বিকাল ৩:৫৯, রবিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আর তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ ভালো খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন টেস্টের স্কোয়াডে থাকা বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জিমে এ আশার কথা জানাতে গিয়ে তাসকিন বলেন, ‘যেহেতু গত কয়েকটি টেস্ট দেশের বাহিরে খেলছি, এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারবো। ভালো খেলা উপহার দেব।’

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছেন তাসকিন আহমেদ। জানান, গত এক বছরে তেমন ইনজুরিতে পড়িনি। ইনজুরির দিকে না তাকিয়ে এখন মানসিকতা জোরদার করার কাজ করছি। মাশরাফি ভাইকে মাঠে মিস করবো।

দুই টেস্টের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দল ঘোষণা করা হয়েছে মঙ্গলবার।  ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরেছেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) দুর্দান্ত পারফর্ম করায় আবারও জাতীয় দলে ফিরলেন রুবেল।

এ ছাড়া অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকেও দলে রাখা হয়েছে। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। মোস্তাফিজকে জায়গা দিতে শফিউল ইসলামকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। দু’টি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দু’টি টি-২০ ম্যাচ খেলার জন্য ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কা যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশ দল: মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিষ রায়, রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ফাইনাল পাকিস্তানে হওয়ায় খেলবেন না তারকারা

চলমান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল নিজ দেশের শহর লাহোরে আয়োজন করতে উঠে পড়ে লেগেছে আয়োজক কমিটি। বর্তমানে টুর্নামেন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ব্যাপক ঝুঁকি থাকলেও পাকিস্তানেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি হওয়ার কথা জানিয়েছে পিএসএল চেয়ারম্যান। কিন্তু ইতিমধ্যে এমন প্রস্তাবে বেঁকে বসেছেন তারকা ক্রিকেটাররা।

এরই ফলে সমালোচনা যেন পিছু ছাড়ছে না পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল)। এবার সে সমালোচনায় ঘি ঢেলে দিলেন ক্রিস গেইলরা। পিএসএলে নিজের দল ফাইনালে উঠলে সেক্ষেত্রে ফাইনাল খেলতে লাহোরে যাবেন না বলে স্রেফ জানিয়ে দিলেন ক্রিস গেইল।

এর আগেই অবশ্য শ্রীলঙ্কান দুই কিংবদন্তী কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে লাহোরে ফাইনাল খেলবেন না বলে জানিয়েছিলেন।

গেল দুই সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে নানা সন্ত্রাসী হামলা এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেজন্যে পাকিস্তানে এই সময়টায় যাওয়াটা নিরাপদ মনে করছেন না ক্রিকেটের এই তিন বড় তারকা। তাদের দল করাচি কিংসের কর্তৃপক্ষকেও তাদের এই সিদ্ধান্তটি জানিয়েছে।

অন্যদিকে লাহোরে ফাইনাল খেলতে গেলে তাদের ম্যাচ ফি আরো বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ। তবে পিএসএল চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি আগেই জানিয়েছেন, যদি বিদেশি ক্রিকেটাররা লাহোরে খেলতে না যায় তাহলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের দিয়েই খেলোয়াড় কোঠা পূরণ করে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে সেখানে।

আইপিএলে ডাক না পেয়ে হতাশ ইরফান

দমশ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ডাক না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ভারতের সাবেক ‍অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। অথচ এর আগে আইপিএলে বেশ কয়েকটি দলের হয়ে সফলতা দেখিয়েছেন তিনি। তাই এবারে বাঁহাতি এ তারকার সুযোগ না পাওয়াটাই এক রকম চমক ছিল।

২০১০-এ পিঠে পাঁচটা ফ্র্যাকচারের পর ক্রিকেট ফেরার কোনও আশাই ছিল না। ফিজিও জানিয়ে দিয়েছিল আর খেলা হবে না। ক্রিকেট খেলার স্বপ্নটা এ বার ছাড়তেই হবে। কিন্তু সেদিন সেই স্বপ্ন ছাড়েননি ইরফান । তাই ফিরেছেন ক্রিকেটে। সাফল্যের সঙ্গেই ফিরেছেন। কিন্তু এ বারের আইপিএল’এ দল না পেয়ে হতাশ ইরফান নিজের সেই সময়ের কথাই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

৫০ লাখ ভারতীয় রুপি বেস প্রাইজ নিয়ে দল পাননি ইরফান। এটা সত্যিই চমক ছিল। ৩২ বছরের পাঠান সদ্য ঘরোয়া টি২০ টুর্নামেন্টে ভালই খেলেছেন। ফিটনেসের পিছনেও খেটেছেন তিনি। কিন্তু আইপিএল না খেলতা পারার হতাশাটা বেরিয়ে এসেছে ভীষন ভাবে। তিনি বলেন, ‘আমি মৌসুম শুরুর আগে থেকে প্রচুর খেটেছি। ফিল্ডিংয়েও অনেক উন্নতি করেছি।’

গতবার পাঠান খেলেছিলেন রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসের হয়ে। কিন্তু প্রথম একাদশে তেমনভাবে খেলার সুযোগ পাননি। ভেবেছিলেন এ বার আইপিএল খেলার সুযোগ পাবেন। আইপিএলে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়েও খেলেছেন। এই অলরাউন্ডার দেশের হয়ে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওডিআই ও টি২০ খেলেছেন। শেষ দেশের হয়ে খেলেছেন অক্টোবর ২০১২তে।

দৈনিক চার কোটি রুপি আয় করেন কোহলি

বর্তমান সময়ে মাঠ এবং মাঠের বাইরের আলোচিত নাম বিরাট কোহলি। ভারতের ক্রিকেট অধিনায়ক যেমন মাঠে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে আছেন। ঠিক তেমনি মাঠের বাইরেও দারুণ ছন্দে আছেন। একের পর এক বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।

গত সোমবার পুমা কোম্পানির সাথে ৮ বছর চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি। কোহলি নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত পুমার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে থাকবেন। যার বিনিময়ে কোহলি ভারতীয় মুদ্রায় ১১০ কোটি রুপি পাবেন। এর মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ কোটি রুপি নিয়ে কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আর এই চুক্তির ফলে অধিনায়ক হওয়ার পর কোহলির দৈনিক আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ৪ কোটি রুপি!

বিরাট কোহলি ব্র্যান্ড ভেল্যু এত তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাওয়ার একটাই কারণ, তিনি ক্রিকেটে সাফল্যের ভেলায় ভাসছেন। প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। কোহলি ক্রিকেটের মূল ফরম্যাট টেস্টে ৪টি দ্বিশতক হাঁকিয়েছেন। সেঞ্চুরি হাঁকানোর দিক দিয়ে শচীনের রেকর্ড তাড়া করছেন।

কোহলি শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নন, মাঠের বাইরেও একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোহলি ১৭টি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং তাকে ভারতের যুব আইকন মানা হয়। ক্রিকেট জগতে পা রাখার পর কোহলি যতটা আগ্রাসী ছিলেন সেটা বেশ কমে এসেছে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর থেকে। নিজের পারফরম্যান্স উচ্চমুখী হওয়ার পাশাপাশি আচরণগতও উন্নতি হচ্ছে কোহলির। ফলে প্রতিনিয়ত কোহলি নতুন কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ‍হিসেবে নাম লেখাচ্ছেন।

২৮ বছর বয়সি বিরাট কোহলি যেভাবে নিজেকে সব বাধা উতরিয়ে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, তা আসলেই প্রশংসনীয়। ২০১৪ সাল থেকে বিজ্ঞাপন জগতের অন্যতম নাম বিরাট কোহলি। ইউরোপের দেশ জার্মানির ক্রীড়া বিষয়ক কোম্পানি অ্যাডিডাসের সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রায় ১০ কোটি রুপিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন কোহলি। সম্প্রতি স্পোর্টসপ্রো বিরাট কোহলিকে লুইস হেমিলটনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি ‘মার্কেটবল অ্যাথলেট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

কোহলি শুধু তার স্বদেশি তারকাদের সঙ্গে নয়, বিখ্যাত ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি এমনকি অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উসাইন বোল্টের সঙ্গেও অর্থ উপার্জনের দিক দিয়ে সমানতালে লড়াই করছেন।
 

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আসছে বাংলাদেশে

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসর মাঠে গড়াতে আর ১০০ দিনও বাকি নেই। আসন্ন টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিশ্বভ্রমণ শুরু হচ্ছে। গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আইসিসির হেডকোয়ার্টার থেকে ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণের কথা জানানো হয়।

