দুপুর ১:৩১, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ চট্রগ্রাম

এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি (৩০০ মিলিমিটার) ঝরাতে পারে বলে আভাস দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে একুওয়েদার।

গত ২৬ মে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর রোববার সকালে তা নিম্নচাপে এবং মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী তখন এর নাম দেওয়া হয়ে ‘মোরা’

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ  জানান, ‘মোরা’ থ্যাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত নাম।

নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার পরপরই সমুদ্রবন্দরগুলোকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়। পরে ভোর ৬টায় সংকেত বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত এবং ৯টায় বিপদ সংকেত জারি করে আবহাওয়া অফিস।

সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং পরদিন তা ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় রূপ নেয়। পরে সেটি দক্ষিণপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে।

কক্সবাজারে অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

কক্সবাজার সদরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব। রোববার উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয় বলে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানিয়েছেন।

উদ্ধার অস্ত্রগুলো হলো দেশে তৈরি পাঁচটি বন্দুক, দুইটি কিরিচ ও তিনটি গুলির খোসা।

আটকরা হলেন পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলী এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে কলিম উল্লাহ (৪৮) ও তার সহযোগী একই এলাকার মৃত অছিউর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০)।

মেজর রুহুল আমিন বলেন, অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশে পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে অস্ত্র মজুদ করেছে খবরে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও দুই জনকে আটক করা হয়।

“পরে তাদের স্বীকারোক্তি মতে কলিম উল্লাহর চিংড়ি ঘেরের একটি বাড়ি থেকে পাঁচটি দেশে তৈরি বন্দুক, দুইটি কিরিচ ও তিনটি গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।”

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে জানিয়ে মেজর রুহল বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনে আটকদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

 

কুমিল্লায় দুই যুবক খুন

কুমিল্লায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ দুই যুবক খুন হয়েছেন। নগরীর চর্থা ও কান্দিরপাড়ে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

নিহতরা হলেন- চর্থা তালতলা এলাকার আনিসুর রহমান জালালের ছেলে জিয়াউর রহমান সানি (৩৫) ও সুজানগর এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে শাহজাহাদা (২০)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, রাতে চর্থা এলাকায় দুই চাচা মিজানু রহমান জামাল ও মফিজুর রহমান কামাল এবং তাদের দুই ছেলে সুমন ও মামুন পিটিয়ে সানিকে আহত করে।

পরে রাত সোয়া ১১টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে সানির দুই চাচা ও তাদের ছেলেরা পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সানির স্ত্রী ফারহানা হক লিমা বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগির বিরোধে তার দুই চাচা শ্বশুর ও তাদের দুই ছেলে সানিকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে।

“গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর অসুস্থ বোধ করায় ফের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।”

কুমিল্লা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ছালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “সানির বুকে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল। দ্বিতীয়বার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় কুমিল্লা ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শাহজাদাকে তার সহপাঠিরা কুপিয়ে হত্যা করে বলে পরিদর্শক সালাহ উদ্দিন জানান।

তিনি বলেন, “আহত অবস্থায় শাহজাদাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”

হত্যার কারণ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার একটি ব্যাগের সূত্র ধরে অর্পণ নামে এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

কক্সবাজারে ‘গোলাগুলি’তে নিহত ১

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ দাবি করেছে, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

নিহত এনামুল হক (৩৮) স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী দলের সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ  জানান, হোয়ানক ইউনিয়নের পূর্ব হরিয়ারছড়া এলাকায় শুক্রবার ভোরে সংঘর্ষে মারা যান এনামুল।

নিহত ব্যক্তি ওই এলাকারই নুরুল হক ওরফে ভেক্কার ছেলে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আইয়ূব আলী’ ও ‘জোনাব আলী’র নেতৃত্বে স্থানীয় দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে।

ওসি বলেন, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিরোধ থেকে দুই বাহিনীর গোলাগুলিতে আইয়ূব আলী দলের সদস্য এনামুল নিহত হন। এনামুলের লাশ ছাড়াও তিনটি দেশি বন্দুক ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা পুলিশ জানালেও কাউকে সংঘর্ষে লিপ্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

“গোলাগুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়,” বলেন ওসি।

এনামুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো ডাকাতি, মৎস্য ঘের দখল, অপহরণ ও ছিনতাইসহ নানা  অভিযোগে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

ফেনীতে মা-মেয়ে খুন, আটক ২

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় মা ও শিশুকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে; এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, উপজেলার জিএমহাট ইউনিয়নের পূর্ব বশিকপুর গ্রামে বুধবার সন্ধ্যার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের মনির আহম্মদ ভুঁইয়ার মেয়ে ফাতেমা সাথী (২৫) ও সাথীর মেয়ে শান্তিকা ইসলাম ইসমা (৪)।

