সকাল ১০:৪৩, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গদি হারানোর ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির এই নেতা বলেন, নজিরবিহীনভাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির বাসায় নৈশভোজের নামে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের বৈঠক হয়; বৈঠকে তারা প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে এখন চারিদিকে মানুষের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

রিজভী বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ এক্সপাঞ্জ চেয়ে আওয়ামী লীগ যে দাবি জানিয়েছেন, সেটা আইনগতভাবে অসম্ভব। এটা এক্সপাঞ্জ করার সুযোগও নেই। সুপ্রিম কোর্ট যা বলবেন, সেটাই সংবিধান। বিচারকদের কাজই হচ্ছে বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে সংবিধানের অর্থ পরিষ্কার করা। দেশে গণতন্ত্রের যে শূন্যতা বিরাজ করছে, যেভাবে বিনা ভোটে বিতর্কিত সংসদ গঠন করা হয়েছে, দেশজুড়ে যে ভয়াল দুঃশাসন চলছে- ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট তা পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উচ্চ আদালতকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে নেওয়ার জন্য বেহুঁশ হয়ে পড়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশের পর গদি হারানোর ভয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। তাই তারা বিচার বিভাগকে চাপে রাখতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। বেসামাল হয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা ক্রমাগতভাবে বিচার বিভাগকে আক্রমণ করে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

এই বিভাগের আরো খবর

সরকারের রিভিউ পিটিশনের চিন্তাভাবনা সোজা পথে আসা: মওদুদ

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের রিভিউ পিটিশনের চিন্তাভাবনাকে সোজা পথে আসা হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবাদপত্রে দেখলাম- সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করবেন। এতোদিন পর সরকার এখন সোজা পথে এসেছেন। আমি বলব, সেটাই যদি হয়- তাহলে এতোদিন যাবৎ এই আন্দোলন এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশ্লীল বক্তব্য রেখে বিচার বিভাগের যে ক্ষতিসাধন করা হলো তার পরিণতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।


রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ফেনী আমার ফেনী’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে প্রয়াত রাজনীতিক ও শিল্পপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মওদুদ। সংগঠনের সভাপতি বিএফইউজে‘র একাংশের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং জিয়া খন্দকারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রবীন সাংবাদিক এরশাদ মজুদার, খোন্দকার মোজাম্মেল হক, দৈনিক সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, ফেনীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বেলাল মিল্লাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


এদিকে, দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সুয়োমুটো করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে আদালতে তলব করতে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে মন্তব্যে তিনি (এবিএম খায়রুল হক) আমাদের সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননা করেছেন। যদি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হয়ে থাকেন বা এরই মধ্যে সরকারের দ্বারা কোনো চাপে পড়ে না থাকেন, তাহলে আমরা তাদের কাছে দাবি জানাবো-সুয়োমুটো করে এই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে আদালত অবমাননার দায়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। সারাদেশে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

নতুন ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে

শাহারিয়ার হিরু/এমএ কুদ্দুস, দিনাজপুর ও প্রহল্লাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) থেকে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী তিন মাস বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, নতুন ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত বন্যার্তদের খাবার ও ঘর নির্মাণে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের উপর ঋণের চাপ না দেয়ার জন্য এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৫ সালের ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াননি। আমি বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। এখনও আমি আপনাদের পাশে রয়েছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারাও মঙ্গা দেখা দেয়। এই আট বছরে উত্তরবঙ্গ থেকে মঙ্গা শব্দটি উঠে গেছে। এখন কোথাও মঙ্গা নেই।

প্রায় ১৩ মিনিট বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি বাবা, মা, ভাইসহ সকলকে হারিয়েছি। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনে জীবন দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে। এসব মোকাবিলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি মানুষও না খেয়ে মরবে না, গৃহহীন থাকবে না। সকলের খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। ওষুধসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা হবে। ক্ষুধার জন্য মানুষকে ছটফট করতে হবে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত পেয়েই সরকার বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জাতির পিতাকে হারিয়েছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দেশে কেউ ভূমিহীন থাকবে না। তার সে আশা পূরণ হওয়ার আগেই ঘাতকরা তাকে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করে দিয়েছে। আমিই জাতির পিতার সেই আশা, সেই স্বপ্ন পূরণ করব। এদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত করে জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা হবে ইনশা আল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রোববার দিনাজপুর জিলাস্কুল ও বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ তেঘরা স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে পৃথক পৃথক ত্রাণ বিতরণের পূর্বে এসব কথা বলেন।

