সন্ধ্যা ৬:১৬, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছেন চালকসহ আরও চারজন। ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার সাহা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী এলাকায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।

পরিদর্শক দীপক বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল তার স্বজনরা।

“বাথুলী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রোগী ও এক স্বজন মারা যান।” এ দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হলে তাদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান পরিদর্শক দীপক।

 

রাজধানীতে হোটেল থেকে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজধানীর ভাটারায় স্টার আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভাটারা থানার এসআই জিয়াউর রহমান জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে বলেও এসআই জিয়াউর রহমান জানান।

 

 

রাজধানীতে ঈদের শেষ সময়ের কেনাকাটা জমজমাট

ঈদের ছুটির শুরুতে গ্রামের উদ্দেশ্যে হাজারো মানুষ রাজধানী  ছাড়লেও শেষ সময়ের কেনাকাটায় জমজমাট রাজধানীর মার্কেটগুলো। অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত-সবখানেই ক্রেতা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট ও এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেটগুলো ছিল সরগরম। পোশাক থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দোকানেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে অনেক বিপণিবিতানের তুলনায় ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতেতুলনামূলক বেশিভিড় দেখা যায়। দুপুরে নিউ মার্কেট ও গাউছিযা মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের সামলাতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদের।

গাউছিয়া মার্কেটের ‘কটন ওয়ার্ল্ডের’ বিক্রয়কর্মী আদিল বলেন, ‘বিক্রি বেশ হচ্ছে। শেষদিকে তো সবসময়ই কাস্টমার বেশি থাকে।’ সেখানকার শামীমা ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপক হানিফ বলেন, ‘মাসের শুরুতে তেমন বেচতে পারিনি। এখন খুশি। ক্রেতাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি।’ নিউ মার্কেটে মেয়েদের পোশাকের দোকান বর্ণালী ফ্যাশনের ব্যবস্থাপক নাসির হোসেন বলেন, ‘বিক্রি চলছে ভালো, তবে গত শুক্রবারের চেয়ে একটু কম। সবাই তো এখন বাড়ি চলে যাচ্ছে, তাই হয়ত কাস্টমার এতটা আসছে না।’ তবে নিউ মার্কেট ও গাউছিয়ার ভিতরের দোকানের তুলনায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছিল তীব্র ভিড়। ফুটপাতে ১০০ টাকায় মেয়েদের ব্যাগ বিক্রি করছিলেন হাসান। তিনি বলেন, ‘বিক্রি ভালো হচ্ছে, দামও কম রাখছি। এতদিন তো ভাবছিলাম বৃষ্টিতে বিক্রিটা যাবে শেষ হয়ে।’ ফুটপাতের আরেক বিক্রেতা কাইয়ুম বলেন, ‘১৫০ টাকায় কাপড় বেচতেছি, চালান দামে।

যত বেশি বেচা যায় ততই লাভ।’ এই এলাকায় কেনাকাটা করা ফরহাদ হোসেন জানান, গ্রামের বাড়ী ঝিনাইদহে যাওয়ার আগে চলতি পথেই কিছু কেনাকাটা সেরে নিয়েছেন তিনি। থাকি আজিমপুর, বাসে উঠব গাবতলী থেকে। বৃষ্টি, ব্যস্ততাসহ নানা ঝামেলায় আসা হয়নি। এখন সব কিনে নিলাম। এলিফ্যান্ট রোডে পোশাকের ব্র্যান্ড ওয়েস্টিনের শো-রুমের ব্যবস্থাপক ইমরান বলেন, ব্যান্ড কলারের কাতুয়া শার্ট ও ক্যাজুয়াল শার্ট বিক্রি হচ্ছে বেশি। বিক্রি ভালই হচ্ছে। শেষ শুক্রবার তো, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। এলিফ্যান্ট রোডে কেনাকাটা করা কামরুন নাহার বলেন, ঈদ এবার ঢাকাতেই করতে হবে। তাই একটু দেরিতেই কেনাকাটা করতে আসলাম। আজ জ্যাম ছিল না একদম, স্বস্তিতে আসা গেছে। একই অবস্থা দেখা যায় বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সেও। বসুন্ধরার পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও অলঙ্কারের দোকানগুলোতে দুপুরের পর থেকেই তীব্র ভিড় হয়। ক্রেতাদের সামলাতে বেশ ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে প্রায় সব দোকানের বিক্রয়কর্মীদের। সেখানকার অ্যাপেক্সের শো-রুমের বিক্রয়কর্মী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপচেপড়া ভিড় যেটা বলেন, সেটা তো দেখতেই পারছেন। অনেক কাস্টমার আসছে।’ বসুন্ধরায় পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা উজ্জ্বল হাসান বলেন, ‘পরিবারের সবাই ব্যস্ত। সবার একসাথে সময় মিলছিল না। আজ তাই সবাই মিলে কেনাকাটা করলাম, কাল তো বাড়িই চলে যাব।’

আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না : নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না। অতীতের ও বর্তমান সরকারের মধ্যে তুলনা করে কথা বলতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষ যখন নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছিল, তা থেকে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সরকার, এসব বিবেচনায় আনুন।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী  উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কারণ, জনগণ আন্দোলন চায় না, ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে চায়। তাই আন্দোলনের খেলা বাদ দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হন। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোন ছাড় নেই আন্দোলন করলে। কারণ দেশের মানুষ আন্দোলন চায় না। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণকে বলব- সব বিবেচনা করে ভোট দিন। বিগত সরকারের সময়ে দেশের কি উন্নয়ন হয়েছে, বর্তামন সময়ে সরকার কতটা উন্নয়ন করেছে আপনারা ভেবে দেখুন। দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আবেগতাড়িত হয়ে কথা বললে হবে না। অতীতের ও বর্তমান সরকারের মধ্যে তুলনা করে কথা বলতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষ যখন নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছিল, তা থেকে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ সরকার, এসব বিবেচনায় আনুন।

দেশের জন্য আওয়ামী লীগের গুরুত্ব তুলে ধরে নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতো না। এটা কোনো আবেগের কথা না, ঐতিহাসিক সত্য। কামরুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৯শে জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেট কতটা কল্যাণমুখী। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বার্তা বলা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যাবে এ বাজেট কতটা কল্যাণমুখী। তিনি বলেন, যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন বাংলাদেশের মানুষ সকল ষড়যন্ত্রেও মোকাবেলা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভোটের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতায় বসাবে। সংগঠনের কার্যকরী সভপতিত্ব অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, নাট্যব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম প্রদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাদেরের পদত্যাগ দাবি রিজভীর

ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রাপথে ভোগান্তির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঈদে জনদুর্ভোগের জন্য প্রধানত যোগাযোগমন্ত্রী দায়ী। সেজন্য তার পদত্যাগ করা উচিত।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে মন্ত্রী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না। কারণ মন্ত্রিত্বের পদ এতোই মোহনীয়-লোভনীয় যে, এটাকে যেন-তেনভাবে আঁকড়িয়ে থাকবেন। এজন্য ডাহা-টাটকা যত মিথ্যা কথা বলা যায় ওরা তা বলে যাবেন। জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঈদের প্রাক্কালে ঘরমুখী মানুষ যে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তা বর্ণনাতীত। সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কে চরম অব্যবস্থাপনা, দ্বিগুণ মূল্যে টিকেট কেটে ট্রেনের ছাদে চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করতে হচ্ছে মানুষকে, রাস্তা-ঘাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে নৈরাজ্য বিভৎস রূপ নিয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ প্রশাসনের কোনো অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। গত শুক্রবার রাত ৮টায় যেসব গাড়ি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে, সেগুলো এখনো (শনিবার বিকেল) গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। সব মহাসড়কে একই অবস্থা। অথচ যোগাযোগমন্ত্রী স্বস্তি প্রকাশ করে বক্তব্য দিচ্ছেন। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি মামলা-হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে ঈদে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না। ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারছে না তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কায়সার কামাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

 



অর্থ-বাণিজ্য

উচ্চ আশাবাদের ভর করে আগামী অর্থবছরের জন্য যে বিশাল বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে নিশ্চয়তার ঘাটতি দেখছে বিশ্ব ব্যাংক। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই প্রতিক্রিয়া জানান। এক কথায় বাজেট নিয়ে তার মূল্যায়ন: ‘লং অন হোপ, শর্ট অন অ্যাসিউর‌্যান্স (আশাবাদে উচ্চ, কিন্তু নিশ্চয়তায় খাটো)।’

