সকাল ১১:০৮, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

পিরোজপুর প্রতিনিধি : ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পিরোজপুরে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারদন্ড দিয়েছে আদালত। পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম জিল্লুর রহমান  সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন।

এছাড়া উভয়কে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা না দিলে তাদের আরও তিন বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে। দন্ডপ্রাপ্তদের একজন হায়দার আলী শেখ (৩৮) রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন। প্রধান আসামি মো. জুয়েল সিকদার (৩৪) পলাতক। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান বাদশা বলেন, ২০১০ সালের জুলাইয়ে জেলার ইন্দুরকান্দী উপজেলার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর নগ্ন ছবি তোলা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ১ আগস্ট ইন্দুরকান্দী থানায় জুয়েল শেখকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনের সাক্ষ্য নিয়ে বিচারক এস এম জিল্লুর রহমান দুইজনকে এই দন্ড দেন বলে জানান আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক।

বাজিতপুরে বাসচাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নে বাসচাপায় আবু বাক্কার সিদ্দিক (৬০) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।  সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের উজানচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবু বাক্কার উপজেলার ডুয়াইগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
ভৈরব হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেপাল চন্দ্র সরকার  জানান, সকালে আবু বাক্কার ডুয়াইগাঁও থেকে সাইকেলে নিয়ে কটিয়াদী যাচ্ছিলেন। পথে কিশোরগঞ্জগমী একটি বাস আবু বাক্কারকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খুলনায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ওসিসহ ৫ পুলিশ আহত

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় চিত্তরঞ্জন বাইন নামের এক কলেজ শিক্ষককে হত্যা মামলার আসামি আজিজুলকে (২৩) নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে গোলাগুলিতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আসামি আজিজুল। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল উদ্দিন, মো. আব্দুল হান্নান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মামুন হোসেন ও শুভেন্দ্র কুমার পাল। রোববার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর বাগমারা প্রধান সড়কে শাহানারা বেগমের বাড়ির দক্ষিণ পাশে মো. নাসির উদ্দিনের ধানী জমির উত্তর পাশে কলা গাছের ঝোপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহত খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম  বলেন, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইন হত্যা মামলার আসামি আজিজুলকে রাত ১১টার সময় গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়া হয়। অভিযানে আজিজুলের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে আমিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। আসামি আজিজুল গুলিবিদ্ধ হলেও তার সহযোগিরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি এম এম পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা রয়েছে। শিক্ষক হত্যা মামলাসহ আসামি আজিজুলের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাতে শহীদ আবুল কাশেম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক চিত্তরঞ্জন বাইকে হত্যা এবং তার বাড়ির মালামাল লুট করা হয়।

অন্যের হয়ে জেল খাটা ভুট্টোই এখন আসামি

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে জেল খাটা রিপন আহমদ ভুট্টো এখন নিজেই আসামি।  সোমবার দুপুরে ভুট্টোসহ চারজনের বিরুদ্ধে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ।
মামলায় টাকার লোভে স্বেচ্ছায় বদলি সাজা ভোগকারী ভুট্টো ছাড়াও আইনজীবী শাহ আলম, শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও মূল আসামি ইকবাল হোসেন বকুলের ভাই শামীম আহমেদ এবং বিআরটিএ অফিসের দালাল লিয়াকত হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। বদলি সাজা ভোগের ঘটনা জানাজানির পর একটি হত্যায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি বকুলের হয়ে ভুট্টো দুই বছর ধরে সাজা খাটছিলেন বলে বিচার বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে প্রমাণের পর রোববার তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করতে নির্দেশ দেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাঠোয়ারী। ওই কমিটির প্রধান সিলেটের মুখ্য বিচারিক হাকিম কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, সেইসঙ্গে রিপনকে হত্যামামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মূল আসামি বকুলকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত বকুলের বদলি হয়ে এসে বন্দি হন রিপন। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নিদের্শ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপন টাকার লোভে স্বেচ্ছায় বদলি সাজা ভোগ করছেন। তাকে প্ররোচিত করেন অন্য তিনজন। সিলেটের সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের আলোচিত আলী আকবর সুমন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বকুল, যার হয়ে সাজা খাটছিলেন ভুট্টো। মূল আসামি বকুল বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন বলে জানান হাকিম আব্দুল হান্নান। ২০১২ সালের ২০ জুন সুমন হত্যা মামলার রায় দেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার দেবনাথ। মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত নয় আসামির মধ্যে বকুলসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। বকুল (২৬) সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। তার সঙ্গে দন্ডিত অন্য দুজন দরাছ মিয়া ওরফে গয়াছ (৩৪) ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগমও (৩২) একই গ্রামের।

 

দুই মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে চট্টগ্রামে মামলা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সরকারের দুই মন্ত্রীকে নিয়ে ফেইসবুকে কটূক্তির অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আদালতে মামলা করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। চট্টগ্রাম বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইকবাল  সোমবার মহানগর হাকিম আবু ছালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে এ মামলা করেন।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই হাজী মো. আলী (৫০) মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। স্কুলের ‘পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিরোধের জের ধরে’ গত জানুয়ারিতে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মো. আলী কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হাজী ইকবালের সঙ্গে বিরোধের জেরেই তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। বাদীর আইনজীবী সাবেক জেলা পিপি আবুল হাশেম  বলেন, হাজী মো. আলী সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নিয়ে ফেইসবুকে কটূক্তি করেছেন। বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে কোতোয়ালি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আর্জিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যেম দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেইসবুকে কটূক্তি করেন মো. আলী। অন্যাদিকে স্কুলশিক্ষক মো. আলী নিজেকে নগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান নিয়ে হাজী ইকবালের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে আমাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে হাজী ইকবালের লোকজন। তার বাড়ি স্কুলের পাশে। এখন আমি স্কুলে যেতে পারি না। প্রতিদিন লোকজন পাঠিয়ে সে আমাকে হুমকি দেয়। মো. আলী বলেন, ফেইসবুকে তার একটি অ্যা কাউন্ট থাকলেও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তিনি কখনো কিছু লেখেননি।