নিহত ফাতেমার বোন আয়েশা কলি বলেন, সন্ধ্যার পরে বাড়ির লোকজন তাদের সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোনো একসময় মা-মেয়েকে হত্যা করা হয় বলে তাদের ধারণা।

কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে ফাতেমা বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন। পরিবারের সন্দেহ, ফাতেমার স্বামী শাহাদাত হোসেন রিমন (৩৫) জেলে থাকলেও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তিনি থাকতে পারেন।

রিমন ফুলগাজী উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানীরহাট ভুঁইয়াবাড়ির আব্দুল লতিফ ওরফে রঙ্গিন কোম্পানির ছেলে। ফাতেমার মা হোসনে আরা বেগম বলেন, “বছর সাতেক আগে ওদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর রিমনের আসল রূপ ধরা পড়তে শুরু করে। নানা অন্যায় কাজে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

“অনেক টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ফাতেমা মাস কয়েক আগে রিমনকে তালাকনামা পাঠায়। এতে ক্ষেপে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয় রিমন। কিছুদিন আগে এক অপহরণ মামলায় রিমন জেলে যাওয়ার পরও তার বন্ধুরা হুমকি দিয়েছে।”

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার মধ্যরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আলিম জানান।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মোর্শেদ বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

কুমিল্লায় কভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ২

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কভার্ডভ্যানের নিচে চাপা পড়ে দুই পথচারীর মৃত্যু হয়েছে; এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। হাইওয়ে পুলিশের ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার ধরণিপাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন – ধরণিপাড়ার আকবর হোসেন ও কবির হোসেন। এসআই মনিরুল বলেন, কভার্ডভ্যানটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পথচারীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান।

দুর্ঘটনায় চালক মমতাজ উদ্দিন ও সহকারী আহত হলে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান এসআই মনিরুল।

 

চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস পুকুরে, নিহত ৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া রোলিং মিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে হাইওয়ে পুলিশের কুমিরা ফাঁড়ির এসআই মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন।

নিহতরা হলেন- মনিকা রানী দাশ (৪৫), মো. সোলায়মান (৬০) ও মো. নাসির (৫০)। এদের মধ্যে পথচারী মনিকা দুর্ঘটনাস্থল বাঁশবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তাকে ধাক্কা দিয়েই মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়েছিল।

নিহত অন্য দুজন মাইক্রোবাসটির যাত্রী। নাসির নগরীর চান্দগাঁও থানার পূর্ব ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা। সোলায়মান হাটহাজারী থানার বালুছড়া এলাকার বাসিন্দা।

এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।

“মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর পথচারী মনিকা রানীকে ধাক্কা দিয়ে পুকুরে পড়ে।” নিহত নাসিরের ভাই এম এ হামিদ বলেন, মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাটে আত্মীয়ের জানাজায় যাচ্ছিলেন তারা।

“সকালে ষোলশহর থেকে দুটি গাড়ি নিয়ে আমরা বের হই। সামনের ভাড়া করা মাইক্রোবাসে বড় ভাই নাসিরসহ অন্যরা ছিলেন। আমি ছিলাম পিছনের মাইক্রোবাসে।”

নাসিরের আরেক ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, নাতিসহ পরিবারের নয়জন আহত হন।

আহতরা হলেন- আবু তালেব (৩৮), আবদুল আজিজ (৫০), জাকির (৫০), আরিফ (৩০), সজীব (৩৭), আনোয়ারা বেগম (৬৫), মমতাজ বেগম (৪৫), রাজু আক্তার (৩৫) ও মো. সাইফ (১০)।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, আহতরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

 

সুবর্ণচরের পুকুরে ৩ শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দুটি পুকুরে ডুবে দুই সহোদরসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাশার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় কেরামতপুর গ্রামের দুটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো – ওই গ্রামের আবদুল্লাহ সর্দারের ছেলে ওমর (১০), মেয়ে আমেনা (৭) ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর আলাউদ্দিন গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে দেড় বছরের আলামিন।

চেয়ারম্যান বাশার বলেন, সন্ধ্যার দিকে ওমর ও আমেনা বাড়ির পাশের পুকুরে হাতমুখ ধোয়ার জন্য গিয়েছিল। অনেকক্ষণেও তারা ফিরে না আসায় বাড়ির লোকেরা খোঁজাখুজি করে। পরে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রায় একই সময় একই গ্রামের সাবের সর্দারের পুকুরে ডুবে মারা যায় আলামিন। চেয়ারম্যান বাশার বলেন, আলামিন পরিবারের সঙ্গে কেরামতপুর গ্রামে খালু সাবের সর্দারের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। সন্ধ্যার পর সর্দারবাড়ির পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কিভাবে সে পুকুরে ডুবে যায় সে বিষয়ে পরিবারের লোকেরা কিছু বলতে পারেনি।

