দুপুর ১:০৯, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য

সরকার যে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে, থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা চাইলে সেগুলোর একটি তাদের দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে থাই পণ্যের মেলা ‘থাইল্যান্ড উইক ২০১৭’ এর উদ্বোধন করে বাণিজ্যমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে থাই ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ড এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। এগুলোর একটি নিয়ে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা তাদের বিনিয়োগের সব সুযোগ সুবিধা দেব।

মন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের বিশ্বাসী ও পরীক্ষিত বন্ধু। যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। অধিকাংশ পণ্যই থাইল্যান্ড বাংলাদেশে রপ্তানি করে। আর আমাদের রপ্তানির পরিমাণ কম। এই ঘাটতির পরিমাণ কমাতে হবে। থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেড প্রমোশন এবং রয়্যাল থাই দূতাবাস যৌথভাবে চার দিনের এই মেলার আয়োজন করেছে। থাই উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের নিয়ে পঞ্চদশ বারের মত আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আয়োজকরা জানান, মেলার প্রথম দুই দিন কেবল ব্যবসায়ীদের জন্য। ২৪ ও ২৫ মার্চ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রসাধন সামগ্রী, তৈরি পোশাক, ফ্যাশন সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, জুয়েলারি, কনফেকশনারি, খবার ও পানীয় এবং গৃহস্থলী পণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এদেরই একটি ‘থাই আইডিয়া, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’; প্রতিষ্ঠানটি কাঠ থেকে বিভিন্ন ধরনের চামচ ও চপস্টিক উৎপাদন করে। এর ব্যবস্থাপক প্রাংনুত সুরিয়াপর্ন জানান, প্রথমবারের মত তারা এ মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তাদের পণ্যের প্রচার পাবে বলে তিনি আশা করছেন। বাংলাদেশে অনেকেই থাই খাবার খায়। কিন্তু থাইল্যান্ডের মত চপস্টিক ব্যবহার করে না। আমি মনে করি, মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে তারা আমাদের খাবারের মতই খাওয়ার পদ্ধতিও ভালবাসবে। তখন তাদের রান্নাঘর আর খাবার টেবিলে আমাদের পণ্য ব্যবহার করবে। প্রাংনুত জানান, তাদের পণ্যগুলো মূলত তালগাছ থেকে বানানো হয়। গাছ কেটে কোনো ধরনের জোড়া না দিয়েই পণ্য উৎপাদন করেন তারা। প্রসাধন সামগ্রীর উৎপাদক ফিনেলও বাংলাদেশে তাদের বাজার সম্প্রসারিত করতে চায়। ‘বাংলাদেশে থাইপণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমরা বাজার গবেষণা করে দেখেছি, আমাদের কোম্পানির পণ্যও এখানে বেশ চলবে,’ বলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। তিনি জানান, বাংলাদেশের বাজারে প্রসাধনসামগ্রী নিয়ে সারা বছর হাজির থাকতে তারা সব প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছেন। ‘এখন কেবল আনুষ্ঠানিক যাত্রার অপেক্ষা। তবে এরইমধ্যে মেলা চলে আসায় আমরা এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি,’ বলেন নাজমুন।

মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে

নতুন বছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হত, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ করে গরুর মাংস ও ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছু বেড়ে যায়। এর আগে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ হিসেবে মোটা চালের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত মাসে খাদ্য খাতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা কমে ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে নেমেছে, যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে; সাধারণ মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত মাসে ফেব্রুয়ারি মাসে শহরেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আরেক ধাপ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি : অর্থমন্ত্রীর বৈঠক আজ

২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা আরেক ধাপ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে আজ  রোববার বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা ছিল, মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে প্রতি বছর যৌক্তিক পরিমাণ বেতন বাড়ানো হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী জুনের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কিছুটা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চলমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করার আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোববার এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। সে ক্ষেত্রে আসছে বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানোর মতো বিষয়ও থাকবে। এ জন্য জুনে নতুন বাজেট ঘোষণার আগেই এ ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় সরকার। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার, যাতে বেতন বাড়ে গ্রেড ভেদে ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ। ওই কাঠামোতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেয়া একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে প্রায় ২২ হাজার টাকা, যা আগের কাঠামোতে ১১ হাজার টাকা ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এলাকা অনুযায়ী বাড়িভাড়া এবং গ্রেড অনুযায়ী চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা। ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এই হারে মূল বেতন পাচ্ছেন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে। আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হয়েছে। অষ্টম বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ স্কেলের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের ক্ষেত্রে ৮২ হাজার টাকা। সপ্তম বেতন কাঠামোতে তাদের মূল বেতন ছিল যথাক্রমে ৪৫ হাজার ও ৪২ হাজার টাকা। সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন নির্ধারিত, অর্থাৎ প্রতিবছর তাদের বেতন আর বাড়ে না বা ‘ইনক্রিমেন্ট’ যোগ হয় না। তবে তারাও নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা পান। এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে সপ্তম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই। সে অনুযায়ী এতদিন সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা ‘বেসিক’ ধরে বেতন পেতেন।

 

পাট শিল্প ধ্বংস করেছে বিএনপি: মির্জা আজম

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপি পাট শিল্প ধ্বংস করেছিল বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।  শনিবার রাজধানীর সিরডাপে সকাল সাড়ে ১০টায়  ইআরএফ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আঁতাত করে দেশের পাট শিল্প ধ্বংস করে দিয়েছিল বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ২০০২ সালে আদমজী পাট কল বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে। একই সময় বিশ্ব ব্যাংক ভারতে কয়েকটি নতুন জুট মিলে অর্থায়ন করে। বিএনপি বিজেএমসিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার পাট শিল্পকে পুনরায় সোনালি ফসলে পরিণত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এই বাজারে আমরা কীভাবে নেতৃত্ব দেবো সেই বিষয়ে কাজ করবো। বীজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিজেএসমিকে ধীরে ধীরে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে পাট শিল্প বস্ত্র শিল্পের বরাবর হয়ে যাবে। পাট পণ্যের আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করা হবে বাংলাদেশে। তিনি আরও বলেন, বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বস্ত্র বিভাগের কোনো সম্পর্ক ছিলো না। ফলে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বস্ত্র খাত বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তারপর থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে আগামী সোমবার বস্ত্র আইন পাশ হবে। সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখবো, ছোট ও মাঝারি আকারের জুট মিলগুলো ভালো করছে। এসব মিলগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাট খাতের সম্ভাবনা যথেষ্ট কিন্তু সেই ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে হবে। পোশাক শিল্পের মতো এই খাতেও সরকারের নগদ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া উচিত। এসময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বহুমুখী পাট পণ্য উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি রাশেদুল করীম, বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান খান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, পাট পণ্য রফতানিকারক রেজাউল করীম, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় সালমান এফ রহমান

করতোয়া ডেস্ক : বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথমবারের মতো কোনও বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। বেইজিংভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হুরুন গ্লোবাল-এর ওই তালিকার ২২৫৭ জন ধনকুবেরের মধ্যে তিনি রয়েছেন ১৬৮৫ নম্বরে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সালমান এফ রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো)-র যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালে। প্রতিষ্ঠাতা সালমান এফ রহমান বর্তমানে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আশির দশকে ঔষধ শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে বিনিয়োগ শুরু করে। পরে টেক্সটাইলস খাতেও আসে সাফল্য। ৯০-এর দশকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি সালমান এফ রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল-এর ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৬৮টি দেশের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিরা। তালিকার শীর্ষ তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের।

মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস এ বছরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হিসেবে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ আট হাজার ১০০ কোটি ডলার বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রয়েছেন ওই তালিকায়। তার অবস্থান ৩৯৫ নম্বরে। ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ডলার বলে ওই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট ২০১৭ অনুযায়ী, ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষ ২০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির অবস্থান ১৯। গত বছর আরব আমিরাতের ১৬ জন ধনকুবের ছিলেন তালিকায়। এবার তা বেড়ে হয়েছে ২১। জিসিসিভুক্ত আর কোনও দেশ শীর্ষ ২০-এ জায়গা করতে পারেনি। অপরদিকে, ১১ জন ভারতীয় ধনকুবের এ বছর তাদের অবস্থান হারিয়েছেন। গতবছর ভারতের অবস্থান ছিল তৃতীয়। তবে চলতি তালিকায় বছর সেই অবস্থান থেকে ছিটকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দেশটি। ৬০৯ জন ধনকুবের নিয়ে চীন রয়েছে তালিকার শীর্ষে। দুই নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৫৫২ জন ধনকুবের। ভারতের ১০০ জন ধনকুবেরের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। হুরুন গ্লোবাল-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়, ওই তালিকার দুই-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিই নিজের চেষ্টায় অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অপরদিকে, এক-তৃতীংশ ধনকুবের পারিবারিক সূত্রে সম্পদ লাভ করেছেন। গত ছয় বছর ধরে হুরুন গ্লোবাল বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

বিজিএমইএ-কে জমি দেবে সরকার

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) রাজধানীর উত্তরায় জমি দেবে সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে ওই জমিতে ভবন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় সবাইকে মাথা পেতে মেনে নিতে হবে। বিজিএমইএ আমাদের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করেছে। আমরা তাদের উত্তরায় জমি দেবো। আদালতের রায়ের পর শ্রমঘণ এ সেক্টরে আর শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা নেই।

 

 

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে : মুহিত

অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বিক দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি সব খাতে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার  নগরীর আগারগাঁওয়ে সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) ঋণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, অতি দারিদ্র্য ২০২৪ সালের মধ্যে দূর হবে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মুহিত বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর অতি দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অনেক সংস্থা ও এনজিও অতি দারিদ্র্য জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের হার কমে আসছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম ইউনুসুর রহমান ও বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন এসডিআই চেয়ারপার্সন এম আই চৌধুরী।

অর্থনৈতিক সাফল্য এখন বিশ্বে প্রশংসিত: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এখন সারা বিশ্বে প্রশংসিত। গত আট বছর ধরে টানা ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় সারা বিশ্ব বাংলাদেশের প্রশংসা করে।  রোববার রাজধানীর আফতাব নগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ক্লাব আয়োজিত আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় যারা বাংলাদেশকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত আজ তাঁরাই বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শহিদুল হাসান বক্তব্য রাখেন।তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৩ টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৮টি দল অংশ নিচ্ছে।

 

 

‘পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন’

পোশাক শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।
রোববার দুপুর ১টায় বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক শিল্পকে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ লাইনে পুরাতন ক্যাবলের কারণে সংযোগে সমস্যা হয়। এর ফলে আমাদের মেশিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহও খুব শিগগির স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সামিটে তিনটি সেশনে দেশের পোশাক শিল্পের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। শুধু তাই নয় কিভাবে এই শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। এবারের ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে ‘টুগেদার ফর এ বেটার টুমোরো’। সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। সরকার ২০২১ সাল নাগাদ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৮ শতাংশ। যদি দেশে রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে পারে তাহলে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে তৈরি হতে পারে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিজিএমইএ দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ফারুখ হাসান, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নামির, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু প্রমুখ।

ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানাতে হবে: অর্থমন্ত্রী

ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে হলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  শনিবার সকালে জাতীয় জাদুঘরে সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জ্ঞানালোক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, যারা এ বিষয়গুলো নিয়ে পরিশ্রম করছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। মুহিত বলেন, সবার হয়ত সবগুলো ছবি দেখার সুযোগ হবে না। তবে আমি বলতে পারি, শিশুদের এসব ছবি দর্শকের জ্ঞানের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করবে। সৃষ্টির আনন্দে বিভোর কিশোররা চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে নিজেদের রুচিকে আরও উন্নত করছে, প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছে। এই তো আমাদের বড় পাওয়া। তিনি বলেন, আজকে যারা এখানে এসেছে, তাদের সবাই পিতামাতার ভাগ্যবান সন্তান। কিন্তু এমন ভাগ্যবানের সংখ্যা কজন? এর আগে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবার তিন গুণী ব্যক্তিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও বিজ্ঞানী পূরবী বসু, খ্যাতিমান প্রতœতত্ত্ববিদ অধ্যাপ ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও বিক্রমপুরের উয়ারি-বটেশ্বর প্রতœস্থানের খ্যাতিমান পথিকৃত মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ পাঠান।

 

 

 

চালে আমদানিশুল্ক থাকবেই: খাদ্যমন্ত্রী

কিছু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে এই খাদ্যশস্যের উপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলছেন, কোনো অবস্থাতেই এই শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে না।

সচিবালয়ে  বুধবার চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পাইকারি বাজারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যভাবে চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। তবে এতে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না। অসাধু ব্যবসায়ী তারাই, যারা মনে করছে কোনো রকম একটা অবস্থার সৃষ্টি করে যাতে শুল্কটা প্রত্যাহার করাতে পারেন। কোনো অবস্থায় শুল্ক প্রত্যাহারের প্রশ্নই উঠে না। গণমাধ্যমে চালের দাম বাড়ার খবর আসায় প্রকৃত অবস্থা জানতে মিল মালিকদের সঙ্গে বসেছিলেন জানিয়ে কামরুল বলেন, তাদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বক্তব্য পেয়েছি। আমাদের কাছে ঠিক চিত্র তুলে ধরে তারা বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই। এবার মোটা চালের দাম বৃদ্ধির মূল কারণটা হচ্ছে গত বছর এই সময়ে ভারত থেকে আড়াই থেকে ৩ লাখ টন চাল এসেছে বিনা শুল্কে। সরকার শুল্ক আরোপের পর এবছর এই সময়ে ভারত থেকে চাল এসেছে ৩৭ হাজার টন। অসাধু ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চাল আমদানি করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স আরোপের ফলে এখন কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে চাল আমদানির উপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করেছে সরকার। চালের বাজার স্থিতিশীল আছে দাবি করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমন মৌসুমের শেষ সময়ে ও বোরো মৌসুমের শুরুতে দাম সব সময়ই একটু বাড়ে, এ সময় দাম বাড়টাই স্বাভাবিক। তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। দুই মাস পর বোরো সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে মোটা চালের অভাব থাকবে না জানিয়ে কামরুল বলেন, বর্তমানে ৯ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। বাজারে চিকন চালের দাম খুব বেশি বাড়েনি। সরকার ৩৩ টাকা কেজি দরে আমন চাল কিনছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার সিদ্ধান্ত ছিল আমরা ৩ লাখ টন আমন কিনব, সম্ভব হলে বেশি কিনব। এই মুহূর্তে ৩ লাখ ২৬ হাজার টন আমন আমাদের ঘরে চলে এসেছে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত আমন সংগ্রহ অভিযান চলবে। এখনও দৈনিক ৪০০ থেকে ৮০০ টনের চুক্তি হচ্ছে। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশীদ বলেন, মোটা চালের বাজার বেড়েছে এটা সত্য। যতটুকু বেড়েছিল তা থেকে আবার কেজিতে এক টাকা কমে গেছে। আশা করি নতুন করে আর চালের বাজার বাড়ার সম্ভাবনা নেই, দেশে পর্যাপ্ত চাল আছে। যে অবস্থায় গেছে তা স্থিতিশীল থাকবে ইনশাআল্লাহ।