এরই অংশ হিসেবে ট্রফি আসছে বাংলাদেশেও। আগামী ১ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।২ মার্চ থেকে ট্রফির বিশ্বভ্রমণ শুরু হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই ট্রফিটি ঢাকায় আসছে আগামী ১৮ মার্চ। বিশ্বের আটটি প্রতিযোগি দেশের মোট ১৯টি শহরে ভ্রমণ করবে এ ট্রফি।

বাংলাদেশে ট্রফিটি থাকবে তিনদিন। ২১ মার্চ ঢাকা ছেড়ে এই ট্রফি প্রদর্শনের জন্য চলে যাবে ক্রিকেট খেলুড়ে আরেক দেশ শ্রীলঙ্কাতে।

ঢাকায় এর আগে যতবার বৈশ্বিক আসরের ট্রফি এসেছে, প্রতিবারই তা প্রদর্শিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম শপিং মল বসুন্ধরা সিটিতে। তবে এবার ভেন্যু বদলাচ্ছে। এবার ১৮-২১ মার্চ ট্রফিটি প্রদর্শিত হবে ঢাকার আরেক শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে।

 

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ

 

কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সানিকে

স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক তরুণীর করা তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানির জামিন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।
এর ফলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের এক সময়ের এই ক্রিকেটারকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। সানির জামিন আবেদনের শুনানি করে বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলাম  বুধবার এই আদেশ দেন।

সানির স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই তরুণীও এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী কমাল উদ্দিন জানান।
এ ছাড়া সানি ওই তরুণীকে ফেইসবুকে ‘যেসব ছবি পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা’ করেছেন, সেসব ছবির ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়ায় আদালত জামিন নাকচ করে দেয় বলে জানান এই আইনজীবী। ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর ভাষ্য, সাত বছর আগে পরিচয়ের পর সানির সঙ্গে তার প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে না নিলেও বিয়ের পর তারা বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে থাকার পাশাপাশি একসঙ্গে বিদেশে বেড়াতেও গিয়েছেন বলে দাবি তার আইনজীবী কামাল উদ্দিনের।

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের মামলায় ওই তরুণীর অভিযোগ করেছেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী হিসেবে তাকে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিলে গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। ওই তরুণী রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় গত ৫ জানুয়ারি এ মামলা করলেও সে খবর জানাজানি হয় ২২ জানুয়ারি পুলিশ সানিকে গ্রেফতার করার পর । এরপর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ এনে ২৩ জানুয়ারি সানির বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে আরেকটি মামলা করেন ওই তরুণী। সবশেষে ১ ফেব্রুয়ারি তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় সানির জামিন আবেদন গত ১২ ফেব্রুয়ারি নাকচ করে দেয় ঢাকার হাকিম আদালত।

 

তিন দায়িত্বই চালিয়ে যেতে চান মুশফিক

প্রশ্নটি অবধারিতই ছিল। তবে এই ধরনের স্পর্শকাতর প্রশ্ন সাধারণত সংবাদ সম্মেলনের পরের দিকেই হয়। তবে এবার দ্বিতীয় প্রশ্নটিই। সেটিও বাংলাদেশের কেউ নন, করলেন ভারতীয় সংবাদকর্মীদের একজন। দলের সেরা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে কি সর্বোচ্চটা পাচ্ছে বাংলাদেশ? কিপিং ছেড়ে ব্যাটিংয়ে ওপরে আসা বা নেতৃত্বের ভার কমানো, সেই ইচ্ছে নেই?

গত বছর দুয়েক এই প্রশ্ন অনেকবারই শুনেছেন মুশফিক। তাই হয়ত প্রস্তুতই ছিলেন। উত্তর শুরু করলেন হাসি মুখেই। নিজেকে দলের সেরা ব্যাটসম্যান মানতেই আপত্তি তার।

“আমার টেস্ট ব্যাটিং গড় তো ৩৩ বা ৩৪-এর বেশি না। আমি কিভাবে দলের সেরা ব্যাটসম্যান হতে পারি!”

এই পরিসংখ্যান তো পুরো ক্যারিয়ারের কথা বলছে। গত কিছুদিনের পারফরম্যান্সে মুশফিককেই সেরা বলা যায় অনায়াসে। তবে সেই তর্ক এখানে মূখ্য নয়। মূল ব্যাপার হলো তার ত্রিমুখী দায়িত্ব। তিনটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

মুশফিকের কাছ থেকে অবশ্য নতুন কিছু শোনা গেল না। বরাবরই বলে আসছেন কিপিং তার বড় দুর্বলতার জায়গা। তিন দায়িত্বেই থাকতে চান। এদিনও বললেন আবার। নতুন করে যোগ করলেন আরেকটু। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিলেন বিসিবির ওপর।

“আমি যদি দু্টি বা তিনটি দায়িত্বে থাকি, তার মানে বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর আস্থা রাখছে। আমার দায়িত্ব তিনটি দায়িত্বই ভালো ভাবে পালন করা। যদি ভালো করতে না পারি, তাহলে তারা যা মনে করেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমি তিনটি দায়িত্বই উপভোগ করছি। কারণ আমি মাঠে থাকতে ভালোবাসি। আর মাঠে সময় কাটানোর উপায় হলো সেখানে দায়িত্ব পালন করা, ড্রেসিং রুমে বসে নয়।”

“আমি আমার সব দায়িত্ব ভালোবাসি। তার পরও কিছু হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আছে বাইরে। তবে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করলে, আমি তিনটিই দারুণ পছন্দ করি। আর নেতৃত্ব আমার হাতে নেই। বোর্ড চাইলে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

সেই ‘বিশ্লেষণ’ এবার হচ্ছেই। হায়দরাবাদে টেস্টের সময় ছিলেন বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানসহ অনেকেই। তাদের যা মনোভাব, দেশে ফিরে আতসী কাঁচেরই নীচে পড়বে মুশফিকের নেতৃত্ব। আগামী মাসের শ্রীলঙ্কা সফরের আগে বেশ কদিন সময় আছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ আছে। পরবর্তী বোর্ড সভার অন্যতম এজেন্ডা হতে পারে মুশফিকের নেতৃত্ব।

 

নিজের শটে ভুল দেখছেন না মুশফিক

ধারাভাষ্যকক্ষে বিস্ময়ের উচ্চারণ। প্রেস বক্সেও পরস্পরের দিকে অনেক বিস্মিত চাহনি। এই শট মুশফিক খেলেছেন? প্রথম ইনিংসের মুশফিক আর এই মুশফিক কি একজনই!

এক বল আগেই বেরিয়ে এসে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার মেরেছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। ভারতীয় অফ স্পিনার চাইছিলেন যেন এটিই। বের করে আনা। আবার ঝুলিয়ে দিলেন। এবার মুশফিকুর রহিম চাইলেন উড়িয়ে মারতে। সহজ ক্যাচ।

টেস্ট ম্যাচে এমন শট সবসময়ই তুলতে পারে প্রশ্ন। আর এই ম্যাচের প্রেক্ষাপটে তো মুশফিকের শটটি একরকম অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। সকালেই ফিরে গেছেন সাকিব আল হাসান। ম্যাচ বাঁচানোর ভার অনেকটাই ছিল মুশফিকের কাঁধে।

প্রথম ইনিংসে বীরোচিত ইনিংস খেলেছিলেন। শেষের লড়াইয়ে ফিরলেন আত্মহত্যা করে। ম্যাচ শেষে জানালেন, অশ্বিনকে থিতু হতে দিতে চাননি বলেই অমন শট খেলছিলেন।

“ভাবনা ছিল…ইতিবাচক থাকা। সকালে সাকিবের ডেলিভারিটা দেখেছেন বা গতকাল বিকেলে মুমিনুলের। যদিও ভারতের টিপিক্যাল পঞ্চম দিনের উইকেট নয়, কিন্তু তার পরও রাফ ছিল উইকেটে। সেটা সামলানোও কঠিন। অশ্বিন যদি একই লাইনে বল করে যেতে থাকে, কাছ ঘিরে ছিল অনেক ফিল্ডার, তাহলে সে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। আমি চেয়েছি পায়ের ব্যবহার করতে এবং অশ্বিনের লাইন লেংথ একটু এলোমেলো করে দিতে।”