থানায় অভিযোগ না দিয়ে পারিবারিকভাকে তিন শিশুর লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চরজব্বর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; যাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। কুণ্ডা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রাম থেকে রোববার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে নাসিরনগর থানার ওসি আবু জাফর জানান।

মেয়েটির বয়স আনুমানিক ১৮ বছর বলে ধারণা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ওসি আবু জাফর বলেন, সকালে রাস্তার পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে।

“মেয়েটির গলায় ও পিঠে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তাকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা লাশ এখানে ফেলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা এ ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নেপ ডিজি নিহত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক শিক্ষা কর্মকর্তা। শনিবার সকালের এই দুর্ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আরও দুই কর্মকর্তা, এক কর্মচারী এবং তাদের গাড়ির চালকও আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত ফজলুর রহমান (৫৫) ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশনের (নেপ) মহাপরিচালক ছিলেন। আহতরা হলেন- চট্টগ্রাম পিটিআইর (প্রাইমারি টিচার ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট) সুপারিনটেনডেন্ট রফিকুল ইসলাম তালুকদার, পটিয়া পিটিআইর সুপারিনটেনডেন্ট মুশফেকা বিনতে সুলতান, পিটিআইর পিয়ন সাইফুল এবং গাড়িচালক আলী হোসেন।

তারা একটি মাইক্রোবাসে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলেন। সকাল ৭টার দিকে ফটিকছড়ির বারৈরহাট এলাকার আনন্দপুর কমিউনিটি সেন্টারের কাছে লোহাবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক গৌরীলাল চাকমা জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হলে ফজলুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

যুগ্ম সচিব ফজলুর রহমান বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮২ (বিশেষ) ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি নেপের মহাপরিচালক পদে যোগ দেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কালী বাড়ি এলাকায়।

আহত অন্য চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে নায়েক গৌরীলাল জানিয়েছেন।

ফটিকছড়ি থানার এসআই ইরফান উদ্দিন রাজীব  বলেন, সরকারি কাজে খাগড়াছড়িতে যাচ্ছিলেন নেপ মহাপরিচালক ও তার সফরসঙ্গীরা। বিপরীতমুখী ট্রাকটি মাইক্রোবাসটিকে চাপা দেয়।

আহত ৫ জনকে উদ্ধারের পর প্রথমে ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের চমেকে পাঠানো হয়।

ট্রাকটি পুলিশ আটক করলেও এর চালক পালিয়ে গেছে।

 

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলে নিহত

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও দুইজন। হামলার পর থেকে ওই পরিবারের সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, দেবতাপুকুর থলিপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন – থলিপাড়ার চিরঞ্জিত ত্রিপুরা (৫৫) ও ছেলে কর্ণ ত্রিপুরা (৩০)। আর আহত হয়েছেন চিরঞ্জিতের স্ত্রী ভবেলক্ষ্মী (৪৫) ও কর্ণর স্ত্রী বিজলী (২৮)। আহত বিজলী  বলেন, সন্ধ্যার পর তারা পরিবারের সবাই মিলে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন।


এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কালিবন্ধু ত্রিপুরা ও ২০-৩০ জন লোক আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা করে। হামলার পর থেকে আমার ছেলে যুবরাজ ত্রিপুরাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাংচুরসহ লুটপাট করেছে। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক অনুতোষ চাকমা জানান, বাবা-ছেলের মাথা ও পায়ে গুলি করা হয়েছে। মাথায় গুলি করায় তাদের মৃত্যু হয়। আহত দুইজনের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বিজলীর অভিযোগ বিষয়ে ওসি হান্নান  বলেন, কালাবন্ধু ত্রিপুরার সঙ্গে চিরঞ্জিত ত্রিপুরার জমির বিরোধ ছিল। নির্বাচনী বিরোধ আছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে।


 পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাত থেকে ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন ওসি হান্নান। তিনি বলেন, রাতেই পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ কালিবন্ধুসহ হামলাকারীদের খুঁজছে। ঘটনার পর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করে কালিবন্ধুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এর আগে গত ৩ মে খাগড়াছড়ি শহরের শহীদ কাদের সড়কে চিরঞ্জিতের ওপর হামলা করে কয়েকজন মুখোশধারী। এতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়ে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কদিন আগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

 

