রাত ৮:৪৩, শুক্রবার, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে দেখা যেতে পারে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল থেকে এমনটাই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের গত আসরে খেলেছিল সাত দল। এবারের আসরে দল বেড়ে হচ্ছে আটটি। এক আসর পর নতুন মালিকানায় বিপিএলে ফিরছে সিলেট। বিপিএলের তৃতীয় আসরে অংশ নেয়া ছয়টি দল থেকে চতুর্থ আসরে বাদ দেয়া হয় সিলেট রয়্যালসকে। মালিকানা বদলে বিপিএলের গেল আসরে ফিরে আসে প্রথম দুই আসরে অংশ নেয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ও খুলনা। তবে, এক আসর পর নতুন মালিকানায় ফিরছে সিলেট।

আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বিপিএল শুরু হলেও এরইমধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দল গোছাতে। গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানিয়েছেন, দল বাড়ার ফলেই আইকন খেলোয়াড়ও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে যাদের পারফরম্যান্স ভালো, তাদেরই আইকন হিসেবে বিবেচনা করছি আমরা। এই বিবেচনায় নতুন আইকন মোস্তাফিজুর রহমানই হবেন।’

২০১৫ আসরে মোস্তাফিজ খেলেছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসে। ইনজুরি থাকার কারণে গত আসরে ঢাকার হয়ে মাঠে নামতে পারেননি।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সূত্রে জানা গেছে, আইকন হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অফফর্মে থাকায় সৌম্য সরকারের পরিবর্তে ইমরুল কায়েসকে আইকন করা হতে পারে। এদিকে, কুমিল্লা বিপিএলের নিয়ম মেনেই পুরোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে চারজনকে রেখে দিতে ইচ্ছুক। সেক্ষেত্রে তারা বেছে নেবে ইমরুল, সাইফুদ্দিন, লিটন দাসকে। মাশরাফিকে ছেড়ে দিলেও ইমরুলকে ছাড়বে না দলটি। তাই, আইকন হিসেবে ইমরুলের অন্তর্ভূক্তি নিয়ে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করবে কুমিল্লা। কারণ, ইতোমধ্যেই কুমিল্লা আইকন হিসেবে তামিম ইকবালকে দলে টেনেছে।

আগামী সেপ্টেম্বরে প্লেয়ার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। নভেম্বরের ৪ তারিখ মাঠে গড়াবে বিপিএলের পঞ্চম আসরটি। তার দুইদিন আগে আসন্ন আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

তামিমের দলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নায়করা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আইকন ক্রিকেটার হিসেবে বেছে নিয়েছে দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। একই সঙ্গে দলে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা জয়ের দুই নায়ক হাসান আলি আর ফখর জামানকে।

কুমিল্লা নিজেদের গুছিয়ে নিতে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে।

তামিমের সাথে দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারকে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করে ফেলেছে কুমিল্লা। গতবারের মতো এবারো দেশের আরেক তারকা ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসকে রেখে দিচ্ছে।

বিপিএলের গত দুই মৌসুমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ২০১৫ আসরে শিরোপাও জিতে নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে সুবিধা করতে পারেনি পরের আসরে। এবার নতুন আইকন তামিম ইকবালকে নিয়ে এগুতে চায় দলটি।

হারানো মুকুট ফিরে পেতে দলটি এবার টেনে নিয়েছে আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী, পাকিস্তানের সেরা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক, শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো, পাকিস্তানের ফাহিম রহমান, ইমরান খান জুনিয়রকে। আছেন পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিরো ফাস্ট বোলার হাসান আলি, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ফখর জামানও।

ইংল্যান্ডের মাটিতে গত মাসে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিততে দারুণ অবদান রাখেন পেসার হাসান আলি। তিনি ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। আর ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের মঞ্চে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে প্রথমবার এই মেগা ইভেন্ট জিততে সাহায্য করেছিলেন ওপেনার ফখর জামান।

ভিক্টোরিয়ান্সের সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এই দুই নায়কই এবার কুমিল্লার শিবিরে যোগ দেবেন। আর এটাই হতে যাচ্ছে তাদের জন্য প্রথম বিদেশি কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফখর জামানের ওয়ানডে অভিষেক হয়। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ১১৪ রানের নায়োকোচিত ইনিংস খেলেছিলেন। পুরো আসরে করেছিলেন ২৫২ রান। আর হাসান আলি ফাইনালে ৩ উইকেটসহ পুরো টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর

বিপিএল একাদশে ফিরতে পারে পাঁচ বিদেশি

প্রথম দুই আসরে একাদশে পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৫ ও ২০১৬ এডিশনে নিয়ম পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের ইভেন্ট সামনে রেখে ইস্যুটি নিয়ে ভাবছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

একাদশে পাঁচজন বিদেশি খেলোনোর সুযোগ ফিরিয়ে আনা হবে নাকি চারজনই রাখা হবে সে বিষয়ে খুগ শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। জানা যায়, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এক সাক্ষাৎকারে লিগ সেক্রেটারি ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ‘একাদশে চারজন অথবা পাঁচজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর বিষয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মতামত নেওয়া হবে। এরপর আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

আগামী ৪ নভেম্বর বিপিএলের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চূড়ান্ত দল গোছানোর জন্য প্লেয়ার ড্রাফট হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। এবার শিরোপা লড়াইয়ে আটটি টিম অংশ নিচ্ছে। এক সিজনের বিরতিতে ফিরছে সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি। তিন ভেন্যু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মোট ৬০টি ম্যাচ উপভোগ করবেন দর্শকরা।

এই বিভাগের আরো খবর

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ডেনিস লিলি এখনো জ্বলন্ত নক্ষত্র

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গতি দিয়ে যারা ঝড় সৃষ্টি করেছেন তাদের মাঝে অন্যতম হলেন পেস বোলার ডেনিস লিলি।

৭০ এর দশকে তিনিই ছিলেন ফাস্ট বোলিং এর একমাত্র রাজা। যেমন গতি তেমন সুইং, এই দুইয়ে মিলে ডেনিসের বল খেলতে যেন ব্যাটসম্যানদের প্রায়ই চোখ ছানাবড়া হয়ে যেত। তাই তো অনেকের কাছে এখনো ডেনিস লিলিই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পেসার।

অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই তুলে নেন পাঁচ উইকেট! বর্তমানে পাঁচ উইকেট নেওয়া রীতিমতো পানসে হয়ে গেলেও সে সময় এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়াটা ছিল অনেকটা অকল্পনীয়। ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিল যেন একদম স্বপ্নের মতো। দুর্দান্ত ওই শুরুর পর ক্যারিয়ারে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ডেনিসকে। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পদাচারণ হয় এই বোলারের।

বোলিংটা যেন তার একেবারে রক্তে মিশেছিল। তা না হলে মাত্র ৭০ টেস্টেই ৩৫৫ উইকেটের দেখা পাওয়া যে অনেকটা অসম্ভবই বটে। তাছাড়া সত্তরের দশকে ক্রিকেট ছিল এখনকার চেয়ে অনেক বেশি সংকুচিত। তবে এতোকিছুর ভিড়েও সে সময়ে তিনিই ছিলেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের সেরা পেস বোলার। গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের উইকেটে আঘাত হানা যেন তার কাছে ছিল এক প্রকার ছেলেখেলা। তাই তো টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন সে সময়ের বোলারদের মাঝে  সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহায়ক হিসেবেই। সেই সাথে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ম্যাচে ৩৫০ উইকেট নেবার রেকর্ডটিও তার দখলেই। তবে মজার ব্যাপার হলো এতো বছর পরেও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে বোলারদের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের তালিকায় তিনি এখনো রয়েছেন তিন নম্বর অবস্থানে। তার আগে রয়েছেন শুধুমাত্র শেন ওয়ার্ন এবং গ্লেন ম্যাকগ্রা।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অনেক অবদানই রেখেছেন পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। সেই সাথে করে গেছেন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রেকর্ডও। ক্যারিয়ারে খেলেছেন কেবল মাত্র ৮৪ টি টেস্ট ম্যাচ,  আর এরই মাঝে ২৪.৩৯ গড়ে তুলে নিয়েছেন ৪২২টি উইকেট! এতো কম ম্যাচ খেলে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যে কি না ছুঁতে পেরেছেন ৪০০ উইকেট সংগ্রহের মাইলফলক।

তার টেস্ট ক্যারিয়ার অর্ধেক অংশ জুড়েই যেন ছিল এশেজ টেস্ট সিরিজ। এশেজে কেবল মাত্র ২৯ টি টেস্ট ম্যাচ খেলবার সুযোগ মিললেও এই ম্যাচগুলোতেই বাজিমাত করেছেন এই গতিমানব। ২৯ টেস্টে  ১৬৭ টি উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত এই টেস্ট সিরিজে সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন এই বোলার। অন্যদিকে ৩৬ ম্যাচে ১৯৫ উইকেট নিয়ে এখানেও শীর্ষে রয়েছেন শেন ওয়ার্ন।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। কেবল মাত্র ২৪ ম্যাচ খেলে ৫০ উইকেট নিয়ে সেসময় গড়েছিলেন দ্রুততম অর্ধশত উইকেট নেবার রেকর্ড। বর্তমানে ১৯ ম্যাচে পঞ্চাশটি উইকেট নিয়ে অজন্তা মেন্ডিস রয়েছেন সবার উপরে। অন্যদিকে তিনি অবস্থান করছেন ঠিক তিন নম্বরে। দ্রুততম শতটি উইকেট নেবার তালিকাতেও এখন পর্যন্ত তিন নম্বরে অবস্থান করছেন। ৬৩ ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা ১০৩! তবে এক দিক দিয়ে তিনি রয়েছেন সবার উপরে। আর এটি হলো ওয়ানডেতে সর্বপ্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ডটি তার দখলেই।

পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ার যেন নিজের রঙ তুলি দিয়েই রঙিন করে সাজিয়েছিলেন সাদাকালো যূগের এই পেসার। আজ এই রঙিন ক্রিকেটারের ৬৮ তম জন্মবার্ষিকী।  ১৯৪৯ সালের আজকের দিনটায় অর্থাৎ ১৮ জুলাই অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহন করেছিলেন এই পেসার। জন্মদিনে তাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

এই বিভাগের আরো খবর

স্পিনে নতুন চমক দেখাতে চান ইয়াসির

পাকিস্তান দলে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল ও কার্যকরী স্পিনার ইয়াসির শাহ। ঘূর্ণি বলের জাদুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের প্রায়ই বোকা বানাতে দেখা যায় তাকে। নিজের স্পিন বলে আরও রহস্য যোগ করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এ লেগ স্পিনার।

বর্তমানে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে খেলছেন ইয়াসির। সেখানে বোলিং নিয়ে নিজের নতুন প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন ইয়াসির। ইংল্যান্ডে এক সাক্ষাকারে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি অ্যাকশন যথাযথ প্রয়োগের ‍উপর জোর দিচ্ছি। তবে আমি গুগলি বলের উন্নতির জন্যও কাজ করছি। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে দর্শকরা আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল দেখতে পাবেন। বোলিংয়ের উন্নতির জন্য আমি বেশ অনুশীলন করছি।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে ইয়াসির শাহ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের জন্যও আমি মনযোগ দিচ্ছি। খেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ মনে করে আমি এই দক্ষতাটি বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। আমি ভাগ্যবান যে কেন্টের কোচরা আমার বাটিংয়েও সাহায্য করছে।’

ইংলিশ কাউন্টিতে খেলার গুরুত্ব নিয়ে ইয়াসির বলেন, ‘কাউন্টিতে খেলার সুবিধা হচ্ছে এখানে আপনি দক্ষতাকে পরিশুদ্ধ করার অনেক সময় পাবেন। বোলিং মেশিনসহ এখানে ভালো কোচদের পরামর্শ পাওয়া যায়।’

এই বিভাগের আরো খবর

বিজয়ের জায়গায় ধাওয়ান

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে রানের বৃষ্টি ঝরিয়েছেন শিখর ধাওয়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাও খারাপ কাটেনি এই ওপেনারের। তবু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা হয়নি তার। শেষ পর্যন্ত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দরজা খুলেই গেল ধাওয়ানের। মুরালি বিজয়ের চোট সুযোগ করে দিয়েছে তাকে সামনের শ্রীলঙ্কার সফরে দলে। কব্জির চোটে ছিটকে গেছেন বিজয়।

ঘরের মাঠের মৌসুমের ১৩ টেস্টের মাত্র একটি মিস করেছিলেন বিজয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টে বাদ পড়ার কারণটা ছিল এই ইনজুরিই। এ জন্য অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল ওপেনার। কব্জির চোট কাটিয়ে ওঠার কাজ করতে থাকা এই ওপেনারকে শ্রীলঙ্কা সফরে পাওয়া যাবে ভেবেই দলে রেখেছিলেন নির্বাচকরা। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে আবারও পুরনো চোট ফিরে এসেছে। তাই ফিজিও বিজয়কে পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্রামের।

বিজয়ের বিশ্রামের সিদ্ধান্তে টেস্ট দলের দরজা আবার খুলে গেছে ধাওয়ানের। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দারুণ সময় কাটানো এই ব্যাটসম্যান ছাড়াও দলে আগে থেকেই ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে ছিলেন অভিনব মুকুন্দ। কাঁধের চোট কাটিয়ে ফেরা লোকেশ রাহুলের সঙ্গে এদের যে কোনও একজনকে দেখা যাবে ইনিংস শুরু করতে।

শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত খেলবে তিনটি টেস্ট। গল টেস্ট দিয়ে এই সিরিজ শুরু হবে ২৬ জুলাই। ক্রিকইনফো

ভারতের টেস্ট দল : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, চেতশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানে, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ সামি, কুলদীপ যাদব, অভিনব মুকুন্দ।

আত্মসমর্পণের পর সানির জামিন

যৌতুকের মামলায় পলাতক দেখিয়ে অভিযোগ গঠনের পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ‘চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত’ ক্রিকেটার আরাফাত সানি। গতকাল সোমবার দুপুরের বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আদালতে হাজির হন সানি; তার পক্ষে চিকিৎসার কাগজপত্র উপস্থাপন করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মুরাদুজ্জামান। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু আরাফাত সানির জামিন মঞ্জুর করেন বলে তার আইনজীবী জানান।

জামিনের শুনানিতে মুরাদুজ্জামান আদালতকে বলেন, তিনি (আরাফাত সানি) সত্যি সত্যি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। পরোয়ানার খবর পেয়ে আদালতে এসেছেন। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সানি এসময় কোনো কথা বলেননি। দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন সুলতানার করা এই মামলায় রোববার একই বিচারক আরাফাত সানিকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। ‘চিকুনগুনিয়া জ্বরের’ কারণে সানির অনুপস্থিতির দেখিয়ে দেখিয়ে তার পক্ষে আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও বিচারক তাতে কান দেননি।

 

 

 

ইংল্যান্ডের দুই যুগের অপেক্ষার অবসান

নখ কামড়ানো উত্তেজনার ম্যাচে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হয়েছে ইংল্যান্ডের মেয়েদের। ১৯৯৩ সালের ২৪ জুলাইয়ের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে তারা।

১৯৯৩ সালের সেই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ড। তার পাঁচটিতেই হারে তারা, অন্যটি পরিত্যক্ত। এবার ব্রিস্টলে শেষ হল অপেক্ষা।

টস জিতে রোববার ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৫৯ রান করে ইংল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৪৯ রান ট্যামি বিউমন্টের। ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যাথরিন ব্রান্ট।
৪২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার এলিস ভিলানি।

জবাবে ৮ উইকেটে ২৫৬ রানে থামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ইনিংস। সর্বোচ্চ ৭০ রান আসে এলিস পেরির ব্যাট থেকে। চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক মেগ ল্যানিং করেন ৪০ রান।

দুটি করে উইকেট নেন অ্যালেক্স হার্টলি, ব্রান্ট ও জেনি গান। অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ব্রান্ট।
এই জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে উঠে এসেছে ইংল্যান্ড। সমান পয়েন্ট হলেও রান রেটে পিছিয়ে পরের দুটি স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত।

এই বিভাগের আরো খবর

লুইস ঝড়ে উড়ে গেল ভারত

ফরম্যাট বদলের সঙ্গে যেন বদলে গেলেন এভিন লুইস। ওয়ানডে সিরিজের অনুজ্জ্বল বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে খেললেন বিধ্বংসী এক ইনিংস। তাতে উড়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত।


জ্যামাইকায় ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৯ উইকেটে, নয় বল হাতে রেখে। ক্যারিবিয়ানে এটাই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। আগের সেরা ছিল ২০১৪ সালে ব্রিজটাউনে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে।

দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়ার পথে ১২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন লুইস। তার ক্যারিয়ার সেরা তো বটেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়েও এটা টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রিস গেইলের ১১৭ ছিল আগের সেরা।

গেইল ও নিউ জিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পর তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে দুটি শতক পেলেন লুইস। তার আগের শতকটিও ছিল ভারতের বিপক্ষে। সেবার করেছিলেন ১০০ রান। 

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে জ্বলে উঠতে পারেননি গেইল। একটি করে ছক্কা-চারে ফিরেন ১৮ রান করে। লুইসের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ৮.২ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভেঙে গেইলের ফেরার সময় স্কোর বোর্ডে ছিল ৮২ রান।

মারলন স্যামুয়েলস সঙ্গ দিয়ে গেছেন ভারতীয় বোলারদের চোখের পানি-নাকের পানি এক করে দেওয়া লুইসকে। তার ছক্কা বৃষ্টিতে উড়ে যায় ভারতের জয়ের আশা। ৬২ বলে ১২৫ রানের ইনিংসে ১২টি ছক্কার সঙ্গে ৬টি চার- বাউন্ডারি থেকেই আসে ৯৬ রান!

অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে ১১২ রানের জুটিতে স্যামুয়েলসের অবদান ৩৬ রান।

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে চার ইনিংস মিলিয়ে লুইস করেন মোটে ৬৭ রান। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসেই করে ফেললেন তার প্রায় দ্গিুণ। অবশ্য ৪৯ ও ৫৫ রানে দুবার ক্যাচ দিয়েও তিনি বেঁচে না গেলে খেলার চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র উইকেটটি নেন অভিষিক্ত স্পিনার কুলদীপ যাদব।

স্যাবিনা পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটাও ছিল দারুণ। ২৭ বলে কোহলির ৩৯ আর ১২ বলে শিখর ধাওয়ানের ২৩ রানে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল অতিথিরা।

৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে প্রথম অর্ধশতকের পথে ছিলেন দিনেশ কার্তিক। ৪৮ রানে তাকে বোল্ড করে থামান স্যামুয়েলস। এরপর রিশাব পান্ত, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কেদার যাদবের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে যায় ভারত।

শেষের দিকে রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যাটে ১৯০ পর্যন্ত যায় ভারত। কিন্তু লুইস ঝড়ে তা কোনো বাধাই হতে পারেনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৯০/৬ (কোহলি ৩৯, ধাওয়ান ২৩, পান্ত ৩৮, কার্তিক ৪৮, ধোনি ২, কেদার ৪, জাদেজা ১৩*, অশ্বিন ১১*; বদ্রি ০/৩১, টেইলর ২/৩১, উইলিয়ামস ২/৪২, ব্র্যাথওয়েট ০/২৬, নারাইন ০/২২, স্যামুয়েল ১/৩২)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.৩ ওভারে ১৯৪/১  (গেইল ১৮, লুইস ১২৫*, স্যামুয়েলস ৩৬*; ভুবনেশ্বর ০/২৭, অশ্বিন ০/৩৯, শামি ০/৪৬, কুলদীপ ১/৩৪, জাদেজা ০/৪১)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ১-০ ব্যবধানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এভিন লুইস

এই বিভাগের আরো খবর

ডিকভেলা-গুনাথিলাকার ইতিহাস গড়া জুটি

এক সঙ্গে মাত্র ছয় ইনিংসে ব্যাট করেই ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন নিরোশান ডিকভেলা ও দানুশকা গুনাথিলকা। ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো টানা দুই ইনিংসে দুইশ রানের জুটি গড়েছেন শ্রীলঙ্কার দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

দুই জনে প্রথম জুটি বাঁধেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেই টুর্নামেন্টের দলেই ছিলেন না গুনাথিলকা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচে চামারা কাপুগেদারা চোট পেলে দলে আসেন তিনি।

সেই ম্যাচেই স্লো ওভার রেটের জন্য উপুল থারাঙ্গা দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলে ডিকভেলার সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন গুনাথিলাকা। দুই জনের জুটির শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না।

কোন ম্যাচ রান পেয়েছেন ডিকভেলা, কোনোটায় গুনাথিলকা। জুটি জমছিল না। প্রথম চারটি জুটিতে ৯, ১৬, ২৬ ও ১১ রান তোলার পর বিচ্ছিন্ন হন দুই জনে। এর শেষ দুটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে থারাঙ্গা ফিরলেও তাকে চার নম্বরে খেলায় শ্রীলঙ্কা।

তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে জুটিতে সাফল্যের দেখা পায় ডিকভেলা-গুনাথিলকা জুটি। তাদের ২২৯ রানের বিশাল জুটির ওপর ভর করে দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো তিনশ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতে শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে শতক পান দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

হাম্বানটোটার মাহিন্দা রাজাপাকসা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। টানা দুই ইনিংসে পৌঁছান দুইশ রানে। উদ্বোধনী জুটি তো বটেই ওয়ানডেতে এর আগে কোনো জুটিতেই এই কৃতিত্ব নেই আর কারও।

আগের ম্যাচের ২২৯ রানের পর এবার ২০৯। জুটির রান দুইশ ছোঁয়ার আগে শ্রীলঙ্কার অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা দুই ম্যাচে শতক করেন ডিকভেলা। নবম ব্যাটসম্যান হওয়ার সুযোগ ছিল গুনাথিলকার সামনে। কিন্তু ৭টি চারে ৮৭ রান করে ম্যালকম ওয়ালারের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

আগের ম্যাচের ১০২ ছাড়িয়ে এবার ডিকভেলা থামেন ১১৬ রানে। তার ১১৮ বলের ইনিংসটি গড়া ৮টি চারে।

 

এক ম্যাচ নিষিদ্ধ রাবাদা

বিশাল এক ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন বেন স্টোকসকে আউট করার পর অনুচিত ভাষা ব্যবহার করায় এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন কাগিসো রাবাদা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলা হবে না এই পেসারের।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনের শুরুতে স্টোকসকে ফিরিয়ে শতরানের জুটি ভাঙেন রাবাদা। এরপর অনুচিত ভাষা ব্যবহার করেন তরুণ এই পেসার, যা স্টাম্পের মাইক্রোফোনেও স্পষ্ট শোনা যায়।

এই কাণ্ডে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা হয়, সঙ্গে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট পান রাবাদা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে কেপ টাউনে ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার নিরোশান ডিকভেলার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিলেন রাবাদা।

চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট হয়ে যাওয়ায় ১৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না রাবাদা।  ২১ বছর বয়সী পেসার নিজের দোষ স্বীকার করায় এবং ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর দেওয়া শাস্তি মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির দরকার পড়েনি।

 

ভারতের নায়ক ‘ওয়াইন’ ধোনি

বয়সের সঙ্গে কিভাবে বাড়ছে ব্যাটের ধার? পুরস্কার বিতরণীতে সঞ্চালকের প্রশ্নে হাসলেন ম্যাচ-সেরা মহেন্দ্র সিং ধোনি, “ওয়াইনের মতো!” সময়ের সঙ্গে যেমন দামি হয়ে উঠে ওয়াইন, তেমনি ৩৬ ছুঁইছুঁই ধোনিও ভারতের জন্য মহামূল্য। সেটি দেখিয়ে দিলেন আরও একবার।

ব্যাটিং দূরুহ উইকেটে আরেকটি ‘ফিনিশিং মাস্টারক্লাস’ মেলে ধরলেন ধোনি। গড়ে দিলেন জয়ের ভিত। বাকি কাজ সারলেন স্পিনাররা। তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯৩ রানে উড়িয়ে দিল ভারত।

অ্যান্টিগায় শুক্রবার ভারতের ২৫১ রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ করতে পারে মাত্র ১৫৮। গুটিয়ে যায় ৭১ বল আগেই।

৫ ম্যাচ সিরিজের তিনটি শেষে ভারত এগিয়ে ২-০তে। প্রথম ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছিল বৃষ্টিতে।

আগের দিনের বৃষ্টিতে শুক্রবারের ম্যাচও শুরু হয়েছিল ৪৫ মিনিট দেরিতে। স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের উইকেট খানিকটা আর্দ্র ও স্যাঁতস্যাঁতে দেখে টস জিতে জেসন হোল্ডার নিলেন বোলিং।

উইন্ডিজ অধিনায়কের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল। উইকেটে গতি ছিল দুরকম, বাউন্স অসমান। নতুন বলে মিগুয়েল কামিন্স ও হোল্ডার বেশ চেপে ধরেন ভারতকে।

টানা ৮ ইনিংস পর ওয়ানডেতে দু অঙ্কের নিচে আউট হন শিখর ধাওয়ান। বিরাট কোহলিকে বাউন্সারে বারবার কাঁপিয়ে ও নাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বাউন্সারেই ফেরান হোল্ডার।

অজিঙ্কা রাহানে ও যুবরাজ সিং লড়াই করে টেনে নেন দলকে। রানের গতি ছিল মন্থর। ১৫ ওভার শেষে রান ছিল ৫২। মাঝে দুই স্পিনার অ্যাশলি নার্স ও দেবেন্দ্র বিশুও করেছেন কিপটে বোলিং।

জুটিতে যখন রান বাড়ানোর সময়, তখন ভাঙন। ৫৫ বলে ৩৯ রান করা যুবরাজকে ফেরালেন লেগ স্পিনার বিশু। ৬৬ রানের জুটিতে রান এসেছে ওভারপ্রতি চারের নিচে।

রাহানে ও ধোনির জুটির শুরুটায়ও ছিল রান খরা। ধোনির স্ট্রাইক রেট একসময় ছিল চল্লিশের নিচে। তবে অভিজ্ঞ মাথা ছিল বরাবরের মতোই ঠাণ্ডা। আতঙ্কিত না হয়ে আস্তে আস্তে এগিয়েছেন। ২৮ রানে জীবন দিয়ে তাকে সাহায্য করেছেন ক্যারিবিয়ানরাও।

১৬ ওভারে ৭০ রানের জুটি গড়েন রাহানে ও ধোনি। আগের ম্যচের সেঞ্চুরিয়ান রাহানে এদিন অর্ধশতক স্পর্শ করেন ৮৩ বলে। বিশুর দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়েছেন ১১২ বলে ৭২ রানে।

এমনিতে ইনিংসটাকে মন্থর মনে হতে পরে। তবে ম্যাচের বিবেচনায় বেশ কার্যকর। তবে রাহানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল বোধহয় সময়মতো আউট হওয়া! তিনি আউট হওয়ার পর এলেন কেদার যাদব। উঠল ঝড়। পাল্টে গেল খেলার মোড়।

শেষ দিকে যথারীতি রুদ্রমূর্তি ধোনির। রান এলো বানের জলের মতো। নিজের শেষ ২৯ বলে ধোনি করলেন ৫০। সব মিলিয়ে ৭৯ বলে অপরাজিত ৭৮।

ছোট্ট ক্যারিয়ারে এর মধ্যেই ব্যাটিং ঝড়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠা কেদার যাদবের ব্যাটে আরেকটি দারণ ইনিংস। ২৬ বলে অপরাজিত ৪০। শেষ ১০ ওভারে ভারত তুলল ১০০। ধোনি ও কেদারের জুটিতেই ৪৬ বলে ৮১!