মুশফিকের দাবি, দেখতে বাজে লাগলেও তার শট খারাপ ছিল না।

“শটটা খারাপ ছিল না। স্রেফ ঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। কারণ কয়েক ওভার আগেই অফ স্টাম্পের বাইরে বলে জাদেজাকে রিভার্স সুইপ খেলেছি, দারুণভাবে লেগেছিল ওটা। অশ্বিনেরটা ঠিক ভাবে খেলতে পারিনি। ফিল্ডার ভেতরে ছিল। চার মারতে পারলে ফিল্ডার পিছিয়ে নিত ওরা। তখন সিঙ্গেল নেওয়া সহজ হতো। এটিই ছিল ভাবনা।”

কিন্তু এই চার মেরে ফিল্ডারকে সীমানায় নিতে বাধ্য করা, সিঙ্গেল নিয়ে খেলা, এসব তো ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের ভাবনা! টেস্টে একটি-দুটি চারে ফিল্ডিং ছড়ানো হয় সামান্যই। বিশেষ করে শেষ দিকে চাপের মধ্যে তো আরও নয়।

শট খারাপ খেলেননি বললেও মুশফিক বললেন শিক্ষা নেওয়ার কথা।

“হয়ত আরেকটু সময় নিয়ে, আরও তিন-চার ওভার থাকার পর অশ্বিনকে ওই শট খেলতে পারতাম। এই ভুল থেকে শিখব।”

ভুল থেকে শিক্ষার প্রমাণ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মাঝে কমই দেখা যায়। আশায় থাকতে হবে, মুশফিক হবে ব্যতিক্রম!

 

‘আমাদের দলে তো কোনো কোহলি নেই’

পঞ্চম দিনের ভারতীয় উইকেট বিবেচনায় ব্যাটিংয়ের জন্য তা ছিল বেশ ভালো। স্রেফ ‘বেসিক’ মেনে খেললেই টিকে থাকতে পারত বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে স্বয়ং বিরাট কোহলি বলে গেলেন এই কথা। একটু পর মুশফিকুর রহিম সেই কথা শুনে বললেন, “আমাদের দলে তো কোনো বিরাট কোহলি নেই!”

হায়দরাবাদ টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। প্রথম ইনিংসে ১০৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল দল। এরপর মুশফিকের অসাধারণ ইনিংস ও সাকিব-মিরাজে অর্ধশতকে দল গিয়েছিল চারশর কাছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে যথারীতি ১০৬ রানে পড়েছে ৪ উইকেট। তবে এবার মুশফিক দাঁড়াতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ অর্ধশতক করলেও ছিল না আর কোনো বলার মত ইনিংস। বাংলাদেশ শেষ ২৫০ রানেই।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াইয়ের প্রশংসা করেন কোহলি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেট খুব বেশি কঠিন না হওয়ার পরও এত অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ায় অবাক তিনি।

কোহলির মন্তব্য শুনে মুশফিক নিজেদের তুলনা করতে চাইলেন কোহলির মাপেই।

“বিরাট কোহলির মতো যদি বেসিক সবার হতো তাহলে আমাদের ৫০ গড়ের ব্যাটসম্যান থাকত। এতজন ব্যাটসম্যান লাগতো না, ৭ উইকেটও লাগত না। চার জন ব্যাটসম্যান নিয়েই ম্যাচ ড্র করা যেত। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দলে কোন বিরাট কোহলি নেই।”

বাংলাদেশ অধিনায়কের দাবি, দলের ব্যাটসম্যানরা ‘বেসিক’ খেলারই চেষ্টা করেছে।

“সাকিব কিন্তু বাজে শট খেলেনি, তারপরও আউট হয়ে গেছে। এখানে সবাই বেসিক ক্রিকেটই খেলার চেষ্টা করেছে। রিয়াদ ভাই যেভাবে আউট হয়েছে, সেটাতে তার দোষ দেওয়া যায় না। সাব্বির লাইন মিস করেছে। যেটা হয়নি, আমার মনে হয় এই কন্ডিশনে আমার আরও কতক্ষণ খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারতাম। সেটা আমরা পারিনি। এই জায়গাতেই একটু কাজ করা দরকার।”

বেসিক নিয়ে ভারতীয় অধিনায়কের মন্তব্যে হয়ত একটু আঁতে ঘা লেগেছে বাংলাদেশ অধিনায়কের। মুখে হাসি নিয়ে বললেও উত্তরে বোঝা গেল, খুব খুশি নন!

“সামনে এমন ‍সুযোগ থাকলে আমি চেষ্টা করবো আমার বেসিকটা যেন আরও শক্ত থাকে। যেন বেসিক দিয়ে টেস্ট ড্র করতে পারি!”

তবে মুশফিক মন্তব্যটিকে যেভাবেই নিন, এই উইকেটে পড়ে থাকতে নিশ্চয়ই কোহলি হওয়ার দরকার নেই। কামরুল ইসলাম রাব্বিই তো প্রায় দেড় ঘণ্টা টিকে থাকলেন। ব্যাটসম্যানদেরও সেই প্রতিজ্ঞা থাকলে নিশ্চয়ই পারতেন!

 

মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরি

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলেছে ভারত। রানের পাহাড়ই। জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন টাইগাররা। খাদের কিনার থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে মুশফিকুর রহীমকেই!

পঞ্চম উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১০৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন মুশফিক। সাকিবের বিদায়ের পর আরও বেশি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলছেন টাইগার অধিনায়ক। ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন ফিফটিও। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৬তম ফিফটি।

দলীয় ৮০তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বল স্কোয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ১৩৬ বলে ৬টি চারের মারে ৫০ রানে অপরাজিত আছেন টাইগার অধিনায়ক। স্ট্রাইক রেট ৩৫.৯৭!

সাকিবের হাফসেঞ্চুরি

টেস্ট স্পেশালিষ্ট মুমিনুল হক আউট হওয়ার পর উইকেটে নামেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দল তখন ৬৪ রানেই হারিয়েছে সেরা তিনটি উইকেট। তার কিছুক্ষণ পর আউট মাহমুদউল্লাহও। তবে সাকিব খেলতে থাকলেন সাকিবের মতই। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ভারতের সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে চার মেরে তুলে নেন নিজের হাফসেঞ্চুরি।

২৫তম ওভারে উমেশ যাদবের দ্বিতীয় বলে উইকেটে আসেন সাকিব। তবে স্বাচ্ছন্দের সঙ্গে সূচনা করতে পারেননি তিনি। প্রথম তিনটি বল ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। চতুর্থ বলে ফুলটস পেয়েই বেষ্টনী পার করেন তিনি। এরপর আরও ৯টি চার মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ২১তম হাফসেঞ্চুরি।

মাত্র ৬৯ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরির কোটায় পা দেন সাকিব। এ রান করতে ১০টি চার মারেন এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭৩ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত আছেন সাকিব। এ সময় বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬৪ রান।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ


হায়দরাবাদ টেস্টের তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

প্রথম সেশনে ৩ উইকেট
 
তৃতীয় দিনের লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১২৫/৪। এখনও ৫৬২ রানে পিছিয়ে অতিথিরা।
 
উইকেটে বোলারদের জন্য এখনও তেমন কিছু নেই। টিকে থাকার চেষ্টা করলে আউট করা কঠিন। এর মধ্যেও ৩ উইকেট হারিয়ে হায়দরাবাদ টেস্টে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
 
ঝুঁকিপূর্ণ দুই রান নিতে গিয়ে তামিম ইকবালের রান আউটের পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ। আশা হয়ে টিকে আছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।
 
চমৎকার বল করা উমেশ যাদব দুই দিন মিলেয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। তৃতীয় দিন নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়েছেন আরেক পেসার ইশান্ত শর্মা।

মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লিউ
 
বোলিংয়ে এসেই বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙেন ইশান্ত শর্মা। ডানহাতি এই পেসারের ইনসুইং ঠিক মতো খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে আঘাত হানে।

এলবিডব্লিউ হওয়ার পর অন্য প্রান্তে থাকা সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলে রিভিউ নেন তিনি। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।
 
২৮ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ১০৯/৪।

বাংলাদেশের একশ’
 
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের স্কোর তিন অঙ্কে যায় ৩৪তম ওভারে। তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক ও সৌম্য সরকারের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান।
 
৩৪তম ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৭/৩। দলটি এখনও পিছয়ে ৫৮০ রানে।

এলবিডব্লিউ হয়ে মুমিনুলের বিদায়
 
উমেশ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন মুমিনুল হক। স্টাম্পে থাকা সোজা বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।  
 