এসএসসি ফল বিপর্যয়ে কুমিল্লাজুড়ে হতাশা

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ৪ দিনেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হতাশা-ক্ষোভ কমেনি বরং ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছে। ফলাফলে সাফল্যের হার অনুযায়ী দশ বোর্ডের মধ্যে কুমিল্ল¬ার অবস্থান দশম। রাজশাহী বোর্ডে যেখানে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০, সেখানে কুমিল্ল¬া বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। কেন এমন হলো তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সকলেই ফলাফলে হতাশ। কুমিল্লার শিক্ষকদের দাবি, পদ্ধতিগত কারণেই ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিশেষ করে অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের তুলনায় কুমিল¬া শিক্ষাবোর্ডের প্রশ্ন ছিল কঠিন। উত্তরপত্র মূল্যায়নেও ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ তাদের। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে পরীক্ষকরা দুষছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষেরও সোজা-সাপটা জবাব মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা তারা বাস্তবায়ন করতে পরীক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন মাত্র। মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষকদের অভিমত শুধুমাত্র বোর্ডের কঠোর নির্দেশনার কিছুটা অনুকম্পা দেখালেই পাসের হার অন্তত ৭৫ অতিক্রম সম্ভব হতো। কিন্তু সর্বনাশ যা-ই হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল¬øাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন। মন্ত্রণালয়ের কথিত মডেল উত্তরপত্র পরীক্ষকদের কাছে সরবরাহ করে ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় খাতার নম্বর কমানোর নির্দেশদাতা হিসেবে জড়িত বোর্ডের কর্মকর্তাদের অপসারণেরও দাবি উঠেছে। সারাদেশে গড় পাসের হার ৮০ শতাংশ অতিক্রম করলেও কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫৯.০৩ শতাংশ। বিগত ১০ বছরের তুলনায় এ বছর কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল তুলনামূলক বিপর্যয় ঘটেছে। এদিকে ফল পরিবর্তন ও ফেল করা শিক্ষার্থীদের শেষ ভরসা হিসেবে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদনের হিড়িক পড়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, এ বছর বোর্ডের অধীনে কুমিল¬া, বি-বাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৮ হাজার ১১ জন। প্রায় ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখেনি। এর মধ্যে ৬০ সহস্রাধিক পরীক্ষার্থী ফেল করেছে গণিত ও ইংরেজিসহ আরও একাধিক বিষয়ে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত থাকলেও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন।

কাক্সিক্ষত পয়েন্ট না পাওয়া ও ফেল করা একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিমত ‘যে নিয়মে এ বোর্ডে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে সেই নিয়মে অন্য বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন করা হলে সেখানে পাসের হার ৪০ এর নীচে নেমে আসত।’ ফল বিপর্যয়ের কারণে দেশের অন্যান্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকসহ পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়বে বলে হতাশা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে কুমিল্লা বোর্ডের অধীন ৬ জেলার শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে উচ্চ মাধ্যমিকেও ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকরা। কুমিল্ল¬ার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, সৃজনশীলে কঠিন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সৃজনশীল বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিষয়ে মেধা কম থাকায় ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। কুমিল্ল¬া শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ পরীক্ষকরা দায়ী। এ জন্য আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, স্কুলগুলো কেন এত খারাপ করল সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। কারণ অনুসন্ধান করছি। তবে খারাপ করার প্রধান কারণ ইংরেজি ও গণিত। গ্রামের স্কুলগুলোতে ভালো মানের শিক্ষক নেই। সঠিক প্রক্রিয়ায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

কুমিল্লায় এক সপ্তাহে পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। অন্য যে কোনো কারণে শিশু মৃত্যুর চেয়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এসব দুর্ঘটনা ঘটে মূলত পরিবারের অসচেতনতার কারণে। তবে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সীদের মৃত্যু হয় গাঁতার না জানার কারণে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিশুদের অভিভাবকরা।
কুমিল¬øা ৭ দিনে পুকুরে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার সকালে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে উপজেলার নাথেরপেটুয়া গ্রামের বাহারাইন প্রবাসী নূর আলম মজুমদারের শিশুকন্যা নুপুর মজুমদার।সে স্থানীয় নাথেরপেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনার আগের দিন শনিবার দুপুরে উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের বাদুয়াড়া গ্রামের দারোগালী মিজি বাড়ির মো. সহিদ উল¬ার মেয়ে শিখা আক্তার (৫) এবং একই বাড়ির মো. সাহাব উদ্দিনের মেয়ে শাবন্তী আক্তার (৬) পরিবারের সদস্যদের অজান্তে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে যায়। পরে তাদের মৃতদেহ ভেসে উঠলে বাড়ির লোকজন ওই দুই শিশুকে পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এর আগে গত ১ মে সন্ধ্যায় উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের নরহরিপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী নূরে আলমের মাত্র ১৫ মাস বয়সী শিশুকন্যা নাইমা জাহান নোহা পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায়। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও পুকুরের পানিতে পড়ে বেশ কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা ২ লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা সদর উপজেলার শাসনগাছা ও বানাসুয়া এলাকা থেকে ট্রেনে কাটা দুই লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বিকালে উপজেলার শাসনগাছা ও গোমতী নদীর পাড়ের বানাসুয়া গ্রাম থেকে ট্রেনে কাটা লাশ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান জেলার জিআরপি পুলিশের এসআই করিম উল হক।

