ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১২ সালে পুরোদমে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে রানার গ্রুপ। এ সকল যন্ত্রাংশ রং করার জন্য অত্যাধুনিক পেইন্টশপ স্থাপন করেছে তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন- রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সি.ই.ও মুকেশ শর্মা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেট্রিক্স মোটো করপোরেশনের দিলীপ কুমার কার্নাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভ্যাট অর্ধেক করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের শুরুর দিন থেকেই ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য এই কর ১৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। এর সঙ্গে অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ইসিআর মেশিন সরবরাহের কথাও বলেছেন তিনি। ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ বাস্তবায়নের ল্েয করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা উত্তর কর কমিশনের উদ্যোগে এ সেমিনার হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। সেমিনারে জানানো হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ বাস্তবায়ন শুরু হবে। অর্থাৎ ওই দিন থেকে গ্রাহক পর্য়ায়ে অনলাইনে ভ্যাট আদায় করা হবে। মাতলুব আহমাদ বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট অনলাইন চায়। আমরা ফেডারেশন থেকেও চাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের রশিদে যখন আমরা ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেব আল্টিমেটলি এটা অনেক বেশি হয়ে যাবে। এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি এখন আবারও বিনয়ের সঙ্গে বলছি ভ্যাট ১৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। আপনি যখনই ১৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে আসবেন তখন ভ্যাট না দেওয়ার যে প্রবণতা, তা থেকে মানুষ বেরিয়ে আসবে। ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন, এমন অভিযোগ তুলে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এখনও এনবিআরের ভ্যাট অফিসাররা এখনও অনেক দোকনে গিয়ে খাতাপত্র টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, হয়রানি করছেন। উনাদের আমি বারবার বলেছি আপনার একটা সিস্টেম থাকা উচিত। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে একজন কমিশনারের একটি আদেশপত্র থাকবে। সেই আদেশ দেখিয়ে বলবে যে, আমি এই আদেশের কারণে আপনার খাতাপত্র নিয়ে যাচ্ছি। তাকে যদি খুশি করা যায় তাহলে কিন্তু খাতাপত্র ফেরত পাওয়া যায়। এসময় তিনি এফবিসিসিআইর সঙ্গে একটি হটলাইন চালু করার প্রস্তাব করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর মো. নজিবুর রহমান বলেন, “কোনো ব্যবসায়ী বা করদাতা যদি হয়রানির শিকার হন তারা যেন ইমেইল করে এনবিআরকে জানান। শিগগির এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম বা ঠিকানা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে। হটলাইনে আপনারা এনবিআরকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমরা রাজস্ব আহরণ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করজাল বিস্তৃত করতে কাজ করছি। এজন্য আমরা উপজেলা সফর শুরু করেছি। আমি দেখেছি মানুষ সরকারকে কর দিতে চায়। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাশেম খান ও এনবিআরের সদস্যরা।

 

‘বগড়্যার মেলা’র ৩য়দিন মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অবদান তুলে ধরার আহ্বান

মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অনবদ্য অবদান দেশবাসীর কাছে তুলে ধরে প্রকাশনা বের করতে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি প্রকাশনার নাম ‘মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া’ করার প্রস্তাব দেন।  শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন’ দাবি করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বগুড়া সমিতির ভিন্নতর প্রকাশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, বগুড়ার সংস্কৃতি যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ। এই সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সেখানকার সংস্কৃতিগোষ্ঠীগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, প্রয়োজনে নতুন করে সংস্কৃতিগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে।

 ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, বগুড়ায় আরো উন্নয়ন হওয়া দরকার। সেখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। বগুড়ার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। মেলার মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু জানান, মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার জন্য বগুড়া থেকে প্রতিদিন দু’টি বাসে করে শিল্পীদের আনা হচ্ছে। কারণ, আমরা বগুড়ার শিল্পীদের মাধ্যমে বগুড়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রচেষ্টায় বেহাত হওয়া ‘ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি’ প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়েছে। শিগগিরই তা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

 এটি সমিতির একটি বড় অর্জন। ঢাকায় ‘বগুড়া ভবন’ তৈরির চেষ্টা চলছে জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম ঢাকায় প্রতি বছর ‘বগড়্যার মেলা’ অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এতে বগুড়া সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার তালুকদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় আঞ্চলিক গান, বাউল গান, নৃত্যানুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। বিকেলে করতোয়া নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘কদম মুন্সির ঠিকানা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা হাস্যরসাত্মক নাটিকা ‘সূক্ষ্ম বিচার’ মঞ্চস্থ করে বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী।

শিল্পী মাহির পরিবেশনায় বগুড়ার আঞ্চলিক গানও পরিবেশিত হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে মঞ্চস্থ হয় নান্দনিক নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘বর্ণচোর’ নাটকটি। মেলায় পুলি, মুঠা, পাটিশাপটা ও দুধ পিঠা, গাজর ও গুড়ের সন্দেশসহ চার রকমের দই ও ঘি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস। বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে বিক্রেতা হোসনে আরা ইতি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাউদিয়া সুইটস থেকে মিষ্টান্ন কেনার পর দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকায় বসবাসরত প্রকৌশলী আসিফ রহমান সৈকত দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দাম কিছুটা বেশি বলেই মনে হয়। তবে এটা বড় কোনো ব্যাপার না। আগামীকাল সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে।
আজকের কর্মসূচি : মেলামঞ্চে আজ রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় হবে কবিগান, নৃত্য, পালাগান, নাটক, সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

 

আমার হাতেই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছাবে : অর্থমন্ত্রী মুহিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আগামী দু’বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে যাবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর এই প্রবৃদ্ধি তার হাত ধরেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় তিনদিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। সরকারের আগামী দুই বছরকে ‘গোল্ডেন যুগ’ উপ্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে পেরিয়ে ৭ শতাংশের ঊর্ধ্বে গিয়েছি। আমাদের স্বপ্ন পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশে পৌঁছবো, এটা একটা ভাল স্বপ্ন, সম্ভবপর স্বপ্ন বলে আমার মনে হয়। ‘মনে হয় আমার হাতে প্রবৃদ্ধি অন্তত ৮ শতাংশে পৌঁছবো, আমার হাতে মানে আগামী দুই বছর। ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছানো মানে হলে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন।’ সরকারের নীতিমালায় কেউ পিছিয়ে থাকতে পারে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। দেশে গরীবের সংখ্যা এখন ২২ শতাংশ, সব থেকে গরিবের সংখ্যা দ্রুত হারে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশ একটা অনন্য দেশ। অতিদারিদ্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আমাদের দেশে দারিদ্রের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবাইকে দারিদ্র সীমার মধ্যে বের করে নিতে হবে। চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় হলেও দেশের মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এজন্য পড়ালেখা না জানলেও কোনো প্রযুক্তি হাতে তুলে দিলে তা গ্রহণ করে নেয়। আমাদের কৃষক, চাষি, শ্রমিক অত্যন্ত দক্ষ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের কৃতিত্ব- বলেন অর্থমন্ত্রী। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সংসদ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার, মাহবুবুর রহমান, আ খ ম জাহাঙ্গীর, শওকত হাসানুর রহমান, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, স্থানীয় সরকার সচিব আব্দুল মালেক, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব  প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অর্থনৈতিক সহায়তা বাড়াতে নরডিক চেম্বার ও ডিআই’র সমঝোতা স্বাক্ষর

