সকাল ১০:২২, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলা ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যমুনার বাঁধে আশ্রিত বাস্তুহারাদের নামে বরাদ্দকৃত ত্রাণের টাকা লোপাট করেছে জনপ্রতিনিধি, ধনাঢ্য ব্যক্তি ও দলের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের বন্যায় উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ বাঁধে আশ্রিত বাস্তুহারা পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার টাকা প্রদানের নিমিত্তে উপজেলা প্রশাসন ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। ত্রাণের টাকা ২০০ পরিবারের মাঝে ২৮ আগস্ট বিতরণ করা হলেও ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত মাস্টাররোলে ৮ ফেব্রুয়ারি বিতরণ দেখানো হয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, বন্যায় কোন ক্ষতি হয়নি, তারপরও তালিকায় আওয়ামী লীগের ৬০ নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। এরমধ্যে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ইয়াকুব আলী, আব্দুর বারি, সিরাজ উদ্দিন, হজরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান, যুগ্ম সম্পাদক রানা, কৃষক লীগের সভাপতি ফিজার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন। এই তালিকায় ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খাতুনের নাম রয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় স্বজনের নামসহ কৈয়াগাড়ি গ্রামের সুজনের স্ত্রী মুনজুরি, জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শেমল, আবুল হোসেনের ছেলে আজিজারের ভুয়া নামে টাকা উত্তোলনে করেছে। তালিকায় একই ব্যক্তির একাধিক নাম ব্যবহার করেও টাকা তোলা হয়েছে। এদিকে, গোপালনগর, মরিচতলা ও নারায়নপুর গ্রামে বন্যার ছোঁয়া লাগেনি, তারপরও এসব গ্রামের কমপক্ষে ২০ ব্যক্তির নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে কৈয়াগাড়ি বাঁধে আশ্রিত সাহেব আলীর স্ত্রী সুন্দরী, মালেকের স্ত্রী রহিমার। কিন্তু তাদের ভাগ্যে জোটেনি ত্রাণের টাকা। অনেকের তালিকায় নাম থেকেও ২ হাজার টাকা স্থলে পেয়েছেন ৫০০ টাকা। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য সদস্যের ন্যায় আমিও কিছু অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করেছি। ইউপি সদস্য সুলতানা খাতুন বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা তুলতে পারেন। কিন্তু ত্রাণের টাকা উত্তোলনের সাথে আমি জড়িত না।

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, তালিকায় নাম থাকলেও আমাকে টাকা দেওয়া হয়নি। এ বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয়েছে। ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বনী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তালিকায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। তালিকাভুুক্ত নেতাকর্মীরা ত্রাণের টাকা উত্তোলন করে এখন অস্বীকার করছেন। ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন শ্যামল তালুকদার বলেন, ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের তালিকা অনুযায়ী ত্রাণের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, ত্রাণের টাকা বিতরণে কোন প্রকার অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রোহিঙ্গা নির্মূলে ধর্ষণও মিয়ানমার সেনাদের অস্ত্র

করতোয়া ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল করার’ অভিযানে সেনাবাহিনী নারী ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে আলামত মিলছে। জাতিসংঘের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে এমন কয়েক ডজন নারী চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের আঘাতগুলো নৃশংস যৌন হামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু এই মুসলিম নারীরা বার বার বলাৎকার ও দলবদ্ধ ধর্ষণের যে অভিযোগ এনেছেন, সেগুলোকেই জোরালোভাবে সামনে এনেছেন এই চিকিৎসরা। কিছু ক্ষেত্রে রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মেডিকেল নথির সঙ্গেও এগুলো মিলে যায়। এসব অভিযোগকে সেনাবাহিনীকে কলংকিত করার সাজানো প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বলছেন, তার সন্ত্রাস দমনের বৈধ অভিযান চালাচ্ছে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করা আদেশ পালন করছে। অভিযোগ নিয়ে কেউ তাদের কাছে গেলে তারা তদন্ত করে দেখবেন বলে মিয়ানমারের নেতা অং সান সু চির মুখপাত্র জ তেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওইসব ধর্ষিতারা আমাদের কাছে আসুক, আমরা তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেব। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থাও নেব।’

তবে গত বছরের শেষ দিকে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করার অনেক অভিযোগ প্রকাশ্য হলেও সেগুলো নিয়ে সু চি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। গত অক্টোবরে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনার পর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ২৫ অগাস্টে আবার হামলার ঘটনার পর সেনাবাহিনী পাল্টা কঠোর দমন অভিযান চালাচ্ছে, যেটাকে ‘রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী নির্মূলকরণ’ বলছে জাতিসংঘ। এর পর থেকে সোয়া চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা কক্সবাজারের আশ্রয় নিয়েছে। রয়টার্স এমন আটজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে ২৫ জনের বেশি ধর্ষিতা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। ওই চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের রোগীদের নিয়ে কি করা হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে বের করার চেষ্টা তারা করেননি। কিন্তু ওই ঘটনাগুলোতে তারা ‘নির্ভূল ছাঁচ’ দেখতে পেয়েছেন। অনেক নারীর শরীরে তারা আঘাতের নমুণা দেখেছেন, যেগুলোর জন্য তারা একবাক্যে মিয়ানমারের সেনাদেরকে দায়ী করেন। স্পশর্কাতর হওয়ায় কোনো রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘ ও সাহায্য সংস্থাগুলোর চিকিৎসকদের মুখ খোলার ঘটনা বিরল।

