সকাল ১১:০৫, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ঢাকা

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ধানতে থেকে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; মোবাইল ফোনের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নান্দিয়াসাংগুন এলাকায় তার পাওয়া যায় বলে জানান শ্রীপুর থানার এসআই বিনয় কুমার। নিহত হিমেল (১৩) ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুথার চর গ্রামের দুবাই প্রবাসী কাজল মিয়ার ছেলে। নান্দিয়াসাংগুন এলাকায় নানা আবু তালেবের বাড়িতে থেকে স্থানীয় বিডি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনা করত সে।

এ ঘটনায় হিমেলের এক বন্ধুকে আটক করা হয়েছে। সে অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫) হওয়ায় তার নাম পরিচয় প্রকাশ করা হলো না। এসআই বিনয় কুমার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় কে বা কারা মোবাইল ফোনে কল করে হিমেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। রাতে আর বাড়ি ফিরেনি এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। হিমেলের খালা ফাতেমা বলেন, রাতে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও হিমেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টার দিকে বাড়ির কাছে একটি ধান েেত কাদার মধ্যে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে হিমেলের লাশ দেখতে পাই। তবে তার ফোনটি পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিমেলের এক বন্ধুকে আটক করা হয়েছে। বিদেশ থেকে তার বাবার পাঠানো দামি ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওরা ৩ জন এখন কয়েদির পোশাকে কনডেম সেলে

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ বরখাস্ত তিন কর্মকর্তাকে কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। দণ্ডিত হওয়ায় তাদের ডিভিশন বা বিশেষ সুবিধা বাতিল করে পরানো হয়েছে কয়েদির সাদা-কালো পোশাক। এখন থেকে সাধারণ বন্দির মতোই খাবার জুটবে তাদের। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিদেরও কনডেম সেলে রাখা হবে।

কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী দণ্ডিত হওয়ার পর আর ডিভিশন কার্যকর থাকে না। তাই তাদের এখন সাধারণ ফাঁসির আসামি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি হওয়ায় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারিও থাকবে।

কারা সূত্র জানায়, সাত খুন মামলার আসামিদের মধ্যে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন গাজীপুরের কাশিমপুর-২ এবং মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার মাসুদ রানা কাশিমপুর-১ কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে র‌্যাব থেকে বরখাস্ত হওয়া তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এতদিন ডিভিশন পেয়ে আসছিলেন।
আদালতের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সোমবার থেকেই তাদের আলাদা সেলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ২৩ আসামির মধ্যে বাকিরা রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। এর মধ্যে যাদের ফাঁসির রায় হয়েছে, তাদের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কনডেম সেলের কয়েদিরা দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবে সাদা ভাত, ডাল, সবজি ও মাছ বা মাংস পেয়ে থাকেন। দণ্ডিত হওয়ায় এখন থেকে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তাদেরও এ খাবার সরবরাহ করা হবে। এখন তারা কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জের কারাগারে থাকলেও পরে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।

দণ্ডিতদের মধ্যে তারেক সাঈদ কারাবন্দি অবস্থাতেও বিলাসী জীবন কাটিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। শ্বশুর মন্ত্রী হওয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এসব সুবিধা নেন বলেও দাবি করেন কেউ কেউ। কারাগারে তার জন্য টেলিভিশন, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পানির ফিল্টার ইত্যাদি পাঠানো হয়েছিল।

যেভাবে ‘বেড়েছেন’ নূর হোসেন

ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে শুরু; এরপর কৃষক লীগ ও বিএনপি ঘুরে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, যাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার পর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

কেবল সাত খুন নয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ-কাঁচপুরজুড়ে চাঁদাবাজি, শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা, উচ্ছেদে বাধা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এক মামলায় গতবছর নূর হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওই রায়ের সময় তিনি ছিলেন ভারতের কারাগারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় সিদ্ধিরগঞ্জে ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন নূর হোসেন। ১৯৯২ সালে তিনি কৃষক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে বিএনপির সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন আহমেদের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন নূর হোসেন। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমানের হাত ধরে তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগে। পরে বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়ন কাঁচপুর শাখার সভাপতি হন।

পুলিশের খাতায় নাম উঠে যাওয়ায় ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এলাকায় ছিলেন না নূর হোসেন। থানার ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাকে ধরতে ইন্টারপোলেরও সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।    

নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে এলাকায় ফেরেন নূর হোসেন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এভাবেই ধীরে ধীরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি।

নূর হোসেনের এই ‘উত্থান’ কাছ থেকে দেখেছেন বিলুপ্ত সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও বিএনপি নেতা আবদুল মতিন প্রধান।

তিনি বলেন, “তার যত অপকর্ম আছে তা বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় এসেছে। এলাকার মানুষ সবই জানে। নূর হোসেন কতটা কুখ্যাত, তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই।”  
সাত খুনের ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার আগে সাংসদ শামীম ওসমানকে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন নূর হোসেন। ওই কথোপকথন ফাঁস হলে গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।
সেখানে নূর হোসেনকে বলতে শোনা যায়, “ভাই আপনি আমার বাপ লাগেন ভাই। ভাই জীবনটা আপনেরে আমি দিয়া দিমু ভাই। আপনারে আমি অনেক ভালোবাসি ভাই।”
পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম। সেখানে ওই কথোপকথনের সত্যতাও তিনি স্বীকার করেন।
বিভিন্ন থানার নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলায় নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করে বিআইডব্লিউটিএ। সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং নদীতীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলেরও অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।

গত কয়েক বছরে ওই জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে আট-দশবার অভিযান চালানো হলেও নূর হোসেন ও তার সমর্থকদের বাধার মুখে সেসব অভিযান সফলতার মুখ দেখেনি।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কাঁচপুর সেতুর নিচে বালু-পাথরের অবৈধ ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা আবার চালু হয়।
নূর হোসেন ও তার লোকজনের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালের অগাস্ট মাসে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ।

তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নূর হোসেনের লোকজন শিমরাইল-কাঁচপুরে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করে এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ সিটি করপোরেশন ট্রাক টার্মিনালে মেলার নামে জুয়ার আসর বসানো ও মাদক বিক্রির অভিযোগও ওঠে সাবেক এ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে একটি রিট আবেদন হলে ২০১৩ সালের এপ্রিলে হাই কোর্ট সেখানে ‘ইনডোর গেমসের নামে অবৈধ কর্মকাণ্ড’ না চালানোর শর্তে মেলা আয়োজনের অনুমতি দেয়।
এলাকাবাসী জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এ সহ-সভাপতি এক সময় ২০টি গাড়ির বহর নিয়ে চলাফেরা করতেন। লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে তার এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

সাত খুনের ঘটনার পর ২০১৪ সালের মে মাসে জেলা প্রশাসন নূর হোসেন এবং তার সহযোগীদের নামে নেয়া ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে।
২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের লাশ উদ্ধারের পর অভিযোগের আঙুল ওঠে নূর হোসেনের দিকে।

নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম সে সময় অভিযোগ করেন, র‌্যাবকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেন ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পরে র‌্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তার সত্যতা পাওয়া যায়।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে নিরুদ্দেশ হন সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের এই নেতা। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নূর হোসেন এবং র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার এই পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন দুই সহযোগীসহ কলকাতায় গ্রেপ্তার হন নূর হোসেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠান।

২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার নূর হোস্সেহ ৩৫ আসামির বিচার শুরু হয়।  এর ১১ মাসের মাথায় রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন, তাতে নূর হোসেনসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় আসে।

আপিল করবেন নূর হোসেন, তারেক সাঈদ

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন ও তারেক সাঈদ মোহাম্মদ হাই কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক সময়ের স্থানীয় নেতা নূর হোসেন ২০১৪ সালে ওই হত্যাকাণ্ডের সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ছিলেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ এ মামলার ২৬ আসামিকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মামলার বাকি নয় আসামিকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।

রায়ের পর আসামি নূর হোসেন ও তার সহযোগী মিজানুর রহমান দিপুর আইনজীবী খোকন সাহা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মক্কেলরা মনে করে, এটা তাদের বক্তব্য, আমাদের বক্তব্য না, তারা মনে করেন, তারা ঘটনার সাথে জড়িত না। সঠিক বিচার পায় নাই। তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এটা হচ্ছে আমাদের মক্কেলের পক্ষে আমাদের বক্তব্য।”
তারেক সাঈদের বাবা মুজিবুর রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা এম এম রানার শাশুড়ি সুলতানা রহমান শিল্পী রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তাদের আইনজীবীরা আপিল করার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তারেক সাঈদের আইনজীবী সুলতানুজ্জামান বলেন, “আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। হাই কোর্টে আপিল করব, আশা করি প্রতিকার পাব।”
তিনি বলেন, “১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দেওয়া হয়েয়েছে তা ইনকালপিটরি নয়, এক্সকালপিটরি ইন নেচার। এর ওপর নির্ভর করে পূর্ণাঙ্গ শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি না।”

তারেক সাঈদের আরেক আইনজীবী শাহাবুদ্দিন বলেন, “আবেগতাড়িত হয়ে রায় দিয়েছে। কোনো ধরনের প্রমাণ আদালতে হাজির করতে পারেনি। পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট দিলেই তো হবে না, সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। তারিক সাঈদ (হত্যার) নির্দেশ দিয়েছে এ ধরনের কোনো কাগজপত্র বাদীপক্ষ আদালতে হাজির করতে পারেনি।”
বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানার আইনজীবী রিতা ইসলামও উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা সাংবাদিকদের বলেছেন।
এ মামলার আসামিদের মধ্েয আরেক র‌্যাব কর্মকর্তা বরখাস্ত মেজর আরিফকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। তার হয়ে এ মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবীর এম এ রশিদ ভূইয়া।

রায়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিজ্ঞ বিচারক বিচারিক বিবেচনায় এ রায় দিয়েছেন। আসামিপক্ষ যদি এ রায় ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হন, তারা আপিল করতে পারবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপিল করলে আসামিপক্ষ সুফল পাবেন।”
এই রায়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট- তা বলব না। এ বিষয়ে আসামি বলবেন। আপিল করলেও সেটা তিনিই করবেন। রায়ের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।”

সাত খুনের ঘটনায় দণ্ডিত ৩৫ জনের মধ্েয ২৫ জনই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। মামলার নথিতে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

নারায়নগঞ্জের ৭ খুনের মামলার রায় নূর হোসেন ও তারেক সাঈদসহ ২৬ জনের ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন  সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

তিন বছর আগে নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ওই ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দেয়। ওই হত্যাকান্ডে এলিট বাহিনী র‌্যাবের কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্যয় বেরিয়ে এলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যেমেরও শিরোনাম হয়। বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন বহু প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে সময় নেন মাত্র কয়েক মিনিটে। আসামিদের সাজার অংশটিই কেবল তিনি পড়ে শোনান। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা নূর হোসেন, ওই হত্যাকান্ডের সময় র‌্যাব-১১ এর অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বরখাস্ত) মাসুদ রানাসহ ২৩ আসামি রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েননি। রায় ঘোষণার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের সমর্থক এবং আইনজীবী চন্দন সরকারের সমর্থকরা আদালতের বাইরে উল্লাসে ফেটে পড়েন। চন্দন সরকারের পরিবারের হয়ে এ মামলা লড়েন আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান, যিনি গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যের সবার মৃত্যুদন্ড হলে আরও বেশি খুশি হতাম।’   

