রাত ১০:০৪, বৃহস্পতিবার, ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / ৫ সিটিতে আসতে পারে বিএনপির নতুন প্রার্থী
কুসিক নির্বাচনে ইসির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ
৫ সিটিতে আসতে পারে বিএনপির নতুন প্রার্থী
মার্চ ১, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)সহ কয়েকটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি। তবে  এ নির্বাচনে নতুন ইসির কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। চলতি বছরের শেষদিকে রংপুর সিটির নির্বাচন এবং আগামী বছরের মাঝামাঝিতে হবে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও গাজীপুর সিটির নির্বাচন। এরপর ২০২০ সালে হবে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন। বিএনপি এসব সিটি নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কাজ শুরু না করলেও হাইকমান্ডে চিন্তা-ভাবনা চলছে। খোঁজ-খবর নিচ্ছে সিটি করপোরেশনগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে। আগামীতে এসব সিটির মধ্যে অন্তত পাঁচটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, নতুন ইসির প্রতি বিএনপির আস্থা না থাকলেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণে তাদেরকে সময় দিতে চায় দলটি। সেজন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে জনতার মঞ্চের লোক দাবি করে তার ব্যাপারে বিরোধিতা অব্যাহত রাখলেও পুরো কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেনি তারা। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নতুন ইসি কী ভূমিকা পালন করে, তা দেখতে চায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরাবরই অংশ নিয়েছি, আগামীতেও অংশ নিব। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কি যাব না, সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সেই সময় কোন ধরণের সরকার থাকছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী থাকে, তার উপর।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচনের আগে দলীয় প্রতীকে কুসিকসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাত সিটি করপোরেশনের ভোট নতুন ইসির জন্য ‘এসিড টেস্ট’। এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ দৈনিক করতোয়াকে বলেন, নতুন ইসির অধীনে জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে আমরা ‘এসিড টেস্ট’ হিসেবে দেখছি। এসব নির্বাচন কেমন হয়, তা দেখে আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাব কী যাব না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। তবে আমরা মনে করি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আগামী ৩০ মার্চ কুসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নারায়ণগঞ্জে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার কুমিল্লায় বিজয়ী হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিএনপি। সেজন্য বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে তারা এবারো মনোনয়ন দিয়েছে। আর কুসিক নির্বাচন জোটগতভাবে করতে এবং সাক্কুকে পুনরায় জেতাতে কৌশল নির্ধারণের জন্য আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যদিও জোট শরিক কল্যাণ পার্টি প্রার্থী না দিয়ে ইতোমধ্যে সাক্কুকে তাদের সমর্থন জানিয়েছে।  

জানা গেছে, চলতি বছরেই রংপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রংপুরের নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। এরপর ২০১৩ সালের ১৫ জুন একইদিনে অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটির নির্বাচন। চার সিটিতেই বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়। রাজশাহীর মেয়র হন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনায় মনিরুজ্জামান মনির, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী এবং বরিশাল সিটিতে বিজয়ী হন আহসান হাবিব কামাল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নানও বিজয়ী হন। তবে এদের মধ্যে একমাত্র কামাল ছাড়া বাকি সবাইকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কারাগারেও যেতে হয়েছে। ফলে মেয়র নির্বাচিত হলেও বেশিরভাগ সময়ই তারা দায়িত্বের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন হয়। কিন্তু কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনের দিন দুপুরে তিন সিটির নির্বাচনই বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। চট্টগ্রাম সিটির মেয়র প্রার্থী এম মনজুর আলম নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতি থেকেও অবসরের ঘোষণা দেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামীতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। মনজুর আলম রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ায় আগামীতে চট্টগ্রাম সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন ডা. শাহাদাত হোসেন। বিএনপির নতুন কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হলেও কেন্দ্রের এ পদ ছেড়ে দেন তিনি। পরে শাহাদাতকে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি করা হয়। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হয়েছে। এতে সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হলেও কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় পরে তা প্রশমিত হয়। তাছাড়া মিনুকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব থেকে বিএনপির নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামীতে রাজশাহী সিটিতে মিনুর বিএনপি থেকে মেয়র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। বরিশাল সিটিতেও আগামীতে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির প্রার্থী। বরিশাল বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপির সরকারবিরোধী বিগত আন্দোলনে মেয়র কামালের তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না। উপরন্তু তিনি মেয়র পদে টিকে থাকতে সরকারি দলের লোকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। সেজন্য সারাদেশে বিএনপির অন্যসব মেয়ররা বরখাস্তের পাশাপাশি গ্রেফতার হলেও বরিশালের মেয়র বরখাস্তও হননি, গ্রেফতারও হননি। তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ অভিযোগের ব্যাপারে কামালের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় সিআইডির সম্পূরক চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে অন্যদের সঙ্গে আরিফুল হকেরও সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। এ মামলায় যদি শেষ পর্যন্ত তার সাজা হয়, তাহলে সিলেট সিটিতেও আগামীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মির্জা আব্বাস নির্বাচন করলেও আগামীতে এ সিটিতে পরিবর্তন হতে পারে বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারের রোষানলে পড়ে বরখাস্ত ও গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি আগামী সিটি নির্বাচনগুলোতে বাকিদের পুনরায় মনোনয়ন দিতে পারে। তবে আইনি কোনো জটিলতা থাকলে সেক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি সব সময় নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল। যেকোনো অবস্থায় যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকে। কুমিল্লা ছাড়া অন্য সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচনের এখনো অনেকটা সময় বাকি। যথাসময়ে বিএনপির হাইকমান্ড বিচার-বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেবে। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে সব নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top