সকাল ৮:২০, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ ঢাকা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পাওয়া নারীর অর্ধগলিত লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার কদমরসুল এলাকায় বসবাসকারী বেদে সম্প্রদায়ের আলম সওদাগরের মেয়ে তানিয়া। গত পহেলা বৈশাখে স্বামী আকাশ ওরফে আব্বাসের সঙ্গে বেড়াতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ থাকেন তানিয়া। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়।


তানিয়ার মা শাহনাজ বেগম সাংবাদিকদের জানান, তারা বেদে সম্প্রদায়ের লোক। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে বন্দর উপজেলার কদমরসুল দরগাহর পাশে মিঠু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তানিয়া শহরের একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সময় পরিচয় হয় ভোলার চরফেশন উপজেলার ওমরাবাহু গ্রামের মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলের সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা বিয়ে করে। তিনি বলেন, তানিয়েকে নিয়ে আকাশ বন্দর উপজেলার একরাপুর এলাকার আলম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকত। পহেলা বৈশাখ বেড়াতে বের হওয়ার পর থেকে তানিয়া নিখোঁজ হয়।


 তার স্বামী আকাশ তাদের এসে বলে- ‘তানিয়া অন্য নাগর ধরে চলে গেছে’। তানিয়ার বাবা আলম সওদাগর সাংবাদিকদের বলেন, তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুরে। তারা প্রথমে নৌকায় থাকতেন; পরে কদমরসুল এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তানিয়া প্রেম করে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করার পর জানতে পারে স্বামী আকাশের আগের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।

 

 এ নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে আকাশের ঝগড়া হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই আকাশ তানিয়াকে খুন করেছে। বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় গ্রেফতার তানিয়ার স্বামী আকাশ ওরফে আব্বাস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

 

 পরকীয়া প্রেমের জের ধরে তানিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তানিয়ার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। লাশ উদ্ধারের আট ঘণ্টা পর তানিয়ার লাশ বলে শনাক্ত করেন তার মা শাহনাজ। বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ আকাশকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শুক্রবার সকালে তানিয়ার লাশ নবীগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গ্যাস সঙ্কটে দুর্ভোগে রাজধানীর মিরপুরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার বাসিন্দারা। মেট্রোরেলের কাজের জন্য গ্যাস লাইনের সংস্কারে গ্যাস বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস বন্ধ রাখার খবর আগেই স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।  দুপুর ২টার পর থেকে কিছু কিছু এলাকায় আবার গ্যাস আসতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। মিরপুর ১, ২, ৬, ১০, ১১, ১২ নম্বর সেকশনসহ কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে গ্যাস লাইন বন্ধ ছিল।


গ্যাস লাইন বন্ধ থাকায় খাবারের জন্য হোটেলগুলোতে ছিল ভীড়, চাহিদার তুলনায় খাবার সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ লাইন দিয়ে খাবারের অপেক্ষা করে অনেকে ফিরে গেছেন। মিরপুর -১১ নম্বর সেকশনে ১২ নং রোডের বাসিন্দা মৃদুল কুমার চাকী বলেন, সকাল থেকে বাসায় গ্যাস নেই। খাবারের জন্য সাত/আটটি হোটেল ঘুরে লম্বা লাইন ধরে, এক প্রকার যুদ্ধ করে খাবার সংগ্রহ করেছি।গ্যাস না থাকায় আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কখন গ্যাস আসবে জানিনা। মিরপুর -২ এর বাসিন্দা সাজ্জাদ খানও জানিয়েছেন একইরকম অবস্থার কথা।


 তিনি বলেন, সকাল থেকে গ্যাস না থাকায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।হোটেলগুলোতে ছিল খাবারের জন্য হাহাকার।বিশেষ করে নামাজের পরে এটা আরো চরম আকার ধারণ করে। কেননা হোটেলগুলোতে খাবারের তুলনায় চাহিদা ছিল অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে শুধু রুটি আর কলা খেয়েছি। গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে ব্যাচেলরদের। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের মতিঝিল জোনের ম্যানেজার মো  হুমায়ুন কবির (শিল্প) বলেন, লাইন সংস্কারের জন্যই গ্যাস বন্ধ রাখা হয়েছিল।


 গতরাত ১০টা থেকে সকাল ১০ টার মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও শেষ হতে প্রায় দুপুর দুইটা বেজে গেছে। দুইটার পর থেকে পুনরায় গ্যাস লাইন চালু হয়েছে। লাইন বন্ধের জন্য কোন ঘোষণা ছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলোতে মাইকিং করা হয়েছে, এমনকি টেলিভিশনে এর জন্য প্রচারণা করা হয়েছে। আগাম ঘোষণা দিয়েই সব কিছু করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে ওইসব এলাকায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বৃহত্তর মীরপুর এলাকার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে।

 

ক্ষতিপূরণ মওকুফ ট্যানারিগুলোকে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা

পরিবেশের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪২ ট্যানারির বকেয়া ৩০ কোটি ৮৩ লাখ এবং প্রতি মাসের জরিমানার ১০ হাজার টাকা মওকুফ করে কারখানাগুলোকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে জমা দিতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত।
ট্যানারি গুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে ওই টাকা শ্রম মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। হাজারীবাগ থেকে যেসব কারখানা সাভারে যাবে, তাদের শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে ওই অর্থ ব্যয় করবেন শ্রম সচিব।

ট্যানারি মালিকদের একটি আবেদনের শুনানি করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ  রোববার এই আদেশ দেয়। পরিবেশের ক্ষতিপূরণ বাবদ বকেয়া অর্থ পরিশোধের আদেশ স্থগিত এবং প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য এই আবেদন করেছিলেন ট্যানারি মালিকরা। আদালতের নির্দেশের পরও সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে না গিয়ে যেসব চামড়া কারখানা রাজধানীর হাজারীবাগে থেকে গেছে, তাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ ইতোমধ্যে বিচ্ছিন্ন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববারের আদেশে আপিল বিভাগ বলেছে, যেসব ট্যানারি কারখানা সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেছে, তাদের ১৫ দিনের মধ্যে সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাভারের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিসিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে বর্জ্য পরিশোধনের জন্য সিইটিপি ও অন্যান্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে স্থানান্তর প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে গিয়ে ধলেশ্বরী যেন আরেকটি বুড়িগঙ্গা না হয়।’ হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানোর পর সেখানে নিজস্ব সম্পত্তি বা স্থাপনা মালিকরা যদি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে চান, তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে সেখানে গ্যাস, বিদুৎ, পানির সংযোগ দিতে বলেছে আদালত। আপিল বিভাগে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো না সরানোয় কারখানাগুলোকে পরিবেশের ক্ষতি হিসেবে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। সেই টাকা ট্যানারি মালিকরা না দেওয়ায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাই কোর্টে আরেকটি আবেদন করে। এরপর বকেয়া প্রায় ৩১ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয় হাই কোর্ট। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর বিরুদ্ধে আপিল করে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার আদেশের রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চাওয়া হয়। ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে গত ৩০ মার্চ আপিল বিভাগ হাজারীবাগের সব ট্যানারি ৬ এপ্রিলের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়ে। আদেশে বলা হয়, ট্যানারি বন্ধ হওয়ার পর জরিমানা পুনর্বিবেচনার আবেদন আদালত বিবেচনা করবে।

গাড়িচাপায় নারীর মৃত্যু র‌্যাকার এনে বাস উঁচু করে বের করা হলো লাশ

স্টাফ রিপোর্টার: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মরিয়ম (৪৫) নামে এক চা বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ফাতেমা ইসলাম বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে দ্রুতগামী গাজীপুর পরিবহনের চাপায় মরিয়মের মৃত্যু হয়। তার মরদেহ বাসটির চাকার ভিতর আটকে ছিল। পরে রেকার এনে গাড়ি উঁচু করে মরদেহ বের করা হয়।


পুলিশ জানায়, মরিয়মের স্বামীর নাম আমির হোসেন। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তারা আশকোনা এলাকার সিভিল অ্যাভিয়েশন টিনশেড কলোনিতে বাস করছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। মরিয়মের চা দোকানের পাশের চা দোকানি খাদিজা বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরেও দোকান খুলে চা বিক্রি শুরু করেন মরিয়ম। একপর্যায়ে দোকানের ময়লা  ফেলতে রাস্তার ওপারে যায় সে।

 ফেরার পথে বাস চাপায় তিনি মারা যান। তিনি জানান, এ এলাকায় মরিয়ম ও তার স্বামী চা বিক্রি করেন বহু বছর ধরে। পালাক্রমে তারা দোকানে থাকতেন। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টি এম আল আমিন বলেন, মরিয়মের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, গাড়িটি আটক করা হয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে মালিককে শনাক্ত করা হবে।


অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার : গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর  রেলস্টেশন  থেকে অজ্ঞাত (২৬) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।ঢাকা রেলপথ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবিউল্লাহ জানান, রেলস্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্ম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতের কনুই থেকে দুই হাত ও দুই পা আগে থেকেই ছিল না। সে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় ভিা করত। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

 

সাভারে কিশোরের আত্মহত্যা

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি  : সাভারে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় মো. ইমন (১৫) নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গত সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

ইমন ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর গ্রামের ওমর ফরুকের ছেলে। ইমনের মামা ইমান উদ্দিন জানান, ইমন একটি মোটরসাইকেল আবদার করে তার মায়ের কাছে। কিন্তু তার মা ইয়াসমিন আক্তার মোটরসাইকেল কিনে দিতে না পারায় অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সোমবার রাতে সবাই আড়ালে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখে পুলিশ খবর দেয়। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল  ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। থানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাভারে বাসচাপায় ২ যুবক নিহত

