দুপুর ১:৩১, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

তামিমের সেঞ্চুরি ইমরুলের হাফ সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত শুরুতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই দুইজনের বিদায়ের পর শঙ্কা ছিল রানের গতি নিয়ে। তবে মুশফিক, সাকিবদের ব্যাটে রানের গতি ঠিক রেখে ৪৪ ওভারেই ৩০০ পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০২ রান।

 

বার্মিংহামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য। তামিম একটু ধীর গতিতে খেললেও সৌম্য রানের চাকা সচল রাখছিলেন। তবে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ব্যক্তিগত ১৯ রান করে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

তবে সৌম্যের বিদায়ের পর চেনা রূপে ব্যাট করতে থাকেন এই ব্যাটসম্যান। জুনায়েদ খানের এক ওভারেই তুলেন ২৫ রান। পাকিস্তানের বাকি বোলারদেরও ছেড়ে কথা বলেননি তামিম। ৩৯ বলে ৭ চার ২ ছয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার।

তামিমের পর পাকিস্তান বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন ইমরুল। ৪৬ বলে ৭ চারে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানও। তবে এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে দুইজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।

ইমরুলের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যান তামিম। তুলে নেন নিজের সেঞ্চুরি। তবে এরপর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।

তামিমের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি মুশফিকও। ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। এরপর সাকিব ২৩ ও মাহমুদউল্লাহ ২৯ রান করে ফিরলেও বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মন ভরাতে পারলেন কেবল তামিম


মাঠের এক পাশের সীমানা ৩৫ গজের কম। বাতাসে রানের গন্ধ। স্কোরকার্ড বলবে বাংলাদেশ গড়েছে বিশাল স্কোর। তবে মাঠের বাস্তবতা আর দারুণ শুরুর বিবেচনায় এরপরও মনে হতে পারে রান খানিকটা কম!

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৪১ রান করেছে বাংলাদেশ।

এজবাস্টন ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম পাশের সীমানা ৩৫ গজের কম। এটা নিয়ে ম্যাচের আগের দিন থেকেই বিরক্ত বাংলাদেশের কোচ-অধিনায়কসহ গোটা দল।

টস জিতে অবশ্য হেসেছেন মাশরাফি। তবে ছোট সীমানা ও ব্যাটিং উইকেটে প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে পারলেন কেবল তামিম ইকবালই। সৌম্য-ইমরুল-মুশফিকরা আক্ষেপ করতে পারেন ইনিংস বড় করতে না পারায়।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুটি অর্ধশতক ও একটি ৪৭ রানের ইনিংস আছে তামিমের। সেঞ্চুরি না পাওয়ায় আক্ষেপ নিশ্চয়ই আছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি ম্যাচে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মূল টুর্নামেন্টেও ভালো কিছু করার।

এক পাশ বেশি ছোট বলে যে সুর ছিল হাওয়ায়, শুরুতে রানের স্রোত প্রবাহিত হয়নি সেই একই তালে। তামিম ও সৌম্য ছিলেন বেশ সতর্ক। প্রথম ৮ ওভারে রান ছিল ৩২।

সৌম্য ফিরে গেছেন এর মধ্যেই। জুনাইদের বাড়তি লাফানো বলে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে।

নবম ওভার থেকে হঠাৎ জোয়ার। ডাউন দা উইকেটে গিয়ে জুনাইদ খানকে লং অফ দিয়ে ওড়ালেন তামিম। এই মাঠে প্রথম ছক্কা হতে ৯ ওভার লেগে গেল, বিস্ময় ছিল সেটিই।

জুনাইদের ওই ওভার থেকে আরও তিন চারে রান আসে মোট ২৫। ইমরুলের সঙ্গে তামিমের জুটিও বরাবরের মতো জমে যায় দারুণ।

প্রথমটির মতো তামিমের পরের দুটি ছক্কাও ছিল লং অফ দিয়ে, ওয়াহাব রিয়াজ ও ইমাদ ওয়াসিমকে। পরের লেগ স্পিনার শাদাবকে ছক্কা মারেন স্লগ করে মিড উইকেট দিয়ে।

৩৯ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেছিলেন তামিম। শুরুতে খানিকটা সময় নিলেও পরে চালিয়ে খেলে ইমরুলের পঞ্চাশ ৪৭ বলে।

লেগ স্পিনার শাদাবকে সুইপ করতে গিয়ে ইমরুল এলবিডব্লিউ ৬১ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে ১৪২ রানের জুটি এসেছে ১২২ বলে।

রানের গতি একই ছিল পরের জুটিতেও। উইকেটে গিয়েই হাসান আলিকে ছক্কা মারেন মুশফিক। তামিম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৮৮ বলে।

তখন মাত্র ৩২ ওভার। হাতছানি ছিল আরও বড় কিছুর। কিন্তু তামিম থামলেন সেঞ্চুরি পেরিয়েই। শাদাবকে ছোট সীমানা দিয়ে স্লগ করতে গেলেন, ব্যাটের কানায় লেগে বল শর্ট থার্ডম্যানে। ৯৩ বলে ১০২ রানের ইনিংসে ৯টি চার, ৪টি ছক্কা।

পরের ওভারেই ইমাদ ওয়াসিমকে পরপর দু বলে মিড উইকেটের দুপাশ দিয়ে ছক্কা মেরেছেন মুশফিক। তবে রানের সেই গতি পরে আর থাকেনি, বড় ইনিংসও আসেনি কারও কাছ থেকে।

৩৭ বলে ৪৬ রান করে মুশফিক আউট হয়েছেন উড়িয়ে মারতে গিয়ে। কাভার থেকে ডিপ পয়েন্টে ছুটে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন শোয়েব মালিক।

মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন কিছু শট। ছোট সীমানা সেভাবে কাজে লাগাতে পারেননি সাকিব আল হাসান। দুজনই আউট হয়েছেন হাসান আলির এক ওভারে।

শেষ দিকে মিরাজ-মাশরাফি পারেননি ঝড় তুলতে। রান যা একটু করেছেন মোসাদ্দেক, তবু শেষ করে আসতে পারেননি কাজ, ১৫ বলে ২৬।

বাংলাদেশ রান অনেক করলেও একটা জায়গায় কৃতিত্ব দাবি করতে পারে পাকিস্তানের বোলাররা। ছোট সীমানা কাজে লাগানোর মত বল কমই দিয়েছে তারা। ওই পাশ দিয়ে ছক্কা হয়েছে তাই মাত্র চারটি।

নির্দিষ্ট ১১ জনের বাধ্যবাধকতা নেই, চাইলে সাব্বিরকে ব্যাটিংয়ে নামানো যেত। বাংলাদেশ হয়ত সম্ভাব্য সেরা একাদশ ধরে ব্যাটিং প্রস্তুতি সারতে চেয়েছে। সাব্বিরকে বিরতির সময় দেখা গেল বোলিং অনুশীলনে।

তবে বোলিংয়ের মূল চ্যালেঞ্জটা সাব্বিরের সতীর্থদের। এই মাঠে জিততে হলে বোলারদের করতে হবে ভালো কিছু।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩৪১/৯ (তামিম ১০২, সৌম্য ১৯, ইমরুল ৬১, মুশফিক ৪৬, সাকিব ২৩, মাহমুদউল্লাহ ২৯, মোসাদ্দেক ২৬, মিরাজ ১৩*, মাশরাফি ১, সানজামুল ০*; জুনাইদ , হাসান ২/৫৮ আশরাফ ০/৩৫, ওয়াহাব ০/৬৮, হাফিজ ০/১১, শাদাব ২/৫৫, ইমাদ ০/৩৮)

 

পাকিস্তান এখনও অনেক বড় দল : মাশরাফি

পাকিস্তানকে র‌্যাংকিংয়ে নিচে ফেলে দেয়া হয়েছে আরও দুই বছর আগে। পাকিস্তানের আগেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মাঠে নামার আগে সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচ মাশরাফিদের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রস্তুতিটা কেমন হলো, এই ম্যাচ যেন তার মডেল টেস্ট। বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩.৩০ এ মুখোমুখি হবে দুই দল।

 

প্রস্তুতি ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে নিয়েও সতর্ক বাংলাদেশ। তাদেরকে সমীহই করছে বাংলাদেশ। বরং, মাশরাফি বিন মর্তুজা জানিয়ে দিলেন র্যাংকিংয়ে নিচে থাকলেও তারা এখনও অনেক বড় দল। বড় দল বলে পাকিস্তানের ওপরও চাপ থাকবে বলে জানালেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘যদি কিছু করতে চান, সেটা করার এটাই সময়। আমরা যদি কিছু করতে চাই, তা করার এটাই সময়। দরকার হলো সামনে এগিয়ে কাজে নামার। যখনই আমরা তাদের সঙ্গে খেলি না কেন, পাকিস্তানই বড় দল। আর এ ধরনের টুর্নামেন্টে সবার ওপরেই চাপ থাকে।’

