দুপুর ১:০৭, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ ক্রিকেট

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ৪৯.৫ ওভারে ৩১১
বৃষ্টিতে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হতে দেরি

বাংলাদেশের রান তাড়া যখন শুরু হওয়ার কথা, উইকেট-মাঠ তখন ঢাকা কাভারে। ইনিংস বিরতিতেই নেমেছে বৃষ্টি। হালকা বৃষ্টি দিয়ে শুরু হলেও পরে একটু বেড়েছে বেগ। বাংলাদেশের ইনিংস শুরু হতে তাই হচ্ছে দেরি।

শ্রীলঙ্কা থামল ৩১১ রানে
টস জিতে উপুল থারাঙ্গার চাওয়া ছিল অন্তত ২৭০-২৮০ রান। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক পেলেন তার চেয়ে ঢের বেশি।

দ্বিতীয় উইকেটে মেন্ডিসের সঙ্গে জুটিতে বড় স্কোরের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন থারাঙ্গাই। দারুণ সেঞ্চুরিতে পরে এগিয়ে নিয়েছেন মেন্ডিস। পরে কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেছেন মিলিন্দা সিরিবর্দনা ও আসেলা গুনারত্নে।

শেষ ওভারে তাসকিনের হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কা থামে ৩১১ রানে। আগে ব্যাট করে ২৩ ইনিংসে এই নিয়ে নবমবার বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনশ করল শ্রীলঙ্কা।

শেষ ওভারে তাসকিনের হ্যাটট্রিক!

ইনিংস জুড়ে শ্রীলঙ্কার দাপুটে ব্যাটিংয়ের পর শেষ ওভারে উল্টো নাটকীয়তা। টানা তিন বলে উইকেট নিয়ে তাসকিন গুটিয়ে দেন শ্রীলঙ্কাকে।

শেষ দিকে রান বাড়ানোর কাজটা বলতে গেলে একাই করেছেন গুনারত্নে। তবে ইনিংস শেষ করে আসতে পারেননি। তাসকিনের ফুল লেংথ বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মিড অফে। তবে তার আগে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে খেলেছেন ২৮ বলে ৩৯ রানের দারুণ ইনিংস।

পরের বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিলেন সুরাঙ্গা লাকমল। হ্যাটট্রিক বল তাসকিন করলেন ইয়র্কার। নুয়ান প্রদিপ হাঁকালেন। বল উড়িয়ে দিল বেলস। হ্যাটট্রিক!

বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে তাসকিন ওয়ানডেতে হাটট্রিক করলেন। ৪৭ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

মুশফিক আবার!

থিসারা পেরেরাকে রান আউট করেছিলেন গ্লাভস খুলে। দিলরুয়ান পেরেরার ক্ষেত্রে সেটির সময়ও পাননি মুশফিক। কিপারের কাছে বল রেখেই রান নিতে ছুটেছিলেন পেরেরা। মুশফিকের আন্ডার আর্ম থ্রো লাগে স্টাম্পে।

থিসারা পেরেরার মত দিলরুয়ান পেরেরাও রান আউট ৯ রানে। ৪৮.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে ৩০০।

ঝড়ের আগেই শেষ পেরেরা

আগের ম্যাচে দলের বিপর্যয়েও ঝড়ো এক অর্ধশতক করেছিলেন থিসারা পেরেরা। এদিনও ঝড় তোলার মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। কিন্তু ৯ রানেই তাকে রান আউট করলেন মুশফিক।

লেগ স্টাম্পে থাকা বলটিতে টাইমিং করতে পারেননি পেরেরা। বল ছিল পেছনেই, ছুটেছিলেন রান নিতে। মুশফিক ত্বরিত গ্লাভস খুলে সরাসরি থ্রোয়ে বল লাগান স্টাম্পে। শ্রীলঙ্কা তখন ৪৬.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮০।

মিরাজই ফেরালেন সিরিবর্দনাকে

আগের ওভারে ক্যাচ ছেড়েছিলেন সিরিবর্দনার। মিরাজ সেটি পুষিয়ে দিলেন নিজেই আউট করে। সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

৩০ রানে ফিরলেন সিরিবর্দনা। শ্রীলঙ্কা ৪৫.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭১।

আরেকটি জুটির পঞ্চাশ

সেঞ্চুরির পর মেন্ডিসকে ফেরানো গেলেও খুব একটা বেগ দেওয়া যায়নি শ্রীলঙ্কাকে। মিলিন্দা সিরিবর্দনা ও আসেলা গুনারত্নে জুটি বেধে এগিয়ে নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কাকে। পঞ্চম উইকেট জুটিতেও রান ছাড়িয়ে গেছে পঞ্চাশ। ৪১ বলে হয়েছে জুটির অর্ধশত।

দুটি সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১২ রানে গুনারত্নে জীবন পেয়েছেন মিরাজের বলে মুশফিক স্টাম্পিংয়ের সুযোগ ছাড়ায়। পরে সেই মিরাজই অনেকটা দৌড়ে বল হাতে নিয়েও জমাতে পারেননি, ২৪ রানে মাশরাফির বলে জীবন পান সিরিবর্দনা।

তাসকিনের ‘যন্ত্রণাময়’ উইকেট

ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে যথেষ্ট যন্ত্রণা দিয়েছেন কুসল মেন্ডিস। সেই যন্ত্রণা খানিকটা শরীরেও টের পেলেন তাসকিন আহমেদ।

ফুল লেংথ বলে গায়ের জোরে বোলারের দিকেই তুলে মেরেছিলেন মেন্ডিস। বল লাগে তাসকিনের কাঁধের দিকে। ব্যথা পেলেও তাসকিন সামলে নেন দ্রুত। বল তখন বাতাসে। দ্রুত ঘুরে সেটি নেন ক্যাচ। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখেই তাসকিনের উইকেট উদযাপন!

১০৭ বলে ১০২ রানে ফিরলেন মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কা তখন ৩৭.৪ ওভারে  ৪ উইকেটে ২১৬।

অবশেষে মুস্তাফিজের উইকেট

বাংলাদেশের রিভিউয়ে বেঁচেছিলেন চান্দিমাল। টিকতে পারলেন না নিজে রিভিউ নিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে এসে মুস্তাফিজকে সুইপ মত খেলতে গিয়েছিলেন। বল লাগে প্যাডে।

জোড়ালো আবেদনে অনেকটা সময় নিয়ে আঙুল তোলেন আম্পায়ার এস রবি। আম্পায়ারকে এত সময় নিতে দেখেই হয়ত রিভিউ নেন চান্দিমাল। তবে বল লাগতো মিডল স্টাম্পে।

আগের ৫ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ার পর এবার মুস্তাফিজ দেখলেন সাফল্যের মুখ।

২৪ রানে ফিরলেন চান্দিমাল। জুটি ছিল ৮৩ রানের। শ্রীলঙ্কা তখন ৩৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১২।

মেন্ডিসের প্রথম সেঞ্চুরি

৯০ থেকে সাকিবকে টানা দুটি বাউন্ডারিতে ৯৮। পরের ওভারেই মাশরাফির বলে দুটি সিঙ্গেলে ১০০। কুসল মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।

অথচ শুরুতে টাইমিংই করতে পারছিলেন না মেন্ডিস। ২৫ বলে রান ছিল ৭। বল ব্যাটের কানায় ছুঁয়ে স্লিপ দিয়ে চার পাওয়ার পর থেকেই ফিরে পান আত্মবিশ্বাস। পঞ্চাশ করছিলেন ৬৩ বলে। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে ৩৯ বল।

গত নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৩ বলে ৯৪ করে আউট হয়েছিলেন। এবার পেয়ে গেলেন প্রথম সেঞ্চুরি।

৩৬ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ২১০। জুটির রান হয়ে গেছে ৮১। মেন্ডিসের রান ১০০, চান্দিমাল ২৩।

অল্পের জন্য চান্দিমালের রক্ষা

কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে নিজেকে দ্বিতীয় স্পেলে এনেছিলেন মাশরাফি। ব্রেক থ্রু প্রায় পেয়েই গিয়েছিল বাংলাদেশ। দারুণ এক কাটারে বল লেগেছিল চান্দিমালের প্যাডে। জোড়ালো আবেদনেও সাড়া দেননি আম্পায়ার। মাশরাফি নেন রিভিউ।

বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল লাগছিল বেলসে! আর কয়েক সেন্টিমিটার নিচে লাগলেই আউট হতে পারতেন চান্দিমাল। আউট হতেন আম্পায়ার শুরুতে আউট দিলেও। বাঁচলেন ১৬ রানে। ৩৩.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কার রান তখন ২ উইকেটে ১৯৩।

ঝড়ের গতিতে জুটির পঞ্চাশ

থারাঙ্গাকে হারানোর ধাক্কা দলকে বুঝতেই দিলেন না কুসল মেন্ডিস। ফ্রি হিটে ছক্কা মেরেছিলেন পরের বলেই। তার পরও খেলে গেছেন দারুণ সব শট। দিনেশ চান্দিমালের সঙ্গে দারুণ জুটিতে রান উঠেছে তুমুল গতিতে। অবশ্য জুটিতে নয়, বলা ভালো মেন্ডিসের ব্যাটে!

তৃতীয় উইকেট জুটির পঞ্চাশ হয়েছে মাত্র ৩৪ বলেই। তাতে চান্দিমালের রান ৮, বাকি ৪২ মেন্ডিসেরই!

নড়বড়ে শুরুর পর মেন্ডিস এখন এগোচ্ছেন দারুণভাবে। হাতছানি প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির।

৩১ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১৮০। জুটির রান ৫১। ৮৯ বলে ৮৫ রানে খেলছেন মেন্ডিস, ৮ রানে চান্দিমাল।

মাশরাফি ছাড়া সুবিধে করতে পারেননি আর কোনো বোলার। ৫ ওভারে ৪৩ রান গুণেছেন মুস্তাফিজ। সাকিব ৬ ওভারে ৩৩। মোসাদ্দেকের ৩ ওভারে এসেছে ২৬।

মেন্ডিসের পঞ্চাশ

থারাঙ্গা রান আউট নো বলে। সেই ফ্রি হিটে কুসল মেন্ডিস মারলেন ম্যাচের প্রথম ছক্কা। মুস্তাফিজের ফুল লেংথ বল ওড়ালেন লং অন দিয়ে। পরের বলে দারুণ এক ড্রাইভে ছুঁলেন পঞ্চাশ।

শুরুটা হয়েছিল নড়বড়ে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে মেন্ডিস হয়ে উঠছেন আত্মবিশ্বাসী। ৬৩ বলে স্পর্শ করেছেন অর্ধশতক, ২৪ ওয়ানডেতে যেটি তার নবম।

২৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১৪০। ৫৩ রানে খেলছেন মেন্ডিস, নতুন সঙ্গী দিনেশ চান্দিমাল।


বিমারে উইকেট! কাজ হচ্ছিলো না কোনো কিছুতেই। জুটি ভাঙর পথ পাচ্ছিলো না বাংলাদেশ। থারাঙ্গা কেবলই খুলছিলেন হাত। হঠাৎই উইকেট ধরা দিল রান আউটে।

মুস্তাফিজের হাত থেকে বল ছুটে হয়ে গিয়েছিল বিমার। ডাইভ দিয়ে কোনো রকমে চার বাঁচতে পেরেছিলেন মুশফিক। নো বল। বল গেল স্কয়ার লেগে। কিন্তু রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি। মাহমুদউল্লাহর সরাসরি থ্রোতে রান আউট থারাঙ্গা।

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ফিরলেন ৬৫ রানে। জুটি ভাঙল ১১১ রানে। ২৪.৪ ওভারে শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে ১২৯।

জুটির সেঞ্চুরি

তৃতীয় ওভারে উইকেট হারানোর পর জুটি বেধেছিলেন দুজন। সেই থেকেই দলকে টানছেন দুজন। উপভোগ করছেন পরস্পরের সঙ্গ। গড়ে উঠেছে জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে যে জুটি ছাড়িয়ে গেছে শতরান।

সময়ের সঙ্গে বাড়ছে রানের গতিও। পঞ্চাশের পর শট খেলতে শুরু করেছেন থারাঙ্গা। মুস্তাফিজকে এক ওভারেই মেরেছেন দুটি চার।

 

দুইশতম ম্যাচে থারাঙ্গার পঞ্চাশ
অনভিজ্ঞ দলটির সবচেয়ে বড় ভরসা তিনি। শুধু অধিনায়কই নন, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানও। দল তাকিয়ে তার দিকে। প্রথম ম্যাচে না পারলেও এবার উপুল থারাঙ্গার ব্যাটে দলের চাওয়ারই প্রতিফলন। নিজের দুইশতম ওয়ানডেতে বাঁহাতি এই ওপেনার তুলে নিয়েছেন ৩১তম অর্ধশতক।

শুরুতে উইকেট হারানোর পর থারাঙ্গার ব্যাটেই চাপ হয়েছে আড়াল। সময় নিয়ে থিতু হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কুসল মেন্ডিস।

তাড়াহুড়ো ছিল না দুজনের ব্যাটে। ঠাণ্ডা মাথায় শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন দুজন। ৬৮ বলে থারাঙ্গা স্পর্শ করেছেন পঞ্চাশ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচে এটি তার চতুর্থ অর্ধশতক। সেঞ্চুরি আছে আরও তিনটি।

পঞ্চাশ ছাড়িয়ে জুটি

শুরুর ফাঁস আলগা হতে শুরু করেছে আস্তে আস্তে। থারাঙ্গা ও মেন্ডিস ধীরে ধীরে এগিয়ে নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কাকে।

থারাঙ্গা শুরু থেকেই মোটামুটি সাবলীল। ধুঁকছিলেন কুসল মেন্ডিস। তবে ভাগ্যের একটু সহায়তা স্বস্তিতে ফিরিয়ে তাকে। ৭ রানে মুস্তাফিজের বলে ব্যাটের কানায় লেগেও পেলেন চার। বল গেল কিপার ও স্লিপের মাঝ দিয়ে বাউন্ডারিতে। এরপর থেকেই একটু ফিরে পেয়েছেন নিজেকে।

১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে ৭৮। ৪২ বলে ৩৮ রানে খেলছেন থারাঙ্গা, ৩৭ বলে ১৯ রানে মেন্ডিস। দ্বিতীয় জুটির রান ৬০।

আগের ম্যাচের মতোই প্রথম স্পেলে মাশরাফি ছিলেন দুর্দান্ত। ৫ ওভারে ১ মেডেন, ১৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। তবে মুস্তাফিজের শুরুটা ভালো হয়নি। ২ ওভারে গুণেছেন ১৭ রান। তাসকিন ৩ ওভারে দিয়েছেন ১৪ রান। নতুন বলে মিরাজ ৪ ওভারে ১৯।

 

লঙ্কার জুটির চেষ্টা
তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একটু একটু করে দলকে টানছেন উপুল থারাঙ্গা। সঙ্গী কুসল মেন্ডিস।

মেন্ডিস অবশ্য টাইমিং পাচ্ছেন না একটুও। মাশরাফির দারুণ বোলিংও দুই ব্যাটসম্যানকে খেলতে দেয়নি স্বস্তিতে। তবে আরেক পাশে মিরাজের অনভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছেন থারাঙ্গা। মিরাজের এক ওভারে মেরেছেন দুটি চার। মুস্তাফিজের প্রথম ওভার থেকে এসেছে ৮ রান।

১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ১ উইকেটে ৪৮। ২৭ বলে ২৫ রানে খেলছেন থারাঙ্গা, ২২ বলে ৬ মেন্ডিস।

আবার মাশরাফি, দুর্দান্ত মুশফিক

আগের ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি। এবার নিলেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। শিকার সেই একই, দানুশকা গুনাতিলাকা।

আগের বলেই দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরেছিলেন গুনাতিলাকা। পরের বলটি মাশরাফি করলেন স্লোয়ার শর্ট বল। বাঁহাতি গুনাতিলাকা পুল করে বল তুললেন আকাশে। ছুটেছিলেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিক।

৯ রানে আউট গুনাতিলাকা। শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১ উইকেটে ১৮।

২৭০-২৮০ রানের উইকেট?
 
লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

 

 

 

 

 

শুরুতে আবার মাশরাফির ছোবল

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ৮ ওভারে ৩৭/১

আবার মাশরাফি, দুর্দান্ত মুশফিক আগের ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি। এবার নিলেন নিজের দ্বিতীয় ওভারে। শিকার সেই একই, দানুশকা গুনাতিলাকা।

আগের বলেই দারুণ এক স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরেছিলেন গুনাতিলাকা। পরের বলটি মাশরাফি করলেন স্লোয়ার শর্ট বল। বাঁহাতি গুনাতিলাকা পুল করে বল তুললেন আকাশে। ছুটেছিলেন তিনজন ফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত কিপিং থেকে ফাইন লেগের দিকে অনেকটা দৌড়ে দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নিলেন মুশফিক।

৯ রানে আউট গুনাতিলাকা। শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১ উইকেটে ১৮।

২৭০-২৮০ রানের উইকেট?
 
লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

একই দল নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ


সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ২.৩ ওভারে ১৮/১

২৭০-২৮০ রানের উইকেট? লঙ্কান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গার এটি দুইশতম ওয়ানডে। টস জিতে বললেন, উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া আছে। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। লঙ্কান অধিনায়কের ধারণা, ২৭০-২৮০ রানের উইকেট এটি।
 
মাশরাফিরও ধারণা থারাঙ্গার মতোই। ভালো বোলিংয়ে লঙ্কানদের যত কমে সম্ভব আটকে রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
 
ম্যাচ জয়ী একাদশ বাংলাদেশের
 
টসের সময় মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, টস জিতলে ব্যাটিং নিতেন তিনিও। আগের ম্যাচের জয়ী একাদশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
 
বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ।
 
শ্রীলঙ্কা একাদশে তিন পরিবর্তন
 
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া শ্রীলঙ্কা আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে। নিষেধাজ্ঞার খাড়ায় সেদিন খেলতে না পারা নিরোশান ডিকভেলার ফেরার কথা ছিল এই ম্যাচে। কিন্তু চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সিরিজ থেকেই। শ্রীলঙ্কা তার বদলে নিয়েছে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো অফ স্পিনার দিলরুয়ান পেরেরাকে। পেস আক্রমণ আরও ক্ষুরধার করতে ফেরানো হয়েছে নুয়ান কুলাসেকারা ও নুয়ান প্রদিপকে।
 
বাদ পড়েছেন লাহিরু কুমারা, সাচিথ পাথিরানা ও লাকশান সান্দকান।  
 
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
 
আগের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তুলেছিল ৩২৪ রান। এবার আর সেই পথে পা বাড়ায়নি লঙ্কানরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা।
 
ডাম্বুলাতেই সিরিজ জয়ের আশা
 
প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা করছে দল। দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানিয়েছিলেন, ডাম্বুলাতে সিরিজ নিশ্চিত করেই কলম্বো ফিরতে চায় দল।
 
দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ দেশের বাইরে সবশেষ সিরিজ জিতেছে ২০০৯ সালে, জিম্বাবুয়েতে।

 

মাশরাফির পর মিরাজের আঘাত

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : শ্রীলঙ্কা ১৫/২ (৬ ওভার)

আউট হয়ে ফিরে গেছেন : দানুস্কা গুনাথিলাকা (০) ও কুশাল মেন্ডিস (৪)।

দ্বিতীয় উইকেটের পতন : মেহেদী হাসান মিরাজের করা ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারেন কুশাল মেন্ডিস। কিন্তু লং অনে তার ক্যাচটি তালুবন্দি করেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা শুভাগত হোম চৌধুরী। দলীয় ১৬ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন তিনি।

প্রথম উইকেটের পতন : উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নামেন দানুস্কা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই আউট হয়ে ফিরে যান গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। দলের কিংবা নিজের রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়েছে লঙ্কানরা।

 

তার আগে বাংলাদেশের তামিম ইকবালের ১২৭, সাকিব আল হাসানের ৭২, সাব্বির রহমানের ৫৪ ও মোসাদ্দেক হোসেনের অপরাজিত ২৪ রানে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান সংগ্রহ করে।

শ্রীলঙ্কাকে ৩২৫ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা। টস হেরে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ ৩২৪/৫ (৫০ ওভার)

আউট হয়েছেন : সৌম্য সরকার (১০), সাব্বির রহমান (৫৪), মুশফিকুর রহিম (১), সাকিব আল হাসান (৭২) ও তামিম ইকবাল (১২৭)।

বাংলাদেশ ৩২৪ : নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ রান। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৩২৫ রান। ব্যাট হাতে বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ১২৭, সাকিব ৭২, সাব্বির ৫৪ ও মোসাদ্দেক ২৪* রান করেন। বল হাতে শ্রীলঙ্কার সুরঙ্গা লাকমাল ২টি উইকেট নেন।

১২৭ রান করে তামিম আউট : দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১২৭ রানে তামিম ইকবাল আউট হন। লং অনে তার ক্যাচটি ধরেন গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন লাহিরু কুমারা।

সাকিবের বিদায় : তামিম ইকবালের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২৩.৪ ওভারে ১৪৪ রান সংগ্রহ করেন সাকিব। দেখেশুনে খেলছিলেন সাকিব। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭২ রানের সময় লাকমলের বলে শর্ট ফাইন লেগে সান্দাকানের হাতে ধরা পড়েন। ৭১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭২ রান করেন তিনি।

তামিমের অষ্টম সেঞ্চুরি : ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেঞ্চুরির পথে তাকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা ‍দুজন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১০ রান সংগ্রহ করেছেন।

২০০ রান পেরিয়ে : ৩৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০৪ রান। তামিম ৮৮ ও সাকিব ৩৩ রানে ব্যাট করছেন। ৫.৫১ গড়ে রান তুলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ১৫০ : তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ১৫০ রান পেরিয়েছে। আসেলা গুনারত্নের করা ৩০তম ওভার প্রথম বলে ১ রান নিয়ে দলীয় সংগ্রহ ১৫০ করেন সাকিব।

তামিমের ৩৫তম অর্ধশতক : ওয়ানডেতে নিজের ৩৫তম অর্ধশত রান তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। আসেলা গুনারত্নের করা ২৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে অর্ধশত রান পূরণ করেন এই ম্যাচেই ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করা তামিম।

তৃতীয় উইকেটের পতন : সান্দাকানের করা ২৩তম ওভারের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান মুশফিকুর রহিম। বল তার ব্যাটে লেগে সান্দাকানের হাতে জমা হয়। আউট হওয়ার আগে ১ রান করেন টেস্ট অধিনায়ক।

দ্বিতীয় উইকেটের পতন : ২২তম ওভারের তৃতীয় বলে উপল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন দারুণ খেলতে থাকা সাব্বির রহমান। বোলার ছিলেন আসেলা গুনারত্নে। সাব্বির ৫৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করেন।

বাংলাদেশের দলীয় ১০০ : সান্দাকানের করা ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে দলীয় শতরান পূর্ণ করেন সাব্বির রহমান। ওভার প্রতি ৫.৩৫ গড়ে রান তুলছে বাংলাদেশ।

তামিম-সাব্বিরের অর্ধশত রানের জুটি : সৌম্য সরকার আউট হয়ে যাওয়ার পর তামিমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাব্বির রহমান। ইতিমধ্য এ জুটি ৪৯ বলে ৫০ রান সংগ্রহ করেছে। যেখানে সাব্বিরের রান ৩০ আর তামিমের ১৮।

দলীয় অর্ধশতক : ৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের দলীয় রান ৫০। ৬.৬০ গড়ে রান আসে প্রথম ৮ ওভারে।

প্রথম উইকেটের পতন : সুরাঙ্গা লাকমালের তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলটি অ্যাক্রোস দ্য লাইনে খেলতে যান। বলটি বুঝতে পারেননি তিনি। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসে জমা হয়।
 

 

 

১২৩তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের।

টিম ম্যানেজম্যান্টের সিদ্ধান্তে টেস্টে উইকেটের পিছনে না দাঁড়ালেও আজ ওয়ানডেতে কিপিং করবেন মুশফিকুর রহিম। সবশেষ একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস, কাজী নুরুল হাসান সোহান, তানভীর হায়দার। দলে এসেছেন সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ।

২০১৩ সালে সবশেষে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল। রনগিরির এ মাঠে ২০১০ এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ৩টি ম্যাচেই হেরেছিল টাইগাররা। আজ অতীতের দুঃস্মৃতি কাটিয়ে জয়ে ফেরার লক্ষ্য বাংলাদেশ দল মাঠে নামবে।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা দল :
দানুস্কা গুনাথিলাকা, উপল থারাঙ্গা (অধিনায়ক), কুশাল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, সাচিথ পাথিরানা, থিসারা পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাকসান সান্দাকান, মিলিন্দা শ্রীবর্ধনে ও লাহিরু কুমারা।

মন্ত্রিসভার অভিনন্দন মুশফিক বাহিনীকে

শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের শুরুতেই ক্রিকেট দলের জন্য অভিনন্দন প্রস্তাব তোলা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিজয় লাভ করায় মন্ত্রিসভা জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সর্বসম্মতিক্রমে সেটা গৃহীত হয়েছে। রোববার কলম্বো টেস্টে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটাই প্রথম এবং সব মিলিয়ে নবম টেস্ট জয় বাংলাদেশের।

 

সারাদেশে বাঁধভাঙা উল্লাস

শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টাইগারদের ঐতিহাসিক জয়ে বাঁধভাঙা উল্ল¬াসে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। সেই সঙ্গে মুহূর্তেই উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। অবিস্মরণীয় এমন জয়ে সমর্থকরা উল্ল¬াসে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। পুরো টিএসসি এলাকায় বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ক্রিকেটপ্রেমী, অনুরাগী, সমর্থকরা। নেচে, গেয়ে, বাঁশি বাজিয়ে যে যার মতো উদযাপন করেন ‘লঙ্কা বিজয়’। জয়ের পরপরই রাজধানীসহ সারাদেশে রাস্তায়, পাড়া-মহল্লায় শুরু হয় জয়ধ্বনি। ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ও জয়বাংলা’ স্লে¬াগানে উল্ল¬াসে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের বিজয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিষ্টি মুখ করা হয়। দৈনিক করতোয়া ঢাকা অফিসে ছিল মিষ্টির ছড়াছড়ি। 

খেলার ফলাফল অনেকটা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই টিএসসিতে এসে জড়ো হয় বাংলাদেশ দলের ভক্ত-অনুরাগীরা। হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসে টিএসসিতে। সঙ্গে যুক্ত হয় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরাও। কেউ কেউ মুখে রঙ মেখে, প্রিয় মানুষদের জড়িয়ে ধরে, বাজনা বাজিয়ে জয় উদযাপন করছেন। বাজনার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখে সম্মিলিতভাবে উচ্চারিত হচ্ছিল ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ বন্ধুদের সঙ্গে টিএসসিতে বিজয়োল্ল¬াসে মেতে উঠেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় পেতে যাচ্ছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই হল থেকে টিএসসিতে ছুটে এসেছি সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য। পাশেই বিজয়ের আনন্দে বান্ধবীদের সঙ্গে রঙ মাখামাখি করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশার পরিধি আরও বেড়ে গেল। এমন আনন্দময় মুহূর্ত ধরে রাখতেই ছুটে এসেছি টিএসসিতে।

 

সিরিজ সেরা সাকিব, ম্যাচ সেরা তামিম

বাংলাদেশের শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের দুই সেরা পারফরমার তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান। টেস্টের দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে তো বলতে গেলে তামিম একাই জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে। ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি।

 

সুতরাং, ম্যাচ সেরার পুরস্কারের জন্য সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসানকে বেছে নিলেন না বিচারকরা। হিরো ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা তাই উঠলো তামিম ইকবালের হাতেই।

তবে তামিমের চেয়েও বড় স্বীকৃতি পেয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। দুই টেস্ট মিলিয়ে সাকিব করেছেন ১৬২ রান। উইকেট নিয়েছেন ৯টি। সুতরাং, বিচারকদের দৃষ্টিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেরা হলেন সাকিব আল হাসানই।

শততম টেস্টে স্বপ্নের জয়

স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল শেষ দিনের সকাল। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, আশা আর শঙ্কার দোলাচল শেষে বিকেলে ধরা ছিল সেই স্বপ্ন। শততম টেস্টের মাহেন্দ্রক্ষণে অসাধারণ এক জয়! সিরিজে পিছিয়ে থাকা, ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের হাজারো বিতর্ক, তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, সব পেছনে ফেলে ৪ উইকেটের জয়। বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের বিরল স্বাদ।

চা-বিরতির পর সাকিব-ধাক্কা
 
চা-বিরতির পর নিস্তরঙ্গ দুটি ওভার। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই পেরেরাকে কাট করতে গিয়ে সাকিব বল টেনে আনলেন স্টাম্পে।
 
শুরুতে বুঝতে পারেননি কেউই। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় অফ স্টাম্পে হালকা চুমু দিয়ে বল ফেলে দিয়েছে বল। সাকিব ফিরলেন ১৫ রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৬২। জিততে তখন চাই ২৯ রান।

স্বপ্নের আবির মেখে শেষ সেশনে
 
দ্বিতীয় সেশনে হারাতে হয়েছে দুটি উইকেট। তবে এই সেশনই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে জয়ের লক্ষ্যে। আউট হওয়ার আগে তামিম ও সাব্বিরের ১০৯ রানের জুটি দেখিয়েছে পথ। চা-বিরতির আগের সময়টুকু কাটিয়ে দিয়েছেন সাকিব ও মুশফিক।
 
চা-বিরতিতে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে রান ১৫৬। শেষ সেশনে চাই আর মাত্র ৩৫ রান।
 
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান উইকেটে। চতুর্থ ইনিংসে দুজনের রেকর্ডও বেশ ভালো। জয়টা নাগালে ভাবতেই পারে বাংলাদেশ!