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে  দ্রুতগামী সুপার সার্ভিস পরিবহন লি: এর বাসচাপায় দুই বাইসাইকেলের আরোহী নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে সাভারের আমিন বাজার সালেহপুর ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে নীলফামারী জেলার জলঢাকার মজিবর রহমানের ছেলে মো: সুমন (১৯) ও  ভোলা জেলার দৌলতখান থানা এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো: রাসেল (২০)। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিকে ঘটনার পর সাভার থানা পুলিশ  অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে। নিহত দুই যুবক রাজধানীর শ্যামলী আদাবর এলাকার থাকত বলে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নিহত ওই দুই যুবক  বাইসাইকেলে করে রাত ৯টার দিকে আমিনবাজার কি গাবতলীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময়  পেছন  থেকে আসা রাজধানী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৪৮০)  তাদের চাপা  দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই  সুমনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রাসেলকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তবরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

মুন্সীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় নিহত ২

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছে। উপজেলার বাউশিয়ায় মতলব সিএনজি পাম্পের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ভবেরচর হাইওয়ে ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. হাসেম জানান।

নিহতদের মধ্যে একজন নোয়াখালীর রামগতি থানার চর আফজাল গ্রামের মাঈনুদ্দিন মিয়ার ছেলে মিরাজ (২৮) বলে জানালেও আরেকজনের পরিচয় পাওয়া জানাতে পারেননি তিনি। সার্জেন্ট হাসেম বলেন, পাম্পের সামনে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি পিকআপ ভ্যানকে চালু করার জন্য মিরাজ ও আরেকজন পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই এই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ও বাসটি আটক করা হয়েছে।

 

রাজধানীতে শেষ ধাপের স্মার্ট কার্ড বিতরণ ১০ এপ্রিল থেকে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আরও ২৬টি ওয়ার্ডে সপ্তম ও শেষ ধাপের স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে। ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, ১০ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়। আগস্টে বিতরণের মাধ্যমে তা শেষ হবে। শাহ আলম বলেন, কার্ড বিতরণের বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাচ্ছি আমরা। শাহ আলম জানান, স্মার্ট কার্ড নিতে আসা নাগরিকদের হাতের দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহ করা হবে।

কার্ড নিতে আগের লেমিনেটেড এনআইডি সঙ্গে আনতে হবে। যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে ফোন করে স্মার্ট কার্ড বিতরণ সম্পর্কিত তথ্য জানা যাবে। স্মার্ট জাতীয় পেতে মূল জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ে স্বশরীরে নির্দিষ্ট বিতরণ কেন্দ্রে হাজির থাকতে হবে। যারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি, তাদের মূল নিবন্ধন সিøপ সঙ্গে নিতে হবে।

মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা নিবন্ধন সিøপ হারিয়ে গেলে থানায় জিডি করে জিডির মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। নির্ধারিত দিনে স্মার্ট কার্ড নিতে ব্যর্থ হলে পরে সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে তা নিতে হবে বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ অক্টোবর রাজধানীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়িতে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি প্রাইভেটকারে আগুন লেগেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। গতকাল বিকালে এ ঘটনা ঘটে। যান্ত্রিক ত্র“টি থেকে আগুনের সূত্রপাত নাকী নাশকতা- তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ধারণা, গাড়িটির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে।


ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি প্রাইভেটকারে আগুন লাগে। খবর পেয়ে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট পাঠানো হয়। ৮ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সম হন ফায়ার কর্মীরা।সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কে হঠাৎ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো ১৫-২৭৫৪) দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যানচলাচল বন্ধ করে দেন এবং দ্রুত সড়কের দুপাশে অবস্থান নিয়ে আগুন নিভানোর চেষ্টা চালান। তাৎণিকভাবেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে গাড়িটিতে আগুন লাগে। পরে আগুন নিভিয়ে গাড়িটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যানচলাচল শুরু করে।

কামরাঙ্গীরচরে বস্তিতে আগুন : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নুরবাগ বস্তিতে অগ্নিকান্ড ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে বস্তির ৮টি ঘর পুড়ে গেছে বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে নূরবাগ নদীর পাড়ের ওই বস্তিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত করছে ফায়ার সার্ভিস।

 

জঙ্গি পরিচয়ে এডিবি কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি, গ্রেফতার ২


স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকায় কর্মরত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)  পোর্টফোলিও ম্যানেজার জাপানি নাগরিক ইওসুমোবু তাতেওয়াকিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছেন- হাবিবুল্লাহ (৩২) ও এনামুল হক ভুঁইয়া (৩০)। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাদের  গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হুমকি প্রদানের কাজে ব্যবহৃত   মোবাইল সেট ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।