উইকেট ততক্ষণে অনেকটাই সহজ হয়ে এসেছে। ভারতীয়দের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তবু পেরে উঠল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপে ক্যারিয়ারে হাজার রানও নেই কারও। ভারতীয় স্পিনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং।

পতনের শুরুটা হয়েছিল পেসেই। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই উমেশ যাদবের গতি ও সুইংয়ে বোল্ড এভিন লুইস। হোপ ভাইদের ফিরিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, দুজনকেই বাউন্সারে। অভিষেকে ১৯ করেছেন বড় ভাই কাইল হোপ। ফর্মে থাকা শাই হোপ ২৪ রানে।

মাঝে একটু লড়াই করেছেন জেসন মোহাম্মদ (৪০), পরের দিকে রোভম্যান পাওয়েল (৩০)। এছাড়া দু অঙ্ক ছুঁতে পারেনি আর কেউ। চায়নাম্যান কুলদিপ যাদব ও অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিনের জবাব ছিল না ক্যারিবিয়ানদের।

দুই স্পিনারই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। গত কিছুদিনে রঙিন পোশাকে বিবর্ণ অশ্বিনের এদিনের বোলিং দলের জন্য এসেছে স্বস্তি হয়ে। বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই উইকেটে ম্যাচের ইতি টেনেছেন কেদার।

এই মাঠেই পরের ম্যাচ রোববার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ২৫১/৪ (রাহানে ৭২, ধাওয়ান ২, কোহলি ১১, যুবরাজ ৩৯, ধোনি ৭৮*, কেদার ৪০*; কামিন্স ২/৫৬, হোল্ডার ১/৫৩, উইলিয়ামস ০/৬৫, নার্স ০/৩৪, বিশু ১/৩৮)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৮.১ ওভারে ১৫৮ (লুইস ২, কাইল হোপ ১৯, শাই হোপ ২৪, চেইস ২, জেসন ৪০, হোল্ডার ৬, পাওয়েল ৩০, নার্স ৬, বিশু ৪*, কামিন্স ১, উইলিয়ামস ১; ভুবনেশ্বর ০/১৯, উমেশ ১/৩২, পান্ডিয়া ২/৩২, কুলদিপ ৩/৪১, অশ্বিন ৩/২৮, কেদার ১/০)।

ফল: ভারত ৯৩ রানে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ভারত ২-০ এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: মহেন্দ্র সিং ধোনি

ঢাকার পথে দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার রাজ্জাক

গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঈদ করে পরিবার নিয়ে ঢাকা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে তার এক স্বজন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে কাশিয়ানি থানার ওসি একেএম আলী নূর জানান। দুর্ঘটনার পর রাজ্জাক ও পরিবারের সদ্যসরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাত ১২টার দিকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন বলে সে সময় তার সঙ্গে থাকা বেয়াই  আব্দুল্লাহ বনি জানিয়েছেন।

তিনি  বলেন,  রাজ্জাকের বাড়ি ফকিরহাটের সৈয়দপাড়া গ্রামে। ঈদ করতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।  দুপুরের পর স্ত্রী ইশরাত জাহান অনি, দুই বছরের ছেলে আদিয়ান এবং এক বোন ও দুই ভাগ্নিকে নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হন।

“রাজ্জাক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।  বিকাল ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে গাড়ির চাকা পাংচার  হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পানিতে পড়ে।”

তখন পুলিশ সবাইকে উদ্ধার করে বলে ওসি জানান। গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে জানিয়ে রাজ্জাকের বেয়াই বনি বলেন, ওই গাড়িতে থাকা সবাই কম-বেশি আহত হন। রাজ্জাকের কয়েক জায়গায় ছিলে গেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে পরিচিত মুখ বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাক এক দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।  ১৫৩টি ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট রয়েছে তার। এছাড়া ১২ টেস্টে ২৩ উইকেট এবং ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ উইকেট পান রাজ্জাক।

২০০৪ সালে অভিষেক হওয়া রাজ্জাক সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন ২০১৪ সালের অগাস্টে।

 

ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

স্পোর্টস রিপোর্টার : দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে নিয়েছে মধুর প্রতিশোধ। শিরোপাধারীদের বিধ্বস্ত করে প্রথমবারের মতো জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ফাইনালে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে ফখর জামান আর শেষের ঝড়ে মোহাম্মদ হাফিজ দলকে এনে দিয়েছিলেন বিশাল সংগ্রহ। জিততে রেকর্ড গড়তে হতো ভারতকে, অসাধারণ বোলিং করা মোহাম্মদ আমির, জুনায়েদ খান, হাসান আলিরা তার ধারে কাছে যেতে দেননি বিরাট কোহলির দলকে।   

এক পেশে ফাইনালে উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান জিতেছে ১৮০ রানে। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। আগের সেরা ছিল ২০০৫ সালে দিল্লিতে ১৫৯ রানের জয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ার পর আলোচনায় চলে আসে ২০০৩ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে আসা ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫৯ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অজিদের সামনে। ১৪ বছর পর আইসিসির ইভেন্টের আরেকটি ফাইনালে একই পরিণতি বরণ করতে হলো টিম ইন্ডিয়াকে। এবার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া নয়; পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারালো তারা।
লন্ডনের কেনিংটন ওভালে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বিরাট কোহলি। ফখর জামান ও আজহার আলির মধ্যকার সেঞ্চুরি জুটির ওপর ভর করে মজবুত ভিত পায় সরফরাজের দল। এরপর অন্যান্যদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রানের পাহাড় গড়ে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১২৫ রানে হেরেছিল ভারত। তবে এবার ব্যবধানটা আরো বেশি। বলতে গেলে ভারতকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে টিম পাকিস্তান।
ভারতের হয়ে যা একটু লড়াই করেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাহায্যে ৭৬ রানের দর্শনীয় ইনিংস খেলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান ২১ এবং যুবরাজ সিং ২২ রান করে আউট হন। রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫), এমএস ধোনি (৪), কেদার যাদবরা (৯) ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থ হন। পাকিস্তানের হয়ে আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাদাব খান দুটি ও জুনায়েদ খান নেন একটি উইকেট।

৩৩৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ভারত। মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে দারুণ ইনসুইংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রোহিত। সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে রিভিউ না নিয়েই সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন ভারতীয় ওপেনার।

প্রথম ওভারে রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারত তাকিয়ে ছিল রান তাড়ায় মাস্টার কোহলির দিকে। কিন্তু দলকে চরম হতাশ করেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক। আমিরের করা তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজহার আলির বদান্যতায় বেঁচে যান কোহলি। কিন্তু পরের বলেই পয়েন্টে শাদাব খানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে দলকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। শুরুতেই ২ উইকেট হারানোর পর ধাওয়ান ও যুবরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেন আমির। এই পাকিস্তানি পেসারের করা নবম ওভারের শেষ বলে ধাওয়ানের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে সরফরাজের হাতে বল জমা পড়লে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া। এরপর যুবরাজ ও ধোনি মিলে ইনিংস মেরামতে মনোযোগী হয়ে উঠেন। তবে শাদাবের করা ১৩তম ওভারের শেষ বলে যুবরাজ ফিরে গেলে বড় ধরনের ধাক্কা খায় ভারত। আম্পায়ার প্রথমে লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া না দিলে শাদাব সঙ্গে সঙ্গেই সরফরাজকে রিভিউ নেয়ার জন্য তাড়া দেন। রিভিউতে লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত আসলে কোণঠাসা হয়ে টিম ইন্ডিয়া।

ভারতের শেষ আশা-ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন ধোনি। তবে পরের ওভারে তিনিও পথ ধরেন সাজঘরের। হাসান আলির করা ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমাদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে দলকে চরম বিপদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরেন ধোনি। আর তাতেই ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। এরপর দলীয় ৭২ রানের মাথায় শাদাবের করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে কেদার যাদব আকাশে বল তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে চরম লজ্জার মুখে পড়ে ভারত।

সপ্তম উইকেটে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন পান্ডিয়া ও জাদেজা। এই দুজন ৫৭ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন। কিন্তু দলীয় ১৫২ রানের মাথায় জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে পান্ডিয়া রানআউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। এরপর দলীয় ১৫৬ রানের মাথায় পরপর জাদেজা ও অশ্বিন আউট হয়ে ফিরে গেলে ভারতের বড় হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। হাসানের করা ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিজয়োৎসবে মেতে ওঠে পাকিস্তান।

এর আগে টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি করা ফখর ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন। তার ওপেনিংয়ের সঙ্গী আজহার রানআউট হওয়ার আগে ৭১ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৯ রান করেন। এছাড়া বাবর আজম ৫২ বলে ৪৬ এবং হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৫৭ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও কেদার যাদব।

ভারতীয় একাদশ : রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।


পাকিস্তান একাদশ : আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান।

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে বোলিংয়ে ভারত

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলদা উত্তেজনা। আর এ ম্যাচ যদি হয় ফাইনাল তাহলে তো কথাই নেই। প্রায় এক দশক পর কোনো আইসিসি ইভেন্টে দ্বিতীয়বারের মত ফাইনালে মুখোমুখি ভারত এবং পাকিস্তান। আর ঐতিহাসিক এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। লন্ডনের ওভালে যে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।

আইসিসি ট্রফিতে ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। চার বছর আগে এই ইংল্যান্ড থেকেই তারা শিরোপা জিতে নিয়ে গিয়েছিল। সেবার অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। এবার বিরাট কোহলি। কিন্তু মন-মানসিকতা, আগ্রাসী মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি ভারতীয় দলটির। বরং, ব্যাট হাতে ভারতের এক একজন যেন এক একটি দল। একাই একশো। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের বোলিংয়ে ধ্বস নামানোর সব ধরনের রসদই মজুত রয়েছে ভারতীয় দলে। যুবরাজ, ধোনি, পান্ডিয়া, কেদার যাদব থেকে শুরু করে জসপ্রিত বুমরাহ পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারেন।

ফাইনালে এবার যে পাকিস্তানের মুখোমুখি ভারত, সেই পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই একবার বিধ্বস্ত করেছে তারা। তার ওপর আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের যে রেকর্ড, তাতে চোখ বন্ধ করে যে কেউ বিরাট কোহলিদের পক্ষে বাজি ধরতে পারেন। আইসিসি ইভেন্টে ১৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত। বিশ্বকাপে ৬ বার, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ বার পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। তবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২বার জিতেছে পাকিস্তান। ২বার জিতেছে ভারত।

