রাত ৩:৩১, সোমবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। শনিবার বিসিবি এই সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার জায়গায় এই অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণা করে।

সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার ফলে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আগের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া চালিয়ে যাবেন এই পেসার। টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

 

নাসিরকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও প্রস্তুতি ম্যাচে জায়গা হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি নাসিরের। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য মাশরাফির নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফিরেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। আর দুটি থেকেই বাদ পড়েছেন শুভাগত হোম চৌধুরী।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্ট্যান্ড বাই: নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশীস রায়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ডে ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশীস রায়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

শফিউলকে ফেরাল ফিটনেসের উন্নতি আর ইংল্যান্ডের ঠাণ্ডা

বোলিং নিয়ে প্রশ্ন সামান্যই। শফিউলকে নিয়ে নির্বাচকদের মূল ভাবনা ফিটনেস নিয়ে। এই ভালো তো এই খারাপ; হুট করেই ভেঙে পড়া। দলে তাই অনিয়মিত শফিউল। তবে এবার শফিউলের ফিটনেসের অবস্থায় আপাতত সন্তুষ্ট নির্বাচকরা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ তো বটেই, ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও জায়গা পেয়েছেন শফিউল। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দল থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে নেই পেসার শুভাশীষ রায়।

গত কিছুদিন ধরে দলে আসা-যাওয়াই শফিউলের নিয়তি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হলো চোট নিয়ে দুর্ভাবনায়। বিপিএলে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন, কিন্তু শেষ দিকে বাধালেন চোট। যেটির কারণে যেতে পারলেন না নিউ জিল্যান্ড সফরে।

ভারত সফরের স্কোয়াডে ছিলেন। হায়দরাবাদে প্রস্তুতি ম্যাচে খেললেও খেলতে পারেননি টেস্টে। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে আবার বাদ। নির্বাচকদের যুক্তি ছিল, নিজেকে টানা ফিট রাখতে পারেন না শফিউল। শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরমে ভেঙে পড়ার শঙ্কাও ছিল।

এই পুরো সময়টায় নির্বাচকরা বারবারই বলেছেন, বোলিং স্কিলে দেশের সেরা পেসারদের একজন শফিউল। আপত্তি ফিটনেস নিয়ে। এখন তার ফিটনেসে খুশি প্রধান নির্বাচক। জানালেন, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনও একটা ব্যাপার।

“বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে ও আমাদের অনেকগুলো সিরিজেই দলে থাকত। তাছাড়া ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় নেইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল, ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন ছিল। এখন ওর ফিটনেস লেভেল ঠিক আছে। আর যেহেতু ঠাণ্ডা কন্ডিশনে খেলব, সেহেতু ও টানা ম্যাচ খেলতে পারবে।”

আয়ারল্যান্ডে একটিই ওয়ানডে খেলেছেন শফিউল। ২০১০ সালে সেই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। ওই সফরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ে নিয়েছিলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

 

‘দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’

ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

আজ খেলবেন সাকিব?

এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শ্রীলঙ্কা সফর শেষে কলকাতার প্রথম ম্যাচের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া সাকিব আল হাসানের এখনো মাঠে নামা হয়নি। আজ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে বাংলাদেশি অলরাউন্ডারকে একাদশে রাখবে কলকাতা?

এই আইপিএলে আজই প্রথম ঘরের মাঠে খেলবে কলকাতা। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দিনের একমাত্র ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। টিভিতে সরাসরি দেখাবে সনি সিক্স ও সনি ইএসপিএন চ্যানেল।  

১০ উইকেটের রেকর্ড জয়ে আইপিএল অভিযান শুরু করেছিল কলকাতা। তবে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন দলটি দ্বিতীয় ম্যাচেই পায় হারের তিক্ত স্বাদ।

মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে আবার ক্রিস লিনের চোট। ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন প্রথম ম্যাচে ৪১ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান। আজ তাই সাকিবের একাদশে থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে।

গত আইপিএলে কলকাতার কাছে হোম আর অ্যাওয়ে- দুটি ম্যাচই হেরেছিল পাঞ্জাব। দুই দলের শেষ সাত ম্যাচেই পাঞ্জাবকে হারিয়েছে কলকাতা। সব মিলিয়ে পাঞ্জাবের বিপক্ষে কলকাতার জয়-পরাজয়ের রেকর্ডটা ১৩-৬। যেটি ইডেন গার্ডেনে ৬-২।

দিল্লিতে বাংলাদেশি প্রতিবন্ধীদের প্রথম জয়

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যকার তিন ম্যাচ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলকে ৮১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

 

বুধবার দিল্লির আরডি রাজপাল স্কুল মাঠে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ২৫২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম ৪৮ বল খেলে ১১টি ছক্কা ও ২০টি চারের সাহায্যে ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ১৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৭০ রান করতে সক্ষম হয় ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ড্রীম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ও ভারতের প্যারা স্পোর্টস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সিরিজের আয়োজন করেছে। গত ১০ এপ্রিল ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত যায় বাংলাদেশ এর হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সফরের পর মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসরে পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক হচ্ছেন ‘মিস্টার সেভেনটি ফাইভ’। বর্তমানে তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ দলকে ২৭ টি-২০তে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বাধিক ৯ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের দায়িত্ব দেওয়ার মতো রয়েছেন, তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটার।

তবে দ্রুতই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) কলম্বোয় খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান জাতীয় দলের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সংবাদভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিসিবি সভাপতির বরাতে ইতোমধ্যে এ সংবাদ প্রচার হচ্ছে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, (ফাইল ছবি)সাকিব আল হাসান এর আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থাকাকালে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪ ম্যাচে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওই চার ম্যাচের কোনোটিতেই অবশ্য জিততে পারেনি টাইগাররা।

সাকিব টেস্ট-ওয়ানডের মতো ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ভার্সনেও নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে তার রান ১১৭০, আর উইকেট সংগ্রহ ৬৭।

 

জয়ের রঙে রঙিন হবে তো মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচ?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, সিরিজে সমতা আনার। কিন্তু সেই বিষয়টি ছাপিয়ে এখন টিম বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জয় উপহার দেয়া। কেননা এই ম্যাচটির পরে টি-২০তে আর তাকে দেখা যাবে না।

এই ম্যাচটির মধ্য দিয়েই দীর্ঘ্য ১০ বছরের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানবেন লাল-সবুজের দাপুটে অধিনায়ক মাশরাফি।

জয় দিয়ে অধিনায়কের শেষ ম্যাচটিকে রঙিন করে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-২তে লঙ্কানদের মুখামুখি হবে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)স্বাগতিক লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের শুরু থেকেই যে বাংলাদেশকে দেখা গেছে, তাতে তাদের দাপুটে বললে এতটুকুও কম বলা হবে না। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা জিতলেও দ্বিতীয় ও শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা এনে মোক্ষম জবাব দিয়েছে মুশফিকুর রহিম ও তার দল।

শততম টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা আনার পর তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেতে ৯০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিল মাশরাফি বিন মর্তুজা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। অবশ্য ওয়ানডে সিরিজের শেষ পর্যন্ত এই দাপট ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা। দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে ভসে যাওয়ার পর তৃতীয়টি হেরে গেল ৭০ রানে। ফলে  ওয়ানডে সিরিজ শেষ করলো ১-১ সমতা নিয়ে।

ওয়ানডে সমতা নিয়ে শেষ করলেও শেষে টি-২০তে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কার শক্তিমত্তার সামনে বাংলাদেশ কতটা ভাল করতে পারবে সেটা নিয়ে সংশয় থাকলেও সফরকারীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই শঙ্কা অনেকাংশেই দূর করতে সক্ষম হয়েছে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৫৫ রান করেও টাইগারদের লড়াইটা ছিল কাঁধে কাঁধেই। আর ২০ রান হলে হয়তো জয়ের শেষ হাসিটা মাশরাফিরাই হাসতে পারতেন।

বুধবার (৫ এপ্রিল) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈতকও তাই বলেছেন। তবে আর পেছনে তাকাতে চাইছেন না তিনি। বরং চাইছেন দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে সিরিজে সমতা আনতে। ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর তো বলতে পারছি না, জিতবো।  ড্র ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। আমাদের সামনে একটাই ম্যাচ সেটায় জিতে সিরিজ ড্র করার চেষ্টা করবো।’

এ কথা ঠিক এই ম্যাচটি জিতলেই সিরিজে সমতা আনতে পারবে টাইগাররা। কিন্তু লঙ্কান শিবেরে চিত্র আবার সম্পূর্ণই উল্টো। কেননা, এই ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের সাথে চলতি সিরিজে প্রথম কোন সিরিজ জয় করতে পারবে।

ছবি:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম (ফাইল ফটো)সেই লক্ষ্যে লঙ্কানরা সফল হলে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচটি হয়তো জয়ের রাঙিয়ে রাখতে পারবেন না সতীর্থরা। কিন্তু মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে এদেশের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীর চোখ যে এদিন তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে সেকথা বলার আর অপেক্ষা থাকছে কই?

