সকাল ১১:০৪, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, এক দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ইয়াহিয়া  রোববার সানিকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের হেফজত মঞ্জুর করেন। আরাফাত সানির আইনজীবী রকিবুল ইসলাম এই রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। অন্যকদিকে বাদীপরে আইনজীবী জুয়েল আহমেদ এর বিরোধিতা করেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন  জানান, হাকিম আদালত তথ্যশপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আসামি জামিন চাইলে তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। গত ৫ জানুয়ারি এক তরুণী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলা করেন বলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান। তিনি বলেন, আরাফাত সানির সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক বলে ওই তরুণীর দাবি। তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়েও করেন। সম্প্রতি তুলে নেওয়ার কথা বললে সানি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে ফেইসবুকে তার অশ্লীল ছবি আপলোড করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৮টার দিকে আমিন-বাজারের বাসা থেকে পুলিশ আরাফাত সানিকে গ্রেপ্তার করে বলে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম মুন্সী জানান। মামলার এজাহারের তথ্য  অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাসা মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায়। মেয়েটির দাবি, সাত বছর আগে সানির সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসে¤॥^রে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় পেণ করতে থাকেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরিবার থেকে বিয়ের জন্যত চাপ থাকায় ওই তরুণী সানিকে বলেন, হয় তাকে তুলে নেওয়া হোক, না হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ব্যুবস্থা করা হোক।
এরপর গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যামে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি এবং ওই তরুণীর কয়েকটি ছবি তাকে পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে। তবে ৩০ বছর বয়সী সানির মা নার্গিস আক্তার মোহাম্মদপুর থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। টাকার লোভে ওই মেয়ে তাকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে। ওই তরুণী সানির সঙ্গে বিয়ের দাবি করলেও কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন নার্গিস। বাংলাদেশ জাতীয় দলে বাঁহাতি স্পিনার সানির অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। দেশের হয়ে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার আগে ২০১৫ সালের নভেম্ব^রে জিম্বাবুয়ের বিপে সিরিজে দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরাফাত সানিকেও নিষিদ্ধ করে আইসিসি। বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের পর এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি সানির। গত বছরের শেষ দিকে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার দিনুকা হেতিয়ারাচ্চির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শূন্য রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি আলোচনাতেও এসেছিলেন। আরাফাত সানির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস  বলেন, আগে সম্পূর্ণ ঘটনা জানতে চান তারা। আমরা এখনো পুরো ব্যাপারটা জানি না। আইসিটি অ্যাক্টে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিতরের ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করছি। এরপর মন্তব্য করতে পারব।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ


সকালটা ছিল ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা। বিকেলে টুপটাপ বৃষ্টি। শরীর জমিয়ে দেওয়া হিম বাতাস; ‘টিপিক্যাল’ নিউ জিল্যান্ড আবহাওয়া। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে তখন শুধুই বাংলাদেশ! ২২ গজে চলছে সাকিব-রাজত্ব। কে বলবে, কন্ডিশন বিরুদ্ধ আর উইকেট সিমিং ও বাউন্সি! যেন বাংলাদেশেরই আপন আঙিনা।

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

 

২৮৯ রানে থেমে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস

মুশফিক নেই। ইমরুল এবং মুমিনুল হকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে ভাঙা-চোরা একটি দল। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের সবুজ উইকেটে টস হেরে ব্যাট করারই আমন্ত্রণ পেলো বাংলাদেশ। কিউই পেস ব্যাটারির সামনে তবুও বলতে গেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

তবুও কিউই পেসারদের তোপ সামলে প্রথম পুরোটা শেষ করতে পারলো না তামিম অ্যান্ড কোং। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগ পর্যন্ত ২৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এরপরই দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথ।

ইমরুলের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের ব্যাটই (৮৬) কিছুটা হেসেছিল। এছাড়া প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের ব্যাটও (৫৯) কথা বলেছে। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে টেস্টে অভিষিক্ত নুরুল হাসানের (৪৭) দৃঢ়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল মোটামুটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

ওয়েলিংটন টেস্টেই বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল মিনি হাসপাতালে। ইনজুরির শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস এবং মুমিনুল হক। তিনজনই দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। মুশফিক প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। ইমরুল ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেন। তামিমের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে ওপেন করতে নেমে জ্বলে উঠতে পারতেন তিনি।

মুমিনুল তো ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল সাহসে ভরপুর। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। ক্রাইস্টচার্চেও ছিলেন ভরসার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু পাঁজরের হাঁড়ে বল লেগে তিনিও ইনজুরির শিকার।

এ তিনজনের পরিবর্তে অভিষেক হলো নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহানের। শান্ত দলের সঙ্গে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট পারফরমার হিসেবে; কিন্তু কী ভাগ্য- একের পর এক অন্যদের ইনজুরি শান্তর মাথায় টেস্ট ক্যাপই পরিয়ে দিলো। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং পেসার শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে রুবেল হোসেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলীয় ৭ রানের মাথায় টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন তিনি। তামিমের আউটের পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের ৩১ রানের জুটিটা ভেঙে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন তার নামের পাশে লেখা ২৪ বলে ১৯ রান।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। দু’জনই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার।

যদিও নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুল লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। মাত্র ১৭ বলের ব্যবধানে ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারেই দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির রহমান। ব্যাটিং অর্ডারে দুই ধাপ উন্নতিকে কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি তিনি। আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর কিউই পেসারদের বেশ কিছুক্ষণ রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহান। প্রায় ২০ ওভার মোকাবেলা করেছে এ দু’জনের জুটি। রান করেছে ৫৩টি। তবে কিউই পেসারদের একের পর এক বাউন্সার আর শট বলের সামনে এক পর্যায়ে হার মানতে বাধ্য হন সদ্যই কৈশোর শেষ করা শান্ত। ৫৬ বল মোকাবেলায় ১৮ রান করে ফিরে যান তিনি।

শান্তর তুলনায় উইকেটে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হন নুরুল হাসান সোহান। ৯৮ বলে তিনি খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সোহানের জন্য আফসোস অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরির একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে পেলেন না। ট্রেন্ট বোল্টের ক্রমাগত শট বলেই ধরা খেলেন তিনি। মাথা বরাবর আসা বলকে পুল করতে গিয়েছিলেন সোহান। ফল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে।

তার আগেই অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১০ রান করে।  ২৬ বল খেলে ৮ রান করে আউট হন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পরই আউট হন সোহান। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি আর রুবেল হোসেন মিলে ইনিংসের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাব্বি আউট হলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে যান রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের ১০টি উইকেটই নেন কিউই পেসাররা। টিম সাউদি নেন ৫টি। ৪টি নেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাকি উইকেটটি নিলেন নিল ওয়েগনার।
 

ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

শুরুতে তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। এরপর দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১১ রান। উইকেটে আছেন অভিষেক হওয়া দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান।  ৭ রান নিয়ে ব্যাট করছেন শান্ত। আর সোহান আছেন ২৫ রানে।

অথচ তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাকিব ও সৌম্য। দু’ জনেই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

এর আগের ওভারেই ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির। তবে নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুলার লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ৮৬ রানের ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক তামিম ইকবালকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লেগ সাইডে রাখা টিম সাউদির বাউন্সার তামিম ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে তা ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে।

তামিমের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। দলীয় ৩৮ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে উইকেটরক্ষক ব্র্যাডলি ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ১৯ রান করেন তিনি।

মুশফিক, কায়েসকে ছাড়াই শেষ টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ১৫৯ রান। দলের ৫৯৫ রানের প্রথম ইনিংসে তা ছিল দারুণ যোগ। সেখানে পরের টেস্ট ম্যাচে?

কিছুই দিতে পারছেন না মুশফিকুর রহিম। কারণ বুড়ো আঙ্গুলের আঘাতের কারণে অধিনায়কই যে নামতে পারছেন না মাঠে।

ক্রাইস্টচার্চে তাকে ছাড়াই শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ টেস্ট দল। আর দ্বিতীয় টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন তামিম ইকবাল।

২০০৭ সালের পর এই প্রথম মুশফিককে ছাড়াই টেস্টে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে আসা

অন্যদিকে ইমরুল কায়েসের অভাবও ভালই অনুভব করতে হবে বাংলাদেশকে। তামিম ইকবালের সঙ্গে ইমরুলের জুটি বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি বলে মনে করা হয়। সেখানে ইমরুলে বদলে ওপেনিং-এ প্রথম ব্যাট হাতে দেখা যাবে সৌম্য সরকারকে ।

ওপেনার কাম বদলি উইকেট কিপার ইমরুল কায়েস প্রথম টেস্টে রান নেয়ার সময় উইকেট বাঁচাতে গিয়ে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আর উঠে দাঁড়াতেই পারেন নি। পরে স্ট্রেচারে করে ফেরত যেতে হয় মাঠের বাইরে।

মুশফিক নেই। তার বদলে উইকেট আগলানোর দায়িত্ব পড়ে যার হাতে সেই ইমরুল কায়েসও নেই। তাহলে উইকেটে কে থাকবেন?
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় টেস্টে উইকেটকীপার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে নুরুল হাসান সোহানের।

ওয়ানডে সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে বিশাল সংগ্রহ গড়ে আশা জাগিয়েছিল সফরকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের প্রথম টেস্টে পরাজয়ই মেনে নিতে হয়। কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানরা দাড়াতে না পারায় ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই সফরে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। আর শেষ টেস্টে সফরকারীরা মাঠে নামছে ইনজুরি আক্রান্ত একটি দল নিয়ে

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল টাইগারদের অনুশীলন

`ইংলিশ উইমেন আর ইংলিশ ওয়েদার` এ দুটোই নাকি রহস্যময়ী। যখন তখন রূপ ও রং বদলায়। যাদের সম্পর্কে নিশ্চিত করেও নাকি কিছু বলা যায়না। এই ভালো তো এই খারাপ। নিউজিল্যান্ডের নারীদের নিয়ে এমন প্রবচন নেই। তবে আবহাওয়া নিয়ে আছে। পাহাড়-সাগর ঘেরা ও সবুজ গাছপালার এ দ্বীপ দেশের আবাহওয়া ক্ষণে ক্ষণেই বদলায়।
 
আজ রোদ ঝলমলে দিন। কিন্তু তাই বলে কালও যে মেঘমুক্ত নীল আকাশের দেখা মিলবে এমন না। আবহাওয়ার রূপ প্রতিনিয়ত বদলায়। একটানা দুই বা তিনদিন টানা রোদ ঝলমলে দিনের দেখা মেলেনি এখনো। নেলসন, নেপিয়ার, মাউন্ট মুঙ্গানিয়া, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চ সব শহরই এক।

আজ আকাশ পরিষ্কারতো কাল আকাশে মেঘের ঘনঘটা। ক্রাইস্টচার্চে এসে প্রথম দিন দেখা মিললো রোদ ঝলমলে দিনের। রাত শেষ হয়ে বুধবার ভোর থেকেই আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আর বুধবার সকালে বৃষ্টির কবলে বাংলাদেশ টিম।

পূর্ব নির্ধারিরত সময় সকাল ১০ টায় প্র্যাকটিস শুরু ভেবে হোটেল ছেড়ে হ্যাগলে ওভালে চলে যাওয়া। কিন্তু বৃষ্টির খপ্পরে পড়ে হোটেলে ফিরে আসা।  আবার স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটে আবার মাঠে যাওয়া। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। অনুশীলন আর হয়নি। ঝির ঝিরে বৃষ্টির কারণে নেট হয়নি। অল্প ক`জন ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন।

বৃষ্টিতে অনুশীলন করা সম্ভব নয়। কিছু একটা তো করতে হবে। তাই কোচ হাথুরুসিংহে টিম মিটিংটা হ্যাগলে ওভালের ড্রেসিং রুমেই সেড়ে ফেললেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ টিম মিটিং শেষে বাংলাদেশ হেড কোচ এ সিরিজ কভার করতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। তারপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত ইনডোরে ব্যাটিং করতে যান।

বেসিন রিজার্ভের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংটাই চান হাথুরুসিংহে

যে পথে হাঁটলে সাফল্যের নাগাল পাওয়া যাবে, সে পথটা ঠিকই খুঁজে পাচ্ছে তার শিষ্যরা। কিন্তু হয় কিছু দূর, না হয় অনেকটা পথ এগিয়ে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছে। পুরো সফরেই এ অবস্থা। অতি বড় বাংলাদেশ বিরোধীও মানছেন, এ সফরে অন্তত একটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে পারতো মাশরাফির দল। কিন্তু জেতার সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি। একই অবস্থা টেস্টেও।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে জয়ের মত অবস্থা তৈরি না হলেও ড্র করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল মুশফিক বাহিনীর সামনে। প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ার পর দ্বিতীয়বার স্কোরলাইন চার ভাগের এক ভাগে নেমে আসাই হয়েছে কাল। অথচ একটু ভেবে চিন্তে আর রয়ে-সয়ে ঠান্ডা মাথায় বেশি সময় উইকেটে কাটানোর লক্ষ্যে ব্যাট করলে অনায়াসে প্রথম টেস্ট ড্র করা যেত। কিন্তু তার বদলে লক্ষ্য ও দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী ঘটায় হারই সঙ্গী থেকেছে। শেষটা ভালো না হওয়ায় প্রথম ইনিংসের উজ্জ্বল ব্যাটিং আর আকাশ ছোঁয়া অর্জন অনেকটাই ঢাকা পরে গেছে।

তারপরও অর্জন তো অর্জনই। শেষ পরিনতি যাই হোক না কেন, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঘাসের উইকেটে, প্রচণ্ড বাতাস ও শীতের মধ্যে ৫৯৫ রান করা এবং এক জুটিতে ৩৫৯ রান তোলা ছোটখাট কৃতিত্ব নয়। অনেক বড় অর্জন। তাই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে ঘুরে ফিরে চলে আসছে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যের কথা।