কিন্তু পাকিস্তান যে পুরোপুরি আনপ্রেডিক্টেবল। গ্রুপ পর্বে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হোঁচট খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো এবং সেখান থেকে ফাইনালে উঠে আসা, কে বাতিলের খাতায় রাখতে সাহস পাবে পাকিস্তানকে! দলটির বোলাররা যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, তাতে করে ভারতীয় ব্যাটিংকে তারাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রাখে। পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার তো তার বোলারদের ওপর আস্থা রেখে জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ব্যাটিংকে থামানোর কৌশল জানা হয়ে গেছে তার।

ভারত একাদশ
রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার), কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, জাস্প্রিত বুমরাহ।

পাকিস্তান একাদশ
আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি, জুনাইদ খান।

ফাখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ফিরে যেতে পারতেন ব্যক্তিগত ৩ রানেই। আর সেই সংখ্যাটা রূপ দিলেন তিন অঙ্কে। ভাগ্যে থাকলে যা হয়! নো বলের কল্যাণে বেঁচে যান ফাখর জামান। জসপ্রিত বুমরাহর করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে ফাখর জামান আউট হয়েছেন ভেবে হাঁটা শুরু করেন।

আম্পায়ার বলটি চেক করতে গিয়ে দেখেন অবৈধ। মানে, নো বল। আর তাতে জীবন পেয়ে যান ফাখর জামান। পাকিস্তানি এই ওপেনার জীবন পেয়ে সুযোগটা কাজে লাগালেন। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটা তার প্রথম সেঞ্চুরি।

৩১তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি করেন ফাখন জামান। ৯২ বলে ১২টি চার ও দুটি ছক্কায় শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে রয়ে-সয়ে ব্যাট করেছেন। ৬১ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান করেন। যেখানে ছিল সাতটি বাউন্ডারি। দ্বিতীয় পঞ্চাশ রান ফাখর তুলেছেন ঝড়ো গতিতেই। মাত্র ৩১ বলেই এ রান তোলেন। এতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ২টি বিশাল ছক্কা।

শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে থেমেছেন ফাখর। ১০৬ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। হার্দিক পান্ডিয়ার বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন রবীন্দ্র জাদেজার হাতে। দলীয় ২০০ রানের মাথায় আউট হন পাকিস্তানি এই ওপেনার।

পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। আর ভারতের বিপক্ষে হেরে ১ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েও র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে রয়েছে মাশরাফিবাহিনী।

তবে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে। এ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে পাকিস্তান জিতলেই ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশকে টপকে সাতে চলে যাবে পাকিস্তান।

তবে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে এক রেটিং পয়েন্ট কমবে পাকিস্তানের। ৯২ পয়েন্ট নিয়ে আটে নেমে যাবে দলটি। এদিকে ৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাতে উঠে আসবে বর্তমানে অষ্টম অবস্থানে থাকা শ্রীলঙ্কা। অপরিবর্তিত থাকবে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এবং র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান। তাই ফাইনালে পাকিস্তান হারলেই বাংলাদেশের লাভ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র্যা১ঙ্কিংয়ে ওপরে থাকা অন্য সাতটি দল। আর ভারতের কাছে হেরে ১ পয়েন্ট খোয়ালেও ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের।

সেমিফাইনাল খেলাই বড় প্রাপ্তি : মাশরাফি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগেই স্বাগতিক ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে নিজেদের গ্রুপকে ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। আর কঠিন এই গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। শনিবার দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মত দলকে পেছনে ফেলে আমরা সেমিফাইনাল খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

এদিকে এ রকম বড় আসরে প্রথমবারের মত সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামনে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাশরাফি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের আরও শিখতে হবে। আর এ অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে ভালো করতে সাহায্য করবে।’

প্রাপ্তির ঝুলি নিয়ে দেশে ফিরল টাইগাররা

ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে আজ দেশে ফিরলেন মাশরাফি-সাকিবরা। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের বহন করা বিমান এক ঘণ্টা দেরিতে অবতরণ করে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মত আইসিসির কোন ইভেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। তবে সেমিতে ভারতের কাছে হেরে আর স্বপ্নের ফাইনাল খেলা হয়নি টাইগারদের। এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মত র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে ওঠে আসে মাশরাফিবাহিনী।

এর আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে ২৭ এপিল ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ১০ দিনের অনুশীলন ক্যাম্প শেষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ড যায় টাইগাররা। সেখানে আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও জয় পায় বাংলাদেশ।

এরপর ২৫ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ১ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট অর্জন করে। আর ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সেমিফাইনালের টিকেট। তবে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট

বছর খানেক আগে নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ওই সফরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। এরপর অবশ্য সূচিটি নিয়ে নতুন করে ভাবার কথাও জানিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই টেস্ট দুটি খেলতে আগ্রহী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দিনক্ষণও নির্ধারিত হয়েছে। দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে ১৮ আগস্ট। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্যই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

টেস্ট মাঠে গড়ানোর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্রস্তুতি ম্যাচটা দুই দিনের। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি গড়াবে ২২ আগস্ট। চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত।

টেস্টের লড়াই শুরু হবে ২৭ আগস্ট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়াবে প্রথম টেস্ট। ম্যাচটি শেষ হবে ৩১ আগস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

২৬৫ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৯ ওভারে ২৫৮/৭

বাংলাদেশ ২৬৪/৭

শুরুর ধাক্কা খুব ভালোভাবে সামাল দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ২ উইকেটে ১৫৯ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন দলকে। সেখান থেকে তিনশ পর্যন্ত যাওয়া খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় থামতে হল তার অনেক আগেই।

শেষ পর্যন্ত যে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৬৪ রান পর্যন্ত গেল তাতে বড় অবদান মাশরাফি বিন মুর্তজার। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক।

তামিমের ৭০ আর মুশফিকের ৬১ রানের বাইরে প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের কেউ ত্রিশের ঘরে যেতে পারেননি। নয়তো দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ভারতকে আরও বড় লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব ছিল।

অনিয়মিত স্পিনার কেদার যাদব মাঝের ওভারে করেছেন সবচেয়ে বড় সর্বনাশ। ৬ ওভারে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন তামিম আর মুশফিকের উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (তামিম ৭০, সৌম্য ০, সাব্বির ১৯, মুশফিক ৬১, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ২১, মোসাদ্দেক ১৫, মাশরাফি ৩০*, তাসকিন ১১*; ভুবনেশ্বর ২/৫৩, বুমরাহ ২/৪০, অশ্বিন ০/৫৪,পান্ডিয়া ০/৩৪, জাদেজা ১/৪৮, যাদব ২/২২)

বুমরাহর দ্বিতীয় শিকার মাহমুদউল্লাহ

শেষের ঝড় তোলার জন্য যে দুই জনের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ সেই দুই জনকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। আগের ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের ফিরতি ক্যাচ নেওয়ার পর বোল্ড করেছেন মাহমুদউল্লাহকে।

২১ রান করে মাহমুদউল্লাহ যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোর ২২৪/৭।

ফিরে গেলেন মোসাদ্দেক

টানা পাঁচ বল গেল ডট, রানের জন্য মরিয়া হয়ে গেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। মাশুল দিলেন তার। জাসপ্রিত বুমরাহকে পুল করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান।

৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২২০/৬। ১৮ রান করা মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশের দুইশ

শতরানের জুটির পর দ্রুত ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ দুইশ পার হয় ৪০তম ওভারে। মহেন্দ্র সিং ধোনি গ্লাভস ফেলে এসে বল ছুড়ে স্টাম্প ভাঙার চেষ্টা করেন। বল স্টাম্পে যায়নি, লাগে গিয়ে গ্লাভসে। ৫ রান বাড়তি পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

৪০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২০৭/৫। মাহমুদউল্লাহর রান ১১, মোসাদ্দেক হোসেনের ১০।

জীবন পেলেন মাহমুদউল্লাহ

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ব্যর্থতায় বেঁচে গেলেন মাহমুদউল্লাহ। হার্দিক পান্ডিয়ার বাউন্সারে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। ছুটে এসে দুই হাতে জমাতে পারেননি অশ্বিন, চার রান পেয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। সে সময় ৪ রানে ছিলেন তিনি।

মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর মুশফিকুর রহিমকে হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। অনিয়মিত অফ স্পিনার কেদার যাদবের দ্বিতীয় শিকার ৮৫ বলে চারটি চারে ৬১ রান করা মুশফিক।

প্রচুর ডট বলে তৈরি হওয়া চাপ কাটাতে কেদারের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিলেন লম্বা সময় ধরে ব্যাট করা মুশফিক। টাইমিং কিছুই হয়নি, ক্যাচ যায় সোজা বিরাট কোহলির হাতে।

৩৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৮৩/৫। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

ফিরে গেলেন সাকিব

আগের ম্যাচে দারুণ এক শতক পাওয়া সাকিব আল হাসান এবার বেশিক্ষণ টিকেননি। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি জমে উঠার আগেই ফিরেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।

রবীন্দ্র জাদেজার বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের কানায় লেগে সাকিবের ক্যাচ যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফিরেন ২৩ বলে ১৫ রান করে।

৩৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১৭৯/৪। মুশফিকের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

তামিমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন কেদার

অনিয়মিত অফ স্পিনার কেদার যাদবের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৮২ বলে খেলা তামিমের ৭০ রানের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও একটি ছক্কায়।

২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫৪/৩। তামিমের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটিতে মুশফিকের অবদান ৫২ রান। তার সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান।