তাই বলে নিজেদের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন মাশরাফি? তিনি জানিয়ে দিলেন, নিজেদের দিনে যে কাউকে হারাতে পারে বাংলাদেশ,‘এই দলটা খুব শক্তিশালী। নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। তাই খুব ভালো সুযোগ আছে বড় কিছু করার।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং-বোলিংয়ে অনেক উন্নতি করলেও ফিল্ডিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে। মাশরাফির বিশ্বাস, এই বিভাগেও সমানভাবে উন্নতি করার সুযোগ আছে এবং এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই সে উন্নতিটা তারা দেখাতে চান। একই সঙ্গে মাশরাফি এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল নির্দিষ্ট একজন বোলারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে কি না দল, এটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মাত্র মোস্তাফিজের ওপর নির্ভরশীল নই। আরও অনেক ভালোমানের বোলার আমাদের হাতে রয়েছে। গত দুই বছর মোস্তাফিজ দারুণ পারফরম্যান্স করে আসছে। এরপর ইনজুরির কারণে কাঁধে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। সেখান থেকেও খুব ভালোভাবে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে সে এবং আমাদের জয়ে দারুণ ভুমিকা রাখছে।’

ইংল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি ভুলে যেতে চান মাশরাফি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের। এই দলটির বিপক্ষে অনেক সাফল্য রয়েছে বাংলাদেশের। টানা দুই বিশ্বকাপে এই দলটিকে হারিয়েছে টাইগাররা। গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হয়তো সিরিজ হারাতে পারেনি, তবে তাদের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি আছে। শুধু তাই নয়, ইংল্যান্ডকে টেস্টেও হারিয়ে দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

 

 

এবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মাশরাফি কী ভাবছেন? তার কাছে এভাবেই জানতে চাওয়া হয়েছিল আইসিসির আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে, ২ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েই বাংলাদেশ খেলেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। এবারও কী তেমন কিছু প্রত্যাশা করছেন মাশরাফি? এবার কী এ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে বাংলাদেশ?

মাশরাফি সুখস্মৃতি মনে করে আত্মভোলা হতে চাইলে না। বাস্তবতাকেই আঁকড়ে ধরতে চান। প্রতিটি দিনকেই মনে করছেন ‘নতুন’। জয়ের স্মৃতি হয়তো কিছুটা অনুপ্রেরণা যোগায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য। তবে সেটাই সব কিছু নয়। জিততে হলে দিনটাকে নিজের করেই নিতে হবে। না হয়, কোনোভাবেই সাফল্যের দেখা পাওয়া যাবে না।

এ কারণেই মাশরাফি বললেন, ‘সর্বশেষ আইসিসি প্রতিযোগিতা হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। জয় অবশ্যই আপনাকে সযোগিতা করবে। তবে আমার কাছে তেমনটি নয়। কারণ, আমার কাছে এটা সম্পূর্ণই নতুন একটা দিন, নতুন একটা ম্যাচ।’

নতুন দিনে, নতুন ম্যাচে ভালো কিছু করতে হলে কী করতে হবে তার একটা সাধারণ ফর্মুলা বলেও দিলেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ভালো কিছু করতে চান, তাহলে দিনটাকে আপনার নিজের করে নিতে হবে। দিনটা আপনার হলেই কেবল, যা চাইবেন তা হতে পারে। সুতরাং, এগিয়ে যাও এবং কাজটা সঠিকভাবে করো।’

আর দিনটা যদি সত্যি সত্যি নিজের না হয়? তাহলে কী করতে হবে? ম্যাচ ছেড়ে দেবে? সেটাও নয়। মাশরাফি এর জন্যও উপায় বাতলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে দিনটা আপনার জন্য খারাপ দিন হয়ে যায়, তখন আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি বিভাগে মনযোগ দিতে হবে। একটা ভালো না হলেও আরেকটাকে ভালো করে নিতে হবে। যেমন ধরুন, শেষ ম্যাচটার কথা (নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। আমরা ওই ম্যাচে অন্তত চারটা ক্যাচ ফেলে দিয়েছি (পরে ম্যাচটা জিতেছি)। বড় স্টেজে এমন কাজ করা যাবে না মোটেও। আমরা আশা করবো, বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের মত আমাদের ফিল্ডিংটাও ভালো হবে।’

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ছয়ে টাইগাররা

৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বুধবার জয় দিয়ে শেষটা রাঙানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে উঠেছে টাইগাররা।

 

নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে বাংলাদেশ ছিল সপ্তম স্থানে। কিউইদের ৫ উইকেটে হারানোয় মাশরাফির দলের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৯৩। শ্রীলঙ্কার পয়েন্টও সমান, তবে ভগ্নাংশে এগিয়ে থেকে ছয়ে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে।

ষষ্ঠ স্থানে উঠে যাওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে গেল টাইগাররা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি  বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।

অবশ্য অত দিন অপেক্ষা না-ও করতে হতে পারে। আগামী ১ জুন শুরু হতে হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুটো ম্যাচ জিতলে ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

আইসিসির সর্বশেষ ওয়ানডে র‌্যাংকিং

অবস্থান

দল

পয়েন্ট

১.

দক্ষিণ আফ্রিকা

১২৩

২.

অস্ট্রেলিয়া

১১৮

৩.

ভারত

১১৭

৪.

নিউজিল্যান্ড

১১৬

৫.

ইংল্যান্ড

১১০

৬.

বাংলাদেশ

৯৩

৭.

শ্রীলঙ্কা

৯৩

৮.

পাকিস্তান

৮৮

৯.

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৭৯

১০.

আফগানিস্তান

৫২

মাশরাফিদের ঐতিহাসিক জয়ে খালেদার অভিনন্দন

বিদেশের মাটিতে শক্ত প্রতিপক্ষ নিউজল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে মাশরাফি বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার রাতে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ অভিনন্দন জানান তিনি। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাইগারদের অভিনন্দন জানিয়েও টুইট করেছেন বেগম জিয়া। টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‌‌‌‌‌“বিদেশে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো এমন মনমাতানো বিজয়ের জন্য টাইগারদের অভিনন্দন। বিজয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকুক।”

এছাড়া গণমাধ্যমে প্রেরিত অভিনন্দন বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বর্তমানে ক্রিকেট খেলায় যেভাবে পারদর্শিতা দেখিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছে তাতে আমি গর্বিত। আমি টাইগারদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। খেলায় টাইগাররা যে চমক দেখিয়েছে তা সন্দেহাতীতভাবে ক্রিকেটপ্রেমীদের আশান্বিত করেছে। আমি খুবই আশাবাদী-নিয়মিত অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখলে টাইগাররা ভবিষ্যতেও এ ধরনের গৌরব ধরে রাখতে সক্ষম হবে। ক্রিকেট বিশ্বে নিউজিল্যান্ডের মতো একটা স্বনামধন্য দলকে হারানোর কৃতিত্ব প্রমাণ করে- একাগ্রতা ও মনোবল বজায় রাখলে যেকেউ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়।”

বেগম জিয়া বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যে আমি দলের সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ‘ঐতিহাসিক’ জয়

‘মিনি বিশ্বকাপ’ খ্যাত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সামনে। নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য ত্রিদেশীয় সিরিজকে ‘মোক্ষম’ মঞ্চ হিসেবে দেখছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রস্তুতিটা দারুণ হলো মাশরাফি মুর্তজাদের। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ। ২৭১ রানের লক্ষ্যে তারা পৌঁছায় ১০ বল হাতে রেখে।

৮ জাতির পরের টুর্নামেন্টে নামার আগে নিশ্চিতভাবে এ জয় বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার। কারণ দেশের বাইরে এবারই প্রথম কিউইদের হারাল তারা। দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে বড় বড় লজ্জা দিলেও বিদেশে টাইগারদের পরিণতি ছিল উল্টো। এর আগে ২৯ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের ৮টি জয়ের সবগুলো ছিল দেশের মাটিতে। ৩০তম ম্যাচে এসে কিউইদের বিপক্ষে দেশের বাইরে জিতেছে বাংলাদেশ, তাও আবার ব্যাটে বলে সমান নৈপুণ্য দেখিয়ে।

অথচ বাংলাদেশের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় স্কোরের আভাস দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় বলে টম ল্যাথাম জীবন পেয়ে করেছেন হাফসেঞ্চুরি। তার ওই ক্যাচ ছেড়ে দেওয়া নাসির হোসেনই নেন উইকেটটি। দুইবার জীবন পেয়ে ইনিংস সেরা ৮৪ রান করে ল্যাথাম বোল্ড হন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা নাসির অবশ্য আগের ওভারেই ব্রেকথ্রু আনেন। আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান নাইল ব্রুমকে (৬৩) তিনি মাঠছাড়া করেন মাশরাফির ক্যাচ বানিয়ে।

নাসিরের এ ২ উইকেট ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলা যেতে পারে। যদিও রস টেলর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন। নিউজিল্যান্ডকে ২৭০ রানে বেধে দিতে পরে অবদান রাখেন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি। কোরি অ্যান্ডারসনকে (২৪) মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান সাকিব। এর পর মাত্র ২ রানের ব্যবধানে টানা ৩ ওভারে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মাশরাফি তার দুই ওভারে ২ উইকেট নেন জিমি নিশাম ও কলিন মুনরোকে ফিরিয়ে। মাঝে সাকিব বোল্ড করেন মিচেল স্যান্টনারকে।