ভক্তদের এমন ভালবাসা কি জয়ের রঙের চাইতে কোন অংশে কম?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে মিসবাহ’র অবসর

টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আগেই ছেড়েছেন, এবার পাকিস্তান টেস্ট দল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিলেন দলটির অধিনায়ক হিসেবে থাকা মিসবাহ-উল-হক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষেই জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন তিনি।

সম্প্রতি পাকিস্তান দলে মিসবাহ’র খেলা, না খেলা নিয়ে বেশ নাটকীয়তা তৈরি হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) লাহোরে সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ১৭ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়া অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান।

বুধবারই ক্রিকেটের বাইবেল খ্যাত উইসডেনে মর্যাদাপূর্ণ পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে নিজের নাম লেখান ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ। যেখানে সম্প্রতি তার টেস্ট খেলা নিয়ে সুবিবেচনা করা হয়। অথচ ‍তার অধীনেই প্রথমবারের মতো টেস্টে শীর্ষ দল হিসেবে পাকিস্তান পরিচিতি পায়। পরে অবশ্য টানা ছয়টি ম্যাচে পাকিস্তান হেরেছে।

২০০১ সালে অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের মধ্যদিয়ে সাদা পোশাকে অভিষেক হয়েছিল মিসবাহ’র। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে ৪৫.৮৪ গড়ে ৪ হাজার ৯৫১ রান করে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের তালিকায় সাতে রয়েছেন। তার সেঞ্চুরি আছে ১০টি ও হাফসেঞ্চুরি ৩৬টি।

মিসবাহ পাকিস্তানের সবচেয় সফল টেস্ট অধিনায়কও। তার অধীনে ৫৩ ম্যাচের ২৪টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেন তিনি। আর ২০১২ সালে সর্বশেষ টি-২০ খেলেছিলেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কান টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। রোববার রাতে ঘোষিত দলে ফিরেছেন স্পিন অলরাউন্ডার শেহান জয়াসুরিয়া, পেস অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা ও ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা।

চোটের কারণে ওয়ানডে থেকে ছিটকে যাওয়া কুশল পেরেরাকেও দলে রাখা হয়েছে। তবে ফিটনেস টেস্টে ব্যর্থ হলে তার জায়গায় দলে ঢুকবেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিষেক হওয়া সানদুন বীরাকোডি।

ওয়ানডে সিরিজের সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিসের অবশ্য টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হয়নি। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় অনুমিতভাবে টি-টোয়েন্টি দলেও নেই অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতেও দলকে নেতৃত্ব দেবেন উপুল থারাঙ্গা।

আগামী ৪ এপ্রিল কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি ৬ এপ্রিল।

শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল: উপুল থারাঙ্গা, দিলশান মুনাবীরা, দানুশকা গুনাথিলাকা, কুশল পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গা, ইসুরু উদানা, নুয়ান কুলাসেকারা, দাসুন শানাকা, বিকুম সঞ্জয়া, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা, আসেলা গুনারত্নে, সিকুগে প্রসন্ন, চামারা কাপুগেদারা, থিসারা পেরেরা, লাকশান সান্দাকান, শেহান জয়াসুরিয়া।

স্ট্যান্ড বাই: সানদুন বীরাকোডি।

শুভ জন্মদিন তাসকিন

তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম পেস বোলার। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী এই বোলার নিয়মিত ১৪০ কি.মি. গতিতে বল করতে পারেন। ওয়ানডেতে দেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের স্বাদ। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে আত্মীয়-স্বপজন ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় উদ্ভাসিত এই তরুণ পেসার।

১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মাদপুরে জন্ম নেন তাসকিন। অক্টোবর ২০১১ সালে ঢাকা মেট্রোপলিসের হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে তাসকিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। মূলত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সৃষ্টি তিনি। ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে তার ওয়ানডে অভিষেক হয়। অভিষেকেই ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। একই বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় এই তারকার। আর চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় এই তারকার।

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েতে হয় বাংলাদেশ দলের এই অন্যতম পেস বোলারকে। তবে পরীক্ষা দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবার হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম ভরসা। আর এখন অনেক দূর এগিয়ে যাবেন তাসকিন আহমেদ জন্মদিনে সেই প্রত্যাশাই সবার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সিরিজ পাকিস্তানের

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তৃতীয় ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পোর্ট অব স্পেনে কাল চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পাত্তাই পেল না ক্যারিবীয়রা। স্বাগতিকদের ৭ উইকেটে হারিয়ে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। আগের ম্যাচে ৪৫ বলে ৯১ রান করা এভিন লুইসকে এদিন ঝড় তোলার আগেই বিদায় করেন ইমাদ ওয়াসিম। ৮ বলে ৭ রান করে বাঁহাতি স্পিনারের বলে হাসান আলীকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যারিবীয় ওপেনার।

এরপর পাকিস্তানের বোলারদের তোপে পড়ে একটা পর্যায়ে ৮৩ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে একশ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে অষ্টম উইকেটে সুনীল নারিনের সঙ্গে অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেটের ৩৮ রানের জুটিতে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১২৪ রান করতে পারে স্বাগতিকরা। তাদের ইনিংসে ৬৬ বলই ছিল ডট! যার মধ্যে ৮টি উইকেট।

২৪ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রাফেট। সর্বোচ্চ ৪১ রান অবশ্য চাঁদউইক ওয়ালটনের। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল মারলন স্যামুয়েলস (২২)।

৪ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে দুটি মেডেনসহ ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার হাসান আলী। নিজের টানা দুই ওভারে কোনো রান না দিয়ে উইকেট দুটি নেন ২৩ বছর বয়সি এই পেসার। লেগ স্পিনার শাদাব খানও ২ উইকেট নেন ১৬ রানে।

জবাবে আহমেদ শেহজাদের ৫৩ (৪৫ বলে ৬ চার ও এক ছক্কা) ও বাবর আজমের ৩৮ রানের সুবাদে ১২৫ রানের লক্ষ্যটা ৬ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। কামরান আকমল করেন ২০ রান।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান আলী। চার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন শাদাব খান।

৭ এপ্রিল ভারত যাচ্ছেন মুস্তাফিজ!

৫ এপ্রিল মাঠে গড়াবে আইপিএলের দশম আসর। এবারও সানরাইজার্স হায়দরাবাদেই আছেন মুস্তাফিজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন কাটার মাস্টার। তার উপর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। ৬ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ খেলার আগে ছাড়পত্র পেলে ৭ এপ্রিল সানরাইজার্স শিবিরে যোগ দিবেন মুস্তাফিজুর রহমান। হিন্দুস্থান টাইমসকে এমনটাই জানিয়েছেন হায়দরাবাদের কোচ টম মুডি।

তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা প্রত্যাশা করছি যে সে আমাদের হয়ে খেলতে আসবে। যদিও এখনো আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাইনি। তবে আশা করছি ৭ এপ্রিলের মধ্যে আমরা তাকে দলে পাব। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু শুনতে না হয়। তবে আমরা তাকে পাওয়ার আশা ছাড়ছি না।’

আইপিএলের উদ্বোধনী দিনে সানরাইজার্স হায়দরাাবাদ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। এই ম্যাচে অবশ্য মুস্তাফিজ খেলতে পারছেন না।

শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার কোনো চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুডি বলেন, ‘আমার জন্য এটা আরেকটি নতুন অধ্যয়। আসলে নতুন বই। সুতরাং গেল বছরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই।’ ডেভিড ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চলছে। ওয়ার্নারের ইনজুরির বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে মুডি বলেন, ‘ওয়ার্নার শতভাগ ফিট রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাচ্ছে। শিগগিরই সে দলে যোগ দিবে।’

 

শেষ ওয়ানডেতে হার এক ম্যাচ নিষিদ্ধ মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার : বোলিং-ফিল্ডিংয়ে যতটা সময় নিয়েছিল বাংলাদেশ, তাতে শাস্তিটা প্রায় অবধারিতই ছিল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেটি নিশ্চিত করে দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেই। তৃতীয় ওয়ানডেতে মন্থর ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শনিবার তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৭০ রানে হারিয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানান নিজের নিষেধাজ্ঞার খবর।

“এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলাম, পরের ওয়ানডে খেলতে পারবো না।”
ডাম্বুলায় প্রথম ওয়ানডের পরই মন্থর ওভার রেটের কারণে বাংলাদেশকে সতর্ক করেছিলেন ম্যাচ রেফারি। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বোলিং ইনিংস শেষ করে প্রায় ২৫ মিনিট সময় বেশি নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ ওয়ানডে ছাড়িয়ে গেছে আগের সবকিছুকেই। ইনিংস শেষ করতে দেরি হয়েছে প্রায় ৩০ মিনিট! শাস্তিটা তাই প্রায় নিশ্চিতই ছিল।

মন্থর ওভার রেটের কারণে এর আগেও নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়েছিল মাশরাফিকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারেননি দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। বাংলাদেশের পরের ওয়ানডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে। ১২ মে প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না মাশরাফি।

 

সাকিবের ফিফটি

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৮ ওভারে ৯৮/৪

ধৈর্য হারানোর মাশুল দিলেন সৌম্য: উইকেটে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। দারুণ সব শটও খেলেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ধৈর্য হারালেন সৌম্য সরকার। লঙ্কান স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরার অফ স্টাম্পে করা ফ্লাট বল ডাউনে দ্য উইকেটে এসে খেলতে চেয়েছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু বলের লাইন মিস করলেন। সহজ স্টাম্পিং করতে কোনো ভুল হয়নি দিনেশ চান্দিমালের। ৪৪ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় সৌম্য করেন ৩৮। সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে তার ৭৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৮৮।

