দুপুর ২:৫১, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

সৌদি আরবের মদিনায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর রওজা জিয়ারতের পর মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে কাবা শরীফ ঘিরে তাওয়াফ করেন। প্রধানমন্ত্রী মসজিদ আল হারামে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় ও মোনাজাত করেন। পরে সাফা-মারোয়া প্রদক্ষিণ করে সেখানে মোনাজাত করেন।

সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে ‘আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিটে’ যোগ দিতে শনিবার রাতে রিয়াদে পৌঁছান শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম প্রধান অর্ধশতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান রোববার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওই সম্মেলনে যোগ দেন।

গত জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর এটাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সম্মেলনেই তার প্রথম দেখা হয়।

উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নতুন অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর শেখ হাসিনা তার লিখিত বক্তৃতায় বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমনে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ করাসহ চার দফা প্রস্তাব করেন। সম্মেলন শেষে সোমবার শেখ হাসিনা রিয়াদ থেকে মদিনায় গিয়ে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর রওজা জিয়ারত করেন। পরে রাতে মক্কায় এসে তিনি ওমরাহ পালন করেন।

এই সফর শেষে মঙ্গলবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

 

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও বিমানবন্দর এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে  সোমবার তাদের লাশ নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এছাড়া কামরাঙ্গীরচরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ধাক্কায় এক নারীসহ তিন পথচারী আহত হয়েছেন। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল বলে দাবি ফায়ার সার্ভিসের।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ী উত্তরা ব্যাংকের সামনের সড়কে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে জিল্লুর রহমান (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার মামাতো ভাই  মেহেদী হাসান জানান, রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন জিল্লুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা  মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে বেলা পৌনে ১১টায় চিকিৎসক মৃত বলে জানান। জিল্লুর রহমান ডেমরার বাশেরপুল ইস্টার্ণ হাউজিংয়ে থাকতেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা এলাকার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। এদিকে রোববার দিনগত রাত ৩টার দিকে বিমানবন্দর গোল চত্ত্বরে অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মিলন মিয়া (৪২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বিমান বন্দর থানার এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, মিলন মোটরসাইকেল চালিয়ে বিমানবন্দর গোলচত্ত্বর এলাকায় দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত যানবাহন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার ভাবখোলা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে রূপনগর আবাসিক এলাকায় থাকতেন।

অন্যদিকে রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে দারুসসালাম থানাধীন গাবতলি মোড়ে লড়ির ধাক্কায় নাহিদ (২২) নামে এক বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। দারুস সালাম থানার এসআই ময়নাল হক জানান, নাহিদ তেতুলিয়া বাসের হেলপার হিসাবে কাজ করতেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সাভার রেডিও কলোনি এলাকায় থাকতেন। নাহিদ কাজ শেষে গাবতলি থেকে সাইকেল চালিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় গাবতলি মোড়ে লড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এছাড়া রোববার রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ধাক্কায় এক তাসলিমা আক্তার(২০), নিজাম উদ্দিন (৪৫) ও জাহাঙ্গীর আলম (২২) নামে তিন পথচারী আহত হন। হাজারীবাগ ফায়ার স্টেশনের ডিউটি অফিসার সাইদুজ্জামান জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কামরাঙ্গীরচর রনিমার্কেট এলাকায় অগ্নিকান্ডের খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে হাজারীবাগের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কামরাঙ্গীরচর খলিফাঘাট এলাকায় পৌছতেই সরু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি। এসময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ধাক্কায় ৩ পথচারি আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রাত ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

 

 

 

তল্লাশির প্রতিবাদ কাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটি।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গত রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

