রাত ১:১৯, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : সৈয়দপুরে একটি ট্রাকে করে ৫০২ বস্তা ভিজিএফের গম পাচারকালে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধায় সৈয়দপুর শহরের বিসিক শিল্প নগরীর সামনে থেকে ট্রাকটি আটক করে পুলিশ। পরে সেটি সৈয়দপুর থানায় রাখা হয়েছে।জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে সারাদেশে অসহায়, গরিব ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফের গম বিতরণ করা হয়।

 এবারে নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও চার পৌরসভার চার লাখ ৪ হাজার ৩১৫ জন কার্ডধারীর মধ্যে এ গম বিতরণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এবারের চালের পরিবর্তে প্রতিজন ১৩ কেজি ২৭২ গ্রাম করে গম পাওয়ার কথা। শনিবার জেলার ৬টি উপজেলার অনেক ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে গম বিতরণ করা হয়। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম গম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনদিনে সড়কে ৩৫ জনের প্রাণহানি

করতোয়া ডেস্ক : পবিত্র ঈদের ছুটির তিনদিনে ১৫ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা ঘটে গাইবান্ধা, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা,নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার ধামরাই, েেগাপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও বান্দরবানে। প্রতিনিধিদের রিপোটর্ –

গোপালগঞ্জ: বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ফরিদুজ্জামান বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভেন্নাবাড়ি বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ উল্টে পড়লে একজন নিহত হয়। নিহত দিলীপ সরকার (৫০) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের বরদা সরকারের ছেলে। পিকআপটি ২০-২৫ জন যাত্রী নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে টেকেরহাট যাচ্ছিল।

চট্টগ্রাম : পটিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মিজানুর রহমান জানান, পটিয়া কলেজ বাজার এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মঙ্গলবার রাত দেড়টায় একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। এ সময় খালে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন – মোহাম্মদ নূর, তার দুই ভাস্তে শাহাদাত হোসেন ও আবদুল মান্নান। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফরিদপুর : ঈদের আগে ফরিদপুরে প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পথচারীসহ আরও পাঁচজন। নগরকান্দা থানার ওসি এফএম নাসিম জানান, রোববার বিকালে নগরকান্দার জিয়াকুলির এলাকার এ দুর্ঘটনায় আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতরা হলেন, পথচারী ইমরান (৩০), আইয়ুব (৩) ও গাড়ির চালক সোহেল মীর (২৭)। আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

বান্দরবান : ঈদের দিন বান্দরবানের লামায় একটি মিনিবাস দুর্ঘটনায় পড়ে তিন কিশোরসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। লামা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে পর্যটন এলাকা মিরিঞ্জার কাছে এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হন। নিহতরা হলেন- আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (১৩), একই এলাকার মো. শফির ছেলে মো. সরোয়ারে (১৫), আলীকদমের পনবাজারের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (১৩) এবং চকরিয়ার ভেউলা মানিকচরের আজিজুর রহমানের ছেলে মঞ্জুরুল আলম (৫০)।

 

 

 

পাহাড়ে ঈদের আনন্দে বেদনার ছায়া

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দুই সপ্তাহ আগে পাহাড় ধসে যারা স্বজন আর ঘর হারিয়েছেন, ঈদের দিন তারা পাশে পেয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। সোমবার রাঙামাটি ও কাপ্তাই এলাকার মোট ২২টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঈদ উপলক্ষে খাবার ও  পোশাক বিতরণ করা হয়। অনেক হারানোর মাঝেও জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে হাসি ফুটেছে সর্বহারা মানুষগুলোর মুখে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা তাদের ঈদের অন্য সব পরিকল্পনা সরিয়ে রেখে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে সোমবার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যান; ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাইয়েদ তারিকুল ইসলাম ও রাঙামাটির পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী দুপুরে রাঙামাটি বেতার ও রাঙামাটি সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তারপর তারা রাঙামাটি সরকারি কলেজ কেন্দ্রে আশ্রিতদের সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান। জেলা প্রশাসক এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সবার জন্য ঈদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন তাদের জন্য দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক। এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা। গত ১২ জুন রাতে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামসহ দেশের ছয় জেলায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২০ জন মারা যায় রাঙামাটিতে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত জানান, রাঙামাটিতে ১৯টি এবং কাপ্তাইয়ে তিনটিসহ মোট ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে পাহাড় ধসের পর। দুপুরে তাদের খাবারে পোলাওয়ের সঙ্গে ছিল মুরগির মাংস, ডিম, সবজি আর ফল।

 

আদমদীঘিতে পৃথক মারপিট ঘটনায় ৩০ জন আহত

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘিতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ও পারিবারিক পৃথক মারপিট ঘটনায় নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১৮ জনকে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- পারইল গ্রামের সোহাগ, পালোয়ানপাড়ার সাহিদা বেগম, আরজিনা, ছাতনি গ্রামের শিরিন, স¤্রাট, লাবলু, রফিকুল, লক্ষীপুর গ্রামের রোস্তম, নাজমা, কাদের, ছাতিয়ানগ্রম অন্তাহারের রেজাউল করিম তার ভাই এখলাস, তালশন গ্রামের শাহিনুর রহমান, বিহিগ্রামের মোজাম্মেল হক, গোড়গ্রামের ছামছুন্নাহার, পাইকপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন ও নসরতপুর গ্রামে মিঠুন।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে ও দিনে পৃথক মারপিট ঘটনায় ৩০ জন আহত হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে লক্ষীপুর গ্রাম থেকে সেজদা, ফেরদৌস, ভুট্টু আমিরুলসহ ৭ জনকে আটক করেছে বলে উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন জানান।

 

সান্তাহারে হাসান হত্যা মামলায় আরও একজন গ্রেফতার

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘির সান্তাহারের মেহেদী হাসান হত্যা মামলায় পুলিশ সন্দিহানভাবে নাছিম নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে। সে সান্তাহার নিউ কলোনি এলাকার সাজেদুর রহমান সাজুর ছেলে। গত মঙ্গলবার রাতে থানার উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে এ মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে জেন্টু ওরফে রেন্টু ১৬৪ ধারামতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাসান হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজন জড়িত থাকায় তাদের নাম উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মামলার তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোজহারুল ইসলাম জানান।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ সন্ধায় আদমদীঘির সান্তাহার নতুন সাহাপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মেহেদী হাসান (২২) তার মামার বাসা থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে সান্তাহার তিলকপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মামা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় রাজু আহমেদ, নবাব, দুলাল, জেন্টু ও ইমনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।



Go Top