নিহতরা হলেন – জেলার সদর উপজেলার কাপ্তানবাজার এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩০) ও বরুড়া উপজেলার দক্ষিণ ঘোষপা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার (৩২)।

তারা ট্রেনে কাটা পড়েছে বলে জানালেও কিভাবে বা কেন কাটা পড়ে সে বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে পারেনি। এসআই করিম বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ট্রেনে কাটা দুই লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা হবে।

 

ফেনীতে ছেলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুলগাজী থানার ওসি এমএম মোর্শেদ জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুল মালেক (৭০) উপজেলার পূর্ব বশিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব বশিকপুর মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে ছোট ছেলে আবদুল হালিমের সঙ্গে বাবা মালেকের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হালিম ছুরি দিয়ে বাবাকে একাধিক আঘাত করেন।

আহত মালেককে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. এমরানুল হুদা বলেন, মালেকের বুকে দুটি ও পেটে একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি মোর্শেদ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

কুমিল্লা বোর্ডে বড় ধস

কুমিল্লা প্রতিনিধি: মাধ্যমিক পরীক্ষায় কুমিল¬া শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে এবার বড় ধস নেমেছে। এ বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবার পাস করেছে, যেখানে গতবছর পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। সার্বিকভাবে এবার দশ বোর্ডে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। আর কুমিল¬া বোর্ডেরপাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবছর ৬ হাজার ৯৫৪ জন এ বোর্ড থেকে পূর্ণ জিপিএ পেয়েছিল।
এই ফলাফল প্রকাশ করে কুমিল¬া বোর্ডেরপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, এ ফলাফল নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। গতবারের তুলনায় এবার পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নজরদারি ছিল বেশি। তবে বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করা শিক্ষার্থীদেরও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে বিদ্যালয়গুলো। ফলাফল খারাপ হওয়ার এটা একটা কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে নজরদারি করা প্রযোজন, লোকবল সঙ্কটের কারণে তা হচ্ছে না। তবে যেসব বিদ্যালয় খারাপ করেছে তাদের ব্যাখা চাইবে বোর্ড। কুমিল¬া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, গণিত ও ইংরেজির ভালো শিক্ষকের অভাব রয়েছে কুমিল¬ায়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আন্তরিকতারও অভাব রয়েছে। ভালো ফলাফলের জন্য ‘মনিটরিং’ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি। কুমিল¬া জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কেজি আহমেদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন পরীক্ষার্থীর কেউ এবার পাস করতে পারেনি। একই অবস্থা ওই উপজেলার পায়ের খোলা আর এম বিআর গার্লস হাই স্কুলের। সেখানে ৩২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে এবার। এ বোর্ডের১৪টি বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী এবার পাস করেছে।

চট্টগ্রামে পাসের হার ৮৩. ৯৯

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। সার্বিকভাবে এবার দশ বোর্ডে ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা গতবছর ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল। এ বোর্ডেরপরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবছর পূর্ণ জিপিএ পেয়েছিল ৮ হাজার ৫০২ জন।

 বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেরফল ঘোষণা করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান জানান, এবার ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসিতে বসেছিল, তাদের মধ্যে ৯৯ হাজার ২২ জন পাস করেছে। গতবার ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল ১ লাখ ২ হাজার ২৬৪ জন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের তুলনায় মানবিকের পাসের হার বরাবরই কম থাকে। তবে এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে মানবিকের পাসের হার কমে গেছে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯২ দশমিক ০৭ শতাংশ,  মানবিকে ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গতবার উত্তীর্ণ হওয়ার হার ছিল বিজ্ঞানে ৯৫ দশমিক ৯১ শতাংশ,  মানবিকে ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবছর বিজ্ঞান বিভাগে ৭ হাজার ৪৩৩ জন, মানবিকে ৪৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৬৮ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

জিপিএ-৫ এগিয়ে থাকা ১০ স্কুল
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার কলেজিয়েট স্কুল থেকে সবচেয়ে বেশি- ৪২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরপরই আছে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়; ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে এ স্কুল থেকে। এছাড়া ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৮৪ জন, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৮০ জন, নাসিরবাদ (বালক) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২২ জন, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৬ জন, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৫ জন, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৩ জন, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬৪ জন ও কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবছর চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৬টি স্কুলের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে এবং একটি স্কুলের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি বলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান।
তিনি বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ন হাট গার্লস হাই স্কুল থেকে এবটর নয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের একজনও পাস করেনি।

চট্টগ্রামে মাদকের আখড়ায় ‘ব্লক রেইড’, ১১ বস্তা ফেন্সিডিল

চট্টগ্রামে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বরিশাল কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন সংলগ্ন ওই কলোনিতে ‘ব্লক রেইড’ শুরু করে নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ।

অতিরিক্ত উপ-কশিশনার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ  জানান, ভোর ৪টা থেকে নগর পুলিশের শতাধিক সদস্য নয়টি দলে ভাগ হয়ে অভিযান চালায়।