সিটিটিসি জানায়, গ্রেফতাররা গত ১৭ ফেব্র“য়ারি এডিবির ওই কর্মকর্তার মোবাইলফোনে  ‘জামাত-ই-তালিবান’ পরিচয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ম্যাসেজ পাঠায়। এ ঘটনায় তিনি গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। পুলিশ জানায়, কেন তারা এডিবি কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছিল- তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে।

 

বোবা কিশোরীকে দলবেঁধে ‘ধর্ষণ’


নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদী শহরতলীতে অজ্ঞাত পরিচয় এক বোবা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে নরসিংদী শহরতলীর টাওয়াদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন মিয়া জানিয়েছেন।তিনি জানান, বুধবার নরসিংদী সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীা সম্পন্ন হওয়ার পর মেয়েটিকে সমাজসেবা কর্তৃপরে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 
গ্রেফতাররা হলেন টাওয়াদী গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মুরাদ (১৭), একই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে সামসুল (২২), ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সুরুজ আলীর ছেলে সুমন (২৬) ও ফজলুল হকের ছেলে উজ্জ্বল (১৭)। শেষের দুজন ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। আটক যুবকরা মেয়েটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে পরিদর্শক সালাহউদ্দিন জানান।


জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকা থেকে এই কিশোরীকে (১৫) খাবার দেওয়ার কথা বলে চার অটোরিকশা চালক মুরাদ, সুমন, উজ্জ্বল ও সামসুল শহরতলীর টাওয়াদী গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। “সেখানে একটি ঘরে রেখে তাকে মুরাদ ও সুমন ধর্ষণ করে। ওই সময় উজ্জ্বল ও সামসুল তার হাত ও মুখ ধরে রাখে।

ওই মেয়েটি বারবার চিৎকার ও মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে ছুটে আসে এবং ওই চার যুবককে আটক করে টহল পুলিশে সোপর্দ করে, বলেন তিনি। তিনি বলেন, বোবা মেয়েটি তাকে ধর্ষণের কথা ইশারায় বুঝিয়েছে। ওই সময় নরসিংদী শহর থেকে বোবাদের এক শিককে ডেকে তার সঙ্গে কথা বলানো হয়। এতে পুলিশ তার ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পারে। “পরে জিজ্ঞাসাবাদে চার যুবকও ধর্ষণের কথা স্বীকার করে।

 
পরিদর্শক সালাহউদ্দিন জানান, এ ঘটনায় সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে মুরাদ, সুমন, উজ্জ্বল ও সামসুলের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মেডিকেল পরীার পর মেয়েটিকে সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন।

 

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী  মো. আব্দুস সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে আসামিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন।

বুধবার দুপুরে গাজীপুর  জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ  কে এম এনামুল হক এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুস সাত্তার ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানাধীন এনায়েতপুর এলাকার মো. ইব্রাহীমের  ছেলে এবং তার স্ত্রী হাসিনা (৩২) একই এলাকার মৃত. সাহেদ আলী মন্ডলের মেয়ে।

গাজীপুর জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমদ জানান, ১৫ বছর আগে ময়নসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার এনায়েতপুর এলাকার মৃত সাহেদ আলী মন্ডলের  মেয়ে হাসিনাকে বিয়ে করে আব্দুস সাত্তার। গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাড়িয়ালী এলাকার শাহজাহান ড্রাইভারের ভাড়া বাসায় বসবাস করে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই স্থানীয় একটি  পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

২০১৬ সালের ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাসিনা কর্মস্থলে চলে যায়। কিন্তু ওই রাতে তিনি আর বাসায়  ফেরেনি। পরদিন সকাল ৮টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের  টেকনগপাড়া এলাকায় পতিত জমিতে গলায় ওড়না  পেচানো অবস্থায় হাসিনার মরদেহ  দেখে পুলিশে খবর  দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় ৭ মার্চ নিহতের ভাই  মো. রাজ্জাক বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার তদন্ত করে সাত্তারকে  গ্রেফতার করে। পরে  সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। অবশেষে ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে  বুধবার দুপুরে সাত্তারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন আদালত। এ দম্পতির আকাশ (৯) ও পুস্প (১৩) নামে দুটি সন্তান রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি হারিজউদ্দিন আহম্মেদ এবং আসামি পক্ষে ছিলে এডভোকেট এ কে এম মাসুম আল আজাদ।

মিরপুরে বস্তিতে আগুন


স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুর বাউনিয়া বস্তিতে অগ্নিকান্ডে অন্তত ৩০টি ঘর পুড়ে গেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস নিয়্ন্ত্রণ করে কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে বস্তিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে তাদের নয়টি ইউনিট দুই ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। য়তির পরিমাণ আনুমানিক তিন লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

 

রাজবাড়ীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১


রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় গ্রেপ্তার তরুণকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়েছে।
পাংশা থানার ওসি মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শরিষা ইউনিয়নের নাওড়া বনগ্রামে গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোয়াজ্জেম হোসেন (৩২) একই উপজেলার পাট্টা গ্রামের আবদুল মজিদ ফকিরের ছেলে।