অনুষ্ঠানে সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা জানি না- সরকার আমাদেরকে এই সমাবেশ করতে দেবে কি দেবে না। আমরা চাইব, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা আমাদেরকে এই সমাবেশটি করবার জন্য অনুমতি দেবে। এদিকে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও গণপূর্ত অধিদফতরের কাছে আবেদন করেছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দৈনিক করতোয়াকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্রের মুখোশে ‘এক ব্যক্তি’র শাসন চলছে, এমন অভিযোগ করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে একটা খারাপ সময়, সবচেয়ে খারাপ সময় চলছে। যারা এখন দেশ শাসন করছে তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। শুধু একদলীয় বললে বোধহয় ভুল বলা হবে, এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। গোটা দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখানে মানবাধিকার-জবাবদিহিতা বলতে কিছু নেই। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফখরুল। এ সময় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিএনপির মহাসচিব। ২০ মে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনা সম্পর্কে ফখরুল বলেন, এই আক্রমণ দেশনেত্রীর কার্যালয়ের ওপর আক্রমণ নয়, এটা গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের মানুষের ওপর আক্রমণ। এটা অশনি সংকেত। গুলশানের ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে দলের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির পর পুলিশ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী গ্রেফতারের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশও করেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রতিদিন নতুন নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব মোকাবিলা করতে আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় দলকে সংগঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমাদের রাজপথ ছাড়া কোনো পথ নেই। দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ছাত্রদলের রাজিব আহসানসহ বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্য প্রয়াত জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান ও প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সহধর্মিণী সাহেরা হোসেনসহ বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে নিহত নেতা-কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ৪-৫ দিন

আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। আশুগঞ্জের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ভেঙে পড়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুতের এ সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।  সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

রমজান মাসে বিদ্যুতের কোনো সংকট হবে কিনা- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে পারি একটা ভালো পরিস্থিতির দিকে যাবে। সংকট তো থাকবেই, এখনও আছে। ভালো পরিস্থিতি বলতে আগের থেকে ভালো। তিনি বলেন, যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা যে প্রবণতায়, বলবো না খুব ভালো অবস্থায় আছি। ভালো অবস্থায় যেতে আরও তিন বছর লাগবে। ট্রান্সমিশনে এখন ঘাটতি রয়ে গেছে, কাজ চলছে। চায়না সরকারের কাছ থেকে যে অর্থ পাওয়ার কথা তা অন প্রসেসিং। এজন্য কাজ শুরু করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৃহৎ প্রকল্পগুলো এখনও আসেনি। আমি মনে করি, দেশবাসী, গ্রাহক বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করবেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ কবে পাবে- প্রশ্নে নসরুল হামিদ বলেন, ৪০০ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট ৭-৮ মাসের আগে আসবে না। তবে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে যে পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে সেগুলো ৪-৫ দিনের মধ্যে শুরু করে দেবো। সেটা কাভার করবো। নসরুল হামিদ বলেন, আমরা দেখছি ক্যাপাসিটি বেড়ে যাচ্ছে, একবার বৃষ্টি হলে চার হাজার মেগাওয়টে নেমে যাচ্ছে, গরম পড়লে ১২ হাজার। বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্যাটার্ন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। গরমে এসি ছাড়ছি, বৃষ্টিতে ঠান্ডা পড়ায় এসি বন্ধ করছি। এখনও ব্যবসায়ী লাইনগুলো ওরকমভাবে বিদ্যুৎ দিচ্ছে না। যদি ধরে নেই যে ক্যাপটিভ পাওয়ারের প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চালু রাখছে, তাহলেও আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।

ইভিএমে আপত্তি জানিয়ে সিইসিকে বিএনপির চিঠি

 

 

নির্বাচনে ব্যালটের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের আপত্তির বিষয়টি এবার চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)কে জানিয়েছে বিএনপি। দলটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধী। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইসি কেএম নূরুল হুদার কাছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তুলে দেন।

পরে প্রতিনিধি দলের নেতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সিইসিকে বলেছি- ইভিএম আমরা চাই না। (আগামী সংসদ নির্বাচনে) এর ব্যবহার যেন না হয়। তিনি আরো বলেন, দলের মহাসচিবের চিঠি দেওয়ার পর সিইসিকে তারা বলেছেন- বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে ইভিএম পরিত্যাগ করছে, সেখানে বাংলাদেশে তা চালু করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, এখানে ডিজিটাল কারচুপির শঙ্কা রয়েছে। সিইসি আমাদের বলেছেন, এটা একটা নতুন পদ্ধতি; এটা নিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। কমিশন বলছে, কেউ আপত্তি করলে ইভিএম তারা ব্যবহার করবে না। এখন পর্যন্ত যা বুঝলাম তাতে আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই।

