সকাল ১১:০৩, মঙ্গলবার, ২৪শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং
/ বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিহবন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপির দেয়া প্রস্তাবের গোপনীয়তা তারাই ভঙ্গ করেছেন।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর হোসেনি দালান রোডে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিন এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার বিরুদ্ধে বঙ্গভবনের গোপনীয়তা ভঙ্গেও যে অভিযোগ করেছেন, সেটা স্ববিরোধী। তিনি নিজেই বলেছেন, আমরা কার নাম দিয়েছি, সেটা আওয়ামী লীগ নেতারা জানলো কী করে? আবার বলেছেন, আমরা কোনো নামই প্রস্তাব করিনি। এটা তার স্ববিরোধী বক্তব্য।
ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।এম এ আজিজ ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে কার নাম প্রস্তাব করেছে, সেটা জানার জন্য বঙ্গভবনের সহযোগিতার দরকার হয় না। বিএনপির নেতারাই যথেষ্ট। আসলে জেলের ভয়ে বিএনপির নেতারা কেউ কেউ দলের তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে ফাঁস করে দেয়।

 

 

 

 

দেশের পুঁজিবাজারে ৬ বছরে বড় উল্লম্ফন

মূল্যসূচক ও লেনেদনে বড় উল্লম্ফন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে । লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৮০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯১ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার শেয়ার।
 সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইতে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএসইএক্স এক পর্যায়ে ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে পাঁচ হাজার ৭০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। দিনশেষে এই সূচক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা গত সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০ সালের ১ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ১২২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সোমবার ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় ৫১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। রোববার এই বাজারে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার দর। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৭ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে দুই হাজার ২৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে সিএসইতে ১১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো: বেক্সিমকো লিঃ,বারাকা পাওয়ার, ইসলামি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি: ফরচুন সুজ, ইসলামি ব্যাংক, ফনিক্স ফাইন্যান্স, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, পুবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কাশেম টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল ও সাউথইস্ট ব্যাংক।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি:- সিভিওপিআরএল, সমতা লেদার, রহিমা ফুড,  বিডি অটোকারস, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কেডিএস, মিরাকল ইন্ডাট্রিজ ও বাংলাদেশ সিপিং কর্পোরেশন।

আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করতে চায়: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কিত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ-স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং দেশে বিদ্যমান অনৈক্য-বিভেদ দূর করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করা ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু এর ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি দেশনেত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছেন, তাদের সাথে কথা বলেছেন- এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। রাষ্ট্রপতি গত রোববারও সংসদে বলেছেন, আমরা দেখতে চাই- গণতন্ত্র সকলকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরাও সে কথাই বারবার বলছি। কারণ আমরাও ইনক্লুসিভ ডেমোক্রেসি, ইলেকশন ও পলিটিক্স চাই, যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, বিনা নির্বাচনে জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা দলটি তা চায় না। কারণ তারা জানে, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হলে কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সে জন্য তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়, এমনকি তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও বিতর্কিত করতে চায়। দুঃখ হয়- যখন তাদের (আওয়ামী লীগ) শীর্ষ নেতারা এই সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন, যার কোনো ভিত্তি নেই। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অর্জন বিশাল-ব্যাপক। দেশের ভাগ্যকে তিনি পরিবর্তন করে দিয়েছেন, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন। দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই অর্জনগুলোকে আমরা আজ হারিয়ে ফেলছি। সেই আওয়ামী লীগ আবার সেই দানবের চেহারা নিয়ে বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছে। জনগণের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়ে তাদেরকে একটা অন্ধকারের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে, অন্ধকারের অতল গহ্বরের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের আমরা বহুবার বলেছি- এইভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করবেন না, মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দেবেন না, কথা বলার স্বাধীনতাকে নিয়ে নেবেন না, ভিন্নমত পোষণকারীদের ধ্বংস-হত্যা ও কারাগারে নিক্ষেপ করবেন না। বহুদলীয় চিন্তা-ভাবনা, ভিন্নমতের মধ্য দিয়ে সমস্ত ফুল ফুটবে এবং সেই সৌরভ থেকে একটা সৌরভ বেরিয়ে আসবে, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে সেই বাংলাদেশ নেই, আমাদের সেই অধিকারও নেই। ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকারসমূহ কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে সমস্ত কিছুকে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ভিন্নমতধারী হাজার হাজার তরুণ যুবককে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হনণ করা হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে আমাদেরকে সংগ্রাম-লড়াই করতে হচ্ছে। তবে এ লড়াই-সংগ্রাম একদিন জয়ী হবেই। কারণ, ভোটাধিকার-মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কোনোদিন পরাজিত হতে পারে না। আমরা আশাবাদী, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয় অর্জন করবই। এ সময় নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হতাশাই শেষ কথা নয়। সে জন্য আপনারা কখনো হতাশ হবেন না। বুকে বল নিয়ে আমাদেরকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে, বিজয় অর্জন করতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির লড়াই হারানো গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল হক, আয়োজক সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কায়সার কামাল প্রমুখ।