ওসি মোফাজ্জেল  বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে নিয়ে রাতে নাওড়াবন গ্রামের একটি বটগাছের নিচে পুঁতে রাখা অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে দুর্বৃত্তরা পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে।“পুলিশ পাল্টা গুলি করে। এ সময় মোয়াজ্জেম গাড়ি থেকে দৌড়ে পালাতে গেলে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে সে আহত হয়। তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, মোয়াজ্জেমের নামে পাংশা থানায় সাতটি হত্যাসহ চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক মামলা রয়েছে।লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

টিএসসি থেকে ছোরাসহ মাদ্রাসা ছাত্র আটক


ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে ছোরাসহ এক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন যুবক ১১ বছরের ওই মাদ্রাসাছাত্রকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান।
ছেলেটি ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসায় পড়ে জানিয়ে তিনি  বলেন, “ছেলেটি টিএসসি এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় কয়েকজন যুবকের সন্দেহ হয়। তাকে ধরে কাছে থাকা ব্যাগ খুলে একটি চাকু, টুথব্রাশ, পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ নিত্য ব্যবহার্য কিছু জিনিস পাওয়া যায়।
 
পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবদ করলে দুপুরে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টিএসসি এলাকায় আসার কথা বলে ছেলেটি।
 “মাদ্রাসায় লেখাপড়া ভালো না লাগার কারণে সে পালিয়ে এসেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। বলেছে, পালিয়ে আসার সময় সে তার ব্যাগে এসব জিনিস নিয়ে আসে। ”
তার এই কথার সত্যতা যাচাইয়ে মাদ্রাসাসহ বাড়ি ও অন্যান্য জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।

 

পুলিশকে ঘুষ দিতে এসে আইনজীবীর সহকারী গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে দিতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক আইনজীবীর সহকারী। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নাসির উদ্দিন সরকার জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টায়থানার ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান রুবেল (২২)নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবী জুবায়ের আলম জীবনের সহকারী হিসেবেকাজ করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত র‌্যাব অভিযান চালিয়ে শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের মূলহোতা মো. জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম ওরফে বানেছাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করে। এই ঘটনায় মামলা হলে ওই মামলায় তাদের দুইদিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে রুবেল রিমান্ডে থাকা আসামিদের মধ্যে জাকির ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ না করে আদালতে পাঠানোর জন্য ৪৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে তদবির করতে থাকেন। পরে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে মাহমুদুল হাসান রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনজীবী জুবায়ের আলম জীবন বলেন, মাহমুদুল হাসান রুবেল অফিসে আসেনি। ঘুষের বিষয়টি আমার জানা নেই।বিষয়টি আমি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

 

 

নাগরপুরে ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত বিভিন্ন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ ইটভাটার ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ অধিদফতর আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা ও একটি ইটভাটার ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার  তৌহিদ ইলাহী।
উপজেলার বিভিন্ন ভাটায় গিয়ে দেখা যায় পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম না মেনে, ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। যা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন এর সুস্পষ্ট লংঘন। এজন্য উপজেলার কলিয়া গ্রামে অবস্থিত তাজ ব্রিক ফিল্ডের ড্রাম চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া এটিএম, রাবেয়া ও একতা ব্রিক ফিল্ডকে বিভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন ধারায় ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

নারায়নগঞ্জে ৭ খুনে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামির আত্মসমর্পণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত ওয়াহিদুজ্জামান সেলিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারের কনডেম সেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন। এই মামলায় রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিসহ নয়জন এখনও পলাতক রয়েছেন। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি আব্দুল আলীম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, ওয়াহিদুজ্জামান সেলিম ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আরেক আসামি নূর হোসেনের সহযোগী। রায় ঘোষণার ২৭ দিনের মাথায় আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ৬ দোকান


গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে চারটি মুদি ও দুটি মুরগির দোকান পুড়ে গেছে।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক মো. জিহাদ মিয়া জানান, উপজেলার নয়নপুর বাজার এলাকায় সোমবার মধ্যরাতে আগুন লাগে।

খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। তবে তার আগেই আবুল হাশেম মিয়া, শরিফ মিয়া, মোবারক মিয়া, মামুন মিয়ার মুদির দোকান ও এজাজ মিয়ার মুরগিসহ দুটি দোকান পুড়ে যায়।

হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে তিনি বলেন, আগুনে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