ফিরলেন সাব্বির, জমল রোমাঞ্চ
 
তামিমের বিদায়ের পর বেশি সময় টিকতে পারলেন না বড় জুটিতে তার সঙ্গী সাব্বির রহমানও। এলবিডব্লিউ দিলরুয়ান পেরেরার বলে।
 
সুইপ শটটা ইনিংস জুড়েই ভালো খেলেছেন সাব্বির। আউট হলেন সুইপ খেলেই। এলিবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার এস রবি সাড়া দেননি। শ্রীলঙ্কা জিতেছে রিভিউ নিয়ে।
 
৪১ রানে ফিরলেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১৪৩। জিততে চাই ৪৮ রান।

শেষ করতে পারলেন না তামিম
 
দলকে জয়ের পথে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু পারলেন না পথের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৮২ রানে ফিরলেন পেরেরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।
 
লাঞ্চের পর দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। তামিম ও সাব্বির খেলছিলেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। সেটিই হয়ত বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। তামিম চাইলেন ছক্কা মারতে। লং অফের ফিল্ডার ছিল সীমানা থেকে একটু ভেতরে। বলের দিকে চোখ রেখে পেছনে সরে দারুণ ক্যাচ নিলেন চান্দিমাল।
 
বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৩১। বাংলাদেশের চাই আর ৬০ রান।

শতরানের অমূল্য জুটি
 
ঠিক আগের দিনের মতোই। লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বদলে যাওয়া! আগের দিন বল হাতে খেলার মোড় বদলে দিযেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যাট হাতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে চলেছেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।
 
লাঞ্চের পর দুজনই খেলেছেন অসাধারণ। বিশেষ করে তামিমের পায়ের কাজ ছিল দেখার মত। থিতু হতে দেননি লঙ্কান স্পিনারদের। চায়নাম্যান সান্দকানকে টানা দুই বলে মেরেছেন চার-ছক্কা। আরেক পাশে সাব্বির খেলে গেছেন নিজের মতো। সামান্য সুযোগেও বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে।
 
জুটি রান ১০১। চতুর্থ ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় শতরানের জুটি। আগেরটিতেও ছিলেন তামিম। মুমিনুল হকের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ১১০ রানের জুটি। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১২৩। জিততে প্রয়োজন আর ৬৮ রান। ৭৬ রানে খেলছেন তামিম, ৩৬ সাব্বির।

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের চতুর্থ
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের ব্যাটিং গড় অন্য তিন ইনিংসের তুলনায় কম। তবে এবার দলের ভীষণ প্রযোজনের সময় খেলছেন দারুণ এক ইনিংস। ছুঁয়ে ফেললেন পঞ্চাশ।
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের এটি চতুর্থ অর্ধশতক। ৮৭ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।
 
২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৮৮। জিততে চাই আর ১০৩। তামিমের রান ৫৫, সাব্বির ২৩।

লক্ষ্যের পথে জুটির পঞ্চাশ
 
জোড়া উইকেটের ধাক্কা অনেকটা সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দেখা গেছে অনেক বেশি নির্ভরতা। দুজনই খেলছেন ইতিবাচক। জুটির রান পেরিয়েছে অর্ধশতক।
 
দুজনই চার মেরেছেন রিভার্স সুইপে। দুজনই খেলেছেন দারুখ কয়েকটি ড্রাইভ। হেরাথকে সাব্বিরের দারুণ এক অন ড্রাইভে বাউন্ডারিতেই জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ। ডিফেন্সও করছেন তারা আত্মবিশ্বাসে।
 
বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৪। জিততে চাই আর ১১৭ রান। জুটির রান ৫২। তামিম খেলছেন ৪১ রান নিয়ে, ২৩ রানে সাব্বির।

শঙ্কা আর আশা নিয়ে লাঞ্চে
 
সকালে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে তার আগেই যোগ হয়েছে আরও ৫১ রান।
 
প্রতিপক্ষের দুই উইকেট নিতে দেরি, নিজেদের দুই উইকেট হারাতে দেরি নয়। ১৯১ রান তাড়ায় পরপর দুই বলে বাংলাদেশ হারিয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। ৩৯তম জন্মদিনে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন রঙ্গনা হেরাথ।
 
সব মিলিয়ে বলা যায় শেষ দিনের প্রথম সেশনটি শ্রীলঙ্কারই।
 
জোড়া ধাক্কার পর লাঞ্চের আগে আর বিপদ হয়নি। তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান পার করে দিয়েছেন সময়টুকু।
 
লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৮। জিততে চাই আরও ১৫৩। দিনের ওভার বাকি ৫৯। ২২ রানে উইকেটে তামিম, ৬ রানে সাব্বির।

উড়িয়ে আউট সৌম্য, ব্যাট বাড়িয়ে ইমরুল
 
বল স্পিন-টার্ন করছে। স্পিনাররা পেয়ে বসছে। এটিই হয়ত খেলা করলো সৌম্য সরকারের মাথায়। বেরিয়ে এসে খেলতে চাইলেন। লং অফে ফিল্ডার ছিল সীমানায়। তার পরও উড়িয়ে মারলেন। টাইমিংয়ে গড়বড়। লং অফেই উপুল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ।
 
আউটের পথ তৈরি করেছিল আগের বলটিই। ফ্লাইট দিয়ে রাফে ফেলে বড় টার্ন করিয়েছিলেন হেরাথ। সেটিই হয়ত ভয় ধরিয়েছিল সৌম্যর মনে। ফিরলেন ১০ রানে।
 
পরের বলেই আরেকটি উইকেট। সেই টার্নের ভয়। প্রথম বলটিতেই ব্যাট বাইরে বাড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভেবেছিলেন টার্ন করবে। কিন্তু টার্ন করল না। ব্যাটের কানা নিয়ে স্লিপের হাতে।
 
৩৯তম জন্মদিনে দারুণ দুটি ব্রেক থ্রু এনে দিলেন হেরাথ। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২, লক্ষ্য ১৯১।

অবশেষে শেষ শ্রীলঙ্কা
 
একটি বড় জুটির ভাঙন অনেক সময়ই ডেকে আনে আরেকটি। সুরঙ্গা লাকমল রান আউট হওয়ার পর চালিয়ে খেলতে চেযেছিলেন লাকমল। উড়িয়ে মেরেছিলেন সাকিব আর হাসানকে। সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।
 
ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ করে ফিরলেন লাকমল। শ্রীলঙ্কা অলআউট ৩১৯ রানে।
 
চারটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজ ৩টি।
 
শততম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯১ রান।
 
এর চেয়ে কম রানের পুঁজি নিয়ে দুটি টেস্ট জয়ের কীর্তি আছে শ্রীলঙ্কার। দুটিই গলে, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।
 
রান আউটে ভাঙল জুটি
 
‘নেভার রান আ মিসফিল্ড”, ক্রিকেটের অনেক পুরোনো একটি কথা। সেটিই নতুন করে উপলব্ধি করলেন দিলরুয়ান পেরেরা। মিসফিল্ডে রান নিতে গিয়ে রান আউট।
 
চোট পেয়ে বেশ কিছুটা সময় ধরেই রানিং বিটুইন দা উইকেটে ভুগছিলেন পেরেরা। এবার মিসফিল্ডে দ্রুত রান নিতে গিয়ে রান আউট। ভাঙল বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা হয়ে ওঠা নবম জুটি। মিসফিল্ডের পর শুভাশীষ রায়ের থ্রো খুব ভালো ছিল না। মিরাজ ধরেছেন খুব ভালো, সেরেছেন বাকি কাজ।
 
আউট হওয়ার আগে শ্র্রীলঙ্কার আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এসেছেন পেরেরা। নিজে করেছেন ৫০ রান।
 
নবম জুটিতে সুরঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় যেটি হতে পারে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
 
শ্রীলঙ্কার রান ৯ উইকেটে ৩১৯। এগিয়ে ১৮৯ রানে।

নবম জুটিতে লঙ্কার আশার ভেলা
 
মুস্তাফিজের কাটারে আবারও বিভ্রান্ত লাকমল। আগের বার বল পড়েছিল তার খুব কাছেই। এবার মিস টাইমিং হলেও বল উড়ে গেল কাভার ফিল্ডারের ওপর দিয়ে। মুস্তাফিজের চোখে-মুখে হতাশা!
 
ওই ওভারেই দিলরুয়ান পেরেরার বাউন্ডারিতে নবম জুটি ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ। রান উঠেছে এর পরও। প্রতি ওভারেই এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ হারিয়েছে দুটি রিভিউও।
 
দিনের শুরুতে ১৭৫ রানের লিডের আশা করেছিলেন সান্দাকান। দুই উইকেট অক্ষত রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে শ্রীলঙ্কা।
 
১০৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৮ উইকেটে ৩০৬। এগিয়ে তারা ১৭৭ রানে।
৪৫ রানে খেলছেন পেরেরা, ৩৪ রানে লাকমল।
 
প্রথম ইনিংসেও লাকমল করেছিলেন মহামূল্য ৩৫। ১০ বা ১১ নম্বরে নেমে দুই ইনিংসেই ৩০ ছোঁয়া ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান লাকমল।

দেড়শ ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার লিড
 
মুস্তাফিজের কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন লাকমল। ব্যাটে লেগে বল উঠল ওপরে। কিন্তু আশেপাশে নেই ফিল্ডার। বোলার ছুটে গিয়ে চেষ্টা করলেন, আসার চেষ্টা করলেন স্লিপ ফিল্ডার। কিন্তু অতটা দ্রুত বলের কাছে যেতে পারলেন না কেউ।
 
বেঁচে গিয়ে তাৎক্ষনিক ভোগালেন লাকমল। পরের বলে স্লিপের ওপর দিয়ে চার। তার পরের বলে দারুণ কাভার ড্রাইভে চার। শ্রীলঙ্কার লিড ছাড়িয়ে গেল দেড়শ! রান ৮ উইকেটে ২৮২। এগিয়ে ১৫৩ রানে।
 
লাকমলকে ‘ওয়ার্নিং’
 
পিচের বিপজ্জনক জায়গায় বুট দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন লাকমল। সাকিবের বল খেলেই রান ছুটেছিলেন পিচের মাঝ বরাবর! আম্পায়ার আলিম দারের চোখ এড়ায়নি। ‘অফিসিয়াল ওয়ার্নিং’ দেওয়া হয়েছে লাকমল ও শ্রীলঙ্কাকে। এরপর শুধু লাকমল নয়, শ্রীলঙ্কার যে কেউই এটির পুনরাবৃত্তি করলে ৫ রান কাটা যাবে দলের রান থেকে।

জয়ের আশায় দিনের শুরু
 
শততম টেস্টে জয়। দেশের বাইরে বিরল জয়। সিরিজ ড্র। বাংলাদেশের হাতছানি দারুণ কিছুর। স্বপ্নের আবির মেখে শুরু হচ্ছে পি সারা ওভালে কলম্বো টেস্টের শেষ দিন।
 
২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের চাওয়া থাকবে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। আগের দিনের খেলা শেষে মোসাদ্দেক হোসেন বলেছেন, লক্ষ্যটা ১৬০ রানের মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি হলে আসলেই হয়ে উঠতে পারে কঠিন।
 
দিনের খেলা শুরুর আগে তামিম ইকবাল টেন ক্রিকেটকে জানালেন, এখনই জয়ের কথা ভাবছে না দল। আগে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। তার পর রান তাড়ার ভাবনা। রান তাড়ায় গুটিয়ে না গিয়ে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ।
 
শ্রীলঙ্কান চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকানের চাওয়া, ১৭৫ রানের মত লিড। তাহলেই থাকবে জয়ের সুযোগ।
 
শেষ দিনের উইকেটে রঙ্গনা হেরাথ, আরও দুই লঙ্কান স্পিনারকে সামলে দেড়শ রান করাও সহজ হওয়ার করা নয়। তবে টেস্ট জিততে হলে তো এইটুকু চ্যালেঞ্জ জিততে হবেই!
 
দেশের মাটিতে টানা ছয় টেস্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দেশের বাইরে সবশেষ ৬ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ দিনে শেষ হতে পারে দুটি ধারাই!