সৌম্য-সাকিব জুটির পঞ্চাশ: ১১ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সাকিব থিসারা পেরেরার বলে চার মেরে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। তখন সৌম্যর রান ৩২, সাকিবের ২২। আর বাংলাদেশের ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৪।

মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ: প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। এমন সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভরসা দিতে পারেননি মুশফিকুর রহিমও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে মুশফিক হয়েছেন এলবিডব্লিউ, মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তখন ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ।

জোড়া ধাক্কায় শুরু: নুয়ান কুলাসেকারার আগের ওভারের শেষ বলে ফিরে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। লঙ্কান পেসারের পরের ওভারে ফেরেন সাব্বির রহমানও। জোড়া ধাক্কায় ব্যাটিং শুরু বাংলাদেশের। দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাব্বির মেরেছেন ডাক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

শুরুতেই ফিরলেন তামিম: রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। সে সময় হয়েছিল কিছুটা নাটকও। তামিমের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের জন্য বল ছুড়তে গিয়ে হাত ফসকান নুয়ান কুলাসেরারা। সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কুলাসেকারার হাত ফসকানোর আগে নিয়ন্ত্রণেই ছিল। তামিম আউট ৪ রান করে।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৮১: শ্রীলঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুললেন থিসারা পেরেরা, তাতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়াল ৯ উইকেটে ২৮০। ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮১।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। ৪০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। এ ছাড়া দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ৩৫ ও দানুশকা গুনাথিলাকা করেন ৩৪। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার অধিনায়ক মাশরাফি। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

সৌম্য-সাকিবে প্রতিরোধ

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১১ ওভারে ৬৭/৩

সৌম্য-সাকিব জুটির পঞ্চাশ: ১১ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা সাকিব থিসারা পেরেরার বলে চার মেরে পূর্ণ করেন জুটির পঞ্চাশ। তখন সৌম্যর রান ৩২, সাকিবের ২২। আর বাংলাদেশের ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৪।

অধিনায়কের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ: প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হয়ে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। বিপদের সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে ভরসা দিতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে মুশফিক হয়েছেন এলবিডব্লিউ, মেরেছেন ডাক। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। তখন ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে বাংলাদেশ।

জোড়া ধাক্কায় শুরু: নুয়ান কুলাসেকারার আগের ওভারের শেষ বলে ফিরে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। লঙ্কান পেসারের পরের ওভারে ফেরেন সাব্বির রহমানও। জোড়া ধাক্কায় ব্যাটিং শুরু বাংলাদেশের। দিনেশ চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাব্বির মেরেছেন ডাক। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩ ওভারে ২ উইকেটে ১০।

শুরুতেই ফিরলেন তামিম: রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই আউট হয়ে ফেরেন তামিম ইকবাল। সে সময় হয়েছিল কিছুটা নাটকও। তামিমের ফিরতি ক্যাচ নিয়ে উদযাপনের জন্য বল ছুড়তে গিয়ে হাত ফসকান নুয়ান কুলাসেরারা। সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল কুলাসেকারার হাত ফসকানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। তামিম আউট ৪ রান করে।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৮১: শ্রীলঙ্কা যেভাবে শুরু করেছিল তাতে মনে হচ্ছিল, সংগ্রহটা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মাঝে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুস্তাফিজুর রহমানের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে ঝড় তুললেন থিসারা পেরেরা, তাতে ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়াল ৯ উইকেটে ২৮০। ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৮১।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন কুশল মেন্ডিস। ৪০ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন পেরেরা। এ ছাড়া দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ৩৫ ও দানুশকা গুনাথিলাকা করেন ৩৪। ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার অধিনায়ক মাশরাফি। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতে জমা পড়ে একটি করে উইকেট।

 

বাংলাদেশের সামনে ২৮১ রানের লক্ষ্য

এক সময়ে বাংলাদেশের সামনে শঙ্কা ছিল তিনশ ছাড়ানো রানের লক্ষ্য পাওয়ার। বোলারদের চমৎকার বোলিংয়ে তত দূর যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। নিয়মিত উইকেট পতনের মধ্যেও শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছেন থিসারা পেরেরা।

তৃতীয় ওয়ানডেতে উপুল থারাঙ্গা-দানুশকা গুনাথিলাকার ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পাওয়া শ্রীলঙ্কাকে মাঝের ওভারে টানেন কুসল মেন্ডিস। সিরিজে থিসারার দ্বিতীয় অর্ধশতকে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৮০ রান করে শ্রীলঙ্কা।

সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠ বা এসএসসিতে এরচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড আছে কেবল একটি। ১৯৯৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৮২ রানের লক্ষ্যে ৬ বল হাতে রেখে পৌঁছেছিল স্বাগতিকরা।

উইকেটে বোলারদের জন্য খানিকটা সুবিধা আছে, সেটা নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৯২ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ানো স্বাগতিকদের তিনশ রানের আগে থামানো সাফল্যই। থিসারাকে দ্রুত ফেরাতে পারলে হয়তো লক্ষ্যটা আরও ছোটো রাখা সম্ভব ছিল।

এসএসসিতে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারাতে পারতো শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় ওভারে গুনাথিলাকার ফিরতি কঠিন ক্যাচ হাতে জমাতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।

টস জিতে আগে বোলিং করার যে সুবিধা অধিনায়ক নিতে চেয়েছিলেন সেটাও হাতছাড়া হয়ে যায় শুরুর এলোমেলো বোলিংয়ে। ঠিক লাইন-লেংথে বল না করার সুবিধা পুরোপুরি উঠিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। থারাঙ্গা-গুনাথিলাকার ব্যাটে ১০ ওভারে উঠে ৭৬ রান।

দুই বাঁহাতির জমে উঠা উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তরুণ অফ স্পিনারের ফ্লাইটে বিভ্রান্ত হয়ে কাভার মাহমুদউল্লাহকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৫ রানে জীবন পাওয়া গুনাথিলাকা। এরপর বেশিদূর যাননি অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। তাসকিন আহমেদের দারুণ এক বলে এলোমেলো হয়ে যায় তার স্টাম্পস।  

ভালো সূচনা পাওয়ার সুবিধা কাজে লাগান দিনেশ চান্দিমাল ও মেন্ডিস। একদমই তাড়াহুড়া করেননি তারা। অপেক্ষা করেছেন বাজে বলের জন্য, প্রান্ত বদল করে সচল রেখেছেন রানের চাকা। দুই জনের ব্যাটে বড় জুটির আভাস, তখনই অবাক করা এক রান আউটে ফিরেন চান্দিমাল।

তাসকিনের থ্রো পেয়ে মুশফিকুর রহিম স্টাম্প ভাঙার সময় ক্রিজের ভেতরেই ছিলেন চান্দিমাল। কিন্তু বেলস পড়ার সময় পা ও ব্যাট দুটোই ছিল উঁচুতে। আউট হওয়ার পর বিশ্বাসই হচ্ছিল না লঙ্কান ব্যাটসম্যানের।

বদলি ফিল্ডার শুভাগত হোম চৌধুরীর থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন মিলিন্দা সিরিবর্ধনেও। দুই রান আউটের ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই মেন্ডিসকে হারায় স্বাগতিকরা।

৭ রানেই ফিরতে পারতেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ঠিক মতো থ্রো করতে পারেননি মিরাজ, রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান মেন্ডিস। পরের বলেই সাকিব আল হাসানকে চার হাঁকিয়ে রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন।

মুস্তাফিজের তৃতীয় স্পেলের শেষ বলটি থার্ড ম্যানে খেলতে গিয়ে ঠিক মতো পারেননি মেন্ডিস। ব্যাটের কানা নেওয়া সহজ ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করতে কোনো সমস্যা হয়নি মুশফিকের।

৭৬ বলে ৫৪ রান করার পথে চারটি চার আসে মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। তার বিদায়ের রানের গতিতে খানিকটা ভাটা পড়ে। চাপ কমানোর চেষ্টায় মাশরাফিকে স্লগ করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন আসেলা গুনারত্নে।

নুয়ান প্রদিপের জায়গায় দলে আসা সিকুগে প্রসন্ন পারেননি ঝড় তুলতে। মুস্তাফিজের স্লোয়ার উড়াতে গিয়ে ফিরেন মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে।

হঠাৎ দিক হারানো শ্রীলঙ্কার ত্রাতা থিসারা। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। একটুর জন্য ফিরতি ক্যাচের নাগাল পাননি মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভারে মাশরাফির বলে ফেরার আগে ৪০ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫২ রান আসে থিসারার ব্যাট থেকে।

শেষ ওভারে জোড়া উইকেটসহ ৬৫ রানে ৩ উইকেট নেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান দেওয়া মুস্তাফিজ পরে নিজেকে কিছুটা ফিরে পান। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ৫৫ রানে নেন ২ উইকেট।

অফ স্পিনার মিরাজ ১ উইকেট নেন ৪৯ রানে। টানা দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য সাকিব। এই ম্যাচে নিজের প্রথম উইকেটে তাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকার এককভাবে শীর্ষ উঠে আসেন মাশরাফি। ওয়ানডেতে সাকিবের উইকেট ২২১, দেশের হয়ে মাশরাফির উইকেট ২২৪টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৮০/৯ (গুনাথিলাকা ৩৪, থারাঙ্গা ৩৫, মেন্ডিস ৫৪, চান্দিমাল ২১, সিরিবর্ধনা ১২, গুনারত্নে ৩৪, থিসারা ৫২, প্রসন্ন ১, দিলরুয়ান ১৫, কুলাসেকারা ১*, লাকমল ২*; মাশরাফি ৩/৬৫, মুস্তাফিজ ২/৫৫, মিরাজ ১/৪৯, তাসকিন ১/৫০, মাহমুদউল্লাহ ০/৫, সাকিব ০/৪১, মোসাদ্দেক ০/১৩)