 

রাজধানীতে চলছে আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা। যা চলবে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  বুধবার দুপুর পৌনে ২টায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু মেলার উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে। মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কোনো টিকেট লাগবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের ১২তম মেলা এটি। মেলায় দেশি ও বিদেশি ৪৫০টি স্টল রয়েছে। দেশীয় মোট ১৫টি ক্যাটাগরিতে যেসব প্রতিষ্ঠান স্টল দিয়েছে তাদের মধ্যে প্লাস্টিক হাউজ আইটেমস, প্যাকেজিং ম্যাটারিয়েলস, প্লাস্টিক মাউল্ড, ফার্মাসিটিক্যাল, প্লাস্টিক ফার্নিচার, মেলামাইন, গার্মেন্টস এক্সসোসরিজ, পিপি ওভেন ব্যাগ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, মেলায় বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিষ্ঠানগুলো প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনকারী মেশিন ও ক্যাটালগ প্রদর্শন করছে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক মেলার মাধ্যমে পণ্যের পরিচিতি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে ভোক্তাও। এ পণ্য দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। দেশের রফতানিকারক পণ্যের মধ্যে প্লাস্টিক অন্যতম। আগামীতে রফতানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। আমরা এ খাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

লন্ডনে অর্থমন্ত্রী মুহিতকে সংবর্ধনা

করতোয়া ডেস্ক : লন্ডনে সংবর্ধিত হলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার যুক্তরাজ্েেযর পূর্ব লন্ডনের ইমপ্রেশন ইভেন্ট ভেন্যুচতে নাগরিক এই সংবর্ধনার আয়োজন করে যুক্তরাজ্য্ আওয়াসী লীগ।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মুহিতের ভাই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এ মোমেন বক্তব্যে রাখেন। আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, মুহিত ভাইকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে সংবর্ধনা জানালে ছোট করা হয়। অর্থমন্ত্রী তো আসে যায়। কিন্তু মুহিত ভাই একজন সংস্কৃতিমনস্ক, রাজনীতিমনস্ক ব্যিক্ত। একজন মানুষ মুহিত হিসেবে তাকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন আপনারা। একুশের গানের রচয়িতা গাফফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের সময় মুহিতের সঙ্গে কারাগারে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেন। সেইসঙ্গে রসিকতার সুরে অর্থমন্ত্রীর ‘রাবিশ’ বলার কথাও বলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে আমরা এক সঙ্গে জেলে ছিলাম। মুহিত ভাইয়ের রাবিশ বলার স্বভাব। এখনও রাবিশ বলা তার ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য। বিশ্বমন্দার মধ্যো বাংলাদেশকে রক্ষা করার কৃতিত্ব মুহিতকেই দেন প্রবাসী এই লেখক-সাংবাদিক।

কৃষিভিত্তিক দেশ থেকে বাংলাদেশকে শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘বড় ভাই’ মুহিতের কৃতিত্বের কথাও বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত মুহিত বাংলাদেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে  বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রবাসীদের কাছে। আওয়ামী লীগকে ‘গরিবের দল’ অভিহিত করে এই দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহিত বলেন, জনগণের কল্যা ণই এই দলটির প্রধান লক্ষ্য। সিলেটের বাসিন্দা মুহিত দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে তার অনুকূল অবস্থা তৈরিতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা বিষয়ে আপসহীন, সেটা হল বিদ্যু ৎ দিতে হবে এবং বিদ্যু ৎ সস্তায় দিতে হবে। এখন বিদ্যুাৎ পাবেন। যুক্তরাজি আওয়ামী লীগ আখেরুজ্জামান েেচৗধুরী, শাসসুদ্দিন খান, সুলতান মাহমুদ শরিফ, সৈয়দ সাহিদুর রহমান ফারুক বক্তব্য রাখেন।

রাজধানীর বাজারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজের স্বাভাবিক শাক-সবজি


স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে স্বাভাবিক রয়েছে শীতকালীন সবজির বাজার। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে ২৭ টাকা হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ২২ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নতুন বাজার ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসমত আলী বলেন, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ২২ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু গত চারদিনে আগের চেয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এর কারণ জেলাগুলো থেকে হঠাৎ পেঁয়াজ কম আসছে। তবে জেলা থেকে আবার বেশি পেঁয়াজ আসলে দাম কমে যাবে।

 কারওয়ান বাজারে দেশি রসুন ১১৫ টাকা, চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি কালো বেগুন ৬০ টাকা, সাদা বেগুন ৬০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, টেমেটো  ৫০ টাকা, শশা ৪০-৪৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, পেঁয়াজের কালি ১৫ টাকা, চাল কুমড়া ১৫ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা এবং শালগম ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পটল ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৫০-৫০ টাকা, কাকরোল ৪৫ টাকা, কচুরমুখী ৪৫ টাকা, আলু ১৫ টাকা এবং পেঁপে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, প্রতিটি ফুলকপি ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা, লেবু হালি প্রতি ১৫-২৫ টাকা, আটি প্রতি পালং শাক ১০ টাকা, লালশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ১৫ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


কারওয়ান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসা সাজ্জাতুল আহাদ বলেন, সবজির বাজার আগের মতোই আছে। তবে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়ে গেছে। এটা কিভাবে মেনে নেওয়া যায়। গত রোববারও তিনি পেঁয়াজ কিনেছেন ২২ টাকায় আর শুক্রবার আজ পেঁয়াজের দাম ২৭ টাকা। এটা একটু বেশিই হয়ে যায়। এছাড়া আমাদের বাজার তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই। যদি থাকতো তাহলে কিভাবে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বাড়ে। অন্যদিকে, মুদি পণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।  প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ থেকে ১০৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল ব্রান্ড ভেদে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 এছাড়া কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। ভারতীয় মসুর ডাল ১১৫ টাকা, মুগ ডাল (দেশি) ১২০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১১০ টাকা, মাসকলাই ১৩৫ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে, সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম অপরিবর্তিতই রয়েছে। স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা, পারিজা চাল ৪১ টাকা, মিনিকেট ৫০ টাকা, বিআর আটাশ চাল ৪২-৪৪ টাকা, নাজিরশাইল চাল ৪২-৪৮ টাকা, বাসমতি চাল ৫৬ টাকা, কাটারিভোগ চাল ৭৪-৭৬ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৪০ টাকা এবং পোলাও চাল ১০০ (পুরাতন), নতুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা ও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা ও  চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

 

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বাড়তি চার্জ নিয়ে প্রশ্ন ফরাসউদ্দিনের