 

তামিমের পর ফিরলেন সাব্বিরও


শততম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯১ রান।

ফিরলেন সাব্বির, জমল রোমাঞ্চ তামিমের বিদায়ের পর বেশি সময় টিকতে পারলেন না বড় জুটিতে তার সঙ্গী সাব্বির রহমানও। এলবিডব্লিউ দিলরুয়ান পেরেরার বলে। সুইপ শটটা ইনিংস জুড়েই ভালো খেলেছেন সাব্বির। আউট হলেন সুইপ খেলেই। এলিবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার এস রবি সাড়া দেননি। শ্রীলঙ্কা জিতেছে রিভিউ নিয়ে।
 
৪১ রানে ফিরলেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১৪৩। জিততে চাই ৪৮ রান। শেষ করতে পারলেন না তামিম দলকে জয়ের পথে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু পারলেন না পথের শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে ৮২ রানে ফিরলেন পেরেরাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।
 
লাঞ্চের পর দারুণ গতিতে এগিয়ে চলছিল বাংলাদেশ। তামিম ও সাব্বির খেলছিলেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। সেটিই হয়ত বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। তামিম চাইলেন ছক্কা মারতে। লং অফের ফিল্ডার ছিল সীমানা থেকে একটু ভেতরে। বলের দিকে চোখ রেখে পেছনে সরে দারুণ ক্যাচ নিলেন চান্দিমাল।
 
বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৩১। বাংলাদেশের চাই আর ৬০ রান।

শতরানের অমূল্য জুটি
 
ঠিক আগের দিনের মতোই। লাঞ্চের পর বাংলাদেশের বদলে যাওয়া! আগের দিন বল হাতে খেলার মোড় বদলে দিযেছিল বাংলাদেশ। এবার ব্যাট হাতে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে চলেছেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান।
 
লাঞ্চের পর দুজনই খেলেছেন অসাধারণ। বিশেষ করে তামিমের পায়ের কাজ ছিল দেখার মত। থিতু হতে দেননি লঙ্কান স্পিনারদের। চায়নাম্যান সান্দকানকে টানা দুই বলে মেরেছেন চার-ছক্কা। আরেক পাশে সাব্বির খেলে গেছেন নিজের মতো। সামান্য সুযোগেও বল পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে।
 
জুটি রান ১০১। চতুর্থ ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় শতরানের জুটি। আগেরটিতেও ছিলেন তামিম। মুমিনুল হকের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ১১০ রানের জুটি। বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১২৩। জিততে প্রয়োজন আর ৬৮ রান। ৭৬ রানে খেলছেন তামিম, ৩৬ সাব্বির।

চতুর্থ ইনিংসে তামিমের চতুর্থ
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের ব্যাটিং গড় অন্য তিন ইনিংসের তুলনায় কম। তবে এবার দলের ভীষণ প্রযোজনের সময় খেলছেন দারুণ এক ইনিংস। ছুঁয়ে ফেললেন পঞ্চাশ।
 
চতুর্থ ইনিংসে তামিমের এটি চতুর্থ অর্ধশতক। ৮৭ বলে স্পর্শ করলেন পঞ্চাশ।
 
২৭ ওভার শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ৮৮। জিততে চাই আর ১০৩। তামিমের রান ৫৫, সাব্বির ২৩।

লক্ষ্যের পথে জুটির পঞ্চাশ
 
জোড়া উইকেটের ধাক্কা অনেকটা সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দেখা গেছে অনেক বেশি নির্ভরতা। দুজনই খেলছেন ইতিবাচক। জুটির রান পেরিয়েছে অর্ধশতক।
 
দুজনই চার মেরেছেন রিভার্স সুইপে। দুজনই খেলেছেন দারুখ কয়েকটি ড্রাইভ। হেরাথকে সাব্বিরের দারুণ এক অন ড্রাইভে বাউন্ডারিতেই জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ। ডিফেন্সও করছেন তারা আত্মবিশ্বাসে।
 
বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৭৪। জিততে চাই আর ১১৭ রান। জুটির রান ৫২। তামিম খেলছেন ৪১ রান নিয়ে, ২৩ রানে সাব্বির।

শঙ্কা আর আশা নিয়ে লাঞ্চে
 
সকালে শ্রীলঙ্কার শেষ দুটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে তার আগেই যোগ হয়েছে আরও ৫১ রান।
 
প্রতিপক্ষের দুই উইকেট নিতে দেরি, নিজেদের দুই উইকেট হারাতে দেরি নয়। ১৯১ রান তাড়ায় পরপর দুই বলে বাংলাদেশ হারিয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। ৩৯তম জন্মদিনে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা জাগিয়ে রেখেছেন রঙ্গনা হেরাথ।
 
সব মিলিয়ে বলা যায় শেষ দিনের প্রথম সেশনটি শ্রীলঙ্কারই।
 
জোড়া ধাক্কার পর লাঞ্চের আগে আর বিপদ হয়নি। তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান পার করে দিয়েছেন সময়টুকু।
 
লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৩৮। জিততে চাই আরও ১৫৩। দিনের ওভার বাকি ৫৯। ২২ রানে উইকেটে তামিম, ৬ রানে সাব্বির।

উড়িয়ে আউট সৌম্য, ব্যাট বাড়িয়ে ইমরুল
 
বল স্পিন-টার্ন করছে। স্পিনাররা পেয়ে বসছে। এটিই হয়ত খেলা করলো সৌম্য সরকারের মাথায়। বেরিয়ে এসে খেলতে চাইলেন। লং অফে ফিল্ডার ছিল সীমানায়। তার পরও উড়িয়ে মারলেন। টাইমিংয়ে গড়বড়। লং অফেই উপুল থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ।
 
আউটের পথ তৈরি করেছিল আগের বলটিই। ফ্লাইট দিয়ে রাফে ফেলে বড় টার্ন করিয়েছিলেন হেরাথ। সেটিই হয়ত ভয় ধরিয়েছিল সৌম্যর মনে। ফিরলেন ১০ রানে।
 
পরের বলেই আরেকটি উইকেট। সেই টার্নের ভয়। প্রথম বলটিতেই ব্যাট বাইরে বাড়িয়ে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ভেবেছিলেন টার্ন করবে। কিন্তু টার্ন করল না। ব্যাটের কানা নিয়ে স্লিপের হাতে।
 
৩৯তম জন্মদিনে দারুণ দুটি ব্রেক থ্রু এনে দিলেন হেরাথ। বাংলাদেশ ২ উইকেটে ২২, লক্ষ্য ১৯১।

অবশেষে শেষ শ্রীলঙ্কা
 
একটি বড় জুটির ভাঙন অনেক সময়ই ডেকে আনে আরেকটি। সুরঙ্গা লাকমল রান আউট হওয়ার পর চালিয়ে খেলতে চেযেছিলেন লাকমল। উড়িয়ে মেরেছিলেন সাকিব আর হাসানকে। সীমানায় ক্যাচ নিয়েছেন মোসাদ্দেক।
 
ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৪২ করে ফিরলেন লাকমল। শ্রীলঙ্কা অলআউট ৩১৯ রানে।
 
চারটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজ ৩টি।
 
শততম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চাই ১৯১ রান।
 
এর চেয়ে কম রানের পুঁজি নিয়ে দুটি টেস্ট জয়ের কীর্তি আছে শ্রীলঙ্কার। দুটিই গলে, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে।
 
রান আউটে ভাঙল জুটি
 
‘নেভার রান আ মিসফিল্ড”, ক্রিকেটের অনেক পুরোনো একটি কথা। সেটিই নতুন করে উপলব্ধি করলেন দিলরুয়ান পেরেরা। মিসফিল্ডে রান নিতে গিয়ে রান আউট।
 
চোট পেয়ে বেশ কিছুটা সময় ধরেই রানিং বিটুইন দা উইকেটে ভুগছিলেন পেরেরা। এবার মিসফিল্ডে দ্রুত রান নিতে গিয়ে রান আউট। ভাঙল বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা হয়ে ওঠা নবম জুটি। মিসফিল্ডের পর শুভাশীষ রায়ের থ্রো খুব ভালো ছিল না। মিরাজ ধরেছেন খুব ভালো, সেরেছেন বাকি কাজ।
 
আউট হওয়ার আগে শ্র্রীলঙ্কার আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে এসেছেন পেরেরা। নিজে করেছেন ৫০ রান।
 
নবম জুটিতে সুরঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েছেন ৮০ রানের জুটি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় যেটি হতে পারে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
 
শ্রীলঙ্কার রান ৯ উইকেটে ৩১৯। এগিয়ে ১৮৯ রানে।

নবম জুটিতে লঙ্কার আশার ভেলা
 
মুস্তাফিজের কাটারে আবারও বিভ্রান্ত লাকমল। আগের বার বল পড়েছিল তার খুব কাছেই। এবার মিস টাইমিং হলেও বল উড়ে গেল কাভার ফিল্ডারের ওপর দিয়ে। মুস্তাফিজের চোখে-মুখে হতাশা!
 
ওই ওভারেই দিলরুয়ান পেরেরার বাউন্ডারিতে নবম জুটি ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ। রান উঠেছে এর পরও। প্রতি ওভারেই এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ হারিয়েছে দুটি রিভিউও।
 
দিনের শুরুতে ১৭৫ রানের লিডের আশা করেছিলেন সান্দাকান। দুই উইকেট অক্ষত রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে শ্রীলঙ্কা।
 
১০৭ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৮ উইকেটে ৩০৬। এগিয়ে তারা ১৭৭ রানে।
৪৫ রানে খেলছেন পেরেরা, ৩৪ রানে লাকমল।
 
প্রথম ইনিংসেও লাকমল করেছিলেন মহামূল্য ৩৫। ১০ বা ১১ নম্বরে নেমে দুই ইনিংসেই ৩০ ছোঁয়া ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান লাকমল।

দেড়শ ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার লিড
 
মুস্তাফিজের কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন লাকমল। ব্যাটে লেগে বল উঠল ওপরে। কিন্তু আশেপাশে নেই ফিল্ডার। বোলার ছুটে গিয়ে চেষ্টা করলেন, আসার চেষ্টা করলেন স্লিপ ফিল্ডার। কিন্তু অতটা দ্রুত বলের কাছে যেতে পারলেন না কেউ।
 
বেঁচে গিয়ে তাৎক্ষনিক ভোগালেন লাকমল। পরের বলে স্লিপের ওপর দিয়ে চার। তার পরের বলে দারুণ কাভার ড্রাইভে চার। শ্রীলঙ্কার লিড ছাড়িয়ে গেল দেড়শ! রান ৮ উইকেটে ২৮২। এগিয়ে ১৫৩ রানে।
 
লাকমলকে ‘ওয়ার্নিং’
 
পিচের বিপজ্জনক জায়গায় বুট দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন লাকমল। সাকিবের বল খেলেই রান ছুটেছিলেন পিচের মাঝ বরাবর! আম্পায়ার আলিম দারের চোখ এড়ায়নি। ‘অফিসিয়াল ওয়ার্নিং’ দেওয়া হয়েছে লাকমল ও শ্রীলঙ্কাকে। এরপর শুধু লাকমল নয়, শ্রীলঙ্কার যে কেউই এটির পুনরাবৃত্তি করলে ৫ রান কাটা যাবে দলের রান থেকে।

জয়ের আশায় দিনের শুরু
 
শততম টেস্টে জয়। দেশের বাইরে বিরল জয়। সিরিজ ড্র। বাংলাদেশের হাতছানি দারুণ কিছুর। স্বপ্নের আবির মেখে শুরু হচ্ছে পি সারা ওভালে কলম্বো টেস্টের শেষ দিন।
 
২ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৯ রানে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের চাওয়া থাকবে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। আগের দিনের খেলা শেষে মোসাদ্দেক হোসেন বলেছেন, লক্ষ্যটা ১৬০ রানের মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি হলে আসলেই হয়ে উঠতে পারে কঠিন।
 
দিনের খেলা শুরুর আগে তামিম ইকবাল টেন ক্রিকেটকে জানালেন, এখনই জয়ের কথা ভাবছে না দল। আগে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। তার পর রান তাড়ার ভাবনা। রান তাড়ায় গুটিয়ে না গিয়ে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ।
 
শ্রীলঙ্কান চায়নাম্যান বোলার লাকশান সান্দাকানের চাওয়া, ১৭৫ রানের মত লিড। তাহলেই থাকবে জয়ের সুযোগ।
 
শেষ দিনের উইকেটে রঙ্গনা হেরাথ, আরও দুই লঙ্কান স্পিনারকে সামলে দেড়শ রান করাও সহজ হওয়ার করা নয়। তবে টেস্ট জিততে হলে তো এইটুকু চ্যালেঞ্জ জিততে হবেই!
 
দেশের মাটিতে টানা ছয় টেস্ট জিতেছে শ্রীলঙ্কা। দেশের বাইরে সবশেষ ৬ টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ দিনে শেষ হতে পারে দুটি ধারাই!

 

ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৯১

শততম টেস্টে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন লঙ্কান দুই ব্যাটসম্যান পেরেরা-লাকমাল। দুইজনে মিলে নবম উইকেটে গড়েন ৮০ রানের জুটি। আর এ জুটির দিকে তাকিয়ে স্বপ্নও দেখতে থাকে স্বাগতিকরা। অবশেষে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান পেরেরা। আর পরের ওভারেই সাকিবের বলে ছয় মারতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন লাকমল। এতেই শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। আর শততম টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১ রানের।

পঞ্চম দিনের শুরুটা দুর্দান্ত করেন আগের দিন থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ভোগাতে থাকা দুই ব্যাটসম্যান পেরেরা-লাকমাল। এরই মধ্যে আশা জাগিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কাটারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করলেন লাকমলকে। ব্যাটে লেগে বল উঠলেও আশেপাশে কোন ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান এই ব্যাটসম্যান।

এরপর আবার বোলারদের উপর চড়াও হয়ে নবম উইকেট ৮০ রানের জুটি গড়েন পেরেরা ও লাকমল। পেরেরা তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশত। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। মিরাজের বলে শুভাশিসের মিস ফিল্ডিংয়ে দ্রুত রান নিয়ে গিয়ে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান পেরেরা (৫০)। আর পরের ওভারে সাকিবের বলে ছয় মারতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়ে শেষ লাকমলের (৪২) লড়াকু ইনিংস।

এর আগে করুনারত্নে আর কুশল মেন্ডিস মিলে ৮৬ রানের জুটি গড়ার সময় মনে হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে বুঝি বড় কোনো স্কোর গড়ে ফেলবে শ্রীলঙ্কা। তাহলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য হয়তো বড় লক্ষ্য স্থির হবে কিংবা ম্যাচ চলে যাবে নিষ্প্রাণ ড্রয়ের দিকে। কিন্তু ভাগ্য অতি ভালো লঙ্কানদের। বার বার রিভিউতেও বেঁচে যাওয়ার ফলে অলআউট হলো না স্বাগতিকরা। কিংবা রিভিউ বাকি না থাকায় নিশ্চিত আউট হওয়ার বলেও বেঁচে গেছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

কুশল মেন্ডিসকে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে মোস্তাফিজ যে আঘাত হেনেছিলেন, সেটা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি নিজে এবং সাকিব আল হাসান। ফলে, নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

বাঁহাতি স্পিনে সর্বকালের সফল পাঁচে সাকিব

টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনারদের তালিকায় সেরা পাঁচে নিজেকে তুলে এনেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের টনি লককে।

১৭০ উইকেট নিয়ে সাকিব শুরু করেছিরেন কলম্বো টেস্ট। প্রথম ইনিংসে উইকেট নিয়েছিলেন দুটি। পরের ইনিংসে নিলেন চারটি। সাকিবের টেস্ট উইকেট এখন ১৭৬টি। ৪৯ টেস্টে ১৭৪ উইকেট নিয়ে এতদিন পাঁচে ছিলেন লক। সাকিব ছাড়িয়ে গেলেন ৪৯ টেস্টেই। পাঁচ থেকে চারে উঠতে হলে অবশ্য অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে সাকিবকে। ওপেরে থাকা চার জনই অনেকটা ওপরে!