 

সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে কলম্বোর পথে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ ম্যাচের দিকে নজর সবার। এ ম্যাচে জিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের স্বপ্ন টাইগারদের মনে। আর সেই স্বপ্ন নিয়ে শেষ ম্যাচের ভেন্যু কলম্বোর দিকে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ দল। স্থানীয় সময় দুপুর ১.৩০ মিনিটে কলম্বো পৌঁছাবে মাশরাফিবাহিনী।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর ডাম্বুলাতেই দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের আনন্দের মাততে চেয়েছিল টাইগাররা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে থারাঙ্গার হাফ সেঞ্চুরি আর মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান তোলে লঙ্কানরা। শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৩১২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।


বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রস্তুত হচ্ছিলেন ব্যাট করতে নামার জন্য। টাইগারদের লক্ষ্য ছিল, সিরিজ জয়; কিন্তু বৃষ্টি সেটা আর হতে দিল না। মাঝে প্রায় ২০-২৫ মিনিট যে মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে, সেটা শেষ পর্যন্ত কমে এলেও পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়ও ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কাছে হার মেনে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে এ ম্যাচেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ছিল বলে জানান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। কলম্বোর উদ্দেশ্যে হোটেল ছাড়াও আছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি জানান, স্কোর তিনশোর উপরে দেখেও আমি একটুও ঘাবরাইনি। উইকেট ছিল ব্যাটিং বান্ধব। আমরা সাকিব-তামিমকে ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচে সাড়ে তিনশো করেছিলাম। আর এ ম্যাচে তো ওরা দুইজনও ছিল। তাই আমার বিশ্বাস ছিল, ম্যাচ হলে জিততাম।


এদিকে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, যতটুক খবর নিয়ে জেনেছি শেষ ম্যাচের উইকেটও ব্যাটিং বান্ধব হবে। ওই মাঠে ২৮০-২৯০ চেজ করেও জেতা সম্ভব।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এটা বলা যায়, বাংলাদেশ আর সিরিজ হারতেছে না। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে সিরিজ হবে ড্র।

‘সিরিজ জিতলে হ্যাটট্রিকের আনন্দ হতো অন্যরকম’

সিরিজ জয়ের মিশন নিয়েই শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে ডাম্বুলায় দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তাই সিরিজ জয়ের জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তবে পরিত্যক্ত ম্যাচেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি তাসকিনের হ্যাটট্রিক। দেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে এ তালিকায় নাম লেখান টাইগার এই বোলার।

এদিকে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে খেলার উদ্দেশ্যে কলম্বো যাওয়ার আগে নিজের হ্যাটট্রিক নিয়ে তাসকিন জানান, `হ্যাটট্রিক করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে উৎসবে মেতে ওঠার মত না। কারণ বৃষ্টিতে ম্যাচ হয়নি, ম্যাচ হলে আর যদি জিততে পারতাম, তাহলে ভালো লাগাটা পূর্ণতা পেত। আমরা আসলে সিরিজ জিততে চাই। আর এই ম্যাচ জিততে পারলে সিরিজ জয় নিশ্চিত হত। তখন হ্যাটট্রিকের আনন্দটাও হতো অন্যরকম।`

দ্বিতীয় ওয়ানডের শেষ ওভারের বল করতে আসেন তাসকিন। তৃতীয় বলে অ্যাসেলা গুনারত্নের ক্যাচ ধরলেন সৌম্য সরকার। চতুর্থ বলে সুরাঙ্গা লাকমালের ক্যাচটা ঝাঁপিয়ে ধরলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পঞ্চম বলে নুয়ান প্রদীপকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূরণ করে ফেলেন তাসকিন আহমেদ।

এদিকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বপ্রথম হ্যাটট্রিক করেন শাহাদাত হোসেন রাজীব। ২০০৬ সালে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তাফাদজাওয়া মুফাম্বিসি, এল্টন চিগুম্বুরা এবং তাফান্দা মুফারিওয়াকে ফিরিয়ে দেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন শাহাদাত।

দেশের হয়ে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি করেন স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। প্রতিপক্ষ এবারও জিম্বাবুয়ে। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ২০১০ সালে। প্রসপার উতসেয়া, রেমন্ড প্রাইস এবং ক্রিস্টোফার এমপোফুকে ফিরিয়ে এই হ্যাটট্রিক করেন রাজ্জাক।

তৃতীয় হ্যাটট্রিকটি আসে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে। এবার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ২০১৩ সালে মিরপুরে। সেবার কোরি এন্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং জিমি নিশামকে ফিরিয়ে এই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ হ্যাটট্রিক করেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এবারও প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর। তবে তাইজুলের এই হ্যাটট্রিকের আলাদা মাহাত্য আছে। তিনি হ্যাটট্রিকটা করেছেন অভিষেকেই। আর কোনো বোলার অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেননি। ফেরান তিনাশে পানিয়াঙ্গারা, জন নাইউম্বু এবং তেন্দাই চাতারাকে।

কলম্বোতে হবে সিরিজ নির্ধারণ

ডাম্বুলায় প্রথম ওয়ানডেতে বড় জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল টাইগাররা। আর শ্রীলঙ্কার জন্য ছিল সিরিজে টিকে থাকার ম্যাচ। তবে শেষপর্যন্ত বৃষ্টির কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। ম্যাচ পণ্ড হয়ে যাওয়ায় সিরিজে এখনও গিয়ে বাংলাদেশ। তাই সিরিজের ভাগ্য জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে কলোম্বোতে শেষ ওয়ানডে পর্যন্ত।

মঙ্গলবার ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার ইনিংসটা ভালোভাবেই শেষ হয়। থারাঙ্গার হাফ সেঞ্চুরি আর মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান তোলে লঙ্কানরা। শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৩১২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

তবে বাংলাদেশের ইনিংসের আগেও শুরু হয় বৃষ্টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাতেও শুরু করে। পাশাপাশি মেঘের গর্জনও শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, কখন বৃষ্টি থামবে, কখন আবার খেলা শুরু করা যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এই ম্যাচটি বাতিল বলেই সিদ্ধান্ত দিলেন ম্যাচ রেফারি।

এর আগে, শনিবার প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে লঙ্কানদের ৩২৪ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে টাইগাররা ম্যাচ জিতে নেয় ৯০ রানে। শুধু তামিমই নন সেদিন দারুণ ব্যাটিং করেন সাকিব ও সাব্বির। এরপর বল হাতে দলের বাকি কাজটা সারেন যৌথভাবে। মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মিরাজদের বোলিং তোপে ২৩৪ রানে থামে স্বাগতিকরা।

আগামী ১ এপ্রিল সিরিজের শেষ ওয়ানডে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগের দুটি ম্যাচ ডেনাইট হলেও ওই ম্যাচটি শুরু হবে শ্রীলঙ্কান সময় সকাল সাড়ে ৯টায়। আর ওই ম্যাচের ফলাফলের পরই জানা যাবে ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্য।

এর আগে, গলে শুরু হয়েছিল টেস্ট সিরিজ। ওই ম্যাচ হারার পর কলম্বোতেই ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। নিজেদের শততম সে টেস্ট জিতে নিয়ে সিরিজে সমতায় আসে মুশফিকরা। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডে পণ্ড হওয়ার পর এটা নিশ্চিত হয়েছে এ সিরিজে অন্তত হারতে হবে না টাইগারদের।

বৃষ্টিতে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হতে দেরি

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ৪৯.৫ ওভারে ৩১১
বৃষ্টিতে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হতে দেরি

বাংলাদেশের রান তাড়া যখন শুরু হওয়ার কথা, উইকেট-মাঠ তখন ঢাকা কাভারে। ইনিংস বিরতিতেই নেমেছে বৃষ্টি। হালকা বৃষ্টি দিয়ে শুরু হলেও পরে একটু বেড়েছে বেগ। বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হতে তাই হচ্ছে দেরি।

শ্রীলঙ্কা থামল ৩১১ রানে
টস জিতে উপুল থারাঙ্গার চাওয়া ছিল অন্তত ২৭০-২৮০ রান। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক পেলেন তার চেয়ে ঢের বেশি।

দ্বিতীয় উইকেটে মেন্ডিসের সঙ্গে জুটিতে বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন থারাঙ্গাই। দারুণ সেঞ্চুরিতে পরে এগিয়ে নিয়েছেন মেন্ডিস। পরে কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেছেন মিলিন্দা সিরিবর্দনা ও আসেলা গুনারত্নে।

শেষ ওভারে তাসকিনের হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কা থামে ৩১১ রানে। আগে ব্যাট করে ২৩ ইনিংসে এই নিয়ে নবমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনশ করল শ্রীলঙ্কা।

শেষ ওভারে তাসকিনের হ্যাটট্রিক!

