দুপুর ১:০৯, বুধবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থী বা যাত্রীর স্বজন প্রবেশে ১৪ দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।  মঙ্গলবার থেকেই এ আদেশ কার্যকর হয়। যা আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্তবহাল থাকবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল জানান, ‘এটা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের করার অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্মেলন শেষে আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’ জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক বিদেশি ভিআইপি অতিথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত সোমবার জরুরি বৈঠকে বসে সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তারা। বৈঠকে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও আইপিইউর যৌথ উদ্যোগে আগামী ১-৫ এপ্রিল ঢাকায় ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে আসছেন ১৩১টি দেশের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যসহ প্রায় দেড় হাজার অতিথি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। আয়োজক দেশ হিসেবে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

 

 

মিরপুরে গৃহকর্মী নির্যাতন গৃহকর্তা-কর্ত্রী আটক

রাজধানীর মিরপুরের শাহআলীতে বুলি (১৭) নামে এক গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে গত সোমবার দিনগত গভীর রাতে   ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেছে পুলিশ। নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা-কর্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুলি শাহআলী থানা এলাকার প্রিয়াংকা হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডের এক নম্বর বাড়ির  ৩/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। তাকে গৃহকর্তা-কর্ত্রী প্রায়ই নির্যাতন করতো। সোমবার রাতেও তারা বুলিকে মারধর করে। বিষয়টি স্বজনরা পুলিমকে জানালে ওই রাতেই পুরিশ ওই বাসা থেকে বুলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনে। বুলির বাবার নাম নাম কুদ্দুস মিয়া। এ বিষয়ে শাহআলী থানায় মামলা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীতে ৬ টন মাছ জব্দ, দুজনের জেল

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে জাটকা ও ক্ষতিকর জেলি মিশ্রিত চিংড়িসহ প্রায় ৬ টন মাছ জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি জানান, মাছের আড়ত থেকে ৫০কজি বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত চিংড়ি, প্রায় ৪ টন আফ্রিকান মাগুর এবং ২ টন জাটকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তের বিক্রেতা হাসান (২০) ও আলিমুল আজিমকে (২৩) আটক করা হয়। পরে তাদের একমাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। জব্দ করা জাটকা যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। অভিযানের সময় র‌্যাব-১০ এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার সোহরাব হোসেন ও মৎস অধিদফতরের কর্মকর্তা  আব্দুল মালেক ও আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুসিক নির্বাচন সিইসির জন্য কঠিন পরীক্ষা : এইচ টি ইমাম

কুমিল্লা নির্বাচন হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার জন্য অগ্নিপরীক্ষা নয়, কঠিন পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

মঙ্গলবার দুপুরে তার নেতৃত্বে ইসি কার্যালয়ে যায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করেন কুমিল্ল¬া সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রশিদুল আলম ও কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার। বৈঠক শেষে এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের জানান, ১৫ থেকে ১৬ জন প্রিজাইডিং অফিসারের ব্যাপারে তাদের আপত্তি আছে। সে কথা জানাতে তারা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসেছিলেন। সোমবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সাথে দেখা করেছিল। তখন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মন্তব্য করেছিলেন কুমিল্ল¬া নির্বাচন হবে সিইসির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। রিজভীর বক্তব্য সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এইচটি ইমাম বলেন, আমরা এটা অগ্নিপরীক্ষা বলব না।

আমি বলব এটা কঠিন পরীক্ষা। ক্ষমতাশীন দল হিসেবে আপনারা নির্বাচনকে সহায়তা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং তাদের লোকবল নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগসহ সব প্রস্তুতিই তারা নিয়েছে। অনেক সময় নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের জন্য নির্বাচন কমিশন সরকারি দলের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করে বলে মনে করেন প্রবীণ এই নেতা। এইচটি ইমাম বলেন, আমরা এই প্রথম নতুন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তাদের নতুন ভবনেও প্রথম এলাম। এই ভবনে তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না তাও আমরা তাদের কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচনসংক্রান্ত অনেক উন্নয়ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য অর্থ বরাদ্দ বেড়েছে। ভোটার তালিকা নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এই সরকার। এছাড়া নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর যাচ্ছেন আজ

আজ বুধবার ফরিদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি স্থাপন এবং বিকালে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে দলীয় এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। তিনি ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী সমাপ্ত যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলির মধ্যে রয়েছে- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন ভবন, পল্লী কবি জসীম উদদীন সংগ্রহশালা ও ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলোজি। এছাড়া শিশু একাডেমী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিদর্শকের কার্যালয়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, কুমার নদীর উপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু, ভাংগা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধনের কথা রয়েছে তার। এ তালিকায় আরও আছে- আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, বিএসটিআই ভবন, ভাঙ্গা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা থেকে বাখুন্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চরনিখুরদি সড়ক, ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩৩/১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী যে ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন সেগুলো হচ্ছে- কুমার নদ পুনঃখনন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আলফাডাঙ্গা থানা ভবন নির্মাণ, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ হাসপাতাল, পুলিশ অফিসার্স মেস, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রী নিবাস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দেড় হাজার আসনবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হল রুম নির্মাণ, সালথা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রকল্প। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে ফরিদপুর বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় পদ্মা-সেতু ও বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঘোষণা আসবে বলে আশা করছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর। তিনি বলেন, নেত্রী অনেকদিন পর ফরিদপুর আসছেন। তার কাছে ফরিদপুরবাসীর অনেক প্রত্যাশা। সরকারের নীতিগত সম্মতির পরেও এখনো ফরিদপুরকে বিভাগ ঘোষণা করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যার মুখ থেকেই ঘোষণাটি শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে ফরিদপুরের মানুষ।