১২ রান করে মুমিনুল ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ৬৪/৩।

রান আউট হয়ে ফিরলেন তামিম
 
প্রায় সাতশ’ রানের বিশাল সংগ্রহের জবাব দিতে নামা বাংলাদেশ রান আউটে হারায় তামিম ইকবালকে। মুমিনুল হকের সঙ্গে একটি দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় ফিরেন তিনি।
 
দ্বিতীয় রানটি নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিলই না। দুই ব্যাটসম্যানই আউট হতে পারতেন। ননস্ট্রাইকিং প্রান্তে বোলার ভুবনেশ্বর কুমবার থ্রো ধরে স্টাম্প ভাঙার সময় অনেক দূরে ছিলেন বাংলাদেশের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
 
২৫ রান করে তামিম ফিরে যাওয়ার সময় দলের স্কোর ৪৪/২।

ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ
 
সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, শিখতে নয় ভারতে জিততে এসেছেন। হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দুই দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের জেতার বাস্তবিক কোনো সম্ভবনা নেই। ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে তার শিষ্যদের। তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর সময় বাংলাদেশ পিছিয়ে ৬৪৬ রানে। প্রতিপক্ষকে আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামাতে এখনও ৪৪৭ রান চাই তাদের।
 
দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর:
 
ভারত ১ম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ ইনিংস ঘোষণা (রাহুল ২, বিজয় ১০৮, পুজারা ৮৩, কোহলি ২০৪, রাহানে ৮২, ঋদ্ধিমান ১০৬* অশ্বিন ৩৪, জাদেজা ৬০*; তাসকিন ১/১২৭, রাব্বি ০/১০০, সৌম্য ০/৪, মিরাজ ২/১৬৫, সাকিব ০/১০৪, তাইজুল ৩/১৫৬, সাব্বির ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/১৬)।
 
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪ ওভারে ৪১/১ (তামিম ২৪*, সৌম্য ১৫, মুমিনুল ১*; ভুবনেশ্বর ০/৭, ইশান্ত ০/৩০, অশ্বিন ০/১, যাদব ১/২)

ট্রিপল সেঞ্চুরির পরও বাদ!


আগের টেস্টেই নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে। মুখে ছিল গৌরবের হাসি। এবারও গড়লেন নতুন ইতিহাস। তবে মন মন ভার থাকারই কথা। এমন রেকর্ডে নিশ্চয়ই নাম লেখাতে চাননি করুন নায়ার!

ভারতের সবশেষ টেস্টেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অসাধারণ এক ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন নায়ার। বাংলাদেশের বিপক্ষে হায়দরাবাদ টেস্টেই জায়গা পেলেন না একাদশে। যার চোটের কারণে নায়ার জায়গা পেয়েছিলেন, সেই অজিঙ্কা রাহানে যে ফিরেছেন!

খুব একটা চমক হয়ে অবশ্য আসেনি এই সিদ্ধান্ত। টেস্টের আগের দুদিনে ভারত কোচ অনিল কুম্বলে ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি একরকম নিশ্চিতই করে দিয়েছিলেন, চোট কাটিয়ে ফেরা রাহানে ফিরে পাবেন তার জায়গা।

নায়ারের মতোই অভিজ্ঞতা হয়েছিল অ্যান্ডি স্যান্ডহ্যামের। টেস্ট ক্রিকেটকে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন অ্যান্ডি স্যান্ডহ্যাম। তবে দলে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেননি। ১৯৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকা টেস্টে। তবে পরের টেস্টেই ফিরেছিলেন নিয়মিত দুই ওপেনার হাবার্ট সাটক্লিফ ও জ্যাক হবস। পরের টেস্ট তো বটেই, তার কখনোই টেস্ট খেলতে পারেননি স্যান্ডহ্যাম। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে স্যান্ডহ্যামের রান ৩২৫ ও ৫০!

ট্রিপল সেঞ্চুরি করে দলের পরের টেস্টটিই খেলতে পারেননি লেন হাটন ও ইনজামাম-উল-হকও। তবে বাদ পড়েনিনি দুজনের কেউই।

বড় রান করেও বাদ পড়ার সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি সম্ভবত জিওফ বয়কটের। ১৯৬৭ সালে ভারতের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে করেছিলেন ক্যারিয়ার সেরা ২৪৬ রান। তবে অতিরিক্ত ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে প্রশংসার বদলে বেশি জুটেছিল গঞ্জনা! যেটির ফল, বাদ পড়েছিলেন পরের টেস্টের একাদশ থেকে।

ডাবল সেঞ্চুরি করেও পরের টেস্টে জায়গা না পাওয়ার আলোচিত উদাহরণ আছে আরও দুটি। দুবারই জড়িয়ে বাংলাদেশের নাম। ২০০২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক দিনে ৫০৯ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। সেদিন ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন অরবিন্দ ডি সিলভা। তরুণদের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরের টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয় ডি সিলভাকে। পরে আর কখনোই টেস্ট খেলা হয়নি লঙ্কান গ্রেটের।

আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি তো টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত ডাবল সেঞ্চুরিগুলোর একটি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন জেসন গিলেস্পি। নাইটওয়াচম্যানের ডাবল সেঞ্চুরি সেটিই প্রথম ও একমাত্র। কিন্তু ততদিনে আসল কাজ বোলিংয়ে ধার অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই হারালেন জায়গা। সেটিই হয়ে থাকল তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট!

ট্রিপল-ডাবল সেঞ্চুরি নয়, তবে বড় রান করেও জায়গা হারানোর গল্পে নাম আসতে পারে কেভিন পিটারসেনেরও। পূর্বসূরি বয়কটের মতো তার ইনিংসটি ছিল হেডিংলিতেই। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৪৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ওই টেস্টের পরই তার তুমুল আলোচিত-সমালোচিত এসএমএস কেলেঙ্কারি। যেটির জের ধরে জায়গা হারিয়েছিলেন দলে। পরে আবার দলে ফিরলেও শেষের শুরু ছিল ওখানেই।

এই রেকর্ডে পাশাপাশি থাকলেও নায়ার নিশ্চয়ই চাইবেন না স্যান্ডহ্যাম-গিলেস্পিদের মত ক্যারিয়ার শেষ করতে!

 

শতকের পর তাইজুলের বলে বোল্ড বিজয়


২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ। বিজয়কে ফেরালেন তাইজুল আঁটসাঁট বোলিংয়ের পুরস্কার পান তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনারের স্টাম্পের বলে লাইনে না গিয়ে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মুরালি বিজয়। ১৬০ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৮ রান করেন এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

বিজয় ফেরার সময় ভারতের স্কোর ২৩৪/৩।

বিজয়ের শতক

প্রথম ওভারেই উদ্বোধনী জুটির সঙ্গীকে হারানো মুরালি বিজয় এগিয়ে নেন ভারতকে। তৃতীয় সেশনের শুরুতেই শতকে পৌঁছান ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

৮২ বলে অর্ধশতককে পৌঁছানো বিজয় রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান ১৪৯ বলে। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও একটি ছক্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি বিজয়ের দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে নবম শতক।

ভারতের দুইশ’
 
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে দলের সংগ্রহ দুইশ’ রানে নিয়ে যান মুরালি বিজয়। শতকের পথে থাকা এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের সঙ্গে তখন ক্রিজে অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
 
৫৫ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ২০‌১/২।

ভারতের প্রতিরোধ ভাঙলেন মিরাজ
 
আগেভাগেই জুটি ভাঙার বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করা বাংলাদেশ ৫১তম ওভারে পায় দ্বিতীয় সাফল্য। উইকেটে জমে যাওয়া চেতেশ্বর পুজারাকে ফিরিয়ে তার সঙ্গে মুরালি বিজয়ের পর ১৭৮ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
তরুণ অফ স্পিনারের বলে ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ১৭৭ বলে ৯টি চারে ৮৩ রান করে পুজারা ফিরে যাওয়ার সময় ভারতের স্কোর ১৮০/২।

পুজারার অর্ধশতক
 
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান চেতেশ্বর পুজারা। মুরালি বিজয়ের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়া এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান পঞ্চাশে যেতে খেলেন ১০৮ বল। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার।

মাশরাফি ৩, শাহাদাত ১, তাসকিন ১


অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথ বল স্টাম্পে টেনে আনলেন লোকেশ রাহুল। ডানা মেলে দিলেন তাসকিন আহমেদ। তরুণ ফাস্ট বোলারের দিকে ছুটে এলেন দলের বাকিরাও। ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট!