২৬৬ উইকেট নিয়ে চারে ভারতের বিষেণ সিং বেদি। ২৯৭ উইকেট নিয়ে তিনে ইংল্যান্ডের ডেরেক আন্ডারউড। তিনশ উইকেট নেওয়া প্রথম বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ভেটোরি থেমেছেন ৩৬২ উইকেটে।

সবার ওপরে রঙ্গনা হেরাথ। ৩৭০ উইকেট নিয়ে কলম্বো টেস্টের শেষ ইনিংস শুরু করছেন লঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার।

 

৩৩৮ রানে থামল শ্রীলঙ্কা

লক্ষণ সান্দাকানকে নিয়ে শেষ উইকেটে সুরাঙ্গা লাকমল যেভাবে ব্যাটিং করছিলেন তাতে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন টাইগারদের। মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন- ২০০৪-এ ঢাকা টেস্টে জহির খান ও শচিন টেন্ডুলকারের ১৩৩ রানের জুটির কথা। তবে শতরান কম হয়ে এদিন ৩৩ রানের মাথায় জুটি গড়েই থামলেন তারা। তবে দলের জন্য কাজের কাজটি করে গেছেন লঙ্কানরা। দ্বিতীয় দিন সকালে আরও ১০০ রান যোগ করে ৩৩৮ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে স্বাগতিকরা।

বৃহস্পতিবার কলম্বোর পি সারা স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৭ উইকেটে ২৩৮ রান নিয়ে ব্যাটিং করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তবে দলের পক্ষে ১২ রান যোগ করতেই অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথকে হারায় তারা। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সৌম্য সরকারের তালুবন্দি করান সাকিব আল হাসান। ৯১ বলে ২৫ রান করেন হেরাথ।

তবে একপ্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান দলের একমাত্র অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমাল। তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ। ২৪৪ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৬টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই লঙ্কান।

শেষপর্যন্ত ৩০০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে মিরাজের বলে আউট হন তিনি। মিরাজের করা ১০৬তম ওভারে শেষ বলটি মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন চান্দিমাল। অনেকটা লাফিয়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সবচেয়ে বড় কথা- নবম উইকেটে সুরাঙ্গা লাকমলের সঙ্গে গড়েন ৫৫ রানের জুটি।

চান্দিমাল আউট হলেও বাংলাদেশের হতাশা বাড়িয়ে তোলেন লাকমল। সান্দাকানকে নিয়ে শেষ উইকেটে গড়েন ৩৩ রানের জুটি। এ জুটি ভাঙেন শুভাশিস রায়। থার্ডম্যানে তার ক্যাচ সৌম্য সরকার তালুবন্দি করার আগে দল পৌঁছে যায় ৩৩৮ রানে। ৪৫ বলে ৩৫ রান করেন লাকমল।

বাংলাদেশের পক্ষে ৯০ রানে ৩টি উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া মোস্তাফিজ, শুভাশিস ও সাকিব পান ২টি করে উইকেট। ১টি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল।

শততম টেস্টের প্রথম দিন উজ্জ্বল টাইগাররা

স্পোর্টস ডেস্ক : নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে শততম টেস্ট খেলছে বাংলাদেশ দল। ঐতিহাসিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে প্রথম দিনটি কিছুটা হলেও নিজেদের করে রেখেছে টাইগাররা। স্বাগতিক লঙ্কানরা দিন শেষে ৮৩.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ?তুলেছে ২৩৮ রান।

২০০০ সালের নভেম্বরে টেস্ট অভিষেক হয় বাংলাদেশের। এরপর টেস্টের নবীনতম সদস্য টাইগাররা দ্রুততম সময়ে খেলছে শততম টেস্ট। ১৬ বছর ৪ মাস ৬ দিন পর বাংলাদেশ নিজেদের শততম টেস্ট খেললো, যা অন্য সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের থেকে দ্রুততম সময়ে।

প্রথম সেশনে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের শুরুটা দুর্দান্ত হয়। তবে, একপ্রান্ত আগলে রেখে দিনেশ চান্দিমাল ৮৬ রানে অপরাজিত থাকায় পুরোপুরি নিজেদের দিন করে নিতে পারেনি মুশফিক বাহিনী। লঙ্কান দলপতি রঙ্গনা হেরাথ দ্বিতীয় দিন চান্দিমালের সঙ্গে ব্যক্তিগত ১৮ রানে শুরু করবেন। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম সেশন শেষে স্কোরবোর্ডে চার উইকেট হারিয়ে ২৭.৪ ওভারে ৭০ রান তোলে লঙ্কানরা। দ্বিতীয় সেশনে মোস্তাফিজদের একমাত্র প্রাপ্তি ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট। তৃতীয় ও শেষ সেশনে বাংলাদেশ আরও ২ উইকেট তুলে নেয়। কলম্বোর পি সারা ওভালে দলীয় নবম ওভারের মাথায় ব্রেকথ্রু এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। মেহেদী হাসান মিরাজের তালুবন্দি হন দিমুথ করুনারাতেœ (৭)। ১২তম ওভারে কুশল মেন্ডিসকে (৫) স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সতীর্থদের উদযাপনের মধ্যমনি বনে যান মিরাজ। ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে (১১) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন উঠতি স্পিন অলরাউন্ডার মিরাজ। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২৮তম ওভারে আসিলা গুনারাতেœকে (১৩) এলবিডব্লু করে উইকেটের খাতায় নাম লেখান পেসার শুভাশিস রায়। ৭০ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপের মুখেই পড়ে স্বাগতিক শিবির।

চান্দিমাল-ডি সিলভার ৬৬ রানের জুটি ভেঙে দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া তাইজুল ইসলাম। তার স্পিন ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন একাদশে ফেরা ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (৩৪)। নিরোশান ডিকওয়েলাকে নিয়ে আরও ৪৪ রান যোগ করেন চান্দিমাল। ডি সিলভার সমান ৩৪ রান করে ফেরেন ডিকওয়েলা। তাকে ক্লিন বোল্ড করে উইকেটের দেখা পান সাকিব আল হাসান। ব্যক্তিগত ৯ রান করে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বলে সৌম্য সরকারের তালুবন্দি হন দিলরুয়ান পেরেরা। দলীয় ১৯৫ রানের মাথায় স্বাগতিকরা সপ্তম উইকেট হারায়।

গল টেস্টে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২৫৯ রানে হার মানতে হয়। সেই হতাশা ভুলে টাইগারদের সামনে দুই ম্যাচ সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। মাইলফলকের ম্যাচে সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে টিম বাংলাদেশ। মোট চারটি পরিবর্তন এসেছে। ফর্মহীনতায় বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুমিনুল হকও দলের বা?ইরে।
পেসার শুভাশিস রায়ের একাদশে থাকা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাদ পড়েছেন তাসকিন আহমেদ। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এদিকে, আবারো উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। নেটে ব্যাটিং অনুশীলনের সময় পাঁজরে বলের আঘাতে ছিটকে গেছেন লিটন দাস। লিটনের ইনজুরির সুবাদে ঐতিহাসিক ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহর জায়গায় ফিটনেস সমস্যা কাটিয়ে দলে ফেরা ইমরুল কায়েস ও গল টেস্টে সুযোগ না পাওয়া সাব্বির রহমান।

লঙ্কান একাদশে বাড়তি ব্যাটসম্যান হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। বাদ পড়েছেন পেসার লাহিরু কুমারা।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশিস রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রীলঙ্কা একাদশ : দিমুথ করুনারাতেœ, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্দিমাল, অসিলা গুনারাতেœ, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, নিরোশান ডিকওয়েলা (উইকেটরক্ষক), দিলরুয়ান পেরেরা, রঙ্গনা হেরাথ (অধিনায়ক), সুরাঙ্গা লাকমল, লক্ষণ সান্দাকান।

 

মুশফিকদের শততম টেস্টের স্মারক পদক পড়িয়ে দিলেন সোমাথিপালা

যে গরম পড়েছিল, তাতে বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। তারপরও কাল রাতে (মঙ্গলবার) হঠাৎ ঝড়ো বাতাস, সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো আর ভারী বর্ষণ। বেশ এক পশলা ভারী বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে গেল কলম্বোর রাস্তা-ঘাট ও মাঠ।

রাতেই আকাশ পরিষ্কার। কিন্তু ভোরে আকাশে আবার মেঘের ঘনঘটা। তবে কি শততম টেস্টের সকালটা বৃষ্টিতে পণ্ড হবে? এমন প্রশ্নই জাগলো। কিন্তু ঘড়ির কাটা সকাল সাতটা ছোয়ার পর থেকেই দ্রুত মেঘ কাটতে থাকলো। তারপরও রোদ আর মেঘের খেলা চললো ঘণ্টাখানেক। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার।

বাংলাদেশের শততম টেস্টের সকালটা প্রকৃতি মাটি করে দেবে, তা কি হয়? হয় না। প্রকৃতিও সদয় হলো। আকাশ পরিষ্কার। আগের রাতের বৃষ্টির প্রভাবে খানিক তাপমাত্রা ও আর্দতাও কম। অসহনীয় গরম ও ঘামের যন্ত্রণা একটু কমই।  মোদ্দা কথা, সুন্দর সকাল।

তারপরও বুধবার, পুরোপুরি কর্ম দিবস। সকাল আটটার পর থেকে অফিসগামী মানুষের রাস্তায় নেমে আসা। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঘর ছেড়ে রাস্তায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম। তবে ঢাকার মত অসহনীয় নয়। সিগন্যালের জ্যাম। সিগন্যাল থেমে যেতেই আবার সরব কলম্বোর বড় বড় সড়ক ও রাজপথ।

এরই মধ্যে ‘বোরেল্লা’ নামক জায়গায় একটু বেশি প্রাণ চাঞ্চল্য। এখানেই ‘পি সারা ওভাল।’ লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম সভাপতির নামে এ স্টেডিয়াম। তবে আগেরই জানা মাঠের মালিক তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব।

সকাল আটটার কিছু পরে এসে থামলো বাংলাদেশের টিম বাস। তাজ সমুদ্র থেকে সোজা পি সারা রমুল গেট দিয়ে ড্রেসিং রুমে ঢুকেই পোশাক পাল্টে ব্লেজার পরে নেয়া। শততম টেস্ট উপলক্ষে কলম্বোর অভিজাত এক টেইলারে বানাতে দেয়া হয়েছিল শততম টেস্ট উপলক্ষে বিশেষ নীল ব্লেজার। সে ব্লেজার চাপিয়ে ঠিক নয়টার পর মাঠে ঢুকলেন মুশফিক, তামিম, সাকিব ও মোস্তাফিজ-মিরাজরা।

 
ততক্ষণে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান চলে এসেছেন মাঠে। টসের আগে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ঠিক সামনে সারিবদ্ধভাবে এসে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় হয়ে গেল টস। টস করে টিভিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেই দুই অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও রঙ্গনা হেরাথ চলে গেলেন নির্দিষ্ট জায়গায়।

গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে হয়ে গেল ছোট অথচ সুন্দর সাজানো গোছানো এক অনাম্বর কিন্তু প্রাণ ছুয়ে যাওয়া আনুষ্ঠানিকতা। শততম টেস্টের স্মারক ব্লেজার গায়ে চাপিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো বাংলাদেশ দল। পাশে স্বাগতিক লঙ্কানরা। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে দু`দলের জাতীয় পতাকা উড়ল। তারপর লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান সোমাথিপালা ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন একে একে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গলায় পড়িয়ে দিলেন স্মারক মেডেল। এ যেন শততম টেস্টে অতিথি বোর্ডের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বরণ করে নেয়া।

সে পর্ব শেষে বাজল দু`দেশের জাতীয় সঙ্গীত। আকাশে উড়লো নান রংয়ের বেলুন। ছোট আনুষ্ঠানিকতা শেষে দু`দল চলে গেল ড্রেসিং রুমে। বাংলাদেশের মাটিতে এমন আনুষ্ঠানিক কোন পর্ব মানেই খেলা শুরুতে অন্তত দশ পনের মিনিট দেরি হয়ে যাওয়া। কিন্তু পি সারায় আজ কিছুই হলো না।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঠিক সকাল ১০টায় শুরু হয়ে গেল খেলা।

প্রথম, পঞ্চাশতম, শততম টেস্টের তিন সকালে মুদ্রা ভাগ্যের তিনরকম চিত্র। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর টস জিতে ব্যাটিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রথম অধিনায়ক নাঈমুর রহমান। ২০০৮ সালের ৪ জানুয়ারি ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে পঞ্চাশ নম্বর টেস্টেও টসে কিউই অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির কাছে হারেন তখনকার অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। আর আজ ১০০ নম্বর টেস্টের সকালে মুদ্রা ভাগ্যে আবার হারলেন মুশফিকুর রহীম। পার্থক্য একটাই। প্রথম ও পঞ্চাশ নম্বর টেস্টে আগে ব্যাট করা। আর শততম টেস্টে এসে প্রথম ফিল্ডিং। দেখা যাক ১ ও ৫০ নম্বর ম্যাচে অতি কাকতালীয়ভাবে ৯ উইকেটে হারের পর এবার পরে ব্যাট করায় ভাগ্য বদলায় কিনা?

মোস্তাফিজের পর মিরাজের সাফল্য

মোস্তাফিজের পর উইকেটের দেখা পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গলে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা কুশল মেন্ডিসকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান ডানহাতি এই স্পিনার। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ৩১ রান।  

এর আগে শততম টেস্ট ম্যাচ জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ, এমন ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর টস হেরে বোলিং করতে নেমে সূচনাটাও দুর্দান্ত করেন মুস্তাফিজ। দিনের শুরুতেই করুনারত্নেকে মিরাজের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বিস্ময় এই বালক।

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় সিরিজে সমতায় ফিরতে এ ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। এদিকে এ ম্যাচে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ দল।

মাহমুদউল্লাহর বাইরে থাকার ঘোষণাও এসেছিল আগে। আর অনুশীলনে চোট পাওয়া লিটন দাস ছিটকে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার। তবে এই দুটির সঙ্গে পরিবর্তন আরও দুটি। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। আর দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম। অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।

শুরুতেই করুনারত্নেকে ফেরালেন মোস্তাফিজ

শততম টেস্ট ম্যাচ জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ, এমন ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর টস হেরে বোলিং করতে নেমে  সূচনাটাও দুর্দান্ত করলো মুস্তাফিজ। দিনের শুরুতেই করুনারত্নেকে মিরাজের তালুবন্দি করে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বিস্ময় এই বালক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১৩ রান।

মাহমুদউল্লাহর বাইরে থাকার ঘোষণাও এসেছিল আগে। আর অনুশীলনে চোট পাওয়া লিটন দাস ছিটকে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার। তবে এই দুটির সঙ্গে পরিবর্তন আরও দুটি। বাদ পড়েছেন মুমিনুল হক ও তাসকিন আহমেদ। আর দলে ফিরেছেন ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম। অভিষেক হচ্ছে মোসাদ্দেক হোসেনের।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, শুভাশীষ রায়, মোস্তাফিজুর রহমান।
 

ভাগ্যই শততম টেস্টে গ্লাভস তুলে দিচ্ছে মুশফিকের হাতে

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা প্রায় ১৭ বছর। ২০০০ সালে এ রাজকীয় ক্লাবে ঢোকার পর ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে ৯৯টি টেস্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবে টাইগাররা। আর এ ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিজের হোটেলে কেক কেটে শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিক-সাকিবরা।

শততম টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কলম্বো পৌঁছেছে বিসিবি সভাপতিসহ একাধিক বোর্ড পরিচালক। তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কেক কাটেন মুশফিক। এ সময় দলের সকল খেলোয়াড়রা ছাড়াও সকল কোচিং স্টাফরাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে সমতায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শততম ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে মুশফিক বলেন, `আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ এখন এমন একটা জায়গায় এসেছে যে, টেস্ট বা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি যাই হোক, সবাই আশা করে যে বাংলাদেশ যে কোনো ম্যাচ জিততে পারে। তো এটাই একটা বড় অর্জন। সেই প্রত্যাশা থেকেই খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত হয় এবং মাঠে গিয়ে পারফর্ম করতে মুখিয়ে থাকে। হয়তো গলে শেষ টেস্টে ফল ভালো হয়নি। তবে অবশ্যই আমাদের চেষ্টা থাকবে ভাল কিছু করার। আমরা যেন পাঁচদিন ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি, শততম টেস্টে যাতে জয় নিয়ে ফিরতে পারি। সেটাই থাকবে প্রধান লক্ষ্য।`

 

 

‘সাকিব সেই আগের বোলার নেই’

নিজের মতই খেলা উচিত নাকি দলের প্রয়োজন মত? সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং নিয়ে ইদানিং আলোচনা বেশি। চন্দিকা হাথুরুসিংহে তুলে আনলেন আরেকটি দিকও। দলের বোলিং সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বললেন, সাকিব তো সেই আগের বোলার নেই!