অভিযানে কলোনির বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১১ বস্তা ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।  “মাটি খুঁড়ে বিশেষ কৌশলে ড্রাম বসিয়ে ফেন্সিডিলগুলো রাখা হয়েছিল। ওই রকম চারটি গর্ত থেকে ১১ বস্তা ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।”

১১ বস্তায় ২৩০৬ বোতল ফেন্সিডিল পাওয়া গেছে বলে পুলিশ কর্মকর্তা রউফ জানান। তবে অভিযানে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ওই কলোনিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে, তবে হোতারা ধরা না পড়ায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করা যায়নি।

 

চট্টগ্রামে আগুনে পুড়েছে ঝুট গুদাম, ঘর

শনিবার রাতে আকবর শাহ রেল গেইট এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া  বলেন, রাতে ১২টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। “আগুনে মো. মোখলেস নামে একজনের মালিকানাধীন জুট কাপড়ের গুদাম ও মো. নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বসত ঘর পুড়েছে।”

আগ্রাবাদ ও বন্দর ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি গাড়ি গিয়ে রাত ২টার দিকে আগুন নেভায় বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারে ১২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১২ লাধিক ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কচুবুনিনয়া এলাকায় গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটা চালান আসার খবর পেয়ে বিজিবির একটি দল বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন কচুবুনিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়।


পরে কচুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি পানের বরজের খড়কুটা ও লতাপাতার মধ্যে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় চারটি বস্তা দেখেন বিজিবি সদস্যরা। এর ভেতরে পাওয়া গেছে ১২ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা। তিন থেকে চারজন পাচারকারী এসব ইয়াবা বহন করছিল বলে অনুমান করলেও বিজিবি কাউকে আটক করতে পারেনি। বিজিবি কর্মকর্তা আবুজার বলেন, বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে গেছে। উদ্ধার করা ইয়াবা বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

দুই মামলায় রেলের মৃধার ৪ বছরের সাজা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সহকারী কেমিস্ট ও ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগ দুর্নীতির দুই মামলায় পূর্ব রেলের সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধাসহ তিন আসামিকে মোট চার বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মীর রুহুল আমিন  বৃহস্পতিবার এ দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তিনজনকে চার বছর কারাদন্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিনমাসের কারাদন্ড দেওয়া হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পূর্ব রেলের সাবেক সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার গোলাম কিবরিয়া, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান চৌধুরী ও পূর্ব রেলের সাবেক জিএম ইউসুফ আলী মৃধা। তাদের উপস্থিতিতেই আদালত রায় দেয়। এছাড়া দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত দুই মামলা থেকে পাঁচজনকে খালাস দিয়েছে বলে জানান মেজবাহ। সহকারী কেমিস্ট পদে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় আসামি ছিলেন মোট ছয় জন। তাদের মধ্যে নিয়োগপ্রার্থী সুলতানা বেগম, জহিরুল ইসলাম ও গণেশ চন্দ্র শীল খালাস পেয়েছেন। আর ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় মোট পাঁচজন আসামি ছিলেন। তাদের মধ্যে নিয়োগপ্রার্থী আবুল কাশেম ও আনিসুর রহমানকে আদালত খালাস দিয়েছে। প্রতিটি মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্য শুনে আদালত এই রায় দিয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।

২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকায় বিজিবি সদর দপ্তরে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারকে বহনকারী গাড়িতে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে ওই গাড়িতে থাকা ইউসুফ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাকরিচ্যুত হন রেলমন্ত্রীর সহকারী ফারুকও। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে সে সময় বলা হয়, ওই গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা ছিল, যা আদায় করা হয়েছে রেলে ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে। এরপর ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ফুয়েল চেকার পদের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের তখনকার সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা। এরপর ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট সহকারী কেমিস্ট পদের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালত অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করে। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ইউসুফ আলী মৃধাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সবশেষ গত বছরের ৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ঢাকার আদালতে তিন বছরের সাজা হয় মৃধার।

ফটিকছড়িতে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন আমতলী এলাকায় বজ্রপাতে নুর বানু (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নুর বানু ভূজপুর ইউনিয়নের আমতলী কালাঝির বাড়ির বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বৃষ্টির সময় প্রয়োজনীয় কাজে ঘরের সামনের উঠানে যান নুর বানু। এসময় বজ্রপাতে আহত হলে মুমূর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হামিদ জানান, নিহত নুর বানুর ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে।

 

 

চট্টগ্রাম ও সিলেটে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার: অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বজ্রঝড় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ২১-২৪ এপ্রিল সময়ে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

 অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত সময়ে পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের  ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 এসব এলাকার নদী বন্দরসমূহকে দুই নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র একই দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়োহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরসমূহকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্ট গ্রামে ভারি বর্ষণে পানি থৈ থৈ