করতোয়া ডেস্ক : ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়ে নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন বাংলাদেশ (এনসিসিআই) এবং কনফেডারেশন অব ডেনিশ ইন্ডাস্ট্রি’র (ডিআই) মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

শনিবার এনসিসিআই’র কর্তৃপক্ষের গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞেপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট শামীম উল হক এবং ডিআই’র ডেপুটি ডিরেক্টর পিটার থাগেসেনের মধ্যে এ সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়। এ সময় ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্টদূত এইচ ই মোহাম্মাদ আবদুল মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত ডেনিশ দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সিলর আইবি আলবার্টসেন উপস্থিত ছিলেন। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও উন্নত করতে সহযোগিতা করা হবে। এতে দু’দেশের উদ্ভাবিত নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টিসহ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে। পারস্পরিক অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে উভয় দেশের উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

‘আর একটি টাকাও জামায়াতের হাতে যাবে না’

জামায়াতমুক্ত করতে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির নবনিযুক্ত পরিচালক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেছেন, আমরা কারও চাকরিতে হাত দেবো না। শুধু বলবো, মিটিং-মিছিল করতে যাবেন না। আর এসএমই ঋণ হিসাবে ব্যাংকটি থেকে যে টাকা জামায়াতের হাতে যেতো, এখন আর একটি টাকাও তাদের হাতে যাবে না।

শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের লেক শোর হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ‘জঙ্গিবাদ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার’ বিষয়ক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে রিজিওনাল অ্যান্টি টেরোরিস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (রাত্রি)। সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ইসলামী ব্যাংকে পরিবর্তন এসেছে। আমরা কারও চাকরিতে হাত দেবো না। শুধু বলবো, মিটিং-মিছিল করতে যাবেন না। অনেকের মধ্যে পরিবর্তনও হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে এটা একেবারে পরিবর্তন হয়ে যাবে। আশা করি, ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জামায়াতের মিছিল-মিটিংয়ে যাবেন না। একইসঙ্গে মওদুদী দর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ১৭-১৮ জন পরিচালকের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক আছেন ৭-৮ জন। বাংলাদেশে আরও যে ৫৫টা ব্যাংক আছে, কোনোটাতেই এতো বেশি স্বতন্ত্র পরিচালক নেই। যে কারণে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনেক শক্তিশালী। নতুন এ পরিচালক সাফ বলে দেন, ইসলামী ব্যাংকে জনগণের আমানত ৭৫ হাজার কোটি টাকার ৪ শতাংশ যেতো জামায়াতের হাতে এসএমই ঋণ হিসাবে।

আমরা সেটা চিহ্নিত করেছি। আর একটি টাকাও জামায়াতের হাতে যাবে না। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, ড. হাফিজুর রহমান কাজন, ড. জিনাত হুদা, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, সাবেক সচিব ও কূটনীতিক ওয়ালীউর রহমান, বাংলাদশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক প্রণব সাহা, সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন টিভি চ্যানেল ‘নিউজ২৪’ এর আনোয়ার সাদি।

ঢাকায় ‘বগড়্যার মেলা’র উদ্বোধন বগুড়ার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ দাবি তোলার আহ্বান

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বগুড়ার উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ বগুড়া-৬ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম ওমর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বগুড়াবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি। বিরোধী দলীয় হুইপ বলেন, বগুড়ার উন্ন্য়নে ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি তুললে তা বাস্তবায়ন সম্ভব। মেলার উদ্ধোধক এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান-এমডি মাহফুজুর রহমান বগুড়ার উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়ার যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর বলেন, বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ হওয়া দরকার। আমরা বগুড়ার উন্নয়ন চাই। তবে কী কী উন্নয়ন চাই, সেটা নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলতে হবে। এ সময় বগুড়ায় আরো কী কী উন্নয়ন হওয়া দরকার, সংবাদ সম্মেলন করে সেই সংক্রান্ত দাবিসমূহ সরকারের কাছে তুলে ধরতে বৃহত্তর বগুড়া সমিতির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বগুড়া-৬ আসনের এ সাংসদ বলেন, অবহেলিত বগুড়াবাসীকে উন্নয়নে সচেষ্ট হতে হবে। বগুড়ার সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, আপনারা বগুড়ার উন্নয়নে জাতীয় সংসদে প্রকল্প পাস করান। শুধু ছোট নয়, বড় প্রকল্পও পাস করান। সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন থেকে অর্থায়ন করে দেয়ার কথা জানান এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের এ চেয়ারম্যান-এমডি।

ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, বগুড়া-৩ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম তালুকদার, ওয়ানফার্মার এমডি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বগুড়ার টিএমএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা, ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম, মেলা কমিটির আহ্বায়ক শামসুল হুদা, যুগ্ম-আহ্বায়ক তৌফিক হাসান ময়না প্রমুখ। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ‘আমরা বগড়্যার ছল, পুঁটি মাছ মারবার য্যায়ে ম্যারা আনি ব্যোল’ শিরোনামে বগুড়ার আঞ্চলিক গান পরিবেশন করা হয়। এরপর বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘লাঠিখেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘বগড়্যার মেলাত বাজ্যা উঠুক মহামিলনের ছন্দিত সুর।’ মেলায় স্পন্সর করছে-প্রাণ গ্রুপ। কো-স্পন্সরে রয়েছে-গ্যাটকো, ওয়ানফার্মা ও টিএমএসএস। মিডিয়া পার্টনার-এটিএন বাংলা এবং দৈনিক করতোয়া। মেলায় কিউট, সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস, বগুড়া লেখক, লেখিকা রোমেনা আফাজের বই প্রদর্শনী, গোয়ালা, গোল্ডেন বাংলাদেশ, বগুড়া থিয়েটারের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, লাইট হাইস, ঐতিহ্য বগুড়া, হিমাচল বুটিক, নাজনীন বুটিক হাউস, টিএমএসএস ও দৈনিক করতোয়ার স্টল রয়েছে। দৈনিক করতোয়ার স্টলে দৈনিক করতোয়া ও ভোরের দর্পণ পত্রিকা, বগুড়ার করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, করতোয়া অডিটরিয়াম, করতোয়া প্রিন্টার্স এন্ড পাবলিকেশন, করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস, ন্যাশনাল প্রিন্টিং এন্ড প্রেস সম্পর্কিত তথ্য, করতোয়া ও ভোরের দর্পণের লোগো সম্বলিত সিরামিকের মগ, ক্যাপ, টি-শার্ট, টাই, ব্যাগ, কোর্টপিন ও কলম পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে রাত ৭টায় বৃহত্তর বগুড়া সমিতি শিক্ষা ট্রাস্টের উদ্যোগে বগুড়ার অসচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এরপর বগুড়া ডাইরেক্টরি প্রকাশনা এবং বগুড়া ইয়্যূথ কয়্যার ও ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। এছাড়া হাডসন ফার্মাসিটিক্যালসের এমডি এসএম শফিউজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। আগামী সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে। এ মেলার মধ্য দিয়ে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে পরিচিত করানোর আশা আয়োজকদের।

 

 

সোনার দাম বাড়লো ভরিতে ১৪৫৮ টাকা


স্টাফ রিপোর্টার: কয়েক দফায় কমার পর এবার বেড়েছে সোনার দাম।  প্রতি ভরিতে এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ৪৫৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করা হয় বলে দাবি বাজুসের। আজ শনিবার থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ভাল মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ৪৬ হাজার ৭৩ টাকা দরে।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি বিক্রিয়মূল্য ছিল ৪৪ হাজার ৭৯০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে এ মানের সোনার দাম এক হাজার ২৮৩ টাকা বাড়লো। শনিবার থেকে পরবর্তী দাম নির্ধারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ২১ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি ৪২ হাজার ৬৯০ টাকার বদলে বিক্রি হবে ৪৪ হাজার ৩২ টাকা দরে।

 এ মানের সোনায় ভরিপ্রতি এক হাজার ৩৪২ টাকা বেড়েছে। আর ১৮ ক্যারেটের সোনা এক হাজার ৪৫৮ টাকা বেড়ে ভরিপ্রতি বিক্রি দর দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৪৯১ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এ মানের সোনার ভরিপ্রতি দাম ছিল ৩৭ হাজার ৩৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরিপ্রতি ২৪ হাজার ২৮ টাকার বদলে আজ থেকে বিক্রি হবে ২৫ হাজার ৭৮ টাকায়। অর্থাৎ ভরিতে এক হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে।

 এদিকে সোনার পাশাপাশি শনিবার থেকে বাড়বে রুপার দামও। শুক্রবার পর্যন্ত ২১ ক্যাডমিয়ামের প্রতি ভরি রুপার দাম ছিল এক হাজার ৫০ টাকা। নতুন মূল্য অনুযায়ী তা বিক্রি হবে এক হাজার ১০৮ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে রুপার দাম বাড়ছে ৫৮ টাকা।

 

ঢাকায় আজ থেকে শুরু ‘বগড়্যার মেলা’

আজ শুক্রবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ শুরু হচ্ছে। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়া যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘বগড়্যার মেলাত বাজ্যা উঠুক মহামিলনের ছন্দিত সুর।’ মেলায় স্পন্সর করছে-প্রাণ গ্রুপ। কো-স্পন্সরে রয়েছে-গ্যাটকো, ওয়ানফার্মা ও টিএমএসএস। মিডিয়া পার্টনার থাকছে-এটিএন বাংলা এবং দৈনিক করতোয়া। বগুড়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় তাদের স্টল বরাদ্দ নিয়েছে।

আজ মেলার উদ্বোধন হবে বিকেল ৪টায়। উদ্বোধন করবেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ও এমডি মাহফুজুর রহমান। প্রধান অতিথি থাকবেন বগুড়া-১ আসনের সাংসদ আবদুল মান্নান। বিকেল ৫টায় হবে বগুড়ার আঞ্চলিক গান, লাঠি খেলা, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আঞ্চলিক নাটক। দ্বিতীয় পর্বে রাত ৭টায় হবে বৃহত্তর বগুড়া সমিতি শিক্ষা ট্রাস্ট কর্তৃক বগুড়ার অসচ্ছল ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠান। এরপর রাত সোয়া ৮টায় বগুড়া ডাইরেক্টরি প্রকাশনা এবং রাত সাড়ে ৮টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (গান ও নৃত্য) হবে। দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। আগামী সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে। এ মেলার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর বগুড়া জেলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ঢাকাসহ সমগ্র দেশবাসীর কাছে পরিচিত করানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

 

১১৮টি দেশে পাট পণ্য রফতানি হচ্ছে

 বাংলাদেশের পাট পণ্য বিশ্বের ১১৮টি দেশে রফতানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক।   বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টায় রাজধানীর মনিপুরী পাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, আমি পাট নিয়ে খুব আশাবাদী। বিশ্বের ১১৮টি দেশে এখন বাংলাদেশের পাট পণ্য রফতানি হচ্ছে। বাংলাদেশের পাট বিশ্বমানের। পাট পণ্যের উদ্যোক্তাদের সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা সবাই এক জোট হয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। তিনি বলেন, পাট বাংলাদেশের সম্পদ। একসময় দেশের রফতানির ৯০ শতাংশ আয় হতো পাট পণ্য থেকে। অর্জিত হতো বৈদেশিক মুদ্রা। সেই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে চাই পাট পণ্য রফতানি করে। প্রদর্শনীতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, জেডিপিসি এরইমধ্যে ১৩৫টি ডিজাইনের বহুমুখী পাট পণ্য উদ্ভাবন করেছে। এসব ডিজাইনের পাট পণ্য দেশে ও বিদেশে সমাদৃত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু।

 