গল টেস্ট শেষে রাতেই কলম্বোয় পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। পরের টেস্টের ভেন্যু পি সারা ওভালে রোববার ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। সেখানেই বাংলাদেশ কোচ মুখোমুখি হলেন সংবাদ মাধ্যমের।

সিরিজ শুরুর আগে অনেক স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। সেই স্বপ্নের পালে হাওয়া দিয়েছিলেন স্বয়ং কোচও। প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের ধাক্কায় যেন ঘুম ভেঙেছে। বাস্তবে ফিরে কোচের এখন উপলব্ধি, চাওয়াটাই বেশি হয়ে যাচ্ছে!

“২০টি উইকেট নেওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে আমাদের। আমাদের বোলিং আক্রমণ খুবই অনভিজ্ঞ। টেস্ট ক্রিকেটে পায়ের নিচে জমি খুঁজে পেতে চাইছে, এমন একটি দলের কাছে আমরা খুব বেশি কিছু চেয়ে ফেলছি। এটাই সত্যি।”

“এই বোলিং আক্রমণ থেকে সাকিবকে বাইরে রাখুন, বাকি চার বোলারের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১৫ টেস্ট। সাকিবও সেই আগের বোলার নেই, ২০১০ সালের সময়টায় যখন সহায়ক কন্ডিশনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিত। আমরা এখন দেশের বাইরে খেলছি।”

বহু চর্চিত কথাটিই আরও একবার বললেন হাথুরুসিংহে। আরও সময় গড়ালে, আরও অভিজ্ঞ হলেই কেবল টেস্টে ভালো করতে শুরু করবে বাংলাদেশ।

“টেস্টে উইকেট নিতে হলে ব্যাটসম্যানদের ‘সেট আপ’ করতে হবে। সেই বুদ্ধিমত্তা আসে বেশি বেশি খেললে। আমরা যত বার্তাই দেই, যত কথাই বলি, এটার জন্য সময় লাগবেই। প্রতিপক্ষেরও তো স্কিল আছে, পরিকল্পনা থাকে!”

“আমরা শিখছি ও উন্নতি করছি। যখন আমরা শক্ত অবস্থানে যাব, ‘ব্রেক থ্রু’ জয়টা পাব, আমার মতে তার পরই আমরা ভালো করতে শুরু করব।”

বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়া শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে অনভিজ্ঞ দল এটিই। কিন্তু কোচের কথায় ফুটে উঠল, এই সফরও তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষা সফর! কোচের কাঙ্ক্ষিত “ব্রেক থ্রু” জয় কবে আসবে, কে জানে!

 

দেশে ফিরে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ


একটু আগেই দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বলছিলেন, শততম টেস্টের জন্য নীল স্ট্রাইপের ব্লেজার পছন্দ করেছেন মাহমুদউল্লাহ, তামিম ইকবালরা। খানিক পরই সাবেক এই অধিনায়ক জানালেন, সেই ম্যাচে খেলা হচ্ছে না মাহমুদউল্লাহর। দেশে ফিরে যাচ্ছেন হঠাৎ বাজে সময়ে পড়ে যাওয়া এই ক্রিকেটার।

পি সারা ওভালে সোমবার দলের সঙ্গে এলেও অনুশীলন করেননি মাহমুদউল্লাহ। মাহমুদ লম্বা সময় ধরে কথা বলেন তার সঙ্গে। পরে সেই যে ড্রেসিং রুমে ঢুকেন মাহমুদউল্লাহ আর মাঠে ফিরেননি। স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে মাইক্রোবাসে করে হোটেলে ফিরে যান।

দলের ম্যানেজার মাহমুদ জানান, যেহেতু টেস্টে খেলছে না তাই মঙ্গলবার দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে মাহমুদউল্লাহকে।

ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর‌ম্যান্সে বিপিএলের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এই অলরাউন্ডার হঠাৎ ছন্দ হারিয়ে ফেলেন নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে। ওয়ানডেতে করেছিলেন ০, ১ ও ৩ রান। টি-টোয়েন্টিতে অর্ধশতক দিয়ে শুরু করে শেষ দুই ম্যাচে বিদায় হন আশা জাগিয়ে।

টেস্টে তার সময়টা কাটছিল খুব বাজে। শেষ ১৩ ইনিংসে মাত্র একবার পঞ্চাশ পার হতে পেরেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রান করা মাহমুদউল্লাহ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ফিরেন ৮ ও শূন্য রানে।

 

দুঃস্বপ্ন ভুলতে দুঃস্বপ্নের ভেন্যুতে

কাজ শেষ তো সঙ্গে সঙ্গেই রওনা হও পরের ভেন্যুর দিকে- শ্রীলঙ্কা সফরে এই প্রবণতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ দল। গল টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শেষ হতেই পরের ম্যাচের ভেন্যু শহর কলম্বোর দিকে যাত্রা করেন মুশফিকুর রহিমরা।

সেখানেই তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ফিটনেস টেস্টে উতরানো বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনেই মোরাটুয়া ছেড়ে প্রথম টেস্টের ভেন্যু গলে আসে বাংলাদেশ দল। আগামী বুধবার পি সারা ওভালে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচের জন্য শনিবারই কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হয় দল।

গল ছাড়ার সময় মুশফিকের সঙ্গী দুঃস্বপ্নের ব্যাটিং। ম্যাচের শেষ দিনে ৪৫.২ ওভারের মধ্যে ১৩০ রান তুলতে ১০ উইকেট হারিয়েছে তারা। ১৩ ওভারের মধ্যে ৩৭ রানে বিদায় নেন পাঁচ ব্যাটসম্যান।

২৫৯ রানে হারের হতাশা নিয়ে যে ভেন্যুতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেখানে তাদের টেস্ট রেকর্ড ভীষণ বিব্রতকর। পি সারা ওভালে খেলা তিনটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে তারা! ওই মাঠে ইনিংস ব্যবধানে ফলও হয়েছে কেবল ওই তিন ম্যাচেই।

পি সারা ওভালে ২৫.২ ওভারে ৬২ রানে অলআউটের বাজে অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। ছয় ইনিংসের মধ্যে কেবল একবার দুইশ ছাড়ায় তাদের সংগ্রহ। ২০০৭ সালে ওই মাঠে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৯ রান করেছিল দলটি।

মন খারাপ করার মতো আরও অনেক পরিসংখ্যান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ওই স্টেডিয়ামে। সেই মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে বড় উপলক্ষই পাচ্ছে বাংলাদেশ। গলের ব্যর্থতা ভুলে কলম্বোয় ঘুরে দাঁড়াতে চাইবেন তারা। নিজেদের শততম টেস্টেকেও নিশ্চয়ই চাইবেন রাঙিয়ে রাখতে।

 

আশার দিনে দুঃস্বপ্নের হার

সম্ভাবনা যা ছিল, অপমৃত্যু দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই। ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিক ও লিটনের একটু লড়াই। শেষটাও আবার চটজলদি। ড্রয়ের আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল যে দিন, সেটি অর্ধেক না যেতেই দুঃস্বপ্নের হার।

হ্যাটট্রিক জয়ে অধিনায়ক হেরাথের রেকর্ড
 
শেষের আগে যা একটু খেলছিলেন মিরাজ। তাকে ফিরিয়েই বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দিল শ্রীলঙ্কা। হেরাথ নিলেন ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট।
 
২৮ রানে ফিরলেন মিরাজ। বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে শুরু করা দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ১৯৭ রানে। শ্রীলঙ্কার জয় ২৫৯ রানে।
 
প্রথম ৫ উইকেট পড়েছিল ৩৭ রানের মধ্যে। শেষ পাঁচটি পড়ল ৩৯ রানে। মাঝে মুশফিক ও লিটনের ৫৩ রানের জুটি।
 
৫৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন হেরাথ। ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার হওয়ার দিনটি স্মরণীয় করে রখলেন দলের জয় আর নিজের আরেকটি অর্জনে। প্রথম শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে জিতলেন নেতৃত্বের প্রথম তিন টেস্টই। আগের দুটি জয় ছিল জিম্বাবুয়েতে।
 
বাংলাদেশের জন্য আরও একটি হতাশার টেস্ট। পরের ম্যাচটিই বাংলাদেশে শততম টেস্ট। তবে উপলক্ষ উদযাপনের চেয়ে দুর্ভাবনাই অনেক বেশি!
 
বুধবার থেকে সেই টেস্ট কলম্বোর পি সারা ওভালে।

হেরাথের পঞ্চমে বাংলাদেশের নবম
 
তাসকিনের বিদায়ের পর দিলরুয়ান পেরেরার এক ওভারেই দুটি চার ও একটি ছক্কা মারলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু হেরাথকে থামাবে কে?
মুস্তাফিজকে বোল্ড করে লঙ্কান অধিনায়ক পূর্ণ করলেন পঞ্চম উইকেট। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৯৪।
 
চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড ১০ বার ৫ উইকেট হলো হেরাথের। ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ২৯ বার। ছুঁলেন গ্লেন ম্যাকগ্রাকে। অস্ট্রেলিয়ান পেস কিংবদন্তিও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২৯ বার।

শেষের ক্ষণ গণনা
 
মুশফিক-লিটন দুজনই বিদায়ের পর এখন কেবল ম্যাচ শেষের ক্ষণ গণনা। দুই থিতু ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর তাসকিন আহমেদকে ফেরালেন রঙ্গনা হেরাথ।
 
বল সোজা আসবে ভেবেই হয়ত ডিফেন্স করেছিলেন তাসকিন। একটু টার্ন করে বল ব্যাটের কানায় লেগে প্যাড ছুঁয়ে শর্ট লেগের হাতে। তাসকিন ফিরলেন ৫ রানে। বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ১৮০।

লিটনকে ফিরিয়ে চূড়ায় হেরাথ
 
লড়াইয়ের সঙ্গীকে হারিয়ে যেন লড়াই ভুলে গেলেন লিটন দাস। ফ্লাইটেড বলটিকে উড়িয়ে মারতে গেলেন। বল জমা পড়ল কাভারের ফিল্ডারে হাতে। উল্লাসে মাতলেন রঙ্গনা হেরাথ। বাংলাদেশ এগোলো শেষের কাছে। হেরাথ উঠলেন চূড়ায়। বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেটের দারুণ রেকর্ড!
 
লিটনকে আউট করেই হেরাথ ছাড়িয়ে গেলেন ড্যানিয়েল ভেটোরিকে। ৩৬৩ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন হেরাথ!
 
৩৫ রানে ফিরলেন লিটনের ফেরার সময় বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৬৬।
 
আবারও বিরতির পর উইকেট
 
প্রথম সেশনের পুনরাবৃত্তি দ্বিতীয় সেশনে। সাকিবের আউটের আবার দৃশ্যায়ন মুশফিকের আউটে!
 
লাঞ্চের আগের ঘণ্টায় সামান্য আশা জাগিয়েছিল যে জুটি, সেটি শেষ লাঞ্চের পরই। ঠিক প্রথম সেশনের মতোই দ্বিতীয় বলেই উইকেট। লাকশান সান্দাকানের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল বেরিয়ে যাচ্ছিল আরও বাইরে। মুশফিক খেলতে গেলেন সেটিই। ব্যাটের কানায় সামান্য লেগে বল কিপারের গ্লাভসে। দারুণ ক্যাচ নিলেন ডিকভেলা। প্রথম ইনিংসে সান্দাকানের বলে ঠিক এভাবেই আউট হয়েছিলেন সাকিব।
 
৩৪ রানে ফিরলেন মুশফিক। বাংলাদেশ ডুবল আরেকটু। রান তখন ৬ উইকেটে ১৫৮।

বিভীষিকার পর একটু স্বস্তি
 
বেলস তুলে লাঞ্চের ঘোষণা দিলেন আম্পায়ার আলিম দার। টিভি পর্দায় ভেসে উঠল স্কোরকার্ড। ধারাভাষ্য কক্ষে রাসেল আর্নল্ড বললেন, “মুশফিকুর রহিম দা রক।”
 
এক ঘণ্টা আগেই স্কোরকার্ডের চেহারা ছিল ভয়াবহ। সেটি একটু ভদ্রস্থ ওই মুশফিকের সৌজন্যে। শেষ দিনের প্রথম ঘণ্টা ছিল দু:স্বপ্নের মত। দ্বিতীয় ঘণ্টায় একটু স্বস্তির সুবাতাস। টালমাটাল ইনিংসটা একটু থিতু হয়েছে মুশফিক ও লিটন দাসের ব্যাটে।
 
প্রথম ইনিংসের মতই চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লড়াই করছেন মুশফিক। অধিনায়ক পাশে পেয়েছেন লিটন দাসকে। দিনের প্রথম ১৩ ওভারেই বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৫ উইকেট। লাঞ্চের আগের ১৯ ওভারে আর উইকেট পড়েনি এই দুজনের দৃঢ়তায়।
 
লাঞ্চের সময় মুশফিকের রান ৩৪, লিটনের ৩২। দুজনের জুটিতে এসেছে ৫৩ রান। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১৫৭।
 
লাঞ্চের পর দিনের খেলা বাকি ৬৭ ওভার। উইকেটে আগে চেয়ে টার্ন একটু বেশি মিলছে বটে; তবে খুব ভয়ঙ্কর নয়। চাইলেই টিকে থাকা যায়। দিনটা পার করে দেওয়া সেই দিক থেকে অসম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশের সর্বনাশ তো সকালেই হয়ে গেছে!