মোবাইলে অর্থ লেনদেনের জন্য  গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি হারে টাকা নেওয়ার সমালোচনা করেছেন সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। মোবাইল ব্যাংকিংকে ‘মোবাইল তামাশা’ আখ্যাা দিয়ে এখানে হস্তক্ষেপের জন্য  সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে এনবিআর আয়োজিত উপ কর কমিশনার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যধ দেন ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১০০ টাকা পাঠাতে লাগে ১ টাকা ৮৬ পয়সা। মতলবটা কত বদ আপনি চিন্তা করেন। ১ টাকা ৮৬ পয়সা মানেই ২ টাকা। ২ টাকা দিয়ে যিনি পাঠাবেন তারতো একাউন্ট নাই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মোবাইল ব্যাং কিং সম্পর্কে তার এই ধারণা হয়েছে জানিয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে যদি ১০০ টাকায় মাত্র ৪০ পয়সা লাগে, তাহলে মোবাইল ট্রান্সফারে কেন ১ টাকা ৮৬ পয়সা বা ২ টাকা লাগবে? কিন্তু বিদেশিরা ধৈন্য ধৈন্য দিচ্ছে আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং চলছে।

এগুলো খুব ভালো করে চিন্তা-ভাবনা করে সরকারকে বুঝতে হবে। ওই জায়গায় হাত দিতে হবে। এটা দেখা দরকার, রেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণ) হওয়া দরকার। গ্রাহকের ব্যাং ক হিসাবের গোপণীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন না হলে কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব দেখা উচিত নয়। কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দেখা যেতে পারে। এটা মানুষের আমানত, তা রক্ষা করতে হবে। ব্যাংক একাউন্ট হচ্ছে জনগণের আমানত। ব্যাংক হিসাব দেখার এখতিয়ার একেবারে না থাকা-ই ভালো, একদম ইমার্জেন্সি ছাড়া। ব্যাংকের ওপর হিসাবধারীর যে কনফিডেন্স তাকে নষ্ট করা যাবে না। এক লাখ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাং কের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটা প্রস্তাব আমরা সরকারকে দিয়েছিলাম, বলেছিলাম এক লাখ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করতে হলে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হোক। সরকার রাজি হয় নাই। ‘মেইল অর্ডার বাণিজ্যদকে’ করের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “মেইল অর্ডার বাণিজ্য বিত্তবান লোকেরা করে। ছাপোষা লোকেরা করে না।

এখন দোকানে দোকানে ভিড় কম। কারণ মেইল অর্ডারে বেশি কেনা-বেচা হচ্ছে। এর উপরে ট্যা ক্স মেকানিজম করার জন্য এনবিআরকে আমি গত ৫ বছর ধরে পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু এই ক্ষমতা তাদের হাতে নাই। এটা করতে পারলে ট্যাক্স আদায় অনেক বেশি হবে মন্তব্যে করে তিনি বলেন, এটা খুব ন্যায়সঙ্গত। পৃথিবীর এমন কোনও দেশ নেই যেখানে মেইল অর্ডারের ওপর ট্যাক্স নেই। তামাকের ওপর কর নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বেশি দামের সিগারেটের ওপর অনেক কর অলরেডি আছে। কিন্তু ফ্যাশনেবল হচ্ছে এর ওপর কর বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু ট্যাক্স আহরণ বাড়ানোর জন্য বেশি লাভ হবে না। তবে মানুষ অতিরিক্ত দাম বাড়ার কারণে যদি ধূমপান ছেড়ে দেয় তাহলে লাভ হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সমাজ আপনাকে ধন্য ধন্য দেবে। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের নীতির সমালোচনা করে ফরাসউদ্দিন বলেন, “দেশের ৬৫ ভাগ মানুষ কেরোসিন ব্যবহার করে, ওইখানে কমাবেন বেশি করে। অকটেনের দাম কমে কিন্তু কেরোসিনের দাম কমে না। কি আশ্চর্য!

অকটেন যারা কেনেন তাদের জন্য ১০ টাকা বাড়ালে কিচ্ছু যায় আসে না। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের বেশি দামের কারণে যারা অতিরিক্ত মুনাফা করছে তাদের ধরার পরামর্শ দেন তিনি। দাম বাড়ানোর ফলে এবং আন্তর্জাতিকবাজারে দাম কমার ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা এখন যারা করছেন তাদেরকে ধরেন। তাদেরকে বলেন, তোমরা যে এই অতিরিক্ত মুনাফা পাচ্ছো তার অর্ধেক আমাকে দাও। এনবিআরকে দাও। বিকল্প ব্যবস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ক্ষেত্রে কর কমিশনারদের সব সময় জেতার মানসিকতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান ফরাসউদ্দিন। দেশপ্রেম শুধু আপনাদের নয়, ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেশপ্রেম কাজ করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, “রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য এনবিআরকে ব্যবসায়ীদের প্রতি হুঙ্কার পরিহার করে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ অসৎ বা অস্বচ্ছ থাকলে এনবিআর ফেডারেশনে এসে বলুন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। একই সঙ্গে আপনারাও স্বচ্ছ হোন। সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এনবিআর সরকারের কয়েকটি লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনমুখী ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। তার আওতায় সরকার জনগণের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে কর নেট সম্প্রসারণে উদ্যোগী। তারই ধারাবাহিকতায় করদাতার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে এখন ২৭ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানিতে পূর্বমুখী হতে বললেন আতিউর

করতোয়া ডেস্ক : টেকসই উন্নয়নের জন্য  আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রতিবেশীসহ এশীয় দেশগুলোর দিকে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সবকিছুতে আমরা পশ্চিমের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে আছি। শিল্পের ৯০ শতাংশই আমরা এক্সপোর্ট করি ইউরোপ কিংবা আমেরিকায়। আমেরিকাতে যিনি ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি যে কী কা- করেন সেটা বলা মুশকিল। আমার মনে হয়, আমাদের এই রং হর্স থেকে নেমে পড়তে হবে। এজন্যি আমাদের আশপাশের যে দেশগুলো আছে, এশিয়ার যে দেশগুলো আছে, আমরা রপ্তানি ও আমদানি খাত সেদিকে প্রবাহিত করব। এই ইকোনমিক করিডোরে যদি আমরা যুক্ত হতে পারি, তাহলে টেকসই উন্নয়নের দিকে যেতে পারব। ফারইস্ট ইন্টারন্য্শানাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে  বাংলাদেশের অগ্রগতির নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যাকলয়ের উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক আতিউর।

