সকাল ৬:১২, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / হিংসার বিস্তৃতি নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন
হিংসার বিস্তৃতি নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

আতাউর রহমান মিটন:ফেসবুক এর কল্যাণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের উপর নির্যাতন ও হামলার অনেক কাহিনী জানা যাচ্ছে। মানুষ নানাভাবে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। নিন্দা জানাচ্ছেন এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানসহ পূর্ণ মর্যাদায় নিজ দেশে নিরাপদে বাস করার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। একজন মানবিক মানুষ মাত্রই এই দাবির সাথে সহমত প্রকাশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কোন মানুষের পক্ষেই ‘গণহত্যা’ সমর্থন করা সম্ভব নয়।

 নিজ দেশ থেকে দলে দলে মানুষ যখন পায়ে হেঁটে, সাঁতরিয়ে, নৌকায় চেপে প্রায় শূন্য হাতে অন্য দেশে উদ্বাস্তু হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে পরিস্থিতি আসলেই ভয়াবহ। একমাত্র উপায়হীন হলেই কারও পক্ষে উদ্বাস্তু হওয়ার মত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়। রোহিঙ্গারা সত্যিই অমানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছে এবং সাধারণ এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো বিশ্ব সম্প্রদায়ের অন্যতম মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটা শুধুমাত্র ধর্ম পরিচয়ের ভিত্তিতে বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। এটা মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত একটি অপরাধ। এই অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।

আমি গত সপ্তাহেও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে কলাম লিখেছি। আমার মত একজন সাধারণ কলম সৈনিক হয়তো এর বেশি কিছুই করতে পারে না। কিন্তু যারা পারেন তারা এটা নিয়ে সত্যিকারের ভূমিকা রাখার চাইতে বেশি বেশি রাজনীতি করছেন। আর একদল মানুষ এটাকে সাম্প্রদায়িকভাবে ব্যবহারের উস্কানী দিয়ে যাচ্ছেন। এমনও বলছেন যে বাংলাদেশ থেকে ‘বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বের করে দেয়া হোক’। আমি এর সাথে একমত নই। আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা বা আই এস যোদ্ধারা মুসলমান বলে তার দায় সকল মুসলমানদের উপর যেমন চাপানো যায় না, ঠিক তেমনি মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষদের দ্বারা মুসলিমদের উপর হামলার কারণে বাংলাদেশে বা অন্যান্য দেশে সেই সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর হামলা করা বা তাদের প্রতি কোন রকম অশ্রদ্ধা দেখানোটা আমি সমর্থন করি না। মনে রাখতে হবে, মুসলমানরা শান্তিপ্রিয়, তাঁরা সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আপোষহীন কিন্তু কখনই উগ্র নন। উগ্রতা বা পরশ্রীকাতরতা, প্রতিহিংসা আমাদের মহানবী (সঃ) এর প্রদর্শিত প্রিয় পথ নয়।

রোহিঙ্গাদের উপর হামলা কেন? এটা কি কেবল এই জন্য যে তারা ধর্ম পরিচয়ে মুসলিম? সেখানে কি এবারই প্রথম হামলা হলো. স্বাধীন আরাকান রাজ্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বাংলাদেশের জনগণ কিভাবে দেখে? রাখাইন অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বের করে দেয়া সম্ভব হলে কার বেশি লাভ? ভারত নাকি চীন? আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে রোহিঙ্গা উচ্ছেদ এর কোন কানেকশন আছে কি? অথবা আমাদের সমুদ্রসীমায় ‘ব্লু ইকোনমি’ সম্ভাবনা ভেস্তে দেয়ার জন্য কি কোন মহল তৎপর? ইত্যাদি অনেকরকম প্রশ্ন আছে যা হলিষ্টিকভাবে মাথায় নিয়ে পুরো বিষয়টা আমাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে। এটা কেবলমাত্র মুসলমানদের উপর বৌদ্ধদের হামলা এই সাম্প্রদায়িকতায় দেখলে সমীকরণ মিলবে না।