দুই ওভার বাকি থাকতে রুবেল হোসেনের বলে নিউজিল্যান্ডের অষ্টম উইকেটের পতন হয়। ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করেন তিনি। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহর হাতে জীবন পাওয়া টেলর অপরাজিত ছিলেন ৬০ রানে।

নাসিরের সমান ২টি করে উইকেট নেন মাশরাফি ও সাকিব।

৮ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে ২৭০ রানে আটকে দেওয়ার পর শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। যদিও প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেন তামিম। কিন্তু তৃতীয় বলে সৌম্যকে আউট করেন জিতান প্যাটেল। নিজের প্রথম বলে কোরি অ্যান্ডারসনকে ক্যাচ দেন তিনি।

এর পর তামিমকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন সাব্বির। দুজনে বেশ দেখেশুনে ব্যাটিং করছিলেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের দিন ৪৭ রানে আউট হওয়া তামিম ক্যারিয়ারের ৩৬তম হাফসেঞ্চুরি পান ৫৩ বল খেলে। সাব্বির তাকে অনুসরণ করে ৬৪ বলে পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি হাঁকান।

কিন্তু তাদের ১৩৬ রানের জুটি ভাঙে তামিম ৬৫ রানে স্যান্টনারের শিকার হলে। এক ওভার পেরোতেই রান আউট হন সাব্বির, তিনিও করেন ৬৫ রান। পরের বলে মোসাদ্দেককে (১০) এলবিডব্লিউ করে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান প্যাটেল।

মাত্র ১৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানোর পর মুশফিক ও সাকিবের ব্যাটে স্বস্তিতে ফেরে বাংলাদেশ। তাদের জুটি যদিও ভেঙে যায় মাত্র ৩৯ রানে। সাকিব ১৯ রানে আউট হন। আর পথ হারায়নি বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের ব্যাটে এগিয়ে গেছে তারা।

দুইজনের অর্ধশতাধিক রানের জুটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। মুশফিক ৪৫ ও মাহমুদউল্লাহ ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুশফিকের ইনিংস ৪৫ বলে সাজানো, ৩টি চার ও ১ ছয় তার। তবে তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৬ বলে ৬ চার ও ১ ছয় মেরেছেন তিনি। তাদের জুটিটি ছিল ৭২ রানের। ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা লক্ষ্যে পৌঁছায়।

সিরিজে এটি বাংলাদেশের টানা জয়। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হলে ২ পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় ৪ উইকেটে।  পরের দেখায় আয়ারল্যান্ডকে মাশরাফিরা হারায় ৮ উকেটে। কিন্তু পরের ম্যাচে আইরিশদের হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজের চ্যাম্পিয়ন হয় নিউজিল্যান্ড। তাদের হারিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১ জুন তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের।

নেইল ব্রুমকে ফেরালেন নাসির

শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে নেইল ব্রুমকে নিয়ে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন টম ল্যাথাম। দারুণ জমে উঠেছিল এই জুটি। ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নেইল ব্রুমকে ফেরালেন নাসির হোসেন। স্কোয়ার লেগে সুইপ করতে চেয়েছিলেন ব্রুম। কিন্তু বল সোজা চলে যায় মাশরাফির হাতে। বিদায়ের আগে ৭৬ বলে ৭টি চারে ৬৩ রান করেছেন কিউই এই ব্যাটসম্যান।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান।

শুরুতেই রনকিকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

বল হাতে দারুণ ছন্দেই আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচেও তার প্রমাণ রাখলেন। নিউজিল্যান্ড শিবিরে সবার আগে আঘাত হানেন কাটার মাস্টার। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে লুক রনকিকে পরাস্ত করেন তিনি।

চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজকে তুলে মারেন রনকি। এক্সট্রা কাভারে সাকিব আল হাসানের হাতে ধরা পড়েন কিউই এই উইকেটরক্ষক। বিদায়ের আগে ৫ বল খেলে রনকি করেছেন ২ রান।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান।

এদিকে ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাবে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ডকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে। একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৭ মাস পর একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাসির হোসেন। আইরিশদের বিপক্ষে খেলা সানজামুল ইসলাম বাদ পড়েছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই দলের প্রথম দেখায় জয় পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচে কিউইদের হারানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। কিন্তু বোলিংয়ে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া আর তেমন কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। যে কারণে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কিউইদের হারানোর সুযোগটা হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

ডাবলিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে জিমি নিশামের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে কিউইদের কাছে চার উইকেটে পরাস্ত হন মাশরাফি-সাকিবরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৭.৩ ওভারেই (১৫ বল হাতে রেখে) জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে টম ল্যাথামের দল।

রোববার আইরিশদের ১৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আর তাতে বাংলাদেশের আশা ফুরিয়ে যায়। ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয় টম লাথামের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে তাই সান্ত্বনা খুঁজতে হয় রানার্স-আপ হয়েই।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, রস টেলর, নেইল ব্রুম, কলিন মুনরো, কোরি অ্যান্ডারসন, ম্যাট হেনরি, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, হামিশ বেনেট ও জিতান প্যাটেল।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ডকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে। একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৭ মাস পর একাদশে জায়গা পেয়েছেন নাসির হোসেন। আইরিশদের বিপক্ষে খেলা সানজামুল ইসলাম বাদ পড়েছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই দলের প্রথম দেখায় জয় পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ওই ম্যাচে কিউইদের হারানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। কিন্তু বোলিংয়ে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া আর তেমন কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। যে কারণে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো কিউইদের হারানোর সুযোগটা হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

ডাবলিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে জিমি নিশামের অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সে কিউইদের কাছে চার উইকেটে পরাস্ত হন মাশরাফি-সাকিবরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৪৭.৩ ওভারেই (১৫ বল হাতে রেখে) জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে টম ল্যাথামের দল।

রোববার আইরিশদের ১৯০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। আর তাতে বাংলাদেশের আশা ফুরিয়ে যায়। ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয় টম লাথামের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে তাই সান্ত্বনা খুঁজতে হয় রানার্স-আপ হয়েই।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, রস টেলর, নেইল ব্রুম, কলিন মুনরো, কোরি অ্যান্ডারসন, ম্যাট হেনরি, জিমি নিশাম, মিচেল স্যান্টনার, হামিশ বেনেট ও জিতান প্যাটেল।

ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের প্রথম ৪ উইকেট!

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৪ উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। কি অবাক হয়ে গেলেন! ভাবছেন, যার ক্যারিয়ার শুরু ৫ উইকেট শিকার দিয়ে। দ্বিতীয় খেলায় যে বোলারের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৬ উইকেট, সেই বোলার দুই বছর পার করে ১৭ নম্বর ম্যাচে এসে কিনা প্রথম চার উইকেট পেলেন! মেলাতে গিয়ে ধাঁধায় পড়ে যাচ্ছেন। ঘুরিয়ে বললে গোলমেলে ঠেকছে তাই না। তা পড়ারই কথা।

তবে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে সেটাই ঠিক। গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কাটার মাষ্টারের বলে আউট হয়েছেন চার আইরিশ। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষী দিচ্ছে এটাই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৪ উইকেট শিকার মোস্তাফিজের। কালকের ম্যাচের আগে ১৬ খেলায় তিনবার পাঁচ বা তার বেশি ( দুবার ৫ উইকেট আর একবার ৬ উইকেট) উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন মোস্তাফিজ। তিনবার তার ঝুলিতে তিনটি করে উইকেট জমা পড়েছে। আর দুটি করে উইকেট পেয়েছেন ছয়বার। এক উইকেট মাত্র একবার।

ম্যাচে উইকেট না পাবার ঘটনা আছে দুটি ; প্রথমবার ২০১৫ সালের ১০ জুলাই শেরে বাংলায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ৬ ওভারে ০/১৫। আর পরেরবার ঐ বছরই ৭ নভেম্বর; সেটাও মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। ঐ ম্যাচেও ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন এ বাঁহাতি পেসার।

তাহলে কারিয়ারের ব্রেক আপ কি দাড়ালো ? মিলিয়ে নিন, ১৭ ম্যাচ। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট তিনবার ( দুবার ভারতের বিরুদ্ধে ৫/৫০ ও ৬/৪৩)। আর একবার জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৫/৩৪)। তিন উইকেট তিনবার (৩/৩৮+৩/৩৩+৩/৫৬)। দুই উইকেট ছয়বার। আর এক উইকেট একবার। দুই ম্যাচ উইকেট শূন্য। যোগ করে দাঁড়ালো ১৫ ম্যাচ। আর গত ১২ মে আয়ারল্যান্ডের সাথে ডাবলিনে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাওয়া ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগ পাননি।

তাই পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ১৭ খেলায় অংশ নিলেও বল করার সুযোগ মিলেছে ১৬ বার। যার ১৫ ম্যাচের ব্রেক আপ ওপরে দেয়া হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়েছে, ১৭ খেলায় ৪২ উইকেট শিকারি মোস্তাফিজ। গত ১৯ মে শুক্রবার প্রথম ৪ উইকেট শিকার করেছেন।