মুন্সীগঞ্জে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে লাকু সরকার (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাজীব (২২) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লাকু উত্তর বালাশুর গ্রামের নতুন বাজার এলাকার মো. জয়নাল সরকারের ছেলে। আহত রাজীব একই গ্রামের ইউনুসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বালাশুর গ্রামের মো. ইউনুসের বাড়িতে লাকু চুরি করতে গেলে রাজীব তাকে দেখতে পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করে। এসময় লাকু রাজীবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। রাজীবের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে লাকুকে আটক গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। অপরদিকে আহত রাজীবকে ষোলঘড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শ্রীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহিদুর রহমান  জানান, মরদেহটি শ্রীনগর থানায় নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবক নিহত

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে বাবুল রানা (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার দুপুরে উপজেলার বাগারপাড়া এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রানা পঞ্চগড় সদর থানার গোয়ালঝাড় এলাকার নবীবুর রহমানের ছেলে। নরসিংদীর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়লে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছ।

 

বাবাকে গালা কেটে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে


শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলের বিরুদ্ধে। গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালিনগর গ্রামে গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে গোসাইরহাট থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান। নিহত ওয়ারেছ খান (৭০) ওই এলাকার বাসিন্দা। নিহতের ছেলে দবির উদ্দিন খানকে (২২) পুলিশ আটক করেছে। তিনি স্থানীয় শামসুর রহমান কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
 
নিহত ওয়ারেছ খানের ভাতিজা রুবেল খান  জানান, দবির ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য দবির তার বাবাকে বারবার অনুরোধ জানালেও ছেলের ‘মানসিক সমস্যার’ কথা বিবেচনা করে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি। রুবেল বলেন, এর জেরে সকাল ৯টার দিকে দবির ধারালো দা দিয়ে ওয়ারেছকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর গলায় কোপ দিলে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা গিয়ে দবিরকে আটক করে গোসাইরহাট থানায় হস্তান্তর করে বলে জানান তিনি।

 নিহতের মেয়ে নাজমা বেগম বলেন, আমার ছোট ভাই দবিরের ‘মানসিক সমস্যা’ দেখা দিলে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরে দবিরকে ফেলে তার স্ত্রী চলে যান। তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে যায়নি বলে দবির বাবাকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে। ওসি মেহেদী বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে দা দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

গোপালগঞ্জে ‘বিবস্ত্র স্কুলছাত্রীর ভিডিও ধারণ’, আত্মহত্যার চেষ্টা


গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক এসএসসি পরীার্থীকে বিবস্ত্র করে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লজ্জায় ওই ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। কান্দি ইউনিয়নের কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। মেয়েটি কোটালীপাড়ার পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীায় অংশ নিচ্ছিল।

 ঘটনার কারণে তার পরীা বন্ধ হয়ে গেছে। তার বাবা একজন স্কুল শিক।
কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এমন খবর আমাদের কাছে আসেনি। ছাত্রীর পরিবারের প থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে, বখাটেদের ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে পারছেন না বলে স্বজনদের ভাষ্য। স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, গত রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিষপানের পর মেয়েটিকে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ফের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীটি জানিয়েছে, রোববার রাতে সে ঘরের বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছিল। মা-বাবা ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন্ বারান্দা থেকে বের হয়ে বাইরে শৌচাগারে যাচ্ছিল।

ওই সময় কান্দি গ্রামের শ্রীধাম মন্ডলের ছেলে সম্রাট মন্ডল, তার সহযোগী বঙ্কিম বিশ্বাসের ছেলে সজল বিশ্বাস ও নির্মল বসুর ছেলে মিঠু বসু তার মুখ চেপে তুলে শৌচাগারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বিবস্ত্র করে শৌচাগারের বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে মেবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ অপমান সইতে না পেরে ঘটনার পরই সে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে জানান। সম্রাট মন্ডল তাকে প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ওই শিার্থীর দাবি। মেয়েটির প্রতিবেশী পিঞ্জুরী গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, সম্রাট, মিঠু ও সজল সমবয়সী। তারা মাদক সেবন করে এবং এলাকায় ভবঘুরে বখাটে হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তারা  একাধিক মহিলাকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করেছে।

সম্রাট এই স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে জানান তিনি। ওই ছাত্রীর স্কুল শিক বাবা বলেন, এ ঘটনা ফাঁস করলে বখাটেরা তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। তাই ভয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার মেয়ে এসএসসি পরীা দিতে পারছে না বলে জানান।

 

বিএনপির সাবেক এমপি সালাউদ্দিন জামিনে মুক্ত


গাজীপুর প্রতিনিধি : ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা যাত্রাবাড়ির সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি ছাড়া পান বলে কারাকর্তৃপ জানায়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সালাহউদ্দিন আহমেদের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছ।

 যাচাইবাছাই শেষে শুক্রবার বেলা ১টা ১৫ মিনিটে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। প্রশান্ত জানান, তার বিরুদ্ধে মারামারি, ভাংচুর ও নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলা  রয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার ওয়ারি থানার একটি মামলায় তিনি জামিন পান। গ্রেফতারের পর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।

 

পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্যাংক কর্মকর্তার


স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারীর মৃত্যুব হয়েছে। নিহত সাহিদা আক্তার (২৫) যমুনা ব্যাংকের রাজউক শাখায় কর্মরত ছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম থানার মোহাম্মদপুর গ্রামে। বাড্ডা থানার ওসি এমএ জলিল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সাহিদা ফুফাতো ভাই হান্নানের মোটর সাইকেলে করে ওয়ারীর বাসায় ফিরছিলেন।

মেরুল বাড্ডায় পেছন থেকে একটি পিকআপ তাদের মোটর সাইকেলকে ধাক্কা দিলে সাহিদা ছিটকে পড়েন, হান্নানও আহত হন। সাহিদাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার জন্য  দায়ী পিকআপটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে বলে জানান ওসি।

 

জামালপুরে জেএমবি সদস্য গ্রেফতার


জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর সদর উপজেলায় সন্দেহভাজন এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সদর থানার ওসি নাসিমুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় বামুনজি বিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আলবেরুনী ওরফে সবুজ ওরফে দিদার ওরফে রনি (৩২) সদর উপজেলার পশ্চিমপাড় গিঘুলী গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে। ওসি নাসিমুল  বলেন, তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য আলবেরুনী দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বামুনজি বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতার আলবেরুনীর নামে ঢাকার গুলশান থানায় মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি নাসিমুল।

 

রূপগঞ্জে অপহৃত স্কুলছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মুক্তিপণের ৪৫ হাজার টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা তাজুল ইসলাম (৭) নামে ১ম শ্রেণির শিশু স্কুলছাত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুজন নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার বিল থেকে ওই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজুল ময়মনসিংহ জেলার ইশ^রগঞ্জ থানার বিরকাঠালিয়া এলাকার আব্দুল আউয়াল মিয়ার ছেলে। আব্দুল আউয়াল পরিবার নিয়ে উপজেলার ভুলতা টেলাপাড়া এলাকার মোশারফ মিয়ার বাড়িতে বসবাস করে রাজমিস্ত্রির কাজ করে আসছে। নিহত তাজুল ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়–য়া ছাত্র। গ্রেফতারকৃত সুজন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার মাতারপুর এলাকার আব্দুল হকের ছেলে। সে উপজেলার পুরান বাজার এলাকায় বসবাস করে আসছে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সুজন নিহত তাজুল ইসলামের বড় ভাই মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় একটি কাপড়ের ছাপা কারখানায় কাজ করতো। সে সুবাদে সুজন প্রায় সময়ই মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলে। এছাড়া প্রায় সময়ই খেলাধুলার জন্য তাজুল ইসলামকে মোবাইল দিত। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে প্রলোভন দেখিয়ে সুজনসহ একদল অপহরণকারী তাজুলকে অপহরণ করে। পরে তার পিতা আব্দুল আউয়ালের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ না করা হলে তাজুলকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়। গত রোববার রাতে দাবিকৃত মুক্তিপণের ৫ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়। মুক্তিপণের বাকি ৪৫ হাজার টাকা না দেওয়ায় তাজুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।

এদিকে অপহরণের বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে সুজনকে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সুজনের তথ্য অনুযায়ী উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার বিল থেকে তাজুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন অপহরণের পর গলাটিপে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে মামুন নামে আরো একজন জড়িত রয়েছে বলে গ্রেফতারকৃত সুজন স্বীকার করেছে। নিহত তাজুল ইসলামের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাজুল ইসলামের বাবা আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে স্কুলছাত্র আদনান খুন: গ্রেফতার ৮