মুশফিকের অর্ধশতক, বাংলাদেশের দেড়শ

এসেই তিনটি চার হাঁকানো মুশফিকুর রহিম ৬১ বলে পৌঁছেছেন অর্ধশতকে। শুরুতে চাপটা সরিয়ে নিয়েছেন তিনিই। প্রান্ত বদল করে খেলে সচল রেখেছেন রানের চাকা। তামিম ইকবালের সঙ্গে গড়েছেন শতরানের জুটি। দলকে রেখেছেন বড় সংগ্রহের পথে।

অর্ধশতক হাঁকানোর পথে চারটি চার হাঁকিয়েছেন মুশফিক।

২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫২/২। তামিমের রান ৭০, মুশফিকের ৫১।

তামিম-মুশফিকের শতরানের জুটি

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে মুশফিকুর রহিমের স্কুপে তিন অঙ্কে যায় তৃতীয় উইকেট জুটির রান। ১০৫ বলে আসে তামিমের সঙ্গে তার শতরানের জুটি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চারটি শতরানের জুটি ছিল সাকিব আল হাসান-মুশফিকের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন তামিম-মুশফিক। ৩৫ ইনংসে এটি তাদের চতুর্থ শতরানের জুটি।

অশ্বিনের আগের ওভারেই টানা তিন চার হাঁকিয়ে নিজের বল-রানের ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন মন্থর শুরু করা তামিম।

২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/২। তামিমের রান ৭০ বলে ৬৫, মুশফিকের ৫৩ বলে ৪২।

আবার চূড়ায় তামিম

রবীন্দ্র জাদেজাকে চার হাঁকিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করার সঙ্গে আবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে উঠেছেন তামিম ইকবাল। এই সময়ে তার রান ২৭৩। পেছনে ফেলেছেন ভারতের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানকে (২৭১)।

তামিমের অর্ধশতক, দলের শতক

প্রথমবারের মতো বল করতে আসা রবীন্দ্র জাদেজার বলে ১ রান নিয়ে দলের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম। পরের বলে চার হাঁকিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের একটি শতকও রয়েছে।

৬২ বলে অর্ধশতক করার পথে একটি ছক্কা আর চারটি চার হাঁকিয়েছেন তামিম।

১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৪/২।

বোল্ড হয়েও বেঁচে গেলেন তামিম

হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়েও বেঁচে গেছেন তামিম ইকবাল। ভারতীয় অলরাউন্ডারের সেই বলটি ছিল নো। ওই ওভারেই এর আগে ফ্রি-হিটে ক্যাচ দিয়েছিলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানের দ্রুত বিদায়ের পর নিজেকে আরও গুটিয়ে নিয়েছেন তামিম। আসার কিছুক্ষণ পর টানা তিন চার হাঁকানো মুশফিকুর রহিমকে বরারবরের মতোই শুরু থেকে মনে হচ্ছে থিতু।

ত্রয়োদশ ওভারে পঞ্চাশে গেছে বাংলাদেশের স্কোর।

১৩ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ৬৩/১। তামিমের রান ২২, মুশফিকের ১৩।

বাজে শটে সাব্বিরের বিদায়

আগের ১৩টি বল গেল ডট, সেই চাপেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। ভুবনেশ্বর কুমারের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের স্লোয়ার বলে চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে।

২১ বলে চারটি চারে সাব্বিরের রান ১৯।

৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/২। ৭ রান করা তামিম ইকবালের সঙ্গে উইকেটে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

আত্মবিশ্বাসী সাব্বির, সতর্ক তামিম

চার হাঁকিয়ে শুরু করা সাব্বির রহমান খেলছেন সহজতা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমারকে হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার। তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বরকে এগিয়ে এসে যে বাউন্ডারি মেরেছেন সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে কতটা আত্মবিশ্বাস ডানহাতি এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান।

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়ে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ৬ ওভারে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোটে একটি চার।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/১। তামিমের রান ৭, সাব্বিরের ১৯।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভুবনেশ্বর কুমারের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনেছেন সৌম্য সরকার। ঠিকঠাক ড্রাইভ করতে না পারার মাশুল দিয়েছেন দুই বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে।

১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১/১।

খেলা শুরু হতে ১০ মিনিট দেরি

বৃষ্টির বাধায় বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হবে। টসের পর শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমেছে। সরানো হচ্ছে কাভার।

অপরিবর্তিত ভারত দল

বাংলাদেশের মতো পরিবর্তন আসেনি ভারত দলেও। দুই স্পিনার ও হার্দিক পান্ডিয়াসহ তিন পেসার নিয়ে খেলছে শিরোপাধারীরা।

ভারত দল: বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিং, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ।

বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে টস হেরে ফিল্ডিং নিয়েছে ভারত। আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। টস জেতার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

টস জিতলে ফিল্ডিং নিতেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও।

সাকিবের সামনে মাইলফলকের হাতছানি

গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের দিনে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়েছিলেন রেকর্ড জুটি। এবার সেমি-ফাইনালের মঞ্চে ব্যক্তিগত এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসান।

মাশরাফিদের উপভোগের মন্ত্র

এতবড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে চাপ অপরিসীম। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে ‘চাপ আবার কী! উপভোগ।’ সতীর্থদের মাঝেও সেই মন্ত্র গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা মাশরাফি ও কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের।  

রানে ভরা এজবাস্টনের উইকেট

একদিকে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন-আপ, আরেকদিকে রান ফোয়ারার আভাস এজবাস্টনের উইকেটে। ব্যাটিং স্বর্গে চার পেসার দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকানোর পরিকল্পনা মাশরাফি বিন মুর্তজার। জানেন, কঠিন পরীক্ষা, তবে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি হয়তো হতে যাচ্ছে বড় রানের লড়াই।

আইসিসির টুর্নামেন্টে প্রথম ফাইনালের হাতছানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনালে উঠেই একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। হাতছানি এবার নতুন ইতিহাস গড়ার; এজবাস্টনে ভারতকে হারালেই প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ দল।   

 

ভিত গড়ে ফিরলেন তামিম

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৩১ ওভারে ১৬৪/৩

তামিমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন কেদার

অনিয়মিত অফ স্পিনার কেদার যাদবের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৮২ বলে খেলা তামিমের ৭০ রানের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও একটি ছক্কায়।

২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫৪/৩। তামিমের সঙ্গে ১২৩ রানের জুটিতে মুশফিকের অবদান ৫২ রান। তার সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান।

মুশফিকের অর্ধশতক, বাংলাদেশের দেড়শ

এসেই তিনটি চার হাঁকানো মুশফিকুর রহিম ৬১ বলে পৌঁছেছেন অর্ধশতকে। শুরুতে চাপটা সরিয়ে নিয়েছেন তিনিই। প্রান্ত বদল করে খেলে সচল রেখেছেন রানের চাকা। তামিম ইকবালের সঙ্গে গড়েছেন শতরানের জুটি। দলকে রেখেছেন বড় সংগ্রহের পথে।

অর্ধশতক হাঁকানোর পথে চারটি চার হাঁকিয়েছেন মুশফিক।

২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৫২/২। তামিমের রান ৭০, মুশফিকের ৫১।

তামিম-মুশফিকের শতরানের জুটি

রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে মুশফিকুর রহিমের স্কুপে তিন অঙ্কে যায় তৃতীয় উইকেট জুটির রান। ১০৫ বলে আসে তামিমের সঙ্গে তার শতরানের জুটি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চারটি শতরানের জুটি ছিল সাকিব আল হাসান-মুশফিকের। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন তামিম-মুশফিক। ৩৫ ইনংসে এটি তাদের চতুর্থ শতরানের জুটি।

অশ্বিনের আগের ওভারেই টানা তিন চার হাঁকিয়ে নিজের বল-রানের ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন মন্থর শুরু করা তামিম।

২৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩৭/২। তামিমের রান ৭০ বলে ৬৫, মুশফিকের ৫৩ বলে ৪২।

আবার চূড়ায় তামিম

রবীন্দ্র জাদেজাকে চার হাঁকিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করার সঙ্গে আবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে উঠেছেন তামিম ইকবাল। এই সময়ে তার রান ২৭৩। পেছনে ফেলেছেন ভারতের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানকে (২৭১)।

তামিমের অর্ধশতক, দলের শতক

প্রথমবারের মতো বল করতে আসা রবীন্দ্র জাদেজার বলে ১ রান নিয়ে দলের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম। পরের বলে চার হাঁকিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের একটি শতকও রয়েছে।

৬২ বলে অর্ধশতক করার পথে একটি ছক্কা আর চারটি চার হাঁকিয়েছেন তামিম।

১৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১০৪/২।

বোল্ড হয়েও বেঁচে গেলেন তামিম

হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়েও বেঁচে গেছেন তামিম ইকবাল। ভারতীয় অলরাউন্ডারের সেই বলটি ছিল নো। ওই ওভারেই এর আগে ফ্রি-হিটে ক্যাচ দিয়েছিলেন বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানের দ্রুত বিদায়ের পর নিজেকে আরও গুটিয়ে নিয়েছেন তামিম। আসার কিছুক্ষণ পর টানা তিন চার হাঁকানো মুশফিকুর রহিমকে বরারবরের মতোই শুরু থেকে মনে হচ্ছে থিতু।

ত্রয়োদশ ওভারে পঞ্চাশে গেছে বাংলাদেশের স্কোর।

১৩ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ৬৩/১। তামিমের রান ২২, মুশফিকের ১৩।

বাজে শটে সাব্বিরের বিদায়

আগের ১৩টি বল গেল ডট, সেই চাপেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। ভুবনেশ্বর কুমারের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের স্লোয়ার বলে চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে।