যার যেমন সাজা  
নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মৃত্যুদন্ড। তারেক সাঈদ মোহাম্মদ র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল    মৃত্যুদন্ড। আরিফ হোসেন র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার, বরখাস্ত মেজর, মৃত্যুদন্ড। মাসুদ রানা র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার    মৃত্যুদন্ড। এমদাদুল হক হাবিলদার, মৃত্যুদন্ড। আরিফ হোসেন    আরওজি-১    মৃত্যুদন্ড। হীরা মিয়া    ল্যান্স নায়েক মৃত্যুদন্ড। বেলাল হোসেন    ল্যান্স নায়েক    মৃত্যুদন্ড। আবু তৈয়ব    সিপাহি মৃত্যুদন্ড। মো. শিহাব উদ্দিন    কনস্টেবল    মৃত্যুদন্ড। পুর্নেন্দ বালা, এসআই মৃত্যুদন্ড। রুহুল আমিন কর্পোরাল    ১০ বছর। বজলুর রহমান,     এ এস আই    ৭ বছর। আলী মোহাম্মদ নূর হোসেনের সহযোগী    মৃত্যুদন্ড। মিজানুর রহমান দিপু নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। রহম আলী    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড আবুল বাশার নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। নাসির উদ্দিন হাবিলদা ৭ বছর। আবুল কালাম আজাদ এএসআই    ১০ বছর। নুরুজ্জামান    সৈনিক    ১০ বছর। বাবুল হাসান, কনস্টেবল ১০ বছর। আসাদুজ্জামান নূর সৈনিক    মৃত্যুদন্ড। মোর্তুজা জামান চার্চিল নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড।

পলাতক ১২ আসামি
মো. মোখলেছুর রহমান কর্পোরাল মৃত্যুদন্ড। আব্দুল আলীম    সৈনিক    ১০ বছর। মহিউদ্দিন মুন্সী সৈনিক মৃত্যুদন্ড। আল আমিন    সৈনিক    মৃত্যুদন্ড। তাজুল ইসলাম সৈনিক মৃত্যুদন্ড। এনামুল কবীর সার্জেন্ট মৃত্যুদন্ড। কামাল হোসেন এএসআই ১০ বছর। হাবিবুর রহমান কনস্টেবল ১০ বছর। সেলিম    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। সানাউল্লাহ ছানা নূর হোসেনের সহযোগী    মৃত্যুদন্ড। শাহজাহান    নূর হোসেনের সহযোগী মৃত্যুদন্ড। জামাল উদ্দিন নূর হোসেনের সহযোগী     মৃত্যুদন্ড।

সাত খুন
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। একই সময়ে একই স্থানে আরেকটি গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার চালককে অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর বন্দর উপজেলা শান্তির চর এলাকায় শীতলক্ষ্যা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাত জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যেকের পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন; প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তায় বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

নিহত ৭ জন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। লাশ উদ্ধারের পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন, যার তদন্ত চলে একসঙ্গে। দুই মামলার তদন্ত শেষে নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাবর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডল। অভিযোগপত্রে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার এই পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। অন্যনদিকে নজরুলদের অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় ঘটনাচক্রে আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালককেও হত্যান করা হয় বলে তার জামাতা বিজয় কুমার পালের ভাষ্যশ। আসামিদের মধ্যেক র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার ১৭ মাস পর মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আসামিদের মধে্যু ২১ জন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত চলাকালে নূর হোসেন ভারতে থাকায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায়নি পুলিশ।  গ্রেফতার র‌্যাব সদস্যেরা আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তাতে হত্যাতকান্ডের ভয়ঙ্কর বিবরণ উঠে আসে। তারা জানান, অপহরণের পর সাতজনকে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয়। পরে মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় শ্বাস রোধ করে। লাশগুলো শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়ার সময় ডুবে যাওয়া নিশ্চিত করতে বেঁধে দেওয়া হয় ইটের বস্তা। আর লাশ যাতে ফুলে না ওঠে সেজন্যা চিরে ফেলা হয় লাশে পেট। জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২০১৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য  দিয়ে এ মামলার আসামিদের বিচার শুরু করেন। ৩৮টি কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬৪ জনের সাক্ষ্যে শোনে আদালত; যাদের মধ্যের ৬০ জন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দেন। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ৩০ নভেম্বর বিচারক ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায়ের জন্য  দিন ঠিক করে দেন।

রায় যেভাবে
এ রায় ঘিরে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিউদ্দিন জানান, আদালত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সাইনবোর্ড এলাকা থেকে আদালত চত্বর পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়। আদালতে ঢোকার মুখে বসানো হয় আর্চওয়ে; সেখানে সবাইকে তল্লাশি করা হয়। আইনজীবী এবং বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনদের ছাড়া কাউকে আদালতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গ্রেফতার ২৩ আসামির মধ্যে  ১৮ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। সকাল ৯টার দিকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। আর নূর হোসেন, তিন সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ আসামিকে তিনটি প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে। ঘড়িতে ১০টা বাজার ঠিক আগে আগে আসামিদের আদালত কক্ষে নিয়ে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর পরপরই এজলাসে আসেন বিচারক, আদালত কক্ষে নামে পিন পতন নীরবতা। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হলেও বিচার চলে একসঙ্গে। বিচারক একটি মামলা হিসেবে বিবেচনা করেই রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের অপরাধের বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ অংশ বাদ দিয়ে কেবল সাজার অংশটি মাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যেজ পড়ে শোনান বিচারক।   

 

সাত খুন: নূর হোসেনসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায়

 

নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সোমবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

টঙ্গীতে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত

মো. আনোয়ার হোসেন, টঙ্গী (গাজীপুর) : ইয়া আল্লাহ পুরি ইনসানিয়াত কো হেফাজত ফরমা, ইয়া আল্লাহ পুরি উম্মত পর রহম ফরমা, ইয়া আল্লাহ তু হামপর রাজি হো যা, ইয়া আল্লাহ হামারে দিলকো ইসলাম পর কবুল ফরমা ইত্যাদি গভীর মিনতি ও অশ্রুসিক্ত আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে  রোববার শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের। মোনাজাতে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্য, মুক্তি, সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা, ইহ ও পারলৌকিক কল্যাণ কামনা করে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে কাকুতি মিনতি জানানো হয়। ঘনকুয়াশা ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে গভীর ভাবাবেগপূর্ণ পরিবেশে ‘আমীন, আলাহুম্মামীন’ ধ্বনিতে টঙ্গীর আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে অপার করুণা ও অশেষ রহমত কামনা করেছেন দেশ-বিদেশের প্রায় ২০-২২ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