সিইসির সঙ্গে আলোচনায় ইভিএম নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ব্যালট পেপারের ভোট আরও সুচারু করা এবং আইন সংস্কার নিয়ে মতামত দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ব্যালটে ভোট আরও সুষ্ঠু করার জন্য আরপিও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আইন সংস্কার নিয়ে আমরা কথা বলব। সিইসি বলেছেন- ইসির প্রস্তাবিত সংস্কার বইয়ের মতো করে রাজনৈতিক দলসহ সবার কাছে পাঠানো হবে, সংলাপে তাদের মতামত নেবেন। আমরা সেখানে পরামর্শ দেব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা জানান, ইসির সংলাপে আসবেন তারা। আমরা আসব, আলোচনা করব। শুধু আমরা নই; সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাবেন। আমরা নির্বাচন চাই, নির্বাচনেও অংশ নেব। তবে এর জন্যে পরিবেশও চাই। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা সুজা উদ্দিন ও ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 



অর্থ-বাণিজ্য

চলতি অর্থবছর শেষে সরকার ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করলেও এর সঙ্গে একমত নয় বিশ্ব ব্যাংক। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থা বলছে, চলতি জুনে শেষ হতে যাওয়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল রোববার বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ এ এই পূর্বাভাস তুলে ধরে বলা হয়, মূলত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমায় এবং রেমিটেন্সের পতনের কারণে গতবছরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান অর্থনীবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি বলতে চাই, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। রপ্তানি ও রেমিটেন্সে প্রতিকূল হওয়া বইছে। তবে স্থিতিশীলতা বজায় আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) যেখানে বাংলাদেশ রপ্তানিতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিল, এবার একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশ। আর ওই সময়ে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমিছিল ২.৫ শতাংশ; এবার কমেছে ১৬ শতাংশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। এরপর গত জুনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঠিক করা হয়। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাজেটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে বলে সরকার আশা করছে। 

আগামী বাজেট হবে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা হবে বলে  জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘সাইজ অব দ্য বাজেট ইজ গোয়িং টু বি মোর দ্যান ৪ লাখ। এখন হিসাব টিসাব হচ্ছে, ৪ লাখ ৬,৭, ৮ হাজার এ রকম’। মুহিত জানান, আগামী অর্থবছর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উপর ব্যাংক থেকে কোনো মাশুল নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, আসন্ন বাজেট এই মেয়াদের শেষ কার্যকরী বাজেট। নেক্সট বাজেটে কাউকে অখুশি করা হবে না। আমি মনে করি প্র্যাকটিক্যালি শেষ কার্যকরী বাজেট ইন মাই লাইফ। সেই দিক থেকে আপনারা আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিবেন। কারণ আপনারা অর্থনীতি নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এই সরকার মোটামুটি ভাবে মিডিয়ার মতামতকে সাড়া দিয়ে আসছে। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রেমিটেন্স বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, এটাকে বাড়ানোর জন্য  প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে রেমিটেন্সের উপর চার্জ আর করবেন না। আই থিংক উই উইল ডু ইট। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় আমরা এটা করব। তাদের (প্রবাসীদের) আর টাকা পাঠানোর জন্য পয়সা দিতে হবে না। তবে এতদিন ব্যাংকগুলো রেমিটেন্সে যে মাশুল নিত, তা কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী কিছু বলেননি। প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের কিছুটা আয় কমবে। কারণটা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। বেতনও কিছু কমানো হয়েছে। আরেকটা কারণ হচ্ছে, প্রবাসীরা আগের মতো তাদের সব টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন না। তাদের হাতে কিছু টাকা রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৬ দশমিক ০৩ শতাশ। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কমেছিল ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বিদেশে টাকা পাচার রোধে জমি কেনাবেচায় সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যও তুলে দেওয়া হতে পারে বলে জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা ল্যান্ড প্রাইস ঠিক করে দেই। কিন্তু বাস্তবে জমির দাম অনেক বেশি। তাই বেশি দামে জমি বিক্রি করে। এই টাকা কী করবেন? এটা এদেশে ব্যবহার করতে পারে না। কালো টাকা। তাই এখন আমরা কোনো সর্বনিম্ন মূল্য বেঁধে না দেওয়ার চিন্তা করছি। তিনি বলেন, জমি কেনাবেচায় অপ্রদর্শিত অর্থই কালো টাকার অন্যতম উৎস। পরবর্তীতে এ কালো টাকা তারা বিদেশে পাচার করে। তাই পাচার বন্ধে আগামী বাজেটে জমির সর্বনিম্ন নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতি তুলে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু বিদ্যুতে সাবসিডাইজড করছি, করেও যাব। আমরা চাই আমাদের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন হবে। এখন ৮০ ভাগ গ্রামে বিদ্যুত আছে। এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতকে আমরা সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছি। আমরা প্রাইমারি পর্যায়ে অনেকটা সফলও হয়েছি। সেকেন্ডারি এডুকেশনেও সেটা অনেক বেড়েছে। প্রত্যকটিতে এনরোলমেন্টটা বেড়েছে। মানটা মোটেই বাড়েনি। তাই এখন মানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মানের দিকে নজরের দাবিটা এখন শিক্ষার্থী ও গার্ডিয়ানদের কাছ থেকেও আসছে। আমরা এ ব্যাপারে সচেতন। পাঠ্য বই এখন আধুনিকায়নে সংস্কার হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষক তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক গড়া অতটা সহজ নয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জ্ঞানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। পড়ার অভ্যাস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আরও ব্যাপকভাবে লাইব্রেরি সংস্কার করা প্রয়োজন। গ্রামে গ্রামে লাইব্রেরি তৈরি করার জন্য সাধারণ মানুষের উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