জন্মমাত্রই সকল মানুষ একটি নাগরিক পরিচয় লাভ করে। এটা জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় বর্ণিত। সেই অধিকার থেকে কোন জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে রাখা বা করার চেষ্টা অন্যায়। মিয়ানমারের সামরিক সরকার সেই অন্যায় করেছেন এবং বর্তমান সরকারও একই অন্যায় করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া দরকার। কথায় আছে, ‘চোখের বদলা চোখ, উভয়কেই অন্ধ করে দেয়’। মিয়ানমার সরকার আজ যে পথে হাঁটছে, অন্যেরাও সে পথে হাঁটতে চাইলে এই অঞ্চল সাধারণের বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠবে।

সেটা কারোরই কাম্য নয়। রোহিঙ্গারা সাবেক আরাকান বা বর্তমান রাখাইন রাজ্যে কয়েক শতাব্দি ধরে বসবাস করছেন। বর্তমান প্রজন্মের মাতৃভূমি সেটাই। এর অন্য কোন ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। সেই বৃটিশ আমল থেকেই শাসকেরা সাম্প্রদায়িক এই বিভাজন বা দাঙ্গা এখানে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা একটা নিষ্ঠুর রাজনীতি। কারণ এর ফলে সেখানে গণহত্যা চলছে এবং উদ্বাস্তু হচ্ছে সাধারণ মানুষ।  

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ছাড়া এটা করা কঠিন। এটা ঠিকই যে, যে কোন সরকারকেই তার দেশের ভৌগলিক অখন্ডতা রক্ষাকে সবার আগে স্থান দিতে হবে। সুতরাং ‘স্বাধীন আরাকান রাজ্য’ প্রতিষ্ঠার মত বিতর্কিত ইস্যুগুলোর মীমাংসা করা ছাড়া রাখাইনে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। যেমন কাশ্মীরেও করা যায় নি। রোহিঙ্গাদের একটা অংশ স্বাধীনতাকামী, তারা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে এটা সত্য। তাদের সেই দাবির বিষয়টি শক্তি দিয়ে দমনের চেষ্টা করা নিতান্তই ভুল।

 এভাবে দুনিয়ার কোথাও স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে অবদমিত করা সম্ভব হয়নি। বরং কালের বিবর্তনে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা আকাঙ্খাকেও অবদমনের চেষ্টা হয়েছে, এখানেও গণহত্যা চালানো হয়েছে, আমাদেরকেও ভারতে উদ্বাস্তু হয়ে কয়েক মাস থাকতে হয়েছে। আমাদেরও প্রায় ৩০ লক্ষ ভাই-বোনকে জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে। কিন্তু আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি।

সুতরাং কোন জনগোষ্ঠীর স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে অবদমনের চাইতে বরং তারা কেন একত্রে একটি পতাকার নীচে সম্মিলিত হয়ে সমৃদ্ধি অর্জনের কথা ভাবতে পারছে না, সেটা গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। কোন কোন প্রতিবেশী থাকেন যারা চান অপর প্রতিবেশীর ঘরে অশান্তি টিকিয়ে রাখতে কারণ তাতে করে নিজের আখের গোছাতে সুবিধা হয়। তিব্বতকে অশান্ত করে রাখার চেষ্টাও সে কারণেই।

গত ২৫ আগষ্টের পর থেকে বাংলাদেশে নতুন করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের মতে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। বাংলাদেশ সরকার শুরুতে ইতস্ততঃ করলেও শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। তাদের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করছে এবং রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য মানবিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

অবশ্যই আমাদের মত নি¤œ মধ্যম আয়ের অর্থনীতির একটি দেশে এই লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদের মানসম্মত সেবা প্রদান করা কঠিন কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ অতীতের যে কোন সময়ের মতই এবারও তাদের মানবিক হৃদয় নিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমত সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে অনেক সহিংস মন্তব্য করলেও সেটা আমাদের মূল সুর নয়। আমাদের জনগণ শান্তিপ্রিয় এবং তারা এখনও মিয়ানমার সরকারের কাছে বিরাজমান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানায়।