এবার জোড়া ধাক্কা
 
সাকিব ও মুশফিকে ব্যাটে কেবলই একটি জুটি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা। কিন্তু সেটিও শেষ জমে ওঠার আগেই। রঙ্গনা হেরাথ ফেরালেন সাকিবকে। সেটি যদি যথেষ্ট না হয়, এক বল পরই নেই মাহমুদউল্লাহও!
 
এবার অবশ্য বাজে শটে ফেরেননি সাকিব। হেরাথের বল তাকে টেনে এনেছিল বাইরে। লম্বা পায়ে ডিফেন্স করেছিলেন। বল তার গ্লাভসে চুমু দিয়ে লেগ স্লিপে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন করুনারত্নে। সাকিব করেছেন ৮।
 
জায়গা বাঁচাতে লড়তে থাকা মাহমুদউল্লাহ এলেন আর গেলেন। হেরাথের আর্ম বলে এলবিডব্লিউ শূন্য রানে। বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০৪।
 
মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে হেরাথ ছুঁলেন ড্যানিয়েল ভেটোরিকে। বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন যৌথভাবে এই দুজনের, ৩৬২টি।

বাজে থেকে আরও বাজে
 
দ্বিতীয় বলেই সৌম্যকে হারানো যদি বাজে শুরু হয়, সময়ের সঙ্গে সেটি হয়েছে বাজে থেকে আরও বাজে। ফিরেছেন মুমিনুল। সেটির রেশ না কাটতেই নেই তামিম ইকবালও!
 
বোলার আবারও দিলরুয়ান পেরেরা। অফ স্টাম্পে পিচ করা বল একটু লাফিয়ে টার্ন করেছিল। বলটি অবশ্য ভালো ছিল, তবে এমন নয় যে সামলানোই যাবে না। তামিম পারলেন না। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল স্লিপে। ৫৫ বলে ১৯ করে ফিরলেন তামিম।
 
বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৮৩। ৪৫৭ রানে লক্ষ্য বা পুরো দিন টিকে থাকা, দুটিই এখন দূর আকাশের তারা!
 
মুমিনুলের ‘দেজাভু’
 
দেখলে যে কেউ ধন্দে পড়ে যেতে পারেন। এটা কি প্রথম ইনিংসেরই আউট নয়? ঠিক একই রকম। প্রথম ইনিংসের মতোই একইভাবে আউট হলেন মুমিনুল হক। একই বোলার, প্রায় একই বল, একই আউট!
 
দিলরুয়ান পেরেরার ফ্লাইটেড বল। সামনে খেলার বল মুমিনুল খেললেন পেছনে। আবারও ফ্লাইটে বিভ্রান্ত এবং বলের লাইন মিস। প্রথম দেখাতেই মনে হয়েছে আউট। আম্পায়ারও আঙুল তুললেন। তামিমে সঙ্গে কথা বলে মুমিনুল চাইলেন রিভিউ। কিন্ত রিভিউ চেয়েও আবার হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। মনে হয় নিজেই বিভ্রান্ত!
 
তবে আগেই রিভিউ চাওয়ায় সেটা থাকলই। মুমিনুল ফিরলেন ৫ রানে। রিভিউও একটা শেষ হলো। বাংলাদেশ আরও বিপদে পড়ল। রান ২ উইকেটে ৮১।
 
শুরুতেই নেই সৌম্য
 
দিনটা বুঝি এর চেয়ে বাজেভাবে শুরু হতে পারত না বাংলাদেশের জন্য। দিনের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড সৌম্য সরকার!
 
আউট হতে পারতেন প্রথম বলেই। আসেলা গুনারত্নে স্লো মিডিয়াম বোলার হলেও ছুটে এসে করলেন অফ স্পিনের মতো। পুরোপুরি বিভ্রান্ত সৌম্য, সুইপ করতে গিয়ে আবার ঠেকাতে চাইলেন। ক্যাচ উঠল, শর্ট লেগ ফিল্ডার পারল না ধরতে।
 
পরের বলে ফিল্ডার লাগল না। এবার বেশ ফ্লাইট দেয়া বল। সৌম্য ডিফেন্স করেছিলেন, বল একটু বেরিয়ে তার ব্যাটের পাশ দিয়ে চুমু দিল স্টাম্পে। এত ‘সফট ডিসমিসাল’ যে বোলার আবেদন করেছিলেন, সৌম্যও রিভিউ চেয়ে বসেছিলেন। কেউই শুরুতে বুঝতে পারেননি কি হয়েছে।
 
আগের দিনের ৫৩ রানেই সৌম্যর বিদায়। বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৬৭। লক্ষ্য ৪৫৭ রান বা ৯৮ ওভার টিকে থাকা।

 

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১২

গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে তৃতীয় দিন নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩১২ রান তুলতে সবকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ১৯২ রানে ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। কিন্তু এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিন তামিম ইকবালের সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়া সৌম্য তৃতীয় দিন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সুরাঙ্গা লাকমালের বলে ব্যক্তিগত ৭১ রানে বিদায় নেন তিনি। ১৩৭ বল খেলা বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান আটটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছিলেন।

সৌম্য‘র বিদায়ের পর উইকেটে এসে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন সাকিব আল হাসান। কিছুটা টি-টোয়েন্টি মেজাজেই খেলেন তিনি। মনে হচ্ছিল পিএসএলে খেলে এসে সেই ঘোর এখনও কাটাতে পারেননি। সানদাকানের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকওয়ালার ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ১৯ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২৩ করেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচেও সাকিব ৪৬ বলে করেছিলেন ৩০ রান।

দিলরুয়ান কুমারার বলে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সিনিয়র এই মিডলার্ডার শটপিচ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন। ২৬ বলে একটি চারে ৮ রান করেন তিনি। মাঠে এসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাশ কোনো অবদান রাখতে পারেননি। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের প্রথম শিকার হন তিনি। ব্যক্তিগত ৫ রানে গুনারত্নেকে ক্যাচ দেন তিনি। বাংলাদেশের লেজ অনেকটাই বেরিয়ে আসে। তবে, ঘুরে দাঁড়ান গত সফরে এই ভেন্যুতে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজ।

দারুণ খেলে সাদা পোশাকের ১৬তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতে টাইগারদের ২৯৫ রানের দরকার ছিল। ৯১তম ওভারে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ৪১ রানে পেরেরার বলে এলবির ফাঁদে পড়েন মিরাজ।

মুশফিক-মিরাজ জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১০৬ রান। ৭৭ বলে ৫টি বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় টাইগারদের সপ্তম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তিনি। পরের বলেই তাসকিন এলবির ফাঁদে পড়েন। দারুণ খেলতে থাকা মুশফিক জুটির অভাবে কিছুটা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। পরে হেরাথের বলে ব্যক্তিগত ৮৫ রানে বোল্ড হন তিনি। ১৬১ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় তিনি নিজের ইনিংস সাজান।

বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মোস্তাফিজুর রহমান। চা-বিরতি থেকে ফিরে মাত্র দুটি বলই খেলতে পারে সফরকারীরা। রঙ্গনা হেরাথের তৃতীয় শিকার হয়ে ব্যক্তিগত ৪ রানে বিদায় নেন তিনি। শুভাষিশ শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে দ্বিতীয় দিন শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আর ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে রেকর্ড জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ওপেনিং জুটিতে আগের রেকর্ডটিতেও ছিলেন তামিম। ২০১৩ সালের কলম্বো টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে জহুরুল ইসলামকে নিয়ে ৯১ রানের পার্টনারশিপ করেছিলেন দেশসেরা ওপেনার। এদিন তামিম ও সৌম্য মিলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন।

তবে দারুণ খেলতে থাকা তামিম এক হাস্যকর রান আউটে ক্রিজ ছাড়েন। সানদাকানের বলে খোঁচা দেন। কিন্তু বল উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকওয়ালার কাছে চলে গেলে আম্পায়ারের কাছে ক্যাচের আবেদন করে লঙ্কানরা। তবে কি বুঝে রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন তামিম। আর তাতেই দিকওয়ালা স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। তামিম হয়তো ভেবেছিলেন বল ধরতে পারেননি উইকেটরক্ষক। তিনি ১১২ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৫৭ রান করেছিলেন।

তামিমের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি মুমিনুল হক। এসে মাত্র ৭ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। কিন্তু দিনের বাকি সময়টা আর কোনো ভুল হতে দেননি সৌম্য ও মুশফিকুর রহিম। অসাধারণ খেলা সৌম্য ১৩৩ বলে সাতটি চার ও এক ছক্কায় ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ১ রানে মাঠ ছেড়েছেন অধিনায়ক মুশফিক।

এর আগে কুশাল মেন্ডিসের ১৯৪ রানের সুবাদে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ করে শ্রীলঙ্কা। হাফসেঞ্চুরি করেন আসেলা গুনারত্নে, দিকওয়ালা ও পেরেরা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান। আর একটি করে উইকেট দখল করেন তাসকিন আহমেদ, শুভাষিশ রায় ও সাকিব আল হাসান।

সেই তরুণীর জিম্মায় আরাফাত সানির জামিন


যার অভিযোগে আরাফাত সানিকে কারাগারে যেতে হয়েছে, স্ত্রী হিসেবে দাবি করা সেই তরুণীর জিম্মায় এই ক্রিকেটারকে নারী নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে আদালত।


সানির জামিন আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এম জুয়েল আহমেদ বলেন, “মামলার বাদীনীর জিম্মায় আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।”

জুয়েল জানান, দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন।

“বিচারক বলেছেন, তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে পরীক্ষামূলকভাবে। এই সময়ের মধ্যে তারা সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পারে কি না তা দেখার জন্য। যদি না মেটে, তাহলে জামিন বাতিল হবে।”

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল বলেন, ওই তরুণী আদালতে জানিয়েছেন, সানির সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে। জামিন হলে তার আপত্তি নাই।

নিজেকে ‘সানির স্ত্রী’ দাবি করে ওই তরুণী চলতি বছর ৫ জানুয়ারি ক্রিকেটার সানির বিরুদ্ধে মোহাম্মাদপুর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় গত ২২ জানুয়ারি সাভার থানার আমিন বাজার থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

এরপর সানির বিরুদ্ধে যৌতুক আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরও দুটি মামলা করেন ওই তরুণী।

তথ‌্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী অভিযোগ করেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রী হিসেবে তাকে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিলে গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন।

নারী নির্যাতন দমন আইনের মামলার আর্জিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আরাফাত সানির সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই সানি তার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক চান।

“ওই টাকা না দিলে সানি তার সঙ্গে ঘর সংসার করবেন না বলে জানান তার মা। তারপর সানি ওই তরুনীকে মারধর-গালিগালাজ করে বাসায় ফেলে চলে যায়।”

আর ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনে করা মামলায় ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারধর করার অভিযোগ আনা হয় সানির বিরুদ্ধে।

নারী নির্যাতন দমন আইনের মামলায় আরাফাত সানির মা নার্গিস আক্তারও আসামি। আদালত গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করে।

এক সময় বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা বাঁহাতি স্পিনার সানি আছেন কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূর্যমুখী সেলে। বাকি দুই মামলায় জামিন হলে তার মুক্তি মিলতে পারে।

 

মুশফিকের বিদায়ের পর চা-বিরতিতে বাংলাদেশ

গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার ৪৯৪ রানের জবাবে তৃতীয় দিন নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। ১৯২ রানে ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। কিন্তু এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ। তবে সেট হয়েও দু’জনই বিদায় নেন। আর মুশফিকের বিদায়ের পর চা-বিরতিতে যায় দু’দল।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯৭ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান তুলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে আছেন শুভাষিশ রায় ও মোস্তাফিজুর রহমান।

দ্বিতীয় দিন তামিম ইকবালের সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়া সৌম্য তৃতীয় দিন বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সুরাঙ্গা লাকমালের বলে ব্যক্তিগত ৭১ রানে বিদায় নেন তিনি। ১৩৭ বল খেলা বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান আটটি চার ও একটি ছক্কা মেরেছিলেন।

সৌম্য‘র বিদায়ের পর উইকেটে এসে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন সাকিব আল হাসান। কিছুটা টি-টোয়েন্টি মেজাজেই খেলেন তিনি। মনে হচ্ছিল পিএসএলে খেলে এসে সেই ঘোর এখনও কাটাতে পারেননি। সানদাকানের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকওয়ালার ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ১৯ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ২৩ করেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচেও সাকিব ৪৬ বলে করেছিলেন ৩০ রান।

দিলরুয়ান কুমারার বলে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা সিনিয়র এই মিডলার্ডার শটপিচ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন। ২৬ বলে একটি চারে ৮ রান করেন তিনি। মাঠে এসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাশ কোনো অবদান রাখতে পারেননি। লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথের প্রথম শিকার হন তিনি। ব্যক্তিগত ৫ রানে গুনারত্নেকে ক্যাচ দেন তিনি। বাংলাদেশের লেজ অনেকটাই বেরিয়ে আসে। তবে, ঘুরে দাঁড়ান গত সফরে এই ভেন্যুতে ডাবল সেঞ্চুরি করা মুশফিক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিরাজ।

দারুণ খেলে সাদা পোশাকের ১৬তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। এরপর মুশফিক ও মিরাজের ব্যাটে ফলোঅন এড়ায় বাংলাদেশ। ফলোঅন এড়াতে টাইগারদের ২৯৫ রানের দরকার ছিল। ৯১তম ওভারে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যক্তিগত ৪১ রানে পেরেরার বলে এলবির ফাঁদে পড়েন মিরাজ।

মুশফিক-মিরাজ জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১০৬ রান। ৭৭ বলে ৫টি বাউন্ডারি হাঁকান মিরাজ। দলীয় ২৯৮ রানের মাথায় টাইগারদের সপ্তম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তিনি। পরের বলেই তাসকিন এলবির ফাঁদে পড়েন। দারুণ খেলতে থাকা মুশফিক জুটির অভাবে কিছুটা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। পরে হেরাথের বলে ব্যক্তিগত ৮৫ রানে বোল্ড হন তিনি। ১৬১ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় তিনি নিজের ইনিংস সাজান।

এর আগে দ্বিতীয় দিন শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আর ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে রেকর্ড জুটি গড়েন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। ওপেনিং জুটিতে আগের রেকর্ডটিতেও ছিলেন তামিম। ২০১৩ সালের কলম্বো টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে জহুরুল ইসলামকে নিয়ে ৯১ রানের পার্টনারশিপ করেছিলেন দেশসেরা ওপেনার। এদিন তামিম ও সৌম্য মিলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন।

তবে দারুণ খেলতে থাকা তামিম এক হাস্যকর রান আউটে ক্রিজ ছাড়েন। সানদাকানের বলে খোঁচা দেন। কিন্তু বল উইকেটরক্ষক নিরোশান দিকওয়ালার কাছে চলে গেলে আম্পায়ারের কাছে ক্যাচের আবেদন করে লঙ্কানরা। তবে কি বুঝে রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন তামিম। আর তাতেই দিকওয়ালা স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। তামিম হয়তো ভেবেছিলেন বল ধরতে পারেননি উইকেটরক্ষক। তিনি ১১২ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৫৭ রান করেছিলেন।

তামিমের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি মুমিনুল হক। এসে মাত্র ৭ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। কিন্তু দিনের বাকি সময়টা আর কোনো ভুল হতে দেননি সৌম্য ও মুশফিকুর রহিম। অসাধারণ খেলা সৌম্য ১৩৩ বলে সাতটি চার ও এক ছক্কায় ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে ১ রানে মাঠ ছেড়েছেন অধিনায়ক মুশফিক।

এর আগে কুশাল মেন্ডিসের ১৯৪ রানের সুবাদে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ করে শ্রীলঙ্কা। হাফসেঞ্চুরি করেন আসেলা গুনারত্নে, দিকওয়ালা ও পেরেরা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। দুটি উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান। আর একটি করে উইকেট দখল করেন তাসকিন আহমেদ, শুভাষিশ রায় ও সাকিব আল হাসান।

মুশফিকের ব্যাটিং গড় ১০১.৭৫!