২১ বলে চারটি চারে সাব্বিরের রান ১৯।

৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/২। ৭ রান করা তামিম ইকবালের সঙ্গে উইকেটে যোগ দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

আত্মবিশ্বাসী সাব্বির, সতর্ক তামিম

চার হাঁকিয়ে শুরু করা সাব্বির রহমান খেলছেন সহজতা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বর কুমারকে হাঁকিয়েছেন দুটি করে চার। তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বরকে এগিয়ে এসে যে বাউন্ডারি মেরেছেন সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে কতটা আত্মবিশ্বাস ডানহাতি এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান।

শুরুতেই সৌম্য সরকারের বিদায়ে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ৬ ওভারে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোটে একটি চার।

৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩১/১। তামিমের রান ৭, সাব্বিরের ১৯।

শুরুতেই ফিরলেন সৌম্য

প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভুবনেশ্বর কুমারের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনেছেন সৌম্য সরকার। ঠিকঠাক ড্রাইভ করতে না পারার মাশুল দিয়েছেন দুই বলে শূন্য রানে বোল্ড হয়ে।

১ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১/১।

খেলা শুরু হতে ১০ মিনিট দেরি

বৃষ্টির বাধায় বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হবে। টসের পর শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমেছে। সরানো হচ্ছে কাভার।

অপরিবর্তিত ভারত দল

বাংলাদেশের মতো পরিবর্তন আসেনি ভারত দলেও। দুই স্পিনার ও হার্দিক পান্ডিয়াসহ তিন পেসার নিয়ে খেলছে শিরোপাধারীরা।

ভারত দল: বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, যুবরাজ সিং, কেদার যাদব, মহেন্দ্র সিং ধোনি, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ।

বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে টস হেরে ফিল্ডিং নিয়েছে ভারত। আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। টস জেতার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

টস জিতলে ফিল্ডিং নিতেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও।

সাকিবের সামনে মাইলফলকের হাতছানি

গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের দিনে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে গড়েছিলেন রেকর্ড জুটি। এবার সেমি-ফাইনালের মঞ্চে ব্যক্তিগত এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে সাকিব আল হাসান।

মাশরাফিদের উপভোগের মন্ত্র

এতবড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে চাপ অপরিসীম। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে ‘চাপ আবার কী! উপভোগ।’ সতীর্থদের মাঝেও সেই মন্ত্র গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা মাশরাফি ও কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের।  

রানে ভরা এজবাস্টনের উইকেট

একদিকে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন-আপ, আরেকদিকে রান ফোয়ারার আভাস এজবাস্টনের উইকেটে। ব্যাটিং স্বর্গে চার পেসার দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকানোর পরিকল্পনা মাশরাফি বিন মুর্তজার। জানেন, কঠিন পরীক্ষা, তবে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি হয়তো হতে যাচ্ছে বড় রানের লড়াই।

আইসিসির টুর্নামেন্টে প্রথম ফাইনালের হাতছানি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি-ফাইনালে উঠেই একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। হাতছানি এবার নতুন ইতিহাস গড়ার; এজবাস্টনে ভারতকে হারালেই প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ দল।  

বাজে ফিল্ডিংকেই দুষলেন ম্যাথুস

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ৩ উইকেটের এই হারে অনেক কারণই আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে লঙ্কানদের বাজে ফিল্ডিং। এই ফিল্ডিং বাজে না হলে হয়তো ফলটাই ভিন্ন হতে পারতো। হারের পেছনে এই কারণকেই দায়ী করলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, ‘আজকের পারফরম্যান্স ছিল বেদনাদায়ক। যেসব ক্যাচ মিস করেছি তা ধরতে পারলে আজকের ম্যাচের গল্পটা ভিন্ন হতো।’

ম্যাচের তিনটি ক্যাচই ধরতে পারতো শ্রীলঙ্কা। মিড অনে সরফরাজ আহমেদের ক্যাচ ড্রপ করেছেন থিসারা। তখন সরফরাজ ব্যাট করছিলেন ৩৮ রানে। আর এই ক্যাচ মিসই ভুগিয়েছে লঙ্কানদের। শেষ পর্যন্ত ৬১ রানে অপরাজিত থেকে মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় পাইয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তাই এমন পারফরম্যান্সে হতাশা ঝরেছে লঙ্কান অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘ছেলেরা কিন্তু অনেক পরিশ্রম করেছে। আজকে আমরা তিনটি ক্যাচ মিস করেছি। তারপরেও আমাদের ফিল্ডিংয়ে অনেক প্রচেষ্টা ছিল। ছেলেরা অনেক শক্তি ঢেলেই শেষ পর্যন্ত পারফর্ম করেছে।’

শ্রীলঙ্কার হয়ে অনেক সুযোগ তৈরি করেছেন পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়ায় সেই সুযোগগুলো লুফে নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। আর এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অনেক বড় একজন সেবক তিনি। আজকে তার অসাধারণ নৈপুণ্য ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে আমরা আজকে অনেক ক্যাচ মিস করেছি।’

যেই লক্ষ্য ছিল তা থেকে ৩০-৪০ রান কম ছিল বলেই মনে করেন ম্যাথুস, ‘আমরা আসলে ৩০ থেকে ৪০ রান কম করেছি। এছাড়া ফিল্ডিংটা দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ডুবিয়েছে।’

সেমিতে ভারতকে পেয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তানকে ইংল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ভারত। নেট রান রেটে তারা বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ধরা হয়েছিল। অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদেরই ধরা হচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এ লড়াই চূড়ান্ত করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও একদিন। সোমবার পাকিস্তান ৩ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর নিশ্চিত হয় সেমিফাইনাল সূচি।

ভারতের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। গ্রুপটির চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভারত ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ বাংলাদেশকে খেলবে। আগামী ১৫ জুন বৃহস্পতিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিকাল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই দল।

আগের দিন বুধবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সের মাঠে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে মোকাবিলা করবে পাকিস্তান। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছিল ইংলিশরা।    

প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ চারের টিকিট পেল পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়া থেকে অন্তত একটি দল ফাইনালে যাচ্ছে। এমনকি হতে পারে অলএশিয়া ফাইনাল। ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ থেকে তো এক দল যাচ্ছেই। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান জিতে গেলে ফাইনাল হবে এশিয়ানদের। উপমহাদেশের বাইরের কন্ডিশনে এশিয়ার তিন দলের সেমিফাইনাল তাই বড় বিষয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে বাংলাদেশ

১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফিরেই চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপের ফাইনালের দুই দলকে বিদায় করে পৌঁছেছে শেষ চারে। এবারই প্রথম আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ।

গত বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল খেলেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। সেবারই প্রথম আইসিসির টুর্নামেন্টের শেষ আটে খেলেছিল বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে সেটাই ছিল সেরা সাফল্য।

এশিয়া কাপ ও এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে এশিয়ার দলের সঙ্গে খেলা আর বিরুদ্ধ কন্ডিশনে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডের মতো গ্রুপ থেকে শেষ চারে যাওয়া মোটেও এক নয়। 

ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশ পরের ম্যাচে বেঁচে যায় বৃষ্টির জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরিত্যক্ত হওয়া সেই ম্যাচ থেকে পাওয়া এক পয়েন্টে টিকে থাকে মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবালদের দল।

আর শুক্রবার বাঁচা-মরার ম্যাচে সাকিব আল হাসান-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং বীরত্বে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বেঁচে থাকে শেষ চারের আশা। তবে স্বপ্নের সেমি-ফাইনালে ওঠাটা তাদের হাতে ছিল না।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলে অস্ট্রেলিয়া যেত সেমি-ফাইনালে। পারেনি স্টিভেন স্মিথের দল। স্বাগতিকদের কাছে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে হেরেছে ৪০ রানে। গত বিশ্বকাপে যাদের বিদায় করে শেষ আট নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ, এবার তাদের জয়েই নতুন উচ্চতায় গেল তারা।

আগেই সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করা ওয়েন মর্গ্যানের দল ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে খেলবে তারা। প্রতিপক্ষ এখনও ঠিক হয়নি।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন

ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জোড়া সেঞ্চুরি করে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় আনায় সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই জয়ের জন্য পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ান সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। তাদের রেকর্ড ২২৪ রানের জুটিতে দুই ওভার চার বল হাতে রেখেই নিউ জিল্যান্ডের দেওয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য পেরোয় বাংলাদেশ।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের এই জুটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেও দ্বিতীয় সেরা। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ চারে খেলার আশা টিকে রইল।

২০১৫ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও টি-টোয়েন্টিতে জেতায় গণভবনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

২০১৫ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও টি-টোয়েন্টিতে জেতায় গণভবনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শুক্রবার মধ্যরাতে কার্ডিফে এই ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেঞ্চুরি করা দুই ব্যাটসম্যানকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করে অভিনন্দন জানান বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর টেলিফোনে জয়ের দুই নায়ক সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

“অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, লড়াই করে জেতার আনন্দই আলাদা। লড়াই এর এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ইনশাল্লাহ জয় আসবেই।”

 

অবিশ্বাস্য জয়ের পর যা বললেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

তাদের দু’জনের প্রশংসার ভাষা এখন আর কারো জানা নেই। কী শব্দে তাদের প্রশংসা করবেন। এ জন্য যে এখনও কোনো শব্দ তৈরি হয়নি! পরাজয়ই তো ধরে নিয়েছিল সবাই। ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর কেউ কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, একজন, দু’জন মন ভোলানো একটা, দুটা ইনিংস খেলতে পারেন।

 

 

কিন্তু সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যা করে দেখালেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। কিউই বোলিংয়কে কচুকাটা করে ২২৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে তুললেন দু’জন। তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার, অথ্যাৎ সেঞ্চুরি করলেন তারা দু’জনই। জোড়া সেঞ্চুরিতে জয় না এসেই পারে না।

অবশেষে মোসাদ্দেক হোসেনের উইনিং বাউন্ডারি। তাতেই যেন গড়া হয়ে গেলো ইতিহাস। চরম অনিশ্চয়তার এক ম্যাচকে এভাবে অসাধারণ ক্যারিশমা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসলো বাংলাদেশ। নিঃসন্দেহে এর কারিগর তারা দু’জনই, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ডেকে নেয়া হলো সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দু’জনকেই। অসাধারণ সেঞ্চুরির পর দু’জনই ম্যাচ সেরার দাবিদার। কাকে সেরা ঘোষণা করা হবে। শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানকেই ম্যাচ সেরার জন্য ঘোষণা করা হলো। তবে, এটা হয়তো আনুষ্ঠানিকতা; কিন্তু সেরা যে তারা দু’জনই!