‘অমানবিক হামলা’
কক্সবাজারের লেদা শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলছেন, তারা শত শত জখমি রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসা দিয়েছেন, যারা গত অক্টোবর ও নভেম্বরে রাখাইনে সেনা অভিযানে নৃশংস যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমন্বয়ক ড. নিরন্ত কুমার বলছেন, আগস্ট থেকে আসা রোহিঙ্গা ঢলের মধ্যে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের খবর আগের তুলনায় কম পাওয়া গেলেও এর মধ্যে যারাই চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের জখমগুলি ‘বেশি সহিংস’ হামলার নজির বহন করে। বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী বললেন, অক্টোবরের অভিযানের সময় অনেক শুরুতে অনেক নারী গ্রামে রয়ে গিয়েছিলেন এটা ভেবে যে, সেনাবাহিনী শুধু রোহিঙ্গা পুরুষদের খুঁজছে। কিন্তু এবার মিয়ানমার সেনাদের চিহ্ন দেখামাত্র তাদের বেশিরভাগ ঘর ছেড়ে পালান। লেদা ক্লিনিকের চিকিৎসকরা পরিচয় গোপন রেখে তিন রোগীর নথি দেখিয়েছেন রয়টার্স প্রতিবেদককে। তাদের মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক নারী ১০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসা নেওয়ার এক সপ্তাহ পর বলেন, যে তাকে এক মিয়ানমার সেনা ধর্ষণ করেছিল। হাতে লেখা ওই নথিতে বলা হয়েছে, তাকে ধর্ষণের আগে মিয়ানমার সেনারা তার ‘চুল ধরে টেনেছিল’ এবং তাকে ‘বন্দুক দিয়ে পেটান’। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক পরীক্ষায় এমন ক্ষত পাওয়া গেছে, যেগুলোতে বলপূর্বক যোনিকে পুরুষাঙ্গ ঢোকানো, পেটানো এবং কোনো কেনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নারীর যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে ধরা পড়েছে।
আইওএমের চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. তাসনুবা নওরিন বলেন, ‘আমরা চামড়ায় এমন দাগ দেখেছি, যেগুলো খুবই জোরালো আঘাত, অমানবিক আঘাত।’ নতুন আসা এসব রোহিঙ্গা নারীর মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে তিনি চিকিৎসা দিয়েছেন, যাদের সম্প্রতি ধর্ষণ করা হয়েছে তার মনে হয়েছে। তাদের সবার ক্ষেত্রে ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে তাদের শরীরে আঘাতের আলামতের মিল পাওয়া গেছে।

‘অনেক ঘটনার খণ্ডাংশমাত্র’
উখিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত সরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসকরা ধর্ষিত ১৯ নারীকে চিকিৎসা দেওয়ার খবর দিয়েছেন বলে নারী চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন সেখানকার স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের প্রধান ড. মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যেসব আলামত পাওয়া গেছে, তার মধ্যে আছে, কামড়ের দাগ, যোনিমুখ ছিঁড়ে ফেলাৃ এই ধরনের চিহ্ন।’ ১৪ সেপ্টেম্বর একদিনে একই ক্লিনিকে ছয় নারী এসেছিলেন, যাদের সবাই বলেছেন, তাদের উপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। তারা সবাই বলেছে, মিয়ানমারের সেনারা এসব করেছে। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের কাছের এক ক্লিনিকে কর্মরত এক আইওএমের এক চিকিৎসক বলেন, আগস্টের শেষে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক নারী বলেছেন, তাকে অন্তত সাতজন সৈনিক মিলে ধর্ষণ করেছে। ‘ওই নারী ছিল মারাত্মক দুর্বল এবং সন্ত্রস্ত এবং ক্লিনিকে আসতে তার খুব কষ্ট হয়েছে। তার যৌনাঙ্গ কাটা ছিল।’ ওই চিকিৎসক ১৫ থেকে ১৯ জন নারীর চিকিৎসা দিয়েছেন যারা ধর্ষিত হয়েছেন বলে তার মনে হয়েছে এবং শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত আরও আট নারী কার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই চিকিৎসক বলেন, তাদের কাউকে জরুরি ভিত্তিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ দেওয়া হয়েছে, এইচআইভি ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সবাইকে চিকিৎসা এবং হেপাটাইটিসের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। ‘তাদের হাতে ও পিঠে কামড়ের দাগ, যৌনাঙ্গে কাটা-ছেঁড়া ও যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।’ কক্সবাজারের সাহায্য সংস্থাগুলোর তৈরি আভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চার দিনে ৪৯ জন ‘এসজিবিভি সারভাইভর’ নথিবদ্ধ হয়েছে। শুধুমাত্র ধর্ষণের ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের চিকিৎসকরা ‘এসজিবিভি বা যৌনতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকেন। অন্য দিনগুলোর ধর্ষণের ঘটনা নথিবদ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। সাহায্য সংস্থাগুলোর একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২৫ আগস্টের পর থেকে ৩৫০ জনের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কিত ‘প্রাণরক্ষার সেবা’ দেওয়ার কথা উলে¬খ করা হয়েছে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা শব্দগুচ্ছ সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয় লিঙ্গের ভিত্তিতে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও বলাৎকারের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা ও সুযোগের বঞ্চনার ক্ষেত্রে। তবে প্রতিবেদনে ঘটনাগুলোর জন্য দায়ী কারা তা উলে¬খ করা হয়নি। কক্সবাজারে মেডিসিন্স সন্স ফ্রঁতিয়েসের (এমএসএফ) জরুরি চিকিৎসা সমন্বয়ক কেইট হোয়াইট বলেন, ২৫ অগাস্টের পর তারা অন্তত ২৩ নারীকে তারা পেয়েছেন, যারা দলবদ্ধ ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ যৌনতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ‘সেখানে এধরণের যত ঘটনা ঘটেছে এগুলি তার একটি অংশমাত্র।’