কোচ হাথুরুসিংহেও মনেও গেঁথে আছে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ- অ্যাপ্লিকেশন। তাইতো ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টের আগে তার একটাই আশা ব্যাটিংটা যেন এমনই হয়। আজ দুপুরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেষ টেস্ট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচের কথা চলে আসে। টাইগার কোচ কায়মনে চাচ্ছেন ওই অ্যাপ্রোচ-অ্যাপ্লিকেশনটার পুনরাবৃত্তি।   

তাই তো মুখে এমন কথা ‘আমরা বেসিন রিজার্ভের ইতিবাচক ও ভালো দিকগুলোর কথা ভাবছি। আমার মনে হয় ঐ ম্যাচের ভালো দিকগুলো আমরা নিতে পারি। ভুলে গেলে চলবে না বেসিন রিজার্ভে আমরা প্রথম চারদিন এগিয়ে ছিলাম। চতুর্থ দিনের শেষ আধঘণ্টা আর শেষ দিনটুকুই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। না হয় বাকি সময় আমাদেরই নিয়ন্ত্রণ ছিল। কাজেই আমি চাই অ্যাপ্রোচটা ঠিক প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসের মত যেন হয়।’
 
হাথুরুসিংহের ধারণা, ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের পিচও বেসিন রিজার্ভের মতই হবে। তাই তার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ আমরা ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করেছিলাম। আমার মনে হয় ক্রাইস্টচার্চের উইকেটও তেমনি হবে। এখানেও ঠিক বেসিন রিজার্ভের অ্যাপ্রোচটাই আশা করবো। যদি আগে ব্যাট করতে পারি তাহলে আমাদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ঠিক তেমনই থাকবে। তবে একটা কথা, আমরা যদি এমন সুন্দর আর সাজানো শুরু করতে পারি, তাহলে এবার লক্ষ্য থাকবে যে করেই হোক শেষটা ভালো করা। আমাদের লক্ষ্য, পরিকল্পনা কিংবা প্রত্যাশা যাই বলুন না কেন, তাহলো প্রথম টেস্টের চেয়ে ভালো শেষ করা।’

লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। বার বার আশা ভঙ্গের বেদনায় ডুবতে হচ্ছে। তারপরও নিজেকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন এ শ্রীলঙ্কান। মুখের স্মিথ হাসিটা ঠিকই আছে। এর ওর সঙ্গে কথা বলছেন হাসিমুখেই। কাল জানিয়ে দিয়েছিলেন বুধবার কথা হবে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে। সেই মতো আজ হ্যাগলি ওভালে নিজ ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে বেশ অনেকটা সময় কথা বললেন।

অনেক কথার ভিড়ে বেসিন রিজার্ভের সেই দুর্দান্ত ব্যাটিংটার কথাই ঘুরে ফিরে উচ্চারণ টাইগার কোচের কথায়। তিনি একা নন, গোটা বাংলাদেশ ক্রাইস্টচার্চেও তামিম, মুমিনুল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরদের কাছ থেকে ঠিক অমন উজ্জ্বল আর দায়িত্বসচেতন ব্যাটিংয়ের আশায় উন্মুখ। টাইগাররা কি সে আশা পূরন করতে পারবেন?    
 

তালগোল পাকিয়ে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য হার


এক সময়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত হেরেছে বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানোর পর বোলাররাও পারেননি লড়াই করতে। তাই সেই হারের বৃত্তেই মুশফিকুর রহিমের দল। ওয়েলিংটন টেস্ট ৭ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।

বিব্রতকর রেকর্ড
 
প্রথম ইনিংসে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেও হারতে হলো ওয়েলিংটন টেস্ট! টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এত রান করে হারেনি কোনো দল।
 
উইলিয়ামসনের শতক
 
দলকে সামনে থেকে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া কেন উইলিয়ামসন করেন দারুণ এক শতক। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সুইপ করে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি। ৮৮ বলে পঞ্চদশ শতক করার পথে ১৫টি চার হাঁকান তিনি। সেই ওভারেই ১ রান নিয়ে দলকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন অধিনায়ক।
 
ব্যাটিংয়ে তালগোল, বোলিং নির্বিষ
 
আগের দিন শেষ সময়ে মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজের আউটে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। পর দিন উইকেট ছুড়ে আসেন সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বির রহমান। মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের বীরত্বের পরও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
 
২১৬ রানের পুঁজি নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন মিরাজ। দুই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু স্বাগতিকদের সেরা দুই ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলরের দেড়শ’ রানের জুটি দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যায়।

টেইলরকে ফেরালেন শুভাশীষ
 
শুভাশীষ রায়ের বলে স্লিপে মেহেদী হাসানের চমৎকার এক ক্যাচে ফিরেন রস টেইলর। ভাঙে ১৬৩ রানের জুটি।   
 
৬০ রান করে টেইলর ফিরে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২০২/৩। জয়ের জন্য তাদের চাই আর ১৫ রান।

নিউ জিল্যান্ডের দুইশ’
 
জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ৩৫ ওভারে দুইশ’ রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। দেড়শ’ রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির দেড়শ’
 
নিউ জিল্যান্ডকে জয়ের পথে রাখা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে গড়েন দেড়শ’ রানের জুটি। তাদের ১৫০ রান আসে ১৩৪ বলে।
 
৩৪ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৯০/২। জয়ের জন্য আরও ২৭ রান চাই তাদের।

টেইলরের অর্ধশতক
 
তাসকিন আহমেদের বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান রস টেইলর। তার সঙ্গে কেন উইলিয়ামসের শতরানের জুটিতে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড। ৬১ বলে ৫০ রান করতে ৫টি চার হাঁকান চোখের অস্ত্রোপচারের পর এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা টেইলর।

নিউ জিল্যান্ডের দেড়শ
 
জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২৭.২ ওভারে দেড়শ’রানে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। শত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলরের শতরানের জুটি

তৃতীয় সেশনের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর গড়েন শতরানের জুটি। ৮২ বলে জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান এই দুই জনে।

২৫ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১৩৯/২। জয়ের জন্য আরও ৭৮ রান চাই তাদের।

উইলিয়ামসনের অর্ধশতক
 
শুভাশীষ রায়কে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান কেন উইলিয়ামসন। তার অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে নিউ জিল্যান্ড।
 
৪৩ বলে ৮টি চারে পঞ্চাশে যান উইলিয়ামসন। তখন দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২৭ রান। জয়ের জন্য আরও ৯০ রান চাই তাদের।
 
নিউ জিল্যান্ডের একশ’
 
জয়ের জন্য শেষ দিন ৫৭ ওভারে ২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দ্রুত রান সংগ্রহ করে নিউ জিল্যান্ড। ২০.৩ ওভারে তিন অঙ্কে পৌঁছায় তাদের সংগ্রহ। অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ক্রিজে তখন কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর।

উইলিয়ামসন-টেইলর জুটির অর্ধশতক
 
দ্বিতীয় সেশনের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে রস টেইলরের সঙ্গে জুটির অর্ধশতক স্পর্শ করেন কেন উইলিয়ামসন। ৪৬ বলে আসে তাদের জুটির অর্ধশতক।
 
১৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৯১/২। জয়ের জন্য শেষ সেশনে আর ১২৬ রান চাই তাদের।

মিরাজের দ্বিতীয় শিকার ল্যাথাম
 
টানা দ্বিতীয় ওভারে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন প্রথম ইনিংসে শতক করা টম ল্যাথাম।
 
১৬ রান করে ল্যাথাম ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৯/২। জয়ের জন্য তাদের চাই আরও ১৭৮ রান।

ম্যাচে মিরাজের প্রথম উইকেট
 
নবম ওভারে নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অফ স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ফিরতি ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জিত রাভাল। স্বাগতিকদের স্কোর তখন ৩২/১। জয়ের জন্য চাই আরও ১৮৫।
 
ম্যাচে মিরাজের এটাই প্রথম উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।

দুই প্রান্তেই স্পিনার
 
নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে দুই প্রান্তেই স্পিনার ব্যবহার করেন তামিম ইকবাল। তিন ওভার বল করার পর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে সরিয়ে সাকিব আল হাসানকে আক্রমণে আনেন তিনি। অন্য প্রান্তে টানা বল করেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
বাংলাদেশে দৃশ্যটা নিয়মিত হলেও ওয়েলিংটনে চলতি টেস্টে এই চিত্র এবারই প্রথম দেখা গেল।
 
৮ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩০/০। জয়ের জন্য আরও ১৮৭ রান চাই তাদের।

এবার কিপিংয়ে সাব্বির
 
নিয়মিত উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম হাসপাতালে, মাঠে ফিরলেও তার কিপিং করার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রথম ইনিংসে তার বদলে কিপিং করা ইমরুল কায়েস ঠিক মতো হাঁটতেই পারছেন না। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটের পেছনে দাঁড়ান সাব্বির রহমান।

১৬০ রানে অলআউট বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহিম-ইমরুল কায়েসের বীরত্ব, সাব্বির রহমানের অর্ধশতকের পরও ওয়েলিংটন টেস্টের পঞ্চম দিন দ্বিতীয় সেশনে ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

শুভাশীষ রায়কে শূন্য রানে বোল্ড করে বাংলাদেশ ইনিংসের ইতি টানেন ট্রেন্ট বোল্ট। হেলমেটে বল লাগায় মাঠ থেকে হাসপাতালে যাওয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন মুশফিক। খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠে নামা ইমরুল অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।

অলআউট হওয়ার আগে শেষ দিন ৯৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। শেষ দিন বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক ও সাব্বিরের দিকে। তিনজনই ফিরেন বাজে শট খেলে।

জয়ের জন্য ২১৭ রানের লক্ষ্য পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

পাগলাটে শটে সাব্বিরের বিদায়

অন্য প্রান্তে ইমরুল কায়েস আছেন, চোটের জন্য হয়তো দৌড়ে রান নিতে পারবেন না কিন্তু কিছু বল ঠেকিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তো তার আছে। নিউ জিল্যান্ড তখন মনোযোগী বাউন্ডারি বাঁচানোর দিকে। খানিকটা সময় সহজেই কাটিয়ে দিতে পারতেন সাব্বির রহমান। টিকে থাকার চেষ্টা না করে তিনি ফিরেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল অহেতুক তাড়া করতে গিয়ে।

৫০ রান করে বাজে শটে সাব্বির ফেরার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২/৮। দলের লিড তখন ২০৮ রান।

ইমরুলের ফেরা

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস ব্যাটিংয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি ফেরার পর। মুখোমুখি হওয়া দ্বিতীয় বলেই চার হাঁকান তিনি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ক্রিজে যাওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দৌড়ে রান নিতে পারছেন না।

টিকলেন না কামরুলও

টিম সাউদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। শর্ট বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি। গ্লাভসে লেগে আসা সহজ ক্যাচ তালু বন্দি করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ।

কামরুল ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৭। লিড তখন ২০৪।

সাব্বিরের অর্ধশতক

দলকে এগিয়ে নেওয়ার পথে ম্যাচে দ্বিতীয় অর্ধশতকে পৌঁছান সাব্বির রহমান। ৯৭ বলে পঞ্চাশে যেতে ৯টি চার হাঁকান এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এর আগে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত অর্ধশতক আসে তার ব্যাট থেকে।

৫৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৪৮/৬। লিড তখন ২০৪ রান।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট আর মুশফিকের বিদায়

পঞ্চম ও শেষ দিনের শুরুতে যতটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং দরকার ছিল তা করতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতে বাজে শটে ফিরেন সাকিব আল হাসান। উইকেট ছুড়ে আসেন মুমিনুল হকও।

আঙুলে চোট নিয়ে লড়াই করা মুশফিকুর রহিম মাঠ ছাড়েন অ্যাম্বুলেন্সে করে। টিম সাউদির শর্ট বল তার মাথার পেছনে হেলমেটে আঘাত হানে। শেষটায় ট্রেন্ট বোল্টের দারুণ এক ইয়র্কারে ফিরেন তাসকিন আহমেদ।

লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/৬। লিড ১৯৩ রান। সাব্বির রহমান ৪০ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি শূন্য রানে ব্যাট করছেন।

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত ব্যাটিংয়ে নামার জন্য। হেলমেট-প্যাড পরে বসে থাকতে দেখা গেছে এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে।

পরিস্থিতি হতে পারতো আরও খারাপ। প্রথম সেশনে তিনটি ক্যাচ ছেড়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। লাঞ্চের আগে দ্বিতীয় শেষ বলে ফিরে যেতে পারতেন সাব্বির। অন্য প্রান্তে থাকা কামরুলের পরামর্শে রিভিউ নিয়ে টিকে যান তিনি।

রিভিউ নিয়ে টিকে সাব্বির
 
টিম সাউদির বলে কট বিহাইন্ড দেওয়ার পর রিভিউ নিয়ে টিকে যান সাব্বির রহমান। ক্যাচ যায় আর্ম গার্ডে লেগে। টিম সাউদির বল ব্যাট বা গ্লাভস স্পর্শ না করায় পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। সে সময় ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন সাব্বির।

প্যাড পরে প্রস্তুত ইমরুল

আগের দিন স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়া ইমরুল কায়েস প্রস্তুত মাঠে নামার জন্য। তাসকিন আহমেদ আউট হওয়ার পর এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দেখা যায় হেলমেট, প্যাড পরে বসে থাকতে।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন তাসকিন

আগের বলে শর্ট লেগে জীবন পান তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের পরের দারুণ ইয়র্কার ঠেকাতে পারেননি এই তরুণ। বোল্ড হয়ে তিনি ফেরার সময় দলের স্কোর ১৩৭/৬। দলের লিড ১৯৩ রান।

অ্যাম্বুলেন্সে মাঠ ছাড়লেন মুশফিক

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমের হেলমেটের পিছন দিকে লাগে টিম সাউদির বল। ক্রিজেই শুয়ে পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউ জিল্যান্ডের ব্যর্থ রিভিউ

মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর এক ঘণ্টায় মাত্র একটি স্কোরিং শট খেলা সাব্বির রহমান টিম সাউদিকে হুক করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। রিভিউ নেয় নিউ জিল্যান্ড। কিন্তু বল ব্যাট বা গ্লাভস কোথাও স্পর্শ না করায় পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

জীবন পেলেন সাব্বির

ট্রেন্ট বোল্টকে চার হাঁকাতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাব্বির রহমান। সে সময় ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি।