বিশ্ব ব্যাংকের এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাজেটে অনেক লক্ষ্যই বাস্তবতার নিরিখে নয়, আশার ওপর ভর করে ঠিক হয়েছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কোনো চমক নেই, গতানুগতিক। আর আয়ের লক্ষ্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আসছে অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি ২৬৬ কোটি টাকা আয়-ব্যয়ের ফর্দ ধরে তৈরি এই বাজেট ১ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেও আইন অনুযায়ী অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনায় ভর দিয়ে রাজস্ব আয়ের বিশাল লক্ষ্য অর্জন নিয়ে এর মধ্যেই প্রশ্ন  উঠেছে।

১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের অভিন্ন হারের বিরোধিতা করে সাংসদ ও মন্ত্রীরা বক্তব্য দিচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মহল থেকেও ভ্যাটের আগের হার বহাল রাখার দাবি জানানো হচ্ছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভ্যাট নিয়ে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন। তার আগে কোনো কিছু জানানোর নেই। তবে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় সম্ভব নয় বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজেট, বড় আয়ের লক্ষ্য। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে কি না- এ প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ওষুধসহ বেশ কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট নেই। ৩৬ লাখ টাকা পর‌্যন্ত ব্যবসার টার্নওভাবে ভ্যাট মূক্ত। সে কারণে দাম খুব একটা বাড়ার কারণ নেই। সামান্য বাড়তে পারে। তবে নতুন ভ্যাট নিয়ে যেভাবে অপ্রচার হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রভাবে এক ধরনের আতংক সৃষ্টি হয়ে দাম বাড়তে পারে। অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষকে ‘স্বাস্থ্যকর’ বললেও তা অর্জন নিয়ে এই বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করেন। প্রবৃদ্ধির বিমান অটো পাইলটিংয়ে চলবেনা। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে যেভাবে চলছে সেভাবে হলে লক্ষ অর্জিত হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বাড়াতে হবে। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব বিনিয়োগের (পিপিপি) দিকেও নজর দিতে পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চালের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে গরিব মানুষ বেশি বিপদে আছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় চালের দাম খুবই স্পর্শকাতর। এটাতে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ভালো হয় যদি দ্রুত আমদানি বাড়িয়ে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মিল মালিক বা আড়তদারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমদানি বাড়লে, সরবরাহ বাড়লে তারা এমনিতেই তাদের মজুদ করা চাল বাজারে ছেড়ে দেবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি
বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে  মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে।

বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন। বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

অবকাঠামো নির্মাণ খরচ বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি: বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্বে অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে ব্যয় সবচেয়ে বেশি হয় বলে দাবি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। নতুন অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে এই দাবি করা হয়।

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বহু দিনের। তবে নানা জটিলতার কারণে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু প্রকল্পে তারা এখন নেই। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ চলছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনায় প্রতি কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বাংলাদেশের ব্যয় অনেক বেশি হয়। অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য দুর্নীতিকেই দায়ী করেন তিনি। মূলত ট্রেন্ডারিং (দরপত্র) এর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণেই খরচ বেশি হয়। এটি দুর্নীতিরই একটি অংশ। এছাড়া উঁচু-নিচু জমির কারণেও খরচ বাড়ে। বাংলাদেশের কয়েকটি সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলে ধরে তার সঙ্গে ভারত, চীন ও ইউরোপের তুলনা করেন জাহিদ হোসেন।

বাংলাদেশের চার লেইনের উন্নীত করতে রংপুর-হাটিকুমরূল মহাসড়কের এক কিলোমিটারের জন্য ৬৬ লাখ টাকা (৬.৬ মিলিয়ন ডলার), ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহগাসড়কে ২৫ লাখ টাকা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২৫ লাখ টাকা খরচের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এমন এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরিতে (জমি অধিগ্রহণসহ) খরচ হয় ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ (১.১ থেকে ১.১৩ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চীনে ব্যয় হয় ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা (১.৩ থেকে ১.৬ মিলিয়ন ডলার)। ইউরোপের দেশগুলোতে হয় ৩৫ লাখ টাকা (৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। ‘যদি এই তথ্য একটু পুরনো, ২০১৩ সালের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে এখনও এই চিত্রই বিদ্যমান,’ যোগ করেন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ। বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফানও ছিলেন। অবকাঠামো নির্মাণে বাংলাদেশে বেশি ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে একেক দেশে ব্যয় একেক রকম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাস হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা মতো সংশোধিত আকারে পাস হবে। পাসকৃত বাজেট দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এতে মানুষ খুশি হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে এমন বাজেট পাস করা হবে, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বাজেট পাসের পর আর কোনও আলোচনা বা সমালোচনা থাকবে না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ অবহিতকরণ কর্মশালায়’ এ বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তোফায়েল আহমেদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজস, মনোপলি, জোটবদ্ধতার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন পাস করেছে। সে অনুযায়ী প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করা হয়েছে। দেশে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা কমিশন সে লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত প্রাণহানীর ঘটনা দুঃখজনক।