রাজধানীর উত্তরায় স্কুললছাত্র আদনান কবীর হত্যার ঘটনায় ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগ বস’ নামে কিশোরদের দুই গ্যাংয়ের দলনেতাসহ আটজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাকু, দুইটি চাপাতি, দুইটি রড, তিনটি ¯েপ্র কালার বোতল, দুইটি স্কুল ব্যাগ এবং চার পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতাররা হচ্ছে- শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু (২২), আক্তারুজ্জামান ছোটন (১৯), শাহীনুর রহমান (১৭), রমজান মোবারক (১৭), সেলিম খান (২৩), মো. ইব্রাহিম হোসেন সানি (২৮), মিজানুর রহমান সুমন (২২) ও জাহিদুল ইসলাম জুইস (২১)। র‌্যাবের ভাষ্য, গ্রেফতার সেতু ‘ডিসকো গ্যাং’ দলের নেতা। আর আকতারুজ্জামান ‘বিগ বস গ্যাং’ দলের নেতা। এই দুই গ্যাং ও নাইন স্টার গ্যাংসহ স্থানীয় কয়েকটি গ্র“পের আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদনান খুন হয়। আদনানের সাথে নাইনস্টার গ্র“পের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে  বুধবার দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিচালক (গণমাধ্যম) মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জাহিদুল নিজের মুখে কাপড় বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আদনানের ওপর হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব জানায়, সেতুর নেতৃত্বে ২০০৯ সালে উত্তরায় ‘ডিসকো বয়েজ’ গ্র“পের উত্থান ঘটে। এই গ্র“পের সহযোগী হিসেবে ২০১৬ সালে আকতারুজ্জামানের নেতৃত্বে ‘বিগ বস’ গ্র“পের আবির্ভাব ঘটে। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাজু নামে এক তরুণের নেতৃত্বে ২০১৩ সালে আসে ‘নাইন স্টার’ গ্র“প। সম্প্রতি তাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্র“পগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ জানুয়ারি ডিসকো বয়েজ ও বিগ বস গ্র“পের সদস্যরা নাইন স্টার গ্র“পের রাজুসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। হামলার মূল লক্ষ্য রাজু হলেও ঘটনার শিকার হয় আদনান খুন হয় নাইন স্টার গ্র“প ঘনিষ্ঠ আদনান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় ৩০টির মতো ছোট-বড় গ্যাং রয়েছে। এসব গ্যাংয়ের বর্তমান সদস্যসংখ্যা শতাধিক। গ্যাংয়ের সদস্যরা উঠতি বয়সী তরুণ ও কিশোর। তারা উচ্চ, মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে। গ্যাংয়ের মূল্য লক্ষ্য এলাকাভিত্তিক প্রাধান্য বিস্তার। তারা এলাকার স্কুল-কলেজে র‌্যাগিং, ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদকসেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, অশ্লীল ভিডিও শেয়ারের মতো কাজ করে। অনেক সময় এলাকার নিরীহ ও মেধাবী তরুণ-কিশোরদের জোর করে গ্যাংয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। ফেসবুকে এক গ্র“প অন্য গ্র“পকে হুমকি দেয়। আইডি হ্যাক করে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে শাহরিয়ার বিন সাত্তার সেতু ডিসকো বয়েস গ্র“পের ‘গ্যাং লিডার’। এই গ্র“পের আরেক সদস্য জুইস উত্তরা স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে বাকি ছয়জন বিগবস গ্র“পের সদস্য জানিয়ে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বিগবস গ্র“পের লিডার হচ্ছে আক্তারুজ্জামান ছোটন। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে অধ্যায়নরত ছোটনের নামে আগেও একটি মামলা রয়েছে। এই গ্র“পে গ্রেফতারদের মধ্যে সুমন এইচএসসি পাশ বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে বলেছে। মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেফতার অন্যদের স্কুলে যাতায়াত নেই বললেই চলে।

তিনি জানান, বিগবস গ্র“পে ছোটন এবং সুমন দুই ভাই। এরা হকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সানি ইজি বাইক চালক, সেলিম পোশাক কারখানায় চাকরি করে, রমজান সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আর শাহীন পরিবহন সেক্টরে চাকরি করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি বলেন, ২০০১ সালে উত্তরা এলাকায় গ্যাং কালচার শুরু হয়। সেই সময় কাঁকড়া নামে একটি গ্র“প তৈরি হয়। তবে ওই গ্র“পটি বেশিদিন টিকেনি। র‌্যাবের অনুসন্ধানে উত্তরায় অন্তত ১৫টি এ ধরনের গ্র“প চালু থাকার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ গ্র“পের সদস্য সাধারণত ‘স্কুল ড্রপ’ বালক। এই সব গ্র“পে বাইরের সদস্যরা প্রধান হয় এবং তারা প্রভাব বিস্তার করে। গ্রেফতাররা আদনান হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল কিনা জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে তাদের ধরেছি। বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। তবে জুইস ঘটনার সময় ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।’

 

নারায়ণগঞ্জে ট্রাক খাদে, নিহত ৪

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ট্রাক খাদে পড়ে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আষাড়িয়ার চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদের জানান। নিহতরা হলেন – মাদারীপুরের কেন্দুয়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে অপু হাওলাদার (২২), একই গ্রামের হোসেন চৌকিদারের ছেলে ওবায়দুল  (২৬),  পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার উলায়া গ্রামের রফিক মজুমদারের ছেলে আবু তাহের (২০) ও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানার চরমোমতাজ গ্রামের  ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে মোশারফ হোসেন (৩০)।

ওসি কাদের  বলেন, ট্রাকটি একটি কারখানার জন্য ঢাকা থেকে সাদা কাগজ নিয়ে আসছিল। ট্রাকের উপরে ছিলেন দশ শ্রমিক। আষাড়িয়ার চর এলাকায় সরু রাস্তায় বাঁক ঘোরানোর সময় পাশের খাদে উল্টে পড়ে ট্রাকটি। এতে ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। পরে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহতদের সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় বলে জানান ওসি কাদের। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ চালকের খবর পায়নি। আর নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে গেছে।



Go Top