ইনিংস জুড়ে শ্রীলঙ্কার দাপুটে ব্যাটিংয়ের পর শেষ ওভারে উল্টো নাটকীয়তা। টানা তিন বলে উইকেট নিয়ে তাসকিন গুটিয়ে দেন শ্রীলঙ্কাকে।

শেষ দিকে রান বাড়ানোর কাজটা বলতে গেলে একাই করেছেন গুনারত্নে। তবে ইনিংস শেষ করে আসতে পারেননি। তাসকিনের ফুল লেংথ বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মিড অফে। তবে তার আগে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলেছেন ২৮ বলে ৩৯ রানের দারুণ ইনিংস।

পরের বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিলেন সুরাঙ্গা লাকমল। হ্যাটট্রিক বল তাসকিন করলেন ইয়র্কার। নুয়ান প্রদিপ হাঁকালেন। বল উড়িয়ে দিল বেলস। হ্যাটট্রিক!

বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে তাসকিন ওয়ানডেতে হাটট্রিক করলেন। ৪৭ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

মুশফিক আবার!

থিসারা পেরেরাকে রান আউট করেছিলেন গ্লাভস খুলে। দিলরুয়ান পেরেরার ক্ষেত্রে সেটির সময়ও পাননি মুশফিক। কিপারের কাছে বল রেখেই রান নিতে ছুটেছিলেন পেরেরা। মুশফিকের আন্ডার আর্ম থ্রো লাগে স্টাম্পে।

থিসারা পেরেরার মত দিলরুয়ান পেরেরাও রান আউট ৯ রানে। ৪৮.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ৩০০।

ঝড়ের আগেই শেষ পেরেরা

আগের ম্যাচে দলের বিপর্যয়েও ঝড়ো এক অর্ধশতক করেছিলেন থিসারা পেরেরা। এদিনও ঝড় তোলার মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। কিন্তু ৯ রানেই তাকে রান আউট করলেন মুশফিক।

লেগ স্টাম্পে থাকা বলটিতে টাইমিং করতে পারেননি পেরেরা। বল ছিল পেছনেই, ছুটেছিলেন রান নিতে। মুশফিক ত্বরিত গ্লাভস খুলে সরাসরি থ্রোয়ে বল লাগান স্টাম্পে। শ্রীলঙ্কা তখন ৪৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮০।

মিরাজই ফেরালেন সিরিবর্দনাকে

আগের ওভারে ক্যাচ ছেড়েছিলেন সিরিবর্দনার। মিরাজ সেটি পুষিয়ে দিলেন নিজেই আউট করে। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

৩০ রানে ফিরলেন সিরিবর্দনা। শ্রীলঙ্কা ৪৫.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭১।

আরেকটি জুটির পঞ্চাশ

সেঞ্চুরির পর মেন্ডিসকে ফেরানো গেলেও খুব একটা বেগ দেওয়া যায়নি শ্রীলঙ্কাকে। মিলিন্দা সিরিবর্দনা ও আসেলা গুনারত্নে জুটি বেধে এগিয়ে নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কাকে। পঞ্চম উইকেট জুটিতেও রান ছাড়িয়ে গেছে পঞ্চাশ। ৪১ বলে হয়েছে জুটির অর্ধশত।

দুটি সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১২ রানে গুনারত্নে জীবন পেয়েছেন মিরাজের বলে মুশফিক স্টাম্পিংয়ের সুযোগ ছাড়ায়। পরে সেই মিরাজই অনেকটা দৌড়ে বল হাতে নিয়েও জমাতে পারেননি, ২৪ রানে মাশরাফির বলে জীবন পান সিরিবর্দনা।

তাসকিনের ‘যন্ত্রণাময়’ উইকেট

ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে যথেষ্ট যন্ত্রণা দিয়েছেন কুসল মেন্ডিস। সেই যন্ত্রণা খানিকটা শরীরেও টের পেলেন তাসকিন আহমেদ।

ফুল লেংথ বলে গায়ের জোরে বোলারের দিকেই তুলে মেরেছিলেন মেন্ডিস। বল লাগে তাসকিনের কাঁধের দিকে। ব্যথা পেলেও তাসকিন সামলে নেন দ্রুত। বল তখন বাতাসে। দ্রুত ঘুরে সেটি নেন ক্যাচ। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখেই তাসকিনের উইকেট উদযাপন!

১০৭ বলে ১০২ রানে ফিরলেন মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কা তখন ৩৭.৪ ওভারে  ৪ উইকেটে ২১৬।

অবশেষে মুস্তাফিজের উইকেট

বাংলাদেশের রিভিউয়ে বেঁচেছিলেন চান্দিমাল। টিকতে পারলেন না নিজে রিভিউ নিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে এসে মুস্তাফিজকে সুইপ মত খেলতে গিয়েছিলেন। বল লাগে প্যাডে।

জোড়ালো আবেদনে অনেকটা সময় নিয়ে আঙুল তোলেন আম্পায়ার এস রবি। আম্পায়ারকে এত সময় নিতে দেখেই হয়ত রিভিউ নেন চান্দিমাল। তবে বল লাগতো মিডল স্টাম্পে।

আগের ৫ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ার পর এবার মুস্তাফিজ দেখলেন সাফল্যের মুখ।

২৪ রানে ফিরলেন চান্দিমাল। জুটি ছিল ৮৩ রানের। শ্রীলঙ্কা তখন ৩৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১২।

মেন্ডিসের প্রথম সেঞ্চুরি

৯০ থেকে সাকিবকে টানা দুটি বাউন্ডারিতে ৯৮। পরের ওভারেই মাশরাফির বলে দুটি সিঙ্গেলে ১০০। কুসল মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

অথচ শুরুতে টাইমিংই করতে পারছিলেন না মেন্ডিস। ২৫ বলে রান ছিল ৭। বল ব্যাটের কানায় ছুঁয়ে স্লিপ দিয়ে চার পাওয়ার পর থেকেই ফিরে পান আত্মবিশ্বাস। পঞ্চাশ করছিলেন ৬৩ বলে। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে ৩৯ বল।

গত নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৩ বলে ৯৪ করে আউট হয়েছিলেন। এবার পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরি।

৩৬ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ২১০। জুটির রান হয়ে গেছে ৮১। মেন্ডিসের রান ১০০, চান্দিমাল ২৩।

অল্পের জন্য চান্দিমালের রক্ষা

কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে নিজেকে দ্বিতীয় স্পেলে এনেছিলেন মাশরাফি। ব্রেক থ্রু প্রায় পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। দারুণ এক কাটারে বল লেগেছিল চান্দিমালের প্যাডে। জোড়ালো আবেদনেও সাড়া দেননি আম্পায়ার। মাশরাফি নেন রিভিউ।

বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল লাগছিল বেলসে! আর কয়েক সেন্টিমিটার নিচে লাগলেই আউট হতে পারতেন চান্দিমাল। আউট হতেন আম্পায়ার শুরুতে আউট দিলেও। বাঁচলেন ১৬ রানে। ৩৩.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান তখন ২ উইকেটে ১৯৩।

ঝড়ের গতিতে জুটির পঞ্চাশ

থারাঙ্গাকে হারানোর ধাক্কা দলকে বুঝতেই দিলেন না কুসল মেন্ডিস। ফ্রি হিটে ছক্কা মেরেছিলেন পরের বলেই। তার পরও খেলে গেছেন দারুণ সব শট। দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে দারুণ জুটিতে রান উঠেছে তুমুল গতিতে। অবশ্য জুটিতে নয়, বলা ভালো মেন্ডিসের ব্যাটে!

তৃতীয় উইকেট জুটির পঞ্চাশ হয়েছে মাত্র ৩৪ বলেই। তাতে চান্দিমালের রান ৮, বাকি ৪২ মেন্ডিসেরই!

নড়বড়ে শুরুর পর মেন্ডিস এখন এগোচ্ছেন দারুণভাবে। হাতছানি প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির।

৩১ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১৮০। জুটির রান ৫১। ৮৯ বলে ৮৫ রানে খেলছেন মেন্ডিস, ৮ রানে চান্দিমাল।

মাশরাফি ছাড়া সুবিধে করতে পারেননি আর কোনো বোলার। ৫ ওভারে ৪৩ রান গুণেছেন মুস্তাফিজ। সাকিব ৬ ওভারে ৩৩। মোসাদ্দেকের ৩ ওভারে এসেছে ২৬।

মেন্ডিসের পঞ্চাশ

থারাঙ্গা রান আউট নো বলে। সেই ফ্রি হিটে কুসল মেন্ডিস মারলেন ম্যাচের প্রথম ছক্কা। মুস্তাফিজের ফুল লেংথ বল ওড়ালেন লং অন দিয়ে। পরের বলে দারুণ এক ড্রাইভে ছুঁলেন পঞ্চাশ।

শুরুটা হয়েছিল নড়বড়ে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে মেন্ডিস হয়ে উঠছেন আত্মবিশ্বাসী। ৬৩ বলে স্পর্শ করেছেন অর্ধশতক, ২৪ ওয়ানডেতে যেটি তার নবম।

২৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১৪০। ৫৩ রানে খেলছেন মেন্ডিস, নতুন সঙ্গী দিনেশ চান্দিমাল।


বিমারে উইকেট! কাজ হচ্ছিলো না কোনো কিছুতেই। জুটি ভাঙর পথ পাচ্ছিলো না বাংলাদেশ। থারাঙ্গা কেবলই খুলছিলেন হাত। হঠাৎই উইকেট ধরা দিল রান আউটে।