বাহরাইন ক্রিকেট উৎসবে আশরাফুল

জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ক্রিকেট উৎসব। দেশটিতে ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় না হলেও বাহরাইনে জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ক্রিকেট উৎসবে মেলা বসে অনেক ক্রিকেট রথি-মহারথির। সেই ভিড়ে গত বছরের ন্যায় এবারও ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।


আজ (১৯ মে) বাহরাইন ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ক্রিকেট উৎসব। যেখানে বাংলাদেশের আশরাফুলের সঙ্গে আমন্ত্রণ পেয়েছেন পাকিস্তানের মিসবাহ-উল হক, আবদুল রাজ্জাক, শহিদ আফিদি, সোহেল তানভির, ভারতের শ্রীশান্থ, শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসরাও।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বৃহস্পতিবার গাজী গ্রুপকে হারিয়েই রাতে কাতার এয়ারলাইন্সযোগে বাহরাইনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন আশরাফুল।

আজ নিজের ফেসবুক পেজে আশরাফুল পাকিস্তানের রাজ্জাক, মিসবাহ, সোহেল তানভিনদের সঙ্গে লাঞ্চ এবং মাঠের ছবি শেয়ার করেন। আজই বাহরাইনে ক্রিকেট উৎসবে একটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রদর্শনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

বাংলাদেশকে বড় জয় উপহার দিলেন সৌম্য-মোস্তাফিজ

সবুজ উইকেটে প্রথমে জ্বলে উঠলেন মোস্তাফিজ। দুর্দান্ত বোলিং করে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। আর তার বোলিংয়ে সঙ্গে মাশরাফি ও সানজামুলের পারফরমেন্সে আয়ারল্যান্ড পেল স্বল্প পুঁজি। আইরিশ বোলাদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন সৌম্য। তুলে নিলেন টানা দ্বিতীয় অর্ধশত। আর সাতক্ষীরার দুই টাইগারের উপর ভর করেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেল বাংলাদেশ।

হারলেই ছিটকে যেতে হবে শিরোপার রেস থেকে। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে প্রথম বল করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। আর তার সিদ্ধান্তকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দেখা মেলে সেই পুরনো মোস্তাফিজের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরান স্টার্লিংকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন পল স্টার্লিং।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়াতে থাকে আয়ারল্যান্ড। মোস্তাফিজ-রুবেলদের উপর চড়াও হয়ে রানের চাকা সচল করতে থাকে অধিনায়ক পোর্টারফিল্ড। তবে মাশরাফির বলে জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পরেননি আইরিশ অধিনায়ক। পরের ওভারেই মোসাদ্দেককে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে যান পোর্টারফিল্ড। পোর্টারফিল্ডের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না বালবিরনি। সাকিবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

চতুর্থ উইকেটে নায়াল ও’ব্রায়ানকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ইনজুরি থেকে ফেরা জয়েস। গড়ে তোলেন ৫৫ রানের জুটি। তবে এরপরই বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের বলে তামিম ইকবালের চমৎকার ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে জীবন পাওয়া নিয়াল ও’ব্রায়ান।

এদিকে চোট কাটিয়ে ফিরে বিপর্যয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জয়েস। নিজেও পৌঁছে গিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি। তবে ব্যক্তিগত ৪৬ রান করে অভিষিক্ত সানজামুলের বল লং অন দিয়ে উড়াতে মারতে গেলে তামিমের হাতে ধরা পড়েন। আর প্রথম উইকেটের দেখা পান সানজামুল। এরপর কেভিন ও’ব্রায়েনকে মোসাদ্দেক হোসেনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত করেন মোস্তাফিজ। শেষ বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসনকেও ফিরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে অষ্টম উইকেটে বেরি ম্যাককার্থিকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানের জুটি গড়ে দুইশ`র দিকে এগিয়ে যেতে থাকে জর্জ ডকরেল। এ সময় আবার জুটি ভাঙেন সানজামুল। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ব্যারি ম্যাকার্থিকে। এরপর একই ওভারে জর্জ ডকরেল ও পেটার চেসকে মুশফিকের তালুবন্দি করেন মাশরাফি। আর আইরিশদের ইনিংস শেষ হয় ১৮১ রানে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে শুরুটা ভালোই করেন তামিম। দুই জনের জুটি থেকে আসে ৯৫ রান। তামিমও এগিয়ে যাচ্ছিলেন হাফ সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু হঠাৎ মনঃসংযোগ হারিয়ে কেভিন ও’ব্রায়েনের গুড লেংথ বলে উইকেটরক্ষক নিয়াল ও’ব্রায়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। দুই জনে মিলে দ্রুত রান তুলে এগিয়ে যান জয়ের দিকে। তবে দ্রুত ম্যাচ করতে গিয়ে ফিরে যান সাব্বির। আগের দুই ম্যাচে শূন্য ও ১ রানে ফেরা সাব্বির এ ম্যাচের করেন ৩৫ রান। বাকিটুকু মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয় এনে দেয়া সৌম্য ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ! সেটা বাস্তবে রূপ নিল কই? শেষ দিকে যখন হাত খুলে খেলার কথা ছিল মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকদের, তখনই ছন্দ পতন। উইকেট পতনের মিছিলে যোগ দেন ব্যাটসম্যানরা। তাতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৫৭ রানে। জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৫৮ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

 

ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষে দারুণ সূচনা পেয়েছেন টাইগাররা। উদ্বোধনী জুটিতে এসেছে ৭২ রান। এই জুটি ভাঙেন জিমি নিশাম। তামিম ইকবালকে তিনি তালুবন্দী করান কলিন মুনরোর।

সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন তামিম। সাবধানেই পা ফেলেন তিনি। গড়ে তোলেন প্রতিরোধের প্রাচীর। কিন্তু নিশামের ধাক্কায় সেই প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। তামিম থেমেছেন ২৩ রানে। ৪২ বল মোকাবেলা করে তিনটি চারের সাহায্যে ইনিংসটি সাজান বাংলাদেশি এই ওপেনার।

ওয়ানডেতে তিনে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান রুম্মন। টপ-অর্ডার এই ব্যাটসম্যানের কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা টাইগারদের। কিন্তু আজও হতাশ করলেন সাব্বির। আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আর দ্বিতীয় ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে ৪ বল খেলে সাব্বির করতে পেরেছেন মাত্র ১ রান। মিচেল স্যান্টনারের বলে সরাসরি বোল্ড হন তিনি।

সৌম্য সরকার ফিফটি করলেন। এরপর ইনিংসটাকে বড় করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারলেন না। সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে আবারও ফিরতে হলো সাজঘরে। দারুণ ব্যাটিং করেছেন সৌম্য। ইশ সোধির কাছে পরাস্ত হয়েছেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। সোধির বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে শট মিড উইকেটে তিনি ধরা পড়লেন টম লাথামের হাতে। বিদায়ের আগে ৬৭ বলে ৫টি চারের সাহায্যে সৌম্য করেছেন ৬১ রান।

সৌম্যর বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন সাকিব আল হাসান। নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাট হাতে সাকিব দিলেন ব্যর্থতার পরিচয়। মাত্র ৬ রান করতে পেরেছেন তিনি। ইশ সোধির কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন সৌম্য; তার জায়গায় ব্যাট করতে নেমে সাকিবও শিকার হয়েছেন ওই সোধির।

যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ রানের চাকা সচল রেখেছেন মুশফিকুর রহীম। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনা জেগেছিল বাংলাদেশের বড় স্কোরের। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মুশফিক তুলে নিয়েছেন ফিফটি। কিন্তু সম্ভাবনা জাগিয়ে বিদায় নিলেন মুশফিক। আউট হয়েছেন দলীয় ১৮১ রানে। জিমি নিশামের বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে মুশফিক ধরা পড়েন লুক রনকির হাতে। ৬৬ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫৫ রান করেছেন বাংলাদেশি এই উইকেটরক্ষক। ওয়ানডেতে এটি মুশফিকের ২৪তম ফিফটি।

মুশফিকের পর ফিফটির দেখা পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৭তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বিদায় নিয়েছেন ব্যক্তিগত ৫১ রানের মাথায়। ৫৬ বলে ৬টি চারের সাহায্য মূল্যবান ইনিংসটি সাজান মাহমুদউল্লাহ। হামিশ বেনেতের বলে শট ফাইন লেগে শেঠ রাঁচির হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

শেষ ওভারে তিন উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ৫০তম ওভারের প্রথম বলে বেনেতের রাঁচির হাতে ক্যাচ তুলে দেন মোসাদ্দেক। ৪১ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন মোসাদ্দেক। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ৬ বলে ৬ রান। মাশরাফি রানআউটে কাটা পড়েন। ১ রান দলের স্কোরশিটে যোগ করেন টাইগার অধিনায়ক। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান খুলতে পারেননি রানের খাতা।

নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার হামিশ বেনেত। ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩১ রান দিয়ে ৩ উইকেট লাভ করেন তিনি। ইশ সোধি ও জিমি নিশাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। আর মিচেল স্যান্টনার নিয়েছেন একটি উইকেট।

বাংলাদেশ একাদশ : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম লাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, নেইল ব্রুম, জর্জ ওয়ার্কার, রস টেলর, কলিন মুনরো, জিমি নিশাম, শেঠ রাঁচি, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও হামিশ বেনেত।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। টস জিতে প্রথমে তিনি ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশকে পাঠিয়েছেন ব্যাটিংয়ে।

ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে গড়িয়েছে ম্যাচটি। এই ম্যাচে ফিরেছেন টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি। নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশের বাইরে ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। মাশরাফিকে জায়গা করে দিতে একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ একাদশ :  মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মুশফিকুর রহীম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

নিউজিল্যান্ড একাদশ : টম লাথাম (অধিনায়ক), লুক রনকি, নেইল ব্রুম, জর্জ ওয়ার্কার, রস টেলর, কলিন মুনরো, জিমি নিশাম, সেথ রেনস, মিচেল স্যান্টনার, ইস সোধি ও হামিশ বেনেত।

মিসবাহ-ইউনুসকে পাকিস্তানের বিদায়ী উপহার


বিফলে গেল রোস্টন চেইসের বীরোচিত লড়াই। ইয়াসির শাহর দারুণ বোলিংয়ে ডোমিনিকা টেস্টে নাটকীয় জয় পেয়েছে পাকিস্তান।

তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১০১ রানে হারিয়ে মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানকে দারুণ এক উপহার দিয়েছে সতীর্থরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়।

২-১ ব্যবধানে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মীমাংসা না হয়ে ড্রও হতে পারতো। মাত্র এক ওভার বাকি থাকতে ২০২ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আগের ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মোহাম্মদ আমির নিশ্চিত করেন পরের ওভারে স্ট্রাইকে থাকবেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

ইয়াসিরের সেই ওভারের চার নম্বর বলে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন গ্যাব্রিয়েল। পরের বলে সুযোগ এসেছিল সিঙ্গেল নেওয়ার, শেষ ওভারটি নিজে খেলে দিবেন ভেবেই হয়তো রান নেননি চেইস।

লেগ স্পিনারের শেষ বলটায় পাকিস্তানের সব ফিল্ডার ঘিরে ধরে গ্যাব্রিয়েলকে। চাপ কাটাতেই হয়তো সজোরো হাঁকাতে গিয়ে টেনে আনেন স্টাম্পে। বোল্ড স্বাগতিকদের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান।

হতভম্ব হয়ে গেলেন গ্যাব্রিয়েল, বিশ্বাস হচ্ছিল না চেইসের। সেই রানটা না নেওয়ার জন্যই হয়তো আক্ষেপ করছিলেন। ম্যাচ বাঁচানোর এত কাছে গিয়ে হারতে হল। গ্যালারিতে এতক্ষণ বেজে চলা ড্রামের শব্দ মিলিয়ে গেল, মাঠে তখন অসাধারণ জয় উদযাপনে ব্যস্ত পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।

সতীর্থদের কাঁধে চড়ে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়লেন ইউনুস-মিসবাহ।

জয়ের জন্য রোববার উইন্ডসর পার্কে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিন পাকিস্তানের দরকার ছিল ৯ উইকেট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৭ রান। সিরিজে ইয়াসিরের তৃতীয় পাঁচ উইকেটে সেই লক্ষ্যে পৌঁছায় পাকিস্তান।

দিনের শুরুটা দারুণ ছিল অতিথিদের। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে আউট করে শুরু করেছিলেন ইয়াসির। মোহাম্মদ আমির ও হাসান আলিও তার সঙ্গে যোগ দিলে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ভিশাল সিং ও শেন ডাওরিচকে আউট করে স্বাগতিকদের ওপর চাপ বাড়ান ইয়াসির। ৯৩ রানে ৬ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াই শুরু করে সিরিজে তাদের সেরা দুই ব্যাটসম্যান চেইস ও জেসন হোল্ডারের ব্যাটে।

একশ রানের আগেই ছয় উইকেট হারানো স্বাগতিকরা জয়ের চেষ্টাইতেই যায়নি। চেইস-হোল্ডার মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকার দিকে মনোযোগী ছিলেন। হোল্ডারকে এলডব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্রতিরোধ ভাঙেন অভিষিক্ত হাসান।

চেইসের লড়াই তখনও শেষ হয়নি। টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকেও পেয়েছেন দারুণ সহায়তা। ৩ রান করতে দেবেন্দ্র বিশু খেলেছেন ৪৫ বল, আলজারি জোসেফ ৩২ বল টিকেছেন, গ্যাব্রিয়েল ২২ বল।

ভাগ্যটাও পাশে পেয়েছিলেন চেইস। একবার হাসানকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বাঁচেন। আরেকবার মোহাম্মদ আব্বাসের ‘নো’ বলের কল্যাণে বেঁচে যান ক্যাচ দিয়েও।

বুক চিতিয়ে লড়াই করা অলরাউন্ডারকে দিন শেষে ফিরতে হয় হারের যন্ত্রণা নিয়ে। ২৩৯ বলে অপরাজিত ১০১ রান করতে ১২টি চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন একটি ছক্কা।

৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার ইয়াসির। তরুণ পেসার হাসান ৩ উইকেট নেন ৩৩ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৭৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪৭

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৭৪/৮ ইনিংস ঘোষণা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৯৬ ওভারে ২০২ (ব্র্যাথওয়েট ৬, পাওয়েল ৪. হেটমায়ার ২৫, হোপ ১৭, চেইস ১০১*, ভিশাল ২, ডাওরিচ ২, হোল্ডার ২২, বিশু ৩, জোসেফ ৫, গ্যাব্রিয়েল ৪; আমির ১/২২, আব্বাস ১/৩১, ইয়াসির ৫/৯২, হাসান ৩/৩৩, আজহার ০/৩, শফিক ০/১৫)

ফল: পাকিস্তান ১০১ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী পাকিস্তান

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোস্টন চেইস

ম্যান অব দ্য সিরিজ: ইয়াসির শাহ

 

১৪ উইকেট পতনের দিনে এগিয়ে পাকিস্তান

তিন ইনিংস আর ১৪ উইকেট পতনের দিনে ডোমিনিকা টেস্টে জয়ের আশা জাগিয়েছে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস খানকে বিদায় জানানোর পথে এগিয়ে গেছে অতিথিরা।

তৃতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭ রান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৩ রানে ব্যাট করছেন।

সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে কাইরন পাওয়েলকে ফিরিয়ে দেন লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। এরপরই শনিবারের খেলা শেষ হয়ে যায়।

১-১ সমতায় থাকা সিরিজ জিততে শেষ দিনে ৯ উইকেট চাই পাকিস্তানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের করতে হবে ২৯৭ রান। শেষ দিনের উইকেটে তত রান করা সহজ নয় তবে ৯ উইকেটে দিন কাটিয়ে দেওয়া খুব কঠিনও নয়।

উইকেটে কোনো জুজু নেই, টিকে থাকতে চাইলে যে সম্ভব সেটা দেখিয়েছেন ইয়াসির ও মোহাম্মদ আমির। তাদের ব্যাটেই তিনশ ছাড়ানো লক্ষ্য দিতে পেরেছে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড নেওয়া পাকিস্তান।

শতরানের লিডের খুশি মিলিয়ে যায় দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই। প্রথম ইনিংসে শতক করা আজহার আলি ফিরেন ৩ রানে, দুই ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো শূন্য রানে বিদায় নেন বাবর আজম।

শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ হয় শান মাসুদের প্রতিরোধ। আরও একবার জুটি গড়েন ইউনুস-মিসবাহ। টেস্টে তাদের ১৫টি শত রানের জুটি আছে, অনেকবার দলকে টেনে তুলেছেন বিপদ থেকে। শেষবারের মতো জুটি বেধে তেমন কিছু করতে পারেননি দুই জনে, থামেন দুই অঙ্কে যাওয়া আগেই।

দেবেন্দ্র বিশুকে উড়ানোর চেষ্টায় শেষ হয় মিসবাহর শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংস। ১৪ বলে ২ রান করা পাকিস্তান অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার সময় বুক মিলিয়ে যান ইউনুসের সঙ্গে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব খেলোয়াড় এসে একে একে তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে যান।

মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থরা গার্ড অব অনার দেন অধিনায়ককে। গ্যালারিতে পরিবারের সদস্যের মুখে তখন গর্বের হাসি।

খানিক পরে সেই বিশুর বলেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইউনুস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিজের শেষ ইনিংসে থামলেন ৩৫ রানে। মিসবাহর মতো প্রতিপক্ষের দলের খেলোয়াড়রা এসে হাত মিলিয়ে গেলেন, সতীর্থরাও দিলেন গার্ড অব অনার।

জয় দিয়ে মিসবাহ-ইউনুসকে বিদায় দিতে মুখিয়ে থাকা পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয় স্বাগতিকরা। ৯০ রানের মধ্যে তুলে নেয় ৭ উইকেট। লিড তখন মাত্র ২১৯ রানের।

প্রথম ৭ উইকেটে দশের বেশি রান আসে কেবল একটি জুটিতে। তৃতীয় উইকেটে ইউনুস-মাসুদের ৪৯।