তিনি বলেন, যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, গৌরব করবার মতো দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০৫০ সালের মধ্য দ্রুত অগ্রসরমান তিনটি দেশের মধ্যে একটি আমরা। আমাদের সঙ্গে রয়েছে ভারত ও ভিয়েতমান। এর মানে হচ্ছে উন্নয়ন হবে এবং প্রবৃদ্ধিও কমপক্ষে ৫ শতাংশ থাকবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যাালয়ের শিক্ষামানের ‘হতাশাজনক’ পরিস্থিতি আস্তে আস্তে পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্যে করেন অধ্যাপক আতিউর। আমাদের গুণগত মানের শিক্ষকের ‘খুব অভাব’ রয়েছে মন্তব্য করে উন্নয়ন অধ্যয়নের এই শিক্ষক বলেন, যে হারে কোয়ালিটি শিক্ষকের প্রয়োজন সে অনুসারে আমরা তৈরি করতে পারিনি। বড় কারণ আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে এবং যারা থাকেন দেশে তারাও প্রশাসনিক অন্যন্য কাজে চলে যাচ্ছেন, শিক্ষকতায় সেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতোগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যাসলয়ের জন্য এতোগুলো শিক্ষক যোগাড় করা চাইলেও কিন্তু সম্ভব না। গুণগত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার জন্যশ যে বিনিয়োগ দরকার সেটাও প্রয়োজন অনুসারে নেই বলে মন্তব্যং করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, জিডিপির ৩ শতাংশের মতো আমরা শিক্ষাখাতে ব্য্য় করি, পৃথিবীর উন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ তারা কিন্তু শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশের মতো ব্যবয় করে। আমরা ধীরে ধীরে ব্যিয় বাড়াচ্ছি, কিন্তু এখনো অনেক দূরে পড়ে আছি। চাহিদা মেটাতে চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতে বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে মন্তব্যর করে আতিউর রহমান বলেন, সেজন্য একদিকে লাভ হচ্ছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্য্লায় কিংবা প্রাইভেট মেডিকেলে যারা আসছেন তারা অর্থনৈতিকভাবে খানিকটা উঁচু; এবং তারা এখানে আসছেন বলে একেবারে যারা নীচে, যাদের আসলে কোনো সক্ষমতা নেই, তারা সরকারিগুলোতে ঢুকতে পারছে। আপনারা স্পেসটা ক্রিয়েট করেছেন, ওই স্পেসটা তারা পাচ্ছে। এটা ব্যেক্তিখাতের সামাজিক দায়িত্বের কারণে হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যাটলয়গুলোকে ব্যছবসায়িক চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষাকে ‘সেবা’ হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান যেন আমরা সবসময় বজায় রাখি, শিক্ষা কখনোই যেন পণ্যেট পরিণত না হয়। সেবার মধ্িেয নিবদ্ধ থাকি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আতিউর রহমান বলেন, মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশ থেকে বায়ু নেব। দরজা-জানালা বন্ধ করে আমরা বিশ্বায়নের চ্যা লেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব না। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যকবস্থা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি আমরা একথা যেন আমরা ভুলে না যাই, এ দেশের মানুষ এ মাটির মানুষ। একথাও মনে রাখতে হবে, এমনি এমনি আমরা এ দেশ অর্জন করিনি। বিশ্ববিদ্যােলয়ের উপাচার্য অধ্যাাপক নাজমুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যহদের মধ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যাান শেখ মো. কবির হোসেন, ট্রাস্টি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বক্তব্যা দেন।

ভারতের কাছে এবার চার বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা বাংলাদেশের

তৃতীয় এলওসিতে ভারতের কাছে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশায় আছে বাংলাদেশ; এই ঋণে বাস্তবায়নের জন্য  ঠিক করা হয়েছে ১৭টি প্রকল্পও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগেই এই সংক্রান্ত প্রস্তুতি সেরে রাখছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর।

গত ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ভারত সফরের আলোচনা থাকলেও তা হয়নি। এখন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই সফরের দিনক্ষণ ঠিক করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় ওই সফরেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, প্রথম এলওসিতে ১ বিলিয়ন, দ্বিতীয় এলওসিতে দুই বিলিয়নের পর এবার তৃতীয় এলওসিতে নমনীয় সুদে ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের ঋণ পাওয়ার আশা করছেন তারা। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর আগে দুটি এলওসির মাধ্যমে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের জন্য  বাংলাদেশকে ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। কমিটমেন্ট ফি দিতে হচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ৫ বছরের রেয়াতকালসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এবার বাংলাদেশ ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য। প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রকল্পের তালিকা করা হয়েছে বলে ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম জানিয়েছেন। তিনি  বলেন, আলোচনা চলছে, দুপক্ষের মধ্যে কিছু প্রকল্পও বাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা ১৭টি প্রকল্পের একটি তালিকা তৈরি করেছি। ওই তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে যাওয়ার আগ পর্য়ন্ত এ তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করা হবে। এখন পর্যন্ত আমরা ৪ বিলিয়ন টার্গেট করে এগোচ্ছি। শেষ পর্যন্ত কত হয়, তা সময় হলে দেখা যাবে। ইআরডি থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে দেখা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রকল্পগুলো বাচাই করা হয়। ১৭ প্রকল্পের মধ্যে ১৬টিতে অর্থের অঙ্ক বসানো হয়েছে। ওই ১৬টির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৫৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যে ১৭টি প্রকল্প প্রস্তাবের জন্য বাচাই করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এজন্যা ৯৪ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্য়ন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ৫০ কোটি ১২ লাখ ডলার। গাজীপুর ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (গ্যাস/এলএনজি) বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৪০ কোটি ২৪ লাখ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বগুড়া-ঝাড়খ- ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং মোল্লাহাটে ১০০ মেগাওয়াট সোলার পিভি পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের জন্য ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। পায়রা বন্দরে বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০ কোটি ডলার। প্রস্তাবিত তালিকায় ভারতের জন্য মিরসরাইয়ে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। এ প্রকল্পটির জন্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ডলার। মিরসরাইয়ে আরও একটি এ হাজার একরের ইপিজেডের প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ কোটি ডলার। এছাড়া মহেশখালী/পায়রায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির একটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ কোটি ডলার।

বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের জন্য ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এছাড়াও বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ভাটিয়া পাড়া-ভাঙ্গা সড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ডলার, রামগড়-বারইয়ার হাট চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ৫ কোটি ডলার, কুমিল্লা (ময়নামতি)-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সরাইল সড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ঈশ্বরদী আইসিডিকে সড়ক ও রেললাইনের সংযোগের জন্য ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং আশুগঞ্জ জকিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় নির্ধারণ না করা একমাত্র প্রকল্পটি হচ্ছে ‘আপগ্রেডেশন অব এলসিএস টু আইসিপি অন বোথ সাইড’। ইআরডির একজন কর্মকর্তা  বলেন, তালিকায় যে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তা যোগ করলে প্রায় ৪ বিলিয়ন হতে পারে। নতুন এলওসিতে ৪০০ কোটি ডলারই আমাদের টার্গেট।

৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দিবে এডিবি: অর্থমন্ত্রী

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ছয় বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবির সঙ্গে আমাদের লেনদেন ভালো। গত বছর ৮শ ১৩ মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে। আরও ৬ বিলিয়ন ডলার পাইপলাইনে আছে। আমরা এই স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে চাই।

 বুধবার সচিবালয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুহিতসাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বৈঠকে এডিবির প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হুইপিং হুয়াং, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগোচি, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর চাই লি প্রমুখ। অর্থমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট তার অ্যানুয়াল ট্রিপে এসেছেন। ওদের অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর। এটা কেবল শুরু হয়েছে। আমাদের যে লক্ষ্য আছে এ বছরে, সেটা আমরা সেভাবেই ধরে রাখতে চাই।মুহিত আরও বলেন, তাদের কিছু জাতীয় বরাদ্দ আছে, আমরা যেটা বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গেও করি, তাদের সঙ্গেও করি। আমরা সবসময়ই ভালো কিছু করছি।

সাত মাসে রপ্তানি আয় ২০ বিলিয়ন ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ মোট ২ হাজার ১১ কোটি ৮১ (২০ দশমিক ১১ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। এই সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ শতাংশ বিদেশি মুদ্রা কম এসেছে। পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে পোশাকের দাম কমায় রপ্তানিতে ধীরগতি চলছে। আমরা আশা করেছিলাম, গত অর্থবছরের মতো এবারও ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা গেলেও গতবারের মতো প্রবৃদ্ধি হবে না। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের দরপতন হয় ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।ওই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি দেশে গড়ে দরপতন হয় দশমিক ৭৬ শতাংশ।