ট্রাম্পকে অভিনন্দন খালেদা জিয়ার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
 সোমবার সকালে বিএনপির বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন রাজধানীর বারিধারায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গিয়ে দলের চেয়ারপারসনের এই বার্তা পৌঁছে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিনদিন পর ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হলো। রিপন জানান, অভিনন্দন বার্তাটি আমি দূতাবাসের পলিটিক্যাল চিফ ড্যানিয়াল র‌্যাকভের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। এদিকে, খালেদা জিয়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অ্যান্টিনিও তাজানিওকেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। এই বার্তাও গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে পৌঁছে দেন আসাদুজ্জামান রিপন।

 

পুলিশকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হওয়ার আহবান

ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা বদলে ফেলে পুলিশ বাহিনীকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সোমবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান দেশের সরকারপ্রধান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদসদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবা আরও জনবান্ধব করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা থেকে উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা তার ভাষণে যে কথা বলেছিলেন, ‘এই দেশ স্বাধীন দেশ। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশ বাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনী। কাজেই, তাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববান থাকতে হবে, জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে’। শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ চিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সোমবার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনে ১৩২ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ২৬ জনকে ২০১৬ সালের বিপিএম এবং ৪১ জনকে পিপিএম দেওয়া হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ২৪ জন বিপিএম (সেবা) এবং ৪১ জন পিপিএম (সেবা) পেয়েছেন এবার। পদকপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত বিপুল সংখ্যক পদক অতীতে কখনো বিতরণ করা হয়নি। আপনরা এটা পেয়েছেন আপনাদের কাজের দক্ষতা ও যোগত্যা প্রমাণ করতে পেরেছেন এবং জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পেরেছেন বলে।

প্রধানমন্ত্রী সকালে রাজারবাগে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানোর পর তিনি একটি খোলা গাড়িতে প্যারেড পরিদর্শন করেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং প্যারেড কমান্ডার চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্যারেড পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই দৃষ্টিনন্দন ও সুশৃঙ্খল প্যারেডের জন্য পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশ পুলিশকে দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক হিসবে বর্ণনা করে তিনি বলেন,অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রদান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য। জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটনে ২০১৬ সালে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দেশকে বড় ধরনের নাশকতা ও অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করেছে। পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে জনমনে ‘আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টিতে’ সক্ষম হয়েছে এবং বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন  প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের উন্নয়নের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলশানের হলি আর্টিজান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় চার পুলিশ সদস্যের নিহত হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ভীক এই চার পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

আশুলিয়ার আশকোনায় এবং মিরপুরের কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ জঙ্গি হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসাবে বিশ্বের বুকে যখন প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তখন দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। যুবক-কিশোরদের ‘ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে’ জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মত বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করছে। আত্মঘাতি করছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের ২১ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গণতন্ত্রবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, জনবিচ্ছিন্ন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপি-জামাত শিবির চক্র দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তাদের সহিংসতা, নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের চেষ্টা পুলিশ রুখে দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে’ সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যরা ‘অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করেছেন। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর প্যারেড কমান্ডারসহ কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া শিল্পাঞ্চল, আর্মড পুলিশ ব্যাটিলিয়ন, মেট্রোপিলিটন পুলিশ, র‌্যাব, এসপিবিএন, যৌথ রেঞ্জ, বিশেষায়িত পুলিশ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী, নারী সদস্য, ট্রাফিক পুলিশ কন্টিনজেন্টের অধিনায়কদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।  

পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ দিবসের কেক কাটেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার, সাইবার ট্রেইনিং সেন্টার এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ‘রাজারবাগ-৭১’ এরউদ্বোধন করেন।

পরে তিনি পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল ঘুরে দেখেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সকল পুলিশ সদস্েযর অংশগ্রহণে কল্যাণ সভায় অংশ নেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



অর্থ-বাণিজ্য

মূল্যসূচক ও লেনেদনে বড় উল্লম্ফন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে । লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৮০ কোটি ৭৯ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯১ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি। সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৬৭ পয়েন্ট। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি টাকার শেয়ার।
 সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইতে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ডিএসইএক্স এক পর্যায়ে ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে পাঁচ হাজার ৭০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। দিনশেষে এই সূচক ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে দুই হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা গত সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১০ সালের ১ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ১২২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সোমবার ডিএসইতে আগের দিনের তুলনায় ৫১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। রোববার এই বাজারে এক হাজার ৬৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির শেয়ার দর। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৯৭ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে দুই হাজার ২৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে সিএসইতে ১১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১৭ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির দর।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো: বেক্সিমকো লিঃ,বারাকা পাওয়ার, ইসলামি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি: ফরচুন সুজ, ইসলামি ব্যাংক, ফনিক্স ফাইন্যান্স, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, পুবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কাশেম টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল ও সাউথইস্ট ব্যাংক।
অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি:- সিভিওপিআরএল, সমতা লেদার, রহিমা ফুড,  বিডি অটোকারস, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কেডিএস, মিরাকল ইন্ডাট্রিজ ও বাংলাদেশ সিপিং কর্পোরেশন।

৩ বছরের মধ্যে নতুন দিগন্ত দেখছেন মুহিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ২০২০ সালের মধ্যে ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল রোববার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে হয়নি, এ রকম রেকর্ড খুব কম দেশের আছে। আমার বিশ্বাস, আমরা যেভাবে চলছি, আরও যদি কিছু পরিবর্তন আমরা করতে পারি, তাহলে এই দশকেই, মানে ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের অনেকগুলো নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমি বিশ্বাস করি, ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের এখানে একটা শক্তিশালী পুঁজিবাজার সৃষ্টি হবে, যেখান থেকে আমরা বিভিন্ন বিনিয়োগে আগ্রহ নিতে পারব। মাত্র তিন বছর বাকি। এই তিন বছরের মধ্যেই হবে বলে আমরা বিশ্বাস। মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের যাত্রা শুরু উপলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আশির দশকে এনজিও হিসেবে কাজ শুরু করা মাইডাস এখন নিজের টাকায় চলছে। মাইডাস চলত বিদেশি সহযোগিতার টাকায়। এক সময় এ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা ঘোষণা দিয়েছিল- তারা নিজের টাকাতেই চলবেন। নিজের টাকায় চলার ঘোষণা অনেকেই দেয়। তবে সেটা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। মাইডাস সেটা পেরেছে। নতুন এ কোম্পানির চেয়ারম্যান রোকেয়া আফজাল রহমান; যিনি মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডেও একই দায়িত্ব পালন করছেন। রোকেয়া বলেন, ১৯৮২ সালে উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ একদল মানুষ মাইডাস প্রতিষ্ঠা করে। তখন স্যামসন চৌধুরী, আমিরুল ইসলামরা ছিলেন। মানুষের কল্যাণ করার উদ্দেশ্য সেই সময় থেকেই আমাদের ছিল। এসএমই খাতে আমরা ভাল করেছি। নব্বইয়ের দশকে আমরা নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিয়েছি। তখন নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হত না। এটা করে আমরা বেশ ভাল ফল পেয়েছি। নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্য মূল প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদেও আছেন বলে  জানান রোকেয়া। তিনি বলেন, মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন করা কোম্পানিগুলোর অ্যাডভাইজারি ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা করবে। আশির দশকে মাইডাস এসএমই ঋণ দেওয়া শুরু করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, তার আগে বাংলাদেশে এ ধরনের ঋণ দেওয়া হত না। আর এখন দোকানদার থেকে শিল্পপতি, সেলসম্যানের চাকরি করা নারী থেকে সফল উদ্যোক্তা-এ ধরনের বহু সফলতার গল্প মাইডাসের ঝুলিতে। মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিক-উল-আজম অনুষ্ঠানে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুঁজিবাজারে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের ভূমিকা খুবই সীমিত। এ কারণেই নতুন প্রতিষ্ঠান খুলেছেন তারা। মাইডাস ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাতে সর্বশান্ত না হন- আমরা সেই কাজ করব, পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিগুলোর অর্থ সংগ্রহের জড়তা কাটাতে কাজ করব। শেয়ারের বিপরীতে ুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেব। ভবিষ্যতে ব্রোকার ও অ্যাসেট ব্যবস্থাপনা কোম্পানি করারও ইচ্ছার কথা জানান মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। মাইডাস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