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট অভিযাত্রা শুরু হলো প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে। ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেটের স্বাদ খুব বেশি পায়নি বাংলাদেশ। হায়দরাবাদ টেস্ট দিয়ে এটি হলো মাত্র পঞ্চমবার।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এখানেও বাংলাদেশের সবাইকে ছাড়িয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা। গায়ের পোশাক রঙিন হোক বা সাদা, প্রথম ওভারের রাজা মাশরাফিই। সীমিত ওভারে বাংলাদেশ বেশ কটি জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন প্রথম ওভারেই বা প্রথম উইকেট নিয়ে। টেস্টেও ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েছেন তিনবার।

প্রথমটি ২০০১ সালে। মাশরাফির সেটি তৃতীয় টেস্ট, বিদেশের মাটিতে প্রথম। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনে নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়েছিলেন লু ভিনসেন্টকে।

পরেরটি প্রায় ৬ বছর পর। বোলার সেই মাশরাফি। যারা দেখেছিলেন, অনেকেরই এখনও চোখে চোখে ভাসে সেই আউটের দৃশ্য। ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট। ম্যাচের প্রথম ওভারই শুধু নয়, প্রথম বল। মাশরাফির বল বাইরে যাবে ভেবে ছেড়ে দিলেন ভারতীয় ওপেনার ওয়াসিম জাফর। বল ভেতরে ঢুকে উড়িয়ে নিল জাফরের অফ স্টাম্প!

সেই ম্যাচে ‘পেয়ার’ পেয়েছিলেন জাফর। দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন শাহাদাত হোসেনের বলে।

প্রথম ওভারের শিকার তৃতীয়বারও ধরেছিলেন মাশরাফিই। এবারও ভেন্যু চট্টগ্রাম। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান প্রসন্ন জয়াবর্ধনেকে সেই টেস্টে ওপেন করিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। আবারও ভেতরে ঢোকা বল। ম্যাচের চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউ প্রসন্ন।

মাশরাফি তিন বারের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেটের স্বাদ পেয়েছিলেন শাহাদাত। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে। আউট সুইঙ্গারে কটবিহাইন্ড হয়েছিলেন ভুসি সিবান্দা।

পূর্বসূরিদের মত এবার সেই স্বাদ পেলেন তাসকিন। স্বাদটি নিয়মিতই পেতে চাইবেন!

 

টেস্টে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই : রবি শাস্ত্রী

টেস্ট অভিষেকের ১৭ বছর পর প্রথমবারের মত ভারত সফরে গেছে বাংলাদেশ। সফরে হায়দরাবাদে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি একটি মাত্র টেস্ট খেলবে মুশফিক বাহিনী। আর এ টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রবি শাস্ত্রী।  

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের পার্থক্য থাকলেও হায়দরাবাদে বাংলাদেশের সঙ্গে কোহলিদের সাবধানী ক্রিকেট খেলারই পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক টেকনিক্যাল এই ডিরেক্টর। তিনি বলেন, `ওয়ানডে ক্রিকেটে খুব দ্রুতই উন্নতি করছে বাংলাদেশ। তবে টেস্টে এখনো তাদের শেখার অনেক কিছু থাকলেও বাংলাদেশে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগই নেই।`

ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে বাংলাদেশের কাছেই ওয়ানডে সিরিজ হারের অভিজ্ঞতা আছে রবি শাস্ত্রীর। টেস্টে বাংলাদেশ সেই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাস্ত্রী বলেন, `হায়দরাবাদ টেস্ট থেকে বাংলাদেশ যা পেতে পারে, তা হলো অভিজ্ঞতা। এই সফর থেকে খুব ভালো অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরবে বাংলাদেশ।`
 
এদিকে টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাও তুলে ধরেছেন শাস্ত্রী। নিজের যুক্তিতে পরিষ্কারভাবে তিনি বলেন, `টেস্টে বাংলাদেশের সমস্যাটা হলো, একটি-দুটি সেশনে হয়তো ভালো করতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে দুই-তিন দিন ভালো করে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তারের পর ম্যাচ জেতার সামর্থ্যের অভাব আছে তাদের।`

বাংলাদেশকে হালকা ভাবে নিচ্ছেন না পুজারা

একমাত্র টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ দল এখন ভারতে। ৯ ফেব্রুয়ারি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। আর এ ম্যাচ জিতে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান, এমনটিই জানালেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান চেতশ্বর পুজারা। তবে বাংলাদেশকে হালকা ভাবে নিচ্ছেন না তিনি।

পুজারা জানেন, সফরকারী দলটি উপমহাদেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেটই খেলে। এছাড়া ক’দিন আগেই ঘরের মাঠে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে নাস্তানাবুদ করেছে টাইগাররা।

এদিকে ২০১৬ সালটা স্বপ্নের মতো কেটেছে ভারতের। এক কথায় জয়ের ওপরই ছিল দলটি। আর পুজারা চান বিরাট কোহলির নেতৃত্বে একইভাবে এগিয়ে যেতে, ‘আমার মনে হয় এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ন ম্যাচ হবে। আমরা যখন বাংলাদেশ সফর করেছিলাম, সেখানে একই রকম কন্ডিশন দেখেছিলাম। সুতরাং কন্ডিশন এখানে তাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। আর যারাই ভালো খেলবে তাদেরই ম্যাচ জয়ের সুযোগ থাকবে।’

‘আমরা বাংলাদেশকে হালকা ভাবে নিচ্ছি না। তবে একই সময় আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি। আর এই ধারাই আমরা ধরে রাখতে চাই। বর্তমানে টেস্টে আমরা এক নম্বর দল। এটা মেইনটেইন করার চেষ্টা করবো।’-যোগ করেন পুজারা।

এদিকে বাংলাদেশের তরুণ তুর্কি মেহেদি হাসান মিরাজ। অভিষেকেই তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজিমাত করেছেন। এ প্রসঙ্গে পুজারা বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে বল করতে দেখেছি আমি। দেখতে ভালো লেগেছে। তবে বিশেষ উইকেটে তার বল খুবই টার্ন করে। দুই টেস্টেই সে ভালো করেছে। কিন্তু তাকে দেখে নয় তার মুখোমুখি হয়েই আমি মন্তব্য করতে চাই।’

২০১৬ সালে দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিলেন পুজারা। এ সময় তিনি মোট ১১টি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে ৮৩৬ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

‘ভুল ভেন্যুতে একটি টেস্ট খেলার মানে হয় না’

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে টাইগারদের পাঁচদিনের লড়াইকে বিশ্লেষণ করেছেন বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক বোরিয়া মজুমদার। ইকোনমিক টাইমসে তার লেখা কলামে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টেস্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

 

প্রথমেই তিনি ক্রিকেট বিশ্বের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, কেন বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতে সাদা পোশাকে খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি? খুব শক্তিশালী দল না হওয়ার কারণেই কি এত দিন বাংলাদেশকে নিজেদের মাটিতে ডাকেনি ভারত? এটা সত্যি যে এ মুহূর্তে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল। তারা ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ১-১ এ সিরিজ শেষ করেছে। তারা নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ৬০০ রানের কাছাকাছি ইনিংস গড়েছে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের থেকেও শক্তিশালী দল।’

২০০০ সালের জুনে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর অভিষেকে খেলেছে ভারতের বিপক্ষেই, নিজেদের মাটিতে। এরপর বাংলাদেশের মাটিতে আরও কয়েকবার এসে খেলে গেছে ভারত। এর মধ্যে ২০০৪, ২০০৭, ২০১০ ও ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলে গেছে ভারত। একাধিক টুর্নামেন্টেও টিম ইন্ডিয়া বাংলাদেশে এসেছে। অথচ সাদা পোশাকে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাতে ভারতের ১৭ বছর লাগলো কেন, তা নিয়েও ক্ষোভ ঝরেছে বোরিয়া মজুমদারের আলোচনায়।

তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট হলে সেটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে না, এমন ভাবনা কাজ করেছে ভারতীয় বোর্ডের। তারা ভুল ভেন্যু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশকে তারা হায়দ্রাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অথচ ভারতীয় বোর্ডের নিয়মানুযায়ী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সব মাঠে খেলানোর নীতি আছে। তারা কলকাতায় ম্যাচটি নিতে পারতো। সেখানে প্রচুর বাঙালী ক্রিকেট ভক্ত রয়েছে। যদিও কিছুদিন আগে কলকাতায় ম্যাচ খেলেছে ভারত।’