মুস্তাফিজের হাত থেকে বল ছুটে হয়ে গিয়েছিল বিমার। ডাইভ দিয়ে কোনো রকমে চার বাঁচতে পেরেছিলেন মুশফিক। নো বল। বল গেল স্কয়ার লেগে। কিন্তু রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি। মাহমুদউল্লাহর সরাসরি থ্রোতে রান আউট থারাঙ্গা।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ফিরলেন ৬৫ রানে। জুটি ভাঙল ১১১ রানে। ২৪.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১২৯।

জুটির সেঞ্চুরি

তৃতীয় ওভারে উইকেট হারানোর পর জুটি বেধেছিলেন দুজন। সেই থেকেই দলকে টানছেন দুজন। উপভোগ করছেন পরস্পরের সঙ্গ। গড়ে উঠেছে জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে যে জুটি ছাড়িয়ে গেছে শতরান।

সময়ের সঙ্গে বাড়ছে রানের গতিও। পঞ্চাশের পর শট খেলতে শুরু করেছেন থারাঙ্গা। মুস্তাফিজকে এক ওভারেই মেরেছেন দুটি চার।

 

দুইশতম ম্যাচে থারাঙ্গার পঞ্চাশ
অনভিজ্ঞ দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা তিনি। শুধু অধিনায়কই নন, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানও। দল তাকিয়ে তার দিকে। প্রথম ম্যাচে না পারলেও এবার উপুল থারাঙ্গার ব্যাটে দলের চাওয়ারই প্রতিফলন। নিজের দুইশতম ওয়ানডেতে বাঁহাতি এই ওপেনার তুলে নিয়েছেন ৩১তম অর্ধশতক।

শুরুতে উইকেট হারানোর পর থারাঙ্গার ব্যাটেই চাপ হয়েছে আড়াল। সময় নিয়ে থিতু হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কুসল মেন্ডিস।

তাড়াহুড়ো ছিল না দুজনের ব্যাটে। ঠাণ্ডা মাথায় শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন দুজন। ৬৮ বলে থারাঙ্গা স্পর্শ করেছেন পঞ্চাশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচে এটি তার চতুর্থ অর্ধশতক। সেঞ্চুরি আছে আরও তিনটি।

পঞ্চাশ ছাড়িয়ে জুটি

শুরুর ফাঁস আলগা হতে শুরু করেছে আস্তে আস্তে। থারাঙ্গা ও মেন্ডিস ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কাকে।

থারাঙ্গা শুরু থেকেই মোটামুটি সাবলীল। ধুঁকছিলেন কুসল মেন্ডিস। তবে ভাগ্যের একটু সহায়তা স্বস্তিতে ফিরিয়ে তাকে। ৭ রানে মুস্তাফিজের বলে ব্যাটের কানায় লেগেও পেলেন চার। বল গেল কিপার ও স্লিপের মাঝ দিয়ে বাউন্ডারিতে। এরপর থেকেই একটু ফিরে পেয়েছেন নিজেকে।

১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে ৭৮। ৪২ বলে ৩৮ রানে খেলছেন থারাঙ্গা, ৩৭ বলে ১৯ রানে মেন্ডিস। দ্বিতীয় জুটির রান ৬০।

আগের ম্যাচের মতোই প্রথম স্পেলে মাশরাফি ছিলেন দুর্দান্ত। ৫ ওভারে ১ মেডেন, ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। তবে মুস্তাফিজের শুরুটা ভালো হয়নি। ২ ওভারে গুণেছেন ১৭ রান। তাসকিন ৩ ওভারে দিয়েছেন ১৪ রান। নতুন বলে মিরাজ ৪ ওভারে ১৯।

 

লঙ্কার জুটির চেষ্টা
তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একটু একটু করে দলকে টানছেন উপুল থারাঙ্গা। সঙ্গী কুসল মেন্ডিস।

মেন্ডিস অবশ্য টাইমিং পাচ্ছেন না একটুও। মাশরাফির দারুণ বোলিংও দুই ব্যাটসম্যানকে খেলতে দেয়নি স্বস্তিতে। তবে আরেক পাশে মিরাজের অনভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছেন থারাঙ্গা। মিরাজের এক ওভারে মেরেছেন দুটি চার। মুস্তাফিজের প্রথম ওভার থেকে এসেছে ৮ রান।

১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে ৪৮। ২৭ বলে ২৫ রানে খেলছেন থারাঙ্গা, ২২ বলে ৬ মেন্ডিস।

আবার মাশরাফি, দুর্দান্ত মুশফিক

আগের ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি। এবার নিলেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। শিকার সেই একই, দানুশকা গুনাতিলাকা।

আগের বলেই দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরেছিলেন গুনাতিলাকা। পরের বলটি মাশরাফি করলেন স্লোয়ার শর্ট বল। বাঁহাতি গুনাতিলাকা পুল করে বল তুললেন আকাশে। ছুটেছিলেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিক।

৯ রানে আউট গুনাতিলাকা। শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১ উইকেটে ১৮।

২৭০-২৮০ রানের উইকেট?
 
লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

 

 

 

 

 

শুরুতে আবার মাশরাফির ছোবল

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ৮ ওভারে ৩৭/১

আবার মাশরাফি, দুর্দান্ত মুশফিক আগের ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি। এবার নিলেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। শিকার সেই একই, দানুশকা গুনাতিলাকা।

আগের বলেই দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরেছিলেন গুনাতিলাকা। পরের বলটি মাশরাফি করলেন স্লোয়ার শর্ট বল। বাঁহাতি গুনাতিলাকা পুল করে বল তুললেন আকাশে। ছুটেছিলেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিক।

৯ রানে আউট গুনাতিলাকা। শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১ উইকেটে ১৮।

২৭০-২৮০ রানের উইকেট?
 
লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

একই দল নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ


সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১৮/১

২৭০-২৮০ রানের উইকেট? লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

 

মাশরাফির পর মিরাজের আঘাত

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : শ্রীলঙ্কা ১৫/২ (৬ ওভার)

আউট হয়ে ফিরে গেছেন : দানুস্কা গুনাথিলাকা (০) ও কুশাল মেন্ডিস (৪)।

দ্বিতীয় উইকেটের পতন : মেহেদী হাসান মিরাজের করা ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারেন কুশাল মেন্ডিস। কিন্তু লং অনে তার ক্যাচটি তালুবন্দি করেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা শুভাগত হোম চৌধুরী। দলীয় ১৬ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন তিনি।

প্রথম উইকেটের পতন : উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নামেন দানুস্কা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই আউট হয়ে ফিরে যান গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। দলের কিংবা নিজের রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়েছে লঙ্কানরা।

 

তার আগে বাংলাদেশের তামিম ইকবালের ১২৭, সাকিব আল হাসানের ৭২, সাব্বির রহমানের ৫৪ ও মোসাদ্দেক হোসেনের অপরাজিত ২৪ রানে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান সংগ্রহ করে।

শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ ৩২৪/৫ (৫০ ওভার)

আউট হয়েছেন : সৌম্য সরকার (১০), সাব্বির রহমান (৫৪), মুশফিকুর রহিম (১), সাকিব আল হাসান (৭২) ও তামিম ইকবাল (১২৭)।

বাংলাদেশ ৩২৪ : নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ রান। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩২৫ রান। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ১২৭, সাকিব ৭২, সাব্বির ৫৪ ও মোসাদ্দেক ২৪* রান করেন। বল হাতে শ্রীলঙ্কার সুরঙ্গা লাকমাল ২টি উইকেট নেন।

১২৭ রান করে তামিম আউট : দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১২৭ রানে তামিম ইকবাল আউট হন। লং অনে তার ক্যাচটি ধরেন গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন লাহিরু কুমারা।

সাকিবের বিদায় : তামিম ইকবালের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২৩.৪ ওভারে ১৪৪ রান সংগ্রহ করেন সাকিব। দেখেশুনে খেলছিলেন সাকিব। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭২ রানের সময় লাকমলের বলে শর্ট ফাইন লেগে সান্দাকানের হাতে ধরা পড়েন। ৭১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭২ রান করেন তিনি।

তামিমের অষ্টম সেঞ্চুরি : ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেঞ্চুরির পথে তাকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা ‍দুজন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১০ রান সংগ্রহ করেছেন।

২০০ রান পেরিয়ে : ৩৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৪ রান। তামিম ৮৮ ও সাকিব ৩৩ রানে ব্যাট করছেন। ৫.৫১ গড়ে রান তুলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ১৫০ : তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ১৫০ রান পেরিয়েছে। আসেলা গুনারত্নের করা ৩০তম ওভার প্রথম বলে ১ রান নিয়ে দলীয় সংগ্রহ ১৫০ করেন সাকিব।

তামিমের ৩৫তম অর্ধশতক : ওয়ানডেতে নিজের ৩৫তম অর্ধশত রান তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। আসেলা গুনারত্নের করা ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশত রান পূরণ করেন এই ম্যাচেই ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা তামিম।

তৃতীয় উইকেটের পতন : সান্দাকানের করা ২৩তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। বল তার ব্যাটে লেগে সান্দাকানের হাতে জমা হয়। আউট হওয়ার আগে ১ রান করেন টেস্ট অধিনায়ক।

দ্বিতীয় উইকেটের পতন : ২২তম ওভারের তৃতীয় বলে উপল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন দারুণ খেলতে থাকা সাব্বির রহমান। বোলার ছিলেন আসেলা গুনারত্নে। সাব্বির ৫৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করেন।

বাংলাদেশের দলীয় ১০০ : সান্দাকানের করা ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে দলীয় শতরান পূর্ণ করেন সাব্বির রহমান। ওভার প্রতি ৫.৩৫ গড়ে রান তুলছে বাংলাদেশ।