সেই ২৬তম ওভারে শেষ রান পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আসার পর ১২ ওভারে যত বল খেলেন সাব্বির তার সবই ডট। বোল্টের সেই ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে আবার রানের দেখা পান তিনি।

জীবন পেলেন মুশফিক

লেগ গালি আর শর্ট লেগ রেখে শর্ট বলে মুশফিকুর রহিমকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিল ওয়েগনারের বলে অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ গালিতে হাতে জমাতে পারেননি টিম সাউদি। সে সময় ৬ রানে ব্যাট করছিলেন মুশফিক।

৩৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৩/৫। লিড ১৫৯।

ওয়েগনারের শর্ট বলে পরীক্ষা মুশফিকের

আঙুলে চোট নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকুর রহিমকে অস্বস্তিতে রাখতে শর্ট লেগ আর লেগ গালি রেখে একের পর এর এক শর্ট বল করে যান নিল ওয়েগনার। বেশ কয়েকবার বল লাগে ব্যাটের হাতলে। দুয়েকবার একটুর জন্য আবার চোট পাননি অধিনায়ক।

বাংলাদেশের একশ পার

মুশফিকুর রহিমের চারে দ্বিতীয় ইনিংসে একশ’ পার হয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। ২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০০/৫। লিড তখন ১৫৬ রান।

দলকে বিপদে ফেলে ফিরলেন মুমিনুল

দলকে বিপদে ফেলে ফিরেন মুমিনুল হক। নিল ওয়েগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

২৩ রান করে মুমিনুল ফেরার সময় দলের সংগ্রহ ৯৬/৫।লিড তখন ১৫২ রান।

দ্বিশতকের পর সাকিবের শূন্য

শেষ দিনের শুরুতেই দলকে বিপদে পেলে আউট হন আগের ইনিংসেই রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান। স্যান্টারের বলে মিড-অনে কেন উইলিয়ামসের হাতে সহজ ক্যাচ দেন প্রথম ইনিংসে ২১৭ রান করা এই অলরাউন্ডার।

পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে সাকিবের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৬/৪। লিড আগের দিনের মতোই ১২২।

হঠাৎ শঙ্কার মেঘ

চতুর্থ দিন শেষ সেশনে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। হঠাৎ বিপত্তি, দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। দ্রুত ফিরেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আঙুলে চোট রয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের।

শেষ দিন ১২২ রানের লিড নিয়ে ১০ রানে অপরাজিত মুমিনুল হকের সঙ্গে নামেন আগের ইনিংসেই ২১৭ রান করা সাকিব আল হাসান। দলকে নিরাপদে নিতে ভূমিকা রাখতে হবে সাব্বির রহমানকেও।

 

হঠাৎই শঙ্কার মেঘ


মিচেল স্যান্টনারের গুলির বেগে নিখুঁত থ্রোতে রান আউট মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঠের বড় পর্দায় যখন ভেসে উঠেছে তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত, মাঠের দুই আম্পায়ার তুলে নিলেন বেলসও। উৎকণ্ঠার মাঝেও বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে একটু স্বস্তি। দিনটা তো অন্তত শেষ হলো!

ব্যাটিংয়ের মধুচন্দ্রিমার পর বোলিংটায় ছিল যেন সংসারের কঠিন বাস্তবতা। তার পরও সেটি ছিল মানিয়ে নেওয়ার মতই। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া নাড়িয়ে দিল সুখী পরিবারকে। বিনা উইকেটে ৫০ থেকে ৬৬ রানে নেই ৩ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড বড় সহায়। চতুর্থ দিন শেষে ১২২ রানের লিড তবু খুব ভরসা দিতে পারছে না। এলোমেলো ঘর আবার গুছিয়ে শক্তভাবে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে।

সবকিছুর শুরু ইমরুল কায়েসের চোট থেকে। দেড়শ’ ওভার কিপিং করার পর দলের ব্যাটিং শুরু করতে নেমেছিলেন ইমরুল। খেলছিলেন দারুণ। দ্রুত রান নিতে গিয়ে ডাইভ দিয়ে চোট পেলেন বাঁ ঊরুতে। ওখানেই বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকার পর যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে মাঠ ছাড়লেন স্ট্রেচারে করে। বাংলাদেশের ইনিংসেও যেন পড়ল কালো মেঘে ছায়া।

সামনে খেলার বল পেছনে গিয়ে লেট কাট করতে গিয়ে বোল্ড তামিম ইকবাল। লেগ স্টাম্পের শর্ট বলে বাজে শটে কটবিহাইন্ড মাহমুদউল্লাহ। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে রান আউট মিরাজ। প্রায় মরা ম্যাচে দারুণ প্রাণের সঞ্চার। দিনের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ড ওপেনার টম ল্যাথাম জানালেন, জয়ের হাতছানিতে রোমাঞ্চ কিউই ড্রেসিং রুমেও।

এমনিতে সোজা হিসাব বলছে, ভয়ের খুব বেশি কিছু থাকা উচিত নয়। চারজন প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান এখনও আছেন। একটি শতরানের জুটি হলেই ম্যাচ নিরাপদ। কিন্তু বাংলাদেশ দলের বাস্তবতা যে ভিন্ন!

মাউন্ট ভিক্টোরিয়ার কোল থেকে কিছু দুষ্টু মেঘ যেমন ঝলমলে রোদের মাঝেও আচমকা ভিজিয়ে দিয়ে যায় বেসিন রিজার্ভ, কিংবা কালো মেঘ ফুড়ে হঠাৎই দেখা যায় রোদের ঝিলিক, প্রকৃতির এমন রূপ বদলের চেয়েও দ্রুত বদলায় বাংলাদেশের ইনিংস। ধস এই ব্যাটিং লাইন আপের বড় শত্রু। যখন শুরু হয়, বন্যার প্রবল স্রোতের মত ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম। বাধ দেওয়ার উপায়ই যেন জানা নেই! চতুর্থ দিনের শেষে তাই প্রতিপক্ষ নয়, শঙ্কা নিজেদের নিয়েই। চ্যালেঞ্জ আতঙ্কের মানসিক বাধা জয় করার।

দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা তাসকিন আহমেদ জানালেন, ড্রেসিং রুমও বুঝতে পারছে, কাজটা হয়ে উঠেছে কঠিন। চ্যালেঞ্জ কখনও বের করে আনে সেরাটা, কখনও দেয় গুঁড়িয়ে। গত বছরের অসংখ্য ধসের স্মৃতি বলে, আরেকবার হতাশায় ডোবা কেবল সময়ের অপেক্ষা। আবার টাটকা অনুপ্রেরণা এই ম্যাচই। শত মানসিক বাধা আর বাস্তবতাতে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ধ্বংসস্তুপ থেকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই বাংলাদেশই।

অমানিশার মাঝেও আলোকবিন্দু একটু সুখবর। প্যাড-ট্যাড পায়ে প্রস্তুত ছিলেন মুশফিকুর রহিম, প্রয়োজনে চতুর্থ দিনেও ব্যাট করতেন। নতুন করে কিছু না হলে পঞ্চম দিনে তো করবেনই। ব্যাটিং কৌশলের চেয়ে বড় সমস্যা যখন মানসিকতায়, অধিনায়কের ফেরার খবর সেখানে তখন সঞ্জীবনী সুধা।

কে জানে, হয়ত ক্রিকেট বিধাতার চিত্রনাট্যই এমন। বাংলাদেশের অনেক পাওয়ার ম্যাচ আরও সমৃদ্ধ হবে এই রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৩৯

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১৮.৩ ওভারে ৬৬/৩ (তামিম ২৫, ইমরুল আহত অবসর ২৪, মুমিনুল ১০, মাহমুদউল্লাহ ৫, মিরাজ ১; বোল্ট ০/২১, সাউদি ০/১২, স্যান্টনার ১/১৯, ওয়েগনার ১/১৪)

 

৩ উইকেট আর ইমরুলের চোটে চাপে বাংলাদেশ

শেষ বিকেলে নেই তিন উইকেট। আহত হয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছেড়েছেন ইমরুল কায়েস; আঙুলে চোট আছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের- তাই অস্বস্তিতে বাংলাদেশ।

শেষ বিকেলে ৩ উইকেট
 
নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। হঠাৎ বিপত্তি, দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। দ্রুত ফিরেন তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। আঙুলে চোট রয়েছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। তাই হঠাৎ অস্বস্তিতে বাংলাদেশ।
 
চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৬৬ রান; লিড ১২২। ১০ রানে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক। পঞ্চম ও শেষ দিন দলকে নিরাপদে নিতে মুমিনুল-সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানকেই রাখতে হবে বড় ভূমিকা।

দলকে বিপদে ফেলে রান আউট মিরাজ
 
রান আউট হয়ে ফিরেন নাইটওয়াচম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে আউট হয়েছিলেন দ্বিতীয় দিনের শেষ বলে। এবার মিচেল স্যান্টনারের সরাসরি থ্রোয়ে তিনি রানআউট হওয়ারই শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়
 
আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন ইমরুল কায়েস, আঙুলে চোট আছে মুশফিকুর রহিমের। ততক্ষণ আউট তামিম ইকবাল। এই সময়ে যতটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং দরকার ছিল সেটা করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। নিল ওয়েগনারের লেগ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান।  
 
৫ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৬৩/২। দলের লিড তখন ১১৯।

বোল্ড হয়ে ফিরলেন তামিম
 
ইমরুল কায়েস আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পরের ওভারে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের ভেতরে ঢোকা বলের লেংথ বুঝতে পারেননি তিনি। পিছিয়ে গিয়ে লেট কাট করার চেষ্টায় হন বোল্ড।
 
দ্বিতীয় ইনিংসে তামিম করেন ২৫ রান। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫১/১। দলের লিড তখন ১০৭ রান।

স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন ইমরুল
 

সবেই চোট থেকে উঠা ইমরুল কায়েস দলের প্রয়োজনে প্রায় দেড়শ’ ওভার কিপিং করেন। এর পরপরই তামিম ইকবালের সঙ্গে নামেন ইনিংস উদ্বোধন করতে। ত্রয়োদশ ওভারে দ্রুত ১ রান নেওয়ার পর বেঁকে বসে শরীর। মাঠে খানিকটা চিকিৎসা নিয়ে কাজ হয়নি। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে।    
 
২৪ রান করে ইমরুল আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৪৬/০। ততক্ষণে দলের লিড ১০২ রান।

নিউ জিল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম লিড
 
নিউ জিল্যান্ডে প্রথম ইনিংসে প্রথমবারের মতো লিড নেয় বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করা মুশফিকুর রহিমের দল স্বাগতিকদের গুটিয়ে দেয় ৫৩৯ রানে।
 
ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রানের ইনিংস খেলা মিচেল স্যান্টনারকে বোল্ড করে দলকে ৫৬ রানের লিড এনে দেন শুভাশীষ রায়। এর আগে দেশের মাটিতে দুই বার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ।
 
৮৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার কামরুল ইসলাম রাব্বি (৩/৮৭)। দুটি করে উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ (২/১৫), সাকিব আল হাসান (২/৭৮) ও শুভাশীষ রায় (২/৮৯)।
 
২৯ ওভারে ১৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। সবচেয়ে বেশি ৩৭ ওভারে ১১৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য মেহেদী হাসান। তার বোলিং ফিগার যা বলছে তার চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করেছেন এই তরুণ অফ স্পিনার।

মুশফিকের চোটে আবার উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ইমরুল কায়েস স্পর্শ করেন দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ ডিসমিসালের রেকর্ড। এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নিউ জিল্যান্ড ইনিংসের পুরোটা সময় কিপিং করেন। এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টে মুশফিক চোট পেলে ১২০ ওভারের মতো কিপিং করেছিলেন ইমরুল। সেবার শেষ দিকে তার কাছ থেকে গ্লাভস নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

মুশফিকের পাশে ইমরুল
 
মুশফিকুর রহিমের জায়গায় দাঁড়িয়ে তারই রেকর্ড স্পর্শ করেন ইমরুল কায়েস। কিপিংয়ে টেস্টে এক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিসমিসাল এখন যৌথভাবে এই দুই জনের।
 
২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে আর ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টে ইনিংসে পাঁচটি করে ডিসমিসাল রয়েছে মুশফিকের। তার আঙুলের চোটে ওয়েলিংটন টেস্টে কিপিংয়ে দাঁড়ান বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল।
 
কিপিংয়ে ইমরুলের পারফরম্যান্স চমকে দেওয়ার মতো। কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে নিল ওয়েগনারের ক্যাচ ধরে পাঁচ ডিসমিসালে মুশফিকের পাশে যান তিনি। ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের দশম উইকেট জুটি। তাই অধিনায়ককে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনও আছে তার।

রাব্বির তৃতীয় শিকার ওয়েগনার
 
চমৎকার বল করা কামরুল ইসলাম রাব্বি ফেরান নিল ওয়েগনারকে। নিউ জিল্যান্ডের ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ইমরুল কায়েসের গ্লাভসবন্দি হন। এটি কিপিংয়ে দাঁড়ানো বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পঞ্চম ডিসমিসাল।  
 
কামরুলের তিন ওভারে তিনবার ওয়েগনারের হেলমেটে আঘাত লাগে। যে ওভারে আউট হন তাতে পরপর দুই বলে বাউন্সার হেলমেটে লাগে ওয়েগনারের। ১৮ রান করে তার ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৫০৪/৯।

দ্বিতীয় সেশনে মাহমুউল্লাহর জোড়া ধাক্কা
 
অর্ধশতকের পথে মিচেল স্যান্টনার। তার ব্যাটেই পাচশ’ ছোঁয়ার পথে আছে নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় সেশনে ২৫ ওভারে ৯০ রান যোগ করতে ২ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
 
ম্যাচে নিজের প্রথম ওভার করতে এসে বিজে ওয়াটলিং ও টিম সাউদিকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ।
 
এরই মধ্যে চারটি ডিসমিসাল হয়ে গেছে মুশফিকুর রহিমের জায়গায় কিপিং করা ইমরুল কায়েসের।