 

‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’ বেড়েছে মসলার দাম

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রতিবছরই দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারো যেন ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা ও তেজপাতার দাম। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, উৎসব মৌসুমের অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

 

অন্যদিকে পাইকাররা বলছেন, আমদানি পণ্য হওয়ায় এ সময়ে চাহিদা বেড়ে যায়, তাই দামও বেড়ে যায়। তবে ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের মতে, এর সবই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সরকার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করলে এ ধরনের অসাধু দৌরাত্ম বন্ধ হয়ে যেত।


তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রমজান মাস এবং কোরবানির ঈদ এলেই দেশে মসলার দাম বেড়ে যায়। অন্য সময়ে বরং কিছু কিছু মসলার দাম কমতেও দেখা যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালের নভেম্বরে দেশে এলাচ ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৪৪০ টাকা, দারুচিনি ২৪০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৫০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ২৮০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৮৬০ টাকা, জয়ফল ১২শ’ টাকা, আলু বোখারা ৫৫০ টাকা, কিসমিস ৬শ’ টাকা, পেস্তা বাদাম ৬২০ টাকা এবং শাহজিরা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তখন দেশে কোরবানির ঈদের বাজার চলছিল। এরপর ২০১২ সালের জানুয়ারিতেই অর্থাৎ ঈদের দেড় মাস পর প্রায় সব পণ্যের দাম কমে আসে।


এলাচ বিক্রি হয় এক হাজার থেকে ১৮শ’ টাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশে এলাচের দাম বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে দেশটিতে এলাচের দাম বাড়তি, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। রমজান মাস শুরু হতে এখনো দু’সপ্তাহ বাকি।

 গত কয়েক দিন রসুনের পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলে হঠাৎ পণ্যটির দর বেড়েছে। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে বাজারে এক কেজি রসুন ২০ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে চায়না রসুনের দাম ছিল কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজি প্রতি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে।

 ভারতীয় রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে দেশি রসুন আগের মতোই ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক বলেন, ‘রমজান মাসকে টার্গেট করে কোনো ব্যবসায়ী একতরফাভাবে বা সিন্ডিকেট করে মুনাফা করলে অবশ্যই তা ঠেকাতে হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অধিকাংশ মসলাই আমদানি নির্ভর। তাই দামের ক্ষেত্রে ততটা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে চোরাই পথে মসলার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

 

যা কিছু ‘চাপাচাপি’, এবারের বাজেটেই: অর্থমন্ত্রী

ভোটের আগে আগামী বছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণের জন্য ‘চাপাচাপি’ করতে যে পারবেন না, তা বুঝে এবারই তা করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আগামী মাসে সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট দেওয়ার আগে বৃহস্পতিবার এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় একথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের শেষে কিংবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য বর্তমান সরকার শেষ বাজেট দেবে।

সচিবালয়ে সম্পাদক ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় মুহিত জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য নিজের দ্বাদশ বাজেটই হবে তার দেওয়া শেষ বাজেট।

তিনি বলেন, “আগামী ২০১৮-১৯ অর্থছরের বাজেট হবে নির্বাচন পূর্ব বাজেট। সুতরাং সেখানে খুব যে একটা চাপাপাপি করতে পারব, সেটা মনে করি না। চাপাচাপি যা করার, এই বছরেই শেষ করতে হবে।”