বোরিয়া যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের জন্য হায়দ্রাবাদে খেলা আর কলকাতায় খেলা এক নয়। এই ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কয়েক হাজার দর্শক চলে আসত ম্যাচ দেখতে। দুই বাংলার ক্রিকেট ভক্তদের কথা ভেবে ভারতীয় বোর্ড নিয়ম মেনেই ব্যতিক্রম কিছু করতে পারতো।’

বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক বোরিয়া আরও যোগ করেন, ‘একটা মাত্র টেস্ট খেলার আসলে কোনো মানে হয় না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ওপর নির্ভরশীল নয়। ভারতের এমন প্রস্তাব তারা ফিরিয়ে দিয়ে নিজেদের জোর খাটানোর সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেটা করেনি। আবারও কবে ভারত বাংলাদেশকে খেলতে ডাকবে, সেটাও নিশ্চিত নয়। আর এই ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতকে রুখে দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ কেউ জানে না বাংলাদেশ কখন ঘুরে দাঁড়াবে।’

০৯ ফেব্রুয়ারি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বহুল প্রতিক্ষিত ম্যাচটি।

ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ মুশফিক-তামিম-সাকিবদের

টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের ১৭ বছর পর ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ঢাকা ত্যাগ করলো মুশফিক-তামিম-সাকিবরা। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয় বাংলাদেশ দল। কলকাতা বিকেল সাড়ে ৩ টায় ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে হায়দরাবাদের উদ্দেশে যাত্রা করবে টাইগাররা। আর ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট বিমান ভ্রমণ শেষে হায়দরাবাদে পৌঁছানোর কথা মুশফিক বাহিনীর।

এদিকে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়ার জন্য সকাল ৯ টায় প্রথমে বিমানবন্দরে পৌঁছান টাইগার তারকা মুমিনুল ও শুভাশিস। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন তারা। এরপর আসেন তাইজুল, ইমরুল ও সাব্বির। পরে বিসিবির গাড়িতে এক সঙ্গে বিমানবন্দরে পৌঁছান রাব্বি, মিরাজ, সৌম্য, শফিউল ও লিটন দাস।

এর একটু পর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান মুশফিক ও তাসকিন। এরপর আসেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ। আর সবার শেষে পরিবার নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন সাকিব। ভারত সফরে সাকিবই শুধু পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন।   

এদিকে হায়দরাবাদে পৌঁছে প্রথম দুই দিন বিশ্রাম নেবেন টাইগাররা। যদিও এ সময়ে ঐচ্ছিক অনুশীলন রয়েছে মুশফিক-তামিমদের। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি সেচুন্দেরাবাদের জিমখানা গ্রাউন্ডে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে হবে ম্যাচটি।

এরপর ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ ভেন্যু রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। এরপর ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে ভারতের বিপক্ষে সে ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ। ম্যাচ শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে মুশফিকদের।

উল্লেখ্য, ভারতের বিপক্ষে এ টেস্ট ম্যাচটি গত আগস্টে কলকাতায় হওয়ার কথা ছিল। নানা কারণে সে সময়ে না হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হায়দারাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় বিসিসিআই। তবে এ নিয়ে চলছিল নানা গুঞ্জন। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে অবশেষে ভারতের মাঠে খেলছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি গড়াবে হায়দরাবাদেই।

বাংলাদেশ দল : মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস ও শুভাশিস রায়।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল ঘোষণা

ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে আনা হয়েছে দুটি পরিবর্তন। ভারতের বিপক্ষে দলে ফিরেছেন শফিউল ইসলাম ও লিটন দাস। আর স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও রুবেল হোসেন। বুধবার এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ স্কোয়াড: মুশফিকুর রহীম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস ও শুভাশিস রায়।

বিস্তারিত আসছে…

ভারতের বিপক্ষে হেরে গেল বাংলাদেশ

হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো বাংলাদেশের। অন্ধদের নিয়ে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ১২৯ রানে হেরে গেল লাল-সবুজরা জার্সিধারীরা।   

টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ওপেনার প্রকাশ ও কেতন প্যাটেল। ৫৭ বলে ১৮ চারের সাহায্যে ৯৬ রান করেন প্রকাশ। আর এক ছক্কা ও চার চারে প্যাটেল করেন ৫০ বলে ৯৮ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান করে স্বাগতিকরা।  

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ।  ফলে ১২৯ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ভারতের পক্ষে দীপক মালিক ২ টি উইকেট শিকার করেন।

এদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ডের করা ১১২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার বদর মুনির এবং মোহসিন খানের ব্যাটে ৭.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
 

দর্শকের ভোটেও সেরা মোস্তাফিজ

ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড নাইটে ২০১৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আর তা হয়েছেন নির্বাচকদের দৃষ্টিতে। তবে সেরা ক্রীড়াবিদ বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল দর্শকদেরও। আর তাতেও সেরা ক্রীড়াবিদ হলেন মোস্তাফিজই।

কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ডের সেরা তালিকায় মোস্তাফিজ ছাড়াও ছিলেন তার দুই সতীর্থ তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ছিলেন ২০১৬ সালের সেরা ক্রীড়াবিদ সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারত্তোলনের  মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও হকি তারকা আশরাফুল ইসলাম। সবাইকে পেছনে ফেলে দর্শকদের ভোটেও সেরা হলেন মোস্তাফিজই।

বিস্তারিত আসছে…

বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলেন মাহমুদউল্লাহ

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পুরস্কার দেয়া হয়েছে। দু’বছর মিলিয়ে ২০টি ক্যাটাগোরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। সেখানে বর্ষসেরা ক্রিকেটার হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তবে দুই বছরের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের নাম চমক হিসেবে রাখা হয়েছিল। মনোনীত তিন থেকে সেরাকে বেছে নেয়া হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি পেছনে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও  সৌম্য সরকারকে।

এছাড়া দর্শক ভোটে ছিল পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড। সেখানে ভোটের মাধ্যমে ছয়জন থেকে একজনকে বেছে নেয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা এআইপিএস-এর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ কাশিম।

২০১৫ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন :
বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ: মোস্তাফিজুর রহমান, সেরা ক্রিকেটার: মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সেরা দাবাড়ু: মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, সেরা আর্চার : তামিমুল ইসলাম, উদীয়মান ক্রীড়াবিদ: সারোয়ার জামান নিপু (ফুটবল), সেরা সংগঠক : ইউসুফ আলী, বর্ষসেরা কোচ : সৈয়দ গোলাম জিলানী (ফুটবল), বর্ষসেরা স্পন্সর প্রতিষ্ঠান : ম্যাক্স গ্রুপ, বিশেষ সম্মাননা : আমিনুল হক মনি।

তামিম-আশরাফুলকে পেছনে ফেলে ২০১৬-এর বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ শিলা

২০১৬ সালের এসএ গেমসে বাংলাদেশকে দু’টি স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন মাহফুজা খাতুন শিলা। ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে স্বর্ণ দু’টি পান এ সাঁতারু। আর তাতেই ২০১৬ সালের সেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হন শিলা। পেছনে ফেলেছেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও হকি খেলোয়াড় আশরাফুল ইসলামকে।

এসএ গেমসের সে আসরে পদকের আশায়ই ভারতে গিয়েছিলেন শিলা। তবে তা স্বর্ণপদক হয়ে আসবে ভাবেননি শিলা। যশোর জেলার অভয়নগরের দরিদ্র পরিবারের এ তরুণীই দু’টি স্বর্ণ এনে দেন বাংলাদেশকে। আর তাতেই ২০১৬ সালের বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের পুরস্কার এনে দেয় তাকে।

২০১৬ মৌসুমটা দারুণ কাটিয়েছিলেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি বাংলাদেশের পক্ষে এক বছরে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন। টি-টোয়েন্টিতে ওমানের, ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের ও টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। পাশাপাশি বছর জুড়েই সকল সংস্করণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেন এ দেশসেরা ওপেনার।

হকি এক সময়ে দারুণ সম্ভবনাময় খেলা হলেও বিগত বছরগুলোতে হতাশাই উপহার দিচ্ছিলেন খেলোয়াড়রা। তবে এর মাঝেই ২০১৬ সালে আশরাফুল সিঙ্গাপুরে হয়ে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন আশরাফুল। ফাইনালে দল হারলেও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন বিকেএসপির দশম শ্রেণির এ ছাত্র।