মাহমুদউল্লাহর দ্বিতীয় শিকার সাউদি
 
প্রথম উইকেট ভালো কোনো বলে পাননি মাহমুদউল্লাহ। তবে দ্বিতীয়টি নেন চমৎকার এক ডেলিভারিতে। আর্ম বল ব্যাটের কানা ফাঁকি দিয়ে প্যাডে লাগলে এলবিডব্লিউ হন টিম সাউদি। রিভিউ নেন তিনি কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।
 
দারুণ এক ওভারে ২ উইকেট নিয়ে দলকে লিড নেওয়ার পথে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ।
 
সাউদি ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৪৭৩/৮।

রিভিউ নিয়ে ওয়াটলিংকে ফেরাল বাংলাদেশ
 
বোলিংয়ে এসেই বিজে ওয়াটলিংকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরে শর্ট বল সজোরে হাঁকাতে গিয়ে ইমরুল কায়েসের গ্লাভসবন্দি হন নিউ জিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক।
 
আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে পাল্টায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। নিউ জিল্যান্ডের স্কোর তখন ৪৭১/৭।

ওয়াটলিং-স্যান্টনার জুটির অর্ধশতক
 
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর বিজে ওয়াটলিং-মিচেল স্যান্টনারের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে নিউ জিল্যান্ড। ৯৪ বলে আসে সপ্তম উইকেট জুটির অর্ধশতক।  
 
১২৭ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৪৫১/৬।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট
 
আগের দিন তিন সেশনে একটি করে উইকেট নেওয়া বাংলাদেশ চতুর্থ দিন লাঞ্চের আগে তুলে নেয় ৩ উইকেট। ৩৬ ওভারে হেনরি নিকোলস, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও টম ল্যাথামকে হারিয়ে ১১০ রান যোগ করে নিউ জিল্যান্ড।
 
লাঞ্চে যাওয়ার সময় স্বাগতিকদের স্কোর ৪০২/৬। বিজে ওয়াটলিং ১৬ ও মিচেল স্যান্টনার ৩ রানে অপরাজিত।
 
১২ ওভারের টানা স্পেলে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিকোলস ও ল্যাথামকে ফেরান সাকিব। ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট উইকেট নেন শুভাশীষ রায়। মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে মাঠে দলকে পরিচালনা করা তামিম ইকবাল তিন পেসারকে ব্যবহার করেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। লম্বা স্পেল করাননি কাউকে দিয়েই।

নিউ জিল্যান্ডের চারশ’
 
বাংলাদেশের বিশাল সংগ্রহের জবাবে চতুর্থ দিনের লাঞ্চের আগে চারশ’ রানে পৌঁছায় নিউ জিল্যান্ড। ১১২ ওভার শেষে তাদের স্কোর ৪০০/৬। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বিজে ওয়াটলিংয়ের সঙ্গে ক্রিজে মিচেল স্যান্টনার।

সাকিবের দ্বিতীয় শিকার ল্যাথাম
 

সাকিব আল হাসানের বলে সুইপ করতে গিয়ে কয়েকবার কোনোমতে বেঁচে যান টম ল্যাথাম। তবে টানা প্রচেষ্টায় শেষ হাসি হাসেন বাঁহাতি স্পিনারই। সোজা বলে সুইপ মিস করে শেষ হয় ল্যাথামের দারুণ ইনিংসটি।  
 
৩২৯ বলে ১৮টি চার ও একটি ছক্কায় ১৭৭ রান করে বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৯৮/৬।

শুভাশীষের প্রথম উইকেট ডি গ্র্যান্ডহোম
 

আগের বলে চার, পরের বলে ছয়; আবার তাড়া করতে গেলেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। শুভাশীষ রায়ের ফুল লেংথ বল এবার ব্যাটে কানা ছুঁয়ে গেল ইমরুল কায়েসের কাছে। কোনো ভুল করেননি মুশফিকুর রহিমের চোটে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।   
 
১৪ রান করে ডি গ্র্যান্ডহোম ফেরার সময় দলের সংগ্রহ ৩৬৬/৫। চলতি টেস্টে এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো জুটি ভাঙলো অর্ধশতক ছোঁয়ার আগে।
 
নিজের ২১তম ওভারে প্রথম টেস্ট উইকেটের দেখা পান শুভাশীষ। কামরুল ইসলামের জায়গায় নিজের নতুন স্পেলের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন এই অভিষিক্ত পেসার।

কঠিন সুযোগ হাতছাড়া
 
বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়ান মেহেদী হাসান মিরাজ কিন্তু তালুবন্দি করতে পারেননি টম ল্যাথামের ক্যাচ। নষ্ট হয় আরেকটি সুযোগ। সে সময় ১৫৮ রানে ব্যাট করছিলেন নিউ জিল্যান্ডের বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
 
কামরুল ইসলাম রাব্বির অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বল তাড়া করতে গিয়ে ঠিক মতো পারেননি ল্যাথাম। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপের পাশ দিয়ে। দারুণ চেষ্টা করেন একটু আগেই হেনরি নিকোলসের ভালো একটা ক্যাচ তালুবন্দি করা মিরাজ। তবে এবার সফল হননি।

নিউ জিল্যান্ডের প্রতিরোধ ভাঙলেন সাকিব
 

হেনরি নিকোলসকে ফিরিয়ে নিউ জিল্যান্ডের ৪৫.২ ওভার স্থায়ী ১৪২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ দিন নিজের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।
 
বাতাসে ঝুলিয়ে দেওয়া মন্থর বল ফ্লিক করতে গিয়ে লেগ স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের ক্যাচে পরিণত হন নিকোলস। ৫৩ রান করে তিনি ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৪৭/৪।

ম্যাককালাম-রাইডারকে ছাড়িয়ে
 
কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে চার হাঁকিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দেড়শ’ ছাড়ান টম ল্যাথাম। এই চারেই চতুর্থ জুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি এনে দেয় নিউ জিল্যান্ডকে।
 
৮৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৩৪৫/৩। জুটির ১৪০।
 
২০০৮ সালে ঢাকা টেস্টে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জেসি রাইডার গড়েছিলেন ১৩৭ রানের জুটি। এত দিন চতুর্থ উইকেটে সেটাই ছিল সেরা। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের সেরা ছিল স্টিভেন ফ্লেমিং ও ক্রেইগ ম্যাকমিলানের ১৩০।

ল্যাথামের ক্যারিয়ার সেরা
 
নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়া টম ল্যাথাম ছাড়িয়ে যান নিজের ব্যক্তিগত সেরা। ২০১৪ সালে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১৩৭ রান ছিল বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের আগের সর্বোচ্চ।
 
বেসিন রিজার্ভে নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ রান ল্যাথামের। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জন রাইটের ১৩৮ রান আগের সেরা।

নিকোলসের অর্ধশতক
 
আগের দিন নড়বড়ে ব্যাটিং করা হেনরি নিকোলস চতুর্থ দিন পান অর্ধশতক। তাসকিন আহমেদের বলে তিন রান নিয়ে টেস্টে তৃতীয়বারের মতো পঞ্চাশে যান এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ১১৬ বলের ইনিংসে হাঁকান ৫টি চার।

ল্যাথাম-নিকোলসের শতরানের জুটি
 
দ্বিতীয় নতুন বলের প্রথম ওভারে চতুর্থ উইকেট জুটির রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান টম ল্যাথাম ও হেনরি নিকোলস। প্রথম ইনিংসে এটাই নিউ জিল্যান্ডের প্রথম শতরানের জুটি। এর আগে স্বাগতিকদের প্রথম তিন জুটি অর্ধশতক ছাড়ায়।
 
৭১ বলে এসেছিল ল্যাথাম-নিকোলস জুটির অর্ধশতক। শতক পর্যন্ত নিয়ে যেতে ২০০ বল খেলেন দুই ব্যাটসম্যান।

দ্বিতীয় নতুন বলেও মিরাজকে দিয়ে শুরু
 
স্বাগতিকদের ইনিংসের প্রথম ওভারটি করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে দলের প্রথম ইনিংসে স্পিন দিয়ে শুরু ওই প্রথম। ৮০ ওভার শেষে নতুন বল নেয় বাংলাদেশ, এবারও প্রথম ওভারটি করেন তরুণ অফ স্পিনার।

নিউ জিল্যান্ডের তিনশ’
 
চতুর্থ দিনের শুরুতেই নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ তিনশ’ রানে নিয়ে যান টম ল্যাথাম ও হেনরি নিকোলস। ৮০ ওভার শেষে স্বাগতিকদের স্কোর ৩০৩/৩।
 
রোববার ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে ৩ উইকেটে ২৯২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে নিউ জিল্যান্ড। এদিন আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। সকালে হয়েছে বৃষ্টি।  
 
খেলা শুরুতে পাঁচ মিনিট দেরি
 
বৃষ্টির জন্য চতুর্থ দিন খেলা শুরু হতে পাঁচ মিনিট দেরি হয়। প্রথম দিন প্রায় ৫০ ওভার খেলা কম হওয়ায় শেষ চার দিনই খেলা শুরু হওয়ার কথা নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে রোববার সকালে ছিল বৃষ্টির বাধা। তবে হঠাৎ করেই আবহাওয়া মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গেলে আম্পায়াররা খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।

 

ল্যাথামের সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডের জবাব

স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়েলিংটন টেস্টে টম ল্যাথামের অপ্রতিরোধ্য সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের জবাব দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড।

নিজেদের মাঠ বেসিন রিজার্ভে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫৯৫ রানের জবাবে  টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। ল্যাথামের অপরাজিত ১১৯ এবং উইলিয়ামসনের ফিফটিতে ৩ উইকেটে দিনশেষে ২৯২ রান করেছে দলটি। ফলে তৃতীয় দিন শেষে সফরকারী বাংলাদেশের চেয়ে ৩০৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে কিউইরা। এর আগে সাকিবের ক্যারিয়ারসেরা ২১৭ এবং মুশফিকের ১৫৯ রানে  ৭ উইকেটে ৫৪২ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন ১০ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বির রহমান আজ ব্যাট করতে নেমে ফিফটি তুলে নেন। টেস্টে এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি।এরপর ৮ উইকেটে দলীয় সংগ্রহ ৫৯৫ হলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির। জবাবে আজ ব্যাটিংয়ে নেমে নিজেদের শুরুটা ভালোই হয় নিউজিল্যান্ডের। দলীয় ৫৪ রানের সময় কিউই ওপেনার জিৎ রাভালকে (২৭) ফিরিয়ে টাইগার সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান কামরুল ইসলাম রাব্বী। এরপর দলীয় ১৩১ রানের সময় কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে (৫৩) ফেরান অভিষিক্ত তাসকিন আহমেদ। এরপর তৃতীয় উইকেট হিসেবে অভিজ্ঞ রস টেইলরকে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন রাব্বী। তৃতীয় দিন শেষে ল্যাথাম ১১৯ এবং নিকোলাস ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। দিনের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিলি পয়েন্টে সাব্বির রহমানের হাতে জীবন পান নিকোলস। তাকে ফেরাতে পারলে হয়তো শেষটা রঙিন হয়ে থাকতে বাংলাদেশের জন্য।

তবে নিউজিল্যান্ডে প্রথম স্পিনার হিসেবে প্রথম ইনিংসে বোলিং শুরু করা মিরাজ ভালো বল করেছেন। শেষ বলে সাব্বির ক্যাচ ধরতে পারলে ২৬ ওভার বল করা এই তরুণও দিন শেষে উইকেট প্রাপ্তির তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারতেন। তার সঙ্গে উইকেটশূন্য ছিলেন শুভাশিস রয়।

দুটি কঠিন ক্যাচ ধরতে পারলে দিনটা আরো ভালো কাটতে পারত বাংলাদেশের। ৩০৩ রানে পিছিয়ে থাকা নিউজিল্যান্ড ব্যাট হাতে আগামীকাল চতুর্থ দিনে নিজেদের দৃঢ়তা ধরে রাখতে চাইবে। আর বাংলাদেশের প্রত্যাশা থাকবে দ্রুত উইকট পতন।

 

তৃতীয় দিন শেষে ৩০৩ রান পিছিয়ে নিউ জিল্যান্ড


প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৯৫ রানের জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করছে কেন উইলিয়ামসনের দল।

তিন সেশনে ৩ উইকেট, টম ল্যাথামের ষষ্ঠ শতকের ওপর ভর করে বাংলাদেশের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিচ্ছে নিউ জিল্যান্ড। ল্যাথাম ১১৯ ও হেনরি নিকোলস ৩৫ রানে ব্যাট করছেন। ল্যাথাম-নিকোলসের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটিতে এসেছে ৮৭ রান।
 
দিনের শেষ বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিলি পয়েন্টে সাব্বির রহমানের হাতে জীবন পান নড়বড়ে ব্যাটিং করা নিকোলস।
 
থিতু হওয়ার পরও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। তবে চারটি জুটিতেই অর্ধশতক পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।
 
নিজের প্রথম বলে জিত রাভালের উইকেট নেওয়া কামরুল ইসলাম রাব্বি পরে ফেরান টেইলরকে। এদিন তিনিই দলের সবচেয়ে সফল বোলার।
 
সাব্বিরের আরেকটি ব্যর্থতায় টেস্টে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট থেকে বঞ্চিত হন তাসকিন আহমেদ। পরে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়ামসনকে বিদায় করে এই সংস্করণে নিজের প্রথম উইকেট নেন তিনি।   
 
নিউ জিল্যান্ডে প্রথম স্পিনার হিসেবে প্রথম ইনিংসে বোলিং শুরু করা মিরাজ ভালো বল করেছেন। শেষ বলে সাব্বির ক্যাচ ধরতে পারলে অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসলও পেয়ে যেতেন ২৬ ওভার বল করা এই তরুণ। ১৬ ওভার করে উইকেটশূন্য অভিষিক্ত পেসার শুভাশীষ রায়।
 
দুটি কঠিন ক্যাচ ধরতে পারলে দিনটা আরও ভালো কাটতে পারতো মুশফিকুর রহিমের দলের।

ল্যাথামের ষষ্ঠ শতক
 
তাসকিন আহমেদের বলে চার হাঁকিয়ে শতকে পৌঁছান টম ল্যাথাম। টেস্টে এটি নিউ জিল্যান্ডের বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ষষ্ঠ শতক।
 