স্টাফ রিপোর্টার:কালবৈশাখীর সঙ্গে ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়ক। শুক্রবার সকাল থেকে তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতও চলছে।বৃষ্টিতে নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর, হালিশহর, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে যাওয়ায় নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।  নিচু এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢোকারও খবর পাওয়া গেছে।

 
মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকার প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। “সকালে মুরাদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছিলাম আগ্রাবাদে অফিসে যাওয়ার জন্য। মুরাদপুরের প্রধান সড়কে কোমর সমান পানি। আমি ফরেস্ট এলাকা দিয়ে বের হয়ে ষোলশহর পর্যন্ত এসেও কোনোদিকে যেতে পারিনি।


টানা বৃষ্টিতে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়েও পানি জমে গেছে।ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দিন জানান, তাদের মাঠে প্রায় তিন ফুট পানি জমেছে। গ্যারেজ, ফুয়েল রুম, প্রশাসনিক ভবনেও পানি ঢুকেছে।


মাঠে রাখা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সরঞ্জাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমেও জটিলতা সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন জসীম।ভোর থেকে ৯টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টির পর তোড় কিছুটা কমলেও ১০টার পর আবার বাড়তে শুরু করে।

ঝড়বৃষ্টির মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা সকাল থেকেই বিদ্যুৎহীন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয় জানিয়েছে, সকাল ৬টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে তারা। আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ  বলেন, কালবৈশাখীর সঙ্গে ভারি বর্ষণ শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এজন্য কোনো সংকেত দেখাতে বলা হয়নি।

 

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের অনুসারীদের আধিপত্য বিস্তারসহ বালু ব্যবসা এবং পূর্ব শক্রতার জের ধরে দু’গ্র“পের সংঘর্ষে ফারুক (২৮) ও সাইদুর রহমান (২৬) নামের দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত  সোয়া ১১টার দিকে  জেলার মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আশরাফসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। নিহতরা হলো মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ফারুক (২৮) ও একই গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সাঈদুল (২৫)। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  এ ঘটনায় গতকাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আনিসসহ ৬ জনকে  গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরোও ২০/২৫ জনসহ প্রায় ৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।  এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আওয়ামী লীগের সমর্থকের নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ও রহিমপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ ও একই  গ্রামের কবির, আলাউদ্দিন গ্র“পের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এরই জের ও উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামে গোমতী নদীর পাশে বালু ব্যবসা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিন আনিস গ্র“পের  লোকজন বালু ব্যবসার  ড্রেজার কাজে নিয়োজিত  লোকজনকে বাধা দেয়। খবর পেয়ে আলী আশরাফ মেম্বার, ফারুক ও সাইদুলসহ তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে আনিস গ্র“পের লোকজন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আশ্রাফ গ্রুপের আলী আশ্ররাফ নিজেসহ ফারুক, সাঈদুর, রুবেল, আবুবক্করসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে মারাত্মক আহত সাইদুর ও ফারুকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে। ২ জনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বাড়ির ঘর ভাঙচুর, লুটপাট শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর আহমেদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েই স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের অনুসারীদের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে।

এ ঘটনার পর বুধবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম বদিউজ্জামান মুরাদনগর থানায় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  আব্দুল মোমেন জানান, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও  ড্রেজার ব্যাবসার জের ধরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ ও কবির-আনিস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের ফারুক ও সাঈদুল নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮জন ও জড়িত থাকার অভিযোগে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের  জের ধরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আশরাফ ও আলাউদ্দিন আনিস গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও সাঈদুর মারাত্মক আহত হন। তিনি আরও বলেন-বুধবার দুপুরে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরোও ২০/২৫জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এ হত্যার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

সংঘর্ষ: চট্টগ্রামে দুই মামলায় আসামি ছাত্রলীগ সভাপতি, সম্পাদক

চট্টগ্রামে সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রকল্প এলাকায় ভাংচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করে দুটি মামলা হয়েছে।

সুইমিংপুল প্রকল্প এলাকায় ভাংচুরের ঘটনায় ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম স্বপন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসআই মহিউদ্দিন রতন বাদী হয়ে বুধবার গভীর রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।

কোতোয়ালি থানার এসআই রোকেয়া পারভীন জানান, দুই মামলায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে দুই মামলাতেই আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামের ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুট জায়গায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুল নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেএকএস) তত্ত্বাবধানে, যার সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

গত ১০ এপ্রিল লালদীঘি মাঠে এক সমাবেশ থেকে সুইমিং পুল করার উদ্যোগ বন্ধ করতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে আউটার স্টেডিয়াম টিন দিয়ে ঘিরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিজেএকএস।

এরপর মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ সভাপতি ইমু, সাধারণ সম্পাদক রনি, সহ সভাপতি রুমেল বড়ুয়া রাহুলসহ কয়েকজন গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে সুইমিং পুলের কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের পর সেখানে ভাংচুর ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