ইসলামী ব্যাংক হবে পেশাদারদের জন্য: আরাস্তু খান

প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন এলেও কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। তবে ব্যাংকের কেউ সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলে তা ‘মেনে নেওয়া হবে না’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ প্রতিষ্ঠানে তিনি পেশাদারদের চান।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আরাস্তু খান। মালিকানা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কয়েক ধাপে পরিবর্তন আনার মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ২৪০তম সভায় আরাস্তু খানকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যে দায়িত্ব আগে পালন করে আসছিলেন জামায়াতঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ট্রাস্টের মুস্তাফা আনোয়ার। গত ৫ জানুয়ারি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে ব্যাংকের ‘পারফরমেন্স নিয়ে’ কথা হয়েছে বলে সাবেক সচিব আরাস্তু খান জানান। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা; আর বাজার মূলধন চার হাজার ৮২৯ কোটি টাকা।

২০১৫ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৩১৫ কোটি। এই অগ্রগতি কোনোভাবে থমকে যাওয়ার সুযোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, নো নো, আমাদের শেয়ার মার্কেটের পরিস্থিতি দেখেন প্রিটি গুড। দেশে বিদেশে আমাদের যারা বিনিয়োগকারী রয়েছেন, আমরা তাদের আমানত প্রোটেক্ট ও প্রিজার্ভ করব। ইসলামী ব্যাংক থেকে কাউকে ছাঁটাই করা হবে না এই আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমি তাদেরকে নিশ্চিত করেছি, তাদেরকে বলেছি, খুঁজে খুঁজে কারও চাকরি খাওয়ার ইচ্ছা নাই। এটা খুবই ভাল ব্যাংক।

পারফরমেন্সও ভাল। যদি পলিটিক্যালি তারা কোনো সাবভারশন করছে, ওই ধরনের হলে আমরা কোনোভাবেই সেটা অ্যালাউ করব না। এছাড়া কোনো কারণে তাদের চাকরি… আমি নিশ্চিত করেছি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বলতে কী বোঝাচ্ছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আরাস্তু খান বলেন, সম্পৃক্ততা পেলে বলতে যদি দেখা যায়, পলিটিক্যাল অ্যাসপিরেশন আছে, আমরা এটা চাই না। আপনারা পেশায় আছেন, আপনাদেরকে পেশাদার হিসাবে কাজ করতে হবে। এটা ‘রাজনৈতিক কিছু না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চেয়ারম্যান বলেন, আপনি ভোট দেন, আপনি বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পারেন। সেটা করার অধিকার আপনার আছে। এটা আপনার পেশায় প্রতিফলন করতে পারবে না। সে যদি প্রোপার কাজ করে, তার কোনো ভয় নেই। এই ব্যাংকে যে কর্মকর্তারা আছেন, তাদের একনিষ্ঠতা ও সততা সম্পর্কেতো আমার বলতে হবে না। আপনারা সেটা ভালো জানেন। সেটা ভালো। আমরা আগামী বছরের জন্য আরও ভাল টার্গেট দিয়েছি। আরাস্তু খান বলেন, উইচ হান্টিং আমি পছন্দ করি না, আনলেস আই ফাইন্ড সামথিং রং।

ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি পদে চার ইভিপি

ইসলামী ব্যাংকের তিন শীর্ষ পদের পর পরিবর্তন এসেছে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে। গতকাল বুধবার মোহাম্মদ মুনিরুল মওলা, মুহাম্মদ মোহন মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও আবু রেজা মো. ইয়াহিয়াকে ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি। তারা চারজনই এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোহাম্মদ মুনিরুল মওলা ব্যাংকের করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন-২ এর প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। মুহাম্মদ মোহন মিয়া ব্যাংকের করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট ডিভিশন-১-এর প্রধান। মোহাম্মদ আলী ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রশাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া কোম্পানি সচিব হিসেবে বোর্ড সেক্রেটারিয়েট ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের ৬.৮% প্রবৃদ্ধির আশা দেখছে বিশ্ব ব্যাংক

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাহিদায় মন্থরগতির মধ্যেও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে  বুধবার আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এ সংস্থার অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’- এ তুলে ধরা হয়েছে এই পূর্বাভাস।

প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে ‘আটকে’ থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। সরকার এবারের বাজেটে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যট ঠিক করেছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি আর ৭ শতাংশের নিচে নামবে না। বিশ্ব ব্যাং ক সরকারের প্রত্যাধশার সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে না পারলেও আগের প্রক্ষেপণ থেকে সরে এসেছে। ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ এর জুন সংখ্যােয় বিশ্ব ব্যাং ক বলেছিল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাবে না। আর ছয় মাস পর জানুয়ারির প্রতিবেদনে যে প্রক্ষেপণ তারা দিয়েছে, তা আগের হিসাব থেকে ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাং ক বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে শ্লথগতির কারণে ব্যিক্তিখাতে ভোগ ব্যসয় ও বিনিয়োগ উভয় খাতেই মন্দা যাচ্ছে। রেমিটেন্স প্রবাহ কমতে থাকায় এবং রপ্তানি খাতের দুর্বলতায় ২০১৭-১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব খাতে ভারসাম্য আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এবং আর্থিক ও করপোরেট খাতে স্থিতিশীলতার অবনমন ঘটলে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি আরও শ্লথ হয়ে যেতে পারে।

ফেরত আসছে বেসিক ব্যাংকের আত্মসাতের অর্থ

বেসিক ব্যাংকের আত্মসাৎ করা ৩শ’ ৫৯ কোটি টাকা ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।  বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, মামলার পর বেসিক ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে ৩শ’ ৪২ কোটি টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলা একটি বড় বিষয়। এই কেলেঙ্কারির ৫৬টি মামলার তদন্ত করতে হচ্ছে কমিশনকে। এজন্য সঠিক তদন্ত করতে কমিশনের সময় লেগে যাচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, মামলা থেকে কেউ রেহাই পাবে। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলার চার্জশিট দিতে সময় লাগছে সঠিক তদন্তের জন্য। সঠিক তদন্তে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন যুক্ত না হয়, কিংবা কোনো অপরাধী যেন পার না পায় সেদিকেও নজর রেখে তদন্ত করতে হচ্ছে কমিশনকে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর ১৫৬ জন আসামির মধ্যে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহিতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে ৪৮টি, ডিএমডি ফজলুস সোবহানকে ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থকে ২৩টি এবং ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করেছে দুদক। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছর হবে দুর্নীতিকারীদের জন্য একটি আতঙ্কের বছর। এ বছর দুদকের গণশুনানি বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে তিনটি করে জেলা ও উপজেলায় দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, গুণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার তিনদিনের মধ্যে ফলোআপ শুনানি করা হবে। যেখানে দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমরা চাই দুর্নীতির সব ঘাট বন্ধ করতে। এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করবেন জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির কারণে এসডিজি অর্জনে সরকারকে পিছিয়ে পড়তে হয়। কেননা ২.৩ শতাংশ দুর্নীতির কারণে জিডিপি চলে যায়। অন্যদিকে ফৌজদারি মামলার বিষয়ে বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলার আসামি পার পাবে না। এজন্য দুদকের পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুদকের কাছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য হচ্ছে বলে দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য সম্প্রতি ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুদক তলব করেছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কেননা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি দুর্নীতি হয় তাহলে দুর্নীতি কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না।