১৬৭ বলে শতক করতে ১৩টি চার হাঁকান ল্যাথাম।
 
ল্যাথাম-নিকোলস জুটির অর্ধশতক
 
টানা চার উইকেটে অর্ধশত রানের জুটি পায় নিউ জিল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে টম ল্যাথাম-হেনরি নিকোলস পঞ্চাশে যেতে খেলেন ৭১ বল। আগের তিনটি জুটিতেও ছিলেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ল্যাথাম।

বাংলাদেশের ব্যর্থ রিভিউ
 
৫৭তম ওভারে হেনরি নিকোলসকে করা মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাতে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন তামিম। ইম্প্যাক্ট অফ স্টাম্পের বাইরে আম্পায়ার্স কল থাকায় বেঁচে যান নিকোলস।

টেইলরকে ফেরালেন কামরুল
 
আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলা রস টেইলরকে ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। কোমড় উচ্চতার বল পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন চোখের অস্ত্রোপচারের পর এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা টেইলর।
 
৫১ বলে ৪০ রান করে টেইলর ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ২০৫/৩।
 
নিউ জিল্যান্ডের দুইশ’
 
টানা তিন অর্ধশত রানের জুটিতে ৪৬তম ওভারে দুইশ’ রানে যায় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ। ৪৬ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২০৩/২।
 
ল্যাথাম-টেইলর জুটির অর্ধশতক
 
প্রথম তিন উইকেটেই অর্ধশত রানের জুটি গড়ে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম দুই উইকেটে পঞ্চাশে লাগে ৭৮ বল করে। টম ল্যাথাম-রস টেইলরের তৃতীয় উইকেট জুটির অর্ধশতক আসে ৪৩ বলে।

দ্বিতীয় সেশনে উইলিয়ামসনের উইকেট
 
দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত রান তোলার পথে কেন উইলিয়ামসনকে হারায় নিউ জিল্যান্ড। ২৫ ওভারে ১৩১ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৪৩ ওভারে ১৮৬/২। টম ল্যাথাম ৬৫ ও রস টেইলর ৩৬ রানে ব্যাট করছেন।
 
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে টেস্টে প্রথম উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ।

আক্রমণে সাকিব
 
রস টেইলর ব্যাটিং আসা মাত্র আক্রমণে আসেন সাকিব আল হাসান। চোখের অস্ত্রোপচারের পর এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা টেইলরের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনাররা বেশ সফল।

তাসকিনের প্রথম টেস্ট উইকেট উইলিয়ামসন
 

ওয়ানডেতে দুইবার কেন উইলিয়ামসনকে ফেরানো তাসকিন আহমেদ নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ককে দিয়েই শুরু করেন টেস্ট উইকেট শিকার। চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছানোর পরের বলেই ফিরেন উইলিয়ামসন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন ইমরুল কায়েসকে।
 
৫৫ বলে ৮টি চারে ৫৩ রান রান করেন উইলিয়ামসন। অধিনায়ক ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৩১/২।

ল্যাথামের অর্ধশতক

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান টম ল্যাথাম। বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান অর্ধশতকে পেতে খেলেন ১০৮ বল, হাঁকান ৬টি চার।

ল্যাথাম-উইলিয়ামসন জুটির অর্ধশতক

নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেও আসে অর্ধশতক। টম ল্যাথাম-কেন উইলিয়ামসন ১৩ ওভারে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন। ৩০ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ১১০/১।

নিউ জিল্যান্ডের একশ’

কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে কেন উইলিয়ামসনের চারে একশ’ পার হয় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ। এক দিকে সতর্ক টম ল্যাথাম। অন্য দিকে বোলারদের ওপর চড়াও হন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

২৯ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১০২/১।

লাঞ্চের আগে ভাঙল উদ্বোধনী জুটি

৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণার পর লাঞ্চের আগেই নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৫।

টম ল্যাথাম ২৭ ও কেন উইলিয়ামসন ১ রানে ব্যাট করছেন।

স্পিন দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে নিউ জিল্যান্ডকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেট পেতে পারতেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। একটুর জন্য স্লিপে যায়নি জিত রাভালের ক্যাচ। নিজের প্রথম বলেই আঘাত হানেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। টেস্টে নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদও। সাব্বির রহমান স্লিপে রাভালের ক্যাচ ছাড়ায় তা আর হয়নি।

এসেই কামরুলের আঘাত

মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় বোলিংয়ে এসেই আঘাত হানেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ইমরুল কায়েসকে সহজ ক্যাচ দেন জিত রাভাল।

২৭ রান করে উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যানের ফেরার সময় নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫৪/১।

ল্যাথাম-রাভাল জুটির অর্ধশতক

বাংলাদেশের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে টম ল্যাথাম ও জিত রাভালের অর্ধশত রানের জুটি নিউ জিল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেয়। ৩৫ রানে ভাঙতে পারতো স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি। টেস্ট ক্রিকেটে তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারে রাভালের ক্যাচ ধরতে পারেননি সাব্বির রহমান।

১৩ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ৫০/০।

রাভালকে জীবন দিলেন সাব্বির

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। জিত রাভালের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আসা নীচু সহজ ক্যাচ থার্ড স্লিপে হাতে জমাতে পারেননি দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। সে সময় ২৪ রানে ব্যাট করছিলেন নিউ জিল্যান্ডের বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

মিরাজকে দিয়ে বাংলাদেশের শুরু

অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সুযোগ তৈরি করেন এই তরুণ। একটুর জন্য স্লিপ ফিল্ডারের হাতে যায়নি জিত রাভালের ক্যাচ।

মুশফিকের বদলে কিপিংয়ে ইমরুল

নিউ জিল্যান্ড ইনিংসের শুরুতে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন ইমরুল কায়েস। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পাওয়ায় কিপিং করেননি মুশফিকুর রহিম। তার জায়গায় ফিল্ডিংয়ে নামেন সৌম্য সরকার। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টেও মুশফিকের চোটে কিপিং করেছিলেন ইমরুল।

অভিজ্ঞতা আছে কেবল সাকিবের

বাংলাদেশের পাঁচ বোলারের মধ্যে দেশের বাইরে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। নিজেদের প্রথম টেস্ট খেলছেন তাসকিন আহমেদ ও শুভাশীষ রায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে টেস্ট খেলেছেন দেশের মাটিতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের ইনিংস ঘোষণা

আগের দিনই মুশফিকুর রহিম জানিয়েছিলেন, নিউ জিল্যান্ডকে চাপে ফেলতে তৃতীয় দিন আরও ৫০ রান চাই তাদের। সেই রান হয়ে যেতেই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক। এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাব্বির রহমান।

৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা আসায় ব্যাটিংয়ে নামা হয়নি অভিষিক্ত শুভাশীষ রায়ের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫২ ওভারে ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা (তামিম ৫৬, ইমরুল ১, মুমিনুল ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ৫৪*, মিরাজ ০, তাসকিন ৩, রাব্বি ৬*; বোল্ট ২/১৩১, সাউদি ২/১৫৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ০/৬৫, ওয়াগনার ৪/১৫১ স্যান্টনার ০/৬২, উইলিয়ামসন ০/২০)।

সাব্বিরের অর্ধশতক

নিল ওয়াগনারকে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান সাব্বির রহমান। দেশের বাইরে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসে পঞ্চাশ স্পর্শ করলেন এই তরুণ। তখন দলের রান ৫৯৩/৮।

সাব্বিরের অর্ধশতক আসে ৮৫ বলে, ৭টি চারে। তিন টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় অর্ধশতক।

আধ ঘণ্টা টিকলেন তাসকিন

অভিষেক টেস্টে নিজের প্রথম ইনিংসে আধ ঘণ্টা টিকে থেকে ৩ রান করে ফিরেন তাসকিন আহমেদ। নিল ওয়াগনারের বলে স্লিপে টিম সাউদিকে ক্যাচ দিয়ে এই পেসারের ফেরার সময় দলের সংগ্রহ তখন ৫৬৬/৮।

জীবন পেলেন সাব্বির

ট্রেন্ট বোল্টের বলে সাব্বির রহমানকে জীবন দেন টম ল্যাথাম। অফ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করার চেষ্টায় টাইমিং করতে পারেননি বাংলাদেশের শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। মিড অনে আসা সহজ ক্যাচ তালুতে জমাতে পারেননি ল্যাথাম। সে সময় ৩১ রানে ব্যাট করছিলেন সাব্বির। তৃতীয় দিন আরও ৫০ রান যোগ করার লক্ষ্য পূরণে এই তরুণের দিকেই তাকিয়ে দল।

সাড়ে পাঁচশ রান পার

সাব্বির রহমান আর তাসকিন আহমেদের জুটিতে তৃতীয় দিনের শুরুতেই সাড়ে পাঁচশ রান ছাড়ায় বাংলাদেশ দল। টেস্টে এ নিয়ে চতুর্থবার ৫৫০ ছাড়াল তারা।

১৩৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৫৫৭/৭। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে তাদের এর চেয়ে বড় স্কোর আছে আর একটিই। ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩৮।  

মুশফিকের লক্ষ্য বড় লিড

স্বপ্নের মতো কেটেছে একটি দিন, স্বপ্নের মতোই কাটবে প্রথম টেস্ট, যদি ফল পক্ষে আনা যায়। জিততে প্রাণপণ চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের। অতিথিদের চাপে ফেলতে সবার আগে বড় লিড চান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। নিউ জিল্যান্ডে এর আগে কখনও লিড নিতে পারেনি পারেনি তার দেশ।  

আরও ৫০ রান চাই বাংলাদেশের

নিউ জিল্যান্ডকে চাপে ফেলতে প্রথম ইনিংসে তৃতীয় দিন আরও অন্তত ৫০ রান সংগ্রহ করতে চায় বাংলাদেশ। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে শনিবার ৭ উইকেটে ৫৪২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে তারা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিশ্বাস, সাব্বির রহমানকে ঘিরে টেলএন্ডাররা খেললে ছয়শ’ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ গড়া সম্ভব।

বোলারদের জন্য কিছু আছে

অনেক রেকর্ড গড়া ৩৫৯ রানের জুটি উপহার দেওয়া মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের বিশ্বাস, উইকেট পুরোপুরি ফ্ল্যাট নয়, বোলারদের জন্য কিছু এখনও আছে। ভালো জায়গায় বল করে চাপ ধরে রাখতে পারলে উইকেট পাওয়া সম্ভব।

 

৩ উইকেট আর পাঁচটি সুযোগ

মার্টিন ক্রোর সেঞ্চুরির রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি। মুহূর্তটার সাক্ষী হতে গ্যালারিতে রস টেইলরের বাবা-মা আর পরিবারের বেশ কজন। টেইলর থমকে গেলেন দারুণ শুরুর পরও। থিতু হওয়া কেন উইলিয়ামসনকে সরানোর দুঃসাধ্য কাজটিও হয়ে গেল তাসকিন আহমেদের গোলায়। কিন্তু টম ল্যাথামের দেয়ালে মুখ থুবড়ে পড়ল সব প্রচেষ্টা। ঠিক প্রথম ওয়ানডের মতো!

হ্যাগলি ওভালে ল্যাথামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি দেখিয়েছিল জয়ের পথ। প্রথম টেস্টে সেই ল্যাথামের ব্যাটেই চলছে জবাব। ৩ উইকেটে রান নিয়ে ওয়েলিংটন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ করেছে নিউ জিল্যান্ড। ল্যাথাম অপরাজিত ১১৯ রানে।

সকালে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ।

বেসিন রিজার্ভের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়ে ওঠে তৃতীয় দিনে। জানাই ছিল তাই সহজ হবে না বাংলাদেশের বোলারদের কাজ। তার পরও থাকছে একটু আক্ষেপ। তিন সেশন বাংলাদেশ নিতে পেরেছে একটি করে উইকেট। তবে ধরা দিতে পারত আরও দু-একটি, যদি কাজে লাগানো যেত সুযোগ আর ‘প্রায়’ সুযোগগুলোর দু-একটি! তেমন সুযোগ বাংলাদেশ পেয়েছিল পাঁচ-পাঁচটি!

প্রথম সুযোগটি ছিল তাসকিন আহমেদের বলে। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন তরুণ ফাস্ট বোলার। তৃতীয় স্লিপে সহজ ক্যাচ ছাড়লেন দলের সেরা ফিল্ডার সাব্বির রহমান। রঙিন পোশাকের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ হাতছাড়া হয় তাসকিনের বলেই। একই হতাশায় শুরু তার টেস্ট ক্যারিয়ারও।

সেঞ্চুরিয়ান ল্যাথাম সুযোগ দিয়েছিলেন ৮৩ রানে। লং লেগ থেকে ছুটে বলের কাছে যেতে পারেননি সাকিব আল হাসান। বোলার? কে আবার, তাসকিন!

খানিক পরই মিরাজের বলে হেনরি নিকোলসের ব্যাটের কানা নেওয়া বল পড়ল বোলার আর তামিমের মাঝে। দলে জায়গা বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা এই ব্যাটসম্যান সুযোগ দিয়েছিলেন আরও দুটি। শেষ বিকেলে শুভাশীষের বলে স্লিপে দুরূহ ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি মিরাজ। পরে মিরাজের বলে সিলি পয়েন্টে বলে কেবল আঙুল ছোঁয়াতে পারলেন সাব্বির।

দিনের শেষের মত শুরুতেও ছিলেন সাব্বির। তবে সেটি হতাশা নয়, বরং প্রাপ্তির প্রকাশ হয়ে। লোয়ার অর্ডারদের আগলে রেখে করলেন দারুণ অর্ধশতক। ছয়শর কাছাকাছি গিয়ে ইনিংস ঘোষণা করল দল।

ড্রেসিং রুম থেকে ইনিংস শেষের ঘোষণা দিলেও মাঠে নামেননি মুশফিকুর রহিম। আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় চোট পাওয়া দুই আঙুলে তোলেননি কিপিং গ্লাভসের ভার। ঠেকার কাজ ভালোই চালিয়েছেন ইমরুল।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরু চমক দিয়ে। মিরাজের হাতে বল, নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে দলের প্রথম ইনিংসে স্পিন দিয়ে শুরু এই প্রথম!

