সকাল ১০:৪২, সোমবার, ২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রংপুর / ৫ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ড
হোসি কুনিও হত্যা মামলায়
৫ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ড
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৭

হুমায়ুন কবীর মানিক/ সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর : জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৫ সদস্যের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছে রংপুরের একটি আদালত। সেই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।  মঙ্গলবার সকালে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার চাঞ্চল?্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলোÑ জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী (৩৩), ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস?্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রফিক (৩২) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০)। মামলার অপর আসামি আবু সাঈদ (২৮) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি কুড়িগ্রামের আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব (২৪) এখনও পলাতক রয়েছে।

এই মামলার দুই আসামি সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান গত বছরের ২ আগস্ট ভোরে রাজশাহীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর রংপুর নগরীর অদূরে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক হোসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক হতাকান্ডের পাঁচদিনের মাথায় একই কায়দায় রংপুরে জাপানি নাগরিক হত?্যার ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন সৃষ্টি করে। পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়ার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা, রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বলেন- দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এই বিদেশি নাগরিককে হত?্যা করা হয়েছিল। আমরা সাক্ষ?্যপ্রমাণ সঠিকভাবে উপস্থাপন করেছি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় তিনি খুশি। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর জাপানি নাগরিক হোসি কুনিও রংপুরের কাউনিয়ায় খুন হন। ওইদিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করলেও সরকার তা নাকচ করে। প্রায় নয় মাস তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী গত বছর ৩ জুলাই রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগ পত্র দেন। সেখানে জেএমবির আট জঙ্গিকে আসামি করা হয়। প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতার হওয়া ছয়জনকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কুনিওকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। মোটরসাইকেলে তারা তিনজন ছিলেন। গুলি করার পর মোটরসাইকেলে করেই তারা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৬ বছর বয়সী কুনিও।  হাকিম আদালত থেকে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরের পর ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরু করেন।  চলতি বছর ৪ জানুয়ারি সাক্ষ?্যগ্রহণ শুরুর পর রাষ্ট্রপক্ষে ৫৭ জনের মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য শোনেন আদালত। আসামি মাসুদ রানা ও সাদ্দাম হোসেনের গুলিতে কুনিও মারা যান বলে তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানর ওসি আবদুল কাদের জিলানি তার সাক্ষ্যে বলেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য ও জেরা শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি  আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি তর্ক শোনেন আদালত। এরপর  মঙ্গলবার বিচারক রায় ঘোষণা করেন  
রংপুর শহরের মুন্সীপাড়ার জাকারিয়া বালা নামে এ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগের সূত্র ধরে বাংলাদেশে এসে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় একটি ঘাসের খামার করছিলেন কুনিও। কুনিও খুন হওয়ার পর জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা রংপুর ঘুরে গেলেও লাশ হস্তান্তর ও শেষকৃত্যের বিষয়টি ঝুলে থাকে ধর্ম বদলের কারণে। পরে রংপুরের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর সাথে যোগাযোগ করে সেখানেই হোসি কুনিওর লাশ দাফন করতে অনুরোধ করে জাপান কর্তৃপক্ষ। জাপান কর্তৃপক্ষের অনুরোধের ভিত্তিতে হত্যাকান্ডের ১০ দিন পর  কুনিওকে মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top