ইকবাল মাহমুদ ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৫ সালে দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল ১০ হাজার ৪শ’ ১৫টি আর অনুসন্ধানের জন্য গৃহিত হয়েছিল ১ হাজার ২শ’ ৪০টি। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল ১৫৬টি। অন্যদিকে ২০১৬ সালে দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল ১২ হাজার ৫শ’ ৬৮টি ও অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় ১ হাজার ৫শ’ ৪৩টি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয় ৫৪৩টি। এছাড়া ২০১৫ সালে ফাঁদ মামলা হয় ৪টি যেখানে ২০১৬ সালে ফাঁদ মামলা হয়েছে ১৩টি। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে দুদকের মামলায় সাজার হার ছিল ৩৭ শতাংশ যেখানে ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.২ শতাংশ। আর এতেই বোঝা যায় দুদক এগিয়ে যাচ্ছে। এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা ও দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি আবদুল হামিদ মিঞা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. আবদুল হামিদ মিঞা। গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের সভায় মনোনয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার এ নিয়োগ অনুমোদন করে। মো. আবদুল হামিদ মিঞা এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও শিল্প ব্যাংকে (বর্তমানে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টি বোর্ড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও অগ্রুী ব্যাংকে বিভিন্ন পদমর‌্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স এবং যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

ইসলামী ব্যাংকের পরিবর্তন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না : মুহিত

ইসলামী ব্যাংকের মূল বিনিয়োগকারী ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) চেয়েছে বলেই ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য বিনিয়োগকারীরাও এই পরিবর্তন চেয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের এই পরিবর্তন অর্থনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মূল বিষয় হলো গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা, সেটা অব্যাহত থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে অনেক সমস্যা ছিলো। এর মালিকানাতেও পরিবর্তন এসেছে। কমনসেন্স বলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে আরও পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে কোনো শিল্পগোষ্ঠীর হাতে ব্যাংকটির মালিকানা চলে যাচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

গাজীপুরে মিনিস্টার-মাইওয়ান বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত


শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক সিডিএম সম্মেলন কক্ষে মিনিস্টার-মাইওয়ান এক্সপোর্ট প্রোমিনেন্ট এন্ড বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় জাঁকজমক আনুষ্ঠানিকতায় কনফারেন্স শুরু হয়।

 এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাইওয়ান ও মিনিস্টার ইলেক্ট্রনিক্স     পণ্যের বিপণনকারীরা অংশগ্রহণ করেন। বিগত বছরের ব্যবসা পর্যালোচনা করে সারা দেশের শ্রেষ্ঠ ৩ বিপণন প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ডনিউ গাড়ি উপহার দেয়া হয়। তাছাড়া পণ্য বিপণনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ১০ জনকে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়। বর্ষসেরা ব্যবসায়ী হিসেবে গাড়ি বিজয়ীরা হলেন- জে এ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন, নওজ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম ও শামিম আহমেদ। মাইওয়ান-মিনিস্টার ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয়ে ৪র্থ সম্মাননা স্মারক পেলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার রাসেল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রাসেল। মাইওয়ান-মিনিস্টার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

 বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর এর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর) এর কমিশনার মাসুদ সাদিক, অ্যাম্বাসি অব দ্যা ফেডারেল রিপাবলীক অব জার্মান এর ডেপুটি হেড অব মিশন মি. মাইকেল সোথাইছ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলম, পুলিশ সুপার (গাজীপুর) হারুন অর রশিদ বিপিএম, পিপিএম (বার), বিএসএফ এর চেয়ারম্যান সুজন কুমার সাহা, ঢাকা (উত্তর) এর অতিরিক্ত কমিশনার (ভ্যাট) লুৎফর রহমানসহ প্রমুখ।

 প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা আশা করি মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ও মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লি. উন্নতমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য সুলভ মূল্যে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ও মিনিস্টার হাইটেক পার্কের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, বৃহৎ ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি মাইওয়ান ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ও মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিঃ দেশের মাটিতে ইউরোপিয়ান প্রযুক্তিতে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে, উন্নতমানের, চমকপ্রদ ডিজাইনের রেফ্রিজারেটর, এলইডি, এয়ারকন্ডিশনার, হোম এপ্লায়েন্সেসসহ সকল ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত করে আসছে। কোম্পানিটি সুলভ মূল্যে উন্নতমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

 তিনি আরও বলেন, পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ে সরকারকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য শুল্ক প্রদান করছে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বাড়িয়ে সারা পৃথিবীর বড় বড় ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় যেতে চাই। তিনি আরও জানান, আগামী কনফারেন্সে সারা দেশের পণ্য বিপণনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জণকারী সেরা ৬০ প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি উপহার দিতে চাই। দুপুর ২টায় মধ্যাহ্ন ভোজের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ চ্যাম্পিয়ন ঝিলিক, ক্লোজ আপ ওয়ান তারকা রাজীব, বৈশাখী চ্যানেলের অন্য আলো চ্যাম্পিয়ন সুজন রহমান। শুরুতে দর্শকদের কন্ঠের যাদুতে মাতিয়েছেন ঝিলিক।

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল, মাংসে অস্বস্তি


স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় শাক-সবজির দাম ক্রেতাদের আওতার মধ্যে থাকলেও অস্বস্তি বেড়েছে মাংসের দামে। কেজি প্রতি খাসি, গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিক দামের তুলনায় ১০০-১৫০ টাকা বেশি। মাংসের দামে এই ঊর্ধ্বগতি কারণে ক্রেতারা রয়েছেন অস্বস্তিতে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বিয়ে, পিকনিক, পার্টি ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সরবরাহের কারণে মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।


গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওরানবাজার, পশ্চিম রাজাবাজারের কাঁচাবাজার ও হাজারী কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজারে সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায় যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা। বাঁধাকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, ফুলকপি প্রতি পিস ২০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, সিম প্রতি কেজি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, দেশি টমেটো ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, শশা ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে প্রতি কেজি ২৫ টাকা ও বেগুন প্রতি কেজি ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছের দামও স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ৭৫০-৮০০ টাকায়, দেশি রুই ৫০০-৬০০ টাকা, কৌরাল মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা ও প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাছের দাম গত সপ্তাহের মতই স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া চাল,ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন ও আধার দাম রয়েছে স্থিতিশীল।

ছুটির দিনে সবজির বাজারে ক্রেতাদের ঢল শাক-সবজি ও মাছের দাম স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতাদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে মাংসের দামের কারণে। যেখানে গত এক মাস আগেও প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হত ৫৫০-৬৫০ টাকায় আর এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছিল ৪১০ টাকায় কিন্তু আজ বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকায়।

বয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৭০ টাকায়, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজিতে। মাংসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বৃদ্ধি পেতে থাকে মাংসের দাম যা এখনো পর্যন্ত কমেনি। বিক্রেতারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাংসের দাম বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতাদের। কিন্তু বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় মূল্য বৃদ্ধি। এ সম্পর্কে কারওরানবাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. শামীম উদ্দিন বলেন, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিভিন্ন পিকনিক, বিয়ে, অফিসের অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়া সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করি জানুয়ারির শেষের দিকে দাম স্থিতিশীল হবে।

 

জরিমানা ছাড়াই বকেয়া পরিশোধের সুযোগ গাড়ি মালিকদের

 জরিমানা ছাড়াই বকেয়া পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন গাড়ি মালিকরা। যারা কর খেলাপি, তারা জরিমানা ছাড়াই আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে  মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাছের। তিনি বলেন, কাগজে কলমে এ ধরনের গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। তবে বাস্তবে সংখ্যা অর্ধেকের মতো হতে পারে। কারণ অনেক গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু গাড়ির নম্বর সরকারি খাতায় রয়ে গেছে। বকেয়া কর ও ফি না দেওয়ায় এই গাড়ি মালিকদের জরিমানা বাড়ছে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে খেলাপিরা জরিমানা ছাড়াই বকেয়া পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এই সুযোগ গ্রহণ না করলে নির্ধারিত সময়ের পর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তখন জরিমানাসহ বকেয়া আদায় করা হবে। তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১৪ সালে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তখন ২৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সেই সফলতা থেকেই ফের একই ধরনের সুযোগ দেওয়ার চিন্তা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেদুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী এ ধরনের একটি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর এটি কার্যকর হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু আজ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে আজ রোববার থেকে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এটি মেলার ২২তম আসর। আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলা উদ্বোধন করবেন।

মেলা উপলক্ষে  শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর মেলায় বাংলাদেশসহ অংশ নি”েছ ২১টি দেশ।এগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, নেপাল, হংকং, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ভিয়েতনাম ও ভুটান। তিনি জানান, মেলায় এবারও সাধারণ, প্রিমিয়ার, সংরক্ষিত, বিদেশি, সাধারণ মিনি, সংরক্ষিত মিনি,প্রিমিয়ার মিনি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ান, সাধারণ ও প্রিমিয়ার স্টল, ফুড স্টল, রেস্তোরাসহ ১৩ক্যাটাগরির ৫৮০টি স্টল থাকবে। থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এছাড়াও থাকবে একটি ই-শপ, দুটি শিশু পার্ক, তিনটি রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, একটি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং মা ও শিশু কেন্দ্র। বিনোদনের জন্য মাঠের মধ্যে ফুলের বাগান ও এটিএম বুথ থাকবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পণ্যের সঙ্গে ভোক্তাদের পরিচিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদকদের মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহ যোগায় এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ টিকেটের মূল্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য পূর্বাচলে ৬০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সরকারের সহযোগিতায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এখানে সারা বছর বিভিন্ন মেলা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। এবার বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় রফতানি ট্রপি বিতরণ করা হবে। মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, আনসার সদস্যের পাশাপাশি বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্সসহ ১৪০টি সিসি ক্যামেরা।

প্রতিরক্ষায় সচিব ও পেট্রোবাংলায় নতুন চেয়ারম্যান


প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগে নতুন সচিব এবং পেট্রোবাংলায় নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনে একজন ভারপ্রাপ্ত সদস্য এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে  বুধবার আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি কাজী হাবিবুল আউয়ালের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োজিত হাবিবুল আউয়ালের চুক্তি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বাতিল করে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মো. জিয়াউল ইসলামকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদায় পরিকল্পনা কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সদস্য করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযমকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব করেছে সরকার। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদকে গত ১৫ ডিসেম্বর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের পদটি খালি ছিল। গত ২২ ডিসেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এছাড়া বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ডাইরেক্টর অব স্টাডিজ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে প্রেষণে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হান্নানকে সেনাবাহিনীতে ফেরাতে তার চাকরি স্বশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমানকে নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে নিয়োগ দিতে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করে আলাদা আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মেলায় তিন হাজার শিার্থীর খণ্ডকালীন চাকরি


স্টাফ রিপোর্টার : মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার বিভিন্ন স্টলে প্রায় তিন হাজার শিার্থীর খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রতি বছর সেলস ও অন্যান্য পদে এসব ছেলে-মেয়ে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকে। পড়ালেখার পাশাপাশি এই এক মাসে রোজগারটা মন্দ হয় না, বাড়তি পাওনা প্রশিণ ও কাজের অভিজ্ঞতা।
অনেক প্রতিষ্ঠান এসব শিার্থীকে মেলা শেষে নিয়মিত কাজের সুযোগ দেয়। বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন স্টল কর্তৃপরে সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বাণিজ্য মেলায় পাঁচ শতাধিত শিার্থীকে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ দিচ্ছে। এ জন্য সেলসসহ বিভিন্ন পদে তাদের জন্য উন্নতমানের প্রশিণেরও ব্যবস্থা করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্রতিবছরই তারা এই সুযোগ দিয়ে থাকে।