‘চাপাচাপি’র ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “চাপাচাপি হলো ইনক্রিজ ইন রেভিনিউ বাই ৩০ পারসেন্ট, হোয়ার দা ইউজুয়াল পারসেন্টেজ ফিফটিন টু সিক্সটিন- এ রকম। সে জায়গায় ৩০% করছি। দেন আরও বেশ কিছু কিছু প্রমিসেস অলরেডি মেইড।”

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাজেটের আকার বাড়াচ্ছেন মুহিত। উচ্চাভিলাষী সমালোচনা মানতেও তার আপত্তি নেই। বাজেটের আকার বাড়ানোর সঙ্গে রাজস্ব আয়ও বাড়াতে হচ্ছে মুহিতকে। এবার বাজেটের আকার ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা হবে বলে ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আরও বাড়াতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের স্বাভাবিক গতিধারায় এটা (আগামী) হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট। আট বছরের গতিধারায় যেটা, তাতে এটা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ বাজেট।”

নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানতে চান, “এই বাজেটে ভ্যাটের আকার কত হবে? গত বছরের ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কি বাস্তবায়ন করা গেছে, না কি ঘাটতি আছে?”

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেট ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ছিল, বাস্তবায়িত হয়েছে ৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

“ঘাটতি কম। এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা প্রথম।”

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৩৭ শতাংশ ভ্যাট, ৩৬ শতাংশ আয়কর এবং বাকিটা কাস্টম ডিউটির মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে বলে সভায় জানান এনবিআরের একজন কর্মকর্তা। আগামী ৫ বছরের মতো ভ্যাটদাতার সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত আট বছরে রাজস্ব বোর্ডকে ‘ভয়ঙ্কর শক্তিশালী’ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,  “সেখানে লোকজন নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ১৩ থেকে ১৪ লাখ। এটা এবারে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এটা মনোভাব ও বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে সম্ভব হয়েছে।

“নতুন করদাতাদের বেশির ভাগ ৪০ বছরের নিচে। এটা খুব উৎসাহমূলক। এটার উপর ভিত্তি করে (রাজস্ব আদায়ে) উচ্চবিলাসী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”

নিবন্ধিত ব্যবসায় ইউনিট সাড়ে আট লাখ হলেও এরমধ্যে মাত্র ৩২ হাজার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে মুহিত বলেন, “সংখ্যায় খুবই কম। আমাদের প্রচেষ্টা হবে এ সংখ্যা বাড়ানো।”

যারা ভ্যাট দেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চান কাজী মিডিয়া লিমিটেডের (দীপ্ত টিভি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা মেশিন আমদানি করছি। যাদের ভ্যাট দেওয়া উচিৎ, সেখানে আমার তা স্থাপন করব। এই মুহূর্তে ৪০ বা ৫০ হাজার মেশিন আমরা আনছি। সেই মেশিনে সব লেনদেন রেকর্ড হবে।”

শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতি প্রশ্রয় পায় বলে বাজেট বাস্তবায়নের ধারা সারা বছর এক রকম রাখার প্রস্তাব দেন দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের বেতন-ভাতায়ই শিক্ষা বাজেটের বেশির ভাগ চলে যায়। শিক্ষা উন্নয়নে বাজেট কম থাকে বলে সব সময়ই অভিযোগ উঠে।”

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলে উঠেন, ‘উন্নয়নটা কী, হোয়াট ইজ উন্নয়ন?”

সমকাল সম্পাদক বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন থাকে…”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা ঠিক নয়। জরাজীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বরাদ্দ আছে। শেষ মুহূর্তে বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতি হয়, এটা সত্য নয়। বরং অপচয় দুর্নীতি কম হয়।”

মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন এগুলোর উপর বাজেটে জোর দেওয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বরাদ্দের প্রথমেই থাকবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ খাত থাকবে দ্বিতীয় নম্বরে।”

২০/৩০ বছর ধরে কর দিচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের কোনো কার্ড দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার সুপারিশ করেন চ্যানেল আইর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। তিনি সারাদেশে শস্য বীমা চালুর প্রস্তাবও করেন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে বিদেশ থেকে কর্মী আনতে হচ্ছে, এজন্য প্রতি বছর ৫ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে।

“বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কিন্তু বিতরণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। ডিজেলের দাম কমানোর কথা বলা হলেও তা কমানো হয়নি। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তা জানতে চাই,” প্রশ্ন রাখেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “ডিজেলের দাম কিছু কমানো হয়েছে। আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় আছে।”

আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, “ই-টেন্ডারিং যখন বাস্তবায়ন হচ্ছে, তখন আমাদের (সংবাদপত্র) মরে যাওয়ার অবস্থা। বিজ্ঞাপন না দিলে পত্রিকা বেশ সমস্যায় পড়বে, যারা মধ্যম পর্যায়ের পত্রিকা।”

দরপত্র বিজ্ঞাপন সংবাদপত্রে আগের মতোই প্রকাশ এবং বিজ্ঞাপন দর বাড়ানোর প্রস্তাবও করেন সম্পাদকরা।

টেলিভিশনের পক্ষে শাইখ সিরাজ বলেন, “ডিএফপির মাধ্যমে বিজ্ঞাপন হলে পত্রিকাগুলো সরকারি অর্থ পায়, তবে চ্যানেলগুলো যুগ যুগ ধরে সরকারি প্রচারণা বিনামূল্য চালিয়ে যাচ্ছে, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন অর্থ দিলে টেলিভিশনে দেবেন না কেন, এ বিষয়ে প্রস্তাব করছি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “যখন কম্পিউটার প্রিন্টিং শুরু হল, তখন মনে করা হচ্ছিল বইপত্র পাবলিশড হবে না, কিন্তু তা হয়নি। একই বিষয় ই-টেন্ডারিং এ হচ্ছে।”

আরটিভি কর্মকর্তা আশিক রহমান বলেন, “টিভিগুলো বিজ্ঞাপন বিল আনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিচ্ছি, কিন্তু বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে আমার অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছি। কোনো রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সঙ্কটে, আমরা আমাদের চ্যানেল বাঁচাতে পারছি না।”

অর্থমন্ত্রী তখন বলেন, “বাংলাদেশে চ্যানেলের সংখ্যা অত্যাধিক।”

প্রতিক্রিয়ায় এক সম্পাদক বলেন, “আপনারাই তো দিচ্ছেন, একের পর এক।”

এরপর অর্থমন্ত্রী বলেন, “যে ব্যবসা করেন সে হিসেব করেই আসেন, ব্যবসা হচ্ছে কি না?”

ব্যাংক খাত চাঙা করতে কোনো উদ্যোগ আসছে কি না- এ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টর খুব ভালো অবস্থায় রয়েছে, এতগুলো ব্যাংক ব্যবসা করছে, অন্য কোনো দেশে আছে বলে জানি না।।’

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন ব্যাংক না দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি, সেখানে আবার যারা নতুন ধনী-টনী হয়েছেন, তাদের চেষ্টা থাকে।”

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, “নিউজ পেপার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ ডিউটি, এ্আইটি আড়াই শতাংশ। এটি একটি বিরাট চাপ, প্রতিবার বাজেটের সময় বলা হয়; দেখা করি, দেন-দরবার করি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে কাগজ ইমপোর্ট করা অনুচিত, উই হ্যাভ ভেরি গুড কোয়ালিটি পেপার।”

দেশি কাগজ দিয়ে ছাপার সময় ছিড়ে যাওয়ায় আমদানি করা কাগজের তুলনায় বেশি খরচ হয় বলে দাবি করা হয় সম্পাদকদের পক্ষ থেকে।

 

৮৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পেলো ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরকে ৮৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ সেগুলো গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালের একটি চাহিদা অনুযায়ী ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইক্যুইপমেন্ট ফর সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন ফর আর্থকোয়্যাক অ্যান্ড আদার ডিজাস্টার (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় ফায়ার সার্ভিসের কাছে যন্ত্রপাতিগুলো হস্তান্তর করা হয়। এসময় মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আজ ফায়ার সার্ভিসের কাছে যেসব যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়েছে, এসব দিয়ে দুর্যোগের সময় ফায়ার সার্ভিসের ২৫০টি টিম একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। কেমিকেল কারখানায় আগুন লাগলে সহজেই উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে। এখানে এমন যন্ত্র রয়েছে যা দিয়ে রাতেরও উদ্ধার কাজ চালানো যাবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের ১৮তলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালানোর ক্রেন ছিল। কিন্তু আজ একটি ক্রেন হস্তান্তর করা হয়েছে, যা দিয়ে ২০ তলা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালাতে পারবে। এসব যন্ত্রপাতি পাওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়বে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান ও প্রকল্প পরিচালক ডা. শহীদ মোতাহার হোসেন প্রমুখ।
 

Go Top