মিরাজ খারাপ করেননি। দুই কিউই ওপেনার তবু সামলে নেন। প্রথম ব্রেক থ্রু দেন অবশ্য দলের সবচেয়ে ‘অভিজ্ঞ’ পেসার। অভিজ্ঞতা যার দুই টেস্টের। বল হাতে নিয়েই জিত রাভালকে ফেরান কামরুল ইসলাম রাব্বি। ভাঙে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি।

পরের তিনটি জুটিতেও অর্ধশতক ছাড়িয়েছেন নিউ জিল্যান্ড। প্রতিটিতেই ছিলেন ল্যাথাম। যথারীতি উইলিয়ামসন খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন কিছু শট। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাসকিন তাকে ফিরিয়েছেন দারুণ এক ডেলিভারিতে। প্রথম দুই ওয়ানডের পর আরও একবার সময়র অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে শিকার করলেন তাসকিন।

দ্বিতীয় সেশনে ১২১ মিনিটে ১৩১ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। চোখের অস্ত্রোপচারের পর টেইলরের চোখ মনে হচ্ছিলো তীক্ষ্ণ হয়েছে আরও। শুরু করেছিলেন ঝড়ের গতিতে। কিন্তু ৪০ রানে ফিরেছেন রাব্বির নিরীহ শর্ট বলে পুল করে।

রান খরায় থাকা নিকোলস ‘হাফ চান্স’ দিয়ছেন তিনবার। ভুগেছেন অনেকটা সময়। কিন্তু পড়ে থেকেছেন উইকেটে। আরেক পাশে ল্যাথাম করেছেন যেটি তিনি ভালো পারেন। দারুণ টেকনিক ও টেম্পারামেন্ট দিয়ে তুলে নিয়েছেন ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণ খারাপ করেনি। রাব্বি দুটি উইকেট নিয়েছেন। তিন স্পেলে ১৫ ওভার বোলিং করে অনেকটা সংশয় দূর করতে পেরেছেন তাসকিন। শুভাশীষ উইকেট না পেলেও খানিকটা রেখেছেন সামর্থ্যের প্রমাণ। মিরাজের বোলিং ফিগারও যা বলছে, বোলিং ছিল তার চেয়ে ঢের ভালো।

সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে হয়ত ফিগার আর স্কোরবোর্ডের চেহারাও থাকত আরেকটু ভালো। শেষ বিকেলে ভালো ছিল না আকাশের চেহারাও। বৃষ্টির শঙ্কা আছে চতুর্থ দিনে। ড্র হলেও সেটি কম প্রাপ্তি হবে না বাংলাদেশর জন্য।

তবে পাওয়ার সুযোগ ছিল, এখনও আছে আরও বেশি। যদি সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেত, যদি সামনেও লাগানো যায়!


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫২ ওভারে ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৯২/৩ (রাভাল ২৭, ল্যাথাম ১১৯*, উইলিয়ামসন ৫৩, টেলর ৪০, নিকোলস ৩৫*; মিরাজ ০/৮২, শুভাশীষ ০/৪৬, তাসকিন ১/৭৯, রাব্বি ২/৫৩, সাকিব ০/৩০)।

 

একদিন স্বপ্নের দিন!

স্পোর্টস ডেস্ক : ভোরের সোনা রোদে মিলিয়ে গেল যেন প্রকৃতির রুদ্ররূপ। আগের দিনের কালো মেঘ আর তীব্র বাতাস উধাও। ঝকঝকে নীলাকাশ, সাদা মেঘদলের ওড়াওড়ি আর মৃদুমন্দ বাতাসে মন ভাল করে দেওয়া সকাল। প্রভাতের সূর্যই নাকি দেয় দিনের পূর্বাভাস। কে জানত, ওয়েলিংটনের সকাল আসলে ইঙ্গিত দিচ্ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের অদ্ভুত এক সুন্দর দিনের! বেসিন রিজার্ভের সবুজ মখমলের বুকে দিনজুড়ে লাল কুকাবুরার ছুটোছুটি। বারবার সীমানা ছোঁয়ার বড্ড আকর্ষণ! ২২ গজে রচনা হলো নতুন ইতিহাস। রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলটপালট। সাকিব আল হাসানের ব্যাটে অপূর্ব সুরের মূর্ছনা। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গত করায় বারবার সেটি পেল নতুন মাত্রা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্নময় এক দিন।

এই মাঠে আগে চার ইনিংস খেলে বাংলাদেশ মোট রান ছিল ৫২৩। শুক্রবার দিন শেষে ৭ উইকেটে ৫৪২, ইনিংস শেষ হয়নি এখনও। ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষের স্কোরকার্ড যেন মায়াবী হাতছানি। তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে, ডুবে যেতে মন চায়, ভালো লাগার নেশা ধরিয়ে দেয়। সাকিব-মুশফিকের ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি। একদিনে ৩৮৮ রান। বিদেশের মাটিতে এমন দিন আর কবে পেয়েছে বাংলাদেশ!
বেসিন রিজার্ভে সবশেষ তিন টেস্টেই আগে ব্যাট করেছে নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ব্যাট করতে পেরেছে ৫৫ ওভার, দুশ ছাড়াতে পেরেছে একবার (২২১)। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং উইকেটেও বিপর্যস্ত বাংলাদেশ এই মাঠেই করল রান উৎসব!

উইকেট আগের দিনে চেয়ে একটু সহজ হয়ে গিয়েছিল বটে। তবে মোটেও তা নি®প্রাণ ছিল না। কিউই পেস আক্রমণ পরীক্ষাও নিয়েছে যথেষ্ট। সাকিব-মুশফিকের ব্যাটে পরীক্ষায় শুধু উতরেই যায়নি বাংলাদেশ, উল্টো নিউজিল্যান্ডকেই ফেলে দিয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জে।

দিনের শুরুটা ছিল মুমিনুল হককে হারানো হতাশায়। আগের দিন দারুণ ব্যাট করা স্টাইলিশ বাঁহাতি এদিন আর রানই করতে পারেননি। সাত সকালের সাফল্যে নিউজিল্যান্ড উজ্জীবিত, বাংলাদেশ একটু শঙ্কিত। সাকিব-মুশফিকের ব্যাটিংয়ে উড়ে গেল শঙ্কা, শুষে নিল কিউইদের প্রাণশক্তি। দুজনের ব্যাটেই ছিল সেরা সময়ের ছন্দ। কিংবা দুজনেই দিনটিকে করে নিলেন সেরা দিন! বাইরের বল কাট হয়েছে, সামনের বল ড্রাইভ হয়েছে, জায়গায় পেলে দারুণ সব ফ্লিক-গ্ল্যান্স। বাউন্সারের পর বাউন্সার ডাক করেছেন দুজন। কখনও আবার চাবুকের মত নেমেছে ব্যাট। সকালে এক স্পেলেই টানা ৩৫টি শর্ট বল করেছেন নিল ওয়াগনার। শর্ট বলের পরীক্ষায় কতবার খেই হারিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং! কিন্তু এই দিন ছিল নতুন অধ্যায় রচনার। দ্বিতীয় নতুন বলে বোল্ট-সাউদি আগুন ঝরিয়েছেন শুরুর কয়েক ওভার। সাকিব-মুশফিক ভুগেছেন, সামলেছেন। হাল ছাড়েননি। শত চেষ্টায় ব্যর্থ ক্লান্ত-শ্রান্ত কিউই পেসাররাই উল্টো হারিয়েছেন পথ। সাকিব-মুশফিক তুলেছেন ফায়দা।

রেকর্ড আর মাইলফলকের দিনে প্রথমটি ছিল সাকিবের একার। ৭১ রান করে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুয়েঁছেন টেস্টে ৩ হাজার রান। এরপর সাকিব-মুশফিক দুজনই করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তৃপ্ত থাকার জন্য যথেষ্ট ছিল এটুকুই। সাকিব-মুশফিকের মনে হয়তো ছিল নতুন বাস্তবতার সীমানা ছোঁয়ার তাড়না। রানের চাকা ঘুরল, রেকর্ডের পাতা সমৃদ্ধ হলো। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব পেলেন ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ। ২৫৩ বলে দুইশ ছোঁয়াই বলে দিচ্ছিল ব্যাটের দাপট। মুশফিকও ছিলেন একই পথে। তবে ম্যারাথন জুটির পর একটু বুঝি পেয়ে বসেছিল ক্লান্তি। ট্রেন্ট বোল্টের বাইরের বল তাড়া করে ফিরলেন ১৫৯ রানে। ভাঙল ৩৫৯ রানের মহাকাব্যিক জুটি। যে কোনো উইকেটেই এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সফরকারী দলের সর্বোচ্চ জুটিও। খানিকপরই তামিম ইকবালের ২০৬ ছাড়িয়ে সাকিব উঠেলেন চূড়ায়। বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস! আগের দিন ৪ রানে আউট হতে পারতেন, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন ১৮৯ রানেও। আরও একবার ক্যাচ হয়ে হাঁটা দিয়েছিলেন, তৃতীয় আম্পায়ার দেখেছেন বল বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে জমার আগে ছুঁয়েছিল ঘাস। চ্যাম্পিয়নরা জানে সুযোগ কাজে লাগাতে। কোনো ধরনের ক্রিকেটেই কখনো এত সময় ব্যাট করেননি, খেলেননি এত বড় ইনিংস। আরও একবার দেখিয়ে দিলেন কেন তিনি স্পেশাল। প্রথম দিনের বাংলাদেশও যেমন স্পেশাল। মুশফিক-সাকিবের আউট কিংবা দিনের শেষ বলে মিরাজের বিদায়, এসবও তাই কোনো কাঁটা নয়। দিনটি শুধুই ফুলের সৌরভের সুরভিত হওয়ার!

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ১৩৬ ওভারে ৫৪২/৭ (তামিম ৫৬, ইমরুল ১, মুমিনুল ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ১০*, মিরাজ ০, বোল্ট ২/১২১, সাউদি ২/১৪৪, ডি গ্র্যান্ডহোম ০/৬৫, ওয়াগনার ৩/১২৪ স্যান্টনার ০/৬০, উইলিয়ামসন ০/২০)।

 

দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৪

কনকনে হিম ঠাণ্ডার সঙ্গে শোঁ শোঁ বাতাসেই ভোর হয়েছিল ওয়েলিংটনে। আবহাওয়ার পূর্বাভাষও ছিল সকালে না হলে দুপুরে বৃষ্টি আসতে পারে। আর ধারণা অনুযায়ীই বৃষ্টি আঘাতে নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা হলো মাত্র ৪০.২ ওভার। আর তাতে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার বেসিন রিসার্ভ স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আর শুরুতেই ইমরুল কায়েসের (১) উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। টিম সাউদির কাঁধ সমান উঁচু বলে হুক করতে গিয়ে স্কোয়ারিশ লং লেগে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। আর সে ক্যাচ সহজেই তালুবন্দি করেন ট্রেন্ট বোল্ট।

ইমরুলের বিদায়ের পর টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হককে নিয়ে দলের হাল ধরেন তামিম ইকবাল। ধীর গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তবে ১১.৩ ওভার পর বৃষ্টি নামলে সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বৃষ্টির তাণ্ডব শেষ হলে আবার খেলা শুরু হয়। তবে এবার বেনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন তামিম। মাত্র ৪৮ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি। তবে হাফসেঞ্চুরি করার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ৫০ বল মোকাবেলা করে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে বিদায় নেন এ ড্যাশিং ওপেনার।

বোল্টের একটু ভেতরে ঢোকা বলে লাইন মিস করলে তামিমের পায়ে লাগে। আম্পায়ার স্বাগতিকদের জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেন কেন উইলিয়ামসন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের উপরের দিকে আঘাত হানতো। সিদ্ধান্ত পাল্টে এবার তামিমকে আউট দেন আম্পায়ার।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। গড়ে তোলে অর্ধশত রানের জুটি। তবে এরপর আবার বাগড়া দেয় বৃষ্টি। ফলে খেলা আবারো বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ের বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১৯ রান।

প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃষ্টি শেষে আবার খেলা শুরু হয়। তবে দলীয় স্কোরবোর্ডে আর ২৬ রান যোগ করতেই নেইল ওয়াগনারের বলে সাজঘরে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অফষ্ট্যাম্পের অনেক বাইরে থাকা বল অনেকটা ব্যাটসম্যানের মত খোঁচা মারতে গিয়ে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর উইকেটে আসেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে আর ১৩ বল করার পরই আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মাঠের পরিস্থিতি ঠিক না হলে দিনের খেলা সেখানেই শেষ হয়। এ সময় বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৪ রান। ক্যারিয়ারের ১১তম হাফসেঞ্চুরি তুলে মুমিনুল অপরাজিত আছেন ৬৪ রানে। আর সাকিব অপরাজিত রয়েছেন ৫ রানে।
 

বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে উজ্জ্বল তামিম, মুমিনুল

ওয়েলিংটনে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে আজ স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডে চ্যালেঞ্জিং সবুজ উইকেটে ভালোই ব্যাটিং নৈপুণ্যে দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৬ রানের মাথায় ওপেনার ইমরুল কায়েসকে হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে সেই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে টানতে থাকেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। নিজের নির্ভরযোগ্য ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি তুলে নেন তামিম।

বৃষ্টির কারণে ওয়েলিংটনে আজ শুরুতে দুইবার খেলা বন্ধ ছিল। ওয়েলিংটনে প্রথমবারের মতো দেড়শ’ছাড়ানোর পর মুশফিকুর রহিমের দলের সামনে এখন ভালো সংগ্রহের হাতছানি। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে বালির বাধের মতো ভেঙ্গে না পড়ে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান সংগ্রহ করেছে মুশফিকুর রহিমের দল।


দুইবার বৃষ্টির বাধা ও শেষটায় আলোকস্বল্পতার জন্য ৪০.২ ওভারের বেশি খেলা সম্ভব হয়নি। পরে মাঠের আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস ও পল রেইফেল প্রথম দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন। শুক্রবার ম্যাচের দ্বিতীয় দিন নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগে খেলা শুরু হবে।

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে ট্রেন্ট বোল্টের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম। তামিমের পর বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে জবাব দিতে থাকেন মুমিনুল হক। দিন শেষে ৬৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন ওয়ানডাউনে নামা মুমিনুল। এছাড়া বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে দিন শেষ হওয়ার আগে ব্যক্তিগত ২৬ রান করে ওয়াগনারের বল ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। মুমিনুলের সঙ্গে অপরপ্রান্তে ৫ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে ট্রেন্ট বোল্ড, টিম সাউদি এবং নেইল ওয়াগনার একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