লাখো মানুষের কাক্সিক্ষত আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ব তাবলিগ জামায়াতের দিল্লি মারকাজের শীর্ষস্থানীয় আমির দিল্লি নিবাসী আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা  মোহাম্মদ সা’দ। বেলা ১১টা ১ মিনিট থেকে শুরু করে ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ৩৫ মিনিট স্থায়ী আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে অযুত কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে রাহমানুর রাহীম আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। সকলেই যেন কিছু সময়ের জন্য আল্লাহর প্রেমে দিওয়ানা হয়ে ভুলে গিয়েছিল হিংসা-বিদ্বেষ ও ভেদাভেদ।

দক্ষিণে খিলক্ষেত, উত্তরে বোর্ড বাজার, পূর্বে টঙ্গী বিসিক শিল্প নগরী ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত অন্তত: ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত বিশাল জনসমুদ্র থেকে মধ্যাহ্নের আকাশ কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠে-‘ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ’। আখেরি মোনাজাতের সময় মুঠোফোন, বেতার, ওয়ারলেস সেট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরো লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন ক্ষমাশীল পরওয়ারদিগারের শাহী দরবারে। গুনাহগার, পাপী-তাপী বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। স্বাগতিক বাংলাদেশের ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৯৩ দেশের প্রায় ১২ হাজার তাবলিগ অনুসারী ইজতেমায় ও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন।

আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে  লাখ লাখ মুসলমান যেন ভেঙে পড়েছিলেন টঙ্গীতে। সকল পথের মোহনা হয়ে উঠে তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দান। রাজধানী ঢাকা ছিল প্রায় ফাঁকা। টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান, অফিসসহ সব কিছু ছিল বন্ধ। এছাড়া শিল্প নগরী টঙ্গীর হাজারো বহুতল ভবনের ছাদে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মা ও বোনেরা এ আখেরি মোনাজাতে শরিক হন। ৩৫ মিনিটের মোনাজাতে মাওলানা সা’দ প্রথম ১৩ মিনিট মূলত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ২২ মিনিটে উর্দু ভাষায় দোয়া করেন। ৪ দিন বিরতির পর দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা আগামী ২০ জানুয়ারি শুরু হবে। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের পরই সমাপ্তি ঘটবে ওই পর্বের তথা মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় মিলন মেলা ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার।

বাঁধভাঙা জোয়ার : আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ টঙ্গী অভিমুখে ছুটতে থাকেন শনিবার থেকে। ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মুসল্লি ছাড়াও রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভিড় এড়াতে শীত ও নানা ঝক্কি ঝামেলা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখো হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আল্লাহপ্রেমী মুসলমানরা রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথসহ বিভিন্ন যানবাহন এবং অনেকে পায়ে হেঁটে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সমাবেশ ঘটে আখেরি মোনাজাতে। রাজধানী ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুরের সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টশিল্প সর্বত্রই ছিল পূর্ণ ছুটির আমেজ। সকাল থেকে সড়কপথে টঙ্গীমুখী সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দীর্ঘ পথ হেঁটে টঙ্গী পৌঁছতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।

এদিকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে আগের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মহিলাকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসতে দেখা গেছে। টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভারের সকল গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ থাকায় এসব কারখানার হাজার হাজার মহিলা শ্রমিক মোনাজাতে যোগ দেয়।

ভিআইপি : প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে গণভবন থেকে টিভি সেটের সামনে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের কার্যালয়ে বসে টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে মোনাজাতে অংশ নেন। এছাড়া শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপিত জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুমে বসে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লা খান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরন মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।

সমাপনী ও হেদায়েতী বয়ান : আখেরি মোনাজাতের পূর্বে মাওলানা সা’দ ইমান, নামাজ, আমল, তালিম, এলেম, জিকির, দাওয়াতের গুরুত্ব তুলে ধরে বয়ান রাখেন। এ সময় তিনি কোরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম ঝিকির বলে উল্লেখ করেন। তার বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করে বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন।

বিড়ম্বনা ও যানজট : আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পর এক সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ ফিরতে শুরু করলে সর্বত্র মহাজটের সৃষ্টি হয়। টঙ্গী স্টেশনে ফিরতি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমাণ ট্রেনগুলোতে উঠতে মানুষের জীবনবাজির লড়াই ছিল উদ্বেগজনক। ট্রেনের ভিতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে ও দরজা-জানালায় ঝুলে শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মানুষের জন্য ট্রেন দেখা যাচ্ছিল না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ফিরতি মুসল্লিদের বিড়ম্বনা ও কষ্টের সীমা ছিল না।

৮ মুসল্লির মৃত্যু :  রোববার সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় রাস্তায় পড়ে অজ্ঞাতনামা (৫৫) এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ নিয়ে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রথম পর্বে ৮ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা : ইজতেমাস্থলের পার্শ্ববর্তী ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের ওষুধ সংগ্রহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে র‌্যাবের প্রায় ১০ হাজার, টঙ্গী থানা প্রেসক্লাব প্রায় ১৮শ’, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ প্রায় ৯৪ হাজার, ইবনে সিনা ৫ হাজার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন।

 

রূপগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বানিয়াদি এলাকায় পানিতে ডুবে রাকিব হোসেন (০৬) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব ওই এলাকার সজল মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় বানিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাকিব খেলা করতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় শিশু তাসলিম ছুটে এসে বিষয়টি রাকিবের পরিবারকে জানায়। পরে তারা পুকুর থেকে রাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশুলিয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ার খেজুরটেক এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবুল হোসেন (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সায়েদ (৬৪) নামে একব্যক্তিকে আটক করা হয়।

নিহত বাবুল হোসেন দিনাজপুর জেলার কোতোয়ালি থানার মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে। তিনি এফজিএস গার্মেন্টসের পেছনের আজিজ মিয়ার বাসায় থাকতেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত ওসি) শামীম হাসান  জানান, সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে খেজুরটেক এলাকার সায়েদের সঙ্গে বাবুলের কথা কাটাকটি হয়। এক পর্যায়ে সায়েদ বাবুলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা বাবুলকে উদ্ধার করে আশুলিয়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পয়ে পুলিশ বাবুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদেন্তর জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীতে স্ত্রীকে এসিডে ঝলসে পালালো স্বামী