নিজের শেষ ইনিংস খেলে ফেরার সময় ইউনুস খানকে সতীর্থদের গার্ড অব অনার। ছবি: ডব্লিউআইসিবি। নিজের শেষ ইনিংস খেলে ফেরার সময় ইউনুস খানকে সতীর্থদের গার্ড অব অনার। ছবি: ডব্লিউআইসিবি। লড়াইয়ের পুঁজি গড়ার কাজটা করেন পাকিস্তানের বোলাররাই। দলের বিপদে দারুণ দুটি ইনিংস খেলেছেন আমির ও ইয়াসির। দুই জনে গড়েছেন ৬১ রানের চমৎকার এক জুটি।
একবার আউট হয়েও বিশুর ‘নো’ বলের জন্য বেঁচে যাওয়া আমির ৩টি চারে ফিরেন ২৭ রান করে। ইয়াসিরের সঙ্গে অভিষিক্ত হাসান আলির ছোট্ট এক জুটিতে তিনশ ছাড়ায় পাকিস্তানের লিড।

৫৫ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। হাসান ৬ বলে একটি করে ছক্কা-চারে অপরাজিত ১৫ রানে।

৮ উইকেটে ১৭৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের জন্য ৩০৪ রানের লক্ষ্য দেয় পাকিস্তান।

৫৩ রানে ৩ উইকেট নেন তরুণ পেসার আলজারি জোসেফ। দুটি করে উইকেট শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও বিশুর।

এর আগে উইন্ডসর পার্কে ৫ উইকেটে ২১৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় ২৪৭ রানে। মোহাম্মদ আব্বাসের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে স্বাগতিকরা দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত টিকেনি।

প্রথম ওভারে শেন ডাওরিচকে আউট করে শুরুটা করেন আমির। আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া রোস্টন চেইস ব্যাটিংয়ে ফিরে নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। আব্বাসের বলে তিনি বোল্ড হওয়ার পরের বলে ইউনুস খানকে ক্যাচ দেন বিশু।

পরের দুই ওভারে জোসেফ ও গ্যাব্রিয়েলকে বিদায় করে আড়াইশ রানের আগে স্বাগতিকদের থামিয়ে দেন আব্বাস। ৪৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৭৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১১৫ ওভারে ২৪৭ (ব্র্যাথওয়েট ২৯, পাওয়েল ৩১, হেটমায়ার ১৭, হোপ ২৯, চেইস ৬৯, ভিশাল ৮, ডাওরিচ ২০, হোল্ডার ৩০*, বিশু ০, জোসেফ ০, গ্যাব্রিয়েল ০; আমির ১/৩২, আব্বাস ৫/৪৬, ইয়াসির ৩/১২৬, হাসান ০/২২, আজহার ১/১৫)

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৫৭ ওভারে ১৭৪/৮ ইনিংস ঘোষণা (আজহার ৩, মাসুদ ২১, বাবর ০, ইউনুস ৩৫, মিসবাহ ২, শফিক ১৩, সরফরাজ ৪, আমির ২৭, ইয়াসির ৩৮*, হাসান ১৫*; গ্যাব্রিয়েল ২/২৪, জোসেফ ৩/৫৩, চেইস ১/৩১, হোল্ডার ০/৭, বিশু ২/৫৪)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৬.৩ ওভারে ৭/১ (ব্র্যাথওয়েট ৩*, পাওয়েল ৪; আমির ০/২, আব্বাস ০/৩, ইয়াসির ১/২)

ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো মুশফিক-সৌম্যদের

 

প্রস্তুতি ম্যাচ। ব্যাটে-বলে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়াটাই যেখানে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ব্যাটিং অনুশীলনটা বেশ দারুণ হলো বাংলাদেশের। ডিউক অব নরফোক একাদশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৪৫ রান করেছে সফরকারী দল।

দারুণ এক সেঞ্চুরি করে ব্যাটিং অনুশীলন সেরেছেন মুশফিকুর রহিম। চারে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন মাশরাফির অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিক। ৯৮ বলে ১৪ চার ও এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

সৌম্য সরকার করেছেন ফিফটি। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪৪ রানে (৪০ বল, ৭ চার) ফেরেন ইমরুল। ৬৪ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় সৌম্য করেছেন ৭৩।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৪ বলে ৩১, নাসির হোসেন ৩০ বলে ২৬ রান করে ব্যাটিং অনুশীলন সারেন।  ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে স্বাগতিক দলের সেরা বোলার জেমস কির্টলি।

বাংলাদেশের বোলাররা বোলিং অনুশীলনটা অবশ্য ঠিকমতো করতে পারেননি। ডিউক অব নরফোক ১৮ ওভারে বিনা উইকেটে ১০১ রান তোলার পরই বৃষ্টি নামে। যে বৃষ্টিতে পরে আর খেলা হয়নি, ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

পশ্চিম সাসেক্সের আরুনডেল ক্যাসল ক্রিকেট ক্লাব মাঠে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল ৪টায়। সাসেক্সের প্রথা অনুযায়ী সফরকারী দলগুলো সেখানে গেলে ডিউক অব নরফোকের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। আগামী ৫ মে হোভে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সাসেক্স একাদশ।

 

সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের

 

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। নতুন র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ আগের অবস্থানে থাকলেও এক রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে। রেটিং পয়েন্ট হারালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের।

২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হলে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের আটে থাকা প্রায় নিশ্চিত। বরং বর্তমানে সাতে থাকা বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে পারে ছয়ে ওঠার!

বাংলাদেশ চলতি মাসেই আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচ জিতলেই শ্রীলঙ্কাকে টপকে ছয়ে উঠে যাবে বাংলাদেশ। এরপর ১ জুন ইংল্যান্ডে শুরু চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো করলে র‌্যাঙ্কিংয়ে আরো উন্নতি হবে।

অন্যদিকে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরেই আছে পাকিস্তান। নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান যথাক্রমে ৩ ও ১২। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পয়েন্ট ব্যবধান বেশি থাকায় বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি পাকিস্তানেরও এই মুহূর্তে ওয়ানডে সিরিজ নেই।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের বিশ্বাস, বাংলাদেশ সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। সোমবার মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে তিনি বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবস্থান করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ১২ পয়েন্টের ব্যবধান আছে। এজন্য সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতে আমরা আশাবাদী।’

পাকিস্তান সিরিজ নিয়ে নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পাকিস্তানকে ২-১ দিনের মধ্যে আমাদের প্রস্তাবিত সূচি পাঠাব। যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থাকবে। তাদের ফিডব্যাকের জন্য আমরা অপেক্ষা করব।’

বার্ষিক হালনাগাদের পর ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং

র‍্যাঙ্ক

দল

পয়েন্ট

দক্ষিণ আফ্রিকা

১২৩ (+৪)

অস্ট্রেলিয়া

১১৮ (-)

ভারত

১১৭ (+৫)

নিউজিল্যান্ড

১১৫ (+২)

ইংল্যান্ড

১০৯ (+১)

শ্রীলঙ্কা

৯৩ (-৫)

বাংলাদেশ

৯১ (-১)

পাকিস্তান

৮৮ (-২)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৭৯ (-৪)

১০

আফগানিস্তান

৫২ (-)

১১

জিম্বাবুয়ে

৪৬ (-২)

১২

আয়ারল্যান্ড

৪৩ (+১)

র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার আরো কাছে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের পর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান কমে হয়েছে ২ রেটিং পয়েন্ট।

বার্ষিক হালনাগাদের পর সোমবার নতুন র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে র‌্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে এক রেটিং পয়েন্ট কমেছে মাশরাফির দলের। র‌্যাঙ্কিংয়ে সাতে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ৯১। ছয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৩। ৫ রেটিং পয়েন্ট কমে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি তারা।

রেটিং পয়েন্ট কমেছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে পাকিস্তানের পয়েন্ট ৮৮। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। বার্ষিক হালনাগাদের আগে তাদের পয়েন্ট ছিল ৮৩। দুই রেটিং পয়েন্ট কমে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট ৪৬। আয়ার‌ল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও আফগানিস্তানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের চার রেটিং পয়েন্ট বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১১২ থেকে ১১৭ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের দুই ও ইংল্যান্ডের এক রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে। পাঁচ রেটিং পয়েন্ট বাড়ায় ভারত নিউজিল্যান্ডকে টপকে তিনে উঠেছে। নিউজিল্যান্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে চারে নেমে গেছে।

 

রেটিং পয়েন্ট হালনাগাদ হওয়ায় সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে পাকিস্তান। র‌্যাঙ্কিংয়ে নয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান বেড়েছে। চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বরের র‌্যাকিংয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে যাওয়া দলগুলোর তালিকা। বর্তমান র‌্যাকিং অনুযায়ী আটে থাকা পাকিস্তান ও সাতে থাকা বাংলাদেশ সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

মানসিক যুদ্ধ জয়ে মাশরাফির দুই মন্ত্র

লম্বা সফর। বিরুদ্ধ কন্ডিশন। শক্ত প্রতিপক্ষ। ক্রিকেটীয় স্কিলের পরীক্ষা, শারীরিক সামর্থ্যেরও। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা মানসিক। তার কাছে যেটি যুদ্ধের মত। সেই যুদ্ধ জয়ের মন্ত্রও জানা আছে অধিনায়কের। থাকতে হবে পরিবারের মতো। জিততে হবে ম্যাচ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য সবার আগে ইংল্যান্ডে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বুধবার রাতেই দেশ ছাড়বে দল। সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প দিন দশেকের। সেখান থেকে ৭ মে দল যাবে আয়ারল্যান্ডে। খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজে। এরপর জুনের ‍শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সফর।