 মহামতি গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতি হৃদয়ে ধারণ করে রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষদের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা এগিয়ে আসবেন এটাই আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা বাংলাদেশের জনগণ মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী ও কট্টরপন্থী বেসামরিক নাগরিক দ্বারা পরিচালিত সহিংস দমন-পীড়ন ও গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি না, মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সাথে কোনরকম ‘পরোক্ষ আক্রমণ (ইনডাইরেক্ট অ্যাটাক)’ চালানোর মত বোকামি করবে। বরং আমরা আশা করি, মিয়ানমার সরকার তাদের দেশে জাতিসংঘের তত্বাবধানে একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরি করে সকল উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবেন এবং বিরাজমান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসবেন। বাংলাদেশ সরকারের দেয়া ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের এই প্রস্তাব অন্যান্য দেশগুলিও সমর্থন করবেন বলে আমার বিশ্বাস। আপাততঃ এর চেয়ে ভাল কোন ‘সহজ সমাধান’ নাই।

 
দেশের ভেতরে আমাদের কারও কারও মনে এই প্রশ্ন রয়েছে যে কেন আমাদের সরকার মিয়ানমারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ধকরছেন না। আমার তো মনে হয়, সেটা করার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে অন্যান্য সম্পর্ক স্বাভাবিক রেখেই। সেটাই পরিপক্ক পররাষ্ট্র নীতি। রাখাইনের রোহিঙ্গারা পালিয়ে শুধু বাংলাদেশেই আসেনি তারা ভারতেও গেছে। কিন্তু ভারত সরকার সেটা নিয়ে কূটনীতি করলেও সম্পর্ক উষ্ণ রেখেই এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। আমাদেরকে কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখেই অগ্রসর হতে হবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর যে অমানবিক নিপীড়ন করা হয়েছে তাতে সমগ্র বিশ্ব একমত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার প্রধান  স্বয়ং এই নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জায়েদ রাদ আল হুসেইন এই ‘ভয়ানক সামরিক অভিযান’ বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যদিও সেখানে কোনো নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে যে, সেনাবাহিনী কেবল রোহিঙ্গা জঙ্গিদের আক্রমণের জবাব দিচ্ছে। বিশ্ববাসী অবশ্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বরং তারা সেখানে শান্তি বজায় রাখার জন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার বলেছেন, ‘রাখাইনে যে ভয়ানক সামরিক অভিযান চলছে, তা বন্ধ করতে আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর যে ভয়াবহ নিপীড়ন চলছে, তার দায় তাদের নিতে হবে।

শান্তি চাই, শান্তি চাই বলে আমরা একদিকে যেমন সরব ঠিক তেমনি অন্যদিকে বিশ্বময় বর্বরতা ছড়িয়ে পড়ছে। এর পেছনে রয়েছে অবাধ পুঁজির লাগামহীন অভিযাত্রা। সম্পদশালী মাত্রই বেপরোয়া। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিশ্বের জনগণকে শান্তিকামী বিকল্প রাজনৈতিক বিশ্ব ব্যবস্থার কথা বিবেচনায় নিতে হবে। সামরিক শক্তি ‘কোমল’ নয়। সে যে দেশেরই হোক। মানুষ সে কারণেই গণতন্ত্রকে আদর্শ হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে গণতন্ত্র পুঁজির আজ্ঞাবাহী মাত্র। টাকাওয়ালারা এখানে ক্ষমতাবান এবং গণতন্ত্র তাদের স্বার্থকেই সুরক্ষা দেয়।

 এর বিপরীতে বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিকল্প অথনৈতিক ব্যবস্থার দিকে আমাদের যেতে হবে। শুধু মধ্যম আয়ের দেশ হলেই মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। দরকার জনগণের চেতনাকে ন্যুনপক্ষে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যেতে মধ্যম মানে নিয়ে আসা। আমরা মানবিক হতে চাই। মানবিক থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের মানবিকতার আকাঙ্খার সুযোগ নিয়ে যেন সাম্প্রদায়িকতা ডানা মেলে না দেয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আমরা হিংসার বিস্তৃতি চাই না, সারাদেশে জ্ঞানের বিকিরণ চাই। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়ার পক্ষে থাকতে চাই না। টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসার ইতি টানতে হবেই। কোন শক্তি সেখানে ইয়াবা সা¤্রাজ্যের ভিত্তি শক্তিশালী করার যেন সুযোগ না পায় প্রশাসনের কাছে সেই অনুরোধ জানাই।
লেখক : সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top