অর্থ-বাণিজ্য

সরকার যে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে, থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা চাইলে সেগুলোর একটি তাদের দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে থাই পণ্যের মেলা ‘থাইল্যান্ড উইক ২০১৭’ এর উদ্বোধন করে বাণিজ্যমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে থাই ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ড এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। এগুলোর একটি নিয়ে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা তাদের বিনিয়োগের সব সুযোগ সুবিধা দেব।

মন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের বিশ্বাসী ও পরীক্ষিত বন্ধু। যদিও তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। অধিকাংশ পণ্যই থাইল্যান্ড বাংলাদেশে রপ্তানি করে। আর আমাদের রপ্তানির পরিমাণ কম। এই ঘাটতির পরিমাণ কমাতে হবে। থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেড প্রমোশন এবং রয়্যাল থাই দূতাবাস যৌথভাবে চার দিনের এই মেলার আয়োজন করেছে। থাই উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের নিয়ে পঞ্চদশ বারের মত আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আয়োজকরা জানান, মেলার প্রথম দুই দিন কেবল ব্যবসায়ীদের জন্য। ২৪ ও ২৫ মার্চ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও মেলা উন্মুক্ত থাকবে। প্রসাধন সামগ্রী, তৈরি পোশাক, ফ্যাশন সামগ্রী, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, জুয়েলারি, কনফেকশনারি, খবার ও পানীয় এবং গৃহস্থলী পণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।

এদেরই একটি ‘থাই আইডিয়া, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’; প্রতিষ্ঠানটি কাঠ থেকে বিভিন্ন ধরনের চামচ ও চপস্টিক উৎপাদন করে। এর ব্যবস্থাপক প্রাংনুত সুরিয়াপর্ন জানান, প্রথমবারের মত তারা এ মেলায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তাদের পণ্যের প্রচার পাবে বলে তিনি আশা করছেন। বাংলাদেশে অনেকেই থাই খাবার খায়। কিন্তু থাইল্যান্ডের মত চপস্টিক ব্যবহার করে না। আমি মনে করি, মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে তারা আমাদের খাবারের মতই খাওয়ার পদ্ধতিও ভালবাসবে। তখন তাদের রান্নাঘর আর খাবার টেবিলে আমাদের পণ্য ব্যবহার করবে। প্রাংনুত জানান, তাদের পণ্যগুলো মূলত তালগাছ থেকে বানানো হয়। গাছ কেটে কোনো ধরনের জোড়া না দিয়েই পণ্য উৎপাদন করেন তারা। প্রসাধন সামগ্রীর উৎপাদক ফিনেলও বাংলাদেশে তাদের বাজার সম্প্রসারিত করতে চায়। ‘বাংলাদেশে থাইপণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমরা বাজার গবেষণা করে দেখেছি, আমাদের কোম্পানির পণ্যও এখানে বেশ চলবে,’ বলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। তিনি জানান, বাংলাদেশের বাজারে প্রসাধনসামগ্রী নিয়ে সারা বছর হাজির থাকতে তারা সব প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছেন। ‘এখন কেবল আনুষ্ঠানিক যাত্রার অপেক্ষা। তবে এরইমধ্যে মেলা চলে আসায় আমরা এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি,’ বলেন নাজমুন।

মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে

নতুন বছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারিতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গত মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হত, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সে পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ করে গরুর মাংস ও ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছু বেড়ে যায়। এর আগে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ হিসেবে মোটা চালের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছিলেন তিনি। গত মাসে খাদ্য খাতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা কমে ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে নেমেছে, যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে; সাধারণ মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। গত মাসে ফেব্রুয়ারি মাসে শহরেও সাধারণ মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আরেক ধাপ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি : অর্থমন্ত্রীর বৈঠক আজ

২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা আরেক ধাপ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে আজ  রোববার বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা ছিল, মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে প্রতি বছর যৌক্তিক পরিমাণ বেতন বাড়ানো হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী জুনের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কিছুটা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চলমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশ করার আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোববার এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। সে ক্ষেত্রে আসছে বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানোর মতো বিষয়ও থাকবে। এ জন্য জুনে নতুন বাজেট ঘোষণার আগেই এ ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় সরকার। এর আগে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল ধরে সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার, যাতে বেতন বাড়ে গ্রেড ভেদে ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ। ওই কাঠামোতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে যোগ দেয়া একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন হয় মাসে প্রায় ২২ হাজার টাকা, যা আগের কাঠামোতে ১১ হাজার টাকা ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় এলাকা অনুযায়ী বাড়িভাড়া এবং গ্রেড অনুযায়ী চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা। ২১ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এই হারে মূল বেতন পাচ্ছেন ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে। আর ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর হয়েছে। অষ্টম বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ স্কেলের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের ক্ষেত্রে ৮২ হাজার টাকা। সপ্তম বেতন কাঠামোতে তাদের মূল বেতন ছিল যথাক্রমে ৪৫ হাজার ও ৪২ হাজার টাকা। সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন নির্ধারিত, অর্থাৎ প্রতিবছর তাদের বেতন আর বাড়ে না বা ‘ইনক্রিমেন্ট’ যোগ হয় না। তবে তারাও নিয়ম অনুযায়ী বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা পান। এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে সপ্তম বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ১ জুলাই। সে অনুযায়ী এতদিন সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা ‘বেসিক’ ধরে বেতন পেতেন।