স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পূর্ব নাখাল পাড়ার ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে এসিডে ঝলসে পালিয়েছে তার স্বামী। এসিডদগ্ধ আকলিমা খাতুন (২৮) নামে ওই গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করেছেন স্বজনরা।

 গতকাল শুক্রবার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আকলিমা নরসিংদি রায়পুরার হোসেন মিয়ার মেয়ে। পুর্ব নাখাল পাড়ার ওই বাসায় আকলিমা, তার স্বামী কুদ্দুস ও তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন।


আকলিমার বড় ভাই রমজান আলী জানান, দুই বছর আগে কুদ্দুস মালয়েশিয়া যায়। ছয় মাস আগে দেশে ফিরে আসে সে। এর কিছুদিন পর থেকেই কুদ্দুস আকলিমাকে সন্দেহ করত। এটা নিয়ে মাঝে মধ্যেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। একপর্যায়ে শুক্রবার দুপুরে  ঝগড়ার এক পর্যায়ে আকলিমার শরীরে এসিড ছুঁড়ে পালিয়ে যায় কুদ্দুস। পরে আকলিমাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, এসিডে আকলিমার মুখ ও গলাসহ শরীরের ১৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। তার আবস্থা গুরুতর। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি জানান, স্ত্রীকে এসিড মেরে পালানোর ঘটনায় স্বামী কুদ্দুসকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পাকুন্দিয়ায় ছাদ থেকে পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে আরমান (১২) নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের হোসেন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরমান একই ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে এবং ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, স্কুলের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই আরমানের মৃত্যু হয়।

গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ফটো সাংবাদিক জিয়া


স্টাফ রিপোর্টার: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান ফটো সাংবাদিক জিয়া ইসলাম। তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রত্যদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির উল্টা দিকের রাস্তায় মোটরসাইকেলে থাকা জিয়া ইসলামকে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 
গতকাল মঙ্গলবার সকালে জিয়া ইসলামের চিকিৎসার ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বৈঠক শেষে জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলো কিংবা বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দুপুরে জিয়াকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 জিয়ার সহকর্মী শরিফুল হাসান  বলেন, আপাতত অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখান থেকে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রথম আলোর অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক কমল জোহা খান বলেন, জিয়ার ডান পা ভেঙে গেছে। বুকে প্রচন্ড আঘাত রয়েছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন।

১২ সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি


করতোয়া ডেস্ক : নিবন্ধন পরিদফতরের সুপারিশক্রমে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। আদেশে বলা হয়, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ১৭ জানুয়ারির মধ্যে তাদের বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে বিধি অনুযায়ী বদলি/পুনঃবদলির কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।


বদলির আদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে শংকর চন্দ্র বর্মনকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে নওগাঁর প্রসাদপুর, মৃতুঞ্জয়ী শিকারীকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে ঝিনাইদহ সদরে, মিজানুর রহমান তালুকদারকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে মঠবাড়িয়া, শাহীন আলমকে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে হবিগঞ্জের চাড়াভাঙ্গা, লুৎফর রহমান খানকে চাড়াভাঙ্গা থেকে চট্টগ্রামের মীরসরাই, নজরুল ইসলাম সরকারকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে টাঙ্গাইল সদরে বদলি করা হয়েছে।

 এ ছাড়া মাহবুব আলমকে হবিগঞ্জ সদর থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, আনোয়ারুল হাসানকে বগুড়ার সোনাতলা থেকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া, বাদল কৃষ্ণ বিশ্বাসকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, মশিউর রহমানকে বরিশালের রহমতপুর থেকে যশোরের ঝিকরগাছা, ফারুক হোসেনকে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এবং বুলবুল আহমেদকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের পুলিশের লাঠিচার্জ


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : সময় মতো বেতন না দেয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে মুন্নু এ্যাটিয়ার লিমিটেডে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

 এ সময় রাস্তা থেকে সরাতে পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গিলন্ড এলাকায় অবস্থিত মুন্নু অ্যাটিয়ার লিমিটেডে শ্রমিক অসন্তোষের এ ঘটনা ঘটে। রেবা, লিজা ও মারুফ নামে কয়েকজন বিুব্ধ শ্রমিক জানান, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে তাদের বেতন দেয়ার কথা। কিন্ত তা পরিশোধ করা হয় মাসের শেষের দিকে। এছাড়া কারখানার প্রডাকশন ম্যানেজার সুলতান ও শামীম নানা অজুহাতে তাদের শারীরিক নির্যাতন চালায়।

 বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর জের ধরে কারখানার সামনে ঢাকা-অরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা রাস্তায় বসে শান্তিপূর্ণ বিােভ করতে থাকে। পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিােভে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পাশে দীর্ঘ সারিতে যানবাহন আটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু তা শুনে শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। প্রত্যদর্শীরা জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পোশাক শ্রমিকদের ওপরে লাঠিচার্জ করে। পরে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

 পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও ফুটেজ থাকলেও বিষয়টি অস্বীকার করছে পুলিশ। ঘিওর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তাদের হাতে কোনো লাঠি ছিল না। শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে মালিকপরে সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রীতা জানান, তার কারখানায় শ্রমিকদের কোনো বেতন বকেয়া নেই। তৃতীয় কোন প গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিশীল করতে শ্রমিকদের মাঠে নামিয়েছে।

 

ঢাকায় শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘বগ্ড়্যার মেলা’


স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৪ দিনব্যাপী ‘বগ্ড়্যার মেলা’ শুরু হচ্ছে। বৃহত্তর বগুড়া সমিতি, ঢাকা এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বগুড়া যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। ঢাকায় প্রথম বারের মতো আয়োজিত এই মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘বগ্ড়্যার মেলাতে বাজ্যা উঠুক মহামিলনের ছন্দিত সুর।’ মেলায় স্পনসর করছে- প্রাণ গ্রুপ।