রানার গ্রুপের হাত ধরে নতুন যুগে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মোটরসাইকেল নেপালে রপ্তানি হতে যাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে মোটরবাইকের জগতে বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আর এই মাইলফলক বয়ে এনেছে দেশখ্যাত রানার গ্রুপ।  শনিবার এই মাইলফলকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। প্রথম দফায় সাতটি কাভার্ড ভ্যানে করে শতাধিক মোটরসাইকেল কাকরভিটা সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করবে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে মোটরসাইকেলের নাম। রানার অটোমোবাইলস্ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, নেপালে আমাদের এই মোটরসাইকেল রপ্তানির মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে। সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেলে বিশ্ব বাজারে রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আশা করেন তিনি। রানার গ্রুপ, চীনের ডায়াং মোটরসাইকেল বিপণনের মাধ্যমে রানার অটোমোবাইলস্ লিমিটেড যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালে। সেখান থেকে প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে অটোমোবাইলস্ লিমিটেড ডায়াং মোটরসাইকেলকে বাংলাদেশে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় স্থাপন করা হয় মোটরবাইকের কম্পোনেন্টস তৈরির কারখানা। ২০১১ সালে রানার ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং, এসেম্বলিং, টেস্টিং, চেসিস, রিয়ার ফোরক, ফুয়েল ট্যাঙ্ক, মেইন স্ট্যান্ড, সাইড স্ট্যান্ড, ফুট পিগ এবং ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১২ সালে পুরোদমে মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে রানার গ্রুপ। এ সকল যন্ত্রাংশ রং করার জন্য অত্যাধুনিক পেইন্টশপ স্থাপন করেছে তারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন- রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সি.ই.ও মুকেশ শর্মা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেট্রিক্স মোটো করপোরেশনের দিলীপ কুমার কার্নাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ভ্যাট অর্ধেক করার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের শুরুর দিন থেকেই ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য এই কর ১৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। এর সঙ্গে অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ইসিআর মেশিন সরবরাহের কথাও বলেছেন তিনি। ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ বাস্তবায়নের ল্েয করদাতা উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এসব দাবি জানান।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা উত্তর কর কমিশনের উদ্যোগে এ সেমিনার হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। সেমিনারে জানানো হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ বাস্তবায়ন শুরু হবে। অর্থাৎ ওই দিন থেকে গ্রাহক পর্য়ায়ে অনলাইনে ভ্যাট আদায় করা হবে। মাতলুব আহমাদ বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট অনলাইন চায়। আমরা ফেডারেশন থেকেও চাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের রশিদে যখন আমরা ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেব আল্টিমেটলি এটা অনেক বেশি হয়ে যাবে। এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি এখন আবারও বিনয়ের সঙ্গে বলছি ভ্যাট ১৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। আপনি যখনই ১৫ থেকে ৭ শতাংশে নিয়ে আসবেন তখন ভ্যাট না দেওয়ার যে প্রবণতা, তা থেকে মানুষ বেরিয়ে আসবে। ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন, এমন অভিযোগ তুলে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এখনও এনবিআরের ভ্যাট অফিসাররা এখনও অনেক দোকনে গিয়ে খাতাপত্র টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, হয়রানি করছেন। উনাদের আমি বারবার বলেছি আপনার একটা সিস্টেম থাকা উচিত। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে একজন কমিশনারের একটি আদেশপত্র থাকবে। সেই আদেশ দেখিয়ে বলবে যে, আমি এই আদেশের কারণে আপনার খাতাপত্র নিয়ে যাচ্ছি। তাকে যদি খুশি করা যায় তাহলে কিন্তু খাতাপত্র ফেরত পাওয়া যায়। এসময় তিনি এফবিসিসিআইর সঙ্গে একটি হটলাইন চালু করার প্রস্তাব করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর মো. নজিবুর রহমান বলেন, “কোনো ব্যবসায়ী বা করদাতা যদি হয়রানির শিকার হন তারা যেন ইমেইল করে এনবিআরকে জানান। শিগগির এনবিআরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম বা ঠিকানা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সবাইকে জানানো হবে। হটলাইনে আপনারা এনবিআরকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমরা রাজস্ব আহরণ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করজাল বিস্তৃত করতে কাজ করছি। এজন্য আমরা উপজেলা সফর শুরু করেছি। আমি দেখেছি মানুষ সরকারকে কর দিতে চায়। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাশেম খান ও এনবিআরের সদস্যরা।