তামিম-সাব্বিরের অর্ধশত রানের জুটি : সৌম্য সরকার আউট হয়ে যাওয়ার পর তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির রহমান। ইতিমধ্য এ জুটি ৪৯ বলে ৫০ রান সংগ্রহ করেছে। যেখানে সাব্বিরের রান ৩০ আর তামিমের ১৮।

দলীয় অর্ধশতক : ৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের দলীয় রান ৫০। ৬.৬০ গড়ে রান আসে প্রথম ৮ ওভারে।

প্রথম উইকেটের পতন : সুরাঙ্গা লাকমালের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলটি অ্যাক্রোস দ্য লাইনে খেলতে যান। বলটি বুঝতে পারেননি তিনি। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসে জমা হয়।
 

 

 

১২৩তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের।

টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্তে টেস্টে উইকেটের পিছনে না দাঁড়ালেও আজ ওয়ানডেতে কিপিং করবেন মুশফিকুর রহিম। সবশেষ একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস, কাজী নুরুল হাসান সোহান, তানভীর হায়দার। দলে এসেছেন সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ।

২০১৩ সালে সবশেষে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। রনগিরির এ মাঠে ২০১০ এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ৩টি ম্যাচেই হেরেছিল টাইগাররা। আজ অতীতের দুঃস্মৃতি কাটিয়ে জয়ে ফেরার লক্ষ্য বাংলাদেশ দল মাঠে নামবে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা দল :
দানুস্কা গুনাথিলাকা, উপল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), কুশাল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, সাচিথ পাথিরানা, থিসারা পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাকসান সান্দাকান, মিলিন্দা শ্রীবর্ধনে ও লাহিরু কুমারা।

মন্ত্রিসভার অভিনন্দন মুশফিক বাহিনীকে

শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতেই ক্রিকেট দলের জন্য অভিনন্দন প্রস্তাব তোলা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিজয় লাভ করায় মন্ত্রিসভা জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সর্বসম্মতিক্রমে সেটা গৃহীত হয়েছে। রোববার কলম্বো টেস্টে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটাই প্রথম এবং সব মিলিয়ে নবম টেস্ট জয় বাংলাদেশের।

 

সারাদেশে বাঁধভাঙা উল্লাস

শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়ে বাঁধভাঙা উল্ল¬াসে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। সেই সঙ্গে মুহূর্তেই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। অবিস্মরণীয় এমন জয়ে সমর্থকরা উল্ল¬াসে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। পুরো টিএসসি এলাকায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ক্রিকেটপ্রেমী, অনুরাগী, সমর্থকরা। নেচে, গেয়ে, বাঁশি বাজিয়ে যে যার মতো উদযাপন করেন ‘লঙ্কা বিজয়’। জয়ের পরপরই রাজধানীসহ সারাদেশে রাস্তায়, পাড়া-মহল্লায় শুরু হয় জয়ধ্বনি। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ও জয়বাংলা’ স্লে¬াগানে উল্ল¬াসে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের বিজয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিষ্টি মুখ করা হয়। দৈনিক করতোয়া ঢাকা অফিসে ছিল মিষ্টির ছড়াছড়ি। 

খেলার ফলাফল অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই টিএসসিতে এসে জড়ো হয় বাংলাদেশ দলের ভক্ত-অনুরাগীরা। হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসে টিএসসিতে। সঙ্গে যুক্ত হয় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরাও। কেউ কেউ মুখে রঙ মেখে, প্রিয় মানুষদের জড়িয়ে ধরে, বাজনা বাজিয়ে জয় উদযাপন করছেন। বাজনার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখে সম্মিলিতভাবে উচ্চারিত হচ্ছিল ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসিতে বিজয়োল্ল¬াসে মেতে উঠেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় পেতে যাচ্ছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই হল থেকে টিএসসিতে ছুটে এসেছি সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য। পাশেই বিজয়ের আনন্দে বান্ধবীদের সঙ্গে রঙ মাখামাখি করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশার পরিধি আরও বেড়ে গেল। এমন আনন্দময় মুহূর্ত ধরে রাখতেই ছুটে এসেছি টিএসসিতে।

 

সিরিজ সেরা সাকিব, ম্যাচ সেরা তামিম

বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের দুই সেরা পারফরমার তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি।

 

সুতরাং, ম্যাচ সেরার পুরস্কারের জন্য সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে বেছে নিলেন না বিচারকরা। হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাই উঠলো তামিম ইকবালের হাতেই।

তবে তামিমের চেয়েও বড় স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। দুই টেস্ট মিলিয়ে সাকিব করেছেন ১৬২ রান। উইকেট নিয়েছেন ৯টি। সুতরাং, বিচারকদের দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেরা হলেন সাকিব আল হাসানই।

শততম টেস্টে স্বপ্নের জয়

স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল শেষ দিনের সকাল। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, আশা আর শঙ্কার দোলাচল শেষে বিকেলে ধরা ছিল সেই স্বপ্ন। শততম টেস্টের মাহেন্দ্রক্ষণে অসাধারণ এক জয়! সিরিজে পিছিয়ে থাকা, ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের হাজারো বিতর্ক, তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, সব পেছনে ফেলে ৪ উইকেটের জয়। বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের বিরল স্বাদ।

চা-বিরতির পর সাকিব-ধাক্কা
 
চা-বিরতির পর নিস্তরঙ্গ দুটি ওভার। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই পেরেরাকে কাট করতে গিয়ে সাকিব বল টেনে আনলেন স্টাম্পে।
 
শুরুতে বুঝতে পারেননি কেউই। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় অফ স্টাম্পে হালকা চুমু দিয়ে বল ফেলে দিয়েছে বল। সাকিব ফিরলেন ১৫ রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৬২। জিততে তখন চাই ২৯ রান।

স্বপ্নের আবির মেখে শেষ সেশনে
 
দ্বিতীয় সেশনে হারাতে হয়েছে দুটি উইকেট। তবে এই সেশনই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে জয়ের লক্ষ্যে। আউট হওয়ার আগে তামিম ও সাব্বিরের ১০৯ রানের জুটি দেখিয়েছে পথ। চা-বিরতির আগের সময়টুকু কাটিয়ে দিয়েছেন সাকিব ও মুশফিক।
 
চা-বিরতিতে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে রান ১৫৬। শেষ সেশনে চাই আর মাত্র ৩৫ রান।
 
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান উইকেটে। চতুর্থ ইনিংসে দুজনের রেকর্ডও বেশ ভালো। জয়টা নাগালে ভাবতেই পারে বাংলাদেশ!

ফিরলেন সাব্বির, জমল রোমাঞ্চ
 
তামিমের বিদায়ের পর বেশি সময় টিকতে পারলেন না বড় জুটিতে তার সঙ্গী সাব্বির রহমানও। এলবিডব্লিউ দিলরুয়ান পেরেরার বলে।
 
সুইপ শটটা ইনিংস জুড়েই ভালো খেলেছেন সাব্বির। আউট হলেন সুইপ খেলেই। এলিবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার এস রবি সাড়া দেননি। শ্রীলঙ্কা জিতেছে রিভিউ নিয়ে।
 
৪১ রানে ফিরলেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১৪৩। জিততে চাই ৪৮ রান।

শেষ করতে পারলেন না তামিম
 
দলকে জয়ের পথে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু পারলেন না পথের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৮২ রানে ফিরলেন পেরেরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।
 
লাঞ্চের পর দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। তামিম ও সাব্বির খেলছিলেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। সেটিই হয়ত বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। তামিম চাইলেন ছক্কা মারতে। লং অফের ফিল্ডার ছিল সীমানা থেকে একটু ভেতরে। বলের দিকে চোখ রেখে পেছনে সরে দারুণ ক্যাচ নিলেন চান্দিমাল।
 
বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৩১। বাংলাদেশের চাই আর ৬০ রান।

শতরানের অমূল্য জুটি
 
ঠিক আগের দিনের মতোই। লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বদলে যাওয়া! আগের দিন বল হাতে খেলার মোড় বদলে দিযেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যাট হাতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে চলেছেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।
 
লাঞ্চের পর দুজনই খেলেছেন অসাধারণ। বিশেষ করে তামিমের পায়ের কাজ ছিল দেখার মত। থিতু হতে দেননি লঙ্কান স্পিনারদের। চায়নাম্যান সান্দকানকে টানা দুই বলে মেরেছেন চার-ছক্কা। আরেক পাশে সাব্বির খেলে গেছেন নিজের মতো। সামান্য সুযোগেও বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে।
 
জুটি রান ১০১। চতুর্থ ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় শতরানের জুটি। আগেরটিতেও ছিলেন তামিম। মুমিনুল হকের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ১১০ রানের জুটি। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১২৩। জিততে প্রয়োজন আর ৬৮ রান। ৭৬ রানে খেলছেন তামিম, ৩৬ সাব্বির।

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের চতুর্থ
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের ব্যাটিং গড় অন্য তিন ইনিংসের তুলনায় কম। তবে এবার দলের ভীষণ প্রযোজনের সময় খেলছেন দারুণ এক ইনিংস। ছুঁয়ে ফেললেন পঞ্চাশ।
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের এটি চতুর্থ অর্ধশতক। ৮৭ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।
 
২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৮৮। জিততে চাই আর ১০৩। তামিমের রান ৫৫, সাব্বির ২৩।