রপ্তানিতে আশা দেখাচ্ছে কাপড়ের ব্যাগ

করতোয়া ডেস্ক : এক সময় বিদেশ নির্ভরতা থাকলেও এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের ব্যাকপ্যাক, ট্রলি, স্পোর্টস ব্যাগ, হাত ব্যাগ, এক্সিকিউটিভ ব্যাগসহ কাপড়ের তৈরি নানা ধরনের ব্যাগ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে এসব ব্যাগ। ফলে ধীরে ধীরে হলেও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে খাতটি হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময়।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখন দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এসব ব্যাগ তৈরি করছে। বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ইয়ংওয়ান, পার্ক বাংলাদেশ, ওসমা, ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেড এবং এ অ্যান্ড এ ট্রাভেলিং গুডস বাংলাদেশ লিমিটেড। দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- রাইডার, টাইগারকো, সিমুরা ননওভেনস লিমিটেড, বোহেমিয়ান ট্রাভেল গিয়ার, এমজেডএম টেক্সটাইল লিমিটেড, একসেনচ্যুর, ইউসেবিও স্পোর্টিং। আশুগঞ্জের খাড়িয়ালা গ্রামের রাইডার লেদার ব্যাগস অ্যান্ড লাগেজ ফ্যাক্টরি লিমিটেডের তৈরি ব্যাগ যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, জাপান ও ফ্রান্সে। এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি লাগেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরি করে। এসব ব্যাগ তৈরিতে তারা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে পলিয়েস্টার, ক্যানভাস, নাইলন, ডেনিম ও ওভেন কাপড় ।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম  বলেন, ‘কাপড়ের ব্যাগ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি সম্ভাবনাময় খাত । তৈরি পোশাক খাতের চেয়ে ব্যাগ তৈরি ও রপ্তানিতে মুনাফা বেশি ।’ এ খাতকে দ্রুত বর্ধনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ব্যাংক থেকে ২৮ কোটি টাকা ঋণ নিই। ২০১৫ সালে ১৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করি এবং ২০১৬ সালে ৭০ কোটি টাকার রপ্তানি করি। ২০১৭ সালে আমাদের লক্ষ্য ১৮০ কোটি টাকার ব্যাগ রপ্তানি করা ।’ ব্যাকপ্যাক থেকে গড়ে ১৫ শতাংশ মুনাফা করা সম্ভব জানিয়ে নাজমুল বলেন, গতবছর যে ৭০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করা হয়েছে তার মধ্যে ৪০ কোটি টাকাই এসেছে রপ্তানি থেকে। বাকিটা স্থানীয় বাজার থেকে এসেছে। মোট মুনাফা প্রায় ১১ কোটি টাকা। নাজমুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার কারখানায় দিনে তিন হাজার আর বছরে প্রায় ৯ লাখ ৩৬ হাজার ব্যাকপ্যাক তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটি ব্যাগের দাম ১৮ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ২০১৯ সাল নাগাদ পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ কারার পরিকল্পনার কথাও জানালেন এই উদ্যোক্তা।

শেষ দিনে উপচেপড়া ভিড় বাণিজ্য মেলায় রফতানি আদেশ ২৪৩ কোটি টাকা

২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ) মোট রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একইসঙ্গে মেলায় বিক্রি হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।  শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়িরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার সাথে কৃষকরা তাল মিলিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, উদ্ভাবনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। বাণিজ্য মেলা সেই উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহ জোগারে। ভবিষ্যতে এই মেলা আরও বড় পরিসরে হবে। বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লা আল মামুন বলেন, মাসব্যাপী মেলা সফল করার জন্য ব্যবসায়ীবা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন। এক্ষেত্রে ইপিবিও প্রতি বছর বেশ পরিশ্রম করে। মেলা আয়োজনে আমরা সফল বলেই মানুষ যানজট অপেক্ষা করে মেলায় আসে। তাই মেলাও প্রাণবন্ত হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বেগম মাফরুহা সুলতানা। এদিকে  বাণিজ্যমেলার শেষ দিনের শেষ মুহুর্তে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শনিবার দুপুরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রত্যেকটি স্টলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়  দেখা  গেছে।

শেষ সময়ে বাণিজ্য মেলায় মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার। তাই শেষ সময়ে এসে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী আকর্ষণে প্যাভিলিয়ন আর স্টলগুলোতে চলছে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য ছাড়ের ছড়াছড়ি। মেলায় স্টলের ব্যবসায়ীরা  জানান, মেলার শুরুতে মূল্য ছাড় অনেক কম ছিলো, তখন ক্রেতাদের পাওয়া যায়নি। এখন বেশি ছাড় দেওয়াতে গত বছরের তুলনায় এবার মেলা ভালো জমে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার মেলায় ছিল ব্যাপক ভিড়।


তিশা জামদানি তাঁতের স্টলের মালিক মোহাম্মদ হান্নান শিকদার জানান, আমাদের স্টলে সব শাড়ি ২০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সব দোকানে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড়ে পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে আরএফএল পণ্য কিনলে থাকছে ব্যাংকক ভ্রমণের সুযোগ। মেলায় আরএফএল প্লাস্টিক প্যাভিলিয়নে প্রায় দুই হাজার ধরনের প্লাস্টিক পণ্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাজিক টুল, বালতি, টেবিল, ড্রিংকিং গ্লাস, চেয়ার ও রেইন ড্রপ পিসি ওয়াটার বটলসহ আরও অনেক পণ্যসামগী। এসব পণ্য কিনলেই ক্রেতাদের মিলছে ব্যাংকক ভ্রমণের সুযোগ। মাসব্যাপী ২১তম বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) আরএফএল প্লাস্টিক প্যাভিলিয়নে এ     
অফার দেওয়া হচ্ছে।

 স্টলে স্টলে সব পণ্যের ওপর ব্যাপক ছাড় পাওয়া গেলেও মান অনুযায়ী খাবারের দাম বেশি রাখছে রেস্টুরেন্টগুলো। বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা যায়, চিকেন বিরিয়ানি হাফ প্লেট একশো ৫০ টাকা, ফুল প্লেট দুইশো ৯০ টাকা, মাটন কাচ্চি একশো ৮০ থেকে তিনশো ৫০ টাকা, বিফ তেহারি ৯০ থেকে একশো ৪০ টাকা, চিকেন ফ্রাইড রাইস একশো ৫০ থেকে দুইশো টাকা, বিফ কাচ্চি একশো ৪০ থেকে দুইশো ৭০ টাকা, ফ্রাইড চিকেন ও রাইস একশো ৭০ থেকে দুইশো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে মেলায় সর মালাই নামে ভিন্ন স্বাদের একটি আইসক্রিম নিয়ে আসা হয়েছে।

যার মূল্য মাত্র ২০ টাকা। ব্যতিক্রমী ফ্লেভারের এ আইসক্রিমেও সাড়া মিলছে বলে জানান ব্যবসায়ী রফিক। মেলায় চকবার, কার্নিভাল, রেগুলার কাপ, চকো ডিলাইট, টুইন ওয়ান, রকস, সরমালাই, দই, ক্ষির অন্যতম। দেশীয় ঐতিহ্যকে প্রাধান্য আর ভোক্তার চাহিদাকে মাথায় রেখে এসব আইসক্রিম তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান নুরুজ্জামান নামে আরেক ব্যবসায়ী।