মঙ্গলবার সফরপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বললেন প্রত্যাশা, সম্ভাবনা নিয়ে। জোর দিলেন মানসিক প্রস্তুতিতে। “আমরা কিভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিব, সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। পুরো দলেরই যেটা থাকা উচিত, সেটা হলো মানসিকভাবে দ্রুত প্রস্তুত হওয়া। যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হতে পারি, তাহলে ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পও তেমন একটা কাজে দিবে না।”

“আমার কাছে মনে হয় না, ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব। তবে যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারি, তাহলে অনেক দূর এগোতে পারব। এখানে মানসিক যুদ্ধটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় দলের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে খেলা; কিছুটা শীত থাকবে, গ্রীষ্মের শুরু যেহেতু। কাজটা সহজ হবে না। ওরা যতটা সহজে পারবে, আমাদের তার চেয়ে দুই গুণ বেশি কষ্ট হবে। সুতরাং আমরা যদি সুস্থ থাকি এবং লড়াইয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে আশা করি, ভালো খেলা হবে।”

মানসিক প্রস্তুতি যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শঙ্কার কারণ আছে যথেষ্টই। বিশেষ করে এরকম লম্বা সফরে। লম্বা সফরের শেষ দিকে মানসিক ক্লান্তি ও শ্রান্তি পেয়ে বসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। মাঠে চেয়ে বেশি টানে দেশ, বাড়ি। এবার কাজটা আরও কঠিন। কারণ মূল লক্ষ্য যেটি, সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই থাকবে শেষ দিকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এক মাসের বেশি হয়ে যাবে বাংলাদেশের সফর!

শঙ্কা যে আছে, সেটি স্বীকার করে নিচ্ছেন মাশরাফিও। তবে সেটিকে জয় করার পথটাও তার জানা। অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপের সাফল্যকে।

“একটা ভয় থাকে, সফরের শেষের দিকে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। আগের ইতিহাস বলে, শেষের দিকে এমন হয়েছে, একটা সেশন খুব ভালো খেলে পরের সেশনটা খুব খারাপ হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে আমরা পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলতে পেরেছিলাম। জয়ের ভেতরে ছিলাম, পয়েন্ট টেবিলে এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে কোয়ার্টারে ওঠার উত্তেজনা ছিল। ক্লান্তি তাই সেভাবে আসেনি। আমার মনে হয়, শুরুর জয়গুলো এই ক্লান্তির ব্যাপারটা দূর করতে পারে। এবার যেটা আয়ারল্যান্ডে করতে পারি। জয়ের ভেতরে থাকলে ভেতরের অনুভূতি খুব ভালো থাকে।”

“আরেকটা ব্যাপার, দলে এক সঙ্গে ১৭-১৮ জন থাকবে, তাদের এক সঙ্গে থাকাটা  গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় সবার সময় মসৃণ যাবে না। তবু সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। বিশেষ করে যাদের খারাপ সময় যাবে, তাদেরকে দলের অংশ করে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের মতো থাকতে হবে। এই দুই ব্যাপার হয়ত আমরা করতে পারি।”

মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল মন্ত্রই ছিল দলীয় ঐক্য। এবার মাশরাফির নেতৃত্বের আরও একটি পরীক্ষা। অধিনায়ক মাশরাফি জিতলে, জিতে যাবে বাংলাদেশও!

 

মিসবাহর ১ রানের আক্ষেপ

পাকিস্তানকে শতরানের লিড এনে দেওয়া মিসবাহ-উল-হক মাঠ ছেড়েছেন মাত্র ১ রানের জন্য শতক না পাওয়ার হতাশা নিয়ে। জ্যামাইকা টেস্টের চতুর্থ দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়েছেন ইয়াসির শাহ।

স্যাবিনা পার্কে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। নাইটওয়াচম্যান দেবেন্দ্র বিশু ও অভিষিক্ত ভিশাল সিং এখনও রানের খাতা খোলেননি। স্বাগতিকরা এখনও পিছিয়ে ২৮ রানে।

৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে খেলতে নেমে পাকিস্তান সোমবার সকালেই হারায় আসাদ শফিককে। অধিনায়কের সঙ্গে ৮৮ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে লিড এনে দেন সরফরাজ আহমেদ। একবার স্টাম্পিংয়ের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ফিরেন ৫৪ রান করে।

সেখান থেকে টেলএন্ডারদের নিয়ে খেলে দলকে ১২১ রানের লিড এনে দেন নিজের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নামা মিসবাহ। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটিতে লিড যায় তিন অঙ্কে। ২১ বল খেলে ১ রান করা অভিষিক্ত আব্বাসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানকে ৪০৭ রানে গুটিয়ে দেন রোস্টন চেইস।

পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া মিসবাহ মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অপরাজিত থাকেন ৯৯ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার গ্যাব্রিয়েল ও আলজারি জোসেফ নেন তিনটি করে উইকেট।      

প্রথম ১০ ওভার নিরাপদেই কাটিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আক্রমণে এসে প্রথম বলেই ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট বোল্ড করেন ইয়াসির। উইকেট থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া এই লেগ স্পিনার খুব ভুগিয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যেই ৫০ রানের চমৎকার এক জুটি গড়েন কাইরন পাওয়েল ও অভিষক্ত শিমরন হেটমায়ার।

২৮ বলে ২০ রান করা হেটমায়ারকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিরোধ ভাঙেন ইয়াসির। দুই অঙ্কে যাওয়ার আগেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শাই হোপকে।

আস্থার সঙ্গে খেলে চলা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পাওয়েল ইয়াসিরের শেষ শিকার। ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়া এই লেগ স্পিনারই পঞ্চম দিনে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় হুমকি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৮৬

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৩৮.৪ ওভারে ৪০৭ (আজহার ১৫, শেহজাদ ৩১, বাবর ৭২, ইউনুস ৫৮, মিসবাহ ৯৯*, শফিক ২২, সরফরাজ ৫৪, আমির ১১, ওয়াহাব ৯, ইয়াসির ৮, আব্বাস ১; গ্যাব্রিয়েল ৩/৯২, জোসেফ ৩/৭২, হোল্ডার ১/৬৫, বিশু ১/১০৬, চেইস ১/৩৭, ব্র্যাথওয়েট ০/২২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ২৮ ওভারে ৯৩/৪ (ব্র্যাথওয়েট ১৪, পাওয়েল ৪৯, হেটমায়ার ২০, হোপ ০, বিশু ০*, ভিশাল ০*; আমির ০/১১, আব্বাস ০/২১, ইয়াসির ৪/৩৩, ওয়াহাব ০/২৪)।

 

টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সাকিব

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক করা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। শনিবার বিসিবি এই সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজার জায়গায় এই অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণা করে।

সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার ফলে বাংলাদেশের তিন ফরম্যাটে তিন জন ভিন্ন অধিনায়কের নেতৃত্বে খেলবে। শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাকিবকে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক করার কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।

শ্রীলঙ্কা সফরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আগের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব দেওয়া চালিয়ে যাবেন এই পেসার। টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

 

নাসিরকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা

ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও প্রস্তুতি ম্যাচে জায়গা হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা হয়নি নাসিরের। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য মাশরাফির নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এদিকে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে ফিরেছেন পেসার শফিউল ইসলাম। আর দুটি থেকেই বাদ পড়েছেন শুভাগত হোম চৌধুরী।

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বে মাশরাফির দল। সেখানে ১০ দিনের ক্যাম্পে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফিবাহিনী। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ছাড়াও যে আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে নিউজিল্যান্ডও। ১২ মে থেকে শুরু ওই তিন জাতি আসর।

ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে আবার ইংল্যান্ড ফিরবে মাশরাফিরা। ১ জুন থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পর্যায়ক্রমে ইংল্যান্ড (১ জুন ওভালে খেলা), অস্ট্রেলিয়া (৫ জুন ওভালে) আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (৯ জুন কার্ডিফে), চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মূল পর্বে খেলা। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেও পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্ট্যান্ড বাই: নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শুভাশীস রায়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ইংল্যান্ডে ক্যাম্প ও আয়ারল্যান্ড সফরের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাশীস রায়, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম।

শফিউলকে ফেরাল ফিটনেসের উন্নতি আর ইংল্যান্ডের ঠাণ্ডা

বোলিং নিয়ে প্রশ্ন সামান্যই। শফিউলকে নিয়ে নির্বাচকদের মূল ভাবনা ফিটনেস নিয়ে। এই ভালো তো এই খারাপ; হুট করেই ভেঙে পড়া। দলে তাই অনিয়মিত শফিউল। তবে এবার শফিউলের ফিটনেসের অবস্থায় আপাতত সন্তুষ্ট নির্বাচকরা।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ তো বটেই, ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেও জায়গা পেয়েছেন শফিউল। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দল থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে নেই পেসার শুভাশীষ রায়।