ত্রান বিতরণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ মাহমুদ আলী, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিছুল হক চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দিনাজপুর জিলাস্কুল মাঠে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ও তেঘরা স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ সময় দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলি সাদিক, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জিলাস্কুলে তিনি বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে সড়ক পথে বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘেরা হাইস্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণ শেষে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারযোগে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পাঙ্গা হাইস্কুল মাঠে অবতরণ করেন।

রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষীপ্রিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাফর আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আর শেখ রেহানা দেশের বাইরে ছিলাম বলে বেঁচে গেছি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। প্রতিটি মানুষ যেন খাদ্য পায় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে কোন উন্নয়ন করেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলার কোন মানুষ বেকার থাকবে না। প্রতিটি মানুষই উন্নত হবে। মেহনতি মানুষের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কোন মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে জন্য বাংলাদেশকে দরিদ্র মুক্ত করা হবে।  
                 
তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির পিতা বাংলার মানুষের জন্য ভাগ্য পরির্বতন করে দিয়েছেন। প্রতিটি মানুষ সুন্দর জীবন যাপন যাতে করতে পারে সে ব্যবস্থা তিনি করে গেছেন। মাত্র সাড়ে ৩ বছর তিনি সময় পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ছিটমহল চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। তারা এখন বন্দীদশা থেকে মুক্ত। তারা বাংলাদেশী হয়ে জীবন যাপন করেছে। খাদ্য চিকিৎসা বস্ত্রসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করে দিয়ে গেছেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। সে বন্যা থেকে সকলেই রেহাই পেয়েছে। ২০১৭ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আবার দেখা দিয়েছে। আমরা মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার তাদের পুনর্বাসন করবে। সে জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও গৃহ নির্মাণের জন্য টিন দেয়া হবে। এ ছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সার, বীজ,  চারা বিনামূল্যে সরকার সরবারহ করবে। বন্যায় যে সকল রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো মেরামত করা হবে। যেসকল ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার বই বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে তাদের নতুন করে বই সরবারহ করা হবে।

আরও বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল হাসান, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৗধুরী।

পরে প্রধানমন্ত্রী নিজ হস্তে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি করে ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, লবণ, আধাকেজি মুড়ি, ১২টি মোমবাতি ও পর্যাপ্ত পরিমাণ দিয়াশলাই বিতরণ করেন। এ ত্রাণ কার্যক্রম ৩ মাসব্যাপী অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বিকাল ৪টায় পাঙ্গা হাইস্কুল মাঠ থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হবে: সেতুমন্ত্রী

বৃষ্টি না হলে ঈদের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসমূহ যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অতিবর্ষণ ও উজানের পানির কারণে সড়ক-মহাসড়কের ৪১টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সড়ক-সেতু তদারকিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক এবং সম্প্রতি বন্যায় আক্রান্ত দিনাজপুর সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে  রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত দেশের ৩০ জেলার ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য। আর বন্যায় ২৮০টি বাঁধের সঙ্গে দুই হাজার ৭৮৯ কিলোমিটার রাস্তা, ১২৩টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেমন্ত্রী  রোববার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সারাদেশে বন্যায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে এক জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশব্যাপি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৩টি পয়েন্টে এক থেকে তিন কিলোমিটার এখনও পানির নিচে ডুবে আছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের যে সড়কাংশগুলো ভেসে গেছে তা সংস্কার করা হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগি রাখতে দিনরাত কাজ চলছে।

এছাড়া বন্যার পানির প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ১৮টি স্থানের সড়কাংশ।তিনি বলেন, মহাসড়কের উপর কিংবা পাশে কোরবানির পশুরহাট বসানো যাবে না এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িতে কোরবানির পশু বহন করা যাবে না। সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় চাপ কমাতে গার্মেন্টসগুলো অঞ্চল ভেদে ভিন্নভিন্ন দিনে ছুটি দেয়ার জন্য বিজিএমইএ’কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগে পাঁচদিন এবং পরে পাঁচদিন সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনসমূহ চব্বিশ ঘন্টা খোলা রাখার বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, যানজট এড়াতে ঈদের আগে তিনদিন ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ঈদযাত্রায় পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে মহানগরীর বিভিন্ন টার্মিনালে ভিজিলেন্স টিম কার্যকর থাকবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহি পরিচালক সৈয়দ আহম্মদসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিনস্থ সংস্থাসমূহের মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর

টাঙ্গাইলের রেলসেতু সোমবারের মধ্যেই মেরামত করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হবে : রেলপথমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, সোমবার সকালের মধ্যেই পৌলী রেলসেতু মেরামতের জন্য দক্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দে বাড়ি ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্যই যাতে সঠিকভাবে ট্রেন চলাচল করে সেজন্য যা যা প্রয়োজন জনবলসহ সব যোগান দেয়া হচ্ছে।

তিনি রোববার বিকেলে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী রেলসেতুর ধস পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যার পানির স্রোতে এই ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও কি কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। এরজন্য যদি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা দায়ী হয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মুজিবুর রহমান, রেল বিভাগের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো: নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার মো: মাহবুব আলম প্রমুখ।

 

এই বিভাগের আরো খবর



অর্থ-বাণিজ্য

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে; পশু ও আকারভেদে এবার দাম ঠিক হয়েছে গতবারের মতই। ট্যানারি ব্যবসায়ীরা এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়; ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৪০ থেকে ৪৫  টাকা। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এই দাম ঘোষণা করেন।

এই দাম লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি লবণ দেওয়ার আগে- সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের টানাপড়েনের মধ্যে মন্ত্রী বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম-পদ্ধতি ও বাজারের উপরে ছেড়ে দেন। গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা এবার চামড়ার দাম গতবারের মতো রেখেছি। চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পর এমনিতে মালিকরা চাপে রয়েছেন। এ কারণের ভারতে বা অন্য দেশে দাম একটু বেশি হলেও আমরা গতবারের মতো রেখেছি।

ঢাকা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, ঢাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চামড়া স্থানান্তরে বিধি-নিষেধ রয়েছে। এর ফলে চামড়া সংরক্ষণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ধানমণ্ডি এলাকার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এখানে কোথায় চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে? স্থানীয় অধিবাসীরা এটা করতে দেয় না। বেরাইদ, সাভারের মত উপশহরে এটা সংরক্ষণ করা হয়। তাই জেলার ভেতরে যেন চামড়া স্থানান্তর করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন ব্রিজ ও ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিলে মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে সীমান্তে অন্তত এক মাস বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি পৃথকভাবে মন্ত্রীকে জানান, তারা এ বিষয়ে আলাদা সভা করেছেন। পাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই তারা নেবেন। শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বলেন, হাজারীবাগে ১৫৫টি ট্যানারি ছিল। সেগুলোর মধ্যে ৬৭টি সাভারে চালু হয়ে গেছে। এ মাসের মধ্যে ১০০ ট্যানারি চামড়া শিল্প নগরীতে চালু হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন দুটি সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়। বাকি দুটো পরবর্তীতে চালু হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে পানি সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে। আর গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে যে নীতি নেওয়া হয়েছে, তাতে আবেদন করলে তারপর সংযোগ দেওয়া হবে। সেজন্য কিছু অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

তাতে কিছুটা সময় লাগবে। শিল্প সচিব বলেন, সাভারে যেসব আধুনিক কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, তাতে একটি আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে পরিণত হবে। এখানকার কঠিন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে। পাঁচ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা ঢাকার ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, জমির দলিল না পেলে তারা ব্যাংক ঋণ নিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, আগে যে দামটা (জমির) ছিল আমরা সেটাই দিতে চাই। এখন সিইটিপির দামসহ আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অর্থমন্ত্রীর চিঠি আমাদের কাছে আছে; যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সিইটিপির দাম সরকার পরিশোধ করবে। এ সময় শিল্প সচিব বলেন, এর সুরাহা করতে হলে একনেকের অনুমতি লাগবে। শিল্পমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন- এমন আশা প্রকাশ করে এ বিষয়ে নিজেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তোফায়েল।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। আর এবার দেশের খামারগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। এই হিসেবে এবার ভারত থেকে গরু না এলেও সমস্যা হবে না বলে সরকার মনে করছে। 

এই বিভাগের আরো খবর

রাজধানীর বাজারে আলু ছাড়া সব সবজির দাম চড়া

স্টাফ রিপোর্টার: বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও মিরপুরসহ কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজারে গেলে সবজির দাম বৃদ্ধির জন্য সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা।

তবে সবজির ‘আগুন দাম’ উল্লেখ করে বন্যা পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির অজুহাত বলে অভিযোগ তোলেন ক্রেতারা। আলু ছাড়া প্রতিটি সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। খুচরা বাজারে এসে সেই সবজি বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে।