তাসকিন-শুভাশিসের স্বপ্নের টেস্ট অভিষেক

ওয়েলিংটনে তাসকিন আহমেদের টেস্ট অভিষেক হবে, এটা অনুমিতই ছিল। বেসিন রিজার্ভে আজ বাংলাদেশের ডানহাতি পেসারের মাথায় উঠল টেস্ট ক্যাপ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আড়াই বছর পর টেস্ট অভিষেক হলো তাসকিনের, পূরণ হলো তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম এই টেস্টে স্বপ্নের টেস্ট ক্যাপ পেয়েছেন আরেক পেসার শুভাশিস রায়ও।

শুরুর দিকে টেস্ট ক্রিকেটেই তাসকিনের সম্ভাবনা বেশি দেখেছিল সবাই। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই চোটে পড়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান ডানহাতি পেসার। লম্বা সময় ধরে সময় নিয়ে তাকে ফিট করে তোলা হয়েছে।

২০১৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত তাসকিন অবশেষে পেলেন টেস্ট ক্যাপ। ২৩ ওয়ানডে ও ১৪ টি-টোয়েন্টি খেলার পর সাদা পোশাকে পথচলা শুরু হলো ২১ বছর বয়সি পেসারের। সবশেষ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা তাসকিন ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ২৪ উইকেট।

আরেক টেস্ট অভিষিক্ত শুভাশিসের নিউজিল্যান্ড সফরেই নেলসনে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। অভিষেকে তার বোলিং নজর কাড়ে সবার। এবার তাই টেস্ট অভিষেকও হয়ে গেল ২৮ বছর বয়সি ডানহাতি পেসারের। তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধই। ৫১ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩৬ উইকেট।

শীর্ষস্থান ফিরে পেলেন সাকিব

সময়টা খুব ভালো যায়নি। সেই সঙ্গে ফর্মটাও নামের সঙ্গে যাচ্ছিল না। এমন মুহূর্তে তিন ফরম্যাটেই সেরা অলরাউন্ডারের জায়গাটা হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডেতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানটা ফিরে পেলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে এখনও দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন সাকিব।

ওয়ানডেতে এই বিভাগে সবার ওপরে সাকিবকে জায়গা দিতে দুইয়ে নেমে গেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। সাকিবের নামের পাশে জমা আছে ৩৭৭ রেটিং। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ম্যাথিউসের সংগ্রহ ৩৩৫ রেটিং। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ৩৩২ রেটিং নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে।

টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে শিরোপাজয়ী সাকিবের অর্জন ৩৪৬ রেটিং। শীর্ষস্থানটা আগলে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অস্ট্রেলিয়ান তারকার সঞ্চয় ৩৮৮।

৪০৫ রেটিং নিয়ে টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে সাকিব। এক্ষেত্রে সবার ওপরে অবস্থান করছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতীয় এই স্পিনারের পুঁজি ৪৮২।
 

মাশরাফির চোট

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার শেষ ম্যাচে ২৭ রানে হারে টাইগাররা। সেই হারের সঙ্গে সঙ্গে মাশরাফির চোট চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাংলাদেশ শিবিরে।

যদিও সেই চোট সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানা যায়নি। মাশরাফির চোটের ধরন জানতে খেলা শেষ হওয়ার আগেই তাকে স্ক্যানের জন্য তারংগা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বোলিংয়ের সময় ডান হাতের বুড়ো আঙুলে আঘাত পান তিনি।

এখানকার স্ক্যানিং এর সুযোগ সুবিধা সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বলে তাকে আগেভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

এদিকে এই ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন ইমরুল কায়েসও। ফিল্ডিংয়ের সময় বাউন্ডারি লাইনে উল্টে পড়ে চোট পান তিনি। তবে বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানিয়েছেন, ইমরুলের চোট গুরুতর নয়।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৪৬৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের ইনিংস গুঁটিয়ে যায় মাত্র ২৪৪ রানে। আর ২২০ রানে জিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো অস্ট্রেলিয়া।  

৪৬৫ রানের পাহাড়সম টার্গেটে জিততে হলে পাকিস্তানকে রেকর্ড গড়তে হতো। অবশ্য সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২৮৭ রানের বেশি করে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের রেকর্ড নেই কোনো দলেরই। স্কোরবোর্ডে দলীয় রান ৫৫ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। আজহার আলী ১১ ও ইয়াসির শাহ ৩ রানে খেলা শুরু করেন।

কিন্তু ওই রানেই সাজঘরে ফিরেন আজহার (১১)। শতরান পেরুতেই পাকিস্তান আরও ৩ উইকেট হারায়। প্রথম ইনিংসে ১৭৫ রান করা ইউনিস খানকে সাজঘরে ফেরত পাঠান স্পিনার নাথান লায়ন। ইউনিস খানকে আউট করার পরই জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া।

শফিকের(৩০), অধিনায়ক মিসবাহ (৩৮) করে আউট হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন সরফরাজ আহমেদ। নতুন বলের দ্বিতীয় বলে ইমরান খান (০) আউট হলে ৭২ রানে অপরাজিত থাকেন উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদ। বল হাতে হ্যাজেলউড ও স্টিভ ও’কেফি ৩টি করে উইকেট নেন । স্পিনার লায়ন ২টি ও পেসার স্টার্ক নেন ১ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬৮ রান করে ম্যাচ সেরা হন ডেভিড ওয়ার্নার। আর সিরিজ সেরা হয়েছেন অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ।

১৯৯৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে কোনো ম্যাচে জয়ের স্বাদ পায়নি পাকিস্তান। এদিকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পাকিস্তান বছর শুরু করলেও দারুণ জয়ে বছর শুরু করেছে স্টিভেন স্মিথের দল।

বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া

বছর খানেক আগে নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। এরপর অবশ্য সূচিটি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথাও জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সেই ভাবনাটা বোধ হয় শেষ হয়েছে অসিদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই টেস্ট দুটি খেলতে আগ্রহী তারা। সম্ভাব্য তারিখও জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনকার মতো হলেই কিনা চলতি বছরের আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরে টাইগারদের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলতে বাংলাদেশে আসবে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৬ সালের শেষের দিকে নিরাপত্তা শঙ্কা উড়িয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ইংল্যান্ড। সে সময় বাংলাদেশ নিরাপত্তা বাহিনী ইংলিশদের ভালোভাবেই নিরাপত্তা দিয়েছে। সেটা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সেই আশায়ই টাইগারদের বিপক্ষে খেলতে সম্মতি জানিয়েছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর ভাষায়, ‘আমার মতে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা এখন অনেক ভালো মানের। যেমনটা দেখেছিলাম গত বছরের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের সময়ে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে সফরকারী দলকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিল স্বাগতিকরা। আমাদের নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোলকে পাঠিয়েছিলাম বাংলাদেশে। সাত থেকে দশ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।’

দ্বিতীয় টেস্টেও হতশাজনক ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও হতাশাজনক ব্যাটিং করেছে শ্রীলঙ্কা। মঙ্গলবার কেপটাউনে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম টেস্টের চেয়ে আরো বাজে ব্যাটিং করেছে লঙ্কানরা।

প্রথম ইনিংসে বিশাল স্কোরের পর দক্ষিণ-আফ্রিকার পেসার রাবাদা এবং ফিল্যান্ডের আগুনঝরা বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা পুড়ে ছাই।

মঙ্গলবার কেপটাউনে ৬ উইকেটে ২৯৭ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি ককের রেকর্ড গড়া ইনিংসে প্রায় চারশ রান করে স্বাগতিকরা। ১২৪ বলে ১১ চারে ১০১ রান করে আউট হন ডি কক। সেই সঙ্গে হাজারি ক্লাবে যোগ দেন তিনি এবং দলকে এনে দেন ৩৯২ রানের বড় সংগ্রহ।

প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ৭৯ রানের ব্যবধানে ১০ উইকেট হারায় তারা। সর্বোচ্চ ২৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা।

বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারনন ফিলান্ডার ও কাগিসো রাবাদা ৪টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন কেশব মহারাজ।
ফলোঅনে শ্রীলঙ্কাকে আর ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে দক্ষিণ-আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে যায়। দিন শেষ হওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৩৫ রান করে স্বাগতিকরা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম টেস্টে ২০৬ রানের ব্যবধানে হেরেছে লঙ্কানরা।

টি-টোয়েন্টিতেও হারে শুরু বাংলাদেশের

ওয়ানডে সিরিজে হারের পর অধিনায়ক থেকে শুরু করে দলের সবার কথায়ই ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর এই প্রত্যয় নিয়েই সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে উঠতে পারলেন না বোলাররাও। আর এতেই হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।

টাইগারদের দেওয়া ১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে কিউই ব্যাটসম্যান ব্রুম এবং উইলিয়ামসন শুরুটা ভালো করলেও তৃতীয় ওভারের শুরুতে রুবেল হোসেনের বলে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন নিল ব্রুম (৬)। ডিপ স্কয়ার লেগে বল ধরে দড়ি পার হওয়ার আগ মুহূর্তে মাঠের ভেতর দিকে ছোড়েন সাকিব। পরে সামনে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচ তালুবন্দি করেন দলের সহ-অধিনায়ক।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান। তরুণ এই বাঁহাতি পেসারের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসানকে ক্যাচ দেন কলিন মানরো (২ বলে ০)। দলীয় ৪৬ রানে ৭ম ওভারের শুরুতে অ্যান্ডারসনকে ফেরান সাকিব।ব্যক্তিগত ১৩ রান করে তামিমের তালুবন্দি হন তিনি। সাকিবের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন অ্যান্ডারসন।

এরপর দারুণ ফিল্ডিংয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন অভিষিক্ত টম ব্রুস। মাশরাফির বলে এক রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে একটু এগিয়ে যাওয়া ব্রুস আর ফিরতে পারেনি। সৌম্য সরকারের থ্রো পেয়েই স্টাম্প ভেঙে দেন মাশরাফি। টপঅর্ডারের চারজন ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখে জয় এনে দেয় কেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসনের অপরাজিত ৭৩ রানের ব্যাটিং তান্ডবে ১৮ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ৫৫ বলে দুই ছক্কা ও ৫ চারের সাহায্যে খেলেন ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। আর গ্র্যান্ডহোম ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।  

এর আগে ওয়ানডে সিরিজের হারের পর টি-টোয়েন্টি তে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে  শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ম্যাট হেনরির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যক্তিগত ০ রানে উইকেটরক্ষক লুক রনকিকে সহজ ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস।আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অভিষিক্ত বেন হুইলারের শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে সীমানায় সহজ ক্যাচ দেন ছন্দে থাকা বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (১১)।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি সাব্বির। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষিক্ত বোলার লকি ফার্গুসনের ফুলটস বলে মিডউইকেটে ম্যাট হেনরিকে সহজ ক্যাচ দেন সাব্বির (১৬)। পরের বলেই গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য।  তবে মাহামুদুল্লাহকে নিয়ে ভালোই শুরু করেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাহামুদউল্লাহকে নিয়ে গড়ে তুলেন ৩৭ রানের পার্টনারশিপ। কিন্তু ১২ তম ওভারে ব্যক্তিগত ১৪ রানে গ্র্যান্ডহোমের বলে সান্টনার এর তালুবন্দি হন তিনি।

এরপর মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। তবে মিচেল স্যান্টনার বলে ব্যক্তিগত ২০ রান করে অ্যান্ডারসনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান মোসাদ্দেক। রানের গতি বাড়াতে সোহানের আগে উইকেটে আসেন মাশরাফি। তবে ব্যক্তিগত ১ রান করে হুইলারের বলে গ্র্যান্ডহোমের কাছে ক্যাচ দেন টাইগার এই অধিনায়ক।

মাশরাফির বিদায়ের পর ওয়ানডে সিরিজ বাজে কাটানো মাহমুদউল্লাহ এক প্রান্ত ধরে রেখে দারুণ এক অর্ধশতক তুলে নেন। ৪৫ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক স্পর্শ করার পর বেশিক্ষণ টিকেননি এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। ফার্গুসনের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫২ রান করেন দেশ সেরা এই তারকা। আর শেষ দিকে সোহান ৬ বলে ৭ রান করলে ১৪১ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা। কিউইদের হয়ে অভিষিক্ত লকি ফার্গুসন নেন ৩ উইকেট। 
 

বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪১ রান

নেপিয়ারে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ১৪২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। যদিও শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়েই ছিল মাশরাফি বাহিনী। সেখান থেকে হাফ সেঞ্চুরি করে দলকে ভালো সংগ্রহ পাইয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ।

যদিও শুরুর দিকে চিত্রগুলো ছিল ব্যতিক্রম। ‍খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস। ১.৩ বলে হেনরির বলে লাইনের বাইরে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইমরুল। ফেরেন রানের খাতা না খুলেই।  ইমরুল ফিরলে টিকতে পারেননি তামিমও।  পঞ্চম ওভারে অভিষেক হওয়া হুইলারের বলে হুক করতে গিয়ে তালুবন্দী হন তামিম ইকবাল।  বিদায় নেন ১১ রানে।  তামিমের বিদায়ে ভূমিকা ছিল আজকে অভিষেক হওয়া ব্রুস ও হুইলারের। ব্রুসের হাতেই ক্যাচ দেন তামিম।

এরপর হঠাতই বোলিং জাদু দেখান অভিষেক হওয়া আরেক পেসার ফার্গুসন।  পর পর জোড়া আঘাতে ফেরান সাব্বির (১৬) ও সৌম্য সরকারকে (০)।  ফার্গুসন দ্বিতীয় বোলার হিসেবে করেছেন দুর্দান্ত এক কীর্তি। টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচের প্রথম দুই বলেই উইকেট পেয়েছেন এই পেসার।