বছরে ৮৮ লাখ নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক গ্রামীণফোনে

দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট সেবায় গত বছর নতুন ৮৮ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। এ সেবা থেকে বেড়েছে তাদের রাজস্বও।  অপারেটরটির ৫ কোটি ৮০ লাখ সক্রিয় গ্রাহকের ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে। মঙ্গলবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে ২০১৬ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গ্রামীণফোনের সিইও পেটার ফারবার্গ। তিনি বলেন, ২০১৬ সাল ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের জন্য একটি সার্বিক সাফল্যের বছর। ডেটা রাজস্বের অব্যাহত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ভয়েস খাতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই বছর আমরা সাফল্যের সাথে বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়া ও ৯০ শতাংশ সাইটে থ্রিজি পৌঁছে দিতে পেরেছি। পেটার ফারবার্গ বলেন, গ্রামীণফোন ৫ কোটি ৮০ লাখ সক্রিয় গ্রাহক নিয়ে ২০১৬ সাল শেষ করেছে, এখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। তিনি বলেন, গত বছর গ্রামীণফোনে যুক্ত হয়েছে ৮৮ লাখ ডেটা গ্রাহক। এর ফলে মোট গ্রাহকের ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছে। গ্রামীণফোনের সিএফও দিলীপ পাল বলেন, গ্রামীণফোন ২০১৬ সালে ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তিনি বলেন, নতুন গ্রাহক এবং সেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব (আন্তসংযোগ আয় ব্যতীত) আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১২ শতাংশ। সেই সাথে ডেটা রাজস্বের প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত ছিল। ডেটা থেকে রাজস্ব বেড়েছে ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ। ব্যবহৃত মিনিট বাড়ার ফলে ভয়েস থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে নতুন গ্রাহক ও ট্রাফিক রাজস্ব (ইন্টারকানেকশন বাদে) ২০১৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান দিলীপ পাল। গ্রামীণফোন আয়কর দেওয়ার পর ২০১৬ সালে মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, যা ২০১৫ তে ছিল ১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এবছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১৬ দশমিক ৬৮ টাকা।

দিলীপ পাল জানান, ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় গ্রামীণফোনের পরিচালক ম-লী ২০১৬ সালের জন্য পরিশোধিত মূলধনের ৯০ শতাংশ (প্রতিটি ১০ টাকার শেয়ারের জন্য ৯ টাকা) চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ২০১৬ সালের জন্য মোট নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়াল পরিশোধিত মূলধনের ১৭৫ শতাংশ, যা ২০১৫ সালের কর পরবর্তী মুনাফার ১০৫ শতাংশ (এর মধ্যে রয়েছে ৮৫ শতাংশ অন্তর্র্বতী নগদ লভ্যাংশ)। আগামী ২০ এপ্রিল গ্রামীণফোনের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন হবে, এর জন্য রেকর্ড ডেট রাখা হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। বোর্ড অফ ডিরেক্টরস সব শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ার প্রতি ৯ টাকা লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে বলে জানানা দিলীপ।  দেশের বৃহত্তম করদাতা গ্রামীণফোন ২০১৬ সালে সরকারি কোষাগারে কর, ভ্যাট, শুল্ক ও লাইসেন্স ফি বাবদ মোট ৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা দিয়েছে, যা কোম্পানির মোট রাজস্ব আয়ের ৫১ শতাংশ।

 

বাণিজ্য মেলা আরও ৪ দিন বেড়েছে

জানুয়ারির মাসের ৩১ তারিখ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না; ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।  সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবির) বোর্ড সভার পর এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেলার মেয়াদ চার দিন বাড়ানো হয়েছে। ইপিবির আয়োজনে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেলা উদ্বোধন করেন। এবার এই মেলার ২২তম আসর। বাংলাদেশ ছাড়াও ২০টি দেশের ব্যবসায়ীরা এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছেন। মেলায় এবার ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৭৭টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে ৪৮টি। ছুটির দিনগুলোতে মেলায় ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে।

সতর্ক মুদ্রানীতি ঘোষনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনায় অর্থবছরের প্রথম ভাগের মতই একইরকম ‘সতর্ক’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে জানুয়ারি-জুন মেয়াদের জন্য।

গভর্নর ফজলে কবির  রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা অর্থবর্ষের প্রথমার্ধের উৎপাদন সহায়ক, সতর্ক নীতির ভঙ্গিটি অপরিবর্তিত রেখেছি।

গত বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। সেই সঙ্গে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে রাখার আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মুদ্রানীতির ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেন, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দেখে তাদের মনে হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পথেই রয়েছে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতিতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। যার মধ্যে বেসরকারি ঋণে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি ঋণে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করেছিল। জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতিতেও ঋণ প্রবৃদ্ধির একই প্রত্যাশা বজায় রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গভর্নর জানান, গত মুদ্রানীতিতে একই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ; যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। আর বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে এক দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিককালে সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ কমায় ব্যক্তিখাতে ঋণ যোগানোর পথ সুগম করেছে। তবে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ বাড়ায় দেশে বন্ড বাজারের বিকাশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হলেও রেমিটেন্স প্রবাহ ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে পুঁজি বাজারের সাম্প্রতিক উল্লম্ফন নিয়ে সতর্কবাণী এসেছে নতুন মুদ্রানীতিতে। গভর্নর বলেন, মূলধন বাজারে ২০১০ সাল থেকে বিদ্যমান মন্দা প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটি যাতে কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে, সুস্থ ধারায় থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি জরুরি। তা না হলে অতীতের মতো এবারও বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের ঘোষিত আর্থিক নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রতি অর্থবছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের ২৬ জুলাই। বরাবরের মতো এবারও নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

চাল ও সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : রাজধানীর বাজারে চালের দাম বেড়েছে, যাকে ‘ধানের দামের সঙ্গে সমন্বয়’ বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা; আর দুই সপ্তাহ ধরে দাম বেড়ে চলা সয়াবিন তেলে এ সপ্তাহেও বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তবে চাল সরবরাহের প্রধান ভান্ডার উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা দাবি করছেন, গত ১০/১৫ দিনে মিলে চালের দাম যতটুকু বেড়েছে- ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়িয়েছেন। আর কোনো পূর্ব ঘোষণা বা কারণ ছাড়া বোতলজাত ভোজ্য তেলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুণতে হওয়ায় অবাক হয়েছেন খোলা সয়াবিন তেল ব্যবসায়ীরা।


গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলে ৫২০ টাকা মূল্য লেখা আছে। এক লিটারের বোতলে মূল্য লেখা আছে ১০৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৯৮ টাকা থেকে ১০০ টাকায় প্রতি লিটার সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছিল। তবে পরিবেশকরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় গত সপ্তাহেই কোনো কোনো বাজারের দোকানিদের বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০৫ টাকা করে রাখতে দেখা যায়। সকালে ঢাকার মিরপুর ও মহাখালী এলাকার কয়েকজন মুদি দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেই সয়াবিন তেলে দাম বাড়ানোর কথা পরিবেশকরা জানিয়ে গেছেন।

 এখন অনেকে আগের দামে কেনা তেল নতুন দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ নতুন মূল্য তালিক অনুসারে তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করা শুরু করেছেন। এমন দাম বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ আলী ভুট্টো। তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে খোলা তেলে লিটারে ৫ টাকা কমেছে, আর তারা উল্টো ৫ টাকা করে বাড়িয়েছেন। তাহলে দামের পার্থক্য হয়ে গেল ১০ টাকা।