খুচরা বাজারে করলা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা ও শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিচ লাউ ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০-৮০ টাকা এবং হালিপ্রতি কাঁচকলা ৫০ টাকা বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

পাকা টমেটো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার একবারেই বাইরে চলে গেছে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। শুধুমাত্র বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২৫ টাকা করে। শাকের দামেও ঊর্ধ্বগতি। প্রতি আঁটি লাউ শাক ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা ও কঁচু শাক ১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা মনসুর  বলেন, ‘সারা দেশে বন্যা হচ্ছে, পানিতে ডুবে আছে সবজির ক্ষেত।

 ঢাকায় সবজির গাড়ি আসতে পারছে না। এ অবস্থায়  দাম তো বাড়বেই’। সবজির দাম অস্বাভাবিক বেশি বলে অভিযোগ করেন ক্রেতা মাসুদ রহমান। তিনি বলেন, ‘একবারে লাগামছাড়া দাম দেখছি সবজির। বন্যার কারণে এতো বাড়বে- এটি মেনে নেওয়া যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষ দামের সঙ্গে পেরে উঠবেন না’। তবে মাছের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

সাইজ ভেদে প্রতি কেজি রুই ১৭০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, চিংড়ি বড় সাইজ ৬০০ টাকা, বড় কাতলা ২৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৫০০ টাকা ও দেশি টেংরা মাছ ৩০০ টাকা এবং প্রতিটি ইলিশ ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারে মাছ কিনতে আসা মো. মানিক বলেন, ‘বাজারে প্রচুর মাছ দেখতে পাচ্ছি। দেশি মাছও অনেক এসেছে। দাম স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, নাগালের মধ্যেই আছে’।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে উকিল নোটিস আইনজীবীর

এক মাসের মধ্যে তিন দফায় অস্বাভাবিক হারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন ও টিসিবির চেয়ারম্যানকে তিন দিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘কনশাস কনজ্যুমার সোসাইটি’র পক্ষে বৃহস্পতিবার নোটিসটি পাঠিয়েছেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে তিন দফায় দুইশ শতাংশেরও বেশি দাম বেড়েছে। নিঃসন্দেহে এটি অস্বাভাবিক। বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলেও সরকারের কাছ থেকে দাম বৃদ্ধির কারণ জানা যায়নি।  এছাড়া পণ্যের দাম তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে উদাসীন।’ তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না পেলে বা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী শিহাব। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবি ১৩ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিন দফায় দাম বাড়িয়ে পেঁয়াজের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে  নোটিসে।

এতে দেখা যায়, গত ১৩ জুলাই টিসিবি প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে ২৮-৩২ টাকা আর আমদানিকৃত প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ধরা হয় ২২ থেকে ২৫ টাকা। এর ২০ দিন পর অর্থাৎ ৮ আগস্ট প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে টিসিবি। অর্থাৎ, এই সময়ে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বাড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা। এরপর মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট টিসিবি আবারও পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে। এবারও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়।

দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয় ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পেঁয়াজ আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে নোটিসে। সে অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। তাছাড়া সর্বশেষ জুলাই মাসে আমদানি করা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।

এই বিভাগের আরো খবর

বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম: অর্থমন্ত্রী

আকম্মিক বন্যা দেশের মানুষের সাময়িক অসুবিধা সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বন্যার সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্ষম। সরকার এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থায় আছে। বুধবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে প্রাণ গ্রুপ ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বেড়ে গেছে। দেশ এখন অভাবে না থাকায় চাল আমদানিতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে পারছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর

দেশি গরু-ছাগলেই মিটবে এবার কোরবানির চাহিদা

বর্তমানে দেশে যে সংখ্যক জবাই উপযোগী গরু, মহিষ ও ছাগল আছে, তা দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়, সেখানে এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। কোরবানির জন্য ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি’ গরু থাকায় এবার ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক বলেন, গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভর। এসব প্রাণির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এখন যে পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আছে তা-ই সাফিসিয়েন্ট। অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশজুড়ে সারা বছরে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। সে হিসাবে এক  কোটি ১৫ লাখের মতো গবাদিপশু দরকার হবে কোরবানির সময়, যা এখন দেশের খামারি ও গৃহস্থদের ঘরে রয়েছে। আইনুল হক জানান, বর্তমানে দেশে কোরবানি উপযোগী গবাদি পশুর মধ্যে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার গরু ও মহিষ রয়েছে এবং ছাগল-ভেড়া আছে ৭১ লাখ। সারা দেশের পাঁচ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন খামারি এবং উপজেলা পর্যায়ে কৃষকের কাছে থাকা গবাদিপশুর তথ্য নিয়ে এই হিসাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমরা খামারি লেভেল থেকে হিসাব নিয়েছি। এছাড়া আমাদের প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী আছে, তারাও আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। এভাবেই এই সংখ্যা বের করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় দেশে গবাদিপশু পালন আগের চেয়ে বেড়েছে বলে খামারি ও কৃষকরা জানিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাজহাড গ্রামের খামারি মো. হাজ্জাজ আলী বলেন, গত  দুই বছর ভারত থেকে গরু কম আসায় কৃষকরা কিছুটা লাভবান হওয়ায় সবাই আরও উৎসাহী হয়েছে।