৩০ রানে ৪ উইকেট যাওয়ার পর একটু খানি মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব। ৫ম উইকেটে ৩৭ রান আসে এই জুটিতে। তবে ১১তম ওভারে ১৪ রানে ব্যাট করতে থাকা সাকিবকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন গ্র্যান্ডহোম। তারপরেও থেমে থাকেননি ওয়ানডেতে নিজের ছায়া হলে খেলা মাহমুদউল্লাহ। ষষ্ঠ উইকেটে তরুণ মোসাদ্দেককে নিয়ে যোগ করেন আরও ৩২ রান। দলীয় ৯৯ রানে মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে ফের জুটি ভাঙেন স্যান্টনার। মোসাদ্দেক ফেরেন ২০ রানে। এরপর ১ রানে ফেরেন অধিনায়ক মাশরাফি।  দলকে ভালো সংগ্রহ পাইয়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ফেরেন শেষ ওভারেই। ৫২ রানে ফার্গুসনের বলে বোল্ড হন তিনি।  তার ৪৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছয়। শেষ দিকে অপরাজিত ছিলেন নুরুল হাসান (৬) ও রুবেল (১)।  

এই ম্যাচে কিউইদের দলে অভিষেক হয়েছে তিন জনের। টম ব্রুস, ফার্গুসন ও হুইলার সুযোগ পেয়েছেন প্রথম ম্যাচে। তারাই মূলত আলো ছড়িয়েছেন নেপিয়ারে।   

কিউইদের পক্ষে তিনটি উইকেট নিয়েছেন ফার্গুসন।  দুটি নিয়েছেন হুইলার।  একটি করে নেন স্যান্টনার, গ্র্যান্ডহোম ও হেনরি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ম্যাকলেইন পার্কের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় শুরু। নেপিয়ারের এ মাঠে আর অল্প কিছু সময় পর হবে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তাতে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এই মাত্র টসও হয়ে গেল। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মানে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা আর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২ টায় ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে টাইগারদের ইনিংস শুরু করবেন তামিম ইকবাল।

 আগের রাতে ম্যাকলিন পার্কে বৃষ্টি হয়েছে। তবে মুষলধারে নয়। ঝিরঝিরে। ইলশেগুঁড়িরও বলা যায়। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত নেপিয়ারের আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ইলশেগুঁড়ির কমে একদম হালকা টিপ টিপ বৃষ্টিতে রুপান্তরিত হয়। বেলা ১২ টা পর্যন্ত সূর্য আর মেঘের লড়াই হয়েছে। তারপর যত সময় গড়িয়েছে ততই পরিষ্কার হয়েছে নেপিয়ারের আকাশ।

এদিকে আজকের ম্যাচের লাইন আপ আগেই জানা। ১৫ জনের মধ্য থেকে এ ম্যাচের বাইরে আছেন অলরাউন্ডার শুভগত হোম, দুই পেসার শুভাশীষ রায় ও তাসকিন আহমেদ এবং বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

তার মানে মুশফিকুর রহিমের কিল্প হিসেবে ওয়ানডের দুই ম্যাচ খেলা নুরুল হাসান সোহানকে ধরে এ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান আটজন ( তামিম, ইমরুল, সাব্বির, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য, মোসাদ্দেক ও নুরুল হাসান)। পেসার তিন জন অধিনায়ক মাশরাফি। রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজ। স্পেশালিষ্ট স্পিনার সে অর্থে সাকিব একা। ওয়ানডের মত টি- টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায়ও বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি তামিম ইকবাল আর  ইমরুল কায়েস। তিন নম্বরে সাব্বির রহমান রুম্মন। সৌম্য সরকারকে খেলনো হবে ছয় নম্বরে। 

২৮ মাস পর হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৪ সালের আগস্টে সর্বশেষ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। মুশফিকের ক্যারবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। এরপর মাশরাফির নেতৃত্বে ৭টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, যার ৬টিতেই জয়ী লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারলেও (২-১) হোয়াইটওয়াশ চোখ রাঙ্গাতে পারেনি। তবে এবার নিউজিল্যান্ড সফরে এসে নিজের অধিনায়কত্বে প্রথম আর দীর্ঘ ২৮ মাস পর হোয়াইটওয়াশ হল মাশরাফি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

আগের দুই ম্যাচ হেরে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি নিছক নিয়মরক্ষার হলেও মাশরাফিদের জন্য ছিল মুখরক্ষারও। আর তা করতে গিয়ে শুরুটাও পেয়েছিল দুর্দান্ত। ২১.২ ওভারে বিনা উইকেটে ১০২ রান। তবে এরপর হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। আউট হওয়ার মিছিলে যোগ দেন ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৩৬ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা।

শনিবার নেলসনের সেক্সটন ওভাল স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় টাইগাররা। ১০২ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে আউট হন ইমরুল। মূলত নেইল ব্রুমের অতিমানবীয় ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন এ ওপেনার। শর্ট থার্ডম্যানে প্রায় ১০ গজ পিছনের দিকে দৌড়ে ঝাপিয়ে পড়ে এক হাতে ক্যাচ লুফে নেন ব্রুম।

ইমরুলের বিদায়ের পরই শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। এক একে ফিরে যান সাব্বির, মাহমুদউল্লাহ, তামিম, সাকিব, মোসাদ্দেক ও তানবীর। মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিনা উইকেটে ১০২ রানে থাকা বাংলাদেশের রান হয় ৭ উইকেটে ১৭৯ রান।

তবে অষ্টম উইকেটে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নিয়ে ৩৩ রানের জুটি গড়ে দলের রান দুইশত পার করেন নুরুল হাসান সোহান। শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ৪৪ রানের দারুণ কার্যকরী এক ইনিংস খেলেন তিনি। ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

তবে ক্যারিয়ারের ৩৪তম হাফসেঞ্চুরি তুলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন তামিম। ৮৮ বল মোকাবেলা করে ৫টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৬২ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ রান করেন ইমরুল। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৩৮ রানে ২টি উইকেট নেন সান্টনার। এছাড়া সাউদি, প্যাটেল, হেনরি, নিশাম ও উইলিয়ামসন ১টি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। শতভাগ ফিট না থাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলতে না পারা মোস্তাফিজ সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেই নিজের ঝলক দেখান। নিজের প্রথম ওভারেই ল্যাথামকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান এই বিস্ময় বালক। এরপর দলীয় ১৬ রানে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গাপটিল।

প্রথম উইকেট হারানো ধাক্কা সামলে শূন্য রানে জীবন পাওয়া নিল ব্রুমের সঙ্গে ১৭৯ রানের জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে জয়ের পথে নিয়ে যান কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন। মোস্তাফিজের বলে মাশরাফিকে ক্যাচ দিয়ে ৯৭ রানে ব্রুম ফিরে গেলেও দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক। শতকের চেষ্টা না করে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৯৫ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।  ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন উইলিয়ামসন।

 

নাসিরের অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি

আগের দিনই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। দিন শেষে নাসির হোসেন অপরাজিত ছিলেন ১০৫ রানে। আজ তৃতীয় দিনে সেটিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন ‘মিস্টার ফিনিশার’।

আর নাসিরের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদেই ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডে সিলেটের বিপক্ষে লিড পেয়েছে রংপুর বিভাগ।

অথচ আগের দিন নাসির যখন উইকেটে এলেন, ১৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে রংপুর। দলের ২৯ রানে তাকে একা রেখে ফিরে যান মাহমুদুল হাসানও। সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে ধীমান ঘোষের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন নাসির।

ধীমান ২৬ করে ফিরলেও আরিফুল হকের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাসির তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৭৩ বলে ফিফটি করা নাসির পরের ৫০ করেন ৫৯ বলে। ব্যক্তিগত ৯৫ থেকে অলোক কাপালিকে চার মেরে ৯৯-এ পৌঁছার পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে পূর্ণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরি।

নাসির ৯১ ও আরিফুল ১৫ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিন শুরু করেছিলেন। আরিফুল অবশ্য ২৬ করেই ফিরে যান। তবে সপ্তম উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভকে সঙ্গে নিয়ে ১৪৬ রানের বড় জুটি গড়েন নাসির।

সোহরাওয়ার্দী যখন ৭৮ রান করে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরলেন নাসিরের ব্যক্তিগত রান ১৭৪। এরপর দ্রুত ফিরে যান আলাউদ্দিন বাবুও (১০)। তখনো ডাবল সেঞ্চুরি থেকে ২৪ রান দূরে নাসির।

তবে কি সঙ্গীর অভাবে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটা পাবেন না নাসির? নাসিরকে সেই আক্ষেপে পুড়তে দেননি সাজেদুল ইসলাম। নবম উইকেটে নাসিরকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। আর নাসির তুলে নিয়েছেন অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরি।

১৮১ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া নাসির বিরতি থেকে ফিরে মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৯ থেকে আবু জায়েদ রাহির বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩৪০ বলে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। রাহির পরের ওভারেই অবশ্য আউট হয়ে যান নাসির। তার আগে ৩৪৩ বলে ২৪ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ২০১ রানের অনন্য-অসাধারণ ইনিংস। প্রথম ইনিংসে সিলেটের ২৭২ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৯৮ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ১২৬ রানের লিড পেয়েছে রংপুর।

অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলে ব্রাত্য নাসির। দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পান না তেমন একটা। অক্টোবরে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৭ রানের পর বল হাতে নিয়েছিলেন একটি উইকেট। বাংলাদেশও ম্যাচ জিতেছিল। চট্টগ্রামে শেষ ওয়ানডেতে খেলার পর আর দলে সুযোগ মেলেনি তার। আজকের ডাবল সেঞ্চুরির পর যদি অন্তত নাসিরের ওপর সুনজর পড়ে জাতীয় দলের নির্বাচকদের!

বাজে ব্যাটিংকে দুষলেন মাশরাফি

প্রথম ওয়ানডের মতো আজ দ্বিতীয়টিতেও শুরুতে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড। তবে আগের ম্যাচের চেয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের আজ ভালোই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশি বোলাররা।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে নেইল ব্রুম ছাড়া অন্যদের জ্বলে উঠতে দেননি মাশরাফি-তাসকিন-সাকিবরা। বোলাররা কাজের কাজটি ঠিকমতো করলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জয়ের হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষ করে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে ৬৭ রানে হেরে সিরিজ খোয়াল টাইগাররা।

স্যাক্সটন ওভালে দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেন, ‘গত ম্যাচের তুলনায় আজ বোলাররা সত্যিই অনেক ভালো বোলিং করেছে। এই ধরনের উইকেটে তাদেরকে (নিউজিল্যান্ড) ২৫১ এর মধ্যে রাখতে পারাটা বেশ ভালো ছিল। তবে ব্যাটিংয়ে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশার। বিশেষ করে ১-১০০ হওয়ার পর এভাবে ভেঙে পড়াটা খুবই হতাশার।’

স্যাক্সটন ওভালের উইকেট নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘উইকেটের দিকে লক্ষ করলে আপনি বুঝতে পারবেন এটা আগেরটার চেয়ে ভালো ছিল। সব মিলিয়ে এখানে ভালো করার দারুণ সুযোগ ছিল আমাদের।’

১০৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে সাব্বিরের আউটের পর বাকি ৭৯ রানের মধ্যেই অলআউট বাংলাদেশ। বিশেষ করে মিডলঅর্ডারে মাহমুদউল্লাহ (১), সাকিব (৭), মোসাদ্দেক (৩) ও তানভীর হায়দারের (২) মতো ব্যাটসম্যানরা টাইগার সমর্থকদের বেশি হতাশ করেছেন।

 

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সহজ সুযোগ হাতছাড়া

নিউজিল্যান্ডকে ২৫১ রানেই আটকে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে একটি ওয়ানডে জয়ের আশাই জেগেছিল বাংলাদেশ সমর্থকদের মনে। ভালো ব্যাটিং করে সেই আশাটা আরও জোরদার করেছিলেন ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমান। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পরেই বাংলাদেশ হয়েছে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার। ১ উইকেটে ১০৫ রান থেকে কয়েক ওভারের ব্যবধানেই স্কোরটা হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৪১। শেষপর্যন্ত মাশরাফিদের মাঠও ছাড়তে হয় ৬৭ রানের হার নিয়ে।

২৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩০ রান জমা করে ভালো সূচনার ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন তামিম ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু জুটিটা খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার। অষ্টম ওভারে টিম সাউদি ফিরিয়েছেন তামিমকে। শুরুতে তামিমের উইকেট হারালেও ইমরুল আর সাব্বিরের জুটিতে ভর করে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁরা গড়েছিলেন ৭৫ রানের জুটি। কিন্তু ২৩তম ওভারে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে সাব্বিরকে। শর্ট কাভারে বল ঠেলে দিয়ে একটি রান নিতে চেয়েছিলেন ইমরুল। শুরুতে সেই ডাকে সাড়াও দিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে আসেন তিনি। ইমরুলও ততক্ষণে চলে এসেছিলেন উইকেটের অপর প্রান্তে। শুরুতে মনে হয়েছিল আউট হয়ে ফিরে যেতে হবে ইমরুলকেই। প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটতেও শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে তাঁকে আবার উইকেটে ফেরান আম্পায়াররা। সাজঘরের দিকে হাঁটতে বলেন সাব্বিরকে। ৩৮ রান করে ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এই দুর্ভাগ্যজনক রানআউটটাই পাল্টে দেয় ম্যাচের চিত্র। পরবর্তী আট ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় আরও তিনটি উইকেট। একে একে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ (১), সাকিব (৭) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৩)। তখনও আশার প্রতীক হয়ে উইকেটে টিকে ছিলেন ইমরুল। কিন্তু ৩২তম ওভারে ৫৯ রান করে ইমরুল ফিরে যাওয়ার পরেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার আশা। শেষপর্যায়ে অধিনায়ক মাশরাফির ১৭ ও অভিষিক্ত নুরুল হাসান সোহানের ২৪ রানের ছোট ইনিংস দুটি বাংলাদেশের হারের ব্যবধানটাই শুধু কমাতে পেরেছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রায় একাই লড়েছেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা নেইল ব্রুম। ১০৭ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এর সঙ্গে লুক রনকির ৩৫ ও জেমস নিশামের ২৮ রানের ছোট দুটি ইনিংসে ভর করে নিউজিল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছিল ২৫১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১০ ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন উইকেট। দুটি করে উইকেট গেছে তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসানের ঝুলিতে।