 কো-স্পনসরে রয়েছে- গ্যাটকো, ওয়ানফার্মা ও টিএমএসএস। মিডিয়া পার্টনার থাকছে- এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ এবং দৈনিক করতোয়া। মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে বগুড়ার উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী পণ্য যথা- বগুড়ার প্রসিদ্ধ দই, মহাস্থানের কট্কটি, বিখ্যাত হাগরাই আলু, লুঙ্গি, গামছা, শুকনা মরিচ, কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য ঢাকায় তথা বিশ্বে পরিচিত করা; বগুড়ার শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি প্রচার করা; বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান এবং বগুড়াকে সর্বমহলে পরিচিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।


কর্মসূচি : মেলা শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি, শুক্রবার সকাল ১০টায়, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিকেল ৪টায়। বিকেল ৫টায় হবে বগুড়ার আঞ্চলিক গান, লাঠি খেলা, সংবর্ধনা প্রদান ও আঞ্চলিক নাটক। প্রধান অতিথি বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, উদ্বোধক এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান এবং এমডি ড. মাহফুজুর রহমান।


১৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ১০টায় আঞ্চলিক গান/বাউল গান/সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ১১.৩০ মি. নৃত্যানুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় বৃহত্তর বগুড়া সমিতি শিক্ষা ট্রাস্ট কর্তৃক বগুড়ার গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির চেক বিতরণ। বিকেল ৫টায় পালাগান, ঢাকাস্থ বগুড়া শিল্পীদের গান, নৃত্য, সংবর্ধনা। প্রধান অতিথি থাকবেন জনপ্রশাসনমন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এমপি।

 ১৫ জানুয়ারি রোববার সকাল ১০টায় গ্রামীণ খেলা, পালাগান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংবর্ধনা। বিকেল ৪টায় বৃহত্তর বগুড়া সমিতির ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ উদ্বোধন, বগুড়া ডাইরেক্টরি প্রকাশনা। বিকেল ৫টায় কবিগান, পালাগান, সংবর্ধনা, সেমিনার, নৃত্য, নাটক। প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি। ১৬ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংবর্ধনা। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত ৮টায় মেলার সমাপ্তি ঘোষণা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহামামদ নাসিম এমপি।

 

কালিয়াকৈরে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অরক্ষিত একটি লেভেল ক্রসিংয়ে একটি প্রাইভেট কারে মৈত্রী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।  রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে কালিয়াকৈরের গোয়ালবাথানের নয়ানগর-সোনাখালী ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কালিয়াকৈর থানার এস আই মো. রাসেল জানান।

জয়দেবপুর জংশনের মাস্টার শহীদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর কিছুদূর গিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গের পথে ট্রেন চলাচল ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব মিয়া জানান, রেললাইনের ওপর দিয়ে গ্রামের রাস্তায় ওই ক্রসিংয়ে কোনো বাঁশকল ছিল না। গাড়ির চালক খেয়াল না করে রেললাইনে উঠে পড়েন এবং ওই পথে দ্রুত গতিতে আসা মৈত্রী এক্সপ্রেসের সামনে পড়ে যায় ওই গাড়ি। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর প্রাইভেটকারটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে আটকে যায়। ওই অবস্থায় আটকে থাকা গাড়িটি নিয়েই এগিয়ে যায় ট্রেন। এ সময় গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে আক্ষরিক অর্থেই দলা পাকিয়ে যায়। প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যাওয়ার পর ট্রেন একটি সেতুতে উঠলে নিচে ফাঁকা জায়গা পেয়ে প্রাইভেট কারের ভাঙা বিভিন্ন অংশ নিচে পড়ে। রেলসেতুর নিচে কংক্রিটের প্ল্যায়টফর্মে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেতু পেরিয়ে আরও আধা কিলোমিটার যাওয়ার পর ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয় বলে জানান ওসি। নিহতরা হলেন- গোয়ালবাথান গ্রামের রিপনের স্ত্রী নুসরাত জাহান লাকি আক্তার (৩৬), তাদের ছয় বছরের মেয়ে রুবাইদা নুশরাত রিভা, রিপনের চাচাত ভাই বিদ্যুতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে তহসিন আহমেদ তালহা এবং চালক মিনহাজ উদ্দিন (৪৫)। রিভা স্থানীয় একটি মিশনারি স্কুলে প্লে গ্রুপ এবং তালহা নার্সারিতে পড়ত। রিপনের প্রাইভেট কারে করে তারা স্কুলে যাচ্ছিল বলে এস আই রাসেল জানান। জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর লাইন আটকে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঢাকাগামী সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ও চাঁপাই এক্সপ্রেস এবং উত্তরবঙ্গগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ধূমকেতু এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। দুপুরে ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী দল গিয়ে বগি উদ্ধার করলে বিকাল ৩টার দিকে ওই পথে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়। মৈত্রী এক্সপ্রেসও ওই সময় কলকাতার উদ্দেশ্যেী ছেড়ে যায় ওই ট্রেনে দায়িত্বরত ওসি হিমাংশু কুমার দাস জানান।

শাজাহান মিয়া নামে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানান, পৌরসভা থেকে কয়েক বছর আগে ১২ ফুট চওড়া ওই গ্রামের রাস্তায় পিচ ঢালাই করে দেওয়া হলেও কোনো রেলগেইট দেওয়া হয়নি। সেখানে কেবল একটি সাইনবোর্ড বসিয়ে সবাইকে নিজ দায়িত্বে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গতবছরও ওই ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যেক্তির মৃত্যু হয় জানিয়ে শাজাহান মিয়া বলেন, আমরা ব্যারিয়ার বসানোর দাবি জানিয়ে এলেও আজ পর্যন্ত তা দেয়নি। দুর্ঘটনার খরব পেয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, থানার ভারপ্রোপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালেব মিয়া, পৌর মেয়র মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ইয়াসিন ফারুক দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

গাজীপুরে প্রাইভেট কারে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ৫

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান নামক স্থানে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় মৈত্রী এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী রেল রুটের গোয়ালবাথান নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন স্থানীয় আফাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, একজন ওই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক ও অপরজন প্রাইভেটকারের চালক বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জয়দেবপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক দাদন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইলে নৌকা ডুবি : একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু


জেলার মির্জাপুর উপজেলায় নৌকা ডুবিতে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশগুলো মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তারা হলেন- তাসলিমা বেগম (৬৫), তার ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪০)।

 
মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আতোয়ার রহমান জানান, উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা গ্রামের লোকজন পার্শ্ববর্তী গ্রাম রানাশালে ওয়াজ শুনতে যায় । তারা শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১১ জনকে নিয়ে একটি খেয়া নৌকা যোগে নদী পাড় হচ্ছিল। এ সময় কোনাই নদীতে খেয়া নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৮জন সাতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মা, ছেলে ও ছেলের বৌ নিখোঁজ হয়।

 
শনিবার সকালে টাকিয়া কদমা গ্রামের সোনা মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমের (৪০) লাশ উদ্ধার করে।

 

রাজধানীতে পৌষ মেলা শুরু


ঢাবি প্রতিনিধি : দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে তিন দিন ব্যাপি পৌষ মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরীর কণ্ঠে ‘শিউলি ফোটা ভোরে’-গান দিয়ে বাংলা একাডেমির নজরুল চত্বরে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

 
মাটির ‘আইলা’ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় তিনি ধর্মান্ধ-মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিস্তার ও প্রসার রোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, বাঙালি জীবনে পৌষ মেলার প্রভাব রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক সমাজ গঠনে এ আদর্শের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসব সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, সংস্কৃতি বাঙালির মেরুদন্ডের মতো, শক্ত এক ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতি। হাজারো বছরের এ ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আমাদের এর পরিচর্যা করতে হবে। পৌষ মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করতে সবার সহযোগিতা চান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি।

 এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে চাই, বাংলাদেশ হবে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সকলের। বাংলাদেশকে আমরা সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ এক আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র পরিবেশন করে ‘মনে সাধ লয় জাইগো ফিরা আবার গাঁয়ে’ ও ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’ গান দুটি। বহ্নিশিখার শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আয় ছুটে আয়রে আয় ছুটে আয়রে’, ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান…’।

 সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে ‘ফিরে চল ফিরে চল মাটির টানে’, ‘এবার ধান কাটিব মচামচ’। একক সংগীত পরিবেশন করেন আবু বকর সিদ্দিক, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, মামুন জাহিদ খান। ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন, ‘পৌষ পিঠা গুঁড়ি কোটা’ গানের সঙ্গে নৃত্যজন, ‘নাও ছাড়িয়া দে, পাল ওড়াইয়া দে’ গানের সঙ্গে ভাবনা সম্মেলক নৃত্য পরিবেশন করে। আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ, শাহাদাৎ হোসেন নিপু, তামান্না তিথির পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। দলীয় আবৃত্তি শোনায় মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র। একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে চলছে দেশীয় পিঠা-পুলির প্রদর্শনীও। বিভিন্ন স্টলে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাটিসাপটা, তালবড়া, বিবিখানা, মেন্ডা, মোরা, ঝিনুক, দুধ চিতই, জামাই পিঠা, বউ পিঠা, ভাপা পিঠা, সিদ্ধপুলি, পাকান, খেঁজুর পিঠা, মালপোয়াসহ নানা স্বাদের পিঠা। আছে পায়েস আর ফিন্নি।
পরিচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নগদের বিনিময়ে এসব পিঠা-পায়েস চেখে দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন নানান বয়েসী দর্শকরা।

 

আইভীর শপথ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা আগামী বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। ওই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কাউন্সিলরদের শপথ পড়াবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন।
এবারই প্রথম দলীয়ভাবে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয় নারায়ণগঞ্জে গত ২২ ডিসেম্বর। ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পৌনে এক লাখ ভোটে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পুনঃনির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকের আইভী। গত ১৩ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ নগর প্রশাসন চালিয়ে আসা আওয়ামী লীগ নেতা আইভী আবারও পাঁচ বছরের জন্যও নগরবাসীর সেবার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তার সঙ্গে ২৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং নয়জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ ২৮ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এরপরই স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যেবস্থা নেওয়ার জন্যেজ চিঠি দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে শপথ আয়োজন করে স্থানীয় সরকার সচিব আব্দুল মালেক সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।
ভোটের দুই সপ্তাহের মাথায় শপথ নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলররা। এরপরই দায়িত্ব নেওয়ার পালা।

 

নারায়ণগঞ্জে বাসচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লায় রাস্তা পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আব্দুল মালেক (৫২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসসহ চালককে আটক করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের ফতুল্লা শিবু মার্কেট মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। শিবুমার্কেট এলাকার শাহজালাল রি-রোলিং মিলের শ্রমিক আব্দুল মালেক ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নিরজা নগরের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ফতুল্লার লামাপাড়া পিঠালিপুল এলাকার আবুল মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাহারুল ইসলাম বাংলানিজকে বলেন, দুপুরে শিবু মার্কেটের চার রাস্তার মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী উৎসব পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-১৫২৯) একটি বাস চাপা দিলে ঘটনাস্থলে আব্দুল মালেকের মৃত্যু হয়। মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক বাসসহ চালক মো. ইসমাইলকে (২৮) আটক করা হয়েছে বলেও জানান এসআই মোজাহারুল ইসলাম।

 

পাকুন্দিয়ায় মাইক্রোবাস চাপায় শিশু নিহত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মাইক্রোবাসের নিচে চাপা পড়ে ছানিম ওরফে রুমান (০৮) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে।  সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের মির্জাপুর শ্মশানঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রুমান একই এলাকার শামীম মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে রুমান বাড়ির পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় কিশোরগঞ্জগামী একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। এতে রুমান গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন  জানান, চালক মানিক মিয়াসহ মাইক্রোবাস আটক করা হয়েছে।

 

শেরপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর সদর উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার রৌহা পূর্বপাড়া গ্রাম থেকে রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান শেরপুর সদর থানার এসআই কামাল হোসেন। গ্রেফতার মন্ডল মিয়া (৪৫) গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে।
এসআই কামাল বলেন, শনিবার দুপুরে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন ম-ল মিয়া। এ ঘটনার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা চালানো হয়। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে রোববার মন্ডল মিয়া ও তার স্ত্রী গুলনাহারকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে রাতে মন্ডল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। শেরপুর সদর হাসপাতালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর-সাইকেলারোহী নিহত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে মোটর-সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছে।  শনিবার দুপুরে টুঙ্গীপাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কের খালেক বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোটর-সাইকেলারোহী বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়ীয়া গ্রামের অনন্ত বিশ্বাসের ছেলে তপন বিশ্বাস (১৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় মোটর-সাইকেলারোহী আরও দু’জন হাসিবুল (১৭) ও রহমতকে (২৫) গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দু’জনের বাড়ি চিতলমারী উপজেলার নলুয়া গ্রামে।

 

শেরপুর জেলা নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ

শেরপুর প্রতিনিধি : জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর শেরপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের দিন বুধবার রাতে কে বা কারা শহরের চক পাঠকে অবস্থিত কার্যালয়ের স্টোরে অগ্নিসংযোগ করে বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান। আগুনে ওই কক্ষে থাকা ২৮০ টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।

মোখলেছুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কে বা কারা স্টোর রুমের পেছনের দিকের একটি জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই কক্ষে থাকা গত ইউপি নির্বাচনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে আগুন লেগে যায়। পোড়ার গন্ধ পেয়ে সার্ভার স্টেশনের নৈশ প্রহরী রেজুয়ানুল হক আমাদের মোবাইলে ফোন করে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তারা এসে আগুন নেভায়। দ্রুত আগুন নেভানোর কারণে স্টোরের রাখা ইউপি নির্বাচনের ব্যবহৃত ব্যালট পেপারসহ মূল্যবান কাগজপত্রের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। সার্ভার স্টেশন ও আগুন দেওয়ার স্থানটি পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসক ডা. এএম পারভেজ রহিম এবং পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার শেরপুর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবীর রুমান চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।

ফরিদপুরে খুনের মামলায় কারাবন্দি যুবলীগ নেতার মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে হত্যা মামলার আসামি এক যুবলীগ নেতা কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে মারা গেছেন। আব্দুল হান্নান (৫০) নামের ওই ব্যোক্তি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের চতর গ্রামের আব্দুল জব্বার খানের ছেলে। বুধবার গভীর রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর হান্নানের মৃত্যু হয় বলে জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় জলিল শেখ হত্যা মামলার আসামি হান্নান গত বছর থেকে ফরিদপুর কারাগরে বন্দি ছিলেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে অসুস্থ বোধ করায় হান্নানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা তত্ত্বাবধায়ক বলেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হান্নানের মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের পর তার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মাজারের চাঁদা নিয়ে মারামারিতে বাবা নিহত, ছেলে আহত

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরে মাজারে ওরশের জন্য চাঁদা তোলা নিয়ে  কথা কাটাকাটি থেকে  হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং তার ছেলে আহত হয়েছেন। নিহত আব্দুল মোতালেব (৬৫) শেরপুর সদর উপজেলার প্রতাবিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত তার ছেলে ওয়াসিমকে (২৫)  শেরপুর  জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার চৈতনখিলা বটতলা এলাকায় তাদের উপর হামলা হয় বলে শেরপুর সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান। রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৈতনখিলা বটতলা এলাকার একটি  মাজারে ওরশ চলছে। এ উপলক্ষে  মোতালেব বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা তুলছিলেন। স্থানীয় সালাম ও তার কয়েকজন সহযোগী তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে  সালাম সমর্থকদের হামলায়  মোতালেব ও তার ছেলে ওয়াসিম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেরপুর  জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মোবারক হোসেন জানান,  মোতালেবকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

শরীয়তপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নসিমনের নিচে চাপা পড়ে জাহানারা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা সদরের কীর্তিনাশা নদীর ব্রিজের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহানারা বেগম নড়িয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাশতলা এলাকার আব্দুল খালাসীর স্ত্রী।

আব্দুল খালাসী  জনান, সকালে জাহানার উপজেলার ইশ্বরকাঠি গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে কীর্তিনাশা নদীর ব্রিজের কাছে পৌঁছালে একটি নসিমনের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলি  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মালিবাগে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী খুন

রাজধানীর মালিবাগের পাবনা কলোনিতে সোমবার সকালে এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুস সাত্তার (৪০)। তিনি রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবসা করতেন।শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ. মাবুদ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।আ. মাবুদের ভাষ্য, পাবনা কলোনির পাঁচতলার ওপর চিলেকোঠায় পরিবারসহ থাকতেন আবদুস সাত্তার।

তিন ছেলেমেয়ের পরীা শেষ হয়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে যান। সোমবার  সকালে সাত্তারের ছোট ছেলে মোবাইল ফোনে বাবাকে না পেয়ে ওই বাড়ির মালিক মাহিরুল হক তালুকদারকে ফোন দেন। মাহিরুল ওই বাসায় গিয়ে সাত্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

এ ব্যাপারে মাহিরুল বলেন, আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাত্তারের ছোট ছেলে ফোনে তাঁকে বলেন যে বাবা (সাত্তার) ফোন ধরছেন না। তখন তিনি মুঠোফোন নিয়ে তাঁর বাসায় যান। সেখানে বাসার একটি কে মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় সাত্তারকে দেখতে পান তিনি। এ সময় সাত্তার গোঙাচ্ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।মাহিরুল বলেন, পাঁচতলার ছাদে তিন করে বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সাত্তার দম্পতি থাকতেন।

তিনি ১০-১২ বছর আগে বাসাটি ভাড়া নেন। ওই বাসায় ঢুকতে প্রথমে একটি লোহার গেট পার হতে হয়। তিনি যখন বাসায় ঢোকেন, তখন ওই গেট খোলা ছিল। বাসায় ঢোকার প্রথম দরজাও খোলা ছিল। তবে যে কে সাত্তারকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়, সে করে দরজা লাগানো ছিল বলে বাড়ির মালিকের ভাষ্য।পুলিশের ধারণা, আজ সকালে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।