দুর্ঘটনার পর থেকেই সরকার উদ্ধার কাজসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে। উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করে যাচ্ছে সরকার। প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু। মূল আলোচক ছিলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এ.কে. এনামূল হক।অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী, মো. আবুল হোসেন মিয়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক, প্রধান আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রক আফরোজা খান, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার মো. মোশাররফ হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর।

 

‘ব্যাংক লেনদেনের আড়ালেও অর্থপাচার হচ্ছে’

করতোয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে আমদানি-রফতানির আড়ালে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে অর্থপাচারকারীরা চারটি কৌশল গ্রহণ করছে। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার অ্যান্ড আন্ডার শিপমেন্ট, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও একাধিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে। রোববার বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক এক কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধের নীতিমালাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এগুলো আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। স্বীকৃত ব্যাংকগুলোকে আমদানি-রফতানি মূল্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ট্রেড সার্ভিসের মাধ্যমে কেউ যেন ঋণখেলাপি হতে না পারে সেজন্য যথোপযুক্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচিত হবে, অধিক স্বচ্ছতা নির্ধারণের জন্য এসব তথ্য যাচাই করা। অনুষ্ঠানে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থপাচার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, এটা কেবল অর্থপাচার নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্যান্য আর্থিক অপরাধগুলোও ঘটছে। এসব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরে কড়া নজরদারি করছে। প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

 গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাংকিং সেবায় আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আমদানির পাশাপাশি রফতানিতেও আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানি আয় এসেছে ১৮ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালে কমে ঠেকেছে ১০ শতাংশ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়াত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো হয় ২৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ২০১১ সালে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৬৪  শতাংশ আমদানি ব্যয় মিটিয়েছে। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ। বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সেবায় আরও গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোকে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।’ বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন এনআরবি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসাইন  প্রমুখ।

 

চাউলের মূল্য বৃদ্ধি কৃত্রিম ও সাময়িক : বানিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এমন বাজেট পাস করা হবে না, যাতে দেশের মানুষ কষ্ট পায়।তিনি বলেন, বাজেট পাস করার পর সবাই খুশি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কল্যাণে সরকার সবকিছু করবে।

তোফায়েল আহমেদ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে থ্রি-ডি সেমিনার হলে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত বাজেট উত্তর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থপন করেন শেরে-বাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট এন্ড প্রোভার্টি স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কাজল।এছাড়াও অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট ও ট্যাক্স নিয়ে জাতীয় সংসদে এবং বাইরে আলোচনা হচ্ছে। বাজেট পাস হবার পর আর কোন আলোচনা থাকবে না। ভ্যাট এবং ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে বাস্তব সম্মত হবে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, চাউলের মূল্য বৃদ্ধি এটি একটি কৃত্রিম সাময়িক সংকট। বাজারে চাউলের অভাব নেই। দেশে পর্যাপ্ত চাউল রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরো ৬ লাখ মেট্রিক টন চাউল আমদানির টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে।তিনি বলেন, চাউল আমদানির উপর ১০ ভাগ হারে আমদানি শুল্ক ছিল, দেশের কৃষকদের সুরক্ষার জন্য আরো ১৫ ভাগ শুল্প আরোপ করা হয়েছে, যাতে দেশের কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। অল্প সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে। একসময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই।তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা চাউল রপ্তানি করতে শুরু করেছি। দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমান দিন দিন কমছে কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। এ উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও দেশে কোন খাদ্য সংকট হবে না।

Go Top