‘অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণ’
রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগের খবর রয়টার্স প্রথম প্রকাশ করে অক্টোবরে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার কয়েকদিনের মধ্যে। পরে জানুয়ারিতে জাতিসংঘের তদন্ত দল জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরের সময়ও একই অভিযোগ শোনেন। এপ্রিলে জাতিসংঘ মহাসচিবের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দৃশ্যত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হেয় ও সন্ত্রস্ত করতেই পদ্ধতিগতভাবে যৌন নিপীড়নকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সু চিও গত বছর ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেশটির জাতিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সোচ্চার হয়েছিলেন। সু চি সেই বক্তব্য এখনও ধারণ করে কি না জানতে চাইলে তার মুখপাত্র বলেন, ‘কিছুই বলার নাই। সবকিছুই আইন অনুযায়ী হবে। সেনা নেতৃত্বও বলেছে, তারা ব্যবস্থা নেবে।’

 

 

গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে রাতভর ধর্ষণ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রসুলপুর ইউনিয়নে বাবার বাড়ি রাতে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে দুই বখাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিত গৃহবধূ বাবার বাড়ি কদম রসুলপুর গ্রাম থেকে স্বামীর বাড়ি ছয়ানি রসুলপুর গ্রামে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

এনিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে দুই ধর্ষককে হাজির হতে নোটিশ করলেও তারা হাজির হয়নি। বরং ওই গৃহবধূর স্বামীকে এ ঘটনায় বাড়াবাড়ি না করে চুপ করে থাকতে বলে ধর্ষকরা। এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম আরও ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষকরা। পরে বাধ্য হয়ে গত ২০ অক্টোবর নির্যাতিত গৃহবধূ দুই ধর্ষকের নাম উল্লেখ করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপর থেকে দুই ধর্ষক গা ঢাকা দিয়েছে।
এব্যাপারে গফরগাঁও থানার ওসি একে এম মাহবুবুল আলম বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধু বাদী হয়ে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষণ মামলা নেয়া হবে। এছাড়াও অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।

 

 

শেরপুরে স্বামীর গচ্ছিত টাকা নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে স্ত্রী উধাও

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে পরকীয়া প্রেমের টানে স্বামীর গচ্ছিত সাড়ে ৭লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী তার প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হওয়ার পর পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। তবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার নয়-ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী সাথী আকতার (২৫) ও প্রেমিক ফিরোজুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, উপজেলার মহিপুর গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রীর সাথী আকতারের সাথে একই গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে ফিরোজুলের মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গেল ৩-৪ আগে  সাথীর স্বামীর গচ্ছিত সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে প্রেমিকের হাত ধরে উধাও হয়। এমনকি উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে এনামুল হকের বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করতে থাকে।
এদিকে সাথীর স্বামী হোসেন আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শেরপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে গত শুক্রবার রাতে মির্জাপুর গ্রামস্থ ওই বাড়ি থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় আটক হওয়া সাথী আক্তার সাংবাদিকদের জানায়, আমরা দু’জন পরস্পরকে ভালবাসি। তাই বিয়ে করে এখানে নতুনভাবে সংসার শুরু করেছি। স্বামীর গচ্ছিত সাড়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে সে জানায়, উক্ত টাকা প্রেমিক ফিরোজুলকে দিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্বামীর টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় স্ত্রী সাথী ও তার প্রেমিককে আটক করা হয়েছে।

 

দুপচাঁচিয়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে কলেজছাত্রের মৃত্যু

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি :  বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলায় গতকাল রোববার বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে কলেজছাত্র সৈকতের (২২)  মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের খাগড়া গ্রামের মৃত সামছুল আলমের ছেলে আলতাফ নগর শহীদ এম মুনছুর আলী ডিগ্রি কলেজের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সৈকত গতকাল রোববার দুপুরে নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পর্শ হয়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে দ্রুত তাকে দুপচাঁচিয়া হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

 



Go Top