গত কিছুদিন ধরে দলে আসা-যাওয়াই শফিউলের নিয়তি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হলো চোট নিয়ে দুর্ভাবনায়। বিপিএলে দুর্দান্ত বোলিং করছিলেন, কিন্তু শেষ দিকে বাধালেন চোট। যেটির কারণে যেতে পারলেন না নিউ জিল্যান্ড সফরে।

ভারত সফরের স্কোয়াডে ছিলেন। হায়দরাবাদে প্রস্তুতি ম্যাচে খেললেও খেলতে পারেননি টেস্টে। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে আবার বাদ। নির্বাচকদের যুক্তি ছিল, নিজেকে টানা ফিট রাখতে পারেন না শফিউল। শ্রীলঙ্কার প্রচণ্ড গরমে ভেঙে পড়ার শঙ্কাও ছিল।

এই পুরো সময়টায় নির্বাচকরা বারবারই বলেছেন, বোলিং স্কিলে দেশের সেরা পেসারদের একজন শফিউল। আপত্তি ফিটনেস নিয়ে। এখন তার ফিটনেসে খুশি প্রধান নির্বাচক। জানালেন, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনও একটা ব্যাপার।

“বিপিএলে ইনজুরিতে না পড়লে ও আমাদের অনেকগুলো সিরিজেই দলে থাকত। তাছাড়া ম্যানেজমেন্ট থেকে কিছু নেতিবাচক মনোভাব ছিল যে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই ওকে আমরা শ্রীলঙ্কায় নেইনি। কারণ শ্রীলঙ্কায় অনেক গরম ছিল, ওখানে টানা ম্যাচ খেলা ওর জন্য কঠিন ছিল। এখন ওর ফিটনেস লেভেল ঠিক আছে। আর যেহেতু ঠাণ্ডা কন্ডিশনে খেলব, সেহেতু ও টানা ম্যাচ খেলতে পারবে।”

আয়ারল্যান্ডে একটিই ওয়ানডে খেলেছেন শফিউল। ২০১০ সালে সেই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। ওই সফরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ে নিয়েছিলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

 

‘দেশের জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত’

ভিন্ন ধাতুতে গড়া মাশরাফির নেতৃত্বগুণ, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাশের মতো আর কোনো ক্রিকেটার নিজের ইনজুরিকে তোয়াক্কা না করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার। পা বাঁচাতে যখন মাশরাফিকে না খেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘পায়ে গুলি খেয়ে যদি মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমি কেন সামান্য সার্জারি নিয়ে মাঠে খেলতে পারবো না?’

দৃঢ়চেতা মনোভাব, ব্যক্তিত্ব আর সহজাত ক্রিকেটীয় মেধার সঙ্গে দারুণ নেতৃত্বগুণ অন্য আরো ১০ জন ক্রিকেটার থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। তিনিই দেখিয়েছেন কেবল তীব্র ইচ্ছাশক্তি আর দেশের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা থাকলে- অনেক কিছুই সম্ভব। ম্যাচ জিতিয়ে গোটা দেশ যখন আনন্দে মাতে, মাশরাফি তখন হাঁটুর ব্যথায় কাতরান ড্রেসিংরুমে। ক্রিকেটে তার মতো ইনজুরি জয় করা খেলোয়াড় আর একজন আছেন বলে ইতিহাস সাক্ষী দেয় না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তিনি তাই ধ্রুবতারা!

টাইগারদের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাশরাফি নিজের পরিবার নিয়ে বৈশাখের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন খাগড়াছড়িতে। সেখান থেকে ফিরে মাঠে নেমেছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে তাদের দল। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) মাশরাফি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিশাল স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে লিখেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অকুতোভয় সৈনিকদের কথা, তাদের বীরত্ব গাঁথা, তাদের আত্মত্যাগ, তাদের দেশাত্মবোধের কথা।

মাশরাফির লেখাটি তুলে ধরা হলো:

‘প্রথমে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনাদের সবাইকে যারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য সেবা করে যাচ্ছেন। আমার এবারের খাগড়াছড়ি সেনানিবাস ভ্রমণ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি একজন সৈনিক তাঁর মাতৃভূমির জন্য কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করেন। আপনারা হলেন সেই সব মানুষ যারা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে, কিন্তু আপনাদের বীরত্ব গাঁথা হয়ত কখনো কোন জাতীয় দৈনিক বা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। আমার সাথে এমন একজন সৈনিক এর দেখা হয়েছে যিনি খুব শিগগিরই বাবা হবেন। অথচ দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আজ তাঁর পরিবার থেকে বহুদূরের এই সেনা ক্যাম্প এ অবস্থান করছেন। আমি স্বীকার করি অনেকের কাছেই সেপাই পলাশ এর দেশের প্রতি অঙ্গীকার একটি সামান্য পরিসংখ্যান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

‘নিজের কাজ দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা কিংবা গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দেয়াকেই আমরা হয়ত দেশাত্মবোধের পরিচায়ক হিসেবে মনে করি। কিন্তু মনে রাখবেন, এর কোনকিছুই আপনাদের আত্মত্যাগের সমতূল্য নয়। আজ বাংলাদেশ আর্মির এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন। আমার এই ভেবে খুব কষ্ট হয় যে আপনারা এবং আপনাদের আপনজনেরা অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেন যেন আমরা নিরাপদে ঘুম থেকে উঠতে পারি। যেদিন আমাদের দেশের সকল নাগরিক একই ভাবে দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হবে সেদিন আমরা পাবো সমৃদ্ধির বাংলাদেশ।’

মাশরাফি আরও লিখেছেন, মনে রাখবেন, “সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে”। সর্বশেষ এই বলতে চাই, “যদি কখনো বাংলাদেশ আর্মির সাথে একদিনও কাজ করার সু্যোগ পাই, আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এত সময় ধরে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ।

-আপনাদের মাশরাফি (একজন ব্যক্তি যে শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলে)

আজ খেলবেন সাকিব?

এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শ্রীলঙ্কা সফর শেষে কলকাতার প্রথম ম্যাচের দিন দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া সাকিব আল হাসানের এখনো মাঠে নামা হয়নি। আজ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে বাংলাদেশি অলরাউন্ডারকে একাদশে রাখবে কলকাতা?

এই আইপিএলে আজই প্রথম ঘরের মাঠে খেলবে কলকাতা। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দিনের একমাত্র ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়। টিভিতে সরাসরি দেখাবে সনি সিক্স ও সনি ইএসপিএন চ্যানেল।  

১০ উইকেটের রেকর্ড জয়ে আইপিএল অভিযান শুরু করেছিল কলকাতা। তবে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন দলটি দ্বিতীয় ম্যাচেই পায় হারের তিক্ত স্বাদ।

মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে দুঃস্বপ্ন হয়ে আসে আবার ক্রিস লিনের চোট। ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন প্রথম ম্যাচে ৪১ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলা অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান। আজ তাই সাকিবের একাদশে থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে।

গত আইপিএলে কলকাতার কাছে হোম আর অ্যাওয়ে- দুটি ম্যাচই হেরেছিল পাঞ্জাব। দুই দলের শেষ সাত ম্যাচেই পাঞ্জাবকে হারিয়েছে কলকাতা। সব মিলিয়ে পাঞ্জাবের বিপক্ষে কলকাতার জয়-পরাজয়ের রেকর্ডটা ১৩-৬। যেটি ইডেন গার্ডেনে ৬-২।

দিল্লিতে বাংলাদেশি প্রতিবন্ধীদের প্রথম জয়

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যকার তিন ম্যাচ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলকে ৮১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

 

বুধবার দিল্লির আরডি রাজপাল স্কুল মাঠে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ২৫২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী শফিকুল ইসলাম ৪৮ বল খেলে ১১টি ছক্কা ও ২০টি চারের সাহায্যে ১৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ১৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৭০ রান করতে সক্ষম হয় ভারত হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ড্রীম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশন ও ভারতের প্যারা স্পোর্টস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সিরিজের আয়োজন করেছে। গত ১০ এপ্রিল ক্রিকেট সিরিজ খেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত যায় বাংলাদেশ এর হুইল চেয়ার ক্রিকেট দল।

পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক সাকিব

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা সফরের পর মাশরাফি বিন মর্তুজার অবসরে পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক হচ্ছেন ‘মিস্টার সেভেনটি ফাইভ’। বর্তমানে তিনি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ দলকে ২৭ টি-২০তে নেতৃত্ব দিয়ে সর্বাধিক ৯ ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন মাশরাফি। তার উত্তরসূরি হিসেবে দলের দায়িত্ব দেওয়ার মতো রয়েছেন, তামিম, মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটার।

তবে দ্রুতই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) কলম্বোয় খেলা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান জাতীয় দলের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সংবাদভিত্তিক কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিসিবি সভাপতির বরাতে ইতোমধ্যে এ সংবাদ প্রচার হচ্ছে।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, (ফাইল ছবি)সাকিব আল হাসান এর আগে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক থাকাকালে টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪ ম্যাচে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ওই চার ম্যাচের কোনোটিতেই অবশ্য জিততে পারেনি টাইগাররা।

সাকিব টেস্ট-ওয়ানডের মতো ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ভার্সনেও নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৮ ম্যাচে তার রান ১১৭০, আর উইকেট সংগ্রহ ৬৭।

 



Go Top