লক্ষ্যের পথে জুটির পঞ্চাশ
 
জোড়া উইকেটের ধাক্কা অনেকটা সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দেখা গেছে অনেক বেশি নির্ভরতা। দুজনই খেলছেন ইতিবাচক। জুটির রান পেরিয়েছে অর্ধশতক।
 
দুজনই চার মেরেছেন রিভার্স সুইপে। দুজনই খেলেছেন দারুখ কয়েকটি ড্রাইভ। হেরাথকে সাব্বিরের দারুণ এক অন ড্রাইভে বাউন্ডারিতেই জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ। ডিফেন্সও করছেন তারা আত্মবিশ্বাসে।
 
বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৪। জিততে চাই আর ১১৭ রান। জুটির রান ৫২। তামিম খেলছেন ৪১ রান নিয়ে, ২৩ রানে সাব্বির।

শঙ্কা আর আশা নিয়ে লাঞ্চে
 
সকালে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে তার আগেই যোগ হয়েছে আরও ৫১ রান।
 
প্রতিপক্ষের দুই উইকেট নিতে দেরি, নিজেদের দুই উইকেট হারাতে দেরি নয়। ১৯১ রান তাড়ায় পরপর দুই বলে বাংলাদেশ হারিয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। ৩৯তম জন্মদিনে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন রঙ্গনা হেরাথ।
 
সব মিলিয়ে বলা যায় শেষ দিনের প্রথম সেশনটি শ্রীলঙ্কারই।
 
জোড়া ধাক্কার পর লাঞ্চের আগে আর বিপদ হয়নি। তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান পার করে দিয়েছেন সময়টুকু।
 
লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৮। জিততে চাই আরও ১৫৩। দিনের ওভার বাকি ৫৯। ২২ রানে উইকেটে তামিম, ৬ রানে সাব্বির।

উড়িয়ে আউট সৌম্য, ব্যাট বাড়িয়ে ইমরুল
 
বল স্পিন-টার্ন করছে। স্পিনাররা পেয়ে বসছে। এটিই হয়ত খেলা করলো সৌম্য সরকারের মাথায়। বেরিয়ে এসে খেলতে চাইলেন। লং অফে ফিল্ডার ছিল সীমানায়। তার পরও উড়িয়ে মারলেন। টাইমিংয়ে গড়বড়। লং অফেই উপুল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ।
 
আউটের পথ তৈরি করেছিল আগের বলটিই। ফ্লাইট দিয়ে রাফে ফেলে বড় টার্ন করিয়েছিলেন হেরাথ। সেটিই হয়ত ভয় ধরিয়েছিল সৌম্যর মনে। ফিরলেন ১০ রানে।
 
পরের বলেই আরেকটি উইকেট। সেই টার্নের ভয়। প্রথম বলটিতেই ব্যাট বাইরে বাড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভেবেছিলেন টার্ন করবে। কিন্তু টার্ন করল না। ব্যাটের কানা নিয়ে স্লিপের হাতে।
 
৩৯তম জন্মদিনে দারুণ দুটি ব্রেক থ্রু এনে দিলেন হেরাথ। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২, লক্ষ্য ১৯১।

অবশেষে শেষ শ্রীলঙ্কা
 
একটি বড় জুটির ভাঙন অনেক সময়ই ডেকে আনে আরেকটি। সুরঙ্গা লাকমল রান আউট হওয়ার পর চালিয়ে খেলতে চেযেছিলেন লাকমল। উড়িয়ে মেরেছিলেন সাকিব আর হাসানকে। সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।
 
ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ করে ফিরলেন লাকমল। শ্রীলঙ্কা অলআউট ৩১৯ রানে।
 
চারটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজ ৩টি।
 
শততম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯১ রান।
 
এর চেয়ে কম রানের পুঁজি নিয়ে দুটি টেস্ট জয়ের কীর্তি আছে শ্রীলঙ্কার। দুটিই গলে, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।
 
রান আউটে ভাঙল জুটি
 
‘নেভার রান আ মিসফিল্ড”, ক্রিকেটের অনেক পুরোনো একটি কথা। সেটিই নতুন করে উপলব্ধি করলেন দিলরুয়ান পেরেরা। মিসফিল্ডে রান নিতে গিয়ে রান আউট।
 
চোট পেয়ে বেশ কিছুটা সময় ধরেই রানিং বিটুইন দা উইকেটে ভুগছিলেন পেরেরা। এবার মিসফিল্ডে দ্রুত রান নিতে গিয়ে রান আউট। ভাঙল বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা হয়ে ওঠা নবম জুটি। মিসফিল্ডের পর শুভাশীষ রায়ের থ্রো খুব ভালো ছিল না। মিরাজ ধরেছেন খুব ভালো, সেরেছেন বাকি কাজ।
 
আউট হওয়ার আগে শ্র্রীলঙ্কার আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এসেছেন পেরেরা। নিজে করেছেন ৫০ রান।
 
নবম জুটিতে সুরঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় যেটি হতে পারে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
 
শ্রীলঙ্কার রান ৯ উইকেটে ৩১৯। এগিয়ে ১৮৯ রানে।

নবম জুটিতে লঙ্কার আশার ভেলা
 
মুস্তাফিজের কাটারে আবারও বিভ্রান্ত লাকমল। আগের বার বল পড়েছিল তার খুব কাছেই। এবার মিস টাইমিং হলেও বল উড়ে গেল কাভার ফিল্ডারের ওপর দিয়ে। মুস্তাফিজের চোখে-মুখে হতাশা!
 
ওই ওভারেই দিলরুয়ান পেরেরার বাউন্ডারিতে নবম জুটি ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ। রান উঠেছে এর পরও। প্রতি ওভারেই এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ হারিয়েছে দুটি রিভিউও।
 
দিনের শুরুতে ১৭৫ রানের লিডের আশা করেছিলেন সান্দাকান। দুই উইকেট অক্ষত রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে শ্রীলঙ্কা।
 
১০৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৮ উইকেটে ৩০৬। এগিয়ে তারা ১৭৭ রানে।
৪৫ রানে খেলছেন পেরেরা, ৩৪ রানে লাকমল।
 
প্রথম ইনিংসেও লাকমল করেছিলেন মহামূল্য ৩৫। ১০ বা ১১ নম্বরে নেমে দুই ইনিংসেই ৩০ ছোঁয়া ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান লাকমল।

দেড়শ ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার লিড
 
মুস্তাফিজের কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন লাকমল। ব্যাটে লেগে বল উঠল ওপরে। কিন্তু আশেপাশে নেই ফিল্ডার। বোলার ছুটে গিয়ে চেষ্টা করলেন, আসার চেষ্টা করলেন স্লিপ ফিল্ডার। কিন্তু অতটা দ্রুত বলের কাছে যেতে পারলেন না কেউ।
 
বেঁচে গিয়ে তাৎক্ষনিক ভোগালেন লাকমল। পরের বলে স্লিপের ওপর দিয়ে চার। তার পরের বলে দারুণ কাভার ড্রাইভে চার। শ্রীলঙ্কার লিড ছাড়িয়ে গেল দেড়শ! রান ৮ উইকেটে ২৮২। এগিয়ে ১৫৩ রানে।
 
লাকমলকে ‘ওয়ার্নিং’
 
পিচের বিপজ্জনক জায়গায় বুট দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন লাকমল। সাকিবের বল খেলেই রান ছুটেছিলেন পিচের মাঝ বরাবর! আম্পায়ার আলিম দারের চোখ এড়ায়নি। ‘অফিসিয়াল ওয়ার্নিং’ দেওয়া হয়েছে লাকমল ও শ্রীলঙ্কাকে। এরপর শুধু লাকমল নয়, শ্রীলঙ্কার যে কেউই এটির পুনরাবৃত্তি করলে ৫ রান কাটা যাবে দলের রান থেকে।

জয়ের আশায় দিনের শুরু
 
শততম টেস্টে জয়। দেশের বাইরে বিরল জয়। সিরিজ ড্র। বাংলাদেশের হাতছানি দারুণ কিছুর। স্বপ্নের আবির মেখে শুরু হচ্ছে পি সারা ওভালে কলম্বো টেস্টের শেষ দিন।
 
২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের চাওয়া থাকবে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। আগের দিনের খেলা শেষে মোসাদ্দেক হোসেন বলেছেন, লক্ষ্যটা ১৬০ রানের মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি হলে আসলেই হয়ে উঠতে পারে কঠিন।
 
দিনের খেলা শুরুর আগে তামিম ইকবাল টেন ক্রিকেটকে জানালেন, এখনই জয়ের কথা ভাবছে না দল। আগে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। তার পর রান তাড়ার ভাবনা। রান তাড়ায় গুটিয়ে না গিয়ে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ।
 
শ্রীলঙ্কান চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকানের চাওয়া, ১৭৫ রানের মত লিড। তাহলেই থাকবে জয়ের সুযোগ।
 
শেষ দিনের উইকেটে রঙ্গনা হেরাথ, আরও দুই লঙ্কান স্পিনারকে সামলে দেড়শ রান করাও সহজ হওয়ার করা নয়। তবে টেস্ট জিততে হলে তো এইটুকু চ্যালেঞ্জ জিততে হবেই!
 
দেশের মাটিতে টানা ছয় টেস্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দেশের বাইরে সবশেষ ৬ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ দিনে শেষ হতে পারে দুটি ধারাই!

 



Go Top