২০১৭ সাল স্বপ্নের মতো কাটছে মুশফিকুর রহিমের। বিশেষ করে টেস্টে দারুণ ছন্দে রয়েছেন সাদা পোশাকের বাংলাদেশ অধিনায়ক। আর চমপ্রদ খবর হলো চলতি বছরে এখন পর্যন্ত খেলা ইনিংসগুলো থেকে তার ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে ১০১.৭৫! যা এক রকম অবিশ্বাস্য।

নিউজিল্যান্ড ও ভারতের পর শ্রীলঙ্কা সফরেও মুশফিকের ব্যাট হেসেছে। দলের কঠিন সময়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে করেছেন ৮৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে যা সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

এর আগে ওয়েলিংটনে দুই ইনিংসে যথাক্রমে করেছিলেন ১৫৯ ও ১৩। পরে ভারত সফরে হায়দ্রাবাদে একমাত্র টেস্টে দুই ইনিংসে করেন ১২৭ ও ২৩।

গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্টের প্রথমটিতে লড়ছে বাংলাদেশ। লঙ্কানরা প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ রান করে। জবাবে বাংলাদেশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রান করেছে। মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেট জুটিতে ১০৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন মুশফিক।

রান আউটের আগেই আউট ছিলেন তামিম!


তার অদ্ভুতুড়ে রান আউট নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। দিনের শেষে কোচ বলেছেন, ‘ব্রেইন ফেইড’। চলছে মজা, বিস্ময়, প্রশ্ন, কৌতূহল। অথচ রান আউটের আগেই তামিম ইকবাল হতে পারতেন কট বিহাইন্ড! যদিও আম্পায়ার সেটি বুঝতে পারেননি, সিদ্ধান্তও দেননি।

টিভি রিপ্লেতে বারবার দেখেও বোঝা যায়নি বল ব্যাটে লেগেছিল কিনা। তবে সেটি স্বীকার করছেন তামিম নিজেই। গল টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে টেন স্পোর্টসকে জানালেন, বল ব্যাটে লেগেছিল বলেই রান নিতে ছুটেছিলেন তিনি।

“বল ব্যাটে লেগেছিল, আমি ভেবেছিলাম কিপারকে ছাড়িয়ে বল চলে গেছে। আমি তো ছুটছিলাম যে দুই রান নেওয়া যায় কিনা। বুঝতে পারিনি যে বল কিপারের হাতেই আছে।”

দ্বিতীয় দিন বিকেলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ওই বিস্ময়কর রান আউটে ৫৭ রানে ফেরেন তামিম। লাকশান সান্দাকানের বলে কটবিহাইন্ডের আবেদন করছিলেন উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলা। সবাইকে চমকে দিয়ে তামিম ছোটেন রান নিতে। বেলস উড়িয়ে আননেদ ভাসেন ডিকভেলা।

ওভাবে রান নিতে না ছুটলে কট বিহাইন্ডের আবেদনে শ্রীলঙ্কা রিভিউ নিত কিনা, সেটি আর জানার উপায় নেই। লঙ্কানদের কাজ সহজ করে দিয়েছিলেন তামিমই!

 

মুশফিকের অর্ধশতক, জুটিও পঞ্চাশ ছাড়িয়ে

শ্রীলঙ্কার পাঁচশর কাছাকাছি সংগ্রহের জবাবে গল টেস্টের তৃতীয় দিন ব্যাট করছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর অন্য মুশফিক লাঞ্চের সময় দলের আলোচনা কি ছিল কে জানে। লাঞ্চের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে অন্য মুশফিককে!
 
বিরতি পর প্রথম ওভারেই বেরিয়ে এসে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারলেন হেরাথকে। ৮৮ বল খেলার পর মুশফিকের প্রথম বাউন্ডারি!  পরের চার ওভারে এল আরও চারটি চার। ৮৪ বলে ২২ রান নিয়ে লঞ্চে গিয়েছিলেন মুশফিক। পরের ২৩ বলে ২৮ রান করে স্পর্শ করলেন অর্ধশতক। কিপিং ছেড়ে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম ইনিংসেই সাফল্য। এবার এটি আরও বড় করার পালা।
 
আরেক পাশে মিরাজ সঙ্গ দিচ্ছেন ভালোই। সপ্তম উইকেট জুটির রানও পঞ্চাশ ছাঁড়িয়েছে। দুঃস্বপ্নের প্রথম সেশন অনেক সম্ভাবনা নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের সময় সব সম্ভাবনার অপমৃত্যু হয়ে গেছে, ঘিরে ধরেছে শঙ্কা। সারাদিন ব্যাট করার আশা তখন দূরাশা, লড়াই ফলো অন বাঁচানো নিয়েই!
 
সকালের সেশনেই বাংলাদেশ হারিয়েছে ৪ উইকেট। একটি উইকেটও সেভাবে বোলারের কৃতিত্ব নয়। সবই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উপহার। দিনের তৃতীয় ওভারেই বাজে শটে সৌম্য সরকারের বিদায়ে শুরু। এরপর সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, লিটন, সবাই ফিরেছেন উইকেট বিলিয়ে। ব্যাটিংয়ে ছিল না দায়িত্বের ছাপ।
 
এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের অধিনায়কের ব্যাটই এখন ভরসা, যদি অপর প্রান্তে সঙ্গ দিতে পারেন বাকি সঙ্গীরা।
 
সকালটি ভয়ানক হতে পারত আরও, যদিও না লাঞ্চে ঠিক আগে ক্যাচ ছাড়তেন গুনারত্নে। সান্দাকানের বলে স্লিপে মিরাজের ক্যাচ ছেড়েছেন গুনারত্নে। এই সান্দাকানই সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছেন বাংলাদেশকে।
 
৮৪ বলে ২২ রান নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছেন মুশফিক, মিরাজ অপরাজিত ১১। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ২১৩। ফলো এন এড়াতে প্রয়োজন আরও ৮২ রান। ফিরলেন লিটন, ডাকছে ফলো অন!
 
সময় যত গড়াচ্ছে, তৃতীয় দিনের সকাল বাংলাদেশে জন্য হয়ে উঠছে বিভীষিকা। মাহমুদউল্লাহর ধাক্কা সামাল না দিতেই আউট লিটন কুমার দাস। কুমারাকে দারুণ এক শটে চার মেরে শুরু করেছিলেন লিটন। কিন্তু ফিরলেন বাজে শটে। রঙ্গনা হেরাথের বলে জায়গা বানিয়ে ড্রাইভ করতে গেলেন জায়গায় দাঁড়িয়ে, বলের লাইনে পা না নিয়েই। বল গেল স্লিপে। দলে ফেরার ইনিংসে লিটন ফিরলেন ৫ রানে।
 
মেহেদী হাসান মিরাজ অবশ্য শুরু করেছেন জোড়া চার মেরে। তবে বাংলাদেশ এখন ভালোমতোই আছে ফলো অনের শঙ্কায়। ২০০ রান ছুঁতেই নেই ৬ উইকেট! উড়ল মাহমুদউল্লাহর বেলস
 
কয়েকটি শর্ট ও শর্ট অব লেংথ বলে একটু নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। শর্ট বলের ভাবনাই হয়ত তা কাল হলো। লাহিরু কুমারার লেংথ বলটা খেলেন জায়গায় দাঁড়িয়ে। পা যেন আটকে রইল পিচে, গেল না বলের লাইনে। বোল্ড হলেন লাইন মিস করে।
 
তৃতীয় দিন সকালে বাংলাদেশ হারাল তৃতীয় উইকেট। টেস্ট দলে জায়গা নিয়ে লড়তে থাকা মাহমুদউল্লাহ বিদায় ৮ রানে। দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটির পর এখন বাংলাদেশের ফলো অন এড়ানো নিয়েই শঙ্কা!
 
বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৮৫। ১৫ রান নিয়ে লড়াই করছেন মুশফিক। বাজে বল, সাকিবের আরও বাজে শট আগের দিন থেকেই শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার ছিলেন লাকশান সান্দাকান। ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যনদের যা একটু ভুগিয়েছেন তিনিই। পরাস্ত করেছেন কয়েকবার। অথচ উইকেট পেলেন সম্ভবত সবচেয়ে বাজে বলেই!
 
লেগ স্টাম্পে পিচ করা বল বেরিয়ে যাচ্ছিল আরও অনেক বাইরে দিয়ে। নির্বিষ, নিরীহ বলটি খেলতে গিয়েই আউট সাকিব আল হাসান। ব্যাটে লাগলো আলতো ছোঁয়া। দ্রুত লেগ স্টাম্পে চলে আসা ডিকভেলা নিলেন দারুণ ক্যাচ। ক্যারিয়ারে আরও একবার উইকেট উপহার দিয়ে ফিরলেন সাকিব। করেছেন ১৯ বলে ২৩ রান। বাংলাদেশ তখন ৪ উইকেটে ১৭৪ রান।
 
রান-বলের হিসাবই বলছে সাকিবের খেলার ধরণ। শুরু থেকেই খেলেছেন শট। বেঁচেও গেছেন। একটি মিসহিটে ছক্কা পেয়েছেন, যেটি অনায়াসেই যেতে পারত ফাইন লেগ ফিল্ডারের হাতে। আরেকবার অল্পের জন্য ফিরতি ক্যাচ হননি লাকমলের কাছে। শেষ পর্যন্ত পারলেন না টিকতে।

সৌম্যকে হারিয়ে বাংলাদেশের শুরু
 
পরিকল্পনা বদলে রাউন্ড দা উইকেটে গেলেন সুরাঙ্গা লাকমল। কাজ করল ম্যাজিকের মতো! লেগ স্টাম্পে পিচ করা শরীর তাক করা শর্ট বল। সৌম্য সরকার যেন হকচকিয়ে গেলেন। না খেলতে পারলেন ঠিক ভাবে পুল শট, না পারলেন এড়াতে। বল ফাইন লেগে লাহিরু কুমারার হাতে!
 
আগের ওভারের শেষ বলে দারুণ এক চার মেরেছিলেন সৌম্য। এবার শেষ বলে আউট। দিনের তৃতীয় ওভারেই শ্রীলঙ্কার সাফল্য। ৭১ রানে সৌম্যর বিদায়। বাংলাদেশ তখন ৩ উইকেটে ১৪২।
 
দ্বিতীয় দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:
 
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৪৯৪
 
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৩৩/২ (তামিম ৫৭, সৌম্য ৬৬*, মুমিনুল ৭, মুশফিক ১*; লাকমল ০/১৫, কুমারা ০/৩৮, পেরেরা ১/৩২, হেরাথ ০/৩০, সান্দাকান ০/১৭)

 

ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ

১৯৪ রানে থামলেন কুশল মেন্ডিস। আর শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস থামল ৪৯৪ রানে। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। সাবধানী শুরু করেছে সফরকারীরা।

তবে তামিমের ইকবালের সঙ্গে ইনিংসের গোরাপত্তন করতে নেমে নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। রানের খাতাই খুলতে পারতেন না সৌম্য। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান এই ওপেনার। তৃতীয় ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের বলে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। দিলরুয়ান পেরেরা ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন। জীবন পেয়ে ব্যাট করছেন সৌম্য।

এই রিপোট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৬ রান। সৌম্য সরকার ৩২ ও তামিম ইকবাল ৪৩ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে ৪ উইকেটে ৩২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে। দিনের শুরুটাও দারুণ করে তারা। এদিন আরও ৭৭ রান যোগ করে মোট ১১০ রানের জুটি গড়েন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মেন্ডিস ও ডিকভেলা।

দলীয় ৩৯৮ রানে এ জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে এ আউটে তামিম ইকবালের অবদানই বেশি। লং অনে দারুণ ক্যাচ ধরেন তামিম। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে লাইনের বাইরে চলে যান তিনি। তবে তার আগে শূন্যে বল ছুড়ে দিয়ে আবার ভিতরে এসে লুফে নেন সে ক্যাচ। ফলে ডাবল সেঞ্চুরি করার ৬ রান আগেই বিদায় নিতে হয় মেন্ডিসকে। তবে কাজের কাজটি করে দিয়েছেন এ তরুণ। ২৮৫ বলে খেলেছেন ১৯৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। ১৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস।  

মেন্ডিস আউট হলেও এক প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন ডিকভেলা। মিরাজের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে ৭৬ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় খেলেন ৭৫ রানের ইনিংস। তার আউটের পর দলের হাল ধরেন দিলরুয়ান পেরেরা। এক প্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে খেলেন ৫১ রানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৯৪ রানে থামে লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের পক্ষে ১১৩ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট নেন মিরাজ। ৬৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন মোস্তাফিজ। এছাড়া সাকিব, শুভাশিস ও তাসকিনের দখলে যায় ১টি করে উইকেট।



Go Top