 

‘বগড়্যার মেলা’র ৩য়দিন মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অবদান তুলে ধরার আহ্বান

মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়ার অনবদ্য অবদান দেশবাসীর কাছে তুলে ধরে প্রকাশনা বের করতে ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি প্রকাশনার নাম ‘মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া’ করার প্রস্তাব দেন।  শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চার দিনব্যাপী ‘বগড়্যার মেলা-২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। ঢাকাস্থ বৃহত্তর বগুড়া সমিতি ও বগুড়ার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের  যৌথ উদ্যোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন’ দাবি করে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বগুড়া সমিতির ভিন্নতর প্রকাশনা থাকা উচিত। তিনি বলেন, বগুড়ার সংস্কৃতি যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ। এই সংস্কৃতিকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সেখানকার সংস্কৃতিগোষ্ঠীগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে, প্রয়োজনে নতুন করে সংস্কৃতিগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হবে।

 ঢাবির এই অধ্যাপক বলেন, বগুড়ায় আরো উন্নয়ন হওয়া দরকার। সেখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। বগুড়ার উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। মেলার মাধ্যমে বগুড়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে বগুড়া সমিতির সভাপতি মাসুদুর রহমান রন্টু জানান, মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার জন্য বগুড়া থেকে প্রতিদিন দু’টি বাসে করে শিল্পীদের আনা হচ্ছে। কারণ, আমরা বগুড়ার শিল্পীদের মাধ্যমে বগুড়ার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়া সমিতির প্রচেষ্টায় বেহাত হওয়া ‘ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ি’ প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়েছে। শিগগিরই তা দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

 এটি সমিতির একটি বড় অর্জন। ঢাকায় ‘বগুড়া ভবন’ তৈরির চেষ্টা চলছে জানিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক একেএম কামরুল ইসলাম ঢাকায় প্রতি বছর ‘বগড়্যার মেলা’ অনুষ্ঠানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এতে বগুড়া সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার তালুকদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। বগুড়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় আঞ্চলিক গান, বাউল গান, নৃত্যানুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। বিকেলে করতোয়া নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘কদম মুন্সির ঠিকানা’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা হাস্যরসাত্মক নাটিকা ‘সূক্ষ্ম বিচার’ মঞ্চস্থ করে বগুড়া নাট্যগোষ্ঠী।

শিল্পী মাহির পরিবেশনায় বগুড়ার আঞ্চলিক গানও পরিবেশিত হয়। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে মঞ্চস্থ হয় নান্দনিক নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘বর্ণচোর’ নাটকটি। মেলায় পুলি, মুঠা, পাটিশাপটা ও দুধ পিঠা, গাজর ও গুড়ের সন্দেশসহ চার রকমের দই ও ঘি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে সাউদিয়া দই ক্ষীরসা এন্ড সুইটস। বিক্রি কেমন, জানতে চাইলে বিক্রেতা হোসনে আরা ইতি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সাউদিয়া সুইটস থেকে মিষ্টান্ন কেনার পর দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকায় বসবাসরত প্রকৌশলী আসিফ রহমান সৈকত দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দাম কিছুটা বেশি বলেই মনে হয়। তবে এটা বড় কোনো ব্যাপার না। আগামীকাল সোমবার মেলার সমাপ্তি ঘটবে।
আজকের কর্মসূচি : মেলামঞ্চে আজ রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় হবে কবিগান, নৃত্য, পালাগান, নাটক, সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।