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এমন ব্যাটিংয়ের রহস্য সম্পর্কে বললেন, ‘আমাদের এই জুটির সবচেয়ে বড় রহস্য হচ্ছে, আমরা আসলে একে অপরের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা শুধু ব্যাটিংটাই করতেই চেয়েছি। ইতিবাচক থাকতে চেয়েছি। শুরুতে উইকেটে খুব সুইং ছিল। যখনই সুইং বন্ধ হলো, তখন ব্যাট করা সহজ হয়ে গেলো। আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টে তামিম দারুণ ব্যাটিং করেছে। এ কারণে শুরুতেই তাকে হারিয়ে ফেলা আমাদের জন্য ছিল বিশাল ক্ষতির কারণ। সাকিব আর আমি চেয়েছিল শুধু গ্যাপে শট খেলতে এবং বাজে বল পেলেই সেগুলোকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে।’

ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান বললেন, ‘মাহমুদউল্লাহ যেমন বলেছেন, আমরা আসলে ব্যাট করার সময় খুব বেশি কথা বলিনি। আমরা আসলে শুরুতে ভাবিইনি যে, এই রান তাড়া করবো। আমরা শুধু চেয়েছিল ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে। এরপর দেখতে চাইলাম আমরা কোথায় আছি। আইসিসির কোনো ইভেন্টে একটা ম্যাচ জেতা মানে অনেক বড় কিছু। এখান থেকেই আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ খুঁজে পাবো।’

শ্রীলঙ্কাকে টপকে আবারও ছয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মত ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর আবারও সাতে নেমে যায় টাইগাররা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আবারো সেই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে লঙ্কানদের টপকে র‌্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে আসলো মাশরাফিবাহিনী।

 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর আইসিসির ওয়ানডে র্যাং্কিংয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে সাতে। আর ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কা। ফলে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি র‌্যাংকিংয়ের আপডেট প্রকাশ করলেই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে টপকে আবারও ছয়ে চলে আসবে। সেই সঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের পথ আরও সুগম হবে।

bangladesh

এর আগে ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে যায় বাংলাদেশ। ওই সময় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমান রেটিং পয়েন্ট হলেও ভগ্নাংশের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ছয় নাম্বারে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে পরাজয়ের কারণে ১ রেটিং পয়েন্ট কমে যায় বাংলাদেশের। সেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারালে শ্রীলঙ্কার রেটিং পয়েন্ট ৯৪ হয়। আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৯৫।

বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ

সাকিব সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। মাহমুদউল্লাহ অপেক্ষায়। মোসাদ্দেক এসে যেভাবে রান নিতে শুরু করে দিলেন, তাতে শঙ্কা জাগলো আর দুটি রান কী হবে না মাহমুদউল্লাহর। অবশেষে হলো, ট্রেন্ট বোল্টকে ৪৭তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করলেন মাহমুদউল্লাহ।

 

মোসাদ্দেকের সামনে তো আর বাধা নেই। সুতরাং, অ্যাডাম মিলনেকে স্লিপ এবং গালির ভেতর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েই লাফ দিলেন মোসাদ্দেক। শূন্যে ঘুষি ছুঁড়লেন। অপরপ্রান্তে মাহমুদউল্লাহর লাফটা ছিল আরও প্রসস্ত। শূন্যে ঘুঁষি ছুড়লেন তিনিও। ড্রেসিংরুমের সামনে তখন মাশরাফির মুখে বাঘের গর্জন।

মাশরাফির চিৎকার দেখলে মনে হবে যেন সত্যিই রয়েল বেঙ্গল টাইগার গর্জন করে চলেছে। ৫ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর এই স্মৃতি যে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে! ১৬ বল হাতে রেখেই অবিস্মরণীয় এক জয় পেলো বাংলাদেশ। শুধুমাত্র মাহমুদউল্লাহ আর সাকিব আল হাসানের সৌজন্যে।

এমন ব্যাটিং, এমন জয় স্বপ্নেই শুধু কল্পনা করা যায়। বাস্তবে খুব একটা ধরা দেয় না। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে বেধে রাখার পর জয়ের স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল; কিন্তু ৩৩ রানে তামিম, সৌম্য, সাব্বির এবং মুশফিক ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সমর্থকরা শুধু ভেবেছিল, কত সম্মানজনকভাবে হারা যায়!

কিন্তু টিম বাংলাদেশের পরিত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন দু’জন, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।  দু’জনের জোড়া সেঞ্চুরি অবিশ্বাস্য স্বপ্নকেই হাতের মুঠোয় পুরে দিলো। দু’জনের ২২৪ রানের অসাধারণ এক জুটি বাংলাদেশকে এনে দিল অবিস্মরণীয় এক জয়। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সেমির আশাও টিকিয়ে রাখলেন সাকিব-মাহমুদউল্লাহ। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিলো নিউজিল্যান্ডকে।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ একটি জুটি। এমন একটি জুটিই প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার পর আশা ছিল তামিম ইকবাল দাঁড়াতে পারবেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৯৫ রান। তামিমের ওপরই ছিল সমস্ত আশা-ভরসা; কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই যখন তিনি আউট হয়ে গেলেন, তখন সে আশা পরিণত হলো শঙ্কায়।

২৬৫ রানে কিউইদের বেধে রাখার পর কী তাহলে বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হবে না? অতৃপ্তি নিয়েই ফিরে যেতে হবে? এমনই আশা-আশঙ্কার দোলাচলে দুলতে দুলতে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা যখন সাত-পাঁচ ভাবছিল, ততক্ষণে উইকেট থেকে বিদায় নিয়ে নিলেন সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার এবং মুশফিকুর রহীমও।

৩৩ রানে চার উইকেট নাই। মহা বিপর্যয়ে বলা চলে বাংলাদেশ। এই বিপর্যয় থেকে কে রক্ষা করবে? কে দেখাবে আশা? পয়া ভেন্যু সোফিয়া গার্ডেন কী তবে আজ খালি হাতেই ফেরত পাঠাবে? সমর্থকরা যখন এসব ভাবছিলেন, তখন উইকেটে নেমে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসান।

সেই চেষ্টা থেকেই জুটিটাকে ধীরে ধীরে বড় করতে লাগলেন তারা দু’জন। শেষ পর্যন্ত সেই জুটির রান ১০০ পার হলো। হলো দেড়শ’ পার। শেষ পর্যন্ত ২০০ ও পার হলো। থামলো ২২৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে। তামিম-মুশফিকের ১৭৮ রানের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করলেন তারা। 

বাংলাদেশ যে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল সেখান থেকে আশার আলোও দেখাতে শুরু করে দিয়েছিলেন তারা দু’জন। বাংলাদেশ তো নিয়মিতই জেতা ম্যাচ হেরে যায়। আজ হারা ম্যাচ কী জিততে পারবেন মাশরাফিরা! এমন চিন্তা যখন উদয় হচ্ছিল, তখন শুরুতে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ দু’জনই হাফ সেঞ্চুরি হাঁকালেন। এরপর হাঁকালেন জোড়া সেঞ্চুরি।

২৫৭ রানের মাথায় সাকিব যখন ট্রেন্ট বোল্টের বলে বোল্ড হলেন, তখন তার নামের পাশে ১১৪ রান লেখা। বাংলাদেশও জয়ের প্রান্তরে দাঁড়িয়ে। সেখান থেকে বাকি কাজ করে দিলেন মাহমুদউল্লাহ আর মোসাদ্দেক। ৫ উইকেটে জিতে গেলো বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়েছিল ৫ উইকেটে। এবারও বাংলাদেশ জিতলো ৫ উইকেটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮(গাপটিল ৩৩, রনকি ১৬, উইলিয়ামসন ৫৭, টেলর ৬৩, ব্রুম ৩৬, নিশাম ২৩, অ্যান্ডারসন ০, স্যান্টনার ১৪*, মিল্ন ৭, সাউদি ১০*; মাশরাফি ০/৪৫, মুস্তাফিজ ১/৫২, তাসকিন ২/৪৩, রুবেল ১/৬০, সাকিব ০/৫২, মোসাদ্দেক ৩/১৩)।

বাংলাদেশ: ৪৭.২ ওভারে ২৬৮/৫ (তামিম ০, সৌম্য ৩, সাব্বির ৮, মুশফিক ১৪, সাকিব ১১৪, মাহমুদউল্লাহ ১০২*, মোসাদ্দেক ৭*; সাউদি ৩/৪৫, বোল্ট ১/৪৮, মিল্ন ১/৫৮, নিশাম ০/৩০, স্যান্টনার ০/৪৭, অ্যান্ডারসন ০/১৯, উইলিয়ামসন ০/১৯)।

ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (১৬ বল হাতে রেখে)। ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান।



Go Top