 

পাট শিল্প ধ্বংস করেছে বিএনপি: মির্জা আজম

আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপি পাট শিল্প ধ্বংস করেছিল বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।  শনিবার রাজধানীর সিরডাপে সকাল সাড়ে ১০টায়  ইআরএফ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাট খাতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আঁতাত করে দেশের পাট শিল্প ধ্বংস করে দিয়েছিল বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ২০০২ সালে আদমজী পাট কল বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে। একই সময় বিশ্ব ব্যাংক ভারতে কয়েকটি নতুন জুট মিলে অর্থায়ন করে। বিএনপি বিজেএমসিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার পাট শিল্পকে পুনরায় সোনালি ফসলে পরিণত করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এই বাজারে আমরা কীভাবে নেতৃত্ব দেবো সেই বিষয়ে কাজ করবো। বীজ উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিজেএসমিকে ধীরে ধীরে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে পাট শিল্প বস্ত্র শিল্পের বরাবর হয়ে যাবে। পাট পণ্যের আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করা হবে বাংলাদেশে। তিনি আরও বলেন, বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বস্ত্র বিভাগের কোনো সম্পর্ক ছিলো না। ফলে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বস্ত্র খাত বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তারপর থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে আগামী সোমবার বস্ত্র আইন পাশ হবে। সিপিডি’র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখবো, ছোট ও মাঝারি আকারের জুট মিলগুলো ভালো করছে। এসব মিলগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। পাট খাতের সম্ভাবনা যথেষ্ট কিন্তু সেই ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে হবে। পোশাক শিল্পের মতো এই খাতেও সরকারের নগদ প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া উচিত। এসময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বহুমুখী পাট পণ্য উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি রাশেদুল করীম, বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান খান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন, পাট পণ্য রফতানিকারক রেজাউল করীম, ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় সালমান এফ রহমান

করতোয়া ডেস্ক : বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় প্রথমবারের মতো কোনও বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান। বেইজিংভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হুরুন গ্লোবাল-এর ওই তালিকার ২২৫৭ জন ধনকুবেরের মধ্যে তিনি রয়েছেন ১৬৮৫ নম্বরে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সালমান এফ রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো)-র যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালে। প্রতিষ্ঠাতা সালমান এফ রহমান বর্তমানে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আশির দশকে ঔষধ শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির পর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে বিনিয়োগ শুরু করে। পরে টেক্সটাইলস খাতেও আসে সাফল্য। ৯০-এর দশকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি সালমান এফ রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল-এর ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৬৮টি দেশের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিরা। তালিকার শীর্ষ তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের।

মাইক্রোসফটের প্রধান বিল গেটস এ বছরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হিসেবে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ আট হাজার ১০০ কোটি ডলার বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রয়েছেন ওই তালিকায়। তার অবস্থান ৩৯৫ নম্বরে। ট্রাম্পের সম্পদের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ডলার বলে ওই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট ২০১৭ অনুযায়ী, ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষ ২০-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির অবস্থান ১৯। গত বছর আরব আমিরাতের ১৬ জন ধনকুবের ছিলেন তালিকায়। এবার তা বেড়ে হয়েছে ২১। জিসিসিভুক্ত আর কোনও দেশ শীর্ষ ২০-এ জায়গা করতে পারেনি। অপরদিকে, ১১ জন ভারতীয় ধনকুবের এ বছর তাদের অবস্থান হারিয়েছেন। গতবছর ভারতের অবস্থান ছিল তৃতীয়। তবে চলতি তালিকায় বছর সেই অবস্থান থেকে ছিটকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দেশটি। ৬০৯ জন ধনকুবের নিয়ে চীন রয়েছে তালিকার শীর্ষে। দুই নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে ৫৫২ জন ধনকুবের। ভারতের ১০০ জন ধনকুবেরের নাম রয়েছে ওই তালিকায়। হুরুন গ্লোবাল-এর ওয়েবসাইটে বলা হয়, ওই তালিকার দুই-তৃতীয়াংশ ব্যক্তিই নিজের চেষ্টায় অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অপরদিকে, এক-তৃতীংশ ধনকুবের পারিবারিক সূত্রে সম্পদ লাভ করেছেন। গত ছয় বছর ধরে হুরুন গ্লোবাল বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকা প্রকাশ করে আসছে।

Go Top