 একইসঙ্গে যাদের পারফরমেন্স ভালো হয়, তাদেরকে পরবর্তীতে বিভিন্ন সেলস এক্সিকিউটিভ পদে নিয়মিত কাজের সুযোগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট আদিল খান বলেন, বাণিজ্য মেলা শুধু মেলা বা বাণিজ্য নয়। এটা এক ধরনের জব ক্রিয়েশন ত্রে। তিনি বলেন, প্রতিবছর আমাদের প্রতিষ্ঠান অনেক ছেলে-মেয়ের খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ দিয়ে থাকে। এবারো পাঁচ শতাধিক শিার্থীকে কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এ জন্য তাদেরকে প্রশিতি করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মেলায় যেসব ছেলে-মেয়ে ভালো পারফরমেন্স দেখাবে, আমরা তাদেরকে পরবর্তীতে বিভিন্ন সেলস পদে নিয়মিত কাজের সুযোগ দেবো। সুতরাং এটা শুধু খণ্ডকালীন চাকরি সেটা বলা যাবে না।

 দেশীয় ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবার বাণিজ্য মেলায় সুদৃশ্য প্যাভিলিয়ন স্থাপন করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই প্রচুর পরিমাণ শিার্থীকে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ দিয়ে থাকে। এবার মেলায় প্রায় ২০০ শিার্থী ওয়ালটনে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, বাণিজ্য মেলায় খণ্ডকালীন চাকরি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ। এ যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, প্রথমত তারা এক্সপেরিয়েন্স গেদার করার সুযোগ পাচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাচ্ছে। যা পরবর্তী জীবনে চাকরি প্রাপ্তি বা কর্মেেত্র আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। তিনি জানান, মেলায় দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন ও স্টল তৈরিতে অনেক ইঞ্জিনিয়ার কাজ করে থাকেন। এসব ইঞ্জিনিয়ার পরবর্তীতে চাকরির রেফারেন্স হিসেবে এই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া যেসব ছেলে-মেয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পায়, পড়ালেখা শেষে আমাদের প্রতিষ্ঠানে তারা চাকরি করতে চাইলে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করে রফতানি উন্নয়ন বুরো (ইপিবি)। এবারের ২২তম আয়োজনের জন্য ইপিবি ইতোমধ্যে তাদের নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

গত মেলার লে-আউট প্ল্যান দেয়া হয়েছিল ৫৬৮টি, কিন্তু চূড়ান্ত স্টল বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৬৫টি। এবারের মেলায় আরো বেশিসংখ্যক দেশি-বিদেশি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। জানা গেছে, বেঙ্গলগ্রুপ ৫০ জন, কোকোলা ফুট প্রোডাক্ট ৩০ জন, লাভা ইন্টানেশনাল ২০ জন শিার্থীকে কাজের সুযোগ দিচ্ছে। এছাড়া সব প্যাভিলিয়ন ও স্টলে কমবেশি শিার্থী কাজের সুযোগ পাচ্ছে। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আসন্ন বাণিজ্য মেলায় খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ পাওয়া নাজমুল ইসলাসে সঙ্গে। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, বাণিজ্য মেলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

 ভালোলাগা থেকেই এই কাজ করতে আসা তার। এখানে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা হবে পরবর্তীতে সেটা কাজে লাগবে। অনার্স পড়ুয়া এই শিার্থী বলেন, বছরের শুরুতে পড়ালেখার চাপ কম থাকে বলে অন্য বান্ধবীদের সঙ্গে কাজ করতে এসেছি। আশাকরি এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভালো কাজে দেবে। তাছাড়া মাসের শেষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকাও পাওয়া যায়। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারের মেলায়ও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্থান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দণি কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান, আরব আমিরাত, মরিশাস, ঘানা, মরক্কো ও ভূটান অংশ নিচ্ছে। মেলার আয়োজক সূত্র জানায়, মেলায় এবারো মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক, এটিএম বুথ, রেডিমেড গার্মেন্টস, হোমটেক্স, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত, পাট ও পাটজাত, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রোকারেজ, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও ফার্নিচার স্টল থাকছে।

 

আশুলিয়ার শ্রমিকরা কথা রাখেনি : বানিজ্যমন্ত্রী

আশুলিয়ার গার্মেন্টস এর শ্রমিকরা কারখানায় ফিরে যাওয়ার কথা দিলেও তা রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মাল্টিপ্ল্যান সিটিতে ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১৬ উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।


তিনি বলেন,  আশুলিয়ার শ্রমিকরা নানা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন। আমরা আলোচনা করে বলে ছিলাম বাড়ি ভাড়া না বাড়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারাও কারখানায় ফিরে যাবে বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কথা রাখেননি। আমরা শ্রমিকদের প্রতি সহানূভূতিশীল। আমরা তাদের অনুরোধ করবো কারখানায় ফিরে যেতে। অন্যদিকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় নির্বাচন হবে বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অবশেষে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। আগামী ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হবে। বাংলাদেশকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের হতদরিদ্রের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার,  ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার ২০১৬ এর আহ্বায়ক তৌফিক এহসান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি আলী আশফাক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন হবে: অর্থমন্ত্রী

করতোয়া ডেস্ক : আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যাংক কোম্পানি আইনের দেউলিয়া ও একীভূতকরণ আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখা উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে এ দু’টি আইন অনেক শক্তিশালী। তাই বাংলাদেশেও শক্তিশালী করা হবে। ব্যাংক বেশি হয়েছে তাতে খারাপ হয়নি, ভালোই হয়েছে। তাই ব্যাংক সেক্টর নিয়ে আমি যথেষ্ট আশাবাদী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শহিদুল আহসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মশিহুর রহমান প্রমুখ।

 

বাণিজ্য দূত হিসেবে ঢাকায় রুশনারা আলী

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত রুশনারা আলী সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তার এ সফরে বাংলাদেশে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সদস্য, শিল্প ও বাণিজ্য নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। জানা গেছে, এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্য দূত হিসেবে এটিই রুশনারা আলীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেক বলেছেন, রুশনারা আলীর এ সফর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

ব্লেক বলেন, রুশনারা আলীর এ সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের প্রতিশ্রুতির আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আমাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করার পথকে উন্মুক্ত করবে। যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরিতে ২০১২ সালে ক্রুস-পার্টি বাণিজ্যদূত কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়, যেখানে যুক্তরাজ্য প্রধান বাজার খুঁজে পায়। এই কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেতনভুক্ত নন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন পার্লামেন্ট সদস্য ৫০টি বিভিন্ন মার্কেটে (দেশে) কাজ করছেন। প্রত্যেক বাণিজ্যদূত তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট সেক্টর ও দেশে তাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিযুক্ত হন। এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মার্কেট ও সেক্টরে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওই দেশের সরকারের নতুন (হোল-অব-গভর্নমেন্ট) পদ্ধতি।