তবে সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচকরা এগিয়ে রাখেন শিলাকেই। ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার কুল-বিএসপিএ স্পোর্টস এওয়ার্ড আজ সোমবার তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেরা ক্রীড়াবিদ শিলা ছাড়াও দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্যাটাগোরির সেরা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, কোচ, সংগঠক, পৃষ্ঠপোষকদের।
 

ক্রিকেটার সানি কারাগারে

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানির জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু  মঙ্গলবার জামিন শুনানি করে এই আদেশ দেন। স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক তরুণীর দায়ের করা এ মামলায় এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাবাদের পর সানিকে এদিন আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ইয়াহিয়া। সানিকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো আবেদন আর তিনি করেননি।

সানির পক্ষে জামিনের আবেদন করে তার আইনজীবী জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে ভুয়া কাবিননামা দিয়ে এ মামলা করা হয়েছে। আরেকটি যৌতুকের মামলা করেছে, সেটাও মিথ্যা। সত্িয হলে এতোদিন কেন মামলা করেনি?’ এই আইনজীবী বলেন, তার মক্কেল জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না।
এর বিরোধিতা করে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, আসামি জামিন পেলে তদন্তে বিঘœ ঘটবে। বাদীর আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন নাসরিন জাহান রুবি। তিনিও জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আরাফাত সানিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী গত ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থাকায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে এ মামলা করার পর গত রোববার আমিনবাজার থেকে ক্রিকেটার সানিকে হ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিন দুপুরে সানিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাইলে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের হেফাজতে নিয়ে এই ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাত বছর আগে পরিচয়ের পর সানির সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর অভিযোগ, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী হিসেবে তাকে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিলে গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। সানি গ্রেফতার হওয়ার পর সোমবার ঢাকার হাকিম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে আরেকটি মামলা করেন ওই তরুণী। সানির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়। অবশ্য সানির মা নার্গিস আক্তারের দাবি, টাকার লোভে ওই মেয়ে তার ছেলেকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে বাঁহাতি স্পিনার সানির অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। দেশের হয়ে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেন।

 

ক্রিকেটার আরাফাত সানি রিমান্ডে

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, এক দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ইয়াহিয়া  রোববার সানিকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের হেফজত মঞ্জুর করেন। আরাফাত সানির আইনজীবী রকিবুল ইসলাম এই রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। অন্যকদিকে বাদীপরে আইনজীবী জুয়েল আহমেদ এর বিরোধিতা করেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন  জানান, হাকিম আদালত তথ্যশপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আসামি জামিন চাইলে তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। গত ৫ জানুয়ারি এক তরুণী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলা করেন বলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান। তিনি বলেন, আরাফাত সানির সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক বলে ওই তরুণীর দাবি। তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়েও করেন। সম্প্রতি তুলে নেওয়ার কথা বললে সানি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে ফেইসবুকে তার অশ্লীল ছবি আপলোড করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৮টার দিকে আমিন-বাজারের বাসা থেকে পুলিশ আরাফাত সানিকে গ্রেপ্তার করে বলে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম মুন্সী জানান। মামলার এজাহারের তথ্য  অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাসা মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায়। মেয়েটির দাবি, সাত বছর আগে সানির সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসে¤॥^রে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় পেণ করতে থাকেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরিবার থেকে বিয়ের জন্যত চাপ থাকায় ওই তরুণী সানিকে বলেন, হয় তাকে তুলে নেওয়া হোক, না হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ব্যুবস্থা করা হোক।
এরপর গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যামে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি এবং ওই তরুণীর কয়েকটি ছবি তাকে পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে। তবে ৩০ বছর বয়সী সানির মা নার্গিস আক্তার মোহাম্মদপুর থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। টাকার লোভে ওই মেয়ে তাকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে। ওই তরুণী সানির সঙ্গে বিয়ের দাবি করলেও কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন নার্গিস। বাংলাদেশ জাতীয় দলে বাঁহাতি স্পিনার সানির অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। দেশের হয়ে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার আগে ২০১৫ সালের নভেম্ব^রে জিম্বাবুয়ের বিপে সিরিজে দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরাফাত সানিকেও নিষিদ্ধ করে আইসিসি। বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের পর এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি সানির। গত বছরের শেষ দিকে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার দিনুকা হেতিয়ারাচ্চির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শূন্য রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি আলোচনাতেও এসেছিলেন। আরাফাত সানির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস  বলেন, আগে সম্পূর্ণ ঘটনা জানতে চান তারা। আমরা এখনো পুরো ব্যাপারটা জানি না। আইসিটি অ্যাক্টে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিতরের ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করছি। এরপর মন্তব্য করতে পারব।

এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ


সকালটা ছিল ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই আকাশ মেঘলা। বিকেলে টুপটাপ বৃষ্টি। শরীর জমিয়ে দেওয়া হিম বাতাস; ‘টিপিক্যাল’ নিউ জিল্যান্ড আবহাওয়া। কিন্তু হ্যাগলি ওভালে তখন শুধুই বাংলাদেশ! ২২ গজে চলছে সাকিব-রাজত্ব। কে বলবে, কন্ডিশন বিরুদ্ধ আর উইকেট সিমিং ও বাউন্সি! যেন বাংলাদেশেরই আপন আঙিনা।

তিন পেসার আগুন ঝরালেন দিনভরই। বিবর্ণ প্রথম স্পেলের পর মেহেদী হাসানও মিরাজও উজ্জল। বোলাদের এমন দিনেই কিনা প্রায় উধাও হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। শেষ বিকেলে হয়তো ভাবলেন, এবার কিছু না করলেই নয়!

ক্রাইস্টচার্চের আকাশের কান্না যখন শুরু; সাকিবের হাত ধরেও এল ছোটখাটো উইকেট বৃষ্টি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দিলেন কিউই ব্যাটিং। বিকেল পর্যন্ত সমতায় থাকা দিনটি হয়ে গেল শুধুই বাংলাদেশের।

বৃষ্টির বেগ বাড়ায় থামল বাংলাদেশের ছন্দ। নিউ জিল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ২৬০। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে পিছিয়ে ২৯ রান। ১৯ ওভার আগে শেষ হয়েছে দিনের খেলা।

দিনটি বাংলাদেশের, সাক্ষী স্কোরকার্ড। তবে স্কোর তো আর সবসময়ই বলতে পারে না পুরোটা! এদিনও যেমন স্কোরকার্ডে লেখা নেই, ভালো দিনটি হতে পারতো অসাধারণ, যদি না পড়তো একের পর এক ক্যাচ। যদি না ভুল করতেন আম্পায়ারও। কে জানে, হয়ত বেশ একটা লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনেই বাংলাদেশ শুরু করতে পারত দ্বিতীয় ইনিংস।

সাকিব ঝলকের আগে দিনজুড়ে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। এখানেও বোলিং ফিগার বলছে না পুরোটা। বলছে না বাংলাদেশের তিন পেসারই কতটা ভুগিয়েছেন কিউই ব্যাটসম্যানদের।

অসাধারণ প্রথম স্পেলে দিনের সুরটা বেঁধে দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৭ ওভারের প্রথম স্পেলে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু ভাগ্যকে একটু পাশে পেলে পেতে পারতেন গোটা দুই-তিন উইকেট।

আরেকপাশে আবার শুরু মিরাজের স্পিনে এবং যথারীতি ক্যাচ মিস। জিত রাভাল ২ রানে বেঁচে যান স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। ১২ রানে বেঁচে যান আরও দুবার। একবার হতে পারতেন রান আউট। পরে স্লিপে সহজ ক্যাচ হাতছাড়া সাব্বিরের।

তাসকিনের দারুণ বোলিং দেখেও আরেকপাশে মিরাজকে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলা যায়। কামরুল ইসলাম রাব্বি এসেই সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন বটে, আবার প্রশ্নটিও উচ্চকিত করেছেন।

তিন বার বেঁচে গিয়েও রাভাল ফিরেছেন ১৬ রানে। কামরুল আগের ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট। এবার দ্বিতীয় বলে। এক বল বেশি লাগল বলেই কিনা, পুষিয়ে দিলেন জোড়া শিকারে। দ্বিতীয়টি আবার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার। অফ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়া নিখুঁত আউট সুইঙ্গারে বিদায় কেন উইলিয়ামসন।