এ সময় ১৪ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং বেশি কিছু গাড়ি ও দোকান ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল নির্মাণের কাজ বন্ধ করতে ছাত্রলীগের ভাংচুরের পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে সরকারসমর্থক এই ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বন্দরনগরীর কাজীর দেউরি মোড়ের কাছে ছাত্রলীগের  মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচির এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ভাংচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। পরে পুলিশ শটগানের গুলি ছুড়ে ছাত্রলীগকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করার কথাও জানান উপ-কমিশনার মোস্তাইন হোসেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলছেন, সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ এবং আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। খেলার মাঠ সংরক্ষণের জন্য আমরা আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আজকের কর্মসূচিও পূর্বঘোষিত। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। ‘দোষী’ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান রনি। অন্যদিকে উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসেন বলেন, তারা কাজীর দেউরি মোড়ে সমাবেশ করতে চাইলে অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তাদের করতে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা পুলিশর ওপর হামলা করে সুইমিং পুল এলাকায় ঢুকে পড়ে। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামসংলগ্ন ওই মাঠে সুইমিং পুল নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রামে জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেএকএস) উদ্যোগে, যার সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

অন্যদিকে এই আউটার স্টেডিয়ামেই প্রতিবছর ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়, যার অন্যতম উদ্যোক্তা সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
হোল্ডিং ট্যাক্স, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানান্তরসহ কয়েকটি বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নাছিরের বিবাদ গত কিছুদিন ধরেই চট্টগ্রামের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। তার অবসান ঘটিয়ে সোমবার তারা এক মঞ্চে উঠে হাতে হাত রেখে ‘ঐক্যে’র ঘোষণা দিলেও পরদিনই কাজীর দেউরির এ ঘটনা ঘটল।
গত ১০ এপ্রিল লালদীঘি মাঠে এক সমাবেশ থেকে সুইমিং পুল করার উদ্যোগ বন্ধ করতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু সপ্তাহখানেক আগে আউটার স্টেডিয়াম টিন দিয়ে ঘিরে প্রকল্পের কাজ শুরু করে সিজেএকএস। এরপর মহিউদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সহ সভাপতি রুমেল বড়ুয়া রাহুলসহ কয়েকজন গত রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেখানে সুইমিং পুলের কাজ বন্ধ করে সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ছাত্রলীগ কর্মীরা মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাজীর দেউরি মোড়ের কাছে জড়ো হন। তার আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রথমে মানববন্ধন ও পরে রাস্তা আটকে সমাবেশ শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোয়া ৪টার দিকে মহানগর যুবগলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ সমাবেশে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থল থেকে আমাদের প্রতিবেদক জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মীরা সুইমিং পুল প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং কয়েকশ যুবক ব্যারিকেড ভেঙে নির্মাণ এলাকার টিনের বেড়া ভাংচুর শুরু করে। তাদের সরাতে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের শটগান থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
পরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ওই সড়কে আবার যান চলাচল শুরু হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

 

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বন্দর নগরীতে বাস থামিয়ে ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার বাহির সিগনাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন  জানান, নগরীর বহদ্দারহাটে ব্যাংক এশিয়া থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলে তিনি কাপ্তাই রাস্তার মাথা যাচ্ছিলেন। সেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে ছোট ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো জমা দেওয়ার কথা ছিল। কামাল টাকা নিয়ে মেট্রো প্রভাতী বাসে চড়ে যাচ্ছিলেন। বাহির সিগন্যাল এলাকায় বাসটি পৌঁছার পর দুটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন এসে বাসটির গতিরোধ করে। বাস থামিয়ে সেখানে তিনজন উঠে অস্ত্রের মুখে টেনে হিঁচড়ে কামালকে নামিয়ে আনে। এরপর কামালকে মারধর করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। কামাল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি চান্দগাঁও থানাকে অবহিত করেন। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলে যাওয়া চান্দগাঁও থানার এস আই আব্দুর রহিম  বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ছিনতাইয়ের শিকার কামাল জানিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

কক্সবাজারে যুবকের লাশ উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদর উপজেলায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে করা হয়েছে; যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। নিহত মোহাম্মদ ফয়সাল (২৪) ওই উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মাছুয়াখালী এলাকার নুরুল আনোয়ারের ছেলে।

কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন জানান, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফয়সালের লাশ রোববার গভীর রাতে মাছুয়াখালী এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা ফয়সালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে বলে জানান মাঈনুদ্দিন। নিহতের শরীরের আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। তবে স্থানীয় মাদক চোরাকারবারিদের তথ্য বিভিন্ন সময় পুলিশকে দেওয়ায় ওই চক্রের সদস্যরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিানো হয়েছে।



Go Top