নতুন ভ্যাট অনলাইন বড় কোম্পানির ভ্যাট নিবন্ধন সবশেষে

করতোয়া ডেস্ক : আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’। বাতিল হয়ে যাবে বর্তমান ‘মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ১৯৯১’।
নতুন আইন বাস্তবায়নে ভ্যাট সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল থেকে অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাবে। এজন্য ছোট-বড় সব কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরে (বিন) রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করতে হবে।

ভ্যাট অনলাইন সূত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর পাইলিং হিসেবে বড় কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন শুরু হয়। বৃহৎ করদাতা ইউনিটের আওতাধীন ২৩৪টি কোম্পানির মধ্যে ইতোমধ্যে ১০৯টির নিবন্ধন শেষ হয়েছে। বাকিগুলোরও সহসাই শেষ হবে। নিবন্ধনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে এসব কোম্পানিকে অবহিত করতে এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের ল্যাবে করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের আওতাধীন ২৩৪টি কোম্পানির মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির একাধিক নিবন্ধন রয়েছে। অনলাইন নিবন্ধনে প্রতিটি কোম্পানির একটি নিবন্ধন থাকবে। সেজন্য কোম্পানির নিবন্ধন সংখ্যা কমে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সাতটি, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চারটি, বাটা সু কোম্পানির দু’টি, নাজির আহমেদের চারটি, বার্জার পেইন্টসের ২০টি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৫টি, রেনেটা লিমিটেডের ছয়টি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের নয়টি, বাংলাদেশ শেল ওয়েলের ছয়টি, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের চারটি, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চারটি, লিন্ডি বাংলাদেশ লিমিটেডের ২১টি ও বাংলাদেশ এডিবয়েল ওয়েল চারটি। এছাড়া বেশ কিছু কোম্পানির ২ থেকে ৩টি করে ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে।

গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীণ জাতীয় রাজস্ব ভবনে ট্যাক্স কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে ভ্যাট অনলাইন নিবন্ধনের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী অনলাইনে প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের হাতে এ নিবন্ধন সনদপত্র তুলে দেন। পরে ২৭ ও ২৯ নভেম্বর বাকি কোম্পানিগুলোকে সনদ প্রদান করা হয়।

সূত্র জানায়, চলতি ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয় পাইলটিং হিসেবে ঢাকার চারটি ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট) ৬০টি করে ২৪০টি বড় মূসকদাতা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন সনদপত্র দেওয়া হবে। এ ৬০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের কার্যালয়ে প্রকল্পের লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে নিজেরাই এ নিবন্ধন করবেন। পাশাপাশি সেমিনারের মাধ্যমে এসব প্রতিনিধিকে অনলাইনে নিবন্ধন ও অনলাইনে ভ্যাট প্রদানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় পাইলটিং শেষ হলে আগামী ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকাসহ সারাদেশে ছোট-বড় সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে মূসক রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এনবিআরের মূসক অনুবিভাগের হিসাবমতে, সারাদেশে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে মাত্র ৩২ হাজার। এর মধ্যে নিবন্ধিত কিছু প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিলেও ব্যবসা করে না। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট দেয় না।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন  জানান, পাইলিং হিসেবে বড় ১০৯টি কোম্পানি মূসক নিবন্ধন সনদ নিয়েছে। কিছু কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে সমস্যা ছিল। সহসাই তারাও নেবে।

তিনি জানান, গত ০৬ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার চারটি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন বড় ৬০ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়ার আগে ওরিয়েন্টেশন করা হচ্ছে। নতুন আইন সম্পর্কে গাইডলাইন, প্রকাশনা ও গেজেট দিতে এ ওরিয়েন্টেশন চলছে।

এ কর্মকর্তা জানান, ওরিয়েন্টেশনের পর প্রতিদিন একটি করে কমিশনারেটের ৬০টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে নিয়ে আসা হবে। প্রকল্পের কার্যালয় ও লজিস্টিক ব্যবহার করে তারা নিজেরাই নিবন্ধন করবেন।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঢাকাসহ সারাদেশে ছোট-বড় সব মূসকদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইটে এ রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। যে কেউ ঘরে বসে এ নিবন্ধন করা ও সনদপত্র নিতে পারবেন।

অতিরিক্ত ৫১০ কোটি টাকা চেয়েছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’

করতোয়া ডেস্ক : ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৫১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় অতিরিক্ত এ বরাদ্দ চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটিতে চলতি অর্থবছরে এডিপি’তে ৩১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিলো। তবে উপকারভোগী সদস্য ও সমিতির কল্যাণ অনুদান তহবিল, উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণের পর সহায়তা এবং উৎসাহ বোনাসের ব্যয় নির্বাহে আরো অর্থের প্রয়োজন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দাবির প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনে ওই ৫১০ কোটি টাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে সরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। ফলে চলতি বছরে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮২৫ কোটি টাকা।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সূত্র জানায়, তৃতীয়বারে সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মূল ব্যয়ের (শুরুতে অনুমোদিত ব্যয়) তুলনায় নতুন প্রস্তাবে ব্যয় বাড়ছে ৭ হাজার ৫৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা ১৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রকল্পের মেয়াদও বেড়েছে আরও চার বছর। পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৪ লাখের স্থলে হয়েছে ৬০ লাখ।  ফলে বছরওয়ারী অতিরিক্ত বরাদ্দও প্রয়োজন বলে মনে করে মন্ত্রণালয়।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পরিচালক আকবর হোসেন  বলেন, প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বেড়েছে মূলত উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। এখন যেহেতু ব্যয় বেশি, সেহেতু প্রতি বছর বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন। প্রকল্পের ব্যয় যখন কম ছিল, তখন ৩২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। এখন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ায় আরও ৫১০ কোটি টাকার প্রয়োজন। প্রকল্পটির লক্ষ্য পূরণ করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন।

সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় সরকার।
পরবর্তীতে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হলেও মেয়াদ এক বছর কমানো হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা করে মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আবারও ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো জনশক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে একটি টেকসই কৃষি নির্ভর ইনকাম জেনারেটিং ইউনিটে উন্নীতকরণ। দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯০টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সর্বশেষ অনুমোদিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ লাখ ৩১ হাজার ৬২০টি হাউজ হোল্ডকে অন্তর্ভূক্ত করে ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামের উন্নয়ন করা, যা ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। তৃতীয় সংশোধনীতে মূলত প্রকল্পটি সম্প্রসারিত করে ৬০ হাজার ৫১৫টি  গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা এবং ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ৯০০টি হাউজ হোল্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।