১ রানে রস টেইলরকেও ফেরাতে পারতেন কামরুল। ক্যাচ ছেড়েছেন সেই মাহমুদউল্লাহ। রুবেল উইকেট না পেলেও বল করছিলেন দারুণ। ততক্ষণে থিতু হওয়া টম ল্যাথামকে নাড়িয়ে দেন বাউন্সারে বল হেলমেটের গ্রিলে লাগিয়ে।

ল্যাথাম ও টেইলর মিলে তবু কাটিয়ে দেন প্রথম সেশনের বাকিটা। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে একটু যেন কমলো বোলিংয়ের ধার। তাতে আলগা কিউইদের ফাঁস। তৃতীয় উইকেটে ল্যাথাম ও টেইলরের ১০৬ রানে জুটি।

উইকেট নেওয়ার মত অসংখ্য সুযোগ সৃষ্টি করেও না পাওয়া তাসকিন শেষ পর্যন্ত পেলেন আপাত নিরীহ এক বলে। অফ স্টাস্পের বাইরে কাট করতে গিয়ে একটু বাড়তি লাফানো বলে ৬৮ রানে আউট ল্যাথাম।

শুরুতে জীবন পাওয়া টেইলর আবার ৭৫ রানে বেঁচে যান মিরাজের বলে কামরুলকে ক্যাচ দিয়ে। তৃতীয় কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে পূর্ণ করেন ৬ হজার টেস্ট রান। তবে মার্টিন ক্রোর ১৭ সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি এদিনও। সেই মিরাজই ফিরিয়েছেন তাকে ৭৭ রানে।

থিতু দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর ধাক্কাও কিউইরা সামলে উঠেছিল হেনরি নিকোলস ও মিচেল স্যান্টনারের জুটিতে। বেশ কবার আউট হতে হতেও বেঁচে গিয়ে দুজন গড়েন ৭৫ রানের জুটি। মনে হচ্ছিলো ভালোভাবেই লিড নিয়ে নেবে নিউ জিল্যান্ড। তখনই দৃশ্যপটে সাকিব। আর তিনি নায়কের ভূমিকায় মানে রাজত্বও বাংলাদেশের!

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দিন শেষে ৩২ রানে ৩ উইকেট! চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররা বুঝি এমনই। গোটা দিনটা নিজের করে নিতে লাগে মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৮৯

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৭১ ওভারে ২৬০/৭ (রাভাল ১৬, লাথাম ৬৮, উইলিয়ামসন ২, টেইলর ৭৭, নিকোলস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, ওয়াটলিং ১, ডি গ্র্যান্ডহোম ০, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রুবেল ০/৫৪, কামরুল ২/৪৮, সাকিব ৩/৩২, সৌম্য ০/১০)

 

২৮৯ রানে থেমে গেলো বাংলাদেশের ইনিংস

মুশফিক নেই। ইমরুল এবং মুমিনুল হকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাতে ভাঙা-চোরা একটি দল। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের সবুজ উইকেটে টস হেরে ব্যাট করারই আমন্ত্রণ পেলো বাংলাদেশ। কিউই পেস ব্যাটারির সামনে তবুও বলতে গেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

তবুও কিউই পেসারদের তোপ সামলে প্রথম পুরোটা শেষ করতে পারলো না তামিম অ্যান্ড কোং। যার ফলশ্রুতিতে প্রথম দিন শেষ হওয়ার ৫ ওভার আগ পর্যন্ত ২৮৯ রান তুলতেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। এরপরই দিনের খেলারও সমাপ্তি ঘোষণা করেন ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথ।

ইমরুলের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের ব্যাটই (৮৬) কিছুটা হেসেছিল। এছাড়া প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানের ব্যাটও (৫৯) কথা বলেছে। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের পরিবর্তে টেস্টে অভিষিক্ত নুরুল হাসানের (৪৭) দৃঢ়তা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসটা ছিল মোটামুটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

ওয়েলিংটন টেস্টেই বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল মিনি হাসপাতালে। ইনজুরির শিকার হয়েছেন মুশফিকুর রহীম, ইমরুল কায়েস এবং মুমিনুল হক। তিনজনই দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান। মুশফিক প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। ইমরুল ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও মুশফিকের পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেলেন। তামিমের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে ওপেন করতে নেমে জ্বলে উঠতে পারতেন তিনি।

মুমিনুল তো ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসে কিউই পেসারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। তার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল সাহসে ভরপুর। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। ক্রাইস্টচার্চেও ছিলেন ভরসার অন্যতম প্রতীক। কিন্তু পাঁজরের হাঁড়ে বল লেগে তিনিও ইনজুরির শিকার।

এ তিনজনের পরিবর্তে অভিষেক হলো নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহানের। শান্ত দলের সঙ্গে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট পারফরমার হিসেবে; কিন্তু কী ভাগ্য- একের পর এক অন্যদের ইনজুরি শান্তর মাথায় টেস্ট ক্যাপই পরিয়ে দিলো। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার এবং পেসার শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে রুবেল হোসেন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলীয় ৭ রানের মাথায় টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন তিনি। তামিমের আউটের পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ মিলে ভালো একটা জুটি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের ৩১ রানের জুটিটা ভেঙে দেন ট্রেন্ট বোল্ট। উইকেটের পেছনেই ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তখন তার নামের পাশে লেখা ২৪ বলে ১৯ রান।

তামিম-মাহমুদউল্লাহ ফিরে গেলেও সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। দু’জন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন। দু’জনই তুলে নিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার।

যদিও নান্দনিক সব শট আর দারুণ আত্মবিশ্বাসে মনে হচ্ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে যাওয়ার অনেক আগেই ফিরে গেছেন এ ড্যাসিং ওপেনার। ট্রেন্ট বোল্টের ফুল লেন্থের বল ঠিকভাবে খেলতে না পেরে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। খেলেছেন ৮৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ১০৪ বল মোকাবেলা করে এ রান করতে চার মেরেছেন ১১টি।

সৌম্য সরকারের বিদায়ের পরই উল্টে যায় সবকিছু। মাত্র ১৭ বলের ব্যবধানে ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। দ্রুতই আউট হয়ে যান প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা সাব্বির রহমান। এমনকি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আগের টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানও। ফলে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

ট্রেন্ট বোল্টের পরের ওভারেই দলীয় ১৭৭ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাউদির হাতে ধরা পড়েন সাব্বির রহমান। ব্যাটিং অর্ডারে দুই ধাপ উন্নতিকে কোনো কাজেই লাগাতে পারেননি তিনি। আউট হলেন মাত্র ৭ রান করে। দলীয় ১৭৯ রানে টিম সউদির লেগ স্ট্যাম্পে থাকা বল ফ্লিক করতে গিয়েছিলেন সাকিব। বল ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৯ রান করেছেন তিনি।

সাকিবের বিদায়ের পর কিউই পেসারদের বেশ কিছুক্ষণ রুখে দাঁড়াতে পেরেছিলেন দুই অভিষিক্ত নাজমুল হোসেন শান্ত এবং নুরুল হাসান সোহান। প্রায় ২০ ওভার মোকাবেলা করেছে এ দু’জনের জুটি। রান করেছে ৫৩টি। তবে কিউই পেসারদের একের পর এক বাউন্সার আর শট বলের সামনে এক পর্যায়ে হার মানতে বাধ্য হন সদ্যই কৈশোর শেষ করা শান্ত। ৫৬ বল মোকাবেলায় ১৮ রান করে ফিরে যান তিনি।

শান্তর তুলনায় উইকেটে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেখাতে সক্ষম হন নুরুল হাসান সোহান। ৯৮ বলে তিনি খেলেন ৪৭ রানের ইনিংস। সোহানের জন্য আফসোস অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরির একেবারে দোরগোড়ায় গিয়ে পেলেন না। ট্রেন্ট বোল্টের ক্রমাগত শট বলেই ধরা খেলেন তিনি। মাথা বরাবর আসা বলকে পুল করতে গিয়েছিলেন সোহান। ফল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে।

তার আগেই অবশ্য মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েগনারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১০ রান করে।  ২৬ বল খেলে ৮ রান করে আউট হন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের পরই আউট হন সোহান। এরপর কামরুল ইসলাম রাব্বি আর রুবেল হোসেন মিলে ইনিংসের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে রাব্বি আউট হলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে যান রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশের ১০টি উইকেটই নেন কিউই পেসাররা। টিম সাউদি নেন ৫টি। ৪টি নেন ট্রেন্ট বোল্ট। বাকি উইকেটটি নিলেন নিল ওয়েগনার।
 



Go Top