গরু প্রচুর বেড়েছে। শুধু আমাদের এলাকায় কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন খামারি এবার গরু পেলেছে। ভারতীয় গরু ঢুকলে লোকসানে পড়বেন শঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, শুনেছি পুটখালী সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গরু ঢুকছে। গরু ঢোকা বন্ধ না করলে আমরা মার খাব। কুষ্টিয়া জেলায়ও কোরবানি উপলক্ষে গতবারের চেয়ে এবার বেশি গরু পালন করা হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলার বাঘডাঙা গ্রামের কৃষক শেখ সিরাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় বড় খামারি নাই।

কিন্তু কৃষকরা একটা দুইটা করে গরু পালে। প্রায় সবার ঘরেই একাধিক গরু আছে। এবার আগের চেয়ে বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ৪০ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, এবার চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদিপশু দেশেই রয়েছে, তাই ভারতীয় গরু আমদানির প্রয়োজন নেই। বর্তমান অবস্থায় ভারত থেকে যারা গরু আনবে তারাও লাভবান হবে না। কারণ চাহিদার চেয়ে গরু অনেক বেশি হয়ে গেলে দাম পড়ে যাবে। খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের মাংসের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন খামারিদের সংগঠনের এই নেতা। তিনি বলেন, এখন আমরা একটা পরিবর্তনের মধ্যে আছি। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হলে কৃষকের পাশাপাশি বড় বড় বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগ করবে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহ বেড়ে মাংসের দামও কমে যাবে। ইমরান জানান, গত বছর নিজের খামারে সাড়ে তিনশ গরু মোটাতাজা করেছেন। এ বছর আছে সাড়ে পাঁচশ গরু।

ভারতের গরু এলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আইনুল হকও। তিনি বলেন, এটা হলে আমাদের খামারিরা একেবারে পথে বসবে। খামারিদের প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ করে গরু মোটাতাজা করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

এ খাত দাঁড়াতে পারবে না। ভারতীয় গরু আনা ঠেকাতে পদক্ষেপ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভারতীয় গরু আনা বন্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ বলেন,  তারপরও নানা ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু গরু চলে আসে। এদের ঠেকানো কঠিন। তবে তা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আমরা চাই না, বাইরে থেকে গরু আসুক, আমাদের খামারিরা মার খাক। তিনি শুক্রবার বলেন, ভারতের গরু আসার প্রয়োজন নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবের চেয়ে বাস্তবে দেশে জবাই উপযোগী গবাদিপশুর সংখ্যা বেশি। আমরা যে সংখ্যাটি বলছি তা আমাদের হিসাবের ভেতর যা আছে সেটা।

এর বাইরেও অনেক আছে। সব হিসাবের ভেতর আনা যায় না। বাস্তবে গবাদিপশুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। ফলে সারা বছরের মাংসের চাহিদাও আমাদের গরু দিয়েই মেটানো সম্ভব, ঘাটতি হওয়ার কথা না। ঘাটতি হলে তখন আমরা দেখব কী করা যায়। প্রতিমন্ত্রী ও খামারিরা একথা বললেও ঢাকা গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন মন্ডল বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় গরু ছাড়া সারা বছরের মাংসের চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। মাংস ব্যবসায়ীদের ইন্ডিয়ান গরু দরকার। না হলে তারা টিকে থাকতে পারবে না। আগামী ২-৪ বছর ইন্ডিয়ান গরু ছাড়া আমাদের চলবে না। তবে আমরা যদি আস্তে আস্তে স্বনির্ভর হতে পারি তাহলে হয়ত আগামী ৮-১০ বছর পর ভারত থেকে আর গরু আনতে হবে না।

 

এই বিভাগের আরো খবর

Go Top