এদিকে গত এক মাসে চালের দামও প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় একশ টাকা করে বেড়েছে বলে দাবি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। ইতোমধ্যেই বেশি দামে চাল বিক্রি শুরু করেছেন তারা। মহাখালী কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা মুজিবুল হক বলেন, মোটা চাল (পাইজাম) ৫০ কেজির বস্তা ১৬শ টাকা থেকে ১৭শ টাকা হয়েছে, স্বর্ণা ১৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৩০ টাকা হয়েছে, মিনিকেট ২৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫০ টাকা হয়েছে। নাজিরের বস্তা ২১শ টাকা থেকে বেড়ে ২২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরের শাহআলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা মোসলে উদ্দীন জানান, গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম কিছু বেড়েছে। মিনিকেটের বস্তা ২২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩৬০ টাকা হয়েছে।

 আর জিরা নাজির আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা করে বিক্রি করলেও এখন ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি। চালের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব রাইস এজেন্সির মালিক আকবর হোসেন বলেন, এ বছর ধানের দাম কিছুটা বেশি ছিল, যার কারণে চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। মূল্য সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে মিল মালিকদের। গতবার ধানে মণ ছিল ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা। এবার ৮৫০ টাকা মণে ধান কিনতে হয়েছে। কৃষকরা লাভ পেয়ে ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

গত এক মাসে মিল পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, মিটিকেটের দাম বস্তায় ৫০ টাকা বেড়ে ২২শ টাকা হয়েছে, পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে তা সাড়ে ২২শ টাকা হতে পারে, সে েেত্র ২৩শ টাকা মূল্যে বস্তা বিক্রি করাই যথেষ্ট। কিন্তু ঢাকায় মিনিকেট আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান দাবি করে তিনি বলেন, তারা এমনই করে।

 যেমন ধরেন ডালের পাইকারি ও খুচরা দামে আপনি ১০ থেকে ১৫ টাকা পার্থক্য পাবেন। চালের দামে এতটা পার্থক্য না হলেও কেজিতে ২/৩ টাকা তো হয়ই। রসুনের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে বলে জানান আদা-রসুন ও মসলার আড়ৎদার আমির হোসেন। তিনি বলেন, পাইকারী হিসেবে এখন ছোট রসুন ১৬০ টাকা ও বড় রসুন ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি করছি।

 বাজারে শাক-সবজি, তরি-তরকারি বিক্রি হচ্ছে কিছুটা স্থিতিশীল দামে। আমদানি করা রসুনের দাম এক সপ্তাহ আগে চড়া হয়ে উঠলেও তা কমে এসেছে বলে জানান মহাখালীর মুদি দোকানি শিমুল দাস। রসুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ২৩০/২৪০ টাকায় উঠেছিল। এখন আবার কমে ২১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ইন্ডিয়ান রসুন। মিরপুরে বাজার করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, অধিকাংশ শাক-সবজির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে করলা ও শিমের দাম তুলনামূলক একটু বেশি মনে হয়েছে তার কাছে। শুক্রবার ছুটির দিনে শাক সবজির দাম কিছুটা বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘অবৈধ কর সুবিধার’ তদন্ত হচ্ছে: মুহিত

গ্রামীণের নামে গড়া মুহাম্মদ ইউনূসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘অবৈধভাবে’ কর সুবিধা নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, “ইটস আ ভেরি ডিফিক্যাল্ট ইস্যু…। প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণের নামে সব প্রতিষ্ঠানে কি নিয়েছেন? ট্যাক্স বেনিফিট নিয়েছেন, ইট ইজ ইলিগ্যাল। এটা ইজ বিং ইনভেস্টিগেইটেড, দ্যাটস অল।”

নোবেলবিজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব‌্যাংকের সাবেক এই এমডির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ‘কর না দেওয়ার’ প্রসঙ্গ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনা করার পরদিন বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে গ্রামীণফোন নিয়ে কথা বলার সময় নোবেলজয়ী ইউনূসকে ‘চিটিংবাজ’ আখ‌্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইউনূস মামলা করে তার স্থায়ী আমানতের কর দিচ্ছেন না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তার টাকা আছে প্রচুর। ট্যাক্স দেন না। মামলা করে রেখে দিয়েছেন। ট্যাক্স না দিয়ে ভালোই চলছেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক সুদমুক্ত; এটা সত্য। কিন্তু তার পাশাপাশি ৪০-৫০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেগুলো তো সুদমুক্ত নয়। সেইগুলোর ট্যাক্স কেন সরকারকে দেবে না? সেই রিপোর্টও এনবিআরের কাছে আছে।”

পাশে থাকা আবুল মাল আবদুল মুহিতের দিকে তাকিয়ে শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, “এখানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আছেন। এটা তার দায়িত্ব। তিনি এটা দেখবেন। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। আমি বলতে গেলে শুরু হবে নানা কথা।”

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এক সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব‌্যের সূত্র ধরে মুহিতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন একজন সাংবাদিক।

ইউনূসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর আদায়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে সংক্ষেপে ওই বক্তব‌্য দেন মুহিত।

নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ইউনূসের বিরুদ্ধে অর্থ এক তহবিল থেকে অন্যটিতে সরানোর অভিযোগ ওঠার পর ২০১১ সালে অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ে গেলেও তাতে হেরে যান ইউনূস।

 

আরও ১১ পণ্যে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলক

পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, আলু, আটা, ময়দা, মরিচ, হলুদ, ধনিয়া এবং তুষ-খুদ-কুড়ার মোড়ক হিসেবে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালার তফসিলে এসব পণ্য যুক্ত করে গেজেট জারি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পণ্যের ওজন ২০ কেজির বেশি হলে প্রযোজ্য হবে এই নিয়ম।
২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশ দেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ওই ছয়টি পণ্যের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে ১৭টি পণ্যের মোড়ক হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। নতুন পণ্যগুলোর নাম সবাইকে জানিয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব পণ্যের মোড়ক হিসেবে পাটের ব্যাগ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন করা হয়। ওই আইনে ২০ কেজির বেশি পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান এই আইন না মানলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি সর্বোচ্চ দন্ডের দ্বিগুণ হবে।

দেশের পুঁজিবাজারে ৬ বছরে বড় উল্লম্ফন

মূল্যসূচক ও লেনেদনে বড় উল্লম্ফন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে । লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৮০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯১ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার শেয়ার।
 সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইতে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএসইএক্স এক পর্যায়ে ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে পাঁচ হাজার ৭০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। দিনশেষে এই সূচক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা গত সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০ সালের ১ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ১২২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সোমবার ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় ৫১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। রোববার এই বাজারে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার দর। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৭ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে দুই হাজার ২৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে সিএসইতে ১১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো: বেক্সিমকো লিঃ,বারাকা পাওয়ার, ইসলামি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি: ফরচুন সুজ, ইসলামি ব্যাংক, ফনিক্স ফাইন্যান্স, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, পুবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কাশেম টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল ও সাউথইস্ট ব্যাংক।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি:- সিভিওপিআরএল, সমতা লেদার, রহিমা ফুড,  বিডি অটোকারস, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কেডিএস, মিরাকল ইন্ডাট্রিজ ও বাংলাদেশ সিপিং কর্পোরেশন।



Go Top