সন্ধ্যা ৭:১০, বুধবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে

বকুল হোসেন, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভয়াবহ তান্ডবে লন্ডভন্ড উপজেলা পরিষদ নতুন রূপ পেয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি।

মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দেখা যাওয়ার গুজবে তান্ডবের তিন বছর পর নির্মিত হয়েছে চারতলাবিশিষ্ট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স। পাশাপাশি উপজেলা অডিটরিয়ামের নির্মাণ কাজও শেষ। নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে নবরূপে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত কমপ্লেক্স। দরজা-জানালা থেকে শুরু করে ভবনের চারপাশে রঙের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝকঝকে চকচকে করা হয়েছে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স। পাল্টে গেছে পরিষদের ২০১৩ সালের ধ্বংসযজ্ঞ চিত্র।

সূত্র মতে, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যওিয়ার গুজবে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদে দফায় দফায় কয়েক ঘন্টাব্যাপী তান্ডবে ১৬টি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জিওবির অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির বাস্তবায়নে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৪ টাকা ব্যয়ে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বগুড়ার কবির ট্রেডার্স। ৬তলা ভিতবিশিষ্ট ৪র্থতলা ভবন নির্মাণ, হল নির্মাণ, স্যানিটারি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ সোলার সিস্টেম নির্মাণ শেষ হয়েছে।

এদিকে পৌর শহরের শেরপুর বাসস্ট্যান্ড নামক স্থানে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ৮শতক জায়গার উপর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজও শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের ১৩ মার্চ স্থানীয় সরকার বাস্তবায়নে ১ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২ টাকা ব্যয়ে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পাঁচতলাবিশিষ্ট তিনতলা ভবনটির নিচ তলায় দোকন ঘর থাকবে। দ্বিতীয় তলায় হবে কমিউনিটি হল এবং তৃতীয় তলায় হবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস। দোকান ঘর ও কমিউনিটি হল ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে বাড়তি আয় হবে যা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা: শরীফুন্নেসা বলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্মিত নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

খুলনায় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। ডুমুরিয়া থানার ওসি সুভাষ বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর এলাকার একটি খালের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সুদর্শন  রায় (২২) সরকারি সুন্দরবন কলেজে সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সুদর্শন বটিয়াঘাটা উপজেলার গুনারাবাদ গ্রামের সুকুমার রায়ের ছেলে। ওসি সুভাষ পরিবারের বরাতে বলেন, সুদর্শন ডুমুরিয়ার বড়ডাঙ্গায় মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। সোমবার মামার বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফেরেননি। সকালে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুদর্শনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে ‘খুনি’ সম্পর্কে ওসি কিছু জানাতে পারেননি।

শাহ আমানতে সোনার বিস্কুটসহ যাত্রী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫টি সোনার বিস্কুটসহ দুবাইফেরত এক যাত্রীকে গ্রেফতার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গ্রেফতার শাহাদাত হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তিনি চট্টগ্রাম নামেন বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোর্শেদ আলী জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহাদাতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার পেটের ভেতর সোনার বার থাকার কথা জানায়। পরে তার কাছ থেকে ১০ তোলা ওজনের ১৫টি বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সকালে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের এক যাত্রীর কাছ থেকে আরও চারটি সোনার বিস্কুট উদ্ধারের কথা জানিয়ে মোর্শেদ বলেন, মো. বাশার নামের ওই ব্যলক্তি মাস্কট থেকে চট্টগ্রামে আসেন। বাশারের সোনার বিস্কুটগুলো জব্দ করা হলেও তাকে আটক করা হয়নি। তবে তার পাসপোর্ট জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

 

নিঁখোজের একদিন পর ধলই নদী থেকে শিশুর লাশ উদ্বার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের একদিন পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছয় বছর বয়সী মিনারের লাশ উদ্বার করা হয় বলে কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.নজরুল ইসলাম জানান। আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও এলাকার মৃত আছদ্দর মিয়ার ছেলে মিনার মাসুম স্থানীয় বনগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিদর্শক নজরুল জানান, সোমবার বিকাল ৩টার দিকে গ্রামের অন্যন্য শিশুর সঙ্গে ধলই নদীতে গোসলে করে নামে মাসুম। সাঁতার কাটার এক পর্যায়ের পানিতে তলিয়ে যায় সে। পরে তার সঙ্গে থাকা সঙ্গীরা গিয়ে মাসুমের বাড়ির লোকেদের খবর দিলে তারা আশেপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও মাসুমের কোনো হদিস মেলেনি। মাসুমের খোঁজে সকালে একদল জেলে নদীতে নামে। কয়েক ঘন্টা খোঁজা খোঁজির পর জেলেরা তার লাশ খুঁজে পায় বলে জানান তিনি।
 

একুশের শহীদদের স্মরণ সীমান্তের শূন্য রেখায় দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা

বেনাপোল প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসেছিল দুই বাংলার বাংলাভাষী মানুষের মিলনমেলা। যশোরের বেনাপোল আর ওপরের পেট্রাপোলের মাঝে সীমান্তের শূন্যরেখা মঙ্গলবার একুশের সকাল থেকে মুখর ছিল গান, আবৃত্তি, নাচ আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদদের পদচারণায়। এক সময় ভারত ও বাংলাদেশ অংশে আলাদাভাবে একুশের মঞ্চ তৈরি হলেও এবার চেকপোস্টের শুন্যরেখায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’ নামে ছিল মূল আয়োজন।

দুই বাংলার এই যৌথ ভাষা উৎসব উদযাপনের তত্ত্বাবধানে ছিল ‘কাঠ পেন্সিল’ নামের একটি সংগঠন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ভাষার টানে কয়েক ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় সীমান্তের কাঁটাতার। দুই বাংলার মানুষ মেতে উঠে আড্ডা আর স্মৃতিচারণে। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ওপারের শিল্পী অরুন্ধতী হোম চৌধুরী ও অর্পিতা চক্রবর্তী; স্বাধীনবাংলা বেতারের শিল্পী খুরশিদ আলম ও রথীন্দ্রনাথ রায়। ওপার থেকে এসেছিলেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। এপারের কবি আসাদ চৌধুরী ও নাট্যকার জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আবৃত্তি শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। কাঠ পেন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ২০১১ সাল থেকে বেনাপোল পৌরসভার পক্ষে দুই বাংলার একুশ উদযাপনের মঞ্চসহ অন্যন্য স্থাপনা তৈরিতে কাজ করে আসছেন তারা। এবার ভাষা উৎসবকে প্রাণাবন্ত করে তুলতে ভাষা সৈনিক সব্যসাচী কবি শামসুল হক চত্বর, বর্ণমালা গ্যালারি ও বই মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন জানান, ‘ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতি’র উদ্যোগে ২০০২ সালে ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই দেশের প্রায় ২০টি সংগঠনের অংশগ্রহণে এই মিলন মেলার সূচনা হয়।  গত ১৫ বছরে এ আয়োজনের পরিধি আরও বেড়েছে। সকালে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিজ নিজ ভূ-খন্ডে অপেক্ষায় ছিলেন আয়োজকরা। ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০টা ১৫ বাজার সঙ্গে সঙ্গে সীমানা পেরিয়ে শূন্যরেখায় পা রাখেন পশ্চিমবাংলার প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল তাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পশ্চিমবাংলার খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ব্রাতা বসু, লোকসভার সদস্য মমতা ঠাকুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রহিমা মণ্ডল, বিধানসভার বিধায়ক বিশ্বজিত দাস, বনগাঁ পৌরসভার পৌর প্রধান শংকর আঢ্যসহ রাজনীতিবিদ, কবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা ছিলেন ওপার বাংলার প্রতিনিধি দলে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলাম মিলন, বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন, যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, বেনাপোল শুল্কভবনের কমিশনার শওকাত হোসেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ, কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা।

দুই বাংলার প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে শূন্যরেখায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের স্মরণে পুরো বিশ্ব আজ একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করে মাতৃভাষার দিবস হিসেবে। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘ভাষার টানে, বাঙালির নাড়ির টানে ভাষাদিবস পালন করতে এসেছি। একুশের গৌরবের উত্তরাধিকারী পৃথিবীর সব বাঙালি। এর ব্যাপ্তি শুধু ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, অনেক বিস্তৃত।’ আওয়ামী লীগ নেতা পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘বাঙালির অর্জনকে দুই বাংলা একসঙ্গে পালন করছি, এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে।’ তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন আমাদের অধিকারবোধের জম্ম দিয়েছিল। রক্তের বিনিময়ে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এ ঘটনা বিশ্বে বিরল।’ বনগাঁ পৌরসভার পৌর প্রধান শংকর আঢ্য বলেন, ২০০২ সাল থেকে বনগাঁর কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী ‘একুশে উদযাপন কমিটি’ গড়ে সীমান্তের শূন্য রেখায় একসঙ্গে মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করেন। সেই থেকে প্রতি বছরই এ দিনে খুলে যায় সীমান্তের ফটটক, দুই বাংলার মিলনমেলা বসে।